All language subtitles for Ben Akhanda 2021 Hindi ORG Dual Audio 720p HDRip ESubs HEVC.mkv5

af Afrikaans
ak Akan
sq Albanian
am Amharic
ar Arabic
hy Armenian
az Azerbaijani
eu Basque
be Belarusian
bem Bemba
bn Bengali
bh Bihari
bs Bosnian
br Breton
bg Bulgarian
km Cambodian
ca Catalan
ceb Cebuano
chr Cherokee
ny Chichewa
zh-CN Chinese (Simplified)
zh-TW Chinese (Traditional)
co Corsican
hr Croatian
cs Czech
da Danish
nl Dutch
en English
eo Esperanto
et Estonian
ee Ewe
fo Faroese
tl Filipino
fi Finnish
fr French
fy Frisian
gaa Ga
gl Galician
ka Georgian
de German
gn Guarani
gu Gujarati
ht Haitian Creole
ha Hausa
haw Hawaiian
iw Hebrew
hi Hindi
hmn Hmong
hu Hungarian
is Icelandic
ig Igbo
id Indonesian
ia Interlingua
ga Irish
it Italian
ja Japanese
jw Javanese
kn Kannada Download
kk Kazakh
rw Kinyarwanda
rn Kirundi
kg Kongo
ko Korean
kri Krio (Sierra Leone)
ku Kurdish
ckb Kurdish (Soranî)
ky Kyrgyz
lo Laothian
la Latin
lv Latvian
ln Lingala
lt Lithuanian
loz Lozi
lg Luganda
ach Luo
lb Luxembourgish
mk Macedonian
mg Malagasy
ms Malay
ml Malayalam
mt Maltese
mi Maori
mr Marathi
mfe Mauritian Creole
mo Moldavian
mn Mongolian
my Myanmar (Burmese)
sr-ME Montenegrin
ne Nepali
pcm Nigerian Pidgin
nso Northern Sotho
no Norwegian
nn Norwegian (Nynorsk)
oc Occitan
or Oriya
om Oromo
ps Pashto
fa Persian
pl Polish
pt-BR Portuguese (Brazil)
pt Portuguese (Portugal)
pa Punjabi
qu Quechua
ro Romanian
rm Romansh
nyn Runyakitara
ru Russian
sm Samoan
gd Scots Gaelic
sr Serbian
sh Serbo-Croatian
st Sesotho
tn Setswana
crs Seychellois Creole
sn Shona
sd Sindhi
si Sinhalese
sk Slovak
sl Slovenian
so Somali
es Spanish
es-419 Spanish (Latin American)
su Sundanese
sw Swahili
sv Swedish
tg Tajik
ta Tamil
tt Tatar
te Telugu
th Thai
ti Tigrinya
to Tonga
lua Tshiluba
tum Tumbuka
tr Turkish
tk Turkmen
tw Twi
ug Uighur
uk Ukrainian
ur Urdu
uz Uzbek
vi Vietnamese
cy Welsh
wo Wolof
xh Xhosa
yi Yiddish
yo Yoruba
zu Zulu

Original subtitles

গজেন্দ্র কে দেখতে পাওয়া গেছে, স্যার।

-তুমি ঠিক দেখেছো? -একদম, স্যার। গজেন্দ্র সাহু।

ও কিন্তু কোনো সাধারণ অপরাধী নয়।

এই অঞ্চলের সব থেকে বড়ো দাগী আসামী।

জঙ্গল থেকে নিয়ে জলজ প্রাণী সব তচনচ করে ছেড়েছে।

সব শিল্প উধাও হয়ে যাচ্ছে।

ওকে ধরার প্রচেষ্টায়ে কয়েকশো পুলিশ অফিসার, মিলিটারি ও হাজারো...

...নাগরিকের প্রাণ নাশ হয়েছে।

ওকে সবাই ধরার চেষ্টা করছে।

ও যদি একবার টের পায় যে তোমরা ওখানে আছো, তাহলে কাউকে ছাড়বে না।

সবাই মারা যাবে।

এই পরমাত্মা দূরে কোথাও নয়।

এখানেই আছে, তোমাদের চোখের সামনে, এই বড়ন্ত সবুজ বৃক্ষে।

এটাই তার আকার।

এই চলমান নদীর স্রোতেই সে বিরাজ করেন।

এই চলমান নদীর স্রোতের ধ্বনি হচ্ছে সেই মন্ত্র যা উনি আমাদের দিয়ে থাকেন।

উনি বিরাজ করেন তোমাদের শুদ্ধ, তরতাজা নিশ্বাসে।

এই ভাবেই উনি আমাদের প্রাণ উপহার দেন।

আমরা যদি এই তিনটের মধ্যে কোনো একটা কিছু ধ্বংস করে ফেলি,

মানব জাতি কি বেঁচে থাকতে পারবে?

পরের প্রজন্ম কি আর জন্ম নিতে পারবে?

এদের কে বাঁচিয়ে রাখাটাই হচ্ছে সেই উপহার যেটা তোমরা আমাকে দাও।

এই পঞ্চ উপাদান যে আকারটা নেয় সেটাকেই প্রকৃতি বলে।

এটাই হচ্ছে ঈশ্বরের প্রকৃত আকার।

এটাই সত্যি। এটাকে বিশ্বাস করো আর নিজেদের জীবনকে সেই ভাবে গঠন করো।

আশা করি সারা বিশ্বে সব কিছু সমৃদ্ধি পাক।

গজেন্দ্র।

তুমি অনেকক্ষণ ধরে আমাকে কিছু জিজ্ঞেস করতে চাইছো। নির্দিধায় বলো।

আপনি এতো মানুষজন জমায়েত করছেন কেন?

যোগী জীবনযাপন করা বহু অনুশীলনকারী, সিদ্ধহস্ত ও সম্পন্ন ব্যক্তি...

...ধর্মের রাস্তা অনুসরণ করেছে...

...এবং এই মন্দিরের স্থাপনা করেছে।

তারা শুধু এই দেহকে শ্রদ্ধা করে না। তারা এই অবস্থান কেও শ্রদ্ধা করে।

আমি এই মন্দিরটা, এই স্থানটা চাই।

এই স্থান পেয়ে গেলে কি করবে?

সেই পঞ্চ উপাদান ব্যবহার করবো যার কথা আপনি উল্লেখ করলেন।

সেই দেশকে ধ্বংস করবো যে দেশ আমাকে মেরেছে।

আমাদের, এবং সমগ্র বিশ্বের ভাগ্য যে লিখেছেন...

...সেই বিধির বিধান কে প্রশ্ন করতে নেই।

যে উত্তরটা পাবে, সেটা হয়তো সামলে উঠতে পারবে না।

উত্তর?

যা উত্তর আসবে আসুক।

উত্তর যখনই আসুক না কেন...

...বা যে কোনো আকার, ধরণ বা শক্তি সমেত আসুক আমার সামনে...

...আমি সেটা বুঝে নেব।

যদি সেটাই ঈশ্বরের ইচ্ছা হয়।

বাবু, আপনার জমজ ছেলে হয়েছে।

কিন্তু...

...একজন সুস্থ, অন্যজন নড়াচড়া করছে না।

সাধু বাবা, আপনি কখনো আর কারুর বাড়িতে পা রাখেন না, অথচ আমার এখানে আসলেন।

ঈশ্বরের ইচ্ছা অনুজাই।

রামাচান্দ্রাইয়া, একে নিয়ে চিন্তা নেই। কিন্তু এই ছেলেটা তো প্রলয়।

এই ছেলেটির সাথে সম্পর্ক গড়ে তোলো। কিন্তু একে নিজের থেকে দূর করো।

সময় সব প্রশ্নের উত্তর দিয়ে যাবে। সম্পর্ক বিচ্ছেদ করো।

সাধু বাবা,

আমি বাবা হয়ে, কিচ্ছু করতে পারবো না। যদি ওর মা জানে, তাহলে মারা যাবে।

অনুগ্রহ করে শুনবেন।

ট্রেন নম্বর ৫১৭, অনন্তপুর হয়ে বেনারস যাওয়ার জন্য, এবার ছাড়তে চলেছে।

প্রভু।

ঔম, যে প্রভু কাশীতে বাস করেন। যে বিশ্বের প্রভু।

হে প্রভু, আমি এক বৈরাগী যার নিজের কেউ নেই, তুমি তাকে এই বাচ্চা দিলে।

এই বাচ্চাটি এখনো চোখ মেলে দেখেনি।

এর জন্ম কোথায়, কোন পথ সে সরণ করবে, কোন গন্তব্যে পৌছবে, আমি জানি না।

তুমি ওকে তোমার কাছে আনতে বললে। আমি নিয়ে আসলাম।

ওকে তোমার কাছে অর্পণ করলাম হে শিব।

ওং নমঃ শীবায়! ওং নমঃ শীবায়!

হে মহাদেব।

তুমি ওকে জন্মাতে সাহাজ্য করলে আর বিপর্যয় ও বিপদের বন্ধনে আবদ্ধ করে দিলে।

এখন, ও তোমার দ্বায়িত্ব।

-খোকা। -বাবা।

যখন তুমি রাজাপ্পার সাথে কাজ করতে না গিয়ে, আমার সাথে এখানে কাজ করলে...

...দেখো তাতে কতো পরিবর্তন এসেছে।

দেখো কি প্রাচুর্যের সাথে এই ফসল ফুটেছে।

হ্যা, বাবা।

হে প্রভু, প্রার্থনা করি আমাদের সর্বদা এই ভাবেই আশীর্বাদ করো।

নারকেলটা ফাটাও। ফসল কাটতে শুরু করি।

কি হচ্ছে এখানে?

-আমি ওকে যেতে দেয় নি, স্যার। -কেন?

যখন আমাদের কিছু ছিল না ওই মহান ব্যক্তি চাষের জমি দেন।

বীজ দেন যাতে চাষ করে নিজেদের পেট পালতে পারি।

আমরা ওকে কথা দিয়েছি যে মার দাঙ্গা না করে,

ঘাম রক্ত এক করে আমাদের নিজেদের খাবার যোগবো।

যেহেতু ও তোমাদের বীজ দিয়েছে তাই তোমরা ওকে মান্য করে চলবে?

যদি ঐ বীজগুলো তোমরা না পেতে তাহলে?

কুকুরের মতো আমার বাড়ির সামনে ভিক্ষা চাইতে, তাই তো?

সব কেটে ফেল।

স্যার! স্যার! দয়া করে এটা করবেন না।

স্যার, সমস্ত ফসল একদম ফলে গেছে। দয়া করে ওগুলো নষ্ট করবেন না, স্যার।

আমি আপনার কাছে ভিক্ষা চাইছি। এরকম করবেন না।

হায় রাম! ওর নার্সাপ্পার ফসল নষ্ট করছে।

এ বাবা! হে রাম! মহা প্রভু! হে প্রভু!

বাসব!

কান্নাপা।

যদিও রাগে তোমার রক্ত টগবগ করছে...

...তবুও আমাকে কথা দিয়েছিলে বলে, তুমি নিজেকে সামলে রেখেচো।

তুমি জীবনে অনেক উন্নতি করবে।

আমি তোমাকে কথা দিচ্ছি। তোমার বোনের বিয়ের সব দ্বায়িত্ব আমি নেব।

এই যে...

আমাদের ক্ষমতার ব্যাপারে না জেনেই দেখছি তুমি অনেক প্রতিশ্রুতি দিচ্ছো।

কেন আপনি কি কোনো পোলাভারম বাঁধ বা পট্টি সীমা প্রকল্প নাকি?

আপনি একজন অতি সাধারণ গুন্ডা।

আমাদের সাথে ঝামেলা করতে আসলে তোর গলা কেটে ধর থেকে আলাদা করে দেব। বুঝলি?

আমাদের সাথে ঝামেলা করতে আসলে আমরা হিংস্র হয়ে যাবো না।

আমরা আগে ঝামেলা করবো আর মেরে শেষ করবো।

আমাদের মারতে আসলে আমরা ঘুরে দাড়িয়ে মার দাঙ্গা করতে যাই না কখনো।

আমরা দৌড় করিয়ে মারি।

আর সব শেষ করে যাবার আগে আমাদের বিরোধীদের গলা কেটে দিয়ে আসি।

-দাদা, এটা আবার কোন রাস্তা? -এটা ভেতরের রাস্তা।

আরে বাপরে! এখানে তো দেখছি দলগত লড়াই চলছে।

আমাকে এক্ষুনি এখান থেকে কাটতে হবে। ওরা খুনাখুনি করছে।

দলগত লড়াই?

ওরা একজন আর একজন কে মারতে চলেছে?

দেখছিস কি? কুপিয়ে দে মালটা কে!

কি হলো?

তুমি আমাকে কুপিয়ে দেবে? কুড়ুল টা নাও আর কুপিয়ে দাও দেখি।

এতো মারামারি করার কি ছিলো?

আমি শুধু বলেছিলাম আমার সাথে কাজ করতে।

এমন কি অন্যায় করেছি বলে?

কারুর সাথে কথা বলার সময়, ভদ্রভাবে তার সাথে ব্যবহার করতে শেখো আগে।

"বাড়িতে সবাই ভাল আছে?"

আর "তোর বাপ কেমন আছে?" এই দুটো কথা এক নয়!

রাজাপ্পা। তোমাকে আগেও বলেছি যে এই সব দলগত লড়াই বন্ধ করতে।

এই বাচ্চা গুলো শুধরে গেছে।

কিন্তু তুমি এখনও শুধরাতে পারলে না।

সেই কারণেই আমার তোমাকে সতর্ক করাটা দরকার।

শত্রুদের দমন করা সহজ।

কিন্তু মানুষের মন জয় করা কঠিন। চেষ্টা করে দেখো।

তোমাদের কে মেরে কষ্ট দিতে চাইনি আমি।

তোমরা অন্যায় করছো সেটা তোমাদের জানা দরকার।

গাছ হচ্ছে আমাদের পৃথিবীর মাটিতে একটা সিঁদুরের বিন্দু।

গাছ কেটে ফেললে, না খাদ্য না ছায়া না মনুষত্বের কোনো অস্তিত্ব বাকি থাকবে।

যেই হাতে গাছ কাটো, সেই হাতে কখনো কোনো গাছ লাগিয়ে দেখো।

তাহলেই গাছ এবং এই মাটির গুরুত্ব বা তার মর্মটা বুঝতে পারবে।

তোমরা এই সমাজের ভিত। সেটাকে কবরখানা বানিয়ে দিয়ো না।

দিদি, এখানে আপনি কি করতে এসেছেন?

-স্যারের সাথে দেখা করতে এসেছি। -স্যারের সাথে?

স্যার, অবস্থা একদম ভালো না, স্যার।

পুঁতে দে। তারপর ঘরটা পরিষ্কার করে নিজের কাছে রেখে দিস।

পুলিশ স্টেশন থেকে বললো স্যার গেস্ট হাউসে আছে আর আমাকে এখানে আসতে বলেছে।

বাহ!

কি হয়েছে?

আমার বোনের বর মদ খেয়ে বাড়ি ফিরে আমার বোন কে মার ধর করেছে, স্যার।

কেন?

আসলে, ওর শুধু আমার বোন কে দিয়ে সখ মেটে না।

ওর আমাকেও চাই।

আমাকে এখানে ওখানে ছোয়ার চেষ্টা করে, স্যার।

ও তোমাকে ছোয়ার চেষ্টা করে?

-তোমাকে? -হ্যা।

শালা!

ওর অনেক সৌভাগ্য হতে হবে তোমার মতো কোনো মেয়ের সাথে বিয়ে করতে গেলে।

ওহ দেখো দেখো! কি ফর্সা সুন্দর গায়ের রঙ তোমার!

কি সুন্দর তুমি।

তোমাকে একটা সত্যি কথা বলি?

আমি বিবাহিত না হলে, তোমাকে চোখ বুঝে বিয়ে করতে রাজি হয়ে যেতাম।

কিন্তু, স্যার...

আমার জামাইবাবু আপনার মতো এতো ভালো মানুষ নয়।

অবাক লাগে যে সব সময় ছাগল গুলো নিজে থেকেই জবাই হতে আসে কেন?

আসছি। ফোন রাখ।

আমাকে একটু জেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তার সাথে দেখা করতে হবে একটা ছোট কাজে।

আমি ফিরে আসি,

তারপর আগে আমাদের ব্যাপারটা মিটিয়ে নিয়ে, তোমার জামাইবাবু কে দেখে নেবো।

তুমি আরাম করো আমি একটা কাজ সেরে ফিরে আসছি।

ঠিক আছে, স্যার।

সুপ্রভাত, ম্যাডাম।

-মিসেস পদ্মাবতী? -প্রধান সচিব।

আমি হালে এখানে পোস্টিং পেয়ে এসেছি, পরিবেশ ও জঙ্গল বিভাগে।

আসো।

আমি আপনার ছাত্রী ছিলাম। আপনার সাথে কাজ করার সুযোগ পেয়ে আমি খুব খুশি।

তোমার প্রথম পোস্টিং এই কঠিন জেলাতে। এই ভূখণ্ড, এখান কার লোক সবই কঠিন।

একটু সাবধানে থেকো।

স্যার, জেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা আপনাকে ডাকছেন।

আজকে আমার প্রথম দিন, তাই শুধু সই করো আর তোমার গেস্ট হাউসে চলে যাও।

আমি সেরকম মানুষ নই, ম্যাডাম।

আচ্ছা, তাই? তাহলে এটা কি?

ওর কথা বিশ্বাস করবেন না ম্যাডাম। ও একটা বেশ্যা।

ও যেকে ভালোবাসতো সে ধোকা দেয় বলে ও তোমার কাছে সাহাজ্য চাইতে এসেছিল।

আর তুমি, ওর ধর্ষণ করো!

ম্যাডাম।

যখন মেয়েটির প্রাণ যায় যায়, তখন তুমি ওকে পুতে দিতে বলো? জানোয়ার কোথাকার!

তোমাকে সাসপেন্ড করা হলো।

ম্যাডাম, আপনি আমার ব্যাপারে কিছু জানেন না।

চুপ করো!

এসপি, ওকে গ্রেপ্তার করো।

প্রমাণ তোমার চোখের সামনেই আছে।

ঠিক আছে, ম্যাডাম। চলো।

চলো। চলো, স্যার।

আরে আরে উঠতে হবে না। বসো বসো।

আমি আছি তোমার সাথে। ভয় পেও না।

খুব ভাল কাজ করেছ।

ধন্যবাদ, ম্যাডাম।

"উড়াভাকন্ডা" শহরের সিআই কে আছে?

মিস্টার চিফ ইন্সপেক্টর? ম্যাডাম ডাকছে।

-বলুন, ম্যাডাম। -আপনার মোবাইল নম্বর।

৯৮৬৬৪.....

একটা ছবি পাঠালাম আপনাকে।

মন্ত্রী মশাইয়ের সাথে আমার মিটিং শেষ হওয়ার আগে...

...একে গ্রেপ্তার করে আমার সামনে নিয়ে আসুন।

আপনার সাথে আবার দেখা হবে, ম্যাডাম।

নমস্কার, বন্ধুগণ।

আপনার সবাই জানেন যে আজকে আমরা কার জন্য অপেক্ষা করছি।

স্টেজে আসতে অনুরোধ করবো কেন্দ্রীয় মন্ত্রী, মিস্টার ভারত রেড্ডি...

...এবং জেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা, শ্রীমতী সারণ্য বাচুপল্লী,

যিনি আজকেই কাজ শুরু করেছেন।

উনি আমাদের অঞ্চল থেকে সংসদের সদস্য হিসেবে নির্বাচিত হয়েছেন।

-স্বাগত ম্যাডাম। -ধন্যবাদ।

ও কেন্দ্রীয় মন্ত্রীত্বের দ্বায়িত্ব কাধে তুলে নিয়েছেন।

মিস্টার ভারত রেড্ডি। ওনাকে অনুরোধ করছি জমায়েত সবার উদ্দ্যেশে কিছু বলতে।

এই প্রজন্ম আমাকে জানে এই অঞ্চলের সংসদের সদস্য হিসেবে।

কিন্তু এর আগের প্রজন্মগুলো খুব ভাল করে জানে আমাকে।

একটা সময়, আমাদের পরিবারের খুব নাম ছিলো এই অঞ্চলে দলবাজির কারণে।

আমি সেই বিশিষ্ট পরিবারের উত্তরশুড়ী।

একটা চাকুর দমে যা ইচ্ছা তাই করতাম।

কিন্তু একদিন এক সজ্জন ব্যক্তি বললো যে

এই ভাবে যদি আমি আমার চলার পথে সবাইকে হত্যা করতে থাকি...

...তাহলে একদিন একটা সমাজের জায়গায় আমি একটা কবরস্থান তৈরি করবো।

উনি পরামর্শ দিল যে আমার শক্তি কে এই ভাবে অপচয় না করতে।

আমার বন্দুকটা নিয়ে, একটা কলম ধরিয়ে

সংসদের নির্বাচন জিততে সাহাজ্য করল।

আপনাদের সামনে কেন্দ্রীয় মন্ত্রী হয়ে আসার মতো যোগ্য তৈরি করল।

এই অঞ্চলের, সবার হাতের কাস্তে সরিয়ে লাঙ্গল ধরালো।

এই সবার বাচ্চাদের হাতে বই দিলো যাতে তারা বড়ো হয়ে অস্ত্র হাতে না নেয়।

তোমরা সবাই হলো সেই সুপ্রচেষ্টার ফল।

কিন্তু এই সব কিছু কে করলো? এক চাষী।

যে এই অঞ্চল কে নতুন রূপে গড়ে তোলে।

আর এই হচ্ছে সেই বাঘের বেটা।

নমস্কার, অফিসার।

আপনি দেখা করতে চেয়েছিলেন।

আমি এই মিটিংটা সেরে আপনার সাথে দেখা করবো।

ক্ষমা করবেন, একটু দেরি হয়ে গেল একটা মিটিং ছিলো।

যে কোনো অঞ্চলে, যে প্রচুর জমির মালিক, সে সব চেয়ে সন্মানিয় নয়।

যে সূচিন্তা সম্পন্ন ব্যক্তি, সে সব চেয়ে সন্মানিয়।

আমরা ওনাকে আমাদের অঞ্চলের সংসদের সদস্য হিসেবে নির্বাচন করেছি।

কিন্তু উনি কেন্দ্রীয় মন্ত্রীর পদে পৌছেছেন সম্পূর্ণ নিজের প্রচেষ্টায়।

ওনার নিশ্চয়ই ততোটাই দৃঢ় প্রতিজ্ঞা ছিলো।

ওনাকে বাহবা জানাই!

কেউ কখনো কিছু ভুল করলে, সবাই মা-বাবাকে দোষারোপ করে।

কেউ কখনো কিছু ভালো করলে, সবাই জানতে চায় সে কোথাকার মানুষ।

তার কারন, জন্ম থেকে মৃত্যু, আমরা হয়তো কয়েকশো জামা কাপড় বদলায়।

কিন্তু আমরা আমাদের ব্যাপারে যেটা বদলাতে পারি না সেটা হলো আমাদের জন্মস্থান।

যেটা আমাদের জন্মের শহর।

তোমাদের দ্বায়িত্ব সেটাকে বাচিয়ে রাখা। সেটা আমাদেরও দ্বায়িত্ব।

আমি তোমাদের একটা ছোট্ট উদাহরণ দিচ্ছি।

সংগ্রামের জন্মস্থানের নাম তেলেঙ্গানা।

মেহবুবনগরের একটি ছোট্ট গ্রামে একটি মেয়ের জন্ম হয়...

...এমন এক পরিবারে যারা দুবেলা দুমুঠো খাবার ঠিক ভাবে খেতে পেতো না।

সেই গ্রামের সাথে শহরে যাবার জন্য কোনো ঠিক ঠাক বাস ছিলো না।

রোজ, দশ কিলোমিটার দূরে স্কুলে মেয়েটি একটি বাইকে চেপে যেতো।

মেয়েটি কঠিন পরিশ্রম করে সিভিল সার্ভিস পরীক্ষা পাস করে...

...এবং এই মুহূর্তে উনি আমাদের সামনে এই জেলার প্রশাসনিক কর্মকর্তা।

তোমাদের ওনার মতো হওয়ার উচ্চাকাঙ্খা থাকা উচিত।

ওনার জন্য খুব জোরে হাততালি দাও সবাই।

আপনাকে বাহবা জানাই, ম্যাডাম।

তোমাদের উচ্চশিক্ষার জন্য শুধু মাত্র এই প্রতিষ্ঠান তৈরি করা যথেষ্ট নয়।

এই সুযোগ ব্যবহার করে এই প্রতিষ্ঠানকে গর্বিত করাই আসল প্রাপ্তি।

শিক্ষা শেষ করে একটা ডিগ্রি পাওয়া, যেটা শুধু তোমাদের কাজে আসবে সেটাই আসল কথা নয়।

আসল কথা হলো সেই জীবনদর্শন কে বোঝা যা সমাজ ও পৃথিবীর উন্নয়নে কাজে আসবে।

সমাজে নারীদের প্রতি যে নিষ্ঠূর অত্যাচার হয় সেটা কে থামাবে?

তোমাদের সেটা থামাতে হবে।

তোমাদের দার্শনিকতা ও জীবনধারা দিয়ে এই সব কিছু থামাতে হবে।

যারা জাতি, ধর্ম ও অঞ্চলের ভিত্তিতে বিভেদ ও চরম বিশৃঙ্খলা সৃষ্টি করে তাদের থামাবে?

তোমাদের সেটা থামাতে হবে।

তোমাদের জীবনধারা ও জীবনদর্শন দিয়ে এইসব থামাতে হবে।

তোমাদের সবার একটা দ্বায়িত্ব আছে।

বিশুদ্ধ মন পরিষ্কার সমাজ ও নিদারুন ভবিষ্যত সৃষ্টি করে।

ধন্যবাদ।

স্যার, আমরা অহিংসার পথ বর্জন করেছি। আমরা আজীবন আপনাকে মেনে চলবো।

আপনি একবার খবর দিলে উনি নিজেই চলে আসতেন অফিসে। আপনাকে এতোদূর আসতে-

আমরা ওনাকে ভুল বুঝেছিলাম।

শুধু ক্ষমা চাওয়ার জন্য ওনাকে ডেকে পাঠানোটা উচিত না। তাই, চলো।

দাদা, মেয়েটি এসেছে।

ওখানে দাড়িয়ে আছো কেন? ভেতরে আসো।

আসো, ভেতরে আসো।

ভেতরে আসার সময় ডান পা আগে বারিয়ে তারপর এসো।

ওরা ওদের রীতি রিওয়াজ খুব মেনে চলে সব কিছুতে, ম্যাডাম।

আসো, মা।

-তোমার মা-বাবা কেমন আছে, মা? -ওরা ভালো আছে, স্যার।

আমার নাম রামাচান্দ্রাইয়া। ও আমার স্ত্রী, ধরণী।

বসো, মা।

সবাই আসো এখানে। ও এসেছে।

হাই।

বসো, মা।

-মেয়েটি কেমন? -বেশ ফর্সা।

-মিস্টার সত্যমূর্তি। -ক্ষমা করো, রামাচান্দ্রাইয়া।

এই প্রজন্মের মেয়েরা খুবই বখে গেছে।

তারা এখন এটা দাবি করে যে তাদের বর সন্ধ্যেবেলা পাবে বা ক্লাবে নিয়ে যাবে।

আমার মেয়ে তোমার পরিবারের জন্য যোগ্য নয় গো।

সেই কারনে আমি ওকে পাঠালাম না।

তুমি ওকে পাঠাও নি?

আমি এখানকার জেলা প্রশাসনিক কর্মকর্তা।

আমাদের ভুল হয়ে গেছে, মা।

ওর বন্ধুর মেয়ে আমেরিকা থেকে ফিরেছে সবে।

ওর বন্ধু বলেছিলো ওর মেয়েকে পাঠাবে

ও বলেছিল মুরলীকৃষ্ণর সাথে আলাপ করিয়ে দিতে।

যদি ওদের দুজনের দুজনকে পছন্দ হয়, তাহলে ওদের বিয়ে দিয়ে দেবে।

আমরা তোমাকে ওর বন্ধুর মেয়ে ভেবেছিলাম।

তাহলে, তুমি এখানে কি কারণে এসেছ, মা?

আমি মিস্টার মুরলী কৃষ্ণর সাথে দেখা করতে এসেছিলাম।

তাই?

ও ওখানে চাষীদের সাথে আছে।

আসো, মা। আসো।

-ম্যানেজার। -স্যার।

সমস্ত চাষীদের পক্ষ থেকে আমি...

-এই জামানতের কাগজে সই করবো না ঠিক করেছি। -ঠিক আছে, স্যার।

ওদের যতো টাকার ধার দরকার দিয়ে দাও। আমি ওদের টাকার দ্বায়িত্ব নিচ্ছি।

আপনি আমাদের ভগবান, স্যার।

আমি আপনাদের একজন। আপনাদের পরিবারের একজন।

আমার বাহবা করে আমার থেকে দূরে সরে যেও না তোমরা কেউ।

চলো আমরা সবাই একসাথে খাবার খাই।

-আমি কি ওকে ডেকে দেবো, মা? -স্যার, স্যার।

উনি ব্যস্ত আছে। আমি পরে দেখা করে নেবো।

এই কাগজে তোমার সই লাগবে।

গতকাল, আমি মুরলী কৃষ্ণর বাড়িতে গেছিলাম।

ধন্যবাদ। মানুষটা খুব আশ্চর্যের।

শুধু ও নিজে নয়।

ওর পরিবারের সাথে আলাপ করে বুঝলাম ওরা সবাই খুব রীতি আর পরম্পরা মেনে চলে।

যেটা অবাক লাগলো সেটা হচ্ছে যে...

...এই জেলা প্রশাসনের দপ্তরে ওত মানুষজন নেই যত ওর বাড়িতে আছে।

বাহ।

তুমি তো একবারেই অনেক কিছু দেখে এসেছো দেখছি।

ম্যাডাম, মিস্টার মুরলী কৃষ্ণ এসেছেন আপনার সাথে দেখা করতে।

মিস্টার মুরলী কৃষ্ণ?

-দু মিনিট অপেক্ষা করিয়ে পাঠিয়ে দিয়ো। -ঠিক আছে, ম্যাডাম।

নমস্কার, ম্যাডাম।

মিস্টার মুরলী কৃষ্ণ, আপনি কখন আসলেন?

এই দু মিনিট আগে।

আপনার অপেক্ষা করার প্রয়োজন ছিলো না। সরাসরি চলে আসতে পারতেন।

হ্যালো, ম্যাডাম। কেমন আছেন?

-আমি ভাল আছি, স্যার। -বসুন।

-তো এখানে হঠাৎ আসলেন কেন? -ক্ষমা করবেন।

গতকাল আপনি আমার বাড়িতে এসেছিলেন। ঠিক সেই সময় কিছু চাষীরও এসেছিলো।

ওদের সাথে ব্যস্ত ছিলাম, তাই দেখা করতে পারিনি।

কোনো ব্যাপার না। আমি আপনার পরিবারের সাথে দেখা করেছি।

এবং খুব ভালো সময় কাটিয়েছি।

আর কি বলতে চান, স্যার?

কাল পালস পোলীও টিকার কার্যক্রম আছে আমাদের হাসপাতালে।

আপনি এক ঘণ্টা সময় দিতে পারলে, খুব ভালো হবে।

-আমি নিশ্চয়ই সময় বার করে আসব। -ধন্যবাদ, ম্যাডাম।

সকল ৯ টার সময় হবে।

পালস পোলীও টিকার কার্যক্রম সরকারের পক্ষ থেকে আয়োজন করার কথা না?

সেটা ও কেন করছে?

শুধু স্কুল কলেজ নয়। এই চত্তরে সমস্ত হাসপাতালও ওর হাতে বানানো।

শুধু তাই না।

এই সব হাসপাতালে সব সুবিধা, সব থেকে ভালো ডাক্তার বিনা মূল্যে চিকিৎসা করে।

বুঝলাম। আচ্ছা আপনি কিছু সই করার কথা বলছিলেন।

একটা খনির লিজ বাড়ানোর ফাইল।

নাল্লামালা জঙ্গলের তামার খনি।

এটা নিরাপদ সবুজ এলাকা নয়? এখানে খনি কেন থাকবে?

আমিও সেটাই ভাবছি।

আমি এখানে আসার আগেই ওরা সমস্ত অনুমতি পেয়ে গেছিলো এবং খনি চালু হয়ে গেছিলো।

আমার মনে হয় কিছু একটা গর্বর আছে।

শ্রীমতী পদ্মাবতী, এই খনির সমস্ত কাজ কর্মের একটা বিস্তারিত রিপোর্ট চাই।

এবং, ব্যাপারটা আমাদের দুজনের মধ্যেই রাখবেন।

আচ্ছা, ডিএসপি ওই খনির মালিকের সাথে কাজ করছে।

খনির মালিকের নাম কি?

বরোদা রাজুলু। বরোদা মাইন্স।

কি হলো? কি হচ্ছে এখানে?

-ও রক্ত বমি করতে করতে অজ্ঞান হয়ে যায়। -রক্ত বমি করে?

-ভাই, ও ভাই ওঠো। -এই সবাই, কাজ বন্ধ করো।

কি হলো তোমরা কাজ বন্ধ করলে কেন?

আমরা বছর বছর ধরে কাঁদা, মাটি, পাথর কেটেছি আমাদের জীবিকা আয় করার জন্য।

যেখানেই কাজ করি না কেন, আমাদের কখনো কিছু হয়নি।

কিন্তু এখানে, যতো গভীরে যাচ্ছি, কর্মচারীদের কারুর রক্ত বমি হচ্ছে...

...কারুর চুলকানি বা চোখ জ্বলছে।

-বাবা, কেন ঝামেলা করছো? -এই থাম তো।

যতক্ষণ না আমরা জানতে পারছি যে এখানে কি হচ্ছে, ততক্ষণ এই খনিতে আর পা দেবো না।

চলো সবাই।

-মা। -হ্যা।

কে আপনি?

এই জঙ্গল পথে আমার গাড়ি খারাপ হয়ে যায়।

আমার খুব খিদে পেয়েছে।

আমাদের কাছে ভাত নেই, স্যার। বাজরা আছে। আপনি খেয়ে দেখবেন একবার?

যে কোনো খাবার হলেই হলো।

-বাবু, কলাপাতা নিয়ে আয়। -আসুন, স্যার।

আপনি খেয়েছেন, মা?

আমার স্বামী শহরে গেছে। ফিরে আসলে রান্না করে আমরা একসাথে খাবো।

আপনি নিশ্চিন্তে খান, স্যার।

এখানে হাত ধুয়ে নিন, স্যার। এই বৃষ্টির মধ্যে বাইরে যাবেন কেন?

আমি কারুর দেনা রাখতে চাই না।

-আরে এই সবের প্রয়োজন নেই, স্যার। -আমি ঋণ মুক্ত হতে চাই।

কি হলো?

হে ভগবান!

খনিতে কি আছে না আছে তা দিয়ে তোর কি রে শালা?

এখন থেকে, যদি কেউ...

...কাঁদা বা চুলকানি হচ্ছে এই বলে নালিশ করে...

...বা রক্ত বমি হওয়ার অজুহাত দেখিয়ে কাজ বন্ধ করতে চায়...

...তাহলে তাকে আমি আমার বাড়িতে ডেকে

তাকে কুচি কুচি করে কেটে...

...ভুড়ি ভোজ করবো।

-হ্যালো, স্যার। -আসুন।

বাচ্চাগুলো বেশ নিয়ম মেনে আছে দেখছি।

অনেক অনেক ধন্যবাদ।

সবাইকে অনেক ভালোবাসা।

আমি খুব খুশি হয়েছি।

-হ্যালো। -প্লীজ।

বাচ্চাটার যত্ন নেবেন, ম্যাডাম।

-ডাক্তার, বাচ্চাগুলোর খেয়াল রাখো। -হ্যা, স্যার।

-শুভ জন্মদিন, অফিসার। -ধন্যবাদ, স্যার।

আমি এতো কিছু আশা করি।

তুমি কি শুধু আমাকে ফুলই দেবে?

-কোনো পার্টি হবে না? -হ্যা, আজ দুপুরে খাবার আয়োজন করেছি।

আমি তোমাকে পার্টি দিতে বলছি, আর তুমি চিরাচরিত ভোজ খাওয়ার আমন্ত্রণ দিচ্ছো।

আপনি কি চাইছেন তাহলে, ম্যাডাম?

শোনো, আমি কোনো প্রশাসনিক অফিসার না।

আমি শুধুই সারণ্য আর তুমি শুধুই মুরলী কৃষ্ণ।

আর আজকে, তুমি আমার কোনো অনুরোধ ফেলতে পারবে না।

মুরলী কৃষ্ণ, ভয় পেও না।

তেলেঙ্গানা তে, আমরা কাছের মানুষদের শুধু তাদের নাম ধরেই ডাকি।

আমাদের ভাষাটা একটু কঠিন শুনতে লাগলেও, আমরা নরম মনের মানুষ।

তোমার কোনো অসুবিধা নেই, তো?

-আচ্ছা, তুমি আমাকে পছন্দ করো না? -কি?

হ্যা, মানে যেভাবে আমাকে স্টেজে পরিচয় করালে সেদিন সবার সামনে।

আমি খুব খুশি হয়েছিলাম।

তারপর তুমি আমার জন্মদিন পালন করলে, আমি আরো খুশি হয়ে গেলাম।

মনে হয় তুমি আমাকে নিয়ে খুব ভাবো। ব্যাপারটা কি?

যে ভাবে তুমি শাড়ি পরো, বোঝা যায় যে তুমি তেলুগু।

তুমি গর্ভের সাথে হাটো।

খুব স্পষ্ট কথা বলো।

আমার ভালো লাগে।

শীট বেল্টটা পরে নাও। জীবনটা মূল্যবান।

ওহ, ভুলে গেছিলাম।

এখানে, থামাও এখানে।

-এখানে কি? -পার্টি।

এখানে?

তাড়াতাড়ি আসো।

-উঠে পরো। -কি?

ওখানে উঠবো? সেটা মনে হয় ঠিক হবে না।

আমরা অনেক দূরে আছি। তুমি ভাবছো এখানে তোমাকে কেউ চীনে ফেলবে? ওঠো!

স্যার! স্যার! স্যার! স্যার! আপনি এখানে?

আলাপ করিয়ে দি।

তোমাকে এতো দূর নিয়ে আসলাম, এখানেও তোমাকে চেনে।

একদম ম্যাডাম! আমরা ওনার খুব ভক্ত, ওনাকে খুব সমাদর করি আমরা।

স্যার, আমি এক্ষুনি আমার বন্ধুদের জানাচ্ছি যে আপনি এখানে এসেছেন।

দাদাবাবু এখানে খুব খুশি মনে এসেছে। দাদাবাবুর সাথে দিদিমনিও আছে।

দাদাবাবুর হবু স্ত্রী, ততিতোপুলু।

-কেমন লাগছে, বৌদি? -চুপ করো।

-ওপরে উঠে, পেড়ে আনো। -স্যার?

আরে ও কি বলবে, আমি বলছি তো। যাও।

ভেবেছিলাম আমাদের দাদাবাবু ডানপিটে। বৌদি তো দেখছি আর বেশি ডানপিটে।

-এখন মদ খাওয়াটা কি ঠিক হবে? -এটা মদ নয়।

এটা ওষুধের মতন। আর এটা আমাদের প্রথা।

এটা পান করলে, শরীর শুদ্ধ হয় আর তার সাথে মন শান্ত হয়ে যায়।

তুমি ছেলেবেলায় এইসব করো নি?

ছেলেবেলায়, খেলা ধুলা করার সময়, ও লোকজনের সাথে মারপিট করতো।

এই যে, নাও এবার।

ধরো।

-বসো। -বসবো? কোথায়?

আরে বসো তো।

ধরো এটা।

এই যে তুমি, আমাকে তাড়িটা দাও।

-কোনো আচার আছে? -আচার মানে?

মানে আমের আচার।

ওহ, মানে কাচামিঠা আমের চাটনি। হ্যা আছে। এই নাও বৌদি।

বাহ!

নাও, চাটো!

আরে ওইভাবে না। এই ভাবে নাও।

একটু করে নাও এই ভাবে। মুখ খোলো।

বাহ! আপনি কি দারুন চাটলেন, স্যার।

চাটতে থাকুন। চাটতে থাকুন। বৌদি আপনাকে দারুন চাটতে শেখাচ্ছে।

ভালো করে চেটে গিলে নিলে, আপনার গলার অস্বস্তিটা একদম কমে যাবে।

তাড়ি পান করাতো কিন্তু একটা শিল্প।

আমি দেখাচ্ছি তোমাকে। দেখে শেখো।

ওঠো।

আমাকে বাক্সটা দাও।

ঢালো। ঢালতে থাকো।

♪ তুমি আমার ওপর জাদু করলে।♪

♪ আমি তোমাকে আমার মন দিলাম।♪

♪ মাইয়া মাইয়া মামামিয়া।♪

♪ ওহ প্রিয়, বলয়া।♪

♪ এরকম সুমধুর আরাধনা।♪

♪ বদলাতে হবে খুব তাড়াতাড়ি।♪

♪ আমি রাজি।♪

♪ ওহ, আমার প্রিয় বলয়া।♪

♪ তুমি আমার ওপর জাদু করলে।♪

♪ আমি তোমাকে আমার মন দিলাম।♪

♪ মাইয়া মাইয়া মামামিয়া।♪

♪ ওহ প্রিয়,বলয়া।♪

♪ এরকম সুমধুর আরাধনা।♪

♪ বদলাতে হবে খুব তাড়াতাড়ি।♪

♪ আমি রাজি।♪

♪ ওহ, আমার প্রিয় বলয়া।♪

♪ আমি রাজি।♪

♪ ওহ, আমার প্রিয় বলয়া।♪

♪ ওহ আমার প্রিয়। আমি কি নারকেলটা ফাটিয়ে দেবো, বলয়া?♪

♪ আমি রাজি।♪

♪ ওহ, আমার প্রিয় বলয়া।♪

♪ ওহ আমার প্রিয়। আমি কি নারকেলটা ফাটিয়ে দেবো, বলয়া?♪

♪ তোমার তীক্ষ্ণ নজর ঠিক যেমন কৃষ্ণ দেবরায়।♪

♪ তোমার চোখের জাদু ঠিক যেন ভগবান কৃষ্ণের মতো।♪

♪ তুমি যখন আমার দিকে তাকাও,♪

♪ আমি পাগল হয়ে যাই। আমি তোমার প্রেমে মগ্ন।♪

♪ আমার পায়ের নূপুর নেচে ওঠে।♪

♪ তুমিও আমার সাথে নাচো, হে প্রিয়।♪

♪ ইয়ে, ইয়ে, ইয়ে, ইয়ে। জয় বলয়া।♪

♪ জানি না কেন, মনে হয় যেনো কোনো নেশায় আছি। শুধু এই কারনে বলয়া।♪

♪ ইয়ে, ইয়ে, ইয়ে, ইয়ে। জয় বলয়া।♪

♪ হয়তো আমাকে ঘোড়ায় চড়তে হবে। হেইয়া হো, হেইয়া হো।♪

♪ ইয়ে, ইয়ে, ইয়ে, ইয়ে। জয় বলয়া।♪

♪ জানি না কেন, মনে হয় যেনো কোনো নেশায় আছি। শুধু এই কারনে বলয়া।♪

♪ ইয়ে, ইয়ে, ইয়ে, ইয়ে। জয় বলয়া।♪

♪ হয়তো আমাকে ঘোড়ায় চড়তে হবে। হেইয়া হো, হেইয়া হো।♪

♪ আমি রাজি।♪

♪ ওহ, আমার প্রিয় বলয়া।♪

♪ ওহ আমার প্রিয়। আমি কি নারকেলটা ফাটিয়ে দেবো, বলয়া?♪

♪ বলয়া।♪

♪ বলয়া।♪

♪ যখন কোনো বাচ্চার খিদে পায়।♪

♪ তখন তার সামনে কোনো চকলেটের দোকান থাকলে কেমন হয়?♪

♪ যখন কোনো সুন্দর মেয়ের মুগ্ধতা বৃদ্ধি পায়।♪

♪ তখন তার সামনে তোমার মতো কোনো কারিগর আসলে কেমন হয়?♪

♪ যদি তুমি না বলো, তাহলে ওকে পুড়িয়ে ভস্ম করে দাও।♪

♪ যদি সে গয়না হয়, তাহলে সামান্য পাথরে পরিণত হবে।♪

♪ সে তোমার জন্য এক কাপড়েও থাকতে রাজি।♪

♪ সামান্য খাবারও তার কাছে যেন অমৃতের মতো।♪

♪ এরকম প্রাণচঞ্চল পুরুষ।♪

♪ এরকম সুন্দর সুপুরুষ।♪

♪ ইয়ে, ইয়ে, ইয়ে, ইয়ে। জয় বলয়া।♪

♪ জানি না কেন, মনে হয় যেনো কোনো নেশায় আছি। শুধু এই কারনে বলয়া।♪

♪ ইয়ে, ইয়ে, ইয়ে, ইয়ে। জয় বলয়া।♪

♪ হয়তো আমাকে ঘোড়ায় চড়তে হবে। হেইয়া হো, হেইয়া হো।♪

♪ ইয়ে, ইয়ে, ইয়ে, ইয়ে। জয় বলয়া।♪

♪ জানি না কেন, মনে হয় যেনো কোনো নেশায় আছি। শুধু এই কারনে বলয়া।♪

♪ ইয়ে, ইয়ে, ইয়ে, ইয়ে। জয় বলয়া।♪

♪ হয়তো আমাকে ঘোড়ায় চড়তে হবে। ♪ হেইয়া হো, হেইয়া হো।♪

♪ আমি রাজি।♪

♪ ওহ, আমার প্রিয় বলয়া।♪

♪ ওহ আমার প্রিয়। আমি কি নারকেলটা ফাটিয়ে দেবো, বলয়া?♪

♪ বলয়া।♪

♪ বলয়া।♪

স্যার।

এটা হচ্ছে বিরল ও সর্বোচ্চ মানের ইউরেনিয়াম যা অন্য কোনো খনিতে পাওয়া যাবে না।

শুধু এই টুকু নমুনা দিয়ে সারা বিশ্বের এক দিনের বিদ্যুত উত্পাদন করা যাবে।

কিন্তু এটার তেজ প্রচন্ড বেশি আর ততটাই ক্ষতিকারক, স্যার।

এটা দিয়ে আপনি এক এবং অদ্বিতীয় হয়ে যাবেন। আপনাকে কেউ সরাতে পারবে না।

ভাই, কেউ একজন এসেছে কোনো ব্যবসার কথা বলতে।

জগজিৎ চৌহান।

আমার ব্যবসা সারা দেশ জুড়ে আছে। আর আমার ব্যবসায় আমি এক নম্বর।

সমস্ত রকম সরকারী যায়গায় আমার বেশ ভালো ওঠা বসা আছে।

একদম আসল মাথা থেকে চাপরাসী অবধি।

তা সত্বেও, যখন আমি এই অবধি এসেছি...

...তার মানে তোমার কাছে এমন কিছু আছে, এই দেশের সব থেকে ভালো খনি।

আর আমার সেই খনিটা চাই।

তুমি এতোদিন ধরে এই খনিতে কাজ চালিয়ে গেছো, সরকার কোনো কিছু জানতে পারে নি।

তোমার সাহসের বাহবা করি।

তুমি ওটা আমাকে বিক্রি করে দাও, আমি তোমাকে খুশি করে দেবো।

আর যদি না করো, তাহলে তোমার ব্যাপারে খবরের কাগজে সব ছেপে যাবে।

জাতীয় শিরোনাম হিসেবে।

-এটা কি? -উত্তর।

আমার চুল।

তুমি নিজের পরিচয় দিয়ে দিলে। এবার আমিও তোমাকে দেখবো আমি কে।

কি মনে হয় ওর পিছনে কার হাত আছে?

যে খুদার্থ সে খাদ্য চায়। যে ঈশ্বরে বিশ্বাস করে, সে সুকর্ম করে।

আমাদের আশ্রম এই দর্শন মেনে চলে। এই রাস্তাই আমার গুরু আমাকে দেখিয়েছে।

তোমাদের সবার প্রচেষ্টা সফল হোক।

যদি কান্না পায়, আমি তোমাদের চোখের জল মুছে দেবো।

কোনো রকম মুশকিলের সম্মুখীন হলে, আমি তোমাদের সবার যত্ন নেবো।

যদি তোমরা কষ্ট পাও, আমি তোমাদের সবার কষ্ট আমার নিজের করে নেবো।

আমি এখানেই আছি।

আমি তোমাদের জন্য এখানে আছি।

আমি তোমাদের সাথে আছি।

আমি তোমাদের মধ্যে আছি।

ব্রহ্মার কাছে পাপ করলে সেটা বিষ্ণুর কাছে এসে ধ্বংস হয়।

বিষ্ণুর কাছে পাপ করলে সেটা শিবের কাছে এসে ধ্বংস হয়।

শিবের কাছে পাপ করলে সেটা তোমার শিক্ষকের কাছে এসে ধ্বংস হয়।

তোমার শিক্ষকের কাছে পাপ করলে সেটা ধ্বংস হয় যখন সব কিছু ধূলিস্যাত হয়।

তবে তাই হোক!

নমস্কার, মিস্টার রাই।

নমস্কার, সাধু বাবা। নমস্কার।

-তোমার ক্রোধের কারন কি? -আপনার ভক্তকে কেউ অপমান করেছে।

যখন তুমি খনি কিনতে গেছিলে, তখন সে তার চুল বার করে তোমার হাতে রাখে।

-তাই তো? -হ্যা, সাধু বাবা।

-একদম আমার মুখের ওপর। -এটাই কি সে?

আপনি সাখ্যাত ভগবান, সাধু বাবা। এটাই সে! এটাই সে!

ওর খনি আমার চাই আর ওকে মারতে চাই।

ওকে মরতে হবে।

তোমার এতো বড়ো সাহস তুমি বরোদার বিরুদ্ধে কথা বলো।

আমি হচ্ছি আত্মা।

ও হচ্ছে আমার দেহ।

ওই খনি আমাদের।

বিদায়।

খনির কাজকর্ম কেমন চলছে?

দূষণের ট্যাংকি গুলো প্রায় ভরে এসেছে।

বোরটা বার করে আবার জমির ভেতরে ঢুকিয়ে দাও।

বোর?

বিপরীত খনন পদ্ধতি।

কিন্তু, সেটা কি ক্ষতিকারক হবে না, সাধু বাবা?

দশ বছর আগে, আমরা এই একই জিনিস করেছি বাংলায়।

মানুষ মরেছে। কিন্তু তাতে আমাদের কি?

একই জিনিস আমরা বিহার ওর আসামে করেছি। আমরা এখানেও সেই একই জিনিস করবো।

ওর যদি বুঝতে না পারে যে কি হলো, তাহলে অর্ধেক জনসংখ্যা মরবে।

আর ওর যদি বুঝতে পারে কি হচ্ছে আর প্রশ্ন আরম্ভ করে, তাহলে সবাই মরবে।

বরোদা রাজুলু। একটা সময়, এই দেশ আমাকে কিছু একটা দিয়েছিলো।

আমি সেই ঋণ কয়েক শত গুণ ফিরিয়ে দেবো। তোমার সাহাজ্যে।

যখন দুজন মানুষ এক হয় সেটা বিষয় আশয় সম্পত্তির কারনে হতে পারে।

তাদের রীতি পরম্পরা তাদের কাছে আনতে পারে।

কিন্তু যখন তাদের আকাঙ্খা মিলে যায়, তখন সেটা অসাধারণ একটা ব্যাপার হয়।

মনে হচ্ছে যেন আমি আমাদের আলোময় যাত্রাটা স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি।

চলো একসাথে এই যাত্রাটা করি।

আমার মা-বাবা তোমাকে বিয়ের প্রস্তাব দিতে পারে।

তোমার মা-বাবা হয়তো মেনে নিতে পারে।

কিন্তু তোমার মতামতটা আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ।

আমরা কি বিয়ে করতে পারি?

♪ তোমার রানী হিসেবে,♪

♪ আমি তোমাকে আমার জীবনে চেয়েছি।♪

♪ চলো দাম্পত্যে পা ফেলি।♪

♪ আমাদের বিয়েতে♪

♪ আমি তোমার নামের আলতা পায়ে পরি।♪

♪ তুমি অল্প একটু হেসে আমার ভাগ্য বদলে♪

♪ আমাকে এক নতুন পরিচয় দিলে।♪

♪ তোমার চাওনিতে তুমি আমাকে বাঁধলে♪

♪ আর এখন বিয়ের সানাই বাজতে চলেছে।♪

♪ সেই সমস্ত স্বপ্ন যা আমি দেখেছিলাম♪

♪ সব সত্যি হতে চলেছে।♪

♪ এই বন্ধন মনে হচ্ছে যেন♪

♪ এক পরিবর্তিত নতুন জমি।♪

♪ তোমার রানী হিসেবে,♪

♪ আমি তোমাকে♪

♪ আমার জীবনে চেয়েছি।♪

♪ চলো দাম্পত্যে পা ফেলি।♪

♪ আমাদের বিয়েতে♪

♪ আমি তোমার নামের আলতা পায়ে পরি।♪

♪ খেলার ছলে খুনসুটি অনন্ত মুহূর্ত আমি♪

♪ তোমার সাথেই প্রথম অনুভব করেছি।♪

♪ এই প্রেমের বিচ্ছেদ আসলে বিচ্ছেদ নয়।♪

♪ এই ছোটখাটো মান অভিমান আমাকে তোমার আমার প্রতি ভালোবাসা বোঝায়।♪

♪ প্রিয়তম, আমি যে তোমাকে ভালোবাসতে পারবো♪

♪ তা আমি নিজেও জানতাম না।♪

♪ আমার শতবর্ষের জীবনী♪

♪ তোমাকে ছাড়া কোনো ভাবে সম্ভব নয়।♪

♪ আমি সেই সমস্ত মিষ্টি মধুর সকালের আনন্দ নেব...♪

♪....যা আমি আগে না কখনো শুনেছি না কখনো দেখেছি।♪

♪ এই প্রেমের আবেগ না কখনো ছেরে...♪

♪...যায় এবং নিষ্পাপ শিশুদের রূপে ভালোবাসার ছাপ ছেরে যায়।♪

♪ তোমার স্বামী হিসেবে...♪

♪...আমি তোমাকে আমার জীবনে চেয়েছি।♪

♪ চলো দাম্পত্যে পা ফেলি।♪

♪ আমাদের বিয়েতে আমি তোমার নামের আলতা পায়ে পরি।♪

♪ শিদূরের মালা যেন হাসির মালা।♪

♪ ওরা আমার সাথে মিলে মিশে আমার পায় পা দিয়ে চলতে আরম্ভ করেছে।♪

♪ এই মানুষটা জলের স্রোতের মতো, তার মন যেন সোনা।♪

♪ একশত বছর তোমার সাথে যথেষ্ট নয়।♪

♪ আমি জানতাম না যে আমার কপালেও এতো সুখ থাকতে পারে।♪

♪ যদি আমি আর একটি জীবন পাই...।♪

♪....তাহলে সেটা আমি তোমার সাথে চাই।♪

♪ সেই সমস্ত স্বপ্ন♪

♪ যা আমি দেখেছিলাম সব সত্যি হতে চলেছে।♪

♪ এই বন্ধন মনে হচ্ছে যেন♪

♪ এক পরিবর্তিত নতুন জমি।♪

♪ আমি তোমাকে আমার জীবনে আমার রানী হিসেবে চেয়েছি।♪

♪ চলো দাম্পত্যে পা ফেলি। আমাদের...♪

♪....বিয়েতে আমি তোমার নামের আলতা পায়ে পরি।♪

নমস্কার, সাধু বাবা।

আমার নাতনীর তিন বছর বয়েস হলো।

ওকে আশীর্বাদ করুন।

যাও সোনা।

হে, ধ্বংসকারী মহাদেব। এটার কি মানে?

যাও! যাও! যাও, তাড়াতাড়ি।

সবাইকে ৩ নম্বর ওয়ার্ডে নিয়ে আসো।

চলো চলো। দেরী কোরো না।

তাড়াতাড়ি করো।

স্যার, আপনি এক্ষুনি বেরিয়ে একবার হাসপাতালে আসুন।

স্যার, খুব কঠিন পরিস্থিতি, এক্ষুনি আসুন।

স্যালাইনটা চালু করো। ওকে বিছানায় শুইয়ে দাও।

-স্যার, একবার এর দিকে তাকান স্যার। -দাড়ান দাড়ান, দিদি। দাড়ান।

গতকাল অবধি এই বাচ্চাগুলো হেসে খেলে বেড়াচ্ছিলো। ওদের বাচিয়ে তুলুন স্যার।

স্যার! জানি না কোন পাহাড়ী দেবী কে আমরা রাগিয়ে তুলেছি।

জানি কার অশুভ দৃষ্টি পরলো ওদের ওপর।

ওদের একবার দেখুন, স্যার।

একবার চেয়ে দেখুন, স্যার।

একটা সদ্যযাত শিশু কিভাবে এরকম হতে পারে?

-ডাক্তার বাবু কি হয়েছে? -আমি বুঝতে পারছিনা, স্যার।

কি?

আমি বুঝতে পারছিনা যে এটা কোনো ভাইরাস না বিষ না অন্য কোনো রাসায়নিক প্রভাব।

এই প্রত্যেকটা রুগীর শরীরে একটা সমস্যা নয়।

ভেতরে ভেতরে অনেক গুলো অঙ্গ নষ্ট হয়ে গেছে।

কোনো ওষুধ কাজ করছে না।

ওরা ছোটো ছোটো শিশু, স্যার।

ওরা আর নিতে পারছে না।

কি হচ্ছেটা কি এখানে?

-তুমি কোথায় এখন? -বেঙ্গালুরু বিমান বন্দরের দিকে যাচ্ছি।

এক্ষুনি হাসপাতালে আসো।

এই গাড়ি ঘোরাও।

এই সমস্ত লোকজন নাল্লামালা বোগা পাহাড়ী অঞ্চলের বাসিন্দা।

ওখানে কি হয়েছে?

ওটা আদিবাসীদের এলাকা, স্যার।

ভাইরাল রোগ ওখানকার মানুষের জন্য স্বাভাবিক।

এটা ভাইরাল আক্রমণ নয়, স্যার।

ওখানকার লোকজন পরিষ্কার পরিচ্ছন্ন থাকে না স্যার।

ওদের এটা হওয়াটাই স্বাভাবিক।

ওদের কে তুমি অপরিষ্কার বলছো?

মুরলী। মুরলী।

শান্ত হও। প্লীজ।

এখানে একটা তামার খনি আছে। আপনার মনে হয় যে এ থেকে ওদের কিছু হতে পারে?

ওটা শুধু মাত্র একটা তামার খনি নয়, স্যার।

ওটা নামেই একটা তামার খনি। কিন্তু ওখান থেকে ইয়ুরেনিয়াম বার করা হয়।

কি?

ইয়ুরেনিয়াম?

হে ঈশ্বর!

কিছু না জেনে দোষারোপ করবে না শ্রীমতী পদ্মাবতী।

এটা একটা জটিল ব্যাপার।

চুপ করুন।

জটিল? কার জন্য?

আপনার জন্য না মিস্টার বরোদা রাজুলুর জন্য?

গত তিন বছর ধরে তথ্য সংগ্রহ করে আমি এই রিপোর্টটা বানিয়েছি।

যখন জেলা প্রশাসনিক অফিসার এই বিষয়ে বলে, তখন আমি তদন্ত শুরু করি।

আমি অনেক ঝুঁকি নিয়ে, সেন্সর এবং ফাইবার অপটিক প্রোব ব্যবহার...

...এই খনি থেকে নমুনা সংগ্রহ করি।

জানতাম এখানে ঠিক ফল বেরবে না। তাই আমি হায়দেরবাদের এক ল্যাব থেকে পরীক্ষা করাই।

আপনি জানেন কি বেরিয়েছে, স্যার?

তামা শুধু মাটির নিচে পঞ্চাশ ফিট অবধি পাওয়া যেতে পারে।

তার নিচে, সবটাই ইয়ুরেনিয়াম, স্যার।

ওরা ওখান থেকে বার করে, ওখানেই শুদ্ধ করে...

...তারপর বিপরীত খনন পদ্ধতিতে

আবার ওটা মাটির ভেতরে পাঠিয়ে দেয়, স্যার।

এই ভয়াবহ ব্যাপার এই সমস্ত কুকর্মেরই ফল।

এটাতো শুধু মাত্র শুরুর দিকের নমুনা, স্যার।

যদি এটা চলতে থাকে,

তাহলে এই অঞ্চলের এই দেশের সব থেকে বড়ো কবরস্থানে পরিণত হতে আর বেশি দেরী নেই।

আমার কথা মিলিয়ে নেবেন।

ডাক্তার বাবু।

দেখবেন যার যা ওষুধ বা যন্ত্রপাতির প্রয়োজন সেটা যেন মিনিটের মধ্যে এসে পৌছায়।

এই খনিটা কোথায়?

এটা আমার সাম্রাজ্য।

আমি ভেঙে গুড়িয়ে দেবো।

-আমি যুদ্ধ। -আমি তোর মৃত্যু।

-আমি ধ্বংসের প্রতীক। -আমি বিপর্যয়ের প্রতীক।

-তুই আমাকে ছুঁতেও পারবি না। -তুই আমাকে সামলাতে পারবি না।

আমি একটা জানোয়ারের।

আমি সেই সিংহ যে এইসব জানোয়ারের শিকার করে।

আয় দেখি!

মিস্টার মুরলী! মিস্টার মুরলী, প্লীজ। মিস্টার মুরলী, একটু শান্ত হন।

তুই এই জমি নষ্ট করেছিস।

তুই সেই গবাদি পশু মেরেছিস যারা আমাদের দুধ দেয়।

তুই জীবনদয়ক জল কে নষ্ট করেছিস।

এবং সর্বোপরি, তুই আমাদের মানুষজনকে নষ্ট করেছিস।

আমি তোকে কেন ছেড়ে দেব? শালা হারামি।

সন্মান করে কথা বল।

সন্মান?

সন্মান ব্যবহার দেখে আসে, ভিক্ষা করে নয়।

আমার নাম অন্তরাপুরম বরোদা রাজুলু।

তুই প্রাসাদে জন্মাতে পারিস, কিন্তু আমি অনন্তপুরমে জন্মেছি।

ঠিক ভুল বুঝি না। আমার সিদ্ধান্তে কেউ হস্তক্ষেপ করলে, তাদের মেরে সোজা করে দি।

আমার বিরোধিতা করলে খারাপ হবে ও সিদ্ধান্তে প্রশ্ন করলে গুষ্টির শ্রাধ্য করে ছারবো।

-মাথা। -তোর মাথা?

আমি একবার আমার সিদ্ধান্তে এগিয়ে পরলে আমাকে আটকানো সম্ভব নয়।

আমি তোকে পিষে মেরে ফেলবো।

তুই ডাইনে, বায়ে, ওপরে বা নিচে...

...যে কোনো দিক থেকেই আক্রমণ করিস না কেন...

...তোর শরীরের একটা টুকরোও কোথাও খুজে পাওয়া যাবে না।

-আয় দেখি! -তুই আয় দেখি!

মিস্টার মুরলী। মিস্টার মুরলী, প্লীজ।

ও পালিয়ে কোথায় যাবে খনিটা নিয়ে। এক ঘন্টার মধ্যে বন্ধ করে দেবো।

হাসপাতালের অবস্থা একটু একটু করে বিগরাচ্ছে। প্লীজ।

ওখানে একটা প্রাণ গেলেও খুব খারাপ হবে।

আমার কথা শুনুন। ওখানে ওর পাশে একজন মন্ত্রী আছে কিন্তু।

ওই প্রশাসনিক অফিসার সমস্ত প্রমাণ জরো করে রেখেছে। এটা ঠিক সময় নয়, ভাই।

এই মুহূর্তে এই পথে আমাদের যাওয়া উচিত না। আমার কথা শুনুন।

স্যার, ও একজন সামান্য খনির খনন করার মতো মানুষ।

ও এই সমস্ত অত্যাধুনিক যন্ত্রপাতি ব্যবহার করছে মানে

ওর পিছনে বড়ো কারুর হাত আছে।

আমাকে একটু সময় দিন, স্যার। আমি সব কিছু খুজে বার করবো।

তোমাকে করতেই হবে।

না হলে, ভবিষ্যতের অনেক প্রজন্ম একেবারে নষ্ট হয়ে যাবে।

আপনি আছেন তো স্যার। আপনি থাকতে আমাদের কিছু কি করে হতে পারে, স্যার?

কিচ্ছু হবে না, দিদি।

আমি ব্যবস্থা নিচ্ছি যাতে একজনেরও প্রাণ না যায়,

আর ওই খনি ও বন্ধ হয়।

কাকু, কি হয়েছে?

মেয়েটি খেলতে খেলতে অজ্ঞান হয়ে যায়। তারপর থেকে আর চোখ খুলছে না।

ডাক্তার বাবু!

ভরত।

আপনি আছেন তো স্যার। আপনি থাকতে আমাদের কিছু কি করে হতে পারে, স্যার?

সবাই মারা গেছে, স্যার। একজনও বেচে নেই।

বরোদা! বন্যার মতো রক্ত বয়ে চলেছে তো?

সব মৃতদেহ আর মাংসের টুকরো গুলো চারিদিকে ছড়িয়ে ছিটিয়ে পড়েছে তো?

মৃত্যুর আতঙ্কে এখন সব মানুষ কোন দিকে যাবে সেটা বুঝে পাচ্ছে না, তাই না?

সাধু বাবা, আপনি কি করে জানলেন সেটা?

যে স্রষ্টা সে জানবে না তা কি হয়?

কিন্তু মুরলীর কি হবে?

কারুর ঘাড়ে তো আমাদের পাপের বোঝাটা চাপাতে হবে। এটা আমার ওপর ছেরে দাও।

কৃষ্ণমচার্জ পেরুমল। এন আই এ, নতুন দিল্লি।

এখানে মৃতদের মধ্যে একজন কেন্দ্রীয় মন্ত্রী ছিলো।

বোম ফেটেছে আপনার এই হাসপাতালে।

আপনাকে গ্রেপ্তার করা হচ্ছে।

কি অভিযোগে?

আপনি যেহেতু অভিযুক্তের স্ত্রী,

আপনার এই প্রশ্ন করার কোনো অধিকার নেই। আর আপনাকেও স্থগিত করা হলো।

সব সত্যি জানার জন্য, আপনাকে আমাদের সাথে আসতে হবে। তো যাওয়া যাক?

আপনি ওকে গ্রেপ্তার করবেন? দেখি কি করে করেন।

প্রচুর মানুষ আজকে এখানে প্রাণ হারিয়েছে।

আরো একজনকে হারাতে চাও কি?

গতকাল অবধি, যা কিছু এই খনিতে হয়েছিল, সেটা লুকানো ছিলো।

এখন, সেটা প্রকাশ্যে এসে গেছে।

যারা এটাকে প্রকাশ্যে এনেছে, যারা প্রকাশ্যে আনাটা কে সমর্থন...

...করেছে, আর যে গ্রামবাসিরা এটার সাক্ষী তারা যেন কেউ বেচে না থাকে।

ওরা ওদের কষ্টটা কাটিয়ে উঠে আমাদের ব্যাপারে জানার আগে, সবাইকে শেষ করে দাও।

যতটাই অত্যাচার করুক না কেন,

আমার মাথা নত করব না।

কখনো না, কখনো না, কখনো না,

অতি অত্যাধুনিক প্লাস্টিকের বিস্ফোরক।

তাও আবার এরকম এক মফস্বল এলাকায়।

এই রাজ্যে এই প্রথম বার এরকম হলো। আমি অবাক।

মন্ত্রী মশাই আসেন কারন তুমি ওনাকে ফোন করে আসতে বলো তাই।

ফোন রেকর্ড সেটাই বলছে।

উনি তোমার হাসপাতালে আসে।

প্রযুক্তিগতভাবে প্রমাণিত।

সেই মুহূর্ত অবধি তুমি ওখানে ছিলে।

কিন্তু, ঠিক বোমটা ফাটার আগে তুমি একদম নিরাপদ একটা যায়গায় চলে গেলে।

কি করে?

মিস্টার মুরলী।

আমি জানতে চাই যে তুমি কেন মন্ত্রী মশাই সহ বাকি নির্দোষ মানুষের হত্যা করলে।

চুপ করে থাকলে সত্যিটা পালটে যাবে না।

যদি তুমি মুখ না খোলো,

তাহলে কিন্তু তোমার বাচার সব রাস্তা বন্ধ হয়ে যাবে।

কেউ তোমাকে বাচাতে পারবে না।

ম্যাডাম, মেয়েটির অবস্থা খুব গুরুতর।

মেয়েটি অজ্ঞান অবস্থায় আছে বেশ অনেকক্ষন হলো।

যদি ওর জ্ঞান না ফেরে তাহলে এটা খুব খারাপের দিকে যাবে।

ওকে এক্ষুনি বেঙ্গালুরুতে নিয়ে যেতে হবে।

কিন্তু কি করে যাবো, ডাক্তার ম্যাডাম?

দেখুন পুলিশ কি ভাবে আমাদের বাড়ির চার দিক একদম ঘিরে রেখেছে।

মিস্টার রামাচান্দ্রাইয়া।

মুরলী এখানে থাকলে, ও ওর নিজের প্রাণ দিয়ে হলেও মেয়েটির প্রাণ বাচাতো।

আর আমরা সেটা করতে পারবো না এই বাচ্চাটির জন্য?

চলো তো। দেখি আমাদের কে আটকায়?

যা কিছুই হয়ে যাক না কেন, গাড়ি থেকে কোনো ভাবেই নামবে না।

আয় দেখি!

তোমাদের বৌদি গাড়িতে আছে। ওকে বাচাও।

চলো চলো! আর জোরে!

জোরে, আর জোরে! চলো!

ভয় পেও না, দিদিমনি। তোমার কিচ্ছু হবে না।

আমি আছি তো।

দিদিমনি, স্টিয়ারিংটা ধরো।

দিদিমনি, স্টিয়ারিংটা ধরো।

ম্যাডাম, মেয়েটি!

মামনি? মামনি?

ম্যাডাম!

জননী। জননী।

আমায় ক্ষমা করে দাও।

আমায় ক্ষমা করে দাও। আমায় ক্ষমা করে দাও।

মালটা এখানেই কোথাও লুকিয়ে আছে। ভালো করে খুজে বার কর মালটা কে!

সোনামনি!

ঠাকুর!

কোথায় যেতে পারে মালটা? ওদের মা-মেয়েকে মেরে ফেল।

আয়ুষ্মান ভব!

আপনি কে?

যার চোখে সূর্য, চাঁদ এবং অগ্নি থাকে।

সাদা ষাঁড় নন্দী যার বাহন।

যার গলায় সাপ জড়ানো থাকে।

যে রক্ষকর্তা ত্রিপুর দৈত্যকে ধ্বংস করে।

আমি ভগবান শিব!

আপনি কে?

এই দেহ চিরন্তন ও প্রভূত।

আমার আকার কখনো শেষ হয়না এবং অক্ষয়।

আমি ভগবান শিব। আমি ধ্বংসকারী!

যে শঙ্খের আওয়াজ আমি শুনলাম সেটা কোনো সাধারণ শঙ্খ নয়।

যে শক্তি আমাকে আর আমার সিংহাসন কে নড়ীয়ে দেয় সেটা সাধারণ শক্তি নয়।

আমি যাকে দেখলাম যে সাধারণ কেউ নয়।

তাহলে সে কে?

আমাদের, এবং সমগ্র বিশ্বের ভাগ্য যে লিখেছেন,

সেই বিধির বিধান কে প্রশ্ন করতে নেই।

যে উত্তরটা পাবে, সেটা হয়তো সামলে উঠতে পারবে না।

তত্ব!

এই সিংহাসন দূষিত হয়ে গেছে। এক্ষুনি অনন্তপুরমে যাওয়ার ব্যবস্থা করো।

কে সে?

আরে ও বেচে আছে এখনো।

এইসব কে করেছে? লোকটা কে? কি হয়েছিলো এখানে?

জানতে চাও কি হয়েছিলো?

ঐশ্বরিক নৃত্য হয়েছিলো এখানে!

ভগবান শিবের তান্ডব নৃত্য হয়েছিল।

সে তোমাদের ডাকে সারা দেয় নি।

যে হাত ওদের ভেঙে দিয়েছে সে কোনো মানুষের হাত নয়। সে হাত ভগবান শিবের।

সে তোমাদের কোনো মৃত দেহ পাঠায় নি।

তার আগমনের একটা সঙ্কেত দিয়েছে শুধু।

সে পুরোনো মৃতপ্রায় মন্দির গুলো কে পুনরায় জীবন্ত করার উদ্দ্যেশ্য...

...এসেছিল। তোমরা তার ধ্যান তোমাদের দিকে টেনে নিয়েছ।

কোনো শিশুর প্রাণ নিয়ে খেলা করলে কি ঈশ্বর চুপ থাকবে?

সেই কারনেই তার তৃতীয় চোখ খুলে গেছে।

তোমাদের দিন শেষ।

সাধু বাবা অনন্তপুরমে ফিরে গেছে আর ওখানের আশ্রমেই থাকছেন।

তুমি যাও ওখানে। আমি এর মাথাটা কেটে সাথে করে নিয়ে আসছি।

আমি তোমার ভাইয়ের মতো, সেই জায়গা থেকে বলছি। বিশ্বাস করো, ভাই।

যাও।

তুমি এমন একজন নির্ভীক মানুষ যে তার পথের সব কিছু কে পরাজয় করে এসেছে।

কিন্তু একটা অজানা শক্তি তোমাকে বিচলিত করে তুলেছে।

সেটা কে জানার জন্য আমি এখানে এসেছি।

ও সেটা বার করে আমি যাবো। ততদিন, তোমার মনের এই আগুনটা নিভতে দিয়ো না।

সেই আগুনে কাকে ভস্ম করতে হবে সেটা আমি তোমাকে জানাবো।

ভক্তরা অপেক্ষা করছে। যাও গিয়ে ভাইয়ের খেয়াল রাখো।

তুমি কে?

ওং নমো শিবায়। ওং নমো শিবায়।

আয়ুষ্মান ভব।

♪ জন্মভূমি তোমার আগমনে খুশি।♪

♪ অভিবাদনের হাত ওঠে হাওয়ার ঝোকায়।♪

♪ উল্টোদিকের আগুনের আশীর্বাদ তোমায় শক্তি দেয়।♪

♪ শিবের নামের জয় জয়কর জল তোমার চরণ ধুয়ে যায়।♪

♪ আকাশ গর্জন করে শুভেচ্ছা জানায়।♪

♪ পঞ্চ উপধান মন্ত্রমুগ্ধ হয়ে যায়।♪

♪ এই বাচ্চাটির সাথে কোনো বন্ধনে বাধা♪

♪ এবং এই ধার্মিক মানুষটি কে ছুয়ে যায় আজ।♪

♪ সে হচ্ছে ভগবান শিব যে ঘুমাতে জানে না।♪

♪ জয় মহাদেবে, হে বিরপুরুষ,♪

♪ সবাই করো তার নামের জপ।♪

♪ হে ভগবান,♪

♪ অনেক হয়েছে তোমার লীলা খেলা। এবার তো বন্ধ করো।♪

♪ হে ভগবান,♪

♪ হে যোদ্ধা, হে ধ্বংসের দেবতা, তাড়াতাড়ি আসো।♪

♪ হে ঈশ্বর,♪

♪ তাড়াতাড়ি আসো ঈশ্বর, আমাদের ওপর দয়া করো।♪

তুমি তো হাসপাতালে যাচ্ছিলে। এতো তাড়াতাড়ি ফিরে আসলে কি করে?

কি হয়েছে, মা?

এই জখমের দাগগুলো কিসের?

কি ঘটেছিলো, মা?

কিছুতো বলো

বাবা।

চল্লিশজন মারা গেছে, তোমার জন্য।

আমাকে তদন্ত করতে হবে। পুলিশ থানাতে চলো।

তোমার বর নিজের অপরাধ ঢাকার জন্য কয়েকশো লোকের প্রাণ নেয় বোম মেরে।

আর অন্যজন আমার চল্লিশ জন লোককে মেরে ফেলে কারন তারা ওর ওপর আক্রমণ করেছিলো।

যদিও তুমি বিবাহিত, তবুও নিজের চেহারাটা দেখছি ভালই বজায় রেখেচো।

কি সব বলছেন এগুলো?

আমার যেটা ইচ্ছা সেটা বলব। মাঝখানে কথা বললে জুতো দিয়ে পিষে দেবো।

-শালা বুড়ো হাবড়া। -স্যার! এটা ভুল হচ্ছে, স্যার।

ওদের পরিবাবরের যথেষ্ট সুনাম আছে এই অঞ্চলে। আর উনি নিজে এক্স-কালেক্টর।

আপনি ওদের এই ভাবে শারীরিক অত্যাচার করছেন কেন? আপনার ব্যবহার ঠিক নয়।

এটা ঠিক নয়?

তাহলে, কোনটা ঠিক?

তাহলে ঠিক ভাবে কি করবো, ভাই?

ওদের কে বসিয়ে ওদের পুজো করবো?

ওদের কে পাত পেরে বিরিয়ানী খাওয়াবো?

তাহলে সত্যিটা কি ভাবে জানবো?

তাহলে সত্যিটা কি ভাবে বার করবো?

স্যার,

বৈরাগী বলেছিলো আপনি যদি কোনো বাচ্চা কে অত্যাচার করেন, পরমেশ্বর চুপ থাকবে না।

তাই নাকি? তাহলে, শারীরিক অত্যাচার বাদ দাও। বাচ্চাটা কে মেরেই ফেলি।

ওং নমো শিবায়।

-এই লোকটাই তো? এটাই তো? -হ্যা, আমিই।

আমি।

-ওদের কে যে বাচিয়েছে। -আমি।

-যার কথা বৈরাগী বলছিলো। -আমি।

-ওই চল্লিশজন কে মেরেছে। -আমি।

আমি।

আমি।

আমি।

মারো ওকে!

আমি জানি না যে জীবনে কোনো পাপ করার পর ভগবানের দেখা পাওয়া যায় কি না।

কিন্তু, যখন কোনো শিশুর জীবনে কোনো রকম বিপদ আসে...

...যখন নির্দোষ মানুষজন বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হয়...

...তখন ভগবানের দেখা নিশ্চয়ই পাওয়া যায়।

সাধু বাবা!

এই সমস্ত রকম পাপের কথা যা আপনি বললেন সব হচ্ছে এখানে এখন।

বসো! বসো! শান্ত হয়ে বসো!

এই সব কিছু আমার চোখের সামনে ঘটেছে। ভগবান সেখানে কোথায় ছিলো, সাধু বাবা?

কি করে আসবে সে?

তুমি যতক্ষণ তাকে প্রতিরোধ করবে, সে কোনো ভাবেই তোমার সামনে আসবে না।

যখন অহংকার, শক্তি আর গর্বকে ত্যাগ করে, ঈশ্বরের শক্তির সামনে ঝুকে পরবে...

...এবং বুঝবে যে তুমি নিমিত্ত মাত্র এবং তুমি হেরে গেছো...

...এবং গলা ফাটিয়ে চিৎকার করে ডাকবে, যে ঈশ্বর ছারা তোমার বাচার আর কোনো...

...উপায় নেই, তখনই ভগবান তোমার সামনে এসে উপস্থিত হবে।

ভগবান! [চেচিয়ে]

বাচাও সাধু বাবা!

আমি ভগবান হয়ে, তোমাকে আদেশ দিচ্ছি। ওকে ছেরে দাও!

তুমি একটা কথা বললে, সেটা শুধু একটা ধ্বনি হয়।

কিন্তু আমি কিছু বললে, সেটা আদেশ হয়।

এক ঐশ্বরিক আদেশ!

সাধু বাবা,

আপনি ঠিক বলেছেন। সাখ্যাত ভগবান।

সারা বিশ্বের সব মানুষের মঙ্গল কামনা করি। সবার সমৃদ্ধি হোক।

শুধু ওকে ছারা।

-এই! -জয় শংকর ভগবান!

হর হর মহাদেব। শুভ কর্মকর্তা!

একটা ক্ষুব্ধ ষাঁড়ের সামনে তুই শুধু একটা শুয়োর যে রঙ বদলেছে।

বাজে কথা বললে তোর খুলি ভেঙে গুড়িয়ে দেবো!

জয় ধ্বংসকারি!

জয় ধ্বংসকারি!

গুরু মহারাজ, ওর থেকেও নিকৃষ্ট আছে, যার নাম বরোদা রাজুলু।

যখন ওর নাম পুরে ছাই হয়ে যাবে, তখন ওর জীবনটাও শেষ হয়ে যাবে।

ও তোমার ছেলে।

সেই দিন, ভগবান শিব এটাই চেয়েছিলেন যে আমি তোমাকে তোমার ছেলের থেকে দূর করি।

এখন তোমার নাতনীর নির্দেশে সে আবার ফিরে আসে। এটাই মহাদেবের ইচ্ছা।

কি?

ভগবান আদেশ দেয় বলে কোনো মায়ের কাছ থেকে বাচ্চাকে আলাদা করে দেন?

যখন আপনি সব কিছু জানেন,

আমাকে আমার সন্তানের থেকে আলাদা করাটা ন্যায়সঙ্গত ছিল?

বাচ্চাটা তোমার ছিলো, ঠিকই।

কিন্তু তার জন্মের একটা উদ্দেশ্য আছে।

ভগবান শিব নির্দেশ দেন ডিম্বভ্রূণ এবং ভ্রূণ বহনকারী দেহকে।

সে আদেশ দিয়েছিল তোমার গর্ভ থেকেই এই বাচ্চার জন্ম হওয়ার।

জন্ম থেকেই, শিব তোমাদের সম্পর্ক নষ্ট করে, ওকে নিজের কাছে টেনে নেয়।

কিন্তু তার কারনটা কি?

এক পাশবিক অপরাধী, দেবতা সমান মানুষকে মেরে সিংহাসন ছিনিয়ে

দেবত্ব কে প্রশ্ন করেছে...

...এবং প্রথম এমন এক অপরাধ করেছে যেটা কখনো করা উচিৎ ছিলো না।

তারপর সে প্রকৃতির সাথে খুব বিপজ্জনক খেলা খেলে দ্বিতীয় এক অপরাধ করেছে।

তারপর সে নিষ্পাপ শিশুদের হত্যা করে ক্ষমার অযোগ্য তৃতীয় অপরাধ করেছে।

সেই কারনেই ভগবান শিব তার শঙ্খ বাজিয়ে যুদ্ধ শুরু করে।

ঠিক আছে, যে কারনেই ওর জন্ম হক, আমি ওর মা যে ওকে জন্ম দিয়েছে।

আমি আমার ছেলেকে চাই। এটা আমার অধিকার।

আমি ওর সিদ্ধান্ত নিয়েই ছারবো।

[মন্ত্র পড়ার আওয়াজ]

বাবা [ধার্মিক মানুষ]

আমি তোমার মা।

এই মুহূর্ত অবধি,

আমি তোমার অস্তিত্ব বা আমি যে তোমাকে জন্ম দিয়েছি সেটা জানতামই না।

ভগবান মহাদেব তোমাকে চায় আর তোমাকে দিয়ে দেওয়া হয়।

কি অন্যায়!

কোনো মা তার চোখের সামনে তার সন্তান কে পেলে, সে নিজেকে কি ভাবে সামলায়?

একবার ঘুরে তাকাও, ভালো করে দেখো তোমার মা কে।

তুমি আমার সন্তান। আমার রক্ত।

[সংস্কৃতের শ্লোক পড়ে]

এই জীবনে, ভগবান শিব আমার পিতা। দেবী পার্বতী, আমার মাতা।

এই নিশ্বাস, এই আওয়াজ আর এই দেহ...

...আমার যাত্রা ও গন্তব্য, সব কিছুই পরমেশ্বর

ও তার স্ত্রীর ইচ্ছা অনুযাই হবে।

আমার এই জীবন ভগবান শিব কে উতসর্গ করা। আগামী জীবন তার আদেশ অনুযাই হবে।

♪ জয় মহাদেব, কাশী শহরের অধিবাসী।♪

♪ জয় মহাদেব, ধ্বংসের শক্তিস্বরূপ।♪

♪ জয় আঘরি যার বিরাট নৃত্য ভঙ্গিমা।♪

♪ হে ভগবান শিবের আশীর্বাদ পাওয়া বিবস্ত্র মানব।♪

♪ হে ভগবান শিব, মাতৃহীন তোমার জন্ম।♪

♪ হে ভগবান শিব, মাতৃহীন তোমার জন্ম।♪

♪ কোনো ময়ের কষ্ট তোমাকে কিভাবে বোঝাই।♪

♪ কোনো ময়ের কষ্ট তোমাকে কিভাবে বোঝাই।♪

♪ গর্ভ থেকে বন্ধন অন্তর কাটার সময়...♪

♪...তুমি ওকে নিয়ে গিয়ে ফেরত পাঠালে তোমার মতো করে।♪

♪ তুমি ওকে ফেরত পাঠালে তোমার মতো করে।♪

♪ জয় মহাদেব, কাশী শহরের অধিবাসী।♪

♪ জয় মহাদেব, ধ্বংসের শক্তিস্বরূপ।♪

♪ জয় আঘরি যার বিরাট নৃত্য ভঙ্গিমা।♪

♪ হে ভগবান শিবের আশীর্বাদ পাওয়া বিবস্ত্র মানব।♪

♪ ভগবান তুমি নটরাজের আকার সাথে গলায় সাপ জড়ানো।♪

♪ হে হিংস্র ভগবান হাতে পিনাকাপাণি ধনুক।♪

♪ যে ভগবানের কপালে একটি চোখ, কবরস্থানে যার বাস।♪

♪ হে ভগবান শিব যার গলায় বিষ থাকে, দয়া করে আমাদের বাচাও।♪

♪ আমাদের উপাসনা বিনিময় তুমি আমাদের আশীর্বাদ করেছ।♪

♪ তুমি কি করে ওকে তোমার চোখের সামনে শেষ হতে দিচ্ছো।♪

♪ একজন ন্যায়নিষ্ঠ পথ স্বরণ করেছে।♪

♪ অন্যজন করেছে ভগবানের নাম জপ।♪

♪ আজ মা বলে ডাকার কেউ নেই।♪

♪ কি করে আমি এই ভাবে চলতে পারি, হে ঈশ্বর?♪

♪ জয় ভগবান শিব,♪

♪ হে বিরপুরুষ, জপে যায় শুধু তার নাম ভগবান।♪

♪ হে ঐশরীক,♪

♪ অনেক হয়েছে এবার বন্ধ করো তোমার খেলা।♪

♪ হে ভগবান,♪

♪ হে যোদ্ধা, হে ধ্বংসের ভগবান, তাড়াতাড়ি আসো।♪

♪ হে ভগবান,♪

♪ তাড়াতাড়ি আসো, আমাদের ওপর দয়া করো।♪

[মন্ত্র পড়ার আওয়াজ]

সাধু বাবা, আমি এতোদিন শুধু তোমার শব্দ শুনতে পেতাম।

কিন্তু এখন দেখছি তুমি এখানে এসেছো।

ব্যাপারটা কি?

[মন্ত্র পড়ার আওয়াজ]

অখণ্ড!

আপনি ওকে জানেন?

ও হচ্ছে অখণ্ড রুদ্র সিকন্দর গোরা।

সাধু, এই হচ্ছে সে যে আমার শিক্ষক ও বেশ কিছু ভক্তদের মেরে ফেলেছে।

ও কোনো সাধারণ মানুষ নয়।

ও দেহের সাতটা চক্রকে নিয়ন্ত্রণে রাখতে পেরেছে। এক অসাধারণ অতীন্দ্রিয় মানুষ।

এমন কি প্রকৃতির পঞ্চ উপাদানও ওর কে মান্য করে চলে।

ওরাও ওকে ছুতে ভয় পায়।

এই সব উপাদানও ওর সামনে মাথা নত করে।

এমন কি যে ঠান্ডা রক্ত জমিয়ে দেয়...

...বা যে আগুন রক্ত গলিয়ে দেয়...

...তারাও ওকে ছুতে পারে না।

সময় ওর দাস।

সমস্ত মন্ত্র আসলে সব ওর দেখানো পথে চলে।

শুধু এই আশীর্বাদের জন্য যে "সারা বিশ্বের মঙ্গল কামনা করি। সবার সমৃদ্ধি হোক,"

ওরা যে কোনো জায়গায় যেতে পারে, যে কোনো পাপ করতে পারে...

...আর যদি দরকার পরে, যুদ্ধও করতে পারে।

প্রচন্ডা, জানো আমি কেন এসেছি, আর তুমি আমাকে এইসব শোনাচ্ছো?

আমি ওকে মারতে চাই।

তুমি এই পৃথিবীতে সব থেকে বেশি ভয় পাও কিসেতে?

মৃত্যু।

মৃত্যু ওকে ভয় পায়।

আমি ডাকলে শুধু মৃত মানুষদের আত্মারা সারা দেয়।

ও ডাক দিলে, যে এই পঞ্চ উপাদানের উৎস, সে সাড়া দেয়।

তাহলে আমরা একজন আর একজনের পথ কাটলাম কেন?

ওর জন্ম তোমার জন্য।

ও হাতে অস্ত্র উঠিয়েছে তোমার জন্য। আর এই পৃথিবীতে পা রেখেছে তোমার জন্য।

এই খেলা ভগবান শিব খেলেছে একটা ছোট্ট শিশুর রূপ ধারন করেন।

আমি প্রতি কৃতজ্ঞ। তোমার এই সংকট না মেটা অবধি আমি যাবো না।

আমার ওপর ভরসা রাখো।

হ্যা, তুই বললি ও ওটা লাগলো। ধ্যাত!

যে এই খেলাটা পারবে। ঠিক আছে। টাকা বার করো।

-আরে, বার করো। -টাকাটা বার করো।

টাকা টাকা। আগে টাকা ফেলো এখানে।

তোমরা এখানে জুয়া খেলছো, এটা ঠিক নয়।

আমাদের কোনো দোষ নেই ঠাকুর মশাই। সব দোষ ভগবানের।

ভগবান আমাদের কাজ দেয় নি। কি যায়ে আমরা কোথায় আছি তা দিয়ে?

ভগবান কাজ দেবে না। তোমাদের নিজেদের জন্য খুজে নিতে হবে।

যদি নিজেদের জন্য খুজে নিতে হয়, তবে ভগবানের কি প্রয়োজন?

সেটাই তো। কোনটা দরকার, অনউর্বর জমি, না ভগবান যে কিছু দেয় না।

বেকার সব। ফালতু যত সব।

-তোমাদের সবার শাস্তি হবে দেখো। -শাস্তি? কে আমাদের শাস্তি দেবে?

বৈরাগী।

আমাদের খেলাতে একজন লোক কম হচ্ছে। আমাদের সাথে খেলবে আসো।

-আমি এই খেলা জানি না। -তাহলে তুমি কি জানো?

-আমি বাঘের শিকার জানি। -সেটার মনে কি?

-বাঘ আর ছাগলের খেলা। -এই খেলাতে, বাঘ কে আর ছাগল কে?

যারা দলবদ্ধ হয়ে আছে তারা ছাগল। আর যে একা আছে সে বাঘ।

ভাই, মনে হচ্ছে বাঘ এখানেই আছে। যেন এক্ষুনি ঝাপিয়ে পরবে।

[ছাগলের মতো আওয়াজ করে]

ঠিক আছে। আমরা ছাগল আর তুমি বাঘ। এবার তোমার খেলা দেখায় দেখি।

তোমাদের মনের বাসনা পূরণ হোক।

আমি এই খেলাটা জানি না।

কে এটা? কি হচ্ছে এখানে?

দাদা, দেখো এই হচ্ছে সে। ওই লোকটা।

গোরা!

আমার নাম অখণ্ড রুদ্র সিকন্দর গোরা।

আমার গন্তব্য কৈলাশ পাহাড়।

আমি খুলি নিয়ে খেলা করি।

ত্রিশূল আমার অস্ত্র।

দুষ্টের দমন আমার কর্ম।

আমি যোদ্ধা।

আমি মহাদেবের যোদ্ধা।

তো? আমাদের মারলে কেন, আমরা জুয়া খেলেছি বলেছি?

তোমরা জুয়া খেলেছো বলে মারিনি। তোমরা মূর্তিটা সরিয়েছো বলে মেরেছি।

যদি ভুল করি তাহলে বলো। তাই বলে দাঙ্গা করবে?

ওরা কি বাচ্চা নাকি যে আমাকে ওদের চকোলেট খাইয়ে কিছু শেখাতে হবে?

যদি দেবত্বের সাথে ঝামেলা করো তাহলে মুখ ভেঙে যাবে।

ব্যাপারটা কি? যখনই কথা বলো, ত্রিশূল নিয়ে ভয় দেখাও। তুমি কি মারতে চাও?

তোমার মতো গাধা, যার সম্মান নেই, তাকে মারতে ত্রিশূল লাগবে কেন?

গাধা?

এটা আমাদের গ্রাম, আমাদের জায়গা ও এটা আমাদের ইচ্ছা।

আমরা সেটা করবো যেটা করতে ইচ্ছা হবে।

-এই মন্দিরটা তুমি বানিয়েছো? -না।

তাহলে, যেটা অন্য কেউ বানিয়েছে সেটা তুমি কি ভাবে ধ্বংস করতে পারো?

তুমি জানো যে একটা মন্দির প্রতিষ্ঠা করতে কতো খাটুনি খাটতে লাগে?

এবং সেখান থেকে কতোটা শক্তি উৎপাদন হয়?

মন্ত্র জপ, প্রার্থনা, পুজা, ঈশ্বরের বাণী, এই ভূমির পবিত্রতা হিসাব করে...

...বেদ, ধর্ম, শুরু এবং সজ্জার গ্রন্থ, পুজোর মন্ত্রের গ্রন্থ...

...যে নিয়মাবলী মেনে পুজো হবে...

...এই সব কিছু কে পরীক্ষা করা হয়।

এই ভূমির শক্তি ক্ষমতা মেপে তারপর গঠন বানানো হয়। তখন এটাকে মন্দির বলে।

মন্দিরের অন্তস্তলে যে মূর্তি বসে তার মান আর মহিমা জানো তোমরা?

এই কলিযুগের ভগবান ভেঙ্কটেশ, আসেন সব মানুষের সমভাব শেখাতে।

ভগবান শ্রী রাম আসেন ধর্মের নীতি পাঠ শেখাতে।

ভগবান শ্রী কৃষ্ণ আসেন জীবনের সত্য শেখাতে।

ভগবান শিব আসেন আত্মার নীতি শেখাতে।

ভগবান অঞ্জনেয়া আসেন সাহস যোগাতে।

শুভ সূচনার জন্য ভগবান গণেশ।

সম্পদ ও সমৃদ্ধির জন্য মা লক্ষী। জ্ঞানের জন্য সরস্বতী।

মা দেবী আসেন সমস্ত দেব দেবতাদের শক্তি এই বিশ্ব কে দিতে।

পুরোহিত মন্দিরে অবস্থিত দৈব শক্তিকে ডাকেন তোমাদের সুরক্ষিত রাখার জন্য।

আর সেই ঐশ্বরিক শক্তি রুপি মূর্তি গুলো নিয়ে তোমরা ছেলে খেলা করছো?

ঠিক আছে। মেনে নিলাম তুমি ঠিক বলছো।

কিন্তু, আজকের দিনে বিজ্ঞান অনেক উন্নত হয়েছে।

তুমি এক ভগবান কে এতো গুরুত্ব দিচ্ছো কেন?

তোমার কোনো মর্মান্তিক রোগ হলে তুমি কোথায় যাও?

হাসপাতালে।

তাহলে, একটা হাসপাতালের সামনে মন্দির থাকে কেন?

এমন কি ডাক্তাররাও কারুর প্রাণ বাচানোর জন্য ভগবানের কাছে প্রার্থনা করে, সহায়তা চায়।

কেন?

কারন তারা বিশ্বাস করে যে প্রত্যেকটা কর্মেতে ভগবানের ইচ্ছাশক্তি আছে।

আর যে সমস্ত বৈজ্ঞানিক দের তোমরা জয় জয় কর করো...

শ্রী হরি কোটা থেকে রকেট পাঠালেও তার প্রথম নকশা ভগবানের পায়ে রেখে নির্দেশিকা চায়।

কেন করে সেটা?

কারন ওরা বিশ্বাস করে যে ভগবান সাথে আছে ও ওদের উদ্দ্যেশে সফল হতে সাহাজ্য করবে।

ভগবান হচ্ছে সমস্ত সৃষ্টির পিতা। আর প্রকৃতি হচ্ছে মাতা।

ও সেই মিলন থেকে যে শিশু জন্ম নেয় তা হলো জ্ঞান ও বিজ্ঞান।

এটাই সত্যি। শিখে নাও।

ভগবানকে তোমার সামনে এসে দেখা দিতে না বলে তার করুণা চাও।

প্লীজ ম্যাডাম, প্লীজ।

স্যার, প্লীজ।

না, এটা সম্ভব নয়।

প্লীজ ম্যাডাম, প্লীজ। আপনি প্লীজ গাড়ি তে উঠুন ম্যাডাম।

আপনিও। প্লীজ, প্লীজ।

-ম্যাডাম প্লীজ। -স্যার, স্যার, স্যার।

আমরা জানি, আমরা জানি।

আপনি বসুন।

দেখো একটা হাসপাতালে বিভিন্ন এলাকার মানুষ ভর্তি থাকে

তাই ওখানে বিস্ফোরণ হলে সব এলাকার মানুষেরই মৃত্যু হওয়ার কথা ছিলো।

কিন্তু ওখানে মৃত সবাই একই অঞ্চলের বাসিন্দা।

আমি তোমাকে সেটার রিপোর্ট বানাতে বলেছিলাম।

হ্যা, স্যার। তৈরি হয়ে গেছে।

শোনা গেছে ওখানে যারা ভর্তি হয়েছিলো, সবাই বিকিরণ বিষক্রিয়ায় ভূগছিলো।

যেটা নাকি বরোদা মাইন্স থেকে হয়েছে।

কিন্তু এটা ঠিক তথ্য নয়, স্যার।

আমি নিজে ওই খনি তে গেছিলাম তদন্ত করে দেখতে।

ওটা শুধু মাত্র একটা তামার খনি।

ওখানে বিকিরণের কোনো উপস্থিতি হতেই পারে না, স্যার।

-তুমি নিশ্চিত হয়ে বলছো? -হ্যা, স্যার।

হ্যালো।

আচ্ছা?

ক্যামেরা গুলো সরাও।

আমি বুঝতে পারছি না যে তুমি একজন চাষা না একজন অপরাধী।

কারন এই এক্ষুনি, আমাকে কেউ ১০০ কোটি টাকা দেবে বলেছে তোমাকে মারার জন্য।

এটা এটা বিশাল সংখ্যা। আমার ওজনের দ্বিগুণ।

কিন্তু এই ফোনটা শুধু আমাকে করা হয় নি।

আমি নিশ্চিত এটা আরো বেশ কয়েকজন কে করা হয়েছে।

কথায় আছে যে সমাজ কে বাচিয়ে রাখে ভগবান আর বন্দুক।

ভগবান হয়তো এরকম কোনো প্রস্তাবে প্রলুব্ধ হবে না।

কিন্তু কোনো বন্দুক ধারি নিশ্চয়ই হবে।

আমি এই মামলাটার সমাধান করতে এসেছি। এটার পরিণতি তোমার মৃত্যু যেন না হয়।

কি হয়েছিলো বলো?

সেই এক নীরবতা!

ওর আমাকে তোমাকে মারার কারন বলবে না।

তুমি আমাকে ওরা কেন মারলো সেটা বলবে না।

তাহলে সত্যিটা কে বলবে?

কে বলবে আমাকে সত্যিটা?

জয় জয় শিব শংকর!

স্যার, বরোদা মাইন্সের কাজকর্ম কোনো তামার খনন নিয়ে নয়।

ওরা বিপজ্জনক ইউরেনিয়াম খনন করে।

আমার কাছে এই সংক্রান্ত সমস্ত রকম জরুরি প্রমাণ আছে।

ওরা ভয় পেয়ে গেছে যে মুরলীকৃষ্ণ এটা বাইরে ফাঁস করবে তাই ওর সাথে এই সব করছে।

স্যার, আমি এই ফাইলপত্র নিয়ে ওখানে পৌছচ্ছি এক ঘন্টার মধ্যে।

আমি কৃষণামাচার্যের সাথে দেখা করতে চাই।

কথায় আছে যে কোনো মহিলা বেশি মুখ খুললে, যুদ্ধ লেগে যেতে পারে।

তুই মুখ খুললি। হাজারো বাচ্চার প্রাণ গেল।

এবং আর একজন হেফাজতে। হাজারো হাজারো মানুষ মাটি চাপা পরে গেছে।

আর কোথা থেকে কে একজন এসে আমার ভাইকে হত্যা করে আমাকে খুব বিরক্ত করেছে।

আর যখন আমি তাকে পাল্টা জবাব দিতে ব্যস্ত,

ইতিমধ্যে তুই তোর খেল দেখাতে আরম্ভ করলি।

-এই। -মা!

না!

তুই আমাকে থামাতে চলেছিলি? আয় দেখি।

-মা! -না।

না! ওকে ছেড়ে দাও, ও একটা শিশু। তোমার রাগ আমার ওপর।

তোমার যা করার আমার সাথে করো। আমার বাচ্চাটা কে ছেড়ে দাও।

-ওর ওপর অত্যাচার করো না। -মা!

ওর ছেলে যেন এটা দেখতে পায়।

দেখ।

মা!

না!

মা!

যেহেতু তুই কোনো সরকারী বিভাগে আছিস আর তোর মাথায় জনসেবার ভূত চেপে...

...আছে বলে যদি তুই মনে করিস যে তুই আমাকে প্রশ্ন করার বা থামানোর...

...ক্ষমতা রাখিস, তাহলে তার পরিণতি এরকমই হবে।

যা গিয়ে যা পারিশ করে নে। এই বাচ্চাটা কে নিয়ে চল তো।

হর হর মহাদেব।

তুমিই একমাত্র একজন যে ওর জন্ম ও জীবনযাত্রার সব কিছু জানো।

তাহলে তুমি নিশ্চয়ই এটাও জানো যে ও কি ভাবে মরতে চলেছে, তাই না?

সেই কারনেই আমি এটা এনেছি।

যখন কোনো হরিণকে ২৫ টা চিতা ঘিরে...

...ধরে, ওরা একসাথে ওর ওপর ঝাপিয়ে পড়ে।

তারপর যখন ওরা একে একে হরিণটার শরীর থেকে হাড় আর মাংস টেনে ছিড়ে ফেলে,

তখন হরিণটার কি অবস্থা হয়?

আর যদি ওখানে হরিণের জায়গায় একটা সিংহ থাকে তাহলে?

ততক্ষণ অবধি, এই প্রতিহিংসাপরায়ণ সিংহটি ওর রাগ, কষ্ট, ক্রোধ, লালসা,

অহংকার কে ধামা চাপা দিয়ে রেখেছিলো।

একবার সিংহটি চোখ খুলে ওর জ্বলন্ত দৃষ্টি দিয়ে চারিদিক চেয়ে দেখলো।

ভেবে দেখো যদি মহাদেব নিজে কোনো ধনুকে পরিণত হয়, সাথে বিষ্ণু ওর অস্ত্র করে।

এবং শ্রী হরি কে নিজের বর্ম বানিয়ে যুদ্ধ শুরু করে।

তাহলে কেমন দেখতে লাগবে?

-আমি বরোদা রাজুলু। -ও স্বয়ং মহাদেব শিব।

-ও মরতে চলেছে। -ও আসছে এখানে।

-আসতে বলো। -এসে গেছে।

অখণ্ড!

মা!

মা।

কেঁদো না, মা।

ওঠো। কেঁদো না।

মা, দেখো এদিকে। দেখো, মা।

ও তোকে আমার মৃত্যু দেখিয়েছিলো তো। এখন ঈশ্বর তোকে ওর মৃত্যু দেখাবে।

দেখ ওদিকে।

আমার একটা খনি আছে।

আমি অহংকারী।

আমার ভক্তরা আছে।

আমার একজন শিক্ষা গুরু এবং একজন টাক মাথা লোক আছে।

যদি তুই এই সব অজুহাত দেখিয়ে মাতৃভূমির সাথে নোংরামি করিস...

...তাহলে তোর মুলাধার চক্র ধ্বংস হবে।

তোর স্বাধিষ্ঠান চক্র ধ্বংস হবে।

তোর মনিপুর চক্র ধ্বংস হবে।

তোর অনাহত চক্র ধ্বংস হবে।

তোর বিশুদ্ধ চক্র ধ্বংস হবে।

তোর আজ্ঞা চক্র ধ্বংস হবে।

তোর সহস্রার চক্র ধ্বংস হবে। ওং নমো শিবায়!

এই সব কিছু মহাদেব শিবকে অর্পণ করি।

প্রচুর মানুষ আজকে এখানে প্রাণ হারিয়েছে। আরো একজনকে হারাতে চাও কি?

বন্দুক নিচে করো। বন্দুক নিচে করো।

এই সমস্ত রক্তারক্তির কারন কি?

আমি কোনো মানুষ হত্যা করিনি।

আমি দূষণ মুক্ত করেছি।

প্রকৃতিকে দূষিত করা এই সমস্ত পোকামাকড়দের কাজ হয়ে গেছে।

সেই কারনেই আমি এটা শুরু করেছি।

ধুলো ঝাড়া।

বা বলতে পারেন কীটপতঙ্গ পরিষ্কার করা।

জীবাণু মারা।

তুমি চলে যাচ্ছো কেন? ও একজন অপরাধী।

ওকে আমাদের হাতে তুলে দেওয়া উচিৎ ছিলো। ওকে প্রাণে মারলে কেন?

ওকে তোমাদের হাতে তুলে দিলে তোমরা কি করতে?

আমরা ওকে জেলে পুরে দিতাম।

তোমরা ওকে জেলে পুরে দিতে। আমি ওকে নরকে পাঠিয়ে দিয়েছি।

যে এই পৃথিবী আর প্রকৃতিকে তচনচ করে তার বেচে থাকার কোনো অধিকার নেই।

আমরা এদের কে ছাড়বো না।

গলা কেটে ফেলবো।

আগে দৌড় করাবো তারপর গলা কাটবো।

কোনো বাচ্চা বেয়াদপ হলে তার মা কে শাসন করার জন্য কখনো তাকে মারতেও হয়।

তোমার মনে হয় মাতৃভূমি চুপ থাকবে?

সে আমাকে শাসন করতে বলেছে আর আমি সেটাই করেছি।

স্যার হুকুম করুন।

-এক গুলিতে শেষ করে দেব। -এই। দাড়াও।

-এটা তুমি কি করছো? -একটা কুকুরকে বস মানাচ্ছি।

তুই হচ্ছিস গৃহপালিত কুকুর।

শুধু ঘেউ ঘেউ করতে পারিস। গর্জন করতে পারবি না।

তোর একটা ছোট স্কুলে পড়া মেয়ে আছে যার বড়ো হতে বাবার প্রয়োজন পরবে।

তাই তোকে ছেড়ে দিলাম।

একজন তপস্বী হিসেবে যে হিন্দু ধর্মকে তুমি বিশ্বাস করো সেখানে বলে...

...অহিংসা সর্বোচ্চ নৈতিক সুকৃতি।

নিজের ভুল সংশোধন করো।

এটা হচ্ছে সেই পবিত্র স্লোকের অর্ধেকটা যা দিয়ে ক্রোধ কে নিয়ন্ত্রণ করে।

জানতে চাও হিন্দু ধর্ম কি বলে?

অহিমসা প্রমোধর্মাহ ধর্ম হিমসা তদিবচ।

এটার মনে কি জানো?

অহিংসা হচ্ছে মানবজাতির সর্বোচ্চ নৈতিক কর্তব্য।

হিংসাও হচ্ছে সর্বোচ্চ ধর্মের সেবা।

এখানে ঠিক এটাই ঘটেছে।

এখন থেকে, কেউ যদি নিজের সীমা পার করে, তাহলে তার এটাই হাল হবে।

স্যার, আপনি যাই বলুন না কেন...

...আইন অনুযাই, কেউ কাউকে প্রাণে হত্যা সে তাকে অপরাধী হয়।

সেটা আমার জন্য প্রযোজ্য নয়।

আপনার জন্য প্রযোজ্য নয়? আপনি কি আমাদের মতো মানুষ না?

একদম না!

আপনার দুনিয়া আর আমার দুনিয়া এক নয়, অফিসার।

তুমি ন্যায় পদ্ধতি পড়েছো।

আমি ধর্মে বিশ্বাসী।

দুটো এক জিনিস নয়।

তুমি ভগবান কে খুজেই চলো। আমি ভগবানের সাথে থাকি।

দুটো এক জিনিস নয়।

তোমার পরিবার তোমার কাছে তোমার বিশ্ব। আমার কাছে, সারা বিশ্ব আমার পরিবার।

দুটো এক জিনিস নয়।

তুমি জীবন খোজো। আমি মৃত্যু খুজি।

দুটো এক জিনিস নয়।

তোমরা এতোই নরম যে বরফের টুকরো কিছুক্ষনের জন্য ধরে রাখতে পারো না।

আমরা এতোটাই প্রবল যে আজীবন ওই ঠান্ডা পাহারগুলো তে থেকে যাই।

দুটো এক জিনিস নয়।

তোমরা সমস্যায় পরলে, ভগবানের সাহাজ্য চাও।

আমরা সেই সব সমস্যার সমাধান করি।

ঠিক এই ভাবে।

দুটো এক জিনিস নয়।

তোমরা আজীবন মন্ত্র জপ করে যাও।

আর যখন সেই জীবনে কোনো বিপদ আসে, আমরা যুদ্ধ লড়ি।

খুব ভয়ংকর একটা যুদ্ধ।

♪ উচ্চস্বরে বিষাণ বাজিয়ে বলা হয়েছে ময়লা পরিষ্কার করতে।♪

♪ আমরা মৃত্যু কে ভয় পাই না।♪

♪ ন্যায়পরায়ণতার আওয়াজ যুদ্ধে পরিণত হয়।♪

♪ যে কোনো কিছুর জন্য প্রস্তুত।♪

♪ হে হিংস্র মানব, এই পুরো পৃথিবী তোমার খেলার মাঠ।♪

♪ হে জাদুকর, এই পৃথিবীটা তোমার।♪

♪ হে শিব শংকর আসো এসে কষ্ট দূর করো।♪

♪ হে ঈশ্বর!♪

♪ জয় অখণ্ড!♪

♪ তোমার পতাকা পুতে সারা বিশ্বে তোমার জাদু ছড়িয়ে দাও।♪

♪ জয় অখণ্ড!♪

♪ যাদের চোখে ভোরা স্নেহ, তাদের চোখ ভরিয়ে দাও।♪

♪ "এটা কে?" "ওটা কে?"♪

♪ "এর মাথা কেটে দাও, ওর মাথা কেটে দাও।"♪

♪ "দৌড় করাও, খোজ, ভেঙে দাও আর কেটে দাও।"♪

♪ জয় অখণ্ড!♪

♪ তোমার পতাকা পুতে সারা বিশ্বে তোমার জাদু ছড়িয়ে দাও।♪

♪ জয় অখণ্ড!♪

♪ যাদের চোখে ভোরা স্নেহ, তাদের চোখ ভরিয়ে দাও।♪

গুরুজী।

এই বাচ্চাটা কে দেখুন।

কাশী থেকে মন্ত্র তন্ত্রে বিশেষজ্ঞ, কেদারি অগোরি বাবা কে খবর দাও।

কিছু অশুভ জাদুমন্ত্র করা হয়েছে ওর ওপর।

সাধু বাবা!

আসো।

আমি ওর শক্তি খুজে গিয়ে হঠাৎ করেই ওর দুর্বলতা খুজে পেয়েছি।

এবং আমি এমন এক ফন্দি এটেছি যাতে ওর মৃত্যু অনিবার্য।

এতোদিন আমরা একটার পর একটা মার খাচ্ছিলাম তাই তো?

কিন্তু এখন, আমরা মারবো, আর ও মরবে।

সবাইকে নিয়ে আসো।

যেখানে তোমার যত সৈন্য আছে, সবাই কে নিয়ে আসো।

এটাই শেষ সুযোগ। তাই নিজের সমস্ত শক্তি কাজে লাগিয়ে দাও।

তুমি এই সম্পর্কটার মধ্যে জড়িয়ে গেছো।

আর ওরা সেখানে তোমার দুর্বলতা খুজে পেয়েছে।

তুমি কি জানো না যে আমাদের যাত্রায় সম্পর্কের কোনো জায়গা নেই?

আমার গন্তব্য মহাদেব শিব।

যে উদ্দেশ্যকে তুমি প্রাণ দিচ্ছো, যদি বিনিময় তোমার নিজের প্রাণ যায়?

চলুন শুরু করি।

অগ্নি বলিদানের ক্রিয়া কর্মের জন্য সব কিছু প্রস্তুত করো।

অখণ্ড!

সব চেয়ে শক্তিশালী বল, যা অসম্ভব কে সম্ভব করে তুলতে পারে এই বিশ্বে...

...যে নবগ্রহ কে এক হওয়ার আদেশ দিতে পারে...

...এবং তারার নক্ষত্রপুঞ্জকে হুকুম করতে পারে...

...সেটা শুধু মাত্র সম্ভব ঈশ্বরের কাছে নিজেকে সমর্পণ করেএবং নিজের বলিদান দিয়ে।

ভগবান শিব যে সব কিছু ধ্বংস করে, আমাদের জীবন রক্ষার জন্য...

...তার দেওয়া, এটা সব চেয়ে শক্তিশালী অস্ত্র।

যে মহা প্রভু ব্রহ্মার লেখা ভাগ্যের যাত্রাপথ কে পাল্টাতে পারে...

...যে সবাই কে এই বিশ্বে তাদের মৌলিক আকারে ফিরিয়ে আনতে পারে।

এটাই একমাত্র রাস্তা পরমেশ্বর কে আমাদের আবেদন জানানোর।

কিন্তু শেষ পরিণতি কি হবে, সেটা শুধু পরমেশ্বরের ইচ্ছার ওপর নির্ভর করবে।

রুদ্র,

যতক্ষণ না এই ক্রিয়া শেষ হবে,

ততক্ষণ তুমি এই শিব পঞ্চাক্ষরী মন্ত্রের কয়েদি হয়েই থাকবে।

এই ক্রিয়ার রক্ষাকর্তা শুধুই তুমি।

ইচ্ছাশক্তিটা তোমার, কিন্তু সিদ্ধি মহাদেব শিবের।

শুরু করো!

গাওয়া!

ও এখন শিব পঞ্চাক্ষরী মন্ত্রের কয়েদি হয়ে একদম তালাবদ্ধ হয়ে আছে।

যতক্ষণ না ওই বাচ্চাটির প্রাণ ফিরবে,

ততক্ষণ না ও জপ করা বন্ধ করতে পারবে, না একটুও নিজের মাথা ঘোরাতে পারবে।

যদি মহাদেব স্বয়ং এসে ওকে ডাকে, তবুও ও উঠতে পারবে না।

তাই এরই মধ্যে, মৃত্যুর ওকে ছুয়ে যাওয়া উচিৎ।

শুরু করো!

ওকে এখানে ওখানে মারছো কেন? সোজা মাথায় তাক করো।

ব্রুগু!

গাওয়া,

ও কিন্তু ওর জপের শেষ পর্যায় চলে এসেছে প্রায়।

তোমাকে এখনই ভগবানের থেকে ওর ধ্যান সরাতে হবে।

দ্বয়া!

সোনামনি!

অখণ্ড।

ক্রিয়া সম্পন্ন হয়েছে।

বাচ্চাটি বেচে উঠেছে!

অন্য কিছু একটা তো হয়েছে।

ও আর মানুষের পর্যায় নেই।

ও এখন স্বয়ং মহাদেব শিব।

ওকে থামাতে হবে। চারিদিক থেকে ঘিরে ধর ওকে।

তার মস্তিষ্কে মা গঙ্গা।

কপালে অগ্নি।

কন্ঠে বিষ।

প্রকৃতি সারা বিশ্বকে নিজের গর্ভে ধারন করে।

আর তার সাথে তোরা ছেলেখেলা করিস?

তোদের সাহস হয় কি করে যে তোরা পরমেশ্বরের পবিত্র রুপি নিষ্পাপ শিশুদের...

...প্রাণ নিস?

তোদের সাহস হয় কি করে আজ্ঞা চক্র কে ছোয়ার?

বাবা।

বাবা।

বাবা, মা-ছেলের বন্ধন সাত জন্মের হয়।

স্যার, প্লীজ। স্যার, স্যার, প্লীজ একবার শুনুন।

সাধু বাবা।

সাধু বাবা।

সাধু বাবা।

সাধু বাবা। তুমি কোথায় যাচ্ছো? তুমি কবে আবার ফিরে আসবে?

তুমি চলে যাচ্ছো বলে সবার মন খারাপ।

তোমার মন খারাপ হচ্ছে না?

আমার মনে কোনো বাসনা নেই, মা।

তাহলে আমার কি হবে?

আমার জন্মের মুহুর্তেই ভগবান শিব আমার সাথে সম্পর্ক, স্নেহ...

...বন্ধুত্ব এবং শত্রুতার সব বন্ধন কেটে দিয়েছে।

ভগবান শিব কি আমার সাথে তোমার সম্পর্কও ভেঙে দিয়েছে?

আমাকে মা বলেছে।

যে আমার মধ্যে যে আত্মাটা আছে সেটা তোমার!

তুমি চলে গেলে, ওটাও তোমার সাথে চলে যাবে।

এরকম বলতে নেই, সোনামনি।

আমাকে ছেরে যেও না, সাধু বাবা।

আমাকে ছেরে যেও না, সাধু বাবা।

সাধু বাবা, যেও না।

সাধু বাবা, যেও না।

আমি তোমার সাথে থাকতে চাই, সাধু বাবা।

সাধু বাবা, যেও না।

আমি তোমাকে কথা দিলাম, সোনা মা আমার।

তুমি যদি কখনো সমস্যায় পরো বা ভয় পাও

বা কষ্ট পাও, বা ধ্বংস বা মৃত্যুর সম্মুখীন হও...

...আমি যেখানেই থাকি না কেন, যে অবস্থাতেই থাকি না কেন,

এক মুহূর্তের মধ্যে তোমার সামনে চলে আসবো।

এটা আমার প্রতিজ্ঞা তোমাকে।

বাবা [সাধু পুরুষ]

Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.