All language subtitles for Rakkasapuradhol.(02.05.07).BSUB.by.Zahid.Hasan

af Afrikaans Download
ak Akan
sq Albanian
am Amharic
ar Arabic
hy Armenian
az Azerbaijani
eu Basque
be Belarusian
bem Bemba
bn Bengali
bh Bihari
bs Bosnian
br Breton
bg Bulgarian
km Cambodian
ca Catalan
ceb Cebuano
chr Cherokee
ny Chichewa
zh-CN Chinese (Simplified)
zh-TW Chinese (Traditional)
co Corsican
hr Croatian
cs Czech
da Danish
nl Dutch
en English Download
eo Esperanto
et Estonian
ee Ewe
fo Faroese
tl Filipino
fi Finnish
fr French
fy Frisian
gaa Ga
gl Galician
ka Georgian
de German
el Greek
gn Guarani
gu Gujarati
ht Haitian Creole
ha Hausa
haw Hawaiian
iw Hebrew
hi Hindi
hmn Hmong
hu Hungarian
is Icelandic
ig Igbo
id Indonesian Download
ia Interlingua
ga Irish
it Italian
ja Japanese
jw Javanese
kn Kannada
kk Kazakh
rw Kinyarwanda
rn Kirundi
kg Kongo
ko Korean
kri Krio (Sierra Leone)
ku Kurdish
ckb Kurdish (Soranî)
ky Kyrgyz
lo Laothian
la Latin
lv Latvian
ln Lingala
lt Lithuanian
loz Lozi
lg Luganda
ach Luo
lb Luxembourgish
mk Macedonian
mg Malagasy
ms Malay
ml Malayalam Download
mt Maltese
mi Maori
mr Marathi
mfe Mauritian Creole
mo Moldavian
mn Mongolian
my Myanmar (Burmese)
sr-ME Montenegrin
ne Nepali
pcm Nigerian Pidgin
nso Northern Sotho
no Norwegian
nn Norwegian (Nynorsk)
oc Occitan
or Oriya
om Oromo
ps Pashto
fa Persian
pl Polish
pt-BR Portuguese (Brazil)
pt Portuguese (Portugal)
pa Punjabi
qu Quechua
ro Romanian
rm Romansh
nyn Runyakitara
ru Russian
sm Samoan
gd Scots Gaelic
sr Serbian
sh Serbo-Croatian
st Sesotho
tn Setswana
crs Seychellois Creole
sn Shona
sd Sindhi
si Sinhalese
sk Slovak
sl Slovenian
so Somali
es Spanish
es-419 Spanish (Latin American) Download
su Sundanese
sw Swahili
sv Swedish
tg Tajik
ta Tamil
tt Tatar
te Telugu
th Thai
ti Tigrinya
to Tonga
lua Tshiluba
tum Tumbuka
tr Turkish
tk Turkmen
tw Twi
ug Uighur
uk Ukrainian
ur Urdu
uz Uzbek
vi Vietnamese
cy Welsh
wo Wolof
xh Xhosa
yi Yiddish
yo Yoruba
zu Zulu

Original subtitles

কোথায় বসে মদ গিলছো? সাথে কে আছে?

গপ মারবে না! আমি সব জানি। বিয়ের আগে...

চুল ছোট করে সাধু সেজে আমাকে পটিয়েছো।

এখন কী করছো?

ও তাই নাকি?

সত্যিই আমার বানানো উপ্পিট্টু আর কেসরি বাথ খাচ্ছ?

ধুর, যখন একসাথে থাকি তখন তো আমার জন্য সময়ই থাকে না তোমার!

আর বাইরে থাকলে

খালি 'তোমাকে মিস করছি', 'তোমাকে ছাড়া থাকতে পারছি না'

এসব বলে জিভ শুকিয়ে ফেলো, ধুর!

আর মাত্র আধঘণ্টা।

এখনই বাড়ি ফিরছি।

স্যার, এসপি স্যার ভেতরে ডাকছেন আপনাকে।

মদ খেয়েছ?

না স্যার।

তোমার চোখ দেখে তো তা মনে হচ্ছে না।

একটু খেয়েছি স্যার।

তুমি ছয় মাসের সাসপেনশনে আছ, জানো?

হ্যাঁ স্যার, জানি।

দেখো, তোমার মতো দক্ষ অফিসারকে আমি হাতছাড়া করতে চাই না।

একটা কাজ করি।

আগামী ছয় মাসের অবজারভেশন পিরিয়ডের জন্য

তোমাকে কম অপরাধপ্রবণ একটা থানায় বদলি করবো।

কম অপরাধপ্রবণ এলাকা? এই দেশে এমন কিছু আছে নাকি, স্যার?

সেটা কোথায়, স্যার?

শহরেই তো শান্তিতে ছিলাম আমি।

আর তুমি আমাকে এই গ্রামে টেনে আনলে!

তোমার তো সমস্যা নেই! আমাকেই এক মাইল হাঁটতে হয়!

যাও, শান্তিতে ঘুমাও, তোমার আর কী যায় আসে!

আমি কোথাও যাইনি, এখানেই আছি।

প্রথমে বললে, মদ খাওয়ার কারণ...

- পুলিশের ডিউটি... - ...পুলিশের ডিউটির চাপে।

সাসপেনশনের পর তোমার মদ খাওয়ার কারণ ছিল...

- চাকরি হারানো... - 'কোনো কাজ নেই, করার কিছু নেই' বলে।

আর এখন? এখন তুমি খাচ্ছ কারণ

- খুব ঠান্ডা... - এর জন্যও তোমার একটা কারণ আছে!

মদ খাওয়ার জন্য একটা অজুহাত চাই তোমার, ব্যস!

কিন্তু জান, আমিও তো মদ ছাড়তে চাই,

এসব মনভোলানো কথায় ভালোই পাকা তুমি!

এখন যাও, রেডি হও।

আমি উপ্পিট্টু আর কেসরি বাথ বানাচ্ছি।

আবার উপ্পিট্টু আর কেসরি বাথ?

তোমাকে দেখতে যাওয়ার সময়, বলেছিলাম, এটা ভালো হয়েছে।

আর এখন সেটাই বারবার বানাচ্ছ!

উপ্পিট্টু আর কেসরি বাথ বানাবে বলেছিল, এখন দেখো গভীর ঘুমে!

জাগালেই তো হাঙ্গামা শুরু করে দেবে!

না জাগানোই ভালো।

আমি খালি বলে দেব, "হ্যাঁ, বউয়ের কথাই ঠিক!"

আমি বেরোচ্ছি।

শুনলে নাকি না?

হুম।

মেয়েটা এমন গম্ভীর চোখে আমাকে দেখছে কেন?

গুড মর্নিং!

এত গম্ভীর কেন?

ওই বাড়িতে নতুন উঠেছ, তাই না?

হ্যাঁ।

কেউ কিছু বলেনি তোমাকে?

যেমন?

ওই বাড়িতে একটা ভূত আছে।

সত্যি?

হুম!

ভূতের নাম জানো?

না।

নাম রূপা।

সত্যি?

হাহ!

বেল্লি!

নমস্কার স্যার।

নমস্কার।

মানুষের সাথে এভাবে কথা বলে?

আমি আবার কী ভুল বললাম?

বুড়িমা যা বলেছিল সেটাই তো বললাম।

দুষ্টু মেয়ে, চুপ কর তো!

- স্যরি, স্যার। - ঠিক আছে।

উনি সবে উঠলেন আর তুই এখনই ভূতের গল্প শুরু করে দিলি?

এখন এসব বলার সময় না, তাই না?

এজন্যই তো পাটেলকে একা জঙ্গলে যেতে বারণ করেছিলাম।

হ্যাঁ।

দেখো এখন, কল্লি দেবাকে দেখে ভয়ে বাড়িতেই বসে আছে!

এখন সিদ্দাইয়াই ওকে বাঁচাতে পারবেন!

- একদম ঠিক! - চলো!

কর্ণাটক ও তামিলনাড়ুর লোককাহিনীতে কল্লি দেবা বা আলেয়া নামক ভূতের কথা পাওয়া যায়। কন্নড় ভাষায় কল্লি মানে জ্বলন্ত কাঠ বা মশাল। বিশ্বাস করা হয়, এই ভূতগুলো হাতে মশাল নিয়ে নির্জন রাস্তায় ঘুরে বেড়ায় এবং পথচারীদের বিভ্রান্ত করে।

নিশ্চয়ই কেউ তোমাকে হিংসা করে কালো জাদু করেছে।

আরে না স্বামীজি! আমার বাড়িতেই কেন?

প্রতিবেশীরাই করেছে, ওদের বাড়িতে অভিশাপ পড়ুক!

সব সিদ্দাইয়ার হাতে ছেড়ে দাও, উনি ঠিক করে দেবেন।

খেয়ে নাও, নাহলে কল্লি দেবা এসে ধরবে!

খেয়ে নাও!

বললাম না, খাও!

মনে রেখো, সোমবার সিদ্দাইয়ার কাছে যেতে হবে।

ও হ্যাঁ।

হাতে পবিত্র সুতো বাঁধতে হবে।

হ্যাঁ, যাবো।

- এই অপারেটর! - স্যার?

ফোন নষ্ট হয়েছে তিন দিন হয়ে গেল।

বারবার বলছি এসে ঠিক করে দিতে, তুমি খালি এড়িয়ে যাচ্ছো।

আজ না এলে একদম লক-আপে ঢুকিয়ে দেব!

স্যার, এভাবে বলবেন না!

আমার ছেলেকে পাঠিয়েছি, ও এখনই এসে ঠিক করে দেবে।

দেরির জন্য দুঃখিত, স্যার।

দাঁড়াও! ধুর, অধৈর্য বান্দা ফোনই কেটে দিল!

আজ না এলে ওকে বুঝিয়ে দেব!

এই!

এইমাত্র ফোন করলাম, এরমধ্যেই এসে গেছে!

এত দেরি করলে! দুদিন আগে আসার কথা ছিল না?

থানার ঠিকানা জানো না নাকি?

তুমি আমাকে আগে থেকেই চেনো?

তুমি কি মহারাজা নাকি আমাদের সিদ্দাইয়া, যে তোমাকে চিনতে হবে!

এখন চুপচাপ নিজের কাজ করে কেটে পড়ো।

- কিন্তু তুমি কে? - অ্যাঁ?

যার নাম শুনলে পুরো গ্রাম কাঁপে, কনস্টেবল এইচকে!

- বুঝলে? - বুঝলাম, কিন্তু...

তুমি কে?

ধুর, এটাই তো আমি!

ওহ! স্যরি, স্যার!

দেখো, এখন ভয় পেয়ে গেছে!

খালি হাতে হাঁটছ?

ওই চেয়ারটা নিয়ে এসো!

আমি?

নিয়ে এসো!

শালার আজকালকার দিনে মিস্ত্রীও সাহেবের মতো ভাব নেয়!

আহ! আর নাটক নয়! সর!

তুমি রাম না? সীতা দেবীর স্বামী?

না স্যার, আমি শিব।

শিব?

তাহলে রাম কখন আসবে?

আসবে, একটু অপেক্ষা করো!

তাস উঠাও।

- জ্যাকপট! জোকার আমার! - ধুর!

খেলা শেষ!

১০ টাকা গেল!

- বিলিয়াপ্পা। - হ্যাঁ?

- নতুন যে ইন্সপেক্টর আসছেন... - হ্যাঁ

শুনেছি উনি নাকি পাগলা গারদে ছিল!

পুরান পাগলের ভাত নাই নতুন পাগলের আমদানি!

পাগল ছাড়া দুনিয়া চলে না!

তাহলে আরেকজন বাড়লে আর কী ক্ষতি, তাই না?

এই তুমি, হাঁ করে তাকিয়ে থেকো না!

কাজ করো!

কী দেখছ? নিচে তাকাও।

অতটা নিচে না! ফোনটা ঠিক করো!

মনটা চায়, থাপ্রাইয়া লাল করে ফেলি!

রাইটার! আবার ঘুমাচ্ছো!

আর তুমি ওখানে বকবক করছ, কোনো কাজ নেই বুঝি!

ফোন ঠিকই হলো না, এরমধ্যেই বিল রেডি হয়ে গেছে নাকি?

যেন আমরাই বিল দিই!

সাব-ইন্সপেক্টর অফ পুলিশ... কী?

স্যার!?

কী হলো?

উনিই নতুন সাব-ইন্সপেক্টর!

- স্যার! - স্যার!

স্যার, ভেবেছিলাম আগে ফোন করে জানাবেন,

টেকনিশিয়ানের মতো ঢুকে পড়বেন ভাবিনি!

- স্যার, ও শঙ্কর। - স্যার!

- হরি। - স্যার!

- রাইটার ইন্দিরা। - স্যার!

ও ডগি চন্দ্র।

- ও কোথায় গায়েব হলো? - দাঁড়াও, আমি নিজের পরিচয় দিই!

স্যার, আমি বিলিয়াপ্পা।

স্যার, এইচ. কমলা।

আদর করে এইচকে বলে ডাকে!

পদ্ম... পুরো নাম পদ্মনাভ, স্যার।

হনুমান রিপোর্টিং, স্যার!

সেটা তো পোশাক দেখেই বুঝেছি। আসল নামটা কী?

হনুমানই স্যার!

বিলিয়াপ্পা, সাম্বারের লবণ দেখো তো।

উনিই নতুন সাব-ইন্সপেক্টর! চুপ থাকো!

সর!

প্রবীণ রিপোর্টিং, স্যার!

১৯৯৮ ব্যাচ, স্যার।

ছয় মাস হলো, রান্নার ডিউটি আর রোজকার অত্যাচারে অতিষ্ঠ হচ্ছি।

স্যার, কিছু করে দেখাতে এসেছিলাম, ওরা হাতে খুন্তি ধরিয়ে দিল!

দেখলি, কীভাবে পাল্টি খেল?

ঠিক বলেছিস, শালা সাপের বাচ্চা!

ওটা পরে দেখছি, আগে কড়া করে এক কাপ ব্ল্যাক কফি বানাও।

স্যরি, স্যার।

যাও প্রবীণ! যাও!

তো, এইচকে...

শুনেছি এই গ্রামে ক্রাইম রেট নেই বললেই চলে।

ঠিক, স্যার!

তোমরা তো দেখছি গ্রামবাসীদের প্রাণ ওষ্ঠাগত করে ফেলেছো।

তেমন কিছু না, স্যার!

ছোটখাটো ব্যাপার, ওরা নিজেরাই মিটিয়ে নেয়।

- শোনো... - অ্যাঁ?

এই গ্রামে বার কোথায়?

বার, স্যার?

এখানে বার নেই, তবে গ্রামের বাইরে একটা তাড়ির দোকান আছে।

সন্ধ্যায় খোলে।

আগে ওদের একটু পিটিয়ে লক-আপে ঢুকিয়ে দাও।

স্যার, তাড়ির দোকান ছাড়া কোন গ্রাম গ্রামই না!

হ্যাঁ! কিন্তু সেটা সারাদিন খোলা থাকা উচিত!

নাহলে আমার মতো মানুষ চলবে কী করে?

সত্যি বলছেন?

স্যার, কাল থেকে সারাদিন খুশি মনে দোকান খোলা রাখব!

স্যার, আপনার একটা ছবি দিন।

পূজার ঘরে রেখে দেব। রোজ পূজা করব!

এই, নাটক বাদ দিয়ে যাও তো!

- আচ্ছা আচ্ছা, ঠান্ডা হও! - যাও!

বিলিয়াপ্পা, একটা কথা বলো তো।

এই লোকটার দাড়ি-গোঁফ সব আছে, ইনি কি সত্যিই পুলিশ?

আমিও তো তাই ভাবছিলাম!

- অ্যাঁ? - অ্যাঁ কী? এখান থেকে সরো!

দাঁড়াও, আমি থানায় আসছি!

এই গুসসা! ওখানেই দাঁড়া!

কথা নেই বার্তা নেই.... হুট করে ঢুকে পড়ে!

কে ঢুকতে দিল ওকে?

আবার মদ খেতে এসেছিস, তাই না?

কতবার বলেছি, ব্যবসার সময় আসবি না।

প্যাকেট নিয়ে কেটে পড়!

নিজের কাজ করো।

- এইচকে... - হ্যাঁ স্যার?

তাড়ির দোকান দুনিয়ার একমাত্র জায়গা যেখানে সবাই সমান।

এখানেও বৈষম্য? এটা কেমন গ্রাম?

স্যার, এই দেশে এমন একটা গ্রাম দেখান তো

যেখানে জাতপাতের বৈষম্য নেই।

ওই লোকটা কবরস্থানের রক্ষক, তাকে কী করে মাঝের টেবিলে বসতে দিই?

তোমরা বাচ্চাদের ভূতের গল্প শুনিয়ে ভয় দেখাও।

দুর্ভাগ্যকে জাদুটোনার নাম দাও।

ধর্মীয় ভয় দেখিয়ে মানুষকে ঠকাও,

আর জাত দেখে মানুষ বিচার করো

এটা কেমন অভিশপ্ত গ্রাম?

আস্তে আস্তে বুঝে যাবেন, স্যার।

শহরে কত শান্তিতে ছিলাম আমি,

আর তুমি আমাকে এই অজপাড়া গাঁয়ে টেনে নিয়ে এলে!

তোমার তো সমস্যা নেই! প্রতিবারই তো আমাকেই এক মাইল হাঁটতে হয়!

যাও, শান্তিতে ঘুমাও, তোমার আর কী যায় আসে!

আবার শুরু হলো!

খাও, খাও।

মদ খাওয়ার একটা ছুতো পেলেই হলো তোমার!

বাবা হাজারবার সাবধান করেছিলেন,

বলেছিলেন, তোমার মধ্যে কোথাও একটা গোলমাল আছে।

কিন্তু আমি শুনিনি।

সিঁথি করা চুল আর ইন করা শার্ট দেখে ভালো ছেলে ভেবে তোমাকে বিয়ে করেছিলাম।

এখন নিজেকে দেখো! না আছে চুল আর না আছে শার্ট!

এই...

বাবাও বেঁচে নেই, নইলে গিয়ে বলতাম, তুমিই ঠিক ছিলে।

আমার ফুটা কপাল!

প্লিজ থামো, সকাল সকাল শুরু করার দরকার নেই!

এখন কিছু বলো না।

যেন তুমি কখনো বলতে দাও!

ডিউটির জন্য দেরি হয়ে যাচ্ছে, যাও রেডি হও।

তোমার জন্য উপ্পিট্টু আর কেসরি বাথ বানাবো।

আবার...

আমার মা-ও সাবধান করেছিলেন আমাকে

এমন কাউকে বিয়ে করতে বলেছিলেন, যে উপ্পিট্টু-কেসরি বাথ ছাড়া অন্য কিছুও বানাতে জানে।

ধুর শালা!

ব্যস! এবার মদ ছেড়ে দেব!

আসলে...

হয়তো ওর হাতের উপ্পিট্টু-কেসরি বাথ আর কখনো খাওয়াই হবে না আমার।

আমি বেরোচ্ছি।

আবার সেই গোমড়া মুখ!

আজ আবার কী হলো?

গতকাল রাতে ভূত দেখেছ?

না!

কাল না দেখা দিলে কিছু আসে যায় না

আজ রাতে নিশ্চয়ই আসবে। দেখো!

নমস্কার স্যার।

ভালো আছেন?

স্কুলে দেরি হয়ে যাচ্ছে।

চল।

এবিসিডি পড়তে পারিস না...

- মা! - ...কিন্তু ভূতের গল্পের এ টু জেড জানা আছে!

বুড়িমা যা বলেছিল সেটাই তো বললাম ওকে!

আগামী মাসে বিজাপুরের জুনিয়র সায়েন্স প্রতিযোগিতার জন্য

আমাদের স্কুলের প্রতিনিধি হিসেবে বেল্লিকে বেছে নিয়েছি

আরও ছাত্রছাত্রী ছিল,

কিন্তু আমি ঠিক করলাম বেল্লিই ঠিক।

তাই নাকি?

ও যদি এই প্রতিযোগিতায় জেতে

তাহলে ওর ভবিষ্যৎ পড়াশোনায় অনেক সাহায্য পাবে।

আচ্ছা।

আবেদনপত্র আর বেল্লির ভবিষ্যৎ, দুটোরই দায়িত্ব আমি নেব।

ধন্যবাদ স্যার!

- স্যার... - হুম?

আপনি অভিভাবকের স্বাক্ষরের জায়গায় সই করেছেন।

তাই নাকি?

কে. ভেঙ্কটরামণ শাস্ত্রী।

ঠিক আছে তো, না?

আসলে...

তিন বছর ধরে বলে আসছ তোমার স্বামী বিদেশ থেকে ফিরবে...

কিন্তু এখনো তো ফিরলো না!

আর আমারও বিয়ে হয়নি।

তুমিও একা।

প্রতিটা মেয়েরই তো একটা পুরুষ দরকার, তাই না?

কী বলো?

আমি বাবার মতো বেল্লির খেয়াল রাখবো।

একটু ভেবে দেখো।

এটা ওর ভবিষ্যতের ব্যাপার।

আশা করি বুঝতে পারছ আমি কী বলতে চাইছি...

মেয়ের ভবিষ্যৎ কীভাবে গড়তে হয় তা আমি ভালো করেই জানি

তার জন্য আমার কোনো পুরুষের দরকার নেই

শোন, মা।

- মন দিয়ে পড়াশোনা করবি, ঠিক আছে? - হুম।

শিক্ষাই আমাদের সম্বল।

সেটা থাকলে কেউ আমাদের কিছু করতে পারবে না।

ওরকম নীচ লোকেরা ঘেউ ঘেউ করতেই থাকবে।

কিন্তু তুই সেসবে বিচলিত হোস না।

বুঝেছিস?

হুম!

শিব, সাব-ইন্সপেক্টর

দুনিয়ার যত দামি স্কচই খাও না কেন,

এই গ্রামের তাড়ির নেশার ধারেকাছেও আসবে না, এইচকে!

আর সাথে একটু ঝাল আচার, আহা!

অর্ডারটা ঠিকমতো দেখেছো তো?

- ইনি কি সত্যিই সাব-ইন্সপেক্টর? - হ্যাঁ ইনিই। চুপ কর!

যে গলা পর্যন্ত মদ খেয়ে

মাটিতে গড়িয়ে পড়ে সে হলো মাতাল।

মাতালদেরও টেবিল ম্যানার্স থাকা উচিত!

ছয় মাস এই লোকের সাথে থাকতে হবে? আমাদের কপাল খারাপ!

হোগা দিয়ে লাল সুতা বের হবে!

হুম!

টেবিল ম্যানার্স মানে কী বোঝো তুমি?

এই! চোরের দল!

- শোন! - কে রে?

আজই এই জায়গা খালি করবি।

নাহলে টেবিল, ফ্যান, চেয়ার সব বাইরে ফেলে দেব!

দেখলে, এই হলো আসল মাতাল!

অ্যাঁ?

পুরো বোতল খেয়ে এখানে এসে হাঙ্গামা করছে।

কেউ ওকে বুঝিয়ে বলো এটা থানা, আর বাড়ি পাঠিয়ে দাও।

আসলে স্যার, ও ঠিক জায়গাতেই এসেছে।

ও উগ্র নরসিংহ, এই বাড়ির মালিক।

সরকার ছয় মাস ধরে ওকে ভাড়া দেয়নি,

তাই সেটা চাইতে এসেছে!

তাহলে এসো, কথা বলি।

আজ অন্তত আমার বকেয়া ভাড়াটা দিবি নাকি?

মিস্টার উগ্রনরসিংহ।

থানার বকেয়া ভাড়া সরকারের কাছে চাইতে যান, আমাদের কাছে না!

আমাকে বোকা ভাবছো নাকি?

নিজের বউ চুমু না দিলে,

কেউ কি শাশুড়ির কাছে গিয়ে চাইতে যায়?

- কথাটা তো ঠিকই বলেছে! - হ্যাঁ স্যার!

আমি কে জানো? নরসিংহ! উগ্র নরসিংহ!

এই নরসিংহ! বেশি বাড়াবাড়ি কোরো না!

এখনই লক-আপে ঢুকিয়ে দেব!

কী? আমাকে লক-আপে? উগ্র নরসিংহকে?

সোজা আঙ্গুলে ঘি উঠবে না দেখছি,

আমি সিদ্দাইয়ার কাছে নারকেল দিতে যাচ্ছি

উনিই আমাকে ন্যায় বিচার দেবেন!

চলো সবাই!

চলো!

সবাই নিজের সমস্যা নিয়ে থানায় আসে

আর এই লোক থানার সমস্যা নিয়ে কোন সিদ্দাইয়ার কাছে যাচ্ছে?

শালার এই সিদ্দাইয়া কে?

স্যার! তওবা করুন!

উনি আমাদের গ্রামের পুরোহিত!

স্বয়ং শিবের রূপ!

ওনার জন্যই এই গ্রামে অপরাধ মাথা তুলতে সাহস পায় না!

উৎসব থেকে শেষকৃত্য, ঝগড়া থেকে ভোজ

সবকিছুতেই আগে ন্যায়ের জন্য ওনার কাছেই যাই আমরা!

ওনাকে দেখেননি, তাই ঠাট্টা না করে চুপ থাকাই ভালো!

- কী কথা বললেন স্যার! - একবার সিদ্দাইয়ার সাথে দেখা করতেই হবে ওনার!

গুরুজি, আপনিই তো আমার মেয়ের নাম রেখেছিলেন।

আপনার চোখের সামনেই বড় হয়েছে ও।

এখন বিয়ের বয়স হয়েছে ওর।

আপনার আশীর্বাদই চাই আমরা।

শিগগিরই ওর বিয়ে দিন।

আপনার বংশ এগিয়ে যাবে

গুরুজি, আপনার কথামতোই আমরা ভাইয়েরা আজ শান্তিতে আছি

জমি বা সম্পত্তি নিয়ে কোনো ঝগড়া নেই

সবটাই আপনার আশীর্বাদের ফল!

সব কৃপা ওনার!

আমার কিছু না।

অশুভ লক্ষণ!

এত সবুজে ভরা একটা গ্রামে,

সে একটা প্রাণের খোঁজে এসেছে।

যেখানে মানুষ শান্তিতে বাস করে

সেখানে সে বলি খোঁজে।

গ্রামের পুকুর রক্তে লাল হয়ে যাবে।

কয়েক দশক ধরে দাঁড়িয়ে থাকা গাছগুলো ছাই হয়ে যাবে।

আর এই হাজার মানুষের গ্রামে

মৃত্যু নেচে উঠবে!

সে এসে গেছে

সে এসেছে!

দানবটা এসে গেছে!

- এইচকে - স্যার?

সিদ্দাইয়া বললো, শিবলিঙ্গের ওপর

একটা মরা কাক পড়ার মানে পুরো গ্রামের সর্বনাশ!

- তুমি এসব বিশ্বাস করো? - অবশ্যই, স্যার।

কে বলেছে সেটা তো দেখুন? সিদ্দাইয়া, আমাদের জীবন্ত ঈশ্বর!

আরে! হাই-টেনশন তারে ধাক্কা খেয়ে কাক মরে পড়ে গেছে।

এতে গ্রামের সর্বনাশ কী করে হয়?

সিদ্দাইয়া কিছু বললেই তোমরা সবাই চোখ বুজে বিশ্বাস করে নাও।

তাই তো উনি নিজেকে ঈশ্বর মনে করে ঘুরে বেড়ান!

এসব নিছক কুসংস্কার, আর কিছু না।

স্যার, ওনার সম্পর্কে এভাবে বলবেন না।

উনি শিক্ষিত। এম.এড., স্যার

ভাগ্য আর বিশ্বাস নিয়ে ঠাট্টা করতে নেই স্যার।

করলে ঈশ্বর নিজের মতো করে জবাব দিয়ে দেন।

প্রভু সিদ্দাপ্পা, এই লোকের মুখের কথা ক্ষমা করে দিন, না বুঝে বলে ফেলেছে।

তাহলে এখন গ্রাম বিপদে আছে?

আমি বলছি না স্যার, সিদ্দাইয়া বলেছেন!

বাই!

আজকে হাসছে!

গুড মর্নিং!

গুড মর্নিং!

একটা কথা জানো?

কী?

গতকাল রাতেও ভূতটা আসেনি!

সত্যি?

তাহলে হয়তো তোমার মধ্যে এমন কোনো শক্তি আছে যা ওকে দূরে রাখছে!

ওর স্কুল পথেই তো পড়ে, চাইলে ওকে নামিয়ে দিতে পারি।

না না, এত কষ্ট করার দরকার নেই।

ঠিক আছে।

কষ্টের কিছু না।

স্কুল তো আমার পথেই পড়ে।

আমিই নামিয়ে দেব ওকে।

তুমি তো খালি ভূতের কথাই বলে যাও,

নিজের চোখে কখনো দেখেছ?

আঙ্কেল! নিজে দেখিনি, কিন্তু পাশের বাড়ির বুড়িমা সব বলে দেয়!

তাহলে উনিই দেখেছেন? উনি কী বলেন, ভূত দেখতে কেমন?

মাথায় দুটো বড় শিং!

সামনে দুটো ভাঙা দাঁত!

লম্বা লম্বা নখ!

কালো গায়ের রং!

আর গলায় মাথার খুলির মালা!

এক হাতে ছুরি

আরেক হাতে জ্বলন্ত মশাল

মাথায় সবসময় আগুন জ্বলে!

দেখতে খুবই ভয়ংকর!

সবাই ওকে কল্লি দেবা বলে ডাকে

ও বাচ্চা আর সুন্দরী মেয়েদের খুব পছন্দ করে।

একা পেলে পুড়িয়ে ছাই করে দেয়!

কী হলো আঙ্কেল?

কি-কিছু না, মা...

ভূত-টুত বা কল্লি দেবা বলে কিছু নেই

ভয় পেলে বা কোনো সমস্যা হলে আমাকে বলবে!

- ঠিক আছে - তুমি এখনো বাচ্চা।

পড়াশোনায় মন দাও।

আচ্ছা।

তোমার ব্যাগটা নাও

নিজের খেয়াল রেখো, ঠিক আছে?

আঙ্কেল, একটু দাঁড়াবেন?

আসুন না! বলছি।

- এই! আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছ? - আসুন না!

বেল্লি!

আমার বাবার সাথে দেখা করুন!

আমার বাবা এসেছেন।

এখন থেকে উনিই আমার হয়ে সই করবেন।

এখন থেকে আমার মায়েরও কারো সাহায্য লাগবে না।

এখানে কী হচ্ছে এসব?

শালা লুচ্চা! উচিত শিক্ষা পেয়েছে!

বাই, বাবা!

এই, থামো, দাঁড়াও!

এখানে এত হাঙ্গামা কীসের? কেন ঝগড়া করছ?

আপনি কে, স্যার?

আমি পুলিশ, তোমাকে জেলে ঢুকিয়ে দেব!

- কী হয়েছে? - এই শালার মুখে কোন লাগাম নেই!

এই বাইনচোদ আমাদের জমির পানি চুরি করেছে!

এভাবে মুখ চালিও না!

একটা বাচ্চার সামনে কীভাবে কথা বলতে হয়, জানো না?

এখানে তো কোনো বাচ্চা দেখছি না, স্যার!

সবার সামনে আমাকে বাবা বলে ডাকল ও।

এখন পর্যন্ত দশবার এই কথাটা বললে।

যখন ও আমাকে 'বাবা' বলে ডাকে, ভেতরে কিছু একটা নড়ে ওঠে।

একধরনের আনন্দ লাগে।

আমাদের যদি একটা সন্তান থাকতো,

আজ সে বেল্লির মতোই হতো, তাই না?

এই...

তুমি পার্বতীকে বিয়ে করলেই তো পারো?

এই!

কী আজেবাজে কথা!

তোমার কাছ থেকে এটা আশা করিনি!

মানে

অন্তত তাহলে বেল্লি সবসময় তোমার সাথেই থাকবে।

একটু বুঝেশুনে কথা বলো।

আমি তোমার বউ, আর আমিই বলছি এটা করতে,

আর কী চাই তোমার?

ওকে বিয়ে করার ব্যাপারে আমার কোনো আপত্তি নেই,

ব্যাপারটা হলো, কে বলবে ওকে এই কথা?

ওহহো!

তাহলে তুমি ওকে বিয়ে করার কথা ভাবছিলে, তাই না?

আমি কি প্রথমে বলেছি? তুমিই তো শুরু করলে...

আমি তো মজা করছিলাম।

রাগ করছ কেন? আমি কী করে জানবো মজা করছিলে?

তুমি যা বললে তারই জবাব দিলাম

এভাবে বলতে চাইনি!

তুমিই তো ওভাবে ভাবছ!

আচ্ছা, থাক।

স্যার... স্যরি।

যা হয়েছে শুনেছি।

স্কুলে সবার সামনে বেল্লির আপনাকে ওভাবে ডাকা উচিত হয়নি।

ও যখন আমাকে ওই নামে ডাকল, একটুও খারাপ লাগেনি আমার।

এর জন্য স্যরি বলার দরকার নেই।

আমাদের বাড়ি হাসানে, স্যার।

বেল্লির জন্মের মাত্র একমাস পরই ওর বাবা খুনের মামলায় জেলে যায়।

তারপর থেকে আমরা এখানে থাকছি, সবাইকে বলেছি, ও বিদেশে কাজ করে।

বেল্লি এখন বড় হচ্ছে।

ও পৃথিবীটা বুঝতে শুরু করেছে।

বাবা চাওয়ার চেয়েও বেশি,

ও চায় না মানুষ আমাকে খারাপ চোখে দেখুক।

যাই হোক, ওসব থাক।

আপনি কখনো নিজের পরিবারের কথা বলেননি।

মানে, জানি আপনি পুলিশ।

কিন্তু আপনার বিয়ে হয়েছে?

সবসময় একা থাকেন কেন?

নাকি আপনার স্ত্রী আপনার গ্রামের বাড়িতে আছেন?

কী করেন উনি?

আ-আমি বিবাহিত।

ওহ!

আমার স্ত্রী এক বছর আগে মারা গেছে।

গাড়ি দুর্ঘটনায়।

হ্যালো, রূপা...

হ্যালো, কী হলো? শুনতে পাচ্ছ?

হ্যালো, রূপা!

হ্যালো!

ও-ও যখন মারা যায়,

তখন ছয় মাসের অন্তঃসত্ত্বা ছিল।

আমার... আমার স্কিজোফ্রেনিয়া আছে

মানসিক অসুখ।

যখন কোনো কিছু খুব গভীরভাবে নিয়ে ফেলি,

যাদের ভালোবাসি তারা আমাকে ছেড়ে চলে গেলে

তখনও তাদের দেখতে পাই আমি।

মানে আপনি বলতে চাইছেন...

এখনো আপনার স্ত্রীকে আপনার চারপাশে দেখতে পান?

ও তো বেঁচে আছে, তাই না? ও ওখানেই আছে, স্যার!

দেখুন, ও বেঁচে আছে, স্যার!

শিভু, নিজের মায়া থেকে বেরিয়ে এসো।

চার ঘণ্টারও বেশি হয়ে গেছে ও মারা গেছে।

শহরে কত শান্তিতে ছিলাম আমি,

আর তুমি আমাকে এই অজপাড়া গাঁয়ে টেনে নিয়ে এলে!

তোমার তো সমস্যা নেই! আমাকেই এক মাইল হাঁটতে হয়!

তাহলে হয়তো তোমার মধ্যে এমন কোনো শক্তি আছে যা ওকে দূরে রাখছে!

মনে হচ্ছে ও পুরোপুরি গুলিয়ে ফেলেছে সব।

ওকে আমাদের সাথে চা খেতে ডাকো।

রূপা জিজ্ঞেস করছে,

আপনি আমাদের সাথে এক কাপ চা খাবেন কিনা।

পরে দেখা হবে।

বেল্লি, এখন পড়তে বসার সময়।

কেন মা? আর পাঁচ মিনিট!

অনেকক্ষণ তো খেললি!

এত তাড়াতাড়ি টেনে নিয়ে যাচ্ছ কেন?

মা!

কেন ওকে এসব বললে?

এবার নিশ্চয়ই ও বেল্লিকে তোমার থেকে দূরে রাখবে।

ঠিক আছে।

তুমিই তো ওকে বুঝিয়ে বলবে, তাই না?

বেচারি বউ চুলার কাছে আমার অপেক্ষায় আছে!

ওগো বউ!

অনেকক্ষণ অপেক্ষা করালাম, এই নাও চাল নিয়ে এসেছি।

মাঝেমধ্যে একটু চড়াভোগ নিয়ে এলে সংসার চলবে কী করে?

আমার কিছু করার নেই!

গ্রামে কেউ মরলেই আমি কিছু বাড়ি নিয়ে আসতে পারি!

মৃত্যুর অপেক্ষায় বসে থাকলে আমাদের বাচ্চার খিদে মেটাবে কে?

তাহলে বলো, আমি কী করব?

আমি যা বলি তাই করো।

সাবধানে যেও।

আচ্ছা, ভাই।

বিদায়

বলেছিলাম না?

দেখো এখন, তালা মেরে চলে গেছে।

হ্যালো...

কোথায়?

কে হতে পারে?

কে জানে!

পুরো বিয়ের সাজে সেজে আছে!

কে জানি না, হনুমান, পুরো মুখটা পোড়া।

- সত্যি? - হুম।

সিদ্দাইয়ার ভবিষ্যদ্বাণী সত্যি হয়ে গেল।

কোনো কল্লি দেবাই ওকে নিয়ে গেছে!

তাই নাকি?

হ্যাঁ

প্রভু সিদ্দাইয়া, আমাদের রক্ষা করুন!

গুরুজি।

আপনি যা বলেছিলেন ঠিক তাই, গ্রামে ভয়ংকর কিছু শুরু হয়ে গেছে।

এখন আমরা কী করব?

চাই বা না চাই, এর মুখোমুখি হতেই হবে।

এই গ্রাম একটা দানবের কবলে পড়ে গেছে।

গুড মর্নিং, স্যার!

স্যার

সবাই বলছে কল্লি দেবাই ওকে নিয়ে গেছে।

সিদ্দাইয়াকে ডাকব, স্যার?

হ্যাঁ, স্যার?

দেহাবশেষ নিতে, তাই না?

লাশটা প্রথম কে দেখেছিল?

স্যার, এই লোকটা... বাসাপ্পা! এদিকে এসো!

স্যার...

কাঠ কুড়োতে এসে প্রথম দেখেছিল ও।

তুমিই প্রথম দেখেছিলে? রেকর্ড করলে আপত্তি নেই তো?

আমি কোনো ঝামেলায় পড়ব না তো, স্যার?

চিন্তা কোরো না! কিছু হবে না।

আমরা পুলিশ, ভরসা রাখো।

ও বয়ান দেবে, স্যার।

এইচকে, লিখে নাও।

কী লিখব, স্যার?

রিপোর্ট, লিখো!

রিপোর্ট? সেটা আবার কী, স্যার?

নিয়মকানুন জানো না? রিপোর্ট লিখো!

- অ্যাঁ? - এই!

ওহ! ওই রিপোর্টের কথা বলছেন! মাথায়ই আসেনি!

- কলম আর খাতা। - এই, ওটা তো আমার খাতা!

- ১৫ তারিখ, বৃহস্পতিবার, খুব ভোরে... - হ্যাঁ।

রাক্ষসপুরের পূর্বে ইয়েম্মেগুড্ডা জঙ্গলে,

কাঠ কুড়াতে আসা... নামটা কী যেন?

বাসাপ্পা, স্যার।

বাসাপ্পা একজন অজ্ঞাতপরিচয় মহিলার লাশ খুঁজে পায়।

লাশের মুখ পোড়া, চেনার উপায় নেই।

বয়স আনুমানিক ২০ থেকে ২৫?

২৫, স্যার।

আনুমানিক বয়স

হাত আর পায়ের গোড়ালিতে দড়ির দাগ আছে।

মনে হচ্ছে, এটা খুনের মামলা।

আরও বিস্তারিত জানার জন্য লাশটা পাঠাতে হবে

সরকারি হাসপাতালে, পোস্ট-মর্টেম করাতে হবে।

লিখে নিয়েছ সব?

হ্যাঁ স্যার।

ফরেনসিকে খবর দিয়েছ?

অ্যাঁ? বিদেশ? বিদেশ কেন স্যার?

অপরাধ কম বলে সব নিয়মকানুন ভুলে গেছো!

আমি ফরেনসিকের কথা বলছি!

হ্যাঁ স্যার, খবর দিয়েছি! ওরা আসছে।

অ্যাম্বুলেন্স?

জানানো হয়েছে স্যার, বললো, আধঘণ্টা দেরি হবে।

আধঘণ্টা দেরি? অ্যাম্বুলেন্স তো দূরে না, তাই না?

সমস্যা কী, স্যার? লাশের জন্য তাড়াহুড়ো করার কী দরকার?

এই!

স্যরি, স্যার!

এই পাহাড়ে পৌঁছানোর কতগুলো রাস্তা আছে?

অনেকগুলো, স্যার।

স্যরি।

আমাকে স্যরি বলছেন কেন? ছাড়ুন। ঠিক আছে, স্যার।

স্যার, ভুল বুঝবেন না।

আপনার ভালোর জন্যই বলছি,

এই জঙ্গলে আপনি যা খুঁজছেন, সেটা মানুষ না

সেটা কল্লি দেবা।

গত সপ্তাহে, ওই ইয়েম্মেগুড্ডা পাহাড়ে,

কুম্বাদকি নানজাপ্পা নিজের চোখে দেখেছে ওকে।

প্লিজ বিশ্বাস করুন, স্যার।

সিদ্দাইয়ার নামে শপথ করে বলছি!

নানজাপ্পা,

তুমি বলেছিলে কল্লি দেবা দেখেছ, ইন্সপেক্টরকে বলো কোথায় দেখেছিলে।

পাহাড়ের বটগাছটার কাছে

খালি মাথাটা জ্বলছিল, স্যার!

গুরুজি, আমার মেয়ে তিন দিন ধরে নিখোঁজ।

সব জায়গায় খুঁজেছি,

সত্যিই খুব ভয় পাচ্ছি, গুরুজি।

তোমার বংশ বাঁচানোর একটা সহজ উপায় দেখিয়েছিলাম,

শোনোনি তুমি।

ওপরের ঈশ্বর সব দেখছেন।

অশোক কোথায়?

পাঁচ দিন ধরে নিখোঁজ, স্যার।

ওই বোকাটা? ওর বাড়ি তিন নম্বর রাস্তায়।

এটাই ওর বাড়ি।

তুমি এখানেও আমার পিছু নিলে?

চেপে রাখতে পারলাম না, স্যার, আসতেই হলো।

তোমার সাথে কথা বলিনি।

আমার সাথে না?

তাহলে এখানে আর কে আছে?

কার সাথে কথা বলছিলেন?

শালা আসলেই একটা পাগল!

এমএলএ আসছেন।

হ্যাঁ, ইন্সপেক্টর কাল বলছিলেন....

বিলিয়াপ্পা, এই তো উনি আসছেন।

স্যার..

গুরুজিকে তো বলেছি, আমার মেয়ে নিখোঁজের কথা।

আপনাকে এখানে ডাকার কী দরকার ছিল?

শুধু একটা নিয়মরক্ষা, স্যার।

কীসের নিয়মরক্ষা?

যে মারা গেছে, সে হয়তো আপনার মেয়ে না-ও হতে পারে।

কিন্তু প্লিজ, একবার দেখে নিন, যদি হয়ে যায়...

হায় খোদা, আমার মাণিক, আমার মেয়ে!

গুরুজি বলেছিলেন, তোমার তাড়াতাড়ি বিয়ে দিতে হবে।

- ইনিই এমএলএ স্যার। - নমস্কার।

ইনি আমাদের থানার নতুন ইন্সপেক্টর।

খবরটা শুনেছ?

জঙ্গলে যে লাশ পাওয়া গিয়েছিল, সেটা নাকি এমএলএ-র মেয়ে।

কী?! আমাদের এমএলএর মেয়ে?

হ্যাঁ, কল্লি দেবাই ওকে নিয়ে গেছে!

কতবার সাবধান করেছি রাতবিরেতে বেরোতে না?

কল্লি দেবা এমএলএ-র মেয়েকে নিয়ে গেছে!

ভেতরে যাও সবাই!

এভাবে ভয়ে ভয়ে আর কয়দিন বাঁচবো?

প্রতিটা দরজায় সিদ্দাইয়ার পবিত্র নারকেল বেঁধে দিই!

হ্যাঁ, এতে আমরা রক্ষা পাব।

দেখা যাক এখন কোন কল্লি দেবাের সাহস হয় আসার!

এমএলএ-র মেয়ের মৃত্যুর তিন দিন হয়ে গেল।

পুরো গ্রাম ভয়ে জড়সড়।

- কোনো অগ্রগতি? - হ্যাঁ স্যার।

শোভার মাথায় ভারী রড দিয়ে আঘাত করা হয়েছিল

আর শুধু ওর মুখই পুড়িয়ে দেওয়া হয়েছিল

কিন্তু মৃত্যুর পর না।

বেঁচে থাকতেই মুখ পুড়িয়ে, যন্ত্রণা দিয়ে মারা হয়েছে ওকে।

শোভাকে এক জায়গায় খুন করে অন্য জায়গায় ফেলে দেওয়া হয়েছে।

খুনি গাড়ি ব্যবহার করে লাশ সরিয়েছে।

- সত্যি? - হতে পারে।

অপরাধস্থলের চারপাশে গাড়িটা ঘুরিয়েছিল

স্পষ্ট টায়ারের দাগ আছে।

আর বোঝা যায় খুনি নার্ভাস ছিল

সম্ভবত এটাই ওর প্রথমবার, স্যার।

গাড়ি পেছনে নেওয়ার সময় একটা গাছে ধাক্কা দিয়েছিল।

সেখানে টেইল ল্যাম্পের টুকরো পাওয়া গেছে।

আর কালো রঙের দাগ।

এটা একটা কালো পুরনো গাড়ি!

সেই জায়গায় পৌঁছাতে খুনির কাছে অনেক রাস্তা ছিল, স্যার।

কিন্তু গাড়িতে করে যাওয়ার মতো রাস্তা মাত্র দুটো।

একটা হলো কামাগাড্ডা রোড, চার কিলোমিটার লম্বা।

সেই রাস্তার শেষে একটা ফরেস্ট চেক-পোস্ট আছে, স্যার।

আমি গতকাল রাত থেকে এখানে ডিউটিতে আছি, স্যার।

কোনো গাড়ি এই চেক-পোস্ট পার হয়নি, স্যার।

আমরা যে গাড়ির কথা সন্দেহ করছি তেমন কিছু এখান দিয়ে যায়নি।

আরেকটা ছোট রাস্তা হলো কালাইয়ার জমির মধ্য দিয়ে।

আমি সেখানেও খোঁজ নিয়েছি।

এই জমি আমিই পাহারা দিই।

এমন কোনো গাড়ি এদিক দিয়ে আসেনি, স্যার।

গ্রামবাসীরা বলে যাচ্ছে এটা কোনো ভূতের কাজ...

কল্লি দেবাই ওকে নিয়ে গেছে!

নিশ্চয়ই কল্লি দেবা!

কল্লি দেবা!

নাহলে ওই কল্লি দেবা বা কোনো আত্মা!

হে ঈশ্বর!

কিন্তু জিজ্ঞাসাবাদের সময় একটা নাম বারবার উঠে এসেছে, স্যার।

কোন নাম?

জঙ্গলে অশোককে দেখেছিলাম, স্যার।

আমার মেয়ে সবসময় জেদ করত, বলত অশোককেই বিয়ে করবে।

চিন্তা কোরো না, আমি আছি তোমার সাথে।

তোমার বাবা যা পারে করুক গে!

বাবা...

এমএলএ ওদের কথা জানার পর অশোককে মারধর করা হয়।

প্লিজ ওদের বলো, অশোককে ছেড়ে দিতে!

প্লিজ বাবা!

বাবা!

ছয় মাস জেলে থাকলে সোজা হয়ে যাবে!

মিথ্যা মামলায় ফাঁসিয়ে ছয় মাসের জন্য জেলে পাঠানো হয় ওকে।

স্যরি, স্যার।

জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর অশোকের মধ্যে প্রচণ্ড রাগ জমেছিল।

এখানে সই করো।

এখন অন্তত নিজেকে শুধরে নাও।

শালা এখনো ঠান্ডা হয়নি।

শোভার বাবাকে কষ্ট দিতেই ও তাড়ি খেয়ে নেশায় ডুবে থাকত।

এমএলএ ধর্মান্না আর ওর মেয়ে শোভা,

এই দুজন আমাকে জেলে পাঠিয়েছিল।

ওদের ছাড়ব না! দুজনকেই খুন করব!

আর এই ভেঙ্কটেশ এর প্রত্যক্ষদর্শী।

অশোক শোভাকে বোঝায় যে ও এখনো ওকে ভালোবাসে,

ওকে বিশ্বাস করিয়ে ফেলে।

শোভা, তোমার নাম বুকে খোদাই করে রেখেছি!

তবু আমাকে ছেড়ে যেতে চাও?

ওকে পালিয়ে যেতে রাজি করায়।

শোভার মৃত্যুর মাত্র দুদিন আগেও ওরা একসাথে ছিল।

জঙ্গলে শিকার করতে গিয়ে অশোককে একটা মেয়ের সাথে দেখেছিলাম, স্যার।

সেদিন থেকেই অশোক পলাতক।

ওর পরিচিত সবার কাছে খোঁজ করেছি।

কিন্তু কারো কাছেই ওর কোনো খবর নেই।

আমার নিশ্চিত, সেই খুনি অশোক এখনো,

ওই ইয়েম্মেগুড্ডা জঙ্গলের কোথাও লুকিয়ে আছে।

সূর্য ওঠার আগেই ওকে ধরব, স্যার।

কেসটা তুমি সত্যিই খুব ভালোভাবে সামলাচ্ছো,

এই কেসটা তাড়াতাড়ি বন্ধ করো।

শিভা, তুমি ওষুধগুলো ঠিকমতো খাচ্ছ তো?

- থমাস, ওর খেয়াল রেখো। - আচ্ছা স্যার।

- এই লক্ষ্মী! - কী?

শুনেছি এই পাহাড়ে নাকি সাপ, বিছে, এমনকি চিতাবাঘও আছে!

হ্যাঁ!

আর উনি চাচ্ছেন, আমরা এখানেই অশোককে খুঁজি!

এই ইন্সপেক্টর ভূতে বিশ্বাস করে না,

তাই আমাদের জঙ্গলে টেনে এনে মেরে ফেলার তালে আছে!

হ্যাঁ, ঠিক বলেছ!

কল্লি দেবাের প্রথম শিকার যেন ওই মাতালটাই হয়!

হরি...

এই হরি!

কিছু বলছো না কেন?

কিছু বলো!

স-স্যার! স্যরি, স্যার!

বিলিয়াপ্পা।

স্যার!

কথা বলার আগে চারদিকে দেখে নাও!

- কষ্ট লাগে তো! - জি, স্যার!

স্যরি, স্যার!

বিলিয়াপ্পা, টর্চটা নিজের মুখে ধরো!

হরি, তুমি কোথায় গিয়েছিলে?

ওর কী হলো, স্যার?

ও একাই খুঁজতে চেয়েছিল, আমি না করেছিলাম।

ওই লোকটা, তাই না?

এই অন্ধকারে আমরাই একে অপরকে দেখতে পাচ্ছি না

আর ও ভাবছে খুনিকে খুঁজে বের করবে!

সিদ্দাইয়া, আমাদের রক্ষা করুন!

শোনো, এইচকে!

কল্লি দেবাকে একা ছেড়ে দেওয়াই ভালো!

নাহলে ও আমাদের ছাড়বে না!

একবার নিজের কুলদেবীর নাম জপ করে নিই।

- হে ছায়াদেবী... - এই!

তোমার পা কাঁপছে কেন?

একজন পুলিশের সাহস আর বুকের পাটা থাকা উচিত।

এবার যাও, খোঁজো!

আমরা সবাই তোমার মতোই ভয় পাচ্ছি, শুধু দেখাচ্ছি না!

স্যার!

- কী হলো? - এখন আবার কী, হরিহর?

স্যার, আপনি বলেছিলেন অশোকই শোভাকে খুন করেছে

কিন্তু অশোকই তো এখানে মরে পড়ে আছে!

তাহলে ওকে কে খুন করল?

আমি তো শুরু থেকেই বলছি, এটা নিশ্চয়ই কল্লি দেবার কাজ!

কে জানে কল্লি দেবা আর কত প্রাণ নেবে!

ঠিকই তো! আর কত প্রাণ নেবে ও!

- এই, ফটোগ্রাফার! - জি, স্যার?

- মুখের একটা পরিষ্কার ছবি তোলো। - স্যার, কোন মুখ? সেটাই তো নেই!

ফরেনসিক টিমকে খবর দিয়েছ?

গুড মর্নিং, স্যার, আমরা ৩০ মিনিট আগেই এসে গেছি।

আর অ্যাম্বুলেন্স?

নমস্কার স্যার, অ্যাম্বুলেন্স চলে এসেছে।

আজ তোমরা সবাই এত তাড়াতাড়ি কী করে এলে?

স্যার, আমরা ওদের খবর দিয়েছি!

রিপোর্ট লিখে নাও।

লেখা হয়ে গেছে, স্যার।

কী লিখেছ?

এই মেয়েটার খুন শোভার কেসের মতোই একই প্যাটার্নের।

এই!

মিলে যায়, তাই না স্যার?

- তাই না? - হ্যাঁ!

বিস্তারিত লিখে নাও।

আচ্ছা, স্যার।

ভিকটিম কে?

স্যার, নারায়ণীর মেয়ে... টিচার চৈত্রা মঙ্গলবার থেকে নিখোঁজ।

গ্রামবাসীরা বলাবলি করছে এটা হয়তো ওই মেয়েই...

হায় হায়! আমার মেয়ে চৈত্রা!

- আমার মাণিক! - প্লিজ নিজেকে সামলান!

আমাকে ছেড়ে চলে গেলি রে মা!

তুই আমাকে মন্দিরে নিয়ে গিয়েছিলি,

রায়ারের পবিত্র সুতো আমার হাতে বেঁধে দিয়েছিলি!

আর এখন আমাকে একা ফেলে চলে গেলি!

স্যার, গ্রামবাসীরা যা বলছে তা কি সত্যি হতে পারে,

কল্লি দেবাই কি ওকে নিয়ে গেছে?

আগে লাশটা পোস্ট-মর্টেমে পাঠাও

কল্লি দেবা হোক বা কোনো খুনি, সেটা পরে দেখা যাবে!

এই বাচ্চারা! সবাই তাড়াতাড়ি বাড়ি ফিরে যাও!

কেউ বাইরে থাকবে না! ভেতরে গিয়ে দরজা বন্ধ করো!

বেল্লি! পুরো গ্রাম ভয়ে ঘরে বন্ধ হয়ে বসে আছে

আর তুই রাস্তায় খেলছিস?

ভেতরে যা! জলদি!

প্লিজ, আর মাত্র দুমিনিট!

- এখনই যা বলছি! - বাবা এসেছে।

একবার শুধু ওনার সাথে কথা বলি।

কাকে বাবা বলছিস তুই, অ্যাঁ?

দেবো একটা মার! ভেতরে যা, এখনই!

প্লিজ মা!

আরেকবার ওনাকে বাবা বললে দেখবি কী করি!

মা!

শোনো...

শোনো...

বেল্লির কথা ভাবছ?

তাহলে কী? কেসের কথা?

এভাবে যদি রাস্তার লোক বাড়িতে নিয়ে আসতে থাকো

তাহলে আমাদের নিজেদের সময়টা কোথায়?

কী করে তোমাকে জড়িয়ে ধরব?

কী করে তোমাকে আদর করব?

'সবাই বলছে কল্লি দেবাই ওকে নিয়ে গেছে'

'সিদ্দাইয়াকে ডাকব, স্যার?'

এত রাতে আমাকে খুঁজতে এতদূর চলে এলে?

পুরো গ্রামে সবাই কল্লি দেবার কথা বলছে

মানুষ বাইরে বেরোতেই ভয় পাচ্ছে

আপনি যা বলেছিলেন ঠিক তাই ঘটছে

এই কল্লি দেবা কি সত্যিই আছে?

আর বুঝতে পারি না, কোনটা সত্যি, কোনটা মায়া?

মানুষই তো মৃত আত্মাদের নাম দিয়েছে ভূত, প্রেত

আর কল্লি দেবা!

সেটা আছে কি নেই,

সেটা নির্ভর করে বিশ্বাসের ওপর।

মৃত্যু শরীরকে নিয়ে যায়, আত্মাকে নয়।

মৃত আত্মারা নিজেদের অস্তিত্ব জানান দিতে

আমাদের চারপাশের পাঁচটি প্রাকৃতিক শক্তি ব্যবহার করে

আর আমাদের মাঝেই ঘুরে বেড়ায়

শুধুমাত্র যাদের অন্তর্দৃষ্টি আছে,

তারাই সেটা দেখতে পায়।

এটা তো বিশ্বাস করার মতো না, স্যার।

বিশ্বাস করো বা না করো, আত্মারা এই মাটিতে হাঁটে।

তুমি যা খুঁজছ সেটা কোনো আত্মা না

কোনো মানুষ খুনিও না

সেটা কল্লি দেবা।

এই রাক্ষসপুরে বাঁচতে চাইলে

এই পবিত্র সুতো পরে থাকো, কখনো খুলবে না।

এটা একটা কালো পুরনো গাড়ি।

'দাগ পাওয়া গেছে'

এই!

এই!

তুমি?

আ-আমি খুন করিনি, স্যার!

বিশ্বাস করুন!

ভয়ে যা করেছি করেছি, কোন খুন করিনি, স্যার!

সত্যি বলছি, স্যার!

এই!

আমাদের কেমিস্ট্রি দারুণ জমছে, তাই না?

সত্যিই তুমি একজন বিজ্ঞান শিক্ষিকা প্রমাণ করছ!

এই চৈত্রা!

আমাকে বিয়ের কথা দিয়েছিলে, আর এখন আমাকেই ঠকাচ্ছো?

- চৈত্রা... - শোনো!

দেখো, যদি এমনই মনোভাব হয় তোমার

তাহলে তোমাকে আর তোমার পুরো পরিবারকে

রাস্তায় টেনে এনে অপমান করব!

প্লিজ, চৈত্রা!

'প্লিজ' বলে কাকুতি কোরো না!

- চৈত্রা, না! - আমি তিন মাসের অন্তঃসত্ত্বা!

পরদিন সকালে ওর মৃত্যুর খবর শুনে

সত্যিই স্বস্তি পেয়েছিলাম, স্যার!

কিন্তু...

লাশটা পোস্ট-মর্টেমে পাঠাও

এটা কল্লি দেবাআর কাজ

নাকি কোনো মানুষ খুনির, সেটা পরে দেখা যাবে।

আমি ভয় পেয়েছিলাম, যদি পোস্ট-মর্টেম রিপোর্ট বেরোয় তাহলে ধরা পড়ে যাব।

তাই চেয়েছিলাম, পুরো গ্রাম যা বিশ্বাস করে

আপনাকেও বিশ্বাস করাতে। কল্লি দেবাই ওকে খুন করেছে

এটা বোঝানোর জন্য আপনার বাড়ির কাছে সাদা ফসফরাস ব্যবহার করেছিলাম।

সেই আগুন আমিই লাগিয়েছিলাম।

এটুকুই করেছি আমি, স্যার।

আমি একটা সম্মানিত পরিবারের ছেলে, স্যার।

আমার মা-বাবা যদি ওর কথা জানতে পারতেন

লজ্জায় মরে যেতেন।

আমি আপনার ছাত্র না যে আপনার গল্পে ভুলে যাব।

স্যার...

আমি জানি আপনিই খুনি।

- স্বীকার করুন! - স্যার!

'তুমি যা খুঁজছ সেটা কোনো আত্মা না'

'কোনো মানুষ খুনিও না'

'সেটা কল্লি দেবা!'

শিভু! অনেক দিন পর!

কতদিন আগে পাশের গ্রামে বদলি হয়ে গেছ, এতদিনে সময় পেলে আমার সাথে দেখা করার?

এখানে আর কেউ নেই নাকি?

আর বোলো না! মাত্র চারজন মিলে এই থানা চালাচ্ছি!

কেউ এই গ্রামে বদলি হতেই চায় না

সরকার অনেকটা জমি দিয়েছে

কিন্তু সবটাই নষ্ট হয়ে আছে।

পেছনে একটা বড় এলাকাও আছে

সেখানে আমরা নিজেরাও পা রাখি না

তোমার কাছে কিছু তথ্য চেয়েছিলাম

এই গ্রামবাসীদের মাথায় কবে বুদ্ধি ঢুকবে?

একদম কুসংস্কারে গলা পর্যন্ত ডুবে আছে!

যেখানে তাপ আছে সেখানে বজ্রপাত হবেই, তুষার তো পড়বে না!

বজ্রপাত কোনো ভূতের সৃষ্টি না

এর পেছনে একটা বৈজ্ঞানিক কারণ আছে

এই গ্রাম, এই জঙ্গল, সবটাই একটা পাহাড়ের ওপর

জায়গাটা মেঘের কাছাকাছি।

বজ্রপাত ওপরে মেঘের মধ্যেই ঘটে

আর এটা তো সাধারণ ব্যাপার, তাই না?

তাহলে ওই হেডমাস্টারের মৃত্যু...?

গাছ আর্দ্রতা ধরে রাখে

আর সেগুলো বিদ্যুৎ পরিবাহী হয়ে যায়

হেডমাস্টার দুর্ভাগা ছিলেন

বেচারা ঠিক তখনই গাছের নিচে ছিলেন, আর মারা যান।

তাহলে বজ্রপাতের আলোয় যে ভূতুড়ে চেহারাটা দেখেছিলাম,

সেটা শুধুই আমার কল্পনা?

তুমি ঠিকমতো ওষুধ খাচ্ছ তো?

ঈশ্বরই জানেন গুরুজি কী বলেছেন আর তুমি কী বুঝেছ!

এইচকে, ওই দানব বা কল্লি দেবা যাই হোক না কেন,

একবার হাতে পেলে ওর বুক চিরে রক্ত খাব!

- তুমি করবে? - একটু দাঁড়াও!

সর্বনাশ! ভূত!

- কল্লি দেবা! - এই থামো!

ওটা ভূত না, কম্বল গায়ে দেওয়া বুসসা!

এইমাত্রই না বলছিলে ভূতকে ছিঁড়ে ফেলবে!

দেখো তো ওই লোকটাই কিনা

শান্ত হও, ও চলে যাচ্ছে।

ও চলে গেছে!

আমাকে দেখেই কেন এত ভয় পাও তুমি?

না স্যার, আপনি যা ভাবছেন তা না!

তাহলে দুটো খুনের জায়গাতেই কী করছিলে তুমি?

- স্যার, আমি কিছু করিনি! - বলো!

তাহলে আমাকে দেখে ভয় পাচ্ছ কেন?

আমি কোনো ভুল করিনি, স্যার!

- প্লিজ ছেড়ে দিন আমাকে! - সত্যিটা বলো!

স্যার, আমার স্বামীকে এভাবে ধরে রেখেছেন কেন? ছেড়ে দিন!

এই খুনগুলোর সাথে আপনার স্বামীর যোগসূত্র আছে!

- এখনই স্বীকার করো! - হে ঈশ্বর!

প্লিজ ওকে আঘাত করবেন না, স্যার!

জাতের নামে ওরা আমাদের গ্রামে পা রাখতেই দেয় না

কেউ আমাদের কাজও দেয় না

তাই সবাইকে খুন করে বেড়াও, তাই না?

- না স্যার! কখনোই না! - খুন? আমি কখনো তা করব না!

ও শুধু দেখতে গিয়েছিল কে মারা গেছে, এটুকুই!

গ্রামের জন্য মৃত্যু একটা ক্ষতি

কিন্তু মৃত্যু হলে আমরা চুপচাপ কৃতজ্ঞ থাকি

কারণ সেই শেষকৃত্যের ভোগ আর পয়সা দিয়েই

আমার বাচ্চাকে দুধ খাওয়াই আমি!

আমরা কোনো ভুল করিনি, স্যার, প্লিজ আমাদের ছেড়ে দিন

আমরা কোনো ভুল করিনি, স্যার

মিনতি করছি, আমরা আর কখনো গ্রামে পা রাখব না

বলেছিলাম না, এই গ্রাম ছেড়ে অন্য কোথাও গিয়ে কাজকর্ম করি!

কিন্তু তুমি কখনো শোনোনি!

বেল্লি, বইয়ের দিকে তাকা!

উনি সবসময় আমাদের বাড়ির দিকেই তাকিয়ে থাকেন।

অনেক রাত হয়ে গেছে, ঘুমোবে না?

না।

খুনি কে হতে পারে তাই ভাবছে।

তোমরা দুজনেই তো জানো খুনি কে, তাই না?

ওনাকে বলে দিলেই তো হয়?

কীভাবে বলব?

আমরা তো শুধু ওনার মনের কল্পনা।

তুমি দুজনকেই কেন এখানে নিয়ে এলে?

তোমার সাথে একটু শান্তিতে থাকতেও পারি না

তোমরা তিনজন এখন ঝগড়া শুরু কোরো না

একটু ভাবতে দাও আমাকে।

কাল আমি আর ও একসাথে মেলায় গিয়েছিলাম

ও সেখান থেকেই এই দড়িটা কিনেছিল।

তাই নাকি?

- ইন্সপেক্টর এসে গেছেন। - রাস্তা করে দাও!

ইন্সপেক্টর এসেছেন! সরো!

আহা, কান্তরাজু...

ওনার পরিবারের কেউ আছে এখানে?

কেউ নেই, স্যার।

ওনার একটাই নাতনি ছিল, প্রীতি।

কাজের জন্য মহীশূর গিয়েছিল, আর ফেরেনি।

গ্রামের লোকজন বলাবলি করছিল ও নাকি কারো সাথে পালিয়ে গেছে।

সেই কষ্টেই কান্তরাজ গলায় ফাঁস দিয়ে আত্মহত্যা করলো।

এখন কেউ জানে না ও কোথায় বা কার সাথে আছে, স্যার।

এখন শুধু ওনার লাশটাই আছে, কোনো পরিবার নেই

যাক! অন্তত কল্লি দেবা এনাকে মারেনি!

প্রীতি।

ওকে শেষবার কে দেখেছিল?

- কে দেখেছিল ওকে? - স্যার, আমি দেখেছিলাম

স্যার, সোমবার মন্দিরের কাছে দেখেছিলাম

না, আমি মঙ্গলবার সন্ধ্যায় একটা অটোতে দেখেছিলাম।

কবে দেখেছিলে বললে?

স্যার, আমি মেলায় যাচ্ছিলাম,

সেটা ছিল মঙ্গলবার, ৬ তারিখ, স্যার।

'১৫ তারিখ, বৃহস্পতিবার সকালে...'

স্যার, নারায়ণীর মেয়ে... টিচার চৈত্রা মঙ্গলবার থেকে নিখোঁজ।

প্রীতির কী হয়েছে কোনো হদিশ নেই।

শোভার লাশ জঙ্গলে পাওয়া গিয়েছিল।

চৈত্রার লাশ গ্রামের মধ্যে পাওয়া গিয়েছিল।

একটা যোগসূত্র আছে এখানে।

কী যোগসূত্র, স্যার?

প্রীতি পালিয়ে গেছে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে কেন?

যদি ও খুনির হাতে পড়ে মারা গিয়ে থাকে?

কিন্তু স্যার, আমরা তো ওর লাশ কোথাও খুঁজে পাইনি।

ঠিক, লাশ পাওয়া যায়নি, কিন্তু ভাবো তো, এইচকে।

প্রীতি ৬ তারিখ, মঙ্গলবার নিখোঁজ হয়

তারপর ওর কী হয়েছে জানি না আমরা

তারপর শোভা ১৩ তারিখ নিখোঁজ হয়, সেটাও মঙ্গলবার।

ওর লাশ ১৫ তারিখ, বৃহস্পতিবার সকালে পাওয়া যায়।

চৈত্রা ২০ তারিখ নিখোঁজ হয়, আবারও মঙ্গলবার।

ওর লাশ ২২ তারিখ, বৃহস্পতিবার পাওয়া যায়।

মনে হচ্ছে না, খুনি মঙ্গলবারই টার্গেট করছে?

স্যার, আপনি এত নিশ্চিত হচ্ছেন কী করে?

ভেবে দেখো!

আজ এই গ্রামে নিশ্চয়ই কোনো বিপদ আসছে

কারণ আজ মঙ্গলবার।

শোনো, এইচকে।

বিপদ আসার আগেই পুরো গ্রামকে সতর্ক করো

- ঠি-ঠিক আছে স্যার। - মাইকে ঘোষণা করো।

- তাড়াতাড়ি করো, সময় নষ্ট কোরো না - ঠিক আছে স্যার

স্যার!

এইচকে, স্যারকে এত চিন্তিত দেখাচ্ছে কেন?

উনি বলছেন কোনো বড় বিপদ আসতে চলেছে।

হনুমান কোথায়?

আমি এই তো এখানে!

সবাই শুনুন!

ইদানীং যে খুনগুলো হচ্ছে,

সেই খুনি আমাদের মাঝেই ঘুরে বেড়াচ্ছে

বাড়ির মেয়েদের ঘরের ভেতরে নিরাপদে থাকতে বলুন।

কাউকে সন্দেহ হলে সরাসরি থানায় এসে আমাদের জানান।

বুঝেছেন?

- বুঝেছেন সবাই? - হ্যাঁ স্যার।

লক্ষ্মী, চলো। পরের গ্রামে যাই।

বিলিয়াপ্পা, ওখানে কী করছ তুমি?

লক্ষ্মী, ওই ইন্সপেক্টর হয়তো জানেন না

কিন্তু আমরা জানি

সব খুনগুলো কল্লি দেবােরই কাজ

আমাদের নিজেদের রক্ষা করতে হবে।

তাই এখানে একটা মন্ত্রপূত লেবু ঝুলিয়ে দিচ্ছি।

ভালোই তো!

স্যার!

- স্যার! - কী?

আমার স্ত্রী পালিয়ে গেছে, স্যার!

তোমার স্ত্রী? সত্যি?

আমার দ্বিতীয় স্ত্রী, স্যার!

দ্বিতীয় স্ত্রী, তাই?

আমার আর কেউ নেই, স্যার! প্লিজ ওকে খুঁজে দিন!

আমাদের বলে লাভ নেই।

সিদ্দাইয়াকে গিয়ে বলো।

- মিনতি করছি, স্যার! - ওঠো!

এই নাটক বন্ধ করো!

- স্যার! - ওঠো!

প্লিজ সাহায্য করুন, স্যার!

এটা আপনি যা ভাবছেন সে কেস না, স্যার

- হ্যালো... - নমস্কার স্যার।

টেলিফোন এক্সচেঞ্জ থেকে ফোন করছি

আপনার ফোন লাইন ঠিকমতো কাজ করছে কি না...

স্যারের সই হয়ে গেছে?

হে প্রভু! আমাদের থানায় যেন কোনো অমঙ্গল না আসে!

বিলিয়াপ্পা, আবার তোমার ওই ধোঁয়া!

পূজা করছ নাকি থানাটাই পুড়িয়ে দিতে চাইছ?

বলছি তো, আমার এই পূজাই থানাকে রক্ষা করছে!

হরিহর, ও এখনো বোঝেনি খুনের পেছনে কল্লি দেবাই আছে!

কী পাগল ইন্সপেক্টর একটা!

হ্যাঁ, আমিও ঠিক তাই ভাবছি!

হে ঈশ্বর, আমাদের বাঁচাও!

স্যার, এখনো পর্যন্ত কেউ কোনো অভিযোগ নিয়ে আসেনি।

সম্ভবত কেউ আসবে না।

আমার ডিউটি শেষ, চলি।

আপনিও যান।

এই! জোনাকি পোকা!

তোমরা সবাই কোথায় যাচ্ছ?

থামো বলছি!

মা...

খালি জোনাকি পোকা...

এই!

বেল্লি!

বেল্লি!

বেল্লি!

- ও এখন ঠিক আছে, এখন গিয়ে দেখা করতে পারেন। - ধন্যবাদ, ডাক্তার

কাকে খুঁজছো, মা?

আমার মা কোথায়?

তোমার মায়ের কী হয়েছে?

আমি আর মা যখন সেখানে ছিলাম

একজন লোক এসে ওকে নিয়ে গেল।

সে দেখতে কেমন ছিল?

ওর হাতে একটা জ্বলন্ত মশাল ছিল।

আর দেখতে একদম ভূতের মতো!

এই পবিত্র সুতোটা কোথায় বেঁধেছো?

আমি আর মা মন্দিরে গিয়েছিলাম... পুরোহিতই বেঁধে দিয়েছিলেন।

'তুই আমাকে মন্দিরে নিয়ে গিয়েছিলি,

রায়ারের পবিত্র সুতো আমার হাতে বেঁধে দিয়েছিলি‌।

'স্যার, সোমবার মন্দিরের কাছে দেখেছিলাম'

আমি আমার মাকে চাই!

কেঁদো না, মা।

আমি তোমার মাকে ফিরিয়ে আনব।

বাবা...

তুমি আমার মাকে ফিরিয়ে আনবে, প্রমিস?

প্রমিস!

তোমার মা যেখানেই থাকুক, আমি ওকে খুঁজে তোমার কাছে ফিরিয়ে আনবই।

নমস্কার, ইন্সপেক্টর

গ্রামে শুনেছিলাম আপনি নাকি নাস্তিক

মন্দিরে আপনাকে দেখে অবাক হলাম!

আসতেই হলো।

মন্দিরের কাছে সন্দেহজনক কাউকে দেখেছেন?

তাহলে প্রার্থনার জন্য না, জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এসেছেন!

ওরকম লোকজন ঈশ্বরের কাছে কেন আসবে?

ওখানে কী আছে?

পবিত্র মন্দির।

শুধু গুরুজিরই ভেতরে ঢোকার অনুমতি আছে

তাও বছরে মাত্র একবার।

স্বামীজি!

গুরুজি আপনাকে ডাকছেন!

পরে দেখা হবে।

এইমাত্রই তো আসলাম ওখান থেকে, আবার কেন ডাকছেন?

পবিত্র মন্দিরের পথ

'প্রীতি পালিয়ে গেছে বলে ধরে নেওয়া হচ্ছে কেন?'

'যদি ও খুনির হাতে পড়ে মারা গিয়ে থাকে?'

'কিন্তু স্যার, আমরা তো ওর লাশ কোথাও খুঁজে পাইনি'

হ্যালো...

স্যার, নিশ্চিত হয়ে গেছে, আমি খুঁজে পেয়েছি...

এই সব খুন আর অপহরণের পেছনে আছে।

কে সেটা?

সিদ্দাইয়া, স্যার।

সিদ্দাইয়া?

তুমি সিরিয়াসলি বলছ?

ওনার এরিয়ার ভেতরেই একটা লাশ পেয়েছি।

পুরো গ্রাম যাকে ঈশ্বরের মতো পূজা করে!

সেটাকেই নিজের সুবিধার জন্য ব্যবহার করেছেন উনি, স্যার।

কল্লি দেবার দোষ দিয়ে মানুষকে বোকা বানাতেন উনি।

গিয়ে গ্রেফতার করো ওনাকে, বাকিটা আমি দেখছি।

জি, স্যার।

আঙ্কেল...

আঙ্কেল...

আ-আমার বাবার কী হয়েছে, আঙ্কেল?

যতই ডাকছি, উনি উঠছেন না।

আমার সত্যিই খুব ভয় করছে।

আঙ্কেল, আপনার কাছে আঠা আছে?

মাথাটা জুড়ে দিলে বাবা উঠে পড়বেন।

বাবা...

দেখো, আঙ্কেল এসেছেন, বাবা।

এত বছর ধরে সিদ্দাইয়াকে দেখছি

কখনো শুনিনি ওনার কোনো সন্তান আছে।

কে জানে এই ছেলেটা কে।

- সিদ্দাইয়া অন্য গ্রাম থেকে এসেছিলেন। - সত্যি?

হয়তো ওখানে ওনার সন্তান ছিল, কে জানে!

সিদ্দাইয়া তো আমাদের ঈশ্বরের মতোই ছিলেন!

এমন মৃত্যু ওনার প্রাপ্য ছিল না।

১৫ বছর সিদ্দাইয়ার সাথে কাজ করেছি

কখনো শুনিনি ওনার কোনো সন্তান আছে।

কিন্তু ঈশ্বর চুপ থাকেন না, কোনো পাপই ওনার চোখ এড়ায় না।

এটা এমনি এমনি শেষ হবে না।

তুমি কে?

সিদ্দাইয়াকে কেন খুন করলে?

- আমি বাবাকে চাই। - কেঁদো না

- আমার বাবা... - তুমি না মারলে কে মেরেছে?

আ-আঙ্কেল... আমি বা-বাবাকে চাই...

ওনার সাথে তোমার সম্পর্ক কী?

আমার বাবা...

- আমি বাবাকে চাই... - শোনো!

বারবার একই কথা বলা বন্ধ করো!

বা-বাবা...

- শোনো... - বাবা!

- বাবা! - এই!

শোভাকে চেনো তুমি?

চৈত্রাকে চেনো?

বাবা...

- এই, চুপ কর! - বাবা!

- চিৎকার কোরো না বলছি! - বাবা!

বুট দিয়ে লাথি মারব!

ইশ! ধুর!

এই লোকটা পাগলের মতো 'বাবা বাবা' করে চিৎকার করছে!

স্যার, ও পুরোপুরি মানসিক রোগী!

ধমক দিলেই প্যান্টে মুতে দেয়!

ঠিকমতো সামলালে ও কথা বলবে।

ধুর!

এসপি এসেছেন।

স্যার!

- স্যার! - স্যার!

এফআইআর করেছ?

স্যার, এই লোকটা মানসিক রোগী!

নিজের নাম-ঠিকানা কিছুই বলছে না, শুধু 'বাবা বাবা' করে কাঁদছে।

ওকে খুঁজতে কেউ এসেছিল?

এখনো পর্যন্ত আসেনি, স্যার।

ওর কাছ থেকে জেনে নাও ও কেন সিদ্দাইয়াকে খুন করেছে।

কিন্তু ওর অবস্থা দেখে মনে হচ্ছে সেটা সম্ভব?

স্যার, ঠিকমতো সামলালে হয়তো একটা সূত্র পাবো।

প্লিজ, একটা সুযোগ

শিভা, শিক্ষিত মানুষের মতো কথা বলো!

ভুলে যেও না যাকে ধরেছ সে একজন মানসিক রোগী!

প্রমাণ ছাড়া কীভাবে গ্রেফতার করবে ওকে?

বিশ্বাস করুন, স্যার, ওকে কথা বলাবই আমি।

শুধু আরেকটু সময় দিন, স্যার। প্লিজ।

তুমি কি হুঁশে কথা বলছ নাকি নেশার ঘোরে বকছ!

স্যার, পার্বতীকে খুঁজে বের করতেই হবে, প্লিজ আর দুঘণ্টা দিন।

তাতেই হবে...

মিস্টার! কোনো ভুল হলে সেটার দায় আমার উপর আসবে!

- শোনো, থমাস! - স্যার?

ওকে ক্রাইম স্পটে নিয়ে যাও।

ঠিকমতো জিজ্ঞাসাবাদ করে তাড়াতাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে এসো।

আচ্ছা স্যার।

এই! থামো!

ক্যাপটা দাও!

এই! ক্যাপ ধরবে না!

কী পাগলের পাল্লায় পড়লাম!

বড় হয়ে আমি পুলিশ হব!

পুলিশ?

তুমি পুলিশ হবে?

তোমার বয়স কত?

ছয়!

এই! আমার বন্দুকে হাত দিচ্ছ কেন?

গুলি করতে!

গুলি করতে?

তুমি গুলি করতে জানো?

আমারও একটা বন্দুক আছে!

আ-আমার ব্যাগে!

তোমার ব্যাগে আর কী আছে?

পেন্সিল, কলম, বই...

ছ-ছবি!

হ্যাঁ স্যার।

শোনো, থমাস, তোমার সাথে থাকা লোকটা মানসিক রোগী না।

- আঙ্কেল, আমাকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে চলুন! - স্যার, আপনার কথা শুনতে পাচ্ছি না!

থমাস, তোমার সাথে থাকা লোকটা মানসিক রোগী না, ও ভান করছে।

- আমি বাবাকে দেখতে চাই! - এই, চুপ কর!

শুনতে পাচ্ছি না, স্যার!

এই, চুপ!

- এই চুপ কর! - স্যার, শুনতে পাচ্ছেন?

ও খুবই বিপজ্জনক লোক, থমাস!

স্যার, স্পষ্ট শুনতে পাচ্ছি না।

- স্যার... হ্যালো, স্যার! - আমাকে বাবার কাছে নিয়ে চলুন!

ও পাগলটার ভাই, ছোট হতে পারে বা বড়।

কিন্তু ও পুরোপুরি সুস্থ, থমাস!

হ্যালো...

- স্যার, শুনতে পাচ্ছেন? - আমাকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে চলুন!

থমাস!

আমাকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে চলো!

চুপ করবি?

আমাকে বাড়ি ফিরিয়ে নিয়ে চলো!

ও বারবার কোনো বড় বা ছোট ভাইয়ের কথা বলছিলো

এই, তোমার কোনো ভাই আছে? বড় বা ছোট, যে কেউ?

এই, থামো!

থামো! এই!

স্যার, কী হয়েছে?

থমাস!

বিজি!

থমাস!

অরুণ!

কী করছিস?

দাদা...

দাদা, রক্ত!

এই, আমার রক্ত না! অন্য কারো

আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম!

এই আদি, আর এই অরুণ

চিরকাল একসাথে!

দাদা, আমি এটা এঁকেছি।

এটা তুমি আর আমি, তাই না?

সুন্দর হয়েছে?

হ্যাঁ, সুন্দর

অরুণ, খাসনি কেন?

খেতে চাই না।

না খেলে পরে দুর্বল লাগবে

খেতে চাই না।

আর কী চাই... ওহ!

আমি ভালো করেই জানি তুই আসলে কী চাস

বুঝতে পেরেছিস?

আরে!

এত ভয় পাচ্ছো কেন?

কেন এখানে এনে আমাকে এভাবে অত্যাচার করছেন?

অত্যাচার? কীসের অত্যাচার?

আমার ছোট ভাই তোমাকে পছন্দ করে

তাই তোমাকে এখানে এনেছি, তোমাদের দুজনের বিয়ে দিতে।

জানো ও তোমার জন্য কতটা পাগল?

অরুণ।

সরকারি হাইস্কুল সিঙ্গানাল্লুর

এটাই সেই স্কুল যেখানে ওই মানসিক লোকটা পড়েছিল!

একজন মানসিক রোগী কীভাবে পড়াশোনা করতে পারে?

হয়তো করেছিল!

হ্যাঁ, এটা আমাদের স্কুল।

আমাদের জানতে হবে ওই দুজন লোক কারা,

কোন ব্যাচ বললে হয়তো দেখতে পারি

প্রায় ২০ বছর আগে এখানে পড়েছিল ওরা।

আদি আর অরুণ

এইতো পেয়েছি।

বাবার নাম... সিদ্দারাজু

বেত্তাদাপুরা গ্রাম।

ওকে শাড়িটা দাও, ভাই।

এই! একটু দাঁড়াও!

দেখো ওর উত্তেজনা!

দেখছ না, ও অপেক্ষা করছে?

ভেতরে গিয়ে তাড়াতাড়ি এই শাড়িটা পরে নাও

এই নাও।

যাও

যাও না!

স্বামীজি, আপনাকেই আমাদের পথ দেখাতে হবে

শুনুন, ওই জমিটা মন্দিরে দান করা হয়েছিল

ওটা ছেড়ে দিন।

আপনাদের সবার জমি দরকার, তাই না?

আমি আমার আরেকটা জমি আপনাদের দিয়ে দেব।

ওখানে গিয়ে চাষ করুন।

ঠিক আছে?

ধন্যবাদ, স্যার!

যাও এখন।

সরো, তাড়াতাড়ি!

নমস্কার।

নমস্কার।

আপনি কে?

এখানে কী মনে করে?

এখানে সিদ্দাইয়া নামে কেউ থাকতেন?

হুম...

ওহ, সিদ্দাইয়া!

হ্যাঁ, হ্যাঁ! উনি এই বাড়িতেই থাকতেন।

প্রায় ২০ বছর আগে গ্রাম ছেড়ে চলে গিয়েছিলেন।

জানেন, এই দুজন কার সন্তান?

হুম...

ওহ! সিদ্দাইয়ার সন্তান!

বেচারা, ওর একটা সমস্যা ছিল।

সাবধান, পড়ে যাবি!

পা সামলে!

ঠিক আছে!

অরুণ, সাবধান!

অরুণ! এভাবে খেললে ব্যথা পাবি!

দাদা!

রক্ত!

সাবধানে খেলতে বলেছি না?

কিছু হবে না।

কাঁদিস না।

এই গাছটা তোকে ফেলে দিয়েছে, তাই না?

বড় হয়ে আমি ওই নীল জামা পরা মেয়েটাকেই বিয়ে করব!

এই! ও তোকে বিয়ে করতে পারবে না!

আমি ওকেই বিয়ে করব!

দূর হ, পাগল কোথাকার!

ও পাগল না!

ওকে মারা বন্ধ কর!

এই!

কে বলেছে আমার ছোট ভাইয়ের বিয়ে হবে না?

ও যাকে পছন্দ করবে তার সাথেই আমি ওর বিয়ে দেব!

কী বাজেভাবে আমার ছেলেকে মেরেছে!

ওর পুরো মুখ রক্তে ভেসে গেছে!

কেমন ছেলে বড় করেছেন আপনি!

ও একটা পাগল!

একে মানসিক হাসপাতালে ভরে দিন!

ওদের গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়াই ভালো!

চলে যাও! এই গ্রাম ছেড়ে দাও!

তোমার মতো লোকের এই গ্রামে জায়গা নেই

তুমি যা করেছ তার জন্য ঈশ্বর তোমাকে ক্ষমা করবেন না।

কেন ওই ছেলেগুলোকে এভাবে মারলে?

মা মারা যাওয়ার আগে

আমাকে একটাই কথা বলেছিলেন, 'তোর ছোট ভাইয়ের খেয়াল রাখিস'

কেউ ওর সম্পর্কে একটা খারাপ কথাও বললে

আমি নিজেকে ধরে রাখতে পারি না!

তাই মেরেছি ওদের।

তুমি ভালো ছেলে, তাই না?

আর এমন কোরো না।

বুঝেছ?

ও একদম ঠিক আছে

শুধু নিজের ভাইকে খুব বেশি ভালোবাসে

মায়ের শেষ কথাটা খুব সিরিয়াসলি নিয়েছে।

এই বয়সের বাচ্চারা এমনই হয়, জানেন তো

একটু চিকিৎসা করলেই ঠিক হয়ে যাবে।

আচ্ছা, ওর ছোট ভাই এখন কোথায়?

আরে, কী হয়েছে?

চিন্তা কোরো না, তোমাদের দুজনকে কখনো আলাদা হতে দেব না।

ডাক্তার, আপনি কী বলছেন এসব?

জিজ্ঞেস করলাম, ওর ছোট ভাই এখন কোথায়?

আপনি পাগল নাকি?

ওখানে তো কেউ নেই!

আজেবাজে কথা বলে আমাকে বিরক্ত করবেন না!

ওর ছোট ভাই মারা গেছে এক বছর হয়ে গেল!

কী?

তুমিও একই কথা বোলো না!

ও ওখানেই দাঁড়িয়ে আছে।

একদম তোমার পাশে।

তুমি ওকে দেখতে পাচ্ছো না কেন?

ওখানে কেউ নেই!

তুই চিন্তা করিস না

বড় হলে, তুই যাকে পছন্দ করবি তার সাথেই তোর বিয়ে দেব।

চিকিৎসার পর, আদি সম্পূর্ণ সুস্থ হয়ে গিয়েছিল।

ও এখান থেকে কবে আর কার সাথে গিয়েছিল?

ওর বাবা জানুয়ারিতে ওকে নিয়ে গিয়েছিলেন, এখানে সব লেখা আছে

সিদ্দাইয়া আমাদের কাছে ঈশ্বরের মতোই ছিলেন

কিন্তু এখন সেই একই লোকের দানব ছেলে গ্রামের জন্য অভিশাপ হয়ে উঠেছে!

ঠিকই বলেছেন!

- এইচকে। - স্যার?

সিদ্দাইয়া তো এমএসসি পাশ ছিলেন, তাই না?

হ্যাঁ স্যার।

তাহলে উনি টিপসই দিল কেন?

আর তাও বাঁ হাতের বুড়ো আঙুল দিয়ে?

ওনার ডান হাতের বুড়ো আঙুল ছিল না, তাই বাঁ হাতেরটা ব্যবহার করতেন

আমাদের গ্রামে কার ডান হাতের বুড়ো আঙুল নেই?

কার নেই?

সিদ্দাইয়ার ডান হাত, সিদ্দারাজু!

কেমন ছেলে বড় করেছেন আপনি?

- ও পাগল! - একে মানসিক হাসপাতালে ভরে দিন!

ওদের গ্রাম ছেড়ে চলে যাওয়াই ভালো!

চলে যাও! এই গ্রাম ছেড়ে দাও!

- আমার কিছু চাই না। - এই!

তুই এখানে করছিসটা কী?

আমার ছোট ভাইয়ের সাথে খেলছি

তোকে কতবার বলব?

তোর ভাই কবেই মরে গেছে!

আহ্, আমার বুড়ো আঙুল!

আমার ছোট ভাইয়ের সাথে যে লাগবে তাকে ছাড়ব না!

শোনো, বাবা!

একটা আঙুল হারালেও তোমার আরো আছে

কিন্তু আমার তো মাত্র একটাই ছোট ভাই আছে!

বুঝেছ?

- প্লিজ, ডাক্তার! - থামো, ওঠো!

আমি ইতিমধ্যে একটা ছেলে হারিয়েছি।

এখন ওই আমার সব।

মিনতি করছি, ডাক্তার।

সময় লাগলে লাগুক।

প্লিজ আমার ছেলেকে সুস্থ করে দিন, ডাক্তার!

প্লিজ সুস্থ করে দিন!

কোথাও যাচ্ছেন, স্বামীজি?

একটা সুখবর আছে! ফিরে এসে বলব!

আচ্ছা, দেখা হবে।

১৫ বছর হয়ে গেল আমরা একসাথে বসে খাইনি

বাবা, তিনটা থালা কেন?

ছোট ভাই, মনে হচ্ছে বাবা জানেন না

আমরা সবসময় একই থালা থেকে খাই

নে, খাঋ

না, খেতে চাই না।

এই, আয়!

না, খেতে চাই না!

বাবা এত ভালোবাসা দিয়ে এটা বানিয়েছেন আমাদের জন্য

খেয়ে নে।

গুরুজি।

ওকে এভাবে দেখলে আমার ভয় লাগে

সিদ্দারাজু,

তোমার ছেলে আমার নিজের ছেলের মতোই।

আমিই ওর দেখাশোনা করবো।

হে শিব!

ওকে আমার কাছে থাকতে দাও

গুরুজি...

'স্বামী, গুরুজি আপনাকে ডাকছেন'

পরে দেখা হবে।

এই সিদ্দারাজু!

তোমার ছেলে রাতে লুকিয়ে কোথায় যেন যায়, কে জানে!

ঘরভর্তি বাচ্চাদের চুরি করা খেলনা!

আমার প্রবল সন্দেহ এসবের পেছনে ওই আছে!

কান্তরাজার নাতনি, ধর্মান্নার মেয়ে, আর

নারায়ণের মেয়ে যেদিন মন্দিরে আমার সাথে দেখা করতে এসেছিল

পরদিনই সবাই নিখোঁজ হয়ে গেছে!

আর পরে, ওদের লাশ পাওয়া গেছে!

এভাবে বলবেন না, গুরুজি!

আমার ছোট ভাই ওদের পছন্দ করেছিল বলেই ওদের নিয়ে গিয়েছিলাম আমি!

এই বোকা!

তোর ভাই কবেই মরে গেছে!

এই কল্পনায় বাঁচা বন্ধ কর!

গুরুজি! কেন এভাবে বললেন?

- কী বললেন আপনি? - আদি, না!

মিনতি করছি, প্লিজ ওকে ছেড়ে দে!

একে তুমি কল্পনা বলছ?

কতবড় সাহস তোমার!

বাবা, মনে হচ্ছে কেউ এসেছে।

ছোট ভাইকে ভেতরে নিয়ে যাও, দেখো কেমন ভয় পেয়ে গেছে!

- নিয়ে যাও! - উহ্‌...

এ-এই, ভয় পেও না, আমি তোমার সাথে আছি, চলো...

তোমার ছেলে কোথায়?

ও যদি বাইরে খোলামেলা ঘুরে বেড়ায়, আরও মহিলা মারা যাবে!

তোমার ওই দানব ছেলে কোথায়?

তোমার কাছে ও দানব!

কিন্তু আমার কাছে, ও এখনো আমার ছেলে!

আমি ইতিমধ্যে একটা ছেলে হারিয়েছি।

আরেকটা হারাব না!

আমি কিছু বলব না, স্যার!

ও একটা কল্পনার মধ্যে বাস করছে!

ও কোথায়?

হয়তো আমাদের কাছে কল্পনা,

কিন্তু ওর কাছে না।

আমি কিছুই বলব না আপনাকে, স্যার!

এই!

পেছনে একটা বড় এলাকা আছে, আমরা নিজেরাও সেখানে যেতে ভয় পাই।

ওর ক্ষতি করবেন না, স্যার!

প্লিজ ওকে ছেড়ে দিন! মিনতি করছি!

প্লিজ, স্যার!

'তোমার ছেলে আমার নিজের ছেলের মতোই'

'আমিই ওর দেখাশোনা করব'

হে শিব...

ওকে আমার কাছে থাকতে দাও

আমার নাতনি মহীশূরে চাকরি পেয়েছে

প্লিজ ওকে আশীর্বাদ করুন।

ওর জন্য সবসময় আমার আশীর্বাদ থাকবে।

আমি ওকে চাই!

কী বললি?

এই!

ওকে কী করেছিস তুই?

ও বলছে, এখানে আর কেউ নেই!

তুমি বলো ওকে, বাবা।

আমার ছোট ভাই কি ওখানে নেই?

বলো, বাবা।

হ্যাঁ, ও-ও আছে...

ও আছে, তাই না?

ও আছে, তাই না?

অশোক!

বাবাকে না বলেই তোমার জন্য সব ছেড়ে চলে এসেছি।

তুমি আমার খেয়াল রাখবে তো, অশোক?

অবশ্যই।

অশোক!

- আমার ছোট ভাই ওকে পছন্দ করেছিল... - তুমি কে?

- ...ওকে এখন কোথায় নিয়ে যাচ্ছ তুমি? - অশোক! ছেড়ে দাও ওকে!

ওখানে তো কেউ নেই।

প্লিজ আমাকে ছেড়ে দাও!

আমার ভাইকে বিয়ে করতে হবে,

নাহলে মর, শালি!

'দাদা, ওই টিচারকে আমার সত্যিই পছন্দ হয়েছে।'

'তুমি কি ওকে রাজি করাতে পারবে আমাকে বিয়ে করতে?'

- বাবা, প্রার্থনা করুন। - হে ঈশ্বর।

- শোনো... - দাদা...

- ও সত্যিই তোমাকে পছন্দ করে! - ওখানে তো কেউ নেই।

এই!

সবাই একই কথা বলে!

সাবধান, ছিটকে যাবে!

ছিটকাবে না, মা!

দুষ্টু মেয়ে! আমার কথা কখনো শুনিস না।

পার্বতী...

সবাই বলছে ও এখানে নেই!

ও এখানেই আছে!

ও আমাদের সামনেই আছে!

এই কল্পনায় বাঁচা বন্ধ কর!

তোর ছোট ভাইয়ের কোনো অস্তিত্বই নেই!

এই!

আঙ্কেল...

এত দূর কেন এলেন, আঙ্কেল?

আমার বাবার মাথাটা গায়ের সাথে জুড়ে দিয়েছেন?

আর সেই পুলিশটার কী হলো?

নাকি আবার কেউ নিখোঁজ হয়েছে?

পার্বতী কোথায়?

পা-

পা-

শিভুর বউ পার্বতীর কথা বলছেন?

আমাকে জিজ্ঞেস করে কী লাভ?

পার্বতী কোথায়, বল!

আঙ্কেল...

কী হয়েছে?

ব্যথা পেয়েছেন?

নিশ্চয়ই পেয়েছেন!

পার্বতী!

পার্বতী!

পার্বতী!

পার্বতী, তুমি কোথায়?

শিভা তোমার জন্য এসেছে!

এসো, শিভা!

এসো, আমার কাছে!

পার্বতী কোথায়?

বুঝতে পারছো না, তাই না?

আঙ্কেল...

এসব করার কী দরকার তোমার?

প্রীতি, শোভা, চৈত্রা, ওদের ভদ্রভাবেই বলেছিলাম

আমার ছোট ভাইকে বিয়ে করতে।

ওরা বলল আমার ছোট ভাইয়ের কোনো অস্তিত্বই নেই।

নিজেদের সৌন্দর্য নিয়ে খুব অহংকার ছিল ওদের।

তাই...

পুড়িয়ে দিয়েছি ওদের।

আর পার্বতীর কথা বলতে গেলে...

বাবা...

'তুমি আমার মাকে ফিরিয়ে আনবে, প্রমিস?'

'ফিরিয়ে আনব, প্রমিস।

'প্রমিস‌

এই, আঙ্কেল থামো!

পার্বতী তোমার কী হয়, অ্যাঁ? কেন আমাকে এভাবে মারছ?

ওর তো স্বামী নেই..

তুমি বিয়ে করেছিলে ওকে? নাকি... নিজের জন্য রেখে দিয়েছিলে?

এই!

পার্বতী, তাই না?

পার্বতী!

একটা দানবের পিছু নিয়ে রাক্ষসপুরে এসেছ তুমি?

আমি... দানব না।

পার্বতী...

পার্বতী কোথায়?

চোখের রক্তটা মুছে দাও, দেখতে পাচ্ছি না।

পার্বতী কোথায়, বল!

যতই মারো, রক্তই বেরোবে, পার্বতী না।

শিভা আঙ্কেল!

পার্বতী.. পার্বতী..

'ওর কী সাহস! বলে, আমার ভাইয়ের অস্তিত্বই নেই!'

'নিশ্চয়ই ওদের খুব ভালোবাসত ও।'

মন থেকে সহজে সেই হারানোটা মেনে নিতে পারে না ওরা।

একটা কাল্পনিক জগতে বাস করে।

ভাবে, যারা মারা গেছে তারা এখনো ওদের সাথেই আছে।

তোমার মতো লোক এটা বুঝবে না।

পার্বতী কোথায় বল, নাহলে...

তোমার ভাইকে মেরে ফেলব।

আ-আমার ছোট ভাইকে?

- হ্যাঁ, ওকেই! - আমার ছোট ভাই নিরাপদে আছে!

কী মজা লাগছে, অ্যাঁ?

এই!

হাসবে না!

এই!

কোথায় যাচ্ছো তুমি?

থামো!

দাদা!

ছেড়ে দাও ওকে!

অরুণ খুব দূর্বল, ছেড়ে দাও ওকে!

- দাদা! - ছেড়ে দাও!

ছেড়ে দাও!

ছেড়ে দাও ওকে! ও নির্দোষ একটা ছেলে!

ছেড়ে দাও!

দাদা!

দাদা!

ছেড়ে দাও ওকে!

পার্বতী কোথায় বল!

নাকি তোর ছোট ভাইকে মরতে দেখতে চাস?

আমি কিছু জানি না! ছেড়ে দাও ওকে!

জানিস না, তাই?

আঙ্কেল, ছেড়ে দাও আমাকে! দাদা!

এবার তোর জন্য তোর ভাই মরবে।

সর!

এই! ছেড়ে দাও ওকে!

ছেড়ে দাও!

ও নির্দোষ! ছেড়ে দাও!

পার্বতী কোথায়?

এই!

আমার ছোট ভাইকে ছেড়ে দাও!

ছেড়ে দাও!

ওকে ওদিকে নিয়ে যাচ্ছ কেন?

ওদিকে একটা খাদ আছে।

এই!

বল, পার্বতী কোথায়?

আমি জানি না!

ওকে ছেড়ে দাও!

নিচে ফেলে দেব! জলদি বল!

ও নির্দোষ! ছেড়ে দাও!

একটা ধাক্কা দিলেই ও শেষ! সোজা পড়ে যাবে!

এই!

না না না!

বলছি, ও কোথায় আছে...

ফুলের বাগানের কাছে, গাছটার পাশে! ওখানেই আছে!

এই, ওকে ওভাবে ছেড়ে দিও না!

আগে ওকে বাঁচাও!

এই!

ওকে বাঁচাও!

অরুণ!

দাদা...

চিন্তা করিস না, আসছি! আমি তোর সাথেই আছি!

- অরুণ! ওখানেই থাক, নড়বি না! - এসো, দাদা...

দাদা!

অরুণ!

দাঁড়া, আসছি!

আমার ভয় লাগছে!

কিছু হবে না, নিচে তাকাইস না!

ধরে থাক, আসছি, তোর দাদা আসছে!

আসছি, আসছি!

স্যার! স্যার!

স্যার!

আপনার পার্বতীকে তো পেয়ে গেছেন

এবার প্লিজ আমার ছোট ভাইকে বাঁচান, স্যার!

স্যার!

স্যার, কোথায় যাচ্ছেন?

পার্বতীকে তো পেয়েছেন, তাই না স্যার?

ও নির্দোষ, স্যার। প্লিজ ওকে বাঁচান!

ওকেও বাঁচান, স্যার!

স্যার! স্যার!

তোর সর্বনাশ হোক! ওকে বাঁচা!

বললাম ওকে বাঁচা!

বাঁচা ওকে, শালা!

স্-স্যার, প্লিজ!

স্যার!

স্যার! ওকে এখানে ফেলে যাবেন না! বাঁচান!

ধুর! অরুণ...

দাদা!

ওখানেই থাক! নড়িস না! তোর কিছু হবে না।

দাদা!

এই!

অরুণ!

দাদা!

ধরে থাক! আমি আসছি!

দাদা! আমাকে বাঁচাও!

অরুণ!

দাদা!

এসো!

অরুণ!

আসছি!

- দাদা! - অরুণ!

দাদা!

অরুণ!

না!

অরুণ...

আমি সবসময় তোর সাথেই থাকব...

হাই, বাবা!

- নাস্তা করেছ? - হ্যাঁ, করেছি।

- কী খেলে? - উপ্পিট্টু আর কেসরি বাথ।

বাবা, তোমাকে একটা কথা জিজ্ঞেস করি?

করো।

মানুষ বলে তোমার নাকি একটা বিশেষ ক্ষমতা আছে?

কী ক্ষমতা?

বলে... তুমি নাকি মৃতদের দেখতে পাও, সত্যি?

বলো না!

এটা কি সত্যি, বলো!

কী হলো?

-- অনুবাদ ও সম্পাদনায় -- ~জাহিদ হাসান~

Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.