All language subtitles for Gentleman-Nani...2016

af Afrikaans
ak Akan
sq Albanian Download
am Amharic
ar Arabic Download
hy Armenian
az Azerbaijani
eu Basque
be Belarusian
bem Bemba
bn Bengali Download
bh Bihari
bs Bosnian
br Breton
bg Bulgarian
km Cambodian
ca Catalan
ceb Cebuano
chr Cherokee
ny Chichewa
zh-CN Chinese (Simplified)
zh-TW Chinese (Traditional)
co Corsican
hr Croatian
cs Czech
da Danish
nl Dutch
en English Download
eo Esperanto
et Estonian
ee Ewe
fo Faroese
tl Filipino
fi Finnish
fr French
fy Frisian
gaa Ga
gl Galician
ka Georgian
de German
el Greek
gn Guarani
gu Gujarati
ht Haitian Creole
ha Hausa
haw Hawaiian
iw Hebrew
hmn Hmong
hu Hungarian
is Icelandic
ig Igbo
id Indonesian Download
ia Interlingua
ga Irish
it Italian
ja Japanese
jw Javanese
kn Kannada
kk Kazakh
rw Kinyarwanda
rn Kirundi
kg Kongo
ko Korean
kri Krio (Sierra Leone)
ku Kurdish
ckb Kurdish (Soranî)
ky Kyrgyz
lo Laothian
la Latin
lv Latvian
ln Lingala
lt Lithuanian
loz Lozi
lg Luganda
ach Luo
lb Luxembourgish
mk Macedonian
mg Malagasy
ms Malay
ml Malayalam Download
mt Maltese
mi Maori
mr Marathi
mfe Mauritian Creole
mo Moldavian
mn Mongolian
my Myanmar (Burmese)
sr-ME Montenegrin
ne Nepali
pcm Nigerian Pidgin
nso Northern Sotho
no Norwegian
nn Norwegian (Nynorsk)
oc Occitan
or Oriya
om Oromo
ps Pashto
fa Persian
pl Polish
pt-BR Portuguese (Brazil)
pt Portuguese (Portugal)
pa Punjabi
qu Quechua
ro Romanian
rm Romansh
nyn Runyakitara
ru Russian
sm Samoan
gd Scots Gaelic
sr Serbian
sh Serbo-Croatian
st Sesotho
tn Setswana
crs Seychellois Creole
sn Shona
sd Sindhi
si Sinhalese
sk Slovak
sl Slovenian
so Somali
es Spanish
es-419 Spanish (Latin American)
su Sundanese
sw Swahili
sv Swedish
tg Tajik
ta Tamil
tt Tatar
te Telugu
th Thai
ti Tigrinya
to Tonga
lua Tshiluba
tum Tumbuka
tr Turkish
tk Turkmen
tw Twi
ug Uighur
uk Ukrainian
ur Urdu
uz Uzbek
vi Vietnamese
cy Welsh
wo Wolof
xh Xhosa
yi Yiddish
yo Yoruba
zu Zulu

Original subtitles

সাবটাইটেল ক্রিয়েটর-- Akash Ahmed facebook.com/TollyAkash

অনলাইনে এটার কোনো ইংরেজী সাবটাইটেল নেই। তেলুগু ভাষার উপর সামান্য জ্ঞান ছিলো...

সেই জ্ঞান কাজে লাগিয়ে, মুভি শুনে শুনে সাব করা। কোনো অনুবাদ নয়।

সো... ঠিকঠাক লাইন এড+টেক্সট বসানো দিয়ে অনেক বেশি সময় লেগেছে। +ভুল-ত্রুটিও একটু আছে।

কিছু ক্ষেত্রে তেলুগু ফ্রেন্ডদের সহায়তা নিয়েছি। সীমিত কিছু সিনের অর্থ মোটামুটি অনুমান করেও বসানো লেগেছে...

থ্যাংক্স টু Kanaka Lakshman Surapaneni facebook.com/Kanaka.Lakshman.1997

অলসো থ্যাংক্স Sri Datta... my Telugu Friend facebook.com/Sri.Datta.731

যতটা সম্ভব ভালো করার চেষ্টা করেছি। তেমন একটা ভুল থাকার কথা নয়। আশা করি মুভি+সাব ২টাই ভালো লাগবে। :-)

মূল অভিনেতা নানি... হিরো নাকি ভিলেন?? আশা করি এটা আপনাকে শেষ পর্যন্ত ভাবাবে।

সাউথ ফ্যানরা জয়েন করুন আমাদের গ্রুপে-- www.facebook.com/groups/SouthFansBD

চা অথবা কফি?

ম্যাম...

ওহ, আই অ্যাম সরি... কফি... ব্ল্যাক... চিনি ছাড়া।

আমার জন্যেও.... ব্ল্যাক কফি, চিনি ছাড়া।

আমি ঐশ্বরিয়া।

Hi... আমি ক্যাথেরিন।

আচ্ছা... আমাদের কি আগে কোথাও দেখা হয়েছে??

কেনো জিজ্ঞাসা করছো?

কেনো জানিনা এরকম মনে হচ্ছে...

হয়তো আমাদের দেখা হওয়াটা ভাগ্যেরই লিখন... তাই এরকম মনে হচ্ছে।

কি জানি.... তোমার সাথে অনেক্ষণ ধরেই কথা বলার চেষ্টা করছি। কিন্তু তুমি হেডফোন কানে নিয়ে, চোখ বন্ধ করে আছো।

হ্যাঁ। ফ্লাইটে ইলেক্ট্রনিক গ্যাজেট আমি অপছন্দ করি। গান শুনতে বেশি পছন্দ করি...

আমিও তাই...

তো... কোথা থেকে ফিরছো? লন্ডন নাকি আমেরিকা?

লন্ডন... ছোট-খাটো একটা ট্রেনিং প্রজেক্টের কাজে এসেছিলাম, ভিএফএক্স আর্টিস্ট হিসেবে। সিনেমাতে ভিজ্যুয়াল এফেক্টের কাজ...

তুমি কোথা থেকে ফিরছো?

আমেরিকা থেকে... কিছু আত্মীয় থাকে, দেখা করতে এসেছিলাম। শীঘ্রই আমার বিয়ে।

ওয়াও... অভিনন্দন!

তুমি কি বিবাহিত?

না...

বয়ফ্রেন্ড আছে?

হ্যাঁ! :D

আমার একটা আইডিয়া আছে। শুনবে?

লং জার্নির বিরক্তি কাটাতে... তোমার বয়ফ্রেন্ডের সম্পর্কে তুমি বলো আর আমার হবু বর সম্পর্কে আমি বলবো।

কাম অন! জাস্ট ফর ফান!

আচ্ছা...

আগে তুমি!

কি! আমি?

অবশ্যই... আইডিয়া আমি দিয়েছি, কে শুরু করবে সেটাও আমি ঠিক করবো।

ঠিক আছে...

আসলে.... একটু সিনেমার মতো গল্প!

তাহলে তো আরো ভালো!

তার নাম...

গৌতম.... গৌতম বলছি।

এই শামিয়েল, এই নে ধর... গৌতম কথা বলছে।

এই গৌতম...

শ্যাম.... দোস্ত... ১০ সেকেন্ডেই কার পার্কিং এ ঢুকছি।

এই... আমার বিয়ে পার্কিং এ নয় রে...

তোর বিয়ে না হওয়াই ঠিক ছিলো! আমার পার্কিং এর টাকা বাঁচতো আর তোর বিয়ের টাকা... ফোন রাখ!

ব্যাপার কি! এই ভাঙাচোড়া গাড়ি তো জাদুঘরে থাকার কথা... এখানে কি!

যীশুখ্রিস্ট কি বলেছে জানিস? যার বেশি টাকা আছে, তার স্বর্গে জায়গা নেই।

ঠিকই বলেছে... তোর জন্যেও এখানে জায়গা নেই। একবার দেখেক...

অডি, ভেঞ্জি, BMW... এটার জায়গা নরকে...

নরকের কথা কি বলছিস বারবার? সামনেই তো স্বর্গ...

বাদ দে তোর স্বর্গ-নরকের গল্প... তুই পার্কিং কর, আমি আসছি...

এই এই... এখানে জায়গা নেই...

এই.... চেপ্পু চেপ্পু.... (চেপ্পু অর্থ বলো, আবার চপ্পল/চেপ্পুল অর্থ স্যান্ডাল)

হঠাৎ করে কিভাবে বলবো? ফিলিংস হলো না এখনো...

এই... আমার চেপ্পাল (স্যান্ডাল)... হিল ভেঙে গেলো...

ওহ... স্যান্ডাল...

ওহ গড... কি করবো এখন!

কি করবা মানে!

এটার উচু অংশ ভেঙে গেছে মানে ওটারও উচু অংশ ভেঙে ফেলতে হবে...

এই যে দেখো! দারুণ না!

বাহ... আগের থেকে কত পাতলা আর কত সুন্দর দেখাচ্ছে! তাইনা?

আমাদের ভালোবাসার ১ম গিফট হিসেবে রেখে গেলো মনে হচ্ছে...!

এই গৌতম... আমার বিয়ের ফটো এসে গেছে রে....

তোর ফটো তোর কাছে রাখ! আমাকে বলিস কেনো!

তোর পছন্দের সেই মেয়েও আছে ফটোতে...

কি বললি!

নাম ক্যাথরিন... আমার বিয়েতে এসেছিলো মনে নেই তোর?

জীবনে সব বিষয়ে ভুলে গেলেও, এ বিষয়ে কি ভোলে কেউ?

এই, দাঁড়া রে...

ক্যাথরিন... হ্যাঁ?

এই যে ওর ডিগ্রী সার্টিফিকেটের কপি দেখেক... আমার বউয়ের বান্ধবী, একসাথে ডিগ্রী করেছে...

এ দেখে কি করবো! কোথায় থাকে, কোথায় চাকরি করে সেটা বল...

আহমেদাবাদ থেকে এমবিএ করেছে মানে... নিশ্চয়ই কোনো মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানিতে কাজ করে। তোর মতো আজাইরা কাম না।

আরেহ এইসব ডিগ্রী-ফিগ্রী দেখে প্রেম-ভালোবাসা হয় না.... এখন তুই আমাকে বলবি নাকি আমিই খুঁজে বেরবো?

-কি?? -ঠিকানা!

কি করো? কোথাও বেরোচ্ছো নাকি?

আমি আর এ বাসায় থাকছি না...

থাকছো না মানে! আমার গাড়ী-বাড়ি সবই তো তোমার... আমাকে বিয়ে করো আর এখানেই থাকো...

আমাদের রীতিতে মামা-ভাগ্নী বিয়েতে তো কোনো আপত্তি নেই ডার্লিং!

আগেকার রীতির গল্প বাদ দাও, এখন রীতির পরিবর্তন হয়েছে। দূর হও....

তাহলে...?

সম্মান করে মাবাইয়াহ না বলে মামা বলো... তাহলে একটা অন্যরকম টেস্ট পাবো বোঝোই তো... :3

ক্যাথরিন দাঁড়াও... দাঁড়াও ক্যাথরিন... দাঁড়াও...

রাস্তার মাঝে সিনক্রিয়েট করো না!

তোমার প্রতি আমার কত ফিলিং, জানো তুমি?

কেমন ফিলিং তা ভালো করেই জানি! ছোটকাল থেকেই তো দেখছি...!

তোমাকে মেরেই আটকাতে হবে তাহলে?!

কে রে তুই!?

শালা তোর আজ খাইছি!

সবকিছু বেশি দ্রুত হয়ে গেলো না!

আরেহ... সে আমার মামা!

কি! মামা?!!

এই! তুই যারে এবার...

তুমি কেনো এসেছো?

সে তোমার আপন মামা?

আরেহ হ্যাঁ! তুমি যাও এখন... সে একটা ক্রিমিনাল। মেরে ফেলাই উচিত!

তাহলে আর সমস্যা কি! মেরেই ফেলি!

প্লিজ যাও তো...

এই... এক মিনিট... এক মিনিট...

আরেহ কি করছো!

আরেহ যাও তো...

এন্ট্রিটাই ভালো হলো না, তাই দ্রুত এক্সিট হয়ে যেতে হলো...

কুরিয়ার... এই যে ম্যাডাম... এখানে স্বাক্ষর করুন।

-কিরে এটা? -কি জানি! প্রমোশন প্যাক হতে পারে।

কাল যা হয়েছিলো, তার জন্য দুঃখিত... -কি হয়েছিলো রে?

আমার জন্য যেসব ড্রেস নষ্ট হয়েছিলো, তা ফেরত দিলাম। সবগুলোই ভালো ব্রান্ডের। আশা করি এগুলো গ্রহণ করবে এবং এর মধ্যকার বেস্ট ড্রেসটা পরেই আজ ডিনার করবে।

কি হয়েছে রে? গৌতম কে?

-এই, আমার নাম্বার কোথায় পেলে? -তোমার কলিগ... বসন্ত... খুবই হেল্পফুল!

অফিস থেকে দ্রুত এসে, খুবই যত্নের সাথে আমার দেওয়া ড্রেস পরেছো দেখেই বুঝে ফেলেছি!

কি বুঝেছো...?? অ্যাহ...! কি বুঝেছো??

এটাই যে... ড্রেস তোমার পছন্দ হয়েছে।

এই... তোমার একটা সেলফি সেন্ড করো তো।

-কেনো? -পাঠাও তো... তারপর বলছি।

এখনই পাঠাচ্ছি...!

-ভালো হয়েছে না? -সিকিউরিটিকে দেওয়ার জন্য এত ইমোশনাল সেলফির দরকার ছিলো না।

-সিকিউরিটি!!?? -ইয়াহ! আমাদের অফিস সিকিউরিটিকে দেওয়ার জন্য!

মানে... এবার যদি তুমি ডিরেক্টলি আমার অফিসে আসার চেষ্টা করো! তার জন্য সুরক্ষা.... :D

প্রযুক্তির এত উন্নতি হচ্ছে... মেয়েদের কেনো হয়না!

লাঞ্চে যাচ্ছো?? এই যে আমিই নিয়ে এসেছি! মাটন বিরিয়ানি, কাবাব, ক্যারেট হালুয়া... সবই আমার ফেভারিট। আমি জানি, তোমারও ফেভারিট। তাইনা?

নাম্বার দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ... ক্যাথরিনকে বলেছি। :3

খাবে না?

তুমি একটু ধরো তো...

তাড়াতাড়ি বিদায় হও.... আমার বস দেখলে মেরে ফেলবে!

মানে... তোমার বস লাঞ্চে মানুষের রক্ত খায় নাকি?!

বিরিয়ানি দারুণ ছিলো... ওহ, আমার একটা ক্লায়েন্টের সাথে দেখা করতে হবে। একটু পর আসছি।

তুমি এখানে কিভাবে! বস দেখে ফেললে কি হবে! উফফ... পাগল নাকি!

এত চাপ নিচ্ছো কেনো? বেশ ভালোই লাগছে এখানে... টাইমপাস করার জন্য একটা বইও নিয়েছি। ৩৪ নং পৃষ্ঠায় দারুণ একটা জোকস আছে!

-পাসপোর্ট রেডি তো? -কিসের জন্য স্যার?

কাল তুমি লন্ডন যাচ্ছো... ভিএফএক্স ট্রেনিং প্রজেক্টের কাজে... সব ব্যবস্থাই করা হয়েছে।

কি হয়েছে?!

কিছুই না স্যার... আই লাভ লন্ডন! -ঠিক আছে... কালই তোমার ফ্লাইট।

ক্যাথরিন... তুমি ঠিক আছো তো?

কি সমস্যা? কি হলো? -বলতে পারবো না... আমি বলতে পারবো না...

ইডিয়ট! স্টুপিড! -ঠিক আছে... ঠিক আছে... তোমাকে দেখেই বোঝা যাচ্ছে খুশিতে নাচছো। কাল যাও তাহলে। আমি গেলাম এখন।

দ্রুত দূর হও... -কেনো? -আবার জিজ্ঞাসা করছো!

বেশ ভালো লাগছে... আর একটু থাকি!

ঐ সিনেমাটার সিজি শট কি রেডি হয়েছে? -হয়েছে স্যার... হয়েছে... এক মিনিট...

শ্বাস নিতে কষ্ট হচ্ছিলো, তাই বেরিয়ে এলাম...দারুণ কাজ! সুপারহিট হবেই!

কি ট্যালেন্টেড অভিনেতারে বাবা! এটা কি সিনেমা নাকি বাস্তব?!

তুমি তো পুরাই উন্মাদ....! -আমি? না... তৃষ্ণা পেয়ে গেলে কি করবো! বেরিয়ে চলে এলাম কোকো কোলা খেতে।

খাওয়া বাদ দিয়ে চলো তাড়াতাড়ি...

মামা.... মামা কেনো এসেছে? -আমাদের বিয়ে দেওয়ার জন্য!! পালাও...

ধর ওদের....!

পালাচ্ছি বলে বড্ড দুর্বল ভেবে ফেলেছিস দেখি!

রোড... পাবলিক প্লেসে মারামারি করা ঠিক না... ওকে না? -ওকে! -কিসের ওকে বে!

রাগ মিটিয়ে নাও...

একটা হবে নাকি?

একবার এদিকে আসো...

কোথায়!?

কি ব্যাপার ক্যাথরিন? সত্যিই কিস করবে নাকি?

তোমার জ্যাকেটটা খুলে দাও তো...

কেনো??

তুমিও না! যেনো আমি সব পোশাকই খুলে ফেলতে বলছি! -সব খুলতে সমস্যা নেই... হাফ খুলতে লজ্জা করে...

এটা জড়িয়ে ধরে মনে হচ্ছে, আমি তোমাকেই জড়িয়ে ধরে আছি, এজন্য...

তাহলে আমিও তোমাকে জড়িয়ে ধরি...

এই, কেউ যদি দেখে ফেলে! -শাট আপ!

এটা তোমার জন্য।

কিছু টাকা নষ্ট করলে... তুমি যাওয়ার পর সময় দেখা মানেই অত্যাচার!

এই! ফ্লাইট!

ওয়াও! অসাধারণ....! -ওকে, এবার তোমার গল্প....!

আমার গল্প সিনেমাটিক কি ঠিক জানিনা.... তুমিই বলবে!

হ্যাঁ, হ্যাঁ... শুরু তো করো...

তার নাম.... -মিস্টার জয়রাম মোল্লাপুরি... এ বছরের সেরা ইয়ং ব্যবসায়ী।

তো কেমন লাগছে? এই অ্যাওয়ার্ড পেয়ে?

আসলে, এই ক্রেডিট আমার চেয়ে আমার বাবা অরুণ ও আমার কাকা মোহনের বেশি... কারণ, তাদের জন্যই আমি আমার ব্যবসায়কে এতদূর আনতে পেরেছি...

তাই, বাবা এবং কাকা... সকল ক্রেডিট তোমাদের!

আপনার সাফল্যের রহস্য কি?

১ লক্ষ কোটি টাকা আয়ের চেয়ে, একজন মানুষের শ্রদ্ধা অর্জন করা আমার উদ্দেশ্য....

শ্রমিকের থেকে টাকা অর্জনের চেয়ে শ্রদ্ধা অর্জনের প্রচেষ্টা থাকলে, সফলতার সম্ভাবনা বেশি থাকবে।

এটাই আমার নীতি... সিম্পল!

জয়... এ হচ্ছে রাম প্রকাশ, ঐশ্বরিয়া কোম্পানির মালিক... আর ভামসি ঐশ্বরিয়া কোম্পানির ম্যানেজার।

রাম প্রকাশের সম্পর্কে জানো তো?

না জানার কি আছে.... আপনি আমার আদর্শ স্যার।

না... না... জুনিয়র হলেও, তুমিও কম নও। অনেক ভালো বক্তৃত্বা দিয়েছো।

-জানিনা কি দিয়ে কি বলেছি.... -আজ তোমার কথা শুনার পর থেকেই, তোমার সাথে কথা বলার জন্য উদগ্রীব হয়ে গেছে।

তোমার ব্যাপারেও অনেক শুনেছি... রাম প্রকাশ স্যার শরীর হলে, তুমি তার আত্মা... রাইট?

এটা ঠিকই বলেছো... আমার নিজের কোনো ছেলে না থাকলেও, তাকে আমি ছেলেই মনে করি।

আসলে, তোমার কথা শোনার পর থেকেই, কথা বলতে ইচ্ছা হচ্ছিলো। তারথেকেও বড় বিষয়... তোমাকে নির্বাচিত করেছে সে... জুড়ি চেয়ারম্যান।

ওহ... তা আমাকেই নির্বাচিত করার কারণ...?

ভবিষ্যৎ.. ভবিষ্যতে তোমার সাথে আমার বেশ জমবে.... জাস্ট মজা করলাম।

সত্যিই... আমরা সবাই তোমাকে নিয়ে গর্বিত। -ধন্যবাদ।

এই সপ্তাহে আপনার পরিবার নিয়ে, আমাদের পরিবারের সাথে অবশ্যই দেখা করতে আসবেন। লাঞ্চ অথবা ডিনারে। -অবশ্যই স্যার।

-ভামসি, এই ছেলে আমার ঐশ্বরিয়ার জন্য.... -জটিল হবে, তাইনা?! আমিও সেটাই ভাবছিলাম। ঐশ্বরিয়ার সাথে দারুণ মানাবে!

অফিসটা দারুণ... -ধন্যবাদ।

বলো...

-তুমি কি আমাকে পছন্দ করো? -আরেহ... আমিও তো সেটাই জানতে চাচ্ছিলাম... তুমি আমাকে পছন্দ করো কিনা!

আমার ফটো দেখে ধোঁকা খাওনি তো??

হ্যাঁ, খেয়েছি.... ফটো থেকে বাস্তবে তুমি বেশি সুন্দর।

তুমিও...

দেখেছো... ধোঁকা খাওয়াতে মজা এলো।

মিস্টার জয়, আমি খুবই আদরের সাথে পালিত হয়েছি, এবং আমি এক কথার মেয়ে...

তাই নাকি? এ ধরনের মেয়ে আমার আবার পছন্দ না...

আমি কি তোমার জন্য সঠিক নয় বলে মনে করো?

আমি আমার চিন্তাকে বিশ্বাস করিনা! যা দেখি, শুধুমাত্র তাই বিশ্বাস করি।

তাহলে আমার ব্যাপারে কি বলছো? -তোমাকে ভালোভাবে জানার সুযোগ কই পেলাম....!

কিন্তু, ভালোভাবে জানবে কিভাবে?

ঠিক জানিনা... তবে যত জানা যাবে, তত ভালো হবে।

একটা গেম খেলা যাক? -বলো...

আমরা ২ জন ২ দিনের জন্য একসাথে বেড়াতে যাবো... দুজন দুজনকে জানতে পারবো। তারপর সিদ্ধান্ত হবে।

ইন্টারেস্টিং!

আর একটা কথা? -বলে ফেলো...

তোমার বাড়িতে তুমি বলবে না, আমার বাড়িতেও আমি বলবো না। রেডি তো??

কোরাইকানাল (তামিল নাড়ু)

এখন আমরা ট্যাক্সিতে উঠবো... না?

- উহু.....! -তাহলে?

-আমার সাথে আসো.... -কোথায়?

এই ২ দিন আমরা টাকা-পয়সা, ক্রেডিট কার্ড, মোবাইল কিছুই সাথে রাখবো না... না টাকা-পয়সা নেবো, আর না তো কিছু কিনবো!

শক পেলে নাকি? -কিছুটা...!

কিন্তু, আস্তে আস্তে ব্যাপারটা থ্রিলে পরিণত হচ্ছে...!

এখনো ৬ কিলোমিটার...! -ফিরে যাই?!

আমি আর হাঁটতে পারবো না...

লিফট নিতে হবে...

এটা থামবে!

-কি দিয়ে কি করলে কিছুই তো বুঝলাম না! -অত কিছু বুঝা লাগবে না... থালাইভা ফ্যাক্ট! ;-)

-কোরাইকানাল যাবো..... -শুধু ১টা সিটই আছে।

একজন হেঁটে যাওয়ার চেয়ে এটাই বেটার!

কোনো সমস্যা হচ্ছে না তো?

এত স্বাচ্ছন্দ্য তো প্লেনের বিজনেস ক্লাসের সিটে বসেও মেলেনা! :P

আমরা রজনী ফ্যান.... আমরাই বেস্ট.... ঠিক আছে... জার্নি এনজয় করো... [এই টাইপের] (তামিল ভাষা)

-তোমার ক্ষুধা লাগেনি নাকি? -বসের পার্ট নিয়েছিলাম না!! ক্ষুধা এমনিতেই চলে গেছে...

তোমার ক্ষুধা চলে যেতে পারে... কিন্তু আমি ক্ষুধাতে মরে যাচ্ছি! :-(

-আসো.... -কোথায়?! -আসো, বলছি।

কি করি শুধু দেখো...

১০-১২ কেজি নেবো নাকি সবই নিয়ে নেবো! -বড় পার্টি মনে হচ্ছে!

এগুলো কি? -প্যাশন ফুড স্যার। -এখানে বেশ জনপ্রিয় এগুলো, না? -হ্যাঁ, স্যার।

ওকে... দাও, টেস্ট করে দেখি।

কেমন যেনো লাগছে...! -এদিকে দাও...

কেমন একটা গন্ধ কচ্ছে...! -গন্ধ! তাহলে এগুলো দেখুন একবার...

এ কি! তোমার কোনো ফলই তো ভালো না! রাখো তোমার ফল! গেলাম আমরা...!

জনাব এবং জনাবারা, আমাদের আইকোআইকোর বার্ষিক প্রতিযোগীতায় আপনাদের স্বাগতম...

দম্পতিরা আজ আমাদের খেলায় অংশগ্রহণ করতে পারবে...

সবাই জানেন, লাভারস্পিক কোরাইকানালের জনপ্রিয় জায়গা, যা এখান থেকে ৮ কিলোমিটার দূরে...

অংশগ্রহণকারীদের সেখানে যেতে হবে কোনো খাদ্য এবং পানি ছাড়াই... এবং যে দম্পতি আগে যেতে পারবে, তারা পাবে ৫,০০০ টাকা পুরস্কার!

তো আপনারা রেডি তো...?? -রেডি....!!!

খাদ্যও না, পানিও না!!

এটাই তো কিক!

এদিকে কি?!! -আসো তো...!

দারুণ লাগছে না দেখতে?

পুরস্কারটা জিতলে আরো দারুণ লাগতো!

চলো...!!!

কি হয়েছে?

ব্যথা পেয়েছি!

দৌঁড়াতে পারবে না?

আমি দুঃখিত... কষ্ট হবে... পারবো না!

আর একটু দূরেই গন্তব্যস্থল...

বললাম না কষ্ট হবে...! প্লিজ...

পিঠে ওঠো... আমরা অলরেডি অনেকটা পিছিয়ে আছি। তাড়াতাড়ি করো।

একে দেখে মনে হচ্ছে, এই ৫,০০০ টাকা জেতার জন্যই কোরাইকানাল এসেছে... জীবনের পরোয়া নেই।

তুমি ওঠো! দ্রুত করো, নাহলে তারা জিতে যাবে। আমরা জিতলে ঐ টাকায় পেটপূজা কর‍তে পারবো।

মারা যাবো...!! একদমই ডাইট করোনা, নাকি!?

আর বেশি দূর নেই... আর একটু স্পীড বাড়ালেই ফার্স্ট হতে পারবো...

এই! ওদিক কোথায় যাচ্ছো?? এদিকে...

অপদার্থ কোথাকার! বলেছিলাম না...?! চলো এবার.... চলো!

পুরস্কারের ৫,০০০ টাকা পাচ্ছে জয় এবং ঐশ্বরিয়া!

কি দারুণ দম্পতি! তাদেরকে দেখে ধনী বলেই মনে হচ্ছে!

তাদের কাছে হয়তো ৫,০০০ টাকা কিছুই না! তাই, এই ৫,০০০ টাকা যদি আমার ফাউন্ডেশনে দান করতেন, আমাদের অনেক উপকার হতো...

দিচ্ছেন তো? -হ্যাঁ... দিচ্ছি! :'(

ক্ষুধায় পেটে ইদুর দৌঁড়াচ্ছে...! :'(

তোমার মতো আমারও একই অবস্থা! :-(

[……তামিল ভাষা……]

আমি করছি...

দরকার নেই!

প্লিজ....!

দরকার নেই...

ব্যাপার না... আমি করি?!

আন্টি... আমি করি??

কি বলো মা? এসবের কি দরকার...

আমি করি... প্লিজ প্লিজ!

আরো কিছু....

এটা ধরো... আর তুমি ভেতরে যাও!

কোনো ব্যাপার না! আরেহ... কোই বাত নেহি!

(খাবারের নাম!)

আইডিয়াটা দারুণ ছিলোনা??

সাধারণত, খাওয়ার পর বিল না দিলে কাজ করিয়ে নেয়... আমরাও এখানে সেম কাজ করে, তারপর খাচ্ছি...! :P

আসো... সাবধানে...

[.....তামিল ভাষা.....]

আমাদের রাজকীয়....

ফ্রেশ বাতাসের জন্য কতগুলো ছিদ্র করে রেখেছে দেখো.... প্রযুক্তি....!

যদি আমরা বিবাহিত হতাম...

ফার্স্ট নাইট এখানে হতো...

আসলে, টেকনিক্যালি এটাই আমাদের ফার্স্ট নাইট....

না....

আমি বলতে চাচ্ছি, আমাদের একসাথে ১ম রাত...

সিনেমার মতো টেস্ট পাচ্ছো?

কিভাবে?

এরকম পরিস্থিতিতে, হিরোইনকে উপরে দিয়ে, হিরো মেঝোতে ঘুমায়... বাস্তবেও সেটা হচ্ছে।

[.....তামিল ভাষা....]

শুভ সকাল... -শুভ সকাল।

এডভেঞ্চার টাইম!

কোরাইনাকাল কিসের জন্য এত জনপ্রিয় জানো?!

এটা নিরাপদ জায়গা তো?? -অনিরাপদ... বিপদসংকুল বন!

কি হলো?!

ম্যাজিক মাশরুম!

এটার বিশেষ বৈশিষ্ঠ্য আছে... এটা যে খায়, তার হ্যালুসিনেশন হয়, পাগলামি শুরু করে....

শাট আপ! -না... সত্যি!

ছোট ছোট জিনিসকেও ডাইনোসরের মতো মনে হয়.... সব কিছু অন্যরকম লাগে!

তাহলে আমি ট্রাই করি?!

আইয়ো! পাগল হলে নাকি?!!

প্লিজ প্লিজ! জাস্ট একবার... কি হয় দেখা যাক!

একটু বেটার টেস্ট চাও নাকি?

কি হলো? খারাপ লাগছে নাকি?

ভালো?

আর একটা দাও.... -আর একটা?

কোনো সমস্যা বুঝছো নাকি? -উহু... -দাঁড়াও, আর একটা দিই!

এই নাও...

কি হয়েছে?

আমার কথা শুনতে পাচ্ছো? ঐশ্বরিয়া, ওঠো...

ওঠো ঐশ্বরিয়া...

আনো, আনো... তাড়াতাড়ি আনো... [....তামিল ভাষা....]

[.....তামিল ভাষা.....]

আমি মারা যাবো কি ভেবে ভয় পেয়ে গেছিলে, তাই না?

না, না...

এত সহজে তোমাকে কিভাবে মর‍তে দেবো?! আগে বিয়ে করতে হবে, তারপর তোমাকে মেরে তোমার সম্পদ হাতাতে হবে!

কত প্ল্যান তোমাকে নিয়ে জানো?!

আজাইরা সন্দেহ করো না... মজা করলাম! তুমি এখন রেস্ট নাও।

অনেক হয়েছে গেম! এবার বাবা-মাকে ফোন করো... -রুলস ইজ রুলস! কাল আমাদের ২ দিন শেষ হবে।

তুমি কোনো প্রেসার নিও না। যা মন চাই, খাও... টাকার ব্যাপার আমি দেখবো।

আমি একটু বাইরে যাচ্ছি, ওর খেয়াল রাখবেন... -সমস্যা নেই... আপনি নিশ্চিন্তে যেতে পারেন।

[....তামিল ভাষা....]

এর বদলে আমি মাল পৌঁছে দিই?

তুই কে রে? -তেলুগু... টুরিস্ট। সমস্যা নেই, আমি পারবো।

কত চাস?

আপনিই বলুন...

সাতশো....

এক হাজার! -অত হবে না! যা, যা....!

ঠিক আছে, গেলাম তাহলে... -এই দাঁড়া দাঁড়া...

[....তামিল ভাষা....]

এই, এই... থামো, থামো...

তুমি এখানে কিভাবে? -কেনো এসেছো?

সারারাত আমাকে একা ফেলে পালানোর চেষ্টা করেছিলে?

-ছি... -তাহলে এমন দেখাচ্ছে কেনো তোমায়??

এই ঠান্ডায় সে ৩০ কিলোমিটার ট্র্যাভেল করেছে.... তাই তাকে এমন দেখাচ্ছে।

তোমার কথা জানিনা... কিন্তু মনে হচ্ছে, নার্সই আমাকে বেশি মিস করেছে।

এই আকাশ, এই ট্রিহাউজ, তোমাকে চিকিৎসা দেওয়া পাগল ডাক্তার, তোমার পেছনে ছুটা নার্স....

তোমাকে অসুস্থ করে দেওয়া মাশরুম, হোটেলের মীনাক্ষী বোন, আমাদের নিয়ে ঠাট্টা করা মোটকু দম্পতি...

আমাদের ফ্রীতে ক্ষুধা মেটানো ফলের দোকান, রাস্তায় সাহায্য করা রজনীকান্ত...

এই সবকিছু সাক্ষী রেখে বলছি...

আমি তোমাকে ভালোবাসি!

আমি দুঃখিত ঐশ্বরিয়া!

চেষ্টা করেছি.... পারিনি।

আমিই আগে বলতে চেয়েছিলাম!

খুবই রোমান্টিক...!

তাহলে, বিবাহ কবে হচ্ছে??

এ মাসেই হওয়ার কথা ছিলো। কিন্তু, জয়ের কাকা মারা যাওয়ায়, একটু পিছিয়ে গেছে....

হেই... সমুদ্র আমাদের পাশেই মনে হচ্ছে না?

সমুদ্র কোথায়? বাইরে তাকালে তো আউটারিং রোড দেখা যাচ্ছে...!

ক্যাথি, এ হচ্ছে জয়, আমার হবু বর... জয়, এ হচ্ছে ক্যাথি, প্লেনেই পরিচয় হয়েছে এবং বেস্ট ফ্রেন্ড হয়ে গেছে!

-কোন বিষয়ে?!

সরি, কিছুনা.... এখন থেকে আমরা বেস্ট ফ্রেন্ড...!

অবশ্যই ডিয়ার! জয়ের পর তোমাকেই এত দ্রুত পছন্দ করেছি...

আজ থেকে তোমার ভালোবাসা কমে গেলো, সাবধানে থেকো.... যাওয়া যাক??

ক্যাথরিন, আমার এঙ্গেজমেন্টে অবশ্যই আসবে। ফোন করবো... -অবশ্যই আসবো।

বলো....! -ইয়াহ... অবশ্যই আসবে।

ভালো আছো?

অ্যাক্সিডেন্ট! কয়েক দিন আগের ঘটনা...

ট্রেকিং ট্রিপে যাওয়ার জন্য বেরিয়েছিলো, ১০ দিন আগে। ২ দিন পর ফিরে আসার কথা ছিলো।

কিন্তু... ফিরে এলোনা!

পুলিশে রিপোর্টে দিয়েছিলাম।

খোঁজও পাওয়া গেলো...

তোমাকে বলতেই চেয়েছিলাম, কিন্তু তোমার ফোন নাম্বার ছিলো না।

আমিও ফোন করার চেষ্টা করেছি... কিন্তু জয়ের ফোন নট রিচেবল ছিলো।

বারবার চেষ্টা করেছি... নট রিচেবল ই বলছিলো বারবার।

ভেবেছিলাম ব্যস্ত আছে...

কিন্তু.....!

ওকে জন্ম দিয়েছিলাম আমি... আমার পরেই সবচেয়ে ভালোবেসেছিলে তুমি...

আমাদের দুর্ভাগ্য! কি করবো!

আন্টি, তুমি জানো?

গৌতকে নিয়ে আমি কত স্বপ্ন দেখেছিলাম....

সব স্বপ্ন সত্যি হয় না... সৃষ্টিকর্তাই সেটি চান না। ওকে ছাড়া আমার জীবনও নরকের মতো!

কেমন আছো? -ভালো...

বাবা কোথায়? -উনি মিটিংয়ে আছেন। পুলিশ কমিশনার এসেছে।

পুলিশ কমিশনার! কি হয়েছে? -ঐ যে! জয়ের কাকার মৃত্যুর ব্যাপারে কথা বলতে।

নিউজ দেখে আমি তখনই চলে আসতে চেয়েছিলাম! টিকেট পাইনি।

এটা ওদের ব্যক্তিগত সমস্যা। এসব ব্যাপারে জয়কে কিছু জিজ্ঞাসা করো না। ওর পরিবার কষ্টে আছে।

না... না... এয়ারপোর্টে দেখেই বুঝেছি, ওর মন ভালো নেই। -ঠিক আছে, আগে বাবার সাথে কথা বলতে চলো...

বাবা.....!! -আয়... আয়... আয়।

দুঃখিত রে, কমিশনার এসেছে তো... স্যার, আমার মেয়ে ঐশ্বরিয়া।

বিয়ে করতো যাচ্ছো?? সুন্দর পছন্দ... -ধন্যবাদ।

ধন্যবাদ স্যার। কোনো দরকার হলে ভামসি তো আছেই.... -অবশ্যই, অবশ্যই... সমস্যা নেই। বিষয়টি প্রায় সমাধান হয়ে গেছে।

দুঃখিত জয়! মোহন কাকার....

ইটস ওকে! কাকার হায়াৎ এ পর্যন্তই ছিলো... কি করা যাবে!

কি ব্যাপার ক্যাথরিন! মরা ঘুম ঘুমাচ্ছিলে নাকি?

সরি জয়ালক্ষ্মী ম্যাম... কি দরকার? -কিছুই না...

এই মেয়ে তোমাকে খুঁজছিলো... কি রিপোর্ট না কি করার জন্য। তুমি ঘুমাচ্ছিলে তাই আমাকেই জ্বালানো ধরলো।

হাই... আমার নাম নিথ্যিয়া।

আমার সাথে কি কাজ? -তোমার বয়ফ্রেন্ড গৌতমের ব্যাপারে কথা বলার জন্য এসেছি।

শত্রু!?? -হ্যাঁ... এমন কেউ যে গৌতমকে পছন্দ করতো না, গৌতমের ক্ষতি চাইতো।

কি জন্য বলছো? -আমার অনুমান গৌতম অ্যাক্সিডেন্টে মারা যায়নি, তাকে কেউ হত্যা করেছে!

কি...!! কিসের ভিত্তিতে বলছো??

আমি বলছি না... অনুমান করছি।

সেটাই... কিসের ভিত্তিতে অনুমান করছো??

মিস ক্যাথরিন... আমার কাছে এরকম তথ্য আছে, যার সত্যতা যাচাইয়ের জন্য প্রমাণ খুঁজছি। আমার দৃঢ় ধারণা, গৌতমকে কেউ হত্যাই করেছে!

আমার জানামতে, গৌতমের ১টাই শত্রু আছে।

ডেভিড...?! সবসময় যে গুন্ডামি করে বেড়াতো....?? -হ্যাঁ, হ্যাঁ...!

একটা মেয়ের সাথে সবসময় ঝগড়া করতো... -হ্যাঁ... আমিই সেই মেয়ে। এখন সে কোথায় থাকে?

ওহ, ডেভিড?! অতিরিক্ত মদ খেয়ে অচেতন ছিলো। এখন হাসপাতালে আছে।

কোন হাসপাতালে?

কার পার্ক করে আসো...

ডেভিড জোসেফ? ২০০ নং বেডে যে আছে... দেখা করতে হলে ভিজিটর কার্ড লাগবে। -প্লিজ... আমার খুবই জরুরী দরকার।

কি হয়েছে?? -এই ম্যাডাম ২০০নং বেডের রোগীর সাথে দেখা করতে চায়। ভিজিটর কার্ড ছাড়াই।

২০০নং বেডের রোগী?? কেবলই তো নিয়ে গেলো...

ডেভিড জোসেফই তো? -হ্যাঁ, সে... রোগী প্রাথমিকভাবে সুস্থ হয়ে গেছে, তাই আমরাও না করিনি।

মামা!

বিরতি... সেকেন্ডে হাফে নানির অসাধারণ অভিনয় দেখার জন্য প্রস্তুত হন।

ক্যাথরিন... সম্প্রতি জয়ের কোম্পানি 'জয়গৌরি ফিন্যান্স' বড় ধরনের স্ক্যামে ফেঁসে গেছে। জয়ের কাকা মোহন এর জন্য দায়ী ছিলো বলে আমাদের সোর্স জানিয়েছে।

এসবের মধ্যেই জনাব মোহন আত্মহত্যা করে। ব্যক্তিগত কারণে আত্মহত্যা করেছে বলেই পুলিশ রিপোর্ট করে।

কিন্তু, আত্মহত্যার দিন জয়কে তার কাকার রুমের বাইরে দেখেছিলো বলে জানিয়েছে হোটেলের ওয়েটার।

জয়ের প্রতি আমার সন্দেহের শুরু এখানেই...

অনেক বড় ধরনের স্ক্যামে জড়িয়ে পড়িয়েছিলো...

এসব ব্যাপার নিয়ে চিন্তা-ভাবনা করছিলাম... এরইমধ্যে, একটি অ্যাক্সিডেন্টের রিপোর্ট করতে গিয়ে গৌতমের লাশ দেখি।

অবাক হয়ে যাই!

একদম জয়ের মতো দেখতে!

ওখানেই গৌতমের মা যশোধাকে দেখি।

ময়না-তদন্ত রিপোর্ট অনুযায়ী, গৌতমের অ্যাক্সিডেন্ট আর জয়ের কাকার আত্মহত্যা একই দিনে হয়েছিলো।

যশোধা ম্যাডামের সাথে দেখা করি...

কিন্তু, গৌতমের মৃত্যুতে সে অনেক শোকে ছিলো। ভালোভাবে কথাই বলতে পারলো না।

কথা বলার সময়ই, সেখানে টেবিলের উপর জয়ের কোম্পানির ব্রুশারস দেখি।

ব্রুশারস ওখানে ছিলো মানে, গৌতম আর জয় অবশ্যই দেখা করেছে! কেনো দেখা করেছে... কবে দেখা করেছে... সেটা আমরা জানিনা।

কিন্তু, জয় ডেভিডকে....! -তাই না??

জয় ডেভিডকে কিডন্যাপ করেছে মানে, ডেভিড নিশ্চয় জয় আর গৌতমের শত্রুতার ব্যাপারে জেনে গিয়েছে!

ডেভিড গৌতমকে মারতে চাইতো। কিন্তু সে অতিরিক্ত মাদক সেবনে কোমায় চলে গিয়েছিলো।

ডেভিড নিশ্চয়ই কিছু জানে... এখন কোমা থেকে বেরিয়ে কাউকে কিছু বলে না দেয় এই ভয়ে, কৌশলে ডেভিডকে কিডন্যাপ করেছে জয়... আমার এরকমটাই সন্দেহ।

এবার ডেভিডকেও মারতে পারলে, জয়ের ব্যাপারে জানার কারো সাধ্য নাই! হ্যাপি!

ক্যাথি, আমার দৃঢ় বিশ্বাস আছে যে, গৌতমের কোনো অ্যাক্সিডেন্ট হয়নি... তাকে নিশ্চয়ই কেউ খুন করেছে!

সরি ক্যাথি....

সরি তো আমার বলা উচিত... তোমার অ্যাঙ্গেজমেন্টের দিনে এরকম বিষয়ে কথা বলতে এসেছি... আমি খুবই দুঃখিত।

ধুর! এরকম কিছু না... আমাকে ছাড়া আর কাকেই বা বলবে??

জয়, খারাপ খবর জয়... ক্যাথরিনের বয়ফ্রেন্ড অ্যাক্সিডেন্টে মারা গেছে!

কি...!!

অ্যাক্সিডেন্ট!!

শুনে খুবই খারাপ লাগলো....!

কিন্তু, কখন?? কিভাবে?? -আইয়ো! এখন তোমার বিস্তারিত দরকার! এমনিতেই সে...

একবার এদিকে আসো...

কোথায়!?

সাহায্য করো... -বিয়ের আগে এসব ভালোনা!

শাট আপ! সিরিয়াস হও... ক্যাথরিনকে সাহায্য করো।

ক্যাথরিনের!? -তোমার কোম্পানিতে ওকে একটা চাকুরী দাও।

কিন্তু, তুমি বলেছিলে ও কোন কোম্পানিতে চাকুরী করছে। সেখানে কি হলো?

আইয়ো! সেখানে সমস্যা আছে। আমি প্রমিজ করেছি। প্লিজ... প্লিজ...

এই... তার যোগ্যতার অভাব নেই। তার কোম্পানিতে চাকুরীরও অভাব নেই। তারপরেও পদত্যাগ করেছে। কেনো জানো?

ঐ অফিসে গেলে তার বয়ফ্রেন্ডের কথা মনে পড়ে। সেখানে তার স্মৃতি বিজড়িত।

আমিও তো তোমাকে কত ভালোবাসি! হঠাৎ যদি তুমি মারা যাও... ওহ গড! ভাবতেই পারছি না!

এই... এঙ্গেজমেন্টের দিনই মেরে ফেলো না! -শাটআপ! মজা করো না।

আমি দেখবো ব্যাপারটা... দেবো চাকুরী।

তুমি আজ থেকে আমাদের গেস্ট রুমেই থাকে। এখানে থাকলে আমার বিয়েতেও সাহায্য করতে পারবে।

প্রথম ধাপে সফল! -গ্রেট!

আজ থেকে তোমার ফোন সবসময় রিংয়িং মুডে রেখো।

জানেন? আমাদের ম্যানেজার একটু উচ্চ লেভেলের উন্মাদ লোক। -তাই নাকি? -দেখতেই পাবেন! আসেন।

এটা ম্যাজিক স্প্রে!

কী-বোর্ডে স্প্রে করলে, কোন বোতাম বেশি টিপা হয়েছে তা বোঝা যায়।

তোর ক্ষেত্রে দেখা যাচ্ছে X (এক্স)!

এটা স্প্রে করে দেখা গেলো, ইংরেজী বর্ণমালার X (এক্স) বর্ণটা তোর বেশি পছন্দ।

কোন ধরনের ওয়েবসাইট তোর বেশি পছন্দ, তাও বোঝা গেলো!

তোকে কাজের লোক ভেবে ভুল করেছিলাম! আজ থেকে অপদার্থ ইডিয়ট ডট কমে ভিজিট করবি।

না, স্যার! আমি বলছি ব্যাপারটা...

এই X বোতামটার জন্যেই পাওয়ার-পয়েন্ট, প্রেজেন্টেশনের চেয়ে পর্ণস্টারের প্রতি তোর মনোযোগ বেশি।

তাই আজ থেকে তোর কী-বোর্ডে X বোতাম থাকবে না! তুই আমার অফিসে যোগাযোগ কর‍তে থাকবি... আমার রাগ পড়ে গেলে বোতামটি দিয়ে দিতে পারি।

বেশি বকবক করলে আজীবন এক্স ছাড়াই থাকতে হবে!

অফিসেও এসব করার কি দরকার?

প্রতিদিন ক্লাইন্টের কাছে "আমাদের কোম্পামি এক্সসিলেন্ট, এক্সট্রঅর্ডিনারি..." এসব লিখতে X বোতাম বেশি টিপা লেগেছে!

পুরাই ফালতু একটা লোক! কিছু না শুনেই X বোতাম নিয়ে চলে গেলো!

তোমার ব্যাপারে ঐশ্বরিয়া ম্যাম অনেক বলেছে... নববর্ষে তোমাকে পেয়ে আমরা খুবই খুশি!

আমি সুদর্শন... -আমি যার প্রশংসা করছিলাম!

ইয়াহ... রঘু বাবু আপনার সম্পর্কে অনেক বলেছে।

শুনেছি... -লজ্জা দিবেন না স্যার! আমি তো জাস্ট...

শুনেছেন?! -হ্যাঁ... সব কিছুই! দেখবে নাকি?? আসো।

আমি ৫ বছর ধরে এই কোম্পানিতে কাজ করছি! কিন্তু, এরকম ইডিয়ট ২য়টি দেখেনি।

আমার মনে হয়, এরকম ইডিয়ট পুরো ভারতেও আর নেই! নামটা তো ফকিন্নির মতো, আর দেখতে পুরাই পিশাচ!

তার সামনে গেলেই আমার বিপি বেড়ে যায়। কখন কি করে বসে পাগলটা! গত মাসেও ৩ জনকে বরখাস্ত করেছে।

কিন্তু, আমার মতো আপনিও সবসময় তার সামনে এমন পার্ট নেবেন যেনো, ম্যানেজার হিসেবে সেই যোগ্য প্রার্থী।

চশমাতেই ক্যামেরা...

ফ্লিপকার্টে ২,০০০ টাকা ক্যাশব্যাক পাওয়া যাচ্ছিলো। কি করবো ভাবছিলাম... ভেবে ফেললাম।

আর তোকে বার্থডে গিফট দিয়েছিলাম।

বেচারার উপর আমার আগে থেকেই সন্দেহ ছিলো। তাই বার্থডেতে এত কিউট একটা গিফট দিয়েছিলাম।

ভেকেশ্বর সাহেব... একটা আবেদন টাইপ করুন তো... -ঠিক আছে, স্যার।

রঘু পদত্যাগ করেছে, এটা টাইপ করুন... তারপর প্রিন্ট করে আমার রুমে পাঠিয়ে দিন।

না খেয়ে মরে যাবো স্যার! -যা গিয়ে আত্মহত্যা কর!

ক্যাথি, তুমি বসবে প্লিজ!

শুধু একবার! -গ্লাসে স্পর্শ করবি না!

বসো... কি নেবে?? (চা/কফি) -কিছুই না... ধন্যবাদ।

আসলে, আমাদের অফিসে কাজ করতে হলে, আর কিছু হোক বা না হোক, শৃঙ্খলা থাকা জরুরী।

আমি প্রতিদিন আই-ড্রোপ দিয়ে গোসল করি। কেনো জানো? আমার সারা শরীরেই চোখ আছে!

চোখ বন্ধ করাও আমার জন্য রিস্কের! কে কখন কোম্পানির সিক্রেট পাচার করে দেয়, তার তো ঠিক নেই!

অফিসের সবার সাথে পরিচিত হবে, এসো...

এত মনোযোগ দিয়ে কাকে দেখছো? -কাউকেই না।

বুঝেছি... ক্যাথিরিন অনেক সুন্দর! কিন্তু বস, তুমি আমার কাছে বুকড!!

শাট আপ! -চো চরি... চো চরি! :D

কিন্তু, সত্যিই এমন করলে মেরে ফেলবো...! :3

মিস্টার জয়, আসলে আমি আপনাকে ধন্যবাদ দিতে চাই।

যোগ্যতা যাচাই না করেই চাকুরিটা দেওয়ার জন্যে...

তুমি যেটুকু যা পারো, করো... সেটাই আমাদের জন্য যথেষ্ট।

এই... আমি যাচ্ছি... বিয়ের শপিং করতে হবে।

ক্যাথি, এরপর আমরা দুজন মিলেও শপিং করবো...

ক্যাথরিন... বসো।

(...বিঃদ্রঃ ছোট-খাটো ইংরেজী শব্দগুলোর অর্থ এড করা প্রয়োজন মনে করিনা, তাই বাদ রাখছি...)

কাল থেকে আমি বিল্ডিং ওয়ার্কস টুল ডিজাইনের কাজ শুরু করছি। কোন ধরনের নকশা করবো, তার ধারণা পাওয়া গেলে...?

ঠিক আছে! ঠিক আছে! দর্শন বলে দিবে।

কিন্তু, সতর্ক থেকো... এটা অত সহজ না।

আমি যাই করি, খুবই সতর্কতার সাথে করি... মিস্টার জয়।

ওকে... আজ থেকে কাজ শুরু করছি। একটু এক্সাইটেড লাগছে!

অফিসের সবাই-ই দেখছি তোমাকে পছন্দ করে ফেলেছে... -নতুন তো! আস্তে আস্তে আরো অনেক কিছু দেখতে পাবে।

কিছু কি হলো? -না।

একটু সময় লাগবে।

আমার কথা শোনো, এখানকার ম্যানেজার দর্শন একটা সাইকো!

তাকেই বোকা বানিয়ে কাজ সারতে হবে।

কিন্তু, সময় বেশি নেই ক্যাথি। যা করার দ্রুত করো।

জানি আমি! -তাহলে? দ্রুত করো।

বোঝার চেষ্টা করো... তোমার থেকে আমার জন্য এটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ!

জানি... -আমি এটা করবো।

ক্যাথরিনের চিন্তাভাবনা আমাকে আগে বুঝতে হবে। তাড়াহুড়ো করে কোথাও বের হওয়ার দরকার নেই, সাবধানে থেকো। দেখা হবে...

অপেক্ষা করো!

খুবই জরুরী স্যার!

চলো!

বলো...

আমি বলছিলাম... আমি একটি থ্রীডি বিল্ডিংয়ের ডিজাইন করছি। ক্যামেরা কোথায় কোথায় লাগালে ভালো হবে, সে ধারনার জন্য আমাদের অফিস বিল্ডিংয়ের ডিজাইনটা জানা দরকার।

মানে, সহজ ভাষায় বলতে গেলে... আমাদের অফিসের দালানগুলোর নিরাপত্তা ব্যবস্থার সেটিং তুমি জানতে চাও।

হ্যাঁ! -সম্ভব না!

কেনো?

এটা গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপার।

তুমি যদি সকল ক্যামেরার অবস্থান জেনে যাও? -তাহলে?

আর সেগুলোর রেকর্ডিং দেখো? -তাহলে?

বেঠিক না এটা??

কর্মচারীদের সিস্টেম হ্যাক করার সময়, আপনার বেঠিক মনে হয়নি?? -তুমি কিভাবে জানলে??

আমি আপনার সিস্টেম হ্যাক করতে পারিনা?!

এই, চাপ নিয়েন না... আপনি এটা পেয়ে যাবেন! -কিন্তু, পুরো ফোল্ডারই চায়!

কিন্তু এইগুলো অরজিনাল (একমাত্র) ফাইল নাকি কপি করেছো?? -জেরক্স স্যার! (কপি!)

মানে... জেরক্স শব্দটা টাইপ করতে হবে। একটু X (এক্স) দিবেন?

তখন দিয়েছিলাম না? -Xerox লিখতে ২টা X লাগে স্যার!

২টা X লাগেনা, ২ বার প্রেস করা লাগে! দূর হ এখন...

তো.... তুমি কি যেনো বলছিলে...

সাউথ ফ্যানরা জয়েন করুন আমাদের গ্রুপে-- www.facebook.com/groups/SouthFansBD

হাই জয়... আসতে এত দেরি হলো কেনো?

মদ-টদ খাবে না নাকি?

কত এনেছো?

২০ লাখ।

কি ব্যাপার জয়? এত কম কেনো?

যা দিচ্ছি, নিয়ে চুপ থাক! না হলে খালাস করে দেবো!

আমাকে তুই কি করবি রে? পুলিশকে সব বলে দিলে, তোর কি হবে জানিস?

মার্ডার, গাড়ি পানিতে ফেলা, অ্যাক্সিডেন্ট সাজানো....

জোর খাটিয়ে কোনো লাভ নেই!

মার্ডারের সেই ভিডিও কিন্তু আমার কাছে আছে। ইউটিউবে দিয়ে দিলে, অনেক ভিউ হবে!

তাই, যা করার ভেবে-চিন্তে করিস...

আরো কিছু টাকা লাগবে। তুমি দেবে, আমি জানি!

বেশি ইমোশনাল হওয়ার দরকার নেই!

হেই নিথিয়া... এটা নিশ্চিত! জয়ই গৌতমকে মেরেছে! -কিন্তু আমাদের প্রমাণ দরকার!

সিগন্যালে সমস্যা হচ্ছে... -আমারও! -যাই হোক, শোনো... কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা আছে...

খুব লেগেছে, তাইনা?? -খুব না, সামান্য। দর্শন স্যার না থাকলে...

কোথায় সে? -পাশের বেডে। প্রচুর চোট পেয়েছে।

দর্শনাম গারু... আমি খুবই দুঃখিত। আপনাকে এমনভাবে দেখে...

আমিও আমাকে এভাবে দেখতে পারছি না!

শান্তির কাজও শান্তিতে করতে পারছি না! তার উপর লাগিয়ে দিয়েছে মিটার! অবস্থা খুবই খারাপ স্যার!

চিন্তা করার দরকার নেই.... -চিন্তা না করে কি করবো স্যার!

কবে স্বাভাবিক হতে পারবো ঠিক নেই! তাও আমার যদি স্ত্রী থাকতো....!

ওসবের দরকার নেই! নিয়ে যান প্লিজ।

স্যার... আপনি সেই লোক না? -আমি কি সেলেব্রেটি নাকি!?

হ্যাঁ, স্যার। ইউটিউবে আপনার ভিডিও দেখেছিলাম। এক মিনিট!

আপনার ভিডিওটি ১ কোটি বার দেখা হয়েছে এবং ১০ লক্ষ লাইক পড়েছে...!

কাবালির টিজারের পরেই আপনারটা সর্বোচ্চ!

ট্যালেন্ট কি জিনিস সেটা আপনি দেখিয়ে দিয়েছেন স্যার!

ঠিকই বলেছেন... ধোঁকা কিভাবে খেতে হয়, তা আমি দেখিয়ে দিয়েছি...

যাই হোক.... পুলিশে এ ব্যাপারে কোনো অভিযোগ করার দরকার নেই.... আমি এটা দেখে নেবো।

আমি একজনকে সন্দেহ করি...

সন্দেহ করো মানে?

ডেভিড নামে আমার এক মামা ছিলো জানোই তো... কিন্তু, এখন তার কোনো খোঁজ নেই।

আমার বয়ফ্রেন্ডকে সে মোটেই পছন্দ করতো না...

আমার বয়ফ্রেন্ডকে সে হত্যা করেছে বলে আমার মনে হয়। হয়তো সে আমাকেও মারতে চাইছিলো!

কিন্তু... এ ড্রাইভার তো তোমার মামা না।

তাই নাকি? তুমি কিভাবে জানো? তুমি চেনো আমার মামাকে??

না, না... আই মিন, তোমার মামাই যদি হয়, পুলিশ অনুসন্ধানে জানা যাবে।

হ্যাঁ, তাইনা?

সুতরাং, কেউ একজন হয়তো চায়না আমি বেঁচে থাকি!

তুমি বেঁচে থাকলে কার কি ক্ষতি যে এমন চাইবে?

এরকম অ্যাক্সিডেন্ট যেই করে, বেশিরভাগই মারা যায়!

তুমি, দর্শনাম গারু... বেঁচে গেছো। এটাই অনেক! এখন একটু বিশ্রাম নাও।

জয়, যাওয়া যাক? -ইয়াহ!

খুবই দারুণ অভিনেতা না জয়??

যাই হোক... জয়ের অফিস রুমের তালার নকল চাবি... পাক্কা প্রফেশনাল!

অরজিনাল থেকেও ভালো কাজ করবে!

(ডেভিডের হাসপাতাল থেকে ডিশ্চার্জ পত্র, ডেভিডকে অনাথ আশ্রমে রেখেছে- সে পত্র, গৌতমের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট)

হেলো নিথ্যিয়া, আমরা ঠিক পথেই আছি! ঐশ্বরিয়ার কোম্পানি হতে জয় নিয়মিত টাকা চুরি করছে! সম্প্রতি ৫ বিলিয়ন অর্থ জয়ের কোম্পানিতে ট্রান্সফার হয়েছে।

এখানে সমস্ত প্রমাণ আছে... -কপি করেছো?? -হ্যাঁ, করেছি।

তোমার কথা মিলে যাচ্ছে। গৌতমের ময়নাতদন্ত রিপোর্ট, জয়ের ম্যানেজারের ডকুমেন্ট, আর সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ- ডেভিডকে এখন শ্রীনিধি অনাথআশ্রমে রেখেছে।

শ্রীনিধি অনাথআশ্রম?? চিনি তো এটা... যাওয়া যাক?? -হ্যাঁ, যাবো।

রাস্তার বামে গাড়ি পার্ক করো। আমি এখনি.... ওহ, শিট!! শিট, শিট, শিট!! জয় চলে এসেছে।

গেম খেলছো আমার সাথে?? আমার অফিসে ঢুকবা, সিস্টেমে ঢুকবা... আর আমি কিছুই বুঝতে পারবো না??

টাকা তো নিচ্ছোই প্রতিনিয়ত...

কি!! শ্রীনিধি (আশ্রম)!! কেনো??

কি হয়েছে? -কি হতেই বা বাদ আছে। মেরে ফেলেছে!

কাকে? -ডেভিডকে... যে কোমায় ছিলো।

কোথায়? -ভেতরে।

পুলিশে খবর দিয়েছি.... -কে করলো?? কিভাবে??

কিভাবে বলবো মা! বৃষ্টি হচ্ছিলো, বিদ্যুৎও চলে গিয়েছিলো, হঠাৎ দেখি এরকম!

ইনার বিস্তারিত তথ্য আছে?? -তথ্য রেজিস্টার করা হয় না। এটা চ্যারিটেবল ট্রাস্ট।

কি হয়েছে?? কে সে?? -জয়!

ডেভিড জয়ের ব্যাপারে জানতো। তাই জয় ডেভিডকে মেরে ফেললো।

আর কে জানে??

প্রাইভেট পার্টিতে আমাকে সাথে নিয়ে যাবে... আমাদের দুজনকে দারুণ মানায় না?

ভামসি সব জানে... তোমার কোম্পানি সম্পর্কে, তোমার বাবার সম্পর্কে, তোমার পরিবার সম্পর্কে, তোমার হবু বর সম্পর্কে...

বাই দ্যা ওয়ে, কোরাইকানালের হাসপাতালে জয় তোমাকে মারতে চাইনি, তোমাকে নিয়ে কিসব প্ল্যানের কথা বলেছিলো না??

ক্যাথি, একটু চুপ থাকো....

বাড়ি চলে এসেছি... -আমার, তোমার নাকি তার?

তোমার।

ক্যাথরিনকে এমনভাবে আজও দেখিনি! এত মদ খাওয়ার কি দরকার!

হতাশা... বয়ফ্রেন্ড মারা গেলো, মামা মারা গেলো। সেই হতাশায়...

ঠিক করে চালাও ব্রাদার। কিছুদিন আগে এক লোক মদ খেয়ে গাড়ি চালাচ্ছিলো। রাস্তায় মহিষকে সাইড দিতে গিয়ে, গাড়ি নিয়ে পুকুরে গেলো।

তারপর কি হলো?

মহিষটি বেঁচে গেছে! কিন্তু লোকটির বউ মারা গেছে!

আমি যা বলছি শোন, পুলিশকে সব বলে দে... -কি! কৌতুক করছিস নাকি?

এটা কৌতুক করা সময় নেই। রোজকার অত্যাচারের চেয়ে জেলও ভালো।

আমার ওয়ার্নিং মনে নেই? সবাই মরবে কিন্তু? -কিচ্ছু যায় আসে না! যা করার কর।

একবার বামে তাকা...

আলমারি থেকে আমার কাপড় এনে দেবে প্লিজ...

তাড়াতাড়ি রেডি হও। শপিং এ যেতে হবে। জয়ও যাবে আমাদের সাথে।

এই আইশু, জয় আসেনি?

জয়ের জিন্স, শার্ট, ফটো তোমার আলমারিতে কিভাবে?

কি হলো?? চুপ কেনো?? লজ্জা পাচ্ছো যে, লজ্জা আছে তোমার??

আইশু, তোমাকে বোঝানো সম্ভব নয়।

তাই নাকি?? বলোতো... বুঝিকি!

তাড়াতাড়ি গিয়ে দরজা খুলে দিলে, দুজনের কাছ থেকেই শুনতে পারবো।

ঐশ্বরিয়া আছে?

কি এসব?? -বুঝছো না!? আমিও বুঝছি না... তোমার ফটো, পোশাক ক্যাথরিনের আলমারিতে... জানো না!?

তোমাকে আগে সবটা শুনতে হবে। -শুনলে? -তোমার ভুল ভাঙবে।

ওয়ান্ডারফুল!

এ ম্যাডাম বলছে, শুনলেও বুঝবো না... তুমি বলছো, না শুনলে বুঝবো না। কাকে বিশ্বাস করবো?

তোমাকে আমি বেস্ট ফ্রেন্ড ভেবেছিলাম। বিশ্বাস করেছিলাম। সাহায্য করেছিলাম। তোমার কষ্টে আমিও কেঁদেছিলাম।

তোমাকে আমি জীবন দিতে চেয়েছিলাম, আর তুমি আমার জীবন নিয়ে নিলে।

ঐশ্বরিয়া... -কি! ভয় দেখাচ্ছো আমায়?

তোমার মতো বদমাইশকে বিয়ে করলে ভুল হবে!

যথেষ্ট! নিজের আওতার মধ্যে থাকো। এরপর আমার সাথে সম্পর্ক রাখার চেষ্টা করলে... শপথ করছি, আমি দুজনকেই মেরে ফেলবো।

আমার কত খুশি লাগছে, জানো?

ইচ্ছা করেই তার মনে ভুল ধারণা ঢুকালাম...

খবর দেখেছো? ভামসির গাড়ি হাইওয়ের পাশের খাদে পাওয়া গেছে।

লাশ দেখে তো অ্যাক্সিডেন্ট বলেই মনে হচ্ছে।

গতরাতে জয়ও এখানে এসেছিলো বলে জানা গেছে।

-শুনতে পাচ্ছো? -আমি পরে ফোন করছি।

সকালে এখানে ব্যবসায়ী ভামসির লাশ পাওয়া গেছে। অতিরিক্ত স্পীডে গাড়ি চালানোর ফলে অ্যাক্সিডেন্ট হয়, এবং এতে তার মৃত্যু হয় বলে ধারণা করা হচ্ছে।

তুমি আসলেই ব্রিলিয়ান্ট ফেলো...!!

টাকার জন্য ঐশ্বরিয়ার সাথে প্রেমের নাটক করলে, ঐশ্বরিয়ার কোম্পানির টাকা হাতাতে থাকলে।

তোমার জয়গৌরি ফিন্যান্স স্ক্যামে জড়িয়ে যাওয়ায়...

কি?? আমাকেও মেরে ফেলবে??

তোমার করা সব অপকর্ম ঐশ্বরিয়াকে জানাবো... আমার কাছে কপি আছে, আমার ফ্রেন্ড নিথ্যিয়ার কাছেও আছে।

তুমি ভালো করোনি। ডেভিডকে, ভামসিকে... তুমি এতজনকে মেরেছো, তারপরেও...

একটা বিষয় আমি সিউর জানতে পারিনি।

গৌতমকে তুমি মেরেছো?? নাকি মারোনি??

মেরেছি!

কেনো?? -মারার দরকার ছিলো!

কি ক্ষতি করেছিলো গৌতম?!?!

গৌতম মারা না গেলে জয়ের পরিবার ধ্বংস হয়ে যেতো...

কেনো?? গৌতম বেঁচে থাকলে, তোমার পরিবার ধ্বংস হতো কিভাবে??

আমার পরিবার না... জয়ের পরিবার।

আরে পাগল....!!

আমার সাথে যা হয়েছে, তা আমার নিজেরই বিশ্বাস হতে চায়না।

তুমি লন্ডন যাওয়ার ২ দিন পর, আমাদের এড কোম্পানির স্পন্সর খোঁজার জন্য জয়গৌরি কোম্পানির ওয়েবসাইট ওপেন করি।

সেই ওয়েবসাইটে জয়গৌরির চেয়ারম্যানের ফটো দেখে, আশ্চর্য্য হয়ে যাই! জয়রাম মোল্লাপুরি... একদম আমার মতো দেখতে!

ছোট ছোট দাঁড়ি, একই চেহারা... প্রথমে বিশ্বাস হচ্ছিলো না। তারপর একটা চিন্তা মাথায় এলো।

মজা করার জন্যই আমি জয়রাজ সাজার চেষ্টা করলাম। রেজাল্ট দেখে থ্রিল হয়ে গেলাম। আমাকে একদম জয়রামই মনে হচ্ছিলো। এক্সাইমেন্টও বেড়ে গেলো...

জয়ের কাকা মোহনের সাথে দেখা করার জন্য হোটেলে বসে ছিলাম। তখন জয়ের কাকাকে চিন্তাগ্রস্ত অবস্থায় যেতে দেখলাম। স্পন্সরের কথা বলার আগে, আমি তাকে একটু শক দিতে চেয়েছিলাম।

অনলাইনে জয়গৌরির ওয়েবসাইট দেখে....

আমাদের জয়গৌরি ফিন্যান্সে জনগণের বিনিয়োগ করা টাকা... কিছু বাজিতে লাগানো ছিলো, কিছু বেআইনি বিনিয়োগে ছিলো... সব শেষ!!

ভামসির কথাতেই আমি এগুলো করেছিলাম।

টাকাগুলো আমাদের কোম্পানির অ্যাকাউন্টে নেই, এগুলো সবাই জেনে যাবে... বিনিয়োগকারীরা কেস করবে। আমাদের পথে বসতে হবে।

বাধ্য হয়ে রামপ্রকাশ স্যারকে বলেছি, সে আমাদেরকে টাকা দিতে চেয়েছে।

তোমার বাবা আমাকে প্রাণের চেয়েও বেশি বিশ্বাস করেছিলো... কিন্তু, আমি বিশ্বাসের মর্যাদা রাখতে পারিনি....

শক দিতে গিয়ে আমি নিজেই শক পেয়ে গেলাম! আর তাড়াতাড়ি ওখান থেকে বেরিয়ে এলাম।

পার্কিং থেকে গাড়ি নেওয়ার সময়, জয়কে দেখলাম গাড়ি থেকে নামতে।

তাকে দেখেই সব বলে দেবো ভেবেছিলাম.... কিন্তু, তখনই...

ভেতরে ঢোকা ওকে...

ডেভিড আমাকে ভেবেই জয়কে উঠিয়েছে, বুঝে গেছিলাম।

আমিও তাদের ধরার চেষ্টা করলাম।

একই চেহারা... পুরোপুরি!

আমার নাম গৌতম।

ক্যাথরিন কে? -আমার গার্লফ্রেন্ড। আমার সাথেই ডেভিডের শত্রুতা।

আপনাকে গৌতম ভেবে... -বুঝতে পেরেছি...!

রক্ত বের হচ্ছে... -না! না! না! থামানো সম্ভব নয়।

সবকিছু হাতের বাইরে চলে গেছে...

আপনার স্ক্যামের ব্যাপারে সব শুনেছি। আমাকে জয় ভেবে আপনার কাকা সব বলেছে। জয় স্যার... আসুন আপনাকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি।

কোনো লাভ নেই! নাম কি বললে?

আমার আর সময় নেই। স্ক্যামের সমাধানও আমার জানা নেই।

আমার জায়গায়...

তুমি আমার পরিবারে যুক্ত হতে পারবে না?

না স্যার। এটা সম্ভব না! এটা... আসুন আপনাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই স্যার।

আমি মারা যাচ্ছি... শপথ করো! তুমি কে আমি জানিনা... কিন্তু, তুমিই আমার একমাত্র আশা।

আমার পরিবারে তোমাকে জয় হয়ে থাকতে হবে, আমার কোম্পানিকে বাঁচাতে হবে।

আমি মারা গেছি, এটা কারো জানা চলবে না। বিশেষ করে যাকে আমি বিয়ে করতে যাচ্ছি... ঐশ্বরিয়া।

এরা জানলে, এরাও বাঁচবেও না... মারা যাবে।

না স্যার, আপনার কিচ্ছু হবে না স্যার... -হয়ে গেছে! হয়ে গেছে....

এখন থেকে কে তুমি??..... নাম?? -গৌতম।

জয়... এখন থেকে তুমি....

হেলো ভাইয়া, কোথায় তুই? অনেকক্ষণ ধরেই সিগন্যাল পাচ্ছি না।

ভাইয়া, বাবা তোকে দেখতে চাচ্ছে। কোথায় আছিস এখন?

আসছি... -ঠিক আছে।

জয়ের মৃত্যু কেউ জানবে না মানে, গৌতমকে মরতে হবে।

এজন্যে, জয়ের পোশাক আর আমার পোশাক পরস্পর বদলিয়ে... আমার ওয়ালেট, চেন, লাইসেন্স ইত্যাদি সব জয়ের শরীরে দিয়ে দিই...

আমার গাড়িতে জয়ের লাশ ঢুকিয়ে পানিতে ফেলে দিই।

আমার কোনো দুঃখ নেই...

তুই যেখানেই থাকিস, বেঁচে তো আছিস। কিন্তু, জয়ের মৃত্যুর কথা শুনলে, তার বাবা-মার কি অবস্থা হবে তা আমি অনুমান করতে পারি।

আমি জয়ের লাশ, তুই বলে সনাক্ত করবো....

মা... ক্যাথরিন?!

চিন্তা করিস না... এ পরিস্থিতিতে এটা ভুল হবে না।

ভাইয়া...

আইসিওতে জয়ের বাবা অরুণকে দেখলাম। তার পরিবারকে দেখে মনে হলো, আমার সিদ্ধান্ত ঠিকই আছে।

এরপর জয়ের ফোনে জয়ের ভিডিও দেখি। সে কেমন ছিলো, কার সাথে কিভাবে কথা বলতো- জানার জন্য।

রামপ্রকাশ স্যার প্রতিশ্রুতি অনুযায়ী জয়গৌরিতে ৫ বিলিয়ন টাকা ট্রান্সফার করলে, সবার বিনিয়োগের টাকা লাভসহ ফেরৎ দিই।

জয়গৌরির চেয়ারম্যান মারা গেছে, এটা কেউ যেনো সন্দেহ না করে... যেকোনোভাবে ম্যানেজ করি।

জয়ের বোন গৌরির বিয়ে দিই....

মা পুলিশে আমার নিখোঁজ হওয়ার অভিযোগ দিয়েছিলো। খোঁজাখুঁজির পর ফেলে দেওয়া গাড়িটি পানি থেকে ওঠানো হয়.... কথা অনুযায়ী, মা জয়কে গৌতম বলেই সনাক্ত করে।

ঐশ্বরিয়ার ব্যাপারে আমি সাবধান ছিলাম। জয়ই ছিলো তার প্রাণ। জয় ভেবে আমার কাছে আসতো, আমার কাছে অত্যাচার মনে হতো।

ভেবেছিলাম তাকে সব সত্যি জানিয়ে দেবো। কিন্তু এরইমাঝে নতুন ঝামেলা শুরু হলো...

পুরোপুরি সেট হয়ে গেছো। কিভাবে ম্যানেজ করছো?

মানে...?? -বলছি.... গৌতম!

ভেবেছিলাম, আমাকে ভেবেই ডেভিড জয়কে মেরেছে। কিন্তু ভামসি, ডেভিডের বন্ধু জেনে শক পেলাম।

জয়-ঐশ্বরিয়ার বিয়ে ঠিক হওয়ার পর, রামপ্রকাশ স্যার জয়কে তার কোম্পানির দায়িত্ব দিতে চেয়েছিলো। এদিকে, ভামসিরও কোম্পানির প্রতি লোভ ছিলো।

তাই জয়কে মারার জন্য ভামসি ডেভিডকে ঠিক করে।

-আরে সে তো... -বিস্তারিত তথ্য চাইনা। লাশ দেখাও, সেটাই যথেষ্ট!

জয়ের কথা ডেভিড জানতো না। আমার কথা ভামসি জানতো না। ডেভিড ভাবলো, তাদের দুজনের শত্রুই একজন! এই সুযোগ সে হারাতে চাইলো না।

এরপর জয়কে হত্যা করা গোপনে ভিডিও করলো ভামসি।

আমাকে দেখে শক পেলো। আমার সমস্ত কাজই সে ভিডিও করলো।

ভিডিওতে জয়কে পানিতে ফেলে দেওয়া দেখলে, সবাই ভাববে আমিই হত্যাকারী।

এই ভিডিও, রামপ্রকাশ আর ঐশ্বরিয়াকে দেখালে, তোকে ছাড়বে না!

ক্যাথরিনকে দেখালে, জয়-গৌতমের রহস্য জেনে যাবে।

তুই নিজে থেকেই ক্যাথরিনকে সব বলে দিলে, ওর সেফটির গ্যারান্টি দিতে পারছি না।

চারিদিক দিয়ে তোরই ক্ষতি!

তাই, ডিল করাই ভালো... তুই ঐশ্বরিয়াকে বিয়ে কর, আর আমাকে কোম্পানির পার্টনার করে নে।

আমিও হ্যাপি থাকবো, তুইও হ্যাপি থাকবি...

মানে, ফাঁদে পড়ে গেছি! তোমাকে বলতে পারবো না। ঐশ্বরিয়াকে বলতে পারবো না। ভামসির ডিমান্ড মানতে গিয়ে আমার লক্ষ লক্ষ টাকা ম্যানেজ করতে হতো।

ঐশ্বরিয়ার সাথে তোমাকে এয়ারপোর্টে দেখে শক পেয়েছিলাম।

আমার একটাই সাক্ষি ছিলো, ডেভিড! জয়কে হত্যার পর ও অতিরিক্ত মদ খেয়ে কোমায় চলে গেলো। ভামসি থেকে দূরে রাখতে ওকে আমি হাসপাতাল থেকে নিয়ে এলাম।

তুমি জয়গৌরি কোম্পানিতে কেনো জয়েন করেছো, বুঝে গিয়েছিলাম। আমি খুন হয়েছি ভেবে তার রহস্য জানতে... ভামসিও বুঝে গিয়েছিলো।

এজন্যেই সে তোমাকে হত্যার চেষ্টা করেছিলো।

ডেভিড শ্রীনিধি আশ্রমে আছে, তা ভামসিকে বলে দেয় ডেভিডের গ্যাংয়ের কেউ।

ভামসি, ডেভিডকে মেরে ফেলে।

ঐ রাতে ডেভিডকে ওখান থেকে সরাতে আশ্রমে গেলাম। কিন্তু, আশ্চর্য্য হয়ে গেলাম।

টাকা-পয়সা দিয়ে পুলিশকে ম্যানেজ করে নিলো ভামসি।

তুমি ভাবলে আমি খুন করেছি। তোমাকে বলার কোনো উপায় ছিলো না।

কাউকে কিছু বলার উপায় নেই... আমার পরিস্থিতিগুলো কল্পনা করার চেষ্টা করো!

কিন্তু, তোমার ভামসির কাছাকাছি যাওয়াটা সহ্য হলো না।

অনেক হয়েছে... সব মিটিয়ে ফেললাম... ভামসিকে হত্যা করে।

ভিডিও পুড়িয়ে ফেললাম... কিন্তু, তুমি জয়ের প্রতি রাগ থেকে আমার ফটো, পোশাক নিজের আলমারিতে রেখে, ঐশ্বরিয়ার মনে জয়ের প্রতি ভুল ধারণা ঢুকালে।

কিন্তু..... এখন ঐশ্বরিয়াকে কি বলবো??

আমি জানিনা... কি বলবো! -দরকার নেই!!

এটা ফেরৎ দিতে চাই....

কিন্তু... কিন্তু...

জনাব এবং জনাবারা, আপনাদের স্বাগতম। আমি এখন এ বছরের সেরা ইয়ং উদ্যোক্তা মিস ঐশ্বরিয়াকে মঞ্চে আমন্ত্রণ জানাচ্ছি।

সবাইকে নমস্কার।

গতবছর আমার জীবনসঙ্গী চলে গেছে... হৃদয়বিদারক।

তবে বিচিত্র বিষয় হচ্ছে- জয়ের মৃত্যুর পরেও, একজন ব্যক্তির জন্য আমি তার অভাব বুঝতে পারিনি।

সেই ব্যক্তি আমার মিত্র কিনা, বন্ধু কিনা, দেবতা কিনা জানি না।

কিন্তু, সেই ব্যক্তির সাহসেই নতুনভাবে বাঁচতে শিখেছি। আজ এ পর্যন্ত আসতে পেরেছি।

এজন্যেই, ধন্যবাদ গৌতম...

তুমি না থাকলে... আজ আমি এখানে, এভাবে থাকতে পারতাম না।

এটা তোমার জন্য.... জয়।

ক্যাথি, আমি বলছি শোনো। -এই, দূর হও তুমি। আমি গেলাম।

আমাকেও তো নিয়ে যাও... ক্যাথি।

ঐশ্বরিয়া... বয়ফ্রেন্ড-গার্লফ্রেন্ড কেমন হয় দেখো? -কারা তারা? -আমি কি করে বলবো? আবার দেখা হলে, তুমিই জিজ্ঞাসা করো।

ধন্যবাদ, আমার সাবটি দিয়ে মুভি দেখার জন্য। -Akash Ahmed (facebook.com/TollyAkash)

Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.