Afrikaans
Akan
Albanian
Amharic
Arabic
Armenian
Azerbaijani
Basque
Belarusian
Bemba
Bihari
Bosnian
Breton
Bulgarian
Cambodian
Catalan
Cebuano
Cherokee
Chichewa
Chinese (Simplified)
Chinese (Traditional)
Corsican
Croatian
Czech
Danish
Dutch
English
Esperanto
Estonian
Ewe
Faroese
Filipino
Finnish
Frisian
Ga
Galician
Georgian
German
Greek
Guarani
Gujarati
Haitian Creole
Hausa
Hawaiian
Hebrew
Hindi
Hmong
Hungarian
Icelandic
Igbo
Interlingua
Irish
Italian
Javanese
Kannada
Kazakh
Kinyarwanda
Kirundi
Kongo
Korean
Krio (Sierra Leone)
Kurdish
Kurdish (Soranî)
Kyrgyz
Laothian
Latin
Latvian
Lingala
Lithuanian
Lozi
Luganda
Luo
Luxembourgish
Macedonian
Malagasy
Malayalam
Maltese
Maori
Marathi
Mauritian Creole
Moldavian
Mongolian
Myanmar (Burmese)
Montenegrin
Nepali
Nigerian Pidgin
Northern Sotho
Norwegian
Norwegian (Nynorsk)
Occitan
Oriya
Oromo
Pashto
Persian
Polish
Portuguese (Brazil)
Punjabi
Quechua
Romanian
Romansh
Runyakitara
Russian
Samoan
Scots Gaelic
Serbian
Serbo-Croatian
Sesotho
Setswana
Seychellois Creole
Shona
Sindhi
Sinhalese
Slovak
Slovenian
Somali
Spanish (Latin American)
Sundanese
Swahili
Swedish
Tajik
Tamil
Tatar
Telugu
Thai
Tigrinya
Tonga
Tshiluba
Tumbuka
Turkish
Turkmen
Twi
Uighur
Ukrainian
Urdu
Uzbek
Vietnamese
Welsh
Wolof
Xhosa
Yiddish
Yoruba
Zulu
Bangla Subtitle Created By :.:.: AKASH BASAK :.:.:
ইউনিফর্ম আমাদের থেকেই কিনতে হবে।
এর জন্য অতিরিক্ত চার্জ লাগবে, সেটাও এই মাসের মধ্যে শোধ করে দিতে হবে।
কেবল ২০%-ই চেকে দিতে পারবেন।
বাকি টাকা নগদে দিতে হবে।
- আচ্ছা, স্যার। - হ্যাঁ। এরপর?
- NEET, তাই তো? দিন। - জি, স্যার।
Sin² + Cos² x = Sin²x + Cos² x (1 - Sin²x)
যদি, fx = Cos²x হয়...
তাহলে f(২০২২) কত হবে?
এই ফর্মুলাটা ব্যবহার করে সমাধান করবে।
আজকের হোমওয়ার্ক।
সবাই টুকে নাও।
সোমবারে করে আনবে।
ক্লাস শেষ?
কিছুই মাথায় ঢুকলো না।
তার ওপর কিনা হোমওয়ার্ক'ও দিয়ে দিয়েছে।
তুমিই বলো কী করা যায়!
অভি এখানে সই কর।
মা, ইনি কে?
আমাদের ভিডিও শপ'টা বিক্রি করে দিচ্ছি।
- কেন? - কেন?
কী মনে করিস বলতো?
যা নম্বর পেয়েছিস, তাতে কক্ষনো ইঞ্জিনিয়ারিং-র সিট চান্স পাবি না।
সেজন্য সেটাকে কিনতে হবে।
তার টাকা কোত্থেকে আসবে শুনি? কিছু একটা তো বিক্রি করতে হবে, তাই না?
যখন পড়তে বলতাম, শুনতিস তো না। কিন্তু এখন প্রশ্ন করে যাচ্ছিস।
মুত্থু ভূপতি জন্ম: ২০-০৬-১৯৫৩ মৃত্যু: ০৭-১০-২০১০
এটা শহরের সর্বপ্রথম ভিডিও স্টোর।
আর শেষ'ও এটাই হতে চলেছে। এটাও বন্ধ হয়ে যাচ্ছে।
- সবকিছুর জন্য আমি দায়ী। - এত বেশি ভাবিস না তো, ভাই।
তারা এটা বিক্রি করছে যাতে একজন ভালো ইঞ্জিনিয়ার হয়ে উঠতে পারিস।
শেষবার কবে দোকান খুলেছিলি রে?
কত্ত ধুলো উড়ছে এখানে।
- এই, অভি? - হ্যাঁ?
তোর দাদু'র কালেকশনগুলো দেখ।
- এটা তার কালেকশন হতে পারে না। - কী যে বলিস না, ভাই।
এগুলো পাওয়া আজকাল দুষ্কর ব্যাপার রে, ভাই!
এগুলো ইন্টারনেটে খুঁজলেও পাবি না।
- আচ্ছা চল আরো খুঁজে দেখি। - হ্যাঁ।
এটা কী?
কী এটা? এটাকে সে লুকিয়ে রেখেছিল কেন?
দেখি।
আলবাৎ কোনো নায়িকার পানু।
- নায়িকা... - সেজন্যই তোর দাদু এটা এখানে লুকিয়ে রেখেছে।
হ্যাঁ।
- টিভি'টা নিয়ে আয়। - আচ্ছা।
- এই, সাউন্ড কমা, শালা! - হ্যাঁ।
এটা কে রে, ভাই?
হিরো!
ক্লাস নিচ্ছে কেন?
অনেক পুরানো ভিডিও এটা।
তারা কখনো সরাসরি মূল পয়েন্টে আসবে না।
শেষে গিয়ে দেখাবে।
আগে গল্পটা বলবে।
তারপর চিত্রনাট্য!
আর তারপর গায়ে কাটা দেয়া সিন দেখাবে।
পুরো খাপেখাপ।
কতক্ষণ লাগবে রে, ভাই?
কাট না।
হ্যাঁ।
- এই! এক মিনিট! - হ্যাঁ।
আগে নে।
এবার থামা।
এটা আজকের ক্লাসে দেয়া হোমওয়ার্ক'টা না?
- কী? - হোমওয়ার্ক?
সাউন্ড বাড়িয়ে চালা তো।
f(x) = Cos²x + (1- Cos²x)²
Sin²x + Cos^4x
Cos²x +…
এখানে (a+b)^2-র ফর্মূলা ব্যবহার করতে হবে...
Sin²x +…
একদম জলের মতো বোঝাচ্ছে!
- হ্যাঁ রে। - কে রে এটা?
এ.এম. কুমার।
৪ই মে, ২০০০।
সুজাভারাম?
এটা কোথায় রে?
- এখান থেকে কেবল ৪০ কিলোমিটার দূরত্বে। - যাবি ওখানে?
কেন বলতো?
এই লোকটার কাছে পড়লে, আমরা নিশ্চিত ভালো নম্বর তুলতে পারবো।
তাহলে আমাদের বাবা-মা কিছু টাকা-পয়সা'ও সাশ্রয় করতে পারবে।
- সত্যি? - হ্যাঁ রে।
চোলাবারাম ৫ কিলোমিটার
সরকারী উচ্চবিদ্যালয়
চোলাবারামে স্বাগত
এ.এম. কুমার স্যারের বাড়ি কোনটা?
কুমার, ওরা তোর বাড়ির ঠিকানা চাইছে।
এই পুচকে, ওর নয়।
তিনি একজন বয়স্ক মানুষ। তার বয়স ৫০-র কাছাকাছি হবে।
এই গ্রামে তো অনেক কুমার'ই থাকে। কোন কুমারের কথা জিজ্ঞেস করছো?
কাকিমা, প্রায় ২০ বছর আগে, কুমার নামের একজন শিক্ষক পড়াতেন।
এক কাজ করো, সরকারি স্কুলে একজন পিওন কাজ করতো, তাকে জিজ্ঞেস করো।
ও কোনো শিক্ষক ছিল না।
ও আমাদের স্কুলে পড়তো।
ও এখানে ছয় মাসে-নয় মাসে একবার আসে।
তাকে এখন কোথায় পাওয়া যাবে?
অন্ধ্র'তে।
ও কাড়াপা জেলার কালেক্টর।
কালেক্টর?
সে আমাদের পড়াবে?
দেখাই যাক না একবার।
একটু শুনবেন?
- জি, বলুন! - আমরা ভেলোর থেকে এসেছি।
আমরা শুধু কালেক্টর স্যারের সাথে দেখা করতে চাই।
৩ ঘন্টা পর
এটা সে নয়। এখান থেকে চল।
এই, ইনিই তো কালেক্টর।
তো? আমরা যাকে খুঁজতে এসেছি এটা সে নয়।
এই! উনি আমাদেরই দেখছেন।
হ্যালো? কী ব্যাপার?
কে তোমরা?
এদিকে এসো।
নিজের মর্জিমাফিক যেতে-আসতে পারো না।
কী হয়েছে বলো?
স্যার, আমরা ভেলোর থেকে এসেছি।
আচ্ছা?
সম্প্রতি ওর দাদু'র ভিডিও স্টোর'টা খালি করছিলাম।
ভিডিও স্টোর?
তোমার দাদু'র নাম কী?
স্যার, ভূপতি।
তুমি মি. ভূপতি'র নাতি?
আরে, বসে পড়ো।
স্কুল লাইফে তোমার দাদু'র সাথে আমার বেশ সখ্যতা ছিল।
আমি তার অন্তিম সংস্কারে তোমাদের বাড়ি এসেছিলাম।
মনে হয় তুমি তখন ক্লাস ফোর না ফাইভে পড়তে।
ফোরে পড়তাম, স্যার।
আচ্ছা বলো, কীসের জন্য এসেছো?
তার দোকানটা পরিষ্কারের সময়, এই ক্যাসেটগুলো পেয়েছিলাম।
চালিয়ে দেখলাম একজন ব্যক্তি ক্লাস নিচ্ছেন।
তার ব্যাপারে আরো বিস্তারিত খোঁজার পর, একটা কার্ড পেলাম।
সেই কার্ডে আপনার নাম ছিল।
সেকারণেই আমরা...
ভিডিও'র ব্যক্তিটা কে?
আমার শিক্ষক।
বালা স্যার।
৯০-র দশকে বেসরকারীকরণ নীতি'র ফলে আমাদের দেশে আয় বৃদ্ধি পায়।
মানুষের জীবনযাপনে উন্নতি আসে।
সবাই ভেবেছিল লেখাপড়া তাদের জীবনযাপনে উন্নতিসাধন করবে।
ইঞ্জিনিয়ারিং আর মেডিকেলের মতো পেশাদারী কোর্সের চাহিদা বাড়তে থাকে।
কিছু বেসরকারী স্কুলের মালিকেরা এর সুবিধা নিয়ে, লেখাপড়া'কে একটা ব্যবসা হিসেবে মার্কেটিং করা শুরু করে।
সব জায়গায় তারা TNPCE কোচিং সেন্টার চালু করে...
আর আর মানুষের মাঝে শিক্ষাব্যবস্থায় দেদারসে নগদীকরণ চালু করে।
উচ্চস্তরীয় শিক্ষা প্রদানের নাম করে, তাদের স্কুলগুলোতে তারা মাইনে বাড়িয়ে দেয়।
একই সময়ে, রাজ্য সরকার সরকারী স্কুলগুলো চালাতে পারছিল না।
সরকার শিক্ষকদের ঠিকমতো বেতন'ও দিতে পারছিল না।
সেজন্য সেসব শিক্ষকেরা বেসরকারী স্কুলে শিক্ষকতা করতে শুরু করে,
আর TNPCE কোচিং সেন্টারগুলো অভিজ্ঞ শিক্ষকদের মোটা টাকা'র বেতন দিতো।
শিক্ষক কম পড়ে যাওয়ায়, সরকারী স্কুলগুলো বন্ধ হয়ে যায়।
তাই বহু দরিদ্র শিক্ষার্থীরা লেখাপড়া থেকে বঞ্চিত হতে থাকে।
সেজন্য তাদের অভিভাবকেরা প্রতিবাদ শুরু করে।
বিরোধী পক্ষের রাজনৈতিক দলনেতারা তাদের সাথে সামিল হয়ে পড়ে।
তারা সবাই সরকারী স্কুলগুলো বন্ধ হয়ে যাওয়া ও বেসরকারী স্কুলগুলোর...
অর্থ কুক্ষিগত করার মনোভাবের বিরুদ্ধে প্রতিবাদ করতে থাকে।
- শিক্ষামন্ত্রী! - হায়, হায়!
- শিক্ষামন্ত্রী! - থামুন রে, ভায়া।
আরে, থামুন।
মধ্যবিত্ত মানুষদের এসবের সামর্থ্য আছে?
শুনুন, ভাই...
কেবল ৫০০০ টাকায় আমার পুরো পড়াশোনা চালিয়েছি।
আওয়াজ নিচে!
শ্রীণিবাস তিরুপতি।
তিরুপতি স্কুল অ্যান্ড কোচিং সেন্টারের প্রতিষ্ঠাতা,
আর বেসরকারী স্কুল অ্যাসোসিয়েশনের সভাপতি।
উচ্চমাধ্যমিক স্কুলগুলো চালাতে সরকার বিপত্তি'র মুখে পড়ছিল।
নিন্দা এড়াতে সরকার 'বেতন নিয়ামক বিল' অনুমোদিত করার পরিকল্পনা করছিল।
এতে বহু বেসরকারী স্কুল ও কোচিং সেন্টার বন্ধ হয়ে পড়তো।
কোনোভাবে তিরুপতি এটা জানতে পেরে যায়...
সেজন্য সে একটা তুখোড় পরিকল্পনা বানায়।
সাংঘাতিক দূরদর্শীসম্পন্ন একজন ব্যক্তি।
সে দ্রোণাচার্য হলে, গুরুদক্ষিণা হিসেবে সে...
একলব্যের দশটা আঙুলই চেয়ে বসতো।
সমস্ত বেসরকারী উচ্চমাধ্যমিক স্কুলগুলোকে,
সরকারী স্কুলগুলোর সাথেই চালানো হবে।
আমাদের এলাকার শিক্ষকহীন সরকারী স্কুলগুলোকে,
বেসরকারী স্কুল অ্যাসোসিয়েশন দ্বারা চালানো হবে।
সেখানে আমাদের সবচেয়ে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের দিয়ে পড়াবো।
আমরা উৎকৃষ্ট শিক্ষা প্রদান করবো।
আমি সরকারী স্কুলগুলো চালাবো শ্রীণিবাস তিরুপতি
- এটা কীভাবে সম্ভব? - আমাদের লোকসান হবে।
- এ তো অসহিষ্ণুতা। - আমরা এটা মানতে পারবো না।
শান্ত হোন!
এত ভয় পাচ্ছেন কেন?
এসব কী, তিরুপতি?
কোন আক্কেলে একটা লাইভ প্রোগ্রামে এমনকিছুর প্রতিশ্রুতি দিয়ে বসলেন?
চুপ হতে বললাম তো।
মন্দিরে গেলে আমি ভিখারিদেরও ভিক্ষা দিই না।
তাহলে লোকসানে থেকে কোনো পদক্ষেপ কীজন্য নেবো?
আমাদের দেশের আইন অনুযায়ী,
শিক্ষা হলো অলাভজনক সেবা।
ছোটখাটো ফাঁকফোকরের মাধ্যমে আমরা ব্যবসা করছি।
একটা 'বেতন নিয়ামক বিল'-ই আমাদের ব্যবসায় লালবাতি জ্বালানোর জন্য যথেষ্ট।
কী মি. শ্রীণিবাসান?
সীণু কোচিং সেন্টার।
বার্ষিক ৪৫০০০ টাকা।
তারা একটা নোটিশ পাঠিয়ে আপনাকে মাত্র ৬,০০০ টাকা...
পারিশ্রমিকই নিতে বলার আদেশ দিলে ভালো হবে তো?
কী IIT রামানান স্যার?
পারিশ্রমিকের ৮০% টাকাই নগদে নেন, তাই না?
কালো টাকা।
এই বয়সে আয়কর বিভাগ হানা দিলে সামলাতে পারবেন তো?
কিন্তু তিরুপতি, যেমনটা প্রতিশ্রুতি দিয়েছেন,
যদি সরকারী স্কুলগুলোতে, আমাদের সবচেয়ে অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পাঠাই,
তাহলে বেসরকারী স্কুলগুলোতে কে আসবে?
বুদ্ধি খাটান, সুধাকর।
কে বলেছে আমাদের অভিজ্ঞ শিক্ষকদের পাঠাবো?
ঠিক বুঝলাম না।
সেখানে আমরা তৃতীয় শ্রেণীর সহকারী শিক্ষকদের পাঠাবো।
উদাহরণস্বরূপ সিনিয়র শিক্ষকদের বদলী হিসেবে, যারা ক্লাস চলাকালীন ডাউট ক্লিয়ার করে...
আর শিক্ষার্থীদের হোস্টেলের চৌকিদার'রা যাবে।
ভলিবলের বাজির ম্যাচ, স্যার।
প্রথমে, তারা ১০০ টাকা বলেছিল।
কিন্তু এখন ১০০০ টাকা চাইছে।
স্যার, আসলে...
- ভাই? - মার রে, ব্যাটা।
ওদিকে মার!
- নমস্কার, ভাই। - কী?
আমার নাম বালা।
বালামুরুগান।
আমি তিরুপতি এডুকেশন ইন্সস্টিউশনের সহকারী শিক্ষক।
অঙ্ক শিক্ষক।
- ওরা আমারই ছাত্র। - তো?
ওরা ভুল করে একটা বাজির ম্যাচ খেলে ফেলেছে।
এইবারের মতো যদি ছেড়ে দাও...
টাকা দিয়ে ওদের ছাড়িয়ে নিয়ে যা।
এক মিনিট।
তোদের কাছে কত আছে?
দে আমায়।
আমরা ১০০ টাকাই এনেছি।
ভাই, আমাদের কাছে মোট ৬০০ মতো আছে।
এটা নিয়ে ওদেরকে ছেড়ে দাও।
আমার অনুরোধটা রাখো!
- প্লিজ! - কাল্টি মার।
ধন্যবাদ, ভাই। লাভ ইউ, ভাই।
শুভরাত্রি, ভাই।
পড়াশুনোর সময়ে এসব কী করে বেড়াচ্ছিলিস?
লম্পটের দল!
চল।
খেলাধূলোয় একটু-আধটু লাগেই, চল।
স্যার, খেলার জন্য লাগেনি। ওরা মেরেছে।
১০০০ না দিয়ে ১০০ দিচ্ছিস?
- ওদের সাইকেলের চাবি আর ব্যাগগুলো আটকে রাখ। - ভাই, প্লিজ ছেড়ে দাও।
টাকা না দেয়া পর্যন্ত ওদের যেতে দিবি না।
- ভাই? - হ্যাঁ?
আমার ছাত্রদের মেরেছো?
হ্যাঁ, মেরেছি। তো?
স্যার, ওভাবে কেন মারলেন?
ওরা হুলুস্থূল কাণ্ড বাধাতে পারে, স্যার।
- স্যার, চলুন। - স্যার, ওরা এসে পড়ছে।
পেন'টা সামলে রাখ।
এই! ছেলেগুলোকে গিয়ে ধর। তাহলেই মালটাকে বশে আনা যাবে।
- ঘড়ি। - স্যার।
আমার পেন'টা?
স্যার!
ওখানে ভগবান বাস করে রে, কুমার!
শুভ সকাল, সকলকে।
একটা উদ্দেশ্যবশত এখানে আপনাদের ডাকা হয়েছে।
বেসরকারী স্কুল অ্যাসোসিয়েশনের পক্ষ থেকে,
আমাদের রাজ্যের সমস্ত সরকারী স্কুল আমরা চালাবো।
সেখানে আপনাদের সকলকে শিক্ষক হিসেবে পাঠাবো।
বেতন বাড়াবে নাকি?
বেতন একই থাকবে।
সেন্টারের ফলাফল থেকে আপনাদের পারফর্মেন্সের বিবেচনা হবে।
ফলাফল অনুযায়ী আপনাদের পুরষ্কৃত করা হবে।
পুরষ্কার হিসেবে কী দেয়া হবে?
- কে বললো? - স্যার!
- স্যার, আমি বালামুরুগান, আদিয়ার বিভাগ। - হেই!
- আপনি একটা পুরষ্কার দেবেন বললেন না? - হ্যাঁ?
সেটা কী বলে দিলে, আমাদের সবার উৎসাহ বাড়বে।
কী লাগবে? নির্দ্বিধায় বলো।
স্যার, ভালো ফলাফল আনতে পারলে, আমাদের প্রমোশন দেবেন।
ঠিক আছে।
তোমার স্কুলের সমস্ত শিক্ষার্থী তোমার পড়ানো সাবজেক্টে পাশ করলে,
প্রমোশন পেয়ে যাবে।
ঠিক আছে, স্যার।
একঘর, স্যার।
ধন্যবাদ, স্যার।
ওদেরকে সত্যিই প্রমোশন দেবেন নাকি?
গতমাসে আমার ড্রাইভার মাইনে না বাড়ালে কাজ ছেড়ে দেয়ার ভয় দেখিয়েছিল,
ওকে কথা দিয়েছিলাম যে, একমাস কোনো অ্যাক্সিডেন্ট না করলে ওর মাইনে বাড়িয়ে দেবো।
এত বছর ধরে ও কোনো অ্যাক্সিডেন্ট করেনি।
কিন্তু এই মাসে গাড়ির তিন জায়গায় তেবড়ে দিয়েছে।
মন উদার না হলে, এমন কোনো চাপ দিয়ে দিতে হয় যেটা তারা নিতে পারবে না।
অথবা জরুরি দায়িত্ব ঘাড়ে চাপিয়ে দিতে হয়।
- এই! এসি চালিয়েছিস? - হ্যাঁ, স্যার।
আজকাল ও আর মাইনের নামই উচ্চারণ করে না।
ও আমার কাছেই কাজ করতে চায়।
ওদের ভাগ্যেও একই জিনিস লেখা আছে।
চিন্তা করো না।
যাও এবার।
- ঠিক আছে? - ঠিক আছে, স্যার।
যখন এই চাকা'টা ঘোরে, এই ছোট'টা...
লঙ্কা গুড়ো কতটা দিতে হবে?
দুই চামচ।
বালা?
কোথাও ও?
- ও কাল চলে যাচ্ছে না? - হ্যাঁ।
সেজন্য আনসারি ভাইয়ের বাড়িতে গেছে।
- এটা কী, মামা? - দিনকয়েক আগে আমার প্রভিডেন্ট ফান্ড পেয়েছি।
ঐ টাকায় ঊটি'তে ৩ একরের জমি কিনেছি।
বড়লোক্স!
প্রমোশন'টা হতে দাও, তখন আমিও এমন কিছু কিনতে পারবো।
- বালা। - হুম?
- একটা কথা মনে রাখিস। - বলো।
শিক্ষকতা কোনো চাকরি নয়।
এটা একটা দায়িত্ব।
তোর বেতনের চেয়ে তোর শিক্ষার্থীদের জীবন অধিক মূল্যবান।
দেখো, কে বলছে?
গান্ধী?
তুমি আর কী বুঝবে?
তোমার আগে-পিছে কেউ নেই, তুমি বিনামূল্যে পড়াতে পারো,
পাহাড়ি এলাকায় জমি-জমা কিনতে পারো।
আমার অবস্থা তোমার মতো নয়।
আমার ঘাড়ে অনেক কর্তব্য আছে!
বেশ, আমার জমি-জমা তোর নামে লিখে দেবো।
তাহলে কি বিনামূল্যে পড়াবি?
আগে তো লেখো। তারপর নয় দেখা যাবে।
স্যার?
বালা স্যার?
হায়, ভগবান!
আবার শুরু করলো!
- এই, আমার ছেলে। বালা স্যার? - হ্যাঁ!
বালা স্যার?
আরে স্যার, বসুন বসুন।
আর কতবার বলবো?
আমায় 'স্যার' বলে কেন ডাকো?
আমি হলাম ড্রাইভার নারায়ণন।
এতবছর, অনিচ্ছা সত্ত্বেও অনেককে 'স্যার' বলে ডেকেছি।
কিন্তু এখন একটা গোটা স্কুল আমার ছেলেকে 'স্যার' বলে ডাকে।
তাই, আমিও তোকে 'স্যার' বলতে চাই।
বালা স্যার!
বাবা, তোমার ছেলে বড়োসড়ো কোনো স্যার নয়।
ছোটখাটো স্যার।
এটা কোনো মহান ব্যাপার নয়।
শিক্ষা প্রদান করা সকলেই মহান হয়।
জয় মা আদিপরাশক্তি!
জয় মা কামাক্ষী!
মা, তোমায় ছেড়ে চলে যাচ্ছি।
বালামুরুগান, স্যার।
ভাই?
- যাওয়া যাক? - কোথায়?
এই যে! সিগারেটটা ফেলে গাড়ি স্টার্ট করো।
- চলো। - হ্যাঁ, চলো।
এই যে! আমি ড্রাইভার নই।
- আমি ড্রাইভার। - ওহ, তুমি?
তোমায় তো ড্রাইভারের মতোই দেখতে! সেজন্য বুঝতে পারিনি।
বালামুরুগান, অঙ্ক শিক্ষক।
কার্তিক, রসায়ন। রয়্যাল উচ্চমাধ্যমিক স্কুল।
আমি প্রকাশ রেড্ডি, ভৌতবিজ্ঞান।
- আমার বাড়ি পন্ডিচেরিতে। - হ্যালো!
কিছুদিন আগে আমার হাইড্রোসিল অপারেশন হয়েছে। [Hydrocele - হাইড্রোসিল হলো অন্ডকোষের একটি নির্দিষ্ট ধরনের ফোলাভাব।]
সেজন্য বেশি ভারী জিনিস তোলা বারণ রয়েছে।
- একটু সাহায্য করবে? - হায়, ভগবান!
আরে নিশ্চয়, আমি তুলে দিচ্ছি, ভাই।
কোনো ব্যাপার নয়।
অপারেশন?
তো, সিগারেট খাওয়া বারণ নয়?
না, নেশা ধরে গেছে আরকি।
কী আর করবো? কিন্তু এটা বাজে নেশা।
আমার সামনে ধোয়া ছেড়ো না!
I am a nomadic king
Follow my path
There will be no harm
Thaa le lo!
- স্কুল ইউনিফর্ম কেন পরে আছো? -Like a caring mother
- শ্রদ্ধা। -The sky comes along with me
I don’t want anything else
Thaa le lo!
Even though I am in the pit
My heart is in a palanquin
When I see the needy and helpless
I become so generous
I am like the ten-headed Ravana
A booming war cry
When I sing to the tune
Even I become the poet of poets
There is food on my plate
There is water in my glass
No matter what happens
I do not shed any tears
There are a hundred stars
On my forehead, look!
When you go the way You have come
There is no need to fear Go ahead!
যে করেই হোক আমায় সমস্ত শিক্ষার্থীদের পাশ করাতে হবে।
তাহলেই আমি প্রমোশন পাবো।
ভাই?
ঘুমাচ্ছো কেন?
- না, না। শুনছি। - না, তুমি ঘুমাচ্ছিলে।
-আমায় আবার প্রথম থেকে সব বলতে হবে। - না, আমি সব কথাই শুনছিলাম।
- না, আবার শোনো। - হায়, ভগবান...
ওকেও তোলো।
হ্যাঁ, তুলছি। এই?
ওঠো এবার। নয়তো আবার প্রথম থেকে বলবে।
I am the wild river
That travels the world
The place where I stand
Becomes my hometown
Those who don’t worry about castes
Become my people
If you try to cross my way
I shall show my true nature
Even if he gets a little
He shares what he has
When he is with us
Every day becomes a good one
Let the abused and the poor
Reach great heights
Let’s stand at the forefront
-And strive together for them - এই, থামো!
স্যার? আপনারা শহুরে শিক্ষক?
আমি সরকারী স্কুলের পিওন, স্যার।
অর্ধেক তামিল আর অর্ধেক তেলেগু'তে কেন কথা বলো?
এটা অন্ধ্র বর্ডার, স্যার।
আমরা এভাবেই কথা বলি।
এখানকার বেশিরভাগ লোক এভাবেই কথা বলে। প্লিজ আসুন।
মুত্থু, ঘুমানোর আর কোনো জায়গা পেলি না!
ওঠ, ভাগ এখান থেকে!
- ভাই? - ওদিকে যা।
ওকে মারছো কেন? চলে যাচ্ছে তো।
এমন না করলে যেতে চায় না।
আসুন, স্যার।
এখানে মোট তিনটে ঘর আছে।
ঐ ঘরটার সাথে বাথরুম আছে।
বাকি ঘরগুলোর বাথরুম বাইরে।
- সকালে স্কুলে দেখা করবো। আসি। - আচ্ছা।
ভাই,আমার যেহেতু হাইড্রোসিল অপারেশন হয়েছে,
আমার শরীর বেশি চাপ নিতে পারে না।
সেজন্য এক কাজ করি।
আমি বাথরুম থাকা ঘরটা নিচ্ছি।
ঠিক আছে? আসছি, ভাই।
এই, যথেষ্ট ন্যাকামো করেছো।
হাইড্রোসিল নিয়ে ঘ্যানঘ্যানানি কেন করে যাচ্ছো?
এটা ক্যান্সার না টিউমার? স্রেফ একটু তো ফুলেছেই, তাই না?
কার্তিক ভাই, শান্ত হও।
কী বলছে শুনছো না, ভাই!
পান চাবায়, সিগারেট ফোঁকে...
কেমন রোগী ও?
ওই, দন্তেশ্বর!
ঐ ঘরটা আমি নেবো।
এই, মুখ সামলে কথা বলো!
এই দাঁতটা আমার ঠাকুমা'র থেকে পেয়েছি।
ঠাকুমা'র দাঁত নিয়ে তুমি গর্ব করো।
আমি কেন করবো?
আমার সামনে আমার পরিবারের সম্পর্কে আজে-বাজে কথা বলার স্পর্ধা কীকরে হলো?
ভাগ! ভাঙাচোরা ইংরেজিতে কথা বলো।
- আমি শুদ্ধ ইংরেজিতেই বলছি। - চুপ করো!
দুটোই এক জিনিস।
চুপ করো তোমরা!
বাচ্চাদের মতো কেন ঝগড়া করছো?
আমরা কারা?
শিক্ষক!
আমাদের তো একটু মান-সম্মান আছে!
হুম।
আচ্ছা! এক কাজ করা যাক।
ইশ-বিশ-ধানের শিশ খেলে সিদ্ধান্ত নেয়া যাক।
- রাজি? - রাজি।
- রাজি? - আলবাৎ রাজি।
ইশ-বিশ-ধানের শিশ।
তুই ব্যাটা পেদেছিস।
ধান খেয়ে গেলো পোকা, তুই শালা বোকা।
ইশ-বিশ-ধানের শিশ। হেরে গেছো, তুমি বাদ।
তুই হেরেছিস, গাধা! কাল্টি মার এবার!
এবার আমাদের মধ্যে হবে।
- ইশ-বিশ-ধানের শিশ। - আচ্ছা!
- তুই ব্যাটা পেদেছিস। - আচ্ছা!
ধান খেয়ে গেলো পোকা, তুই শালা বোকা। ইশ-বিশ-ধানের শিশ।
ঐ ঘরে আমি থাকবো।
- ইয়েস! - অ্যাঁ?
সকালে স্কুল রয়েছে। তাই জলদি ঘুমিয়ে পড়তে হবে।
শুভরাত্রি, ভাই। লাভ ইউ, ভাই।
ভালোভাবে ঘুমিও, ভাই।
ইশ-বিশ-ধানের শিশ।
তুই ব্যাটা...
যাকগে, ও তো ঘরটা পায়নি। এতেই আমি খুশি।
চোলাভারাম সরকারী উচ্চবিদ্যালয় সুযাভারাম
স্যার, উনি নতুন শিক্ষক।
- নমস্কার! - নমস্কার, স্যার।
- দে আমায়! - নমস্কার!
এটা পরুন।
স্যার, হাসুন একটু।
এখানকার পরিবেশ তো স্কুলের মতো লাগছেই না।
মনে হচ্ছে কোনো বিয়ের অনুষ্ঠানে এসেছি।
ভিডিও কর।
ভালোভাবে তোল।
স্বাগত, স্যার।
স্যার, আমি মুত্থুপান্ডিয়ান। এই গ্রামের প্রেসিডেন্ট।
সর্বসম্মতিক্রমে তিন দফা নির্বাচিত হয়েছি।
- ওহ, দারুণ ব্যাপার, স্যার! - এমনি বলছি আরকি।
আমার জামাইবাবুর মুখে শুনলাম যে আপনারা আসছেন।
সেজন্য সবকিছুর বন্দোবস্ত আমি নিজেই করেছি।
জামাইবাবু?
তিরুপতি স্যার।
আমরা দূর-সম্পর্কের আত্মীয়, তবে খুবই ঘনিষ্ঠ।
আচ্ছা।
সে... আপনি নন!
- সে সুদর্শ, স্যার। - নমস্কার, স্যার।
- সহকারী প্রধান শিক্ষক এবং ইংরেজি পড়ায়। - নমস্কার!
খুবই বুদ্ধিমান।
উনি... উনি থানিকাচালাম স্যার!
প্রধান শিক্ষক!
- ইতিহাস আর তামিল পড়ান। - আচ্ছা, স্যার।
তোল এবার।
ও বিট্টু ভূপতি।
ভেলোরে ও একটা ভিডিও স্টোর চালায়।
ও আমাদের ফটোগ্রাফার আর ভিডিওগ্রাফার দুটোই।
বিট্টু ওর ভালো নাম?
না!
আমাদের গ্রামের বাইরের একটা সিনেমা হলে দুষ্টু ছবি দেখানো হয়।
শনি আর রবিবার করে ও সেখানে অমন সিনেমা চালায়।
সেজন্য এই নাম রেখেছি।
হাই।
হাই।
এবার তোল।
- এসো, তোমাদের স্কুলটা ঘুরিয়ে দেখাই। - আচ্ছা, স্যার।
তোমরা আসায় পুনরায় স্কুলটা খুললো। দু'বছর ধরে কোনো শিক্ষকই ছিল না...
আরেকটা মাধ্যমিক স্কুল আছে।
এখানেও, আমাদের কেবল দুটো সেকশনই রয়েছে।
সেটাও একাদশ শ্রেণীর সায়েন্সের শিক্ষার্থীদের জন্য।
আর কমার্সের?
এখানে কেউ কমার্স নেই পড়ে না।
ভালোই, তাই না?
গতবছর সরকার আমাদের অত্যন্ত ব্যস্ত সময় পার করিয়েছে।
ভোটের ডিউটি আর অন্যান্য সরকারী কাজ পড়েছিল।
কিন্তু মনে হচ্ছে আপনি শুধু নাকে তেল দিয়ে ঘুমিয়েছেন।
ম্যাডাম?
মিস মিনাক্ষী, বায়োলজি শিক্ষিকা।
কার্তিক, রসায়ন শিক্ষক।
আমি প্রকাশ রেড্ডি, ভৌতবিজ্ঞান...
বালা, অঙ্ক।
গত চারবছর ধরে সে আমাদের স্কুলে পড়াচ্ছে।
বেসরকারী স্কুলে চাকরির অনেক প্রস্তাব পেয়েছিল।
কিন্তু একটাও গ্রহণ করেনি।
তুমি ক্লাস করাও।
শুভ সকাল, স্যার।
শুভ সকাল।
বসে পড়ো।
ক্লাস তো পুরো ভর্তি, তাই না?
ও আমার মেয়ে মহালক্ষী।
তোমাকে মন দিয়ে পড়াশুনো করে ইঞ্জিনিয়ার হয়ে বাবা'র নাম উজ্জ্বল করতে হবে।
ঠিক আছে, স্যার।
আমরা চলি তবে। আপনি ক্লাস করান।
আমি আসি, স্যার।
আসছি। চল।
- পরে দেখা হবে। - আচ্ছা, স্যার।
বেশ, শিক্ষার্থীগণ। আজ আমাদের প্রথমদিন।
তাই পরিচয়পর্ব সারা যাক।
এই, মিনাক্ষী আমার!
অসম্ভব, মিনাক্ষী শুধু আমার।
- ভাগ! বলছি তো ওকে আমি পটাবো... - আমিও তো এটাই বলছি।
- কত বড়ো স্পর্ধা! - আমি ওকে ছাড়তে পারবো না।
বাচ্চাদের মতো কেন ঝগড়া করছো?
আমরা কারা?
- শিক্ষক। - শিক্ষক।
একদম।
আমাদের কি মর্যাদা বজায় রেখে চলা উচিত নয়?
হুম।
- প্রকাশ রেড্ডি। - হ্যাঁ?
ওর পথ থেকে সরে দাঁড়াও।
- কী? - ইয়েস!
কার্তিক, তুমিও তাই করবে, ঠিক আছে?
আমাদের সরিয়ে দিয়ে সব নিজে খেতে চাইছো?
কী বুদ্ধি গো তোমার!
হ্যাঁ, এটাই আমার প্ল্যান!
এই অঙ্ক, এটা ত্রিকোণ প্রেম কাহিনী।
চতুষ্কোণ করার চেষ্টা করো না।
আমাদের পথ থেকে সরে যাও।
রসায়ন স্যার'কে ছোঁয়ার স্পর্ধা কীভাবে হয়?
দু'বছরের মধ্যে আমি দুই বেডরুম ওয়ালা একটা ফ্ল্যাট কিনতে চলেছি।
আমার মা আর মিনাক্ষী মিলে সেই রান্নাঘরে রান্না করবে।
সেজন্য তুমি রাস্তা মাপো, নয়তো...
ইশ-বিশ-ধানের শিশ খেলি, ভাই?
কী?
ইশ-বিশ-ধানের শিশ?
এটা কি কোনো বাথরুম বিশিষ্ট ঘরের ব্যাপার নাকি?
ভালোবাসা!
মিনাক্ষী ম্যাডাম স্পেশাল।
রাস্তা মাপো আর রান্নাবাটি খেলো।
- বোঝা গেছে, ভাই? - হ্যাঁ।
শুভরাত্রি, ভাই।
ভালোভাবে ঘুমিও, ভাই।
এসব কী, প্রকাশ রেড্ডি? আমাদের সাথে তো পুরো স্ক্যাম হয়ে গেলো!
এভাবে সময় কাটাতে দারুণ লাগে।
এরকম চলতে থাকলে তো,
এই টেবিল-চেয়ারগুলোয় ঘুন ধরে যাবে।
ভাই, কেউ স্কুলে আসবে না।
তাই, রোজই ছুটি কাটাবো।
হ্যাঁ, প্রতিদিনই আনন্দের দিন।
রবি থেকে সোম প্রতিদিনই ছুটি।
আমাদের কোনো কাজই নেই।
কিন্তু গতকাল তো শিক্ষার্থী'রা এসেছিল, না?
যেহেতু তোমরা গতকাল এসেছো,
সেজন্য ক্লাস ভর্তি রাখার জন্য প্রেসিডেন্ট গতবছর মাধ্যমিক,
পাশ করা শিক্ষার্থীদের ডেকে এনেছিল।
তার কাজের ছবিগুলো সে তুলে নিয়েছে।
তার যে প্রচার লাগতো, তা সে পেয়ে গেছে।
নিজেই দেখে নাও।
চোলাভারাম সরকারী উচ্চবিদ্যালয় পুনরায় চালু হয়েছে
এসবে অভ্যস্ত হয়ে উঠবে।
বালা স্যারের পার্মানেন্ট টিচার হয়ে জীবনে প্রতিষ্ঠিত হওয়ার স্বপ্ন চুরমার হয়ে যায়।
উনি খুবই হতাশ হয়ে পড়েন।
দেখো, আমি বেশি স্কোর করেছি...
- ওটা আমায় দাও। - না...
এটাই এলাকার একমাত্র উচ্চমাধ্যমিক স্কুল।
দু'বছর আগে,
পাশের গ্রামগুলোর বাচ্চারা এখানে পড়তে আসতো।
এরপর কী হলো?
স্কুল বন্ধ করে দেয়া হয়।
যাদের সামর্থ্য ছিল, তারা বেসরকারী স্কুলে ভর্তি হয়ে যায়।
আর বাকিদের জোর করে মজদুরির কাজে লাগানো হয়।
ওদেরও তো পেট চালাতে হবে, তাই না?
কিন্তু এখন তো স্কুল খুলে গেছে।
আর আমরা এখানে ওদের পড়ানোর জন্য আছি।
যদি কয়েকদিন পর চলে যাও?
যদি স্কুল আবারো বন্ধ করে দেয়া হয়?
প্রথমদিন জলখাবারের লোভে শিক্ষার্থীরা এসেছিল।
যখন ওরা পড়তে চেয়েছিল, তখন তো আমরা ওদের পড়াতে পারিনি।
এখন তুমি এসেছো।
কিন্তু তোমার প্রতি ওদের ছিটেফোঁটাও ভরসা নেই।
শুধু ওদেরই নয়, আমারো নেই।
কেন?
কীভাবে যে বোঝাই?
আমার সাথে এসো।
কার্তিকের বই?
হ্যাঁ, দেখো।
ও আমার নামের সাথে ফ্লেমস খেলেছে।
প্রথমবার 'S' পড়ায়, ও আমার নাম 'মিনাক্ষী' থেকে বদলে 'মেণাক্ষি' করে দিয়েছে।
তুমি চাও ওর ওপর আস্থা রাখি?
প্রকাশ রেড্ডি অমন নয়।
ওহ... চিঠিটা!
বালা স্যার, সপ্তাহখানেকের মধ্যে তুমিও ওদের মতো হয়ে যাবে।
মাসখানেকের মধ্যে এখানে থাকা নিয়ে অভিযোগ করবে।
তারপর গ্রাম ছেড়ে চলে যাবে।
চ্যালেঞ্জ করছি!
না ম্যাডাম, আমি এখানে একটা লক্ষ্য নিয়ে এসেছি।
আমি পালাবো না।
সপ্তাহ কিংবা মাসখানেক পরেও নয়, ম্যাডাম।
তিনদিন…
অর্থাৎ সোমবার।
সোমবার থেকে ক্লাসের একটা সিটও খালি থাকবে না।
শুধু দেখতে থাকো।
আমিও চ্যালেঞ্জ করছি তোমায়।
ঠিক আছে, ম্যাডাম।
ধন্যবাদ, ম্যাডাম।
ভালো থেকো, ম্যাডাম।
স্যার?
গোপিকা স্কুলে আসেনি।
চপ নিন!
জলখাবার আর চপ নিন!
এত বড়ো সংসারে আমাদের রোজগার বড়োই কম।
আর কোনো উপায় নেই, স্যার।
প্রেসিডেন্ট সাহেব একদিনের জন্য অনুরোধ করায় রাজি হয়েছিলাম।
কিন্তু প্রতিদিন পাঠাতে পারবো না।
এখন ও সেলাইয়ের কাজ শিখেছে। হাতে দু-চার পয়সা একটু বেশি আসছে।
ও স্কুলে আবার কেন যাবে?
এটা গোপালের বাড়ি?
আমার কথা তো শোনেই না। নাহলে, ওকে কখনোই স্কুলে পাঠাতাম না।
ওকে কাজ করতে বলতাম।
ইডলি বিক্রেতা, শ্যামলা'র ছেলে...
ও একদমই আমার কথা শোনে না, স্যার।
মুদিখানা দোকানের মালিক, পরমশিবমের ছেলে।
ওরা সবাই বসে-বসে তাস খেলে। বখাটে ছেলেপুলে!
স্যার, ওর বয়সটাই এমন।
শুধু দেখতে থাকুন, বিয়ে হলেই শুধরে যাবে।
আমার বাবা এক বছরের স্যালারি এডভান্সে পেয়েছে।
যদি হুট করে কাজটা ছেড়ে দিই, গ্রামের অফিসার রেগে যাবে।
- কাজ করছো না কেন? - ওহ, না!
বাবা, কাল থেকে স্কুলে যাবো?
মাধ্যমিক অব্ধি তো পড়তে দিয়েছি। এটুকু যথেষ্ট নয়?
আমরা গ্রামের বাইরে থাকি।
স্কুলের পোশাক কেনার মতো সামর্থ্যও আমাদের নেই।
আমাদের কেন পড়াশুনোর প্রয়োজন?
স্কুল? তাহলে বাড়ির কাজ-বাজ কে সামলাবে?
কী যে করি, স্যার?
ও আমার দ্বিতীয় স্ত্রী।
আমার মেয়ে চেন্নাইয়ের একটা বাড়িতে কাজ পেয়েছে।
প্রতি মাসে ২০০০ টাকা করে পাবে।
- আপনি... - দুঃখিত স্যার, আমরা ওদের পাঠাতে পারবো না।
অঙ্ক শিক্ষক,
এই মেয়েগুলোর পড়তে আর লিখতে শেখাই যথেষ্ট।
তারপর ওদের বিয়ে দিয়ে বিদায় করবো।
শুধু বলছি আরকি।
একটা উপকার করতে পারবেন?
কী বলেন না, স্যার?
আপনি আমার জামাইবাবু'র লোক, নিঃসংকোচে বলুন।
গত সপ্তাহে স্কুলে আসা শিক্ষার্থীদের বাবা-মা'কে একটু ডাকতে পারবেন?
ঠিক আছে।
এই?
- ওরা আমাদের অমান্য করবে? - মরে গেলেও না, স্যার।
স্যার, দেখুন! গ্রামের সবাই এসেছে।
- এখানে কেন ডাকা হয়েছে জানিস? - না!
স্যার, আপনি মিটিংয়ের ডাক দিতেই সবাই চলে এলো।
কিন্তু যখন আমি ক্লাস করতে ডাকলাম, কেউই এলো না।
বহু ছেলে-মেয়েরা কাজে ঢুকেছে।
যখন তাদের বাবা-মা'কে জিজ্ঞেস করলাম,
বললো যে, তাদের রোজগার করতে হবে।
এসব কী বলছেন?
তারা রোজগারের জন্যই তো পড়াশুনো করে, তাই না?
আপনি বলছেন রোজগার করা অন্যায়?
আমার স্ত্রী, সন্তান আর আমি মজদুরির কাজ করি।
প্রতিদিন ৬০ টাকা রোজগার করে ভালো মতো খেতে পারি।
আপনি চান আমার সন্তানকে স্কুলে পাঠিয়ে, পরিবারের সবাইকে ক্ষুধার্ত রাখি?
ভালো বলেছো!
অঙ্ক শিক্ষক, আমাদের ইন্সপেক্টর সুরেশ স্যার'কে দেখুন।
মাস গেলে কেটে-ছেটে সাড়ে চার হাজার টাকা পকেটে আসে।
কিন্তু আমাদের সেতু, যে মদ বিক্রি করে, হ্যাঁ, ও'ই।
কী রে?
ও লেখাপড়া শেখেনি।
কিন্তু মদ বিক্রি করে প্রতিদিন ৫০০ টাকা কামায়।
ও আপনাদের মতো পেটে-বিদ্যা থাকা বাবুদের চেয়েও তো বেশি কামাচ্ছে, তাই না?
হ্যাঁ, স্যার।
তাহলে আমাদের শিক্ষার কেন প্রয়োজন?
ভক্ত!
বেশ…
আপনাদের একটা গল্প শোনাই।
শুনুন।
চোলাভারাম স্থানীয় পরিষদ
রামেশ্বরমে এক মাঝি বাস করতো।
তার ঘর-দুয়োর সামলানোর জন্য একটা সুশীল বউ ছিল।
তাদের ৫টা বাচ্চা-কাচ্চা ছিল।
তারা খুবই দরিদ্র ছিল।
কিন্তু কোনোভাবে সে তার বাচ্চা-কাচ্চাদের পড়াশুনো শিখিয়েছিল।
নিজেরা ক্ষুধার্ত থেকে বাচ্চাদের মুখে অন্ন তুলে দিতো।
মায়ের হাতে রান্না করা জাউ খেয়েই মুখে লেগে থাকতো।
ছোট বাচ্চাটা পড়াশুনোয় খুব ভালো ছিল।
ক্লাসে সে প্রথম হতো।
মাদ্রাস ইনস্টিটিউট অফ টেকনোলজি থেকে সে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়ে।
তারপর সে ISRO-তে একজন বিজ্ঞানী হয়ে যায়।
তাকে "দ্য মিসাইল ম্যান" বলা হয়।।
সম্প্রতি পোখরানে সে পরমাণুর পরীক্ষা পরিচালনা করেছে।
তার নাম কি জানেন?
এ.পি.জে. আব্দুল কালাম।
যদি সেই মাঝিটা ভাবতো, "আমার ছেলের পড়াশুনোর কেন প্রয়োজন?
যদি ও আমার হাতে-হাতে কাজ করে, তাহলে আরো কয়েকটা ভাড়া খাটিয়ে হাতে দু-চার পয়সা বেশি আসবে..."
তাহলে আমাদের দেশ একজন মেধাবী বিজ্ঞানীকে হারাতো।
যাকে আমাদের দেশের গর্বও মানা হয়!
তাছাড়া, ইন্সপেক্টরকে তো সবাই "সুরেশ স্যার" বলেই সম্বোধন করেন,
কিন্তু মদ বিক্রেতা সেতু'কে সেই "এই, সেতু" বলেই ডাকলেন।
পান্ডিয়ান...
স্যার…
রোজগারের বহু পন্থা আছে।
কিন্তু একমাত্র শিক্ষাই আপনাকে সম্মান এনে দিতে পারে।
এই, বীরান্না!
ভক্ত!
আমি তোমাদের পাশে আছি।
আমায় পাশেই পাবে।
স্কুলের পোশাকই যে পরতে হবে, তেমন কোনো বাধ্যবাধকতা নেই।
যদি মনে পড়াশুনোর প্রবল ইচ্ছা থাকে, তবে সেটাই যথেষ্ট হবে।
বাকিটা আমি সামলে নেবো।
স্কুলে এসো।
কাল থেকে স্কুল যাবি।
- চল। - আচ্ছা, যাবো।
ঠিক আছে, মা।
কাজ-বাজ করতে হবে না, রোজ স্কুলে যাবি।
বালা স্যার?
ম্যাডাম, কেমন দিলাম?
বলেছিলাম না, সবাইকে স্কুলে ফেরত আনবো।
কথা রাখলাম তো?
হ্যাঁ! আমার মতে এই স্কুলের জন্য তুমি অনেক ভালো-ভালো কাজ করবে।
- এই! দেখো! - আমাদের স্কুলে স্বাগত।
আরে...
কীসের অপেক্ষা করছো?
ওরা আসবে না।
সুদর্শন স্যার।
তোমার বক্তৃতায় করতালি দেয়ায় ভেবেছিলে হয়তো ওরা স্কুলে আসবে? সেই ধারণা ভুল।
এটা কী?
আমি আর কাজে আসবো না।
আজ থেকে আমি স্কুলে যাচ্ছি।
Let’s learn the alphabet, come along
Education is the path to heights
Let’s draft a new world, come on
Education is the light of the dawn
What we have learned is a drop
What we must learn is an ocean
Marks are like a jail
But knowledge is your freedom
Read now, study now
Study everything Other things are unnecessary
The respect given by education is great Study hard to spread your wings out
School is the temple of education
A village with a school will never suffer
Ignorance is cruel But that will never last long
To hold the head up high For lives to improve
-You need your education - এই, কুমার! কাজে যা।
If you study hard You shall succeed
Or else, you will regret it
Listen to what I say
You have just one life, my friend
When the world hails you
That is the bliss of your birth
-You have just one life, my friend - মারি, এসো!
You should reach out to the sky, my friend
Make use of your youthful days, my friend
You must sing and dance, my friend
You should come out With flying colors, friend
If you study hard
You shall succeed
Or else, you will regret it
Listen to what I say
You have just one life, my friend
When the world hails you
That is the bliss of your birth
You have just one life, my friend
ফাটিয়ে দিয়েছো তো পুরো, অসাধারণ!
- ধন্যবাদ, স্যার। - ধন্যবাদ, স্যার।
সবার হাতের লেখা একইরকম কীভাবে হয়?
এটা কার হাতের লেখা?
ভালোয়-ভালোয় বলে দাও, নয়তো আমি ক্লাস করাবো না।
স্যরি, স্যার।
আমরা এটা লিখিনি, স্যার।
কে লিখেছে?
মুত্থু।
মুত্থু কে?
ও আমাদের স্কুলেই পড়তো।
৯৬-র ব্যাচ।
TNPCE পরীক্ষার এক সপ্তাহ আগে, ওর বাবা-মা আত্মহত্যা করে।
সেখানেই ওর পড়াশুনোর অধ্যায় শেষ হয়।
সবরকম নেশায় আসক্ত হয়ে পড়ে।
ও লোকের বাড়ি-বাড়ি কাজ করে পেট চালায়।
আমার কাছে কাজ করবে?
প্রতিদিন ৩০ টাকা করে দেবো।
কিন্তু আমার মতো চলতে হবে, ঠিক আছে?
এসো!
কুমার ওঠ! কাজে যা।
You must earn money and wealth
You have to help anyone who is in need
Because you have just one life
You have to live with respect, my friend
You have to die with dignity, my friend
For this to happen you have to study
Because you have just one life
With your hard earned money
You have to buy a saree for your mother
And see her tears of joy
Because you have just one life
In all the paths you go
People should say your name
Hearing that your father must feel proud
Because you have just one life
তাস খেলতে যাবি না?
তাস খেলা ছেড়ে দিয়েছি।
কী?
You must sing and dance, my friend
You should come out With flying colors, friend
If you study hard
You shall succeed
Or else, you will regret it
Listen to what I say
You have just one life, my friend
When the world hails you
That is the bliss of your birth
You have just one life, my friend
পঞ্চায়েত সমিতি প্রাথমিক বিদ্যালয় চোলাভারাম
দে। জলদি দে না।
- কেউ এসে পড়বে তো। - চোরের দল...
এসব কতদিন ধরে চলছে?
প্লিজ কাউকে বলবে না, স্যার
খচ্চর!
এমন কাজ আবারো করলে প্রিন্সিপালের কাছে আমি অভিযোগ করতে বাধ্য হবো।
- এসবের কোনো প্রয়োজন নেই। - কী হয়েছে, ম্যাডাম?
তোমার বন্ধু মেয়েদের সাথে কীভাবে কথা বলতে হয় তা শেখেনি।
কী করেছো বলো তো?
এই জানোয়ারটা আমার মেয়েকে হেনস্থা করছিল।
হায় রে!
- আমি তো রোম্যান্টিক হওয়ার চেষ্টা করছিলাম। - ছিঃ!
রোম্যান্টিক?
আবাল!
মাল-টাল খেয়েছো নাকি?
সাহস সঞ্চয়ের জন্য কয়েক পেগ মেরেছিলাম।
তারপর ও আমায় বেশ কয়েকবার থাপ্পড়ও মেরেছে।
তবে রে...
কতবার খচ্চর বলবে?
ওখানে অনেক মশা কামড়াবে।
প্লিজ ভেতরে এসো।
ও আমায় চড় মারায় আমি একটুও কষ্ট পাইনি।
বিরক্ত করো না, প্রকাশ রেড্ডি।
ম্যালেরিয়া।
মিনাক্ষী'কে দেখেশুনে রেখো।
তুমি নিজের খেয়াল রেখো।
- কী হয়েছে, ভাই? - আমি চলে যাচ্ছি।
ভাই, ম্যালেরিয়ায় ভয় কেন পাচ্ছো? কিচ্ছু হবে না।
তো, চাইছো টাইফয়েড, ডেঙ্গু আর চিকেনগুনিয়া হওয়া অব্ধি এখানে পড়ে থাকি?
- আমায় যেতে দাও, ভাই। - ভাই, এমন কিছুই হবে না।
হ্যাঁ, আমার জিম ট্রেনারও এই কথাই বলেছিল।
ওজন তুললে কিচ্ছু হবে না।
ডাম্বেল তুলে আমারই চোট লেগে যায়।
- শুভ সন্ধ্যা, বালা স্যার। - শুভ সন্ধ্যা, বালা স্যার।
- শুভ সন্ধ্যা। - এই, আমিও তো এখানে রয়েছি!
আমায় বলবে না?
আহাম্মক।
শিক্ষার্থীরাও শুধুমাত্র তোমাকে পছন্দ করে।
কিন্তু আমায়?
ভাই!
আসছি, বোন!
এবার আমরা কী করবো?
রসায়ন আর ভৌতবিজ্ঞান, তাই না?
আমিই ক্লাসগুলো সামলে নেবো।
- তুমি? - হ্যাঁ।
তুমি বিজ্ঞান পড়াতে পারো?
ম্যাডাম, এমন প্রশ্ন কেন করছো?
উচ্চমাধ্যমিকে একশোয় একশো পেয়েছিলাম। জানো?
ইংরেজিতে আমি দুর্বল ছিলাম।
নয়তো পুরো ১২০০ নম্বর তুলতাম।
প্রকাশ রেড্ডি স্যার আর কার্তিক স্যার ব্যক্তিগত কারণে ছুটি নিয়েছেন।
তো, আমি রসায়ন আর ভৌতবিজ্ঞান দুটোই পড়াবো।
এসো!
দুটো আলাদা ক্লাস করাতে পারবো না। তাই, একটু মানিয়ে নাও।
- এই, ওঠ। - উঠে পড়।
- তোর পাশে বসতে পারবো না। - কথা কানে যায়নি?
তো, এখন আমরা 'গতি'-র ব্যাপারে পড়বো।
এই, ওদিকে কাল্টি মার।
মেরে থোবড়া বিলা করে দেবো।
- এই! - এই!
- কী ভাবিস নিজেকে? - এই?
কাল্টি মার! যা এবার!
কী হয়েছে ওখানে?
কী ব্যাপার?
আগে তোমরা বসে পড়ো সবাই।
স্যার…
আমরা মরে গেলেও ওদের পাশে বসবো না।
কেন?
- আসলে, ওরা... - ওরা?
- ওরা আলাদা। - কীরকম আলাদা শুনি?
আলাদা মানে আলদাই, স্যার।
ব্যাপার নয়, স্যার। আমরা দাঁড়িয়েই পড়বো।
হ্যাঁ, স্যার।
তোমরা বেরিয়ে যাও।
আমরা কী করেছি, স্যার?
বেরিয়ে যাও!
বেরাও!
গড় গতি = সর্বমোট দূরত্ব গমন / সর্বমোট সময়...
- সবাই বাইরে কেন দাঁড়িয়ে? - লাগা।
স্যার'ই বেরিয়ে যেতে বলেছে।
কেন?
মিন এভারেজ = deltaT/deltax = X1+X2/T1+T2
- T2 - বালা স্যার?
ম্যাডাম, পাঁচ মিনিট পর আসো।
পাঁচ মিনিট।
প্লিজ।
- লিখে নিচ্ছো তো? - জি, স্যার!
আর এটাকেই বলে তাৎক্ষণিক গতি।
- বুঝেছো? - হ্যাঁ, স্যার।
সবকিছু জলের মতো পরিষ্কার তো?
- একদম, স্যার। - একদম, স্যার।
খুব ভালো। এবার বেরিয়ে যাও।
যাও, যাও।
তোমরা সবাই ভেতরে আসো।
বেগ।
সমস্ত চলন্ত বস্তুর গড় বেগ ০।
ঠিক আছে?
- বোঝা গেছে? - হ্যাঁ, স্যার।
এবার তোমরা ভেতরে এসো সবাই।
এবার সবাই উঠে দাঁড়াও।
ওঠো। জলদি উঠে দাঁড়াও।
আজ দুটো বিষয়ে পড়ালাম।
গতি ও বেগ।
কাল আমি দুটোরই পরীক্ষা নেবো।
তাই পড়ে আসবে।
কীভাবে, স্যার?
আপনি তো আমাদের শুধু 'গতি'-ই পড়িয়েছেন।
স্যার, আমাদের শুধু 'বেগ'-র ব্যাপারে পড়িয়েছেন।
আমি দুটো বিষয়েই পড়িয়েছি।
প্রথমটা গতি। পরেরটা বেগ নিয়ে।
কাল দুটোরই পরীক্ষা নেবো।
তাই পড়ে আসবে।
এটা ঠিক নয়, স্যার।
হ্যাঁ, স্যার। টো ক্লাস আপনি আলাদা-আলাদা নিয়েছেন। তাহলে দুটো বিষয়ের ওপর কীভাবে পরীক্ষা নিতে পারেন?
কেবল এক ঘন্টার জন্য তোমাদের আলাদা-আলাদা ক্লাস করিয়েছি...
আর তাতেই এটাকে তোমাদের অন্যায় মনে হচ্ছে।
গত ১৭ বছর ধরে,
জাত-পাতের দোহাই দিয়ে তোমরাই নিজেদের মধ্যে দূরত্ব বানিয়ে রেখেছো।
এটা তোমাদের ভুল মনে হয় না?
স্যার, আমাদের বাড়ির লোক কক্ষনো মানবে না।
বেশ, গ্রামটা তোমাদের। ঠিক আছে।
যদি তোমরা কোনো ছোট বা বড়ো শহরের কলেজে পড়তে যাও?
সেখানেও বাছ-বিচার করে চলবে?
এটা বলো, পড়াশুনো করে যদি একটা ভালো চাকরি পাও, আর তোমাদের বস যদি...
অন্য জাতের হয়, তখন কী করবে?
চাকরি ছেড়ে দেবে?
আচ্ছা।
অনেকদিনই তো হলো এখানে পড়াচ্ছি।
বলো তো আমি কোন জাতের?
জানতে চাও না?
কারণ… আমি তোমাদের শিক্ষক।
আর আমাকে তোমাদের প্রয়োজন।
তাই, আমার জাত-পাত নিয়ে তোমাদের কোনো মাথাব্যথা নেই।
মুত্থু তো তোমাদের সবার অ্যাসাইনমেন্ট লিখে দিয়েছিল।
তখন ওর জাত নিয়ে তোমাদের মাথাব্যথা কেন হলো না শুনি?
কেন?
কারণ তোমাদের চাহিদা জাত-পাত বোঝে না।
একইভাবে কেউই অবাঞ্ছিত নয়।
যখন এগুলো বুঝবে, তখন এসব সামান্য জাতি-বিভেদের কথা ভুলেই যাবে।
বুঝে গেছি, স্যার।
প্লিজ, আমাদের সবাইকে পড়ান।
ভালো করে শোনো।
আজ আমি দুটো বিষয়ে পড়িয়েছি।
কোনো ক্লাস আমি দু'বার করে নিতে পারবো না।
স্যার, প্লিজ এমন বলবেন না।
বীরান্না, স্যারের পড়া বুঝতে পেরেছিস?
হ্যাঁ।
তাহলে আমায় বেগের ব্যাপারে পড়া।
আমি তোকে গতির ব্যাপারে পড়াবো, ঠিক আছে?
পদ্মাবতী?
এদিকে আয়।
এসব কী, ম্যাডাম?
ঢোকার আগে তো জিজ্ঞেস করে ঢুকবে না?
You gave me a gift of love
You came into this wretched heart
You gave me a gift of love
You came into this wretched heart
There is no guide to teach love
So come to teach me, teacher
There are desires saved up
Come to give all that to me, teacher
I will exchange my heart for yours
Oh my! What feeling is this?
I failed because of you
I pretended not to like you
But I am all yours now
Oh my! What feeling is this?
I failed because of you
I pretended not to like you
But I am all yours now
-I became a nightingale - আমি বাড়ি যাচ্ছি।
-That sings your name every day - এটা আমার এলাকার STD বুথ-র নম্বর।
- কোনো দরকার পড়লে ফোন কোরো। -Since you saw me
I have become very stylish
I became a Hero pen in your pocket
With all my heart I became your fan
I want to keep looking at you
I want to join hands with you
We must go around this village
Together as lovers
A grand marriage with band concert
It should be heard everywhere
এটা আমার ঠিকুজি।
তোমার মায়ের সাথে কথা বলে জানিও আমায়।
I pretended not to like you
But I am all yours now
Oh my! What feeling is this?
I failed because of you
তৈরি?
হাসো!
রেজাল্ট বেরিয়েছে।
দেখি।
- দেখ, ওপরে রয়েছে। - আমি পাশ করেছি।
- হ্যাঁ, আমিও। - আরে, তুই'ও পাশ করেছিস।
- তুই'ও পাশ করেছিস। - ইয়াহ!
বালা স্যার তার প্রথম পরীক্ষায় পাশ করে গিয়েছিল।
সমস্ত শিক্ষার্থী ভালো নম্বর পেয়ে পাশ করেছিল।
পুরো স্কুল উৎসবের মেজাজে ছিল।
ঐ দেখ।
- হাই! - হাই!
আপনি পেরেছেন, মাস্টার!
স্যার!
মীনাক্ষী ম্যাডাম… কোথায়?
- বালা স্যার? - ম্যাডাম।
স্যার!
স্যার, আমি একটু আসছি।
- জামাই বাবু? - আসুন, স্যার।
আসুন, স্যার। কেমন আছেন?
বহুদিন পর দেখা হলো।
- বালামুরুগান? - আমিই, স্যার।
- বালামুরুগান... - তোমারই লোক বলে কথা।
আমি নিজে সবকিছু সামলেছি।
স্যার, আমায় চিনতে পারছেন?
- সেদিনের বৈঠকে কথা হয়েছিল? - হ্যাঁ।
ওটা তুমি ছিলে?
আমিই ছিলাম, স্যার, বালামুরুগান।
এসো, জামাইবাবু। কেক কাটা যাক।
- স্যার, এদিকে আসুন, প্লিজ। - আসুন।
মাগালক্ষী।
- জামাইবাবু, কেক কাটো। - ম্যাডাম, এপাশে আসো।
এটা...
- জামাইবাবু, আমায় কেক খাওয়াও। - স্যার?
স্যার, আমাকেও দিন।
স্যার, যেটা বলেছিলেন করেছি।
আসলে, অনেক বেশিই করেছি।
সমস্ত শিক্ষার্থী ভালো নম্বর নিয়ে পাশ করেছে।
শুধু অঙ্কেই নয়, স্যার।
আমি ভৌতবিজ্ঞান আর রসায়নও পড়িয়েছি।
বায়োলজি মীনাক্ষী ম্যাডাম পড়িয়েছে।
তার সাথে তো সাক্ষাৎ হয়েছে, তাই না?
বেশ।
স্যার, দয়া করে এভাবেই আমাদের অনুপ্রাণিত করতে থাকুন।
পরেরবছর শিক্ষার্থীদের আমি ডিস্টিংশন নিয়ে পাশ করাবো।
এই!
এরা ভাগ্যের জোরে পাশ করে গেছে, তাই নিজেকে বেশি হনু ভাবিস না।
ডিস্টিংশন? যত্ত্বসব!
স্যার… কী করেছি আমি?
আমার মতে তুমি আমার সমস্ত স্কুলই বন্ধ করিয়ে দেবে।
আমার স্কুলের পাশের হার ৭৫%।
কিন্তু এই সরকারী স্কুলের পাশের হার ১০০%।
এখন, অভিভাবকরা তাদের বাচ্চাদের এখানে ভর্তি করাতে চাইছে।
যত্ত্বসব মধ্যবিত্ত গ্রাহক।
গ্রাহক?
- শিক্ষার্থী… - গ্রাহকই।
ওরা হলো গ্রাহক।
এটা একটা ব্যবসা।
যেকোনো ব্যবসার মতোই,
আমাদের লক্ষ্য হলো মধ্যবিত্ত গ্রাহক।
এতদিন ওদেরকে ভুলিয়ে রেখেছিলাম,
আর এখন তুমি কিনা সেই ধারাটাকে বদলাতে চাইছো!
এসব কী বলছেন?
ভালোমতো পড়াতে হলে, ওদের মোটা টাকা দিতে হবে।
আমাদের এখানে তিরুপতি'র লোগো কেন লাগানো?
কারণ তিরুপতি'র কাছে বেশি পয়সা আছে।
টাকা দেবে না তো শিক্ষা মিলবে না।
বেশি টাকা দিলে, তবেই উচ্চ শিক্ষা মিলবে।
এটাই এখনকার চল।
TNPCE কোচিং-র খরচ ২৫,০০০ টাকা।
IIT কোচিং-র খরচ ৪৫,০০০ টাকা।
এটাই হচ্ছে রেঞ্জ।
পড়াশুনো করতে হলে টাকা দিতে হবে, কারণ একমাত্র টাকা দিয়েই শিক্ষাকে কেনা যেতে পারে।
যাদের সেই সামর্থ্য নেই, তারা কী করবে?
সেজন্যই তো সরকারী স্কুল রয়েছে।
শোনো, ওদের লক্ষ্য খুবই সীমিত।
উচ্চমাধ্যমিক দেয়াই ওদের কাছে বড়ো ব্যাপার।
তাতে পাশ করলে, সেটাকে ওরা উৎসবের মতো করে উদযাপন করবে।
কোনো গ্রামের ছেলে, খামার বা চাষই তো করবে।
শহরের ছেলে হলে...
ড্রাইভার বা রাঁধুনি হয়েই জীবনযাপন করবে।
যত্ত্বসব নিম্ন-মধ্যবিত্তের দল।
আমার বাবা'ও একজন ড্রাইভার, স্যার।
আমার পরিবারও নিম্ন-মধ্যবিত্ত।
ইয়ে মানে... আমি... তোমাকে বলিনি।
ওদের সাহায্যের জন্য এই স্কুলগুলোর দায়িত্ব নেননি?
কেবল নিজের ব্যবসার স্বার্থে নিয়েছেন?
তুমি ভুল বুঝছো।
আমি কিন্তু সেটা বলিনি।
তার মানে, কিছু অর্জনের উদ্দেশ্য নিয়ে আমায় এখানে পাঠাননি!
ভেবেছিলেন এখানে আমি কখনোই কিচ্ছু করতে পারবো না।
এই...
বালা, রাগের মাথায় মুখ ফস্কে বলে ফেলেছি।
বাদ দাও, ঠিক আছে?
তুমি প্রতিভাবান।
এই জায়গা তোমার জন্য নয়।
আমার সাথে চলো।
তোমাকে মুখ্য শাখায় পাকাপাকিভাবে শিক্ষকতার চাকরি দেবো।
প্রতি মাসে ১ লক্ষ টাকা মাইনে দেবো।
বাড়ি, গাড়ি সবকিছু দেবো তোমায়।
আমার সাথে চলো।
স্যার, খেতে আসুন।
এসো, খেয়ে চলে যাই।
এসো।
ভাই, ওখানে বসে খেতে পারবেন?
- দয়া করে আমায় ভুল বুঝবেন না। - সমস্যা নেই।
স্যার, তারা নিম্ন মধ্যবিত্ত।
তারা এমনই।
আপনি খান, স্যার।
প্লিজ খান।
সাধারণত এই নিম্ন মধ্যবিত্ত পরিবারের লোকেরা নিজেদের চাহিদাকে ত্যাগ করে তাদের সন্তানদের চাহিদা পূরণ করে।
নিজেরা অভুক্ত থেকে সন্তানদের মুখে অন্ন তুলে দেয়।
বাচ্চাদের নতুন জামাকাপড় কিনে দিলে, নিজেরা ছেঁড়া-ফাঁটা পোষাক পরেই চালিয়ে নেয়।
এই একই লোকেরাই বাচ্চাদের একটা ভালো স্কুলে পড়াতে নিজেদের রক্তও অব্ধি বিক্রি করে দেয়।
কিন্তু আপনি কতদিন এমনটা করে যাবেন?
আমি সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছি।
আমার মতে আপনার প্রস্তাবের চেয়ে ওদের ভবিষ্যতই বেছে নেয়া শ্রেয়।
আমার মতে আপনার প্রস্তাবের চেয়ে ওদের ভবিষ্যত বেশি জরুরি।
কী করবে তুমি?
ওদের খালি আরেকটা বছর পাশ করাতে পারবে।
ওদের জীবনযাপন কি পাল্টাতে পারবে?
স্যার, শুধু পাশ মার্কই নয়, ওদের আমি টপ মার্ক আনাবো।
নিশ্চয়। তারপর কী করবে?
এখানে ১০, ১৭, ২৫, ৩০, ৪৫ জন শিক্ষার্থী আছে।
ওদের সবাইকে রাজ্যের মধ্যে শীর্ষস্থানে নিয়ে যাবো।
তোমাকে কখনো জিততে দেবো না।
স্যার, শিক্ষা হলো মন্দিরে দেয়া প্রসাদের মতো, মন খুলে দিয়ে যান।
এটাকে পাঁচতারা হোটেলের খাবারের মতো বিক্রি করা হয় না।
তিরুপতি স্যার!
ধন্যবাদ, স্যার।
ভালো থাকবেন, স্যার।
বাই, স্যার।
জামাইবাবু!
জামাইবাবু, দাঁড়াও।
দে তো এটা।
- তোল। - স্যার, একটু হাসুন।
জামাইবাবু?
জামাইবাবু?
সরকারী উচ্চ বিদ্যালয় চোলাভারাম
তিরুপতি, আপনি বলেছিলেন, "বুদ্ধি খাটান, সুধাকর।"
বলেছিলেন তৃতীয় স্তরের জুনিয়র শিক্ষকদের কেবল পাঠানো হবে।
এখন আপনার পাঠানো ওই একটা ছেলের জন্য আমরা সবকিছু খুইয়ে বসবো।
ও তো সাধারণ একজন মানুষই, তাই না?
এতে যদি ওকে থামানো না যায়?
অন্যান্য শিক্ষকেরাও যদি ওকে দেখে অনুপ্রাণিত হয়ে পড়ে?
তখন আমরা কী করবো?
সুযাভারামের চমৎকার
এই প্রতিবেদন যদি প্রথম পাতায় এসে পড়ে?
লোকেরা নিশ্চিতভাবেই আমাদের বিজ্ঞাপন নজরান্দাজ করে দেবে।
এই…
আমি সেসব শিক্ষকদের নিয়ে এই ব্যবসাটা শুরু করেছিলাম যাদের জীবন সম্পর্কে বিন্দুমাত্রও ধারণা ছিল না।
এই সাম্রাজ্যকে আমি গড়েছি।
কেউ এটাকে শেষ করার চেষ্টা করলে, আমি তো চুপ থাকবো না।
যতই হোক, সে তো একজন স্কুলেরই শিক্ষক। ওকে চাকরি থেকে বের করে দিচ্ছো না কেন?
ওর চুক্তিপত্রে কিছু সমস্যা আছে, সেনা।।
কী শুনি?
ছয় মাস আগে একটা বিজ্ঞপ্তি জারি করতে হবে।
কিন্তু ওকে এতটা সময় দিলে, নিশ্চিতভাবেই আমার জন্য ঝামেলার সৃষ্টি হবে।
তাহলে কী করবে?
সরকারকে বিপদে ফেলতে চাও নাকি?
বিপক্ষ দল এর সুযোগ নিয়ে পোদে পুরো বাম্বু ভরে দেবে।
মুখ্যমন্ত্রী সাহেব জীবনেও এর সম্মতি দেবেন না।
এই, তিরুপতি?
আরেকটা বেঞ্জ এখানে কী করছে?
ওটা আমার নয়।
আপনার।
এসবে আমার তো কোনো সমস্যা নেই।
কিন্তু মুখ্যমন্ত্রী সাহেব এতে কক্ষনো রাজি হবেন না।
নারায়ণসামি এখানে কী করছে?
মুখ্যমন্ত্রী সাহেব হয়তো আপনার কথা শুনবেন না।
কিন্তু জনসমাবেশে বিরোধী দলনেতা বললে তো তাকে শুনতে হবেই, তাই না?
তিরুপতি?
- একটা ছোট্ট উপকার করবে? - কী?
দয়া করে রাজনীতিতে এসো না।
আসবোও না।
রাজনীতিতে এভাবে কক্ষনো কামানো যাবে না।
তামিল নাড়ু সরকারের মুখ্য সচিবালয়
মাননীয় বক্তা, আমাদের রাজ্যে বেকারত্বের সংখ্যা বেড়েই চলেছে। কেন বলবেন?
নারায়ণসামি প্রতিবাদ শুরু করেছে
বেসরকারীকরণ।
রাস্তা আর রেলওয়ে কন্ট্রাক্টের মতোই সরকার শিক্ষা ব্যবস্থাকেও বেসরকারী সংগঠনের হাতে তুলে দিয়েছে।
প্রেসিডেন্ট সাহেব আপনাকে দুধ দিতে মানা করেছেন।
দুধ লাগলে, দুধের সমিতিতে গিয়ে টাকা দিয়ে নিতে পারেন।
মাফ করবেন, স্যার!
আমার খুদে ভাই-বোনদের কী জবাব দেবেন, যারা কর্মসংস্থান কেন্দ্রে...
রেজিস্টার করে শিক্ষকতার চাকরির অপেক্ষা করছে?
আমি এই GO বাতিল করার জোর দাবি জানাচ্ছি, যার জন্য স্কুলগুলোর বেসরকারীকরণ হচ্ছে।
- শিক্ষামন্ত্রী! - হায়, হায়!
চাবি ম্যাডামকে দিয়ে দিও।
তোমায় ছাটাই করা হচ্ছে।
কী হয়েছে, স্যার?
নিজের ছেলেকে গিয়ে জিজ্ঞেস করো।
স্যার?
কিছু অফিসারদের অবহেলার কারণে গতবছর শিক্ষক নিয়োগে বিলম্ব ঘটেছিল।
বেসরকারী স্কুল সমিতি কিছু সরকারী স্কুলের দায়িত্ব নিয়ে সাহায্য করে।
কিন্তু মঙ্গলসাধনের ন্যায় পরিস্থিতি বদলেছে।
সম্প্রতি ইন্টারভিউতে আমরা ৫০০ জন শিক্ষককে বেছে নিয়েছি।
কিন্তু এখনই তাদের নিয়োগ দিতে পারবো না।
কারণ সমস্ত সরকারী স্কুলগুলো বেসরকারী স্কুলের সাথে চুক্তিবদ্ধ আছে।
সেজন্য তাদের শিক্ষকেরা এখনো সেখানে চাকরি করছে।
এজন্যই কাউকে নিয়োগ দিতে পারিনি।
তো, আমরা অবলিম্বে MOU বাতিল করার মাধ্যমে যেসরকারী আদেশ পাস করেছিলাম তা প্রত্যাহার করে নিচ্ছি।
এটার পর, সমস্ত বেসরকারী শিক্ষকেরা তাদের নিজেদের স্কুলে ফিরতে পারবে।
চিন্তা করো না, বাবু। সব ঠিক হয়ে যাবে।
মীনাক্ষী'র জন্য একটা ভালো পাত্র পেলে, কাশীতে পূজো দেয়ার মানত করেছিলাম।
সেজন্যই আমাদের একটু তাড়া আছে।
মুত্থু?
মুত্থু?
- ভাই, মুত্থু'কে দেখেছো? - ও মদের দোকানে রয়েছে।
মুছে নাও।
উচ্চমাধ্যমিকের সম্পূরক পরীক্ষার হল টিকিট।
মনে আছে?
আমি যা বলবো সেই মতো চলার কথা দিয়েছিলে।
আমার বাবা-মা কেউই বেঁচে নেই।
এখন আপনিও চলে যাচ্ছেন।
তাহলে কার জন্য আমি পরীক্ষাটা দেবো?
তুই ইঞ্জিনিয়ারিং করতে চেয়েছিলিস।
কিন্তু সেই খরচ বহন করার সামর্থ্য আমার ছিল না।
আমি একটা অকর্মার ঢেঁকি রে।
- এসব কেন বলছো... - এই!
ওখানকার কোনো শিক্ষার্থীকে ডাক্তারি বা ইঞ্জিনিয়ারিং নিয়ে পড়ানোর ব্যবস্থা কর।
তাহলেই আমার সেই দুঃখ ঘুচবে।
সেই শিক্ষার্থীর বাবা-মা'র আনন্দের পেছনে, আমি এটা ভেবে...
গর্ববোধ করবো যে, এতকিছু আমার ছেলে সম্ভব করে তুলেছে।
হ্যাঁ!
কী হয়েছে বলো তো?
এভাবে দুঃখ করছো কেন?
কোনো বাচ্চা তার বাঞ্ছিত জিনিসটা না পেলে, সে কেবল একদিনই কাঁদে।
কিন্তু বাবা-মা যখন তার সন্তানের চাহিদা পূরণে ব্যর্থ হয়, তখন সেই কষ্টের বোঝা...
তারা জীবনভর বয়ে বেড়ায়।
এই যন্ত্রণা তুই কখনো বুঝবি না।
মনে করেছিল তারা জিতে গেছে।
কিন্তু যুদ্ধ তো তখন সবেমাত্র শুরুই হয়েছিল!
অনেকেই একাদশ শ্রেণীতে ভর্তির জন্য নাম দিয়েছিল।
কিন্তু মনে হচ্ছে এখন আর কেউই ভর্তি হবে না।
- এই, বীরান্না? - হ্যাঁ?
- ব্যাগ নিয়ে কই চললি? - ক্লাসে।
ক্লাস?
তারা তো বলেছিল, শিক্ষক আসতে আরো তিনমাস সময় লাগবে।
- কী? - ছুটিও তো শেষ হয়নি। চলুন!
হ্যালো?
জামাইবাবু, ওই অঙ্কের শিক্ষকটা এখনো যায়নি।
গ্রামের বাইরে পড়াচ্ছে।
- কী হয়েছে, স্যার? - বের হও!
- কী করা যায় বলো তো? - ওরে মাথামোটা!
ও তোমার গ্রামে ক্লাস নিচ্ছে।
নিজে প্রেসিডেন্ট হয়ে আমায় জিজ্ঞেস করছো?
এই, গিয়ে জমিটা কার জিজ্ঞেস করো।
- এই স্কুলটা বেশ ভালোই, তাই না? - হ্যাঁ রে, ভাই।
এই, মাস্টার! কী খবর?
কত বড়ো স্পর্ধা!+-
সব ভেঙে দে!
এই, এমন করো না!
এই!
এই, আমার কথাটা শোনো। ছাড়ো আমায়।
সব ভেঙে দে!
এই, ওঠ!
উঠতে বললাম তো!
কথা কানে যায়নি?
চোদনা!
- স্যার, আমায় মারধোর করছে! - এই, থাম! থাম বলছি!
গ্যাঞ্জাম বাধাতে চাইছিস নাকি? থানায় চল।
স্যার, ওরাই এসে ভাঙচুর করেছে, যেখানে বাচ্চারা এসে পড়তো।
জানি কী হয়েছে এখানে।
- এবার থানায় চল। - ছাড়ুন, স্যার।
এবার বুঝতে পারছি।
সবাই এক গোয়ালের গরু।
কী বিড়বিড় করে চলেছিস? স্পষ্ট করে বল।
কত টাকা খেয়েছেন?
কী?
কত টাকায় নিজেকে বিকিয়ে দিয়েছেন?
কী বললি?
ওই, লাঠিটা দে তো।
নিজের আনুগত্যকে কত টাকায় বিকিয়ে দিয়েছেন?
কার সাথে কথা বলছিস ধারণা আছে কোনো?
- স্যার! - কত টাকা পেয়েছেন?
কত টাকায় কিনেছে আপনাকে?
একজন পুলিশের গায়ে হাত তোলার স্পর্ধা কীকরে হয়!
জানোয়ার!
আয় এদিকে!
চালা!
- আরে, ওটা তো স্যার। - পুলিশ তাকে নিয়ে যাচ্ছে।
- তারা আমাদের স্যার'কে নিয়ে যাচ্ছে। - স্যার!
- স্যার! - তারা তাকে নিয়ে যাচ্ছে।
মেরে তক্তা বানা ওকে।
স্যার, এভাবে একজন শিক্ষককে মারধোর করা অন্যায়।
আমার গায়ে হাত তোলার সাহস কীকরে পেলো? তুই চাস ওকে ছেড়ে দিই?
এই! যতক্ষণ না মরছে থামবি না।
স্যার!
আমাদের স্যার'কে ছেড়ে দিন!
ছেড়ে দিন তাকে!
স্যার!
স্যার!
স্যার!
প্রেসিডেন্ট স্যার! পুলিশ আমাদের বালা স্যার'কে ধরে নিয়ে গেছে।
- যদি আপনি কিছু একটা... - আমাদের বালা স্যার?
কী, স্যার?
মনে হচ্ছে তার সাথে ভালোই সম্পর্ক গড়েছেন?
না, স্যার। কিন্তু...
কী মনে হয় পুলিশ ওকে বিনা কারণে গ্রেফতার করেছে?
ও সুব্বাইয়ার জমি বেআইনিভাবে দখল করে বসে ছিল।
ও অভিযোগ দায়ের করেছে। সেজন্যই ওকে গ্রেফতার করে নিয়ে গেছে।
না, স্যার।
সেখানে ক্লাস করানোর জন্য সে সুব্বাইয়ার থেকে অনুমতি নিয়েছিল।
- বলো ওনাকে। - হ্যাঁ, বল।
তোমার ফোন এসেছে।
- কে দেখি? - ইন্সপেক্টর।
হ্যালো?
স্যার, শিক্ষার্থীরা থানার সামনে দাঙ্গা করছে।
তাহলে ওদের ভালোমতো মালিশ করো।
তাহলে নিজে থেকেই কাল্টি মারবে।
- আপনার মেয়েও রয়েছে ওদের সাথে। - কী?
- ছাড়ো আমায়। - সরো!
চোলাভারাম থানা
থামো।
মেরে চামড়া গুটিয়ে নেবো!
থামো!
- থামতে বলছি তো! - আমরা কেন থামবো?
আগে আমাদের স্যার'কে ছাড়তে বলুন।
তোমরা সবাই গুন্ডামির পর্যায়ে নেমে গেছো।
- ছাড়ো আমায়! - চুপচাপ তোমাদের বাবা-মা'র সাথে বাড়ি চলে যাও।
- এই! - চল, যাওয়া যাক!
কী করছিস? আমার কথা শুনবি না?
- কিন্তু বাবা, উনি আমাদের স্যার। - আমাদের স্যার জেলে রয়েছেন, মা।
ও তোমার মেয়ে, তাই না? ওকে এখনই বাড়ি নিয়ে যাও।
চল।
আমাদের স্যার!
বাবা!
- আমাদের স্যার জেলে রয়েছে! - ওদের নিয়ে যাও।
এই! ওকে জেলে পুড়ে শহীদ বানিও না।
ওকে গ্রাম ছেড়ে পালাতে বাধ্য করো।
ওকে সর্বস্বান্ত করে পালাতে বাধ্য করো।
স্কুলের তহবিল আত্মসাৎ, সুব্বাইয়ার জমি দখল,
পঞ্চায়েত সদস্য, সরকারী আমলা ও স্থানীয় সদস্যদের গায়ে হাত তোলার জন্য...
বালামুরুগান'কে আমাদের গ্রাম থেকে বহিষ্কৃত করা হচ্ছে।
প্রেসিডেন্ট স্যার, আমায় ডেকেছেন?
আমায় চপ্পল ছিঁড়ে গেছে। জলদি সারিয়ে দে।
হ্যাঁ, এসো।
তোমাদের মেয়ে কি নিজেকে গুন্ডা মনে করে নাকি?
থানায় ইট-পাটকেল ছুড়েছে।
- কিন্তু স্যার, আমাদের মাস্টারকে... - একটাও কথা বলবি না, নয়তো পিটের ছাল ছাড়িয়ে নেবো।
কে রে?
মনে হয় পুলিশ ওই মাস্টারকে ছাড়তে এসেছে।
যা গিয়ে ব্যাপারটা দেখে আয়।
ঠিক আছে, স্যার।
স্যার, প্লিজ!
ওকে সাহায্য করা যাবে না।
এই, কোথায় আসছিস?
- এই, থাম! - এই!
না, আসিস না।
মুত্থু, না!
পেছনে যা।
- এই, ছাড়ো! - ভাগ এবার!
এই!
- এদিকে আয়! - ছেড়ে দাও আমায়!
ছেড়ে দাও!
এই!
উনি আমাদের পড়িয়েছেন।
ওনাকে বলতে পারবে...
এতকিছু উনি তোমাদের খাতিরে করেছেন।
আর এখন রোদের তাপে তার পা পুড়ে যাচ্ছে।
কিন্তু তোমরা কিনা বাড়িতে শুয়ে-বসে কাটাচ্ছো?
তোমাদের মধ্যে আদৌ মনুষত্ব বলে কিছু আছে?
সবক'টা অকৃতজ্ঞ পাষণ্ডের দল!
ছাড়ো আমায়! ছেড়ে দাও!
কী?
এই!
- স্যার! - বীরান্না!
এই, রঙ্গা!
এই, চেলাইয়া!
তোর ছেলে কী করতে চাইছে?
এই, বীরান্না, কী করছিস এসব?
প্রেসিডেন্ট আমাদের গ্রাম থেকে বহিষ্কার করে দেবে।
কী বলতে চাইছো?
আমরা তো ইতিমধ্যে গ্রামের বাইরেই রয়েছি।
চলো, এই গ্রাম ছেড়ে চলেই যাই।
এতে ফারাকই বা কী পড়বে?
আমায় মন্দিরের ভেতরে কখনো ভগবানকে দেখতে ঢুকতে দেয়া হয় না।
ভগবানের দর্শন আমি শুধু স্কুলে পেয়েছি।
আমাদের ভগবান হলেন উনি!
Tears are welling up
Tears are welling up in eyes
The heart is crumbling
From all the anguish
The golden pot which fed us
Now it is broken
We went to worship Lord
But the temple came shattering down
The hurricane lamp has become dark
The pureness of milk has become black
The plain land is drenched with water
The flowers have drowned in the tears
As all the villagers come forward
The crescent has stopped in its tracks
Even if it grows in the backyard
The holy basil has a fragrance
Even when thrown in the streets
-Our love shall continue to live on - দয়া করে আমাদের স্যার'কে ওনার বাড়ির সামনে নামিয়ে দেবেন।
Like smoke in the earthen stove
A group of people are scorched
When you try to pull out the weeds
It will trample your feet and push down
ওকে তো আমাদের বালা'র মতো লাগছে।
বালা!
- স্যার! - বালা!
বালা!
হ্যালো?
বালা স্যার, কেমন আছো?
তোমায় ফোন করতেই যাচ্ছিলাম।
আমি ওখানে আসছি।
তোমাকে ছাড়া আমি এখানে থাকতে পারবো না।
না, তোমায় ওখানেই থাকতে হবে।
শিক্ষার্থীদের খাতিরে।
তাছাড়া আমি এখন নিঃস্ব।
নিঃস্ব মানে?
সবকিছু ভুলে যাও, ম্যাডাম।
হ্যালো?
হ্যালো?
হ্যালো?
কী হয়েছে?
ওনারা নতুন শিক্ষক-শিক্ষিকা। শ্রীবাণী, অঙ্ক শিক্ষিকা…
We were toiling in the farm fields
We didn't study anything
Daily we live in the sludge
Even Lord hasn't saved us
The education that demands money
Has become a dream to us
It is like a writing on water
Do we have to stitch the shirt
With a broken needle?
Do we have to bend down and slough
Our entire lives?
We have no hope for the future
But do we have to die for that?
The plain land is drenched with water
The flowers have drowned in the tears
As all the villagers come forward
The crescent has stopped in its tracks
এসব কী, বালা?
আর কী করবো? কিছু একটা তো করতে হবে, না?
সুতরাং প্রমাণিত, বোঝা গেছে?
লিখে নাও, E= MC²...
কোন গুণধর আজ দেরি করে আসছে?
ম্যাডাম!
কেমন আছো, ম্যাডাম?
তোমার মা কেমন আছে?
আমি তো এখানে আসবো বলেইছিলাম, তাই না?
মুখের ওপর কেন ফোনটা কেটে দিয়েছিলে?
ভুল তো আমারই।
একটা শহরের ছেলের ওপর বিশ্বাস করে নিয়েছিলাম, তাই আমার এটাই প্রাপ্য।
ম্যাডাম, প্লিজ কেঁদো না। সবাই দেখছে।
- প্লিজ, ম্যাডাম। - কে এসেছে রে, বালা?
মা!
ওহ, সেলসগার্ল নাকি?
- এরা আমাদের বড্ড জ্বালাতন করে। - মা?
সবসময় সাবান আর ডিটারজেন্ট নিয়ে আসে।
শোনো মেয়ে, যতই কাঁদো না কেন,
- মা প্লিজ একটু শোনো... - আমরা কোনো সাবান বা ডিটারজেন্ট কিনবো না।
আপনার ছেলে বিয়ে করার প্রতিশ্রুতি দিয়ে আমায় ছেড়ে দিয়েছে।
আরে! মা, না!
হায়, ভগবান! এসব কী বলছে, বালা?
- হায়, ভগবান! - মা, তোমার মুখখানা দেখি।
এমন একটা সুন্দরী মেয়েকে তুই কীভাবে ছাড়তে পারিস?
মাথা খারাপ হয়ে গেছে নাকি তোর?
- খচ্চর! - না, মা!
কোনো মেয়েকে কাঁদাবি না।
এমন করলে কক্ষনো শান্তিতে থাকতে পারবি না।
ক্লাস শেষ, সবাই কালকে আসবে।
- সমস্যা নেই, স্যার! আমরা থাকবো। - থাকবে?
কী ব্যাপার? কী হয়েছে?
আপনার শিষ্য একটা সুন্দরী মেয়েকে বিয়ের প্রতিশ্রুতি দিয়ে,
ছেড়ে দিয়েছে, আর এখন ও অন্তঃসত্ত্বা।
অন্তঃসত্ত্বা? না, মা!
- তোমায় ও অন্তঃসত্ত্বা করেনি? - না, মা!
উফ! যাক বাঁচালাম।
শোন, এই মেয়েটাকে বিয়ে না করলে, বিষ খেয়ে আমি আত্মহত্যা করবো, বলে দিলাম।
একটু শান্ত হবে?
আলতু-ফালতু কথা বলো না।
বিয়ের পর কী হবে?
সংসার কীভাবে চালাবো শুনি?
এই বাড়িতে ও কোথায় থাকবে?
আমার উপার্জন তোমার স্বামীর অর্ধেক।
আমিও তো চাকরি করবো, তাই না?
প্রয়োজন হলে, আমি এখানে টিউশনি করবো।
বায়োলজি পড়তে কে আসবে শুনি?
- আমায় কম ভেবো না। - না!
- বুঝেছো? - হ্যাঁ।
সারদা, কিছু খেতে দাও।
মুখে এত চমক কেন শুনি?
তাই বুঝি?
এই?
কী হলো?
যাকগে!
কী হয়েছে গো ওর?
ও লজ্জা পাচ্ছে, আঙ্কেল।
ওহ, লজ্জা পাচ্ছে...
আরে, তুমি কে?
সারদা, তুমি কই গেলে?
- ও আমাদের হবু বউমা। - বউমা?
ও সুযাভারাম সরকারী স্কুলে বায়োলজি পড়ায়।
ওহ?
- ওরা একে-অপরকে ভালোবাসে। - অ্যাঁ?
পুরো ফাটিয়ে দিয়েছিস তো, বাবু!
ও আমাদের কিছু বলেওনি।
শিক্ষার্থীদের খবর কী, ম্যাডাম?
নতুন শিক্ষক-শিক্ষিকারা ভালোভাবে পড়াচ্ছে তো?
ধন্যবাদ।
পুরো স্কুল খালি পড়ে রয়েছে, স্যার।.
নতুন একটাও শিক্ষক-শিক্ষিকা ভালো নয়।
তারা দীর্ঘদিনের ছুটি নিয়ে, বেসরকারী স্কুলে চাকরি নিয়েছে।
প্লিজ কিছু একটা করো, স্যার।
অন্য বিষয়ে কথা বলা যাক, ম্যাডাম।
প্লিজ সাহায্য করুন, স্যার...
- কোনোভাবে... - প্লিজ, স্যার। প্লিজ, দশ টাকা দিন, স্যার।
আমিও মনে করি যে এই শিক্ষকতার পেশা, আমার জন্য নয়।
স্যার! প্লিজ, স্যার!
- আমি অন্য কোনো চাকরি খুঁজবো। - ধন্যবাদ, স্যার!
স্যার, আমি বই কিনতে চাই, কিন্তু আমার কাছে কেনার টাকা নেই।
ভাবছি টিউশনি করা ছেড়ে দেবো।
- ভীক্ষা করার নতুন পদ্ধতি নাকি? - আরে! না না, স্যার।
এই বই থেকে যেকোনো একটা প্রশ্ন করুন, আমি...
- মা গো! - এই, আমায় একদম ছুঁবি না।
এই!
- তুমি ঠিক আছো? - হ্যাঁ। ঠিক আছি, স্যার।
স্যার, ১০ টাকা দিতে পারবেন?
স্যার, মাত্র ১০ টাকা। প্লিজ।
বাবা আমায় স্কুল ছাড়িয়ে দিয়ে হোটেলে কাজ করতে পাঠিয়েছে।
সেখানে প্রতিদিন ২০ টাকা করে পাই।
তাহলে ভীক্ষা করো কেন?
তাহলেই আমি ৩০-৪০ টাকা উপার্জন করতে পারবো, স্যার।
২০ টাকা আমার বাবা'র জন্য।
আর বাকি ২০ টাকা আমার পড়াশুনোর জন্য।
বেশ, একটা কাজ করা যায়।
আমি তোমায় ২০ টাকা দেবো।
সেটা নিয়ে তোমার বাবা'কে গিয়ে দেবে।
আর এখানে কেবল পড়ার জন্য আসতে পারো।
যেমন মাস্টার তেমন তার শিষ্য।
স্যার, মজা করছেন নাকি?
আমি একদম সিরিয়াস।
বলো, পড়বে কি পড়বে না?
পড়বো, স্যার।
আমি পড়বো, স্যার।
আগে এই কথাটা আমার মা'কে গিয়ে বলি।
বাই, স্যার।
তোমার এই গুণটাই আমার ভালো লাগে, স্যার।
তুমি সমস্ত বাচ্চাদের জন্য শিক্ষার ব্যবস্থা করতে চাও।
কিন্তু আমাদের ছাত্র-ছাত্রীরা!
ওদের কি ছেড়ে দেবে?
- স্যার? - আমার দ্বারা হবে না, ম্যাডাম।
আমি ব্যর্থ।
স্যার, তুমি যেই ব্যর্থতার কথাটা বলছো, সেটা হবে সেইসব ৪৫ জন...
শিক্ষার্থীর ব্যর্থতা, যারা তোমার ওপর ভরসা করেছিল।
আমিও পড়াতে চাই, ম্যাডাম।
আমিও ওদের সবাইকে নিজের পা-এ দাঁড়াতে দেখতে চাই।
কেন'ই বা চাইবো না?
কিন্তু কীভাবে?
ঐ গ্রামে আমি পা'ও রাখতে পারবো না।
স্যার...
তুমি আসার আগে, স্কুলটা স্রেফ একটা ফাঁকা ভবনই ছিল।
কিন্তু শিক্ষার্থীদের জন্য তুমি সেটাকে একটা স্কুলের রূপ দিয়েছো।
সেটা করে দেখাতে পারলে, কোনোকিছুই অসম্ভব নয়।
কী বলছো, ম্যাডাম?
গ্রামে যেতে না পারলেও, আমার পড়ানো শুধু ওদের কাছে পৌঁছে দিলেই হবে তো?
আমার পড়ানো ওদের কাছে পৌঁছে যাবে।
হ্যালো, স্যার। কেমন আছেন?
বহুদিন পর আপনাকে দেখলাম।
স্যার, সমস্ত ঘটনা আমি শুনেছি। খুব খারাপ লেগেছে আমার।
সমস্যা নেই। আমায় একটা ছোট্ট উপকার করো।
বলুন, স্যার!
আজ দেখুন!
সুপারস্টার রজনীকান্ত অভিনীত একটা সুপারহিট ছবি "অরুণাচলাম।"
ওসব দুষ্টু সিনেমা চালিয়ে বেশি উপার্জন হচ্ছে না।
তাই, অন্যান্য দিন পারিবারিক সিনেমা দেখালে, বাড়তি কিছু উপার্জন করতে পারবো।
উচ্চমাধ্যমিক শিক্ষার্থীদের জন্য প্রথমদিন বিনামূল্যে ছবি দেখানোর ব্যবস্থা করছি।
সবাইকে ছবিটা দেখতে আসার অনুরোধ রইলো।
আমাদের "লক্ষী টকিজ"-এ আসতে ভুলো না কিন্তু।
"লক্ষী টকিজ।"
মাল্লু কামানোর উপায় বেরই করে নিলি।
গোপিকা?
সন্ধ্যে ৬টায় থিয়েটারে অবশ্যই আসবে।
তোমাদের সমস্ত বন্ধুদের জানিয়ে দাও।
- ঠিক আছে? - ঠিক আছে, মিস।
আপনিও সন্ধ্যাবেলায় অবশ্যই আসুন, স্যার।
কিন্তু এটা আদৌ সম্ভব?
ম্যাডাম, সিঙ্গাপুর থেকে একটা নতুন প্রজেক্টর এসেছে।
সেটাকে VCR-র সাথে কানেক্ট করে চালাতে পারবো, স্যার।
দাঁড়াও! আজকের সিনেমা তোমাদের জন্য নয়।
তোমরা যাও। আজ শুধু বাচ্চাদের দেখানো হবে।
- যাও এবার। - এই সিনেমাটা তোমাদের জন্য নয়।
এটা শুধু বড়ো বাচ্চাদের জন্য, বুঝেছো? এবার বাড়ি যাও।
এই, কোথায় যাচ্ছিস?
ব্যাপার নয়। ও আসতে পারে।
এসব কী?
- এটা তো অরুণাচলাম সিনেমা নয়। - এটা নয়?
বোর্ড কেন দেখাচ্ছে?
অরুণাচলাম দেখাবে বলেছিল তো।
কী খবর বাচ্চারা! কেমন আছো?
ফোকাস, স্যার। ফোকাস।
- আরে, এটা তো আমাদের বালা স্যার। - ফোকাস?
- কী? - এই, এটা তো বালা স্যার।
- আরে, এটা বালা স্যার। - বালা স্যার।
ওটা বালা স্যার না?
- এবার ঠিক আছে? - স্যার!
- তৈরি, স্যার! অ্যাকশন! - হ্যাঁ, ঠিক আছে।
কেমন আছো সবাই?
- ভালো, স্যার। - ভালো, স্যার।
আমার কথা চিন্তা করো তোমরা?
- সবসময় করি, স্যার। - সবসময় করি, স্যার।
আমার মাথায় সবসময় তোমরাই ঘোরো।
প্লিজ আমায় ক্ষমা করে দাও।
যখন আমায় সবচেয়ে বেশি প্রয়োজন ছিল, তখন তোমাদের পাশে থাকতে পারিনি।
এমনটা আর কক্ষনো হবে না।
পরীক্ষার আর এক মাস বাকি আছে, তাই না?
আচ্ছা, চাপ নিও না।
আজ থেকে, সন্ধ্যা ৬টা থেকে ৯টা পর্যন্ত এখানে ক্লাস করাবো।
অঙ্ক, ভৌতবিজ্ঞান আর রসায়ন আমি পড়াবো।
বাকি ক্লাসগুলো স্কুলে থানিকাচালাম স্যার আর মীনাক্ষী ম্যাডাম নেবে।
একাদশ শ্রেণীতে যে ৭০% আর ৮০% করে নম্বর এনেছিলে...
তা এইবার কিন্তু যথেষ্ট হবে না।
এইবার সবাইকে ৯০% পেতেই হবে।
৯০%?
এটা তোমাদের কাছে কোনো ব্যাপারই নয়। আমি জানি সেটা।
কিন্তু আমাদের লক্ষ্য শুধুমাত্র উচ্চমাধ্যমিকের নম্বরই নয়।
এটা কী রে, ভাই? TNPCE?
- ভয় লাগছে, কুমার? - হুম।
আর কতদিন ভয় পেয়ে চলবে?
কতদিনই বা এভাবে থাকবে?
মন দিয়ে পড়াশুনো করো…
যাতে পুরো গ্রাম যেন তোমাদের নিয়ে গর্ব করে।
যারা বলেছিল তোমাদের পড়াশুনোর কোনো প্রয়োজন নেই, যারা জাত-পাত দেখে...
তোমাদের মানুষ বলে গণ্য করেনি, যারা ভাবে মেয়েদের জন্ম শুধু বিয়ের জন্যই হয়েছে,
তাদের সব্বাই...
তাদের সবার যেন তোমাদের নাম উচ্চারণ করতে গর্ববোধ হয়।
তোমাদের দিকে তাকালে তারা যেন শুধু তোমাদের ক্রমোন্নতিই দেখতে পায়।
তা অর্জন করতে তপস্যা করা লাগলেও সেটাই করবো!
আমার সাথে সেই তপস্যার অংশ হতে কে কে তৈরি রয়েছো?
হাত তোলো।
আমি তৈরি, স্যার!
- আমিও তৈরি, স্যার! - আমি তৈরি!
আমরা তৈরি, স্যার।
Let’s rise at dusk
Let’s hail the war
Let’s prove our will is our weapon
Let’s sever pain
Let’s till dreams
In the thickening darkness Let’s become the brilliant pole stars
-Let a hundred thunderbolts land - টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে। হাউজফুল।
সব টিকিট বিক্রি হয়ে গেছে।
শিক্ষার্থীদের কয়েকটা জিনিসে সমস্যা হচ্ছে।
আচ্ছা।
শিবারাত্রিতে আমরা "রাবণ কাব্য" নামক যাত্রাপালার আয়োজন করছি...
আপনাকে কিন্তু আসতেই হবে।
মনটা পুরো জুড়িয়ে গেলো!
যে রাবণের চরিত্রে অভিনয় করলো, সে পুরো যাত্রাপালা ফাটিয়ে দিয়েছে!
প্রতি রবিবার যেভাবেই হোক এখানে আসবো। তোমাদের যা যা সমস্যা হচ্ছে সেগুলোর সমাধান করবো।
ঠিক আছে?
ভাই, প্লিজ এটা নাও।
এসবের কোনো দরকার নেই, স্যার।
এটা তো একটা আদ্যিকালের নোংরা একটা সিনেমা হল ছিল।
কিন্তু আপনার জন্য, এটা এখন একটা স্কুল হয়ে উঠেছে।
এটাই আমার কাছে যথেষ্ট।
যা যা বললাম সেগুলো মনে রেখো।
নাও, ক্লাস করাও।
স্যার! এইবার আপনি এখানে কী করছেন?
এই সেন্টারের প্রধান তত্ত্বাবধারক আপনি না?
হ্যাঁ, স্যার।
আমাদের কয়েকজন শিক্ষার্থী এখানে পরীক্ষা দিয়েছে।
ওদের দেখেশুনে রাখতে বলেছিলাম।
সেটা করেছেন তো?
- আপনি যা বলেছিলেন সেটাই করেছি, স্যার। - এই, তিরুপতি স্যার।
- আচ্ছা, পরে দেখা হবে। - ধন্যবাদ, স্যার।
কেমন আছেন, স্যার?
কে তুমি?
আমি মুত্থুপান্ডিয়ানের মেয়ে।
- পান্ডিয়ানের মেয়ে? - সুযাভারামের প্রেসিডেন্টের মেয়ে, স্যার।
তোমরা এখানে কী করছো?
স্যার, আমাদের এখানে উচ্চমাধ্যমিকের সিট পড়েছে।
আজ আমাদের শেষ পরীক্ষা ছিল।
- সবার পরীক্ষা খুব ভালো হয়েছে। - হ্যাঁ, স্যার।
- আমরা চলি, স্যার। - বাই, স্যার।
আসছি, স্যার।
স্যার, আমায় ডেকেছিলেন?
নাম বালামুরুগান।
ওকে খুঁজে বের কর।
এত পড়াশুনো কেন করছে?
তোমার মেয়ে একজন ইঞ্জিনিয়ার হতে চায়।
এসবের একদমই কোনো প্রয়োজন নেই।
এইবছরই তো বিয়ে দিয়ে ওকে আমেরিকা পাঠিয়ে দিচ্ছি, তাই না?
আমি কারো দৌলতে আমেরিকা যেতে চাই না।
মন দিয়ে পড়াশুনো করে নিজের সামর্থ্যে আমেরিকায় যেতে চাই।
You live only once, you die only once Go boldly, go boldly
আমায় পড়তে বসতে হবে, স্যার।
The stronger trying to suppress the weaker Is that right? Is that right?
To set the world ablaze with the fire of knowledge
You stand upright, you stand upright
এরা আমাদের সমস্ত শাখার সবচেয়ে মেধাবী শিক্ষার্থী।
টপ র্যাঙ্কের দিক থেকে!
Were we born to fall down? Let’s rise up like seeds
-If there is a light in your heart - এই টেপগুলো নাও।
- সাবধানে যেও। - আচ্ছা, স্যার।
Come, let’s hold the banner high
Ahead, move ahead
You are a boundless wild river
You need not shed tears!
বালা এখানে নেই, স্যার।
কিন্তু ক্লাসগুলো ক্যাসেটে রেকর্ড করে ওরা...
এখানের সিনেমা হলে চালাচ্ছে।
ভিডিও ক্লাস?
জি, স্যার।
হ্যালো?
হ্যাঁ?
ও তোমার গ্রামের একটা সিনেমা হলে ভিডিও ক্লাস করাচ্ছে।
তুমি কিনা পা-এ পা তুলে ঘরে বসে টিভি দেখছো?
আরে, না! জামাইবাবু, আমি তো...
ভিডিও ক্লাস আবার কী?
এই, যেটা বলছি শোনো।
কাল TNPCE পরীক্ষা রয়েছে।
দেখো তোমার গ্রামের কেউ যেন সেই পরীক্ষায় না বসতে পারে।
জামাইবাবু...
অন্যায় আর ন্যায়বিরুদ্ধ কাজের একটা সীমা থাকে।
সেই সীমা পার করে ফেললে, রাজনীতিতেও টিকে থাকা যায় না।
এতদিন ধরে এটাই ভেবে আসছিলাম যে, তোমায় কোনো উপকারে তো পাশে পাবো।
কিন্তু এটা বুঝতে পারিনি যে, তুমি আমায় ব্যবহার করছিলে।
শুধু বলছি আরকি!
- আসতে এত দেরি করলি কেন? - মা...
- কতবার বলবো তোকে? - এই! ওকে বকো না।
রোজ-রোজ এই বয়সী একটা মেয়ে এত রাত করে বাড়ি ফিরলে চিন্তা করবো না?
তুমি ভেতরে যাও তো।
যেমন বাবা, তেমন তার মেয়ে।
মন দিয়ে পড়ছিস তো?
হ্যাঁ, বাবা।
আচ্ছা, যা এবার ঘুমিয়ে পড়।
কাল তো তোর পরীক্ষা আছে।
ঠিক আছে, বাবা।
- এটা মুখস্থ আছে তো তোমার? - জি, ম্যাম!
- এটা পড়েছিস? - এর উত্তরটা বল।
এই, এই বাসটা। থাম!
- চল, বেরা। - চল সবাই।
এই! চল!
আরে, বাস থামালে কেন? কাণ্ডজ্ঞান বলে কিছু নেই নাকি?
এই! বসে পড়।
চুপচাপ বসে থাক।
আগামী তিন ঘন্টা এই বাসটা আমরা আটকে রাখবো।
তাই, কেউ মুখ দিয়ে টু-শব্দ'ও বের করবি না।
এটা কোনোমতেই সম্ভব নয়। আমাদের পরীক্ষা আছে।
কোথায় গিয়ে লিখবি শুনি? চুপচাপ বসে পড়।
- আমাদের গা-এ হাত তোলার দম পেলি কীভাবে? - হেই, গোপালকৃষ্ণা!
ভাষা সংযত করো।
সবাই চুপচাপ বসে পরীক্ষার প্রস্তুতি নাও।
মহালক্ষী, তোমার বইটা নাও।
আমি কী বলছি আর তোরা কী করছিস?
তোদের ভয়-ডর নেই নাকি?
- না গো, দাদা। - কেন?
It's time to defend
Let the valor within you rise!
Chase and round up the evil forces
And serve them, the master style!
You are the lava within the volcano
When you are threatened Don't fear, start a war
As courage stands within you
Your enemies shall cower in fear
The earth trembles By the action of the empowered
This sends shiver down the spine
For the new generation to be liberated
Education becomes the new blood
Knowledge is free
But it was sold by the wretched
Remember education is your birthright
Knowledge paves way for revolution
You have to embrace education
You have to pave a new path
এই, টায়ার কেটে দে।
আচ্ছা, ভাই। চল, সবাই!
চল!
Here comes a brave warrior
The one who teaches a lesson
He was born to right the wrong
A great devotee of Lord Shiva Each of his steps becomes firmer
Master’s determination grows stronger
As he forms a fist and gives a punch
The earth stops at his power
He burns a new way
Boundaries wither away
A new society is formed
The bent backs rise slowly
Hey!
শিক্ষার্থীগণ, সময় নষ্ট না করে পড়তে থাকো।
- ড্রাইভার, আপনি বাস চালু করুন। - আচ্ছা, ম্যাডাম।
স্যার, ছাড়ুন ওদের। চলুন, যাওয়া যাক।
চলুন, স্যার।
চলুন, দেরি হয়ে যাচ্ছে।
কী হয়েছে?
চল, সবাই। পালা। পালা সবাই।
- আয়, সবাই। যাওয়া যাক। - গাড়ি চালু কর, জলদি
চল, চল!
বালা স্যার!
স্যার!
কেঁদো না, স্যার!
স্যার, একটু থামুন। দয়া করে একটু থামুন।
স্যার, ওদের পরীক্ষা দিতে শহরে যেতে হবে।
আপনাদের গাড়ি করে ওদেরকে একটু পৌঁছে দেবেন?
আমি চালের বস্তা নিয়ে যাচ্ছি, তাছাড়া বসার জায়গা নেই।
গাড়ি টানা খুবই মুশকিল হবে।
প্লিজ কী করা যেতে পারে একটু দেখুন না।
ওদের ভবিষ্যত এই পরীক্ষার ওপর টিকে রয়েছে।
বলছি তো...
আরে বদ্দা, কী করছো?
পাগল হয়ে গেলে নাকি?
চালের বস্তাগুলো ফেলে দিচ্ছো কেন?
এই! আমি পাগল নই।
এটাই আমার কর্তব্য।
এগুলো পরে যেকোনো সময় বিক্রি করতে পারবে।
বাচ্চাদের পরীক্ষা আছে।
ওদের ভবিষ্যত এই পরীক্ষার ওপর টিকে রয়েছে।
চুপচাপ সমস্ত বস্তা নামিয়ে ফেলো। ফেলো।
চেয়ে-চেয়ে কী দেখছো? গাড়ি খালি করো।
এই, ফেলতে বললাম তো।
ফেলো।
চলে এসো সবাই। উঠে পড়ো।
- আপনাদের এই উপকার কক্ষনো ভুলবো না, স্যার। - ধন্যবাদ।
চোলাভারামে স্বাগত
আজ আমাদের প্রবেশিকা পরীক্ষার রেজাল্ট বেরিয়েছে।
আমাদের বড্ড ভয় লাগছে, ভাইয়া। তুমি একটু দেখে বলতে পারবে?
আপনারা সবাই র্যাঙ্ক করেছিলেন, স্যার?
আপনি কত র্যাঙ্ক করেছিলেন, স্যার?
কৃষ্ণা, ৪১।
মেডিকেল।
সুরেশ, ৫৯।
মেডিকেল।
দিব্যিয়া, ২১।
মেডিকেল।
আনন্দী, ৫৫।
- ইঞ্জিনিয়ারিং। - এই, অভিনন্দন!
ধন্যবাদ।
ভি. অঙ্গয়াকন্নি, ৩৩।
- ধন্যবাদ। - মেডিকেল।
এন. রামাসামি, ২৯।
ইঞ্জিনিয়ারিং।
এম. বরলক্ষী, ৩০।
পি. মহালক্ষী, ১৫।
সি. পদ্মাবতী, ৮।
জি. প্রমিলা, ৩৩।
এস. বীরান্না, ১৪।
আমরা পেরেছি, দোস্ত।
আমরা সবাই র্যাঙ্ক করেছি, মহেশ।
আপনারা ৪৫ জনই র্যাঙ্ক করেছিলেন, স্যার?
না। ৪৬ জন।
এটা কীভাবে সম্ভব, স্যার?
আপনারা তো মোট ৪৫ জন শিক্ষার্থী ছিলেন, তাই না?
এ. এম. কুমার।
এ. এম. কুমার, প্রথম হয়েছে।
- এটা কে? - কে রে এটা?
কে জানিস?
এ.এম. কুমার আবার কে?
চিনি না।
কে এটা?
আমায় নিয়ে...
৪৬ জন।
অভিনন্দন, দোস্ত!
এই, এটা তো আমাদের মুত্থু!
স্যার, এগুলো আপনাকে দিয়ে দিতে বলেছেন।
মুত্থু তোর পুরো নামটা কী রে?
আনন্দ মুত্থুবেলকুমার।
এ তো ইয়া বড়ো একটা নাম রে, বাবু।
তুমি পেরেছো, বালা!
১৯৪৮ লক্ষী ট্যুরিং টকিজ
জয়!
আমাদের বালা জিতেছে!
৯-এ র্যাঙ্ক করেছে, তাই না?
তারপরেও প্রতি মাসে তিন থেকে চার হাজার টাকা তো লাগবেই।
আপনি মাস গেলে ৮০০ টাকা রোজগার করেন, তাই না?
- হ্যাঁ, স্যার। - চিন্তা করবেন না।
আপনাকে ধার-দেনা করতে হবে না।
আমি ওর পড়াশুনোর খরচ বহন করবো।
ওকে উচ্চশিক্ষার জন্য আমেরিকাও পাঠাবো।
কোয়েম্বাটুরে আপনার জন্য সাব-ইন্সপেক্টরের চাকরির ব্যবস্থা করে দেবো।
শহরে তোমার মা'র জন্য একটা হোটেল খুলে দেবো।
তোমাকে শুধু একটা কাজ করতে হবে।
শুধু বলবে এই নম্বর তুমি...
তিরুপতি কোচিং সেন্টারে পড়ে তুলেছো।
এই চুক্তিপত্রে সই করলে প্রমাণিত হবে যে, আমাদের সেন্টারে কয়েকদিনের কোর্স করেছিলে।
যে জমিটা তোমার বাবা-মা হারিয়েছিল...
সেটা এখন তোমার।
মিউনিসিপালিটি চেয়ারম্যানের পদটা তোমার।
আমরা বালা'কে নিয়ে এসেছি, স্যার।
তোমার সমস্ত শিক্ষার্থীরা আমার সাথে চুক্তিবদ্ধ হয়েছে।
ঘুমের ঘোরেও ওরা বলবে যে, তিরুপতি'তে পড়েই ওরা এত নম্বর পেয়েছে।
যদি ভুলেও জনসম্মুখে ওরা তোমার নাম বলে, তাহলে আমি ওদের ভবিষ্যত শেষ করে দেবো।
বোঝা গেছে?
সেই কুক্ষণের দিন অর্থাৎ সমাবেশের দিনে, তোমার মুখটা ঠিক খেয়ালও করিনি।
অনেকটা দূরে দাঁড়িয়ে ছিলে।
চুনোপুটি হয়ে আমার খেলাতে আমাকেই হারাতে চেয়েছিলে?
তিরুপতি স্যার…
এই তো ক'দিন আগেই বলেছিলেন, "টাকা না দিলে, শিক্ষা মিলবে না।
বেশি টাকা দিলে তবেই উচ্চ শিক্ষা মিলবে।"
ওই বোর্ডে থাকা আমার প্রতিটা শিক্ষার্থী এই র্যাঙ্ক করতে নয়াকড়িও খরচ করেনি।
বদলে ওদের রেজাল্ট আর সাফল্যকে কিনতে আপনিই লাখ-লাখ টাকা খরচ করেছেন।
তাই নয় কি?
এটাকে আপনি জয় বলেন?
ঠিক আছে, স্যার!
ধন্যবাদ, স্যার!
ভালো থাকবেন, স্যার!
যে ব্যক্তি তোমাদের ওপর বিন্দুমাত্রও ভরসা করেনি,
যে তোমাদের মানুষ বলে গণ্য করেনি, সে তোমাদের বাড়ির দরজায় এসে,
তার প্রতিষ্ঠানের ব্র্যান্ড অ্যাম্বাসেডর হতে বলছে।
তোমাদেরকে রীতিমতো সে অনুরোধ করছে।
ঠিক যেমন সচিন বুস্টের প্রতিনিধিত্ব করে।
আমি তো তোমাদের জন্য এই মর্যাদাটাই আদায় করাতে চেয়েছিলাম।
আর সেটা তোমরা অর্জন করেছো।
চমৎকার! যাও, সই করে দাও।
চুক্তিপত্রে সই করে দাও।
কিন্তু স্যার?
এসব উনি কী বলছেন?
শিক্ষা ব্যবস্থা বহুদিন আগেই ব্যবসায় পরিণত হয়েছে।
ভবিষ্যতে আরো বড়ো ব্যবসায় পরিণত হবে।
একাদশ ও দ্বাদশ শ্রেণীর শিক্ষার্থীদের কাছে তারা যে টাকা চায়, সেই টাকাই ভবিষ্যতে গিয়ে...
সেই টাকাই ভবিষ্যতে গিয়ে, নার্সারির শিক্ষার্থীদের কাছে চাইবে।
আমরা তো শুধু তিরুপতিকেই চিনি।
আমাদের দেশে এমন আরো অনেক লোক আছে।
তিরুপতি তোমাদের পড়াশুনোর খরচ বহন করছে তো?
করতে দাও।
তোমাদের পরিবারকে দেয়া প্রতিশ্রুতি সে পূরণ করছে তো?
পূরণ করতে দাও।
তোমাদের উচ্চ শিক্ষার জন্য বিদেশে পাঠাচ্ছে তো?
পাঠাতে দাও।
ওর অহংকারকে কাজে লাগিয়ে নিজের পথকে প্রশস্ত করো।
নিজেরা প্রতিষ্ঠিত হয়ে নাও।
তারপর…
যাদের সামর্থ্য নেই, তাদেরকে বিনামূল্যে পড়াও।
তোমাদের মতোই, ওদেরও সাফল্যের দ্বার খুলে দাও।
এখানে তোমরা ৪৬ জন আছো।
চাইলে তোমরা বহু মানুষের জীবনকে বদলে দিতে পারবে।
সই করে ফেলো।
সেদিনটার কথা আমার সারাজীবন মনে থাকবে যেদিন প্রথমবার আমি তিরুপতি কোচিং সেন্টারে এসেছিলাম।
শিক্ষকেরা আমার মধ্যেকার প্রতিভাকে দেখে আমায় অনেক উৎসাহিত করেছেন।
এটাই তোমার জায়গা। যাও এবার।
ভুল করলে তাদের বকাও খেয়েছি।
তারাই আমায় সঠিক পথে চালিত করেছেন।
তারা আমার জন্য একটা লক্ষ্য গড়ে সেটাকে অর্জন করতে আমায় সাহায্য করেছেন।
আমার...
বাবা-মা নেই।
তিরুপরি কোচিং সেন্টারই আমার কাছে সব।
সবাই সেখানে বাবা-মা'র সাথে যাবে।
আমার আপন বলে তো কেউ নেই।
উনি আসবেন কিনা একটু জিজ্ঞেস করবেন?
উনি চলে গেলেন।
ঠিক যেমন দেবতা কোনো বর দেয়ার পর উধাও হয়ে যায়, উনিও ঠিক তেমনই উধাও হয়ে গেলেন।
হয়তো ভেবেছিলেন উনি এখানে থাকলে, তিরুপতির কাছে আমাদের বিপদে ফেলে দেবেন।
উনি চলে যান।
আজ অব্ধি বালা স্যারের সাথে আমাদের আর কারো দেখা হয়নি।
বালা স্যার যেখানে ক্লাস নিতেন, সেই সিনেমা হলটাকে বদলে আমরা...
একটা কোচিং সেন্টার বানিয়েছি।
আমাদের ৪৬ জনের প্রত্যেকে, সারাবছর ধাপে-ধাপে এই গরীব বাচ্চাদের...
ক্লাস করাই।
- এই, অভি। ওটা তো তোর দাদু! - অভি। ওটা তোর দাদু!
এখানে আমরা শিক্ষাকে বেঁচি না।
মন্দিরের প্রসাদের মতো মুক্ত হস্তে প্রদান করি।
বালা স্যার এখন কোথায়?
জানি না।
ভাইয়া, একটা পাউরুটি দিন না।
নাও।
ধন্যবাদ।
- পড়াশুনো করতে চাও। - হ্যাঁ, স্যার।
বেশ, আমার সাথে এসো।
উনি যেখানেই থাকুক না কেন, শিক্ষা প্রদান করা চালিয়ে যাবেন।
ঠিক যেমন করে ভগবানের চরণে প্রসাদ রাখা হয়।
মন দিয়ে পড়তে হবে কিন্তু।
ধন্যবাদ, স্যার!
অনুবাদ ও সম্পাদনায় আকাশ বসাক
মুভিটি বাংলা সাবটাইটেলের সহিত উপভোগের জন্য আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.