All language subtitles for QALB (2024) BSub by Suhan Ahmed

af Afrikaans
ak Akan
sq Albanian
am Amharic
ar Arabic
hy Armenian
az Azerbaijani
eu Basque
be Belarusian
bem Bemba
bn Bengali Download
bh Bihari
bs Bosnian
br Breton
bg Bulgarian
km Cambodian
ca Catalan
ceb Cebuano
chr Cherokee
ny Chichewa
zh-CN Chinese (Simplified)
zh-TW Chinese (Traditional)
co Corsican
hr Croatian
cs Czech
da Danish
nl Dutch
en English
eo Esperanto
et Estonian
ee Ewe
fo Faroese
tl Filipino
fi Finnish
fr French Download
fy Frisian
gaa Ga
gl Galician
ka Georgian
de German
el Greek
gn Guarani
gu Gujarati
ht Haitian Creole
ha Hausa
haw Hawaiian
iw Hebrew
hi Hindi
hmn Hmong
hu Hungarian
is Icelandic
ig Igbo
id Indonesian
ia Interlingua
ga Irish
it Italian
ja Japanese
jw Javanese
kn Kannada
kk Kazakh
rw Kinyarwanda
rn Kirundi
kg Kongo
ko Korean
kri Krio (Sierra Leone)
ku Kurdish
ckb Kurdish (Soranî)
ky Kyrgyz
lo Laothian
la Latin
lv Latvian
ln Lingala
lt Lithuanian
loz Lozi
lg Luganda
ach Luo
lb Luxembourgish
mk Macedonian
mg Malagasy
ms Malay
ml Malayalam
mt Maltese
mi Maori
mr Marathi
mfe Mauritian Creole
mo Moldavian
mn Mongolian
my Myanmar (Burmese)
sr-ME Montenegrin
ne Nepali
pcm Nigerian Pidgin
nso Northern Sotho
no Norwegian
nn Norwegian (Nynorsk)
oc Occitan
or Oriya
om Oromo
ps Pashto
fa Persian
pl Polish
pt-BR Portuguese (Brazil)
pt Portuguese (Portugal)
pa Punjabi
qu Quechua
ro Romanian Download
rm Romansh
nyn Runyakitara
ru Russian
sm Samoan
gd Scots Gaelic
sr Serbian
sh Serbo-Croatian
st Sesotho
tn Setswana
crs Seychellois Creole
sn Shona
sd Sindhi
si Sinhalese
sk Slovak
sl Slovenian
so Somali
es Spanish
es-419 Spanish (Latin American)
su Sundanese
sw Swahili
sv Swedish
tg Tajik
ta Tamil
tt Tatar
te Telugu
th Thai
ti Tigrinya
to Tonga
lua Tshiluba
tum Tumbuka
tr Turkish
tk Turkmen
tw Twi
ug Uighur
uk Ukrainian
ur Urdu
uz Uzbek
vi Vietnamese
cy Welsh
wo Wolof
xh Xhosa
yi Yiddish
yo Yoruba
zu Zulu

Original subtitles

একটা পাখি যদি সারাজীবন উড়ে বেড়ায়...

যে গাছ কখনো তার ছায়া না হারায়।

সেই সিদ্রা গাছ, ঠাই দাঁড়িয়ে আছে পৃথিবীর শেষ প্রান্তের সাত সমুদ্র জুড়ে।

তার ঠিক পাশেই যেন স্বর্গ।

শুভ সকাল।

কি সুন্দর সকাল!

জামাইকা!

ওই কাল্পো, ত্রিমল.. উঠ ভাই আমাদের জামা-কাপড় গায়েব হয়ে গেছে।

ওই!

আমার কাপড়!

আমি নিশ্চিত... এর পিছে গার্ড সুরার হাত আছে।

ও আবার কী করেছে?

সে-ই তো লাইট-হাউজে না আসতে বলেছিল।

প্লিকো, বাচ্চাদের মতো কাঁদিস না।

- ব্রিটিশ সালারা লিফট বানাতে পারলো না? - এরচেয়ে বীচে বসে মাল খাওয়া ভালো ছিল।

আমি যাবো না।

চল রে, ভাই।

সবাই দেখছে। আমার ভালোই লাগছে।

কি রোদ রে বাবা! এখানে বসবো নাকি?

চল।

এই, দাঁড়াও।

দাঁড়াও বলছি।

এরা ডলফিন বীচ থেকে এসেছে, স্যার।

• অনুবাদ আয়োজনে • • সোহান আহম্মেদ • ফাহাদ আহমদ • • • • সহযোগিতায়: মোহাম্মদ সায়েম। • • •

কাল্পো!

উনাকে কিছু বাটার মিল্ক নিয়ে আসতে বলার দরকার ছিল।

- আসসালামু আলাইকুম, আসুরা বিবি। - ধন্যবাদ। তোরা এখানে মজা করছিস?

- ওদিকে সাইপ্পু পাগলামি করছে। - কেন?

- আবার কী হয়েছে বাবার? - গতকাল ক্যাফে'র গেইট কে খোলা রেখেছিল?

গেইট খোলা ছিল?

গতকাল ক্যাফে'তে ঘুমাবি বললি বলেই সে তোর কাছে চাবি রেখে গিয়েছিল।

আর এখন তার বাইক উদাও।

বাইক পাওয়া যাচ্ছে না?

- হ্যাঁ! - প্লিকো...

গেটে কি তালা লাগিয়েছিলাম?

- হ্যাঁ, লাগিয়েছিলাম। - না, কাল্পো।

- আমি দেখেছি, তালা লাগাসনি। - কাল্পো!

বাইক ছাড়া ক্যাফে'তে ডুকিস না।

এতে আমার প্রিয় হিদারের স্মৃতি জড়িয়ে আছে।

জামাইকা!

কবিরীক্কা এখন কোথায় আছে?

কে? কেরোসিন কবির?

কাল্পো, আগে চুরি-চামারি করতাম।

এখন ওসব খারাপ অতীতকে ভুলার চেষ্টা করছি।

গত সপ্তাহ আজমীরে ছিলাম।

এমন একজন ধার্মিক ব্যক্তিকে এভাবে বলতে পারলি?

কাল্পো, আমাকে এতোই নিষ্ঠুর ভাবিস যে সাইপ্পুর বাইক চুরি করবো?

কবির এমন না।

প্লিজ ইমোশনাল হইয়ো না, ভাই।

যাই বলিস না কেন আমার কিছু যায়-আসে না।

আমাকে "কবিরীক্কা" ডাকবি না।

- তারচেয়ে চোর কবির ডাকিস। - মিথ্যাবাদী! ওহ্ আল্লাহ্।

বাইকটা থুনিপোক্কি ব্রিজে কোয়া'র দোকানের পিছনে গরুর গোয়ালে আছে।

কিন্তু একটা সমস্যা আছে।

বিকেল ৪ টার আগেই নিয়ে আসতে হবে।

নয়তো কোয়েম্বাটুরের চোরেরা নিয়ে ভাগবে।

- তখন আমার কাছে চাইতে আসবি না। - ঠিক আছে!

হাই! ট্রেসা আন্টি...

হাই।

মা, প্লিকো গতকাল গেটে তালা দিতে ভুলে গিয়েছিল।

প্লিজ তোমার স্বামীকে বলে দাও এরজন্য যেন তার মাথা না ফাটায়।

- বাইকটা কোথায় পেলি? - তোমার না জানলেও চলবে।

যতদিন আমি বেঁচে আছি, তোমার ভালোবাসার স্মৃতি কেউ চুরি করতে পারবে না।

১৯৭৫ আরডি ৩৫০.. যার উপর তুমি অন্য কাউকে বসতে দাও না।

মায়ের মৃত্যুবার্ষিকীতে অন্তত আগেভাগে আসতে পারতি।

মা'র সাথে কথা বলতে এখানে আসার দরকার নাই।

জানেন কী! এটাই আসল আলেপ্পি হেড ম্যাসাজ।

জন, পুরুষরাও সেবার আওতাধীন। পরখ করতে চান? শুয়ে পড়ুন।

- হেই! কাল্পো। - জিনিসপত্রগুলা নামা।

হাই সালি! - এদিকে আয়, বাপ। - আমার কথাও শুনে না।

- চাভা! - হ্যাঁ, সাইপ্পু।

জিনিসপত্রগুলা নামা।

এইতো আসছি।

- হাই! - আপনাকে আন্ডারটেকারের মতো লাগছে।

- ৫০ টা টাকা দে না। - বিড়ি টানার জন্য? টাকা নাই।

অনেক আগে বিড়ি বাদ দিয়েছি।

কোথায় ছিলি, সোনা?

আসুরা, সোনা।

শোন, চুলায় পিৎজা বানিয়ে বিদেশীদের আর বোকা বানাতে পারবো না।

ঠিক আছে, পরের বছর ১টা ইলেকট্রিক ওভেন কিনবো।

- কথা দিলাম। - ওহ্।

এটা মিসেস আসুরার স্পেশাল অথেন্টিক ইতালিয়ান পিৎজা। যা তৈরি হয়েছে ব্যয়বহুল স্ট্রিম ইঞ্জিন দিয়ে।

স্ট্রিম ইঞ্জিন? স্ট্রিম... ইদিয়াপ্পাম জাহাজের মতো।

- এই মাসের বিদ্যুৎ বিল দিয়েছিস? - হ্যাঁ।

- কী? বিল দিয়েছিস? - কাল দিয়ে দিবো।

সত্যি তো।

ঠিক আছে? তারা যদি ফিউজ খুলে ফেলে তবে আজকে ক্যান্ডেল-লাইট ডিনার আয়োজন করো।

পাপ্পু, আমার সোনা...

- ধন্যবাদ! - কাল্পো, তোর ভবিষ্যৎ প্ল্যান কী?

ওরা এখন আসলে সবাই কায়াকিং করতে যাবো।

এটাই তোর ভবিষ্যৎ প্ল্যান?

বদমাশ।

জীবনের বাকি সময়টা বন্ধুদের সাথে লাইট-হাউজে মাস্তি করে কাটাবি?

তাহলে সিসিলি আন্টিকে বলো আমার জন্য একটা ভিসার ব্যবস্থা করতে।

এখানে তোকে সাহায্য করার জন্য অন্তত ট্রেসা আছে।

ওখানে কে করবে?

যদি সিসিলি ভিসা পাঠায় আর তুই সেখানে যাস!

তবে সিসিলির ভিসাও বাতিল করে এখানে ফেরত পাঠাবে।

শুধু দেখতে থাকো, বাবা।

এই মৌসুমে যেভাবেই হোক একটা ইতালিয়ান মেয়ে পটাবো।

ইতালিয়ান ভিসা কব্জা করে,

সবাইকে নিয়ে ইতালি উড়ে যাবো। তা নাহলে, নির্দ্ধিধায় আমার নাম পাপ্পু রেখো।

কাল্পো!

একদল তাজা বিদেশী বাস স্টপে দাঁড়িয়ে আছে, তাড়াতাড়ি আয়।

জলদি গেলে সুযোগ পাবি, নয়তো গিরির দল ছিনিয়ে নিবে।

যা।

তাড়াতাড়ি কর, কাল্পো।

দেখা হবে।

কাল্পো, আয়।

চল, প্লিকো।

খাইছেরে!

দেখ আর শিখ, ভাইলোগ।

- বিষয়টার জন্য দুঃখিত। - না, ঠিক আছে।

কাল্পো, বল দে।

তোমার নাম কী?

কাল্পো, লিওনার্দো কাল্পো। আর তুমি?

আমি ইসাবেলা।

- ইসাবেলা? - হ্যাঁ। - কি সুন্দর নাম! - অনেক ধন্যবাদ।

- আমি তোমার আশেপাশেই আছি। - দেখা হবে, বাই।

তোর ছেলে সবসময় গালে কালো তিলওয়ালা বিদেশিনীটার সাথে থাকে।

ওর উপর নজর রাখিস।

সবাই এখন বিদেশী মেয়েদের পিছনে লেগে আছে।

কাল্পো, এখানে নাই।

তোরা যা.. আমি আসছি।

কাল্পো, দাঁড়াস না। সালা পাগল।

লোকটাকে দেখছো? উনি ফ্রেডরিক।

আলেপ্পির সেরা ফটোগ্রাফার।

আর বাবার সবচেয়ে ভালো বন্ধু।

ফ্রেডি কাকা।

- একটা স্ন্যাপ, প্লিজ? - ফকির কোথাকার।

বদমাশ ছেলে।

তার মেজাজ ঠিক নাই। চলো, পরে আসবো।

ঠিক আছে, কাকা। পরে দেখা হবে।

সারাক্ষণ সুইস মেয়েকে নিয়ে ঘোরাঘুরি করছিস কেন?

- কী প্ল্যান করছিস? - বাবা! তোমাকে বলেছি.. তাই না?

ওর বাবা কোটিপতি। সবকিছু প্রায় প্রস্তুত।

আমার প্ল্যান- ওকে বিয়ে করে সুইজারল্যান্ড চলে যাওয়া।

তার সম্পত্তি ভাগিয়ে...

ফিরে এসে ক্যাটামারানের ঋণ শোধ করে আলেপ্পিতে নতুন লাইট-হাউজ তৈরি করা।

প্ল্যানটা কেমন?

কোন বিদেশীর টাকা দিয়ে ঋণ পরিশোধ করতে চাই না।

আমি চাই নিজে ভালো কিছু কর।

- ওদিকে তাকাস না। - আমি আছি তো।

- ট্রেসা আন্টি, কী খবর? - সব ঠিকঠাক, কাল্পো।

- বাবা তোমার কথাই বলছিল। - কখন?

ভাবছিল তুমি কোথায় আছো।

- কী হয়েছে, সাইপ্পু? - আমি তাই বলছিলাম?

ভাবোনি তার কথা?

বাই, দেখা হবে।

- সুযোগ মিস করো না, যাও কথা বলো। - কী হয়েছে?

- আজ কোর্টে যাওনি? - আজ তো রবিবার।

ওহ্, ভুলেই গিয়েছিলাম রবিবার যে ছুটির দিন।

হেই! বেলা! ইসাবেলা!

- আমার ফেয়ার এ্যান্ড লাভলী। - হেই, সারাভানান।

- আসো, সোনা। - ও আমার সোনা।

তোমাকে ছাড়া পন্ডিচেরিতে খুব খারাপ লাগছিল।

কাছে এসো, সুইটি।

হেই, কাল্পো।

- এদিকে এসো। - বেলা! এই ফকিরগুলা কারা?

হেই, আলেপ্পি ব্রো।

- আমার বয়ফ্রেন্ডের সাথে পরিচিত হও, কাল্পো। - বয়ফ্রেন্ড?

বন্ধু, মনে হচ্ছে এটা তার প্রেমিক।

- আমরা আগামী মাসে বিয়ে করছি। - বি... বিয়ে করছো মানে?

দুঃখিত, ও কাল্পো।

সে আমাকে আলেপ্পির সবকিছু ঘুরিয়ে দেখিয়েছে।

- ট্যুরিস্ট গাইড? - সে এখানকার সেরা ট্যুরিস্ট গাইড। - ভাই, দাম-দর একটু কম রাইখো।

আমি পন্ডিচেরির ডন।

কখনো পন্ডিচেরি এসো পুরোটা ঘুরিয়ে দেখাবো।

কাল্পো হবে মাতাল।

মাতলামী মাথায়।

ছাড় না রে... একটা গেলে আরেকটা আসবে।

হেই, কাল্পো।

লাইট-হাউজ কোথায় বসানোর প্ল্যান করেছিস?

পোর্ট থেকে অনুমতি নিতে হবে।

তারা সঠিক লোকেশন চাইবে।

বাবা!

ধুর হ, বদমাশ।

ওই, ২০ বার গাইলাম রে।

- এখনো হয়নি, কাল্পো? - না, আবার গা।

খুব ভালো মানুষ ছিলেন।

আল্লাহ! তার আত্মাকে শান্তি দিন।

- শান্তি? - হ্যাঁ! - জানো উনি কে? পাবলো এসকোবারের ছবি এটা। বিখ্যাত ড্রাগ মাফিয়া।

সাইপ্পুর কাকা না?

ওহ! সাইপ্পুর কাকা!! কাকা!!

কী? উনি সাইপ্পুর কাকা না?

আচ্ছা...

কাল্পো! জানিস তো কতো টাকা ধার নিয়েছিস?

শোনো, আন্টি...

ইসাবেলার পিছে নষ্ট করা টাকা বাবাকে ফেরত না দিলে আমাকে ঘরে ডুকতে দিবে না। তারপর তোমার টাকাও দিয়ে দিবো।

- এসব অনেক শুনেছি। - এই বছরটা অপেক্ষা করো।

- ঘটনা কী বল। - ফোনটা কাল্পোকে দে।

ঘটনা কী সেটা বললেই দিবো।

- একটা ডিলের ব্যাপার। - হেই, আমার মুখ খোলাবি না।

কী হয়েছে?

ত্রিমল... তোর সাথে কথা বলতে চায়।

বল।

একটা বড় ডিল আছে, বন্ধু।

কীসের ডিল?

বলছি, আগে থুনিপোক্কি ব্রিজে আয়।

ময়না ধরার জন্য ৫ হাজার টাকা?

১টা কলা দিলে ময়না নিজেই খাঁচায় ডুকবে।

ভাই, এটা আমাদের ডিল ছিল।

দেখুন, এটা কথা বলতে পারা আসল ময়না।

মুল্লাক্কার নতুন ভাড়াটিয়াদের ময়না.. ঐ বাসার মেয়েই.. পাখি ধরলে টাকা দিবে বলেছিল।

সে অবশ্যই টাকা দিবে।

আমাদের মতো সুশান্তরা ধরবে পাখি?

পাখিটাকে অনেক বছর ধরে লালন-পালন করছি।

নতুন জায়গা তো তাই খাঁচায় ঢুকতে ভয় পাচ্ছে।

এমনিতে নিজেই ঢুকে।

চিন্তা করবেন না, ম্যাডাম। ও খুব দক্ষ পাখি শিকারী।

- যা, কাল্পো। - আমি?

বাবা, কাক আক্রমণ করার আগেই পাখিটাকে ধরো।

১ মিনিট, ম্যাডাম। এদিকে আয়।

সালা।

বলেছিস, খুব সহজ কাজ।

মই নিয়ে আসলেও উঠতে ১ ঘন্টা লাগবে।

কেন ইসাবেলার জন্য নরম নারিকেল আনতে লম্বা গাছে উঠিসনি?

- আর দেখ... - এখানে অন্তত মাল পাবি।

ম্যাডাম, ও কাজটা করবে। একটু সময় দিন।

জলদি উঠে পড়।

যা...

উপরে উঠ।

উঠ, ভাই।

হ্যাঁ, ওখানে ধর।

- সাবধান, কাল্পো। - ওই ডালটা ধর।

ভাই, সাবধান। ভয় পাস না।

আস্তে আস্তে...

কাল্পো, সাবধান।

সাবধান, বন্ধু।

থুম্বি...

FIRST COLOR - ATTRACTION প্রথম রঙ - আকর্ষণ

পিঙ্কু!!!

আরে, সাবধানে।

তোর বাবা!

থুম্বি, তোর বাবা।

- বিদেশিনীদের বাসায় আনতে লাগলো নাকি? - খাবার খাবে?

খাবার খাবে?

এটা কী?

ভয় পেও না, সোনা। উনি আমার বাবা।

এখন পাখি ধরা শুরু করলি?

উল্টা-পাল্টা বলো না তো, বাবা।

এসব ব্যবসায়িক ব্যাপার।

আগামীকাল এটাকে বিক্রি করবো।

থুম্বি...

থুম্বি (ফড়িং) বলছে কেন?

বাবা, এক কাজ করো কয়েকটা ফড়িং ধরে নিয়ে আসো।

বেচারা ভীষণ ক্ষুধার্ত।

তোর আর তোর বন্ধুর পিছনে অনেক তো খরচা করলাম।

এখন চাস পাখির জন্য রাতের বেলা ফড়িং ধরি?

মনে হয় সকাল থেকে কিছু খায়নি কিছু একটা খাওয়া।

যতোই হোক.. ও তোর মতোই ১টা প্রাণী।

নয়তো এক কাজ কর।

মসলা মাখিয়ে ভেজে ফেল।

বিয়ারের সাথে জমবে ভাল।

- বিয়ারের সাথে ময়না ভাজি। - ময়না ভাজি?

দরদাম মানে? অর্ধেক দাম?

ভাল দাম বলুন।

- বাবা! - কী?

প্লিজ, দরজাটা খোলো।

আমি ওয়াশরুমে।

কি যন্ত্রণা রে!!

এটা হাতে খাওয়ানো পাখি। সচরাচর এখানে পাওয়া যায় না।

১ মিনিট। পরে ফোন দিচ্ছি।

কী চাই?

এই বিজ্ঞাপনটা OLX-এ দিয়েছো নাকি?

হ্যাঁ, কী সমস্যা?

- এটা তো আমার ময়না। - তোমার মানে? গতকাল জোর করে গাছে উঠিয়ে,

আমাকে পানিতে ফেলে সবাই চলে গেলে।

১০ হাজার টাকা দিলে দিয়ে দিবো।

কিন্তু ডিল তো ৫ হাজারের হয়েছিল!

ওসব গতকালের কথা। এটা দেখছো?

এর জন্য কে টাকা দিবে?

এটা ঠিক হচ্ছে না।

ঠিক হচ্ছে না!!

টাকা না দিলে, বলো।

ইতিমধ্যে ৫ জন OLX-এ আগ্রহ দেখিয়েছে,

৩ জন দরদাম করছে ২ জন তো যোগাযোগও করলো।

আমার সাথে এতো টাকা নাই।

এতো নাই?

কতো আছে?

৭ হাজার দিতে পারবো।

লস হয়ে যায়...

যাহোক...

টাকা দাও।

এই!

তোমার নাম কী?

- নাম বলো। - আপা, নাম বলো।

ভাই!

আমাদের কমিশনটা?

- গেলি রে... - পালা।

ত্রিমলের থেকে নিয়ে নিবো।

ত্রিমল মারাচ্ছে!

মাম্মুক্কা!

মাম্মুক্কা!

দেখ, রিনা আসছে।

রিনা! আমার জানেমান।

সালা এখন মেয়েটার পিছে ঘুরবে।

- কাল্পো! - কী?

তোর ময়নাওয়ালী।

ওহ্, সে।

SECOND COLOR - INFATUATION দ্বিতীয় রঙ - মোহ

রিনা সোনা। ৪ টা টিকিট, তাই না?

সালা আমাদের টিকিট দিতে চাচ্ছে।

- হাই, রিনার নতুন বান্ধবী। - নিজেরাই কিনতে পারবো, চল।

ও কি টিকিট বিক্রি করতে আসছে?

- এটা কে... প্রেম নাজির নাকি? - না, শঙ্কর।

কিরে, এখানে টিকিট বিক্রি করতে আসছিস?

একটু শুভেচ্ছা জানাতে গিয়েছিলাম।

মনে হয় সত্যিই বলছে। ওরা কাউন্টারে চলে গেছে।

- হাই, ময়না আপু! - ময়না আপু?

কাউন্টার বন্ধ করে দিয়েছে। শো হাউসফুল।

হাউসফুল, রিনা আপু।

তোরা এখানে দাঁড়া। আমি দেখছি।

একটু সরুন তো।

বন্ধু, টিকিটগুলা সালিকে দে।

মনে হয় বৃষ্টি আসবে।

- সালি, আমাদের জন্য সিট রাখিস। - অবশ্যই।

- প্লিকো, ওই টিকিটগুলো দেয়া যাবে? - অবশ্যই।

বন্ধু, তাকে ঐ টিকিটগুলা দে।

তুই বলার পর তো ঐগুলা বিক্রি করে দিয়েছি।

- এতো তাড়াতাড়ি? ৫ মিনিটও তো হয়নি। - রিনা, এটা মামুত্তির সিনেমা। - ১টা টিকিট বিক্রি করতে ৫ মিনিটও লাগে না।

ওকে টিকিটগুলা দে। টাকা দিচ্ছি।

আগে তোর টিকিটের টাকা দে।

কাল্পো! অনেক ঝামেলা করে বাড়ি থেকে বের হয়েছি।

আর সুযোগ পাবো না।

প্লিজ, টিকিটগুলা দাও।

তোমার নতুন বান্ধবী এসে বললে দিতে পারি!

অসম্ভব। হুদাই ভাব দেখিয়ো না।

সে না চাইলে, টিকিট পাবে না।

- যাও তো। - তুমিও যাও।

ভাবের রাজা, হুদাই।

তুই চাইলে না-কি টিকিট দিবে।

সিনেমাই দেখবো না।

আমরা তো দিতেই চাচ্ছি তবে সমস্যা কোথায়?

কাল্পো শুধু নতুন মেয়েটার সামনে একটু ভাব দেখাচ্ছিল।

- বন্ধু, রিনার জন্য টিকিট নিবি? - যা সালা।

ঠিক আছে, আমি চাইছি।

টিকিটগুলা দাও, প্লিজ?

বাসায় না বলে এসেছি।

হয়তো একসাথে আবার আসার সুযোগ পাবো না।

আচ্ছা, দিবো।

তার আগে নাম বলো।

থুম্বি।

থুম্বি?

ওই, টিকিটগুলা দে।

দিয়ে দে, ভাই।

টাকা দিতে হবে না।

- না, প্লিজ নাও। - তাহলে টিকিট দিবো না।

- মামুত্তির ভক্ত নাকি? - জি।

কাল্পো, মাঙ্গির পোলা।

- রিনু! - হ্যাঁ।

- পপকর্ন খাবে? - না, ধন্যবাদ।

উনার চুলের জন্য কিছু্ই দেখতে পারছি না।

মাম্মুক্কা!

ছুড়ে মার।

মামুত্তির এন্ট্রি হয়তো শেষ।

তাড়াতাড়ি আসতে বলেছিলাম না?

- ওই চুপ কর। - তুই-ই আমাকে দেরি করিয়েছিস। অন্য মানুষের থেকে গল্প জানতে হবে।

ভাই, রাগ করিস না।

আবার শুরু থেকে চালাবো।

আমাদের এলাকার থিয়েটার।

চুপচাপ ওরে টিকিট দে।

- আমাদের সিটগুলা দেখিয়ে দে। - স্যার, প্রথম শো'তে সিট নাম্বার লাগে না।

যেখানে খুশি বসতে পারেন।

তাহলে টিকিটের মধ্যে বালের সিট নাম্বার লিখেছিস কেন?

কাহিনী না করে সিট দেখা।

আপনারা দেরিতে আসলে আমি কী করবো?

এদিকে আয়, সালা।

আমাদের সিটগুলা দেখা আর সিনেমা শুরু থেকে চালা।

ফার্স্ট ডে ফার্স্ট শো... আমার বাল।

চোরে! সবাইকে কি একটু বিরক্ত করবো?

ওই, গর্তটা বন্ধ কর।

আমি দেখছি।

কুরেঞ্জ, সিনেমার জন্য রেডি হ।

চল, ভাই।

বালের ফার্স্ট ডে ফার্স্ট শো।

ওই! গেঞ্জি সরা।

আমাদের টিকিট আছে। ওদের বল সিট দিতে।

- সেটা গিয়ে কর্তৃপক্ষকে বল। - সালি, গেঞ্জিটা ছুড়ে ফেল।

যদি আমার গেঞ্জিতে হাতও লাগাস না একদম মাথা ফাটিয়ে দিবো।

বাল, ঝামেলা করবি না। তোর গেঞ্জি সরা।

নয়তো আমাদের দেখা.. তুই কতোগুলা মাথা ফাটাতে পারিস।

- সালি, সরা তো। - স্পর্শ করার সাহসও করিস না।

আয়।

সালি, বালের গেঞ্জিটা সরা।

নাম বলছি।

বালের নাটক করছিস।

ছাড় আমাকে।

চল, ক্লিক।

চোরে, মার ওকে।

চল।

ওই!

ভাই, হয়েছে.. চল যাই।

চল সব।

ওই!

এদিকে আয় বলছি।

মারামারি বন্ধ কর। কেউ পালাবি না।

বদমাশ।

- স্যার, ওদের দোষ। - চুপ কর।

স্যার, ওরাই আগে মারামারি শুরু করেছে।

আমার কথাটা শুনুন। ওরাই আগে এসব শুরু করেছে।

আমরা ভালো করেই জানি কে শুরু করেছে।

স্যার, ওরা আগে কিছু করেনি। ওরা নির্দোষ।

স্যার, ওরাই আগে মারামারি শুরু করেছে।

ওরাই দোষী।

রিনা, বল উনাদের।

- স্যার, ওই ছেলেরাই দোষী। - ওদের গাড়িতে তোলো।

চল।

চল বলছি।

কাসারগোদের এনকাউন্টার মামলায় আদালত পুনরায় তদন্তের নির্দেশ জারি করে।

এনকাউন্টারে ২ জন নিহত হয়েছিল।

ভুক্তভোগী পরিবার জানিয়েছে, আদালতের প্রতি তাদের পূর্ণ আস্থা আছে যেন তারা ন্যায়বিচার পায়।

কোথামঙ্গলমের আবাসিক এলাকায় বন্য হাতির সন্ধান পাওয়া গিয়েছে।

থুম্বি...

কোথায় গিয়েছিলি, মা?

ক... কলেজে।

সে তো সকাল বেলা,

তারপর কোথায় গিয়েছিলি?

রিনার সাথে গিয়েছিলাম।

কোথায় গিয়েছিলি?

কোথায় গিয়েছিলি, মা?

সিনেমা দেখতে।

সিনেমা দেখতে গিয়েছিলি?

কে অনুমতি দিয়েছিল?

তোর মা?

তুমি ওকে সিনেমা দেখার অনুমতি দিয়েছিলে?

দিয়েছিলে নাকি?

উত্তর দাও, সাউদা।

উত্তর দাও, সাউদা।

তুমি অনুমতি দিয়েছিলে?

কবে থেকে ওর ব্যাপারে অনুমতি দেয়া শুরু করলে?

বাহ!

তুমি অনুমতি দিয়েছিলে, তাই না?

এতো বড় সাহস তোমার!

এতো বড় সাহস!

ওকে সিনেমা দেখার অনুমতি দেয়ার সাহস কী করে হলো?

তোমাকে...

আমি আছি কীজন্য, বাল?

আগে মনে হয় প্রেমিক নিয়ে খুব ঘোরাঘুরি করতে!

কিন্তু এখানে এসব চলবে না।

এখানে আমার কথা মানতে হবে।

ওকে আবার বাইরে যেতে দিবে?

যেতে দিবে?

এই কোম্পানিটা... অ্যাসপিনওয়াল এন্ড কো. যা ১৮৫৭ সালে,

জন এইচ অ্যাসপিনওয়াল প্রতিষ্ঠা করেন।

এটা কয়ারের সেরা গুণগতমান। একদম শ্রেষ্ঠ মান। প্রয়োজনে স্পর্শ করুন, দেখুন কতোটা মসৃণ।

থুম্বি, আমি এক্ষুণি আসছি।

এমন মানসমৃদ্ধ কয়ার আর কোথাও পাবেন না। কয়ার - মেসোকার্প টিস্যু বা নারিকেলের তুষ।

আমি সেটাই বললাম।

কাল্পো! এতো অভিনয় কোরো না, ভাই।

বাহ্, এখানে চাকরি পেয়েছ নাকি?

না, কলেজের ইন্টার্নশিপের জন্য এসেছি।

যাহোক, তোমার ময়নাওয়ালীও এসেছে।

আমি সব জানি।

বাই, বন্ধুগণ।

রিনা...

বন্ধুগণ, আপনারা ছবি তুলুন। আমি এক্ষুণি আসছি।

মাত্র ৫ মিনিট।

হাই!

হাই!

- ধন্যবাদ। - কীসের জন্য?

ঐদিন থিয়েটারে আমাকে সাপোর্ট করার জন্য।

শুনেছি সেজন্য বাসায় অনেক সমস্যা হয়েছে।

তোমাকে কে বললো?

কোন সমস্যা থাকলে বলতে পারো।

- সমাধানের চেষ্টা করবো। - কী চাও তুমি?

- তাকে মারবো? - কী?

নাকি তোমার বাবাকে OLX- এ বিক্রি করে দিবো?

চিন্তা নাই চাইলেই বিক্রি করা যাবে।

ধন্যবাদ, রিনা মামি।

- ওই, আবুল। - আবুল?

- এই গানটা অনেক পুরনো। - পানিতে ফেল এসব। - তোর বাবাও তো পুরনো হয়ে গেছে, তাই না?

আগে উনাকেও পানিতে ফেলে আয়।

থাম তোরা।

ওই, কাল্পো!

রেলস্টেশনে কাজ করা মেয়েটার সাথে তোমার পরিচয় আছে না?

- হ্যাঁ, কেন? - আগামীকালের বোকারো ট্রেনের... ২টা টিকিট ব্যবস্থা করা যাবে?

অনলাইনেও কোন টিকিট নেই।

কোথায় যাবি তুই? ক্লাস নাই নাকি?

- অট্টাপালাম। - ওখানে কেন যাবি?

আমার জন্য না, মা। থুম্বির নানু বাড়ি অট্টাপালামে।

ওর বাবা শহরে নেই। তাই নানুকে দেখতে যাবে।

প্লিজ, ব্যবস্থা করো।

হয়ে যাবে।

বন্ধু, টিকিটে একটু ভুল আছে।

টিকিটে আমার নামের জায়গায় তোমার নাম লিখা।

কোন ভুল নাই।

তাহলে?

আমিই ওর সাথে যাবো।

তুমি কেন এত সক্কালে কষ্ট করে জার্নি করবে?

থুম্বি মানবে না।

- সমস্যা হতে পারে। - আমাকে বিশ্বাস করো না?

বিশ্বাস-অবিশ্বাসের প্রশ্ন না ওকে কী বলবো?

কিছু একটা বলে দাও তোমার কথা শুনবে।

- প্লিজ। - আমি কী...

ঝামেলা করো না...

শুভ সকাল, বাবা।

শুভ সকাল। প্লিজ, সকাল ৮:৩০ টার মধ্যে বাড়িতে থাকিস।

- ৮:৩০? - হ্যাঁ।

সকালবেলা ফুলবাবু সেজে তুই কোথায় চললি?

- অট্টাপালাম। - কী?

তোর বন্ধুদের জিজ্ঞাস কর কেউ যাবে কিনা!

আজ তোর মায়ের জন্মদিন। আমাদের গির্জায় যেতে হবে।

ভুলে গেছিস?

বাবা, কেউ আমার জন্য রেলস্টেশনে অপেক্ষা করছে।

অচেনা বিদেশিনী এখন মায়ের চেয়েও বড়ো তহালে?

কোন বিদেশিনী না।

বিদেশিনী না?

- ঠিক আছে, তুই যা। - বাবা!

প্লিকো'ই শেষ ভরসা। ক্যাটামারানে চলে আসিস।

কী হয়েছে? কোন সমস্যা নাকি?

আজকে মায়ের জন্মদিন।

আমার গির্জায় যাওয়ার কথা ছিল।

ওহ, তোর বাবা কী বললো?

কিছু বলেনি। মনে হয় কিছুটা হতাশ।

কী যে করি?

চিন্তা করিস না। আমি সামলে নিবো।

আঙ্কেল আমাকে তোর চেয়ে বেশি পছন্দ করে।

ওরে! গেট বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।

বন্ধ করবেন না।

বাল।

বাইক ধর।

কাকা, গেটটা একটু খুলে দিবেন?

ট্রেন আসছে।

- প্লিজ, খুব জরুরী। - সম্ভব না।

একটু খুলে দিন না।

কাল্পো!

তোর বোকারো ট্রেন।

- পরের স্টপেজ কোনটা? - চেরথালা।

কাল্পো!

ওই!

গোলাপী ড্রেসে মানাচ্ছে না।

আপু, একটু সরে বসবেন?

কী ভেবেছিলে আমি আসবো না?

যদি তাই ভাবতাম তবে ট্রেনেই উঠতাম না।

- তোমরা অট্টাপালাম থেকে এসেছো? - হ্যাঁ।

নানু বাড়ি ওখানে।

ওহ!

তুমি কি অট্টাপালাম গিয়েছিলে?

হ্যাঁ, টুরিস্টদের নিয়ে কালামান্ডালাম গিয়েছিলাম।

- সবাই এটাই করো? - টুরিস্ট গাইড হিসাবে কাজ করো? - একদম।

আমাদের পুরো গ্যাংয়ের স্বপ্ন কোন বিদেশিনীকে বিয়ে করে ইউরোপে যাওয়া।

তোমার কী স্বপ্ন?

আগে আমারও এমন স্বপ্নই ছিল।

আর এখন?

এখন...

এলাকা ঘুরিয়ে দেখাতে বিদেশিনীদের থেকে কতো টাকা নাও?

এটা নির্ভর করে...

কিসের উপর নির্ভর করে?

চেহারা।

চেহারা?

দেখতে সুন্দর হলে ৫০% ডিসকাউন্ট দেই।

তো আমার থেকে কতো নিবে?

তোমার থেকে?

বেশ, তোমার চেহারা অনুযায়ী...

একদম ফ্রি।

তোর মা এই বিয়েতে রাজী ছিল না।

জোর করে বিয়ে দিই।

কিন্তু আমরা কখনো ভাবিনি যে পরিস্থিতি এমন হবে।

বাদ দাও ওসব।

তোর বাবারও তো দোষ নাই।

তোর মা একজনকে ভালবাসতো।

যখন এই কথা আমাদের জানায়,

তোর নানা-মামারা মেনে নেয়নি।

অতীত জেনেও তোর বাবা বিয়ে করেছে, তাই না?

সেটাই অনেক বড় ব্যাপার।

তোর মাকে এসব বলিস না।

- থুম্বি, ট্রেনের সময় হয়ে গেছে। - ঠিক আছে।

ও কে?

আমার বন্ধু, নানু।

এখানে আসো, ভাই।

- নাম কী তোমার? - কাল্পো।

বাসায় কে কে আছে?

আমি আর বাবা।

মা নেই?

আমাকে জন্ম দিয়েই উনি মারা যান।

ইন্না লিল্লাহি।

পরে খাবো।

নানুর সাথে কথা বলে ভালো লাগলো।

উনি বেশ অসুস্থ।

নানুকে আলেপ্পিতে যাওয়ার পর থেকেই অনেক মিস করি।

তোমার মায়ের কথা আমাকে বলোনি কেন?

আসলে... আজ মায়ের জন্মদিন।

যদিও সে আমাদের মাঝে নাই, তবে প্রতি রবিবার তার সাথে কথা বলি।

তার জন্মদিন ও বার্ষিকীগুলা পালন করি।

সত্যি বলতে...

মাকে কখনো মিস করিনি।

কেন জানো?

কারণ বাবা আগলে রেখেছেন আমাকে।

- মন খারাপ করে দিলাম? - না।

কাল্পো! এমন কিছু নানু প্রায়ই বলে।

যে গাছ কখনো তার ছায়া না হারায়, ১টা পাখি যদি সারাজীবন উড়ে বেড়ায়...

সেই সিদ্রা গাছ, ঠাই দাঁড়িয়ে আছে পৃথিবীর শেষ প্রান্তের সাত সমুদ্র জুড়ে।

তার ঠিক পাশেই যেন স্বর্গ।

যিনি আমাদের আগেই চলে গিয়েছে,

যারা ভালোবাসে আমাদের সবচেয়ে বেশি।

যাদের আমরা পাইনি খুঁজে,

সেই তারা থাকবে সেখানে আমাদের আগমনের অপেক্ষায়...

আমি নিশ্চিত তোমার মা'ও সেখানে তোমার অপেক্ষায় আছে।

যাবে না?

তুমি আগে ভিতরে যাও তারপর যাচ্ছি।

যাও!

ঠিক আছে।

বাহ!

আজ কীভাবে মোহাম্মদ রাফি থেকে মেটালিকাতে চলে আসলি?

চারপাশে রোমান্টিক গন্ধ কেন?

- রোমান্টিক গন্ধ? - হ্যাঁ।

একজন প্রেমিকের গন্ধ।

চুপ করো, বাবা।

আসল কথা বল।

আজকে অট্টাপালাম গিয়েছিলি কেন?

সময় হলে জানতে পারবে।

ঠিক আছে, আমাকে জানাস সঠিক সময় কখন।

তবে তাকে সময়মতো বলিস।

মেয়েরা প্রকৃত পুরুষ পছন্দ করে।

তোর মতো না যারা বিদেশীদের স্বার্থের জন্য পছন্দ করে।

নিজেকে স্পষ্টভাবে প্রকাশ করা উচিৎ।

- তাহলে তুমি গিয়ে বলো দেখি? - আমি হলে সাহস করে বলে দিতাম।

আর সাথে সাথে মানা করে দিতো আজকাল বাইক দিয়ে মেয়ে পটানো সহজ না। যেভাবে মাকে পটিয়েছিলে।

প্রজন্ম বদলে গেছে।

প্রতিটা প্রজন্মই বলে...

নিজের পূর্বপুরুষদের গল্প শুনলে চমকে যাবি। বুঝেছিস?

তখন ফোন বা ফেইসবুক, হোয়াইট'সঅ্যাপ ছাড়া এক অন্যরকম প্রজন্ম ছিল।

আমাদের পূর্বপুরুষরা মেয়েদের সামনে আত্মবিশ্বাস ও,

সাহসের সাথে ভালোবাসা প্রকাশ করতো।

আর তাদের নিয়ে মজা করিস!

- তুমিও কি এভাবেই ভালবাসো!! - আমাকে কী করতে হবে?

কাল তার সাথে দেখা কর।

আর আত্মবিশ্বাসের সাথে ভালোবাসি বলবি।

- কীভাবে? - সেটাও কী বুঝিয়ে দিতে হবে?

ঐ বাণীটি শুনিসনি?

ভালোবাসা ভালোবাসে ভালোবাসা...

শুনিসনি?

- কাল চেষ্টা করবি ভালো হেয়ারকাট ও সুন্দর পোশাক পরার। - মন চাইলে যেমন আছি সেভাবেই মেনে নিবে।

- আমি কারো জন্য বদলাবো না। - আমি কারো জন্য বদলাবো না!!

ঠিক আছে, তোর যা ইচ্ছা।

আমার প্রিয় পুরনো প্রেমিকা...

মন চাইলে যেমন আছি সেভাবেই মেনে নিবে।

কারো জন্য নিজেকে বদলাবো না।

- বাই, বন্ধু। - ঠিক আছে।

রিনা!

চুলের কী হয়েছে?

আসলে... আমি,

ও বাণিজ্য বিভাগের।

ধন্যবাদ।

দুঃখিত, ভাই।

চুল কেটেছো নাকি?

হ্যাঁ, স্টাইলটা পরিবর্তন করলাম।

এখানে কিভাবে এলে?

- তোমাকে কিছু বলার ছিল। - বলো।

বলো...

আসলে, থুম্বি।

গতকাল বাবা...

থুম্বি!

সময় হয়ে গেছে এরপর আমরা যাচ্ছি।

তোরা এখানে কী করছিস? থুম্বিকে নিয়ে আয়।

আমাকে যেতে হবে।

ঠিক আছে।

থুম্বি! শুভকামনা রইল।

ধন্যবাদ।

- কীরে? - বাবা!

থুম্বির ওপ্পানা দুর্দান্ত ছিল। ওপ্পানা - কেরালার মুসলিমদের ঐতিহ্যবাহী শিল্প।

তুই কি অভিনয় দেখতে গিয়েছিস?

না, শুধু প্রপোজ করতে এসেছি।

- আর অবশ্যই সেটা বলবো। - বলছি না তোর আত্মবিশ্বাস কম।

তবুও কিছুই পারবি না।

তুই সবকিছু গন্ডগোল পাকাবি।

কাল্পো!

হ্যালো!

জরুরী কী যেন বলতে চেয়েছিলে?

তোমার অভিনয় দারুণ ছিল।

এটাই বলতে চেয়েছিলে?

না।

থুম্বি! জানো...

আমার পরিসরটা ছোট্ট... বাবা, ক্যাটামারান, আসুরা আন্টি আর বন্ধুরাই এর অংশ।

সত্যি বলতে, জীবনে ডলফিন বীচের বাইরে কখনো কিছু ভাবিনি।

কী বললে?

ডলফিন বীচ।

ডলফিন বীচ?

সেখানে কি ডলফিন আছে?

সবাই তো তাই বলে।

তো, গেলে ডলফিন দেখা যাবে?

আসলে,

বাবাকে জিজ্ঞেস করতে হবে।

বা, বা.. বাবাকে জিজ্ঞেস করতে হবে না।

- ঠিক আছে, আমি ব্যবস্থা করছি তো। - বাদ দাও, এমনিই জিজ্ঞেস করলাম।

বন্ধুগণ! কাল্পো, ২ দিন হলো ঠিকমতো ঘুমাইনি।

আমি বাড়ি যাবো। থুম্বি, চল।

ঠিক আছে তাহলে।

আমি ব্যবস্থা করবো, শুভরাত্রি।

শুভরাত্রি।

ও তোর নাচ দেখতে এসেছিল?

ডলফিন!

আমি জানতাম ধরা যে খাবি।

সাইপ্পু...

এরা শুধু বিদেশীদের দিকেই তাকাতে জানে।

- পাঙ্গাশ মার্কা প্রেমিক। - একদম।

ওরে, কাটতেই পারছি না।

বাবা, এই বীচে ডলফিন আছে?

অবশ্যই, বোকা.. সেজন্যই তো এটা ডলফিন বীচ নামে পরিচিত।

বাবা, তুমি ডলফিন দেখেছো?

এখানকার কেউই আমার মতো অত ডলফিন দেখেনি।

স্থানীয় জেলেরা বিশ্বাস করে...

ডলফিন শুধুমাত্র প্রেমিক-প্রেমিকার সামনে জোড়ায় আসে।

ওই! সে কি আসবে?

- ও-ই তো বলেছিল... আসবে। - হ্যাঁ, হ্যাঁ।

স্থানীয় মাছ হলে সহজেই দেখাতে পারতাম।

ডলফিন কীভাবে দেখাবো?

কাল্পো! তোর সাহায্যের জন্য আমিও আসবো নাকি?

ওরে সাথে নিলে কিচ্ছু দেখতে পাবি না।

না?

ওদের যেতে দে।

আইয়্যা পড়ছে রে!

নৌকার উপরে এসে সবকিছু নষ্ট করিস না।

আমার জন্য এসব হচ্ছে।

হাই!

- এসো, নৌকায় উঠো। - সাবধানে।

ভাইলোগ, আসুন।

- নৌকায় ধাক্কা দিন। - এসে ধাক্কা লাগান সবাই। - বসো।

আসুন।

চুপচাপ নৌকায় ধাক্কা দে।

জোরসে বলো...

এটা জাকানাস পাখি না?

- তাই না? - ঐটা...

এটা সামুদ্রিক কাক।

কাল্পো! আধঘণ্টা হয়ে গেছে আমরা সমুদ্র সীমা পার হয়েছি।

যা ডিজেল আছে সেটা দিয়ে ফিরে যাওয়া যাবে।

আরেকটু সামনে গিয়ে দেখি।

কাল্পো, চলো ফিরে যাই।

এমনিতেই দেরি হয়ে গেছে। অন্য একদিন আসবো।

যদি গোলাপী পার্চ বা সার্ডিন হতো, বাজারে নিয়ে গিয়েই দেখানো যেতো।

কাল্পো শুধু তরকারিতেই মাছ দেখেছে।

থুম্বি, ওর কথা শুনে এতোদূর চলে আসলে?

ঠিক আছে, চলো ফিরে যাই।

মাগো মা...

কাল্পো! ঐদিকে থাকাও।

সাগরে বৃষ্টি দেখা কি আনন্দের না?

স্থানীয় জেলেরা বিশ্বাস করে...

আসলে, এটা ধারণা মাত্র।

কী বিশ্বাস করে?

তাদের মতে... ডলফিন জোড়ায় দেখা দেয়,

শুধুমাত্র যারা প্রেমিক-প্রেমিকা তাদের সামনে।

এটা বাবা বলেছে।

বাবাকে আমার সাথে আসার কথা বলেছো?

হ্যাঁ, সবকিছুই বলি।

জীবনের সব গুরুত্বপূর্ণ সিদ্ধান্ত বাবাকে জিজ্ঞেস করেই নিয়েছি।

এটা... এটাও কি গুরুত্বপূর্ণ?

তাই নয় কী?

- বৃষ্টি থেমে গেছে.. যেতে হবে। - ভিজে যাবে তো, আরেকটু বসো।

আমার বৃষ্টিতে ভিজতে ভালো লাগে।

বাড়ি ফিরে মেসেজ দিও।

ঠিক আছে, দিবো।

- এগিয়ে দিবো? - লাগবে না। - কেন? ভয় পাচ্ছো?

ভয় পেলে কি তোমার সাথে মাঝ সমুদ্রে চলে যেতাম?

যাহোক...

জেলেদের বিশ্বাসই সঠিক।

তোমার বাবা দারুণ মানুষ।

তুমি সিদ্রা গাছ আমার পানে ঠায় দাঁড়িয়ে...

আমার যাওয়ার নাই তো ঠিকানা বরং তোমার হৃদয়ে...

আমায় করেছো বদল গড়তে ভালো'র তরে...

আমায় করেছো বদল গড়তে মন্দে'র তরে...

তুমি এমন অনুভূতি যা করে আমায় দিশাহারা...

THIRD COLOR - LOVE তৃতীয় রঙ - ভালোবাসা

Q A L B - ম ন

মনে হচ্ছে আজ পার্টি মুডে আছো?

একদম।

যখন বাবা বাড়িতে থাকে না তখন সবসময় পার্টি মুড।

মা রান্নাঘরে আর আমি নিজের রুমে।

কোথায় গেছে বাবা?

অফিসিয়াল কাজে ত্রিবান্দ্রম গিয়েছে।

- থুম্বি! - এই, মা ডাকছে। - পরে কল দিচ্ছি।

আরে! রেখো না। কিছু বলার আছে।

কী ব্যাপার? সারাক্ষণ ফোনে ব্যস্ত!

থুম্বি বলছে ওর বাবা বাড়িতে নাই।

- ওই! এটা সিগন্যাল রে। - সিগন্যাল?

কিসের সিগন্যাল?

- তোকে বাড়িতে আমন্ত্রণ জানাচ্ছে। - হতেই পারে না।

কাল্পো সোনা...

মেয়েরা এসব সরাসরি বলে না।

না, মনে হয় না সে এসব বুঝিয়েছে।

যাহোক, বাবাকে জিজ্ঞেস করে দেখি।

দারুণ।

ওরে মারে!

ওই!

কাল্পো!

কবিরীক্কা?

কবিরীক্কা?

কাল্পো, তুই এখানে কী করছিস?

বুঝেছি।

ওহ, এসব এভাবেই হয়।

সেক্ষেত্রে...

আমি চাই না পরে বলিস যে তোর প্রেমিকার বাড়ি থেকে চুরি করেছি, এই নে।

এটা তাদের ফিরিয়ে দিস।

মিঃ কবির।

- হ্যালো। - হ্যালো, ঘুমাচ্ছিলে?

না, কী হয়েছে?

তোমাকে দেখতে ইচ্ছা করছে।

এখন কীভাবে সম্ভব? কাল দেখা করবো।

না, এখন'ই দেখবো।

- জানালাটা খোলো। - কী?

আরে! খোলো বলছি।

জানালা?

খোলো তো...

হাই!

- ওহ্, না.. তুমি এখানে? - সারপ্রাইজ।

কাল্পো, কেউ দেখে ফেলবে। প্লিজ, চলে যাও।

চলে যাচ্ছি, কিন্ত...

- এটা নিবে না? - এটা... এটা তো বাবার।

- তুমি কোথায় পেলে? - এটাই তো সারপ্রাইজ।

কাল্পো, আমরা বিপদে পড়ে যাবো। প্লিজ, চলে যাও।

দরজাটা খোলো।

অসম্ভব। এটা দিয়ে চলে যাও।

দেখলে! এজন্যই বললাম দরজাটা খোলো। হাতে দিয়েই চলে যাবো, প্রমিস।

প্রয়োজন নাই।

এটা দিয়েই চলে যাবো। থুম্বি, প্লিজ।

নিচে মা আছে।

থুম্বি, দরজা খোলো।

নিচে মা আছে বলছি।

- সমস্যা হবে। - তাই নাকি?

ওহ!

ঘর ভর্তি মা আর নানুর ছবি।

উনারাই কি তোমার প্রিয় মানুষ?

এই পৃথিবীতে আমার ৩ জন প্রিয় মানুষ আছে।

৩ জন?

কারা সেই ৩ জন?

বলো।

বেশ...

- শেষ থেকে বলছি। - ঠিক আছে।

আমার ৩য় প্রিয় মানুষ - মা।

ঠিক আছে, ২য়?

আমার নানু।

আর সবচেয়ে প্রিয় মানুষ...

সবচেয়ে প্রিয়?

বলবো না, তখন আবার ভাব নিবে।

আরে, বলো না।

- বলবো? - হ্যাঁ।

তার নাম...

তার নাম?

তার নাম...

নাম...

হ্যাঁ?

কাল...

পো!

হেই, পালা।

ধরা পড়ে গেলাম রে।

লোকজন দৌড়াচ্ছে আমায়।

থুম্বি!

থুম্বি!

থুম্বি, দরজা খোল।

থুম্বি!

ভয় লাগছে, মা।

থুম্বি!

থুম্বি!

থুম্বি, পাশের বাড়িতে চোর এসেছিল।

হ্যাঁ, শুনেছি।

ঐ দরজাটা বন্ধ করিসনি?

- করছি। - যা তাড়াতাড়ি কর।

- বন্ধ কর যা। - হ্যাঁ, করছি।

তোমার কথা শুনেছি।

এখন আমি যা বলি শোনো।

বাবা, তুমি হয়তো আমাদের পরিস্থিতি নিয়ে জানো না।

বুঝতে পারছি না সব জেনেশুনেও থুম্বি কেন এসব করলো!

মা, থুম্বির...

তুমি যা বলতে চাচ্ছো সেটা বুঝার পরিস্থিতিতে আমরা নাই, বাবা।

প্লিজ, বুঝার চেষ্টা করো মা হিসাবে এই আমার অনুরোধ।

ওকে আর কল দিয়ো না।

এখানে আর এসো না।

আর প্লিজ চলে যাও।

কিছু খেয়েছিস?

ওকে কল দিয়েছিলি?

ও কল দিয়েছে?

তুই কি জানিস একজন মায়ের কেমন লাগে?

যখন নিজের মেয়ের রুমে অচেনা ছেলেকে দেখে।

কীভাবে জানবি! তোর তো মা'ই নাই।

মনে হয় না ও তোকে যেতে নিষেধ করেছে।

বরং তুই'ই না যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিয়েছিস।

- নির্লজ্জ। - বাবা...

মতামত নিতে তোমার রুমে গিয়েছিলাম।

প্রেমে তো এসব সাধারণ ব্যাপার।

তবে সবকিছু সাহসীকতার সাথে সামলাতে হয়।

তুই বোকা বলে এসব পারবি না।

এখন কী করবো?

যখন কেউ প্রেমে পড়ে পুরো দুনিয়া তার বিরুদ্ধে চলে যায়।

তখন তার সামনে অনেক বাঁধা আসে।

কিন্তু সত্যিকারের প্রেমিক সবকিছু আত্মবিশ্বাসের সাথে মোকাবেলা করে।

আজকে দেখা করে কথা বল।

ওর মা বাঁধা হয়ে দাঁড়িয়েছে।

একটা মেয়ে কখনো নিজের মায়ের কথা ফেলতে পারে না।

ফোন ধরছে না।

বাড়িতে যেতে পারবে?

আমি গেলে বিষয়টা আরো জটিল হয়ে যাবে।

প্লিজ, রিনা... আমাকে সাহায্য করার আর কেউ নাই।

আমার জন্যই এসব হয়েছে।

ভাই, তুমি ওর বাবাকে চেনো না।

পরিস্থিতি আরো খারাপ হয়ে যাবে।

বাড়িতে ওর মায়ের কথা চলে না।

কেরালা ড্রাইভিং স্কুল।

ব্রেক চাপো।

ভাই, একটু বের হোন।

- বের হতে বললাম না! - করছোটা কী?

কাল্পো, কী করছো তুমি?

এই!

ওই! গাড়ি নিয়ে যেয়ো না।

কাল্পো, আমার কথা শোনো।

আমার কল ধরোনি কেন?

থুম্বি! বাল... কল কেন ধরোনি?

কাল্পো!

- মা কী বলেছে শুনেছিলে, তাই না? - কী বলেছিল?

এসব বাদ দিতে।

আমি আর এগোতে পারবো না।

তুমি আমার বাড়ির অবস্থা জানো না।

জানো না বাবার চরিত্র কেমন।

মা একজন অসহায় মহিলা।

নতুন করে উনার কষ্টের কারণ হতে চাই না।

এসব আগে বলোনি কেন?

যখন নানুর সাথে দেখা করেছিলাম তখন জানতে না?

যখন ডলফিন বীচ গিয়েছিলে তখন জানতে না?

সবকিছু জেনেই তো একসাথে সময় কাটিয়েছো।

তাই না?

এমন না যে তোমাকে ভালবাসি না।

প্লিজ, বুঝার চেষ্টা করো।

আমাকে আর দেখতে এসো না।

প্লিজ...

থুম্বি!

বাবা একটা কথা বলেছেন।

যখন কেউ প্রেমে পড়ে, পুরো দুনিয়া না-কি তার বিরুদ্ধে চলে যায়।

কিন্তু সত্যিকারের প্রেমিক সবকিছু আত্মবিশ্বাসের সাথে মোকাবেলা করে।

আমি সমস্ত বাঁধা মোকাবেলা করতে প্রস্তুত।

তুমিও প্রস্তুত তো?

প্রস্তুত নই।

পারবো না।

কাল্পো, প্লিজ...

প্লিজ, আমার কথাটা শোনো।

তুমি খাঁচাবন্দী ময়না।

খাঁচাতেই পঁচবে।

কাল্পো!

- কী হয়েছে? - বাইক স্টার্ট দে।

FOURTH COLOR - MADNESS চতুর্থ রঙ - পাগলামী

- কাল্পো! - হাই, সিসিলি আন্টি।

- কেমন আছিস রে? - ভালো। - অনেক দিন দেখা নাই।

জন, ও আমার ভাতিজা কাল্পো।

- হাই, কাল্পো। - হ্যালো, কাকা।

তোমার সম্পর্কে অনেক শুনেছি, বাবা।

আন্নাকে মনে আছে?

শেষবার যখন এখানে এসেছিল তখন পিচ্চি ছিল।

- এখন খুব স্মার্ট হয়ে গেছে। - হাই, কাল্পো।

আসার পর থেকে তোর কথাই বলছে।

ছবিটা খুব ভালো লাগলো।

আমাকে নিয়ে যেতে হবে, কাল্পো।

- অবশ্যই। - ঐখানে এখন যাওয়া যাবে না।

ঠিক আছে।

থুম্বি, ও পুরোপুরি ভেঙ্গে পড়েছে।

এই শহরে নিজেকে ধ্বংস করার অনেক উপায় আছে।

সোনা...

ভয় পাচ্ছি ও এমন কিছু না করে বসে!

আমার রুমে ঢুকতে দিলে কেন?

কেন দিবো না? এটা রিজার্ভ ব্যাংক নাকি?

এটা আমার রুম।

ঘোড়ার ডিম।

আগে অতিথিদের সাথে কথা বলতে শিখ।

ওরা কত খেয়াল রাখি জানিস তোর?

অটো থামান।

কাল্পো, এসো।

থুম্বি?

চলো।

কোথায়?

তোমার বাবার সাথে দেখা করবো।

কেন?

- ও কে? - চুপ থাক।

কী?

থুম্বি, ও আমার কাজিন।

তাতে কি!

কাজিন!!

কী হয়েছে?

আন্না, ও আমার বন্ধু।

একটু সমস্যা হয়েছে ওকে নিয়ে এক জায়গায় যেতে হবে।

- ওরা বাসায় পৌছে দিবে। - ওই, ওরে বাসায় দিয়ে আয়। - আচ্ছা।

বাইকে উঠো।

কোথায় ছিলি?

ও আল্লাহ্, কাকে দেখছি!

ওকে যে নিয়ে আসছিস জানাসনি কেন?

- ও তোমার সাথে দেখা করতে চাচ্ছিলো। - তাই নাকি?

আসুরা, এদিকে এসো।

- দেখো, কে এসেছে। - ওরে মোর আল্লাহ্।

- আমার সোনা। - আন্না কোথায়?

- ওরা বাসায় নিয়ে আসবে। - ঠিক আছে।

চলো মা।

কোথায় যাচ্ছিস?

এসো মা, উপরে যাই।

সত্যি বলতে,

আলেপ্পিতে তুমি আসার আগে,

ভালোবাসা ছিল ওর কাছে শুধুই পাসপোর্ট।

সেই পাসপোর্ট দিয়ে এই সুন্দর জায়গা ছেড়ে এক অজানা দেশে চলে যাওয়া।

কিন্তু এটুকু বলতে পারি কীভাবে ওর মা আমার জীবনে এসেছিল।

একদিন যে ওর জীবনেও কেউ আসবে...

এটা নিয়ে সন্দেহ ছিল না।

ধন্যবাদ, মা।

কফি নাও।

সেদিন বললে না...

পুরো পৃথিবী আমাদের বিরুদ্ধে গলেও মোকাবেলা করতে প্রস্তুত।

যদি তাই করো...

পাশে দাঁড়াবো, তোমার হাত ধরে।

তোমার বাবা বলছিল যে,

গত কয়েকদিন ধরে তোমার মন খারাপ।

কার মন খারাপ! আমার?

প্ল্যান করছিলাম কোনো বিদেশিনীকে পটিয়ে ইউরোপ চলে যাবো।

- চলে যাবে? - হ্যাঁ।

তাই নাকি?

হট কোনো বিদেশী পেলে অবশ্যই যাবো।

হট বিদেশীর গুষ্টি কিলাই।

এই, কী করছো?

- আচ্ছা চলো, কথা বলি। - বিদেশিনীর সাথে বলো গে।

এই, ১ মিনিট।

FIFTH COLOR - REVERENCE পঞ্চম রঙ - শ্রদ্ধা

কিছু পুরনো গ্রাহক এখনও আমার কলের অপেক্ষায় আছে।

দিনশেষে.. ও আমার ছেলে।

- কী? - কিছু না।

- ওই! টাকা নে। - ১টা কফি।

না, আন্টি.. দেরি হবে না।

আজকেই শেষ দিন।

কাছের আলেপ্পি বীচে অনুষ্টানে ওকে ছাড়া কীভাবে যাই?

তাই না?

থুম্বি, তোর বাবা আসার আগেই ফিরে আসতে হবে কিন্তু।

ঠিক আছে।

মা, এখান থেকে কোথাও যেও না।

জায়গাটাকে অনেক ভালবাসি।

চল।

বলেছিলাম না, যেতে দিবে!

- হ্যালো, প্লিকো! - রিনু...

হাই।

ওই! রিনা।

তো...

এরপর কী?

আজ রাতে আলেপ্পি শহরটা ঘুরিয়ে দেখাতে পারবে?

ফ্রেডেরিক ক্যান্ডেল?

- ফ্রেডি কাকা, ও... - বুঝেছি।

ভিতরে এসো।

জানতাম তুমি আসবে।

চলো।

ফ্রেডি কাকা বাবার কাছের বন্ধু।

সেই সাথে... আলেপ্পির সেরা ফটোগ্রাফার।

ছবিগুলা দেখো।

থুম্বি!

ইনি আমার মা।

চলো।

কাকা, ঠিক আছে?

না।

দেখুন ও কেমন করে।

তুমি ১টা গাধা।

দারুণ।

- ফ্রেডি কাকা! - হ্যাঁ।

এটা তো দারুণ।

কাল্পো, একটা কথা জানিস?

সুফি সাধকদের মতে, যখন একটা হৃদয় প্রেমে পড়ে...

সেটা ৭টা ধাপ অতিক্রম করে।

হাব - আকর্ষণ

উন্স - মোহ

ইশক - প্রেম

আকিদাত - শ্রদ্ধা

ইবাদত - ইবাদত

জুনুন - পাগলামী

মাউত - মৃত্যু

এই গাছের ৭টি রঙকে প্রেমের ৭টি ধাপ হিসাবে ধরা হয়।

- কিছু বুঝলি? - না।

গাধা।

কেমন?

- হাতটা দাও। - কী?

হাতটা দাও।

ঠিক আছে।

আমাকে দেখাও।

তোমার হাতটা দেখাও।

এটা কী?

কী এটা?

নামটা তোমাকে দিলাম।

নাম?

নিজেই খুঁজে বের করো।

SIXTH COLOR - IBADATH ষষ্ঠ রঙ - ইবাদত

দোস্তরা, পর্যটন ব্যবসা বাদ দেই।

জীবনে স্থায়ী কিছু করতে হবে, তাই না?

কিছু একটা প্ল্যান করা উচিৎ।

ফোন দিয়ে স্থায়ী কিছু কর।

- হ্যালো! - হ্যালো!

বাসায় পৌঁছে গেছি।

দেরি হওয়াতে মা কিছু বলেছিল?

না।

যাহোক, আমি পড়েছি।

কী?

ব্রেসলেটে লিখা কথাগুলা।

এরমধ্যে পড়ে ফেললে?

এটা কী কলব [হৃদয়] না?

থুম্বি!

কাল্পো, কেউ আসছে।

তোমাকে পরে কল দিচ্ছি।

এই! দাঁড়াও।

ফোনে কে ছিল, থুম্বি?

এটা.. আমার বন্ধু।

বন্ধু?

ফোনটা দে।

দে বলছি।

বাহ!

কলব!

এটা তোর বন্ধুর নাম?

উত্তর দে।

জানিস কলব অর্থ কী?

জানিস না?

জানিস না?

জানিস না, তাই না!

কী হয়েছে?

এইতো তুমি।

তোর মা হয়তো এই শব্দের সাথে পূর্ব থেকে পরিচিত।

ওকে বলো কলব মানে কী।

তাকিয়ে আছো কেন, সাউদা?

ব্যক্তিগত অভিজ্ঞতা থেকে বলো।

কলবের অর্থ বলো।

- চলো, ওকে বলো। - বাবা!

দোষ আমি করেছি তাই আমাকে মারো।

- সরে যা বলছি। - সরবো না।

অযথা মাকে মারতে দিবো না।

- সোনা। - মা, চুপ করো।

তোমাকে আর নির্যাতন সহ্য করতে দিবো না।

এটা কী করলি, থুম্বি?

তোর বাবা ফিরে এসে সবকিছু শেষ করে দিবে।

আমি জানি কী করতে হবে, মা।

আমি জানি।

হায় আল্লাহ্‌।

ফোন ধরো, কলব।

- মনে হয় ট্রেডিং খুব লাভজনক ব্যবসা। - ফোনটা ধরো, কলব।

আমার কিছু বন্ধুরাও এটা করছে। বেশ লাভজনক।

হ্যালো!

- কাল্পো! - থুম্বি!

শোনো, এক্ষুণি এসে আমাকে নিয়ে যাও।

- কী হয়েছে, থুম্বি? - এখানে আর থাকতে পারছি না। - অনেক চেষ্টা করেছি।

আর কিছুক্ষণ থাকলে মরে যাবো।

আচ্ছা, আসছি।

তোমার বাবার বাড়িতে?

বাবা না জল্লাদ।

কাল্পো, তুমি কি আসবে? নইলে নিজেই কোথাও চলে যাবো।

আমি অবশ্যই আসবো।

আসছি, এইতো বের হবো।

থুম্বি!

থুম্বি!

তুই তো বলেছিলি ওর সাথে সব সম্পর্ক ছিন্ন করবি?

থুম্বি!

তোকে বলছি।

সাহস থাকলে বাবাকেও বলতে যেভাবে কাল্পো আর আমাকে বলেছো।

তবে একাজ করতে হতো না।

জানি এটা করবে না।

ঠিক আছে, করো না।

এখানে তোমার মতো ভয়ে ভয়ে সারাজীবন কাটাতে পারবো না।

আমি চলে যাচ্ছি।

থুম্বি!

চলো, কাল্পো।

কী হয়েছে, থুম্বি?

চলো...

কী হয়েছে, থুম্বি?

মাকে ফেলে চলে এসেছি।

- কী হয়েছে? - তাকে মেরে ফেলবে।

চলো ফিরে যাই।

চুপ করে বসে থাকো যাহোক না কেন, বের হবে না।

আমি দেখছি।

ভাই, একদম দেখতে পাইনি।

- কোথায় থাকিয়ে ছিলে? - হাসপাতালে যেতে পারবেন? - আমাকে তো মেরেই ফেলছিলে।

মনে হয় দুর্ঘটনা ঘটছে।

কিছু টাকা কামানো যাবে?

থিয়েটারের ওই ছেলেটা না?

হ্যাঁ, ও-ই তো।

ও-ই।

গাড়ি থামা।

থিয়েটারে ওর অভিনয় কড়া ছিল।

এখন ওর বিম-বয় অভিনয় দেখবি।

তুমি দেখতে চাও?

দেখতে চাও?

পুরো বিম-বয় স্টাইল।

কী হয়েছে ভাই? ওর গাড়ি তোমাকে ধাক্কা দিয়েছে?

নিশ্চয়ই মাতাল ছিল।

কী সমস্যা?

ব্রো!

কী করছো?

কী সমস্যা? এটা আমাদের ব্যাপার। ওকে মারছো কেন?

তোমার সমস্যা কী? ওকে মারছো কেন?

ওই!

- ব্রো, চলো কথা বলি। - সর তো।

চুপ কর সালা।

উল্টো মারছিস না কেন?

ভয় পেয়েছিস?

ওর রক্তে মাখা শার্ট।

তাকিয়ে কী দেখিস?

পালাস না কেন?

চল, দৌঁড়া।

দৌঁড়া।

- পালা। - দৌঁড়া।

দৌঁড়া।

এই।

কুরাঙ্গে, মার ওকে।

ধর।

এই।

থাম।

কাল্পো।

ওকে পালাতে দিস না।

- ওকে পালাতে দিস না। - থাম।

থুম্বি, আয়।

ধর ওকে।

চোরে, চল।

ওদের ধরতেই হবে।

আজ জানে মেরে ফেলবো।

ধর ওকে।

ধোন আমার।

বাল। ওরা হাতছাড়া হয়ে গেছে।

চোরে...

ও তার গ্যাং নিয়ে এসেছে।

পিটিয়ে ছাল তুলে নে।

শুভ সকাল, স্যার।

ওরা রাস্তায় মারামারি করছিল। আপনার মেয়েও সেখানে ছিল।

আপনার মেয়ে জেনে চলে যেতে বলেছিলাম।

কিন্তু ও বললো, ওদের ছেড়ে না দিলে যাবে না।

তাই আপনাকে আর আপনার স্ত্রীকে জানালাম।

স্যার, এই ছেলেগুলো ডলফিন বীচের।

ওদের ভালো করে চিনি।

ওরা বদমাইশ পোলাপাইন না।

এটা আগের ঝামেলারই একটা অংশ।

আমি জানলে ওদের একদম পিটিয়ে ছাল তুলতাম।

আপনি কে?

ওর বাবা।

মুরব্বী, আমরা এখনো মামলা করিনি। শুধু তথ্য নিয়েছি।

স্যার, সিরিয়াস কিছু আছে?

- আমাদের হয়ে বলার মতো কেউ নেই। - এই।

তোমায় কে আসতে বলেছে এখানে?

আমার ভালো আমি বুঝি।

আমাকে রিমান্ডে দিন, স্যার।

বাড়ি ফেরার চেয়ে এখানে থাকা ভালো। এই, চুপ করো।

গলা তুলে কথা বলবি না।

এখানে আসতে আসতে পায়ের জোর কমে গেছে।

- এই। - জি, স্যার।

ভেতরে এসো।

এক মিনিট, স্যার। আমি আসছি।

স্যার।

ভয় পেয়ো না, মা।

আমি সব ঠিক করে দেব।

স্যার...

আমি এসব মিটিয়ে ফেলব, স্যার।

তুমি আর তোমার ছেলে...

ম্যাডাম...

এই, ওখানেই থাকো।

মারবেন না, স্যার।

বল উনাকে।

তুমি আদালত নাকি? বিষয়টা মেটাবে?

তোমার ছেলে যদি আবার আমার বাড়ি বা

মেয়ের কলেজে যায়...

বাপ ব্যাটা দুজনকে ১৪ শিকলের ভিতরে প্যাঁদাবো।

সারাজীবন তো বিদেশীদের চুষে খেয়েছো এবার জেলে গিয়ে এসব গল্প বলো।

আমার সাথে লাগার চেষ্টা কোরো না।

তুমি বাইরে অপেক্ষা করো। চলো।

স্যার...

ভয় পেলে নাকি?

সব ঠিক আছে। উনি বলেছেন, আমরা বাড়ি যেতে পারি।

চিন্তা কোরো না।

চলো?

বাড়ি যাও, মা।

চল।

তোমরা এই মেয়েটাকে কাঁদাচ্ছো কেন?

ওরা ওর কলেজ থেকে ছাড়পত্র নিয়ে গেছে।

শোনা গেছে, সে এ সপ্তাহে কলেজ ছেড়ে চলে যাবে।

এই, কাল্পো।

- কোথায় যাচ্ছিস? - আমি জানি কী করতে হবে।

যা খুশি কর।

আবার জেলে যাওয়ার ক্যারা উঠেছে?

কাল্পো, শান্ত হ।

একটা উপায় হবে।

বস।

আমি সহকর্মীদের সাথে কথা বলেছি।

সাইপ্পু...

এটা তুচ্ছ ব্যাপার না।

আমি জানি না কীভাবে সামলাব।

সাইফুদ্দিন কোনো সোজাসাপ্টা অফিসার না।

তার সাথে রাজনৈতিক উপর মহলের সম্পর্ক আছে।

কাসারগোড় এনকাউন্টারের কথা শুনেছিস? হ্যাঁ।

এই কারণে তাকে আলেপ্পিতে শাস্তিমূলক বদলি দেয়া হয়েছে।

রাজনৈতিক ক্ষমতা কাজে লাগানো সম্ভব?

তা হবে না।

- সিসিলি থাইল্যান্ডে, তাই না? - হ্যাঁ।

থাইল্যান্ডে পৌঁছে ভিসা পাওয়া যায়।

ওদের সেখানে পাঠাব?

বাবা...

ওরা এখানে না থাকলে সাইফুদ্দিন কিছু করতে পারবে না।

থুম্বির পাসপোর্ট ওর মায়ের কাছ থেকে নিয়ে আসব।

এত অল্প সময়ে পারবে?

- দেখি না! - হ্যাঁ।

হ্যালো...

থুম্বি...

কাল্পো।

সব ঠিক আছে?

আমি ভালো আছি। চিন্তা কোরো না।

রীনা তোমার মায়ের সঙ্গে কথা বলেছে।

আমাদের থাইল্যান্ডের ফ্লাইট কোয়েম্বাতুর থেকে।

তোমার বাবা অফিসে গেলে তবেই বাসা থেকে বের হবে।

আচ্ছা, পরে ফোন করব।

আচ্ছা।

সাউদা, আজ লাঞ্চে আসবো না।

থানায় ব্যস্ত থাকব।

ডলফিন বিচ থেকে কয়েকজন ছেলেকে আটক করেছি।

ওই দুর্বৃত্তরা থাইল্যান্ডে মাদক পাচার করছিল।

কোয়েম্বাতুর দিয়ে।

মজার ব্যাপারটা কী জানো?

ওদের দলের লিডার এক ছেলের বাবা।

তাকে এখনো ধরা যায়নি। তবে ধরবই।

সাউদা, দেখো বাবা-মা কিভাবে ওদের সন্তানদের জীবন নষ্ট করছে।

ক্যেয়া সিন হ্যা, সব বদমাশ এসে হাজির।

শুনো, স্বীকার করো মালগুলো তোমাদের।

মাগনা মার খাবে কেন?

সাহায্য করলে সহজেই জামিন পাবে।

আমাদের সাহায্য করো।

অকারণে ঝামেলা কোরো না।

পরে সহ্য করতে পারবে না।

যে অপরাধ করিনি, সেটার দায় নেব কেন?

তাহলে কি, আমরাই ক্যাফেতে মালগুলো রেখেছি?

আমরা কিছু করিনি।

ঠিক আছে, এক কাজ করো। প্যান্ট খুলে ফেলো।

চলো, উঠে দাঁড়াও। তোর জাইঙা খুল।

উঠ।

স্যার, বিশ্বাস করুন। আমরা এসব করিনি।

স্যার, বিশ্বাস করুন।

স্যার, মারবেন না

হ্যালো রীনা...

- থুম্বি... - কী হয়েছে?

- ওরা নির্দোষ, থুম্বি। - কী হয়েছে?

তোমার বাবার সঙ্গে কথা বলো।

রীনা, বলো কী হয়েছে?

পুলিশ ওদের মেরে ফেলবে।

রীনা, কী বলছ?

রীনা।

মা, বাবা কে ফোন করো।

ওর সঙ্গে কথা বলো।

ওদের ছেড়ে দিতে বলো।

ওরা কিছু করেনি।

রীনার সঙ্গে কথা বলেছি। ওরা নির্দোষ, মা।

ওরা কিছু করেনি।

তুমি বোঝাও বাবাকে, আমি কোথাও যাব না।

তুমি বোঝাও।

কী বোঝাবো আমি?

বল।

কী বলবো, বল।

আমি সাহায্য করেছি, যাতে আমার মতো কষ্ট না পাস।

কিন্তু আমি নিজেই এখানে এক...

দাসীর মতো জীবন কাটাচ্ছি।

তাহলে কী বলব?

স্যার, এর আগে ওদের নামে এমন অভিযোগ ছিলো না।

তবুও এভাবে পশুর মতো মারলেন কেন?

ত্রেসা, ব্যাপারটা এমন না...

স্যার, আমরা জানি আপনি কেসটা নিয়ে খুব সিরিয়াস।

কিন্তু আর কিছুক্ষণ পর সামলাতে পারবেন না।

সনি।

মুস্তফা, এখন কী করা যায়?

বলো।

এসো।

কাসারগোড়ে ডাবল মার্ডার কেস।

আমরা ভুক্তভোগীদের পাশে আছি।

আমার বিরুদ্ধে অভিযোগ উঠার পর পদ থেকে সরানোর তদন্ত করা হয়েছিল।

- ডিপার্টমেন্ট এ ব্যাপারে খুব তৎপর। - স্যার, রায়ের পিছনে কি আপনার রাজনৈতিক প্রভাব আছে?

দেখুন, আমি আইন মেনে চলা একজন কর্মকর্তা।

কেউ রায়ে অসন্তুষ্ট হলে, আপিল করতে পারে।

ওরাও আপিল করতে পারে...

ওদের ছেড়ে দাও, বাবা।

ওরা নির্দোষ। কিছু করেনি।

আমি কোথাও যাব না।

ছাড়ার সিদ্ধান্ত কোর্ট নেবে, আমি না।

এতদিন ধরে...

তোমার মা আর ওর আত্মীয়রা এই খুনের জন্য আমাকে দায়ী করেছে।

রায়ে কী বলা হয়েছে?

বাবা, অনুরোধ করছি

কিছু করতে পারবো না, মা।

কোর্ট যদি ওকে ছেড়েও দেয়,

পরে যদি মৃত পেলেও, আমাকে দোষ দিও না।

ভুলে যাও, মা।

ওরা বের হতে পারবে না।

তুমি ওদের ছেড়ে দেবে।

কী বললে?

কী বললে, মা?

তুমি ওদের ছেড়ে দেবে।

- সাইপ্পু। - স্যার।

আমরা এই মামলাটা সঠিক তদন্ত করেছি।

সাইফুদ্দিন পুলিশের জন্য একটা মাথাব্যথা।

ম্যাজিস্ট্রেটও জানেন এটা মিথ্যে মামলা।

চিন্তার কিছু নেই।আমরা আছি। দেখা যাক আদালতে কী হয়।

অযথা দুশ্চিন্তা কোরো না।

হ্যালো... হ্যালো... থুম্বি...

কাল্পো...

ঠিক আছো তো?

হ্যাঁ, ঠিক আছি। কোনো সমস্যা নেই।

আমরা জামিন পেয়েছি। কিচ্ছু হবে না।

এই মামলা টিকবে না।

তারা তোমাদের সঙ্গে কিছু করেছে?

না, কিছু করেনি। আমরা ঠিক আছি।

ট্রেসা আন্টি আর বাবা এখানে এসেছেন।

বাবা...

তোমার বাবা ঠিক আছেন?

হ্যাঁ, আছেন। উনার সঙ্গে কথা বলবে?

না।

সবকিছু আমার জন্য হয়েছে। থুম্বি, তোমার কোন দোষ নেই।

- আমরা এসব ঠিক করতে পারব। - না, পারবে না।

এসব ঠিক হবে না।

এটা ঠিক হবে না।

- আমার উপর বিশ্বাস রাখো, থুম্বি। - বুঝিনি, কাল্পো।

কেঁদো না।

- আমায় ক্ষমা করে দাও। - শোনো...

তোমার বাবাকে বলো...

- থুম্বি, আমার কথা শোনো। - পারবো না, কাল্পো। - থুম্বি, আমরা এসব ঠিক করতে পারব।

থুম্বি...

এই... থুম্বি...

ধুর।

SEVENTH COLOR - DEATH সপ্তম রঙ - মৃত্যু

আর কেউ আছে লাশ দেখার?

- আমরা অট্টাপালামে যাচ্ছি? - হ্যাঁ।

না।

ওকে এখানেই দাফন করা হবে।

এখানে ওর আত্নীয়দের দাফন হয়েছে।

এই মাটিতে।

ওকেও এখানে করা হবে।

সাউদা, এসব কী বলছ?

আমার মেয়ের এই ইচ্ছাটা হলেও পূরণ করতে চাই।

এখানে দাফন করবো।

- এই। - এখানে কী হচ্ছে?

ভাই, ওই মেয়েটা মারা গেছে।

এটা হাসির বিষয় নাকি?

আমরা ওদিকে যাব না?

দরকার নেই।

এখানে বিভিন্ন জায়গা থেকে মেহমান এসেছে।

আমরা অনেককে খাইয়েছি।

কিন্তু যাওয়ার আগে কেউ কখনো কিছু জানিয়েছে?

সেও ওভাবে চলে গিয়েছে।

লাশ কেউ দেখবে?

মাটি দিয়ে দেবো।

কাল্পো...

ওকে দেখবি না?

থুম্বি। সাইফুদ্দিনের মেয়ে। মুসালিয়া মঞ্জিল

- বাবা... - বলো।

গাড়িটা থামাবে?

কাল্পো...

কী হয়েছে, বাবা?

আমি মরতে পারবো?

কাল্পো!

বাবা, আমাকে মরতে দাও।

তোমার অনুমতি ছাড়া কখনো কিছুই করিনি।

আমার জন্য থুম্বি মারা গেছে।

বাবা, আর সহ্য করতে পারছি না।

- বাবা... - আমাকে শুধু অনুমতি দাও।

আমি মরতে পারি না?

ঠিক আছে।

ঠিক আছে, ব্যাটা।

চিন্তা করিস না।

কাল্পো...

তোমার সাথেই দেখা করতে যাচ্ছিলাম।

চাচি, খুব ক্ষুধা লেগেছে।

খাবার আনছি।

সেটাই করো।

তোমার এখানে থেকে যাওয়াটা ঠিক হয়েছে।

ওখানে সবকিছু ঠিক হলে বাবাকেও নিয়ে যেও।

ক্যাফেটা বিক্রি করে দাও।

তোমায় কে বলল আমি থাইল্যান্ড যাচ্ছি?

তাহলে কোথায়?

এটা তার কবরের জন্য?

একটা মৃত মেয়ের প্রতি ভালোবাসা দেখানোর কোনো মানে নেই।

থুম্বি ঐ দিন মরেনি।

বিশটা বছর তোমার সাথে থেকে প্রতিদিনই মরেছে।

জানো?

মা, ও বলেছিল...

তোমার বাড়িটা নরক থেকে কম না।

আমি ওকে ভালোবাসতাম।

ও আমাকে ভালোবাসতো।

সামান্য যা সমস্যা ছিল তা মিটিয়ে নেওয়া যেতো।

কিন্তু তুমিই বিষয়টা এতো দূর নিয়ে গেলে।

তাই না?

তাই না?

বলো।

বলো।

মা, আমি এমন মেয়ে দেখিনি।

ওর মতো আর কেউ নেই।

তোমাকে কে বলল আমি থাইল্যান্ড যাচ্ছি?

তাহলে কোথায় যাচ্ছ?

চাচি, তুমি জানো?

পাখি সারা জীবন উড়লেও,

কিছু গাছের ছায়া কখনো হারায় না।

সিদরা গাছ, সাত সমুদ্র পেরিয়ে পৃথিবীর শেষ প্রান্তে।

তার পাশে বেহেশত।

যারা আমাদের ভালোবাসত,

যারা আমাদের ছেড়ে চলে গেছে,

যাদের আমরা খুঁজে পাইনি...

তারা সেখানেই আছে, আমাদের অপেক্ষায়।

এখন আমার জন্য দুইজন অপেক্ষা করছে।

আমি সেখানেই যাচ্ছি।

কাল্পো, এসব কী বলছিস?

আন্টি, বাবা তোমাকে খুব ভালোবাসে।

কিন্তু বলতে ভয় পায়। ভাবে লোকজন কী বলবে।

আমি না থাকলে বাবার খেয়াল রেখো।

বাবার পাশে থেকো।

সেদিন আমাকে বলেছিলি...

মরতে পারবি কি না?

যদিও আমার জন্য কষ্টদায়ক হতো,

তবুও রাজি হয়ে যেতাম।

কেন রাজি হইনি জানিস?

একজন পুরুষ যখন তার স্ত্রীকে হারায়...

মানুষ তাকে "বিপত্নীক" বলে।

ঠিক তেমনি...

যখন একজন নারী স্বামী হারায় তাকে "বিধবা" বলে।

কিন্তু মা-বাবা ছাড়া শিশুকে কী বলে?

তাকে "এতিম" বলে।

তবে এমন বাবা-মাকে কী বলে!

যারা তাদের সন্তান হারিয়েছে?

তাদের জন্য কোন নাম নাই।

তারা সবচেয়ে দুর্ভাগা মানুষ।

তাদের ডাকতে কোনো শব্দ ব্যবহৃত হয় না।

যখন তোর মা মারা যায়...

তোকে বড়ো করাই ছিল আমার উদ্দেশ্য।

তোর হৃদস্পন্দনই ছিল বেঁচে থাকার একমাত্র সম্বল।

ওভাবে, আমার বেঁচে থাকাটা তোর জন্য সম্বল নয়?

যদি না হয় মরতে পারিস।

আমায় মাফ করো, বাবা।

আমায় মাফ করো।

বাবা...

আমার ছেলে...

কাল্পো।

ও কোথাও যায়নি, কাল্পো।

এখানেই আছে, আমাদের সাথেই।

• অনুবাদ আয়োজনে • • সোহান আহম্মেদ • ফাহাদ আহমদ • • • • সহযোগিতায়: মোহাম্মদ সায়েম। • • •

জীবন

বেঁচে থাকা

মুভি ও সাবটাইটেল ভালো লেগে থাকলে, রেটিং এবং ফিডব্যাক দিয়ে অনুবাদকদের উৎসাহিত করুন।

Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.