Afrikaans
Akan
Albanian
Amharic
Arabic
Armenian
Azerbaijani
Basque
Belarusian
Bemba
Bengali
Bihari
Bosnian
Breton
Bulgarian
Cambodian
Catalan
Cebuano
Cherokee
Chichewa
Chinese (Simplified)
Chinese (Traditional)
Corsican
Croatian
Czech
Danish
English
Esperanto
Estonian
Ewe
Faroese
Filipino
Finnish
French
Frisian
Ga
Galician
Georgian
German
Greek
Guarani
Gujarati
Haitian Creole
Hausa
Hawaiian
Hebrew
Hindi
Hmong
Hungarian
Icelandic
Igbo
Indonesian
Interlingua
Irish
Italian
Japanese
Javanese
Kannada
Kazakh
Kinyarwanda
Kirundi
Kongo
Korean
Krio (Sierra Leone)
Kurdish
Kurdish (Soranî)
Kyrgyz
Laothian
Latin
Latvian
Lingala
Lithuanian
Lozi
Luganda
Luo
Luxembourgish
Macedonian
Malagasy
Malay
Malayalam
Maltese
Maori
Marathi
Mauritian Creole
Moldavian
Mongolian
Myanmar (Burmese)
Montenegrin
Nepali
Nigerian Pidgin
Northern Sotho
Norwegian
Norwegian (Nynorsk)
Occitan
Oriya
Oromo
Pashto
Persian
Polish
Portuguese (Brazil)
Portuguese (Portugal)
Punjabi
Quechua
Romansh
Runyakitara
Russian
Samoan
Scots Gaelic
Serbian
Serbo-Croatian
Sesotho
Setswana
Seychellois Creole
Shona
Sindhi
Sinhalese
Slovak
Slovenian
Somali
Spanish
Spanish (Latin American)
Sundanese
Swahili
Swedish
Tajik
Tamil
Tatar
Telugu
Thai
Tigrinya
Tonga
Tshiluba
Tumbuka
Turkish
Turkmen
Twi
Uighur
Ukrainian
Urdu
Uzbek
Vietnamese
Welsh
Wolof
Xhosa
Yiddish
Yoruba
Zulu
দক্ষিণ মালাসার, ১৭শ শতাব্দী
জলদি কর।
কী হয়েছে?
কী ওখানে?
কিছু একটা আছে এখানে।
আগুন যেন জ্বলতেই থাকে খেয়াল রাখিস।
আজ রাতে নদী পার হওয়া অসম্ভব।
কোথায় গেলো?
কোরা!
কোরা...
কোরা...
কী হয়েছে?
এখানে কেন তুই?
যক্ষী(আত্মা)!
কোরা...
কোরা!
কো...কোরা
A Subtitle by: Habib Siam
: . : . : B R A M A Y U G A M : . : . :
কে তুমি?
ক্ষমা করবেন।
আমি চুরি করতে...
কেন এসেছ এখানে?
আমি নদী পার হতে পারিনি।
ভুল পথে হেঁটে বনের ভেতর এসে পড়েছি।
আর মূল ফটকের সামনে এসে পড়লাম।
বারান্দায় কেউই ছিল না।
তাই এসে চুরি করার কথা ভাবলে?
না! তা নয়।
ক্ষুধার্ত ছিলাম বলে নিয়েছি।
আসি আমি।
এই বাড়ির প্রবেশপথ দিয়ে একবার গেলে...
নদী, সমতল আর পাহাড় সব এখানেই পেয়ে যাবে।
এখন কোন মাস?
ফসল তোলার মৌসুম শেষ।
বর্ষাকাল শুরু হয়েছে।
সময়ের ন্যায়, নদী বয়ে যায়।
নিরলসভাবে ঘুরছে, বাঁকছে।
এটা পার করা সহজ কোনো কাজ নয়।
কে ওখানে?
বলছি, কে ওখানে?
ঐ...
ফটক দিয়ে যেই প্রবেশ করবে আমি জেনে যাব।
একজন পথিক।
অনেক বড় মুহুর্ত বটে।
কত দিন পরে কোনো অতিথি এলো!
আমার গৃহে স্বাগতম।
কে তুমি?
এখানে কেন আসা হলো?
আমার নাম থেভান।
আমি একজন পানান(সম্ভ্রান্ত গায়ক)।
জমিদারকে ঘুম থেকে জাগিয়ে তোলার জন্য প্রাসাদে গান গাইতাম আমি।
যখন দাঙ্গা বেধে গেলো, প্রাণ বাঁচাতে পালিয়ে আসি আমি।
যদি অপর প্রান্তে যেতে পারি, আমি নিরাপদে থাকব।
পানান!
বানান!
বানাভাট্টান!
কিছুটা কবিদের বংশের মতো।
হায় হায়, না!
তেমন কিছু না।
তাহলে, তুমি নিশ্চয়ই পুমানি পানানারের বংশধর?
হ্যাঁ।
উপরে তাকাতে পারো।
মাণিক্যচাথিরাম গাইতে পারো?
এটা জানা আছে আমার।
প্রাসাদে রোজ এটা গাইতাম।
মিথ্যা বলছে সে।
যদি সে পানান হয়ে থাকে, তাহলে ওর বাদ্যযন্ত্র নান্থুনি কোথায়?
পালানোর সময় হারিয়ে ফেলেছি।
কেবল আমার গানই রয়ে গেছে।
কীর্তন জানা নেই আমার।
কেবল ব্রাহ্মণরাই--
প্রশ্নের জবাব দাও শুধু।
ব্রাহ্মণ হয়ে কেউই জন্মায় না।
কর্ম দিয়ে।
পরে কথা হবে আবার।
এখন আমার জন্য একটা গান গাও। শুনি আমি।
এখনই?
তাহলে কি তারকারাজির বিন্যস্ত হওয়ার অপেক্ষা করব?
গাও তো।
অসাধারণ ছিল!
যদি এখন সেই প্রাসাদে থাকতে, জমিদার তোমাকে রেশম আর সোনা পুরষ্কার দিত।
আমি যা শুনতাম এবং শিখতাম কেবল তাই গাইতাম।
এসব প্রশংসার যোগ্য নই আমি।
হয়েছে হয়েছে!
সামান্য এক রাঁধুনি গানের কী জানবে?
সরো!
তোমার আগমন এবং তোমার গান।
দুটোই ভালো লেগেছে আমার।
ভোজনে আমাদের সাথে যোগ দাও, কী বলো?
আমি সত্যিই কৃতজ্ঞ।
কয়েকদিন ধরে অনাহারে ছিলাম।
জানি...
তোমাকে আর চিন্তা করতে হবে না।
আমাদের সাথে স্থায়ী হতে পারো।
শুধু যেটা গাইতে বলব সেটা গাইবে। হুম?
কিন্তু...আমাকে...
যেতে হবে।
সাহায্যের জন্য বাড়ানো হাতকে অস্বীকার করা এক প্রকার অসম্মানই।
আমি, কদুমন পোট্টি যখনই যা চেয়েছি...
কেউই আমার অনুরোধ ফেলেনি।
বুঝিয়ে দাও তাকে।
বেয়াদবি করবে না!
তুমি এখানে থাকতে পারো।
হুম... ঠিক আছে।
আপনি যা বলেন প্রভু।
তাহলে আসো ভেতরে।
আমি নীচ জাতের পানান...
আমার কি ভেতরে যাওয়ার অনুমতি আছে?
এই প্রথা যদি আমি মেনে না চলি? হাহ?
অষ্টদশা গাঁথা দ্বিতীয় চরণ।
আনন্দদায়ক অতিথিদের অন্তর থেকে স্বাগতম।
সেটা উচ্চ বংশের হোক আর নীচ বংশের হোক।
ভেতরে আসো।
গোলাঘরের পাশের ঘরটা ওর জন্য খুলে দাও।
কাপড়সহ অন্যান্য যা যা দরকার পড়ে সব দিয়ে দাও।
জি আচ্ছা।
হাঁটতে থাকো।
সবগুলো ঘর দেখতে একই হলেও এটা একটু আলাদা।
এভাবেই নকশা করেছিল তারা।
অনেকগুলো থাম,
সিঁড়ি আর অন্ধকার।
প্রথম যে পোট্টি এখানে এসেছিলেন, উনি ছয় পুরুষ আগের।
মায়ান্নুরের এক নামকরা মিস্ত্রীকে দিয়ে এটা বানিয়ে নিয়েছিলেন।
এটা সেই বিশাল দরবারঘর।
এর পরে আছে রন্ধনশালা।
সূর্যাস্তের পর একবার খাওয়া এখানকার রীতি।
এটা দক্ষিণ দিকে যাওয়ার পথ।
ওখানে কারও যাওয়ার অনুমতি নেই।
দরবারঘর থেকে রন্ধনশালায় আসার এটাই একমাত্র পথ।
এখানে যখন আসবে, শুধু সামনে পা বাড়াবে।
অন্য পথে যাবে না।
উপরতলায় কী আছে?
এই বাড়িতে কিছু সভাকক্ষ আছে যেগুলো অনেক বছর ধরে বন্ধ পড়ে আছে।
তাই...
হয়তো এমন শব্দ শুনতে পারো যেটা আগে কখনো শোনোনি।
ওসবে কান দিবে না।
উপরন্তু,
অহেতুক প্রশ্ন জিজ্ঞেস করবে না।
বুঝতে পেরেছ?
এখানে ঘুমাতে পারো।
মনে রাখবে তুমি প্রাসাদে নেই।
এই বাড়িতে হাঁটার সময় সাবধানে হাঁটবে।
- সব একদম ঠিকঠাক আছে। - ঠিক নেই।
অনেক আগে, এক বৈদ্য এখানে থাকতো।
দক্ষিণের কামড়ায় অর্থের সন্ধানে গিয়েছিল।
এরপর থেকে আর তাকে দেখা যায়নি।
সাবধানে থাকলে তোমারই ভালো।
তোমার সাথে বেয়াদবি করে থাকলে ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি, অতিথি।
বেশ কয়েক বছর ধরে আমি একা আছি।
ফটক দিয়ে শেষ কবে বেরিয়েছিলাম ভুলেই গেছি।
এই বাড়ি যখন দেখেছি, ভেবেছিলাম প্রাসাদের ন্যায় মানুষে পূর্ণ থাকবে।
আশা করি গানটা আপনার ভালো লেগেছে প্রভু।
নাও, খাও।
খাও।
যতক্ষণ না মন ভরে খেতে থাকো।
আমাদের গোলা একদম কানায় কানায় পূর্ণ।
সবই সৃষ্টিকর্তার কৃপা।
খাবার এবং আশ্রয় দেয়ার জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ।
কিন্তু তোমাকে তো এসব আমি দিয়েছি, তাই না?
তাহলে ঈশ্বরকে ধন্যবাদ কেন দিচ্ছো?
না, না...
আমি ঐ উদ্দেশ্য নিয়ে বলিনি।
তাহলে কী উদ্দেশ্যে বলেছ?
বলো...
শুনি আমি।
মানে, ঈশ্বর আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে।
নয়তো বনেই থেকে যেতাম আমি।
নিয়তি।
নিয়তি তোমাকে এখানে নিয়ে এসেছে!
ঈশ্বর নয়।
যদি নাখোশ করার মতো কিছু বলে থাকি, ক্ষমা করে দেবেন।
মাণিক্যচরিথম এর আরেকটা গান গাইলে কেমন হয়--
আহ!
পাকিদা! (পাশা খেলা)
কীভাবে খেলতে হয় জানো?
জি।
মন্দিরের উঠানে মাঝে মাঝে খেলতাম।
ওগুলো গুটি।
এই দুটো ছক্কা!
ছক্কায় আসা সংখ্যা অনুযায়ী গুটি চালতে হবে।
যে আগে এখানে গুটি এখানে নিয়ে আসতে পারবে, সে জিতবে।
সব কপালের ওপর নির্ভর করে।
শুধু কপাল না...
বুদ্ধিরও দরকার আছে।
ইতিহাস তাই বলে।
মহাভারতের যুদ্ধের ব্যাপারে শোনোনি?
কিন্তু ওটা তো বেইমানি ছিল, তাই না?
কালের যাত্রা বড় নীরস।
উদাসীনতার মহাপ্লাবনে যখন কেউ ডুবতে ধরে...
পাকিদা হলো তার সর্বোত্তম সমাধান।
সত্যিই।
বসো না।
খেলা শুরুর আগে, দামী কিছু বাজি রাখতে হবে।
সোনার অলংকার, টাকা যেকোনো কিছু হতে পারে।
এই পানানের না টাকা আছে, না অলংকার আছে, প্রভু।
বীজ বপন না করলে তো ফল পাবে না।
প্রকৃতির নিয়ম তো তাই, না?
তাই, তোমার হয়ে আমি সিদ্ধান্ত নিতে পারি না।
কিন্তু...
আমার সাথে তো কিছুই নেই...
আছে!
আছে তোমার কাছে।
তোমার কাছে আছে এখন।
সর্বদা থাকে তোমার কাছে।
শুধু উপলব্ধি করতে পারো না।
তো, জানাও তোমার সিদ্ধান্ত...
আমি জানি না।
আমি বুঝতে পাচ্ছি না, প্রভু।
বোঝার কী আছে?
তোমার সিদ্ধান্ত বলো।
আমাকে আচ্ছাদিত করে রাখা এই ধুতি ছাড়া কিছুই নেই আমার কাছে।
অবশ্যই আছে।
তোমার সময়!
আমার সময়?!
আমার সময়কে কীভাবে বাজি রাখতে পারি, প্রভু?
নিশ্চয়ই পারবে!
এই দুনিয়ায় সময়ের চেয়ে মূল্যবান আর কিছুই নেই।
খচ্চর আর পতিতাদের সাথে তোমাকেও বিক্রি করা হয়েছিল।
সওদাগর তোমাকে জাহাজে করে পুন্নানি পাঠাতে চাইলে তুমি পালিয়ে আসো।
গহীন অরণ্যে ঘুরতে থাকলে,
নদী পার হতে পারলে না, এখানে এলে।
আমার সাথে পাশা খেলার জন্য তৈরী হও।
তাহলে তোমার ভাগ্যনিয়ন্ত্রিত সময়!
এটা কি সত্যি নয়?
জি।
আপনি সব জানেন প্রভু!
বেশ, তাহলে তোমার সময়কে বাজি রাখা যাক।
যদি তুমি বিজয়ী হও,
এই বাড়ি থেকে চলে যেতে পারবে।
কিন্তু যদি জয় আমার হয়,
জীবনের বাকিটা সময় তোমাকে এখানে থাকতেই হবে।
আমার বাড়ির পানান হিসেবে!
আয়হায়!
এ তো...
বেয়াদবি নিবেন না।
আমি ভীত, এমন খেলা খেলতে পারব না।
দুঃখিত, কিন্তু আমার যেতে হবে।
চাল তো হয়ে গেছে!
এখন খেলা ছেড়ে কীভাবে যেতে পারো?
ছয়, তিন...
চালো গুটি!
অষ্ট! (আট)
চার!
এখন ১২ আসলে,
তোমার পরাজয় নিশ্চিত হবে।
তাহলে...
আমি আসি?
গাইতে আসা পানান দেখছি এখন পাকিদাও খেলতে বসে গেছে।
প্রভু জোর করেছেন বলেই।
উনার সাথে খেলাটা অনেক সম্মানের।
এতো জ্ঞানী একজন মানুষের সাথে খেলাটা কি আমার সৌভাগ্য নয়?
উনার চেহারা থেকে ছড়ায় করুণা!
আমি কিছু বলার আগেই উনি সব বুঝে ফেলেন।
বড্ড ভালো মানুষ তিনি!
ভালো মানুষ?
বদের হাড্ডি সে!
ওভাবে বলবেন না!
প্রভুকে নিয়ে এমন কথা বলবে না।
উনার জগত আমাদের ধারণারও বাইরে।
যদি গায়ে পৈতা না জড়ানো থাকতো তাহলে?
হাজার হোক, মস্ত ব্রাহ্মণ তিনি!
কী হয়েছে?
হাসছেন কেন?
ওকে বিশ্বাস করবে না।
এখন যা দেখছ তা ওর আসল রূপ না।
ধোঁকা দিবে!
আয়হায়!
এভাবে কথা বললে আমাদের বিপদ হতে পারে।
প্রভু যদি জানতে পারে, তাহলে আমাদের গর্দান কেটে নিবে।
থামব?!
আমাকে হুকুম করার তুমি কে?
এক নীচ যে কি না কোনো এক প্রাসাদের দুয়ারে থাকতো।
এক ক্ষুদ্র কীট পালাতে পালাতে আগুনের তোপে এসে পড়লো।
কথাবার্তায় এতো অহম দেখানোর দরকার নেই।
আমরা দুজন এখানে সমান।
পুতুল, প্রভুর কথায় যারা নাচবে।
তোমার চোখে হয়তো আমি এক নীচ পানান!
কিন্তু প্রভু আমাকে তার অতিথি হিসেবে দেখেন। ভুলে যেও না।
আমার শরীর সবসময় মস্তিষ্কের সাথে তাল মেলাতে পারে না।
হয়তো বয়সটাই এমন।
হয়তো আপনি মাতাল থাকার কারণে।
রসিক আছো!
তাহলে তুমি গায়কের চেয়েও বেশি কিছু।
ভালো।
খাওয়া শেষে গান চালিয়ে যাব আমরা।
যদি তুমি দূর্বল থাকো, তাহলে তোমার মা চিন্তা করবে, পারু।
কিন্তু আমি তো মায়ের ব্যাপারে কিছুই বলিনি।
একবার বলেছিলে।
তোমার মা তোমার অপেক্ষা করছে বলেছিলে।
তাই না কি?!
আমার মনে পড়ছে না, প্রভু।
খুব ভালো...
খাও খাও।
আশা করি...
তোমার এখানে থাকতে অসুবিধে হচ্ছে না।
না, হচ্ছে না।
আমি খুব ভালো আছি। যথেষ্টের চেয়ে বেশি এটা।
ভালো।
তাহলে, রাঁধুনি আর তোমার মাঝে কী সমস্যা হয়েছে?
কোনো সমস্যা নেই।
আমাকে নিয়ে কী বলেছে ও?
কিছু না।
আপনাকে নিয়ে ও কিছুই বলেনি, প্রভু।
তোমার চেহারা আগের কাজের লোকের কথা স্মরণ করিয়ে দেয় আমাকে।
ভারী চালাক ছিল সে।
আহা রে!
এখন কোথায় আছে সে?
রাঁধুনি উল্টোপাল্টা বলে ভড়কে দিয়েছিল।
বেচারার বুদ্ধি লোপ পায়।
পাগলের ন্যায় আশেপাশে ঘুরতে থাকে।
ওর উপস্থিতি সহ্যের বাইরে চলে যাচ্ছিল।
চেঁচাচ্ছিল, কাঁদছিল কত কী করছিল!
সহ্যের বাঁধ যেদিন ভেঙে গেলো, নিজ হাতে এর একটা ব্যবস্থা করলাম।
এখন শান্তিতে ঘুমাচ্ছে।
দক্ষিণের উঠানে দাফন করে দিয়েছি।
আহ! এসেছেন উনি!
খাবার কই?
খাবার শেষ।
চারবার পরিবেশন করা হয়েছে।
অতিথির সামনে আমাকে অপমান করার দুঃসাহস!
গিয়ে খাবার নিয়ে আয়, বেয়াদব কোথাকার!
নিয়ে আসার মতো কিছুই নেই।
রান্নাঘর ফাঁকা পড়ে আছে।
বুনো পেঁচার ডাক মৃত্যুর ব্যাপারে সতর্ক করে।
মৃত্যুর ভয় নেই তোর?
না!
অভদ্রতা!
মাথা নিচে কর কুকুর!
নিচে কর বলছি।
আয়হায়, না! মরে যাবে ও!
আওয়াজ হবে না!
বের হ, নীচ!
শুধু শুধু দাঁড়িয়ে থাকিস না। গান শুরু কর!
উনি কে?
আমার মায়ের ব্যাপারে উনি কীভাবে জানে?
যাদুকরদের ব্যাপারে শুনেছিলাম, যারা ক্ষতি করতে পিছপা হতো না।
উনিও কি তেমন কেউ?
কদুমন পোট্টি কে?
এ কোন জায়গায় আটকে আছি আমি?
আমার জানতে হবে।
তুমি যা বললে আর যা শুনলে সব সত্যি।
পোট্টিই পূর্বের চাকর আর নর্তকীকে মেরে ফেলেছে।
ও মেরেছে ওদেরকে।
কদুমন পোট্টি কে সেটা যদি জানতে চাও,
এই বাড়ির ইতিহাস তোমাকে জানতে হবে।
মহান যাদুকর ছুদালান পোট্টির ব্যাপারেও জানতে হবে।
বহু বছর আগে,
ছুদালান পোট্টি, অথর্ভ বেদের একজন পন্ডিত।
এক কঠিন তপস্যা করে,
ভারাহী দেবতাকে তার সামনে নিয়ে এসেছিল।
পোট্টির আনুগত্যে তুষ্ট হয়ে
দেবতা তাকে এক যাদুকরী বাক্স দিলো।
আর সেই বাক্সের ভেতরে ছিল এক অপদেবতা।
যার ছিল অতিমানবিক শক্তি।
এই অপদেবতা তোমার সকল কামনা পূর্ণ করবে।
এ কথা বলে ভারাহী অদৃশ্য হয়ে গেলো।
কিন্তু পোট্টি অপদেবতাকে তার দাস বানিয়ে অনেক কষ্ট দিতে শুরু করে।
হতাশ এবং পরিশ্রান্ত হয়ে সে একদিন মাতাল হয়ে থাকা পোট্টিকে বললো,
যদি সে তার মুখের ভেতর দেখে তাহলে নরকের দেখা পাবে।
তখনই মাতাল পোট্টি তার মুখের ভেতর তাকালো।
অপদেবতা তার আত্মাকে গ্রাস করে নিয়ে তাকে মেরে ফেলে।
অতঃপর পোট্টির হাত থেকে সে মুক্ত হলো।
পুরো বাড়ির নিয়ন্ত্রণ চলে আসে অপদেবতার হাতে।
নির্মমভাবে সবাইকে মেরে ফেলে।
অনেক ক্ষমতাধর যাদুকর আসলো
তাকে তাড়ানোর চেষ্টা করলো কিন্তু ব্যর্থ হলো।
অবশেষে, কদুমন পোট্টি, তাদের শেষ বংশধর,
অপদেবতাকে তাড়াতে আসলো।
ঠিকই বলেছ।
অপদেবতাটাকে চিলেকোঠায় দেখেছি আমি।
যদি রাতে পায়চারি করো।
তোমার জন্যও তাহলে গর্ত খুঁড়তে হবে আমাকে।
আমি যাচ্ছি।
তোমারও এখানে থাকা উচিত না।
আমার সাথে চলো।
এখান থেকে পালাই, চলো।
এই জায়গা...
অভিশপ্ত!
একটা আম গাছেও মুকুল আসে না।
দেখো না তুমি এসব?
চলো।
থামো!
চলো তাড়াতাড়ি পালাই!
আমার কাজে বাধা না দিয়ে যাও তো!
আমরা যদি এখানে থাকি, আমাদের জীবনের ঝুঁকি থাকবে। চলো।
যা, বলছি!
পাগল হয়ে গেছ তুমি!
এখানেই পচে মরতে হবে তোমাকে!
কোথায় যাচ্ছিস?
আমার মা বাসায় একা।
অনুগ্রহ করে আমায় যেতে দিন।
যা ইচ্ছে তোর।
যেতে পারিস।
কেউ থামাবে না তোকে।
কিন্তু
এই বৃষ্টিতে যাবি কী করে?
বৃষ্টি?!
এই বৃষ্টি থামতে দেরী আছে।
হয়তো সপ্তাহব্যাপী থাকবে, কিংবা মাসব্যাপী।
অথবা বছরব্যাপী।
বৃহস্পতি কালকে আটকে রেখেছে।
ঐ নর্তকী যখন এখানে ছিল
টানা ৩দিন বৃষ্টি হয়েছিল।
ভারী বর্ষণের কারণে সে দিন আর রাতের ফারাক বুঝতে পারছিল না।
স্মৃতি হারিয়ে ফেললো সে।
অনর্থক বকতে লাগলো।
- এজন্যই কি তাকে মেরে ফেলেছিলেন? - না!
নর্তকীর অবশ্যই নাচ জানা উচিত!
গায়কের গান জানা উচিত!
নয়তো বোঝা হিসেবে এই পৃথিবীতে তার থাকাই উচিত না।
সংগীত হলো স্রষ্টার শিল্প।
দেশজুড়ে গান করা হলো মুক্তির পথে যাত্রা।
সংস্কার আর রীতিনীতি যে বর্জন করেছে, সে হয়তো এটা বুঝবে না।
এটা ব্রহ্মযুগ।
সবচেয়ে উচ্ছন্নে যাওয়া যুগ, কলিযুগের সবচেয়ে কলুষিত অধ্যায়।
সহস্রাব্দ ব্যাপী সহিংসতার উন্মাদনা!
ব্রহ্মযুগে স্রষ্টার উপাসনা করা কোনো কাজে দেয় না।
এই যুগে ওসব রীতি, সংস্কার অপ্রাসঙ্গিক।
স্রষ্টার প্রস্থানই ব্রহ্মযুগের সূচনা নির্দেশ করে।
যতই গলা ফাটিয়ে তাকে ডাকিস না কেন,
উনি তোর ডাক শুনবে না।
আমাকে যেতেই হবে।
বৃষ্টি থামামাত্র আমি চলে যাব।
ভেবেছিলাম তুই বাকিদের থেকে আলাদা। ভুল ছিলাম আমি।
তোদের সবার মানসিকতা একই।
ভয়!
বৃষ্টি হোক, তুফান হোক আর বাজই পড়ুক, সব ভয় পাস তোরা!
মনের কষ্টে যা তা বলে ফেলেছি।
ক্ষমা করবেন।
গাইবো আমি।
- আপনার আদেশে গাইবো আমি, প্রভু। - না!
তোর উপস্থিতি আমার সহ্যের বাইরে চলে যাচ্ছে।
আর গান করবি না তুই।
নে।
খা।
আমার গ্রামে,
এটা বীজ বপণের মৌসুম।
আমার কুঁড়েঘর একটা নদীর পাশে।
পাহাড়ের নিচে উপত্যকায় নুড়িপাথরে ঘেরা এক জমিতে।
জায়গাটা নিশ্চয়ই এখন হলুদ ফুলের সুবাসে ছেয়ে গেছে।
ওখানকার মাটি একদম লাল।
নিজে ব্যবহারের পর বাড়তি চাল আমরা বিক্রি করতে পারি।
কচু আর মিষ্টি আলুতে ভরা উঠান আমাদের।
বাসায় শুধু আমার মা-ই আছে।
আমার বেচারি মা...
মায়ের হাত...
কড়া দিয়ে ভরে গেছে।
অনেক খাটতেন তিনি।
এভাবে উনি আমাকে এই দুলটা বানিয়ে দিয়েছিল।
আমি কোথায় আছি তা না জেনেই আমার অপেক্ষায় আছেন উনি নিশ্চয়ই।
বেচারি মা আমার।
আর তোমার পরিবার?
আমার কেউ নেই।
আমি একা।
খাই না আমি এটা।
কষ্টকর স্মৃতিগুলো ভুলে যেতে এটা সাহায্য করবে, তাই না?
লাগবে না আমার এটা।
আমি এই ভুল করব না।
আমার মনে হয় আমাদের জন্মটাই একটা ভুল।
গর্ত খুঁড়ছ কেন?
আমার অনুমতি ব্যতীত বাইরে যাওয়া উচিত হয়নি।
ভদ্রতা কোথায় গেলো?
যাওয়ার আগে বলতে পারতি।
এভাবে বমি করতে হতো?
ভুল করে ফেলেছি।
আমার অজ্ঞতা মাফ করবেন।
আমাকে যাওয়ার অনুমতি দিন দয়া করে।
এটা যথাযথ উপায় নয়।
আরও আন্তরিক হয়ে প্রার্থনা করতে হবে।
প্রভু, দয়া করে আমাকে যাওয়ার অনুমতি দিন।
পায়ে পড়ছি, যেতে দিন আমাকে।
অনুমতি নাকচ করে দেয়া হলো।
নে, খা।
আমি পালাতে পারিনি।
তুইই একমাত্র না।
যে ঐ ফটক দিয়ে ঢুকেছে সে আর ফিরে যেতে পারেনি।
এটা একটা ফাঁদ।
যতই খুলে যাওয়ার চেষ্টা করবি, বাঁধন ততই শক্ত হবে আরও।
এক রহস্যময় বাঁধন, যা সময়ের সাথে সাথে স্মৃতিগুলোকে মুছে ফেলে।
কিছুই বুঝতে পাচ্ছি না।
নে...
এটা খা।
ব্যথা কমে যাবে।
এখানে কবে এসেছিলি মনে আছে?
হ্যাঁ।
কয়েকদিন হলো।
কয়েক দিন...না কি কয়েক মাস?
বিশ্বাস হচ্ছে না, তাই না?
নিজের নাম মনে আছে?
আমার নাম?
সেটা বাদ দে...
তোর মায়ের নাম মনে আছে?
পাচ্ছি না...
কিছুই মনে করতে পাচ্ছি না।
কিছুই বুঝতে পাচ্ছি না।
আমার কী হয়েছে?
বলে বোঝাতে পারব না।
কিন্তু দেখাতে পারব। চল।
আয়।
আমাদের মতো সেও একই ফাঁদে পা দিয়েছিল।
এই বাড়ির মালিক ছিল সে।
সময় যত যেতে থাকলো, ও নিজের নাম, এখানে আসার উদ্দেশ্য সব ভুলে গেলো।
উন্মাদনার জগতে ঘুরতে থাকলো।
শেষমেশ তাকে শিকলবন্দী হতেই হলো।
এটাই কদুমন পোট্টি যে অপদেবতাকে তাড়াতে এসেছিল।
যদি এটা পোট্টি হয়...
নিচে ওটা কে তাহলে?
অপদেবতা।
ভেড়ার বেশে থাকা এক নেকড়ে।
রক্ত মাংসে গড়া মানুষের বেশে সে আমাদের সাথেই থাকে।
কিন্তু যদি মন দিয়ে দেখিস,
ও কোনো মানুষ না।
পাষাণ একটা সে।
ঈশ্বর সৃষ্ট কোনো প্রাণী নয় সে।
ওর শরীর থেকে আসে মৃত্যুর গন্ধ।
ক্ষমতার নেশায় চূর হয়ে থাকা...
এই অপদেবতা তার পথে আসা...
সবাইকে নিজের গোলাম বানিয়ে...
ছড়ি ঘোরায়।
আমরা এখানে আটকে গেছি।
আর বেরও হওয়া সম্ভব না।
কী দোষ করেছিলাম আমরা যার কারণে এমন শাস্তি পাচ্ছি?
যাদের হাতে ক্ষমতা থাকে তারা অন্যের স্বাধীনতা নিয়ে খেলতে ভালোবাসে।
কুকর্মের ফল হতে হয় না।
সে তো আর আমাদের জোর করে এখানে নিয়ে আসেনি।
আমরাই ঢুকে পড়েছি।
এখান থেকে পালানোর কেবল একটাই পথ আছে।
এই বাড়িতে...
একটা বদ্ধ কামরা আছে।
চিরন্তন শিখাবিশিষ্ট এক বাতি আছে এর ভেতরে।
ওটাকে নেভাতে হবে।
সেই কামরাটা কোথায়?
দরবারের নিচে।
ভূগর্ভস্থ এক কামরা।
গোলায় চালের স্তূপের নিচে একটা দরজা আছে।
সেই দরজা দিয়ে গেলে নিচের কামরায় যেতে পারবি।
একটা তালাবদ্ধ ভারী দরজা আছে।
চাবি ঢোকানোর ফুটো দিয়ে যদি উঁকি মারিস, তাহলে দেখবি একটা প্রদীপ অবিরাম জ্বলছে।
কোনো এক যাদুকরী শক্তি দ্বারা।
অপদেবতাটা উপরতলায় থেকে এর নজরদারি আর রক্ষা করে।
অপদেবতার উদ্দেশ্য একটাই।
ওর ক্ষমতা নেয়া থেকে সবাইকে থামানো...
এবং অমরত্ব লাভ করা।
এটা হতে দিতে পারি না আমরা।
ঐ কামরার চাবি কোথায় আছে?
প্রতিটা কোণা তন্নতন্ন করে খুঁজেছি।
হয়তো ক্ষয়ে গিয়ে কোথাও হারিয়ে গেছে।
অথবা...
হয়তো মাটিতে মিশে গেছে।
যাদেরকে দাফন করা হয়েছিল তাদের সাথেই।
অপদেবতা ফাঁদ পেতেছে মানে,
এর পেছনে নিশ্চিত কোনো উদ্দেশ্য আছে।
চাবিগুলো এই বাড়ির বাইরে যায়নি।
এখানেই আছে।
কীভাবে জানতে পারলি?
জানি না।
কিন্তু...
পোট্টির বেশে থাকা অপদেবতা জানে কোথায় আছে চাবি।
খুঁজে পাওয়ার পথ একটাই।
উদাসীনতার মহাপ্লাবনে যখন কেউ ডুবতে ধরে...
পাকিদা হলো তার সর্বোত্তম সমাধান তাই না?
শুরু করতে পারেন, প্রভু।
না।
আমি সব বাজি রাখতে প্রস্তুত।
কিন্তু তোর কাছে আছেই বা কী?
আছে আমার কাছে।
একটা চাবি!
কীসের চাবি?
আমার ভাগ্যের চাবি।
আপনার হাতে, প্রভু।
এর ব্যাপারে তুই কীভাবে জানলি?
আমার স্বাধীনতার চাবি আপনার কাছেই আছে।
আছে না, প্রভু?
সেটাই বুঝিয়েছি আমি।
যদি আমি খেলায় জিতি, তাহলে আমি যেতে পারব।
ভাগ্য নিয়ে দুইবার জুয়া খেলতে পারবি না।
দয়া করে আমার ভাগ্য নির্ধারণের জন্য আরেকটা সুযোগ দিন।
তাহলে তুই এটাকে ভাগ্য বলতে পারবি না!
এই গাছ যদি ভেঙে পড়ে আর বাড়ি যদি ধ্বসে যায়,
ঐ দরজা আজীবনের জন্য বন্ধ হয়ে যাবে।
চাবি নিয়ে আসবো আমি।
এর সুযোগ তৈরি করে দেয়ার জন্য তোমাকে সাহায্য করতে হবে।
মদ আর মাংস দিয়ে ভরা...
এক মহাভোজ...
শেষ ভোজ!
আজ রাতের মধ্যেই ফটক দিয়ে বের হওয়ার উপায় বের করতে হবে আমাদেরকে।
আমি খাবার রান্না করব।
কিন্তু পরিকল্পনা ব্যর্থ হলে,
আমি তোকে বাঁচাতে আসতে পারব না।
কোষাগার থেকে ওকে মদ দেয়ার অধিকার তোকে কে দিয়েছে?
ভুল হয়ে গেছে।
ক্ষমা করে দিন।
সে আসার পর থেকে আমার নিয়মে ব্যাঘাত ঘটেছে।
এ আমি সইব না!
আর হবে না এমন!
তাহলে ওর জন্য গর্ত খুঁড়তে দেরী করিস না।
খুঁড়ব!
আমি জানি আপনি আমাকে এখানে গানের জন্য আটকাননি।
বিশ্বাস ভাঙতে,
ঈশ্বরের ভাবনা সম্পূর্ণরূপে মুছে ফেলতে আটকিয়েছেন।
যাতে আশা হারিয়ে ফেলি,
কষ্ট ভোগ করি।
যতক্ষণ না এই নরকে আমার মরণ হচ্ছে।
যাতে আমার কষ্টকে উপভোগ করতে পারেন।
মরণ
একটা আশীর্বাদ!
এরপরে আর কিছুই নেই।
এক চিরস্থায়ী সমাপ্তি!
আপনার আসল রূপ আমি দেখতে চাই।
এখনও সময় হয়নি!
আরও নিয়ে আয়।
সবকিছুই পূর্বনির্ধারিত।
এখন আর সেটা কেউ বদলাতে পারবে না।
অবশেষে পাওনা মেটানোর সময় এসেছে,
তোর এই বৃথা জীবনের ইতি টানার সময় এসেছে!
নিজের আত্মার মুক্তি দেখে নে!
চোখ খোল!
ওটা ভারাহীর যাদুকরী বাক্স।
কয়েকশ বছর আগে, ছুদালান পোট্টিকে দেয়া সেই যাদুকরী বাক্সটাই।
বিশ্বাসঘাতক!
আমাকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করেছিস!
এখন তর্ক করার সময় নয়।
ছাড় আমাকে!
ছাড় বলছি!
সময় নেই।
সূর্যোদয়ের আগেই অপদেবতাটাকে বশ করে বন্দী করতে হবে আমাদের।
এটা এখন দূর্বল হয়ে আছে।
বশ করতে হবে?
হ্যাঁ।
তাছাড়া বের হতে পারব না আমরা।
নয়তো আমরা যেখানেই যাই না কেন আমাদের খুঁজে বের করে মেরে ফেলবে।
থামো।
আমরা এখন কোথায় যাব?
কামরায় লুকিয়ে থাকা অপদেবতাকে ধরতে।
আমাদের অগ্নী পরীক্ষার শেষ পর্যায় এটি।
আমার কথা মন দিয়ে শুনবে।
কোনোভাবেই অপদেবতার কথায় বিশ্বাস করা যাবে না।
ও শুধু মিথ্যা বলে।
মিথ্যা দিয়ে আমাদের সাথে ছলনা করবে।
মানসিকভাবে আমাদের ওপর আক্রমণ করবে।
যদি বাঁচতে চাই,
আমাদেরকে সেটাও কাটিয়ে উঠতে হবে।
কোথায়?
কোথায় আছে?
ঐ যে!
থামের পিছনে!
লুকিয়ে না থেকে বেরিয়ে আয়।
আমাকে আদেশ করার তুই কে?
তোকে বশ করে প্রতিশোধ নিতে এখানে যে এসেছে!
এতো আস্পর্ধা তোর? এক ছদ্মবেশী নীচ,
আমাকে মারার আস্পর্ধা করবে?
আমি কোনো নীচবংশীয় লোক নই!
আমার শিরায় কদুমন পোট্টির রক্ত বইছে।
অসম্ভব!
ঐ বংশের সবাইকে আমি মেরেছি।
এমনকি গর্ভে থাকা সন্তানকেও।
এমনকি কয়েকদিন আগেও তাদের বংশের শেষজনকে তুই নিজেই পুঁতে রাখলি।
তা ঠিক।
আমি তার ছেলে।
কদুমন পোট্টির যে এক নীচবংশের নারীর ঘরে একটা ছেলে ছিল, সেটা জানতি না।
তোর চতুর রূপটা যে সত্য জানতে পারেনি।
"মানুষ ব্রাহ্মণ হয়ে জন্মায় না, কর্ম দিয়ে ব্রাহ্মণ হয়।"
নিজের বলা কথাই মনে নেই তোর?
তোকে বন্দী করে এই বাড়ি পুনরুদ্ধার করতে এসেছি আমি।
উচ্চাভিলাষী!
চাকরানির ছেলের লক্ষ্য তার স্বপ্নের মতোই বড়ো।
না...দোহাই লাগে!
বাবার ভালোবাসা ছাড়া চাকরানির ঘরে বড় হওয়া ছেলের কষ্ট কেবল চিন্তাই করতে পারি আমি।
তোকে যতই মন্ত্র শেখাই না কেন,
ক্ষতিগুলো কখনোই পূরণ হবে না।
আমার সকল ভুলের জন্য ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি।
আয়।
বাবার কাছে আয়, ছেলে আমার।
তান্ত্রিক হিসেবে তোর সামনে দাঁড়িয়ে নেই আমি।
এক অসহায় বাবা হিসেবে দাঁড়িয়ে আছি।
কাছে আয়, বাবা।
আয় না।
আমার পূর্বপুরুষের মতো আমিও তোর ফাঁদে পা দিবো ভেবেছিস?
তুই কে আর তুই কী সেটা জানি আমি।
ভারাহীর বাক্স নিয়ে আয়!
খুলে রাখ।
থাম!
খুললে...
তুই মারা যাবি!
আমাকে বাক্সবন্দী করার পর ও তোকে মেরে ফেলবে।
ওর কথা না শুনে বাক্স খোল!
আমাকে দিয়ে তোকে মারবে ও!
ওর কথা না শুনে বাক্স খোল!
এই শক্তি অর্জনের কোনো অধিকার তোর নেই।
এই শক্তি তোর জন্য অভিশাপ ছাড়া আর কিছুই হবে না।
বজ্রপাত হবে তোর ওপর!
বাক্সটা নে।
আয়।
বেরিয়ে আয়!
এখন থেকে...
আমি তোর প্রভু!
হাত ছাড় আমার।
পায়ে পড়ি আপনার, না।
এই আংটি পরবেন না।
এই আংটি যে-ই পরে সে-ই কলুষিত হয়ে যায়।
এমনকি আপনার তত্ত্বাবধানেও।
আমার মতো সাধারণ মানুষ
সবসময় শিকারে পরিণত হবে।
এটার ওপর আমার অধিকার আছে।
যদি বাধা দিস তাহলে তোকেও মারতে বাধ্য হবো।
ছাড়!
তোর কানফুল...
ওটা তোর বাম কানে ছিল না?
- কী হয়েছে? - পাগল একটা।
আগে বাড়ো!
আগে বাড়ো!
অনুবাদেঃ হাবীব সিয়াম
Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.