Afrikaans
Akan
Albanian
Amharic
Arabic
Armenian
Azerbaijani
Basque
Belarusian
Bemba
Bengali
Bihari
Bosnian
Breton
Bulgarian
Cambodian
Catalan
Cebuano
Cherokee
Chichewa
Chinese (Simplified)
Chinese (Traditional)
Corsican
Croatian
Czech
Danish
Dutch
English
Esperanto
Estonian
Ewe
Faroese
Filipino
Finnish
French
Frisian
Ga
Galician
Georgian
German
Greek
Guarani
Gujarati
Haitian Creole
Hausa
Hawaiian
Hebrew
Hindi
Hmong
Hungarian
Icelandic
Igbo
Interlingua
Irish
Italian
Japanese
Javanese
Kannada
Kazakh
Kinyarwanda
Kirundi
Kongo
Korean
Krio (Sierra Leone)
Kurdish
Kurdish (Soranî)
Kyrgyz
Laothian
Latin
Latvian
Lingala
Lithuanian
Lozi
Luganda
Luo
Luxembourgish
Macedonian
Malagasy
Malay
Malayalam
Maltese
Maori
Marathi
Mauritian Creole
Moldavian
Mongolian
Myanmar (Burmese)
Montenegrin
Nepali
Nigerian Pidgin
Northern Sotho
Norwegian
Norwegian (Nynorsk)
Occitan
Oriya
Oromo
Pashto
Persian
Polish
Portuguese (Brazil)
Portuguese (Portugal)
Punjabi
Quechua
Romanian
Romansh
Runyakitara
Russian
Samoan
Scots Gaelic
Serbian
Serbo-Croatian
Sesotho
Setswana
Seychellois Creole
Shona
Sindhi
Sinhalese
Slovak
Slovenian
Somali
Spanish (Latin American)
Sundanese
Swahili
Swedish
Tajik
Tamil
Tatar
Telugu
Thai
Tigrinya
Tonga
Tshiluba
Tumbuka
Turkish
Turkmen
Twi
Uighur
Ukrainian
Urdu
Uzbek
Vietnamese
Welsh
Wolof
Xhosa
Yiddish
Yoruba
Zulu
[ Narappa ]
অনুবাদ অংশগ্রহণেঃ ♦️ মাহফুজ আহমেদ তুহিন ♦️ মোঃ সাজ্জাদ হোসেন ♦️ রোমান তালুকদার ♦️ অমিতাভ বর্মন ♦️ ইসমাইল হোসেন ♦️
অনুবাদ অংশগ্রহণেঃ ♦️ জয়ানন্দ ঘোষ ♦️জিতু বিশ্বাস ♦️ অলোক বিশ্বাস ♦️ প্রান্ত ঘোষ ♦️ শিহাব সানজার♦️
সম্পাদনায়: ⌛ জয়ানন্দ ঘোষ ⏳ ⏳ ইমরুল হাসান নাসিম ⏳
আয়…
আরে আয়!
সাবধানে পা ফেল, নাহয় পাথরে আঘাত পাবি!
আমার পিছনে পিছনে আয়।
বাবা!
বাবা!
আমি আর পানিতে হাঁটতে পারব না।
বোমা গুলো ভিজে যাবে!
বোমা কেন এনেছিস? তোকে বারণ করেছিলাম।
রেখেই তো এসেছিলাম।
কিন্তু মামার সাথে যখন কথা বলছিলে, মা তখন এগুলো নিয়ে আসতে বললো।
তোর মা!
সম্ভবত সে ভেবেছিল তার মাতাল স্বামী তার সন্তানের খেয়াল রাখতে পারবে না।
তাই সে খাবারের সাথে বস্তা ভরে বোমা পাঠিয়েছে।
তুই জানিস, তোর মা...এটা ধর।
কিন্তু মা কী করেছে?
তুমি সবসময় মা'কে বকো।
বাবা! জায়গাটা প্রচুর কর্দমাক্ত।
আমরা কিনারা দিয়ে হাঁটছি না কেন? তাহলে ভালোমতো হাঁটতে পারতাম।
হ্যা, অবশ্যই ভালো হবে! যারা আমাদের ধাওয়া করছে তাদের জন্য উপকার হবে।
চুপচাপ হাঁটতে থাক।
চুপ!
বাবা! পুলিশ! - থাম, থাম!
ঘুরে দাঁড়া! আমার পিছনে আয়!
চলো,চলো।
এই! গাড়ি থামা।
অই, টর্চ লাইট টা দে তো।
ধরুন, স্যার।
রাতের বেলা জঙ্গলে একা একটা ছাগল কী করছে?
আশেপাশে কেউ আছে নাকি?
গ্রামে হত্যাকান্ড ঘটিয়ে এক রাঘব বোয়ালকে খুন করা হয়েছে।
বাচ্চা থেকে শুরু করে সবাই হাসপাতালে জড়ো হয়েছে।
পথ হারানো মেষশাবক নিয়ে চিন্তা করছেন কেন?
কিন্তু কেউ এটা খুঁজতে আসবে না সে ব্যাপারে নিশ্চিত হবো কীভাবে?
মেষশাবক হারিয়েছে, এটা বুঝতেই তাদের দু'দিন লেগে যাবে!
নিয়ে আয়।
স্যার?
যা, নিয়ে আয়!
ছোট এবং দেখতে স্বাস্থ্যবান। খেতে নিশ্চয় সুস্বাদু হবে,নিয়ে আয়!
ধর, ধর!
দুনিয়ার সকল অপরাধে তাদের হাত আছে!
আবার তারাই নিজেদের আইনের রক্ষাকর্তা দাবি করে!
সকালে তাকে ছেড়ে দিয়ে ভুল করেছি।
যখন সে আমার ছেলেকে মেরেছিল, তখনই যদি তাদের জবাই করতাম তাহলে আজ এইদিন দেখতে হতোনা।
চুপ থাকো!
তোমার এই রাগ আবার বিপদ ডেকে আনতে পারে।
কেমন পুলিশের ট্রেনিং নিয়েছিস রে তুই? ছোট্ট একটা ভেড়াকে ধরতে পারিস না!
তুই নিজেকে অকর্মণ্য প্রমাণ করলি।
ভেড়া ধরার জন্য আমি ট্রেনিং নেইনি, স্যার।
চুপ কর! আমার বউয়ের মতো কথা বলিস না!
গাড়ি চালু কর।
স্যার... মালিক আর বেঁচে নেই...
অন্তত দশজন লোক ছাড়া তিনি বাইরে যেতেন না।
সাথে বন্দুকও রাখতেন।
তোরা থাকতে এমনটা কীভাবে ঘটলো?
আমরা কখনো ভাবিনি এমনটা ঘটবে!
থাম! তোরা তাঁকে বাঁচাতে পারিস নাই। এখন শুধু শুধু অজুহাত খুঁজে কী লাভ?
যখন কারেন্ট চলে যায়..
মালিককে ছুরি মেরে সে চোখের পলকে পালিয়ে যায়।
আমি তখন সেখানেই ছিলাম। চোখের সামনে ঘটেছে, স্যার!
শুনেছি বড় নেকড়ে ছোট নেকড়েকে নিয়ে নাকি জঙ্গলের দিকে গেছে।
তাদেরকে হত্যা করার জন্য তোকে ফোন করেছিলাম।
তুই তাদের মাংস নাকি জীবিত চাস? - অবশ্যই জীবিত চাই!
মালিক!
তাদেরকে ভালোমতো জঙ্গলে খুঁজেন।
আমার ছেলে গাম্পি এখন জঙ্গলে আছে।
কাল সকালের মধ্যে, ছোট নেকড়ে নিশ্চিত তোর সামনে থাকবে।
নমস্কার, স্যার।
অই, চিন্তা করিস না।
তারা যেখানেই লুকিয়ে থাকুক...
আমি খুঁজে বের করে মামলা দিয়ে ওদেরকে হাজতে ঢুকাবো।
প্রয়োজন নেই,ইন্সপেক্টর।
আমরা মামলা করতে চাইনা।
তোমার বাবার মৃত্যুতে শোকের পরিবর্তে, তাদেরকে হত্যা করার জন্য বেশি রেগে আছো!
তুমি চাও বা না চাও, মামলা আমরা করবোই।
জনসম্মুখে খুনের ঘটনা ঘটেছে।
আপনি এই ব্যাপারে নাক না গলালেই ভালো হবে।
আপনার মতো আমরাও লোকজন ব্যাবহার করে কাজ সারতে পারি।
আমরা বাকিটা সামলে নিবো।
বাবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ার আগেই... - মালিক!
অপদার্থ! উনাকে যখন বাঁচানো দরকার ছিলো তখন বাঁচাতে পারলি না আর এখন চিল্লাচ্ছিস?
ওকে মেরে ফেল!
এই! তুই মর শালা!
বাবার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া শেষ হওয়ার আগেই...
ওই পরিবারের সবাইকে এক এক করে হত্যা করবো।
খুন করে জেলে যেতে চাস?
তুই এতো চিন্তা করছিস কেন?
তুই চুপচাপ থাক, যা করার আমি করছি।
দাপ্তরিকভাবে সামলানো আর ঝামেলা সৃষ্টি করে বদলা নেওয়ার মাঝে তফাত আছে।
আচ্ছা, এখন যান।
ওখানে বস।
মুথান্না!
এই, মুথান্না!
এই, বাসাভায়া? কী হয়েছে?
ব্যাপারটা খুন পর্যন্ত গড়াবে কেউ কখনো ভাবতে পারেনি।
গত দু'বছর যাবত আমাদের পরিবার কত কষ্ট ভোগ করেছে,জানো না মুথান্না?
আমার ছেলে ওর মাথা কেটে এনে দিলে আমি আরো খুশি হতাম।
তা ঠিক আছে! কিন্তু তারা এখন কোথায়?
বাপ ছেলে জঙ্গলের দিকে গেছে, তাই আমরা এখানে এসেছি।
বাড়ি আর খামারের কী হবে? - সবকিছু ফেলে এসেছি।
প্লিজ ভেতরে চলো, কেউ শুনে ফেললে ঝামেলা হবে।
আসো,ভেতরে এসো।
যাও,ভেতরে যাও।
মুথান্না, আমি কিছু গয়না নিয়ে এসেছি।
এগুলো বন্ধক রাখো। দুলাভাই ১১৭ নম্বর সড়কে আসবে দেখা করতে।
তাকে কিছু টাকা ধার দিতে পারবে? - এভাবে কেন বলছো, বাসাভায়া?
আমি কি অপরিচিত কেউ?
তুমি আমার সাথে অপরিচিতের মতো কথা বলছো।
আমি সামলে নিবো।
পানি খাবে? - হুম।
এই নাও, ধরো।
আমি যাচ্ছি তাহলে। - আচ্ছা।
মামা, যেয়ো না প্লিজ। আমাদের সাথেই থাকো।
বুজ্জি, যদি এখন যাই তাহলে তোমার বাবা আর ভাইকে ফিরিয়ে আনতে পারবো।
তারপর সবাই একসাথে বাড়ি যাবো, ঠিক আছে?
মায়ের সাথেই থেকো, মামা তাড়াতাড়ি ফিরে আসবে।
তুমি যাও ভাই, আমি ওকে সামলে নিবো।
ভাই, এই ট্রাক কোথায় যাবে?
আপনি কোথায় যেতে চান?
আমি শহরে যেতে চাই, ভাই।
তিরুপতি? - হুম, ভাই।
আচ্ছা, সামনের সিট খালি আছে। যান, তাড়াতাড়ি গিয়ে বসে পড়ুন।
আচ্ছা, ভাই।
ক্ষুধা লেগেছে? - হ্যা, বাবা।
ধর, তোর মা ভাত রেঁধে দিয়েছে। - আচ্ছা, বাবা।
সেই সকালে, সিনাব্বা আর তার বাবা নারাপ্পা...
তার মা সুন্দরাম্মা এবং মামা বাসাভায়া... সবাই যার যার মতো বিভিন্ন দিকে ছুটছিল।
পান্ডুস্বামীর পরিবারের সদস্যরা সিনাব্বার পরিবারকে মারার জন্য উঠেপড়ে লেগেছিল।
সিনাব্বার পরিবারের সম্মুখীন হওয়া এই সমস্যা নতুন কিছু নয়।
এই সমস্যা সামান্য জমি নিয়ে জমির মালিক এবং জমিদারের মধ্যে নৈমিত্তিক ঘটনা।
কেননা গরিবের কোনো জাতপাত নেই।
আর ধনীর মনুষ্যত্ব বলতে কিছু নেই।
সিনাপ্পা রামসাগরে থাকতো, সিরিপি'র পাশের গ্রামে।
সিরিপি'র পান্ডুস্বামী রামসাগরের জমি প্রথম কব্জা করতে শুরু করে।
ডোরাস্বামী হলো পান্ডুস্বামীর ভাই।
রেঙ্গুনফেরত কিছু লোক যারা বেঙ্গালুরুতে অনেক টাকা কামিয়েছিল তাদের সাথে মিলে...
সে গ্রামে সিমেন্ট কারখানা খোলার পরিকল্পনা করেছিল।
জানি না এই প্রথা কবে থেকে শুরু হয়েছে, কিন্তু প্রতিবার একই ঘটনার পুনরাবৃত্তি ঘটে।
যখন ধনীদের জমির প্রয়োজন হয়, গরিবের জমির দিকেই তাদের দৃষ্টি যায়।
৬৫০ একর যথেষ্ট নয়?
সেই তিন একর তোর কেন প্রয়োজন?
এত বড় পরিকল্পনার অংশে ছোট্ট জমি ছাড় দিবো কেন?
কারখানার সম্মুখভাগ নির্মাণের জন্য আমাদের সেই তিন একর দরকার।
সেই তিন একর জমিই আমাদের সম্বল। এই জমির জন্যই আমরা সম্মান পাই।
তুই কীভাবে তাদের সেই জমি দিবি?
গ্রামে সিনেমা হল, কয়লা কল,চালের কল এবং কাপড়ের দোকান থাকা স্বত্ত্বেও...
সিমেন্ট কারখানা নির্মাণের জন্য নারাপ্পার সেই তিন একর জমির জন্য তারা উঠেপড়ে লেগেছিল।
নারাপ্পার বড় ছেলে মুনিকান্না এই জমি ছাড়তে নারাজ ছিলো।
এই, মুনিকান্না! কেউ বলেছিলো সে নাকি কখনো বিয়ে করবে না, কিন্তু এখন হেসে হেসে সাইকেল চালাচ্ছে!
বাবা, সে বলেছিলো কখনো বিয়ে করবে না। কখনোই মেয়ে দেখতে যাবে না বলেনি!
শালাবাবু, শুনেছো?
এই, চুপ থাকো তো! অনেক বলেকয়ে ওকে রাজি করিয়েছি।
ওকে এখন রাগালে ও আবার বাড়ি ফিরে যেতে পারে।
ঠিকই বলেছো। দেখো, কত দ্রুত সাইকেল চালাচ্ছে!
সে রেগে গেছে!
মনে হয় সে আমাদের আগেই মেয়ে দেখে বিয়ে পাকা করে ফেলবে।
নারাপ্পার পরিবারে মেয়ে দিয়ে একদম নিশ্চিন্তে থাকতে পারেন।
যেহেতু আমরা তার সম্পর্কে বেশিকিছু জানি না...
মুনিকান্না কিছুটা বদমেজাজী।
তাকে শান্ত রাখা আপনার মেয়ের দায়িত্ব। আমার কিছু লুকানো উচিত নয়, তাইনা?
♪ অপরূপা সুন্দরী রমণীর দুষ্ট চাহনি! তোমার চাহনি কীভাবে এড়াতে পারি?♪
ওগো, আজ সবাইকে অনেক সুন্দর লাগছে।
চলো রামা স্টুডিওতে গিয়ে সবাই একসঙ্গে ছবি তুলি।
মুনিকান্নাকে এই পোশাকে অনেক সুন্দর লাগছে।
ছয় বয়সে আমরা ওর শিশুকালের ছবি তোলার পর ছয় মাস ও শয্যাশায়ী হয়ে পড়েছিল।
বিয়ের পর একসঙ্গে তুলো। কী হয়েছে, বাবা?
চাবি আনতে ভুলে গেছিস? - হুম!
যা, গিয়ে নিয়ে আয়। - এই, মুনিকান্না!
আমরাও যুবক বয়সে এমন অনেক চাবি ফেলে আসতাম।
অনেক চাবি এখনো ফেরত পাইনি।
আমার চাবি…
চাবির বাহানায় আমাকে আবার দেখতে এসেছো?
অতিরিক্ত ঘরের কী প্রয়োজন, বাবা?
কিছু টাকা সাশ্রয় হয়েছে। চলো আমরা পাখা কিনি।
তোর জন্মের পর থেকে, তোর বাবা আর মামা উত্তপ্ত গরমেও পাখার কথা ভাবেনি।
কিন্তু এখন ঘরে বউ আসছে বলে তুই পাখা কিনতে চাস?
মা! কে আসবে না আসবে তাতে কী? আমার জন্য, আমার মা সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।
এই, মুনিকান্না, এভাবে বলিস না।
মা সবার জন্যই গুরুত্বপূর্ণ হয়।
কিন্তু তোর বউ সবকিছু ফেলে তোর কাছে চলে আসছে।
তোর আচরণে বোঝা যাবে, তুই তোর মাকে কতটা শ্রদ্ধা করিস।
এসব ভুলে সেখানে কুঁড়েঘর বানিয়ে...
বউ নিয়ে সুখে-শান্তিতে থাক।
ঠিক আছে?
এসব কেন বলছো, বাবা? চলো সবাই একসঙ্গে থাকি।
না, মা!
নে, আরেকটু খা।
সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে, বিয়ে করলেই আমার উপদেশ বুঝতে পারবি।
সুন্দরাম্মা! আমি ক্ষেতে যাচ্ছি?
আচ্ছা।
বুজ্জি, ঘুমোতে যাও।
এই, মুনিকান্না! - কী হয়েছে, বাবা?
কাপড় ধোয়ার সময় তোর মা পকেটে দুটো বিড়ি পেয়েছে।
এমনকি মদও কম ক্ষতিকারক...
যতোটা না বিড়ি ক্ষতিকারক, মুনিকান্না!
এই! কে ওখানে?
এই, মালাপ্পা! তোর বাবা আসেনি?
উনি অসুস্থ, বাসায় বিশ্রাম নিচ্ছেন।
এই পথ দিয়ে যাওয়ার সময় মনে রাখবি এটা আমার জমি।
তুমি কি ভাবছো, তোমার জমি থেকে কিছু চুরি করে সন্তানদের সাথে অন্যায় করবো?
আমরা পুরানো জমিটাকে দেখতে এদিক দিয়ে ঘুরে আসলাম।
আমাদের নিয়ে না ভেবে শুয়োরের দিকে নজর রাখো।
এজন্যই তো এখানে রাত কাটাচ্ছি।
সাবধানে যাইস।
ওর বাবা আজ আসেনি তুমি কীভাবে জানলে, বাবা?
সে সবসময় টায়ারের তৈরি চপ্পল পড়ে।
সে যখন হাঁটে তখন চপ্পলের শব্দ হয়। কিন্তু আজ সেই শব্দ শুনতে পাইনি।
তারা যাযাবর চোর, আর তুমি তাদেরকে উপদেশ দিচ্ছো?
তুই কেন বিরক্ত হচ্ছিস?
বড়দের মতো কথা বলিস না।
ভুল বা সঠিক বিচার করার বয়স তোর এখনো হয়নি।
সঠিক ভুল বিচার করার জন্য আমার বয়সের প্রয়োজন নেই।
তোর মামার লজ্জা হওয়া উচিত।
তোর মামার জন্য তুই বিগড়ে গেছিস।
তুমি থাকতে মামা বিগড়ে দেওয়ার কে?
বাবা! এসব কী হচ্ছে?
এই! এই, সিনাব্বা!
এই!
তুই রেগে আছিস?
এই, সিনাব্বা! - আমি ভুল কিছু বলেছি?
এই, সিনাব্বা!
এই, মুনিকান্না! ওকে ডাক দে।
সিনাব্বা! দাঁড়া!
আমাকে শুধু মারে, আমি বাড়ি চলে যাচ্ছি।
এই! উনি আমাদের বাবা।
ভাই!
কী হয়েছে?
শূকর!
দাঁড়া!
বাবা!
শূকর!
এই! সিনাব্বাকে ধর!
এই, সিনাব্বা!
এই, মুনিকান্না! বর্শা!
বাবা...
বাবা, আমাকে যেতে দাও। - ওকে বাড়ি নিয়ে যা।
আয়।
বছরবছর ধরে রাস্তায় কাঁটাতার দিয়ে রাস্তা ব্যবহারে আমাদের বাধা দিয়েছেন।
কাঁটাতারে বিদ্যুতায়ন করেছেন আপনি।
এ কারণে আমাদের কুকুর মারা গেছে।
আর কতো জীবন...
এই, তোরা যাতে কাঁটাতার পার করতে না পারিস সেজন্য বিদ্যুতায়ন করেছি।
আপনি কী বুঝাতে চাচ্ছেন? আমাদের হত্যা করতে চান?
জবাব দিন!
আমাদের হাতে অন্য কোনো রাস্তা নেই!
আমাদের জমিতে সবাইকে প্রবেশের অনুমতি দিবো কেন?
সেই জমি আমাদের।
আমাদের জমিতে আমরা বিদ্যুতায়ন করেছি।
সম্পূর্ণ আমাদের ইচ্ছায়! এ ব্যাপারে কারো কাছে জবাবদিহি করতে আমরা বাধ্য নই!
আমরাও তার কেটে দিলে কারো কাছে জবাবদিহি করতে বাধ্য থাকবো না।
এই, বড়রা কথা বলছে।
কথা বলিস না!
নারাপ্পা!
আমি কারণ ছাড়া কাঁটাতারে বিদ্যুতায়ন করিনি।
আমি সরাসরি সম্পত্তিতে করিনি।
করেছি আমার ব্যক্তিগত বৈধ জমিতে!
চল্লিশ একরের জমি! শূকরের ধ্বংসলীলা কীভাবে সহ্য করতে পারি?
কিন্তু, মানুষকে হত্যা করার অধিকার আপনি কোথায় থেকে পেয়েছেন?
আমার কাছে আমার ফসল গুরুত্বপূর্ণ। সেজন্য আমি জমিতে বিদ্যুতায়ন করেছি।
কুকুর মরলো নাকি মানুষ মরলো তাতে আমার কী আসে যায়?
তারা সবসময় ঝগড়ার জন্য মুখিয়ে থাকে!
মালিক, সব কাঁটাতার কেটে দিয়েছে!
নতুনভাবে সেগুলো লাগাতে হবে।
সবসময় ওরা নতজানু হয়ে আমাদের সামনে দাঁড়িয়ে থাকতো।
সভা শেষে সেই ভয় কীভাবে অদৃশ্য হয়ে গেল!
রাতারাতি এই কাজ কে করলো?
নারাপ্পার বড় ছেলে করেছে, ও নিজেকে বেশি সাহসী ভাবে।
হুম।
চোখের পলকে তুই এই কাজ কীভাবে করলি?
বাবা! জীবন সম্পর্কে তোমার কম অভিজ্ঞতা আছে মনে হচ্ছে!
কোনো জিনিস গড়তে অনেক পরিশ্রম করতে হয়, ধ্বংস করতে তার ষোলোআনা কাজও করতে হয় না!
আমি পাঁচ মিনিটে সবগুলো তার কেটেছি।
তুই এতো বদমেজাজী কেন!
যদি কাঁটাতার না থাকতো, তাহলে সাপে কামড়ানো গুন্ডাম্মাকে হাসাপাতালে নেওয়ার পথে মারা যেতো না!
এখন আমাকে কী করতে বলো?
নিজের ছেলের সাহসিকতার প্রশংসা করো।
আগে তোমার লজ্জা হওয়া উচিত।
যদি তারা পুলিশে মামলা করে, তাহলে ওর দায়ভার কে নিবে?
তারা পুলিশে যেতে চাইলে, যেতে দাও।
পুলিশ আগে তাকে গ্রেফতার করবে।
তারা কেন তারে বিদ্যুৎ দিয়েছিল?
কেননা শুধুমাত্র আমি...
পাগল কোথাকার! তুই আর তোর এই উন্মাদ কথাবার্তা!
তোর বাপের কোনো কাজ নেই। - সে সবজান্তার মতো কথা বলে।
কিছু ঘটনা শুধু সিনেমাতেই সম্ভব।
কিছু বাস্তবে, ধনীরা সবসময় বেঁচে যায়।
ওহ আচ্ছা! ভালো!
তোর বাপের কথামতো...
পান্ডুস্বামী বুক উঁচু করে গ্রামে একচ্ছত্র আধিপত্য বিস্তার করে যাচ্ছে।
তুই কী বলিস?
এখন নিশ্চয় তারা কিছুটা হলেও ভয় পেয়েছে!
গর্ব করো, শালা বাবু!
এই, শালা বাবু!
শুধু শুধু কেন ওকে প্রশ্রয় দিচ্ছেন?
প্রশ্রয় দেওয়া বন্ধ করুন।
তুই যদি তাঁদের সাথে এভাবেই লাগালাগি করিস...
জেনে রাখিস, তারা যেকোনো কিছু করতে পারে!
আর আমরা কিছু না করেই ছেড়ে দিবো?
সেই দিন এখন আর নেই।
যদি তোমার মতো চিন্তা করি, তাহলে সারাজীবন ওদের কাছে হাত পেতে নতজানু হয়ে থাকতে হবে।
আমরা যা চাই তা তারা সহজে দিবে কেন?
আমাদের তা অর্জন করে নিতে হবে।
জানিনা, মানুষ কেন তাদের ভয় পায়!
এই,কিছু খেয়ে যা!
পরে খাবো, মা!
জানিনা ওকে নিয়ে ভয় পাবো নাকি গর্ব করবো...
কিন্তু ওকে রক্ষা করতে হবে!
তুই স্কুলে যাবি না?
সময় কি তোর জন্য বসে থাকবে?
আমি যাবো না। - কেন?
কেন মানে? রামু মারা গেছে,তাইনা?
রামু মারা গেছে,তো কী হয়েছে? - সিনাব্বা!
রামুর মৃত্যুতে শুধু তুমি একাই কষ্ট পেয়েছ?
ঘরের সবাই কষ্ট পেয়েছে।
রামু মারা গেলেও মনি এখনও আছে। তুমি খুশি নও?
মা! রামুর জন্য কষ্ট পাওয়ার সময় মনির কথা কীভাবে বলতে পারো?
ভাই মারা গেলে আমার অন্য বোন আছে বলে তুমি আমাকে সান্ত্বনা দিবে?
এভাবে তাকিয়ে আছো কেন? তার উচিত ছিলো ভাইকে সমর্থন করা।
কিন্তু পরিবর্তে তিনি তাদের পক্ষে কথা বলেছেন।
কিন্তু তিনি নাকি এই পরিবারের প্রধান!
এসব ঠিক নয়, সিনাব্বা!
বড়দের সাথে এভাবে কথা বলতে হয়না।
এই, সিনাব্বার কথায় কিছু মনে করো না।
রামুর মৃত্যুতে ও অনেক কষ্ট পেয়েছে।
শুধু কুকুর মরেছে ভেবে কিছুটা নির্ভার লাগছে!
এই, তোরা এখানে কী করছিস?
দেখতে পাচ্ছেন না? জমিতে সেচের পানি দিচ্ছি।
এই কূপে এমনিতেই পানি কম।
তোরা এভাবে পানি তুলতে থাকলে, আমরা জমিতে পানি দিবো কীভাবে?
এখানে বকবক না করে নিজের কাজ করতে যান।
নিজের কাজে যান!
যদি এক্ষুণি মোটর বন্ধ না করিস...
তাহলে আমি এটা কুয়োয় ফেলে দিবো।
আমরা আপনার কথা শুনবো মনে করেন?
এই, তোরা কাজ কর।
দেখি ও কীভাবে আমাদের মোটরে হাত লাগায়।
এই মহিলা! কী করতে চাচ্ছেন?
এই! সড়ে যা!
সিনাব্বা! মুনিকান্নাকে ডাক দে।
ভাই!
ওর গলা কেটে দেন! ও মরলে তাতে আমার কী?
এই!
আমার মা'কে মারার সাহস কীভাবে হলো তোর?
মা,মা,মা! না,মা! - চলো যাই,মা!
না,মা!
মা,ভাই সামলাতে পারবে!
সিনাব্বা,আমাকে ছাড়! - মা! আমি না করেছি।
ছেড়ে দাও মা।
ছেড়ে দাও,মা!
মা'কে মারার সাহস কীভাবে হয়!
সিগারেট খাওয়ার কথা মাকে বলেছিস কেন?
তুমি সিগারেট খাও?
তুমি না বলা পর্যন্ত আমি জানতামই না!
চাচা,একটা বিড়ি দেন কেউ আসে কিনা দেখিস।
হুম,আচ্ছা।
দেখেন,ওইযে...
এই,তোর বাবার নাম নারাপ্পা?
হুম।
স্যার তোকে ডাকছেন,আয়।
কেন?
কী সমস্যা? কারণ না বললে সাথে আসবি না?
আমি কারণ জিজ্ঞেসা করেছি।
সাথে আসলেই কারণ জানতে পারবি,আয়।
এই সিনাব্বা! বাড়ি চলে যা।
হাত সড়ান! সাথে আসতেছি তো! - বেশি কথা বলিস না।
ও বেশি কথা বলে,ওকে ভেতরে ঢুকা। - আয়!
আসতেছি তো,হাত সড়ান! - আগে আয়!
পুলিশ আমার ছেলেকে তুলে নিয়ে গেছে।
দয়া করে তাকে ছেড়ে দিতে বলুন।
তোর ছেলে সবার সামনে আমার ছেলেকে মেরেছে...
আর আমি কিছু না করেই তোর ছেলেকে ছেড়ে দিতে বলবো?
আপনি আপনার লোকেদের কুয়োয় পানি তুলতে বলেছিলেন। কিন্তু সেই কুয়োয় আমাদের জন্যই পর্যাপ্ত পানি ছিলো না।
তখন সেচের ফলে আমাদের ফসলগুলো মারা যেতো, মালিক।
কিন্তু কুয়োর উপর আমাদের অধিকার আছে,সাতেন্না।
যখন মাদান্না আর আমাদের মাঝে জমি ভাগ হয়েছিল...
পথ এবং কুয়ো ভাগাভাগি করে নেওয়ার ব্যাপারে আমরা একতাবদ্ধ হয়েছিলাম।
আপনি মাদান্নার জমি কিনেছেন, সাথে কাঁটাতারের বেড়া দিয়েছেন।
আশা করেছিলাম পূর্বের চুক্তি অনুযায়ী আমরাও এই কুয়ো থেকে পানি তুলতে পারবো।
কিন্তু আপনি.. - এঔ!
সবাই প্যাচাল পারতেছিস কেন? কথা না বলে কাজে মন দে!
উনি কুয়ো থেকে আমাদের পানি তোলার অনুমতি দিয়েছিলেন!
কিন্তু এখন পানি তোলার ব্যাপার...
উনি চুপ থাকতে পারেন না। উনার কথা বলা উচিত, তাইনা?
কথা বলা উচিত! কে থামিয়েছে তাকে?
কিন্তু সে কীভাবে আমার ছেলের গায়ে হাত দিলো?
তার মায়ের গায়ে হাত দেওয়ায় আমার ছেলে ওকে মেরেছে।
এতে ভুল কী আছে,স্যার
এসব কী,পান্ডুস্বামী?
তোমার ছেলে তার মা'কে মেরেছে?
এই কথা লুকিয়েছিলে কেন,স্বামী?
তোমার ঘরের কেউ মার খেলে তুমি ব্যাপারটা ছেড়ে দিতে?
সাতেন্না! ও ভুলবশত ওর মা'য়ের গায়ে হাত দিয়েছিল।
জমির জন্য এসব সমস্যা, তাইনা?
সে কত চায় জিজ্ঞেস করুন,আমি টাকা দিবো। কিন্তু জমি আমার নামে রেজিস্ট্রি করতে হবে।
এভাবে কীভাবে বলতে পারো,পান্ডুস্বামী?
এই ঘটনার সাথে জমির সম্পর্ক কী?
সে যদি জমি বিক্রি করে, তাহলে ওর ছেলেকে ছাড়াবো।
আমি অপমানিত হচ্ছি, সে আমার ছেলেকে মেরেছে!
দেখো,পান্ডুস্বামী! এসব কি ঠিক?
কম বা বেশি যা-ই হোক, ওকে ওর দাম বলতে বলেন।
নারাপ্পা! কৃষিকাজ করে এখন কোনো ফায়দা নেই।
সে ভালো রকমের টাকা সাধতেছে, উনার নামে জমি রেজিস্ট্রার করো।
এই জমি আমার শালা উনার বোনকে উপহার স্বরূপ দিয়েছেন।
আমি শুধু কৃষিকাজ করছি,এতটুকুই!
এই! কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ? ছেলে নাকি কৃষিকাজ?
তোমার শালাকে বুঝিয়ে ভালো একটা সিদ্ধান্ত নেও।
কোনো মামলা বিবাদ ছাড়াই, ছেলেকে ছাড়িয়ে নিয়ে যাও।
আবার নতুন জমি কিনতে পারবে,তাইনা?
এই জমি আইনগতভাবে স্ত্রীর পর আমার সন্তানেরা প্রাপ্য।
আপনারা আমাকে অন্য কিছু বলুন, আমি পঞ্চায়েতের সিদ্ধান্ত মেনে নিবো।
নারাপ্পা সিদ্ধান্ত মেনে নিতে রাজি হয়েছে, এবার তোমার পালা,তুমিও মেনে নাও।
কী হয়েছে, পান্ডুস্বামী?
আমাদের সামনে হাঁটাহাঁটির মানে কী? তাহলে আমাদের ডাকলেই বা কেন?
নিজেরাই সিদ্ধান্ত নিতে।
আচ্ছা, সাতেন্না।
আমিও সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছি।
বাবা!
ছোটলোক গুলো আমাকে মেরেছে,বাবা।
আর তুমি কিনা তাদের ছেড়ে দিবে?
সামনেই পঞ্চায়েত নির্বাচন।
জনসমর্থন ছাড়া আমরা জিততে পারবো না।
নারাপ্পা! তুমি কী বলো?
ততদিন অব্ধি আমার ছেলে নিরাপদে থাকবে তো?
আমরা কি কখনো চাইবো, তোমার ছেলে খারাপ কিছু হোক?
নির্বাচন টা শেষ হতে দে।
ছোটলোক গুলোকে শিক্ষা দিয়ে ছাড়বো!
হারামজাদা! চোখ তুলে কথা বলার সাহস কীভাবে হয় তাদের!
পান্ডুস্বামী,তোমার কী মতামত? তুমি সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছো তো?
একবার বলেছি না? একই প্রশ্ন বারবার করছেন!
তোমার সিদ্ধান্ত না-হয় মানলাম, কিন্তু তোমার ছেলে আর ভাই?
তারা আমার কথা শুনবে।
নারাপ্পা!
পান্ডুস্বামী আমাদের সিদ্ধান্ত মেনে নিচ্ছে।
ঝামেলা না বাড়িয়ে তুমিও ছেলের জীবন বাঁচাতে ভালো একটা সিদ্ধান্ত নাও।
তুমি তো গ্রামের লোকদের চিনোই!
হুম!
যুবক ছেলেকে পাঠাচ্ছো কেন?
এসব কি ভুল নয়?
সাতেন্না,ও সবার সামনে অপমানিত হয়েছিল। এ ব্যাপারে আর নাক গলায়ো না।
নারাপ্পা তার কথামতো পায়ে পড়ে ক্ষমা চেয়েছে।
পুলিশকে বলে তার ছেলেকে ছাড়িয়ে দাও,স্বামী।
তাকে এখনই কীভাবে ছাড়াবো?
গ্রামের সবার পায়ে পড়তে বলেন।
তুমি অনেক বড় ভুল করতেছ।
আমার আর কিছু বলার নেই।
আমরাই তাকে সায় দিচ্ছি!
এই মহিলা! বয়সের পার্থক্য চোখে পড়ে না?
বাড়িতে আর কোনো পুরুষ নেই?
বাড়িতে পুরুষ বলতে শুধু সে-ই আছে। তাঁর পা ছুঁতে বলেন।
না,ভাই না। মাঙ্গা,একটু পানি আনো।
এসব শয়তানের বিরুদ্ধে কেউ কথা বলতে সাহস করে না।
আপনার ছেলে নিরাপদে বাড়ি ফিরবে।
মা!
তুমি কীভাবে সবার পায়ে পড়তে পারলে? তোমার একটুও লজ্জা করলো না?
কথা বলছো না কেন?
তোমার আর আমার ভাইয়ের এত বছরের অর্জিত সম্মান এভাবে ধুলোয় মিশিয়ে দিলে!
যদি আমার ছেলের কিছু হয়ে যায়, এই মানসম্মান দিয়ে আমি কী করবো?
আমার ছেলেকে বাঁচাতে হবে।
আমার ছেলে কোথায় কেউ বলেছে?
সে স্টেশনে আছে,আমার ভাই তার সাথে দেখা করতে গেছে।
সে এসে পড়বে,চলো যাই।
সিনাব্বা,আয়।
মুনিকান্নাকে এসবকিছু বলো না।
আমরা না বললেও ও জেনে যাবে।
এই,আজ তুই স্কুলে যাসনি?
অবশ্যই! স্কুল কি ছয়টা পর্যন্ত খোলা থাকে?
মাতালের মতো আজেবাজে কথা বলতেছ!
নিজের দিকে তাকাও!
কে মাতাল? - মা! আমি যাচ্ছি।
চিন্তা করো না! মুনিকান্না ফিরে আসবে। - সে ফিরে আসবে!
এই,ভাগিনা!
দাঁড়াও!
আস্তে! আস্তে! - কী হয়েছে?
মুনিকান্না! কী হয়েছে?
কিছু হয়নি,মা! - কী হয়েছে,ভাই??
ওর মুখে এতো ক্ষত কেন?
কী হয়েছে? - কিছু হয়নি বললাম তো!
- আমি একাই যেতে পারবো। - এই,থাম! আমরা সাহায্য করছি তো।
সুন্দরাম্মা! কিছু হলুদ আর গরম জল রেডি করো।
ক্ষতস্থানে লাগাতে হবে।
সাবধানে!
এই,মুনিকান্না!
তারা তোকে মেরেছে?
তাইনা?
বেশি মারেনি,বাবা।
ঐ থানায় কী হয়েছে তোর বাবা সবই জানে!
এই,মুনিকান্না!
তোর বাবা তোর জন্য কিছু করতে পারলো না!
উনার ছেলেকে সবার সামনে পিটিয়ে অপমান করেছি আমি।
আমাকে মেরে প্রতিশোধ না নিলে, সে কীরকম বাবা?
ব্যাপার না,বাবা! আমি ফিরে এসেছি।
সাবধানে থাকিস বাবা!
সাবধানে থাকবো,বাবা।
হায় ইশ্বর!
হু?
সে বমি করতেছে, এদিকে আসো।
আচ্ছা, আসতেছি।
এই,সিনাব্বা! ওখানে কী করতেছিস?
আয়,আমাকে একটু পানি ঢেলে দে।
জানি সে ঘরের ভেতরে বমি করে দিবে!
আমি পরিষ্কার করছি - থাক, থাক। আমি করছি।
এই,মুনিকান্না!
মাকে অপমান করায় তুই তাদের মেরেছিলি,তাইনা?
যে পুলিশ তোমাকে ধরে নিয়ে গিয়েছিল, তাকে পেলে আমিও ঠিক একই কাজ করতাম!
কিন্তু উনার কি আত্মসম্মান বলতে কিছু নেই?
উনি কী করেছেন,জানো?
পান্ডুস্বামী বলেছিল,তোমাকে মুক্ত করতে চাইলে বাবাকে পায়ে পড়তে হবে।
উনি গ্রামের সকলের পা ছুঁয়েছেন!
বাবা!
সিনাব্বা যা বলেছে সত্যি?
বলো বাবা,সত্যি নাকি?
সিনেমাটা কেমন? - খুব সুন্দর, স্যার।
দেখিস,একদিন এই নায়ক অনেক ভালো কিছু করবে!
কী হয়েছে? - সিনেমা দেখতে যাই?
আচ্ছা, যা।
তোর ছেলেকে মারায় তুই আমাকে পুলিশের মার খাওয়ালি।
সমান সমান,তাইনা?
কিন্তু আমার বাবাকে কেন গ্রামের সবার পা ছুঁয়ে ক্ষমা চাইতে বলেছিস?
এই,সুব্বাদাসু!
শুধু তাকে ডাকতেছিস কেন?
যদি তোর লজ্জা থাকে...
তোর বউ-বাচ্চা, চাকর... সবাইকে একসঙ্গে ডাক দে।
ডাক দিয়ে বল আমি তোকে মেরেছি!
হারামি!
আমার বাবাকে কেন সবার পা ছুঁয়ে ক্ষমা চাইতে বলেছিলি?
মাদারচুদ!
যা,গিয়ে বল...
নারাপ্পার ছেলে তোকে চপ্পল দিয়ে মেরেছে!
আজীবন মনে থাকা উচিত তোদের!
ওগো,শুনছো!
আসতেছি!
আমি তোমাকে খাবারের জন্য ডাকছি, আর তুমি ওখানে বসে কী করতেছ?
বললাম না আসতেছি?
কী হয়েছে, ভাই? কিছুদিন যাবত চুপচাপ কেন?
মনমেজাজ ভালো না থাকলে, মনে আনন্দ আসবে কীভাবে?
সে রাঙ্গাবাবুকে মারার পরেও মাথা উঁচু করে ঘুরে বেড়াচ্ছে।
এত সহজে ছেড়ে দেওয়া উচিত?
নারাপ্পা সবার সামনে পায়ে পড়েছিলো।
তাছাড়া ওর ছেলেকে পুলিশ দিয়ে স্টেশনে মার খাওয়ালে।
ওর মারের কথা আমি ভুলে গেছি।
কিন্তু তুমি এখনো... - গর্দভ কোথাকার!
তাদেরকে কিছু করলে তারা ছেড়ে দিবে না জানি!
তাই চুপ থেকেছি আর এটা এতদূর গড়িয়েছে।
ওই দিন ই যদি ওকে মেরে ফেলতাম,
তাহলে গর্বের সাথে মামলা টা চালিয়ে যেতে পারতাম।
ওকে ছেড়ে দিয়েছিলি তখন...
প্রথমে ওর জুতার বারি খেলি, আর বিষয়টাকে এতদূর টেনে আনলি।
তুমি কেন এতো চিন্তা করতেছ?
কী করতে হবে বলো।
কান্না করার জন্য ওর পরিবার যেন ওর মৃতদেহ ও খুঁজে না পায়!
ওর মৃত্যু যেন জনসমাগমহীন জায়গায় অসহনীয় কষ্ট ভোগ করতে করতে হয়...
ওর মাথার খুলি ফাটিয়ে সেগুলো কয়লাখনিতে চুলায় জ্বালিয়ে দে।
আমাকে সাথে নিলেই পারতে,ভাই পান্ডুস্বামীকে জুতা মারা দেখতে পারতাম!
এই, সিন্নাবা! বাবা বা মামাকে এসব বলিস না!
কেউই যেন জানতে না পারে।
সত্যিই ওকে জুতা দিয়ে মেরেছো?
তো? ওরা বাবার সাথে ঝামেলা করলে কি আমি চুপ থাকবো?
গোপন কেন রাখবে? সবাইকে বলবে না কেন?
মুখ বন্ধ রাখতে শেখ,ঠিকাছে?
দাদা! দাদা!
দাদা!
এই, ছেড়ে দে ওকে।
দাদা!
দাদাকে ছেড়ে দাও!
ওকে শক্ত করে বাঁধ!
দাদা! না!
সিনাব্বা! ভাগ!
সিনাব্বা! দৌড়া!
শক্ত করে ধর!
যা!
বাবা!
বাবা!
এখানেই ছিল, বাবা!
বাবা!
মামা! এখানেই ছিল, মামা।
মামা! এখানেই ছিল, মামা।
মামা! এখানেই ছিল, মামা!
দাদা... ঠিক এখানেই...মুচড়াচ্ছিলো!
এই সিনাব্বা! উঠ। তোর কথা কিছুই বুঝতেছি না।
সত্যি বলছি, মামা।
এখানেই ছিল, মামা।এখানেই ছিল.. - এই!
এখানেই ছিল, মামা!
এই, মুনিকান্না!
ওরা দাদাকে গাছের ওদিকে টেনে নিয়ে গেছিল, মামা।
অনেকজন মিলে আক্রমণ করেছিল আর..
ওই পাশে যা।
এই,পাহাড়ের পাশেও দেখে আয়। - তুই মাদান্নার জমিতে দেখে আয়।
আচ্ছা নারাপ্পা..
এই, দৌড়া!
এই, ওই কোণায় গিয়ে দেখ।
আকাম্মার দোকানের আশপাশে দেখে আয়।
আচ্ছা, মামা।
হেই, উঠ! তোর ভাই কোথায় গেছে বল।
তোরা দুজনেই কিছু লুকাচ্ছিস।
সত্যিটা বল। - এটাই সত্যি, বাবা।
তোমাকে কেন মিথ্য বলবো?
এখানেই ওরা দাদাকে ধাক্কা মারে। আর দাদা পড়ে যায়।
দাদা এখানে পড়ে গেছিল, বাবা। এটাই সত্যি, বাবা।
ঠিক এখানেই পড়ে গেছিল!
ওখানে! কাদার দাগ দেখতে পাবে।
ভাই ঠিক কাদার মাঝেই পড়ে গেছিল,বাবা।
ঠিক কাদার মাঝেই পড়ে গেছিল,বাবা
দাদা!
নারাপ্পা! পান্ডুস্বামীর লোকেরা করেছে বলে মনে হচ্ছে?
আমাদের এভাবে ভাবলে হবে না,শালা।
হুটহাট কোনো সিদ্ধান্ত নেওয়া যাবে না।
হয়ত ওঁরা দু'জন কিছু একটা করেছে! আর ভয়ে সেটা আমাদের থেকে লুকাচ্ছে।
এই, মুনিকান্না!
এখানে, বাবা। এখানেই ছিল, বাবা!
ওরা দাদাকে দড়ি দিয়ে বাঁধে, তারপর উপরে ঝুলিয়ে দেয়।
এখানেই, মামা। ঠিক এখানেই!
কী,ভাই? তোমার ছেলে কি নবজাতক শিশু যে তাকে অপহরণ করা যাবে?
অন্য কাউকে মারার পর ও গ্রামে মাস্তি করে ঘুরে বেড়ায়।
ওকে কে অপহরণ করবে?
যাই হোক, কে দেখেছিলো?
ও! ও-ই দেখেছিলো, স্যার।
তার ভাই।
হেই! সত্যিটা বলো, ছেলে।
তোমার দাদা কারো সাথে পালায়নি তো?
না, স্যার।
স্যার!
আমরা মাত্রই ওর জন্য মেয়ে ঠিক করেছিলাম।
ওহ! তো এটা নিয়ে অভিযোগ দায়ের করতে আসছো?
বললে যে তার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।
কনের গ্রামে গিয়ে খুজো, সেখানে অবশ্যই থাকবে।
যাও, বাছা।
আমি নিশ্চিত মেয়েকে গর্ভবতী বানিয়ে কিছুদিন পর ফিরে আসবে!
আমার সন্তানের খারাপের কথা ভেবে আপনার কাছে এসেছিলাম।
অন্তত কেস টা ফাইল করুন না, স্যার?
মিসিং কেইস ফাইল করো, ভাই।
এত সকালে এখানে বসে আছিস কেন?
হঠাৎ করে জেগে গেছি, মা।
রাতে তোর দাদা বাড়িতে আসেনি।
তোর বাবা কোথায়? - মামা আসছিলো, সাথে নিয়ে গেছে।
স্যার! এই পাশে!
এই!
এই!
এই!
এই পথে আসেন, স্যার।
ওই জায়গায়, স্যার।
ছাড়ো আমায়!
ওহ, না! মুনিকান্না!
ওগো! সুন্দরাম্মা ! উঠো! সুন্দরাম্মা, উঠো!
মুখ কোথায়?
মাথা কোথায়?
এটা আমার ছেলে নয়।
শোনো আমার কথা, এটা আমার ছেলে নয়!
ওরা অন্য কাউকে নিয়ে এসে বলছে আমার ছেলে।
স্যার, অন্য জায়গায় খোঁজেন, স্যার!
এটা আমার ছেলে নয়...
দাদা! দাদা! এটা আমার ছেলে নয়, দাদা।
দাদা, আমাকে বলো। এটা আমার ছেলে নয়।
এ তোর ভাগ্নে নয়, দাদা।
ওগো,এটা আমার ছেলে নয়।
অন্তত তুমি তো বলো এ আমার ছেলে নয়।
দাদা! - প্রিয়?
দাদা, ও একাই একশো জন কে সামাল দিতে পারতো।
ও কিভাবে মরতে পারে, দাদা?
আমার ছেলে হতেই পারে না, দাদা।
মা, মা! মামা!
এ আমার ছেলে নয়!
এ আমার ছেলে নয়!
এ আমার ছেলে নয়!
কেঁদো না, ওগো কেঁদো না! এই, ওদের কে বের কর।
উনাকে একটু জল দে।
স্যার, যেদিন ও নিখোঁজ হয় সেদিন আপনার কাছে এসেছিলাম।
এখন কয়লার উনুনে ওর দেহ খুঁজে পেলাম।
অবশ্যই, ওরাই এই খুনের পিছনে আছে, স্যার।
এই! না জেনেই উল্টাপাল্টা বলো না।
আপা! একটু পানি খান,আগে।
এক কেসে তোমার ছেলে নিখোঁজ।
আরেকটা কেসে একটা অনিশ্চিত বডি খুঁজে পাওয়া!
এগুলো দুটো আলাদা কেস।
স্যার! দুটো কেসের কথা কেন বলছেন?
আমি আমার ছেলেকে চাই! - হ্যাঁ।
যদি মাথা না পাওয়া যায়, পুলিশ রেকর্ডে সেটা একটা বেওয়ারিশ দেহের মামলা।
ওদের বলো ছেলেকে ঘরে ফিরিয়ে আনতে! - ওহ! ফোন টা ধর।
আমার ছেলে!
দেখা যাক। দুই তিনদিনের মধ্যে মাথাটাও খুঁজে পাবো।
না পাওয়া গেলে কুকুর বা শেয়াল খেয়ে নেবে।
ওহ,না! আমার ছেলে! এরকম বইলেন না!
দুটো কেসেই আমার বা তোমাদের করার কিছুই নেই।
পান্ডুস্বামী…
ওকে বলো ওর সাথে পরে কথা বলবো...
আমি আমার ছেলে চাই!
স্যার। একটা ছেলে হারিয়েও আপনার সামনে এসে দাড়িয়েছি।
ওর বিয়ে দেখার আশা করেছিলাম।
অন্তত ওর শেষকার্য করতে, দয়া করে ওকে ফিরিয়ে দিন।
এটা সম্ভব নয়। আইন মানবে না।
♪কীভাবে একজন মা অসহনীয় কষ্ট ভোগ করে যাচ্ছে দেখো!♪
বাবা! না, বাবা।
এগুলো রাখা উচিত না। - সমস্যা নেই, বাবা। রাখতে দাও।
♪ ওহ লক্ষ্মীসোনা! প্লিজ ফিরে এসো! ♪
♪মাতৃগর্ভ থেকে এ পৃথিবীতে কেন এসেছিলে? ♪
♪ এমনকি তুমি বেশিক্ষণ কোলে জড়িয়ে থাকতে না! ♪
ভাবছিলাম মুনিকান্না ডাকছিলো।
আচ্ছা, ভেতরে গিয়ে ঘুমাও।
♪এত তাড়াতাড়ি কেন চলে গেলে?♪
♪নিকষ কালো অন্ধকারে আমি বুঝতে পারি কোন অভিশাপে তুমি চলে গেছ!♪
সুন্দরাম্মা, কোথায় যাচ্ছিস?
মুনিকান্না হয়ত মন্দিরে থাকবে।
যদি ও মন্দিরে থাকে, ও একাই ফিরে আসবে।
বাচ্চা গুলো নিয়ে কেন রোদ্দুরে ঘুরে বেড়াচ্ছিস? বাড়ি যা।
বোনকে নিয়ে বাড়ি যাও, মা। আমি গিয়ে দেখে আসি।
আমাকেও দেখতে দে। ওকে দেখতে পেলে অনেক ভাল লাগবে।
ওকে খুঁজতে চাই। - চলো, মা।
বললাম ই তো ওকে দেখতে চাই, আয়।
মন্দিরে খুঁজেছিস ? - খুঁজেছি, মা।
ওই দোকানটা? - খুঁজেছি, মা।
নারাপ্পা! ওঠো।
হেই, মুনিকান্না!
এসব কী? - ও কিভাবে আসতে পারে?
ওরা সবাই মিলে ওকে বলি দিয়েছে!
বসো।
ছেলে!
পুরুষ হয়েও যদি ভেঙ্গে পড়ো তাহলে মেয়ে মানুষ কীভাবে সামলাবে নিজেকে?
বাচ্চারা পাগল হয়ে যাবে, দুলাভাই।
কি হয়েছে, ভাই?
কিছু না!
একটা ছবিও তুলতে দিইনি ওকে, এটা বলে যে ওর আয়ু কমে যাবে!
ছেলের গায়ের গন্ধ ও ভুলতে বসেছি।
কিছু দিনের মধ্যে ওর চেহারাও ভুলে যাবো।
জীবিত থেকে সন্তানদের চেহারা ভুলে যাওয়ার চেষ্টা...অভিশাপের চেয়ে কোনো অংশে কম নয়!
এর চেয়ে খারাপ কিছু হয়না, শালাবাবু।
♪ খামারের উত্তপ্ত বাতাসে তোমার ঘর্মাক্ত দেহের গন্ধ ভেসে বেড়াচ্ছে! ♪
♪ পরিবার ধীরেধীরে তোমার হারানো হাসি ভুলতে বসেছে... ♪
এগুলো এখানে কি করছে?
মৃতদের আত্মার শান্তির জন্য অনুষ্ঠান পালন করতে হবে, মা।
আমার ছেলে মৃত, তোমরা ভাবলে কীভাবে?
তোমার জ্ঞান বুদ্ধি আছে? এখানে দেখো। - চেঁচাচ্ছিস কেন?
ভাগ্নে মারা গেছে।
ভাই!
মেনে নিতে পারিস বা না পারিস,
- এটাই সত্যি।
যদি সেটা সত্যি হয় তাহলে এখানে দাড়িয়ে তোমরা কি বাল করছো?
ছেলেকে যে খুন করেছে সে মাস্তি করে বেড়াচ্ছে না?
পান্ডুস্বামীকে চিতায় তোলো, তারপর ওর শেষকৃত্য পালন করো।
আর তারপর এখানে পুজা পালন করো! - সুন্দরাম্মা!
এক বছর ধরে বোনকে যন্ত্রণা পেতে দেখছি, আমি আর সহ্য করতে পারছি না, দুলাভাই।
ওই পরিবারকে খতম না করা পর্যন্ত মনের এই যন্ত্রণা কখনো মিটবে না!
যে মারা গেছে তার জন্য, যারা বেঁচে আছে তাদের হারাতে পারবো না।
সবজায়গায় রাগ দেখালেই কাজ হয় না।
সুন্দরাম্মা আছে।
সিনাব্বা আছে।
আর বুজ্জাম্মা তো এখনো অনেক ছোট।
কিন্তু আমার বোন তো প্রতিদিন কাঁদে, জামাইবাবু।
সময়ই সবকিছুর সমাধান, শালাবাবু।
মা!
অন্ধকারে কেন বসে আছো?
দাদা, আমার অনেক ক্ষিধা লেগেছে।
তাহলে, খাচ্ছিস না কেন?
মা আজকেও কিছু রান্না করে নি।
- আমার এটা চাই। - এটা দিন।
চল, যাই।
মামা!
কী হয়েছে?
আমি বোনকে স্কুলে দিয়ে আসি।
তোর ব্যাগ কোথায়? তুই স্কুলে যাবি না?
বাবা দিনভর মদ খায়। মা দাদার জন্য কাঁদতে থাকে।
আর তুমি কাজে চলে যাও।
আমি স্কুলে চলে গেলে বোনের খেয়াল কে রাখবে?
♪ আমার অশ্রুসিক্ত চোখ তোমার ছবি মলিন করে দিচ্ছে। আমার হৃদয়ে বয়ে চলা উত্তপ্ত যন্ত্রণা দেখতে পাচ্ছ তুমি? ♪
সিনাব্বা! ওঠ।
রামাইয়াহ কাকার দোকানে গিয়ে তিল, চাল, ময়দা, খড় আর যা যা লাগে কিনে নিয়ে আয়।
কেন, মা?
তোর ভাই মরে গেছে।
সে আর ফিরে আসবে না।
আমাদের উচিত তার আত্মার শান্তিকামনা করে শ্রাদ্ধানুষ্ঠান করা।
♪এখন শুকনো পাতা ঝড়ে পড়াও বন্ধ হয়ে গেছে!♪
♪তুমি ফিরে না আসা পর্যন্ত, সবাই দমবন্ধ অবস্থায় বেঁচে আছে।♪
♪কীভাবে একজন মা অসহনীয় কষ্ট ভোগ করে যাচ্ছে দেখো!♪
মা!
আমি তোমার কোলে মাথা রাখতে পারি?
আয়।
♪আমার লক্ষ্মী ছেলে! আয়,ফিরে আয়!♪
দাদাকে ছাড়া খুব ফাঁকা ফাঁকা লাগে, তাই না মা?
♪মাতৃগর্ভ থেকে এ পৃথিবীতে কেন এসেছিলে? ♪
আমার ছেলেটা কত কষ্ট পেয়েই না মরেছে!
♪এত তাড়াতাড়ি কেন চলে গেলে?♪
মনে হয় যেন এখনো সে আশেপাশেই আছে!
♪নিকষ কালো অন্ধকারে আমি বুঝতে পারি কোন অভিশাপে তুমি চলে গেছ!♪
♪তুমি একাকী আছো,প্রিয়! ♪
এই, কোথায় যাচ্ছিস তুই?
আমি রামাঞ্জির বাড়িতে যাচ্ছি, একটু পরেই চলে আসব।
কালকে সকালে গেলেই তো পারিস।
কালকে সে অনন্তপুর হোস্টেলে চলে যাচ্ছে।
আমি তাকে দেখতে যাচ্ছি, মা।
ঠিক আছে, যা।
এই, মানি! আমি চলে গেলে মা'কে বিরক্ত করিস না যেন, ঠিক আছে?
কী ওটা? ব্যাগে কী আছে?
কিছু না, মা।
- কী বলছি শুনিস নি? ব্যাগে কী আছে? - বললাম তো কিছু না।
এই শুনছ, সিনাব্বা এখনো বাড়ি আসে নি। তুমি দেখেছো তাকে?
হয়তো কোনো বন্ধুর বাড়িতে গেছে।
শুনো! সে আমাকে বলেছিল রামাঞ্জির বাড়িতে যাচ্ছে।
কিন্তু আমি জিজ্ঞেস করে জানলাম, রামাঞ্জি দু'দিন আগেই হোস্টেলে চলে গেছে।
সে যেখানেই যাক, কুকুরটাকে সাথে নিয়ে যায়।
কিন্তু আজকে বেঁধে রেখে গেছে।
যাওয়ার সময় হাতে একটা ব্যাগ ছিল।
মনে হচ্ছে, সে কিছু হাতবোমা বানিয়েছে!
চিন্তা কোরো না। আমি গিয়ে তাকে নিয়ে আসছি।
আমাদের বরং সিমেন্ট ফ্যাক্টরির ব্যাপারে ভাবা উচিত, বাবা।
সব হবে,চিন্তা করিস না।
- সবকিছুতে সময় লাগে। - ঐ ইঞ্জিনিয়ার অনিশ্চয়তায় আছে।
আচ্ছা, বাবা।
এই, ক্ষুধা লেগেছে নাকি?
- আয়, খাবার খা। - না, না, না!
শুন! তোর টাকা আমি দিয়ে দিবো।
এই! সিনাব্বাকে দেখেছো?
লেকের পাশে দেখলাম। ওখানে গিয়ে খুঁজো।
তিন পুরুষ ধরে এই চালের মিলের পিছনে গাধার খাটনি খেটেছি।
সিমেন্ট ফ্যাক্টরি চালু করা যাক।
ছোট লোকগুলোকে কাজে লাগিয়ে দিয়ে ওদের কব্জায় রাখা যাক।
আপনার মত ভদ্রলোকের সমর্থন পেলে বেশ সুবিধা হবে।
একজনের কথায় তো কিছু হবে না। বাকিদের সাথে কথা বলে আপনাকে জানাবো।
- আচ্ছা। - দেখা যাক উনারা কী বলেন।
এই সোডার বোতল দোকানে ফেরত দিয়ে জলদি আয়।
আচ্ছা, মালিক।
ম্যাডাম বলেছিল সোফা সেটের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করতে।
সে ব্যাপারে কালকে কথা বলা যাক।
- এটা কোনো সময় হলো? যা। - আচ্ছা, মালিক।
কিরে! ঘুমাচ্ছিস নাকি? ওঠ।
সিনাব্বা!
মালিক! মালিককে ছুরি মেরেছে!
একটা ছেলে পান্ডুস্বামীকে খুন করে পালিয়ে যাচ্ছে! ধর ওকে!
মালিক!
উনি নিঃশ্বাস নিচ্ছেন না।
সুব্বাদাস! সর!
উনি নিঃশ্বাস নিচ্ছেন না। পুলিশকে খবর দে।
তুমি একা কেন এলে? সে কোথায়?
তোমার ছেলে আমাদের পুরো পরিবারকে রাস্তায় নামিয়ে ছাড়বে!
- কেন? কী হয়েছে? - বুজ্জিকে উঠাও।
- কিন্তু হয়েছে কী? - বললাম না আগে মেয়েটাকে উঠাও!
এই, শালাবাবু, শালাবাবু!
সব জামাকাপড় গুছিয়ে নাও।
কিন্তু কেন?
বাড়ির কাগজপত্র কই? ট্রাঙ্কের মধ্যে নাকি?
কী হয়েছে? আমাকে বলতেছ না কেন?
কী হয়েছে, নারাপ্পা?
আমিও তা-ই জিজ্ঞেস করছি। কী হয়েছে?
তোমার ছেলে পান্ডু স্বামীকে খুন করেছে!
সে তো পুরো সন্ধ্যাজুড়ে এখানে ঘোরাঘুরি করছিল।
আমি কী জানি, শালাবাবু?
সে বলার পর আমি তাকে খুঁজতে যাই।
গ্রামে পা রাখতে না রাখতেই,
দেখলাম সে ছুরি নিয়ে পান্ডুস্বামীকে মারতে যাচ্ছে।
পান্ডুস্বামী তাকে দেখে ফেলেছিল।
তার লোকেরা বাড়ির পথে রওয়ানা হয়েছিল।
আমি কী করব কিছুই বুঝতে পারছিলাম না।
একটা ঢিল দিয়ে রাস্তার লাইট ভেঙে ফেললাম।
কিছু বুঝে ওঠার আগেই, সব ঘটে গেলো।
মনে হচ্ছে তাতেও তার মনের শান্তি হয়নি, এরপর সে তাকে তাড়া করা লোকেদের উপর বোমা মারে।
সম্ভবত সব আগেই তৈরি করে রেখেছিল।
আর আমরা কিনা তাকে বাচ্চা ছেলে ভেবেছিলাম!
সোনা! সোনা-দানা সব কোথায়?
শস্যপাত্রে রাখা আছে।
- কোনটায়? - বড়টায়।
পান্ডুস্বামীক কি মরে গেছে?
পান্ডুস্বামী নিশ্চিত মারা গেছে!
ছুরির আঘাত কোনো ছোট আঘাত ছিল না।
মারার সাথে সাথেই দেহ নিথির হয়ে যায়।
আমার জানামতে, তার পাঁজরের খাঁচা নিশ্চিত ভেঙে গেছে!
এই, ভাগ্নে!
আমরা তোর জন্য যা করতে পারিনি, তোর ছোট ভাই তা করে দেখিয়েছে।
সুন্দরাম্মা!
পান্ডুস্বামী সেদিনই তার প্রাণ হারিয়েছিল যেদিন তোমার ছেলে মারা গিয়েছিল।
ঈশ্বর আছে! ঈশ্বর অবশ্যই আছে!
তোমাদের মধ্যেই কেউ একজন কাজটা করলে, আমি অনেক খুশি হতাম।
আমাদের সকল ছাগল বলি দিয়ে গ্রামে উৎসবের আয়োজন করতাম।
আমার ছেলের জীবন শেষ!
দু'জন পুরুষ মানুষ বাড়িতে বসে বসে একটা বাচ্চা ছেলেকে খুনি বানিয়ে দিলো।
এখন কথা বলে সময় কষ্ট করা যাবে না।
এখন তাকে কে বাঁচাবে?
- বুজ্জামা, মা! ওঠ। - এখন কথা বলে সময় নষ্ট করা যাবে না!
এই!
এই!
কী হয়েছে তোর?
এতক্ষণ কোথায় ছিলি?
কী করছিলি?
আমি কিছু করিনি, মামা।
রামাঞ্জির বাড়ি গিয়েছিলাম দেখা করতে, আর দেখা করেই ফিরে এলাম।
তোর কি মনে হয় আমি তোর কথা বিশ্বাস করব?
রামাঞ্জির বাড়ি গেলে ছুরি নিলি কেন?
জামার দিকে দেখ। কী করেছিস তুই?
মেরে তোর হাঁড় ভেঙে দেওয়া উচিত! শয়তান, অকম্মার ঢেঁকি!
এই! সিনাব্বা। তুই ভিতরে যা।
নিজের বোনের কথা যদি ভাবতো, তাহলে এই কাজ কখনো করতে পারতো?
আমি সব ভেবে রেখেছিলাম।
কারো আমার কথা ভাবা লাগবে না। আমি নিজের খেয়াল নিজেই রাখতে পারি।
যাওয়ার আগে শুধু মা'কে দেখতে চেয়েছিলাম।
কথা শোনো ছেলের!
আমরা এখানে প্রতি মুহুর্তে মরে চলেছি আর তুই...গর্দভ কোথাকার!
একটা বাচ্চাকে কেন মারছ?
সুন্দরাম্মা! ওকে ভিতরে নিয়ে যা।
এত জঘন্য কাজ করার পরেও ওকে বাচ্চা বলবে?
ওকে মেরে কী লাভ? এদিকে আসো।
এটা কেন করলি?
তোমার কষ্ট আমার সহ্য হচ্ছিল না, মা।
তুমি প্রতিদিন কাঁদো।
তোমার কষ্ট কমবে কিভাবে?
এজন্যই আমি তাকে মেরেছি।
কিন্তু এবার আমরা তোকে কিভাবে বাঁচাবো?
ওর যদি কিছু হয়ে যায়?
ও আমার একমাত্র ছেলে এখন।
এই বয়সে জেলে যাবে নাকি?
হঠাৎ করেই এরকম বড় একটা ঝামেলা করে ফেলল।
নারাপ্পা!
সিনাব্বাকে নিয়ে জঙ্গলে চলে যাও।
আমি সুন্দরাম্মা আর মেয়েটাকে নিয়ে মুথান্নার বাড়িতে যাই।
একদিকে পুলিশ আর একদিকে সিন্নাব্বাকে মারার জন্য অপেক্ষা করা পান্ডুস্বামীর লোক থেকে...
তার ছেলেকে কিভাবে বাঁচানো যায়, সেটাই ভাবছিল নারাপ্পা।
সে যদি জানতে পারে আমরা এটাকে মেরেছি, তাহলে ভাগ চাইতে পারে।
শুনেছিস? গাম্পি কিছু শিকার করেছে!
এটাকে কেটে টুকরো টুকরো করে নিয়ে আয়।
এই, গাম্পি!
হ্যাঁ?
পান্ডুস্বামী খুন হয়েছেন!
এই কাজ করার সাহস কে করলো?
একই গ্রামের এক ছেলে!
তার মাতাল বাবা তাকে নিয়ে জঙ্গলে পালিয়েছে।
আমি পান্ডুস্বামীর লোকদের কথা দিয়েছি তাকে সকালের মধ্যে খুঁজে বের করবো।
তুমি যাও, আমি দেখতেছি।
তাদের উঠার কোনো চিহ্ন নেই, ভাই।
তারা কি এদিক দিয়ে যেতে পারে?
কোনো মাতাল বাবা তাকে এই জঙ্গলে নিয়ে আসেনি!
সে এই জঙ্গলের প্রত্যেক কোনা চিনে।
ছুরিটা মাথার কাছে রেখে ঘুমা।
আমার কাছে একটা আছে। এটা কেন দিচ্ছ?
রাখ।
ওটা দিয়ে একজনকে মেরেছিস। নিশ্চয়ই ধার কমে গেছে।
ওটা আমার কাছে দে।
ভয় পেলে আমাকে ডাকিস। আমি পাশেই আছি।
কিন্তু চিল্লাবি না।
আমি ওখানে শুয়ে পড়ছি। দরকার পড়লে ঢিল মারিস, ঠিক আছে?
- বুঝেছিস? - বুঝেছি, বাবা।
এই!
মনে হচ্ছে তারা এখানে মাদুর বিছিয়ে খাওয়া-দাওয়া করেছে, ভাই।
সম্ভবত সে বুঝে গেছে যে আমরা তাকে খুঁজছি।
এভাবে খোঁজা কঠিন।
আকুলাপ্পা! তুই তো তার গ্রামেই থাকিস।
তার কুকুরটাকে নিয়ে আয়।
আস্তে হাঁটো, বাবা। আমার পা ব্যাথা করছে।
তোকে জুতা পরে আসতে বলেছিলাম কিন্তু আসিসনি, যা ওখানে বস।
যা।
অনেক ঠান্ডা,তাই-না?
একদিন এখানে ভাইয়ার সাথে মধু সংগ্রহ করতে এসেছিলাম।
মনে আছে, পরের দিন আমরা খামারে মৌমাছির চাক নিয়ে এসেছিলাম?
সেটা এখান থেকেই নিয়েছিলাম।
ভাইয়া একটা পাথরে দড়ি বেধে দ্রুত নীচে নেমে গিয়েছিল!
কেউ তার মতো সাহসী হতে পারবে না।
আজকেও ঠিক একই অনুভূতি হচ্ছে।
একই বাতাস; একই পাথর।
একই মৌমাছির চাক...
শুধু ভাইয়া নেই!
আচ্ছা, ঘুমিয়ে পড়।
ছুরিটা তোর মাথার কাছে রাখিস।
পশুপালকদের কাছে এতো গহনা কীভাবে থাকতে পারে?
সত্যি না বলা পর্যন্ত একটাকেও রেহাই দেয়া যাবে না, সুব্বাদাসু!
সুন্দরাম্মা!
পান্ডুস্বামীর লোকেরা এখানে এসে পড়েছে!
তারা এখানে আসার আগে তুমি এখান থেকে পালিয়ে যাও, মা।
তুমি ধরা পড়লে, ওরা তোমাকে মেরে ফেলবে!
- এই অবস্থায়, আমরা... - তুমি কোথায় যাবে আমাদের বলো না, মা।
শুনেছি, তথ্য পাওয়ার জন্য তারা মহিলাদেরকেও মারধর করে।
মারের ভয়ে আমরা সত্যি কথা বলে দিতে পারি।
বুজ্জাম্মা কে নিয়ে তাড়াতাড়ি এখান থেকে চলে যাও।
- তাড়াতাড়ি যাও, মা। - ওঠ, বুজ্জাম্মা।
সাবধানে, মা। সাবধানে!
- দেখে শুনে যাও - সোজা যাও, দয়া করে সাবধানে থাকিও।
হেই, মুথান্না! তোর তো কয়লার খনিতে কাজ না করলে খাবারই জোটে না! তুই!
দাদা আমাদের এখানে থাকতে দিলো না কেনো, মা?
- আমরা এখন কোথায় যাচ্ছি? - বলবো, আমার সাথে আয়।
আমি।
ছুরিটা তোর মাথার কাছে রাখতে বলেছিলাম, না?
নে ওটা।
ওটা কে নেবে?
হুঁ।
আয়
বাবা, বুজ্জাম্মা ভুট্টা খুব পছন্দ করে।
কয়েকটা নেবো?
আগে তোর মামার সাথে দেখা করি, তারপরে এসে এগুলো নিস।
মামা!
এই, ভাগ্নে!
আয়, এদিকে আয়, আয়।
হেই, এটা এখানে রেখে যা। তুই তোর বোনের জন্য কী যেন নিবি বলেছিলি, না?
যা গিয়ে নিয়ে আয়।
কারা কারা এই মামলায় জড়িত?
আর কারা, নারাপ্পা? তুমি আর সিনাব্বা।
আশ্চর্যজনকভাবে তারা আমাকে মামলায় জড়ায়নি, কেন জানি না।
এর পিছনে নিশ্চই কিছু আছে, ভাই।
আপনাকে এর মধ্যে জড়ালে, আমাদের ব্যাপারে কিভাবে জানবে?
না হলে, আপনাকে টুকরো টুকরো করে ফেলতে তাদের কতক্ষন সময় লাগে?
তারা কি পান্ডুস্বামীর লাশ সেখান থেকে নিয়ে গেছে?
তারা তাকে রাতারাতিই নিয়ে গেছে।
মামলায় তারা কী উল্লেখ করেছে?
পান্ডুস্বামী কোথায় সেটা জানতে তুমি সিন্নাব্বাকে পাঠিয়েছিলে।
তারপর তুমি তাদের গ্রামের সিমেন্ট কারখানার সভায় গিয়ে তাদের হুমকি দিয়েছিলে,
এবং তাদের কাছে যা ছিল সব ছিনিয়ে নিয়েছিলে।
তর্কাতর্কির এক পর্যায়ে তুমি পান্ডুস্বামীকে ছুরিকাঘাত করেছিলে এবং...
তারা যখন তোমাকে ধরার চেষ্টা করেছিলো,
সিনাব্বা বোম নিক্ষেপ করে আর তোমরা দু'জন পালিয়ে এসেছিলে...এরকমই গল্প সাজিয়েছে তারা!
নতুন কিছু না।
তারা কখনোই মেনে নেবে না যে আমরা আমাদের প্রান বা আত্ন-সম্মান রক্ষার জন্য তাদের হত্যা করেছি।
তারা আমাদের এই কৃতিত্ব দিতে চায় না।
সুতরাং তারা আমাদের চোর সাজিয়ে আরও খারাপ করে তুলছে।
মামা!
মামা, এগুলো আমার বোনকে দিও। সে এগুলো খুব পছন্দ করে।
- এই, সিনাব্বা, তোকে কেউ দেখেনি তো? - না, বাবা।
ঠিক আছে, চল যাই।
নারাপ্পা!
আমি মুথান্নাকে ১১৭ নাম্বার সড়কে তোমাকে টাকাগুলো দিতে বলেছি,সেগুলো নিয়ে নিও।
আমি উকিল বারাধারাজালুর সাথে দেখা করতে তিরুপতি যাচ্ছি।
সে মনে হয় কোথাও চলে গেছে।
কিন্তু আমি যেভাবেই হোক তাকে খূঁজে বের করবো।
ঠিক আছে, সাবধানে থেকো।
বাবা, আমরা জঙ্গলে ঘুরে বেড়াচ্ছি কেনো?
আমরা কী ভুল করেছি?
ঐদিন পুলিশের, পান্ডুস্বামীকে আটক করা উচিত ছিল।
পুলিশ সবসময় কেনো তাদের পক্ষে থাকে?
হাঁটতে থাক।
ধনীদের সামনে পুলিশ অসহায়।
এমনকি তারা তাদেরকে সম্মানও করে।
তারা যদি আমার ভাইয়ার ক্ষতি না করতো, তাহলে আমরা এভাবে ঘুরে বেড়াতাম না।
হেই!
মেরে চোয়াল ভেঙে দেব।
অপ্রয়োজনীয় কথাবার্তা!
হাঁটতে থাক!
হেই, আমি মুথান্না কাকার সাথে দেখা করে ফিরে আসবো।
ততক্ষন পর্যন্ত তুই এখানে থাকতে পারবি?
যেভাবে বলছো যেন জঙ্গলে নতুন এসেছি!
কে বলেছে জঙ্গলে তুই নতুন এসেছিস?
আগে যাই করিস, জঙ্গলে লুকানো তো নতুন।
হেই, এখানে আয়, আয়
এখানে থাকিস, আমি ফিরে আসবো।
আমার জানামতে এই জায়গাটা কেউ চেনে না।
গ্রামে যা করেছিস সেরকম কিছু করতে যাস না আর রাস্তায় যাস না।
- বুঝতে পেরেছিস? - ঠিক আছে, বাবা।
ভাই! ভাই! আমি পুরো রাত তোমার জন্য বনে অপেক্ষা করেছি, ভাই।
কালকে রাতে সুব্বাদাসু আর তার লোক বাড়িতে এসেছিল,
মা-বাবাকে মেরেছে আর সবকিছু ছুঁড়ে ফেলে দিয়েছে, ভাই।
- তারা মহিলাদেরকেও মেরেছে? - হ্যাঁ, ভাই।
তারা মহিলাদেরকেও ছাড়েনি। আমরা তাদের হাসপাতালে ভর্তি করিয়েছি, ভাই।
সুন্দারাম্মা?
যখন কাকা দেখল যে তারা আসতেছে, সে তাকে তাড়াতাড়ি বাইরে পাঠিয়ে দিয়েছে, ভাই।
কিন্তু জানি না তারা কোথায় গেছে বা কোথায় আছে।
মুথাম্মা কাকা তাদের রক্ষা করতে পারেনি বলে খুবই কষ্ট পেয়েছে, ভাই।
সে তোমাকে ক্ষমা করে দিতে বলেছে।
এই ঝামেলায় জড়ানোর জন্য তোমাদের কাছে আমার ক্ষমা চাওয়া উচিত।
আমাদের প্রয়োজনের সময় থাকার জায়গা দিয়েছো, কাকাকে বলিও যে এটার জন্য আমি চিরদিন ঋনী থাকবো।
আমরা তো একই পরিবারের লোক, তাহলে এসব বলছো কেন, ভাই? দয়া করে নিজের যত্ন নিও।
♪ অতীতের সেই ছোট্ট গ্রাম জঙ্গলে পরিণত হয়েছে, সেখানে বসবাসের মতো আজ পরিবেশ নেই! ♪
♪ মন কেন শুধু বারবার সেখানেই যায়, সহ্য করতে পারি না,তবুও কেন যায়? ♪
♪ সময় ক্ষিপ্র গতিতে ছুটে চলেছে, আলো স্মৃতি ভেদ করে দূরে চলে যাচ্ছে! ♪
♪ হৃদয় আজ দুঃখ-কষ্টে জর্জরিত, তবুও অক্লান্ত পথ পারি দিতে হবে! ♪
আয় সবাই!
সিনাব্বা!
এই, সিনাব্বা!
এই!
সিনাব্বা!
এই!
এই, সিনাব্বা!
এই!
এই, সিন্নাব্বা!
এই!
এই! তুই...
বাবা! এসো!
এসে দেখে যাও। একটা বন্য খরগোশ। আমি নিজেই ধরেছি।
অবুঝ গর্দভ! আমি তোকে সেখানে থাকতে বলেছিলাম, না?
তুই এখানে এসে আগুন জ্বালিয়ে আমাদের অবস্থানের সংকেত দিচ্ছিস, বদমায়েশ!
ওখানে বসে থাকলে কি খরগোশটা ধরতে পারতাম?
আমি তোকে মেরেই ফেলব, শুয়োর!
একদিন না খেলে কী মরে যাবি?
তোর জন্য মুথান্না ও তার পুরো পরিবার হাসপাতালে!
কেউ জানে না তোর মা কোথায় আশ্রয় নিয়েছে!
তুই এখানে ভবঘুরের মতো ঘুরে বেড়াচ্ছিস!
অকাজের ঢেকি!
দেখো! কথায় কথায় আমার গায়ে হাত তুলবেনা!
আমি আগেও বলেছি যে আমি নিজের খেয়াল রাখতে পারি।
খুব একটা বেশি দেরি হয়নি। তুমি নিজের কথা ভাবো।
আমার যা দরকার তা আমি নিজেই বানিয়ে রেখে দিয়েছি।
হেই!
তোর ভাইও এভাবে বকবক করেছিলো আর মৃত্যুকে ডেকে এনেছিল।
তুইও যদি এভাবে বকবক করে নিজের জীবন ঝুঁকিতে ফেলিস, আমরা কীভাবে...
- আমাকে নিয়ে আর একটা কথাও বলবে না - হেই! আগে এটা নিচে নামা!
তুমি তোমার সমস্ত রাগ শুধু আমার উপরই দেখাও!
তুমি কীভাবে ভাবলে যে পান্ডুস্বামী তোমাকে দিয়ে সবার পা ছোঁয়ানোর পর ভাই কিছু বলবে না?
সে গিয়ে তাকে জুতা দিয়ে পিটিয়েছিলো!
সে তোমার মতো অন্যের পা চাটে না,
যারা তাকে এটা করতে বলতো সে তার পা ভেঙে দিত।
আমার ভাইয়ের বদলে তুমি মরে গেলে ভালো হতো।
আমরা শান্তিতে থাকতাম।
এই!
সিনাব্বা!
মনে হয় ও কোনো ঘ্রান পেয়েছে! ছেড়ে দে ওকে।
এই, মনি! এদিকে আয়
তুই এখানে কী করে, দোস্ত? তোকে কে নিয়ে এসেছে?
এই!
আগে ওকে মার।
বাবা!
বাবা, ছেড়ে দাও আমাকে! ছেড়ে দাও, বাবা!
- আমাকে ছেড়ে দাও, বাবা। আমাকে ছেড়ে দাও! - হেই, তুই! সর!
বাবা, এই লোকটাই আমার ভাইকে মেরেছে!
বাবা!
আমি আমার পরিবারকে অসহায় হতে দেবো না, তাই তোকে ছেড়ে দিলাম।
কিন্তু আবার যদি আমার ছেলের গায়ে হাত তুলিস, এখানে একজনও বেঁচে থাকবি না।
তুই ভাবছিস, যে তোর ভাইকে মেরেছে তাকে কেন ছেড়ে দিয়েছি।
আমি তাকে কেটে টুকরো টুকরো করতে চেয়েছিলাম!
কিন্তু এই রাগের কারনে আমি অনেক কিছু হারিয়েছি।
তুই জানিস যে তোর বাবা শুধুমাত্র একজন মাতাল আর একজন বাবা।
পুরো এলাকায় আমার তৈরী মদের অনেক চাহিদা ছিল।
আমার মালিক এগুলোর মাধ্যমে অন্য মদ ব্যবসায়ীদের থেকে বেশি টাকা কামাতো।
যদিও মদ বানানো খারাপ কাজ, টিকে থাকার জন্য এরচেয়ে ভালো উপায় ছিল না।
উনি হলেন আমার মালিক শঙ্করিয়া।
আমি যা বলতাম সে তাই শুনতো
সে আমার কথায় লোক নিয়োগও দিতো আবার বেরও করে দিতো।
কে? ও?
সে অনেকদিন ধরে কাজের জন্য বলছে, মালিক।
যে ভাবেই হোক সে আপনার এখানে কাজ করতে চায়।
সে বলেছে সে অনেক পড়ালেখা করেছে, মালিক।
কয় পট মাল বিক্রি হয়েছে, কত টাকা আয় হয়েছে, এসবের হিসাব রাখার জন্য...
একজন পড়ালেখা জানা লোক থাকলে খুবই ভাল হতো।
সে পড়ালেখা জানে ঠিক আছে কিন্তু অপরিচিত একজনকে চাকরি দিবো?
সে আর মাস্টারের বউ একই গ্রাম থেকে এসেছে।
খোজ নিয়ে দেখলাম, সে আপনার আত্মীয় হয়।
সে বলেছে, সে খেতে পর্যন্ত পারে না।
তাকে অন্তত বাড়ির কাজে লাগিয়ে দিলে হয়না?
ঠিক আছে।
২ মাস তাকে পর্যবেক্ষণে রাখ।
ঠিক আছে, মালিক।
হেই, সিনা! তোর চাকরি হয়ে গেছে।
মালিক খুবই তাড়াতাড়ি রাজি হয়ে গেছে।
কিন্তু সবসময় একটা জিনিস মনে রাখবি।
যখন কাজে থাকবি, অহংকার দেখাবি না। কারন এই মিলের সবচেয়ে শিক্ষিত তুই।
বুঝেছিস?
তুমি আমাকে কাজ দিয়ে আমার বউ বাচ্চার মুখে খাবার তুলে দিয়েছো, নারাপ্পা।
তুমি তাদের কে অনাহারে থাকা থেকে মুক্ত করেছো। তোমার উপকারের কথা কখনোই ভুলবো না, নারাপ্পা।
- আমি দুপুরে খেতে আসবো, মা। - ঠিক আছে, বাবা।
হেই, তুই এসব করছিস কেন?
কেনো, মালিক? আপনার জন্য সবকিছুই করতে পারি।
কালেক্টরের অফিসে ২ দিনের মধ্যে একটা সভা অনুষ্ঠিত হবে।
- তাকে সরাসরি আসতে বলো, ঠিক আছে? - ঠিক আছে, মালিক।
নমস্কার, মালিক।
নমস্তে, সাহেব।
এই, একটা শার্ট পড়!
আচ্ছা, সাহেব।
এসব কী?
চারপাশে মেয়ে মানুষ থাকা সত্ত্বেও কীভাবে খালি গায়ে ঘুরে বেড়াস?
শার্ট থাকলে কী আর খালি গায়ে থাকতাম, আম্মা?
ভাইয়ের কোন পুরোনো শার্ট থাকলে, প্লিজ আমাকে দিয়েন।
ও ট্রাউজার্স আর শার্ট পরে।
আমি ট্রাউজার্স আর শার্ট পরতে পারব, আম্মা।
ওই দিকটা, উপরে এই দিকটা।
নমস্তে, সাহেব!
তাকে দিয়ে পরিষ্কার করাচ্ছি, সাহেব। ভালোই পরিষ্কার করে।
খোঁজ নিয়ে দেখো কালেক্টর শহরে ফিরেছে কি-না। - জী, স্যার!
আমাদের নিজেদের সীমাটা জানা উচিত।
মহাজনের বিরুদ্ধে গেলে, সে কি হাত গুটিয়ে বসে থাকবে?
নিজেকে দেখো, তারা তোমাকে কুকুরের মতো পিটিয়েছে।
গুটিকয়েক ধনী লোকের লাভের জন্য আমরা কেন ভুক্তভোগী হবো?
তিনি আমার বড় ভাই, মুনিয়াপ্পা।
তিনি মহাজন আর পুঁজিবাদের বিরুদ্ধে লড়াই করতেন।
যতক্ষণ পর্যন্ত তার লড়াই শ্রমিক আর তাদের ন্যায্য মজুরির মধ্যে সীমাবদ্ধ ছিল,
পুঁজিবাদীরা কখনই তাকে নিয়ে মাথা ঘামায়নি।
আমি কি নিজের জন্য এসব করছি?
হ্যাঁ, তুমি বারবার বলো, গ্রামের সবার কল্যাণের জন্য এসব করছো।
সেদিন আমার মেয়েকে দেখতে যে পরিবার আসতে চেয়েছিল তারা তোমার সম্পর্কে শুনে..
...বাড়িতে না এসেই ফিরে গেছে!
যেতে দে, বোন।
আমার সাথে আন্দোলনে কাজ করবে, এমন একটা ভালো ছেলে খুঁজে ভাগ্নীর বিয়ে দেবো।
তোমার এই ধরনের কথাবার্তার জন্য আচ্ছা মতো প্রহার করা উচিত ছিল।
তার জন্য কোন ফালতু ছেলে খুঁজে আনলে, কান্নাম্মা দিদির মতো তাকেও কষ্ট করতে হবে?
কী রে, নারাপ্পা? তোর মুখ বড় বাড় বেড়েছে!
সে তোর বড় ভাই, তবুও এরকম কথা বলছিস!
বড় হওয়ার খাতিরে, তার দায়টা বেশি হওয়া উচিত না?
এই মহিলাগুলো আমাদের উপর নির্ভর করে বেচেঁ আছে।
তাদের কথাও কি মাথায় রাখা উচিত নয়?
'যখন তারা আমাদের লোকেদের জমি দখল শুরু করে, আমার ভাই...
অ্যাডভোকেট ভারাদারাজুর সাথে মিলে তাদের অধিকার আদায়ে আন্দোলন শুরু করেন।
পুঁজিপতিরা সেটা হজম করতে পারেনি।
তারা বলেছে আপনি অবৈধভাবে জেলার ২৪০০ একর জমি দখল করে আছেন।
এসব কী, কালেক্টর সাহেব?
তারা মিথ্যে অভিযোগ জানিয়েই যাচ্ছে। আপনি ডেকে এনে অপমান করছেন!
যেন আপনি খুব ভদ্রলোক এক ডাকেই সাড়া দেন!
কালেক্টরের কথা শুনেন।
স্যার, আমরা প্রজন্ম ধরে শাসন করার জন্য জন্মেছি।
আমরা এই ফালতু লোকদের জমি দখল করতে যাবো কেন?
তোমরা কাদের উপরে রাজত্ব করছ, হাহ?
শালা মাদার*.. - এই!
এই, মুনেপ্পা!
বসো।
বসে কথা বলছো না কেন? বসো।
আপনি একজন ভদ্রলোক,কিন্তু এসব কী?
তারা মারামারি চায়, সমাধান নয়।
তারা উস্কে দেয়া মাত্রই আপনি রেগে গেছেন!
বুঝতে পারছেন না?
দেখুন, তাদের জমি তাদের কাছে ফিরিয়ে দিলে, এই ঝামেলা এখানেই শেষ হয়ে যাবে।
নাহলে যদি আপনি আদালত বা সরকারের কাছে যান, আপনি কিছুই পাবেন না।
সরকার আমি চালাই, সেটা জানো তো তুমি।
ওই একই সরকার যখন সৎ কর্মকর্তাকে নিয়োগ দেয়, আপনি জানেন কী হতে পারে।
স্যার, এটা আমাদের কষ্টার্জিত জমি।
কোন পরিশ্রমের কথা বলছেন?
আপনার কাছ থেকে আমাদের সন্তানদের বিয়ে, অসুস্থতার জন্য টাকা ধার নিয়েছিলাম,
- আর আপনি সেটাকে জমি বিক্রি বলে কাগজে রেকর্ড করেছেন, তাই না?
কীভাবে কিনেছি তাতে কী আসে যায়, স্যার?
আমি এই অনুর্বর জমিগুলোকে উর্বর জমিতে পরিণত করেছি।
কে জমিগুলোকে উর্বর করেছে?
এই লোকেরাই তো ছিল?
আপনি যতক্ষণ পেরেছেন রাজত্ব করেছেন, এখন যথেষ্ট হয়েছে।
বর্তমান প্রজন্ম তাদের জমি ফেরত চায়। তাদের জমি ফিরিয়ে দিন, সহজ হিসাব!
আমাদের জমিই হলো আমাদের বেঁচে থাকার অবলম্বন,স্যার।
আমরা মরে গেলেও এটা তাদের দেবো না।
ইও! জমিই তোমার না আর মরার কথা বলছো।
এটাতে কাজ হবে না।
স্যার, আমরা বরং আদালতেই যাই। সেখানেই এটার নিষ্পত্তি হউক।
আপনি যদি ওই আইনজীবীকে ছেড়ে দেন,
আমাদের কাছ থেকে সবকিছু কেড়ে না নেওয়া পর্যন্ত সে থামবে না।
হুঁ।
এই, নারাপ্পা!
মালিক!
কুরুভিলাভেলীর শেশাইয়া অনুষ্ঠানের সময় মদ নিয়েছিল।
এখনও টাকা পরিশোধ করেনি, যাও গিয়ে টাকাটা নিয়ে আসো।
আচ্ছা মালিক। চল রে।
'বুঝতে পারিনি ওই মুহুর্তে আমাকে কেন দূরে পাঠিয়েছিল।'
উকিলকে ভুলে যান, স্যার।
তাকে যে ডাকবে সেখানেই যাবে।
সে এখানে এসেছে কারণ গ্রামবাসীরা তাকে ডেকেছিল।
আগে খুঁজে বের করুন তাকে এখানে কে ডেকেছিল।
আর কে, ভাই? নারাপ্পার বড় ভাই এসবের পেছনে রয়েছে।
পেছনে কে রয়েছে তাতে কী আসে যায়?
সব কিছুর জন্য একটা সময় আছে।
সময় এলে তোমাকে জানাব, রেডি থেকো।
সিনেমাটা সত্যিই ভালো হবে, আমার প্রতিবেশী জ্যোতি আমাকে বলেছে।
তোমার চাচাকে আমাদের জলদি টিকিট কিনে দিতে বলো।
তোমারও টিকিট লাগবে?
তাহলে? আমি কি তোমার কোলে বসে দেখব না-কি? - ঠিক আছে, এখানেই দাঁড়াও।
আমি আসছি।
এই, সিনা!
চাকুরির দুই মাসও হয়নি এর মধ্যেই তুই ফিট-ফাট হয়ে গেছিস!
যেখানেই যান, বস তোকে সাথে করে নিয়ে যান।
এমনকি তোকে কেরানি পদেও পদোন্নতি দিয়েছেন। খুব ভালো!
তুই আমার দিকে এভাবে তাকাচ্ছিস কেন?
আমাকে এক টাকা দে। - আমার কাছে কোন টাকা নেই!
তোর কাছে কে চেয়েছে?
আমার নামে লিখে রাখ,
মিলের হিসেবের সাথে মদের হিসাব একসাথে করবো কীভাবে?
এই, তোর এই হিসেব তোর অধীনে কাজ করা লোকদের দেখাস!
কানাম্মা অপেক্ষা করছে,টাকাটা দে।
বলেছি না, পারবো না।
তবুও চাচ্ছিস!
তোর মতো অনেক লোককে দেখেছি মেয়েদের সামনে ভাব দিতে।
আমাকে ভয় দেখাতে পারবি না।
এই, মনে হচ্ছে তুই কোথা থেকে উঠে এসেছিস তা ভুলে গেছিস।
এটা ভুলে যাস না।
আমি কোথা থেকে এসেছি তা ভালো করেই জানি।
তোরা আমাদের উচ্ছিষ্ট খেয়ে বেঁচে আছিস।
আমার সামনে দাঁড়িয়ে কথা বলার সাহস কী করে হয়?
কী বললি তুই?
সাহেব! - এই।
সাহেব, সে আমাকে মারছে, স্যার। - এসব কী, নারাপ্পা?
দাঁড়া। - সাহেব!
এসব কী?
আমি তার সাথে নরম সুরে কথা বলছি, আর সে উচুঁ গলায় কথা বলছে!
তোকে কালেক্টর অফিসেই খুন করে ফেলতাম।
বসের প্রতি শ্রদ্ধার জন্যই বেঁছে গেছিস।
তুই আমার গায়ে হাত তুলেছিস, তাই না? তোকে দেখে নেবো!
কী করবি? কী করবি তুই?
এই, নারাপ্পা! - বদমায়েশ।
এদিকে এসো।
সে আমাকে এক টাকা দেয়নি! - এজন্য এত রাগান্বিত হচ্ছো কেন?
তোমার এক টাকার দরকার হলে আমাকে বলতে পারতে
তাকে কেন বলতে গেছো?
তাকে কেরানী বানিয়েছেন কেন?
তোমার যা কিছু লাগবে, আমাকে বলবে!
এই, এই দুই টাকা রাখো।
আমি টাকা চাইলে, দেয়া না দেয়া আপনার ইচ্ছা।
ও 'না' বলার কে?
কিন্তু তুমিই তো তাকে এনেছ!
নারাপ্পা! আমাদের মাঝে এই লোকগুলো কারা?
বলো এক্ষুণি! তাকে চাকরী থেকে বরখাস্ত করে দেই?
দরকার নেই। ওকে এখানে থাকতে দিন।
এইতো। তোমার মাঝের এই ভালো দিকটা....
এখনই ভালো করে দেখে বলো মেয়ে পছন্দ হয়েছে কি-না।
ছেলে কী করে?
কেউ আপনাদের বলেনি?
না, আমরা বলিনি। নিজেই বলো।
আপনি নিশ্চয়ই শঙ্কারাইয়ের মিলের কথা শুনেছেন। আমিই সেখানকার সবকিছু!
'সবকিছু' মানে?
তাঁর বস মদের দোকানের মালিক।
নারাপ্পার কারণেই তার মদের এমন চাহিদা।
সে-ই স্বাদের পেছনের কারিগর!
এটাতে আশেপাশের জেলার কেউ তাকে হারাতে পারবে না।
এক চুমুক খেলে, আপনি জীবনেও ভুলতে পারবেন না।
এই তাকে এখানে কে এনেছে? বকবক করেই যাচ্ছে।
আপাতত সে এই কাজ করছে।
বিয়ে হয়ে গেলে সে খামারে কাজ করবে। আপনাদের চিন্তা করার দরকার নেই।
সরকারী চাকরী না করলেও, সম্মানজনক কাজ করে এমন একটা ছেলের হাতে বোনকে তুলে দিতে চেয়েছি।
আমার বোনকে একজন মদ প্রস্তুতকারীর কাছে বিয়ে দিয়ে থানা আর আদালতে চক্কর কাটতে চাই না।
আমার মেয়ে পছন্দ হয়নি।
আমার এক ভাই একটা সম্বন্ধের কথা বলছিল, সেখানে গিয়ে মেয়েটাকে দেখা উচিত।
আবার যদি আমার সামনে বিয়ের কথা বলো, তাহলে আমি কিন্তু...
মামাকে জিজ্ঞেস করতে লজ্জা পাচ্ছো?
সবার সামনে লোকেরা যখন মামাকে ছোট করছিল তোমার খারাপ লাগেনি?
মামাকে অপছন্দ করে এমন কোন লোক আছে?
তুই আর তোর মামা!
সে 'মদ প্রস্তুতকারক' কথাটা বলতেই থাকে।
সে কখনই বিয়ে করতে পারবে না, তার কারণে, তোরও বিয়ে হবে না।
এই, আবার বললে, আমি তোমাকে খুন করব।
প্রথমে তোমাকে করবো।
নিজের মেয়েকে নিজের ভাইয়ের কাছে বিয়ে না দিয়ে,
এই বুড়িটা সহ গ্রামের মহিলাদের সাথে নিয়ে নাটক করছ।
তো, ভাবছিস তোকে ওই গুন্ডার সাথে বিয়ে দেই আর আমার মতো তোর জীবন নষ্ট হোক?
এই, আমি কিন্তু ভুলে যাবো তুমি আমার মা!
নিজেকে কী মনে করিস?
তার সম্পর্কে কিছু বললেই তোর জ্বলছে কেন?
জ্বলবেই তো!
তোমার মতো কোন ইডিয়টকে বিয়ে করে কষ্ট পাওয়ার চেয়ে, আমি বরং
মামার মতো হ্যান্ডসাম কাউকে বিয়ে করে যদি বিধবা হতে হয় তাও গর্বের সাথে মেনে নেব।
এটা বললেই হয় তুই তোর মামার সাথেই সারা জীবন থাকতে চাস।
হ্যাঁ। তাহলে আমাদের বিয়ে দিয়ে দাও আর আমার একসাথে থাকি।
তোর স্বপ্নে!
মামা!
এখানে একা বসে আছো কেন?
ওই মেয়ে যদি তোমাকে প্রত্যাখ্যান করে থাকে, তার মতো বোকা আর এই পৃথিবীতে নেই।
হ্যাঁ ...
তুই-ই সবসময় আমার প্রশংসা করিস।
আর তুই-ই আমাকে মেয়ে দেখতে পাঠাস আর আমাকে অপমানিত হতে হয়।
তাহলে তুমি এখানে সেখানে মেয়ে দেখে বেড়াচ্ছ কেন?
আমাকে বিয়ে করার কথাটা কি একটিবারও মাথায় আসেনি?
আমাকে কেন বিয়ে করছো না, মামা?
আমি তোমার অনেক খেয়াল রাখবো।
হঠাৎ করে সবকিছু অন্যরকম লাগছে, মামা।
♪ ও ও ও, নারাপ্পা! ♪
♪ তোমায় আমায় অনেক পছন্দ! আমার চোখ শুধু তোমায় দেখতে চায় ♪
♪ ও ও ও,কানাম্মা! ♪
♪ তোমার অক্ষিপল্লবের মতো তোমায় করবো সুরক্ষা, আমি সারাজীবনের মতো হবো তোমার জীবনসঙ্গী! ♪
♪ শুনো,আমার হৃদয় কী বলছে শুনো...♪
♪ আমার মনে আজ আজগুবি সপ্ন উঁকি দিচ্ছে, অগণিত সপ্ন তোমার হাত ধরে পূর্ণ হওয়ায় অপেক্ষায়! ♪
♪ তোমার মোহমুগ্ধ জাদুতে আমি বশীভূত ♪
♪ তুমি আমায় দুষ্ট বাচ্চায় পরিণত করেছ! ♪
♪ সপ্ন পূরণের অপেক্ষায় আজ মোহমুগ্ধ পরিবেশও দিচ্ছে সায়! ♪
♪ ও ও ও, নারাপ্পা! ♪
♪ তোমায় আমায় অনেক পছন্দ! আমার চোখ শুধু তোমায় দেখতে চায়! ♪
♪ ও ও ও,কানাম্মা! ♪
♪ তোমার অক্ষিপল্লবের মতো তোমায় করবো সুরক্ষা, আমি সারাজীবনের মতো হবো তোমার জীবনসঙ্গী! ♪
কী হয়েছে? কিছু না,তুমি যাও।
♪ বেলারি মেলায় গিয়ে তোমার জন্য কাঁড়ি কাঁড়ি বাদাম আনবো? ♪
♪ যদি তুমি বাদামই আনতে পারো, তাহলে তোমার জীবন দিতে পারবে না? ♪
♪ কাদিরি মন্দিরে একসাথে যাবো আমরা? নাকি মাদাকাসিরা মন্দিরে বিয়ে করবো? ♪
♪ জলাশয়ের পাশে সুন্দর ছোট্ট ঘর বানিয়ে থাকবো আমরা? ♪
আহ!
হেই, কানাম্মা! চারদিকে কাঁটা, সাবধানে হাঁটো।
শুধু সে নয় আমাদেরও কাঁটা বিঁধতে পারে!
আয়।
ঠিক আছে, যেতে থাকো।
কী হয়েছে, ভাই? এতরাতে কেন?
আমি একজোড়া চপ্পল চাই।
কেন? তোমার মালিক কি তার বউয়ের জন্য নিতে ভুলে গেছে?
কেন? শুধু মালিকই চপ্পল পরতে পারে?
এগুলো নারাপ্পা'র হবু বউয়ের জন্য।
আরে! বোকার মতো কাজ কেন করতে যাচ্ছো?
কোনটা প্রয়োজনীয় আর কোনটা না আমি সিদ্ধান্ত নেব! আগে এগুলো বানাও।
মাপ কত?
হাহ?
মাপে ভুল হলে এগুলো পরতে আরামদায়ক হবে না, ভাই।
মা..মা.. মাপ বলতে..
এতটুকু হবে!
কাঁটা যেন বিঁধতে না পারে তেমন মজবুত বানাবে, ঠিক আছে?
ঠিক আছে, ভাই।
উপরে যেন তুলার মতো নরম অনুভব হয়!
নিচে একটু ঘন হবে, ঠিক আছে?
ঠিক আছে, ভাই।
শুনো,এই চপ্পল মেয়েদের জন্য।
তাই হিল আরেকটু উঁচু করে বানাও।
আচ্ছা, আচ্ছা!
শুনো! যখন সে এগুলো পরবে, তার পায়ের সৌন্দর্য যেন বাড়ে,ঠিক আছে?
আরে! তাহলে তুমিই বানাও, ভাই!
আচ্ছা, ঠিক আছে! সেলাই করে নিজেই বানাও।
এসব বলছি কারণ কানাম্মার ভালোবাসা সম্পর্কে তোমার কোনো ধারণা নেই।
প্রথমবারের মতো তাকে কিছু একটা উপহার দিচ্ছি।
এগুলো কতটা সুন্দর হওয়া উচিত!
আমি বুঝেছি, ভাই।
তারও জানা উচিত যে আমি তাকে কতটা ভালবাসি!
চপ্পল পরে নাও,কোনো কাঁটা এখন আর বিঁধতে পারবে না।
এই, জ্যোতি! আমার নতুন চপ্পল দেখেছিস?
পছন্দ হয়েছে? আমার কাকা আমাকে এনেছে।
এগুলো খুবই সুন্দর!
♪ আমার চোখ শুধু তোমায় দেখতে চায়! ♪
♪ ও ও ও,কানাম্মা! ♪
♪ তোমার অক্ষিপল্লবের মতো তোমায় করবো সুরক্ষা, আমি সারাজীবনের মতো হবো তোমার জীবনসঙ্গী! ♪
কাকা! কাকা! কান্নামা কাঁদতেছে!
তাড়াতাড়ি আসেন, কাকা! - এসব কী?
কী হয়েছে?
কেন? এসব করলে কেন?
তোমার ভাই স্বনির্ভরতায় জোর দিয়ে তাকে এতদূর দর্জিগিরি করতে পাঠাচ্ছে।
আর তুমি...আমরা চপ্পল ব্যবহার করতে পারি না জেনেও তাকে চপ্পল দিয়েছ!
কিছু হবে না ভেবে সে এগুলো পড়েছিল।
তার হয়তোবা মাথা খারাপ হয়ে গেছে, কেননা তোমার জন্য সে প্রায় পাগল।
কোথায় ছিল তোমার বুদ্ধি? কোথায় ছিল?
এখন দেখো,আমার মেয়ে কতোটা কষ্ট ভোগ করতেছে!
এখন কী হয়েছে, ভাবি?
এই সম্প্রদায়ে জন্ম গ্রহণ করা আমাদের দুর্ভাগ্য!
কানাম্মা!
না,না! কিছু হয়নি! আমার কিচ্ছু হয়নি!
নারাপ্পা!
তো, তুই চপ্পল পড়েছিস?
হ্যাঁ,আমার কাকা দিয়েছে।
খুলে ফেল।
চপ্পল খুলে ফেল।
তুই বুক ফুলিয়ে গ্রামে চপ্পল পরে হাঁটবি আর আমরা বসে বসে দেখবো?
চপ্পল খুলে ফেল!
তোর চপ্পল এত ভালো লাগলে নিজে খুলে নে।
তুই কি নিজে চপ্পল খুলবি নাকি আমি তোর শাড়ি টেনে খুলবো?
ভাই! তাকে মেরো না, ভাই।
কানাম্মা! ঝামেলা না করে খুলে ফেল?
খুলে ফেল!
খুলে ফেল, কানাম্মা।
খুলে মাথায় দে।
চোখ দেখাস কেন? মাগী!
কানাম্মা! চল যাই, কানাম্মা।
এমন করিস না, কানাম্মা। - এটা সরা!
সে যা বলে আমাদের তা-ই করতে হবে কেন?
কানাম্মা! কিছু না বলে সহ্য কর।
আয়!
সত্যিই অনেক কষ্ট হচ্ছে!
খুব অপমানজনক ছিল।
না, ভাই! দয়া করে তাকে যেতে দেন। আমরা চলে যাবো।
কে 'ভাই'? আমি তোর ভাই?
তুলে আন!
তুলে এনে তার মাথায় দে।
মাথায় রাখ।
কানাম্মা! সবাই দেখছে।
দয়া করে, চল যাই।
কানাম্মা! চল যাই!
হাঁট!
মাথায় নে!
আগে কখনো এভাবে কাঁদিনি আমি।
শয়তান টা মেরেছে বলে কাঁদতেছি না।
অনেকেই সার্কাসের মতো ঘটনাটার মজা নিয়েছে।
কিন্তু কেউ তাকে জিজ্ঞাসা করে নি কেন আমাকে সে মারতেছে!
চুতমারা**!
তবে আমাকে মেরে সে কতটা গর্বিত ছিলো?
ওইদিন তোর মামা আমাকে মারায় তুই অনেক হেসেছিলি!
ভাই, দয়া করে তাকে মেরো না। আমরা আর কোনোদিন চপ্পল পরব না।
আমি তোকে বলেছি চপ্পল খুলতে আর তুই বলেছিস আমার ইচ্ছা হলে খুলে নিতে?
এগুলো তুলে আন!
মাথায় নিয়ে হাঁট!
গ্রাম থেকে বের হওয়া অব্ধি চপ্পল মাথায় থাকে যেন!
সব লোকই এসব দেখেছে!
আমি কীভাবে আবার সেই গ্রামে প্রবেশ করবো?
এটা তোল!
চপ্পল তোল!
ভাগ!
কী বলেছিস? - না!
সে চপ্পল পরলে তুই মারবি? - এমন করিস না!
না! না, নারাপ্পা!
আমিও পরেছি।
আমাকে মারবি?
মার! মার আমাকে! মার আমাকে! মার!
মার! মার!
- না! - মার!
আমার কাছে আসিস না।
এই, কানাম্মা নিয়ে আয়।
না! নারাপ্পা! মার, মার!
এই, তাকে আগে খুলে দে।
এসব কী? এখানে এসব কী চলছে?
তারা একটা মেয়েকে মেরেছে, মালিক।
কী ঘটেছে তা বলতে বলেছি?
আগে তাকে জিজ্ঞেস করেন কী ঘটেছে।
যা-ই ঘটুক না কেন তাতে আমার কিছু যায় আসে না।
যা-ই ঘটুক, মিলে এসে আমাকে জানানো প্রয়োজন ছিলো না?
আপনি চাইলে সবাইকে নিয়ে যেতে পারেন।
কিন্তু সে এখানেই থাকবে।
কানাম্মা এখানে আসতেছে।
সে ক্ষমা চাইলেই তাকে ছেড়ে দেব।
বদমাশ!
তোকে প্রশ্রয় দিয়ে মাথায় তুলেছি আমি?
সে একটা মেয়েকে মাথায় চপ্পল রেখে গ্রামে হাঁটিয়েছে।
এটাকে ভুল বলার পরিবর্তে আমাকে চড় মারলেন কেন, মালিক?
এই! তোর হবু বউয়ের মাথায় চপ্পল রেখে গ্রামে হাঁটানো...
আর আমার লোককে প্রকাশ্যে চপ্পল দিয়ে মারা! দুটো কি এক?
তোরা সবাই কী করলি? আমাদের লোকদের মেরেছে আর তোরা তাকে খুন না করে কেবল দেখেছিস?
'আমি যতটাই বিশ্বস্ত ছিলাম না কেন, মালিকের চোখে আমি কী ছিলাম?...
সেদিনই বুঝতে পেরেছি তিনি আমাকে কতটা নিচু ভাবেন।'
আপনারা যদি বাচ্চাদের স্কুলে পাঠান তারা মারধর করবে।
যদি সরকারি কূয়া থেকে পানি তুলেন তারা মারধর করবে।
আপনারা যদি ছোট জমি কিনে বাড়ি বানান তারা বাড়ি পুড়িয়ে আপনাকে মেরে ফেলবে!
যদি তাদের সামনে হাতজোড় করে নতজানু হয়ে থাকেন,তাহলেই মানুষ হিসেবে গণ্য করবে!
অন্যথায় তারা জিজ্ঞেস করবে 'তোরা কীভাবে আমাদের সমান হতে পারিস?' আপনাদের গাছে বেঁধে মারধর করবে!
শুনেন! এটাই আমাদের পরিবর্তন করা উচিত।
যদি এটা পরিবর্তন হয়ে যায় তখন আপনাদের নামেও জমি থাকবে!
বর্তমান পরিস্থিতিতে আমরা কীভাবে জমি কেনার সামর্থ্য রাখবো?
আপনি কিনতে যাবেন কেন?
আপনি যে জমিতে কাজ করছেন তার অর্ধেক অংশ আপনারই।
ব্রিটিশরা যাওয়ার সময় আপনাদের এসবের অধিকার দিয়েছিল।
আমি বলছি না, যে সমস্ত জমিদাররা জমি দখল করেছে..
তাদের মধ্যে কেউ কেউ অবশ্যই করেছে।
আমাদের তা ফিরিয়ে দেওয়ার দাবি করা উচিত।
দেখেন, মশাই। আমাদের পূর্বপুরুষরা মৃত্যুর আগে তাদের নামে জমি লিখে দিয়েছিল।
আমরা কীভাবে সেই জমি আবার দাবি করতে পারি?
এমনকি তারা জমি ফিরিয়ে দিলেও চাষের টাকা কোথায়?
এই, মুনেপ্পা! বুঝা!
উপস্থিত সুধীবিন্দু!
আমাদের জমি ক্রয় বিক্রয় করার স্বতন্ত্র অধিকার রয়েছে।
তারা নয়,আমরা জমির মালিক।
এমনকি যদি তারা কিনেও থাকে, তাহলে তা বাতিল হয়ে যাবে।
আমরা নিবন্ধন অফিস থেকে খামারের কাগজপত্র আনার জন্য সর্বাত্মক চেষ্টা করছি।
যদি আমরা এটা পেয়ে যাই তার মানে আমাদের জমি আমাদের কাছে ফিরে এসেছে?
লড়াই ছাড়া মানুষ কী পেয়েছে?
তবে লড়াই করার জন্য আমাদের সবার আগে একতাবদ্ধ হওয়া উচিত!
জমির জন্য আমাদের লড়াই করা প্রয়োজন নয়?
আমরা একতাবদ্ধ না হলে, কীভাবে অধিকার আদায় করবো?
আমরা নিশ্চিতভাবে আমাদের জমি ফিরিয়ে আনবো।
ও নারাপ্পা! উকিল সাহেব সমাজে আমাদের অবস্থান সম্পর্কে ব্যাখ্যা করেছেন।
আমাদের কিছু একটা করা উচিত, ভাই।
এর আগে আমাকে কিছু একটা করতে হবে।
কী,ভাই?
যা!
তোরা যেতে থাক! যা!
যাও! ভয়ের কিছু নেই। যাও!
আমি দেখে নিবো কেউ কিছু করতে পারে কিনা।
যাও।
যেতে থাকো।
প্রথমবারের মতো, যুবসমাজ আমাদের আন্দোলনে ভরসা প্রদর্শন করছে, স্যার।
তারা বুঝতে পেরেছে যে তাদের আর এভাবে চাকরের মতো বাঁচতে এবং মরতে হবে না।
মুনেপ্পা!
জনগণ সাহস ও বিশ্বাস হারানোর আগে আমাদের লড়াইয়ের জন্য এগোনো উচিত।
তাদের সাহসই পরিবর্তনের অস্ত্র!
হেই, মেরিদাইয়া! এগুলো পঞ্চায়েত অফিসে রেখে আসো।
পোতানাইয়া! তুমি এগুলো সংকরাইয়া'র বাড়িতে রেখে আসো।
কে? আমি?
হায় ইশ্বর! আগে একবার করেছিলাম, তারা আমার হাড় ভেঙে দিয়েছিল!
আগে তারা তোকে মারতে পারতো, এখন কীভাবে মারে দেখবো!
নারাপ্পা!
ক্রুদ্ধ হয়ো না, নারাপ্পা।
তাদের পাশে থাকাকালীম নম্র থাকো, এই ক্রোধ প্রতিপক্ষের প্রতি দেখাবে!
এখন বুঝতে পেরেছ?
যতক্ষণ তাদের জন্য মদ বানাতে, তাদের কোনও সমস্যা ছিলো না।
এখন দেখো!
এখন তুমি বিদ্রোহ করছো বলে তাদের আসল চেহারা বেরিয়ে আসবে!
তাদের আসল রূপ এখন দেখতে পাবে।
যদি তারা এমনটা করে, আমিও আসল রূপ দেখাবো!
কান্নামা! সাবধানে বাড়ি যেও।
তুমিও কান্নামার সাথে যাও।
এস.আই অনুমতি দেয়ার পরেও সি.আই বাধা দিচ্ছে।
নারাপ্পা! - আহ?
সাবধানে থেকো! - আচ্ছা, আচ্ছা।
কিন্তু আমার সাবধানতা তাদের উপর নির্ভর করছে।
এসব তারা নিজেদের মধ্যে আলোচনা করেই করেছে।
সারা জায়গায় জনসম্মুখে পোস্টার লাগাচ্ছে, আর এসব ওই নারাপ্পার উস্কানিতে হচ্ছে।
আপনার অবৈধ জমি দখলের কথা জনগনকে জানানোর জন্য আর তাদেরকে উস্কে দিতে,
- উকিলটা মনে হচ্ছে পুলিশের অনুমতি চাচ্ছে।
আপনি তখন ওদের কি বলেছেন?
বন্ধ করতে না-কি চালিয়ে যেতে?
চিঠিটা নিয়ে আমার কাছে রেখে দিয়েছি।
তাদেরকে মিটিং করতে দিন।
উকিলকে ছাড়া।
রেলস্টেশন থেকে উকিলকে গ্রেফতার করে আটকে রাখুন।
ভাই, উকিলের মিটিংয়ে অংশগ্রহন ঠেকাতে,
- পুলিশ তাকে রেলওয়ে স্টেশনে গ্রেফতার করেছে।
এত মানুষ আমাদের বিশ্বাস করে এগিয়ে এসেছে। আমরা এখন কী করবো?
উনি আসতে না পারলে, তুই গিয়ে কথা বল!
আমি? কী বলবো?
সেটাই বলো যা সবসময় আমাদের বলে এসেছ।
আমার এক ডাকে যারা এখানে নিজ নিজ গ্রাম থেকে
আন্দোলনকে এগিয়ে নিতে এসেছেন-
আপনাদের প্রত্যেকটা গ্রামকে জন্য আরো দশটা গ্রামকে উদ্বুদ্ধ হবে।
আমি জানি না, মা!
এতদিন শুধু বড়রা আন্দোলনে অংশ নিচ্ছিলো,
আর এখন সে বাচ্চাদেরও উস্কে দিচ্ছে।
একমাত্র ভগবানই জানে এটা কোথায় গিয়ে থামবে।
ঠাম্মা! জনগনের জন্য লড়াই করা কি ভুল?
হেই! বড়দের মতো কথা না বলে গিয়ে পড়তে বস!
দশ হাজার একরের মধ্যে শুধু ছয়শ একর আমাদের দখলে আছে।
কিন্তু নারাপ্পাকে দেখলে আমাদের লোকেরা ভয়ে থর থর করে কাঁপে।
আমরা তাকে ওখান থেকে সরাতে পারবো।
সেটা কোন বড় বিষয় না।
আমাদের লোকেরা জনসভার মাঝে মিশে যাবে।
দখলকৃত জমির প্রতি একরে একরে আপনার নিশান লাগিয়ে দিন।
ওই জমিগুলো আমাদের!
আমাদের জমি আর আমাদের অধিকারের জন্য -
পুলিশের অনুমতি না থাকা সত্বেও এত লোক এখানে জড়ো হয়েছে কীভাবে?
ভুমি দখল সম্পর্কে মানুষকে সচেতন করার জন্য এই সভা ডেকেছি।
তার জন্য তো পুলিশের অনুমতি লাগবে, তাই না?
থানায় আবেদন করেছিলাম, তারা আমাদের সভা করতে বলেছে।
সন্ধ্যা হওয়ার পরেও সবাই বাইরে কেনো?
ঘরে গিয়ে শুয়ে পড়ো, যাও!
আচ্ছা, ওঠো সবাই। সিন্না! আয়।
সাব ইন্সপেক্টর আমার অজ্ঞাতসারে আপনাদের অনুমতি দিয়েছে কীভাবে?
নারাপ্পা! স্টেশনে গিয়ে অনুমতিপত্রটা নিয়ে এসো।
এক মিনিট, অনুমতিপত্র বাড়িতেই আছে।
যা নিয়ে আয়।
তাড়াতাড়ি আসবি।
আমরা কয়টা মিটিং বা কয়টা প্রতিবাদ করলাম সেটা কোন বিষয় না,
আমাদের জমি আর অধিকার আদায় করতে হবে এটাই মূল কথা।
আমি তখন তোমাকে বলেছিলাম না...
- এ্যকশন নেয়ার সময় আসবে?
এখনই সময়।
নারাপ্পার পরিবারের কেউ যেনো বেঁচে না থাকে, সব কিছু পুড়িয়ে দাও।
ভাই, আপনি অনেক বড় ভুল করতে যাচ্ছেন।
ব্যক্তিগত দ্বন্দ্বকে, গ্রাম্য বিষয়ে পরিণত করছেন কেনো?
এরকম করলে আমরা ওদের সাথে বসবাস করবো কীভাবে?
চুপ করো! শুনো!
তোমাকে যা বলেছি তাই করো।
দাদা! মনে হচ্ছে বৃষ্টি হবে। এসো, ভেতরে এসো, ওঠো! ওঠো!
অনুমতি ছাড়া আবার যদি সমাবেশ ডাকো,
আমি তোমাদের জেলে ভরে দেবো।
তারা উকিলকে আমাদের কাছে আসতে দেয়নি।
পুলিশ পাঠিয়েছে আমাদের সমাবেশ বন্ধ করতে।
তারা ভয় পেয়েছে। এটাই আমাদের প্রথম জয়।
নরপ্পা!
মিটিংয়ে বক্তৃতা দেয়ার সময় তোমার ভাইকে ওরা মেরে ফেলেছে, তাড়াতাড়ি এসো!
ভাই!
ভাই!...ওহ, না!
কারা করেছে এসব?
তোমার কিছুই হবে না, ভাই! ভাই!
ভেবেছিলাম এখানের সবাই আমাদের লোক।
ওদের লোক আমাদের দলের সাথে মিশে ছিল।
তোলো তাকে, হাসপাতালে নিয়ে যেতে হবে।
ভাই, তোমার কিচ্ছু হবে না।
তারা বাচ্চাদেরও ছাড়েনি, ভাই।
বেচেঁ যাওয়া সবাইকে হাসপাতালে নিয়ে যা।
হাসপাতালে...
ভাই!
নারাপ্পা!
ওরা আমাদের গ্রামের সব বাড়িঘর জ্বালিয়ে দিয়েছে, ভাই!
ওহ, না, নারাপ্পা! ভেতরে যাস নে, বাবা!
ওরা সবাইকে পুড়িয়ে মেরেছে!
ভেবেছিলাম, মরার আগে তোমাকে আর দেখতে পাবো না।
দাদা জানালা ভেঙে বাচ্চাদের বের করে এনেছিলো,
কিন্তু ঐ শয়তান সীনা আবার তাদের আগুনের মধ্যে ফেলে দিয়ে দরজা বন্ধ করে দিয়েছিলো।
অনেক কষ্ট হচ্ছে।
বিয়ের পর আমাদের জীবন কেমন হতো বলো না।
সেটা শুনে আমি শান্তিতে মরতে পারবো।
তোরা দুজন তাদিপাত্রি চলে যা। - আচ্ছা, ভাই।
তুই এখানে থাক আর একটু পর পর...
হেই! ভেতরে চল!
♪ আয়, প্রতিশোধের আগুনে সবাইকে আজ জ্বালিয়ে মারি! ♪
হেই, দরজাটা বন্ধ কর!
♪ আয়,আজ সবার মাথা মটকিয়ে দেই! ♪
♪ সবাইকে কল্লা কাটা করবো আজ! ♪
♪ শিরায় শিরায় বইছে উত্তপ্ত রক্ত... ♪
♪ আজ দেহ রক্তে ভেসে যাবে, মাটিতে আজ রক্তের বন্যা বইবে! ♪
হেই, আয়!
হেই, এদিকে আয়, আয় না!
নরপ্পা!
মহিলারা, সবাই ভেতরে যান!
ম্যাডাম! আপনার হাতে খেয়েছি। ভালোর জন্য বলছি, ভেতরে যান।
তাকে না মারা পর্যন্ত আমি যাবো না।
♪ আয়, প্রতিশোধের আগুনে সবাইকে আজ জ্বালিয়ে মারি! ♪
♪ আয়,আজ সবার মাথা মটকিয়ে দেই! ♪
♪ সবাইকে কল্লা কাটা করবো আজ! ♪
ভেতরে যাও! সোনা। ভেতরে যাও!
এখন বুঝতে পারছিস?
যারা আমার পরিবারকে আগুনে পুড়িয়েছে, আমি তাদেরকে মারতে এসেছি।
যে বাধা দিবি তাকেও মেরে ফেলবো।
♪ আয়, প্রতিশোধের আগুনে সবাইকে আজ জ্বালিয়ে মারি! ♪
♪ আয়,আজ সবার মাথা মটকিয়ে দেই! ♪
♪ আয়,আজ সবার মাথা মটকিয়ে দেই! ♪
♪ সবাইকে কল্লা কাটা করবো আজ! ♪
♪ বাটালি কিংবা কাস্তে দিয়ে আজ পেটের নাড়িভুঁড়ি বের করে ফেলবো। ♪
নারাপ্পা!...এই!
নারাপ্পা!
হেই!
শোন!
প্লিজ, আমাকে মেরো না।
বৃদ্ধ মানুষটা অনুরোধ করছে...
♪ শয়তানদের মৃত্যুদূতে পরিণত হয়ে আজ তাদের শাস্তি দে! ♪
♪ আয়, প্রতিশোধের আগুনে সবাইকে আজ জ্বালিয়ে মারি! ♪
নারাপ্পা!
আমি তোমাকে নিজের ছেলের মতো দেখেছি।
প্লিজ, আমাকে মেরো না।
♪ আয়,আজ সবার মাথা মটকিয়ে দেই! ♪
♪ সবাইকে কল্লা কাটা করবো আজ! ♪
ওই গ্রামে আমার জন্য আর কিছুই ছিল না।
আমি পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণ করতে চাইনি।
আমি এক গ্রাম থেকে অন্য গ্রামে পালিয়ে বেড়াচ্ছিলাম।
সবার জীবনেই দ্বিতীয় একটা সুযোগ আসে।
এভাবেই তোর মামার সাথে দেখা হয়েছিলো।
এই নাও, পান করো।
কোথা থেকে এসেছো?
তোমার নাম কী?
দয়া করে আমাকে একটা কাজ দিন।
আমি ফ্রি খেতে পারবো না।
সুন্দরাম্মা! ও সুন্দরাম্মা!
এসব কী ভাই? সকালে তাড়াতাড়ি চলে গেলে আবার আসলে এতো দেরী করে।
সকাল থেকে ও তোমার কথা জিজ্ঞাসা করছিলো...
দেখ..
এ হলো নারাপ্পা।
আমাদের সাহায্য করার জন্য ওকে এনেছি।
এখন থেকে ও বারান্দায় থাকবে।
হুম।
'তখন আমি শুধু মদ তৈরী করতে পারতাম।
তবে তোর মামা আমাকে চাষাবাদ করা শিখিয়ে দিলো।'
পান্ডুস্বামী আপনার ফসল চায় না, চায় জমিটা। মনে হয় এটা আপনাকে বলেছেও!
জানি না, বাসাভায়া।
সে গ্রামের সব জমি নিজের নামে করে নিতে চায়।
আমরা না দেয়া পর্যন্ত সে হয়তো থামবে না।
আমার স্ত্রী তার চাপ সহ্য করতে না পেরে জমিটা তাকে দিয়ে দিতে বলছে।
আমার একটা সন্দেহ আছে।
সে মনে হয় আমার জমি কেড়ে নিয়ে, তোমার জমিও দখল করার চেষ্টা করবে।
একটু সাবধানে থেকো, বাসাভায়া।
এগুলো আমার একার হলে ভেবে দেখতাম। এতে সুন্দরাম্মার ভাগও আছে।
ভাই!
'তোর মামা আর মায়ের ভালবাসা আমাকে বাঁচার নতুন আশা দেখালো।'
এই, বাসাভায়া! বাড়িতে একটা যুবতী মেয়ে থাকা সত্বেও একজন আগন্তুককে বাড়িতে এনে রেখেছিস!
মানুষ কী ভাববে?
তোর বোনের বিয়ে দিতে চাস না-কি না?
ঠাম্মা, তুমি কি মুখটা একটু বন্ধ রাখতে পারো না?
কেন রাখবো?
এমন যেন জলদিই তোর বিয়েটা দেখতে চাই না?
কতদিন আর তোর ভাই তোকে দেখে রাখবে?
ঠাম্মা ভুল কী বলেছে?
আমি চাই না আমার জন্য কেউ সমস্যায় পড়ুক।
আমি চলে যাবো।
তুমি চলে গেলেই কি এসব বলা বন্ধ হবে?
তাহলে কী করবো?
তুমি ওকে বিয়ে করো!
এসব ঘটনা লুকানোর জন্য ক্ষমা চাইছি।
তোমাকে ধোঁকা দেয়ার কোনো ইচ্ছে আমার ছিল না।
পুলিশ আমাকে যখন তখন ধরে নিয়ে যাবে।
আমাকে সাহায্য করতে গিয়ে, তোমার বোনের ভবিষ্যৎটা নষ্ট করে দিও না।
আমি বরং এখনই চলে যাই।
এক মিনিট!
ভাইয়া, যে নিজের পরিবার ও ভাই-বোনদের জন্য এতোটা করতে পারলে...
- সে নিজের স্ত্রী-সন্তানদের রক্ষার জন্যও যেকোন কিছু করতে পারবে।
তুমি কে, কোথা থেকে এসেছো, তোমার অতীত কী, সেসব আমার কাছে গুরুত্বপূর্ণ না।
আমার সন্তানদের পিতা হিসেবে তোমাকেই চাই।
যতক্ষণ না তুমি রাজি হচ্ছ, আমি অপেক্ষা করবো।
সুরিন্দর?
হ্যাঁ, মান্যবর বিচারক!
এসব কী? কতগুলো মানুষকে সে খুন করেছে?
সামাজিক দ্বন্দ্বের কারণেই এসব হয়েছে, স্যার।
তারা তার পরিবারকে টার্গেট করেছিলো বলে সে তাদের উপর আক্রমণ করেছিলো।
সে যা কিছু করেছে শুধু তার আত্মরক্ষার জন্য করেছে।
সে এখনো বিবেকবান আছে।
দয়া করে...
'পুরো ঘটনাকে সামাজিক দ্বন্দ্ব হিসেবে চিহ্নিত করে...'
'আত্নরক্ষার খাতিরে খুন করার জন্য আদালত আমাকে অল্প দিনের কারাদন্ড দিয়েছিলো।'
'জেল থেকে ছাড়া পাওয়ার পর তোর মাকে বিয়ে করি।'
ছোটবেলায় যখন ভয় পেতাম, ভাই আর আমি সবসময় এখানে এসে বসে থাকতাম।
মনে হতো আমরা মায়ের পাশেই বসে আছি।
এখন যেহেতু তুমি এখানে, ভয় পাওয়ার কিছু নেই।
'তোদের তিনজনের জন্মের পর, আমি অতীতকে একপাশে রেখে সাধারণ জীবনযাপন শুরু করি।'
তোর ভাইকে হত্যার জন্য আমি সেই পরিবারকে ধ্বংস করতে চেয়েছিলাম।
'কিন্তু আমি আবারও আমার পরিবারকে হারাতে প্রস্তুত ছিলাম না।'
'এ কারণেই আমি চুপ করে রয়েছি।'
সিনাব্বা, যে তার পিতাকে অক্ষম মাতাল হিসাবে দেখেছিল...
সে বুঝতে শুরু করেছিল যে তার বাবা আসলে কে।
বুজ্জাম্মা! আয়!
এই, সিন্নাব্বা!
কেমন আছো, প্রিয়?
হুম..
এই, কেমন আছিস, বাবা? - ভালো আছি, মা।
মা!
হুম?
মা!
মা! বাবা কোনো সাধারণ মানুষ না।
তা নাহলে কোথা থেকে তুই এই রাগ আর সাহস পেয়েছিস বলে মনে হয়?
ঘুমিয়ে পড়।
সুন্দরাম্মা!
আগামীকাল সকালে আদালতে উকিলের সাথে দেখা করে সিনাব্বাকে মামলা থেকে মুক্ত করার বিষয়ে আলাপ করবো।
তুমি আমার সাথে সেখানে দেখা করো।
আমরা আসবো। তুমি এগিয়ে যাও।
বাবা, আমরা কখন বাসায় যাবো?
খুব শীঘ্রই, সোনামণি।
ঠিক আছে।
বাবার কথা শুনিস আর ভালো ব্যাবহার করিস,ঠিক আছে?
ঠিক আছে।
নে,এটাকে এমন ভাবে মুড়িয়ে নে যেন তোকে দেখা না যায়।
দেখা হবে, মা। - হুম।
সাবধানে থাকিস। - আমি কি যেতে পারি, সুন্দারাম্মা?
বুজ্জাম্মা! মাকে বিরক্ত করো না। ঠিক আছে?
ঠিক আছে।
আয়, আয়।
আম্মাকে এখানে থাকতে দিলে কেন? তাকে আন্টির বাসায় পাঠালে না কেন?
শুধুমাত্র আমাদের আশ্রয় দিয়েছিল বলে মুথান্নার পরিবার এখনো হাসপাতালে!
যদি মা আর বুজ্জাম্মা খালার বাড়িতে যায়, তারাও সমস্যায় পড়বে।
যতই অসুবিধা হোক না কেন...আমাদের সমস্যা আমাদেরই সমাধান করা উচিত, সিনাব্বা।
তাহলে আমরা মাকে সাথে আনছি না কেন, বাবা?
যদি আমাদের কিছু হয়, কমপক্ষে তারা বেঁচে যাবে।
আমাদের পরিবারের কারো বেঁচে থাকা উচিত, তাইনা?
এ কারণেই আমরা বিভিন্ন দিকে আলাদা হয়ে যাচ্ছি।
যখন তুমি কিছু শুরু করো,লড়াই করার জন্য আমি কোনো উদ্দেশ্য দেখি না।
কাউকে কবরে পাঠিয়ে এখানে এসে হাত ভাজ করে দাড়িয়ে আছো!
এটা কীভাবে মেটানো যায়?
এমনকি রাজস্ব কর্মকর্তা আমাদের অনুমতি দিয়েছে, স্যার।
তারপরেও তারা এটাকে অবলম্বন করেছিল। - ঠিক আছে। চালিয়ে যাও। চলো যাই।
নারাপ্পা! তুমি এখানে কীভাবে আসলে?
এই ছেলে কে? তোমার ছোটো ছেলে?
জ্বি, স্যার।
তাকে স্কুলে দিতে এখানে এসেছো?
তোমরা যাও,আমি তোমাদের পিছনে আসছি।
চলো,হাঁটা শুরু করি
সে কী করেছে?
পান্ডুস্বামী?
কে?
যে আমার বড় ছেলেকে মেরেছিল-
আহ!পরে বলো...
সে তাকে কুপিয়েছে।
মরে গেছে!
বসো।
ঠিক আছে, স্যার।
তার লোকেরা সব জায়গায় খুঁজতেছে।
তাদের ফাঁকি দিয়ে এখানে পৌঁছাতে আমাদের তিন দিন লেগেছে।
কত... তার বয়স কত?
উনাকে বল। - ষোল।
সে হঠকারী ছিল!
গ্রামের সবাই জানে যে পান্ডুস্বামী আমার ভাইকে হত্যা করেছিল।
তা সত্ত্বেও, পুলিশ তার বিরুদ্ধে কোনও মামলা দায়ের করেনি।
একমাত্র আপনিই মামলা দায়ের করেছিলেন।
কিন্তু আপনি তাকে সাজা দিতে পেরেছিলেন? - হেই, চুপ কর!
সে ঠিক কথাই বলছে। তুমি বলতে থাক।
যেহেতু সে সাজা পায়নি, আমার মা প্রত্যেকদিন কান্নাকাটি করতো।
আমার মাকে স্বান্তনা দেবার মত কেউ ছিলো না।
ভেবেছিলাম আমি যদি তাকে হত্যা করি, আমার মা কিছুটা মানসিক শান্তি পাবে।
তাই আমি তাকে মেরে ফেলেছি, স্যার।
হেই, চুপ কর আর বাহিরে যা।
সে বড়দের মতো কথা বলে।
স্যার, তারা মামলায় আমার নামও ঢুকিয়ে দিছে।
আপনি কি সম্পূর্ণ দোষ আমার উপর দিয়ে মামলা প্রমাণ করতে পারবেন?
বোকার মত কথা বলো না, নারাপ্পা!
তুমি-ই তার নিরাপত্তা!
যদি তুমি দোষ গ্রহণ করে কারাগারে যাও, কে তার জীবনের জন্য দায়ী হবে?
তোমার কি মনে হয় মৃতের লোকজন তাকে শান্তি দিবে?
যদি তুমি আসলেই তোমার ছেলেকে রক্ষা করতে চাও...
- তোমরা দুজনেই সকালে আদালতে আত্মসমর্পণ করো।
স্যার, সে এখনো অনেক ছোট। সে কি কারাগারে টিকে থাকতে পারবে?
তার বয়স মাত্র ষোল!
যদি সে আত্মসমর্পণ করে, তাকে কিশোর সংশোধনাগারে পাঠানো হবে।
সেখানের নিয়ন্ত্রক আমাদের আন্দোলনের একজন সদস্য।
আমি তাকে বলবো তার ভালোমতো খেয়াল রাখতে।
তবুও দ্বিধাগ্রস্ত কেন?
আপনি একবার প্রতিশ্রুতি দিলে, কোনো দ্বিধা নেই, স্যার।
দয়া করে তার সাথে কথা বলেন।
খাবার খেয়ে যাও।
ও, ভদ্রমহাশয়! যাও আর খেয়ে নাও। - হুম।
কাল সকালে তোমার বাবাকে সাবধানে কোর্টে নিয়ে আসবে।
আচ্ছা, স্যার। - বুঝতে পেরেছো?
আসো। - চলো যাই।
তোমাদের অবশ্যই লড়াই করা উচিত!
আমরা যখন একতাবদ্ধ হবো, তখনই অধিকার রক্ষা করতে পারবো।
অন্যের সমলোচনা করে কী লাভ?
অন্ধকারেও তুই জঙ্গলের রাস্তা খুঁজে পাস।
তুই সেই মাতালকে খুঁজে পেলি না, তুই আমাকে এটা বিশ্বাস করাতে চাস!
কিন্তু সে জঙ্গলটা আমার মতোই ভালোভাবে চেনে।
যাইহোক, তাকে ধরা এত সহজ না।
নাকি সে তোদেরই একজন বলে তাকে ছেড়ে দিয়েছিস?
মালিক ডোরাস্বামী! দয়া করে এমন বলবেন না।
সোনার প্লেটে একটা কুকুরকে কিছু দিলে তার উচিত কেবল চাটাচাটি করা।
এই!
এই, থাম। - তাকে দেখ, চাচা!
সে আমাকে মারতে প্রস্তুত। - আমি তোকে থামতে বলছি।
ডোরাস্বামী!
অতীতের সাহায্যের কথা ভেবে এতক্ষণ পর্যন্ত আমি বিবেকের বিরুদ্ধে কাজ করেছি।
একই আনুগত্যের সাথে আমি তোকে ছেড়ে দিচ্ছি!
এই!
তাকে পালানোর জন্য সারা রাত দিয়ে এখন আমাকে এসব কথা বলতেছিস?
মালিক! আপনার তো অনেক লোক আছে।
তাদের দিয়ে কাজটা করিয়ে ফেলেন।
এই!
আমি জানি কী করতে হবে। তোরা চলে যা!
ভাই! কোনডাপ্পা এসেছে!
ভাই, আমি নারাপ্পার বউকে কোর্টে দেখেছি।
তাহলে সে অবশ্যই ছোটটাকে সাথে নিয়ে সেখানে আসবে।
তোরা সেখানেই থাক।
কেস নাম্বার ২০১, ২১২!
রামবাবু আর অন্যরা।
ভাদ্রাকুমার!
তোমার বাবার নাম? - চালামাইয়া।
কুমারস্বামী!
তোমার বাবার নাম? - নারাসাপ্পা।
হ্যা? - স্যার?
এখানে তাদের হাতকড়া লাগানো কেন? - সে চার পাঁচ বার পালিয়েছে, স্যার।
কোর্টের বাহিরে তাদের হাতকড়া পড়িয়ে রাখবেন।
আমি তোকে ধরতে থাকি আর তুই কিনা পালাতে থাকিস!
এই মহিলা!
এই মহিলা!
স্যার! - এখানে আসেন।
বুজ্জাম্মা! আয়।
স্যার!
নারাপ্পা কোথায়?
আমিও তার জন্য অপেক্ষা করছি।
সে এসে পড়বে, স্যার।
ঠিক আছে, যান।
বাবা, আমাকে জুতা কিনে দিবে?
কত? - তিন রুপি।
আমার ছেলেকে এক জোড়া দিন।
তো? ঠিক আছে?
হ্যা, বাবা।
ঠিক আছে,চল যাই।
কী, বাসাভায়া!
তুমি এখানে এসেছো কেন?
আমি একজনের সাথে দেখা করতে এসেছিলাম।
ঠিক আছে,যাও।
নারাপ্পা অবশ্যই এখানে আসবে!
হুম।
এটাই সে!
সে কোথায়? - সে আসতেছে, স্যার।
দেরি হয়ে যাচ্ছে!
প্লিজ কিছু করেন, স্যার।
তো, আমাদের সব লোকেরা এখানে আছে? - হ্যা, তারা সবাই এখানে আছে, ভাই।
সতর্ক থাক।
সে যেন পালাতে না পারে! - ঠিক আছে, ভাই।
হেই, বোমের এই ব্যাগ তোর লাগবে কেন? ময়লার ডাস্টবিনে ফেলে দিয়ে আয়।
অপেক্ষা কর।
এই! পান্ডুস্বামীর লোকেরা জায়গাটা ঘিরে রেখেছে!
স্যার!
আসো, আসো। আসো কিছু খাবার নাও।
ঠিক আছে, স্যার। আমার মক্কেল আত্মসমর্পণ করতে এখানে এসেছে।
এতে কিছুটা সময় লাগতে পারে। - আচ্ছা, সমস্যা নেই।
ধন্যবাদ, স্যার...
এই, আয়।
ভাই, বাদাম কত করে?
এখানে আসেন, মহিলারা। আপনারা কোথায় যাচ্ছেন?
আমার স্বামীকে খাবার দিতে এসেছি, স্যার। - ঠিক আছে, যান।
আমি ফিরে আসছি। - ঠিক আছে।
সে যেন কোনোভাবে আত্মসমর্পণ না করতে পারে! - ঠিক আছে, চাচা।
নমস্কার।
আমাকে ফাইলটা দাও! - ফাইলটা দাও!
আপনি এখানে কী করছেন?
স্যার..
উনি কোনো ছোট উকিল না যে আপনার জন্য অপেক্ষা করবে! - স্যার..
উনি একজন বিচারপতি!
স্যার, সে অবশ্যই আসবে। - তাকে সকালে আসতে বলেছিলাম।
সে আমাকে বোকা বানিয়েছে!
বদমাশ লোক!
স্যার, দয়া করে রাগান্বিত হবেন না।
ফাইলটা দাও!
স্যার।
আমাকে তার মুখ আর না দেখাতে বলবেন।
ভাই!
নমস্কার, স্যার। - তুমি আবার কী জন্য এসেছো?
তুমি নিজে ব্যাবস্থা করতে চেয়েছিলে! তাইনা? তোমার এখন চলে যাওয়া উচিত।
আদালতের পরিস্থিতি ভালো ছিল না, স্যার। - চুপ করো! চুপ করো তো!
তুমি আমাকে উনার কাছে ভিক্ষা চাইতে বাধ্য করেছ!
তোমরা সবাই বড় মাপের মানুষ! নিজে নিজের জীবনের খেয়াল রাখো।
ছয় ঘন্টা! আমি তোমার জন্য ছয় ঘণ্টা দাঁড়িয়ে ছিলাম!
স্যার, যদি তা-ই হতো, আমি এখানে ফিরে আসলাম কেন?
তারা কোনোভাবে জানতে পেরেছিল যে আজ আমরা আদালতে যাচ্ছি।
তাই তারা ছুরি চাপাতি নিয়ে আমাদের ঘিরে ফেলেছিল।
ভাবলাম, আদালতে বোমা মারলে, সমস্যা আরো বড় হতে পারে!
সেজন্য ফিরে এসেছি, স্যার।
স্যার, একমাত্র আপনিই তাদের সাথে কথা বলে সমস্যার সমাধান করতে পারেন।
তা কীভাবে করব?
আমার কিছু একর জমি আছে।
যার উপর এখনও তাদের লালসার দৃষ্টি আছে।
আমি তাদের সেই জমি দিয়ে দিবো।
ইন্সপেক্টরের সাথে কথা বলে সিনাব্বাকে মামলা থেকে মুক্ত করতে বলুন,স্যার।
স্যার!
ম্যাজিস্ট্রেট সাহেব আপনার সাথে কথা বলতে চান।
পান্ডুস্বামী মার্ডার কেস!
স্যার, অভিযুক্ত নাবালক। আর এই কারণেই সমস্যাটা হয়েছে....
এটা কি আদালত?
তেলেগু তে কথা বলতে পারছেন না? এতো ইংলিশ বলার কী দরকার?
দুঃখিত, স্যার।
ভুক্তভোগী একজন প্রভাবশালী ব্যক্তি।
আচ্ছা, আমি তো সেটা অস্বীকার করছি না।
কিন্তু আদালতে আত্মসমর্পণ করতে আসা ব্যক্তিকে ধরতে চাওয়ার কারণটা বুঝলাম না?
আপনি কেন এই মামলাটা নিয়ে এতো ঘাটাঘাটি করছেন?
স্যার, তাদের পুরো পরিবার নারাপ্পার ছেলেকে খুন করার জন্য পাগলের মতো খুঁজে বেড়াচ্ছে।
তারা যে কোনো সময় প্রতিশোধ নিতে পারে।
ছেলেটিকে বাঁচানো কি আমাদের কর্তব্য নয়, স্যার?
তারা তো নারাপ্পার খামার চায়।
চায় কিনা?
সে যদি তা প্রথমেই দিয়ে দিতো, তাহলে হয়তো এতো সমস্যা হতো না।
দু'টো প্রাণ বাঁচানো যেত, স্যার।
তাহলে বিষয়টা গ্রাম পঞ্চায়েতে তুলে সমাধান করা হোক!
আমি কীভাবে তাদের পঞ্চায়েতে আসতে বলবো, স্যার?
তাদের কাছে দু'টো পথো আছে।
হয় তারা পঞ্চায়েতে বসে ব্যাপারটা আপসে শেষ করবে,
অথবা নারাপ্পার পুত্রকে হত্যা করার প্রয়াসে পান্ডুস্বামীর পরিবারের সমস্ত পুরুষ মারা যাবে।
সাক্ষী কলামে আঙুলের ছাপগুলি পরীক্ষা করুন।
হ্যাঁ, তারা দিয়েছে। তুমিও দাও বাসাভায়া।
দলিলে তোমার আঙুলের ছাপ দাও।
তোমরা পঞ্চায়েতের আদেশ লঙ্ঘন করতে পারবে না।
আপনারা যেমনটা বলবেন আমরা তেমনটাই করবো।
কী বলো, রাঙ্গাবাবু?
আমরা সবকিছুর জন্য প্রস্তুত।
যা বলবেন, আমরা মান্য করবো?
দেখুন সবাই...
নারাপ্পার মাত্র তিন একর সম্পত্তি রয়েছে।
পান্ডুস্বামীর মৃত্যুর ক্ষতিপূরণ হিসাবে সে সেটা হস্তান্তর করছে।
এই তিন একর জমি হয়তো একজন মানুষের প্রানের সমান নয়...
কিন্তু পান্ডুস্বামী তার জীবন হারিয়েছে কারণ তার ছেলেরা নারাপ্পার ছেলেকে মেরেছিলো।
ন্যায়সঙ্গতভাবে, আপনারা নারাপ্পাকে ক্ষতিপূরণ দেবেন।
কিন্তু তার ছোট ছেলের সুরক্ষার খাতিরে সে তার একমাত্র সম্পত্তি আপনাদের হাতে তুলে দিলো।
আপনাদেরও এখন মামলাটি বন্ধ করতে হবে। - হ্যাঁ ।
নারাপ্পা এই হত্যাকাণ্ডের দোষ স্বীকার করে নিয়েছে।
এরপর আর কেউ তার ছেলে সিনাব্বার কোনো ক্ষতি করবে না।
ঠিক আছে, তাহলে তাকে পঞ্চায়েতের পায়ে পড়ে ক্ষমা চাইতে বলুন।
আহ? সে নিজের সমস্ত সম্পত্তি লিখে দিবে আবার আপনাদের পায়েও পড়তে হবে?
এটা করলে কি আপনারা মামলা বন্ধ করে দিবেন?
তারা এটা কিভাবে পারলো? - তাহলে তাদের বলো...
আমার ছেলে কারও পায়ে পড়বে না।
অন্তত আপনার ছেলেকে এখানে পঞ্চায়েতে একবার আসতে বলুন।
পুলিশ চারপাশে থাকা অবস্থায় আপনি ছেলেটিকে এখানে আসতে বলছেন।
যদি তাকে গ্রেপ্তার করে নেয়?
বাসাভায়া, এসব কী বলছিস?
আমি এমন কিছু করতে পারি?
যাইহোক আপনারা পুলিশের লোক! ভরসা কীভাবে করবো,স্যার?
দরকার নেই, ভাই।
যদিও আমরা মেনে নেই, কিন্তু পুলিশেরা চুপ থাকবে না।
যদি ছেলেটার কিছু হয়ে যায়, তার দায় আমরা নিতে পারবো না।
প্রথমে নারাপ্পাকে আদালতে আত্মসমর্পণ করতে বলুন।
কিন্তু জমিটা আমরা আমাদের নামে নিবন্ধন করবো না।
হ্যাঁ, আমরা জানি। তাহলে কার নামে নিবন্ধন করবেন?
সুব্বাদাসু এখানেই আছে। তার নামে নিবন্ধন করতে বলুন।
কোথায় যাচ্ছিস?
এখানেই,একটু বাইরে যেতে চাই।
তোর বাবা তোকে কোথাও যেতে নিষেধ করেছিল না?
আমার প্রসাব পেয়েছে।
দূরে কোথাও যাইস না।
অনেক উপকার করলেন,স্যার।
কেঁদো না, মা।
তোমার ছেলের জন্যই সে এই সব করছে।
স্যার, তারা কীভাবে এত সহজে মেনে নিল?
আমিও সে ব্যাপারেই ভাবতেছি!
আমাদের এ ব্যাপারে চিন্তা করা উচিত।
আত্মসমর্পণ করা পর্যন্ত তোমার ছেলেকে নিরাপদ রাখতে হবে।
এক কাজ কর।
সিনাব্বাকে একটি নিরাপদ জায়গায় রেখে, তারপর আমার সাথে দেখা করো।
ঠিকাছে, স্যার।
তোমায় কি এখনই যেতে হবে?
আজ রাতটা থেকে আগামীকাল গেলে হতো না?
না, এখন গেলেই ভালো হবে।
যাওয়ার আগে সিনাব্বার সাথে একবার কথা বলে যাও।
যেন সে ঠিকমতো স্কুলে যায়।
ঠিকাছে, বলে দিবো।
তুমি আশেপাশে থাকলে সে আমার কথা শোনে না।
পুরোহিতকে বলে তার নামে পূজার আয়োজন করতে বলো।
ঠিকাছে।
তুমি বলেছিলে সে এখানেই ছিল, না?
এখানেই তো থাকতে বলেছিলাম।
সে একজায়গায় বসে থাকলে অস্থির হয়ে পড়ে।
পুরোহিত! আমার ছেলে কোথায়?
সে বলল প্রসাব করতে যাচ্ছি, অনেকক্ষণ হলো!
এই, সিনাব্বা!
এই, বাসাভায়া! কখন থেকে খুঁজতেছি! এতক্ষণ কোথায় ছিলে?
আমাকে কেন খুঁজতেছ?
তোমাকে জমি দিয়ে দিয়েছি। যাও,এখন গিয়ে আনন্দ করো।
এখন কি এসব বলার সময়?
নারাপ্পা! প্রথমে এটা নাও।
তোমার সম্পত্তি প্রয়োজন নেই।
সারাজীবন তাদের সাথে কাজ করে আমি আমার হাতও হারিয়েছি।
বিনিময়ে কিছু-ই পাইনি। তাদের কথা কীভাবে বিশ্বাস করলে?
জমি হস্তান্তর করার সময় তারা সিনাব্বাকে অপহরণ করেছে।
বাবা!
তোমার ছেলে পান্ডুস্বামীকে যেখানে খুন করেছিল তারা তাকে সেখানে নিয়ে গিছে।
এই!
গ্রামে গিয়ে আমাদের সমস্ত লোককে দ্রুত নিয়ে আয়।
অনুবাদ অংশগ্রহণেঃ ♦️ মাহফুজ আহমেদ তুহিন ♦️ মোঃ সাজ্জাদ হোসেন ♦️ রোমান তালুকদার ♦️ অমিতাভ বর্মন ♦️ ইসমাইল হোসেন ♦️
অনুবাদ অংশগ্রহণেঃ ♦️ জয়ানন্দ ঘোষ ♦️জিতু বিশ্বাস ♦️ অলোক বিশ্বাস ♦️ প্রান্ত ঘোষ ♦️ শিহাব সানজার♦️
♪ আয়, প্রতিশোধের আগুনে সবাইকে আজ জ্বালিয়ে মারি! ♪
♪ আয়,আজ সবার মাথা মটকিয়ে দেই! ♪
♪ সবাইকে কল্লা কাটা করবো আজ! ♪
♪ শিরায় শিরায় বইছে উত্তপ্ত রক্ত... ♪
♪ আজ দেহ রক্তে ভেসে যাবে, মাটিতে আজ রক্তের বন্যা বইবে! ♪
♪ নীল আকাশ রক্তের বন্যায় আজ লালে পরিণত হবে। ♪
♪ হাতে অস্ত্র নিয়ে শয়তানদের মৃত্যুদূত হয়ে আজ মৃত্যু খেলায় উদ্দাম নৃত্য কর! ♪
♪ আয়, প্রতিশোধের আগুনে সবাইকে আজ জ্বালিয়ে মারি! ♪
♪ আয়,আজ সবার মাথা মটকিয়ে দেই! ♪
♪ সবাইকে কল্লা কাটা করবো আজ! ♪
♪ শিরায় শিরায় বইছে উত্তপ্ত রক্ত... ♪
♪ নরহত্যা যেন এক নতুন খেলা, এ হত্যাযজ্ঞ থেকে আজ কেউ বাঁচবে না! ♪
♪ ক্রোধান্বিত মুহুর্ত এবং রাগান্বিত চোখের দৃষ্টি থেকে আজ কেউ বাঁচবে না! ♪
আমি 'না' বলার পরেও ব্যপারটা তোরা এতদূর পর্যন্ত এনেছিস!
♪ আয়, প্রতিশোধের আগুনে সবাইকে আজ জ্বালিয়ে মারি! ♪
♪ আয়,আজ সবার মাথা মটকিয়ে দেই! ♪
♪ সবাইকে কল্লা কাটা করবো আজ! ♪
♪ শিরায় শিরায় বইছে উত্তপ্ত রক্ত... ♪
বাবা!
আমাকে বাঁচাও, মামা!
রাঙ্গাবাবু!
এই, সিন্নাব্বা! তুই বাড়ি যা!
আমি যাবো না, বাবা? - আমার কথা ভাবিস না। তুই যা!
একা যাবো না, বাবা। তুমিও চলো। - যা বলছি! যা!
ও আমাকে মেরে ফেলুক! কিন্তু তোরা ওকে ছাড়বি না!
মার ওকে! এই, মেরে ফেল!
বাবা!
বাবা!
আমি নারকেল লাড়ু চাই।
বাবা!
এই! চল! চল!
এই, দাঁড়া! থাম!
আমরা এখানে লড়াই করতে আসিনি ।
আমরা এখানে আমাদের লোককে নিতে এসেছি।
যদি আপনারা লড়াই করতে না আসেন, তাহলে সাথে বল্লম কেন নিয়ে এসেছেন?
সে ছেলেটাকে খুন করার জন্য অন্য গ্রাম থেকে লোক নিয়ে এসেছে...
আর আপনারা মুর্তির মতো দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে মজা দেখছেন?
কিন্তু আমরা চুপ করে থাকবো মনে করেছেন?
শোনো! এটা দুই পরিবারের মধ্যকার লড়াই।
তারা একজনকে খুন করেছে, আমরা একজনকে খুন করেছি।
পঞ্চায়েতে তো সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
তোমাদের তো একজনই মারা গেছে,বাসাভায়া।
যদি আমরা চুপ করে থাকি, আরো অনেকে জীবন হারাতে পারে!
এর জন্য কি আমরা দায়ী?
পঞ্চায়েতে চুক্তি আগে কে ভেঙ্গেছে?
ছেলেটার দিকে একবার দেখ।
যদি আমরা বাধা না দিতাম, তারা তাকে খুন করে ফেলতো।
সাবধানে, নারাপ্পা।
আগেই সতর্ক করেছিলাম ব্যক্তিগত সমস্যাকে গ্রামের সমস্যায় পরিণত করো না।
কেন বুঝতে পারতেছ না, বাসাভায়া?
আপনি তাদের বাধা দিয়েছেন?
কে বলেছে আমি তাদের বাধা দেইনি?
আমিই সবসময় তাদের বাধা দিয়ে এসেছি!
'সেদিন, উভয় গ্রামই কার্যকরী সিদ্ধান্ত নিয়ে সকল সমস্যা বন্ধ করে দিয়েছিল।'
'নারাপ্পা এবং পান্ডুস্বামীর পরিবারের মধ্যকার আজীবনের লড়াই থেমে গেছিল।'
বুজ্জাম্মা আর তোর মায়ের খেয়াল রাখিস।
এখন একমাত্র তু-ই তাদের ভরসা।
আমি কীভাবে তোমার মতো তাদের খেয়াল রাখবো, বাবা?
তুই অনেক ভাল খেয়াল রাখতে পারবি, সিনাব্বা।
সবাই জানে পান্ডুস্বামী আমার ভাইকে মেরেছে।
তবুও, পুলিশ কিছুই করেনি।
তাহলে, তাকে খুন করা জন্য আমরা কেন জেলে যাবো?
একমাত্র আমি-ই অপরাধটা করেছি।
তুমি কেন জেলে যাবে, বাবা? আমাকে যেতে দাও।
তোকে কারাগারে পাঠাবার জন্য কি আমি এতসব ঝামেলা করেছি?
গ্রামের সমস্ত ক্ষেত এবং বাগান পান্ডুস্বামীর নামে রয়েছে।
এই সম্পদে তার পরিবার আরো দশ প্রজন্ম বেঁচে থাকতে পারবে।
কিন্তু তবুও আমাদের তিন একর জমি তাদের চক্ষুশূল হয়ে পড়েছিল।
এটা ছিল তাদের ভুল!
মামা, আমার নারকেল লাড়ু চাই।
বুজাম্মাকে একটু নিয়ে যান।
তোর ভাইয়ের লাশ খুঁজতে, পুলিশ বা আদালত কেউ-ই সাহায্য করেনি।
এটা ছিল তাদের ভুল!
তোর ভাইয়ের শোকে আমরা তোকে আর বুজ্জাম্মাকে অবহেলা করেছি।
এটা ছিল আমাদের ভুল!
নারাপ্পা! এবার আপনার পালা। উকিল সাহেব আপনাকে ডাকছে।
ঠিকাছে, ম্যাডাম।
তোর চোখে ভুল মনে হওয়া প্রতিটি ঘটনার বিরুদ্ধে তুই প্রতিবাদ করার চেষ্টা করেছিস।
কিন্তু প্রতিবাদ করার এটাই কেবলমাত্র একক উপায় নয়।
সিনাব্বা!
আমাদের চাষের জমি থাকলে, তারা তা দখল করতে পারবে।
যদি আমাদের টাকা থাকে, তারা ছিনিয়ে নিতে পারবে।
কিন্তু আমাদের শিক্ষা কখনোই কেউ ছিনিয়ে নিতে পারবে না,সিনাব্বা।
তুই যদি প্রতিশোধ নিয়ে তাদের বিরুদ্ধে জয়লাভ করতে চাস,তাহলে তোকে লেখাপড়া করতে হবে।
ভালোভাবে লেখাপড়া কর, কর্তৃত্ব অর্জন কর এবং সেই কর্তৃত্বপূর্ণ অবস্থান দখল করে জয়লাভ কর।
কিন্তু সেই অবস্থানে পৌঁছে তাদের সাথে আমাদের মতো করার চেষ্টা করিস না।
প্রতিহিংসা অন্তরে পুষে না রেখে বিনষ্ট করা উত্তম।
আমরা একই মাটিতে জন্মেছি।
আমরা একই ভাষায় কথা বলি।
আমাদের সকলকে এক করতে এটাই যথেষ্ট।
ঠিক আছে, বাবা।
সম্পাদনায়: ⌛ জয়ানন্দ ঘোষ ⏳ ⏳ ইমরুল হাসান নাসিম ⏳
♟️"বাংলা সাবটাইটেল দিয়ে মুভিটি উপভোগ করার জন্য ধন্যবাদ" ♟️
"সাবটাইটেলটি ভালো লাগলে ভালো মন্দ ফিডব্যাক দিতে ভুলবেন না।"
Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.