Afrikaans
Akan
Albanian
Amharic
Arabic
Armenian
Azerbaijani
Basque
Belarusian
Bemba
Bengali
Bihari
Bosnian
Breton
Bulgarian
Cambodian
Catalan
Cebuano
Cherokee
Chichewa
Chinese (Simplified)
Chinese (Traditional)
Corsican
Croatian
Czech
Danish
Dutch
English
Esperanto
Estonian
Ewe
Faroese
Filipino
Finnish
French
Frisian
Ga
Galician
Georgian
German
Greek
Guarani
Gujarati
Haitian Creole
Hausa
Hawaiian
Hebrew
Hindi
Hmong
Hungarian
Icelandic
Igbo
Indonesian
Interlingua
Irish
Italian
Japanese
Javanese
Kannada
Kazakh
Kinyarwanda
Kirundi
Kongo
Korean
Krio (Sierra Leone)
Kurdish
Kurdish (Soranî)
Kyrgyz
Laothian
Latin
Latvian
Lingala
Lithuanian
Lozi
Luganda
Luo
Luxembourgish
Macedonian
Malagasy
Malay
Malayalam
Maltese
Maori
Marathi
Mauritian Creole
Moldavian
Mongolian
Myanmar (Burmese)
Montenegrin
Nepali
Nigerian Pidgin
Northern Sotho
Norwegian
Norwegian (Nynorsk)
Occitan
Oriya
Oromo
Pashto
Persian
Polish
Portuguese (Brazil)
Portuguese (Portugal)
Punjabi
Quechua
Romanian
Romansh
Runyakitara
Russian
Samoan
Scots Gaelic
Serbian
Serbo-Croatian
Sesotho
Setswana
Seychellois Creole
Shona
Sindhi
Sinhalese
Slovak
Slovenian
Somali
Spanish
Spanish (Latin American)
Sundanese
Swahili
Swedish
Tajik
Tamil
Tatar
Telugu
Thai
Tigrinya
Tonga
Tshiluba
Tumbuka
Turkish
Turkmen
Twi
Uighur
Ukrainian
Urdu
Uzbek
Vietnamese
Welsh
Wolof
Xhosa
Yiddish
Yoruba
Zulu
ইলাক্কিয়া
জন্ম :- ১২/০৬/১৯৭৪ মৃত্যু :- ১১/১২/২০২০
জীবন রহস্যময়।
কৌতূহলী জীবন আপনাকে অনিশ্চিত রাখে পরে কী ঘটবে তার ব্যাপারে।
জীবনের যাত্রাপথে অনেকের সাথেই দেখা হয়।
দেখা হওয়া প্রত্যেকটা মানুষের,
একটা উদ্দেশ্য আছে।
সেটা কখনো আমাদের জীবনকে সরাসরি প্রভাবিত করে,
আবার কখনো পরোক্ষভাবে।
কেন এসব আমাদের সাথে ঘটে তা নিয়ে অনুসন্ধান করলে,
আমরা সিদ্ধান্তহীনতায় ভুগি।
যাত্রাপথে যতোই ছুটি না কেন!
উত্তর খুঁজে পাওয়া যায় না। তাও আমরা খুঁজছি,
একদিন, এই সিদ্ধান্তহীনতার যাত্রা ঘটে আমার জীবনে...
আর যাদের সাথে দেখা হয়েছিল তারা চলে যায় স্রোতের বিপরীতে।
এই সেই "একদিনের গল্প"।
জীবন নামক পাগলামী'তে স্বাগতম।
• পৃথিবীর তৃতীয় যুগ • • ২০২৪ সি.ই •
• গন্তব্য - পৃথিবী •
• রাক্ষস বধের রাত •
• শেড - ওয়ান •
translated by Suhan Ahmed
মাল পাঠাসনি কেন?
শানমুগামকে মাল দিবি সেটা বলেছিলি?
তোকে অনেকবার বলেছি।
উৎসবের মৌসুম চলে, চাহিদা বেশি।
টাকা পাঠিয়ে দিচ্ছি।
তুই মাল পাঠা।
এটা পুরানো , হেলান দিস না।
যেন বেকারির সবকিছু নতুন!
বহুত প্যারায় আছি সকাল বেলা তামাশা করিস না।
সাথে কয়েন আছে?
ধর।
এই সময় এখানে! রহস্য কী? টিউশন'র ক্লাস নাই?
কোন রহস্য নাই, টিউশন বন্ধ।
শিক্ষক মেসেজ পাঠায়নি?
অন্যরা হয়তো পেয়েছে।
আমার মোবাইল নাই!
ভালো।
- হ্যালো... - ওই, আজকে ক্লাস নাই?
ওহ, তুই!
আজকে ক্লাস হবে না। স্যার গতকাল গ্রুপে মেসেজ দিয়েছে।
সেটা মায়ের ফোনে কল দিয়ে জানাতে পারতি!
দুঃখিত রে.. টাকা শেষ হয়ে গেছিল।
স্কুলে আসি, তোর খবর আছে।
আরে, বন্ধু...
- মুরুব্বী, বাই। - ওই!
মোট ২০৪৯ টাকা বাকী।
ঠিক আছে!
আমাকে মুরুব্বী ডাকবি না।
আমি তো আছিই টাকা পেয়ে যাবে।
এতো তাড়াতাড়ি ফিরে এলি?
তোকে কিছু বলছি।
আজ টিউশন বন্ধ ছিল কেন?
জানি না।
আমি ছাড়া সবাই গ্রুপে মেসেজ পেয়েছে।
শ্রী...
এটা নিয়ে আগেও কথা বলেছি।
যখন তুই কলেজে উঠবি শুধুমাত্র তখন মোবাইল পাবি।
ঠিক আছে!
যদি উল্টাপাল্টা কিছু করে বসি তখন আমাকে বলতে এসো না।
কেন এতো রাগ করছিস?
আমরা যা করি তোর ভালোর জন্যই তো করি।
এটা তোর বুঝতে হবে।
আমি বাচ্চা না।
নিজের খেয়াল রাখতে জানি।
আরে, শ্রী...
- অবিলাশ! - উপস্থিত, স্যার।
- অভিষেক! - উপস্থিত, স্যার।
- ইল্লামারান! - উপস্থিত, স্যার।
- কী চাই? - স্যার, খুব জ্যাম ছিল।
স্যার, ওর বাড়ি বেশ দূরে।
- তোমাকে জিজ্ঞেস করেছি? - না, স্যার।
তোমরা প্রিন্সিপালের সাথে দেখা করো।
দুজন এই সপ্তাহে ৩য় বারের মতো দেরি করে এসেছো।
স্যার, টিউশন ক্লাসে দেরি হয়ে গেছে।
আমি কখনো টিউশন পড়ার পরামর্শ দেইনি।
এখন, প্লিজ...
- রাজকুমার। - উপস্থিত, স্যার।
সত্যি বলছি ফোনের টাকা শেষ হয়ে গেছিল।
এটা নিয়ে রাগ করিস না।
চুপ কর।
কথা বলবি না।
ওই, বন্ধু!
- রাজ মোহন। - আসেনি, স্যার।
কাল রাতে পুরা ২৬ মিনিটের একটা ভিডিও দেখলাম।
কিন্তু আমার বন্যা ৩ মিনিটেই বয়ে গেল।
কমলেশ!
কন্ট্রোল করতে পারিনি।
- কমলেশ! - কী ব্যাপার?
- কমলেশ কী আসেনি? - এদিকে হিস্ট্রিও ডিলিট মারছি। •ক্রোম হিস্ট্রি ব্রাদার, বুঝতে হবে।•
আবার দেখতে চাই।
কিরে, কিছু বল।
- রজত! - স্যার!
- কমলেশ তোমার পাশে বসে? - জ্বি, স্যার।
- এখন কী বসে আছে? - না, স্যার।
৩ বার নাম ডাকলাম।
- আসেনি বললে না কেন? - স্যার, আসেনি... স্যার।
- ফোন টিপছিলে? - না, স্যার।
- বেরিয়ে এসো। - স্যার! স্যার!
নয়তো আমাকে দেখাও ফোনে কী দেখছিলে।
- শ্রী! - স্যার?
তোমাকে মাইক্রো পার্টিকেল'স সেমিনারের দায়িত্ব দিয়েছিলাম?
জ্বি, স্যার। কিন্তু এটা তো আগামী সপ্তাহে।
দশ মিনিট প্রস্তুতি নিয়ে সেমিনারটা পরিচালনা করো, প্লিজ।
ঠিক আছে, স্যার।
- অমরেশ, ক্লাস দেখাশোনা করো। - ঠিক আছে, স্যার।
- বসন্ত কোথায়? - প্রিন্সিপাল স্যারের রুমে গেছে।
বসো।
স্যার!
- কোথায় গিয়েছিলে? - দেরিতে এসেছি, অনুমতি আনতে গিয়েছিলাম।
সবাই অ্যাসাইনমেন্ট জমা দিয়েছো?
জ্বি, স্যার।
আচ্ছা, ৬৩ নাম্বার পৃষ্ঠায় যাও।
কিরে! বসন্ত স্যার কী প্রিন্সিপালের অফিসে গেছে?
গেছে তো, কোনো ঝামেলা বাঁধিয়েছিস?
- কেন? - উনাকে গম্ভীর লাগছিলো।
হয়তো উনার মেয়ে সকালে টিউশনে আসেনি বলে।
পার্বতী তোর টিউশনে পড়ে?
হ্যাঁ, রসায়ন।
সকালে আসেনি।
এমনিতে কখনো ক্লাস মিস করে না।
জানি না কী হয়েছে।
বাইক এনেছিস?
- হাত তোল। - কেন?
স্যার, আসলে...
পিটি স্যার, আমাকে আর প্রনেশকে ক্লাসের ২য় পিরিয়ডে দেখা করতে বলেছিলেন।
জোনাল আগামী সপ্তাহে তো।
যাও।
চাবি দে।
সোনা, আটকাবে না!
নাম।
এবার তো বল, কাহিনী কী?
ভাই, সকালে একটা গাড়িসহ কয়েকটা ছেলেকে দেখছেন?
কী?
সকাল ৫:১৫ নাগাদ ৩টা ছেলে মিলে একটা মেয়েকে নিয়ে যেতে দেখছেন?
জানি না, সকাল ৭টায় দোকান খুলেছি।
ঠিক আছে, ভাই।
মার খেতে না চাইলে এক্ষুণি খুলে বল ঘটনা কী।
এই রাস্তায়?
ওই!
তোমাকে কতোবার বলেছি আমার স্কুলে এসো না।
দুঃখিত সোনা, বিষয়টা খুব গুরুত্বপূর্ণ।
- কী বিষয়? - পার্বতী স্কুলে আছে?
ওর বাবা আমার বাবাকে কল দিয়ে জিজ্ঞেস করলো আমার সাথে কিনা।
কখন ফোন দিয়েছিল?
কিছুক্ষণ আগে।
বাবা মেসেজ পাঠিয়েছে।
দেরি হয়ে যাচ্ছে।
- ঠিক আছে। - বাই, শ্রী।
- মিস ইউ সোনা। - যাও তো।
- এখন কী করবো? - উঠ।
ভাই, আরেকটা দেয়া যায় না?
চার নাম্বার অর্ডার চলে।
বকবক করলে এটাও নিয়ে যাবো। চুপচাপ গিলো।
মাগনা তো আর দিচ্ছেন না!
বাজে কাস্টমার সার্ভিস।
ওহ্, আমিও সিরিয়াস হবো?
ঠিক আছে।
মজা বন্ধ কর, বাল।
নয়তো চড় খাবি।
কেন সামান্য বিষয়টাকে জটিল করছিস?
আচ্ছা, এটা বল।
তুই শিউর, সকালে পার্বতীকে দেখেছিস?
দেখিসনি, তাই না?
দেখিসনি?
নিশ্চয়ই স্কুল ফাঁকি দিয়ে বয়ফ্রেন্ড নিয়ে সিনেমা দেখতে গেছে।
আর নয়তো বীচে আড্ডা দিচ্ছে।
অতিরিক্ত চিন্তা বাদ দে।
থালাপতি যতোই বলুক না কেন,
ভ্রান্ত ধারণা ঝেড়ে ফেলুন কিন্তু মানুষ সেটা ছাড়তে পারে না।
- ওর বয়ফ্রেন্ড নাই। - তুই কীভাবে জানিস?
গত বছর আন্তঃবিদ্যালয় ইভেন্টে,
ওকে প্রথমবার দেখি।
তখন জানতাম না ও বসন্ত স্যারের মেয়ে।
তবে কিছু বিষয় ভালো লাগে।
বিশেষ কিছু বিষয়।
তোমার প্রিয় গান কোনটা?
এ.আর রহমানের যেকোনো গান।
নাম বলো।
নেজুকুল্লে।
- হাসছো কেন? - পোগাঠে।
এটা আমার প্রিয় গান।
এমন কষ্টের গান কেন?
মনে হয়, এতে স্বস্তি পাই।
বুঝা গেল যে তুমি সিঙ্গেল।
ভাই, আরেক প্লেট লাগান...
বন্ধুর গার্লফ্রেন্ড জুটে গেছে এখন আমাদের ট্রিট দিবে।
ওই! সেই পর্যায়ে যাইনি।
প্রপোজ করিসনি?
আমরা তো কিন্ডারগার্টেন থেকে বসন্ত স্যারকে চিনি।
একজন শিক্ষকের চেয়েও তিনি আমাদের কাছে বন্ধুর মতো।
হ্যাঁ।
গত বছর, বসন্ত স্যার না থাকলে...
জানি না জীবনে কী ঘটে যেতো!!
হ্যাঁ, আজকের মতো শেষ।
- বাকিটা কাল। - ঠিক আছে, স্যার।
- ব্যাপার কী, বন্ধু? - স্যার...
তোমার বেঞ্চে বসলাম তো।
ভাবলাম বন্ধুর মতোই কথা বলি।
কিন্তু তাই বলে বন্ধু স্টাইলে কসম কাটিয়ো না।
যতোই হোক সম্মানিত মানুষ।
বলো, কী হয়েছে?
বাবা-মা সারাক্ষণ ঝগড়া করে।
এমনকি ডিভোর্সও নিতে চাচ্ছে।
ইদানীং বাড়ি যেতে ভালো লাগে না।
যেন নিজেকে হারিয়ে ফেলছি।
প্রায় সব বাড়িতেই এমনটা হয়।
এসব নিয়ে ভেবো না।
উনাদের বাড়িতে নিয়ে এসো আমি কথা বলবো।
ঠিক আছে, স্যার।
হাসিখুশি থাকো।
স্যার, আপনার ছেলেকে এই ছোট্ট থেকে জানি।
ও আমার কাছে নিজের সন্তানের মতোই।
জানি না আপনাদের কী সমস্যা চলছে।
আমাকে বলতেও হবে না।
কারণ এটা আপনাদের ব্যক্তিগত বিষয়।
কিন্তু সমস্যাগুলো শ্রী'কে কষ্ট দিচ্ছে।
ও কিছুতেই মন বসাতে পারছে না।
দেখুন, পরের বছর ও পাবলিক পরীক্ষা দিতে যাচ্ছে।
সেই দিক থেকে হলেও ওর ভবিষ্যৎটা নিয়ে ভাবুন।
সেই সময় পাবর্তী ছিলো আমার এক প্রকার মানসিক সাপোর্ট।
ও ছিল আমার খুব ভাল বন্ধু।
জানি না বসন্ত স্যারের প্রতি সম্মান থেকেই কিনা...
মনে হয় সীমা অতিক্রম করা ঠিক হবে না।
যদিও আমাদের সম্পর্ক এতোটা গভীর হয়নি, কিন্তু...
যখন ওর কাছে থাকি খুব প্রশান্তি অনুভব করি।
- ওই! - শুধু চাই, ও যেন ঠিক থাকে।
হাসো...
বাবা!
বলো বাবা।
তোর স্কুল থেকে ফোন এসেছিল।
উনারা বললো ১ম পিরিয়ডের পর আর কোনো ক্লাস করিসনি।
- কী করছে ও? - বাসায় আসতে বলো। - তো কী হয়েছে?
না, কিছু হয়নি একটু খোঁজ নিলাম আরকি।
আশা করি কোনো ঝামেলা হয়নি।
নিজের চিন্তা করো।
আমি জানি কীভাবে নিজের খেয়াল রাখতে হয়।
প্লিজ আর কল করো না।
কী বললো?
বাবা-মার উপর কেন রাগ দেখাচ্ছিস?
- চাবি দে। - কোথায় যাবি?
এই পরিস্থিতিতে জানি না কী করবো।
একটু ঘুরে আসি হয়তো মনটা ফ্রেশ হবে।
কিরে!
- আমার টায়ার!! - কী হয়েছে?
- শিউর? - ১০০%
কোথায় যাচ্ছিস? চুপচাপ এখানে দাঁড়া।
ভেতরে কয়জন আছে জানি না।
তাই তাড়াহুড়ো করবি না আর টুকটাক কথা বলবি।
চুপ কর।
এমনভাবে কথা বলবো যেন কিছু জানি না।
যদি কোনোকিছু সন্দেহ হয় অন্য উপায়ে যোগাযোগের চেষ্টা করবো।
ঝগড়া হলে শুধু আওয়াজ দিবি।
চলে আসবো।
• শেড - টু •
- সব প্রস্তুত? - সব ঠিকঠাক, ভেট্রি।
- স্যান্ডি, তুমি বি-রোলটা করো। - ওহ!
আজকের শেষ শট, পাভি ব্যস অভিনয় করলেই হবে।
ঠিক আছে।
প্লিজ, শব্দ করা যাবে না তাতে সমস্যা হতে পারে।
পুলিশের অনুমতি ছাড়া শ্যুটিং করছি কেউ দেখলে, ঝামেলায় পড়ে যাবো।
চলো তাড়াতাড়ি শেষ করি।
- ঠিক আছে? - ঠিক আছে।
- আচ্ছা, রেডি। - চলো।
- রোল! ক্যামেরা! - রোলিং!
অ্যাকশন!
কাট!
- কী হয়েছে? - মনে হচ্ছে কেউ আমাদের লক্ষ্য করছে।
চলো ঝামেলা হবার আগেই ভাগি।
- ঠিক আছে? - যাও তাড়তাড়ি।
লোকেশন সকালে মেসেজ করে দিবো।
প্লিজ, তাড়াতাড়ি পাঠিয়ো।
ট্রাফিক গাড়ির উপর টোল ধরে।
অবশ্যই, পাঠাবো।
- ভাই, অজয় একটা ক্যারাভ্যান চায়। - কী?
চুপ করো তো।
- কখন বললাম? - কিছুক্ষণ আগে বলোনি?
আমি তো মজা করছিলাম সেটা সিরিয়াসলি নিয়ে নিলে।
ফালতু কথা বলো না।
- তোর কী বুদ্ধি নাই? - দুঃখিত, ভাই।
- ৫ বারের উপরে ফোন দিয়েছি। - মেমরি কার্ডে সমস্যা নাই?
- পাগল নাকি? - দুঃখিত।
ফুটেজ নিরাপদেই আছে।
- এটা অভ্যাস হয়ে গেছে। - আগে চা অর্ডার কর।
- মাস্টার, দুটো চা। - পরের বার দেরি করলে...
- তোকে বিশ্বাস করি। - মালিক আসলেও টাকা দিবো না।
রাগ করবেন না। এবার অন্তত ভরসা রাখেন।
আর কোন বিকল্পও তো নাই। আচ্ছা, যা এবার।
ওই!
পুলিশ টহল দিচ্ছে।
ঘামছো কেন, ভাই।
দ্রুত, এটা লিগ্যাল হয়ে যাবে।
এটা ছাড়া, গল্প মাথায় আসে না?
প্লিজ, ওকে কিছু উপদেশ দাও আমাদের কথা কানেই নেয় না।
এই ছোট্ট জিনিসটা,
তোমাকে অন্য জগৎ-এ নিয়ে যাবে।
এমন জিনিস দেখাবে যা আগে কখনো দেখোনি।
এমন গল্প শুনাবে যা আগে কখনো শোনোনি।
গল্পের প্রারম্ভ মাথা থেকে না হৃদয় থেকে আসে।
বাহ্! মণিরত্নম, স্যার কী দিলেন!!
- হ্যাঁ, হ্যাঁ। - বিগ ফ্যান, বিগ ফ্যান।
এটা ঠিক না, বন্ধু।
মা!
চেইন খুলে গেছে?
জ্বি, কাকা।
পড়ে গিয়েছিলে? মনে হয় ব্যথা পেয়েছো।
রাস্তার মোড়ে একটা গাড়ি প্রায় ধাক্কা দিয়ে দিতো।
এজন্য হঠাৎ ব্রেক করি,
আর সাইকেলের চাকা পিছলে যায়।
ওই, এক বোতল পানি আন।
মানুষের বিবেক-বুদ্ধি লোপ পাচ্ছে।
রাস্তাকে রানওয়ে মনে করে আর উল্টাপাল্টা গাড়ি চালায়।
দাও আমি দেখছি।
সমস্যা নাই কাকা।
আমি দেখছি তো ঠিক করার উপায় জানা আছে।
এই নিন।
- লাগবে না। - আরে নিন।
সমস্যা নাই, আমি ঠিক আছি।
নিজ থেকে দিচ্ছি কোন টাকা দিতে হবে না।
- ঠিক হয়ে গেছে। - অনেক ধন্যবাদ, কাকা।
সাবধানে যাও।
একটু অপেক্ষা করুন।
ভাই, প্রযোজক গুরুত্বপূর্ণ মিটিং-এ ব্যস্ত।
আজকে দেখা হবে না।
স্যার, এখানে দশবারের বেশি আসলাম।
প্রযোজক আগ্রহী না হলে প্লিজ, সোজাসাপ্টা বলে দিন।
আপনাদের বিরক্ত করবো না।
আপনারা স্ক্রিপ্ট চেয়েছিলেন কিন্তু এখন পাত্তা দিচ্ছেন না।
এমনকি ইমেইলের উত্তরও দিচ্ছেন না।
আপনারা কী চান?
ভাই, আমার উপর রাগ করছেন কেন?
- আমাকে বলতে দিন। - উনি দেখা করবেন।
নায়িকা হিসেবে কাকে ভাবছেন?
স্যার, ছবিতে কোনো নায়িকা নাই।
গান কয়টা?
স্যার, কোনো গানও নাই।
তাহলে আপনি যেতে পারেন।
ভেট্রি! আপনি ভিতরে যান।
ভেট্রি, আমি সরাসরি বলছি।
আপনার স্ক্রিপ্ট আমার টিম পড়েছে।
আমিও পড়েছি, চিত্রনাট্য খুব সুন্দর।
ধন্যবাদ, স্যার।
আমি বিশ্বাস করি আপনি একজন সফল পরিচালক হবেন।
বর্তমানে আমাদের কোম্পানিতে সময় সংক্রান্ত কিছু ঝামেলা চলছে।
অনেক সিনেমা লাইন-আপে পড়ে আছে।
ততদিন পর্যন্ত একজন প্রতিভাবান নতুন পরিচালককে বসিয়ে রাখতে চাই না।
আমার সেক্রেটারিকে নাম্বারটা দিয়ে যান।
আপনাকে অবশ্যই জানাবো।
ধন্যবাদ, স্যার।
সব ঠিকঠাক?
চাইলে এ-লিস্টের হিরো দিয়ে সিনেমাটা বানাতে পারি,
কিন্তু তারা রাজি হবে না হয়তো গল্পও পরিবর্তন করবে।
আপনি বললেন কোনো পরিচালকের অধীনে কাজ করেননি।
তো কীভাবে আপনাকে বিশ্বাস করে সিনেমা বানাবো?
OTT লো-বাজেটের সিনেমা কিনে না।
সেটা মাথায় নিয়ে সিনেমা বানানো বিশাল ঝুঁকির ব্যাপার।
একজন সাবেক পরিচালক,
বলেছিল এটা লো-বাজেট সিনেমা উনি আমাকে রাস্তায় নামিয়েছিল।
সেই ভুল আর করতে চাই না।
বন্ধু, লোকেশনটা জেনে আসছি।
- তাড়াতাড়ি ফিরে আসিস। - বাই।
ভেট্রি, আমি ভিলেনের রোলের ট্রেনিং সম্পন্ন করেছি।
আশা করি তুমি কথা রাখবে।
চুক্তি সময়মতো হবে, কাকা।
ভেট্রি!
সেরা নতুন পরিচালনার পুরস্কার পাচ্ছে...
ভেট্রি।
হাই বলো।
বলো...
- ধন্যবাদ, স্যার। - চমৎকার।
ধন্যবাদ, স্যার।
মঞ্চ তোমার অপেক্ষায়... শুভ কামনা রইলো।
সবকিছু যেন এভাবেই থাকে।
কী? লোকেশন খুঁজে পাসনি?
ভিতরে চল, বুঝিয়ে বলছি।
- বল। - আমি কেন? তুই বল।
সামলে নিবো নে, তুই বল।
বললেই না আমি জানবো।
- সত্যকে কল দে। - কেন?
তুই ফোন দে ও সব বুঝিয়ে বলবে।
- সত্য! - হাই বন্ধু, কেমন আছিস?
খুব ভালো।
"পাইলট" সিনেমার কী অবস্থা? পাইলট - সিনেমার প্রাথমিক স্ক্রিপ্ট যা চরিত্র, কাহিনীকে প্রতিষ্ঠিত করে।
সবকিছু ঠিকঠাক চলছে আর ৩ দিন শ্যুটিং বাকি।
rough-cut হয়ে গেলে দেখতি পাবি। rough-cut - সিনেমার এডিটিং বিশেষ।
অসাধারন।
সন্দীপ আর শিব এসেছে?
সামনেই দাঁড়িয়ে আছে।
মনে হচ্ছে ভূত দেখে এসেছে।
আচ্ছা, এখন মন দিয়ে আমার কথা শোন।
কথা শেষ না হওয়া অব্দি কিছু জিজ্ঞাসা বা চিল্লাবি না।
ঠিক আছে?
আচ্ছা, মন দিয়ে শুনছি।
আমার পরিচালকের কাছে যে প্রাথমিক স্ক্রিপ্টটা বলেছিলি,
হ্যাঁ, কী হয়েছে? ভালো খবর নাকি?
উনি সেইম স্ক্রিপ্ট অভিনেতা স্টান লিকে বলে তাকে সিনেমায় সাইন করিয়েছে।
কিছুদিনের মধ্যে শ্যুটিং শুরু হবে।
তারপর অফিসিয়াল ঘোষণা আসবে।
শোন, রাগ না দেখিয়ে...
রেজিস্ট্রার্ড স্ক্রিপ্টটা নিয়ে আয়।
আমি জবের চিন্তা করি না।
আমরা মামলা করবো যাতে প্রজেক্টটা বন্ধ হয়ে যায়।
ঠিক আছে?
- ঠিক আছে। - আচ্ছা, তোকে পরে ফোন দিবো।
সিনেমা তোর ধারণার চেয়েও বেশি চ্যালেঞ্জিং, ভেট্রি।
ভালো অবস্থান না থাকলে দাঁড়ানো যায় না।
মা, কেন নেগেটিভ ভাবছো?
আমি তো কখনো বলিনি যে সিনেমা বানানো সহজ।
বলেছি আমৃত্যু চেষ্টা করবো।
নেগেটিভ ভাবছি না, বাবা।
বলছি কারণ তোকে নিয়ে চিন্তা হয়।
প্লিজ, আবার শুরু করো না।
সিনেমাকে ভয় পাই কারণ এই মোহ তোকে ভুল পথে নিয়ে যাবে।
সেরকম কিছুই হবে না আমি সব সামলে নিবো।
শুধু আমাকে করতে দাও।
জীবনে অবহেলাকে সঙ্গ দিবি না।
তবে সেকেন্ডে সব পাল্টে যাবে।
তখন আমার কথা বুঝতে পারবি।
স্যান্ডি!
বন্ধু!
স্ক্রিপ্টটা তো এখানেই ছিল।
নিশ্চয়ই অন্য কোথাও রেখেছে। চল খুঁজে দেখি।
শিব, গাড়ির ভিতরটা দেখ।
দেখছি।
বন্ধু!
কোথাও নাই, পুরো বাসা তন্নতন্ন করে খুঁজেছি।
রেজিস্ট্রার্ড স্ক্রিপ্ট ছাড়া,
প্রমাণ করতে পারবো না গল্পটা যে তোর।
চুপ কর তো।
তোরা একটু বাইরে যা।
প্লিজ, মাথা ঠান্ডা কর। কথাটা শোন।
তোদের বের হতে বললাম, যা।
চল বের হ... বললাম না যা।
- যা। - বন্ধু, কথাটা তো শোন।
ওই, দরজা খোল।
সাজাঙ্কার মতো অভিনয় করছে।
- কিছু চিন্তা করছিলো? - নিশ্চয়ই কোন ঝামেলা আছে।
ভেট্রি! ভেট্রি!
- ও ওভারডোজ নিয়েছে। - এমন কিছু করবে না, চুপ কর।
ভেট্রি! ভেট্রি!
- ভেট্রি! - বন্ধু, দরজা খোল।
তুমি দারুণ, ভেট্রি!
- অসাধারণ স্ক্রিপ্ট। - ধন্যবাদ, স্যার।
এবার খেলা বদলে যাবে।
অনেক ধন্যবাদ, স্যার... ধন্যবাদ।
যদিও ছোট একটা ঝামেলা আছে,
যেহেতু হাই-বাজেট সিনেমা।
নতুন পরিচালকের জন্য বিপুল পরিমাণ টাকা বিনিয়োগ করতে,
প্রযোজক একটু ভাবতে পারে।
আমি জানি, স্যার।
স্ক্রিপ্টটার সাথে আমার আবেগ জড়িত।
- তাই এভাবে ছাড়তে পারি না। - ওহ, চমৎকার।
এমনকি সেইম স্ক্রিপ্ট দিয়ে "পাইলট" সিনেমার শ্যুটিংও করছি।
এর জন্য প্রযোজক পেয়েছো?
এখনও পাইনি, স্যার।
আমি "পাইলট" সিনেমাটা শেষ করে প্রযোজকদের কাছে উপস্থাপন করবো।
শুভ কামনা রইলো।
ভালো কিছু করো।
আশা করছি তোমাকে ভালো নিউজ দিতে পারবো।
ধন্যবাদ... অনেক ধন্যবাদ, স্যার।
- হেই, ভেট্রি! - স্যার?
তুমি খুব মেধাবী ছেলে। তুমি পারবে।
আবারও ধন্যবাদ, স্যার।
মা!
মা!
মা!
কী অপদার্থ রে সালা...
হেই!
ভেট্রি! ভেট্রি!
ভেট্রি, উঠ।
ভেট্রি ! ওই, ভেট্রি!
ভেট্রি, উঠ, উঠ।
ও "ই" নিয়েছে।
কী বলছিস! ই!!... ধ্যাত।
সাথে "এম" ও নিয়েছে। একটু পানি নিয়ে আয়।
ভেট্রি! ভেট্রি, চোখ খোল।
ছিটিয়ে দে।
আমাকে দে।
ভেট্রি, শুনতে পাচ্ছিস?
ভেট্রি, তুই কী শুনতে পাচ্ছিস?
শুনতে পাচ্ছিস না?
ভেট্রি, শুনতে পাচ্ছিস?
আমার স্ক্রিপ্ট! আমার স্ক্রিপ্ট!
আমি খুঁজে পেয়েছি... খুঁজে পেয়েছি।
ওই, আমি খুঁজে পেয়েছি।
এখানেই ছিল।
এই গাধা ভাবছে হারিয়ে গেছে।
দেখ, এখানেই ছিল।
এই যে দেখ।
ভেট্রি, এটা স্ক্রিপ্ট না।
আমাকে দে।
স্ক্রিপ্ট না?
ও না বললো।
হারিয়ে গেছে, আমি শেষ।
আমি শেষ হয়ে গেছি।
• শেড - থ্রি •
পার্বতী!
পার্বতী এখনো আসেনি?
- নমস্কার, স্যার। - নমস্কার, কেমন আছেন?
আজকে টিউশন দেরিতে শেষ হলো?
না তো।
আপনাকে কল দিতেই যাচ্ছিলাম।
পার্বতী টিউশনে আসেনি কেন?
ও ঠিক আছে?
কিন্তু ও তো সকালে টিউশনে গেল।
এটা কী বলছেন!
তাহলে হয়তো বন্ধুর বাড়িতে গেছে।
- আপনাকে পরে কল দিচ্ছি। - ঠিক আছে, স্যার।
ওর বন্ধুদের কল দিয়ে খোঁজ নাও।
নিশ্চয়ই ওদের সাথেই আছে।
নিজেই ফোন দাও।
বলো, কাথির।
স্যার, হিট অ্যান্ড রান কেস।
কোথায়? কোনো হতাহতের ঘটনা?
নাম কৃষ্ণবেণী।
বয়স ৬২, জি.এইচ'এ ভর্তি করা হয়েছে।
এখনও জ্ঞান ফেরেনি।
ডাক্তার বললো... বিকালের পর কিছু বলা যাবে।
কাউকে গ্রেপ্তার করেছো?
বালা আর কৃষ্ণ, দুই ভাই।
তাদের লক-আপে রেখেছি।
তোমার গলা কাঁপছে কেন?
স্যার, ওরা মন্ত্রী আয়াপ্পানের ছেলে।
মাথায় বুদ্ধি নাই নাকি?
স্যার, উনাকে অনেকবার বলেছি।
নতুন নিয়োগপ্রাপ্ত কনস্টেবল প্রকাশ গ্রেফতারে খুব উৎসাহী ছিল।
আমাদের কারো কথাই শোনেননি।
উনিই গ্রেফতার করেছেন।
- আমি এসে কথা বলছি। - আচ্ছা, স্যার।
- ও বাড়িতে এসেছে? - এখনো আসেনি।
- শ্রী! - স্যার?
তোমাকে মাইক্রো পার্টিকেল'স সেমিনারের দায়িত্ব দিয়েছিলাম?
জ্বি, স্যার। কিন্তু এটা তো আগামী সপ্তাহে।
দশ মিনিট প্রস্তুতি নিয়ে সেমিনারটা পরিচালনা করো, প্লিজ।
- এক্সকিউজ মি, স্যার। - প্লিজ, ভিতরে আসুন।
ব্যক্তিগত বিষয়, খুব জরুরি।
- আচ্ছা, বসন্ত... যান। - ধন্যবাদ, স্যার।
তোমরা এসো।।
- নমস্কার, স্যার। - জ্বি, স্যার... নমস্কার।
অনেক দিন পর! কেমন আছেন?
ভালো আছি, স্যার।
- একটা বিষয় জানার ছিলো। - প্লিজ, বলুন।
পার্বতী কী আপনার মেয়ের সাথে স্কুলে গিয়েছিলো?
না, স্যার। আমার মেয়ে একা গিয়েছিলো।
- কী হয়েছে? - ওহ, আপনাকে পরে ফোন দিচ্ছি... স্যার।
ও তো আমাদের এখানে আসেনি আসলে নিজেই আপনাকে জানাতাম।
কোন সমস্যা হয়েছে?
শোভা!
আমি ওর বন্ধু-বান্ধব ও তাদের বাবা-মার সাথে কথা বলেছি।
তারা কেউ কিছু জানে না।
আমিও খোঁজ নিলাম তারাও একই কথা বললো।
ভালো হয় পুলিশে অভিযোগ করলে।
এর মধ্যে পুলিশকে কেন জড়াবো?
এতে মেয়ের মান-সম্মান নষ্ট হবে।
মেয়ে! নাকি সমাজে তার মান-সম্মান কোনটা তোমার কাছে বেশি গুরুত্বপূর্ণ?
একটা মামলা দায়ের করো।
আপনার ভালোর জন্যই বলছি।
ব্যাপারটা বাবা জানার আগেই...
আমাদের ছেড়ে দিন।
কোন কারণে যদি,
উনি জানতে পারে।
তখন আপনি আর এই থানার জন্য আমি দ্বায়ী থাকবো না।
ওহ্ হো! ভালো বললে।
ভাই, আমার একটু ত্যাড়া স্বভাব।
ছোটবেলা থেকেই.. কখনো কাউকে ভয় পাইনি।
কারো কথা শোনিনি।
শুধু তাই নয়...
থানার সবাইকে যে হুমকি দিলে!
যদি তোমাদের ছেড়ে দেই,
সবাই ভাববে তোমাদের ভয় পেয়েছি।
এটা ঠিক হবে না।
তারপর থানার কেউ আমাকে সম্মান দেখাবে না।
দেখো, যে মহিলাকে ধাক্কা দিলে.. উনি হাসপাতালে বাঁচা-মরার লড়াই করছে।
বাঁচবে কিনা শিউর না।
যতক্ষণ না ডাক্তার শিউর হয়ে কিছু বলছে,
তোমাদের লক-আপে থাকতে হবে।
তারপর সিদ্ধান্ত নিবো ছাড়বো নাকি অন্য জেলে পাঠাবো।
বুঝলে?
এই, তোর সাহস কীভাবে হয় এভাবে কথা বলার?
সন্ধ্যার মধ্যে তোর থানা উড়িয়ে দিবো।
আমি চ্যালেঞ্জ করলাম।
এই!
এটা তোর বাড়ি না যে মনমর্জি চিৎকার করবি।
এটা থানা।
যদি আর একটা কথা বলিস!
আন্ডারওয়্যার খুলে হাতে ধরিয়ে দিবো।
সেটা করতে বাধ্য করিস না।
শো শেষ, সবাই কাজে যাও।
যাও।
ওর কতো বড় সাহস।
- স্যার! - বসো।
- সমস্যা নাই, স্যার। - আরে বসো।
এদিকে নিয়ে এসো।
- চা নাও। - লাগবে না, ধন্যবাদ।
আরে নাও।
যাও, টাকা পেয়ে যাবে।
সবই টাকার খেলা।
স্যার! আমি দুঃখিত, স্যার।
দুঃখিত'র কিছু নাই।
তুমি দায়িত্ব পালন করেছো।
এই ধরণের হাই-প্রোফাইল মামলা নিয়ে কাজ করার সময়,
সতর্ক থাকা উচিৎ।
তা না হলে সেকেন্ডের মধ্যে বুম!!
তুমি নতুন এসেছো।
নিশ্চয়ই নাম-খ্যাতি কামাতে উৎসাহী।
সেটা ঠিক আছে।
তবে থানার বাকি লোকজন তোমার চেয়ে বেশি অভিজ্ঞ।
যদি তারা কিছু বলে অবশ্যই এর পিছনে কারণ আছে।
- বুঝলে? - বুঝলাম, স্যার।
স্যার?
- উনি মন্ত্রীর পি.এ। - এখন খেলা হবে।
আমি বলেছিলাম,
বলেছিলাম এমন কিছু হবে।
ওই, পুলিশ.. আমার লোক চলে এসেছে।
এখন দেখি তোর সাহস।
- বাদ দে না। - চুপ কর।
স্যার, সরাসরি কাজের কথায় আসি।
কয়েকদিন পরেই নির্বাচন।
ব্যাপারটা মন্ত্রী সাহেবের মান-সম্মানের ব্যাপার।
ছেলেদের ভালো মানুষ বানানো উচিৎ ছিল।
আদব-কায়দা শিখানো উচিৎ ছিল।
তাদের ছেড়েই দিতাম।
কিন্তু তারা সীমা ছাড়িয়েছে।
বিষয়টা ভালো লাগেনি।
তার মানে এই না যে আমি একজন সৎ অফিসার।
অফার বলুন।
তারপর সিদ্ধান্ত নিবো এফ.আই.আর হবে কিনা।
দেখুন আমারও নীতি আছে।
স্যার, আপাতত ৫০ হাজার রাখুন।
- পুরো আছে তো? - পুরোটাই আছে।
একটা ছোট্ট অনুরোধ।
মিডিয়াতে যেনো কিছু না আসে সেটা একটু দেখবেন।
তাদের ছাড়ার সময় আরও ১ লাখ পাবেন।
যা বললেন তা ঠিকই আছে কিন্তু বৃদ্ধা মারা গেলে,
৫ লাখ লাগবে। রাজি আছেন?
ঠিক আছে, স্যার।
- স্যার, আমি থানার বাইরে। - ভেতরে এসো।
নাকি বিশেষ নিমন্ত্রণ পাঠাবো?
- আমি ফোন দিবো। - আচ্ছা, স্যার।
স্যার, যেমনটা বলেছিলেন আমি খুঁজে পেয়েছি।
খুব ভালো, দাও দেখি।
ঠিক আছে, স্যার। আমি যাবো?
- কাথির! - স্যার?
কৃষ্ণা গার্ডেনে চেইন ছিনতাইয়ের মামলাটা কী এখনও চলছে?
জ্বি, স্যার।
- ওকে নিয়ে যাও। - স্যার, আমার কথাটা শুনুন।
ডি.সি.পি স্যার রাউন্ডে আছে তাকে অ্যাকাউন্ট দেখাতে হবে।
চল বেটা।
টাকা চায় কীভাবে?
বাদ দাও, বাবা। সুযোগ কাজে লাগিয়েছে।
পরে দেখে নিবো।
ততক্ষণ পর্যন্ত শান্ত থাকো।
চিন্তা করবেন না। আমি ওকে সামলে নিবো।
- আপনি আনুষ্ঠানিকতা শেষ করুন। - অবশ্যই।
স্যার, আমার কাছে প্রমাণ আছে। এখন কী আসবো?
টাকার ব্যাপারটা!!
আচ্ছা, ঠিক আছে।
- কোন ক্লাসে পড়ে? - দ্বাদশ শ্রেণীতে, স্যার।
- বয়স কতো? - ১৮
ভালো তো?
- কবে থেকে নিখোঁজ? - না, স্যার।
- সকাল থেকে। - তোকে জিজ্ঞেস করিনি। চুপ কর।
- কী ব্যাপার, কাথির? - মিসিং কেস, স্যার।
দ্বাদশ শ্রেণীর ছাত্রী।
টিউশন থেকে বাড়ি ফেরেনি।
বন্ধু-বান্ধবের সাথে কথা বলেছেন?
বলেছি, স্যার।
কেউ কিছু জানে না।
এটা শয়তানের রাজ্য।
প্রতিদিন এমন অনেক ঘটনা ঘটে আর থানায় রিপোর্ট হয়।
এমনি আমাদের লোক কম এদিকে মামলার স্তূপ জমছে।
চিন্তা করবেন না।
ভালো হয় যদি বিনিময়ে কিছু দেন।
আপনার মেয়েকে খুঁজে বের করবো।
- দেখো ব্যাপারটা। - স্যার।
আপনার মেয়ের বয়ফ্রেন্ড আছে?
না, স্যার।
না! নাকি জানেন না?
এজন্য জিজ্ঞাসা করছি,
কারণ মায়েরা বাবাদের থেকে এসব ব্যাপারে বেশি জানে।
গিয়ে স্ত্রীর মনের কথা জানুন।
উনি হয়তো কিছু জানে।
আমি কথা বলবো।
স্কুলের মেয়েদের হারানোর ব্যাপারে শেষমেষ ছেলেরাই জড়িত থাকে।
শেষ পর্যন্ত বাবা-মার থানায় এসেই কান্নাকাটি করা লাগে।
আমি মামলা নিচ্ছি।
কিছু খুঁজে পেলে জানাবো।
এখন যেতে পারেন।
পার্বতী তোমাকে কোন ছেলের ব্যাপারে কিছু বলেছিল?
না।
শোভা, এখন রাগ দেখানোর সময় না।
কিছু না বললে আমি কী বলবো?
যদি এতোই চিন্তা ছিল তো ওর সাথে আরও সময় কাটাতে পারতে।
অন্তত বাবা হিসেবে।
মানছি এটা আমার ভুল।
কিন্তু জানি না ও কোথায় আছে।
কী হয়েছে সেটাও জানি না।
সময় দাও।
আঘাত লাগার জায়গাটা আরেকটু এদিক সেদিক হলে,
ভয়ংকর কিছু হতে পারতো।
ডান পা মারাত্মকভাবে ভেঙে গেছে।
এছাড়া উনি নিরাপদ।
- শিউর? - জ্বি।
ব্যথানাশক ওষুধ দিয়েছি। আশা করি সুস্থ হয়ে যাবে।
ধন্যবাদ।
- স্যার, সেলভাম বলছি। - বলুন, স্যার।
আপনি ভাগ্যবান ব্যাপারটা ১ লাখেই শেষ হয়ে গেল।
থানায় কাথিরকে পাবেন তাকে টাকা দিয়ে ওদের নিয়ে যান।
ঠিক আছে, স্যার। অনেক ধন্যবাদ।
বাই ব্রো।
- যদি কিছু লাগে! - সর তো।
চুপ কর।
গাড়ির চাবি নিয়েছি।
বাইরে পার্ক করা আছে।
বুঝলাম।
স্যার, ছেলেদের ছেড়ে দিয়েছে।
এখন চা খাচ্ছে।
তাদের বাড়িতে নিয়ে আসছি।
তোকে আগেই বলতে চেয়েছিলাম।
ইন্সপেক্টরের ছেলে আমাদের এলাকায় থাকে।
নাম ভেট্রি। শর্ট ফিল্ম শ্যুট করে।
কোথায় পাওয়া যাবে?
ওই! শোন, বোকামী করিস না।
মাত্রই একটা সমস্যা শেষ হলো। আমার কথাটা শোন।
- বালা! - এফ.আই.আর তো করেনি।
তাই কিছুই করতে পারবে না।
ওই, বালা! এখন কিছু করিস না।
হ্যালো, সৈয়দ!
এই, তোরা যা।
তুই ভেট্রি?
- ওরা কারা? - জানি না।
জানিস না? বন্ধু!!
শোন, প্যান্টে মুতে দিয়েছি।
- আমরা চলে যাবো? - তাই তো বললো, তুই যাবি? - আমি যাবো না। - ফালতু বকিস না তো।
জোকস শুনলি নাকি?
আমি কথা বলছি, আর তুই হাসছিস?
তোরে তো...
সালা অপদার্থ।
ওই, তাকিয়ে কী দেখছিস?
এ ২ - ভালাসারভাক্কাম।
স্যার, আমি ৩ নং কানাগাথারা নগর থেকে ফোন করেছি।
কয়েকটা গুন্ডা ভাড়াটিয়াদের সাথে মারামারি করছে।
- প্লিজ, তাড়াতাড়ি আসুন। - আচ্ছা, চলে আসবো।
কেউ উঠ না।
আমার শক্তি নাই। চল পালাই।
তাড়াতাড়ি গাড়ি চালু কর।
বন্দুকটা নিয়ে আয়।
- ভেট্রি! ভেট্রি! - ওই!
- কথা শোন, ওরা চলে গেছে। - জুতা!!
- আমার জুতা কোথায়? - কথা শোন।
আমার জুতা নিয়ে গেছে।
- প্রভু! - জুতা গেল রে।
ভেট্রি, কথাটা তো শোন।
- ওরা আবার আসতে পারে। - আমাকে ছেড়ে দে।
গাড়ির ভিতরে যা।
শিব, গাড়ি চালু কর।
- শিব, সব ঠিক আছে? - ঠিক আছে, কাকা।
- ওই, চল। - চল তাড়াতাড়ি।
স্যার, পার্বতীর ব্যাপারে কিছু জানতে পেরেছেন?
না, স্যার।
ইদানীং ক্লাসে ও খুব বিরক্তবোধ করতো।
যখন জিজ্ঞেস করলাম বললো কিছু হয়নি।
সবাই ভালো কিছুর আশায়, স্যার।
যেকোনো সাহায্য লাগলে বলবেন।
ঠিক আছে, স্যার।
হ্যালো!
স্যার!
আপনার মেয়ের ব্যাপারে কিছু গুরুত্বপূর্ণ তথ্য আছে।
প্লিজ, থানায় আসুন।
স্যার, কতোক্ষণ অপেক্ষা করবো?
সেলভাম স্যার না আসা পর্যন্ত।
স্যার, অনেক কাজ বাকী।
আসছে কাজের কাজী!! সালা বদমাশ।
কী মনে হয় আমরা এখানে বেকার বসে আছি?
ঠিক আছে, মেয়েটাকে খুঁজে দে তোকে ছেড়ে দিবো।
ছবিটা কাছে আনুন তো।
- মজা চুদাবি না। - স্যার, স্যার।
ছবিটা কাছে নিয়ে আসুন।
- স্যার, মজা করছেন? - কী?
সকালেই মেয়েটাকে দেখেছি।
ওই, তুই শিউর?
স্যার, মিথ্যা বলে আমার লাভ কী।
স্যার যে কাজটা দিয়েছিলো সেটা শেষ করে ফিরছিলাম।
মেয়েটাকে দেখলাম রাস্তা দিয়ে সাইকেল ঠেলে নিয়ে যাচ্ছে।
আমাকে দেখে হয়তো ভয় পায়।
তারপর সাইকেলটা রেখে একটা গাড়িতে উঠে চলে যায়।
শিউর এই মেয়েটাই ছিল?
শিউর, সেই ছিলো।
বারবার পিছনে তাকাচ্ছিলো কী করি দেখার জন্য।
চেহারাটা স্পষ্ট মনে আছে।
কোথায় দেখেছিলি?
ভগবতী নগর।
৭তম!.. ৮ম!.. ৮ম ক্রস স্ট্রিট, স্যার।
যদি জানি মিথ্যা বলেছিস!!
স্যার, সত্যি বলছি।
তাকেই দেখেছি।
- প্রকাশ! - স্যার!
এটা ধরো।
- ও যেখানে বলে সেখানে যাও। - ঠিক আছে, স্যার।
- আর তল্লাশী চালাও। - ঠিক আছে, স্যার।
স্যার "পুলিশ আমাদের বন্ধু।"
আমি বন্ধুকে সাহায্য করেছি।
বিনিময়ে আপনিও সাহায্য করতে পারেন।
ডি.সি.পি স্যার কী আর আসবে?
মেয়েটার সাইকেল খুঁজে পেলে তবেই ওকে যেতে দিবে।
অন্যথায় সাথে নিয়ে আসবে আমি ওর চামড়া ছাড়াবো।
এখনো আমাকে বিশ্বাস করছেন না।
- কষ্ট পেলাম খুব। - কোথায় যাচ্ছিস?
- এদিকে চল। - স্যার.. ব্যাগ, হেডফোন।
পরে নিস।
টানতে হবে না আসছি তো।
এ ২ - ভালাসারভাক্কাম।
স্যার, আমি ৩ নং কানাগাথারা নগর থেকে ফোন করেছি।
কয়েকটা গুন্ডা ভাড়াটিয়াদের সাথে মারামারি করছে।
- প্লিজ, তাড়াতাড়ি আসুন। - আচ্ছা, চলে আসবো।
- ওরা কারা? - কিছুই জানি না।
জুতা হারিয়ে গেল রে।
ও যাদের সাথে ঝামেলা করছে তাদের কেউ হবে হয়তো।
কিছুক্ষণ যাবৎ দুটো বাইক আমাদের ফলো করছে।
- তাই নাকি? - হ্যাঁ।
ব্যাপারটা সুবিধার মনে হচ্ছে না।
গাড়ি থামা, চেক করি।
তোর কাছে কিছু আছে?
- স্যান্ডি, ও বেরিয়ে যাচ্ছে। - ওই, দাঁড়া।
- দাঁড়া বলছি। - চল, চল।
- দাঁড়া। - মালটা বের কর।
- একদম মেরেই ফেলবো। - একদম চিল্লাবেন না।
- আমরা ঝামেলা করতে আসিনি। - কী?
আমি চিল্লাচ্ছি?
আমার কয়েকটা প্রশ্ন আছে।
আজ সকালে টিউশন থেকে ফেরার সময়,
দেখলাম ৩ জন মিলে একটা মেয়েকে এই গাড়িতে তুলছে।
বলেছিলাম না গাড়িটাকে ভাড়ায় না চালাতে!!
- হয়তো শ্যুটিংয়ের কথা বলতেছে। - শ্যুটিং?
হ্যাঁ, পাইলট সিনেমার একটা দৃশ্যের শ্যুটিং করছিলাম।
তাতে কোন সমস্যা?
অন্যকিছু বলুন।
আপনাকে বিশ্বাস করি না।
ওহ, না! কেন পরীক্ষা নিচ্ছো?
দেখা।
দেখো।
প্লিজ, শব্দ করা যাবে না তাতে সমস্যা হতে পারে।
পুলিশের অনুমতি ছাড়া শ্যুটিং করছি কেউ দেখলে, ঝামেলায় পড়ে যাবো।
এই প্রমাণ কী যথেষ্ট না?
- চলো তাড়াতাড়ি শেষ করি। - ঠিক আছে।
- আচ্ছা, প্রস্তুত। - এই যাচ্ছি...
- রোল, ক্যামেরা। - রোলিং।
অ্যাকশন।
এবার বিশ্বাস হয়েছে?
কাট।
ইতিমধ্যে আমরা বড় ঝামেলায় ফেঁসে গেছি।
যা ভেবেছো সেটা অন্যকিছু ছিলো।
তোমাদের উত্তর চাই!!
গাধার দল।
ঠিক আছে, ঠিক আছে।
মানছি যে দৃশ্যগুলো শ্যুট করেছি সেগুলো একদম বাস্তব ছিলো।
তুমি তো সি.বি.আই না।
তাহলে সমস্যা কী?
মেয়েটা,
সকাল থেকে নিখোঁজ।
ভোরবেলা ৩ জনকে দেখলাম একটা মেয়েকে জোর করে গাড়িতে তুলছে।
যেহেতু দূর থেকে দেখেছি,
ভাবলাম অন্য কেউ ছিলো।
বাসন্তী বেকারি চিনো?
তাকে ঐ রাস্তায় দেখেছি।
বলছিলো এ্যাক্সিডেন্টে তার সাইকেলের চেইন খুলে যায়।
দোকানদার সেটা ঠিক করে দেয়।
সাক্কারাই, ভাই?
স্মার্ট বয়।
ঠিক বলেছো।
তারপর তাকে আর দেখিনি।
কোন সময়?
হতে পারে সকাল ১০ টা।
সময় ছিল ভোর ০৫:১৫
তাই নাকি?
হ্যাঁ।
হ্যাঁ, ভোর ০৫:১৫
- তোমার গার্লফ্রেন্ড? - অনেকটা।
অনেকটা!! তেল ছাড়া ভালোবাসা।
ধরো।
তোমার নাম্বারে মিসড কল দাও।
দেখতে পেলে ফোন করবো।
আমার নাম ভেট্রি। নাম্বারটা সেভ রাখো।
- ধন্যবাদ, ভাই। - সাবাশ।
- ভাই, একটু আসো তো। - জ্বি, ভাই।
তোরে তো!.. ভাবটা এমন যেনো সবজান্তা।
ওর চেহারাটা দেখ।
ঘুষি মারা উচিৎ।
কী হয়েছে?
- পানি। - পানি নিয়ে আয়।
তাড়াতাড়ি কর।
স্যান্ডি, উপরে আছে তো।
কিছু বলবি না.. রেগে যাবে।
আমি দেখছি।
তাড়াতাড়ি কর।
বন্ধু, প্ল্যানে প্যাঁচ লেগে গেছে।
দুঃখিত।
একটা কাজ দিলাম।
লজ্জা করে না?
সালা হঠাৎ পাগলামী শুরু করলো কিছু করতে পারিনি।
- কী করছে? - শুধু আমরাই জানি।
আচ্ছা, ধরার পড়ার আগেই ঐখান থেকে ভাগ।
এই চল।
- কয়জন ছিল? - চারজনের বেশি ছিল।
- ভেট্রি? - বন্ধুদের সাথে বাইরে গেছে।
স্যার, ভেট্রির বাসা থেকে ফোন দিয়েছি।
মনে হয় বড় কিছু হয়েছে।
- ও আছে? - না, স্যার।
বাড়ির মালিক বললো বন্ধুদের সাথে বাইরে গেছে।
ঠিক আছে, বাদ দাও জানি এর পিছনে কে আছে।
বাকিটা আমি সামলাচ্ছি।
স্যার, আপনি শক্তিশালী লোকদের সাথে ঝামেলা করছেন।
রাখো, কাথির।
- সত্য! - বল।
গোকুলামে শ্যুটিং হচ্ছে নাকি?
হ্যাঁ, কেন?
কিছু না আমরা আসছি।
এদিকে আমার মাথা খাচ্ছে।
প্লিজ, আর ঝামেলা বাড়াস না।
চিন্তা করিস না। একটু কথা বলবো।
ওই, ওই, ওই!
তুই ঠিক আছিস?
শৈশবে মা আমাকে,
বিশ্বাস করাতো যে ঈশ্বর আছে।
কিন্তু জীবনের ঘটা ঘটনাতে,
মানুষকে বিশ্বাস করাটাই খুব কঠিন হয়ে যাচ্ছে।
ঈশ্বর তো বাদই দিলাম।
ওই! বোকা।
সব তোমার জন্য।
তোমাকে কয়েকটা প্রশ্ন করবো।
যদি সত্যিই শক্তিশালী হও,
তবে আমার কাছে এসো।
হেই...! হেই...!
ইয়ো, কী খবর.. বন্ধু?
কী জানি প্রশ্ন করবে?
স্যার, আপনার মেয়ে ৮ নাম্বার মোড়ে সাইকেল ফেলে,
গাড়িতে থাকা কারো সাথে চলে যায়।
খোঁজ নিয়ে জানতে পেরেছি স্বেচ্ছায় গাড়িতে উঠেছিল।
কেউ জোর করেনি।
সিসিটিভি ফুটেজটাও চেক করার জন্য বলেছি।
গাড়িটাও ট্র্যাকিং এর চেষ্টা করছি।
বিস্তারিত জানতে পারলে তখন সবকিছু আবার মিলাবো।
আর আপনাকে জানাবো।
কিছু একটা ঠিক নাই।
সম্ভবত পছন্দের কারও সাথে পালিয়ে গেছে।
কী গাড়ি ছিলো জানেন?
ধূসর আই ২০
থানায় যাই নাকি?
কেন?
- চল, বুঝিয়ে বলছি। - তোর এতো বড় সাহস?
সমস্যা নাই, আমি এসবে অভ্যস্ত।
সালা।
আমার সাথে আয়।
তুই ভালো ছেলে।
থানায় যাওয়ার আগে,
তোর বাবাকে সবকিছু জানা।
তাকে জানা, ব্যাটা।
ভালো ছেলে।
এটা রাড ড্রিংক। আরেকটু মেরে দে।
ভাই, গান বন্ধ করলে কেন?
বাজাও।
তারপর?
আর কতোবার বলবো?
ওর সাইকেলের চেইন খুলে যায় আর আমি ঠিক করে দেই।
পানির বোতল দেই অল্প একটু খেয়ে চলে যায়।
সত্যি এরপর আর কিছু জানি না।
কিরে!
মেয়েটা কাছের কেউ?
সত্যি করে বলো আর কী জানো?
বললাম না আর কিছু জানি না।
বন্ধু!
কাঁদছিস কেন?
ও কাঁদছে কেন? সরো তো।
কী হয়েছে?
কেউ তো খারাপ কিছু বলেনি।
শ্রী, তোর প্রিয় আদা চা বানিয়ে দিবো?
- লাগবে না। - দারুণ, ৩ টা নিয়ে এসো।
আগে অতিরিক্ত চিন্তা বাদ দে।
সকাল থেকে খুঁজছি।
সেজন্য তোর মন খারাপ।
যখন ক্লান্ত থাকবি খারাপ চিন্তা এসে কষ্ট দিবে।
এই সুযোগ দিবি না।
কিছুক্ষণ কিচ্ছু ভাবিস না।
১০ মিনিট রিল্যাক্স কর।
গতকাল সন্ধ্যায়, ওকে প্রপোজ করি।
আমাকে ভুল বুঝো না।
হৃদয়ে তোমার জন্য ভালোবাসা হুদাই বন্ধু সেজে থাকতে পারবো না।
চুপ কেন?
কিছু তো বলো। হ্যাঁ নাকি না?
কালকে জানাবো।
হায় ঈশ্বর।
আমার থেকে লুকিয়েছিস।
আচ্ছা, বাদ দে।
হৃদয়ের কথা বলা অপরাধ না।
আগে মাথা ঠান্ডা কর।
অযথা নিজেকে দোষী ভাবিস না।
হ রে ভাই।
ভাইলোগ।
আজকে ওর মন ভালো নাই শুধুমাত্র ও ফ্রি চা পাবে।
যদি কান্না করি ফ্রি চা পাবো।
ভাই, বাবা সারাক্ষণ চিল্লাপাল্লা করে...
এসব আর ভালো লাগে না।
চিল কর।
ওর কিচ্ছু হবে না।
আমরা আছি তো।
কেন, কেন আমার জীবনে সবসময় শুধু কষ্ট আসে?
আমিও তোমার মতো চিত্রনাট্য লিখি।
পার্থক্য শুধু তুমি সিনেমার জন্য লিখো।
আর আমি জীবনের জন্য লিখি।
সহজ ভাষায় বললে,
সিনেমায় নায়ক সমস্যায় পড়লে...
নায়ক কী করে?
সে নতুন অভিজ্ঞতা অর্জন করে।
সেই অভিজ্ঞতা ব্যবহার করে,
জীবনের অন্য পথ পাড়ি দেয়।
এটাই আমার পয়েন্ট।
যদি কিছু জীবনের সাথে না মিলে।
প্যারা নিয়ো না স্রোতে গা ভাসিয়ে দাও...
সেটা এমন জায়গায় নিয়ে যাবে যা কখনো আশা করোনি।
আমার গল্পের কী হবে?
যদি সিনেমার ক্লাইম্যাক্স বলে দেই,
সেটা দেখতে ভালো লাগবে?
জীবন মানেই নাটকীয়তা।
শুধু স্রোতে ভেসে চলো...
স্রোতে ভেসে যাও...
ওই!
নিজে নিজেই কথা বলছে।
স্রোতে ভেসে যাও...
শ্যুটিং কোথায় হচ্ছে?
দুঃখিত, দুঃখিত।
শট ঠিক আছে, স্যার?
শট কী ঠিক আছে, স্যার?
দুঃখিত, স্যার। আর জিজ্ঞাসা করবো না।
শট ঠিক আছে।
শোন, তুই গেলে ঝামেলা বাঁধাবি।
আমি কথা বলে তোকে ফোন দিবো ততক্ষণ এদিকটা সামলা।
- এই! - কথা বলে আসি।
এই!
- এটা দিয়ে শেষ করবে। - আচ্ছা, স্যার.. তাই হবে।
আরে, বুঝার চেষ্টা করো...
আমার মাথা ব্যাথা করছে। একটা ড্রিংক খেতে হবে।
স্যার, প্যারা নিয়ে না। আপনি যান, আমি দেখছি।
দেখো, ওরা হয়তো এসেছে।
- স্যার। - ড্রিংক বানিয়েছো?
আপনার পছন্দের ড্রিংক বানিয়েছি।
- ওই, ভেট্রি কোথায়? - গাড়ির ভিতরে।
যা, মাথা খারাপ করে ফেললো।
সাবধানে কথা বলিস।
- তোমার গার্লফ্রেন্ড? - অনেকটা।
অনেকটা! তেল ছাড়া ভালোবাসা।
যতক্ষণ না বলি, কোন কথা বলবে না।
তোমাকে কনফারেন্স কলে রেখেছি।
বাবা, কোথায় তুমি? আমরা তোমাকে খুঁজছি।
খুঁজতে থাকুন।
আমি একটা মেয়েকে খুঁজছি।
মেয়েটার সম্পর্কে কিছু জানলে প্লিজ, আমাকে বলুন।
এসো, কীভাবে সাহায্য করতে পারি?
আমি সন্দীপ।
ঐদিন আমার বন্ধু আপনাকে একটা গল্প শুনিয়েছিলো।
তোমার বন্ধু আমাকে গল্প বললো কেন তুমি সহকারী পরিচালক হতে চাও?
আমি সহকারী পরিচালক হতে আসিনি।
বন্ধুর কথা মনে আছে যে পুরো স্ক্রিপ্ট শুনিয়েছিলো?
হেই! আমাকে কী মনে হয়?
হাজার মানুষ এসে গল্প শোনায়।
৫ লাখ পরিচালক হবার অপেক্ষায়।
কীভাবে জানবো কার কথা বলছো?
ঐদিন ক্যারাভ্যানে যে বলছিলেন তুমি "গেইম চেঞ্জার"।
এছাড়াও বলেছিলেন প্রযোজক পেলে তার সাথে যোগাযোগ করবেন।
- ওর নাম কী? - ভেট্রি।
প্রায় ৬ ফুট লম্বা।
ঠিক, ঠিক, ঠিক।
যখন ইসিআরে শ্যুটিং করছিলাম ক্যারাভ্যানে একটা গল্প শুনিয়েছিলো।
ভালো গড়ন সাথে মাথা ভর্তি চুল।
ওকে বলো অভিনয়ে আসতে।
চেষ্টা করলে নায়ক হতে পারে।
পরিচালক হতে চায় কেন?
ওকে বুঝাও।
স্যার, দিনরাত পরিশ্রম করে স্ক্রিপ্টটা লিখেছে।
পাইলট সিনেমাটাও প্রায় শেষ পর্যায়ে।
আপনি বলছেন সব বাদ দিতে?
পাইলট শ্যুটিং শেষ?
- বসো। - সমস্যা নাই, আমি ঠিক আছি।
প্রযোজক খুঁজে পেয়েছো?
না, স্যার।
তো এখানে এসেছো কেন?
সাথে গল্প নিয়ে ঘোরাঘুরি করছো।
আজব লোকজন।
তার গল্পটা আমার মতোই।
একটা পার্টিতে, আমি সেটা স্ট্যান লির কাছে বলেছিলাম।
তাৎক্ষণিক সে কাজটা করতে রাজি হয়।
তুমি কী জানো একটা নায়কের ডেট পাওয়া কতোটা কষ্টকর?
স্যার, আপনি প্রতিষ্ঠিত পরিচালক।
আর ও মাত্র ক্যারিয়ার শুরু করবে।
গাধা, সেটাই তো বলছি আমি প্রতিষ্ঠিত পরিচালক।
দু'জন একই চিন্তা করছিলাম।
এটাই তো স্বাভাবিক।
বকবক বন্ধ করো একদম নাক ফাঁটিয়ে দিবো।
দুঃখিত।
ঠিক আছে।
এক কাজ করি,
আমার মতো সেও যেহেতু একই প্লট ভাবছে।
চাইলে আমার সাথে সহকারী পরিচালক হিসাবে যোগ দিতে পারে।
তুমিও সরকারী পরিচালক হিসাবে যোগ দিতে পারো।
সর্বোচ্চ এটাই করতে পারবো।
এই, শট প্রস্তুত?
মা, অযথা কথা বলো না। আমাকে বলতে দাও।
মা, জোড়াতালির কাজ।
কীভাবে শেষ না করি?
ওহ, না.. মা। টাকা পাবো।
প্লিজ, মা।
তুমি সিনেমার উপযুক্ত না।
ভাই, ৩ তলায় শ্যুটিং হচ্ছে।
স্ক্রিপ্টের সাথে জীবনও হারিয়েছো।
গিয়ে ভিক্ষা করো।
দৃশ্যটা মনোযোগ দিয়ে শোনো। বলো...
বাইক চালানোর সময় অপরিচিত নাম্বার থেকে একটা ফোন আসবে।
- দ্রুত কলটা ধরবেন। - হেই, কিশোর!
বাইঞ্চোদ, আমার স্ক্রিপ্ট কোথায়?
মুখ সামলে কথা বল।
কী বলবো সেটা ভালো করেই জানি।
নিজেকে জেমস ক্যামেরন মনে করিস?
ও সালা চোর।
সবাই চোরের সাথে কাজ করছো।
অন্যের গল্প চুরি না করে,
ভিক্ষা করতে পারিস না।
নিয়ে যাও তাকে।
অরিজিনাল স্ক্রিপ্ট লিখতে পারিস না,
আবার নির্লজ্জের মতো সিনেমা বানাতে চলে এসেছিস।
- ধর ওকে। - ভেট্রি!
- ভেট্রি, চুপ কর। - তুই চোর, ডিরেক্টর না।
- চোর, চোর, চোর। - যা এখান থেকে।
পার্বতী, ধূসর আই২০ দিয়ে গেছে।
তোমার ভাইকে কল দাও আর ওকে খুঁজে বের করো।
বললাম না কল দাও।
ভাব! ভাব! ভাব!
-অহংকার! অহংকার! অহংকার! - মারবেন না, স্যার।
চিৎকার করবি না। চিৎকার করবি না।
এই, চিৎকার করবি না।
কাঁদবি না বললাম।
তোর বাবা না আসা পর্যন্ত তোকে বিরতিহীন পিটাবো।
অহংকার! অহংকার! ধনী মার্কা বালের অহংকার।
ওই! ওকে চুপ করতে বল।
ভাব! খুব ভাব বেড়েছে না?
খুব ভাব।
• শর্ট কমার্শিয়াল ব্রেক •
তোকে তো!!
এসে গেছে?
স্যার, মন্ত্রী আয়াপ্পন আসছে।
স্বাগতম, স্যার। ২ মিনিট সময় দিন।
প্রস্তুত হয়ে আসছি।
প্লিজ, ভিতরে আসুন... স্যার।
দুঃখিত, স্যার। এসময় বিরক্ত করার জন্য।
প্লিজ, বসুন।
- বলুন। - আমার ছেলেকে গ্রেফতার করলে কেন?
উনাকে বলেননি?
স্যার, হিট অ্যান্ড রান কেস।
ভিক্টিম এখনও হাসপাতালে।
ডান পা ভেঙে গেছে।
এর জন্য টাকা নাওনি?
টাকা? কিছুই তো নেইনি।
স্যার, নিজে তাকে দিয়েছি।
স্যার, এখন শুধু এফ.আই.আর দায়ের করা হয়েছে।
ভিক্টিম এসে সাইন করলে,
আপনার ছেলেকে ছেড়ে দিবো।
এটাই নিয়ম আমি কিছু করতে পারবো না।
ধন্যবাদ।
চলে যাচ্ছেন? চায়ের অর্ডার দিলাম তো।
বাবা, বাবা, বাবা, বাবা।
বাবা, আমাকে ফেলে যেও না। আমাকে মেরে ফেলবে, বাবা।
বাবা, বাবা, বাবা, বাবা।
- কাথির! - স্যার?
- আমি বাসায় যাচ্ছি। - ঠিক আছে, স্যার।
- প্রয়োজন হলে কল দিয়ো। - ঠিক আছে, স্যার।
শুভ রাত্রি, ভাই।
স্যার!
- নির্বাচন কাছাকাছি। - এই!
আমার ছেলেকে লক-আপে শরীরের ছাল তুলে নিচ্ছে।
এই ক্ষমতা, প্রভাব থেকে কী লাভ?
জনগণ আমাকে সম্মান করবে? যখন ভোট চাইতে যাবো।
- যা প্রয়োজন তাই করো। - ঠিক আছে, স্যার।
আমাদের মতো ছেলেদের সিনেমার স্বপ্ন দেখা উচিৎ না।
সিনেমা চাকচিক্যে ঘেরা।
চাকচিক্য...
স্বপ্ন নিয়ে বাঁচতে চেয়েছিলাম।
সেজন্য সত্য কষ্ট দিচ্ছে।
খুব কষ্ট দিচ্ছে।
চিত্রনাট্য অনুযায়ী...
নায়ক যখন ভেঙে পড়ে,
তখন জীবন পরিবর্তনকারী চরিত্রের আগমন হয়।
কখনও অপরিচিত হতে পারে।
তারপর তোমার জন্য আসবে।
ভাই!
মনে আছে কিছুক্ষণ আগে আমাদের দেখা হয়েছিলো?
- মনে নাই। - আমি তোমার পাশের এলাকার।
দেখলাম শ্যুটিং করছো।
যা যা ঘটেছে আমি সব দেখেছি।
মনটা খারাপ হয়ে গেল।
পুরোনো স্মৃতি মনে পড়ে গেলো।
আমিও পরিচালক হতে চেন্নাই এসেছিলাম।
এখন আমি কাজ করছি সেট সহকারী হিসাবে।
যা বলছি জানিনা তোমার কতোটা উপকার হবে।
তবুও বলতে চাই।
সকালে তোমার বাড়ির পাশ দিয়ে শ্যুটিংয়ে আসার সময়,
লক্ষ্য করলাম একটা লোক তোমার গেইট থেকে বের হলো।
কানে হেডফোন ও ব্যাগ ছিলো।
আমাকে দেখেই কিছুটা ভয় পায়।
জানি না কেনো।
তাকে আমাদের এলাকায় আগে কখনো দেখিনি।
বেশ সন্দেহজনক লাগছিলো।
দেখতে কেমন ছিলো?
দাড়ি ছিলো। মাথায় বেশ চুল।
গায়ের রং কালো।
- লম্বা আর শক্তপোক্ত শরীর। - আর?
বাম... তার বাম হাতে একটা সাপের ট্যাটু আছে।
এই, দাঁড়া।
বাইক থামা।
ভেট্রি ভাই কল দিয়েছে।
যতক্ষণ না বলি, কোন কথা বলবে না।
তোমাকে কনফারেন্স কলে রেখেছি।
বাবা, কোথায় তুমি? আমরা তোমাকে খুঁজছি।
খুঁজতে থাকুন।
আমি একটা মেয়েকে খুঁজছি।
মেয়েটার সম্পর্কে কিছু জানলে প্লিজ, আমাকে বলুন।
নাম পার্বতী। দ্বাদশ শ্রেণীতে পড়ে।
সকাল থেকে নিখোঁজ।
ওহ, ঐ মেয়েটা।
সকালে তার বাবা নিখোঁজ মামলা করেছে।
ওহ!
তদন্তের পর আমরা জানতে পেরেছি সে তার আত্মীয়ের বাসায় ছিলো।
আমরা এটা ব্যক্তিগতভাবে চেক করেছি।
কিন্তু তুমি তার কথা জিজ্ঞেস করছো কেন?
আপনি ব্যক্তিগতভাবে চেক করেছেন?
আর সেটা আমি বিশ্বাস করবো?
সত্যি বলছি, কনস্টেবল.. নিজে গিয়ে সব যাচাই করছে।
মেয়েটা আত্মীয়ের বাড়িতে ছিলো।
তাহলে ঠিকানাটা দিন।
৩ নং কৃষ্ণ নগর, পোরুর।
আচ্ছা, রাখুন... পরে কল দিবো।
তুমি আছো কোথায়?
এটা দিয়ে হবে?
তেল ছাড়া ভালোবাসা।
- ধন্যবাদ, ভাই। - দারুণ!
চল।
এলাকাটা ভালো করে চিনি। আমাকে ফলো কর।
ভেট্রি, তুই শিউর?
আমার চোখের দিকে তাকা। ঝকঝকে পরিষ্কার।
সেই লোকটার বাম হাতে সাপের ট্যাটু আছে।
এমনকি তার গ্যাংয়ের সবার সেইম ট্যাটু আছে।
ভেট্রি! অনেকদিন দেখা নাই.. ব্রো।
ব্রো, একটা উপকার করতে হবে।
বলো, ব্রো।
মাত্র নতুন স্টক আসছে।
ট্রাই করবে নাকি? চমৎকার জিনিস।
না, এখন না।
তোমার গ্যাংয়ে.. ঘন চুল, মুখে দাড়ি
শক্তপোক্ত লম্বা কেউ আছে যে সবসময় গান শোনে?
একদম পুলিশের মতো প্রশ্ন করছো, ব্রো।
ভাবছিলাম তোমার বাবা কিনা!
ব্যাপার কী?
তুমি যা ভাবছো তা নয়।
মনে হলো আমার বন্ধুকে মাল কম দিয়েছে।
২ গ্রামের টাকা নিলো কিন্তু ১ গ্রাম মাল দিলো।
- সেজন্য জিজ্ঞাসা করলাম। - ওহ, ঐ লোকটা!!
সালা পিছলা ডিলার, ব্রো।
তার কোনো নীতি নাই।
সবসময় আমাদের গ্যাংয়ের নাম বদনাম করে।
নাম্বারে কল দিলাম।
কিন্তু ফোন ডুকছে না।
তার ঠিকানাটা দিতে পারবে? আমি গিয়ে নিয়ে আসবো।
সে আমার মতোই প্রাসাদে থাকে।
তুমি এলে রিস্ক হয়ে যাবে। এসো না।
আমি কথা বলে তোমাকে ফোন করবো।
ব্রো?
কিছু তো বলো...
- এটা বসন্ত স্যারের গাড়ি না? - হ্যাঁ।
এমন সময় তথ্য পেলাম।
নিশ্চিত উনিও সব জানে।
আমাদের দেখলে সমস্যা হতে পারে।
চিন্তা করিস না।
একটু অপেক্ষা কর।
দেখ।
- ওই, কোথায় যাচ্ছিস? - এখানে থাক আমি আসছি।
- এই! - এই!
শ্রী!
আমি কথা বলছি, কাকা। আপনি ভিতরে যান।
কী হয়েছে তোমার?
সকাল থেকে উল্টাপাল্টা চিন্তা হচ্ছিলো।
- এই, রবি! - আচ্ছা, আমি সামলে নিবো।
হাই! সব ঠিকঠাক, বন্ধু?
- আরে, বন্ধু? - গাধার বাচ্চা।
বন্ধুরা, পুলিশের ছেলে আমাদের উপর গোয়েন্দাগিরি করছে।
সবাই বের হ।
ভাই তুমি?
আরে ভাইলোগ, ইনি আমাদের রেগুলার কাস্টমার।
তার সাথে ঝামেলা করিস না।
তুমি আসলে কেন?
বললে তো আমরাই চলে যেতাম।
চিল, ব্রো।
আরে ভাইলোগ, ইনি আমাদের রেগুলার কাস্টমার।
তার সাথে ঝামেলা করিস না।
তুমি আসলে কেন?
বললে তো আমরাই চলে যেতাম।
চিল, ব্রো।
আমার স্ক্রিপ্ট কোথায়?
একজনকে দিয়ে দিয়েছি।
- কাকে? - ইন্সপেক্টর সেলভামকে।
উনিই আমাকে চুরি করতে বলেছিলেন।
আমি একটা মামুলি চোর।
এর বেশি কিছু জানি না।
বিশ্বাস করুন, আমাকে যেতে দিন।
- ওই, ভেট্রি! - ওই!!
- কিরে! - কী হয়েছে?
এই!
কী হয়েছে?
- এই, কোথায় যাচ্ছিস? - কিরে!
এই, এই, এই ওর কী হলো?
আমাদের কথা বলা দরকার।
আমাদের কথা বলা দরকার।
পার্বতীর সাথে কথা বলেছি।
সকাল থেকে উল্টাপাল্টা চিন্তা হচ্ছিলো।
বসন্ত স্যার এসব মানতে পারছে না।
উনার সম্পর্কে কী জানো?
তুমি জানো সে যে একজন পাক্কা মাতাল?
তুমি জানো বাড়িতে প্রতিদিন ক্যাচাল লেগেই থাকে?
তুমি জানো মা আর আমি তার জন্য শান্তি পাই না?
মনে হচ্ছে মারার জন্য লোক ভাড়া করেছিস।
- বলুন.. ভেট্রি, স্যার। - স্ক্রিপ্ট কতো টাকায় বিক্রি করেছো?
ছোটখাটো কাজ করলে,
নাকি ছেলেকে উপরে তুলে দিলে?
গতকাল সন্ধ্যায় পরিচালক কিশোর ফোন করে।
হ্যালো!
স্যার, পরিচালক কিশোর বলছি।
চেজিয়ানের থেকে আপনার নাম্বার পেলাম।
আশা করি উনি বুঝিয়ে বলছে।
বলুন, কীভাবে সাহায্য করতে পারি?
একটা গুরুত্বপূর্ণ ডকুমেন্ট লাগবে।
আপনাকে সমস্ত তথ্য দিবো কীভাবে আর কোথায় এটা পাবেন।
যদি এনে দিতে পারেন আমার খুব উপকার হবে।
ডকুমেন্ট সম্পর্কে কিছু জানতাম না।
কিন্তু তথ্য কে দিয়েছে সেটা জানতাম।
স্যার, ১ মিনিট আমার সহযোগীকে ফোন দিচ্ছি।
সে আপনাকে ঠিকানা আর সময় বলবে।
স্যার, ৩ নং কানাগাথারা নগর.. নিচতলা।
বেডসাইডের টেবিল ড্রয়ারে ডকুমেন্টটা আছে।
আগামীকাল সকাল ৭ টা সবচেয়ে ভালো সময়।
বাড়িতে কেউ থাকবে না।
কাজ শেষ হলে ফোন করবেন।
আপনার কাজকে সম্মানিত করবো। আপনার প্রত্যাশারও বেশি।
আমার সাথে কথা বলা লোকটার কন্ঠ চিনতে পারলাম।
এটা ছিলো তোর বন্ধু, সত্য।
মনে আছে, যখন কলেজে থাকতি ও প্রায়ই আসতো।
কিন্তু ও টের পায়নি যে আমার সাথে কথা বলছিলো।
এভাবেই ওকে হাতেনাতে ধরলাম।
গতকাল রাতে,
সে মাতাল ছিলো।
গতকাল রাতে সে যথারীতি মাতাল অবস্থায় বাড়ি ফেরে।
আমার সাথে খারাপ আচরণের চেষ্টা করে।
বাবা!
এমন জঘন্য কাজের পর কীভাবে তার সাথে একই ছাদের নীচে থাকি?
লোকটা স্মার্ট ছিল।
সময়মতো প্যাকেজ পৌঁছে দিতো।
স্যার, যেমনটা বলেছিলেন আমি খুঁজে পেয়েছি।
তোদের মতো নির্মাতাদের একটা এসোসিয়েশন আছে, তাই না?
নামটা ভুলে গেছি...
FEFSI... কাকা। Film Employees Federation of South India
ঠিক।
বিষয়টা আমার কাছে নতুন।
তাই সরাসরি আপনার কাছে এলাম।
স্যার, এখানে পরিচালকের কল রেকর্ডিং আছে।
আমি বিশ্বাস করি আইন তার দায়িত্ব পালন করবে।
আমরা পরিচালকের বিরুদ্ধে ব্যবস্থা নিবো।
চিন্তা করবেন না।
আপনার ছেলের স্ক্রিপ্ট আমার কাছে নিরাপদ থাকবে।
ধন্যবাদ, স্যার।
আজকাল বন্ধুদের বিশ্বাস করছিস।
কিন্তু বাবা-মাকে বিশ্বাস করিস না যারা সারাজীবন আগলে রেখেছে।
কী অদ্ভুত চিন্তা ভাবনা।
তো, বলুন... ভেট্রি, স্যার।
আমি আপনাকে বাবা-মায়ের চেয়ে বেশি বিশ্বাস করতাম।
আপনাকে স্যার ডাকতেও ঘৃণা লাগছে।
কিন্তু একটা কথা জানেন কী,
আপনি সেরা শিক্ষক।
কারণ আমাকে বিশ্বাসঘাতকতা শিখিয়েছেন।
পার্বতীকে কীভাবে মুখ দেখাবেন?
আপনার স্ত্রী সবকিছু জানে।
উনি চেয়েছিলো আপনি যেনো এমন জঘন্য কাজটা স্বীকার করেন।
সেজন্য পার্বতীকে অন্য জায়গায় পাঠিয়ে দেয়।
সব ঠিক আছে?
আমি যাকে চিনতাম আপনি সেই বসন্ত স্যার না।
জানি না আপনি কে।
চিন্তা করবেন না।
কাউকে কিছু বলবো না।
কারণ আমার মতো অনেক শিক্ষার্থী আপনাকে নায়ক ভাবে।
তাদের বিশ্বাস ভাঙা ঠিক হবে না।
বাই।
শ, শ্রী...
আমি...
কখনো পড়াশোনায় মনোযোগী ছিলি না।
সিনেমা নিয়ে পাগলামী করতি।
ভাবতাম হয়তো ভুল পথে যাচ্ছিস।
তোর মা'ও নাই।
আমার খুব চিন্তা হয় কারণ আমাদের ছেলে,
পড়াশোনায় মনোযোগী না।
সারাক্ষণ সিনেমা নিয়ে থাকে।
কিছু বললে রেগে যায়।
আজকাল কথা বলতেও ভয় হয়।
পুলিশের ছেলেকে পুলিশ হতে হবে এমন কোনো নিয়ম নাই।
ও যা ভালোবাসে সেটা করতে দাও।
কোন শিক্ষক সর্ব জ্ঞানী হয় না।
তোর কাছে সে একজন মা।
আমার কাছে একজন স্ত্রী।
৩০ বছরের ভালোবাসা।
এতো সহজে তো ভুলতে পারিনা।
মানছি রাগে তোকে বের করে দিলাম।
আর তুই চলে গেলি।
আরে নওজোয়ান, চেয়ে দেখ...
সর্বোপরি তুই আমার রক্ত।
সেজন্য কারো কথা শুনিসনা।
ভেট্রি!
আমি একজন দুর্নীতিগ্রস্ত পুলিশ।
কিন্তু খারাপ বাবা না।
স্যার, কাজ শেষ।
translated by Suhan Ahmed
তোমার গল্প শুরু...
প্রিয় পার্বতী,
আমি তোর বাবা হবার যোগ্য নই।
এখনও আমাকে দানব হিসেবে জানিস।
তবে আমার কথাটা শোন।
"প্রথমে যে ড্রিংক পান করে",
"পরে ড্রিংক তাকে পান করে।" খুব জনপ্রিয় উক্তি।
সেটা মনে রাখা উচিৎ ছিলো।
এই নেশা একটা রোগ।
বাদ দেয়ার অনেক চেষ্টা করেছি,
কিন্তু এক সময়...
ভাবলাম আমি হেরে গেছি।
নেশাগ্রস্ত মানেই পাগল।
তবে আমার কোনো খারাপ উদ্দেশ্য ছিলো না।
অনেক বেশি পান করার ফলে তোকে চিনতে পারিনি।
তোর প্রতি কোনো খারাপ উদ্দেশ্য ছিলো না।
যাই হোক, পরকালে বাবা হিসেবে আর দেখা হবে না।
সারাজীবন এটা তোকে একজন বন্দী ভাবাবে।
তাই তোকে মুক্তি দিচ্ছি।
আমার জন্য মন খারাপ করিস না।
সবশেষে, তোর জীবন সহজ হোক।
বিশ্বাস করি একদিন আর আমাকে দানব ভাববি না।
আর আমাকে বাবা হিসেবে দেখবি।
ভালো থাকিস আমার ছোট্ট সোনা...
তোকে খুব মিস করবো।
জীবনের রাস্তা সোজা না।
বরং একটা গোলকধাঁধা।
আবেগ জড়ানো গোলকধাঁধা।
কখনও আমাদের রাস্তা বদলে যায়।
মানুষ তার মুখোশ খুলে ফেলে।
যখন আমরা সত্যিকারের চেহারার মুখোমুখি হই...
যে ছবি ভেসে উঠে সেটা হয়তো আমাদের ভালো লাগে না।
সেই খারাপ অভিজ্ঞতাগুলো,
জীবনে এক ভিন্ন অনুভূতি জাগায়।
এই গোলকধাঁধা যেকোনো সময় শেষ হতে পারে।
পরবর্তী পর্বে কী অপেক্ষা করে!! জীবন নাকি মরণ?
এটা অনিশ্চিত গোলকধাঁধা।
যখন শ্বাস নাও শ্বাসে আবেগ জড়িয়ে থাকে।
যখন শ্বাস বন্ধ হয়ে যাবে,
আবেগকে পিছনে ফেলে আসবে।
১ম সিনেমা সাইন করেছি, বাবা।
১ বছরে আমি শান্ত হয়ে গেছি।
জীবন নামক গোলকধাঁধায়,
যাদের সাথে আমাদের দেখা হয় তা ৩টা শেডে বিভক্ত।
খুব ভালো।
পাপী।
আর ভালো খারাপের মাঝামাঝি।
চোখ ছায়া বিন্যাসের সাক্ষী,
কিন্তু ছায়া আমাদের মাঝেই নিহিত...
NIRANGAL MOONDRU
Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.