All language subtitles for Rocco and His Brothers (196

af Afrikaans
ak Akan
sq Albanian
am Amharic
ar Arabic
hy Armenian
az Azerbaijani
eu Basque
be Belarusian
bem Bemba
bn Bengali
bh Bihari
bs Bosnian
br Breton
bg Bulgarian
km Cambodian
ca Catalan
ceb Cebuano
chr Cherokee
ny Chichewa
zh-CN Chinese (Simplified)
zh-TW Chinese (Traditional)
co Corsican
hr Croatian
cs Czech
da Danish
nl Dutch
en English
eo Esperanto
et Estonian
ee Ewe
fo Faroese
tl Filipino
fi Finnish
fr French
fy Frisian
gaa Ga
gl Galician
ka Georgian
de German Download
el Greek
gn Guarani
gu Gujarati
ht Haitian Creole
ha Hausa
haw Hawaiian
iw Hebrew
hi Hindi
hmn Hmong
hu Hungarian
is Icelandic
ig Igbo
id Indonesian
ia Interlingua
ga Irish
it Italian
ja Japanese
jw Javanese
kn Kannada
kk Kazakh
rw Kinyarwanda
rn Kirundi
kg Kongo
ko Korean
kri Krio (Sierra Leone)
ku Kurdish
ckb Kurdish (Soranî)
ky Kyrgyz
lo Laothian
la Latin
lv Latvian
ln Lingala
lt Lithuanian
loz Lozi
lg Luganda
ach Luo
lb Luxembourgish
mk Macedonian
mg Malagasy
ms Malay
ml Malayalam
mt Maltese
mi Maori
mr Marathi
mfe Mauritian Creole
mo Moldavian
mn Mongolian
my Myanmar (Burmese)
sr-ME Montenegrin
ne Nepali
pcm Nigerian Pidgin
nso Northern Sotho
no Norwegian
nn Norwegian (Nynorsk)
oc Occitan
or Oriya
om Oromo
ps Pashto
fa Persian
pl Polish
pt-BR Portuguese (Brazil)
pt Portuguese (Portugal)
pa Punjabi
qu Quechua
ro Romanian
rm Romansh
nyn Runyakitara
ru Russian
sm Samoan
gd Scots Gaelic
sr Serbian
sh Serbo-Croatian
st Sesotho
tn Setswana
crs Seychellois Creole
sn Shona
sd Sindhi
si Sinhalese
sk Slovak
sl Slovenian
so Somali
es Spanish
es-419 Spanish (Latin American)
su Sundanese
sw Swahili
sv Swedish
tg Tajik
ta Tamil
tt Tatar
te Telugu
th Thai
ti Tigrinya
to Tonga
lua Tshiluba
tum Tumbuka
tr Turkish
tk Turkmen
tw Twi
ug Uighur
uk Ukrainian
ur Urdu
uz Uzbek
vi Vietnamese Download
cy Welsh
wo Wolof
xh Xhosa
yi Yiddish
yo Yoruba
zu Zulu

Original subtitles

রকো অ্যান্ড হিজ ব্রাদার্স

উঠে পড়ো। আমরা মিলান এসে গেছি।

ওঠ, লুকা, আমরা এসে গেছি।

আলহামদুলিল্লাহ্‌ !

আসো, আম্মা।

ক্লান্ত নাকি?

রকো, ঝুড়িটা ধর তো।

আম্মা, সব নিয়েছ?

- ক্লান্ত নাকি? - মনে করে সব নামিয়েছিস তো?

- ভিঞ্চেঞ্জো কোথায়? - জানি না।

- আমাদের নিতে আসেনি কেন সে? - মনে হয় বাইরে আছে।

ভিঞ্চেঞ্জো নেই কেন এখানে?

- ভিঞ্চেঞ্জো নেই কেন এখানে? - তুই যেয়ে একটু দেখে আয় না।

ধর !

আম্মা, আমি যেয়ে খুঁজবো?

- হারিয়ে যাসনা যেন ! - হারাবো না !

কাউকে দেখছি না।

কি সুন্দর !

- চিরো, দ্যাখ কত সুন্দর ! - কত বড়, তাই না?

রকো, শহরটা কিন্তু দারুণ রে !

দ্যাখ কত সারি সারি দোকান, কত আলো।

মনে হচ্ছে যেন দিনের বেলায় ঘুরছি।

শুনুন !

এই ঠিকানার কাছে কোন স্টপ আছে?

- শেষ স্টপ। - শেষ স্টপ?

শেষ স্টপ, রাস্তার মাথায়। লাম্ব্রাতে-তে আছে।

- তারপর? - লাম্ব্রাতে-তে নেমে যাবেন।

- আমার ছেলে। - আপনার ছেলে?

- বড় ছেলে... - ওহ, বড় ছেলে।

আমরা ওকে দেখতে যাচ্ছি।

ওদের ভবিষ্যৎ বিবাহজীবনের নামে পান করা যাক !

অনেক শুভকামনা তোমাদের !

এসব পার্টিতে একবার ড্রিংক করা শুরু করলে থামতে ইচ্ছা করে না।

এই নাও !

ধন্যবাদ।

বাচ্চারা নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছে।

বাবা-মা'র মতের কোনো গুরুত্ব নেই এখন আর।

আজ না হোক কাল সিদ্ধান্ত নিতেই হত।

তাছাড়া, আমার দেশের বাড়িতে ফিরে যাওয়ার ইচ্ছা নেই।

আমি এখানেই আমার সংসার গড়ে তুলতে চাই।

তুমিও বিয়ে করে ফেলো না?

আমি? আমার বোনের মত বলদ না আমি।

সে আমাদের ভরণপোষণ করতে পারবে কিনা সেই চিন্তায় আছে।

কিন্তু আমাদের কারোর সাহায্য লাগবে না।

- ঠিক বলেছ। - তাই না, ভিঞ্চেঞ্জো?

ধন্যবাদ।

- তোমাকে আমাদের নিয়ে ভাবতে হবে না। - মাইরালা আমারে !

আলদো এসেছে।

আমি মুভি দেখতে যাচ্ছি।

- মজা কোরো ! - খোদা হাফেজ !

- খোদা হাফেজ, মা। - খোদা হাফেজ।

ধন্যবাদ।

সারাক্ষণ খালি মুভি ! দিনে একবার ভাত না হলেও মুভি লাগেই ওর।

মুভি ছাড়া কিছু বোঝেই না সে !

গত রবিবার আমিও গিয়েছিলাম তার সাথে..

কিন্তু মুভি শুরুর সাথে সাথেই ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।

হ্যালো। জিয়ানেলি'রা কি এখানে থাকেন?

আমি মিসেস পারোন্দি।

ভিঞ্চেঞ্জো, দেখে যাও কে এসেছে।

- আপনারা আসুন না। - ধন্যবাদ।

আম্মা !

আমার সোনা ছেলেটা।

লুকা, কেমন আছিস?

রোজারিয়া, আমার রোজারিয়া।

তোমার ছেলে এরা? ঈশ্বর সবার মঙ্গল করুন !

এ হচ্ছে রোজারিয়া।

এরা তোমার ভাই?

- এ হচ্ছে লুকা। - হ্যালো।

ও সিমোন। এ হচ্ছে আমার বাগদত্তা।

- ও রকো। - হ্যালো।

- আর ও চিরো। - হ্যালো।

সব জিনিসপত্র এখানে রেখে ভিতরে চলো।

চলো।

ভিতরে আসো।

এ হচ্ছে ভিঞ্চেঞ্জোর মা !

জার্নি করে এরা সবাই ক্লান্ত। ইনাকে একটু ওয়াইন দাও।

আসো সবাই !

ওদের একটু ওয়াইন দাও, ঠাণ্ডায় নিশ্চয়ই কাঁপছে ওরা।

ছেলেগুলো কি সুন্দর দেখতে, না? একদম ওদের মায়ের মত।

বিস্কিট দাও ওদের।

সবগুলো ছেলে খুবই সুদর্শন। ক্লান্ত লাগছে?

আসলেই, ছেলেগুলো সব একইরকম দেখতে।

এরা সবাই ভয়াবহ ক্লান্ত। এতদূর থেকে এসেছে যে !

- খুব ভালো লাগছে তোমাদের দেখে ! - ওখানে কী?

কার বদ নজর যে লাগলো আমাদের, খোকা !

কী হলো?

তোর আব্বা যে মারা গেছে, সেজন্য তোর শোক হচ্ছে না?

আসলে...

ব্যাপারটা হচ্ছে...

এ হচ্ছে জিনেতা। আমি তোমাকে আমাদের বাগদানের ব্যাপারে লিখেছিলাম।

তোমার আশীর্বাদের জন্য আমরা মুখিয়ে ছিলাম।

বিয়ে?

খুব বড়লোক হয়েছিস নাকি যে বিয়ে করবি? তাও এমন সময়ে..

যেখানে তোর পুরো পরিবার সামলানোর দায়িত্ব তোর কাঁধে?

তুমি অন্তত আমাকে চিঠি পাঠাতে পারতে..

- আমাকে জানাতে পারতে ! - আমরা চিঠি পাঠিয়েছিলাম !

হ্যাঁ, কিন্তু সেটা তো আব্বার মারা যাওয়ার সময়ে পাঠিয়েছিলে।

আমি উত্তরে লিখেছিলামঃ ''আগে আমার ওদেরকে চাকরি খুঁজে দিতে হবে।''

মিলানে চাকরি পাওয়া অত সোজা নয়।

- তোমরা বসো। - নিজের বাড়িই মনে করো।

- তোমাদের সম্পর্কে একটু বলো। - আমরাও শুনি।

সংকোচের কিছু নেই।

- ও লজ্জা পাচ্ছে। - ক্লান্ত সম্ভবত।

- তেমন ক্লান্ত না। - এই বয়সে ছেলেরা সহজে ক্লান্ত হয়ও না।

তোমাদের কি ঠাণ্ডা লেগেছিল?

- না। - মিষ্টি খাবে?

ওটার ভিতরে কী?

কমলা।

অ্যামেলিয়া ! আমাদের দেশের বাড়ি থেকে কমলা এসেছে।

- নিবেন? - ধন্যবাদ।

কি সুন্দর ঘ্রাণ !

ধন্যবাদ।

রোজারিয়া, আমি ভেবেছিলাম তুমি বুঝি ওদের বাগদানের জন্য এসেছ।

ভেবেছিলাম - ভিঞ্চেঞ্জো সারপ্রাইজ দিতে চাচ্ছিল বলে আমাদের কিছু জানায়নি।

অনুষ্ঠান করার মত মানসিক অবস্থা আমার আপাতত নেই।

এখন কী হবে তাহলে? তোমরা তাহলে এখানে সোজা..

- স্টেশন থেকে এসেছ? - হ্যাঁ।

তো আজরাত তোমরা কোথায় ঘুমাবে?

আমার ছেলে আমাদের রাস্তায় ফেলে রাখবে না।

সে ঠিকই আমাদের দেখে রাখবে।

আমার কথা শোনো, রোজারিয়া।

আমি বুঝতে পারছি তুমি তোমার ছেলেদের নিয়ে চিন্তায় আছো ;

কিন্তু আমার মেয়ের কী হবে, বলো?

এই মহিলা হুট করে এসে সব গড়বড় করে দিচ্ছে !

- আম্মা, এসব কী বলছ তুমি? - আম্মা ঠিকই বলছে।

- আন্দাজে কথা বোলো না। - কেউ আমাকে বোকা বানাতে পারবে না।

- চিল্লানোর মত কিছু হয়নি ! - আম্মা ঠিকই বলছে !

চল এই বাড়ি থেকে ! রকো ! সিমোন !

- আম্মা, না ! - সবাই পাগল হয়ে গেছে !

- যেতে দে ওদের। - আমি পাগল না। আমি তোমাদের চিনে ফেলেছি।

এরা তোকে আমার থেকে আলাদা করতে চায়।

তোর মৃত বাবার জন্য এদের মনে কোনো শ্রদ্ধা নেই ! যত্তসব অসভ্য !

কত্ত বড় সাহস !

- চল এখান থেকে ! - না, না।

চুপ, তুমিও ওদের দলের !

জলদি চল এখান থেকে !

ওপরওয়ালা তোমাদের শাস্তি দেবেন, কারণ তিনি সবার বিচার করেন।

একটু দাঁড়ান। ওরা মন থেকে ওসব বলেনি।

- সরো। - আমাকে ছেঁড়ে দাও !

- তুই চুপ থাক, হারামী ! - আমি ভয় পাই না তোমাকে, বুঝলা?

যাও আমার বাড়ি থেকে !

শুনলি? দাঁড়িয়ে আছিস কেন? চল এখান থেকে !

আর যদি দেখি তোমাদের !

আর্মান্দো !

- আর্মান্দো ! - কে ডাকে?

আমি - ভিঞ্চেঞ্জো। ভিতরে আসতে দেন।

কী ব্যাপার? এত রাতে এসেছ যে?

পরে বুঝিয়ে বলছি।

জলদি ঢোকো ! বাইরে অনেক ঠাণ্ডা !

তা তুমি এই সময়ে এখানে কী করছ?

ঘুমানোর জন্য জায়গা খুঁজছিলাম।

সকাল তো প্রায় হয়েই গেল।

আচ্ছা, আমাকে বলো তো - কাহিনী কী?

আমি সব বুঝিয়ে বলবো।

আচ্ছা !

ভিতরে আসো। কুকুর ভয় পাও নাকি?

এখানে তোমার কাঠ, চুলা - যা লাগবে সব আছে !

বুঝিয়ে বলো এবার।

আমার পুরো পরিবার হুট করে এসে আমাকে একদম বোকা বানিয়ে দিয়েছিল ;

তাদের সাথে আমার হবু শ্বশুরবাড়ির লোকদের মারাত্মক ঝগড়া হয়েছে।

আমাকে আমার রুম, আমার বাগদত্তা - সব ছেঁড়েছুঁড়ে চলে আসতে হয়েছে।

রুম আর বাগদত্তা কি তোমার কাছে একই জিনিস তাহলে?

- মজা নিয়েন না। - আচ্ছা।

আমি এখন আমার পুরো পরিবারের ভরণপোষণ করবো কীভাবে?

কোথায় থাকবে তারা?

আজরাতের মত কোনোরকম ব্যবস্থা করেছি,..

কিন্তু কাল কী হবে আল্লাহ্‌ মালুম !

এত টেনশন কীসের? মিলানে তো ফাঁকা বাড়ির অভাব নেই।

জায়গায় জায়গায় অ্যাপার্টমেন্ট তৈরি হচ্ছে।

ভাড়া কেমন?

বাকি দক্ষিণা পাবলিকরা যা করে, তুমিও তা-ই করো।

- বুঝেছ আমার কথা? - ঠিক বুঝলাম না।

প্রথমে টাকা দিয়ে একটা অ্যাপার্টমেন্টে উঠবা...

ভাড়া দিলে পারলে ভালো।

কিন্তু কয়েক মাস পর, ভাড়া দেয়া বন্ধ করে দিবা।

- কীভাবে? - দাঁড়াও !

একমাস পর এরা অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বের করে দেয়।

- আমি কীভাবে... - দাঁড়াও !

এরপর তুমি অ্যাপার্টমেন্ট থেকে তাড়া হওয়া বাকিদের সাথে যোগ দিবা, যেখানে তুমি...

কোনোরকম খরচ ছাড়াই কারেন্টসহ অন্যান্য সুবিধা ভোগ করতে পারবা।

মিলানের সিটি হল কাউকেই রাস্তায় ফেলে রাখে না।

তাহলে সোজা সেখানে গেলে হয় না?

না, কেবল অ্যাপার্টমেন্ট থেকে বের করে দিলেই সেখানে থাকা যায়।

- আচ্ছা ! - এইটাই হলো ট্রিক, বুঝলা?

- দেখি কী করা যায়। - যা বলছি সেটাই করো !

আমরা এসে গেছি !

এসে গেছি !

আমি মিসেস পারোন্দি ; গেট খুলেন !

আসছি ! দাঁড়ান !

- এত তাড়া কীসের?! - এটাই কি সেই জায়গা?

- আসেন। - আমি রোজারিয়া পারোন্দি।

আচ্ছা, আসুন আপনাদের দেখাচ্ছি।

নিচে যাবেন, আপনাদের ঘর নিচে।

নিয়ে আয়।

সুপ্রভাত, মিসেস মারিয়া।

মানুষগুলো কেমন আজগুবি - দেখেছ? একদম রোহিঙ্গাদের মত !

- কোথা থেকে এসেছে এরা? - লুকানিয়া থেকে।

লুকানিয়া জায়গাটা কোথায়? প্রথম শুনছি !

দক্ষিণা অঞ্চলে।

ওহ ! দুনিয়ার সব অকর্মা তো সেখানেই পয়দা হয় !

উঠে পড় !

চিরো।

বরফ পড়ছে।

রকো ! চল কাজে নেমে যাই।

সিমোন ! বরফ পড়ছে।

কী হয়েছে?

কিছুনা। টাকা কামাই হবে আজ।

বরফ পড়ছে।

রাস্তা তো মনে হয় ভরে গেছে বরফে !

লুকা, দ্যাখ, বরফ পড়ছে।

- বরফ পড়ছে ! - ওঠ।

ওঠ, নয়ত আমাদের দেরি হয়ে যাবে।

মিলানবাসীরা রাস্তাঘাটে বরফ পছন্দ করে না।

ঐ, ঘুমবাবু, উঠে পড়েন !

দেখো বরফ পড়ছে !

সিমোন, সোনা, উঠে পড়।

বরফ পড়ছে ! কপাল খুলে গেছে !

আজ তোদের সবার কাজ জুটবে।

দ্যাখ, সবাই এখনই বেড়িয়ে পড়বে !

উঠে পড় !

- জলদি কর, রকো। - আমরা আসছি।

সিমোন !

রকো, তুই তো অসুস্থ।

- আমার একটা সোয়েটার পরে নে। - কিন্তু মেয়েদের সোয়েটার কেন পড়বো?

তো কী হয়েছে ! আমার কথাটা শোন - সোয়েটার পরে নে।

আমি তোদের নাস্তা বসাচ্ছি।

সিমোন !

উঠে পড়ো, সিমোন ভাই, আজ আমাদের অনেক কাজ।

- লুকা ! - লুকা, আমাদের দেরি হয়ে যাচ্ছে ! দুষ্টামি করিস না !

- পড়ে যাসনা যেন। - যা এবার !

- জলদি কর তোরা ! - খেতে চল, চিরো ! সিমোন !

- কফি প্রায় রেডি হয়ে গেছে। - চলে এসেছি।

আগে ডিমগুলো খা ; একদম গরম আর তাজা !

সাথে গরম গরম কফি। বেশি করে রুটি নিয়ে নে।

তোর ভাইকেও একটু দে।

খোদার লাখ লাখ শুকরিয়া যে উনি সবার কাজের ব্যবস্থা করে দিয়েছেন !

বিধাতার অনেক দয়া। তার ইশারাতেই বরফ পড়ছে।

- আমার সোয়েটার পরেছিস? - হ্যাঁ।

সিমোন, খোকা, জলদি রেডি হ !

- ইশ, ছেলেটাকে সকাল সকাল কাজে যেতে হচ্ছে। - কি ঠাণ্ডা। তার ওপর জানালাটাও...

খোলা রেখে দিয়েছ। এদিকে আমি ঠাণ্ডায় মরে যাচ্ছি।

জলদি, সারা শহর তোদের বরফ সরানোর অপেক্ষায় আছে, অলসের দল !

এই ছেলেটা আর বদলাবে না। কফি শেষ কর।

আমি দুপুরের খাবার রেডি করছি। লুকা, আমার ব্যাগ !

- হ্যাঁ, মা। - থাক, আমিই নিয়ে আসি।

- লুকা, আমার ব্যাগ ! - এইতো, খাটের নিচে।

- আমি বের করে দিচ্ছি। - জলদি !

বের করছি তো !

তোদের কোট নিয়ে এসেছি। গায়ে দিয়ে নে।

রকো, গরম কাপড় জড়িয়ে নে। সাবধানে থাকিস বাবা।

এমনিতেই তুই অসুস্থ। এর ওপর ঠাণ্ডা লাগলে...

জলদি বেড়িয়ে পড় তোরা !

এইযে, অকর্মার ঢেঁকি, আয় তোর কোট পরিয়ে দেই।

জলদি পরে নে, নিকম্মা।

বিধাতা মঙ্গল করুন এই শহরের ! তোরা খুশি তো এবার?

রকো, আমার সোনা ছেলে।

- কফি তো ভয়ংকর গরম। - আয়, চিরো।

জলদি ! বরফ পড়া থেমে গেছে।

এই বরফ সরাতেই সারাদিন লেগে যাবে।

মনে করে তোদের টুপি পরে নে। জলদি !

দেরি যেন না হয় তোদের !

জলদি, নয়ত আম্মা এবার লাত্থি মেরে বের করবে আমাদের।

- জলদি ! - আসি, আম্মা।

যা তোরা ; ঠাণ্ডায় জমে যাচ্ছি।

- একটা চুমু দে। - খোদা হাফেজ।

খোদা হাফেজ, রকো, ভালো থাকিস বাবা।

সাবধানে থাকিস, চিরো।

যা, ভিঞ্চেঞ্জো ! মন দিয়ে কাজ করিস !

কসম কেটে বলছি - আজ যদি তোরা টাকা ছাড়া বাড়ি ফিরিস,

তাহলে তোরা আর রোজারিয়া পারোন্দির ছেলে থাকবি না !

- আসি, আম্মা। - ভালো থাকিস !

- সিমোন ! - হ্যাঁ?

- তুইও কি যাবি? - কোথায়?

- বাছাই অনুষ্ঠানে। - সেটা আবার কোথায় হচ্ছে?

জানি না।

সিমোন, রকো, জলদি !

- হ্যালো। - ও কি এখনও আছে?

চলে গেছে। কেমন আছ তুমি?

- তোমাকে তো আজকাল পাওয়াই যায় না। - আমি সব বুঝিয়ে বলবো।

- হ্যালো, জিনেতা। - হ্যালো।

চলো অন্য কোথাও গিয়ে কথা বলি।

আমি তোমার বাড়িতে আর আসতে পারবো না ;

তাছাড়া তোমাকে তো দেখে রাখার মানুষ আছেই।

কেউ আমাদের সম্পর্ক মানছে না।

- আমরা কি বিয়ে করতে পারবো? - আমি আশা ছাড়ছি না।

- তুমি তো জন্ম থেকেই আশাবাদী। - হ্যালো, জিনেতা।

- হ্যালো। - কোনো না কোনো ব্যবস্থা হয়ে যাবে।

আমাদের এখন একটা থাকার জায়গা আছে। আর আম্মা বলেছে - ছেলেমানুষের বউ...

- হ্যালো ! - ...ঘরে আনতে নাকি কারোর সম্মতি নেয়ার...

- দরকার হয় না। - কী বললা?!

ভুল কী বললাম?

বাকি মেয়েদের মত, আমার বউকেও সম্মতি ছাড়া ঘরে আনা হবে।

আমার বেলায়, তোমাকে একশবার সম্মতি নিতে হবে !

- সম্মতি নিয়েই তোমাকে ঘরে আনবো। - খোদা হাফেজ।

বেশ্যামাগী ! দূরে গিয়া মর !

চুপ করো ! যাচ্ছি তো !

- কী হচ্ছে? - চুপ !

আমার বাবা চিল্লাচ্ছে। আমাদের মধ্যে বনিবনা হয় না।

কে তুমি? এখানে থাকো?

থাকার ইচ্ছা ছিল, কিন্তু ওরা আমাকে রাখতে চায় না। শুনলেই তো !

কেন চায় না?

সেই পুরনো ফাউল কাহিনীঃ

মানে মেয়েমানুষের সম্ভ্রম, হ্যানত্যান।

তাদের কাছে এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ। কিন্তু সম্ভ্রম দিয়ে কি গরীবের পেট চলে?

আমরা মত মেয়েরা সবাই হঠাৎ উধাও হয়ে গেলে কী হত - ভাবতে পারো? ভেবে দেখো একবার।

হ্যাঁ, আমরা ছেলেরা কেবল একা পড়ে থাকতাম।

- কীসের জন্যে? - চুপ !

- শুনলে? - কী করবা তুমি?

চলে যাবো। আর কী করার আছে?

দাঁড়াও।

আমার সাথে চলো। আম্মার কাছে হয়ত...

তোমার পরার মত গরম কাপড় আছে।

তুমি খুব মিষ্টি।

আমি কী?

তুমি খুব মিষ্টি।

চলো যাই।

- কতদূর? - এইতো এখানে।

ভিতরে ঢোকো।

- কে, ভিঞ্চেঞ্জো নাকি? - হ্যাঁ, আম্মা।

চিল্লাচ্ছিল কি তোর ওপর?

না, আমার ওপর না...

বেচারি মেয়েটা অনেক ঝামেলায় পড়েছে।

তোমার কাছে কি ওর পরার মত কিছু আছে?

- মেয়েমানুষ? - হ্যাঁ, আম্মা।

- কোথায় সে? - এইযে, দেখো।

- বিরক্ত করে থাকলে দুঃখিত। - দরজা বন্ধ কর, অনেক ঠাণ্ডা।

ভিতরে আসো। ওকে দেয়ার মত কাপড় আছে কিনা খুঁজে দেখতে হবে।

তোদের বাবার পুরনো একটা কোট আছে।

জলদি কিছু একটা দাও ; সে কাঁপছে।

দাঁড়া, খুঁজে দেখি।

শুভ সন্ধ্যা।

শুভ সন্ধ্যা।

শুভ সন্ধ্যা।

তোমার ভাই এরা, না?

হ্যাঁ, আমরা সবাই ভাই।

তোমাদের এখানে একটু বেশিই ঠাণ্ডা।

তুমি কি মিলানের বাসিন্দা?

কাছাকাছি। আমার বাড়ি আসলে ক্রেমোনা-তে...

এই নামে ফলের আচারও আছে !

তোমরা দক্ষিণা মানুষ, না?

এখানেই কাজ করো?

আজ আমরা বরফ সরিয়েছি।

ভালো তো !

ভাই আমাদের এখানে এনেছে। একমাস হলো আমরা এখানে এসেছি।

এখানে কাজ পাওয়া কঠিন।

তাই ঠ্যাকায় পড়ে বরফ সরিয়েছি। তুমি বসো না।

তোমাদের মত দামড়া ছেলেদের তো কাজের অভাব থাকার থাকা না, যদি...

ইচ্ছাশক্তি দৃঢ় থাকে।

তোমাদের ছবি?

হ্যাঁ, আমি মাঝেরজন।

তুমি তাহলে মাঝেরজন? আর এটা তুমি?

- এটা হচ্ছে... - ওটা রকো।

- রকো কোনটা? - ঐযে। - হ্যাঁ, দেখেছি।

আর এটা হচ্ছে অন্যজন।

এই বক্সার ছেলেটা কে?

ভিঞ্চেঞ্জো।

ভিঞ্চেঞ্জো কোনটা?

ভাই হচ্ছে সেই বক্সার। কিন্তু তার বক্সিংয়ে কোনো আগ্রহ নেই।

কেন নেই?

থাকলে ভালো হত। আমি এক চ্যাম্পিয়নকে চিনি।

আগে তাকে কেউ চিনত না।

কিন্তু বক্সিং করে এখন বড়লোক হয়ে গেছে, ভুরি ভুরি টাকা কামায় !

সত্যি বলছি - তার গাড়িটা বলতে গেলে একটা বাসের সমান।

বরফ-মরফ সরালে তার কপাল এইভাবে খুলত না !

এটাই বলতে চাচ্ছিলাম তোমাকে !

ভাই চায় না আমরা বক্সিংয়ের লাইনে যাই।

- চেষ্টা করে দেখতে তো সমস্যা নেই। - সেইটাই।

ঠিক বলেছ।

তোর যদি আত্মবিশ্বাস থাকে, তাহলে নিজেই চলে যা বক্সিংয়ে !

ওর অনুমতি নেয়া লাগবে না। মেয়েটা ঠিকই বলেছে।

বলা সহজ ! আমি আর বক্সিংয়ের লাইনে থাকছি না।

তাছাড়া, এই লাইনে সব খরচ আমার নিজেরই বইতে হয়।

কারণ তুমি এখনও চ্যাম্পিয়ন হয়ে ওঠোনি।

কেউ রাতারাতি চ্যাম্পিয়ন হয় না।

সিমোন আর রকোই এখন আমার ভরসা।

তোর চেয়ে ওদের গায়ে বল বেশি।

যত বক্সিংই করুক, দিনশেষে ওরা মার খেয়েই ফিরবে।

কোনো বাপকা বেটার সাধ্য নেই আমার সিমোনকে হারানোর।

আম্মা ঠিক বলেছে ; সিমোন ভাইয়ের গায়ে অনেক বল।

আচ্ছা, তুমি এই কাপড়টা পরে নাও।

এর চেয়ে ভালো কিছু আর পাইনি।

ধন্যবাদ।

আমি কাল এসে ফেরত দিয়ে যাবো।

দাঁড়াও, আমার এক বন্ধু এসেছে ;

পুলিশ লোকটা এই বিল্ডিংয়েই থাকে।

- শুভ সন্ধ্যা। - শুভ সন্ধ্যা।

- মেয়েটাকে একটু এগিয়ে দিয়ে আসবেন? - নিশ্চয়ই।

ওর বাবার সাথে ঝগড়া হয়েছিল ওর।

- তুমি চাইলে বাথরুমে ড্রেস চেঞ্জ করতে পারো। - ধন্যবাদ।

কই থেকে যে এই আপদ এনেছিস !

দরজা বন্ধ করে এখানে আয় !

তোর কি মাথা খারাপ যে ঐ মেয়েকে এখানে এনেছিস?

ওকে কি তুই চিনিস? সে তো বেশ্যাও হতে পারে।

- মেয়েটা সুন্দর। - সুন্দর?

তার গায়ে ছোট ছোট গুঁটি ছিল ; ঐ মেয়ে অসুস্থ।

মেয়েমানুষ এখনও চিনতে শিখলি না তোরা !

ওর গায়ে গুঁটি বের হয়েছিল, কারণ ওর ঠাণ্ডা লাগছিল।

না, ঐ মেয়ের রোগ আছে ; উত্তরার মানুষদের ভরসা নেই।

সে চলে গেছে।

আর আমার কোট?

জানালা দিয়ে ভেগে গেছে।

ভেগে গেছে? চোর-টোর নাকি !

ওর ড্রেস।

বলিস কী !

আমি দুঃখিত ; খামোখা আপনাকে বিরক্ত করলাম।

ব্যাপার না, চিন্তার কিছু নেই।

- শুভরাত্রি। - শুভরাত্রি।

কষ্ট লাগছে?

মেয়েটাকে তো আমি চিনিই না।

তুই নিজেকে নিয়ে মাথা ঘামা। আর মসুরের ডালগুলো বাছতে থাক।

এবার নিশ্চয়ই বুঝেছিস - জিনেতা ছাড়াও দুনিয়ায় আরও মেয়ে আছে।

খেতে বস তোরা। স্যুপ রেডি হয়ে গেছে। জলদি !

রকো, খেতে আয়।

ঐদিক ঘোরো।

ডান হাত দিয়ে মারো !

দাঁড়াও !

ডান হাত কাজে লাগাও !

- মের্লি, আমি এখনই আসছি। - কী হলো আবার?

- এখানে কী করছিস তোরা? - একটু দেখছিলাম।

দুঃখিত, আমার ভাইরা এসেছে। আমি আগে থেকে জানতাম না।

ওদের ড্রেস চেঞ্জ করতে বলো !

পারোন্দি, ফটাফট এখানে আসো।

কথা কানে যায়নি? জলদি যাও !

তোমরা এখানে দাঁড়িয়ে আছ কেন?

দাওয়াত দিয়ে আনতে হবে নাকি?

- এইযে দাঁড়াও। - আমাকে ডাকছেন?

হ্যাঁ, সিগারেট টানা ছেলেটা।

সিগারেট ছেঁড়ে একটু বডি-টডি বানাও। জলদি !

যতসব গেঁয়ো পোলাপান... বক্সিং করতে এসে সিগারেট টানছে।

ড্রেস চেঞ্জ করে নে।

- তোমার দেশের বাড়ি কোথায়? - লুকানিয়া।

- সেটা কোথায়? - ওহ, এখান থেকে অনেক দূরে।

- এখানে কি বক্সিং করতে এসেছ? - আমার কোনো আপত্তি নেই তাতে।

- বক্সিং অত সহজ নয় কিন্তু ! - চেষ্টা করে দেখি।

চুপ !

ভিঞ্চেঞ্জো !

ভিঞ্চেঞ্জো !

ভিঞ্চেঞ্জো !

- ভিঞ্চেঞ্জো, কোথায় তুমি? - এইতো ওপরে।

- আমাদের বাড়ি থেকে বের করতে এসেছে ! - আলহামদুলিল্লাহ্‌ !

আম্মা কী করবে বুঝতে পারছে না। একটু আসো না?

পারবো না।

আম্মাকে বল যে সিটি হল-এ আমাদের থাকার ব্যবস্থা হয়ে যাবে।

চিন্তার কিছু নেই। যা বলছি কর, যা এবার !

আবার ঘুষি মারো !

আবার ঘুষি মারো ! ঘুষি মারো !

কোথায় যাচ্ছ? এখানে আসো !

ঘুষি মারো !

এখানে আসো ! ঘুষি মারো !

ঘুষি মারো ! ঘুষি মারো !

আরে দুইলিও, কী অবস্থা?

ভালো। নতুন নাকি?

তিন মাস হলো এসেছে। গতি কম, তবে ভালো বক্সিং করে।

- যাও, গোসল করে নাও। - আচ্ছা।

এইযে !

ভালো করবে মনে হচ্ছে।

দাঁত ভালো তোমার, তবে হলুদ।

বক্সিং করতে গেলে, সিগারেট-মিগারেট ছাড়তে হবে।

এখানে বক্সিং প্র্যাকটিস করলে, তার কোনো গতি হবে না।

এক মিনিট সময় হবে?

এসেই আমার সেরা সেরা ছেলেদের নেয়া শুরু কোরো না।

তুমি দেখতে থাকো - সে তোমাকে বেছে নেবে।

তোমাকে সেরা জিমে নিয়ে যাবে, যেখানে চ্যাম্পিয়নরা প্র্যাকটিস করে।

এরা আমাকে যেতে দিলেই হয়। আর যদি নাও দেয়,

আমি নিজ থেকেই চলে যাবো।

এরা বলছে - আমার মধ্যে নাকি বক্সার হবার যোগ্যতা আছে।

ভিঞ্চেঞ্জো ভাইয়ের মধ্যে সেই জিনিসটার কমতি ছিল।

আর তোর কী অবস্থা?

আমার মনে হয় না সেরকম কোনো যোগ্যতা আছে।

দাঁড়া, আমিও গোসল করবো।

বয়স?

একুশ।

মিলিটারিতে ছিলে?

আমাকে মিলিটারিতে নেবে না ; একটা অ্যাকসিডেন্ট হয়েছিল আমার।

সেসব বিষয় পরে সামাল দেয়া যাবে। কাজ করতে চাও?

কাজ করতে?

জিমে, যাতে..

বডি বানাতে পারো।

আমরা নতুন ছেলেপেলেদের জন্য বিশেষ ব্যবস্থা করছি।

তোমার বয়স আরেকটু কম হলে ভালো হত...

কিন্তু তাতে কোনো সমস্যা হবে না।

ওর ঘাড় মোটকে দে !

হারায় দে শালাকে !

আজকের ম্যাচটা হবে তিন রাউন্ডে - এতে অংশ নিচ্ছে..

পারোন্দি, যে মিলানের প্রতিনিধিত্ব করছে,

যাকে স্পন্সর করছে অরোরা ক্লাব...

- আমি গেলাম ! - তুই বস !

- যেতে দাও আমাকে ! - পারোন্দি, ধোঁকাবাজ !

- ফাজিলগুলো বাজে বকছে। - সিমোনকে সামলাও তুমি।

ওরা জিনেতার ভাই।

আর ভিতোলো, যে লুকানিয়া'র ভির্তুস ক্লাবের প্রতিনিধিত্ব করছে।

ভিতোলো, শালাকে একদম ভরে দে !

হইচই কোরেন না।

পারোন্দি বংশের সবাই ধোঁকাবাজ !

ম্যাচের রেফারি হচ্ছেন মিঃ ফেরি, জেনোয়া থেকে।

ম্যাচ শুরু হতে যাচ্ছে।

প্রথম রাউন্ড।

পারোন্দি ! পারোন্দি !

মারো, সিমোন, মারো !

- ধাপ্পাবাজ ! - থামো বলছি !

ভণ্ড !

প্রতিপক্ষকে দারুণভাবে নাজেহাল করে,

প্রথম রাউন্ডের বিজয়ী হচ্ছে সিমোন পারোন্দি।

আসি?

সবাইকে আমার আদাব !

শাবাশ, ফাটিয়ে দিয়েছ আজকে ! মুখে এটা কী?

কিছুনা। সে আসলে তার সেরাটা দিতে পারেনি।

ছেলে কি ভদ্র - দেখেছ? "সেরাটা দিতে পারেনি"! তুমি তো চ্যাম্পিয়ন !

বেগুনী - চ্যাম্পিয়ন এবং নর্তকীদের রঙ।

আমি নিজেই তাকে ট্রেইনিং দিবো। আমি জানি তার কী দরকার।

তোমার জেতার খুশিতে আজরাতে আমরা বাইরে খাবো।

আমি আমার গাড়িতে অপেক্ষা করবো। ঠিক আছে?

- আচ্ছা, ধন্যবাদ। - দেখা হবে।

শুভ সন্ধ্যা।

সিমোন !

- বাইরে গ্যাঞ্জাম হচ্ছে ! - গ্যাঞ্জাম?

- হ্যাঁ ! - কিন্তু কোথায়? - আসো না ! জলদি !

ধোঁকা-বাজ ! ধোঁকা-বাজ !

কাপুরুষের দল !

কাপুরুষের দল !

চল এখান থেকে।

চল !

- চল ! - ভিঞ্চেঞ্জো !

- আমাকে ছাড়ো ! - চল এখান থেকে !

আলফ্রেদো, দাঁড়াও ! মামলাটা এখনও মিটমাট হয়নি।

আমি সব মিটমাট করে দিয়েছি।

পুলিশ আমি ডেকেছি আর মিটমাটও আমিই করবো !

- দাঁড়াও ! আমি ব্যাপারটা দেখছি। - তুই চুপচাপ বাড়ি যা !

- যা ! - জিনেতা !

এখনই বাড়ি যা !

- ছাড়ো আমাকে ! - চিরো !

ধোঁকা-বাজ ! ধোঁকা-বাজ !

মনে আছে আমাকে?

অবশ্যই আছে।

তো?

- তুমি কি আসছ? - আসছি তো।

তুমি তাহলে বক্সিং করার সিদ্ধান্ত নিয়েছ।

ভালোই করেছ !

বক্সিং দারুণ একটা পেশা।

ভালো লাগছে খেতে?

আমার তো মনে হয়, তুমি বক্সিং করছ সেই কারণে...

ঠিক যে কারণে আমি পুরুষমানুষের সঙ্গে শুই।

টাকা কামাতে।

না, আমি মন থেকে বক্সিং করি।

মন থেকে?

বেশ, আমিও কিন্তু মন থেকে আমার ''কাজ'' করি !

আর তোমার ভাই?

কোনজনের কথা বলছ?

বড়জন। যে পুলিশ ডেকেছিল।

দিনটা ভোলার মত না !

শুরুতে বরফ পড়ল, তারপর আমার বাপ,..

তারপর ছুটাছুটি হলো...

পুলিশ আমার কখনোই সহ্য হয় না।

এমনকি ছোটবেলাও হত না। এখন তো আরও হয় না !

আমি ক্লান্ত।

আমি এখন ঘুমাবো, সুতরাং তুমি কেটে পড়বা।

- না। - হ্যাঁ, পড়বা।

কারণ, আমি বলেছি।

আমার একা ঘুমাতে ভালো লাগে।

সেজন্যই আমি বাড়ি ছেঁড়ে চলে এসেছি।

ছোট থাকতে, আমার বাবা...

অসুস্থ হয়ে পড়ায় তাকে হাসপাতালে ভর্তি করতে হয়েছিল ;

এরপর আমরা আমাদের এক চাচার সাথে থাকা শুরু করি।

যুদ্ধের পর, বাড়ি খুঁজে পাওয়া কঠিন হয়ে পড়েছিল।

এখনও মনে আছে - আমরা সবাই এক রুমে...

গাদাগাদি করে থাকতাম।

তোমরা এখন যেভাবে থাকো।

গ্রীষ্মের সকালে, যখনই স্কুলে ক্লাস শেষ হত,

আমাদের সবাই খেলা করতে বেড়িয়ে পড়ত।

বয়সের তুলনায় আমি বড় ছিলাম।

বাচ্চাদের খেলা আমার ভালো লাগত না।

তাই আমি শুধু চেয়ে দেখতাম।

একদিন গ্রাউন্ড ফ্লোরের ডাক্তার লোকটা...

আমাকে ইশারা করে।

তারপর থেকে, আমি রাতের বেলা ওখানে যাওয়া শুরু করি।

বড়ই উন্নতি হয় আমার।

তখন আমরা কেবল দুজন ছিলাম বিছানায়।

- তোমার বয়স কত ছিল তখন? - ১৩।

মিথ্যা, ডাক্তারের কাহিনীটা মিথ্যা।

ছোটবেলার দিনগুলো সুখেই কাটছিল আমার।

সমস্যা শুরু হয় বড় হওয়ার পরে।

প্লিজ, আমি খুব ক্লান্ত।

তোমাকে তো যেতে বলেছি, যাও না !

কী হয়েছে?

আবার?

চিরো, আমি এখানে !

আসি !

- তো? - এইযে...

এগুলো হচ্ছে নাইট স্কুলের নোটিশ।

ফ্রিতে পেয়েছি...

তোমার কাছে কিন্তু প্রাইমারি স্কুলের সার্টিফিকেট থাকা লাগবে।

আমার আছে তো।

- এইযে ! - এটা কী?

ফালতু কাজে তোর টাকা নষ্ট করিস না !

সিমোন ভাই আমাকে দিয়েছিল।

আহ, সিমোন ! ভাই কি কাজে গিয়েছিল?

আমার বের হবার সময় ভাই ঘুম ছিল।

সকালবেলা সে কখনও কাজ করে না।

হ্যাঁ, আর সে কোথায় কী কাজ করে আল্লাহ্‌ মালুম !

ভালো কিছুই করার কথা ! গতকাল সে আম্মাকে ২,০০০ লিরা দিয়েছে।

আর তুই কী করিস?

আমি বাড়ির কাছের মুদির দোকানটায় মালপত্র ডেলিভারি দিই।

আগে বিশে পা দিয়ে নিই, তারপর দেখিয়ে দিবো আমি কী জিনিস।

- খোদা হাফেজ। - খোদা হাফেজ।

তুমি কি আসলেই পড়তে জানো?

তুমি এখানে আসার পর থেকে সব গড়বড় হয়ে গেছে।

- এটা না। - এটাই। দেখো !

- না। - তুমি ভুল বলেছ...

- ওর আসার আগে থেকেই সব গড়বড় ছিল। - না, ছিল না।

আমাকে রসিদগুলো দাও, আমি চেক করছি।

- সব ওলটপালট কিন্তু। - আচ্ছা, আমি দেখছি।

বস বলেছেন উনার নাকি মাথা ধরেছে।

মনে হয় রাতে ঠিকমত ঘুম হয়নি।

মনে করতে পারবা না ওর নাম? চেষ্টা করে দেখো অন্তত।

সে তো মাত্র একমাস হলো এখানে এসেছে।

এক বছর হলেও মনে করতে পারবে না, তাই না, রকো?

আমাদের ''ঘুমকুমার''!

ইদা, একটা চুমু দাও ওকে ; তাহলে হয়ত সে জাগবে।

আমার বয়ফ্রেন্ডের কানে গেলে আমাকে মেরেই ফেলবে।

আমি চুমু দিচ্ছি।

ওহ, কাস্টোমার এসেছে !

- হ্যালো? মিসেস উবাল্‌দি? - ছেলেটা কে?

আমার ভাই।

ওকে বলো লুকিয়ে আসতে নয়ত চলে যেতে।

বস রাগ হবেন যদি দেখেন যে বাড়ির মানুষ দোকানে এসেছে।

- সুপ্রভাত, মেয়েরা। - সুপ্রভাত।

অস্থির তো !

তুই তো আমাকে কখনও বলিসনি যে এত সুন্দর জায়গায় কাজ করিস।

কাপড় তাহলে ওখানে ঝুলিয়ে রাখতে হয়, আর...

সব তো লেখাই আছে। এখানে আসবেন, কাপড় খুলবেন...

এবং একদম নতুন রূপে বের হবেন।

এটাই তো চাই আমার !

কত দ্রুত করা যাবে?

অনেক খরচ হবে কিন্তু।

তাতে কী?!

কী হচ্ছে?

শুনলাম - আমাকে নাকি এরা ৫ মিনিটের মধ্যে রেডি করে দিতে পারবে।

- প্রমাণ লাগবে? - হ্যাঁ।

- বুথে যাও। ওর কী লাগে দেখো। - ধন্যবাদ।

- রকো, তুমি এখনও এখানে? - ছেলেটা ওর ভাই।

বসকে প্যাকেজটা দেখাও।

সাথে কোনো রসিদ নেই।

এটা আপনার এক আত্মীয়ের - কী যেন নাম উনার...

মিসেস ব্রিগেতী !

এইযে আমার প্যান্ট।

দাঁড়াও, এইযে আমার শার্ট।

- ম্যাডাম ! - হ্যাঁ?

এই শার্টটা কি ঠিক করা যাবে?

না মনে হয়।

- এটার রঙ নষ্ট হয়ে গেছে। - ইশ...

- আমি কী করবো তাহলে? - বুঝতে পারছি না।

দেখি কী করা যায়।

রকো, জলদি এখানে আসো !

এখানে আয়।

ওর সাথে কথা বলতে এসেছিলাম আসলে।

আর এসব তো মজা নেয়ার জন্য করা।

আমরা তাহলে আসি !

রকো ! একটু হেল্প কর আমাকে।

তোর বেতন দিয়েছে?

- রাতে দিবে। - আমার এখন টাকা লাগবে।

জিমের ওদেরকে বলে দিস যে আমি ২ দিন এখানে থাকবো না।

রকো, ওকে কোনোকিছু ধার দিও না।

আমি তো ভেবেছিলাম আপনি আমাকে পছন্দ করেন।

রকোর ভালোর জন্যই বলছি ; তোমার থেকে ওর সাবধান থাকা উচিৎ।

- বলে দিবি তো? - অবশ্যই।

কত দিতে হবে ওকে?

বেতনের অর্ধেক দিবো?

- জি, ম্যাডাম। - আগে কিন্তু ট্যাক্স দিতে হবে।

- অবশ্যই। - আচ্ছা।

- আম্মা কি জানে? - জানে।

- চললাম। - আচ্ছা।

রকো, এখানে আসো।

স্যার, আপনার প্যান্ট প্রায় রেডি হয়ে গেছে।

আমাকে জ্যাকেটটা দিবেন? মাত্র কয়েক মিনিট লাগবে।

- এইযে। - ধন্যবাদ।

সই করো।

প্যান্ট !

- এখানে দেখি বেশ ঝটপট কাজ হয়। - আগেই বলেছিলাম।

- হ্যালো। - হ্যালো।

এই নিন আপনার কফি আর অ্যাসপিরিন।

খুব ফিটফাট লাগছে নিজেকে। ধন্যবাদ।

আবার আসবেন, স্যার। খোদা হাফেজ।

- চলে আসলাম। - তোমাকে তো চেনাই যাচ্ছে না !

নতুন একটা শার্ট পরতে পারতে।

এরকম শার্ট?

এগুলো ডঃ ফোসাতি'র শার্ট !

তোমার মত কারোর গায়ে এগুলো ভালো মানাবে।

কিন্তু নির্মম সত্য তো এটাই যে জীবনে বিলাসিতা অনেক দেরিতে ধরা দেয়।

তোমার ভাইয়ের ৫,০০০ লিরা। তুমি আমাকে ৭০০ ফেরত দিবা।

আমি পারবো না। রকো দিয়ে দেবে।

আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, ম্যাডাম। ভালো থাকবেন।

- তুমিও ভালো থেকো ! - দেখা হবে !

উফ, থামো... মাথা ব্যথায় মরে যাচ্ছি !

তেজ আরও বাড়াও !

দরজা লাগিয়ে দাও, খোকা।

আমার কথা কানে যায়নি? কী চাও তুমি?

বলো?

সিমোন ভাই অসুস্থ। সে আসতে পারবে না।

যত্তসব !

অসুস্থ? তাকে তো বাইরে ঘুরাঘুরি করতে দেখা গেছে।

আমি সে ব্যাপারে কিছু জানি না।

এখানে বাছাই চলছে ; ভিতরে আসো !

তুমি কিছু জানো না, কিন্তু আমি জানি তার মতলব কী।

তুমি ওর ভাই না? তাহলে শোনো।

ওকে এত সুযোগ-সুবিধা দেয়ার বদলে, আমার উচিৎ ছিল ওকে ফাঁসিতে চড়ানো।

হয়েছে !

অনেক হয়েছে ; তোমরা এবার যাও !

আমার ওকে এখানে আনাটাই ভুল হয়েছে।

আমি মানছি - ভুল আমারই। আর কখনও এমন হবে না !

আজকের মত এই পর্যন্তই।

- তুমি তাহলে সিমোনের ভাই? - জি।

তোমার ভাইয়ের বডি ভালো, বক্সিংও ভালো করে ;

কিন্তু গতি কম। বাকিদের চেয়ে বেশি প্র্যাকটিসের দরকার ওর।

এটা হচ্ছে আমার অফিস।

এরা সবাই আমার সাথে ট্রেইনিং করেছে, সেরা সেরা সব বক্সার।

কৃতিত্ব আমারই।

দরজা লাগিয়ে দাও।

তুমি কি তোমার ভাইয়ের ভালো চাও?

তাহলে তার সাথে তুমিও জিমে আসা শুরু করো।

- আমি? - হ্যাঁ।

ওর সাথে থাকো, সবসময় ওর ওপর নজর রাখো।

- তোমার নাম? - রকো।

এই নামে একজন বক্সার আছে। তারও দেশের বাড়ি লুকানিয়ায় !

তুমি ভালো ছেলে।

কোনো সমস্যা হবে না তোমার ; খালি ভাইটাকে একটু দেখে রেখো।

সে যেন আজেবাজে মানুষের সাথে না মেশে, সেদিকে খেয়াল রেখো।

বক্সিং একটা সিরিয়াস পেশা ;

এই পেশায় এলে নিয়মনিষ্ঠ জীবনযাপন করা খুব জরুরি। বাকি বক্সারদের মত।

স্পোর্টসে ভালো করার পূর্বশর্ত হচ্ছে নৈতিকতাবোধ।

অর্থাৎ - মেয়েবাজি, সিগারেট, মদ্যপান...

এমন আরও বিষয় এক্ষেত্রে নিষিদ্ধ।

একেবারেই নিষিদ্ধ।

চলো অন্য কোথাও যাই !

- খোদা হাফেজ। - হ্যাপি ইস্টার।

কী ওটা?

ফার্স্ট ক্লাস হোটেল, সোনাপাখি !

- ওখানে যাওয়া যাবে? - কেন যাবে না?

এর নাম হচ্ছে ''দ্য গ্রেট ব্রিটেন''।

ইংরেজি পর্যটকরা এখানে আগে ভিড় জমাতো।

আর এখন মানুষ এখানে ইস্টার উদযাপনে আসে।

হোটেলটাতে ২০০, ২৫০'র মত রুম আছে।

বাগান আছে দেখি !

অসম্ভব সুন্দর বাগান। ভিতরে গিয়ে না দেখলেই নয় !

আমি একবার এসেছিলাম এখানে।

- তুমি ছিলে এখানে? - ভিতরে ছিলাম ! সে এক দারুণ অভিজ্ঞতা !

রুমগুলো দেখার মত ; আমাদের নরমাল হোটেলগুলোর মত না।

এই জায়গাটা একেবারে অন্য লেভেলের।

এখানে খরচও অন্য লেভেলের।

- রুম প্রতি এরা কত চার্জ করে, জানো? - না।

১০,০০০ লিরা, কেবল একটা রুমের জন্য।

৩০ দিনের হিসাব করলে...

মাসে ৩০০,০০০ লিরা কেবল একটা রুমের জন্য?

এ তো অনেক টাকা !

মাথা খারাপ এদের। এটা কীভাবে সম্ভব?

একদিন আমরাও এখানে থাকতে আসবো।

বাজি লাগাতে চাও?

আমি যখন পেশাদার বক্সার হবো, তখন।

- সিগারেট হবে? - কি অদ্ভুত জায়গা ! বাপরে !

- নাও একটা? - না, না। আমার মানা আছে।

বক্সার বলে কথা !

আমার কাছে থাকুক।

কত ইনকাম হবে তোমার?

অনেক। তবে সেজন্য বেশি করে ট্রেইনিং করতে হবে।

একটু স্যাক্রিফাইস করতে হবে। তোমাকেও করতে হবে।

আমাকে কেন করতে হবে?

যখন আমার ট্রেইনিং চলবে, তখন আমি তোমার সাথে...

একটা বিষয় মাথায় ঢুকায় নাও - আমাদের কিন্তু বিয়ে হয়নি।

আমরা মাঝেমধ্যে খালি ঘুরতে বের হই।

কপালে কী আছে তা কেউ জানে না।

কিন্তু আপাতত আমরা একসাথে আছি।

আমার জীবনে একটু পরিবর্তনের দরকার ছিল।

কোলাহল থেকে দূরে থাকতে চাইছিলাম আমি।

প্রতিটা সম্পর্কের শেষে, একটু ব্রেক নিতে হয়।

ব্যাস !

বুঝেছ আমার কথা?

- ম্যাডাম ! - আমাকে বলছেন?

এখানে থাকা যাবে না। আমি দুঃখিত, আসলে...

এই জায়গা কি রিসার্ভ করা?

কী সমস্যা? আমাদের শরীরে উকুন আছে নাকি?

- আমি দুঃখিত। - সবকিছুর একটা লিমিট থাকে !

আমাদের কি টাকা দিতে হবে?

আমি ব্যাস অর্ডার মেনে চলছি।

অর্ডার নাতো কচু !

আমাদের তো এখানে থাকতে ভালো লাগছিল !

ভালো থাকবেন, স্যার ! ম্যানেজারকে আমার আদাব জানায়েন !

ঘুষ লাগবে নাকি, ফাজিল ব্যাটা !

- খোদা হাফেজ, রকো ! - খোদা হাফেজ।

- রকো ! - কী হয়েছে?

আমার ভাইকে দেখেছ?

মাত্রই গেল। তার সাথে দেখা হয়নি?

নাতো।

কে ওখানে?

এইতো আমি। রকোর ভাই।

একটা প্যাকেজ ছিল আমার কাছে। আমি কাল আসি তাহলে।

এটা দারোয়ানের কাছে রেখে যাই।

দোকানেই রেখে যান। আসুন।

ওখান দিয়ে। বামদিকের দরজা দিয়ে ঢুকবেন।

- ধন্যবাদ। - ওয়েলকাম।

আসি?

- কেউ আছে? - আসুন।

- কেমন আছেন, ম্যাডাম? - ওহ, তুমি।

আপনাদের এক কর্মী বলেছে প্যাকেজটা এখানে রেখে যেতে।

আপনি যে এখানে আছেন তা বলেনি। ভিতরে ঢুকে বুঝলাম।

কী এটা?

বোঝার চেষ্টা করুন...

জামাটা ধোঁয়া লাগবে। আমার না কিন্তু।

শার্টটা ওখান থেকে নিয়েছিলাম।

মাত্র একবার পরেছি।

আপনিই বলেছিলেন - শার্টটা আমার মত কারো গায়ে মানাবে...

মানে কী? মাথা খারাপ তোমার?!

জবাব দাও !

হাসি থামাও ! তুমি এখানে এসে তোমার ফায়দা করবা,

আবার অসভ্যের মত কাজ করে আমাদের অপদস্থ করবা - সেটা হবে না।

- চোর কোথাকার ! - আমি ঠিক চুরি করিনি।

তোমাকে চেনা হয়ে গেছে আমার !

তুমি মানুষের করুণা আর ভদ্রতার ফায়দা নাও।

আমি এত সহজ-সরল, আগপাছ না ভেবেই সবাইকে বিশ্বাস করে ফেলি।

আমার মত একা এক মহিলার পক্ষে সবকিছুর হিসাব রাখা বড্ড কষ্টের।

কী চাও তুমি?

না, প্লিজ...

ওরা তোমাকে সন্দেহ করছে কেন?

জানি না।

বস সবসময় আমার ওপর নজর রাখে।

পাগলা কিসিমের মানুষ মনে হয়।

তা ঠিক।

তবে সেখানকার মেয়েরাও আমার ওপর নজর রাখে।

- কাল পুলিশের সাথে বিষয়টা মিটমাট করে নিও। - হ্যাঁ।

পারোন্দি !

পারোন্দি, তোমার সাথে কথা আছে !

আমাকে গ্রেফতার করতে এসেছে !

এই রাতে কে ডাকছে?

- না, আমি যাচ্ছি। - হ্যাঁ, যেয়ে দ্যাখ।

- কী হয়েছে? - ওপরে ওরা ভিঞ্চেঞ্জো পারোন্দিকে খুঁজছে। - ভিঞ্চেঞ্জো?

সে এখানে নেই।

তোর ভাই কোথায় - জানিস? এরা কী চায়?

জানি না। আমি যেয়ে দেখছি।

- আচ্ছা। - শুভরাত্রি।

এত রাতে ওকে কেন খুঁজছে বলতে পারবি?

- অতটা রাতও হয়নি। - কটা বাজে?

- কেবল ১০ টা। - ওহ।

শুতে যাও।

আমি আসবো?

তুই আম্মার সাথে থাক।

- হ্যালো, রকো ! - শুভরাত্রি।

কী হয়েছে?

ঘুমাতে যা।

তোর কী অবস্থা? কখন শেষ হবে তোর?

আমার এখনও পড়া বাকি আছে। রকো ভাই আসার পর ঘুমাবো।

আচ্ছা।

সিমোন এখনও ফেরত আসেনি।

ভিঞ্চেঞ্জোও আসেনি। এই ছেলেদের যে কী হবে !

এইযে, তোমাকে বলছি ! জলদি আসো।

- আমাকে খুঁজছিলে তুমি? - তুমি ভিঞ্চেঞ্জো?

না, সে জিনেতার সাথে আছে।

ওদের বাগদান হয়ে গেছে, কিন্তু আম্মা তাদের সম্পর্ক মানছে না ;

তাই তারা বাইরে গোপনে দেখা করে, যাতে আম্মা ঝামেলা না বাঁধায়।

তোমাদের পারিবারিক কাহিনী শোনাতে হবে না আমাকে।

- কে তুমি? - রকো।

ওহ, মনে পড়েছে।

তোমার সাথে কথা আছে। গাড়িতে ওঠো।

এখান দিয়ে না। অন্যপাশ থেকে।

প্র্যাকটিস না করলে, এই জিন্দেগীতে আমার ড্রাইভিং শেখা হবে না।

এটা কি একমুখী রাস্তা?

- আমি ড্রাইভ করি না। - তা করবে কেন !

হ্যাঁ, একমুখী।

পুরো দুনিয়াটাই তো একটা একমুখী রাস্তা।

- কোথায় যাচ্ছি আমরা? - যেখানে কেউ ডিস্টার্ব করবে না।

এখানেই থামাই।

আমি ভিঞ্চেঞ্জোকে ডাকতে পাঠিয়েছিলাম, কারণ তাকে আমি ভালো চিনি।

কিন্তু তোমাকে দিয়েও হবে।

এটা কি চিনতে পারছ?

সিমোন বলেছে - এটা নাকি তার কেনা ;

তবে আমার ধারণা সে চুরি করেছে। কোত্থেকে করেছে আল্লাহ্‌ মালুম।

এমনিতেই আমার জীবনে অনেক ঝামেলা। বাড়তি ঝুঁকি আমদানির শখ নেই।

বুঝতে পারছ?

বেশ !

- কিন্তু সে চুরি কেন করবে? - আমাকে খুশি করার জন্য।

আমার মত মেয়ের জন্য চুরি করাই যায়। যায় না?

ওটা কী পরে আছো তুমি?

এখানে আসার আগে শুয়ে ছিলাম।

ভিতরটা কত গরম।

ঘাবড়িয়ো না ; আমি কামড়াই না।

তোমার ভাইকে বলে দিও যে আমি এটা ফেরত দিচ্ছি।

আমার তরফ থেকে ধন্যবাদ জানায়ো, আর আমার খোঁজ করতে মানা করে দিও।

বুঝেছ?

বলবে - "নাদিয়া চলে গেছে। আর কখনও ফিরবে না।"

এভাবে তাকিয়ে আছো কেন? আমি কোনো পাগল-টাগল নাকি?

না, ওরকম কিছু না। তুমি অনেক সমঝদার একটা মেয়ে।

- সে চুরি কেন করতে গেল? - ভাবতে থাকো।

শুভরাত্রি, ভদ্র ছেলে। আমাকে সমঝদার মনে করার জন্য ধন্যবাদ।

তুমি এবার বাসায় চলে যাও। আমার দেরি হয়ে গেছে।

এত ভয়ের কিছু নেই। রিল্যাক্স করো একটু !

অ্যাই !

তুই ফিরে এসেছিস ! কাকে খুঁজছিল ওরা - তোকে নাকি আমাকে?

আমাকে, দোকানে দরকার ছিল, স্টোররুমের চাবির জন্য।

- স্টোররুমের চাবির জন্য? - হ্যাঁ।

আর চুরির ব্যাপারটা?

জুয়েলারিটা খুঁজে পাওয়া গেছে। কোনো চুরি-টুরি হয়নি।

- তোর বস একটা পাগল। - আসলেই।

- আমি ওখানে আর কাজ করবো না। - কিন্তু ভালোই তো চলছিল তোমার।

এখন আর চলছে না।

ছাড়ার আগে, নিজের জন্য একটা বন্দোবস্ত করে নে।

করেছি।

এটা দেখছিস? মিলিটারিতে যাওয়ার নোটিশ।

সকালেই এসেছে।

কিন্তু সারাদিন এত ব্যস্ত ছিলাম যে বলতে ভুলে গিয়েছিলাম।

- আমি মিলিটারিতে যাচ্ছি। - বেস্ট অফ লাক।

শুনলে?

এবার তার পালা। শুভরাত্রি।

- সিমোন ভাই? - কী?

তোমার সাথে একটু কথা ছিল।

দোকান থেকে ফেরার সময়, এক মেয়ের সাথে দেখা হয়েছে।

সেদিন যেই মেয়েটা বাসায় এসেছিল, তার সাথে - মনে আছে?

হ্যাঁ।

সে বলেছে - এখানে নাকি সে থাকবে না, চলে যাবে।

- কখন দেখা হয়েছে তার সাথে? - কেবলই।

কোথায় যাচ্ছে কিছু বলেছে?

না, বলেনি।

তুইও তাকে চিনিস?

কী চাই তার? নিজেকে কী মনে করে সে?

সে তো আর দশটা মেয়ের মতই।

জাতে ওঠার চেষ্টা করছে কেবল।

সে চলে গেলে আমার কী?!

খেয়ে-দেয়ে মনে হয় কাজ নাই আমার !

এখন থেকে, আমি আর তাকে চিনি না।

তার সাথে দেখা হলে বলে দিস কথাটা !

"আমরা শেষমেশ নতুন অ্যাপার্টমেন্টে উঠেছি।''

"সিমোন জেনোয়া'র ম্যাচে জেতার পর থেকে সবাই আমাদের চেনে।''

"সবাই সম্মান দেয় আমাকে। বছরটা ভালোয় ভালোয় কেটে যেত..."

"কিন্তু ওদিকে জিনেতা গর্ভবতী হয়ে পড়ায় ভিঞ্চেঞ্জোর তাকে বিয়ে করতে হয়েছে।"

"ভিঞ্চেঞ্জো এখন আর নেই, ওদিকে তুইও মিলিটারিতে যোগ দিয়েছিস।''

"সিমোনের ট্রেইনিং চলার কারণে সে কোনো চাকরি করতে পারছে না।''

"চিরো আলফা রোমিও প্ল্যান্টে একটা নতুন চাকরি পেয়েছে..."

"ভাগ্যিস তার নাইট স্কুলের ডিপ্লোমা ছিল।"

"একমাত্র সে-ই এখন ইনকাম করছে। আর সমস্ত খরচ সামলাচ্ছে !

"তোর খরচের পর টাকা বেঁচে গেলে, পাঠিয়ে দিস।''

"এমনিতেও টাকাটা খরচ করতে পারবি না। আমরা সবাই ভালো আছি।''

"আশা করি তুইও ভালো আছিস। অনেক দোয়া রইল তোর জন্য, - ইতি, তোর প্রিয় মা।''

অ্যাই !

তোমাকে চিনতে তাহলে ভুল হয়নি।

এই ইউনিফর্মের রহস্য কী?

আমি মিলিটারিতে আছি।

তাতো বুঝতেই পারছি। কবে থেকে?

১৪ মাস হয়েছে।

আমিও, মোটামুটি একই সময় ধরে আছি, এই শহরে, তোমার মত।

আসো আমাকে কফি খাওয়াও।

খাওয়াতাম, কিন্তু মাত্রই আম্মাকে টাকা পাঠিয়েছি।

আরে বোকা, আমি টাকা দিবোনে !

এক কাজ করিঃ একটা ঘোড়ার গাড়ি ভাড়া করে একটু ঘোরাঘুরি করি।

ব্যাগটা আমার কাছে দাও।

তারপর কোথাও বসে শান্তিতে কফি খাবো।

মামা, হুড নামায়ে দেন, একটু বাতাস খাই।

- তুমি বুঝতে পারোনি? - না।

১৩ মাস ৮ দিন।

সাজা মওকুফ করেনি, আমার অতীতের কারণে।

অবস্থা কি খারাপ ছিল?

মোটামুটি, তবে সহ্য করার মত।

জেলের ভিতর সময় এত দ্রুত কাটে যে টেরই পাওয়া যায়না।

হয়ত তোমার বিশ্বাস হচ্ছে না, কিন্তু এটাই সত্যি।

এইযে, ঘুমিয়ে পড়লে নাকি !

জেল-খাটা মানুষের সাথে পরিচয় থাকাতে কি তোমার অস্বস্তি লাগে?

ব্যাপারটা অত অস্বাভাবিক নয়।

আমি ছাড়াও আরও অনেকে ছিল সেখানে।

আমিই তো সম্ভবত প্রথম জেল-খাটা মানুষ যার সাথে তোমার পরিচয় হয়েছে?

না, দেশের বাড়িতে আমার কিছু বন্ধুবান্ধব ছিল...

আমার বয়সী, তাদের আর্থিক অবস্থা অসম্ভব রকমের খারাপ ছিল।

তাদের বলা হয়েছিল যে তাদেরকে জমি চাষ করতে দেয়া হবে।

কিন্তু সেই জমি ছিল অনুর্বর, খাটুনি ছিল অমানবিক, আর প্রচুর সময় লাগত...

তাদের সেখানে পৌঁছুতে। তারপর একদিন, তারা বিদ্রোহ করে বসে।

তাদেরকে পরে গ্রেফতার করা হয়...

মাতেরা-তে, পোতেঞ্জা-তে।

এসব দেখেই আমি বড় হয়েছি।

বুঝতে পারছি। একারণেই তোমরা এখানে চলে এসেছ?

আমার ইচ্ছা ছিল না আসার।

মিলান ভালো লাগে না তোমার?

জীবনে এত অভাব-অনটন না থাকলে এখানে আসতাম না আমরা ;

আমরা ওখানেই বেড়ে উঠেছি।

শহুরে জীবনের মারপ্যাঁচ আমি বুঝি না।

এই জীবনে কখনও কোনো শহরে থাকিনি আমি।

শুধু আমি না, আমার ভাইরা, বন্ধুবান্ধবরা - কেউই থাকেনি।

কেউ কেউ শহুরে জীবনের সাথে মানিয়ে নেয়...

এবং শহুরে মানুষদের মাঝে আনন্দ-সুখ খুঁজে নেয়।

আমি সেটা পারি না।

আমার কাছে সেটা অনুচিত মনে হয়।

এমন না যে আমার গাড়ির শখ নেই।

তবে জীবনে আরও জরুরি অনেক বিষয় আছেঃ

একটা ভালো চাকরি, একটা বাড়ি, প্রতিদিন খেতে পারা।

বুঝতে পেরেছ আমার কথা?

আমাকে নিয়ে তোমার মতামত কী?

কিছুনা।

আমার সম্পর্কে জানতে ইচ্ছা করে না?

প্রশ্ন থাকলে করো।

আমি জানতে চাচ্ছিলাম - তোমার বয়স কত?

দেখেই তো বোঝা যায় ;

২৫। কী হয়েছে তাতে?

তুমিই তো বলেছিলেঃ ''আমার সম্পর্কে জানতে ইচ্ছা করে না?''

আর কোনো বিষয়ে আগ্রহ নেই?

তুমি মনে হয় আমার কথায় কষ্ট পেয়েছ।

তাই নাকি?

তুমি দেখি আমার দিকে একদৃষ্টিতে তাকিয়েই আছ।

দুঃখিত।

আসলে কেন জানি তোমার জন্য আমার অনেক মায়া লাগছে।

খুব ভালো লাগলো জেনে !

আমি আসলে খুব ক্লান্ত।

আমি ঠিক ছুটি কাটানোর মুডে ছিলাম না ;

জীবন থেকে আমার ভালো কিছু পাওয়ার ইচ্ছা মরে গেছে।

ওভাবে বলতে নেই। মানুষ চাইলেই জীবনটা নিজের মত করে কাটাতে পারে।

কিন্তু সেজন্য আগে ভয় কাটাতে হবে ; নইলে কিছু সম্ভব হবে না।

ভালোই কথা বলতে পারো তুমি।

আর কিছু বলতে হবে না। এমনিতেই আমাকে কাঁদিয়ে দিয়েছ।

আমি কি তাহলে চলে যাবো?

ধুর বোকা ! আমাকে স্টেশনে নিয়ে চলো...

আমার সম্পর্কে আর কোনো কথা না ; ভালো লাগে না আমার।

নিজেকে কী উপদেশ দাও সবসময়?

বিশ্বাস রাখতে হবে, ভয় পাওয়া যাবে না। অগাধ বিশ্বাস...

কীসে বিশ্বাস রাখতে হবে?

জানি না... মনে হয় সবকিছুতে।

তোমার মধ্যে?

হ্যাঁ, আমার মধ্যেও।

- মিলানে দেখা হবে তো আমাদের? - হ্যাঁ।

ভাবছি তোমার কাছ থেকে ভয় কাটানোর তরীকা শিখে নিবো।

নিশ্চয়ই !

নিশ্চয়ই।

রকো।

আমার রকো এসে গেছে।

কত হ্যান্ডসাম লাগছে আমার ছেলেকে !

আয় !

আমি মাত্রই তোর খাট রেডি করছিলাম।

গতকালই দিয়ে গেছে।

সবাই দেখে যাও ; আমার ছেলে মিলিটারি থেকে ফিরেছে !

সবাইকে তোর মুখটা একটু দ্যাখা।

কত হ্যান্ডসাম আমার ছেলেটা !

আপাতত তেমন একটা ফার্নিচার নেই, কিন্তু আস্তে আস্তে সব এসে যাবে।

তুই থাকতে আমার আর কিছুর দরকার নেই।

তুমি ভালো আছো মনে হচ্ছে।

কী আর বলবো? দাঁতের ব্যথায় টিকে থাকা মুশকিল হয়ে যাচ্ছে।

নতুন বাসা তোর পছন্দ হয়েছে?

হ্যাঁ, কিন্তু...

বাকিরা কোথায়?

আমি ইচ্ছা করেই রবিবার এসেছি, কারণ এইদিন সবাই বাসায় থাকে।

- চিঠিও লিখেছিলাম। - জানি, কিন্তু...

আমি তো ধরেই নিয়েছিলাম যে চিরো আমাকে স্টেশনে নিতে আসবে।

ওরা দুপুরে এসে পড়বে। মন খারাপ করিস না।

তোর খাটটা কোথায় রাখবো বল। জলদি !

আমি লুকার সাথে ওখানে ঘুমাবো। তোরা তিনজন এখানে ঘুমাবি।

সিমোন, চিরো, আর তুই - আমার সোনা ছেলেটা !

জানিস...

চিরো যে কত পরিশ্রম করে, তোকে বলে বুঝাতে পারবো না !

ওরা আজ ভিঞ্চেঞ্জোর বাচ্চার নামকরণ অনুষ্ঠানে গেছে।

- তুমি যাচ্ছো না? - না, আমি যাবো না।

- যাওনি কেন? - তোর আসার কথা ছিল যে।

এটা কোনো কারণ না। আমি না হয় একবারে সেখানেই চলে যেতাম।

- চলো এখন যাই। - না, অনেক দেরি হয়ে গেছে।

তুমি কি এখনও ভিঞ্চেঞ্জো ভাইয়ের ওপর রেগে আছ?

না, সে তো সবসময় আমার সাথে দেখা করতে আসে।

- আর জিনেতা? - সে আসে না।

বাচ্চা হবার পরও ভাবীকে দাওয়াত করোনি?

তোর ভাইকেও তো তার শ্বশুরবাড়ির লোকেরা দাওয়াত করে না।

আমাকে যেতে দাও। খুব দেখতে ইচ্ছা করছে সবাইকে।

যা তাহলে।

ধন্যবাদ।

- খোদা হাফেজ, আম্মা। - খোদা হাফেজ।

- হ্যালো, লুকা। হ্যালো, ভিঞ্চেঞ্জো। - ওহ, তুই ফেরত এসেছিস !

হ্যালো, জিনেতা। বাবুটা খুব কিউট হয়েছে !

- আমরা ওর নাম আন্তোনিও রেখেছি। - আন্তোনিও, বাবার নামে।

- ওকে একটু কোলে নিই? - নিশ্চয়ই।

আন্তোনিও। কত সুন্দর বাবু তুমি ! আন্তোনিও !

নড়াচড়া করো ! দ্রুত হাত-পা চালাও !

গতি বাড়াও !

ম্যাচের একদম আগে এত প্র্যাকটিস বাড়াবাড়ি লাগে আমার।

বেশি বুঝতে যেও না।

একে আমি বুঝাতেই পারছি না সে কার সাথে ফাইট করতে যাচ্ছে।

- জিততে গিয়ে তোমার অবস্থা টাইট হয়ে যাবে। - আমিও সেটাই বলেছি ওকে।

- প্রতিবার তো এক কথাই বলেন। - এবারেরটা সিরিয়াস।

গতি বেশি থাকলে হয়ত জেতার চান্স ছিল, কিন্তু তো তুমি একদম ধীরগতির।

দোষ তো আপনার।

আপনি কখনও দ্রুতগতির কারোর সাথে আমার ফাইট করাননি।

দোষ তো এখন আমার ঘাড়েই পড়বে !

আমারই কাউকে খুঁজতে হবে।

গ্লোভস পরে নে।

জলদি !

- আমি? - হ্যাঁ।

- এর মাথা খারাপ হয়ে গেছে। - ট্রাই করে দেখুক।

এসব ট্রাই-মাই করতে গিয়েই কালকের ম্যাচে ধরা খেতে হবে !

গ্লোভস পরে নাও !

ঘুষি মারো ! বামে ! বামে !

আল্লাহ্‌গো, কাদের পাল্লায় যে পড়লাম !

এদের একটারে দিয়েও কিছু হবে না, কিচ্ছু না !

কালকের ম্যাচে সবাই আমাদের নিয়ে হাসাহাসি করবে ! বালছাল !

একেকটার মাথায় গোবর ভরা।

আমি আর নেই এর মধ্যে !

অনেক হয়েছে !

আমার সত্যিকারের বক্সার দরকার, যারা মন থেকে বক্সিং করে !

যত্তসব গেঁয়ো ছেলেপেলের দল ! মানুষ ঠিকই বলে এদের সম্পর্কে।

এসব ফাউল পোলাপান লাগবে না আমার !

নিজের পায়ে আর কুড়াল মারবো না আমি !

- চেরি ! - কী হয়েছে?

- একবার এসে অন্তত দেখে যাও। - আমি কোনোকিছু দেখতে চাই না ভাই...

- আসো না ! - অনেক হয়েছে।

- বাইরে আসো একটু, চেরি। - না, আমার ইচ্ছা করছে না।

- বিশাল কিছু মিস করে ফেলবে। - কী আছে দেখার? - একবার দেখেই যাও না।

দেখলে? দারুণ না?

ওর গতি বেড়ে গেছে।

অসাধারণ !

হ্যাঁ, এভাবেই করতে থাকো। আমার কথা শোনো।

শাবাশ, হ্যাঁ এভাবেই।

আমি আসছি।

বাম হাত কাজে লাগাও।

তুমি পারবা, সিমোন ! গতি বাড়াও !

- ওর ভাইটা... - সে খারাপ করছে না।

বেশ ভালোই করছে !

খারাপ না। তার ঘুষি থেকে বাঁচার টেকনিক দেখার মত।

হ্যাঁ, ঘুষি মারো !

ম্যাচের আগে, আমাকে আমার মত প্রস্তুতি নিতে দেন।

নয়ত আমি নার্ভাস হয়ে পড়বো !

রকোর সাথে একটু প্র্যাকটিস করো দেখি।

এখানে আসো !

শুরু করো !

সে বেশ ভালো বক্সিং করে।

সিমোন, সতর্ক হয়ে যাও, নয়তো রকো তোমার জায়গা নিয়ে নিবে।

ম্যাচ কালকে তো, না?

হ্যাঁ, কালকেই দেখা যাবে তুমি আমার কথা কতটা ফলো করো।

শাবাশ ! অনেক ভালো করেছ তুমি !

আর্মিতে থাকার সময়, আমরা একসাথে ওয়ার্কআউট করতাম।

- কয়েকটা ম্যাচে ফাইটও করেছিলাম। - কেমন করেছিলে ম্যাচে?

দুটোতে ড্র হয়েছিল আর একটায় জিতেছিলাম, কিন্তু...

- আহ ! - বক্সিং জিনিসটা আমার জন্য না।

- বক্সিং ভালো লাগে না তোমার? - না।

আমি গেলাম ; দেরি হয়ে গেছে।

- আগে একটু ম্যাসাজ করায় নাও। - আচ্ছা।

- কী ব্যাপার? - কিছুনা।

ঐ বলদা, তোর গ্রামে ফিরে যা !

আমি পারবো না।

- আমি হার মানছি। - এখন হাল ছাড়ার সময় না, বোকা !

- আমি হার মানছি। - হাল ছেঁড়ে দিও না। - আমি পারবো না !

আমার কথা শোনো। এখন একটাই উপায় আছে...

বাম হাত কাজে লাগাও, যা বলছি করো !

- আমি পারবো না। - ডান হাত দিয়ে মেরো না।

- ম্যাচ থামায় দেন। - এতদূর এসে হাল ছেঁড়ো না..

- গাধা কোথাকার ! - ৫, ৬, ৭ ...

৮।

গভীর শ্বাস নাও।

ধুর ! ওর তো জেতার চান্স ছিল।

এক রাউন্ড হেরেই সে হার মেনে নিয়েছে।

- তোমার হার মানা উচিৎ হয়নি। - সাত রাউন্ড শেষে...

বিজয়ী হচ্ছে ওয়েবস্টার।

আমার দোষ দিয়েন না।

লাভটা কী তাতে? আমার যাকে ইচ্ছা তাকে দোষ দিবো !

দোষ মনে হয় আমারই ! জাহান্নামে যাক সে !

বদনাম আমার হচ্ছে, লোকসান আমার হচ্ছে...

- ওর না ! - সব শেষ হয়ে গেছে।

দারুণ খেল দেখিয়েছে তোমার ভাই !

আমি মিলিটারি থেকে আসার পর ওর মাঝে পরিবর্তন লক্ষ্য করেছি।

ভাইয়ের সাফাই গাওয়া বন্ধ করো, আমরা দুজনেই জানি আসল কাহিনী কী।

এখন যা পরিস্থিতি, তোমাকেই হাল ধরতে হবে।

সে যে ঝামেলা পাকিয়েছে, তার মাশুল তোমাকে দিতে হবে।

তোমার ভাই আমার বাঁশ দিয়েছে। মানো তো সেটা?

- ঐ ছেলে হারলো কীভাবে? - কি জানি !

তোকে তো মেরে ভর্তা বানিয়ে ফেলেছে।

ফালতু বকিস না !

কী বলল ওরা, শুনেছিস?

তেমন গুরুত্বপূর্ণ কিছু না।

চেরি তোর ওপর মহা ক্ষেপেছে।

ক্ষ্যাপাটাই স্বাভাবিক ছিল, তবে পরে শান্ত হয়েছে।

সে এখন তোর ভাইকে দিয়ে বক্সিং করাতে চাচ্ছে।

কী? রকোকে দিয়ে?

তোর ভাই রাজি হলে, তাকেও ওঠাবসা কমাতে হবে।

বেশ্যাদের সাথে আরকি।

ঐ লাইনে তো সে বিশ্বচ্যাম্পিয়ন।

যেই জানোয়ারটা তোর এই হাল করেছে, তার কী হবে?

এখন বলিস না যে তুই জানতি না।

কিন্তু সারা শহর তোর ভাই আর তার জুলিয়েটের কাহিনী জানে ; তাদেরকে একসাথে দেখা গেছে।

আমি খোঁজ নিয়েছি।

সে রাতের বেলা ঘিসল্‌ফা'র ওখানটায় ডেটিং করে।

নাদিয়ার সাথে।

এখন আবার বলিস না যে তুই কিছু জানতি না।

আসলেই জানতাম না।

শুনেছি সে নাকি তোর ভাইয়ের প্রেমে পড়েছে।

রোজি-ই সবার আগে আমাকে বলেছিল। নিনো'র কথা মনে আছে?

নাদিয়া আগে ওর প্রেমে পাগল ছিল।

কিন্তু এখন ম্যাডাম ঐ ছেলেকে কিংবা অন্য কোনো ছেলেকে পাত্তাই দেন না।

সে নাকি এখন চাকরির জন্য কোন এক প্রতিষ্ঠানে ট্রেইনিং নিচ্ছে।

একদম ভদ্র হয়ে গেছে।

থামেন তো !

- বাজির টাকা কে দিচ্ছে? - আমার পাওনা শোধ কর। আমি জিতেছি।

একটু কফি খাওয়া আগে ; ঠাণ্ডায় জমে যাচ্ছি।

- একটা কফি দাও তো ! - অ্যালকোহল মিশায় দিও।

তো?

আমি তার পিছু নিয়েছিলাম।

সোনালি চুলের একটা মেয়ে ছিল তার সাথে।

- কোথায়? - ব্রিজের ওখানে।

ওরা সবাই ওখানে যাবে, ট্রেন যাওয়ার পাশের জায়গাটাতে।

আমাদের ভুলও হতে পারে, হয়ত মেয়েটা নাদিয়া না।

আবালের মত কথা বলিস না ; গ্যারান্টি দিচ্ছি ওটা নাদিয়াই।

ঠিক আছে। চল যাই।

কামিসাস্কা আর রিগুতিনি কোথায়?

ওরা ওদের ফলো করছিল ; এতক্ষণে সম্ভবত ক্লিনিকের ওখানে পৌঁছে গেছে।

আমি আমার বাইক নিয়ে আসি।

এই আবহাওয়ায় মানুষের ইটিশ-পিটিশ করার শখ জাগে ক্যামনে?!

জলদি চল।

অ্যাই, রোমিও, এখানে !

- ওরা কি ওখানে আছে? - আছে। চল যাই।

যদি না পাই, তাহলে তোদের খবর আছে !

ওরা মাত্রই এখান দিয়ে নেমে কুঁড়েঘরটার ওখানে গেছে।

তোরা নদীর ওখানে যা। আমি এইদিকে যাচ্ছি।

আমার সিগন্যালের জন্য অপেক্ষা করিস।

- তুমি একা যাচ্ছিস? - হ্যাঁ।

শুনলে? কীসের শব্দ ছিল ওটা?

কিছুনা, বিড়াল-টিড়াল হবে হয়ত।

কেউ নড়বে না।

একদম নড়বে না !

মনের মানুষের সাথে থাকতে চাওয়াতে দোষের কী আছে?

তাই বলে ওর সাথে না, সে আমার।

আমি চুপ করে থাকার মানুষ না। বুঝেছিস?

তোমাদের তো কোনো সম্পর্ক নেই। ২ বছর হয়ে গেছে তোমার ওকে না দেখে।

চলো, রকো।

কী হচ্ছে এসব?

বলো, সিমোন?

কী চাও তুমি?

প্রথমত, আমি চাই রকো মাফ চাক।

কেন?

ভীতু কোথাকার !

দ্যাখ সবাই হিজরাটাকে !

অসভ্য একটা !

মাফ চা আমার কাছে !

- তুমি কি দেখতে পাচ্ছ না? সে মাতাল। - মাফ চা বলছি !

থামো !

- ছাড়ো, সিমোন ! - আমার যা খুশি তা-ই করবো।

- না ! - ওর জন্য আমাকে ধোঁকা দিলা !

তোর নাদিয়াকে দ্যাখ ! দ্যাখ সে কীভাবে চোদে !

ওকে তোমার আসল রূপ দেখাবো !

ওকে ধরে রাখ ! ও দেখুক।

- ওর সবক শেখার দরকার আছে। - রকো ! রকো !

না, সিমোন, থামো !

রকো, আমাকে বাঁচাও !

- রকো ! রকো ! - সিমোন, প্লিজ !

- ধর... - রকো !

- পারলে চুমু খা। - না ! রকো !

ওগুলো দিয়েই তোর ভালোবাসার ক্ষুধা মেটাতে হবে।

না ! রকো, আমাকে বাঁচাও ! সিমোন, ছাড়ো আমাকে !

সিমোন !

রকো !

রকো !

রকো, কিছু তো বলো। বলো যে...

রকো, আমাকে বলো যে...

এবার তোর শিক্ষা হয়েছে !

বাড়ি গিয়ে এ ব্যাপারে আলাপ হবে।

তুমি আমার গা গুলিয়ে দিচ্ছ।

সাহস থাকলে আরেকবার বলে দ্যাখ।

তুমি আমার গা গুলিয়ে দিচ্ছ।

সিমোন, এবার থাম !

তুমি আমার ভাই, এখানে আমার কিছু করার নেই !

কিন্তু তারপরও তো তুই দমে থাকিসনি। এখন দমে আছিস, কারণ তুই ভয় পাচ্ছিস।

আমি ভয় পাচ্ছি না।

তাহলে আয়। সেটা প্রমাণ কর।

সিমোন, পাগল নাকি তুই? কেউ যদি এখন চলে আসে?

যা এখান থেকে !

সিমোন, বাদ দে !

আয়, গাড়িতে ওঠ।

ভিঞ্চেঞ্জো, বেল বাজছে।

- বেল বাজছে। - যেয়ে দেখো তো কে এসেছে।

যাও !

রকো !

কী হয়েছে?

- জিনেতা, দ্যাখো। - কী হয়েছে?

রকো !

কিচ্ছু না, কিচ্ছু না।

কিচ্ছু না, কিচ্ছু না।

- ভিঞ্চেঞ্জো, তোমাদের এখানে আমাকে থাকতে দাও। - ঠিক আছে।

বাসায় জানায় দাও ;

নয়ত আম্মা টেনশন করবে।

হায় খোদা ! সে অজ্ঞান হয়ে গেছে !

জিনেতা, জলদি পানি দাও !

আমি কি আর জানতাম যে সিমোন তোমাকে এত ভালোবাসে?

আমি শুধু জানতাম যে তার মাঝে কোথাও একটা পরিবর্তন এসেছে...

তার স্বভাব বদলে গেছে।

কিন্তু তার কারণ যে তুমি - সেটা জানতাম না।

তোমার বুঝতে ভুল হচ্ছে।

তোমার জন্য সে মরিয়া হয়ে উঠেছে।

সে একটা উন্মাদ, জল্লাদ। আমি তোমাকে ভালোবাসি। আমাকে বিশ্বাস হয় না তোমার?

তাহলে তো এসবের কোনো মানেই নেই। কিছু বিশ্বাস করতে পারছি না আমি।

তুমি যদি এরকম করতে থাকো, তাহলে আমি ঝাঁপ দিবো !

আমি আমার জান দিয়ে দিবো !

- থামো ! - না !

- আমার কথা শোনো। - ছাড়ো আমাকে।

- আমি মরতে চাই ! - নাদিয়া !

- শোনো। - আমাকে একা ছেঁড়ে দাও, দোহাই লাগে।

তুমি আমার জীবন বদলে দিয়েছ ;

জীবনের প্রতি ঘেন্না ধরে গিয়েছিল আমার। তুমিই আমাকে ভালোবাসতে শিখিয়েছিলে।

কিন্তু আমার এই সুখ বজ্জাতটার সহ্য হয়নি।

তোমার সামনে আমার অপমান করে আমাদের এই পর্যায়ে নিয়ে এসেছে।

হঠাৎ করে সবকিছু বদলে গেছে।

যা আগে সুন্দর, ন্যায্য মনে হত, এখন সেটাকে ভুল মনে হচ্ছে।

আমরা দুজনই দোষী। বিশেষ করে আমি।

- সিমোনের কাছে ফিরে যাও। - মাথা ঠিক আছে তোমার?

সিমোনের তোমাকে দরকার।

সেটা আমি জানি। কিন্তু আমার কী হবে?

আমার কি কোনো মূল্য নেই?

আমাদের সম্পর্কের কী হবে?

সিমোনকে সাহায্য করো।

এসব পাগলামো !

ভেবেছিলাম আমরা বুঝি একসাথে সুখী হবো। কিন্তু আমরা শুধু কষ্টই বাড়িয়েছি।

আমি তোমার জন্য সবকিছু করতে রাজি।

আমি তোমাকে ভালোবাসি।

তুমি তো আমাকে ভালোবাসো। আমাদের ভালোবাসার কী হবে?

কেন এভাবে কষ্ট দিচ্ছ আমাকে?

আমাদের মাঝে কোনো সম্পর্ক রাখা যাবে না।

সম্ভব না।

তুমি এমনটা চাইতে পারো না, রকো।

যদি চেয়ে থাকো, তাহলে পরে আফসোস করবে।

অনেক দেরি হয়ে যাবে তখন।

আমি তোমাকে ঘেন্না করি ! ঘেন্না করি ! ঘেন্না করি ! ঘেন্না করি !

আজ কপালটাই খারাপ।

খেলা জমে উঠেছে।

তোমাদের বাজি লাগাও।

একটা গেল।

এবার হয়ত কিছু একটা হবে।

এই দিয়ে দিলাম।

শব্দ কোরো না ! আমরা এখানে খেলছি !

আর আমি এতই বলদ ছিলাম যে...

সেখানে দুনিয়া-ভর্তি মানুষের সামনে কান্নাকাটি করে ছুটে বেড়াচ্ছিলাম।

কি যে অস্বস্তিকর পরিস্থিতি ছিল !

বেচারি নাদিয়া। সব ঠিক হয়ে যাবে।

আস্তে আস্তে সব ভুলে যাবে।

তুমিই বুঝতে পারলা !

আমার অনেক কষ্ট।

ঠিক আমার মত আরেকটা মানুষও কষ্টে আছে।

দেখো কে এসেছে ! এই মানুষটাই আমাদের সমস্ত কষ্টের মূল কারণ।

সমস্ত কষ্টের ধ্বজাধারী !

এর আবার কী হলো?

আমরা ওর সর্বনাশ করে দিয়েছি।

আমরা ওর সর্বনাশ করে দিয়েছি, ভাবতে পারেন?

কিছু মনে করবেন না।

পাগল নাকি?

আমি পাগল...

হবোই তো !

কিন্তু দোষ তোমার ভাইয়ের।

হ্যাঁ, ওর ভাই - রকো।

জানো সে কী বলেছে?

বলেছে ওর কাছে ফিরে আসতে, ওকে সান্ত্বনা দিতে।

বেচারার জীবনে নাকি অনেক দুঃখ।

সে নাকি একা কিছু করতে পারে না। তার নাকি সাহায্য লাগবে।

এখানে কোনো ঝামেলা করা যাবে না। সে মাতাল হলে, তাকে নিয়ে যাও।

যা বলার ভদ্রভাবে বলেন।

আমি উঁচু জাতের মেয়ে, তাই বুঝেশুনে কথা বলেন।

- আপনার কথায় আমি উঠবস করবো না। - শান্ত হও।

- শুনেছ? আমাকে বের করে দিতে চাচ্ছে সে। - শান্ত হও।

এমন আমার সাথে আগেও হয়েছে।

- তুমি তোমার মুখে লাগাম দাও ! - শান্ত হও।

তোমার আগের রূপে ফিরে আসছ তাহলে?

আমি কিন্তু রেডি আছি।

তোমার সাথে বিছানায় যাবো? কখনোই না !

আমি ঘেন্না করি তোমাকে।

ঘেন্না করি।

কক্ষনও না !

তার চেয়ে আমি মরে যাবো !

আগেই বলে দিচ্ছি - কাছে আসলে, আমি তোমার মুখে থুতু দিবো।

সবার সামনে, আমি তোমার মুখে থুতু দিবো।

আগেই বলে দিলাম কিন্তু !

- ঝামেলা কোরো না তোমরা ! - সরো তো।

কাছে আসবে না খবরদার।

- কী চাও তুমি? - এখানে আসো।

- ছাড়ো আমাকে ! - আসো না।

আসবো, যদি রকো রাজি থাকে।

বিছানায় চলো।

ঘণ্টাখানিকের জন্য নাকি আজীবনের জন্য?

- আজীবনের জন্য। - নিশ্চয়ই।

তোমার সাথে হোক কিংবা অন্য কারোর সাথে হোক - একই কথা।

চলো যাই।

চলো !

আসো না !

না, বাদ দাও, আমি কখনোই তোমাকে ভালোবাসিনি।

ম্যাচ শুরু হতে যাচ্ছে।

সতর্ক থেকো, আর চেষ্টা কোরো ওর কেটে যাওয়া চোখে মারতে।

জোরে ঘুষি মারবে ! বুঝেছ?

তৃতীয় এবং শেষ রাউন্ড।

রকো ! রকো !

সকলের দৃষ্টি আকর্ষণ করছি।

প্রতিপক্ষকে দারুণভাবে নাজেহাল করে, আজকের ম্যাচে বিজয়ী হচ্ছে - রকো পারোন্দি...

যে ইটালিয়ান টিমের প্রতিনিধিত্ব করছে।

রকো ! রকো !

না না, এখান থেকে যাও !

তুমি ঠিক আছ তো, ভাই?

জিততে বেশি কষ্ট হয়নি, চিরো...

কারণ ফাইটটা আমার প্রতিপক্ষের সাথে ছিল না ;

বরং ছিল তার সাথে - যে আমার মনে ঘৃণার জন্ম দিয়েছে...

যা আমার অজান্তেই ক্রমাগত বেড়ে চলেছে আমার মাঝে।

সে প্রচণ্ড বাজে এক অনুভূতি।

কতটা বাজে - তা তুই কল্পনা করতে পারবি না।

তা কীভাবে হয়? তোমার মাঝে তো বাজে কিছু থাকতে পারে না।

মন খারাপ কোরো না !

তুমি অনেক সফল হবা।

সত্যিকারের চ্যাম্পিয়ন হবা।

চিরো, এখন যাই। বাবা গাড়িতে অপেক্ষা করছে।

- আসো না। - চিরো, যেতে দাও। বাবা অপেক্ষা করছে...

তোমাকে একটা কথা বলতে চাই আমি।

কী?

- তুমি কি আমাকে ভালোবাসো? - হ্যাঁ।

একটা চুমু দাও তাহলে?

এখানে, চিরো?

তাতে কী?

বাবা অপেক্ষা করছে।

হাই, আব্বু। দ্যাখো কত মজা করছে !

- হাই ! - শুভ সন্ধ্যা। - ওকে বলেছ?

মনে ছিল না। বাবা তোমাকে কাল রাতে আমাদের বাসায় আসতে বলেছে।

সে জানতে চায় - আমরা আমাদের সম্পর্ক নিয়ে সিরিয়াস কিনা।

আমি চাইলে এখনই উত্তর দিতে পারি।

না, কাল আসো। ভাগার সুযোগ দেয়া যাক ওকে।

- খোদা হাফেজ, চিরো। - কাল দেখা হবে...

- ছেলেটা আসলেই ভালো। - চিরো !

- তুমি নাচতে যাচ্ছ নাতো আবার? - একদম না।

সোজা বাড়ি যাবে, ঠিক আছে? আমাকে ছাড়া কক্ষনও নাচবে না !

গাড়িতে ওঠো ; বাইরে অনেক ঠাণ্ডা।

খোদা হাফেজ !

খোদা হাফেজ, ফ্রাংকা।

- শুভ সন্ধ্যা। - শুভ সন্ধ্যা।

তুমি তাহলে চার নম্বর ভাই?

আমাদের আগেও দেখা হয়েছিল। মনে আছে?

সে সিমোনের গার্লফ্রেন্ড। ভাইয়া ফিরে এসেছে। ভিতরে আছে।

- চিরো, এখানে একটু আয় তো ! - আসি, আম্মা।

বাসায় কোনো ছুরি-টুরি নেই নাকি?

এইতো।

অনেক ধন্যবাদ তোমাকে।

এটা দিয়েই তোমার ভাইয়ার নেশা কাটাবো।

চিরো, খোকা...

এখন বিশ্রাম নাও। কাল সবকিছুর ব্যবস্থা হবে।

কাল? কোনো কাল-টাল নেই রে বাবা।

কোনো কাল-টাল নেই।

চিরো, লক্ষ্মী ছেলে আমার, বল তো - আমিই কি কোনো ভুল করে ফেলেছি?

আমার শক্তসমর্থ, সুন্দর ছেলেগুলোকে এখানে এনেছিলাম যাতে তারা মানুষের মত মানুষ হয়,

যাতে তাদেরকে তাদের বাবার মত দিনরাত জমি না চাষ করতে হয়,

যে মারা যাওয়ার আগেই জীবনের কাছে হার মেনেছিল।

তোমার চেষ্টায় কোনো কমতি ছিল না !

তোর বাবা কখনও তার গ্রাম ছেঁড়ে আসতে চায়নি।

কিন্তু আমাদের একসাথে কাটানো ২৫ বছরের সেই জীবনে...

প্রতিটা মুহূর্তে আমাকে সেখান থেকে চলে আসার চিন্তা তাড়া করেছিল।

আমি ভিঞ্চেঞ্জো, সিমোন, রকো আর তোর ভালো চাচ্ছিলাম।

সেখানে সুন্দর বলে কিছু ছিল না। দম বন্ধ হয়ে আসত সেখানে।

এখানে থেকে মনে হয় যেন আমি আকাশ ছুঁয়ে ফেলতে পারি।

এখানে রাস্তাঘাটে মানুষ আমাকে ''ম্যাডাম'' বলে ডাকত, চিন্তা করে দ্যাখ...

''ম্যাডাম'' বলে, এত বড় একটা শহরে।

সব আমার সোনা ছেলেদের মেহেরবানি।

কিন্তু এখন, সব ভেস্তে গেছে।

রকো বাড়ি ছেঁড়েছে, আসার কোনো নাম নেই তার।

আর সিমোন, আমার লক্ষ্মী সিমোন - সে এক বেশ্যাকে নিয়ে বাড়ি উঠেছে !

- দিবো একটু? - না।

হ্যাঁ, বেশ কড়া।

কেঁদো না।

কোনো না কোনো উপায় বের করবো আমি।

আমার ওপর ভরসা রাখো।

ভাইয়ার সাথে জরুরি কথা আছে।

খালি নিজেকে নিয়ে পড়ে থেকো না। আম্মার কেমন লাগছে সেটাও একটু ভাবো।

দ্যাখ ভাই, তোদের লেকচার শুনতে শুনতে আমি ক্লান্ত হয়ে গেছি।

এটা আমারও বাড়ি, আর আমার অধিকার আছে যাকে খুশি তাকে আনার।

এমনিতেই হোটেলে আমার ৬০,০০০ লিরা দেনা আছে।

টাকা কি তুই দিবি?

তাছাড়া বাড়িতে যথেষ্ট জায়গা আছে।

রকো ভিঞ্চেঞ্জোর সাথে থাকে। ওর বিছানা তো কারো লাগছে না।

কোনো সমস্যা?

- এবার এখান থেকে যা। - কাল আমরা এ ব্যাপারে আলাপ করবো।

না, যখন আমার মন চাইবে, তখন আলাপ করবো।

এখানে কিন্তু আমার কোনো দোষ নেই।

যা হারানোর তা কেবল আমিই হারাচ্ছি।

এই জিনিসটা মাথায় ঢুকায় নাও।

সিগারেট আছে?

আমি ধূমপান করি না।

আমার আগেই জানা উচিৎ ছিল।

তুমি করো না, কিন্তু আমি করি আর আমার সিগারেট শেষ হয়ে গেছে।

বেচারি আম্মা, তাকে এখন ঐ মেয়ের বিছানাও রেডি করতে হয়।

জানি, তোর চেয়ে আমারই বেশি লজ্জা লাগছে।

আমরা যতই ভাই হই না কেন...

দিনশেষে আমরা একই বস্তা থেকে বাছা বীজগুলোর মতই, যেগুলোতে পরে ফল ধরে।

একটা বীজ নষ্ট হয়ে গেলে, সেটা ফেলে দিতে হয়।

মসুর ডাল বাছার সময় আমরা যেমনটা করতাম।

তাছাড়া লুকার ওপর এসবের খারাপ প্রভাব পড়ছে।

সিমোন বদলে যায়নি ; ওর মনোবল ভেঙ্গে গেছে আসলে।

তার অহংকারে ঘা লেগেছে। আমাকে আরেকবার চেষ্টা করতে দে, খালি একবার।

আমি জানি কী করতে হবে।

চেরি আমাকে নিয়ে অনেক আশাবাদী। আমি তার জন্য ফাইট করবো ;

সে জানে - সে সিমোনকে আনলে, আমি বক্সিং থেকে সরে আসবো।

তোমার জায়গায় আমি থাকলে...

একবার চেষ্টা করে দেখি, আমি কোনোভাবে ম্যানেজ করে নিবো।

আমার জন্য হলেও কর।

দেশের বাড়িতেই ভালো ছিলাম আমরা।

কিন্তু এটাই ছিল আমাদের নিয়তিতে - তোদের, আমার...

আর সিমোনের।

সেখানে থাকলে কত কষ্ট হত আমাদের, তা একবার ভেবে দেখো।

অন্তত আমাদের মাঝে দূরত্ব আসত না।

রকো ! আমরা এখানে ওয়ার্কআউট করতে এসেছি !

আসছি।

আমি তোমাকে কখনও বুঝতে পারবো না।

জানি।

দেখছিস?

গাড়িতে যেই লোকটা আছে না?

- ওনাকে বল যে আমি বারে অপেক্ষা করছি। - আচ্ছা।

ব্র্যান্ডি দেন।

বক্সিং ছেঁড়ে দিয়েছ? ভয় পেয়েছ নাকি?

আমার ভালো লাগছে না।

তাহলে এখানে কী করছ?

দেবদাসের ভাব ধরে বসে থেকো না !

নিরিবিলি কোথাও গিয়ে ড্রিংক করলে কেমন হয়?

ঠিক আছে।

সিমোন, দেরি হয়ে যাচ্ছে।

যা তো এখান থেকে। জ্বালাইস না !

সিগারেট হবে?

এগুলো পরে লাগবে।

ভালো লাগছে একটু?

লাগবে, এখান থেকে বের হলে।

কনফিডেন্স কমে গেছে?

এমনটাই হয়, যখন ঘুষির পর ঘুষি খেয়ে চেহারার নকশা পাল্টে যায়।

কোথায় যাচ্ছি আমরা?

আপনার বাসায় যাই?

জানতাম একদিন না একদিন তুমি যেতে চাইবে।

- কত হলো? - ২০০ লিরা।

ধন্যবাদ।

তোমার সাহস দেখি ফিরে আসছে।

এখনই তো সময়।

জায়গাটা পছন্দ হয়েছে?

আসো, চিন্তার কিছু নেই।

এখানে কি প্রথম?

আগের চেয়ে ভালো লাগছে?

স্বস্তি লাগছে একটু?

বসে পড়ো।

আমার টাকা লাগবে।

অনেক টাকা।

আগে থেকেই জানতাম।

এমন তো আগেও হয়েছে, তাই না?

তথাকথিত চ্যাম্পিয়ন !

আগেই অনুমান করেছিলাম। তুমি টিকতে পারোনি।

অবাক হতে হয়..

কারণ ক্লাবে যখন প্রথম দেখেছিলাম, তোমাকে তখন মনে হয়েছিল...

একদম অপ্রতিরোধ্য। যেন তোমাকে রুখবার কেউ নেই।

তোমার দিন শেষ...

বক্সার হিসেবে। আর পুরুষ হিসেবে।

আমি ছাড়া তোমার মত অকর্মাকে কেউ সাহায্য করতে চাইবে না।

আমার টাকা লাগবে।

তোমার মেয়েবাজির সাধ মেটানোর জন্য?

নাকি...

নিজের মুখ বাঁচানোর জন্য?

আমাকে ড্রিংক করতে দেন।

যতখুশি গেলো।

কেউ তোমাকে গোনায় ধরছে না।

যা বলার সরাসরি বলছি।

তুমি একটা ফালতু ছেলে !

মুখ সামলায়ে কথা বলেন।

নয়ত খবর করে দিবো !

আপনার কোনো হক নেই এভাবে বলার, বুঝেছেন?

- চিরো ! - বলো, মা।

- এখানে আয়। জলদি। - আসি।

কী হয়েছে?

জলদি যা !

- কাহিনী কী? - ওরা সিমোনকে খুঁজছে।

পুলিশ এসেছে। ওয়ারেন্ট আছে উনাদের কাছে।

কী হচ্ছে এসব?

তোমার রুমে যাও।

আমি দেখছি।

সিমোন ভাই গতরাতে বাড়ি আসেনি।

ভাই এখানে তেমন একটা রাত কাঁটায় না।

- সন্দেহ থাকলে চেক করেন। - লাগবে না।

কেন খুঁজছেন তাকে?

আমরা তাকে নিতে এসেছি।

তার নামে অভিযোগ আছে।

এজন্যই।

- আরও কিছু বলুন। - আমাদের সঙ্গে আসো।

আসুন। আমি কাপড় পরে নিচ্ছি।

এটা কি সিমোন?

হ্যাঁ, আমার ভাই ; সে যখন বক্সিং করত, সেই সময়ের ছবি।

আমি রেডি।

আমি পুলিশ স্টেশনে যাচ্ছি।

পুলিশ ওকে খুঁজছে। কী করেছে সে, জানো?

জানি না, তবে অবাক হবার মত কিছু দেখছি না।

আপনার ছেলে একটা শয়তান।

আপনি নিজেও সেটা জানেন।

লজ্জা করে না মানুষের গীবত করতে? কোত্থেকে আসে এত সাহস !

তোমার এখানে থাকার কারণে আমি মানুষকে মুখ দেখাতে পারি না।

সিমোন যাতে আপনার সাথে থাকে, সেজন্যই তো আমাকে রাখতে রাজি হয়েছেন।

আমার জীবনটা বরবাদ হচ্ছে এখানে থেকে !

না, বসে থাকা ছাড়া আর তো কোনো কাজ করো না তুমি !

তোমার এই ছাইপাঁশ নিয়ে দূর হও এখান থেকে !

সে আমাকে এখানে রাখতে চেয়েছে।

কিন্তু আমার মত মেয়েকে রাখার সামর্থ্য নেই তার। সে একটা অকর্মা !

কোনো চাকরি করতে পারে না সে, এমনকি চুরিও করতে পারে না।

হ্যাঁ, চুরি !

বেশ্যা কোথাকার ! তুমিই ওর সর্বনাশ করেছ।

আমার ছেলেকে দেখে সবার হিংসা হত আগে।

তুমি ওর জীবন থেকে গেলেই...

- সে আগের মত হয়ে যাবে। জাহান্নামে যাও ! - নাটক বন্ধ করেন !

চিন্তা কোরেন না, আমি চলে যাচ্ছি।

না, আমার ছেলে বললে তারপর যেও।

না, কেন থাকবো আমি? সিমোনকে দিয়ে আর কিচ্ছু হবে না।

এই দিনেরই অপেক্ষায় ছিলাম আমি। এখন অনেক খুশি লাগছে আমার।

রকোকে একটু বুঝায়ে বোলেন - আমরা বেহুদাই আমাদের ভালোবাসার বলিদান দিয়েছি।

আমার নিজে থেকে তাকে বলার কোনো ইচ্ছা নেই।

আমি চলে যাবো ; জিন্দেগীতেও আপনাদের কারোর চেহারা দেখবো না।

চলে যাবো ! চলে যাবো !

সে ভেবেছিল আমি বুঝি ভয় পাবো। আমি তাকে বলেছিলামঃ

"একটা টাকাও যদি সরাও, আমি তাহলে পুলিশে খবর দিবো।''

সে হাসছিল এই কথা শুনে।

আমার চোখের সামনে সে ড্রয়ার খুলে টাকাগুলো নিয়ে গেছে।

পুলিশকে বলেন - টাকাগুলো পেয়ে গেছেন, বলেন আপনার খেয়াল ছিল না।

আমি আপনার পাওনা শোধ করবো। চেরি সেটার নিশ্চয়তা দিবে।

তোমাদের কি মনে হয় আমি পুলিশের কাছে গিয়েছিলাম...

সামান্য ৬০-৭০ হাজার লিরার জন্য?

এক বছর ধরে সে কেবল আমার দয়াতেই টিকে আছে।

আপনি তার কাছে কত পান, খালি সেটা বলেন !

ব্যাপারটা শুধু টাকার নয়। আমি নিজের জীবন বাজি রেখে...

ওকে প্রোটেকশন দিচ্ছি...

একদল স্মাগলারের সাথে মিলে।

আপনার পাওনা কত সেটা আমাকে বলেন !

৪০০ হাজার লিরা।

আমি তিন মাসে নগদে শোধ করে দিবো।

পাগল নাকি? আমরা তো বরবাদ হয়ে যাবো।

আমার ভরসায় থাকিস না তোরা, আমি টাকা দিতে পারবো না।

জিনেতার বাচ্চা হবে আর আমাদের ফার্নিচারের অনেক টাকা দেয়া বাকি।

তোমাদের টাকা নিয়ে ভাবতে হবে না।

কিন্তু এত টাকা কোত্থেকে যোগাড় করবা তুমি?

ভাইয়ের মাথা খারাপ হয়ে গেছে, বোঝাও না ওকে।

বুঝিয়েছি ; আমি পারবো না।

আমার যে একটা সংসার আছে, সেটা তোরা জানিস।

তুমি কি শিওর চেরি নিশ্চয়তা দিবে?

নিজেই কথা বলে দেখুন।

চেরি রাজি হয়ে গেলেও এসবের কোনো মানে হয় না।

তুমি টাকাটা চেরিকে কীভাবে পরিশোধ করবা?

সে কথা দিয়েছিল - ১০ বছরের চুক্তি করলে, সে আমাকে ভালো অংকের টাকা দিবে।

আমরা বেলজিয়াম, লন্ডন যাবো। কিন্তু তুই এসব জেনে কী করবি?

হ্যালো, চেরি আছে?

দুইলিও বলছি।

তোর তো বক্সিংয়ের ইচ্ছা ছিল না...

তারপরও তুই ঐ দুষ্টের জন্য নিজের জীবন বরবাদ করছিস।

তাহলে তুমিই বলো...

আর কোন উপায়ে সিমোনকে এই নরক থেকে উদ্ধার করবো।

হ্যাঁ, দাঁড়াও।

চেরি কথা বলবে। লাইনে আছে।

রকো, আরেকবার ভেবে দ্যাখ।

দাঁড়াও। সে আসছে।

চেরি? রকো বলছি।

হ্যাঁ, অবশ্যই। বুঝতে পারছি।

আপনার যা ভালো মনে হয়।

আমরা যতটা পারি করেছি, চিরো। আমাদের মাথা...

ঠিক আছে।

রকো ভাই একবার যখন সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলে, তাকে থামানোর কোনো উপায় থাকে না।

আমি তো...

আমি আপনার সব শর্ত মানবো।

রাজি।

আচ্ছা।

আচ্ছা, তাহলে আগামীকাল।

হ্যাঁ, আগামীকাল।

ঠিকাছে।

চার, পাঁচ।

এই টাকাটা তোমার, তবে কিছুদিনের জন্য মিলানের বাইরে থাকো।

তোমার তো এখানে কোনো কাজ নেই।

তাছাড়া, সব জায়গা তোমার জন্য সমান।

এই বাড়ি থেকে দশ হাত দূরে থাকবা !

তোরা ''ভাই-সমিতি'' মিলে কি এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিস?

- তোদেরকে দরকার নেই আমার। - ভালো তো।

আয় একটা চুক্তি করি।

তোর কাছে দুইলিও হারামিটাকে দেয়ার মত টাকা থাকতে পারলে,

নিজের ভাইকে দেয়ার মত কিছু টাকাও থাকার কথা।

২০০ হাজার দে ; এরপর আর কক্ষনও আসবো না।

আমি নিজেই তোমাকে আরও ১০০ হাজার দিবো...

রকো ভাইয়ের হাতে টাকা আসামাত্র।

তার পরবর্তী ফাইটের পর সে আরও টাকা পাবে।

তাহলে ঠিকাছে।

এখানে তোর থাকা লাগবে না। আয়, লুকা।

ছাড় ওকে !

- না ! - থামো।

আমারে ছোট করে দেখিস না।

নিজেরে শাহেনশাহ্‌ ভাবা বন্ধ কর।

তাছাড়া তোর পরিচয়ই বা কী?

আলফা রোমিও প্ল্যান্টের মিঃ দক্ষ কর্মচারী?

যত্তসব বালের চাকরি !

এই নিয়ে উনি আবার গর্বও করে !

- বেয়াদব একটা। - ভাগ এখান থেকে !

- শুনলি, লুকা? - হ্যাঁ।

আমি নাকি বেয়াদব।

লুকা, জলদি আয় !

রকো ! রকো !

ও আসছে।

রাতে ঘুম হয়েছে?

কেমন লাগছে?

- হ্যালো, রকো। - হ্যালো।

আগে একটু ম্যাসাজ করায় নাও?

হালকা ম্যাসাজ। বেশিক্ষণ লাগবে না।

- কোনো কষ্ট হবে না। - ওর পায়েও ম্যাসাজ করে দাও।

- আমার বাম হাতে ব্যথা করছে। - ঠিক হয়ে যাবে।

সিমোন !

আজকের ম্যাচের টিকেট কিনবি?

তুই কিন্তু কথা দিয়েছিলি !

যাওয়ার কথা ছিল নাকি? আমি তো কোনো কথা দেইনি।

আমি নিজেও যাচ্ছি না।

হ্যাঁ, আর সেজন্য তোর অনেক কষ্ট হচ্ছে।

বেচারা নিজেও যাচ্ছে না।

বক্সিং ছাড়ার পর থেকে বক্সিংয়ের নাম শুনলেই তার গা গুলায় আসে।

ছেঁড়ে দিছিস? ঘুষি মারা ভুলে গেছিস নাকি?

না, বক্সিং করতে করতে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিলাম।

''আঙ্গুর ফল টক'' বলে একটা কথা আছে, জানিস তো?

- না, জানি না। - ইশ, বেচারা সব ভুলে গেছে।

চল ওর স্মৃতি ফিরায় আনি।

কী হচ্ছে এখানে? কী শুরু করেছিস তোরা?

- হ্যালো। - হ্যালো, ইভো। - হ্যালো।

সিগারেট লাগবে নাকি?

আমরা যারা এখানে আছি...

তাদের অনেকেই নিজ চোখে দেখেছে - কীভাবে সে নাজেহাল করেছিল...

রকো দ্য চ্যাম্পিয়নকে।

যারা যারা দেখেছে, তারা কখনও সেই রাত ভুলবে না।

- আমিও ছিলাম সেখানে। - কিন্তু আমার খুব ইচ্ছা...

দুই ভাইয়ের নতুন মোকাবিলা দেখার।

- কিন্তু এইবার কে মার খাবে? - ভাববার মত বিষয় !

আমাদেরকে ধুমধাম করে ম্যাচের আয়োজন করতে হবে...

খালের ধারে। শুনলাম -

নাদিয়া নাকি রাভিজ্জা'র কাছে এক মেয়ের সাথে কাজ করে...

যে রুম, গাড়ি ভাড়া দেয়।

"তথাকথিত চালু পতিতা - নাদিয়া, তৃপ্ত করে তার খদ্দেরদের..."

"গাড়িতে, খালের ধারে।''

ইভো, তুই কি শিওর?

দেখো সবাই, জনাবের টনক নড়েছে এবার।

আমরা চাইলে, সেই রাতটার মত আবারও আরেকটা ফাইটের ব্যবস্থা করতে পারতাম।

তোর ভাই কি এখনও সেই চালু পতিতাকে না পাওয়ার শোকে আছে?

নাকি তার রুচির উন্নতি হয়েছে?

সিমোন, কই যাস?

ফিরে আয়।

সিমোন, কই যাস?

সিমোন !

সিমোন !

অনেক মানুষ এসেছে ! সেরা সেরা সব বক্সাররাও এসেছে দেখলাম !

আজ ফাটিয়ে দিও, রকো !

একটু পানি দেন আমাকে। গরমে গলা শুকিয়ে গেছে।

না, পানি খেলে পেট ফুলবে।

তাহলে একটু লেবু দেন।

তো...?

কী চাই?

টাকা? টাকা চাই তোমার?

আমার কাছে কোনো টাকা নেই। দেখো, সব খালি।

- আমাকে বিরক্ত কোরো নাতো। - আমি চাই না তুমি...

তুমি আমাকে ফেরাতে পারো না। ফিরে আসো আমার কাছে।

তুমি থাকলে, আমি সব নতুন করে শুরু করতে পারবো।

- আমাকে চাচ্ছ তুমি? - হ্যাঁ।

- আবারো এক হবো? - হ্যাঁ।

অসম্ভব। যাও এখান থেকে !

- নাদিয়া ! - চলে যাও !

বাঁচাও !

- বাঁচাও ! - নাদিয়া !

থামো ! চিল্লায়ো না !

স্যার ! একটু দাঁড়ান।

আমাকে একা ছেঁড়ে যেয়েন না !

নাদিয়া, গা ঢাকো, ঠাণ্ডা লাগবে।

চিল্লায়ো না। কাঁপছ কেন? ভয় লাগছে?

দেখো কীভাবে কাঁপছি আমি। ভয়ের কিছু নেই।

আমি ভয় পাচ্ছি না, আমাকে একা ছেঁড়ে দাও !

সোনা, না ! নাদিয়া !

সে আড়াল হচ্ছে না কেন?

ওর আবারো রক্ত বের হচ্ছে।

ওর ঘুষি থেকে বাঁচাও নিজেকে !

ঠাণ্ডা থেকে বাঁচাও নিজেকে !

গা থাকো, ঠাণ্ডা লাগবে।

আমি তোমাকে কষ্ট দিয়েছি। বলে ফেলো, জান...

তোমার ধারণাও নেই আমি তোমাকে কী পরিমাণ ঘেন্না করি।

তুমি একটা জানোয়ার।

তুমি যা-ই স্পর্শ করো, সেটা নোংরা হয়ে যায়।

কলুষিত হয়ে পড়ে।

তোমাকে আর কখনও দেখতে চাই না আমি।

শুনতেও চাই না তোমার কথা।

আমার জীবনের একমাত্র সুন্দর জিনিসটাকে তুমি নষ্ট করে দিয়েছ।

একটা অপরাধী তুমি !

তোমার জন্য আমার মনের সমস্ত ঘৃণা নিয়ে থুতু ফেলেছিলাম তোমার মুখে।

যা খুশি করো এবার।

আমার আর কিছু আসে যায় না।

আমি মরতে চাই না !

"বিজয়ী হচ্ছে - রকো পারোন্দি !"

আমি ভয় পেয়ে গিয়েছিলাম তোমার রক্ত দেখে। অনেক ব্যথা হচ্ছিল নাকি?

কিচ্ছুক্ষণের জন্য আমি অন্ধ বনে গিয়েছিলাম। মনে হচ্ছিল যেন ভূতের সাথে ফাইট করছি।

তুমিও আসতে পারতে, আম্মা। ভয়ের কিছু ছিল না সেখানে।

- তুমি খুশি তো? - অনেক।

- ইতালির ভবিষ্যৎ চ্যাম্পিয়নের নামে পান হোক ! - আর বিশ্বের !

আমি তো সেইদিন সবচেয়ে বেশি খুশি হবো...

যেইদিন আমার সবগুলো ছেলে এক টেবিলে বসবে ;

আমার হাতের পাঁচটা আঙ্গুলের মত।

আমার রকোর সুস্বাস্থ্যের নামে পান হোক।

তোর সাফল্যের নামে।

একটু ওয়াইন নিয়ে আয় !

আমরা উদযাপন করবো। আর তুই - ভিঞ্চেঞ্জো...

- তুই রকোর সম্বন্ধে ভালো কিছু বল। - উঠে দাঁড়াও, ভিঞ্চেঞ্জো !

মারিয়া ! লুসিয়া ভাবী ! সবাই এখানে আসো !

সবাই বেড়িয়ে এসেছে !

আসো, আসো।

সবাই শুনে যাও।

রকো আমাদের নাম উজ্জ্বল করেছে ! সবাই দোয়া করো ওর জন্য !

অনেক বড় হও !

ভিতরে আসো।

বসো সবাই।

নিজের বাড়িই মনে করেন।

কোনো শব্দ হবে না।

ভিঞ্চেঞ্জো ভাই এখন কিছু বলবে।

- শুরু করো, ভিঞ্চেঞ্জো ! - কী বলবো আমি?

ট্রাই করে দেখি...

"ছন্দ হারিয়ে ফেলার আগে, একটু ভেবে দেখি..."

"ওপরওয়ালার নামে, একটু ওয়াইন চাখি !"

খুব সুন্দর বলেছিস, ভিঞ্চেঞ্জো।

"এই ওয়াইন - এত সুস্বাদু আর এত অসাধারণ...''

"পান করছি তোমার সুস্বাস্থ্যের নামে।''

লজ্জা করা উচিৎ, চিরো ! দেশের বাড়িতে থাকলে তোর খবর হয়ে যেত।

ও বদলে গেছে।

জিনেতার মত শহুরে ভাব চলে এসেছে ওর মধ্যে।

- তোর পালা, রকো। - বাদ দাও !

- থাকুক না ! - আরে বল..

আচ্ছা, সবাই বাইরে চলেন, তারপর বলছি।

ধন্যবাদ, ধন্যবাদ !

"এই গ্লাসটা আমি হাতে নিচ্ছি..."

"আর পান করছি সকলের সুস্বাস্থ্যের নামে...''

"আশা করি আমাদের এই সাফল্য উদযাপন হাসি ফুটিয়েছে আপনাদের সকলের মুখে।"

রকো, একটু থাম।

কেউ মনে হয় বেল বাজিয়েছে।

- যেয়ে একটু দ্যাখ তো। - না, আম্মা।

না, মা, কেউ আসেনি।

- কেউ না? - না।

কেউ আসেনি।

তোমার বক্তব্য শেষ করো। দেখি তুমি আমার চেয়ে ভালো পারো কিনা।

তোর সাথে কেউ পারবে না, চিরো। আমি তোর মত ভালো পারবো না।

আমি পান করতে চাই সেইদিনের নামে...

যা আসতে এখনও অনেক দেরি, আর যেইদিন আমি...

ফিরে যেতে পারবো আমাদের দেশের বাড়িতে।

যদি না পারি, তাহলে আশা করি...

একদিন আমাদের মধ্যে থেকে কেউ আমাদের গ্রামে ফিরে যাবে।

হয়ত তুই যাবি, লুকা।

আমি তোমার সঙ্গে যাবো।

মনে রাখিস, লুকা, আমাদের গ্রামটা হচ্ছে জলপাই গাছের বাসভূমি ;

চাঁদ ও রঙধনুর লীলাক্ষেত্র।

মনে আছে, ভিঞ্চেঞ্জো ভাই?

বাড়ি নির্মাণের আগে, মিস্ত্রী লোকটা ইট ছুঁড়ে মেরেছিল...

তার চোখের সামনে পড়া প্রথম মানুষটার ছায়ার দিকে।

কেন?

বলিদানের নিদর্শনস্বরূপ...

যাতে বাড়িটার ভিত্তি মজবুত হয়।

এইবার কেউ নিশ্চিত বেল বাজিয়েছে।

দাঁড়া, আমি যাচ্ছি।

আমি জানতাম। আমার মন বলছিল যে তুই এসেছিস।

খুব খুশি লাগছে আমার এখন। আয় ! তোর ভাইরা সব এখানে আছে।

আয় !

খেয়েছিস কিছু? খাসনি?

আমি তোর জন্য খাবার গরম করে আনছি।

কী খাবি আমাকে বল।

- কেন এসেছ এখানে? - চিরো, থাম !

তোমাদেরকে এখন যেতে হবে। কিছু মনে কোরো না।

কী হয়েছে, সিমোন?

কী হয়েছে কিছু বল ! এতক্ষণ তো খুশির আমেজ ছিল।

আম্মাকে চুপ করতে বল ! এখনই বল !

- আমাদের কথা বলা দরকার। - জানি...

কিন্তু সবার সামনে বলতে হবে !

না ! আমাকে বলো, শুধু আমাকে।

শুধু আমাকে বলো।

বলো যা বলার !

আমি তোর জিত উদযাপনে আসিনি। তোর হার-জিতে আমার কিছু আসে যায় না।

আমার টাকা লাগবে। এখনই লাগবে !

- তোমাকে বাড়ি থেকে দূরে থাকতে বলেছিলাম ! - এখান থেকে যা, চিরো !

যখনই কিছু লাগবে, আমার কাছে আসবা, ঠিক আছে?

শুধু আমার কাছে।

তোমার তো চোট লেগেছে। এটা কী?

- এটা রক্ত। - রক্ত?

সে আমাকে একদমই ছাড়ছিল না।

- আর কোনো উপায় ছিল না। মরতে চাচ্ছিল না সে ! - না !

- সিমোন ! - আমি ওকে মেরে ফেলেছি।

না !

চিন্তা করিস না, কেউ আমাকে দেখেনি।

- কোনো চিন্তা নেই। - না !

এবার কি খুশি, চ্যাম্পিয়ন?

এটাই না তুই চেয়েছিলি?

জানি সব আমার দোষ। আমার দোষ !

এটা কি রক্ত? এ তো রক্ত !

- না, আম্মা... - কী হয়েছে?

- আম্মা, ওখানে যেও না। - আম্মা, প্লিজ।

রক্ত কোত্থেকে আসল?

- আমাকে যেতে দে ! - আম্মা...

- ওখানে যেও না, প্লিজ। - আম্মা, দাঁড়াও।

সিমোন, আমার খোকা ! খোকা রে !

রকো...

আমি তাকে সেখানে ফেলে এসেছি, খালের পাশে।

সব শেষ, রকো। সব শেষ।

আম্মা...

হিংসা - এটাই ছিল সবকিছুর মূলে। হিংসাই ওকে অন্ধ বানিয়ে ফেলেছে !

- পুলিশের হাতে ধরায় দাও ওকে ! - সে তোর ভাই ! - ভাই নামের কলঙ্ক সে !

ন্যায়বিচার করে কোনো ফায়দা হবে না।

আমাদের কাজ ওর বিচার করা নয়, বরং ওকে সাহায্য করা...

ওকে বাঁচানো।

আমি সব সামলে নিবো।

এতে ওরই ক্ষতি হবে !

- কী হয়েছে? - কোথায় যাচ্ছিস?

- কী হলো? - আমি জানি আমি কী করছি।

কোনো লাভ নেই !

কলঙ্কিনীটা এখন আর নেই আমার ছেলের জীবনে !

তোমার মাথাও কি খারাপ হয়েছে, আম্মা?

লজ্জা করা উচিৎ তোর ; নিজের মায়ের সাথে মুখ চালাস !

যীশু আমাদের যে কষ্টের মুখে ফেলেছে, সেজন্য পরে ঠিকই আফসোস হবে তাঁর !

বাজে কথা বোলো না !

এতে কোনো লাভ হবে না।

ঈশ্বরের রহমত আমাদের সাথে আর নেই। আমরা নিজেরাই নিজেদের শত্রু।

আমরা সবাই শত্রুতে পরিণত হয়েছি।

বাজে কথা বলে কী হবে? দোষ তো আমাদের সবার।

আমাদেরকে আমাদের ভুলের জন্য শাস্তি পেতেই হবে।

- চিরো চলে গেছে ! - চিরো !

চিরো, দাঁড়া !

- চিরো ! - চিরো !

থাম !

আব্বার দোহাই লাগে, যাস না !

- চিরো ! - চিরো !

আর কোনো আশা নেই এখন।

যা বলার বল।

ভাইয়াকে তারা সকালে ধরে নিয়ে গেছে।

তাকে ছাদে খুঁজে পেয়েছিল।

পানির ট্যাংকের পিছনে লুকিয়ে ছিল সে।

সেখানে সে তিন রাত কাটিয়েছিল।

এবার কি খুশি? তুমিই তো চাচ্ছিলে সে ধরা পড়ুক।

তুমিই তো এখন বাড়ির সমস্ত সিদ্ধান্ত নাও।

তুই যখন বড় হবি, তখন বুঝবি তোর এসব ধারণা কতটা ভুল।

কতটা ভুল বুঝেছিস তোরা সবাই আমাকে।

সিমোন ভাইকে আমার চেয়ে বেশি আর কেউ ভালোবাসেনি।

আমরা যখন বাড়ি ছেঁড়ে আসছিলাম, তখন আমি বাচ্চা ছিলাম...

আর তখন ভিঞ্চেঞ্জো ভাই না, বরং সিমোন ভাই-ই আমাকে বুঝিয়ে বলেছিল...

যে গ্রামের বাড়িতে আমরা কেবল দারিদ্র্যের বোঝা বইছিলাম ;

বন্দী ছিলাম কাজ ও বিরামহীন আনুগত্যের জগতে।

ভাই বলেছিল যে আমরা দাস নই, তবে আমাদেরকে অবশ্যই...

আমাদের দায়িত্ব পালন করতে হবে।

কিন্তু সে নিজেই তার কথা ভুলে গিয়েছিল।

আর তার ফলস্বরূপ, তার এই পরিণতি হয়েছে ;

নিজের সর্বনাশ করেছে সে, আমাদের সবাইকে লজ্জার মুখে ফেলেছে।

সে রকো ভাইকে কষ্ট দিয়েছে, আর তোকে - সবচেয়ে ছোট ভাইটাকেও কষ্ট দিয়েছে।

সিমোন ভাই একসময় ভালো ছিল।

কিন্তু অনৈতিকতার চোরাবালি তাকে টেনে নিয়েছে।

এমনকি রকো ভাইও ভুল করেছে তাকে এতবার সুযোগ দিয়ে।

রকো ভাই অনেক ভালো মানুষ, কিন্তু এই দুনিয়ায় সে টিকবে কীভাবে?

নিজের জন্য তো সে কিছুই করে না।

সে চোখ বুজেই সবাইকে ক্ষমা করে দেয়।

কিন্তু সবসময় ক্ষমা করা উচিৎ নয়।

রকো ভাইয়া যদি গ্রামে ফিরে যায়, তাহলে আমি তার সঙ্গে যাবো।

সে গ্রামে আর কখনও ফিরবে বলে মনে হয় না।

তুই হয়ত একদিন যাবি।

কিন্তু সেখানে কীসের খোঁজেই বা যাবি তুই?

সেখানেও সবকিছুতে পরিবর্তন চলে আসার কথা।

সেখানকার মানুষও এখন পরিবর্তন জিনিসটার অনস্বীকার্যতা বুঝতে শিখেছে।

অনেকেই পরিবর্তন জিনিসটার তাৎপর্য মানতে চায় না,

কিন্তু আমি মানি।

লুকা, ভাই আমার, জীবনটাকে আরও নীতিবান ও সৎ মানুষের মত গড়ে তুলিস।

সাইরেন বেজেছে। আমাকে ফিরে যেতে হবে।

আম্মাকে আমার আদাব দিস।

- খোদা হাফেজ, লুকা। - খোদা হাফেজ।

চিরো !

চিরো !

- হাই। - কেমন আছ?

- ভালো। - হঠাৎ এখানে এলে যে?

- হাই। - হাই, কেমন আছ?

- অ্যাই, দেরি হয়ে যাচ্ছে। - এখনই আসছি !

আমি বলতে এসেছিলাম যে আমি তোমায় ভালোবাসি।

আমিও বাসি... সবসময় বাসবো !

চিরো !

কী হয়েছে?

আজরাতে বাড়ি এসো !

আমরা অপেক্ষা করবো। খোদা হাফেজ।

আমি আসবো।

Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.