Afrikaans
Akan
Albanian
Amharic
Arabic
Armenian
Azerbaijani
Basque
Belarusian
Bemba
Bihari
Bosnian
Breton
Bulgarian
Cambodian
Catalan
Cebuano
Cherokee
Chichewa
Chinese (Simplified)
Chinese (Traditional)
Corsican
Croatian
Czech
Danish
Dutch
Esperanto
Estonian
Ewe
Faroese
Filipino
Finnish
French
Frisian
Ga
Galician
Georgian
German
Greek
Guarani
Gujarati
Haitian Creole
Hausa
Hawaiian
Hebrew
Hindi
Hmong
Hungarian
Icelandic
Igbo
Indonesian
Interlingua
Irish
Italian
Japanese
Javanese
Kannada
Kazakh
Kinyarwanda
Kirundi
Kongo
Korean
Krio (Sierra Leone)
Kurdish
Kurdish (Soranî)
Kyrgyz
Laothian
Latin
Latvian
Lingala
Lithuanian
Lozi
Luganda
Luo
Luxembourgish
Macedonian
Malagasy
Malay
Malayalam
Maltese
Maori
Marathi
Mauritian Creole
Moldavian
Mongolian
Myanmar (Burmese)
Montenegrin
Nepali
Nigerian Pidgin
Northern Sotho
Norwegian
Norwegian (Nynorsk)
Occitan
Oriya
Oromo
Pashto
Persian
Polish
Portuguese (Brazil)
Portuguese (Portugal)
Punjabi
Quechua
Romanian
Romansh
Runyakitara
Russian
Samoan
Scots Gaelic
Serbian
Serbo-Croatian
Sesotho
Setswana
Seychellois Creole
Shona
Sindhi
Sinhalese
Slovak
Slovenian
Somali
Spanish
Spanish (Latin American)
Sundanese
Swahili
Swedish
Tajik
Tatar
Telugu
Thai
Tigrinya
Tonga
Tshiluba
Tumbuka
Turkish
Turkmen
Twi
Uighur
Ukrainian
Urdu
Uzbek
Vietnamese
Welsh
Wolof
Xhosa
Yiddish
Yoruba
Zulu
মুভির নামঃ Action Hero Biju (মালায়লাম) -:অনুবাদ ও সম্পাদনা:- মোহাম্মদ ইউসুফ রুবায়েদ হাসান
স্যার, কারাটে রাজেশের খোজ পাওয়া গেছে।
কোথায়?
যদি চান তো এখন এই মুহূর্তে তাকে গ্রেফতার করতে পারবেন স্যার!
আমি তার লোকেশন স্কেচ করেছি, স্যার।
ও ঠিক কোথায় আছে ভালো করে খোজ নাও। আমি আসছি! ১০ মিনিট লাগবে!
- তারা কোথায়?
ব্রিজ পার হলেই ঐখানে একটা জঙ্গল আছে স্যার।
তারা ঐখানে, স্যার।
- ঠিক আছে। গাড়িতে বসো।
থামুন, স্যার।
বামে।
- এখন কোথায় যাবো?
এটা একটা দ্বীপ, স্যার।
মধু, তোমরা অন্যদিক দিয়ে আসো। আমি এদিক দিয়ে যাচ্ছি।
ভয় পেয়ো না। এই রুমাল দিয়ে মুখ বেধে নাও।
ঐ যে! তাদের বাইক, স্যার।
তাদের আশেপাশেই থাকা উচিত, স্যার।
তারা ঐখানে, স্যার!
দেখুন...
শালা!!
ভালোয় ভালোয় আমাদের সাথে চল! ঝামেলা করার চেষ্টা করবি না!
ধরে ফেলেছি!!
আমি বললাম না আপনি সমস্যায় পড়তে পারেন, স্যার?
এক মাস আগে...
কেরালার মাটিতে বেড়ে উঠা...
নারিকেল গাছের এই ফল...
'কেরা' ফল।
উপনাম, নারিকেল;
চটজলদি সারিয়ে দেয়...
অনেক ভয়ানক রোগের!
ডমিনিক, কয়েকটা নাও!
এগুলো নারিকেল দিয়ে তৈরি।
ভালো!
নারিকেল দিয়ে তৈরি, তাই না?
খুবই সুস্বাদু!
এগুলো নারিকেলের বরফি। আর অন্যগুলো কুকিজ।
টিভিতে রান্নার অনুষ্ঠানগুলো দেখে এগুলো বানিয়েছি।
মনাচনের বাচ্চারা এগুলো খেতে খুব পছন্দ করে!
আমি এগুলো খাই না। ডায়াবেটিসের ব্যারাম আছে আমার।
ঈশ্বরের কৃপায়, আমার এখনো ডায়াবেটিস ধরেনি।
ধরতে আর কতক্ষণ!
এটা কি!
কি?
দাদী, আমি এখানে এসেছি..
আসলে আমাদের কুঞ্জুমলের বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।
সামনের মাসের ১৫ তারিখে।
বর কোথায় কাজ করে?
সে একজন পুলিশ, দাদী!
পুলিশ?
সে একজন সাব ইন্সপেক্টর।
ওহ, ভালো।
আমাদের পরিবারে একজন সাব ইন্সপেক্টর আসছে ভেবেই গর্ব হচ্ছে।
তো, তার নাম কি? - বিজু।
সাব ইন্সপেক্টর বিজু। সুন্দর নাম!
কুঞ্জুমলের আসল নাম কি?
আমি তো ভুলে গিয়েছি।
বেনিটা।
কি?
বেনিটা ডমিনিক।
বেনিটা ডমিনিক।
বিয়ের অনুষ্ঠানের জন্য মানুষকে নিমন্ত্রণ করা খুবই ক্লান্তিকর কাজ।
বাবা, আমি তো তোমাকে আগেই বলেছি ফেসবুকে একটা ফ্যামিলি গ্রুপ খুলতে।
সেখানে নিমন্ত্রণ জানিয়ে একটা পোস্ট করলেই হয়ে যেত। খুবই সহজ!
তোমার ঐ দাদা, যার এক পা এখনই কবরে তার কি ফেসবুক একাউন্ট আছে?
তোমার কোন ধারণাই নেই, বাবা! দাদার বর্তমানে দুইটা একাউন্ট আছে!
তাই না, আপু? - হ্যা, বাবা!
আমি হতাশ হচ্ছি না।
অনেক আগে একবার আমি একজন পুলিশ অফিসারের কাছ থেকে প্রস্তাব পেয়েছিলাম।
তাহলে তাকে কেন বিয়ে করোনি?
ঐ সময়ে, পুলিশরা অনেক ভয়ংকর হতো।
লাল লাল চোখ, চিকন গোঁফ আরও কত কি!
আমি পুলিশদের খুবই ভয় পেতাম!
কিন্তু, এই পুলিশ অফিসার একদম আলাদা! দেখলেই মনটা ভালো হয়ে যায়!
আসলেই!! সে খুব সুদর্শন আর দয়ালু প্রকৃতির!
আমি ভেবেই অবাক হয়ে যাই যে, সে কিভাবে গুন্ডাদের নিয়ন্ত্রণ করে!
সে অন্য গুন্ডাদের মতো না।
সে একজন পাক্কা ঘুঘু!
মাট্টানচেরি মার্টিন!
সে খুবই বদমেজাজি!
তার বিরুদ্ধে মোট ২৬ টা কেস আছে।
আজ সকালে...
থেবাড়া জংশনে...
কেউ একজন তার বাইক এই লোকের বাইকের পাশে পার্ক করে। কিন্তু লোকটার সেটা পছন্দ হয়নি।
সে একজন গুন্ডা, তাই না? তার মাথা গরম হয়ে যায়!
এজন্য সে তার চাকু বের করে আর লোকটার পেটে ঢুকিয়ে দেয়!
লোকটি এখন আইসিইউতে আছে।
কোনোমতে বেঁচে গেছে কিন্তু বিনিময়ে একটা কিডনি তাকে হারাতে হয়েছে!
শুনেছিস?
সে একটা কিডনি হারিয়েছে!!
একজনের রাগের কারণে!!
একদম বাড়াবাড়ি হয়ে গিয়েছে!
এখন শোন!!
আমার স্টেশনে মাত্র একটাই গুন্ডা থাকবে!
বুঝতে পারলি??
হ্যা, স্যার!
গত ৩-৪ দিনে, ৩য় বারের মতো
বাইকাররা মহিলাদের চেইন চুরি করছে এমন রিপোর্ট করা হয়েছে।
এর মধ্যে কাউকে ধরতে পেরেছো? নাকি তাদের ধরতে আমাকে যেতে হবে?
তুমি ধরতে না পারলে বুঝবো, তোমার পুলিশের উর্দি পরার যোগ্যতা অর্জন হয়নি!
এরপর যখনই চেইন চুরি করার কেস আসবে...
তুমি যদি ওয়্যারলেসে ঠিকমত যোগাযোগ করো...
তাহলে সহজেই তুমি তাদের ধরতে পারবে!
গত ১০ বছরে চেইন চুরির সাথে অভিযুক্ত সকলকে নিয়ে একটা লিস্ট তৈরি করো।
যাচাই-বাছাই করে লিস্টটা আমার কাছে জমা দাও।
এসএলএস-কে কার্যকর অ্যাকশন নিতে হবে।
আর সিএলএস এবং ডিওয়াইএসপিদের ভালোভাবে মনিটরিং করতে হবে। ওভার!
নির্দেশগুলো আমার কাছে স্পষ্ট, স্যার। আমি লিস্ট তৈরী করে যাছাই বাছাই করে আপনার কাছে পাঠিয়ে দেবো।
শুভ সকাল, স্যার। ওভার!
পি-১৮, কোবরা!
কোবরা - এসআই ১৮ বলছি, শুভ সকাল, স্যার!
স্যার, চারটা কেস রিপোর্ট করা হয়েছে।
তার মধ্যে, দুইটা কেস মদ্যপান করে গাড়ি চালানোর জন্য।
৩য় কেসটা ১৫-সি অবকরি অ্যাক্টের অধীনে রেজিস্টার করা হয়েছে।
আর ৪র্থটা ১১৮/এ কেপিএ-এর অধীনে।
৭২টা এমই পেটি আছে। ১৪টা জিএল পেটি আছে।
৮টা ওয়ারেন্ট এক্সিকিউট হয়েছে। ৪১টা ওয়ারেন্ট এখনো পেন্ডিং আছে।
১৭ টা সমোন উপস্থাপন করা হয়েছে। ৩২টা বাকি আছে।
৪১টা কেস তদন্ত করা হচ্ছে, স্যার।
দ্যাট'স অল। শুভ সকাল, স্যার! ওভার।
যত তাড়াতাড়ি সম্ভব কেসগুলোর তদন্ত শেষ করুন!
নির্দেশনাগুলো স্পষ্ট, স্যার।
স্যার, স্টেশন গার্ড ডিউটিতে এসেছে।
ওয়্যারলেস সেটগুলো শীঘ্রই চেক করো। - ওকে, স্যার।
ওমেন ডেস্ক, স্যার।
যে যে মহিলারা অভিযোগ করেছে তাদের নাম ও তথ্য সংগ্রহ করো...
ওমেন ডেস্কের রেজিস্টারে। - আচ্ছা, স্যার।
যদি কোন বৃদ্ধ লোক আসে, তাকে আমার কাছে পাঠিয়ে দিয়ো। তাদের অপেক্ষায় রাখবে না।
ডে জিডি, স্যার।
জিডিতে কেস আর আবেদন গুলো ঠিকভাবে তুলবে। কিছু যাতে বাদ না যায়!
কিং নিরভন, আজ কি? - ডে & নাইট, স্যার।
তোমাকে থাকতে হবে - ওকে, স্যার।
স্যার, এফআইআর রেজিস্টার করতে হবে।
সব এফআইআর সম্পন্ন করো আর আজই তাদের রিপোর্ট করে দাও।
ওকে, স্যার।
মিনি কোথায়?
মিনি!!
মিনিমল না। মিনিমণ!!
স্যার, মিনি স্যারকে ডাকা হয়েছে।
মিনি স্যার!
স্যার আপনাকে ডাকছে।
আপনি টুপি আনতে ভুলে গিয়েছেন?
প্রত্যেকদিনের মতো আজও আপনি দেরিতে এসেছেন।
আঙ্গিনার কলার গাছের বীজ পুতেছিলাম, স্যার।
চাকরি তো আর সারাজীবন ধরে করবো না, তাই না স্যার?
কলা চাষের পাশাপাশি এই চাকরিতেও পারলে কিছু মনোযোগ দাও।
আজকের কাজ কি?
স্যার, আমরা কয়েকজন আবেদনকারীকে এনেছিলাম গতকাল।
তাদের বিপক্ষ দল আসছে। শুধু আমিই এখানে থাকবো।
এই কেসটা আপনি হ্যান্ডেল করবেন।
ওকে
হ্যালো, বাবা!
ঐ জসুট্টি আমার পেছনে ঘুরঘুর করছে।
তাকে কি ক্যাটারিং-এর প্রস্তাব দেব?
না, বাবা। সে অনেক বেশি চাচ্ছে।
আমার এক বন্ধু আছে। আমি তার সাথে আগে কথা বলে দেখি।
ওকে। - কতদিনের ছুটি..
তোমার মা জিজ্ঞাস করছে যে, কতদিনের জন্য ছুটি পাবে?
আমাদের এখানে আবেদন করার পর জানা যায়, কতদিনের ছুটি পাওয়া যাবে।
ঠিক আছে, তাহলে। তুমি যখন ফাঁকা থাকবে তখন আমাদের কল করো।
আচ্ছা, বাবা।
হ্যালো! টাউন এসএল।
কুকুর পাঠানো হয়েছে?
বাচ্চার বয়স কত?
নাম কি?
মালবিকা।
সুবের,
তোমাকে জেনারেল হাসপাতালে যেতে হবে।
কেউ একজন আমাকে কল করে বললো, একটা কুকুর ১২ বছরের এক বাচ্চাকে কামড়িয়ে রক্তাক্ত করেছে।
তুমি সেখানে গিয়ে সব খোজখবর নিয়ে আমাকে ফোন দিয়ো।
স্যার, যে মেয়েটা বেতনের আবেদন করেছিল সে এসেছে।
তাকে ভেতরে আসতে বলো।
আসুন।
বসুন।
তো আপনি ফ্লাই ওভারসীস এজেন্সিতে কাজ করতেন?
হ্যা।
কতদিন কাজ করেছেন? - দেড় মাস।
কিন্তু আপনাকে বেতন দেওয়া হয়নি?
না। আমাকে শুধু ১০০০ টাকা দেওয়া হয়েছিল আগাম বেতন হিসেবে।
এজেন্সির কর্মচারীরা এখানে এসেছে?
হ্যা, স্যার। - তাদের ভেতরে আসতে বলো।
ঐখানে কতদিন যাননি?
৩ সপ্তাহ।
আমি ছারতলা থেকে এসেছি, স্যার।
আমি যখন ছেড়ে দিই তখন আমার কাছে বাড়ি যাবার মতো টাকাও ছিল না।
এই 'ফ্লাই ওভারসীস ম্যানপাওয়ার' আপনার কোম্পানি?
এই মেয়েটা অভিযোগ করেছে যে, সে এখনও তার বেতন পায়নি..
আপনার এজেন্সিতে কাজ করে।
স্যার, আমাদের কোম্পানির কিছু আইনকানুন আছে।
সেই অনুযায়ী, তাকে একটা নোটিশ দেওয়া হয়েছিল যে, তাকে অন্তত ৩ মাস...
কাজ করতেই হবে। সেও এতে রাজি ছিল।
কিন্তু চুক্তি মোতাবেক সে তার কথা রাখেনি। এটাই সমস্যা, স্যার।
স্যার, আইনকানুন অনুযায়ী...
তারা তো আমাকে মাস শেষে বেতন দেবে, তাই না?
তারা আপনার বেতন কত ধার্য করেছিল? - ১০, ০০০।
১০, ০০০।
আপনি ঐখানে কাজ করেছেন কতদিন? - ৫০ দিন।
তারা আপনাকে ১০০০ টাকা অগ্রিম দিয়েছে, তাই না?
১৫, ০০০ টাকা।
এটা তো আপনাদের কাছে খুবই কম, তাই না? এতটুকু ব্যবস্থা করতে পারছেন না?
কিন্তু, স্যার...এর মধ্যে...
স্যার, আমি অনেকবার গিয়েছিলাম তাদের কাছে টাকা চাইতে।
কিন্তু তারা আমাকে বলেছিল আমার বিরুদ্ধে কেস করবে।
এমনকি আমার কাছে বাড়িতে যাবারও টাকা ছিল না।
আমি আমার প্রতিবেশীদের কাছ থেকে ধার করে এই কয়দিন চলেছি।
আমার বাবা মৃত, স্যার।
আমার শুধু মা ও ক্লাস নাইনে পড়া একটা বোন আছে।
আমরা অসুবিধায় আছি, স্যার।
কে অসুবিধায় নেই, স্যার?
কোম্পানির কিছু আইনকানুন আছে।
সে আমাদের কোম্পানির চুক্তিতে রাজি হয়েছিল।
এখানে তো আবেগী কোন কথা বলার সুযোগ নেই।
সে একজন মহিলা, তাই না? আমাদের তার দিক থেকেও ভাবা উচিত না?
সে তো কমপক্ষে ৫০ দিন কাজ করেছে, তাই না?
আমরা আমাদের দিক থেকে ঠিক কাজ করেছি।
সে ইচ্ছে করলে কোর্টেও যেতে পারে।
শুধু এটাই না, এরকম কোন কেস করা যায় না পুলিশ স্টেশনে।
আপনার মোবাইল এখানে রাখুন। - অ্যা?
মোবাইল এখানে রাখুন।
আপনার মোবাইলও।
তোদের অফিস কোথায়?
পা.. পা.. পানামপিলি নগরে, স্যার।
এলাকাটা কি এই স্টেশনের মধ্যে পড়ে? - হ্যা, স্যার!
ঐ অফিসে চাকরি পেতে কি কি দরকার হয়?
স্যার, আমরা কম টাকায় বাইরে মানুষ পাঠাই ।
কোম্পানিতে তোর পজিশন কি?
স্যার, আমি শিন্টো। ম্যানেজিং ডিরেক্টর।
এ কে? - কর্মী, স্যার।
আমি তোদের অফিসের সব ডকুমেন্ট এখানে চাই...
১০ মিনিটের মধ্যে! - স্যার, আমি...
তোর কর্মীদের পাঠা আর নিয়ে আসতে বল!
স্যার, আমার মোবাইল... - আমি আর কথা বলতে চাই না!
স্যার,
ট্রাফিক পুলিশ দুইটা বদমাশকে ধরেছে।
তাদের বাইকের নাম্বর প্লেট নেই আর হেলমেটও ব্যবহার করে না।
ডাকো তাদের।
নাম কি?
শরৎ।
তোমার? - সুজিত।
কোথায় থাকো?
কুমবালঙ্গি।
কুমবালঙ্গির কোথায়? - দক্ষিণে..
তোমার? - পাল্লুরুতী ভেলি।
কোথায় কাজ করো তোমরা?
লেয়িং টাইলস..
বাবার নাম কি? - সুরেন্দ্রন।
কুঞ্জাপ্পন।
বাবা কোথায় কাজ করে? - নির্মাণ শ্রমিক।
তোমার? - বিয়েবাড়ি সাজায়, স্যার।
আমাদের বাবা প্রায় একই কাজ করে!
লাইসেন্স কোথায়? - ঐ স্যারকে দিয়েছি।
কোন, স্যার? - আপনি, স্যার।
বাইকের নম্বর প্লেটের কি হয়েছে?
ভেঙে গিয়েছে।
তোমার? - স্ক্রু হারিয়ে গিয়েছে।
কি? - স্ক্রু হারিয়ে গিয়েছে, স্যার।
চুপ!!
আমার সাথে মজা করা হচ্ছে? অ্যা?
আমি জিজ্ঞাস করেছি কি হয়েছে তোদের নম্বর প্লেটের!
ওদের বিরুদ্ধে ১১৮ চার্জ করো।
ওদের বাইকগুলো পেছনের উঠোনে ফেলে দিয়ে আসো।
ওদের কোণায় দাঁড়িয়ে থাকতে বলো। গেট লস্ট!
যাও...
সব কাগজপত্র এখানে আছে, স্যার।
এটা কুরুপ স্যারের আসল.. - হ্যা, সব আছে।
স্যার, কাগজগুলো..
মেয়েটাকে ডাকো..
স্যার, এখানে সব কাগজপত্র আছে।
অভিবাসীদের সার্টিফিকেটের প্রোটেক্টর আছে?
স্যার, কোম্পানির কর্পোরেশন সার্টিফিকেট আছে।
কর্পোরেশন সার্টিফিকেট না। আপনারা কোম্পানির মাধ্যমে মানুষকে বাইরে পাঠাতেন, তাই না?
এর জন্য অভিবাসীদের সার্টিফিকেটের প্রোটেক্টর দরকার হয়। সেটা আছে?
আমার মনে হয় তারা এরকম কথা প্রথম শুনছে, স্যার।
কিছু না জেনেই, একটা ঘর ভাড়া নিয়ে, একটা কোম্পানি খুলে নিলেন!
নিজেকে এমডি বলে, মানুষদের ঠকানো হচ্ছে!
তুমি! এদের ব্যাপারে খোঁজখবর নেওয়া শুরু করো।
তারা কতজন মানুষকে সার্টিফিকেট ছাড়া বাইরে পাঠিয়েছে বের কর।
কোম্পানি বন্ধ করে দাও। একটা এফআইআর জারি করো ও ওদের রিমান্ডে নাও।
স্যার, আমি তাকে বেতন দিয়ে দেব।
না!! তাকে বেতন দেওয়ার দরকার নেই।
স্যার, আমার বিয়ে সামনের.. - বিয়ের কাজ বন্ধ করে দে!
আমি তোর নামে প্রতারনার কেস দায়ের করবো।
তারপর এখানে আন্ডারওয়্যার পরিয়ে দাঁড় করিয়ে রাখবো।
মিডিয়াকে বলবো ঐ অবস্থায় তোর ছবি তুলতে। তাহলেই বিয়ে ভেঙে যাবে।
অন্তত সেই মেয়েটির জীবন বেঁচে যাবে।
স্যার, আমি তাকে ১৫, ০০০ টাকা দিয়ে দিচ্ছি।
এই কথা আগে কেন বললি না?
ভদ্রভাবে বলেছিলাম...
তার বেতন চুকিয়ে দিতে।
কিন্তু কি বললি?
তাকে কোর্টে যেতে হবে?
স্যার.. ঐটা.. আমি..
আপনার একটা জিনিস মনে রাখা উচিত!
গরিবদের নিম্ন আদালত, উচ্চ আদালত সব হচ্ছে...
এই পুলিশ স্টেশন!
এখানে সব কেসের সুরাহা হবে।
সে জন্য আমরা সব পদক্ষেপ নিতে পারি। মাথায় ঢুকেছে?
আপনি আপনার বেতন চান, তাই না? - হ্যা, স্যার।
দিয়ে দিন। এখনই!
অনেক ধন্যবাদ, স্যার।
কি?
হ্যা সুবের, বলো।
স্যার, ব্যাপারটা খুবই গুরুতর।
আপনি যে কল পেয়েছিলেন সেখান থেকে পাওয়া তথ্যগুলো একদম ঠিক।
বাচ্চাটা গুরুতর আহত।
কি, স্যার? - গাড়ি বের করো।
জেনারেল হাসপাতালে যেতে হবে।
তুমি স্টেশনে আছো?
না। আমি জেনারেল হাসপাতালে যাচ্ছি কেসের কারণে।
তোমার সাথে কি আর কেউ আছে? - হ্যা।
পুলিশের লোক।
কি হয়েছে? বলো আমাকে। - কিছু না।
তুমি এখন ব্যস্ত থাকলে আমাকে পরে কল করো।
তুমি কোথায়? বাড়িতে?
হ্যা।
তুমি সন্ধ্যায় কল করতে পারবে? - আচ্ছা। করবো।
বাচ্চার কি অবস্থা?
ডাক্তার, কামড় খাওয়া বাচ্চাটার কি অবস্থা?
খুবই গভীর ক্ষত।
তাছাড়া ডান হাত ভেঙে গিয়েছে।
মনে হয় দৌড়ানোর সময় পড়ে গিয়ে হয়েছে।
আমি যখন বাচ্চার মা-বাবার সাথে কথা বললাম,
তারা আমাকে জানায় কুকুরটা পথের সাধারণ কুকুর ছিল না,
কেউ তাকে পাঠিয়েছিল ওকে কামড়ানোর জন্য।
আসলে কি ঘটেছিল?
স্যার,
আমি তাকে স্কুলে পাঠাচ্ছিলাম সকালবেলায়।
কিন্তু তাকে তাকে পড়ে থাকতে দেখলাম।
কি হয়েছিল, বাবু?
আমি স্কুল যাওয়ার পথে গাছে একটা আম দেখে ঢিল ছুড়েছিলাম।
আর তখনই এক লোক কুকুরকে ছেড়ে দিয়ে বলে 'ধরো'।
তাকে নির্মমভাবে কামড়ানো হয়েছে।
ঈশ্বরের কৃপায়, তাকে বাঁচাতে পেরেছি! নাহলে সে মারা যেত!
বাচ্চারা ফুল ছিঁড়তে বা আম পাড়তেই পারে!
কিন্তু এর জন্য কিভাবে এক লোক কুকুরকে লেলিয়ে দেয় কামড়ানোর জন্য!
তুমি বাচ্চাকে দেখেছ?
সুবের, তাদের বয়ান নাও। - ওকে, স্যার।
চিন্তা করবেন না। আমরা দেখছি।
তার আচার আচরন দেখে মনে হচ্ছে যেন বাচ্চার কিছুই হয়নি!
বাচ্চার কি অবস্থা অন্তত সেটা অন্তত জানতে আসা উচিত ছিল।
কিন্তু সে একদম চুপ।
লোকটার নাম সামসন ঠারাকাণ। তার বাড়ির নাম 'কলায়িল'।
এই ঘটনা তার বাড়ির সামনে ঘটেছে। তারাই তাকে এখানে এনেছে।
স্যার, সে এরকম প্রায়ই করে।
দুই মাস আগে, সে একজন মহিলাকে রাস্তায় সবার সামনে লাঞ্ছিত করেছিল।
সে কারও পরোয়া করে না কারণ সে ধনী আর ক্ষমতাশালী, স্যার।
স্যার, এটাই সেই বাড়ি।
এখানে ভিড় জমা হয়েছে।
আমি এই বদমাশকে আগেও কোথায় জানি দেখেছি।
স্যার, এর নাম পট্টাকুজ্জি জোসে।
এই সেই লোক যে আপনার নামে পোস্টার বানিয়ে বলে আপনি মানুষদের স্টেশনে নিয়ে গিয়ে নারিকেল দিয়ে মারেন।
এমনকি সে তার বাবার বিপক্ষেও পোস্টার ছড়িয়ে বেড়ায়।
আমি আপনাকে কোথাও দেখেছি?
আমি ডিএনসির ইউথ উইং প্রেসিডেন্ট। পট্টাকুজ্জি জোসে।
আমি আপনাকে চিনি। এসআই বিজু।
এখানকার মানুষরা বলছে...
কোন কুকুর নাকি এক বাচ্চাকে কামড়িয়েছে..
এটা তাদের একটা কৌশল আমাদের ভাইকে ব্ল্যাকমেইল করার জন্য।
ভাই? - সামসন ঠারাকাণ।
সে আমাদের অনেক পছন্দ করে। উনি তার স্ত্রী।
সামসন স্যার কোথায়?
কোথায় গিয়েছে?
জানি না।
তার নম্বর দিন।
এখানে বাচ্চাকে দোষ দেওয়ার কোন কারণই নেই। আমগুলো পাকা ছিল।
এটা আলফন্সো আম, মিনি স্যার? - না, এটা প্রিয়ূর। দেখে বুঝতে পারছ না?
আপনাকে প্রথমে গাছ লাগাতে হবে তার আম পাকবে অথবা ক্ষয় হয়ে যাবে। এটা আমার বাড়িতে আছে।
হ্যালো? সামসন ঠারাকাণ?
আমি এসআই বিজু বলছিলাম।
আমি একটা অভিযোগ পেয়েছি আপনার বিরুদ্ধে।
আপনাকে স্টেশনে আসতে হবে।
অভিযোগ?
ব্যাঙ্গালুরুতে?
আপনি কখন ফিরবেন?
সে ব্যাঙ্গালুরুতে আছে, তাই না?
ভাই এরকমই। সবসময় ট্যুরে থাকেন।
সকালে দেখা হওয়ার ৩ ঘণ্টা পর তাকে আবার ডেকে পাঠালে...
সে বলবে সে জাপানে আছে।
জাপান!
এই যে তার নম্বর।
সাইবার সেলকে বলো, তার বর্তমান লোকেশন খুঁজে বের করতে।
স্যার, এটা তার ফেসবুক পেজ।
সামসন ঠারাকাণ।
- দারুণ। - দারুণ মজায় আছে আছে দেখছি!
তার অনেক বড় বড় জায়গায় যোগাযোগ আছে!
আমি এখন অফিসে নেই। তুমি পাঠোদ্ধার করে আমাকে জানাতে পারবে?
ওহ, আচ্ছা!
সে এরনাকুলামে আছে।
টাওয়ারের মতে, সে মহারাজা কলেজের আশেপাশে আছে।
স্যার, মহারাজা কলেজের পাশে ২টা ক্লাব আছে। সে সেখানে থাকতে পারে, খুব সম্ভবত।
আমরা ক্লাবে খুঁজে দেখেছি। সে ঐখানে নেই, স্যার।
- আমরা আরেকটা ক্লাবে খোঁজ করছি, স্যার।
আচ্ছা, ভালো করে খুঁজো।
তোমরা যাও আর চেক করে দেখো।
আমরা কি অটোতে যাবো, স্যার? - হ্যা, ঠিক আছে।
দাঁড়ান, দাঁড়ান! মিনি স্যার, ঐটা তার কার।
কোনটা? - ঐটা, লাল রঙের। ৯৯৯।
তার বাড়িতে একটা কালো অডি ৯৯৯ আছে, তাই না?
তার প্রচুর গাড়ি আছে। - সে কি করে?
কি জানি! - ঐযে, সে!
ফ্রেঞ্চকাট দাঁড়ি আর সানগ্লাস পরে আছে।
তাড়াতাড়ি ডাকুন, স্যার!
তার ফুলওয়ালা শার্ট ও ফ্রেঞ্চকাট দাঁড়ি!
স্যার, পেয়ে গিয়েছি। সে ক্লাবে আছে।
সে ঐখানে? তাকে ধরো। ওকে?
আমরা রাস্তায় আছি, স্যার!
ডানে।
স্যার, সে ভেতরে আছে।
পেয়েছি, ঐ যে সে।
আমি এই সপ্তাহে আর কোথায় যাবো না।
এখানেই থাকবো।
কিছু ছোট বিনোদনের...
আপনার ভালো মালিশ করার দরকার হলে...
ব্যাংককে যেতে হবে।
এখানে সব নকল..
এখানে ঐরকম কোন জায়গা আছে? - একটা আছে।
দারুণ একটা জায়গা!
আপনি কে? কি চাই?
আমি বিজু।
এই শহরের এসআই।
আমি একটা অভিযোগ পেয়েছি আপনার বিরুদ্ধে, স্যার।
আমি আপনাকে একটা প্রশ্ন করেছিলাম কিছুক্ষণ আগে।
কিন্তু আপনি বললেন আপনি ব্যাঙ্গালুরুতে আছেন, স্যার।
আমার কি দরকার বলার আপনাকে যে, আমি কোথায় যাচ্ছি।
নিরব,
জীপ চালু করো।
আসুন, স্টেশনে যেতে হবে।
আপনারা যান। আমি আমার গাড়িতে করে আসছি।
এই যে, আপনি!
আপনার উল্টাপাল্টা কথা...
আসুন...
গাড়িতে উঠে বস! - কি করছেন?
আমাকে আমার উকিলকে কল করতে দিন। - উকিলকে পরে কল করবি!
একটাও কথা বলবি না!
গাড়িতে উঠে বোস!
যখন আমি তোকে স্টেশনে আসতে বলি...
তুই কি বলেছিলি?
'আমি ব্যস্ত আছি। ব্যাঙ্গালুরুতে।' তাই না?
আমি তোকে ব্যাঙ্গালুরুর চেয়েও ভালো একটা জায়গায় পাঠাবো।
সেজন্য, তোকে কয়েকটা কাজ করতে হবে।
সেখানে অনেকে তার অপেক্ষায় থাকবে, বোতল থেকে বের হওয়া ভূতের মতো।
ফোনের রিসিভারটা তুলুন।
তাকে রিমান্ডে নিবো, তারপর তাকে ম্যাজিস্ট্রেটের কাছে নিয়ে যাবো।
স্যার, এই কুকুরের কেসের জন্য কোন শাখায় তাকে অভিযুক্ত করবো?
আপনি এই চাকরি কত বছর ধরে করছেন?
বিশ।
আপনি "ইন্ডিয়ান পেনাল কোড" নামে কোন বই দেখেছেন?
হ্যা।
৩২৪ শাখার পাতাটি পড়েন।
জেনেশুনে আঘাত করা..
কি দিয়ে?
ভয়ংকর অস্ত্র, অথবা..
অথবা কি?
গুলি করা!
ছুড়ি মারা বা কেটে ফেলা!
আগুন, অথবা কোন উত্তপ্ত পদার্থ দ্বারা।
এছাড়া মানুষের ক্ষতি হয় এমন কিছু দ্বারা...
এখন শেষটা পড়ো।
এমনকি কেউ যদি কোন কুকুরকে পাঠায় আরেকজনকে কামড়াতে, সেটাও এই শাখার অন্তর্ভুক্ত।
বুঝলে?
তাছাড়াও,
তার হাতও ভেঙে গিয়েছে, সেক্ষেত্রে ৩২৬ নম্বরও হয়।
আমরা তাকে ঝামেলা কত প্রকার ও কি কি সেটা বোঝাবো!
আরেকটা জিনিস করবো।
হ্যালো, স্যার।
আমি প্রেস ক্লাবের সামনে আছি।
একটা চরম অমানবিক নির্যাতনের ঘটনা আছে।
শীষ! এমএলএ বলছি।
হ্যালো, স্যার।
আমি কেসি ভার্গেস, এমএলএ।
তুমি সামসন ঠারাকাণ নামে কাউকে গ্রেফতার করেছ?
স্যার, সে একটা ছোট বাচ্চাকে কামড়ানোর জন্য কুকুর পাঠিয়েছিল।
- এই কেস নিয়ে আর এগোনোর দরকার নেই।
সে আমার খুবই কাছের মানুষ।
আমি জানতাম না যে, সে আপনার কাছের লোক, স্যার।
তাই তুমি তার সাথে কিছু করবে না, এসআই।
কিন্তু স্যার, আপনার ইউথ উইং-এর মানুষরাই এই অভিযোগ করেছে।
সবাই তার বিরুদ্ধে।
শুধু তাই না, আমি কেসটা দায়েরও করে ফেলেছি, স্যার।
এমনকি মিডিয়ারাও এই বিষয়ে উৎসাহী।
তারা যদি জানতে পারে আপনি তার পক্ষে, সেটা আপনার জন্য ভালো হবে না, স্যার।
খোদা! না, না! কেউ যেন না জানতে পারে আমি তোমাকে কল করেছিলাম।
সামসনকে শুধু বলো, কাউকে যেন না জানায়,
এজন্য আমি কল করেছিলাম।
তাকে মেরো না!
অবশ্যই! আমি তাকে ফুলের টোকাটাও দেবো না, স্যার।
আচ্ছা তাহলে!
এমএলএ কথা বলছিল।
এটা...
ছিল এমএলএ-এর পক্ষ থেকে আপনার জন্য বিশেষ উপহার!
সামসনের উকিল চলে এসেছে।
ঠিক আছে। পাঠিয়ে দাও।
স্যার, আমি সামসন ঠারাকাণের অ্যাডভোকেট। জয়কৃষ্ণণ।
বসুন।
আপনি?
পট্টাকুজ্জি.. জোসে পট্টাকুজ্জি।
বাইরে গিয়ে দাঁড়ান। প্রয়োজন হলে আপনাকে ডাকবো।
স্যার, সে আসলে কুকুরটাকে বাচ্চাকে কামড়ানোর জন্য ছেড়ে দেয়নি।
ঐটা তো কুকুর ছিল, তাই না? সে নিজেই নিজেকে ছাড়িয়ে নিয়েছিল।
ব্যাপারটা এরকম ছিল না, অ্যাডভোকেট।
সেখানে যারা ছিল তারা সবাই ঘটনাটা চাক্ষুষ দেখেছে।
আমরা বাচ্চা, তার মা ও সাক্ষীদের কাছ থেকে বিবৃতি নিয়েছি।
আপনি তাকে কোন শাখায় অভিযুক্ত করেছেন?
তাকে ৩২৬ থেকে অব্যাহতি দেওয়া যাবে? - অসম্ভব!
ডাক্তারের রিপোর্ট অনুযায়ী, বাচ্চাটা গুরুতর আহত হয়েছে।
হাতও ভেঙে গিয়েছে।
তার কি হৃদয় বলতে কিছু নেই?
আসার আগে বাচ্চার অবস্থা দেখা উচিত ছিল আপনার।
এরকম যদি আপনার মেয়ের সাথে ঘটতো তাহলে কি করতেন?
তাও ঠিক।
তো আপনারা কবে কোর্টে যাবেন? একটু জানালে ভালো হয়।
আমাকে ভাবতে দিন। - আচ্ছা।
এমএলএ-এর অফিস থেকে কল আসেনি?
আমি ইউথ উইং-এর প্রেসিডেন্ট। - হ্যা। আমরা সবাই জানি!
আর কিছু?
যদি দরকার হয়, আমি হোম মিনিস্টারের অফিস থেকে আপনাকে কল করতে বলতে পারি।
এটা তো একটা সহজ ব্যাপার, তাই না?
আমি আপনাকে ডেকে পাঠাবো। বাইরে দাঁড়িয়ে থাকুন।
ঐ সাদা বদমাশকে কোনমতেই ভেতরে আসতে দেবে না!
কোনমতেই না! আর কেউ এসেছে?
ঐ বদমাশগুলোর ভাই এসেছে।
ভেতরে আসতে বলো।
আসুন!
আপনি সম্পর্কে এদের কে হন?
ভাই।
আমার খালার ছেলে।
তারা ভালো ছেলে, স্যার। বেয়াদব না।
তোকে তো তাদের থেকেও বেয়াদব মনে হচ্ছে!
এখন তোকে ছাড়াতে কে আসবে?
তাদের দুইজনেরই নম্বর প্লেট নেই।
তোমাদের মধ্যে কেউ নিশ্চয় কয়েকদিন আগে পানামপিলি নগর থেকে চেইন চুরি করেছো?
আমরা ঐরকম জিনিস নিই না, স্যার। - অ্যা?
ঐরকম জিনিস? কিসব বলছো?
এটা কি এসআইয়ের সাথে কথা বলার ভাষা?
কি বললেন, ভাষা? - তো তুমি কি শুনেছো?
আপনি আমাকে ভাষা শিখাচ্ছেন?
তুমি কতদূর পর্যন্ত পড়েছো? - ক্লাস টুয়েলভ।
এরপর, আইটি।
আইটি পাশ করেছো?
আমার ইচ্ছা নেই, স্যার। - আর টুয়েলভ পাশ করেছ?
টুয়েলভও পাশ করিনি।
তাহলে তুমি কোনটাই পাশ করোনি। তাহলে তুমি কি করো!
তোমরা নম্বর প্লেট খুলে, হেলমেট পরে,
চেইন চুরি করতে যাও, তাই না?
আমরা হেলমেট পরি না, স্যার। - কেন?
চুল নষ্ট হয়ে যাবে। - অ্যা?
আমরা যদি হেলমেট পরি, আমাদের চুল নষ্ট হয়ে যাবে।
চুল খুলো!
কয়দিন গোসল করোস না তুই!
তাহলে তোমার এই ফালতু সাজার জন্য টাকা দরকার হয়, তাই না?
না স্যার, টাইলস লাগায় আর ঐ উপার্জনেই চলি।
টাইলস লাগিয়ে তোমার কত উপার্জন হয় দিনে?
৯০০ টাকার আশেপাশে।
তোমার দৈনিক কত খরচ হয়?
পেট্রোলের জন্য ১০০,
তারপর চা,
খাবার এবং সবমিলে প্রায় ২৩৫..
তো ২৩৫ খরচ করার পর, তোমার কাছে কত বাকি থাকে?
ঐযে..
৭০০-এর কাছাকাছি, স্যার?
৭০০?
তুমি কি আমাকে জিজ্ঞাস করছো? এক কাজ করো তুমি ঐখানে বসো আর হিসাব করো।
এখানে? - না, ঐখানে!
মিনি, তাকে দেখিয়ে দাও।
এভাবে বসো।
৭০০ এবং..
স্যার, সামসনের রিমান্ডের রিপোর্ট তৈরি হয়ে গিয়েছে।
তাকে এখানে ডাকো।
৬০০ আর?
৬০০ আর?
স্কুলে কি খালি ভাং মারতে! পড়ালেখা ঠিকমত করো নাই?
তুমি এটার উত্তর দিতে পারলে, ছেড়ে দিব! - ৬৬৫।
৬৬৫ না?
স্যার, আমি পারছি না। আপনি আমাকে আরেকটা অংক দিতে পারবেন?
নমস্কার!
সামসন স্যার,
আমরা ডাক্তারের কাছে যাচ্ছি।
যখন ডাক্তারের সাথে দেখা করবেন, সে আপনাকে জিজ্ঞাস করবে,
আপনার কোন সমস্যা আছে?
আপনাকে কি পুলিশ মেরেছে?
তখন আপনি কি বলবেন, স্যার? সে বলবে তাকে মারা হয়নি, তাই না?
কিন্তু,
যদি আপনি বলতে চান আমি আপনাকে মেরেছি...
তাহলে আপনাকে ডাক্তারের গাড়িতে করে জাজের বাসায় নিয়ে যাওয়া হবে না।
আপনাকে ডিপার্টমেন্টের জীপে উঠানো হবে।
জীপের ভেতরে, আমি আপনাকে আরও কিছু ডোজ দেব।
এবং চলন্ত গাড়ি থেকে ফেলে দেব।
সেখান থেকে আপনি যদি পালানোর চেষ্টা করেন, তাহলে আমি আরও একটা কেস যোগ করবো!
সেটাও সম্ভব,
যদি তুমি তখন বেচে থাকো!
কারণ তিনি সোজাসাপ্টা অফিসার।
সে কারও পরোয়া করে না।
কিরকম সোজাসাপ্টা?
এগুলো সবই শো-অফ।
আমি যদি চাই, তিনি আগামীকাল এই চেয়ারে বসতে পারবেন না।
আর ছাড়া পাওয়ার ব্যাপারটা..
ছাড়াছাড়ির কোন দরকারই হবে না। যদি আমি এখন হোম মিনিস্টারের অফিসে কল করি।
আমরা আরামে কথা বলতে পারি।
স্যার, আমাদের কি হবে?
তোমাদের আজই বাইকের নম্বর প্লেট ঠিক করতে হবে।
চুল কেটে ফেলবে ও হেলমেট পরবে। - আচ্ছা, স্যার।
বুঝলে? - হ্যা, স্যার।
উকিল আসবে ছাড়ার কাগজপত্র নিয়ে।
একটা কুকুরকে অন্য কাউকে কামড়ানোর জন্য পাঠানো কিরূপ কাজ?
মানুষ তো প্রায়ই বিভিন্ন কারণে মারা যাচ্ছে। সেক্ষেত্রে এটা কিছুই না!
সে একটা কৌশল পরীক্ষা করে দেখছিল!
দুইজনকে আমি অনেকক্ষণ থেকে খেয়াল করছি। জরিমানা দিয়ে চলে যাও!
স্যার, আমি বহুক্ষণ ধরে এখানে অপেক্ষা করছি।
আপনি আমাকে ডাকলেন না। - সেটা কি জরুরি?
কেসটা কি অনেক জটিল?
নিয়ন্ত্রণ করতে পারছেন না?
যতবড়ই পুলিশ হোন না কেন;
একটা রাজনীতিবিদকে, আপনার সম্মান করা আবশ্যক।
একটু হলেও।
আপনার বদলি হলে কেমন হবে, স্যার?
মানুষ আমাদের কাছে যোগ্য বিচার চায়, তাই না?
কিন্তু তার মানে এই নয় যে আপনার বদলি করিয়ে দেব, ঠিক আছে?
কুত্তার বাচ্চা!
তোর একবার ভাবা উচিত তুই কোথায় আছিস, আর কার সঙ্গে কথা বলছিস!
বদলি!!
বদলির কেয়ার করি না!
পোস্ট গ্র্যাজুয়েশনন ও এম.ফিল করার পর, আমি কলেজের লেকচারারের চাকরি ছেড়ে দিয়ে
এসআই টেস্ট দিয়ে, ১ম র্যাঙ্কে আমি এই চাকরি পেয়েছি!
তোর মত খানকির পোলাদের পা চাটতে আসিনি!
আমি যখন আমাকে নিয়ন্ত্রনে রাখার চেষ্টা করছিলাম,
তখনই কিনা তুই আমাকে ঘাটাতে এসেছিস, আর সময় পেলি না?
তোর মুখ দিয়ে যদি আর একটা শব্দও বের হয়...
পা ধরে দেয়ালে কষে একটা আছাড় মারবো!
আমাকে চিনিস নাই এখনো!
বদলি... শালা...
সরে যা!
সামসন স্যার, আমরা এখন জাজের কাছে যাচ্ছি।
যে যে শাখায় আপনাকে জড়িয়েছি না তাতে আপনি কখনো ছাড়া পাবেন না।
তাও আপনি যদি বিচারককে উল্টাপাল্টা কিছু বলেন...
আমরা ছাড়া পাওয়ার জন্য কোর্টে পে করতে রাজি, স্যার।
অ্যাডভোকেট, সে ৩২৬ নম্বর শাখায় পড়েছে।
তাই আমি তাকে ছাড়তে পারছি না।
সামসন,
এ থেকে কি বুঝলে?
তোর সব জারিজুরি খতম হয়ে যাবে।
তোর সময় শেষ হয়ে এসেছে।
স্যার, না স্যার!!
আমি পুলিশ স্টেশনকে খুব ভয় পাই, স্যার!
এমন মাইর দিমু...!
সে তার প্যান্ট ভিজিয়ে ফেলেছে, স্যার।
কান্না থামা!
ইন্সপেক্টর, কাউকে মারার কোন অধিকার আপনার আছে?
আমরা ইতোমধ্যেই আপনার বিরুদ্ধে প্রচুর অভিযোগ পেয়েছি।
মানবাধিকার!
কে ছাদের উপর থেকে চিৎকার করছে?
যে লোকটা বলছে আমি তাকে আমি মেরেছি, সে একজন জাত ক্রিমিনাল।
তার সম্পর্কে আপনার কোন ধারণা আছে?
ক্রিমিনালদের সোজা রাস্তায় আনার জন্য আরও অনেক পন্থা আছে, স্যার।
আপনি ডিজিপির আদেশ পাননি যে, ভালো আচরণ করতে হবে...
পুলিশ স্টেশনে আসা আবেদনকারী ও আসামীদের সাথে।
বাস্তবতায় আসা যাক,
আপনি যা বলছেন তা একদম সত্য, ম্যাডাম।
একটা উদাহরণ দেই।
ইনি আপনার কে হোন? - আমার স্বামী।
আপনি আর আপনার স্বামী সন্ধ্যায় হাঁটতে বেড়িয়েছেন
মানে...
ধরুন কেউ আপনার স্পর্শকাতর জায়গায় হাত দিলো!
বসুন, বসুন!!
আমাকে শেষ করতে দিন..
আপনার স্বামী এটা দেখার পরে তার উপর রেগে যাবে..
আমি জানি না সে রাগবে কিনা..
কিন্তু যার নাকের নিচে গোঁফ আছে সে নিশ্চয় রেগে যাবেন।
তারপর ঐ বদমাশ আপনার রাগান্বিত স্বামীকে আঘাত করবে।
যখন আপনি পুলিশ স্টেশনে আসবেন, আমি ঐ বদমাশকে জিজ্ঞাস করবো;
"ওহে ভদ্রলোক,
আপনি আরেকজনের স্ত্রীর সাথে খারাপ আচরণ করেছেন,
ইহা কি ঠিক কাজ করেছেন?"
"আপনার কোন সমস্যা হবে,
যদি আমি আপনার বিপক্ষে রুখে দাঁড়াই?"
"আমার বিশ্বাস আপনি আর এরকম কাজের সাথে যুক্ত হবেন না"
আমি তাকে এভাবে জিজ্ঞাস করবো আর শান্তিপূর্ণভাবে ছেড়ে দেব?
হয়তো আপনারা এরকম চান।
কিন্তু আমজনতা, তার শাস্তি চাইবে।
যদি সত্যি এরকম কিছু হয়, আমি বদমাশ গুলোকে মেরে তক্তা বানাবো!
পিটিয়ে হাড্ডিগুড্ডি ভেঙ্গে ফেলবো!
আপনাদের যা ইচ্ছা হয় করেন!
আমি কোন ধার্মিক সন্ন্যাসী নই!!
আমি একজন পুলিশ অফিসার!
আপনার একটা জিনিস বুঝা উচিত।
পুলিশের কারণেই, আর পুলিশের মার খাওয়ার ভয়েই,
কেউ আপনার ঘরের দরজা ভেঙে ঘুমের মধ্যে আপনাকে ধর্ষণ করতে পারছে না।
সে আমাকে মেরেছে যখন আমি তার কাছে আমার টাকা ফেরৎ চাই, স্যার।
বসুন।
এটা বেবিরও অভিযোগ।
বেবি কে?
আমি বেবি, স্যার।
আর ইনি? - আমার নাম মেরি, স্যার।
আমি তার সঙ্গে এসেছি কারণ সে পুলিশ স্টেশনে আসতে ভয় পায়।
তো আপনি ভয় পান না, মেরি? - আমিও পাই, স্যার।
আমি ছোটবেলা থেকেই পুলিশ ও পুলিশ স্টেশনকে ভয় পাই।
কিন্তু আমি এসেছি কারণ সে ঐখানে আমার সাথে ছিল।
আপনার পুলিশ কিংবা পুলিশ স্টেশনকে ভয় পাওয়া উচিত না!
আমরা এখানে আপনাদের সমস্যা সমাধানের জন্য বসে আছি। বুঝলেন?
সমস্যা কি? কনাকম্বরণ? তাই না?
কনাকম্বরণ আমাদের প্রতিবেশী, স্যার।
সে গোসল করতে আসে যখন আমার স্বামী ও বাচ্চারা বাইরে চলে যায়।
গোসল করা তো খারাপ কিছু না, তাই না? - গোসল করা ভালো, স্যার।
তার কোন বেড়া নেই। তাকে বললেও সে লাগিয়ে নিতে চায় না।
আমরা যখন তাকে বাথরুম তৈরি করতে বলি, সে তাতেও মানা করে।
সে শুধু আমাদের বাড়ির পার্শ্বে এসে গোসল করতে চায়।
সে সবকিছু দেখিয়ে গোসল করে, স্যার।
আপনাদের ঐদিকে তাকানো উচিত না, তাই না?
না তাকালে, সে একটা আজব শব্দ করে ডাকে আমাদের।
যখন আমরা ঐটা শুনি, তখন আমাদের তাকাতেই হয়, স্যার।
তার বাড়িতে কেউ নেই? বউ? বাচ্চাকাচ্চা?
সে যখন থেকে সবকিছু সকলকে দেখানো শুরু করেছিল তখন তার বউ পালিয়ে গিয়েছে।
সে কি পাগল কিংবা ঐরকম কিছু?
সে দেখতে কেমন?
দেখতে...
বেটে, কালো...
দেখতে একদম ব্যাঙের মতো! - হ্যা। সেরকমই!
সে আসলেই দেখতে খুব বাজে, স্যার।
তো সে যদি দেখতে ভালো হতো,
তাহলে সব ঠিকঠাক থাকতো, তাই না?
ইয়ার্কি করবেন না, স্যার!
তাহলে.. তাকে এখন কোথায় পাওয়া যাবে?
বাড়িতে, স্যার। আমি যখন বের হয়েছিলাম তখন সেখানেই ছিল।
তুমি, যাও বাবাজীকে খুঁজে বের করো।
জরুরি ব্যবস্থা নিতে হবে!
চিন্তা করবেন না, ঠিক আছে?
আমার স্টেশনের নিয়ম অনুযায়ী,
মহিলাদের বিরুদ্ধে কোন প্রতিবন্ধকতা সহ্য করবো না আমি!
স্যার, তাকে উপযুক্ত শাস্তি দেবেন! - আমি প্রতিজ্ঞা করছি!
আপনি তার কথা শুনতে পাননি?
না। শুনিনি তো।
আচ্ছা ঠিক আছে। আপনাদের দরকার হলে ডাকবো আমি।
আমরা তার গোসলের বারোটা বাজাবো!
আপনার নাম মিনি, স্যার?
এটা মেয়েদের নাম না?
তাহলে আপনারা আর ভয় পাবেন না এখানে আসতে?
কোন ধরনের বিশেষজ্ঞের মতামত ছাড়াই ওটা যে মারিজুয়ানা ছিল সেটা কিভাবে সনাক্ত করলেন আপনি?
জিমি সাহেব, আপনার হয়তো কেরালার সেই চাঞ্চল্যকর মেরির কেসটার কথা মনে আছে?
অই ঘটনার পরপরই, রাজ্য সরকার আইন সংশোধন করে উল্লেখ করে..
যদি কোন পুলিশ অফিসার কোন দ্রব্যকে মাদক হিসেবে শনাক্ত করে..
তবে সেটা বিশেষজ্ঞের মতামত হিসেবেই ধরে নেওয়া হবে।
কিন্তু, আপনার বিরুদ্ধে আসামিকে মারধোরের অভিযোগ আছে।
যদি বলি, আমার ভদ্র, নিষ্পাপ এবং সত্যবাদী মক্কেলকে আপনি...
মারধোর করে জোরপূর্বক মিথ্যা জবানবন্দী নিয়েছেন, তবে কি সেটা ভুল হবে?
আমি অভিযুক্তকে কোন ধরনের মারধোর করিনি।
আটিংগালের ডিএসপি, শাহজাহান বলছি।
নমস্কার স্যাএ, শুভ সকাল!
আমার নাম বিজু পাউলো, স্যার।
স্যার, মাভেলিক্কারায় আপনিই আমাকে পুলিশের ট্রেইনিং করিয়েছেন।
ওহ, তুমি?
তা, আছো কেমন তুমি?
সেখানে এখন সিআই যেন কে? - মনোজ ম্যাথিউ, স্যার।
তাই নাকি? ওকে অবশ্য ভালো করে চিনি না।
যাই হোক, তোমাকে বিশেষ প্রয়োজনে কলটা দিয়েছি।
এখানে একজন অপরাধী রয়েছে যার বিরুদ্ধে বর্তমানে ৪০ টি কেস আছে।
সে জামিন পাওয়ার পরপরই কারাটে রাজেশ নিখোঁজ হয়ে গেছে।
সে আটিংগালের মারসি হত্যা মামলা এবং মোতাম্মালের রাজন হত্যা মামলার প্রধান আসামি।
সেও অপহরণ এবং ছিনতাইয়ের মত কাজে যুক্ত।
আমার কাছে তথ্য এসেছে সে তোমার থানার এরিয়াতেই আছে।
আমাদের ওকে যে করেই হোক ধরতে হবে।
সে কিন্তু অনেক ভয়ংকর একজন অপরাধী!
সে আদালত চত্বরে এক পুলিশের লোককে ছুরিকাঘাত করার অপরাধেও অভিযুক্ত।
আমি তাকে ধরতে আপ্রান চেষ্টা করবো, স্যার।
স্যার, আপনার কাছে যদি অপরাধীর কোন ছবি থাকে...
সেটা কি হোয়াটসঅ্যাপে আমাকে পাঠাতে পারবেন?
জি স্যার, ওকে চিনি আমি। ও কারাটে রাজেশ।
কিভাবে চেনো ওকে?
যখন জেলে ছিলাম তখন ওর সাথে পরিচয় হয়েছিল।
কোথায় থাকে ও? - ওর দেশের বাড়ি কোচিতে স্যার।
কিন্তু, ছোটবেলাতেই ও সেখান থেকে পালিয়ে আসে, তারপর ত্রিভান্ডামে এসে থিতু হয়।
সে একটা জায়গায় বেশিদিন থাকে না, কাজ শেষ হলেই সেখান থেকে চলে যায়।
আমাদের ওকে ধরতেই হবে।
আপনাকে তথ্যগুলো মনে হয়না দেওয়া উচিত হয়েছে আমার, স্যার।
চিন্তা করো না, কোন সমস্যা হবে না তোমার।
যদি আপনি এই নিশ্চয়তাটুকু দেন, আমি আপনাকে ওর খোজ পাইয়ে দেব।
কয়টা কেস আছে এই মুহূর্তে তোমার বিরুদ্ধে? - ১২ টা কেস, স্যার।
আপনি বলার পরে, আমি আর কোন খারাপ ধান্দায় জড়াইনি, স্যার।
অই থাম ! থাম বলছি!
সরুন!
আয়রে আয়!
মধু খাবি না কিরে আয়!
বাঁশটা দেখে যা!
হালার পো, তোর বাঁশ কাইটা হাতে ধরায়া দিমু!!
অই পাগলা! পুলিশ আইছে, থাম এবার!
পুলিশ! পুলিশ!
অই মোচ্চু মামা!
এমন করে চায়া আছো কেন!
বাঁশ দেখার শখ হইছে?
তোর মত এমন অনেক মোচ্চু পুলিশ মামারে দেখছি!
তোকে কিন্তু থানায় নিয়ে যাবো এখন!
কি হইছে?
পাগলটাকে এখনই লাথি দিয়ে জিপে তোলো!
স্যার, এই পাগলার আগে দুইবার হার্ট অ্যাটাক হইছে!
- আপনি ছুলেই ওর তিন নাম্বার হার্ট অ্যাটাকটাও হয়া যাইবো!
স্যার, এই ঝুঁকিটা কি নেওয়া উচিত হবে? পরে তো এটা পুলিশি হেফাজতে মৃত্যু বলে গন্য করা হবে।
মারবি নাকি, আয়!
পুরুষ মানুষ হইলে প্যাদা আমারে! কোন সমস্যা নাই!
স্যার, দিবো নাকি কয়েকটা? - না!
ওর পাগলামির ব্যারাম এখনই ছুটাচ্ছি!
আয় রে বাবা, আয়! কাছে আয়!
মধু, এই খুজলি গাছটা কাটো তো।
তুই জাঙ্গিয়া পড়িস না কেন রে?
বাঁশ আছে বলেই কি সেটা সবাইকে দেখিয়ে বেড়াতে হবে নাকি?
কানের নিচে দুটা দিলেই স্যার পাগলামি ছুটে যাবে!
তো খাড়ায়া তাইলে কি দেখস? মার!
তোর খুশিই হচ্ছে আমার খুশি!
অই পাগলা, পুলিশরে সম্মান দিয়া কথা ক?
কিয়ের পুলিশ? পুলিশ আমার আন্ডা!
তোর বাঁশে তো অনেক চুলকানি আছে, তাই না?
আজকে তোর চুলকানির রোগ সারাবো!
তো এখন আমরা যেতে পারি? - হ্যাঁ!
চল তাহলে!
কি, চুলকাচ্ছে?
চুলকানির চোটে নাচানাচি শুরু করে দিয়েছে, স্যার!
স্যার! বহুত খাউজাইতাছে!
ভালো হইছে!
স্যার, খাউজানির চোটে তো দাড়াইতেই পারতাছি না!
আয়, ভেতরে আয়!
একটু খাউজায়া দিবেন স্যার! - ভেতরে যা।
কিরে, ঘোড়ার মত লাফাচ্ছিস কেন?
ওকে জেলে ঢোকাও।
স্যার, আপনার আঙ্গুলের নখ তো বড় বড়! একটু খাউজায়া দেন না? অনেক দোয়া করুম আপনের লাইগা!
বেশি কথা বললে লাথি খাবি!
মানুষরে বাঁশ দেখায়া বেড়াও, না?
স্যার, একটু খাজ্জামু! হাতকড়াটা খুইলা দেন স্যার! - চুপ কর!
কি নাম আপনার?
শার্লি, স্যার।
বসুন শার্লি।
কুমার।
কে এই কুমার? তার সাথে আপনার সমস্যাটা কি?
স্যার, ও অটো চালায়। আমাদের এলাকাতেই থাকে।
আজকে সে আমাকে ভীষণ জোরে একটা চড় মেরেছে, স্যার!
সে কথা নাই, বার্তা নাই আপনার গালে চড় বসিয়ে দিল?
জি স্যার, হঠাত করে চড়টা মেরেছে!
আপনাদের দুজনের ভেতরের যোগসূত্রটা কি? ওকে কিভাবে চেনেন আপনি?
কোন যোগযূত্র নেই স্যার। আগে নিয়মিত ওর অটোতে করে যেতাম স্যার।
গত কিছুদিন ধরে ওর অটোতে চড়ছি না বলে সে আজকে এই প্রতিশোধটা নিলো!
ওকে কি এনেছো?
জি স্যার। - নিয়ে এসো ওকে!
মিনি স্যার, ওকে নিয়ে আসুন।
এখানে দাড়া।
কি নাম তোর?
কুমার।
শুধু কুমার?
শুধু কুমার, স্যার।
উনাকে থাপ্পড় দিয়েছিস?
জি স্যার।
ভালো করেছিস, সত্যিটা বলে দিয়েছিস!
কেন থাপ্পড় মারলি উনাকে?
কারন রাগে আমার মাথায় রক্ত উঠে গিয়েছিল স্যার।
তা, আপনার এই রাগের কারণটা জানতে পারি?
ও আমার ফোন ধরেনি স্যার, তাই।
ফোন ধরেনি বলে থাপ্পড় মারবি? তোদের সম্পর্কটা কিরে?
কোন সম্পর্ক নেই, স্যার। আমি বিবাহিত এবং জামাই আর দুইটা বাচ্চাও আছে।
আপনি একটু বাইরে দাড়ান। ওর সাথে একটু আলাদা কথা বলে দেখি।
ওর স্টাইল টা দেখেছেন, স্যার?
সত্যি করে বল, কেন উনাকে চড় মেরেছিস?
সে অন্য আরেকজনের অটোতে উঠেছিল, আমি সেটা মানতে পারি নাই!
তোর বয়স কত?
৪৬ হবে স্যার।
৪৬ বছর বয়সের ভালোবাসা।
তোকে..
দুইটা কারনে জোরসে চড় মারা উচিত।
এক...
তুই একজন মহিলাকে পাবলিকের সামনে চড় মেরেছিস!
এবং দুই...
এইরকম একটা আইটেমের প্রেমে তুই পড়েছিস!
আর মেয়ে পেলি না?l
আর কিছু বলতে চাস?
উনাকে ডাকো তো ভেতরে।
এখন আপনিই বলুন, কি করবো আমি? তার বিরুদ্ধে কেস করবো?
কেস করার দরকার নেই, স্যার। - কেন মনে হলো আপনার কেস করার দরকার নেই।
আমাকে এখন কি করতে বলেন আপনি? - তার উচিত হয়নি আমাকে চড় মারা!
শুনলি তো?
উনি বললেন তোর বিরুদ্ধে কেস করতে উনি ইচ্ছুক নন!
কিন্তু চড় মারার মত একটা পুণ্যের কাজ যেহেতু করেই ফেলেছিস...
পুরস্কার তো তোকে দিতেই হবে! কাছে আয়।
স্যার, আমি ওর সব খরাচাপাতি বহন করেছি।
আমি ওর জন্য চাল ডাল যা যা লাগে প্রতি সপ্তাহে কিনে দিয়েছি।
- কেন, স্যার? আমার জামাই কি মারা গেছে?
আমার বিবাহযোগ্য একটা মেয়ে আছে!
জানেন, সে কি বলে আমাকে?
তার মাম্মির জন্য তার জীবনটা নাকি নষ্ট হয়ে যাচ্ছে!
আপনার মেয়ে আপনাকে মাম্মি বলে ডাকে? - হ্যাঁ, শুধু তাই নয় স্যার...
আমি এই লোকটাকে হাজারবার বলেছি আমাদের এসব বন্ধ করা উচিত!
বলেছি যে, আমাদের এই কলিং, চ্যাটিং বন্ধ করা উচিত!
কিন্তু সে আমার পিছুই ছাড়ছে না, স্যার!
তাহলে কলিং, চ্যাটিং এসবও চলতো, স্যার!
তাহলে সে আপনাকে খামাকে চড় মারেনি দেখা যাচ্ছে!
স্যার, এই পাগলের হাত থেকে আমি মুক্তি চাই স্যার!
অই, শুনেছিস ঠিকমত?
সে তোকে আর চায় না!
যদি এরপর আবার শুনি তুই উনাকে উত্যক্ত করেছিস...
না স্যার। আমি ওকে ভুলে যাবো।
তবে ওকেও বলে দিন স্যার সেও যেন আমাকে ভুলে যায়!
মিনি, একটা লিখিত স্ট্যাটম্যান্ট নাও যেখানে উল্লেখ থাকবে সে আর উনাকে বিরক্ত করবে না।
সাথে নাম্বারটাও লিখে রাখো... - তোর নাম্বারটা বল।।
9447146098
স্যার, এটাতো আমার নাম্বার!
শালা, মজা লও আমার লগে!
তোর নাম্বার বল।
স্যার, আপনার নাম্বারটা বলবেন? একটা মিস কল দেবো?
স্যার, কি করবো ওকে বলেন তো?
এক্ষুনি চোখের সামনে থেকে নিয়ে যাও একে!
চল চল, আজকে তোকে নাম্বার মুখস্ত করাবো!
কি, জেলে যাবার শখ হয়েছে নাকি?
কিরে?
কি অবস্থা তোর?
বহুত খাউজাইতাছে, স্যার!
হাতকড়াটা খুইলা দিলে শান্তিমত খাউজাইতে পারতাম!
খাউজানির ঠেলায় মাথার দুপাশে তারা ঘুরতাছে, স্যার!
এরপর আর কখনো জাঙ্গিয়া না পরে বাইরে বের হবি?
জিন্দেগীতেও না, স্যার!
দরকার হলে এক লগে দুইটা জাইঙ্গা পইড়া বাইর হমু!
ওকে লকাপ থেকে বের করো।
তোর কপালে আরো খারাবি বাকি আছে।
স্যার...
তো তুই গানও গাইতে পারিস?
আর গামু না, স্যার!
১০০ বার গাইবি!
মানে?
একটু আগে যে গানটা গাইছিলি ওটা আরেকবার গেয়ে শোনা।
স্যার, তাদেরকে বলবেন একটু হাতকড়াটা খুইলা দিতে?
কেন?
টেবিলে একটু বাজনা বাজাইতাম, আর কি! - ও?
টেবিলে একটু বাজনা বাজাইতাম!
মিনি..
পাগলের আবার গান!
স্যার, বসবো?
হুম, বোস
স্যার, চা... এইভাবে বসে আছেন যে, স্যার?
গান শুনবো বলে...
তুমিও বসো। - না, স্যার।
আরে, লজ্জা কিসের? বসো। তুমিও তো বেশ ভাল গায়ক, তাই না?
তো শুরু হোক!
মিনি, ওকে লকাপে ঢোকাও!
স্যার!
আয়!
স্যার, আমারে এইবারের মত ছাইড়া দেন!
স্যার, দেখুন কাকে নিয়ে এসেছি।
কি আছে এতে? - খাওয়ার জিনিস স্যার।
ভদ্রলোকের দাড়ানোর ভঙ্গি দেখে তো মনে হচ্ছে না যে তিনি কিছু করেছেন!
কয়টা বাচ্চা আছে তোর? - দুইটা পোলা।
কত বয়স তাদের? - একটা ১৬, আরেকটা ১৪ স্যার।
তাদেরকে সকালে নাস্তা কি দেস?
পাউরুটি, সবজি।Puttu, ldli..
তো ওসবের বদলে কখনো সস মাখিয়ে তোর ঝাঁকার এসব খানা খাইয়েছিস?
না!
কি? - না!
দুপুরের খাবারে কি কখনো দিয়েছিস ওদের এসব খেতে?
না!
রাতের খাবারে? - না!
তাহলে তুই জানিস!
তুই জানিস এসব খেলে মানুষের এক সময় ক্যান্সারও হতে পারে!
তাই না?
তোর বাচ্চাই মানুষ, বাকি লোকজনের বাচ্চাকাচ্চা কি আকাশ থেকে এসেছে?
কি? মুখে কি টেপ মেরে দিয়েছি? কথা বল!
তোকে আমি প্রশ্ন করছি!
তাড়াতাড়ি উত্তর দে!!
স্যারের প্রশ্ন শুনোস না? উত্তর দে!
স্যার,
নমস্কার, টাউন পুলিশ স্টেশন!
কোথায়?
কখন?
ঠিক আছে।
স্যার, ভেন্ডুরুথি ব্রিজ থেকে লাফিয়ে পড়ে একজন মহিলা আত্নহত্যার চেষ্টা চালিয়েছেন!
স্যার, আমি আর আমার বন্ধু এই রাস্তা ধরে বাইকে করে যাচ্ছিলাম।
হঠাত করে দেখি, একজন মহিলা তার কোলের শিশুটাকে ব্রিজ থেকে নিচে নিক্ষেপ করছে!
এরপর তিনিও বলা নেই কওয়া নেই লাফ দেন!
আমার বন্ধুও সাথে সাথে লাফ দেয় ওদেরকে বাচানোর জন্য!
ও অই পাশ দিয়ে সাঁতরে যায় ওদেরকে বাচানোর জন্য!
কি করেন আপনি?
আমি নেভিতে চাকরি করি, স্যার। আমার ফ্রেন্ডও নেভির লোক।
সে খুব ভাল একজন সাঁতারু, আপনি অই বোটটা দেখতে পাচ্ছেন?
সে নদীর অই পাশ দিয়ে সাঁতরে যাচ্ছিল। - কি এটা?
স্যার, এটা হচ্ছে অই মহিলার ব্যাগ।
নাম্বারটা লিখে রাখো। - আপনার নাম্বারটা বলুন।
কন্ট্রোল রুম, ১৮।
কন্ট্রোল রুম, ১৮ শুনতে পাচ্ছি। ওভার।
বোটটা কোথায় ছিল সে ব্যাপারে কি সঠিক কোন তথ্য পেয়েছেন?
কন্ট্রোল রুম ১৮ উত্তর দিচ্ছে
বোটটা রো রো জেটিতে ছিল।
জিপ রো রো জেটিতে নিয়ে চলো। - ঠিক আছে, স্যার।
স্যার, অই নেভির লোকটা যে ব্যাগটা দিল আমাদের সেটা কি চেক করে দেখবো?
ওহ! এটা তো দেখছি একটা সুইসাইড নোট!
সবাইকে নমস্কার।
আমার আর বাঁচার কোন ইচ্ছে নেই।
কেউ আমাকে দয়া করে ভুল বুঝবেন না।
কুঞ্জমল আমার সাথেই যাচ্ছে পরপারে।
প্রিয় রাজীবকে উদ্দেশ্য করে বলছি...
আমি হৃদয় শুধু তোমার জন্য ভালোবাসায় পরিপূর্ন।
প্রার্থনা করি অনেকদিন বেচে থাকো।
স্রষ্টা যেন পরজন্মে তোমার সাথে থাকার সুযোগ করে দেন।
বাবা মা, প্লিজ আমাকে ক্ষমা করে দাও!
আমাকে ঘৃনা করো না।
মিরা রাজীব। থেক্কুমকাভু।
লেখার সময় না জানি কত মনঃকষ্টে ছিল!
এটা ছিল এমন একটা সমস্যা যেটার সমাধান কথা বলেই সমাধান করা যেত!
জ্যাম!
ওটা তো একটা অ্যাম্বুলেন্স, তাই না?
শালার জ্যামের কোন মা বাপ নাই!
তুমি অই পাশটা দেখো!
এই অ্যাম্বুলেন্স টা কোথা থেকে এসেছে?
রো রো জেটি, স্যার।
তার সাথে তো একটা বাচ্চাও ছিল। বাচ্চাটাকে পেয়েছেন?
না, স্যার!
কুঞ্জমল...
যাও যাও যাও... গাড়ি ছাড়ো! তাড়াতাড়ি!
আসুন, আসুন, আসুন!!
এই পাশ দিয়ে যান, তাড়াতাড়ি!
অ্যাম্বুলেন্সকে যাওয়ার পথ দিন!
সড়ে যান!
অ্যাম্বুলেন্সে মহিলাকে একা কেন নেওয়া হচ্ছে?
বাচ্চাটার খোজ কি তারা পায়নি?
যদি বাচ্চাটা মারা যায়, তাহলে মহিলার বিরুদ্ধে মার্ডার কেস করা হবে।
কেন বাচ্চাটাকে কেউ এখনো হাসপাতালে নেননি?
বাচ্চাটা মারা গেছে, স্যার।
বাচ্চা মারা গেছে না বেচে আছে সেটা আপনি কি করে বললেন? আপনি ডাক্তার?
কি হয়েছে?
একজন মহিলা বাচ্চাসহ আত্নহত্যার উদ্দেশ্যে ব্রিজ থেকে পানিতে লাফিয়ে পড়ে।
হালকা হৃদস্পন্দন পাওয়া যাচ্ছে! সাকশন আনো, তাড়াতাড়ি!
সিস্টার, ড্রেসটা কেচি দিয়ে কাটো! তাড়াতাড়ি অক্সিজেন দেওয়ার ব্যবস্থা করো, দ্রুত!
সে বেচে আছে!
আশা করি ওকে বাঁচাতে পারবো!
দুঃখিত স্যার, আমরা বাচ্চাটাকে বাঁচাতে পারিনি।
আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টাটুকু করেছি।
চিন্তা করবেন না, আপনার বন্ধুকে আমরা খুজে বের করবোই করবো।
কি ঘটনা?
নেভির লোকটা যিনি তাদেরকে বাচানোর জন্য জাম্প দিয়েছিলেন উনি এখন নিখোঁজ।
স্যার, ওকে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না!!
ও ওদেরকে বাঁচিয়েছে, স্যার!
কিছু কি জানতে পেরেছেন ওর ব্যাপারে, স্যার?
এক মিনিট।
আমি হাসপাতালে আছি।
মা নিরাপদে আছে এখন। - আর বাচ্চাটা?
বাচ্চাটা মারা গেছে, স্যার।
সেটা কোন সমস্যা নয়, স্যার। সমস্যা হচ্ছে, তাদেরকে বাচানোর জন্য লাফিয়ে পড়া...
নেভির লোকটাকে খুজে পাওয়া যাচ্ছে না!
তারা ClSF বোটে করে তাকে খুজছে?
তুমি সেখানে গিয়ে একটু খোজ করো। - আচ্ছা, স্যার।
আপনি ফোনে তার সাথে কনটাক্ট করার চেষ্টা করেছেন? - স্যার, ওর মোবাইলটা তো আমার কাছে!
মোবাইলটা আমার হাতে দিয়েই লাফ দিয়েছিল ও।
এখন, ওর পরিবারের সবাই ফোনে একটু পরপর কল দিচ্ছে!
বুঝতে পারছি না কি বলবো তাদের!
- টেনশন করবেন না!
সে কি কথা বলার মত পরিস্থিতিতে আছে?
রোগী অর্ধ-চেতন অবস্থায় আছে। কথা বললে সাড়া দিতে পারবে।
কথা শুনতে পাচ্ছেন আমার?
যখন আপনি ব্রিজ থেকে লাফিয়েছিলেন, সাথে সাথে আরেকজন লাফ দিয়েছিল আপনাদেরকে বাঁচানোর জন্য।
আপনি কি তাকে দেখেছেন?
আপনার বাচ্চা নিরাপদে আছে, কিচ্ছু হয়নি তার।
যে লোকটা আপনাদেরকে বাচিয়েছি তিনি এখন নিখোঁজ।
আপনার কিছু মনে আছে? উনি কি আপনাকে বোটে উঠিয়ে দিয়েছিলেন?
আমার কথা শুনতে পাচ্ছেন?
আমার বাচ্চা... - মনে পড়ছে কিছু?
কোন কিছু?
বাচ্চাকে খুন করে এখন বাচ্চার নাম জপছে!
মহিলার মরে যাওয়াই উচিত ছিল!
ClSF অফিসারের নাম্বারটা বলো তো।
তারা বলছে তারা মহিলা এবং বাচ্চাকে বাঁচানোর সময় পানির নিচে দুটো হাতের মত দেখেছে!
তারা কি বললো, স্যার?
চিন্তা করবেন না, সে নিশ্চয়ই কোন বোটে উঠতে পেরেছে।
স্যার, ও অবশ্যই বিপদে আছে!
লাফ দেওয়ার আমার হাতে মোবাইল দিয়ে ও পুলিশকে ইনফর্ম করতে বলেছিল!
নয়তো আমিই লাফ দিতাম!
কোচি পোর্ট ট্রাস্টে কি ফোন দেবো, স্যার?
তাদের তো কোস্ট গার্ড আছে, ঠিক?
এত বড় নদী কোস্ট গার্ড ছাড়া খোঁজাখুঁজি সম্ভব নয়।
স্বাধীনতার এই তেজদীপ্ত দিনে কিছু কথা বলার জন্য...
আমাদের সাথে আছেন সাব ইন্সপেক্টর বিজু পাউলোস।
আমি তাকে মঞ্চে আমন্ত্রন জানাচ্ছি কিছু কথা বলার জন্য।
সবাইকে সাদর সম্ভাষণ জানাচ্ছি।
প্রথমে সবাইকে, স্বাধীনতা দিবসের উষ্ণ শুভেচ্ছা জানাই!
এখন তোমরা জীবনের সবচেয়ে সর্নালী সময়টা পার করছো...
এই সময়টা হচ্ছে তোমাদের স্কুল জীবন।
আমি আমার স্কুল জীবনের একটা ছোট্ট স্মৃতি সবার কাছে শেয়ার করি।
যখন আমি ক্লাস ফাইভে পড়ি...
তখন স্কুলে খুব দুষ্টুমির একটা কাজ করেছিলাম।
আমার ক্লাস টিচার ছিলেন সিসিলিকুট্টি স্যার...
আমার হাটুতে সেদিন তিনটা কাঠের স্কেল ভেঙেছিলেন।
আমার হাটুতে পেটানোর দাগ পরে গিয়েছিল এবং এটা নিয়ে খুব টেনশনে পরে গিয়েছিলাম।
সমস্যার তো মাত্র শুরু!
প্রতিদিন সন্ধার দিকে আম্মু আমাকে গোসল করিয়ে দিত।
তিনি আমার হাটুতে স্কেলের বাড়ির চিহ্নটা দেখেছিলেন।
টিচার আমাকে পিটিয়েছিলেন, কারন সত্যি আমি খুব খারাপ একটা কাজ করেছিলাম।
তাই, আম্মু জানতে পারলে তিনিও দেবেন মার!
আমি আম্মুকে বলেছিলাম আমি অসুস্থ অইদিন সন্ধ্যায় তাই গোসল করিনি।
পরের দিনও হাটু থেকে মারের চিহ্নটা যায়নি, সেদিনও আমি গোসল করিনি।
কিন্তু, তার পরের দিন আম্মু কি করে যেন মারের দাগটা দেখে ফেললেন!
তাই নিজেকে বাঁচানোর জন্য তাকে বললাম...
স্যার মেজাজ খারাপ করে ক্লাসের সবাইকে উরাধুরা পিটিয়েছেন, ভাগ্যের ফেরে তাই আমিও মার খেয়েছি।
আমি জানতাম আমি যদি তাকে আসল কাহিনীটা বলতামও...
তারপরও আব্বু আম্মু সিস্লিকুট্টি স্যারকে এটা নিয়ে কোন ধরনের প্রশ্ন করতেন না।
জানতেও চাইতেন না কেন তাদের পুত্রধনকে স্যার পিটিয়েছেন।
এমনকি এখনো যদি স্যারের সাথে আম্মুর পথিমধ্যে দেখা হয়...
আম্মু আমার জন্য তার কাছে আশীর্বাদ প্রার্থনা করেন।
এখন সময় অনেক পালটে গেছে।
এখন থানায় আমি এরকম অনেক অভিযোগ পাই যে...
শিক্ষার্থী কর্তৃক শিক্ষক লাঞ্ছিত হয়েছে!
আমি আমার নিজ অভিজ্ঞতা থেকেই বলছি...
যখন শিক্ষকেরা তোমাদেরকে শাস্তি দেন...
সেই শাস্তির পেছনেও তোমাদের প্রতি তাদের অফুরন্ত ভালোবাসাই কাজ করে।
কিন্তু, এই ভালোবাসাটা থাকে না...
যখন পুলিশ অপরাধীকে ধরে কষে মার দেয়।
আগে, যখন টিচার আমাকে বেঞ্চে কানে ধরে দাড়া করাতেন...
আমার বন্ধুরা তখন পেছন থেকে আমাকে নিয়ে ফান করতো।
আমিও তাদের সেই ফানের প্রত্যুত্তর দিতাম হাসিমুখে।
কোন ঠাট্টা মস্করা তখন গায়ে মাখতাম না আমি।
কেন আমি এরকমটা বলছি...
গতকালও আমি সুইসাইডের একটা ঘটনা ফেস করেছিলাম।
একজন মহিলা বাচ্চাসহ ব্রিজ থেকে পানিতে লাফিয়ে পড়ে আত্নহত্যা করার জন্য।
বাচ্চাটা মারা গিয়েছিল।
আর একজন স্মার্ট নেভি অফিসার যিনি তাদেরকে বাঁচানোর জন্য ঝাপ দিয়েছিলেন নদীতে তিনিও নিখোঁজ।
এরকম আত্নহত্যার ঘটনা তখনই ঘটে যখন মানুষ পরিস্থিতি সামাল দেবার মত শক্তি থাকে না।
তাদের মানসিক সক্ষমতা থাকে না।
যে কোন পরিস্থিতি ঠান্ডা মাথায়...
এবং সাহসী পদক্ষেপে দৃঢ় চিত্তে মোকাবেলা করার শিক্ষাটা...
তোমাদের এই স্কুল জীবন থেকেই অর্জন করতে হবে।
আমি আশা করি, তোমরা তোমাদের শ্রদ্ধেয় শিক্ষকদের মাধ্যমে নিজেদের লক্ষ্যে পৌছতে পারবে।
ধন্যবাদ সবাইকে!
আমরা আর কখনো দোকানে এবং বারে মদ পান করবো না!
তাহলে কি বাসায় খাবি?
যদি আপনি অনুমতি দেন স্যার!
বাসাতেও তোরা মদ পান করতে পারবি না!
এখন হলফনামায় "বাসা"-ও যুক্ত করে নে!
আমরা আর কখনো দোকান, বার এবং বাসায় মদ পান করবো না।
কি হয়েছে?
অই অটো ড্রাইভার কুমার এসেছে।
হেই!
আসুন।
এখানে দাড়ান।
স্যার, আপনি না ওকে বলেছিলেন আমাকে আর বিরক্ত করতে না?
সে আজ কি করেছে জানেন?
যখন আমি বাসে করে যাচ্ছিলাম, সে সিনেমার স্টাইলে বাস থামালো!
তারপর বাসে ঢুকে আমার হাত ধরে হিড়হিড় করে বাইরে নিয়ে আসলো।
আমি স্যার এটাই বলতে চেয়েছিলাম যে আমি আর ওকে বিরক্ত করবো না!
সে মিথ্যা বলছে, স্যার!
যখন বাসে আমি বসে ছিলাম, সে তখন বাইরে দাঁড়িয়ে ছিল!
তারপর এভাবে সে আমাকে ফ্লাইং কিস দিল!
তোকে না বলেছিলাম তুই আর উনাকে বিরক্ত করবি না?
তোর সমস্যাটা কিরে?
আমি কোন ফ্লাইং কিস দেইনি, স্যার!
lআমি শুধু জিজ্ঞেস করেছিলাম- কিভাবে আমার সাথে তুমি এমনটা করতে পারলে!
উহু, এভাবে জিজ্ঞেস করেনি!
আপনি জানেন স্যার, সে আমাকে কি বলেছিল?
সে নাকি আমাকে না পেলে স্যাভলন খেয়ে সুইসাইড করবে!
তোরে!
তোরে আজকে মাইরাই ফালামু!
স্যার, আমি আর ওকে বিরক্ত করবো না। প্রমিজ!
আপনার কসম খেয়ে বলছি!
কি বললি তুই!
তার মানে, ওয়াদা ভাঙবি তুই...
আর পটল তুলমু আমি?l
চুপ কর ভোকচোদ!
অনবরত ফাউল কথা বলেই যাচ্ছে, বলেই যাচ্ছে!
আমার থানার আশেপাশের ৩০ কি.মি. পর্যন্ত
আপনাদের দুজনকে যেন আর না দেখি!r!
আর তোর চেহারা এর পরের বার যদি আবার দেখি, কাহিনী বুঝিস কিন্তু!
সামনে আমার বিয়ে!
আর শালা আমাকে ছুয়ে মিথ্যা ওয়াদা করে আমাকে খুন করার তালে আছে!
দুজনেই বেরিয়ে যান!
খোদা, আমাকে ক্ষমা করো!
না জানি আমার ভাগ্যে আর কত ঝামেলা লিখে রেখেছো তুমি!
'পুলিশের নিকুচি করি!'
''পুলিশ এবার পালা রে!!''
নওজোয়ানেরা, বসে পড়ুন! বসে পড়ুন সবাই!
সবাই মাটিতে বসে পড়ুন!
এই সরকারের বিরুদ্ধে আমাদের দুর্বার আন্দোলন গড়ে তুলতে হবে!
পেটোয়া পুলিশ বাহিনী পেছনে লেলিয়ে দিয়ে কোন কাজ হবে না!
আমি আগামীকাল বিকেলে কোচিতে আসছি।
তুমি কি থাকবে স্টেশনে?
হ্যালো? তোমার কথা শুনতে পাচ্ছি না আমি!
''পুলিশ, নিপাত যাও!!''
নেটওয়ার্কে সমস্যা করছে! তোমার কথা ঠিকমত শুনতে পাচ্ছি না!
আমি পরে আবার তোমাকে ফোন দেবো।
ঠিক আছে।
''দুনিয়ার মজদুর, এক হও এক হও!''
''জালিমের কালো হাত, ভেঙে দাও ভেঙে দাও!!''
''দুনিয়ার মজদুর, এক হও এক হও!''
''জালিমের কালো হাত, ভেঙে দাও ভেঙে দাও!''
হেই, এগুলো কি ফ্রেশ নাকি?
এগুলো আজ সকালে এসেছে, স্যার!
অনেক ক্লান্ত দেখাচ্ছে আপনাকে, স্যার? - এগুলো ভাই আমাদের ডেইলি রুটিন!
মধু স্যার, আপনি খাবেন নাকি একটা?
স্যার, সিএম স্যার একটু পরে রাস্তা অতিক্রম করবেন। জায়গা খালি করতে হবে।
কন্ট্রোল রুমে ফোন দেওয়ার পরে তারা বলছে সিএম স্যার এক্ষুনি এ পথ দিয়ে যাবেন।
এক্ষুনি রাস্তা খালি করে দিচ্ছি আমি।
ঠিক আছে।
- স্যার, সিএম চেরথালা অতিক্রম করেছে।
১৮ মোবাইল আলফা ২, আমি এখন থেভারায় আছি।
উনার গাড়িবহরের দিকে খেয়াল রেখো।
সব ঠিক আছে, স্যার।
যখনই সিএম মাদাভানা অতিক্রম করবেন...
আমি আপনাকে জানাবো।
ততোক্ষণ পর্যন্ত, নির্ভান কোচির রুটটা ব্লক করে দাও।
সুবের, থেভারা ফেরির সব বাহন ব্লক করো।
টোল সেট, কন্ট্রোল।
''তোর তো পরিস্থিতির ওপর কোন নিয়ন্ত্রনই নেই! কে তোকে পুলিশে চাকরি দিয়েছে?
কিরে?
কথা কি কানে যায় না?
কে বলছেন?
সব স্টেশন, মোবাইল ইউনিটস এবং সিয়ারভি..
সব গুলো ওয়্যারলেস সেটের হিসেব নিন।
একটা সেট বহিরাগত লোকের হাতে পড়েছে।
সবাই সতর্ক থাকবেন, ওভার!
ওভার?
কয় ওভার শেষ হলো?
ব্যাটিং কে করছে?
কিরে?
শ্রীনাথ কি দলে আছে আজকে?
কন্ট্রোল, কোবরা!
কোবরা?
বেকুবের নাতি, আমি কোবরা না।
আমি হইলাম কিং কোবরা!
এই ওয়্যারলেসের কানেকশনটা কোথায় ঘটছে খুবে বের করো।
একই সাথে, এটা কোন থানার নামে ইস্যু করা হয়েছিল সেটাও খুজে বের করো!
আমি হলাম...
এই এলাকার রাজা!
আমি!
আমারে চিন্না রাখ সব!
স্যার, এই সেটটা পি১৮, ৪৬৭৯ নাম্বার থানার জন্য ইস্যু করা হয়েছিল।
মানে? সেটটা মিসিং হয়েছে আমাদের কাছ থেকে?
ভারত...
এই ভারত মাতাকে মিডিয়াতে কিভাবে প্রদর্শন করা হয়?
অবহেলিত গরীব অভাগা...
শিক্ষিত...
ধুরো, অশিক্ষিত
মানুষের আড্ডাখানা বলে।
মিনি, তোমার ওয়্যারলেস সেটটা কি কোনখানে হারিয়েছ?
ভারতের চলচ্চিত্র এবং মিডিয়া এখন..
এখন সানি লিউনের মত...
বেশ্যা, খানকি মাগিতে...
ভরে গেছে!!
ভিভিআইপি ডিউটির পরে, টাউনের এসআই যত শিঘ্র সম্ভব আমাকে রিপোর্ট করবেন!
সাইলেন্ট প্লিজ!
আমাদের মাননীয় চুদুরবুদুর মন্ত্রীর আসতে আরো ১০ মিনিট লাগবে!
আপনারা চাইলে সবাই ততোক্ষনে এক পেগ মাল টেনে আসতে পারেন! ওভার!
সবাই এখানে উপস্থিত আছেন? - জি স্যার।
টাউন সিআই এবং এসআই?
আপনারা মহামান্য দুজন দাঁড়িয়ে আমাকে একটু কৃপা করুন!
স্যার, ৫ বছর
আপনাদের থানার তত্ত্বাবধানে কয়টি ওয়ার্ড আছেন, জানেন আপনি?
৮ টা ওয়ার্ড, স্যার।
সব গুলো ওয়ার্ডের জনসংখ্যা সব মিলিয়ে কত হবে?
দুই লাখের মত, স্যার।
পুলিশ একাডেমিতে ট্রেইংনিং এর সময়...
ট্রেইনাররা কি একজন সাব ইন্সপেক্টরের দায়িত্ব গুলো কি কি সে সম্পর্কে কিছু বলেননি?
স্যার, জান মালের হেফাজত করা।
জান এবং কি? - মাল।
তো আপনাদের সব মালসামানা কি ঠিকমত আছে?
আপনাদের থানায় মোট কয়টা ওয়্যারলেস সেট আছে?
৬ টা, স্যার।
আজ এখন এই মুহূর্তে কয়টা আছে।
আপনি আপনার থানার সামান্য একটা ওয়্যারলেস সেটের নিরাপত্তা নিশ্চিত করতে পারেন না...
তাহলে ২ লাখ মানুষের জান মালের নিরাপত্তা নিশ্চিত করবেন কিভাবে?
সিআই এর কি এখানে কিছু বলার আছে?
স্যার...আসলে...
আমি আপনাকে রিপোর্ট করতে বলেছিলাম!
কাজ শেষ তাহলে।
স্যার, উপযুক্ত ব্যাখ্যা খুব শীঘ্রই উপস্থাপন করবো আপনার সামনে!
হ্যাঁ...হ্যাঁ...ধান ভানতে এখন শিবের গীত গাওয়া হচ্ছে!
তা ওয়্যারলেস সেট টা হারিয়েছে কে?
কেমন সে?
সে খুবই সজ্জন একজন ব্যাক্তি, স্যার।
আর যার কাছে ওয়্যারলেস সেটটা আছে তাকেও যত তাড়াতাড়ি সম্ভব আমার সামনে নিয়ে আসবে।
আনবো, স্যার!
যাও, গিয়ে আগাপাছতলা আবার চেক করে এসো...
দেখো, শুধু ওয়্যারলেস সেটই হারিয়েছে নাকি...
প্যান্টের ভেতরের আন্ডারওয়্যারও চুরি করেছে!
দেখো, একে ওপরের দিকে কেমন নির্লজ্জের মত তাকাচ্ছে!
হঠাত করে কমিশনার স্যার কনফারেন্স ডাকলেন কেন?
তোমার পুঙ্গি বাজানোর জন্য!
আমি? আমি আবার কি করলাম?
কি করেছো? তুমি তো এখন শহরের নতুন সেলেব্রিটি!
স্যার, আমার মাথাতেই ঢুকছে না সেটটা কোথায় হারিয়েছি আমি!
মধু স্যার, আপনি না আমার সাথে...
হে...এটাই তো! এখন তো আমার চাকরিরও শ্রাদ্ধ্য করতে চাচ্ছেন আপনি?
কমিশনার স্যার আমাকে বলেছে তাকে স্পেশাল রিপোর্ট দিতে।
তার রাগের মূল কারন হচ্ছে...
অই বেজন্মাটা মন্ত্রী এবং কমিশনার স্যারকে উদ্দেশ্য করে অশ্লীল কথা বলেছে।
সত্যিই স্যার! শালার কথা শুনে কানটা কেমন ঝাঁ ঝাঁ করছিল!
মিনি, তোমার কি এখনো সে কলা চাষের প্রকল্পটা বিদ্যমান আছে?
সব ঠিকমতই চলছে, স্যার।
শেষ বার আসার সময় যে কলা দেখে এসেছিলেন আপনি সেটা এখন পাকতে শুরু করেছে!
তো তুমি এখন থেকে সেখানেই মনোযোগ দিলে ভাল হয় বেশি!
স্যার, আমার সাথে এরকম করবেন না!
আমার তিনটা বাচ্চা আছে স্কুলে যায়! চাকরি হারালে বড় ঝামেলায় পড়ে যাবো স্যার!
তারা একটা ইনকুয়ারির প্রস্তাব দিয়েছে, দেখা যাক কি হয়!
কমিশনার স্যার প্রচন্ড রেগে আছেন!
এখন তার সাথে কথা বলে সেরকম কোন ফায়দাও নেই।
আপনি তো গার্ডের ডিউটিতে, তাই না?
ঠিকমত কি ইউনিফর্মটাও পড়বেন না?
যদি কমিশনার স্যার এসে আপনাকে এভাবে দেখে...
আপনাকে তো বিনা নোটিশে তখন বরখাস্ত করবে!
স্যার, একটু দেখুন না আপনি..
আহ... দেখছি কি করা যায়।
দেখলেন স্যার! বলা নেই কওয়া নেই আমার ঘাড়ে দোষ চাপিয়ে দিল!
হুম্ কি আর বলবো বলো!
কনফারেন্সে আমার মান সম্মান ইজ্জত সব তো মাটির সাথে মিশে গেছে!
এরকম ভুলোমনা হলো সে কবে থেকে?
ডিপার্টম্যান্ট শুধু এখন ওকে বরখাস্ত করার জন্য একটা উসিলা খুঁজছে।
সে একটা ফাইল পিটিশন করতে এসেছিল স্যার, হঠাত করে মিনি স্যার গুলি করলেন!
কি করলেন এটা?
কি ঘটে গেল কিচ্ছু বুঝলাম না , স্যার!
আপনার কথা মত আমি পিস্তলটা হাতে নিয়েই ইউনিফর্ম..
ঠিক করছিলাম!
মনে হচ্ছে স্যার, আমার খারাপ সময় এসে গেছে!
স্যার, সে বেঁচে আছে!
তাকে দ্রুত হাসপাতালে নিয়ে যাও!
স্যার,
মনে হয় পিস্তলে কোন সমস্যা আছে!
তুমি এখন বিয়ের আগেই আমার বউকে বিধবা করতে চাও?
তারপর?
তারপর আর কি...
তাকে বরখাস্ত করা হল! - বরখাস্ত করে দিল!
দুইটা কেসই এক স্রোতে এসে মিশে গিয়েছিল।
তাই কমিশনার স্যারও ওকে বরখাস্ত করতে কোন সময় নেন নি।
আহারে! বেচারা!
তাকে কি গান ফায়ারের জন্য নাকি ওয়্যারলেস সেট হারানোর জন্য বরখাস্ত করা হয়েছিল?
গান ফায়ার তো বড় একটা সমস্যা ছিল!
চাইলেই আমরা গুলি করতে পারি না।
প্রত্যেকটা বুলেটের পাই টু পাই হিসেব দিতে হয়।
ওহ আচ্ছা!
কিছুই করার নেই।
আমাদের চাকরিটাই আসলে এমন।
যে কেউ যে কোন সময় বরখাস্ত হয়ে যেতে পারে।
আর একবার বরখাস্ত হলে ৬ মাস সে কোথাও জব পায় না!
আচ্ছা, তখন না হয় আমরা বেড়াতে যাবো!
বেড়াতে যেতে হলে কি তোমাকে বরখাস্ত হতে হবে? কি যে বলো না!
দেখুন ম্যাডাম!
সাঝি স্যার, আপনি কি পড়ে আসবেন?
আপনারা সবাই স্যারের বিয়েতে কি কি পরে যাবেন সেটা বাছাই করছেন, তাই না?
স্যার, একজন মহিলা নিখোজের একটা কেস আছে।
তাকে ভেতরে পাঠিয়ে দাও।
আসুন
বসুন।
কি নাম আপনার?
পাভিথারান।
কি কাজ করেন আপনি?
কন্সট্রাকশনের কাজ, স্যার।
মহিলা নিখোঁজ, আপনার স্ত্রী নিখোঁজ হয়েছে নাকি?
জি। - কতদিন ধরে উনি নিখোঁজ?
এক সপ্তাহ।
এক সপ্তাহ আগে কেন আপনি পুলিশের কাছে কমপ্লেন করেন নি?
আমি একদিন অপেক্ষা করেছি, দুই দিন অপেক্ষা করেছি।
আমি ভেবেছিলাম ও ফিরে আসবে।
জানেন সে কোথায় আছে এখন?
জি।
কোথায়? মুলাকুপাডাম।
আমার বন্ধুর সাথে।
আপনার বন্ধু?
সে আমার সাথেই কাজ করতো। নাম সানাল।
আমি জানতামও না!
বুঝতেও পারিনি সে আমার এতবড় ক্ষতি করে দেবে
সে আমার মেয়েকেও নিয়ে গেছে!
মেয়েটাকে ছাড়া...
আমি ঘুমাতে পারি না...
প্রত্যেকটা দিন, বাসায় ফেরার পথে ওর জন্য কিছু না কিছু কিনে নিয়ে যাই।
কিন্তু, ঘরে এসে ওকে পাই না!
এক সপ্তাহ হয়ে গেল, আমি রাতে ঘুমাতে পারিনি স্যার।
এক সপ্তাহ কেটে গেছে? - হ্যাঁ।
যদি সে ফিরে আসে, আপনি কি তাকে মেনে নেবেন?
অবশ্যই, স্যার!
তার কি কোন নাম্বার আছে?
জি। - বলুন।
93
49
99
62
70
আপনার মেয়ের বয়স কত?
৫ বছর, স্যার।
যদি আপনি পারিবারিক আদালতেও যান..
আদালত মেয়েকে তার মায়ের কাছেই পাঠাবে।
কি নাম তার? - সিন্ধু।
হ্যালো, সিন্ধু বলছেন? - হ্যাঁ, কে বলছেন?
আমি টাউন স্টেশনের এসআই বলছি।
কি ব্যাপার, স্যার?
আমি আপনার স্বামীর কমপ্লেন অনুযায়ী একটা কেস রেজিস্টার করেছি যেখানে বলা হয়েছে আপনি নিখোঁজ!
তাই, হয় থানায় আসতে হবে, নয়তো যেখানে আছেন সেখানে পুলিশ পাঠাতে হবে।
না, এখানে পুলিশ পাঠাবেন না, স্যার।
আমি নিজেই আসবো থানায়। - কখন আস্তে পারবেন?
সোম...সোমবার, স্যার। - কয়টার দিকে।
সকাল ১০ টার দিকে, স্যার। - ঠিক ১০ টার মধ্যেই চলে আসবেন থানায়।
আচ্ছা স্যার।
ঠিক আছে।
উনি সোমবার সকাল ১০ টার দিকে থানায় আসবেন বলেছেন।
উনি আসার পর উনার সাথে বিস্তারিত কথা বলবো।
আমাকে উনার কথাও ভালো করে শুনতে হবে।
আমার মেয়েকে কি আমি ফিরে পাবো, স্যার?
টেনশন করবেন না, চেষ্টা করবো একটা ভাল সমাধান খোজার জন্য।
ঠিক আছে, স্যার।
স্যার, উনি সিটবেল্ট পড়েননি।
আমি একটা কাছাকাছি এরিয়াতেই যাচ্ছিলাম।
তো তাই বলে আপনি সিটব্যাল্ট পড়বেন না?
থামুন, এখানে পার্ক করুন।
১০০ টাকা দিন।
স্যার, টাকা...
স্যার, আমরা তো শুধু চা খাওয়ার জন্য বেরিয়েছিলাম। - ওকে, তাহলে আপনাদের কোর্টে পাঠাবার ব্যবস্থা করি।
না স্যার, আমি টাকা দিচ্ছি! - ১০০ টাকা।
স্যার, মন্ত্রী মিনিস্টাররা যখন বস্তা ভর্তি টাকা ঘুষ নেয় তখন তো আপনাদের কোন তৎপরতা দেখি না।
জনগনের কাছ থেকে কর নিয়েও তো তারা রাস্তার কোন উন্নয়ন করছেন না।
এত বড় বড় সমস্যা থাকতে আমার হেলম্যাট না পড়াটাই আপনাদের সমস্যা হয়ে গেল?
আমরা আপনাকে এই জন্যই হেলমেট পড়তে বলছি কারন রাস্তা খানাখন্দে ভর্তি।
চলরে ভাই!
থামুন! থামুন!
এখানে পার্ক করুন।
আপনার হেলমেট কোথায়?
স্যারের কাছে যান।
প্লিজ স্যার।
আপনার হেলমেট কোথায়? - নেইনি স্যার।
আপনার নাম বলুন।
বিজু।
কি?
বিজু আমার নাম।
আপনার লাইসেন্স কোথায়? - সাথে নেই স্যার।
বলেন কি! হেলমেট, লাইসেন্স কিছুই নেই!
৫০০ টাকা জরিমানা দিন।
আমি বুঝতে পারিনি এখানে পুলিশ থাকবে, আমার বাড়ি কাছেই।
যদি বিশ্বাস না করেন, আমার সাথে আসেন। আপনাকে দেখাবো আমি!
ঠিক আছে, ১০০ টাকা দিন।
১০০ টাকা তো দিতে পারবো না। ৫০ আছে, দেবো?
নিয়ে যাও একে সামনে থেকে!
তার মোচটা তো চখাম দেখতে! কোথায় থাকেন উনি?
উনার থাকার মত জায়গা নেই, যান আপনি!
স্যার, মিনি স্যার এসেছেন।
কোথা থেকে আসলে আমাদের মিনি স্যার!
তোমাকে ছাড়া থানা তো শূন্য মনে হয়!
তোমার কৃষিকাজ কেমন চলছে?
কৃষিকাজ তো পুলিশের কাজের চেয়ে ঢের ভালো!
যেটা করছেন ভালই করছেন স্যার।
ওখান থেকে কেউ আপনাকে বরখাস্ত করতে পারবে না।
সেই সুখের ছটা আপনার চোখেমুখে পরিষ্কার দেখা যাচ্ছে, মিনি স্যার।
আমি শুনতাম একজন বরখাস্ত হওয়া পুলিশের লোকের মান ইজ্জত কিছু থাকতে নেই।
এখন তো সেটাই দেখছি সত্য।
স্যার, একটা ওয়্যারলেস সেট যদি কিনে দেই সমস্যার কি সমাধান হবে?
গান ফায়ারের ব্যাপারটা কি বলবে?
অই পিটিশনার ৩ দিন মাত্র আইসিইউ তে ছিলেন!
আমার প্রিয় নিরভান স্যার, এটা ডিপার্টম্যান্টের অস্ত্র।
দরকারের সময় ওটার মুখ থেকে গুলি বেরুবে না।
যাই হোক, যে মামায় ওয়্যারলেস সেটটা চুরি করেছিল নিশ্চয়ই কোথাও এখন চিল করছে।
মধু, এক বোতল পানি নিয়ে আসো।
এক বোতল পানি।
সানি, তোমার যে প্রতিভা তোমার তো আরো বড় পজিশনে থাকা উচিত!
তুমি জানো, আমি ঠিক আহলাদি টাইপের নই, তাই না?
যদি তুমি একটা গাড়ি কিনে সেটা দাতা মহসিনের মত কাউকে দান করে দাও...
তারপরও আমি তোমাকে ভালোবেসে যাবো, সানি!!
আর হ্যাঁ...
তুমি যে জিনিসটা আমাকে দিয়েছিলে অইদিন, ওটা আমি লুকিয়ে রেখেছি।
তুমি কবে ফেরত নেবে সেটা?
দেখলে তো!
আসল কথা বলার পরই তুমি বোবা বনে গেলে!
ওখানে!
সানি?
সানি?
এত আওয়াজ কিসের?
সোজা!
তুমি?
তুমি দরজার সামনে দাঁড়িয়ে আমার সাথে ফোনে কথা বলছো?
কেন তোমার ফোনের টাকা নষ্ট করছিলে?
আমাকে সারপ্রাইজ দেবে বলে?
তুমি অনেক দুষ্টু!
তুমি এতক্ষন স্যারের সাথে কথা বলছিলে!
আহা!
তো এটাই তোমাদের রঙ্গলীলার জায়গা?
ও কি হয় আপনার?
আপনার স্বামী?
না।
আমি জানতাম!
কোথায়? ফোনে যে জিনিসটার কথা বলেছিলে সেটা কোথায়?
কিসের কথা বলছেন, স্যার?
ওহ, তো বুঝতে পারছেন না আপনি?
আপনিই তো সেই মহিয়সী মহিলা যিনি ফোনে আমার সাথে পিরিতির আলাপ করছিলেন!
আমি সেরকম মেয়ে না, স্যার। - ঠিক আছে, আমি সার্চ করে দেখি।
সবাই সার্চ করো। - চলো!
না স্যার, আমি দিচ্ছি আপনাকে।
যান, নিয়ে আসুন!
এটুকুই? বাকি সব জিনিস কোথায়?ls that it? Where's the rest?
আমার কাছে এগুলোই আছে, স্যার।
এটা একটা পুরনো ভাঙা মোবাইল, স্যার।
কি? ওকে খুজে পেয়েছো?
কোথায় পেয়েছো? - ভাক্কি কলোনি থেকে, স্যার।
ওহ, আচ্ছা আমি কমিশনার স্যারকে এখনই জানাচ্ছি সব!
চুত******* কিং কোবরা!
মজা লাগছে?
পুলিশের মার খেলে সোজা হয়ে আর কখনো দাড়াতে পারবি না!
''সবাই মনোযোগ দিয়ে শুনুন।"
জনগণ এবং অভিযুক্তের সাথে...
আপনারা সব সময় ভদ্র ভাষায় কথা বলবেন!!''
স্যারের মুখের গালির বহর রে ভাই!!
বাপের জন্মেও এমন বীভৎস গালি শুনিনি!
সিআই স্যার তখন কি করছিলেন?
মনজ স্যার তো তখন পাথরের মূর্তির মত দাঁড়িয়ে ছিলেন!
আমি মিনি স্যারকে ফোন দিয়ে বলেছি আসল মক্কেলকে খুজে পাওয়া গেছে।
ওকে ফলো করো!
তাড়াতাড়ি, দ্রুত!
তাকে যেতে দিন, স্যার!
যদি সে আমাদের তাড়া খাওয়ার কারনে কোথাও পরে গিয়ে আঘাত পায়, সব দোষ তখন আমাদের ঘাড়ে চাপবে!
কত দ্রুত চলে গেল!
জিপ ঘোরাও।
কন্ট্রোল ১৮ মোবাইল।
KL 7 BD - 1238.
একটা পালসার বাইক, এটার আরসি এড্রেসটা আমাকে দাও।
ঠিক আছে, স্যার।
যে নাম্বারটা দিয়েছেন স্যার সেটা কোন পালসার বাইকের নয়।
এই নাম্বারের কোন অস্তিত্ব নেই।
তাহলে এটা অবশ্যই একটা জাল নাম্বার হবে।
সে নিশ্চয়ই ছিনতাই বা অন্য কোন কাজে এই বাইক ব্যবহার করে।
কোথায়?
কোন হাসপাতাল?
ঠিক আছে স্যার, আমি এক্ষুনি আসছি!
স্যার...আমি... - কি ব্যাপার?
আমি কি অই লকাপে ঢুকতে পারি? -কেন?
ওর সাথে আমার কিছু হিসাবনিকাশ আছে, স্যার! - চুপ করো, মিনি।
তুমি এরই মধ্যে বরখাস্ত হয়েছো, এখন কি আমার চাকরিটাও খেতে চাও নাকি?
গাড়ি চালু করো। আমাদেরকে এখুনি হাসপাতালে যেতে হবে।
কখন ঘটেছে এটা?
৬ টা... ৬.৩০ তার দিকে...
৬.৩০ টাই হবে।
অই লোকটা কোন ভাষায় কথা বলছিল?
তামিল, হিন্দী, বাংলা নাকি অন্য কোন ভাষায়?
সে আমার সাথে কোন কথা বলেনি।
সে শুধু আমার চেইনটা ছিনতাইয়ের চেষ্টা করেছে।
ভয়ে যখন আমি চিৎকার শুরু করি...
তখনই সে ভারি কিছু দিয়ে আমার মাথায় আঘাত করে!
ওখানে স্পর্শ করো না! আমি ঠিক আছি এখন!
ব্যাথা এখন আগের চেয়ে অনেক কম।
সে দেখতে কেমন ছিল?
কালো...
খুবই লম্বা।
পরনে কি ছিল তার?
সে একটা...
টি শার্ট পড়ে ছিল।
গ্রে কালারের।
না... ওটা কালো রং এর ছিল।
একটু খয়েরি ডিজাইন ছিল
আমি ঠিক মনে করতে পারছি না।
তখন বাসায় কেউ ছিল না?
সে ছিল বাইরে।
আমার ছেলে কোচিং এ গিয়েছিল?
আমাদের ছেলে ১২ গ্রেডে পড়ে।
স্কুল থেকে আসার পরে ৮ টা, ৮.৩০ টার দিকে ও কোচিং এ যায়।
আপনি কি কোন বাইকের আওয়াজ শুনেছিলেন?
হ্যাঁ!
মনে হয়েছিল, কেউ একজন বাইক স্টার্ট দিল, তারপর চলে গেল!
তাকে দেখলে কি চিনতে পারবেন?
দেখুন তো এদের মধ্যে কেউ নাকি?
না।
এদের মধ্যে কেউ না।
কন্ট্রোল ১৮ মোবাইল।
আমি পুর্বেও একটা কল করেছিলাম।
এটা আসলেই কোন ছিনতাইয়ের কেস কিনা সেটা নিয়ে আমার সন্দেহ আছে।
আমি পূর্বে একটা মেসেজ পাস করেছিলাম।
একটা কালো পালসার বাইক সম্পর্কে।
আমার সন্দেহ বাইকের লোকটাই আসল অপরাধী।
সব স্টেশনকে রিপোর্ট জানিয়ে দেওয়া হলো।
যদি কোন গুরুত্বপূর্ন তথ্য পাওয়া যায় কন্ট্রোল রুম ১৮ কে জানানোর জন্য নির্দেশ দেওয়া হচ্ছে, ওভার!
ঠিক আছে, স্যার। ওভার!
আমাদের উচিত হবে উনার বাসায় গিয়ে...
ঘটনাস্থলটা ভালোভাবে চেক করে দেখা...
তারা সকালে এখানে এসে চেক করে গিয়েছিল।
তারপর সুযোগ বুঝে বাসায় আসে চুরি করতে।
টাউনে তো অনেক গুলো বাঙালি পরিবার আছে, তাই না?
তার কথামতো...
আমাদের হিরো রান্নাঘর থেকে পলায়ন করে।
স্যার, আগে তো ছিনতাইকারীরা বাইকে করে অতর্কিত চেইন ছিনতাই করত...
এখন দেখছি তারা বাসায় ঢুকে, মাথায় বাড়ি মেরে চেইন ছিনতাই করা শুরু করেছে!
জী বলুন।
স্যার, মাথায় আঘাতপ্রাপ্ত মহিলার বাসায় এখন আমি অবস্থান করছি।
স্যার, আমার সন্দেহ হচ্ছে আসলে কেসটা আসলেই সত্য কিনা।
তার দেওয়া বয়ান অনুযায়ী ক্রাইম সিনে এসে কিছু বিষয়ে আসলে খটকা লাগছে।
ত্রিভেন্ড্রাম সেশন কোর্টে একটা ওয়ারেন্ট আছে।
আমি সেটার জন্যই যাচ্ছি সেখানে। কাল সন্ধ্যার দিকে আসবো।
তুমি ভালোভাবে তদন্ত করো। বাকি যা করার আমি টাউনে ফিরে এসে করবো।
না।
কোন মামলা করার দরকার নেই।
কেউ যেন...
কেউ যেন কিচ্ছু জানতে না পারে।
কোন মামলা করবেন না।
প্লিজ স্যার।
যখন আমি আপনার মাকে ঘটনা সম্পর্কে জিজ্ঞাসাবাদ করছিলাম...
উনি আমার চোখের দিকে না তাকিয়ে কথা বলেছিলেন।
তখন থেকেই সূক্ষ্ণ একটা সন্দেহ আমার মনে দানা বেঁধেছে।
কিন্তু, অভিযুক্তের ব্যাপারে উনি অনেক আত্নবিশ্বাসের সুরে কথা বলেছিলেন।
তারপর, যখন আমি তোমাদের বাসা চেক করি..
আমি কি ঘটেছে সেটা অনুধাবন করতে পারি।
তোমার মায়ের সাথে কথা বলে যা বুঝলাম...
বা যা ধারনা করলাম.....
তিনি অনেক কিছুই আমাদের কাছে গোপন করেছেন।
শেষে, উনি হাতজোড় করে আমাকে অনুরোধ করলেন...
কেউ যেন এই ঘটনাটা জানতে না পারে।
কেউ যেন আমার ছেলের এই কীর্তিকলাপ সম্পর্কে বিন্দু পরিমাণ কিছু না জানে।
আর তুমি?
মারিজুয়ানার টাকা জোগাড়ের জন্য নিজের মার মাথাতেই আঘাত করলে!
যদি তোমার কান্না আসলেই অনুশোচনা থেকে আসে..
যদি তুমি তোমার মাকে ভালোবাসো...
যদি নিজের কৃতকর্ম সম্পর্কে লজ্জিত হও..
তাহলে সব খুলে বলো আমাকে!
কোথা থেকে তুমি এই নেশাদ্রব্য জোগাড় করতে?
কে তোমার স্কুলে এসব সাপ্লাই করতো?
কোথায়? কোথায়?
স্যার, আপনার যাওয়ার পথের ডানদিকে যে ব্রিজটা আছে...
সেটা পার হয়ে পানাম্পিলি নগরে যান। - ডান দিকে যাও!
কোন গাড়িটা?
অই লাল রং এর সুইফট গাড়িটা।
পুলিশ! গাড়ি ঘোড়া!
কি হয়েছে, স্যার?
কি করছো তোমরা?
তোমরা এখানে তোমাদের "জিনিস" পাও নাকি?
জিনিস? - হ্যাঁ, সেটাই।
এখনো মাথায় কিছু না ঢুকলে খোলাসা করেই বলছি...
আমার কাছে তথ্য রয়েছে তোমরা মারিজুয়ানা বহন করছো।
না স্যার! - তো মালটা রেখেছো কোথায়?
না, স্যার! বিশ্বাস করুন কিচ্ছু নেই আমাদের কাছে!
আহা!
স্যার, আপনি এখানে?
আপনি আবার কবে থেকে বাবা টানা শুরু করলেন?
না স্যার, আমি গাড়িতে লিফট নিয়েছিলাম কাদাভান্থ্রা যাওয়ার জন্য।
মাত্রই উঠেছি বলতে পারেন!
প্লিজ, সবাই বাইরে বেরিয়ে আসুন। গাড়িটা তল্লাশি করা হবে।
স্যার, আমরা বাসায় যাচ্ছিলাম!
তোমাদেরকে ছেড়ে দেবো, বাইরে বের হও! - প্লিজ স্যার!
কি ব্যাপার, স্যার?
ওখানে গিয়ে দাঁড়াও।
স্যার, আমরা কিচ্ছু জানি না!
স্যার, গাড়িতে কিছুই নেই!
কেউ নিশ্চয়ই আপনাকে ভুল তথ্য দিয়েছে, স্যার!
আমরা কিচ্ছু জানি না! - কিছু পেলে?
আমরা এসব করি না, স্যার। বাসায় আমার শুধু বুড়ো দাদী আছেন, স্যার!
স্যার, অনেক দেরি হয়ে গেছে। আমাদেরকে বাসায় যেতে দেবেন স্যার, প্লিজ?
আমরা কিচ্ছু করিনি স্যার, খোদার কসম!
তাহলে গাড়িতে বসে কি করছিলে তোমরা?
স্যার, একটা কল এসেছিল, তাই গাড়িটা থামিয়েছিলাম!
স্যার, গাড়িতে কিচ্ছু নেই স্যর, প্লিজ ছেড়ে দিন আমাদেরকে!
স্যার, ওটা স্যারের কাছে নেবেন না, প্লিজ!
যা বলছি!
কি? ওখানে গিয়ে দাড়া!
আয়!
স্যার, দেখুন এগুলো! - আমি আর এসব করবো না, স্যার!
আমার ভুল হয়ে গেছে, স্যার!
চুপ কর!
কি এগুলো?
স্যার, আমরা কিচ্ছু জানি না!
অফিসারকে ফোন দাও।
তাকেই যা বলার বলবো।
স্যার, বাসার মানুষ জানলে আমাকে ঘর থেকে বের করে দেবে, স্যার! প্লিজ, আমাদের ছেড়ে দেন!
স্যার, আমাদেরকে ছেড়ে দিন! আপনার পায়ে পড়ি!
বাসায় জানলে আমাকে মেরেই ফেলবে, স্যার!
স্যার, আমি গোপন সংবাদের ভিত্তিতে এদেরকে হাতেনাতে ধরেছি!
lআমি গাড়িতে মারিজুয়ানাও পেয়েছি।
তাই, চূড়ান্ত জিজ্ঞাসাবাদ টা আমি আপনার সামনেই করতে চাচ্ছিলাম।
কি আছে ওখানে?
বের কর!
বের কর বলছি!
দেখলে তো সবকিছু?
তোমাদের সবার যাতে ৫/৬ বছর করে জেল হয় সে ব্যবস্থা আমি করবো।
তারপর, তোমাদের মা বাবাকে এই সুখবরটা আমি নিজে ফোন করে জানাবো।
প্লিজ স্যার।
বাসায় ফোন দেবেন না, স্যার!
আমরা তো একটু ঘুরতে বেরিয়েছিলাম।
যাত্রাপথে উনাকে একটা লিফট দেই, স্যার!
তো তোমরা জানো না তার ব্যাপারে? - না স্যার।
নাম কি তোমার? - সুহিল।
তোমার না? - রিজওয়ান।
টমরা কি আগে থেকেই তাকে চিনতে? - না স্যার।
স্যার, কসম খেয়ে বলছি এই বাচ্চাগুলো এসবের সাথে যুক্ত নয়!
তুই চুপ কর!
স্যার, এই হচ্ছে পালের গোদা যে সব বাচ্চাদের এই বিপথে এনেছে।
কিন্তু, উনি আবার খুবই মহৎ! নিজের কাস্টোমারের কোন ক্ষতি হতে দেবেন না!
তোমাদের বাসার নাম্বারটা বলো?
দয়া করে বাসায় কল দেবেন না, স্যার!
আমি তোমার বাসার নাম্বার জানতে চেয়েছি!
স্যার, প্লিজ আমার বাসায় কল দেবেন না!
হ্যালো? এটা কি জুয়েলের বাসা?
এি পাশে দাড়া।
তোর গেঞ্জি খোল।
তোর গেঞ্জি খুলতে বলেছি!
স্যার! আমাকে মারবেন না, স্যার!
ভয় পাস না!
তোর জন্য সামান্য উপহার এটা! - স্যার, আমার ভুল হয়ে গেছে!
হাটু গেড়ে দাড়া।
স্যার, আমাকে মারবেন না!
কাছে আয়! হাটু গেড়ে বস!
আমাকে মারবেন না, স্যার!
তুই..
তুই স্কুলে মারিজুয়ানা বেচিস? তোর এত বড় সাহস!
স্যার, প্লিজ স্যার! অই নারকেলটা দিয়ে আমাকে মারবেন না!
আমি শহর ছেড়ে চলে যাবো, স্যার! - হাটু গেড়ে বস।
তোর বডির প্রত্যেকটা হাড্ডি আজকে ভাঙবো!
স্যার, আমি আর এই কাজ করবো না!
তোর মত বাইনচোত গুলারে আমি ভালো করেই চিনি!
তুমি, বাকি মারগুলো দাও!
স্যার, আমি আর সহ্য করতে পারছি না! আর মাইরেন না স্যার!
তোর টোটাল কয়টা গ্যাং আছে, বল?
গাঞ্জা বেচো, না?
লাফা! লাফাতে বলেছি কিন্তু!
স্যার, আর মাইরেন না আমাকে!
স্যার, বাবা মার কসম আর এই কাজ করবো না!
আমি জীবনে আর এসব ছুয়েও দেখবো না, স্যার!
এত মার খেয়েও কিছু বলছে না! - সে একজন দাঘু অপরাধী!
ছবি জুড়ে ধোয়া ছাড়া তো আর কিছু দেখছি না!
স্যার, ওগুলা গাঞ্জার ধোয়া না, হুক্কা টানার ধোয়া!
হুক্কা!
কি অবস্থা! ধোয়ার জন্য তো তোমাদের চেহারাও দেখা যাচ্ছে না ভাল করে!
স্যার...
ছেলেগুলোর মা এসেছে।
সবাইকে ভেতরে পাঠিয়ে দাও।
উনি আমার আম্মু, স্যার।
ওরা কি করেছে, স্যার?
আমি আপনার ছেলের গাড়িতে দুই কেজি গাঞ্জা পেয়েছি।
আমি তোমার কসম খেয়ে বলছি আম্মু! আমি কিচ্ছু করিনি!
আম্মু!
উনাকে বসাও চেয়ারে।
তোমার আব্বু কোথায়?
উনি মিলিটারিতে আছেন, স্যার।
ওনাকে ফোন করেও পাওয়া যাবে না।
কিচ্ছু ঢুকছে না মাথায় কি করবো!
উনি এখন আছেন সীমান্তে।
জানি না এসব কথা উনি জানলে কি করবেন!
দাদী!
উনি তোমার দাদী? - জি স্যার।
আপনি বসুন।
ওর বাবা মা কোথায়? - ওরা নেভিতে আছে স্যার।
দাদী, আপনাকে আমরা এখানে ডেকেছি কারন...
কি ব্যাপার বলুন?
এখান থেকে আমাকে কল করা হয়েছে।
রিজওয়ান আমার ছেলে।
ও এসআইয়ের রুমে আছেন।
ওরা ওকে আমার তত্ত্বাবধানে রেখে গিয়েছিল, স্যার।
যাতে করে ওর দেখাশোনা, আর পড়াশোনার দিকে খেয়াল রাখতে পারি।
ও যে এসব করছে তলে তলে আমি জানতাম না, স্যার!
আমার খুব খারাপ লাগছে, স্যার!
কি হয়েছে? তুই এখানে কেন?
কি হয়েছে, স্যার?
আপনার ছেলে ওর বন্ধুর গাড়িতে বসে গাজা সেবন করছিল।
এটা এমন একটা কেস যেখানে ওর ৩ বছরের জেল হতে পারে।
কিছু বলার আছে আপনার?
ও কোন শিশু নয়।
ওকে জেলেই পাঠান। তাহলেই হয়তো ও জীবনের মানেটা বুঝতে পারবে!
ওর বাবা কোথায়? - মারা গেছে।
আপনি কি করেন? - আমি একজন স্কুল টিচার, স্যার।
তাদের কাউকে চেনেন আপনি?
এই লোকটাকে চিনি আমি।
কি নাম উনার?
বিনয়।
ওকে এই লোকটার সাথে বেশ কয়েকবার দেখেছিলাম আমি!
আমি ওকে সাবধান করেছিলআম অই লোকটার সাথে যেন বন্ধুত্ব না করে!
পরে যখন আমি জিজ্ঞেস করি, ও বলেছিল আমাকে...
তাদের মধ্যে এখন কোন ধরনের বন্ধুত্ব নেই।
কিন্তু, ভেতরে ভেতরে আমি ভীত ছিলাম।
যে ও না কোন বিপদে না আবার ফেঁসে যায়!
অবশেষে...
আমার ভয়টাই সত্য হলো।
দেখুন, তাদের মধ্যে কোন প্রতিক্রিয়া পান কিনা?
আপনাদের কি কষে ওদের চড় মারতে ইচ্ছে করে না? - আমার করছে, স্যার।
আমি শুধু আপনাদের সামনে নিজেকে নিয়ন্ত্রন করছিলাম।
কি করলি এটা!
যখন আমি শুনলাম পুলিশ ওকে গ্রেফতার করেছে...
আমার বড় মেয়েটা বলেছিল, আমি নাকি ওর জন্য কেঁদেই মারা যাবো!
তখনই আমি সিদ্ধান্ত নেই..
আমি কখনো ওর জন্য বিন্দু পরিমাণ কান্নাকাটিও করবো না।
কিন্তু...
গতকাল, একজন মা গাজা কেনার জন্য টাকা চুরি করার সময় তার ছেলেকে হাতেনাতে ধরে ফেলেছিল।
ছেলেটা কি করেছিল জানেন? মার মাথাটাই ফাটিয়ে দিয়েছে আঘাত করে!
সে স্কুলে পড়ুয়া একটা ছেলে, ওদের বন্ধু।
ওদের মতই বাচ্চা
নেশায় বিভোর হয়ে...
রাতে বেপরোয়া বাইক চালিয়ে...
তারপর রাতের আধারে নিজেদের বোনকেই ধর্ষন করে ফেলে!
দিল্লী কেসের ঘটনাটা তো নিশ্চয়ই জানেন?
ওদের মতই কিছু বাচ্চা...
নেশা করে তাদের নিজেদের বোনকে পাশবিকভাবে ধর্ষন করে ফেলে!
চগেলে হয়েছে বলে খুব খুশি হয়েছিলেন আপনারা, তাই না?
একটা মেয়ে সন্ধ্যার আগে বাসায় না আসলে টেনশন করে হার্ট অ্যাটাক করে ফেলেন আপনারা!
একই টেনশন কি ছেলেদের বেলায়ও করা উচিত না?
তারা কি করছে, কোথায় যাচ্ছে, কার সাথে মিশছে সব খোঁজখবর নেয়া উচিত!
যদি এই বয়েসেই তারা এরকম কেসে ফেঁসে যায় তো...
ভবিষ্যতে তারা কোন চাকরি কিংবা বিদেশে যেতে পারবে না
তাদের ভবিষ্যৎ বরবাদ হয়ে যাবে!
এবারের মত তোমাদের সবাইকে ছেড়ে দিচ্ছি!
এরপর, যদি আর কখনো দেখি এসব কেসে জড়িয়েছো...
তার অবস্থাতো দেখতেই পাচ্ছো?
ঠিকমত হাটতেও পারছে না!
এমন মার মারবো যে মরার আগ পর্যন্ত মনে থাকবে!
মাথায় ঢুকেছে? এখন চোখের সামনে দূর হও!
এই মোবাইল গুলোও নিয়ে যাও।
নিন!
ওকে লকাপে ঢোকাও!
আয়!
আমাদের কাছে তথ্য রয়েছে...
স্কুল শিক্ষার্থীদের মাঝে গাঁজার মত ভয়াবহ নেশাদ্রব্য ছড়িয়ে দেওয়া হয়েছে!
যদি কোন lf the SPC ক্যাডেট এরকম কোন তথ্য পেয়ে থাকেন, তবে পুলিশ কন্ট্রোল রুমে জানাবেন।
বেচারা!
পুলিশ তো আমাদের কিছু কাস্টোমারকে গাঞ্জাসহ ধরছিল গতকাল।
কে? জনি?
ক্লাস ৮/৯ এ পড়া পোলাটা না?
না, ১২ গ্রেডে পড়ে।
ছেলেগুলো নতুন গাঞ্জা খাওয়া ধরছিল!
কিছু পানি মিশায়া দে, ভাই!
না স্যার, সোজাসুজি আসতে থাকুন।
স্যার, রোডের বাম পাশের আইল ধরে আসতে থাকুন।
একটা ভাঙা বাস পরে আছে ওখানে।
অইতো!
জিপ থামান স্যার, আমি আপনাকে দেখতে পাচ্ছি।
রাস্তা তো কাদায় ভর্তি!
ওহ, তোমার কি এখানে জমি কেনার মতলব আছে নাকি?
মধু স্যার - চুপ!
স্যার, দৌড়াবার আগে কাউন্ট করুন, ১...২...৩...
সেখানে তো অনেক গুলো লোককে দেখা যাচ্ছে।
চোখ থেকে সানগ্লাস খুলে ফেলুন স্যার, নয়তো দৌড়াবার সময় মাটিতে পড়ে যাবে!
আগে হলে, তো পুলিশ পিডায়া টেংরি ভাইঙ্গা হাতে ধরায়া দিতো...
এখনকার পুলিশ গুলা তো বিলাইয়ের মত নরমসরম...
আমরা তাদেরকে কিছু টেকা ঘুষ দিলে এমনিতেই ছাইড়া দিবো!
আজকের জমানায় কেডা এখন পুলিশরে ডরায়?
পুলিশ আসলে আমাদের সিনা টান করা দাঁড়ানো উচিত!
কেন আমরা এত ভয় পাবো?
চলো, ধরা যাক!
অইখানেই দাড়া সব!
হেই, লাফ দিবি না!
থাম বলছি!
স্যার, আপনি যখন খুশি তখনই আমারে ধরতে পারবেন...
বাকিদের ধরেন আগে!
ভেড়ার পালের শেষেরটাকেই আগে ধরতে হয়!
স্যার, পেটে খুব গোলমাল হইতাছে, তাই এখানে একটু বসছিলাম, স্যার!
আমি তো তাস খেলি না, স্যার!
আমি তো গরুরে খাওয়াইতেছি।
খাওয়ানো শেষ হয়েছে?
তাহলে চল, আয়!
কার গরু এটা? - কি জানি!
হেই
অই, আশেপাশে কোন দোকান আছে যেখানে কোক পাওয়া যাবে?
আচ্ছা, যা তাইলে!
একটু পানি হবে?
আচ্ছা, ঠিক আছে।
উনি কে?
আল্লা জানে স্যার!
কোথ থেকে দৌড়ায়া আইসা ধুম কইরা বয়া পড়ছে এখানে!
হঠাত কইরাই বুদ্ধিটা মাথায়া আইছিল, স্যার।
আমার সাথে চোর পুলিশ খেলা হচ্ছে, তাই না?
তোকে জামাই আদর করবো এখন!
স্যার, এখানে কিছু জমি রয়েছে ভাল, খুব কম দাম! দেখবেন?
তুই পুলিশের লোকরে এখন জমি ঘুষ দিতে চাস?
পাছায় একটা লাত্থি খাইলে মজাটা বুঝবি!
মাংসে কিছু কাজুবাদামও দেন। - আচ্ছা!
কাজুবাদাম দিলে মাংস খেয়ে আর পুলিশ সাহেবের ভুড়ি বাড়বে না!
আপনার তো ডায়াবেটিস আছে, তাই না?
তোর বিজু স্যারের কি অবস্থা? কবে ছুটি নেবে?
নেমন্তন্ন দেওয়া শুরু করেছে নাকি মানুষকে? - কি জানি!
স্যার,
অই পিটিশনার আর মহিলা নিখোঁজ স্যারের কেস টা আবার এসেছে।
ভেতরে পাঠাও তাদেরকে।
আসুন।
বসুন।
আপনিও বসুন।
উনি কি আপনার সাথে এসেছে নাকি?
হুম।
এই পাশে দাড়ান।
আপনার কি কিছু বলার আছে?
আপনারা সবাই আপাতত একটু বাইরে যান।
আমাকে উনার সাথে একটু একান্তে কথা বলতে হবে।
আপনার আর আপনার স্বামীর মধ্যকার সমস্যাটা আসলে কি?
তিনি মদটদ খেয়ে আপনার গায়ে হাত তোলেন?
ও মদ খায় না।
সে আপনাকে খরচের টাকা দেয় না? - দেয় স্যার।
তার কি অন্য কোন মেয়ের সাথে কোন সম্পর্ক আছে?
সেরকম কিছু না।
তার কি অন্য কোন সমস্যা আছে?
না!
মোদ্দা কথা হচ্ছে যে তার কোন সমস্যাই নেই!
এমনকি সে আপনার সাথে কোন খারাপ ব্যবহারও করেনি
আপনি এত সমস্যা করার পরেও
সে বলেছে আপনাকে সে আবার নতুন করে গ্রহন করতে রাজী।
ওর সাথে বসবাস...আমি পারবো না, স্যার।
ওর প্রতি আমার কোন ধরনের অনুভূতি কাজ করে না।
আসল কথাটা আমি জানি।
আপনি আরেকজন লোককে ভালোবাসেন, তাই না?
আমাকে জোর করবেন না, স্যার।
যেভাবে হোক এই কেসটা শেষ করুন, স্যার।
উনাদেরকে ভেতরে ডাকো।
পাভিথারান,
আমি উনার সাথে কথা বললাম।
উনি বললেন , আপনার সাথে বসবাস করা তার পক্ষে সম্ভব নয়।
স্যার, আমি তো কখনো ওর সাথে বাজে কোন ব্যবহার করিনি।
যদি সে আমার দোষটা কোথায় একবার শুধু বলে...
আমি তো নিজেকে সংশোধনও করতে প্রস্তুত, স্যার!
ওটা কোন কথা নয়।
উনি উনাকে ভালোবাসেন, এটাই হচ্ছে আসল কথা।
যদি ও উনার সাথে সুখী থাকে...
আমার কোন সমস্যা নেই, স্যার।
কিন্তু, আমার মেয়েকে আমি ফেরত চাই।
আমি ওকে ছাড়া থাকতে পারবো না, স্যার।
সেটা সম্ভব নয়, স্যার।
সিন্ধু, তুমি চাইলে উনার সাথে যেতে পারো, কিন্তু আমার মেয়েকে আগে ফেরত দাও।
আমি আমার মেয়ের জন্য চাইলে যে কোন কিছু করতে পারি!
আমার হারাবার কিছু নেই!
আমি আপনার মানসিক অবস্থাটা বুঝতে পারছি।
কিন্তু, আমার সামনে আপনি উনাকে কোন হুমকি দিতে পারেন না।
আমি উনার কোন দোষ ত্রুটিই পাইনি।
তাই, আপনাকে আমার ফয়সালাটা জানিয়ে দিচ্ছি।
সোমবার থেকে শুক্রবার, বাচ্চা আপনার কাছেই থাকবে।
শুক্রবার, শনিবার এই দুটো দিন মেয়েকে আপনি উনার কাছে থাকতে দিন।
আমি রাজী, স্যার।
আমি রাজী না, স্যার।
আপনি এরকম ফয়সালা কিভাবে দিতে পারলেন, স্যার?
তো, আপনি বলতে চান?
আপনি দু পক্ষ হতে ব্যপারটা চিন্তা করবেন না?
এরকম সার্থপরের মত কথা কিভাবে বলতে পারেন আপনি?
তারও তো তার মেয়েকে নিয়ে বেঁচে থাকার অধিকার রয়েছে, তাই না?
তাই, আমি একটা চুক্তি করছি এখন।
সোম থেকে শুক্র, মেয়ে থাকবে মায়ের কাছে।
শনিবার আর রোববার, বাবার কাছে।
এক্ষুনি এই স্ট্যাটমেন্টে সই করে চলে যান এখান থেকে!
মেয়েটা ওর নয়, স্যার।
ও হচ্ছে সানালের সন্তান।
ও আমাকে বোকা বানাতে চাইছে, স্যার।
তাই না, সানাল?
বাচ্চা না দিলে না দিক..
কিন্তু ওকে বলে দে ও যেন আমার সাথে এমন অসভ্য রসিকতা না করে!
আপনি এই পাশে আসুন!
ও কি সত্যিই আপনার সন্তান?
জি।
আর সেটা জানার পরেও, তুই ৫ টা বছর মেয়েটাকে উনার কাছে রেখেছিস?
বেজন্মার বাচ্চা!!
আপনি!
একটা প্রবাদ আছে, পিপীলিকার পাখা উড়ে মরিবার তরে!
কথাটা মাথায় রাখবেন সবসময়!
বেরিয়ে যান!
বেরিয়ে যান এখান থেকে!
বাহ, ভালো তো! কমিশনার স্যার এবং এসি স্যারকে নেমন্তন্ন করেছেন তো?
এসিকে নেমন্তন্ন করেছ্যি, কমিশনার স্যারকে এখনো করা বাকি।
তো ঠিক আছে, শুভকামনা রইলো! - ধন্যবাদ আপনাকে, স্যার।
স্যার, ও মানবিকে গ্র্যাজুয়েশন শেষ করেছে।
স্যার, প্লিজ আপনি আপনার পরিবারকে সাথে করে নিয়ে আসবেন!
বিয়ের অনুষ্ঠানের প্রস্তুতি কি শুরু হয়েছে?
জি, স্যার।
কতদিনের জন্য আবেদন করেছো?
স্যার, এক সপ্তাহ।
স্যার, বিয়ের মামলা! বোঝেনই তো!
বাসায় কে ছিল?
ছেলে আর ছেলের বউ?
কখন ঘটেছে এটা?
ঠিক আছে, আমি দেখছি স্যার।
কখন বুঝতে পারলেন যে গোল্ড মিসিং হয়েছে?
আসলে, আমরা সেটা প্রথমে খেয়াল করি।
যখন সে একটা অনুষ্ঠানে যাওয়ার জন্য খোজ করে তখন।
আমি গোল্ডের গয়না তেমন পড়ি না, স্যার।
শুধু কোন প্রোগ্রামে গেলে পড়ি।
আপনারা দুজনই শুধু এখানে থাকেন?
হ্যাঁ, এখন আমরা দুজনই থাকি। আগে, একজন কাজের মেয়েও থাকতো আমাদের সাথে।
কিন্তু সে চাকরি ছেড়ে হঠাত চলে যায়।
চলে যাবার সে কিছু বলেছিল আপনাদেরকে?
শেষ দিন, সে যাবার আগে বলেছিল বিকেলে সে কারো সাথে দেখা করতে যাচ্ছে।
ও না নিটুরে যাবার কথা বলছিল?
হ্যাঁ, ও বলেছিল ও নিটুরে যাবে।
কিন্তু পরের দিন সে মোবাইলে ম্যাসেজ পাঠায়...
ওর মা নাকি মারা গেছে।
তারপর থেকে, ওর সাথে কোন যোগাযোগ নেই আমাদের।
মেয়েটা চলে যাবার পরেই কি আপনারা গোল্ড মিসিং এর বিষয়টা খেয়াল করেছেন?
তিজু নামে আমার একজন বন্ধু আছে।
গয়নাটা শেষ বার ব্যবহার করা হয়েছিল ওর একট অনুষ্ঠানে।
তারপর কাজের মেয়েটা চাকরি ছেড়ে চলে ২৭ তারিখের দিকে? - ২৭ তারিখ বিকালে।
কোন রুমে গোল্ডের গয়না গুলো ছিল?
মাস্টার বেডরুমে। - হ্যাঁ।
আসুন, আপনি নিজেই দেখুন।
এই রুমে আর কে কে যাওয়া আসা করে?
এর আগে তো কাজের মেয়েটা এই ঘরে ঢুকতো ঝাড়া মোছা করার জন্য।
তবে এখন তো কোন কাজের লোক নেই।
কাজিনও আসতো মাঝেমধ্যে।
কিন্তু কেউ কাপবোর্ডটা খুলতো না।
কাজের মেয়েটার নাম্বার দিন তো। - ঠিক আছে।
এই মেসেজটাই ও আমাকে শেষবার পাঠিয়েছিল।
যেখানে ও বলেছে, ওর মা মারা গেছে।
মধু স্যার।
জি জি! সোজাসুজি আসতে থাকুন।
তারপর ডানে গিয়ে গলির একদম শেষ মাথায় চলে যান।
আমরা সেখানে ২ মিনিটের মধ্যেই পৌঁছে যাবো।
স্যার, এটাই হচ্ছে মেয়েটার বাড়ি।
কে আপনি?
কি চান?
আমি বিজু পাউলোস।
টাউন এসআই
আমার আকস্মিক এই আসার কারনটা আপনি নিশ্চয়ই বুঝতে পারছেন।
কি বলছেন , স্যার?
আমার স্বামী বাসায় নেই।
আমি রান্নাঘরে কাজ করছিলাম।
আপনার কথা আমি কিছুই বুঝতে পারছি না!
আমরা এখানে আপনার স্বামী বা আপনার রূপদেখতে আসিনি!
আপনি কি ৭/এ, স্কাইলাইন অ্যাপার্টমেন্টে কাজ করতেন?
জি স্যার, করতাম।
১৫ ভরির মত গোল্ড সেখান থেকে চুরি হয়ে গেছে!
তদন্তের সময় আমরা খুজে বের করলাম...
আপনিই হচ্ছেন সেই মহিয়সী রমণি যিনি এই গোল্ড চুরি করেছেন!
আমি চুরি করিনি স্যার!
স্যার, তারা বলেছে তারা কোন মামলা মোকদ্দমার ব্যাপারে আগ্রহী নয়।
শুনেছেন তো?
তারা মামলা মোকদ্দমার মত ঝামেলাতে জরাতে চাচ্ছেন না।
আপনি আমাদের মত গরীব মানুষদেরকেই কেন সবসময় অভিযুক্ত করেন?
চোর খুজে না পেলে, ধাপ করে যখন খুশি যে কারো ওপর দোষ চাপিয়ে দেবেন?
এটা কি করছেন! রাতের খাবার বলতে এই চালটুকুই আছে!
ভালো ব্যবহার করলে, ভালো ব্যবহার পাবেন।
ঘরে পুরুষ মানুষ নেই, আপনারা এসেছেন এখন...
তারপর বলছেন এসব কথা, আমিই বা কি করতে পারি, স্যার। - আমরা বসি একটু।
আপনিও আসুন ।
চলুন।
বসুন এখানে...
আমি তোমাকে পরে ফোন দিচ্ছি।
যে প্রশ্ন গুলো এখন করবো...
আশা করি তার ঠিক ঠিক জবাব দেবেন।
অই ফ্যাল্টে শেষবার কবে গিয়েছিলেন আপনি?
২/৩ মাস আগে তো হবেই।
আপনি অইদিন কি তাড়াতাড়ি চলে গিয়েছিলেন?
বিকেলের পরেই?
অই দিন আমি...
আমার ঠিক মনে নেই, স্যার।
আপনি কি আপনার মালিককে বলেছিলেন আপনি নিটুরে যাবেন?
জি স্যার।
আমি নিটুরে গিয়েছিলাম, স্যার।
এখন তো মনে পড়ছে, ঠিক?
কেন নিটুরে গিয়েছিলেন আপনি?
আমি ...নিটুরে গিয়েছিলাম...আমার এক বন্ধুর সাথে দেখা করতে।
বন্ধুর সাথে কি শেষে দেখা করেছেন?
সে বাড়িতে ছিল না, স্যার।
তখন কি করলেন আপনি?
তখন আমি বাসায় চলে আসি।
সোজা বাসায় চলে আসেন?
আপনি আর কোথাও গিয়েছিলেন? - না স্যার।
ভালো করে মনে করার চেষ্টা করুন।
যদি মনে পড়ে যায় আর কি।
না স্যার, আমি আর কোথাও যাইনি।
তো আপনি তাহলে বিকেলে নিটুরে যাননি।
না স্যার, আমি গিয়েছিলাম সেখানে!
যদি আমি বলি...
আপনি সেদিন বিকেলে...
মেরিন ড্রাইভে গিয়েছিলেন?
তো কি বলবেন আপনি?
না, স্যার, আমি মেরিন ড্রাইভে যাইনি।
পুলিশের কাছে কিন্তু সব তথ্য প্রমান আছে।
আপনি কোথায় গিয়েছিলেন, কি করেছিলেন সব কিছু।
বিশ্বাস হচ্ছে নাতো?
দেখতে চান?
মধু, তার গোমর ফাস করার জিনিসপাতি গুলো বের করো।
স্যার, এই নাম্বারটা।
ম্যাডাম, এটা কি আপনার নাম্বার?
জি স্যার।
২৭শে জুন, ২০১৫।
অই টা ছিল শেষ দিন...
যেদিন আপনি শেষবারের মত সেই ফ্ল্যাটে গিয়েছিলেন।
২ টার দিকে, আপনি ছিলেন পানাম্পিলি নগরে।
২.৩০ টার দিকে ছিলেন মেরিন ড্রাইভে।
এই নাম্বারে মেরিন ড্রাইভের জুয়েলারির দোকান থেকে সন্ধ্যার দিকে দুটো কল এসেছিল।
তো আপনি তাহলে নিটুরে ছিলেন!
হতে পারে জমজ বোন, স্যার!
তো এখন আপনি এ ব্যাপারে কি বলবেন, ম্যাডাম?
আমি গোল্ডগুলো নেইনি।
আপনি!
কারা আপনারা?
কি হচ্ছে এখানে? - আমরা পুলিশ!
কে আপনি?
এটা আমার বাড়ই, স্যার। - কি নাম আপনার?
রাজেন্দ্রন। - কোথায় কাজ করেন আপনি?
আমি দিন মজুর, স্যার।
তো রাজেন্দ্রন সাহেব
আমরা এখানে এসেছি কারন...
যে ফ্ল্যাটে আপনার স্ত্রী কাজের বুয়া হিসেবে কাজ করতো...
সেখান থেকে ১৫ ভরির মত গোল্ড চুরি হয়েছে।
তো আমরা কি করবো বলুন?
স্বামী স্ত্রী কি সেটা এখন ভালোয় ভালোয় ফেরত দেবেন?
ও কাজের বুয়া হিসেবে কাজ করতো?
আপনি ভুল করছেন, স্যার।
যতদিন পর্যন্ত আমি জীবিত আছি..
ও এরকম কাজ করতেই পারে না
আপনারা কি পুলিশের সাথে এখন মজা করা শুরু করেছেন?
এটা সত্য যে আমি কাজের বুয়া হিসেবে সেখানে কাজ করেছিল।
কি? কখন?
কখন থেকে তুমি আমার অগোচরে কাজের বুয়াগিরি শুরু করলে?
যখন আমি কুদুম্বাস্রিতে কাজ করতাম।
তো তুমি আমাকে বোকা বানিয়েছো?
কে তোমাকে অনুমতি দিয়েছে?
আমাকে কেন এসব বলোনি?
বললে তুমি অনুমতি দিতে না।
তিনি আপনাকে অনুমতি দিতেন না!
'তো আমি আমার স্বামীর অগোচরে কাজের বুয়ার কাজ করতাম!
কেন করবে সে এরকম কাজ?
চুরি করতে!
আপনার স্ত্রী সেই ফ্ল্যাট থেকে গোল্ড চুরি করে মেরিন ড্রাইভে সেটা বিক্রি করেছেন।
তার পরের দিনই নাকি উনার মা মারা যায়!
সে জন্য তিনি তৎক্ষণাৎ চাকরিও ছেড়ে দেন!
ওর মা?
১৮ বছর আগেই তো ওর মা মারা গিয়েছিল!
আহা!
স্যার, আমার বাচ্চারা এখনই স্কুল থেকে বাসায় এসে পরবে!
তারা যদি এসব দেখে...
আমরা নাহয় থানায় গিয়ে আপনার সব প্রশ্নের উত্তর দেব!
দেখতে দিন আপনার বাচ্চাদের...
তাদের চুরনী মায়ের চেহারাটা!
ভালোয় ভালোয় সত্যিটা বলে দিন!
নয়তো আমি আপনার বাচ্চাদের সামনেই আপনাকে গ্রেফতার করবো!
জবাব দাও উনাকে!
চুরি করে থাকলে বলো উনাকে।
তুমি কি আসলেই চুরি করেছো?
আম্মার বাচ্চারা বাসায় আসার আগেই আমাকে থানায় নিয়ে যান, স্যার।
গোল্ডগুলো আমি চুরি করেছি।
এই তো!
তারপর কি করেছেন সেই গোল্ড গুলো?
সেগুলো পরে মেরিন ড্রাইভের ফ্যাশন জুয়েলারিতে বিক্রি করেছি।
তারপর টাকা গুলো?
আমার বাচ্চাদের স্কুলের ফিস দিয়েছি।
তাদের জন্য কিছু পোশাক কিনেছি।
আর ঘরের কিছু আসবাবপত্রও কিনেছিলাম।
আপনি কি জানতেন না সে কোথ থেকে এতগুলো টাকা পেয়েছিল?
আমি জিজ্ঞেস করেছিলাম, স্যার। - আমি ওকে বলেছিলাম, স্যার।
যে কুদুম্বাশ্রি থেকে আমি লোন নিয়েছি।
ঘটনা হচ্ছে গিয়ে স্যার...
আমি ৪/৫ মাস কাজে যেতে পারিনি।
একটা ইটের স্ল্যাব আমার পায়ে এসে পরে।
তারপর আমার শরীরটাও হঠাত খারাপ হয়ে যায়।
কিন্তু তারপরও, আমি চুরির চিন্তা মাথায় আনিনি।
এই যে বাসাটা দেখছেন, সেটা আমার রক্ত পানি করা পরিশ্রমে করা।
আপনি কেপিসি গ্রুপের কথা শুনেছেন তো?
স্যারম, বিজু পাউলোস বলছি।
আমরা গোল্ড চুরির কেসে অভিযুক্তকে খুজে পেয়েছি।
অভিযুক্ত তার অপরাধ স্বীকারও করেছেন।
আমি সেই কন্ট্রাক্টরের সাথে ১২ বছর কাজ করেছিলাম, স্যার।
যখন তারা বাইরে যেত, তারা ঘরটা লক করে যেত স্যার।
চাবিটা আমাকে দিয়ে যেত।
একটা পিনও এখান থেকে মিস যায়নি, স্যার।
অপরাধ স্বীকার করেছে, তাহলে?
জি স্যার, করেছে।
উত্তম!
এই চুরির কেসটা কিভাবে সামলাবো মাথাতেই আসছিল না!
তোম ভালো একতা খবর শোনালে। এখন যেখানকার জিনিস সেখানে নিয়ে আসার ব্যবস্থা করো।
আচ্ছা স্যার, আমি আজকেই সে ব্যবস্থা করছি!
সুবের, গোল্ড উদ্ধারের ব্যবস্থা করা যাক।
ওরা আমার সন্তান, স্যার।
ও শিক্ষার্থী পুলিশের সাথে যুক্ত।
কি আর করা, স্যার?
যখন বাবা মা আমদেরকে পূজোর অনুষ্ঠানে নিয়ে যেত...
যদি তারা জিজ্ঞেস করতো আমরা কিছু চাই কিনা...
দরকার থাকলেও সবসময় আমরা "না" বলতাম।
আমরা আমাদের অবস্থাটা জানি, স্যার।
যাই হোক না কেন...
আমার বাবা সবসময় আমাকে বলতেন...
সততার সাথে জীবনযাপন করতে।
কিন্তু..
যদি আপনি আমাদের মায়ের কৃতকর্ম সম্পর্কে কোন প্রশ্ন করেন...
আমরা কিছু বলতে পারবো না, স্যার!
আমরা তোমার মানসি অবস্থাটা বুঝতে পারছি।
আমরা শুধু আমাদের দায়িত্বটাই পালন করছি।
তাহলে মার ছবি কাল সব নিউজপেপারে ছাপা হবে, তাই না স্যার?
হ্যালো? - বলুন।
স্যার, বিষয়টা হচ্ছে গিয়ে...
মহিলার...মেয়ে আর কি...
স্কুলের প্লাটুন ক্যাপ্টেন শালিনী।
বাচ্চা দুটো অনেক কান্নাকাটি করছে, স্যার।
এটা একটা চুরির কেস।
তাছাড়া অভিযুক্ত তার অপরাধও স্বীকার করেছে।
এখানে আবেগকে প্রশ্রয় দেওয়ার কোন সুযোগ নেই।
তুমি তোমার কর্তব্য পালন করো!
চলো, উনাকে নিয়ে চলো।
সে তার অপরাধ স্বীকার করেছে।
তার স্বীকারোক্তির একটা প্রতিলিপি তৈরী করো।
কমপ্লেইনারদের কল দাও। - জি স্যার।
হ্যাঁ, ফ্রেডি বলো!
স্যার, কারাটে রাজেশের খোজ পাওয়া গেছে।
কোথায়?
যদি চান তো এখন এই মুহূর্তে তাকে গ্রেফতার করতে পারবেন স্যার!
আমি তার লোকেশন স্কেচ করেছি, স্যার।
ও ঠিক কোথায় আছে ভালো করে খোজ নাও। আমি আসছি! ১০ মিনিট লাগবে!
সে কোথায়?
ব্রিজ পার হলেই ঐখানে একটা জঙ্গল আছে স্যার।
তারা ঐখানে, স্যার।
থামুন, স্যার।
বামে।
- এখন কোথায় যাবো?
এটা একটা দ্বীপ, স্যার।
দুটো পথ আছে।
মধু, তোমরা অন্যদিক দিয়ে আসো। আমি এদিক দিয়ে যাচ্ছি।
সাঝি, তুমি মধুর সাথে আসো। - ঠিক আছে, স্যার।
এর পরেই স্যার।
তারা এখানেই আছে, স্যার।
আমার কি আসা উচিত হবে, স্যার?
যদি তারা জানতে পারে যে আমি ইনফর্মার, আমাকে পেলে খুনই করে ফেলবে স্যার!
ভয় পেয়ো না! শুধু তোমার মুখটা স্কার্ফ দিয়ে ঢেকে রাখো।
আমি এখানে এসেছি কারন আপনাকে আমি বিশ্বাস করি, স্যার।
আমাদের লাইনের লোকেরা তাদের নিজেদের লোকেদের সাথে গাদ্দারি করে না স্যার!
শেষে অনেক সমস্যায় পড়তে হয়, স্যার।
যদি কারো সম্পর্কে কোন তথ্য দেই, পরেরদিন পুলিশদের মধ্য থেকেই কেউ তাদেরকে সেটা বলে দেয়...
যে কে তাদের সাথে গাদ্দারি করেছে।
সেই জন্যই এখন কোন গুন্ডা পুলিশের ইনফর্মার হতে চায় না, স্যার।
শুধু আপনি একজন ভালো এবং সৎ পুলিশ অফিসার বলে...
আমি আপনাকে তথ্যগুলো দিয়েছি!
তো সেই বিশ্বাসের খাতিরে আশা করবো, আপনিও আমার সাথে গাদ্দারি করবেন না!
অইযে, ওখানে তাদের বাইক, স্যার।
তারা কাছেপিঠেই কোথাও রয়েছে, স্যার।
এগুলো তাদের বাইক।
তারা ওখানে, স্যার!
দেখেছেন...
আমি তাহলে যাই, স্যার।
ঠিক আছে, তুমি যাও।
পুলিশ! চল পালাই!
কি সমস্যা, স্যার?
পরে বলবো সব কিছু।
ভালোয় ভালোয় আমাদের সাথে চল! ঝামেলা করার চেষ্টা করবি না!
যেতে বলেছি, চল!
হাট!
সরে যা!
আপনি কি করছেন, স্যার? - চল আমার সাথে!
তোর সাথে থানায় কথা হবে!
কোন ঝামেলা করবেন না, স্যার!
ভালোয় ভালোয় বলছি চল আমার সাথে!
আগে থানায় চল! - আপনি কিন্তু সমস্যায় পড়বেন, স্যার!
না!
মধু, কোথায় তুমি?
আমি ধরেছি ওকে!
না...না...ওখানে না। বামে মোড় নাও! কোথায় তুমি?
আন্তাপ্পান, দৌড়া!!
থাম !
থাম বলছি!
ছাড় আমাকে!
স্যার, একটু সাবধান থাকবেন না?
সুনিমন, স্যারকে একটু মালিশ করে দে!
তোরা কি ভেবেছিস আমি একা এসেছি?
তোরা ভেবেছিস এত সহজে তোরা আমার হাত থেকে নিস্তার পাবি?
তুই আমার এরিয়াতে এসে আমাকেই ভয় দেখাস?
শামির, সুনি...চল শালাকে শেষ করে দেই!
শামির, বড় দেখে একটা কবর খোড়!
আমি বললাম না আপনি সমস্যায় পড়তে পারেন, স্যার?
একদম নড়বি না!
হাটু গেড়ে বস!
হাটু গেড়ে বস!
নয়তো শেষ করে ফেলবো তোদেরকে!
কতজন রয়েছে তোর দলে?
দশ জন?
নাকি শতর ওপরে?
পুলিশ অপেক্ষা করছে তোদের গর্দান নেওয়ার জন্য!
কি ভেবেছিস ঘাড়ের ওপর ৩০ টা কেস নিয়ে পালাতে পারবি?
তাও আবার রাজনীতিক আর মানবাধীকার কর্মীদের সমর্থন নিয়ে!
পুলিশকে তোরা চিনিস না?
তারা তাদের কর্তব্য পালন করার জন্য দরকার হলে মরতেও পারে!
বাসায় অতর্কিতে ঢুকে, চুরি করা, ধর্ষন এবং হত্যার মত ঘৃন্য কাজ করিস রাজনীতিকদের জন্য।
কাজ শেষ হলে তারপর জানোয়ারের মত এই জঙ্গলে এসে গা ঢাকা দিস।
পুলিশেরা তোদের মত এত ভীরু, কাপুরুষ না!
তারা তাদের চাকরির জন্য মরতেও প্রস্তুত!
আমার বাড়ি লুটেছিস বলে আমি তোদের ধরতে আসিনি।
এটাই আমার কাজ!
আমি এই চাকরিটা নিয়েছি কারন সবসময়ই আমি চাইতাম এটা।
সবসময়ই চাইতাম...
শালা শুয়োরের বাচ্চারা...
আমি আমার শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত...
তোদের পেছনে ধাওয়া করে যাবো!
তুই, হাটু গেঁড়ে বস!
একদম নড়বি না!
ভয় পেয়ে গিয়েছিলে?
হুম।
আমাদের চাকরিতে এরকম ছোটখাট ঝুকি থাকেই।
বিয়ের এখনো ৫ দিন বাকি।
একজন পুলিশের লোককে বিয়ে করে নিজেকে ঝুকিতে ফেলতে চাও কিনা, আরেকবার চিন্তা করে দেখো!
দুঃখিত
ডাক্তার তোমাকে টেনশন করতে মানা করেছে।
এখন আর কিছু চিন্তা করার দরকার নেই।
এটাই আমাদের চাকরির প্রকৃতি।
কেউ বলতে পারে না কখন, কোথায়, কার পেছনে আমরা ধাওয়া করবো...
আমাদের ওপর দেশ মাতৃকার নিরাপত্তা দানের মত পবিত্র দায়িত্ব রয়েছে।
বিজু, কোথায় মা?
টেনশন করিস না!
তোর মা তোর সাথেই আছে!
ওর ফোনে রিং হচ্ছে কিন্তু ফোন ধরছে না ও!
পাউলোস ফোন দিয়েছে! ও চলে আসবে এখুনি!
তারিখ টা অনেক আগেই চলেই এসেছে!
ওর উচিত ছিল ১ সপ্তাহ ছুটি নেওয়া!
ও এখনই এসে পড়বে!
রাস্তাই আছে ও!
এখনই চলে আসবে!
বিজু পাউলোস নামের এই যুবকটি...
কোন সুপার হিউমান নয়।
সে আকাশে উড়তে পারে না!
সে অন্যা ৮/১০ তা সাধারন মানুষের মতই একজন মানুষ।
আর এটাই প্রথম সে আইনভংগ কারীদের পিছু ধাওয়া করছে না।
এটাই তার কাজ।
- কতক্ষন ধরে তোকে ফোন দিচ্ছি!
কোন জাহান্নামে আছিস তুই?
এটা কোন ধরনের চাকরি করছিস তুই?
দরকারের সময় ছুটি নিতে না পারলে বিয়েই বা করেছিস কেন?
যাই হোক! তুই একটা ফুটফুটে মেয়ের বাবা হয়েছিস!
বাংলা সাবটাইটেল দিয়ে মুভিটি দেখার জন্য সবাইকে আন্তরিক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.