Afrikaans
Akan
Albanian
Amharic
Arabic
Armenian
Azerbaijani
Basque
Belarusian
Bemba
Bihari
Bosnian
Breton
Bulgarian
Cambodian
Catalan
Cebuano
Cherokee
Chichewa
Chinese (Simplified)
Chinese (Traditional)
Corsican
Croatian
Czech
Danish
Dutch
Esperanto
Estonian
Ewe
Faroese
Filipino
Finnish
Frisian
Ga
Galician
Georgian
German
Greek
Guarani
Gujarati
Haitian Creole
Hausa
Hawaiian
Hebrew
Hindi
Hmong
Hungarian
Icelandic
Igbo
Indonesian
Interlingua
Irish
Italian
Japanese
Javanese
Kannada
Kazakh
Kinyarwanda
Kirundi
Kongo
Korean
Krio (Sierra Leone)
Kurdish
Kurdish (Soranî)
Kyrgyz
Laothian
Latin
Latvian
Lingala
Lithuanian
Lozi
Luganda
Luo
Luxembourgish
Macedonian
Malagasy
Malay
Malayalam
Maltese
Maori
Marathi
Mauritian Creole
Moldavian
Mongolian
Myanmar (Burmese)
Montenegrin
Nepali
Nigerian Pidgin
Northern Sotho
Norwegian
Norwegian (Nynorsk)
Occitan
Oriya
Oromo
Pashto
Persian
Polish
Portuguese (Brazil)
Portuguese (Portugal)
Punjabi
Quechua
Romanian
Romansh
Runyakitara
Russian
Samoan
Scots Gaelic
Serbian
Serbo-Croatian
Sesotho
Setswana
Seychellois Creole
Shona
Sindhi
Sinhalese
Slovak
Slovenian
Somali
Spanish
Spanish (Latin American)
Sundanese
Swahili
Swedish
Tajik
Tamil
Tatar
Telugu
Thai
Tigrinya
Tonga
Tshiluba
Tumbuka
Turkish
Turkmen
Twi
Uighur
Ukrainian
Urdu
Uzbek
Vietnamese
Welsh
Wolof
Xhosa
Yiddish
Yoruba
Zulu
দেশি-বিদেশি সব মুভি সম্পর্কিত আপডেটের জন্য জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপঃ Thambi: Movie and Subtitle World
দেশি-বিদেশি যে কোনো মুভি কিংবা সিরিজের সাবটাইটেলের জন্য ভিজিট করুনঃ Bsubtune.xyz
"কিছুই না আবার সব কিছুই।"
"কি আজব জিনিস এই কাগজ!"
"বৃষ্টির সময় নৌকাও হয় কাগজের।"
"শীতের সময় আগুনও জ্বলে কাগজে।"
"আকাশের ঘুড়িও তৈরি কাগজের।"
"সারা দুনিয়ার যুদ্ধও এই কাগজকে নিয়ে।"
Movie Name: Kaagaz(কাগজ) অনুবাদে: ইবনুল হাসান
আরে কী হলো?
স্বপ্নে ভূত দেখলে নাকি?
ভূত না।
ভবিষ্যৎ দেখেছি, তোমার উন্নতি দেখেছি।
শহরের মাঝখানে তোমার ব্যান্ড বাজতেছিল।
চমকানো স্যট-বুটে তোমাকে অনেকটা রাজেশ খান্নার মতো লাগতেছিলো। (রাজেশ খান্না=বলিউড সুপারস্টার)
আরে কীসের রাজেশ আর কীসের খান্না।
আমি ভারত লাল।
এটাই ঠিক আছে।
""আমাদের দেশে এমন লোকের সংখ্যায় বেশি..."
"যাদের আমরা কমন-ম্যান বা আম পাবলিক বলে জানি।"
""আজ আমি আপনাদের উত্তর প্রদেশের আজমগড় জেলার আমির গ্রামে বাস করা..."
""এমনই এক আম পাবলিকের এক অজানা অসাধারণ কাহিনী শুনাতে যাচ্ছি।"
""যে কখনো আওয়াজ তুলে না,
"...সে আম পাবলিকই হয়ে থাকে।"
কি মহারাজ, এখানে আমি আপনার পূজা করি...
...আর আপনার এই পোষা প্রাণীটা আমার দোকানের সর্বনাশ করে।
আজ ধরা পড়েছে আমার খাঁচায়।
আজকে ভালোমতোই খাতির যত্ন করবো ওর, ঠিকাছে?
- এই মতিয়া রামপাল। - হ্যাঁ, ভাইয়া।
"বাহারো ফুল বারসাও..মেরে মাহাবুব" এই গানের প্রাক্টিস করো।
রেডিওতে বিনা প্রতিযোগিতায় পাবলিক চাহিদায় শীর্ষে আছে।
ঐটা করো।
হ্যাঁ, ঠিক আছে ভাই।
করো করো, উঠাও।
চলো আমার প্রিয়।
আজ আপনাকে দিল থেকে অন্যরকম একটা গান শুনাবো আমরা।
"আমার প্রিয়তমা এসেছে..."
"পাহাড়ি ফুলের শুভেচ্ছা দাও..."
আরে মতিয়া, মেরে টেরে ফেলবে না।
আশে পাশেই কোথাও ফেলে আসবে।
এমনই তোমার ভারত ভাইয়া।
আচ্ছা প্রিয়, মানছি আপনি আমার ভগবান গণেশের প্রাইভেট বাহন।
আপনার এই ছোট ছোট শুভ কদম আবারও দোকানে রাখবেন না।
আপনি যখন আমাদের ঢোল কেটে ফেলেন, তখন আমাদের কাজ বন্ধ হয়ে যায়।
আর পোশাক কেটে ফেললে তখন ইজ্জত।
দেখুন, আজ ছেড়ে দিচ্ছি।
আবার যদি আবার আসেন না...
তো আপনি ইঁদুর আর আমি হয়ে যাবো নাগ।
বুঝছেন নাকি?
প্রণাম, পন্ডিতজি।
ও তো ইদুর ছাড়তে গেছে।
আরে বন্ধ করো।
প্রিয় চলে গেছে।
- প্রণাম, পন্ডিতজি। - সুখে থাকো।
- কেমন আছেন? - খুবই ভালো।
নতুন বুকিং করে আসছেন নাকি?
হ্যাঁ, ঔই ২৭ তারিখে।
পুরি সিংগারা বিক্রি করে রাধেশ্যাম আছে না?
ওর ছেলের বিয়ে।
পৌঁছে যেও, গান-বাজনা নিয়ে।
না না, কী হবে আর ২৭ তো শিডিউল হয়ে গেছে।
গঙ্গা কাকী ইতিমধ্যে বুকিং করে রেখেছে।
আরে কতবার বলেছি, আরো বেশি লোক কাজে রাখো?
দুই জায়গায় তুমি যাও আর দুই জায়গায় অন্যরা।
আরে যত কাজ ধরবে, তত টাকা আসবে।
আরে লোক বাড়ালেই হবে না, পন্ডিতজি।
বাদ্যযন্ত্র, পোষাক।
প্র্যাক্টিস করারও জায়গা দরকার।
ডিমের ভিতরে কি অজগর ডুকবে!
আরে, তাহলে দোকান বড় করো।
তাই না?
কিভাবে বড় করবো?
মন্দিরে গিয়ে ঘন্টা বাজাইলে আর হাতে প্রসাদ নিলেই দোকান বড় হয়ে যাবে?
পকেটে পয়সা থাকা দরকার, পন্ডিতজি।
তো ব্যাংক থেকে লোন নেও না।
না না! লোন টোনে আমি নাই।
ঠিকই বলেছেন, পন্ডিতজি।
আরে, আসো আসো রুকমনি মা।
রুকমনি মা, আমি ভারত লালকে বলছিলাম....
দোকান বড় করার জন্য লোন নিতে।
লোন টোন লাগবে না আমার, পন্ডিতজি।
লোন নেওয়া হলো কুত্তা পালার মতো।
আমাদের সুরক্ষা ঠিকি দিবে।
তবে প্রতিদিন ভউ ভউ করে রুটি চাইবে।
আর একদিন যদি রুটি না দেও না...
...কামড় দিবে।
এমনিতেই ইঁদুরের ঝামেলায় আছি, তারমধ্যে কুত্তার ঝামেলায় ফেলো না।
ঠিক আছে ভাইয়া, যা বুঝো তাই করো। তবে সুখে থাকো।
হ্যাঁ হ্যাঁ, ঠিক আছে, ঠিক আছে।
প্রণাম, পন্ডিতজি।
শুনো না..
আমি বলছিলাম...
দুনিয়ায় সবাই লোন নেয়। তুমি কেন নেও না?
আরে লোন তো পরিশোধও করতে হয়।
পরিশোধ করে দিব। যখন কামাই বাড়বে তখন।
যদি কামাই না বাড়ে তো?
তো কে তোমার কাপড় খুলে নিবে?
নদীর পানি দিন দিন বেড়েই যাচ্ছে।
আর তুমি সাঁতার কাটতেই ভয় পাচ্ছো।
আরে রুকমিনি, তোমার চোখই আমার ফিক্স ডিপোজিট।
দরকার নাই আমার লোনের।
শ্রীবাস্তবজি.....
শুনলাম বন্ধাত্বকরণ থামতে চলেছে
- অবশেষে জরুরি অবস্থার শেষ হচ্ছে। - হ্যাঁ ঠিক বলেছেন।
কী ভাই ভারত লাল। তোমার কানেকশন কাটেনি তো?
না, আমারটা সুরক্ষিত আছে।
হ্যাঁ বলো।
ঔই দোকানটা বড় করবো....
...তার জন্য লোন দরকার।
অবশ্যই...আবশ্যই।
লোন তোমাকে পাইয়ে দিবো।
কিন্তু সিকিউরিটির জন্য কী রাখবে?
আছে...বাহাদুর আছে। পুরো বাজারের সেনা ক্যাপ্টেন..
...১০/১৫ টাকা নিয়ে নেয়।
আরে ওই সিকিউরিটি না।
লোনের গ্যারান্টি জন্য কিছু জিনিস ব্যাংকে জমা রাখতে হয় না?
ওহহ...
তোমার নামে কি কোন ঘর বা জায়গা জমি কিছু আছে?
ঘর তো কাল্লুর, আমরা থাকি ভাড়ায়...
..দোকান আছে পুরাতন একটা।
আরে না না। তোমার দোকান তো লাল ডোরের অধীনে।
...আর তোমার কাছে সঠিক কাগজও নাই।
অন্য কিছু চিন্তা করো।
খালিলাবাদে আমার পৈত্রিক জমি আছে।
চাচা-চাচীদের সাথে অংশীদারে।
ব্যাস...
তো হয়ে গেল। ওই জমির কাগজপত্রের নকল বের করে...
...সত্যায়িত করে আমার কাছে নিয়ে এসো।
ওটা দিয়েই লোন পেয়ে যাবে।
ঠিক আছে?
আচ্ছা। নমস্তে।
নমস্তে।
নমস্তে।
আমি এক সপ্তাহ পর আসতেছি।
ঠিক আছে।
- আচ্ছা শুনো, কালকে কারওয়াচত। সময়মত চলে এসো - হ্যাঁ হ্যাঁ, ঠিক আছে। (কারওয়াচত=হিন্দুদের ব্রত)
আর শুনো, না আসলে কষ্ট পেও না।
ঠিক মতো খাওয়া দাওয়া কোরো। মজা মাস্তি করে জীবন পাড় করো।
"Let's go..."
"Let's go..."
"My home's calling me."
"Calling me..."
"My home's calling me."
"To the dancing peacocks..."
"...and beautiful scenes everywhere."
"The place with beautiful fragrance in the air..."
"...and the beautiful streams."
"Lamps burning at doorsteps."
"And life's filled with happiness."
"Let's go..."
"The message has come for me."
"Let's go..."
"My home's calling me."
"To the dancing peacocks..."
"...and beautiful scenes everywhere."
এই আরাম রেখে আমাকেই যেতে হবে নাকি?
আমিই যাচ্ছি।
আসছি রে ভাই।
আরে ভারত, এত বছর পরে।
- প্রণাম, চাচা। - সুখে থাকো, বেঁচে থাকো।
আসো।
- আপনি আছেন এখনো? - হ্যাঁ হ্যাঁ, এখন পর্যন্ত তো আছি।
কে আসছে বলবে নাকি এটাও গোপন রাখবে?
আরে আমি চাচী, আমি।
আরে আমি তো আমিই। তুমি কোন আমি?
ভারত।
প্রণাম চাচী।
আসো আসো, বসো।
এত রাতে যেহেতু এসেছ, তো থাকার নিয়তেই তো এসেছ।
হারি ভাইয়া, দেবি ভাইয়াকে যে দেখছি না।
এতো খোঁজ খবর নিচ্ছ। ব্যাপারটা কী?
আরে বাচ্চাটা কান্না করছে। দেখো যেয়ে।
আচ্ছা।
সবাই শহরে গেছে।
আর, সনু গপু?
তারাও
তোমার বৌমা লাড্ডু বানিয়ে পাঠাইছে।
কে এটা?
ও তোমার ভাতিজা, সুশীলা। হারিলালের ছেলে।
আরে অনেক সুন্দর তো, সুশীলা।
একদিন তোমারে নিয়ে চলে যাবো আমাদের বাড়িতে।
তোমার ঔই ব্যান্ড দলের কী অবস্থা?
আরে খুবই ভালো চাচী, তোমাদের আশীর্বাদে।
ঔই ব্যান্ডের দোকানটাই একটু বড় করা লাগবে, তো লোন তুলতে হবে।
ব্যাংকের লোকজন বললো, জমিন-টমিন যদি থাকে তোমার নামে, তো তার নকল নিয়ে আসো।
তো চলে আসলাম আপনাদের কাছে।
ভারাত লাল ব্যান্ড ওয়ালা।
অবশেষে আসলো আমার নাম।
জ্বি, আমি ভারত লাল।
আরে ভুরে সিং, তুমি?
নিচে বসো।
ও আমার সাথে স্কুলে পড়তো।
সরকারি দপ্তর এটা। কাজ বলো কাজ?
আরে কাজ কিছু না।
জমিনের কাগজের নকল দরকার...
...তো চাচা বললো, সরকারি দলিল লেখকের সাথে দেখা করো।
আর তোমার সাথে দেখে হয়ে গেলো। এখন তো কাগজ পেয়েই যাব।
- বাবার নাম কী? - কানাইয়া লাল।
না না। স্বর্গীয় শ্রী কানাইয়া লাল।
আর স্কুলে থাকতে ওই আমাদের ক্লাসে সবচেয়ে বেশী মুরগা হতো,
দশ মিনিট করে এভাবে।
কানাইয়া লালের পুত্র ভারত লাল।
গ্রামঃ সালারপুর, পোষ্টঃ খালিলাবাদ জেলাঃ আজিমগড়।
মনে আছে স্যার কী বলতো?
তুমি মরে গেছো।
এটা তো বলতো না স্যার।
আরে এখানে কাগজে লেখা তুমি মারা গেছো!
আচ্ছা কাগজে যদি লেখা থাকে আমি মারা গেছি...
তাহলে তোমার সামনে যে বসে আছে সে কে ভাই?
দেখো তুমি বসে থাকো আর শুয়ে থাকো, এতে আমার কিছু যায় আসে না।
হ্যাঁ...
সরকারি কাগজ মিথ্যা বলে না।
এই দেখো।
৩০শে জুলাই, সাল ১৯৭৬... নিচে বসো।
ভারত লাল স্বর্গবাসী হয়েছে।
আর তার চাচার দ্বারা, তার জমি দেবি লাল আর...
হারি লাল। আমার হারি ভাইয়া।
হ্যাঁ, দুই ভাইকে দিয়ে দেওয়া হলো।
না, গড়বড় আছে। এখানে ভুল আছে।
ভুল কীভাবে হতে পারে ভাই?
সরকারি কাগজে লেখা।
কাগজ সত্য নাকি আমি?
ভাইয়া, এটা সরকারি দপ্তর...
...কাগজে যা লেখা থাকে তাই সত্যি।
আচ্ছা..
মানে, মানুষের চেয়ে রেজিস্ট্রার গুরুত্বপূর্ণ।
মানুষের চেয়ে কাগজের দাম বেশি।
চিল্লাচ্ছো কেনো?
আরে চিল্লাচ্ছি না ভুরে ভাই...
...সব আমার মাথার উপর দিয়ে যাচ্ছে।
আরে ভুরে ভাই আমি আপনার সামনে বসে আছি।
এই দেখো, এই মারো আমাকে।
দেখো...
আরে ভাই আমি কখন মানা করলাম তোমাকে।
তো কাগজটা ঠিক করে দাও না।
আইনের কাগজ উল্টাপাল্টা করার চক্করে জেলে যেতে হবে আমাকেও, তোমাকেও।
জেলে কেন যাব, ভাই?
- জালিয়াতির জন্য। - কেন?
আরে তুমি স্বর্গবাসী এ আত্মার জমি দখলের চেষ্টা করতেছ।
- এই চক্করে জেলে যাওয়া লাগবে। - বাহ বাহ।
মানে, আমি নিজেই নিজের জমি দখল করছি।
উল্টা চুরি তো তারা করছে।
চোর কাকে বলছো?
কথার কথা বললাম।
আমিও বলি তাহলে একটা কথার কথা।
হ্যাঁ বলো।
লাত্থি মেরে ভাগানো ভূতকে কথার দ্বারা মানানো যায় না।
আর তুই ওই কথা না মানা ভুত।
- এই হাবিলদার, ওকে নিয়ে যাও। - চলো চলো।
- এই আমাকে ধরবে না। - বাইরে নিয়ে যাও ওকে।
বের কোরো ওকে।
আরে ও কী বলবে।
ও তো যখন মুরগা হইতো তখনও প্যান্টে মুতে দিত।
ন্যাংটাকালের কথা বলবি এখন!
- দারোয়ানের কাজের যোগ্যতা নাই বসেছিস সরকারি দপ্তরে। - যোগ্যতা ছাড়া বসি নাই।
চাচাকে নিয়ে আসছি আমি।
হ্যাঁ যা, চাচাকে নিয়ে আয়।
চাচার নামে বদনাম করছিস।
একজন অফিসারের সাথে লাগালাগির সাহস কিভাবে পাস?
- মার ওকে। - আমার সাইকেল...
ভাগ এখান থেকে।
আরে ও দেবির বাবা... হারিলাল...
ঔই ভারত হারামজাদা আবার এখানে আসছে।
মনে হয়, খবর পেয়ে গেছে।
আরে চিন্তা করো না, আম্মা।
বেশি উজাইলে...
...মেরে জমি পাছা দিয়ে ডুকিয়ে দিব।
চাচা।
ও চাচা।
আরে চাচী...
কী হইছে? চিল্লাচ্ছ কেন?
কিছু রেখে গিয়েছিলে নাকি?
আরে না চাচী। ঔই ভুরে লাল আছে না দলীল লেখক...
... ঔই শালা বলছে, তোমরা নাকি সরকারি রেজিস্ট্রারে লিখে দিয়েছ আমি মারা গেছি।
চোর শালা। আমাদের পরিবারের মধ্যে ঝগড়া লাগাতে চায়, মিথ্যুক শালা।
ও ঠিকই বলেছে।
- এই যে... - হ্যাঁ...
- বলো। - বলছি।
দেখো বাবা ভারত লাল, তুমি আমার বড় ভাইয়ের একমাত্র ছেলে ছিলে।
আর আমার ৩টা।
তো তুমি বাবার পুরো জমিটা পেয়ে গেলে।
আর আমারটা ভাগ হলো তিন ভাগে।
যখন আমার ভাই অসুস্থ হয়ে মারা গেলো...
..তোমার আম্মা তোমাকে নিয়ে....
...বাপের বাড়ি চলে গেলো।
গত বছরই আমারা সরকারি দলীল লেখককে ঘুষ দিয়ে কাগজে তোমাকে মৃত ঘোষণা করেছি।
আর তোমার জমি আমার ছেলেদের মাঝে ভাগ করে দিয়েছি।
এর চেয়ে বেশি কিছু না, বাবা।
আর কিছুই না বাবা।
একটা কথা তোমার মাথায় ভালো করে গেঁথে নাও।
না তুমি আমাদের আত্মীয়, না তোমার সাথে আমাদের কোনো সম্পর্ক।
এখন যাও।
তুমি কি এখানে রেডিও শুনছো?
ভেতরে চলো।
বলতে চেয়েও বলতে পারছি না...
...যে মানুষ সরকারি কাগজে মরে গেছে, তাকে বাস্তবে মারলেও কোনো সমস্যা হবে না।
যাও।
আরে এইদিক দিয়ে যাও।
বের হ।
ভাগ।
ভাগ।
আর আসিস না কখনো।
ব্যান্ড-ওয়ালা হয়ে আমাদের পরিবারের ইজ্জত ডুবিয়েছিস।
দেখে নেবো তোদের।
ভাগ এখান থেকে।
কী হয়েছে? কে ছিল?
রুকমিনি, আমি মরে গেছি।
ভারত ভাইয়া, কে মারা গেছে?
আমি মরে গেছি।
বসো।
সুখে থাকো।
কী হয়েছে, ভারত লাল?
- একটু খুলে বলো। - কী বলবো, পন্ডিতজি।
চা নেন।
আরে বৌমা, চায়ের সাথে যদি বিস্কুট হতো....
কাহিনি শুনতে আরো মজা লাগতো।
- জ্বী, আনছি। - হ্যাঁ, এদিকে দাও।
- ছামান.. - জ্বী ভাইয়া...
যারা যারা হাসছে না তাদেরকে চা দয়াও।
ভাইয়া।
এ কী হলো, ভাইয়া?
আমি আপনার সাথে ছিলাম না, আর কী থেকে কী হয়ে গেলো।
কিন্তু হলো কিভাবে?
আরে তেমন কিছু না।
- আরে লোন নিতে গিয়েছিলাম দোকানে জায়গা বাড়াতে... - ভাইয়া।
শুনলাম তুমি নাকি কাগজে মরে গেছো।
হ্যাঁ, মরে গেছি আমি।
তাই তো লিখিত আছে।
আরে ভারত ভাইয়া, এটা তেমন কিছু না।
তুমি ইনু বাবার কাছে চলে যাও..
...দেড় বোতল ইংলিশ মাল খাওয়াও।
তারপর সে তোমার মাথায় একটা চুম্মা দিবে...
... সব সমস্যা ঠিক হয়ে যাবে।
আরে গেন্ডয়া বাবা কিছুই না।
সে একটা ভন্ড।
ভন্ডকে উল্টালে হয় গেন্ডয়া।
এরচেয়ে মাজারের বাবাটা আছে না,
সেই মাজারে চলে যাও...
...ওখানে একজন মৌলভী আছে।
কপাল বরাবর ৩টা চড় মারবে....
ব্যাস, মানুষের ভাগ্য খুলে যায়।
হ্যাঁ ভাইয়া, সত্যি।
তার পাইলসের সমস্যা এভাবেই সেড়েছে।
আরে তোরে..
সত্যই তো বললাম, ভুল কী বলছি?
তুই কিভাবে জানলি আমার পাইলসের সমস্যা আছে?
আরে পাইলসের সমস্যা ঠিক হয়েছে কিনা?
- আমি মরে গেছি আর তোমরা.... - সাধু হতে চাও?
আরে রামপাল, আমি কাগজে মরে গেছি।
তাই তো কাগজের ফুল নিয়ে আসছি।
ওহ ভগবান...
ভাগ তুই।
অকর্মার ঢেঁকি!
সড় সড়।
আরে কোথায় যাচ্ছ?
আমি বাইরে যাচ্ছি ...
মাথা খারাপ করে দিচ্ছে প্রশ্ন করে, কিভাবে মরেছ, কিভাবে মরেছ?
এখন কেউ আসলে চা-পানি খেতে দিও।
ও পন্ডিতজি, আপনি জানেন না আমি কিভাবে মরেছি!
- হ্যাঁ। - আপনি শুনিয়ে দিয়েন সবাইকে!
মাথা খারাপ...
দেখো ভাইয়া.....
এখনই তাজা তাজা মরলো আর ঊঠে চলে গেলো।
দেখেশুনে চালিও সাইকেল।
ধুর, পাগল সব।
মরা মানুষের খবরাখবর ভালোভাবে রাখতে হবে।
ফালতু বাচ্চারা।
আরে হ্যাঁ।
ছবি টবি দেখো।
- প্রথম প্রথম দেখেছি। - ওই চান্দার।
এক কাপ চা দাও, আর খাতায় লিখে রাখো।
কী হয়েছে?
উঠে চলে গেলে যে? আমকে অদ্ভুত দেখাচ্ছে নাকি?
অদ্ভুত না, ভূত তুমি।
ভারত ভাইয়া, এটাসহ আজ পর্যন্ত যত বাকি আছে সব পরিশোধ করে দাও।
হয়েছে কী... আপনার সাথে সাথে আমার টাকাও না মরে যায়!
- কয় চামচ চিনি দিয়েছো? - দুই চামচ। কী হয়েছে?
আরো এক চামচ দাও।
আরে চিনি না। বিষ দাও।
ফালতু।
কী হলো?
এই ভূত চাচা।
ভূত চাচা, রাম লিলার সময় ভূত হবে নাকি?
ভূত চাচা।
ভূত চাচা বলে...
সবাইকে চায়ে মিশিয়ে খেয়ে খেলবো।
হুর।
ভাগ শালা।
এই...
টায়ারের হাওয়া ছাড়বি?
ভাগ.... ভাগ।
ভাগ।
হুর।
ভাগ।
ভুত।
পেঁচার মতো চোখ খুলে রেখেছ কেনো।
ঘুমাও কিছুক্ষন।
আরে কিসের ঘুম?
চিন্তা করতে করতে মাথা নাই হওয়ার অবস্থা।
এখন তো গলির বাচ্চারাও আমাকে "ভুত চাচা, ভুত চাচা" বলে ডাকে।
সাইকেলেও হাওয়াও ছেড়ে দিছে।
একটা কথা বলবো?
হ্যাঁ।
এখন তো আমারো ভয় লাগা শুরু হয়েছে!
...যে আমি মানুষের সাথে শুয়ে আছি নাকি ভুতের সাথে।
আচ্ছা..খুব মজা লাগতাছে তোমার।
দাঁড়াও দেখাচ্ছি কত বড় ভুত আমি!
আজ মঙ্গলবার।
মঙ্গলবার। ভগবান, মাফ করে দাও।
"ভারত লালের কাগজে মরার কারণে পুরো গ্রাম হাসি ঠাট্টা শুরু করলো।"
"এই সমস্যা সমাধানের জন্য ভারত লাল গ্রাম পঞ্চায়েতের কাছে সাহায্য চাইতে গেলো।"
কি অসাধারণ!
আরে নাচনি-ওয়ালীকে ডাকো ভাই।
Ladies and Gentlemen...
...we thank Shukla Gas Agency, for giving our band a chance to sing in this program.
I do... I do...
And now presenting...red beauty like the flower of fire.
"My handsome beloved..."
"...strong as a mountain."
"I cannot control myself around him."
"Peeking from the windows and parapets..."
"...trying to cast a spell on him."
"My beloved's so fearless..."
"...even his competition fears him."
"Women just lay their heart in his way."
"Keep him close, keep him safe..."
"...or someone might swoop him away."
"Red like the flower of fire."
"My beloved rules every heart."
"Red like the flower of fire."
"My beloved rules every heart."
"Don't let him out of the house until I haven't warded every evil eye."
"Beloved..."
"Beloved..."
"O beloved, every man-stealer out there, wants to make you theirs.
"O beloved, every man-stealer out there, wants to make you theirs.
"O beloved, every man-stealer out there, wants to make you theirs.
"O beloved, every man-stealer out there, wants to make you theirs.
"Beloved sturdy like a glass..."
"...and talks first class."
"...and talks first class."
"Beloved sturdy like a glass..."
"...and talks first class."
"Every word he says...is coated with sugar."
"...is coated with sugar."
"Beloved's so romantic..."
"...he looks like a poet in a suit."
"Beloved's so romantic..."
"...he looks like a poet in a suit."
"Don't let him out of the house until I haven't warded every evil eye."
"Beloved..."
"Beloved..."
"O beloved, every man-stealer out there, wants to make you theirs.
"O beloved, every man-stealer out there, wants to make you theirs.
"O beloved, every man-stealer out there, wants to make you theirs.
আরে, দেখেশুনে গুলি চালিও?
গ্যাস এজেন্সি চালু করছি...
- ...কোথাও আগুন না লেগে যায়। - প্রণাম, সারপাঞ্জি। (সারপাঞ্জি=পঞ্চায়েত প্রধান)
- আরে ভারত লাল। - হ্যাঁ।
- কেমন আছো? - কী আর বলবো, খারাপই আছি।
ঠিক আছে...
- চলো, হিসু করি। - আমা তো হিসু আসে নাই।
আরে অল্প একটু হিসু করে নিও। যতটুকু আসে ততটুকুই কইরো।
"My beloved’s fragrance..."
কাজ কী সেটা বলো।
শেষ ফোটাটা পড়ার আগেই বলো।
কী বলবো...
আমার জীবনটা তছনছ করে দিয়েছে এই সমাজ।
"Beloved..."
"Everyone listens to my beloved."
নিজেরটার সাইজের সমান কথা বলছো।
আচ্ছা, কাল প্রমাণ পত্র বানিয়ে সিল ছাপ্পর লাগিয়ে স্বাক্ষর করে লিখে দেবো...
... ভারত লাল এখনো জীবিত।
"Angry now, then gets romantic."
অনেক অনেক ধন্যবাদ আপনাকে।
আরে কোথায় যাচ্ছ?
আরে ওখানে গিয়ে নাচনি-ওয়ালির সাথে নাচা গানা করো।
নয়তো লোকজন বলবে, ভারত লাল তো আসলেই মরে গেছে।
"O beloved, every man-stealer out there, wants to make you theirs.
"O beloved, every man-stealer out there, wants to make you theirs.
"O beloved, every man-stealer out there, wants to make you theirs.
কাল রাতে একটু বেশি হয়ে গেছিল।
ঠিকই বলেছেন, সরকার।
এর আগে আপনাকে কখনো মদের সাথে ২ রুটি ভিজিয়ে খেতে দেখিনি।
আরে আবাল, মারবো এক চড়।
আমি মদের কথা বলছি না...
গ্যাসের কথা বলছি।
সরকার, গ্যাসের কথা বললে তো আপনি নিজেই এক সিলিন্ডার।
ঈশ্বর উপর থেকে ইশারা করছিলো, গ্যাস এজেন্সি খোলার জন্য।
হাসাতে তো ভালোই পারো।
প্রণাম, সারপাঞ্জ সাহেব।
- কে? - আমি ভারত লাল।
ভারত লাল?
ওওও, ভারত লাল।
সাত-সকাল কী জন্যে?
আরে মালিক দিয়ে দেন না তাড়াতাড়ি আমার জীবিত থাকার প্রমাণপত্রটা বানিয়ে।
প্রমাণ?
না না ভাইয়া। এটা হবে না।
কাল রাতেই তো বললেন হয়ে যাবে।
ওয়াদাও করলেন।
বলেছি হয়তো...
এখন তুমিই বলো...
সংকরজি যদি কাউকে মেরে ফেলে ব্রম্মাজি কি তাকে জীবিত করতে পারবে?
যে সরকারি দলীল লিখেছে ভারত লাল মরে গেছে...
...তো তার সামনে আমি ব্রম্মা হলাম না?
তো আমি কিভাবে জীবিত করবো ভাই? না।
আরে ব্রম্মাজির কথারও তো একটা দাম আছে না?
হলেও তো হবে ৪ মুখের কথা। এখন কোন মুখ দিয়ে কোথায় কী বলেছি কত আর মনে রাখবো। (ব্রম্মা= হিন্দুদের দেবতা যার ৪ মাথা)
আর এমনিতেও নেশার মধ্যে ছিলাম। কী বলেছি জানি না।
শোনো।
আমাদের দেশে, রাজ্য সরকারের চেয়ে বড় হয় সরকারি কাগজ লেখক।
বুঝতে পারছো।
সে যদি একবার লেখে দেয় তুমি একটা উট...
...তাহলে তোমার সারাজীবন লেগে যাবে এটা প্রমাণ করতে যে তুমি উট না।
"সারপাঞ্জের কাছ থেকে না শুনার পর...
"...ভারত লাল তার স্বরাপন্ন হলো যাকে আমরা 'সিস্টেম' বলি।"
ওপেন সিস্টেম চালু হওয়া শুরু হলো আবেদনের মধ্য দিয়ে।
"মাননীয়... "
"...কালেক্টর সাহেব"
"আপনার নিকট এই নিবেদন করতেছি যে..."
সরকারি কাগজ লেখক আমাকে মেরে ফেলেছে।
এইরকম লেখা যাবে না।
আমি বলতেছি কিভাবে।
"নিবেদন করতে চাই যে..."
"আমি ভারত লাল, মৃত কানাইয়া লালের পুত্র সরকারি কাগজে আমাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে..."
"ধন্যবাদ।"
"প্রার্থী..."
ভারত লাল?
"... ভারত........লাল।"
হ্যাঁ, এই নিন।
এখানে স্বাক্ষর করেন।
- এতেই কাজ হয়ে যাবে। - অবশ্যই হয়ে যাবে।
আর যদি উত্তর না আসে তাহলে ২ মাস পর উনার বাবার কাছে লিখে দেবো।
বাবা মানে?
- উনার উপরের কর্মকর্তা। - আচ্ছা...
ওহ জেলা কালেক্টরের কাছে।
ঠিক আছে, আর উনার উত্তর না আসলে?
তার উপরের কর্মকর্তাকে।
- তার মানে ডিএম, সিএম, পিএম সবাইকে... - হ্যাঁ, সবাইকে।
ঠিক আছে। সবাইকে লিখে পাঠাবো।
হ্যাঁ।
এই সড়ো।
রুকমিনি।
রুকমিনি।
তোর মা কোথায় রে?
রুকমিনি।
রুকমিনি।
কী হয়েছে?
এখানে আসো তো আগে।
সাবধানে।
শোনো শোনো।
ঔই যে চিঠি লিখেছিলাম না তার উত্তর এসে গেছে।
ভারতের প্রধানমন্ত্রী আমাকে ভরসা দিয়েছে যে সরকারি কাগজ লেখকের সঠিক বিচার করবে।
- তুমি খুবই বোকা। - আর তুমি সেই বোকার বউ।
কী করতেছো।
সব কথাতেই মজা।
আরেকটা চিঠি, আরেকটা উত্তর।
প্রথমে কালেক্টরকে লিখলে।
সে বললো সরকারি কাগজ লেখকের কাছে যাও।
জেলা কালেক্টরের কাছে লিখলে।
সে বললো সরকারি কাগজ লেখকের সাথে দেখা করো।
ডিএম কে লেখলে, সরকার, মন্ত্রী, মুখ্যমন্ত্রী
সবাইকে লিখলে। আর সবাই একই কথা বললো, সরকারি কাগজ লেখকের কাছে যাও।
আর এখন প্রধানমন্ত্রী।
সেও নিশ্চয়ই একই কথা লিখেছে।
মানে এই ডিব্বায় আরো একটা কাগজ যুক্ত হলো।
এই চিঠির উত্তর আসতে কত বছর লাগলো?
তিন?
চার!
শেষ ব্যান্ড বাজাতে কত বছর আগে গিয়েছিলে?
চার।
ছয়...
আমি কয় মাসের গর্ভবতী?
সাত....আট।
সাত।
ঐটাই তো আমি বললাম। সাত...
বাদ দাও।
একটা মেয়ে গর্ভবতী হলে তার কতটুকু ক্ষুধা লাগতে পারে?
বাদ দাও। কিভাবে জোগাড় করবে দুই বেলার খাবার।
মাঝে মাঝে আমি আচার, মোরব্বা বানিয়ে বানিয়ে কিছু উপার্জন করি।
কখনও কোথাও থেকে ধার আনি।
তুমি কিছুই জানো না।
আমি জানি, রুকমিনি।
ভয় পেও না, হ্যাঁ। উনার মন অনেক নরম।
কী করতেছো এসব?
আরে এতো রাগ করো যদি ওর বাবার সাথে তাহলে ও মনে করবে নির্দয়া মা পেয়েছি।"
শোনো, তুমি ঠিক সময়ে এসে পড়ো...
...তারপর আমরা দুইজন মিলে ঠিক করে দিবো উনাকে।
আরে তোমার এক ভাইও আছে। ছাদে গেছে, রোদ লাগাতে।
- কী হয়েছে, বলো? - শোনো।
মেয়ে হওয়ায় মায়ের খুশী বহুগুণে বেড়ে গেছে'
বাজাও জোরে।
অভিনন্দন।
অভিনন্দন।
আরে ইম্রেতি।
ওর মুখ, নাক, কান সব ঠিক আছে তো?
সবই ঠিক আছে।
কিন্তু মেয়েটা প্রচুর কান্না করতেছে।
এই মেয়ে শুধু কান্না করতেছে আর বাকি সব ঠিক আছে।
আরে, বাবা কাগজে মৃত তো সেইজন্য...
মেয়ে শোক পালন করতেছে।
ঠিক বলছো..
মেয়ে বাবার নাম কী লিখবে? মৃত ভারত লাল।
স্কুলে বাবার নাম কী লিখবে?
এটা ভাবো মেয়েকে কন্যাদান কে করবে।
আসো মা, আসো।
আসো।
আমি ভারত লাল। তোমার বাবা।
জীবিত।
প্রমাণিত।
কতো নাজুক তুমি!
এতই নাজুক যে একটা মাছিও ভাগাতে পারবে না।
আর দেখো প্রভুর কী লীলা।
আমার ভরসায় তোমাকে এই নিষ্ঠুর দুনিয়ায় পাঠিয়ে দিলেন।
বাহ রে বিধাতা, তোর বিশ্বাস তুলনাহীন।
আরে যেহেতু তোমাকে আমার ভরসাতে পাঠিয়েই দিয়েছে...
...তো আমিও কসম করে বলছি, তোমাকে তোমার মান, সম্মান,
অধিকার দিয়েই ছাড়বো।
এক কাগজের কতটুকুই বা ক্ষমতা যে তোমার থেকে তোমার বাবাকে কেড়ে নিবে!
"শুনেছি সত্য আর মিথ্যা লড়াইয়ে জিত সবসময় সত্যেরই হয়।"
"কিন্তু আমাদের দেশে সত্য তো এটা যে..."
"...জিত তারই হয় যার কাছে কাগজ থাকে।"
"এতই ক্ষমতা আমাদের সিস্টেমে এই কগজের।"
'আর কাগজের ক্ষমতার মুখোমুখি হওয়া...'
" না কোনো সাধারণ কাজ না কোনো সাধারণ মানুষের কাজ।"
কিন্তু ভারত লাল, ঔই কাগজেরও মুখোমুখি হলো, সিস্টেমেরও মুখোমুখি হলো, সেইসাথে সাধু রাম কেভটেরও মানে আমারও।
...ভেবেছিলাম ওকে একটু মিঠা বাতাসা দিয়েই দেই।
এই নাও। প্রসাদ খাও।
প্রসাদ?
পল্টন বাবার প্রসাদ।
প্রণাম বলে খেয়ে নাও।
নাম শুনি নাই কখনো, প্লটন বাবার।
নাম ছিলো পল্টন ইয়াদব।
তাকেও তোমার মতো কাগজে মৃত ঘোষণা করা হয়েছিলো।
আচ্ছা...
কাচারীতে কেস লড়তে লড়তে ক্লান্ত হয়ে গেছিলো...
...তাই দুনিয়া থেকে মন উঠে গিয়েছিল।
মন কী উঠলো, পকেট ফাঁকা হয়ে গেলো।
সন্ন্যাসী হয়ে গেলো।
এখন যখনই তারিখ আসে না..
...এসে পারিশ্রমিক দিয়ে যায়।
এই বাতাসা।
তারমানে আজ উনার তারিখ ছিলো।
আগে আসলে তো দেখা করিয়ে দিতে পারতাম।
চলো আরেকটা নমুনা দেখাই।
আসো..
আসো আসো।
- কেমন আছেন পিতামহ? - ঠিক আছি, সাহেব।
- জীবিত নাকি মৃত? - মৃত।
- এই বন্দুকের গুলি আসল নাকি নকল? - গুলি আসল, কিন্তু চালানোর জন্য না।
ভিসাম সিংয়ের নাম শুনেছ?
হ্যাঁ.. অনেক নামকরা ডাকাত। যে অনেক মানুষকে উপরে পাঠিয়ে দিয়েছে...
ইনিই সে।
- উনি? - হ্যাঁ।
সরকার যখন ডাকাতদের আত্মসমর্পণের সুযোগ দিয়েছিল...
...তখন ইনি হাতিয়ার ছেড়ে দিয়েছিল।
আর কসম খেয়েছিলো আর কখনো হাতিয়ার উঠাবে না।
সাজা শেষ হওয়ার পর জেল থেকে যখন গ্রামে পৌঁছায়...
..ভেবেছিল চাষাবাদ করবে।
তখনই সে দেখলো তার জমি ভাইয়েরা দখল করে নিয়েছে...
...আর উনাকে কাগজে মৃত ঘোষণা করে দিয়েছে। যেমনটা তোমাকে।
সেই সময় সে পারতো হাতিয়ার উঠিয়ে ওদের খতম করে দিতে।
কিন্তু না, কসম খেয়েছিল।
খারাপ থেকে ভালো হয়ে গিয়েছিল।
আর তখন সে একজন খাঁটি নাগরিকের মতো সিদ্ধান্ত নিল আইনি লড়াই লড়বে।
২০/২২ বছর ধরে কাচারিতে চক্কর কাটতেছে নিজেকে জীবিত প্রমাণ করার জন্য।
কিন্তু কিছুই করতে পারে নাই।
তো, এখন জীবিত হলেও...
..কত বছরই বা বাঁচবেন।
বুঝতে পেরেছো তুমি?
- কী নাম যেনো বলেছিলে? - পিতামহ।
- উনার না। তোমার? - আমি ভারত লাল, ব্যান্ড ওয়ালা।
ভারত লাল।
এ তো কেবল দুইজনের কথা বললাম।
এমন না জানি আরো কত শত কেস আছে।
আমার কথা শোনো, যা হয়েছে হয়েছেই।
ভুলে যাও সব।
কিভাবে ভুলে যাবো? কিভাবে নিজেকে মৃত মেনে নিব।
দেখো ভাইয়া, এই প্রাঙ্গনটা দেখতেছো?
জায়গা লোকজনে পুরো ভরা।
পিয়ন থেকে কেরানী, সবাই হাত পেতে থাকে।
টাকা দিলে কাজ হবে।
এত টাকা আছে তোমার কাছে?
এখন তো নাই, কিন্তু জোগাড় হয়ে যাবে।
- আচ্ছা, ব্যবস্থা হয়ে যাবে? - হ্যাঁ।
- সত্যি। - হ্যাঁ।
তাহলে ঠিক আছে ভাইয়া, আজ থেকেই খাতা চালু করো।
কোথায়?
কেভাট ব্যাংকে।
মানে, ১২৫ টাকার ফর্ম....
...আর স্ট্যাম্পের টাকা আর ১০০ টাকা কাজে দৌড়াদৌড়ির জন্য।
আমার কাছে ১৯০ টাকা আছে।
কোনো ব্যাপার না। ১৯০ টাকাই ঠিক আছে।
এক কাজ করি, তোমার ফর্মটা ইংরেজির জায়গায় হিন্দিতে লিখে দিবো।
কিছুটা সস্তা হবে।
হ্যাঁ, সস্তার মধ্যেই করে দিয়েন।
কেভটের নৌকায় যেহেতু উঠেই পড়েছ, তখন পাড়ে পৌঁছেই দিবো।
ঠিক আছে।
- প্রণাম। - ঠিক আছে।
- আপনি কি আওধা থেকে এসেছেন? - হ্যাঁ, সেটাই বুঝে নাও।
ঠিক আছে।
চাচা।
হ্যাঁ, সাহেব।
প্রণাম, আমি চলে যাচ্ছি।
সাধুজির সাথে কথা হয়েছে। আমি আবার আসবো।
ঠিক আছে।
আর রুকমিনির থেকে আপনার জন্য কিছু খাবার নিয়ে আসবো।
ঠিক আছে।
জায়গা রাখিয়েন আমার জন্য।
হ্যাঁ সাহেব, জায়গা তোমার জন্য মনের ভেতরে আছে।
- এই নাও। - গুপ্তাজি।
এই নাও ১৮০ টাকা ৭৫ পয়সা।
আজ থেকে হিসাব পরিশোধ।
আজকের পর থেকে আর শাকসবজি খেতে বলবে না।
- বলবো না। - যাও এখন মাটন আর পেয়াজু আনতে বলো।
ঠিক আছে, উকিল সাহেব।
এই ছোটু, সাধু রামকে মাটন আর পেয়াজু দে।
বলির ছাগল মিলে গেছে উনার।
ঠিক আছে।
আরে ভাই অবিশ্বাস্য। বলির ছাগল মিলে গেছে মানে।
আরে বাহ, খুব খুশি খুশি লাগছে।
এইটা দেখো।
বেনারসি শাড়ি। কী উপলক্ষে?
আমি একজন বুদ্ধিমান উকিল পেয়েছি।
সাধুরাম কেভাট লা লা ব। (লা লা ব= এল. এল. বি.)
উনি "মৃত জীবিত" কেস বিশেষজ্ঞ।
বলেছে আমার নৌকা পাড়ে নিয়ে যাবে।
- সত্যি? - হ্যাঁ।
আচ্ছা শুনো, আজকে কী বার? মঙ্গলবার তো না?
- না, আজ সোমবার। - তাহলে আমার মঙ্গল করে দাও না?
এই বসো...বসো...বসো...বসো।
"You and I are a match made in heaven..."
"...let's together fly to the moon."
"You and I are a match made in heaven..."
"...let's together fly to the moon."
"We'll stare into each other's eyes..."
"...and talk about sweet nothings."
"We'll stare into each other's eyes..."
"...and talk about sweet nothings."
"If you come closer, then so will I."
"And feel your breath...mingle with mine."
"The feelings in my heart...I'll convey it to you."
"Honestly...I won't hide anything."
"I'll forsake the world and lose myself in you."
"Never come back."
"Never again."
"Faster...faster..."
"...let's fly faster to the moon."
"Because my heart's already racing ahead of me."
Just tell me your demands and get this over with.
Stop bothering me. I won't do it
Just do as I say.
And don't worry.
"When I'll look at you..."
"...I won't take my eyes off you."
"And spend every day together."
"I'll take you amongst beautiful flowers."
"And show you the world of fragrances."
"We'll hold hands and never stop working.
"Never come back."
"Never again."
"I feel overwhelmed..."
"I feel overwhelmed..."
"I feel overwhelmed..."
"I feel overwhelmed hearing what you said."
"And now even I am prepared."
"কোর্ট-কাচারি ন্যায়ের এমন এক দেবতা..."
"...যে সময় আর স্বপ্নের বলি চায়।"
"তো রুকমিনি ভাবি আর ভারত লালের স্বপ্ন এর থেকে কিভাবে বাঁচতে পারে।"
আরে মহারাজ, যান এখান থেকে।
খাওয়ার জন্য সুস্বাদু খাবার এখানে মিলবে না।
এই নেও, ভারত লাল। গুনে নাও।
আরে না না, ঠিক আছে।
এক মিনিট।
ঠাকুর সাহেব, এটা রেখে দেই?
এটা আমার সুখ দুঃখের সাথী ছিলো।
হ্যাঁ, রেখে দাও।
এমনিতেও এসব ভাঙ্গারি হিসাবে বেঁচে দিবো।
চলো, চলো। তাড়াতাড়ি করো।
জলদি করো।
কী হয়েছে?
মন খারাপ করে আছো কেন?
সাধুরাম আবার টাকা চেয়েছে নাকি?
৪/৫ মাসের পুরো টাকা পাখির মতো উড়ে গেলো।
ছেড়ে দাও এই কোর্ট কাচারি।
সাধু রামজি যে বলেছে লেগে থাকো, সে কিছু একটা করছে।
আর তুমি বলছো কোর্ট-কাচারি ছেড়ে দিতে।
তোমার কষ্ট আমি সহ্য করতে পারি না।
তুমি জীবিত আছো আমার সামনে আছো।
আমি অনেক খুশি।
ভুলে যাও এসব।
কিছু রোজগারের চিন্তা করো।
করবো কিছু।
যখন এল. এল. বি. দিয়ে কিছু হলো না...
তখন ভারত লাল এম.এল.এর কাছে আর্জি জানানোর সিদ্ধান্ত নিলো।
এর কারণে, সর্বশেষ নির্বাচনে আসারফি দেবীর জেতার পেছনে এক ভোট ভারত লালেরও ছিলো।
এই জয় আমার একার না, এই জয় আমাদের সবার।
এই জয় এই দেশের।
আমাদের দেশবাসীদের।
আসরাফি দেবী। তিনি হচ্ছেন কুলাঙ্গার...
...রাজনীতিবিদদের জন্য।
উনার বাবা অনেক বড় জমিদার ছিলেন...
..হয়তো এজন্যই উনার নাম আসরাফি দেবী হয়েছে।
চামচাদের থেকে নিজের বিবেকের কথা বেশি শুনেন।
স্বতন্ত্র পার্থী হয়েও...
...নির্বাচনে জিতেছে আর মানুষের মন ও।
আপনাদের সবার প্রতি কৃতজ্ঞ...
- আসরাফি দেবী। - জিন্দাবাদ.... জিন্দাবাদ।
আসরাফি দেবী...
আরে রাস্তার মাঝখানে কে বসে আছে।
উঠাও ওকে। যাও
- আসরাফি দেবী... - জিন্দাবাদ।
- এই পাবলো, ক্যামেরাটা দাও। - হ্যাঁ, সোনিয়া।
- আসরাফি দেবী... - জিন্দাবাদ।
- শুভ সকাল, ম্যাম। - শুভ সকাল।
- আমি খুবই দুঃখিত, ম্যাম। - জানি আমি।
পড়েছি এটা সকালে।
জানি না ম্যাডাম, কিভাবে....
- হ্যালো। কেমন আছেন? - আপনার ছবির চেয়েও বড় ছবি ছাপিয়ে দিল।
আপনারা সবাই এখানে বসুন, আমি একটু আসতেছি।
এই খবর ওয়ালাদেরও কোন ভরসা নাই।
ম্যাডাম, আমি তো বুঝতেছি না এক জীবিত মানুষকে আর কতবার জীবিত করবে।
আপনি আমার পি.আর। আপনি না জানলে কে জানবে? (পি. আর. = পার্সোনাল অ্যাসিস্ট্যান্ট)
জানি না এই ছবি প্রথম পাতায় কিভাবে ছাপা হলো।
খুবই দুঃখিত।
কালকের র্যালিতে কিছু তো ভালো হয়েছে কারো।
আমি লাখনৌতে সম্পাদকে কল করে দিয়েছি।
কিন্তু এই বিদ্রোহী ভাইটা কে? খোঁজ লাগান।
নাম কী উনার।
এক সেকেন্ড।
এক সেকেন্ড।
ভারত লালজির ঘর কোথায়?
- সামনে গিয়ে বায়ে যাবেন। - ঔইদিকে।
নমস্তে, ভারত লালজি ঘরে আছে?
জ্বী না। আপনি কে?
আমি সোনিয়া। আমি একজন রিপোর্টার।
এই প্রতিবেদন আমি লিখেছিলাম।
হ্যাঁ... উনি কলোনির মোড়ে শেইভ করতে গেছে।
আচ্ছা। এই একটা ছবি তুলো।
না না।
আমার ছবি টবি তোলার দরকার নাই।
কালু ভাইয়া, দাড়ি কাটা শেষ হলে ভালো করে ফিটকিরি দিয়ে ঘষে দিও।
কেন? কোনো বিয়েতে বাদ্য বাজানো লাগবে নাকি?
একটা সুন্দরী রিপোর্টার মেয়ে...
তোমার ঠিকানা খুঁজতেছে...
এই দেখো ম্যাডাম চলে আসছে।
নমস্তে, ভারত লালজি।
আমি সোনিয়া। আপনার সাথে কথা বলার ছিলো।
আরে আপনি শুনুন...
হলিতে আপনাদের ছুটি নাই নাকি? যান হলি উদযাপন করুন।
আরে ভারত লাল শুনে যান...
আমি বলেছিলাম হলির দিনে ইন্টারভিউ না নিতে।
আরে তুমি চুপ করো। ধরো তাকে।
ভারত লালজি শুনুন..
আপনি ভারত লাল নাকি নটরলাল?
আরে পালবো, এখন মজার সময় না।
৫টা মিনিট কথা বলবো আপনার সাথে।
কথাটা শুনেন।
ওহ... ভগবান...
ভারত লালজি...
ওহ...
আমার পিছে কেন লেগেছেন ভাই?
আরে ভারত লালজি, আমি একজন রিপোর্টার।
আপনি এভাবে ভাগতেছেন কেন?
আরে আমি দিতে চাই না ইন্টারভিউ...
ছবি তুলবেন না আমার।
হ্যাঁ হ্যাঁ...
আরে ভারত লালজি, আমি প্রতিবেদনের মাধ্যমে আপনার কাহিনি মানুষের কাছে পৌঁছাতে চাচ্ছি।
আমি কোনো ইন্টারভিউ ফিন্টারভিউ দিতে চাই না।
এখন তো শুধু আমার গ্রাম আমাকে নিয়ে মজা করে।
আর নিউজ ছাপালে তো পুরো দেশ আমাকে নিয়ে মজা করবে।
এজন্যই তো আমি আপনাকে সাহায্য করতে চাই।
কেন সাহায্য করতে চান আপনি?
আপনি শুধু ভাবুন যে, আপনার দুঃখ আর আপনার সমস্যা...
..আমি কেবল বুঝতেছিই না অনুভবও করতে পারছি।
ঠিকই বলেছে।
আমাকে বিশ্বাস করুন।
আপনার অনুমতি ছাড়া খবরের কাগজে একটা শব্দও ছাপা হবে না।
প্রমিস।
ঠিক আছে।
আপনাদেরকে দেখে ভালো মানুষ... ভালো মেয়ে মনে হচ্ছে।
বিশ্বাস করলাম আপনাদের।
কিন্তু একটা অনুরোধ আছে।
খবরই ছাপিয়েন, কৌতুক না।
জ্বী।
তো রাজতন্ত্রের এই ভুত আপনিই ছেড়েছেন।
ম্যাম, এটা আপনার নির্বাচনী এলাকা। আপনার কিছু করা দরকার।
অবশ্যই।
- আসুন এই মানুষটাকে আবার জীবিত করি। - অবশ্যই।
আমরা অবশ্যই এটা করবো।
আরে সাধু রামজি।
আরে খবরের কাগজ থেকে কোনো লাভ হবে কি?
আরে লাভ লোকশান ছেড়ে...
- ...আমার সাথে চলো। - কোথায়?
অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায়।
ঔই যে পিতামহর সাথে তোমাকে দেখা করাইলাম না?
হ্যাঁ।
শুনলাম সে নাকি মারা গেছে।
আমি সেখানেই যাচ্ছি।
আরে তুমিও চলো।
তোমরা তো একই শ্রেনীর মানুষ।
মৃত।
কী হলো?
চলে গেলো?
চলেন।
ভারত লাল।
এই মৃত্যু তো তাকে একেবারেই মেরে দিলো।
কিন্তু ঔই যে কাগজের মৃত্যুটা ছিল না...
..সেটা তাকে গত ২০ বছর ধরে তিলে তিলে মেরেছে।
অবিশ্বাস্য কথা, তাই না?
যতদিন আইনের বিরুদ্ধে ছিলো ততদিন অপরাধী ছিলো। কিন্তু ততদিন বেঁচে ছিলো।
আর যখনই আইনের সাথে চলতে শুরু করলো, তখন তো মরেই গেলো।
যতদিন অপরাধী ছিলো, ততদিন বেঁচে ছিলো।
যতদিন অপরাধী ছিলো, ততদিন বেঁচে ছিলো।
যতদিন অপরাধী ছিলো, ততদিন বেঁচে ছিলো।
"Even the alive gets buried."
"Even the alive gets buried."
"The country's filled with dishonest people."
"The country's filled with dishonest people."
"Once you're declared on official documents."
"The honest have tears in their eyes watching this plight..."
"The country's filled with dishonest people."
ওই সুশীল?
- এদিকে আয়... - কে?
তোমার চাচা।
আয়....আয়।
আয়।
দেও না, চাচা।
এই নে চলকেট।
আরে চাচা। চলকেট না চকলেট।
আচ্ছা.. এই নে তোর খেলনা।
সুশীলা, আজ আমরা 'অপহরণ-অপহরণ' খেলবো।
এটা কিভাবে খেলে চাচা?
হাত তুলো।
অপহরণ - অপহরণ।
শুনো, এটা খেলার জন্য একটা জামা পড়তে হয়।
চাচা, এটা কি আপনিও পড়বেন?
হ্যাঁ, আমিও পড়বো।
তোমার চাচীও পড়বে। পুরো পরিবার পড়বে।
হাত সোজা করো।
- ভারত, ব্যাগে করে কী নিয়ে এসেছ? - আরে কিছু না। গণেশজির মূর্তি।
আরে চাচা, আমি তো গণেশজি মহারাজ না।
হ্যাঁ হ্যাঁ, সুশীল। এই অপহরণ অপহরণ খেলায় মিথ্যা বলতে হয়।
তোর মা কোথায়?
এই রুকমিনি?
এই বস্তায় আবার কী আবর্জনা নিয়ে আসছো?
আবর্জনা না। ধন এটা ধন।
অপহরণ, চাচা।
অপহরণ - অপহরণ।
- কে এটা? - ও সুশীলা।
- হারি ভাইয়ার ছেলে। - আচ্ছা...
- ওখানে গিয়ে খেলো, বাবা। - ঠিক আছে।
এসব কী?
চুপ করো, আসো।
সুশীলাকে অপহরণ করে এনেছি।
কী?
মাথা ঠিক আছে তো তোমার?
আমাদের বাচ্চাদের ব্যাপারটা একটু ভাবো।
আমার শুধু এটাই চিন্তা, রুকমিনি। আমি পিতামহের মতো মরতে চাই না।
সোজা রাস্তায় চলে অনেক দেখেছি।
তো এখন অপরাধী হবে?
হ্যাঁ।
অপরাধী হবো।
'বিন্দিয়া আর বন্দুক' মুভিতে... ('বিন্দিয়া আর বন্দুক' ১৯৭২ সালের একটি বলিউড মুভি)
...বিন্দিয়ার উপর যখন অত্যাচার হলো, সে কী করলো?
কী করলো?
বন্দুক তুলে নিলো।
আর আমার উপর অত্যাচার হলো, আমি সুশীলাকে তুলে আনলাম।
যখন আইন আমাকে বিনা অপরাধে মৃত্যুর সাজা দিয়ে দিছে...
... তাহলে কিছু অপরাধ করে জীবিত হওয়ার চেষ্টা করে দেখি।
"The government and administration are quiet."
"And turned me into a monster."
"Resorting lies and deceit."
"The country's filled with dishonest people."
"My brother is benevolent. And sister-in-law is so innocent."
কী ভাইয়া, রামলাল। কী অবস্থা?
ভালো।
হারি ভাইয়া, চাটনির মধ্যে ঝিঙ্গুর পড়ে গেছে।
তো ফেলে দে।
ভাইয়া পুরো ৫ কেজি।
আরে বলদ, ঝিঙ্গুরটা ফেলে দে। চাটনি না।
ভাইয়া...
মিষ্টির দোকানে এইসব হয়েই থাকে।
কার কার জন্য দুঃখপ্রকাশ করবি তুই?
হ্যালো।
হ্যালো।
- হ্যালো। - প্রণাম, হারি ভাইয়া।
আমি ভারত বলছি।
শুনো, আমাদের ছেলে না মানে তোমার ছেলে সুশীলা আছে না?
ওকে আমি অপহরণ করেছি।
আর ওকে অক্ষত দেখতে চাও তো, পুলিশ স্টেশনে গিয়ে একটা রিপোর্ট লিখাও।
বুঝতে পারছো।
আর যদি আমাকে খোঁজার চেষ্টা করো বা আমার কাছে আসো তাহলে সুশীলাকে আর কখনো জিন্দা দেখতে পাবে না।
হ্যালো, ভারত।
ভারত...
এই গঙ্গা, দেবি ভাইয়া কোথায়?
আরে জলদি ওনাকে নিয়ে বাড়িতে আয়।
আরে, মা।
কী হয়েছে? কী হলো?
মা...
ঔই ভারত আমার সর্বনাশ করেছে!
কী হয়েছে?
- কী হয়েছে, দেবরজি? - আরে ভাবীজি...
কেন এমন ছুটাছুটি করছো?
- হারি... - ভাইয়া।
বোবাটা কী বলতেছে কিছুই বুঝতেছি না।
ভাইয়া, ঔই ভারত আছে না?
হ্যাঁ...
...ও আমার সুশীলাকে অপহরণ করেছে।
কী বলতেছিস...
কিছু একটা করো, সুশীলার বাবা।
চুপ কর।
- চুপ। - আচ্ছা শুনো...
তোমারা থানায় যাও আর সুশীলার নামে রিপোর্ট লেখাও।
আরে বাবা, এই কথাই তো ভারত বলছিলো।
" থানায় যেয়ে রিপোর্ট লিখাও নইতো সুশীলাকে মেরে ফেলবো।"
- তাহলে চলো। - চলো চলো।
চলো চলো, জলদি চলো।
উনাকে দেখো।
বেদনায় পাগল হয়ে গেছে বেচারি!
পাগল আমি না, তোমরা হয়েছ।
খুবই সূক্ষ চাল চেলেছে আমার ভাতিজা।
ও চায় আমরা পুলিশের কাছে ওর নামে রিপোর্ট লেখাই।
...যাতে ওর নাম চলে আসে সরকারি কাগজে, আর ও হয়ে যায় জীবিত।
বুঝেছ?
আরে মা, কত বুদ্ধিমতি তুমি!
বাবা, তোমার মা শকুনি মামার মায়েরও মা।
কাউকে কোথাও যাওয়ার দরকার নেই।
যার যার কাজে যাও।
আর ভারত লালের নাটক দেখো।
রুকমিনি।
মনে হয় পুলিশ চলে আসছে আমাকে গ্রেফতার করতে।
আমি পুলিশ ওয়ালার জন্য কিছু খাবার-দাবার নিয়ে আসি।
দেবদূত আসতেছে।
হে প্রভু, এরকম কৃপা সবসময়ই আমার উপর বর্ষণ করুন।
গ্রেফতার করিয়ে দিন আমাকে।
ভারত লাল।
ভারত লাল।
কোথায় চলে গেলো?
জানি না।
সড়, বসতে দে।
দেখ আমার মার্বেল পড়ে গেছে।
তুলে দে।
এখন আমাকে চালতে দে।
বল দে আমাকে।
কী বলছো?
ও সুশীলাকে মেরে ফেলেছে, আর মেরে এই ক্ষেতে ফেলে গেছে?
হ্যাঁ, ভাই।
মা।
এই চুপ কর।
এর মধ্যে নিশ্চয় ভারতের কোনো চাল আছে।
- ও একটা ইঁদুর পর্যন্ত মারতে পারে না। - ঠিক বলেছো, মা।
এই সুশীলার ডানা বেরিয়েছিল নাকি?
চাচা। দেবি ভাইয়া।
এই, আরুন ভাইয়া।
একদম ঠিক সময়ে এসেছ ভাই।
আসো।
এটা দেখে বলো তো এটা মানুষের রক্ত নাকি মুরগের।
নাকি মুরগির?
আরে মুরগ হোক বা মুরগি, লিঙ্গ জেনে কী করবে তুমি?
আরে এটা তো আমার মুরগির রক্ত।
তোমাদের ভারত ভাইয়া এসেছিলো আমার দোকানে এই শার্ট নিয়ে!
আরুন ভাই।
এটাকে মুরগির রক্তের মধ্যে চুবিয়ে দাও তো।
হ্যাহ...
আরে মানত করছি।
সেটা পুরো হয়ে যাবে...
..তারপর এটা প্রমাণিত হবে এমনকি আমার শরীরে মানুষের রক্ত আছে।
আমি তো বলেছিই এর মধ্যে ভারতের কোনো চাল আছে।
এখন দেখো..
...দেখো এখন ও নিজে আসবে, আমাদের সুশীলাকে ছেড়ে দিতে।
চাচা, অপহরণ অপহরণ খেলে অনেক মজা পেয়েছি।
পরের বার আবার এই খেলাই খেলবো।
না বাবা। অপহরণ অপহরণ খেলবো না।
অন্য কোনো নতুন খেলা খেলবো।
আচ্ছা চাচা।
আরে বাহ, ভালো হয়েছে তোমাদের এখানেই পেয়ে গেলাম।
বাবা।
এই নিন আপনার সুশীলা রাজা কে।
- বাবা, তোমাকেও অপহরণ অপহরণ খেলা শিখিয়ে দিবো। - আসো আমার সাথে।
আরে কেমন বাবা- চাচা তোমরা?
কোনো এফআইআর পর্যন্ত লেখো নাই থানায়।
এফআইআর.. হ্যাহ।
সবসময়ই কিছু না কিছু করে ঝামেলা করে, শালা।
কোথায় ভাগছিস তুই?
মেরে পা ভেঙে দিবো আজ।
মার ওকে।
মার ওরে।
ধর ওকে
পালিয়ে যাচ্ছে...
পাগল হয়ে গেছে মনে হয়।
আরে কী করছিস তুই?
ওরে বাবা রে।
- ওরে বাবা। - আরে এই, কী করতেছিস?
এই...উঠ।
সোজা হয়ে দাঁড়া।
কোত্থেকে আসে এসব!
এই দেখেন।
কে মারছে?
আমার চাচাতো ভাই দুষ্ট হারিলাল ভাইয়া, রাক্ষস দেবি লাল আর শয়তান গঙ্গা।
- ৩ জন মিলে মারছে। - তুমি এটা বলো, ঝগড়া হলো কেন?
হুজুর, একটা কথা বলেন, আমি যদি আপনার বাচ্চাকে অপহরণ করি তো আপনি কী করবেন?
তোমার ঘারটা ধরে এক মিনিটের মধ্যে জেলে ভরে দিবো।
আর এই রেজিস্ট্রারটা দেখছো...
এখানে তোমার নামে ২৫ ডজন কেস লিখে দিবো।
শুধু এই লোভে...
এই লোভে আমি আমার ভাতিজাকে অপহরণ করেছিলাম...
...যাতে একটা কেস উঠে আমার নামে।
কী?
আরে তুমি তোমার ভাইয়ের বিরুদ্ধে রিপোর্ট লিখতে আসছো নাকি নিজেকে গ্রেফতার করাতে?
হুজুর, আমি আমার অপরাধ স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করতে আসছি।
দেখো ভাইয়া, এভাবে গ্রেফতার হয় না।
গ্রেফতার করার জন্য কাগজের প্রক্রিয়া আছে।
- এটা কী রে? - কাগজ প্রক্রিয়া।
তুমি কি ঘুষ দিচ্ছ ঘুষ?
আপনি না নিলে খুবই আশ্চর্য হবো...
...আমাদের দেশে একজন এমন দারোগাও আছে।
হুম।
ওই টব টা দেখছিস?
ওইটার নিচে রেখে দে।
রেখে দিয়েছিস?
এখন যা, সামনের সপ্তাহে আসিস।
সামনে সপ্তাহে কি আবার টবে পানি দিতে হবে?
আরে তখনকারটা তখন দেখবো।
এখন যা।
এই, সোজা হয়ে যা।
নাটকবাজ একটা...
এটা কী করছো?
ভগবানের কাছে প্রার্থনা করছি, যেন তোমাকে গ্রেফতার করে।
ভগবান খুবই দয়ালু। জেলে ডুকিয়ে দিন একবার।
সব দুঃখ কষ্ট চলে যাবে।
সাহেব, দারোগা সাহেব।
- আমি চলে আসছি, হ্যান্ডসাম। - হ্যাঁ বলো।
কী কাজ?
আমি এসেছিলাম সেদিন, এখানে ছটফট করছিলাম।
আরে ঔই দিন তো চা ওয়ালও এসেছিলো।
তুমি কোন কাজে এসেছিলে?
আমি এসেছিলাম আমার পাপ স্বীকার করে আত্মসমর্পণ করতে।
আরে এতই যদি পাপ স্বীকার বোধ থাকে...
..তাহলে পাপ স্বীকার করে কোনো নদীতে ঝাপ দিয়ে আত্মহত্যা করো।
এক মৃত মানুষ কিভাবে আত্মহত্যা করতে পারে?
- আচ্ছা.. - এক কাজ করেন, আমাকে গ্রেফতার করেন।
আরে আমরা জীবিত মানুষদের গ্রেফতার করি, মরা মানুষদের না।
- করেন না, প্লিজ। - এই চলো।
আমার বউ পূজা করে আমাকে পাঠিয়েছে... গ্রেফতার করেন স্যার...
স্যার... স্যার... কি হলো?
নিজেরই ভাতিজাকেই অপহরণ করলেন।
কীসের অপহরণ, ম্যাডাম।
দুনিয়াভর টাকা খরচ করলাম, অথচ আমার বিরুদ্ধে একটা এফআইআর পর্যন্ত লিখাতে পারলাম না।
ওহ, ভারত লাল। আপনার দুঃখ আমি বুঝতে পারছি।
কিন্তু এমন কাজ করলে, শুধু নিজেরই না আপনার পরিবারকেও বিপদে ফেলবে।
কীসের বিপদ, ম্যাডাম?
এরচেয়ে বিপদ আর কী?
ঘুষখোর মানুষ ভুলটা করে ফেলেছে।
সমাধান কেন দেয় না এই লোক।
সোজা কথা, ভারত লাল।
ভুল সমাধান করার মানে হলো, ভুল স্বীকার করা।
আমাদের সিস্টেমের ভুলটা হলো, ভুল সমাধান করা না ভুলটা স্বীকার করা, বুঝেছেন আপনি?
অসুখ ধরতে পেরেছি, ম্যাডাম।
এখন ঔষধটাও বলে দেন।
এক কাজ করেন...
আপনার নামের সামনে 'মৃত' শব্দটা লাগিয়ে নিন।
ভারত লাল, মৃত।
যে শুনবে প্রথমবারেই কাহিনি বুঝে যাবে।
ঠিকই তো।
বাহ, ম্যাডাম।
মৃত ভারত লাল।
ভারতের ছেলে তাও আবার মৃত।
আসরাফি দেবীর উপদেশ মেনে ভারত লাল...
...গ্রামের মানুষের সামনে বিধি বিধান পূজা করে নিজের নামকরণ সম্পুর্ন করে।
আর ওই দিন বোনাস হিসাবে...
...পেয়ে গেলো নিজের মতোই কিছু মৃত মানুষ। তাও আবার ফ্রি।
আমরা সবাই মৃত।
এরপর ভারত লাল পুরো প্রদেশ থেকে নিজের মতো কাগজে মৃত মানুষদের একত্র করলো।
...আর একটি রাজনৈতিক দল বানিয়ে ফেললো।
আমি, মৃত ভারত লাল।
মাননীয় মহোদয়া আসরাফি দেবীজিকে...
...অনেক ধন্যবাদ, কারণ তার সাহায্য নিয়ে আমরা এই পর্যন্ত আসতে পেরেছি।
মজা করে মানেন বা সরকারি কাগজের হিসাবেই মানেন...
...এখানে যারা বসে আছে তাদের মধ্যে অনেক মানুষই মৃত।
ভূত।
ভূত নাম্বার ১.খুদিরাম, গান্ধিনগর থেকে।
ভূত নাম্বার ২, বাশেসার ভাই।
ভূত নাম্বার ৩, আহমেদ ভাই বালিয়া থেকে।
আর ভূত নাম্বার ৪, মজেশজি।
উনি এতটাই হতভম্ব যে, উনার ঠিকানাও উনি বলতে পারে না।
আর ভূত নাম্বার ৫, রাণী সারাই থেকে সিতা দেবী।
আপনাকে ভূত বলবো নাকি ভূতনী নিজেই বুঝতেছি না।
সবার নাম নেওয়া তো মুশকিল...
...এই লিস্টে লেখা আছে।
তো, এজন্য ম্যাডাম আসরাফি দেবীর আশীর্বাদে...
...আমরা সবাই মরা মানুষ একসাথে হয়ে একটা সংগঠন বানানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
আর...
ম্যাডাম, একটু উঠে উন্মোচন করে দিন।
আমাদের দলের নাম ওই পর্দার পিছনে লেখা আছে।
- অল ইন্ডিয়া মৃত সংঘ। - জিন্দাবাদ...
- অল ইন্ডিয়া মৃত সংঘ। - জিন্দাবাদ...
এই তোমার ভাই?
- অল ইন্ডিয়া মৃত সংঘ। - জিন্দাবাদ...
হ্যাঁ।
ম্যাডাম এখন পতাকা উত্তোলন করবেন।
রাস্তায় ঘুরে বেড়ানো ব্যান্ড-মাষ্টার আসরাফি দেবীর সাথে উঠাবসা করছে।
কিছু দমতো আছে ওর মধ্যে।
তাই তো তোমরা আমার কাছে এসেছ।
আরে কিছুই করতে পারবে না তোমার ভাই।
এই রকম অনেক হয়।
কত কাজ তো আমি নিজেই করছি।
জ্বী।
আমি হলাম বিধায়ক। (বিধায়ক=এম. এল. এ.)
এত বছরের তেল আর লাখো মানুষের খেল এই কাগজ-ওয়ালাকে নষ্ট করতে দেব নাকি!
নিশ্চিত থাকো নিশ্চিত।
সরকার, আপনিই তো দাতা।
আমাদের সংগঠনের দুর্দান্ত সাড়া পেয়েছি।
আর দেশের বিভিন্ন জায়গা থেকে মৃত মানুষ আসছে...
...আর আমাদের সংগঠনে যোগ দিচ্ছে।
- অল ইন্ডিয়া মৃত মানুষের সংগঠন... - জিন্দাবাদ...
স্পিকার মহোদয়া...
সভায় উপস্থিত সকলের সামনে আমি এক গুরুত্বপূর্ণ সমস্যা বলতে চাচ্ছি...
...এখনকার সময়ে আমাদের দেশে এক অদ্ভুত সমস্যা তৈরি হয়েছে।
সমস্যার নাম হচ্ছে, জীবিত মৃত।
ম্যাডাম, এখানে জীবিত মানুষের ন্যায় মিলে না...
...আর আপনি মরা মানুষদের ন্যায় দিবেন!
জাগানপালের হাসিতে সোনিয়ার মন ভেঙে গেলেও..
...এখন সে ভারত লালের কাহিনি...
...শুধু দেশেই না বিদেশেও পৌঁছে দিবে।
ভারত লাল, নেও ভাই। উদ্ভোদন করো।
- আমি? - আরে ভাই তুমিই এখন বিখ্যাত মানুষ।
পত্রিকায় সবসময় তোমার ছবিই ছাপা হয়।
হয়তো এই কারণে তোমার সাথে সাথে আমার ছবিও ছাপিয়ে দেয়।
আর তাছাড়াও, তুমি আমার জন্য শুভ।
যেদিন থেকে ওনার কেস আমি নিয়েছি সেদিন থেকে আরো কেস আসা শুরু করছে।
সেজন্যই তো এই দোকান খুলেছি।
আমারটা বন্ধ হয়ে গেলো, আর উনারটা খুলে গেলো।
- আরে তুমিও ভাই! - আসো।
- এখানে কাটবো? - হ্যাঁ, কাটো কাটো।
ধন্যবাদ। ধন্যবাদ।
আচ্ছা সাধু রামজি, এখন তো আপনি বড় উকিল হয়ে গেলেন।
ফি ও কি...
ভাইয়া, ফি তো এখন পরিবর্তন হবে...
আজ থেকে তোমার কাছে আমার ফি হবে...
....আমি যখনই তোমার বাড়িতে যাবো, তখন রুকমিনি ভাবীর হাতের চা আর গ্লুকোজ বিস্কুট দিতে হবে।
- দিতে পারবে ফি? - এটা হয়ে যাবে।
আপনি তো আমার বোঝা হালকা করে দিলেন।
- কীভাবে ভাই? - আজকাল কোনো কাজ-টাজ নাই।
যখন থেকে মৃত হয়েছি, তখন থেকে কেউ শুভ কাজেও ডাকে না।
এখন তো মাঝেমধ্যে খাবারের সমস্যাও হয়ে যায়।
আমি জীবিত থেকেও রুকমিনি বিধবা জীবন যাপন করছে।
ওহ...
- ভারত লাল? - জ্বী
এই সরকার বিধবাদের আজকাল বিধবা পেনশন দিচ্ছে।
হ্যাঁ...
ভাবীকে সেখানে পাঠাচ্ছ না কেন?
হয়তো পেনশন পেয়ে যাবে।
আর যদি না পায়, সরকারের মুখে থাপ্পড় পরে যাবে।
থাপ্পড় দেওয়াটাই ঠিক হবে।
"The government's declared him dead..."
"...but my husband's still alive."
"The government's declared him dead..."
"...but my husband's still alive."
"...my husband's still alive."
"...my husband's still alive."
"...my husband's still alive."
"...my husband's still alive."
"...but my husband's still alive."
"The government's declared him dead..."
"...but my husband's still alive."
বুকটা ধুকধুক করছে।
আচ্ছা।
কী বলবো ভিতরে গিয়ে?
আরে তুমি মরা মানুষের স্ত্রী। ভয় পেয়ো না।
ঠিক আছে? চলো।
চলো।
- তুমি আসো না আমার সাথে। - হ্যাঁ আমি গিয়ে বাইরে দাঁড়িয়ে থাকবো।
- যাবো তো আমার সাথে? - হ্যাঁ।
তো আপনার স্বামী ভারত লাল মারা গেছে।
জ্বী, ১০ বছর হয়েছে।
কিন্তু আপনার সিথিতে তো সিঁদুর আছে।
জ্বী...
গলায় মঙ্গলসূত্র ও আছে।
জ্বী, আমার স্বামী আইনি হিসাবে মারা গেছে।
- এমন কীভাবে হতে পারে? - এমনই হয়েছে, সাহেব।
পাগলে হয়ে গেছেন নাকি?
দেখেন... স্বামী বেঁচে থাকার পরেও টাকার জন্য বিধবা সেঁজে এসেছে।
কলিযুগ এটা।
আমি হয়নি, সরকার বানিয়েছে।
এজন্য, সিথিতে সিঁদুর আর গলায় মঙ্গলসূত্র আছে তো কি হয়েছে।
আপনি আমাকে বিধবা গন্য করেন আর আমাকে বিধবা পেনশন দেন।
দেখুন দেবীজি, এই দুই রকম কথা হতে পারে না।
কেন?
কারণ, যে মহিলার সিথিতে সিঁদুর আছে, গলায় মঙ্গলসূত্র আছে, সে বিধবা কিভাবে হতে পারে?
তো আমার স্বামীকে জীবিত ঘোষণা করেন।
এটা আমার কাজ না। সরকারের কাজ।
সাহেব, আমাদের জন্য তো আপনিই সরকার।
আর আপনিই বলছেন এই কাজ আপনার না সরকারের।
তো আমরা গরিব মানুষেরা কোথায় যাবো?
কার দরজায় গিয়ে খটখট করবো? কে আমাদের ন্যায় দিবে?
অনেক ক্লান্ত আমরা সাহেব, কোনো রাস্তা দেখিয়ে দিন।
না খেয়ে মরছি, সাহেব।
দেখুন, লাঞ্চের সময় হয়ে আসছে।
খাবার খেতে দেই আপনাকে।
কী হয়েছে, রুকমিনি?
আপনি কে?
আমিই ওর স্বামী।
আপনি উনার স্বামী।
তো আপনিই সেই লোক। যে ১০ বছর আগে মারা গেছে।
আসেন আসেন, মহারাজ। আপনাকেও খাবার খেতে দেই।
এত নাটক করার কী দরকার।
আপনাদের ক্ষুদা লাগলে বলুন ভাইয়া ক্ষুদা লাগছে,
খাবার লাগবে, খাবার খেতে দেন।
নাহয় কোনো মন্দিরের বাইরে বসে যান।
ভিখারি না আমরা!
ভিখারি না!
রুকমিনি।
রুকমিনি।
আরে কী হলো?
এখানে কান্নার কী হলো রুকমিনি।
আরে এই...
সরকারি আফিসে এমন হয়েই থাকে।
দাঁড়াও, রুকমিনি। কান্না করো না।
এই রুকমিনি।
সরকারি অফিসে এমন হয়েই থাকে।
আমি ১০ বছর ধরে দেখে আসছি।
আমিও কেঁদেছি, রাগ করেছি, আবার কখনো আমার মন ভেঙ্গেছে।
তোমার প্রথমবার ছিলো তো তাই।
সরকারি দপ্তরে...
রুকমিনি ভাবী নিজের এই অপমান সহ্য করতে পারেনি...
..তাই নিজের কষ্ট শুনাতে মামা-মামীর কাছে যায়।
যারা ছোটবেলা থেকেই উনাকে লালন পালন করে বড় করেছে।
আর সবসময় তার সুখের খেয়াল রেখেছিলো।
হুট।
সোনিয়াজি এটার মধ্যে আমার কাহিনি লিখেছে।
- আমরা তাহলে আসি। - ঠিক আছে। আমি আপনাদের ছেড়ে দিচ্ছি।
একটা ছবি তুলে নাও মামাজির সাথে।
হ্যাঁ মামাজি, বলেন...
বাবা, আমি আর তোমার দুর্দশা সহ্য করে পরছি না।
বাবা কিছু মনে করো না, আমি তোমার জন্য কিছু টাকা এনেছি।
এটা দিয়ে তোমাদের ব্যান্ডের কাজ আবার শুরু করে দাও!
এজন্যই সেখানে গিয়েছিলে?
না না বাবা, এমনটা না। ও আমাকে কিছু বলেনি।
মামাজি, আপনার স্নেহ আর ভালোবাসা আমার কাছে অনেক মুল্যবান।
আর আমার আত্মসম্মান অমূল্য ধন।
এটা টাকা-পয়সা বা কাজের কথা না, মামাজি।
কিছু মানুষ আমার সাথে অন্যায় করেছে।
আর ওদের বলতে হবে যে, তারা অন্যায় করেছে।
এটা মান-সম্মান আর আমার পরিচয় ফিরে পাবার লড়াই।
টাকা-পয়শার না।
আর আমার আত্মসম্মান?
এটার চিন্তা করো না তুমি?
এই বিজয়, যদি বইটা ছিড়ে না, মারবো তোমাকে।
আরে রুকমিনি, বিদেশের মানুষও জেনে গেছে।
সবজায়গায় আমার কাহিনি পৌঁছে গেছে।
আর তুমি আমাকে পিছু হটতে বলছো।
পিছু কেন হটবা তুমি?
লোভ লেগে গেছে খবরের কাগজ পত্রিকায় তোমার ছবি ছাপানোর।
সারা দিন শুধু এই কথাই ভাবো।
পাগল হয়ে গেছো তুমি?
তো কেন আসছো এই পাগলের কাছে।
ওখানেই থাকো, যেখানে গিয়েছিলে ভিক্ষা করতে।
কী বলতেছো, বাবা?
রুকমিনি, তুমিও বুঝার চেষ্টা করো।
আরে ও বুঝবে না।
ওর কথাতেই তো গিয়েছিলাম ব্যাংক থেকে লোন নিতে।
আমি তো সুখে ছিলাম। আমার ব্যান্ড মাস্টার ভালোই চলছিলো।
কিন্তু ও আমাকে জোর করে ব্যাংকে পাঠালো।
যেরকম সব মহাভারতের পিছনে এক দ্রুপতি থাকে না...
...তেমনি, আমার পিছনে তুমি আছো তুমি!
কী বললে?
শুধু এটা শুনারই বাকি ছিলো।
আমি চলে যাচ্ছি মামার বাড়ি, আর বাচ্চাদের নিয়ে।
যান।
আরে কী এইসব?
"না চাওয়া সত্ত্বেও সময়ের সাথে সাথে ভারত লাল আর রুকমিনির মধ্যে দূরত্ব বেড়ে গেলো।"
"বাহ রে জীবন, এক দিকে সম্পর্ক ভেঙে যাচ্ছিলো... "
"...অন্যদিকে নতুন সম্পর্ক।"
"...তৈরি হচ্ছিলো।"
বিয়ে সম্পন্ন হয়ে গেলো।
এখন তো একটু হাসি দেন।
অভিনন্দন। অভিনন্দন।
- প্রণাম, সাধু রামজি। - স্বাগতম আপনাকে।
- অভিনন্দন। - ধন্যবাদ।
- ভারত লালজি আসে নাই। - আরে ভাই ওতো অনেক বড় ধামাকা করছে।
তার আর সেই পিছনে ফিরে তাকানোর দিন নাই!
জানেন আপনি, ও নির্বাচনে দাঁড়িয়েছে, রাজিব গান্ধীর বিপক্ষে।
কী?
- অল ইন্ডিয়া মৃত সংঘ। - জিন্দাবাদ...
- অল ইন্ডিয়া মৃত সংঘ। - জিন্দাবাদ...
- অল ইন্ডিয়া মৃত সংঘ। - জিন্দাবাদ...
কঙ্কাল মার্কায় ভোট দিন।
ভারত লালকে জয়ী করুন।
কঙ্কাল মার্কায় ভোট দিন।
ভারত লালকে জয়ী করুন।
কঙ্কাল মার্কায় ভোট দিন।
ভারত লালকে জয়ী করুন।
- অল ইন্ডিয়া মৃত সংঘ। - জিন্দাবাদ...
- অল ইন্ডিয়া মৃত সংঘ। - জিন্দাবাদ...
- অল ইন্ডিয়া মৃত সংঘ। - জিন্দাবাদ...
কঙ্কাল, কঙ্কাল মার্কা দিয়ে নির্বাচন করবেন ভাই?
কেন ভাই? কঙ্কাল মার্কায় করলে কী সমস্যা?
এটা তো আমাদের সবার ভেতরেই থাকে।
আপনার ভেতরেও আছে।
সময় আসলে বাইরে বেরিয়ে আসবে।
চলো।
ভারত লাল নির্বাচন তো করলো, কিন্তু জেতার জন্য না।
হারার জন্য।
হারার খুশিতেও লাড্ডু খাওয়ালো সবাইকে।
কারণ তার পরিকল্পনা ছিলো, সে এলাহাবাদ কোর্টে আপিল করবে...
...সে যদি মৃতই হয়, তাহলে নির্বাচন বাতিল ঘোষণা করা হবে।
কারণ মৃত মানুষের নির্বাচনের জন্য...
নমিনেশন কিভাবে গৃহীত হতে পারে।
আর নির্বাচন বাতিল ঘোষণা করা না হলে তাকে জীবিত ঘোষণা করা হবে।
ভারত লাল, নির্বাচন তো শেষ হয়ে গেলো। এখন কী করবে?
সাধু রামজি, তোমার ভারত লাল তো খুব জোশ নিয়ে বেঁচে আছে।
হুজুর, আপনি যখন বিশ্বাস করেছেন তাহলে আপনি নিজেই...
...একটা কাগজে লিখে দেন, যে আমি জীবিত আছি।
দেখেছেন মহামান্য আদালত, আপনাকে বলেছিলাম না উনি একটা পাগল।
কয়েক বছর ধরে সরকারী কাজে বাধা সৃষ্টি করে পত্রিকার হেডলাইনে আসার চেষ্টা করছে সে।
উনার বউ নিজেই সবার সামনে বলেছে সে একটা পাগল।
আরে ভাইয়া, এটা তো সবার বউই বলে।
জজ সাহেবের বউও বলে হয়তো।
কিন্তু জজ সাহেবের বউ উনার বউয়ের মতো ছেড়ে চলে যায়নি।
কেমন বেকুবের মতো কথা বলছো তোমরা দুইজন।
মাঝখানে আমার বউকে টেনে আনছো।
আমি তো এখনো বিয়েই করিনি।
আমিই করি নাই।
হয় নাই আসলে।
আর ভারত লাল...
তুমি যে নির্বাচন বাতিল করার কথা বলছো, সেটা কোনো খেলা ছিলো না।
সাবেক প্রধানমন্ত্রী এতে জড়িত ছিলো।
তুমি জানো, একটা নির্বাচন করতে কতটা পরিশ্রম করা লাগে?
কতটা সময় ব্যয় হয়।
ওই লোকজন আর কোর্টের সময় নষ্ট করার জন্য...
...তোমাকে অনুমতি দেওয়া হয় নাই।
বুঝতে পারছো।
আরে হুজুর, কোর্টের তো শুধু সময়ই নষ্ট হচ্ছে...
...আর আমার তো পুরো জীবনটাই নষ্ট হচ্ছে।
এটার কী করবেন?
১২ বছর ধরে প্রতীক্ষায় আছি, আবার জীবিত হওয়ার।
তুমি জীবিত নাকি মৃত এই কেস অন্য আদালতে চলছে...
...যেটার সিদ্ধান্ত এখনো আসে নাই।
সাধু রামজি, এই কেস খারিজ করে দেই।
আপনার যা খুশি করেন, সব খারিজ করে দেন।
কিন্তু আমাকে জীবিত করে দিন।
কিভাবে জীবিত করবো, ভাই।
সরকারি কাগজ লেখক তোমাকে কাগজে মেরে ফেলেছে।
হুজুর, আপনি কাগজের কথা বলছেন, আর আমি মানুষের।
আপনি আদালত।
আপনি কাগজের কথা শুনবেন নাকি মানুষের কথা?
কাগজ বড় নাকি মানুষ বড়।
হৃদয় মানুষের বুকে নাকি কাগজের বুকে?
রক্ত মানুষের শিরায় নাকি কাগজের শিরায়?
বউ-বাচ্চা কগজের হয় নাকি মানুষের হয়?
যখন এই হিন্দুস্তান সোনার দেশ ছিলো না...
...আদালত তখনও ছিলো, কাচারি, কাগজ তখনও ছিলো।
কিন্তু মানুষের দুর্দশা আমার মতো হতো না।
আপনি দেখছেন না আমাকে?
এক জীবিত মানুষ দাড়িয়ে আছে আপনার সামনে, চিল্লাচ্ছে, মাথা ফাটাতে যাচ্ছে।
আপনি চোখ থাকতেও অন্ধ নাকি?
এখন পর্যন্ত তো শুনেছিলাম, আইন অন্ধ। আজ দেখছি, জাজও অন্ধ হয়।
আপনাকে তো জাজ না এক নাম্বার মূর্খ লাগছে।
নাম জানিস তুই উনার...
তাকে অপমান করার অপরাধে...
তাকে অপমান করার অপরাধে যা ইচ্ছা করেন আমাকে।
ফাঁসি দিন, শূলে চড়ান আমাকে।
কিন্তু এই ঘন্টা ঘরের ঘন্টার মতো মাঝখানে ফেলে দিয়েন না আমাকে।
বাহ মহারাজ, কবুতরের মতো চেয়ে আছেন আমার দিকে।
অনেক ভারী কথা বলে ফেলেছো ভাই।
আদালত স্থগিত করো।
আদালত স্থগিত করে দেও।
আদালত স্থগিত করা হলো।
চলো।
ওহ ভগবান।
ভারত লালজি, এটা কী করলেন? বিপদে পড়ে যেতে পারেন আপনি।
আরে কিছুই করি নাই।
জেনে-বুঝেই করেছি।
এখন এই কারণে গ্রেফতার করবে, আর রেজিষ্টারে নাম উঠে যাবে।
খুব ভালো করেছ।
মহারাজ, গুরু আপনি।
গুরু তো আপনি, আপনার থেকেই শিখছি আমি।
স্যার, আপনার মনে হয় না ওই লোকটা কে গ্রেফতার করা উচিত।
- কাচুরী এনেছ? - জ্বী, স্যার। (কাচুরী = পুরি জাতীয় খাবার)
রাধেশ্যামের দোকান থেকে।
- রাধেশ্যামের দোকানের? - জ্বী, স্যার।
ত্যাগী, আমি জজ।
এইটুকু কি বুঝতে পারবো না কাচুরী কোন দোকানের!
খুবই তিতা।
সেও খুব তিতা কথা বলেছে, কিন্তু সত্য কথা।
আসলে, আমাদের সিস্টেম সাধারণ মানুষের জন্য অত্যাচারী হাতিয়ার হয়ে গেছে।
এসবের সংশোধনি তখনি আসবে...
...যখন ভারত লালের মতো পাগল পাগলামির সীমা অতিক্রম করবে।
আমি ওর বিরুদ্ধে কোনো একশন নিবো না।
আর তুমি দেখে নিও, কোর্ট ওর কিচ্ছু করতে পারবে না।
আদালতে জনসম্মুখে জজকে অপমান করলো, তারপরও কোনো কেস রেজিস্ট্রার হলো না।
এমন সৌভাগ্যই ভারত লালের সবচেয়ে বড় দুর্ভাগ্য ছিলো।
কী মামাজি... লটারি লেগে গেলো নাকি?
আরে না রে, মা।
প্রথমে নির্বাচন, তারপর কোর্টে হাঙ্গামা...
অনেকদিন হয়ে গেলো, জামাইয়ের কোনো খবর আসছে না।
ঠিক আছে তো সব?
কী বলিস মা?
গিয়ে দেখে আসবি নাকি?
সবকিছু ভালোই আছে, মামজি।
ও হার মানার পাত্র না।
এটা ঝড় আসার আগের নিরবতা।
আমরাও আসছি।
বসে যান।
চুপ করুন।
রুকমিনি ভাবী ঠিকই বলেছিলো।
ঝড় এসেছিলো।
আসরাফি দেবীর সুপারিশে ভারত লাল...
...বিধান সভার ভিজিটর গ্যালারিতে...
...এমন কাজ করলো, যা উত্তর প্রদেশ বিধান সভার ইতিহাসে আজও লেখা আছে।
চুপ হয়ে যান।
শান্তি বজায় রাখুন আপনারা সবাই।
সারা দেশ দেখছে আমাদের।
অল ইন্ডিয়া মৃত সংঘ... জিন্দাবাদ।
অল ইন্ডিয়া মৃত সংঘ... জিন্দাবাদ।
অল ইন্ডিয়া মৃত সংঘ... জিন্দাবাদ।
অল ইন্ডিয়া মৃত সংঘ... জিন্দাবাদ।
আমাকে জীবিত করুন।
আমাকে মৃত ঘোষণা করা হয়েছে।
আমাকে আবার জীবিত করুন।
আমাকে ন্যায় দিন
আরে এই বলদ কে?
আরে কিছু না, পাগল শালা। পত্রিকা পড়া শুরু করেন।
এটা ওর নিত্যদিনের নাটক।
আমি সন্ত্রাসী না।
আমি এই দেশের নাগরিক।
বান্দে মা তারাম।
চারদিকে ভালো আর হিন্দুস্তান আমাদের।
এই সংগীত গেয়ে আমিও বড় হয়েছি।
আরো শোনেন...
এই লিফলেট শুধু আমিই ছুড়েছি।
আমাকে ন্যায় দিন।
আমাকে জীবিত করুন।
আমাকে কাগজে মেরে ফেলেছে।
আমাকে জীবিত করুন।
আমি কোথায় যাবো?
আপনি যদি ন্যায় না দেন, তাহলে কে আমাকে ন্যায় দেবে।
অল ইন্ডিয়া মৃত সংঘ... জিন্দাবাদ।
এটা কী হচ্ছে, মহোদয়।
কাগজের জায়গায় তো বোমও হতে পারতো।
কাগজের বোম।
ছাড়ো আমাকে।
আমি যদি কোনো অন্যায় করি, তাহলে আমার নামে রিপোর্ট লেখাও। আমাকে ফাঁসিতে ঝুলাও
ঔই জীবিত লাশটা যে এসেছে তার খাতির যত্ন তো করুন।
ভাগাত সিং ও তো লিফলেট ছুড়েছিল, তাকে তো জেলে পাঠানো হয়েছিল।
আমাকেও জেলে পাঠিয়ে দিন।
ফাঁসিতে ঝুলান আমাকে।
- জেলে পাঠান আমাকে। - লিফলেট ছুড়বি?
যোদ্ধা হবি তুই?
দাঁড়া সোজা হয়ে।
আর কী কী লুকিয়ে রেখেছিস দেখা।
প্যান্টের ভেতরে কী লুকিয়ে রেখেছিস। এই ওর প্যান্ট খুলো।
সব কাপড় খুলো। ভালো করে দেখো কী কী লুকিয়ে রেখেছে।
- প্যান্ট খুলো। - আমার কাপড় খুলো না।
মারো ওকে।
বের কর সব।
ভাগাত সিং হইতে আসছে।
মারো।
লিফলেট ছুড়বি?
পাগল ও পাগল।
ভূত চাচা।
তোমার মাথা খারাপ হয়ে গেছে নাকি।
ভাগাত সিং হবি তুই।
আরে পাগল শালা উন্মাদ একটা।
এই কুত্তা ধরার গাড়ি ডাকো।
আরে ও তো আসলেই পাগল হয়ে গেছে।
পাগল একটা পাগল।
এটা ওর নিত্যদিনের নাটক।
আরে কিছু না পাগল হয়ে গেছে।
রামজির জন্য সহজ ছিলো রাবণকে মারা।
উনার ১০ মাথা ছিলো, কিন্তু সেটা দেখা যেত।
এখানে সিস্টেম নামে রাবণের না জানি কত মাথা, কত মুখ, কত চোখ।
যখনি কেউ মুখ খুলে তখনি গরিবকে বলি বানায়। তার অধিকার ছিনিয়ে নেয়।
কিভাবে লড়বো এই সিস্টেমের সাথে?
ভারত লালের মনো একেবারে ভেঙ্গে গিয়েছিলো।
আর এখন তার নিজের বউ আর বাচ্চাদের সঙ্গ দরকার ছিলো।
শুনো না, বাড়িতে চলো বাচ্চাদের নিয়ে।
যা বলবে তাই করবো।
এই জীবিত হওয়ার লড়াই ছেড়ে দিবো। আমি মৃতই ঠিক আছি।
জানো, জীবনে আমি সবচেয়ে বড় ভুল কী করেছি?
- হ্যাঁ, আমাকে বিয়ে? - না...
তোমাকে ছেড়ে চলে আসছি।
ভারত। চা।
আর তার চেয়ে বড় ভুল কী হবে?
এখন তোমার সাথে গেলে তোমার ভাঙ্গা মনোবল আরো ভেঙ্গ দেওয়া হবে।
এই লড়াই এত বছর ধরে তোমার জীবনের বুনিয়াদ হয়ে গেছে।
লক্ষ হয়ে গেছে।
এই লড়াইয়ে তোমাকে আমাদের সবার জন্য জিততেই হবে।
এখন তোমার সাথে যেয়ে, তোমাকে আর দুর্বল করবো না।
তুমি পাগল ছিলে...
...পাগল আছো।
...আর পাগলই থাকো।
যখন জিতে আসবে তখন সবার আগে ফুলের মালাটা আমিই পরাবো।
আর যদি হেরে যাই তো?
কোথাও শুনেছিলাম....
যদি মানুষ হেরেও যায় তবে কাজ করেই হারা উচিত, যা সে মন থেকে চায়।
তোমাদের মা 'মাদার ইন্ডিয়া'!
Movie Name: Kaagaz-কাগজ অনুবাদে: ইবনুল হাসান
সম্পাদনায় রবিউল আওয়াল জীবন
ম্যাডাম?
এটা ভারত লালের শোভাযাত্রার নিমন্ত্রণ পত্র।
"লেখপাল? স্বহা।"
"ন্যায়পালিকা? স্বহা।"
"সরকারি সিস্টেম? স্বহা।"
"বিধান সভা স্বহা।"
ফেলে দিও না, ভাই।
মৃত্যুশয্যায় শুয়ার অভ্যাস নাই আমার। খুব ভয় লাগে আমার।
ওহ...
এদিকে আয়।
খাট টা তো ঠিক কর।
পুরো টাকাটা পাসনি।
ভাইয়াজি, সবসময় তো এটাতে মৃত মানুষই শোয়।
আজ পর্যন্ত তো কোনো আভিযোগ আসে নাই।
আসো, আসো ভারত ভাইয়া।
তোমার জন্য স্পেশালভাবে তৈরি।
সব তো চলে পেট্রোলে, আর এটা তো ডিজেল।
বালিশ দিয়ে দিয়েছি।
- অল ইন্ডিয়া মৃত সংঘ... - জিন্দাবাদ।
- অল ইন্ডিয়া মৃত সংঘ... - জিন্দাবাদ।
চলো চলো ভাই।
শুভ সময় চলে যাচ্ছে।
- অল ইন্ডিয়া মৃত সংঘ... - জিন্দাবাদ।
- অল ইন্ডিয়া মৃত সংঘ... - জিন্দাবাদ।
- অল ইন্ডিয়া মৃত সংঘ... - জিন্দাবাদ।
দেখুন... দুনিয়ায় পুরুষরা নারীদের আগে যেতে দেয় না।
দেখেছেন, একটা খাটেও কোনো মেয়ে নাই।
তুমি ঠিক বলেছো। সব পুরুষ একই রকম হয়।
জিন্দাবাদ...
- অল ইন্ডিয়া মৃত সংঘ... - জিন্দাবাদ।
আসেন নেতাজি, এই সব সমস্যার কারণ এই লোকগুলো।
এদের বলেন, ঐ পাগলের জমি ফিরিয়ে দিতে। আর পারিবারিক সমস্যা দূর করতে।
নইতো ঔই পাগল সব খেলা উল্টাপাল্টা করে দিবে।
দেখো এই পন্ডিতকে।
মানে আমরা আমাদের জমি ফিরিয়ে দিয়ে ফেঁসে যাই।
আরে তোমরা কেন তোমাদের আত্মীয়দের জমি ফিরিয়ে দিচ্ছ না, যা নিয়ে বসে আছো।
এই...চুপ!
একদম চুপ।
তিল থেকে তেল বানানো বন্ধ কর।
নেতাজি, এক ফুলকি আগুন পুরো জংগলে আগুন লাগিয়ে দিতে পারে।
এমন এক ফুলকি আগুন আমি হিসু করে নিভিয়ে দিতে পারি।
ভাই ও বোনেরা...
...আজ এক নতুন সূর্য্যের উদয় হবে।
এজন্য আমরা জোরপূর্বক মৃত সংঘ শোভাযাত্রা বের করেছি।
যেন সরকার ও প্রশাসন আমাদের সমস্যার সমাধান দিতে পারে।
মানুষ মৃত্যুর পর লাশের খাটে উঠে...
... আমরা জীবিত অবস্থায় লাশের খাটে যাচ্ছি।
আমরা সরাসরি সরকারি কাগজের দপ্তরে হামলা করবো।
আর সরকারি কাগজে নিজেরাই নিজেদের জীবিত করবো।
সোনিয়াজি, ভারত লাল আইন হাতে নিয়ে নিজেই নিজেকে বিপদে ফেলছে।
নমস্কার, কেভটজি।
আমি সি.এম. সাহেবকে জানিয়েছি। তিনি এখনি চলে আসবে।
প্লিজ, আপনারা ওদিকে অপেক্ষা করুন।
ধন্যবাদ।
না, স্যার।
এসব পাগলদের মিছিল।
আমরাই যথেষ্ট থামাতে।
থামিয়ে দেবো ওদের।
স্যার, এটা একটা ক্রিকেট খেলার মতো।
খেলবে ২২ জন, দেখবে হাজার জন।
আমরা ওদের থামিয়ে দেবো।
আরে ভাই খুব গরম লাগছে। পানি তো খেতে দাও।
সাধারণ পানি নাকি গঙ্গা জল?
আরে দেও যেকোনো একটা।
ম্যাডাম, এটা তো ফল ধরার মৌসুম।
আপনি পাথর ছুড়েন আর না ছুড়েন...
...ফল আপনা আপনি আপনার ঝুড়িতে পড়বে।
আপনার জন্য জিত-জিত অবস্থা।
মানে?
আপনারা দয়া করে ওখানে বসুন।
চৌধুরী সাহেব, প্লিজ।
মানে হচ্ছে, আজ যা হচ্ছে তা হতে দিন।
যদি আজ ভারত লাল জিতে যায়, তাহলে নিজেই আপনাকে ক্রেডিট দিবে।
আর আপনি এক গরীব বেচারা মৃত মানুষের রক্ষাকর্তা হয়ে যাবেন।
আর যদি ওর কিছু হয়ে যায়...
...তবুও আপনাকে কঠোর হতে হবে, আর আইনের প্রতি শ্রদ্ধাশীল রাজনীতিবিদ হতে হবে।
এজন্য অপেক্ষা করুন আর দেখে যান।
আমি আপনার সাথে সহমত না।
কিন্তু আমি বুঝতে পারছি।
কৃষক জমিতে বীজ এই জন্যই বপন করে, যেনো একদিন ফসল কাটতে পারে।
আর রাজনীতিতে ছাগল এইজন্যই পালা হয়...
...যাতে সময় আসলে সেটার কুরবানী দেওয়া যায়।
মৃত কে সেটা আমি বলবো আপনাদের।
যার হাতে ন্যায় দেওয়ার অধিকার আছে, কিন্তু ন্যায় দেয় না....
সে হচ্ছে আসল মৃত।
আরে জীবিত মানুষরা...
আপনার মনের কাছে জিজ্ঞেস করে দেখুন, যে তুমি সত্যি জীবিত নাকি মৃত।
মহোদয় প্রথমত আপনাকে অনেক অনেক ধন্যবাদ, যে আপনি আমাদের এলাকায় এসেছেন।
- আমি আপনাকে ভারত লাল সম্পর্কে বলেছিলাম না? - হ্যাঁ হ্যাঁ, বলেছিলেন।
কিন্তু উকিল সাহেব, সে সামান্য একটা ব্যাপার নিয়ে পুরো প্রদেশে নৈরাজ্য চালাচ্ছে...
...যা ভালো কথা নয়।
- স্যার, ওই... - ১ মিনিট, স্যার।
এটা কোনো ছোট ব্যাপার না।
যখন থেকে আমাদের দেশ স্বাধীন হয়েছে তখন থেকে দেশের অনেক উন্নতি হয়েছে।
মানুষ চাঁদে পর্যন্ত পৌঁছে গেছে। আর আমাদের দেশ এখনো পুরোনো আমলে পড়ে আছে।
আমরা দুইটা যুদ্ধ জিতেছি, চারটা অলিম্পিক গোল্ড, এমনকি ক্রিকেট বিশ্বকাপ জিতেছি...
...দেশে পরমাণু শক্তি পেয়ে গেছি।
কিন্তু এই ভারত লাল যেখানে ছিল সেখানেই আছে।
স্যার ভারত লাল না চাঁদে যাবে, না বিশ্বকাপ জিতবে...
... না পাকিস্তানের সাথে যুদ্ধ করবে।
উনার তো শুধু উনার পরিচয় চাই।
শুধু ছোট একটা কাগজে লেখা চায়, যে সে জীবিত আছে।
শুনেছি।
ভাষণ ভালো ছিল।
কিন্তু সরকার ভাষণে চলে না, সিস্টেমে চলে।
- সরকারি কাগজ লেখক আমাদের মেরে ফেলেছে... - তার কলম দিয়ে।
স্যার, এখানে কিছু হওয়ার আগেই চলেন চলে যাই।
এভাবে কিভাবে কিছু হবে?
এটা তহসিল দপ্তর।
আর আমি এখানকার সরকারি কাগজ লেখক।
ওদের হুমকিকে আমরা কোথাও যাবো না।
সড়ে যাও।
আসো সবাই।
চলো।
চলো এই সরকারি কাগজ লেখককে মেরে দেই।
আর সমস্ত দোষ ভারত লালের উপর চাপিয়ে দেই।
আরে এটা পুরানো সরকারি কাগজ লেখক ভুরে লালের ভুল ছিল। এখানে আমার কি দোষ।
- আরে আমি কিছু করি নাই। - কাগজ বের কর।
আরে ১৮ বছরের পুরোনো কেস।
এখানে কেন থাকবে, ওগুলো রেকর্ড রুমে।
তাহলে চাবি দে।
এই ভারত ভাইয়া, ছাড়বো না আজ ওকে...
আমাদের লড়াই সিস্টেমের সাথে, এদের সাথে না।
মার সরকারি কাগজ লেখককে।
বের করো ওদের। ওরা আমাদের সদস্য না।
আমাদের সদস্যরা হিংসা করে না।
বের হ। ওরাই দেশের সম্পদ চুরি করছে।
- চাবি দাও - নাও
যাও খুঁজে নেও, খড়ের গাদায় সুই।
- চলো ওখানে। - চলো, ভাইয়া।
চলো ভেতরে চলো।
পুলিশ! পুলিশ!
আরে ওরা রেকর্ড রুমে চলে গেছে।
- ধরো ওদের। - বের করো ওদের রেকর্ড রুম থেকে।
ফলো করো ওদের, খুঁজে বের করো।
ওই উপরে।
ধরো ধরো। ধরো ওকে।
ধরো ওকে।
ভাইয়াজি, পেয়ে গেছি।
ভাইয়াজি, সালানপুর।
ভাইয়াজি.... সালানপুর।
"Covered under a dust..."
"...stashed away in paper..."
"...life was rotting away."
"The one I pined for..."
"...and was searching all my life for it."
"Finally I found that life."
"The world had to bow before your determination."
"Now the world says to you."
"May you live long..."
"May you live long..."
থামুন।
দয়া করে থামুন।
ভারত লাল, তুমি জীবিত।
ভারত লাল, তুমি জীবিত।
তুমি জীবিত, ভারত লাল।
এই দেখো।
মুখ্যমন্ত্রীর আদেশে সরকারি কাগজ লেখকের লেখা বাতিল করে দেওয়া হয়েছে।
এখন ভারত লাল কাগজেও জীবিত।
- অল ইন্ডিয়া মৃত সংঘ... - জিন্দাবাদ।
- ভারত লাল। - জিন্দাবাদ...
- ভারত লাল। - জিন্দাবাদ...
কানাইয়া লালের পুত্র, ভারত লাল
গ্রামঃ আমিলো, থানাঃ মোবারকপুর...
...জেলাঃ আজমগড়
...সরকারি আদেশে জীবিত ঘোষণা করা হলো।
উনার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করার জন্যে...
...আর উনাকে মৃত ঘোষণা করার জন্য...
...সরকারি কাগজ লেখক ভুরে পালকে...
...ভারত লালের চাচা আর চাচীকে...
- অল ইন্ডিয়া মৃত সংঘ... - জিন্দাবাদ।
- অল ইন্ডিয়া মৃত সংঘ... - জিন্দাবাদ।
আমি জীবিত হয়ে গেছি, রুকমিনি।
আমি বলেছিলাম না কাগজের কী ক্ষমতা, যে তোমার থেকে তোমার বাবা ছিনিয়ে নিবে।
কাগজ!
কখনো পত্রিকা, কখনো শুধুই কাগজ।
দৈনন্দিন কাজের প্রয়োজনীয়তায় কাগজ।
আসা যাওয়ার বিলাসিতা কাগজ।
জন্ম-মৃত্যুর আদেশে কাগজ।
ভালোবাসার চিঠিও কাগজের।
চাকরির আবেদনও কাগজের।
পতাকা তৈরীতেও কাগজ।
সম্পর্কের সাক্ষীও কাগজ।
বিয়ে বা নিকাতেও কাগজ।
তালাকের মতো গুনাহতেও কাগজ।
সৃষ্টি এবং ধ্বংসতেও কাগজ।
ক্ষেত,ঘর জমি ছিনিয়ে নিতেও কাগজ।
চোখের পানি মুছতেও কাগজ।
সব জায়গায় এসব দেখে মনে হয়..
...মানুষই তৈরী কাগজের।
কিছুই না আবার সবকিছুই কাগজ।
কি আজব জিনিস এই কাগজ।
শেষ পর্যন্ত দেখতে থাকুন.....
"বাংলা সাবটাইটেল দিয়ে মুভিটি উপভোগ করার জন্য ধন্যবাদ"♥ আমার করা প্রথম বাংলা সাবটাইটেল ছিল। জানি না সাবটার সাথে মুভিটা কতটুকু উপভোগ করেছেন। সাবটা ভালো লাগলে সাবসিনে গুড রেটিং দিবেন এবং ফিডব্যাক জানাবেন বাংলা সাবটেল সম্পর্কিত গ্রুপগুলোতে।
আমাকে মাফ করে দাও, বাবা।
- আপনার মাফ চাইতে হবে না, চাচী। - মাফ করে দাও আমাকে...
আপনি যদি আমাকে কাগজে মৃত ঘোষণা না করতেন...
...তাহলে আমি আমার জীবনের মূল্য বুঝতে পারতাম না।
আমাদের ভারতে যতটুকু জমি আছে না সব ওর নামে করে দে।
আমরা দিয়ে দিয়েছি।
চাচী, জমি চাই না আমার। জমির চেয়ে বেশি কিছু পেয়েছি আমি।
বাবা, মাফ করে দাও।
আপনি সুখে থাকুন, চাচী।
আমি আপনাকে মাফ করে দিয়েছি।
ভাইয়া, আপনি খুবই ভালো মানুষ।
- প্রণাম। - হ্যাঁ। আমি যাবো, চাচী।
ভাইয়া, ভারত লাল।
তুমি তো কাগজে জীবিত হয়ে গেলে।
কিন্তু আমাদের সবার কী হবে?
হ্যাঁ ভাই, আমাদের সবার কি হবে।
বাশেসার ভাই, এই দুনিয়া একটা রণক্ষেত্র।
যেখানে সত্য ও মিথ্যা নামের দুইজন যোদ্ধা যুদ্ধ করছে।
আর যতক্ষণ পর্যন্ত সত্য নামের যোদ্ধা মিথ্যা নামের যোদ্ধাকে নিচে না ফেলবে...
...ততক্ষণ পর্যন্ত এই লড়াই চলবে।
- অল ইন্ডিয়া মৃত সংঘ... - জিন্দাবাদ।
- অল ইন্ডিয়া মৃত সংঘ... - জিন্দাবাদ।
"Leave a few breath in me..."
"...as I still have hope in me."
"I still have a lot to give."
"The destination is still pining."
"My heart's not given up to pray."
"I still have to face a new challenge."
"Rise up again after you fall and be strong."
"Gather the straws to make a bridge and go across."
"May you live long..."
"May you live long..."
"May you live long...brother..."
"May you live long..."
"May you live long..."
"May you live long...brother..."
Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.