All language subtitles for BBM (2015)

af Afrikaans
ak Akan
sq Albanian
am Amharic
ar Arabic
hy Armenian
az Azerbaijani
eu Basque
be Belarusian
bem Bemba
bn Bengali
bh Bihari
bs Bosnian
br Breton
bg Bulgarian
km Cambodian
ca Catalan
ceb Cebuano
chr Cherokee
ny Chichewa
zh-CN Chinese (Simplified)
zh-TW Chinese (Traditional)
co Corsican
hr Croatian
cs Czech
da Danish
nl Dutch
en English Download
eo Esperanto
et Estonian
ee Ewe
fo Faroese
tl Filipino
fi Finnish
fr French
fy Frisian
gaa Ga
gl Galician
ka Georgian
de German
el Greek
gn Guarani
gu Gujarati
ht Haitian Creole
ha Hausa
haw Hawaiian
iw Hebrew
hi Hindi
hmn Hmong
hu Hungarian
is Icelandic
ig Igbo
id Indonesian
ia Interlingua
ga Irish
it Italian
ja Japanese
jw Javanese
kn Kannada
kk Kazakh
rw Kinyarwanda
rn Kirundi
kg Kongo
ko Korean
kri Krio (Sierra Leone)
ku Kurdish
ckb Kurdish (Soranî)
ky Kyrgyz
lo Laothian
la Latin
lv Latvian
ln Lingala
lt Lithuanian
loz Lozi
lg Luganda
ach Luo
lb Luxembourgish
mk Macedonian
mg Malagasy
ms Malay
ml Malayalam
mt Maltese
mi Maori
mr Marathi
mfe Mauritian Creole
mo Moldavian
mn Mongolian
my Myanmar (Burmese)
sr-ME Montenegrin
ne Nepali
pcm Nigerian Pidgin
nso Northern Sotho
no Norwegian
nn Norwegian (Nynorsk)
oc Occitan
or Oriya
om Oromo
ps Pashto
fa Persian
pl Polish
pt-BR Portuguese (Brazil)
pt Portuguese (Portugal)
pa Punjabi
qu Quechua
ro Romanian
rm Romansh
nyn Runyakitara
ru Russian
sm Samoan
gd Scots Gaelic
sr Serbian
sh Serbo-Croatian
st Sesotho
tn Setswana
crs Seychellois Creole
sn Shona
sd Sindhi
si Sinhalese
sk Slovak
sl Slovenian
so Somali
es Spanish
es-419 Spanish (Latin American)
su Sundanese
sw Swahili
sv Swedish
tg Tajik
ta Tamil
tt Tatar
te Telugu
th Thai
ti Tigrinya
to Tonga
lua Tshiluba
tum Tumbuka
tr Turkish
tk Turkmen
tw Twi
ug Uighur
uk Ukrainian
ur Urdu
uz Uzbek
vi Vietnamese
cy Welsh
wo Wolof
xh Xhosa
yi Yiddish
yo Yoruba
zu Zulu

Original subtitles

সাবটাইটেল ক্রিয়েটর- Akash Ahmed www.facebook.com/TollyAkash

ইংরেজি বা অন্য কোনো সাব আসার আগেই, সরাসরি তেলুগু ভাষার অর্থ করে- এটি আমার ৩য় সাব।

যথারীতি সহায়তায়- Kanaka Lakshman Surapaneni www.facebook.com/Kanaka.Lakshman.1997

সাবের মান ভালো করতে চেষ্টার ত্রুটি রাখিনি। অনিচ্ছাকৃত ভুলগুলো ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন প্লিজ....

Bhale Bhale Magadivoy (You Are an Interesting Man!)

কিরে... কি ব্যাপার? এই বৃষ্টির ভেতর কি নিয়ে এলি?

দাদা চিংড়ি মাছের তরকারি খেতে পছন্দ করে, তাই বাবা পাঠিয়েছে।

আরে... রে রে রে রে... আয়... আয়, আয়, আয়...

এটাকে ভালোবাসা বলেনা! তোমরা বাপ-বেটা পাশাপাশি থেকেও ৫ বছর একে অন্যের সাথে কথা বলোনা...

এই বয়সে এগুলো কি জরুরি? এখন এগুলো কি মেটানো যায় না?

হ্যাঁ... তার সাথে কথা বলার ব্যাপারে আমিও কিছুদিন ধরে ভাবছি...

- এই... কাল সকালে তোর বাবাকে আসতে বলিস! - ওকে!

- আমি কথা বলতে চাই, সে কথাও বলিস! - ঠিক আছে।

আয়, আয়, আয়... কিরে? তোর দাদা কেমন আছে? খেয়েছে সেগুলো? কি বললো?

সামুদ্রিক মাছের... তরকারি...

এই! এই! তোর দাদা কেমন আছে?

- তোর দাদা কেমন আছে বললি না তো! ভালো আছে, তাইনা? - দাদা!?

এই! তুই খা... সে কি বলবে? সে আমাদের পছন্দ করে না।

তার বোনের মেয়েকে বিয়ে না করে, আমাকে করেছো। তাই রাগ!

- মা, মা... দাদা... - এই! দাদার কথা বাদ দে! মাছ খা তুই...

কয়েকদিন পর...

আইয়ো! বাবা!

সে বাকশক্তি হারিয়ে ফেলেছে। এখন কথা বলতে এসেছিস?

তোকে আসতে বলেছিলো। আসিসনি, তাই তার এই অবস্থা...

আমাকে কে আসতে বলেছিলো?

আমার কাছে শুনছিস কেনো? তোর ছেলের কাছে শোন... ওর দাদাই ওকে বলতে বলেছিলো।

- এই, তোর দাদা ডেকেছিলো আমায়? - হ্যাঁ!

- তাহলে বলিসনি কেনো? - ভুলে গেছিলাম!

'ভুলে গেছিলাম'- কথাটি সে বললো অনেক সাধারণভাবে... কিন্তু, এই শব্দটাই তাকে সবার থেকে আলাদা করেছে।

দ্রুত সব ভুলে যাওয়াই তার সমস্যা!

আমরা সবাই-ই অনেক কিছু ভুলে যায়... কিন্তু, তার ক্ষেত্রে মাত্রা অত্যাধিক।

একটা কাজ করতে কর‍তে, অন্য কাজে মনোযোগ গেলে, আগের কাজটি ভুলে যায়। (অটো মাইন্ড কনভার্ট)

এরকম একজনের গল্প কেমন হতে পারে তাহলে??

- এই মাস্টার, কি করছো? - শীতল ঔষধ দিচ্ছি...

আরে, আমাদের সবসময় কি ঔষধ নেওয়ার প্রয়োজন হয়? যদি বডি বানানোর পাশাপাশি নিয়মিত কাজকর্মও করি...

মানবদেহের মতো বৃক্ষের পরিচর্যাও অভ্যন্তরীণ ভাবেই নেওয়া উচিৎ...

আমি বলেছিলাম না? সে সব কিছুই প্রাকৃতিক উপায়ে যত্ন নেওয়ার চেষ্টা করে...

প্রচুর মেধাবী। কৃষকদের জন্য ভগবান! প্রচুর পরিমাণে শিক্ষিত... কৃষি বিষয়ক গবেষক!

- শেষ তোমার কথা? - হ্যালো স্যার... - হ্যালো...

আসুন, বসে কথা বলি।

এই যে, তার ছেলের ফটো। সেও একজন জুনিয়র গবেষক... আমার মনে হয়, আপনার জন্য সে গুড চয়েজ হবে।

কিছুটা নায়কের ছাপ পাওয়া যাচ্ছে না তার চেহারায়?

সে বড়দের অনেক সম্মান করে... বিশেষ করে আপনার মতো গবেষকদের।

আপনার মেয়ের কথা বলতেই, সে বিয়েতে রাজি হয়ে গেছে... কোনো প্রশ্ন না করে, মেয়ের ছবি না দেখেই।

এরকমটা কেনো? কিছু মনে করবেন না, তার কি কোনো সমস্যা আছে?

রামবাবু সাহেব, আমি আপনাকে বলেছিলাম না? এভাবে মেয়ে দেখতে আসলে, তারা তো এমনই ভাববে!

তা নয় স্যার... উদ্ভিদের পাতায় একটি দাগ থাকলেও আমি ১০০ বার গবেষণা করি।

সেখানে মেয়ের বিয়ে মানে, সবকিছু পরিষ্কারভাবে জানার চেষ্টা করছি...

- আমি শহরে যাচ্ছি। পাত্র পছন্দ হলে মেয়ে দেখাবো। - ধন্যবাদ, জনাব। - ওকে স্যার।

এই! রাও বাবু তোর সাথে দেখা করতে যাচ্ছে... তোর ব্যাপারে উল্টা-পাল্টা বকছিলো। সাবধানে কথা বলিস। প্রস্তাবটা ভালো।

বাবা, ৩০ মিনিটের মধ্যে ফোন পাবে যে সে আমাকে পছন্দ করেছে!

এত ওভার অ্যাকশান বন্ধ কর! তোর তো আবার ভুলে যাওয়ার সমস্যা!

- কি ভুলে যাবি তা ভেবেই ভয় পাচ্ছি! - তুমি এমন ভয় দেখালে সত্যি সত্যিই ভুলে যাবো!

ওয়ার্নিং বাদ দিয়ে, কাজের কাজ কর...

লাকি... তোমার সাথে দেখা কর‍তে, পানফুরাঙ্গা রাও নামের একজন এসেছে।

আসছি!

- স্যার, স্যার! চা নিন স্যার। - এখন না...

কোল্ড ড্রিংক হয়ে যাচ্ছে! নিন, না হলে আমাকে বকবে।

এটা কি চা নাকি চিনির শরবত? চা'য়ে চিনি দেওয়া উচিৎ ছিলো, চিনিতে চা নয়...

এরকম চা ১০ কাপ পান করলে, চা'য়ের সঙ্গা আমি ভুলে যাবো...

একটা কাগজ-কলম নেওয়া যাক...

দেড় কেজি দুধ নিবি... ভালো করে গরম করবি।

১/৪ ভাগ পানি দিবি... আবারো ভালো করে গরম করবি।

এতটুকু.... এই এতটুকু... চা-পাতি... লেখেক!

এখনো না লেখে অপেক্ষা করছিস কেনো!

- আস্তে করে চুলা থেকে নামা... - এই! লাঞ্চের সময় এখানে কি করিস? ... যা! গিয়ে কাজ কর!

কি? লাঞ্চের সময় হয়ে গেছে? - আয় রে!

- দারুণ হয়েছে প্রবীণ! - মশলা বেশি হয়ে গেছে না?

আমিষ জাতীয় খাদ্যে, এরকম বেশি মশলাই ভালো লাগে...

- কি ব্যাপার? আমিষ না কি বলছিলি? - প্রবীণ মুরগির মাংস এনেছে বাবা। তা নিয়ে মন্তব্য করছিলাম।

- সে ঠিক আছে... তা তোর ব্যাপারে কি মন্তব্য করলো? - কে?

আরে, ঐ যে পানফুরাঙ্গা রাও সাহেব...

- এভান্ডি (সম্মানের ডাক), কি হলো?! - যা হওয়ার তাই! ভুলে গেছে!

- এখানে একজন... - এইমাত্র চলে গেলো!

- বাবা, দ্রুত তার নাম্বারটা দাও! - এই... ইডিয়ট! ব্রেনলেস! রাস্কেল! নিকম্মার ঢেঁকি!

বাড়ি আসলে যত ইচ্ছা গালিগালাজ করো... এখন দ্রুত নাম্বার সেন্ড করো।

আমি ভুলে গেছি...

স্যার স্যার স্যার! আমি, স্যার! আঞ্জানেলুর ছেলে...

নতুন একটি উদ্ভিদের ব্যাখ্যা করছিলাম সবাইকে, তাই দেরি হয়ে গেছে। আপনি এখন কোথায় স্যার?

- আমি বেরিয়ে পড়েছি... পরে দেখা হবে। - স্যার স্যার স্যার...!

সত্যি সত্যিই দুঃখিত স্যার! আপনি কোথায় বলুন। আধা মিনিটেই আসছি!

'সিগা স্টা' নামে তোমার অফিসের রাস্তায় কফিশপ আছে না? সেখানে আসো।

আপনি ভেতরে ঢুকে কফি অর্ডার করুন। কফি দেওয়ার আগেই আমি পৌঁছাচ্ছি!

আয়, আয়, আয়... তোকেই ফোন দিতে যাচ্ছিলাম। আর তুই আচমকা হাজির হয়ে গেলি! ওদিকে দেখ...

কে এটা?

- ঘোমটা খুলে দেখ... - পাগল হলি নাকি?

মুসলিম কেউ না.... আমার মীনাক্ষী!

নিয়ে চলে এসেছিস?! দাঁড়িয়ে কেনো... আয়, বসে সব শুনি।

আগে থেকেই সব ভেবে রেখেছিলাম। তার বাবা তো রাজি হলো না...

এজন্য, আজ সকালে তার বাবার চোখ ফাঁকি দিয়ে নিয়ে এসেছি...

তার বাবা জেনে গেলে?

আমি অত কিছু বুঝিনা। আমাদের বিয়ে তোকেই সেট করতে হবে। কিভাবে কি করবি তা তুই ভেবে দেখ।

- এই জুনিয়র! কাগজ, কলম নিয়ে আয়। - সবুজ কলম আন! কালো না... সেন্টিমেন্ট!

তুই যা বলেছিস, সব ঠিক আছে...

কিন্তু, ৩টা রাত এদিকে কাটালে ভালো হতো। এরপর প্ল্যান মতো করলে বেটার হতো- আমার মনে হয়।

এই! ইডিয়টের মতো ভাবিস না! কয়েকটা দিন কিশোরের বাড়িতেই থাক। এরপর বিয়ে করে সুখে থাকবি।

কে ডিস্টার্ব করছে? কাস্টমার কেয়ার নাকি? শালাদের খেয়েদেয়ে কোনো কাজ নেই!

- একটু ব্যস্ত আছি। পরে ফোন করিস! - তা নয়। আ....

আমি সব ঠিক করে রাখবো। তোরা গাড়িতে করে দ্রুত রওনা দে।

- ঠিক আছে। এসি নাকি নন এসিতে যাবো? - নন এসি কেনো! এসিতেই যাবি।

এই! তুমি কি কোনো মানুষ? ৪ ঘন্টা ধরে তোমার অপেক্ষায় বসে আছি! আর, তুমি তার সাথেই গল্প করে চলেছো!

কি এসব? ননসেন্স! বলো... তোমাকেই বলছি!

- স্যরি স্যার! - কিসের স্যরি! স্যরিরও একটা মূল্য আছে!

স্যরি বলার জন্যও একটু বিবেকবোধ থাকা লাগে।

তোমার মতো বিবেকহীন লোকের জন্য এতক্ষণ অপেক্ষা করে, নিজেকেই আমি ধিক্কার জানাচ্ছি!

এক্সকিউজ মি! কথার মাঝে কথা বলা ঠিক হচ্ছে কি জানিনা...

কিন্তু আপনাকে জানিয়ে রাখি, এখানে কোনো আজাইরা আলাপ হচ্ছিলো না!

যে মেয়ে বসে আছে, সে আমার প্রেমিকা। কিভাবে সফলভাবে পালানো যায়- সে প্ল্যান হচ্ছিলো।

পরিস্থিতি বুঝে চুপচাপ চলে গেলেই পারতেন! ইডিয়ট ফেলো! কে রে সে?

Who is he? সে কে? জেনেই বা কি হবে...

- কে রে এটা? - আরে! আমার হবু শ্বশুর! - আঙ্কেল! আগে বলবি না!

আঙ্কেল! আঙ্কেল! আঙ্কেল খুবই ভালো মানুষ।

স্যরি আঙ্কেল! আপনি মেয়ে দেওয়ার ইচ্ছায় এসেছেন, জানতাম না।

সে খুবই ভালো ছেলে। এরকম পাত্র কোথাও পাবেন না।

গাড়ির ভেতরে ঢুকে, বসে কথা বলুন। কি বলেন?

এই! তোর মুখ দিয়ে আর একটা কথাও যেনো বের না হয়! তাহলে কি করবো আমি জানিনা! দূর হ...!

- এই! যা এখন! - সেট করে নিবি তো?

- আউট! - সব দোষ তো আমারই! - ব্লাডি ননসেন্স!

তার কথায় কিছু মনে করবেন না স্যার। আমার ভুলে যাওয়া রোগ আছে...

একটি কাজ করার সময়, অন্য কাজে মনোযোগ চলে গেলে... আগের কাজটিকে ভুলে যায়।

এভাবেই, অফিসে আপনার অপেক্ষা করার কথা তখনই ভুলে গেছিলাম।

না জেনে করা ভুলকে, মাফ করে দিন স্যার।

এরকম সমস্যা নিয়ে, বিয়ে করে, আমার মেয়ের জীবন ধ্বংস করবে ভেবেছো? আসলে, কি ভাবো আমাকে?

এই! মেরে ফেলবো! বুঝেছো? কারো পরিচয় জানার আগে, আমি তার ব্যক্তিত্ব জানতে চাই।

অফিসেই তোমার ব্যাপারে সব জানতে পারতাম। ভাবলাম, তোমার জন্য অপেক্ষা করে কথা বলি।

আমি যতটুকু ভেবেছিলাম, তুমি তার থেকেও বেশি খারাপ!

জীবনে কখনোই, তোমার মুখ আবার আমাকে দেখিও না.... স্টুপিড ফেলো!

- আয়, আয়... খেয়ে নে। - আমার ক্ষুধা নেই।

এ তো সাধারণ ব্যাপার, কষ্ট পাওয়ার কি আছে?

তোকে Amazing ভেবে পাত্রী দেখেছিলো, সে... এই পাত্রীর সাথেই তোর বিয়েটা দেখতে চেয়েছিলাম, আমি।

তোর মেয়ের মুখ দেখার ইচ্ছা ছিলো, তোর মায়ের।

কষ্ট তো আমাদের পাওয়ার কথা! তুই পাস কেনো?

- কষ্ট করে একটা সম্বন্ধ যোগাড় করেছিলাম! গেলো সব ভুলে! - হ্যাঁ! ইচ্ছা করে ভুলে গেছি যেনো!

সত্যবাদী না সেজে, সব কায়দা করে ম্যানেজ করে নিতে পারলি না?!

কখনো কোনো বিশেষজ্ঞ ডাক্তারকে দেখিয়েছেন?

কোনো বিশেষজ্ঞ বাদ নেই! সবাই তার রোগের কাছে স্যালেন্ডার! ম্যানুফ্যাকচারিং ডিফেক্ট! সারা জীবনের জন্য।

এই! তোর মতো ভুলে যাওয়া রোগের কোনো মেয়েকে খুঁজে পেলে, তাকে বিয়ে করে নিস! আমি আর মেয়ে খুঁজতে পারবো না!

আমি কি তোমাকে খুঁজতে বলেছি? কোনো মেয়েও চাইনা, বিয়েও চাইনা। ভালো কাউকে খুঁজে পেলেও, না...

- এই, কোথায় এখন? - ৫ সেকেন্ডেই গাড়ি পার্কিং করবো। আসছি!

বসের অবস্থা খারাপ হচ্ছে... রক্ত দরকার এখনি। তাড়াতাড়ি আয়!

বেড থেকে উঠিয়ে বাথরুমে ড্যান্স করা...

এই! মজা করার সময় এখন না। দ্রুত আয়! রক্ত দরকার তাড়াতাড়ি।

- এক্সকিউজ মি! কোথায় যাচ্ছেন? - ঐ মেয়ে....

- রক্ত দাতা আপনি? - হ্যাঁ! - আইডি প্রুফ?

ওকে, আমার সাথে আসুন।

কোথায় রে এখন? তাড়াতাড়ি আয় রে! প্রাণ যায় যায় অবস্থা!

বেডে শুয়ে রক্ত দিচ্ছি। বোতল যাবে, নিয়ে নিস।

কি? বোতল! কোথায় পাঠাচ্ছিস? কত তলায় আছিস?

- ১ম তলা মনে হচ্ছে... - তা কি করে হয়? আমি তো তোকে ৩য় তলায় আসতে বলেছিলাম।

- এটা কত তলা, সিস্টার? - ১ম তলা।

- ভুলে গিয়ে ১ম তলায় চলে এসেছি... - কি! ভুলে গেছিস? মরে যাচ্ছে এখানে!

এই, পরে ফোন করছি।

পরে আর দরকার হবে না...

এক্সকিউজ মি স্যার... পার্কিংয়ে হলুদ গাড়িটি কি আপনার?

আমার গাড়ি পার্কিংয়ে থাকবে কিভাবে? আমারটা তো রাস্তায় রেখে....

হায় আল্লাহ! আমার গাড়ি!

সে তো ভুলে গেলো... এখন একে নিয়ে কি করবো আমি?

এভাবে কি করে ভুলে যেতে পারেন আপনি? একটা মানুষের প্রাণের কি কোনো মূল্য নেই আপনার কাছে?

- ২ দিন ধরে বলছি আপনাকে! - আসলে হয়েছে কি...

- রক্ত না পেলে, এখন বাচ্চাটিকে বাঁচাবো কিভাবে!? - স্যরি ম্যাডাম।

কি হয়েছে ম্যাডাম? বাচ্চাটিকে তো রক্ত দিয়েছে...

- রক্ত দিয়েছে!? - হ্যাঁ। রোগীর জ্ঞানও ফিরেছে।

- আসুন... দেখবেন আসুন। - চলো...

এই যে দেখুন...

কে সে?

ইনি...

- এখনি টাকা বের কর! না হলে পুলিশ ডাকলাম! - ছেড়ে দিন স্যার। শুধু লাইটই তো ভেঙেছে!

- আবার কথা বলিস! পিছনের সবই তো ভেঙে গেছে! টাকা বের কর! - ঠিক আছে স্যার। কত দিতে হবে?

- বিশ হাজার দিয়ে দে... - কি! বিশ হাজার!!

- হ্যালো, কে? - স্যার, আপনি সকালে হাসপাতালে এসে, রক্ত দিয়েছিলেন না?

দিয়েছিলাম নাকি?! হ্যাঁ... দিয়েছিলাম, তো?

- থ্যাংক্স বলার জন্য.... - বলেছিস না? এখন ফোন রাখ!

স্যার স্যার স্যার! এক মিনিট! আপনার আইডি কার্ড আমার কাছে রয়েছে।

- ও পরে নিয়ে নেবো! - স্যার, স্যার... অসংখ্য ধন্যবাদ।

আপনি এসে রক্ত না দিলে....

আমি এসেছিলাম না? রক্ত দিয়েছি না? তুই খুশি না? এবার ফোন রাখ!

- স্যার, স্যার! - ফোন রাখ!

- কত ফিক্স হলো? - এটাই ফিক্স।

- কত? - ১৫,০০০ স্যার!

আমার কাছে ১০,০০০ এর এক পয়সাও বেশি নেই!

- পাগল হয়ে গেলো নাকি? - নিয়ে নে! - ওকে।

- গুণে নে... - গুণাগুনির দরকার নেই স্যার। আমরা গেলাম।

টাকা নেওয়ার বদলে, নিজেই দিলাম? এই...!

সাধারণ মানুষ না... অনেক মহানুভব।

কিরে? একা একা কি বকছিস? ঠিক আছিস তো?

ভাবী, এরকম মহৎ ব্যক্তি আমি জীবনেও দেখিনি...

কি হয়েছে মা? কার ব্যাপারে কথা বলছিস?

বাবা, ২ দিন ধরে 'এ নেগেটিভ' রক্তের সন্ধানে দিশেহারা হয়ে যাচ্ছিলাম...

কোথা থেকে একজন এসে রক্ত দিলো, আর দেখা না করেই চলে গেলো...

ফোন করলে... কিছুই ঘটেনি, আসলে কোনো সাহায্যই করেনি- এমন আচরণ করছে।

ধন্যবাদ জানাতে গেলে, দরকার নেই! এসব বিষয় ভুলে থাকার জন্যে ফোনই রেখে দিলো।

বাহ... প্রকৃত সাহায্যকারীরা এভাবেই বিনা ক্রেডিটে অপরকে সাহায্য করে থাকে।

মহৎ ব্যক্তিই বলতে হয় তাকে...

আমিও কাল দেখা করেছিলাম একজনের সাথে...

এরকম লোক আমি জীবনেও দেখিনি... তার ব্যাপারে ভাবতে গেলেও আমার মাথা ঘোরে!

যাই হোক, তাকে ফোনে ধন্যবাদ না জানিয়ে, সরাসরি সাক্ষাৎ করে নে...

সরাসরি দেখা করে, সম্মানের সাথে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ কর...

আর, সুযোগ হলে মহানুভব ব্যক্তিটিকে- আমার সাথেও একটু সাক্ষাৎ করার কথা বলিস...

ঠিক আছে, বাবা। দেখা হলেই বলবো।

চলে যা, চলে যা... তোর সাহায্য কারো প্রয়োজন নেই এখানে।

সাহায্য করার জন্য আসিনিরে পাগলা! এখানে কাল একটা পরী দেখেছিলাম, তার জন্যে এসেছি।

ওহো... তার জন্যেই বসকে রক্ত না দিয়ে, অন্য কাউকে রক্ত দিয়ে দিলি!

দোয়া করি তার দেখা যেনো না পাস। এমন মেয়ে তোর জীবনে এন্ট্রি নিলে, তুই আমাদের জীবন নিয়ে খেলবি।

হ্যালো স্যার, কালকে ফোন করেছিলাম না? আপনার আইডি কার্ড আমার কাছে...

- এ নার্স যে জ্বালিয়ে খেলো! - নার্স!!! নার্স... কথা বল।

হাসপাতালেই আছি, দিয়ে যান।

স্যার... আজ তো হাসপাতালে যায়নি। রোড নং ২০ এ কুচিপুড়ি ড্যান্স স্কুল আছে না? ওখানে আছি।

- ফোন রাখুন, এসে নিয়ে নিচ্ছি। - অবশ্যই আসবেন তো?

সিস্টার... আপনি আমাকে লাঞ্চে ডাকেননি যে, না আসলে খাবার নষ্ট হবে!

- ওখানে গিয়ে ফোন দিচ্ছি, বেরিয়ে দিয়ে যাবেন। - ধন্যবাদ... অসংখ্য ধন্যবাদ।

এত এক্সাইটেড কেনো!

পছন্দ করে ফেলেছে মনে হয়। কার্ড দেওয়ার নামে, প্রপোজ করতে ডাকছে হয়তো! চল...

এ কি! আমার পরী কোথায় লুকিয়েছে! কখন দেখা পাবো!

কোথায় আপনি?

- স্যার, একবার বামে তাকান। - হ্যাঁ, তাকালাম...

সে না? আমি আনছি।

আইডি?

এ পোশাক কিসের? পার্ট-টাইম জব?

ম্যাডাম ড্যান্স টিচার... একটু সম্মানের সাথে কথা বল।

আমার আইডি কার্ড আপনার কাছে...

- আপনি কাল রক্ত দিয়ে প্রাণ বাঁচিয়েছিলেন, আমার ছাত্রীর... - তাই নাকি? - হ্যাঁ।

তুমি আছো! রক্ত দান বিফলে যায় নি!

- উপরে কি দেখছেন? - প্রার্থনা করছি। ছাত্রীটির সুস্থতা কামনায়।

আপনি সত্যিই মহৎ!

আপনি ফ্রী হলে, বাবা আপনার সাথে দেখা করতে চেয়েছে...

দেখা করবো, অবশ্যই করবো! চিন্তার কিছু নেই... এখন থেকে কানেক্টেডই থাকবো।

ঠিক কি বোঝাতে চাইলেন?

আই মিন... রক্তের মাধ্যমে সৃষ্টি সম্পর্ক সহজে ভাঙে না।

মহান ব্যক্তিদের কথা বোঝাও অনেক কষ্টসাধ্য...

মহান ব্যক্তি! কার কথা বলছে?

আপনি পারেনও...

বাই দ্যা ওয়ে... যদি কিছু মনে না করেন...

প্রতিদিন এখানে এসে দেখতে পারি?

আই মিন... ড্যান্স...

কিন্তু, বাইরের লোকের অনুমতি নেই। ছোট ভাই/বোন থাকলে, শেখাতে দিয়ে অবশ্যই আসতে পারেন।

আনবো... কালকেই আনবো। ছোট ভাইকে আনবো।

এই, তোর ছোট ভাই আছে জানতাম না তো....

হ্যাঁ... ছোট ভাই। ম্যাডাম শেখালে, অবশ্যই আনবো।

ওকে, আমি শেখাবো। আমাকে ম্যাডাম বলার দরকার নেই, নন্দনা বলে ডাকুন।

- ক্লাসের সময় হয়ে যাচ্ছে... - প্লিজ কন্টিনিউ!

ছোট ভাই খোঁজ!

ক্যারি ম্যান, এসিস্ট্যান্ট, মেকাপ ম্যান, ১ লাখের সিঙেল পেমেন্ট- এগুলো দিলে পুরো পরিবারই চলে আসবো।

এখানেই থাকবো আর ছেলেকে ড্যান্স শেখাতে দেবো।

আমরা কোনো সিনেমার অডিশন দিচ্ছিনা... যান আপনি!

আমার ছেলের উরু একটু মোটা... ঘরে বসে পেইন্টিং করার চেয়ে ড্যান্স করলে, ওরই লাভ হবে। আর আপনারাও তো টাকা দিবেন।

এই মাথামোটা! ভালো কোনো প্রার্থী কি তোর হাতে আছে?

স্যার, কম টাকায় কিভাবে ভালো অ্যাক্টর ও ড্যান্সার পাওয়া যায়- তা আমার জানা আছে! নরসিমহা...

সে আমার ছোট ভাই? তোর ভাই হলে মানাতো।

হ্যাঁ! ডালের কেজি ৯০ রুপি। কিন্তু বাদামের কেজি মাত্র ৪০ রুপি।

- কি বকে আজাইরা? - বাবা একজন, মা আলাদা বলে ম্যানেজ করবেন!

এই ছোট ভাই হিসেবে পারফেক্ট হবে। ঠিক বলেছি না?

আমি তোর পছন্দ বুঝে গেছি। 4G গতিতে তাকে নিয়ে এসেছি!

একেই আমার দরকার!

- ব্রাদার সত্যম। - ব্রাদার সত্যম! এমন নাম কেনো?

"জামাই সিনু", "আম্মা রাজাশেখর" নাম হতে পারলে, "ব্রাদার সত্যম" হতে পারে না?

সৌজনা, আবেদন ফর্ম নিয়ে আয়।

এই আবেদন ফর্মটি নিন।

একে কোথায় যেনো দেখেছি...

পলাও পলাও... এদিকেই আসছে!

- ভাইয়া... আপু... - এভাবে ডেকে আমাদের ভাই বোন বানিয়ে ফেলিস না!

- টাকা দাও... - আমার কাছে টাকা নেই। যা...

সে আমাকে এক টাকা দিতে পারে না। তাহলে তোমাকে খেতে দিবে কিভাবে?

আমি তার যাই হোক দেবো। আমাদের মাঝে আসিস না। দয়া করে যা এখন থেকে...

মনে পড়েছে! তুমি ভিখারি, তাই না?

পার্কে গিয়ে লাভারদের বিরক্ত করে... তাকে দেখে সবাই দূরে পালায়।

কি এসব??

এত নরমভাবে শুনছিস কেনো? ভিখারি কি না সরাসরি শোন!

হ্যাঁ! ভিখারি!

- কোন এরিয়া? - আমিরপেট। - কিন্তু ওখানকার পার্কে কখনো দেখিনি তো। কি ব্যাপার?

এই... ওকে থামা! আই মিন, দাঁড় করা!

হ্যাঁ... ভিখারি!

কিন্তু, আর দশজন ভিখারির মতো নয়।

আমাদের মতো সেও এক মায়ের সন্তান। কিন্তু তার মা একজন মানসিক রোগী!

মাকে খেতে দেওয়ার জন্য ভালো পথের সন্ধান কেউ তাকে দেয়নি, তাই সে ভিখারি!

ভাইয়া, ভিক্ষা করা ভালো নয়- এরাও আমাকে বলেনি কখনো।

ভিখারির মধ্যেও প্রতিভা থাকতে পারে, তা এরা জানেনা। ভালো জায়গায় ট্রেনিং দিয়ে, তোকে আমি মাইকেল জ্যাকসন বানাবো।

জ্যাকসনের মতোই মরতে হবে!

একটি রুপি দিয়ে এরা ভিখারিকে তুচ্ছ মনে করে, ভেতরের প্রতিভাকে খোঁজেনা।

এজন্য, তোর মতো লোকদের জন্য আমি সবসময় ভাই হয়ে আছি!

এটা রি-অ্যাকশন না ওভার অ্যাকশন!

এ পৃথিবীতে সবারই কোনো না কোনো ত্রুটি আছে। তোমার, আমার- সবার। এগুলোকে অক্ষমতা হিসেবে দেখোনা।

- ওর সাথে তোর ব্যাপারটাও সেট করে নিচ্ছিস। - ইয়েস! ইউ আর রাইট! :3

ভিখারির ঘরে জন্ম নেওয়া তার ভুল নয়... কিন্তু ভিখারি হয়ে মারা যাওয়া, তার ভুল! আমার ভুল! আমাদের ভুল!

আমি বেঁচে থাকতে তা হতে দেবো না! হতে দেবো না।

তাকে আমি ভারতের সেরা ড্যান্সার বানাবো! তা না হলে, ইউটিউবে....

- এই! আইসক্রীম! - আমি আনছি। দাঁড়াও।

চমৎকার!

আমারটা কই? তুমিই খেয়ে যাচ্ছো!

আইসক্রীমে ক্ষতিকর পদার্থ থাকে বলে পত্রিকায় পড়েছিলাম। তোমার যেনো কিছু না হয়, তাই টেস্ট করলাম।

- একটা আইসক্রীম ম্যাডামকে দাও... - এই নিন ম্যাডাম।

স্যার স্যার স্যার! টাকা ফেরৎ নিতে ভুলে গেছেন!

- তোমাকে দিয়েছি। রেখে দাও। - ধন্যবাদ স্যার।

- এত টাকা!? - তার বাড়ি বাচ্চারা আছে। তাদের জন্য সন্ধ্যায় কিছু...

জুতা...?

ভিখারি... খালি পায়ে দেখলাম। দিয়ে দিয়েছি...

অবশেষে বন ছেড়ে হায়দ্রাবাদ আসার সময় পেলি তাহলে...

নরক রে ভাই! কথা বলার জন্য তোর মতো বন্ধু ওখানে নেই।

প্রায় ১৫ বছর হয়ে গেছে না? আমরা সর্বশেষ দেখা করেছিলাম... তা তোর ছেলে কোথায়?

এই যে... চলে এসেছে।

- ভালো আছো? - হ্যাঁ, ভালো। - বেশ...

- যাওয়া যাক, বাবা? - এখনই কিভাবে যাবে? বসো! কফি খেয়ে যাও।

- কিছু জরুরী কাজ আছে। যেতেই হবে। - আগামী সপ্তাহে দেখা হবে।

কফি খুবই সুন্দর! বসো বাবা, খেয়েই যাই।

এই যে নাও...

এই! সে তোর মেয়েকে পছন্দ করেছে।

তুই মেয়ের জন্য পাত্র খুঁজছিস। আমিও তার জন্য পাত্রী খুঁজছি। সে তোর মেয়েকে পছন্দ করেছে। আমরা দুজনই ঘনিষ্ঠ বন্ধু। সমস্যা কি?

এক মিনিট!

কি বাবা এসব? চিনিনা জানিনা, পছন্দ করেই বিয়ের প্রস্তাব! অসহ্য!

তাকে আমার পছন্দ না! আর আমি কোনো পুলিশকে বিয়ে করবো না!

স্যরি রে! অনেক মেয়ে দেখলেও, সে কাউকে পছন্দ করেনি। তোর মেয়েকে দেখেই পছন্দ করে ফেলেছে। তাই তাড়াহুড়োয়...

তা নয়... কেনো জানিনা, পুলিশ সে পছন্দ করেনা। তাই তাকেও...

ব্যাপার না আঙ্কেল। ধন্যবাদ। চলো....

তোমার বড় ভাই লাইনে আছে, কথা বলবা?

হ্যালো... নান্দু... কেমন আছিস?

এখন তার মুড অফ... তুমি পরে ফোন করো।

- ঠিক আছে। - ওকে, রাখছি। বাই।

কি ব্যাপার? তাকে 'আই লাভ ইউ' বলোনি?

আমি সব জানি। বলো...

সেরকম কিছু না ভাবী! এটা শুধু বন্ধুত্ব।

তাকে আমি পছন্দ করি ঠিকই, কিন্তু ভালোবাসি কি না জানিনা। তবে একদিনও না দেখে থাকতে পারিনা।

হ্যাঁ! এটাকেই ভালোবাসা বলে!

একটা কাজ করো... তোমার ফিলিং ভেতরে রেখে, তোমার প্রতি তার কি ফিলিং তা আগে খুঁজে বের করো।

- ওকে? - হ্যাঁ, ওকে!

স্যার স্যার স্যার! আমি অসহায় স্যার! ধর্মপ্রভু... শুধু ১টি রুপি দিন! শুধু ১টি রুপি!

১ রুপী চাইলাম, বাইক দিয়ে দিলো। তুমি ধর্মপ্রভু না! ধর্মপ্রভুর বাপ!

সিস্টার... দুলাভাই খুবই ভালো মানুষ।

কি এসব? দিন দিন দানশীল হিসেবে এভারেস্টে উঠে যাচ্ছো...

আজ ড্যান্স ক্লাস নেই? আমার স্পেশাল ক্লাস নিচ্ছো যে...

- ভিখারিকে বাইক দান করার কথা বললাম। - বাইক?

১ মিনিট! এখনই আসছি!

- কোথায় যাচ্ছো? - এসে বলছি।

এই! আমার বাইক দে! বাবা মেরে ফেলবে আমাকে!

কে তুই? এটা অলরেডি দিয়ে দিয়েছিস...

এই! ভুলে গিয়ে দিয়ে দিছি।

ভুলে গিয়ে কেউ বাইকের চাবি দেয়?

তুই বুঝবি না! আমি অন্য রকমের। বাইক দিয়ে দে প্লিজ.... কি দেখছিস?

না, কিছুনা... ৪র্থ গিয়ার কোথায় খুঁজছি।

সামনের গিয়ার চাপলেই স্পীড বাড়ে। পেয়েছিস?

পেয়েছি! পেয়েছি!

ফোনও ধরলেনা, কোথায় চলে গেছিলে?

শিট! ভিখারির পিছু নিয়ে ভুলে গেছিলাম।

অফিস থেকে ফোন দিয়েছিলো, তাই চলে এসেছিলাম।

তুমি মিথ্যা কথা বলো?

তোমার এরকম মনে হয়?

ধুর! মজা করলাম। তোমাকে কেনো জানি নরমাল পার্সন বলে মনে হয় না।

ঠিক বলেছো ম্যাডাম। তার থেকেও বেশি!

আজ থেকে আর ম্যাডাম বলে ডাকবে না। নাম ধরে ডাকবে।

- এই! আমার গার্লফ্রেন্ডের নাম কি? - আবার ভুলে গেছিস? কাঁদ বসে বসে!

ডাকবে? নাকি না? ডাকো...

মানে... প্রথমবার নাম ধরে ডাকবো, তাও আবার ফোনে... কেমন হয়ে যায়...

আমি একটা বিষয়ে সরাসরি জিজ্ঞাসা করছি... সঠিক উত্তর দিও।

- তুমি আমাকে..... - তোমাকে...?

- পছন্দ করো? নাকি না? - এক মিনিট! লাইনে থাকো!

এসব কি জন্য স্যার?

এই স্বাস্থ্য নিয়েও তুমি আমাকে রক্ত দিয়েছো। তোমার দয়াশীল মনের জন্য ধন্যবাদ।

এসব আমার। রক্ত তুই না, অন্য কেউ দিয়েছে। আমি মিথ্যা বলেছি।

ওহ... তাইতো বলি। তাহলে আর কি? চল এগুলো খাওয়া যাক...

কিরে? এভারেজ স্বাদ লাগছে না মিষ্টিগুলো খেতে?

ফ্রীতে যা পেয়েছিস, ঐ অনেক... খেতে থাক!

যাই হোক... বাড়িতে বানানো মিষ্টিগুলোর স্বাদই কিন্তু আলাদা!

এই! হঠাৎই মনে পড়ে গেলো...

পরশু আমরা ড্যান্স স্কুলে গেলাম না? ওখানে একজনের বার্থডে ছিলো...

ড্যান্স টিচার লাইন ধরে মিষ্টি বিতরণ করছিলো...

- ড্যান্স টিচার! - হ্যাঁ, ড্যান্স স্কুলে।

- লাইনে! - হ্যাঁ, লাইন ধরে মিষ্টি বিতরণ করছিলো।

- লাইনে রয়েছে! - এই! আমার মিষ্টি!

বলো...

স্যরি! হঠাৎই বস ডাকলো, তাই... ক্লাস শেষ হয়েছে?

হয়েছে।

কি যেনো বলছিলে...

কিছুই শোনেনি, এমন আচরণ করছে!

বলো, সমস্যা নেই।

কিছুই না! ওটা জোকস ছিলো।

জোকস! এত মজার জোকস আমি আগে কখনো শুনিনি! খুবই মজার ছিলো...

বাই দ্যা ওয়ে, অনেকদিন ধরেই একটা কথা জিজ্ঞাসা করতে চাচ্ছি...

না শুনেও পারছি না... জিজ্ঞাসা করি?

কি?

তোমার.... মাসিক ফি কত? ক্লাস করানোর জন্য...

শিট! না বলেই রেখে দিলো!

এত খোলামেলাভাবে সব শোনার পরেও, এড়িয়ে গেলো মানে... আমাকে পছন্দ করে না নিশ্চয়।

লাকি ফোন করেছে। দেখো...

পছন্দ করেনা, তা পরোক্ষভাবে বলে দিয়েছে। তারপরেও কেনো ফোন করেছে? কাটো! ধরার দরকার নেই।

- এক সেকেন্ড! দিচ্ছি! - ভাবী!! - কথা বলো! লাইনে আছে। কথা বলো!

কি দরকার?

সিনেমা দেখতে আসতে হবে!

- কাকে? - কাকে ফোন করেছি? তোমাকে!

আমি আসবো না!

তা বললে হয় কি করে? আমি অলরেডি টিকিট কেটে ফেলেছি। আইম্যাক্স! বিগ স্ক্রীন! আল্লু অর্জুন বসের মুভি। দারুণ হবে!

আজাইরা প্যাঁচাল বাদ দাও! যত যাই হোক, আমি আসবো না!

তোমার রাগ হয়েছে, বুঝতে পারছি। কেনো হয়েছে তা বুঝতে পারছি না...

- তুমি না আসলে দেখবো না। - কেনো? ডাকলেই আসবো ভেবেছিলে?

হ্যাঁ, সেরকমই...

- তোমাকে একটা কথা বলতে চেয়েছিলাম। - হ্যাঁ... সকালেই তো বললে। আবার কি?

এই, তোমাকে ছাড়া যেতে চাইছে না মানে- নিশ্চয়ই তোমাকে ভালোবাসে!

থিয়েটারে তোমাকে প্রপোজ করার জন্যেই ডাকছে হয়তো।

- এরকম কি হবে? সত্যিই কি প্রপোজ করবে? - কনফার্ম! কথা বলো।

দেরি করো না। কথা বলো।

- কয়টায় আসতে হবে? - সন্ধ্যা ৭টায়। প্রসাদ থিয়েটার।

- ওকে! - বাই।

"সান অফ সত্যমূর্তী"

ফোন ধরছেনা কেনো! ৭টা তো বেজে গেছে!

এদিকে এসেছিলাম একটু... কি ব্যাপার? সিনেমা দেখতে এসেছো?

সিনেমা থিয়েটারে- সিনেমা দেখতে নয় তো, শপিং করতে আসবো?

বিরক্তিতে আছো মনে হচ্ছে... যাই হোক, যে আসেনি তার জন্য অপেক্ষা না করে...

যে এসেছে তার সাথে উপভোগ করো। সিনেমার কথা বলছি।

আর আমি এখন পুলিশ নয়, অফ ডিউটিতে আছি। ফ্রেন্ড ভাবতে পারো।

আসবে... আমাকে খুঁজতেই আসবে...

- একটু রেখো ভাই! - এই বয়সেও এটা খাবা? খুবই স্পেশাল। প্রতি চুমুকেই স্বাদ।

এই বয়সে সাদা-কালো না খেলে, লালে চোখ কেনো?

- এই দেখো সবাই, লাল দিচ্ছি। - পারবে না।

পারবে না... পারবে না...

মনোযোগ দিয়ে দেখো। তুমি পারবে!

সিনেমা দেখার কথা ছিলো না? ভুলে গেছি!

- তুমি অবশ্যই পারবে। - সুর হঠাৎ পাল্টিয়ে গেলো?

খেলা থেকে এটা এখন জীবন-মরনের প্রশ্ন। সে কিছু ভেবে অভিনয় করছে।

দেখো... দুই চোখ দিয়ে দেখো... মনোযোগ দিয়ে দেখো।

পকেটে যাওয়ার জন্য লাল রেডি হচ্ছে... দেখো... মারো, মারো!

আমি জুস খাই... এই বুড়ো আমার চেয়েও বেশি ইমোশনাল এক্টিং করছে!

মারো, মারো... ধুর! আরে মারো তো!

লাল দিয়ে দিয়েছে রে! লাল দিয়ে দিয়েছে!

এটা ম্যাজিক! এটা অদ্ভুত!

জুস খাবা?

- বোতল ধরে দাও... - এই নাও, খাও বাপজান..

এই! এটা গণিতশাস্ত্রে এক অদ্ভুত বিস্ময়!

- চিকিৎসাশাস্ত্রে! - যে শাস্ত্রই হোক! এটা অলৌকিক থেকেও অলৌকিক ঘটনা!

এই! তার সমস্যা দেখে সব ডাক্তারই ভয় পেয়েছে! কিন্তু তুই সমাধান দিয়েছিস... তুই মহান!

এই! তুই আমার আদর্শ!

কাকা, গানটি বন্ধ করেন।

- আবার কবে? - আজাইরা বকো না। বাড়ি গিয়ে রেস্ট নিতে হবে।

আসলে, ১ সপ্তাহ ধরে সে কিছু খাচ্ছিলো না...

যেভাবেই হোক, কিছু খাওয়াতে চাচ্ছিলাম। তাই আসতে পারিনি।

তোমাকে ফোন দিয়ে বলতে চেয়েছিলাম। কিন্তু, পুরো মনোযোগ ক্যারামেই ছিলো।

আমাকে ক্ষমা করো!

এ কথা বলোনা। তুমি আজ আসলেও এত খুশি হতাম না!

গার্লফ্রেন্ডের জন্য বাবা-মাকে মিথ্যা বলতে অনেককে দেখেছি... কিন্তু, তুমি গ্রেট!

অনাত্মীয় ব্যক্তির জন্য এতকিছু করো... তোমার সাথে পরিচয় হওয়া, আমার আগের জন্মের পূণ্য!

এসব দেখতে পেরে আমিও ধন্য!

- উদারতায় তুমি আকাশ ছুয়ে ফেলবে। - সব জানলে জমিনে নামিয়ে দেবেন!

কথা দিয়ে না আসাতে, রাগের বশে বন্ধুত্ব ভেঙে ফেলবো ভেবেছিলাম...

কিন্তু, সব জানার পর সেটা বোকামি হবে- বলেই মনে হচ্ছে।

ওকে, সকালে দেখা হবে।

দাঁড়াও, একটা তথ্য দরকার। অটোতে ওঠো।

- কি তথ্য? - এই! মুখ বন্ধ করে অটোয় ওঠ!

- বাবা, কফি। - নন্দনা ফেরেনি এখনো? ফোন করেছে।

- বাবা! - হ্যালো... কি হয়েছে মা?

হ্যালো নান্দু, কাঁদছিস কেনো? কি হয়েছে বল...

- আমাকে পুলিশ স্টেশন নিয়ে এসেছে! - পুলিশ স্টেশন! কেনো?

- পাশে কে আছে? ফোন দে তাকে... - আমার বাবা কথা বলবে।

- যৌন কেসে গ্রেফতার করেছি। - যৌন কেস! কি বলছেন এসব?

এক ঘন্টার মধ্যে থানায় এসে নিয়ে যান। না হলে কোর্টে চালান করে দেবো।

তা নয়... হ্যালো...

কি হয়েছে, বাবা?

কোনো তদন্ত ছাড়াই স্টেশনে তুলে নিয়ে গেছে। ভুল বোঝাবুঝি... তুমি চিন্তা করোনা। আমি ওকে নিয়েই ফিরবো।

বল...

এই! গিফট নিয়ে তার বাড়ির সামনে আছি। ভেতরে যেতে ভয় লাগছে। বাইরেই অপেক্ষা করি।

শোন, বাইরে অপেক্ষা করলে সব ভুলে যাবি। ভেতরে ঢুকে, বার্থডে উইশ করে- সোজাসুজি প্রপোজ করে দে।

- ভাইয়া, আশেপাশে কোনো হাসপাতাল আছে? - প্রধান সড়ক দিয়ে না গিয়ে, গলি দিয়ে এসেছো কেনো?

- ভুলে গেছি! আছে কি নেই? - প্রথমে বামে যাও, তারপর ডান, আবার ডান, আবার বাম, আবার...

- প্রথমে কোন দিকে যাবো? - ডানে যাও।

রাস্তার মাঝে বাইক কে রেখেছে?

এই যে! দাঁড়াও! গাড়িতে হাত দিওনা। এ গাড়ি অ্যাক্সিডেন্ট করেছে। এসিপি স্যারের নির্দেশ ছাড়া সরানো যাবে না।

- কে? কে অ্যাক্সিডেন্ট করেছে? - এই যে ইনি।

- কি ব্যাপার? কোথায় বাড়ি আপনার? - স্যার, এই তো সামনেই- ভেগামপুর।

সেটা তো আমাদের এলাকা। ভেগামপুরে কোথায়?

স্যার, ওখানে রেলস্টেশন- তার পাশের বাড়িটাই আমাদের।

- শান্তিবাজার? -হ্যাঁ, ওটাই স্যার। - আমার বাড়িও ওর পাশেই।

স্যার, আমাকে সাহায্য করুন প্লিজ। আমার খুব ভয় করছে। আমার কাছে টাকাও নেই।

হায়দ্রাবাদের পুলিশ টাকা ছাড়া ছাড়বে না। কিছু করার নেই।

সেটাই স্যার। আপনি টাকা দিলে, পরে আপনাকে দিয়ে দেবো। প্লিজ স্যার।

স্যরি! ভুলে গিয়ে, দেরি হয়ে গেলো।

- বাবা! - কাঁদিস না! কাঁদিস না!

- কে তাকে নিয়ে এসেছে? - স্যার, আমিই যৌন কেসের অভিযোগে...

সে কে জানো? আমার স্ত্রী! আমার বিয়ে করা বউ। এরকম ভুল হয় কি করে?

ভুল করে নিয়ে এসেছি! স্যরি স্যার।

- এই! আগে তাকে স্যরি বলো! - স্যরি ম্যাডাম। স্যারের স্ত্রী, জানা থাকলে...

- স্যরি... চলুন আঙ্কেল, যাওয়া যাক। - চলো।

ভুলক্রমে নিয়ে এসেছে... আর এমন হবে না।

নন্দনা... অনুমতি ছাড়াই তোমাকে স্ত্রী বলে ফেলেছি!

ভবিষ্যতে যেনো এমন ভুল আর না করে- তাই বলেছি। কিছু মনে করোনা।

আরে! এভাবে কেনো বলছো? কোনো ব্যাপার না।

নন্দনা রেগে আছে বলে মনে হচ্ছে।

আঙ্কেল, ঘরে একজন পুলিশ থাকলে- অনেক সুবিধাই হয় কিন্তু।

- বাবা, যাওয়া যাক? - ঠিক আছে... গেলাম।

স্যার, মেয়েটি কি আপনার উদ্দেশ্য বুঝতে পেরেছে?

এই... আঙুল চুষে খাওয়া বয়স তার না। মুখ দিয়ে 'আই লাভ ইউ' বলা বয়স।

এ ঘটনা শক্তভাবে তার মনে গেঁথে যাবে।

আজ তোমরা অনেক কষ্ট করেছো। এই টাকা নাও আর মাস্তি করো।

এভান্ডি (শ্রদ্ধার ডাক) [জনাবা]

- কিরে? কি হলো? বলেছিস? সাকসেস? - শেষ রে! সবই শেষ হয়ে গেছে!

- কি হয়েছে? - নন্দনার ভাবী মারা যাচ্ছে!

- কোথায় আছি! কোথায় হাসপাতাল কিছুই জানিনা! - চিন্তা করিস না! আশেপাশে দেখ... কোনো সূত্র পেতে পারিস।

এখানে শুধু এক ব্যানার ছাড়া...

- এ রোগীটিকে কে এনেছে? - আমি ডাক্তার। কেমন আছে? বিপদজনক কিছু?

সে পুরোপুরি সুস্থ!

আশ্চর্যের বিষয়, বাচ্চাটি ডেলিভারির আগের অবস্থায় যেভাবে থাকে- সেভাবেই ছিলো। অর্ধেক ডেলিভারি রাস্তাতেই হয়ে গেছিলো।

- কি খবর? - সব ঠিক। সুস্থ আছে।

সব ঠিক তাহলে... তা তুই নন্দনাকে জানিয়েছিস এ ব্যাপারে? জানা।

নন্দনা... তোমার ভাবীর প্রসববেদনা শুরু হওয়ায়, সিটিজেন হাসপাতালে ভর্তি করেছি। তুমি দ্রুত এসো।

- প্রসববেদনা! এখন কেমন আছে? - চিন্তার কিছু নেই!

- ওকে, ওকে। আমি আসছি। - ইয়াহ!

সে ছেলেটি কোথায়?

ভগবান হয়ে এসে, নিয়ে এসেছে!

আমি কথা পর্যন্ত বলতে পারছিলাম না!

ছেলেটি কোথায় গেলো দেখো...

- এ পরিস্থিতিতে কি করে বলবো ভাবছি... - এই! এটা সঠিক সময় না। পরে বলিস।

কি হলো?

আমি প্রপোজ করার প্রস্তুতি নিয়ে এসেছিলাম। হঠাৎ তুমি করে দিলে! কিভাবে রি-অ্যাক্ট করবো বুঝতে পারছি না।

বাচ্চা একদমই ভাইয়ার মতো হয়েছে। এসো... দেখবো এসো।

এই! গাড়ি বাইরে রেখেছিস! সিকিউরিটি ম্যান চেঁচাচ্ছে। সরা গিয়ে!

ঠিক আছে, আমি গাড়ি পার্কিং করে আসছি। তুমি ভেতরে যাও।

- বাবা! - এই! আমার গাড়ি! দেরি হয়ে যাচ্ছে। আসবি নাকি না?

৫ মিনিটে আসলে, কোনো সমস্যা?

এই! ৫ ঘন্টা আগেও একই কথা বলেছিস! তুমি আয়না ধরো ঠিক করে।

এই! তুই কল কেটে ডাইভার্ট হয়ে যাস না। ওকে একটু লাইনে রাখো।

বাবা, তোর জন্যে চিংড়ি মাছের তরকারি করেছি, স্পেশাল ডাল রান্না করেছি।

- বাপের জন্য মাংস, আমার শুধু মাছ? - তা নয়! তোর জন্যেও সব আছে...

এই যে দেখো! আবারো অজয়ের বাবা ফোন দিয়েছে!

আর একটু ভেবে দেখ! ভালো ছেলে, ভালো পরিবার, ভালো সম্বন্ধ... কি বলবো তাদের?

বাবা...

নন্দনা একজনকে ভালোবাসে।

আমাকে হাসপাতালে ভর্তি করিয়ে, বাচ্চাকে বাঁচিয়েছে যে... তাকে।

এরা দুজন দুজনকে ভালোবাসে...

এর আগে নন্দনা বলেছিলো না? রক্ত দিয়ে তার ছাত্রীর প্রাণ বাঁচিয়েছিলো... তাকেই।

তাকে? তাকে তো আমারও খুব পছন্দ।

এরকম মহৎ ব্যক্তির শ্বশুর হওয়াও তো কম কথা নয়!

কোথায় বাড়ি বলো! মাছ-মিষ্টি নিয়ে প্রস্তাব জানিয়ে আসি!

- প্রথমে তোমাদের পরিচয় করাবো। - দেরি কেনো? তাকে ফোন কর।

বিয়ের আনন্দে সব মেয়েই খুশি হয়... তাইনা?

- তোমার বিয়ে? - হ্যাঁ!

আমাকে 'আই লাভ ইউ' বলে, কাকে বিয়ে করছো! তোমাকে....!

পাগল হলে? তোমার সাথেই!

আমার সাথেই না?

বাবাকে তোমার কথা বলেছি... তোমার সাথে দেখা করতে চেয়েছে.... রেডিও হও!

লাকি, তুই লাকি (ভাগ্যবান)!

তাড়াতাড়ি কিছু নিয়ে এসো! তোমার ছেলেকে ভূতে ধরেছে!

এ কি হয়ে গেলো বাপ তোর?

- এরকম করার কারণ আছে। - ও! ভূত নয় তাহলে! তোর পাগলামি।

আমার বিয়ে উপলক্ষে ড্যান্স দিচ্ছি! তোমরাও প্র্যাকটিস করো।

মা! আমার 'ভুলে যাওয়া রোগ' এর জন্য কোনো মেয়ে পাবোনা- বলেছিলো তোমার স্বামী!

আমি একটি মেয়েকে ভালোবেসে বিয়ে করছি!

তোর বিয়ে?

হ্যাঁ... আমার বিয়ে।

এখন সংকেত দিলাম। শ্বশুরের সাথে দেখা করে সন্ধ্যায় শকিং নিউজ দেবো... সে পর্যন্ত অপেক্ষা করো।

মা, ভালো পোশাক বাছাই করে দাও...

♪ উফ! A.D. এর এই গানের এই টিউনটুকু খুবই প্রিয়! DSP ♥ ♪

- আঙ্কেল, সাউন্ড একটু কমাবেন প্লিজ? - গানটা দারুণ স্যার!

এটাই আপনাদের সমস্যা! কমান!

পৃথিবীর সবাই আমার 'মাইন্ড ডাইভার্ট' করার চেষ্টায় আছে। তুই ঠিক থাক লাকি!

- এক্সকিউজ মি! একটু বাচ্চাকে দেখবেন? আমি পানি আনবো। - আমি দেখবো না!

- এক মিনিটেই চলে আসবো! - এক সেকেন্ডও দেখবো না!

আরে বাবা! ট্যাপ এখানেই! যাবো আর আসবো! দেখে রাখুন একটু।

তুমি এত কিউট কেনো? এদিকে মনোযোগ দেওয়া যাবে না।

এত কিউট.... তুমি দয়া করে একটু দূরে বসো...

এ এদিকেই আসছে কেনো? দেখতে পারলে সব গন্ডগোল হয়ে যাবে!

কোথায় যাচ্ছো মা? সাঁতার কাটতে চেয়েছিলে?.... তোমার আম্মু কোথায়?

একি? আপনার বাচ্চা? এত অসচেতন হন কিভাবে? আর একটু হলেই অঘটন ঘটে যেতে পারতো।

এটা কি ভাই? একটা বাচ্চাকে ১ মিনিট দেখে রাখতে পারেন না? রেখে চলে গেলেন! আপনি কি মানুষ!?

হ্যাঁ! মানুষ... তবে, ভুলে যাওয়া মানুষ!

এই যে স্যার... বড়দের কথা না হয় ভুলে গেলেন! তাই বলে বাচ্চাদের বিষয়েও....?

- তার মানে, আপনি তাকে আগে থেকেই... - চিনি মা!

সৌভাগ্য যে তার থেকে দূরে আছি! না হলে একদিন, আপনার জায়গায় আমার মেয়ে আর বাচ্চার জায়গায় আমার নাতনী থাকতো।

সে 'ভুলে যাওয়া রোগ' এর ব্রান্ড অ্যাম্বাসেডর! 'মাইন্ড ডাইভার্ট' এর ইউথ আইকন! ঠিক বলেছি না স্যার?

এরকম ভুলে যাওয়া মানুষ জীবনেও দেখিনি! ছি ছি!

কষ্ট পাচ্ছো কেনো? আমি এসেছি তাই? ব্যাপার না! চলে যাচ্ছি। এনজয়!

কি ব্যাপার মা? জামাই বাবাজি কোথায়?

একটু দাঁড়াও বাবা! চলে আসবে এখনি!

আপনার ডায়ালকৃত নাম্বারে এই মুহূর্তে সংযোগ দেওয়া সম্ভব হচ্ছে না... দয়া করে পরবর্তীতে আবারো চেষ্টা করুন।

- মা! বাবাকে ওভার-অ্যাকশান বন্ধ করতে বলো! - সন্ধ্যায় শক দিতে চেয়েছিলি। শক পেয়েছি!

ঐ ব্যক্তি তোর ব্যাপারে সম্পূর্ণ জানে। তোর রোগের কথাও জানে। তারই জামাই হতে চাস?!

এ কি! কমেডি করছো?

এই! সবার জীবনেই কমেডি থাকে। কেবল তোর জীবনেই কমেডি শেষ হয়ে গেছে!

আমার কথা শোন, ওসব স্বপ্ন ছেড়ে- আমাদের কাজের মেয়ে লক্ষ্মীকে বিয়ে করে নে।

- আশীর্বাদ করুন, শ্বশুর! - বেঁচো থাকো! - তুই ভেতরে যা!

তুই এর থেকে ভালো বউ কোথায় পাবি? চুলগুলো ঐশ্বরিয়ার মতো... আর পেছন থেকে দেখলে....

কি বকছো এসব? এমনিতেই ছেলে কষ্টে আছে।

মা, আজকে অনেক কষ্টে আছি। মদ আজ খাওয়াই লাগবে! আমি যাচ্ছি।

ঠিক আছে, বাবা। কম করে পান করিস আর তাড়াতাড়ি ফিরিস।

- চল রে! - এই! সেখানে গান না? পোশাক পাল্টা।

ফালতু লোক একটা! ওর কি কাজ এখানে?

লাকির সাথে বাবার দেখা করায়। তারপর তোর কি করি দেখ!

দ্রুত আমার বাবার সাথে দেখা করো!

আগের দিনই দেখা করলে- এতক্ষণ এঙ্গেজমেন্ট, বিয়ের তারিখ সব ঠিক হয়ে যেতো।

যত ব্যস্তই থাকো, দেখা করো!

- দেখা করতেই হবে। না? - নিশ্চয়!

বাঁশ আজ খেতেই হবে! না?

হ্যাঁ, তাই... কি বললে?

- মানে, আসতেই হবে কি না শুনলাম। - হ্যাঁ, আসতেই হবে।

- কখন আসতে হবে? - জানাচ্ছি... ১ মিনিট!

- বাবা, লাকি ফোন করেছে। দেখা করতে চাচ্ছে। - অবশ্যই করবো। না হলে, আবারো ফোন সুইচ অফ রাখবে।

বাবা! সমাজ সেবা করে না! ব্যস্ত থাকে। সময় বলো... আজ অবশ্যই আসবে।

ওকে, দেড়ঘন্টা পর সেই একই জায়গায়।

শুনেছো না? থ্যাংকস বাঙ্গারাম (সোনা)! পরে কথা হবে। বাই।

আর সোনা! জীবন মাটি হয়ে গেলো!

- এই যে মাটি! - কি গন্ধ! কি রে এটা?

সংকর জাতের ফুল তৈরীর জন্য গরুর বিষ্ঠা ও মুরগির বিষ্ঠা দিয়ে তৈরি মাটি।

এটাতে কৃষকদের পরিশ্রম কম হবে।

এসব তুই-ই কেবল বানাতে পারিস!

হ্যাঁ রে... এখন তুই এটার ভালো নামকরণ করে দিলে, আমি প্রতিষ্ঠিত হয়ে যাবো।

দেখ এটা! Smell It! Smell It yar!

কে আঙ্কেল?

লাকি খুবই ভালো ছেলে। এরকম মহৎ ব্যক্তি এ যুগে দেখাই যায়না! নন্দনা ওকে ভালোবাসে।

নন্দনা পছন্দ করেছে মানে ভালোই হবে! আমি কি তাকে দেখতে পারি?

কেনো নয়? খেয়ে নিয়ে চলো।

- কি হয়েছে রে? - দয়া করে দূরে থাক!

সে না হয় থাকলাম... কিন্তু, তোর সমস্যা কি?

- আমার শ্বশুরের সাথে দেখা করতে হবে! - কর!

আমার ব্যাপারে সে সব জানে! দেখা করলে এটাও জেনে যাবে যে, আমিই তার মেয়ের প্রেমিক!

- জেনে গেলে? - আমাকে মেরে ফেলবে!

এখন এর সমাধান কি?

সাধারণ ব্যাপার! ভালো কোনো ইডিয়ট দেখে তোর জায়গায় দেখা করিয়ে দে!

আজ তো বাঁচ! পরের চিন্তা পরে!

- আমি বুদ্ধি দিলাম আর আমাকেই আনলি! - আমার চেনাশোনা ইডিয়ট তুই একাই!

সময় জ্ঞানহীন লোকের আমার মোটেই পছন্দ না!

- স্যরি! আমিই লাকি। - এত দেরি কেনো?

পেটে একটু গ্যাসের সমস্যা! ওয়াশরুমে গেছিলাম। টিস্যু শেষ হয়ে গিয়েছিলো। তাই দেরি!

নন্দনার পছন্দ এত জঘন্য!

আপনার পছন্দও ব্যতীক্রম! সবার পছন্দই আলাদা!

সে? আমার বন্ধুর ছেলে। আমার খুবই পছন্দের।

- ঠিক আছে স্যার, গেলাম... - কেবল তো জিজ্ঞাসাবাদ শুরু হলো। চলো নিরিবিলি বসা যাক।

এবার বলো... তোমার বাবা কি করে? তুমি কি করো?

যাক... আজকের মতো নিরাপদ।

কি ব্যাপার কাকা? উঠুন... উঠুন... তুলুন, আমিও সাহায্য করছি।

তোমাকে দেখে ভালো মনে হচ্ছে। এগুলো নিতে একটু সাহায্য করো প্লিজ। সামনেই!

কেনো নয়? চলুন!

বাড়িতে কয়জন লোক? কয় ভাই-বোন? বাড়ির ঠিকানা কি? অফিসের ঠিকানা কি?

স্যার, এটা কি কোনো পরীক্ষার হল যে এত প্রশ্ন করছেন! আর হঠাৎ মিটিং হওয়ায়, এত প্রস্তুতি নিয়ে আসিনি।

আঙ্কেল... এরকম সাধারণ প্রশ্নের উত্তর দিতে না পারলে, নন্দনার খেয়াল রাখবে কিভাবে?

আমার মনে হয় এ বিয়ে ক্যান্সেল করাই উচিৎ হবে!

- মেরে ফেলবে সে! - কে? কে মেরে ফেলবে?

- বাবা, স্যার! আমার বাবা। - কিন্তু, তোমার বাবা কেনো মেরে ফেলবে?

বউমা তার প্রাণ! তাই!

বলা ঠিক হচ্ছেনা, তাও বলি... নন্দনা কি দেখে তোমাকে পছন্দ করলো?

মন! সে আমার মন দেখে পছন্দ করেছে। আপনার কোনো সমস্যা আছে?

এই যে মা, জামাইকে দিচ্ছি। কথা বলো।

স্যার, এরকম হঠাৎ করে কথা বলতে বললে, কে দায়ী হবে? কে?

আমার মেয়ে নন্দনা। কথা বলো।

স্যার, সে হয়তো কাপড় ধোঁচ্ছে! এখন বিরক্ত করার কি দরকার? পরে কথা বলবো।

আমার মেয়ে এসব করবে কেনো? বাড়িতে কাজের লোক আছে। কথা বলো।

নান্দা... নন্দনার nick name... তোমার বাবার সাথে দেখা করেছি। বলিউড ভিলেনদের মতো খুব স্টাইলিশ লাগছে।

- এই! কে রে তুই? - দাঁড়াও! দাঁড়াও নান্দা!

ফোন অফ করাই বেটার হবে!

- বাবার সামনে বসেও ডার্লিং বলছো? - বাবার সামনে!

কে হ্যালো হ্যালো করছিলো? বাবার ফোন দিয়ে।

- ও কিছু না! আমি পরে ফোন করছি। - সামনেই স্যার! - দাঁড়া রে!

একা যেতে পারিস না? সাথী দরকার? ধর!

কোথায় গেলো তোর বিজ্ঞানী? কোনো খোঁজ-খবরই তো নেই।

আমিও তো সেটাই ভাবছি! তার ফোনও বন্ধ।

- কি হয়েছে রে? - আমার-মীনাক্ষ্মীর যমজ সন্তান হয়েছে।

সত্যিই কি তুই আমার বন্ধু? মীনাক্ষ্মী আমাকে ছেড়ে চলে যাচ্ছিলো। তোকে আমি ফোন দিয়েছিলাম। তুই ধরিসনি।

আমার রাগ হয়েছিলো! তাই পরে আর তোকে ফোন দিইনি।

- ঠিক আছে। এবার কি? - ইমোশন কন্ট্রোল করতে না পেরে, দেখা করতে এসেছি।

এই! এগুলো কি বাচ্চাদের মতো! হাসেক! হাসেক!

- এই! গল্প শোন! গল্প! - চালিয়ে যা! - তোকে বলছি!

তোর জন্যেই অপেক্ষা করছিলাম! কত চিন্তায় ছিলাম জানিস?

পর্দায় দেখ একবার।

আঙ্কেল, আপনি যান। জামাই বাবাজির সাথে ডেটিং করে বাড়ি পৌঁছে দেবো।

আপনার সাথে কিসের ডেটিং? আমি ঐ টাইপের না।

পছন্দ-অপছন্দ নিয়েই না হয় আড্ডা দেবো। এখন থেকে বন্ধু আমরা।

- আপনি যান, আঙ্কেল। - ঠিক আছে, ঠিক আছে। বাই।

আমি যাবো না। আমার কাজ আছে!

এই! আমি কুকুরের মতো! কেউ যত্ম নিলে চাটতে রাজি আছি, কিন্তু অগ্রাহ্য করলে কামড় দেবো!

তো ফাইনালি নিজেকে কুকুর বললেন!

ডেটিং হচ্ছিলো রাস্তায় বিচরণ করে আর যখন রিলাক্সের সময় এলো...

- ১০০ রুপি ডাকাতির সময় তাকে ধরেছি স্যার। - আমি ডাকাতি করিনি স্যার।

এই চেহারায় তোর ভালোবাসা দরকার? ব্লাডি ইডিয়ট!

সে কোথায় আর তুই কোথায়? সে হচ্ছে পরী আর তুই চিড়িয়াখানা থেকে পালানো জন্তু!

- স্যার, আপনি কি ১০০ রুপির জন্যেই আমাকে মারছেন? - আমার কথা বুঝে থাকলে, আমার ভালোবাসা থেকে দূরে থাক।

আমি কেনো আপনার ভালোবাসার মাঝে আসবো?

বুঝতে পেরেছিস? বুঝতে পেরেছিস? বুঝতে পেরেছিস?

বুঝতে পেরেছি।

তার কাছে তুই কিছুই না! আঙ্কেলকে ইম্প্রেস করে সে কার্য হাসিল করতে চাচ্ছে।

আর তুই আঙ্কেলের মুখ দেখতেই ভয় পাস! ১ দিনের অভিজ্ঞতা থেকে বলছি- ঐ পুলিশ তোদের বিয়ে হতে দেবে না!

হতেই হবে!

কাল থেকে আমি আঙ্কেলের সাথেই থাকবো। তার অধীনে কাজ করে তাকে ইম্প্রেস করবো।

এমনভাবে ইম্প্রেস করবো, সে নিজেই আমার হাতে মেয়ে তুলে দেবে!

ওরে প্রবীণ, হাসপাতালের উদ্দেশ্যে একটা অটো ঠিক কর! ওর হাসপাতালে যাওয়ার চান্স বেশি।

যা মনে আসছে তাই বলছে!

এই! আমার মাথায় একটা চমৎকার বুদ্ধি এসেছে! কাল সকালে তৈরী থাকিস।

- আমি তৈরী থাকবো না। আমি যাবো না! - সে চলে গেছে!

আপনার ডায়ালকৃত নাম্বার এখন ব্যস্ত আছে... দয়া করে কিছুক্ষণ পর আবার চেষ্টা করুন।

আমি ডায়াল করলাম কখন?

এবার কি করবো? রুমে যাই ডিরেক্ট।

এসেছিস নাকি না? তোর জন্যই অপেক্ষা করছিলাম। "ঝান্ডু বাম" লাগিয়ে দে একটু। খুব ব্যথা করছে।

ভালো কথা... লাকি ফোন করেছিলো।

- তাই নাকি? কেনো? - ফোন দিয়ে জেনে নে।

কেনো এমন লুকোচুরি? বাবা তোমাকে পছন্দ করে। একটু আগেও তোমার প্রশংসা করছিলো।

ছি ছি ছি! তোমার বাবার পছন্দ এত খারাপ! তাকে পছন্দ করে ফেললো! ভাগ্যিস তুমি আমাকে পছন্দ করো!

কি বকছো এসব? সে তো তোমাকেই পছন্দ করেছে।

ঠিক? আমাকেই না? আমাকে সে পছন্দ করে, আমিও তাকে পছন্দ করেছি। দ্বিধার কি আছে?

আমি বলতে চাচ্ছি, তোমার চেহারার সাথে আমার খাপ খায় না!

কেনো খাবে না ডার্লিং? Dimple Face, Impressive Voice, Expressive Eyes.

সবই আছে! মেন জিনিস ছাড়া!

(আরে ভাই ব্রেন!) :3

- আমি সিক্স প্যাকের কথা বলছি। - ওটার আমার দরকার নেই।

- কি দরকার তাহলে? - কি দিতে পারবে তুমি?

- কি চাও তুমি? - কি দিতে এসেছো তুমি?

আমি ক্লিয়ার করে বলছি... আমার এক ফ্রেন্ডকে তোমার বাবার নিকট চাকুরীর জন্য আনবো।

তার চাকরী হওয়াটা খুব দরকার! তোমার বাপকে রাজি করাও। ওকে? এটা খুব গুরুত্বপূর্ণ।

জামাই বাবাজির সুপারিশ, হ্যাঁ? কিন্তু, আমার অনেকগুলো সহকর্মী আছে। প্লিজ!

খুবই অভিজ্ঞ প্রার্থী, বাবা! প্লিজ! লাকির জন্য। প্লিজ...

আসতে বল...

একি! পাশে শুয়েই ঘুমাচ্ছিলো না?!

এর জন্যই এসেছিলে, না?

কি করবো এখন?

আমার চাকরী দে আর তুই চলে যা।

- সব কিছু ভালোই ম্যানেজ করতে পারিস! - ভালোবাসার ব্যাপার! তাইনা?

- ওকে, চাকরী দেওয়ার পর আমি কিন্তু মুক্ত? - তোর কসম!

বুঝে গেছি! পরেও ব্যবহার করবি।

- সামনে বাঘ বসে আছে! - বাঘ কোথায়? আঙ্কেল। - না, বাঘ! - আচ্ছা, বাঘই হলো।

- না, আঙ্কেলই বাঘের মতো লাগছে! - তাহলে ফিরে যাই?

যুদ্ধ নেমে পিছু হটা- বীর সৈনিকের বৈশিষ্ঠ্য নয়!

বীর সৈনিকের ব্যাপারে আমাদের কি?

চল! বাঘকে ইম্প্রেস করি।

- তাকে কেনো এনেছো? - চাকরীর ব্যাপারে বলেছিলো না নন্দনা?

তার ব্যাপারে হলে, বিদায় হও! সে এক সেকেন্ড এখানে থাকলে, তার মুখে বিষ ঢেলে দেবো! নিয়ে যাও!

স্যার, আমি আপনার জামাই হতে আসিনি। সহকর্মী হতে এসেছি। আপনার মেয়েকে বিয়ে করে, জীবনে প্রতিষ্ঠিত...

...হতে আসিনি। আপনার এখানে কাজ করে, প্রতিষ্ঠিত হতে এসেছি।

আমি জানি, আপনি আমার উপর রেগে আছেন। কিন্তু, আপনি যা ভাবছেন- তা আমার সাথে নেই।

কি সেটা?

ভুলে গেছি।

এক মিনিট স্যার... আমি পরে ফোন করছি। রাখ!

প্রয়োজনে কফি শপে অপেক্ষা করুন, আর ভুলবো না।

এই! পরে ফোন করছি। রাখ!

- প্রয়োজনে যাচাই করে দেখতে পারেন একবার। - আগে ফোন ধরে উদ্ধার করো! মাথা ব্যথা করছে।

আপনি বলছেন, তাই...

এই! আমি এক বিখ্যাত ব্যক্তির সামনে গুরুত্বপূর্ণ ব্যাপারে কথা বলছি। তোকে শুধু ১টা কথা বলার সুযোগ দিচ্ছি। বল!

- দোস্ত! আমার মীনাক্ষ্মী ফিরে এসেছে! - সত্যি? কিভাবে?

এখানে নেটওয়ার্ক নেই, তাই ওখানে গেলো। এটাই।

আরামসে কথা বলছিস! এই! ওদিকে দেখ একবার! গেম ওভার!

এজন্যেই আমি ফোন ধরছিলাম না! কিন্তু আপনার কথায়... স্যার! আর একবার সুযোগ দিন! একবার! স্যার! স্যার!

দোস্ত, নেটওয়ার্ক সমস্যায় কেটে গেছিলো! গানটা দারুণ... গাইতে থাক...

এই! আমাদের শফিকের বাড়িতে, বড় বড় লোহা আছে না? সেখানে আয়।

- কেনো দোস্ত? - সন্ধ্যায় তোকে দেবো।

Swamy Ra Ra (Come Swamy Come!) [Song]

আমি আসবো না! আসবো না! আসবো না!

সুর দিয়ে ডাকলেই চলে আসবো ভেবেছিলে? আমি আসবো না!

"Swamy Ra Ra" মানে তোকে ডাকা নয়। এটা একটা লিরিক্স!

- লিরিক্স মানে? - একটা গানের কথা।

তারপরেও, আমি যাবো না।

হঠাৎ কি হলো? এত রাগ কিসের?

- সে বলেছিলো আমাকে চাকরী - আমাকে!

চাকরী না দিয়ে আমার বন্ধুকে অপমান করেছে!

বিয়ের আগে যদি জামাইয়ের কথা পাত্তা না দেয়, বিয়ের পর কি করবে! শ্বশুর ডাক শোনার অধিকার সে হারালো!

- হয়তো তার ঈগো হার্ট হয়েছে। - ঈগো?

তার ঈগো ভেতরে থাকতে পারে, কিন্তু আমার ঈগো ওয়াইফাই এর মতো। ইউজারনেম- লাকি! পাসওয়ার্ড- ভুলে যাওয়া...

ভুলক্রমে সত্য প্রকাশিত হচ্ছে! সাবধান!

কষ্ট পেয়েছিস? আমি ওর থেকেও ভালো জায়গায় তোর চাকরী দেবো!

নন্দনা, তোমাকে ভাবার জন্য ১ দিন দিচ্ছি। তার মেয়ে হয়ে থাকবা নাকি আমার বাচ্চার মা হবা? Choise is Yours!

- আরো আরো... - Matter Collapse!

বাবা! তোমার লাকিকে অপছন্দ হলে, সরাসরি আমাকে বলো।

ডেকে নিয়ে শ্রমিকদের সামনে তাকে অপমান করোনা! খারাপ লাগবে!

জামাইকে আবার কি করলাম?

তার বন্ধুকে অপমান করা আর তাকে অপমান করার মধ্যে পার্থক্য কি?

একবার বলেছিলাম, মনে আছে? দেখা করেছি, ভুলবো না-- এটা সেই।

তার ভুলে যাওয়া রোগ আছে!

চাকরী দিতে না চাইলে, দিওনা! তাই বলে, সে সব ভুলে যায়- এরকম ফালতু অজুহাত দিওনা।

তুই বুঝছিস না আমার কথা! সে এই রোগের রাজা। আমার সামনে থাকলে, আমার মাথা নষ্ট হয়ে যাবে। ভালো হবে তাহলে?

ঠিক আছে, বাবা! তুমি খুশি থাকো! আমার ব্রেকআপ হয়ে গেছে। লাকি আমাকে ছেড়ে চলে গেছে।

কাঁদিস না! আসতে বল। পৃথিবী তাকে সহ্য করছে, আমি পারবো না কেনো?

কাল শুধু তার জন্যেই যাবো। আসতে বল।

চলে এসেছে... কিছুদিনের জন্য আমাকে মিক্স করতে বলিস না। আমার ব্রেন কাজ করবে না।

- কি ব্যাপার? ঈর্শান্বিত হচ্ছিস নাকি? - খুবই মজার, স্যার। বিড়ালটির নাম কি?

- আরে! কুকুর! - কোথায়? - ওটা!

সৃষ্টিকর্তা নিশ্চয় আমার উপর রেগে আছে, তাই তোমাকে জামাইয়ের বন্ধু হিসেবে পেয়েছি।

তোমাকে এতকিছু বলার পরেও, হাসি মুখে সামনে এসে দাঁড়াতে পেরেছো।

এটা জন্ম জন্মের বন্ধন! যা সারাজীবনের...

এই! এটা আমার চোখের সামনে থেকে সরা! - ওকে!

- ফিরে পাওয়ার চান্স না রেখেই সরালি? - অসম্ভব!

এই! একটা সংশয় আছে আমার। এরকম ভুলে যাওয়া স্বভাব নিয়েও, এত হাসিখুশি জীবন কাটাও। কিভাবে?

সাধারণ ব্যাপার স্যার! একটাই কাজ করি, একজনকে ভালোবেসে, একটা স্বপ্নকে ঘিরে।

হ্যাঁ... সত্যিই।

- নন্দনা! এখানে! - সারপ্রাইজ দেওয়ার জন্য ডেকেছি।

- এটা সারপ্রাইজ না! শক! - তোমার শক কিসের? জামাইয়ের?

- তারও! - আমারও!

তুই বলেছিলি, নিয়ে নিয়েছি। এখন খুশি তুই?

আমি নয়, সে বলবে... তুমি খুশি?

- খুবই... বল! - বলবো, না?

তোমার করা সাহায্যে, আমি নতুন জীবন পেলাম। তোমার এই সাহায্যের কথা, আমরা সারাজীবনেও ভুলবো না।

আরে! এরা দুজনেই এত ইমোশনাল হচ্ছে কেনো?

ভয়ে... আনন্দে... চোখে পানি চলে আসছে।

তোমার উপকারী মন না জেনেই... সেদিন বকেছি। সুখে, দুঃখে...

- ঠিক আছে, বল। - পাশেই থাকবো সবসময়।

ওকে, জামাই... পরে দেখা হবে।

দুইজনেই ঘাড় নাড়ালে কেনো?

- আমাদের দুজনের Food, Bed, Blood - আন্ডারওয়্যারও এক!

আই মিন, পোশাক আলাদা! কিন্তু, ব্র্যান্ড এক!

বুঝেছি! চাকরী পাওয়ার আনন্দে যা তা বকছো!

হ্যাঁ, স্যার। বিপিও কমে যাচ্ছে। টেনশনে ডায়লগ কনফিউশন হচ্ছে। আমরা এখন যাবো স্যার।

হ্যাঁ! ঠিক আছে, যাও।

গায়েত্রী, তোমার বাবা-মা এসেছে। এসে দেখো।

- কেমন আছিস মা? - ভালো আছি, মা।

ইউরোপ ট্যুরের আয়োজন করে, তোর বাবা আমাকে আসতে দিচ্ছিলো না।

আমি বলেছিলাম, মেয়ের ডেলিভারির সময় ট্যুর কিসের?

ব্যাপার না, মা।

এসেছো না? দেখি, আমাকেও দেখতে দাও এবার।

আসুন, আসুন। ফ্রেশ হয়ে, খেতে বসে কথা বলুন।

কি ব্যাপার মা? শুনলাম বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে। জামাইকে কখন দেখাবে?

সে দেখি লজ্জা পাচ্ছে!

কাল আমাদের ফাংশন আছে না? তাদেরকেও ডাকো।

হ্যাঁ, বাবা। লাকির পরিবারকেও নিমন্ত্রণ করেন। এঙ্গেজমেন্টের ব্যাপারেও কথা বলা যাবে।

ওকে!

এই! কে ডিস্টার্ব করছে দেখো!

পানফুরাঙ্গা রাও সাহেব এসেছে!

- সে কে? - তোর শ্বশুর!

- বাড়িতে কেনো এসেছে? - আমি জানি না।

- এ ও বলে পাঠিয়ে দাও। - সে জানে, আমি তোর বাপ!

যেভাবেই হোক ম্যানেজ করো! তুমি না! তুমি এদিক এসো!

আসুন... এসো মা...

আন্টি, লাকি.....?

- ওর বাবার সুগার বেড়ে গেছে, তাই ইঞ্জেকশন আনতে গেছে। - তাহলে তো দ্রুতই চলে আসবে। অপেক্ষা করছি।

এই! তুই ঐ মেয়েকে ভালোবাসিস, তার বাপের কাছে কাজ করিস। তারা আসলো, আমরা বাথরুমে বন্দি। হচ্ছেটা কি?

বাথরুমে বসে তোমার পুরো গল্প শোনা লাগবে?

- কোথায় যাস? - ফোন বাজছে। গুরুত্বপূর্ণ কল হতে পারে। - বাইরে যাবি? ভুলে গেলি?

- নিন। - ধন্যবাদ।

- নাও, মা। - আন্টি, লাকির ফোন এখানেই দেখছি।

সব ভুলে যায় বান্দরটা! কিছুই মনে রাখতে পারে না!

জামাইয়ের কি ভুলে যাওয়া স্বভাব আছে নাকি?

বাবার চিন্তায় ভুলে গেছে মনে হয়। দারুণ মেধাবী! খুবই শক্তিশালী!

দারুণ সুগন্ধ পাচ্ছি। মা নিশ্চয় রাঁধছে!

কাল আমার নাতনীর নামকরণ অনুষ্ঠান আছে। পুরো পরিবার নিয়ে অবশ্যই আসবেন।

সবাই জামাইকে দেখতে চাচ্ছে।

- ওকে, গেলাম আমরা। - আবার আসবেন। - গেলাম আন্টি।

সোনার মতো দেখতে! একটা কথা দেবে, মা? যাই ঘটুক, তুমি আমার বাড়িতেই বউ হয়ে আসবে।

সেটাই বলতে এসেছি। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব, তাদের বিয়ে দিয়ে দেবো। এক মাসেই সে আপনার বাড়িতে আসতে চলেছে।

তাই যেনো হয়! সেটাই প্রার্থনা করি।

তেমনই হবে... ওকে, বাই।

চলে গেছে মনে হচ্ছে।

বাঁচা গেলো!

এই! তুই কি দিয়ে কি করবি তুই জানিস! কিন্তু, ঐ মেয়েই আমার ঘরে আসা চাই।

আমার চশমা আনতে ভুলে গেছি। তুই গাড়িতে ওঠ, আমি নিয়ে আসছি।

- চশমাটা দারুণ! কবে কিনলে? - আমি চশমা কেনবো কেনো? অপদার্থ কোথাকার!

সিস্টার, আমার চশমা...

বাবা! গামছা সামলাও! বাবা!

আমাদের বাড়ি পাশেই। আমাদের বাড়িতে আজ পানির সমস্যা। তাই, বাবাকে এখানে গোসল করাতে এনেছি। বলো আন্টি...

হ্যাঁ, বেয়াই সাহেব। ইনি আমার স্বামীর খুবই ঘনিষ্ঠ বন্ধু।

'স্ট্যাচু অফ লিবার্টি'র মতো দাঁড়িয়ে থাকলে কেনো? কথা বলো...

আপনার মেয়েকে, আমার ছেলের হাতে দিতে... এখানে এসেছেন?

বেশি বলা হয়ে যাচ্ছে না? পুরাতন কথা ভোলেনি।

আপনি চলে গেছিলেন না? আবার ফিরে এলেন?

- আমি এসেছিলাম, তুমি কি করে জানো? - আমার আন্টি বলেছে।

আমার... চশমা!

- ভাইজান! - স্যার ডাকছে! - ভাইজান!

আপনাকেই বলছি, ভাইজান। আপনার পোশাক উনার রুমে রাখা আছে।

আপনারাও আসুন কাল সন্ধ্যার অনুষ্ঠানে।

আমরা না আসলে অনুষ্ঠান হবে কি করে? আমাদের পরিবারেরই অনুষ্ঠান তো। স্যরি, প্রতিবেশী পরিবারের অনুষ্ঠান। আসবো।

ওকে, দেখা হবে।

তুই বাথরুমে বসিয়ে দিলি! তোর মা ভাই বলে ডাকলো! তোর বিয়ের জন্য আর কি কি করা বাকি!

- ভাই ডাকার কি দরকার ছিলো? - সে সন্দেহের দৃষ্টিতে দেখছিলো। তাই দূর করার জন্য ডেকেছি।

স্যরি ভাইজান! ........ স্যরি।

তুই আমাকে জড়িয়েছিস! আমার বাপকেও জড়াচ্ছিস! আমাদের সাথে দাবা, ক্যারাম, লুডু- সব খেলছিস তুই!

শুধু তোমাদের সাথে না। আমাদের সকলের সাথে।

বিরক্তি ঝেড়ে ফেলে অভিনয়ে মনোযোগ দাও!

আঙ্কেল... এখানে যে যাই বলুক, আপনি শুধু হাসি দেবেন।

এত দরকার নেই... এরকম ঠিক আছে।

বাবা আপনাদের অপেক্ষাই করছিলেন... শ্বশুর মশাই কোনটা?

ভাইজান... আপনি একটু ওদিকে যান।

সে আমার বাবা...

চলুন।

বাবা... লাকির পরিবার।

তোমরা কথা বলো। আমি এখনি আসছি!

মেয়েরাও কম যায় না! কিউট বয়! লজ্জা কিসের? যাও!

ব্যানার্জী সাহেব... আমার জামাই লাকী।

নন্দনার হবু স্বামী... আমার জামাই।

এ লাকি হলে, ও কেনো গেলো? কি করছে ওরা?

- জুনিয়র গবেষক! - তোমাকে শুনিনি!

- কিস! সবাই আছে এখানে। - দিয়ে দাও। - দূরে থাকো।

- লাকি! - প্লিজ! - নো!

- এত অনুরোধ করছি যখন.... - কিস করবে?

কে রে এটা? আমি কিছু জানিনা। আমি কিছু দেখিনি। আসছি!

সে একজনকে দেখালো। এখানে আরেকজনকে দেখছি। কোন জামাইকে ফলো করবো?

লাকিকে আমাদের খুবই পছন্দ হয়েছে। নন্দনার সঠিক জুটি।

কে ওটা? এমনভাবে ছবি তুলছে?

- কি ব্যাপার? খাবার না খেয়ে কার জন্য অপেক্ষা করছো? - কে?

- সেটাই! কে??? - জামাইয়ের বন্ধু।

বন্ধুর মতো আছে? জামাইয়ের মতো আচরণ করছে... সবাই কনফিউশনে।

আচ্ছা, জামাই কোথায়?

একটা সিঙারা আমার, একটা তোমার। একটা জিলাপি আমার, একটা তোমার।

বাপ-ছেলের মধ্যে খাদ্য ভাগাভাগি হচ্ছে!

এটা তোমার, এটা আমার। এই যে সামোচা, তোমার খুব পছন্দ।

- কি হচ্ছে এসব? লাকি! তোমাকে বলছি! - আমাকে বলছেন? - অন্য কাউকে ভেবেছিলে?

তোমার বন্ধু কি করছে সেখানে?

ভুলে গেছে... নিশ্চয় সে ভুলে গেছে।

- কি ভুলে গেছে? - ফাংশনে আছে তা ভুলে গেছে। ছাড়ুন তো!

- ছাড়বো মানে? সবাই তাকেই আমার জামাই ভাবছে! - আমিও! - এই দেখো!

আমার অনেকগুলো সন্দেহ আছে! চলেন সবার সামনে লাকিকে পরিচয় করানো যাক। ওঠো... ওঠো!

হাত ছাড়ুন! আসলে, তেমন কিছুই না। সে, আমি, নন্দনা- ৩ জনই অনেক ঘনিষ্ঠ তো। তাই!

আমি এখনি গিয়ে তাদেরকে আলাদা করে দিচ্ছি। এখনি পাঠাচ্ছি, দেখুন।

- সেলফি খুব তুললি? - খুবই! - সবার চেহারারই ছবি নিলি? - নিয়েছি!

একবার তোর শ্বশুরের চেহারাও তো দেখ! সন্দেহ করছে।

এরকম ভুলে যাওয়ার মানে কি? আমি নন্দনাকে ম্যানেজ করছি। তুই ওদিকে ম্যানেজ কর।

- হাত কেনো? - Hifi!

প্রমিজ করলো কেনো?

সুন্দর পোশাক। ডিজাইনার কে? আমার মনে হয়, নন্দিনি রেড্ডি বা বিএ জয়া। ঠিক বলেছি?

এই! স্যান্ডাল আছে কিন্তু পায়ে! কর্ণারে গিয়ে বস অথবা চলে যা।

এখানে এসে অতিরিক্ত কিছু করলে, তোকে বেকার করে ছাড়বো!

বিশ্বাস করো! আমিও এটাই বলতে চাচ্ছিলাম। আমার জুতাও একই ব্র্যান্ডের।

- তুই কি পাগল?! - হ্যাঁ, আমার হেয়ারস্টাইলও ভালো হয়েছে।

- আমার সন্দেহ এখনো... - আঙ্কেল, লাকিকে দেখেছো?

কোন লাকি? এখানে ২টা লাকি আছে। একটা তোমার বাবার, একটা তোমার।

- তুমি পাগল হয়ে গেছো! - পাগল?!

- বাবাকে দেখেছেন? - কোন বাবা? - আমার বাবা।

- ওকে, তোমার নাম লাকিই না? - হ্যাঁ।

- তোমাকে নন্দনা ডাকছে। - আমি যাবো না। আমার বন্ধু যাবে।

- বিয়ে তো তুমি করবে। - কিন্তু, ভালো তো সে বেসেছে।

কেনো এত কনফিউশন?

এই যে! এখানে আসুন একবার। বসুন এখানে...

কিছুই না! তবে বিয়ের প্ল্যান নিয়ে আমাদের আলোচনা করা উচিত।

আগে আজকের এ অনুষ্ঠান শেষ হতে দিন...

আমি তার পরিবারের সাথে কথা বলছি না? আপনি চুপ থাকুন একটু।

আপনি একটু চুপ থাকেন ভাইজান।

এই! আমি গেলাম। এই mad relationship এ আমি থাকবো না। I'm Quiting!

বেয়াই সাহেব, আপনি কিছু বলেন... বিয়ের ব্যাপারে।

বিয়ে?!

হবে, হবে... করান, করান... দেখবো, দেখবো।

আজ হয়তো সময় ভালো না। এ ব্যাপারে অন্যদিন কথা হবে। এসো মা!

- মা বললাম নাকি? - হ্যাঁ।

আন্টিকে মা বললে দোষ কিসের? এত সন্দেহ কেনো স্যার? তুমি এসো মা... আই মিন, এসো আন্টি।

এখনই ফিরছি, জনাব!

এই কেস তদন্তের জন্য স্পেশাল টিম গঠন কর।

- হ্যাঁ, বলেন... - নন্দনার জ্বর বেড়েছে। আপনি ডাক্তার নিয়ে আসেন।

- আপনি যত্ন নিন। আমি ডাক্তারকে জানাচ্ছি। - ঠিক আছে...

হ্যালো, ডাক্তার... নন্দনার প্রচন্ড জ্বর এসেছে। আমি বাজার করে বাড়ি ফিরছি। তুমিও এসো। - ওকে।

স্যার, আমার মায়ের শরীর ভালো না। আজ যেতে হচ্ছে।

- এরকম হঠাৎ? - এইমাত্রই মোবাইলে মেসেজ এলো।

না! না! তোমার থাকা জরুরী।

এসবের থেকে আমার মা গুরুত্বপূর্ণ! আমি যাচ্ছি, স্যার। বাই স্যার।

জানু... নন্দনার স্বামী কে- আমার সন্দেহ আছে। এ চিন্তায় সারারাত ঘুমাতে পারেনি। চোখে কালো দাগ দেখতে পাচ্ছো?

- নন্দনা কোথায়? - উপরে কর্ণার রুমে।

- যে কেউ ঘর শুনলেই বলে দিবা? - সেই নন্দনার হবু স্বামী।

কাল যে এক লম্বা কমেডিয়ানকে জামাই বলে পরিচয় করানো হলো?

- না গো! একেই দেখিয়েছিলো। - আমার সন্দেহ হচ্ছে।

লাকি... এখানে কেনো এসেছো?

- আমার জ্বর হয়েছে। - দেখেছো?

বাইরে সবাই আছে... লাকি!

দেখাচ্ছি দাঁড়া....

গরম পানি এখানে। এগুলো কেনো নাওনা?

গা মোছার জন্য।

হাত...

নড়োনা বলছি! ছোট বাচ্চাদের মতো!

- এই! কি দেখছিস? যা! - উহু! - উহু মানে? এটা কি 'টম এন্ড জেরি'? যা!

এতো সাহস তোমার? বিয়ের আগেই, বাড়িতে এসে জড়িয়ে ধরছো... কি ভাবা উচিত আমার?

তুমি অসুস্থ শুনে, নিজেকে আটকিয়ে রাখতে পারিনি। পৃথিবী বিস্ফোরণ হলেও, তোমার সামনে থাকবো।

- সন্ধ্যা পর্যন্ত আমার সাথেই থাকবা? - অনুমতি দিয়ে দেখো। স্থায়ীভাবে থেকে যাবো। প্রমিজ!

- যা দেখেছো, যথেষ্ট! চলো... - দাঁড়াও জানু! আর একটু থাকি।

অনেক কিছুই দেখা হয়ে গেছে। এবার চলো...

তোমার বাবার কণ্ঠের মতো লাগছে।

বাবার কণ্ঠ, বাবার মতো না লেগে কি তোমার মতো লাগবে?

কি ব্যাপার? নন্দনা কোথায়? কি অবস্থা?

চিন্তা করবেন না বাবা। লাকি এসেছে! খুবই যত্ন করছে।

হ্যাঁ, ভাইজান। আমিও এত ভালো যত্ন নিতে পারিনি।

এই ঘরের একটিই দরজা? নাকি আরো আছে?

এখনই কোথাও যেতে দিচ্ছি না! থাকতে হবে...

- চলো... কি কাজ এখানে? - এলাম যখন, দেখেই যায়?

আমিও সেটাই বলছি। দেখলে আমার সন্দেহ দূর হবে। বড় তৃপ্তি পাবো! আসুন!

ভুল, ব্যানার্জী সাহেব! জ্বরের আসল ওষুধ কি জানেন? প্রেম।

কয়েক ঘন্টা প্রেমের সুরে কথা বললে, জ্বর এমনিই পালাবে... চলো ডাক্তার, যাওয়া যাক।

বাবা চলে গেছে। তোমরা এখন ফ্রী!

স্যার, তাদের বাড়ির আত্মীয়রা সব শ্রীসৈলাম যাচ্ছে। জামাইকেও সাথে নিয়ে যাচ্ছে।

তার মানে, আসল লোকও যাচ্ছে। আজ আমি সব ক্লিয়ার হবো! তাদেরকেও সব ক্লিয়ার করবো।

না বলে কোথায় যাচ্ছে?

আরে! আঙ্কেলের কাছে কি!

- কি ব্যাপার আঙ্কেল? ডেকেছিলেন? - হ্যাঁ। নন্দনার ফোন ধরছো না কেনো?

সাইলেন্ট করা আছে মনে হয়।

তোমার কথা কে শুনছে? তাকে জিজ্ঞাসা করছি।

মানে... এটা আমার ডায়লগই স্যার। দেরি হওয়াতে সে বলে দিয়েছে।

নন্দনাকে, আমাদের আত্মীয়কে শ্রীসৈলাম নিয়ে যেতে হবে। তাই!

নিয়ে যান!

- আরে, তোমাকে পাঠাচ্ছি! - আমাকে?!

এরকম করছো কেনো? যেনো অন্য লোকের স্ত্রীর সাথে যাচ্ছো! তুমি শুধু গাড়ি চালাবে।

আমি গাড়ি চালাতে পারি না, আঙ্কেল। আমি যাবো না।

- জামাই...? - হ্যাঁ, বলুন। - আরে! তুমি এত নাক গলাও কেনো?

এই দেখো! ওরা চলেও এসেছে!

তোমাকে যেতেই হবে!

এই! এক বোতল পানি আনরে ভাই!

মাইর কি তুই খাবি না আমি? ভাগ্য সবসময় সঙ্গ দেয়না। মাঝেসাঝে বিরতি নেয়। এখন সেই সময়!

দেখ সে আসছে... চাপ নিতে পারছি না... সব বলে দেবো। আজ মারা যাবো!

তুই এভাবেই বসে থাক... Pose দারুণ আছে! আমি ম্যানেজ করছি।

এই Pose এ এমন কি দেখলো?

একবার ওকে দেখুন স্যার।

সকাল থেকে হেব্বি চাপ! ২৫ বার হয়ে গেছে, আরো ২৫ বার আশঙ্কা করা হচ্ছে।

সে বলছে, মহিলাদের সাথে গিয়ে- বড় গাছের পাশে বারবার দাঁড়ানো... ভালো দেখাবে না।

আমি অতকিছু জানিনা। তুমি গিয়ে নন্দনার সাথে কথা বলো।

আমি ম্যানেজ করে নেবো স্যার... কোনো সমস্যা নেই।

এই! এসব আনতে বলিনি। ড্রিংক আনতে বলেছিলাম।

কি উকিল সাহেব? আপনিও এসেছেন। চালাতে পারেন?

সবসময় চালাই না। তোমার এলাকা, তুমিই চালাও।

রাস্তা চেনো?

আমার রাস্তা.... শর্টকাট রাস্তা! মাত্র ২ ঘন্টায় পৌঁছে দেবো!

- লাকি... সবাই মিলে গান ধরা যাক। - হ্যাঁ। বাচ্চাটি ভালো গাইতে পারে। গা তো মা।

- 'ব্যাঙ্গালোর এয়ারপোর্ট রোড' লেখা মনে হলো! - শ্রীসৈলাম আর ব্যাঙ্গালোর এয়ারপোর্ট একই রাস্তায়!

- কার্ণূল রোড মনে হচ্ছে। - তুমি কি কোনো রাস্তা চেনো?!

- গে! গে! গে! তুমি গে! - গে মানে? তাহলে এটা এলো কোত্থেকে?

আপু... ক্ষুধা লেগেছে।

বাপরে! বেরিয়েছি ৩ ঘন্টা হয়ে গেছে! ২ ঘন্টায় পৌঁছানোর কথা ছিলো না?

- লাকি... তোমাকে বলছি! - ওদিকে রাস্তা বন্ধ থাকায়, বাইপাস দিয়ে এসেছি।

এটা বাইপাস? দেখোতো... একটা মানুষজনও নেই।

আপনার দেখাতে কি এসে যায়? ১৫ মিনিটেই শ্রীসৈলাম রুটে পৌঁছাবো।

শ্রীসৈলাম রুট... লাকি সব জানে। নিয়ে যাবে।

আমার সন্দেহ হচ্ছে। রাস্তা ভুল করেছে... তাই শুনতেই ওখানে গেলো।

- বাবুর অনেক গরম লেগে গেছে। তাই ডাব খেতে গেলো। - সব তোমারই মনে হয়! আজাইরা কথা তুমিই ভাবো!

কাকা... শ্রীসৈলাম রুট এটাই না?

কোন শ্রীসৈলাম এর কথা বলছো? কার্ণূল পার করে এসেছো। কাছেই ব্যাঙ্গালোর।

৫ ঘন্টা লাগবে ব্যাঙ্গালোর যেতে। সকালেই পৌঁছে যাবে।

- তার সাথে কি কথা বললে? - ছোট একটা তথ্য।

ভয়ের কিছু নেই তো?

স্বপ্নেও ভাবিনি, এমন কিছু ঘটতে যাচ্ছে...

- দারুণ কিছু ঘটবে। শুনেছো? - হ্যাঁ! পাগল সব আমার কপালেই জুটেছে!

এত স্পীড কেনো? একটু আস্তে যাও।

সাড়ে ৩ ঘন্টা হয়ে গেছে। হঠাৎ এত স্পীড কেনো?

কোথায় নিয়ে আসলো?

এটা শ্রীসৈলাম? এট শ্রীসৈলাম হলে, ওটা তিরুপাতি? আমি কি একে নেবো আর চুল দেবো? চুপ না থেকে কথা বলো!

হ্যাঁ... এটা শ্রীসৈলাম না। তার থেকেও বেশি!

শিবলিং থেকে এসে শিবা এখানেই প্রথম নেমেছিলো... এই সেই পূণ্যস্থান!

শুনুন... শিবার নাম শোনা যায় এখানকার পুকুর-ডোবাতেও!

আমাদের সৌভাগ্য যে আমরা আজ এখানে আসতে পেরেছি...

তিরুপতি যেতে পারলেই আমরা ভাগ্যবান মনে করি...

কিন্তু, এখানে আসা আরো বেশি ভাগ্যের ব্যাপার! জানেন?

বছরে মাত্র ১৫ দিন এই মন্দির খোলা থাকে! এজন্যেই এটা খুঁজছিলাম!

কেনো খুঁজবো না? বলুন!

প্রতিদিন খোলা থাকে, সেখানে যাওয়া উচিত? নাকি এখানে এসেই ঠিক করেছি? আপনারাই বলুন।

লাকি.... তুমিই আমাদের জন্য লাকি।

- ঐ তারাটি... ডোবার আগেই ভগবান দেখে নিন। - ওকে। ওকে।

চলো! চলো!

সৃষ্টিকর্তা মুখ দিয়েছে... এরকম কথা বলার জন্য... সব কিছু ম্যানেজ করার জন্য!

আসুন জামাই বাবাজি! আসুন... আপনার নাটক করা, প্রতারণা সবই ফাঁস হয়ে গেছে।

ওর দিকে তাকালে, ও কি বলবে? আমার কাছে শোনো। আমি বলছি।

ওকে লাকি বলে তোমার বাপের নিকট পরিচয় করিয়ে, সবাইকে ধোঁকা দিয়েছে তোমার লাকি! প্রেমিক!

সেটাই! আমার শুরু থেকেই সন্দেহ ছিলো। কেউ তো পাত্তা দিচ্ছিলে না! এখন দেখো!

এসব কেনো করেছে জানো? ভুলে যাওয়া রোগ... মাইন্ড ডাইভার্শন।

এ পৃথিবীতে তার মতো ভুলে যাওয়া স্বভাব কারো নেই।

ভুলে গিয়ে এক এক কান্ড বাঁধিয়েছে... সে সব দেখে তুমি ফিদা হয়ে গেছো।

তার রোগের কথা তুমি জেনে ফেলবে বিধায়... একের পর এক মিথ্যা বলে, বিভিন্ন পরিস্থিতি পার করেছে।

তার এই রোগ কতটা ব্যাপক... তা তোমার বাবা ভালোই জানে। বলুন আঙ্কেল!

ভুল করে তোমার ছাত্রীকে রক্ত দিয়েছে! সেখান থেকে বন্ধুত্ব করেছো...

সেই বন্ধুত্বকে ধোঁকার আশ্রয়ে বিয়ে পর্যন্ত নিয়ে এসেছে।

আঙ্কেল রিজেক্ট করে দেবে, সেই ভয়ে- তোমার সুপারিশে চাকরীতে ঢুকেছে।

একবার ভালোভাবে ভেবে দেখো... তার ব্যাপারে সব বুঝে যাবে।

- কি ব্যাপার? সবাই এই মন্দিরেই এসেছিলেন? - না, স্যার। শ্রীসৈলামের জায়গায় এটাতে নিয়ে এসেছে।

ভুলে গিয়ে, এখানে এসে, আপনাদের পাগল বুঝিয়েছে... সে!

বিয়ের পর হানিমুনে গিয়ে, নন্দনাকে রাস্তায় রেখে ভুলে যাবে... সে!

কি করবো ওর! কি করবো আঙ্কেল?

অনেক বেশিই করে ফেলেছিস তুই.... বলো নন্দনা! কি করবো ওর? বলো!

তার সব কথা... সত্যিই না?

ছেড়ে দাও তাকে...

কি রে? বলে দিয়েছিস? কিছুই লুকাতে পারিস না....

মা... ক্ষুধা লেগেছে... খেতে দাও। কি রেঁধেছো? ...... সামুদ্রিক মাছ, সাম্বার চাউল।

আমার ভালোবাসা ভুলে থাকতে, ভালোবাসা দিয়ে এগুলো বানিয়েছো মা?

এভাবে খাচ্ছি এর মানে...

লজ্জা নেই তা নয়... মাইন্ড ডাইভার্টে তাকে ভুলে গেছি... ভুলে গেছি!

খেতে বসে তাকে ভুলে গেছি! আমার এই রোগ আছে না?

রোহিত শর্মা কি সেঞ্চুরি করেছে? এ ম্যাচ জিতলে, সেমিফাইনাল কনফার্ম।

আমি আর সামলাতে পারছি না, মা...

যা ভুলতে চাচ্ছি, পারছি না! অন্যদিকে শত মনোযোগ দিয়েও পারছি না!

এটা কি ধরনের সমস্যা- বুঝতে পারছি না মা...

মা, আমার রোগ আছে; কিন্তু আমি প্রতারক নয়!

আমার রোগ ঢেকে রাখতে, মিথ্যা বলেছি... কিন্তু, আমার ভালোবাসাকে মিথ্যা বললে...

ভেতরে এক ধরনের ব্যথা হয় মা... সহ্য করতে পারি না, এমন ব্যথা।

চেঁচিয়ে বলতে ইচ্ছা হয়... মৃত্যুর আগে তোমাকে ভোলা সম্ভব নয়।

কিন্তু, বিশ্বাস করবে? কিভাবে?

এর (মাথা) সমস্যা থাকলে... এ (হৃদয়) কি করবে? মা।

কোনো মানুষের ছোট সমস্যা থাকলে, তার কি ভালোবাসার অধিকার নেই?

তুমিই সঠিক, বাবা! তুমিই সঠিক!

আমি কারো ভালোবাসার পাত্র হওয়ার যোগ্য নয়...

ভুল করেছি! ভুল করেছি!

- বাবা, কিছু ফলে এনেছি। খেয়ে নে! - প্লিজ মা! - এই! কয়দিন এভাবে থাকবি?

বসুন স্যার, একটা সুখবর দিতে এসেছি। কি ব্যাপার লাকি? কেমন চলছে সব?

এত আশ্চর্যের সাথে দেখছেন কেনো? সুখবর হচ্ছে... আমার মেয়ের বিয়ে ঠিক করেছি।

আমি না আসলেও, আপনারা খবর পেয়ে যেতেন।

এমনিতেও, ভালোবাসার লোক দূরে চলে গেলে, কেউই চুপচাপ থাকেনা। ঠিক নাকি না?

তবে, বিয়ে বন্ধ করার কথা বলতে আমি আসিনি! আমি বলতে চাচ্ছি

থামুন!

এক সপ্তাহ ধরে সে আর আগের মতো নেই! তার উপর আপনি কথার মাধ্যমে হত্যা করছেন।

তা নয়, ম্যাডাম...

আপনার যা বলার ছিলো, বলেছেন। আমরা আপনার মেয়ের বিয়েতে বাঁধা হবো না। প্লিজ যান এখন!

এমনভাবে কথা বলছেন যেনো, আমিই এদের দুজনকে আলাদা করেছি!

নন্দনা তাকে মোটেই পছন্দ করে না!

লাকিকে বিয়ে না করার কথা- সবার সামনেই বলেছে।

তোমার ইচ্ছা! বাবা।

- এই যে! তত্ব... - কি মা? নিয়ে নেবো? পরে কিছু বলতে পারবি না কিন্তু।

- না বাবা। তোমার ইচ্ছা। - এরকম বলিস না।

তার সাথে তোর বিয়ে হোক, তা কখনোই আমার ইচ্ছা না।

আমার জামাই হলে, সে... লাকি!

তোর প্রতি তার ভালোবাসা দেখে আমিও ফিদা হয়ে গেছি।

- আঙ্কেল! - ১ মিনিট! কথা বলছি না?

এটা বাপ-বেটির আলোচনা... তার লাইফ পার্টনার কে হওয়া উচিৎ- পরামর্শ দেওয়া আমার দায়িত্ব। এর ভেতর নাক গলিও না। প্লিজ।

তুই তাকে কি দেখে ভালোবেসেছিস জানিনা... কিন্তু, আমি শুরু থেকেই সব লক্ষ্য করেছি।

আমি কোন ভালোবাসা দেখেছি আর তুই কোন ভালোবাসা দেখিনসি, শুনতে চাস?

হাসপাতালে প্রপোজ করার দিনই তাকে দেখেছিলাম আমি....

আমার অপছন্দের ছেলের প্রেমে- তুই পড়ে গেলি, হজম হলোনা ব্যাপারটা!

তোর ভাবীর সাহায্য করায়, ভালো একটা দিক পেলাম। এবং পরদিন দেখা করতে গেলাম।

ঐ দিন... সেখানে আমাকে দেখে, পাশের বাচ্চাকে ফেলে পালানোতে- তার মাইন্ড ডাইভার্ট কেমন বুঝে গেছিলাম।

এরপর, তার বন্ধুকে লাকি হিসেবে কিভাবে ম্যানেজ করে যায় দেখছিলাম... কিন্তু, তার জীবন নিয়ে একটা প্রশ্ন তখনও ছিলো।

একটাই কাজ করি, একজনকে ভালোবেসে, একটা স্বপ্নকে ঘিরে।

এ কথা বলার সময়ই তাকে পছন্দ করে ফেলি।

তোর জ্বর হওয়ায়, মায়ের শরীর খারাপ বলে ছুটি নেওয়াতে- তোকে কতটা ভালোবাসে বুঝতে পেরেছি।

তার মাইন্ড সহজেই ডাইভার্ট হয়ে যায়। কিন্তু, তোর চিন্তা মাথায় থাকলে- মনোযোগ অন্যদিকে দিতে চায় না। ভালোবাসাই তার ওষুধ।

বাড়ির সবাই তার প্রশংসায় করায়, যোগ্য জামাই পেয়েছি মনে করেই- হাঁসতে হাঁসতে চলে গেছিলাম।

এর থেকে ভালো স্বামী, অন্তত আমি তোকে খুঁজে দিতে পারবো না।

এরকম ভুলে যাওয়া মানুষ... ভবিষ্যতে তোকে কখনো ভুলে যাবে কি না- এ প্রশ্ন তোর মনে আসতেই পারে।

তোকে কখনো ভুলে যাবে- সে ভয়ে তোকে পুরোপুরি নিজের মধ্যে গেঁথে নিয়েছে।

অনেক ভালো কথা বলেছেন, আঙ্কেল। সত্যি বলতে... অনেক বেশি বলে ফেলেছেন।

আপনি একজন মহান বিজ্ঞানী। কিন্তু, মেয়ের বিয়ে করাতে চাচ্ছেন এক প্রতারকের সাথে!

করান... নিজেই নিজের মেয়ের জীবন ধ্বংস করুন।

আমার সাথে বিয়ে না দিয়ে, নিজের পায়ে নিজেই কুড়াল মারছেন আপনি...

ওকে, নিয়ে যাও... গিয়ে বিয়ে করো।

সাড়ে ১২টা ভালো সময়। মিয়াপুর মন্দির। আমি ফোন করে সব প্রস্তুত করে দিচ্ছি।

কিন্তু.... সাড়ে ১২টার আগেই সে ওখানে গিয়ে তোমার বারোটা যদি না বাজায় তো...

সাবাশ.... আঙ্কেল! এই আত্মবিশ্বাস আমার ভালো লেগেছে।

আসতে বলুন! ঠিক সাড়ে ১২টায়-ই বিয়ে করে, আপনার বাড়ির সামনে আসবো! আসতে বলুন!

যা! মা। চিন্তা করিস না! লাকির প্রতি তোর যে সন্দেহটুকু আছে, সেটাও এবার দূর হয়ে যাবে। যা!

ছোটবেলা থেকে আমার বাপ কখনো আমার উপর বিশ্বাস করেনি... আপনি করেছেন।

যাও! ঠিক সময়ের আগে সেখানে পৌঁছিয়ে, তোমার ভালোবাসাকে ফেরৎ এনে- আমার বিশ্বাসের মর্যাদা দাও।

- সে এসেছে স্যার! - জানতাম! এজন্যেই জায়গা পরিবর্তন করেছি।

- হাত পা ভেঙে শুয়িয়ে দে! এসেছে কিন্তু ফিরে যেতে যেনো না পারে! - ওকে স্যার।

যার যার পজিশন নিয়ে নে।

দুইটা লেবুর শরবত!

- শরবত দেবো? আমি? - তাহলে এখানে দাঁড়িয়ে আছিস কেনো?

ভরপুর চিনি দিয়ে দুইটা লেবুর শরবত বানা! Fill fully with gas soda & one amazing summer soda.

- ব্রাদার... তোমার বলা শুনেই খেতে ইচ্ছা হচ্ছে। - তাই? - হ্যাঁ, ব্রাদার।

তার পেটের জন্যেও একটা বানা! ঠান্ডা করে!

- আমারও যদি... - তোমারও? - ঠা..আ...ন..ডা! - ঠা..আ..ন..ডা করে!

একি স্যার? হিরোইনের জন্য দামী গাড়িতে স্টাইলিশ এন্ট্রি মেরে.... লেবুর শরবত খাচ্ছে!

সে এমনই! ভিন্ন ধরনের ক্যান্ডিডেট! কি জন্য এসেছে, ভুলে গেছে। ওকে দেখে উপভোগ করো।

তোমার প্রেমিক মন্দিরে এসেছে। কাউকে না পেয়ে, লেবুর শরবত খাচ্ছে সেখানে!

তোমার বাপ অনেক কথা বলে দিলো তাকে নিয়ে...

এক্সপ্রেশন পাল্টাও! এসে হাঁসিমুখে আমাকে বিয়ে করো! এসো!

শরবতের টাকা। পুরোটাই রেখে দাও।

তুই টাকা দিচ্ছিস কেনো? আমাদের কাছে টাকা নেই ভেবেছিস? তোর টাকাও আমরা দেবো।

- ওগুলোও তো আমার টাকা। - তোর মানে?

মানে, আমাকে মারার জন্যই তো টাকা নিয়েছিস।

দেখুন আঙ্কেল... অন্তর ভালো হলে, ভগবান অবশ্যই সাথে থাকবে!

ভেতরে সমস্যা হলে, ভগবান বিদায় নেবে! তোর মতো...

- এই! তোর মৃত্যুই তোকে এখানে টেনে এনেছে... - তাই? How? How?

আমার ভালোবাসি বোঝোনি বলে স্যাড মুডে এসেছিলাম... কিন্তু, তোমার চোখে ভালোবাসা দেখে আত্মবিশ্বাস ফিরে পাচ্ছি।

ক্লাইম্যাক্সে কি কবিতা শুনতে চাচ্ছিস? দেবো আর ২ ডায়লগ? এটা কি এত ফাউল ক্লাইম্যাক্স? আয়! ফাইট কর!

তোরা গিয়ে লাঞ্চ কর! আয়! ফাইট কর!

কতবার করে মারবেন স্যার?

দুঃখিত রে! ভুলে গেছিলাম। একটা কাজ কর...

- যাদের মেরেছি, এ পাশে চলে আয়। - সব ওদিক চল রে।

স্যার... লেবুর শরবত! চিনি, লবণ ২টাই ভরপুর!

দেখলি? কেমন মাইন্ড ডাইভার্ট করলাম?

ওদিকে ডাইভার্ট হয়নি... এদিকে ডাইরেক্ট হয়েছে!

আমি কি জিনিস দেখাচ্ছি এবার!

জুনিয়র আর্টিস্ট, জুনিয়রের মতো থাক!

- পেয়ে গেলাম। এখনি কাজ সারছি! - এখানেই বিয়ে কিসের? - ওকেও কি তাই বলেছিলে? চুপ থাকো।

এই! কাট রে এটা!

- বিয়ে তো হয়ে গেছে। হানিমুন কোথায় হবে? - তোমার মাথা! কখন হলো বিয়ে? একবারই দিয়েছো।

তিনবার দিতে ভুলে গেছি! এখনই দিয়ে দিচ্ছি। দুই, তিন... তিনবার দিয়ে দিলাম। এবার প্ল্যান করা যাক?

কয়েকদিন পর!

কি ব্যাপার মা? আমি আসছি জানে নাকি জেনেও ভুলে গেছে?

কি ব্যাপার আঙ্কেল? ভুলে যাবো ভেবেছিলেন? আপনার মেয়েকে বিয়ের পর, মেমোরি পাওয়ার বেড়ে গেছে।

বাচ্চা কালের কথাও মনে আসছে... তোমাকে বলেছিলাম না? গৌরি ম্যাম, লাভ লেটার, আমার বন্ধু অজয়...

অজয় নাম শুনে মনে পড়লো। ঐদিন মারামারির পর অজয়ের কি হয়েছিলো? ওর বাবা খুঁজছিলো ওকে।

মুভি ও সাবের ব্যাপারে পজেটিভ/নেগেটিভ মতামত জানাবেন গ্রুপে! www.facebook.com/groups/SouthFansBD

গোসল করে আসছি।

Follow Kanaka Lakshman (MaheshMurugadoos Freak): [Sub Helper] www.facebook.com/Kanaka.Lakshman.1997

এটা কি ধরনের শত্রুতা?

স্যরি বস... ভুলে গেছিলাম!

দেখার জন্য ধন্যবাদ। এটার ডিরেক্ট সাব বানানো কঠিন কাজ ছিলো। ভুল-ত্রুটি মাফ করে দিয়েন। -Akash Ahmed (Facebook/TollyAkash) [Allu Arjun Freak][South freak]

Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.