Afrikaans
Akan
Albanian
Amharic
Arabic
Armenian
Azerbaijani
Basque
Belarusian
Bemba
Bengali
Bihari
Bosnian
Breton
Bulgarian
Cambodian
Catalan
Cebuano
Cherokee
Chichewa
Chinese (Simplified)
Chinese (Traditional)
Corsican
Croatian
Czech
Danish
English
Esperanto
Estonian
Ewe
Faroese
Filipino
Finnish
French
Frisian
Ga
Galician
Georgian
German
Greek
Guarani
Gujarati
Haitian Creole
Hausa
Hawaiian
Hebrew
Hindi
Hmong
Hungarian
Icelandic
Igbo
Indonesian
Interlingua
Irish
Italian
Japanese
Javanese
Kannada
Kazakh
Kinyarwanda
Kirundi
Kongo
Krio (Sierra Leone)
Kurdish
Kurdish (Soranî)
Kyrgyz
Laothian
Latin
Latvian
Lingala
Lithuanian
Lozi
Luganda
Luo
Luxembourgish
Macedonian
Malagasy
Malay
Malayalam
Maltese
Maori
Marathi
Mauritian Creole
Moldavian
Mongolian
Myanmar (Burmese)
Montenegrin
Nepali
Nigerian Pidgin
Northern Sotho
Norwegian
Norwegian (Nynorsk)
Occitan
Oriya
Oromo
Pashto
Persian
Polish
Portuguese (Portugal)
Punjabi
Quechua
Romanian
Romansh
Runyakitara
Russian
Samoan
Scots Gaelic
Serbian
Serbo-Croatian
Sesotho
Setswana
Seychellois Creole
Shona
Sindhi
Sinhalese
Slovak
Slovenian
Somali
Spanish (Latin American)
Sundanese
Swahili
Swedish
Tajik
Tamil
Tatar
Telugu
Thai
Tigrinya
Tonga
Tshiluba
Tumbuka
Turkish
Turkmen
Twi
Uighur
Ukrainian
Urdu
Uzbek
Vietnamese
Welsh
Wolof
Xhosa
Yiddish
Yoruba
Zulu
ওয়াহিদা! থামো!
ওয়াহিদা, থামো, ওয়াহিদা!
পড়ে যাবে, ওয়াহিদা।
ওয়াহিদা...
এই, রসুল!
ভেতরে তোকে ডাকছে।
- কোথায় গিয়ে খেলছে ও? - এইতো রসুল।
তোমার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করছে।
জনাব অপেক্ষা করছেন তোমার জন্য, রসুল।
এসো, রসুল, এসো।
আজ তোমরা পাঁচ জন সীমান্ত অতিক্রম করে
কাশ্মীরে পা রাখবে।
কাশ্মীর? কী জন্য?
অপারেশন জিব্রাল্টার।
আসসালামু আলাইকুম, স্যার।
ওয়ালাইকুমুস সালাম।
আশরাফ সারিন।
৮ একে পদাতিক ব্যাটালিয়ন।
ওহ! ৮ একে?
- এরা কারা? - এরা জঙ্গি, স্যার।
এখানে কী করছে ওরা?
ওরা অপারেশন জিব্রাল্টারের জন্য প্রস্তুত হচ্ছে, স্যার।
কী? অপারেশন জিব্রাল্টার?
এটা আবার কী?
কাশ্মীর দখলের জন্য পাকিস্তান আর্মি আর জঙ্গিদের যৌথ অভিযান।
এই প্রস্তুতি হয়তো তার জন্যই, স্যার।
প্রস্তুতি?
কী বলতে চাইছো?
আমি বুঝিয়ে বলছি, রসুল...
কাশ্মীরে কুরআন আর গীতা পড়ুয়ারা ভাই ভাই হিসেবে বাস করছে...
তার কারণ ভারতীয় সেনাবাহিনী।
কাশ্মিরী মুসলিমরা দিন দিন ভারতীয় সেনাবাহিনীকে ভরসা করা শুরু করেছে।
এই ভরসা আমাদের জ্বালিয়ে দিতে হবে।
কিন্তু কীভাবে?
কে সাহায্য করবে আমাদের?
খোদ ভারতীয় সেনাবাহিনীই।
তোমরা কাশ্মীরে একটা ভূমিকম্প সৃষ্টি করবে।
নারায়ে তাকবীর!
আল্লাহু আকবার।
নারায়ে তাকবীর।
আল্লাহু আকবার।
এসব ভুল!
সেনাবাহিনী কেন জঙ্গিদের সাথে কাজ করবে!
এ ব্যাপারে আমার কাছে কোনো তথ্য নেই!
আমাকে গাড়িটা জব্দ করতে হবে।
- হ্যালো! - শুভ সকাল, স্যার।
মেজর তারিক।
- একটা সমস্যা দেখা দিয়েছে। - আমি জানি, তারিক।
ওদের গন্তব্যে পৌঁছাতে সাহায্য করাটা তোমার দায়িত্ব।
- কিন্তু আমি কোনো আদেশ পাইনি... - এটাই এখন আদেশ, তারিক।
এটা রেকর্ডের বাইরে রাখো।
জি, স্যার।
হুম!
আসসালামু আলাইকুম, জনাব।
ওয়ালাইকুমুসসালাম।
মেজর তারিক!
আমি ভারতীয় আর্মির সাথে ক্রিকেট খেলার জন্য মাঠ প্রস্তুত করছি।
গিয়ে খেলো। ট্রফি নিয়ে ফিরে এসো।
কাশ্মীর।
তো, তোমরা জানো কাশ্মীরে তোমাদের কী করতে হবে।
আমরা কাশ্মীরে গিয়ে স্থানীয়দের মতো বসবাস করতে শুরু করব।
আর?
কেউ যেন আমাদের জঙ্গি হিসেবে সন্দেহ না করে।
ওয়াহিদার খেয়াল রাখবেন।
খোদা হাফেজ।
এই বাচ্চাদের বয়স ১৮ও হয়নি।
এরা নাবালক।
এই ফুলকিই একদিন অগ্নিকুণ্ডে পরিণত হবে কাশ্মীরে।
সমস্ত বরফ গলে পানি হয়ে যাবে।
গত রাতে ভারতীয় এবং পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের মধ্যে দাঙ্গা শুরু হয়
যার প্রেক্ষিতে পাকিস্তানের পতাকার অবমাননা করা হয়,
যা পরিস্থিতি আরও উত্তপ্ত করে পাকিস্তানি শিক্ষার্থীদের ক্ষোভ আরও উস্কে দেয়।
চলে যাচ্ছি আমাদের সংবাদদাতার কাছে
যিনি এখন লন্ডনের পাকিস্তানি ইয়ুথ প্রেসিডেন্টের সাথে আছেন।
হাই, আমি এখানে আছি পাকিস্তানি ইয়ুথ প্রেসিডেন্ট, আফরিনের সাথে।
মিস আফরিন, বর্তমান পরিস্থিতি নিয়ে আপনার মন্তব্য কী?
ভারতীয় শিক্ষার্থীদের পাকিস্তানি পতাকা পোড়ানোর দুই দিন হয়ে গিয়েছে।
আমরা সবাই এ ব্যাপারে জানি!
না, না। এটা ইচ্ছাকৃত।
ওরা ইচ্ছা করে এই অবমাননা করেছে।
আমি এ ব্যাপারে একদম নিশ্চিত।
আমরা দেখিয়ে দিবো আমরা কারা।
২৪ ঘণ্টার মধ্যে আমরা ওদের জবাব দেবো।
এক বোতল হুইস্কি, প্লিজ।
কোনটা?
যেটায় আগুন ধরবে।
পাকিস্তান জিন্দাবাদ!
আফরিন কোথায়?
ওর কোনো ধারণা আছে এখানে কে অপেক্ষা করে আছে?
আনন্দ মেহতা।
গত দিন তুমি যে গাড়িতে আগুন ধরিয়ে দিয়েছিলে সেটা উনার।
উনি অসংখ্য সুবিধাবঞ্চিত শিক্ষার্থীর পড়ালেখার খরচ যোগান।
ডিন উনার সাথে কথা বলেছেন।
স্রেফ উনাকে স্যরি বলো।
উনি কে জানো?
তাতে আমার কিছু আসে যায় না।
হ্যালো!
আমি আনন্দ মেহতা।
আফরিন।
তোমার মতো একজন তরুণী...
এত ক্রোধে ভরপুর কেন?
সিম্পল।
সমাধান খোঁজার জন্য।
তোমার ক্রোধ, ঘৃণা আর সহিংসতার একটাই কেবল সমাধান রয়েছে।
আর সেটা হচ্ছে ভালোবাসা।
ওহো!
তো, আপনি ওই ধরণের লোক যে এক গালে চড় খেলে আরেক গাল পেতে দেন, তাই না?
আপনার গান্ধীর মতো?
আফরিন!
ভদ্রতা বজায় রাখো।
মি. আনন্দ! আমি অত্যন্ত দুঃখিত।
আপনি না, ডিন।
ওর আমাকে স্যরি বলতে হবে।
সেটা হবে না, ডিন।
অসম্ভব।
অন্য কোনো উপায় আছে?
ব্যস!
তোমাকে এই মুহূর্তে এই ক্যাম্পাস থেকে বহিষ্কার করা হলো।
না, ডিন।
কোনো শিক্ষার্থীর শিক্ষা বা জীবন আমার দ্বারা আমি কখনোই নষ্ট হতে দিবো না।
আফরিন...
সবাই ভুল করে।
এটা স্বাভাবিক। বড়ো কোনো ব্যাপার নয়।
জানো, আফরিন?
যাদের ক্ষমা চাওয়ার মতো সাহস নেই, তাদের ভুল করার অধিকার নেই।
তোমার ভুল অনুধাবন করে ক্ষমা চাও।
নাহয়, অন্য যে বিকল্প আমি তোমায় দিতে পারি তা হচ্ছে...
এক মাস...
আমার গাড়ির ক্ষতিপূরণ হিসেবে এক লক্ষ ডলার।
আর নাহলে...
তোমাকে বহিষ্কার করা হবে।
আর আমি এটা নিশ্চিত করব...
চৌদ্দ শিকের ভেতরে যেন তোমার ঠাই হয়।
ডিল!
এক মাসের মধ্যে আমি আপনাকে দশ লাখ টাকা দেবো।
হুম?
দুই বছর হয়ে গিয়েছে তুই তোর দাদার সাথে কথা বলেছিস।
চাওয়ামাত্র উনি তোকে দশ লাখ টাকা দিয়ে দিবে?
আফরিন, একটা স্যরির জন্য তোর ১০ লাখ টাকা যাচ্ছে।
এক মিলিয়ন! আরেকবার ভেবে দেখ।
তার চেয়ে বরং আমি আমার দাদার কাছে ক্ষমা চাইব।
কোনো ভারতীয়র কাছে না।
কয়েকশো বার কল করেছি তোমাকে এটা জানানোর জন্য।
হয়তো তুমি কথা বলতে চাওনি।
যদি চাইতে, তবে জানতে...
ব্রিগেডিয়ার আবু তারিক আর বেঁচে নেই।
কীভাবে মারা গেলেন উনি?
তোমার ব্যাপারে ভাবতে ভাবতে...
আমাকে ভিলেন বানিয়ো না। উনিই আমাকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে লন্ডনে পাঠিয়েছিলেন।
উনি যাই করেছেন সেটা তোমার ভালোর জন্যই।
কে বলেছিল উনাকে যে লন্ডনে পাঠালেই আমি শুধরে যাবো?
হাহ?
দেশকে ভালোবাসা কি কোনো অপরাধ?
কে বলেছে?
দেশকে ভালোবাসাটা ভুল না।
কিন্তু প্রতিবেশী দেশকে ঘৃণা করাটা ভুল।
এখন এসেছ কেন?
আমার এই মুহূর্তে ১০ লাখ টাকা দরকার।
আমাকে দিয়ে দাও, আমি চলে যাবো।
শোনো, আঙ্কেল। তোমার নীরবতা শোনার সময় নেই আমার।
উনি আমার দাদা ছিলেন।
উনি নিশ্চয়ই কিছু রেখে গিয়েছেন আমার জন্য?
প্রিয় আফরিন...
যতদিনে তুমি ফিরেছ আমি হয়তো আর বেঁচে নেই।
এই চিঠিটা, সম্ভবত, তোমার আর আমার মধ্যে শেষ কথোপকথন।
আমি তোমাকে ইচ্ছার বিরুদ্ধে লন্ডন পাঠিয়েছিলাম,
তুমি একবারও পেছনে না ফিরে চলে গিয়েছিলে।
তোমার রাগ দেখে আমি অবাক হয়েছিলাম।
এটা সত্য যে আমি দুঃখ বুকে নিয়ে মারা যাচ্ছি।
কিন্তু তার কারণ তুমি নও।
আমি।
আমি আমার শপথ ভঙ্গ করেছি।
লেফটেন্যান্ট রামকে করা অঙ্গীকার ভঙ্গ করেছি।
বিশ বছর আগে,
লেফটেন্যান্ট রাম আমাকে একটা দায়িত্বের ব্যাপারে ভরসা করেছিল।
তোমাকে এই চিঠিটা অবশ্যই সীতা মহালক্ষ্মীর হাতে পৌঁছাতে হবে।
জানি না সীতা এই চিঠির জন্য কত অধীর আগ্রহে অপেক্ষা করছে
বা এই চিঠিতে কী গল্প লেখা আছে।
তোমার দাদা তোমার কাছে এই সাহায্যটা চাইছে।
এই ঋণ তোমাকে শোধ করতে হবে।
এটা এমন এক যুদ্ধ যা একজন সৈন্য তার শত্রুর কাছে সমর্পণ করেছিল, আফরিন।
এই যুদ্ধে তোমার সীতা আর রামকে বিজয়ী করতে হবে।
তোমার ওদেরকে অবশ্যই বিজয়ী করতে হবে, আফরিন।
এসব কী?
আমার জন্য ডাকপিয়নের কাজ রেখে গিয়েছে?
একজন পাকিস্তানি সৈন্য কেন একজন ভারতীয় সৈন্যের সাথে বন্ধুত্ব করবে?
অর্থহীন!
আগে আমার টাকার ব্যবস্থা করুন।
আমি এই চিঠি পাঠানোর ব্যবস্থা করব।
দুঃখিত।
এই চিঠি সীতা মহালক্ষ্মীর কাছে পৌঁছানোর আগে,
উনার সম্পত্তি থেকে তোমাকে একটা কানাকড়িও আমি দিতে পারব না।
তোমার দাদার ইচ্ছাপত্রে এটাই লেখা ছিল।
এটা তোমার দাদা তোমার কাছে সাহায্য চাইছেন না।
তোমাকে এই ঋণ শোধ করতে হবে।
সীতা... রাম।
:.:.: 🦋 Sita Ramam 🦋 :.:.: অনুবাদক: নূরুল্লাহ মাশহুর
ক্যাপ্টেন আকরাম বলছি।
আশা করি আপনারা ফ্লাইট উপভোগ করছেন।
এআই ৩৭২ মাত্রই ভারতীয় আকাশসীমায় প্রবেশ করেছে।
আমরা শীঘ্রই অবতরণ করব।
ট্যাক্সি! ট্যাক্সি!
কোথায় যাবেন, ম্যাডাম?
নুরজাহান প্যালেসে নিয়ে চলো।
১৯৬৬ সালে, প্রিন্সেস নুরজাহান, মেয়েদের উচ্চ শিক্ষা দানের জন্য
উনার প্রাসাদ সরকারকে দান করে দেন।
প্রাসাদের ব্যাপারে আরও জানতে চাইলে,
কলেজ ট্রাস্টি মি. সুব্রামান্যমের সাথে দেখা করো।
তখনকার দিনে উনি এই প্রাসাদের হিসাবরক্ষক ছিলেন।
কী করব বুঝতেছি না।
মাথায় কিছু খেলছে না।
আমাদের একজন সিনিয়র, বালাজি, হায়দ্রাবাদে থাকেন।
উনি তোকে সাহায্য করবে। ওকে?
রাম... সীতা...
বালাজি... এরকম নাম শুনতে চাই না।
আমাদের কোনো লোক আছে কি না বল। গর্দভ!
এই মুহূর্তে তোর আমাদের লোক দরকার না।
- দরকার এমন কেউ যে তোকে সাহায্য করতে পারবে। - যাইহোক।
- কত? - দুই রুপি।
নমস্তে, জুনিয়র!
বালাজি! চিনেছ?
ভারতে স্বাগত।
শুনলাম তোমার সাহায্য দরকার?
চিন্তা করো না।
বালাজি আছে তো।
সে সব সামলে নেবে।
তো, কী কাজ তোমার?
এই চিঠিটা পৌঁছাতে হবে।
এই চিঠি পৌঁছানোর জন্য তুমি এসেছ কেন?
ডাকবাক্সে রেখে দিলেই হতো! একাই পৌঁছে যেত।
উল্টিয়ে দেখো।
ওহ! ফিরতি খাম।
দুই বার। অদ্ভুত, তাই না?
তো, এটার চেষ্টা হয়েছিল।
- আহ? - বিশ বছর আগে।
১৯৬৫ সালে লেখা চিঠি হাতে করে, ১৯৮৫ সালে তুমি প্লেন থেকে নেমেছে!
এই প্রাগৈতিহাসিক চিঠির লেখক কে?
রাম।
- রাম কে? - কোনো ধারণা নেই।
বাদ দাও।
- সীতা কে? - জানা নেই।
এটাও বাদ দাও।
অন্তত এটা জানো চিঠিতে কী লেখা আছে?
না, বালাজি।
বিশ বছর পর এই চিঠি ডেলিভারি দিতে এসেছ...
আর আমি আমার বিয়ের কাজ ফেলে তোমাকে সাহায্য করতে এসেছি!
হয় তোমার একটু ঘিলু থাকা উচিত নাহয় আমার কিছু লজ্জা।
সব এই আনন্দ মেহতার জন্য।
এই নতুন চরিত্র কে আবার?
অনেক লম্বা কাহিনী, বালাজি।
যেতে যেতে কথা বলা যাক।
তোমার দাদা তোমাকে মৃত্যুশয্যায় একটা চিঠি দিয়েছে।
এই চিঠি সীতার হাতে পৌঁছালে,
আইনজীবী তোমার হাতে উনার সম্পত্তি তুলে দিবে।
বাহ, জুনিয়র!
আমি আসলে ভাবছিলাম।
কিছু লাভের আশা না থাকলে তো তুমি কিছু করো না।
নাও। এটা সুব্রামান্যম এন্ড কোং এর ঠিকানা।
সীতা মহালক্ষ্মী!
আহ, আহ, আহ!
এই নামে এই প্রাসাদে কেউ নেই, বাপু।
স্যার! স্যার, মনে করার চেষ্টা করুন, স্যার। প্লিজ।
স্যার?
কী করছেন?
মনে করতে না বললে!
এটা বলিনি, স্যার।
এতদূরে বিদেশ থেকে এসেছে ও। সে জন্য।
অন্য গ্রহ থেকেও যদি আসত, আমার উত্তরে কোনো পরিবর্তন আসত না।
তা না, স্যার।
- কী তাহলে? দাঁড়াও। - হাহ?
- দেখো, মা। - স্যার!
আমি চল্লিশ বছর ওই প্রাসাদে কাজ করেছি।
৪০০ এর বেশি কর্মচারী তখন কাজ করত।
এই "বেশি" এর মাঝেই হয়তো...
কোথাও সীতা মহালক্ষ্মীকে হারিয়ে ফেলেছেন।
ভাষা...
খুব গুরুত্বপূর্ণ।
আমি তখন বেতন বণ্টন করতাম।
এটা ছিল নিজামের রাজপ্রাসাদ।
হিন্দুদের সংখ্যা ত্রিশ জনের বেশি ছিল না।
- আর সীতা মহালক্ষ্মী? - ওকে খুঁজে পাবে না।
কেন?
কারণ সীতা মহালক্ষ্মী নামে ভূত-ভবিষ্যত, বর্তমানে কেউ নেই।
এখন আবার ভূতের কথা বলছেন কেন, স্যার?
মেরে ফেলব তোমাকে।
আমাকে বিরক্ত করলে মুসিতে গিয়ে ফেলে আসব।
আমাকে?
হ্যাঁ, তোমাকে!
- এই, গণপতি! - স্যার?
ওর কথা শুনতে শুনতে আমি মরে যাবো মনে হচ্ছে।
ওদের স্টোর রুমে পাঠাও।
ওরা খুঁজে দেখুক।
সীতা মহালক্ষ্মী...
সীতার নাম কোথাও নেই।
হ্যালো?
আহ... আফরিন! কেমন আছো?
একদম ভালো না।
এখন আর জায়গাটা প্রাসাদ নেই। এটা একটা কলেজ।
আর এই প্রাসাদে সীতা মহালক্ষ্মী নামে কেউ নেই।
বুঝতে পেরেছ?
সে কারণেই এতবার চিঠিটা ফেরত গিয়েছে।
আফরিন, সেটা আমার সমস্যা না।
তোমাকে সত্যিটা না বলে,
আমি যদি মিথ্যা বলি যে চিঠিটা পৌঁছে দিয়েছি আর এটাকে ময়লার ঝুড়িতে ফেলে দেই,
কী করবে তুমি?
তুমি ভুল করো।
কিন্তু তুমি নীতি বিবর্জিত মানুষ নও, আফরিন।
আমি জানি তুমি কখনও মিথ্যার দ্বারস্থ হবে না।
চিঠিটা সীতার কাছে পৌঁছানো শুধু তোমার দাদার ইচ্ছাই নয়।
এটা উনার বিশ বছরের ব্যর্থতাও।
তোমার দাদাকে জয়ী করাটা তোমার দায়িত্ব, আফরিন।
চিঠিটা খুলে পড়লে, হয়তো কোনো সমাধান পেতে পারো।
আমার দাদাই এটা করতে পারতেন।
কিন্তু উনি তাই করতে চেয়েছেন যা রাম করতে বলেছিল।
দুজন শত্রুর মাঝে এটা কীসের বন্ধন?
রামই ভালো জানবে।
১৯৬৫ তে সীতার ব্যাপারে কেউ কিছু জানত না। ১৯৮৫তেই কে কী জানবে?
তোমার টাইম ট্রাভেল শুরুর আগেই শেষ।
না। এটা কেবল শুরু হয়েছে।
কীভাবে?
তুমিই বলেছ।
রাম নিশ্চয়ই জানবে।
সীতাকে খুঁজে বের করার জন্য, আমাদের আগে রামের ব্যাপারে জানতে হবে।
রামের খোঁজ পেলে, সীতার খোঁজ পাওয়া সহজ হয়ে যাবে।
ও অযোধ্যার রাম না যে চাওয়ামাত্র ওর ব্যাপারে তথ্য পাওয়া যাবে।
- ও স্রেফ লেফটেন্যান্ট রাম। - ঠিক তাই।
লেফটেন্যান্ট রাম।
- মাদ্রাস রেজিমেন্ট। - তো?
- চাকরিকাল ১৯৬৫। - তো কী?
তার খোঁজ পেতে এটুকুই যথেষ্ট।
কিন্তু কীভাবে?
বালাজি আছে না? সব সামলে নেবে।
কিছু একটা করুন, আঙ্কেল।
ভাতিজা! কী ভাবছো?
এটা কি মুদি দোকান যে চাইলেই তথ্য পেয়ে যাবে?
এটা ইন্ডিয়ান আর্মি।
রামের ব্যাপারে জানতে এত দূর লন্ডন থেকে কেন এসেছ?
আহ... আমি একটা বই লিখছি, স্যার।
- ছোট্ট একটা গবেষণা কাজ। - ওহ!
নিচতলায় লাইব্রেরি আছে। সোমবারে বেসামরিক লোকদের ঢুকতে দেওয়া হয়।
কিছু পেলে?
না, স্যার।
চেষ্টা চালিয়ে যাও।
কিছু পেতেও পারো।
রাম!
- বালাজি! বালাজি! - হাহ?
দেখো, রাম!
- কিস্তিমাৎ। - এক্সকিউজ মি, স্যার।
- এক্সকিউজ মি, স্যার। - হ্যাঁ।
এই হচ্ছে রাম।
রাম?
হুম। আমি ওকে চিনি না।
ওহ!
উনি বিকাশ। আমাদের এলাকার।
আমি নিশ্চিত উনি রামকে চেনেন।
হাহ! উনার ঠিকানা দিতে পারবেন?
মি. বিকাশ?
আপনার সাথে লেফটেন্যান্ট রামের ব্যাপারে কথা বলতে পারি?
আমি লেফটেন্যান্ট রামের ব্যাপারে কথা বলতে চাই!
লেফটেন্যান্ট রাম! লেফটেন্যান্ট রাম!
পরে কল করছি, ওকে?
- জয় হিন্দ, স্যার। - আরামে দাঁড়াও।
ওভার!
৩১২ এর ব্যাপারে কোনো আপডেট?
ওদের রেশন চারদিন আগে ফুরিয়ে গেছে, স্যার।
আমি মাত্রই কমান্ডিং অফিসার, বিষ্ণু শর্মার সাথে কথা বললাম।
গত ১৫ দিন ধরে টানা তুষারপাত হচ্ছে, স্যার।
সমস্ত রাস্তা বন্ধ।
যাওয়ার রাস্তা খুঁজে পেতে অন্তত ২ দিন লাগবে, স্যার।
হুম। ওকে।
জয় হিন্দ, স্যার।
রঞ্জিত, আমাকে একটু গরম পানি দাও।
স্যার, আজ আমাদের কাছে পানি আছে। কাল থাকবে কি না নিশ্চিত না।
আমাদের কেরোসিনও ফুরিয়ে যাবে, স্যার।
স্যার!
তুষার কমেছে।
নবীন!
লেফটেন্যান্ট রামের সাথে যোগাযোগ করাও!
টাইগার ইন... টাইগার ইন।
চার্লি সাড়া দাও... চার্লি সাড়া দাও।
তোমার সঠিক অবস্থান বলো।
টাইগার ইন... টাইগার ইন।
চার্লি বলছি, স্যার।
বেস থেকে ৫০০ মিটার উত্তর-পূর্বে আছি।
আমাদের ইউনিট থেকে কাউকে আসতে দেখছো?
না, স্যার। নেগেটিভ।
আজকেও খাবার মিলবে না আমাদের।
স্যরি, বয়েজ।
টাইগার সাড়া দিন... টাইগার সাড়া দিন...
টাইগার বলছি।
স্যার, একটা মুভমেন্ট দেখা যাচ্ছে।
কী?
সামনে আগাও... সামনে আগাও।
ঠিক কী দেখতে পাচ্ছ বলো।
পাঁচ জন বেসামরিক লোক... চারটা খচ্চর।
জঙ্গি?
সম্ভাবনা রয়েছে, স্যার।
আমার মনে হয় না ওরা জঙ্গি, স্যার।
কীভাবে বুঝলে?
স্যার, ঘোড়ার পায়ে হলুদ কাপড় বাঁধা।
এটা বুট্টা সংস্কৃতি, স্যার।
ওরা দরগায় প্রার্থনা করে এটা বাঁধে, স্যার।
ওরা যদি অস্ত্র বহন করে থাকে?
না, স্যার। আমাকে বিশ্বাস করুন।
ওরা নিশ্চিতভাবেই কাশ্মীরী মুসলিম।
ওরা যদি আগে গুলি চালিয়ে বসে?
আমি আমার সৈনিকদের জীবন ঝুঁকিতে ফেলতে পারি না।
এটা একটা আদেশ। গুলি চালাও!
গুলি করো!
গুলি থামাও।
বেরিয়ে এসো।
চলো।
স্যার!
রাম ঠিক বলেছিল।
এরা কাশ্মীরী মুসলিম।
গত ১৫ দিন ধরে তুষারপাত হচ্ছে।
ভাবলাম আপনাদের হয়তো খাবার ফুরিয়ে গেছে।
আপনাদের জন্য খাবার নিয়ে এসেছি।
স্যরি, স্যার।
ঠিকমতো তাক করতে পারিনি।
বাজে আবহাওয়া।
কাল সকালের মধ্যে বিস্তারিত, লিখিত ব্যাখ্যা আমাকে জমা দিবে, রাম।
বন্দুক নামাও!
- মাফ করবেন, ভাইয়া। ভুল হয়েছে। - স্যার...
ভুল হয়েই থাকে।
খাবার খেয়ে নিন।
এমনিই, বিষ্ণু স্যার তোকে দেখতে পারে না।
ঈর্ষান্বিত।
জানি না তোর ব্যাখ্যায় সন্তুষ্ট হবেন নাকি শাস্তিই দিতে চাইবেন।
উনাকে যখন ভুলের জন্য স্যরি বললাম...
উনি মুচকি হেসে বলেছিলেন সমস্যা নেই, আর আগে খাবার খেয়ে নিতে বললেন।
নিষ্পাপ মানুষদের হত্যা করে আজীবন অনুতাপ বয়ে বেড়ানোর চেয়ে শাস্তিই ভালো।
সেটা মানতে পারব।
তবে এটা সত্য না যে বিষ্ণু স্যার আমাকে দেখতে পারেন না।
কী তাহলে?
আমার জানা নেই।
স্যার!
কাশ্মীর থেকে খবর পেয়েছি।
আমাদের ছেলেরা গত ছয় মাসে স্থানীয়দের সাথে মিশে গেছে।
ওরা রেশন কার্ডও পেয়ে গেছে, স্যার।
ওরা এখন পাক্কা কাশ্মীরী।
আলহামদুলিল্লাহ।
দেখো জামিল যাতে এই ছবিটা সহ সংবাদটা পায়।
কী সংবাদ?
এই চারজন ছেলে জঙ্গি।
জামিলকে বলো ইন্ডিয়ান আর্মির কাছে এই সংবাদ পাচার করতে।
এরপর আমি যুদ্ধ শুরু করব।
কিন্তু আর্মি তো ছেলেগুলোকে মেরে ফেলবে!
সেটাই তো লক্ষ্য।
সালাম, সাহেব।
মেজর সালমান সাহেবকে জানান জামিল এসেছে।
গুরুত্বপূর্ণ খবর নিয়ে।
জয় হিন্দ, স্যার!
সালাম, সাহেব!
গুরুত্বপূর্ণ খবর, জামিল?
খুব গুরুত্বপূর্ণ, স্যার।
আনসারী...
হঠাৎ এই মিটিং কেন, স্যার?
জরুরি কোনো ব্যাপার?
ভদ্রমহোদয়গণ! একটা খুব জরুরি বিষয় নিয়ে আলোচনা করতে হবে।
বসো দয়া করে।
কী হয়েছে, স্যার?
চারজন মুজাহিদিন জঙ্গি কাশ্মীরে স্থানীয়দের মতো বাস করছে।
আর সেটা গত ছয় মাস ধরে।
স্যার, এরা সবাই নাবালক।
১৮ এর নিচ থেকে ২১ বছর পর্যন্ত বয়স।
জিজ্ঞাসা করার জন্য স্যরি।
এই তথ্য কি সঠিক...
তথ্যদাতা কে, স্যার?
জামিল।
ও কখনও ভুল সংবাদ দেয় না, রাম।
আমরা জানি না ওদের প্ল্যান কী।
কিন্তু আমরা জানি আমাদের কী করতে হবে।
বিষ্ণু, তোমার সেরা লোকদের আমার লাগবে।
ওদের চারটা টিমে ভাগ করে দিয়ে অপারেশন সম্পন্ন করো।
স্যার!
তোমার সেরা লোক কারা?
অর্জুন, ভীরু, বায়ু, শরৎ, গুরবিন্দর।
ধন্যবাদ।
আচ্ছা। শুভকামনা।
স্যার!
বিষ্ণু!
এটা ঠিকভাবে করো।
আমি তো শুধু বাল্বই ঠিক করে গেলাম।
উনি কি দেবতা বিষ্ণু যে ঈর্ষান্বিত হবেন না?
উনি স্রেফ বিষ্ণু শর্মা।
এই, আব্বাস ঘরে আছে?
কী চাই?
এই, ইকবাল!
স্যার! এটাই সেই ছেলে।
এই, দাঁড়া!
এই!
এই!
দাঁড়া!
এই! থাম!
দাঁড়া!
এই, দাঁড়া!
এই! না! না, না, না!
গুলি করছিস কেন?
হারামজাদা!
এটাই আনসারী চেয়েছিল।
এ কারণেই সে জঙ্গিদের সীমান্ত অতিক্রম করিয়েছে।
ও আমাদের দিয়ে নাবালক শিশুদের হত্যা করিয়েছে, কাশ্মীরীদের সাথে আমাদের দূরত্ব সৃষ্টি করার জন্য।
কিছু একটা ঘটতে চলেছে।
সেটা কী জানতে হলে, আমাদের জামিলকে ধরতে হবে।
কাশ্মীর উপত্যকায় চারজন অপ্রাপ্তবয়স্ক ছেলেকে হত্যার দায়ে ইন্ডিয়ান আর্মির বিরুদ্ধে ক্ষোভে ফুঁসছে...
প্রথমবারের মতো...
- জামিলকে খুঁজে বের করো। - ওকে, স্যার।
দাদা, কেমন আছেন?
দুটো চা দিন।
এখানে জামিল নামে কাউকে চেনেন?
আর্মি এখানে কোনো তথ্যও পাবে না, চা-ও না।
এই! কী বললে?
যান এখান থেকে।
নাহয়, আপনারাও পাথর খাবেন। চলে যান।
গতকালই আমাদের খাবার যোগানোর জন্য কত কষ্ট করল।
হঠাৎ এই পরিবর্তন কেন?
স্যার! সব রাস্তা ফাঁকা, স্যার।
- জামিলের ব্যাপারে বলার মতো কেউ নেই। - একজন মানুষও নেই।
স্যার, জামিলের ব্যাপারে কিছু খুঁজে পাইনি।
দেখে কারফিউ এর মতো মনে হচ্ছে। সবাই গিয়েছে কোথায়?
বড়োসড়ো কিছু হতে যাচ্ছে।
কত দিন?
কত দিন আমরা এসব সহ্য করব?
আমাদের নারীদের সম্মান ভূলুণ্ঠিত হচ্ছে।
কাশ্মীর কাদের?
আমাদের, মুসলিমদের।
ঐ হিন্দুদের নয়।
ইন্ডিয়ান আর্মির সাথে হাত মিলিয়ে, এই কাফিররা আমাদের সন্তানদের রক্ত ঝরিয়েছে।
নির্মমভাবে ওদের হত্যা করেছে।
তোমাদের চোখের সামনে।
এখন সময় জিহাদের।
এখন যদি তোমরা জেগে না ওঠো, ইসলাম ধ্বংস হয়ে যাবে।
তোমরা ইসলামের সমাপ্তি দেখতে চাও?
সেটাই কি চাও তোমরা?
আগার্তা থেকে বিপ্লব শুরু হবে।
আজ আগার্তা জ্বালিয়ে দাও।
সূর্যাস্তের আগে।
নারায়ে তাকবির।
আল্লাহু আকবার!
নারায়ে তাকবির!
আল্লাহু আকবর!
বেস থেকে আগার্তা পৌঁছাতে সেনাবাহিনীর ৪ ঘণ্টা লাগবে।
- নন্দ! সৈন্যদের জানাও। - ওকে, স্যার।
আমাদের আগার্তায় এটা থামাতে হবে।
ওরা সংখ্যায় অনেক।
আমরা জানি না আরও কতজন আমাদের মারতে আসবে।
- সবাইকে জানিয়ে দেওয়া যাক। - না।
সেটা খুব বিপজ্জনক হবে। ওরা যদি এই ষড়যন্ত্রের ব্যাপারে জানতে পারে,
হিন্দু-মুসলিম দাঙ্গা লেগে যাবে। এটা হতে দেওয়া যাবে না।
আরে এরকম কিছু না।
কেউ কিচ্ছু জানবে না।
আমাদের আগে গ্রামটা ফাঁকা করতে হবে।
কাউকে জানানো ছাড়া সেটা কীভাবে করব?
আমার কাছে প্ল্যান নেই কোনো।
তোর কাছে থাকলে বল!
গ্রামবাসীরা যখন জানল কেউ একজন তাদের বাচ্চা অপহরণ করেছে,
ওরা রামকে আগার্তায় রেখে আমার পেছনে ধাওয়া করল।
রাম বাকি বাচ্চা আর বুড়োদের একটা সেফ হাউজে লুকিয়ে রাখল।
নিরাপদে থাকুন।
কিন্তু রামকে শুধু আগার্তার হিন্দুদেরই বাঁচাতে হয়নি,
আনসারীর অনুসারী ক্ষুব্ধ মুসলিমদেরও বাঁচাতে হতো।
আমরা এখানে আসার আগেই, গ্রামবাসী খবর পেয়ে গেছে।
গ্রাম খালি।
গ্রামে আগুন লাগিয়ে দাও।
আগুন লাগাও। - আগুন লাগাও!
আব্বাস! ওই দিকে যাও।
- সবদিকে আগুন লাগিয়ে দাও। - ওই পাশেও।
- আমি আগুন লাগাচ্ছি। - পুরো গ্রাম জ্বালিয়ে দাও।
সবাই ভেতরে আছে।
তোমরা হিন্দুদের সাথে মিলে আমাদের বিরুদ্ধে কাজ করছো।
তোমাদেরও ছাড়ব না। সবাইকে মেরে ফেলব।
- কাশ্মীর আমাদের। - সব আগুন লাগিয়ে দে।
কার বিরুদ্ধে ?
কার বিরুদ্ধে?
কে বলেছে তোমাদের এটা বিজয়?
এখানে একটা প্রাণও যদি যায়, তাতে তোমরা জিতবে না।
শুধু আনসারী জিতবে।
তোমাদের কাছে হাতজোড় করছি।
ওই বাচ্চাগুলো সত্যিই জঙ্গি ছিল।
তোমাদের পায়ে পড়ছি।
আমার কথা বিশ্বাস করো।
আনসারীর যুদ্ধ তোমাদের জন্য নয়। কাশ্মীরের জন্য।
ও শুধু তোমাদের ব্যবহার করছে।
ওকেও ভেতরে ঢোকা।
জামিল! আগুন লাগা!
জামিল!
এই, কী করছো?
এই!
ওদের সাথে এসে ভালো করেছিস।
নাহয়, সত্যিটা কখনও বেরিয়ে আসত না।
সত্যিটা ওদের বল।
না, না, না!
আমাকে জ্বালিয়ে দিয়ো না। প্লিজ, না।
আমি স্বীকার করব। সব স্বীকার করব।
করব।
এই পাঁচজন ছেলেকে আজ সীমান্ত পাড়ি দিতে হবে।
এখন...
এক হাজার।
এই তথ্য ভারতীয় সেনাবাহিনীর কাছে নিয়ে যাও।
খুব জরুরি সংবাদ, স্যার।
আনসারীর ইন্ডিয়ান আর্মির সাথে মুসলিমদের দূরত্ব সৃষ্টির পরিকল্পনা
- ওই আগুনে পুড়ে ভস্মীভূত হয়ে গিয়েছিল। - স্যার, আমি ভুল করেছি।
আমাকে মাফ করে দিন, স্যার।
মুসলিমদের আগার্তায় আগুন নেভাতে দেখে,
হিন্দুরা তাদেরকে ভাই হিসেবে বুকে তুলে নিল।
ধর্ম হিসেবে ওরা হেরে গেলেও মানবতার হিসাবে ওরা জিতে গেল।
আমি তখন বুঝেছিলাম।
অস্ত্র হাতে যুদ্ধ করা ব্যক্তি একজন সৈন্য।
আর ধর্মের জন্য যুদ্ধ করা ব্যক্তি রাম।
আগার্তার ঘটনার পর,
পুরো জাতি সৈন্যদেরকে বীরের নজরে দেখা শুরু করল।
তো, অল ইন্ডিয়া রেডিয়ো থেকে বিজয়লক্ষ্মী ম্যাডাম এসেছিলেন আমাদের সাক্ষাৎকার নিতে।
এতগুলো পরিবারকে বাঁচিয়েছেন আপনারা।
কিন্তু নিজের পরিবার থেকে দূরে আছেন।
আপনাদের পরিবারকে কিছু বলতে চাইলে, বলে ফেলুন।
আমার মেয়ে কেবল ভূমিষ্ট হয়েছে।
সবাই বলছে, আমার মতো নাকি দেখতে হয়েছে।
আমাকে ওর নাম রাখতে হবে আর ওর কানে সেটা ৩ বার বলতে হবে।
কিন্তু আমি এখনও এখানে।
এখন সেটা করবেন?
এখন?
এই, রাম!
তোর সাহায্য চাই।
- কী ব্যাপার? - বস!
আমার মেয়ের জন্য একটা সুন্দর নাম দরকার। সাজেশন দে।
আম্রুতা?
সুন্দর!
আম্রুতা।
আম্রুতা।
আম্রুতা।
ওহ!
উ!
লেফটেন্যান্ট রাম! ব্যাটালিয়নের হিরো!
আপনার পরিবারকে কিছু বলতে চান?
আমার কেউ নেই, ম্যাডাম।
এই ব্যারাকের বাইরে আমার আপন কেউ নেই।
কী?
আমি একজন নিঃসঙ্গ সৈনিক।
একাকী সৈনিক।
রাম!
আসছি।
লেফটেন্যান্ট রামের নাম আমি গতকালই কেবল শুনেছি।
কাশ্মীরের পাহাড়ি বুকে সীমান্ত পাহারা দেওয়া এক নিঃসঙ্গ সৈনিক।
গতকালই আমি জানতে পারলাম
ওর কোনো পরিবার নেই, কথা বলার মতো। বা অন্তত চিঠি লেখার মতো।
দেশের জন্য রাম আছে।
এবার আমাদের দায়িত্ব রামকে জানানো যে ওর জন্য আমরা আছি।
আমি আমার ছেলে, রাম এর কাছে গতকাল একটা চিঠি লিখেছি।
এবার, আপনাদের পালা।
ওহ, স্যার! এক মিনিট।
চিঠি এসেছে আপনার জন্য।
চিঠি?
জি। অসংখ্য চিঠি।
আমার জন্য?
প্রিয় ভাই রাম!
তোমার ব্যাপারে রেডিয়োতে শুনেছি।
আজ থেকে যদি বলো তোমার কেউ নেই তবে সেটা মিথ্যা বলা হবে।
তোমার ভাতিজি গত সপ্তাহে জন্মদিন পালন করেছে।
আমি আরিসেলু বানিয়েছি।
ছুটিতে তুমি বেড়াতে আসলে ওর কান ফোঁড়াব বলে ভেবে রেখেছি।
আশা করি তুমি আসবে...
চিঠি দিয়ে নিশ্চিত করো।
ইতি,
তোমার বোন, রাধিকা।
রাম সারারাত বসে চিঠিগুলোর উত্তর দিয়েছিল।
ও ঘুমায়নি।
আমাদেরও ঘুমাতে দেয়নি।
স্যার!
আমার দুই মাসের ছুটি দরকার, স্যার।
এত লম্বা ছুটি কেন দরকার?
আমার পরিবারের সাথে দেখা করব, স্যার।
ওকে।
কী?
ডাকপিয়ন বাহাদুরের জন্য অপেক্ষা করছো?
- হ্যাঁ। তিন ঘণ্টা দেরি করেছে। - হাহ!
- ওকে কোর্ট-মার্শাল করা উচিত। - ওহ!
থামো, থামো, থামো।
- আমার চিঠি কোথায়? - স্যার।
আমার উত্তর। জলদি পাঠিয়ে দিয়ো।
এক মিনিট। এক মিনিট।
আরিসেলু।
আমার বোন পাঠিয়েছে।
প্রিয় রাম!
তোমার কেউ নেই?
এসব মিথ্যা কথা কোথা থেকে শিখেছ?
তুমি দেখছি তোমার ঘরের বউয়ের কথা বেমালুম ভুলে গেছো।
বউ?
সীতা মহালক্ষ্মী...
বলেছিলে "এইতো ফিরে আসছি" আর চলে গেলে... চাকরির জন্য।
আমাকে বাবা-মায়ের কাছে রেখে।
আমার পরিবার আগেই সতর্ক করেছিল।
যে এই সেনাবাহিনীর লোক ঘরে থাকবে না।
আমি কি কান দিয়েছিলাম?
হুম। তোমায় বিয়ে করেছি তাই এটা তো সইতেই হবে।
আমাকে মিস করো না।
ইতি, সীতা মহালক্ষ্মী।
কী খবর, রাম? কেমন আছো?
তুমি তো... নিশ্চয়ই ভালো আছো।
এখানে রুমের মধ্যেও ঠাণ্ডা বাড়ছে।
কাশ্মীর থেকে পাঠাচ্ছ নাকি?
কাল সারাদিন বৃষ্টি হয়েছে।
মৌসুমও তোমার মতো।
ওরা আসে, কিন্তু আমার সাথে না থেকে আবার চলে যায়।
কখন ফিরবে তুমি, রাম?
সবসময় তোমার ভাবনায় থাকি।
তোমার স্ত্রী, সীতা মহালক্ষ্মী।
তোমার স্ত্রী, সীতা মহালক্ষ্মী।
প্রেরকের ঠিকানা নেই।
সীতা!
কে তুমি?
♪ “Kaveri gurgles in Kashmir valleys” ♪
♪ "Because of your letter” ♪
♪ “In these snowy mountains ♪ ♪ green crops are raised by your words” ♪
♪ “The letters I read ♪ ♪ planted a smile on my lips” ♪
♪ “In the cold, brazen winds ♪ ♪ they are like summer flowers blooming” ♪
♪ “When will I see you? ♪ ♪ Keeps asking this heart” ♪
♪ “My thoughts will send you ♪ ♪ that day a warm welcome” ♪
রাম!
জয় হিন্দ, স্যার।
শুনলাম বিয়ে করেছ?
আমাকেও জানাওনি?
আমিও জানতাম না, স্যার!
আরামে দাঁড়াও।
মেয়েটার নাম কী?
সীতা মহালক্ষ্মী, স্যার।
♪ “When will I see you? ♪ ♪ Keeps asking this heart” ♪
♪ “My thoughts will send you ♪ ♪ that day a warm welcome” ♪
♪ “When will I see you? ♪ ♪ Keeps asking this heart” ♪
♪ “My thoughts will send you ♪ ♪ that day a warm welcome” ♪
এই, বিকাশ।
ওই, রাম!
জানো?
আমার সাথে সাথে আমাদের বাড়ির উঠানও তোমাকে মিস করছে।
গাছপালায় ফুল আসা বন্ধ হয়ে গিয়েছে।
তার সাথে সাথে, প্রজাপতিরাও পালিয়ে যাচ্ছে।
আসার সময় ওদের সাথে করে নিয়ে আসতে পারবে?
বিদায়।
তোমার, সীতা মহালক্ষ্মী।
♪ “I don’t know what I have done ♪ ♪ to make you so fond of me” ♪
♪ “You consider me your own, ♪ ♪ tell me what good have I done?” ♪
ভাগ!
♪ “If only you let a hint to me” ♪
♪ “Running across the mountains ♪ ♪ won’t I come to you right now?” ♪
প্রিয় রাম!
আমাদের প্রতিবেশী সেদিন জিজ্ঞাসা করছিল আমাদের প্রথম দেখা কীভাবে হয়েছিল।
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে রাবণের পরাজয়
আর যুদ্ধের ঝলকের মাঝে সীতার আত্ম-নির্বাচন...
উনাকে যখন এটা বললাম, মুচকি হেসে উনি চলে গেলেন যেন বুঝে গেছেন।
তুমি ছাড়া কেউ এর অর্থোদ্ধার করতে পারবে না।
কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে রাবণের পরাজয়?
আর যুদ্ধের ঝলকের মাঝে... সীতার আত্ম-নির্বাচন...?
যাইহোক, গত রাতে একটা স্বপ্ন দেখেছি।
স্বপ্নে তোমার বয়স ছিল ষাট বছর।
তখনও আমার পিছু পিছু ঘুরছিলে।
সবকিছুর জন্য "সীতা, সীতা" করে ডাকছিলে।
আর তারপর ভোর হয়ে গেল।
পাশ ফিরে যখন তাকালাম, তুমি সেখানে ছিলে না।
বিদায়! তোমার স্ত্রী, সীতা মহালক্ষ্মী।
♪ “When will I see you? ♪ ♪ Keeps asking this heart” ♪
♪ “My thoughts will send you ♪ ♪ that day a warm welcome” ♪
♪ “When will I see you? ♪ ♪ Keeps asking this heart” ♪
জয় হিন্দ, স্যার।
♪ “My thoughts will send you ♪ ♪ that day a warm welcome” ♪
জয় হিন্দ, স্যার।
জয় হিন্দ।
আপনার জন্য চিঠি এসেছে।
কী?
জি, স্যার।
প্রিয় রাম!
এ মাসের ১২ তারিখে আমি হায়দ্রাবাদ যাচ্ছি।
যখন প্যাক করছিলাম, আমাদের বিয়ের পোশাক খুঁজে পেলাম।
বিয়ের পোশাক!
কাপড়গুলো পরে তোমার লজ্জামাখা মুখ আমার মনে ভাসছে এখনও।
হুম। ৪৮ ঘণ্টার জার্নি!
এত দূরে একা একা আমি কখনও ভ্রমণ করিনি।
তবে আমি সামলে নেবো।
- আর যাইহোক আমি তো... - লেফটেন্যান্টের বউ।
এই মাসে হায়দ্রাবাদে অস্টিনের ম্যাজিক শো আছে।
যদি এখানে থাকতে, আমাকে সঙ্গ দিতে পারতে। বিদায়।
তোমার স্ত্রী, সীতা মহালক্ষ্মী।
প্রেরকের কোনো ঠিকানা নেই।
দিল্লি।
- এই, বিকাশ! - হাহ?
আমি সীতাকে খুঁজে পেয়েছি।
কী?
কোথায়?
দিল্লি ট্রেনে।
- কবে? - এ মাসের ১২ তারিখ।
- জলদি আয়। - আসছি, আসছি।
এবার আমাকে মাত্র ২০ দিনের ছুটি দিয়েছে।
এতজনের সাথে দেখা করতে হবে। খুব অল্প সময়।
- জয় হিন্দ, স্যার। - জয় হিন্দ।
স্যার! আপনি এখানে, স্যার?
ছুটিতে আছেন?
একটা মিশনে। - ওহ!
একটা বিপজ্জনক মেয়ে এই ট্রেনে ভ্রমণ করছে।
হুম।
এখানে সীতা মহালক্ষ্মী নামে কেউ আছে?
তো, কেউ নেই।
- টিকেট চেকারকে খুঁজে বের করো। - জি, স্যার।
মেয়েটার ছবি আছে আপনার কাছে?
- না!
দেখতে কেমন?
এটাই মিশন।
কোনো কিছু না জেনে আমরা কীভাবে তাকে শনাক্ত করব?
আমি জানি।
ওর নাম সীতা মহালক্ষ্মী।
আমাদের কাছে নাম আর রাশি নেই।
শুধু টিকেট।
প্লিজ এটা বলবেন না।
- এতে জড়িয়ে আছে আমার ভবিষ্যৎ। - আহ!
মানে... আমার মতো অনেকের ভবিষ্যৎ।
- সব আপনার হাতে, স্যার। - কীভাবে?
হ্যালো!
আপনি এখন শুধু একজন টিসি নন।
আপনিও এই মিশনের একটা অংশ।
কিন্তু এরকম মিশন আমার জন্য নতুন।
চিন্তা করবেন না।
- আমি আপনার পেছনে আছি। - হুম।
প্ল্যান কী?
ট্রেন আপনার, প্ল্যানও আপনার। - হুম।
সেক্ষেত্রে, আপনার পেছনের চারটা বগি ভোপালে গিয়ে মাদ্রাজ মেইলে যুক্ত হবে।
আমার পেছনের ১২টা বগি আমার সাথে হায়দ্রাবাদ যাবে।
বিপজ্জনক মেয়েটা কোথায় যাচ্ছে?
হায়দ্রাবাদ।
- ওকে জিজ্ঞাসা করুন। - হুম।
টিকেট?
আপনি দেখতে দেবী লক্ষ্মীর মতো। আপনার নাম কি সীতা মহালক্ষ্মী?
না। পার্বতী।
ধ্যাত!
হুম।
এই মিশন অসম্ভব মনে হচ্ছে।
আটটা বগি দেখা শেষ।
- হয়তো বিপজ্জনক মেয়েটা ট্রেনে ওঠেনি। - প্লিজ এটা বলবেন না।
ওদের দিকে তাকান।
সমস্ত যাত্রী ঘুমাচ্ছে আপনার ওপর ভরসা করে।
- হুম? - চলুন।
- আরও চারটা বগি বাকি আছে। - হুম।
ঘুমান।
আমার সব খ্যাতি নষ্ট করে দিবে।
এটাই শেষ বগি।
বেশিক্ষণ থাকা যাবে না।
শীতাতপ নিয়ন্ত্রিত। এটা স্পেশাল বগি।
জি। আসুন।
ওটা শেষ কেবিন।
টিকেট?
কে?
"কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে রাবণের পরাজয়"
"যুদ্ধের ঝলকের মাঝে সীতার আত্ম-নির্বাচন"
মি. রাম?
আপনার চিঠির উত্তরগুলো।
জানতাম না কোথায় পাঠাব।
তাই আমার সাথেই রয়ে গেছে।
পরবর্তী স্টেশনে দেখা হবে।
স্যার, মেয়েটাকে খুঁজে পেয়েছেন?
মিশন কি সফল হয়েছে?
না।
আসল যুদ্ধ কেবল শুরু হয়েছে, মি. ভারতী।
স্যার!
আমার ট্রেন কি এখন বিপদমুক্ত?
আপনার ট্রেন বা আমাকে এখন কেউ রক্ষা করতে পারবে না।
হাহ?
টিকেট?
এটা কী?
হায়দ্রাবাদের টিকেট কেটে মাদ্রাজের ট্রেনে চড়ে বসেছেন?
এসব কী, ভাই?
- মাদ্রাজ? - হাহ?
আপনার পেছনের চারটা বগি ভোপালে গিয়ে মাদ্রাজ মেইলের সাথে যুক্ত হবে।
প্রিয় সীতা মহালক্ষ্মী!
আমি ভাগ্যনগরেই অবস্থান করব... না, না...
আমার সীতানগরে, এক মাসের জন্য।
শুধু তোমার জন্য।
চার্মিনারের পাশের গলিতে আমার বন্ধু, দুর্জয় থাকে।
সে বিখ্যাত নাট্যকার।
ওকে খুঁজে পাওয়া একটু কষ্টকর।
তবে বের করতে হবে।
কারণ ওর ঘরে একটা টেলিফোন আছে।
নাম্বার ৩৭৬১২।
তোমার কলের অপেক্ষায় থাকব।
ইতি, রাম।
ভারতী!
সুর!
আমার সুর ভুল মনে হচ্ছে?
মিউজিকে আমার চারটা ডিগ্রি আছে।
থার্মোমিটারে আরও বেশি ডিগ্রি আছে।
দুটোর মাঝে সম্পর্ক কী?
সত্য বলতে...
গাঁজাখুরি আলাপে আপনাকে হারানোর মতো...
কী?
কেউ নেই।
আমার প্রশংসা করো না, ভারতী।
দুর্বোধ্যতা আর সরলতার সংমিশ্রণে আপনি এক মূল্যবান রত্ন।
যথেষ্ট তোষামোদি হয়েছে, তোমার কবিতায় মন দাও।
রামের উপস্থিতির জন্য আকুলতা... হনুমান।
- কে? - আমি রাম।
প্রভু শ্রীরাম!
রাম!
আমার কাছে সরাসরি চলে এসেছ?
আমার জীবন ধন্য।
আমার জীবন...
ধ্বংস।
- হেই, আমাকে আশা করিসনি, তাই না? - আমি জানতাম না।
না জানিয়ে চলে এসেছি তোকে চমকে দিবো বলে।
বিপদ-আপদ কখনও জানিয়ে আসে না।
না জানিয়েই আসে।
সাথে করে এবার কী সমস্যা নিয়ে এসেছিস?
- ফোনটা কোথায়? - ওখানে।
"জয়, প্রভু শিব"
এত পরিষ্কার-পরিচ্ছন্নতার কারণ কী, রাম?
- এই, দুর্জয়! - হুম!
এক সপ্তাহ আগে থেকে ফোনটা নষ্ট।
কখন ঠিক করাবি?
ফোন তো কেবল এক সপ্তাহ আগে নষ্ট হয়েছে।
আমাদের সরকার নষ্ট হয়েছে আরও ছয় সপ্তাহ আগে।
অভিযোগ জানিয়েছি।
প্রতিদিন তোর মিথ্যা কথা শুনতে আর ভাল্লাগে না।
বেচারি দাদীমা!
এই! বুঝতে পারছিস কীভাবে আমাকে ধোঁকা দিয়েছিস তুই?
এতদিন পর্যন্ত জানতাম না মিথ্যা কথা বলা মানে এত বড়ো ধোঁকা, সোলজার।
আমি আর সীতার দেখা পাবো না।
আমি ওর ঠিকানাও জানি না।
তুই আমার একমাত্র সম্ভাবনা ধ্বংস করে দিয়েছিস।
সীতা?
হাই। আমি রামের বন্ধু, বিকাশ ভার্মা।
সীতা কে, ভার্মা?
বিশাল কাহিনী, দুর্জয় শর্মা।
সারসংক্ষেপ নেই?
আচ্ছা।
বাসায় কেউ আছেন?
কেন?
এসব কী?
আপনার ফোন কাজ করছে না কেন?
ওটা মেরামত করতে এসেছ?
অভিযোগ জানানো ছাড়াই?
প্লিজ, এসো।
ফালতু ফোন।
দশ দিন ধরে দাদীমা বলে যাচ্ছে।
- আর সকাল থেকে... - রামকে ডেকে দিতে পারবেন?
সীতা?
হুম।
আগের দিনে রাম গিয়েছিল সীতাকে খুঁজতে।
এখন সীতা এসেছে রামের খোঁজে।
ঘোর কলিযুগ।
ডাকছি ওকে।
প্রভু শ্রীরাম?
কী ব্যাপার?
দেবী সীতা এসেছেন।
প্রথমবারের মতো আমার জীবনে পা রাখলে।
কী খাবে তুমি?
চিঠির কয়েকটা শব্দের জন্য,
কাশ্মীরের তুষার ছেড়ে এখানে চলে এলে কীভাবে?
অসংখ্য চিঠিতে লেখা ছিল আমার জন্যই তোমার জন্ম হয়েছে।
কাশ্মীরে চিঠির বৃষ্টি ঝরছিল।
আমাকে আসতেই হতো।
দুঃখিত, ম্যাডাম।
অনুমতি ছাড়াই ছবি তুলে ফেলেছি।
ফোন কাজ করছিল না।
তোমার সাথে দেখা হবে না ভেবে অনুশোচনা হচ্ছিল খুব।
আর তুমি আমার সামনে হাজির হলে... দেবদূতের মতো।
একটা ব্যাপার জানো?
তোমার সবগুলো চিঠি আমার মুখস্থ।
কয়েকশো বার করে পড়েছি।
যখন পড়ি মনে হয় যেন আমরা দীর্ঘদিন ধরে বিবাহিত। - কী?
মানে...
মনে হয় যেন আমরা দীর্ঘদিন ধরে পরিচিত।
একইভাবে,
এগুলোকে আবোল-তাবোল লেখা হিসেবে ভেবে নাও যেহেতু আমি নিশ্চিত ছিলাম তোমার সাথে আমার কখনও দেখা হবে না।
আসলে তোমাকে এটা বলতেই এসেছিলাম।
মিথ্যা কথা।
শুধু এটা বলার জন্য ঠিকানা খুঁজে এখানে আসবে কেন?
তুমি আমার সাথে দেখা করতে এসেছ।
স্বীকার করো।
আমার যেতে হবে।
মিস সীতা! এক মিনিট।
বৃষ্টিও বলছে তোমায় না যেতে।
আমার নাচের ক্লাসের সময় হয়ে গিয়েছে।
মিস সীতা!
তুষারের মাঝে আমি একলা ভিজতাম!
এতদূরে নিয়ে এসে একলা বৃষ্টিতে ভেজানো কিন্তু ঠিক হচ্ছে না!
আহা বেচারা।
তোমার ভ্রমণের খরচ কত হয়েছে বলো।
দিয়ে দিবো।
প্রিয় সীতা মহালক্ষ্মী!
যে বৃষ্টি আমাদের দুজনকে খুঁজতে এসেছে...
অন্তত একটু সময়ের জন্যও আমার সাথে না ভিজে আমাদের দুজনের থেকেই দূরে সরে যাচ্ছ বলে
এই বৃষ্টির মাঝেও আমার নিঃশ্বাস বাষ্পায়িত হয়ে যাচ্ছে।
যে দূরত্ব আমায় কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছে তা তুমি জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিতে পারো।
ইতি, তোমার রাম।
ঠিকানা যদি দাও, পোস্ট করে দেবো।
ঠিকানা দিয়ে বাড়িতে আপদ ডেকে আনা বুদ্ধিমানের কাজ না, মি. রাম।
বিদায়।
ইতি, তোমারই, সীতা মহালক্ষ্মী।
সীতার সাথে দেখা হওয়ায় ও এত খুশি ছিল যে উচ্ছ্বাসে ফেটে পড়ছিল।
রাম যার জীবনে কেউ ছিল না, তার সামনে সীতার বেশে হাজির হলো এক ঝড়।
একটা চিঠি...
কাশ্মীরে থাকা রাম আর নিজাম'স প্যালেসে কাজ করা সীতা মহালক্ষ্মীকে একত্রিত করেছিল...
কী অবিশ্বাস্য প্রেম কাহিনী!
রামের সাথে আপনার আর দেখা হয়নি?
না।
বাড়ির পরিস্থিতির জন্য আমি আর সেনাবাহিনীতে যোগদান করতে পারিনি।
রামের কাছে অসংখ্য চিঠি লিখেও কোনো উত্তর পাইনি।
আফরিন, তুমি ঠিক আছো?
না, স্যার।
সীতা মহালক্ষ্মীর সাথে দেখা না হলে, আমার সমস্যার সমাধান হবে না।
রামের বন্ধু দুর্জয় শর্মা সীতার ব্যাপারে কিছু জানতে পারে।
ওর ঠিকানা আছে আমার কাছে।
খুঁজে দেখি।
স্যার, উনি...?
বিষ্ণু শর্মা।
আমরা সবাই এক ব্যাটালিয়নেই ছিলাম।
উনি কি সীতার ব্যাপারে কিছু জানেন?
মনে হয় না।
আমার আর কোনো উপায় নেই।
কপাল পরখ করে দেখি।
উনার কনটাক্ট নাম্বার আছে আপনার কাছে?
বিষ্ণু, স্যার!
বিষ্ণু, স্যার!
না, স্যার!
তুমি পাগল?
রাম, যেয়ো না!
আমার কথা শুনুন, স্যার!
ওহ!
সবাই এখানে?
আরামে দাঁড়াও, ভদ্রমহোদয়গণ।
আপনার পদোন্নতির জন্য অভিনন্দন, স্যার।
ধন্যবাদ। ধন্যবাদ।
হ্যালো!
হাই, আমি আফরিন।
আমি ব্রিগেডিয়ার বিষ্ণু শর্মার সাথে কথা বলতে চাই।
কী ব্যাপারে?
লম্বা কাহিনি, স্যার।
আমি উনার সাথে লেফটেন্যান্ট রামের ব্যাপারে কথা বলতে চাই, যিনি ২০ বছর আগে উনার সাথে কাজ করতেন।
স্যার!
একটা কল এসেছে, স্যার।
কল? কে?
আফরিন নামের কেউ, স্যার।
সে আপনার সাথে ১৯৬৪তে কাজ করা লেফটেন্যান্ট রামের ব্যাপারে জানতে চায়।
রাম?
আমি নিয়ে আসছি, স্যার।
দাঁড়াও।
এই, দাঁড়াও, ভাই। আসছি, দাঁড়াও।
কতক্ষণ?
বাস... বাস চলে যাচ্ছে। জলদি এসো।
হ্যালো!
অজয়, এক্ষুণি গোয়েন্দা বিভাগের সাথে যোগাযোগ করো।
ও কে?
ও কোথায় আছে?
কোথা থেকে এসেছে?
কার কার সাথে দেখা করেছে?
প্রতিটা ডিটেইলস আমি যথাসম্ভব দ্রুত চাই।
এক্ষুণি।
স্যার।
কিছু পেয়েছ?
স্যার, মেয়েটার নাম আফরিন।
হায়দ্রাবাদের আর্মি বেস থেকে, সে একজন অবসরপ্রাপ্ত সেকেন্ড লেফটেন্যান্ট
বিকাশ শর্মার তথ্য নিয়েছে, যিনি অনন্তপুর থাকেন।
বিকাশ?
জি, স্যার! বিকাশই আপনার নাম্বার ওকে দিয়েছে।
স্যার, আপনাকে সকাল ৭টায় দিল্লির ফ্লাইট ধরতে হবে, স্যার।
স্যার, কী হয়েছে?
- প্ল্যানে কোনো পরিবর্তন, স্যার? - হ্যাঁ।
আমি অনন্তপুর যাচ্ছি।
বাবা!
বাবা!
এসো, পুত্র। ভীমসেনা!
কী সমাচার?
কেউ একজন এসেছে, বাবা।
মধ্যদুপুরে...
আমন্ত্রণ বা অনুমতি ছাড়া...
প্রবেশ করতে দাও ওদের!
আসুন দয়া করে। আসুন।
আসুন দয়া করে।
সীমান্তে গোলাগুলি বন্ধে সম্মত হয়েছে পাকিস্তান।
আশা করি ওরা মন থেকে বলছে।
শ্রী রামচন্দ্র প্রভু!
আমার জীবনে তোমার সাথে "সীতার অনুসন্ধান" অধ্যায়ের পরিসমাপ্তি ঘটেছে।
এবার যদি দয়া করে বিদায় হও, আমার আত্মাটা শান্তি পাবে।
সীতাকে যাতে খুঁজে পাও এই প্রার্থনা করা ছাড়া,
আমি আর কোনো শারীরিক পরিশ্রম করতে পারব না, প্রভু।
হায়দ্রাবাদে এই মাসে অস্টিনের ম্যাজিক শো আছে।
তুমি যদি এখানে থাকতে, আমাকে সঙ্গ দিতে পারতে।
ইতি, একজন সাধারণ দুর্ভাগা মানব।
পেয়েছি!
কাকে?
মাথায় খেলল।
কী?
- চল যাই। - কোথায়?
ম্যাজিক শো তে।
এক সপ্তাহ ধরে আমরা সীতাকে খুঁজছি।
এখানেও যদি ওকে খুঁজে না পাই,
তোকেও হাল ছেড়ে দিতে হবে।
- অবশ্যই খুঁজে পাবো। - কোথায়?
আশেপাশেই কোথাও থাকবে।
এই সুন্দরী তরুণীকে কি আমি মঞ্চে আসার জন্য অনুরোধ করতে পারি, প্লিজ?
যাও।
আপনার নাম জানতে পারি, ইয়াং লেডি?
সীতা মহালক্ষ্মী।
মিস সীতা! আপনি তো এখানে বেশ জনপ্রিয়।
আসুন, আসুন। শো শুরু করা যাক।
রাম!
এদিক দিয়ে।
- হাই। - হাই!
স্যার। এক্সকিউজ মি।
জাস্ট এক মিনিট।
আমার নাম কীভাবে জানেন?
তুমি তো শুধু তোমাকে পাঠানো চিঠিগুলো পড়ো।
না পাঠানো অসংখ্য চিঠি আছে।
আমি একজন এতিমের মতো সুখে-শান্তিতেই বাস করছিলাম।
আমাকে শুধু চিঠি দিয়ে বিরক্ত করেই ক্ষান্ত হয়নি, ভাড়ার খরচও অফার করেছে।
এটা কি ঠিক?
ঝড়ের মতো যখন উদয় হবে, তখন কেউ কী করবে?
এটুকু ভাব যদি অন্তত না দেখায়, ওকে তুমি হালকাভাবে নিতে না?
থামলেন কেন?
বলে যান, প্লিজ।
কী বলব?
কথা।
চন্দ্রকথা।
মিস সীতা, আপনার গোলাপটা এই জারে রাখবেন প্লিজ?
অবশ্যই।
ধন্যবাদ!
আব্রাকাডাব্রা... আব্রাকাডাব্রা...
দর্শক সারি থেকে কেউ মঞ্চে আসতে পারবেন, প্লিজ?
কাপড়টা সরাবেন, প্লিজ?
নিশ্চয়ই।
চিঠিতে একটা জিনিস আনতে বলেছিলে।
প্রজাপতি।
নিয়ে এসেছি।
তোমার ব্যাপারে সত্যিটা জেনেছি।
কী সত্যি?
আমার ধারণা তুমি একজন নাচের শিক্ষিকা?
মিস সীতা!
ফুলের ব্যাপারে ভাববেন না।
আপনার বাসায় সেটা পৌঁছে দেবো।
আর আপনার ঠিকানা, প্লিজ?
সীতা মহালক্ষ্মী
নুরজাহান প্যালেস
আফজালগঞ্জ
হায়দ্রাবাদ!
আমরা চলে যাচ্ছি পরের জাদুতে।
হ্যালো! এক মিনিট।
দেখো।
ঠিকানা জানো বলে ওখানে যাবে বলে ভাবছো হয়তো।
এই দুঃসাহস দেখিয়ো না।
মিস সীতা মহালক্ষ্মী!
এটা একদম অন্যায়।
- আমি অনেক কষ্ট করে... - এইতো।
আবার শুরু!
কিন্তু... আমরা কেন দেখা করব? হাহ?
আবার শুরু!
প্রিয় সীতা মহালক্ষ্মী!
তোমার সাথে ফরমাল আচরণ করা আমার জন্য খুব অস্বস্তিকর।
- এই, সীতা! - হাহ?
এটা অথবা শুধু এই যে...
আমাদের ঘন ঘন দেখা করা উচিত যাতে আমি তোমাকে এভাবে ডাকতে পারি!
আমার ভাই যদি প্রশ্ন করে, তাকে কী বলব?
সত্যিটা বলবে।
সত্যিটা বলবে যে তুমি আমার সাথে আছো।
সত্যিটা বললে, আমার ভাই মেনে নিবে না!
তুমি একদম বেশি বেশি।
এরকম একজন সুন্দরী যখন মিথ্যা বলে,
সেটাই সত্য।
সত্য বিশ্বাস না করে উপায় কী?
♪ “Has such great beauty taken a diversion ♪ ♪ and somehow reached this earth?” ♪
♪ “Or could they have chiseled it? ♪ ♪ A great sculpture into your form?” ♪
♪ “You are a magnificence ♪ ♪ that world has not seen” ♪
♪ “My waiting is blessed ♪ ♪ touched by your laughter” ♪
♪ “Are you the mist that nights bow out to?” ♪
♪ “An annoyed moon left at once ♪ ♪ asking why him when you are around” ♪
♪ “A billion stars descended on earth ♪ ♪ to find what gave you such soft light” ♪
♪ “Your touch makes the earth swell, ♪ ♪ how strange” ♪
♪ “I am pulled into no return zone ♪ ♪ by your boldness” ♪
♪ “Your sari cascading is its natural trait" ♪
♪ "Crouching like a tiger is the youth” ♪
♪ “My world surrenders ♪ ♪ and it’s thanks to you” ♪
♪ “An annoyed moon left at once ♪ ♪ asking why him when you are around” ♪
♪ “A billion stars descended on earth ♪ ♪ to find what gave you such soft light” ♪
আহ!
মাঝ রাত্রে একটা ছেলে আর মেয়ে!
কী যুগ এলো রে!
কলিযুগ।
- অন্তত ওরা দূরত্ব বজায় রাখছে। - আহ...
যদি কাছাকাছি আসে?
দুনিয়া থমকে যাবে না?
ওই! দাঁড়াও।
আমি ওকে ছুঁয়েছি।
তোমাদের দুনিয়া থমকে গেছে?
ওকে জিজ্ঞাসা করুন।
মি. রাম!
তোমার দুনিয়া থমকে গেছে?
না।
এবার যেতে পারো।
থামেনি তাহলে। চল যাই।
চলো, মি. রাম।
♪ “Did a parrot dress in sari, ♪ ♪ surrounded you and turned into butterflies?” ♪
♪ “Shall I stretch my bow, ♪ ♪ tie the knot with you and become Rama again?” ♪
♪ “Is beauty a slave at your abode? ♪
♪ A war is declared against you by the world” ♪
মিস সীতা! তুমি!
♪ “My world surrenders ♪ ♪ and it’s thanks to you” ♪
♪ “An annoyed moon left at once ♪ ♪ asking why him when you are around” ♪
♪ “A billion stars descended on earth ♪ ♪ to find what gave you such soft light” ♪
বৃষ্টি থামবে না।
কাছেই একটা বাসা খালি আছে ভাড়ার জন্য। এসো।
এসো, এসো। ভিজে গেছো।
- টু-লেট দেখে এসেছি। - ওহ, ওটা!
দাদু! বাসা দেখতে লোক এসেছে। আসছি এক্ষুণি।
কী?
এই ভারী বৃষ্টির মাঝে?
পরিবার তো?
আহ...
সামনের সপ্তাহে...
সামনের সপ্তাহে আমরা বিয়ে করছি।
হাহ?
ঠিক?
ঠিক?
- কী ব্যাপার, মেয়ে? - হাহ?
ব্যাপারটা সত্যি?
হুম।
এইতো। মাত্রই তুমি সম্মতি দিয়েছ।
দাদীমা! আপনি সাক্ষী।
কীসের?
বলছি যে আপনি আমাদের বিয়ের সাক্ষী।
ঠিক না, মিস সীতা?
কী সমস্যা তোমার?
এক সপ্তাহ পর বিয়ে করবে, এখনও ওর সাথে এত ফরমাল আচরণ কেন?
ওকে সীতা বা এই বলে ডাকবে।
ভালো বলেছেন।
থামো, দাদী।
উনি সবসময়ই এমন।
এসো, দিদি।
এই! সীতা!
ডান দিকের দরজাটা খোলো।
ওটা হল।
হ্যাঁ, দেখেছি।
সত্যিই সুন্দর।
দিদি!
- তোমাদের প্রেমের বিয়ে, তাই না? - হ্যাঁ!
কীভাবে জানলে?
বিয়ের আগেই দুজনে মিলে বাসা খুঁজছো।
বুঝব না?
প্রেমিক-প্রেমিকাদের ব্যাপারে আমি শুধু বইয়ে পড়েছি।
এর আগে কখনও দেখিনি, দিদি!
তোমাদের প্রথম দেখা হয়েছিল কখন?
ট্রেনে।
না।
কাশ্মীরে।
কাশ্মীর?
বাহ! কী সুন্দর জায়গা, দিদি!
চারপাশে বরফঢাকা পাহাড়, আপেল, তুষারপাত...
লম্বা লম্বা পাইন গাছের সারি।
চারপাশে কুরুক্ষেত্র।
আজ কি কোনো উৎসব?
পূজা!
আমরা বিশ্বাস করি প্রতি বছর প্রথম যখন তুষারপাত হয়,
দেবতা শ্রীরাম আর মাতা সীতা একসাথে সময় কাটানোর জন্য আগার্তায় আসেন।
সত্যিই?
তুমি কোথা থেকে এসেছ?
হায়দ্রাবাদ!
শ্রীরাম আর সীতার অপেক্ষায় থাকা আগার্তা সেদিন আগুনে জ্বলছিল।
কখনও ভাবিনি সেদিন বেঁচে ফিরতে পারব।
ঠিক তখন, আমি রামকে দেখি।
এই!
এদিক দিয়ে একটা মেয়ে গিয়েছে।
ওকে দেখেছ?
আমার সাথে আসুন।
এখানে কেউ আছে?
কেউ নেই।
তাহলে, এটা কে?
ইনি আমার বিবি।
খুব সুন্দর তোর বিবি!
আমরাও মুসলমান।
তাতে কী আসে যায়?
আমাদের তো শুধু এই সুন্দরীকে চাই।
স্যরি, ম্যাডাম।
ওদের কাছ থেকে আপনাকে রক্ষার জন্য বলেছি আপনি আমার স্ত্রী।
"কুরুক্ষেত্রের যুদ্ধে রাবণের পরাজয়,"
"যুদ্ধের ঝলকের মাঝে, সীতার আত্ম-নির্বাচন।"
এখন বুঝতে পেরেছি, সীতা।
সীতা!
কী ছলনাময়ী!
এত দেরি হলো কেন?
কী করছিলি?
এটা আমার প্রথম চুরির প্রচেষ্টা।
সে জন্য দেরি হলো।
তো এটা...?
সারপ্রাইজ।
কী হয়েছে? ঠাণ্ডা লাগছে?
বিপদ যখন কয়েক ফিট দূরে থাকে, তখন ঠাণ্ডা লাগে না রে পাগলা।
ভয় লাগে।
ভয়ের কী আছে? আমি আছি তো।
সে জন্যই তো আমার ভয়।
আমরা কাল প্রাসাদে যাচ্ছি।
কী জন্য? আমার শেষকৃত্য?
বিয়ের সম্বন্ধ পাকা করতে।
আমি এখন বিয়ে করতে চাই না।
আমার বিয়ের কথা বলছিলাম।
তো, নিকট ভবিষ্যতে তুই আমার পিছু ছাড়বি না?
যন্ত্রও আমার সাথে মজা নিচ্ছে।
একেই বলে নিয়তির খেল।
ও যত সহজে এখানে এসেছে প্রাসাদে ঢোকাটা এত সহজ না।
আমাদের তেলুগু শিক্ষক কৃষ্ণমূর্তি সাহেব আশেপাশেই কোথাও থাকতেন, তাই না?
এই মাত্র যা বললি সেটা তোর কাছে অপ্রাসঙ্গিক লাগছে না?
কোনো গড়বর হলে, ওরা আমাদের মেরে ফেলবে।
এই!
আমরা এখানে ফুটবল খেলতাম।
মনে আছে?
অদ্ভুত ব্যাপার এখন সেখানে মুঘলে আজম চলছে।
কী জিজ্ঞাসা করলাম তোকে?
আর কী বলছিস?
প্রাসাদে ঢুকব কীভাবে আমরা?
গাড়িটা থামা।
থামালাম।
প্রাসাদ হেঁটে হেঁটে আসবে?
ওইতো।
সুব্রামান্যম।
উনি ব্যক্তিগতভাবে আমাদের ভেতরে নিয়ে যাবেন।
তো, সব কৌশল আগে থেকেই ঠিক করে রেখেছিস।
ধৈর্য আর সাহসের মাধ্যমেই সীতা মহালক্ষ্মীকে পাওয়া সম্ভব।
জয় হনুমান!
- এক রুপি... - সুব্রামান্যম সাহেব!
ভালো আছেন?
কেমন আছেন?
আমার কী সমস্যা থাকবে? আমি ভালো আছি।
তুমি কে?
আমি রাম।
গত শুক্রবার যে প্রাসাদে দেখা হলো?
শুক্রবার?
আপনি আমাকে ভুলে গেছেন, স্যার।
আহ... সেরকম কিছু না।
মাত্রই...
আমার আবছা আবছা মনে পড়ছে।
- রাম! - হ্যাঁ!
- কোথায় যাচ্ছেন? প্রাসাদে? - অবশ্যই।
চলুন। আমিও প্রাসাদেই যাচ্ছি।
তুমি কেন ঝামেলা পোহাবে? আমি দরদাম করে এক রুপিতে চলে যাব।
- তুমি যাও! - ওহো! আসুন, স্যার।
আমার গাড়িতে চলুন।
তাই, রাম?
বাহ, আসুন, স্যার।
মুসলিম প্রাসাদে ভারতনাট্যম সঙ্গীত?
রাজার যা মর্জি, তাই আইন।
আইনের কথা আসল কেন আবার?
এটা স্রেফ একটা প্রবাদ।
আমাদের রাজকুমারী নুরজাহান... মহামান্য...
রাজকুমারীর ভারতনাট্যম খুব পছন্দের।
ওঠো।
এটা শেখার জন্য উনি একজন শিক্ষকও নিয়োগ করেছেন।
♪ “Begin your journey, my blue skinned Krishna” ♪
♪ “Walk to me with your regal gait, ♪ ♪ my handsome Rama” ♪
দাঁড়াও, দাঁড়াও! তোমরা কারা?
- সিঁড়ি দিয়ে এদিকে আসছো কেন? - দুঃখিত, জনাব।
- আমি ওকে না করেছিলাম কিন্তু... - স্যার! ও সুব্রামান্যম সাহেবের ভাতিজা।
তাই নাকি?
প্রণাম কর।
বাহ!
কী আদব! কী শিষ্টাচার!
তুমি দেখতে একটু কালো, তবে চেহারা একদম তোমার চাচার মতো।
আমি সীতারামায়াহ। আমি তোমার আঙ্কেলের বন্ধু।
তাহলে আমাকে আশীর্বাদ করুন।
আচ্ছা, আচ্ছা। ওঠো।
♪ “Across hills and cascading streams ♪ ♪ come to me, I implore you” ♪
থামো।
থামো!
এখানে কী করছো?
কাউকে খুঁজছ?
সীতাকে খুঁজছি, স্যার।
সীতা? কোন সীতা...
সীতা... রামায়াহ।
ও সীতারামায়াহ সাহেবের ভাতিজা।
- হুম! - এবার তুই কর। নিচতলায় আমি করেছি।
তাই?
আহা, হয়েছে। হয়েছে।
গাধাটা আমাকে বলেনি ওর একটা বিবাহযোগ্য ভাতিজা আছে!
- উনি নিজেও জানেন না। - হাহ?
তুমি আমাকে বলতে পারতে।
আমিও মাত্রই জানলাম, স্যার।
একটা ব্যাপার খেয়াল করেছেন?
আপনিও মাত্রই জানতে পারলেন।
জোক, স্যার। জোক!
কী ব্যাপার, সুব্বু!
এতদিন পর্যন্ত তোমার ভাতিজার কথা লুকিয়ে রেখেছ।
ওহ, সত্যিই!
এই হচ্ছে রাম।
এই, সর!
- আমার ভাতিজা। - জানি!
এই হচ্ছে সীতারামায়াহ...
এখানে, এখানে।
তোমার আঙ্কেলের মতো, তাই না?
আরে, এই বয়সেও মজা করা ছাড়লে না!
কেন ছাড়ব?
কেন?
এসব রক্তের সম্পর্ক আর প্রাপ্তবয়স্কদের কথার মাঝে আমার দমবন্ধ লাগে।
আমি গাড়িতে গিয়ে অপেক্ষা করছি, ওকে?
- আমি এটা সীতাকে দিয়ে আসছি। - আচ্ছা, আচ্ছা।
একটু হাসি থামাও।
♪ “Pensively I wait in Mithila” ♪
♪ Hear my prayer ♪ ♪ and come to me Rama!” ♪
♪ “Make a bow of your flute ♪ ♪ and sing the song of Sita” ♪
যা, গিয়ে সীতার কাছ থেকে নাচ শিখে নে।
তুমি এখানে কী করছো?
আমাদের যদি কেউ দেখে ফেলে সেটা কতটা বিপজ্জনক জানো?
এখন বুঝতে পারছি, বিপদ কত সুন্দর হতে পারে, সীতা।
তোমার এখানে আসা উচিত হয়নি।
শশ... তোদের এখানে আসা ঠিক হয়নি।
বলো এত ঝুঁকি নিয়ে এখানে কেন এসেছ।
রাজকুমারীকে নাচ শেখানো বেশ বড়ো কাজ বলা চলে।
আমার কাছে একটা ছোট্ট কাজের প্রস্তাব আছে।
যদি করতে রাজি হও আর কী...
কী কাজ?
এত বছর ধরে আমার নিজের কোনো বাড়ি ছিল না, আপন কোনো মানুষ ছিল না, সীতা।
প্রতিটা ছুটিতে, আমি নিজের ব্যাগ গুছাই,
দেশময় ঘুরে বেড়াই, তারপর আবার আর্মি বেসে ফিরে যাই।
তবে... এখন থেকে আর সেরকম হবে না।
ছুটি পেলেই, আমি তোমার কাছে ছুটে আসব।
তুমি আমার অপেক্ষায় থাকবে, আমি তোমায় এভাবে কাছে টেনে নেবো।
কাশ্মীরে যে মিথ্যা বলেছিলাম সেটাকে আমি সত্যি করতে চাই।
জানি না এই কাজটা বড়ো না-কি ছোটো।
যদি তোমার পছন্দ হয়, জানিয়ো। তোমাকে আমি রাণীর মতো করে রাখব।
সত্যিই।
তোমার সমস্যা কী বলো, সীতা!
আমি একজন সৈনিক!
এই, এভাবে কী করে চলে যেতে পারে ও?
রামের মতো কোনো ছেলে পাবে আর?
ওকে বাঁচানোর জন্য এত কিছু করল, একটু কৃতজ্ঞতাবোধ তো দেখানো উচিত, তাই না?
যাইহোক, মেয়েরা সবাই একরকম।
আমাদের ভদ্র মহাশয় বলে ডাকবে।
আর শেষতক কোনো বদমায়েশের গলায় গিয়ে ঝুলে পড়বে।
১৯৬৪ সালেও অবস্থা এমন ছিল?
ওর কোনো কারণ নিশ্চয়ই ছিল?
থাকা উচিত, তাই না?
সেটা বলে তারপর চলে যেত।
আমিও রামকে একই প্রশ্ন করেছিলাম।
কী বলেছিল সে?
দূরে যাও।
দূরে যাও।
কাছে আসো।
অকারণে লোকে কেন বলবে যে ভালোবাসা অন্ধ?
এরপর রামের সাথে আর কখনও আপনার দেখা হয়নি?
- কাছে আসো। - এই, ভুলেও না।
ও কখন আসে, কখন যায় কেউ জানে না।
ওর সাথে শেষ দেখা হওয়ার ২০ বছর পেরিয়ে গেছে।
কী বিরক্তিকর ব্যাপার!
- আমরা জানি না সীতা কে। - না!
- আমরা জানি না সে দেখতে কেমন। - না!
আমার হাতে মাত্র ১০ দিন সময় আছে।
সীতাকে কী করে খুঁজে বের করব?
এক মিনিট।
রাম ওর একটা ছবি তুলেছিল।
মনে হয় আমার কাছেই কোথাও সেটা আছে।
এটা আমার খালা।
এটা আমার মা।
এটা মঞ্চ অভিনেতা, দূর্যোধন।
- এই যে সীতা! - হাহ!
খতরনাক দেখতে।
কিন্তু ও বেশ সুন্দরী, তাই না?
ছবিটা আমি নিতে পারি? প্লিজ!
হুম।
ধন্যবাদ।
- অঙ্ক করছো? - না।
তাহলে যাও।
ছবিটা নিয়ে কী করবে?
ছবিটা যদি আমরা সুব্রামান্যমকে দেখাই আর নাচের শিক্ষিকা, সীতার কথা জিজ্ঞাসা করি, উনি জানবেন।
চলো, চলো।
স্যরি, স্যরি।
- বালাজি! - হাহ!
- বালাজি! - কী হলো আবার?
কী ব্যাপার?
সীতা মহালক্ষ্মীই কি... রাজকুমারী নুরজাহান...?
তোমার সমস্যা কী একবার বলো, সীতা।
আমি একজন সৈনিক।
জয় হিন্দ, স্যার।
চারদিন আগে একটা মেয়ে আপনার সাথে দেখা করতে এসেছিল।
ওর নাম...
আফরিন, স্যার।
লন্ডন থেকে এসেছে।
পাকিস্তান থেকে।
ও পাকিস্তানি আর্মির মেজর আবু তারিকের নাতনী।
ও বলেছিল একটা বই লিখছে আর রামের ব্যাপারে আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিল, স্যার।
আমি সত্যিই দুঃখিত, স্যার।
আমি সত্যিই এতকিছু জানতাম না।
জানতেন না।
জানতেন না কোথা থেকে ও এসেছে।
অন্তত এটা জানেন ও কোথায় থাকছে?
রামের ব্যাপারে কিছু জানতে পারলে ওকে জানানোর জন্য একটা ঠিকানা দিয়েছিল, স্যার।
এক্ষুণি নিয়ে আসছি।
এটা কী করে সম্ভব, ভায়া?
নিজামের একজন রাজকুমার কাশ্মীরের এক সৈনিকের কাছে চিঠি লিখছে!
সেই চিঠি হাতে নিয়ে সে এখানে হাজির!
কী প্রেম কাহিনী!
ভাবছি রাজকুমারী কী করে একজন সাধারণ সৈনিকের প্রেমে পড়লেন!
নুরজাহান এত আলাভোলা ছিলেন না।
উনি ছিলেন বিলাত ফেরত।
সে যখন ওকে প্রপোজ করে, ও কিছু না বলে চলে গিয়েছিল।
হ্যালো!
সবাই তোমার মতো না।
রামের মতো কাউকে, কেউ না করবে না।
রাম স্পেশাল কোন দিক দিয়ে?
একটা ধনীর দুলালীকে ভালোবাসা ছাড়া? তাও একজন রাজকুমারী!
এই!
রামের কোনো ধারণাই ছিল না সীতা একজন রাজকুমারী।
সে জানত না কী করে?
আমরা যাদের সাথে সাক্ষাৎ করেছি তাদের পর্যন্ত ধারণা ছিল না সীতা মহালক্ষ্মী আর নুরজাহান এক ব্যক্তি।
শতভাগ সম্ভাবনা রয়েছে।
হতে পারে!
কিন্তু আমি এখানে রামের সমস্যার সমাধান করতে আসিনি।
আমি নিজের সমস্যার সমাধান করার চেষ্টা করছি।
যাওয়া যাক?
বালাজি, আমাকে স্বার্থপর লোক ভেবো না।
ওকে?
অপরিচিত লোকের জন্য আমরা ইতোমধ্যে অনেক কিছু করছি।
তুমি বদলাবে না।
এত বছর ধরে আমার নিজের কোনো বাড়ি ছিল না, আপন কোনো মানুষ ছিল না, সীতা।
প্রতিটা ছুটিতে, আমি নিজের ব্যাগ গুছাই, দেশময় ঘুরে বেড়াই, তারপর আবার আর্মি বেসে ফিরে যাই।
তবে... এখন থেকে আর সেরকম হবে না।
ছুটি পেলেই, আমি তোমার কাছে ছুটে আসব।
তুমি আমার অপেক্ষায় থাকবে, আমি তোমায় এভাবে কাছে টেনে নেবো।
কাশ্মীরে যে মিথ্যা বলেছিলাম সেটাকে আমি সত্যি করতে চাই।
জানি না এই কাজটা বড়ো না-কি ছোটো।
যদি তোমার পছন্দ হয়, জানিয়ো।
তোমাকে আমি রাণীর মতো করে রাখব।
শুভ সকাল, রাজকুমারী।
শুভ সকাল।
আজকের শিডিউল অনেক ব্যস্ত, ম্যাডাম প্রিন্সেস।
প্লিজ জলদি রেডি হয়ে নিন।
ম্যাম, আপনার সাথে শিক্ষামন্ত্রীর মিটিং বেলা ১টায়।
মিস রেখা আপনার সাথে যোগ দিবেন।
আর আপনার সাথে সমাজকল্যান সম্প্রদায়েরও মিটিং আছে, ম্যাডাম প্রিন্সেস।
হ্যালো!
কেমন আছো?
শুভ সকাল, রাজকুমারী। - শুভ সকাল।
এরা নারী শিক্ষা কার্যক্রমের প্রথম পাস করা ব্যাচ।
- অনেক ধন্যবাদ, ম্যাম। - হুম।
তোমায় স্বাগত, কিউটি পাই!
রাজকুমারী!
সাধারণ মানুষের সামনে আপনি হাঁটু গেঁড়ে বসতে পারেন না।
কে থামাবে আমাকে, ফাতিমা!
ওকে!
ও, ঈশ্বর!
তোর ব্যাপারে কিছু না জানিয়েই যদি ওকে বিয়ে করতে বলিস...
ও দৌড়ে পালাবে না?
ও কী জানে না আমার ব্যাপারে?
সবকিছু জানে।
শত্রুর প্রাণ সংহারণ কীভাবে করতে হয় তা তুই জানিস।
কিন্তু একটা মেয়ের হৃদয় কীভাবে জয় করতে হয় তোর কোনো ধারণাই নেই।
তুই রাম।
তুই সেনাবাহিনীতে চাকরি করিস।
এসবকে তথ্য বলে না।
ও কি আমাকে পুজো-পার্বণে শাড়ি কিনে দিতে পারবে?
মাসে ও কত টাকা কামায়?
সংক্ষেপে, এই ছেলেটাকে বিয়ে করলে আমার ভবিষ্যৎ কী?
এরকম কিছু।
এটা ত্রেতাযুগ না যে অন্ধের মতো রামকে অনুসরণ করবে।
ওহ!
আমার ব্যাংকে ১২,০০০ রুপি আছে।
আগামী মাসে ১০০ রুপি বেতন বৃদ্ধি হবে।
মাসে ৬০০ রুপি!
মাসে ৬০০ রুপি তো অসাধারণ!
গিয়ে সীতাকে বল।
ওকে বললে, ও আগ্রহভরেই রাজি হয়ে যাবে।
তোর মতো বন্ধু পেয়ে আমি ভাগ্যবান, রাবণ।
ধন্যবাদ। আমিও।
দেবী সীতাকে বলিস আমি তার খোঁজ নিয়েছি, রাম।
আপনি তো পুরো রামায়ণ উল্টে ফেলেছেন।
আসুন। যাওয়া যাক।
আসছি। যা তুই।
রাম আমাকে প্রপোজ করেছে।
আমাদের বিয়ে হয়ে গেলে...
- ও কি বলেছে তোমাকে রাণীর মতো করে রাখবে?
অবশ্যই, রাখবে।
নুর!
গাড়িতে বসে হাসতে হাসতে আলোচনা করার মতো জিনিস না এটা।
বাস্তববাদী হও।
যত বেশি দেরি করবে, ও তত বেশি কষ্ট পাবে।
ওকে সত্যিটা বলে দাও।
সত্যিটা কখনও বলতে হলে,
আগে আমার ওকে বলতে হবে যে আমি ওকে ভালোবাসি।
সীতা একটা স্বপ্ন।
তুমি রাজকুমারী নুরজাহান। প্লিজ, জেগে ওঠো।
আমি উঠতে চাই না।
এমন কোনো মুহূর্ত নেই যে আমি চাই না, আমার পরিচয় মুছে ফেলতে।
তুমি জানো সেটা কখনও হবে না।
এ কারণেই ও প্রপোজ করামাত্র তুমি দৌড়ে চলে এসেছ।
নুর! তুমি অপরাধবোধ করছো কেন?
তুমি কোনো ঠিকানা লেখোনি।
তবুও, সে তোমার খোঁজে এসেছে।
এটা ওর দোষ।
ওকে চিঠি লিখে আমি ভুল করেছি।
এতিম হিসেবেই ও সুখী থাকত।
কোনো সমস্যা হয়েছে, রাজকুমারী?
খুব বড়ো সমস্যা হয়েছে, মি. জাভেদ।
আপনি এটা সমাধান করতে পারবেন?
পারবেন না। তাই না?
চলুন যাওয়া যাক।
নুর, তুমি আগুন নিয়ে খেলছো।
তোমার ভাইকে তুমি চেনো।
তোমার আর কোনো উপায় নেই।
তোমাদের রাজবংশের ভবিষ্যৎ তোমার সিদ্ধান্তের ওপর নির্ভর করছে।
ভুলে গিয়েছ?
এই! সীতা!
রাজকুমারী!
একটা জরুরি সংবাদ।
সবাই আপনার জন্য অপেক্ষা করছে।
রাজকুমার!
ওমানে চলমান অর্থনৈতিক সঙ্কটের দরুণ,
ওমানের সুলতান আমাদের সমস্ত শিল্প কারখানার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে।
আমাদের জমাকৃত নগদ টাকা, জমিজমা আর সম্পত্তি সহ।
সবকিছু অন্ধকার মনে হচ্ছে!
ফারজানা!
কাঁদছ কেন? হুম?
ওমানের সুলতান আমাদের সমস্ত শিল্প কারখানার নিয়ন্ত্রণ নিয়ে নিয়েছে।
রাতারাতি আমরা ৬০ কোটি রুপি হারিয়েছি।
কী?
এখান থেকে পরিত্রণের একটাই উপায় আছে।
যদি ওমানের সুলতান এতে রাজি হন।
সুলতান আর তার পরিবার একাই ওমানের ব্যবসা সামলাতে পারবেন।
আমরা একটা কাজই করতে পারি।
তাদের সাথে সম্পর্ক স্থাপন।
ওমানের সুলতানের যদি কোনো কন্যা থাকত, আমরা আপনার নাম প্রস্তাব করতাম।
কিন্তু ওনার শুধু একটা ছেলে আছে।
আপনি ঠিক ভাবছেন, স্যার।
আপনি যদি ওমানের রাজকুমারের সাথে আপনার বোনের বিয়ের প্রস্তাব দেন,
আমরা রক্ষা পেতে পারি।
যদি ওমানের রাজকুমার রাজি হন।
রাজকুমারী,
এই ঘোর অন্ধকারে আপনিই কেবল আলো আনয়ন করতে পারেন।
প্রস্তাব পাঠান।
ইনশাআল্লাহ।
আপ্পু! দাঁড়াও, প্লিজ।
চিৎকার করো না।
কে?
সুব্রামান্যম সাহেব আমাকে পাঠিয়েছেন।
আফরিন, তাই না?
আমাকে বলেছেন।
আমি কলেজের জন্য বের হচ্ছি।
একটা লেকচার আছে।
- যেতে যেতে কথা বলা যাক? - হুম।
নুরজাহানের ব্যাপারে কী জানতে চাও?
ও একটা বই লিখছে, আসলে।
ওহ!
আমাকে এই চিঠিটা সীতার কাছে পৌঁছাতে হবে।
সীতা-রাম!
বিশ বছর হয়ে গিয়েছে শেষ এই নাম দুটো শুনেছি।
কী একটা দিন!
নুরজাহান কেন একজন সাধারণ সৈনিকের প্রেমে পড়লেন?
তাও একজন হিন্দুর।
কিন্তু, কেন?
কারণ, সে রাম।
স্যার! দাঁড়ান! থামুন!
স্যার, আপনি ভেতরে যেতে পারবেন না।
আমি একজনের সাথে দেখা করতে চাই।
স্যার, আপনি ভেতরে যেতে পারবেন না।
রাজকুমারী ভেতরে আছেন।
রাজকুমারীকে দিয়ে আমার কী আসে যায়?
আমি আমার রাজকুমারীর সাথে দেখা করতে এসেছি।
ও প্রাসাদে আছে বলেই এখানে এসেছি।
- সীতা! সীতা! - প্লিজ চিৎকার করবেন না।
- মি. বিশ্বানন্দ! আপনি একটু বাহিরে যেতে পারবেন?
সীতা!
স্যার, সীতা নামে এখানে কেউ নেই।
স্যার, রাজকুমারী ভেতরে আছেন। প্লিজ যাবেন না।
রাম এসেছে।
ওকে বলে দাও এটা অসম্ভব। - আপনি যেতে পারবেন না!
ওকে নিজের মতো জীবন কাটাতে দাও, নুর। - প্লিজ!
- আমি একবার দেখা করেই চলে আসব। - সিকিউরিটি!
- সাহেবকে ছেড়ে দাও। - আমাকে কথা বলতে হবে, প্লিজ!
ম্যাডাম আপনাকে ডাকছেন।
আমি একটা গর্দভ।
বলামাত্রই কোন মেয়ে বিয়েতে রাজি হয়ে যাবে?
গতকাল যখন তুমি কিছু না বলে চলে গেলে,
মনে হয়েছিল আমি কোনো ভুল করেছি।
আমি তোমাকে চিঠি লিখে ভুল করেছি।
সেটা কীভাবে?
তোমাকে বাঁচিয়েছিলাম বলে সহানুভূতির বশে তুমি আমায় চিঠি লিখেছিলে।
আমিই বরং ভালোবাসা আর বিয়ের কথা বলে বাড়াবাড়ি করেছি।
তাই না?
- বলো। - না!
ওহ ঈশ্বর! স্বস্তি পেলাম।
তো তুমি অস্বস্তিবোধ করোনি?
আমার ব্যাপারে কিছু না জেনেই তুমি কীভাবে রাজি হবে?
বিশেষত, তুমি হচ্ছ সীতা।
সিঁদুর ছাড়াও তোমাকে কী দারুণ লাগে!
মিসাম্মা মুভির সাবিত্রীর মতো...
আর, যতই ভালোবাসা থাকুক, মেয়েরা ভবিষ্যত নিয়ে চিন্তা করে।
তোমাকে চিন্তা করতে হবে না।
আমি কথা দিচ্ছি।
আমার বেতন মাসে ৬০০ রুপি।
সবটাই তোমার হাতে তুলে দেবো।
কল্যাণ তহবিল ৫০ রুপি।
বার্ষিক বেতন বৃদ্ধি ২০ রুপি।
বিশ্বাস করো আমার ব্যাংকে ১২,০০০ রুপি আছে।
সেটা দিয়ে আমরা বড়ো একটা বাড়িও কিনতে পারব।
তোমাকে আমি এখনকার মতোই সুখে রাখব।
যদি আমি যুদ্ধে মারা যাই, ৪০,০০০ রুপি পর্যন্ত...
থামবে প্লিজ, রাম?
আমাকে এসব বলছো কেন?
যদিও আমি উত্তর দেওয়ার
জন্য অপেক্ষা করছি...
কঠিন পরিস্থিতির কারণে সেটা আমি এখন করতে পারছি না।
তোমার সমস্যা কী আমাকে বলো?
আমি একজন সৈনিক।
তোমার সময় দরকার, তাই না?
যত ইচ্ছা সময় নাও।
তোমার সাথের এই ছোট্ট পথচলার জন্য,
আমি জীবনভর অপেক্ষা করব।
কোথায় যাচ্ছ?
কাশ্মীরে?
কাশ্মীরে যেতে আরও চার দিন বাকি আছে।
আপাতত, আমার এখনও দেখা না হওয়া পরিবারের সাথে তোমাকে পরিচয় করিয়ে দিতে চেয়েছিলাম।
তবে তোমার সময় দরকার।
ট্রেনের সময় হয়ে গিয়েছে।
নুর! কোথায় যাচ্ছ?
রাম চারদিন পর কাশ্মীর চলে যাবে।
- ওর সাথে আমার আর দেখা হবে না। - এই, কী বলছো?
সবাই ওখানে তোমার জন্য অপেক্ষা করছে।
আমার ওকে গিয়ে সত্যিটা বলতে হবে।
- প্লিজ সামলে নাও। - নুর!
♪ “Oh, Sita, I will be your companion” ♪
♪ “I will be your day and night shadow” ♪
♪ “The lines on the palm play the guide" ♪
♪ "I shall walk never leaving your hand” ♪
♪ “Destiny has defined the shore” ♪
♪ “I shall become your life-long partner” ♪
♪ “I shall be the dream ♪ ♪ That ripples like a sparkle in the eye” ♪
♪ “Hi, Rama, are we made for each other?" ♪
♪ "Will we walk step in step with time?” ♪
♪ “Can we write what will happen tomorrow?" ♪
♪ "Be the pen that writes it” ♪
♪ “Can we paint life together?" ♪
♪ "Show me the brush.” ♪
♪ ‘Thunder hides in lightning ♪ ♪ Watch out, dear” ♪
♪ “Oh, Sita, I will be your companion" ♪
♪ "Hi, Rama, are we made for each other?” ♪
♪ “Ask me in my sleep and ♪ ♪ I say nothing but your name” ♪
♪ “You know it’s a life time job ♪ ♪ and yet you tarry” ♪
♪ “A sweet pain that was never before" ♪
♪ "The moment is here to be a yes man” ♪
♪ “Time, be kind to me ♪ ♪ Join us how dreams and sleep do” ♪
♪ “Let me work for the man I worship ♪ ♪ show me your miracle” ♪
"দীর্ঘ সুমঙ্গলী ভাবা"
আন্টি!
"দীর্ঘ সুমঙ্গলী ভাবা" মানে কী?
স্বামী সন্তান নিয়ে আজীবন সুখে থাকার জন্য আশীর্বাদ।
ওহ, আচ্ছা!
শুনলে?
রাধিকা কোথায় থাকে?
ওপরতলায়।
ওপরতলায়।
রাধিকা আপা!
এটা চিঠি তোমার ভাই রামের পক্ষ থেকে।
তোমার পাঠানো মিষ্টি খুব সুস্বাদু ছিল।
আমার ভাতিজী...
আমার ভাতিজী কেমন আছে?
আমি আগামী মাসে ওয়ারাঙ্গালে তোমাকে দেখতে আসছি।
- তোমার মামা তোমাকে দেখতে আসছে! - রাধিকা!
শশ! আস্তে।
আমি ছাড়া অন্য কারো কণ্ঠ শুনলেই ও জেগে ওঠে।
প্রথমবার এখানে আসলে না আগেও এসেছ?
আমার নাম ধরে যেহেতু ডেকেছ, তাহলে নিশ্চয়ই আগে এসেছ।
কিছু মনে করো না। আমি চেহারা মনে রাখতে পারি না।
ভালোবেসে এই কাজ করি না।
আর লোকজন শুধু অন্ধকারেই এখানে আসে।
তাই না, ভাই?
কতক্ষণ থাকবে?
আমি একটা চিঠি পেয়েছিলাম যাতে লেখা ছিল আমার একজন বোন আছে, আর তার একটা মেয়ে আছে।
কিন্তু...
কখনও বলোনি তুমি কেমন আছো।
ভাইয়া!
তুমি সত্যিই এসেছ!
কেমন আছো, ভাইয়া?
আমার বিশ্বাসই হচ্ছে না।
ইনি কি আমার ভাবি?
কী মিষ্টি দেখতে!
এক মিনিট, ভাই।
ভাইয়া!
তোমার ভাতিজী, কস্তূরী।
তোমার চিঠি পড়ে শুনিয়ে ওকে ঘুম পাড়াই, ভাইয়া।
কাল সকাল পর্যন্ত থাকবে, ভাইয়া?
ওর কান ফুঁড়িয়ে ফেলা যাক।
মানে... যদি তুমি চাও...
নোংরা জীবন, ভাইয়া।
করুণা দেখিয়ো না।
অভ্যস্ত হয়ে গেছি।
ওকে আমার বড়ো করতে হবে।
এখানে অন্ধকার।
কস্তূরীকে আলোতে বড়ো হতে হবে।
এসো।
চলো!
- ওকে, আপা। - কস্তূরী!
রাধিকা! কোথায় যাচ্ছ?
আমি ওকে নিয়ে যাচ্ছি।
সন্ধ্যার আগে ফিরিয়ে দিয়ে যাবে।
বুঝতে পেরেছ?
ভাই! ভাই, না। ছাড়ো।
ও কখনও ফিরে আসবে না।
আমরা প্রতিদিন সংগ্রাম করে বাঁচি।
আমাদের আয়ের উৎস কেড়ে নিয়ো না।
ওর জন্য আমরা অনেক টাকা দিয়েছি।
সব মিলিয়ে কত?
রাম তার জমানো সব টাকা খরচ করে ওখানকার সবাইকে নতুন জীবন দান করে।
কস্তূরীর খেয়াল রেখো।
ওর ব্যাপারে চিন্তা করো না।
ও এখন থেকে আমার দায়িত্ব।
ভালো থেকো।
রাম!
কী হয়েছে?
ভাড়া বাড়িতে তোমার সমস্যা নেই তো?
ভাড়া বাড়ি?
আমার একাউন্টের সব টাকা শেষ।
এখন বাড়ি কীভাবে কিনব?
তুমি কাল কাশ্মীর চলে যাবে?
হুম।
আবার কবে দেখব তোমাকে?
কাল রাত দশটায়।
আমার ট্রেনের শিডিউল তখন।
তুমি আসবে তো?
আমি অপেক্ষায় থাকব।
সীতা রামকে বলতে চেয়েছিল ও কখনও ওর সাথে থাকতে পারবে না।
তার বদলে, সে এতটা ঘনিষ্ঠ হয়ে গিয়েছিল যে ওর থেকে দূরে সরতে পারছিল না।
সেই মুহূর্তে...
ওমান থেকে সৃষ্ট ঝড় আমাদের প্রাসাদে আঘাত হানে।
হুম। আমি সামলে নেবো।
পরে কথা হবে।
হ্যালো, রাষ্ট্রদূত। স্বাগত।
- শুভ সকাল। - শুভ সকাল।
কোনো সুসংবাদ আছে, আকবর সাহেব?
দুঃখিত, রাজকুমার।
তবে আমাদেরকে নির্দেশনা দেওয়া হয়েছে এটা সরাসরি রাজকুমারী নুরজাহানকে বলার জন্য।
ওকে। আসুন।
আশা করি উনি সুসংবাদ নিয়ে এসেছেন।
তোমার ভাই কাল সারারাত ঘুমায়নি।
আমিও ঘুমাইনি।
তাকাও তোমার দিকে!
কীভাবে সে না করবে তোমাকে?
উনি নিশ্চয়ই সম্মতি দিয়েছেন।
সেটা নিয়েই উদ্বিগ্ন আমি।
নুরজাহান!
ওমানের রাষ্ট্রদূত এসেছেন।
উনি তোমার সাথে সাক্ষাৎ করতে চান।
এসো।
আকবর সাহেব...
রাজকুমারী নুরজাহান।
শুধু রাজকুমার নন, পুরো ওমান আপনার অপেক্ষায় আছে, রাজকুমারী।
♪ “Whom do I ask what transpired?” ♪
♪ “Don’t I know there will be no answer?” ♪
♪ “The heart knows you are my life” ♪
♪ “It won’t believe that you will not return” ♪
♪ “Time does not help ♪ ♪ and the gashes of love don’t heal” ♪
♪ “This is not at all fair ♪ ♪ that distance surrounds me” ♪
♪ “Are these unforgivable moments?” - আমি খুব খুশি।
আমরা বেঁচে গিয়েছি।
ওমানের রাজকুমার আমাদের প্রস্তাবে সম্মত হয়েছেন।
উনি আনুষ্ঠানিক পত্র পাঠিয়েছেন!
♪ “You are Rama that the world loves” ♪
♪ “But Sita is not by your side” ♪
♪ “Excruciating is your pain” ♪
♪ “If only it were a dream!” - স্যার! সীতা মহালক্ষ্মী ম্যাডাম কেমন আছে?
সোলজারস!
সাবধান!
সীতা মহালক্ষ্মীর সাথে কথা বলতে পারি?
রাম! তোমাকে পরে কল করি?
- স্যার, এখানে হয়তো ওকে খুঁজে পাবো না। - স্যার!
চলুন যাওয়া যাক?
♪ “Against an invisible enemy…” ♪
♪ “… who cannot unsheathe the sword” ♪
♪ “How is a war possible?” ♪
♪ “Your calling me ‘Ram’ cuts at my heart” ♪
♪ “It is killing me to think ♪ ♪ that there is no return” ♪
♪ “Are these unforgivable moments?” ♪
রাম কি জানত সীতা মহালক্ষ্মীই রাজকুমারী নুরজাহান?
না।
অদ্ভুত ব্যাপার যে ওমানের এক অর্থনৈতিক সংকট রাম আর সীতাকে আলাদা করে দিল!
কে বলেছে ওরা আলাদা হয়ে গিয়েছিল?
ওদের দেখা হয়েছিল?
কীভাবে?
ভালোবাসা অন্ধ হতে পারে।
আশেপাশের মানুষজন অন্ধ না।
সন্ন্যাসীরাও সাহেব!
আমার বেতন বাড়ানোর কথা ভেবেছেন কখনও?
কী বললে?
বেতন, স্যার।
স্যালারি...
স্যালারির কথা বলছো?
হ্যাঁ!
মার্থান্দাম...
জানো তো খরচের ব্যাপারে, আমি কানে কম শুনি।
তাই ভেবেছিলাম।
কী সংবাদ?
হুম।
ছবি, যা আপনার কাগজের কাটতি আর আমার বেতন দুটোই বাড়াতে পারে।
কে সে?
রাজকুমারী নুরজাহান...
তার সাথে এই ছেলে কে?
সে কেউ না।
কেউ না?
একজন সাধারণ মানুষ!
রাজকুমারী নুরজাহান একজন সাধারণ ছেলের সাথে প্রেম করছেন?
মার্থান্দাম! একে বলে সংবাদ!
ছাপাও এটা।
একজন সাধারণ লোকের প্রেমে মজেছেন রাজকুমারী নুরজাহান!
ফালতু!
সব ভুয়া খবর।
আগামীকালের খবরে ছাপানো হবে...
ওমানের রাজকুমার নুরজাহানের সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হচ্ছেন।
মানে, বলছেন এটা সত্য না?
অবশ্যই সত্য না!
আমরা রাজকুমারীর কাছ থেকেও একই জিনিস শুনতে পারি?
আমাকে সুলতানের কাছে জবাব দিতে হবে।
অবশ্যই!
আমার সাথে আসুন।
নুর!
নুর...
খবরটা দেখেছ, নুর?
একজন সাধারণ লোকের সাথে প্রেম করছেন রাজকুমারী নুরজাহান!
হাহ?
নুর!
এই!
আমি এটা সামলে নেবো, ঠিক আছে?
আমি সামলে নেবো।
উনি তোমার মুখ থেকে শুনতে চান যে এটা মিথ্যা।
ওকে সত্যিটা বলে দাও, নুর।
বলে দাও এটা মিথ্যা, নুর।
তুমি জানো এই বিয়েটা কতটা গুরুত্বপূর্ণ।
সামান্য পা হড়কালেই আমরা সব হারাবো, নুর।
বলে দাও এটা মিথ্যা, নুর।
প্লিজ!
আমি দুঃখিত, আকবর সাহেব।
এটা সত্য।
দয়া করে রাজকুমারের কাছে আমার আন্তরিক ক্ষমা প্রার্থনা পৌঁছে দেবেন।
আমি একজন সাধারণ মানুষের প্রেমে পড়েছি।
অবশ্যই, রাজকুমারী।
আপনার অনুমতি নিয়ে...
আমি দুঃখিত।
তোমাকে আগে বলা দরকার ছিল।
তোমার মাথা ঠিক আছে?
উনি ওমানের রাজকুমার, নুরজাহান।
ওই ছেলেটা কে?
কে ওই সাধারণ লোক?
নুর!
হ্যালো!
আমি কি মিস সীতা মহালক্ষ্মীর সাথে কথা বলতে পারি?
রাম, বলো।
তোমার ব্যাপারেই ওদের বলছিলাম।
আর তুমি কল করলে।
রাম?
রাম, তোমাকে পরে কল করি?
কে এই রাম?
লেফটেন্যান্ট রাম। ইন্ডিয়ান আর্মি।
ইন্ডিয়ান আর্মি?
- তুমি পাগল হয়ে গেছো? - হ্যাঁ, আমি পাগল।
নুর!
আমি দুঃখিত।
রামের সাথে আমার বিয়ের জন্য যদি টাকাপয়সা লোকসান হয়ে থাকে,
তুমি আমার পুরো সম্পত্তি নিয়ে নিতে পারো।
তুমি সত্যিই পাগল হয়ে গেছো।
কী বলছো তুমি? হাহ?
আমি সম্পদের ব্যাপারে ভাবি না।
আমি চিন্তিত তোমার ব্যাপারে!
আর আমাদের পরিবারের সম্মানের।
নুর!
তুমি বুঝতে পারছো তুমি কী ত্যাগ করছো আর কার জন্য করছো?
যে মানুষটার জন্য আমি এসব করছি তাকে তুমি চিনলে,
এভাবে কথা বলতে না।
- তুমি খুশি হতে... - কীভাবে করতে পারলে এটা, নুর?
তোমার কোনো সমস্যা থাকলে, আমাকে সীতা বলে ডাকতে পারো।
ফাতিমা, শিগগির শ্রীনগরের ফ্লাইট ধরার ব্যবস্থা করো।
আর সাংবাদিকটাকে ধন্যবাদ দিতে ভুলো না।
ও আমার বিশাল উপকার করেছে।
প্যারেড! বিশ্রাম!
প্যারেড! সাবধান!
স্যার!
আপনার সাথে একজন দেখা করতে এসেছে।
আমি ওখানকার কাজে ইস্তফা দিয়েছি,
তোমার সাথে কাজ করতে।
আমি এখন আর এতিম নই, তাই না?
♪ “What does the prospective wedding say?” ♪
♪ “Bride’s selection of groom is beautiful” ♪
♪ “How would the prospective glory be?” ♪
♪ “Every moment filled with beauty” ♪
♪ “This is a knot that can’t be untied” ♪
♪ “This is a story that will never end” ♪
♪ “For generations” ♪
♪ “As a timeless song” ♪
♪ “With every pair bearing witness” ♪
♪ “Reigning over love” ♪
♪ “As the dreams in eyes ♪ ♪ in forms of art indelible” ♪
♪ “spread before the eyes” ♪
♪ As the dreams in eyes ♪ ♪ in forms of art indelible” ♪
♪ “spread before the eyes” ♪
♪ “There is no one around” ♪
♪ “They are full of envy” ♪
♪ “But we need some of our own” ♪
♪ “We have our four directions” ♪
♪ “Won’t we have a band?” ♪
♪ “Isn’t the music in heart enough?” ♪
♪ “Who will officiate our wedding?” ♪
♪ “Our own hearts” ♪
♪ “Hearts? Okay” ♪
♪ “As the dreams in eyes ♪ ♪ in forms of art indelible” ♪
♪ “spread before the eyes” ♪
♪ “As the dreams in eyes ♪ ♪ in forms of art indelible” ♪
♪ “spread before the eyes” ♪
♪ “Isn’t this the right moment?” ♪
♪ “The heart knows everything” ♪
♪ “What follows next?” ♪
♪ “That depends on your lead” ♪
♪ “What is this strange inhibition?” ♪
♪ “Because a girl goes by tradition” ♪
♪ “Behind the lips that don’t speak” ♪
♪ “Sense the beckoning of my heart” ♪
♪ “Fine then” ♪
♪ “As the dreams in eyes ♪ ♪ in forms of art indelible” ♪
♪ “spread before the eyes” ♪
সীতার মতো মানুষ শুধু পুরাণেই পাওয়া সম্ভব।
বাস্তব জীবনে পাওয়া যায় না ওদের।
ও পৌরাণিক।
কোনো আলোচনা নেই আর।
সবকিছু পরিকল্পনামতোই চললে, তোমরা আমার খোঁজে আসতে না।
আসল সমস্যার উদয় হলো তখন।
ম্যাম! কনফারেন্সের সময় হয়ে গিয়েছে। সবাই অপেক্ষা করছে।
হুম। আসছি আমি।
নুরজাহান এখন কোথায় আছে জানেন?
লন্ডন।
হ্যালো, রাধিকা বলছি।
হ্যালো, রাজকুমারী নুরজাহানের সাথে কথা বলতে পারি?
আহ, উনি কাশ্মীর গিয়েছেন।
প্রতি বছর এই সময়ে উনি কাশ্মীরে যান।
কাশ্মীর?
আহ... উনার ঠিকানা দিতে পারবেন?
আটটার সময় মেয়েটা চলে গিয়েছে, স্যার।
আবু তারিক!
আফরিন হায়দ্রাবাদ ছেড়েছে।
আমরা জানি না সে কোথায়।
দিল্লি পৌঁছানোর আগেই,
ওর খোঁজ চাই আমি।
স্যরি, স্যরি, স্যরি।
দেরি হয়ে গিয়েছে।
সীতার সাথে দেখা হওয়ার জন্য এক্সাইটেড?
না?
- ধন্যবাদ! - ধন্যবাদ।
- বালাজি! - হুম।
মন জুড়ানো প্রেম কাহিনী, তাই না?
দাঁড়াও।
- তুমি আফরিন? - জি, স্যার!
পাসপোর্ট, প্লিজ।
এক্সকিউজ মি, স্যার!
কী করছেন?
আমরা তোমাকে আমাদের হেফাজতে নিচ্ছি।
কিন্তু... কী কারণে, স্যার?
কোনো সিন ক্রিয়েট করো না।
আমাদের সাথে এসো।
আফরিন!
আফরিন!
এই! দাঁড়াও!
দাঁড়াও, দাঁড়াও, দাঁড়াও। থামো! থামো!
আমি ওর সাথে। আমাকেও নিয়ে চলো।
আমি কুত্তার মতো খাটলাম।
আর তুমি গাড়িবহরে করে যাচ্ছ!
পাকিস্তান থেকে এসে, তুমি রামকে খুঁজছ কেন?
তুমি রামকে চেনো?
বলো!
আমি জানি সে ইন্ডিয়ান আর্মিতে চাকরি করে।
ও একজন দেশদ্রোহী! বিশ্বাসঘাতক!
ওর জন্য আমরা অপারেশন গ্র্যান্ডস্ল্যামে ৩২টা প্রাণ হারিয়েছি!
কী হচ্ছে? বলো!
রামের ব্যাপারে তুমি কী জানো?
জয় হিন্দ, স্যার।
আরামে দাঁড়াও।
কী হচ্ছে এখানে?
স্যার, মেয়েটা পাকিস্তান থেকে এসেছে।
আর সে ভারতে লেফটেন্যান্ট রামকে খুঁজছে।
মেজর, ওর ব্যাপারে আমি ভালোভাবেই জানি।
ও গোয়েন্দা না। আমাদের জন্য হুমকিও না।
আমার ওর সাথে একা কথা বলতে হবে।
পরে আমি ব্যাখ্যা করব। ধন্যবাদ।
স্যার! আমি বাইরে অপেক্ষা করছি।
আমার সাথে রামের কোনো সম্পর্ক নেই।
আমি জানতাম না ও দেশদ্রোহী।
ও দেশদ্রোহী নয়!
এই কথা আরেকবার বলবে না।
কী হয়েছিল তা আমার তোমাকে বতলে হবে না।
তবে আমি রাম আর তোমার দাদা আবু তারিকের কাছে ঋণী।
আমার দাদাকে আপনি কীভাবে চেনেন?
অর্ডার প্লিজ, স্যার!
নিরামিষ আইটেম আছে কোনো?
এই, সাবধানে।
- নিয়ে এসো! - আচ্ছা, স্যার!
বিষ্ণু, স্যার!
রাম, তাই না?
- হাই, স্যার। - হাই, ম্যাম।
- হাই। - আমি রাম।
ও সীতা। - হ্যালো।
জানি।
অবশেষে তোমার সীতাকে খুঁজে পেয়েছ।
তুমি আসলেই পাক্কা সৈনিক।
ম্যাম! ওখানে টেবিল ফাঁকা আছে।
ওকে। চলো।
এখানেই বসো।
অবশ্যই, ম্যাম। বসো।
ম্যাম! আমাদের ব্যাপারে কীভাবে জানেন?
বিষ্ণু স্যার কি আমার ব্যাপারে বাসায় কথা বলে?
বিষ্ণু সহজে কারো প্রশংসা করে না।
তবে তুমি ব্যতিক্রম।
তোমাকে উনি পছন্দ করেন।
তোমার পরিবার বিয়েতে সম্মতি দিয়েছে?
না। উনারা এর ঘোর বিরোধী।
তাহলে ওদের অজান্তে পালিয়ে বিয়ে করে ফেলো আমাদের মতো।
- আপনাদের প্রেমের বিয়ে? - হ্যাঁ!
গুরুদত্তের মুভির দুটো টিকেট দেখিয়ে আমাকে বিয়ে করে নিয়েছিল ও।
আমাকে বলেওনি ও!
মা! আমাকেও বলেনি!
যে আনসারীর অবস্থান আমরা বহুদিন ধরে খুঁজছি তা বের করার একটা উপায় পেয়েছিলাম আমরা।
তার জন্য, রাম আর আমাকে রসুলের সাথে একটা খেলা খেলতে হয়েছিল।
ভালো পুলিশ... খারাপ পুলিশের।
এই!
- আমার দিকে বন্দুক তাক করার সাহস হয় কী করে! - স্যার, স্যার!
- তোকে আমি মেরেই ফেলব, শালা! - বিষ্ণু স্যার!
- বিষ্ণু, স্যার! ছাড়ুন। - রাম! ছাড়ো আমাকে!
স্যার, আমাকে মেরে ফেলবেন না, স্যার।
- আমাকে ছাড়ো, রাম! - স্যার, আমাকে মারবেন না, স্যার!
- তোকে আমি মেরেই ফেলব। - স্যার, আমাকে ছেড়ে দিন, স্যার।
প্লিজ ছেড়ে দিন, স্যার।
- এটা ইন্ডিয়ান আর্মি, শালা, ভাবিস কী! - স্যার, আমাকে ছেড়ে দিন। স্যার, আমাকে মারবেন না।
- তোকে মেরেই ফেলব, উজবুক! - আমাকে মারবেন না, প্লিজ!
বিষ্ণু, স্যার! নিজেকে সামলান!
আমি তোকে এক্ষুণি মেরে ফেলব।
ভাই, ভাই, আমাকে বাঁচান।
ভাই, আমাকে বাঁচান!
ও রামকে বিশ্বাস করতে শুরু করল।
ভাই, আমাকে বাঁচান!
এটাই আমরা চেয়েছিলাম।
ওরা আমার চোখের সামনে আব্বাসকে মেরে ফেলেছিল।
আমি তখনই উনাকে মেরে ফেলতে চেয়েছিলাম।
শুধু আব্বাস না।
এই ছবিতে যারা আছে সবাই এখানে আসবে আর মারা যাবে।
কার জন্য এসব?
ওয়াহিদা।
সেও একদিন আসবে নিশ্চয়ই।
তারপর সে মারা যাবে।
ও স্রেফ একটা বাচ্চা।
ওর এখনও সময় আছে।
যদি চাও সেটা না ঘটুক, আনসারীকে মরতে হবে।
কিন্তু আমি জানি না সে কোথায়।
তুমি জেনে থাকলে আমাকে বলো।
আমি ওয়াহিদাকে নিরাপদ রাখব কথা দিচ্ছি।
ভারতের ইতিহাসে প্রথমবারের মতো, তোমরা সীমান্ত অতিক্রম করে পাকিস্তান নিয়ন্ত্রিত কাশ্মীরে পা রাখছো।
আনসারীকে হত্যার জন্য।
এই গোপন অপারেশনের উদ্দেশ্য ওদের দেশে ধ্বংসযজ্ঞ চালানো নয়।
আমাদের দেশে ধ্বংসযজ্ঞ প্রতিহত করার জন্য।
আনসারীর জন্য এই অপারেশনের ব্যাপারে প্রধানমন্ত্রী মি. শাস্ত্রী, রাষ্ট্রপতি মি. এস রাধাকৃষ্ণ
আর্মি জেনারেল জি এইচ চৌধুরী আর শুধু এই রুমে উপস্থিতরাই জানে।
তোমরা যদি জীবিত ফিরে আসো, এই অপারেশনের কথা তোমরা ভুলে যাবে, আমরাও।
কোনো পুরষ্কার নেই। কোনো রেকর্ড থাকবে না।
পরবর্তী দিন হবে সাধারণ আরেকটা দিন।
একমাত্র সমস্যা হচ্ছে যদি তোমরা নিরাপদে ফিরে না আসো।
ইন্ডিয়ান আর্মি তোমাদের ভুলে যাবে।
আমরা সহ।
আর কোনো উপায় নেই।
তোমাদেরকে ভারতে ফিরিয়ে আনাও অসম্ভব।
কারণ...
দুই দেশের নথিপত্রেই এই অপারেশনের কোনো অস্তিত্ব থাকবে না।
পাকিস্তানের মেজর আইয়ুব খান
দুই বছর ধরে আমাদের জেলে আছেন। সুখী মানুষ।
ওজনও বেড়েছে তার।
কিন্তু ওদের হাতে ধরা পড়লে, তোমাদের অবস্থা কেমন হবে, নিজেই দেখে নাও।
কারণ ওরা জেনেভা কনভেশন এর নিয়মের প্রতি শ্রদ্ধাশীল নয়।
ওখানে বেঁচে থাকা কঠিন।
মরে যাওয়া বেশি স্বস্তির।
এখনও কি তোমরা সীমান্ত অতিক্রম করে আনসারীকে হত্যা করতে চাও?
জি, স্যার!
- তোমরা নিশ্চিত? - জি, স্যার।
চিন্তা হচ্ছে?
হুম।
সীতার জন্য।
এত কাছ থেকে বন্দুক দেখে ভয় পাওনি?
আমি একজন সৈনিককে বিয়ে করতে যাচ্ছি।
তুমি রামকে বলেছ যে তুমি সীতা নও, বরং রাজকুমারী নুরজাহান?
এখনও না।
তবে আজ বলব।
কিন্তু আমি কে সেটা জরুরি না।
জরুরি হচ্ছে রামের সত্যটা জানা।
জানি না ও কেমন প্রতিক্রিয়া দেখাবে।
ও খুশিতে লাফাবে আর চাকরি ইস্তফা দিয়ে তোমার সাথে চলবে!
রেখা! ও রাম!
রাম ঘরে ফিরেছে।
পরে কথা বলব।
যদি আতঙ্কিত না হও, তোমাকে একটা জিনিস বলার আছে।
কী ব্যাপার?
ভয় করছে?
তোমার ভয় করছে না?
তোমার সাথে দেখা হওয়ার আগে,
আমার ভয় করত না।
কিন্তু একদিন সবাইকেই মরতে হবে।
সর্বোচ্চ কী করবে ওরা?
একটা গর্ত খুঁড়বে...
একটা গর্ত খুঁড়ে আমাকে কবর দিয়ে দিবে।
সেটাই আমি ভাবতাম, সীতা।
আমার তখন কেউ ছিল না।
তাই কখনও দ্বিতীয়বার ভাবতাম না।
আমার যদি কিছু হয়ে যাও,
আমি চাই তুমি...
সতীদাহ প্রথা বহু বছর আগে নিষিদ্ধ হয়েছে।
তোমার কী যেন বলার ছিল?
আমি চাই তুমি নিরাপদে ফিরে আসো।
♪ "I shall follow you” ♪
♪ “I shall be with you” ♪
♪ “The cheek that’s kissed” ♪
♪ “Is still moist” ♪
♪ [“Before words could be said”] ♪ রাম!
♪ “Journeys have begun” ♪
♪ “Oh, love! Is it necessary?” ♪
♪ “Illusion is your address” ♪
♪ “You fill my heart, my love” ♪
♪ “How do I stop this pining?” ♪
♪ “To the end of space” ♪
♪ “My love has reached out” ♪
♪ “My memories with you” ♪
♪ “Don’t melt away like snow” ♪
♪ “Your fragrance” ♪
♪ [“Has filled my heart”] ♪ রাম!
♪ “Oh, love! Is it necessary?” ♪
- তুমি এখানে কেন? - তোমার ব্যাজ, এটা ভিজে গেছে!
এটা শুকানোর আগেই,
তোমাকে ফিরে আসতে হবে।
কথা দাও আমায়।
রাম!
দেরি হয়ে যাচ্ছে।
নিজের খেয়াল রেখো।
♪ “Won’t you look at me, beloved?” ♪
♪ “Don’t take this as separation” ♪
♪ “Right under your feet is caught” ♪
♪ “My life… take a look” ♪
♪ “Distance has faded” ♪
♪ “In your warm breath” ♪
♪ “Before my sleep is disturbed” ♪
♪ “Come back, my dream” ♪
♪ “Oh, love! Is it necessary?” ♪
♪ “Illusion is your address” ♪
ওই আমাদের লোক।
আবদুল!
কাপড় বদলে নিন।
এরপর বলছি কী করতে হবে।
কে?
ফারুক ভাই রেশন পাঠিয়েছেন।
আচ্ছা। ভেতরে রাখো।
- ওহ, সালিম! - হ্যাঁ, ভাই।
- জনাব তোমাদের দুজনকে ওপরে ডাকছেন। - আচ্ছা, ভাই।
আনসারী মনে হচ্ছে ওপরতলায় আছে।
ওকে ওখান থেকে সোজা ওপরে পাঠানো যাক।
কাশ্মীর যদি মুসলমানদের দখলে নিতে হয়,
তাহলে একটা কাজ করতে হবে।
প্রত্যেকটা ইন্ডিয়ান আর্মিকে ধরা হত্যা করো।
ওই সৈন্যদের আর্তচিৎকার
কাশ্মীরের পাহাড়গুলোয় ধ্বনিত হবে।
হুম? রুদ্রাক্ষ?
এই, কে তুই?
ভাই! হিন্দুস্তান...
ওঠো!
নিজেদের শান্ত-শিষ্টতাকে চ্যালেঞ্জ করো। বেরিয়ে এসো!
অস্ত্র হাতে তুলে নাও।
কাশ্মীর জয় করো!
সৈন্যরা! চলো!
খোদার রহমত আছে তোমাদের ওপর।
অমুসলিম প্রতিটি লোক তোমাদের শত্রু।
এই পবিত্র জিহাদ আজ থেকেই শুরু হোক।
কাশ্মীর ছিনিয়ে আনো!
খোদার কাছে আমরা এটা সমর্পণ করব। পাকিস্তান।
পাকিস্তানের সমর্থন আছে তোমাদের সাথে।
অন্তত পরকালে,
এটার অর্থ ভালোভাবে বোঝার চেষ্টা করিস।
বীর মাদ্রাজি!
জয়, জয়!
জয়!
জয়!
জয়!
ভাইয়া...
ভাইয়া...
রাম! জলদি করো।
ওয়াহিদা...
তুমি পাগল হয়ে গেছো?
রাম! যেয়ো না।
জনাব, এখানে এই দুজন বাদে সবাই মারা গিয়েছে।
এই! আমরা দুজনই তোমাদের মেরে ফেলার জন্য যথেষ্ট না?
জানি না কতদিন যাবত ধরা পড়েছি।
মাইনাস তাপমাত্রা।
মেজর ঠিক বলেছিলেন।
ওদের অত্যাচার সহ্য করে বেঁচে থাকাই কঠিন।
মৃত্যু এর চেয়ে অনেক বেশি আরামদায়ক।
গোল!
সৈন্যরা! এই খেলা থামাও।
এসব কী?
আমি সৈন্যদের আচরণের জন্য দুঃখিত।
যদি মেয়েটাকে না বাঁচাতে,
ভারতে তোমরা জাতীয় বীর বনে যেতে।
তোমাদের মনের মানবিকতা শুধু আমার কাছে না...
ওপরওয়ালার কাছেও দৃশ্যমান।
স্যার, কাপড়।
প্লিজ, নাও।
এই! তোমাদের পোশাক কেন পরব আমরা?
এই পোশাক পরলেই, তোমরা পাকিস্তানি হয়ে যাবে না।
পরে নাও। নাহয় বরফে জমে মারা যাবে।
কী? আমাদের হুমকি দিচ্ছেন?
হারামজাদা!
তোকে আমি মেরে ফেলব!
- আর্মি ক্যাম্পে না। - রাম কোথায়?
ও বলেছিল ও এক সপ্তাহের মধ্যে ফিরে আসবে।
এক মাস হয়ে গেছে। কোথায় ও?
- কী হয়েছে ওর? আমি জানতে চাই। - শান্ত হও, সীতা।
কী হয়েছে আসলে ওর?
কেমন আছে ও?
- আমি শুধু ওর জন্য উদ্বিগ্ন। - প্লিজ আমার কথা শোনো।
তদন্ত চলছে।
আমরা কিছু জানতে পারলে তোমাকে জানাব।
মিথ্যা কথা।
আপনারা কিছু লুকাচ্ছেন।
ও বলেছিল ও কোনো গোপন মিশনে যাচ্ছে।
কীসের গোপন মিশন?
আমি এখানকার কমান্ডিং অফিসার।
- আপনি কিছু লুকাচ্ছেন। এটা মিথ্যা। - কী বলছো তুমি?
এটা কীসের নোটিশ?
ওরা বলছে যে বিষ্ণু নিখোঁজ।
আপনাকে এর উত্তর দিতে হবে।
কোথায় ও?
কেমন আছে ও?
আমি জানি না।
চার সপ্তাহ হয়েছে ওরা ব্যারাক ছেড়ে গিয়েছে।
আমি বিশ্বাস করি না।
- কী বলছেন? - আপনারা কিছু লুকাচ্ছেন।
আর আমরা এই কথোপকথন করতে পারি না।
আপনার মনে হয় রামের নোটিশ পাওয়ার মতোও কেউ নেই?
ওর আমি আছি।
আমার মেয়ের দিকে তাকান। একটুও কি দয়া হয় না?
কোথায় ও?
সত্যিটা বলুন আমাদের।
ওরা বলবে না।
ওরা আমাদের সত্যিটা বলবে না।
আমি সত্য বের করতে পারব।
চলুন।
রাম, স্যার।
ও দেশের জন্য অনেক কিছু করেছে, স্যার।
এটা ঠিক হচ্ছে না, স্যার।
দুঃখিত, স্যার।
রূঢ় বাস্তবতা হচ্ছে... এখন থেকে এক সপ্তাহের মাঝে,
আমরা ওদেরকে পলাতক সৈন্য হিসেবে ঘোষণা করব।
আপনি সবাইকে বিশ্বাস করাবেন যে ওরা আর্মির সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করে পালিয়েছে।
- কেন এসব করছেন, স্যার? - আমাদের আর কোনো উপায় নেই।
আমরা ইউনিফর্ম পরে আছি, স্যার।
এটা করতে হবে।
দুঃখিত, স্যার। অনুমতি দিলে...
এই, রাম! আমরা জানিও না কতদিন যাবত এখানে আছি!
এই, চুপ থাক!
সব তোর কারণে!
তোর তো কেউ নেই, শালা এতিম!
আমার একটা পরিবার আছে! রাম!
তোমাদের দেশে, তোমরা দুজনই পলাতক সৈন্য।
তোমরা ইন্ডিয়ান আর্মি কোড অমান্য করে পালিয়েছ।
স্বীকৃতিবিহীন আত্মত্যাগ।
তোর জন্য শুধু সীতা অপেক্ষা করছে।
কিন্তু আমার জন্য? পুরো পরিবার অপেক্ষা করছে!
স্যার, রাম কোথায়?
রাজকুমারী নুরজাহান!
আসুন, আসুন, আসুন! প্লিজ বসুন।
এক ঘণ্টার ব্যবধানে রাষ্ট্রপতি আর প্রধানমন্ত্রীর ফোন।
যে রাজকুমারী নুরজাহান আসছে। যা করা দরকার করো।
আমার আপনাকে সেই সত্য বলতে হবে যা আমি কাউকে বলিনি।
কারণ আপনি ধনী এবং প্রভাবশালী নারী।
আমি চাইলে আপনাকে সত্যিটা না বলতে পারি আর আপনি সেটা জানেন।
স্যার!
আমি কোনো রাজকুমারী নই!
আমি সীতা মহালক্ষ্মী।
আমি লেফটেন্যান্ট রামের স্ত্রী।
আমাকে সত্যিটা বলুন যে ও নিরাপদে আছে।
বিজয় ছিনিয়ে আনতে না পারার যন্ত্রণা।
পরাজয় স্বীকার না করার দায়।
ওরা আনসারী আর ৩৫ জন মুজাহিদিন জঙ্গিকে হত্যা করেছে।
কিন্তু, দুর্ভাগ্যবশত ও পাকিস্তান আর্মির হাতে বন্দি হয়েছে।
কারাগারে?
ও কারাগারে বন্দি?
হ্যাঁ!
রাম পাকিস্তানি কারাগারে বন্দি।
জানি তুমি পাকিস্তানের অনেক সরকারি কর্মকর্তাকে চেনো।
আমি রামকে বিয়ে করব না।
তুমি যা বলবে তাই করবে।
যা ক্ষতি হওয়ার তা হয়ে গেছে।
আমি কিচ্ছু করতে পারব না।
আমি রামকে বিয়ে করব না!
প্লিজ! ওকে কোনোভাবে ফিরিয়ে আনো।
- সালাম, সাহেব! - তুমি যেতে পারো!
আহ, তারিক!
- কিছু আলোচনা করতে চেয়েছিলে? - জি, স্যার।
ভারত থেকে কর্নেল আব্বাসকে মুক্ত করার জন্য আমার একটা দারুণ পরিকল্পনা রয়েছে।
কিন্তু সেটা শুধু আপনিই বাস্তবায়ন করতে পারবেন।
আমি? কীভাবে?
স্যার, আপনি অবগত আছেন।
আমাদের হেফাজতে দুজন ভারতীয় সৈন্য রয়েছে।
ওদের বিনিময় করা যাক।
আল্লাহর কসম, আপনি হিরো বনে যাবেন।
ওরা ভারতীয়।
ওরা নিজেদের সৈন্যদের সম্মান করে না।
স্যার!
ভারতীয় দূতাবাস থেকে একজন আপনার সাথে দেখা করতে এসেছে।
- হ্যালো! - হ্যালো!
আমি রাহুল ভার্মা।
কী করতে পারি আপনার জন্য?
আমাদের কাছে প্রচুর আপেল আছে।
সুস্থ-সুন্দর অবস্থায়।
আমরা অবগত আছি যে আপনাদের কাছে দুটো মূল্যবান আম আছে।
আমরা ওদের ব্যাপারে চিন্তিত।
হ্যাঁ, আছে।
কিন্তু অবস্থা একটু খারাপ।
কয়েক দিনের মধ্যে, এগুলো শেষ হয়ে যাবে।
শীঘ্রই এগুলো মারা যাবে।
ভারতে আমের প্রচুর চাহিদা।
আপনাদের তো আপেল পছন্দ।
আমরা ওদের বিনিময় করছি না কেন?
অদল-বদল?
আপনি কাশ্মীরী আপেলের কথা বলছেন।
আমরা পুরো কাশ্মীর দখল করতে প্রস্তুত।
মজা করছিলাম।
আপনাদের প্রস্তাব পছন্দ হয়েছে।
শীঘ্রই সাক্ষাৎ হবে আবার।
রাহুল সাহেব, বলামাত্রই আসার জন্য অসংখ্য ধন্যবাদ।
প্লিজ এটা বলবেন না, মেজর তারিক।
আপনার সাহায্যের জন্য আমার ধন্যবাদ দেওয়া উচিত।
- আশা করি এটা সফল হবে। - হবে।
উনি কখনও কথা দিয়ে কথা ভঙ্গ করেন না।
উনি প্রেসিডেন্ট আইয়ুব খানের সাথে দেখা করবেন।
ইনশাআল্লাহ...
জয়, শ্রীরাম!
চলো, চলো।
আদাব, জনাব।
বিরক্ত করার জন্য দুঃখিত, স্যার।
তোমরা দুজনই ভারতে ফিরে যাচ্ছ।
কী?
ওরা আমাদের মুক্তি দিচ্ছে?
হ্যাঁ।
সত্যিই?
খোদার ইচ্ছা।
দুঃখিত, তারিক।
অনেক বাজে আচরণ করেছি।
প্লিজ, মনে কিছু নিবেন না, তারিক।
- প্লিজ! - স্যার, আপনার জন্য কল।
আসছি।
- তোমাদের ব্যাপারে। - আচ্ছা, স্যার।
আমি সুসংবাদ নিয়ে ফিরব।
স্যার!
স্যার, আমরা ভারতে ফিরে যাচ্ছি, স্যার!
এই, এই!
রাগের বশে, আমি তোমাকে এতিম বলেছি।
ধ্যাত। নিজের ওপরই রাগ হচ্ছে।
স্যার!
শান্ত হোন, স্যার
স্যরি, ভায়া।
আমরা ভারতে যাচ্ছি।
আসসালামু আলাইকুম, জনাব। তারিক বলছি।
- জেনারেল রাজি হয়েছেন। - ইয়েস!
ধন্যবাদ। অসংখ্য ধন্যবাদ, স্যার।
- কিন্তু ওদের দুজন না। - কী?
- কেবল একজন যাবে। - কী?
বুঝতে পারলাম না।
কিন্তু আপনি বলেছিলেন আমরা দুজনকেই মুক্তি দিবো!
আমি এসে তোমার সাথে কথা বলব।
- স্যার, স্যার, প্লিজ শুনুন। - বললাম তো, এসে কথা বলব।
এই, তারিক! কী বলেছে ওরা?
কখন আমাদের মুক্তি দিবে?
দুজনকে না।
কেবল একজনকে।
কী বললেন?
আপনি আমাদের দুজনের কথা বলেছিলেন।
এটা কি কোনো খেলা? হ্যাঁ?
বিষ্ণু স্যার!
স্যরি, স্যার।
তাহলে আমাদের মাঝে কে যাবে?
আমি না ও?
হেই, তারিক!
প্লিজ আমি যা বলেছি সেটা মনে রেখে আমাকে এখানে আটকে রাখবেন না।
দরকার হয়, আপনার পায়ে পড়ব।
- অন্তত আমার পরিবারের জন্য আমাকে পাঠান। - বিষ্ণু!
- প্লিজ, তারিক। আপনার কাছে অনুরোধ করছি। - এসব কী?
শান্ত হও।
এখন বুঝতে পারছি, রাম।
জানি শুধু তুমিই যাবে।
তুমি ওর সাথে মিলে আমাকে ধোঁকা দিয়েছ।
আমাকে আবর্জনার মতো ফেলে রেখে তুমি চলে যাবে, তাই না?
শালা এতিমের বাচ্চা!
পাগল হয়েছেন আপনি?
আমাদের মাঝে একজন গেলে, সেটা আপনিই হবেন।
আমি না।
ওকে?
যাইহোক,
আমার জন্যও কেউ একজন মৃত্যু পর্যন্ত অপেক্ষায় থাকবে।
আমি এতিম না, স্যার।
ওর চোখের সেই চাহনি আমি আজও ভুলতে পারিনি।
বিশ বছর যাবত,
আমি মৃত লাশের মতো বেঁচে আছি।
সেদিন যেকোনো মূল্যে আমি মুক্তি পেতে চেয়েছিলাম।
আমার মাথায় খেলেনি যে ও পেছনে রয়ে যাবে।
রাম কি এখনও পাকিস্তানি কারাগারে বন্দি?
একই বছর...
তোমাদের পাকিস্তান আর্মি ১২টা
ইন্ডিয়ান আর্মি বেসের সন্ধান পায়।
ওরা আকাশ থেকে বোমা হামলা চালায়।
আমাদের ৩২ জন্য মারা যায়।
তারপর,
আমাদের গোয়েন্দা সংস্থার মাধ্যমে আমরা জানতে পারি...
যে রাম ওই স্থানাংকগুলো ফাঁস করেছে।
আমি নিশ্চিত ও সেটা করবে না।
যে জগতে রাম বাস করত তা ওকে শত্রু হিসেবে দেখা শুরু করে।
জানি না ও সত্যিই ভুল কিছু করেছিল কি না।
কিন্তু তার ভার সীতাকে বইতে হয়েছে।
কী বললে?
রামের সাথে তোমার কোনো সম্পর্ক নেই?
ও গত ২০ বছর ধরে পাকিস্তানি কারাগারে
আর আমি এই নরকে বন্দি হয়ে আছি...
স্রেফ একটা কারণে।
সেদিনের কান্নারত সেই বাচ্চা মেয়েটার জন্য।
সেই বাচ্চাটা কে ছিল জানো?
তুমি।
কী?
মজা করছেন?
সেদিন যদি ও তোমার কান্না না শুনত,
ও এখন সুখে-শান্তিতে সীতার সাথে বাস করত।
আর আমি শান্তিতে থাকতাম।
ওয়াহিদা...
ওয়াহিদা।
কিন্তু, এটা অসম্ভব।
ওটা আমার বাচ্চাকালের নাম।
আপনি কী করে জানলেন?
না!
আমি রামকে কথা দিয়েছিলাম যে এই চিঠি সীতা মহালক্ষ্মীর কাছে পৌঁছে দেবো।
এই ঋণ তোমাকে শোধ করতে হবে, আফরিন।
কার কাছে ঋণী আমি? আমার দাদার কাছে না রামের কাছে?
যাইহোক, দুই শত্রুর মাঝে কীসের বন্ধুত্ব?
অর্থহীন।
স্যার, আপনাকে জলদি যেতে হবে।
আপনার ফ্লাইট মিস করে ফেলবেন।
আপনি আগামীকাল থেকে দিল্লির দায়িত্ব নিচ্ছেন।
দুই মিনিটের মধ্যে আসছি। তুমি গিয়ে অপেক্ষা করো।
রাম তোমার জীবন বাঁচিয়েছিল।
আমি তোমাকে এখানে ঝামেলায় পড়তে দিবো না।
তোমাকে পাকিস্তানে ফেরত পাঠানোর দায়িত্ব আমি নিচ্ছি।
রামের চিঠি কোথায়?
সীতা যেন এটা পায় সেই ব্যবস্থা আমি করব।
ওটা বালাজির কাছে।
এতক্ষণে, নিশ্চয়ই ও সেটা সীতাকে দিয়েছে।
সীতা কাশ্মীরে?
এখানে ও কী করছে?
♪ “The sweet memory of yesterday ♪ ♪ doesn’t leave my eyes any day” ♪
♪ “I shall cherish life-long ♪ ♪ That never ending brief time” ♪
♪ “The wind and dust carry your perfume ♪ ♪ I meet you afresh every day” ♪
হ্যালো! এখানে নুরজাহানের ঠিকানা জানেন?
নুরজাহান? জানি না।
নুরজাহানের ঠিকানা জানেন?
- না, জানি না। - জানা নেই।
সীতা মহালক্ষ্মী কোথায় থাকেন বলতে পারবেন?
সীতা মহালক্ষ্মীজি ওই পাহাড়ের চূড়ায় থাকেন।
- ওই পাহাড়ের ওপর। - হ্যাঁ!
সীতা মহালক্ষ্মী ম্যাম!
আপনাকে লেখা রামের শেষ চিঠি।
♪ “Knowing you will not return” ♪
রাম?
♪ “the rain of questions has ceased” ♪
বিশ বছর ধরে এটা অপেক্ষা করছে।
♪ “I shall cherish life-long” ♪
♪ “That never ending brief time” ♪
♪ “The wind and dust carry your perfume” ♪
♪ “I meet you afresh every day” ♪
প্রিয়তমা সীতা মহালক্ষ্মী!
আমাদের অনিন্যসুন্দর গল্পের এটাই শেষ পৃষ্ঠা।
তোমার কাছে এটা পৌঁছাতে একটু দেরি হয়ে গেছে, সীতা।
আট মাস হয়ে গিয়েছে।
তুমি রেগে আছো।
আমি টের পাচ্ছি।
তোমাকে কখনও রাগ করতে দেখিনি, সীতা।
ভবিষ্যতেও এটা দেখার সৌভাগ্য আমার হবে না।
তুমি নিশ্চয়ই আমার ব্যাপারে ভাবছো... আমি কেমন আছি, বেঁচে আছি কি না।
জানি।
সে কারণেই এই চিঠি লিখছি।
আমার ব্যাপারে নিশ্চয়ই অনেক কিছু শুনেছ, সীতা।
কিন্তু...
যা শুনেছ তার কিছুই সত্য নয়।
যা তুমি বিশ্বাস করো সেটাই সত্য।
আমি বিশ্বাসঘাতক নই।
রাজকুমারী নুরজাহান কাশ্মীরের কোথাও আছে।
খুঁজে বের করো ঠিক কোথায়।
ওই চিঠি যেন সীতার হাতে না পড়ে।
আমি দায়িত্ব নেবো আর কাল ফিরে আসব।
বেচারা বিষ্ণু স্যার।
উনার কোনো উপায় নেই।
উনার পরিস্থিতিই এমন।
স্যার, ওদের দুজনকেই মুক্তি দেওয়ার কথা ছিল।
কেবল একজন যাবে।
কে যাবে ওরাই সিদ্ধান্ত নিক।
লেফটেন্যান্ট রাম!
বুঝতে পারছি তুমি কীসের মধ্য দিয়ে যাচ্ছ।
ভারত তোমাকে এতিমের মতো ফেলে গেছে।
তোমার দেশের প্রতি নিশ্চয়ই রাগ হচ্ছে, তাই না?
আমি জন্ম থেকেই এতিম।
কিন্তু আমার মায়ের ওপর তো রাগ করিনি।
বিষ্ণু, জানি তুমি দেশের জন্য মরতেও রাজি।
কিন্তু তোমার পরিবারের কথা ভেবেছ?
তোমার বাবা-মা মাদ্রাজে থাকে, তাই না?
ওদের সাথে আছে আকরাম, মুজাহিদিন।
ওহ!
অভিনন্দন!
গত সপ্তাহে তোমার একটা ছেলে হয়েছে।
ওখানে যে ছেলেটা কফি খাচ্ছে...
মোস্তফা।
এবার নির্দেশনা ছিল শুধু কফি খেয়ে ফিরে আসা।
কিন্তু যদি তুমি সহযোগিতা না করো,
নির্দেশনা বদলে যাবে।
কী চান আপনি?
কাশ্মীরে তোমাদের আর্মি ইউনিটের স্থানাংকসমূহ।
সেটা আমাদের দিয়ে চলে যাও।
আমাদের শুধু স্থানাংকগুলো দাও, আমরা তোমাকে দেশে পাঠিয়ে দেবো।
কথা দিচ্ছি!
একই প্রশ্ন বিষ্ণু স্যারকে করবেন না।
উনি আমার মতো না।
উনি আপনাকে মেরেই ফেলবে।
স্যার, উনি রাজি হয়েছেন।
উনি আমাদের স্থানাংক দেওয়ার জন্য প্রস্তুত।
না!
বিষ্ণু স্যার!
বিষ্ণু স্যার!
না, স্যার।
প্লিজ আমার কথা শুনুন, স্যার।
এটা করবেন না, স্যার।
স্থানাংক দিয়েন না, স্যার!
তথ্য সঠিক, বিষ্ণু।
এই তথ্য যদি ফাঁস হয়,
তোমার দেশে তুমি বিশ্বাসঘাতক হিসেবে বেঁচে থাকবে।
যদি আমাদের সমর্থন দাও, সুখে শান্তিতে পরিবার নিয়ে বেঁচে থাকবে।
না, স্যার! প্লিজ, স্যার!
- ও হয়ে যাবে দোষী। - স্যার, প্লিজ।
আজীবন এটার জন্য অনুতাপ করবেন।
বিষ্ণু স্যার!
না, স্যার!
না!
বিষ্ণু স্যার!
স্থানাংকগুলো দিয়েন না, স্যার!
প্লিজ রামকে নির্যাতন করে মেরে ফেলবেন না।
বিষ্ণু স্যার, প্লিজ!
প্লিজ ওর সাথে সৈনিকের মতো আচরণ করবেন।
না, স্যার!
বিষ্ণু স্যার, প্লিজ!
আপনি আজীবন অনুশোচনা বয়ে বেড়াবেন।
স্থানাংকগুলো দিয়েন না, স্যার!
দেখতে পাচ্ছি... এই চিঠিটা তোমার চোখের অশ্রুতে ভিজে যাচ্ছে।
আমি দেখতে পাচ্ছি!
মুছে ফেলো!
আমি শুনতে পাচ্ছি...
তোমার কণ্ঠস্বর আমায় ডাকছে।
শুনতে পাচ্ছি এটা আমার চারপাশের নীরবতাকে খান খান করে দিচ্ছে।
চলো! তোমার ফাঁসির সময় হয়ে গেছে!
জলদি চলো!
চলো!
রাম! তোমার জন্য যদি কিছু করতে পারি আমাকে বলো।
আপনার সাহায্য চাই আমার।
এই চিঠিটা দয়া করে সীতাকে পাঠাতে পারবেন?
বিদায়!
প্লিজ আমাকে ভুলে যেয়ো।
কারণ যতদিনে তুমি এই চিঠি পড়বে,
আমি আর বেঁচে নেই।
রাম!
৬০০ টাকা মাসিক বেতনের একজন সৈনিকের জন্য যে মহারাণি সব ফেলে চলে এসেছিল,
এই জনমের তরে তাকে চিরতরে বিদায় জানাচ্ছি।
রাজকুমারী নুরজাহান!
“Knowing you will not return"
"the rain of questions has ceased”
“I shall cherish life-long"
"That never ending brief time”
ব্রিগেডিয়ার বিষ্ণু শর্মা নিজের পিস্তল দিয়ে গুলি করে আত্মহত্যা করেছেন।
লেফটেন্যান্ট রামের লেখা চিঠির ওপর ভিত্তি করে, আর্মি অ্যাক্ট এর ৩৪এ ধারায় তদন্ত শুরু হয়েছে।
সীতা মহালক্ষ্মী।
এখানে আসার আগে,
একজন আমাকে তার কাছে ক্ষমা চাইতে বলেছিল।
আমি রেগে গিয়েছিলাম।
কিন্তু এখন যদি সেটা না করি, আমার মনে হয় আমি মরে যাবো।
আমি দুঃখিত!
চিঠিটার জন্য ধন্যবাদ।
রাম কি বেঁচে আছে?
না!
If you love my work, you can buy me a coffee. 💗 bKash/Nagad: 01731090150
আফরিন শুধু আনন্দ মেহতাকে স্যরিই বলেনি, বরং ১৮ জন ভারতীয় যুদ্ধবন্দিকে পাকিস্তান থেকে মুক্ত করেছিল।
Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.