Afrikaans
Akan
Albanian
Amharic
Armenian
Azerbaijani
Basque
Belarusian
Bemba
Bihari
Bosnian
Breton
Bulgarian
Cambodian
Catalan
Cebuano
Cherokee
Chichewa
Chinese (Simplified)
Chinese (Traditional)
Corsican
Czech
Danish
Esperanto
Ewe
Faroese
Filipino
Finnish
Frisian
Ga
Galician
Georgian
Guarani
Gujarati
Haitian Creole
Hausa
Hawaiian
Hebrew
Hmong
Hungarian
Icelandic
Igbo
Interlingua
Irish
Javanese
Kannada
Kazakh
Kinyarwanda
Kirundi
Kongo
Krio (Sierra Leone)
Kurdish
Kurdish (Soranî)
Kyrgyz
Laothian
Latin
Latvian
Lingala
Lithuanian
Lozi
Luganda
Luo
Luxembourgish
Macedonian
Malagasy
Malay
Malayalam
Maltese
Maori
Marathi
Mauritian Creole
Moldavian
Mongolian
Myanmar (Burmese)
Montenegrin
Nepali
Nigerian Pidgin
Northern Sotho
Norwegian
Norwegian (Nynorsk)
Occitan
Oriya
Oromo
Pashto
Polish
Portuguese (Brazil)
Punjabi
Quechua
Romanian
Romansh
Runyakitara
Samoan
Scots Gaelic
Serbian
Serbo-Croatian
Sesotho
Setswana
Seychellois Creole
Shona
Sindhi
Slovak
Slovenian
Somali
Spanish (Latin American)
Sundanese
Swahili
Tajik
Tamil
Tatar
Telugu
Thai
Tigrinya
Tonga
Tshiluba
Tumbuka
Turkmen
Twi
Uighur
Ukrainian
Urdu
Uzbek
Vietnamese
Welsh
Wolof
Xhosa
Yiddish
Yoruba
Zulu
আমাদের শেষ বর্ষা।
চিন্তা করো, পাস্তুজো।
আগামী মাসের এসময়ে আমরা লন্ডনে থাকব।
যেখানকার নদীগুলো কমলার জ্যাম আর রাস্তাগুলো রুটি দিয়ে বানানো।
লন্ডনের ওপরে বইটা পড়েছ?
- চোখ বুলিয়েছি। - পাস্তুজো!
পড়তে গেলে ঘুম পায়।
কিন্তু যে শহর এমন...
...সেখানে যেতে আমার ভালোই লাগবে।
পাস্তুজো, দেখো!
একটা বাচ্চা!
লুসি!
নিচু করো।
সাবধান।
পাস্তুজো, আরো নিচে!
লুসি।
লুসি!
আর মনে হয় লন্ডনে যাওয়া হবে না।
কেন?
বাচ্চাটাকে পালতে হবে।
ও কেমন?
বেশ ছোট।
আর হাঁচি দেয়।
কিন্তু কমলার জ্যামটাকে পছন্দ করেছে।
লক্ষণ শুভ মনে হচ্ছে।
হ্যাঁ, পাস্তুজো।
মনে হচ্ছে, এই ভালুকটাকে দেখাশোনা করলে, বহুদূর এগোতে পারবে।
প্রিয় আন্ট লুসি,
আশা করি, ভালুকদের বৃদ্ধাশ্রমে সবকিছু ভালোই চলছে।
এই গ্রীষ্মে লন্ডনের জীবন দারুণ সরগরম।
সবকিছু নিজের আয়ত্তে আনা দরকার আমার।
প্রতিদিনই নতুন কিছু চোখে পড়ে।
জানো প্যাডিংটন, "স্টিমট্রেন মেলা" বসবে শহরে।
এ নিয়ে আজ রাতেই পেপারে লিখব।
সেটা কে পড়তে চাইবে?
সব্বাই। মেলার লোকেরা পুরোনো একটা স্টিমট্রেনে চড়ে বিশ্বভ্রমণ করে ।
তোমার না ট্রেন ভাল্লাগে?
কাউকে বোলো না, সবাই পচাবে।
- আমরা সবাই যাই না কেন? - ভাল বুদ্ধি।
বল ছুঁড়ে নারকেল ফেলার খেলাতে ওর জুড়ি ছিল না।
- সবাই "বুলস আই ব্রাউন" বলে ডাকত। - এখান আর পারি না।
ওসব তরুণদের খেলা।
মিস্টার ব্রাউন, তুমি বয়সের তুলনায় বেশ ভালো আছ।
ধন্যবাদ, প্যাডিংটন। দাঁড়াও, আমার বয়স কত বলে মনে হয়?
৮০ এর মতো।
- ৮০? - কমপক্ষে।
এক মিনিট, ছোট্ট ভালুক।
তোমাকে না কানের পিছে ধুতে বলেছিলাম?
ধুয়েছি মিসেস বার্ড...
কীভাবে যে এটা এলো!
উইন্ডসর গার্ডেনকে আসলেই নিজের বাড়ি মনে হয়।
- বনজুর, মাদামইজেল! - শুভ সকাল, প্যাডিংটন।
- তোমার নাশতা নিয়ে এসেছি। - ধন্যবাদ।
তোমার স্যান্ডউইচগুলো খেলেই মন ভাল হয়ে যায়।
শুভ সকাল ডক্টর জেফরি। চাবির কথা মনে আছে তো?
চাবি? ওহ!
- ভাল ধরেছ। - ধন্যবাদ, প্যাডিংটন।
দারুণ দিন, তাই না কর্নেল?
তাই নাকি? কী রোমাঞ্চকর!
মিসেস কিটস, ছেলেটাকে কেমন লাগল?
ও আমার জন্য না, তবে সবাই কী বলে জানোই তো।
- সাগরে আরো মাছ আছে। - ঠিক আছে।
ধন্যবাদ!
- শুভ সকাল, প্যাডিংটন। - শুভ সকাল, বার্নেস।
- বিদায়, প্যাডিংটন। - বিদায়, মাদামইজেল।
পড়া ধরো তো।
বেকার স্ট্রিট থেকে বিগ বেনে যাবার শর্টকাট?
আহ, এ তো সোজা।
পোর্টম্যান স্কয়ার দিয়ে ডানে গিয়ে...
এত ব্যস্ততা সত্ত্বেও
সবাই অনেক উদার আর হাসিখুশি
মিসেস ব্রাউন সাঁতার কেটে ফ্রান্সে যাবার বুদ্ধি আঁটছে।
মনে হতে পারে, বোট, প্লেন বা ট্রেনে করে না গিয়ে এত কষ্ট কেন করবে?
কিন্তু কথা সেটা না।
ও পুরো গ্রীষ্ম জুড়ে প্রস্তুতি নিয়েছে।
অনেকগুলো অ্যাডভেঞ্চার গল্পের ছবি এঁকেছে।
তারপর ঠিক করেছে নিজেই যাবে।
জুডির মন ভেঙে গেছে।
ব্রেকআপ তুমি করেছ? না টনি, ব্রেকআপ আমি করেছি।
রাগের মাথায় চিন্তা করেছিল, নান হয়ে যাবে।
তবে অতিদ্রুতই শোক কাটিয়ে উঠে সে নতুন কাজে মন দিলো।
পুরোনো একটা প্রিন্টিং প্রেস খুঁজে পেয়ে খবরের কাগজ বের করে ফেলল,
ছেলেদের প্রবেশ নিষিদ্ধ।
এখন শুধু দরকার কিছু খবরের।
জোনাথন এ বছর হাইস্কুলে উঠবে।
- পুরো ছুটি জুড়ে ও
একটা সত্যিকারের স্টিম ইঞ্জিন বানিয়েছে।
কিন্তু এটা কাউকে বলা যাবে না, সবাই পচাবে তাহলে।
নিজের হাবেভাবেও পরিবর্তন এনেছে।
কেউ জিজ্ঞেস করলে, নিজের নাম বলে "জে-ডগ",
আর স্টিম ট্রেন তো ওর কোনোভাবেই পছন্দ নয়।
তবে মিস্টার ব্রাউন কিন্তু সবচেয়ে বেশি ব্যস্ত।
সম্প্রতি অফিসে একটা চমক উপহার পেয়েছে।
আনন্দের সাথে জানাচ্ছি, আমাদের রিস্ক অ্যানালাইসিস বিভাগের নতুন প্রধান...
মিস্টার স্টিভ ভিসবি।
তার প্রতিক্রিয়া যেটা হলো তাকে মিসেস বার্ডের ভাষায় বলে "মিডলাইফ ক্রাইসিস".
সে ব্লেন্ড করে খাবার খাওয়া,
চুল রঙ করা,
এমন কী চক্রব্যাটিকস করা শুরু করল।
মনটাকে প্রসারিত করো, তাহলে পাজোড়াও প্রসারিত হবে।
- ধন্যবাদ, প্যাডিংটন। - চালিয়ে যাও।
আন্ট লুসি, পরিবারের ছায়া দেবার জন্য আমাকে লন্ডনে পাঠিয়েছিলে,
এর চেয়ে ভাল কিছু হতে পারত বলে মনে হয় না।
দারুণ একটা পরিবার পেয়েছি।
আর সবজায়গায় অনেক বন্ধু পাতিয়েছি।
এই নাও, উলফি।
তুমি দেখলে অনেক খুশি হতে।
- অনেক ভালবাসা রইল- ইতি প্যাডিংটন।
- মিস্টার গ্রুবার? - মিস্টার ব্রাউন, এসো এসো।
মেলা পরিচালক ম্যাডাম কসলোভা এইমাত্র দেখা করে গেল।
তাই নাকি? সবকিছু ঢেলে সাজানোর সময়
কার্টনভর্তি এই "স্মারক"গুলো খুঁজে পেয়েছে।
ওরা ভেবেছিল এগুলো হারিয়ে গেছে।
জিজ্ঞেস করছে, ওরা শহরে থাকাকালীন আমি এগুলো বেচতে পারব কি না।
তক্ষুণি আমার মাথায় এলো, তোমার আন্টিকে জন্মদিনের উপহার হিসেবে
এখান থেকে কিছু দেয়া যায় কি না।
ভাল বুদ্ধি!
এটা দেখো!
- খুবই সুন্দর, কিন্তু... - জানি, জানি । একেবারে নিখুঁত হওয়া চাই, এই ত?
পাস্তুজো আংকেল মারা যাবার পরে, আমি ছাড়া ওর আর কেউ নেই।
আর ১০০তম জন্মদিন তো যেই সেই কথা না।
তা তো বটেই!
চাকাওয়ালা জুতাগুলো কেমন লাগে?
প্লিজ, মিস্টার গ্রুবার। একটু সিরিয়াস হও।
এখন আর ওর এই জুতা পরার বয়স নেই।
ঠিকই বলেছ।
- এটা কী? - আহ!
এটা হলো "পপিং বুক"। খুবই মজার।
সত্যিই?
ম্যাডাম কসলোভার দাদির মা মেলাটার প্রচলন করেছিল,
এক মহা প্রতিভাধর শিল্পী।
কোনো নতুন শহরে গেলেই
সেই শহরকে মনে রাখার জন্য একটা পপিং বুক বানাত।
এই হলো লন্ডন।
অসাধারণ!
আন্ট লুসি সবসময় লন্ডনে আসার স্বপ্ন দেখত..
কিন্তু কখনো সুযোগ পায়নি। অন্তত এটা যদি দেখতে পেত...
তাহলে না এসেও লন্ডনকে নিজের চোখে দেখতে পেত।
আন্ট লুসি!
প্যাডিংটন!
আমার সাথে এসো, আন্ট লুসি।
হ্যাঁ হ্যাঁ! আমি সবকিছু দেখতে চাই!
চলো নামতে থাকি।
রেসিং এর খবরগুলো এখানে পাবে।
- কেমন লাগছে? - অসাধারণ!
এদিকে এদিকে!
একটা হাফ একটা ফুল টিকিট, প্লিজ।
- ম্যাডাম, সাবধানে। -কী ভদ্র হেল্পার!
কী ভদ্র কবুতর!
চারিদিকে কেবল মূর্ছনা!
ঘুরে যাচ্ছে!
প্যাডিংটন, এই বুড়ো মানুষটাকে বড় খুশি করে দিলে!
একেবারে নিখুঁত!
- একটা সমস্যা আছে। - কী?
এই বইটা খুবই দুর্লভ, একটাই মাত্র আছে।
তাই ওরা এর দাম অনেক বেশি হেঁকেছে।
ওহ, মিসেস বার্ড আমার কানের পিছনে এই কয়েনটা পেয়েছে সকালবেলায়।
খুঁজলে আরো পাব।
এক মাথা কয়েন দিয়েও হবে না, প্যাডিংটন।
এরকম এক হাজার কয়েন লাগবে।
আরেকবার না হয় বানরটাকে দেখো, ভাল লাগে কি না।
এখুনি ঠিক করে দিচ্ছি।
ঠিক আছে, মিস্টার গ্রুবার, কিন্তু...
ছোটবেলায় আন্ট লুসি আমার জন্য অনেক কিছু করেছে ,
তাই একটা ভাল কিছু দিয়ে তাকে ধন্যবাদ দিতে চাইছি।
একটা চাকরি নিয়ে বইটার জন্য টাকা জোগাড় করব।
কয়েক মিনিট পরে আসছি, বিদায়।
বিদায়, মিস্টার জিউস্যাপি।
শুভ অপরাহ্ন। জিউস্যাপির সেলুনে স্বাগতম।
আজকে কী করতে পারি, স্যার? শেভ? ট্রিমিং?
নাকি আঁচড়ে দেবো শুধু?
শুধু একটু ছোট করে দাও।
আমি নাপিত না, সবকিছু গুছিয়ে রাখি শুধু।
সেটাই তো চাই। পেছনটা একটু গুছিয়ে দাও, সামনের দিকে হাত দেবার দরকার নেই।
- কিন্তু... - কোনো "কিন্তু" নয়, কাটো বলছি।
এত করে যখন বলছে...
জি-জি-জিউস- অ্যা-পিস?
এ-একটু প-রে ফোন করতে পা-রি?
কা-স্টোমারকে শেভ করতে হ-হ-বে।
ওহ, তাও ভাল।
হোল্ডে রাখলাম!
- মা, ভাল্লাগছেনা! - নেলসন, অল্প একটু কাটবে।
ভয় পাবার কিছুই নেই।
অন্য কোথাও যাই চলো।
সর্বনাশ!
না, আহ...
তেল দিচ্ছি, স্যার।
বেশ বেশ, দিতে থাকো।
শেষ।
যা ভেবেছিলাম, তার থেকে অনেক ভাল দেখাচ্ছে।
এটা... এসব কী?
এটা, কমলার জ্যাম।
কমলার জ্যাম?
- চুলওয়ালা কমলার জ্যাম। - তোলো তোলো!
অবশ্যই স্যার।
ইয়াক! সমস্যাটা কী তোমার?
- প্যাডিংটন! - মিস্টার জিউস্যাপি, আমার কোনো দোষ নেই...
দেখে যেমনটা লাগছে অবস্থা তত খারাপ না।
কখনো বরখাস্ত হয়েছ?
না। কিন্তু প্যাডিংটন, তুমি কি চাকরির জন্য প্রস্তুত?
চাকরির বাজারে এখন চরম প্রতিযোগিতা,
আর তোমার মতো একটা সভ্য ছোট্ট ভালুকের জন্য এর সাথে তাল মিলিয়ে চলা খুবই কঠিন।
ও ঠিকই বলেছে, কাউকে বিশ্বাস করা যাবে না।
সেজন্যই পেপারটা একাই চালাই।
ডার্লিং, টনির জন্য এমনটা বলছ?
- না! - সবকিছুই টনির জন্য বলে।
কেউ সাহায্য করে না কারণ তোমার পেপারটা ভুয়া।
অন্তত আমি মিথ্যা ভান করে চলি না।
আমিও না, জি-ম্যান!
- জে-ডগ। - হেই মামা!
কিন্তু আন্ট লুসি বলেছে, "আপনি ভাল তো জগত ভালো।"
- একজনের অন্তত মাথা ঠান্ডা আছে। - সরি।
ভাল মানুষ হয়েও কিন্তু তুমি শীর্ষে পৌঁছেছ, মিস্টার ব্রাউন।
শীর্ষের ধারেকাছেও নেই আমি, মাঝামাঝি আছি।
এখন আমার চুল পেকে গেছে, ভুঁড়ি বেড়ে গেছে হাড্ডিগুড্ডি ঝনঝন করছে।
ঐ লোকটা না বড় বাড়িটায় থাকে?
- এ দেখি ফিনিক্স বুকানন। - বাবার সেলিব্রিটি ক্লায়েন্ট।
আমাদের ক্লাবের একজন প্ল্যাটিনাম সদস্য।
বিখ্যাত অভিনেতা...
ছিল আগে।
এখন কেবল কুকুরের খাবারের বিজ্ঞাপন করে।
নাম মনে রাখতে পারে না বলে মিসেস বার্ড দুইচোখে দেখতে পারে না।
আস্তে আস্তে... ঠিক আছে।
যথেষ্ট! সরি, খুবই বাজে অবস্থা আজকে আমার...
সত্যিই। আমি...
নিশ্চয়ই কোনো পুণ্য করে ফেলেছিলাম,
সেজন্যই ঐতিহ্যবাহী এই অসাধারণ মেলাটির উদ্বোধন করার সৌভাগ্য হয়েছে আমার।
ম্যাডাম কসলোভা যখন বহুবছর আগে এই জিনিসটা বানিয়েছিল,
নিশ্চয়ই আমার মতো কারো কথা ভাবেনি।
ভিআইপি, সেলিব্রিটি যাই হই না কেন...
কিংবা ওয়েস্ট এন্ড লিজেন্ড?
না, এটা বানিয়েছিল সাধারণ জনগণের জন্য।
তাই একজনকে মেলাটি উদ্বোধন করার জন্য মঞ্চে উঠে আসার অনুরোধ জানাচ্ছি।
কে হবে ভলান্টিয়ার?
ইনি, মিনি, মাইনি...
ভালুক!
ছোট্ট ভালুকটাকেই বেছে নেই।
- এসো, ছোট্ট ভালুক ভায়া। - ধন্যবাদ।
এদিকে এসো আমার লোমশ বন্ধু।
- তোমার নাম? - প্যাডিংটন ব্রাউন।
আরে, তাই ত! তুমি আমার নতুন পড়শী।
তুমি থাকো...
হেনরি আর মেরির সাথে, আর মিসেস...
ধরেই নিচ্ছি, তুমি জানো আমি কে।
হ্যাঁ।, তুমি একজন বিখ্যাত অভিনেতা।
- আরে বাহ! - আগে ছিলে।
এখন কুকুরের খাবারের বিজ্ঞাপন করো।
- জীবনে চলতে গেলে তো খেতেই হবে। - কী,কুকুরের খাবার?
হা হা তুমি দেখি ভালই রসিক।
যাই হোক,
ম্যাডাম কসলোভার মেলায় সবার স্বপ্ন পূরণ হয়।
তোমার একটা ইচ্ছার কথা বলো তো দেখি?
আমার আন্ট লুসিকে একটা জন্মদিনের উপহার দিতে চাই।
- আহারে! - ডার্লিং।
লন্ডনের ওপরে একটা পপ-আপ বই কেনার ইচ্ছে আছে।
ম্যাডাম কসলোভারই লেখা।
সমস্যা হলো এটা অনেক দামি।
তাই আমার অনেক টাকার দরকার।
তোমাকে সেটা দিতে পারব না।
তবে অবশ্যই, অবশ্যই ...
অ-অ-অনেক মজা দিতে পারব। তাই, থাবাটা একটু বাড়িয়ে,
আমরা কসলোভার মেলার উদ্বোধন...
ঘোষণা করলাম...!
অনেক অনেক ধন্যবাদ সবাইকে।
অসাধারণ!
দারুণ!
মিসেস ব্রাউন?
একটা কথা।
এই পপ-আপ বইটা,
- চেনো? - একটু একটু।
ভেবেছিলাম, এটা হারিয়ে গেছে। কোথায় পেলে?
মিস্টার গ্রুবারের অ্যান্টিক শপে।
আমার জন্য আলাদা করে রেখেছে, কিন্তু চাকরি ছাড়া কিনব কীভাবে।
কিছু করতে পারো এ ব্যাপারে?
না, না।
তোমাকে অন্য সবার মতো ধাপে ধাপেই উপরে উঠতে হবে।
মিস্টার বুকানন?
আমাকে দারুণ একটা বুদ্ধি দিয়েছ এইমাত্র!
- তাই? - আমি জানালা পরিষ্কারের কাজ নেব।
হায় হায়!
কে?
কী...
জানালা পরিষ্কার করতে এসেছি।
দরকার নেই।
কেন, কর্নেল? অনেক ময়লা তো।
এসবে পাত্তা দেই না, পয়সাও দেই না।
পরিষ্কার করেই দিয়ে যাই।
শুভ অপরাহ্ন, কর্নেল।
-তোমার ছাদে একটা ভালুক। - হ্যাঁ।
আমার জানালা মুছছে।
ছাদের পানি যাবার পাইপটা পরিষ্কার করে দেবো?
হ্যাঁ দাও!
কর্নেল, ছোট মুখে বড় কথা বলছি,
এমন একটা অদ্ভুতুড়ে জন্তুকে
বাড়ির আশেপাশে ঘুরতে দেয়া ঠিক না।
এলাকার নিরাপত্তা প্রধান হিসেবে...
মিস্টার কারি, পদটা কি অফিশিয়াল?
নাকি নিজেই হলুদ কোটটা কিনেছ?
তোমাকে কিন্তু চোখে চোখে রাখব!
সরি!
আন্ট লুসি, আর মাত্র একদিন।
মিস্টার গ্রুবার?
তুমি মিস্টার গ্রুবার না!
- চলে যা! - এত বড় কথা!
থাম! চোর!
বইটা নিয়ে যাবি না বলছি!
গ্রুবারের দোকানে ডাকাতি হচ্ছে।
সন্দেহভাজন হলো নীল কোট লাল টুপি পরা একটা ছোট ভালুক।
থাম!
ফিরে আয়!
না!
চলো, উলফি।
অ্যাই!
অ্যাই, ছাড় ছাড়!
দে বলছি!
না!
আমার সাথে পারবি না।
উলফি।
টুডল-ও!
আউ!
চল চল!
এক্সকিউজ মি।
তুমি কে?
হায় খোদা!
অবাক কাণ্ড!
বইটা কেবলই আন্ট লুসির!
হ্যালো।
নাকটা না!
উলফি!
হে-এ-এ-ল্প!
ধন্যবাদ, উলফি! চলো চলো!
এই তো।
ঠিক আছে।
- ধরা দিচ্ছি। - বইটা দাও।
না, দেব না!
কিন্তু..
গেল কই!
- কোনোরকম পালানোর চেষ্টা নয়! - ওহ।
- অফিসার, তাও ভাল এসেছ! - থাবাগুলো উপরে তুলে দাঁড়াও।
কিন্তু...আমি তো চোর না।
চোরটাকে ধাওয়া করছিলাম কেবল, তারপরেই ও...
হাওয়ায় মিলিয়ে গেল?
ঠিক তাই!
- প্যাডিংটন! - না!
- কী হচ্ছে? - দাঁড়াও!
- ওকে হাজতে নিয়ে যাচ্ছি। - নিশ্চয়ই কোথাও কোনো ভুল হচ্ছে।
- কোনো ভুল হয়নি। - কী হয়েছে?
-হাতেনাতে ধরা পড়েছে। - কী?
- গ্রুবারের অ্যান্টিকের দোকানে। - দেখো....
সত্য প্রকাশ হয়েই গেল।
আমরা আন্তরিকতা দেখিয়েছিলাম ভালুকটাকে।
আমাদের দরজা খুলে দিয়েছিলাম।
তোমরা দিয়েছিলে, আমি বাবা আমারটায় তিনটা তালা মেরে রেখেছি।
আমাদের চোখে ধুলো দিচ্ছিল এতদিন।
প্যাডিংটন!
না!
- প্যাডিংটন! - হায়, খোদা!
চমৎকার দেখিয়েছি।
ভাগ্যিস ভালুকটা এসেছিল,
নইলে কার ঘাড়ে দোষ চাপাতাম?
পুলিশ ওকেই চোর ভেবে নিয়েছে।
ঠিক বলেছ, ম্যাগউইচ।
মশায়, আমরাও দারুণ দেখিয়েছি কিন্তু!
ঠিক যেন পুরোনো দিনের মতো।
হ্যামলেট, মুখ বাঁকাও কেন?
কিছু বলতে চাইলে বলে ফেলো।
"এসবের ফল শুভ হবে না।" -তাই নাকি!
তুমি আর তোমার মাথামোটা বিবেক।
কী করতে বলো? তুমি এখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে ধুলা খাবে,
আর আমি কুকুরের কস্টিউম পরে টিভিতে হেয় হতে থাকব,
নাকি আমরা সবাই মিলে ওয়েস্ট এন্ডে এক জাঁকজমক নাটক দেখিয়ে প্রত্যাবর্তন করব?
ব্রাভো!
ধন্যবাদ, ধন্যবাদ!
ঈশ্বরের আশীর্বাদ আসুক সবার ওপরে।
অশেষ ধন্যবাদ!
কী ভাবছ বুঝতে পারছি, অনেক টাকার ব্যাপার।
কিন্তু আমার ধারণা সঠিক হলে, এ বইটা গুপ্তধন মিলিয়ে দিতে পারে।
এ কোনো সাধারণ অ্যান্টিক না।
প্রত্যেক পাতায় লুকিয়ে আছে একটা করে সূত্র।
সূত্রগুলো খুঁজে পেলেই আবার ধনী হয়ে যাব।
আর কুকুরের খাবার নিয়ে পড়ে থাকতে হবে না।
রাতের খাবার।
ধন্যবাদ, সিমকিনস।
আমার মতো তোমার কুকুরটাও যদি মানসম্মত খাবার চায়
তাহলে হার্লের ডিনডিনটা ওর পছন্দ হবেই।
মান, স্বাদ আর তৃপ্তিতে...
এমনকি...অভিজাতও বলতে পারেন।
- হার্লে কোম্পানির কুকুরের খাবার
-- মানুষের জন্য না কিন্তু।
সবাই আসন ছেড়ে দাঁড়াও।
বড় করে শ্বাস নাও, প্যাডিংটন। মিস্টার ব্রাউন তো বলেছে,
"তুমি ছোট, কোনো ভুলও করোনি,"
"ন্যায্য বিচারক পেলে কোনো সমস্য হবে না।"
অর্ডার! অর্ডার...
এখানে সবাই সমবেত হয়েছি
কোর্ট বনাম প্যাডিংটন...ব্রাউনের কেসের শুনানির জন্য।
হ্যাঁ, ও বইটার জন্য জান বাজি রাখতে রাজি ছিল।
বলেছিলে যে এটার দাম অনেক?
হ্যাঁ, কিন্তু ও টাকাটা আয় করছিল।
প্যাডিংটন আমার দোকানে চুরি করতে আসবে, এটা বিশ্বাস করি না।।
ঠিক তাই।
থাবার ছাপ এখানে আর এখানে পাওয়া গেছে।
এখানে পাওয়া জিনিসটাকে
কমলার জ্যাম বলে শনাক্ত করা হয়েছে।
এই জ্যামটা?
- হ্যাঁ এইটাই। - না!
ফিনিক্স বুকানন, শপথ নাও সত্য বলবে,
সত্য বই মিথ্যা বলবে না?
মিথ্যা বললে যেন
আমার মাথায় ঠাডা পড়ে!
জেল কোনো হাসিঠাট্টার বিষয় না।
ভালভাবেই জানি সেটা, তিন বছর লেস মিজারেবলে অভিনয় করেছি।
তুমি তো বিবাদীর পাশের গলিতেই থাকো।
হ্যাঁ
-আর ঐরাতের ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিলে? - তা ছিলাম বটে।
বেশ রাত হয়েছিল, হঠাৎ নিচে হইচই শুনতে পাই।
আমার পুরষ্কারগুলো যেই ঘরে থাকে, সেখানে ছিলাম।
পেপারটায় চোখ বুলাচ্ছিলাম।
দেখলাম একটা ভয়ানক কুকুরের পিঠে চড়ে প্যাডিংটন ছুটে যাচ্ছে।
মেরি ব্রাউন চোরের ছবি এঁকেছেন।
প্যাডিংটনের বর্ণনা অনুযায়ী।
একে কি ঐরাতে রাস্তায় দেখেছিলে?
বাহ, দেখতে তো বেশ সুন্দর।
- চোখজোড়া কী উজ্জ্বল! - হ্যাঁ, দেখেছিলে একে?
তোমার কথার ওপর ভালুকটার ভবিষ্যত নির্ভর করছে।
এই লোকটিকে কি দেখেছিলে?
আহহা...
না, দেখিনি।
দেখার আগেই মনে হয় গায়েব হয়ে গিয়েছিল।
ওকে মাফ করে দাও, সামান্য একটা বাচ্চা!
প্যাডিংটন ব্রাউন।
চুরি এবং "বর্বরোচিত" লুটপাটের অপরাধে ...
কিন্তু...
...তোমার দশ বছরের জেল হবে।
এদিকে এসো।
মিসেস ব্রাউন আমাকে গল্প শুনিয়ে ঘুম পাড়াতো। এখানে...?
এখানে কোনো ঘুমপাড়ানি গল্প হবে না।
ওহ।
আন্ট লুসি, একটা ভয়ানক ঘটনা ঘটে গেছে।
তোমার উপহারটা নিয়ে একটু ঝামেলায় পড়েছি।
বড় কথা হলো, আমি উইন্ডসর গার্ডেন থেকে...
অন্য জায়গায় চলে গেছি।
জায়গাটা ব্রাউনদের বাড়ির মতো সুন্দর না,
আবার অতটা খারাপও না।
বেশ ঐতিহ্যবাহী অবশ্য,
লন্ডনের সবচেয়ে অভিজাত ভিক্টোরিয়ান বাড়িগুলোর মধ্যে একটা।
নিরাপত্তা ব্যবস্থাও সেরকম।
মাসে মাত্র একবার ব্রাউনদের সাথে দেখা করতে পারি।
ওরা এখন কী করছে কে জানে।
আর যাই করুক, আমাকে মাফ যেন না করে।
ব্রাউনদের মতো সৎ লোকেরা কী করে তোমাকে মাফ করবে?
তবে ওরা সবকিছু ঠিকই গুছিয়ে আনবে,
আর তোমার উপহারটাও নিজের হাতে পৌঁছে দিতে পারব।,
সবকিছু এক্কেবারে ঠিকঠাক হয়ে যাবে।
কেবল ধৈর্য ধরে থাকতে হবে।
অভিযান শুরু।
তিন-দুই-পাঁচ।
তিন-দুই-ছয়।
তিন-দুই-সাত।
এই নাও প্যাডিংটন।
এক লাইনে।
বাগান করার ক্লাবে যোগ দিতে চাও?
বাগানের গর্তে কবর হতে চাও?
আগে যাও।
স্পুনার, ওয়ার্কশপের কাজ।
ব্রাউন, লন্ড্রির কাজ।
লন্ড্রি।
লন্ড্রি... আহ!
লন্ড্রি।
ওহ!
খালি একটা লাল মোজাই তো।
কী আর এমন হবে?
শুভ অপরাহ্ন।
গোলাপি রঙের কারণে ঘরের উজ্জ্বলতা বেড়ে গেছে, বেশ লাগছে।
মুখ বন্ধ করে খাবার খাও,
এর পরে আর খাবার সুযোগ নাও পেতে পারো।
ঠিক আছে।
চিন্তা নেই, আমি আগে খাবারের সমালোচক ছিলাম।
- দেখে যেমন লাগছে, খেতে তেমন না। - ওহ।
-তার থেকেও খারাপ!
- এটা কী? - কেউ জানে না।
কিন্তু গত দশ বছর ধরে দিনে তিনবার করে এই জিনিসই খেয়ে আসছি।
কেউ বাবুর্চিকে কিছু বলে না কেন?
নাকলসকে বলবে?
এখানে টিকতে হলে দুইটা জিনিস মাথায় রাখবে।
মাথা নামিয়ে রাখবে।
ভুলেও নাকলসের সাথে কথা বলবে না।
- ধন্যবাদ। - দারুণ বুদ্ধি।
শোনো, নাকলসকে বলে মেন্যু পাল্টাতে পারলে,
ভুলে যাব যে, তোমার কারণে আমাদেরকে একদল গোলাপি ফ্ল্যামিংগোর মতো দেখাচ্ছে।
- ঠিক আছে। - এ ভুল কোরো না।
আন্ট লুসি বলেছে, "আপনি ভাল তো জগত ভাল।"
নাকলসকে চেনে না তো, তাই।
এক্সকিউজ মি, মিস্টার নাকলস?
হ্যাঁ?
খাবারের ব্যাপারে একটু কথা বলতে এসেছিলাম।
ক্যান্টিনে একটা ডাক্তার পাঠাও!
তুমি...
অভিযোগ?
- না... ঠিক অভিযোগ না। - তাই নাকি।
কিন্তু মানুষ অভিযোগ করলে আমার বেশ লাগে।
- সত্যিই? - হ্যাঁ।
তাহলে বলেই ফেলি, এটা খুবই শক্ত,
আর গোটা গোটা।
আবার রুটিটাও...
আর কিছু বলবে?
পুরো মেন্যুটাকে ঢেলে সাজাতে হবে, বুঝেছ...
বাজেট কম হলে, অন্তত একটু সস দিতে পারো।
ওহ, সরি সরি...
নাহ, মেখে গেল...
চিন্তা নেই, কেচাপের দাগ তুলতে পারি আমি।
ওহ, এটা সরিষা নাকি?
হুমম... না।
আরো মেখে গেল!
কেচাপ তুলতে কী লাগে?
কেউ জানো?
এবার খুনই হয়ে যাবে! ডাক্তার না, পাদ্রী লাগবে।
- শোনো, ছোট্ট তেলাপোকা। - শুনছে।
- কেউ আমার খাবারকে খারাপ বলে না। - ঠিক।
কেউ আমার অ্যাপ্রনে সস ছিটায় না!
- বুঝেছি।
আর কেউ আমার মাথায় রুটি দিয়ে বাড়ি দেয় না।
- দেবো না। - মেন্যুটা এক্কেবারে ঠিক।
- তাই? - ডিশ অফ দ্য ডে।
হ্যাঁ? মর ভালুক!
ভাবগতিক ভাল লাগছেনা!
- এটা কী? -কমলার জ্যামের স্যান্ডউইচ।
কমলার জ্যাম?
আন্ট লুসি শিখিয়েছে।
তুমি এটা বানাতে পারো?
- হ্যাঁ। - এদিকে দাঁড়াও।
মেঝে থেকে ওঠ, ভুঁড়িওলা কোথাকারে!
শুনে রাখ, এই ভালুকের দেখভাল করার দায়িত্ব আমার।
- ওহ? - ওর মাথার একটা চুলও যদি এদিক ওদিক হয়,
তাহলে নাকলসের কাছে খবর যাবে।
নাকলস বানান তো জানাই আছে?
- ধন্যবাদ। - এখনই না।
নিজের স্বার্থ ছাড়া কারো জন্য কিছু করি না।
মাফ করবেন?
যতদিন কমলার জ্যাম বানাবে, ততদিন এই সুবিধা পাবে, বুঝেছ?
ঠিক আছে।
কেউ না কেউ তো ওকে চিনবেই।
ঠিক আছেন, মিস্টার গ্রুবার?
পুরো ব্যাপারটায় কী যেন হিসাব মেলাতে পারছি না।
কী?
চুরির রাতে যখন প্যাডিংটন চিল্লিয়ে উঠেছিল,
তখন চোরটা এক দৌড়ে সিঁড়ি দিয়ে নেমে
সামনের দরজা দিয়ে পালাল,
এভাবেই অ্যালার্মটা বাজিয়ে দিলো।
কিন্তু ব্যাপার হলো, ও সোজাসুজি দোকানটা দিয়ে যায়নি।
- না? - ও এদিকে দিয়ে ঘুরে এসেছে।
পপ-আপ বইটা নেবার জন্য।
জুয়েলারি বা ফুলদানিগুলো নিল না কেন?
ওগুলো তো কাছেই ছিল, আবার দামিও।
চোরটার অ্যান্টিক বিষয়ে তেমন জ্ঞান নেই।
না, যদি না...
ও বইটার ব্যাপারে এমন কিছু জানে, যা আমরা জানি না।
ম্যাডাম কসলোভা, শুনে অবাক লাগবে,
তবে প্যাডিংটন কিন্তু নিষ্পাপ।
আর আসল চোরটা আপনার দাদীর মায়ের পপ-আপ বইটা চুরি করার জন্যই
হয়ত বা মিস্টার গ্রুবারের দোকানে ঢুকেছিল।
-পপ-আপ বই? -অবাক হবারই কথা।
বইটার ব্যাপারে বিশেষ কিছু বলতে পারো?
এমন কিছু যা আমাদের কাজে আসবে।
- মজার একটা গল্প আছে। - তাই নাকি?
আমার সাথে আসো।
দেখাচ্ছি এটা কোথায়।
মেলাটা চালু করেছিল, আমার দাদির মা,
তার প্রজন্মের সেরা শো ওম্যান।
সিংহকে বশে আনা, আগুনে শ্বাস নেয়া, তলোয়ার গিলে ফেলা এগুলো ছিল তার কাছে ডালভাত।
তবে সবচেয়ে বেশি বিখ্যাত ছিল দড়বাজিকর হিসেবে।
সবাই তার নাম দিয়েছিল "উড়ন্ত রাজহাঁস"
যেখানেই যেত, উপহারের বন্যা।
এভাবে বিশাল ধনসম্পত্তির মালিক হলো।
আর ধনসম্পত্তি মাত্রই লোকের হিংসা বয়ে আনে।
জাদুকর সবকিছু দখলে আনতে চাইল
আর "উড়ন্ত রাজহাঁস"...
...হয়ে গেল "মৃত রাজহাঁস"
জাদুকর তার ক্যারাভানে গিয়ে স্ট্রংবক্সটা খুলে
অবশ্য গুপ্তধনটা পায়নি,
কেবল পেয়েছিল তার পপ-আপ বইগুলো।
"লন্ডন শহরের বারোটি ল্যান্ডমার্ক"
সবাই ধরে ফেলেছিল প্রায়, কিন্তু সে ধোঁয়ায় মিলিয়ে গেল।
তারপর আর কখনো জাদুকর কিংবা গুপ্তধন, কোনোটার কথাই আর শোনা যায়নি।
জানতাম পপ-আপ বইটা সাধারণ কিছু না।
হুমম?
নইলে কেউ এটাকে স্ট্রংবক্সে রাখে?
প্লিজ বোলো না যে ওর কথা বিশ্বাস করেছ।
ম্যাডাম এই বইয়ে বারোটা ল্যান্ডমার্কের ছবি এঁকেছে।
তো?
ওগুলো মনে হয় কেবল ল্যান্ডমার্কই নয় ...
- হয়তো বা সূত্র? - সূত্র?
- গুপ্তধনগুলো খুঁজে বের করার জন্য। - গুপ্তধনের ম্যাপ?
ঠিক তাই!
চোরটা সেজন্যই চুরি করেছে।
কাল সকালে উঠেই ঐ বইয়ের সবগুলো ল্যান্ডমার্কে গিয়ে দেখব।
দেখা যাক, সন্দেহজনক কিছু পাই কি না।
- একটু বেশি রোমাঞ্চকর হয়ে গেল না? - কী?
ও একজন গণক।
গল্প শুনিয়ে বোকা বানানোই ওদের পেশা।
হেনরি, আজকাল তোমার কল্পনাশক্তি পুরোপুরি লোপ পেয়েছে।
- কী বলতে চাইছ? - যে মানুষটাকে বিয়ে করেছিলাম, সে হলে বিশ্বাস করত।
ওহ আচ্ছা।
- সে মারা গেছে। - কী?
তোমার স্বামী এখন একটা থুড়থুড়ে বুড়ো।
- বুলস আই ব্রাউন আর নেই। - হায় খোদা।
বুলস আই।
আহা, হেনরি।
হেনরি!
যাইহোক, আমরা চিলের পেছনে ছুটে
প্যাডিংটনের কোনো সাহায্যে আসব না।
আমরা একটা ছিঁচকে চোরকে খুঁজছি।
লুকানো গুপ্তধন খুঁজতে থাকা কোনো দুর্ধর্ষ ডাকাতকে না।
সে কোনো সাধারণ চোর নাও হতে পারে।
হয়তো কোনোভাবে কসলোভার গুপ্তধনের কথা জেনে গেছে
আর এখন সেটা খুঁজে বেড়াচ্ছে।
দাদা শুনছ,
আজকে আমরা দুই নম্বর সূত্র খুঁজতে যাব।
জায়গাটা হলো,
সেন্ট পলের ক্যাথেড্রাল।
চোখ এড়িয়ে কীভাবে ঢুকব?
সিস্টার ইসাবেলার ছদ্মবেশে।
উঠে পড়ো।
সময় এখন কমলার জ্যামের।
ভাল করে বানিও।
- মিস্টার ম্যাগিন্টি? - কী?
আমি আসলে কোনো দোষ করিনি।
যেহেতু আমরা এখন বন্ধু,
নির্দোষ প্রমাণ করার ব্যাপারে কোনো উপদেশ দিতে পারো?
বন্ধু? আমি তোমার বস, ইয়ার দোস্তো না।
আগে যাও।
পিঠে ছুরি মারবে বলে?
না, এটা ভদ্রতা।
আন্ট লুসি বলেছে, " আপনি ভাল তো জগত ভাল"
আমার সামনে থেকেও পিছিয়ে গেলে।
মাথামোটা একটা!
উপকরণগুলো ওদিকে।
তুমি কিছু করবে না?
না, যাও শুরু করো।
৫০০জন ক্ষুধার্ত মানুষকে সকালে খাওয়াতে হবে যে?
সুতরাং এক হাজার রসালো কমলা লাগবে।
এক নম্বর রুল: কোনো কথা নয়।
- দুই নম্বর রুল। - হুম?
গুনগুনানি বন্ধ।
- কিন্তু... - গানও।
কিংবা খুশিমনে থাকা।
হায় খোদা।
এত ভারি!
ঠিকমত করো।
হেল্প!
বস্তাগুলো ভয়ানক ভারি।
- একটা করে আনো তাহলে। - ঠিক আছে।
একটা করে......
একটা রসালো কমলা।
দুইটা রসালো কমলা।
তিনটা রসালো কমলা।
- চারটা রসালো... - কী শুরু করলে?
একটা করে আনছি।
একটা করে বস্তা আনতে বলেছি!
দুঃখিত, ভীষণ চাপের মধ্যে ফেলে দিচ্ছ।
- আন্ট লুসি বলেছে... - আন্ট লুসি!
এই আন্ট লুসির কথা যদি আরেকবার শুনি!
হতচ্ছাড়া বুড়ি কোথাকারে!
কী বললে?
বলেছি...
শুনে মনে হচ্ছে, তোমার আন্ট লুসি একটা গোঁয়াড়
হাঁদা, মাথামোটা...
কী হয়েছে?
এভাবে তাকিয়ে আছ কেন?
এত গরম লাগছে কেন? তোমার কি গরম লাগছে?
ওভেনটা চালু নাকি?
এটাকে বলে অগ্নিদৃষ্টি।
মানুষজন বেয়াদবি করলে আন্ট লুসি এটা দেখাতে বলেছে।
অগ্নিদৃষ্টি চেনাতে হবে না।
আমার আবিষ্কার সেটা।
নিরীহ ভালুক হিসেবে অবশ্য ভালই ভয় দেখিয়েছ।
মিস্টার ম্যাগিন্টি,
দেখে দাগী আসামী মনে হলেও আসলে আমি নির্দোষ।
এ ব্যাপারে সাহায্য না করলেও,
অন্তত কমলার জ্যাম বানাতে তো হাত লাগাতে পারেন।
বেশ, হাত লাগালাম।
- ধন্যবাদ। - কিছু পারি না অবশ্য।
এ হাত রান্নার জন্য নয়।
তা না।
হাতগুলো দিয়ে কমলা নিংড়াতে পারবে।
কমলা নিংড়াব?
ভাল।
না। বেশ ভাল।
টম্যাটো। দারুণ।
হ্যাঁ। দারুণ।
ছুরির ব্যাপারে খুব সতর্ক থাকতে হবে।
আন্ট লুসি বলেছে, ভদ্র ভালুকেরা...
এভাবে ছুরি চালানো কোথায় শিখলে?
তোমার জানার দরকার নেই।
দুর্দান্ত!
এখন?
এখন।
চিনি দেবার সময় হয়েছে।
চিনিটাই জুসকে জ্যাম বানাবে।
- কত? - অনেক।
আবার দাও।
একটু লেবুর রস, এক চিমটি দারুচিনি।
আর অল্প একটু চিনি।
ভাল হয়েছে?
এত তাড়াতাড়ি বলা যাচ্ছে না, নামালে বোঝা যাবে।
ক্রিস্টোফার রেনের নকশা করা সেন্ট পল'স ক্যাথেড্রাল
লন্ডনের সবচেয়ে বিখ্যাত ল্যান্ডমার্কগুলোর মধ্যে একটা।
আজকে এই মহাকীর্তি কাউকে দেখতে দেয়া হচ্ছে না,
কারণ গতরাতের এক আজব ঘটনায় একটা মূর্তি ভেঙে গেছে।
- এদিক দিয়ে আসলে... - কী হয়েছে এখানে?
- একটা নান পাগল হয়ে গেছে। - আসলেই?
এরকম হয়ে থাকে।
পুলিশ সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করছে।
থামো!
পুলিশ বলার আগে কোথাও যাওয়া যাবে না।
ফেরত যাও!
আসল কালপ্রিট মনে হয়ে জাল ছিঁড়ে পালিয়েছে।
এটা কেন বললে?
কারণ আমি তাকে দেখেছি।
আমি সেই উপর থেকে নানদের যাওয়া দেখছিলাম,
হঠাৎ কী যেন চোখে পড়ল।
একজন লাইন ছেড়ে গেল।
তারপর হুইসপারিং গ্যালারিতে ঢুকে পড়ল।
খোদাই জানে ওখানে কী করতে গিয়েছিল।
C.
তবে পালাতে পারবে না।
অন্তত আমি সিকিউরিটির প্রধান থাকা অবস্থায় তো নয়ই।
অ্যাটেনশন, একজন অস্বাভাবিক সুন্দরী নান
ক্যাথেড্রাল ডোমে গ্যাঞ্জাম বাঁধিয়েছে। জরুরী ব্যবস্থা গ্রহণ করো।
আকর্ষণীয় সিস্টারটাকে থামাও!
বিদ্যুতগতিতে সেখানে গেলাম।
কিন্তু সবকিছু বন্ধ করে দেবার পরে কোথাও তাকে পাওয়া গেল না।
- শুভ অপরাহ্ন। - শুভ অপরাহ্ন, ফাদার।
শুভ অপরাহ্ন।
এরকম সুন্দরী নারী অনেক দিন দেখিনি।
বর্ণনা দিতে পারবে?
আনন্দের সাথে।
আজ সকালে নাশতার জন্য,
শেফ ম্যাগিন্টি কমলার জ্যাম বানিয়েছে...
সাথে আছে গরম গরম ধারছাড়া পাউরুটি।
একটার ওপরে আরেকটা।
বন অ্যাপেটিট!
খাও নয়তো ভাগো!
নাকলস, ঠিক আছ?
হ্যাঁ!
সবার সাথে যোগ দিচ্ছ না কেন?
ইচ্ছা করছে না।
- ওরা কী বলবে তা ভেবে ভয় পাচ্ছ? - না!
ওদের কি পছন্দ হয়েছে? কেউ কিছু বলেছে?
কী বলেছে?
খারাপ বলেছে! জানতাম!
বাবা সবসময়ই আমাকে অকর্মার হদ্দ বলত, সেটাই ঠিক।
নাকলস!
- কী? - এসে দেখো।
এসো।
- প্যাডিংটন। - হুম?
পেটের মধ্যে অদ্ভূত একটা অনুভূতি হচ্ছে।
নাকলস, একে বলে গর্ব।
ব্যাপারটা পছন্দ হচ্ছে না।
আর কিছু আছে?
- আর কী? - এই ধরো গিয়ে... পুডিং?
- না! - ঠিক আছে।
আমরা খালি কমলার জ্যামই বানাতে পারি।
তবে তোমাদের যদি অন্য কোনো রেসিপি জানা থাকে,
এই গাধাদের পেছনে সময় নষ্ট কোরো না।
এরা গোলমরিচ আর দারুচিনিকেই আলাদা করে চেনে না।
আমার দাদী চকলেট রোল বানাত।
রেসিপিটা মনে আছে।
চার্লি রাম্বল মজাদার আপেলের ক্রাম্বল বানাতে পারে।
আমি স্ট্রবেরির কেক বানাতে পারি, ডালিমসমেত।
বেশ লাগছে শুনে, তাই না নাকলস?
- হ্যাঁ! - ঠিক আছে।
চলো রান্না করা যাক।
- এই নাও, প্যাডিংটন। - নাকলস!
তাড়াতাড়ি করো!
এক্সকিউজ মি, প্রফেসর।
- আন্ট লুসি হলে কি বলত? -"সবসময় চামচ ব্যবহার করবে"
ঠিক আছে, তাহলে।
- খাবে নাকি, ওয়ার্ডেন? - ধন্যবাদ, প্যাডিংটন।
বাটারস্কচ!
রগচটা লোকটা আসলে বেশ আমুদে।
তারপর সবাই সবার বন্ধু হয়ে গেল।
গল্প শেষ।
সবাই ঘুমাতে যাও।
ভালমত ঘুমিয়ে নাও।
কাল ভিজিটিং ডে, সবাই দেখা করতে আসবে।
ভিজিটিং ডে?
আশা করি সুসংবাদ এনেছ।
গতমাসে, তিনটা সন্দেহজনক লোককে
লন্ডনের তিনটা ল্যান্ডমার্কের কাছে ছোঁকছোঁক করতে দেখা গেছে।
যে চোরটাকে দেখেছ, সে মনে হয় কোনো অপরাধী-চক্রের সদস্য।
পপ-আপ বইটাকে ব্যবহার করে গুপ্তধন খুঁজছে।
এটা ওর ধারণা।
- তাদের কাউকে খুঁজে পেয়েছ? - না, সোনা।
আমি একটু দেখি।
দুঃখিত, ব্যক্তিগত আলাপ এটা।
সমস্যা নেই, মিস্টার ব্রাউন, এ আমার বন্ধু, নাকলস।
- কী খবর? - এ হলো ফিবস।
স্পুন।
- হ্যালো। - জিমি দ্য স্নিচ।
- ঠিক আছে? - টি-বোন।
- ওচার। - প্রফেসর। স্কুইকি পিট।
- ডাবল বেজ বব। - হ্যালো।
- ফার্মার জ্যাক। - কী খবর?
ম্যাড ডগ।
জনি ক্যাশপয়েন্ট।
- স্যার জিওফ্রে উইলকট। - নিরপেক্ষভাবে ভোট দেবে কিন্তু।
আর চার্লি রাম্বল।
সবার সাথে দেখা হয়ে অনেক ভাল লাগছে।
সত্যি, প্যাডিংটন এত্তগুলো বন্ধু পাতিয়েছে দেখে
আসলেই অনেক খুশি লাগছে।
এক সেকেন্ড।
- কী করো? - ভদ্রলোকগুলোর সাথে কথা বলি।
ভদ্রলোক? মেরি, এদের ওপর বিশ্বাস নেই।
একবার দেখো তাকিয়ে, ডাকাতদের জাদুঘরের মতো দেখাচ্ছে। ভয়ংকর!
মাঝের দাড়িওয়ালা শিম্পাঞ্জিটার মাথায় একটা ফোঁটা বুদ্ধি আছে বলেও মনে হয় না।
মিস্টার ব্রাউন, আমরা কিন্তু শুনতে পাচ্ছি।
যে সুইচটা অফ করেছিলে ঐটা লাইটের।
মাইক্রোফোন অন্য দিকে। গায়ে "মাইক্রোফোন" লেখা আছে।
দেখেন, যদি কোনোভাবে রাগিয়ে দিয়ে থাকি...
চিন্তা নেই, আমরা এর দারুণ ভক্ত।
আর অপরাধী চক্রকে চেনার জন্য আমাদের চেয়ে ভাল আর কে আছে?
সাহায্য করতে পারলে অনেক খুশি হব।
- প্লিজ। - নাকলস?
সমস্যা হলো কাউকেই চিনছি না, তোমরা?
আমরাও না!
বলতে বাধ্য হচ্ছি,
তোমার বন্ধুরা ভুল জায়গায় খুঁজছে।
নান, দারোয়ান আর রাজা?
অপরাধী না ছাই, ভাঁড় এগুলো।
তাহলে...
এখন কী করা?
- দেখে হাঁটো। - সরি, সরি।
নাশতা খাইনি, তাই মাথার ঠিক নেই।
চাবি... চাবি!
যত্তসব!
- বামে যাও... - এখানে পার্ক করা যাবে না!
পার্ক করিনি, ময়লা ফেলছি।
ময়লা ফেলছ না, আমি জানি।
তুমি লুকিয়ে পড়াশোনা করছ।
তোমাকে আর তোমার টুপিকে রিপোর্ট করব।
- শুভ সকাল, মিস কিটস। - শুভ সকাল মিসেস ব্রাউন।
জুডি বলেছে এগুলো তোমাকে পৌঁছে দিতে।
ষড়যন্ত্র!
অযথা এসব চাইপাশের পেছনে সময় নষ্ট করছ।
তোমাদের ভালুকটা একটা চোর, সবাই জানে।
ওকে ছাড়া এই রাস্তায় শান্তি নেমে এসেছে।
কী?
হারামি কুত্তাটা!
অযথা ডাকাডাকি করলে খোয়াড়ে পাঠাব কিন্তু।
- দাও দেখি। - জরিমানা দিতে হবে!
লুকিয়ে লুকিয়ে বেচতে হবে,
তবে মানুষ কিন্তু কিনছে ঠিকই।
আসলেই?
তোমাদের ছোট্ট ভালুকটার কথা একবার হলেও ভাবতে বাধ্য করছে।
চোরটাকে খুঁজে বের করো।
চেষ্টা তো করছি।
ফেদারস, তুমি নিশ্চয়ই জানো, চোরটা কে?
তোমার পিছনে।
সরি, কী?
- মেরি? - হ্যালো ফিনিক্স।
ভেতরে এসো না?
তোমার তদন্তের কথা শুনি।
শহরজুড়ে রহস্যজনক ঘটনা ঘটেই চলেছে।
তাই?
বইয়ের ল্যান্ডমার্কগুলোয় অদ্ভূত লোকজনকে দেখা যাচ্ছে।
- তাই? - কী জানি।
হয়তো বা কাকতালীয় ঘটনা।
হেনরি বলছে, আমি বেশি বেশি কল্পনা করছি।
মেরি, তুমি আর আমি দুজনেই শিল্পী।
আমাদের কল্পনা যে পাগলা মোষের মতো দৌড়াবে সেটাই স্বাভাবিক।
তবে এইক্ষেত্রে মনে হচ্ছে
হেনরি ঠিকই বলেছে।
তাই?
তোমার মন ভাল করার একটা খবর আছে।
তাই?
আঙুল, আঙুল, আঙুল,
আমার একক শো এর টাকা প্রায় জোগাড় হয়ে গেছে।
আমার অভিনীত জনপ্রিয় কিছু চরিত্রকে কেন্দ্র করে একক অভিনয়
এবং সঙ্গীতানুষ্ঠানের এক মনোমুগ্ধকর সন্ধ্যা।
অভিনয় করে দেখাব?
চিন্তা করে দেখো, গাঢ় অন্ধকার, আচমকা ঝকমকে আলোকসজ্জা।
আমি... পিং!
মন খারাপ কেন মেরি, মিউজিকাল ভাল লাগে না?
না না, মানে... এ কেমন বিচার!
প্যাডিংটন জেলে বন্দী...
- কিন্তু জীবন ঠিকই চলছে। - বুঝতে পারছি।
লোকটা জিতে গেল এটা মেনে নেয়াটা কঠিনই,
উজ্জ্বল নীলচোখো লোকটা।
মাফ করবেন?
তোমার আঁকা পোস্টারের লোকটা।
কিন্তু... নীল চোখ বুঝলেন কীভাবে?
-হুম? - এটা তো পেন্সিলে আঁকা।
ওহ।
মনে হয়, কল্পনা করে নিয়েছি।
-হ্যাঁ - ফিনিক্স বুকানন?
ছদ্মবেশ নেয়ার ওস্তাদ।
- পাগল হয়ে গেছে। - ভেবে দেখো, হেনরি।
কেউ একজন নিশ্চয়ই কসলোভার গুপ্তধনের কথা জানে, ঠিক?
কথিত গুপ্তধন।
নাকলস বলেছে, কোনো অপরাধী চক্রের কাজ না এটা।
- নাকলস? - কারণ কোনো চক্র না,
- এটা একটা লোকের কাজ। - ফেদারস ঠিকই জানত...
- ফেদারস কে? - খুম?
- টিয়াপাখি? - না...
বাস্তব দুনিয়ায় ফিরে আসবে?
ফিনিক্স বুকানন একজন সম্মানিত পুরষ্কারজয়ী অভিনেতা,
আমাদের প্ল্যাটিনাম ক্লাবের সদস্য।
- কোনো ছিঁচকে চোর নয়। - এক মিনিট, হেনরি...
ধরে নাও আমি ভুল।
- আচ্ছা। - আর গণক আর টিয়াপাখিটা সত্যি বলছে,
তোমার হাতে কি কোনো প্রমাণ আছে?
কেউ চাইলে আমার সাথে
পোস্টার লাগাতে আসতে পার।
ঠিকই বলেছে।
আমি তোমাকে বিশ্বাস করি।
অভিনেতারা হলো এই গ্রহের সবথেকে ধূর্ত লোক।
- তাই? - মিথ্যা বেচে খায়।
ঠগ।
- একটাকে ধরতে পারলে... - হ্যাঁ?
...একটা ভাল প্ল্যান লাগবে।
প্যাডিংটন?
প্যাডিংটন?
নাকলস?
তোমার জন্য একটা প্রস্তাব আছে।
আমরা সবাই মিলে ভেবে দেখলাম,
নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করতে তোমার আমাদের সাহায্য লাগবে।
ব্রাউনেরা তোমার ভালই চায়...
কিন্তু চোর ধরতে চোরই লাগে।
আমরা যদি এখান থেকে কোনোমতে বেরোতে পারি,
সহজেই লোকটাকে ধরে ফেলব।
জেল পালানো ঠিক হবে না।
অবশ্যই হবে, আমাদের প্ল্যানও আছে।
তবে চারজনের প্ল্যান, তাই তোমাকেও দরকার।
কী বলো?
নাকলস, তুমি ভাল চাইছ বুঝতে পারছি...
কিন্তু আন্ট লুসি ব্যাপারটা পছন্দ করবে না...
জেল ভেঙে পালানো।
ব্রাউনেরা ঠিকই চোরটাকে ধরে ফেলবে। ধৈর্য ধরে থাকি।
শুনতে খারাপ লাগবে,
আগে হোক আর পরে হোক...
ব্রাউনেরা তোমাকে ভুলে যাবে।
সবাই ভুলে যায়।
একটা ভিজিটে আসবে না।
তারপর দুইটা।
কিছু বুঝে ওঠার আগেই,
তোমার পরিবার হারিয়ে যাবে।
ভুল বলেছ, নাকলস।
ব্রাউনেরা এমন না।
ওরা কালকে ঠিকই সুসংবাদ নিয়ে আসবে।
দেখো।
হ্যালো?
আমি পোর্টবেলো এক্সপ্রেসের জুডি ব্রাউন।
আসো।
কী জন্য এসেছ, সোনামণিরা?
- স্কুলের পেপার? - হ্যাঁ।
ভাবলাম, ফিনিক্স বুকাননের এজেন্টের সাক্ষাৎকার নিলে দারুণ হবে।
ঠিকই ভেবেছ।
দুই মিনিট সময় পাবে কেবল।
নাশতা এনেছ বলেই কিন্তু সুযোগটা পেলে।
বাহ, দারুণ বনরুটি!
জো, অবাক কাণ্ড!
এখানে কী করছ?
চিঠি পোস্ট করছি। প্যাডিংটনের খবর কী?
- ভাল, দারুণ শক্ত ভালুক। - আমার শুভকামনা দিও।
- ধন্যবাদ জো। - বাই।
বাই-বাই-
মিস্টার বুকাননের জন্য।
মিস্টার বুকাননকে আবার কবে মঞ্চে দেখব?
ফিনিক্স? সে আশা ছেড়ে দাও।
ভুল বুঝো না আবার, ও সাংঘাতিক অভিনেতা।
- কিন্তু একটা ছোট্ট সমস্যা। - তাই?
ও কারো সাথে কাজ করতে চায় না। তারা নাকি ওর "প্রতিভাকে দুর্বল করে দেবে"।
মিস ফ্যানশ।
যেতে হচ্ছে।
ব্রডওয়ের এক বড় প্রযোজকের সাথে লাঞ্চ আছে।
- কই যাচ্ছ? - রিটজ!
দারুণ বনরুটি।
আরে বাহ! এসো এসো।
পাকেজ পৌঁছেছে।
আবার বলছি, পাকেজ পৌঁছেছে।
এক্কেবারে আসল জায়গায়।
ফিনিক্স, কী ভাগ্য তোমার!
- হ্যালো? - ফিনিক্স।
ফেলিসিটি!হঠাৎ?
ভেবেছিলাম নম্বর হারিয়ে ফেলেছ।
--দুই মিনিট
সময় পাবে কেবল -
আচ্ছা...
-- ব্রডওয়ের এক বড়
প্রযোজকের সাথে লাঞ্চ আছে।
দারুণ খবর, কোথায়?
-- রিটজ!
এখনি আসছি।
- দারুণ বনরুটি।
কী বললে?
আসলেই দারুণ
ধন্যাবাদ।
এভাবে কেউ আমার পশ্চাদ্দেশের প্রশংসা করেনি কখনো।
গ্লোভ, চাবি।
যাব।
মেরি?
যেখানে তোমার স্বপ্ন পূরণ হয়।
জানালাটা খোলো।
- হ্যালো, ডার্লিং। - পাগল হয়ে গেছ?
ফিনিক্স যে চোর, তা প্রমাণ করেই ছাড়ব।
এভাবে তালা ভেঙে কেউ ঢোকে!
কিছু ভাঙিনি।
ফিনিক্স কেন বইটা চুরি করতে যাবে? সে তো মিলিয়নিয়ার!
ভুল বলেছ, সবাই ওর কাছে টাকা পায়।
হয়ত একটু বেশি বিল এসেছে, কিন্তু...
মুখের ক্রিমের পেছনে এত খরচ করে?
ওর নামে একটা পয়সাও নেই।
চলো বইটা খুঁজে বের করে ভাগি।
- কিছু পেলে? - নাহ।
ভুল হচ্ছে কোথাও।
কিছুই খোঁজার নেই, চলো যাই?
- হেনরি, দেখো। - কী?
কার্পেটটা।
সুন্দর, আমরাও কিনব একটা।
আমাকে উঠাও।
তাড়াতাড়ি!
গুপ্তকক্ষ।
-চিলেকোঠা। - গোপন চিলেকোঠা।
সাধারণ চিলেকোঠা।
এলাকার প্রতিটা বাড়িতেই আছে,
খুবই সাধারণ... হায় খোদা, কি আজব লোক।
হেনরি দেখো, নান, চোর, রাজা।
আমরা ঠিকই ধরেছিলাম!
আমরা?
মানে, আমি ...
- তাড়াতাড়ি! - নামো নামো।
আসলেই মনোহর!
হ্যালো।?
কে?
বের হও।
হেনরি?
হ্যালো ফিনিক্স।
এখানে কী করছ?
আমিও একই প্রশ্ন করতে পারি।
আমি এখানে থাকি।
আমি ... এটা ইনস্যুর করি।
প্ল্যাটিনাম ক্লাব সদস্যদের জন্য
বছরে একবার, বিনামূল্যে বাড়ির নিরাপত্তা পরীক্ষার নিয়ম আছে।
পায়জামা পরে?
স্ত্রীর সাথে?
বেশ শক্তপোক্ত আছে।
- হ্যালো ফিনিক্স। - মেরি।
- কখন আসলে? - ও মাঝে মাঝে হাত লাগায়।
শুনে মনে হচ্ছে...
- এটা সম্ভব। - তাই? দারুণ!
আনন্দের সাথে জানাচ্ছি, সবকিছু ঠিকঠাক আছে।
বেশ!
এক্ষুণি অফিসে গিয়ে জানাই।
আবার দেখা হবে।
আশা করি পায়জামা পরে আসবে না।
- ও না, আসলেই কেমন যেন। - বিদায়।
তাও ভাল, এটা আছে।
ল্যারি, জনি আর সকল আত্মাকে ধন্যবাদ।
আরেকটু হলেই ধরা খেয়ে গিয়েছিলাম।
- ধরা খেতে দেরি নেই। - সাবধান, ম্যাকবেথ।
বুকে বল রাখো, প্রায় হয়ে গেছে।
এই মহিলার পিছে পিছে লন্ডন ঘুরে
সবগুলো সূত্র বের করে ফেলেছি।
কিন্তু এগুলোর মানে কী?
খালি কতগুলো এলোমেলো অক্ষর।
এগুলো মোটেই অক্ষর নয়।
- এগুলো... গানের নোট। - ঠিকই বলেছ, শার্লক।
কোথায় বাজাতে হবে, সেটাও জানি।
দাঁড়াও!
সাংঘাতিক কাহিনী।
কিন্তু ফিনিক্স বুকানন তার পুরোনো কস্টিউমগুলো রেখে দিয়েছে, এই প্রমাণ দিয়ে হবে না।
আরো শক্ত প্রমাণ চাই।
আঙুলে ছাপসহ বইটাকে এনে দিলে হত।
তাছাড়া, কিছু করতে আরছি না।
-সরি। - কী?
কোথায় যাচ্ছে?
- এখন কী করব? - জানি না।
অন্তত প্যাডিংটনকে বলতে পারব, চোরটা কে।
- না। - কী?
দেখা করতে ভুলে গেছি।
প্যাডিংটন...
প্যাডিংটন!
আন্ট লুসি।
- আন্ট লুসি! - প্যাডিংটন।
এখানে কী করছ?
ভেবেছিলাম তুমি বাসায় আছ।
আমার আর কোনো বাসা নেই।
আমি এখন জেলে।
ব্রাউনেরাও আমাকে ভুলে গেছে।
প্যাডিংটন।
নাকলস?
আজকে মাঝরাতেই পালাব।
তোমার ভাবার সময় শেষ।
যাবে?
যাব।
ঘুমাবার সময় হয়ে গেছে।
এখানে কিছুই হয় না আজকাল।
সবাই একেবারে মাসুম বাচ্চা।
লাইট নিভাও।
স্যান্ডউইচ!
- প্যাডিংটন! - আসছি।
শুভকামনা, ছোট্ট ভালুক।
এই হলো গিয়ে জীবন।
মুক্তি!
স্পুন, নামাও।
এখান থেকে পালাবার টিকেট।
কী বলতে চাইছ? কোথায় যাচ্ছ?
- বলে দাও, নাকলস। - কী?
- আমাকে সাহায্য করবে না? - সরি, আমাদের প্ল্যানে পরিবর্তন এসেছে।
কী?
- আমরা দেশ ছেড়ে যাচ্ছি। - তুমিও যাবে আমাদের সাথে।
কিন্তু... এভাবে মিথ্যা বললে।
এরকম কিছু না, আমরা তো বাঁচালাম তোমাকে।
সত্যি কথাটা জানলে,
কখনোই বেরোতে পারতে না।
আমরা একসাথে কমলার জ্যাম বানাব।
আমি সেটা চাই না।
আমি নির্দোষ হয়ে বাড়ি ফিরতে চাই।
তুমি বলেছিলে, সাহায্য করবে।
কথা দিয়েছিলে।
দুঃখিত, বাচ্চা।
পারব না।
প্যাডিংটন!
ওকে যেতে দাও।
গ্রেপ্তার হলে হবে,
সেটা ওর সিদ্ধান্ত।
- হ্যালো। - হ্যালো, জোনাথন।
ব্রাউনদের বাড়ি
- আমরা কেউ বাসায় নেই। - মেসেজ রাখতে পারো।
হ্যালো, আমি... প্যাডিংটন বলছি।
আশা করি, ফোন করায় রাগ করোনি।
আমি জেল থেকে পালিয়েছি সেটা জানাতে চেয়েছিলাম, ...
এখন মনে হয়, পালিয়ে বেড়াতে হবে।
এরকমটা চাইনি অবশ্য...
নাকলস বলেছিল, আমাকে নির্দোষ প্রমাণে সাহায্য করবে,
তখন আমি বাড়ি ফিরতে পারব।
কিন্তু ও চলে গেছে, এখন নিজে নিজেই চলতে হবে।
জানি না কেন ফোন করেছি।
মনে হয় কেবল বলতে চেয়েছিলাম...
...ভাল থেকো।
- হ্যালো? - প্যাডিংটন?
হ্যাঁ হ্যাঁ!
মিসেস ব্রাউন, পালানোর জন্য খুবই দুঃখিত, ভেবেছিলাম আমাকে ভুলে গেছ।
প্যাডিংটন, তোমাকে ভুলব কেন!
- প্যাডিংটন? - তুমি আমাদের পরিবারের অংশ!
চোরটা কে তা জেনে গেছি।
- ফিনিক্স বুকানন। - মিস্টার বুকানন?
কিন্তু সে হাওয়ায় মিলিয়ে গেছে।
বইয়ের প্রতিটা ল্যান্ডমার্কে ওকে খুঁজেছি।
প্রতিটা পাতায়।
"যেখানে তোমার সকল স্বপ্নপূরণ হয়"
একথা কেন বললে?
পপ-আপ বইয়ের শেষ পাতায় লেখা ছিল।
-আন্ট লুসির কথা মনে করিয়ে দেয়। - ভারী অদ্ভূত।
তাই?
ঠিক এই কথাটাই ফিনিক্সের বাড়ির একটা কাগজে লেখা ছিল।
- তাই? - নিশ্চিত আগেও কখনো শুনেছি।
দেখো।
- "যেখানে তোমার সকল স্বপ্নপূরণ হয়।" - পিয়ানোটা?
নিশ্চয়ই ওখানেই ম্যাডাম কসলোভা তার গুপ্তধন লুকিয়েছিল।
- চলো মেলায় যাই। -দেরি হয়ে গেছে, ওরা আজকেই চলে যাচ্ছে।
- স্টেশন থেকে। - ৬টা ৩৫ এ।
- সময় আছে। - প্যাডিংটন, স্টেশনে যাও।
ফিনিক্সের কাছ থেকে বইটা নিতে পারলে,
ওর আঙুলের ছাপই সবকিছু প্রমাণ করে দেবে।
সে তো এক মাইল দূরে...
দেখা হবে।
রাস্তা খালি করো!
জরুরী অবস্থা!
সরি!
শহরের নাগরিকেরা, এইমাত্র খবর পেলাম
ভালুকটা পালিয়ে গেছে এবং এদিকেই আসছে।
সর্বোচ্চ পর্যায়ে বিপদসংকেত জারি করা হচ্ছে।
রাস্তা ছাড়ো, মিস্টার কারি।!
প্যাডিংটন এদিকে আসছে না।!
ও নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করবে।
- তারপর ওকে বাড়ি ফিরিয়ে আনব! - আমরা ওকে এখানে চাই না।
তুমি তো কখনোই চাওনি।
ওর ওপর প্রথমদিন থেকেই তোমার রাগ।
প্যাডিংটন মোটেই খারাপ না।
ও আমাদের সবার মধ্যে ভালটাই খুঁজে পায়।
সেজন্যই সে সবজায়গায় বন্ধু বানাতে পারে।
সেজন্য ও যখনই থাকে, উইন্ডসর গার্ডেনকে হাসি আনন্দে ভরিয়ে রাখে।
আমাদের কাউকে সাহায্যে দ্বিধা করে না।
সরো, আসছি আমরা!
বাহ, ব্রাউন।
তোমার প্ল্যান ভচকিয়ে গেছে।
তোমার গাড়িটার মতোই।
আসো না, আসো। জীবনেও পারবে না।
- সেকেন্ড গিয়ারে দিয়ে ক্লাচটা নামাও। - কী?
- কী করো? -তিন পর্যন্ত গুনবে।
- কী হচ্ছে? - তিন।
তোমরা রাস্তায় অযথা জটলা বাঁধাচ্ছ।
সবাই জোরে ঠেলো।
- ধাক্কা দেবে না বলছি!
প্যাডিন্টনকে ফিরিয়ে আনো।
- ধন্যবাদ। - যাও যাও!
নিচু হয়ে থেকো প্যাডিংটন, তুমি কিন্তু একটা ডাস্টবিন।
আমি ডাস্টবিন। হাঁটাচলা করে এমন একটা অতিসাধারণ ডাস্টবিন,
- ধন্যাবাদ। - সমস্যা নেই।
দেখার কিছু নেই অফিসার, সাধারণ একটা ডাস্টবিন।
ডাস্টবিন হওয়া তো মজাই।
প্যাডিংটন!
মিস্টার ব্রাউন!
জলদি, ও উঠে গেছে!
চিন্তা নেই, আমিই সামলাতে পারব!
ট্রেনটাকে ধরতে হবে।
কীভাবে?
একটা বুদ্ধি আছে।
শুভ সকাল, ম্যাডাম, স্যার। সুস্বাগতম।
- ধন্যবাদ। - শ্যাম্পেন দেব?
- বেশ গুছানো দেখছি! - অশেষ ধন্যবাদ।
ঐ হতচ্ছাড়া ভালুকটার হাত থেকে বাঁচার পরে এমন একটা ছুটির দরকার ছিল।
বয়লারে চাপ, দুই-দুই-পাঁচ। পানি, আধা গ্লাস।
- এয়ার ব্রেক, বন্ধ। - দারুণ, জে-ডগ।
আমার নাম জোনাথন ব্রাউন।
আর আমি স্টিম ট্রেন ভালবাসি।
আরে কী করো!
-খুবই দুঃখিত। - সরো!
- চুপ, চুপ। - থামবে একটু!
থামিও না, গারট্রুড।
এভাবে গায়ে ঠাণ্ডা পানি ফেলে দিল!
জেরাল্ড, চুপ করতে বলেছি।
ঠিক আছে গারট্রুড।
--...বিবিসির সংবাদ।
গতরাতে চারজন আসামি পোর্টবেলো কারাগার থেকে দুঃসাহসিকভাবে পালিয়ে গেছে
তাদের কারো কোনো হদিশ পাওয়া যাচ্ছে না...
...প্যাডিংটন ব্রাউন ছাড়া,
তাকে ব্রিস্টলগামী একটি ট্রেনে চড়তে দেখা গেছে।
পুলিশ খুব দ্রুতই গ্রেপ্তার করবে বলে আশা করা হচ্ছে।
বেচারি।
নিশ্চয়ই এখানেই কোথাও আছে।
নাকলস, ওকে সাহায্য করা দরকার না?
কীভাবে? আবার ফিরে গেলে জীবনে আর আলোর মুখ দেখব না।
জানি, কিন্তু... ও আমার বন্ধু।
প্ল্যানমাফিক চলো।
স্বার্থ ছাড়া কারো জন্য কিচ্ছু করি না।
তাহলে দাদা,
সত্য এখন উন্মোচিত হবে।
E।
d।
A। A।
বই।
আহ!
- ও কী করছে? - জানি না।
- প্যাডিংটন! - শুনতে পাচ্ছে না।
- আরেকটু জোরে যায় না? - আরো কয়লা লাগবে।
-ঠিক আছে। - সরো, আমি যাচ্ছি।
-আমিও আসব। - জুডি!
একবার থামাবার চেষ্টা করে দেখো খালি!
আসো তাহলে!
- প্রস্তুত? - হ্যাঁ।
যাও!
মনটাকে প্রসারিত করো, তাহলে পাজোড়াও প্রসারিত হবে।
- মিস্টার ব্রাউন! -মিসেস বার্ড!
C
অবশেষে... e।
হয়েছে!
হ্যালো।
চোখ ধাঁধানো সৌন্দর্য!
ওয়েস্ট এন্ড, আমি আসছি!
শুভ সকাল।
না!
কী ছিল? D, F,
D?
বইটা দাও বলছি!
অ্যাই ভালুক, কই যাও?
আমাদের সবার মতো
এই ট্রেনেরও একটা শেষ আছে, আফসোস।
ওহ!
উপস!
বেচারা ভালুক, অভিনেতার তাড়া খেয়ে...
ফিনিক্স বুকানন।
মিসেস বার্ড?
মনে আছে তাহলে?
মোটেই না।
দলের সবাই আছে দেখছি।
খনা বুড়ি, পিচ্চি মেয়ে আর ইন্সুরেন্স ওয়ালা।
এখন উপায়?
কী করব জানো?
এক ঘুষিতে নাকটা ফাটিয়ে দেব।
ভালো হবে না।
স্টেজ কমব্যাট ভিডিও গেম, লেভেল-ফোর।
ছোটবেলা থেকে শিখে এসেছি,
বন্ধুকযুদ্ধে কেউ ছুরি বের করে না।
এই বন্দুক কেবল প্লাস্টিকের ডার্ট ছোঁড়ে।
তাই তো দেখছি।
তলোয়ারটা দেখছি দারুণ ধারালো।
পিছাও সবাই।
স্যার, জাম্বো প্যাভলোভা।
ভালো লাগবে আশা করি।
মাননীয় বিচারপতি, চুলটায় দারুণ মানিয়েছে।
প্যাডিংটন!
মিসেস ব্রাউন...
একটা বুদ্ধি পেয়েছি!
বেশ বেশ, তোমাদের লোমশ বন্ধুর পালা এবার।
আস্তে, জোনাথন।
দারুণ চালাকি।
চিন্তা নেই, হ্যারি হুডিনির কৌশল খাটাব এখন।
প্যাডিংটন, লাফ দাও! আমি ধরব।
না!
- আহ! - না!
বিদায় ভালুক।
বুলস আই!
জোনাথন, ট্রেন থামাও!
চলো সবাই।
নাকলস, তুমি ফিরে এসেছ।
- একা একা কমলার জ্যাম বানাব কীভাবে? - সবাইকে ধন্যবাদ।
প্যাডিংটন?
- জ্বরে গা পুড়ে যাচ্ছে। - এখনি বিছানায় শোয়ানো দরকার।
- মা! - প্যাডিংটন!
ওর শরীরটা ভাল না।
চিন্তা নেই, ঠিকই সেরে উঠবে। তাই না, বন্ধু?
- প্যাডিংটন! - আমি কোথায়?
আস্তে আস্তে।
একটু ভয় পাইয়ে দিয়েছিলে, তুমি এখন নিজের বাড়িতে।
- বাড়ি? - হ্যাঁ, দেখো।
পুলিশ তাদের ভয়ানক ভুলটা ধরতে পেরেছে।
ফিনিক্স বুকাননকে গ্রেপ্তার করা হয়েছে,
আমাদের প্ল্যাটিনাম ক্লাবের সদস্য পদটাও হারিয়েছে।
তুমি এখন মুক্ত।
- কয়দিন ধরে ঘুমাচ্ছি? - তিনদিন।
তিন দিন? তার মানে...
- আজ আন্ট লুসির জন্মদিন। - আর আমি উপহার পাঠাইনি।
- ঠিক আছে, প্যাডিংটন। - কিন্তু সব ঠিক নেই, মিসেস ব্রাউন।
ছোটবেলায় আন্ট লুসি আমার জন্য অনেক কিছু করেছে।
ওকে ছাড়া কখনো লন্ডনে আসা হতো না।
খালি একটু গর্বিত করতে চেয়েছিলাম।
জন্মদিনের দিনে উপহার না পেয়ে
নিশ্চয়ই আমার ওপর বেজায় হতাশ।
আরে বোকা! আন্ট লুসি এসব কিছুই মনে করবে না।
তাই?
এসো।
এই তো!
তোমরা সবাই এখানে কী করছ?
- ধন্যবাদ বলতে এসেছি। - ধন্যবাদ?
- আমাদের জন্য তুমি যা করেছ, তার জন্য। - হ্যাঁ।
তুমি না থাকলে আমাদের দেখাই হত না।
আমাকে পরীক্ষা পাসে সাহায্য করেছ।
তুমি ছাড়া আমি বাসার বাইরেই চিরতরে আটকা পড়ে থাকতাম।
গর্বিত হবার মতো অনেক কিছুই আছে তোমার।
প্রমাণের জন্য পুলিশের পপ-আপ বইটা লাগবে,
এটা শুনে ভাবলাম, আন্ট লুসিকে আমরা অন্য একটা উপহার দেব।
তাই সবাই মিলে আলোচনা করলাম।
এয়ারফোর্সের একবন্ধুকে দিয়ে কিছু কাজ করালাম।
মনে হয়, আন্ট লুসির অনেক পছন্দ হবে।
কিন্তু... কী?
লন্ডন দেখানোর জন্যই তো আন্ট লুসিকে বইটা দিতে চেয়েছিলে, তাই না?
এটা তার আজীবনের স্বপ্ন।
আমরা ভাবলাম, বইয়ের পাতায় লন্ডনকে দেখার দরকার কি,
নিজের চোখেই যখন দেখতে পারে?
দরজাটা নাহয় তুমিই খোলো?
ওহ!
প্যাডিংটন
শুভ জন্মদিন, আন্ট লুসি!
বাংলায় অনুবাদঃ কুদরতে জাহান জিনিয়া subscene id: Kudrate_Jahan সম্পাদনায়ঃ Hasibujjaman Hasib
Join our group: facebook.com/groups/subtitlehut Like us: facebook.com/subhut007
বাংলায় সাবটাইটেলটি ভালো লাগলে গুড রেটিং দিতে ভুলবেন না।
ফিনিক্স বুকানন।
তুমি নিজেকে একজন জঘন্য অপরাধী হিসেবে প্রমাণিত করেছ...
অভিনয়ের মতো এক মহান পেশার জগতে তুমি একটা কলঙ্কস্বরূপ।
তোমাকে দশ বছরের শাস্তি দেয়া হলো,
গারদের পেছনে কাটানো সময়গুলো বিচক্ষণের মতো কাটানোর উপদেশ দেব,
অবশ্যই।
ধন্যবাদ।
ওয়েস্ট এন্ড নয়, আমার আসলে দরকার ছিল...
একদল বিমুগ্ধ দর্শক।
এমন করছি কেন? গার্ড, আমাকে তালা মেরে রাখো!
ওহ! তাই তো রেখেছ!
Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.