All language subtitles for Soldier_Boy_(2019)_Bangla_Subtitle_By_Marib_Siraj

af Afrikaans
ak Akan
sq Albanian
am Amharic
ar Arabic
hy Armenian
az Azerbaijani
eu Basque
be Belarusian
bem Bemba
bn Bengali
bh Bihari
bs Bosnian
br Breton
bg Bulgarian
km Cambodian
ca Catalan
ceb Cebuano
chr Cherokee
ny Chichewa
zh-CN Chinese (Simplified)
zh-TW Chinese (Traditional)
co Corsican
hr Croatian
cs Czech
da Danish
nl Dutch
en English
eo Esperanto
et Estonian
ee Ewe
fo Faroese
tl Filipino
fi Finnish
fr French
fy Frisian
gaa Ga
gl Galician
ka Georgian
de German
gn Guarani
gu Gujarati
ht Haitian Creole
ha Hausa
haw Hawaiian
iw Hebrew
hi Hindi
hmn Hmong
hu Hungarian
is Icelandic
ig Igbo
id Indonesian Download
ia Interlingua
ga Irish
it Italian
ja Japanese
jw Javanese
kn Kannada
kk Kazakh
rw Kinyarwanda
rn Kirundi
kg Kongo
ko Korean
kri Krio (Sierra Leone)
ku Kurdish
ckb Kurdish (Soranî)
ky Kyrgyz
lo Laothian
la Latin
lv Latvian
ln Lingala
lt Lithuanian
loz Lozi
lg Luganda
ach Luo
lb Luxembourgish
mk Macedonian
mg Malagasy
ms Malay
ml Malayalam
mt Maltese
mi Maori
mr Marathi
mfe Mauritian Creole
mo Moldavian
mn Mongolian
my Myanmar (Burmese)
sr-ME Montenegrin
ne Nepali
pcm Nigerian Pidgin
nso Northern Sotho
no Norwegian
nn Norwegian (Nynorsk)
oc Occitan
or Oriya
om Oromo
ps Pashto
fa Persian
pl Polish
pt-BR Portuguese (Brazil)
pt Portuguese (Portugal)
pa Punjabi
qu Quechua
ro Romanian
rm Romansh
nyn Runyakitara
ru Russian
sm Samoan
gd Scots Gaelic
sr Serbian
sh Serbo-Croatian
st Sesotho
tn Setswana
crs Seychellois Creole
sn Shona
sd Sindhi
si Sinhalese
sk Slovak
sl Slovenian
so Somali
es Spanish
es-419 Spanish (Latin American)
su Sundanese
sw Swahili
sv Swedish
tg Tajik
ta Tamil
tt Tatar
te Telugu
th Thai
ti Tigrinya
to Tonga
lua Tshiluba
tum Tumbuka
tr Turkish
tk Turkmen
tw Twi
ug Uighur
uk Ukrainian
ur Urdu
uz Uzbek
vi Vietnamese
cy Welsh
wo Wolof
xh Xhosa
yi Yiddish
yo Yoruba
zu Zulu

Original subtitles

ব

বঙ্গা

বঙ্গানু

বঙ্গানুবা

বঙ্গানুবাদে

বঙ্গানুবাদে -

বঙ্গানুবাদে - মা

বঙ্গানুবাদে - মারি

বঙ্গানুবাদে - মারিব

বঙ্গানুবাদে - মারিব সি

বঙ্গানুবাদে - মারিব সিরা

বঙ্গানুবাদে - মারিব সিরাজ

SOLDIER BOY (2019) বালক সেনা

উৎসর্গ করা হয়েছে মহান স্বাদেশিক যুদ্ধের সর্বকনিষ্ঠ নায়ক সের্গেই আলেশকভ (জন্ম ১৯৩৬) এর প্রতি।

অনুবাদ ও সম্পাদনা মারিব সিরাজ

Buy Me a Coffee ☕ Bkash/ Nagad/ Rocket 01793170546

মা!

মা।

এই! পিটার!

- মাছদের ভয় দেখিও না। - দেখ, আমি কোথায় উঠেছি।

আরে, নিশ্চয়ই ভয় পাচ্ছো!

মোটেও ভয় পাচ্ছি না।

সেরেজা, পিটার, লুকাও!

না, ভয় লাগছে না তো।

হুররে! আমি মেরেছি!

তুই একটু দাঁড়া।

লাগাতে পারলাম না। এবার ওদের মজা দেখাবো।

হুররে! আমি মেরেছি! সবাই আমার সাথে থাকো!

মা, তুমি কোথায়?

মা!

মা!

তুমি কোথায়?

মা...

সেরেজা...

মা...

মা!

মা!

তুমি বেঁচে আছো,

- ঈশ্বরকে ধন্যবাদ তুমি বেঁচে আছো! - মা এখানে নেই।

আর পিটারও নেই। ওরা...

...জঙ্গলে খাবার নিয়ে যাচ্ছিল, কার কাছে যাচ্ছিল তুমি তো জানোই।

হ্যাঁ, আমি জানি। কিন্তু ওরা আর কখনো ফিরে আসবে না।

আমাদের বাসায় চলো, ঠিক আছে?

- না আমি যাবো না। - চুপ, চুপ...

মা আমাকে ভরসা করে বাসায় রেখে গেছে।

আমি মুরগিগুলোকে খাওয়াবো আর মা ও পিটারের জন্য অপেক্ষা করবো।

ছোট্ট খোকা, ওরা আর ফিরবে না। ওদের মেরে ফেলেছে।

তুমি তার ছেলে জানতে পারলে, ওরা তোমাকেও মেরে ফেলবে।

আর সেই সাথে বিপ্লবীদেরও। আমাদের বাসায় চলো, ঠিক আছে?

ভয় পেও না।

আমি ওদের বলবো তুমি আমার ছেলে।

তুমি আমার ছেলে, বুঝতে পেরেছো?

- না, না... - ভয় পেও না।

- মা... - চুপ, চুপ...

নিশ্চয়ই এখানে আছে।

ঈশ্বর, অনেক দেরী হয়ে গেছে। এদিকে এসো।

জীবন বাঁচাতে চাইলে দৌড়াও! যাও!

হে ঈশ্বর...

মা...

মা!

মা!

মা...

মা!

মা...

আমি কোথায়? আমার মা কোথায়?

মা, আমি হারিয়ে গেছি।

মা...

মা...

কে তুমি?

কাছে আসবে না। আমার কাছে রাইফেল আছে।

আমি ভয় পাই না, দেখলে? নড়বে না।

আমি মোটেও ভয় পাই না।

আমি তোমাকে ভয় পাই না।

কী খুঁজছো, কাঁটাওয়ালা প্রাণী?

যাও, আমাদের লোকদের সতর্ক কর...

তুমি দ্রুত যেতে পারবে, জানোই তো।

- এই বার্তাটা পাঠাও। - জি, মেজর।

এখানে একটু দেখুন, সের্গেভিচ।

যদি স্কাউটরা নিশ্চিত করে ২৫নং সেক্টরে জার্মানরা আছে, [স্কাউট = তথ্য সংগ্রহকারী সৈনিক।]

তাহলে জায়গাটা দখলে রাখা কঠিন হবে।

আমাদের আর্টিলারি বাহিনীকে সরিয়ে নিতে হবে।

কমান্ডার, রিপোর্ট করার অনুমতি পেতে পারি?

২৫নং সেক্টরের কী অবস্থা?

আমরা এখনও এতদূর পৌঁছাইনি।

আমরা... সত্যি বলতে...

- ...বনে। - এসব কথা বাদ দাও।

আমি তোমাকে ছুটি কাটাতে পাঠাইনি।

তুমি কি আমার আদেশ ভুলে গেছ? ট্রাইব্যুনালের মুখোমুখি হতে চাও?

আমার ভুল হয়েছে, কমান্ডার।

রেজো, এদিকে এসো।

ওকে ধরো। সাবধানে।

যুদ্ধ হলো পুরুষের কাজ।

কিন্তু এখানে শিশুরা কেন?

মানুষ কীভাবে শিশুদের বিরুদ্ধে যুদ্ধ করতে পারে?

তোমার কোনো ভয় নেই, খোকা। এখানে সবাই তোমার বন্ধু।

তার মানে সজারুটা তোমাদের আমার খবর দিয়েছে?

অবশ্যই, সেই সজারুটাই জানিয়েছে।

- তোমার নাম কী? - সেরেজা।

আচ্ছা। তোমার নামের শেষের অংশ মনে আছে?

আমরা শিশকিন।

আমি নিকোলাই সের্গেভিচ কুজনেটসভ।

- তুমি কি কমান্ডার? - হ্যাঁ, ঠিক ধরেছো।

তোমার মা কোথায়? তোমার বাবা?

আনিসা আন্টি

আমাকে বলেছিল...

-...আমার মা। - এসো এসো।

সেরেজা তুমি কাঁদছ কেন?

তুমি ছেলে মানুষ, আর ছেলেরা কখনো কাঁদে না।

এখানে কেউ কাঁদে না, রেজোও নয়, আন্দ্রেইও নয়।

আমি একটু আসছি... আমার সাথে চলো।

কমান্ডার, কথা রটে গেছে যে

স্কাউটরা জঙ্গলে একটা বাচ্চা ছেলেকে খুঁজে পেয়েছে।

আমি তোমার জন্য মাংস এনেছি।

আর সাথে অল্প লার্ড। [Lard (লার্ড) = চর্বি দিয়ে তৈরি খাবার।]

না, না।

ও স্যুপ দিয়ে খাওয়া শুরু করুক।

ভো বিফিন্দেন,[তুমি কোথায়] নাকি বিফন্দন?

- ভো বিফন্দন - বিফিন্দেন।

- বিফিন্দেন? - হ্যাঁ।

সেলাই করা বন্ধ করুন তো, জ্যাকব মইসিভিচ।

যদি এর কারণে যুদ্ধের সময় শব্দ হয়? তুমি এমন পোশাকে যুদ্ধ করতে পারবে না।

সকল জার্মানদের সামনে ব্যাপারটা আমার জন্য অপমানজনক হবে।

ওরা বলবে: "জ্যাকব মইসিভিচ এত বাজে কাজ কীভাবে করলো?"

আপনার কি ধারণা জার্মানরাও আপনাকে চেনে?

যুবক, সবাই আমাকে চেনে।

যুদ্ধের আগে সারাদেশে আমার খদ্দের ছিল।

রেজো, তোমার পরিবারকে আমাদের পক্ষ থেকে শুভেচ্ছা জানাবে।

আর তোমার বোনকে বিশেষ ধন্যবাদ জানাবে।

মিটেনের জন্য, আর ওটাকে যেন কী বলে... [Mitten (মিটেন) = বিশেষ ধরণের হাত মোজা।]

- সেই সুস্বাদু খাবারটা। - চুর্চেল্লা।

- হ্যাঁ। - ঠিক আছে, আমি জানিয়ে দেবো।

আর তার বয়স কত? সে কি বিবাহিতা?

না, এখনও বিয়ে হয়নি।

সে আমার খালাতো বোন এবং সে ৭৪ বছরেও বিয়ে করেনি।

তুমি দেখা করতে গেলে সে অবশ্যই খুশি হবে।

আমাদের এলাকার বাতাস খুবই বিশুদ্ধ

সে আরও ৩০ বছর বাঁচবে আর ওকে এক জোড়া বাচ্চাও দিতে পারবে।

আর সে তোমাকে অনেক কিছু রেঁধে খাওয়াবে।

সাতসিভি খাওয়াবে, চাহবিলি খাওয়াবে। তুমি কি কখনো চাহবিলি খেয়ে দেখেছো?

ওহ, খাবারের আলাপ রাখো তো।

যেহেতু তোমার বোন খুব সুন্দর রান্না করে

আমি তাকে আমার পাত্রী হিসেবে বেছে নেবো।

নিজেরা আলাপ করে সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলুন, কে তাকে প্রস্তাব দেবেন।

আমি সবসময় যুদ্ধের আগে চিঠি লিখি।

এই মুহূর্তে আমি ওদের বলে দিচ্ছি

আমাদের ছেলেটার জন্য বাচ্চাদের জামাকাপড় পাঠাতে।

- এটা আবার কী? - জার্মানদের ভয় দেখানোর জন্য।

তাহলে ঠিক আছে।

ফায়ার!

- আহ! - আস্তে, আস্তে।

আমাকে বাজিয়ে শোনাও।

ইশ, প্রায় হয়ে গেছে। আরেকটু।

দেখলে? কেমন ফুল এঁকে দিলাম।

না, আমি ফুল পছন্দ করি না।

তুমি বরং একটা ট্যাংক এঁকে দাও।

ঠিক আছে, আমি তোমার জন্য তাহলে ট্যাংকই এঁকে দেবো।

পিস্তল এঁকে দেবো, রাইফেলও এঁকে দেবো, সাথে কামানও - তোমার যেটা ইচ্ছা।

তুমি এত অস্ত্রের ব্যাপারে কীভাবে জানো?

আমি তুলা শহরের মেয়ে, বন্দুকবাজদের শহর।

সেখানকার সবাই অস্ত্র সম্পর্কে সবকিছু জানে।

কাটিয়া, আমাকে যারা খুঁজে এনেছে ওরা কারা?

তাকে এখানে নিয়ে আসুন।

তারা সাধারণ কেউ নয়,

তারা স্কাউট।

এখানকার সবাই কি স্কাউট?

না, এখানে স্যাপার, গানার এবং স্নাইপারও আছে।

- এবং বাবুর্চি পেট্রোভিচও আছে। - আমি তাকে দেখেছি।

- সে একদম মোটকু। - তা তো হতেই হবে।

বাবুর্চির কাজই তো মোটা হওয়া।

আর হাতে ব্যান্ডেজ বাঁধা সেই কমান্ডার কি...

- এখন যুদ্ধ করছে? - কুজনেটসভ? হ্যাঁ।

চিন্তা করো না।

সে ওদের সবাইকে মজা দেখাবে।

- কী? - আমি তৃষ্ণার্ত।

আমি বাজি ধরে বলতে পারি জার্মানরা তাকে ভয় পায়।

শুধু যে জার্মানরাই তাকে ভয় পায় তা নয়।

আর সে কি কাউকে ভয় পায় না?

তুমি ঠিক ধরেছো। তার বীরত্বের জন্য

তাকে পদক আর একটা পিস্তল দেওয়া হয়েছে।

পদক আর পিস্তল।

- কাটিয়া, আরো আহত ব্যক্তি এসেছে। - আসছি।

বাবু, আমাকে এখনই যেতে হবে।

আর তুমি চোখ বন্ধ কর,

ভালো করে বন্ধ করো আর ঘুমিয়ে পড়ো।

আমি ফিরে আসলে অবশ্যই তোমাকে ট্যাংক এঁকে দেবো।

- আসছি। - মাথায় আঘাত পেয়েছে।

- অপারেশন রুমে এসো। - জি, স্যার।

আসলে, ছাগলের দুধ...

- আপেল খাবি? - এটা আপেল খায় না।

আরে!

- স্যালুট, কমান্ডার। - স্যালুট।

পুষ্টিবর্ধক রসদ বটে!

এটা রাস্তায় দাঁড়িয়ে ছিল।

একা একা ঘুরছিল। তাই এখানে নিয়ে এলাম।

যদিও, প্রথমে আনতে চাইনি।

এটা তাহলে ছাগী। ভয় পেয়েছে নাকি, হ্যাঁ?

নে, খেয়ে নে।

এখন থেকে তুই হলি আমাদের সহযোদ্ধা ছাগল।

বড় হয়ে আমিও কমান্ডার হবো।

ওরা আমাকে অনেক কষ্টকর ইনজেকশন দিয়েছে।

এত বড় সুই দিয়ে।

আমি তো পালিয়েই যেতাম, কিন্তু তারপর চিন্তা করে দেখলাম।

আমি আমার সাহস বাড়াচ্ছি।

সাবাস, সাহসিকতা অনেক প্রয়োজনীয় জিনিস।

সত্যি কথা বলতে, আমিও ইনজেকশন ভয় পাই।

কিন্তু ছেলেরা কাঁদে না।

বাহ, আমার কথাগুলো তুমি মনে রেখেছো।

তুমি কি সত্যিই পদক পেয়েছো?

হ্যাঁ, এই যে।

কি সুন্দর!

এই পদক কীভাবে পাওয়া যায়?

বীরত্বের জন্য।

তোমার কাছে কি সত্যিই পিস্তল আছে?

বিশেষ কোনো পিস্তল?

যেটা দিয়ে তুমি ফ্যাসিবাদীদের মারতে পারবে?

বিশেষ পিস্তল?

- মনে হয়, আমার সেটা আছে। - আমাকে দেখাবে?

অবশ্যই।

কি দারুন!

আর এখানে কী লেখা আছে?

এটা একটা সম্মানসূচক পিস্তল।

আমি এটা জেনারেল ওস্তাশভের কাছ থেকে পেয়েছি।

আর আমার নিজেরও কিন্তু একটা ট্যাংক আছে। এই যে।

বাহ, এমন অস্ত্র দিয়ে আমরা অবশ্যই শত্রুকে পরাজিত করবো।

আর তোমার কি বিমান আছে?

না, বিমান তো নেই।

আমি তোমাকে একটা এঁকে দিচ্ছি।

- এই নাও। - ধন্যবাদ।

এটাকে খেতে দাও।

দেখলে? এটা সত্যিই দারুণ।

এখন আমরা এর থেকে দুধ পানাবো।

রিপোর্ট করার অনুমতি পেতে পারি, কমান্ডার?

- বলে ফেলো। - এটা সেরেজা নামের ছেলেটার ব্যাপারে।

অনেক সুন্দর বাচ্চা। বুদ্ধিমানও বটে।

হ্যাঁ, বাচ্চাটা সুন্দর।

ঠিক বলেছেন।

কমান্ডার,

আমাদের এখানে তো এখন ছাগলের দুধ আছে।

এটা খুবই পুষ্টিকর।

এটা ওকে শক্তি দেবে। মানে ছাগলের দুধ থেকে পুষ্টি পাবে।

স্যার, ওকে বরং এখানেই রেখে দিই।

আমরা একটা শিশুকে যুদ্ধক্ষেত্রে রাখতে পারি না।

হ্যাঁ, কিন্তু ওর তো কেউ নেই। যুদ্ধের আগে ওর বাবা মারা গেছে,

আর তারপর ওর মা ও ভাইকে হত্যা করা হয়।

হ্যাঁ, আমি সবই জানি।

তাহলে কি ওকে এতিমখানায় পাঠানো হবে।

এখানে কে ওর দেখাশোনা করবে শুনি?

আমি আছি। আমরা সবাই আছি।

আহতদেরই এখানে জায়গা হচ্ছে না। আজ প্রথম দিন বলে ও এখানে আছে।

এতিমখানা মোটেও ভালো সিদ্ধান্ত নয়।

- প্লিজ, কিছু করুন। - এই প্রসঙ্গ রাখুন, সার্জেন্ট।

এ জায়গা শিশুদের জন্য নয়।

এ জায়গা তো কারও জন্যই নয়।

- তারা কি ছাগলটা নিয়ে যাবে? - তুমি এটা রাখতে পারো।

- বাই। - বাই।

এখন শোনো:

আমরা এই দুধ থেকে পনির তৈরি করবো,

এবং তারপর সেগুলোকে টুকরা করবো।

বাহ!

- অনেক সুন্দর! - স্কাউটদের পক্ষ থেকে উপহার।

যুদ্ধের ময়দানে খুব কাজের একটা জিনিস।

উল্টো পাশ থেকে দেখো।

দেখলে? সবকিছু কেমন ছোট হয়ে গেল।

- হ্যাঁ... - এটা কি তোমার পছন্দ হয়েছে?

- অবশ্যই। - বাহ।

তাহলে, তুমি এটা দিয়ে চারপাশ দেখতে থাকো,

আমরা পরে আবার আসবো।

- গুড বাই। - এখানে কিছু আপেল আছে।

আমি একটু দেখি...

জোরা...

এটা সত্যিই ভালো। এই নাও।

হাই, রেজো।

হাই, বালক সেনা।

- হাই, রেজো। - এটা কী?

দেখো, আমি কী পেয়েছি।

আরে বাহ, এটা তোমার জন্য।

এই খাবারের নাম চুর্চেল্লা।

হয়ে গেছে।

আমার খুব ঘুম পাচ্ছে।

শুধু একটু চোখ বুজতে পারলে,

আমি টানা দুই দিন ঘুমিয়ে কাটাতে পারবো।

আর আমার তো ঘুমই আসে না।

আমি সারাক্ষণ ঐ ছেলেটার কথাই ভাবি।

ও যখন এখানে এলো,

আমার হৃদয়টা কেঁপে উঠেছিল।

ও কী অবস্থায় ছিল আমি দেখেছি,

একদম কাঁদো কাঁদো অবস্থায়।

ইচ্ছা করছিল ওকে বুকে জড়িয়ে ধরি,

যাতে ওকে চারপাশের এই পরিস্থিতি দেখতে না হয়।

আমি যুদ্ধে অনেক রকম মানুষের সেবা করেছি

কিন্তু কখনই চোখের জল ফেলিনি, স্তব্ধও হয়ে যাইনি।

কিন্তু ওর কথা ভাবলে আমার কান্না চলে আসে।

এভাবে কাঁদলে তোমার সব কান্না ফুরিয়ে যাবে।

আমি ভয় পাচ্ছি, কুজনেটসভ ওকে রেখে আসবে।

তাহলে আমি আর ওকে কখনো খুঁজে পাবো না।

ছেলেটার সাথে আর কোনোদিনও দেখা হবে না।

কুজনেটসভের সাথে কথা বলার চেষ্টা কর।

তাকে কী বলবো? সে তো নিয়মের বাইরে কিছু বুঝেই না।

হ্যাঁ, তার মনে কারো জন্য কোনো মহব্বত নেই।

ঠিক যেন উর্দি পরা কাঠের টুকরা।

কমান্ডার, রিপোর্ট করার অনুমতি পেতে পারি?

বলে ফেলুন, এগর ম্যাক্সিমোভিচ।

আপনার প্রতিনিধি দল গত দুই দিন ধরে

এখানে ঘুরে বেড়াচ্ছে।

তাতে কী? আমি এখানে সামরিক প্রয়োজনেই এসেছি।

পাহাড়ে আমাদের আরও একটা মেশিনগান দরকার

আর বাম পাশে আরো একজন সেনা দরকার

- জার্মানদের হটানোর জন্য। - আমাদের অতিরিক্ত মেশিনগান নেই।

তাহলে আপনি কেন এসেছেন?

আচ্ছা... তাহলে আর কী।

নিকোলাই সের্গেইভিচ, আপনি তো জানেন...

সৈন্যরা বাচ্চা ছেলেটাকে আদর করতে এখানে আসে।

সবার বাড়িতেই সন্তান আছে।

এ ব্যাপারে তো নিষেধও করা যায় না।

আপনি যখন ওর দিকে তাকাবেন, হৃদয়ে উষ্ণতা অনুভব করবেন।

আমরা তো ওদের জন্যই যুদ্ধ করছি।

অবশ্যই, সকল সিদ্ধান্তই আপনার, নিকোলাই সের্গেভিচ,

কিন্তু আমরা সবাই আপনাকে অনুরোধ জানাচ্ছি বাচ্চাটাকে রেজিমেন্টে রাখার জন্য।

আমরা সবাই ওর খেয়াল রাখবো।

- তাহলে যুদ্ধটা কে করবে? - আমরাই করবো!

সব রাস্তা অবরুদ্ধ। জার্মানরা জড়ো হচ্ছে!

ঠিক বলেছেন - ওরা জড়ো হচ্ছে!

- আপনি কি চাচ্ছেন... - এগর ম্যাক্সিমোভিচ, আপনি দেখছেন না...

এ জায়গাটা শিশুদের জন্য নয়।

এজন্য আমারও কষ্ট হচ্ছে।

ও এখানকার সবার সাথে একদম মিশে গেছে।

কিন্তু যুদ্ধ শেষ হলে তো ওকে এতিমখানাতেই পাঠাতে হবে।

ওকে এখানে কীভাবে রাখবো বলুন?

ও বয়সে অনেক ছোট। কর্তৃপক্ষ মোটেও অনুমতি দেবে না।

ওর হয়ে জবাবদিহি কে করবে?

এটা নিয়ে যথেষ্ট কথা হয়েছে।

আমি ইতিমধ্যেই সব কাগজপত্র পাঠিয়ে দিয়েছি।

এখন আসুন।

জার্মান ট্যাঙ্কগুলো বাম দিকের অবরোধ ভেঙ্গে ফেলেছে!

- রেজো, দূরবীন। - আমি ওদের দেখতে পাচ্ছি!

সাত নং সেক্টরকে কামান দিয়ে আঘাত করতে বল!

সাত, শুরু কর!

আমাদের প্লাটুন থেকে ট্যাংকগুলো ধ্বংস করতে হবে।

ওডিনটসভ, তুমি এখানে থাকো। আমি ফায়ারিং লাইনে যাচ্ছি।

আমার সাথে চলো।

এসো...

আক্রমণ!

স্যালুট, কমান্ডার।

স্যালুট, কমান্ডার।

আমরা আপনার জন্য অপেক্ষা করছিলাম।

তাহলে,

আমি গাড়িতে যাচ্ছি।

গাড়িটা পরীক্ষা করে দেখতে হবে।

কিছু একটা শব্দ করছে।

কী অবস্থা, সৈনিক শিশকিন।

স্কাউট আন্দ্রেই আমাকে এটা দিয়েছে।

এটাকে বাইনোকুলার বলে।

বাহ, খুব সুন্দর।

এখানে বসো।

আচ্ছা...

'জিহ্বা'যেন জিহ্বা নয়, জিহ্বা এক কয়েদি।

জিহ্বা যেন জিহ্বা নয়...

শোনো...

আমি সেই ঠান্ডা ও গরম অস্ত্রগুলোর ব্যাপারেও জানি।

- আগুনের অস্ত্র। - আগ্নেয়াস্ত্র।

তোমাকে নিয়ে যেতে একটা গাড়ি এসেছে।

তোমাকে এখন...

ওহ, একটা জিনিস আছে।

- এটা তোমার জন্য। - আমার জন্য?

সম্মানসূচক অস্ত্র?

হ্যাঁ, এটার গ্রিপ,

ব্যারেল, ট্রিগার আর এইমিং সাইট একদম আসল পিস্তলের মতো।

আমি তোমার অপেক্ষায় ছিলাম,

তুমি মরে যাবে কিনা সেই ভয় হচ্ছিল।

তুমি কি জানো,

আমার মনে হয়, তুমি ছাড়া আর কেউ আমার কথা ভাবে না।

আচ্ছা, তুমি কি আমার ছেলে হতে চাও?

আমি কি পারবো?

আমরা চেষ্টা করেই দেখি।

আমি 'সিনগাল গান' সম্পর্কেও জানি।

আচ্ছা, ওটা সিগন্যাল গান।

ও তো এই প্যান্টের সাইজের চেয়েও ছোট।

আমরা এটাকে কেটে ছোট করে ফেলবো।

আরে, ওর উচ্চতা হলো এতটুকু।

কোথায় কাটতে হবে জানেন?

- এখানে। - তাই তো বললাম!

ওর পা হলো এতটুকু।

না, আরেকটু লম্বা হবে।

- আরে... - এখানে কাটতে হবে।

ওর বয়স মাত্র ৬ বছর! সবাই বুঝতে পারছো না কেন!

এই দেখুন।

শুধু এই সাইজেরই পেলাম।

- এগুলো তো আমার পায়েও বড় হবে। - আমাকে দেখতে দাও।

আরে, এগুলো শুধু বড় না।

- জ্যাকব মোইসিভিচ... - এগুলো বিশাল।

এগুলো নিয়ে ২নং প্লাটুনের ফিমা'র কাছে দাও।

তাকে বলবে, আমি এই বুটের সাইজ ছোট করতে বলেছি।

- আর ইউনিফর্মের কী হবে? - আচ্ছা,

আমি এটাকে একটা ছোট ছেলের ইউনিফর্মে রুপান্তরিত করবো।

একটা ইউনিফর্ম অবশ্যই কোনো নাটকের পোশাক নয়,

তবে,

আমি প্রতিদিনই আমাদের সৈন্যদের ইউনিফর্ম সেলাই করি।

আর, বিশ্বাস করো, ওদেরকে দেখতে...

জার্মানদের চেয়ে ভালো দেখায়।

আপনার তুলনা আপনিই, জ্যাকব মইসিভিচ।

- আপনি এখান থেকে শুরু করবেন? - হ্যাঁ।

এখন আমি এটা পরবো।

কেমন লাগছে?

তোমাকে সুন্দর লাগছে।

সৈনিক শিশকিন, ডাক পড়েছে!

সৈনিক শিশকিন জেগে উঠেছে!

তুমি কি জানো? একজন প্রকৃত সৈনিক...

৪৫ সেকেন্ডের মধ্যে পোশাক পরে, যতক্ষণ একটা ম্যাচের কাঠি পুড়তে সময় লাগে।

তুমি কী বুঝাতে চাচ্ছো?

আমি তো পোশাক পরেই আছি।

আরে, একজন সৈনিককে ইউনিফর্ম পরতে হয়!

বাহ, এটা অনেক সুন্দর!

এর জন্য তোমার উচিত আমাদের সৈন্যদের ধন্যবাদ জানানো ।

অবশ্যই আমি তাদের ধন্যবাদ জানাবো, এই এত্তোগুলো 'ধন্যবাদ' জানাবো।

শুধু বলে দেবে কাকে কাকে ধন্যবাদ জানাতে হবে।

আচ্ছা, খোকা।

এখানে কী হয়েছে?

এটা? শেভ করার সময় সামান্য কেটে গেছে।

তাহলে...

- শুরু করা যাক। - ঠিক আছে।

এইতো হচ্ছে। লক্ষ্মী ছেলে।

আমি পারবো না... হয়ে গেছে!

স্যালুট!

সত্যিকারের সৈনিক দেখছি!

দারুণ সৈনিক!

- সুন্দর ইউনিফর্ম! - সৈনিকের ইউনিফর্ম!

লুকাও! বিমান হামলা!

বিমান হামলা! পালাও!

সেরেজা! সেরেজা!

ওকে পরিখায় নিয়ে যাও!

পরিখার মধ্যে চলে যাও! ওরা এখনই আক্রমণ করবে!

আমি তোমাকে সাহায্য করছি।

- শান্ত হও... - তুমি কি কাটিয়াকে দেখেছো?

আমার শুধু ক্ষতটা পরিষ্কার করে দাও।

- আমাকে যুদ্ধে সাহায্য করতে হবে। - না তুমি পারবে না!

তুমি কি কাটিয়াকে দেখেছো? সে কি বেঁচে আছে?

এখান থেকে চলে যাও, সোনা।

বিষ্ফোরণটা কি আমাদের লোকেরা করেছে?

যুদ্ধ কখন শেষ হবে? কমান্ডার কি নিরাপদে আছে?

ওরা তো তাকে আর কাটিয়াকে মেরে ফেলবে না, তাই না?

কী হয়েছে খোকা?

এভাবে বারবার মৃত্যুর কথা বলতে হয় না, বুঝলে?

এসব কল্পনাতেও আনবে না!

আমি যদি এমন কথা আরেকবার শুনি,

আমি কিন্তু তোমাকে খুব বকবো। এটা কান্না করার জায়গা না, খোকা।

সবাইকে বিশ্বাস করতে হবে, আমরাই জিতবো, বুঝলে?

- জি। - তুমি কি সাহায্য করতে চাও?

- জি। - ভালো ছেলে।

তাহলে এখানে কান্না করা যাবে না।

এখন এখান থেকে চলো, খোকা।

আমি তৃষ্ণার্ত...

এই নাও।

খোকা, আমাকেও একটু পানি দাও।

- কোথায় রাখবো? - ওখানে।

ধন্যবাদ, সোনা।

পানি খেয়ে ভালো লাগলো। ধন্যবাদ, ছোট্ট বন্ধু।

তোমার কি আরও কোনো সাহায্য লাগবে?

আমি একটা চিঠি পেয়েছি,

কিন্তু আমি দেখতে পাচ্ছি না। আমাকে এটা পড়ে শোনাও।

এখানে লেখা আছে, তারা তোমাকে অনেক ভালোবাসে।

তোমার গাভী ঠিক আছে আর প্রচুর দুধ দিচ্ছে।

কী বললে, গাভী? কিসের গাভী?

আচ্ছা, তোমার গরু। গরুটা আসলে,

খুব সুন্দর।

আপত্তি করো না, ইগোরিচ।

এখন থেকে তোমার একটা গরু আছে!

- পড়তে থাকো। - হ্যাঁ, পড়ো।

তারা এটাও জানিয়েছে যে আমরা যুদ্ধে জিতবো।

এবং তারা তোমার জন্য অনেক পাই বানাবে।

বাঁধাকপি আর আপেল দিয়ে।

লক্ষ্মী ছেলে, সেরেজা।

আমাকেও চিঠি পড়ে শোনাও, সাহায্য করো।

- আর আমাকেও পড়ে শুনিও। - আমাকেও।

তুমি চাইলে, আমি গান গেয়ে শোনাতে পারি?

গাও।

♫ বিবর্ণ একটি ছবির গল্প

♫ পুরনো নয়, ছবিটার বয়স অল্প

♫ সেই ছবিটায় পাঁচজন তরুণ সেনা

♫ যুদ্ধের নায়ক ছিল ওরা

♫ যুদ্ধের আগে এক ঢালের কিনারায়

♫ খুশি মনে দাঁড়িয়ে ছিল পাঁচ জনায়।

♫ নীল আকাশ আর সবুজ ঘাসের বিছানায়

♫ সেই জীবনপ্রভা আর হাসি মুক্তা ঝড়ায়।

আপনি কোথা থেকে বদলি হয়ে এসেছেন?

- যেতে যেতে সাত দিন লেগে যাবে। - আমি ঘুমের চোটে দাঁড়াতে পারছি না।

স্যালুট, কমান্ডার।

হাই, কাটিয়া।

ও সবেমাত্র ঘুমিয়েছে।

আমরা ওকে আপনার তাঁবুতে নিয়ে যেতে চেয়েছিলাম, কিন্তু ও রাজি হয়নি।

ও আপনার জন্য অপেক্ষা করছিল।

কাটিয়া, আমি তোমাকে বলতে চেয়েছিলাম...

...বলতে চেয়েছিলাম যে...

আমি অনেক আগে থেকেই বলতে চাচ্ছিলাম যে...আমি...

বাবা! কাটিয়া, বাবা এসে গেছে!

তোমরা কি জার্মানদের হারিয়েছো? কয়জনকে মেরেছো?

হ্যাঁ, আমরা ওদের পরাজিত করেছি।

ওরা সংখ্যায় অনেক ছিল।

কাটিয়া, আমি তোমাকে বলতে চেয়েছিলাম:

আহতদের জন্য পর্যাপ্ত জায়গা না থাকলে,

আমি আরেকটা তাঁবু একত্রে জুড়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করবো।

আমি কি যেতে পারি, কমান্ডার?

এখন আমার শিফট।

বাবা, শুরুতে তো আমি ভয়ই পেয়েছিলাম,

কিন্তু তারপর আমি বুঝে গিয়েছিলাম আমরাই জিতবো।

আমি কি এই এই যুদ্ধে কোনো উপকারে এসেছি?

হ্যাঁ, অবশ্যই।

আমি সবসময় তোমাকে সাহায্য করবো।

আমি তোমার সহকারী, তাই না? রেজোর মতো,

- আর তোমার... - আর্দালি।

- ঠিক তো? - হ্যাঁ।

বাবা, এই সুন্দর বোতামগুলো দেখ।

এখানে, এখানে আর এখানে।

এই ইউনিফর্ম তৈরি করার জন্য আমি কাকে ধন্যবাদ জানাবো?

খোকা, যুদ্ধে যেকোনো ভালো সময়েই ধন্যবাদ জানিয়ে দেওয়া উচিত।

তোমার কি শেভ করার বয়স হয়েছে?

কোনো ডেটে যাচ্ছো নাকি?

আমি একজন সৈনিক।

সৈনিকেরা ডেটে যায় না।

সাবধানে থেকো আর গাল কেটে ফেলো না, সৈনিক।

এটা এখনেই থাকার কথা। আচ্ছা।

আপনার রেজিমেন্টের আর্দালি এসে গেছে, কমান্ডার।

উপস্থিতির রিপোর্ট করছি।

আমার কি আজকের জন্য কোনো মিশন আছে, কমান্ডার?

ও যদি আর্দালি হয়, তাহলে আমি কে?

তুমি তাহলে যুদ্ধ শেষ না হওয়া পর্যন্ত আরাম করতে পারো, রেজো।

আমার সত্যিই তোমার সাহায্য়ের প্রয়োজন, খোকা।

তোমার জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ একটা মিশন আছে।

শীঘ্রই একটা ডাকের গাড়ি আসবে।

চিঠিগুলো প্লাটুনে বিলি করে দেবে। বুঝতে পেরেছো?

জি, স্যার!

- ঠিক আছে। - সোনার ছেলে।

শীঘ্রই এই ছোট্ট আর্দালি আমাদের কমান্ডার হবে।

এটা আবার কী?

এটা কিছুই না, শেভ করার সময় একটু কেটে গেছে, স্যার।

ঠিক আছে তাহলে, যাও, আমার আদেশ পালন করো।

জি, স্যার!

ব্যাগটা ওর তুলনায় অনেক বড় হয়েছে।

স্যালুট, কমরেড মিখিভ।

- তুমি কি চিঠি ​​এনেছ? - স্যালুট, স্যার।

হ্যাঁ, চিঠি নিয়ে এসেছি। কেন?

আমি কমান্ডারের আর্দালি সেরেজা শিশকিন।

আমি তার আদেশ পালন করছি।

আমি চিঠি নিতে এসেছি।

বাহ, বেশ তো!

তার মানে কমান্ডার আর বাবুর্চির পর

তুমিই প্রধান ব্যক্তি?

এখন থেকে সব সৈনিক তোমার কথায় নাচবে।

- এর মানে কী? - আচ্ছা, দেখাচ্ছি।

- পেট্রোভ! - আমি এখানে!

তোমার "প্রিয়তমার" কী খবর?

"আমার প্রিয়তমা"?

আমার প্রিয়তমা, আর দেরি করো না...

- বাহ। - এই নাও চিঠি।

নিশ্চয়ই চিঠি এসেছে।

- চিঠি, চিঠি... - এটা আমি ছোটবেলা থেকেই বাজাচ্ছি।

সেটাই শেখার মোক্ষম সময়।

- আরে, সেরেজা। - চিঠি, চিঠি...

স্যালুট, আমি চিঠি নিয়ে এসেছি।

- চিঠি! - তোমার নাম কী?

- সেরেজা। - সাবাস বেটা, সেরেজা।

ঠিক আছে তাহলে, কারাসেভ...

বারাননিকভ, ইউরেভিচ।

নিকোনোভিচ! ইউরচেঙ্কো।

ইউরচেঙ্কোর কাছে নিয়ে যাও।

আর এটা কী?

তুমি আর্টেমেনকোকে চিঠি দিলে না কেন?

আমার চিঠি?

সাবাশ বেটা! চিঠিটা আমাকে দাও

- তার আগে তোমাকে নাচতে হবে। - নাচ শুরু কর!

আরে বাহ!

- এই নাও তোমার চিঠি। - ও আমাদের দলের!

আচ্ছা...

আহা...

বেশি উঁচুতে মনে হচ্ছে না...

আরে...

এটা কী?

ধন্যবাদ, পেট্রোভিচ।

আন্দ্রেই, আন্দ্রেই!

আরে, আমাকে থালা ভরে দাও।

আন্দ্রেই, আমি কিছু একটা দেখেছি।

- ওখানে। - কোথায়?

- খড়ের গাদায় একটা পা। - একটা পা? বাহ।

- খড়ের গাদায়। - নাও, রুটি খাও।

না ধন্যবাদ. আন্দ্রেই...

- কীসের পা? - খড়ের গাদায় একটি পা।

- তুমি কি নিশ্চিত? - হ্যাঁ, বুট নড়তে দেখেছি।

আমি মোটেও বানিয়ে বলছি না।

খড়ের গাদায় একটা পা নড়তে দেখেছি। চলো যাই!

ঠিক আছে, বন্ধুরা, চলো, খোঁজ নিয়ে আসি।

- হ্যাঁ, অবশ্যই। - ভালো কাজ করেছো।

আমরা এক্ষুনি আসছি, এটা বেশি দূরে নয়।

- চলো যাই। - আমি কি তোমার সাথে যেতে পারি?

তাহলে আমি তোমাকে সেই খড়ের গাদাটা দেখাতে পারবো।

চলো তবে, সৈনিক।

আমরা যাচ্ছি। পেট্রোভিচ, আমরা পরে খাব।

কোথায় যাচ্ছেন? ডিনার করবেন না?

- হাই। - হাই।

- তোমাদের লিফট লাগবে তো? - আহ, ধন্যবাদ।

বাহ, ভিটামিন।

হ্যাঁ, আমরা অনেক জাম পেয়েছি।

তাহলে তো আমাদের সকল আহতরা কিছুক্ষণের মধ্যেই সুস্থ হয়ে উঠবে।

একদম।

এবং এটা সেরেজার জন্য। ওর ভিটামিন দরকার।

ধন্যবাদ, কাটিয়া।

আমরা কি যেতে পারবো?

আমেরিকান মেশিন আমাদের পেট্রোল হজম করতে পারে না,

এত কড়া জিনিস খেয়ে ওদের অভ্যাস নেই।

- একটা মশা। - ধন্যবাদ, রিতা।

ধন্যবাদের কী আছে।

কমান্ডার,

আমি বাজি ধরে বলতে পারি যে বাড়িতে আপনার বউ পথ পানে চেয়ে আছে।

না, আসলে সময় করে বিয়ে করা হয়ে ওঠেনি।

ওহ, সত্যিই? আপনার মতো কেউ

সাধারণত অবিবাহিত থাকে না।

হবে হয়তো, তবে কী আর করা।

পিটার!

কার্বুরেটর পরিষ্কার করার জন্য আমাদের অ্যালকোহল লাগবে।

আপনাকে কিন্তু জানিয়ে রাখলাম।

এক্ষেত্রে না বলার সুযোগ নেই।

গতকাল আর্টিলারি সদস্যরা পিভট পরিষ্কার করার জন্য এটা চেয়েছিল।

কারণ আপনি তো জানেন, অ্যালকোহল সর্বজনীন।

ধন্যবাদ, আমরা তাহলে আসি।

বিদায়।

- বিদায়, কমান্ডার। - বিদায়, কাটিয়া।

আপনার আদেশকৃত কাজ সম্পন্ন হয়েছে, কমান্ডার।

আমার সাথে এসো।

- থামো। এখানে এসো। - ওখানে, মাঝখানে।

থামো। এখানেই থাকবে আর নড়াচড়া করবে না।

- বুঝতে পেরেছ? - হ্যাঁ।

চলো।

হয়তো ও কল্পনা করে বলেছে?

একটা গ্রেনেড মেরেই দেখুন।

আর ওখানে আবার কেউ ইন্টুপিন্টু করছে না তো?

সেটা হলে খুবই লজ্জাজনক ব্যাপার হবে।

আমরা আমাদের রাশিয়ান কৌশল প্রয়োগ করে বিষয়টা পরীক্ষা করে দেখবো।

- কীভাবে? - আচ্ছা,

যেভাবে ধোঁয়া দিয়ে শিয়াল তাড়াতে হয়, ঠিক সেভাবে।

জোরা, তুমি আমাদের কভার দাও, ভানিয়া, আমার সাথে এসো।

ধরো ওকে!

গুলি করোনা!

ওটাকে ধর!

এটা কী?

ট্রান্সমিটার!

হ্যাঁ, ট্রান্সমিটার!

হ্যান্ডস আপ, বাছাধনেরা।

আমি পা ধরে ফেললেই কিন্তু ও পড়ে যেতো।

- তুমি একজন বীর। - আচ্ছা, ঠিক আছে,

তুমি এখন আমাকে ছাড়াই সামলাতে পারবে।

আমার হাতে অনেক কাজ। আমাকে চিঠি ​​বিলি করতে হবে।

ওর হাতে অনেক কাজ!

যা, যা। হিটলার সেনা! জোরে, পা চালা!

আর্তেমেনকা! আর্তেমেনকা!

সেরেজা, সে আর নেই...

যোদ্ধা সের্গেই শিশকিনকে ধন্যবাদ জানাচ্ছি,

দুই জার্মান অনুপ্রবেশকারীকে আটক করা হয়েছে।

তারা আর্টিলারির অস্ত্রাদি সংস্থাপন করতে এসেছিল।

সেরেজা তো এ বিষয়ে কিছুই বললো না।

এই বিনয়ই তো ওকে বালক সেনা হিসেবে গড়ে তুলছে।

কমান্ডার, আপনার আদেশ পালন করেছি,

- সকল চিঠি ​​বিতরণ করা হয়েছে। - ভালো করেছো, খোকা।

আমাকে বাচ্চা হিসাবে দেখবেন না।

অন্য সবার মতো আমিও একজন সৈনিক।

তাছাড়া, আমি আর্দালির দায়িত্বও পালন করছি।

আমি কি একজন অফিসার হিসেবে পদমর্যাদার ফলক পেতে পারি?

আর একটা আগ্নেয়াস্ত্র?

বিনয়ী ছেলের নমুনা দেখলে? শীঘ্রই কামান চেয়ে বসবে।

তোমাকে পদবীর ফলক দেওয়া হবে,

সাথে মেশিনগান আর একটা পিস্তল। তোমাকে শুধু বড় হতে হবে।

আমার কাছে একটা ভালো খবর আছে। দেখ।

তোমার বাবা হওয়ার অনুমতি পেয়ে গেছি।

আর তুমি এখন থেকে আমার ছেলে। এই দেখ, সিল সহ দলিল।

দারুণ, বাবা। চলো কাটিয়াকে গিয়ে এটা দেখাই।

সে আমাকে নিয়ে অনেক চিন্তা করে।

আর, তোমাকে নিয়েও।

একবার আমি তাকে কাঁদতে দেখেছি।

যখন তুমি...

...যখন তুমি প্রায় আঘাত পেতে বসেছিলে।

তখন হয়তো তার চোখে ধুলো পড়েছিল?

না, ধুলো ছিল না। আমি নিশ্চিতভাবেই জানি।

- চলো যাই, প্লিজ। - ঠিক আছে, আমি তোমাকে কাটিয়ার কাছে নিয়ে যাব।

শুভকামনা।

- কাটিয়া কোথায়? - কাটিয়া?

- সে নদীর পাড়ে গেছে। - তাড়াতাড়ি কর বাবা।

কাটিয়া...

এটা তোমার জন্য।

- কাটিয়া... - চুপ।

তোমার মুখে তো অনেক ময়লা লেগে আছে।

খালি এখানে সেখানে ছুটোছুটি করে বেড়াও!

ধন্যবাদ, কিন্তু আমি নেটল, ওর্মউড পছন্দ করি

- এবং অন্যান্য ঔষধি উদ্ভিদ পছন্দ করি। - ওগুলো তো পাইনি।

যুদ্ধের পর - পৃথিবীর সমস্ত ফুল তোমার পায়ে এনে ফেলবো।

চুপ, চুপ। এত ময়লা কোত্থেকে লাগালে?

দুষ্টু ছেলে...

আপনার ফুল ফিরিয়ে নিয়ে যান আর আমার কাপড় ফিরিয়ে দিন।

তুমি নিজেই নিয়ে নাও।

- হাই, কাটিয়া। - সেরেজা!

আমি কিন্তু একা আসিনি, আমার বাবার সাথে এসেছি। বাবা!

বাবা,

বাবা।

সে তো এখানেই ছিল!

এগর ম্যাক্সিমোভিচ, এগর ম্যাক্সিমোভিচ,

- আমি তোমার জন্য বারুদ এনেছি। - থামো!

বড় করে হা করো, নয়তো কানে ব্যথা হবে।

গোলাবারুদ আনার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ, সেরেজা,

তবে তুমি বরং কমান্ডারের কাছে দৌড়ে চলে যাও।

সৈনিক শিশকিন, আমার আদেশ শোনো,

কমান্ডারের পরিখায় এক্ষুনি দৌড়ে চলে যাও!

জি, স্যার!

১নং থেকে ৩নং কে বলছি, তুমি কি আমার কথা শুনতে পাচ্ছ?

ধুর!

তাদের উচিত হবে ১২নং সেক্টরে আবারও গোলাবর্ষণ করা।

- তুমি কি আমাকে শুনতে পাচ্ছ? - সংযোগ পেয়েছে কি?

তার ছিঁড়ে গেছে।

আমরা লোক পাঠিয়েছিলাম, কিন্তু তারা নিহত হয়েছে।

চারপাশে স্নাইপার আছে।

পুরো জায়গাটা উন্মুক্ত।

তারটা ঠিক কর। এটা আমার আদেশ।

জি, স্যার।

১নং থেকে ৩নং কে বলছি, তুমি কি আমার কথা শুনতে পাচ্ছ?

স্যার, শুনছেন...

- স্যার... - পরিখায় লুকান।

আমি খুব ছোট। আমার গায়ে বোমা লাগবে না।

স্যার, শুনছেন,

আমাকে শুধু বলুন, তারটা দিয়ে কী করতে হবে।

স্যার...

তোমাকে তারের দুই প্রান্ত জোড়া লাগাতে হবে।

১নং থেকে ৩নং কে বলছি, তুমি কি আমার কথা শুনতে পাচ্ছ?

১নং থেকে ৩নং কে বলছি, তুমি কি আমার কথা শুনতে পাচ্ছ?

সংযোগ পেয়েছে, কমান্ডার!

এটার নাম সপ্তর্ষিমন্ডল।

তুমি যদি তারাগুলোকে সংযুক্ত কর,

তাহলে তুমি একটা মেয়ে ভালুকের আকৃতি দেখতে পাবে।

এর উপরে রয়েছে আরেকটা ছোট ভালুক।

ওরা কি তাহলে মা আর মেয়ে?

আর বাবা কোথায়? যুদ্ধে?

আর ওরা কি তার জন্য অপেক্ষা করছে?

হতে পারে, এই নাও।

সে জিতবে।

সে জার্মানদের পরাজিত করবে।

এবং ফিরে আসবে।

এবং তারা আবারও একত্রিত হবে।

হ্যাঁ, আমিও তাই আশা করি।

মানুষ একসাথে থাকতে কীভাবে বিয়ে করে?

প্রথমে তারা প্রেমে পড়ে।

তখন তারা বুঝতে পারে, তারা একে অপরকে ছাড়া বাঁচতে পারবে না।

প্রেমে পড়া মানে কী?

প্রেম অনেক জটিল একটা বিষয়।

মানুষভেদে অবশ্য ভিন্ন হতে পারে।

কখনও কখনও প্রেম আনন্দ ও সুখ বয়ে আনে,

আবার কখনও বয়ে আনে অনেক ব্যথা আর কষ্ট।

- মানুষ নাওয়া-খাওয়া ভুলে যায়। - অসুখের মতো?

তাদের চোখে ঘুম আসে না। অসুখ হলে যেমন হয়।

- তাহলে অসুখের মতো। - হ্যাঁ।

আহা...

আরেকটু সহ্য করুন, আমি ক্ষতটা পরিষ্কার করে দেবো।

কাটিয়া, তাড়াতাড়ি কর, বাবা অসুস্থ হয়ে পড়েছে!

কী হলো?

সে খাচ্ছে না, ঘুমাচ্ছে না। তার অবস্থা খারাপ!

- তারাতারি কর! - দাঁড়াও, দাঁড়াও।

- কাটিয়া, তাড়াতাড়ি কর! - এক সেকেন্ড।

- হ্যাঁ, আমি আসছি। - তাড়াতাড়ি চলো।

একটু অপেক্ষা কর, সেরেজা।

কাটিয়া, দয়া করে তাড়াতাড়ি কর!

আচ্ছা, ঠিক আছে।

তাড়াতাড়ি কর, সে খুব অসুস্থ!

কমান্ডার, আমার দিকে তাকান।

চোখ খুলুন, হা করুন, আমাকে দেখতে দিন...

এখানে ব্যথা হচ্ছে?

থামো, সার্জেন্ট ভাসিলিভা।

আমি অসুস্থ নই। এসব কী হচ্ছে?

আপনি অসুস্থ না? তাহলে খাচ্ছেন না, ঘুমাচ্ছেন না কেন?

- এসব তোমাকে কে বললো? - আচ্ছা, সেরেজা বলেছে...

সেরেজা, এখানে এসো!

কাটিয়া, এই ঘটনার জন্য আমি দুঃখিত।

আমি খাওয়া-দাওয়া ঠিকমতোই করছি।

আমি ঘুমাতেও চাই, কিন্তু সে সময় হয়ে উঠছে না।

আমার ধারণা সেরেজা এসব বানিয়ে বলেছে।

আমাদেরকে ওর প্রয়োজন... তাই হয়তো...

কাটিয়া!

কুকুর!

তুমি চলে এসেছো!

রেজো, কুকুর!

- তুমি ঠিক ধরেছো। - বাহ, কুকুরগুলো সুন্দর।

আমাদের রেজিমেন্টের ছেলে সেরেজার সাথে পরিচিত হও।

অথবা, বলা যেতে পারে, রেজিমেন্ট কমান্ডারের ছেলে।

আমি আর্দালি, কমান্ডারর সহকারী। ঠিক রেজোর মতো।

সেটাই তো দেখছি। আর আমি হলাম কলিয়া।

এই কুকুরগুলোর প্রশিক্ষক।

তাহলে, তুমি ওদের কমান্ডার?

- ঠিক ধরেছো। - তা বলতে পারো।

আমি ওদের দেখাশোনা করি, ওদের খাওয়াই এবং প্রশিক্ষণ দিই।

ওদের বিভিন্ন বিষয়ে শিক্ষা দিই। এখানে এসো।

ডিকের সাথে পরিচিত হও, ও হলো প্রধান কুকুর।

ও খুব বুদ্ধিমান, বুঝলে?

ও আহত বা অচেতন কাউকে দেখলে,

তাদের জ্ঞান না ফেরা পর্যন্ত চাটতে থাকে।

আর ওর নাম এভাকাস।

ও আহতদের কাছে যায়, আর ওর কাঁধে থাকে একটা ওষুধের ব্যাগ

যাতে সৈনিকরা তাদের ক্ষত ব্যান্ডেজ করতে পারে।

নার্স আসার আগপর্যন্ত।

আমি কি স্লেজটায় চড়তে পারি?

যদি না ডিক আপত্তি করে। এখানে এসো।

অবশ্যই আপত্তি করবে না।

- তোমার আপত্তি নেই তো? - অবশ্যই না।

ও হ্যাঁ বলেছে। ও আনন্দের সাথে আমাকে চড়তে দেবে।

তাহলে চড়ে বসো।

এখানে এসো।

- ভাসিলিভা শোন... - হ্যাঁ, স্যার?

- ভ্যাসিলিভা, দাঁড়াও। - জি, মেজর?

কাটিয়া, দাঁড়াও! আমি...

সদর দপ্তর কোথায়? আমাকে পৌছানোর জন্য রিপোর্ট করতে হবে।

সেটা ঐ তাঁবুর পিছনে।

- থামো! - সেরেজা, শক্ত করে ধর!

থামো!

- থামো! - বাবা!

বাবা।

ওখানে মাইন পোঁতা আছে!

- থামো! - এটা স্টার্ট করো!

তাড়াতাড়ি কর, ভিতা!

এটা ধরো।

- কী হয়েছে? - মাইন!

দাঁড়াও!

সেরেজা!

মাইন

বাবা!

সেরেজা!

- তুমি ঠিক আছো? - হ্যাঁ, আমি ঠিক আছি, রেজো।

দাঁড়াও...

আমি অনেক আগেই তোমাকে বলতে চেয়েছিলাম...

আমি...

আমি...

আমি...

আমি খুব... আর তুমি?

আচ্ছা, হ্যাঁ।

কীভাবে যে বলি...

সেরেজা তোমাকে অনেক ভালোবাসে...

দয়া করে আমার...

...সেরেজার মা হও।

প্লিজ।

স্যালুট, মেজর। রিপোর্ট করতে পারি?

বিভাগীয় সদর দপ্তর থেকে এটা পাঠিয়েছে।

- তুমি যেতে পার। - জি, স্যার।

আমরা আগামীকালই রওনা দিচ্ছি, কাটিয়া।

তোমার বুট ভিজে যাবে। তুমি কি আমার কথা শুনতে পাচ্ছো?

এসো, খোকা।

- শুভ অপরাহ্ণ। - শুভ অপরাহ্ণ।

- তুমি কেমন আছো? - আপনি কেমন আছেন?

- ঈশ্বর... - শুভ অপরাহ্ণ।

তারা কি, শিশুদেরও সেনাবাহিনীতে নিয়ে যাচ্ছে?

না, ও আমাদের দায়িত্বে আছে। রেজিমেন্টেরই ছেলে।

আমি এখনই আপনাদের জন্য খাবার আনছি।

না, ধন্যবাদ। আমাদের কাছে খাবার আছে।

কিন্তু আপনাদের কাছে তো গরম গরম আলু নেই, তাই না।

সেটা অবশ্য ঠিক।

- ধন্যবাদ। - আমাদের পরম সৌভাগ্য।

এখানে কী আছে? এটা কি শস্য ভাণ্ডার?

না। ওটা জার্মান বিমানের বোমা পড়ে হয়েছে।

বোমাটা বিশালাকৃতির ছিল ছাদ ভেঙ্গে মেঝেতে পড়েছে।

কিন্তু বিষ্ফোরিত হয়নি।

তাই আমরা শুধু ঘরে পট্টি মেরে কাজ চালাচ্ছি।

তার মানে বোমাটা এখনও নিচেই আছে?

আর কোথায় থাকবে?

স্যাপারদের ডাকো। সবাই ঘরের বাইরে যাও! [স্যাপার (Sapper) = মিলিটারি ইঞ্জিনিয়ার]

চলো... তাড়াতাড়ি কর... তাড়াতাড়ি কর!

তাড়াতাড়ি...

এটা কোন জাতের?

একটা গ্রাম্য দেশি কুকুর।

- এদের বলা হয় তুজিক। - এরা খুব বুদ্ধিমান।

দেখ, এর বড় থাবাগুলো, দেখেছো?

আর দাঁতও, তুজিক, তোমার দাঁত দেখাও।

এক, দুই, তিন, চার... দেখাও তোমার কয়টা দাঁত?

যুদ্ধের পর, আমরা ওকে নেকড়ে শিকারে নিয়ে যাব।

ও নির্ভীক!

আমি যুদ্ধে যেতে চেয়েছিলাম,

কিন্তু আমার দাদা আমাকে যেতে দিলেন না।

রেজো, সবাইকে বলো আমরা চলে যাচ্ছি।

বাবা, আমাকে আসল পিস্তল কবে দেবে?

আমাকে দেখতে দাও।

এটা তো আসল পিস্তলের চেয়েও অনেক ভাল।

দেখ, এতে খোদাই করা লেখাও আছে?

সেরেজা!

রেজো...

সেরেজা, তুমি ঠিক আছো? কোথাও আঘাত পেয়েছো?

বাবা, বাবা...

- তাকে ব্যান্ডেজ কর। - কমান্ডার...

- লাগবে না। ওটা কী ছিল? - একটা মাইন।

বিস্ফোরণে সবাই চারিদিকে ছিটকে গেছে। রেজো...

বাবা, রেজো ওখানে শুয়ে আছে...

কমান্ডার, আপনাকে এক্ষুনি হাসপাতালে পাঠাতে হবে।

না। আহতদের যত্ন নিন।

বাকি সবাই - এগিয়ে যেতে থাকো!

- যেতে থাকো! - ওকে গাড়িতে রাখো।।

না, আমি তোমার সাথে থাকবো!

জেনারেল, সৈন্যদের সবার পোশাক জীর্ণশীর্ণ হয়ে গেছে।

আমি এজন্য একটা রিপোর্ট করেছিলাম।

এগুলো ভুলে যাও। সবাই খারাপ সময় অতিবাহিত করছে।

রসদ সরবরাহকারী গাড়ীগুলো ধীরগতির।

জেনারেল, মেজরের সাথে কথা বলার অনুমতি কি পেতে পারি?

অনুমতি দেওয়া হলো।

কমান্ডার,

আর্দালি সের্গেই শিশকিন

একটি যুদ্ধের মিশন সম্পন্ন করায় রিপোর্ট করতে এসেছে।

আমার কি আজকের জন্য কোনো মিশন আছে?

আচ্ছা, সৈনিক শিশকিন,

আমি তোমাকে ২য় প্লাটুনে পাঠাতে যাচ্ছি

সৈন্যদের পোশাক এবং সরঞ্জাম পরিদর্শন করার জন্য, তুমি কি পারবে?

- জি, স্যার! - তাহলে যাও।

কমান্ডার, সৈন্যদের পরিদর্শনের স্বার্থে সবাইকে সারিবদ্ধ হতে বলুন।

সেরেজা!

আমাদের ছেলেরা তোমাকে দেখার তর সইতে পারছে না।

সেরেজা, দেখ আমার কাছে কী আছে।

মিমি চকলেট। তারা বলে এটা নাকি খুব মিষ্টি।

একটু চা খেলে কেমন হয়?

চকলেট দিয়ে?

আমি আমার কমান্ডারর আদেশ পালন করছি

কমরেড কুজনেটসভ।

পরিদর্শনের জন্য আপনার ছেলেদের লাইনে দাঁড়াতে বলুন।

প্লাটুন - লাইনে দাঁড়াও!

যাদের বুট ছেঁড়া, তারা এক ধাপ এগিয়ে দাঁড়াও।

আচ্ছা, তুমি কি লিখতে পারো?

হ্যাঁ, পারি তো।

তাহলে, যাদের বুট ছেঁড়া, তাদের নাম লিখে দাও।

আচ্ছা।

তো, সেরেজা নিজের মা নিজেই বেছে নিয়েছে।

অভিনন্দন। কি বুদ্ধিমান ছেলে!

তাহলে তোমাকে আর কখনো সিদ্ধান্ত নেওয়ার ঝামেলায় পড়তে হবে না।

- জেনারেল... - কি?! এত জলদি?

ঠিক আছে, কীভাবে রেজিমেন্ট কমান্ডারের আদেশ পালন করলে তার রিপোর্ট দাও।

সৈনিক সেরেজা শিশকিন।

- প্লাটুনের প্রায় সবাই? - জি, জেনারেল।

আচ্ছা, মেজর, তোমার রিপোর্টে সাক্ষর করতে হবে।

রসদ প্রাপ্তির তালিকায় তোমরাই শুরুতে থাকবে।

- ধন্যবাদ, জেনারেল। - তোমার আর্দালি...

খুবই করিৎকর্মা ছেলে। আর কোনো অনুরোধ আছে?

- জি, জেনারেল। - বলো।

জেনারেল হিসেবে আপনার অনুমতি প্রার্থনা করছি

আমার বাবা এবং আমাদের কাটিয়ার বিয়ের জন্য।

- আচ্ছা, অনুমতি দেওয়া হলো। - এখন চলে যাও।

জি, স্যার।

বাবা, আমাদের ডিভিশনকে কি সত্যিই

গার্ড ব্যানার দিয়ে পুরষ্কৃত করা হবে?

হ্যাঁ, আমাদের শীঘ্রই গার্ড ডিভিশনে পদোন্নোতি দেবে।

আচ্ছা, এটার মানে কী?

দেখ, গার্ড ব্যানার হচ্ছে

অনেক সম্মানের। আমাদের জন্য, সবার জন্য।

যারা মিশনে মারা গেছেন তাদের জন্যও।

যারা যুদ্ধ করছে তাদের জন্যও।

এই পুরষ্কারটা আমাদের বিজয় ছিনিয়ে আনার দক্ষতার জন্য।

এর মানে কি আমিও পুরস্কৃত হবো?

অবশ্যই।

সাবধান! সবাই সারিবদ্ধ হও! প্রাইভেট শিশকিন! [প্রাইভেট (Private) = সৈনিকদের একটি পদবী]

আমার প্রাণঢালা অভিনন্দন, সেরেজা শিশকিন। এটা তোমার প্রাপ্য।

আমি দেশের সেবায় নিয়োজিত থাকবো!

১নং থেকে ৩নং কে বলছি, তুমি কি আমার কথা শুনতে পাচ্ছ?

আমার চিঠি? সাবাশ বেটা!

তার মানে তুমিই এখন প্রধান ব্যক্তি?

সারা দেশে আমার অনেক খদ্দের ছিল।

গোলাবারুদ আনার জন্য ধন্যবাদ, সেরেজা...

কমান্ডার, আমরা ২৫নং সেক্টরে পৌঁছাতে পারিনি। আমরা একটা শিশুকে পেয়েছি...

একজন সত্যিকারের সৈনিক!

সত্যিকারের ইউনিফর্মে!

সেরেজা, লুকাও!

বাবা!

না! বাবা!

আমি এখানে! আমি আসছি বাবা!

না, না!

আমি তোমাকে বাঁচাবো, বাবা!

বাবা!

এগর ম্যাক্সিমিচ!

বাবা ধ্বংসস্তূপের নিচে আটকা পড়েছে!

- দ্রুত যাও! - কমান্ডার আটকা পড়েছে...

স্যাপারদের ডাকো!

উনি কেমন আছে, কাটিয়া?

একটু আগে জ্ঞান ফিরেছে।

কিন্তু বেশিক্ষণ থাকবে না, ঠিক আছে?

- এসেছো, সেরেজা? - হ্যাঁ, বাবা।

- তোমার আঘাত লাগেনি? - না।

কান্নাকাটি করবে না।

ছেলেরা কাঁদে না।

অনুবাদ ও সম্পাদনা মারিব সিরাজ

১৯৪৩ সালের ২৭ এপ্রিল, সর্বকনিষ্ঠ সৈনিক (৬ বছর বয়সী)

সেরেজা আলেশকভ, মহান স্বাদেশিক যুদ্ধের

'যুদ্ধক্ষেত্রে বীরত্বের জন্য' পদক লাভ করেন।

সেরেজা স্ট্যালিনগ্রাদ যুদ্ধে অংশ নিয়েছিলেন

এবং তার রেজিমেন্টের সাথে পোল্যান্ডে পৌঁছেছিলেন

রেজিমেন্ট কমান্ডারের পরিবারই

তার নিজের পরিবার হয়ে ওঠে।

তারপর তিনি তুলা'র সুভোরভ ক্যাডেট স্কুল থেকে স্নাতক হন

এবং অপরাধ বিরোধী সংগ্রামে জীবন উৎসর্গ করেন।

♫ তাদের সম্মানে লেখা হয়নি কোনো বই, গাওয়া হয়নি কোনো গান, আজ তাদের নাম ইতিহাসেও নেই

♫ কারো আদরের সন্তান, কারো ভালোবাসার স্বামী,

♫ বহুদূরে কোনো অজানা কবরে শায়িত আছে

♫ তারা যুদ্ধে মারা যায় এক গিরিখাতের কাছে

♫ যুদ্ধ থামিয়ে দিয়েছিল তাদের জীবনকে।

♫ আকাশ ছিল নীল, ঘাস ছিল সবুজ,

♫ তারা ছিল জীবিত এবং সদা হাস্যোজ্জ্বল...

Buy Me a Coffee ☕ Bkash/ Nagad/ Rocket 01793170546

সাবটাইটেল সম্পর্কিত যেকোনো বিষয়ে যোগাযোগের ঠিকানা maribsiraj@gmail.com

বাংলা সাবটাইটেল দিয়ে মুভিটি উপভোগ করার জন্য ধন্যবাদ।

ভালো লাগলে গুড রেটিং দিতে ভুলবেন না:)

Bangla Subtitle By Marib Siraj

Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.