All language subtitles for Palm.Trees.in.the.Snow.2015.720p.BluRay.x264-Pahe.in

af Afrikaans
ak Akan
sq Albanian
am Amharic
ar Arabic
hy Armenian
az Azerbaijani
eu Basque
be Belarusian
bem Bemba
bn Bengali Download
bh Bihari
bs Bosnian
br Breton
bg Bulgarian
km Cambodian
ca Catalan
ceb Cebuano
chr Cherokee
ny Chichewa
zh-CN Chinese (Simplified)
zh-TW Chinese (Traditional)
co Corsican
hr Croatian
cs Czech
da Danish
nl Dutch
en English Download
eo Esperanto
et Estonian
ee Ewe
fo Faroese
tl Filipino
fi Finnish
fr French
fy Frisian
gaa Ga
gl Galician
ka Georgian
de German
el Greek
gn Guarani
gu Gujarati
ht Haitian Creole
ha Hausa
haw Hawaiian
iw Hebrew
hi Hindi
hmn Hmong
hu Hungarian
is Icelandic
ig Igbo
id Indonesian
ia Interlingua
ga Irish
it Italian
ja Japanese
jw Javanese
kn Kannada
kk Kazakh
rw Kinyarwanda
rn Kirundi
kg Kongo
ko Korean
kri Krio (Sierra Leone)
ku Kurdish
ckb Kurdish (Soranî)
ky Kyrgyz
lo Laothian
la Latin
lv Latvian
ln Lingala
lt Lithuanian
loz Lozi
lg Luganda
ach Luo
lb Luxembourgish
mk Macedonian
mg Malagasy
ms Malay
ml Malayalam Download
mt Maltese
mi Maori
mr Marathi
mfe Mauritian Creole
mo Moldavian
mn Mongolian
my Myanmar (Burmese)
sr-ME Montenegrin
ne Nepali
pcm Nigerian Pidgin
nso Northern Sotho
no Norwegian
nn Norwegian (Nynorsk)
oc Occitan
or Oriya
om Oromo
ps Pashto
fa Persian
pl Polish
pt-BR Portuguese (Brazil)
pt Portuguese (Portugal)
pa Punjabi
qu Quechua
ro Romanian
rm Romansh
nyn Runyakitara
ru Russian
sm Samoan
gd Scots Gaelic
sr Serbian
sh Serbo-Croatian
st Sesotho
tn Setswana
crs Seychellois Creole
sn Shona
sd Sindhi
si Sinhalese
sk Slovak
sl Slovenian
so Somali
es Spanish
es-419 Spanish (Latin American)
su Sundanese
sw Swahili
sv Swedish
tg Tajik
ta Tamil
tt Tatar
te Telugu
th Thai
ti Tigrinya
to Tonga
lua Tshiluba
tum Tumbuka
tr Turkish
tk Turkmen
tw Twi
ug Uighur
uk Ukrainian
ur Urdu
uz Uzbek
vi Vietnamese
cy Welsh
wo Wolof
xh Xhosa
yi Yiddish
yo Yoruba
zu Zulu

Original subtitles

মুভি→ Palm Tree in the Snow (2015) দেশ→ স্পেন ভাষা→ স্প্যানিশ বাংলা সাবটাইটেল→ হাসান মাহাদী

- কিলিয়ান, যেতে হবে। - আসছি।

এভাবেই আমাকে আজীবন মনে রেখো, আমিও মনে তোমাকে রাখব।

শুভকামনা।

আমার শুভক্ষণ এখানেই শেষ!

বিদায়।

বিদায়।

হে ঈশ্বর, জ্যাকবো দে রাবালতুয়ে’কে চিরনিদ্রায় শায়িত করো।

এবং তোমার দীপ্তিময় কিরণে তাকে আলোকিত করো।

যত বিশ্বাসী তোমার সোপানে ধাবিত হয়েছে...

তাদের ক্ষমা করো এবং শান্তিতে রাখো।

এসো, এ দিকটা নিরিবিলি।

আমাদের অনেককিছু বলার ছিল।

বাবা... আরও আগে আসতে হতো।

তোমার বাবা কেমন আছেন?

যখন দেখে মনে হয় ঠিক আছে, তখন ভালোই লাগে।

অন্যসময় অবস্থা খারাপ থাকে।

মনে হয় সব ভুলে গেছে, কী বলে বুঝতে পারি না।

বিয়োকো, চাষাবাদ এগুলো বলে।

মনে হয়, যেন বর্তমানের চেয়ে অতীতটা বেশি জীবন্ত।

কখনো এমনভাবে তাকিয়ে থাকে, মনে হয় আমাকে চেনে না।

আবার কখনো, তাকেও আমার অচেনা মনে হয়।

জানি তুমি কী বলতে চাচ্ছ।

স্কি রিসোর্ট থেকে সেই উকিল গত সপ্তাহে আবার এসেছিল।

আমাদের জমি কেনার ব্যাপারটা দ্রুত চূড়ান্ত করতে চায়।

যেন আসছে বসন্তে বিল্ডিংয়ের কাজ শুরু করতে পারে।

আর... বিক্রির জন্য তোমারও স্বাক্ষর প্রয়োজন।

মনে হয় চুক্তিটা এখানে হয়েছে।

ক্লেরেন্স! জানি, এখন বলাটা শোভা পায় না।

যত দ্রুত এসব শেষ হবে, ততই ভালো।

এই যে, এখানে...

- কী এটা? - আমার বাবার ডায়েরি।

- দু:খিত। - সমস্যা নেই।

- ড্যানিয়েলা? - কী?

কিলিয়ান।

ওহ, আসছি।

বাবা, হাই।

আবার? মা আমার, দু:খিত!

মাফ করে দিস।

- ক্লেরেন্স, একটু হাত দেবে? - হ্যাঁ।

হয়ে গেছে।

বাবা, কিছু বুঝতে পারছি না... তবুও ভালো লাগছে।

ড্যানিয়েলা, আমার সাথে থাক।

আছি বাবা।

জুলিয়া।

- এসবের কোনো প্রয়োজন ছিল না। - কোনো সমস্যা নেই।

এক কাপ গরম চকোলেট চলবে?

যেদিন আমি না বলেছি, সেদিন থেকেই তোমার চিন্তা শুরু হয়েছে।

অফিসে যখন কিছু কাগজপত্র গুছাচ্ছিলাম...

একটা চিঠির ছেঁড়া অংশ পেলাম...

দেখে মনে হলো, চিঠিটা আফ্রিকা থেকে পাঠানো।

মাফ করো।

এক নির্বোধ বৃদ্ধা মহিলা।

এটা আমার স্বামীর হাতের লেখা।

আপনি জানেন উনি কার কথা লিখেছেন?

উনি এক মহিলা আর বাচ্চাদের কথা লিখেছেন, যাদের টাকা পাঠাত...

ক্লেরেন্স, আমি পড়তে পারি।

আমি ব্যাংক হিসাবটা দেখেছিলাম।

দেখে মনে হলো, এখান থেকে নিয়মিত টাকা পাঠানো হতো।

- তোমার আংকেলকে জিজ্ঞাসা করো। - ওনার অবস্থা কথা বলার মতো না।

আমার জীবনে গুরুত্বপূর্ণ, এমন কাউকে ভুলে যেত চাই না।

জুলিয়া, কী সমস্যা?

যেভাবে এসেছি, যদি সেভাবে না আসতাম...

মনে হয় না আমরা পাসালোবিনো যেতে পারতাম।

আর আমার বাবা? সে ওখানে স্বাচ্ছন্দ্যে থেকে গিয়েছিল?

তোমার বাবা কখনোই মনের কথা বলত না।

এটা আমি অন্যের চেয়ে ভালো জানি।

আচ্ছা, হয়ত আমার মা....

ওকে বিশেষ সুখী মনে হয়নি আমার।

আমি বায়োকো যাব ঠিক করেছি।

আমাদের আসা ৪০ বছর হয়ে গেছে।

ওখানে কোনোকিছুই তোমার পছন্দ হবে না।

- কোনো ব্যাপার না। - আমাদের পরিচিত ছিল ফার্নান্দো পু, সে-ও বেঁচে নেই।

তাছাড়া, একটা মেয়ের একা একা যাত্রা করাও ঝুঁকিপূর্ণ।

এসবের বাইরে কোনোকিছুই মাথায় আসছে না, তাই না?

জানো ক্লারা?

বুবিদের কাছে, পূর্বপুরুষদের সম্মানের চেয়ে কোনো কিছুই গুরুত্বপূর্ণ না।

কথাটা মনে রেখো।

সাম্পাকা পৌঁছালে সিমন এর খোঁজ করবে।

সে ছিল কিলিয়ানের কাজের ছেলে।

টাকার জন্য ম্যানুয়েল এর সাথেও যোগাযোগ ছিল...

এ যাবত যেটা গিনিতে পাঠানো হয়েছিল।

সে হয়ত তোমার চেয়ে একটু বড় কাউকে

তোমার সাথে যোগাযোগ করিয়ে দেবে।

ওর নাম ফার্নান্দো।

কোনো ব্যাপার না, জায়গাটা সেই উপত্যকার মতোই ছোট।

অবশ্যই তোমার টাকাটা ওকে পৌঁছে দেবো।

বাচ্চাদের নিয়ে ও ভালো আছে, টাকা পাঠানোর জন্য ধন্যবাদ।

জানুয়ারি ১৮, ১৯৫৪

প্রিয় ক্যাটালিনা...

আমি একটা বাড়ির সদর দরজায় দাঁড়িয়ে আছি, যেন পুরোটাই মুখস্থ করা চেষ্টা করছি।

কিলিয়ান, জলদি!

এখনো তোমার সময় আছে।

চিন্তা করো না, আমি ঠিক আছি।

এসো।

বাড়িতে আর কেউ নেই।

যদি এটা বেশি দূরে না হতো।

মা, মাত্র ৬ হাজার কিলোমিটার!

চলো, আমরা স্কি চালু করি।

চলো, শুভ বিদায় তাহলে।

যদি কখনো ক্ষুধা লাগে।

তোকে খুব মিস করব।

আমাদের কথা মনে পড়লে এখানে লিখে রেখো।

যখন ফিরবে তখন পড়ব।

ধন্যবাদ।

- তোমার ভাইকে দেখে রেখো। - আচ্ছা।

জলদি ফিরে এসো।

বিদায়, মা।

বুঝতে পারছি না, এই ভাষাটা লেখা একরকম, উচ্চারণ অন্যরকম।

এই নাইজেরিয়ান লেখার দরকার নেই।

যেগুলো প্রয়োজন আমি আন্ডার-লাইন করে দিয়েছি।

ভাই, ভিন্ন দেশের জীবনধারা কেমন সেটা জানো?

জানি না।

সমুদ্র দেখার তর সইছে না।

ফেব্রুয়ারি ২, ১৯৫৪

প্রিয় ক্যাটালিনা, আমরা প্রায় গিনি পৌঁছে গেছি।

জাহাজে ম্যানুয়েল রিজ এর সাথে দেখা হয়েছে।

ওর সাথে পরিচয় সানতা ইসাবেলা হাসপাতাল থেকে।

সে আমাদের স্টেটে নতুন ডাক্তার।

জন্মস্থানে ফিরে স্বদেশ গিনি আবিষ্কারের জন্য মত উতলা হয়ে আছে।

সত্যিকারের গিনি।

যদি সামান্য কিছু অবশিষ্ট থাকে।

কেমন লাগছে?

ও নির্বাক!

ওই কালো লোকগুলোকে দেখছিস? সবই এক।

ঠিক ভেড়ার মতো। এখন থেকে...

মাস খানেক না গেলে ওদের সাথে কথা বলতে পারবি না।

বাবা।

জ্যাকবো।

- জন্মস্থানে স্বাগত বাবা। - ধন্যবাদ।

কেমন আছ?

ঠিক আছ তুমি?

হ্যাঁ ঠিক আছে, শেষ কর্মযজ্ঞটা প্রত্যাশার চেয়ে একটু বেশি কঠিন ছিল।

মা তোমার জন্য সুটকেস ভর্তি জিনিস পাঠিয়েছে।

আমি নিশ্চিত, অল্পক্ষণেই তুমি ঠিক হয়ে যাবে।

শুভ বিকাল।

আমার ছেলে কিলিয়ান, আর.. আমাদের স্টেট ডাক্তার।

স্বাগতম, তোমার প্যাকেজের জন্য ধন্যবাদ।

প্রথম কথা কিলিয়ান, গার্ডদের হাসিখুশি রাখতে হবে।

এখন থেকে সিগারেট, হুইস্কি, ডিম যা পারো ওদের হাতে দেবে।

ওদের যত খুশি রাখবে, তোমার প্রয়োজনে ওরা তত তড়িৎকর্মা হবে।

অনেক হয়েছে, এবার ওসেকে গাড়ি চালাতে দে।

মনে হয় না, বস তোকে গাড়ি চালাতে দেখে খুশি হবে।

গারুজ জানে না, জানে ওসে?

চল।

সবকিছু সাজানো মনে হচ্ছে।

আপনাদের মতো উজ্জ্বল ভবিষ্যতের লোকগুলো...

মাদ্রিদে থাকতে যায় কেন? ধন্যবাদ।

আসলে, উদ্ভিদবিদ্যা আমার দ্বিতীয় পেশা।

বিভিন্ন প্রজাতির উদ্ভিদের চিকিৎসায় প্রয়োগ নিয়ে গবেষণা করতে চাই।

জানি না এসবের সময় হবে কি না।

আর তুমি, নওজোয়ান?

আমাদের এখানে বুদ্ধিমান এবং কর্মঠ লোক প্রয়োজন।

প্রথম দুই সপ্তাহ তোমার শিক্ষানবিশ সময়।

পাশের লোকদের দেখো, ওরা যা করে করো।

তুমি গ্রেগোরিওর সাথে ওবসায় যাবে।

আমার সাথে ইয়াকাতো যাবে না?

ওবসায়তে যেরকম কাজ হওয়ার কথা হচ্ছে না, একজন নতুন লোক গেলে ভালো হবে।

জ্বি, স্যার।

শ্রমিকদের সাথে কর্তৃত্বের সাথে মধ্যস্থতা করবে তবে অবশ্যই ন্যায়সঙ্গত ভাবে।

ঠিকভাবে সবকিছু সমাধান করতে না পারলে ওদের সম্মান পাবে না।

ধন্যবাদ, মি. লোরেনজো।

- অ্যান্টন, এই ছেলেটা কে? - সিমন, নতুন এসেছে।

ওকে বাইরে যেত দিয়ো না, নইলে নিজের ইচ্ছেমতো যাবে আসবে।

এটুকুই।

- সুপ্রভাত। - অনেক ধন্যবাদ।

আদেশ পালন কর।

আমি আদেশ দিচ্ছি।

এদিকে আয়।

আমি তোর বস।

আমিই বস।

কাজ কর।

কাজে ফিরে যা।

- মাসা, ঘণ্টা বেজে গেছে, উঠে পড়ুন। - আসছি, এক মিনিট।

আসছি।

মাসা, সিমন আপনার খেদমতে হাজির।

এখনো অন্ধকার হয়ে আছে।

কাজ শুরু করতে করতে আলো এসে যাবে।

১০ মিনিটের মধ্যে সবাই বাইরে দাঁড়াবে।

- আমি আপনাকে পোশাক পরিয়ে দিচ্ছি। - ধন্যবাদ, আমি নিজে পারব।

- আমি সাহায্য করব। - আমি পারব, দাও আমাকে।

একমিনিট দেরি হলে বেতন কাটা যাবে।

- শুভকামনা। - বাবার সাথে আসছে ওই লোকটা...

- গ্রেগরিও। - সুপ্রভাত।

আমার ছেলের সাথে পরিচিত হও।

আরেক রাবালতুয়ে, মনে হচ্ছে পুরো পরিবার এসে পড়বে।

চলো, বাবা।

প্রতি গাড়িতে ২০ জন করে।

গণনা শুরু করো।

আমি অসুস্থ, মাসা।

আবার সেই পুরোনো কেচ্ছা!

কাজে যা।

মিথ্যা, সবসময় মিথ্যা বলবে আর অজুহাত দেখাবে।

তোমার ভাই রড নিয়ে আসছে কেন জানো?

মালিক আরও লাভ চায়, আর আমাদের বোঝাতে হয় যে, আমরা সেটা করছি।

এগুলো তোমার দায়িত্বে।

- সাপ! সাপ! - কী হয়েছে এখানে?

সাপ!

ওপরে গিয়ে মেরে এসো।

যাও ওপরে।

এটা দেখেই তোমরা ভয় পাচ্ছিলে?

এটা?

ওকে হাসপাতালে পাঠাও, বাকিগুলো কাজে যাও।

প্রথম দিনটা কেমন গেল?

ওরা এভাবে গান গায় কেন?

কাজ করার জন্য।

যেন চিন্তা-ভাবনা ছেড়ে কাজে মন দিতে পারে।

কী হয়েছে, দেখতে ভালো লাগছে?

দুঃখিত।

মাঝপথেই তো শেষ হয়ে গেল!

এখন না, এটা হিসাবের মধ্যে না।

এ পথে পা বাড়িয়ো না।

জঙ্গলে দুই এক ঘণ্টার বেশি টিকতে পারবে না।

কিলিয়ান!

ভুলে গেছ আমাকে?

- জুলিয়া? - হ্যাঁ।

মাফ করো, তুমি অনেকটা...

- তুমিও অনেক বড় হয়ে গেছ। - কতদিন হলো?

দশ বছর হবে?

এতদিন আগে আমাদের দেখা হয়েছিল?

- কেমন আছ? - আছি ভালো, চলো ভেতরে।

- তোমার বাবা মা কেমন আছে? - আছে ভালোই।

আমি প্রতিজ্ঞা করেছি, পাসালোবিনো ফিরে যাব।

কিন্তু একটা কারণে যাচ্ছি না।

জ্যাকবোকে সবসময় পাহাড়ের কথা বলি।

- যাই হোক, ও ফিরেছে নাকি? - হ্যাঁ, তবে...

এই তো।

হাই, জুলিয়া? কেমন আছ?

কী করছ?

- আছি ভালো, তুমি? - ভালো আছি।

- ছুটি কেমন কাটালে? - দারুণ কাটিয়েছি।

আমাদের একটুও মিস করোনি?

আসলে, অনেক তাড়া আছে।

ডাক্তারের জন্য বাবা-মা একটা বিদায়ী সন্ধ্যাভোজ দিচ্ছে।

তোমরা আসতে পারো, অনেক মজা হবে।

কিলিয়ানকে দেখে মনে হচ্ছে, জঙ্গল থেকে নিস্কৃতি দরকার।

আমরাও খুশি হব।

গবেট!

অসাধারণ!

- কী সমস্যা? - কিছু না।

মশার কামড়ে এটা একটু লাগিয়ে দিচ্ছি।

- আচ্ছা। - এটা দারুণ কাজ করে।

- ধন্যবাদ। - দেখি?

জ্যাকবো।

দেখ ওরা কত সুখী।

নিজের আয় সানতা ইসাবেলায় খরচ করানোর জন্য জীবন দিয়ে দিচ্ছে।

দেখ।

আমাদের ওই ফালতু ডিনারে যেতে হবে কারণ না বলতে পারিনি।

- জুলিয়া দারুণ মেয়ে। - কিলিয়ান, সব মেয়েই দারুণ।

যতদিন তোর ওপরে ভর না করেছে।

চল, ফূর্তি কর।

বাবা!

ওয়াও, দেরি করলাম নাকি?

না, না, বেলকনি থেকে তোমাদের দেখা গেল, তা-ই এলাম।

- সুন্দর দেখাচ্ছে। - ধন্যবাদ।

বেশ...

দামোসো, যাওয়ার জন্য ভালো সময়ই ঠিক করেছ।

কেনিয়া থেকে বেলজিয়ান কঙ্গো পর্যন্ত নতুন স্বাধীনতাবাদ ছড়িয়ে পড়েছে।

গিনি আসতেও সময় নেবে না।

বুঝতেই পারছ, এ দেশ ক্রান্তিলগ্নে এসে গেছে।

জাহাজে থাকাবস্থায়, মাও মাওদের তৎপরতার ব্যাপারে পড়েছিলাম।

এসব রাজনৈতিক আলোচনা অন্য সময় কোরো।

আচ্ছা কিলিয়ান, মারিয়ানা, ক্যাটালিনা কেমন আছে?

ওরা আমাদের মিস করে।

আপনি একটু বাবাকে বোঝান যেন ছুটি নেয়।

অ্যান্টন, ছেলের কথা শোনো।

ভাবতেই পারছি না, ওরা কতটা এককীত্ববোধ করছে।

মৌসুম যখন শেষ হবে...

অজুহাত না দেখিয়ে, একটা দিন ঠিক কোরো।

তোমার বৌ-মেয়ে ওখানে।

বাড়িতে শুধু টাকা পাঠালেই হলো না।

মনে হচ্ছে, খাবার খুব ভালো হয়েছে জ্যাকবো?

- যে রান্না করেছে তাকে অভিনন্দন। - আমার দিকে দেখো না।

রাঁধুনী তোমার সামনে বসে আছে।

জুলিয়া!

আমি একটু আসছি।

আসছি আমিও।

জুলিয়া?

মি. দামোসো, সবার থেকে বিদায় নিয়েছ?

হয়ে যাবে।

সবার কাছ থেকে?

তবে আমি জানি, আজ রাতে একজনের মন খুব খারাপ হবে।

যেমন বাকি সবার মন খারাপ হয়।

তুমি যেখানেই পা দাও, একটা চিহ্ন রেখে আসো।

ওরা রেজিনার কথা বলছে, বহুদিন থেকে দামোসোর সাথে সম্পর্ক।

স্পেনে ওর বৌ-বাচ্চা আছে না?

স্পেন? সে তো বহুদূর!

নিষ্পাপ লোককে প্রথম পাথরটা আনতে দাও, তাই না, বাবা?

যদি মদ আর নারী থেকে দূরে থাকো...

তোমার স্বাস্থ্য আর সম্পদ দুটোই সুরক্ষিত থাকবে।

তোমার উদ্যমের কথা হচ্ছে না, মনে রেখো তুমি কার সহচার্যে আছ?

ধন্যবাদ, জুলিয়া।

যদি আমরা ছোটবেলো থেকে পরিচিত না হতাম...

মনে হয় আমাকে দেখে জ্ঞান হারাতে।

না, বাবার কথা ভাবছিলাম কেমন মনমরা মনে হচ্ছে।

হ্যাঁ, আমারও সেরকম মনে হলো।

মাসা জ্যাকবো, মাসা জ্যাকবো।

কী হয়েছে?

ব্যারাকে কিছু লোক নাচ-গান করছিল।

হঠাৎ মারামারিতে জড়িয়ে পড়ে।

পরিস্থিতি সামলাতে আপনাদের কাউকে আসতে হবে।

একজন আহত হয়েছে, আর আজ শনিবার।

সেখানে বলার মতো আপনাদের কেউ নেই এমনকি ডাক্তারও নেই।

ধুর! মি. এমিলিও, জেনেরসা, কিলিয়ান, দুঃখিত।

- ভালোই আনন্দ করছিলাম। - আগের কাজ আগে।

আনন্দ অন্য সময় হবে।

- অবশ্যই, চল কিলিয়ান। - জলদি।

- এমিলিও তোমার বাবাকে নিয়ে যাবে। - সমস্যা নেই, আমি সামলে নেব।

- সাবধানে থেকো। - তুমিও।

ধন্যবাদ। শুভ সন্ধ্যা, কিলিয়ান।

- শাবাশ নেলসন। - তুমি একটা বেয়াহা।

সানতা ইসাবেলায় স্বাগতম আমরা পথেই আছি, গাউ।

শুভ সন্ধ্যা জ্যাকবো।

দেখো কে এসেছে!

- তোমাকে খুব মিস করেছি। - আমিও সোনা।

- আমার ভাই, কিলিয়ান। - ফূর্তি করো।

সেজন্যই তো এসেছি, তুমি এখনই মাতাল!

কালো লেবেল, সবথেকে ভালো হুইস্কি তবে বিয়ারের চেয়ে সস্তা।

ফ্রি হওয়ার সুবিধা, বাকি সব গর্ধব।

আয়, আমার সাথে।

- জ্যাকোবো। - আনিতা গাউ।

কিলিয়ান, আয়।

ওরা কোত্থেকে এসেছে?

করিস, কুনিয়ান, নাইজেরিয়ান, ফাং এনডুয়ে এবং মুনি নদীর ওপাড় থেকে।

- সব জায়গা থেকে মোটামুটি। - আর বুবি?

বুবিদের আসার উপায় নেই, ওদের মেয়েরা কুমারিত্ব হারালে খরব আছে।

তারমানে....?

দেখো, দেখো কে আসছে?

ওবা, সাবে, বসো আমাদের সাথে।

কোথায় ছিলে, খুব মিস করছিলাম।

তখন আমরা বলছিলাম, আজ কিছু স্থানীয়, এক যাজককে নাজেহাল করেছে।

কারা এসব করেছে শুনেছ কিছু?

তোমরা সাদারা এত ভয় পাও মনে হয় আমরা খেয়ে ফেলব।

তারপরও এখানে আসো টাকা ঢালতে।

যাজক একটা গবেট!

পাও এর খবর কী?

সে আজ কচি ছেলের কাছে গেছে।

বাদ দিয়ে দিয়েছি, এলাম একটু গলা ভেজাতে।

এসো আমাদের সাথে।

চলো নাচি।

দেখো ওদের।

চিন্তা করো না, শুধু তাল মেলাও।

কী সমস্যা? ভয় হচ্ছে, তোমাকে খেয়ে ফেলব?

আসবে আমাদের সাথে?

২৪ এপ্রিল, ১৯৫৪

মা, ক্যাটালিনা... আমরা সূর্যোদয় থেকে সূর্যাস্ত পর্যন্ত কাজ করি।/i>

জমি খুব উর্বর, এজন্য রোজ আগাছা পরিস্কার করতে হয়...

যেন তৃণভোজীরা এসে কোকো’র ক্ষতি না করে।

ম্যানুয়েল সময় পেলেই এদিকে আসে...

বিভিন্ন উদ্ভিদ নিয়ে গবেষণা করতে।

আর আমাদের ছুটির দিনে,

জ্যাকবো এর বন্ধু ডিক আর পাউ এর সাথে সান্তা ইসাবেলা যাই।

এখনো স্থানীয় কারো সাথে বন্ধুত্ব হয়নি।

যদিও আমি এখানে জন্মেছি...

তবে বুঝতে পারি, ওরা আমাকে বিদেশি-ই ভাবে।

হয়ত একসময় সবকিছু বদলে যাবে।

তোমার ছেলে এবং তোমার ভাই খুব মিস করছি। কিলিয়ান ডে রাবালতুয়ে।

- এমিলিও। - কিলিয়ান, কেমন আছ?

- গুসতাভো? - কিলিয়ান?

মাফ করবেন, একটু ‍ওদিকে যাব।

ধন্যবাদ।

কারো অপেক্ষা করছ?

আসলে অপেক্ষা করছি...

- নেলসনের। - নেলসন?

আশা করি জলদি ও তোমাকে এ বিরক্তিকর পার্টি থেকে উদ্ধার করবে।

কী বলছ তুমি?

সেদিন স্টেটে কোনো মারামারি হয়নি।

আমি জানি এত তাড়াহুড়ো করে কোথায় গিয়েছিলে।

যতদূর জানি, তুমি আমার প্রেমিকা নও তাই আমাকে নিয়ন্ত্রণ করতে এসো না।

জুলিয়া।

চলো নাচি।

সেদিনের জন্য ক্ষমা করো দিয়ো।

আর তোমার জুতায় পা দেয়ার জন্যেও।

চিন্তা করো না, আমার এত নাচের প্রতিভা নেই।

আর নিগানের মতো অত দক্ষও না, অন্তত এ নাচ ফ্রি।

জুলিয়া, ওদের সাথে তোমার তুলনা করো না।

তোমরা যা ইচ্ছে তাই করবে কেউ তোমাদের কিছু বলতে পারবে না।

আমাদের অপেক্ষা করতে হবে যতদিন তোমরা ছুঁড়ে ফেলে না দিচ্ছ...

তারপর ঘরে এসে, শান্ত-শিষ্ট স্বামী অনুগত হয়ে বাড়িতে বন্দী থাকতে হবে!

মেয়েদের নাম তোমাদের নামে, এজন্য তোমাদের দেখানো পথে চলতে হবে?

সবকিছুই আমার কাছে নতুন।

তুমি আমাকে কী ভাববে...

মনে হয় আমি প্রতি সপ্তাহে নতুন কারো কাছে নিজেকে বিলিয়ে দিচ্ছি।

আসলে এ কথাগুলো মানায় না...

মেয়েদের মুখে।

জুলিয়া।

দাঁড়াও একটু।

- ম্যানুয়েল। - হ্যাঁ?

আমাদের স্টেট ডাক্তার।

জুলিয়া, বাবার বন্ধুর মেয়ে।

খুশি হলাম।

আমাদের আগে কখনো দেখা হয়েছে?

প্রায়ই সাঁতার কাটতে আসতাম শনিবার কার্ড খেলতে আসি।

তাই হবে, আমিও মাঝে মাঝে আসি।

কিছু পান করবে?

- ধন্যবাদ। - না, ধন্যবাদ।

এমনটা আশা করিনি গুসতাভো, অনেক হয়েছে।

এমিলিও!

এখানে সারাটা জীবন বিলিয়ে দিলাম...

যেন আমার পরিবার একটু ভালো থাকে।

আমি এসব হুমকি ভয় পাই না।

বহুদিন তুমি আমাদের শোষণ করেছ আজ হোক বা কাল, তোমাকে যেতে হবে।

- হয়েছে বাবা। - তুমি একটা অকৃতজ্ঞ!

থামো, দেখো আমার দিকে।

প্লিজ।

গুসতাভো মাফ করে দাও, উনি জায়গাটা অনেক ভালোবাসেন।

এজন্য কেউ বিদেশি বললে কষ্ট পান।

আশা করি বুঝতে পেরেছ।

মাফ করে দাও, প্লিজ।

বাবা, রাজনীতিকে পশ্রয় দিয়ে এতদিনের বন্ধুত্ব নষ্ট করো না।

এসো।

ওর কথা শোনো।

প্লিজ।

চলো, বাড়ি চলো।

চলো, এমিলিও।

বাবা, বাড়ি চলো।

মেয়েটা দারুণ!

এখন না সিমন।

- উঠে পড়। - কী হলো, বাবা?

ক্যাসিনো, সান্তা ইসাবেলা...

এক মাস হয়ে গেল, শুধু এই দুই জায়গা চিনিস।

আমি তোকে তোর ভাইয়ের মতো সময় নষ্ট করতে দেবো না।

ওঠ, ওঠ... ওসে আমাদের অপেক্ষা করছে।

- রাতে খুব মাস্তি হয়েছে না? - নাহ।

আমার সব ফালতু মনে হয়।

আমি বাড়ি যাব।

মাসা কিলিয়ান, এটাই বাড়ি।

মনে হচ্ছে, আমরা সময়মতো এসেছি।

এটা একটা নর।

একবার সমুদ্রে গেলে এটা আর জমিতে পা রাখবে না।

সময় হলে, মাদী কচ্ছপ এই উপকূলে আসবে।

- ডিম ছাড়ার জন্য। - এরা ফেরার পথ পায় কীভাবে?

কখনোই ভুলে না, ওরা কোথায় জন্মেছিল।

মাসা অ্যান্টন, মাসা অ্যান্টন আমরা মিষ্টি খাব।

এখন মিষ্টি নেই।

তোমার বাবা একটা বিশেষ তেলের জন্য এখানে প্রায় আসে।

ওটাতে খুব ভালো ক্লান্তি দূর হয়।

এসো, আমার বন্ধুদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিই।

মাসা জ্যাকবোকে কিছু বলার আছে। মাসা জ্যাকবোকে কিছু বলার আছে।

মাসা জ্যাকবোকে কিছু বলার আছে।

হ্যালো, মাসা জ্যাকবোকে কিছু বলার আছে।

- কী করতে পারি মিস? - আমার একটু কথা বলতে হবে...

চারিদিক অন্ধকার কেন?

বিদ্যুৎ সমস্যা, ভেতরে যাওয়ার আগে পার্ক করুন।

প্রধান চত্বর নাইজেরিয়ানদের দখলে।

ধন্যবাদ।

মনে আছে সেদিনের কথা যখন...

জুলিয়া।

ম্যানুয়েল, কী হচ্ছে এসব?

শ্রমিকরা ইঁদুর ধরা মিশনে নেমেছে।

- ইঁদুর ধরবে, অন্ধকারে? - ওদিকের চত্বরে পার্টি হচ্ছে।

রাতের জঙ্গল রহস্যে পূর্ণ, চলো দেখবে?

বেশ।

এতরাতে এদিকে কী করছ?

সিনেমা দেখতে যাচ্ছিলাম।

সিনেমা?

তাহলে ভালোই রাস্তা ঘুরে এসেছ?

হ্যাঁ তবে এটাও মনে আছে, ম্যানুয়েল শিকার দেখার আমন্ত্রণ করেছিল।

চলো?

- নেবে একটু? - ধন্যবাদ।

- বাবা, চিয়ার্স। - হ্যালো।

কিলিয়ান।

সাবধানে!

অসাধারণ!

জায়গাটা মেয়েদের জন্য না।

ওহ জ্যাকবো, মান্ধাতা আমলের কথা বোলো না তো।

তুমি আমাকে মারিয়ার কথা মনে করিয়ে দিলে।

আমার মেয়ে হাসপাতালে কেমন করছে? ঝামেলা করে নাকি?

না, না, খুব দ্রুতই শিখে যাচ্ছে।

আমার মনে হয়, খুব দ্রুত পারাসাদে গুরুজে ওর চাকরি হয়ে যাবে।

এটা আমার রুমে এলো কীভাবে?

কে টাকা দিয়েছে বল?

বল!

কে টাকা দিয়েছে, সিমন?

- আমি তোকে বলছি। - উমারু!

আমি উমারুকে আসতে দেখেছি এজন্যই আপনার কাছে আসছিলাম।

এখনি আমার রুম পরিস্কার কর।

জ্যাকবো, জ্যাকবো।

- উমারু? - ওদিকে।

ওকে নড়তে দেবে না।

নড়বে না।

আমার রুমে কী করছিলে?

কী বলছে?

কী বলছে ও?

বলছে, পুরো সময় সে এখানেই ছিল।

এটা রড নিয়ে এসো।

একটা রড দাও।

বাবা, যা করছে করতে দাও।

ধরো ওকে।

তুমিও ধরো ওকে।

ধরো ওকে!

পেছনে ঘুরাও।

অনেক হয়েছে মাসা, থামুন ছেলেটা আপনাকে সব বলে দেবে।

কোকো গাছে একটা সাপ খুঁজে পায়।

তখন মাসা গ্রেগরকে বলে, যেন দুজনে এটা মারতে পারে, তবে মাসা গ্রেগর...

শাবাশ, তুমি এখন আমার মতো।

এ দ্বীপে তুমি ভালোই করবে।

কিলিয়ান।

কিলিয়ান! বাবা?

এদিকে দেখো, এদিকে দেখো ম্যানুয়েল কিলিয়ান, চোখ খোলো।

আমি কোথায়?

- কিলিয়ান, ভাবতে পারিনি তুই ফিরে আসবি। - কী হয়েছে?

কী আবার হবে? তোকে সাপে কেটেছিল।

যেহেতু জেগে উঠেছিস এখন আর ভয় নেই।

সত্যি আমাদের ভয় পাইয়ে দিয়েছিলি।

মা, ক্যাটালিনা... বিশ্বাস হচ্ছে না, আমার প্রথম পর্ব শেষ হয়েছে।

গত কয়েক বছরের মধ্যে সর্বোচ্চ ফলন হয়েছে।

আমাদের স্টেট ডাক্তার ম্যানুয়েলের সাথে জুলিয়ার ভালো বন্ধুত্ব হয়েছে।

হুট করে বিয়ের কথা শুনলেও অবাক হব না।

যাই হোক, ওসে আমাকে আর বাবাকে ওর মেয়ের বিয়েতে নিয়ে যাচ্ছে।

আমি বাবাকে ছুটি নেয়ার জন্য বোঝাব।

কারণ আমি জানি, সে তোমাদের খুব মিস করে।

- তোমার জামাই এর নাম কী? - মোসি।

ওরা কীভাবে প্রেমে পড়ল?

আমি আবার কী বললাম?

ওকে বলছে যেন সবসময় স্বামী অনুগত থাকে।

সৈকতের বালি যেমন শুধুমাত্র সমুদ্রের পানিতেই মিশে।

নতুন জীবনের জন্য শুভকামনা জানাচ্ছে।

মোসিকে বলছে যেন কখনোই ওকে ছেড়ে না যায়।

এমনকি একাধিক বিয়ে করলেও।

বাবা, তুমি ওদের ভাষা বুঝছ কীভাবে?

এদের সাথে বহু সময় কাটিয়েছি।

এরকম অনেক বিয়েতে উপস্থিত থেকেছি।

তোমার বিবাহিত জীবন সুখের হোক...

বাচ্চা-কাচ্চার আগমন ঘটুক।

- আমি কী বলব? - যা ইচ্ছে বল।

ভালো কিছু বলবি, সে আমাকে খুব সম্মান করে, আর তোকেও।

দোয়া করি তোমরা দুজনে সুখী হও।

চল।

মাসা কিলিয়ান।

কী হয়েছে? কী হয়েছে, সিমন?

মাসা অ্যান্টন।

অফিসে অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল এখন চিন্তামুক্ত।

আমি ওনাকে মরফিন বেশি ডোজ দিয়েছি।

বেশি?

মাস খানেক থেকে ব্যথা কমানোর জন্য মরফিন দেওয়ার কথা বলছে।

কিলিয়ান তোমার বাবার অসুখ ভালো হবার নয়।

আমরা অপারেশন করতে পারব না।

ওনার হাতে আর কয়েকটা দিন আছে।

দুঃখিত।

তুমি জানতে?

ওসে?

উনি আমাকে শপথ করিয়েছিলেন।

এটা এখন ঈশ্বরের হাতে।

ঈশ্বর অসুস্থতা পাঠান না।

ঈশ্বর শুধু ভালো জিনিস তৈরি করেন।

অসুস্থতা আসে আমাদের পূর্বপুরুষদের আত্মা থেকে...

যখন আমরা ওদের প্রাপ্য সম্মান না করি।

আমি জানি না, হাসপাতালে তোমার কী কাজ!

তারচেয়ে বরং তুমি জঙ্গলে আত্মার পূজো করো।

জ্যাকবো।

যা এড়িয়ে চলা যায় না, তা এড়িয়ে চলতে হয় না।

অন্তত এখানে থেকে আমরা ওনার একটু সেবা করতে পারি।

নিজেকে নিষ্কর্মা মনে হচ্ছে।

তুমি সেভাবেই বাবার সেবা করো যা কোনোদিন কল্পনা করিনি।

ওনাকে স্পর্শ করার সাহস নেই আমার।

যদি তোমার বাবা অসুস্থ হতো তুমি কী করতে?

আমি সেই ডাক্তারের হাতে ছেড়ে দিতাম যে ডাক্তার সবসময় ওর দেখাশোনা করেছে।

বাবা।

আমি কিলিয়ান।

আমি বাবার সাথে তুষারের মধ্যে হাঁটছিলাম।

শীঘ্রই সেখানে ফিরে যাব।

এত অসুস্থ, তাহলে বাড়ি ফিরে গেলে না কেন?

- কচ্ছপগুলোর কথা মনে আছে? - হ্যাঁ।

একবার সমুদ্রে চলে গেলে আর কখনো ভূমিতে ফেরে না।

আমিও ঠিক করেছি কোথায় মরতে হবে।

তবে মা...

আমি চাইনি ও আমার নিথর দেহটা দেখুক।

ঈশ্বর আমাকে আগে নিতে চেয়েছে।

আমি কৃতজ্ঞ।

মাকে আর কিছু বলতে চাও?

কিছুই বলার নেই, ও সব জানে।

শুধু বলিস, যেখানে যাচ্ছি আমিও ওর অপেক্ষা করব।

কিলিয়ান, স্বপ্নে আমি সে জায়গা দেখেছি।

যেন ডাক্তার আমার চোখ খুলে দিয়েছে।

জীবন হলো ঘূর্ণিঝড়ের মতো।

শান্ত, তারপর উত্তাল...

তারপর আবার শান্ত।

বাবা।

জ্যাকবো।

জ্যাকবো।

জ্যাকবো, আমি জানি।

তোমাকে সান্ত্বনা দেয়ার ভাষা আমার নেই।

তবে এটা বলে রাখি আমি তোমাকে সাহায্য করতে প্রস্তুত।

আর কখনো এমন করবে না।

আমি ম্যানুয়েলের বাগদত্তা।

কিন্তু তুমি ওকে ভালোবাসো না।

জীবনের অর্ধেক সময় তোমার পেছনে ব্যয় করেছি।

যতদিন না ম্যানুয়েল এসে পাশে দাঁড়াল ততদিন তোমাকে অপেক্ষা করতে হলো!

নিজের জীবনটা বরবাদ করে দিচ্ছ।

জ্যাকবো, তোমার জন্য অনেক অপেক্ষা করেছি।

এখন নিজের মতো করে বাঁচতে চাই।

তুমিও সেটাই কোরো।

জুলিয়া।

দুঃখিত, আপনাকে সাহায্য করতে পারলাম না।

আমার চাচার অ্যালজেইমার হয়েছে, উনি নিজে নিজে কিছুই করতে পারেন না।

কয়দিন আগে বাবা মারা গেছে।

জানি না...

যদি ওদের জানা-শোনা কেউ বিপদে থাকে...

নিজেকে ক্ষমা করতে পারব না।

যদি সিমন এর সাথে যোগাযোগ করাতে পারেন, হয়তো ওদের খুঁজে বের করতে পারব।

সে চাচার বাসায় কাজ করত। চিঠিতে যে পরিবারের কথা বলা আছে...

ওদের সাথেও যোগাযোগ ছিল।

আপনি যে তারিখের কথা বললেন, মনে হয় না, সে আর এখানে কাজ করে।

বাবা যে ফাইলটা রেখেছে যদি একটু দেখেন...

হয়তো যা খুঁজছেন সেটা পাবেন।

- নতুন সেক্রেটারি নাকি? - না।

আমি কিছু কাগজপত্র খুঁজছি যখন আমার বাবা এখানে কাজ করতেন।

তুমি এক কলোনিস্ট এর মেয়ে!

ব্যাপারটা সেরকম নয়, স্টেটের একজন কর্মচারী।

বাহ, সময় নষ্ট হলো না দেখি, কিছু পেলেন?

তেমন কিছু না।

এখন বন্ধ করতে হবে, অন্যসময় আসতে পারেন।

ইনিকো আপনাকে হোটেলে পৌঁছে দেবে, ঠিক আছে?

সবসময় এখানে ঝলমলে রোদ কল্পনা করে এসেছি।

কারণ এ জায়গার ব্যাপারে কিছু জানো না।

অল্প যা কিছু শুনেছি সব ভুল।

শুনেছি বুবিরা খুব কোমল হৃদয়ের....

আর অতিথিপরায়ণ।

হোটেল ওই দিকে।

বিমানবন্দরে একজনকে নিতে হবে।

দেরি হয়ে গেছে, ওকে উঠিয়ে হোটেলে ছেড়ে দেবো।

- হাই, আমি লাহা। - আমি ক্লেরেন্স।

খুশি হলাম পরিচিত হয়ে।

তুমি চাও আমি পেছনে বসি?

সমস্যা নেই, আমি বসছি।

মালাবোতে কী করছ তুমি? আচ্ছা, দাঁড়াও বলছি...

- কোনো এনজিও কর্মী? - না।

- জাতিসংঘ কোনো রিপোর্ট লিখতে পাঠিয়েছে? - না।

ব্যবসায়ী, ইঞ্জিনিয়ার, ইনিকো কিছু ইঙ্গিত দে।

গবেষণা কাজে।

না, আমি ভাষাতত্ত্বের অধ্যাপক।

স্প্যানিশরা কী পরিমাণ গিনি বলে, সেটা দেখতে এসেছি।

সেটা কত পেলে?

জানি না, সবে তো এলাম।

- তুমি কি ছুটিতে? - হ্যাঁ নাকি না?

দেখা যাক।

আমি মাদ্রিদে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ছি।

আমাদের এখানে প্রচুর তেল, গ্যাস রয়েছে তবে এগুলো উত্তোলন করছে বিদেশি কোম্পানি।

হ্যাঁ।

আমার মতো যদি আরও অনেকে সুযোগ পায়...

আমার ভাইয়ের কথায় কিছু মনে কোরো না।

ও তোমার ভাই!

- তোমাকে বলনি? - না।

ও এতটা খোলামনে মিশতে পারে না, তাই না ইনিকো?

রাতে কী করবে?

কিছু না।

মালাবোতে বুবিরা আমান্ত্রণ জানালে গ্রহণ করবে তো?

খুশিই হব।

বেশ...

- দারুণ মজা হবে, দেখা হচ্ছে তাহলে। - আচ্ছা।

তোমার খু্ব ভালো লাগবে।

দুঃখিত।

- কোনো সমস্যা? - না।

- না, কিছু মনে করো না। - কী?

চলো ক্লেরেন্স।

তুমি একজনের কথা স্বরণ করিয়ে দিয়েছ।

যার সাথে পরিচয় বহুদিন আগে।

একটু সাবধানে, যা খুঁজতে এসেছ পেয়ে যেতে পারো।

এই মহিলা কে?

মামা সাদে।

সাথের ওর ছেলে।

ওরা বলে ওর বাবা একজন শ্বেতাঙ্গ।

দুজনে ভালোবেসে ফেলে, তারপর লোকটা ছেড়ে চলে যায়।

- ওর ছেলের নাম কী? - তাতে তোমার কী, গিয়ে গল্প করবে?

ওরা খুব খারাপ লোক, ওদের সাথে ঝামেলা করো না।

চলো।

চলো, আমাদের ভালোই সময় কাটবে!

- ঠিক আছ? - হ্যাঁ, ধন্যবাদ।

না আসলে...

আরে যাও।

হোটেলে বসে থাকার চেয়ে ভালো।

- ধন্যবাদ আমাকে ডাকার জন্য। - আমি তোমাকে ডাকিনি।

এত দেখার দরকার নেই, শোনো।

সঙ্গীত অনুভব করো।

এখানে।

এখানে।

আর এখানে।

দেখলে? কঠিন কিছুই না।

কী করছ ক্লেরেন্স?

কী ভাবছ?

সময় ফুরিয়ে যাচ্ছে, কিন্তু কোনো অগ্রগতি করতে পারিনি।

সত্যি করে বলো তো, এখানে কেন এসেছ?

কিছুদিন আগে বাবা মারা গেছে।

আমার মনে হয়, এখানে কারো সাথে ওনার যোগাযোগ ছিল।

আমার দাদা এখানে মারা যান।

কবরটা দেখে এসেছি, একদম তাজা ফুল দেয়া ছিল।

তুমি সিমন নামে কাউকে চেনো?

- মোটামুটি ৬৫ বছর বয়স? - না।

তুমি ওর আফ্রিকান নাম জানো?

না।

ওটা কি বেসাইল এর চূড়া?

ওটা আগ্নেয়গিরি।

বুবি ভাষায় এটার নাম, ওয়াসা।

নাইজেরিয়ানরা বলে 'বিগ পিকো', আর ব্রিটিশরা বলে ক্লেরেন্স চূড়া।

তুমি জানো, তোমার নাম আফ্রিকান আগ্নেয়গিরির নামে?

একটা মৃত আগ্নেয়গিরি।

এটা সুপ্ত।

শুধু সেই জানে, ভেতর কতটা জীবন্ত।

কোথায় যাচ্ছ?

চমক আছে!

কীসের অপেক্ষা করছ, বেরিয়ে এসো।

এসো, এদিক দিয়ে।

কী ভাবছ?

প্রতি ডিসেম্বরে সামুদ্রিক কচ্ছপগুলো ডিম পাড়ার জন্য...

আটলান্টিক পাড়ি দিয়ে এখানে আসে যেখানে তারা জন্মেছিল।

দেখো।

এই দ্বীপের রক্ষক।

এটা ইউরেকার সবাইকে দেখে রাখে।

ওর জন্য একটু প্রার্থনা।

এদিকে এসো।

আমি বন্দী ছিলাম, ব্ল্যাক বিচে।

তুমি গ্রেফতার হয়েছিলে কেন?

বুবি হওয়ার জন্য।

শত শত জনকে গ্রেফতার করেছিল।

কপাল ভালো যে, জেল থেকে ছাড়া পেয়েছিলাম।

বাকিরা পায়নি।

এ জায়গার অনেক জিনিস এখনো মাথায় ঢুকছে না।

বাবা আর চাচা সম্ভবত পাম গাছগুলো বড় হতে দেখেছে।

একদিন তুষারাবৃত পাম গাছগুলোর কথা বলার মতো কেউ থাকবে না।

দেখো।

ধরো এটা।

- তুমি ছবি তুলতে পারবে না। - গারুজ বলেছে পারব।

দাঁড়াও একটু।

ছবি তোলা নিষেধ।

আমরা এখন চলে যাচ্ছি।

আমরা এখন চলে যাচ্ছি।

ক্যামেরা বন্ধ করো।

কোনো সমস্যা হওয়ার আগে কেটে পড়ি।

লোকটা তোমাকে ছবি তুলতে দেখেছে।

- হয়তো ওদের কেউ সিমনকে চেনে। - আজ অনেক হয়েছে।

ওদিক থেকেই শুরু করা দরকার ছিল।

- দাঁড়াও। - যেতে যাও...

এই যে শুনুন, শুনুন আমি ক্যামেরা রেখে দিলাম।

- শুধু কয়েকটা প্রশ্ন করতে চাই। - বিদেশি মেয়ে।

নিজের দেশে ফিরে যাও, আমরা কোনো সাদা লোক দেখতে চাই না।

হাঁটতে থাকো।

হাঁটতে থাকো।

- বিদেশি নাগর পেয়েছ তাই না? - বাল!

চলো।

অনেক হয়েছে।

আমাকে কথা বলতে দাও।

সে বলছে, তোমার চোখদুটো তোমার হাতের ছবির মানুষগুলোর মতো।

সব ঠিক আছে।

আমি কথা বলছি।

কে উনি?

স্প্যানিশ কলোনি থাকাবস্থায় উনি স্টেটে কাজ করতেন।

ও সিমন কিনা প্রশ্ন করো।

আপনি আমার কথা বুঝতে পারছেন?

আপনি আমার ভাষা বলতে পারেন।

শপথ করেছে, কোনোদিন তোমার ভাষা বলবে না।

তবে সে বুঝতে পারে।

যদিও মাঝে মাঝে অপছন্দ করে।

কী বলছে?

বলছে তুমি এখানে কেন?

আমার দাদার নাম অ্যান্টন, বাবা জ্যাকবো আর চাচা কিলিয়ান...

এখানে বহুবছর কাজ করেছে।

কিছুদিন আগে বাবা মারা গেছে...

আমি দাদার কবর দেখেতে এসেছি, অ্যান্টন ডি রাবালতুয়ে...

আপনি ওনাকে চিনতেন?

বলছে, তোমার আর ওর দাদা খুব ভালো বন্ধু ছিল।

মাসা কিলিয়ানকে শুভেচ্ছা জানাবে।

আর বলবে, এতকিছু সত্ত্বেও জীবন যতটা নিষ্ঠুর হতে পারত...

ততটা নিষ্ঠুর হয়নি।

বলছে, সে এটা শুনে খুশি হবে।

হ্যাঁ, খুশি হবে।

যে সম্পর্ক আলাদা করে দেয়, সে সম্পর্কই আবার মিলিত করবে।

- সিমন... - চলো।

- ফার্নানদোকে খুঁজতে হবে। - এখন চলো।

ফার্নান্দো কে, যাকে খুঁজছ?

বাবা অথবা চাচা, বায়োকোর এক মহিলার কাছে বছরের পর বছর টাকা পাঠাত...

তার একটা ছেলে ছিল।

আমি জানতে পারি ওর নাম ফার্নান্দো।

তখনকার সময়ে স্প্যানিশ এবং আফ্রিকান মিলিয়ে বাচ্চাদের নাম রাখা হতো।

ফার্নান্দো খুব কমন আর লাহার আরেক নাম।

দেখো।

- এই ছবি কোথায় পেয়েছ? - চাচার চিঠির ভেতরে পেয়েছি।

এই মহিলা আমার মা।

জানতাম এই দিন আসবে।

কিলিয়ান...

আমরা খুব কষ্টে দিন পার করেছি।

ধন্যবাদ ওকে, আমরা এতদূর আসতে পেরেছি।

সত্যি, ও সাহায্য না করলে...

এখানে আসতে পারতাম না।

মা।

কিলিয়ান আমার বাবা?

আত্মারা সঠিক সময় বেছে নিয়েছে...

আমাদের ছেলেদের তাদের গল্প শোনার জন্য।

আত্মা?

ক্লেরেন্স, তুমি ওদের শুনতে পাও না?

কেন, যদি না পাও তুমি কি বায়োকোতে এসেছ?

দাদার মৃত্যুর পর থেকেই বাবা লেখা বন্ধ করে দেয়।

এটাও আমার গল্প।

প্লিজ।

কিলিয়ান প্রায় তিন বছরের জন্য...

বাড়িতে গিয়েছিল।

এসময় অনেককিছু বদলে গেল।

ঈশ্বর আমাকে এক ছেলে সন্তান দিল।

মসির সাথে আমিও স্বাভাবিক হয়ে এলাম।

সেজন্য ধন্যবাদ।

তোমাকে খুব মিস করেছি।

এসো, দেখা করো ওর সাথে।

দেখো।

কিন্তু যখন কিলিয়ান ফিরে এলো,

তখন আবার আমাদের দেখা হলো...

এটা ছিল অনেকটা...

দুজনে বিচ্ছিন্ন থাকার মতো...

স্বাগতম।

অথচ কোনো সম্পর্কই ছিল না।

কী নাম?

ইনিকো।

তুমি কোত্থেকে এসেছ, অর্থাৎ "প্রতিকূল সময়ে জন্ম”

এখনো তোমার নামটাই জানি না।

আমার নাম ড্যানিয়েলা বিসিলা।

স্বাগতম, মোসি।

কিলিয়ান!

চিন্তার বিষয়, যার বাবা দুবি গৌত্রের প্রধান...

- সে আমার কাজের ছেলে, তাই না সিমন? - কতদিন থাকে দেখা যাবে।

আর তুমি কী বলো, ওসে?

তুমিও কি স্বাধীনতা চাও, সিমন আর গুসতাভোর মতো?

যখন দুই হাতির লড়াই লাগে একজনই খাবারের কষ্টে থাকে।

রাজনীতিতে আমি এটাই বুঝি।

চলো?

- চলো। - সিমন, চলো।

কী সমস্যা? আমাকে দেখে খুশী হওনি?

আমার ভাই কোথায়?

তোমার ভাই আশেপাশেই আছে, ও সবগুলোকেই পছন্দ করে।

আর তুমি, একটা মেয়ে নিয়েই থাকতে চাও।

তোমাকে অন্য কারো হাতে তুলে দিয়েছি, এখন আমি আর ঋণী না।

আমি এভাবে জীবিকা নির্বাহ করি...

তারমানে এই নয় যে, আমার অনুভূতি নেই।

এই! সম্মান দিয়ে কথা বল!

ধুর ছাই, আরেক রাউন্ড হবে।

আরেক রাউন্ড হবে, টাকা কোনো সমস্যা না।

কিলিয়ান।

কী সমস্যা? তুই এখানে কী করছিস?

ক্যাটালিনা?

মা?

ওরা ভালো আছে, তোমাকে ভালোবাসা জানিয়েছে।

আমাকে জড়িয়ে ধরবে না?

ধরব ভাই, ধরব।

হেই, আমি ঠিক আছি।

আমি ঠিক আছি, শুধু এখন একটু...

যা ভেবেছিলাম তার চেয়ে বেশি হয়ে গেছে।

ওখানে দাঁড়িয়ে থাকো!

কেউ কাছে আসলে এর মাথা উড়িয়ে দেবো।

ভালো হবে বন্দুক রেখে দাও।

রেখে দাও।

এখানে একটা মেয়ে আমার সাথে তর্ক করে!

তুমি বুঝতে পারছ না কেন, এখানে আর নেতাগিরি চলবে না।

এটাই সাদাদের আসল চেহারা!

যতদিন ওদের গোলামী করব ততদিন ঠিক আছে।

ওঠো!

সবাইকে মারার সমান বুলেট তোমার নেই।

আমরা অনেকে আছি।

গ্রেগরিও।

গ্রেগরিও, বন্দুক নামাও।

বন্দুক নিচে রাখো।

আমরা তোমাকে যেতে দেবো, কেউ খারাপ কিছু চায় না।

ছাড়ো ওকে।

শুক্রবার কোনো জাহাজ আসে না।

আমি দুপুরের বিমানে এসেছি।

তাহলে তোকে দেখলাম না কেন?

যখন এখানে এলাম, তোমাকে বলেছি সারাদিন কোকো ফিল্ডে ছিলাম।

সেজন্য ওসে এর বাড়ি যেতে হয়েছিল।

যখন ফিরে আসলাম, তার আগেই তুমি চলে গেছ।

আমি গারুজ এর সাথে কথা বলেছি।

যেহেতু আমি এসেছি, তুমি কয়েকমাসের জন্য বাড়ি যেতে পারে।

জ্যাকবো, কিছুদিন একটু বিশ্রাম করে আসলে কোনো ক্ষতি হবে না।

তোকে দেখে খুব ভালো লাগছে কিলিয়ান।

খুব ভালো।

এই তো, সবাই এখন নিজে নিজে যাওয়ার ব্যবস্থা করছে।

আমি তো ভাবছিলাম, তুমি আর এদিকে নেই।

নাহ।

ওরা যে অবস্থায় আছে, ভাবছিলাম তুমিও ওর সাথে চলে যাবে।

সে আমাদের কথা ভাবে না।

প্রায় নয় মাস থেকে পাসালোবিনো আছে।

ফিরে আসবে না?

জানি না।

- বিদায়। - বিদায়।

- ম্যাডাম! - আচ্ছা!

এখানে কী হচ্ছে, এসব নিয়ে একটা লেখাও নেই।

স্প্যানিশ উপনিবেশ নিয়ে কারো মাথাব্যাথা নেই।

মনে হয় না সত্য জানাতে কিছু লিখবে।

বাবা, ফ্রান্স আর ইংল্যান্ড ওদের উপনিবেশ স্বাধীন করে দিচ্ছে।

স্পেনও সেই কাজ করবে।

কেউ আর তাদের অবস্থান জানে না।

এটা আমাকে দাও।

ধন্যবাদ, জেনেরেসো।

আর ম্যানুয়েল, ওর কী অবস্থা?

- হ্যাঁ, ভালোই আছে। - তাই?

বাগানের কাজ শেষ হলে আবার গ্রামে যায়।

এজন্য তেমন সময় না পেলেও ভালো আছে।

জুলিয়া! জুলিয়া?

জুলিয়া।

কী হয়েছে?

ফাদার রাফায়েল...

হাসপাতালে কল করেছিল খুব নার্ভাস মনে হলো।

ভীষণ আহত একজন গির্জায় এসেছে।

বলল, সে নাকি তোমার বন্ধু, গুসতাভো।

গুসতাভো?

সে তো মাস খানেক আগে গ্রেফতার হয়েছিল।

ওকে সাহায্য করতে হবে তবে ফাদার যেতে পারবে না।

কিলিয়ান, আমাদের নিয়ে যেতে পারবে?

চলো।

শুভ অপরাহ্ন।

আপনারা কোত্থেকে আসছেন?

আমরা ফাদার রাফায়েলের ওখানে গিয়েছিলাম।

কোনো সমস্যা? এখন সাম্পাকা যাচ্ছি।

আর উনি?

উনি হলেন নার্স, এখানে একজন ভীষণ অসুস্থ লোক মৃত্যুশয্যায় আছে।

সেজন্যই ফাদার রাফায়েল এর কাছে গিয়েছিলাম...

ওনার শেষকৃত্যে থাকতে পারবেন কিনা জানতে।

সাম্পাকা ছেড়ে কোথাও না যাওয়াটা ভালো হবে।

কে এ অবস্থা করেছে?

আসলে, যে কেউ হতে পারে।

স্প্যানিশ সৈনিক উচিৎ শিক্ষা দিতে চাচ্ছে...

অথবা কিছু স্থানীয় নেতা ওকে শক্ত প্রতিপক্ষ ভাবছে।

এখানে কেউ নিরাপদ না।

আরও ব্যান্ডেজ।

কী বললে ওকে?

তোমাকে এতটাই বিচ্ছিরি লাগছে যে, দেবতা এভাবে নিতে চাইবে না।

আমার কাজ শেষ হলে সে-ই নির্ধারণ করবে...

সে যাবে, নাকি যাবে না।

জুলিয়া, বাড়ি ফিরে যাও।

চিন্তা কোরো না, আমি থাকব।

আমি জেগে থাকব।

বিসিলার কাজ শেষ হলে আমাকে জানিয়ো।

কিলিয়ান।

সে এখানে নিরাপদে থাকবে।

দারুণ করেছ।

ধন্যবাদ, তুমিও সাহায্য করেছ।

যে কেউ থাকলে এই কাজ করত।

না।

অন্য কেউ করত না।

এসো।

তোমার যাওয়া দরকার।

হয়ত ম্যানুয়েল এসে গেছে।

দেরি হয়ে গেছে।

শুভ সন্ধ্যা।

মাফ করো, তোমাকেই এদিকটা দেখতে হয়েছে, কেমন আছে?

ভালো আছে, এখন বিশ্রাম নিচ্ছে।

আচ্ছা তুমি যাও, আমি দেখে রাখছি।

ধন্যবাদ, বিসিলা।

প্রথমবার দেখার পর থেকেই আমি জানতাম আমি তোমার কথা শুনেছি।

যেন এক অশরীরী আমি, যার অস্তিত্ব আমি জানি না।

তুমি আমাকে কী করেছ, বিসিলা?

আমার শরীরটা কুমারী নয়।

তবে মনটা কুমারী।

এটা তোমাকে দিলাম।

ওটা কীসের গান?

যেটা তুমি নদীর ধারে বসে গাইছিলে?

ওটা বৃষ্টি নিয়ে, যা হঠাৎ আকাশ থেকে নেমে জলধারা সৃষ্টি করে।

ওটা জলস্রোত নিয়ে, যা আবার এক হতে বিভক্ত হয়ে পড়ে।

ওটা সমুদ্রকে নিয়ে, যা আমাদের সবাইকে মিলিত করে।

এটা আমাদের জীবন সংগ্রামের কথা বলে...

নিয়তির কথা বলে।

তাহলে তুমি কাঁদছিলে কেন?

কারণ...

কারণ, আমি আমার ভাগ্য বেছে নিতে পারিনি।

যখন ছোট ছিলাম, একজন ব্যভিচারী মহিলার শাস্তি কী...

সেই রোমহর্ষক গল্প শুনিয়েছে।

মেয়েদের পায়ে পাথর বেঁধে গাছের সাথে ঝুলিয়ে দেয়া হয়।

নাহয় গলা পর্যন্ত মাটিতে পুঁতে রাখা হয়।

যেন হিংস্র জন্তু-জানোয়ার এসে ছিঁড়ে খেয়ে যায়।

আমি তোমার কোনো ক্ষতি হতে দেবো না।

কিলিয়ান, আমাদের খুব সতর্ক হতে হবে।

এটা আমরা গোপন রাখব।

বেশিকিছু আশা করা যাবে না।

সবসময় তোমার সাথে থাকব, সবসময়।

আসার কোনো সুযোগ পাচ্ছিলাম না।

গতকাল, সিমন খুব কর্কশ ভাষায় কথা বলেছে এজন্য খুব কষ্ট হচ্ছিল।

হ্যাঁ।

ওকে কী এমন বললে, যে তোমাকে ব্যথা দিলো?

ওখানে ব্যথা করছে না।

- করে না? - না।

ভালো বলতে পারছ।

- তাই? - হ্যাঁ।

এবার আমার পালা।

আমি কতটা দুষ্টু তার কিছুই দেখাইনি।

হ্যাঁ, ফার্নান্দো পু স্বাধীনতার বিপক্ষে মত দিয়েছে।

তবে ব্যবধান কম, এখন শুধু সময়ের ব্যাপার।

আজ হোক বা কাল, আমাদের এ দেশ ছাড়তে হবে।

ম্যানুয়েল, এত হতাশ হয়ো না।

কাউন্সিলে গুস্তাভোসহ অনেকে পরিচিত জয়ী দলে আছে।

- তাই না? - আমি অতটা নিশ্চিত না।

কিলিয়ান, তোমার কী মনে হয়?

ক্ষমতায় কে সেটা নিয়ে আমি ভাবি না।

শুধু আশা করি, পরিস্থিতি যেমন ছিল তেমন থাক।

তাই না ইসমাইল? আমরা এখানে ঠিক আছি না?

মাসা কিলিয়ান?

কী হয়েছে সিমন?

একটা টেলিগ্রাম এসেছে।

খারাপ খরব।

কী হয়েছে কিলিয়ান? জ্যাকবোর কিছু হয়েছে?

ক্যাটালিনা।

খুব অসুস্থ, বলছে ভালো হবে না।

বিদায় নিতে আমাকে বাড়ি যেতে বলছে।

প্রিয় ক্যাটালিনা...

আমি এখন বাড়ির দিকে তাকিয়ে আছি যেন সবকিছু মুখস্থ করার চেষ্টা করছি।

মা আমার পাশে এসে হাতটা শক্ত করে ধরল।

আমরা খুব কষ্টে,

হাঁটুসমান তুষার জমেছিল...

জ্যাকবোর কাছে যেতে বেশি সময় লাগেনি।

তোর শরীর খুব ঠাণ্ডা ছিল।

আমি তোকে গরম করে দিই।

আমরা তুষারাবৃত রাস্তা ধরে হাঁটতে থাকি।

পাহাড়গুলো ছিল বরফে আচ্ছাদিত।

তুই খুব মন খারাপ করেছিলি।

আমরা আবেগ আর কান্না ধরে রাখার চেষ্টা করছিলাম।

তারপর তুই আমাকে ডায়েরিটা দিয়েছিলি।

কিলিয়ান!

আফ্রিকা থেকে চিঠি এসেছে।

হাতে হাত ধরে, সুটকেস আর ব্যাগ নিয়ে এগিয়ে যাচ্ছিলাম।

পাগল হয়েছ তোমরা?

এটা হাসপাতাল!

এখানকার শ্রমিকদের জন্য হাসপাতাল!

অন্যের কাজে নাক গলাতে এসো না!

- কী হয়েছে? - এখন সাবধান করে গেলাম!

- কেমন আছ? - ভালো।

তোমার মা কেমন আছে?

কেন, তোমাকে বলিনি সে ভালো আছে!

তবে, যেহেতু ওরা আসতে দেখেছিল ফিরে আসার শর্ত হিসেবে সময় বেঁধে দিয়েছিল।

অন্তত কিলিয়ান যাওয়ায় একটু ভালো হয়েছে।

ও ফিরবে কখন?

কেন, আমি আসায় তুমি খুশি হওনি?

বোকা বোকা কথা বলো না, অবশ্যই খুশি হয়েছি।

কী?

না, এমনি...

দেখে মনে হচ্ছে না, তুমি কাউকে বুঝতে দেবে তোমার এই...

বেহাল দশা।

হয়ত আমি বদলে যাচ্ছি।

আমাকে বোকা মনে করো না জ্যাকবো, স্যরি, তুমি আমাকে বোকা বানাতে পারবে না।

তুমি কোনোদিনও বদলাবে না।

আমি একজনের দেখা পেয়েছি।

ওর নাম কারমেন।

তুমি চেনো না, ও পাসালোবিনোয় থাকে না।

তাহলে তোমার জন্য আমি খুশি, সত্যি।

যদিও আমি ওর জন্য একই কথা বলতে পারি না।

বেচারা মেয়ে, অনেক কিছু বলার আছে।

তারপর, ম্যানুয়েলের সাথে কেমন যাচ্ছে?

খুব ভালো, ও স্বামী হিসেবে দারুণ।

আর আমাকে দেখো, দুইটা বাচ্চা।

কয়েক বছর আগে কে এসব ভাবত বলো?

আমি খুব সুখী।

চলি তবে।

মনে হচ্ছে পিচ্চির ক্ষুধা লেগেছে।

আমাকেও বোকা বানাতে পারবে না জুলিয়া।

যাও।

এই মহিলা একা কী করে?

কিছু একটা খুঁজছে।

আমাকে যেতে দিন, আমি নার্স, ওরা হাসপাতালে আমার অপেক্ষা করছে।

স্যরি...

তোমার তো কোনো দোষ নেই ক্লেরেন্স।

যা হয়েছে তার কোনোটাই তোমার দোষে নয়।

কেউ আপনাকে সাহায্য করেনি?

বিসিলা।

কেউ যেন না জানে।

শুনেছ? শুনেছ আমার কথা?

আলোতে যাওয়া যাবে না।

জোরে একটা টান দাও।

মনে হচ্ছে তোমার ব্যথা লাগবে।

ভয় পেয়ো না, তুমি পারবে।

থামো, থামো, থামো।

কিলিয়ান।

জ্যাকবো!

সিফিলিস (যৌনরোগ)

ম্যানুয়েল, ওর সিফিলিস কেন হবে?

এখানে তিন সপ্তাহ থাকবে,

এতে যদি অবস্থা উন্নতি হয়।

তবে, কমপক্ষে চার মাস ওষুধ খেতে হবে।

এখন আমাকে ছাড়লে, অন্য কাজে যাব।

কী হয়েছে তোমার?

ট্রাকে ধাক্কা খেয়ে পড়ে গিয়েছিলাম।

আমার ভাই খুব অসুস্থ তোমার ওকে দেখতে হবে।

তোমার ভাইয়ের কী হয়েছে তা আমি ভালোই জানি।

চাইব যেন ওর মরণ হয়।

বিসিলা...

তুমি ওদের চেন?

সেই পুরোনো পদ্ধতিতে দুজন লোক খুন।

এখন ওরা বলবে, দেবতারা চায়নি সাদাগুলো এই দ্বীপে থাকুক।

যেন কোনো বিশৃঙ্খলা-ই হয়নি।

কিলিয়ান।

তোমার ভাইকে একটু সাবধানে থাকতে বলো।

কেউ বলবে আমাকে, এখানে হচ্ছেটা কী?

ভেবেছিলাম আমরা বন্ধু।

কিছুই বুঝতে পারছি না।

আমি নিশ্চিত, যখন পাসালোবিনো ছিলাম এখানে কিছু একটা হয়েছে।

যার সাথে ডিক আর পাও এর সম্পর্ক ছিল।

আমার ভাই?

বিসিলা.....?

ওসে, আমাকে বলো এটা সত্য নয়।

মোসি জানে।

ওকে বলেছি... আমি ডিক, পাও আর জ্যাকবোকে...

গতরাতে ঝুলন্ত অবস্থায় দেখেছি।

এবার মোসিকে তার মতো করতে দাও।

যদি ওকে থামাতে চাও, তাহলে তোমার আর বিসিলার ব্যাপারটা জেনে যাবে।

তারপর তোমাদেরও ওই গাছেই ঝুলতে হবে।

যদি সত্যিই ওকে ভালোবাসো, তাহলে দূরে থাকো।

বেশ!

কী অবস্থা তোর?

আরে এটা ছোঁয়াচে নয়, একটু বুকে আয়।

তুমি শোনোনি?

ডিক আর পাও...

কী, ওদেরও আমার রোগ হয়েছে নাকি?

ওদের লাশ গাছে ঝুলন্ত অবস্থায় পাওয়া গেছে।

কেননা ওরা কিছু একটা করেছিল।

কেননা সেটা তুমিও করেছ।

আমি প্রচুর মদ গিলেছিলাম, কীভাবে আমার বিছানায় এলাম, এটাও জানি না।

মনে হচ্ছে, ইবোগার কারণে আমিও বেসামাল হয়ে গিয়েছিলাম।

- সেই রাতে কী হয়েছিল? - বলার চেষ্টা করছি তোকে।

মনে পড়ছে না, তোর মাথা ঘামানোর বিষয়ও না।

তুমি জানো মেয়েটা কে?

মেয়েটা কে, তাতে আমার কী?

কীসের সমস্যা, টাকা না দিয়ে ছেড়েছিলাম তাই?

তুমি একটা মেয়েকে ধর্ষণ করেছ।

তুমি ওকে ধর্ষণ করেছ!

ওসের মেয়ে, আমার ভালোবাসা।

জ্যাকবো, আমার ভালোবাসা!

তোমাকে মেরে ফেলা দরকার।

মোসি যেভাবে মারবে, বরং তারচেয়ে কম কষ্ট হবে।

কিলিয়ান!

তোমার বাবার সাথে কথা বলব।

কী ভাবছ তুমি, এত রাতে জঙ্গল পার হয়ে চলে এলে?

তুমি এখানে আমার একমাত্র বন্ধু, আমাকে সাহায্য করো।

কী এটা?

কিছু লেখা আছে, যা আমি বলতে চাই।

আমি সব জানি।

দুঃখিত।

তোমার কাছে ক্ষমা চাচ্ছি।

এবং আমার পূর্বপুরুষদের থেকেও।

আমার ভাই সহ...

পূর্বপুরুষদের নামে...

আমি সেই সব মেয়েদের কাছে ক্ষমা চাচ্ছি...

যারা লাঞ্ছিত হয়েছে...

আমার মতো মানুষের দ্বারা।

আমি কথা দিচ্ছি...

কখনো তোমাকে ছেড়ে যাব না।

আমিও তোমাকে ছেড়ে যাব না।

যদি না তুমি যাও।

বলো আমাকে।

আমার সময় লাগবে, কিলিয়ান।

আমাদের সময় নেই।

বিসিলা।

কাল শুক্রবার।

রাতে সবাই সানতা ইসাবেলায় থাকবে।

এখানে কেউ থাকবে না।

সান্তা ইসাবেলায় যাবে।

এ আবার কী হলো?

দাঁড়াও, এদিকে গাড়ি থামাও।

কী হয়েছে?

আমি ইঞ্জিনের কিছু বুঝি না।

ম্যাক্সিমিলানোকে জলদি পাঠাতে বলবে, যাও তাড়াতাড়ি।

চলো, চলো।

জ্যাকবো, আমি কিলিয়ান।

- কিলিয়ান! - শান্ত হও।

মোসি এখানে এসেছে, মোসি....

কিলিয়ান...

বন্দুকটা কার?

গ্রেগোরিও।

এখান থেকে চলে যাও।

জলদি।

তুই আমার সাথে যাবি না?

তুমি যাও।

তাড়াতাড়ি করো।

কিলিয়ান, আমার দিকে দেখ।

বাড়ি যাও।

এখনো তুমি নতুন করে জীবন শুরু করতে পারো।

তোমার চুল!

কিলিয়ান, এখনো ওর স্মৃতি আমার হৃদয়ে আছে।

যেটা মুছে ফেলতে পারি না।

মোসির পরিবারে কেউ ছিল না।

কেউ ইনিকোর দায়িত্ব নেবে না।

আমি ওকে মায়ের কাছে রেখে আসব।

তারপর শহরের বাইরে একটা কুঁড়েঘরে থাকব।

কিছুদিন আমাকে লোকচক্ষুর অন্তরালে থাকতে হবে।

তারপর বাইরে আসতে পারব।

তারপর আমি মুক্ত, যেখানে ইচ্ছা যেতে পারব।

কথা দাও, আমাকে দেখার চেষ্টা করবে না।

কতদিন?

এক বছর।

ততদিনে কোকো বাগানে কুঁড়ি আসবে।

আমাদের এত সময় নেই, আমার মতো তুমিও সেটা জানো।

কিলিয়ান...

একবার বলেছি, আবারও বলছি।

আমি সবসময় তোমার পাশে থাকব।

এমনকি, তুমি আমাকে না দেখলেও তোমার পাশ থাকব।

একটা লম্বা শট গোলপোস্ট ঘেঁসে চলে গেল।

এরপর দেখবেন, জাতির উদ্দেশ্যে রাষ্ট্রপতির প্রথম ভাষণ।

আমি আনুষ্ঠানিকভাবে গিনি প্রজাতন্ত্রের ঘোষণা করছি...

সেইসাথে আমি হচ্ছি, প্রথম সাংবিধানিক প্রেসিডেন্ট।

গিনি জিন্দাবাদ।

কিলিয়ান, গ্রেগরিয়র কোনো খবর পেলে?

না।

আমি ভাবলাম কিছু না বলেই স্পেন চলে গেল।

কিন্তু ওর সব জিনিসপত্র ওর ঘরেই রয়ে গেছে।

এমনকি পাসপোর্ট।

আমি ওর ব্যাপারে জানি না।

স্প্যানিশদের রক্ষা করার মতো ক্ষমতা আমার আর নেই।

সাবধানে থেকো কিলিয়ান।

হ্যালো বন্ধু।

তোমাকে ক্লান্ত মনে হচ্ছে, গাড়িতে এসো?

আমি হাঁটব।

ভেতরে এসো।

অনেক হয়েছে এবার বিশ্রাম নাও।

কবরটা তোমার ভাইয়ের হওয়া দরকার ছিল।

তবে তুমি সেটা খেসারত দেবে।

তুমিও চলে গেলে না কেন?

এটা তোমার কাছেই থাক।

তোমরা সাদারা এটা ছাড়া অচল।

পাগল হয়েছ নাকি?

এর কোনো দোষ নেই।

ও আমাদের নিয়ম নীতি শ্রদ্ধা করে না।

মিথ্যা কথা।

জানো, সে বিসিলাকে ধর্ষণ করেনি।

সে ওকে ভালোবাসে।

মেয়েটা শোকনির্বাসনে আছে...

যেন ওর সাথে এক হতে পারে।

জ্যাকবো বিসিলার "ribalá rèötö" (কুমারী বিয়ে) ছিনিয়ে নিয়েছে।

আর এখন তুমি ওর "ribalá rè rihólè" (ভালোবেসে বিয়ে) কেড়ে নেবে?

বিসিলার নির্বাসন শেষ হওয়া পর্যন্ত তোমাকে সময় দিলাম।

তারপর তোমাদের দুজনকেই যেতে হবে।

যদি না যাও, সুদে আসলে বুঝিয়ে দেবো।

সিমন, ওই কাগজটা দেখি।

জানো এটা কী?

এটা ইলেবো।

এটা খারাপ আত্মাদের দূরে রাখে।

যখন এখানে ছিলাম না তখন বিসিলা দিয়েছিল।

আমার একটা উপকার করো।

এদের কাজ করার প্রয়োজন নেই তোমার।

কাজ করলে ঘুম ভালো হয়।

প্রথমবার তোমাকে কোকো ক্ষেতে দেখলাম।

তোমাকে বিধ্বস্ত মনে হচ্ছে, বুঝতে পারছ না, কী করবে।

তুমি একসময় প্রশ্ন করেছিলে, ওরা গান গায় কেন? আমি বলেছিলাম...

"কাজের জন্য"

এখন বুঝি, চিন্তামুক্ত হয়ে কাজ করার জন্য।

অনেকে বছরের পর বছর কাটিয়ে দিচ্ছে নিজের বৌ-বাচ্চা না দেখে।

এখন আমি ওদেরই একজন।

যখন এসেছিলাম, তখন আমি ছোট্ট একটা মেয়ে।

এটাই আমার ঘর।

শুধু এটুকুই জানি।

যদি আমাকে কাঁদতে না দেখো, তারমানে আমার চোখে জল শুকিয়ে গেছে।

আমি এটাও বুঝি, তুমি কেন ফিরে যাবে না।

তবে এখানে থাকা নিরাপদ নয়।

ফাদার রাফায়েলও চলে যাচ্ছে।

এমনকি নেলসন, ওবে ওরাও বুঝেছে এখানে আর থাকা যাবে না।

তুমি আমার মন পাল্টাতে পারবে না।

জুলিয়া, আমি বিসিলাকে কথা দিয়েছি।

জানি, জানি, তোমাকে ভুলভাল বোঝানোর জন্য আমি ডাকিনি।

ডেকেছি একটা প্রশ্ন করার জন্য।

সে যদি আমাদের সাথে আসতে চায় তাহলে তোমার মত পাল্টাবে?

ম্যাডাম?

ওরা এসে গেছে।

দাঁড়াও একটু।

ইনিকো!

খুব সুন্দর।

হ্যালো, বিসিলা।

কেমন আছ?

ওর নাম ফার্নান্দো লাহা।

আমি নিই?

এটা আমাদের মধ্যেই থাকবে।

ওর আগত ভাই-বোন এটা বুঝবে না।

আমি আর বাচ্চা নিতে পারব না।

দুইটাই যথেষ্ট।

তুমি চাইলে, কেউ আমাদের আলাদা করতে পারবে না।

আমি চাই।

দাঁড়াও একটু।

দুঃখিত।

বিসিলা।

একটু পরে আসছি।

ধন্যবাদ।

কী সমস্যা?

আপনি গিনিয়ান, আপনি যেতে পারবেন না।

আমার স্ত্রী।

- কাগজ দেখি। - ফাদার!

কাগজ।

আমি সেইন্ট ইসাবেলার যাজক ফাদার রাফায়েল।

দাঙ্গার আগুনে ওদের নথি-পত্র পুড়ে গেছে।

আমি ওদের বিয়ে দিয়েছি, আমাদের মতো সেও স্প্যানিশ।

স্প্যানিশ এবং গিনিয়ান এর বাচ্চাকাচ্চা স্প্যানিশ নয়, বরং গিনিয়ান।

ওরা যেতে পারবে না।

এই মহিলা স্প্যানিশ, গিনিয়ান নয়।

ও বাইরে যেতে পারবে, তবে বাচ্চাগুলো গিনিয়ান।

এই জন্য সে মালাটো। (শ্বেতাঙ্গ বাবা, কৃষ্ণাঙ্গ মায়ের সন্তান)

ওরা যেতে পারবে না, ঠিক করুন, থাকবেন নাকি যাবেন।

ভালো হবে আপনি জাহাজে উঠুন।

আমরা স্পেন পৌঁছে, দূতাবাসে নথি ঠিক করে নেব।

ওরা আমার পরিবার আমি ওদের ছাড়া যাব না।

তাহলে রাস্তা ছাড়ুন, দূর হোন এখান থেকে।

বিসিলা, তুমি ঠিক আছ?

দরজা বন্ধ করো।

চলো, চলো।

কিলিয়ান, কিলিয়ান।

আজ হোক বা কাল, ওরা আমাদের জন্য আসবে।

আমাদের একসাথে থাকতে দেবে না।

হয়ত আমাদের একসাথে বাঁচতে দেবে না।

তবে ওরা আমাদের আলাদা করতেও পারবে না।

আসব?

না, হয়নি।

এবার এসো।

এবার সব খুলে ফেলো।

আমাদের দুই ধরণের বিয়ে আছে।

"রিবালা রিয়োতো", অনেকটা কুমারিত্ব কিনে নেওয়া।

মোসির সাথে আমি সেই বিয়েতেই আবদ্ধ হয়েছিলাম।

তবে আমাদের সমাজে "রিবালা রে রিহোলে". চালু আছে।

ভালোবেসে বিয়ে।

এটা আইনের আগে বৈধ ছিলা না।

যেহেতু এখন আমরা দুজন আছি।

এখানে কোনো যাজক নেই, তবে এই দ্বীপের রক্ষক আমাদের সাক্ষী।

এটা তুমি চাও।

এটা আমিও চাই।

আমাকে প্রথমে বলতে হবে।

ওয়াদা করছি...

সারাজীবন তোমার বিশ্বস্ত থাকব।

হৃদয়ে রাখব।

আমি কী বলব?

বলবে, তুমি কখনো তোমার স্ত্রীকে ছেড়ে যাবে না।

এমনকি একাধিক বিয়ে করা সত্ত্বেও।

যত বিপদই আসুক, আমি তোমাকে ছেড়ে যাব না।

তোমাকে এই হৃদয়ে ধরে রাখব।

আমাদের চারপাশ বিদীর্ণ হয়ে গেল।

তবুও বিশাপোতে আমরা ভালোবেসে দিন কাটাতে লাগলাম।

আর এটাই আসল বিষয় হয়ে গেল।

জানতাম না এভাবে কতদিন চলবে।

বেশিদিন ছিল-ও না।

শীঘ্রই বিসাপো জ্বলে উঠল।

মোসিয়াস আইন জারি করার কারণে স্প্যানিশদের দ্বীপ ছাড়তে হলো।

ওরা আর ফিরতে পারল না।

তা সত্ত্বেও সে দিনগুলো ছিল আমার জীবনের সবচেয়ে সুখের দিন।

জীবনটা অর্থবহ করে তোলার জন্য যথেষ্ট।

বিসিলা!

কিলিয়ান চাচা, উনি তোমার জন্য আরেকটা উপহার দিয়েছেন।

আশা করি ঠিকঠাক করতে পারব।

উনি যেভাবে শিখিয়েছেন ঠিক সেভাবেই শিখেছি।

.....বাংলা সাবটাইটেল.... .../\..হাসান মাহাদী../\...

Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.