All language subtitles for Pada (2022) Malayalam Movie Bsub By Team Thambi

af Afrikaans
ak Akan
sq Albanian
am Amharic
ar Arabic
hy Armenian
az Azerbaijani
eu Basque
be Belarusian
bem Bemba
bn Bengali
bh Bihari
bs Bosnian
br Breton
bg Bulgarian
km Cambodian
ca Catalan
ceb Cebuano
chr Cherokee
ny Chichewa
zh-CN Chinese (Simplified)
zh-TW Chinese (Traditional)
co Corsican
hr Croatian
cs Czech
da Danish
nl Dutch
en English Download
eo Esperanto
et Estonian
ee Ewe
fo Faroese
tl Filipino
fi Finnish
fr French Download
fy Frisian
gaa Ga
gl Galician
ka Georgian
de German
el Greek
gn Guarani
gu Gujarati
ht Haitian Creole
ha Hausa
haw Hawaiian
iw Hebrew
hi Hindi
hmn Hmong
hu Hungarian
is Icelandic
ig Igbo
id Indonesian
ia Interlingua
ga Irish
it Italian
ja Japanese
jw Javanese
kn Kannada
kk Kazakh
rw Kinyarwanda
rn Kirundi
kg Kongo
ko Korean
kri Krio (Sierra Leone)
ku Kurdish
ckb Kurdish (Soranî)
ky Kyrgyz
lo Laothian
la Latin
lv Latvian
ln Lingala
lt Lithuanian
loz Lozi
lg Luganda
ach Luo
lb Luxembourgish
mk Macedonian
mg Malagasy
ms Malay
ml Malayalam
mt Maltese
mi Maori
mr Marathi
mfe Mauritian Creole
mo Moldavian
mn Mongolian
my Myanmar (Burmese)
sr-ME Montenegrin
ne Nepali
pcm Nigerian Pidgin
nso Northern Sotho
no Norwegian
nn Norwegian (Nynorsk)
oc Occitan
or Oriya
om Oromo
ps Pashto
fa Persian
pl Polish
pt-BR Portuguese (Brazil)
pt Portuguese (Portugal)
pa Punjabi
qu Quechua
ro Romanian
rm Romansh
nyn Runyakitara
ru Russian
sm Samoan
gd Scots Gaelic
sr Serbian
sh Serbo-Croatian
st Sesotho
tn Setswana
crs Seychellois Creole
sn Shona
sd Sindhi
si Sinhalese
sk Slovak
sl Slovenian
so Somali
es Spanish
es-419 Spanish (Latin American)
su Sundanese
sw Swahili
sv Swedish
tg Tajik
tt Tatar
te Telugu
th Thai
ti Tigrinya
to Tonga
lua Tshiluba
tum Tumbuka
tr Turkish
tk Turkmen
tw Twi
ug Uighur
uk Ukrainian
ur Urdu
uz Uzbek
vi Vietnamese
cy Welsh
wo Wolof
xh Xhosa
yi Yiddish
yo Yoruba
zu Zulu

Original subtitles

অনুবাদ আয়োজনে Team Thambi -টিম থাম্বি

তারা এসে জিজ্ঞেস করবে...

গরিবদের কষ্টের সময় তুমি কী করেছিলে?

যখন তাদের কোমলতা এবং জীবন ভস্মীভূত হচ্ছিল?

-ওট্টো রেনে কাস্তিলো।

সকল ধরনের নতুন পুরাতন মুভি/সিরিজের জন্য ভিজিট করুন "flixmx.com" সাইটে

"সত্য ঘটনার উপর ভিত্তি করে নির্মিত"।

ওখানে বসুন। সবকিছু প্রস্তুত।

পালাক্কাড়, ১৯৯৬

- ভিজেশ, পেছনের ফোকাস ঠিক আছে? - অবশ্যই।

- প্লিজ তালগোল পাকিও না। - না, না।

এই তো।

কথা বলার সময় স্বাভাবিকভাবে ক্যামেরার দিকে তাকাতে পারেন।

- না তাকালে সমস্যা আছে? - না। তো শুরু করা যাক?

- আমার নাম প্রকাশ করবো? - জি, আপনার নাম দিয়েই শুরু করুন।

আমার নাম রাকেশ। হয়তো ইতোমধ্যেই জানেন...

সাম্প্রতিক কিছু ঘটনার সাথে যোগসাজশে পুলিশ আমায় খুঁজছে।

তো এখন আপনি একজন পলাতকের সাথে কথা বলছেন।

গোটা কেরালার খবরে 'আপনার কর্মকান্ড'।

এ ব্যাপারে আরো কিছু বলবেন?

সেটাতে যাবার আগে...

আমি বর্তমান আদিবাসী ভূমি আইনের সংশোধনীটি বুঝিয়ে বলি।

কেরালার বিধান সভায় ১৪০ জন সদস্য রয়েছেন।

সকল সদস্য আইনের পক্ষে ভোট দিয়েছেন।

একমাত্র কমরেড কেআর গৌরিয়াম্মা এর বিরোধিতা করেছেন।

আইনপ্রণেতারা কি আদিবাসী সম্প্রদায়ের সাথে কথা বলেছিল?

ওনাদের কতজন তাদের বর্তমান জীবনাবস্থার কথা জানেন?

তারা ক্ষুধায় মারা গেলেও কারো কোনো সাড়া পাওয়া যায় না।

এসবের জন্য কে দায়ী?

তারা আদিবাসীদের ঘরছাড়া করতেই নতুন আইন করেছে।

তাদের উদ্দেশ্য কী?

ও মাতৃভূমি, বনের কান্না শুনছো কি তুমি?

বনের কান্না শুনছো কি তুমি?

আর দেখেছো ওদের অট্টহাসি?

যখন কাঁদছিল আমাদের বন?

ও মাতৃভূমি, বনের কান্না শুনছো কি তুমি?

বনের কান্না শুনছো কি তুমি?

আর দেখেছো ওদের অট্টহাসি?

যখন কাঁদছিল আমাদের বন?

ক্ষুধায় মোচড়াচ্ছে আমাদের পেট,

নেই কোনো প্রজাপতি কিংবা মৌচাক,

মাটি এবং গাছ গেছে মরে,

এদিকে আমরা লুকিয়ে মরি গাছের বাকল চেয়ে,

নদী গেছে শুকিয়ে,

রয়েছে শুধু দুর্গন্ধ আর উষ্ণতা,

থাকতাম আমরা যে বনে,

হারিয়েছে সেটা চিরতরে।

অনুবাদ অংশগ্রহণেঃ আকতার হোসেন ۞ মৃদুল সরকার শান্ত কুমার দাস ۞ ইমরুল হাসান নাসিম

অনুবাদ অংশগ্রহণেঃ সুমন হোসেন ۞ ইমতিয়াজ উদ্দিন হাবিবুল্লাহ কায়সার ۞ মোঃ নাজমুল হক সাব্বির

অনুবাদ অংশগ্রহণেঃ সাকিব সরোয়ার ۞ সোহাগ দাস আহমেদ শুভ্র ۞ শাহরিয়ার হোসেন

অনুবাদ অংশগ্রহণেঃ জায়েদ আল আরাফ শিহাব রবিউল আওয়াল জীবন তানভীর হোসেন(Brad Delson)

আজাদ?

- লাঠিটা ফেলে দে। - না।

ওই, এটা আমার লাঠি।

সম্পাদনায়ঃ রবিউল আওয়াল জীবন তানভীর হোসেন(Brad Delson)

PADA

সোনা।

রোজা?

ওঠ।

আজাদ।

ওঠ বাবা।

ওঠ।

আরে ওঠ।

আজাদ, ওঠ ওঠ ওঠ।

কী কারণে চাই সেটা শুনবো না তবে আমার নাম যেন না আসে।

চিন্তা করো না।

- বাস স্ট্যান্ড কোথায়? - এদিকে।

আচ্ছা, দেখা হবে তাহলে।

কী এক জঘন্য ব্যবস্থা!

একদম বিরক্তি চলে আসে। যেন আমরা ৫০ বছর পেছনে রয়েছি।

আবার গেল!

আরাবিন্দ, চুপচাপ কেন তুমি?

এটাই নাম্বার?

তো আমার চুপচাপ থাকার কারণ জানতে চাও?

তুমি নিজের আদর্শের কথাবার্তা দিয়ে দুনিয়াটা বদলাতে চাও।

চালিয়ে যাও।

তেমন কোনো পরিকল্পনা নেই আমার।

আরাবিন্দ, তোমার ফোন এসেছে।

আচ্ছা তাহলে।

যারা তাদের বাগানে পানি দিতো।

যারা তাদের বাগানে পানি দিতো।

যারা তাদের পোষা কুকুরদের দেখভাল করতো।

যারা তাদের...

কী ব্যাপার, এটাকে পাবলিক বুথে পরিণত করেছো না-কি?

হ্যালো।

সব ঠিকভাবে চলছে?

আমায় কিছু করতে হবে?

বালু বা রাকেশের সাথে যোগাযোগ করবো?

সেখানে পৌঁছে ফোন করবো।

একদম ভোরে পৌঁছাবো।

সেলাই মেশিনটা এতদূর নিয়ে যাবার কথা আমি কল্পনাও করতে পারি না।

নিয়ে তো আমিই যাচ্ছি, তাই না?

কিন্তু বাকিটা পথ তো আমাকেই নিয়ে যেতে হবে।

রিক্সা দিয়ে নিতে ৫০ টাকা খরচ হবে।

টাকা ৫০ টা তোমাকেই দিতে হবে, বালু।

সমস্যা নাই, আমিই দেবো।

তাহলে এখনই দাও।

পরে আবার বলবে ভুলে গেছি।

বাবা, তুমি আমাদের সাথে আসবে না?

প্ল্যান বদলে গেছে, সোনা। আমাদের বোকা বানানো হয়েছে।

এখন আমাদেরকেই সবকিছু নিতে হবে।

আমরা কি আর এখানে আসবো না? আমার এই জায়গাটা অনেক ভালো লাগে।

তোর তো সেখানেও বন্ধু আছে।

তোমরা কোথায় যাচ্ছ বাবা?

- অনেক জরুরী কাজ আছে। - কী জরুরী কাজ?

ফিরে এসে বলবো।

কখন ফিরবে?

অল্প সময়ের মধ্যেই চলে আসবো।

আমি জানি তুমি অনেক দিনের জন্য যাচ্ছো।

ধরো এটা।

চল সোনা।

এসো।

যা।

আমরা এই সেলাই মেশিনটা কী করবো?

বাসের পিছনে বেঁধে রাখবো এটা।

তার মানে কন্ডাক্টারের সাথে ঝামেলা নিশ্চিত।

- আমরা কখন আসবো? - তুই যখন চাইবি তখনই আসতে পারবি।

থুম্বি আর সিমার কী হবে?

তুই কি তাদেরকে বলিসনি, রোজা?

আমরা আসলে কবে ফিরবো?

থামো।

তাড়াতাড়ি করো, ব্যাগটা আমাকে দাও, ঢুকো।

- সব বই নিয়ে এসেছিস? - হ্যাঁ।

- ভাই এর খেয়াল রাখবি, ঠিক আছে? - হ্যাঁ।

তোর ঘড়িটা আমাকে দিবি?

কেন? বন্ধক রাখতে চাও নাকি?

এটা বন্ধক রেখে আমি কী পাবো?

ভাই, এটা একটু এখানে রাখতে পারবেন?

পরের স্টপে যাত্রী উঠবে।

আমাদের স্টপ আসলেই এটা নামিয়ে দিবো ইতোমধ্যে সেখানে লোক চলে আসছে।

- আরে ভাই... - চিন্তা করবেন না, চলেন।

ওরা ওই স্টপে অপেক্ষা করছে।

ভাইয়ের খেয়াল রাখিস মা?

মিনির ল্যাবে ফোন করে তোমার খোঁজ নিতে পারবো?

না, আমিই ফোন করবো।

বাচ্চাদের খেয়াল রেখো।

সোনারা ভালো মতো থাকবে, বুঝেছো।

- পরে কি এটা ফেরত দিবে? - অবশ্যই, এসেই ফেরত দিব।

তোমরা মিষ্টি কিনে খেও।

- দুই ভাইবোন ঝগড়া করবে না, ঠিক আছে? - ঠিক আছে।

কাউন্টার থেকে পেয়ে যাবে।

ঠিক আছে, চলো।

কেউ এসেছে?

আমি অনেকক্ষণ আগে এসেছি কাউকে তো এখনো দেখলাম না।

প্ল্যানে কোনো পরিবর্তন আছে?

সেটা সম্ভব না।

ওরা কারা?

রঘু, যে ফটোগ্রাফারটা মারা গেছে,

তার বাবা-মা।

আমরা গত মিটিংয়ে চুপচাপ ছিলাম, তাই না?

আমি কি ভুল কিছু বলেছিলাম?

- কমরেড, তারা কি তোমার নাম জানে? - না।

আমি ওইখানেই থাকবো।

- একটা চা দিন। - আচ্ছা।

এই যে টাকা।

- একটা লটারি নাও, বাছা। - না, দিদি।

এটা ভাগ্যের দেবি, বাছা।

নাও না একটা।

আমি সত্যিই পারবো না, দিদি।

- সুকু, একটা চা। - আচ্ছা।

- চা খাবে, বাছা? - অর্ডার দিয়েছি।

স্যার, চা।

- সবাই আসা পর্যন্ত কি অপেক্ষা করবো? - দেখি।

আরাবিন্দের পাশের লোকটাকে দেখেছো?

সে পুলিশ।

সে বিন্দুর ভাই, আমি তাকে ভালো করেই চিনি।

সে কি তোমাকে দেখছে?

মনে হয় না।

আমাদের দোকানে যাওয়া উচিত ছিল, তোমাকে বলেছিলাম এখানে না আসতে।

- ওহ, তাই নাকি! - ওইদিকে তাকিও না।

- উসমান। - আরাবিন্দ এসে গেছে।

আরাবিন্দ ডাকছে তোমায়।

সে তোমাকে ডাকছে।

অন্ধ বেকার মানুষকে সাহায্য করুন।

লটারি কিনুন, নিজের ভাগ্য পরীক্ষা করুন।

এখানে অনেক পুলিশ।

আমি এই প্ল্যানের কিছুই বুঝতে পারছি না, কুট্টি।

বাদ দাও।

- কী হয়েছে? - রাকেশ আর জোসেফ এখনো আসেনি।

আমি জোসেফকে ফোন দিয়েছিলাম, ও আসবে না।

- কিন্তু রাকেশ কোথায়? - অন্তত আমাদের ৪ জনকে ভেতরে যেতে হবে।

এটা কমরেড রবির দোষ। সে জোসেফকে নিল কেন।

- বালু, আজ এটা হতেই হবে। - আজ এটা করবোই।

জোসেফের বদলে কি আমি আসতে পারি?

বাইরে উসমান আছে।

তুমি কি নিশ্চিত, কমরেড?

হ্যাঁ, আমি নিশ্চিত।

কুট্টি সবকিছুতেই নিশ্চিত।

তাহলে রাকেশের জন্য অপেক্ষা করা যাক।

সাড়ে ১০ টা বেজে গেছে।

- তুমি বাড়ি যাও, মিনি। - আমি থাকছি, উসমান এসে গেছে।

আমরা চাই না কেউ তোমাকে আমাদের সাথে দেখুক।

যাও মিনি।

মিনি, এসো।

নদী রক্ষা কমিটি দীর্ঘজীবি হোক।

নদী রক্ষা কমিটি দীর্ঘজীবি হোক।

সবাই বলো "আর নয়"

সবাই বলো "আর নয়"

সবাই বলো, "আর নয়" বালি খনন"

মিনি, বোঝার চেষ্টা করো।

যাও এখন।

- তুমি অনেক দেরী করে ফেলেছো, কমরেড। - আমি দুঃখিত, কমরেড!

জোসেফ আসবে না। আমি ওর জায়গায় থাকবো।

- বালু কি আমার উপর রেগে আছে? - না, সে ওইখানে আছে।

মিনি এখনো এখানে।

কোথায় ছিলে?

গাড়িতে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।

উঠে দেখি কোয়েম্বাটুরে আছি।

- সবকিছু এনেছো? - হ্যাঁ।

কিন্তু জিনিস বানানোর সময় পাইনি!

- আমাদের হাতে অত সময় নেই। - এটার কী হবে?

সমস্যা নাই, আমরা ভেতরে গিয়ে বানাতে পারব।

আর বন্দুক?

কোথায়?

শোনো, বেশি উত্তেজিত হয়ে, উল্টাপাল্টা কিছু করে ফেলো না।

আর কোনো প্রশ্ন আছে?

- নাম? - আরাবিন্দ।

- ঠিকানা? - মান্নারকাড।

- কালেক্টর কখন আসবে? - অফিসে গিয়ে খোঁজ নিন প্লিজ।

বন্দুক চালাতে পারো?

না।

কিন্তু এভাবেই তো মানুষ নতুন কিছু শেখে।

কালেক্টর কখন আসবে?

তার পি.এ এখনো ফোন করেনি।

বাইরে দাঁড়ান, ফোন দিচ্ছি।

- ফাইলটা দাও? - এটা? - হ্যাঁ।

- স্যার আসবেন তো? - হ্যাঁ।

- শুনুন, কালেক্টর কি এসেছে? - না, এখনো আসেনি।

শুনুন।

একটা আবেদন লিখে দিতে পারবেন?

ওই লোকটা পারবে।

তুই কেন লিখবি না? বল?

তুই বিয়ে করিস না কেন?

এটা ঠিক না, বাবা।

তোকে কতবার বলতে হবে?

চুপ করো, কুঞ্জি।

তার স্মৃতিশক্তিতে সমস্যা।

- সমস্যা নেই। - কীসের সমস্যা নেই?

কাকে বোকা বানানোর চেষ্টা করছিস?

হ্যালো।

শোনেন সবাই।

কালেক্টর স্যার আজ বিডিও অফিসে যাবেন।

তাই আপনারা সবাই কাল আসুন।

- কাল আসবে? - হ্যাঁ।

কিছু মনে করবেন না, বাবা।

আমি কাগজ এনেছি। একটু লিখে দিন।

নিন, লিখে দিবেন?

কী লিখতে হবে আমি বলছি।

চলো।

- কী হলো? - কালেক্টর আজ আসবে না।

যাওনি কেন?

ফিরে এলে কেন?

তোমাকে যেতে বলেছিলাম।

কুট্টি, বলো কী হয়েছে?

কালেক্টর আজ অফিসে নেই।

- তাহলে? - চলো।

৬-৮-৩

২-১-৭

হ্যালো।

উসমান বলছি।

স্মারকলিপিটি দিতে পারিনি।

কালেক্টর আসেনি।

- এখানে স্বাক্ষর করুন। - স্বাক্ষর করতে পারি না।

টিপ সই দিন এখানে।

- কাল কি আসবেন উনি? - হ্যাঁ, দিন ওখানে।

দাড়ি-গোঁফ কাটিস না কেন, বাবা?

ভালো এটা।

- ভালো? - নতুন ফ্যাশন।

ফ্যাশন? এটাও তুই ঠিক করবি?

- কাল আসবে, বাবা? - আমাকে খুঁজবেন না।

কারো সাথে ঝগড়া করবেন না, ঠিক আছে? আসি।

চলো।

তুমি বাড়িতে আসছো তো না?

না।

আমাদের একসঙ্গে দেখা করা ঠিক হবে না।

কী সিদ্ধান্ত নিলে?

আরো ভালোভাবে প্রস্তুত হতে হবে।

ভালোই হয়েছে আজ সেটা ঘটেনি।

কত দিন লাগবে?

শুকনো কিছু ফল লাগবে আমাদের।

কিন্তু কাছে পর্যাপ্ত টাকা নাই, বালু।

এমন কোনো জায়গা আছে যেখানে রাতে একসাথে থাকতে পারব?

যাই তাহলে?

মডেলটা ছোট কিন্তু বিদ্যুৎ খরচ বেশি হবে।

এটাই চলবে থাক।

কেরোসিনের চুলা কেনা যায় না?

বৈদ্যুতিক খুঁটি থেকে একটা লাইন নিয়ে নিও।

কখনোই না।

কেন? এখন প্রায় সবাই এটা করে।

তো কী হয়েছে?

তুমি এটাকে চুরি ভাবছো?

এটাকে ডাবল স্ট্যান্ডার্ড বলে।

এনার্জি বুস্টার আছে?

- এনার্জি ড্রিংক চান? - আরে, না।

- কত? - সবমিলিয়ে ৫০ টাকা।

সত্যিই খুব চিন্তা হচ্ছে, কুট্টি।

তোমার মাকে কী বলবো?

কোনো বাহানা বানিয়ে বলে দিও।

ভয় হচ্ছে গুলি করে মেরেই ফেলে নাকি!

তুমি যাও।

দাও।

- পরে দেখা হবে। - ওকে।

থামো!

এই!

- এখানে আসো। - কী ব্যাপার স্যার?

তুমি...

- রাকেশ... কানহানগড়ের? - হ্যাঁ।

- কানহানগড়ের না? - হ্যাঁ, স্যার।

আমাকে চিনতে পেরেছো?

- না, স্যার। - পারার কথাও না।

জানতাম একদিন তোকে ধরে ফেলবোই।

উঠ, গাড়িতে উঠ।

- কেন স্যার... - ভেতরে ঢুক! - ওকে, স্যার

- আমরা শেষ, উসমান। - কী করবো এখন?

সবাইকে জানাতে হবে।

তুমি রাপ্পাদির কাছে যাও, উসমান।

ওকে, ওদেরকে সাথে নিয়ে আসবো।

- আমি ওদের ফলো করছি। - ওকে।

- একটু দ্রুত যাবে? - ওকে, স্যার।

কানহানগড় থেকে কিছুদিনের জন্য নিখোঁজ ছিলি।

না স্যার, ওখানেই তো ছিলাম।

স্যার, আমাকে চিনতে পারছেন না?

না।

আমি আপনার ছাত্র ছিলাম।

কোথাকার?

- মিনার্ভা কলেজের। - আচ্ছা।

কী হয়েছে, উসমান?

পুলিশরা রাকেশকে ধরে নিয়ে গিয়েছে।

বালু, কী করবো এখন?

তার কাছে বন্দুক আছে!

তুমি তাকে নিয়ে আসবে বলেছিলে।

কুট্টি থানায় গেছে।

চলো আমরাও যাই।

আদিবাসী গোত্ররা এই মহাসভার নেতৃত্ব দেবে।

কেরালার আদিবাসীদের অধিকারের জন্যই এই ঐতিহাসিক সংগ্রাম।

এই প্রতিবাদ মিছিলের রাজনৈতিক তাৎপর্য তুলে ধরতেই...

...আদিবাসীরা আজ এখানে।

তো কেসের কী হলো?

কোন কেস, স্যার?

ওই বাস পোড়ানোর ঘটনার।

কোর্ট থেকে আমাকে খালাস দিয়েছে।

- সত্যি তো? - হ্যাঁ, অনেকদিন হয়ে গেছে।

- রাইটার? - স্যার? - ১৯৯৩ সালের একটা কেস,

হাসডার্গ থানায় দায়ের করা কেস, অভিযুক্তের নাম রাকেশ কানহানগড়,

- তাদের বলুন বাস পোড়ানোর কেসটা। - আচ্ছা, স্যার।

আমি কেসটার বর্তমান অবস্থা সম্পর্কে জানতে চাই।

- ওকে? - ওকে, স্যার।

তোমার ব্যাগে কী?

খুলো তো দেখি উল্টাপাল্টা কিছু আছে নাকি?

আমি এখানে আসা সকলের প্রতি...

শ্রদ্ধা, ভালবাসা এবং কৃতজ্ঞতা জ্ঞাপন করছি।

এটা দিয়েই শুরু করা যাক।

এখানে খেটে খাওয়া মানুষগুলো দুর্ভোগ পোহাচ্ছে।

আমাদেরকে মানুষ হিসেবে গন্য করা উচিত।

অন্যথায়, আপনারা যা-ই করুন না কেন...

আমরা আপনাদের বিরুদ্ধে যাব!

এটা সরকারের কাছে আমাদের বার্তা।

তাই আজ আমরা এখানে প্রতিবাদ করতে এসেছি।

- এগুলো কীসের জন্য? - আমার বন্ধুরা একটা 'আর্ট প্যারেডের' আয়োজন করছে।

এগুলো রাস্তায় খেলা দেখানোর সরঞ্জাম।

খেলা দেখানোর জন্য এসবের কেন প্রয়োজন?

এটা একজন বিজ্ঞানীর কথা, স্যার।

এটা বিজ্ঞান আর মানুষের সাথে সম্পর্কিত, আপনি জানেন-ই তো।

স্যার?

স্টেশন অফিসার নিশ্চিত করেছে যে মামলাটির নিষ্পত্তি হয়েছে।

রাস্তায়রখেলো ঠিক আছে, তবে আগের সেই উল্টাপাল্টা খেলায় যাতে না মাতো।

না স্যার, আমি আর এখন ওসবে নেই।

এখন বেশিরভাগ সময় থিয়েটারেই থাকি।

স্যার, স্যার, মন্ত্রী মশাই সভাস্থলের প্রায় কাছাকাছি চলে এসেছে।

- তুমি যাও এখন। - ওকে।

মোহনকে একটু ডাকো।

আমরা আমাদের বন রক্ষা করতে চাই।

আমরা আপনাদের দয়া চাই না।

এই দেশে আমাদেরও থাকার অধিকার আছে।

যতদিন আমাদের প্রয়োজন আছে, ততদিন আমাদের অধিকারও আছে।

সেইসাথে ব্যক্তি স্বাধীনতাও।

আমরা কিছু পরিবর্তন আনতে চাই।

ব্রিটিশরা এ দেশ শাষন করার সময় বন সংরক্ষণ আইন'সহ বেশ কিছু আইন প্রণয়ন করেছিল...

যাতে সহজেই আমাদের ভূমি দখল করতে পারে।

এই আইন দ্বারা আমাদের আদিবাসীদের বিছিন্ন করে দিয়েছে।

বনভূমি দখলকে সরকার সমর্থনও করেছে...

এবং তারা আমাদের বনজ সম্পদকে লুটপাট করেছে।

যুগ যুগ ধরে তারা আদিবাসীদের উপর অত্যাচার করেছে।

আমাদের বাচ্চারা থেকে শুরু করে, নারী, অসুস্থ বৃদ্ধরা পর্যন্ত...

তাদের স্লোগান ধরেছিল এবং তাদের জয়গান গেয়েছিল,

কিন্তু শেষ পর্যন্ত তারা আমাদের ভূমি দখল করে নেয়।

সরে দাঁড়াও প্লিজ।

এক্সকিউজ মি!

আমাকে যেতে দিন প্লিজ।

আমাকে যেতে দিন।

হ্যালো, সরুন!

আমি কমরেড রবির সাথে দেখা করতে যাচ্ছি।

চিন্তা করো না।

সেই 'সিআই' একটা পুরানো মামলার ব্যাপারে আমার সাথে কথা বলতে চেয়েছিল।

- তারা কি সন্দেহজনক ছিল? - না।

- বন্দুকটা কোথায়? - কোমরে গুঁজে রেখেছি।

যদি তল্লাশি করতো।

কী আর হতো, পেয়ে যেত।

আমার কলমটা খুঁজে পাচ্ছি না।

বাবা কোথায় গেছে?

সে আজাদকেও কিছু জানায়নি।

তোর আন্টির কাছ থেকে কিছু তরকারি নিয়ে আয়।

যা, রোজা।

পহেলা নভেম্বর প্রধানমন্ত্রী 'এইচডি দেবগৌড়া' কেরেলা সফরে যান।

আরো কিছু যোগ করো।

খাবার পানিই আমাদের প্রধান সমস্যা হবে।

সেখান থেকেই আমাদেরকে এটার ব্যবস্থা করতে হবে।

আমাদের কি আরও লোকবল প্রয়োজন?

উসমানকে যোগ দিতে বলা ঠিক হবে? অনেক কিছু করার বাকি আছে।

আরে, আমরাই যথেষ্ট, কী বলো?

হ্যাঁ।

গত সপ্তাহের খবরটা জানি কী ছিল? কোথা থেকে বিমানটি হাইজ্যাক হয়েছিল?

- লেবানন। - লেবানন থেকে বুলগেরিয়ায়।

মাত্র একজন লোক এটা হ্যাইজাক করেছিল।

হেই।

কে?

উসমান।

- বাড়ি গিয়েছিলে, কমরেড? - কমরেড রবির সাথে ছিলাম।

ভেতরে আসো।

- কী এটা? - কিছু খাবার।

ব্যাগ গোছাবো?

আমার ব্যাগটা দাও।

- এগুলোও কি দরকার? - না।

এখানে আরো কিছু জিনিস আছে।

আমাদের প্রয়োজনীয় জিনিসগুলোই শুধু নেব।

- আর কী বাকি আছে? - কিছু খাবার আর সরঞ্জাম।

কুট্টি, সাবধানে।

আমরা কি সঠিক পথেই আছি?

তোমরা লড়াইয়ে সহানুভূতিশীল প্রতিদ্বন্দ্বীর কল্পনা করা কোনো স্কুলের বাচ্চা নও...

সত্যগ্রাহীও নও যে তার শত্রুদের ঘৃণাপূর্ণ বিদ্রুপ সহ্য করে।

তোমরা তারা, যারা আন্দোলিত করে...

ধ্বংস এবং পুনর্গঠনের দু'মুখো তীক্ষ্ণ তরবারি।

আর অপেক্ষা করে সর্বোচ্চ ধাঁচের নিষ্ঠুর নির্যাতন এবং প্রতিশোধের।

তোমরা সম্মুখ সারির যোদ্ধা, যারা অবাধ্যভাবে দৃঢ়পায়ে সামনে এগিয়ে চলে

ইউপি জয়রাজ।

তিনি অনেক জ্ঞানী ছিলেন!

তাই না?

ঘুমাও, রাকেশ।

বালু?

উসমান কে দেখেছো?

উসমান আসবে।

এই, রাকেশ।

উসমান সময় মতোই আসবে।

তো প্ল্যান'টা কি?

তাকে আমাদের সম্পর্কেও বলবেন প্লিজ!

কালেক্টর সাহেব যাবে কখন?

- আনুমানিক সাড়ে ১২ টার দিকে। - ওকে।

স্যার, কালেক্টর স্যার কি আজ তাড়াতাড়িই চলে যাবে?

- সরি, জানি না। - টোকেনটা আমি বুক করেছিলাম।

প্লিজ অপেক্ষা করুন।

আমি কালেক্টরের সাথে দেখা করতে যাব।

আপনি এখানেই থাকুন, আমি আপনাকে ডাকব।

- বাইরে কতজন হবে? - ২৫ জনের মতো।

- সবাইকে ডাকো। - আচ্ছা, স্যার।

- এটা এসপির অফিসে পাঠাও। - ওকে, স্যার।

কালেক্টর স্যার ওনার অফিসেই আছেন।

যারা তার সাথে দেখা করতে চান ভেতরে যান।

- এখন যান। - কীসের টোকেন?

কোনো টোকেন লাগবে না, আপনারা সবাই ভিতরে যান।

প্লিজ ভিতরে যান।

কালকের মধ্যে শেষ করো।

নমস্কার।

মুখ্যমন্ত্রীর সঙ্গে মিটিংয়ের কী অবস্থা?

কল্যাণ সমিতির সভাও ডাকতে হবে।

- ৭টায়... - সবাই বসুন প্লিজ... ৭টায় না ৮টায়?

আজ শুধু একটা মিটিং-ই, দুপুর ২ টার মধ্যে চলে আসবো।

সবাই বসুন প্লিজ।

আমি তোমার ক্যামেরা ভেঙে ফেলব। এটাই তোমার উচিত শিক্ষা হবে।

মা, প্লিজ বসুন।

আমি আজ একটু ব্যস্ত।

আমাকে আগালিতে একটা মেডিকেল ক্যাম্পে যেতে হবে।

সরি, আমাকে ভুল বুঝবেন না।

আপনারা আবেদনপত্র জমা দিয়ে যেতে পারেন...

আমি চেক করে দেখবো। প্লিজ অন্যদিন আসবেন।

সাথীশান?

ঠিক আছে?

৭টায় না ৮ টায়?

৮টার জন্য ফিক্সড করো।

হ্যাঁ, বলুন। কী সমস্যা?

আমরা আয়াঙ্কালি পাডা এর সদস্য।

প্রতিবাদের অংশ হিসেবে আমরা এখানে এসেছি।

ওকে, সমস্যাটা কী?

আপনাদের কাছে কোনো লিখিত আবেদনপত্র আছে?

এটা কোনো আবেদনপত্রে লিখে সমাধান করা যাবে না।

কী এমন সমস্যা এটা?

বসে কথা বলি। বসুন প্লিজ।

বলুন।

গত সপ্তাহে কেরালা সরকার আদিবাসী ভূমি সংশোধনী বিল পাশ করেছে।

এটা বাতিল এবং প্রত্যাহার করতে হবে।

আদিবাসীদের ন্যায্য জমি তাদের ফিরিয়ে দিতে হবে।

এটা আইনী কাজ।

আমি এটার ব্যাপারে কিছুই করতে পারি না।

আমরা শুধু আইন কার্যকর করি।

তাহলে এটা আমাদের পাল্টা কাজ।

সরকার আইন বাতিল না করা পর্যন্ত আমরা আপনাকে বন্দি করে রাখব।

বন্দি? কী বলতে চাচ্ছেন?

আর বলতে পারব না।

আপনি আমাদের হেফাজতে আছেন।

তাকে বাঁধো।

সাদিক!

বের হন।

- আপনারা কী করছেন? - চলে যান।

- প্লিজ এটা করবেন না। - চুপ করুন।

সাদিক।

দূরে থাকো।

থামো।

সাদিক, থামো।

স্যার...

আমাকে গুলি করতে চাস?

প্লিজ.....

- তাকে ধরো। - প্লিজ কিছু করবেন না...

অজয় স্যার।

প্লিজ... প্লিজ আমার কথা শুনুন....

বেআইনি কিছু করবেন না। প্লিজ শুনুন।

স্যার?

বের হন।

বালু, খোলো।

দূরে থাকুন।

নড়বেন না।

চলে যান।

যান।

যান।

শুনুন সবাই!

আপনারা সবাই-ই এক্ষুনি এই জায়গা থেকে চলে যান।

আমাদের লড়াই হচ্ছে একটা গুরুতর অন্যায়ের বিরুদ্ধে।

আমরা সরকারের সাথে কথা বলতে চাই।

আমাদের কাছে অস্ত্র আছে। তাই তাদের আমাদের কথা শোনা উচিত।

ভেতরে আসার চেষ্টা করবেন না। পুলিশকেও জানান।

আমরা নির্যাতিতদের অধিকার আদায়ের জন্য লড়াই করছি।

আর আমরা এটা শান্তিপূর্ণভাবে করতে চাই।

তাই আমরা আপনাদের আমাদেরকে সাহায্য করার জন্য অনুরোধ করছি।

- প্লিজ এখানে জড়ো হবেন না। - যান।

- প্লিজ চলে যান। - সরুন।

- প্লিজ সবাই চলে যান। - সবাই যান।

ম্যাডাম?

এস.পি'র অফিসে কল করো।

স্যার, তাড়াতাড়ি আসেন, স্যার।

- লোকাল থানায় চেষ্টা করো। - আমি কাউন্টারে জানাচ্ছি, ম্যাডাম।

- আমাকে একটু জল দাও। - ৬-৮-০-১-১-৭. - রিং হচ্ছে?

হ্যালো, এস.পি অফিস?

কালেক্টরের অফিস থেকে ফোন দিচ্ছে।

৬-৮-৩-২-১-৭.

কমরেড কান্নান?

আমি উসমান।

আমরা স্মারকলিপি জমা দিয়েছি।

তাহলে আমি সেখানে আসছি।

আমাকে দেখতে না পেলে, ২টার পর এই নাম্বারে ফোন দিবে।

অবশ্যই ফোন দিবে।

আমি যথাসাধ্য চেষ্টা করবো আসার জন্য।

ঠিক আছে, আমি ২টার দিকে আসবো।

হ্যালো।

না, স্যার এখানে নেই।

ওনার বাড়িতে একটা অনুষ্ঠান আছে।

১১ টার দিকে আসবে বলেছিলেন।

হ্যালো।

বোকামি করবেন না। পুরাই পাগলামি।

আমরা বিষয়টা নিয়ে কথা বলতে পারি।

- আপনারা আইন নিজের হাতে তুলে নিতে পারেন না। - আমরা আপনার আইনের পরোয়া করি না।

আমাদের প্রতিবাদ কোনো আইন মানে না।

শুনুন, প্লিজ আমাকে খুলে দিন।

প্লিজ কথা বলা বন্ধ করুন, স্যার। এখন আমরা কথা বলবো।

- না করলে? - আপনার খুলি উড়িয়ে দেব।

ধুর বাল!

আপনারা চান'টা কী?

বলুন আমাকে!

সংশোধিত আদিবাসী ভূমি আইন বাতিল করুন।

আদিবাসী ভূমি আদিবাসীদের জন্য ।

অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই!

আয়াঙ্কালি পাডা, জিন্দাবাদ।

INTERVAL

- স্যার। - আসলে হয়েছেটা কী?

- এটা প্রথম তলায় ছিল। - এখন কী অবস্থা?

- কোনো ধারণা নেই, স্যার। - কাউকে ঢুকতে দিও না।

- তুমি এখানে থাকো। - চলে যান।

আমরা প্রথমে কাকে ফোন দিবো?

মুখ্যমন্ত্রী না-কি মুখ্য সচিব?

- আমি আপনাদের সাহায্য করতে রাজি নই। - কেন?

কারণ এটা গণতান্ত্রিক নয়।

হ্যালো, থামুন।

- আমরা ন্যায়ের জন্য লড়াই করছি। - ন্যায়? এটাই কি আপনাদের প্রতিবাদ?

- আপনাদের যুক্তি কী? - আপনি সরকারের প্রতিনিধিত্ব করেন।

- তাতে কী? - আপনাদের নিয়মকানুন!

এই প্রহসন সূলভ গণতন্ত্রই সবচেয়ে বড় আতঙ্কের।

আমরা যা করতে পারি তা হলো বিরোধিতা করা।

এটা পড়ুন, স্যার।

- কিসের জন্য? - এখানে সব লেখা আছে, পড়ুন।

এই সংগ্রাম নির্যাতিতদের উপর অন্যায়ের বিরুদ্ধে!

এই তো..

মুখ্য সচিবের নাম্বার।

ওই যে, উনি।

- গুড মর্নিং, স্যার। - গুড মর্নিং।

- অজয় দাঙ্গে এর বাড়ি নাসিকে? - হ্যাঁ, স্যার।

তাকে আগে কোনো হুমকি দেয়া হয়েছিল?

না, স্যার।

গোয়েন্দা প্রতিবেদনের অপেক্ষায় আছি, স্যার।

তারা কারা তার কোনো ক্লু আছে?

না, স্যার।

মুখ্যমন্ত্রীকে জানিয়েছেন?

স্যার, উনি নির্বাচনি সমাবেশে আছেন।

তার প্রধান সচিব জলদিই এখানে আসবেন।

আমরা ওনাকে জানিয়েছি।

- ডিজিপি স্যারও আসছেন। - ডিজিপি'কে জানানোটা যথেষ্ঠ না। [DGP = Director General of Police]

- এডিজিপি ভাসাই'কেও জানান। - জানিয়েছি, স্যার। [ADGP = Additional Director General of Police]

স্যার?

পালাক্কাড় কালেক্টর অফিস থেকে একজন কল করেছিল।

সে আমাদের হুমকি দিচ্ছিল।

কয়েক মিনিট আগেই কলটা এসেছিল।

- কীরকম হুমকি? - সে আপনার সাথে কথা বলার জন্য জোর করছিল।

- আপনি মিটিংয়ে আছেন বলা মাত্রই কল কেটে দিল। - কলব্যাক করেন।

ওয়েট।

সে কি মালায়ালাম ভাষায় কথা বলেছে?

হ্যাঁ, স্যার।

হ্যালো, মাতৃভূমি?

আমরা আয়াঙ্কালি পাডা এর সদস্য।

আমরা পালাক্কাড় কালেক্টরকে বন্দি করে রেখেছি।

এটা এক ধরনের প্রতিবাদ।

আমাদের কি ভিএস আইয়ার'কে কল করা উচিত না?

আমরা চাই 'আদিবাসী ভূমি সংশোধনী বিল' বাতিল করা হোক।

ডিজিপি কি শহরেই আছেন?

উনিও এখানে আসছেন।

ভিএস আইয়ার।

কী হয়েছে?

ব্যস্ত দেখাচ্ছে, স্যার। আবার চেষ্টা করছি।

বলতে চাচ্ছেন তাদের একজন আপনাকে এটা লিখে দিয়েছে?

চলো বাড়ি যাই।

পেছনে যান।

সবাই, পেছনে যান। জলদি।

প্লিজ এখানে অপেক্ষা করুন। আমরা ডাকব।

হ্যালো।

বিচারপতি ভিএস আইয়ার?

আমি ওনার সাথে সরাসরি কথা বলতে চাই।

বেঙ্গালুরু?

ওনার নাম্বারটা পেতে পারি?

সরে দাঁড়ান।

এদিকে, স্যার।

দিদি, প্লিজ সরুন।

অপরাধীদের আটকে রাখো।

স্যার, এটাই মেইন দরজা।

বন্দিরা এই রুমে আছে।

এখানে একটু ফাঁকা আছে।

কেবল এখান দিয়েই ভেতরে দেখা যায়।

ওখানে, স্যার।

- স্যার, আমি ওনার সাথেই ছিলাম। - উনি এডিএম। [ADM = Additional District Magistrate]

ওনার গায়ে কিছু একটা বেঁধে দিয়েছে।

বোমা মনে হয়।

কে যেন একজন অপরাধীকে চিনতে পেরেছে।

কে?

- স্যার, তিনি একজন সাংবাদিক। - ডাকো তাকে।

- আপনার নাম? - দিবাকারণ।

- কোন পত্রিকায় কাজ করেন? - রণভূমি।

কাকে চিনতে পেরেছেন?

গোলাপি শার্ট পরা...

গোলাপি শার্ট পরা লোকটা হলো নারায়ণকুট্টি।

সে তার দাড়ি কামিয়ে ফেলেছে।

কিন্তু আমি নিশ্চিত এটা নারায়ণকুট্টিই।

আচ্ছা।

মাত্রই এসপি শচীন আগরওয়ালের সাথে কথা বললাম।

স্যার, তারা লাইনে আছে।

স্পিকার অন করেন।

হ্যালো।

বললাম তো মুখ্য সচিবের সাথে কথা বলতে চাই।

মুখ্য সচিবই বলছি।

কে আপনি?

এন. রাজশেখর, তাই না?

হ্যাঁ।

আমরা ভালোভাবেই জানি আপনি এই রাজ্যের প্রধান এজেন্ট।

এখন কান খুলে শুনুন।

কালেক্টর অজয় শ্রীপদ দাঙ্গে আমাদের হেফাজতে আছে।

এসব কেন করছেন বলুন।

কেরালা সরকারের পাশ করা 'আদিবাসী ভূমি সংশোধনী বিল' বাতিল করুন।

আদিবাসীদের জমি আদিবাসীদের ফিরিয়ে দিন।

এগুলোই আমাদের দাবিদাওয়া।

আমরা আলোচনার জন্য প্রস্তুত।

কিন্তু আমার প্রথমে কালেক্টরের সাথে কথা বলা প্রয়োজন।

আমাদের বুঝে আসে এমন ভাষায় কথা বলুন।

আমি মালয়ালাম ভাষায় কথা বলবো।

তাকে ফোনটা দিন।

হ্যালো।

স্যার, অজয় দাঙ্গে বলছি।

হ্যালো, অজয়। অজয় বলছেন তো?

রাজশেখর বলছি।

শুনতে পাচ্ছেন?

- হ্যাঁ, স্যার। - আপনার কিছুই হবে না।

আমরা সবাই আছি এখানে, ঠিক আছে?

এখন বলেন।

ওখানে কী ঘটেছে?

স্যার, চারজন লোক আছে মোট। তারা মারমুখো।

অস্ত্রসজ্জিত।

এখন শুনুন।

নিজে আতঙ্কিত হবেন না আর তাদেরকেও শান্ত রাখেন।

আমরা এর সমাধান করব। আপনাকে নিশ্চয়তা দিচ্ছি।

আমি পরিস্থিতি সামলানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।

কিন্তু তারা আমাকে কিছু করতেই দিচ্ছে না।

ওটা নিয়ে ভাববেন না।

সঠিক সমাধান খুঁজে না পাওয়া পর্যন্ত শান্ত থাকুন।

- ওকে? - ওকে, স্যার।

এখন তাদের সাথে কথা বলি?

আচ্ছা, স্যার। ধন্যবাদ, স্যার।

হ্যাঁ।

হ্যালো।

হ্যাঁ।

সরকার যথাসাধ্য সব করবে।

আমি কথা দিচ্ছি।

কিন্তু আমার মুখ্যমন্ত্রীর সাথে আলোচনার জন্য সময় প্রয়োজন।

সে পর্যন্ত, কালেক্টরের যাতে কিচ্ছু না হয়!

আমরা সেটার নিশ্চয়তা দিতে পারছি না।

তার আগে এই কাজটা করুন।

আমরা চাই দেশের জনগণের কাছে বার্তাটা পৌঁছে দিন।

আকাশবাণী আর দূরদর্শনের মতো জাতীয় মিডিয়ায় এটা প্রচার করুন।

এটা না করা পর্যন্ত আমরা কোনো আলোচনা করবো না।

আচ্ছা, ঠিক আছে। এখনই করছি এটা।

আর আমাদের বোকা বানানোর চেষ্টা করবেন না।

একটা বোমই সব শেষ করে দিতে পারে।

আমরা এটা সমাধান করতে পারব।

আশা করি আপনি পরিস্থিতি বুঝতে পারছেন।

কিন্তু শান্তিপূর্ণভাবে।

তাদের সর্বশেষ কে দেখেছে?

স্যার, তাদেরকে আটকে রাখা হয়েছে। কাউকেই বাইরে যেতে দেওয়া হয়নি।

তাদের সাথে কথা বলা আরও দু'জনকে আমরা শনাক্ত করেছি।

- তুমি কে? - আমি কালেক্টরের গানম্যান।

- তো, তুমি ছিলে সেখানে? - স্যার!

তাদের কাছে কোনো অস্ত্রশস্ত্র ছিল? সব ক্লিয়ারলি বলো।

সবার কাছে বোমা ছিল। শুধুমাত্র একজনের কাছে বন্দুক ছিল।

- তোমার বন্দুক কোথায়? - স্যার, আমরা তাদের প্রায় ধরেই ফেলেছিলাম।

তোমার বন্দুক কোথায়?

- আজ নিয়ে আসিনি। - স্যার, তাদের প্রায় ধরেই ফেলেছিলাম।

আর তারপর?

কালেক্টর স্যার আমাদের তাদেরকে ছেড়ে দিতে বলেছিল।

তিনি সত্যিই বলেছেন?

স্যার, পাওয়ার অফ করে দিবো?

আমাদের অত্যন্ত সতর্ক থাকতে হবে।

নাহলে...

কেরালার জন্য এটা নির্মম একটা খবর হবে।

আমাদের গেমটা শেষ করতে হবে।

স্যার, আমরা ব্যাপারটা সামলাচ্ছি।

স্যার, ১০০ এর বেশি পুলিশ সদস্য নিয়োজিত রয়েছে।

আমরা আরো পুলিশ মোতায়েনের চেষ্টায় আছি।

এসপি'র সাথে কথা বলুন।

তাকে বলুন যে, কিছুতেই তাদের খেপিয়ে তোলা যাবে না।

আগে তাদেরকে পর্যবেক্ষণ করতে হবে।

- এটা কড়া আদেশ। - আচ্ছা।

এভাবে বেঁধে রাখলে আলোচনা করবো কীভাবে?

আপনাদের প্ল্যানটা আসলে কী?

নিরাপত্তা।

নিরাপত্তা?

কার নিরাপত্তা?

আমরা আপনার সম্পর্কে সব জানি।

- আপনি প্রথমে আইপিএস সম্পন্ন করেছেন। - হ্যাঁ।

- আপনি অস্ত্রশস্ত্রেও প্রশিক্ষণপ্রাপ্ত। - তো?

অস্ত্র তো আপনাদের কাছে।

আপনাদের কাছেই তো প্রচুর অস্ত্রশস্ত্র।

ভাবছেন আমি উল্টাপাল্টা কিছু করবো?

- আপনার মাথায় কী চলছে, তা আমরা জানি না। - সেটা আপনাদের সমস্যা।

আপনাদের অনাস্থা।

আমরা আপনার বাঁধন খুলবো না।

আমাদের একটা রেডিও দরকার।

অবশ্যই, স্যার।

তাদের পরিচয় শনাক্ত করা গেলেই, আমরা অপারেশন শুরু করতে পারবো।

আমি এসপি শচীন আগারওয়াল।

- আমরা আপনাদের সাহায্য করতে প্রস্তুত। - কোনো দরকার নেই।

বাসুদেব দফাদারকে ফোন দিন।

- আমরা কি কথা... - বাসুদেব দফাদারকে ফোন দিন। - আচ্ছা।

দফাদার?

আমরা কি কথা...

একটা রেডিও...

আর কিছু মিনারেল ওয়াটার লাগবে।

- তাড়াতাড়ি নিয়ে আসুন। - আমরা কি...

আমি বাড়িতে কল করতে চাই।

বাড়িতে কে কে আছে?

বউ আর বাচ্চা।

আমার ছোট একটা বাচ্চা আছে।

- কল করতে দাও। - কেন?

তাদের বলবে যে, তার ফিরতে দেরি হবে।

এখনই বলতে হবে?

তার অধিকার এটা।

আমাদের ফেইক নিউজের উপর নজর রাখতে হবে।

- স্যার? - বসুন।

- মুখ্যমন্ত্রীর সাথে কথা হয়েছে? - উনি একটু অসুস্থ।

এজন্য উনি নির্বাচনি সমাবেশও বাতিল করে দিয়েছেন।

উনি গেস্ট হাউজে বিশ্রাম নিচ্ছেন।

ওনার মনে হচ্ছে, এটা নকশাল গ্রুপের কাজ। [নকশাল বা নকশালবাদী বলতে উগ্র বামপন্থী দলগুলোকে নির্দেশ করা হয়।]

এটা কেবলই রাজনৈতিক দৃষ্টি আকর্ষণের একটা চাল, স্যার।

আমার মনে হচ্ছে ব্যাপারটা আমাদের ধারণা থেকেও বেশিকিছু।

স্যার, আমাদের তদন্ত করতে হবে তারা অস্ত্রগুলো কোথা থেকে পেয়েছে?

হতে পারে বর্ডার ক্রস করে এসেছে।

এটা একটা বিতর্কিত নথিপত্র।

আদিবাসী ভূমি সংশোধনী আইন।

১৯৯৬

হ্যালো।

- হ্যালো, মালিনি। - হ্যাঁ, অজয়। বলো।

মালিনি, আমি অফিস থেকে ফোন করেছি।

যা-ই ঘটুক না কেন, আমরা আমাদের প্ল্যান চেঞ্জ করছি না, ঠিক আছে?

ছোট্ট একটা সমস্যা হয়েছে।

এ আবার নতুন কী?

আমরা কতদিন যাবত কেরালায় আছি?

কথাগুলো মনোযোগ দিয়ে শুনো। আর শান্ত হও।

- কী কথা? - একটা উগ্রবাদী দল এখানে এসেছে।

- তারা প্রতিবাদের পরিকল্পনা করছে। - উগ্রবাদী দল?

সহিংসতা বিহীন প্রতিবাদ।

- অজয়, সমস্যাটা আসলে কী? - আমাদের পরিবারকে সব জানাও।

- কিন্ত তাদের ভয় দেখাবে না। - খুব সিরিয়াস কিছু?

- আমি পরে ফোন দেওয়ার চেষ্টা করবো। - হ্যালো।

- মা? - শুনতে পাচ্ছেন?

- কে বলছেন? - আপনার এখন করণীয় হলো...

কর্তৃপক্ষকে ফোন করুন আর আপনার স্বামীর জীবন ভিক্ষা চান।

- কী হয়েছে? - হ্যালো?

মা, অজয় ফোন করেছিল।

একটা সমস্যা হয়েছে।

আমি সরকারী প্রতিনিধি, তাই না?

আমার পরিবার তো নয়।

তাদের ভয় দেখাবেন না।

প্লিজজ যান।

সবাই এখান থেকে যান।

ভাই?

শুনেছি কুট্টি না-কি অপহরণকারীদের একজন?

জানি না আমি।

পুলিশ তাকে শনাক্ত করেছে।

এ ব্যাপারে কিছু জানেন?

পরে চেক করবো।

আমি যা শুনলাম, তা-ই তো বললাম।

স্যার, নারায়ণকুট্টি নামের একজনকে শনাক্ত করা হয়েছে।

আমরা তাকে যাত্রাদলের মামলায় আটক করেছিলাম।

তাহলে নিশ্চয়ই তারা কেরালা কমিউনিস্ট পার্টির লোক।

আয়াঙ্কালি পাডা কেবল একটা ছলনা মাত্র।

তারা আমাদের বিভ্রান্তিতে ফেলতে চায়।

আলাপ-আলোচনার জন্য আমাদের সকল রাস্তা খোলা রাখতে হবে।

ঠিক বলেছেন, স্যার।

স্যার, আমার মনে হয় স্বরাষ্ট্র সচিবকে ব্যাপারটা জানানো উচিত।

শাস্ত্রী স্যার আপনার বন্ধু।

একদমই ভুলে গিয়েছিলাম। প্লিজ, তার অফিসে ফোন দিন।

আমরা একজন মানুষের জীবনকে ঝুঁকির মাঝে ফেলতে পারি না।

এর থেকে ছোট সাইজের নেই?

না, এটাই পেয়েছি শুধু।

- আমাদের দরজা খুলতে হবে। - কী?

দরজা খুলতে হবে।

স্যার, কোনো কারেকশন?

এক সেকেন্ড, স্যার।

শাস্ত্রী স্যার।

- স্যার, রাজশেখর বলছি। - হ্যাঁ, রাজশেখর।

ভয়ংকর সংবাদটা আমি শুনেছি।

যা হয়েছে তা কোনো রাষ্ট্রই মানতে পারবে না।

আমরা এক রাউন্ড এনএসজি এবং র‍্যাপিড অ্যাকশন ফোর্স পাঠাচ্ছি।

এরাই এটা সামলাবে। ওকে?

ধন্যবাদ স্যার, অসংখ্য ধন্যবাদ।

ন্যাশনাল সিকিউরিটি গার্ড এর একটা টিম পাঠাচ্ছেন।

এটা তো ভালো খবর, স্যার।

আমাদের এ বিষয়ে আরো সাবধান হওয়া উচিৎ।

- আমার কি পালাক্কাড়ে যাওয়া উচিত? - বুঝার চেষ্টা করুন।

সেখানে যাওয়াটা সময়ের ব্যাপার।

আমাদের এখান থেকেই এটার ফয়সালা করতে হবে।

কিছু স্যুপ আনব?

পালাক্কাড়ে কী চলছে?

এখনকার আপডেট কী?

কালেক্টর কেমন আছে?

স্যার, সে ভালো আছে।

আমি তার জিম্মিদের সাথে কথা বলেছি।

তাদের বলুন কোনোরকম ঝামেলা যাতে তৈরি না হয়,

তাহলে এর পরিণতি কিন্তু ভয়াবহ হবে।

আমি তাদের সাবধান করেছি, স্যার।

কিন্তু তারা তাদের কথায় অনড়।

তারা আমাকে কথা বলার সুযোগ পর্যন্ত দেয়নি।

সেখানের নেতৃত্বে কে আছে?

আইজি চন্দন, স্যার।

সে-ই যথেষ্ট নয়।

সেখানে আরো কঠোর কাউকে চাই।

নর্থের আইজি ফ্রান্সিসকে...

সেখানে যেতে বলুন।

ঠিক আছে, স্যার।

অর্থমন্ত্রী মেনন....

থিরুবান্তপুরামে আছেন।

আমি এটা সামলাচ্ছি, স্যার।

কোনো ঝামেলা হলে আমাকে ফোন করবেন।

এটা খুবই সংবেদনশীল একটা বিষয়।

নির্বাচন প্রায় সন্নিকটে।

মাথায় রাখবেন এটা।

বুঝতে পেরেছি, স্যার।

আমরা এটা কৌশলে সামলাবো।

স্যার, সেন্ট্রাল থেকে একটা এনএসজি টিম পাঠাচ্ছে ঘটনাস্থলে।

এটা আরও বেশি সমস্যা সৃষ্টি করবে।

কথুপাড়াম্বুতে গোলাগুলির ঘটনা ঘটেছে এখনো ২ বছর হয়নি,

তাই আমাদের সর্বোচ্চটা দিয়ে সকল ধরনের ঝামেলা এড়াতে হবে।

কোন ভুল করা চলবে না।

জানি, স্যার।

আমাদের সাবধান হতে হবে।

আপনি এটা সামলাতে পারবেন?

স্যার, আপনিই ভালো জানেন।

অবশ্যই, স্যার। আমি ভালো করেই জানি।

- ঠিক আছে। - ধন্যবাদ, স্যার।

- স্যার, প্রেস থেকে নন-স্টপ ফোন আসছে। - অপেক্ষা করতে বলো।

আমার মনে হয়....

তাদের ফোন করা উচিৎ।

স্যার, এসপি ফোন করেছিল।

তারা পানি আর একটা রেডিও চাচ্ছে।

আমাদের কি অনুমতি দেয়া উচিৎ?

স্যার, আমাদের একটা সঠিক কৌশল দরকার।

নতুবা তারা এই পরিস্থিতির সুযোগ নিবে।

ফোন করুন তাদের।

তাদের সাথে কথা বলা যাক।

জানি আপনি কী বলতে চাচ্ছেন।

আমরা যা বলি শুনুন।

ওকে?

কেরালার সমস্ত আদিবাসী সম্প্রদায়কে বিধানসভায় তলব করুন আর তাদের,

জিগ্যেস করুন তারা এই নতুন আইন মেনে নেয় কিনা?

- তাদেরকে কথা বলতে দিন। - হ্যালো।

আমরা একদিনের মধ্যে বিধানসভা ডাকতে পারি না।

আপনারা যতদিন চান আমরা ততদিনই এখানে থাকতে প্রস্তুত।

কালেক্টরের জন্যও খাবার এনেছি।

এখন এসব বন্ধ করতে হবে।

মানে.....

ভালো হয় প্রথমে তাকে ছেড়ে দিন।

এটা খুব বড় ধরণের শিরোনামে পরিনত হবে।

ইতোমধ্যে হয়ে গেছে।

আসলে, এটাই আমরা চাই।

আপনারা যা করছেন কোনো সুশীল সমাজ তা মেনে নিতে পারে না।

চলুন সামনাসামনি কথা বলা যাক... শান্তিপূর্ণভাবে।

এখন পর্যন্ত এটা শান্তিপূর্ণভাবেই আছে।

এরবেশি আমাদের আর কিছু বলার নেই।

মনে হয় এনএসজির জন্য আমাদের একটা পরিকল্পনা বের করতে হবে।

জি, স্যার।

আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করব।

অলরেডি কয়েকজন মধ্যস্থতাকারীর সাথে যোগাযোগ করেছি।

- এনএসজি টিম কোয়েম্বাটোরে আসছে। - আপনাকে আপডেট জানাব, স্যার

এরপর সড়ক পথে আসবে পালাক্কাড়,

তাদের পৌঁছাতে রাত ৮টা বাজবে।

ধন্যবাদ। ধন্যবাদ।

তারা রাজি হয়েছে।

ইতোমধ্যে কালেক্টরেটে প্রচুর সশস্ত্র বাহিনী জড়ো হয়েছে।

আরো মোতায়েন করবে।

এছাড়া...

কেউ একজন কুট্টিকে চিহ্নিত করেছে।

তার মানে....

তারা কিছুক্ষণের মধ্যে আমাদের খোঁজও পেয়ে যাবে।

পুলিশ আমাদের বাড়ি এলো বলে!

আমার যতটুকু মনে হয়.....

আইজি স্যারও এসে পড়েছেন।

অল ইন্ডিয়া রেডিও, ত্রিশুর।

একটি ঘোষণা।

সাড়ে ১২ টার আঞ্চলিক সংবাদটা শুনো।

নিন পান খান।

না, ধন্যবাদ।

কেন? ভয় পাচ্ছেন?

আপনি ভয় পাচ্ছেন?

মোটেও না।

তবে আমরা আপনার সরলতাকে বিশ্বাস করি না।

কী বলতে চাচ্ছেন?

আমাদের কাকে বিশ্বাস করা উচিৎ? আপনাকে?

নাকি বাইরে অপেক্ষায় থাকা পুলিশকে?

নাকি সেই সব রাজনীতিবিদদের যারা আপনাকে নিয়ন্ত্রণ করে?

- হ্যালো! - হ্যালো।

- অ্যাডভোকেট মুরালী মেনন বলছেন? - জি, বলছি।

স্যার, নমষ্কার। আমরা আয়াঙ্কলি পাডা।

আমরা পালাক্কাড়ের কালেক্টরকে জিম্নি করে প্রতিবাদ আন্দোলন করছি।

হ্যাঁ, শুনেছি শুনেছি।

এমনকি খবরটা দেখার পর একজনের সাথে এটা নিয়ে আলোচনাও করেছি।

স্যার, আমরা আপনাকে সরকারের সাথে আমাদের মধ্যস্থতাকারী হিসাবে কাজ করার আমন্ত্রণ জানাই।

আপনি আমাকে কেন ফোন করেছেন তা জানতে চাই না।

কিন্তু আমি আপনাদের কাজকে মোটেও সমর্থন করছি না।

আপনারা সহিংসতাকে বেছে নিয়েছেন।

অন্যায়ের বিরুদ্ধে কথা বলার অধিকার সবারই আছে স্যার,

এমনকি সংশোধন করার অধিকারও।

কিন্তু কীভাবে এটা মধ্যস্থতা করব আমার জানা নেই,

- আশা করি কিছু মনে করবেন না। - না।

যাই হোক, আমি কার সাথে কথা বলছি?

আয়াঙ্কলি পাডা।

আমি আবারও আপনাদের বলছি।

প্লিজ।

এটা খুবই অস্বস্তিকর।

আমার বাঁধন খুলুন।

আপনি কি জানেন?

১৯৭৯ সালের জাতিসংঘের ঘোষণা অনুযায়ী..

- একজন বন্দিরও কিছু অধিকার আছে। - স্যার।

এমনকি তার আগেও...

১৯৫৭ সালে..

জাতিসংঘ ভারতসহ তার সদস্য দেশগুলোর কাছে একটা দাবি পেশ করে।

আদিবাসী সম্প্রদায়ের সুরক্ষা এবং তাদের জমিজমা রক্ষা করার জন্য একটা আইনের খসড়া তৈরি করা।

আপনি জানেন বলে, আমার মনে হয় না!

আইএলও কনভেনশন ১০৭। [ILO = আন্তর্জাতিক শ্রম সংস্থা (International Labour Organisation) ]

কেরালাও ১৯৭৫ সালে এমন একটা আইন পাশ করেছিল।

নামেমাত্র।

এটা সংবিধানের নবম তফসিলে অন্তর্ভুক্ত ছিল।

যাতে কোনোরকম নাশকতা না হয়।

২১ বছর ধরে, বাম ও ডান ফ্রন্ট পর্যায়ক্রমে রাজ্য শাসন করেছে,

আর আইনের ফলপ্রসূতা না কমা পর্যন্ত এটাকে দমিয়ে রেখেছে।

এখন পর্যন্ত..

সরকার আদিবাসীদের জন্য লক্ষ লক্ষ তহবিল বরাদ্দ করছে।

আপনি যদি এই তহবিলগুলো আদিবাসীদের মধ্যে বিতরণ করেন...

প্রতিটা ব্যক্তি ১ কোটি টাকারও বেশি পাবে।

টাকাগুলো কোথায় গেল, স্যার?

সরকার এক আইন করে অন্য আইন ভাঙার চেষ্টা করছে।

আমাকে বন্দি করে এর সমাধান করতে পারবেন বলে মনে হয়?

আদিবাসীরাই এই সমাজের প্রকৃত বন্দি।

আপনি তাদের জমি দখল করেছেন...

আর তাদের আশ্রয়হীন করেছেন।

কিন্তু এটা একটা গণতান্ত্রিক দেশ, বন্ধুরা!

আপনাকে নিয়মকানুন মেনে চলতে হবে।

এই গণতন্ত্র কেবল কয়েক-জনাতেই সীমাবদ্ধ।

এটাই আমরা বোঝানোর চেষ্টা করছি।

স্যার, এনএসজি কমান্ডোদের নেতৃত্ব দেবেন কে?

আইজি ফ্রান্সিস চ্যাকো? [IG = Inspector General of Police]

ফ্রান্সিস তো অনেক ভালো।

স্কটল্যান্ড ইয়ার্ডে প্রশিক্ষণ নিয়েছিল না? [স্কটল্যান্ড ইয়ার্ড = লন্ডনে অবস্থিত লন্ডন মেট্রোপলিটন পুলিশের একটা এলিট বাহিনী।]

সে ভালো, মুখ্যমন্ত্রীও এমনটাই বলেছিলেন।

সরকার কী করতে চাইছে তা আমি বুঝতে পারছি না।

শুনেছি তারা কেন্দ্রীয় বাহিনীকে ডেকেছে।

দেখা যাক।

প্রেসের জন্য একটা নোট লিখেছি।

আমি পড়ছি।

এটা বাম এবং ডান সরকারের...

সেই সমস্ত দুর্নীতিবাজ উচ্চশ্রেনির প্রতিনিধিদের জন্য একটা সতর্কবাণী,

যারা গত ২১ বছর ধরে...

আদিবাসী এবং অন্যান্য নির্যাতিত সম্প্রদায়ের সাথে প্রতারণা করে আসছে।

পালাক্কাড় জেলা কালেক্টর অজয় ​​শ্রীপদ দাঙ্গে...

চারজন অস্ত্রধারীর হাতে বন্দি।

আজ সকাল ১০ঃ৪৫ মিনিটের দিকে লোকগুলো ভিজিটর হিসেবে...

কালেক্টরের অফিসের ভেতরে ঢুকেছিল বলে জানা গেছে।

পুলিশের ধারণা তাদের কাছে বিস্ফোরক ও অস্ত্র রয়েছে।

কালেক্টরের কক্ষ তালা লাগিয়ে,

লোকগুলো তাকে বন্দি করে রেখেছে।

অতিরিক্ত জেলা ম্যাজিস্ট্রেট পদ্মিনী রামচন্দ্রন..

এবং অন্যান্য কর্মকর্তারাও উপস্থিত ছিলেন।

এসপি শচীন আগারওয়াল সহ পুলিশের ঊর্ধ্বতন কর্মকর্তারাও...

ঘটনাস্থলে এসে পৌঁছেছেন।

মা-বোনেরা, দয়া করে একটা লটারি কিনুন আর এই অন্ধ লোকটার দিকে সাহায্যের হাত বাড়িয়ে দিন।

হ্যালো।

আপনি আমাদের প্রথম শর্ত লঙ্ঘন করেছেন।

আমরা আপনাকে বলেছিলাম যে, আমাদের স্লোগান ছিল আদিবাসীদের ভূমি আদিবাসীদের জন্যই।

আকাশবাণী ভুলভাল খবর রিপোর্ট করছে।

আমরা এটা মেনে নিতে পারছি না।

প্লিজ শান্ত হন।

তারা ওই অংশটা কীভাবে মিস করেছে তা আমাকে চেক করার সুযোগ দিন।

প্লিজ

আকাশবাণী এটাকে এডিট করেছে কি-না জানি না।

আমরা যা বলেছি তা প্রতিটা চ্যানেলে সম্প্রচার করান।

আমাদের কথা মতো না করলে,

প্রতিটা বোমা বিস্ফোরণের জন্য আপনিই দায়ী থাকবেন।

পরের বুলেটিনে সব তথ্য থাকবে,

আমি গ্যারান্টি দিচ্ছি।

আরেকটা কথা,

বিচারপতি ভিএস আইয়ার আর আইনজীবী জায়াপালান,

আমরা তাদের মধ্যস্থতাকারী হিসেবে সুপারিশ করছি।

আপনি অবিলম্বে তাদের এখানে আনার ব্যবস্থা করুন।

তাদের পাবো কি-না সেটা তো আমাদের চেক করতে হবে।

সবকিছু আপনার উপর..

জীবনের গ্যারান্টি সহ।

বিচারপতি আইয়ারকে কল করুন।

- অ্যাডভোকেটের নামটা জানি কী ছিল? - অ্যাডভোকেট জায়াপালান, স্যার।

তিনি ত্রিশুরের একজন আসামী পক্ষের আইনজীবী।

সামাজিক ব্যাপার-স্যাপার নিয়ে সক্রিয়ভাবে কাজ করেন।

সেজন্যই হয়তো...

- তার নাম্বার পেয়ে যাব, স্যার। - আচ্ছা, তাকে নিয়ে যান।

কোনো খাবার অর্ডার দেবো?

- এশিয়ানেটের জয়কৃষ্ণকে ফোন দিলে না কেন? - তার নাম্বার?

তার পেজার নাম্বার আছে। [পেজার = ছোটো একধরনের বৈদ্যুতিক যন্ত্রবিশেষ যা আওয়াজ করে কোনো ব্যক্তিকে (যেমন একজন ডাক্তারকে) জানিয়ে দেয় যে কেউ তার সঙ্গে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছে।]

আমাকে একটু খুলে দিবেন?

ওয়াশরুমে যাব।

প্লিজ।

হিসু করবো।

স্যার, এনএসজি কমান্ডো দিল্লি থেকে রওনা দিয়েছে।

কোয়েম্বাটুরে কখন পৌঁছাবে?

পাঁচ থেকে ছয় ঘণ্টার মধ্যে।

তারপর সড়ক পথে দেড় ঘণ্টা।

তার মানে এই সময়টাই আমাদের আলোচনার জন্য আছে।

দেখা যাক।

ধন্যবাদ।

এক্সকিউজ মি!

হ্যালো।

আয়াঙ্কালি পাডা কে কল করুন।

৬-৮-

- ৬-৮- - ৩-২-

৩-২-

সামনে বাঁধবেন?

প্লিজ, খুব কষ্ট হচ্ছে।

প্লিজ।

নাহ, ধন্যবাদ।

কেন না?

আমরা কি স্পর্শাতীত?

না-কি অনশন-ধর্মঘট? [ হাঙ্গার স্ট্রাইক/ অনশন-ধর্মঘট = বিশেষত কোনো বন্দি যখন কোনো কিছুর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার জন্য খাবার প্রত্যাখ্যান করে]

হ্যাঁ।

- এটা আমার প্রতিবাদ। - ভালো।

খাবেন না।

হ্যালো।

ওই ফাইলগুলো চেক করতে পারি?

যাইহোক, আপনাদের সাথে কথা বলে কোনো লাভ নেই।

তাই আমাকে আমার কাজ করতে দিন।

- আমি সাহায্য করছি। - কথা বলা বন্ধ করুন।

এগুলো জরুরী ফাইল।

জোরাজুরি করলে, আপনাকে একটা ফাইল দেবো।

কেএপি পঞ্চম ব্যাটালিয়ন সশস্ত্র বাহিনীর একটা ইউনিট এখন এখানে আসবে। [KAP = Kerala Armed Police ]

ঠিক আছে, স্যার।

শুভ বিকাল, ম্যাডাম।

- কালেক্টর নিরাপদ আছেন তো? - এখন পর্যন্ত আছেন, স্যার।

আমি দরজার পাশে ছিলাম, স্যার।

কোনো পক্ষ থেকেই কোনো চেঁচামেচি ছিল না।

ম্যাম, নির্বাহী ম্যাজিস্ট্রেট শহরে আছেন?

তাদের সাথে কথা বলার চেষ্টা করেছেন?

আমি আমার সর্বাত্মক চেষ্টা করেছি, স্যার। কিন্তু তারা কথা বলতে নারাজ।

তাদের সংগঠনকে চিহ্নিত করেছেন?

আমরা নারায়ণকুট্টি নামের একজন স্থানীয় লোককে সনাক্ত করেছি।

স্যার, আমার মনে হয় এটা একটা রাজনৈতিক ইস্যু।

- অন্য আর কী ব্যবস্থা নিয়েছেন? - ফায়ারফোর্সের দুটি ইউনিট এসে পৌঁছেছে।

- অ্যাম্বুলেন্স? - কিছুক্ষণের মধ্যেই আসবে, স্যার।

স্যার, তারা কুমারান আর কুঞ্জিকে চাচ্ছে।

কে?

- কুমারান কে? - স্যার।

এই দম্পতি তাদের সাথে কথা বলেছে।

উনি বলেছে যে ওদের মধ্যে একজন উনার জন্য আবেদন লিখে দিয়েছে।

আচ্ছা।

পুলিশ আমন্ত্রণ জানানো হয়নি।

ফিরে যান।

যান।

আপনারা ভেতরে আসুন প্লিজ।

চিন্তা করবেন না।

আপনারা ভেতরে যেতে পারবেন না।

আমি জয়কৃষ্ণান, এশিয়ানেট থেকে এসেছি।

বললাম তো ভেতরে যেতে পারবেন না।

- কিন্তু আমাদের কাছে ভারী সরঞ্জাম আছে। - যাই হোক না কেন, আপনারা ভেতরে যেতে পারবেন না।

শুকুর, তাদের বের করে দাও।

আপনি শুরু করতে পারেন। আমি কিছুক্ষণের মধ্যে যোগ দিচ্ছি।

আমি ফোন করব, কেমন?

আমি একটা ফোন করতে চাই।

জয়কৃষ্ণান বলছি। আপনি কে বলছেন?

- আমি চলে যাচ্ছি। - কোথায় যাচ্ছেন, কমরেড?

- বয়নাড়। - আমিও চলে যাচ্ছি।

আমাকে বাড়িতে যেতে হবে।

শুনেছি মায়ের শরীরটা ভালো নেই।

তাছাড়া, অ্যাডভোকেট অ্যান্টোনি এবং এর্নাকুলামের কমরেড মাধবনকে ফোন করতে হবে।

আমি ইতোমধ্যে তাদের সতর্ক করে দিয়েছি।

দেখি বালু আর অন্যান্য কমরেডরা কতক্ষণ এটা চালিয়ে যেতে পারে।

আমরা ওখানে গত ২৮ বৎসর ধরে থাকছি।

অনেকবার আমরা মালিকানা পত্রের জন্য আবেদন করেছি।

কিন্তু কিছু হয়নি।

এখন তারা উচ্ছেদের নোটিশ পাঠিয়েছে।

আমরা একটা আবেদন দাখিল করেছি।

কিন্তু কোনো উত্তর আসেনি।

আমাদের বয়স হচ্ছে।

কারো উপর নির্ভর করার মতো কেউ নেই আমাদের।

অনুগ্রহ করে সাহায্য করুন, স্যার।

কেরানি সতীশকে ডাকুন।

কেরানি সতীশকে ডাকুন।

দফাদার?

কেরানি সতীশকে ডাকো।

আগে যখন আমরা কালেক্টর অফিসে আসতাম...

আমাদের ছেলেও আমাদের সাথে আসতো।

ও একটা দুর্ঘটনায় মারা গেছে।

আমরা এখন একদম একা।

সাহায্য করার মতো কেউ নেই আমাদের।

আপনি একটা স্টে অর্ডার দিলে অনেক উপকার হয়।

যখন আমরা গ্রামের অফিসে যাই, তারা আমাদের তহসিলদারের সাথে দেখা করতে বলে।

আমরা ওখানে অনেকবার গিয়েছি।

অফিসে বারবার গিয়েছি কিন্তু কিচ্ছু হয়নি।

আমাদের এখন আর অন্য কোথাও যাওয়ার নেই।

- হ্যালো। - এডভোকেট জায়াপালান স্যার? - জি।

নমস্কার স্যার। আমরা আয়াঙ্কালি পাডা।

পালাক্কাড় কালেক্টর......

হ্যাঁ, আমি শুনেছি।

কিন্তু আমাকে কেন ফোন করেছেন?

আমরা চাই আপনি আমাদের এবং সরকারের মধ্যস্থতাকারী হোন।

মধ্যস্থতাকারী?

আমি?

আমাদের বিশ্বাস আপনার মতো একজন অভিজ্ঞ উকিল আমাদের সাহায্য করতে পারবে।

সেজন্য আমরা 'মুখ্য সচিবের' কাছে আপনার কথা বলেছি স্যার।

না, কিন্তু....

আমার মনে হয় বিচার বিভাগের কাউকে বললে ভালো হবে।

কিন্তু আমরা এমন কাউকে চাই যিনি সৎ এবং বিশ্বাসযোগ্য।

ভাবলাম আমি ক্রিমিনাল এডভোকেট বিধায় আপনারা আমাকে চান।

এই প্রক্রিয়ায় যুক্ত হতে আমার কোনো সমস্যা নেই...

কিন্তু যদি এটা নির্বিঘ্নে চলতে দিতে চান...

সরকারকে হস্তক্ষেপ করতে হবে।

সেটা তো জানেন, তাই না?

আমরা দেখে নেব কেমন?

উনি চান 'মুখ্য সচিব' সিদ্ধান্ত নিক।

মনে হয় উনি আসবেন।

জানালা বন্ধ করো।

স্যার, নিচে সমস্যা হচ্ছে।

এমপি এবং এমএলএ এসেছেন।

তুমি গিয়ে সামলাও, যাও।

এটা একটা স্টে অর্ডার। [স্টে অর্ডার মানে স্থগিতাদেশ]

আপনার কাছে রাখুন এটা।

বিষয়টা নিষ্পত্তি না হওয়া পর্যন্ত কোথাও যাবেন না।

আপনাদের বাড়িতেই থাকুন।

এসবকিছু এই অর্ডারে লেখা আছে।

ঠিক আছে?

অনেক ধন্যবাদ, স্যার।

থামুন।

কুমারান।

প্লিজ আপনারা পিছিয়ে যাবেন?

উড়িয়ে দাও, কমরেড।

আরাবিন্দ, সব উড়িয়ে দাও।

আমাকে চিফ সেক্রেটারিকে ফোন করতে দিন।

- নড়বেন না। - প্লিজ কিছু করবেন না।

বালু।

পিছিয়ে যান আপনারা!

আমরা আমাদের আন্দোলনের পরবর্তী ধাপে অগ্রসর হচ্ছি।

এই বাটনটা টিপে দিলে পুরো জায়গাটা উড়ে যাবে।

সকলে পিছিয়ে যান।

প্লিজ আমাকে মুখ্য সচিবের সাথে কথা বলতে দিন।

আমরা আত্মঘাতী বোমারু।

স্যার, আমার বউ এখনো ওখানে।

স্যার।

ব্লাস্ট হয়েছে!

স্যার।

কালেক্টরের কক্ষে ব্লাস্ট হয়েছে।

স্কোয়াড ঢোকার চেষ্টা করেছিল।

কল দাও তাদের।

আইজির সাথে কানেক্ট করো।

ইনকিলাব জিন্দাবাদ।

অপরাধীদের গ্রেফতার করো।

রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের তদন্ত করো।

রাজনৈতিক ষড়যন্ত্রের তদন্ত করো।

ইনকিলাব জিন্দাবাদ।

ওনাদের বলো বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দিতে।

এই, বিদ্যুৎ সংযোগ বন্ধ করে দাও।

কী হচ্ছে ওখানে?

- স্যার, পার্টির লোকজন হট্টগোল করছে। - না, সব ঠিক আছে।

আমি আপনাকে পরে ফোন করব।

এমপি এবং এমএলএ এসেছেন, স্যার।

- কেউ গিয়ে তাদের সাথে কথা বলো। - সিআই জয় গিয়েছে, স্যার।

এসপি কেন যেতে পারছে না? এই, শচীন।

সেখানে শুধু আইজি চন্দ্রন একা কেন?

ফ্রান্সিস চ্যাকো কোথায়?

স্যার, তিনি কয়েক ঘণ্টার মধ্যেই সেখানে পৌঁছে যাবেন।

মধ্যস্থতাকারীদের কী অবস্থা?

স্যার, বিচারপতি আইয়ার ব্যাঙ্গালোরে আছেন, স্যার।

মনে হচ্ছে তিনি আসতে পারবেন না।

স্যার, আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করছি কিন্তু আমাদের দরকার...

এখানে কাজের মারাত্মক গাফিলতি হচ্ছে।

স্যার, প্লিজ স্যার, এখন ভিতরে যাওয়াটা মোটেও নিরাপদ না।

- আমরা এই বিষয়ে কথা বলতে পারি, স্যার। - কী বিষয়ে?

আপনারা ঠিকভাবে পরিস্থিতিই সামলাতে পারেন না, আমাদের কেন আপনাদের কথা শুনতে হবে?

স্যার, মুখ্য সচিবের অফিস থেকে ফোন এসেছে।

স্যার, আইজি চন্দ্রন বলছি।

আপনি সেখানে কী করছেন?

কী হচ্ছে এসব?

আমরা কালেক্টরের অফিস থেকে একটা বিস্ফোরণের শব্দ শুনতে পেয়েছি।

কোনো হতাহতের ঘটনা ঘটেনি, স্যার।

- সবকিছু নিয়ন্ত্রণেই আছে, স্যার। - কীসের নিয়ন্ত্রণে?

কিচ্ছু করবেন না।

- এনএসজি কমান্ডোদের জন্য অপেক্ষা করুন। - স্যার।

পুরোপুরি নিশ্চিত না হয়ে কোনো কিছুই করবেন না, প্লিজ।

কালেক্টরের মুক্তি না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সতর্ক থাকা উচিত।

- আপনাদের কেউ-ই রেহাই পাবেন না। - স্যার, প্লিজ।

- শান্ত হোন, স্যার। - আমরা কিছু সময় অপেক্ষা করি।

আপনাদের ততক্ষণে এটা ঠিকঠাক করতে হবে।

- প্লিজ। - আমরা এখানেই থাকব, তাই সাবধান।

বোকার মতো কীভাবে করতে পারলেন এটা?

এর পরিণতি সম্পর্কে কোনো ধারণা আছে?

- বসুন। - নইলে কী হবে? মেরে ফেলবেন?

আর কিই বা করতে পারবেন?

বসুন, স্যার।

আমি প্রতিবাদ দেখে বড় হয়েছি।

আমি সবসময় নিপীড়িতদের পাশে থেকেছি।

পাশে থেকেই বা তাদের জন্য কী করতে পেরেছেন?

বক্তৃতা দেওয়া খুব সহজ, স্যার।

না, এমনটা বলবেন না!

আমি মাত্র ৪০ দিন আগে এখানের দায়িত্বে এসেছি।

১০ দিন আগেও, আদিবাসীদের দখলকৃত জমি পুনরুদ্ধার করতে আমি ব্যবস্থা নিয়েছি।

আর সেটা শুধু হাইকোর্টের আদেশের কারণে করিনি।

- আমি জানতাম এটাই সঠিক কাজ ছিল। - তারপর কী হয়েছিল?

স্যার আপনি যখন আগালীতে এলেন আমি সেখানেই ছিলাম, স্যার।

আপনাকে দুপুরের মধ্যে কেসটি বন্ধ করতে বলা হয়েছিল।

এমনকি পুলিশও হাল ছেড়ে দিয়েছিল। আপনিও দেখেছেন সেটা।

এখানে অনেক কারণ আছে।

মূলত, রাজনৈতিক চাপ।

সেটা ভিন্ন কথা!

- দুঃখিত, স্যার! - কি আজগুবি কাজ!

দুঃখিত স্যার!

স্যার?

অ্যাডভোকেট জায়াপালান।

স্যার, নমস্কার।

বলুন, স্যার।

আপনি হয়তো শুনেছেন আজ পালাক্কাড়ে কী ঘটেছে।

হ্যাঁ, তাদের একজন আমাকে কিছুক্ষণ আগে ফোন করেছিল।

তিনি আমাকে তাদের মধ্যস্থতাকারী হতে বললেন।

কিন্তু এটা সরকারের সিদ্ধান্ত, তাই না?

- আমি তাকে এটাই বলেছি। - সেজন্যই ফোন দিয়েছি।

এটা সরকারের পক্ষ থেকে একটা অনুরোধ হিসাবে ভাবুন।

- আপনারা ভিতরে যেতে পারবেন না। - আমরা এশিয়ানেট থেকে এসেছি।

আইজি সাহেব আমাদের চেনেন।

- কালেক্টরের চেম্বার কোথায়? - প্রথম তলা, স্যার।

আমার মনে হয় না এটা এতটা সহজ হবে।

তাহলে দয়া করে মিডিয়াকে জানান, স্যার।

মধ্যস্থতার আলোচনা শুরু করতে অ্যাডভোকেট জায়াপালান পালাক্কাড়ে চলে গেছেন।

তবে একটা শর্ত আছে।

যখন আমি তাদের সাথে কথা বলবো কোনোরকম হস্তক্ষেপ করা চলবে না।

আমি পুলিশকে বিশ্বাস করি না।

আমি মধ্যস্থতাকারী হিসাবে যাচ্ছি।

আমি বন্দি হয়ে থাকতে চাই না।

হ্যালো, অজয়।

- হ্যালো, মালিনি। - বাসায় এত পুলিশ কেন?

আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।

মালিনি, ঘাবড়িও না।

- আমি তোমাকে পরে ফোন করবো। - মন্ত্রী মেনন স্যার ফোন করেছিলেন।

তিনি আমাকে বললেন 'আরএএফ' আর 'এনএসজি' টিম আসছে।

পরিস্থিতি কি এতটাই গুরুতর?

আমি তোমাকে পরে ফোন করবো, মালিনি।

হ্যালো।

হ্যালো।

কিন্তু স্যার...

সবাই বলবে পুলিশ ব্যবস্থা নিতে ব্যর্থ হয়েছে।

তারা যেভাবেই হোক পুলিশকে দায়ী করবে।

এটাই বাস্তবতা স্যার আর আপনি সেটা জানেন।

আবারও যদি একই রকম অশান্তি হয়?

আমাদের সামনে কী হবে তা ভাবা উচিত।

এটার একটা উদাহরণ স্থাপন করতে হবে।

নাহলে আমাদের আইনশৃঙ্খলা মোকাবেলায় ব্যর্থ বলে ভাবা হবে।

এনএসজি আসছে তার মানে এটা এখন জাতীয় খবর।

যার মানে আমরা জিতেছি। ঠিক বলছি, কমরেড?

বালু।

এনএসজি আক্রমণ করলে আমাদের প্ল্যান কী হবে?

আমাদের কাছে যা আছে তা দিয়ে সবকিছু উড়িয়ে দেব।

তারপর?

আমাদের কাছে কালেক্টর আছে।

কিন্তু আমরা তো তাকে মরতে দিতে পারি না

মরার ভয় পাচ্ছ?

অনুবাদ অংশগ্রহণেঃ আকতার হোসেন ۞ মৃদুল সরকার শান্ত কুমার দাস ۞ ইমরুল হাসান নাসিম

অনুবাদ অংশগ্রহণেঃ সুমন হোসেন ۞ ইমতিয়াজ উদ্দিন হাবিবুল্লাহ কায়সার ۞ মোঃ নাজমুল হক সাব্বির

অনুবাদ অংশগ্রহণেঃ সাকিব সরোয়ার ۞ সোহাগ দাস আহমেদ শুভ্র ۞ শাহরিয়ার হোসেন

অনুবাদ অংশগ্রহণেঃ জায়েদ আল আরাফ শিহাব রবিউল আওয়াল জীবন তানভীর হোসেন(Brad Delson)

সম্পাদনায়ঃ রবিউল আওয়াল জীবন তানভীর হোসেন(Brad Delson)

কোথায় যাচ্ছেন, ভাই?

স্যার, আমি আমার বউকে খুঁজে পাচ্ছি না, ও অসুস্থ।

আপনাকে সোজা যেয়ে ডানে যেতে হবে।

ভাই, সে ওখানে বসে আছে, সোজা গিয়ে ডানদিকে যাবেন।

এখানে কেন এসেছ?

যাও এখান থেকে।

আমার বাচ্চা স্কুল থেকে ফিরবে, কমরেড।

এখানে থেকো না, বাড়ি ফিরে যাও।

হ্যালো, আমি কি অ্যাডভোকেট সিবির সাথে কথা বলতে পারি?

তাকে বলবেন যে সেজা ফোন করেছিল।

কুঞ্জি, তুমি এখানে।

এটা আমি।

তোমার কুমারন।

- কোথায় ছিলে? - আমি তো এখানেই ছিলাম।

কোথায়? আমি তোমাকে সব জায়গায় খুঁজেছি।

আমার খুব পিপাসা পেয়েছে, আমি একটু জল খাব।

তোমাকে চা বা জুস কিনে দিব, আগে এই জায়গাটা ছাড়ি।

এখানের অবস্থা দেখেছ তো?

আমি পালাক্কাড়ে সাব-কালেক্টর হিসাবে আমার কর্মজীবন শুরু করি।

আমার চাকরির প্রথম দিন থেকেই...

আমি সেখানকার আদিবাসী সম্প্রদায়ের দুর্দশা দেখেছি।

আর এখনো তেমন কোনো পরিবর্তন হয়নি।

আমি আমার কর্মজীবনের ৩৬ বছরের কথা বলছি।

যাই হোক...

আমি এতটুকু নিশ্চিত যে তারা অজয়কে কোনোরকম আঘাত করবে না।

অপেক্ষা করেই দেখি।

খুব বেশি হলে, তারা তাকে রাত পর্যন্ত আটকে রাখতে পারবে।

একটা সময়, সবাই ক্লান্ত হয়ে পড়বে।

ক্ষুধাই সমস্ত সমস্যার কারণ হবে।

তার কিছুক্ষণ পর আয়াঙ্কলি পাডা কালেক্টরকে বন্দি করলে...

বিষয়টি অমীমাংসিতই থেকে যায়।

একটা জিনিস এখানে খুব গুরুত্বপূর্ণ যে...

রাজ্য সরকার এখন পর্যন্ত রাজ্যের কোনো মন্ত্রীকে ঘটনাস্থলে পাঠায়নি।

জায়াপালান সেখানে পৌঁছালে...

কোয়েম্বাটুরে আমাদের যে এনএসজি টিম যাবে তাদের খোঁজ রাখতে হবে। [NSG = National Security Guard]

স্যার, আইজি ফ্রান্সিস চ্যাকোর সাথে আমার কথা হয়েছিল।

সে অপারেশনের জন্য প্রস্তুত আছে।

- হ্যালো - আপডেট কী?

এত দেরি হচ্ছে কেন?

তাদের দুজনকেই ফোন করা হয়েছে।

বিচারপতি আইয়ার শহরের বাইরে আছেন।

আর অ্যাডভোকেট জায়াপালান রওনা দিয়েছেন।

এটা নিয়ে কিন্তু আর ফোন করবো না।

এখানকার বিদ্যুৎ সরবরাহ বন্ধ রয়েছে। এক্ষুনি ফিরিয়ে দেওয়ার ব্যবস্থা করুন।

দেখুন, নিশ্চয়ই কোনো সমস্যা হয়েছে। আমি ব্যাপারটা দেখছি।

যদি আমাদের বিরুদ্ধে কোনোরকম ব্যবস্থা নেন...

তাহলে কিন্তু আমরা সর্বশেষ ধাপে অগ্রসর হবো।

পালাক্কাড় কালেক্টরের জিম্মি পরিস্থিতি ক্রমশ জটিল হচ্ছে...

মুখ্য সচিবের কার্যালয় থেকে এক সংবাদ বিবৃতিতে বলা হয়েছে...

জিম্মিকারীরা সরকারের প্রস্তাব...

মেনে নিতে রাজি নয় বলে জানিয়েছে।

মুখ্য সচিব এন. রাজাশেখর আই.এ.এস বলেছেন...

সরকারি প্রতিনিধিগণ আপস-আলোচনার চেষ্টা চালিয়ে যাচ্ছে।

পালাক্কাড় কালেক্টোরেটে এক হাজারেরও বেশি পুলিশ মোতায়েন করা হয়েছে...

বলে জানিয়েছেন ডিজিপি কেপি বালাগোপালান।

তিনি আরও বলেন, সহিংসতার পাল্টা জবাবও সহিংসতা-ই হবে।

স্যার, আপনি বসুন, প্লিজ।

আমাদেরকে এই দরজা দু'টো একসাথে ভাঙ্গতে হবে।

জাতীয় নিরাপত্তা রক্ষীদের দলও ছয় সদস্য বিশিষ্ট।

- ওরা অনায়াসে ভিতরে ঢুকতে পারবে। - তবে এতে ঝুঁকি রয়েছে।

আমার চিন্তা ওদের কাছে থাকা বিস্ফোরকগুলো নিয়ে।

কিন্তু ওরা এক মিনিটেই কালেক্টরকে উদ্ধার করতে পারবে।

ওদের গতি বেশ ক্ষিপ্র।

এছাড়া, আমাদের পুলিশ বাহিনীর নেতৃত্ব দিবে নিথীশ।

হতাহতের ব্যাপারে কি ভেবেছেন?

ওদের কিন্তু মিনিটে চারজনকে মেরে ফেলার সামর্থ্যও আছে, স্যার।

আর, সব ক্ষয়ক্ষতির হিসেবও পুলিশকেই দিতে হবে।

ভুলবশত যেকোনো কিছু হতে পারে।

একটা জরুরি খবর আছে, স্যার।

ওরা নিচতলায় ঝামেলা করছে।

- এমপি আর এমএলএ মহোদয় কি এসেছেন? - জি, স্যার।

উনারা এখনও অপেক্ষা করছেন। বের হওয়ার জন্য প্রস্তুত নন।

কালেক্টরকে জিম্মি করা অসভ্যদেরকে গ্রেফতার করুন।

আমাদের আর অপেক্ষা না করে ভিতরে যাওয়া উচিত।

স্যার, আমি ডেপুটি সুপারিনটেন্ডেন্ট থমাস।

- চলুন, উপরে গিয়ে বসি। - মুখ্য সচিব ফোন করেছিলেন।

এখনকার পরিস্থিতি কী?

- কালেক্টরের কী খবর? - উনি নিরাপদেই আছেন, স্যার।

ঠিক আছে।

স্যার, উনি অ্যাডভোকেট জায়াপালান।

আপনার অপেক্ষায়ই ছিলাম আমরা।

ফ্রান্সিস চ্যাকো।

স্যার, যথাযথ সম্মানপূর্বক বলছি...

এই মধ্যস্থতাটা কিন্তু বৈধ।

এতে পুলিশের হস্তক্ষেপ করা উচিত নয়।

একদমই না, স্যার।

আমরা এই ব্যাপারে অবগত আছি।

আমাদের পূর্ণ সমর্থন আপনার সাথে আছে, স্যার।

- আমি কি আপনাদেরকে ভরসা করতে পারি? - নিশ্চয়ই।

দরজা খুলুন।

আমি অ্যাডভোকেট জায়াপালন।

দরজাটা খুলুন।

এসবের কোনো দরকার নেই।

আমি পুলিশকে ভিতরে আসতে না করেছি।

ঠিক আছে।

বসুন, স্যার।

কী নাম আপনার?

এটা জানা কি খুব জরুরি?

পরষ্পরকে বিশ্বাস করার জন্য জেনে রাখাটা ভালো।

বালু... কাল্লার বালু।

- কালেক্টর কোথায়? - কুট্টি?

আমি অ্যাডভোকেট জায়াপালান।

একটু দেরী হয়ে গিয়েছে, দুঃখিত।

সমস্যা নেই, স্যার। মুখ্য সচিব বলেছিলেন আপনি আসবেন।

আপনার অবস্থা জানতে চেয়েও অবশ্য লাভ নেই।

- পরিবারের সাথে কথা হয়েছে? - হ্যাঁ।

বেশ।

বসুন, স্যার।

এবার মূল কথায় আসি।

বলুন...

আমি আপনাদের জন্য কী করতে পারি?

আমরা চাই সরকার আমাদের দাবিগুলোকে মেনে নিক।

প্রচলিত আইনী ব্যবস্থায় এটার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

এর সুস্পষ্ট সমাধান না পাওয়া পর্যন্ত আমরা যাচ্ছি না।

ব্যাপারটা এত সহজ নয়।

আপনারা প্রণীত আইনের বিরুদ্ধে অভিযোগ করছেন।

একমাত্র আদালতই পারে এই ব্যাপারে হস্তক্ষেপ করতে।

আমি এটাই বলতে চাচ্ছি যে...

কাজটা করতে অনেক আইনি ঝামেলা পোহাতে হবে।

তাহলে আর কথা বাড়িয়ে লাভ নেই।

- আমরাই পরবর্তী করণীয় সম্পর্কে জানাবো... - বালু...

আজ পর্যন্ত আদিবাসী সম্প্রদায়ের পিছনে...

সরকারের ব্যয়কৃত সমগ্র তহবিলের প্রতিবেদন চাই আপনাদের।

এটা এক ঘণ্টায় করা সম্ভব বলে মনে হয়?

সত্যিই?

বিবেক দিয়ে চিন্তা করুন।

এটা সম্ভব না বলতে চাচ্ছেন?

তা বলতে চাইনি।

এটা করতে সময় লাগবে।

আপনাদের অনুরোধেই আপনাদের জন্য মধ্যস্থতা করতে এসেছি আমি।

- স্যার, অ্যাডভোকেট জায়াপালান ফোন করেছেন। - বলুন, জায়াপালান।

অজয়ের কী খবর?

সুস্থ আছে তো?

হ্যাঁ, উনি ভালো আছেন।

উনার স্ত্রীর সাথেও নাকি কথা হয়েছে।

দারুণ!

আমাদের মূল লক্ষ্য হলো কালেক্টরকে নিরাপদে মুক্ত করা।

আমি তাদের সাথে বিস্তারিত আলোচনা করেছি।

আর বুঝিয়েছি যে...

তাদের দাবি-দাওয়া পূরণ করতে সময় লাগবে।

কালেক্টরকে ছেড়ে দিতে রাজি হয়েছে তারা।

চমৎকার!

কিন্তু একটামাত্র শর্তে...

তাদের দাবি-দাওয়া অবিলম্বে পূরণ করতে হবে...

আর সরকারের হয়ে একজন বিভাগীয় বিচারককে...

তার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

জায়াপালন?

বিভাগীয় বিচারককে এই অসময়ে কীভাবে ফোন করবো?

দেখুন, এজন্য আগে উচ্চ আদালতের রেজিস্ট্রারের অনুমোদন পেতে হবে।

এটা সম্ভব নয়!

আপনারা যদি এক্ষুনি এটার সমাধান করতে ইচ্ছুক না হন...

আমি শুধুশুধু এখানে আমার সময় নষ্ট করব কেন?

এটা ইচ্ছা-অনিচ্ছার বিষয় না।

আমাদেরকে কিছু নিয়মনীতি অনুসরণ করতে হবে।

প্লিজ, বুঝার চেষ্টা করুন।

যাইহোক...

ক্রাইসিস ম্যানেজমেন্ট টিমের সাথে আলোচনা করে আমি আপনার কাছে ফিরে আসছি।

ওকে, ওকে।

জেলা জজ কে?

স্যার, বিচারপতি থানকাপ্পান আচারি, স্যার।

এনএসজি টিম কোয়েম্বাটুরে চলে এসেছে।

- তারা কি এক্ষুনি পালাক্কাড় চলে যাবে? - হ্যাঁ।

কিন্তু তার আগে...

জেলা জজের সাথে যোগাযোগ করুন।

স্যার, আমি হাইকোর্টের রেজিস্ট্রারকে ফোন করছি, স্যার।

ওকে।

তাই না-কি?

জেলা জজ কে?

স্যার, বিচারপতি থানকাপ্পান আচারি।

তুমি ফোন করলে সে আসবে?

অবশ্যই, স্যার।

প্রয়োজনীয় ব্যবস্থা নাও। আর দেরি করো না।

- এমনিতেই আমরা অনেক দেরি করে ফেলেছি। - হ্যাঁ।

এনএসজি টিমও ইতোমধ্যে কোয়েম্বাটুরে পৌঁছে গেছে।

স্যার, আপনি বিশ্রাম নিন। আমরা আপনাকে আপডেট দিবো।

স্যার, থানকাপ্পান আচারি, স্যার।

হ্যালো।

বিচারপতি থানকাপ্পান আচারি?

নমস্কার।

- বলুন, স্যার। - আমরা বিচারপতি আচারির সাথে কথা বলেছি।

সে আপনার সাথে দেখা করতে প্রস্তুত।

আপনি এক্ষুনি তার সাথে দেখা করুন।

- ওকে। - তাকে এখানে আসতে হবে।

সে পরের ব্লকেই আছে। আমরা সেখানে গেলে কী সমস্যা?

না স্যার, আমরা এখনো সেখানে যাওয়ার জন্য প্রস্তুত নই।

এটা নিয়ে তর্ক না করি।

আমরা মাননীয় বিচারপতিকে অনুরোধ করছি।

প্লিজজ।

ধন্যবাদ।

- বিচারপতি আচারিকে কল দাও। - হ্যাঁ, স্যার।

এটা শেষ হলে কী করবে তুমি?

আত্মসমর্পণ করবো।

এনএসজি টিম এখন কোথায়?

৩০ মিনিটের মধ্যেই তারা ওয়ালায়ারে পৌঁছে যাবে।

পালাক্কাড় কালেক্টরকে ১২ ঘন্টা ধরে বন্দি করে রাখার ঘটনায়...

ধর্মঘটের ফলে রাজ্যের অস্থিতিশীল অবস্থার অবসান হতে চলেছে।

জেলা জজ থানকাপ্পান আচারির নেতৃত্বে...

নতুন করে আবার আলোচনা শুরু হবে।

আয়াঙ্কালি পাডার সদস্যরা জানিয়েছেন যে...

ততক্ষণ পর্যন্ত চিন্তার কোনো কারণ নেই।

আলোচনার জন্য কিছু লোক আমাদের সাথে যোগ দিলে আপনাদের কোনো সমস্যা নেই তো?

না, স্যার।

- ঠিক আছো তুমি।? - হ্যাঁ, স্যার।

ভেতরে আসো।

বসো।

ওই চেয়ারটা নিয়ে আসো।

স্যার, মালিনিকে আমি ফোন দিয়েছিলাম।

ধন্যবাদ।

- স্যার, কোনো সমস্যা? - না।

- ঠিক আছেন আপনি? - ঠিক আছি। - ওকে, স্যার।

এটা শেষ হলেই আসল ঝামেলা শুরু হবে।

তো সেখানেই মনোযোগ দেই আমরা।

আপনি বলতে চাচ্ছেন এনএসজি টিমের পালাক্কাড়ে যাওয়ার দরকার নেই?

কালেক্টর মুক্তি পেয়ে গেলে তাদের আর কীসের দরকার!

আরে স্যার, ওদেরকে আসতে দিন।

এই নকশালদের মোকাবেলা করতে তাদের এখানে আসা উচিত।

কীভাবে?

এটা দৃষ্টিভঙ্গির ব্যাপার-স্যাপার।

সহিংসতা তো সহিংসতাই!

যে বাহিনীই মারুক না কেন সরকারকে জবাবদিহি করতে হবে।

মহামান্য বিচারপতি।

আমি অ্যাডভোকেট জায়াপালান।

সরকার কর্তৃক নিযুক্ত একজন মধ্যস্থতাকারী।

আমি তাদের সাথে অনেকক্ষণ কথাবার্তা বলেছি।

তারা নিজেদেরকে আয়াঙ্কালি পাডার সদস্য দাবী করে।

তারা এই পরিচিতি ধারণ করেই থাকতে চায়।

কিন্তু আপনারা নিজেদের পরিচয় প্রকাশ করেন না কেন?

আর আপনাদের উদ্দেশ্যটা ঠিক কী?

এই আইনটা ২১ বছর আগে পাশ হয়েছিল।

এই রাজ্য শাসনকারী প্রতিটা সরকার...

এখানকার আদিবাসী সম্প্রদায়কে প্রতারিত করতে আইনের অপব্যবহার করেছে।

সরকার এস্টেট কোম্পানিগুলোকে বিপুল পরিমাণ জায়গাজমি দিয়েছে।

তারা সেগুলো পুনরুদ্ধার করে ভূমিহীনদের মধ্যে বিতরণ করতে চায় না।

বরং তারা আদিবাসীদের ধ্বংস করার চেষ্টা করছে।

এই সংশোধনী সেই পরিকল্পনারই একটা অংশ।

এটা সংশোধন করা প্রয়োজন, স্যার।

এজন্যই আমরা নিজেদের জীবনের ঝুঁকি নিয়ে এর বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করার সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

কিন্তু কেউ তো মারা যায়নি।

তো এটা হতে দেন।

আমি মুখ্য সচিবের সাথে কথা বলেছি।

তিনি আমাকে আপনার সাথে আলোচনা করতে বলেছেন...

এবং যত দ্রুত সম্ভব বিষয়টার সমাধান করতে বলেছেন।

তিনি তাদের দাবি পূরণের জন্য আরও সময় চেয়েছেন , স্যার।

অবশ্যই, সময় তো লাগবেই।

তাদেরকে প্রথমে ফাইলগুলো খুঁজে বের করতে হবে।

যাইহোক, আমি আপনাদের দাবিগুলো তালিকাভুক্ত করে একটা রিপোর্ট লিখে..

মুখ্য সচিব আর রেজিস্ট্রারের কাছে জমা দিবো।

হবে?

তাদের আরও একটা দাবি আছে, মহামান্য বিচারপতি।

এই নতুন দাবিটা কী?

তাদেরকে মুক্তভাবে বাঁচতে দিতে হবে।

তাদের বিরুদ্ধে পুলিশ যাতে কোনো ব্যবস্থা না নেয়।

ভালোভাবে জুম করো, কিছুই যাতে বাদ না যায়।

এটাই তাদের শেষ দাবি।

কীভাবে আমরা এই অনুমতি দিতে পারি?

তাদের কাছে বন্দুক, বোমা আর অন্যান্য প্রাণঘাতী অস্ত্রসস্ত্র রয়েছে।

এটাই আমি শুনেছিলাম।

স্যার, ওই অস্ত্রগুলো নকল, স্যার।

স্যার...

এগুলো হচ্ছে প্লাস্টিকের পাইপ আর তার।

আর...

এটা শুধুই একটা খেলনা বন্দুক।

যে-কেউ এটা পরীক্ষা করে দেখতে পারেন।

দেখুন, গুলি বের হচ্ছে না।

জাস্ট কয়েকটা পাইপ আর তার।

এই, চুপ করুন সবাই।

- এই, ছবি তুলবেন না। - এই, বন্ধ করুন।

আমাদের সামনে একটাই পথ খোলা আছে।

এই প্রক্রিয়াটা সম্পূর্ণ করুন।

সবকিছু একদম কাগজে-কলমে।

এটার জন্য কী করতে হবে?

স্যার, আমাদের একটা তদন্ত কমিশন গঠন করতে হবে।

মানে বিচার বিভাগীয় তদন্ত কমিশন?

- হ্যাঁ, স্যার। - না, না, না, না।

এতে সময় লাগবে।

কেরালায় মাত্র ১% হচ্ছে আদিবাসী জনসংখ্যা।

আদিবাসীদের অধিকার রক্ষার জন্যই আমাদের এই প্রতিবাদ।

আমরা যত দ্রুত সম্ভব এই সমস্যার প্রতি জনগণের দৃষ্টি আকর্ষণ করতে চেয়েছিলাম।

এটাই ছিল আমাদের একমাত্র উদ্দেশ্য।

তবুও আমরা নিজেরা গিয়ে কালেক্টারের কাছে ক্ষমা চাইতে চাই।

আমি কালেক্টরকে এ ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করতে চাই।

বলুন।

মহামান্য বিচারক,

তারা যা করেছে আমি কোনোভাবেই সেটা সমর্থন করি না।

কিন্তু...

তারা আমার সাথে সম্মানের সহিত আচরণ করেছে।

আমিও চেষ্টা করেছি...

তাদেরকে বুঝানোর।

আপনার কি কোনো অভিযোগ আছে?

এটা একটা রাজনৈতিক আন্দোলন।

তাই এটা নিয়ে আমার কোনো অভিযোগ নেই।

পুলিশের কিছু বলার আছে?

কালেক্টরের যেহেতু কোনো অভিযোগ নেই,

সেহেতু পুলিশের কি কোনো আপত্তি আছে তাদেরকে ছেড়ে দেওয়ার?

ডিজিপি যা বলেছে তাদেরকে সেটাই জানিয়ে দাও।

ইতস্তত করো না।

স্যার, যেহেতু কোনো হতাহত হয়নি...

তাই সরকার আর কোনো পুলিশি কার্যক্রম না করার সিদ্ধান্ত নিয়েছে।

যদি তাই হয়, তাহলে আমরা আমাদের কার্যক্রম এখানেই শেষ করছি।

যেহেতু কালেক্টরের কোনো অভিযোগ নেই...

আর আইজি তো বললেন...

কোনো হতাহত হয়নি...

অভিযুক্তদের ভালো উদ্দেশ্য বিবেচনা করে...

আমি তাদেরকে ছেড়ে দেওয়ার অনুমতি দিলাম।

আমি যা বললাম তা নোট করো।

তো মামলা শেষ করা হলো। আমার অন্য কিছু কাজ আছে।

স্যার?

আমরা কি বিশ্বাস করে নেবো যে আমাদের প্রতিশ্রুতি দেওয়া দাবিগুলো পূরণ করা হবে?

তাদের অস্ত্র ও হাতিয়ারগুলোর কী হলো?

সেগুলো নকল ছিল, স্যার।

আমি এটা শোনার পর টাস্কি খেয়ে গিয়েছিলাম।

এটা নিয়ে পরে আলোচনা করা যাবে।

এনএসজি টিমকে ফিরে আসতে বলুন।

এমন বিতর্কিত কাজ করে কী প্রমাণ করতে চেয়েছিলেন?

আমাকে আপনার নামটা বলবেন?

আয়াঙ্কালি পাডার বক্তব্যনুযায়ী,

এটা নিপীড়িতদের প্রতিহিংসার ফল।

এটা একটা সতর্কবার্তা...

ওই সমস্ত উচ্চ জাতি মর্যাদাসম্পন্ন প্রতিনিধিদের এবং ডান ও বামপন্থি সরকারদের প্রতি...

যারা আদিবাসী ও কেরালার অন্যান্য জাতিগোষ্ঠীদেরকে...

বিগত ২১ বছর ধরে নির্যাতন করে আসছে।

সংবিধানে আদিবাসীদের অধিকার ও তাদের রক্ষা করার কথা বলা আছে।

আপনি তাদের জন্য কী করেছেন?

আপনার উচিত অবশ্যই নিজের সংবিধানের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া।

এই লড়াইটা নিপীড়িতদের জন্য...

স্যার, রাজনৈতিক নেতারা এবং মিডিয়া আমাদেরকে দোষারোপ করছে...

অভিযুক্তদেরকে ধরেও ছেড়ে দেওয়ার জন্য!

তাদেরকে ছেড়ে দেওয়া আমাদের নৈতিক দায়িত্ব ছিল।

আর জেলা বিচারক এটার পক্ষে রায় দিয়েছেন।

প্লিজ আমাকে বিশ্বাস করুন।

আসলে এটাই করার দরকার ছিল!

আর আমরা সেটাই করেছি।

ষড়যন্ত্রের তদন্ত করে সরকারকে পরিচ্ছন্ন করো!

ষড়যন্ত্রের তদন্ত করে সরকারকে পরিচ্ছন্ন করো!

অপরাধীদের গ্রেফতার করো।

অপরাধীদের গ্রেফতার করো।

আপনার উচিত অবশ্যই নিজের সংবিধানের যথাযথ মর্যাদা দেওয়া।

মাও সে তুং-এর একটা বিখ্যাত উক্তি আছে।

"সব প্রতিক্রিয়াশীলই কাগজের বাঘ!"

এটাই আমরা এখানে প্রমাণ করলাম।

এগুলো কেবলই সুতার বল আর প্লাস্টিকের পাইপ।

এটার জন্য...এটা দেখো।

ক্লিকেরও দরকার পড়েনি।

তোমার স্বামী নারায়ণকুট্টি কোথায়?

জানি না।

- সরো। - আমার ঘরে এভাবে ঢুকতে পারেন না।

- সর, শালী! - বাইরে দাঁড়াও।

ওইখানে।

কোথায় গেল সে? ওদিকে দেখো।

সবজায়গায় দেখো। সে গেলো কোথায়?

- কী হয়েছে? - তোর বাবা...

পুলিশ হয়তো তোর বাবার খোঁজে বাড়িতে আসতে পারে।

ভয় পাবি না, ঠিক আছে?

সবকিছু ঠিক আছে তো?

এই বালু।

পুলিশ!

[এসব ডায়লগের ইংরেজি সাবটাইটেল নেই তাই অনুবাদ করা সম্ভব হলো না]

কাল্লারা বাবু!

ভিলাওডি শিভানকুট্টি!

দখলকৃত জমির উপর নিয়ম-নীতি, আইন ও পিটিশন...

সবকিছুই সরকারী ফাইলের নিচে চাপা পড়ে থাকে।

সেখানে ময়লার আস্তরণ পড়ার জন্য রেখে দেওয়া হয়।

কেউ কোনো পদক্ষেপ নেয় না।

এটাকে পাল্টাতে হবে।

মুন্দর রুভন্নি!

আমরা এটার জন্য লড়াই চালিয়ে যাবো।

অন্যায়ের বিরুদ্ধে লড়াই চলবে।

নয়তো আপনি, আমি, সবাই এটার শিকার হবে।

এটাই সত্য।

এই একটা জিনিসকেই আমরা বিশ্বাস করি।

অজয়ান মান্নুর!

আমরা এখানে যেটা প্রকাশ করছি...

এটা পীড়িত ও নিপীড়িতদের জন্য অবসম্ভাবী সংগ্রাম।

কোনো সরকার ও আইন...

সমতা ও সবার জন্য সমান আইনের বিধান করতে পারে না।

এটাই আমাদের চ্যালেঞ্জ।

এটাই মূলত চ্যালেঞ্জ হওয়া উচিত।

রামেশান কানহাগাড!

পরেরদিন, ৫ অক্টোবর, ১৯৯৬, কেরালা সরকার ৬ জনের বিরুদ্ধে অভিযোগ দায়ের করে,

জেলা কালেক্টর ডব্লিউ.আর রেড্ডিকে ১ সপ্তাহের মধ্যে বদলি করে দেওয়া হয়।

তারা বলেছিল, উনি নাকি তদন্ত কমিশন ফায়সালা দেওয়ার আগেই অভিযুক্তদের পক্ষ নিয়ে মুক্তি দিয়েছিলেন।

জেলা বিচারপতি রাজাপ্পান আচারিকেও বেশ ভোগান্তি পোহাতে হয়েছিল।

অনেক ক্ষতি, পদোন্নতির অনেক সুযোগ থেকে তাকে বঞ্চিত করা হয়।

অ্যাডভোকেট বীরচন্দ্র মেনন তদন্ত কমিশনের সাথে সমঝোতা করতে রাজি হননি।

তিনি পুলিশকে তাকে গ্রেফতার করতে চ্যালেঞ্জ করেছিলেন।

ভিলাওডি শিভানকুট্টি, অজয়ান মান্নুর এবং রামেশান কানহাগাড...

তাদেরকে ২৭ নভেম্বর, ২০০৩ সালে ৩ বছরের জেল দেওয়া হয়।

বিচারের রায়ে বলা হয় সামাজিক আন্দোলনের কারণে তাদেরকে কম সাজা দেওয়া হয়েছিল।

কাল্লিরা বাবু পরের বছর আত্মসমর্পণ করলে ১৫ নভেম্বর, ২০১৫ সালে তাকে বেকসুর খালাস দেয়।

কিন্তু আদিবাসীরা তাদের ভূমি অধিকৃত সংগ্রাম চালিয়ে গেছে।

আমরাই আগ্মেয়গিরি, আমরাই কালবৈশাখী!"

আমরাই আগ্মেয়গিরি, আমরাই কালবৈশাখী!"

আমরাই আনবো নতুন দিন, আমরা আনবো জয়!

আমরাই আনিবো নতুন দিন, আমরা আনিবো জয়!

আমাদের হবে নতুন পৃথিবী, আমরাই আনবো নতুন দিন।

আমাদের হবে নতুন পৃথিবী, আমরাই আনবো নতুন দিন।

১৯ ফেব্রুয়ারি, ২০০৩ সালে কেরালা পুলিশ মুথাঙ্গা এলাকায় আদিবাসীদের উপর ১৮ রাউন্ড গুলি করে।

৫ জন লোক,১ জন পুলিশ সহ ৬ জন মার যায়।

আমরাই হবো ঝড়-তুফান, আমরাই ভরা জোয়ারকে করবো জয়!

ভরা জোয়ারকে করবো জয়।

আমাদের আছে পাহাড়-পর্বত, বন, দরকার নেই তোদের সীমানার বন্ধন!

দরকার নেই।

আমাদের আছে পবিত্র পুষ্পকানন, প্রয়োজন নেই তোদের মূর্তি, পুরোহিতগণ।

দরকার নেই।

আমাদের আছে পাহাড়-পর্বত, বন, দরকার নেই তোদের সীমানার বন্ধন!

দরকার নেই!

বিতাড়িত, নিপীরিত ও নিষ্পেষিত আদিবাসীদের নিজের বলতে কোনো ভূমি নেই...

এই আদিবাসীদের সংগ্রামের ইতিহাস এভাবেই চলছে।

বিপ্লব জিন্দাবাদ!

আমাদের ভূমি ফিরিয়ে দাও।

আমাদের ভূমি ফিরিয়ে দাও।

বিপ্লব জিন্দাবাদ!

বিপ্লব জিন্দাবাদ!

আমাদের ভূমি ফিরিয়ে দাও।

আমাদের ভূমি ফিরিয়ে দাও।

আমরা তোদের খেলার নিয়ম জানি।

হ্যাঁ, জানি রে।

আমরা আমাদের অশ্রুজল ও লোক দিয়ে বিজয় ছিনিয়ে আনবোই।

হ্যাঁ, আনবোই।

আমরা তোদের খেলার নিয়ম জানি।

সাবটাইটেলটি ভালো লাগলে অবশ্যই সাবসিনে গুড রেটিং এবং সাবটাইটেল সম্পর্কিত গ্রুপগুলোতে ভালোমন্দ ফিডব্যাক জানাতে ভুলবেন না!

Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.