Afrikaans
Akan
Albanian
Amharic
Arabic
Armenian
Azerbaijani
Basque
Belarusian
Bemba
Bengali
Bihari
Bosnian
Breton
Bulgarian
Cambodian
Catalan
Cebuano
Cherokee
Chichewa
Chinese (Simplified)
Chinese (Traditional)
Corsican
Croatian
Czech
Danish
Dutch
English
Esperanto
Estonian
Ewe
Faroese
Filipino
Finnish
French
Frisian
Ga
Galician
Georgian
German
Greek
Guarani
Gujarati
Haitian Creole
Hausa
Hawaiian
Hebrew
Hindi
Hmong
Hungarian
Icelandic
Igbo
Indonesian
Interlingua
Irish
Italian
Japanese
Javanese
Kannada
Kazakh
Kinyarwanda
Kirundi
Kongo
Korean
Krio (Sierra Leone)
Kurdish
Kurdish (Soranî)
Kyrgyz
Laothian
Latin
Latvian
Lingala
Lithuanian
Lozi
Luganda
Luo
Luxembourgish
Macedonian
Malagasy
Malay
Malayalam
Maltese
Maori
Marathi
Mauritian Creole
Moldavian
Mongolian
Myanmar (Burmese)
Montenegrin
Nepali
Nigerian Pidgin
Northern Sotho
Norwegian
Norwegian (Nynorsk)
Occitan
Oriya
Oromo
Pashto
Persian
Polish
Portuguese (Brazil)
Portuguese (Portugal)
Punjabi
Quechua
Romanian
Romansh
Runyakitara
Russian
Samoan
Scots Gaelic
Serbian
Serbo-Croatian
Sesotho
Setswana
Seychellois Creole
Shona
Sindhi
Sinhalese
Slovak
Slovenian
Somali
Spanish
Spanish (Latin American)
Sundanese
Swahili
Swedish
Tajik
Tamil
Tatar
Thai
Tigrinya
Tonga
Tshiluba
Tumbuka
Turkish
Turkmen
Twi
Uighur
Ukrainian
Urdu
Uzbek
Vietnamese
Welsh
Wolof
Xhosa
Yiddish
Yoruba
Zulu
Download movie subtitles or Load it directly from url on TheSubtitles.net
মুভির নামঃ Kanithan (তামিল) অনুবাদ ও সম্পাদনাঃ মোহাম্মদ ইউসুফ
শুভ সকাল, স্যার।
শুভ সকাল।
হাই, বন্ধুরা।
শুভ সকাল, আমার প্রিয় সহকর্মীবৃন্দ।
তোমাদের সবার জন্য একটা খুশির সংবাদ আছে!
খুশির সংবাদটা কি, স্যার?
আমাকে "স্যার" বলবে না। "মদন" বলে ডাকবে।
ঠিক আছে, মদন।
এখন, মূল কথায় আসা যাক।
তামিলনাড়ুতে আমাদের চ্যানেলসহ সর্বমোট চ্যানেল আছে ৪৮ টা।
গত বছরের টিআরপি রেটিং অনুযায়ী আমাদের অবস্থান ৪৮ তম ছিল।
কিন্তু এই বছর...
তোমাদের সবার হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম আর আমার দক্ষ ব্যবস্থাপনার কারনে...
...এখন আমরা ৪৬ তম অবস্থানে চলে এসেছি।
আমাদের পরবর্তী লক্ষ্য হচ্ছে যে করেই হোক ১ নাম্বার অবস্থানে পৌছানো।
দাড়াও...
অই দুই মানিকজোড় দুটো গেল কোথায়?
কার কথা বলছেন, মদন?
আমি অফিসের কর্মচারীদের বলেছি আমাকে মদন বলে সম্বোধন করতে।
আপনি তো সবার ফুটফরমায়েশ খাটা লোক।
আপনাকে আমার "স্যার" বলেই সম্বোধন করতে হবে, বুঝতে পেরেছেন?
মানে বলতে চাইছি সিনিয়র রিপোর্টার গৌতম আর ক্যামেরাম্যান সেন্থিল কোথায়?
তারা একটা গুরুত্বপূর্ন কাজ সমাধা করতে বাইরে গেছে, স্যার।
তারা বলেছিল আমাকে আপনি তাদের ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞাসা করলে আমি যেন কিছু না বলি আপনাকে।
আমি হলাম এই কোম্পানির CEO! 27
আমার নিজেরই যেখানে মাছিমারা ছাড়া আর কোন কাজ নেই...!
সেখানে তারা কোন হাতিঘোড়া উদ্ধার করতে গেছে?
গৌতম, ক্যামেরা ১ চালু হয়ে গেছে।
ক্যামেরা ২ চালু হলো এখন।
প্রস্তুত?
৩-২-১, শুরু কর
'চেন্নাইয়ের প্রসিদ্ধ একটি পাবে ঘটে চলেছে...'
'...বেশ্যাপনা আর মাদক চোরাচালানের মত ঘটনা।'
'যেসকল মেয়ে শিক্ষার্থী অথবা সফটওয়্যার কোম্পানিতে কাজ করছে...'
'...তারা মূলত ফাদে পড়ে এই পাবে যৌনকর্মীর ভূমিকা পালন করতে বাধ্য হচ্ছে।'
'যেহেতু এই পাবটির মালিক ক্ষমতাসীন দলের একজন রাজনৈতিক ব্যাক্তি...'
'...তাই পুলিশও তড়িৎ পদক্ষেপ নিতে ইতস্তত বোধ করছে।'
'চলুন, আমার কথার স্বপক্ষে প্রমান হিসেবে কিছু ভিডিও এখন আপনাদেরকে দেখাচ্ছি'
'আমার সাথে আছে ক্যামেরাম্যান সেন্থিল।'
'...আর আমি গৌতম রামালিঙ্গাম'
তারা আমাদের দিকে চোখ সরু করে তাকাবে যদি শোনে আমরা স্কাই টিভির মাল!
এই দৃশ্যগুলো যদি একবার টিভিতে দেখানো যায়!
আমাদের চ্যানেলের টিআরপি রেটিং তো এক লাফে চাঁদের দেশে উঠে যাবে।
অই, ক্যামেরাটা নিচে পড়ে গেছে!
সর্বনাশ! ক্যামেরাটা কোন একজনের চোখে পরে গেছে, তাড়াতাড়ি পালা এখান থেকে!
যদি মাইর খাইতে না চাস, তো চল ভাগি এখান থেকে।
হাবার মত কি দেখছিস, চল?
এই গাড়ির চাবিটা কি আপনার?
হ্যাঁ আল্লাহ্, ধন্যবাদ!
আপনাকে অসংখ্য ধন্যবাদ!
আমি কখন ধরে খুজ-
হেই! আসলে এই গাড়ির চাবিটা আমার!
বিএমডব্লিউ ৭ সিরিজ, দাম ৯২ লাখ টাকা।
পুরো রক্ষানাবেক্ষনের খরচ ফ্রি।
আমি তো হাবিজাবি এত কিছু জানতেও চাইনি আপনার কাছে।
- ১ টা টাকিলা, প্লিজ? - ১ টা শাকিলা, প্লিজ?
গাধার বাচ্চা, ওটা শাকিলা না, টাকিলা!!
আপনাকে দেখতে আসলে অনেক সুন্দর লাগছে!
হ, চেহারায় আটা ময়দা মাখলে তোরেও সুন্দর লাগবো!
আপনারা কারা? কি করছেন এখানে?
আমি-
আসলে আমি একটা বহুজাতিক প্রতিষ্ঠানে কর্মরত আছি...
খুবই বড় একটা পদে।
মাসিক বেতন ১২০০০০ টাকা।
দৈনিক ভাতাও পাই অবশ্য।
ভাতা, তাও আবার দৈনিক?!
আপনিও কি একই কোম্পানিতে কাজ করেন?
না, আমি কাজ করি-
আর বলবেন না, ও পুরা একটা বাতিল মাল।
একটা মাছিমারা রিপোর্টার।
রিপোর্টার?
কোন চ্যানেলে রিপোর্টার আপনি?
আমি কাজ-
ছাড়ুন তো ওর কথা, আপনি কিসে কাজ করছেন?
আমি মাত্রই আমেরিকা থেকে সাংবাদিকতায় পড়াশোনা শেষ করেছি। তারপর এই তো, ভারতে চলে আসলাম।
এখন ছোটখাটো একটা চ্যানেলে রিপোর্টার হিসেবে যোগদান করেছি।
এই পাবে অনেক অনৈতিক আর অবৈধ ঘটনা ঘটছে!
আমি এসেছি এখানে তদন্ত করতে।
তদন্ত করতে আসছে!
বললেন নাতো কোন চ্যানেলের রিপোর্টার আপনি?
এনডি টিভি...?
সিএনএন?
TIMES NOW
কি যে বলছেন ও সব!
ও তো একটা লোকাল-
ঠিক বুঝতে পারলাম না।
আসলে, আমি একজন বিবিসির রিপোর্টার।
দারুন!
একটা শ্যাম্পেন, প্লিজ?
জি, বলুন।
আপনি কি আসলেই বিবিসিতে কাজ করেন?
কিন্তু আপনাকে দেখে তো সেরকম মনে হয় না।
আপনি কি মনে করছেন ও আপনার সাথে গুল মারছে?
অবশ্যই না, আমি আসলে ওভাবে বোঝাতে চাইনি বিষয়টা।
সে দেখতে আসলে দারুন সুদর্শন!
'দেখছিস, মাছ বড়শি গিলেছে, এখন শুধু ছিপ দিয়ে টেনে তোলা বাকি'
হ, পাগলে কিনা বলে আর ছাগলে কিনা খায়!
- এরকম বললি কেন? - তাকে দেখতে পুরনো মনমানসিকতার বলে মনে হচ্ছে।
তারা তোর সাথে মিষ্টি মিষ্টি কথা বলবে...
কিন্তু বাপের জন্মেও নিজের নামটা বলবে না।
আমার নাম আনু।
৯৮৮৪২২৫২২০
এটা আমার ব্যক্তিগত নাম্বার।
আপনার মোবাইলে কিন্তু নাম্বারটা সেভ করে রাখবেন।
'সংবাদ'
'শুভ সকাল'
'খবর পড়ছি কে.রামালিঙ্গাম'
'প্রথমেই শিরোনামগুলো জানাচ্ছি'
'ভারতের প্রধানমন্ত্রী তিনদিনের জন্য চীনে সফর-'
স্যার, কুরিয়ার।
হেই! বামে যা, বামে যা!
ডানে...ডানে!
দেখে চল, দানবটা তোকে ধরে ফেলতে পারে!
বিরক্ত করো নাতো, মা!
তোর খেলা শেষ হলে আমাকে কিন্তু দিস। আমিও খেলবো।
দেবো...দেবো।
কি করছো ওখানে?
কুরিয়ারে কি নিয়ে এসেছে একটু গিয়ে দেখতে পারলে না?
খবর তো তুমি একাই পড়ো।
বারবার এটা দেখে কি এত মজা পাও বলো তো?
নিজেকে কি দেখতে শাহরুখ খানের মত মনে হয় নাকি?
ছাড় তো, তুই খেল।
স্যার, গৌতম রামালিঙ্গাম?
আমার ছেলে।
ধন্যবাদ আপনাকে, স্যার।
কার কুরিয়ার এসেছে?
যেটার জন্য তুমি আর আর তোমার ছেলে অপেক্ষা করছো।
তোমার ছেলে বিবিসিতে ইন্টারভিউয়ের চিঠি পেয়েছে।
দেখা তো আমাকে!
খুব ভাল, তাই না?
হেই! করছোটা কি তুমি?
দাড়া
২০০,৩০০...ধুর, পুরো টাকাটাই নিয়ে নে।
যা, গিয়ে বন্ধুদের সাথে গিয়ে মৌজ মাস্তি কর।
হেই! দাড়া!
আমার সাথে কি মজা নিচ্ছো?
তোমার ছেলে ইন্টারভিউয়ের চিঠি পেয়েছে।
এমন ভাব করছো যেন ও চাকরিটাই পেয়ে গেছে!
আমি জানি ওর এবার চাকরিটা হয়েই যাবে-
থামো!
সে এর আগেও বিবিসিতে দুইবার ইন্টারভিউ দিয়েছে।
কি ঘোড়ার ডিম করেছে বলো তো?
দুইবারই রিজেক্টেড হয়েছে।
ও কিছু না, ওর লাকি নাম্বার ৩।
আমার কেন যেন মনে হচ্ছে এবার ও ইন্টারভিউতে পাশ করবেই করবে!
বলেছিলাম না তোর বাবা রাজী হবে?
এরকম পাগলের মত আচরন করছো কেন বলো তো?
ওর তো সেখানে কাজ করার কোন যোগ্যতাই নাই!
আন্না বিশ্ববিদ্যালয় থেকে কম্পিউটার সায়েন্সে পাশ করেছে।
তাও আবার ৮২% পেয়ে!
তোর ডিগ্রীর সার্টিফিকেট দেওয়ালে ক্ষয় হয়ে যাওয়া পুরনো ক্যালেন্ডারের মত ঝুলছে।
ওর যেসব সহপাঠী ইঞ্জিনিয়ারিং এ পড়েছিল...
...তারা এখন মাসে ৫০০০০-৬০০০০ করে কামাচ্ছে!
আর ও?
সারাদিন গরুর মত খেটে মাস শেষে পায় মাত্র ৮০০০ টাকা!
এদিকে আয়।
দেখ একবার।
উনি কে বল?
আমার দাদা।
"স্বদেশ" পত্রিকায় তিনি বেশ ভালো চেনাজানা একজন সাংবাদিক ছিলেন।
লাভটা কি হলো?
কোন কাজেরই না!
আর উনি হলো আমার বাবা, তোর দাদা।
উনি টানা ১৩ বছর বিরামহীন ভাবে "All India Radio'-তে সংবাদপাঠক হিসেবে দায়িত্ব পালন করেছেন।
তিনি-
ঘোড়ার আন্ডাটাও শেষে করতে পারেনি।
আর আমি, তোর বাপ!
আমি ২৭ বছর ধরে টেলিভিশনে সংবাদপাঠক হিসেবে কাজ করেছি।
সেও তার বংশের ধারা বজায় রেখেছে।
দেখেছো, তুমিও জানো সেটা ভাল করে।
জানি না, মরার আগে আর কি কি দেখে যেতে হবে আমাকে।
আমার পুরো জীবনটা শুধু লোন নিতে নিতে আর পরিশোধ করতে গিয়ে শেষ হয়ে গেল।
যদি তোমার ছেলে নিজের নাম সমাজের বুকে উজ্জ্বল করতে চায়...
...ওকে বলো একটা সফটওয়্যার কোম্পানিতে যোগদান করতে।
মাসে ৪০০০০/৫০০০০ টাকা রোজগাড় করা তখন ওর জন্য ছেলের হাতের মোয়া হয়ে যাবে।
আমি এগুলো বলছি শুধু ওর ভালোর-
আমি একটা গর্ধবকে এতক্ষণ উপদেশ দিচ্ছিলাম।
এই ফালতু চাকরিটা কি তোর কাছে এতই মূল্যবান?
বিবিসির কল্পনা করতে করতে তোর চুল পেকে সাদা হয়ে যাবে, কিন্তু কখনও চাকরিটা পাবি না।
ওর ব্যবহারে তুমি কষ্ট পেয়ো না, আমি ওকে পরে সব বুঝিয়ে বলবো।
বরাবরের মতই আজকেও সেই একই ভাঙ্গা গান বাজাচ্ছিল, তাই না?
বাদ দে, বাইক স্টার্ট কর।
একটু দাড়ান।
কে.রামালিঙ্গামের বাসাটা কোথায় বলতে পারেন?
"জিজ্ঞেস করার আর মানুষ পেলো না!'
জানি না।
যাতো।
আমি আসলে উনার বাসায় অনেক আগে একবার এসেছিলাম।
আমি জানি এখানেই কোথাও তার বাসা।
কিন্তু ঠিক কোন বাড়িতে তিনি থাকেন ঠিক খেয়াল করতে পারছি না।
তার নাকটা লম্বা এবং তীক্ষ্ণ, ঠিক আপনার মত।
এটাই তার বাড়ি।
ওহ! ধন্যবাদ আপনাকে।
এক মিনিট
'মজাটা দেখাচ্ছি।'
৩ মাস আগে, তিনি ১৩ বছর বয়সের এক মেয়েকে ভাগিয়ে নিয়ে গিয়ে বিয়ে করেছেন।
তাকে যে আপনি চেনেন এটা কিন্তু কাউকে বলবেন না!
তাহলে মানুষ আপনাকে ল্যাম্পপোস্টে ঝুলিয়ে পিটিয়ে আপনার শরীরের ছাল তুলে ফেলবে।
খুবই সাবধান থাকবেন!
এবার, যাতো।
রামালিঙ্গাম! ৪০/৫০ বছরের মহিলা হলেও কথা ছিল, তাই বলে ১৩ বছরের...
...কে রে!
আমি চিনি না তাকে!
আসুন।
ও কি আপনার-
হ্যাঁ, ও আমারই ছেলে। চলুন, ভেতরে গিয়ে কথা বলা যাক।
আপনারই তো ছেলে?
আমি ভেবেছিলাম আপনি এখনও সেই আগের মতই আছেন!
৩২,৩৬,৩৭ আর ৪২ নাম্বার ক্লিপটা ৯ নাম্বার স্লটে ঢোকাতে হবে।
হাই জান, আনু বলছি।
তোমাকে হঠাত করে খুব দেখতে ইচ্ছে করছে।
তোমাকে আমার হৃদয়টা খুলে দেখাতে ইচ্ছে করছে।
যদি তুমি ফ্রি থাকো, আমরা কি কোথাও একাকি দেখা করতে পারি?
একা?
কখন করলি এসব?
গতরাতটা ওর সাথে চ্যাটিং করতে করতেই কাটিয়ে দিয়েছিলাম।
বলো, আনু।
এখন কোথায় আছো তুমি?
কোথায় আছি আমি? ওহ, এখন আছি-
বিবিসিতে নিশ্চয়ই?
তুমি তো সেখানে সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে কাজ করছো, তাই না?
তুমি জানো, তুমি অনেক সৌভাগ্যবান?
আমি জানি সেটা।
এখন কোথায় দেখা করবে বলো।
আমি তোমাকে বলবো...
তবে তোমাকে সেখানে আসতে হবে আমাকে পিক করার জন্য।
একটা মিনিট অপেক্ষা করো।
কি বলছে ও?
তাকে পিক করতে যেতে হবে-
তাও আমাকে!
তুই তো আসলেই অনেক ভাগ্যবান রে!
তোমাকে কোত্থেকে পিক করবো সেটা কিন্তু এখনও বলোনি।
আরে, এটা একটা ছোটখাট চ্যানেল।
তুমি আসতে পারবে তো?
শুধু জায়গাটার নাম বলো।
আমি ৫ মিনিটের মধ্যে সেখানে হাজির হয়ে যাবো।
চ্যানেলটার নাম স্কাই টিভি।
ওহ! স্কাই টিভি!
স্কাই টিভি!!!
হ্যাঁ, কি হলো?
এখন কোথায় আছো তুমি?
বললাম তো, আমি এখন স্কাই টিভির অফিসে আছি।
এখানে কি করছো তুমি...?
ইয়ে মানে...ওখানে কি করছো?
আমি এখানে রিপোর্টার হিসেবে যোগ দিয়েছি।
আপনি কার সাথে দেখা করতে চান, ম্যাডাম?
অফিস বয়...অফিস বয়!
শালা ভোটকা!
আমি এই চ্যানেলের CEO জনাব মদনের সাথে দেখা করতে চাই।
উনি একটা মিটিং এ আছেন। পরে দেখা করুন উনার সাথে।
শুনুন, গিয়ে শুধু বলুন আনু এসেছে।
আপনি যখন ইচ্ছা তখন তার সাথে দেখা করতে পারবেন না।
কেন পারবো না? কি সমস্যা?
সাবাশ, বাঘের বাচ্চা!
যদি খুব বেশি জরুরী হয় তবে আমাদের চীফ রিপোর্টারের সাথে দেখা করতে পারেন।
এখন উনি ফ্রিই আছেন বলা যায়।
শালায় তো সব কিছু আবার ভন্ডুল করে দিলো!
পালা...!
চীফ রিপোর্টার কোথায় আছেন?
দেখুন, এডিটিং এর কাজে হয়তো ব্যাস্ত আছেন।
- অই রুমে আছে? - জানি না। গিয়ে দেখুন।
কি হলো? এরকম কচ্ছপের মত করে হাঁটছিস কেন?
হেই, গিয়ে নিজের কাজ কর। যা।
দুটারই মাথা নষ্ট হয়ে গেছে।
ও ঠিক পাশেই দাঁড়িয়ে আছে।
সেন্থিল, কি করছিস তোরা?
লুকোচুরি খেলছি, দেখতে পাচ্ছিস না?
হেই আনু! কখন আসলি?
এই তো কিছুক্ষন আগে, উনি বললেন আমি নাকি তোমার সাথে দেখা করতে পারবো না?
উনি এই মাত্রই এসেছেন, স্যার।
ব্যাস, এটুকুই?
বাদ দে, ভেতরে আয়।
'পালা রে ভাই'
এখানে থাকাটা এখন বিপদজনক।
চল, ভাগি এখান থেকে।
বাহ! ঠিক ৫ মিনিটের মধ্যেই চলে এসেছো!
চলো, তোমাকে একজনের সাথে পরিচয় করিয়ে দেই।
চলো, এই চ্যানেলের CEO-এর সাথে তোমাকে পরিচয় করিয়ে দেবো।
হেই! কোন দরকার নেই, আনু!
আসো তো!
তোমাদের সবাইকে কিছু কথা কথা বলবো এখন।
একটা খবর দেব তোমাদের এখন যেটা শুনলে আনন্দে লাফাবে তোমরা!
শশশশশশশ...চুপ!!
আমাদের চ্যানেলে আজ নতুন একজন রিপোর্টার যোগদান করতে যাচ্ছেন।
আমাদের চ্যানেলে স্বাগতম, মিস আনু।
আরেকটা সারপ্রাইজ তোমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।
আনু কিন্তু বাইরের কেউ নয়।
সে হচ্ছে আমার একমাত্র মেয়ে।
মেয়ে?
ধন্যবাদ বাবা।
আপনাদের সবাইকে অসংখ্য ধন্যবাদ।
আমি এই মুহূর্তে আপনাদের সবাইকে একজনের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে চাই।
গৌতম
হেই গৌতম! এখানে আসো!
উনি তোকে ডাকছেন।
তো তোর এত খুশি হওয়ার কি আছে এখানে?
আসো...আসো।
যা।
উনিও আমাদের মতই একজন রিপোর্টার।
কিন্তু উনি কাজ করছেন বিবিসিতে...
একজন সিনিয়র রিপোর্টার হিসেবে।
একজন রিপোর্টারের প্রকৃতি কেমন হবে তা তার কাছ থেকে আমাদের শেখা উচিত।
'আর আমার ঢোল ফাটাস নে!'
চলুন, জনাব গৌতমের উদ্দেশ্যে একটা জোরালো করতালি হয়ে যাক।
'ওকেও শেষ পর্যন্ত বোকা বানিয়ে ছাড়লো!'
উনার মাথার স্ক্রু কি ঠিক আছে?
সবাই এরকম চুপ করে আছেন কেন?
কি হয়েছে, বাবা?
আপনারা সবাই হাসছেন কেন?
তুমি...?
হ্যাঁ, ঠিকই চিনেছেন...আমি!
ও এই চ্যানেলে দুই বছর ধরে কাজ করছে!
তোর অনেক সিনিয়র সে।
ঠিকই বলেছিস, ওর কাছ থেকে আমাদের সবারই শেখা উচিত।
কি হলো, ওকে চড় মারলি কেন?
চুপ থাকো, বাবা।
তুমি আমাকে মিথ্যা বলে আমাকে ধোকা দিয়েছো!
আনু, প্লিজ দাঁড়া।
আমি তোমাকে নিজের থেকেও বেশি ভালোবাসি।
তাই তোমাকে মিথ্যা বলেছি।
'তুমি আমাকে মিথ্যা বলে আমাকে ধোকা দিয়েছো!'
'নিজেকে তুমি রিপোর্টার বলো?'
'লজ্জা হওয়া উচিত তোমার!'
'ওর তো সেখানে কাজ করার কোন যোগ্যতাই নাই!'
'বিবিসির কল্পনা করতে করতে তোর চুল পেকে সাদা হয়ে যাবে, কিন্তু কখনও চাকরিটা পাবি না।'
'বিবিসিতে রিপোর্টার হিসেবে যোগদান করা আমার জীবনের লক্ষ্য ছিল না।'
'এটা ছিল আমার বাবার স্বপ্ন!'
'আমার বাবা অনেক চেষ্টা করেও বিবিসিতে কাজ করার সুযোগ পাননি'
'তিনি তার আশা হারিয়ে ফেলেছেন।'
'কিন্তু, আমার আশা হারালে চলবে না।'
'একজন ব্যাক্তির সাফল্যের পেছনে হয়তো কারো অবদান নাও থাকতে পারে'
'কিন্তু বাধা, বিপত্তি, ব্যার্থতা এগুলো থাকবেই।'
'সাফল্যের সোপানে পা রাখতে হলে তাই এই ব্যার্থতার ভয়কে জয় করতে হবে।'
'আমি জানিনা এবারও বিবিসির শিকে আমার ভাগ্যে ছিড়বে কিনা'
'তবে এবার আমি আমার সবটুকু দিয়ে চেষ্টা করবো!'
প্লিজ আসুন।
বসুন।
ধন্যবাদ।
জনাব গৌতম, এই পদটা অপরাধ সাংবাদিকতার সাথে সংশ্লিষ্ট।
সব কিছুই নির্ভর করছে আপনার তদন্তের দক্ষতা এবং সেটাকে ভালোভাবে প্রকাশ বা উপস্থাপন করার ওপর।
জনাব গৌতম
এখানে একটা কেস রয়েছে যেটা আপনাকে সতর্কতার সহিত বিশ্লেষন করতে হবে।
এটা একজন তরুনীর কেস।
তার নাম আইরিন।
তাকে মৃত খুজে পাওয়া গিয়েছিল।
...৮ তলা বিল্ডিং থেকে পড়ে গিয়ে তার মৃত্যু হয়েছিল।
দরজাটা ভেতর থেকে বন্ধ করা ছিল।
নিরাপত্তা ক্যামেরায় কোন আগন্তুককে খুজে পাওয়া যায়নি।
জনাব গৌতম, এখন আপনাকে তদন্ত করে প্রমান করতে হবে এটা কি আত্নহত্যা নাকি হত্যা?
এবং একজন অপরাধ সাংবাদিক হিসেবে কিভাবে আপনি সেটা পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে উপস্থাপন করবেন।
স্যার, আরেকবার দেখাবেন প্লিজ।
আরো একবার?
এটাকে কি সিনেমা পেয়েছেন যে আবার আরেকবার আপনাকে দেখিয়ে গল্প বলা হবে?
এটা একটা ইন্টারভিউ।
আপনার আসলে ভাষাগত সমস্যা রয়েছে।
যার জন্যই আপনি এরকম দোনোমোনো করছেন।
৮ তলা থেকে একটা মেয়ে নিচে পড়ে গিয়ে মারা যায়।
ফ্ল্যাটের দরজা ভেতর থেকে বন্ধ করা ছিল।
নিরাপত্তা ক্যামেরা থেকেও সেরকম কোন প্রমান খুজে পাওয়া যায়নি।
একজন অপরাধ সাংবাদিক হিসেবে এটা কি আত্নহত্যা নাকি হত্যা সেটা তদন্ত করে বের করতে হবে।
কিভাবে আপনি সেটা পুঙ্খানুপুঙ্খ ভাবে উপস্থাপন করবেন?
এই দক্ষিণ ভারতের রিপোর্টাররা আসলে ইংরেজীতে তেমন অভ্যস্ত না।
তারা শুধু আপনাকে ফিল্ম, মিডিয়ার চটকদার সব কেচ্চাকাহিনী রসিয়ে রসিয়ে শোনাতে পারবে-
আইরিন, যে ৮ তলা বিল্ডিং থেকে...
...নিচে পড়ে মারা গিয়েছে।
পুলিশ এটাকে আত্নহত্যা বলেই মনে করছে।
কিন্তু আমাদের কাছে এটা আত্নহত্যা নাকি একটা পরিকল্পিত হত্যা সেটার স্বপক্ষে কিছু প্রমান রয়েছে।
আপনারা আইরিনের নেইলপলিশ করা নখ দেখতে পাচ্ছেন,
সবাই দেখতে পাচ্ছেন তার ডান পায়ের সব গুলো আঙ্গুলের নখই নেইলপলিশ করা হয়েছে।
কিন্তু বাম পায়ের ক্ষেত্রে...
...মাত্র তিনটা আঙ্গুলের নখে নেইলপলিশ লাগানো হয়েছে, বাকি দুটোতে লাগানো হয়নি।
এছাড়াও দেখা যাচ্ছে, নেইলপলিশের বোতলটা ঘরের টেবিলে খোলা অবস্থায় পড়ে রয়েছে।
কেউ আত্নহত্যা করার আগে হাত কিংবা পায়ের নখে নেইলপলিশ লাগায় না।
রিপোর্টে বলা হয়েছে, ফ্ল্যাটে কোন আগুন্তুক আসার চিহ্ন খুজে পাওয়া যায়নি।
কিন্তু টেবিলে দুই কাপ কফি পাওয়া গেছে...
...যার মানে দাঁড়ায়, ভিক্টিম একা ছিল না, কেউ ছিল তার সাথে।
যাকে তার একজন বন্ধু হিসেবে ধরে নেওয়া যায়।
পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে দরজা ভেতর থেকে বন্ধ...
যা আমাদেরকে ধারণা দিচ্ছে, সে ভিক্টিমের শুধু বন্ধুই ছিল না...
বন্ধুর চেয়েও বেশি কিছু ছিল।
সবগুলো নিরাপত্তা ক্যামেরার ফুটেজ মুছে দেওয়া হয়েছে।
এবং যেটা লক্ষনীয়, কোন ধরনের জোরজবরদস্তির আলামত পাওয়া যায়নি।
যেটা আমাদেরকে দিনের আলোর মত স্পষ্ট বুঝিয়ে দেয়, এটা শুধুমাত্র একটা আত্নহত্যা নয়।
বরঞ্চ একটা পূর্বপরিকল্পিত হত্যা।
বিবিসি নিউজ থেকে, গৌতম রামালিঙ্গাম।
ইংরেজি শুধুমাত্র একটা ভাষা, স্যার।
এটা কোন যোগ্যতার নিদর্শন নয়।
বেশ ভালো একটা উপস্থাপনা ছিল এটা!
হ্যাঁ, ঠিকই বলেছেন!
সে খুবই তীক্ষ্ণ বুদ্ধিমত্তার অধিকারী!
আমার খুব ভাল লেগেছে!
সত্যি, অনেক ভালো একটা উপস্থাপনা ছিল এটা!
ধন্যবাদ আপনাদেরকে, স্যার!
অভিনন্দন, গৌতম।
থামো...থামো...থামো।
আমাকে হ্যান্ডশেক করতে দাও।
আমাদের চ্যানেলের নাম এখন দুনিয়ার দিকে দিকে ছড়িয়ে পড়বে!
বিবিসিতে যখন তারা তোমার কাজের অভিজ্ঞতার সম্পর্কে জানতে চাইবে...
...প্লিজ, সেখানে আমাদের চ্যানেলের নামটা বলো।
ফাটায়া দিছো, মামা!
দুঃখিত!
তোমার সম্পর্কে পুরোটা না জেনেই...
...অনেক বাজে ব্যবহার করে ফেলেছি তোমার সাথে।
আমারই আসলে তোমার কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিত।
এরপর কি এখানে আসা হবে তোমার?
ঠিক বলতে পারছি না আসলে।
কেন জিজ্ঞেস করছো?
এমনি, তেমন কিছু না।
যাই হোক...অভিনন্দন!
মামা, ট্রিট দিবা কখন বলো?
তুই ট্রিট চাস?
চাই মানে... অনেক বড় একটা ট্রিট চাই!
এরকম করে তাকিয়ে রয়েছো কেন আমার দিকে?
না...তোমার বড় বড় দুটো চোখ রয়েছে।
হাতির মত দুটো কান রয়েছে।
বড় একটা নাক আছে।
কিন্তু, তোমার ঠোট দুটো অনেক ছোট।
মেদহীন দেহ।
হঠাত করে তোমাকে দেখলে...
...খুবই বিরক্তিকর মনে হয়!
কিন্তু কাছ থেকে দেখলে...
...তুমি কোন হিরোর চেয়ে কম নও!
সব সুন্দরী মেয়েরা এরকম বিরক্তিকর ছেলেদেরই প্রেমে পরে।
প্রমান করো।
ঠিক আছে।
সাধারণত কোন মেয়ে তার বয়ফ্রেন্ডকে বিশ্বাস করে না বললেই চলে।
কিন্তু আমাদের যখন প্রথম দেখা হয়েছিল...
...তুমি জানতেও না আমি কে!
যা বলেছি সব কিছু অন্ধের মত বিশ্বাস করেছো!
কেন জানো?
না, জানি না...কেন?
তুমি একটা মেয়ের কাছে চাইলে অনেক কিছুই পাবে...
কিন্তু তার ফোন নাম্বারটা পাওয়া এত সহজ না।
কিন্তু অইদিন, আমি চাওয়ার আগেই...
...তুমি নিজ গরজে তোমার নাম্বার দিয়ে দিলে!
কেন জানো?
না, জানি না। কেন?
প্রথমবারে আসলে এরকমটাই ঘটে।
কি ঘটে?
ভালোবাসা!
নিয়ে চলো ওকে।
গৌতম
স্যার, ওকে ছেড়ে দিন।
স্যার, কেন ওকে গ্রেফতার করছেন?
আপনি ওকে বিনা কারনে গ্রেফতার করতে পারেন না।
সে জাল সার্টিফিকেট জালিয়াতির সাথে যুক্ত।
প্রতারক...!
ওকে গ্রেফতার করার বদলে...
...জামাই আদর করবো?
যান, পুলিশের কাজে বাধা দেবেন না!
স্যার...স্যার, প্লিজ ভেতরে যাবেন না।
আমার চাকরিটা আমি হারিয়ে ফেলবো।
কার্থি কে?
আমি কার্থি...বলুন?
শালা জোচ্চোর!
আপনি আমাকে মারছেন কেন, স্যার?
তুই জালিয়াতি এবং প্রতারণার সাথে যুক্ত ছিলিস।
বের কর এটাকে।
চুপ করে আয়।
আমাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন, স্যার?
এরাই আমার কর্মচারী।
আপনার বর্ননা মোতাবেক, এখানে তেমন কেউ নেই।
অইতো সে!
স্যার, এক মিনিট।
সবাই আমাকে অদ্ভুত দৃষ্টিতে দেখছে, স্যার।
অই তো, পেয়ে গেছি।
স্যার, প্লিজ ভেতরে ঢুকবেন না।
এখানেই অপেক্ষা করুন, স্যার।
আমি কোন অপরাধ করিনি, স্যার।
উনি জনাব অভিনেশ।
বলুন, স্যার?
- আপনি অভিনেশ? - জি।
আমি কোন অপরাধ করিনি, স্যার।
সিআই স্যারের কপিটা দাও।
আমি মান্ডাভেলি হোস্টেলে থাকি।
আমি থেরামানিতে একটা আইটি কোম্পানিতে চাকরি করি।
স্যার, আমাকে মারবেন না।
বল, টাকা কোথায় লুকিয়ে রেখেছিস?
জলদি বল।
কোথায় রেখেছিস টাকা গুলো?
জলদি বল।
সত্যিটা বল, নইলে মেরেই ফেলবো আজকে!
শু*****রের বাচ্চা!
তুই শালা আবার কে রে?
আমার নাম গৌতম।
আমি এই জালিয়াতির সাথে কোনভাবেই যুক্ত নই।
তারপর?
স্যার, আমি একজন রিপোর্টার।
কোন চ্যানেল?
স্কাই টিভি।
গৌতম, শান্ত থাকিস।
মোটেও মাথা গরম করবি না।
আপনি যে অভিযোগটা করেছেন, তার স্বপক্ষে কোন প্রমান আছে?
আমি জানি না সে কে।
কিন্তু প্রতিদিন সে আমার মোবাইলে নোংরা নোংরা ম্যাসেজ পাঠায়।
রিপোর্টার হয়েছিস বলে কি তোকে এখন আমার খাতির যত্ন করতে হবে?
কেন আপনি উনাকে মারলেন?
কোন কারণ ছাড়া কোন অভিযুক্তকে মারার অধিকার নেই আপনার।
আপনি কে?
আমি একজন উকিল।
এটা আমার পরিচয়পত্র। গৌতম আমার বন্ধু।
- আপনি? - ওর বাবা।
আপনি ওদেরকে কেন গ্রেফতার করেছেন?
শিক্ষা লোন নিয়ে জালিয়াতি করার জন্য।
এই পাঁচ প্রতারক প্রতারনা করে ব্যাংক থেকে শিক্ষা লোন নিয়েছে।
লন্ডনের ক্যামব্রিজ ইউনিভার্সিটিতে পড়তে যাবার কথা বলে...
...তারা ব্যাংকে জাল কাগজপত্র দিয়েছে।
৫ জনের প্রত্যেকেই এই কাজটা করেছে।
পাশাপাশি তারা ৫ টি ব্যাংকের সাথে প্রতারনাও করেছে।
এটা কোন ১০/২০ টাকার ঘটনা নয়!
২৫ কোটিরও বেশি টাকা এভাবে সরানো হয়েছে।
তারা সবাই এই জালিয়াতির সাথে যুক্ত।
আমি এখন পর্যন্ত কোন ব্যাংক থেকে একটা টাকাও লোন নেইনি।
হেই,এদিকে আয়।
স্যারের কথা বলার সময় নাক গলাচ্ছিস কেন?
আপনার কথার স্বপক্ষে কোন প্রমান আছে, স্যার?
প্রমান চান! অই, নিয়ে আয় তো।
এসব সনদপত্র তারা ব্যাংকে প্রদান করেছিল।
এগুলো হচ্ছে জাল সার্টিফিকেট যা দেখতে একদম আসলটার মতো...
কলেজে ভর্তির জাল ফর্ম।
জাল স্কুল সার্টিফিকেট।
জাল ডিগ্রি সার্টিফিকেট।
জাল পাসপোর্ট, ভিসা, প্যান কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র, রেশন কার্ড।
এমনকি ড্রাইভিং লাইস্যান্সটা পর্যন্ত জাল।
তারা এভাবে জালিয়াতি করে ৫ টা ব্যাংকের সাথে প্রতারনা করেছে।
আমার সার্টিফিকেট!
আমার স্বাক্ষর!
সব কিছু তো আমারই দেখা যাচ্ছে!
এই জন্যই তোকে গ্রেফতার করেছি।
তারা ব্যাংকে ভুল ঠিকানা দিয়েছিল।
তাই এতদিন আমরা ওদের কাউকেই ধরা তো দূরের কথা, সনাক্তও করতে পারিনি।
কিন্তু তিনদিন আগে ব্যাক্তিগত তথ্যগুলো যাচাই করার সময়...
...আমরা তার সম্পর্কে বিবিসি থেকে বিস্তারিত জানতে পারি।
এটাই ছিল আমাদের তুরুপের তাস!
গত এক বছর ধরে...
...ব্যাক্তিগত তথ্য যাচাইয়ের তালিকাটা চেন্নাই পুলিশ স্টেশনে জমা পড়ে ছিল।
...আমরা এগুলো সব সংগ্রহ করেছি।
এভাবেই আমরা এদেরকে পাকড়াও করেছি।
স্যার, দয়া করে এই নিষ্প্রান কাগজগুলোর ওপর ভিত্তি করে কোন উপসংহারে চলে যাবেন না।
স্যার, একজন মানুষ জীবিত থাকুক বা না থাকুক
শিক্ষিত হোক বা না হোক
ভোটাধিকার থাকুক বা না থাকুক
সব কিছুই এই কাগজগুলোর ওপর ভিত্তি করেই সিদ্ধান্তটা নেয়া হয়।
এদেরকে জেলখানায় বন্দি করো, তারপর সবার বিরুদ্ধে একটা করে এফআইআর করো।
স্যার, দয়া করে এই কাজটা করতে বলবেন না স্যার।
সেটার সিদ্ধান্ত আদালতকেই নিতে দিন।
স্যার, দরকার হলে আমি আপনার পা ধরবো, তাও আমার ছেলের জীবনটা নষ্ট করে দেবেন না।
আদালতে যান। সেখানে যা বলা হবে আমরা তাই করবো।
এরকমটা করবেন না, স্যার।
দয়া করুন...প্লিজ, স্যার।
যদি আপনি ওর বিরুদ্ধে মামলা দায়ের করেন...
...তাহলে ও বিবিসিতে চাকরিটা পাবে না স্যার। ওর আজন্ম স্বপ্নটা বরবাদ হয়ে যাবে স্যার।
ও নিষ্পাপ স্যার, আপনি ওর বিরুদ্ধে কোন মামলা-
আপনার হাতটা সরান।
অই, আমাদের স্যারের হাত ধরার সাহস কোত্থেকে পেয়েছিস?
আমার বাবার গায়ে হাত তুলিস, এত বড় সাহস?!
পুলিশের মার কাকে বলে দেখিয়ে দে শালাকে।
আমার ছেলেকে বাচান।
'সমস্ত তথ্যপ্রমান এবং সাক্ষ্যসবুদের ওপর ভিত্তি করে...'
'...আদালত এই মর্মে ঘোষণা দিচ্ছে যে'
'এই পাচজনের প্রত্যেকেই এই জালিয়াতির সাথে যুক্ত ছিল'
'আগামী ১০ দিনের মধ্যে তাদেরকে এই আত্নসাতকৃত ২৫ কোটি টাকা...'
'...আদালতের নিকট হস্তান্তর করার জন্য আদেশ দেওয়া হচ্ছেt'
'ক্রিমিনাল অ্যাক্ট আইপিসি ১২০/বি ধারা অনুযায়ী'
'...তাদের সবাইকে এক বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হচ্ছে'
'একই সাথে প্রতারনা এবং জালিয়াতির জন্য আইপিসি ৪১৭ এবং ৪২০ ধারা অনুযায়ী...'
'...তাদেরকে আরো ৬ বছর সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হলো।'
'সর্বমোট তাদেরকে ৭ বছর কারাবাস করতে হবে।'
'এছাড়াও, এই ধরনের অপরাধ্মূলক কর্মকান্ডকে নিরুৎসাহিত করার জন্য...'
'...এই আদালত তাদের স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত সকল সার্টিফিকেট বাজেয়াপ্ত ঘোষনা করছে।'
প্লিজ...প্লিজ স্যার
স্যার, একটাবার আমার কথাটা শুনুন।
কোন মন্তব্য নয়।
সড়ে দাঁড়ান।
কোন যাচাই বাছাই ছাড়াই তারা কিভাবে...
গাড়িটা থামান
অতি শিঘ্রই আমাদের নাম আর ছবি সব টিভি চ্যানেল আর পত্রপত্রিকায় ছাপানো হবে।
তারপর আমাদেরকে বিশ্বাস করার মত আর একটা মানুষও অবশিষ্ট থাকবে না।
স্যার, আমার একটা কথা শুনবেন?
বল...?
আপনি আপনার ফোনটা দিলে আমার মায়ের সাথে একটু কথা বলতাম-
চুপ থাক!
নইলে মেরে তক্তা বানিয়ে ফেলবো!
স্যার, আমার বাবার একটা বাইপাস সার্জারি হতে যাচ্ছে।
আমার মা হাসপাতালে টাকার জন্য অপেক্ষা করছে।
আমাকে অবশ্যই আমার বর্তমান অবস্থাটা তাকে জানাতে হবে, স্যার।
তোমার বাবা মা কোথায় থাকেন?
ট্রিচেরিতে।
তারা কি তোর গ্রেফতার হওয়া সম্পর্কে অবগত আছেন?
না, স্যার।
তোমার ফোনটা দাও।
নাও।
- হ্যালো...? - হ্যালো, মা।
কার্তিক...?
কার্তিক, বাবা তুই কোথায় আছিস?
কখন আসবি বাবা?
আব্বার অবস্থা এখন কেমন?
আমরা তোর জন্য অপেক্ষা করছি।
টাকা কি জোগাড় করতে পেরেছিস?
অফিস থেকে কি লোনটা নিতে পেরেছিস?
মা...?
সার্জারির জন্য টাকাটা মনে হয় না আমি আনতে পারবো।
এমন অলুক্ষুনে কথা তুই বলতে পারলি?
কি হয়েছে তোর?
আমাকে সার্টিফিকেট জাল করা আর ব্যাংকে প্রতারণার জন্য গ্রেফতার করা হয়েছে, মা।
আদালত আমার সব সার্টিফিকেট বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করেছে।
আমার জীবনটা শেষ হয়ে গেল, মা!
এসব কি বলছিস তুই?
আমি তো কিছুই বুঝতে পারছি না!
ম্যাডাম, সার্জারির টাকাটা কখন দেবেন?
আর কত আমরা অপারেশনের সময়টা পেছাবো?
এটাকে কে কোন দাতব্য সংস্থা মনে করেছেন?
আমি জানি আমার ছেলে টাকা নিয়ে আসবে আজকে।
শুনুন, যদি আজকের মধ্যে অপারেশনের টাকাটা জমা দিতে না পারেন...
...তাহলে চীফ ডাক্তার আমাদেরকে সেই ক্ষেত্রে তাকে ডিসচার্জ করে দেয়ার নির্দেশনা দিয়েছেন।
আমাদেরকে আর হয়রানি না করে প্লিজ উনাকে কোন সরকারী হাসপাতালে নিয়ে যান।
উনার যা অবস্থা, বাচার আশা নেই বললেই চলে।
মৃত্যু থেকে তিনি খুব বেশি দূরে নেই।
কার্তিক..?
আমাকে লেখাপড়ার জন্য অমানুষিক পরিশ্রম করেছো তোমরা।
কিন্তু শেষ পর্যন্ত আমি তোমাদের কোন কাজেই আসতে পারলাম না।
এরকম করে বলিস না, বাবা!
আমার বাচা-মরার মধ্যে কোন পার্থক্য নেই।
এই অর্থহীন জীবনের বোঝা বয়ে বেড়ানোর মত আর শক্তি আমার নেই, মা।
কার সাথে কথা বলছো?
কার্তিকের সাথে?
ওকে বলো তাড়াতাড়ি এখানে চলে আসতে।
জানি না কেন?
হঠাত করে ওকে খুব দেখতে ইচ্ছে করেছে।
কাদছো কেন?
কি হয়েছে? কাদছো কেন তুমি?
কার্তিক...!
'তারা ব্যাংকের সাথে প্রতারনা করে শিক্ষা লোন নিয়েছে'
'ব্যাংকের সাথে প্রতারনা করার দায়ে...'
'...তাদেরকে ৭ বছরের সশ্রম কারাদন্ড প্রদান করা হচ্ছে।'
'জাল পাসপোর্ট, ভিসা, প্যান কার্ড, ভোটার পরিচয়পত্র, রেশন কার্ড
'এমনকি ড্রাইভিং লাইসেন্সটাও জাল'
'এই আদালত তাদের স্কুল, কলেজ এবং বিশ্ববিদ্যালয় থেকে প্রাপ্ত সকল সার্টিফিকেট বাজেয়াপ্ত ঘোষনা করছে'
'আপনার বাবা মাও কি এই জালিয়াতির সাথে যুক্ত?'
'নিজের ব্যাক্তিগত লালসা পূরনের জন্য এই ধরনের জালিয়াতি করা কতটা যৌক্তিক?'
হ্যালো...কার্তিক?
এখুনি এখানে আয় বাবা।
'আমার কথা শোন, বাপ'
সড়ুন...সড়ে দাড়ান
তুমি! লোকজনকে সরাও তাড়াতাড়ি'
কার্তিক?
'কার্তিক...আমার সাথে কথা বল'
'কি হয়েছে আমার ছেলের?'
আম্বাতুর ওয়াভিন ব্রিজের নিচে এক দুর্ঘটনায়...
অভিযুক্ত কার্তিক ঘটনাস্থলেই মারা গেছেন।
কি হয়েছে কার্তিকের?
কি হয়েছে ওর? কাদছো কেন তুমি?
কার্তিক...!
কার্তিক... কি হয়েছে কার্তিকের?
কি হয়েছে আমার ছেলের?
হ্যাঁ আল্লাহ্!
'৫ জন লোককে শিক্ষা লোন নিয়ে জালিয়াতির দায়ে গ্রেফতার করা হয়েছে।'
'তাদের মধ্য থেকে একজন পুলিশের গাড়ি থেকে হঠাত করে লাফ দেয়।'
'ঘটনাস্থলেই সে মারা গেছে।'
'এই বিষয়টা নিয়ে পুরো দেশে এখন তোলপাড় বয়ে যাচ্ছে'
'পুলিশের সাঁড়াশি অভিযানে কিছু ব্যাংক কর্মকর্তাকে আটক করা হয়েছে।'
'তাদেরকে এখন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।'
'অই সাঁড়াশি অভিযানে আমাদের কিছু লোককেও আটক করা হয়েছে।'
'আমরা এখন কি করবো, বস?'
আমাদের সমস্ত কার্যক্রম কিছুদিনের জন্য বন্ধ রাখো।
আব্বা, অন্য ভাবেও তো আমরা বিষয়টার সমাধান করতে পারি।
যা করতে বলেছি কর।
ঠিক আছে, আব্বা।
'শিক্ষা লোন নিয়ে এই মস্ত বড় জালিয়াতির ঘটনা...'
'...পুরো শিক্ষা ব্যবস্থাকে দারুনভাবে নাড়া দিয়েছে।'
'এই জালিয়াতির অভিযোগে ৫ জনকে গ্রেফতার করা হয়েছিল।'
'তাদেরকে আদালত থেকে জেলে পাঠানো হচ্ছিলো'
'পথিমধ্যে...'
'...কার্তিক নামের এক যুবক'
'...পুলিশের গাড়ি থেকে থেকে লাফিয়ে পড়ে আত্নহত্যা করে।'
'কার্তিক সহ যে চারজন যুবক একই সাথে গ্রেফতার করা হয়েছিল...'
'...তাদেরকে বিশেষ শর্ত অনুযায়ী জামিন দেওয়া হয়েছে।'
'এই ভয়াবহ জালিয়াতির ঘটনায়...'
'...কিছু ব্যাংক অফিসার এবং শিক্ষাবোর্ডের কিছু অসাধু কর্মকর্তাও জড়িত ছিলেন।'
'...পুলিশ তাদের মধ্য থেকে কয়েকজনকে গ্রেফতার করেছেt।'
'সন্দেহভাজনদের জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে।'
'শিক্ষা লোন দেয়া স্থগিতের সিদ্ধান্তের বিপক্ষে...'
'...পুরো তামিলনাড়ুর সমস্ত শিক্ষার্থী প্রতিবাদে ফেটে পড়েছে।'
কোন বিবিসির দরকার নেই!
কোন কিছুরই দরকার নেই!
যদি আমার সন্তান আমার সাথে থাকে...
...সেটাই আমার জন্য অনেক বেশি।
- বালাজি। - স্যার...?
এই ঘরের দলিল
যে কোন মূল্যে যে কারো কাছে এটা বিক্রি করে দাও।
এই ঘরে যা যা আছে সব কিছু বিক্রি করে দাও...
...সবকিছু বিক্রি করে টাকা জোগাড় করার ব্যবস্থা করো।
আদালতকে টাকা যে করেই হোক হস্তান্তর করতে হবে।
এই বাড়িতে আর আমাদের থাকাটা উচিত হবে না।
আমরা দূরে কোথাও চলে যাবো যেখানে আমাদেরকে কেউ চিনবে না।
তুই এত বড় আহাম্মক হলে কবে থেকে?
সব কিছু বিক্রি করে...
...আদালতকে টাকা ফেরত দিয়ে এই বাড়ি ছেড়ে চলে গেলে
...মনে করেছিস তোর সব সমস্যার সমাধান হয়ে যাবে?
কিসসু হবে না!
তোর ছেলের ১৬ বছরের কষ্টের পড়ালেখার...
...দুই পয়সারও দাম নেই এখন।
আদালত ওর সব সার্টিফিকেট বাজেয়াপ্ত বলে ঘোষণা করে দিয়েছে।
এই বিশাল পৃথিবীতে, তোর ছেলে আর একটা অশিক্ষিত মূর্খের মধ্যে এখন কোন পার্থক্য নেই।
কেউ ওকে চাকরি দেবে না।
হয়তো ওর কপালে শুধু মাটি কাটার কাজটাই জুটবে।
এক সপ্তাহের মধ্যে আপনার সব ধরনের কাগজপত্র আমাদেরকে হস্তান্তর করতে হবে।
আপনি জানেন এটা একটা আন্তর্জাতিক টেলিভিশন কোম্পানি।
প্রয়োজনীয় কাগজপত্র হাতে না পেলে আমরা কিছুই করতে পারবো না।
আপনার গ্র্যাজুয়েশনের সার্টিফিকেটটা অবশ্যই আনতে হবে।
গৌতম
আমি এই কেস ফাইলগুলো অনেক কষ্টে জোগাড় করেছি।
এই যে এখানে, পড় এটা।
মনে করিস না এই কেসে...
..তোদের ৫ জনকেই শুধু ফাঁসানো হয়েছে।
২ বছর আগে...
...ট্রিচেরিতে ৪ জন যুবককে আটক করা হয়েছিল।
একইভাবে মাদুরাই থেকেও তিনজনকে আটক করা হয়েছিল।
কইম্বাতোর থেকে দুজন।
আমরা এখনও জানি না এভাবে আরও কত নিরপরাধ শিক্ষার্থীকে ফাঁসানো হয়েছে!
এই কেসে আটক প্রত্যেক টা যুবক...
...আলাদা আলাদা শিক্ষা প্রতিষ্ঠানে পড়াশোনা করেছিল।
তারা আলাদা শহরেই থাকতো।
তাদের মধ্যে পারস্পারিক যোগাযোগের কোন আলামতই খুজে পাওয়া যায়নি।
কিন্তু তাদের সবার সাথে একটা বিষয়ের শুধু মিল আছে।
সেটা হচ্ছে...
...জাল সার্টিফিকেট!
এই জাল সার্টিফিকেট গুলো ব্যবহার করে শিক্ষা সম্পর্কিত সকল লোন ব্যাংক থেকে নেওয়া হয়েছে!
খুজে বের কর কে এসবের পেছনে আছে!
নিজেকে অসহায় মনে করিস না।
একটা রিপোর্টারের দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে চিন্তাভাবনা কর।
কি হয়েছে?
আসল সার্টিফিকেটের এই ছবি
...আর পুলিশ স্টেশনে জাল সার্টিফিকেটে যে ছবি আমরা দেখেছিলাম দুটোই হুবহু একই।
শুধু তাই নয়...
লোনের কাগজপত্রগুলোতেও এই একই ছবি ব্যবহার করা হয়েছে!
শালা জোচ্চোরের গুষ্টি!
তার মানে তোর সার্টিফিকেট আর ছবি...
...দুটোই কলেজ থেকে নেয়া হয়েছে?
সরকারি কলেজ থেকে বিনা অনুমতিতে সার্টিফিকেট উঠানোর কোন সুযোগ নেই।
তাহলে ওর সার্টিফিকেট আর ছবি কোথা থেকে পেল ওরা?
স্যার, আন্না বিশ্ববিদ্যালয়-
বালাজি?
এই ছবি আর সার্টিফিকেট গুলো আমি কলেজের বাইরেও অন্য জায়গায় ব্যবহার করেছি।
কোথায়?
ডট কন্সালট্যান্সি।
আন্না নগর
- কোথায়? - এই বিল্ডিং টাই।
এটা তো দেখছি তালামারা!
ম্যাডাম?
এই অফিসটা বন্ধ দেখতে পাচ্ছি। এটার কর্মচারীরা কাজে আসেনি আজকে?
এটা তো অনেকদিন ধরেই বন্ধ, স্যার।
হেই, কি করছিস তুই?
আমি তদন্ত করছি তো?
তালাটা ভেঙে দিলি!
আমি আবার ইউনিফর্মও পড়ে আছি!
যদি কেউ প্রশ্ন করে, কি জবাব দেবো আমরা কিছু ভেবেছিস?
সে বলছিল এটা নাকি অনেকদিন ধরেই বন্ধ।
কিন্তু তালাটা দেখো একদম নতুন!
কিভাবে হল এটা?
তার অগোচরে কেউ না কেউ অবশ্যই এখানে আসে।
দরজাটা খোল
দেখে চলিস।
এসব কি?
জায়গাটা অনেক বড় মনে হচ্ছে!
ঘরের প্রতিটা জায়গা তন্ন তন্ন করে খোঁজ!
একটা কিছুও বাদ দিবি না!
ঘরের প্রতিটা ইঞ্চি তন্ন তন্ন করে খুঁজেছি!
কিন্তু একটা সূত্রও পেলাম না!
আমি তো তোকে তখনই বলেছিলাম...
তোর সার্টিফিকেটটা কলেজ থেকেই লিক করা হয়েছে।
মাথা গরম করিস না!
গৌতম
কি?
তোর নামে কারো একটা সার্টিফিকেট দেখতে পাচ্ছি!
একদম আসলের মতই দেখাচ্ছে!
ইঞ্জিনিয়ারিং, বি.কম, এমবিএ, বিএ.
সব জাল সার্টিফিকেট!
দেখ, এখানে জাল এমবিবিএস সার্টিফিকেটও আছে দেখছি!
গৌতম, দেখ!
কতগুলো সিল!
এমজিআর মেডিক্যাল বিশ্ববিদ্যালয়
আন্না বিশ্ববিদ্যালয়
কামরাজ বিশ্ববিদ্যালয়
পন্ডিচেরি বিশ্ববিদ্যালয়
সব গুলোর সিল এখানে রয়েছে।
কিন্তু ব্যাংক থেকে লোন নেয়ার জন্য শুধু সার্টিফিকেটই যথেষ্ট নয়...
তাদের আরো কিছু কাগজপত্রের দরকার।
কিন্তু এখানে শুধু সার্টিফিকেটই দেখা যাচ্ছে!
কিছুই বুঝতে পারছি না!
বুঝতে পারেন নি?
তারা শুধু এগুলো দিয়ে লোনই নেয় না...
পাশাপাশি এসব জাল সার্টিফিকেট তারা বিক্রিও করে।
এই চক্রটা টাকা আত্নসাত করার জন্য এসব জাল সার্টিফিকেটের সাহায্য নিচ্ছে।
এগুলো এখানে ফেলে গেল কেন?
কারণ সব গুলোতেই কিছু না কিছু ত্রুটি রয়েছে।
এই ছাপার ভুল গুলো খেয়াল কর।
এই মিসটেক গুলো কিভাবে হল?
তারা সাধারণ কোন চক্র নয়।
তারা এসব ব্যাপারে খুবই প্রফেশনাল।
যদি আমার ধারণা সত্য হয়...
...তাহলে কনসাল্টেন্সির আড়ালে
...এখানে শিক্ষার্থীদের বিস্তারিত সব তথ্য, সার্টিফিকেট আর ছবি সংগ্রহ করা হয়।
তারপর সেগুলো আসল সার্টিফিকেটের সাথে মিলিয়ে প্রিন্ট করা হয়।
"মিল" বলতে তুই কি বোঝাতে চাচ্ছিস?
ঠিক বুঝলাম না!
আচ্ছা, তোর নাম সেন্থিল।
এক তামিলনাড়ুতেই সরকারী বেসরকারি মিলিয়ে বিশ্ববিদ্যালয় রয়েছে সর্বমোট ৫২ টা।
এই ৫২ টা বিশ্ববিদ্যালয়ের আওতায় কলেজ রয়েছে প্রায় ২০০০ টার মত।
এই ২০০০ কলেজের মধ্যে সেন্থিল নামে তারা কোন একজনকে পেল...
তারপর, তার আসল সার্টিফিকেটের তথ্যগুলো সংগ্রহ করে
তারা আরেকটা জাল সার্টিফিকেট বানায়।
এই একটা নাম দিয়েই, অনেক গুলো সার্টিফিকেট তৈরী করা যায়।
এই সার্টিফিকেট গুলোই দেখো...
রেজিষ্টার নাম্বারের সাথে ম্যাচ রয়েছে
একই নাম
আর একই ডিগ্রী
কিন্তু ছবিগুলো...
...পুরোপুরি আলাদা!
সব গুলো সার্টিফিকেটই এভাবে অন্য আরেকটা সার্টিফিকেটের নকল করে বানানো হয়েছে।
আসল সার্টিফিকেটের মত করে বানিয়ে সেটা বিক্রি করার মধ্যেই বা ফায়দাটা কি?
এতে করে কেউ ব্যাকগ্রাউন্ড ভ্যারিফিকেশনের সময় ধরা পরবে না।
বিক্রেতা আর ক্রেতা দুজনই এতে করে নিরাপদ থাকবে।
কি জঘন্য কাজকারবার রে বাবা!
আল্লাহ্ জানে আমাদের দেশে এরকম কত হাতুড়ে ডাক্তার এখন রয়েছে!!
আমাদের অবশ্যই এই চক্রটাকে খুজে বের করে অতিসত্বর এদেরকে গ্রেফতার করতে হবে।
সব গুলো সার্টিফিকেটেই তো ছবি সংযুক্ত করা আছে, তাই না?
আমরা এভাবেই তাদেরকে ধরতে পারবো।
শুধু ছবি দিয়ে আমরা তাদেরকে চিহ্নিত করতে পারবো না।
কারণ তারা কোথায়, কোন অফিসে, কোন শহরে রয়েছে কিছুই জানি না আমরা।
তারা কারা, কোথায় থাকে, কি করে কিছুই জানি না আমরা।
তারা যেখানেই থাকুক...
...আমাদেরকে তাদের খুজে বের করতে হবে না
তারা নিজেরাই আমাদেরকে খুজে বের করবে।
এরকম কেন করবে তারা?
দাঁড়াও, বুঝিয়ে বলছি...
তামিলনাড়ুতে আমাদেরটা সহ সর্বমোট ৪৮ টা টিভি চ্যানেল রয়েছে।
এই ৪৮ টা চ্যানেলের ভেতরে আমার কিছু চেনাজানা রিপোর্টার রয়েছে।
প্রত্যেকটা রিপোর্টারই কোন না কোন ভাবে একে ওপরকে চেনে।
এদেরকে দিয়েই বড় মাছটাকে জালে ফাঁসাতে হবে।
চলো, তাদেরকে ব্যবহার করা যাক।
সেন্থিল, তাদের সবাইকে এগুলো মেইল করে পাঠিয়ে দে।
আরেকটা কথা, সবগুলো চ্যানেলে...
..একই দিনে, একই সময়ে এটা সম্প্রচার করতে হবে।
একই সময়ে কেন?
একমাত্র এভাবেই তারা আমাদের টিকিটিরও সন্ধান পাবে না।
গৌতম
দরকার নেই এসবের... খুবই আত্নঘাতী পদক্ষেপ হয়ে যাবে এটা।
আমি শুধু মাকড়সার জালে ঘাপ্টি মেরে থাকা মাকড়সাটাকে ধরার জন্যই এসব করছি।
সব কিছুই তো বুঝলাম
সব চ্যানেলে এই খবরটার কি হিসেবে প্রচার করা হবে?
'চেন্নাইতে পুলিশের যে সাঁড়াশি অভিযানটা চালানো হয়েছিল...'
'...তাতে করে জাল সার্টিফিকেটধারী অনেক পেশাজীবির নাম পাওয়া গেছে।'
'...যারা সরকারী এবং বেসরকারী বিভিন্ন জায়গায় কর্মরত রয়েছে'
'যদি এদের ব্যাপারে কোনরূপ তথ্য প্রমান আপনাদের কাছে থাকে...'
'...তো দয়া করে সেটা নিকটস্থ পুলিশ ডিপার্টম্যান্টে জানাবেন।'
'নাম রামাকৃষ্ণান, বয়স ৩২'
'মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়, মাস্টার্স ডিগ্রী'
'২০০০ সাল'
'নাম সৈয়দ আকরাম, বয়স ২৯'
'আন্না বিশ্ববিদ্যালয়'
হ্যালো?
আমি তোমাকে টিভিতে এই মাত্র দেখলাম!
কি আবোল তাবোল বকছো এসব?
তারা তোমার সব সার্টিফিকেট গুলো এখানে দেখাচ্ছে!
সার্টিফিকেট...?
'নাম সুকুমার বয়স ৩৩'
'আন্নামালাই বিশ্ববিদ্যালয়'
'এমবিবিএস সার্টিফিকেট'
'২০০২ সাল'
'নাম ভেংকাটেশ, বয়স ৩০'
'মাদ্রাজ বিশ্ববিদ্যালয়'
'মাস্টার্স সার্টিফিকেট'
'২০০৮ সাল'
'নাম শ্রীনিভাশন, বয়স ২৭'
'ভারতিদাসান বিশ্ববিদ্যালয়'
'বিএসসি সার্টিফিকেট'
'সাল ১৯৯৯'
'এন্থোনি শ্রীধর, বয়স ২৭'
'কামারাজ বিশ্ববিদ্যালয়'
সব মিলিয়ে কতজনের পরিচয় ফাস হয়েছে?
৫২, আব্বা
কিন্তু পুলিশ এখনও কোন অভিযান চালায়নি!
এমনকি একজনও এটা নিয়ে এফআইআরও করেনি!
এটা ভুয়া খবর।
আমাদের এত ভয় পাবার কারণ দেখছি না।
আমাদের শুধু তখনই ভয় পাওয়া উচিত যখন এটা ভুয়া খবর হবে।
এই ৫২ জনের ভেতরে কোন সংযোগ খুজে পেয়েছিস?
তাদের কারোর সাথেই কারো কোন যোগাযোগ নেই।
তারা আলাদা আলাদা প্রতিষ্ঠানে কাজ করে।
তারা জীবনে কখনো একে অপরকে দেখেওনি।
শুধু আমরাই হচ্ছি এই ৫২ জনের মধ্যে সংযোগস্থল।
তামিলনাড়ুতে সব মিলিয়ে আমাদের ডট কনসালটেন্সির সর্বমোট ৩৬ টা শাখা রয়েছে।
এগুলোর মধ্যে কোন একটা থেকে এই জাল সার্টিফিকেট গুলো ফাস করা হয়েছে।
কোন শাখাটা এগুলো টিভি চ্যানেলেগুলোকে সরবরাহ করেছে সেটা খুজে বের কর।
সব গুলো সার্টিফিকেট চেন্নাইয়ের আন্না নগর ব্যাঞ্চের।
তাহলে এই শাখাটাই তাহলে ফাস হওয়া জাল সার্টিফিকেট গুলোর উৎপত্তিস্থল।
আব্বা, এক মিনিট
৫১, ৫২ টা নয়।
একটা সার্টিফিকেট ম্যাচ করছে না।
কার সেটা?
'বালাজি'
'বয়স ২৮'
'তামিলনাড়ু, আম্বেদকার ল বিশ্ববিদ্যালয়'
'২০০৬'
বল
আর কারো সার্টিফিকেট পেলি না টিভিতে দেখানোর জন্য?
'আমারে তো মুসিবতে ফেলে দিলি রে ভাই'
না, আমি এই পুরো চক্রটাকে ধরার জন্য তোকে টোপ হিসেবে ব্যবহার করছি।
তুই হচ্ছিস আমার তুরুপের তাস।
আমি...?
আর কোন পাবলিককে পেলি না, হুহ?
এটা করিস না। জান নিয়ে টানাটানি লেগে যাবে আমার।
ভরসা রাখ আমার ওপর, তোকে কোন ঝামেলা পোহাতে হবে না।
প্রস্তুত থাক।
নাম বালাজি
বয়স ২৮
২০০৯ সালে আম্বেদকর ল বিশ্ববিদ্যালয় থেকে মাস্টার্স শেষ করেছে।
এর পেছনে অন্য কারো হাত রয়েছে।
ওকে পাকড়াও করতে পারলেই আসলটাকে ধরা যাবে।
ওকে ধরার ব্যবস্থা করো।
হেই গৌতম, তোর কথামত এখন আমি আমার অফিসের সামনে এসেছি।
এখন কি করবো আমি?
চমৎকার!
শোন, আমার পরের কথাটা শুনে প্লিজ ভড়কে যাস না।
তারা একটু পরেই তোকে অপহরণ করতে যাচ্ছে।
অপহরন?
এত ভয়ংকর কথাটা এত সহজে কিভাবে বলতে পারলি?
যদি তোকে তারা অপহরণ করে শুধুমাত্র সে ক্ষেত্রেই আমি এই চক্রের হদিশ পাবো।
এবং তাদের গোমর ফাঁস করতে পারবো।
মাত্র একটা শটেই পুরো চক্রের কিস্তিমাত করে দিতে পারবো আমরা।
যদি আমি তোর সাথে থাকি, তারা তোকে অপহরণ করতে পারবে না।
তারা শুধু তোকে অনুসরণ করবে...
ভাই, কি তোতা পাখির মত করে ভবিষ্যতবাণী করে যাচ্ছিস কখন থেকে?
তুই সবকিছু এত নিশ্চিত করে কিভাবে বলছিস?
তোর বামে ৩০ মিনিটের দূরত্বে একটা নীল রঙের বিল্ডিং রয়েছে।
একজন দেখ গ্রে শার্ট পড়ে তোর দিকে তাকিয়ে ফোনে কথা বলছে।
তোর ঠিক পেছনের বিল্ডিং এ একজন লাল টুপি পড়া লোক দাড়িয়ে ফোনে কথা বলছে।
তোর বামদিকে দুটো বাইকে দুজন লোক দাঁড়িয়ে আছে।
তোর ডান দিকে শার্ট পড়া আরেকজনকে দেখ ফোনে কথা বলছে।
তারা তোর অজ্ঞাতসারেই এতোক্ষন তোকে অনুসরণ করে আসছে।
তুই কই রে ভাই?
আমিও তোকে অনুসরণ করছি।
আমি তোর ডানদিকে ৫০ ফিট দূরত্বে একটা লাল গাড়িতে বসে আছি।
ঠিক আছে, কোন সমস্যা নেই।
সে কারও সাথে কথা বলছে।
তাহলে অপেক্ষা কর।
আমি নিশ্চিত
আড়ালে ঘাপ্টি মেরে থাকা লোকটাও আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।
তার দেখা না পাওয়া পর্যন্ত আমরা অপেক্ষা করে যাবো।
যদি আমার ধারণা ঠিক হয় , তোকে তাদেরকে অপহরণ করতেই হবে।
তোর কি অই পরিস্থিতিতে কি করতে হবে সে ব্যাপারে কোন পরিকল্পনা আছে?
আমাকে বল, আমি সেটাই করবো।
তোর বা দিকে, ব্যাগ কাধে শার্ট পড়া একজন দাঁড়িয়ে আছে।
বা পাশে, নীল শার্ট?
হ্যাঁ, ওকে দেখেছি।
তার কাছে যা।
আমি পরবর্তী নির্দেশনা না দেওয়া পর্যন্ত তার সাথে কথা বলতে থাক।
একজন অপরিচিত মানুষের সাথে কি পিরিতের আলাপ করবো আমি?
মেয়ে হলেও কথা ছিল, আলাপ জমানো সহজ হয়ে যেত!
যাই হোক, দেখি গিয়ে কথা বলে।
হ্যালো, বস!
কি অবস্থা? কেমন আছেন?
ভাল, আপনি কে...?
মনে হচ্ছে সে ওকে বেশ ভাল করেই চেনে।
তাও কেমন যেন সন্দেহ লাগছে আমার কাছে!
আমি কিছু না বলা পর্যন্ত অপেক্ষা করো।
'আমি তো আপনার বিয়েতে এসেছিলাম!'
'মনে নেই?'
কেমন আছেন আপনার স্ত্রী?
আমি তো বিয়েই করিনি!
তাকে তোর ভিজিটিং কার্ডটা দে।
আমাকে বলতে পারবেন, আইনজীবিদের অফিসটা কোথায়?
আমি আসলে এই এলাকায় নতুন এসেছি!
তাই কিছু চিনতে পারছি না!
সে তাকে কিছু একটা দেখাচ্ছে!
কিছু একটা গড়বড় লাগছে!
আমি নিজেও জানি না আসলে।
ঠিক আছে, না জানলে ভালো।
কারণ এই ভিজিটিং কার্ডটা আমার।
অই বিল্ডিং এর দিকে তাকিয়ে দেখুন।
সাধারণ মানুষের ব্যাপারস্যাপার সেখানে সামাল দেওয়া হয়।
অপরাধ বিষয়ক কেস গুলোর ব্যাপারস্যাপার গুলো পুরোপুরি আলাদা অফিসে হ্যান্ডেল করা হয়।
অই দুজন উকিল অই অফিসে নিয়মিত বসেন।
খুবই দায়িত্বপরায়ন দুজন মানুষ।
আজকের দিনে তালাক সংক্রান্ত কেস গুলোর পরিমাণ অনেক বেড়ে গেছে।
শুধু ওটা নিয়েই আমার আলাদা একটা ব্র্যাঞ্চ আছে, বস।
অই ব্র্যাঞ্চটা সামাল দেয় অই লোকটা।
সে আমাদের লোকজনের দিকে ইশারা করে দ্রুতবেগে কথা বলে যাচ্ছে!
আমি ১০০ ভাগ নিশ্চিত সেই আমাদের আসল টার্গেট!
কার্ড টা ওর পকেটে রাখ।
চলো
বস, এরকম কোন কেস যদি থাকে আপনার দ্বিতীয় কোন চিন্তাভাবনা না করেই সোজা আমার কাছে চলে আসবেন।
৭ দিন, ২৪ ঘন্টা আমি আপনার সেবায় নিয়োজিত থাকবো।
এসব কথা আপনি আমাকে কেন বলছেন?
একটু পরেই বুঝতে পারবেন।
সে হেটে চলে যাচ্ছে।
এখনই ওকে অপহরণ করো।
ও কে, কি পরিচয় কিছু জানতে পেরেছিস?
ভাই, ও তো সামান্য একজন কুরিয়ারের লোক!
কি?!
সে আমাদেরকে বোকা বানিয়েছে!
শেষ করে দে ওকে!
তুই ঠিক ছিলিস, তোর পরিকল্পনা মতই ঘটছে সব কিছু!
তারা আমাকে ধরার জন্য কুকুরের মত তেড়ে আসছে এখন।
বেশ ভালো?
তাদের পরিকল্পনায়কিছু পরিবর্তনের আভাস পাচ্ছি।
'মনে হচ্ছে না তারা তোকে অপহরণ করবে'
মানে? কি বলছিস এসব?
তাদের পরিকল্পনাটা কি?
তারা তোকে খুন করার চেষ্টা করবে এখন!
কি?
তোর কি মাথাটাথা খারাপ হয়ে হয়েছে?
তারা আমার কাছাকাছি চলে এসেছে রে!
কি ভাবছিস? কিছু তো একটা কর।
তাড়াতাড়ি বল... তাড়াতাড়ি!
কিছু তো একটা বল!
দৌড়া!
হেই থাম! পালাতে দিবি না ওকে!
যা!
ওকে গাড়িতে তোল!
গাড়ি স্টার্ট কর...তাড়াতাড়ি!
আমি শুরু থেকেই এসবের বিরুদ্ধে ছিলাম!
তুই আমার কথা শুনিসনি। ও এখন ওদের কব্জায় চলে গেছে।
ওরা ওকে মেরে ফেলবে!
চুপ কর!
ওখানে আন
আমি তো শুধু এখানে লাঞ্চ করতে এসেছিলাম।
আমি খেয়েই চলে যাবো, স্যার।
আমরা ওকে অপহরণ করেছি, আব্বা।
আরেকজন আসছিল ওকে উদ্ধার করতে।
আমরা তাও আমাদের কাজ সমাধা করে ফেলতে পেরেছি।
কোন সমস্যা নেই।
বোকার হদ্দ!
তুই ওকে অপহরণ করিসনি...
সে তোকে দিয়ে অই লোককে অপহরণ করিয়েছে!
তুই ভুল লোককে অপহরণ করেছিস!
তার চাই প্রমান!
সে তোদের খোজে তোদের ওখানে অবশ্যই আসবে।
সে আসার আগেই ওকে মেরে ফেল।
সব প্রমান ধ্বংস করে দে।
ঠিক আছে, আব্বা।
অই, এটাকে শক্ত করে বাধ।
এক্ষুনি।
সব ফাইল এখানে এনে জড়ো কর।
এই ফাইল গুলো সহ শালাকে আগুন দিয়ে পুড়িয়ে ফেল।
পুড়িয়ে ছাই করে ফেল।
আগুন লাগা।
আয়
এক ঢোক কি খেতে পারি?
খুবই ক্লান্ত লাগছে!
'ডট কনসালটেন্সি এই জাল সার্টিফিকেট চক্রের সাথে...'
'...জড়িত আছে বলে জানা গেছে।'
'একটা বিশেষায়িত টাস্ক ফোর্স পুরো রাজ্য জুড়ে তাদের ৩৬ টা শাখা বন্ধ করে দিয়েছে।'
'আইটি প্রতিষ্ঠানে চাকরি পাবার আশায়...'
'.. এক হাজারেরও বেশি জাল সার্টিফিকেটধারীর সন্ধান পাওয়া গেছে।'
'জালগুলো তৈরী করে বিক্রি করা হোত'
'অনেক শিক্ষার্থীর বাইরে পড়তে যাবার কথা বলে-'
'জাল সার্টিফিকেট দেখিয়ে ব্যাংক গুলো থেকে শিক্ষা লোন নেওয়া হচ্ছে'
'এই চক্রটি শিক্ষার্থীদের শিক্ষা জীবনকে একটা অমানিশার অন্ধকারে ঠেলে দিয়েছে।'
'যারা এসব শাখায় তাদের আসল সার্টিফিকেটগুলো দিয়েছেন তারা এ নিয়ে খুবই চিন্তিত...'
'...তারা নির্দোষ হওয়া সত্ত্বেও তারা এই জালিয়াতির সাথে ফেসে গেছে।'
'সেও এই জালিয়াতির কারনে ভুক্তভোগীদের মধ্যে একজন।'
'পুলিশ আমাকেও গ্রেফতার করেছিল।'
'আমি ইঞ্জিয়ানিয়ারিং এ পড়াশোনা শেষ করেছি কিন্তু তারা আমার ডিগ্রী এখন বাজেয়াপ্ত ঘোষণা করেছে।'
'আমি এখন একটা ইম্পোর্ট এক্সপোর্ট কোম্পানিতে খুবই সল্প বেতনে কাজ করছি।'
'শুধু আমিই নই'
'আরো অনেক শিক্ষার্থী এরকম দুর্ভোগে পড়েছেন।'
'পুলিশের উচিত আসল দোষীদের খুজে বের করে তাদেরকে শাস্তি দেওয়া।'
'পুলিশ ডট কন্সালট্যান্সির অফিসারদের গ্রেফতার করে...'
'...এখন জিজ্ঞাসাবাদ করছে।'
'ডট কনসালটেন্সিতে জড়িত রাম ইলিয়াস নামে একজন সম্প্রতি আত্নহত্যা করছেন।'
'এই চক্রের সাথে মায়ানমারের অনেক লোকও জড়িত বলে প্রমান পাওয়া গেছে।'
'এই তদন্ত এখন এমন এক পর্যায়ে চলে এসেছে যে...'
'এটা পুরো দেশের শিক্ষা ব্যবস্থাকেই চ্যালেঞ্জের মুখে ফেলেছে।'
'সরকারের উচ্চ প্রতিষ্ঠান গুলোতে যারা এখন কর্মরত রয়েছেন...'
'...তাদের মধ্যে অনেকে দোষী প্রমাণিত হয়েছেন।'
'পুলিশ এই চক্রের মূল হোতাকে ধরার জন্য বিকল্প ব্যবস্থা নিচ্ছে।'
'তারা এই জালিয়াত চক্রের হোতাদের ধরার জন্য দেশব্যাপী সাঁড়াশি অভিযান চালাচ্ছে।'
'ক্যামেরাম্যান সাই বাবুর সাথে আমি-'
এই লোকের পেছনে অনেক বড় একটা টীম রয়েছে।
আল্লাহকে ধন্যবাদ!
বিবিসিতে কাজ করার ক্ষেত্রে তোর সামনে আর কোন প্রতিবন্ধকতা রইলো না।
তোর তো সমস্যার সমাধান হয়ে গেল!
ঝামেলার শুরু হলো মাত্র।
বালাজি, আমি না বলা পর্যন্ত তুই আত্নগোপনে থাক।
বিশেষ করে, ফোন ব্যবহার করা আপাতত বন্ধ রাখবি।
এভাবে ভয় দেখাচ্ছিস কেন?
এট অনেক বড় একটা নেটওয়ার্ক।
সে হচ্ছে শুধু এই বার্তাগুলোর গ্রহিতা।
আসল মানুষটা এখনও ধরাছোঁয়ার বাইরে আছে।
সে আমাদের খুজে বের করার জন্য অবশ্যই জোর প্রচেষ্টা চালাবে।
কিন্তু তাকে আমাদের জালে ফাঁসাতে হবে তার অগোচরেই।
যত তার কাছাকাছি যাবো আমরা...
...আমাদের অগোচরেই সে আমাদের আরও কাছে চলে আসবে।
আমরা কে তা সে জানার আগেই...
...আমাদের তাকে চিহ্নিত করতে হবে।
কে ওখানে?
কে আছেন ওখানে?
আমার কথা শুনতে পাচ্ছেন না?
পুলিশ পুরো জায়গাটার বেশ ভালো করে তল্লাশি চালিয়েছে।
কিন্তু বাইরের মানুষের এখানে প্রবেশের কোন আলামত পায়নি।
এমনকি ফরেনসিক রিপোর্টেও, কোন আঙ্গুলের ছাপ খুজে পাওয়া যায়নি এখানে।
- এটা খুবই পরিষ্কার। - না...না।
আমাদের লোকও এখানে ছিল।
আমাদের উচিত তাদের আঙ্গুলের ছাপ সনাক্ত করার চেষ্টা চালানো।
সে নিশ্চয়ই...
...এখানে সব কিছুর তল্লাশি চালিয়েছে।
কিছু একটা মিস করে ফেলছি আমরা।
এখানে সে নিশ্চয়ই অন্য কোন কিছুর কারসাজি করে রেখেছে।
আমাদের সেটা খুজে বের করতে হবে।
সব দিকে আবার ভাল করে খোঁজ।
থাম।
শুরু কর।
মোশন ক্যাপচার ক্যামেরা।
১৮০ ডিগ্রী মোশন সেন্সর।
প্রতি সেকেন্ডে ৫০ ফ্রেম।
যদি কেউ এই ক্যামেরার সামনে চলে আসে...
...সয়ংক্রিভাবে এটা ছবি তুলে নেয়।
সে এটা রেখেছে আমাদেরকে ধরার জন্য।
এটা নেওয়ার জন্য তাকে এখানে আসতেই হবে।
ওর জন্য অপেক্ষা করা যাক।
তুমি এত দেরি করলে কেন? আমি অনেক ভয় পাচ্ছিলাম।
অফিসের সবাই তোমার জন্য অপেক্ষা করছে।
চক্রের মূল হোতা কে সনাক্ত করতে পেরেছো?
তার ছবি গুলো-
থামো! তোমার কৌতুহলের লেভেলটা একটু কমাও।
তোমার বাবা মা, তোমার ভবিষ্যৎ, তোমার জীবন
এই সব কিছুর চাইতে বড় হচ্ছে...
...এই খবর যেটা তোমার জনপ্রিয়তাটা বাড়িয়ে দেবে।
তোমার চ্যানেলের টিআরপি রেটিং বাড়িয়ে দেবে।
শুধু এগুলোই তো তোমার মাথায় ঘুরছে এখন, তাই না?
এমন একটা সময় আসবে টিআরপি রেটিং বাড়ানোর এই অসুস্থ প্রতিযোগিতাটা...
তোমাদের সবার ধংসের কারণ হবে।
এই আমি বলে রাখলাম।
যাচ্ছি এখন।
একটা মিনিট দাড়ান।
আমাদের চ্যানেলের জনপ্রিয়তা বা টিআরপি রেটিং বাড়ানোর জন্য...
... আমরা এসব করছি না।
আমি যাই বলি না কেন সেটা আপনি বুঝবেন না।
শুধু আমার সাথে আসুন।
তুই আমাকে এখানে নিয়ে-
জাল সার্টিফিকেট গুলো থেকে এসব তথ্য আমরা পেয়েছি।
কে উনি?
ডাক্তার গুরুমূর্তি
গুরুমূর্তি, এমবিবিএস, এফআরসিএস, পিএইচডি
সে ভালোমত পড়াশোনা না করেই এসব ডিগ্রী পেয়ে গেছে।
প্রতিটা জাল সার্টিফিকেটেরই একটা নির্দিষ্ট বিক্রয়মূল্য রয়েছে।
৮ বছর আগে সে চেন্নাইতে একটা ছোট ক্লিনিক শুরু করে।
আজকে সেই ছোট্ট ক্লিনিকটা একটা মহীরুহ আকার ধারন করেছে। এটা এখন বিশেষায়িত হাসপাতাল।
আপনি কি তার বার্ষিক আয় কত জানেন?
৫০০ কোটি টাকারও বেশি।
তিনি সব মিলিয়ে ১২৭ জন রোগীর অপারেশন করেছে।
যার মধ্যে ৮৩ জনই মারা গেছে।
এর মধ্যে ৮ জন ছিল শিশু
১৩ জন গর্ভবতী মহিলাও ছিল।
শুধু ডাক্তাররাই নয়...
কলেজের প্রফেসর, রেইলওয়ের ইঞ্জিনিয়ার
পুলিশ অফিসার
স্বাস্থ্য পরিদর্শক, ব্যাংক অফিসার, বিমানের পাইলট
মিলিটারি অফিসার
সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার, উকিল, সিভিল ইঞ্জিনিয়ার
প্রতিটা সেক্টরেই এসব জাল সার্টিফিকেটধারী লোকজনে গিজগিজ করছে।
গত বছর এই অদক্ষ সিভিল ইঞ্জিয়ারদের কারনে পুরো ভারতে সব মিলিয়ে...
...২৪৭ টা ভবন ধ্বসে পড়েছে এবং ১৩৮৪৭ জন এতে মারা গেছে।
প্রতি বছর ৭ লাখেরও বেশি শিক্ষার্থী গ্র্যাজুয়েট হচ্ছে।
তাদের মধ্যে চাকরি পায় মাত্র ৪০%
বাকি ৬০% চাকরি না পেয়ে মানবেতর জীবন যাপন করছে।
তুই যা বললি সবই বুঝলাম।
কিন্তু...
...এতগুলোকে খুজে বের করে গ্রেফতার করা
... কোন ছেলের হাতের মোয়া নয়!
প্রমান ছাড়া আমরা কিছুই করতে পারবো না।
তাদেরকে সমূলে বিনাশ করার শুধু একটা উপায়ই রয়েছে।
মাথাটাকে কেটে ফেলা।
এই জাল সার্টিফিকেটগুলোর সরবরাহদাতা।
আমাদের অবশ্যই তাকে থামাতে হবে।
কিভাবে...?
আমরা তাকে কিছুতেই খুজে পেলাম না?
তার ব্যাপারে একটা সূত্রও পাইনি আমরা।
সে তার নিজের অজান্তেই আমাদেরকে একটা সূত্র দিয়ে গেছে।
কি সূত্র?
জাল সার্টিফিকেট
আমি আমার নামে একটা জাল সার্টিফিকেট বানাবো।
প্রত্যাকটা সার্টিফিকেটেরই একটা রেজিস্টার নাম্বার থাকে।
এই নাম্বার গুলো থাকে একদম নতুন।
আমার আসল সার্টিফিকেটে যে রেজিস্টার নাম্বারটা ছিল, জালটাতেও একই নাম্বার ছিল।
যে বা যারাই এই কপিগুলো বানাক...
...কেউই আসলটার থেকে নকলটার কোন তফাৎ বের করতে পারবে না।
আমরা এমন একজনকে খুজছি যে গভীর জলের মাছ।
আমি তাকে খুজে বের করবোই করবো।
পুরো চক্রটাকে ধ্বংস করে ফেলবো আমি।
কি অবস্থা? কোন সমস্যা নেই তো?
এভাবে হঠাত করে ভয় পাইয়ে দিস কেন আমাকে?
আমার শুধু একটা লিংক লাগবে।
আমাকে উচ্চ আদালতের সামনে কেন আসতে বলেছিস?
প্রত্যেকটা অপরাধীকে শেষ পর্যন্ত এখানেই আসতে হয়।
এখানকার উকিলেরা সব ধরনের কেস হ্যান্ডেল করেন।
সকল অপরাধীর ব্যাপারেই তাদের বেশ জানাশোনা থাকে।
আমরা এরকম একজনের সাথে এখন সাক্ষাৎ করতে যাচ্ছি।
শোনো ছেলে...
এই শহরে অনেক লোক রয়েছে যারা জাল সার্টিফিকেট তৈরী করে।
এদের মধ্যে সাত আটজন রয়েছে যাদের নাম তালিকার শীর্ষে।
যাকে খুজছো তোমর সে এই তালিকার ৭ জনের ভেতরেই থাকবে।
অথবা সে এমন কেউ হতে পারে যার সাথে এই ৭ জনের ভাল যোগাযোগ রয়েছে।
নাম হচ্ছে ডিপিআই মুরুগান।
তাকে গিয়ে আমার নামটা বলবে শুধু। বেশ ভালো খাতির যত্ন করবে তোমাদের তাহলে।
শুভকামনা রইলো।
পুলিশের দল এসেছিল ৩:২৪ এর দিকে...
পুলিশ অফিসারেরা প্রথমে এখানে প্রবেশ করেছিল।
সে পুলিশের গাড়িতে করে পালিয়েছে।
এর আগেও, কোন এফআইআর ছাড়াই এই খবরগুলো সব গুলো চ্যানেলে সম্প্রচারিত হয়েছিল।
আমার মনে হয় পুলিশের কারও সাথে তার যোগাযোগ রয়েছে।
যদি সে কোন পুলিশ হয়, হয় সে এসব করছে প্রমোশনের জন্য...
নয়তো আমাদের কাছে টাকা খাওয়ার জন্য এসব করছে।
যদি সেরকমটাই ঘটে, তাহলে তাকে টিভিতে দেখা যেতো।
যদি তার মধ্যে টাকার লোভ থাকে সে আমাদের কাছে অবশ্যই আসতো।
কিন্তু এই মালটা হচ্ছে অন্য ধাঁচের।
সে দেশের প্রতি দায়বদ্ধতা থেকে এসব করছে।
যদি সে কোন পুলিশ না হয়, একই খবর একই সময়ে সব গুলো চ্যানেলে কিভাবে সম্প্রচারিত হলো?
একজন সাধারণ মানুষের পক্ষে এসব করা সম্ভব নয়।
'যদি এদের কারও সম্পর্কে আপনাদের কিছু জানা থাকে...'
'...তাহলে পুলিশ ডিপার্টম্যান্টকে জানানোর জন্য অনুরোধ করা হলো।'
খবর হচ্ছে একটা শক্তিশালী মাধ্যম।
এতদিন সে আমাদের সাথে যোগাযোগ করে এসেছে শুধু খবরের মাধ্যমে।
হয়, মিডিয়াতে তার বেশ ভালো প্রভাব প্রতিপত্তি রয়েছে...
নয়তো, সে মিডিয়াতে কাজ করে।
হতেও পারে, সে একজন রিপোর্টার।
কিন্তু সব রিপোর্টার খবর পায় একজন মাত্র ব্যাক্তির মাধ্যমে।
অইদিন ঘটনাস্থলে যে রিপোর্টাররা এসেছিল তাদের ওপর খোঁজ লাগাও।
তাহলেই আমরা সেই "একাই ১০০" ব্যাক্তিকে খুজে পাবো।
আমরা মুরুগান স্যারের সাথে দেখা করতে চাই।
- আমি এখানে, ম্যাডাম। - আপনার দুজন দর্শনার্থী এসেছেন।
আমি আসছি।
তো বলুন, কি করতে পারি আপনাদের জন্য?
আমার একটা জাল সার্টিফিকেট দরকার।
বেরিয়ে যান!
বেরিয়ে যান বলছি!
স্যার, আপনি ডিপি মুরুগানই তো?
আপনি আমার নাম ঠিকই বলেছেন।
কিন্তু এসেছিলেন আসলে ভুল জায়গায়।
পুরো অফিসজুড়ে সিসিটিভি ক্যামেরা রয়েছে।
দয়া করে আমাকে ভুল বুঝবেন না।
তো এসএসসি,এইচএসসির কোন সার্টিফিকেটটা আপনাদের লাগবে বলুন।
আমার স্কুল কলেজের সার্টিফিকেটের কোন দরকার নেই।
আমার শুধু ইঞ্জিনিয়ারিং এর সার্টিফিকেট দরকার।
আপনারা আমার চাহিদা ভালোভাবে পূরন করতে পারবেন তো?
আপনাকে একদম খুশী করে দেবো আমরা, স্যার।
প্রথমে আমাদেরকে সার্টিফিকেটটা দেওয়ার ব্যবস্থা করুন।
মাইলাপুরের এই কম্পিউটার সেন্টারে গিয়ে আমার নামটা বলবেন।
আমার কার্ডটা রাখুন।
'চেন্নাইয়ের ম্যাট্রো রেল ব্যবস্থা ধীরে ধীরে প্রভুত উন্নতি সাধন করেছে'
'সব মিলিয়ে দূরত্ব হচ্ছে ৪৫ কিলোমিটার।'
নভেম্বরের ১৭ তারিখে...
জাল সার্টিফিকেট নিয়ে একটা খবর প্রচারিত হয়েছিল তোর চ্যানেলে।
এই খবরের উৎপত্তিস্থল টা কোথায় বল।
বল।
কালাইগ্নাগার টিভি, সোর্স ফাতেমা।
আমি শুধু এটুকুই জানি।
কালাইগ্নাগার টিভি, রিপোর্টার ফাতেমা সান টিভিকে এই খবরটা দিয়েছিল।
কোন বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট দরকার আপনার?
আন্না বিশ্ববিদ্যালয়।
কিন্তু সেটা তো একটা সরকারী শিক্ষা প্রতিষ্ঠান।
ভালো খরচাপাতি করতে হবে কিন্তু।
আপনি আমি দুজনেই ১৪ শিকের ভেতর আটকা পড়বো যদি ধরা পড়ি আমরা।
যত টাকা চান দেবো।
এই জায়গায় গিয়ে এর সাথে দেখা করুন।
বড় বড় প্রজেক্টের কাজ সে করে।
তো, এখন আসুন আপনারা।
হ্যাঁ, বল।
মনে আছে, তুই বলেছিলি আমাকে জাল সার্টিফিকেটের খবরটা আমার চ্যানেলে প্রচার করার জন্য।
আমাকে পিস্তলের মুখে হুমকি দেওয়া হয়েছে।
তোর নামটা বাধ্য হয়ে আমাকে বলে দিতে হয়েছে। প্লিজ, সাবধান থাকিস।
ফাতেমা...হ্যালো?
থান্থি টিভি, রিপোর্টার ভিগ্নেশ।
সার্টিফিকেটে কি নাম দেবো আপনার?
গৌতম।
সরকারী নির্দেশনা অনুযায়ী, ডিগ্রী সার্টিফিকেটের কাগজ...
২৯.৭ সেমি লম্বা এবং প্রস্থ ২১.৫ হতে হবে।
আর এটা প্রিন্ট করতে হবে TYVEK কোয়ালিটি অনুযায়ী।
এটা TYVEK কোয়ালিটিতে প্রিন্ট করা হয়নি।
এনডিটিভি সৌমিয়া।
আন্না বিশ্ববিদ্যালয়, তাই তো?
ম্যাকানিকাল?
না। কম্পিউটার সায়েন্স এন্ড ইঞ্জিনিয়ারিং।
সার্টিফিকেটে লেখার পুরুত্ত ০.১৫৬ মি.মি. হতে হবে।
সার্টিফিকেটের প্রত্যেকটা শব্দ...
...বিশেষ জার্মান কালি দ্বারা প্রিন্ট করতে হবে।
এটা জার্মান কালি দিয়ে প্রিন্ট করা হয়নি।
আমি বাসায় নিরাপদেই এসেছি, কোন ঝামেলা হয়নি।
চিন্তার কিছু নেই।
জয়া টিভি, রিপোর্টার কপিল।
এনডিটিভি রিপোর্টার সৌমিয়া জাল সার্টিফিকেটের তথ্যটা পেয়েছিল।
স্যার, উকিল সলোমন তাদেরকে পাঠিয়েছেন।
ঠিক আছে, আপনি যেতে পারেন।
আসুন আমার সাথে।
এই নিন আন্না বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট...
এবং মার্ক শিট।
সার্টিফিকেটে কিছু গোপন প্রতীক থাকে যেগুলো শুধুমাত্র UV রশ্মি দিয়েই পড়া যায়।
২০০৯ সালের সার্টিফিকেটে, এই প্রতীক গুলো এই খানে ব্যবহার করা হতো না।
বলো, কপিল।
হ্যালো, নিশা।
কিছু অচেনা লোক নভেম্বরের ১৭ তারিখের জাল সার্টিফিকেটের সম্প্রচারিত খবরটার সোর্স নিয়ে অনুসন্ধান করেছে।
আমি নিশ্চিত তারা তোমার কাছেও আসবে।
এই জায়গাটা শুধু জব অর্ডারের জন্য।
সার্টিফিকেটের জন্য আমাদের আলাদা আরেকটা জায়গা রয়েছে।
Parsn Complex Shop # 137
নাম ভাস্কর।
এটা ১৩৭ নাম্বার দোকান।
আনু, এখানে দাঁড়াও।
ঠিক আছে।
কিভাবে সাহায্য করতে পারি আপনাকে?
ভাস্কর...?
আপনি...?
অফিসার আন্নাদুরাই আমাকে পাঠিয়েছেন।
- আবদুল? - হ্যাঁ, ভাই?
সার্টিফিকেট করা লাগবে।
ভাইয়ের কাছে নিয়ে যা উনাকে।
হ্যালো সেন্থিল, নভেম্বরের ১৭ তারিখে তুই আমাকে জাল সার্টিফিকেটের খবর টা দিয়েছিলি না?
কিছু গুন্ডা মত দেখতে লোক আমাকে ধমকি দিয়ে খবরের সোর্সের ব্যাপারে প্রশ্ন করে।
আমি ভয় পেয়ে তোর নাম ওদেরকে বলে দিয়েছি, সেন্থিল।
সেন্থিল, কি খুজছিস তুই?
কি খুজছিস?
এতগুলো সার্টিফিকেট কোথায় পেলি তুই?
দেখি
দেখা আমাকে!
এগুলোতে দেখছি গৌতমের ছবিও রয়েছে!
তুই কি কিছু লুকাচ্ছিস আমার থেকে?
সত্যটা বল।
আপনি ওখানে থাকুন।
আপনি একা আসবেন আমার সাথে।
- গাড়িতে অপেক্ষা করো। - তাড়াতাড়ি এসো।
এখানে এতো নিরাপত্তা ক্যামেরা কেন?
থুরা সরকারের জায়গা এটা।
একটা পিপড়াও অনুমতি ছাড়া এখানে প্রবেশ করতে পারবে না।
- স্যার। - ১ মিনিট।
দরজা খোল।
- ভাই কোথায় আছেন? - ৩ তলা
শুনে তাকে অনেক ভয়ংকর লাগছে!
আমরা এখন কি করবো?
সহজ
তার আসার আগে আমাদের সব প্রমাণ লোপাট করে ফেলতে হবে।
যদি ধরাও পড়ে যাই, গৌতম যাতে কিছুতেই ধরা না পড়ে।
একমাত্র এভাবেই এই চক্রটার ইতি টানা সম্ভব।
- সিকিউরিটি? - স্যার।
আমি না বলা পর্যন্ত কাউকে ঢুকতে দেবে না।
মেইন শাটারটা বন্ধ করে ফেল।
তাড়াতাড়ি!
কফিটা এখনও গরম।
খুব ভয় করছে!
ভাই, অফিসার আন্নাদুরাই পাঠিয়েছেন একে।
তার একটা ইঞ্জিনিয়ারিং এর সার্টিফিকেট দরকার।
আন্না বিশ্ববিদ্যালয়
আমি দেখছি, তুই যা।
ঠিক আছে, ভাই।
অন্য কোন জায়গা হলে আমি লাখ টাকা নিতাম।
কিন্তু এটা আন্না বিশ্ববিদ্যালয়...
৫ লাখ লাগবে।
বুঝতে পেরেছেন?
জি, বুঝতে পেরেছি।
সেলিম, আমি নিচে গিয়ে সার্টিফিকেটটা নিয়ে আসছি।
উনার দিকে খেয়াল রাখ।
ফের যদি দেখেছি তোকে ঘুমাতে, চড়ায়া তোর সব কয়টা দাঁত খুলে নেবো।
সবসময় খালি পোয়াতি মেয়ের মত ঘুমায়।
আমাদের আসার খবর পেয়ে নিশ্চয়ই তারা এখান থেকে পালিয়েছে।
চল, বের হওয়া যাক এখান থেকে।
তারা চলে গেছে।
মনে হচ্ছে আমরা বেঁচে গেলাম।
আমি তোমাকে আন্না বিশ্ববিদ্যালয়ের সার্টিফিকেট দিতে পারবো না।
আমি শুধু সেই সার্টিফিকেটটাই দিতে পারবো যেখানে গৌতম নামে কারও সার্টিফিকেট খুজে পাওয়া যাবে।
আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টাটা করছি।
গনপূর্ত বিভাগ, ইলেক্ট্রিসিটি বোর্ড
'রাজস্ব, পরিবহন'
'সরকারী প্রতিষ্ঠানে জালিয়াতির সাথে অভিযুক্ত লোকজন!'
সব গুলো আলাদা আলাদা জায়গা থেকে প্রিন্ট করা হয়েছে।
এটা কার ছবি?
আমি জানি না।
মরতে না চাইলে বল।
কার ছবি এটা?
বাহ! ছেলেটার ভাগ্য আসলেই অনেক ভাল।
আন্না বিশ্ববিদ্যালয় থেকে একই নামে আরেকজনকে পাওয়া গিয়েছে।
সুপার!
কি হলো?
নাম মিলে গেছে, ঠিক আছে।
কিন্তু জন্ম তারিখ আর ডাকনামটা পর্যন্ত মিলে গেছে!
হতে পারে এটা কোন কাকতালীয় ব্যাপার।
আমার কাছে কাকতালীয় বলে মনে হচ্ছে না।
তোমার কাছে কি তার কোন ছবি আছে?
এই তো
আসল সার্টিফিকেটটা যাচাই করে দেখা যাক।
সেতো একই লোক!
কি করবো এখন?
আমাকে এখুনি আব্বাকে জানাতে হবে।
মাফ করবেন।
হ্যালো?
আব্বা, একজন লোক এখানে এসেছে জাল সার্টিফিকেটের জন্য।
কিন্তু খোঁজ করে জানতে পারলাম এইমাত্র, তার এরকম সার্টিফিকেট আগে থেকেই আছে একটা।
- কি নাম তার? - গৌতম।
গৌতম।
দেখ, শিক্ষা লোনের তালিকায় তার নামটা যুক্ত আছে কিনা।
এখুনি ওর একটা ছবি পাঠিয়ে দে।
ঠিক আছে, আব্বা।
দেখ, চ্যানেলের কর্মচারীর তালিকায় গৌতম নামে কাউকে পাওয়া যায় কিনা।
মিলে গেছে, আব্বা!
তার নাম মিলে গেছে!
- সে এখন কোথায় আছে? - আমাদের ম্যানশনেই আছে।
আমার আসার জন্য অপেক্ষা করিস না।
শেষ করে দে ওকে।
ঠিক আছে, আব্বা।
হেই! সবাই চল।
সে হার্ডডিস্ক টা চুরি করেছে।
সব তথ্যপ্রমান এখন তার কাছে আছে।
ভাই, আমরা সব জায়গায় খুঁজেছি।
সে পালিয়েছে!
আনু...আনু।
মাফ করবেন?
আমার একটা বন্ধু এসেছে এখানে একটা সার্টিফিকেট নিতে।
কি নাম আপনার বন্ধুর?
গৌতম।
সে কোথায় আছে এখন?
ওর নাগরটা ফোন দিয়েছে।
আনু, কোথায় তুমি?
সে এখন আমাদের কব্জায় আছে।
তবে তাকে আমার প্রয়োজন নেই।
আমার প্রয়োজন তোকে।
হার্ডডিস্কটা ফেরত দে-
কি হলো, ভাই?
কলটা কেটে দিয়েছে!
ভিতু পাবলিক!
গার্লফ্রেন্ডকে রেখেই পালিয়েছে।
ওর কথা ভুলে যা।
ওর বদলে মেয়েটাকে শেষ করে দেই।
না, দয়া করুন...!
আমাকে যেতে দিন!
এরকম থার্ডক্লাস একটা পোলার সাথে পিরিত করলি!
আমি তো মনে করেছিলাম ও তোকে হিরোর মত এসে বাচাবে!
কিন্তু ঘটনা তো দেখছি উল্টো! কাপুরুষের মত পালিয়েছে!
কোথায় আছেন এখন ও?
বল।
না বললে গুলি করে তোর মাথার খুলি উড়িয়ে দেবো।
সে আসছে!
সবগুলো লাইটের সুইচ অফ করে দে।
এই জায়গা থেকে সে যেন একমাত্র লাশ হয়ে বের হতে পারে।
সেকার
হেই থামুন! ওকে মারবেন না।
থামুন!
প্লিজ...দয়া করুন।
আসো।
এটা হচ্ছে পুরো ভারত জুড়ে যারা জাল সার্টিফিকেট বিক্রি করছে তাদের তালিকা।
এটা হচ্ছে এই সরকারী এবং বেসরকারী প্রতিষ্ঠানে কর্মরত লোকদের তালিকা যারা এই জালিয়াত চক্রের সাথে জড়িত।
এই হার্ডডিস্কে প্রত্যেকের ব্যাপারে সব তথ্য দেওয়া আছে।
এরাই হচ্ছে এই জালিয়াত চক্রের মূল হোতা।
সবচেয়ে উপরের অবস্থানে আছে থুরা সরকার।
সে বার্মা থেকে এসেছে।
যদি আমরা তাকে গ্রেফতার করতে পারি...
...তাহলে এই জালিয়াতি এবং প্রতারণার সাথে যুক্ত সবাইকে আমরা হাতেনাতে পাকড়াও করতে পারবো।
এটা অনেক বড় একটা চক্র।
অনেক সরকারী কর্মকর্তা এতে করে ধরা পরবে।
কিভাবে আমরা এটা মিস করলাম?
আমাদের নাকের ডগায় থেকে এত বড় একটা চক্র কিভাবে তাদের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিল?
কারণ আমাদের ডিপার্টম্যান্টেও জাল সার্টিফিকেটধারী কর্মকর্তা রয়েছে।
এই তালিকার অর্ধেকই ক্ষমতার বিভিন্ন কেন্দ্রবিন্দুতে আসীন রয়েছে।
যদি এই খবরটা একবার মিডিয়াতে ফাঁস হয়ে যায় তবে আমাদের শূলে চড়ানো হবে।
আমাকে দ্রুত কমিশনারের সাথে কথা বলতে হবে এটা নিয়ে।
আগামীকাল এটা নিয়ে একটা প্রেস ব্রিফিং করতে হবে যাতে আমাদের অবস্থান সুরক্ষিত রাখা যায়।
এই চক্রটার শেষ দেখে ছাড়বো আমি।
'ভিলুপ্পুরাম'
'টাঞ্জোর'
'পুড়ুক্কোটাই'
'ডিন্ডুগুল'
'ভিরোধনগর'
'সালেম'
হ্যালো!
চক্রের সবার তালিকা এখন পুলিশের হাতে।
কালকে প্রেস ব্রিফিং করে সেটা মিডিয়াতে সরবরাহ করা হবে।
যতক্ষন এটা পুলিশের মধ্যেই সীমাবদ্ধ আছে, আমরা এটা নিয়ন্ত্রনে রাখতে পারবো।
কিন্তু যদি এই তালিকার মধ্য থেকে একটা নামও মিডিয়াতে প্রকাশ করা হয়...
...জেলের ১৪ শিকের ভেতরে আমাদের সবার বাকি জীবনটা কাটবে।
যদি আমরা ধরা পড়ে যাই তুমিও রেহাই পাবে না।
সে জানে আমরা কে।
এই চক্রের সমূলে বিনাশ না হওয়া পর্যন্ত আমাদের সবাইকে সাবধানে থাকতে হবে।
আমি আমার মা এবং বোনকে চাচার বাসায় পাঠিয়ে দিয়েছি।
আমি এখন থেকে আমার কোর্ট অফিসে অবস্থান করবো, ঠিক আছে?
দোস্ত, একটা কথা বলি? রাগ করবি নাতো?
ভয়ের কিছু নেই।
পুলিশ অবশ্যই পালের গোদাটাকে খাচায় ভরবে।
সেটা না
জানি না আমি কোর্ট অফিসে আগামীকাল আমার পা রাখতে পারব কিনা।
আমরা কি ড্রিংক করতে পারি?
আর আজকে তোর জন্মদিন।
আর দেখ, আমার হাত কেমন কাপছে!
নইলে তোকে বলতাম না এসব?
চিয়ার্স...!
এখন আবার কে ফোন দিলো?
আনু কল দিয়েছে, ঠিক?
না দেখে তুই কিভাবে বললি বলতো?
সব মেয়েই তাদের নাগড়কে যন্ত্রনা করে যখন তার পিরিতের ঘুঘু সুরা পান করায় ব্যাস্ত থাকে।
জানি না তারা কিভাবে টের পায় এসব!
- হ্যালো...? - গৌতম?
হ্যাঁ, বলো আনু।
যদি তুমি এখন ফ্রি থাকো...
...আমার সাথে কি একটু দেখা করতে পারবে?
ও চাচ্ছে এখন আমার সাথে দেখা করতে?
বল, তুই এখন কাজে ব্যাস্ত আছিস।
আনু, আমি এখন অফিসে খুব গুরুত্বপূর্ন একটা কাজে ব্যাস্ত আছি।
আমার বের হতে অনেক দেরী হবে।
আমরা কি কাল দেখা করতে পারি?
আমার বাবা মা থিরুপাতিতে গেছে কয়েকদিনের জন্য।
বাসায় এখন কেউ নেই!
আমি বাসায় একা আছি। খুব ভয় লাগছে জানো?
ভেবেছিলাম তোমাকে বলবো আজকের রাতটা আমার বাসায় থাকতে।
ঠিক আছে। ব্যাস্ত যখন থাক।
আনু...আনু...দাড়াও।
- কখন আসতে হবে আমাকে বলো? - এক্ষুনি, এই মুহূর্তে!
- কিরে ভাই, কি ফুসমন্তর দিলো তোকে যে বের হয়ে যাচ্ছিস? - কিছু না, এমনি।
ওওওওও...এমনি!
আনু, আমি ৫ মিনিটের মধ্যে চলে আসছি।
বাই।
কি বললো সে?
ও আসতে রাজী হয়েছে!
আমরা যে ওর জন্য সারপ্রাইজ বার্থডে পার্টির আয়োজন করেছি তা কিন্তু ঘুনাক্ষরেও...
...ওকে বুঝতে দেওয়া যাবে না, ঠিক আছে?
হেই...!
বোতলের ছিপিটা মাত্র খুললাম আর তুই এখনই বেরিয়ে যাচ্ছিস?
আমার অফিসে একটা জরুরী কাজ আছে।
রাতে হয়তো বাসায় ফিরতে নাও পারি।
কাল সকালে দেখা হবে, ঠিক আছে?
বিদায়।
১ তলায় আমার বাবার শোবার ঘর।
সে আসার আগেই তোরা সবাই সেখানে গিয়ে লুকিয়ে থাকবি।
বাকিগুলো সব প্ল্যান অনুযায়ী হবে, ঠিক আছে?
আরে বাবা, আসছি তো!
হাই... ভেতরে আসো।
আনু, ঘরে কি আসলেই কেউ নেই?
আমি তো তোমাকে ফোনেই বলেছি সেটা!
তুমি আবার আমাকে জিজ্ঞেস করছো কেন? সন্দেহ করছো?
যখন তুমি এতোটা খোলামেলা...
...কেন আমি তোমাকে সন্দেহ করবো?
হেই...এখানে না।
কেন?
শোওয়ার ঘরে চলো।
চলো সেখানে যাই।
আসো।
ভেতরে আসো।
লজ্জাবোধ করো না।
তুমি কি জানো তোমাকে কেন আমি বাসায় ডেকেছি?
কেন?
আমি তোমার জন্য অনেক বড় একটা সারপ্রাইজের ব্যবস্থা করে রেখেছি!
আমার এটা আরও আগেই তোমাকে দেওয়া উচিত ছিল।
অনেক দেরী হয়ে গেল।
কিন্তু...
...এখন হচ্ছে তোমাকে সেই সারপ্রাইজটা দেওয়ার উপযুক্ত সময়।
কি করছে ও?
ছিইইই! আমাদের এসব দেখা উচিত হচ্ছে না।
কিন্তু এই মধুময় দৃশ্য আমাদের আর কতোক্ষন সহ্য করতে হবে?
বাহ! জীবনে প্রথম কোন খুল্লাম খুলা ভিডিও লাইভ দেখবো আজকে।
চিন্তা করো না।
যখন লাইটগুল অফ করে দেওয়া হবে...
...তুমি নিমেষেই সব বুঝে ফেলবে।
কিন্তু ততোক্ষন পর্যন্ত তোমাকে অপেক্ষা...
- তোমার কাপড় কই? - সেগুলো তো কখনই খুলে ফেলেছি।
এখন সারপ্রাইজ দাও...!
- আমি অপেক্ষা করছি, সোনা! - না...না...না!
কি হয়েছে?
না...না!
তুমি পুরোটাই উল্টো বুঝেছো!
যা ভাবছো সেটার জন্য তোমাকে এখানে আসতে বলিনি।
আজ তোমার খবর আছে!
ব্যাপারটা কি? এতগুলো পা দেখতে পাচ্ছি কেন?
এতজনকে এক সাথে আমি কিভাবে খুশী করবো?
তোমার কি মনে হচ্ছে না কোথাও একটা ভুল হচ্ছে?
দুঃখিত মেয়েরা!
হ্যালো...?
দেখ বাবা, কি ঘটে গেছে?
গৌতম, দেখো ওদের!
বালাজিইই!
একদিন আমি কেডি পাঠকের মত বিখ্যাত উকিল হব, দেখিস।
দেখিস!
'এরকম করিস না। আমি শেষে ফেসে যাবো'
'ভরসা রাখ আমার ওপর, তোর কিচ্ছু হবে না।'
খোদা, এ দৃশ্য দেখার আগে আমাকে মরন দিলে না কেন?
'কারণ আমাদের ডিপার্টম্যান্টেও জাল সার্টিফিকেটধারী লোকজন রয়েছে'
'এমন একটা সময় আসবে টিআরপি রেটিং বাড়ানোর এই অসুস্থ প্রতিযোগিতাটা...'
'আমাদের সবার ধংসের কারণ হবে' 'নিজেকে অসহায় মনে করিস না। '
'একজন রিপোর্টারের মত দৃষ্টিভঙ্গি নিয়ে সামনে আগা।!'
কি অবস্থা এখন তোর বন্ধুদের?
তুই কি এমন কোন পুলিশ অফিসারকে দেখেছিস যে বাচার জন্য কারও পায়ে ধরে কান্নাকাটি করছে?
তুই কি তার কাটা গলা দিয়ে গলগল করে রক্ত পড়ার দৃশ্যটা দেখেছিস?
আমি দেখেছি!
তুই আমার দুই ছেলেকে মেরে ফেলেছিস।
যারা তোর সাথে আছে, প্রত্যেকে একই ভাবে একটার পর একটা মরতেই থাকবে।
জীবনের ঝুঁকি নিয়ে আমার বিরুদ্ধে যে প্রমাণ গুলো হাতিয়ে নিয়েছিস...
...সেগুলো আবার আমাকে ফিরিয়ে দে।
তোর কাছে প্রমাণ থাকলেও তুই আমার একটা চুলও ছিড়তে পারবি না।
একজন পুলিশ অফিসার, একজন উকিল আর একটা লোকাল চ্যানেল।
এই হচ্ছে তোর নেটওয়ার্ক।
কিন্তু আমার নেটওয়ার্ক হচ্ছে মাকড়শার জালের মত ছড়ানো ছিটানো।
রাষ্ট্রের প্রতিটা সেক্টরে একজন হলেও আমার লোক রয়েছে।
এমন ব্যবস্থা করে রেখেছি যে তার চামড়া বাচাতে হলে তাকে আমাকে বাচাতে হবেই।
পারলে ধর আমাকে।
তোকে বেশি কষ্ট করতে হবে না।
কাছাকাছি কোন থানায় গিয়ে আত্নসমর্পন কর।
দেখবি তারা তোকে আমার কাছে পৌছে দেবে।
হাই বন্ধুরা!
একজন রিপোর্টার হিসেবে আমাদের প্রত্যেকেরই উচিত মানুষজনকে আসল সত্যটা জানানো।
কিন্তু এসব কিছুই আমরা এতদিন করতাম আমাদের ব্যাক্তিগত সাফল্যের জন্য।
নয়তো আমাদের চ্যানেলের টিআরপি রেটিং বাড়ানোর জন্য।
যে সংবাদটা আমরা সম্প্রচার করতে যাচ্ছি...
...সেটা প্রতিটা শিক্ষার্থীর জীবনের কল্যান নিশ্চিত করবে।
একজন শিক্ষার্থী তার লেখাপড়া শেষ করেছে নাকি করেনি?
সে কি মেধাবী নাকি মেধাবী নাt?
একটা কাগজ সেটা কিছুতেই নির্ধারন করে দিতে পারে না।
এটা আমাদের যার যার পরিচয়।
কিছু নর্দমার কীট সেটা আমাদের অজান্তেই চুরি করছে।
এবং কিছু জ্ঞানপাপীর কাছে সেটা বিক্রি করছে।
যোগ্য লোকের স্থান নিমেষেই ভর্তি হয়ে যাচ্ছে অযোগ্য লোকদের দ্বারা...
এর কারনে, একজন ইঞ্জিনিয়ারিং এ পাঁশ করা মেধাবী ছাত্রকে মাত্র ৫ হাজার টাকার বেতনে চাকরি করতে হচ্ছে।
প্রত্যেক শিক্ষার্থীর লেখাপড়ার পেছনে একজন বাবার হাড়ভাঙ্গা পরিশ্রম...
আর একজন মায়ের দুচোখ ভরা স্বপ্ন থাকে।
কিন্তু এই ঘৃন্য কাজের মাধ্যমে...
...তারা সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অযোগ্য লোকদের বসিয়ে দিচ্ছে।
এখন একজন যোগ্যতাসম্পন্ন ব্যাক্তিকেও চাকরির জন্য বাধ্য হয়ে ঘুষ দিতে হয়।
যেখানেই যাও না কেন, দুর্নীতি সবখানে আষ্টেপৃষ্ঠে আমাদেরকে বেধে রেখেছে।
কেউই আসলে পুরোপুরি পারফেক্ট নয়।
শুধুমাত্র এই চিন্তাধারার কারনে...
...আমরা ঘুষ আদান প্রদানকে জীবনের একটা অংশ বানিয়ে ফেলেছি।
যারা প্রতি পদক্ষেপে ঘুষ দাবী করে তারা দেশ ও দশের শত্রু।
অইসব হৃদয়হীন মানুষ তখনই কাজ করে যখন তারা ঘুষ পায়।
কিন্তু ঘুষ খাওয়ার পরেও তারা সেই কাজটা সুনিপুনভাবে করে না...
কারণ সেই কাজ করার কলাকৌশলটাই সে ভাল করে জানে না।
এই ধরনের লোকদের মূলোৎপাটন করতে হলে শুধু একটা উপায়ই আছে।
এই জালিয়াতির সব খবরাখবর সরাসরি জনগণকে জানাতে হবে।
যে বা যারা এই জালিয়াতির সাথে যুক্ত থাকবে সবাইকে চিহ্নিত করতে হবে।
একমাত্র আমরা সেটাই করতে পারবো।
থিরুপাতি, তুই এই কাজের জন্য সবচেয়ে যোগ্য ব্যাক্তি।
অল্প কিছু সময়ের জন্য, তোর নাম হচ্ছে ভেংকাটেশ।
আমরা সবাইকে বিশ্বাস করাবো যে একজন অস্তিত্বহীন মানুষ রয়েছে।
যে ৪র্থ শ্রেনীর পর আর পড়াশোনা করেনি...
...তুই ভেতরে যাবি, তাদেরকে বলবি তোর একটা জাল সার্টিফিকেট লাগবে।
তোর শুধু যেটা করতে হবে...
...এই স্পাই ক্যামেরার মাধ্যমে ওর গোমরটা ফাঁস করতে হবে।
...আমি গাড়ি থেকে প্রতিটা পদক্ষেপে তোকে দিকনির্দেশনা দেবো।
'সরকারী এবং বেসরকারী সেক্টর গুলোতে যেসব অযোগ্য লোক বিরাজ করছে...'
'...তার পুরো তালিকা এবং তাদের পেশা পদবী সম্পর্কে সব তথ্য...'
'...আমার ল্যাপটপে যে কোনভাবেই হোক তোকে ট্রান্সফার করতে হবে।'
'যাই কিছু ঘটে যাক না কেন...'
'...এই খবরটা টিভিতে সম্প্রচার করতেই হবে।'
হ্যালো, ভাই।
এটাই হচ্ছে সেই এমবিবিএস পার্টি যার কথা ফোনে আপনাকে বলেছিলাম।
- কি নাম আপনার? - ভেংকাটেশ।
সাথে কোন পরিচয়পত্র আছে?
৮ লাখ লাগবে কিন্তু।
আমি সাথে করে টাকা নিয়ে এসেছি, ভাই।
ব্যাগটার তল্লাশি নে।
সে টাকা সাথে করেই নিয়ে এসেছে।
ভাস্কর, এখন যা তুই।
আবার দেখা হবে, ভাই।
ধন্যবাদ, ভাই।
আপনার ছবি আর বিস্তারিত তথ্য দিন।
এটা তো বার্মা ম্যানশনে যাওয়ার রাস্তা নয়।
সে তার আস্তানা পরিবর্তন করেছে তাহলে।
বসুন এখানে।
যদি কোন কিছুর জিজ্ঞাস করার থাকে তো আমি আপনাকে কল দেবো।
থিরুপাতি, তোর ঘড়ি রুমের দিকে তাক কর।
'ক্যামেরাটা অন কর।'
ক্যামেরা চালু, স্যার।
ভাল!
এখন ভেতরে যা।
প্রধান সার্ভার রুমটা কোথায় খোঁজ কর।
লুকা...কেউ আসছে!
হ্যাঁ, পেয়ে গেছি!
এখন আমি যা বলবো ঠিক সেইমতই কাজ কর।
নিন, যা চেয়েছিলেন।
এমবিবিএস সার্টিফিকেট
পুরো যত্নসহকারে তৈরী করা হয়েছে
দেখুন, ঠিক আছে কিনা।
আমাদের যা প্রমাণ দরকার আমরা পেয়ে গেছি।
অই জায়গাটা যত দ্রুত সম্ভব বের হয়ে যা।
ধন্যবাদ বস, আপনার কাছে আমি ঋনী হয়ে গেলাম!
ঠিক আছে, আর কোন কিছুর দরকার হলে আমার সাথে যোগাযোগ করবেন।
আসি, ভাই।
কে আপনি?
সে আমার চেনাপরিচিত ভাই। ভয়ের কিছু নেই।
কি নাম আপনার?
ভয় পাস না।
তোর ভয় তার মনে সন্দেহের সৃষ্টি করবে। স্বাভাবিক থাক।
আমার নাম ভেংকাটেশ।
কোথায় কাজ করেন আপনি?
বালাজি হাসপাতালে কম্পাউন্ডার হিসেবে কাজ করি।
সেখানে কতদিন ধরে আছেন আপনি?
৮ বছর
হাসপাতালে আপনার নাম্বারটা বলুন আমাকে।
হ্যালো, বালাজি নার্সিং হোম। কি সাহায্য করতে পারি আপনাকে?
বালাজি নার্সিং হোম, স্যার।
আমি কি কম্পাউন্ডার ভেংকাটেশের সাথে কথা বলতে পারি?
সেতো আজকে আসে নি, স্যার।
কোন মেসেজ থাকলে বলুন, ও আসলে জানিয়ে দেব ওকে।
আপনি কি তার মোবাইল নাম্বারটা আমাকে দিতে পারবেন?
১ মিনিট, স্যার?
'হাহাহাহা... আজ তোর জীবনের শেষ দিন।'
এসব প্ল্যানিং কবে করলি তুই?
তাকে পুরোপুরি তল্লাশি করো।
বাইরে চেক করে দেখো, কোন গাড়ি আছে কিনা।
যদি আমরা ধরা পড়ে যাই রে, থিরুপাতিকে জানে মেরে ফেলবে একেবারে।
সেন্থিল, পেছনে নিয়ে যা গাড়িটাকে।
কেউ কি আছে গাড়িতে?
না
এই গাড়িটাতেr?
- কেউ নেই গাড়িতে। - চল, ফিরে যাই।
পরিষ্কার।
বাইরেও চেক করে দেখেছি, ভাই।
কেউ নেই।
তাকে দাও ওটা।
আমি কি এখন যেতে পারি, স্যার?
সে ভাই একটা গরুর মত শান্তশিষ্ট মানুষ।
হুদাই মারলেন আমাকে।
দেখেন, সে এতো ভয় পেয়েছে, চশমাটাই নিতে ভুলে গেছে।
ছেলেটাকে কল দে।
কি এত খুটিয়ে দেখছেন এটা? ২০০ টাকার বেশীও হবে না ঘড়িটা।
চশমার ডাটাটা তুলনামূলক একটু ভারি।
স্পাই ক্যামেরা!
সর্বনাশ! আমাদের স্পাই ক্যামেরাটা বের করে ফেলেছে সে।
থিরুপাতি, তাড়াতাড়ি আয়।
ধর শালাকে।
আয়...আয়!
তাড়াতাড়ি আয়।
সেন্থিল, প্রস্তুত থাক।
হেই তুই! থাম।
দৌড়া... দৌড়া তাড়াতাড়ি!
ধর ওকে!
'এখ যে কেউই চাইলে রাতারাতি একজন ডাক্তার, ইঞ্জিনিয়ার হয়ে যেতে পারে'
'...তার কাছে যদি সে যোগ্যতা না থাকে তবুও...'
'একটা জাল সার্টিফিকেট সেই অসাধ্যকে সম্ভব করে।'
'আমাদের কাছে নিরেট তথ্যপ্রমান রয়েছে যে একটা একটা চক্র এই জালিয়াতি কার্যক্রমের সাথে যুক্ত।'
'এই চক্রটা অসংখ্য শিক্ষার্থীর জীবনকে প্রশ্নের মুখে ফেলে দিয়েছে।'
'অনেকে এর জন্য আত্নহত্যাও করেছে।'
'এই বেইমানেরা সমাজের রন্ধ্রে রন্ধ্রে অযোগ্য লোকদের বসিয়ে দিয়েছে...'
'...যার জন্য আমাদের দেশের উন্নয়নের গতিপথ বাধাগ্রস্ত হচ্ছে।'
'...তারা এ ছাড়াওl-'
সিগন্যাল হারিয়ে ফেলেছি।
কি হয়েছে?
কোন সিগন্যাল নেই।
সোজা আমাদের অফিসের দিকে ড্রাইভ কর।
হ্যাঁ আল্লাহ্ ধন্যবাদ, তারা ভালোয় ভালোয় চলে এসেছে!
গৌতম, তাড়াতাড়ি আসো!
তাড়াতাড়ি!
দৌড়াও...দৌড়াও!
'আজকের সকালে পুরো দেশ থরথর করে কেঁপে উঠেছে...'
'...এই ভয়াবহ জাল সার্টিফিকেট জালিয়াতির গোমর ফাঁস হওয়ার খবরে।'
'অনেক উচ্চপদস্থ কর্মকর্তাকে এ জন্য গ্রেফতার করা হয়েছে।'
'সরকারী এবং বেসরকারী প্রতিষ্ঠানের চেয়ার দখল করে রেখেছে অযোগ্য ব্যক্তিবর্গ।
'বাদ যায়নি সরকারী কর্মকর্তা, ইঞ্জিয়ানিয়ার'
'ব্যাংক কর্মকর্তা'
'স্কুল শিক্ষক এবং কলেজের প্রফেসরের পদ্গুলোও।'
'পুলিশ...'
'এই তালিকার ওপর ভিত্তি করে...'
'...পর্যায়ক্রমে পুরো দেশে সকল জাল সার্টিফিকেটধারীকে একে একে গ্রেফতার করছে।'
'সবচেয়ে ভয়াবহ খবরটা হচ্ছে...'
'...ডেথ সার্টিফিকেটও জাল করা হচ্ছে বীমা প্রতিষ্ঠান থেকে টাকা তোলার জন্য।'
'পাশাপাশি শান্তি শৃংখলা রক্ষার কাজে যেসকল বাহিনী নিয়োজিত আছে...'
'...তাদেরকেও এই গ্রেফতারের আওতায় আনা হচ্ছে।'
'...প্রায় সকল ধরনের সার্টিফিকেট'
'...এই চক্রটি চড়ামূল্যে মানুষের কাছে বিক্রি করতো।'
'এই চক্রের পর্দা ফাঁস করার জন্য এবং জালিয়াতির ব্যাপারে মানুষের নৈতিক অবস্থানের সুরতহাল করার জন্য...'
'...সকল কৃতিত্ব দেওয়া হচ্ছে স্কাই টিভির রিপোর্টার গৌতম রামালিঙ্গামকে।'
'...যাকে বিশেষ অ্যাওয়ার্ড প্রদানের মাধ্যমে বিরল সম্মানে ভূষিত করেছেন পুলিশ কমিশনার জনাব অশোক কুমার।'
তুমি পেরেছYou made it
'যখন থুরা সরকার এই জালিয়াতির...'
'...প্রমাণগুলো লোপাট করার চেষ্টা করছিল'
'...তখন চ্যানেলের কর্মীদের সাথে ধ্বস্তাধস্তির এক পর্যায়ে তিনি গুরুতরভাবে আহত হোন।'
'কড়া পুলিশি নিরাপত্তা এবং নজরদারীতে তাকে সরকারী হাসপাতালে চিকিৎসা করা হচ্ছে।
তার স্পাইনাল কর্ড মারাত্নকভাবে ক্ষতিগ্রস্ত হওয়ার কারনে তার পুরো শরীর প্যারালাইজড হয়ে গিয়েছে ।
আমরা এই অবস্থাকে বলি কুয়াড্রিপ্লেগিয়া।
যদি তার অবস্থার কোন উন্নতি প্লিজ আমাদেরকে জানাবেন।
জি, অবশ্যই।
তার মত অপরাধীকে গনপিটুনি দিয়ে মারা উচিত।
অনেক শিক্ষার্থীর জীবন বরবাদ হয়ে গেছে এই শয়তানটার কারনে।
এটা অনেক গুরুত্বপূর্ন একটা কেস।
তাকে ডেক্সটন ইঞ্জেকশনটা দাও।
আর নজরদারীতে রাখো।
ঠিক আছে, ডাক্তার।
আমি কি ভুল ইঞ্জেকশনটা দিয়েছি?
বুঝতে পারছি না!
কি হয়েছে?
এটা কি সর্বনাশ করেছো তুমি?
পালস রেট কমে যাচ্ছে!
চোখের পাতাও বারবার নড়ছে!
দুঃখিত, ডাক্তার।
তোমার "দুঃখিত" দিয়ে কি আমি পানি খাবো?
এটা নিয়ে এই বছর ৫ বার এরকম ঘটনা ঘটালে!
তোমার কারনে আমাদের হাসপাতালের সুনাম দিনদিন নিচে নেমে যাচ্ছে?
কোথায় পড়াশোনা করেছো তুমি?
তোমার মত ডাক্তারের কারনে
...পুরো চিকিৎসা ব্যবস্থাটার মান তলানিতে নেমে যাচ্ছে।t
তুমি কি আসলেই মেডিসিনে পড়াশোনা করেছিলে? নাকি এখানে এসেছো জাল সার্টিফিকেট নিয়ে? কোনটা?
'২ জন মানুষ মারা গেছে ডাক্তারদের ভুল চিকিতসার জন্য।'
'তাদের জাল সার্টিফিকেটগুলো জব্দ করা হয়েছে।'
Download movie subtitles or Load it directly from url on TheSubtitles.net
Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.