All language subtitles for abacraka

af Afrikaans
ak Akan
sq Albanian
am Amharic
ar Arabic
hy Armenian
az Azerbaijani
eu Basque
be Belarusian
bem Bemba
bn Bengali
bh Bihari
bs Bosnian
br Breton
bg Bulgarian
km Cambodian
ca Catalan
ceb Cebuano
chr Cherokee
ny Chichewa
zh-CN Chinese (Simplified)
zh-TW Chinese (Traditional)
co Corsican
hr Croatian
cs Czech
da Danish
en English
eo Esperanto
et Estonian
ee Ewe
fo Faroese
tl Filipino
fi Finnish
fr French
fy Frisian
gaa Ga
gl Galician
ka Georgian
de German
el Greek
gn Guarani
gu Gujarati
ht Haitian Creole
ha Hausa
haw Hawaiian
iw Hebrew
hi Hindi
hmn Hmong
hu Hungarian
is Icelandic
ig Igbo
id Indonesian
ia Interlingua
ga Irish
it Italian
ja Japanese
jw Javanese
kn Kannada
kk Kazakh
rw Kinyarwanda
rn Kirundi
kg Kongo
ko Korean
kri Krio (Sierra Leone)
ku Kurdish
ckb Kurdish (Soranî)
ky Kyrgyz
lo Laothian
la Latin
lv Latvian
ln Lingala
lt Lithuanian
loz Lozi
lg Luganda
ach Luo
lb Luxembourgish
mk Macedonian
mg Malagasy
ms Malay
ml Malayalam
mt Maltese
mi Maori
mr Marathi
mfe Mauritian Creole
mo Moldavian
mn Mongolian
my Myanmar (Burmese)
sr-ME Montenegrin
ne Nepali
pcm Nigerian Pidgin
nso Northern Sotho
no Norwegian
nn Norwegian (Nynorsk)
oc Occitan
or Oriya
om Oromo
ps Pashto
fa Persian
pl Polish
pt-BR Portuguese (Brazil)
pt Portuguese (Portugal)
pa Punjabi
qu Quechua
ro Romanian
rm Romansh
nyn Runyakitara
ru Russian
sm Samoan
gd Scots Gaelic
sr Serbian
sh Serbo-Croatian
st Sesotho
tn Setswana
crs Seychellois Creole
sn Shona
sd Sindhi
si Sinhalese
sk Slovak
sl Slovenian
so Somali
es Spanish
es-419 Spanish (Latin American)
su Sundanese
sw Swahili
sv Swedish
tg Tajik
ta Tamil
tt Tatar
te Telugu
th Thai
ti Tigrinya
to Tonga
lua Tshiluba
tum Tumbuka
tr Turkish
tk Turkmen
tw Twi
ug Uighur
uk Ukrainian
ur Urdu
uz Uzbek
vi Vietnamese
cy Welsh
wo Wolof
xh Xhosa
yi Yiddish
yo Yoruba
zu Zulu

Original subtitles

মুভি→ Central Station (1998)

প্রিয়তম...

এ হৃদয় তোমার।

যা করেছ সেটা কোনো ব্যাপার না...

এখনো তোমাকে ভালোবাসি।

আমি তোমাকে ভালোবাসি।

যতগুলো বছর তুমি ওখানে বন্দী ছিলে...

এখানে বন্দীদশায় তোমার অপেক্ষা করেছি।

এক লোক আমার সাথে প্রতারণা করেছে আমি ওকে একটা চিঠি লিখতে চাই।

জে অ্যামারো...

যা করেছ সেজন্য ধন্যবাদ।

তোমাকে বিশ্বাস করেছিলাম।

আর তুমি আমাকে ধোঁকা দিলে!

এমনকি তুমি আমার বাড়ির চাবি পর্যন্ত নিয়ে গেছ।

প্রিয় জেসুস...

তুমি আমার সবচেয়ে বাজে অনুভূতি...

তোমাকে লিখছি শুধু একটা কারণে...

তোমার ছেলে লিখতে বলেছে বলে।

ওকে বলেছি তুমি অর্থহীন।

তবুও...

সে তোমার সাথে দেখা করতে চায়।

ঠিকানা?

জেসুস দে পাইভা, সিটিও ভলটা দে পেদ্রো।

বম জেসাস, নর্তে...

পারনামবু।

ডালভা।

- আমার দুষ্টু সোনামণি। - সোনামণি?

তোমাকে আমার শরীরের সাথে...

জড়িয়ে ধরে রাখি...

হোটেলের বিছানায়, উত্তাপ ছড়িয়ে পড়ে দেহে...

মনে হয় যেন...

আমি এখনো...

- সেই মোহে আচ্ছন্ন। - হ্যাঁ লিখুন, মোহে আচ্ছন্ন।

- সঠিক ঠিকানা জানি না। - ঠিকানা লাগবে।

আচ্ছা লিখুন তাহলে, বেকারির পর তৃতীয় বাড়ি।

মিমোসো, পারনামবু।

ক্যাসাসো, বাহিয়া।

সেরাঙ্গোলা, মিনা জেরাস।

রেলুতাবা শহর, সিয়েরা।

মুজামবিনহো, মিনাস, জেরিয়াস।

হ্যালো, দোরা।

- কেমন আছ পেড্রো? - ভালো।

কাল দেখা হবে।

বিদায়।

CENTRAL STATION

ইরেনি!

কী?

- ওপরে এসো, এখনি। - আসছি।

টিভিটা তোমার মতোই বুড়ো, তাই না দোরা?

♫এখন তো সময়...♫

♫কাছে আসার♫

বসো এখানে।

♫এখন তো সময়, সাম্বা নাচের♫

আবার! না দোরা।

তোমাকে স্পষ্ট জানিয়ে দেই, আমি এসবের পক্ষে না, বুঝেছ?

নাও, পড়ে দেখো এটা।

“নিঃসঙ্গ হৃদয়” কলামে অনেক লেখা দেখেছি...

একমাত্র তোমার বর্ণনাটা আমার পছন্দ হয়েছে।

এই হারামি দশ জন মহিলাকে একই কথা লিখেছে।

"আমি দীর্ঘকায়”

“আমার চোখ বাদামী, চুলগুলো দীঘল...”

কলেজ পাশ আর... লোকে বলে আমি নাকি খুব সুশ্রী।

- একদম কুৎসিত চেহারা। - কলেজ পাশ? নিজে এক লাইন লিখতেও পারে না।

- ফেলে দেই? - দাও!

"প্রিয় জেসুস...

তুমি আমার সবচেয়ে বাজে অনুভূতি।

অন্তত নিজের ছেলের জন্য একটু সুপথে এসো।

সে এখনো তোমার সাথে দেখা করতে চায়।

মহিলা বলেছে, ছেলেটা ওর মাতাল বাবার সাথে দেখা করতে চায়।

সে-ও লোকটাকে ফিরে পেতে চায়।

এটা ছিঁড়ে ফেলো না!

ছেলেটা বাবার সাথে দেখা করবে এতে হয়তো পরিবারটা আবার এক হতে পারে।

- তো? - তুমি এটা হতে দেবে না?

লোকটা মদখোর, হয়তো মহিলাকে মারধর করত।

ছেলেটা তাহলে বাপকে ছাড়াই বড় হয়েছে?

মাতালের সাথে থাকার চেয়ে ভালো, যে কথায় কথায় গায়ে হাত তোলে।

তাহলে এটা, বাতিল।

- এবারই প্রথমবার লিখল না? - এটা একটু ব্যতিক্রম হোক।

অনেক হয়েছে, আমি উঠলাম।

লোকটা ওর চেহারা থেঁতলে দেবে।

তো? তাতে তোমার কী? ওর চেহারা যাবে।

আচ্ছা, এটা ড্রয়ারে দেখে দেবো।

না, কাল তুমি এটা পাঠাবে।

ড্রয়ারে না ময়লার ঝুড়িতে।

যদি আমরা সিদ্ধান্ত নিই তাহলে আগামী সপ্তাহে পাঠাব।

মিথ্যুক, ওই চিঠিগুলো বছরখানেক হলো ওখানে পড়ে রয়েছে।

আগামী সপ্তাহে পাঠিয়ে দেবো।

বসো, কাজে মন দাও।

তুমি মাঝে মাঝে ভালোই যন্ত্রণা দাও।

"লোকে বলে, উৎসব চলাকালীন অনেকে বেপরোয়া হয়ে পড়ে”

আমি তাদের একজন।

মজা তুমিও পেয়েছ, আমিও পেয়েছি এখন ওসব ভুলে যাও।

আমার ভালো লেগেছে।

ভালো লেগেছে? সত্যি?

বহুদিন বাড়ি থেকে কোনো চিঠি পাইনি।

মনে হয় ওরা আমার চিঠি পায় না।

ডাক বিভাগের অবস্থা যাচ্ছেতাই, ওদের ওপর ভরসা করা যায় না।

- হয়তো ওরা অন্য কোথায় চলে গেছে। - আপনার সেটাই মনে হয়?

- এক টাকা, মি. সার্জিও। - ধন্যবাদ মিসেস দোরা।

সেদিন আপনাকে দিয়ে একটা চিঠি লিখিয়েছিলাম।

মনে আছে?

চিঠিটা পাঠিয়েছেন?

না, আজ পাঠাব।

ওহ, দারুণ! আমি এটা ছিঁড়ে ফেলব।

আজ আরেকটা পাঠাব।

- মনে হয় একটু কঠিন কথা লিখে ফেলেছি। - আচ্ছা বলুন।

প্রিয় জেসুস...

তোমার ছেলে জোসুয়ে...

সত্যি সত্যি তোমার সাথে দেখা করতে চায়।

সে তোমাকে চেনে না, তবুও দেখা করতে চায়।

চেনে না?

চেনে না তবুও দেখা করতে চায়।

আগামী মাসে ছুটি আছে তখন ওকে নিয়ে আসব।

তাহলে মোজেইস আর ইজাইসকেও দেখতে পাব।

আসলে জানেন কী?

ওই জানোয়ারকে দেখার জন্য আমারও মনটা ছটফট করছে!

আপনি তো অভিজ্ঞ, বলেন না, কীভাবে লেখা যায়?

- সেটা আমি কী বলব? - সাহায্য করুন প্লিজ।

আপনি এটা ভেবে তারপরে আসুন।

সত্য কথা হচ্ছে, আমি এখনো ওকে পছন্দ করি।

জেসুস...

তোমাকে খুব মিস করি।

প্রতিদিন ঘুম থেকে উঠে, যদি তোমার মুখটা দেখতে পেতাম।

আমার মাথার শেষ পাকা চুলটা...

তোমার কাছে উঠিয়ে নেওয়ার জন্য রেখে দিতাম।

দারুণ, দারুণ!

অপেক্ষা করো, আমি তোমার কাছে আসছি প্রিয়তম।

- আপনার নাম? - আনা।

- এটা চিঠির সাথে পাঠিয়ে দিন। - এই তো, চিঠির মধ্যে রাখলাম।

- এটা পাঠাব, নাকি পাঠাব না? - পাঠিয়ে দিন, কত লাগবে?

দুই টাকা, তবে এক টাকা কম কারণ, আগেরটা পাঠানো হয়নি।

মা, তুমি কীভাবে নিশ্চিত যে ও চিঠিটা পাঠাবে?

সে খামের মধ্যেও ঢুকায়নি।

এত পাকামো করিস না, সে ঠিকই আমাদের সাহায্য করবে।

- এরপর! - বিদায়।

আমার হাত ধরো।

এই, আমার লাটিম।

জলদি এসো।

- কী হয়েছে? - এক মহিলাকে বাসে চাপা দিয়েছে।

- বেঁচে আছে? - সৃষ্টিকর্তার দুয়ারে চলে গেছে।

মা!

ওকে সরাও!

ধন্যবাদ, ম্যাডাম।

বাবার কাছে চিঠি লিখব।

লেখা শুরু করো!

বাবা, রিও ফিরে এসো মা অ্যাক্সিডেন্ট করেছে।

টাকা আছে?

আছে।

দেখাও।

দেখাও আমাকে।

রিওতে তোমার পরিচিত কেউ আছে?

- মা। - আর কেউ?

নাও, যেভাবে বলি চিঠিটা লিখে দাও।

টাকা দেখালে তবেই লিখব।

তাহলে আমার মায়ের চিঠিটা দাও।

ওটা পাঠিয়ে দিয়েছি।

এবার বিদায় হও।

- আমার চিঠি দাও! - বলছি ভাগো এখান থেকে, যাও দূর হও।

সরো, যাও এখান থেকে।

এই ছেলে, ওঠো স্যান্ডউইচ নেবে?

ক্ষুধা নেই?

খেয়েছি, ধন্যবাদ।

বিশেষ অফার!

শুধু আজকের জন্য, সকল প্রসাধনী মাত্র এক টাকায়।

আয়না চিরুনির দাম অর্ধেক।

সব ঠিক ছিল, আমার খদ্দের ছিল অনেক।

বহুকষ্টে ওদের সামলাতাম।

আবার স্কুলে যাওয়ার জন্য জমা করছি।

চোর, চোর!

মি. পেদ্রো।

ধরো ওকে।

নড়বি না।

চুপ থাক।

দাঁড়ান গুলি করবেন না আমি সব ফিরিয়ে দেবো।

শুভ সন্ধ্যা মিসেস দোরা।

- শুভ সন্ধ্যা। - চলে যাচ্ছেন?

- এই ছেলে? - আমি জোসুয়ে।

হ্যাঁ জোসুয়ে, দেখি তোমার লাটিমটা।

শোনো, তোমার মা অপরিচিত কারো সাথে কথা বলতে নিষেধ করেছে।

ঠিকই বলেছে।

- তবে আমাকে ভয় পেয়ো না। - ভয় পাই না।

ঠিক আছে মি. পেদ্রো ছেলেটাকে আমি চিনি।

তাহলে আপনার সাথেই কথা বলি।

এই যে?

আমার নাম জোসুয়ে ফনটানেলে ডি পাইভা।

পাইভা বাবার নাম ফনটানেলে মায়ের নাম।

বাহ, বেশ ভালো তো।

আমার নাম ইসাডোরা টেজিয়ারা।

জোসুয়ে ডি পাইভা, আমার সাথে বাড়িতে যাবে?

বললাম না মায়ের অপেক্ষা করছি।

সে তো ফিরবে না।

মিথ্যা কথা!

সে আর ফিরবে না বাছা।

তোমার মা মারা গেছে।

রিওতে তোমার কোনো আত্মীয় আছে?

কোনো খালা?

বলো।

দেখো।

এটা রাখো।

যদি কখনো মন পাল্টে...

তাহলে আমার সাথে এসো।

এটাই বলতে চাচ্ছি।

এসো।

তোমার স্বামী কোথায়?

আমার স্বামী নেই।

আর বাচ্চা-কাচ্চা?

স্বামী-সন্তান নেই, পরিবার নেই কোনো কুকুর নেই।

তাহলে বাথরুম ব্যবহার করতে পারি?

- করো। - কোন দিকে?

ওদিকে।

যা গরম পড়েছে! যাই, একটু ফ্রেস হয়ে আসি।

বাসায় মেহমান আছে।

ওর নাম জোসুয়ে।

পছন্দ হয়েছে?

দেখো, মেহমান কী খেতে চায়?

ওর কাছে মায়ের রান্না বেশি ভালো লাগতো।

না, মায়ের রান্না ভালো ছিল না।

এই যে, একটু ভক্তি দিয়ে কথা বলবে তো!

দুষ্টু ছেলে।

ইরেনি, আসলে তুমি কী কাজ করো বলো তো?

অনুমান করো।

তোমাকে দেখে শিক্ষক মনে হচ্ছে, দোরার মতো।

ও শুধু চিঠি লেখে আরকি।

ঠিক বলেছ, আমরা শিক্ষকতা করতাম।

তোমারও স্বামী নেই বুঝি?

আমাদের কারোরই নেই।

তাহলে, তোমাদের দেখাশোনা করে কে?

আমরা নিজেরা নিজেদের দেখাশোনা করি।

তোমার মা একা একা থাকত, তার দেখাশোনা করত কে?

অবশ্যই আমি করতাম।

কোনোদিন বাবার চেহারা দেখনি?

বাবা অনেক পরিশ্রম করে।

কার্পেন্টার, কাঠের জিনিসপত্র বানায়।

টেবিল, চেয়ার, দরজা, জানালা, বাড়ি....

সব নিজে নিজে তৈরি করে।

- ওর বাবা একজন... - আচ্ছা, তুমি কী হতে চাও?

আমি ট্রাক চালক হব।

আমাদের বাবাও ট্রেন চালক ছিল।

হ্যাঁ, আর মাতালও ছিল।

ছি!

ঠিক আছ জোসুয়ে?

কী করছ এখানে, ছিচকে ইঁদুর!

পড়তে পারো?

ভাবছ তোমার মায়ের চিঠি পাঠাব না?

তাহলে ভুল ভেবেছ।

খুব অস্থিরতায় ছিলাম, সময় পাইনি।

আমাকে দাও, আমি বাবার কাছে নিয়ে যাব।

মাথা ঠিক আছে?

সে কোথায় থাকে জানো?

হাজার কিলোমিটার দূরে, অন্য গ্রহে থাকে।

- আমি যাব ওখানে! - কখনোই যেতে পারবে না।

কক্ষনো না।

সবচেয়ে ভালো হবে, কাল পোস্ট করে দেবো।

করে দেবো বলছি।

কথা দাও?

কথা দিলাম।

আর কখনো মিথ্যা বলবে না?

না।

আমরা কোথায় যাচ্ছি?

আমরা একটা দারুণ জায়গায় যাচ্ছি।

- হ্যালো, মি. পেদ্রো। - হ্যালো, মিসেস দোরা।

এই যে ছেলে, এত দেরি হলো?

হ্যালো পেদ্রো, এসো।

ইলোন্দা, ইনি মিসেস দোরা।

খুশি হলাম তোমাকে দেখে... তবে আমি নিশ্চিত না...

তোমাকে কী বলেছে। তুমি তো দেখতেই পাচ্ছ...

বাচ্চাদের এমনভাবে রাখি, যেন আমাদের বিশাল পরিবার।

ওরা সবাই ইউরোপের ধনী পরিবারে যাচ্ছে।

একবার হাতে ডলার চলে আসলে আজীবন আমাদের মনে পড়বে।

আন্টিকে জিহ্বা দেখাও।

দেখাও।

তুমি থামো তো, এই তো দারুণ।

- আরও কিছু জানা দরকার। - এসব পরে বলব।

তোমার নাম যেন কী?

বলো, জোসুয়ে।

ভিডিও গেম খেলতে ভালো লাগে?

- আইসক্রিম পছন্দ করো? - না, ধন্যবাদ।

যাও, শার্লিনের সাথে খেলা করো।

এটা তোমার।

কত সেটা পেড্রো বলেছে তো?

২,০০০

১,০০০ তোমার জন্য।

১,০০০

পুরোটা আছে?

বাই, জোসুয়ে।

হায় খোদা! এ কী করেছ তুমি?

- রিমোট কন্ট্রোল টিভি এনেছি। - এটা কি স্টেরিও?

কিন্তু এটা কাজ করে না।

হয়তো ব্যাটারি নষ্ট।

আচ্ছা, জোসুয়েকে শিশু বিভাগে নিয়ে কেমন লাগল?

বেশ ভালো। ওকে সবচেয়ে ভালো শিশু কেয়ারে রাখব।

- আমি বিচারকের সাথে কথা বলেছি। - কোথায় রেখেছ?

পালাতোয় পেদ্রো জেসুনাইল ভিদাল ফাউন্ডেশন।

রিও গ্রান দো সুল শহরে।

ভেবেছিলাম কাছাকাছি থাকলে যখন তখন দেখা করতে পারব।

এই সুযোগে পালাতোস ঘোরা হবে তুমি তো ঘুরতে ভালোবাসো।

- এটা কাজ করছে না। - না দোরা, এভাবে।

শিশু কেন্দ্রে গেলে ওর দেখা পাব?

না, আমার মনে হয় এতক্ষণে পালাতোস চলে গেছে।

টিভি কেনার টাকা কোথায় পেলে?

সোনার আংটিটা বেচে দিয়েছি।

মিথ্যা বলছ।

নইলে এভাবে ইতস্তত করতে না।

ঠিকই বলেছ ইরেনি, মিথ্যা বলছি মনে হয় তুমি আমার সবই জানো।

চলো, টিভি দেখি।

সত্যি করে বলো, টাকা পেলে কোথায়?

প্লিজ।

স্টেশনে আমার এক বন্ধু আছে...

যে বিদেশিদের বাচ্চা দত্তক দিয়ে থাকে।

- বিশ্বাস হচ্ছে না তুমি এসব করেছ! - ছেলেটা ভালো থাকবে।

এখানকার কোনো এতিমখানার চেয়ে ভালো থাকবে।

পত্রিকায় পড়নি, ওসব বাচ্চাদের দত্তক নেয় না।

ওদের হত্যা করে অঙ্গ-প্রত্যঙ্গ বিক্রি করে দেয়।

ওসব কিছুই না, আমি ওখানে গিয়েছিলাম।

দোরা, ওর বয়স দত্তক নেওয়ার মতো না।

হয়েছে ইরেনি, অনেক বকবক করেছ!

বন্ধ করো এসব, ঠিক আছে?

দোরা, সবকিছুর একটা সীমা থাকে।

- হাই। - হাই।

- গতকাল এখানে এসেছিলাম। - হ্যাঁ।

তো কালকের পর মনে হলো...

হয়তো আপনারা আরও বাচ্চা নিতে পারেন।

এখন আর লাগবে না।

একটু দেখুন, খুব সুন্দর সুন্দর বাচ্চা।

এটা দেখুন।

কে এটা?

দাঁড়ান, আমার পার্টনারের সাথে কথা বলি।

আহ, ঘুমাতে দাও তো।

দেখো কতগুলো, এটা খুব সুন্দর।

- মহিলা কিছু একটা করছে। - কী করছে বলছ?

আমরা এখানে ২৪ ঘণ্টা সেবা দিতে পারব না!

দিতাম সে কথা তো বলিনি।

তোমার আরেক ঝামেলায় জড়ানোর কারণে...

গতকাল ঘুমাতে ঘুমাতে সকাল হয়ে গিয়েছিল।

সবসময় অজুহাত, তোমার জন্মই হয়েছে অজুহাত দেখার জন্য।

তোমার ভালো না লাগলে এখান থেকে চলে যাও।

জোসুয়ে, ওঠো।

তুমি এখানে কী করছ! চলে যাও।

- চলো এখান থেকে। - না!

- মিথ্যুক, যাও তুমি। - আমার সাথে চলো।

- না, তুমি খুব খারাপ। - চলো, চলো।

জলদি!

- আমি ইয়ালান্দাকে বলে দেবো। - কাউকে বলতে পারবে না।

এই, কী হচ্ছে এসব!

এই বুড়ি কোথাকার।

শালী খুন করব তোকে।

তোকে ধরতে পারলে জানে মেরে ফেলব।

তুই তো শেষ হয়ে গেছিস।

এসপেরান্তো স্ট্রিট, কাসকাদুরা।

মাফ করবেন, অন্য জায়গা যাব।

- হ্যালো, কে বলছেন? - বলো দেখি।

ভালো হয়েছে তুমি কল করেছ।

ইরেনি, আমার কথা শোনো।

গোঁফ-ওয়ালা এক লোক বাসায় এসে...

আমাকে খুঁজতে পারে!

ওকে আবার ভেতরে ডেকে কফি খেতে বোলো না, বুঝলে?

হ্যাঁ, আসলে...

বিশ্বাস হচ্ছে না।

হ্যাঁ।

লোকটা এসে গেছে?

যদি এসে থাকে, তাহলে আবোল-তাবোল কথা বলো।

মিলটন, আজ সন্ধ্যায় দেখা করতে পারব না?

এক বন্ধুর সাথে নাচতে যাওয়ার ইচ্ছে করেছি।

আর কিছু বলো না।

তুমি কোথায় আছ, ব্যারাকে?

আমি স্টেশনে আছি, আমার ওপর ঝড় বয়ে যাচ্ছে।

তোমার সেই মিষ্টি বন্ধুটা...

তোমার সাথে ডিউটি করছে?

জোসুয়ে আমার সাথে আছে।

আমি ওকে বাইরে নিয়ে যাচ্ছি।

জানতাম, তুমি খুব ভালো সৈন্য।

ইরেনি, আরেকটা উপকার করো, বাসায় তালা দিয়ে দাও।

যাও, তালা দিয়ে নিজে একটু সাবধানে থেকো।

- আরেকটা শেষ কথা। - কী?

আমাকে ২০০ টাকা ধার দিতে পারবে?

বম জেসাস, ডি নরতে, ব্যাংক অব ব্রাজিলে পাঠিয়ে দাও।

নাও তোমার টিকেট, আমরা শীঘ্রই চলে যাব।

নাও, ছোকরা।

- আমি তোমাকে সাহায্য করছি। - আমি নিজে যেতে পারব।

- আমি তোমার সাথে যাচ্ছি। - কাউকে সাথে নিতে চাই না।

কেন নেবে না?

কারণ তোমাকে আমার ভালো লাগে না।

- ভালো লাগে না কেন? - বলেছি তো, তুমি খুব খারাপ।

তাহলে ওখানে যাবে কীভাবে?

খাবার কেনার জন্য কিছু টাকা দাও।

ওখানে বাবার থেকে নিয়ে তোমাকে দিয়ে দেবো।

গাধা একটা!

মায়ের চিঠিটা আমাকে দাও।

শার্ট আবার কী জন্য, বিয়ে করবে?

এটা পরে বাবার সাথে দেখা করব।

তাকিয়ে কী দেখছ? বাসে যাও, আমার কিছু কেনাকাটা করতে হবে।

অনেক দূর?

কী?

বাবা যেখানে থাকে?

রাস্তা দেখে রাখো, ওরা তোমাকে বলবে।

আচ্ছা কিলোমিটার হিসাব করে কীভাবে?

কিলোমিটার মানে কিলোমিটার।

১,০০০ মিটার।

জানি, তবে ওরা নিশ্চিত কীভাবে? মেপে দেখে?

হিসাব করেই রাখে।

ওই লোকটাকে কি একজন বাবা মনে হয়?

কী?

লোকটার বাচ্চা-কাচ্চা থাকতে পারে?

দেখে মনে হয় না, বাচ্চা-কাচ্চা আছে।

তবে এর আছে।

এদের আমি চিনি।

ঠিক আমার বাবার মতো।

বাড়িতে হাজী, বাইরে গেলে পাজী।

একদিন একজন প্রশ্ন করেছিল: "তুমি কি ডিলডো’র মেয়ে?"

লোকে ওকে ডিলডো-ই বলত।

কুত্তা!

কুত্তা!

বাসে ভালো লাগে না, ট্যাক্সিকে উঠতে ইচ্ছে করে।

উঠতে হবে না।

ট্যাক্সিতে না উঠে সবসময় বাসে উঠবে।

বাস নির্দিষ্ট জায়গায় আসা যাওয়া করে।

ট্যাক্সি যে কোনো জায়গায় গেলেও খরচ অনেক।

কেন?

বাবা একটা চিঠিতে কথাগুলো মাকে লিখেছিল।

বলেছিল, রোজ একই বাসে উঠতে উঠতে ক্লান্ত।

মানে, মায়ের কথা বলছি...

সে ঠিক করেছিল আরেকটা ট্যাক্সিতে উঠবে।

মানে অন্য মেয়ে।

তবে মাও একটা ট্যাক্সিতে উঠেছিল, মহাশূন্যের ট্যাক্সি।

মা মারা যায় তখন তোমার সমান ছিলাম।

- যাও, সিটে বসো। - আমি জোসুয়ে।

আমার নাম জোসুয়ে ফনটানেলে ডি পাইভা। পাইভা বাবার নাম, ফনটানেলে মায়ের নাম।

দেখো ভায়েরা, বাচ্চাটা মাতাল হয়ে গেছে।

খচ্চর!

- তুই পাগল! - বিটলা বুড়ি!

এই বিটলা বুড়িটাও পাগল!

সর্বনাশ! আমি তোমার মা হলে এমনটা হতে দিতাম?

তুমি মা নও, তুমি আমার কেউ না।

বাপের মতো মাতলামি করেই জীবনটা শেষ হবে।

তোমার মতোই, তুমি আমার সাথে এসেছ কেন?

আমি এসেছি সাহায্য করতে।

কথা কানে গেছে? আমি এসেছি সাহায্য করতে।

বানামেরেসিয়া!

দশ মিনিট।

এই যে, শুনছেন?

আমার ভাতিজা ওর বাবার সাথে দেখা করতে যাবে আপনি ওকে একটু ডি নরটে নামিয়ে দেবেন?

যদিও এটা অনেক দূরে।

দয়া করে এই ঠিকানায় যেন যেতে পারে।

আমি জানি না, ঝামেলা আছে যদি ওর কিছু হয়ে যায়।

দাঁড়ান এক মিনিট।

এটা নিন।

নিন এটা, আপনাকে দিচ্ছি।

রিও একটা টিকেট।

৬০ টাকা।

তোমার উচিত ছিল বাসে থাকা।

ঠিকই বলেছিলে, আমি ছাড়া তুমি ভালোই থাকবে।

তোমার জন্য সব করেছি।

তাহলে এখন আমাকে ছেড়ে যাচ্ছ না কেন?

কথা বলার ইচ্ছে থাকলে এই যে, আমি ওদিকে গেলাম।

তোমার ব্যাগ কোথায়?

ব্যাগ কোথায়, বাছা?

আবার বোলো না যে, বাসে ফেলে এসেছ।

আমি রিও যাব না ভাবছি, দয়া করে টিকেটটা ফেরত নেবেন?

আমার টিকেটের বদলে...

ম্যাডাম, আপনার টাকা ফেরত দিতে পারব না।

বাস এই মাত্র রিও ছেড়ে গেছে।

চলবে?

- না, ধন্যবাদ। - হ্যাঁ, ধন্যবাদ।

নিন, একটু সাহায্য করুন আমি সবগুলো খেতে পারব না।

আপনাকে কেমন অস্বাভাবিক লাগছে।

এটা আমার হৃৎপিণ্ডের কারণে।

হঠাৎ ধুকপুক বেড়ে গেছে।

দেখুন, কনিষ্ঠ আঙ্গুল দিয়ে এর তালে তালে চাপ দিন।

এভাবে?

সবার শক্তি আছে, তবে ঈশ্বর সর্বশক্তিমান।

বম জেসুয়েতে যাচ্ছেন এই ছেলের মনের আশা পূরণ করতে?

হ্যাঁ, বলো তোমার আকাঙ্ক্ষা কী!

আপনি কোথায় থাকেন?

এখানে।

আর আপনার বৌ?

আবার শুরু হয়ে গেল! সবসময় একই প্রশ্ন কেন?

আমি এই রাস্তাকে বিয়ে করেছি।

আমার কোনো পরিবার নেই।

তারমানে আপনিও তার মতো।

আচ্ছা শুনুন, মালগুলো নামাতে হবে মোটামুটি বিশ মিনিট সময় লাগবে।

জোসুয়ে, লোকটাকে একটু সাহায্য করো।

বেনে! তোমাকে দেখে খুব খুশি হলাম।

বহুদিন দেখা নেই, কতদিন যেন হলো?

আমি আরেকটা নিয়ে আসছি।

তুমি এখানে থাকো।

আজকালকার দিনের ছেলে মেয়েরা...

অল্প বয়সেই ধর্মানুরাগী হয়ে উঠছে।

এটা খুবই ভালো দিক।

ওরা যীশু খ্রিষ্টের মর্ম অনুধাবন করে বড় হচ্ছে।

যেখানেই যাই, ওদের গির্জায় দেখা মেলে।

দিনকাল বদলে গেছে।

ওরা সম্পূর্ণ ভিন্ন একটা জগতে বেড়ে উঠছে।

আরও বেশি করে ঈশ্বরের ইচ্ছাকে ধারণ করছে।

যারা ওদের উৎসাহ দিচ্ছে, তারা সত্যিই পূজনীয়।

- কী নিয়ে এসেছ? - চলো ট্রাকে গিয়ে খেয়ে ফেলি।

ঈশ্বরের দোহায় লাগে, এখনই ব্যাগে রাখো।

- আমি এগুলো ফিরিয়ে দেবো। - কেন?

রাখ বলছি!

তোমার বাবা জানতে পারলে মেরে তক্তা বানিয়ে দেবে।

জেলে যাওয়ার ইচ্ছে হয়েছে?

এগুলো ব্যাগে রেখে ট্রাকে অপেক্ষা করো।

সেই পূজনীয় ব্যক্তিকে দুই সপ্তাহের মধ্যে আনার চেষ্টা করব।

দেখি, আমাদের যাজকপল্লীর তরুণদের জন্য কী করতে পারি!

ম্যাডাম! দয়া করে দেখাবেন ব্যাগে কী আছে?

আমার কথা শুনেছেন, এবার ব্যাগটা দেখান।

বেনে, উনি আমার বন্ধু।

বেশ, তা ব্যাগে কী আছে দেখিয়ে দিন।

তাহলে সব ঝামেলা চুকে গেল।

বেনে, যেহেতু আমরা বন্ধু...

যদিও তুমি ভাইয়ের মতো বিশ্বস্ত,

কিন্তু আমার বন্ধুকে লাঞ্ছিত হতে দেবো না...

যে বন্ধুর নাম..... জোয়ানা।

আচ্ছা, ঠিক আছে তাহলে।

নিশ্চয় আমারই ভুল হয়েছে।

ধন্যবাদ।

আপনি কিছু নেবেন না?

এখানে কেনার মতো কিছু আছে নাকি?

আর কখনো এমন করবে না।

তুমি আমাকে বলতে পারতে, যে’কটা টাকা ছিল সেগুলো দিয়ে কিনে এনেছি।

আমার কাছে অনেক টাকা ছিল।

- তোমার হাতে কোনো টাকা ছিল না। - হ্যাঁ, ছিল।

নাও, খেয়ে নাও।

- মিথ্যুক! - কী?

তুমি কিছুই কেনোনি, আরও চুরি করেছ।

ভদ্রভাবে কথা বলো, আমি তোমার মা-ও হতে পারতাম।

আমার মা তোমার মতো চুরি করত না, মদ খেত না।

ঠিক, তোমার বাবা ছিল একমাত্র মদখোর।

না, উনি বাড়ি তৈরি করেন,

আর কাঠ দিয়ে সবকিছু করতে পারেন।

তোমার বাবা একটা পাগল বাছা, জানো লোকে কী বলে? পাগল!

তুমি মিথ্যুক, আর এতটাই কুৎসিত যে...

কেউ তোমাকে বিয়ে করেনি।

তুমি দেখতে ছেলেদের মতো...

মুখটাও একটু সাজুগুজু করো না।

তুমি ইরেনির মতো না।

সে মুখে এত আটা-ময়দা লাগায় তবুও বিয়ে করতে পারেনি।

- তোমার সবসময় সসেজ চুরি করা উচিৎ। - আমার সসেজ ভাল্লাগে না।

- নেবেন একটু? - না, ধন্যবাদ।

দোকানে যা হয়েছে সেজন্য দু:খিত...

মিসেস জোয়ানা.. না কী যেন নাম....

দোরা। জোয়ানা শুনতেও ভালো লাগে।

নিন একটু।

বেনে খুব ভালো লোক, তবে একটু সন্দেহপ্রবণ।

ঈশ্বরের কৃপায় আমি লক্ষ্যে ছুটে চলি।

ছেলেটা বড় হয়ে ট্রাকচালক হতে চায়।

তাহলে তোমাকে বস্তা বস্তা আটা বইতে হবে।

এরকম ট্রাক কেনা? সস্তা মনে করছ নাকি?

এটা তো ছোট, আমি কিনব টার্বো ইঞ্জিনের বিশাল ট্রাক।

ছেলেটাকে একটু হুইল ধরতে দেবেন?

বসো এখানে।

সাবধানে, অ্যাক্সেলারেটর চাপ দিয়ো না।

সারতাওতে অনেক শীত।

আসছি।

আপনি কোত্থেকে এসেছেন?

ভিটোরিয়া দে কনকুয়েস্তা।

তবে বহুদিন সেদিকে যাওয়া হয় না।

যেদিন থেকে এ রাস্তায় নেমেছি...

মনে হয় এযাবৎ, জীবনটা দশবার বদলেছে।

এ পথে চলতে গিয়ে অনেক লোকের দেখা পেয়েছি।

আর তারপর, আর কখনো দেখা-সাক্ষাত নেই।

যেমন, আপনারা দুজন।

হয়তো জীবনেও আমাদের আর দেখা হবে না।

আমরা যোগাযোগ রাখব।

শীত করছে!

আসছি।

উঠলাম আমি।

রিওতে আমার দুইটা বান্ধবী ছিল।

আপনি জানেন, রিওতে সব মেয়েরা বিয়ের আগে সেক্স করে?

সবাই।

- আপনারা কী নেবেন? - না, আমি শুধু সঙ্গ দিতে এসেছি।

মোটেও না, আমি ওনাদের জোর করে এনেছি।

আমি পানি নেব, আর তিনটা জিনিসের নাম বলুন।

- আপনি? - বিয়ার।

ছোটবাবু, তুমি কিছু নেবে?

কোকাকোলা।

মিসেস দোরা, আপনি আসলে কী করেন?

আমি শিক্ষকতা করতাম।

না, সে চিঠি লেখে।

মানুষের হয়ে চিঠি লেখে টাকা নেয়।

সেটা অবসর নেওয়ার পর।

এটা শুরু করেছিলাম যেন লোকে যোগাযোগ করতে পারে।

টেবিল ফুটবল পছন্দ করো না? যাও খেলো গিয়ে।

যাও ছেলে, খেলতে বলেছি।

না, না, না... আমি খেতে পারব না।

যেহেতু আমি একজন ধর্মপ্রচারক।

নিশ্চয় সে ওপর থেকে দেখছে না?

আপনাকে কিছু কথা বলতে চাই।

আমি খুব খুশি যে, সেই বাসটা মিস হয়েছিল।

সত্যিই খুশি।

শুনুন, একটু পরে আসছি।

আপনার লিপস্টিকটা দেবেন?

প্রায় শেষ হয়ে গেছে, রেখে দিন।

ধন্যবাদ।

সিজার চলে গেল কেন?

কেন গেল সেটা জানো না? সবই তো জানা থাকে!

লোকটা ভয় পেয়েছে, সে-ও এক ধরণের উটকো লোক, তাই না?

না, সেরকম না।

একটা কথা বলি?

লিপস্টিক দিয়ে তোমাকে আরও সুন্দর লাগছে।

শুভ অপরাহ্ণ।

আপনি বম জেসাস যাচ্ছেন না?

যাচ্ছি।

তবে সেটা অনেক দূরে।

তাই জনপ্রতি দশ টাকা করে লাগবে।

হে মাতা মেরি...

পথ দেখাও...

এ যাত্রা শেষে।

হে মাতা মেরি...

যাত্রা শেষে আমাদের পথ দেখাও।

এটা মা আমাকে শিখিয়েছে।

নেবে একটু?

- না, ধন্যবাদ। - নেব, ধন্যবাদ।

অবশ্যই, তুমি বাড়ন্ত ছেলে।

- তা, বয়স কত? - নয় বছর।

এই বয়সে আমি আস্ত গরু খেয়ে নিতাম।

- একটু নাও। - না, আমার বয়স অনেক হয়েছে।

খুব খারাপ।

মা সবসময় বলত, বাবা আমাকে একদিন সারতেও দেখাতে নিয়ে যাবে।

মাঝে মাঝে ভাবি সে এখন কোথায় আছে!

ওরা কি ঠিকভাবে কবর দিয়েছিল?

এসো আমার সাথে।

তোমার মায়ের রুমালটা এখানে রাখো।

আমরা বাবার বাড়ি যাচ্ছি?

হ্যাঁ।

খুশি তো?

কী হলো?

আবার একথা বলো না, যে মত পাল্টে গেছে!

আমি চাই না, নোংরা পোশাকে বাবা আমাকে দেখুক।

একদম ভিখারির মতো।

চিন্তা করো না জোসুয়ে...

তোমার বাবা তোমাকে পছন্দ করবে।

সমস্যা হচ্ছে, তুমি ওকে পছন্দ করো কিনা?

আমি ওকে পছন্দ করি।

শোনো!

তুমি যেমন ভাবো, তোমার বাবা তেমন না।

তুমি ওকে চেনো না, সে আমাদের বাড়ি বানিয়ে দিয়েছে।

জানি, জানি. সেটা ভালোভাবেই জানি।

শীঘ্রই বাবার সাথে দেখা হবে।

যদি তোমার পছন্দ হয়, তাহলে আমাদের সাথে কয়দিন থাকতে পারো।

এই ঠিকানাটা কোথায় চেনেন?

চলো, জোসুয়ে।

মা!

একটা ছেলে এসেছে!

কেউ আছেন?

কে?

হ্যালো?

হ্যালো!

- জেসুস কি এখানে থাকে? - হ্যাঁ।

ওর সাথে দেখা করবেন?

হ্যাঁ, বাড়িতে আছে?

না, বাইরে গেছে। চলে আসবে এখনি।

আপনি এখানে অপেক্ষা করুন।

- ভেতরে আসুন। - ধন্যবাদ।

তোমার স্বামীর সাথে দেখা করতে এসেছে।

- চা, কফি কিছু লাগবে? - না, না, ধন্যবাদ।

আমার স্বামীর সাথে কেন দেখা করবেন জানতে পারি?

মাফ করবেন।

শুধু ওনাকেই বলা সম্ভব।

তোমার সাথে দেখা করার জন্য...

এই মহিলা অপেক্ষা করছে।

আমি রিও থেকে এসেছি।

আপনার সাথে একটু...

একান্তে কথা বলা দরকার।

আচ্ছা।

মারিয়া, মা, আমাদের একটু সময় দাও।

এই ছেলে, বেরো।

আচ্ছা বলুন।

এই ছেলেকে আপনার কাছে নিয়ে এসেছি।

ওর মা মারা গেছে।

আপনি ছাড়া ওর কেউ নেই।

ওর সাথে আপনার কীসের সম্পর্ক?

আমাদের কোনো সম্পর্ক নেই।

তাহলে এখানে নিয়ে আসলেন কেন?

মনে করুন... আমরা বন্ধু।

ছেলেটা কি ভদ্র?

হ্যাঁ, খুব ভালো ছেলে।

চিঠিটা আপনার জন্য।

আমি তো এই লোক না।

আমার নাম জেসুস, চিঠিটাও জেসুস এর জন্য, যে এখানে থাকত।

দাঁড়ান একটু।

এই যে, ওর নতুন ঠিকানা।

লটারিতে একটা বাড়ি জিতে এটা বিক্রি করে দিয়েছে।

তবে একটা কথা বলি...

ও নেশা করে সব হারাবে, ঘর-বাড়ি যা আছে।

দোরা! সব ঠিক আছে তো?

যেভাবে বলেছিলাম, সেভাবে টাকা পাঠিয়েছ?

হ্যাঁ টাকা তো পৌঁছে গেছে, বম সেজুস, দা লাপা।

কোথাকার বম জেসুস?

দা লাপা নয়?

তীর্থযাত্রা থেকে বের হওয়ার জন্য কোনো গাড়ি পেলাম না।

- তাহলে এখন কোথায় যাচ্ছি? - রাস্তার গতিরোধ করতে।

- তারমানে হাঁটছি? - হ্যাঁ, হাঁটছি।

ঈশ্বরের আমি কী ক্ষতি করেছি, যে এগুলো পোহাতে হচ্ছে?

- তুমি আমার জন্য শাস্তিস্বরুপ। - ক্ষুধা পেয়েছে।

শুধু নিজের কথা ভাবলেই হবে? কী মনে করছ, আমার ক্ষুধা লাগেনি?

কোনো খাবার নেই, টাকা নেই কিছুই নেই! বোঝা গেছে?

তাহলে আমাদের কী হবে?

জানি না।

জানি না।

বাবা-মায়ের তোমাকে জন্ম দেয়াই উচিত হয়নি।

এখন আমাকে তোমার দেখাশোনা করতে হবে।

তুমি একটা অভিশাপ! তুমি একটা অভিশাপ!

কোথায় যাচ্ছ?

ফিরে এসো!

ফিরে এসো বলছি!

ধন্যবাদ!

ধন্যবাদ যীশু।

ঈশ্বর, আমি এসেছি।

তোমার কাছে ভিক্ষা করি...

এ অন্তর দিয়ে প্রার্থনা করি।

আমি ফ্রান্সিসকান, হৃদয় অন্ত:স্থল থেকে প্রার্থনা করি।

যীশু, মানুষের মঙ্গল করো।

নবাগতদের মঙ্গল করো।

আমি পাপী যীশু,

আমি যতটা কষ্ট সহ্য করেছি সেটা দেখো।

ক’টা টাকা দিলেই তোমার ভাগ্য বলে দেবো।

- টাকা নেই আমার কাছে। - আমার প্রাপ্য টা দেবে তো!

- বললাম টাকা নেই। - যদি প্রাপ্য মনে হয় তাহলেই দিয়ো।

কোথাকার ঝামেলা!

কোথায় যাচ্ছ জোসুয়ে?

সাধুবাবার সাথে ছবি তুলতে কত লাগবে?

তিন টাকা।

- এত বেশি? - এটাই লাগে।

এই টাকাতেই সাধুবাবার কাছে আমার বাসনা পৌঁছে দেবেন?

না, শুধু বাবার সাথে ছবি!

তুলবে না?

জোসুয়ে, তুমি কি দোকানে যাচ্ছ?

ম্যাডাম, উনি একজন লেখক, সাধুবাবার কাছে চিঠি পাঠাতে পারবেন।

আপনি পারবেন?

মাত্র এক টাকা!

চিঠি পাঠান! চিঠি পাঠান! সাধুবাবার কাছে চিঠি পাঠান!

চিঠি পাঠান, মাত্র এক টাকা!

- চিঠি লিখতে কত লাগবে? - মাত্র এক টাকা।

এক টাকা।

যদি আমাদের পোস্ট করতে বলেন, তাহলে দুই টাকা।

রাজি থাকলে লাইনে দাঁড়ান।

ঠিক আছে?

তাহলে শুরু করি?

ক্রিসেলদিনা, আমি এখানে ইতাবায়ানা থেকে এসেছি।

পুরোটা রাস্তা হেঁটে এসেছি।

আমি এখানে এসেছি মৌনব্রত পূরণ করতে...

যদি বেনিসিও আমাকে বিয়ে করতে রাজি হয়।

ধন্যবাদ ঈশ্বর।

আমার প্রার্থনা কবুল করার জন্য, আমার স্বামী মদ খাওয়া ছেড়ে দিয়েছে।

লিওনতিনা এমেরিনতিনা...

আমি এখন পৃথিবীর সবচেয়ে সুখী মানুষ।

কতদিন থেকে বাইরে আছে?

প্রায় চার বছর হবে।

- কোনো সংবাদ পাননি? - না।

মা, ভালোবাসা রইল, মারিয়া আদাগিয়া বেজোয়া।

জোসেফা মারিয়া দে সিভা, সেউ বেনতো দো উনা।

আমার বাগদত্তা, জো পেদ্রো দা সিভা সাউ পাউলো।

আমাদের বাবা, জোসে আলভেস দে সিভা।

ধন্যবাদ ঈশ্বর, আমাদের প্রার্থনা কবুল করার জন্য।

ধন্যবাদ, আমাদের বৃষ্টি দেওয়ার জন্য।

আমি বম জোসুয়ে এসে, আপনার সম্মানে...

দশটা রঙিন রকেট ছুড়েছি।

সেবাসটিয়ানো।

এই নিন।

আপনার চিঠি।

অনেক টাকা!

এবার খেতেও পারব।

আচ্ছা, দেখাচ্ছি মজা!

আচ্ছা, চলো এবার।

তোমাকে এটা উপহার দেবো।

- আমার জন্য? - হ্যাঁ, তোমার।

- দাম কত? - পাঁচ টাকা।

এটা পরলে তোমাকে অনেক সুন্দর লাগবে।

আমার শরীর কাঁপছে।

না, ওটা করবে না।

তাহলে প্রথমে ছিঁড়ে ফেলব?

আমাকে দাও।

যা করার আমি করব।

কাল বাবার সাথে দেখা করতে যাব?

যাব, বাস ছাড়বে দুপুরে।

এদিকে এসো জোসুয়ে, এখানে ঘুমাও।

- শুভরাত্রি জোসুয়ে। - শুভরাত্রি দোরা।

তুমি সবসময় এভাবেই শুতে যাও?

খোলামেলা অবস্থায় ঘুমানোটা আশা করনি?

পুরোটা খুলে ঘুমালে আরও ভালো লাগবে।

বেশ, মন চাইলে নিজে খুলে ফেলো আমি কিছু মনে করব না।

কী? লজ্জা করছে?

বাজি ধরে বলছি, তুমি কোনোদিন মেয়েদের খালি গায়ে দেখনি।

অনেক দেখেছি।

দেখেছ, নিজের মাকে।

না, অন্য মেয়েদের দেখেছি।

তা হয়তো দেখতে পারো কিন্তু ব্যাপারটা কতদূর গেছে?

- ওদের সাথে সেক্স করেছি। - তাই, তুমি করেছ?

কীভাবে করলে?

এগুলো মেয়েদের সাথে আলোচনা করার জিনিস নয়।

মনে হচ্ছে বিছানায় আসল পুরুষ পেয়ে গেলাম!

ওখানে যেতে কতক্ষণ লাগবে?

কতক্ষণ?

ডাকঘর।

এখানে দাঁড়াও, আমি আসছি।

দোরা! বাস!

বাঁধা আছে।

দয়া করে বলবেন, এফ রোডটা কোনদিকে?

এই যে, ভাই!

এফ রোড কোনদিকে?

ওদিকে, নতুন ঢালাই করা রাস্তাটা।

এটাই রাস্তা।

সবই তো একই রকম।

হ্যাঁ, ঠিক বলেছ!

- তোমার মায়ের কাছে বাবার কোনো ছবি ছিল? - হ্যাঁ।

তোমার কি মনে হয়, চেহারা দেখে চিনতে পারবে?

মাঝে মাঝে মনে পড়ে, আবার কখনো ঝাপসা হয়ে যায়।

আমিও বাবার চেহারাটা ভুলে গেছি।

এসব মনে করিয়ে দেওয়ার জন্য ছবির কথা না বললেই ভালো হতো।

আমাদের ভুলে থাকাই দরকার।

ষোল বছর বয়সে বাড়ি ছেড়ে এসেছিলাম।

তারপর আর কোনোদিন...

বাবার দেখা পাইনি।

বছরখানেক পর,

রাস্তায় একবার দেখা হয়েছিল।

আমি স্তব্ধ হয়ে গিয়েছিলাম।

তারপর, সাহস করে ওর কাছে গেলাম।

“মনে পড়ে?” আমি বললাম, “আমাকে চিনতে পারছ?”

দেখলাম, সে আমাকে চিনতে পারল না!

নিজের মেয়েকেই চিনতে পারল না!

বলল, তোমার মতো মিষ্টি মেয়েকে কীভাবে ভুলব?

হতচ্ছাড়াকে বললাম, ভুল করে ফেলেছি... তারপর চলে এলাম।

শুনেছি, এর কিছুদিন পর মারা গেছে।

- কিছু বুঝেছ? - আমি আবার কী করলাম?

তুমিও একটু পর আমাকে ভুলে যাবে।

আমি তোমাকে ভুলতে চাই না।

তবুও...

ভুলে যাবে।

মি. জেসুস!

জেসুস আর এখানে থাকে না।

- কোথায় থাকে বলতে পারবেন? - না।

অজানার উদ্দেশ্যে চলে গেছে, এরপর কেউ ওর ব্যাপারে শোনেনি।

তাহলে সে আর ফিরে আসবে না?

আমার তো মনে হয় ফিরবে না।

আমি ওর অপেক্ষা করব।

লাভ নেই জোসুয়ে, ও আর ফিরবে না।

তুমি আমার সাথে যাচ্ছ না কেন?

আমার খুব ভালো লাগবে, বাছা।

জানো...

আমি সত্যিই খুশি হব।

চলো।

- ওর বাপ উধাও হয়ে গেছে। - তাহলে এখন কী করবে?

একলা ফেলে তো আসতে পারি না।

অবশ্যই না।

তাছাড়া তুমি তো জানো, ছেলেটা খুব ভালো।

ওকে সাথে নিয়ে আসছ?

বুঝতে পারছি না কী করব!

মানে কী?

রিওতে অনেক অপরাধ করেছি, আর তুমি সেটা ভালোই জানো ইরেনি।

এখন তুমি কী করবে?

শোনো, আমার ফ্রিজ আর সোফা তোমার কাছে বিক্রি করতে চাই।

আর কী যেন আছে?

টিভি?

হ্যাঁ, বালের টিভিও বিক্রি করে দেবো।

তারপর কী করবে?

অন্য কোথায় স্থায়ী হয়ে, তারপর তোমাকে কল করব।

বম জেসুস এর দুইটা টিকেট।

কাল সকালের আগে নেই।

- অন্য কোনো জায়গার? - কাল সকালের আগে নেই।

দুনিয়ার শেষপ্রান্ত এটা।

- এখান থেকে বাইরে যাব কীভাবে? - আগামীকাল।

আগামীকালের আগে নেই?

আচ্ছা।

কাল সকালে প্রথম বাসের দুইটা টিকেট দিন।

আপনি আমার বাবাকে খুঁজছেন?

আপনার বাবা?

হ্যাঁ, জেসুস। শুনলাম এক অপরিচিত কে যেন বাবাকে খুঁজছে।

হ্যাঁ, আমরা খুঁজছি।

চেনেন ওনাকে?

আমি ওর বন্ধু।

কী অদ্ভুত ব্যাপার, খুঁজছি যাকে, পেলাম তার ছেলেকে!

ব্যাপারটা তা না, এ জায়গাটা আর কত বড়ই বা হবে!

পরিচিত হয়ে খুশি হলাম।

আমি ইজাইস।

হ্যালো, ইজাইস।

আমি দোরা।

আপনারা ঘুরতে এসেছেন?

না। আসলে এদিক দিয়ে যাচ্ছিলাম...

হঠাৎ মনে হলো...

এদিকে পুরোনো এক বন্ধু থাকে...

তাহলে একটু দেখা করে যাই।

আপনাকে অবশ্যই আমাদের বাড়িতে যেতে হবে।

লোকজন তেমন একটা বাবার সাথে দেখা করতে আসে না।

আমি জোর দিয়ে বলছি, না করতে পারবেন না।

আর এটা কে? কী নাম তোমার?

জেরালদো।

জেরালদো, মিসেস দোরা, প্লিজ।

আমি অনুরোধ করছি, চলুন।

এদিকে এসো, জেরালদো।

তোমার জিহ্বার পরীক্ষা নেব।

পাখি পাকা পেঁপে খায়...

এবার এটা বলো দেখি।

পাখি, পাকা, পেঁপে...

খুব চালাকি!

বাবা চলে যাওয়ার পর, আমি আর আমার ভাই এখানেই চলে আসি।

মোইজেস!

বহুদূর থেকে মেহমান এসেছে!

মোইজেস, ইনি হলেন দোরা।

বাবার বন্ধু, কল্পনা করতে পারিস!

হ্যালো।

হ্যালো।

মিসেস দোরা, এখানে আসতে কতক্ষণ লেগেছে?

এটা নির্ভর করে আসার রাস্তার ওপর।

মোইজেস রিও যাওয়ার জন্য প্রাণ দিয়ে দিচ্ছে।

অনেকে বলে, জায়গাটা ভালো তবে চোর-বাটপারে ভর্তি।

চোর-বাটপার সবখানেই আছে।

মিসেস দোরা, এই জায়গাটুকু আমরা নিয়েছি এখানকার সবটুকু।

বাবা অন্য বাড়িটা খুইয়ে দেয়ার পর আমরা এটা তুলে....

কাঠের কারখানা দিয়েছি।

মোইজেস সারাদিন অনেক পরিশ্রম করে।

এমনকি বাবার চেয়েও ভালো কাজ করে।

টেবিল, চেয়ার সবকিছুই বানাতে পারে।

আমরা কিছু জিনিস শহরেও বিক্রি করি।

জেরালদো, তুমি কাছে যাও।

পিচ্চি তো ভালোই খেলে!

এত তারিফ করার কিছু নেই, গায়ে গতরে বড় হয়ে গেছে!

আমার খেলা ঠিক আছে,

ওরাই ঠিকমতো খেলতে পারে না।

চিঠিটা ওনাকে দে।

আমাদের পড়ে শোনাবে।

- এটার সাথে ওনার সম্পর্ক কী? - উনি বাবার বন্ধু।

ওনাকে ভরসা করতেই পারি, দেখা ওনাকে।

তাহলে আমিই নিয়ে আসছি।

ঠিক আছে, যাও, নিয়ে এসো।

বাবা লিখেছিল আনা ফনটানেলে এর কাছে, ছয় মাস আগে চিঠিটা এসেছিল।

মা মারা যাওয়ার পর, মহিলার সাথে ওনার সম্পর্ক হয়েছিল।

নয় বছর আগে আনা রিও চলে যায়।

তখন আমাদের ছোটভাই হওয়ার উপক্রম।

বাবা বছর দুয়েক অপেক্ষা করে...

সে হয়তো ফিরে আসবে।

কাজ-কর্ম ছেড়ে দিয়ে মদের নেশায় জড়িয়ে পড়ে।

ধার-দেনা শোধ করার জন্য বাড়িটা বিক্রি করে দেয়।

একদিন ঘুম ভেঙে দেখি, বাবা নেই!

টেবিলে অর্ধ-ভর্তি মদের বোতল!

আমি চিন্তায় পড়ে গেলাম!

বাবা বোতল অর্ধেক রেখে চলে গেছে,

মানে, নিশ্চয় খারাপ কিছু একটা হয়েছে।

সে লাপাত্তা হয়ে গেল, তবে তাতে আমাদের ভালোই হয়েছে!

আমরা টাকা-পয়সা জমাতে পেরেছি।

- আমাদের জীবনটাও উন্নত হয়েছে। - মোইজেস, ওকথা বলিস না।

- বলব! - জানেন, বাবা আসলে...

- ভালো মানুষ ছিল। - ভালো?

চিঠিটা পড়তে বলব।

হ্যাঁ, পড়তে বলো।

চিঠিটা আনার জন্য, আমাদের জন্য নয়।

বাবা কখনোই আমাদের গোণায় ধরেনি।

কিন্তু আনা কোনোদিন ফিরে আসেনি, তাই আমরা এটা খুলব।

চিঠিটা পড়তে আপনি কিছু মনে করবেন না, তাই না?

মোটেও না।

- তাহলে? - সে কোথায় আছে, লেখা আছে?

আচ্ছা পড়।

আনা...

আমার দুর্ভাগ্য।

খুব কষ্টে একজনকে দিয়ে চিঠিটা লেখিয়ে নিলাম।

অবশেষে বুঝলাম,

যখন আমি এখানে... রিওতে তোমার খোঁজ করছি।

তুমি ফিরে গিয়ে আমাদের জন্য একটা ছোট্ট বাড়ি ঠিক করেছ।

আশা করি, এই চিঠি পৌঁছানোর আগে আমি ফিরে আসব।

কিন্তু, যদি চিঠিটা আমার আগে পৌঁছে যায়...

তাহলে যা বলি, তা করবে।

আমার জন্য অপেক্ষা করো।

আমিও বাড়ি ফিরে আসব।

চিঠিটা ছয় মাস আগে এসেছে।

ও হয়তো আসতে পারেনি।

আমি ইজাইস এবং মোইজেসকে...

সবকিছু দেখাশোনা করতে বলেছি।

দেখাশোনা করতে বলেছে?

হাস্যকর কথা!

আনা...

বাড়ি আসার আগে হয়তো, মাস-খানেক খনিতে কাজ করতে পারি।

তবে আমি ফিরব, অপেক্ষা করো।

তারপর আমরা আবার একসাথে হব।

আমি, তুমি, ইজায়েস...

মোইজেস...

আর জোসুয়ে।

জোসুয়ে।

যাকে দেখার তর সইছে না।

তুমি একটা বদমেজাজি, জেদি মহিলা।

তবে তোমার সাথে দেখা করার জন্য সব ছেড়ে দিয়েছি।

আমাকে ক্ষমা করে দাও।

এখন শুধু তুমি আর আমি।

“জেসুস”

সে ফিরে আসবে।

না, ফিরবে না।

হ্যাঁ, একদিন ফিরে আসবে।

বাবা কি সত্যি বলেছে, সে আমার সাথে দেখা করতে চায়?

অবশ্যই বলেছে।

আমার মনে হয়না বলেছে।

এই কী হচ্ছে! ভেতরে এসো।

মিসেস দোরা, আপনার জন্য বাবার শোবার ঘরটা গুছিয়ে দিয়েছি।

ধন্যবাদ।

পিচ্চি! জিহ্বার পরীক্ষা হয়ে যাক?

- আবার? - টানা পাঁচবার বলো দেখি?

- "পাখি পাকা পেঁপে খায়” বলো। - "টানা পাঁচবার বলো দেখি.."

জোসুয়ে...

জীবনে কোনোদিন কাউকে চিঠি লেখিনি...

কিন্তু এটা তোমাকে লিখছি।

ঠিকই বলেছিলে, তোমার বাবা ফিরে আসবে...

আর তোমার কথামতো সে ঠিকই ফিরে আসবে।

বাবার সাথে ট্রেনে ওঠার কথাটা মনে পড়ল...

তখন আমি পিচ্চি একটা মেয়ে...

তবে উনি সবসময় আমাকে হুইসেল বাজাতে দিতেন।

যখন তুমি রাস্তায় সেই বিশাল ট্রাকটা চালাচ্ছিলে...

মনে পড়ে, আমিই প্রথম ব্যক্তি...

যে তোমাকে হুইলে হাত দিতে বলেছিলাম।

ভালো হবে তোমার ভাইদের সাথে থেকে যাও।

আমি যা দিতে পারব তার থেকে অনেক বেশি প্রাপ্য তুমি।

যদি কখনো আমাকে মনে পড়ে...

তখন ছবিটা দেখো যেটা একসাথে তুলেছিলাম।

একথা কেন বলছি জানো? কারণ ভয় হচ্ছে, হয়তো তুমি আমাকে ভুলে যাবে!

আমি বাবাকে খুব মিস করছি।

আমি সবকিছুই মিস করছি।

“দোরা”

.....বাংলা সাবটাইটেল.... .../\..হাসান মাহাদী../\...

Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.