All language subtitles for Identity (2025) Bangla Subtitle

af Afrikaans
ak Akan
sq Albanian
am Amharic
ar Arabic
hy Armenian
az Azerbaijani
eu Basque
be Belarusian
bem Bemba
bn Bengali Download
bh Bihari
bs Bosnian
br Breton
bg Bulgarian
km Cambodian
ca Catalan
ceb Cebuano
chr Cherokee
ny Chichewa
zh-CN Chinese (Simplified)
zh-TW Chinese (Traditional)
co Corsican
hr Croatian
cs Czech
da Danish
nl Dutch
en English Download
eo Esperanto
et Estonian
ee Ewe
fo Faroese
tl Filipino
fi Finnish
fr French
fy Frisian
gaa Ga
gl Galician
ka Georgian
de German
el Greek
gn Guarani
gu Gujarati
ht Haitian Creole
ha Hausa
haw Hawaiian
iw Hebrew
hi Hindi
hmn Hmong
hu Hungarian
is Icelandic
ig Igbo
id Indonesian
ia Interlingua
ga Irish
it Italian
ja Japanese
jw Javanese
kn Kannada
kk Kazakh
rw Kinyarwanda
rn Kirundi
kg Kongo
ko Korean
kri Krio (Sierra Leone)
ku Kurdish
ckb Kurdish (Soranî)
ky Kyrgyz
lo Laothian
la Latin
lv Latvian
ln Lingala
lt Lithuanian
loz Lozi
lg Luganda
ach Luo
lb Luxembourgish
mk Macedonian
mg Malagasy
ms Malay
ml Malayalam
mt Maltese
mi Maori
mr Marathi
mfe Mauritian Creole
mo Moldavian
mn Mongolian
my Myanmar (Burmese)
sr-ME Montenegrin
ne Nepali
pcm Nigerian Pidgin
nso Northern Sotho
no Norwegian
nn Norwegian (Nynorsk)
oc Occitan
or Oriya
om Oromo
ps Pashto
fa Persian
pl Polish
pt-BR Portuguese (Brazil)
pt Portuguese (Portugal)
pa Punjabi
qu Quechua
ro Romanian
rm Romansh
nyn Runyakitara
ru Russian
sm Samoan
gd Scots Gaelic
sr Serbian
sh Serbo-Croatian
st Sesotho
tn Setswana
crs Seychellois Creole
sn Shona
sd Sindhi
si Sinhalese
sk Slovak
sl Slovenian
so Somali
es Spanish Download
es-419 Spanish (Latin American)
su Sundanese
sw Swahili
sv Swedish
tg Tajik
ta Tamil
tt Tatar
te Telugu
th Thai
ti Tigrinya
to Tonga
lua Tshiluba
tum Tumbuka
tr Turkish
tk Turkmen
tw Twi
ug Uighur
uk Ukrainian
ur Urdu
uz Uzbek
vi Vietnamese
cy Welsh
wo Wolof
xh Xhosa
yi Yiddish
yo Yoruba
zu Zulu

Original subtitles

Arus Ariyan Presents.

বাবু...

এসব নিয়ে খেলো না। ডাক্তার আঙ্কেল রাগ করবেন।

ঠিকাছে, অনিতা।

শুধু গোছাচ্ছে।

এইযে।

কিন্তু...

কীভাবে পারলো?

বিস্ময় বালক।

বিষয়বস্তু বা বইয়ের শিরোনাম বুঝতে পারে না,

তবে চামড়ার মলাট গুলোর গঠন, রং আর অক্ষরের আকার

আমাদের চেয়ে ভালো বুঝে।

আমার এক বোন যে আর্টিস্ট সে কথা বলেছিলাম না?

দিদির দ্বিতীয় সন্তান।

হারান।

স্যার, আপনাকে ডাকতে এসেছি।

স্মিথার অবস্থা স্থিতিশীল।

হেমিপ্যারেসিস।

বাঁ দিক প্রায় প্যারালাইজড।

পুলিশের স্কেচ আর্টিস্ট ছিল।

এক পুলিশ অফিসারকে বিয়ে করে।

এএসআই প্রতাপ শঙ্কর।

যাইহোক, তারা সুখে ছিল না...

বিবাহিত জীবনেও না।

দীর্ঘ দশ বছর যাবৎ...

অত্যাচার সহ্যের পর...

ডিভোর্সের আবেদন করে।

ডিভোর্স তো গেয়ে যায়।

কিন্তু, ছেলের অভিভাবকত্বের যুদ্ধে হেরে যায়।

আদালত তাদের বড় মেয়ে দেবিকা'র অভিভাবকত্ব মায়ের কাছে দেয়,

আর তিন বছরের ছেলেকে বাবার কাছে দেয়।

সেই ধাক্কা পরবর্তী ৫ বছরেও কাটিয়ে উঠে।

তারপর...

সুদীপ নামে ব্যাঙ্গালোরের এক সেশন গায়কের সঙ্গে পরিচিত হয়ে তাকে বিয়ে করে।

গত জুলাইয়ে তাদের একটা বাচ্চা হয়।

নীরজা।

আমাদের স্নেহের নীরু মামনী।

দুই মাস আগে, রাতে, একটা ফোন পাই।

প্রতাপ শঙ্কর অজ্ঞান হয়ে মারা যায়।

অ্যালকোহল বিষক্রিয়া। [অ্যালকোহল বিষক্রিয়া → যখন কেউ অতিরিক্ত পরিমাণে মদ্যপান করে, তখন শরীরে বিষাক্ত প্রতিক্রিয়া সৃষ্টি হতে পারে, যাকে Alcohol Poisoning বা অ্যালকোহল বিষক্রিয়া বলে]

সব ফর্মালিটি শেষ করার পর স্মিথা আর আমরা...

হারানকে ফিরে পেয়ে খুব খুশি ছিলাম।

কিন্তু যা আশা করেছিলাম, তা হয়নি।

সাত বছর বাবার সাথে ওই কোয়ার্টারে থাকার পর...

ছেলেটা অবসেসিভ পার্সোনালিটি ডিসঅর্ডারের শিকার হয়। [Obsessive Personality Disorder (OCPD) একধরনের মানসিক সমস্যা, যেখানে ব্যক্তির মধ্যে নিয়ন্ত্রণ এবং সঠিকতার প্রতি অতিরিক্ত মনোযোগ থাকে।]

লোকটা কখনোই ওকে নিজের ছেলে হিসেবে দেখেনি।

ক্যাডেট হিসেবে শৃঙ্খলা পালন, শাস্তি এবং প্রশিক্ষিত করতে পারত।

বাচ্চাটা যাই করুক না কেন,

বা যতই ভালো করুক না কেন,

লোকটা কখনোই সন্তুষ্ট হতো না।

তার জীবনের প্রথম সাত বছরের শিশুতোষ মন...

বাবাকে খুশি করার চেষ্টা করে এমন এক পরিপূর্ণতার জন্য...

সংগ্রাম করছে যার অস্তিত্বই ছিল না,

এরফলে তৈরি হয় অবসেসিভ কমপ্লেক্স।

ব্যবস্থার প্রতি আসক্তি।

পরিপূর্ণতার প্রতি আসক্তি।

লাইব্রেরী রুমে আগে সেটাই দেখেছিলে, অনিতা।

এটাই তার মায়ের পরিস্থিতির সাথে মানিয়ে নেওয়ার উপায়।

সুদীপ সাহেবের ব্যাপারে কী? ওকে বলেছেন?

না।

শুধু বলেছি দূর্ঘটনার পর স্মিথার মতো...

সুদীপ সাহেবের অবস্থাও খারাপ।

আঙ্কেল।

দেবু...

মা...

কাঁদে না।

তোমার মা'র অবস্থা সম্পর্কে আহেই বলেছি না?

চোখের জল মুছো।

আঙ্কেল, হারান কোথায়?

বঙ্গানুবাদ: ★ সুশান্ত চক্রবর্ত্তী সৌমিক | ★ মিনহাজ আল ইসলাম | ★ ওমর ফারুক | ★ ফাহাদ আহমদ | ★ জাহিদ হাসান | ★ হাবীব উন নবী সিয়াম | ★ সোহান আহম্মেদ | ★ আরুশ আরিয়ান |

বঙ্গানুবাদ: ★ সুশান্ত চক্রবর্ত্তী সৌমিক |

বঙ্গানুবাদ: ★ সুশান্ত চক্রবর্ত্তী সৌমিক | ★ মিনহাজ আল ইসলাম |

বঙ্গানুবাদ: ★ সুশান্ত চক্রবর্ত্তী সৌমিক | ★ মিনহাজ আল ইসলাম | ★ ওমর ফারুক |

বঙ্গানুবাদ: ★ সুশান্ত চক্রবর্ত্তী সৌমিক | ★ মিনহাজ আল ইসলাম | ★ ওমর ফারুক | ★ ফাহাদ আহমদ |

বঙ্গানুবাদ: ★ সুশান্ত চক্রবর্ত্তী সৌমিক | ★ মিনহাজ আল ইসলাম | ★ ওমর ফারুক | ★ ফাহাদ আহমদ | ★ জাহিদ হাসান |

বঙ্গানুবাদ: ★ সুশান্ত চক্রবর্ত্তী সৌমিক | ★ মিনহাজ আল ইসলাম | ★ ওমর ফারুক | ★ ফাহাদ আহমদ | ★ জাহিদ হাসান | ★ হাবীব উন নবী সিয়াম | ★ সোহান আহম্মেদ |

বঙ্গানুবাদ: ★ সুশান্ত চক্রবর্ত্তী সৌমিক | ★ মিনহাজ আল ইসলাম | ★ ওমর ফারুক | ★ ফাহাদ আহমদ | ★ জাহিদ হাসান | ★ হাবীব উন নবী সিয়াম | ★ সোহান আহম্মেদ | ★ আরুশ আরিয়ান |

সম্পাদনায়: আরুশ আরিয়ান।

•I D E N T I T Y•

এমি।

অনেকক্ষণ থেকে ভিতরে আছিস।

কাপড় ফিট হয়নি?

এক মিনিট, জামাটা পরতে দে।

বের হবে কী?

- উফ! চল? - হ্যাঁ।

অনেকক্ষণ থেকে অপেক্ষা করছি।

- সুন্দর না? - হ্যাঁ, সুন্দর।

- ঠিকাছে তো? - পছন্দ হয়েছে।

খুশি, তো? খুব খুশি।

ধন্যবাদ।

গাড়ির চাবি ট্রায়াল রুমে রয়েগেছে।

এক কাজ কর, তুই গিয়ে জামা নিয়ে নে।

- চাবি নিয়ে আসছি। - কী হয়েছে?

চল গিয়ে জামা নিই। ও চলে আসবে।

- বীনা! - কী হয়েছে?

- ট্রায়াল রুমে থেকে ফোনটা পেলাম। - ফোন?

রেকর্ড হচ্ছিলো।

এটা...

টেনশন হচ্ছে।

- টেনশন করিস না। - কী হয়েছে, ম্যাডাম?

মালায়ালী নাকি?

ফোনটা ট্রায়াল রুমে পেয়েছি।

ক্যামেরা অন ছিল।

দেখুন!

১০ মিনিট আগে ট্রায়াল রুমটা কেউ ব্যবহার করেছিল?

ভাই, এই ছেলেটা কিছুক্ষণ থেকে এদিকে-ওদিকে ঘোরাফেরা করছে।

- সত্যি? - হ্যাঁ।

ধরুন ওকে!

থাম!

কী?

কী হয়েছে, নকুল ব্রো?

উদায়ামপালামে আছো একটা ফোনও করলে না?

পরবর্তী পেমেন্টের জন্য আমাদের জাল বিছাতে হবে না?

হাহ?

এসব ব্যাপারে ফোন দিতে বারণ করেছি না?

প্লিজ! কাজে আছি।

ব্রো।

তুমি কোনো উপকার করছো না।

টাকা তোমার একাউন্টেও জামা হচ্ছে।

আর রেকর্ডগুলাও হাতে পেয়েগেছি।

সব ভুলে গেছো?

অমর, প্লিজ।

আচ্ছা যাইহোক, লিঙ্ক পাঠিয়েছি।

ফেসবুক প্রোফাইলের।

লোকেশন বের করে টেক্সট করো।

টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি।

চিন্তা করিস না।

অভিযোগ দায়ের করেছি।

বাকিটা তারা দেখে নিবে।

শোন...

এখনই সন্দীপকে কিছু বলিস না।

ঠিকাছে? যাই।

চলো।

যতক্ষণে থানায় পৌঁছাবে,

ততক্ষনে তোমার ৬ মিনিটের ভিডিও ইন্টারনেটে ছড়িয়ে যাবে।

প্লীজ...

কদিন পরেই তো বিয়ে।

ছোট্ট একটা প্রস্তাব।

তিন লাখ টাকা।

তারপর ভিডিও গায়েব।

আসো।

এটিএম কার্ড আছে?

প্রথমে ওই টাকাগুলো তুলি।

আর বাকিটা আগামীকাল ১২টায়।

হ্যালো, স্যার।

আমার আর কিছুই বলার নেই।

এসব আমি জনসেবার জন্য করছি না।

আগে টাকার ঝামেলা মেটান।

আমার যা কাছে আছে তা দিয়ে যা ইচ্ছে তা করব।

ওহ, এটাই শেষ কথা?

আমিও দেখাবো আমি কী করতে পারি!

হ্যালো, নকুল।

সমস্যা হয়েগেছে।

দু-দিনের জন্য থাকার জায়গা লাগবে।

আর সিস্টেম, হাবিজাবি কানেক্টেড করার জন্য আইপি এড্রেস।

নকুল? হ্যালো?

হ্যালো? নকুল?

কে?

কে?

স্যরি... প্লিজ...

প্লিজ, প্লিজ...

প্লিজ, প্লিজ, প্লিজ!

প্লীজ... আপনার পায়ে পড়ি।

প্লিজ...

'I D E N T I T Y'

এটাই আসলে সত্য!

চাঞ্চল্য! মামলার চারপাশে তৈরি হওয়া আলোড়ন।

কেরালা-তামিলনাড়ু সীমানার কাছে একটা পোড়া লাশ পেয়েছি।

মামলা দাখিল আর তদন্ত শুরু হওয়ার পর,

তামিলনাড়ু পুলিশের কাছ থেকে অবাক করা এক ফোন আসলো,

নদীর পাশে একটা টেক্সটাইল গুদাম আগুনে পুড়েছে।

আর প্রমাণও ছিল,

কেউ একটা পোড়া লাশ ভিতর থেকে...

বের করে নদীতে ফেলে দিয়েছে।

কিন্তু লাশ কেরালাতে পাওয়া গেছে।

কেমন রহস্যজনক লাগছে না?

মূল কথা হলো, যে ব্যক্তি মারা গেছে,

সেই সার্কেলে খুনটা হয়েছে বলে...

তারা তদন্ত করতে চায়।

মূলত তারা চায়ছে আমাদের উদ্ধার করা লাশ...

এবং অন্যান্য প্রমাণাদি তাদের কাছে হস্তান্তর করি।

আপাতত, কিছুদিন পিছন-পিছন ঘুরুক।

বলবে, প্রমাণাদি সহ মামলার ফাইল পরে আপনি জমা দিয়ে দিবেন।

এক বা দুই সপ্তাহ,

মামলাটা তোমার কাছে রাখো।

আস্তে-ধীরে হস্তান্তর করবো।

স্যার।

ঠিক আছে?

লতা, একজন এসেছে।

পরে ফোন দিচ্ছি।

অ্যালেন জ্যাকব।

বেঙ্গালুরু উইটনেস সেল থেকে না?

এখানে কীজন্য?

স্যার, আপনার সাথে একান্তে কথা বলতে চাই।

অবশ্যই।

এই সাক্ষী এমন কেউ...

যে ঘটনাটার কিছুটা দেখেছে?

না স্যার, তার ফটোগ্রাফিক মেমোরি। [ফটোগ্রাফিক মেমোরি → সে যা দেখে তা হুবহু মনে রাখতে সক্ষম।]

খুব স্পষ্টভাবে মনে রাখতে পারে।

কিন্তু ঠিক তখনই তার এক্সিডেন্ট হয়।

তো কোনো ষড়যন্ত্র হতে পারে কি মনে করছেন?

হতেও পারে।

এক্সিডেন্ট ঠিক সেই সময়ই হয়

গাড়িটা পর্যন্ত দেখেনি।

মাথায় আঘাত পেয়েছে।

মেয়েটা এখন কোথায়?

কে করেছে তা আমার জানতে হবে...

আর ম্যাজিস্ট্রেটের সামনে তার...

বয়ান রেকর্ড করতে হবে।

আপাতত, আমার সাথেই নিরাপদে থাকবে।

স্যার, নিরাপদ একটা জায়গা দরকার।

খুঁজে দিতে পারবেন?

এক কাজ করুন।

আমার বাড়িতে চলে আসুন।

ব্লসম হাইটস।

সবকিছু আমার স্ত্রী দেখাশোনা করে।

আপনার জন্য একটা ফ্ল্যাট জোগাড় করে দিচ্ছি।

তাছাড়া, আরেকটা কথা...

এসবকিছু আমাদের মধ্যেই থাকবে।

সবাইকে বলবেন আপনার বোন।

বিশেষ করে লতাকে।

- গুড মর্নিং, ডাক্তার। - গুড মর্নিং।

অ্যাসোসিয়েশনের লোকদের যেতে বলো!

কিন্তু, তড়িঘড়ি করার দরকার ছিলো না।

সবকিছু নিখুঁতভাবে করতে চায়।

বেকার বসে থাকার কারণে সমস্যাগুলো বেশি হচ্ছে।

রুটিন আর পরিকল্পনা ছাড়া কোন কাজ করতে পারে না।

আজাইরা শরীরের শক্তি নষ্ট করছে।

মূল সমস্যা এখানেই!

আর কোন পরিকল্পনা করার বাকি নেই!

এখান থেকে বের করে দিতে পারে বলে চিন্তা হচ্ছে।

ওখানে কী করছে?

শব্দ শুনতে পারছো না?

ভাই-বোন মিলে গান অনুশীলন করছে।

মনে হয়, অ্যাসোসিয়েশনের অনুষ্ঠানের জন্য।

ঠিক জানি না।

হারান!

নোট করা বন্ধ করবা?

এটা তো আর প্রতিযোগিতা না।

স্যার, ফিফ্ট ফ্লোর।

ধন্যবাদ।

ওহ, আপনারাও ফিফ্ট ফ্লোরের?

প্রতিবেশী!

আমি নীরজা। আমার ভাই, হারান।

আমার বোন, দেবিকা।

হাই।

অ্যালেন জ্যাকব, কর্ণাটক পুলিশ।

ওহ।

- কিছু ফেলে এসেছো? - না।

- সব নিয়েছো তো? - হ্যাঁ।

মনে হচ্ছে কিছু ফেলে এসেছিস।

তোমার রুমটা।

আগামী কয়েক সপ্তাহের জন্য,

এটাই তোমার রুম।

আমি মাঝেমধ্যে এখানে এসে থাকবো।

যখন থাকবো না,

কনস্টেবল মার্সি এখানে থাকবে।

তার এই অবস্থা দেখে চিন্তা করো না।

সাথে অস্ত্র আছে।

যেকোন প্রয়োজনে, সাহায্য নিতে পারবে।

বুঝলে?

সার্বক্ষণিক নিরাপত্তা ব্যবস্থা রয়েছে।

কিন্তু মনে রাখবে...

আমি আর মার্সি ছাড়া

কারো সাথে কথা বলবে না।

মামলা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত,

তোমারও এখানেই থাকতে হবে।

এখানকার মানুষের জন্য,

তুমি আমার বোন ব্যাঙ্গালোর থেকে এসেছো

ছুটি কাটাতে।

তোমারও অটুট থাকতে হবে।

হাহ?

হুমম।

মার্সি, নজর রেখো।

রুবি... আয়!

এইযে।

আয়, রুবি।

আয়।

আয়... এই নও।

ওহো।

উপর তলার নতুন ভাড়াটেরা

সম্ভবত খাবার দিয়েছে।

এটা খুললেই,

দৌড়ে উপরে চলে যাও।

এই!

ফ্ল্যাট পরিস্কার করা দরকার নেই।

দীনেশের ফ্ল্যাটে চলো।

ওখানে প্রমাণ একত্রিত করছে

স্কুটার চুরির ঘটনার।

চলো।

এইযে।

ডান চোখ।

বাবু, লোকটাকে যে দেখেছিলে তার চোখের ভ্রু কি বড় ছিল?

- হ্যাঁ। - দেখো।

এখন ঠিক আছে?

একদম ঠিক।

কানের মত, নাকও কী লম্বা ছিল?

- এরকম? - হ্যাঁ, ঠিক এরকম।

আহ, এসো।

স্কেচ আর্টিস্ট। সবকিছু নিশ্চিত করতে চেয়েছিলাম।

এখন ঠিক আছে?

নাক গোলাকার?

হ্যাঁ, এমনই।

হুমম... ঠোঁট?

- ঠোঁট... - ঠিক আছে?

হ্যাঁ, ঠিক আছে।

একটু বাঁকা করি।

দীনেশ, স্যার।

ডিপার্টমেন্টের লোক নাকি?

না, প্রাইভেট কন্ট্রাক্টর।

ওহ।

কেন?

স্যরি নাক গলানোর জন্য।

একটা প্রশ্ন করতে পারি?

বললো কানের লতি গালের কাছাকাছি?

তাহলে এভাবে আঁকছেন কেন?

এহ...

কিছু মনে করবেন না...

স্যার, কে?

প্রতিবেশী।

ঠিকভাবে করছি,

শুধু শুধু...

- ঠিক আছে। - বাবু, বলো।

কী?

উনার স্কেচটা ভুল।

হাহ!

কিভাবে জানলে?

লোকটার কান এরকম ছিল?

হ্যাঁ।

আসলে, সফটওয়্যার দিয়ে করলে,

ছোটখাটো ভুল থাকে।

এটা সফটওয়্যারের দোষ না।

আপনারও না।

দুনিয়াতে এমন কান কারোর নেই।

থাকলেও,

গল্পের বইয়ে আছে।

তো... মিথ্যা বলছে নাকি?

ওকে দেখানো সমস্ত অপশনে

'হ্যাঁ' বলছে।

এর মানে দাড়াচ্ছে যে অশ্বিন

চোরের চেহারা দেখেনি।

ঠিক না?

কিন্তু রেসপন্স দেখে মনে হচ্ছে

তুমি তাকে দেখেছ।

আসলে কে দেখেছে?

আঙ্কেল...

আসলে... আর্থি দেখেছে।

সে ভয় পেয়েছে... তাই...

লোকটার চেহারার বর্ণনা আমাকে দিয়েছিল।

সে যেমনটা বলেছে আমিও তাই বলছি।

মা, লোকটার চেহারা মনে আছে?

হুম।

আর্থি।

হেয়ারস্টাইল কেমন ছিল?

- মনে আছে? - হুম।

বাবার মতো পিছনে আঁচড়ানো ছিল?

নাকি ওই আঙ্কেলের মতো পাশে আঁচড়ানো ছিল?

এভাবে ছিল।

এতটা নিশ্চিত কিভাবে?

হঠাৎ কারো চেহারা দেখলে,

হেয়ারস্টাইল আগে নজরে পড়ে।

একবার হেয়ারস্টাইল আর কপাল দেখতে পেলে,

নাকের ধরণ আন্দাজ করা যায়।

আর্থি,

নাক কেমন ছিল?

বড় ছিল?

সামান্য বড়।

এতটাও বড় না।

ঠিক আছে।

কপাল কেমন ছিল?

কপালে ভাঁজ ছিল

নাকি সমান ছিল?

সমান ছিল।

হারান প্রফেশনাল স্কেচ আর্টিস্ট?

আমিও মাত্র জানলাম হারান এই কাজটাও জানে।

কানগুলো এভাবে ছিল

নাকি এমন?

এমন ছিল।

চোখের আকার দেখেছো?

এই দূরত্ব ওই আকারের সমান।

এই দূরত্ব ঠিক

ওই দূরত্বের সমান।

বোঝা গেছে?

দেখবে?

আর্থি, এই লোকটাকেই দেখেছিলে?

হ্যাঁ।

এটা...

এটা তো সিবি।

জানতাম বাইরের কারো কাজ না।

প্লাম্বিংয়ের জন্য এনেছিলে না!

- লতা... - আচ্ছা...

আমরা যাচ্ছি।

লজ্জাজনক ব্যাপার।

অ্যাসোসিয়েশনের মানুষ এখন মজা করবে!

তার বলা সময়ের মধ্যে,

একটা কমার্শিয়াল গাড়িও

ঘটনাস্থলের আশপাশ দিয়েও যেতে দেখা যায়নি।

MVD-তে যোগাযোগ করো, অ্যালেন। (MVD=Motor Vehicle Department)

এই তথ্য থেকে সংক্ষিপ্ত তালিকা তৈরি করে দিতে পারবে।

ঠিক আছে, স্যার।

আমি দেখছি।

সাহায্যের জন্য ধন্যবাদ।

স্যার,

যেহেতু লোকটার স্পষ্ট বিবরণ মেয়েটার মনে আছে,

আর্টিস্ট দিয়ে স্কেচ আঁকালেই হয়,

যেমনটা সকালে করেছি?

আরে বাদ দাও!

এখনো একটা স্কেচের কথা ভুলতে পারছি না

এখন আবার আরেকটা!

এটা এই মাসের চতুর্থ অভিযোগ।

ইনভার্টার ব্যাকআপ পরিবর্তন করে সরাসরি সংযোগ দিলে

- শর্ট সার্কিট হবেই। - ম্যাডাম, এটা--

যথেষ্ট হয়েছে, রাথিশ! আর কিছু বলতে হবে না!

- এভাবে কথা বলো না। - দেবিকা এগুলো... আমার কাপড়!

এগুলো আমার কাপড়, দেবিকা।

আমি কেন দোষী হবো?

তাহলে, তোমার দোষ নেই?

তুমি দায়ী নও?!

কি বলতে চাও?

কিছু বলবে?

ওকে বোঝাও?

কথা বলা যাবে?

হ্যাঁ।

কথাগুলো বুঝলে, হারান?

দীনেশ স্যার আর আমি ছাড়া

এবং তুমিও,

আর কেউ এই বিষয়ে জানে না।

নিশ্চিত আর কেউ জানবেও না।

তোমার উপর বিশ্বাস আছে।

এই ধরণের স্কেচ করার জন্য

ডিপার্টমেন্টে প্রফেশনাল কেউ নেই?

আগেই বলেছি।

কাজটা গোপনীয়।

সকালে যে স্কেচটা করলে

বাচ্চার বর্ণনা অনুযায়ী।

মনে হচ্ছে কাজটার জন্য তুমিই উপযুক্ত।

উম... স্যার...

এটা কোন ছেলেখেলা নয়।

স্কেচিং-এ,

নিখুঁত নির্দেশনা খুবই গুরুত্বপূর্ণ।

মামলার খুঁটিনাটি বা সময় না জেনে,

কয়েক সপ্তাহ আগে দেখা কোন চেহারার ছবি আঁকা খুব কঠিন।

দুঃখিত, হারান।

এই বিষয়ে কথা বলা যাবে না।

মামলার বিস্তারিত কিচ্ছু বলা যাবে না।

সে মৃত্যুর মুখ থেকে ফিরে এসেছে।

বর্তমানে জীবন ঝুঁকিতে আছে।

কাজের অংশ হতে না চায়লে,

তাহলে...

ঠিক আছে।

প্রথমে, মুখের আনুমানিক আকৃতি দিয়ে শুরু করি।

ভালো করে বসুন--

পেন্টাগোনাল আকৃতি। (পেন্টাগোনাল= পঞ্চভুজাকার)

বর্গাকৃতির মুখে

পঞ্চ কোণের মতো

জোয়ালে নিচের দিকে প্রসারিত।

পেন্টাগন এর মতো।

থুতনি কেমন ছিল?

ডাবল-থুতনি ছিলো?

- নাকি... - না।

সামনের দিকে বের হওয়া ছিলো।

হুমম...

গোঁফ বা দাঁড়ি দেখে মনে হয়েছিল

সপ্তাহখানেক শেভ করেনি।

থামো।

তার চোখ বা ভ্রগুলো কেমন ছিল আবার বলো?

ভ্রুগুলো বড় ছিল,

উপরের দিকটা নিচে বাকানো ছিল।

হালকা মোটা।

নিচে ছিল একটু লম্বাটে চোখ।

সেশন ওভার।

আচ্ছা, স্যার।

যাও।

কি হলো, হারান?

স্যার, স্কেচটা চিনতে পেরেছেন?

পেরাম্বুর হত্যা মামলার আসামীর স্কেচ।

দীনেশ স্যার ওই মামলা তদন্তের দায়িত্বে ছিল।

স্কেচটা নিয়ে তখন মিডিয়ায় খুব আলোচনা হয়েছিল।

কিন্তু,

এইটা ছিল মামলার মূল অপরাধী।

খুনের কিছুদিন পর,

নির্বাচন অনুষ্ঠিত হয়।

নতুন সরকার ক্ষমতায় আসে।

নতুন তদন্ত টিম গঠিত হয়।

পুরনো স্বাক্ষীদের আবার ডেকে পাঠানো হলো

প্রফেশনাল স্কেচ আর্টিস্ট নতুন স্কেচ বানালো।

এটাই সেই বিতর্কিত স্কেচ যেটা একটু আগে দেখেছেন।

সেই স্কেচটাও আসল অপরাধীর মধ্যে

অনেক পার্থক্য রয়েছে।

কিন্তু স্কেচের চেহারার সাথে মিল থাকার কারণে,

লোকটা সোশ্যাল মিডিয়ায় অনেক অপমানিত হয়েছে।

বর্ণনা ভিত্তিক স্কেচ তৈরি করার সময়।

এমন সাধারণ স্মৃতি বিকৃতি প্রায়ই ঘটে।

উৎস-পর্যবেক্ষণীক ত্রুটি।

এক পলক দেখা চেহারা যখন আমরা মনে করার চেষ্টা করি,

সেইসময় আমার মস্তিষ্ক দুর্বল হয়ে পড়ে।

ত্রুটিগুলো মাথায় না রেখে স্কেচ করলে,

ওটাতেও একই ভুল দেখা যাবে।

আচ্ছা, বুঝলাম।

কিন্তু তুমি তো বর্ণনা শুনেছ, তাই না?

একদম স্পষ্ট ছিল।

স্পষ্টতা আর নির্ভুলতা দুটো আলাদা জিনিস।

যে স্পষ্ট বর্ণনা সে দিচ্ছে,

তা আসলে ভুল।

ওহ! কী যে বলো, হারান!

স্কেচটা সম্পূর্ণ হওয়ার আগেই,

কী করে বুঝলে যে এটা ভুল?

আমি খুনি হলে,

সরাসরি আমাকে দেখিয়ে দিতে পারতো।

এভাবে স্কেচ করানোর কী দরকার?

আমেরিকান সিরিয়াল কিলার উনাবোম্বের স্কেচ তৈরি করতে,

স্থানীয় পুলিশ এক মহিলাকে নিয়ে এসেছিল।

কয়েক বছর আগে যে তাকে রাস্তায় দেখেছিল।

কিন্তু...

স্কেচ করার সময়,

মহিলাটি সিরিয়াল কিলারের মুখের বদলে,

বর্ণনা করেছিল,

সামনে বসে থাকা স্কেচ আর্টিস্টের।

দেখুন, যেমনটা বললাম।

এটা সোর্স মনিটরিং-এর একটা ক্লাসিক উদাহরণ।

সম্প্রতি এক দুর্ঘটনার সামনা করে ফিরেছে।

ওই মুখটা স্মৃতিতে থেকে থাকলে, অবশ্যই খুঁজে বের করতে পারব।

কিন্তু এভাবে করা যাবে না।

আচ্ছা।

তো, কী করতে বলছো?

আপাতত বিশ্রাম নিতে দিন।

ভুলের ব্যাপারে কিছু বলবেন না।

তারপর,

সবাই মিলে ওখানে যাবো।

ঘটনাস্থলে।

যেখানে খুনিকে দেখেছিল।

কোন টাইপের সঙ্গীত পছন্দ?

উম, স্পেসিফিক কোনো পছন্দ নেই।

দুটো ব্যাপারে সবারই নিজস্ব পছন্দ থাকে।

খাবার আর সঙ্গীত।

অপছন্দের গান শোনার অভিজ্ঞতা,

অপছন্দের খাবার খাওয়ার মতোই।

আসার পথে,

ইন্সট্রুমেন্টাল শুনছিলে, তাই না?

উম...

কার্ণাটিক ভায়োলিন।

মন শান্ত করার জন্য।

এবার, একটা নাম দরকার।

নাম ছাড়া আলাপচারিতা জমবে না।

কেয়ারটেকার এবং অন্যদের,

জানিয়েছি সে আমার বোন, অ্যান।

অ্যান।

ঠিক আছে।

চলো অন্য পন্থা অবলম্বন করা যাক।

সেই দিনের কথা স্মরণ করো।

অপরাধীকে দেখার আগে যা-যা ঘটেছিল সবকিছু স্মরণ করো।

এবং যতটা সম্ভব বিশদভাবে মনে করার চেষ্টা করো।

কোথায় গিয়েছিলে,

কার সাথে মিশেছিলে! কী খেয়েছিলে! কী পরেছিলে!

এবং এরকম অন্যান্য সবকিছু।

ঠিক আছে?

শ্বাস নাও।

মনোযোগ দাও।

গাড়ি আর আমাদের কথা ভুলে যাও।

শ্বাস ছাড়ার সময়,

আবারও নিজেকে ঘটনাস্থলে খুঁজে পাবে, অ্যান।

ওই বিকেলে,

রুম থেকে বের হলাম,

একটা ফোন কল পেয়ে।

একটা সিম্পল সাদা শার্ট আর জিন্স পরে ছিলাম।

আর আমার লাকি ব্লেজার।

তারপর ওখান থেকে...

ট্রেনে করে কোয়েম্বাটোর গেলাম।

আর সেখান থেকে,

বন্ধুর স্কুটি নিয়ে বেরিয়ে পড়লাম।

সমুদ্র সিল্কস আনুমানিক দূরত্ব ছিল--

কী বললে এইমাত্র?

সমুদ্র সিল্কস।

পুরনো পরিত্যক্ত ভবন।

এখান থেকে দুই কিলোমিটার দূরে।

এখানে আসতে-আসতে,

বেশ লেট হয়ে গিয়েছিল।

প্লীজ! স্যরি, স্যরি! প্লীজ!

স্যরি! প্লীজ।

অপরাধীর মুখ স্পষ্ট দেখতে পেয়েছিলে?

একদম স্পষ্ট দেখেছি।

এতটা স্পষ্ট দেখেছি,

যতটা স্পষ্ট এখন তোমাকে দেখতে পাচ্ছি, হারান।

আচ্ছা।

চলো শুরু করি।

পঞ্চভুজের মতো বর্গাকার মুখের গঠন।

চিবুক নিচের দিকে ঝুঁকে ছিল।

ভ্রু কী বড় ছিল?

হুম।

হয়ে গেছে।

এটা প্রাথমিক স্কেচ।

আরও উন্নত করতে হবে।

পক্ষপাতিত্ব এড়াতে,

আপাতত এটা ওকে না দেখালেই ভালো হবে।

দেখি আমি!

লাইন আর শেডিংয়ে কিছুটা পরিবর্তন আনতে হবে।

- এছাড়া-- - মানে...

তবে ঠিকমতো খেয়াল করোনি!

সে তো মনে হয় বলেছিল,

নাকের উপরের অংশটা চ্যাপ্টা হবে?

আহ! ওটা স্মৃতির ভুল।

পরে সংশোধন করে নিয়েছে।

যাই হোক...

দুঃখিত, হারান।

আমাদের হাতে বেশি সময় নেই।

তাই স্কেচটা ওকে দেখিয়ে যাচাই করে নিতে হবে।

আশা করি কিছু মনে করবে না।

ঠিক আছে।

বলছে স্কেচটা একদম নিখুঁত হয়েছে।

গুড জব।

হারান।

ওই মিউজিকটা বাজানোর পর,

অনেক কিছুই মনে করতে পেরেছি।

ধন্যবাদ।

যেহেতু সে ব্যক্তিটিকে শনাক্ত পেরেছে।

দীনেশ স্যারকে স্কেচটির এক কপি পাঠিয়ে দাও, লুকআউট নোটিশের জন্য।

- তারাতাড়ি আসো। - ওখানেই থাকবে, আঙ্কেল?

- ওহ! হ্যালো! - না, চলে আসবো।

আপনার ভাই কোথায়? কতবার ফোন করলাম।

চিনতে পারেন নি?

আমি দেবিকা।

আপনার সামনের ফ্ল্যাটের...

- হাই, অ্যালেন স্যার। - হ্যালো।

মার্সিকে হাসপাতালে ভর্তি করা হয়েছে।

বেল বাজিয়ে বললো উনার মাথা ঘুরছে,

তারপর অজ্ঞান হয়ে পড়ে যান।

আপনাকে অনেকবার ফোন করেছি।

নেটওয়ার্কের বাইরে ছিলাম।

কোন হাসপাতালে?

বিশাখা। আমি যেটাতে আছি।

খুব দুর্বল অবস্থায় আছে।

তাই আগামীকালই প্রি-নেটাল কোর্স শুরু করব।

লোকেশনটা হোয়াটসঅ্যাপে পাঠাতে পারবে?

আমরাও ওখানেই যাচ্ছি।

চাইলে আমাদের গাড়ি ফলো করতে পারেন।

ঠিক আছে। চলো।

দেভু।

আজ রাতটা হাসপাতালের কোয়ার্টারেই থেকো।

আমিও যাবো?

হ্যাঁ, যাও।

ঠিক আছে।

আলি ভাই...

আমার সন্দেহটা সত্যি হয়েছে।

আমাকেই দেখেছিল।

কিন্তু এতদিন পরেও,

পুলিশকে জানায়নি কেন!

আমার সেটা জানতে হবে।

রুবি।

রুবি!

ওকে নিয়ে আর পারছি না!

আহ!

আবারও খুঁজে পাচ্ছি না।

খোঁজার জন্য বেরোতে হলো।

কী যন্ত্রণা বলো তো!

কী হয়েছে?

কিসের যেন একটা শব্দ শুনলাম।

- অ্যালেন রুমে নাই? - জানি না।

কে আপনি?

এই, অলিশা!

আমি।

অ্যালেন।

অ্যালেন...

হারান?

এখানে কী করছো?

দরজা ভাঙার আওয়াজ শুনে এলাম।

তখনই...

হারান...

ভেবেছিলাম...

কী ভেবেছিলে?

হারানকে কীভাবে অন্য কারো সাথে গুলিয়ে ফেললে!

যখন সামনেই দাঁড়িয়ে ছিল?

ওটা বাদ দিলাম।

প্রতিদিনই তো অ্যালেনের সাথে দেখা হয়!

তবুও নাম না বলা পর্যন্ত চিনতে পারলে না!

যখন এতটুকু দূরত্বেই ছিল।

কেন?

সম্প্রতি একটা দুর্ঘটনার শিকার হয়েছে।

সম্ভবত আচমকা আতঙ্কিত হয়ে পড়ায়--

না, না!

বেশ কিছুদিন থেকে লক্ষ্য করছি।

কাউকে চিনতে তার ৫-১০ সেকেন্ড লেগে যায়।

মিস্টার অ্যালেন,

আপনিও লক্ষ্য করেছেন?

তাই না?

ছবির লোকটাকে চিনতে পারছো?

এটা সিরিয়াস ব্যাপার, অ্যালেন।

এটা রুবি।

আমার বিড়াল।

প্রায় তিন মাস আগে,

পশু-আশ্রমে দেখে পছন্দ হয় তারপর বাড়িতে নিয়ে আসি।

এই ছবিটা,

সেদিন আশ্রমে ওর ভাইদের সাথে তোলা হয়েছিল।

এরমধ্যে রুবি কোনটা বলতে পারবে?

পারবে কেউ বলতে?

হাহ!

বাঁ দিকেরটা?

না।

আসলে,

এটা রুবির ছবিই নয়!

কিছুদিন আগে ইন্টারনেট থেকে ডাউনলোড করেছিলাম।

এখন ধরো, যদি আমার বিড়ালটা এই ছবিতে থাকতো,

তাহলেও,

খুঁজে বের করতে অনেকটা কষ্ট হতো!

কারণ...

প্রাকৃতিকভাবে মানুষের মস্তিষ্কে এমন কোন বিশেষ ক্ষমতা নেই...

যার মাধ্যমে প্রাণীদের চেহারা...

চিনতে এবং শনাক্ত করা সম্ভব।

শুধু প্রাণী নয়,

উদাহরণস্বরূপ,

যদি রাস্তা কাজে ব্যবহৃত একটা পাথর দেখানো হয়,

এরপর অনেকগুলো পাথরের মধ্য ওই পাথরটা খুঁজতে বলা হয়,

কেউই তা পারবো না!

আর শুধু পাথর নয়,

ফুল, পাতা, কুকুর, বিড়াল...

কোনোটাই না!

তবে,

মুহূর্তের মধ্যেই আমরা সামান্য পার্থক্যও ধরে ফেলতে পারি,

যদি সেটা হয়-

দুজন মানুষের মুখের মধ্যে!

এর কারণ হলো...

এটা!

ফুসিফর্ম গাইরাস।

মানুষের মুখের গঠন চিনতে পারার প্রক্রিয়া...

এখানেই গঠিত হয়।

এটা যদি ক্ষতিগ্রস্ত হয়,

তাহলে বিশেষধরনের অন্ধত্ব দেখা দেয়।

মুখবিস্মৃতি!

এটা একটা বিরল মেডিকেল কন্ডিশন, যেটাকে বলা হয়...

প্রসোপ্যাগনোশিয়া!

এটা জন্মগতও হতে পারে,

অথবা

মাথায় আঘাতের ফলেও হতে পারে।

তাহলে, আপনি বলতে চাচ্ছেন-

দুর্ঘটনার পর থেকে আলিশার দৃষ্টিশক্তি...

আংশিক নষ্ট হয়ে গেছে?

তা নয়।

কোনকিছু দেখতে বা চিনতে...

কোনো সমস্যা হয়না।

শুধুমাত্র চেহারার ক্ষেত্রে মস্তিষ্ক প্রতিক্রিয়া সচল থাকে না।

আর শুধুমাত্র বাস্তবেই নয়,

ভার্চুয়াল কিংবা ছবিতেও এমনটা ঘটে।

এখন, যদি তার সঙ্গে কথা বলো,

তারপর বেরিয়ে গিয়ে...

দশ মিনিট পর ফিরে আসো,

অন্য পোশাক পরে,

তোমাকে সে চিনতে পারবে না!

এটাই তার রোগ!

কিন্তু সে তো একজনের বিবরণ দিয়ে ছবি আঁকিয়েছে...

পরে সেটা দেখে নিশ্চিতও করেছে!

কীভাবে সম্ভব?

কারণ তার মস্তিষ্ক তাকে বিভ্রান্ত করছে!

চিনতে না পারা সত্যেও সেভাবে,

স্মৃতি-সংমিশ্রণে কিছু বর্ণনা করেছে।

ভুল করছেন অ্যালেন সাহেব!

কয়েক বিলিয়ন বছর বিবর্তনের পর,

আমাদের মস্তিষ্ক এখন সুপার-কম্পিউটারের মতোই কাজ করে।

ঠিক যেমন এই ছবিতে অ্যালেনের মস্তিষ্ক...

বিড়াল খুঁজে পেয়েছিলো, যা কিনা ছবিতে আদৌ ছিলো না!

আলিশার ক্ষেত্রেও তাই হচ্ছে।

দেখো, যখন মুখই চিনতে পারছে না,

তখন তার মস্তিষ্ক অন্যান্য বৈশিষ্ট্যের উপর অধিক চিন্তাশীল—

যেমন চুলের স্টাইল, কণ্ঠস্বর, শরীরের গঠন,

পোশাক, আচরণ...

এধরণের বৈশিষ্ট্যগুলো শনাক্তকরণের উপায় হিসেবে ব্যবহার করে।

তার মস্তিষ্ক এই কাজটা দ্রুত এবং স্বয়ংক্রিয়ভাবে করে,

নিজেও সেটা জানে না!

হয়তো এটা নিয়ে সে কখনো ভাবেও নি,

শুধু ভেবেছে হয়তো দুর্ঘটনার ফলে হওয়া সামান্য স্মৃতিভ্রংশ।

প্রসোপ্যাগনোশিয়ার শিকার হওয়া লোকদের মধ্যে এটা খুবই স্বাভাবিক।

এই কারণে,

দুর্ঘটনার পরেও

আলিশা বুঝতেই পারেনি,

সে ফেস-ব্লাইন্ড হয়ে গেছে!

দক্ষিণ বেঙ্গালুরুর পরিস্থিতি কিছুটা আলাদা।

আগামী চারদিন, তাপমাত্রা

৩৫-৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে।

শুধুমাত্র জেপি নগরের কিছু এলাকায়

আকাশ আংশিক মেঘাচ্ছন্ন থাকতে পারে।

এই সপ্তাহের আবহাওয়া আপডেট এতটুকুই,

নতুন আবহাওয়া পূর্বাভাস নিয়ে আগামী সোমবারে আবার দেখা হবে,

এতক্ষণ আপনাদের সাথে ছিলাম, আমি আলিশা আবদুল সালাম!

এখন চলে যাচ্ছি নাতাশার কাছে।

ধন্যবাদ, আলিশা! এখনকার সংবাদ এখানেই শেষ করছি!

আমি নাতাশা জৈন।

আর আপনারা দেখছেন.... ‘প্রাইম টাইম উইথ নাতাশা’।

গুড নাইট!

রোহিনী, আমি বুঝতে পারছি।

তোমার জন্য এটা খুবই কঠিন!

কিন্তু ডিটেইলস খুবই প্রয়োজন,

জানেন, শেষ কবে ঘুমিয়েছিলাম?

আমার বাবা...

আমার মা...

মানুষের সামনে মুখ দেখাবে কীকরে?

সেসব দুঃসহ স্মৃতি ভুলতে...

একটা মাস লেগেছিলো আমার!

শয়তানটার হাসি...

সেই নোংরা গন্ধ…

আলিশা, আমি বুঝতে পারছি বিষয়টা নিয়ে কাজ করা উচিত,

কিন্তু আমাদের ইমপ্যাক্ট লাগবে!

পুলিশি তদন্তের এক্সক্লুসিভ ফুটেজ,

সাসপেক্ট সম্পর্কে চাঞ্চল্যকর তথ্য,

আমাদের এগুলো দরকার!

- জ্বি, ম্যাডাম। - যদি এসব না থাকে,

তাহলে এক কাজ করো,

তোমার সোর্সকে স্টুডিওতে নিয়ে আসো।

তো?

ন্যাশনাল টেলিভিশনে নিজের পরিচয় প্রকাশ করবে?

কিন্তু... আলিশা, আমার অবস্থা তো তোমাকে বলেছি!

শুধুমাত্র কোডিং জানার কারণে...

আমাকে ব্ল্যাকমেইল করছে!

আমি আর পারছি না!

বুঝেছো?

পুলিশের কাছেও যেতে পারিনি, অন্তত মিডিয়া—

নকুল, ওরা বলছে ইনফরমেশন সোর্স প্রকাশ করতে হবে।

যদি আমার রিপোর্টে সেন্সেশনাল কিছু না থাকে,

তাহলে সেটা দেখবেই না!

স্যরি, কিন্তু এটাই ফাইনাল!

আলিশা... আলিশা, দাঁড়াও!

একটু দাঁড়াও

বসো।

প্লীজ!

- আমার কাছে আরো কিছু আছে। - কী?

দুটো মেয়ের কথা বলেছিলাম, মনে আছে?

আমার সাহায্য ছাড়াই আমার ওদের খুঁজে বের করেছে,

এটা তাদের এক আত্মীয়ের সাথে তার কথোপকথনের রেকর্ডিং।

দূর থেকে রেকর্ড করেছি,

তাই একপাশের কথায় শোনা যাবে।

এটা দিয়ে কী বোঝানো যাবে?

তোমার বোনের সাথে যা করেছি, এগুলো তার ট্রেইলার মাত্র!

আমার কাছে পুরো এক ঘণ্টার ভিডিও আছে!

না ব্রো,

আমি এসব আজাইরা আবেগের ধার ধারি না।

আমাকে মাত্র ২৫ লাখ দিলেই, তোমার বোনের এই ভিডিও

টেলিগ্রাম, পর্ন গ্রুপসহ পুরো ইন্টারনেটে ছড়িয়ে পড়া থেকে বেঁচে যাবে!

এটাই আমার দাবি!

নকুল, এটা ভীষণ সিরিয়াস বিষয়!

চলো, পুলিশে রিপোর্ট করতে হবে!

আমাকে ফাইলটা সেন্ড করো,

আহ... কিন্তু... আলিশা!

আমরা এমন অপরাধ হতে দিতে পারি।

আমাদের থামাতেই হবে!

না, দাঁড়াও! আলিশা!

- ক'টার ফ্লাইট বুক করেছো? - স্যার।

আসুন!

এই অপরাধী সম্পর্কে আর কোনো ইনফরমেশন আছে?

সবকিছু এই ফাইলে আছে।

এই ভয়েস নোট যে পাঠিয়েছেন,

কোয়েম্বাটোরে অমরের লোকেশন সে-ই আপনাকে জানিয়েছে, তাই না?

হ্যাঁ।

অজ্ঞাত সোর্স!

কোনো ধারণা আছে, কে হতে পারে?

না, স্যার।

ঠিক আছে,

আমি বিষয়টা দেখছি।

আপনি শুধু লিখিত অভিযোগে স্বাক্ষর করে...

ফোন নম্বর আর বাকী ডিটেইলস সামনের ডেস্কে জমা দিয়ে যান।

যদি লোকেশনটা সঠিক হয়,

তাহলে কথা দিচ্ছি, আগামীকালের মধ্যেই ওকে ধরবো!

যদি এরমধ্যে কোনো সমস্যা হয়,

এটা আমার ব্যক্তিগত নম্বর...

শুধু ফোন করবেন!

- হ্যালো? - হ্যালো, আলিশা?

- জ্বি ম্যাডাম! - বিষয়টা জানতে ফোন করেছি..

তোমার প্রোপোজাল পড়লাম,

'ব্যাঙ্গালোর সিরিয়াল ধর্ষণ'

সত্যিই খুব ইম্প্রেসিভ!

পুরো বিষয়টা একটা পূর্ণাঙ্গ সেগমেন্টে চালাতে চাই।

অনেক ধন্যবাদ, নাতাশা!

অনুরাধাকে বলেছি, তোমার জন্য স্লট ঠিক করতে।

আরো কিছু এক্সক্লুসিভ ফুটেজ যোগ করা সম্ভব কী?

অবশ্যই।

ব্যবস্থা করছি।

এই অসাধারণ!

সোমবারে দেখা হচ্ছে, আর দুর্দান্ত কাজ করেছো!

ধন্যবাদ।

ধুরো, নকুল!

সেদিন সন্ধ্যায়,

আমি বের হলাম,

ফোন পাওয়ার পর।

সাদা শার্ট আর জিন্স পরেছিলাম,

আর আমার লাকি ব্লেজার।

সেখান থেকে...

ট্রেনে করে কোয়েম্বাটুর যাই।

তারপর,

বন্ধুর স্কুটি নিয়ে বেরিয়ে পড়ি,

"সমুদ্র সিল্কস" এর দূরত্ব প্রায়...

সমুদ্র সিল্কস!

একটা পুরোনো পরিত্যক্ত ভবন!

আলিশা... আলিশা...

আলিশা!

ভয় পেও না।

যদিও তোমার সমস্যা অনেক গুরুতর!

কিন্তু এর পরীক্ষামূলক চিকিৎসা আছে।

ফিচার রিকগনিশন।

মানুষের চেহারা বিভিন্ন ধরনের বৈশিষ্ট্য থাকে—

চোখ, নাক, ঠোঁট, এবং আরও অনেক কিছু…

এসব মূলত মানুষের মৌলিক বৈশিষ্ট্য।

আমাদের এই বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে পার্থক্য খুঁজে বের করতে হবে।

অর্থাৎ,

চেনার জন্য এমন বৈশিষ্ট্য খুঁজতে হবে,

যে বৈশিষ্ট্যগুলো অন্য আরেকজন থেকে আলাদা।

চেহারার গঠন ছিল পেন্টাগনের মতো।

তার থুতনিটা নিচের দিকে পাঁচ নম্বর কোণের মতো ছিল।

পক্ষপাত এড়াতে, এখনই দেখাবেন না।

স্পষ্টতা এবং সঠিকতা দুটি আলাদা বিষয়।

যদি ওই মুখটি তার মনে থাকে, তাহলে আমরা নিশ্চিত ট্র্যাক করতে পারব।

এটা স্মৃতির সমস্যা ছিলো।

দরজা ভাঙার শব্দ শুনেই আমরা এসেছিলাম।

এটা ক্লাসিক 'সোর্স মনিটরিং' এর ভুল।

বলো।

সুপ্রিয়া।

নাম জেনেছি।

হারান শঙ্কর,

ছবি আর ডিটেইলস পাঠাচ্ছি।

গত ছয় মাসে কী-কী করেছে, সবকিছু বিস্তারিত জানতে চাই।

চাকরি,

সহযোগী,

যোগাযোগ,

কোন জায়গায় বেশি যেত,

সবকিছু।

বঙ্গানুবাদ: ★ সুশান্ত চক্রবর্ত্তী সৌমিক | ★ মিনহাজ আল ইসলাম | ★ ওমর ফারুক | ★ ফাহাদ আহমদ | ★ জাহিদ হাসান | ★ হাবীব উন নবী সিয়াম | ★ সোহান আহম্মেদ | ★ আরুশ আরিয়ান |

সম্পাদনায়: © আরুশ আরিয়ান।

কেন মারলে..

আমর ফেলিক্স কে?

পুলিশ ঘেরাও করার আগে শেষ একটা সুযোগ দিচ্ছি।

বলো।

কেন মারলে আমর ফেলিক্সকে?

কী হয়েছে, অ্যালেন?

খুনি পেয়ে গেছি।

যার কথা কল্পনাও করিনি।

আমাদের অদ্ভুত প্রতিবেশী...

হারান শঙ্কর,

হারান?

কী বলছো?

স্যার, বুঝিয়ে বলছি।

জাধাবি মেমোরিয়াল হাসপাতাল চিনেন?

এখানে আসুন, স্যার।

খুনি আমার সামনে বসে আছে।

অ্যালেন, হারান এতে জড়িত কীভাবে সম্ভব?

স্যার, ওকে গ্রেপ্তার করুন।

আমি বিস্তারিত বলছি।

আর এই স্কেচ?

স্যার এট আমাদের বিভ্রান্ত করার জন্য।

বাদ দিন।

বাস্তবে এমন কেউ নেই।

হারান আমাদের টার্গেট।

হ্যাঁ।

আমি আমির আলী।

আত্মসমর্পণ করতে এসেছি।

স্যার।

এখন তো সাক্ষী, স্কেচ আর আসামি সবই আছে,

আমি যেতে পারি?

অ্যালেন, প্ল্যান কী?

স্যার, আপাতত গ্রেপ্তার করা হোক।

আগামীকাল অফিসে বিস্তারিত জানাবো।

'আমির আলী' খেলাটা দারুণ ছিল।

ভাবতেই পারিনি।

কিন্তু হারান শঙ্কর,

যদি শুধু হার্ড ড্রাইভের জন্য আমার কে খুন করে থাকো,

তাহলে আরও বুদ্ধিমান হতে হবে।

নাটক বন্ধ করো, হারান।

আমারের পুড়ে যাওয়া বিল্ডিংয়ে

সবচেয়ে মূল্যবান জিনিসটা ছিল

সেই হার্ড ড্রাইভ।

অনেকদিন ধরে খুঁজছি।

এখন জানতে হবে...

তুমি কে?

এতে তোমার ভূমিকা কী?

যদি ওটা পুড়িয়ে দিতাম,

তাহলে ভিতর থেকে কিছু নেওয়ার দরকারই হতো না।

- স্যার। - সকালে এসপি অফিসে আসুন।

স্যার, এক সেকেন্ড। একটা বিষয় পরিষ্কার করার ছিল।

আমারের দেহ উদ্ধারের সময়

কোনো ইলেকট্রনিক ডিভাইস পেয়েছিলেন?

ডিভাইস...

হ্যাঁ।

বেল্টের ভেতরে একটা হার্ড ড্রাইভ পাওয়া গেছে।

ওটা কোথায়, স্যার?

ওটার যাচাই করতে হবে।

অ্যালেন...

সেটা এভিডেন্স রুমে রয়েছে।

অনুমতি ছাড়া ওটা বের করা অসম্ভব।

তাহলে আপনি তদন্ত করতে আসেন নি,

এসেছেন ড্রাইভ খুঁজতে।

খেলা এখানেই শেষ নয়।

কিছু বলার আছে?

- না। - নেই।

হাত দেখি।

বাবার নাম সাফির আলী রাভুতার, তাই তো?

দেখে নাও, ঠিক আছে কিনা।

সন্ধ্যা আটটায় পৌঁছেছিলে, তাই তো?

না স্যার, অ্যালেন স্যারের ফোন গতকাল থেকেই বন্ধ।

একজন সাক্ষী যার স্মৃতিশক্তির সমস্যা

তার বিবরণে স্কেচ তৈরী করে অপরাধী চিহ্নিত করা হলো।

জানো তো, এসব কোর্টে টিকবে না, ডাক্তার?

এতো পরিকল্পনা... কিসের জন্য?

তোমার ভাগিনার এই হত্যাকাণ্ডের সঙ্গে কী সম্পর্ক?

ঠিক আছে, তুমি চুপ থাকতে পারো।

আমি তাকেই সরাসরি প্রশ্ন করব।

আমি এখানে সেই সাক্ষীর সাথে কথা বলতে এসেছি,

যার কারণে ভিত্তিহীন মামলার তদন্ত হচ্ছিল।

নাম নীরজা সুদীপ।

আর তার মা'র প্রথম স্বামীর নাম ছিল

প্রতাপ শঙ্কর।

হারান...

শঙ্কর।

সৎ ভাই।

হারান।

হারান।

নীরু...

কী, হারান?

হারান, এভাবে রাগ দেখানোর প্রয়োজন নেই।

শুনো...

এখানে পুলিশ আছে।

ওদের দেখতে দাও।

আমি চাই তুমি এসবের বাইরে থাকো।

হাত জোর করছি...

আমার তোমাকে প্রয়োজন।

আমি সবকিছু ঠিক রাখার চেষ্টা করছি।

প্লিজ....

নীরুর তোমাকে প্রয়োজন।

প্লীজ।

এসব থেকে দূরে থাকো...

দূরে থাকো, প্লিজ।

কথা দাও।

দক্ষিণ বেঙ্গালুরুর পরিস্থিতি সামান্য আলাদা।

আগামী চার দিন তাপমাত্রা

৩৫-৩৭ ডিগ্রি সেলসিয়াসের মধ্যে থাকবে।

এবং কিছু জায়গায়

জে.পি. নগরের দিকে আকাশ মেঘাচ্ছন্ন থাকার সম্ভাবনা রয়েছে।

তারমানে...

খুনিকে চিহ্নিত করতে পারবে না?

না।

অ্যালেন স্যারের গাড়ি এখানে আছে।

- কোথায়? - এসপি অফিসের সামনে।

কিন্তু উনি এখানে নেই।

গাড়ি থাকুক, আমি আসছি।

আলিশা,

একটু আগে পর্যন্ত,

তোমার অবস্থা ছিল আমার কাছে একটা চিকিৎসাবিজ্ঞানের অদ্ভুত বিষয়।

কিন্তু দীনেশ স্যার আসার আগে, আমি কিছু তথ্য জানতে পারলাম।

কীভাবে বলবো বুঝতে পারছিনা।

কী ব্যাপার, ডাক্তার?

তোমার সব কথা শোনার পর,

এটা তোমার জানার অধিকার আছে।

যদিও এটা আমার বলার বিষয় না।

আমার সাথে এসো।

- হ্যালো। - হাই স্যার, গুড মর্নিং।

দীনেশ চন্দ্রন, কেরালা পুলিশ।

গত বছরের উদয়ন হত্যাকাণ্ডের...

হ্যাঁ, দীনেশ।

কী খবর হঠাৎ?

সাক্ষী নিরাপত্তার জন্য অফিসার নিয়োগ করা হয়েছিল না

আর অন্যান্য প্রমাণাদি সুরক্ষা জন্য?

আপনার টিমের তামিল-মালয়ালি ছেলে ছিল না?

অ্যালেন জ্যাকব?

জ্বী, স্যার।

তার নতুন মামলার ডিটেইলস জানার জন্য ফোন করলাম।

দীনেশ,

অ্যালেন জ্যাকব এখন আর পুলিশ কর্মকর্তা না।

আমরা তাকে খুঁজছি।

সে এখন অপরাধী।

আলিশা...

কয়েক মাস আগে...

আমার বোন নীরজার...

নৃশংসভাবে ধর্ষণ হয়।

সেই অপরাধী ছিল...

অমর ফিলিপ।

কমার্স প্রোগ্রামটা খারাপ ছিল, তাই না?

ওটা... হ্যাঁ, দেখেছি।

আমাদেরটাও অবশ্য খারাপ ছিল না।

কিন্তু তাদেরটা বোরিং ছিল, তাই না?

লোকেশন ট্র্যাক করে,

মেরে ফেলেছিলাম,

তারপর পুড়িয়ে দিয়েছি।

তারপর একটা গর্তে ফেলে দিই।

রাগ, দুঃখ

আর কিছু করতে না পারার অক্ষমতা...

আমাকে সামলে রেখেছিল দেবিকা।

তারপর মামলা আর চালায় নি।

কর্ম বিরতির সুবাদে আমার বেঙ্গালুরুর যাওয়া।

দেবিকা আর নীরুসহ

লম্বা ছুটির পর আমরা শহরে ফিরি।

একমাত্র লক্ষ্য ছিল নীরুর সুস্থতা।

নীরু...

লিনর আবারগিল।

ইসরায়েলের এক ছোট্ট শহরে তার জন্ম।

তার স্বপ্ন ছিল বিশ্বখ্যাত সুপারমডেল হওয়া।

কিন্তু...

এক রাতে,

ট্যাক্সিতে তার উপর ফিজিক্যাল অ্যাটাক করে,

ধর্ষণ করা হয়।

তখন তার বয়স ছিল মাত্র ১৮।

তার ক্যারিয়ার, স্বপ্ন, জন-জীবন, সবকিছু।

সেখানেই সবকিছুর ধ্বংস হতে পারতো।

কিন্তু সে হার মানেনি।

সাত মাস পর,

১৯৯৮-এর নভেম্বরে,

তিনি-ই হন মিস ওয়ার্ল্ড লিনোর আবরগিল।

জানি তোমার মনের অবস্থা ভালো নেই রাগ, দুঃখ, হতাশা আর আবেগ সবকিছু দিশাহারা।

তা স্বাভাবিক!

কিন্তু...

হাল ছেড়ো না।

কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবে না।

যা ইচ্ছা শক্তি দিয়ে ফেরাতে পারবে।

এই ট্রমা কাটিয়ে উঠতেই হবে।

আর স্বাভাবিক অবস্থায় ফিরতে হবে।

যত ইচ্ছে সময় নাও।

কিন্তু ফিরতেই হবে...

যেকোনো মূল্যে।

নীরু,

জীবনে যা ঘটুক না কেন

বা যদি কেউ চ্যালেঞ্জও করে,

সর্বদা মাথা উঁচু রাখতে হবে।

ঠিক আছে?

যখন থেকে জীবনের সেই অধ্যায়টি সে পুরোপুরি ভুলে যেতে শুরু করেছিল

আমাদের ব্যাঙ্গালোর প্রতিবেশী আনসার আলী দেখা করতে আসে।

সে সাকিনার ভাই নীরজা যার ধর্ষণ হয়েছিল।

আনসার,

তার আসার কারণ ছিল অবিশ্বাস্য এক তথ্য শেয়ারের জন্য!

সাকিনা যখন মেন্টাল ব্রেকডাউনের জন্য চিকিৎসা নিচ্ছিল,

ধর্ষণের ৩০ সেকেন্ডের ভিডিও ক্লিপ নিয়ে

কেউ একজন তার সাথে যোগাযোগ করে,

এগুলো তোমার বোনের সাথে কাটানো সময়ের শুরুর ক্লিপ।

সম্পূর্ণ ভিডিওটাও আমার কাছে আছে।

ঘন্টাখানেকের মধ্যে যদি ২৫ লাখ টাকা না পাই, তাহলে তোমার বোনের এই ভিডিও

ইন্টারনেট, টেলিগ্রাম আর পর্ণ গ্রুপ জুড়ে ছড়িয়ে যাবে।

এটাই আমার ডিমান্ড।

সেই মুহূর্তে আমার নীরজার কথা মনে আসেনি।

দেবিকাকে দেওয়া প্রতিশ্রুতিও ভুলে গিয়েছিলাম।

কে?

কে?

কে?

কে...

কে আপনি?

না, না, না! প্লীজ! প্লীজ!

প্লীজ থাম! থাম!

স্যরি! স্যরি, স্যরি, স্যরি!

এই! এই!

এই, না!

ক্ষমা করুন!

মাফ করে দে।

স্যরি, স্যরি।

যখন কোচিতে ফিরলাম, কেউ একজন আমার জন্য অপেক্ষা করছিল...

সাকিনা আর আনসারের বাবা আমীর আলী।

প্লীজ, আনসারকে বাঁচাও।

সাকি...

ওর জন্য এসব করেছো।

জানো ওর কি অবস্থা।

অন্তত ওকে বাঁচাতে হবে।

মৃত ব্যক্তি যেই হোক না কেন,

কেউ না-কেউ অবশ্যই খুঁজতে আসবে, নিশ্চিত।

তাদের কেউ যেন আনসারের কাছে না পৌঁছায়।

এই ঘটনা যেন কখনো প্রকাশ না পায়,

আমি এই অপরাধের সম্পূর্ণ দায় নেব।

চাচা...

ভরসা করার মতো আর কেউ নেই আমার।

হাত জোর করে অনুরোধ করছি.

আমিও অপেক্ষা করছিলাম।

কোন বন্ধু,

বা পরিবারের সদস্য,

অথবা সহযোগী...

কেউ তো অবশ্যই আসবে।

কিন্তু আশ্চর্য্য,

সেই ব্যক্তিটি ছিল ব্যাঙ্গালোর পুলিশ অফিসার,

অ্যালেন জ্যাকব।

হারান,

দীনেশ খবর দিলো।

অ্যালেন এসপি অফিসে গেছে।

সেখানে না, অ্যালেন যে প্রমাণ লকারের কথা উল্লেখ করেছিল,

হার্ড ড্রাইভ?

এখনও ভিতরে প্রবেশ করেনি।

যাচ্ছে না!

যদি হার্ড ড্রাইভ টার্গেট হয়, অবশ্যই ভিতরে প্রবেশ করবে।

আমরা যদি তাকে ফাঁদে ফেলতে চাই,

চুরি হওয়ার আগে সেই ড্রাইভে কী আছে তা আমাদের খুঁজে বের করতে হবে।

তার আগে বলো এসবের সাথে তোমার কিসের সম্পর্ক।

সেই আমির আলী যে তোমার করা স্কেচের ভিত্তিতে আত্মসমর্পণ করতে এসেছিল

অ্যাডভোকেট এসে তাকে জামিনে ছাড়িয়ে নিয়ে গেছে।

ম্যাজিস্ট্রেটের বিশেষ আদেশ।

তো, হারান,

আমি যতক্ষণ না উক্ত ঘটনায় তোমার ভূমিকা জানতে পারছি,

তুমিও আমার কাছে সাসপেক্ট, ঠিক অ্যালেন সাহেবের মতো।

এসো, কথা বলি।

ঠিক আছে, স্যার। আমি আসছি।

কিন্তু একটা কথা।

স্যার আপনার মতো, অমর ফিলিপের হার্ড ড্রাইভে কী আছে তা আমার জানা নেই।

অ্যালেন শুধুমাত্র একারণে এখানে এসেছে।

সুতরাং, আমাদের নিশ্চিত দরকার এতে এমন কিছু নেই যার দ্বাবা আমাদের ক্ষতি হতে পারে।

স্যার, প্লীজ ড্রাইভটি আপনার অধীনে নিন।

আপনার সামনেই খুলবো।

এরমধ্যে কী আছে জানার সাথে-সাথে আমি আত্মসমর্পণ করব।

তারপর, আপনার সকল প্রশ্নের উত্তর দিবো।

তা অসম্ভব।

ড্রাইভটি হ্যাভিলি এনক্রিপ্ট।

আদালতের নির্দেশ ছাড়া ফরেনসিক টিমেরও কেউ তা স্পর্শ করতে পারবে না।

আর বাইরের কেউ হলে?

স্যরি হারান, তোমার প্রতি আমার বিন্দু মাত্র বিশ্বাস নেই।

স্যার, আলিশাকে তো বিশ্বাস করেন?

কারণ আলিশাও তাকে একবার বিশ্বাস করেছিল

এমনকি আপনিও পুরো কাহিনী জানি।

স্যার, অ্যালেনের সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে আপনার সাহায্য প্রয়োজন।

শুধুমাত্র আপনিই এখন আমাদের সাহায্য করতে পারেন।

আলিশা,

নকুল সহদেব,

তোমার পুরানো সোর্স,

তার প্রতি বিশ্বাস আছে?

আমার মনে হয়, সে ক্র্যাক করতে পারবে।

হ্যাঁ।

- হ্যালো? - নকুল...

লোকেশন পাঠিয়েছি।

পুরানো, পরিত্যক্ত ভবন।

ঠিক আছে, হারান, ১০ মিনিটের মধ্যে শহরে পৌছাবো।

এক ঘন্টার মতো ড্রাইভটা হাতে পাবো।

এই সময়ের মধ্যে ক্র্যাক করতে পারবে?

সেজন্য আমিই সেই এনক্রিপশন সেট করেছি।

বিশ্বাস রাখুন, তিন মিনিটের মধ্যে ক্র্যাক করে ফেলবো।

আলিশা, বের হও!

ফিরে আসছি।

যদি ২০ মিনিটের মধ্যে ফিরে না আসি,

যত তাড়াতাড়ি সম্ভব দীনেশ স্যারের কাছে চলে যাবে।

আলিশা!

বড় শ্বাস নাও।

কি হয়েছে বিস্তারিত বলো।

হারান!

ড্রাইভ।

হারান!

ড্রাইভ, প্লীজ!

হারান, কি করলে?

সে পাক্কা অপরাধী, ঠান্ডা মাথার অপরাধী!

আমি দু-দন্ড শান্তিতে থাকতে পারছি না তাই আপনাকে ফোন করেছি।

কি করতে হবে বা কাকে ফোন করতে হবে আমি কিচ্ছু বুঝতে পারছি না।

আমাকে এই খুনের সঙ্গী বানিয়েছে সে।

না, আলিশা।

তোমাকে সাক্ষী রেখেছে।

তুমি এখন ডিওয়াইএসপি খুনের সাক্ষী।

নকুল এসেছে।

আলিশা...

আমি ব্যর্থ, নকুল।

যদি একটু আগে বন্দরে পৌঁছাতে...

কিন্তু আমি সফল।

আসলে তোমার আগেই আমি সেখানে পৌঁছে গিয়েছিলাম।

সেখানে যা ঘটেছে আমি সব দেখেছি। পুরো ঘটনা নিজের চোখে দেখেছি।

পুলিশের কাছে যেন আত্মসমর্পণ করতে নাহয়।

তাই ভ্যানটা একটু দূরে পার্ক করি।

তখনই খুন হতে দেখে ছিলাম।

তারপর,

যখন তোমার দিকে বন্দুক তাক করেছিল,

ভয় পেয়ে যাই! বিচি লক হয়ে গিয়েছিল।

আর যখন হারানকে কোথাও দেখতে পেলাম না...

কাকে দেখোনি?!

হারান! মানে, বলেছিলে না হারান ওখানে তোমার সাথে থাকবে।

কিন্তু হঠাৎ যখন তার সাথে তোমাকে দেখলাম...

কার কথা বলছো?

সেখানে যাকে দেখেছিল তার নামই হারান।

না, আলিশা।

সেই রাতে তোমার সাথে যে লোকটি ছিল সে হারান নয়।

হারান।

তুমি! সে এখানে কি করছে, স্যার?

- পুলিশ ডাকুন! - আলিশা, প্লিজ, প্লিজ।

শান্ত হও, শান্ত হও।

হারান সেই রাতে তোমার সাথে ছিল না।

পেটে আর ঘাড়ে ক্ষত ছিল, বলেছিলে না?

এসো, ওর দিকে তাকাও।

দেখো।

দেখো।

যখন লোকটা কাপড় পরিবর্তন করে

তাকে হারান মনে করো

গাড়ি যেহেতু সামনে দাঁড়িয়ে ছিল,

ধরে নিলে সে-ই ছিল।

এটা নিশ্চিত করার পর, মস্তিষ্কে সন্দেহ জাগেনি।

তাই,

তুমি চিহ্নিত করেছ

জ্যাকেট এবং গাড়ির স্মৃতির উপর ভিত্তি করে,

তার মুখ নয়।

রোগ সম্পর্কে ভালোভাবে জেনে,

তোমাকে ব্যবহার করেছে।

কার কথা বলছেন?

কে?

তোমার রক্ষক,

অ্যালেন জ্যাকব!

হারান!

চালাও।

হারান, কি করলে?

আলিশা, আমাদের তোমার সাহায্য প্রয়োজন।

এখন আর সময় নেই।

গত দুদিন থেকে আমি আর নকুল ওকে ফলো করছি।

আমাদের ধারণার চেয়েও অধিক বিপজ্জনক সে।

সে একটা পশু।

২০১৮ সালে, সুপ্রিম কোর্টের আদেশ অনুসারে,

ভারতের প্রতিটি রাজ্যে সাক্ষী সুরক্ষা কর্মসূচি চালু করা হয়েছিল

বিতর্কিত মামলায় আসামী এবং সাক্ষীদের রক্ষা করার জন্য

সুরক্ষাসার্থে নতুন পরিচয় দেওয়া হতো।

অ্যালেন একজন সাক্ষী সুরক্ষা কর্মসূচি দায়িত্বপ্রাপ্ত অফিসার ছিল

আর মামলার নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত সাক্ষীদের সেই নতুন পরিচয়ে গোপন রাখা হতো।

কিন্তু অ্যালেন জ্যাকব এটাকে সুযোগ হিসেবে নিয়েছিল।

অ্যালেন গোপনে সেই সাক্ষীদের পরিচয় বিক্রি করা শুরু করে,

যাদের পরিচয় সকলের কাছে গোপন রাখা হতো

পুলিশ বিভাগের নির্বাচিত কয়েকজন কর্মকর্তা ব্যাতিত।

হত্যা, দুর্নীতি আর ষড়যন্ত্রের মতো অপরাধে জড়িত

সমস্ত সাক্ষী যারা আসামীদের বিরুদ্ধে মূখ্য সাক্ষ্য ছিল

সেইসব সাক্ষীদের পরিচয় আসামীদের হাতে তুলে দেওয়া হতো।

সুপ্রিয়া গোপাল ছিল মধ্যমণি

এবং তার পরিচয় ব্যবসার মূল কন্ট্রাক্ট।

চিত্রামল হলো এমন একজন যে তাদের জালে ধরা পড়েছিল।

অ্যালেন এবং সুপ্রিয়া পরিচালিত পরিচয় ব্যবসার জালে।

তিনি ছিলেন সাংবাদিক কে. দেবরাজনের স্ত্রী

বেঙ্গালুরুর মদ ব্যবসায়ী চিন্নাপ্পা ওই মামলার আসামি ছিল।

- স্যার.. - হ্যাঁ।

জেট ল্যান্ড ক্লিয়ারেন্স পাইনি।

মামলার, ওয়াচ লিস্ট সম্পর্কে কিছু বলছিল।

তাহলে বিজনেস ক্লাস বুক করো, বোকা!

যাও!

স্যার।

চিন্নাপ্পা! রঘুনাথ চিন্নাপ্পা?

হ্যাঁ তাই।

চিনপ্পা প্রধান ছিল

দেবরাজন প্রকাশ করা রাইচুর ডিস্টিলারি স্কেমটিতে।

বিনিময়ে চিন্নাপ্পা দেবরাজনের প্রাণ কেড়ে নেয়।

আর সেখানেই থেকেই ঝামেলার সুত্রপাত।

চিত্রামল, স্বামীর হত্যার সাক্ষী ছিল,

এবং চিন্নাপ্পাকে পুলিশের কাছে শনাক্ত করেন।

কর্ণাটক পুলিশ চিন্নাপ্পাকে গ্রেফতার করে,

চিত্ররামল শক্ত-পোক্ত সাক্ষ্য দেন,

এবং তাকে নতুন নাম এবং পরিচয়ে,

সাক্ষী সুরক্ষা কর্মসূচিতে স্থানান্তর করা হয়।

তবে অ্যালেন জ্যাকব সেই পরিচয় কোটি টাকায় বিক্রি করে দেয়।

আর চিন্নাপ্পাকে হস্তান্তর করে।

পরদিনই তার ওপর হামলা হয়।

ওহ! নিচু হণ ম্যাডাম!

খোদার রহমতে সেদিন তিনি বেঁচে যান।

দিদি, বুস্ট।

বরুণ, দিদি ব্যাস্ত আছে।

নিজে গিয়ে নিয়ে এসো।

হাসি দিয়ে খুলো।

অবশেষে চিত্রামলের পরিচয় ফাঁস হওয়ার ঘটনায়

অ্যালেনকে সাক্ষী সুরক্ষা সেল থেকে সরিয়ে দেওয়া হয়েছিল।

এবং বেঙ্গালুরু ক্রাইম ইউনিটের ডেস্কে দিমোড করা হয়।

চিত্রামলকে আবার নতুন পরিচয় এবং একজন নতুন অফিসার নিয়োগ করা হয়েছিল।

তারপর, চিন্নাপ্পা অ্যালেনকে হুমকি দেওয়া শুরু করে,

চিত্রামলের সাক্ষ্যের কারণে সে যদি ধরা পড়ে, তাহলে

অ্যালেনের সব কারসাজি ফাঁস করে দিবে বলে হুমকি দেয়।

তখনই অ্যালেন চিত্রামলকে হত্যার ষড়যন্ত্র শুরু করে।

যে মহিলা তার স্বামী মৃত্যুর বিচার চেয়েছিল।

সাক্ষী সুরক্ষা সেলে পুরানো পরিচিতি ব্যবহার করে,

অ্যালেন জানতে পেরেছিল চিত্ররামল বর্তমানে কোচি আছে।

তবে তার সঠিক অবস্থান জানে

শুধুমাত্র নতুন অফিসার।

কিন্তু অ্যালেন এটা নিশ্চিত ছিল,

সাক্ষী প্রোগ্রাম প্রোটোকল অনুযায়ী,

সাক্ষীকে কোচি থেকে ব্যাঙ্গালোরে নিয়ে যাওয়া হবে

সিবিআই বিচারের দিন জাতীয় এয়ারলাইন্সের ফ্লাইটে।

সেদিন, ওই রুটে একটাই ফ্লাইট,

ব্যাঙ্গালোরে স্টপওভার আছে কিন্তু দুবাই কানেকশন ফ্লাইট।

কয়েক ঘন্টার মধ্যে,

সেই ফ্লাইট কোচি বিমানবন্দরে টেক অফ করবে।

কিন্তু বিচারের আগেই যদি চিত্রামলকে হত্যা করা হয়

অ্যালেন তাহলে মুক্ত হয়ে যায়,

খেল খতম! তাই না?

অপরাধী-মনস্ক পুলিশ হিসেবে অ্যালেন জ্যাকব গভীর জলের মাছ।

নিজে চিত্রামলকে কিচ্ছু করবে না,

হয়তো ভুয়া পরিচয় ব্যাবহার করবে নয়তো কাউকে ব্যবহার করবে।

সেজন্য, ফ্লাইটে প্রবেশাধিকার আছে এমন দুই ব্যক্তিকে চিহ্নিত করেছে

ধর্ষক অমর ফিলিপকর ব্যবহার করে,

তাদের ঘনিষ্ঠ দুই আত্মীয়কে নির্মমভাবে লাঞ্ছিত করায়,

ভিডিও করে।

তারমধ্য একজন সাকিনা আলী।

অ্যালেনের আসল টার্গেট ছিল তার ভাই আনসার আলী।

যে বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরে গ্রাউন্ড স্টাফ হিসাবে কাজ করে।

কিন্তু অমর ফিলিপ অ্যালেন কথার অবমূল্যায়ন করেছিল।

পরিকল্পনা অনুসরণ করার পরিবর্তে, আমার ভিডিওগুলো সংরক্ষণ করে

অ্যালেনের অজান্তেই টাকা জন্য ভিকটিমদের ব্ল্যাকমেইল করার চেষ্টা করেছিল।

যদি এমনটা না করতো,

আমরাও এই পর্যন্ত পৌছাতে পারতাম না।

প্রথমে আমার টাকা ক্লিয়ার করুন।

নাহয় আমার যা আছে তা দিয়ে যা খুশি তাই করব।

নিখুঁত একটা পরিকল্পনা ছিল।

বেশীরভাগ মানুষ এমন সিচুয়েশনে যেকোন কিছু করতে পিছু পা হয় না

পরিবারের সদস্যের ভিডিও ফাঁস হওয়া বন্ধ করতে।

যেকোনো কিছু!

দিদি!

চয়েস একটায়, সুদেবান!

একক অভিভাবক হিসেবে, আপনি অনেক সংগ্রামের সম্মুখীন হয়েছেন

২০ বছর মেয়েকে লালনপালন করেছেন।

যেহেতু আগামী মাসে মেয়ে বিয়ে, তার জীবন নিরাপদ হয়ে যাচ্ছে, তাই না?

খুবই সহজ চয়েস, সুদেবান।

আপনাকে যে নির্দেশনা দিচ্ছি যদি একটুও পরিবর্তন করেন,

নিবেদিতা সুদেব, বিশ্ববিদ্যালয় আর্ট ফেস্ট চ্যাম্পিয়ন,

আগামীকাল থেকে হোয়াটসঅ্যাপ আর টেলিগ্রাম গ্রুপে তারকা হয়ে উঠবে!

অথবা আপনার ছেলেটা যে ভিডিও ক্লিপটি দেখেছে,

তার বন্ধু-বান্ধব সবাই দেখবে তবুও সম্পূর্ণটা,

আশা করি কথাগুলো বুঝতে সমস্যা হয়নি!

প্লীজ!

প্লীজ...

তাহলে,

ছুটি বাতিল করে আজই ব্যাঙ্গালোর ফিরে আসুন।

তারাতাড়ি।

ঘড়ির কাঁটা ঘুরছে।

হারান...

আঙ্কেল কোয়ার্টারে যাও।

দেভু।

হাসপাতালে আছি।

হ্যাঁ।

না, না।

গিয়েই বলবো।

কে ছিল? হারান?

না, সুদর্শন আঙ্কেল।

আমরা ফ্ল্যাটে ফিরবো কবে?

এখানকার খাবার ভাল্লাগে না।

সুদর্শন আঙ্কেল কিছুক্ষণের মধ্যে আসবে।

তারপর একসাথে বেরবো। ঠিক আছে?

ঠিক আছে।

এত তাড়াতাড়ি এসে গেছে?

অ্যালেন স্যার।

হাই।

দেবিকা?

হ্যাঁ, ভেতরে আছে। আসুন।

বাহ।

দারুণ স্কেচ।

ধন্যবাদ।

তুমিও তোমার ভাইয়ের মতোই মেধাবী।

প্রতিভার কথা বলছি,

১২ এপ্রিল, ২০২৩।

তারিখ টা মনে আছে, সোনা?

সেদিন তোমার প্রোগ্রাম ছিল, তাই না?

এখানে নয়,

ব্যাঙ্গালোরে…

যেখানে পড়াশুনা করেছ।

সেদিন শুধু সকিনা আলীকে ধরতে বলেছিলাম।

সেই প্রোগ্রামটা? হ্যাঁ, আমিও দেখেছি।

তোমার কপাল খারাপ, না?

ডাক্তার, আমার কর্মজীবনে অনেক চাঞ্চল্যকর ঘটনার সম্মুখীন হয়েছি,

কিন্তু এসব সেই শ্রেণীতে পড়ে না।

অপরাধী গ্রেপ্তারেই মামলা ক্ষতম।

এটা তো সাধারণ ওপেন অ্যান্ড শর্ট কেস,

তবুও আমরা এখানেই পড়ে আছি, চার সপ্তাহ হলো, এখনও তদন্ত চলছে।

দুই দিন আগে, পুলিশ আমাদের সাথে যোগাযোগ করে,

দীনেশ নামে একজন ডিওয়াইএসপি।

আমরা যখন পৌঁছলাম, ততক্ষণে তার খুন হয়ে গিয়েছিল।

এই স্মাগ্লিং এর গল্প

হয়তো মিডিয়ার জন্য বেশি হতে পারে।

কিন্তু আমার জন্য,

সময়ের খেলা!

একজন ডিওয়াইএসপির খুন!

আমার মনে হয়

না জানা উত্তর বেরিয়ে আসবে।

আমার একটা পরিকল্পনা আছে, দেবিকা।

খুব গুরুত্বপূর্ণ পরিকল্পনা!

আর তোমার ভাই এতে নাক গলাচ্ছে।

যদি ওকে আরও একবার নলির ডগায় পেতাম

কিন্তু...

এখন সেটা জরুরি নয়।

এই মুহূর্তে টানাটানির মধ্যে আছি, দেবিকা।

লোকাল পুলিশ, আমাদের টিম মিলে

গোটা শহর লক করে রেখেছি।

কিন্তু আমরা এখনও তাকে পাই নি।

পুরো শহর লক।

এজন্যই এখানে এসেছি।

এখন আমার...

দেবিকার সাহায্যের প্রয়োজন।

অ্যালেন বেঙ্গালুরু শহরে পা রাখতে পারবেন না,

বা কর্ণাটকের কোথাও।

বেশি ভেবো না।

এটা কোন আলোচনা চলছে নয়।

ক্রাইম ব্রাঞ্চ, আদালত আর লোকাল পুলিশ,

সবাই তাকে খুঁজছে।

আমি যা বলবো তুমি ঠিক তাই করবে।

নয়তো...

নয়তো কি, আপনি বাল করবেন!

নেরু!

অ্যালেনের ম্যাজিস্ট্রেট আদালতে শুনানি

সাক্ষীর পরিচয় বিক্রি আভিযোগে

আগামীকালের জন্য নির্ধারিত করা হয়েছে।

এরপর জামিন বাতিল করা হবে।

এর পরপরই,

আমার লোকেরা ওকে ধরে ফেলবে।

যেদিন থেকে এখানে এসেছি, সেদিন থেকে একটা নামই শুনছি...

হারান শঙ্কর।

ভালো করে খোঁজ-খবর নেওয়ার পর জানলাম

তিনি শুধু একজন সাধারণ নাগরিক নন।

এবার বলুন ডাক্তার সুদর্শন,

হারান শঙ্কর কে?

নীরু, প্লিজ।

আমার ভাই কে চিনেন না!

চিনি।

জানি সে কে!

ঠিক সেই কারণেই...

এখানে এসেছি!

হ্যাঁ, সমস্যা কি?

অ্যালেন, তোমার লোকেশন ট্র্যাক হচ্ছে।

তোমাকে কেউ অনুসরণ করছে।

হ্যাঁ, পেয়েগেছি।

আমি দেখছি।

তোমাকে আমরা সবসময় সাপোর্ট করেছি।

কিন্তু এখন সবকিছু তোমার নিয়ন্ত্রণের বাইরে চলে যাচ্ছে।

এই হারান শঙ্করের সিচুয়েশন কীভাবে মোকাবেলা করার পরিকল্পনা করছো?

সিচুয়েশন?

এক ভাই তার বোনের সাথে হওয়া বর্বরতার প্রতিশোধ নিতে বেরিয়েছিল।

সে কোন সমস্যা নয়।

সাধারণ মানুষ মাত্র।

সাধারণ মানুষ?!

সত্যিই জানো না, হাহ?

এতদিন একসাথে কাটানোর পরও,

এখনও জানো না কে বা তার পেশা কী?

একরকম শিল্পী।

লম্বা শ্বাস নাও, অ্যালেন।

দরকার পরবে।

হারান শঙ্কর কোন বেকার শিল্পী বা রাগী ভাই নয়, যেমনটা ভাবছো।

যাকে কর্ণাটক পুলিশ কয়েক মাস ধরে খুঁজছিল।

৪৮ ঘন্টার মধ্যে সে অমরকে মৃত্যুদণ্ড দিয়েছে।

এটা কাকতালীয় ছিল না।

সে একজন স্কাই মার্শাল!

এটা কমপ্যাক্ট সিকিউরিটি পোস্ট।

১৯৯৯ ইন্ডিয়ান এয়ারলাইন্সের ফ্লাইট হাইজ্যাকের পর,

ভারত সরকার একধরনের সামরিক নিয়োগের সিদ্ধান্ত নেয়

প্রতিটা বাণিজ্যিক এয়ারলাইনে সন্ত্রাসী হুমকি মোকাবেলার জন্য।

সেও তাদের একজন!

এই কারণে তুমি বা অন্য কেউ এটা জানতে পারোনি।

একজন স্কাই মার্শালের পরিচয় সবসময় গোপন রাখা হয়।

এজন্য সে...

সহজে আমাদের মধ্যে মিশে যায়,

রক্ষক হিসাবে ভারতীয় আকাশসীমা সুরক্ষিত করে,

একজন প্রাক্তন এনএসজি কমান্ডো!

এটাই তার কাজ।

ক্লোজ কোয়ার্টার প্রশিক্ষিত

এবং একজন অভিজ্ঞ যুদ্ধা।

এবং পুরো বিমানবন্দরে তার প্রবেশাধিকার রয়েছে।

চায়লেই আমাদের নিমেষে হাওয়া করে দিতে পারে।

আমি দেখছি!

ধ্যাৎ!

ঠিক আছে, হারান, আমাদের অ্যাকশন প্ল্যান কি?

প্রথম ধাপ,

আমাদের ফ্লাইট 'AN469' প্রস্তুত করতে হবে,

যেটাতে আমি চড়তে যাচ্ছি,

মক ড্রিলের জন্য।

দ্বিতীয় ধাপ, ফ্লাইট ম্যানিফেস্ট

যেহেতু আদালতের নির্দেশিত সাক্ষী ট্রানজিট আছে,

টেক অফের ১৫ মিনিট আগে ম্যানিফেস্ট চূড়ান্ত করা হবে।

সেটা রোহান নিশ্চিত করবে।

অল সেট, সবকিছু ওকে, হারান।

আমার টিম অন আছে।

তাহলে, চূড়ান্ত অংশ আমার দায়িত্বে।

ফ্লাইট উরার মুহূর্ত থেকে,

আমরা কোচি এবং বেঙ্গালুরু CAS-টিমেন মধ্যে সমন্বয় করব

অপারেশন সম্পূর্ণ করার জন্য।

কিন্তু হারান এমন স্পষ্ট হুমকি, তবুও ফ্লাইট টেক অফ করা কি বুদ্ধিমানের কাজ?

যদি আমরা ফ্লাইট বাতিল করি

অ্যালেন পরিকল্পনা পরিবর্তন করবে

অন্য ট্রায়াল অন্য ফ্লাইটে।

যদি এমন সংকটের সময় ফ্লাইট গ্রাউন্ড করতে হয়,

আমাদের থাকার মানে কি?

বিশ্বাস রাখো।

এজন্যই আমি প্রশিক্ষিত।

ধরে ফেলবো।

ডান, হারান ভাই।

ওকে লক ডাউন করব, বরাবরের মতো।

শুভকামনা রইল।

ধন্যবাদ, স্যার।

শুভ সন্ধ্যা, স্যার।

- শুভ সন্ধ্যা। - শুভ সন্ধ্যা।

হ্যালো, ওয়েলকাম টু বোর্ডে, স্যার।

দীপক...

স্যার।

দীপক জন।

বোর্ডিং শুরু হলে কি ড্রিল শুরু হয় না?

যদি বলি...

এটা ড্রিল নয়?

স্যার?

১৫ মিনিটের মধ্যে, এক খুনি ফ্লাইটে উঠবে।

তিনি কে বা তার পরিকল্পনা কি তা আমরা কিচ্ছু জানি না।

তাকে খুঁজতে এসেছি।

এজন্য,

একজন ক্রু সদস্যের সাহায্য দরকার যিনি প্রকৃত পরিস্থিতি সম্পর্কে জানে।

তোমাকে ভরসা করতে পারি, দীপক?

হ্যাঁ, স্যার।

নকুল।

আমার কথা শুনতে পাচ্ছো?

লাউড অ্যান্ড ক্লিয়ার, হারান।

ইন-ইয়ার ট্রান্সমিটার।

সামরিক গ্রেড। সমস্ত ফ্লাইট নেটওয়ার্কের সাথে সামঞ্জস্যপূর্ণ।

নকুলের ফোনের সাথে আমি এটা কানেক্টেড করেছি।

সুতরাং, সরাসরি আমার সাথে যোগাযোগ করতে পারবে,

তখনও, এমনকি আমি যখন ৪০০০০ ফুট উপরে থকবো।

ঠিক আছে, উই আর অন।

এখন তুমি সিকিউরিটি ওয়াই-ফাই বাবল নেটওয়ার্কের সীমার মধ্যে রয়েছ৷

সিভিল এভিয়েশন সিকিউরিটির দ্বারা।

যতক্ষণ না ফ্লাইট বেঙ্গালুরু বিমানবন্দরে ল্যান্ডিং করে,

নিশ্চিত করো যেন ৩০০-মিটার মধ্যে থাকো।

আর আলিশা...

হ্যাঁ।

আমরা তোমার উপর নির্ভর করছি।

হাই, ওয়েলকাম টু বোর্ডে।

- সিট টা? - আরো সমানে।

- একটু সামনে? - হ্যাঁ।

হাই, ওয়েলকাম অন বোর্ড।

যাত্রী উঠতে শুরু করেছে।

তাদের মধ্যে একজন খুনি যাকে আমরা খুঁজছি।

৭৫ মিনিটের মধ্যে খুঁজে বের করতে হবে।

বেঙ্গালুরে ফ্লাইট ল্যান্ডিংয়ের আগে।

এখন থেকে সময় শুরু হচ্ছে...

ওই দিকে, স্যার।

হ্যালো, স্যার, আরও সামনে, জানালার সিট।

ওয়েলকাম অন বোর্ড, স্যার। কেমন আছেন?

হাই, ওয়েলকাম অন বোর্ড।

নকুল, চিত্রমল এসেগেছে।

কপি, হারান।

APO অন।

বোর্ডিং ইস নাউ কমপ্লিট।

স্যার, আমরা কি বিপদে আছি?

স্যার।

আহ, হ্যাঁ। অনেক ধন্যবাদ।

ঠিক আছে, চলো।

এখান থেকে ফ্লাইট ম্যানিফেস্ট টানুন।

- অ্যাক্সেস কোড এপ্রুভ হয়েছে? - হ্যাঁ স্যার।

আমরা এখন টেক অফের জন্য প্রস্তুত।

কেবিন ক্রু, অনুগ্রহ করে কেবিন প্রস্তুত করুন এবং টেক অফের জন্য নিজ স্থানে গিয়ে বসুন।

কফি উপভোগ করুন, ম্যাম।

হ্যালো, ম্যাডাম। আপনার কিছু লাগবে?

হারান, ফ্লাইট ম্যানিফেস্ট লোড করা হয়েগেছে।

আলিশা,

এটা ফ্লাইটের সকল যাত্রীদের তালিকা।

আলিশা।

আলিশা,

আমি চাই তুমি ভালো করে ফোকাস করো।

এখন, পুরো ফ্লাইট ম্যানিফেস্ট তোমার চোখের সামনে আছে।

এখান থেকে তোমার সেই লোকটাকে চিনতে হবে।

সাক্ষীদের খুন করার জন্য অ্যালেন দুটি লক্ষ্য বেচে নিয়েছিল,

আর অমর তাদের ব্ল্যাকমেইল করছিল।

তাদের একজন আনসার।

কিন্তু আমি সেখানে গিয়েছিলাম, আনসারের বদলি হয়ে।

আমরা যাকে খুঁজছি,

গুদামে প্রথম তুমি সেই মানুষটাকে দেখেছো।

একমাত্র তুমি তার মুখ দেখেছো।

দুর্ঘটনার আগে দেখেছো।

বয়স চল্লিশের কাছাকাছি।

ঠিক আমার মতো ওই লোকটাও তোমার স্মৃতিতে রয়েছে।

হারান...

একেকটা ছবি চেক করতে তার ৪ মিনিট সময় লাগছে।

আর এখনও ৪৭টা ছবি বাকি।

এমন হলে কখনো সময়মতো সবগুলো কভার করা সম্ভব হবে না।

এরমধ্যে যদি সাক্ষীকে আক্রমণ করে,

কোন ব্যাকআপ প্ল্যান আছে?

স্ক্রীনিং চালিয়ে যাও।

- এই কি হচ্ছে? - স্যার।

আতঙ্কিত হবেন না।

স্যার, ম্যাডাম, দুঃখিত।

এই সিটে লাইফ সাপোর্ট সিস্টেমে সমস্যা আছে।

আমরা আপনাকে অন্য একটি সিট দিচ্ছি।

প্রয়োজন নেই।

দুঃখিত, স্যার, এটা এয়ারলাইন পলিসি।

লাইফ সাপোর্ট সিস্টেমে সমস্যা হলে আপনার সিট পরিবর্তন বাধ্যতামূলক।

প্লীজ, বুঝার চেষ্টা করুন।

প্লীজ...

- এই, কে--- - স্যার, শান্ত হন।

স্যার, আমি হারান শঙ্কর।

ফ্লাইটের স্কাই মার্শাল।

আমরা তথ্য পেয়েছি

কেউ চিত্ররামলকে হত্যার উদ্দেশ্যে এই ফ্লাইটে উঠেছে।

যতক্ষণ না আমরা সেই ব্যক্তিকে শনাক্ত করি, আপনাকে এখানেই থাকতে হবে।

স্যার।

ম্যাডাম, ঘাবড়াবেন না।

এই ফ্লাইটের সকল যাত্রীর নিরাপত্তা আমার দায়িত্ব।

আমাকে টপকে কেউ আপনাকে স্পর্শ করতে পারবে না।

নেরু!

আরে দেবিকা।

কাহিনী টা বুঝলে?

আমার এই হার্ড ড্রাইভে ওর মতো মেয়েদের এমন অসংখ্য ভিডিও ফাইল রয়েছে

সবই আমি রেকর্ড করেছি,

তোমার বোনেরটা সহ।

যদি সেগুলো পর্ণ সাইটে আপলোড করি,

কয়েক ঘন্টার মধ্যে সাইটে আগুন লেগে যাবে।

তোমার রোগী, জেমস কাডুভুঙ্কাল,

মুখের সার্জারীর জন্য যাকে আজ সন্ধ্যায় ট্রান্সপার করা হচ্ছে

কোঝিকোড় সুপার স্পেশালিটি হাসপাতালে।

ডাক্তার দেবিকা শঙ্কর এতে স্বাক্ষর করবে।

কিন্তু কাদুভুঙ্কল সাহেবের পরিবর্তে,

অন্য কেউ অ্যাম্বুলেন্সে যাচ্ছে।

পুলিশের তল্লাশি শেষ হওয়ার পর...

নকুল, কি অবস্থা?

ল্যান্ডিংয়ের আরমাত্র ৪৫ মিনিট আছে। কোন কিছু জানা গেলো?

এখনো না, হারান। এখনও, ২৩ জন আছে।

স্যার, CAS থেকে কল এসেছে।

- দীপক, সাথে থাকো। - স্যার।

রোহান।

যাত্রীদের ভ্রমণ রুট আর ব্যাকগ্রাউন্ড চেক সম্পন্ন হয়েছে।

কোনো রেড ফ্ল্যাগ নেই।

ফ্লাইট ল্যান্ডিং করতে আর মাত্র কিছুক্ষণ বাকি।

কি মনে হয় মিথ্যা অ্যালার্ম নয়তো, হারান?

আলিশা,

সময় শেষ প্রায়।

সেই মুখ তুমি সেদিন রাতে অমরের আস্তানায় দেখেছিলে!

এটায় ফোকাস করো!

সত্য যে এটা একটা খুবই গুরুতর রোগ।

তবে এরজন্য পরীক্ষামূলক চিকিত্সার প্রোটোকল রয়েছে।

আমরা এখন লেন্ডিং শুরু করব

বেঙ্গালুরু আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরে উদ্দেশ্যে।

পরবর্তী, ২০ মিনিটের মধ্যে।

আলিশা!

একজন ব্যক্তির মুখ কয়েকটি বৈশিষ্ট্য নিয়ে গঠিত

যেমন, চোখ, নাক, ঠোঁট ইত্যাদি,

এসব মূলত মৌলিক বৈশিষ্ট্য বিশেষ।

অবশ্যই সেই বৈশিষ্ট্যগুলোর মধ্যে পৃথক বৈচিত্র সনাক্ত করার চেষ্টা করতে হবে।

তার মানে,

অনন্য বৈশিষ্ট্য খুঁজে বের করে নির্দিষ্ট ব্যক্তি সনাক্ত করার চেষ্টা করা উচিত

যা অন্য ব্যক্তির থেকে আলাদা করতে সাহায্য করে।

দাগ।

একটা দাগ ছিল।

কিসের দাগ?

ঠোঁটের উপরে সামান্য লম্বা দাগ ছিল, ছোট্ট আগুনে পোড়া দাগের মতো।

ঠিক আছে।

দাগ আছে এমন মুখ ম্যানিফেস্ট চেক করো।

হারান সব ছবি চেক করেছি, কিচ্ছু পাওয়া যায়নি।

নয়তো পাসপোর্টের ছবি জাল করেছে

অথবা ফ্লাইটে নেই।

সময় হয়ে গেছে।

কিসের?

আমাকে জিজ্ঞাসা করেছ

ব্যাকআপ প্ল্যান, আছে না?

হ্যালো চিন্নাপ্পা সাহেব।

আমি হারান শঙ্কর,

ফ্লাইটের স্কাই মার্শাল।

প্লীজ।

তো, কিভাবে সাহায্য করতে পারি?

জেট ল্যান্ডিং ক্লিয়ারেন্স পাইনি।

তাহলে বিজনেস ক্লাস বুক করো, বোকা!

যাও!

স্যার।

হ্যাঁ, ব্যাঙ্গালোরের একটি বিজনেস ক্লাস টিকিট।

ঠিক আছে, স্যার, টিকিট মেইল ​​করে দিয়েছি।

চিন্নাপ্পা সাহেব।

ফ্লাইট হুমকির মুখে আছে।

কিন্তু চিন্তা করবেন না।

ব্যাকআপ প্ল্যানও আছে।

আপনি আমার ব্যাকআপ প্ল্যান!

আমার জন্য না,

এই ফ্লাইটে ভ্রমণ করছে

যে আপনার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিবে সেই চিত্রারামলের জন্য।

যদি তার কিছু হয়...

আপনিও শেষ!

কিন্তু আমি সেই সুযোগটাও নিবো না।

এই, স্কাই মার্শাল!

হ্যাঁ, এটা সত্যি আমি একবার চিত্রামলকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিলাম।

কিন্তু অ্যালেন জড়িত ছিল জানতে পেরে আমি পিছপা হয়ে গেছি।

তার সাথে আমার আর কোন সম্পর্ক নেই।

শালা পুরা পাগল।

আমাদের প্রাথমিক লক্ষ্য।

নিবেদিতা সুদেব।

আর এই সকিনা আলী।

তার ভাই ওই বিমানবন্দরের গ্রাউন্ড কন্ট্রোল স্টাফ।

নিবেদিতার পরিকল্পনায় শেষ মুহূর্তের কোনো সমস্যা হয়ে গেলে,

আরেকটা ছোট্ট প্ল্যান-বি।

এটা তোমার প্ল্যান?!

এটা কার্যকরী পরিকল্পনা, চিন্নাপা।

এটাই কাজ করবে।

সাক্ষী সমস্যার জন্য একটি সিউর-শট সমাধান 'অমর ফিলিপ।'

বাকিটা সে সামলাবে।

কে সামলাবে তাতে আমার কিছু যায় আসে না।

এসব সেক্স-ভিডিও দিয়ে ব্ল্যাকমেইলিং করা আমার স্টাইলের মধ্যে পরে না।

যদি না পারো তাহলে বাদ দাও।

জানি কিভাবে এসব সামলাতে হবে।

জানি না তার পরিকল্পনা কি

বা কীভাবে চিত্রামলের সমস্যার সমাধান করবে।

আর আমি এসব পাত্তা দিই না।

আমি সেদিন অ্যালেনের পরিকল্পনা প্রত্যাখ্যান করেছিলাম।

এরপর প্রসিকিউশনকে ঘুষ দিয়ে

আর বিচারের জন্য লাখ-লাখ টাকার পুলিশ...

মানে...

রোগীকে পজিশন করো।

এসে তারপর ইমেজিং শুরু করব।

ঠিক আছে।

যাব, ম্যাডাম?

হারান, একটা সমস্যা পাওয়া গেছে।

13B-তে চিত্রামলের নামে শৈলজা রবির সিট বুক করা হয়েছে।

অন্য ছয়জন যাত্রীও এই ফ্লাইটে সিট বুক করেছে

যে আইডি থেকে তিনি টিকেট বুক করেছিলেন।

কি?!

হ্যাঁ! এছাড়াও, সমস্ত টিকিট একসাথে বুক করা হয়েছিল।

সিট নাম্বার টেক্সট করেছি।

ফোন চেক করো।

নকুল।

6B, 8D, 9B, 10C, 22C আর 22D।

এই ছয় সিটের যাত্রীর ছবি ফিল্টার করে তথ্য বের করো।

হারান, পরিচয়গুলো সব ভুয়া।

8D-তে, থামীম রহিম নামে ভ্রমণ করছে আলবার্ট মানি

রাজস্ব কেরানি যে এক বড় রাজস্ব কেলেঙ্কারির জরিত।

বর্তমানে আত্মগোপন করে রয়েছে।

তেমনই, 22C এবং 22D তে,

ভ্রমণকারী দম্পতি হ্যালেন রাজগুরু এবং শিবমল্লি।

এক খেলোয়াড়ের বাবা-মা

গত জানুয়ারিতে তাকে হত্যা করা হয়েছিল।

তারা হাইকোর্টে মামলা করেছে

ক্ষমতাসীন দলের বর্তমান সচিবের বিরুদ্ধে

এবং তাদের প্রাণনাশের হুমকি রয়েছে।

এরা সবাই কর্ণাটকের হাই-প্রোফাইল মামলার সঙ্গে যুক্ত।

হারান, কী মনে হচ্ছে?

হ্যাঁ, তারা সবাই সাক্ষী।

তারাই সাতজন সাক্ষী যাদের পরিচয় অ্যালেন বিক্রি করে দিয়েছিল!

শুধুমাত্র চিত্রামল নয়,

সবাই কোচিতে ছিল।

এবং এই মুহূর্তে,

তারা আদালতে হাজির হতে যাচ্ছে

অ্যালেন জ্যাকবের বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দিতে!

ওই ধর্ষণগুলোতে চিন্নাপ্পার হাত ছিল না,

তারা চিন্নাপ্পার জন্যও প্রতিশ্রুতিবদ্ধ ছিল না।

অ্যালেন আমার মাধ্যমে নিজের প্ল্যান সাজিয়েছিল।

এখন, অ্যালেনের সংকট হলো,

ফ্লাইটের এই সাতজন।

কিন্তু হারান, ফ্লাইটের ভেতরে ৭ জনকে হত্যা করা সম্ভব নয়।

হুম,

ভিতরে না!

অ্যালেন চিন্নাপ্পাকে যে প্ল্যান শুনিয়েছিল তাতে দুটো মেয়ে ছিল।

তার ট্রাম্প কার্ড।

সকিনা আলী আর নিবেদিতা সুদেব।

সকিনার ভাই একজন গ্রাউন্ড স্টাফ

ব্যাঙ্গালোর বিমানবন্দরে যেখানে আমাদের ফ্লাইট ল্যান্ডিং করতে যাচ্ছে।

নকুল, নিবেদিতা সুদেব!

তার পরিবার সম্পর্কে খোঁজ করো।

এক্ষুনি!

এই!

এটা।

সেদিন এই লোকটায় অমরকে দেখতে এসেছিল।

কে?

হারান, সুদেব আনন্দ।

আমি যাচাই করে দেখলাম, তার কোনো অনলাইন প্রোফাইল নেই।

তবে ছবিতে গলায় একটি নীল ট্যাগ রয়েছে

কিছু লেখা আছে...

A T C O.

এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল অপারেটর!

কি?!

It's the bloody ATCO!

রাজীব!

স্যার।

ঘড়ির কাঁটা ঘুরছে!

প্লীজ।

রানওয়ে, 2-তে সমস্যা আছে।

গ্রাউন্ড ক্রু, কপি?

রানওয়ে 02 ব্লক।

ওভার।

AN 469, এপ্রুভাল ফর ডিসেন্ট।

ট্রান্সপার টু অ্যাপ্রোচ কন্ট্রোলে।

এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোলাররা নিরাপদ ল্যান্ডিংয়ের নির্দেশ দেয়

বিমান আকাশসীমায় প্রবেশ করায়।

যদি একটি সংখ্যা ভুল টাইপ করে,

এটা অ্যালেনের মাস্টার প্ল্যান!

ফ্লাইট-টা ক্র্যাশ করতে চলেছে!

যদি কন্ট্রোলার অন্য ফ্লাইটের টেকঅফের সিদোল এক করে

একই রানওয়েতে একই সময়ে ফ্লাইট ল্যান্ডিং করায়,

তাহলে আলিশা, সব শেষ!

আমরা ব্যাঙ্গালোর আন্তর্জাতিক বিমানবন্দরের কাছে পৌঁছে যাচ্ছি।

কেবিন ক্রু, ল্যান্ডের জন্য কেবিন প্রস্তুত করুন।

ভদ্রমহিলা এবং ভদ্রলোকগণ, আমরা এখন ল্যান্ডের জন্য প্রস্তুত।

তাড়াতাড়ি দরজা খুলুন!

খুলুন!

- ক্যাপ্টেন। - হ্যাঁ?

দরজা খুলুন!

স্যার, কনসোল থেকে সরুন।

আবার বলছি, কনসোল থেকে দূরে সরে যান!

রাজীব।

- তুমি বসো। চলো। - স্যার।

AN469, অবস্থা কি?

চেক করো।

AN469, কপি?

AN469, কপি?

AN469।

ক্লিয়ার ফর ভিজুয়াল এপ্রোচ।

রানওয়ে 02।

ওভার।

- খুব ভালো। - স্যার।

ঝামেলা জন্য দুঃখিত, গাইজ।

বাই, ম্যাম... আমাদের সেবা নেয়ার জন্য ধন্যবাদ।

- বাই স্যার, ধন্যবাদ। - এই দিকে, স্যার।

বাই, ম্যাম।

বাই, সোনা।

ন্যাশনাল এয়ারলাইন্সে যাত্রা করার জন্য ধন্যবাদ, স্যার।

ধন্যবাদ, বাই।

শুভ সন্ধ্যা।

- ধন্যবাদ, ম্যাম। - স্যার!

দাঁড়াও, কীভাবে করলে...

ক্যাপ্টেন।

ট্রান্সপন্ডার বন্ধ করে দিয়েছিলাম।

কী ব্যাপার?

ট্রান্সপন্ডার হলো এমন ডিভাইস যা,

নিচে থাকা রিয়েল টাইম ফ্লাইট ডাটার সাথে কানেক্ট করায়।

ট্রান্সপন্ডার ডাটা ছাড়া ATC ফ্লাইট ট্র্যাক করতে পারে না। ATC - এয়ার ট্রাফিক কন্ট্রোল।

সেটা ককপিট থেকে ডিসকানেক্ট করি।

পাশাপাশি সেটার এক্সেসও।

- ধন্যবাদ, দীপক। - ধন্যবাদ, স্যার।

প্ল্যান মতো তাদের বেইসে নিয়ে যান।

আপনারা তার সাথে যেতে পারেন।

ঠিক আছে, স্যার।

রোহান, আমাকে দ্রুত পরবর্তী ফ্লাইটে কোচি ফিরে যেতে হবে।

আমিও প্রস্তুত।

আচ্ছা, ঐদিকের পরিস্থিতি জানতে...

একটা কল করা উচিৎ।

আপনার বোন নিরাপদ।

আমার লোক তাদের সাথে।

কিন্তু অ্যালেন জ্যাকব...

দুঃখিত, তাকে ধরতে পারিনি।

তাতে কী?

কেরালা আর কর্নাটকের পুলিশ তার পিছু নিয়েছে।

ধরা পরবেই।

কী মনে হয় সে এসব বিপদ কাটিয়ে বাঁচতে পারবে?

পারবে সেটা?

আসলে, পারবে...

অ্যালেন যখন সাক্ষী সুরক্ষা সেলে ছিল।

সে অনেক,

নিজের ভুয়া পরিচয় বানিয়ে রেখেছে।

বিচার বহির্ভূত সাক্ষীদের নিরাপদে স্থানান্তর করার জন্য।

সবাইকে বোকা বানিয়ে।

এই ধরণের নতুন পরিচিতি সাধারণত পুলিশদের নজর এড়িয়ে যায়।

আমাদের বিশ্বাস এমন কোনো ভুয়া পরিচয় তার হাত লাগেনি।

যা আমাদের রেকর্ডে নাই।

যদি এমন হয়,

এখন থেকে অ্যালেন জ্যাকব পরিচয় আর ব্যবহার করবে না।

যতক্ষণ না ভুয়া পরিচিতি ধারণ করছে।

আমাদের জন্য সে অদৃশ্য।

হ্যালো?

টেস্ট তো শেষ।

আমরা অপেক্ষা করছি।

দেভু, হারান কল করেছিল?

উম, না।

ঐ! অফিসার সিন্ধ্যা কল করেছিল।

হারানের ব্যাপারে জানতে চাচ্ছিল।

মনে হয় তার সন্দেহ হচ্ছে।

না, আংকেল... কল দেয়নি।

স্যার!

ম্যাম, অপেক্ষা করছে।

আহ, রাখছি।

ঠিক আছে।

এই অর্জুন প্রসাদের আধার কার্ড, প্যান কার্ড আর পাসপোর্ট।

কফিন লোড করে দিয়েছি।

অর্জুন প্রসাদ তার বাবা চার্লস প্রসাদের সাথে আছে...

একসময়কার কার্ডিয়াক সার্জন ছিলেন।

এটাই তোমার নতুন ভুয়া পরিচয়।

বাই।

স্বাগতম, স্যার।

মি. অর্জুন প্রসাদ,

ক্যাপটেন বলছি।

ওয়েলকাম অন বোর্ড।

মেজর...

আমি এখানে শখে আসিনি।

হারান গত কয়েক সপ্তাহে ব্যাঙ্গালোরে অনেকবার গিয়েছে।

কারোও খোঁজে আছে সে।

হয়তো জানো সেই মানুষটা কে!

আরও কিছু স্যার?

না, ধন্যবাদ, কারিনা।

এই নিন স্যার ফ্লাইট ট্রিপ প্ল্যান।

ধন্যবাদ।

কোর্টে অ্যালেনের উপস্থিতি নিশ্চিত করা আমার দায়িত্ব।

হারানকে আমি এর মাঝে ঢুকতে দিব না।

মেজর, আমার কথা শুনছেন?

মেজর, আবার জিজ্ঞেস করছি।

হারান শঙ্কর কোথায়?

আর, স্যার?

আপনার নিরাপত্তার জন্য স্কাই মার্শালও আছেন আমাদের সাথে।

ডিউটিতে আছে।

ওখানে দাঁড়িয়ে থাকা লোকগুলোকে দেখতে পাচ্ছো?

বিশ্বের সবচেয়ে দামী সিকিউরিটি।

তারাও তোমার মতো প্রশিক্ষিত।

রক্ষার জন্য নয়।

মারার জন্য।

তো...

এটাই, হারান।

মধ্য আকাশে মৃত্যু।

এক স্কাই মার্শালের জন্য সম্মানের মৃত্যু।

তাই না?

আর যখন নিচে নামবো...

পুরো পৃথিবী মানুষ...

অবাক হয়ে তামাশা দেখবে।

বিশ্বাস রাখতে পারো।

এর ভেতরে কিছুই নেই।

একদম সাফ আছে।

রোগীকে পজিশন করো।

পরে ইমেজিং করব।

ঠিক আছে।

তুমি কোথাও নামছো না।

দেখো তোমার, PI20 (Prosopagnosia Index 20) পরীক্ষার ফল অনেক ভালো এসেছে।

অবশ্যই আশা রাখতে পারি।

আচ্ছা,

প্রোসোপ্যাগনোশিয়া হওয়ার পরে যাকে প্রথম দেখেছিলে তার চেহারা মনে আছে?

মনে আছে এখনও?

ঐ চেহারা আমি কখনো ভুলবো না।

তার বর্ণনা দিতে পারবে?

বর্গাকাকৃতির মুখ।

কিন্তু থুতনিটা এমন যেন...

আরেক বাড়তি কোণা মনে হচ্ছিলো।

পঞ্চভূজের মতো।

বঙ্গানুবাদ: ★ সুশান্ত চক্রবর্ত্তী সৌমিক | ★ মিনহাজ আল ইসলাম | ★ ওমর ফারুক | ★ ফাহাদ আহমদ | ★ জাহিদ হাসান | ★ হাবীব উন নবী সিয়াম | ★ সোহান আহম্মেদ | ★ আরুশ আরিয়ান |

Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.