All language subtitles for A Aa (2017) Telugu

af Afrikaans
ak Akan
sq Albanian
am Amharic
ar Arabic
hy Armenian
az Azerbaijani
eu Basque
be Belarusian
bem Bemba
bn Bengali
bh Bihari
bs Bosnian
br Breton
bg Bulgarian
km Cambodian
ca Catalan
ceb Cebuano
chr Cherokee
ny Chichewa
zh-CN Chinese (Simplified)
zh-TW Chinese (Traditional)
co Corsican
hr Croatian
cs Czech
da Danish
nl Dutch
en English Download
eo Esperanto
et Estonian
ee Ewe
fo Faroese
tl Filipino
fi Finnish
fr French
fy Frisian
gaa Ga
gl Galician
ka Georgian
de German
el Greek
gn Guarani
gu Gujarati
ht Haitian Creole
ha Hausa
haw Hawaiian
iw Hebrew
hi Hindi
hmn Hmong
hu Hungarian
is Icelandic
ig Igbo
id Indonesian
ia Interlingua
ga Irish
it Italian
ja Japanese
jw Javanese
kn Kannada
kk Kazakh
rw Kinyarwanda
rn Kirundi
kg Kongo
ko Korean
kri Krio (Sierra Leone)
ku Kurdish
ckb Kurdish (Soranî)
ky Kyrgyz
lo Laothian
la Latin
lv Latvian
ln Lingala
lt Lithuanian
loz Lozi
lg Luganda
ach Luo
lb Luxembourgish
mk Macedonian
mg Malagasy
ms Malay
ml Malayalam
mt Maltese
mi Maori
mr Marathi
mfe Mauritian Creole
mo Moldavian
mn Mongolian
my Myanmar (Burmese)
sr-ME Montenegrin
ne Nepali
pcm Nigerian Pidgin
nso Northern Sotho
no Norwegian
nn Norwegian (Nynorsk)
oc Occitan
or Oriya
om Oromo
ps Pashto
fa Persian
pl Polish
pt-BR Portuguese (Brazil)
pt Portuguese (Portugal)
pa Punjabi
qu Quechua
ro Romanian
rm Romansh
nyn Runyakitara
ru Russian
sm Samoan
gd Scots Gaelic
sr Serbian
sh Serbo-Croatian
st Sesotho
tn Setswana
crs Seychellois Creole
sn Shona
sd Sindhi
si Sinhalese
sk Slovak
sl Slovenian
so Somali
es Spanish
es-419 Spanish (Latin American)
su Sundanese
sw Swahili
sv Swedish
tg Tajik
ta Tamil
tt Tatar
te Telugu
th Thai
ti Tigrinya
to Tonga
lua Tshiluba
tum Tumbuka
tr Turkish
tk Turkmen
tw Twi
ug Uighur
uk Ukrainian
ur Urdu
uz Uzbek
vi Vietnamese
cy Welsh
wo Wolof
xh Xhosa
yi Yiddish
yo Yoruba
zu Zulu

Original subtitles

-= www.OpenSubtitles.org =-

সাবটাইটেল ক্রিয়েটর-- Akash Ahmed www.facebook.com/TollyAkash

আমার করা ২য় "ডিরেক্টলি বাংলা সাব"

সহায়তা করেছেন- Kanaka Lakshman Surapaneni (facebook/Kanaka.Lakshman.1997) [হায়দ্রাবাদী]

টলিউডের প্রতি প্রচন্ড ভালোবাসার জন্য তেলুগু শেখার চেষ্টা... অল্প কিছু শিখেছি। এখনও শিখছি।

সেই অল্প জ্ঞানের আলোকে করা সাবটিতে, ভুল-ভ্রান্তি একটু হতেই পারে! সেগুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।

A Aa (2016)-- তেলুগু রোমান্টিক কমেডি সিনেমা। মূল অভিনেতা- নিথিন।♥ অভিনেত্রী- সামান্থা। ♥ ♥

মুভির গল্প আহামরি না হলেও, মোটামুটি এনজয়েবল। গানগুলো চরম ফেভারিট!!

নিথিন ও সামান্থা থাকাতেই সাবটি কর‍তে আগ্রহী করলাম। :-) আশা করি, মুভিটি আপনার ভালোই লাগবে। সময় নষ্ট হবে না।

সাউথ ফ্যানদের নিয়ে আমাদের এক্টিভ গ্রুপ-- www.facebook.com/groups/SouthFreak

আমার প্রতিটা জন্মদিনেই মা কোনো না কোনো সিদ্ধান্ত নেয়। মিউজিক শেখানো, ড্যান্স, অভিনয়... ইত্যাদি।

আজ আমার ২৩তম জন্মদিনে শুধু আমিই সিদ্ধান্ত নেবো।

আত্মহত্যা করবো...!

ভেবেছিলাম, মৃত্যুর পর যমকে দেখবো। কিন্তু তার পরিবর্তে...

বিয়ে ঠিক হওয়ার পর সবাইকে শপিং করতে দেখেছি। তোমাকেই দেখলাম আত্মহত্যার চেষ্টা করতে! হয়েছে কি তোমার!

মহালক্ষ্মী, কাউন্টারে আছি। বিল চেকে দেবো নাকি ক্যাশ দেবো? -কার্ডের মাধ্যমে দাও।

সে তোমাকে অনেক যত্নে রাখবে। তুমি আমার কথা শুনলে, সানিয়া মির্জা বা সাইনা নেহওয়াল হতে পারবে।

আচ্ছা... ডিসকাউন্ট কত পার্সেন্ট নেওয়ার কথা?? ১০% নাকি ২০%? -১৫%

ছোটবেলা থেকে হোস্টেলে রাখলে, এসব দেখতে হতো না!

বিল তোমার নামে লিখবো নাকি আনুর নামে?? -আমি আসছি, তুমি দাঁড়াও। -ঠিক আছে!

হাসপাতাল বিলের চেয়ে মোবাইলের বিল বেশি করে ফেললো!

নিচেই ছিলে না তুমি??

বাবা... তুমি দারুণ খেলোয়াড়!

তোর কথাই মনে হচ্ছে শুধু... কি আর করবো!

কি হয়েছে আমার সোনামণির?? আইয়ো... মুখও দেখি শুকিয়ে গেছে!

কি ব্যাপার মা?

সোনামণি আইসক্রীমের জন্য ক্ষুধার্ত! -এখনই এনে দিচ্ছি!

-সমস্যা নেই তো ডাক্তার? -কোনো সমস্যা নেই! কিন্তু একটা বিষয়...

শাসন করার তলোয়ারটি বদলাতে হবে... সেটা যথেষ্ট ধারালো নয়!

ডাক্তারের চিন্তা-ভাবনা খুবই বাজে... তাইনা মা??

জুবলি হিলসে আমার জেল... দুঃখিত! বাড়ি...

আনু... এটা শেখরের সামনে পরবে, আর এটা ডিনারের জন্য।

জুয়েলারি বাছাই করে আমি লকারে রেখেছি। ৮৫২৪... নাম্বার মনে রেখো।

তার সামনে এমন মনমরা হয়ে থেকো না। একটু হট আর স্টাইলে থাকবে।

কি হলো?

আমি... -তুমি...

তোমার সাথে... -তাড়াতাড়ি বলো। তোমার বাবার মতো কথা প্যাঁচিও না।

চেন্নাই যেতে চাই...

শেখর হচ্ছে ধনী ছেলে, ভদ্র ছেলে, মান-মর্যাদাসম্পন্ন ছেলে। আজকাল তার মতো ছেলে পাওয়া কত কঠিন জানো?

খুবই জরুরী কাজে আমার চেন্নাই যেতে হচ্ছে। না হলে, আমি থেকেই সব সম্পন্ন করতাম।

তুমি আর তোমার বাবা মিলে এই বিয়ে ভেঙে দিলে.... মেরে ফেলবো!

এ কি মহা... কিসের প্যাকিং করছো? -প্যাকিং না... বেবি সিটিং। যাও...

এক কথা কি বারবার বলা লাগবে!

যান এখন... পরে কথা হবে। প্লিজ, প্লিজ... -স্যার, আমার কেস....!

শেখরের সাথে দেখা কর‍তে তুই আগ্রহী না... এটাই না??

গুরুত্বপূর্ণ কিছু না, স্যার ডেকেছে এই আর কি! -ছি! অপদার্থ কোথাকার!

ম্যাডাম কি রেডি হয়েছে?? -স্যুটকেস এখনো নিচে আসেনি মানে, ম্যাডামও এখনো রেডি হয়নি।

এত জ্ঞান নিয়ে ঘুমায় কিভাবে! এটা নতুন ফোন নাকি?? -হ্যাঁ স্যার। ম্যাডাম দিয়েছে।

এখানেও ম্যাডামের পিক! কোনো God এর পিক রাখলে ভালো হতো না?! -বাবা...

আমার কাছে ম্যাডামই God... -মানে, আমিও তোর কাছে God?

না স্যার। দেবী দূর্গা বাঘের উপর বসবে, মানে এই না... আমরা বাঘের পূজা করবো।

ব্যাপার না! বাঘও অনেক শক্তিশালী। -দেবীর কাছে বাঘ যতটা শক্তিশালী, আপনিও ততটা!

কাকে ফোন করছো বাবা?? তুমি কোনো কাজেরই না....

হ্যালো, কে বলছেন?? -শেখরের দাদা ব্যানার্জী সাহেব??

আর বলার দরকার নেই। রাখতে পারেন। -মানে?? -ব্যানার্জী সাহেবের কাছে ফোন দিয়েছেন কেনো?? চাঁদা চাইতে, তাই না?? যথেষ্ট...

ব্যানার্জী সাহেব, আপনারা রামালিঙ্গামের মেয়ে দেখতে আসছেন না?? -কোন রামালিঙ্গাম??

এটাই... আপনারা মহালক্ষ্মীর মেয়ে দেখতে আসছেন না?? -হ্যাঁ, হ্যাঁ....

আপনি তো তার নাম শুনেই খুশি হচ্ছেন। কিন্তু সে তো চেন্নাই চলে গেছে। -হাফ হাফ না বলে, যা বলার খোলসা করে বলুন।

আপনি কাজ ফেলে আমেরিকা থেকে আসছেন, আর সে ধোঁকা দিয়ে চেন্নাই চলে গেছে! -আচ্ছা, আপনি কে বলছেন? -আমি... রামা...

লটারি পেলে আমরা জানতে চাই, কত টাকা পেলাম। কে টিকিট বেঁচেছে তা জরুরী নয়।

ভগবানের থেকে পাওয়া উপহার!

মরে গেলেও তারা এখন আর আসবে না! এই কয়টা দিন তুই ইচ্ছামতো হায়দ্রাবাদ ঘুরাঘুরি কর।

আমরা যেখানে যাই, যা করি, মহালক্ষ্মীর নামেই পরিচিত হয়।

মায়ের নাম শুনতেই আমার এখন বিরক্ত লাগে!

মায়ের নাম শুনতে হবে না, এমন এক জায়গা আছে।

তোর মামী কামেশ্বরী এবং মামা কৃষ্ণমূর্তী...

মামী!?

কখনো দেখিনি তো... -আমিও অনেকদিন দেখিনি।

কেনো? -ঐ! তোর মায়ের জন্য।

এখানেই থাকে?? -না... বিজয়াড়ার পাশেই কালবাপুড়ি গ্রামে।

ওয়ান্ডারফুল ট্যুর!? -হ্যাঁ।

কেউ জেনে যায় যদি?? -কামেশ্বরী ফোন করে তোর কথা শোনে প্রায়ই।

কথা হয় তাহলে... বাবা! সিগারেট খাও তুমি!!??

তোর মাকে না জানিয়ে আরো অনেক কিছুই করি!

আমার আরো কোনো মা (সৎ) আছে নাকি তাহলে??!! -এখন পর্যন্ত তো নেই... ভবিষ্যতে ট্রাই করবো। :D

তুমি দারুণ খেলোয়াড়! মার সামনে কিভাবে নিশ্চুপ থাকো??

আমার লড়াই শুধু কোর্টে। বাড়িতে তোর মা-ই জয়ী। বাড়িতেও লড়াই শুরু করলে, আমিই জিতবো। তোর মার সাথে ঝামেলা হবে। কি দরকার এসবের!

ঝামেলা চাইনা তাই তার সামনে কথা বলিনা। কথা বলতে অক্ষম নয়!

.... (সম্মানসূচক ডাক) -হ্যাঁ, আসছি।

ধূমপান করিস না!

তুই ওকে হলে কালবাপুড়ি পাঠাবো... এই কয়দিন ভালো কাটবে। -আমি একা??

মাঙ্গাম্মাকে নিয়ে যা। -কিভাবে??

কিভাবে বলতে... ওর পরিবারের কেউ অসুস্থ এমন ফোন আসবে।

আমার নানি! -গিয়ে দেখা করো, কিন্তু চিৎকার করোনা!

কিন্তু আমি? গোপাল তো মায়ের কাছে প্রতিদিন সব রিপোর্ট করবে! জেমস বন্ডের মতো! -তার সমাধানও আছে।

বাবা বাবা বলে চেঁচিয়ে কোনো লাভ নেই। মায়ের অবাধ্য হলে, আমি তা মেনে নেবো না।

আগামী ১০ দিন খাবার-দাবার সব দরজার বাইরেই দেওয়া হবে।

বাইরে বের হলে ২টা ঠ্যাংই ভেঙে দেওয়া ম্যাডামের অর্ডার! -২টার দরকার নেই স্যার। ১টাই যথেষ্ট!

তুই, আমি দুজনেই তো উপরতলায়, তাইনা? গোপালকে কৌশলে নিচতলাতেই আটকিয়ে রাখবো।

চেঁচামেচি কিসের??

আমি না থাকলেও, ধূমপান... -করবো না! নিয়মিত... -ফোন করবো।

কোনো কিছু বলবে? -আই লাভ ইউ।

টাকা যথেষ্ট তো? দেরি করিস না, ফার্স্ট ক্লাসে বসে পড়িস।

কোনো সমস্যা হবে না বাবা... -পানি খাবেন?? -না। ওর মাকে না জানিয়েই পাঠাচ্ছি তো, তাই একটু চিন্তা হচ্ছে।

সোনামণি সাবধানে থাকবে তো??

আমার কাজ ছিলো। দেরি হয়ে গেছে, তাই দৌড়াচ্ছি। তোমার কি? -আমি ঘুমাচ্ছিলাম। দেরি হয়ে গেছে, তাই দৌড়াচ্ছি। তোমার কি?

তুই মরে গেলেই বা আমার কি!

একই ট্রেনে, যথেষ্ট! একই কামরাতেও চলে এসেছে!

কি করছো এখন? মনে পড়ছে আমার কথা? -সে তো পড়েই মা! ফিরছি, এখন হায়দ্রাবাদ। তার তো পৌঁছে যাওয়ার কথা। আখি শার্ট, জিন্সের প্যান্ট।

কোনো কিছু ভেবে তিরস্কার করিস না। তুই আর তোর মা রেগে গেলে কি করিস ঠিক নেই!

আমার নাম আমি জানি রে! ট্রেন ছেড়েছে?? -হ্যাঁ। -সে এসেছে?? -এসেছে মানে! এখানেই আছে!

এমন করে বলছিস! ঝামেলা করেছিস নাকি??

ঠিক আছে। তার কাছে ফোনটা দে।

ফুফা....

১ম বার ওকে একা একা ছাড়লাম... -আমি জানি, ফুফা। পরশু হাসপাতালে ছিলো, জানিস? -হ্যাঁ।

ওকে হাসিখুশি রাখার চেষ্টা করিস। -চেষ্টা করবো, ফুফা। ঠিক আছে, রাখলাম, সাবধানে থাকিস।

আপনি কি কাজ করেন??

কি কাজ করেন??

আমি রান্না করি... ছি! রা..আ..ন..না ক..রি! আরো খারাপ হচ্ছে!

হেই... সফটওয়্যার লোকের জন্য, সাম্বার চাউল রান্না করে পাঠাই।

এসব বলার চেয়ে এড়িয়ে যাওয়াই ভালো!

আমার কাজের পেমেন্ট (বেতন/অর্থ) আছে.... কিন্তু নাম নেই।

পরীক্ষায় ফেল করার পর, তেলুগু রাজ্যের এক মেয়ের আত্মহত্যার.... (চেষ্টা)

খেলার খবর পড়াই ভালো হবে...

রেসিং এর ইতিহাসে নতুন রেকর্ড! ওয়াও!

বিশ বছর বয়সী এক রেসার ট্র্যাকে অ্যাক্সিডেন্ট করে....

বিরক্ত হলেও হাঁসে, রাগ হলেও হাঁসে। কি মেয়েরে বাবা!

কি বললি? নাগেশ্বরা আত্মহত্যা করেছে...?

কিই বা করবে বেচারী! যা মন চায় খেয়েছে, খাওয়া-দাওয়ায় কন্ট্রোল না করায় ওজন এত বেড়ে গেছিলো...

এত টাকা-পয়সা থাকাই এর একমাত্র কারণ! তার বাপকে এজন্য দোষ দেওয়া যায়, এত টাকা উপার্জনের জন্য!

এসব লোককে ফার্স্ট ক্লাস বেল্ট দিয়ে মারা উচিত! তখন তারা শিক্ষা পাবে।

কি হলো স্যার?? -(কি জানি) বেশি জোরে কথা বলাতেই ফোন হাত থেকে পড়ে গিয়েছে সম্ভবত।

জোরে কথা বললেই হয় না, শক্ত করে ধরেও রাখতে হয়। -কি স্যার?? -ফোন।

ফোনের হাত থেকে তো বাঁচা গেলো!

কত? -১৫০, স্যার।

খেয়াল করেছেন??

এটাই...

অক্ষর দুটোতে খুবই মিল। কিন্তু, পরিচয় হতে ২৫ বছর লেগে গেলো।

সাবটাইটেল ক্রিয়েটর-- Akash Ahmed www.facebook.com/TollyAkash

সাউথ ফ্যানদের নিয়ে আমাদের এক্টিভ গ্রুপ-- www.facebook.com/groups/SouthFreak

মুথু সিনেমায় রজনীকান্ত শ্যুটিং করেছিলো, এখানেই না? -উহু! সেটা টাঙ্গা।

এটা?? -জাক্কা।

দুটোর ভেতর পার্থক্য কি??

ঘোড়া চোখ খুলে চললে এটা টাঙ্গা, চোখ বন্ধ করে চললে জাক্কা!

মানে... এখন চোখ বন্ধ করে চলছে??

কি আজাইরা বকছো মাঙ্গামা! তার পা আর আমাদের চোখ। এটাই সমন্বয়!

দিন!

খান...

কে রে সে?? হিন্দি সিনেমার নায়িকাদের মতো লাগছে। -খাসা!

ঘরবাড়িতে রং করতে পারেনি, কিন্তু অনেক রং আছে তার ঘরে। (নিথিনের) -ঠিক বলেছেন, স্যার।

কি হলো??

হায়দ্রাবাদে থাকতে আনাসুয়া, ডটার অফ মহালক্ষ্মী, মাঙ্গামা, ডটার অফ আম্বুঝাম। এবং কালবাপুড়িতে জাক্কা জনার্ধন।

তাদের মায়ের নাম জানিনা। তবে তাদের কথা স্মরণ করে, একটা ছোট্ট অ্যাটাক!

ও আল্লাহ! রক্ত বেরোচ্ছে....!!

কেনো মারলে?? -(আমি??!!!) -তাহলে? পড়ে গেলাম কি করে?

জীবন সফল হতে কষ্ট করতে হয়। কিন্তু বাইক থেকে নিচে পড়ে যাওয়ার জন্য কষ্টের প্রয়োজন নেই, টায়ারে কিছু হয়েছে হয়তো।

তুমি নিচে নামলে কেনো? -তোমাকে সাহায্য করতে! -তাহলে ব্যাগ তোমার হাতে কেনো?

গ্রামে ফিরছি... আমার হাতে ব্যাগ থাকবে না তো ব্যান্ড থাকবে??!

আমি সব বুঝে গেছি রে...

তুমি খুবই বুদ্ধিমান!

সময় আমারও আসবে। তখন দেখিয়ে দেবো!

সময় দেখার জন্য ঘড়ি হাতে দিতে হয়! সময়ের অপেক্ষা করার জন্য না।

এই... গাড়ি আন।

আমি আনবো গাড়ি!!??

কে সে?? -পল্লম ভেঙ্কানার ছেলে।

দেখে তো শ্রমিক মনে হচ্ছে.... -ভাষণ বন্ধ করে ব্যাগটা ধরবেন?

গ্রাম দেখবো দেখবো করে মরে যাচ্ছিলেন। হলো দেখা?!

গ্রাম দেখতে চাও? -হ্যাঁ। -চোখ বন্ধ করো।

দেখার জন্য চোখ বন্ধ করা লাগে! বাপের জন্মে প্রথম শুনলাম!

শব্দটা কিসের? -গ্রামের খাল।

কান বন্ধ করো।

দারুণ একটা সুগন্ধ পাচ্ছি.... -মাঠভরা ফসলের সুবাস এটা...

এর সাথে নাকও যদি বন্ধ করি??

দেরি কেনো? সরাসরি স্বর্গ দেখতে পাবে!

প্রথম দিনটা এভাবেই গেলো...

আত্মহত্যা করার জন্য খুব বেশি কারণের প্রয়োজন নেই... একটা শ্যাম্পু বোতল আর মা-ই যথেষ্ট!

শ্যাম্পুর বোতল হাতের কাছে থাকে বলেই আমি লম্বা হচ্ছি না, এটি আমার মায়ের বিশ্বাস।

সেজন্য সেটা একটু দূরে রেখে দিলো।

উচ্চতা বাড়িয়ে সেটা ধরো, না হলে সাধারণ তেলেই কাজ চালাও।

বোন... সব ঠিক আছে তো? -শুধু শাওয়ার নেই, থাকলে বিশ্বের সেরা বাথরুম বলতাম।

এ মৌসুমে যখন-তখন বৃষ্টি নামাটাই সমস্যা। যাই হোক, কে গো সে?

আমার হায়দ্রাবাদী ফুফার মেয়ে। ভালো না? -হ্যাঁ, ভালো। তবে কাপড় পরলে আরো ভালো লাগতো।

ইডিয়ট! -এটা তার জন্য কমন ব্যাপার। -কমন!?

কানটা একেবারে ফাঁটিয়ে দিয়েছে!

কি ব্যাপার?? -একটু উপরে যাবেন??

আপনাদের থেকে যত দূরে থাকা যায়, ততই মঙ্গল। -২ মিনিটই যথেষ্ট!

মা... হায়দ্রাবাদী ফুফার মেয়ে... -কেমন রে? -খারাপ না!

তবে, দুই লাইন বেশি বোঝে। ভাগ্য ভালো ফুফার ঘরেই জন্ম নিয়েছে। মজা টের পেতো গ্রামের গরিব ঘরে জন্ম নিলে।

কি হয়েছে রে?? মুখে হাত কেনো?? -মাঙ্গাম্মা একটা রাক্ষসী!

কি হয়েছে?? -মেরেছে! -কেনো রে??

দরজা আটকিয়ে গেছে... খুলছে না।

এর জন্য মেরেছে?

আমি পোশাক পাল্টাবো... -কোনো সমস্যা নেই! তোমার পোশাক তুমিই তো পাল্টাবে! পাল্টাও, পাল্টাও...

এর জন্য মেরেছে??

তুমি গেলে দরজাটা.... -হেই... একবার আটকালে সহজে খোলা যাবে না। দরজা খোলা রেখেই পাল্টাও।

ইডিয়ট!

এভাবে মেরেছে?? -কিছুটা এভাবেই....!

ভাইয়া... হায়দ্রাবাদী ডাকছে... -কালবাপুড়ি কামিং!

সব ঠিক আছে? নাকি আর কিছু দরকার? ভুট্টা, গরুর দুধ, মিষ্টি, ময়ূরের পালক... ইত্যাদি ইত্যাদি।

একটু হিসাব করে কথা বলুন স্যার! -সে আমাদের অতিথি। টাকা-পয়সার হিসাব করার দরকার আছে?!

একটা টিভি দরকার...

বাড়িতে টিভি আছে।

আমি অনেক রাত পর্যন্ত দেখি। -সেটাতেই দেখতে পাবে! -তাহলে তারা?? -এখানে এসে দেখবে।

আমি তেলুগু দেখিনা... -এ ১০দিন তারা টিভি দেখবে না।

আমার জন্য টিভি দেখা বন্ধ করবে, এটা ভালো দেখায় না। সমস্যা নেই... আর একটা টিভি নিয়ে আসো।

ঐ ব্যাপারেও বলুন.... -ঠিক আছে.... এখানে এসি হলে ভালো হতো।

এরকম ভয়ঙ্কর কথা শোনার পর, জোরে শ্বাস নেওয়ার দরকার ছিলো। না হলে দম বন্ধ হয়ে যাচ্ছিলো!

কি হয়েছে? -কেউ ডাকছিলো মনে হলো.... কি যেনো বলছিলে??

অনেক ঠান্ডা না?? -খু...ব...ই ঠান্ডা!!

রাতভর খোলা-বন্ধ করা... তাহলে আমরা ঘুমাবো কখন??

এসি সেট করার বদলে জমে গেলেন যে...

একটা দড়ি আর একটা লাঠি নিয়ে আয়... তাড়াতাড়ি আয়। এসি আজ দেখিয়ে দিচ্ছি!

ধর রে... ধরো... বসো... ধরো এটা।

টান দাও.... এটা এসি।

ধরো, ধরো.... এটা কন্ডিশন।

আমরা যাই, তারা প্র্যাকটিস করুক। -তাই নাকি?? ঠিক আছে, চল...

পঁচিশ হাজার টাকায় একটা ভালো টিভি চাই স্যার! -পঁচিশ হাজারে চাও? নাকি ভালো টিভি চাও?

একসাথে দুইটাই চাই....

সম্ভব না! -এমন বলবেন না স্যার! কম বাজেটে ভালো কিছু খুঁজতে হবে।

এটা ৫০,০০০... ওটা ৯০,০০০?

কানে হাত দিয়ে, দেখো.... কালার বুঝতে পারবে।

চোখ বন্ধ করে, শোনো... সাউন্ড বুঝতে পারবে।

শ্বাসও বন্ধ করলেন? নাকি এভাবেই কনভার্ট হয়ে গেলেন?

সবই বন্ধ করেছি রে.... টিভিটা নিয়াই। -আনছি!

মিনারেল ওয়াটার দিয়ে মুখ ধুয়ে, তারা নিজেদের বড় কিছু মনে করে... লেবেল সরিয়ে ফেলা।

আনান্দ বিহারী... তার বাড়িতে আনন্দ নেই, জীবনে বিহারী নেই, মেজাজই আছে শুধু!

আবার নতুন টিভি?? হেই... আমার বাড়িতে তো ১টাই টিভি। তোমার ২টা দরকার কেনো??

আমার বাড়িতে ২০০টিভিও থাকতে পারে, আর সবার কি!

তাই নাকি! তা এই মেয়েটা কে? -ফুফাতো বোন।

এ আবার কে?? -ফালতু কেউ হবে নিশ্চয়!

গাড়িতে বসুন স্যার...

তারা ভাবে, আমরা কিছুই বুঝিনা। গাড়িতে করে এখান থেকে সেখানে গেলে, আমরা কাউকে ফলো করিনা।

কি বলতে চান আপনি??

সে সোনার মতোই সুন্দর দেখতে! জিরোসাইজ। কিন্তু, শুধুই কালার!

এত প্রশংসা করছে কেনো আমার?? -প্রশংসা না। সে বোঝাতে চাচ্ছে, আমার ছেলে প্রশংসা করে পিটানি খেলো। আমাকে কি করে দেখি!

মানে? -এটাই পল্লম ভেঙ্কানা। যার ছেলে কাল ডিস্টার্ব করেছিলো।

শ্রমিক বলেছিলি না!? -এখন তো তেমনই দেখাচ্ছে!

ওঠ, ওঠ... এসব আমি পছন্দ করিনা! কিরে? তোর ব্যথা কি কম হয়েছে? করতে চাইলে পুরোপুরি কর।

এই... তাকে একবার সরি বলো। সে অনেক কেঁদেছে। আর ওতো কানেও শুনছে না এখন। আমি যা বলছি তাই বলছে, গ্রামাফোনের মতো।

কিছু শুনছি না! -এটাই!

সে মুখকে কন্ট্রোল করতে পারেনি, উল্টা-পাল্টা কথা বলেছে। আমি আমার হাতের স্পীডকে কন্ট্রোল করতে পারেনি। মেরেছি... তো কি হলো?

ছেলে-মেয়েদের জন্মের সময় নাম রাখা ঠিক না। বড় হলে, আচার-আচরণ দেখে নাম রাখা ঠিক... ততদিন পর্যন্ত ছেলে/মেয়ে বলেই ডাকা উচিত।

আমরা আপনার ছেলেকে "পল্লম ভেঙ্কানার ছেলে" বলেই ডাকি.... দেরি হয়ে যাচ্ছে আমার। আপনিই শিখিয়েন তাকে... আচার-আচরণ!

আজকালকের ছেলেদের বড়ই রক্ত গরম!

কি ব্যাপার বাবা? চিন্তাগ্রস্ত লাগছে... -১ দিনেই ৯০,০০০ টাকা শেষ করেছে!

ধার করেছিস?? -তাকে এখানে এনেই ভুল করেছি!

তার সম্পর্কে যা প্রশংসা করেছিলাম, সব ভুলে যাও... তার দরকার টিভি। রাখার জন্য টেবিল, দেখার জন্য আবার ক্যাবল। বাঁধার জন্য দড়ি, ধাক্কা দেওয়ার জন্য লাঠি। বাবারে বাবা!

থামোতো মা... -বাবা.... -এতদিন ধরে লালন-পালন করার জন্য ফুফাকে নোবেল দেওয়া উচিত!

খাবার খেতে আসবে না?? খাবার খেতে আসবে না!!!??

খাবার খেতে আসবে না? -আমার ক্ষুধা নেই!

কেনো ক্ষুধা নেই?? কেনো ক্ষুধা নেই!!!??

নতুন টিভি পেয়েছি না! খুশিতেই পেট ভরে গেছে। এজন্যে, ক্ষুধা নেই...

সরি!! একদিনে এত খরচ হয়েছে তো! চিন্তায় আমি.... -চেচাচ্ছো কেনো?

এজন্য.... আসো...

বসো মা.... -খাও! -আমার নিচে বসে খাওয়ার অভ্যাস নেই।

রাগ হয়েছে? -পছন্দ না! -এটার উপর প্লেট রাখো।

খাও মা! -আগে তোমার ছেলেকে সাবধান করো!

ছোটকালে আমি যখন খেতে চাইতাম না.... -তোমার সামনে প্লেট এনে দিতো। তাইনা?

তুমি কি করে জানলে?? -তোমাকে কোলে করা সহজ না!

এরকম মুক্ত জীবন পেয়ে, বাড়ির অনেক কথাই মনে পড়ে গেলো।

পড়াশোনায় তেমন ভালো ছিলাম না। দরকারও ছিলো না! কিন্তু, মা আমাকে সব বিষয়েই পারফেক্ট চাইতো। ড্যান্স, মিউজিক, অ্যাক্টিং ইত্যাদি... পিয়ানো শিখা শুরু করলাম। শিক্ষক পালালো।

ব্যর্থ হলাম ড্যান্স ও অ্যাক্টিং শিখতেও.... [সংক্ষেপে! :-( ] Join us: Facebook.com/groups/SouthFreak

এরপর মা আমাকে আমাদের কোম্পানিতে বসিয়ে দিলো। ANASOL... Ansuya Solutions... আমার কষ্টের কোনো সমাধান নেই! নামের মধ্যে আবার কিসের সমাধান!

আমি জরুরী দরকারে একটু বের হচ্ছি.... উল্টা-পাল্টা কিছু করোনা যেনো।

কি হয়েছে?

হার্টে সমস্যা?

অপারেশন করতে ১০,০০০ দরকার?

কত হলে হবে?? আচ্ছা আমিই দিয়ে দিচ্ছি।

১ লক্ষ... যথেষ্ট??

এটা ভুল করে, করে ফেলেছে... -১০,০০০ জায়গায় ২০,০০০ দিলে, ভুল বলা যায়। কিন্তু, ১ লক্ষ দেওয়াকে পাগলামি বলে।

এই আনাসুয়া সলুশন্সেন জন্য কত কষ্ট করেছি, তুমি কি বুঝবে!! এটার জন্য আত্মীয়তার সম্পর্ক পর্যন্ত ভেঙেছি, জানো তুমি?!

বাদ দাও তো মহা...

গান পারোনা, ড্যান্স পারোনা, পড়াশোনা পারোনা... অফিসে পাঠালাম, সেখানেও কিছু পারোনা... আসলে, পারোটা কি তুমি??

একটা ভালো ছেলে দেখে বিয়ে দেওয়া যাবে। ও শুধু বাড়ির কাজ সামলাতে পারলেই হবে।

মানে? -জোর করে কিছু হয়না... বরংচ খারাপ প্রভাব পড়তে পারে। এরকম ছোট-খাটো বিষয়ে প্রতিদিন ঝামেলা করোনা মহা...

তুমি... তুমিই ওর এই অবস্থার জন্য দায়ী।

তুমি কোনোদিনই বুঝলে না... তোমাকে আমি কত ভালোবাসি।

আম্মা, খাবার.... -ক্ষুধা মিটে গেছে...

আমরা খেতে দেরি করলে, ভাইয়া আমাদের খেয়ে ফেলবে... খাও! -আমার বাড়িতে খাবার টেবিল সবসময় শান্ত থাকে এবং আমি তাতে অভ্যস্ত... এ ২ দিন সবাই একসাথে খেতে বসে, দারুণ খুশি অনুভূত হলো।

বাড়িটা ভালোই। তাইনা? -হুম। কিন্তু, বাড়ির লোকেরা কখনো ভালো, কখনো খারাপ। আপনাকে কোলে উঠানোর অধিকার কেউ রাখে না।

কি!? -আপনাকে এত অধিকার দেওয়া ঠিক হয়নি! -দিয়েছি। না? -অনেক.....

মায়ের মতো শক্ত হওয়া উচিৎ! -তাই... না? -অবশ্যই!!

মহালক্ষ্মীর মেয়ে কি জিনিস, কালকেই দেখিয়ে দেবো!

কাল সকালে শুধু ইয়োগা আর এক্সারসাইজ দেখাতে পারবো। কিন্তু, এখনই ভুলভাল কিছু করা দরকার।

বসকে ডাকা হলো, সাগরেদ এলো কেনো? -বস ঘুমাচ্ছে। আমাকে পাঠিয়েছে।

কি ব্যাপার আনু? চ্যানেল আসছে না?

ইঁদুর এসেছিলো...!! ....... -তো কি????

কামড়িয়ে দেয় যদি?? -টিটি ইঞ্জেকশন দেওয়া যাবে! -জোকস করছো??!!

আবার আসা পর্যন্ত এখানেই পাহাড়া দেবে... ওটা মেরে, তারপর বিদায় হবে।

কে রে তুই?? -আমি প্রতাপ রাও। বিখ্যাত চোর।

গ্রামে তো তোকে আগে কখনো দেখিনি? -সবাই দেখবে, আমি কি কোনো সিনেমার হিরো! চোর... একবার দেখা দেওয়াই বিপদজনক।

এই! এটা আমার স্ট্রেচ বল! -ঠিক আছে, নিন।

রাতে চুরি করেন ঠিক আছে... দিনে কি করেন স্যার?? -শারীরিক ব্যায়াম, মেডিটেশন, ইয়োগা।

চুরি করতে এসবের কি দরকার? -হঠাৎ যদি ধরা পড়ি, খুব দৌঁড়ানো লাগে... এজন্যে।

তোর পুরো জীবনটাই মনে হয় ভুলে ভরা...

আপনার ফ্যামিলি ফটো স্যার? কিন্তু, আপনি নেই কেনো?

আমি অতিথি... এসেছি, আবার চলে যাবো। আমাদের হায়দ্রাবাদে।

কোন এলাকা?? -জুবলি হিলস...

জুবলি হিলস! এটা তো আমাদের বালাজি স্যারের এরিয়া!

সে আবার কে!?

শুধু কি ২৫ লক্ষ?? অন্ধ্রপ্রদেশের রাজধানী ঠিক হওয়ার পর, কল্লুরে সে কোটি টাকার ব্যবসায় করেছে। তার সাথে কারো তুলনা হয়না।

এই! দাঁড়া...!

অনেক গুরুত্বপূর্ণ কথা বলে ফেলেছিস... এবার যা নিয়েছিস বের কর। -অনেক কষ্ট করে এসেছি স্যার!

কিসের কষ্ট... দেয়াল বেয়েই তো উঠে পড়েছিস... -তুই চুপ থাক! লেবার ফেলো!

স্যার... কষ্টের কথা ভেবে হলেও ১০০টা টাকা.....??

ভাংতি আছে?? -২ মিনিট বসুন। আমি যাবো, ভাঙাবো আর ফিরে আসবো।

দরকার নেই... নিয়ে নে।

এতক্ষণ ধরে এত কথা বললাম, তাও তার ঘুম ভাঙেনি! সে নিশ্চয়ই ভাগ্যবতী.... অথবা মারা গেছে!! দেখে নিয়েন।

নড়ছে না কেনো!

নড়েছে!

ম্যাডাম... এটা আপনার জন্য। ছায়াটা হচ্ছে আপনার মেয়ের। সময়ঃ এই সন্ধ্যা...

কি ব্যাপার?? -আজ ভানুমতিকে দেখতে আসছে!

দেখতে আসবে বলোনি তো!

স্টিল ফটো দেখেছো? নাকি আজকেই প্রথম দেখবা?

মধু... মিষ্টিগুলো নিয়ে রান্নাঘরে রাখ তো।

ভানুকে দেখতে আসছে, শুনলাম... -হ্যাঁ, প্রায় ঠিকঠাক। বসুন...

এ মেয়েটা কে? -বলেছিলাম না... হায়দ্রাবাদ থেকে এসেছে। -মহালক্ষ্মীর মেয়ে...? একটু পানি খাওয়াও তো...

ঠিক আছে, বসুন। আমি আনছি।

সবাই কি বলে ডাকে তোমায়?? -কি? -তোমার নাম কি? -আনাসুয়া রামালিঙ্গাম।

বুঝেছি রে, বুঝেছি... -আপনি?? -মায়ের ফুফু...

নানি নাকি তোমাদের....

ফুফু... আপনি দিন এটা। -আরেহ, আমি কেনো? -না... আপনাকেই দিতে হবে।

সব তো ঠিকই চলছে... আমি কেনো? -আপনার অন্তর অনেক ভালো। আপনি দিলেই ভালো হবে।

সে দিতে চাচ্ছেনা কেনো? তার হাতে কি ব্যথা নাকি?

নারে... ১২ বছর বয়সেই আমার বিয়ে হয়। ১৪ বছর বয়সেই স্বামী মারা যায়।

আবার বিয়ে করেননি কেনো??

তখন অত বুঝতাম না রে...

কোন পরিস্থিতিতে কি বলতে হয়, সেটা আপনি বোঝেন না....

এসো... কেমন লাগছে?? চমৎকার না?? -কিসের মেকাপ!

আজ কি দুজন মিলে সিনেমা দেখতে যাবা? রিমুভ!!

কি ব্যাপার? যা!

ভানু গারু... শুভ কামনা।

সাজ-গোজ সবসময় থাকবে না, তুই তার সাথে সারাজীবন থাকবি... এমনিতেই আমার বোন অনেক সুন্দর। তোকে এভাবে দেখেই যে পছন্দ করবে, আমি তাকেই পছন্দ করবো.... বুঝেছিস....

ওকে না?.... যাওয়া যাক...?? চল...

বসো...

মেয়ে কি গান গাইতে পারে??

ভারতনাট্যম, কুচিপুড়ি, কড়িচি, কাথাকলি, মনিপুরি-- এসব নাচ কি মেয়ে পারে?? -মেয়েকে নিয়ে গিয়ে নাচ করাবেন নাকি?!

সব জেনে নেওয়াই ভালো রে! আপনার ছেলে কি কি পারে আন্টি?

এ প্রশ্ন আমি আশা করেছিলাম! আমার প্রতিভা জানানোই উচিত! -তার মানে?

বীণা... বীণা বাজানোতে আমি গুরু...

তাকে দেখো! জোকার একটা! ওর ভানুকে চাই...!! এ বিয়ে ভাঙতেই হবে!

১০ দিনের জন্য এসেছি আমরা! এসব ঝামেলায় জড়ানোর দরকার নেই।

আমি... বর্ষাকালের বৃষ্টির মতো। ২ মাসের বৃষ্টিতেই সারা বছরের ফসল জন্মায়। -বৃষ্টিতে কাঁদাও হয়! -কি?! -সরি! -ওকে!

বাভা.... (Cousin)

একটা কথা....

কি??

স্যুটকেস... খুলছে না।

স্যুটকেস এই যে এখানে আছে....

চেইন এটা....

চেইন (Zip)??? আমি তো লক ভেবেছিলাম... -আমিও তাই-ই ভেবেছিলাম...

আমিও বুঝতে ভুল করেছিলাম...

কন্যা... ওদিকে বসে আছে।

এমনিতেই... এদিক ওদিক দেখছি।

ডাকছে আপনাকে.... -বধির নয় আমি...

এবার কি হলো?? -স্যুটকেস.... -নিচে নামাবো?? -বন্ধ হচ্ছে না।

আর একবার দেখতে পারতাম যদি!

কন্যা... -ওদিকে আছে... কিন্তু সিগন্যাল এদিকে পাচ্ছে।

বাভা (Cousin) বলে ডেকেছে সে.... -রাভা (দুলাভাই টাইপের) মনে করেছিলাম....

কি!!??

বাভা... তখন থ্যাংক্স বলতে ভুলে গিয়েছিলাম। থ্যাংক ইউ!

কন্যা... ওদিকে বসে আছে। জানি... কিন্তু, আকর্ষণ... এদিক থেকে হচ্ছে।

এই... তোমার নাম কি?

গুরু সাহেব, একটা কথা! সর্বোচ্চ ৫ মিনিট দিচ্ছি। বিদায় হওয়ার জন্য। -২ মিনিটই যথেষ্ট! বাবা.... একটা কথা!

হ্যাঁ... ঠিক আছে... রাতে... ৯টায়... পরে কথা বলছি।

তাকে কেনো এনেছিস? -আমি আসলে তোমার কি সমস্যা? -আমরা বিয়ে বাড়িতে যাচ্ছি না। লাশ দেখতে যাচ্ছি। ঝামেলা করোনা যেনো।

কে মারা গেছে? -কাল আমাদের বাড়িতে এসেছিলো না? আমাদের নানি...

নানি... সেই কমেডিয়ান মহিলা! -হায়রে মেয়ে!

সবাইকে খুব স্নেহ করতো!

আর একটু তৈরি করো...

ভানু.... এ কি হয়ে গেলোরে! সে আর নেইরে!

ও আল্লাহ! এ কি হয়ে গেলো... আল্লাহ গো! তাকে ফিরিয়ে দাও... ও আল্লাহ!

একবার চোখ খোলো... ও আম্মা! ভানুরে....

কিভাবে হলো? -কাল তোদের বাড়ি থেকে ফিরে রাতে ঘুমিয়ে পড়লো। আমরাও ঘুমিয়ে পড়লাম। সকালে ডাকাডাকি করে সাড়া পাইনা, পরে বুঝি, সে আর নেইরে!!

সবসময় হাঁসিমুখে থাকতো, কখনো কাঁদতো না। মরার সময়ও তাই হাঁসতেই হাঁসতেই মরেছে রে.....!

সবাইকে খুব ভালোবাসতো সে....

মান-সম্মান যাবে মনে হচ্ছে! -হেঁসে না, মেরে ফেলবে! হেঁসে না!! এসো, এসো.... হেঁসে না! এসো!

নানি! এ কি হলো তোমার! এখন আমাদের কি হবে!! নানিগো...!!

নাগাভেলি.... -হ্যাঁ... নাগাভেলি। -মানে? -পল্লম ভেঙ্কানার মেয়ে!

খুবই আদরের মেয়ে... সাদা হাতির বায় ধরেছিলো, কালো হাতিকে সাদা করে দেওয়া হয়েছিলো।

ঝামেলা না করে চুপচাপ দাঁড়িয়ে থাক তো....

তাজমহল কোথায় বলতে না পারায় শিক্ষক মেরেছিলো, তাই শিক্ষককে মেরে স্কুল বন্ধ করে দেওয়া হলো।

বছরখানেক আগে, আমি ভাইয়ের সাথে মেলায় যায়... সেখানে তার সাথে আমাদের দেখা হয়।

এই, মারিস না! এই...

তার ভাইকে মারায়, সে এগিয়ে আসছিলো দেখে চিন্তায় পড়ে যায়।

আমি তোমাকে পছন্দ করি...

পছন্দ করে মানে! নান্দু কি রাজি হয়েছিলো? -পল্লম ভেঙ্কানা ডেকে নিয়ে, অ আ ই ঈ সব বুঝিয়েছিলো।

এটা তোমার ঋণ, এটা তোমার আয়, এটা তোমার কুঁড়েঘর, আর এটা তোমার ফুড বিজনেস...

এখন তোমার উন্নতি করতে চাইলে, খুবই ভালো ভাগ্য দরকার! এটা সেই ভাগ্য!

কফি খেয়ে নাও... আমার মেয়ে বানিয়েছে। মা... চুল বাঁধলে তোকে দারুণ লাগে! এমনিতেও অবশ্য তুই দারুণ!

ভানুর যদি ভালো ছেলের সাথে বিয়ে হয়, সেটাই আমার জন্য ভাগ্য। -সেটাই... ভানুর বিয়ের পর তোমার আর আপত্তি নেই তো?? তাহলে, আমরা এটাই চূড়ান্ত করলাম।

ভানু... একবার নাগাভেলির সাথে দেখা করা যাবে?? -কেনো?? অপেক্ষা করো... এখানেই আসছে।

কেনো জানিনা... নাগাভেলিকে আমার মোটেই পছন্দ হলো না।

সে আমার ফুফাতো বোন। শহর থেকে বেড়াতে এসেছে। -বেড়াতেই না?

সে নেই?? -সে মানে??

এই যে ইনি!

(সম্বোধন...)

থাক মা... -পায়ে হাত দিয়ে আশীর্বাদ নেওয়া, অনেক গুরুত্বপূর্ণ বিষয়। -আমরা যখন এসেছিলাম, বলিসনি কেনো?

কেমন আছিস মা? -ভালো আছি... -মধু... এটা ধরতো....

কি ব্যাপার নাগাভেলি? ভানুর জন্য এসেছো?

একটা শার্ট দেওয়াই যথেষ্ট! সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে দেবে!

কিরে? খেয়ে গেলিনা? -ফিরে এসে খাচ্ছি, মা। -নাগাভেলিও খেতে আয়.... -একা খেতে বাড়ি থেকে আসিনি। আমি তার সাথেই খাবো।

এইবার কি হয়েছে?

তোমার হবু বধু দেখে... -পেট ভরে গেছে?? -ক্ষুধা মিটে গেছে...

খাবার কি পাঠিয়ে দেবো?

আগেরবার কি করেছিলে মনে নেই?

আস্তে নামাও... শরীরে ব্যথা....

নিজেকে অপরাধী মনে হচ্ছে... কারো উপর রাগ হলে, ভালো-খারাপ জ্ঞান থাকে না। পরে আফসোস করি... আমার আত্মহত্যার চেষ্টাও সেভাবেই... মায়ের উপর রাগ থেকে।

তোমার বাবার ব্যক্তব্য মতেই অনেক ভালো ছেলে ঠিক করেছি।

তুমি নাচ, গান জানোনা। তার এসবের দরকারও নেই। কাজ করতে পারোনা। তার বাড়িতে চাকর-বাকর আছে। যথেষ্ট??

১ সপ্তাহেই দেখতে আসবে। ১ মাসেই বিয়ে দিয়ে বিদায় করবো। তারপর তোমাকে কিছু বলারও নেই, ঝামেলাও নেই। তোমার জন্মদিনে এটাই আমার উপহার। শুভ জন্মদিন!

দেখেই আত্মহত্যা করতে হবে, এমন চেহারা তার না... ঐ সময় আমার মনের অবস্থা ওরকম ছিলো... তাই।

হেলো, আমি পল্লম ভেঙ্কানা বলছি। মিসেস মহালক্ষ্মী কি আছেন? -কি ব্যাপার ভেঙ্কা? কি বলবে তাকে?

ওহ, আপনি বলছেন... তা হলে তো আরো ভালো হলো। আপনাকে পেয়ে আরো খুশি হলাম।

হয়েছে কি... আমরা যেমন বাদরকে নারকেল দিই, তেমনি আপনি আপনার মেয়েকে তাকে দিয়েছেন আর গ্রামে রেখে দিয়েছেন।

এই! ভুল করলো সে! তার বাবাকে বোঝাচ্ছো কেনো! -তার বাপকে সরাসরি বলাই ভালো, যে তার মেয়ে এমন করছে।

আসলে, রাবণের বাবা-মাও শূর্পণখাকে সামান্থার মতো দেখতে ভাবে! -দারুণ বলেছো বাবা!

রাবণের বউও রাবণকে পাওয়ান কালিয়ান ভাবে! -আরো দারুণ বলেছে এটা!

তাহলে, তাকে কিছু বোঝাবো না? -কখনোই না! কিন্তু মেয়েটিকে যেতে হবে? -অবশ্যই!

এখন হয়েছে কি... সে একটা যুবতী মেয়ে। তাকে আনান্দের বাড়িতে পাঠানো আপনার ঠিক হয়নি... এমন আমার মনে হচ্ছে।

এখন, তারা দুজন যদি প্রেমে-টেমে পড়ে যায়... আর, এসব মহালক্ষ্মী জেনে যায়...

আমি দেখছি! দেখছি আমি! -সেতো আপনি দেখবেনই! এটা আমার কর্তব্য।

ছোট ম্যাডামকে গ্রামে পাঠানো হয়েছে...

ম্যাডাম, ছোট ম্যাডাম বাড়িতে নেই। স্যার তাকে গ্রামে পাঠিয়েছে। -তুমি কি করে জানলে?

ভল্লম ভেঙ্কানা স্যারকে ফোন করেছিলো। -পল্লম ভেঙ্কানা।

আইয়ো! ভল্লম পল্লম যাই হোক, ফোন করেছিলো। স্যার চিন্তায় আছে.... আপনি চিন্তা বাড়িয়ে দিন।

দ্রুত ফ্লাইট বুক করো, আমি আসছি.... -ওকে, ম্যাডাম।

এয়ারপোর্টে আমি গাড়ি নিয়ে যাচ্ছি না। স্যার জেনে যাবে। আপনি ট্যাক্সি নিয়ে আসুন। হাতে-নাতে ধরা যাবে।

বাঁচা গেছে... শোনেনি কিছু।

নান্দু... -বলো ফুফা। -তোর ফুফু সব জেনে গেছে। চেন্নাই থেকে ফিরছে। সর্বোচ্চ ৫ ঘন্টা সময়, এর ভেতর আনুকে নিয়ে এসে আমাকে বাঁচা।

তুমি চিন্তা করোনা ফুফা... আমি এখনি বেরোচ্ছি। ফুফু আসার আগেই আমি আনুকে পৌঁছে দেবো। ঠিক আছে? -ঠিক আছে।

গাড়ি কোথায় পেলে??

চাবি দিয়ে দিলো? -তোমাকে ড্রপ করার কথা বলেছিলাম।

স্যার, আপনার পার্সোনাল... -পরে কথা বলছি!

আয়! আয়! আয়!

এই...! আমার মেয়ে চলে এসেছে! তাড়াতাড়ি! তাড়াতাড়ি! -এখানে রাখুন ম্যাডাম! নামুন ম্যাডাম...

নিজের চোখেই সব দেখতে পাবেন ম্যাডাম!

এ কি মহা! ফোন না করেই ফিরে এলে যে! -উপর থেকে এসে বলছি!

ম্যাডাম... -ওয়েট! ওয়েট!

আস্তে ম্যাডাম।

সেখানে ছোট ম্যাডামও থাকতে পারে বা কোলবালিশও থাকতে পারে।

কখন এলো!?

আত্মহত্যার রাতেও এই ব্যালকনিতে দাঁড়িয়ে ছিলাম। সেদিন আর এদিনে অনেক পার্থক্য! এত আনন্দের এডভেঞ্চার আমি কখনোই করিনি।

আমার এই ভ্রমণটা খুবই ভালো লাগলো। মাকে বোকা বানিয়ে আরো ভালো লাগলো। এরপর নান্দুর সাহায্য করা- আরো বেশি ভালো লাগলো।

নান্দুর প্রতি আমার ফিলিংস বেড়েই চলেছে। এটা বন্ধুত্ব নাকি ভালোবাসা জানিনা...! যাই হোক... নির্ধারণ করতে চাইনা। এই কনফিউশন আমার ভালো লাগছে।

আমি নেই, ঠিক আছে... কিন্তু, এটা কিভাবে হলো? হঠাৎই শেখর আসলো না কেনো?

কি ব্যাপার? -শেখর আসেনি কেনো, সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।

কেউ ফোন করে বলেছে, এ বিয়েতে আমাদের আগ্রহ নেই। -অচেনা লোকের কথায় তারা বিশ্বাস করলে, কিইবা করার আছে!

তুই কষ্ট পাস না, মা! তুই কষ্ট পাস না! -ঠিক আছে, ড্যাডি। -তার দাদাকে বলে আমিই সব সেট করবো।

তার দাদার দরকার নেই, তাকে দরকার। আমিই দেখছি ব্যাপারটা।

যাই করো, লাভ নেই! -তুমি একটা জিনিয়াস, বাবা! -আরেহ... এরকম কত মহা দেখলাম। আমার কাছে এসব কিছুই না!

তারা... আগামীকাল লাঞ্চে আসছে এখানে....

কি ব্যাপার? একটু আগেও তো হাঁসছিলে! এখন এমন রি-অ্যাকশান কেনো? -না তো! এতো দারুণ খবর শুনলাম তো! আনন্দ.... আনন্দে!

শেখর আসবে শুনে, মায়ের বাড়াবাড়িও বেড়ে গেলো!

মায়ের পছন্দ করা পোশাক পরতে হলো! আমার পছন্দ করা ফুল ডাস্টবিনে গেলো! মাঙ্গামার পছন্দ করা রান্নায় টেবিল ভরে গেলো!

এই বিরক্তি আর তো সহ্য হয় না ড্যাডি... -সোণামণির কি রাগ হচ্ছে....?

লাঞ্চ রেডি হয়েছে? -অনেক আগেই! -মেয়ে কি নিচে নেমেছে? -এখানেই! -আমরা আসছি না! -কি হয়েছে!?

আগেরবার আসতে চেয়েছিলাম, আপনার আগ্রহ ছিলো না! সেই শোধ নেওয়ার জন্য আজ আসার কথা বলেছিলাম! এখন আমাদের আগ্রহ নেই!

তারা.... -আসছে না!

মাঙ্গা, একটু চিকেন দে তো, ক্ষুধা পেয়েছে! রাতের জন্যেও রেখে দিস। -এখন কি বলা উচিৎ, বোঝোনা তুমি!

তারা আসছে না বলে তুমি কষ্ট পাচ্ছো কেনো মহা! তুমি তো ভুল কিছু করোনি!

এখন একটু বলি? -কি? -চিকেন প্লেটে দেওয়ার ব্যাপারে!

ভানুর বিয়েও ভেঙে দিয়েছি! বর পছন্দ হয়নি, ভালোই করেছি!

গতকাল দেখতে এসেছিলো। -তুমি কি করে জানলে? -নান্দু বলেছিলো। -নান্দু??!!

নান্দুর কথা শুনেই খুশি হয়ে গেলি নাকি? -এমনিতেই ড্যাডি! -তাহলে, নাম শুনেই ঝাপিয়ে উঠলি যে! -যাও ড্যাডি!

নান্দুর নাম শুনে, আমার চোখে-মুখে কি সত্যিই খুশির ভাব ধরা পড়েছে??

এখন চা-কফি কিছু করার দরকার নেই। এখনি যেতে হবে। স্টুপিড ফোন... কিছুই বুঝিনা।

বাড়ির সবাই তোমার আর নাগাভেলির বিয়ের ব্যাপারে চাপ দেচ্ছে... -বলেছিলাম তো, ভানুর বিয়ের পর!

কাল একজন এসেছিলো শুনলাম...? -তার চরিত্র বেশি ভালো না।

হা হা হা! এ বাড়িতে বেশি ভালো পাত্র কি বিয়ে করবে!

যাই হোক, কাজের কথায় আসি... একটা তারিখ ঠিক করা যাক। এই আগষ্টেই তোমাদের বিয়ে।

আমি বলিনি, আমি এ বিয়ে আমি করবো না... কিন্তু, ভানুকে যোগ্য পাত্রের হাতে তুলে দিয়ে। -এক কথাই বারবার প্যাচিও না। ভালো একটা কথা বলি?

আম খেয়ে তার বীজ ফেলে আমরা মনে করি, এটা থেকে গাছ হবে, অনেক ফল হবে। কিন্তু, যদি ১০ একর জমিতে আম চাষ করতে চায়? অনেক শ্রম, অনেক যত্ন, অনেক খরচ করতে হয়।

সেও মেয়ে, আমার মেয়েও মেয়ে। বিয়ের পর সে কাঁদতে কাঁদতে যাবে! আর আমার মেয়ে ৭ ভরি সোনা নিয়ে আসবে! এটাই হচ্ছে 'মানি পাওয়ার'! এর চেয়ে বড় আর কি আছে?

কি ব্যাপার! তোমার ফুফাতো বোন এলো আর তার সাথে বিয়ের স্বপ্ন দেখে ফেললে!

ওহ, পুরোনো সব কথা তো তুমি ভুলেই গেছো! তাহলে নাগাভেলির কি হবে?

চোখ বন্ধ করে ভগবানের সামনে বসে থাকলেই সব সমাধান হয় না! বাইরে এসে ছেলেকে বোঝাও, সামনের মাসেই বিয়েতে রাজি করাও। এতে ভালো হবে।

অনেক লাভ হবে তোমাদের... বড় বোনের জন্য ভালো ছেলে পাচ্ছে না। ছোট বোনের পড়ালেখা করাতে পারছে না। থাকার জন্য ভালো বাড়ি নেই।

সব ভেবে-চিন্তে উত্তর দিতে বলো।

একটু বেশিই ভেবে ফেলেছে!

সাবধানে! একটু যত্ন সহকারে নিয়ে যা... আমি আসছি।

আমাদের টাকার লোভ নেই। আমরা এভাবেই ভালো আছি। ভেঙ্কানা সাহেব, এবার থেকে আপনিও ভালো থাকার চেষ্টা করবেন। আর পরিবারকে দেখে রাখবেন... এই টাকাটা আপনিই রাখুন।

কি প্রার্থনা করলি??

বেশি কিছু না... এই বাড়ি যেনো সবসময় পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে, সেটাই...

এর বদলে নিজের বাড়ি কেনো চাইলি না? -কি! আপনাদের বাড়িও আমি পরিষ্কার করি! আমার বাড়িও আমি পরিষ্কার করি! আমি কি পাগল!?

আনু, তোমার জুতার মাপ কত? -৬!

গোপাল.... -শুনেছি ম্যাডাম, শুনেছি! ভালোভাবে পরা এবং খোলা যাবে, এমন দেখে কিনে আনবো।

তার সাথে খেলা করার জন্যও যেনো পারফেক্ট হয়! -এটা কিভাবে সম্ভব ম্যাডাম?!

গোপাল....! -প্রতিবারই আপনি আমাকে অবাক করেন ম্যাডাম.... তীক্ষ্ম ব্রেন! আপনি ভাগ্যবান স্যার, আমার ম্যাডামকে পেয়েছেন।

কি ব্যাপার মহা? এসব কেনো? -ব্যানার্জী সাহেব বিয়ের ব্যাপারে কথা বলার জন্য অফিসে ডেকেছেন।

কখন? -কিভাবে!

নাম জানেন না... অচেনা কেউ ফোন করে বললো, 'আমাদের আগ্রহ নেই'! আর আপনি বিশ্বাস করে নিলেন!

মেয়ের মা হয়ে আমি নিজে অনুরোধ করার পরেও, কেনো বিশ্বাস করলেন না??

মায়ের যুক্তিতে আমিই কাত হয়ে গেলাম! ব্যানার্জী সাহেবের হতে কতক্ষণ... ক্রিকেট মাঠে যেমন রাজনৈতিক মিটিং হয়, তেমন আমার আর শেখরের সাক্ষাৎ হলো গলফের মাঠে।

এটা কি? -আমার আত্মবিশ্বাস সবকিছুতেই কম। বাড়ানোর জন্য মনোবিদের থেকে চিকিৎসা নিচ্ছি।

এটা কি? -আমার রাগ একটু বেশি। কমানোর জন্য, এটা ফ্যামিলি ডাক্তার সাজেস্ট করেছে।

এক শটে দুইজনকে আহত করা যায়, এইমাত্র বুঝলাম!

প্রতিবারের মতো মায়ের বকাবকি! আমার মন্দ ভাগ্য! ফাইনালি, ভামসিকে হাসপাতাল নিয়ে গেলাম...

আমার কাজিন...

নান্দু, কি হয়েছে??

এখন কি অবস্থা? -অনেকটা ভালো...

সরি মামী... আমি জানতাম না। তোমার ছেলেটাও খারাপ! ফোন করে বলেনি। -ঠিক আছে, মা। সামান্য ব্যাপার।

বাবা দেখি এখানেই আছো! তোমার মায়ের এখন কি অবস্থা?

পড়ালেখা না জেনে পত্রিকা সামনে রাখা ভালো নয় রে...

এভাবে দাঁড়িয়ে থাকিস না। ভেতরে গিয়ে দেখেক তোর শ্বাশুড়ির কি অবস্থা.... যা। এখনো ছোটই রয়ে গেলো...

কিছু লোক লজ্জার স্পেলিং জানেনা, সম্মানের অর্থও বোঝেনা... এমনকি হাঁসার টাইমিংও বোঝেনা.... ইডিয়টরা!

যাই হোক, তার সুস্থতা কামনায় মন্দিরে গেছিলাম, প্রসাদ এনেছি... -ভালো করেছেন!

এতে কফি বানানো আছে, মায়ের জন্য এনেছি, ভানু।

এভান্ডি (সম্মানের ডাক)... -যান... -যতই ডাকুক, যাচ্ছি না রে...

আবার ডাকলো...

কনফিউজ হইয়ো না... এখানেই থাকছি।

কি হয়েছে? কি ব্যাপার!?

তেলাপোকা!

কোথায়?? -সে কি তেলাপোকার সাথে সেলফি তুলে রেখেছে নাকি! যেখানেই হোক, পালিয়েছে!

আর কোনো মেয়েকে পেলেনা তুমি! এক সেকেন্ডও শান্তিতে থাকতে দেবে না...!

তাড়াতাড়ি যাও! এবার মনে হয় ডাইনোসর দেখেছে।

কালবাপুড়ির সব স্মৃতিগুলো বারবার মনে হচ্ছে... সব কিছুই ভুলে যাওয়া সম্ভব হয়তো। কিন্তু, নান্দুর সাথে বলা কথাগুলো, তার সাথে কাটানো সময়... স্মৃতিতে শক্তভাবে গেঁথে গেছে।

এই সত্যম... শোন তো... এগুলো নিয়ে আয়।

ভানু এখানে থেকে কি করবে? আমার সাথে আমাদের বাড়িতে পাঠাও। -মায়ের দেখাশুনা করবে কে? -তোমার হবু বউ তো আছে!

কি? -এটাই! তোমার হবু বউ... আছে না! সেই দেখবে। -দরকার নেই!

আমি জানতাম! আমার কথার কি মূল্য! তোমার বিয়ে হয়ে যাচ্ছে তো... -এই! পাগলের মতো কথা বলো না!

এই যে! আবার পাগল বললে! কি আর করা... আমি কিইবা হয় তোমাদের! শুধু তো আত্মীয়! আমার কথার কি মূল্য!

ওকে, ওকে, ওকে! নিয়ে যাও... নিয়ে যাও! দয়া করে কান্না থামাও!

ভানু, পোশাক পাল্টিয়ে নাও... -কিন্তু একটা শর্তে! কাল সকালের ভেতর ব্যাক আসবে! ঠিক আছে?

বাবা বাড়িতেই আছে। কোনো সমস্যা নেই।

ভানুকে কেনো নিয়ে এসেছিস? তোর মা দেখলে, মেরে ফেলবে! -মামাতো বোনকে আনলে ক্ষতি কি! -তুই বুঝবি না! ভানু, আমার সাথে আয়... রেখে আসি।

কে এই মেয়ে??

ভানু... -তার বান্ধবী! -না! কামেশ্বরী মামীর মেয়ে।

শেখরকে নিয়ে হাসপাতালে গিয়ে, দেখা হলো। ফুফু অসুস্থ। ভানুকে নিয়ে আসায়, বাবা ফেরৎ রেখে আসতো বললো। তুমি নাকি রেগে যাবে! তুমি কি এতই খারাপ মা!?

আই হেট ইউ বাবা! আমি মায়ের মেয়ে...

বাবার কথামতো, ভানুকে কি ফেরৎ রেখে আসবো মা? -কেনো? ভেতরে নিয়ে যাও... এটাকে নিজের বাড়ি ভাবতে পারো মা।

কিন্তু, তুমি তাদের জানো কিভাবে?? -আমাকে তাদের জানা ছিলো...

কেনো জানবে না? তোমার বাবা এখানকার সব খবর তাদের নিকট বহন করে!

তুমি যতটা ভাবছো, ততটা সহজ-সরল তারা নয়! তার মা আমার মুখের সামনে দরজা বন্ধ করে দিয়েছিলো!

ব্যবসা করার জন্য টাকা চাওয়াতে- দিয়েছিলো ভানুর বাবা; মানে আমার ভাই। সে তার জমি বিক্রি করে টাকা দিয়েছিলো। (বর্গা রেখেও হতে পারে)

২ বছরের মধ্যেই তোমার সম্পত্তি তোমাকে ফিরিয়ে দেবো, ভাইয়া...

এরপর, হঠাৎই সে এসে টাকা চাইলো! যা আমার কাছে ছিলোনা তখন!

যাই হোক, টাকা দেওয়ার জন্য আমি গিয়েছিলাম...

এরকম হয়ে যাবে, আমি জানতাম না ভাবী। টাকা এনেছি...

টাকাগুলো তাকে ফেরৎ দে...

তার মা এমনভাবে দেখছিলো যেনো, আমিই আমার ভাইকে মেরেছি! যাই হোক, এসব তোমাকে কেনো বলছি! সতর্ক থেকো তাদের থেকে... এটাই।

বাবা, মামার ব্যাপারে মা যা বলছিলো....!?

তোর মা যা চেয়েছে, সেগুলোই মনে রেখেছে। যা সবাই করে... তার করা ভুলগুলো সে ভুলে গেছে। ভুল মনে রেখে তো বাঁচা যায়না। তাইনা?

আমি যতদূর জানি... তোর মা সেখানে টাকা চাইতে গিয়েছিলো...

আমি একটি কোম্পানি খুলতে চাচ্ছি, ভাইয়া। ব্যাংকে টাকার আবেদন করায় তারা সিউরিটি চেয়েছে। তুমি সাহায্য করো ভাইয়া। এ কোম্পানি আমার স্বপ্ন।

এ কি ভাইজান? আর কত সাহায্য করবেন আপনি? তার কোম্পানির জন্য আপনার জমি বিক্রির কি দরকার? (বর্গাও হতে পারে)

এ জমি আমার কাছে থাকলেও, এরকম অকেজো হয়েই থাকবে। কিন্তু তার এতে অনেক লাভ হবে।

এরপর কি হয়েছিলো, জানিনা... তবে, তোর মামার মৃত্যুর কথা শুনেছিলাম।

প্রয়োজনের সময় টাকা না পাওয়ায়, তারা রাগ করেছিলো। টাকা দিতে গিয়ে অপমানিত হওয়ায়, তোর মা রাগ করেছিলো।

সেখান থেকেই ঝামেলার শুরু... এসব ভুলে থাকাই ভালো।

কে সে? তোমার হবু বর?

দারুণ...

দারুণ? -হ্যাঁ...

শেখর আর ভানুর বিয়ে হলে? ভানু ভালো জীবন পাবে। আর আমি নান্দুর সাথে বিয়ের চেষ্টা করবো। দুই পরিবার এক হয়ে যাবে।

দুই পরিবারের ঝামেলার নির্দিষ্ট কারণ আমি জানিনা। কিন্তু, মিটমাট আমি করবো... এভাবেই চেষ্টা করতে হবে।

ভানু... বানরের সাথে তোমার বিয়ে তো আমি ভেঙে দিলাম। এবার, জিরাফের সাথে আমার বিয়ে ভাঙতে একটু সাহায্য করবে?

কাজিন... একটা কথা!

কোর্ট কেনো নিয়ে গেলি! এখন ঠান্ডার সময়! গতকালকেই কিনেছি মাত্র!

আসো... -কোথায়?! -আসো! -আরেহ! আপনাকে তো আগে কোথাও দেখিনি!

ভানু... কোথায়? -এই যে! এখানে! এত খুশি কখনো দেখেছো?

কে আপনি? -ভানু! -আমি শেখর! -আসো... -আরেহ!

এই! এসব কি? -হাত ধরেছি তাই? সে আমার হাত ধরলে শকেই মরে যেতে! তাই আমিই তার হাত ধরেছি।

লতা আন্টি! মায়ের বান্ধবী! রেগে তাকাচ্ছে। বলে দেবে মনে হয়। -এই... আমার তো ভয় ভয়ে তাকাচ্ছে মনে হচ্ছে। -বেশি রাগান্বিত ভাবে তাকাচ্ছে, তাই এরকম দেখাচ্ছে।

লতা, হঠাৎ দাঁড়িয়ে গেলে যে?

এটা আঙ্কেল না! -তাহলে, এটা রাগও না!

এ পরিস্থিতি খুবই ইন্টারেস্টিং লাগছে! -আনাসুয়া, প্লাস এর জায়গায় মাইনাস থাকলে, এরকমই ইন্টারেস্টিং লাগে!

বুঝলাম না কিছুই! -উদাহরণস্বরুপ... কলেজে আসার নাম করে, সিনেমা থিয়েটারে আসা।

শেখরের সাথে আসার নাম করে, অন্য কারো সাথে আসা! -আঙ্কেলের সাথে আসার বদলে, পরপুরুষের সাথে আসা!

আমার তো খুবই ইন্টারেস্টিং লাগছে! খুবই এন্টারটেইন হচ্ছি... -ওয়েল সেইড ব্রাদার!

এটাকে রাগ বলে!

এটাকে অলসতা বলে! -এটাকে সমাপ্ত বলে!

ঠিক আছে?? -সাইড দিয়ে হাঁটুন!

আমার নাম প্রতাপ রাও। আপনি কালবাপুড়ি থেকে না? -আপনি কি করে জানলেন?

আপনাকে দেখেছিলাম একবার! -আমি তো আপনাকে দেখিনি!

মানে... ফটো দেখেছিলাম। আপনি ঘুমাচ্ছিলেন হয়তো।

আপনি হায়দ্রাবাদী না? -না... নতুন এসেছি। বালাজি স্যার ডেকেছে।

কাজের চাপ বেড়ে গেছে... তাই আমি তার অ্যাসিট্যান্ট হয়ে কাজ করছি।

আপনার ভাই অনেক ভালো মানুষ। আমার শুভেচ্ছা দিয়েন। -ওকে।

আবার দেখা হবে, স্যার। হ্যান্ডশেক করা যাক? -আমার হাতে ব্যথা! -আপনার ব্যাড লাক।

আমার পার্স!! -হেই.... দেখে ছাড়বো.... দাঁড়া বলছি!

কি এসব? -লজ্জা নেই??!

থামতে বলুন স্যার... ওমা! -লজ্জা নেই?? চুরি করিস!!

এ কি বাছাধন?! -কে সে? -পল্লম নারায়ণা! পল্লম ভেঙ্কানার ছোট ভাই।

নাগাভেলি এসব দেখলে মারা যাবে! আমরা তার হৃদয়কে কখনো কষ্ট দিইনি!

মেয়েদের হৃদয় আপনি কি করে জানেন? আপনি তো আজও বিয়ে করেননি! -বিয়ে না করলেও আমি জানি! অনেক মেয়েকে দেখেছি! আর, পরিবারের কথা ভেবে আমি সিঙেল আছি।

গুরু সাহেব, মার্কেটে পারফেক্ট প্রোডাক্টগুলো কেবল বিক্রি হয়। খারাপ হলে, অবিক্রিত থেকে যায়!

মানে, আমি পারফেক্ট না?? -শিল্পীরা ছবি আঁকিয়ে দেখায়। আপনার মতো লোকেরা ফাঁকা বুলি ঝেড়েই বিদায় হয়।

এই! আমাকে কি ভেবেছো তোমরা!? শৈশবে থেকেই, আমার হেয়ারস্টাইল দেখে মেয়েরা ফিদা হয়ে যায়!

হা হা... ফিদা হয়ে পালিয়ে যায়... কেউ বিয়ে করতে চায় না!

বোকা বানাচ্ছো আমাকে!

শুনে রাখো জামাই বাবাজি, ১ ঘন্টা সময় নিচ্ছি! দেখিয়ে দেবো কে আমি! -২ ঘন্টা নিন। দেখান পারলে। -মেয়ে দেখাও! বিয়েতে রাজি করাচ্ছি!

সে হাঁসছে কেনো? -ফুল কেনো ফোটে? -ছিড়ে নেওয়ার জন্য! -এটাও সেরকমই!

তার মানে? -বিয়ে! বিয়ে! বিয়ে!

বাভা, এবার কি হবে?? -এক ঢিলে দুই পাখি! ইটস এ ড্যাঞ্জারাস গেম! নিজেই দেখো... ডোন্ট মিস!

কি এসব?? -তোকে কেনো বলবো?? তুই কি ওর স্বামী নাকি?? -হ্যাঁ! সে আমার স্ত্রী!

জামাই বাবাজি তো মিথ্যা বলা ছেলে নয়.... -রঘু, একে দেখেই তো ভয় লাগছে! -লতা! আমি আছি না!

এত টাকা ছিটাচ্ছিস যে?? -যেমন ক্যামিস্ট্রি, তেমন বুঝেই তো টাকা ছিটাতে হয়! -তাই?? দাঁড়া দেখাচ্ছি!

পাশে কি কোনো কফিশপ নেই?? আপনার চোখ-মুখ শুকনো দেখাচ্ছে, আমারও তাই!

এবার কে এলো! তোমার বোন না কাকি?? -আমাদের সেক্রেটারি!

আপনাদের পরিচিত লোকেরা সবাই এখানে কেনো! দেশে কি এই একটাই শপিংমল নাকি!

দুর্ভাগ্য যদি ১০ স্টাইলে আসে, কি আর করা যাবে বল!

সোজা বাড়িতেই চলো! সব বলবো ম্যাডামকে!

লতা আন্টির লাভার ছিলো, কথা বললো। পল্লম ভেঙ্কানার ছোট ভাই ছিলো, সেও কথা বললো। কিন্তু, আমাদের গোপাল দেখেও চলে গেলো কেনো!?

সরি শেখর বাবু... আপনি এসেছেন, আমি জানতাম না।

এসব কি করে হলো ভানু?!

পুরো নাজেহাল করে ছেড়েছো দেখছি! -আরে যাও তো! Mad Guy!

দাদা... তুমি আনুর সাথে দেখা করতে বলেছিলে। কিন্তু, আমি ভানুর সাথে দেখা করেছি।

আমি জানি রে... -আমি তাকে পছন্দ করি। -খুশি... -খুশি!!??

হ্যাঁ, খুশি হলাম। -কিন্তু তারা মানবে তো? -মানবে না কেনো? তারাই তো পাঠিয়েছে।

মানে আনু...? -সমস্যা নেই। তোর অপেক্ষায় আছি। -তাহলে আমি ১০০% ওকে।

শেখরের বিয়ে তো প্রায় কনফার্ম। এ খুশিতে একটা মিষ্টি খাই? শুধু একটা! -একটু আগে... সেটাকে হিসাবে রাখুন।

খুবই ভালো খবর দিলেন... ধন্যবাদ।

অনর্থ হয়ে গেছে ম্যাডাম! এখন, আপনি চাচ্ছেন শেখরের সাথে বিয়ে দিতে। আপনার মেয়ে ঘুরছে অন্যজনের সাথে। এ দুজনের মধ্যে আমরা কাকে বাছাই করবো?

এইমাত্র ব্যানার্জী সাহেব ফোন করেছিলো। শেখর, আনুকে পছন্দ করেছে। আগামীকাল বিয়ের ঘোষণা হবে।

এক দিনের কথা বলে এক সপ্তাহ হয়ে গেছে, ভানুকে নিয়ে গেছো!

কফি স্ট্রং করো না, ব্ল্যাক পছন্দ করি...

কি করছে সে??

চিনি বেশি দিও না, মোটা হয়ে যাবো। -তুমি একটা টেরোরিস্ট!

বাভাগারু (Cousin)... রেগে যেওনা বাভাগারু!

কফি কেমন হয়েছে? -সন্ধ্যায় ভানুর সাথে আমার কাজ আছে।

চিনি যথেষ্ট? -এরপর আমি নিজে থেকেই ভানুকে ড্রপ করবো।

একটু আগে, কি বলেছিলাম তোমাকে? -টেরোরিস্ট!

তুমি তার থেকেও বেশি!

দেবো এক ঘুষি! আমাকে না জানিয়ে কিসের এত কাজ? -অনেক আছে... কেনো? আমাকে না জানিয়ে তুমি কোনো সিক্রেট কাজ করোনা?

আমি? আমার কোনো সিক্রেট কাজ নেই।

তোমার সব কিছুই সিক্রেট... খোলসা করে কোনো প্রশ্নের উত্তর দাও কখনো?

আমি?! -হ্যাঁ, তুমি! আমার WhatsApp ই তার প্রমাণ।

নাগাভেলিকে তুমি পছন্দ করো? হা হা

তোমার কোনো গার্লফ্রেন্ড আছে? হা হা হা

আমার ব্যাপারে তোমার মন্তব্য কি? হা হা হা হা হা

দেখাচ্ছি তোমাকে!

তোমার মায়ের সাথে আমাদের শত্রুতার কথা জানো?

মামা সাহায্য করেছিলো... মা মামাকে টাকা দেওয়ার আগেই, মারা গিয়েছিলো।

সঠিক সময়ে টাকা না পাওয়ায়, সে মারা গিয়েছিলো।

বাবা একটু অন্যরকমই বলছিলো... ২ বছর সময় নিয়েছিলো না? আমার মা...

২ বছর হওয়ার আগেই- ANASOL, আনাসল প্রাইভেট কোম্পানি হয়ে গেলো। তোমাদের বাড়ি বাঙলো হয়ে গেলো। আমাদের জমি নিলামে উঠলো।

কৃষ্ণমূর্তী সাহেব, সোমবারের মধ্যে টাকা না দিলে, আপনার জমি নিলামে উঠবে বলে নোটিশ এসেছে। দেখেছেন?

দুইমাসের আগে তারা বিল রিলিজ দেবে না। এর আগে আমি কিছু করতেও পারবো না।

তুমি যা দিয়েছিলে, তার ২ গুণ দেবো। ১০০ কেনো! ২০০ একর কিনবে। -তখন আর দরকার হবে না।

আনু, বাইরে যাও...

পাগলের মতো কথা বলোনা ভাইয়া। তোমার ও জমিগুলোই কেনো দরকার?

MRO আসবে, নিলাম বসবে, একজন ড্রাম বাজাবে, আমার নাম বলবে, অনেকে দাম বলবে আর আমার জমি কিনে নেবে।

মর্যাদা হারাবো... গ্রামে মাথা উঁচু করে বাঁচতে পারবো না।

মর্যাদা একটা কল্পনীয় ধারণা ভাইয়া। সুটকেস বহন করছি অথচ দেখতে পারছি না! এসব রাবিশ থিংকিং!

এটা কি কোনো সিনেমার গান? যে সবাই মনে রাখবে? এটা শুধু একটা নিলাম মাত্র...

টাকার বদলে তার কথাগুলো পেয়ে বাবা সহ্য করতে পারেনি... এজন্যেই আত্মহত্যা করেছিলো!

ঐ দিন তোমার বাবা নিচে ছিলোনা, হয়তো উপরতলায় ছিলো বা গ্রামে ছিলো। আমার বাবার তাকে দরকার ছিলো, কিন্তু সে সেখানে ছিলো না।

ইয়ে! আমি দিয়েছি! আমি দিয়েছি! আমি দিয়েছি!

এ কি বাবা! কেনো দিলে তুমি? -আমি না দিলে, ভানু কাঁদতো! -দেওয়াতে মধু কাঁদছে, দেখেছো?

নিজে জেতার জন্য অন্যকে হারাবা... ভুল না এটা?!

মহার সাথে কথা হয়েছে?

টাকা দিয়েছে।

খুবই ক্লান্ত লাগছে... একটু বিশ্রাম নেওয়া দরকার। -আমি মা'কে দেখে রাখবো, বাবা। তুমি ঘুমাও।

দেখে রাখবা? -হ্যাঁ।

টাকা এনেছেন? -হ্যাঁ।

নান্দু, তোর মা কাল সন্ধ্যায় যা বলছিলো, একদমই সত্য কথা! নিজে জেতার জন্য অন্য কাউকে হারানো ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ!

তুই খেলায় যে ভুল করেছিস, তা আমি বাস্তব জীবনে করেছি।

মহালক্ষ্মীকে জেতানোর জন্য, তোদেরকে রাস্তায় নামিয়ে দিচ্ছি। অন্যের খুশিতেই আমি নিজের সুখ খুঁজে পেতাম।

কিন্তু, সেটা ভুল! সুখ চাইলে, নিজে জেতো! আমার নামে ড্রাম বাজানোর আগেই আমি চলে গেলাম...

(গ্রামবাসীদের উদ্দেশ্যে... টাকা পরিশোধে ব্যর্থ হওয়ায় কৃষ্ণমূর্তীর ১০০ একর জমি ক্যান্সেল করা হলো। নতুন মালিক হবে অন্য কেউ।)

তোমার মা, যা ঘটেছিলো তা বলেছে। তোমার বাবা, যা জানে তা বলেছে। আমি বললাম, প্রকৃত ঘটনা! কারণ, আমার সব মনে আছে। আমার বাবা মারা গিয়েছিলো তো!

বৃষ্টি শুরুর আগেই ছাতা ধরা, এবং বৃষ্টি শুরু হলে ছাতা বন্ধ করাকে কি বলে জানো?? আনান্দ বিহারি!

আমার মন্দ ভাগ্য যে, কাছে থেকেও আমরা দূরে সরে যাচ্ছি... শেখরের জন্য দেওয়া পার্টিতে, আনান্দকে ক্যাটারিং এর জন্য ডেকেছে।

এ কি খাচ্ছো দাদা? এসব খেওনা। -অন্তত আজ তো খেতে দে! -এরপর কন্যা এসে খেতে বলবে, আবার খাবে... -অত দরকার নেই! এই যথেষ্ট!

মেয়ে পছন্দ হয়েছে, আত্মবিশ্বাস বাড়ছে... -একটু দয়ালু তো হতে পারিস!

কি ব্যাপার? দাদা-নাতির মধ্যে কি ফিসফিসানি হচ্ছে? -টাকা থাকা সত্বেও এ সমস্যার আপনি কি বুঝবেন?

এখানে রাখো...

তুমিই এগুলো রান্না করেছো? -আমি শুধু রান্না-বান্না তত্ত্বাবধান করি। -ঐ একই তো কথা! তাইনা!

তোর এখানে কি? গিলবি নাকি?! আয়... তোকেই বলছি! আয়!

এক্সকিউজ মি... -কোথায় যাচ্ছিস!

ডাকছো আমায়?

নান্দু, ছেড়ে যাচ্ছো আমাকে? -তোমাকে!

তোমাকে ভালোবাসা মতো সামর্থ্য আমার নেই। ছেড়ে যাওয়া মতো লেভেলও আমার নেই। তোমার সামনে দাঁড়ানো মানে, Benz গাড়ির সামনে বাইসাইকেল পার্কিং করা।

এই লাইটস, এই পোশাক, এই সব লোকেরা... আমি জানি, আমি যে আনাসুয়াকে চিনি, সে তুমি নও। তুমি হচ্ছো ডটার অফ মহালক্ষ্মী। সে ছিলো কেয়ার অফ কালবাপুড়ি।

এটা কি... ধূলা-বালি প্রবেশ করেনি, তাও আমার চোখ থেকে পানি বের হচ্ছে।

আয় মা... সবাই তোর অপেক্ষা করছে...

খাবারগুলো ভালো হয়েছে... -ধন্যবাদ, ফুফা। বিয়েতেও আমাকে কাজটা দিয়েন। যদি সম্ভব হয়... -অবশ্যই!

নান্দু সাহেব, বিরিয়ানি তো শেষ। কিন্তু, আরো অনেকেই খেতে চাচ্ছে।

তুই কি প্রতি ১০ মিনিটে আমাকে মনে করিয়ে দিস, যে আমি একজন রাঁধুনি! আমি ভুলে যাচ্ছি না!

তাহলে কি ভাজা চালেই কাজ চালিয়ে নেবো? -আমাদের যেটুকু আছে, সেটুকুতেই কভার করা উচিৎ!

আমি বিরিয়ানির ব্যাপারেই বললাম...

এই মূথ্যিয়ম, একটা গান ধর তো... -এরকম সময় গান ভালোই হবে। গুড চয়েজ!

আমি ভালো গাইতে জানি না! -তোকে বালা সুব্রমনিয়ামের মতো গাইতে বলিনি। জাস্ট পরিস্থিতি বুঝে একটা গেয়ে দে...

আমার স্যার শ্যামল... ব্যর্থ ভালোবাসার দৃষ্টান্ত।

গা মূর্থ্যিয়ম, গা... ভেতরের কষ্ট যেনো গানে বেরিয়ে আসে। কিছু বাদ থাকলে, চোখের পানি হয়ে ঝরবে। বলবো আমি... গা...

কি খেলোয়াড় গো তুমি! আমার বাড়িতে থেকে, আমার বাড়ির খাবার খেয়ে, আমার মেয়েরই বিয়ে ভাঙছো!

সে কি ভুল করেছে, মা??

তোমার শেখরকে চাই?! -এতে ওর দোষ কোথায় মা?

ও নয়... তুমি! ওকে বাড়িতে আনার দিনই বলেছিলাম, শুনেছো তুমি??

একে আর দেখতে না পেলে, শেখর কি করে দেখবো!

গোপাল! -বুঝেছি ম্যাডাম। এখনি তাকে গ্রামে ফেরৎ পাঠাচ্ছি।

দাঁড়া! দাঁড়া বলছি! অনেক হয়েছে! মাঙ্গামা, একে নিয়ে গিয়ে ঘরে বন্ধ কর! দ্রুত যা!

হ্যালো, ব্যানার্জী সাহেব... আমি মহালক্ষ্মী বলছি... -হ্যাঁ, বলেন...

আমাদের পন্ডিতমশাই আগামীকাল সকাল সাড়ে ১০টায়, এঙ্গেজমেন্টের জন্য ভালো মুহূর্ত আছে বলে জানিয়েছে। -কালকে? -হ্যাঁ। কেনো? কোনো সমস্যা?

ভালো মুহূর্ত থাকলে, আমাদের আর কি সমস্যা?? আয়োজন করুন...

ভানুকে তুই ইচ্ছা করেই শেখরের সাথে.... তোর মা শুনলে মেরে ফেলবে! আমি তোর পায়ে ধরি, এসব ভুলে তোর মায়ের কথা শোন!

দাদা, আমি ভানুকে ভালোবেসেছি। -কোন ভানু??

পরশুর পার্টিতে যে পিংক ড্রেস পরে ছিলো, সেই মেয়ে...

কালকে তোর এঙ্গেজমেন্ট... এখন ফালতু বকা বন্ধ কর।

বাবা, শেখর ভানুকে পছন্দ করে। ভানুও তোমার মেয়ের মতো... ভালো মেয়ে।

তোকে কালবাপুড়ি পাঠানোই আমার ভুল ছিলো... ভেবেছিলাম, শুধু তুই-ই আসবি। কিন্তু সাথে করে আত্মীয়তার সম্পর্কও ফেরৎ নিয়ে এলি...

ভানুর বিয়ে নিয়ে তার ভাই মাথা ঘামাবে...

তুই মুখ বন্ধ করে, তোর মায়ের কথা শোন। ঠিক আছে?

মানে, এবার আমাকে সফলভাবে আত্মহত্যা করতে হবে?

এসেছে, ফুফা।

আসলে হয়েছে কি, আমার মা... -জানি!

আমি তোমার সাথে কালবাপুড়ি চলে যাবো... আজীবনের জন্য মা'কে ছেড়ে! -আগে তোমার বাড়ি যেতে হবে! চলো...

নাগাভেলি যাই করুক, আর যাই বলুক... সব মেনে নাও। আমাকে এত অবহেলা কেনো?! তোমাকে ভালোবাসি তা জানোনা?

জানিনা...

আমার মা দরজা বন্ধ করে দিয়েছিলো, কারণ- যা চেয়েছিলাম, তা পেয়ে গেছিলাম। তোমাকে যদি সাথে করে নিয়ে যাই, তোমার মা কি দরজা খোলা রাখবে?

চলো... তোমাকে বাড়ি পৌঁছে দিই।

তুমি পূরণ করতে পারো, এমন শূন্যস্থান আমি নয়... নিজেই যেতে পারি।

ভাইয়া... আমাদের নাগাভেলি কেনো কাঁদছে, বুঝেছি। কিন্তু ঐ মেয়েটি কেনো কাঁদছে? -তার কান্নার কারণ জানা দরকার! নাকি আমার কান্না থামানো দরকার!?

২য় টা।

তাহলে সেটাই দেখো! তুই ড্রাইভিং পারিস?? -হ্যাঁ, পারি! -গাড়ি আন।

ফুফা, আমি বলছি... আনু বাড়ি গেছে? -ও তোর ওখানে নেই? -নেই ফুফা!

ওর মা আর ওর মাঝে, আমি কি করে কি করবো বল...!

তুমি চিন্তা করো না, মামা! সব ঠিক হয়ে যাবে।

কিন্তু, কাল সকালে ওর এঙ্গেজমেন্ট! -সকালের মধ্যেই আনুকে নিয়ে আসবো। ঠিক আছে?

আমাকে আবার বয়রা করে দিওনা! আমি কিছুই জানিনা! -এই! আনাসুয়া কোথায় বল, ছেড়ে দেবো।

আনাসুয়াকে বস তুলে নিয়ে গেছে...

এই! ব্রেক ধর, নইলে সবাই মারা যাবো!

আনু, বাড়ি যেতে হবে... আসো। -আমি আসবো না! -ছোট বাচ্চাদের মতো করোনা! এসো!

মায়ের সাথে আমি কথা বলবো না! ঘৃণা করি তাকে! -ওকে! তোমার বাবার সাথে তো কথা বলবে... তার জন্য আসো।

তার জন্য আসবো??!!

আমাকে তার প্রয়োজন নেই, আমি জানি...! আমি আসবো না, আমি আসবো না, আমি আসবো না!

আনু, বের হবা? নাকি টেনে বের করবো? -টেনে বের করবা?! তার আগেই আমি মারা যাবো!!

আনান্দ সাহেব, আনু ম্যাডামের সাথে এসব ফালতু কথা কেনো বলছেন?? -সবাইকে মারতে চাও নাকি!

সে অনেক দুঃখে আছে। এত দুঃখ... দেখেও দুঃখ লাগে। -বিশেষ করে আমার খুব দুঃখ লাগছে।

ওকে.... সরি।

আমি তোমাকে কষ্ট দিয়ে থাকলে... সত্যিই দুঃখিত! নামো....!

নামবে?! এখন দরজা খুললেই সবাই পানির ভেতর পড়বো! কি বলছো জামাই বাবাজি এসব!?

আমি বাঁচতে চাইনা! আমি বাঁচতে চাইনা!

আপনি একা হলে, সমস্যা ছিলো না! কিন্তু সবাইকে নিয়ে মরবেন! আগে ঠান্ডা মাথায় ভেবে দেখুন, কিভাবে আমরা বের হবো! ততক্ষণ এমন নড়বেন না প্লিজ!

আসবে? নাকি না?

বাবা এসেছে! আর ভয় নেই! -ইয়েস! ভাইয়া এসেছে!

এই! ফেলে দে গাড়ি নিচেই!

তাকে মেরে আয়! তোদের সবাইকে ১ একর করে জমি দেবো!

এ কি! তোমরা গাড়িতে কিভাবে!

একটুও বুদ্ধি নেই তোমার!? গাড়ি ফেলে দিতো যদি! তোমার কথাতেই মারা যেতাম আমরা! আরে! আনাসুয়াকে তুলে নিয়ে এসেছিলাম আমরা!

তাহলে, এখন কি মাফ চাইবো আমি? -এ কি বলছে কাকা! -বলাবলির অবস্থায় আমি নেইরে! সূর্যাস্ত দেখছি...

কি ব্যাপার? এখানে ঘুমাচ্ছো! -মহা...

ভানুকে দিয়ে দিলে, আমি চলে যেতাম, ফুফা। -এঙ্গেজমেন্টের আগ পর্যন্ত এখানে থাকাই সুবিধাজনক।

বিকেলে পাঠিয়ে দেবো। তাকে যেতে বলো। এই.. তুই আয়...

বাড়িতে আলো পাওয়ার জন্য প্রতিবেশীদের বাড়ির আলো আটকানোর দরকার হয় না, ফুফা। পাঠাবে নাকি নিয়ে যাবো??

তুই দাঁড়া... আমি ভানুকে নিয়ে আসছি। ওয়েট!

ভানু... বাইরে আয়।

নিয়ে যা... -চল ভানু... -কি ব্যাপার!?

কেনো নিয়ে এলি ভানুকে? তুই তাকে বিয়ে করবি, ভেবেছিলাম! এখানে আনলি কেনো? ফুফা কষ্ট পাবে, তাই?

ফুফা...

ফুফার জন্য আনুকে....

কি হলো?

ছোটবেলায় ক্যারম খেলার সময় মা বলতো, একজনকে আনন্দ দিতে গিয়ে, অন্যজনকে কাঁদিও না। কিন্তু, আমি তাই করেছি... ফুফার কথা ভেবে আনুকে কাঁদিয়েছি।

সেদিন বাবা যে ভুল করেছিলো, তা আমি এখন করছি... ফুফুর জন্য নিজের জমি হারিয়েছিলো, ফুফার জন্য আমি আনুকে হারাচ্ছি।

আমাদের আনন্দ আমাদেরই খুঁজে নিতে হবে, অন্যের আনন্দের মাঝে নয়...

ধন্যবাদ ভানু... ধন্যবাদ। এক মিনিট...! আসছি...

আধাঘন্টার মধ্যে ডেকোরেশনের কাজ সম্পন্ন হওয়া চাই। ওকে? -ওকে ম্যাডাম।

একবার... (এদিকে আসবে!)

১ দিনে তোমার জন্য ১ লাখ খরচ করতে হয়েছিলো! সারাজীবন বহন করতে কত খরচ হবে, ভয় পাচ্ছি!

কিন্তু, বাকি ৯ দিনে ৯,০০০ ও খরচ হয়নি! একথা মনে করে কি সাহস পাওনা?

তুমি যা চেয়েছিলে, সব কিছু দিতে পারেনি! -দিও না!

টিভি, এসি চেয়েছিলাম। টিভি দিয়েছিলে। এসির জন্যও ব্যবস্থা তো করেছিলে... তাইনা!?

আমার রাগ হলে কি করি, আমি নিজেই জানিনা!

এভাবে মারার চেয়ে, সরাসরি মেরে ফেলাও ভালো...

সেদিন স্টেশনে যেভাবে হ্যান্ডশেক করেছিলে, সেভাবে করোনা যেনো আবার!

কি জাদু করেছো আমার মেয়েকে?? তার খরচের হিসাবও রাখা ধরেছো! ছাড়ো তাকে... ছাড়ো!

সে আমার! শুধু আমার নিজস্ব...

তুমি কিছু বলছো না কেনো? ২ ঘন্টা পর এঙ্গেজমেন্ট। তারা আসছে... আমার মান-সম্মান কি থাকবে?!

মান-সম্মান শুধু আপনারই আছে? আমার বাবার ছিলো না? আমার নিজস্বগুলোই কেবল গুরুত্বপূর্ণ, তার গুলো গুরুত্বহীন ছিলো?

আমাদের... কিভাবে ফাঁদে ফেলা যায়, তা জানা থাকলে- বাবা টাকা দেওয়ার জন্য শেয়ার চাইতো। তেমনটা হলে... আপনি এখানে থাকতেন, আমি ওখানে!

নান্দু... এসব কথা এখন কেনো?

থামিওনা, ফুফা... তার আজ জানা দরকার। তার জানা দরকার, কতদিন ধরে আমরা এ কষ্ট বহন করছি!

ফুফু, আমি কিছু কথা বলবো, মনে রাখবেন... আপনার বাড়িটাই হলো আমার বাবার সমাধি। আপনার বিনিয়োগ তার জীবনের সাথে খেলেছে।

আপনার প্রতি তার স্নেহ-ভালোবাসা ছিলো... উন্মাদের মতো! কিন্তু, তার প্রতি আপনার ভালোবাসা... ব্যবসা।

উপরে কিছু ছুড়ে দিলে, তা দ্বিগুণ গতিতে ফিরে আসে... ফুল ছুড়ে দিলে, ফুল। পাথর ছুড়ে দিলে, পাথর!

আপনি আমার বাবাকে ছুড়েছেন... এমনভাবে ছুড়েছেন যে, সে আর ফিরবে না...

আমার কাছে আপনার মতো প্রাসাদ... কিন্তু, আমার কাছে রাণী আছে।

ওপাশে ঘুরে একটু দূরে যাও আর এটি ফেলে দাও... তোমার অলসতা আছে।

কি করেছিলে বাবা?

কত কথা বললো, দেখলে? ভেতরে এত কথা রেখে, কিভাবে হাসি-খুশি থাকে? আমার ভয় হচ্ছে... আমি কি ভাইয়াকে ভালোবাসতাম না!

আমি ভুল করেছি... কিন্তু, তারাও আমার দেওয়া টাকা ছুড়ে মেরেছে!

অন্তত আমাকে ভেতরে ডাকতো, আমার ভাবী... আমি কি তার বোন না?!

মহা... তুমি দিতে গিয়েছো, তারা গ্রহণ করেনি। ঠিক আছে... এখন তারা যখন চাইছে, দিয়েই দেখো!

তোমার ভাইয়ের জীবনের জন্য তারা টাকা নেয়নি... আনাসুয়াকে দাও, যে তোমার জীবন থেকে প্রিয়। তারা কি রিজেক্ট করবে? করবে না।

তুমি দারুণ খেলোয়াড়, বাবা!

কোন পোশাক পরবো, মা? -কাকে বিয়ে করবো, তা কি শুনেছো? কি পরবে তা শুনতে চাচ্ছো...!

তুমি কি কি পছন্দ করোনা, সেসব কোনোদিন বলোনি। মিউজিক, ড্যান্স ইত্যাদি সব... এমনকি কাকে বিয়ে করতে চাও, সেটাও বলোনি।

তোমরা দুজনই আমাকে দূরে সরিয়ে দিয়েছিলে....

তাতে আমি দুঃখ পেয়েছি... কিন্তু, আমরা তোমাদের মতো ছেড়ে যেতে পারিনা! তাইনা? আমি তো তোমার মা...

তুমি কখনোই কি আমার ভালোবাসা বুঝলে না...

বাবার মৃত্যুর সময়, তুমি ফুফুকে ভেতরে ঢুকতে দাওনি... এজন্য....

আমি তোর বাবার মৃত্যুতে কাঁদছিলাম। তখন সে টাকা নিয়ে এলো। টাকার বদলে, চোখ মোছার জন্য একটা রুমাল দিতো। আমি তাকে গ্রহণ করতাম।

আনুকে এনে কি ভুল করেছি, মা? -সাহস রাখ... -আসলে মা...

সে অনেক ভালো মেয়ে। সবসময় তোর পাশে থাকবে।

এখন কেউ তোমার উপর ঘেউ ঘেউ করবে না... আমি ছাড়া! :P

মা আমার উপর রাগ করা ছেড়ে দিয়েছে... আমি তাকে দেখে ভয় পাওয়া ছেড়ে দিয়েছি...

নান্দু তার বাবার দুঃখ থেকে বেরিয়ে এসেছে... আমার লক্ষ্যে আমি ভালোভাবেই সফল হয়েছি।

তার জন্য এগুলো এভাবেই যাচ্ছে...

ঘি দাও...

এই না হলে আমার মেয়ে! এর থেকেও ভালো ছেলে আমরা খুঁজে পাবো! আষাঢ় শেষেই বিয়ে দেবো...

আমি খাচ্ছি, সেজন্যে না... তাদের মধ্যে যদি ঝগড়া হয়, নান্দু তাকে ডিভোর্স দিয়ে, আমাকে বিয়ে করবে।

সে পর্যন্ত বেঁচে থাকতে হবে তো... সেজন্যে!

শত্রু বাইরে হয়না রে... তারা ঘরেই বোন বা কন্যার রুপে থাকে...

আমার জীবনটা এমন যেনো, রাস্তা প্রসারের কাজ চলছে। তাই মাঝ থেকে কেটে ফেলা হয়েছে।

এই পান্ডু... ব্রান্ডি আন... ফার্ম হাউজে গিয়ে ঘুমিয়ে থাকি...

শান্তি পাবেন এমন কিছু আনবো?? -ধুর! ইডিয়ট! ইডিয়ট!

বাবা, বাবা... দাঁড়াও!

বিয়ে হলেই কি ছেড়ে দেবো?! -তো কি ফার্স্ট নাইটও দেখবো! -তা না... তার বোনের বিয়ের জন্য, কাউকেই গ্রামে ঢুকতে দেবো না।

কি বলেছিলি, কাউকে ঢুকতে দিবি না! কিন্তু, এতো অনেকগুলো গাড়ি! -এত গাড়ি ভানুর জন্য মোটেই না!

কে যেনো তার ভাই? -আনান্দ বিহারি! -ফুল বলা লাগবে না। হাফই যথেষ্ট! আনান্দের বাড়িটা কোথায়?

ভাঙাচোড়া বাড়ি সহজেই পেয়ে যাবেন... সামনে গিয়ে শুনুন... বিয়ে ঠিক করতে, এত গাড়ি কেনো এনেছেন??

খালি হাতে আসা কেমন হয়ে যায়... কিছু সোনা, কিছু মুক্তা নিয়ে এসেছি। মানে, আমার দায়িত্বে, তাদের টাকায়।

তুমি কি বুঝবে আমাদের টাকা বহনের ঝামেলা!

সে ধনী মেয়েকে বিয়ে করছে, তার বোনও দেখছি একই অবস্থা...

কিছু কি বুঝলি? -কি বাবা?

ভালোবাসার চর্চা করে নাগাভেলিকে হারিয়েছে... ফাইটিংয়ে তোকে... আমাকে বিভিন্ন ভাবে।

আমাদের ফ্যামিলি ফটো পূজা ঘরে থাকা উচিৎ!

এখন আমরা কি করবো?

Pressing Only!

মুভি শেষ! :D একটা অনুরোধ... সাবটির জন্য Kanaka Lakshman Surapaneni (facebook/Kanaka.Lakshman.1997) কে ইনবক্সে একটা থ্যাংক্স দিয়েন। :-)

তার সহায়তা ছাড়া, এই সাবটা বানানো অসম্ভব ছিলো। তাই, তার এটা প্রাপ্য। অনুরোধটি রাখলে খুশি হবো।

আমাকে থ্যাংক্স জানানোর দরকার নেই। আমি আপনাদেরই একজন। আল্লু অর্জুনের ফ্যান, সামান্থা ফ্যান... সমস্ত সাউথ তারকারই ফ্যান। :-)

সাব বা মুভি সম্পর্কে পজেটিভ/নেগেটিভ যেকোনো মতামত জানাতে... সাউথ মুভি নিয়ে নিয়মিত আলোচনার জন্য আমাদের গ্রুপ- "সাউথ ইন্ডিয়ান মুভি ফ্রিক"!

যোগ দিতে: সার্চ বক্সে লিখুন- SouthFreak অথবা ভিজিট: www.facebook.com/groups/SouthFreak

সাবের ভুল ত্রুটি মাফ করবেন... ভালো থাকুন, সুস্থ থাকুন, সাউথ মুভির সাথেই থাকুন। Akash Ahmed (Facebook.com/TollyAkash)

-= www.OpenSubtitles.org =-

Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.