Afrikaans
Akan
Albanian
Amharic
Arabic
Armenian
Azerbaijani
Basque
Belarusian
Bemba
Bengali
Bihari
Bosnian
Breton
Bulgarian
Cambodian
Catalan
Cebuano
Cherokee
Chichewa
Chinese (Simplified)
Chinese (Traditional)
Corsican
Croatian
Czech
Danish
Dutch
English
Esperanto
Estonian
Ewe
Faroese
Filipino
Finnish
French
Frisian
Ga
Galician
Georgian
German
Greek
Guarani
Gujarati
Haitian Creole
Hausa
Hawaiian
Hebrew
Hindi
Hmong
Hungarian
Icelandic
Igbo
Indonesian
Interlingua
Irish
Italian
Japanese
Javanese
Kannada
Kazakh
Kinyarwanda
Kirundi
Kongo
Korean
Krio (Sierra Leone)
Kurdish
Kurdish (Soranî)
Kyrgyz
Laothian
Latin
Latvian
Lingala
Lithuanian
Lozi
Luganda
Luo
Luxembourgish
Macedonian
Malagasy
Malay
Malayalam
Maltese
Maori
Marathi
Mauritian Creole
Moldavian
Mongolian
Myanmar (Burmese)
Montenegrin
Nepali
Nigerian Pidgin
Northern Sotho
Norwegian
Norwegian (Nynorsk)
Occitan
Oriya
Oromo
Pashto
Polish
Portuguese (Brazil)
Portuguese (Portugal)
Punjabi
Quechua
Romanian
Romansh
Runyakitara
Russian
Samoan
Scots Gaelic
Serbian
Serbo-Croatian
Sesotho
Setswana
Seychellois Creole
Shona
Sindhi
Sinhalese
Slovak
Slovenian
Somali
Spanish
Spanish (Latin American)
Sundanese
Swahili
Swedish
Tajik
Tamil
Tatar
Telugu
Thai
Tigrinya
Tonga
Tshiluba
Tumbuka
Turkish
Turkmen
Twi
Uighur
Ukrainian
Urdu
Uzbek
Vietnamese
Welsh
Wolof
Xhosa
Yiddish
Yoruba
Zulu
❝অনুবাদটি ভালো লাগলে গুড রেটিং এবং ফিডব্যাক দিয়ে উৎসাহিত করবেন।❞
শুভ বিবাহ
• • • অনুবাদক • • • আশিকুর রহমান, মোহাম্মদ সায়েম, চন্দন দোলুই, মিঠুন বিশ্বাস।
রিঙ্কু, কী করছিস? জলদি আয়!
এই খোইচ্ছা তোমার স্বামীর মঙ্গলের জন্য। [ 'খোইচ্ছা' — বিবাহের রীতি ]
এটা হারাবে না।
- এই, মুন্না! - বুঝেছ?
এদিকে আস।
জামাই, যাওয়া যাক?
মেয়েটা এখন চলে যাবে...
সাবধানে। ব্যথা পেয়েছিস, ফুল?
না।
একবার ঘোমটা দেওয়া ধরলে,
চোখ নামিয়ে চলতে শেখো।
বসো...
নোটিশ বোর্ড চল! বাস এসে গেছে!
ভেতরে জায়গা নেই, ছাদে বসুন।
- জলদি আসো। - আরভিন্দ, জলদি ব্যাগগুলো আনো!
- ফুল... - জলদি কর ...
সব গয়না খুলে...
আমাকে দাও।
বাসে ভিড় বেশি।
কখন চুরি হয়ে যাবে, টেরই পাবে না।
আমাদের গ্রামে একটা প্রবাদ আছে...
"গয়না চুরি হলে দ্বিগুণ কষ্ট হয়, প্রথম কষ্ট চুরিতে, দ্বিতীয় কষ্ট পুলিশি তদন্তে।"
বেলপুর-কাটারিয়ার যাত্রীরা সামনে আসুন!
শুভ তৃতীয়ার দিনে আরো একটা দম্পতি হয়ে গেল,
যেন শুভ দিনে বিয়ে করলে সুখী দাম্পত্যের নিশ্চয়তা দেয়!
ভাই, মেয়েটাকে বসতে দেবেন?
বসতে দাও।
বসুন, আপা।
সরো তো।
প্রদীপের স্যুট ওর থেকে ভালো।
যৌতুক হিসেবে কী পেলে?
আজকাল তো মোটরসাইকেল দেয়।
আমিও একটা পেয়েছি।
ট্যাঙ্ক ভরা!
- সত্যি? - হ্যাঁ।
আমরাও একটা মোটরসাইকেল পেয়েছি,
- দেড় লাখ নগদ টাকা, - ওহ!
- আর একটা মোবাইল। - মোবাইল পেয়েছি, কিন্তু নেটওয়ার্ক না পেলে কি লাভ!
রেখে দাও!
তো, তুমি কী পেয়েছো?
ছেলেটার নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা আছে।
দৈনিক ভাস্কর
ব্যবসায়ী-সৈন্যরা দস্যু কনের শিকার হয়েছে
পরবর্তী স্টেশন আসার আগে টয়লেট থেকে আসি, বুঝেছ?
এখানেই থাকবে।
যাত্রীগণ, দয়া করে মনোযোগ দিন। ট্রেন নাম্বার...
- ১২৫৬..... - খাওয়ার পানি! কারো লাগবে?
- এই, পানি! - জি, স্যার।
একটু পানি দাও তো।
- কত? - ১ টাকা, স্যার।
- দেখে নামা রে ভাই! - ট্রেন এখানে বেশিক্ষণ থামে না।
পানি লাগবে? ঠাণ্ডা পানি! পানি!
এ কেমন আচরণ? আগেই নামানো উচিত ছিল।
সরো।
সিট খালি দেখতে পাচ্ছ না?
এসে এখানে বসো।
সরো তো, সিট খালি হয়েছে।
আরাম করে বসতে পারব।
ভেতরে চলো। সিট পাবে।
দেখ, ওই সিটটা খালি।
সরে বসুন তো।
- পানির বোতল কিনেছ? - হ্যাঁ।
ধ্যাত্তেরি!
আগেই ভালো ছিলাম।
উঠো। আমাদের স্টেশনে এসে গেছি।
জলদি কর, এটাই শেষ বাস।
কী হলো? আসো।
ওখানে সিট খালি আছে। জলদি বসো।
বসো।
আগামী মাসে বিয়ে করবো।
তাই বাসর রাত নিয়ে চিন্তায় আছি।
দীপু আসলে ওর থেকে কায়দা কানুন জিজ্ঞেস করবো।
আমরা যেতে পারি?
চুপ করুন!
আপনাদের ভরসায় গান বানিয়েছি আর এখন...
- বাস এসে গেছে ! - উঠো!
চলো। চলো।
বাজানো শুরু করো!
জামাই সাহেব।
এদিকে দাও।
কি সব এনেছো?! সেই স্বাগতম করেছো!
কীভাবে করেছিস?
এত প্রশ্ন করা বন্ধ কর!
সুরজমুখী ১ কি.মি.
ভাবি,
আসুন।
নমষ্কার, চাচা।
আপনাদের বউ।
- নতুন চাচি এসেছে! - নতুন চাচি এসেছে!
- এই! দীপু এসেছে! - নতুন চাচি এসেছে!
- চাচি এসেছে! - ওখানে দাঁড়াও!
তোমার ছেলে এসেছে।
বাবলু!
আমাকে ছেড়ে কেন চলে এসেছিলে?
- আপনি চাচির সাথে ছিলেন! - প্রনাম, বাবা।
আশির্বাদ রইল। এত দেরি হলো কেন?
দেশে কী সময়মতো সব হয়?
- আশির্বাদ কর, মা। - আশির্বাদ রইল, সোনা। ভেতরে চল। - বৌমা'কে নিবে না? - ওকে ভুলেই গিয়েছিলাম। চলো, সোনা।
অনেক চিন্তা হচ্ছিল।
- প্রণাম, দাদী। - আশির্বাদ রইল।
যশোদা, সৌভাগ্য বয়ে আনার জন্য ঘি দিয়ে প্রদীপ জ্বালাও।
সৌভাগ্য বয়ে আনবে? ঘি আছে কি না কে জানে!
- পুনম, পূজোর থালাটা দে। - দাদার আশির্বাদ নাও আগে।
বাতিটা জ্বালাও।
সুখী হও!
দাদা, প্রণাম!
- সাবধানে থাকো! - আজকে তো "সুখে থাকো" বলতে পারতে।
ভাবি, ভাইয়্যা কি শহরে পৌঁছেছে?
দীপু, এদিকে আয়।
পুনম, থালাটা দে।
যশোদা, পুজোটা আমি করতে চাই।
এই নিন।
আমার শেষকৃত্যের পুজোটাও আপনি কইরেন।
বাদ দাও। তুমিই কর।
না, আপনি করেন।
কে জানে বাবলুর বিয়ের সময় বেঁচে থাকবেন কি না।
না, তুমিই কর!
নাও।
ঠিক আছে।
আমার...
সোনা ছেলে!
ঘোমটা উঠাও, সোনা। এখানে সবাই বাড়ির লোক আছি।
কী হলো?
ঘোমটা উঠাও, ফুল।
লজ্জা পাচ্ছে মনে হয়!
ঘোমটা উঠাও!
ওহ, ইশ্বর!
- কী হলো? - হয়েছেটা কী?
- কী হলো? - জানি না!
কী হয়েছে?
- এটা কে? - ও কে?
- কে তুমি? - কে ও?
আপনার স্ত্রী, তাছাড়া আবার কে?
আমি? তুমি...
ট্রেনে....
ট্রেনে কী হয়েছিল?
কী হলো? চলো।
চাচী বদল হয়ে গেছে?
চাচী বদল হয়ে গেছে!
- চাচী বদল হয়ে গেছে! - ওই, বাবলু!
পুনম, বাবলুকে থামা! কথাটা পুরো গ্রামকে জানাবে।
ওই, বাবলু!
স্ত্রী হারিয়ে ফেলেছিস।
খাইছে রে!
এমন কান্ড দেখে আমাদের পূর্বপুরুষরা পর্যন্ত চমকে যাবে, দীপক।
সাথে কে চলছে সেটা কীভাবে টের পাসনি?
কারো লাগেজ বা জুতা বদল হলে মানতাম,
বা ভুল করে কারো ছাতা বা সাইকেল আনলেও মানতাম।
অন্যের স্ত্রী কীভাবে নিয়ে আসিস!
একই লাল শাড়ি পরা, উচ্চতাও একই,
- তার ওপর লম্বা ঘোমটা দেওয়া, তো... - চুপ কর!
সব দোষ এখন ঘোমটার!
উমি ঠিক বলেছে।
তাই না?
তাবুর মতো ঘোমটা এমতাবস্থায় চেহারা কীভাবে দেখবে...
নিজের জুতা ছাড়া কিছুই দেখা যায় না।
ওর জুতা দেখে চিনতে পারিসনি?
- ঠিক! - এই ভুল কীভাবে করলি?
নতুন স্বামী, নতুন জুতা।
কীভাবে চিনব?
তার ওপর, ট্রেন ছিল ফুল।
সাথে একই বগিতে দু-তিন জন নবদম্পতি ছিল।
এমতাবস্থায় যে কেউ গুলিয়ে ফেলবে।
যে মেয়েটাকে রেখে এসেছে...
সেও ঘোমটা দিয়ে ছিল।
এখনো হয়তো জানে না ওর স্বামী ওকে ছেড়ে চলে এসেছে।
ও নিশ্চয়ই চিন্তায় মরে যাচ্ছে।
কাজটা অনেক খারাপ করেছিস।
বাবা...
আমি স্টেশনে যাচ্ছি।
- যা। - এবার হুশ ফিরেছে! - দাঁড়া, দীপু!
- আমরাও সাথে যাচ্ছি। - হ্যাঁ, জলদি যা।
- চল! - চল।
ওর কী হবে?
কেউ হয়তো ওর খোঁজ করছে।
- ওকে সাথে নিব? - গাধা একটা!
নিজের সাইকেলে অন্যের স্ত্রীকে বসাতে চাস?
বেয়াদব!
তোমার নাম কী?
পুষ্পা।
পুষ্পা রানি।
- স্বামীর নাম? - কী?
স্বামীর নাম কেউ মুখে নেয়?
হ্যাঁ, ঠিক বলেছ।
পঙ্কজ।
গ্রামের বাড়ি?
সাম্বেলা।
ওটা কই?
- ছত্তিশগড়। - ছত্তিশগড়!
ছত্তিশগড়!
শ্বশুর বাড়ি?
মনে করতে পারছি না।
বাড়িতে কোনো মোবাইল আছে?
নাম্বারটা লেখ, গুঞ্জন।
পুনম, ও তোমার সাথে ঘুমাবে।
পটিলা
কোনো জিনিস যেন পড়ে না থাকে।
উঠো!
জিনিসটা নিচে না রেখে ওখানে রাখ।
- সাবধানে। - মেয়েটা কোথায় গেল?
- হ্যাঁ। - জয়া?
জয়া?
আরে, জয়া!
জয়া কোথায় গেল?
জয়া!
দুঃখিত। অন্য কেউ ভেবেছি।
হারিয়ে গেছ নাকি?
কোনো সাহায্য লাগবে?
- ওকে একবার পেয়ে নিই, উচিত শিক্ষা দিব। - পেয়েছিস? - না।
- কোথায় গেল মেয়েটা? - মোবাইলও ওর কাছে!
- রিকশা! - কোথায় যাবেন, ভাই?
- রিকশা! - রাতে আর গাড়ি পাবেন না।
- রিকশা? - আসুন! ভাড়া বেশি নিব না।
- ভাই, যাবেন? - একদম সস্তা!
- কোথায় যাবেন? - রিকশা! - একা? চলেন!
- কোথায় যাবেন? - আমার সাথে আসুন।
আমার সাথে আসুন।
আপনার লাগেজ কোথায়?
- আপা, আমার কথা শুনুন! - আমার সাথে আসুন...
- ও কোথায় গেল, বাল? - ধুর বাল!
মোবাইলটা আমাকে দিতে পারতে, কিন্ত না।
বউ পেয়ে, মাকে ভুলে গেছ!
- চুপ কর! - প্রণাম, চাচা।
চাচী...
- আশির্বাদ কর। - ঠিক আছে।
- কী হয়েছে, প্রদীপ ভাই? চিন্তিত দেখাচ্ছে। - ইশ্বর তোমার মঙ্গল করুন!
- জয়াকে পাচ্ছি না! - হ্যাঁ।
তোরা গিয়ে খোঁজ।
- পাওয়া যাচ্ছে না। - হ্যাঁ।
- ওই, সাম্ভু! - জি, ভাই?
- তাদের নিয়ে গকুলপুর যা। - ওকে।
- চলো, চাচা। - চল।
তাকে কিন্তু অবশ্যই খুঁজে বের করবি!
ও আমার দেওয়া সোনার হার এবং চুরি পরে আছে।
সাথে আছে যৌতুকের ১৫০ গ্রাম সোনা।
এমনিতেই আসতে যে ধকল গেছে... তার ওপর আবার মেয়েটাকে খোঁজার ঝামেলা!
- তাকে খুঁজে বের করব। চিন্তা কইরেন না। - অবশ্যই চিন্তা হচ্ছে।
প্রদীপ ভাই...
- সাথে করে এনেছিস? - হ্যাঁ। - সাবাশ! যা। - ওকে।
- ভালোভাবে খুঁজবি। - অবশ্যই।
ফুল!
ফুল!
চিন্তা করিস না, দীপু।
ওকে খুঁজে বের করবই।
জয়া ভাবি?
ভাবি!
প্রদীপ ভাই!
সব জায়গায় খুঁজেছি। কোথাও পাইনি।
ওকে একা একা মরতে দে!
কালকের মধ্যে খুঁজে না পেলে...
- ওর বাড়িতে এবং পুলিশকে জানাব। - ঠিক আছে।
- ওকে। - তাছাড়া,
মোটরসাইকেল তো বাড়িতে পৌঁছে গেছে।
আমি ডলির ওখানে যাচ্ছি!
প্রদীপ ভাই!
- আরে বাসর রাত তো পালন করা লাগবে। - চল। - হ্যাঁ!
জেগে থাকো!
পটিলা
দীপক
ওই, মেয়ে!
দাঁড়াও, শোন!
ওই, আব্দুল!
ওকে ধাওয়া করা বন্ধ করবি?
দেখলি?
বেচারিকে ভয় পাইয়ে দিয়েছিস।
ও ট্রেন থেকে পড়ে পা দুটো হারিয়েছে।
রেললাইনের ধারে তাকে পেয়েছিল।
তখন থেকেই এখানে থাকে।
ও অতটা ভয়ানক না।
তুমি কোথায় যাবে?
হারিয়ে গেছ?
আমি সাহায্য করছি।
চলো।
আমার সাথে চলো। ভয় পেও না।
LOST AND FOUND THINGS PATEELA STATION
"মিসেস ফুল কুমারি।"
স্বামীর নাম?
স্বামীর নাম না বললে, ওকে খুঁজব কীভাবে?
দীপক।
কোথা থেকে এসেছ?
বাড়ি থেকে।
গঙ্গাপুর থেকে।
ইন্ডিয়াতে ১০০ টা গঙ্গাপুর আছে,
এমনকি যেখানে গঙ্গা নেই সেখানেও আছে।
এই পটিলাতেই দুটো গঙ্গাপুর আছে।
কোন স্টেশন থেকে উঠেছিলে?
ট্রেনে উঠেছিলে কোথা থেকে?
আমাদের গ্রামে কোনো স্টেশন নেই।
মাঠের মধ্যে একটা রেললাইন ছিলো, ওখান থেকেই উঠেছি।
স্বামীর সাথেই নেমেছিলে?
তারপর ও গায়েব হয়ে যায়?
মানে তোমার শ্বশুর বাড়ি পটিলার আশেপাশে কোথাও হবে।
তাই না?
আশেপাশের কিছু গ্রামের নাম বলছি দেখ মনে পড়ে কি না।
ছাতিয়ারি। গারনি।
জিউল। খাবারিয়া।
বেনাপুরি। রাউয়াল।
নিটেলি। মাঙগাতিয়া
লাগুলি। শিল্পেন্তি।
কিছু মনে পড়েছে?
আমার শ্বশুর বাড়ির নামে কোনো ফুলের নামে আছে।
কিন্তু 'ফুল' তো তোমার নাম!
ও কোনো নাম বা নাম্বার মনে করতে পারছে না, কীভাবে সাহায্য করব?
ছোটু, ওকে থানায় নিয়ে যা।
না। থানায় যাব না।
উনি আমাকে খুঁজতে আসবেন। থানায় যাব না।
কেন?
"গয়না চুরি হলে দ্বিগুন কষ্ট হয়।
প্রথম কষ্ট হয় চুরিতে।
দ্বিতীয় কষ্ট হয় পুলিশি তদন্তে।"
ভয় পাইয়ে দিয়েছ।
চাচী, আমার গয়না আর কাপড়গুলো রাখতে পারবেন?
যাওয়ার সময় নিয়ে যাব।
দীপু, জলদি কর।
- আসছি! - দাঁড়া, দুটো রুটি নিয়ে যা।
লাগবে না, মা। দেরি হয়ে যাবে।
বেশি সময় লাগবে না, বেটা।
এদিকে আস।
বল, বাবা।
নতুন ঘড়ি আর জামা কাপড় খুলে যা নইলে পুলিশ খুলে রাখবে।
ওদের সামনে বড়োলোকি ভাব দেখাস না।
জি, বাবা।
- জলদি চলে আসব। - হ্যাঁ।
পুষ্পা।
বলছিলাম কী...
আমার সাথে থানায় চলো।
একসাথে তোমার কাজও হয়ে যাবে।
ভয় করে।
গতকাল, কোথাও ফোন পাইনি,
কিন্ত আজ তুমি যে সুস্থ আছ সেটা তোমার বাড়িতে জানিয়ে দিব।
এমন ভুলের জন্য আমি সত্যিই লজ্জিত।
চিন্তা কোরো না।
ফুলকে পাই বা না পাই, তোমাকে নিরাপদে বাড়ি পৌঁছে দিব।
ওয়াদা করছি।
এই নে, বেটা। খাবারগুলো নিয়ে যা।
এখানে বসো।
শ্যাম মনোহর
ম্যাডাম, সুরেলা গানের জন্য জরিমানা ১০,০০০ কম করলাম।
হ্যাঁ।
এই, এদিকে আস!
ওয়াও, দারুন!
মদ খেয়ে মারামারি করবে না।
শেষে তোমার মা'কে জরিমানা গুনতে হয়।
এখন আপনারা যান।
ওহ!
চলো।
মি. শ্যাম মনোহর পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্ট।
স্যার, আমি গুঞ্জন।
MLA সাহেবের খাস লোক।
স্যার, ও আমার বন্ধু দীপক।
দীপক কুমার।
তিনদিন আগে ওর বিয়ে হয়েছে।
গতরাতে স্ত্রীসহ বাড়ি ফেরার সময়,
স্ত্রীকে হারিয়ে ফেলে, স্যার।
কীভাবে করলি রে?
আমি এতগুলো বছর ধরে চেষ্টা করছি, শালা আমারটা হারাচ্ছে না।
স্যার মজা করল আরকি।
১৫ হাজার লাগবে।
এখানে ৫ আছে। বাকি ১০ হাজার কোথায়?
ওই-ও গাইতে পারে, স্যার।
না, তুই গেয়ে শোনা।
এই সেরেছে!
আমি গাইতে পারি না!
সমস্যা নেই, আমি শিখিয়ে দিচ্ছি। বেলাজি!
স্যার, MLA এর সাথে কথা বলিয়ে দিব?
- দুবেজি। - জি, স্যার।
রেজিস্টারের খাতা নিয়ে আসো।
এবার বল।
আমার গ্রামের নাম সুরজমুখী।
চার দিন আগে, ২৭ তারিখে, গঙ্গাপুরের ফুল কুমারির সাথে আমার বিয়ে হয়।
বিয়ের পরের দিন সবাই চলে আসলেও, আমি থেকে যাই।
ফুলের মৃত নানীর শেষ ইচ্ছে ছিলো যেন আমরা
বিয়ের পর পূজা করি।
তাই শ্বশুরবাড়িতে দু'দিন ছিলাম।
তারমানে বিয়ের পর স্ত্রীর সাথে দুই রাত মজা করা হয়ে গেছে?
অন্তত বিয়ের কিছু খরচা তো উসুল করেছিস। তাই না, দুবেজি?
গতকাল বাড়ির উদ্দেশ্য রওনা হই।
বেলপুর কাটারিয়া এক্সপ্রেসে উঠে মুর্তি স্টেশনে এসে নামি।
তারপর বাসে করে সোজা বাড়ি চলে যায়।
কিন্তু বাড়িতে গিয়ে বুঝতে পারি যাকে সাথে এনেছি
সে আমার স্ত্রী ফুল না।
তাহলে মেয়েটা কে?
পুষ্পা।
অন্যোর স্ত্রী।
কিসব বলছিস!
শুধু নিজের স্ত্রীকে হারাসনি, অন্যেরটাও নিয়ে এসেছিস!
স্যার, এমনটা করতে চাইনি।
ফুলের বদলে কোনো পুষ্পাকে আনব কখনো ভাবিনি।
কী নাম যেন বললি?
পুষ্পা রানি।
ওর স্বামীর নাম কী?
পঙ্কজ।
ওকে সাথে কেন আনিসনি?
আসতে বলেছিলাম, কিন্ত সে নাকি পুলিশ দেখলে ভয় পায়।
ভয় পায়? এখানে ভয় পাওয়ার কী আছে?
নিজের স্ত্রীর কোনো ফটো সাথে এনেছিস?
হ্যাঁ, স্যার।
স্রেফ এই ফটো আছে, বিয়ের দিন তুলেছিলাম।
ওয়াও!
অনেক সুন্দর রে!
- ওর শরীরে কোনো দাগ বা তিল আছে? - আছে, স্যার, তার নাকের নিচে একটা ছোট্ট তিল আছে।
সরিষা দানার মতো সাইজ।
ওহ, ফটোতে এটা দেখতেই পাইনি।
দুবে-জি, জলদি এটা লিখ!
নাকের নিচে একটা ছোট্ট তিল আছে।
সরিষা দানার মতো সাইজ।
যে গয়না সে পরেছিল... ওসবের মূল্য কত হবে?
- ওর থেকে সব খুলে নিয়েছিলাম। - আর যাকে বাড়িতে এনেছিস... ওর গয়নার মূল্য?
ভালোই দামী হবে।
ওর বাবার বাড়ি কোথায়?
- ছত্তিশগড়। - বাড়িতে কল দিয়েছিলাম। কিন্তু বারবার ভুল নাম্বারে কল যাচ্ছিল।
আচ্ছা?
ওকে, আমরা খোঁজ শুরু করব। তোরা এখন যা।
আর হ্যাঁ...
কাল পুষ্পা রানিকে সাথে আনবি।
ওকে।
স্যার, ওর নামে অপহরণের মামলা দিব নাকি?
ধারা ৩৬৩ আর ৩৬৬ মতে ওকে ধরতে পারব।
ওর জামাকাপড় দেখেছ?
শালা জন্ম থেকেই গরিব।
তাকে ধরলে কিছু পাব কী?
আসল সোনার হাঁস তো...
আমাদের পুষ্পা রানি।
দেখি কাল আসে কি না।
জি, স্যার।
নতুন চাচীও হারিয়ে গেছে।
- নতুন চাচীও হারিয়ে গেছে! - কী?
- নতুন চাচীও হারিয়ে গেছে! - মা, বাবলু এসব কী বলছে?
ওই পুষ্প রানি মেয়েটা...
তুই বের হবার পরেই, মন্দিরে যাওয়ার কথা বলে
আর ফিরেনি।
ওকে একা যেতে দিলে কেন?
এই বাড়িতে পূজা করার সময় কারো আছে?
পুরো গ্রাম খুঁজে দেখেছি।
কোথাও পাইনি।
লোকে কী বলবে?
আমরা দায়িত্বহীন মানুষ, দুদিনে দু'জন নববধূকে হারিয়েছি!
এমন দূর্ঘটনা প্রথমবার শুনলাম।
তাই ওকে বলেছি, চলো মাঞ্জু মাইয়ের দোকানে চল।
সে একটা উপায় বের করে দিবে।
এখানে ছোট থেকে কাজ করছি।
মাই অনেক দয়ালু।
বাসনগুলো ধোঁ।
তোর শ্বশুর বাড়ির গ্রামের নাম জানলে, সেখানে পৌঁছে দিতাম।
ঠিক বলেছ!
ও বলেছে গ্রামের নামটা কোনো ফুলের নামের সাথে মিল আছে।
গোলাপ, কমল, চম্পা, চামেলি, মতিয়া, কানার, ধাতুরা।
সবগুলোর নাম বলেছি।
আমার জানা সবগুলো ফুলের নাম বলেছি
তাও ফুলকুমারির শ্বশুরবাড়ির নাম খুঁজে পাইনি।
ও হয়তো জানেও না কোন গঙ্গাপুর থেকে এসেছে।
জানতে পারলেও, ফিরে যেতে চায় না।
কেন?
লোকে নিন্দা করবে, দাদি।
ওরা ভাববে আমার কোনো সমস্যা আছে...
এজন্য স্বামী স্টেশনে ছেড়ে চলে গেছে।
কতগুলো সামোসা নিয়েছ?
দুইটা।
তাহলে চাটনি চারবার কেন নিলে?
চাটনি চুবিয়ে খাবার জন্য, পান করার জন্য না।
খাওয়া বন্ধ কর।
লোকের কথা পরে ভাবিস।
আগে গ্রমের ঠিকানা খুঁজে বাবার বাড়ি যা।
এক কাপ চা আর এক রুটি পাকোড়া।
ভালো ঘরের মেয়েরা স্বামী ছাড়া কখনো বাবার বাড়িতে যায় না।
এই নাও।
"ফ্রড" এর মানে বুঝিস?
ধোঁকা দেওয়া বা কাউকে বোকা বানানোকে ইংরেজিতে "ফ্রড" বলে।
বহুদিন ধরে, এই দেশে মেয়েদের সাথে এসব চলছে।
যাদেরকে বলা হয়...
"ভালো ঘরের মেয়ে।"
আমার সাথে কোন ধোঁকাবাজি হয়নি।
আমাকে উপযুক্ত শিক্ষা দিয়ে
ভালো করে মানুষ করেছে।
ছোটু, সালমান খানের ঠিকানা কোথায় যেন?
গ্যালাক্সি এপার্টমেন্ট, বান্দ্রা, মুম্বাই।
ছোটু সেখানে যেতে না চাইলেও, ঠিকানা ঠিকই মনে রেখেছে।
আর তুই যেখানে সারাজীবন থাকবি সেখানকার ঠিকানা বলতে পারছিস না!
তোর মা তোকে ভালো না,
বোকার মতো মানুষ করেছে।
আমি বোকা না।
ঘরের সব কাজ জানি।
- আমি সেলাই, রান্না, গান গাওয়া, প্রার্থনা সব... - বাড়ি যেতে পারিস?
বোকা হওয়া লজ্জার কিছু না।
কিন্তু বোকা হয়ে গর্ব করা লজ্জার কথা।
ওকে নিয়ে যা।
সে কোথায় যাবে, মাঞ্জু মাই?
- দু'দিন এখানে রাখো। - ভাগ এখান থেকে!
আশ্রয়কেন্দ্র খুলে বসেছি নাকি?
খাইতে দিলে, লোকজন শুইতে চায়।
নমস্কার, দারোগা বাবু!
প্রদীপ!
এত সকালে থানায় আসার কারণ কী?
আবার কাউকে কেলিয়েছ নাকি?
শ্বশুরবাড়ি খবরটা জানিয়েছি।
ভাবলাম আপনাকেও জানাই।
এমনিতেই আমার ওপর প্রথম স্ত্রীকে পোড়ানোর অভিযোগ আছে,
ভাববে এটাকেও খালাস করেছি।
রিপোর্ট লেখো।
কী হয়েছে?
স্ত্রী হারিয়ে গেছে।
তারপর।
পেয়েছি! নতুন চাচি চলে এসেছে।
চুপ কর! ওটা তোর চাচি না।
তুমি কি পুষ্পা?
হ্যঁ।
এতক্ষণ কোথায় ছিলে?
তখন না বললাম মন্দিরে যাচ্ছি।
সেখানে প্রার্থনা করছিলাম।
পাঁচ ঘন্টা ধরে?
নিজের শ্বশুর বাড়ি না কি সোজা স্বর্গে যাবার প্ল্যান করছিলি?
নিজে তো কখনো মন্দিরে যাবে না
আবার অন্যরা গেলে বকাঝকা করবে।
আমিও মন্দিরে গিয়েছিলাম,
তোমাকে তো দেখলাম না।
এখানে নতুন, তাই লম্বা করে ঘোমটা দিয়ে রেখেছিলাম।
এই বালের ঘোমটা যত সব নষ্টের গোড়া।
ফুলের পরিবর্তে ওকে নিয়ে আসায়, আমাকে বকা দিয়েছিলে,
- এবার বুঝেছ তো কেন এমনটা হয়েছিল? - বাবার মুখের ওপর কথা বলবি না!
প্রসাদ।
ভেতরে চলো।
তাকিয়ে কী দেখছিস?
সবার জন্য চা বানিয়ে আন।
জ্যোতিষীর থেকে দক্ষিণা ফিরিয়ে আনবে।
ওর কথা মতো বিয়ে দিয়ে যত ভ্যাজালে পড়েছি।
মা, আমি চা খাব না।
দারোগা কী বলেছে?
খোঁজাখুজি শুরু করবে।
কত টাকা চেয়েছে?
১৫ হাজার।
কিন্তু দিয়েছি ৫ হাজার।
পুষ্পার বাড়িতে কল করেছিলাম।
বার বার ভুল নাম্বারে কল যাচ্ছে।
দারোগা তোমার সাথে দেখা করতে চেয়েছে।
তোমাকে কাল যেতে হবে, পুষ্পা।
ফুলের মা বাবার কাছে চিঠি পাঠাব নাকি?
কী লিখবে?
"আপনাদের মেয়েকে হারিয়ে ফেলেছি। আমাদের মাফ করে দিবেন।"
তাহলে কয়েকদিন অপেক্ষা করা যাক।
ইশ্বর চাইলে, ফুলকে একবার খুঁজে পেলে,
সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে।
তোমাকে ইংরেজিতে কিছু বলি?
গতকাল, আমি কুলার মটোরের বাঁধাই ঠিক করেছি।
ইংরেজিতে স্রেফ কয়েকটা শব্দই বলতে পারি।
কিন্তু পরিবারের সবার মধ্য থেকে আমিই একমাত্র ইংরেজি জানি।
ইংরেজিতে একটা সম্পুর্ণ বাক্য বলব?
আই লাভ ইউ।
দুবে-জি, ফ্যাক্স...
স্যার।
মাত্র ফ্যাক্সটা পেয়েছি।
হারিয়ে গেছে মিসেস জয়া প্রসাদ সিং
রেজিস্ট্রারটা দাও।
"বেলপুর - কাটারিয়া এক্সপ্রেস।"
২৯শে জানুয়ারি।
"২৯শে জানুয়ারি।"
মি. টি. পি. ত্রিভুবন পুলিশ সুপারিন্টেন্ডেন্ট
- হ্যালো। - হ্যালো। পটিলা থানা?
- মি. ত্রিভুবন? - হ্যা।
মুর্তি থানা থেকে, ইন্সপেক্টর মনোহর বলছি।
জয় হিন্দ, ইন্সপেক্টর মনোহর।
- বল। - জয় হিন্দ।
মাত্র আপনার ফ্যাক্স পেয়েছি।
প্রদীপ সিঙ্গের স্ত্রীর ব্যাপারে?
হ্যাঁ। জয়া।
- তাকে খুঁজে পেয়েছেন? - না, এখনো পাইনি।
কিন্তু একই রাতে, একই ট্রেন থেকে,
আরো একজন নববধূ হারিয়েছে।
যার রিপোর্ট এখানে করা হয়েছে।
দু'জন নববধূ একই ট্রেন থেকে হারিয়েছে?
এটা কি চাঁদপুর ব্রাইড গ্যাঙ্গের কাজ?
ওরা মিথ্যা বিয়ের নাটক করে নববধূর সব গয়না হাতিয়ে নেয়।
হতে পারে।
কিন্তু সমস্যা হলো ফুল হারিয়ে যাওয়ার আগে ওর সব গয়না
খুলে রেখেছিল।
এদিকে জয়ার কাছে ১৫০ তলা সোনা সহ...
একটা ফোন ছিলো।
কত?
১৫০ তলা।
এটা কি রিপোর্টে উল্লেখ করেছেন?
এখনো করিনি।
- তাহলে করার দরকার নেই। - ঠিক আছে।
মেয়েটার একটা ফটো পাঠাতে পারবেন?
ঠিক আছে, ফটো হাতে পেলেই পাঠিয়ে দেব।
রাখলাম তাহলে।
- জয় হিন্দ। - জয় হিন্দ।
পুষ্পা রানির ওপর নজর রাখা লাগবে।
ফুল, শান মুভিটা দেখেছ?
যেটাতে "শাকাল" নামের ভিলেন রয়েছে?
মনে আছে, সে গাইত...
আমার নাম আব্দুল আমি সবার উপর নজর রাখি
দেখনি?
- আব্দুল, তুই দেখেছিস? - অবশ্যই।
- এজন্যই তার নাম আব্দুল। - এজন্যই ছোটু আমাকে আব্দুল বলে ডাকে। (মাঞ্জুর চায়ের দোকান)
সুন্দর, তাই না?
সবাই এটাকে, "ছোটুর মহল" বলে।
আজকে তুমি আমার অতিথি।
ভাই, ঢুকে পড়।
ঠিক আছ, আব্দুল,
আজকের মতো তোর কাজ শেষ।
কিন্তু সে তো...
ওর পা ঠিক আছে চাইলে জোরে দৌঁড়াতেও পারে।
বাড়িতে সবাই আমাকে 'খরগোশ' বলে ডাকে!
আসো। এখানে ঘুমাও।
ওকে, শুভ রাত্রি!
দুনিয়াটা বড়োই আজব জায়গা।
এখানে যেমনটা দেখা যায় তেমনটা ঘটে না।
আর যেমনটা ঘটে তেমনটা দেখা যায় না।
এবার ঘুমাও!
জেগে থাকো!
জিনিসটা মাঞ্জু মাই'কে দাও, নিরাপদ থাকবে।
দাদি...
এই খোইচ্ছা আপনার কাছে রাখতে পারবেন?
নিজের স্বামীকে হলুদ, চাল আর ঘাসপাতা দিয়ে রক্ষা করছিস?
যে তোকে রক্ষা করতে পারেনি?
ও অবশ্যই আমার খোঁজ করছে।
ভরসা রাখো, দাদি।
তুই যত পারিস ভরসা কর, আমি কেন করব?
তাকে তো আমি চিনি না!
ও তোর মজা লুটে, সকল গয়না নিয়ে, এখন পালিয়েছে।
ও তোর খোঁজ কেন করবে?
নাও খানিকটা।
এইবারের মতো নাও।
নে বলছি!
তো, তুই কী নিবি?
দুইটা রুটির পাকোড়া।
ঠিক আছে।
- দুই কাপ চা, একটা সামোসা। - এক্ষুনি দিচ্ছি।
ওই, ফুল, ওখানে কী শুধু গোমড়ামুখে বসে থাকবি?
কয়েকটা রুটি পাকোড়া ভাজি করে দে।
জলদি!
যাও!
যাও!
যাও।
গৌরি, রাতে এতো ডাকিস কেন?
মা...
দাদু কি এক চোখ খোলা রেখে ঘুমায়?
ওই-ই ভালো বলতে পারবে....
ও কলকাতায় ৩৫ বছর ধরে চৌকিদারি করেছে।
রাত জাগা তার রন্ধ্রে রন্ধ্রে ঢুকে গেছে।
সে রাত দিনের ফারাক ভুলে গেছে।
জেগে থাকে না-কি ঘুমে থাকে, ওই-ই ভালো বলতে পারবে...
- সতর্ক-- - সতর্ক থাকো!
কাকি বলল তোমার স্বামী শহরে চৌকিদারের কাজ করে।
সেখানে কি একা থাকে?
তুমি সাথে যেতে চাও না?
ওর প্রতি গর্ব বোধ হচ্ছে।
বোবা মেয়ে বিয়ে করতে হলে সাহস লাগে।
আমি বোবা না।
তোমার সাথে ইয়ার্কি করলাম।
কথা বলতে পারলে, সবসময় চুপ থাকো কেন?
বাবলুর বাবা তো থাকে না,
কার সাথে কথা বলব?
স্বামীর নাম ধরে ডাকো না কেন?
স্বামীর নাম ধরে ডাকতে হয় না।
সেদিন যখন সবার সামনে নিজের স্বামীর নাম বললে,
আমার তো চোয়াল খসে পড়ার উপক্রম হয়েছিল।
স্বামীর এতো সুন্দর নাম থাকতে, ডাকব না কেন?
তুমি আজব কথা বলো।
এভাবে তাকিয়ে কী দেখ?
গতকাল মন্দির থেকে হরির সেন্ডেল চুরি হয়ে গেছে।
তাই সে অন্য কারোরটা নিয়ে এসেছে।
আচ্ছা?
কাজটা কিন্তু ঠিক করেনি।
সে বলে, "চেন্ডেলের উপর কারো নাম লিখা আছে নাকি।
চেন্ডেল যার পায়ে চেন্ডেল তার."
হরি বলেছে, আপনিই আমাদের চাচি।
আপনার উপর কোনো নাম লিখা আছে।
এই বাবলু স্কুলে যাবি না?
- না, যাব না। - ঠিক আছে, চল!
জয়া
বেলা কুমারী
বেলা ম্যাডাম, স্পোর্টস কোঠায়।
যা জিজ্ঞেস করব সত্যি বলবেন...
নইলে ও করবে।
নাম?
পুষ্পা রানি।
পিতার নাম?
রাজেন্দ্র প্রসাদ।
বাড়ির যে নাম্বার দিয়েছ সেটা তো সত্যদেব দর্জির নামে।
নিজের বাড়ির ভুল নাম্বার মনে রেখেছ?
মুখ দেখালে কি কান্না পায়?
এরকম কিছু করেছ নাকি?
ঘোমটা উঠাও...
দারোগা আর ডাক্তারের কাছে কিছু লুকোতে হয় না।
তোমাকে সাহায্য করছি।
বাপের বাড়ি কোথায়?
সাম্বেলা।
সাম্বেলা।
নাম শুনেছ নাকি?
এমন কোনো নাম শুনিনি।
আগে ইন্দ্রাপুর ছিল,
তারপর অটোল নগর,
পরে মায়াগঞ্জ।
আমাদের ওখানে সরকারের সাথে সাথে গ্রামের নামও পাল্টে যায়।
প্রদেশ কি ছত্তিশগড়?
এটার নাম এক বছর আগেও "মধ্য প্রদেশ" ছিল, স্যার।
যখন ট্রেনে উঠেছিলে, বেলপুর-কাটারিয়া এক্সপ্রেসে,
ট্রেনটা তো ছত্তিশগড় দিয়ে যাওয়া আসা করে না।
তাহলে কোথা থেকে উঠেছিলে?
স্বামী যেখান থেকে উঠেছিল।
তবে এর আগে দুই-তিন বার গাড়ি পাল্টেছে।
সেটা কে বলবে?
জিজ্ঞেস করেননি তো...
শ্বশুর বাড়ির গ্রামের নাম কী?
মনে নেই।
স্বামীর গ্রামের নাম মনে নেই!
একটা কথা বলো...
দুদিন হলো বউ হারিয়ে গেছে,
তোমার স্বামী পংকজ কোনো থানায় রিপোর্ট করলো না,
কেন?
কেন রিপোর্ট করেনি...
আমি কীভাবে জানব?
কব্জিতে 'জয়া' নাম ট্যাটু করা আছে।
কোনো চিহ্ন বা দাগ আছে?
শ্রেয়া
'শ্রেয়া'?
নাম পুষ্পা হলে,
'শ্রেয়া' লিখা কেন?
ছোটবেলায় আমার দাদু 'শ্রেয়া' নামে ডাকত,
তাই লিখেছি।
বেলা ম্যাডাম, উনার ছবি তুলুন।
সার, বেলা ম্যাডাম পুলিশ লাইন গেছেন।
স্পোর্টস কোঠায় ওখানে নাস্তায় ডিম আর কলা দেয়।
সত্যের জয় হয়।
দুবেজি, উনার মুখের এবং হাতের ট্যাটুর ছবি নেন।
আশেপাশের থানায় জলদি পাঠান।
যান, ম্যাডাম, ছবি তুলুন।
পুষ্পা, এটা ক্যামেরা।
এক্সরে মেশিন নয়,
যে ঘোমটার এ পাশ থেকে দেখা যাবে।
ঘোমটা ছাড়া ছবি তুলবো না।
- এতে বদনাম হবে। - আরে, কেমন মানুষ তুমি?
হারানো থেকে বদনামের ভয় বেশি?
ছবি না তুললে লোকে চিনবে কীভাবে? তোমার স্বামীর কাছে পৌঁছাবে কীভাবে?
ওই দুবে, ঘোমটা তুলে ছবি তোল।
দুবে, ছবি তোল!
স্যার, গ্রামে এই বিষয়টা খুবই সেনসেটিভ।
একজন মহিলার সম্মানের বিষয় এটা। জোর-জবরদস্তি করতে পারি না।
আঙুলের ছাপ তো নিতে পারি?
ম্যাডাম, দয়া করে আঙুলের ছাপটাই দিন।
তাহলে যেতে পারেন।
আসি।
চলি, স্যার।
জয়া?
আমার চুড়ি....
টেবিলে রেখেছি।
কব্জিতে 'জয়া' নাম ট্যাটু করা আছে
জয়া... জয়া... জয়া... জয়া...
- রিকশা? - লাগবে রিকশা, কোথায় যাবেন?
- দিদি, রিকশা ? - যা, সর!
চলেন, যাই।
- আসেন - ভাই, এদিকে আসেন।
- আসেন... রিকশা? - রিকশা?
- রিকশা? - রিকশা?
আয়।
ভেবেনে।
এখানে থাকবি না কি স্টেশনে ভালো ছিলি?
দাঁড়া খেতে দিব।
ক্ষুধা লেগেছে?
আটা আছে, রুটি বানা।
আমার জন্যেও কয়েকটা বানা।
একা থাকেন, দাদি?
হ্যাঁ।
সবাইকে ভুলে গিয়েছি।
স্বামী, ছেলে, সবাইকে!
বসে বসে সবাই আমার আয় খায়,
আবার মদ গিলে আমাকেই মারে।
আবার বলে, "যে ভালোবাসে তার মারার অধিকারও আছে।"
একদিন আমিও অধিকার দেখিয়েছি।
একা থাকতে ভয় করে না?
একা একা খুশি থাকা অনেক কঠিন, ফুল।
তবে, হ্যাঁ...
একবার শিখে গেলে
আর কেউই কষ্ট দিতে পারবে না।
কাল দোকানের জন্য কিছু বানিয়ে দিব?
মিষ্টি কিছু?
রান্নাঘরে সবে এসেছ, ঠিকমতো বানাতে পারবে?
অন্যের রান্নাঘরকে নিজের করা...
মা এই কাজটাই শিখিয়েছে।
বিয়ের কাপড় পাল্টাবে না?
আমারও পরার কিছু নাই,
তাও দেখবে?
না, দাদি।
ও নিতে আসলে, চিনবে কীভাবে?
শোন!
মোগরা?
'মোগরা' না কি গ্রামের নাম?
মৌমাছি বানিয়ে দিল সাবাইকে!
কাছে এসো,
আজ চাটনি নেয়নি।
কালাকান্দ খাও, নেও।
আমার কাছে মাত্র ৫ টাকা ছিল, সামোসা নিয়েছি।
এক চামচ ফ্রি, নেও।
দাদি, আগে তুমি খাও।
আমার জীবনে মিষ্টিমুখ করার মতো কিচ্ছু নাই।
খুব মজা হয়েছে!
আরো এক চামচ নেও।
শোন...
পারিজাত?
নালিনী?
মা, আমি বাজারে যাচ্ছি।
ও এত সকালে মন্দিরে কেন এসেছে?
কারণ মন্দির হলো পুরো অঞ্চলের একমাত্র জায়গা...
যেখানে সবচেয়ে ভালো মোবাইল নেটওয়ার্ক পাওয়া যায়।
ওর কাছে মোবাইল!
আগরওয়াল জুয়েলার্স
এই, ওর পিছু নে!
ও কি বেচেছে?
এসব...
বেচবে না।
- লাগলে নিতে আসব, বুঝেছ? - জি।
ভাইয়্যা,
আমার বউ হারিয়ে গেছে।
দেখেছেন?
কেমনে দেখব?
পুরো চেহারা ঘোমটা দিয়ে ঢাকা।
চেহারাই তো সব।
চেহারা ঢাকা মানে পরিচয় ঢাকা।
চা..
শালী তো চোর! সব মুছে দিয়েছে।
কী করব?
চলো।
রাতরানি ট্যুর অ্যান্ড ট্রাভেলস বুকিং অফিস
পাখি উড়াল দেবে!
বস, বস!
সামনের আটটা স্টেশন দেখেছি,
যতগুলো স্টেশনে গিয়েছি, এতগুলোতে ট্রেনও দাঁড়ায় না।
তো কী করব?
খোঁজা থামিয়ে দিব?
বলছি কি, গুঞ্জন এমপি মনি সিঙ্গের লোক,
ওর সাথে একবার দেখা করি।
এমপি একবার ফোন করলে থানায় প্রেশার পড়বে।
ভালোই তো গাও।
- কৃষি কাজ করেন? - না, না।
আমার ছাপাখানা আছে।
কার্ড, পোস্টার, সবই ছাপাই।
সবার বিয়ের কার্ডও ছাপাই।
নিজেরটা ছাড়া!
কেন?
আমি এখনো বিয়ে করিনি।
এমপির সব পোস্টারের কাজ আমিই করি।
পাবলিসিটি?
আপনি কি ইন্টারে পড়েছেন?
এক বছরেই শেষ হয়েছে।
কথা শুনলেই বোঝা যায়।
পড়াশোনা জেনেও কেন থানায় আঙুলের ছাপ দিলেন?
- মানে... - চলে এসেছ, গুঞ্জন?
হ্যাঁ, চাচাজি।
প্রনাম।
সুখী হও!
আমাদের কপালে শনি পড়েছে!
কপাল এতই খারাপ যে, ফসলেও পোকায় আক্রমণ করেছে।
দীপক এমনিতেই বিপাকে আছে,
তোমার বন্ধুদের কীটনাশক ছিটিয়ে দিতে বল, হয় তো ফসল বাঁচবে।
চাচা, আমি দেখছি।
কীটনাশক তো বিষ।
এতে পোকামাকড় মরে কিন্তু ফসলও নষ্ট করে।
পোকা মারার আরো অনেক পদ্ধতি আছে।
জুতা দিয়ে কি একে একে মারবেন?
ওভাবে না, আমি বলছি 'স্টিকি ট্র্যাপ'।
'স্টিকি' কী?
তেলের পাত্রের একপাশ পরিষ্কার করে হলুদ রং করতে হবে।
রং লাগিয়ে আমাদের কী লাভ?
রং শুকানোর পরে ওটাতে আঠা লাগিয়ে
ফসলের এক হাত উপর বসাতে হবে।
কাজ শেষ।
এসব পোকা হলুদ রঙে আকৃষ্ট হয়।
নিজেরাই আটকে যায়।
তুমি অনেক কৃষি বিষয়ক অনুষ্ঠান দেখেছ।
মানে..
আমার বাবার অনেক কৃষি জমি ছিল।
শহরের বাবুরা শিখিয়েছিল।
চাষ-বাস সম্পর্কে অনেক জানো?
অনেক না, অল্প।
এটা কি 'অল্প' ছিল?
ছোটবেলা থেকে অল্প অল্প করে বাবার জমি শুধু বেচতে দেখেছি।
যে জমি সোনা উৎপাদন করে...
সে জমি আমার মায়ের সোনা খোয়াতে থাকে।
দিদি, আমদের দেশে কৃষক দুটো জিনিসে বাঁচে,
এক হলো পরিশ্রম আর দুই হলো বিশ্বাস।
যখন কৃষি সম্পর্কে পড়লাম,
বুঝলাম কৃষি কাজ বিশ্বাসে নয়, বিজ্ঞানের সাহায্যে করতে হয়।
তাই, তখন থেকে কিছু কৃষি-বিজ্ঞান জেনেছি।
তোমার চোখে জানার ক্ষুধা আছে।
একটা ছবিতেও চেহারা পরিষ্কার না।
পটিলা থানা থেকে জয়ার ছবি এসেছে?
এখনো না, স্যার।
ছবি পটিলা থানায় পাঠাও।
ধ্যাৎ!
গুঞ্জনের বন্ধু দীপক এসেছে।
এসো, ভাই।
তোমার বউ হারিয়েছে?
হ্যাঁ, সাব।
আমাদের দলকে ভোট দাও?
- আমাদের পরিবার থেকে ২০-২২ ভোট পান। - হ্যালো, চেক।
নেতাজি, মঞ্চ প্রস্তুত। আসুন।
- হ্যালো, হ্যালো। - চলো, চলো সবাই। - মাইক চেক।
- আমি দেখছি। - মাইক টেস্টিং, হ্যালো।
চেক।
মঞ্চে এসো।
হ্যাঁ, সাব।
- জয় হোক ... - জন জাগরন পার্টি !
জন জাগরন পার্টি, এমপি মনি সিং।
আমাদের বিরোধী দল...
রাজনীতিকে সন্ত্রাসে পরিণত করেছে।
জন জাগরন পার্টি
আমাদের দলের কর্মীদের ভয় দেখাতে....
তাদের সাথে নিকৃষ্ট কাজ করছে।
দেখ ওকে
এদিকে পাঠাও।
বিরোধী দলের গুন্ডারা...
নাম কী?
দীপক কুমার।
দীপক কুমার।
বিরোধী দল...
দীপকের বউকে অপহরণ করেছে।
- শুধু ওর বউ অপহরণ হয়নি... - জনাব..
গনতন্ত্র অপহরণ হয়েছে।
সমাজতন্ত্র নষ্ট হয়েছে।
দেশের উন্নতি হারিয়েছি, জনগণের বিশ্বাস হারিয়েছি!
বন্ধু, অনেক কিছু বাদ পড়েছে !
- হ্যাঁ। - আমার সাথে সাথে বলেন...
গনতন্ত্র ফিরিয়ে ...
আনবোই!
সমাজতন্ত্র ফিরিয়ে... আনব!
আমাদের দল ক্ষমতায়...
- আসবে! - স্যার,
গনতন্ত্রের কথা ঠিক আছে, কিন্তু মাইকে একবার বউয়ের নাম বলবেন?
হ্যাঁ!
দীপকের বউ শুধু আমাদের...
পুরো অঞ্চলের সম্মান!
তাই,
আমরা দীপকের জোতিকে খুঁজে বের করবো ।
- দীপকের জোতিকে... - খুঁজে বের করবো!
দীপকের জোতিকে...
- খুঁজে বের করবো ! - ওর নাম ফুল! জোতি নয়।
ওর নাম ফুল! জোতি নয়, সাব, সাব, ওর নাম ফুল! জোতি না।
হ্যালো?
হ্যালো?
আমি বাবলু বলছি!
হ্যালো?
- বাবলু! - আরে!
এটা কোথা থেকে এসেছে?
এটা আমার।
লুকিয়ে রেখেছিলে কেন?
লুকিয়েছি কই?
গদির নিচে ছিল।
মা ওখানে সব লুকিয়ে রাখে।
লেবুর বড়ি, খুচরো পয়সা, এমনকি বাবার ছবিও।
যদি লুকিয়ে না রাখো, সবাইকে দেখাব?
মা!
ওরে শয়তান! এখানে বসো।
দেখো!
এটাতে দুর্দান্ত একটা খেলা রয়েছে...
এই নাও।
এটার মতো।
তোমাকে প্রতিদিন খেলতে দেব...
কিন্তু কাউকে বলা যাবে না!
শপথ করো?
লেবুর বড়ির শপথ! এখন খেলতে দাও।
এখন না, রাতে দেবো। কেমন?
এবার যাও!
আরে যাও! যাও!
তুমি এঁকেছো?
বাবলুর বাবা?
শ্রবণ কুমার।
ওর এই ছবিটাই ছিল শুধু।
সেটাও রেশন কার্ডে ব্যবহার করলাম।
ওকে দেখতে ইচ্ছে হতো,
তাই এঁকেছি।
আর কী কী এঁকেছো?
কিছুই না। কার সময় আছে এমন ফালতু কাজের জন্য?
তুমি কি মনে করো শিল্প তৈরি করা ফালতু কাজ?
এই প্রতিভা কোথায় পেলে?
এটা...
আপনা-আপনি এসেছে।
যদি আপনা-আপনি আসতো তাহলে তো সবার কাছে আসতো, তাই না?
প্রতিভা হল দেবী সরস্বতীর দেওয়া।
আর দেবী মা কি কোনো ফালতু জিনিস দেবে?
আচ্ছা! এখন আঠালো ফাঁদ পাততে যাচ্ছি।
দেখছ কেমন ফ্লার্টিং করছে!
একটা ছাগল এখনো জবাই হয়নি,
আরেকটাতে টোপ দিচ্ছে।
স্যার, কেউ হেমা ত্রিপাঠীকে পাঁচটি পাঁচ হাজার টাকার মানি অর্ডার পাঠিয়েছে...
আলম সরাইতে।
একই ব্যক্তির কাছে পাঁচটি মানি অর্ডার কেন পাঠাবে, স্যার?
দুবে, তোমার মস্তিষ্কের ক্ষমতা যেমন সীমিত,
তেমনই ভারত সরকার প্রতিটি মানি অর্ডারে সর্বোচ্চ ৫,০০০ টাকা পর্যন্ত সীমিত করেছে।
তাই ও পাঁচ-পাঁচ হাজার করে ২৫,০০০ টাকা পাঠিয়েছে।
স্যার, মনে হচ্ছে ওকে বিশ্বাস করা ঠিক হচ্ছে না।
আমরা কি তাকে ধরব?
আদালতে ম্যাজিস্ট্রেট...
তোমার এই 'মনে হওয়া' বিষয়টা ঘুড়ি বানিয়ে উড়াবে।
প্রমাণ কি আমার বাবা জোগাড় করবে?
ঝুঁকে হাঁটো।
চলো।
আজ ১১২ টা চা বিক্রি হয়েছে।
নিচের খাতায় লিখে রাখ। মাঞ্জু মাই...
সংখ্যা লিখতে জানিস তো?
- হ্যাঁ। - তো লেখ।
কাজ শেখা শেষ তো?
কাজ করলেই কাজ শিখতে পারবি! ফালতু চিন্তা করবি না।
তুমি কতদিন ধরে কাজ করছো, ছোটু?
সাত বছর বয়স থেকে।
তুমি কি অনাথ?
না! বাবা-মা, ভাই-বোন সবাই আছে।
তাদের প্রতি মাসে টাকা পাঠাই।
আরে, ছোটু।
আমরা মেয়েদের সুযোগ দিই না কেন, দাদি?
কেন ওরা আমাদের অসহায় হতে বাধ্য করে?
হয়তো ভয়ে।
দ্যাখ, ফুল।
মহিলারা চাষ করতে পারে, রান্না করতে পারে।
সন্তান জন্ম দিতে পারে, তাদের বড়ো করতেও পারে।
একটু চিন্তা করলে দেখা যাবে মহিলাদের আদৌ পুরুষদের কোনো প্রয়োজন নেই।
যদি এাট মহিলারা জেনে যায়,
পুরুষদের কি খারাপ অবস্থায় না হবে!
এখন বুঝেছিস কী 'ফ্রড' কাজ চলছে?
সিদ্ধান্ত নিয়েছি, দাদি...
বাড়ি গেলে...
একটা ছোট কাজ হলেও করব।
উনাকে সাহায্য করব।
উনাকে?
প্রথমে মুখে ওর নাম নিয়ে শুরু কর।
এটাও বড়ো একটা কাজ!
পদ্মের কাণ্ডের তরকারি খুব ভালো হয়েছে, মা।
সেই মজা।
অ্যাঁ!
কেউ খাবারের প্রশংসা করে নাকি?
আমার মা এরকমই বানাতেন।
- সত্যি? - হ্যাঁ।
পেঁয়াজ-রসুন মসলা দিয়ে...
আমার সেই লাগে।
দীপু আর ওর বাবা ছুঁয়েও দেখে না। তাই বানাবো বাদ দিয়েছি।
কিন্তু কেন?
তুমি তো পছন্দ করো..
নিজের জন্য বানাতে।
কবে থেকে নারীর পছন্দে খাবার রান্না হচ্ছে?
সমস্যা হলো যে,
আমার মনেও নাই কী পছন্দ করতাম।
পুনম, বাবলু কোথায়?
বাবলু, স্কুলের কাজ করছে।
ইদানীং ও অনেক পড়াশোনা করছে।
সাবধান, পুনম।
ভুলে ও আবার ডাক্তার বা ইঞ্জিনিয়ার না হয়ে যায়!
- ডাঃ বাবলু! - তোমার জন্য কিনেছি।
কতদিন পরে পুনমের হাসি শুনলাম।
শ্রবণ শহরে কাজে যাওয়ার পর থেকেই
ও কখনো হাসেনি।
এখানে কে-বা আছে ওর সাথে হাসি-মজা করবে?
আমি এই হিসাবে কিনেছি।
মা, দোয়া করুন...
আমাদের ফুল ফিরে আসলে...
যেন ওরা বন্ধু হয়ে ফেরে।
ঘরের মহিলা শাশুড়ি-ননদ-জা সব কিছু হয়ে উঠলেও...
ওরা খুব কমই নিজেদের সাথে বন্ধু হয়ে উঠে।
ভালো, তাই না?
মা,
আমরা বন্ধু হতে পারি?
চেষ্টা করা যাক!
এই নাও...
এই দীপক, কনেকে খুঁজে পেয়েছিস?
আরে! তোর সমস্যা কী?
এখান থেকে যা!
ভাবিকে খুঁজে পাব।
দীপু, একটা কথা বলব?
ভাবি চারদিন ধরে নিখোঁজ।
ওকে সর্বত্র খুঁজেছি,
কিন্তু খুঁজে পাইনি। এখন কী করা উচিত?
ফুল ভাবি আসার চেষ্টা করলে...
এতক্ষণে এসেই যেতো,
ঠিক কি না?
রঘু, যথেষ্ট হয়েছে।
তোর নেশা হয়ে গেছে।
আমি মাতাল, তাই সত্যিটা বলছি।
খুব সন্দেহ হচ্ছে, ভাবি ঠিকঠাক আছে কি না!
অলিতে-গলিতে দালাল পড়ে আছে।
'রাম তেরি গঙ্গা মেইলি' ফিল্মে দেখিসনি...
ওরা কিভাবে ফর্সা ও সুন্দর মন্দাকিনীকে অপহরণ করে?
ঠিক, বিলাস?
বিলাস ফিল্মটা ঐ দৃশ্য অবধি দেখেনি।
মন্দাকিনীকে জলপ্রপাতে স্নান করতে দেখলে টিকিটের মূল্য উসুল হয়ে যেতো।
কি আজেবাজে কথা!
কথাটা ঠিক বলেছিস।
মানুষ জানোয়ার হয়ে যাচ্ছে...
ওরা তিন বছরের মেয়েকেও ছাড় দেয় না।
আর ও তো...
ঈশ্বর সব কিছু করে ভারসাম্য রাখার জন্য।
এটা পরিষ্কার।
এখন মনকে বোঝা, আর চুপচাপ পুষ্পাকে বিয়ে করে নে।
পাগল হয়ে গেছিস নাকি?
বিয়ে কি মজার বিষয়?
পূজা, মন্ত্র, সাত পাকে বাঁধা এসবের কোনো মানে নাই?
ওর একটা হিল্লে হচ্ছে...
এতে তোর ঝাঁট কেন জ্বলছে?
শালা! ভাবির জন্যে এখানে মাতাল হয়ে বসে আছে,
দেখা গেল ওদিকে সে অন্য কোনো ছেলের সাথে লুতুপুতু করছে।
- থাম, দীপু! - দীপু!
- দীপু! - দীপু!
ভাই, এত রাগিস না।
এমনি বলছিলাম।
দীপু, দাঁড়া!
দীপু !
উঠ!
সাবধানে!
ফুল।
এই দেখো!
- আমি এঁকেছি। - দারুন!
- দিদি, আমার জন্য একটা আঁকতে পারবে? - হ্যাঁ!
কাউকে বলবে না কিন্তু।
এবার ১২ টার পর ট্রেন আসবে।
১০-১৫ টা কাপ ভরে রাখ।
চারদিন হলো। আর কত অপেক্ষা করবি?
এবার তো থানায় চল।
তোর কী মনে হয় ছোটু?
এতদিন ধরে ঘরের বাইরে আছি, স্টেশনে ঘুমাচ্ছি...
ও খুঁজে পেলে, আমায় ফিরিয়ে নেবে?
ও তোকে স্টেশনে রেখে গেছিল!
ফিরিয়ে নিলেও, তুই যাবি না।
এটা রাখ।
- না, নেব না... - রাখ।
তোর বানানো 'কলাকাঁদ' খাবার প্রচুর পরিমাণে বিক্রি হচ্ছে।
এটা তোর কষ্টার্জিত টাকা। রাখ।
স্যার, এটা দেখুন।
আরে!
আরে!
জয় হিন্দ! মূর্তি থানা থেকে মনোহর বলছি...
ছবিটি পেয়ে গেছি। ধন্যবাদ!
সোনার চুড়িটাও জয়ার আছে।
প্রদীপের মা তা শনাক্ত করেছে।
ঠিক আছে, আপনাকে জানাবো, রাখছি। জয় হিন্দ!
একে বলে প্রমাণ।
বেলাজিকে ডাকো।
উট, উড়ে যা।
এখানে কী হলো?
হাতি, উড়ে যা।
গরু, উড়ে যা।
পাখি, উড়ে যা।
আমার পাখিকে কেন উড়তে দিচ্ছেন না?
আমি একজন পুলিশ অফিসার। কিভাবে একটি পাখিকে উড়তে দিতে পারি?
এসব কী হচ্ছে, স্যার?
তাকে দেখাও!
জয়া
শ্রীমতি জয়া দেবী।
তৃতীয়ার দিনে পটিলার প্রদীপ সিঙ্গের সাথে বিয়ে হয়েছে।
নামের বিয়ে হয়েছে।
বিয়ের পর, সব গয়না নিয়ে...
নববধূ পালিয়েছে।
তোমার বাড়িতে কেন এতদিন লুকিয়ে ছিল জানো?
পুলিশকে এড়াতে।
না! এসব মিথ্যা।
ও এটা লুকিয়েছিল।
তোমার কাছে ফোন ছিল?
নিজের বাড়িতে ফোন করোনি কেন?
- তোমার বাবাকে? পঙ্কজকে? অন্য কোনো আত্মীয়দের? - আরে দীপক বাবু...
ওর গল্পের সব চরিত্র কাল্পনিক।
ওর না কোনো বাবা ছিল!
না কোনো পঙ্কজবাবু আছে!
না কোনো সম্বেলা গ্রাম আছে!
ও একজন পেশাদার চোর।
না, আমি চোর-টোর নই।
দীপক আমার কথা শোনো...
তাহলে নাম পুষ্পা কেন বলেছিলে?
কেন স্বামীর নাম পঙ্কজ বলেছিলে?
আগরওয়াল জুয়েলার্সের কাছে চুড়ি বেচেছ না?
আর মানি অর্ডার পাঠিয়েছো গ্যাং সদস্য হেমা ত্রিপাঠীকে...
- করোনি? করোনি? - না।
- এসব মিথ্যা দীপক। - আমার ফুলকে কোথায় লুকিয়ে রেখেছো?
- আমি কেন লুকিয়ে রাখব? ভুলে ট্রেন থেকে নেমে তোমার পিছু নিয়েছিলাম! - তখন নিজের ভুল শুধরে নিলে না কেন?
বারবার একই মিথ্যা, একই কাহিনী, কেন সবাইকে শোনাচ্ছো?
বল!
সেদিন থেকে নিজেকে দোষ দিয়ে যাচ্ছি...
কিভাবে ফুলকে চিনতে ভুল করেছি?
- দীপক, আমিও ভুল করেছি... - যথেষ্ট!
অনর্গল মিথ্যা বলা বন্ধ করো!
শালা! ঠকানোরও একটা সীমা আছে!
তোমাকে ঠকাইনি দীপক!
- শুধু একবার আমার কথা শোন। - আমাকে অনেক বোকা বানিয়েছ, পুষ্পা।
জয়া... বা যা-ই নাম হোক না কেন তোমার...
প্রথম থেকেই এই বিষয়ে চিন্তিত, দয়া করে আর বিভ্রান্ত করবে না।
স্যার, চুরি করা গয়না গুলো পাওয়া গেছে।
ওটা আমার গয়না।
- দীপক, আমার কথা শোন... আমি নির্দোষ। - দারোগাজি...
শুধু একবার আমার কথাটা শোনো!
- চলো যাই। - দীপক, একবার আমার কথা শোন, প্লিজ।
ঘরে কাঁটা এনেছ, ফুল নয়।
আমি কাঁটা টেনে বের করে দিলাম।
- স্যার, আমার ফুলের কী হবে? - অনুসন্ধান চলছে, পেলে জানাবো।
দারোগাজি! দারোগাজি! আমাকে যেতে দিন।
অনুরোধ করছি...
গয়না-টাকা সব নিয়ে ফেলুন, তাও যেতে দিন।
দারোগাজি, একবার তো শুনুন।
- হ্যালো। - হ্যালো, ত্রিভুবন। হ্যাঁ।
- তাকে খুঁজে পেয়েছেন? - পেয়েছি।
- ঠিক আছে, তাহলে। - ঠিক আছে।
- জয় হিন্দ। - জয় হিন্দ।
পুষ্পা চাচি আমার ব্যাগে এটা ভুলে রেখে গেছে।
এই, ও তোমার চাচি নয়।
জৈব চাষের মূলনীতি
দীপু!
দীপু, এ কী শুনছিরে...
পুষ্পাকে না কি পুলিশ গ্রেফতার করেছে!
ওর নাম পুষ্পা নয়, জয়া।
ও একটা চোর।
উনি ফুল চাচিকে অপহরণ করেছে।
ভাগ এখান থেকে!
অপহরণ করেছে?
যদি এটা সত্য হয়, তাহলে ও কেন ফুল ভাবিকে খুঁজছে?
এটা দেখ।
সন্ধান চাই। নাম: ফুল কুমারী।
এটা কে বানিয়েছে?
ও আমাকে বলে বানিয়েছে।
বিয়েতে ফুলকে দেখেছিলাম মনে ছিল।
সদর বাজারের সাইবার ক্যাফে থেকে এই পোস্টার বানিয়েছে।
তারপর আমার কাছে এসে কপি প্রিন্ট করিয়েছে...
আর সব জায়গায় লাগাতে বলেছে।
- জেগে থাকো! - কী হচ্ছে এসব?
কিছুই বুঝছি না।
মাঞ্জু মাই, এটা কি ওই মেয়েটা?
পড়ে শোনাও।
ফুল কুমারী।
কেউ যদি তাকে খুঁজে পান, সুরজমুখী গ্রামের দীপক কুমারের সাথে যোগাযোগ করুন।'
একটা ফোন নম্বরও আছে।
সুরজমুখী !
এটা ওর গ্রামের নাম।
- ছোটু, সুরজমুখী! - সুরজমুখী!
এটা তোমার ছবি না?
- আমাকে দেখাও। - দ্যাখ, ছোটু।
- সুরজমুখী। - ঠাকুরমা!
এই নম্বরে কেউ উত্তর দিচ্ছে না।
আমরেলি-কাটারিয়া এক্সপ্রেস।
এটা মূর্তি যায়।
দশ মিনিটের মধ্যে চলে যাবে।
ওকে পাঠাতে হবে?
দেখা করতে আসব, দাদি।
এই স্টেশন আমার দ্বিতীয় বাড়ি।
এই!
তোর মঙ্গল হোক।
সুখী হ।
ছোটুকে সাথে নিয়ে যাও।
- নইলে আবারো হারিয়ে যাবে, ফুল। - চুপ!
যা।
এটা এখান থেকে নবম স্টেশন।
ভৈরবের পর মূর্তি।
গুনতে থাকুন!
বল।
মা, আমি বিয়ে করতে চাই না।
কৃষি নিয়ে পড়তে চাই।
পাগল নাকি?
এক সপ্তাহের মধ্যে তোমার বিয়ে।
রান্না কে করবে যদি চাষ করো?
তোমার স্বামী?
তোমার যৌতুক দিতে যে জমি বিক্রি করেছি এটার কী হবে?
আমার জন্য এসব ঝামেলা কর না, মা।
৮০০ জন ছেলে ৮৬ জন মেয়ের মধ্য থেকে প্রথম হয়েছি।
আমি দেরাদুনে পড়তে যেতে চাই।
মা, তুমি কি 'জৈব চাষ' শুনেছ?
জয়ভিক খেতি।
দশ বছরে সবাই হবে এটা সম্পর্কে কথা বলা আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি।
নিবন্ধনের সময়সীমা পনের দিনের মধ্যে
আর সাত দিন পর তোমার বিয়ে।
ছেলেটা ভালো পরিবারের। কোটিপতি।
তাকে মিষ্টি করে জিজ্ঞেস কর, হয়তো পড়তে দিবে।
না দিলে?
এটাই তোমার দুর্ভাগ্য।
এক সপ্তাহের মধ্যে বিয়ে না হলে আমার জানাজা হবে।
তোমার বাবার কসম।
মা।
আমব্রাই গ্রামে হনুমান মন্দিরের সামনে আমার বাড়ি।
বিবাহ সব খুব বাস্তব ছিল। আমার দুঃখও তাই ছিল।
বিয়ের সময়, শুনেছি যে
সন্তান না হওয়ায় ওর প্রথম স্ত্রী আগুনে পুড়ে মরেছে।
এটা দুর্ঘটনা না কি খুন?
ভগবান ভালো জানে।
যৌতুক পরিশোধের সময় ১০,০০০ টাকা কম ছিল।
তাই সে সবার সামনে মাকে অপমান করেছে।
এমন একটা মানুষ আমায় পড়তে দিবে?
এমন সমস্যা হলে বিয়ের শুরুতেই পালাতে...
মণ্ডপ থেকে পালাতে? ট্রেন থেকে পালালে কেন?
কখনই পালিয়ে যাওয়ার পরিকল্পনা করিনি।
ঘোমটা মেলে নিজের ভাগ্যের সাথে সমঝোতা করেছিলাম।
তারপর ও আমার হাতটা ধরে ট্রেন থেকে নামিয়ে দিল।
নিয়তি আমাকে স্পষ্ট ইঙ্গিত দিচ্ছিল। কিভাবে এটা থেকে মুখ ফিরিয়ে নিই?
আমি এত বোকা নই!
একজন পুলিশ হিসাবে, আপনি ধরেই নিয়েছেন আমি চোর ছিলাম।
হেমা ত্রিপাঠি আমার বোন।
স্রেফ ওই-ই আমাকে বোঝে।
চুরি বেচে তাকে মানি অর্ডার পাঠিয়েছি...
যাতে সে আমার কোর্স এবং হোস্টেলের জন্য ফি জমা দিতে পারে।
কম্পিউটারের দোকান থেকে কোর্চের আবেদন পত্র প্রিন্ট করেছি।
আমার কোর্স তিন দিনের মধ্যে শুরু হবে।
এ দেখুন।
মূর্তি থেকে পাটনায়। পাটনা থেকে দিল্লি। দিল্লি থেকে দেরাদুন।
আমার বাস গত রাতে ছিল।
এত মিথ্যা বলতে হলো কেন?
সত্য বললে মেনে নিতেন?
থাকতে দিতেন?
নিজের মায়ের কাছে কী চেয়েছিলাম?
একটু সময়।
কেন চেয়েছিলাম?
পড়তে। কিছু একটা হওয়ার জন্য।
রাজি ছিল?
এটাই দুনিয়ার নিয়ম, দীপক।
মিথ্যা মেনে নেওয়া হয়। কিন্তু সহজ সত্য মেনে নেওয়া হয় না।
আমাকে এক সপ্তাহ লুকিয়ে থাকতে হয়েছিল।
কিন্তু পুরো দুনিয়া আমাকে বাড়ি পাঠানো নিয়ে উঠে পড়ে লেগেছে।
চুরি করেছি তো নিজের জন্য একটা সুযোগ।
চলেই যাচ্ছিলাম,
কিন্তু দীপককে ফুলকে নিয়ে চিন্তিত দেখছিলাম। তাই সাহায্য করতে চেয়েছিলাম।
ভাবলাম আর দুয়েক দিন থাকি।
আমি পোস্টার ছাপিয়েছিলাম যেন কেউ ফোন করলে...
আমার ফোন কোথায়?
কেউ হয়তো ফোন করার চেষ্টা করেছে।
- আমার ফোন কোথায়? - ওর ফোন কোথায়?
স্যার।
বারোটা মিসড কল।
ঐ নম্বরে কল দিন।
হ্যালো।
আপনি কি এই নম্বরে কল করেছেন?
হ্যাঁ।
হ্যালো। সঠিক।
- ফুল কুমারী? - হ্যাঁ।
হ্যাঁ, ফুল কুমারী।
হ্যালো! তোমার কণ্ঠ ভেঙ্গে যাচ্ছে।
এক মিনিট... শুনতে পাচ্ছি না... হ্যালো?
জি, জি, কোথায়?
হ্যালো।
পটিলা স্টেশন থেকে? হ্যাঁ।
হ্যালো...
ট্রেন... হ্যালো।
ট্রেন সম্পর্কে কী?
ধুর! ছাই! ব্যাটারি শেষ।
কী বলেছে? ফুলের সন্ধান পেয়েছে?
মনে হচ্ছে পোস্টারে কাজ করেছে।
ফুল কুমারী পটিলা স্টেশনে। জলদি যাও!
- পটিলা স্টেশন। - আরে ম্যাডাম। আপনি কোথায় যাচ্ছেন?
চোর নন,
কিন্তু বিবাহিত।
স্বামীর কাছ থেকে পালিয়েছেন।
তিনি একটি প্রতিবেদন দাখিল করেছেন।
মামলাটা তো বন্ধ করতে হবে।
মানে?
প্রদীপ তোমাকে নিতে আসছে।
ওকে ডাকলেন কেন, ইন্সপেক্টর?
গতরাতে বলেছিলাম...
আমার যা আছে সব নিয়ে নাও, তবুও ওর কাছে ফিরতে বাধ্য করবেন না।
আমি যাব না ওর সাথে।
আমি একজন প্রাপ্তবয়স্ক। জোর করতে পারবে না।
স্যার, ও যেতে চায় না। আর যাবেও না।
আাবার স্ত্রী হারানোর আগেই,
পাটেলা স্টেশন যাবে নাকি ওর সাথে আটকে রাখব?
স্যার, আমি জয়াকে রেখে যাব না...
- বেলা-জি! - স্যার।
চল...
- স্যার, আমি... স্যার... - দীপক। - ম্যাডাম...
- আমার কথা শোন! - দীপক!
আমার কথা শোনো। আমি ফুলের জন্য
এখানে ছিলাম, তাকে না পেলে আমার থাকা বৃথা যাবে।
যাও, আমার জন্য।
- তাড়াতাড়ি কর, দীপক! - ধ্যাৎ।
যা।
প্লিজ, স্যার।
- স্যার, বোঝার চেষ্টা করুন। - তোমার জন্য কী আইসক্রিম আনা লাগবে?
দুবে-জি, উনাকে বের কর। ভাগ।
ইন্সপেক্টর মনোহর?
আমি প্রদীপ সিং। পটিলা থেকে।
স্বাগত। বসুন।
- দুবে! - জি, স্যার।
দেখ,
কাউকে অকারণে বদনাম করতে চাইনি।
তাই রিপোর্ট দাখিল করিনি।
এবার বলুন ওর ওপর কিসের চার্জ লাগাব?
চুরি করার?
ভেগে যাওয়ার?
নাকি হারিয়ে যাওয়ার?
হারিয়ে যাওয়ার।
ঠিক আছে।
বেলা-জি, জয়াকে নিয়ে এসো।
তো...
পি.টি. উষা।
বাড়ি গেলে জিন্দা মেরে ফেলব।
সবে তো শুরু।
গয়না কোথায়?
এখানে।
যদিও একটি সোনার চুড়ি বেচেছে।
ওই গয়না আমার।
বাবার ঘাম আর রক্ত ঝরা টাকার গয়না।
আর মায়ের জমি।
যৌতুক বরের হক।
চুরি টাকা, তোমার মায়ের থেকে উসুল করব।
আগে বাড়ি তো চলো, রানি।
আপনাকে ধন্যবাদ, ইন্সপেক্টর.
অনেক সাহায্য করেছেন।
না, না, স্রেফ দায়িত্ব পালন করেছি।
চল।
আরে প্রদীপ বাবু, এক মিনিট।
দায়িত্ব এখনো শেষ হয়নি।
জানি ম্যাডাম পালিয়েছেন,
আর আপনি রিপোর্ট করেছেন।
ম্যাডামকে পেলাম...
আপনার কাছে ফিরিয়ে দিয়েছি। মামলা ক্লোজ।
এবার, ওকে পাওয়া গেছে সেটা এক কথা,
তাও সে সাথে যেতে চায় না,
এটা সম্পূর্ণ নতুন আর আলাদা সমস্যা।
দেখুন,
ম্যাডাম প্রাপ্তবয়স্ক মহিলা।
নিজের অধিকার আছে।
জোর করতে পারবেন না।
সবাই দেখেছি থানায় কেমন আচরণ করেছেন।
যৌতুকের কথা।
তাকে চড় মারার সাহস।
এমনকি হুমকিও দিয়েছেন।
এগুলো কিন্ত অপরাধ, প্রদীপ বাবু।
কী?
এসবের মানে কী?
এটাকেই আইন বলে।
সে যদি শারিরীক অত্যাচার আর যৌতুকের মামলা করে,
তাহলে এখনই আপনাকে জেলে ভরা লাগবে।
আমি সহ,
এক, দুই, তিন... এখানে চারজন সাক্ষী আছে।
সাথে, পুরোনো একটা ঝামেলা আছে না।
ওটা নতুন করে তদন্ত হবে।
পুরোনো ফাইল ঘাটাঘাটি হবে।
আগের বউ আগুনে পুড়েছে না কি পোড়ানো হয়েছিল?
বুঝেছেন?
সব বুঝেছি।
ইন্সপেক্টর, মনে হয় না আপনি ওকে ফিরিয়ে দিবেন।
আমি স্রেফ শেষবারের মতো মামলাটা বন্ধ করতে চাই। বুঝতে পারছো না?
পারস্পরিক চুক্তির একটা শেষ সুযোগ করে দিচ্ছি।
হয় জেলে গিয়ে কোর্টকাছারির ঝামেলা সামলাও।
নইলে মেয়েটাকে চুপচাপ এখান থেকে যেতে দাও।
ওর স্বাধীনতার বিনিময়ে, আপনার বিরুদ্ধে কোনো মামলা করব না।
ওয়াদা করছি।
কিন্তু আবার যদি কখনো তাকে হেনস্তা কর,
তাহলে দুনিয়ার যে প্রান্তেই থাকেন না কেন খুঁজে বের করে
হাতকড়া পরাব। এটার ওয়াদা করছি।
তোমাকে দেখে নিব। বলে রাখলাম।
আরে!
দায়িত্বরত অফিসারকে হুমকি দিলে কোন ধারায় মামলা হয় জানেন তো।
কেন নিজের পেছনে বাঁশ গোঁজার বন্দোবস্ত করছ?
- চল , প্রদীপ ভাই। - প্রদীপ ভাই!
- এক মিনিট। - প্রদীপ ভাই, চল।
- পরে দেখে নিব। - এই শোন!
গয়না নিয়ে কোথায় যাচ্ছ?
গয়না রেখে যান নইলে চুরির মামলা ঠুকে দিব।
আরে দাও।
আমার টাকা?
আমাকে তখন ঘুস দিয়েছিলে?
আরে, দুবে। জেলের মধ্যে ঘুস দিয়েছে। ধরো ওকে
- জলদি জেলে ভরো। - পরে দেখে নিব।
ফালতু লোক কোথাকার!
ধন্যবাদ।
ভালো করে পড়াশোনা করবে।
এটা আমার না।
এখন থেকে এটাও আমার না।
আসি।
দুবে।
এই মেয়ে অনেক দূর যাবে।
জি, স্যার। দেরাদুন প্রায় 800 কিমি তো হবেই।
দুবে-জি।
এটা কি পটিলার ট্রেন?
- বল! - অনেক আগে চলে গেছে।
এটা আমরেলি যাবে।
- পটিলা যাওয়ার পরবর্তী ট্রেন ক'টায়? - রাত নটায়।
কী করব?
- বাস নেব? - গিয়ে দেখি, চল।
দীপক!
দীপক!
ফুল চাচিকে পাওয়া গেছে!
ফুল চাচিকে পাওয়া গেছে!
নববধূকে বাড়ি এনেছে।
- তুমি ঠিক আছ? - হ্যা।
সুখে থাকো আমার সন্তান।
ট্রেন থেকে যখন নামলাম, আমি একা ছিলাম!
ফুল বাড়ি পৌঁছেছে!
ফুল বাড়ি পৌঁছেছে।
- ছোটু, ফুল বাড়ি ফিরেছে। - ও বাড়িতে!
ফুল বাড়ি পৌঁছেছে।
- ফুল বাড়ি পৌঁছেছে। - ফুল বাড়ি পৌঁছেছে।
নাও।
আপনিও খান, মাঞ্জু মাই।
টাকা নিন।
ফুল।
এসো, সোনা। বাবলু...
- এসো। - জয়া।
গুঞ্জন, ব্যাগ নাও।
- বিলাস, বসো। - হ্যাঁ, রঘু।
চল।
সত্যিই তোমাকে মিস করব।
আমিও।
চলো যাই। বাস মিস করবে।
সুখী হও।
ফসল ভালো হলে তোমার কথা মনে পড়বে।
এখানে...
পদ্ম কাণ্ডের তরকারি আর রুটি আছে।
পৌঁছে আমাদের জানাবে।
ছোট বদমাশ!
ভালো করে পড়।
তাহলে একদিন আমার কলেজে পড়তে পারবি।
কী করছো?
আপনি না থাকলে,
আমায় খুঁজে পাওয়া যেত না।
তুমি না থাকলে,
আমিও নিজেকে খুঁজে পেতাম না।
এই নিন আপনার টিকিট।
আপনাকে অনেক কষ্ট দিয়েছি।
ক্ষমা করবেন।
স্বপ্ন দেখার জন্য ক্ষমা চাইতে হয় না।
আবার দেখা হবে।
নিজের বাড়ি মনে করে এসো এখানে।
নিজের বাড়ি মনে করে এসো এখানে।
সবাই অপেক্ষায় থাকব।
- চিঠি লিখবে। - চিঠি লিখবে... তুমি সাথে চলে যাও না।
• • • অনুবাদক • • • আশিকুর রহমান, মোহাম্মদ সায়েম, চন্দন দোলুই, মিঠুন বিশ্বাস।
• সম্পাদনায়: মোহাম্মদ সায়েম। •
❝অনুবাদটি ভালো লাগলে গুড রেটিং এবং ফিডব্যাক দিয়ে উৎসাহিত করবেন।❞
Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.