Afrikaans
Akan
Albanian
Amharic
Arabic
Armenian
Azerbaijani
Basque
Belarusian
Bemba
Bihari
Bosnian
Breton
Bulgarian
Cambodian
Catalan
Cebuano
Cherokee
Chichewa
Chinese (Simplified)
Chinese (Traditional)
Corsican
Croatian
Czech
Danish
Dutch
Esperanto
Estonian
Ewe
Faroese
Filipino
Finnish
French
Frisian
Ga
Galician
Georgian
German
Greek
Guarani
Gujarati
Haitian Creole
Hausa
Hawaiian
Hebrew
Hindi
Hmong
Hungarian
Icelandic
Igbo
Indonesian
Interlingua
Irish
Italian
Japanese
Javanese
Kannada
Kazakh
Kinyarwanda
Kirundi
Kongo
Korean
Krio (Sierra Leone)
Kurdish
Kurdish (Soranî)
Kyrgyz
Laothian
Latin
Latvian
Lingala
Lithuanian
Lozi
Luganda
Luo
Luxembourgish
Macedonian
Malagasy
Malayalam
Maltese
Maori
Marathi
Mauritian Creole
Moldavian
Mongolian
Myanmar (Burmese)
Montenegrin
Nepali
Nigerian Pidgin
Northern Sotho
Norwegian
Norwegian (Nynorsk)
Occitan
Oriya
Oromo
Pashto
Persian
Polish
Portuguese (Brazil)
Portuguese (Portugal)
Punjabi
Quechua
Romanian
Romansh
Runyakitara
Russian
Samoan
Scots Gaelic
Serbian
Serbo-Croatian
Sesotho
Setswana
Seychellois Creole
Shona
Sindhi
Sinhalese
Slovak
Slovenian
Somali
Spanish
Spanish (Latin American)
Sundanese
Swahili
Swedish
Tajik
Tamil
Tatar
Telugu
Thai
Tigrinya
Tonga
Tshiluba
Tumbuka
Turkish
Turkmen
Twi
Uighur
Ukrainian
Urdu
Uzbek
Vietnamese
Welsh
Wolof
Xhosa
Yiddish
Yoruba
Zulu
দেশি-বিদেশি যে কোনো মুভি কিংবা সিরিজের সাবটাইটেলের জন্য ভিজিট করুনঃ Bsubtune.xyz
জয়েন করুন আমাদের ফেসবুক গ্রুপ THAMBI-Movie and Subtitle World
ভালোবাসা এত মহান কিছু হলেও,
এটা শুধু ইতিহাসের পাতায় আর কবরেই শায়িত।
কারণ ভালোবেসে বিয়ে করে সুখে সংসার করতে পারলে
মোটেও এর মহত্ত্ব থাকতো না।
এজন্যই
ভালোবাসার অস্তিত্ব শুধুই ইতিহাসের পাতায়।
সমাজে এর কোনো ভবিষ্যৎ নেই।
কী বলেন?
UPPENA "জোয়ার"
সময়কাল [২০০২]
"কোটাগিরি সেশারায়ানাম" জেলা পরিষদ চেয়ারম্যান
"শুভ জন্মদিন কোটাগিরি সেশারায়ানাম"
- আরে গোভিন্দ? - জি, স্যার।
৭টা বেজে গেছে। বেবাম্মাকে কলেজে দিয়ে আয়।
হেই! বেবাম্মার কাপড়চোপড় রেডি কর।
- বেবাম্মা কলেজে যাচ্ছে। - তাই না-কি?
আরে, বেবাম্মা।
আরে, নাইনটি প্রকাশ।
চল বেবাম্মারে একটু উঁকি মেরে দেখি আসি।
রায়ানাম জানতে পারলে আমাদের মেরে ফেলবে।
খেয়াল রাখবো যেন ধরা না পড়ি। চল।
এই, তাড়াতাড়ি! তাড়াতাড়ি!
আরেকটু কাছে যা। এইতো।
আরে বিরক্ত না করে গাড়ি চালাইতে দে।
- যেভাবেই হোক ওকে আজকে দেখতে হবে। - অবশ্যই, একটু সবুর কর।
গাড়িটা চলে যাচ্ছে। তাড়াতাড়ি। চল।
বেবাম্মার গাড়ি ফলো করার সাহস কী করে হয় তোদের?
বেবাম্মাকে ফলো করার সাহস কোথায় পাস তোরা?
প্লিজ... জীবনেও আর এমন কাজ করবো না।
মনে হচ্ছে এই বদমাইশ দুটো বেবাম্মার পিছু নিয়েছিলো।
তারা তো আজকে মরবে।
প্লিজ ম্যাডাম, সেকশন-বি এর প্রথম ঘন্টার ক্লাসটা আমাকে নিতে দিন।
না। গত সপ্তাহেও সবগুলো ক্লাস আপনি প্রথম ঘন্টায় নিয়েছিলেন।
প্লিজ, ম্যাডাম। আমার শরীরটা ভালো ঠেকছে না।
না, এটা সম্ভব না।
প্লিজ।
ঠিক আছে। যান।
ধন্যবাদ।
শিক্ষার্থীগণ, আমাদের আজকের টপিক হচ্ছে "বেনজিন"।
আজকের ক্লাসটা হচ্ছে "উদ্ভিদের পরিবেশগত শ্রেণিবিন্যাস" নিয়ে।
বেবাম্মা সত্যিই অমায়িক একজন মানুষ।
সে আমার বাচ্চাকে নতুন পোশাক আর সাথে আমাকে ১০০০ টাকা দিয়েছে।
আর আমার মালিকটা শালার কিপটা।
মন্ডলের রাজস্ব অফিসার এসেছে।
রায়ানাম সাহেব?
রায়ানাম সাহেব?
কী অফিসার, কী এনেছেন?
রায়ানাম সাহেব উপরে আছেন। প্লিজ বসুন, স্যার।
বসার সময় নেই।
এগুলা ১৫০ বছর আগের সম্পত্তির দলিল।
সবগুলো নিয়ে এসেছি।
রায়ানাম সাহেব এবার সহজেই তার মৎস্য খামার নির্মাণের কাজ শুরু করতে পারবেন।
গিয়ে উনাকে ডেকে আনুন।
ঠিক আছে, স্যার।
৪০ মিনিট হয়ে গেছে। তাড়াতাড়ি আসতে বলুন।
এক্ষুনি এসে পড়বেন। প্লিজ ধৈর্য ধরুন।
এই, মাল নামাতে তোদের আর কতক্ষণ লাগবে?
রায়ানাম সাহেব?
রায়ানাম সাহেব?
বেবাম্মা ...
অনেক পড়াশোনা হয়েছে আজ, মা।
অনেক দেরিও হয়ে গেছে।
এই দুধ টুকু খেয়ে ঘুমাতে যাও।
অনেক হয়েছে, সোনামণি।
ওই বইগুলো একপাশে রাখো।
আমার কথা শোনো। একটু দুধ খেয়ে ঘুমাতে যাও।
তুমি আমার লক্ষ্মীসোনা, না?
আমি তোমার সাথে কথা বলছি।
আমার কথা শোনো।
খাও।
অনেক পড়াশোনা হয়েছে আজ।
৭টা বেজে গেছে। বেবাম্মাকে রেডি কর।
তো, শিক্ষার্থীরা...
সে আমাকে ১০০০ টাকা দিয়েছে।
স্যার...
- আপনার এখানে থাকা উচিত নয়। চলে আসুন। - সেখানে কেউই নেই।
- তিনি "খালি চেয়ারের" সাথে কথা বলছেন। - সে (বেবাম্মা) এখানেই আছে।
- এখানের সবাই এমন পাগল নাকি? - প্লিজ চলে যান।
- যে-কোনো অপরিচিত লোকই আপনাদের এটা বলবে। - প্লিজ চলে যান...
রায়ানাম সাহেব।
রায়ানাম সাহেব। স্যার...
আমার ভুল হয়ে গেছে।
প্লিজ মাফ করে দিন, স্যার...
রায়ানাম সাহেব।
স্যার...
আমি বিশ্বাস করি, আমার মেয়ে এখানেই আছে।
আর আমার বাড়ির লোকেরাও এটা বিশ্বাস করে।
পুরো একটা গ্রাম এটা বিশ্বাস করে।
আর আপনি বাইরে গিয়ে...
দুনিয়াকে বলতে চান যে আমার মেয়ে এখানে নেই।
আপনি কি আমাদের বিশ্বাস ভাঙছেন না?
যদি আমাদের বিশ্বাস নষ্ট হওয়া আর আপনাকে খুন করার ভেতর যেকোনো একটাকে বাছতে হয়...
আমি আপনাকেই খুন করবো।
রায়ানাম সাহেব...
কী বলেন?
আমিও বেবাম্মাকে দেখেছি।
রায়ানাম সাহেব...
আমি আপনার বিশ্বস্ত সহযোগী।
আমরা দু'জনই একই জাতের।
হেই, বের কর ওনাকে।
আসুন, স্যার। আপনি প্রথমেই কেন এটা বিশ্বাস করেননি?
এই বলদের বাচ্চা!
ওই রাজস্ব অফিসারকে মারলি কেন?
সে তো সত্যি কথাই বলেছে।
প্রায় ৫ মাস হয়ে গেছে, তোর মেয়ে বাড়ি ছেড়ে চলে গেছে।
আর পুরো গ্রামকে তুই বিশ্বাস করাচ্ছিস যে সে এখনো বাড়িতেই আছে।
তোমার সম্মান নিয়ে কখনোই তোমাকে চিন্তা করতে হয়নি।
কারণ মেয়ের পাশাপাশি তোমার একটা ছেলেও ছিল।
দিনের বেলায় সে যেখানেই যেতো,
তোমার ছেলে সন্ধ্যায় তাকে ঠিক ঘরে নিয়ে ফিরতো।
কিন্তু বাবা, আমার শুধু একটা মেয়েই আছে।
যখন আমি জানিই না যে, সে কোথায় আছে,
তখন আমার পক্ষে মাথা উঁচু করে চলাটা বেশ কষ্টদায়ক।
তুমি জানো সেটা?
আমি তাকে খুঁজে পেলে সে মরবে। না পেলে আমি মরবো।
কী বলো?
কয়েক মাস পূর্বে
আরে জোরে, হেঁইয়ো! টানো রে টানো, হেঁইয়ো!
আব্বুলু, আপনার তো জ্বর। এত জ্বর নিয়ে কাজে এসেছেন কেন?
এই ব্যাটা ডাক্তার! তুই আমার পাছায় ইঞ্জেকশন দিলি!
আপনার জ্বর। কাজ করতে না করেছিলাম আপনাকে।
তো আমাকে খাওয়াবে কে? তুই?
বাড়িতে না গেলে আমি আবার ইঞ্জেকশন দিবো।
- আপনার স্ত্রীকে প্রেসক্রিপশনটা দিবোনি। - যা ভাগ।
যদি শান্তিতে কয়েকটা মাছ ধরতে পারতাম বাল!
কিছু ধরতে পেরেছিস তোরা?
ধ্যাত! এবারও কোনো মাছ ধরতে পারিনি।
ধ্যাত! সেই একই সমুদ্র আর সেই একই নৌকা।
ওদের কপাল ভালো, আর আমরা দুর্ভাগা।
আজও কি খালি হাতে ফিরতে হবে?
আমরা কেন খালি হাতে ফিরবো?
চল ওদের জাল কেটে দেই। তাহলে, ওরা-আমরা সবাই খালি হাতে ফিরবো।
এ কী? জাল এত হালকা লাগছে কেন?
হেই!
ওই মায়াপাটনামের লোকেরা আবার আমাদের জাল কেটে দিয়েছে!
হেই, আসি!
আরে আসি, ওরা পালাচ্ছে। তাড়াতাড়ি চালা!
আরে আসি। বন্ধ কর এসব।
মারামারি বন্ধ কর। বন্ধ কর।
আমাদের এখানে এসে আমাদের জাল কাটার সাহস কী করে হয় তোর? তুই একটা...
শুয়োরের বাচ্চা!
তোদের দুজনের সাহস কী করে হয় এসব করার, হুহ?
আমরা আছি চারজন। দুজন দুজন করছিস কেন?
- কারণ "চার (Four)" বানানে চারটা অক্ষর। - তো?
চার উচ্চারণ করতে গেলে সে তোতলায়। সেজন্য,
তোদের চারজনকে সে জোড়ায় জোড়ায় ভাগ করে শাসাচ্ছে।
জাল কেটেছিস, মাছ ছেড়ে দিছিস, এখন এগুলার জরিমানা দে।
টাকা দে! টাকা দে!
আমরা কেন দিবো? আমাদের জাল কাটতে দেখেছিস?
- বালের কথা! টাকা দে! - না, দিবো না। কেন দিবো?
- মার শালাদের। - আমরা টাকা দিবো না।
আমরা টাকা দিচ্ছি না।
আমাদের কাছে ছুরি আছে মানে এই না যে আমরাই তোদের জাল কেটেছি।
তোরা আমাদের কাটতে দেখেছিস?
আরে, থালিম্পু।
বাসটা গ্রামের ভেতর চলে আসছে।
চল, কলেজে যাই।
আমি গোসল করেই আসতেছি।
- যা, রেডি হ। - আচ্ছা।
- মার্কেটে গিয়ে সুন্দর একটা জামা দেখেছিলাম। - তোর মা কী বলেছে?
- বললো তোর কলসি ছিনিয়ে নিতে। - আমার জল!
ওখানেই থামো!
নোকালাম্মা, কী হয়েছে?
সে আমার জল চুরি করে নিয়ে গেছে। গর্দভ কোথাকার!
যা ভাগ।
তুমি সবসময় ওর পিছনেই কেন? আর কোনো কাজ নেই?
শার্ট কোথায়? খুঁজে পাচ্ছি না।
শুনলাম তুই নাকি মায়াপাটনামের লোকদের সাথে ধস্তাধস্তিতে জড়িয়েছিলি?
সকাল সকাল শুরু করো না,বাবা।
আমার শার্ট খুঁজছি।
কোন শার্ট?
আসি, জলদি আয়।
কোথায় গেল?
কোন শার্ট?
এটাই!
দাঁড়া!
- আমি তো এটা পরে আছি। - গতরাতেই ইস্ত্রি করেছিলাম।
- শোন বাবা, আমাকে বেরোতে হবে। - খুলে ফেলো বাবা।
তোর অন্য কোন শার্ট নেই?
- না। - তোর সমস্যাটা কী?
দেখো কী করেছ! ভাঁজ পড়ে গেছে।
আসি...
যাবার আগে দয়া করে, বাইবেলের এই অংশটা পড়ে যা বাপ।
উচ্চারণ করতে পারি না এমন শব্দ দিয়ে ভর্তি এটা।
যেগুলো উচ্চারণ করতে পারিস না সেগুলো বাদ দিয়ে পড় বাপ।
অনেক কাজ পড়ে আছে বাবা।
- কতক্ষণ? - সামনে দেখ।
বাস আসছে?
হ্যাঁ, আসছে জলদি আয়!
- ভালো দেখাচ্ছে? - চল।
বাস চলে যাচ্ছে। চলে যাচ্ছে।
বাইক চালু কর।
- চল যাই। - চল।
দ্রুত চালা।
সে কি জানালার পাশে?
না, মনে হয় অন্যপাশে। চল!
ঠিক আছে।
ড্রাইভার আমাদের দেখে ফেলতে পারে। সাবধান।
যেতে থাক।
আরে, কী হলো?
মোটর বাইকের কী হলো?
বাইকও আশা ছেড়ে দিয়েছে। ধ্যাত!
দেখে চল! সাবধানে!
ঠিক আছে।
বুঝতে পেরেছিলাম, ঈশ্বরই আকাঙ্ক্ষা পূরণ করেন।
আমরা কার জন্য জন্মেছি তা কখনো গোপন থাকেনা।
ছোট থাকতেই বুঝে গিয়েছিলাম আমার জন্ম কার জন্য।
আচমকা আমি বড় হবার তাড়া অনুভব করেছিলাম।
হয় তার ভালোবাসা পাবো,
নয়তো তার মন জয় করতে ব্যর্থ হয়ে মারা যাবো।
মা।
দারুণ দেখাচ্ছে!
- কানাকাম। - আসছি জনাব।
আমার চশমা কোথায়? কোথায় তোমরা?
তোমার দাদার একটাই কাজ। সারাদিন আমার উপর চিল্লাতে থাকে।
- কানাকাম! - আসছি।
বিরক্ত হয়ো না,কানাকাম। তুমিও দ্রুত বয়স্ক হয়ে পড়বে
দাদুর মতো।
- কানাকাম! - দাদু...
রাগ করো না দাদু। রাগে দ্রুত বয়স বাড়বে।
- ঠিক আছে। - বসো এখানে।
বুড়ো হয়েছি কারণ আমার বয়স বেড়েছে। রাগের কারণে বুড়ো হইনি।
না দাদু, তোমাকে বয়সের চেয়ে বয়স্ক দেখায়।
সত্যি?
আমার সপ্তম শ্রেনীর শিক্ষক বলেছিলেন,
রাগান্বিত হলে আমাদের শরীর থেকে হরমোন বের হয়
যা আমাদের চামড়ায় ভাঁজ ফেলে।
তুমি সবসময় রেগে যাও। তাই,
আমি বাচ্চা থাকতেও, তোমাকে অনেক বয়স্ক দেখাতো।
এই দাঁড়া।
অবশেষে সফল হলে।
বাবাকে মানিয়ে মফস্বলের কলেজে ভর্তি হলে।
প্রথম বারের মতো, গ্রামে কোনো বাস আসছে।
বিশেষভাবে শুধুমাত্র তোমার জন্য।
তুমি অনেক সুন্দরী।
তোমাকে ভারী জিনিস বহন করতে হবে কেন?
আমাকে দাও ব্যাগটা। দাও দাও।
- দাও। - প্লিজ।
যেতে দাও, জানা।
বেবাম্মা।
- নুকালাম্মা? - হ্যাঁ, ফাদার?
গত সপ্তাহের ঈশ্বরের বাণী কী ছিল?
ভুলে গেছি ফাদার।
মনে হচ্ছে ফাদার ওর উপর রাগান্বিত।
চুপ থালিম্পু।
সবার বাইবেল বের করুন।
যে মেয়েকে ভালোবাসিস তার বাবাকে এড়িয়ে যাওয়াটা স্বাভাবিক।
কিন্তু তুই তো যে মেয়েকে এক যুগ ধরে ভালোবাসিস তাকে এড়িয়ে চলছিস।
তুই ওকে পাগলের মতো ভালোবাসিস।
যদি তার সাথে একবার দেখা করে প্রপোজ করি, হয়তো "হ্যাঁ" অথবা "না" বলবে।
না বললে তাকে আর দেখতে পারবো না।
এজন্যই দূর থেকে তাকে ভালোবাসি।
এটাই তোর লজিক?
কিন্তু তুই আমাকে এর মধ্যে নিয়ে এসেছিস, এই হেয়ালিপনায় আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।
ওই থালিম্পু! চুপ থাক।
ইশ্বর! ফাদার রেগে গেছে।
তৃতীয় অধ্যায়, জেনেসিস (সৃষ্টি)
শুরুতে ইশ্বর অ্যাডামকে(আদমকে) সৃষ্টি করেন।
পরবর্তীতে অ্যাডাম যখন চারপাশে উদ্দেশ্যহীন ভাবে ঘোরাঘুরি করতে লাগলো,
সে নির্বোধে পরিণত হবে ভেবে ঈশ্বর চিন্তিত হয়ে পড়লেন।
তাই ঈশ্বর অ্যাডামকে বললো "ব্যথা পেতে পারো কিন্তু সহ্য করে নাও।"
ঈশ্বর অ্যাডামের পাঁজরের এক টুকরো ভেংগে ইভকে(হাওয়া) সৃষ্টি করলেন।
বাইবেল অনুসারে নারীদের এভাবেই ধরণীতে আগমন ঘটে।
তাই কোন রমণীকে পেতে চাইলে অবশ্যই আমাদের পাঁজর ভাঙতে হবে।
সে এমনটা বলেছে?
কিন্তু এরকম কেন বলা হয় যে, মিথ্যাবাদীদের ঘরে মেয়ে জন্ম নেয়?
সত্যি?
যদি মিথ্যাবাদীরা সত্যিই মেয়ে বাচ্চাদের জন্ম দেয়, তাহলে এটা ভেবে অবাক হচ্ছি যে...
তার মত সুন্দরী'র জন্ম দিতে কতবড় মিথ্যাবাদী হতে হয়েছে?
হয়তো তার বাবা খুনের মত জঘন্য কাজও করেছে।
মালিক।
কড়া মিষ্টি হয়েছে, গোভিন্দ।
- মালিক। - চিনির পরিমাণ বেশি হয়ে গেছে।
মাফ করবেন মালিক!। আরেক কাপ নিয়ে আসছি।
দরকার নেই।
এক মুঠো চিনি দাও।
মুখ যদি মিষ্টি হয়,
চায়ের স্বাদ এত মিষ্টি লাগবে না।
তুমি যদি কিছু মোকাবেলা করতে চাও, তারজন্য যুদ্ধ করার দরকার নেই।
আমাদের কেবল অপছন্দের জিনিসগুলো সরিয়ে ফেলতে হবে।
কী বলো?
ডাক্তার।
তুমি সাধারণত গ্রামের মানুষের জন্য প্রেসক্রিপশন লেখো।
এবার, তুমি আর তোমার বন্ধু আমার বিরুদ্ধে কালেক্টরের কাছে অভিযোগ লিখেছ।
এটা কি সত্যি নাকি?
হ্যাঁ, এটা সত্য।
আমি তাকে এটা লিখতে বলেছিলাম।
আপনি আমাদের বাড়িঘর হাতিয়ে নেওয়ার চেষ্টা করছেন।
কোথায় যাবো আমরা?
আমরা হয়তো আপনার নৌকা ব্যবহার করি।
কিন্তু সমুদ্র আপনার ব্যক্তিগত সম্পত্তি না।
আমরা মৎস খামারের বিরুদ্ধে।
রায়নাম মৎস খামার আমার প্রয়োজনের কারণে তৈরি হয়নি।
আমার গৌরবের কারণে।
মালিক, তারা খুবই সহজ সরল মানুষ।
আপনি যদি রাতারাতি এই লোকদের উচ্ছেদ করেন,
তাদের পরিবার রাস্তায় বসে যাবে।
কে বলেছে তোমাকে যে তারা সহজ সরল?
যদি তারা সত্যিই সহজ সরল হতো,
তারা সমুদ্রের তীরে ভেসে আসা মাছগুলি তুলতো।
মাছ ধরার জন্য গভীর সমুদ্রে যেতো না।
আমি বেঁচে থাকতে এমন হতে দেব না।
শুধু কণ্ঠস্বর আছে বলে,
মনে করিস না যে তুই আমার বিরুদ্ধে যা ইচ্ছে বলতে পারবি।
আমি শুধু তোকেই কেটে ফেলব না,
সাথে সেই অঙ্গটিও কেটে ফেলব যার সাহায্যে তুই কথা বলিস।
মনে হচ্ছে তোমার মধ্যে এখনও ভয় নামক জিনিসটা বেঁচে আছে।
ভিতরের সাহস নিশ্চয়ই ইতিমধ্যে মরে গেছে।
পালিয়ে জীবন বাঁচাও।
ওরে বাহ বাহ।
কাকী, মা সবসময় বলতো।
তুমি কোনো ছেলের জন্ম না দিতে পেরে শয্যাশায়ী হয়েছো।
তাই কাকা তোমার উপর বিরক্ত।
সন্তান প্রসবের সময় প্যারালাইজড হয়ে গেলেও,
সুন্দরী একটা মেয়ের জন্ম দিছো আমার জন্য।
আর ফুলের পাপড়ির মতো তার সৌন্দর্য উপচে পড়ছে।
শুধু একবার...
এই, তুই!
মা! কী হয়েছে?
কী হয়েছে, মা?
কী হয়েছে?
কী হয়েছে, মামী?
কী হয়েছে, বেবাম্মা?
আমাকে ছুঁতে মানা করেছিলাম না।
তুমি মানা করলেও আমি তোমাকে স্পর্শ করতেই থাকব।
হাত সরাও।
বাবা...
বাবা...
নিষেধ করার পরও,
জনা এখনো আমার গাঁয়ে হাত দেয়।
তাকে মেরে হুমকি কেন দিচ্ছো না?
- কী হচ্ছে? - কিছু না, মামা।
দূর্ঘটনাবশত হয়ে গেছে, আর ও সেটা নিয়ে ঝামেলা পাকাচ্ছে।
আচ্ছা, কলেজে যা।
- চলেন, আফিসার। - আচ্ছা।
মেয়ে হয়ে জন্মানোই কি আমার দোষ?
আমি বাবাকে বলি জনাকে কঠোরভাবে সতর্ক করতে, কিন্তু সে কিছুই করে না।
সে শুধু তার সম্মান নিয়ে চিন্তা করে।
সে তোমারই খেয়াল রাখে না।
আমার খেয়াল কেন রাখবে?
তুমি কেন কষ্ট পাচ্ছো, মা?
তোমার স্বামী আমাদের সাহায্য করে না বলেই চিন্তা কোরো না।
একবার আমি বিয়ে করি, আমার স্বামী ওকে আচ্ছা মত মারবে।
কর্পাস স্পঞ্জিওইজম।
এটা হচ্ছে কর্পাস স্পঞ্জিওইজম।
এটা কেবল একজন পুরুষের শারীরবৃত্তির একটি বিবরণ।
এটা পুরুষের সংজ্ঞা নয়।
রামিয়া, হাসছো কেন?
দাঁড়াও।
বলো, এটা কী?
পুরুষত্ব, ম্যাডাম।
পুরুষত্ব?
বসো, বসো।
যদি জীববিজ্ঞানের শিক্ষিকার কাছ থেকে দার্শনিক কথা শুনতে তোমাদের কোনো সমস্যা না থাকে,
আমি তোমাদের কিছু বলবো।
প্রত্যেক মেয়ের জীবনে একজন ছেলে আসে।
কোনো মেয়ে যদি তার জীবনের প্রতিটি মুহুর্তে ছেলেটির ভালোবাসা অনুভব করে,
সেটাই আসল পুরুষত্ব।
যদি কোনও মেয়ে মনে করে যে তাকে পাশে পেয়ে তার জীবন এতটাই পরিপূর্ণ,
যে তার জীবনে আর কিছুর দরকার নেই, সেটাই আসল পুরুষত্ব।
পুরুষত্ব মানব দেহের নিছক অঙ্গ নয়।
এটি তার শরীরের প্রতিটি কোষে বিদ্যমান।
তোমাকে তা দেখতে সক্ষম হতে হবে।
কেউ আজীবন সক্ষমতা ধরে রাখতে পারে না।
কিন্তু আবেগ সারাজীবন ধরে রাখা যায়।
থালিম্পু, দেখ বাস আসছে কিনা।
অবশ্যই, আসবে।
এটা তো আর বিমানের মত আমাদের মাথার উপর দিয়ে উড়তে পারে না।
শুনলাম তুই নাকি দলবল নিয়ে আমাদের গ্রামের ছেলেদের মেরেছিস।
ওরা কি এটা বলেনি যে সবাইকে শুধুমাত্র একজনই কেলিয়েছে।
ভালোই বলেছিস।
তুই কি ভেবেছিস আমাদের মাছ ধরার জাল কেটে দিলেও আমরা চুপ থাকব?
জাল নিয়ে যদি তোর এত চিন্তা হয়, তাহলে ভাব...
তোর গ্রাম উপড়ে ফেললে কী করবি?
তোদের কেউ আর একটা শব্দ করলে, আমি লাথি মেরে তোদের...
মেরে তোদের চশমা ভেঙে দিবো।
চশমা? চশমার কথা কেন বললো?
ও এই শব্দটা উচ্চারণ করতে পারে না। তাই তোরা বুঝিস নাই যে, ও তোদের গালি দিয়েছে।
শয়তানটাকে দেখ।
তোতলানো ছাড়া কথা বলতে পারে না, আবার অহংকার সোদায়!
পা...
পা...পাছা। তোর পাছা শুটিয়ে লাল করে দিবো।
বাস আসছে চল।
এই! তুই কি ভয় পাচ্ছিস, হারামজাদা?
মার হারামজাদাকে।
আয়! আয়, হারামজাদারা।
ওখানে দেখ। মারামারি হচ্ছে ওখানে।
দেখ সে কতটা রেগে আছে। সে শীঘ্রই বৃদ্ধ হয়ে যাবে।
দেখে মনে হচ্ছে বেবাম্মার কলেজ বাস।
বেবাম্মা, বাইরে আসো।
বেবাম্মা।
- এখানে ট্রাফিক জ্যাম। আমি তোমাকে বাড়ি নিয়ে যাচ্ছি। - না।
- তুমি কে, ভাই? - চুপ করো!
কী বলেছি শুনোনি?
- আসো, চলো। - প্লিজ, আমাকে ছেড়ে দাও।
- আমি বলছি, চলো। - আমি যেতে চাই না।
আসো।
- ছাড়ো, জনা। - আসো।
আয়।
আয়, হারামজাদা!
সাহস কত! আমার বাবাকে অপমান করিস!
দোস্ত, বেবাম্মা তোর দিকে তাকিয়ে আছে।
বেবাম্মা তোকে দেখছে।
আয়।
মার দেখি আমাকে।
ভেতরে চল।
বাসের দিকে দেখ।
এই ছেলে যেন কখনো বুড়ো না হয়!
ভাই, বেবাম্মা তোর দিকে তাকিয়ে আছে।
হ্যাঁ, তাই তো।
- আমি তোকে এটাই বলছিলাম। - সে আমার দিকে তাকিয়ে আছে।
হেই!
কর্পাস স্পঞ্জিওইজম!
- সে তোকে ইংরেজিতে ডাকছে। - হ্যাঁ, তাই তো।
আমি তোকে এটাই বলছিলাম।
সে আমার দিকে তাকিয়েছিল।
সে আমাকে দেখেছে।
কিরে! এমনিতে আমি ঘুমের মধ্যে তোর গায়ে পা দিলে তুই বিরক্ত হয়ে যাস।
আর আজ, তুই নিজেই আমার গায়ে পা দিচ্ছিস।
কিছু না বাবা, ঘুমাও তো।
- কী হয়েছে? - কিছু না বাবা।
ওদের সাথে মারামারি করেছিস কেন?
ও যদি আমাকে গালি দিতো তাহলে কিছুই মনে করতাম না। কিন্তু সে তোমাকে গালি দিয়েছে।
তোর মা যদি একান্তে তোকে উপদেশ দেওয়ার জন্য থাকতো! সে তোকে বলতো...
বাবা, মারামারি করিস না।
বাবা, তুমি মা'কে প্রথমবার কখন দেখেছিলে?
আসলে, সবাই আমাকে বিয়ে করার কথা বলে একটা জায়গায় নিয়ে যায়।
আর আমাকে একটা কুঁড়েঘরে বসিয়ে রাখে।
তারা একটা মেয়েকে নিয়ে আসে।
তোর নানু চাইছিল না তার মেয়ে আমাকে বিয়ে করুক।
কারণ আমার নিজস্ব মাছ ধরার জাল ছিল না।
আমি আর মা যখন বাড়ি ফিরছিলাম, তখন মেয়েটি গটগট করে হেটে আমাদের সামনে আসে।
তারপর সে উদ্দীপ্ত চাহুনিতে আমার দিকে তাকায়।
ব্যাস!
এরপর টাকা ধার করে একটা মাছ ধরার জাল কিনলাম আর তোর মাকে বিয়ে করে নিলাম।
তো, কোনো মেয়ে উদ্দীপ্ত চোখে তাকালেই তাকে বিয়ে করা উচিত?
আমাকে সকালবেলা মাছ মারতে যেতে হবে। তো, ঘুমিয়ে যা বাপ।
বাবা! বাবা! মা কি সত্যিই তোমার দিকে উদ্দীপ্ত চোখে তাকিয়েছিল?
হ্যাঁ ,সে আমার দিকে উদ্দীপ্ত চোখেই তাকিয়েছিল।
এখন দয়া করে ঘুমাতে যা।
- বাবা, বাবা... - মাফ চাই তোর কাছে!
- মা কি সত্যিই তোমার দিকে ওভাবে তাকিয়েছিল? - হায় ভগবান! থাম এবার!
হ্যাঁ, সে আমার দিকে ওভাবেই তাকিয়েছিল, এবার থাম বাপ...
- সত্যিই তাকিয়েছিল? - দয়া করে ঘুমাতে যা!
হায় ভগবান!
কোথাপাল্লি পদ্মা।
ব্যাগটা ধরো।
আজকে যদি রেশন সংগ্রহ না করি, আমার বউ আমাকে পেটাবে।
- শঙ্কারাম? - হ্যাঁ, গোভিন্দ।
- প্রতিটা মাল দুই কেজি বেশি করে দিও। - ঠিক আছে।
স্যার?
আপনাকে বলছি,স্যার।
- কী হয়েছে? - আমাদের সবাই লাইনে দাঁড়িয়ে আছে।
- আপনিও লাইনে দাঁড়ান। - উঁচু গলায় কথা বলার সাহস পেলি কোথায়, হু?
ন্যায্য মূল্যের দোকান।
গোভিন্দের সাথে কেন ঝগড়ায় জড়াচ্ছো?
আমি শুধু উনাকে লাইনে দাঁড়াতে বলেছিলাম।
আমাকে লাইনে দাঁড়াতে হবে?
- কী হয়েছে? - বেয়াদব!
- কী... - আসি!
গোভিন্দ!
যাও, গিয়ে লাইনে দাঁড়াও ।
গতকাল, বেবাম্মা কাজের লোকটাকে লাইনে দাঁড়াতে বলেছিল।
সে আবার আমার দিকে বিশেষ দৃষ্টিতে তাকিয়েছিল।
তোর ভাগ্য খুলতেছে।
বাস থেমে গেল কেন?
- ড্রাইভার নিচে নামতেছে। - তোর কি মনে হয় সে কিছু টের পেয়েছে?
হ্যাঁ, তা নাহলে সে থামবে কেন?
হায় কপাল, আমার খুব ভয় হচ্ছে।
- আমি প্রস্রাব করতে যাচ্ছি। - চিন্তা করিস না,আমি সামলে নেবো।
এই, তোমরা! কোথা থেকে এসেছো তোমরা?
আমি শুধু প্রস্রাব করতে নেমেছি, স্যার।
আমরা উপ্পাডা থেকে আসছি।
ওহ, তোমরা তাহলে উপ্পাডা থেকে আসছো।
তেমন কিছু না!
বাস নষ্ট হয়ে গেছে।
- বেবাম্মাকে পরীক্ষা দিতে যেতে হবে। - বেবাম্মা!
আশেপাশে কোনো অটোরিকশা ও দেখতে পাচ্ছি না। ওকে কলেজ পর্যন্ত নামিয়ে দিতে পারবে?
আমরা পারবো না, ভাই।
- দয়া করে কথাটা শোনো। - নাগারাজু!
- হ্যাঁ, বেবাম্মা। - কোনো অটোরিকশা পেলে?
আমার চেনা একজনের কাছে সাহায্য চাইলাম।
যদি আপনি কিছু মনে না করেন...
অচেনা লোকের বাইকে আমি কেন উঠতে যাব?
চালাও।
- তোমার কি এটাকে স্কুটার মনে হয়? - না।
তাহলে চালু করো।
- ম্যাডাম। - হ্যাঁ?
- ওয়াশরুম! - আচ্ছা, যাও।
চল, যাওয়া যাক।
প্রত্যেকটা গানই খুব সুন্দর। ইচ্ছা ছিল সবগুলো গানের সাব করার। কিন্তু একটা গানেরও ইসাব দেয়নি তাই ইচ্ছা থাকলেও করতে পারলাম না।
এসবের মধ্যে আমাকে কেন জড়াচ্ছিস? দিনের পর দিন ধরে এটার পেছনে আছিস।
এভাবে বলিস না।
তুই ওর পেছনে যথেষ্ট ঘুরেছিস। অন্তত আজকে, মনে সাহস জোগা,
আর গিয়ে ওকে বলে দে।
বেবাম্মা?
- জোরে ডাক দে। - বেবাম্মা!
এদিকে আসছে, ও আসছে।
বলে দে ওকে।
বেবাম্মা? বেবাম্মা কেন বলো?
আমার নাম তো বেবাম্মা নয়।
ওর নাম বেবাম্মা নয়?
কী? তোমার নাম বেবাম্মা নয়?
- না? - না।
ওর নাম জিজ্ঞাসা কর।
ওই, বেবাম্মা, তোমার নাম কী?
সে তো কিছুই বলল না!
যদি তুমি তোমার নাম না বলো, আমি কিন্তু রেগে যাব।
তুমি কি চাও আমার দ্রুত বয়স বাড়ুক? তুমি কি চাও আমি তাড়াতাড়ি বুড়ো হই?
বন্ধু, ও কিছু একটা লিখছে।
হ্যাঁ।
"সঙ..."
"গী..."
"তা...."
সঙ্গীতা।
সঙ্গীতা
সঙ....
গ...
গ...
তা...
সান্তা!
সান্তা ?
এটাই এখন সবচেয়ে বড় বাঁধা।
সান্তা!
সান্তা!
ধুর ছাই! বল "সঙ্গীতা"
- আমি কি ঠিকঠাক বলেছি? - অবশ্যই নয়! আবার চেষ্টা কর।
চালিয়ে যা। বল "সঙ্গীতা "
আমি পেরেছি।
কোথায়?
- পানির নিচে? - পানির নিচে?
আমিই ওটা বলেছি!
সান... তা!
যথেষ্ট হয়েছে, চল এখন।
ভালবেসে তোর মুখে ওর নাম শোনার মত ভাগ্যবতী হয়তো সঙ্গীতা না।
- ভাগ শালা! - হায়, কপাল!
সান্তা!
ধুরর!
থু!
ওরে বাবা!
সেই একই পুরোনো মাছের তরকারি আজকেও? এটা বিরক্তিকর!
কী হয়েছে, বাপ?
হয়ত বেশি মাছ খাওয়ার কারণেই আমি তোতলা হয়ে গেছি।
আর, এটা খারাপ হতেই যাচ্ছে।
এত রাগিস না, বাপ!
আমার রাগ করা উচিত না। একদমই উচিত না।
রেগে গেলে দ্রুতই বুড়ো হয়ে যাবো।
বাবা।
কী?
এইসব মনে রেখো না। যদি মনে রাখো তাহলে তুমিও দ্রুত বুড়ো হয়ে যাবে।
ঠিক আছে?
সান্তা !
তুই তোর ভালবাসার মানুষটাকে মনের কথা বলতে পারিস না,
তুই শুধু তোতলিয়ে কথা বলতে পারিস।
- সেজন্যই আমি এটা করতেছি। - কী ওটা?
ভালবাসা নিয়ে একটা বই আর সাদা কাগজ। এসব দিয়ে তুই কী করবি?
আমি এই বই থেকে ভালোবাসার ছন্দ দিয়ে এই কাগজটা ভরে ফেলবো।
হায়,কপাল! আচ্ছা, চালিয়ে যা। ভরে ফেল।
ভালবাসা হওয়া উচিত লায়লা মজনুর গল্পের মত,
দেবদাস-পার্বতী,
রোমিও-জুলিয়েট.. এর মত
ভালবাসা খুবই অসাধারণ ও অনন্য হওয়া উচিত।
আমি দেবদাস সম্পর্কে জানি,
আর মজনু সম্পর্কেও জানি,
কিন্তু রোমিও-জুলিয়েট এ পুরুষ চরিত্রটা কে?
- কে জানে! - ওহ! এমনকি তুই ও জানিস না?
রো-মি-ও।
জু-লি-য়েট।
জুলিয়েট এর "য়েট" টা জোরালো! তারমানে, জুলিয়েট অবশ্যই পুরুষ।
- তুই নিশ্চিত? - হ্যাঁ, আমি নিশ্চিত!
একবার তোর ভালবাসার ছন্দে এই কাগজ ভরে গেলে, তুই ও এই কিংবদন্তি হয়ে যাবি, আসি।
অবশ্যই, হয়ে যাবো।
যতক্ষণ না রায়ানাম এসব জানতে পারছে, ততক্ষণ সবকিছুই ঠিক থাকবে।
কিন্তু যদি জেনে যায়, কাহিনি পুরো ভিন্ন হবে।
যাইহোক,আমরা অবশ্যই চিঠিটা লিখতে পারি, কিন্তু তাকে দিতে যাবে কে চিঠিটা?
হায় কপাল!
এটার মধ্যে আমাকে জড়াস না কিন্তু।
ভগবানের দিব্যি, আমি এটা করতে পারবো না।
এর মধ্যে ভগবানকে কেন টানছিস?
হায়,কপাল!
- এই, এসব কী করছিস? - আসি তোমাকে এটা দিতে বলেছে।
- থালিম্পু, আমি খুবই চিন্তিত। - কেন?
- তোর কি মনে হয় ও আমার চিঠি পড়েছে? - হয়তোবা।
- ও কি আসবে এখানে? - আমি নিশ্চিত যে ও এই উৎসবে আসবে।
যতক্ষণ না রায়ানাম এসে কাপড় বিতরণ করে ততক্ষণ অনুষ্ঠান শুরু হবে না।
বেবাম্মা এসেছে রে, ভাই।
মালিক, ওয়াকফ বোর্ডের জমি সম্পর্কে আপনার সাথে কিছু কথা ছিল।
তোর চিঠি লেখার কোনো দরকার ছিল না।
তোকে অনেক নার্ভাস দেখাচ্ছে। তুই যদি এখন ওর সামনে গিয়ে দাঁড়াস,
ও এমনিই বুঝে যাবে তুই ওর প্রেমে পড়েছিস।
বন্ধু , ও তোর দিকে তাকাচ্ছে।
- ও তোকে ডাকছে, যা। - যাবো না।
- বন্ধু, যা বলছি। - না।
- ও তোকে ডাকছে, যা বলছি। - আমার ভয় করছে, তুই কেন আসছিস না আমার সাথে?
ও শুধু তোকে ডেকেছে, তোর সাথে আমাকে নিয়ে যেতে পারবি না এখন।
যা এখন।
সবাই, প্রস্তুত হন
কিছুক্ষণের মধ্যেই, আমরা পবিত্র চন্দনের তিলক বিতরণ করবো।
কী অবস্থা?
আমার নাম জিজ্ঞাসা করেই চুপিচুপি উধাও হয়ে গেলে।
আসলে, ব্যাপারটা হল...
এই চিঠিটা তুমি আমাকে দিয়েছিলে। পড়ো এটা।
-থালিম্পু। -হ্যাঁ।
আমার তোতলামি যাতে আমার ভালবাসা নষ্ট না করে,
তার জন্য আমার মনের ছন্দ দিয়ে কাগজটা পূরণ করে দে।
গ...
কথাটা হয়ত আমার মুখে আসে না, কিন্তু এবার দেখব চিঠি থেকে কিভাবে পালায়।
ঠিক আছে, তাহলে শোন।
তুমি আমার জীবনে আসতেই, আমার মন যেন উদযাপন শুরু করেছে।
তোকে এটা বলতে শুনে ভালই মজা লাগছে ।
- আচ্ছা চালিয়ে যা। - ঠিক আছে, আমি করছি।
- তুই যেভাবে বলেছিলি, আমি সেভাবেই লাগিয়েছি। - ভাল হয়েছে না?
তুই চিন্তা করিস না। চিঠিটা পড়লেই মেয়েটা পটে যাবে।
এই ফালতু প্রেমপত্রে কোনো মেয়েই পটবে না।
বরং সবাই হাসাহাসি করবে।
আমি তোমার সাথে প্রেম করার জন্য চিঠিটা লিখিনি। আমি তোমাকে হাসাতে চেয়েছিলাম।
এই চিঠির সবগুলো শব্দই ধার করা শব্দ।
কিন্তু ছোটবেলা থেকেই, তোমাকে আমি অনেক পছন্দ করি।
আমি নিজেই নিজেকে বলি এটা।
অনেক পছন্দ, হাহ? এর মানে কী?
চল চল, শুরু হয়ে গেছে।
মানে...
ডাক্তার, গত রাত থেকে ও শুধু কাঁপছে। ও কী কিছুর ভয় পেল কি-না?
শুনলাম তোর নাকি জ্বর এসেছে । তোর বাবা খুব চিন্তা করছেন।
বেবাম্মাকে যখন বললাম যে আমি ওকে পছন্দ করি,
ও একটা কথাও বলল না!
বরং আমাকে চুমু দিল আর চলে গেল!
তোকে চুমু দিয়েছে?
তাও আবার, খুবই স্পেশাল চুমু!
ওকে বলেছিলি যে, তুই ওকে ভালোবাসিস।
আর ও তোকে চুমুর মাধ্যমে বলল যে, সেও তোকে ভালোবাসে!
- এখানে কি কোনো দাগ আছে? - কী হয়েছে?
গতরাতে তুমি আমার স্বপ্নে এসেছিলে, আমি তোমায় চিমিটি কেটেছিলাম।
এখানে তো কোনো চিহ্ন নাই।
"Love you I?"
এই!
তুমি ভুল লিখেছ তো!
এটা"I love you" হবে না?
আমি চাই না "love" আমাদের আলাদা করুক। তাই এটাকে একপাশে সরিয়ে রেখেছি।
"Love you I."
তাহলে "you" আর "I" সবসময় একসাথে থাকবে।
ব্রাশ?
হ্যাঁ, যেটা দিয়ে আমি প্রতিদিন দাঁত ব্রাশ করি।
কাল থেকে এটা ব্যবহার করবে।
স... ঙ্গী... তা...
বল!
সঙ... গ...
বেবাম্মা!
আসি, দেখ!
তোমার পাশে বসলে আমি কিভাবে ঘামি দেখ!
আসি, আগামী ৩ দিন আমি তোমার সাথে দেখা করতে পারবো না।
আমি তোমার থেকে দূরে থাকতে পারবো না।
আসো তোমাকে একটা চুমু দিই।
তাহলে তোমার জ্বর এসে যাবে, তারপর বাড়ি গিয়ে বিশ্রাম নিতে পারবে।
ঠিক আছে?
তিন দিন হয়ে গেল বেবাম্মার সাথে দেখা হয়নি। জামাটা কি ভাল লাগছে দেখতে?
নমস্কার।
দাসু, আমাদের সাথে আয়।
- বাবা, আমাকে তোমার সাথে যেতে দাও। - কেন?
- যেতে দাও আমাকে। - কীসের জন্য?
- প্লিজ তোমাদের সাথে নাও। - আচ্ছা, চল তাহলে।
বাড়ি নিয়ে তোমাদের শেষ মিটিং। যাও, ভিতরে যাও।
সে প্রচণ্ড চড়া।
নমস্কার।
আমি আসি।
বেবাম্মা আমার সম্পর্কে আপনাকে বলেছে কি-না জানি না।
কিন্তু ও সবসময় আপনার কথা বলে।
বেবাম্মা আপনাকে অনেক ভালোবাসে।
আপনি যদি কিছু মনে না করেন, আমি একবার বেবাম্মার সাথে দেখা করে আসি।
রায়ানাম হয়ত মাছের খামার থেকে অনেক লাভ করতে পারে,
কিন্তু আসলে তোমরা তার থেকেও বেশি লাভ করতে পারবে।
তোমাদের বাচ্চাদের ভবিষ্যৎও উজ্জ্বল হবে।
প্রয়োজনে তোমাদেরকে অনেক দূরে ও সমুদ্রের মাঝে থাকতে হবে।
রায়ানাম সরকারের সাথে কথা বলবে,
যাতে তোমরা নতুন ঘর পাও।
বোঝার চেষ্টা কর।
অফিসার, এটা ঠিক না।
বেঁচে থাকার জন্য আমরা সমুদ্রের উপর নির্ভর করি।
আর আপনি আমাদেরকে গ্রাম আর সমুদ্র থেকে দূরে যেতে বলছেন,
এটা কিভাবে সম্ভব?
এতে কিছুই পাল্টাবে কি?
আপনি এটা কিভাবে বলতে পারলেন, স্যার?
আমাদের বাড়ি সমুদ্রতটেই, আর এতেই আমরা অভ্যস্ত।
এত বছর ধরে সমুদ্র আমাদেরকে চমৎকারভাবে আপন করে নিয়েছে,
এটা কখনই আমাদের ঘড়বাড়ি কেড়ে নেয়নি।
আমাদের জীবন ওই মাছের মতই, আমরা জল ছেড়ে দূরে কোথাও গেলে,
একদমই বাঁচতে পারবো না।
সমুদ্রের লবণাক্ত বাতাস ছাড়াও আমরা বাঁচতে পারবো না।
প্লিজ, আমাদের দয়া করুন।
তোমরা নৌকা নিয়ে সমুদ্রে যেতে চাও,
অথবা খেয়ে পড়ে বাঁচতে চাও,
দুটোই আমার দয়ার উপর নির্ভর করছে।
- মালিক-- - না, অসম্ভব।
তাহলে মাছের খামার নিয়ে আমাদের অনেক আপত্তি আছে।
কী বললি তোরা?
আসি, তুমি এখানে কিভাবে এলে? কেউ যদি দেখে নিত?
তোদের কি এটা মজা মনে হয়! তোরা কি ভাবিস তোরা ফিরে যেতে পারবি আর ঢেউয়ের মত ভাসতে পারবি?
এটা সরকার!
একবার কোন সিদ্ধান্ত নিলে, আর পিছনে ফেরার পথ থাকে না।
এটা যা চাইবে তা-ই করবে। আর কিছু?
তুমি এখানে এসেছ কেন?
তুমি তো প্রতিদিনই আমাকে দেখতে আসতে।
আজ না হয় আমিই তোমায় দেখতে এলাম।
ভয় করছে না?
এতক্ষণ করছিল না। কিন্তু এখন করছে।
তোমার আবার জ্বর আসুক এটা চাও?
না?
রায়ানাম বাবু, ধৈর্য হারাবেন না, বসুন।
খবরের কাগজের জন্যে সবার একসাথে একটা ছবি তুলতে হবে।
রায়ানাম বাবুর সাথে একটা ছবি তুলি আমরা।
স্যার, একটা মাত্র ছবি।
সবাই চলে আসো, মিটিং শেষ।
তোমার বাবার সমস্যাটা কোথায়? আমাদের উচ্ছেদ করে দিলে, কোথায় যাব আমরা ?
তোমাদের মত আমাদের একাধিক বাড়ি নাই।
আসি, তুমি গত রাতে আবার আমার স্বপ্নে এসেছিলে।
দেখিতো কোথাও দাগ দেখা যাচ্ছে কিনা...
তুমি এসব কী বলছ?
এখানে আসো,আসো।
-আমি তোমার গা গরম করে দেবো। -আমাকে যেতে দাও।
সর্যি!
তুমি জানো এখন আমি কতটা রেগে আছি?
কিন্তু আমি চিন্তায় আছি যদি আমি বুড়ি হয়ে যাই তাহলে তোমার খেয়াল কে রাখবে?
কাছে আসো।
আরো কাছে আসো, আসি।
যদি তোমার কোনো ঘর নাও থাকে, যাও সমুদ্রে গিয়ে বাস করো।
তুমি যেখানে চাইবে সেখানেই আমি তোমার সাথে থাকবো।
বাস চলে এসেছে।
আমি কিছুই শুনতে পাচ্ছি না।
আমি বাড়ি যাব না।
- মাত্রই পৌঁছালে নাকি? - হ্যাঁ, মাত্রই নামলাম!
আমার প্রিয় ভাতিজি,
তুমি আমার ছেলের সম্পর্কে তোমার বাবার কাছে অভিযোগ করো কেন?
আজ নয়তো কাল তুমি তাকেই বিয়ে করতে যাচ্ছ, মনে রেখো এটা।
আরে, তুমি তোমার স্বামীর ওপর লাগাম দিতে পারবে না, জ্ঞান অন্যদের দিও।
বাবা, হয়ত এটা বলার জন্য আপনি আমাকে ঘৃণা করতে পারেন।
কিন্তু একটা মেয়ের শরীর ও মন বয়সের সাথে সাথে বদলে যায়।
ভাল হয়, এসব কথাবার্তা আগেই বলে দিলে।
আমার ভাই কোথায়?
কানাকাম।
- কানাকাম। - মালিক?
অতিথিদের চা/কফি পরিবেশন করোনি?
করছি এখুনি, মালিক।
তুই যতই চেপে যাস না কেন, বিয়ের জন্য আমার ভাতিজির হাত চাওয়ার...
অধিকার আমার আছে, আছে না?
তোর সর্বদা এ অধিকার থাকবে।
কিন্তু তোর পরিবার ওকে গ্রহণ করার যোগ্য না।
তোর স্বামী তোকে ছেড়ে একটা নীচু জাতের মেয়ের সাথে বাস করা শুরু করল,
আর জনসম্মুখে নিজের মুখ কালো করলো।
আর এটাই ওর সাথে এ পরিবারের সব সম্পর্ক ছিন্ন করেছে।
যদি পারিস তো বল, তোর স্বামী এখন কোথায় আছে।
আমি এত সহজে লজ্জায় মাথা নত করতে পারি না।
বুঝতে পেরেছিস?
আমি এমন কোনো পরিবারের সাথে সম্পর্ক করবো না যেটা তার সম্মান হারিয়েছে।
ভাই, শোন...
আমরা ভাই-বোন।
আমি এটা অস্বীকার করবো না।
কিন্তু এ সম্পর্কটা তোর পরিবারের সাথে মিতালির সম্পর্কে বদলে যাক, তা চাই না।
চা খেয়ে চলে যা।
আমি আমার নিজ বাড়িতেই চা খাবো।
দামেরা ফানিন্দ্র। তুমি চেনো তাকে, তাই না?
উনি স্থানীয় মন্ত্রী। এটা তার ছেলের ছবি।
সে আমাদের জাতেরই।
তারা শীঘ্রই আমার মেয়েকে দেখতে আসবে।
শোন, বেটা--
উপ্পাদার সব জেলেদেরকে সতর্ক বার্তা।
আমাদের বার্ষিক ঐতিহ্য অনুসারে,
যদি কেউ নৌকা নিয়ে সমুদ্রে যায় মাছ ধরতে
১৫ এপ্রিল থেকে ৩ জুনের মধ্যে,
তাদেরকে বিশাল পরিমাণ অর্থ জরিমানা করা হবে।
এ কালকেশন বাক্সে,আমরা আমাদের মোট আয়ের দশ শতাংশ জমিয়েছি,
এই সময়টা মাছের বংশবৃদ্ধির সময়।
তাই,আমরা আগামী ৪৫ দিন মাছ ধরতে পারবো না।
শুধুমাত্র এ টাকাই এখন আমাদের বেঁচে থাকার উৎস।
আমরা ১৫০ পরিবারে সমানভাবে জমানো টাকা ভাগ করে দিচ্ছি।
ভেবেচিন্তে খরচা করো।
- এই যে নে। - এই নে,দেভেন্দু।
দাদি, তুমি আমার টাকাটাও নাও।
ইশ্বর তোর মঙ্গল করুক, সোনা।
মা, আমাকে বললো দু'দিনের ভেতর এক পাত্র পক্ষ নাকি আমাকে দেখতে আসছে।
আমি তাকে বিয়ে করতে চাই না।
এই! তাড়াতাড়ি কর তোরা।
তাদেরকে নিয়ে এসো।
- সবাই কি ফিরেছে? - হ্যাঁ বাবা।
সকল নৌকা তীরেই রাখো। রায়ানাম বাবু সবকিছুর হিসাব চান।
আসি?
"দুপুর ২টায় কলেজে এসো"
- কেউ দেখেনি। - চল যাই।
- আয়, উঠ। - চালা তুই।
সবাই তাদের নৌকাগুলিকে তীরে রেখেছে?
সে যে-ই হোক না কেন, কোনোরকম দয়া দেখাবে না।
এমনকি কেউ যদি খেতেও বসে তবে খাবারের পাত থেকে টেনে তুলে আনবে।
কাল সকালে, আমি প্রত্যেককে...
...রায়ানাম ফিশিং ইয়ার্ড বোর্ডে হাজির চাই।
আচ্ছা, বাবু।
দোস্ত, গাড়ি চালা।
কী হয়েছে বেবাম্মা? বলো আমাকে।
আমার ভালো লাগছে না, আসি।
আমরা কি একটু সমুদ্রের দিকে যেতে পারি?
এখন? সমুদ্রের দিকে?
এই সময়ে তো কোনও নৌকা যাচ্ছে না সমুদ্রের দিকে।
তোরা গেলে চুটিয়ে প্রেম করতে পারবি।
এই সময় মাছগুলো একত্রিত হতে শুরু করে।
আমরা তাদেরকে বিরক্ত করতে পারি না।
একত্রিত হওয়া মানে তো খুব কাছাকাছি এসে প্রেম করা।
আর তুইও সেটাই করছিস।
তাই তাদেরকে বিরক্ত করা হবে না।
আসি, সন্ধ্যার আগেই ঘরে ফিরিস।
আচ্ছা।
আশা করি কেউ কিছু দেখেনি।
কী হলো?
তেল ফুরিয়ে গেছে।
এখন কী করবো?
আমি একটু ব্যস্ত আছি। পরে তোমার সাথে কথা হবে।
মালিক।
এতক্ষণে তো কলেজ বাসটা চলে আসার কথা ছিল। বেবাম্মা এখনও ঘরে ফিরেনি।
কী?
হ্যালো?
রায়ানাম বলছি।
বলুন, রায়ানাম সাহেব।
বাসটা এখনো ফিরেনি কেন?
রায়ানাম সাহেব?
বেবাম্মা এখনও ঘরে ফিরেনি।
ও এক ম্যাডামকে বলেছে...
ওর নাকি ভালো লাগছে না তাই বিকালেই চলে গেছে।
আহহ, একটু যাচাই করে দেখলাম আপনি নিজের দায়িত্বে কতটা সজাগ।
ও নিশ্চিত বন্ধুদের সাথে সিনেমা দেখতে গিয়েছে।
শীঘ্রই হয়তো বাড়িতে ফিরবে।
- কী বলো? - হ্যাঁ, মালিক।
না, স্যার। দয়া করুন...
না...
হায় ভগবান!
এই বাড়িটা বানাতে আমরা দিনরাত পরিশ্রম করেছি।
আর আপনি তা মাটিতে মিশিয়ে দিচ্ছেন। এটা অন্যায়!
সে এখনও ফিরে আসেনি কেন?
আপনার নিজের ফিশিং ইয়ার্ডের জন্য আমাদের বাড়িঘর ধ্বংস করতে পারেন না!
আমরা রায়ানাম বাবুর সাথে এটা নিয়ে কথা বলেছি।
দেখো সে কী করেছে, জালায়া।
বেবাম্মার কী দোষ?
সে সবসময় সৈকতে ঘুরে বেড়ায়।
আর জুতা ভর্তি বালি নিয়ে ঘরে ফিরে।
তোর কাপড় ভেজা কেন, মা?
বন্ধুদের সাথে সৈকতে গিয়েছিলাম, বাবা।
হ্যাঁ, রায়ানাম বাবু,
এখন তো কারো সমুদ্রের দিকে যাওয়ার কথা না।
তবে আপনার গ্রামের একজন মাত্রই একটা নৌকা নিয়ে সাগরে গেছে।
তার সাথে একটা মেয়েও ছিল।
আমি একটু ব্যস্ত আছি। তোমার সাথে পরে কথা হবে।
হায় ভগবান! সব ধ্বংস হয়ে গেছে।
চাচা, রায়ানাম বাবু এসেছেন।
মালিক...
আপনার নিজের ফিশিং ইয়ার্ডের জন্য আমাদের ঘরগুলো ধ্বংস করতে পারেন না!
মালিক, এটা অন্যায়।
আমরা তো মিটিংয়ে এটা নিয়ে কথা বলেছি, তাই না?
এভাবে যদি আমাদের ঘর বাড়ি ধ্বংস করেন তবে কোথায় যেয়ে মাথা গুঁজবো আমরা?
আমাদের বাচ্চাদের খুব কষ্টে ভুগতে হবে।
- জালায়া। - মালিক।
তোর সাথে কথা আছে।
মালিক, দয়া করে এসব বন্ধ করুন। দয়া করে আমাদের বাড়ি ঘর ভাঙ্গতে মানা করুন।
আমরা শেষ হয়ে যাবো, মালিক। দয়া করে এসব বন্ধ করুন।
দয়া করে তাদের থামতে বলুন। দয়া করুন আমাদের।
- জালায়া। - মালিক?
আগামী ৪৫ দিনের ভিতর, কারও সমুদ্রে যাওয়ার কথা ছিল না, তাই না?
জি মালিক, আমরা সকলেই এতে একমত হয়েছি।
কিন্তু একটা নৌকা আজ সমুদ্রে গেছে।
একটা নৌকারও তো যাওয়ার কথা না!
অবশ্যই গেছে।
মনে কর কেউ হয়তো জীবিকার জন্য মরিয়া ছিল।
তবে তাকে তো অবশ্যই সন্ধ্যার মধ্যে ফিরে আসতে হবে, তাই না? এখনও আসেনি কেন?
মালিক, আমরা নিজেদের জীবন নিয়ে চিন্তিত, আর আপনি নৌকা নিয়ে কথা বলছেন কেন?
ব্যাপারটা যদি নৌকা নিয়ে হতো তাহলে আমি এতদূর আসতাম না।
আমার মেয়েও সেই নৌকায় ছিল।
মালিক...
তোদের কেউ কি তাকে সমুদ্রে নিয়ে গেছে?
বা তোদের কেউ কি যে তাকে নিয়ে গেছে তাকে সাহায্য করেছে?
ঘটনা যা-ই হোক না কেন,
আমার মেয়ে বাড়ি ছেড়েছে এই খবরটা ছড়িয়ে পড়েছে।
আমার মেয়ে যদি ভোর হওয়ার আগে বাড়ি না ফিরে,
পুরো গ্রাম এই ব্যাপারে জেনে যাবে।
- জালায়া। - মালিক।
আমার মেয়ে যদি ভোরের মধ্যে বাড়ি ফিরে,
তাহলে তোরা আজীবনের জন্য তোদের ঘর বাড়ি ফেরত পাবি।
তাই বিষয়টা ভালো ভাবে আমলে নে।
আমার জন্য আমার সম্মান ও জীবন দুটোই খুব মূল্যবান।
দুটোই খুব মূল্যবান।
জি মালিক।
লোকে বলে যখন কোনো ধনী ব্যক্তি মারা যায়, তখন সে শুধু একা মরে না।
আর এই ঘটনায়, আমার ১৮ বছরের মেয়ে...
সেও একা মরবে না।
দেখ,
এই ব্যাপারটা সেই ১৫০ টা ঘরের প্রত্যেককেই মৃত্যু যন্ত্রণা ও দুর্দশা দিকে ধাবিত করবে।
শুধুমাত্র যাদেরকে বিশ্বাস করা যায় তাদেরকে নিয়ে যা আর তাকে ফিরিয়ে আন। ঠিক আছে?
আসি! তুই কোন জাহান্নামে আছি রে ভাই?
চাচা? চাচা?
আসি কোথায়?
বেবাম্মা ...
কী দেখছো তুমি?
তুমি বলেছিলে মাছগুলো সব প্রেম করতে জড়ো হয়।
আমি সেটাই দেখার চেষ্টা করছি।
ভয় পাচ্ছো না?
আগামী অমাবস্যা পর্যন্ত এখানে কেউই আসবে না।
আর আমরা কোথাও যেতেও পারবো না।
তাহলে চলো এই মুহুর্তটি উপভোগ করি,
আর আগামী ৮০ বছর মনে রাখার মত একটা রাত তৈরি করি।
- এই গোভিন্দ। - মালিক?
তোমার কি মনে হয় আকাশ আর সমুদ্র কখনও মিলিত হতে পারে?
ঢেউ যতই উঁচু হোক না কেন, তারা কখনই আকাশ ছুঁতে পারে না।
যদি আকাশ গর্জন শুরু করে?
আজ কত তারিখ?
১৮ এপ্রিল, ২০০২
এই তারিখটা মনে রাখবে।
আমি, কোটাগিরি শেশারায়ানাম,
২০১২ সালে মারা যেতে পারি,
নয়তো ২০২২ সালে।
যে আমার সম্মান ও মর্যাদাকে সমুদ্রে টেনে নিয়ে গেছে,
তাকে অবশ্যই আমার হাতে মরতে হবে।
সেই ম্যাডামকে বলে, আজকে কলেজে আমার মেয়ের উপস্থিতি নিশ্চিত করো।
যদি এই দুটোর একটাও না ঘটে,
তাহলে আমার কবরে আজকের তারিখটি আমার মৃত্যুর তারিখ হিসাবে খোদাই করবে।
যদি তার আগে তুমি মারা যাও,
তোমার ছেলেকে এই কাজটা করতে বলবে।
এটা হতেই হবে।
ঠিক আছে?
সেই ম্যাডামকে বলে, আজকে কলেজে আমার মেয়ের উপস্থিতি নিশ্চিত করো।
রোল নম্বর ১, স্বাথি।
উপস্থিত, ম্যাম।
নাম্বার ২, শ্রাবণী।
উপস্থিত, ম্যাম।
নাম্বার ৩, রামিয়া।
উপস্থিত, ম্যাম।
নাম্বার ৪, প্রিয়াঙ্কা।
উপস্থিত, ম্যাম।
নাম্বার ৫, সঙ্গীতা।
নাম্বার ৫, কোটাগিরি সঙ্গীতা।
নাম্বার ৫, কোটাগিরি সঙ্গীতা।
কোটাগিরি সঙ্গীতা!
উপস্থিত, ম্যাম।
আমরা বেশ বড় একটা ভুল করে ফেলেছি, বেবাম্মা।
তাহলে, আমাকে বিয়ে করে নাও, আসি।
আমরা এই ভুলটা শুধরে নিতে পারবো।
আসি!
অনেক পাগলামি করেছিস! উঠে আয়।
মালিক, বেবাম্মা এসেছে।
রায়ানাম সাহেব, ওখানে বেবাম্মা ছাড়া আর কেউ ছিল না।
আপনি শুধুমাত্র আমার বিশ্বস্ত সঙ্গীদেরই সাথে নিতে বলেছিলেন।
এইযে এখানে, আমার ভাই আর ছেলে, আর এটা আমার শালা।
মালিক।
আমরা সবসময় আপনার সম্মান আর আপনার পরিবারের খ্যাতি রক্ষা করে যাবো।
কথা দিচ্ছি।
এখন, রায়ানাম বাবু,
যেমনটা কথা দিয়েছিলেন, দয়া করে, আমাদের বাড়িগুলো আমাদেরকে ফিরিয়ে দিন।
আমরা কোনোভাবে খেয়ে-পরে বেঁচে থাকবো।
চল।
- গোভিন্দ। - মালিক?
গাড়ি স্টার্ট দাও।
কে ওই বেজন্মা ছেলে?
রায়ানাম, তোকে বলেছিলাম না...
ওর বয়সী একটা মেয়েকে বাড়ির বাইরে যেতে না দিতে?
যখনই ওকে বাইরে পাঠিয়েছিলি,
জানতাম, ও শুধু নিজের পড়ালেখা নিয়েই থাকবে না।
কে এই ছেলে?
ও এটা কখনোই বলবে না।
আমাদেরই খুঁজে বের করতে হবে, কে ওই কুত্তাটা।
ওর গায়ে আঙ্গুলের একটা টোকাও দিবেন না।
ও একটা রাস্তার কুত্তার বুকে দৌড়ে গিয়েছিল,
এটা ভেবে যে, কুত্তাটা ওকে ভালোবাসে।
ওর জানা উচিত, এই পরিবারের সবাই ওকে কতটা ভালোবাসে।
- কানাকাম। - জি, মালিক।
বেবাম্মাকে ভিতরে নিয়ে খেতে দে, যা।
- গোভিন্দ। - মালিক?
কাল থেকে, তুমি বেবাম্মাকে কলেজে দিয়ে আসবে।
- ঠিক আছে। - ওকে এখনো বাইরে পাঠাবি কেন? মেরে ফেল!
মারতে হবে, তবে ওকে না। ও যেই ছেলেটার সাথে ছিল তাকে।
ওরা তোকে মেরে ফেলবে।
আমাকে বলিসনি কেন?
বাবা হিসেবে, আমি কেন তোকে রায়ানাম'এর জামাই হতে বাধা দিব?
কিন্তু...
রায়ানাম তোকে তার জামাই হিসেবে মেনে নিবেই বা কেন?
আরে আসি?
তোর সমস্যাটা কী?
রায়ানাম যদি নিজেই সমুদ্রে যেত,
তাহলে তোকে হাতেনাতে ধরতে পেরে খুন করে ফেলতো।
আমার পরামর্শ মেনে নিয়ে মেয়েটাকে ভুলে যা।
মেয়েটাকে ফিরিয়ে দিলে,
রায়ানাম আমাদের বাড়িগুলো ফিরিয়ে দিবে বলে কথা দিয়েছে।
তোর ভালোবাসা ১৫০ টা পরিবারের জীবনের থেকেও বেশি গুরুত্বপূর্ণ হলে,
যা ইচ্ছা তাই কর।
তুই তোর বাবার কথা শুনে বেবাম্মাকে ফিরিয়ে এনেছিস।
রায়ানামের মেয়ে একটা ছেলের সাথে পালিয়েছে বলে তিনি সব রাগ আমাদের ওপর ঝেড়েছেন।
তিনি যদি জানতে পারেন যে, ছেলেটা তুই ছিলি...
আসি।
আয়, অল্পকিছু খেয়ে নে।
আসি, তোর সমস্যাটা কী?
তুই কি সারারাত এখানেই ছিলি? এভাবে তো মারা যাবি।
আসি...
সঙ্গীতা
- গোভিন্দ। - মালিক?
গ্রামের সব অল্পবয়সী ছেলে পেলেদের ওপর নজর রাখবে।
জি, মালিক।
কেউ যেন বুঝতে না পারে যে আমরা কাকে খুঁজছি...
আর কী কারণে খুঁজছি।
কার ছেলে তুই?
গান্ধাম সুব্বা রাও'এর।
একটা মহিলা কলেজের পাশে এতগুলো ছেলেপেলে কেন?
কেন? কোনো সমস্যা হয়েছে?
কিছু না। যা এখান থেকে।
ভিসাখাপাটনাম
- বাবা... - এখানে থাকা তোর জন্য নিরাপদ না।
ভিসাখাপাটনাম চলে যা আর ওখানে তোর মাসির সাথে থাক।
যা।
এখানে কী কাজে এসেছ, গোভিন্দ?
রায়ানাম সাহেব আমাদেরকে সবগুলো নৌকা রঙ করতে বলেছেন।
- সব ছেলেরা গ্রামে আছে তো? - হ্যাঁ, আছে। কোথায়ই বা যাবে?
তোর ছেলে কোথায়?
আমার ছেলে?
ও...
ও তো মাছ ধরতে গিয়েছে।
পরবর্তী অমবস্যার দিন পর্যন্ত মাছ ধরা নিষেধ।
দুঃখিত, ভুল বলে ফেলেছি। ও অবশ্যই ওই রাস্তায় গিয়েছে।
ওই তো সে।
ঠিক আছে, জালায়া। আমাকে এখন যেতে হবে।
তোর ছেলেকে নৌকা রঙ করতে পাঠিয়ে দিস।
ঠিক আছে।
দেখা হবে।
হায়, ভগবান!
একটা মহিলা কলেজের পাশে ও কী করছিলো? মেরে হাড় ভেঙ্গে দে।
সাহেব, আপনারা আমাকে মারছেন কেন?
রায়ানাম সাহেব, দয়া করুন...
দয়া করে এসব বন্ধ করুন।
আপনারা আমাকে মেরেই যাচ্ছেন কেন? দয়া করে এসব বন্ধ করুন।
কোটাগিরি সেশারায়ানাম আমার বড়দাদা ছিলেন।
তার নামেই আমার নাম রাখা হয়েছে।
যখনই ব্রিটিশ কর্মকর্তারা তার সাথে দেখা করতে আমাদের বাড়িতে আসতো,
তারা তাদের বুট জুতা দরজার বাইরে খুলে রাখতো।
তিনি ওই রকম সম্মান-মর্যাদাই পেয়েছিলেন।
ওই একই ঐতিহ্য তিনি আমার দাদার দায়িত্বে রেখে যান।
এই সম্মানজনক খ্যাতির ঐতিহ্য, যা আমার পূর্বপুরুষদের দিয়ে শুরু হয়
তা ১২৫ বছর ধরে চলতে থাকার পর আমার দায়িত্বে আসে।
ওই খ্যাতি আজ আমার ১৮ বছরের মেয়ের জন্য ধুলোয় মিশে যাচ্ছে।
আর আমি এই ঐতিহ্য ধরে রাখতে পারছি না।
- গোভিন্দ। - সাহেব?
দেয়ালের এই সবগুলো ছবির মধ্য থেকে,
এই ছবিটা আমাকে এখন অনেক বেশিই আনন্দ দিচ্ছে।
সেদিন জালায়া যখন...
আমার মেয়েকে আমার হাতে তুলে দিচ্ছিলো,
ওর ছেলে আমার মেয়ের দিকে অন্যরকম দৃষ্টিতে তাকিয়েছিল। কেন?
কারণটা এখন বুঝতে পারছি।
আজ নতুন অমাবস্যার দিন, তাই না?
জি, সাহেব।
- গোভিন্দ। - সাহেব?
ওরা কি এখনো পাশের গ্রামের সাথে ঝগড়াঝাঁটি করে?
- জি, করে। - তুই নিশ্চিত?
- জি, সাহেব। - ঠিক বলছিস তো?
জি, ওরা ঝগড়া করে।
সবাইকে সুস্বাগতম...
যারা উপ্পাডায় এই বার্ষিক উৎসবে অংশ নিচ্ছেন...
যেই উৎসব আমাদের গ্রামের ঠাকুর গঙ্গালাম্মা'র সম্মানে হয়ে থাকে।
- তোমার শরীর ভালো তো, মা? - ভালো আছি, চাঁচা।
উৎসব পুরোদমে চলছে।
তোর এত বড় সাহস! তুই আমার শরীরে হাত দিলি!
দূরে গিয়ে মর, ছেমরী!
চাঁচা, দেখুন। ও আমার সাথে কী করছে!
কী করছিস তুই?
তুই কি আমাকে ওর গায়ে হাত দিতে দেখেছিস?
মেয়েটা আমাদের কাছে নালিশ দিয়েছে। তোর গ্রামের ছেলেপেলেরা খুব বেশিই খারাপ।
আমার গ্রাম নিয়ে কথা বলার সাহস দেখাতে আসিস না।
- বাবা! - চাঁচা!
মার ওকে!
তোর এত বড় সাহস, তুই আমার গ্রামের ছেলেকে ঘুসি মারলি?
বন্ধ কর এসব!
দয়া করে, এসব বন্ধ কর!
আসি...
এই...
না, বন্ধ কর এসব। দয়া করে বন্ধ কর।
আসি!
আসি...
আসি!
ছাড় ওকে!
- বাবা! - আসি!
তারা আসি'র বাবাকে মেরে ফেলেছে, বেবাম্মা।
আমাদের আর অন্য গ্রামের লোকেদের মধ্যে মারামারি হয়।
আসি গুরুতর আহত হয়েছে।
আসি এখন কোথায়?
ক্রিশ্চিয়ান মেডিকেল হসপিটাল।
কোথায় যাচ্ছিস? উঠে পড়।
- ভাই? - হ্যাঁ।
কী হয়েছে? এত রাতে ফোন করেছিস কেন?
আমার জন্য তুই আগের দিন কাঁদতে কাঁদতে বাড়ি থেকে বের হয়ে যাস।
বাবা ঐ ব্যাপারটা নিয়ে খুবই অখুশি।
যাইহোক...
তোর স্বামীর বোকামির জন্য আমি তোকে আর তোর ছেলেকে কিভাবে দোষ দিতে পারি?
তুই বলেছিলি...
যেমনটা তুই বলেছিলি, বিয়ের জন্য একটা শুভদিন ঠিক কর আর আমাকে জানা।
আমার মেয়ে তোর ঘরের বউ হবে।
আমি কথা দিলাম।
অবশ্যই, ভাই।
আমার মেয়ে নিজের সম্মান হারিয়েছে।
এটাকে গোপন রাখার একমাত্র উপায় হলো, তাকে পরিবারের মধ্যেই বিয়ে দিয়ে দেওয়া।
- সাবধানে। - আসি।
আসি...
আমাকে বাইবেল থেকে একটা শ্লোক পড়ে শোনা।
এই!
- মালিক? - মালিক?
আয়...
মালিক?
বেবাম্মা নিখোঁজ। গিয়ে খোঁজ ওকে।
বেবাম্মা...
- এই! - মালিক?
- আর কেউ যেন জানতে না পারে। - জি, মালিক।
- সাইকেল নিয়ে যা। - সাউকেলগুলো বের কর।
সাইকেলগুলো নিয়ে আয়।
বেবাম্মা?
চলো, আসি। পালিয়ে যাই।
কোথায়?
এখান থেকে দূরে কোথাও চলো।
না, যাবো না।
তারা আমার চোখের সামনে আমার বাবাকে মেরে ফেললো।
এখনও আমি তা ভুলতে পারিনি।
আমি জানি এটা সঠিক সময় নয়।
কিন্তু যদি এই সুযোগটা হারিয়ে ফেলি,
আমার পরিণতিও তোমার বাবার মত হবে।
- প্লিজ, চলো। - ছাড়ো আমায়।
- বেবাম্মা! - আমার সাথে চলো, নাহলে আমি আত্মহত্যা করবো।
দয়া করে আমার কথা শোনো।
তোমাকে কিছু বলার আছে।
ধর ওকে!
আসি! আসি...
আসি!
- বেবাম্মা, চলো বাড়ি যাই। - আমাকে ছাড়ো।
আসি! আসি!
আসি!
আয়।
আয়, সবাই।
আসি!
উঠে পড়ো, বেবাম্মা।
উঠে পড়ো।
আসি...
আয়, বাছা।
ভাই, তুই দরজায় কেন বসে আছিস?
পুরোহিত বলেছে আমার ছেলেকে ভোরের আগেই বাড়ি ঢুকতে হবে।
পরে ঢুকলে অশুভ হবে। এজন্যই আমি আর আমার ছেলে এখানে এসেছি।
অন্যান্য আত্মীয়-স্বজনেরা শীঘ্রই চলে আসবে।
- কী হয়েছে? - মালিক, আসলে...
ভয় পাস না। বলে ফেল।
বেবাম্মা ওড়িশাগামী কার্গো ট্রেনে করে পালিয়েছে।
যে মেয়ের শীঘ্রই বিয়ে হবে তার ব্যাপারে এসব বলার সাহস কী করে হয়?
- গোভিন্দ। - মালিক?
- গিয়ে তাকে দেখে আসো তো। - ঠিক আছে, মালিক।
মালিক, বেবাম্মা তার রুমে ঘুমাচ্ছে।
আমি ফ্যান চালিয়ে দিয়ে এসেছি।
- গোভিন্দ। - মালিক?
কাল থেকে, তুমি বেবাম্মাকে কলেজে দিয়ে আসবে।
আচ্ছা, মালিক।
নাইন্টি প্রকাশের দোকান থেকে...
ওর খাতা-কলম কেনা চালু থাকবে।
জামাকাপড় একদম ফিট-ফাট ভাবে আয়রন করা থাকবে।
আচ্ছা, মালিক।
আর তার কলেজের হাজিরা খাতায়...
সবসময় যেন তার নামের পাশে 'উপস্থিত' লেখা থাকে।
- বুঝেছো? - জি, মালিক।
যেহেতু বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে,
তুই সবাইকে বলবি গ্রহ সঠিক স্থানে নেই।
কিংবা শাস্ত্র অনুযায়ী বিয়ের বিধান নেই,
নাহলে বলবি মেয়ে এখন বিয়ের জন্য প্রস্তুত নয়।
যা মন চায় সেই অজুহাত দিবি।
কিন্তু পুরোহিতের দেওয়া নির্ধারিত সময়ে,
আমার মেয়ে তোর ঘরের বউ হবে।
বুঝেছিস?
পুরি। জগন্নাথ রথযাত্রা।
আসি!
কী হয়েছে?
আমি আমার বাবার লোকেদের দেখেছি।
কোলকাতা।
অনুবাদ অংশগ্রহণেঃ ♦️ জিতু বিশ্বাস ♦️ মারিব সিরাজ ♦️ জয়ানন্দ ঘোষ ♦️ অলোক বিশ্বাস ♦️ ♦️ জায়েদ আল আরাফ শিহাব ♦️
অনুবাদ অংশগ্রহণেঃ ♦️ ইবনুল হাসান ♦️ রবিউল আওয়াল জীবন ♦️ সীমান্ত কুমার পুন্ডরী ♦️ তানভীর হোসেন(Brad Delson)
মাদার তেরেসা অনাথাশ্রম।
থামো।
আমাকে কাজে যেতে হবে।
- তোমার তোয়ালেটা টান দিলাম! - তোমার কি কোনো বুদ্ধি-সুদ্ধি নেই?
সর্যি, বেবাম্মা। আমার মেজাজ খারাপ ছিল। তাই চিৎকার করে কথা বলেছিলাম।
ছাড়ো আমায়।
প্লিজ, আমার কথা শোনো।
বেবাম্মা।
আমি তোমাকে অনেক ভালোবাসি।
দয়া করে, তাকে ছেড়ে দে! আমি হাত জোড় করছি।
আসি! আসি!
আসি!
আসি?
বাবা...
সম্পাদনায়ঃ ♦️ জিতু বিশ্বাস♦️ ♦️ মারিব সিরাজ ♦️ ♦️ রবিউল আওয়াল জীবন♦️
বাবা!
মালিক...
বেবাম্মা কোলকাতায়ও নেই।
গ্যাংটক।
বসো, বেবাম্মা। আমি তোমার জন্য খাবার নিয়ে আসছি।
ঠিক আছে।
বেবাম্মা?
বেবাম্মা?
বেবাম্মা!
বেবাম্মা!
আসি!
বেবাম্মা'কে ছোঁয়ার সাহস কী করে হয় তোর!
বেবাম্মা'কে ছোঁয়ার সাহস কী করে হয় তোর!
বেবাম্মা শুধু আমার। বেবাম্মা'কে ছোঁয়ার সাহস কী করে হয় তোর!
তোদের প্রত্যেককে মেরে ফেলবো!
বদমাশের দল!
আসি!
কোথায় যাবো?
তোমার জন্য বাইরে থাকা ঠিক না। দেখলে তো কালকে রাতে কী হলো।
চলো, লেডিস হোস্টেল খুঁজি।
- হোস্টেল? - প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা।
একশো টাকা? হবে না।
- একদিনের জন্য। - না, হবে না।
- মাত্র এক দিন। - পুরো টাকা দিন নইলে যান।
হাত জোড় করছি।
আসি, এরকম কোরো না।
প্লিজ, ম্যাডাম, প্লিজ।
ঠিক আছে।
আপনাকে দু'দিনের মধ্যে টাকা দিতে হবে।
আসি, তুমি কোথায় থাকবে?
আমাদের ৩০০০ টাকা জমা দিতে হবে।
আমি ফিরে আসবো।
ভাই, তিন মাস হয়ে গেছে।
আমি তোকে মনে করিয়ে দিতে আসলাম।
আরও তিন মাস বাকি আছে।
বাড়ি যা।
প্রতি মাসে ৩০০০ টাকা দিতে হবে।
ভাই...
ধন্যবাদ।
ধর এটা।
আপনার টাকা।
আসি!
আমি কালকেও কিছু টাকা পরিশোধ করে দিয়ে যাবো।
কীভাবে?
একটা কাজ পেয়েছি, তারা আমাকে ওখানে থাকতে দিবে।
তুমি ওখানে থাকবে?
তাহলে আমিও তোমার সাথে থাকবো।
না, বেবাম্মা।
অন্য একজনের সাথে রুম শেয়ার করে থাকবো।
হ্যালো।
আচ্ছা, আমি যাই এখন।
এভাবে দিনরাত কাজ করতে থাকলে, তুমি তো মারা যাবে!
কী চাও তুমি?
আমার ৩০০০ রুপির প্রয়োজন।
টাকা।
- ওহ,আচ্ছা। - খাও।
আমি তোমাকে পুরো মাসের টাকা দিয়ে দেবো।
চাপ নিও না তুমি।
আসি, তুমি যখন আমার হোস্টেলের টাকা পরিশোধ করছিলে...
আমি ভেবেছিলাম তুমি আমাকে এখান থেকে খুব শীঘ্রই নিয়ে যাবে।
কিন্তু, আমাকে এখন এখানে আরো একমাসের মতো থাকতে হবে।
কী হয়েছে বেমাম্মা?
এখানে আসার পর থেকেই, আমরা আলাদা থাকছি।
প্লিজ, পরিস্থিতি বুঝার চেষ্টা করো।
আমার তোমাকে খেয়াল রাখতে হবে।
আমি সবসময় তোমার সাথে কীভাবে থাকবো?
আগেও যখন তুমি আমার কাছে ছিলে না আসি,
তোমাকে খুব কাছ থেকে অনুভব করতাম।
মনে হচ্ছে দিন দিন আমরা কেমন যেন দূরে চলে যাচ্ছি।
যেই ভালোবাসা আমাদের দুজনকে এক করেছে..
আমি এখন তোমার মাঝে আগের সেই ভালোবাসা খুঁজে পাইনা।
তাহলে,আমাকে কী করতে বলছো তুমি?
তুমি আমার কাছে এসেছিলে, কেননা তোমার পরিবার তোমাকে ভালোবাসতো না।
যদি আমার মাঝে ভালোবাসা খুঁজে নাই পাও, তাহলে বাড়ি ফিরে যাচ্ছো না কেন?
আমি আগের মতো দেখা করতে পারবো না, সারাদিন এক জায়গায় বসে ঘন্টার পর ঘন্টা কথা বলতে পারবো না।
আমরা এভাবে বিয়ে করতে পারি না।
আমার জীবন এভাবেই থাকবে সবসময়। তুমি থাকতে পারো নয়তো চলে যেতে পারো।
টাকাটা ধরো।
তুমি যেতে চাইলে চলে যেতে পারো।
আসি...
আরে, ভাই...
সে বলেছে, সে আমার ভালোবাসা অনুভব করে না।
তুমি কি কান্না করছো আসি?
তুমি কিছু খাচ্ছোনা কেন? কিছু খেয়ে নাও।
হ্যালো।
আসি!
কোথায় ছিলে এতদিন?
শুধুমাত্র কিছু কথার জন্য, কীভাবে এতদিন তুমি আমাকে এড়িয়ে চলতে পারলে?
না, বেবাম্মা।
আমি বাড়তি উপার্জনের জন্য শহরে গিয়েছিলাম।
তুমি যেখানেই যাও, আমি তোমার সাথে থাকতে চাই।
চলো যাই।
প্লিজ, বুঝার চেষ্টা করো।
আমি আর কিছু শুনবো না।
প্লিজ, আমার কথা শুনো।
আমি তোমার কথা শুনবো না।
ভাই,
- নমস্কার ভাবি। - নমস্কার।
ও আজ থেকে আমাদের সাথে থাকবে।
আমাদের এখানে স্বাগত।
প্লিজ, বসো।
ফুল কার জন্য? ভাবির জন্য?
আজ রাতের জন্য আমাদের একটু একলা থাকতে দিবি রুবেন?
হ্যাঁ, অবশ্যই।
আজ হঠাৎ ফুল আনতে গেলে যে?
কাছে এসো।
ছাড়ো আমাকে।
রুবেন হয়তো ফিরে আসবে।
আসবে না।
আসতে মানা করে দিয়েছি।
আসি।
তিনদিন কিছু করতে পারবো না।
কী হয়েছে?
তুমি কি কোনো ব্যাপারে চিন্তিত?
চিন্তা কোরো না।
তুমি এখনও আমাকে জড়িয়ে ধরতে পারো।
এমনকি আমাকে চুমুও খেতে পারো।
তুমি তোমার হৃদয়ের সবটুকু দিয়ে আমাকে ভালোবাসতে পারবে।
সত্যি?
বেবাম্মা, গরম পানি।
আচ্ছা, আমি তাড়াতাড়ি খাবার তৈরি করছি।
আজ নখ কাটছো কেন?
তুমি যখন আমার সপ্নে আসো, নখগুলো তোমাকে আঘাত দিতে পারে।
বেবাম্মা!
আসি!
এটা ছোটখাটো আঘাত চিন্তার কিছু নেই।
আসি।
- ব্যথা করছে? - না, বেবাম্মা। হালকা আঘাত এটা।
- আমি কি ওকে আবার একটু কোলে নিবো? - আচ্ছা।
- অনেক কিউট, তাই না? - অনেক কিউট।
আমাকে বিয়ে করছো না কেন?
তোমার বাবা আমাদের সন্তান হয়েই আমাদের কাছে ফিরে আসবে।
তখন আমরা সবাই মিলে বাচ্চার নাম ঠিক করবো।
আমরা দু'দিনের মধ্যেই বিয়ে করবো।
তোমার ইচ্ছানুযায়ী আমরা পুরীর মন্দিরে বিয়ে করবো।
- সত্যি? আবার বলো না! - চলো আমরা বিয়ে করি।
- বলো.. - আমরা দু'দিনের মধ্যে বিয়ে করবো।
হ্যালো?
মা, কেমন আছো?
তোমাকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলার আছে।
আসি আর আমি বিয়ে করতে চলেছি।
আমি অনেক খুশী।
কাল আমাদের বিয়ে।
নিজের খেয়াল রেখো মা।
বেবাম্মা,আমি গিয়ে টিকিট নিয়ে আসছি।
আচ্ছা, যাও।
বেবাম্মা...
আসি!
বেবাম্মা!
বেবাম্মা!
বেবাম্মা!
বঙ্গোপসাগরে সৃষ্ট নিম্নচাপ...
ভারী বৃষ্টিপাতের কারণ হতে পারে, এবং আগামী তিনদিন ঝড়ো বাতাস বইবে।
সরকার জেলেদের সতর্ক করে দিচ্ছে...
এই সময়ে গভীর সমুদ্রে মাছ ধরতে বিরত থাকার জন্য।
একটু খা।
খেয়ে নে।
বেবাম্মা খেয়ে নে মা।
একটু খা।
দু'দিন পর তোর বিয়ে।
অতিথিদের সামনে তোকে অনেক সুন্দর লাগতে হবে তো!
খা বলছি।
নিজের চোখগুলো দেখেছিস? একদম ফুলে গেছে।
খেয়ে নে।
তুমি যখন বিয়ে দিয়ে দিতে চাচ্ছিলে, আমি তখন বাড়ি থেকে পালিয়ে গিয়েছিলাম।
আমি এখন এখানে থাকবো, এটা কীভাবে ভাবছো তুমি?
তুমি আমাকে বিয়ে দিয়ে দিলেও, আমি পালিয়ে যাবো।
আমি আসিকে চাই,বাবা।
আমি তোকে যেতে দিবো কেন?
আমি আমার সম্মান নিয়ে অনেক সচেতন।
তুই গেয়োদের সাথে ঘুরাফেরা করিস, সেটা আমার বিন্দুমাত্র পছন্দ নয়।
সেজন্য তোকে কলেজ নিয়ে যাওয়ার জন্য আমি স্পেশাল বাসের ব্যাবস্থা করেছিলাম।
মাত্র ১৫ কি.মি এর পথ...
যদিও তুই পালিয়ে গিয়েছিস...
কিন্তু তুই এখানেই আছিস তা পুরো গ্রামকে বিশ্বাস করতে বাধ্য করেছি।
তুই পালিয়ে গেলে আমি চুপ করে বসে থাকবো এটা ভাবলি কীভাবে?
আমার সম্মানহানি করতে চাস?
আমার পছন্দের ছেলের সাথেই তোর বিয়ে হবে।
তার সাথে জীবন কাটাবি তুই।
তুই তার বাচ্চা দেখাশোনা করবি।
বুঝেছিস?
জানি না একটা মেয়ে এসব কথা কীভাবে তার বাবাকে বলে।
কিন্তু শুনো বাবা,আমি...
আমি প্রথমবার আসির সাথে পালিয়েছিলাম।
আমি ওর সাথে শুয়েছি।
তুমি কি জানো সেটা?
আমি জানি।
আমি অনেকদিন তোকে খুঁজেছি কিন্তু পাইনি।
তুই কি জানিস বিয়ের দুই দিন আগে কীভাবে তোকে খুঁজে পেলাম?
আমি নিজে থেকে তোকে খুঁজে পাইনি।
আমি তোকে খুঁজে পেয়েছি, কারণ ও তোকে ছেড়ে দিয়েছে।
অপদার্থ কোথাকার!
ও আমাকে ফোন করে সব বলেছে।
প্লাটফর্ম নাম্বার থেকে শুরু করে সবকিছু।
বেবাম্মা।
১ নাম্বার প্লার্টফর্মে থাকবে।
সিকিমের শিবক রেলওয়ে স্টেশনে।
আগামীকাল সকালে আপনি ওকে ফিরিয়ে নিয়ে যেতে পারবেন।
এটা সত্য না। এটা মিথ্যা।
তুমি আমাকে মিথ্যা বলছো বাবা।
তুই কি সত্যিই ওর সাথে শুয়েছিস?
যদি তুই আমাকে সত্যি করে বলিস যে
তুই গত ৬ মাসে একবারের জন্য হলেও ওর সাথে শুয়েছিস,
তাহলে তোকে আমি এখান থেকে যেতে দেবো।
মনে করার চেষ্টা কর।
তুই কীভাবে ভাবতে পারলি, আমার সম্মান মাটিতে মিশিয়ে দেওয়ার পরও আমি ওকে ছেড়ে দেবো?
তুই জানিস আমি কী করেছি?
আসি!
ওকে ছেড়ে দাও!
- আসি! - বাবা!
ওকে যেতে দাও! ও মরে যাবে।
রায়ানাম বাবু...
তারা আমার ছেলেকে মেরে ফেলছে।
দয়া করে ওকে বাঁচান।
তারা ওকে মেরে ফেলছে।
বাবা!
জালায়া, তুই আর তোর ছেলে দুজনেই আমাকে বোকা বানিয়েছিস।
বাবু...
তোর ছেলেই আমার মেয়েকে সাগরে নিয়ে গিয়েছিল।
আর তুই কিনা গল্প সাজিয়ে আমাকে বলেছিস এটা অন্য কারো কাজ!
আমাকে মাফ করে দিন, বাবু।
আমি আমার ছেলেকে বাঁচাতে গিয়ে ভুল করে ফেলেছি, বাবু।
আমাদের মাফ করে দিন, আমরা এই এলাকা ছেড়ে চিরদিনের জন্য চলে যাবো।
ওর জখম থেকে রক্ত ঝরছে।
রক্ত ঝরতে দে।
যখন দেখবি সব রক্ত বের হয়ে গেছে, তখন বাপ বেটায় সব বুঝতে পারবি।
মানুষের শরীরে যখন রক্ত দেওয়া হয়,
যদি রক্তের গ্রুপ না মিলে তাহলে সেই লোক মরে যায়।
তেমনি তোর ছেলেও আমার জাতের সাথে মিলে না। সে কীভাবে আমার মেয়ের সাথে প্রেম করলো...
আর জীবন নিয়ে পালালো?
শালা বেজন্মা নিচু জাত!
বাবু, তাদের থামতে বলুন!
তোর বউ কি শুধু তোর সাথে শুয়েই ওকে জন্ম দিয়েছে?
রায়ানাম!
মুখ সামলে!
আপনার মেয়েই আমার নিচু জাত ছেলের সাথে এক রাত কাটিয়েছে।
আপনার মেয়ের জাত কী? তখন আপনার জাত কোথায় ছিল?
কী বললি!
জালায়া, তুই ঠিকই বলেছিস।
ভালোবাসা কোনো জাত-পাত মানে না।
রায়ানাম...
রায়ানাম, ওকে ছেড়ে দিন।
আমি আপনার কাছে হাত জোড় করছি।
এই।
তোর পৌরুষ দেখেই আমার মেয়ে তোর প্রেমে পড়েছিল।
আমি তোকে মারবো না।
না...
দয়া করুন, না...
আমার মেয়ে যেই পৌরুষের মোহে পড়েছে সেটাই আমি কেটে দেবো।
আসি!
ওকে ছেড়ে দিন, বাবু। আমি আপনার পায়ে পড়ি।
না!
আসি!
এই।
তুই আমার মেয়ের প্রেমে পড়েছিস, তারপরও আমি তোকে বাঁচতে দিলাম।
কারণ, তুই আর কোনোদিন প্রেম করতে পারবি না, তুই অসহায় ভাবে বাঁচবি।
ভালোবাসা তখনই মহান থাকে,
যখন এটা শুধুমাত্র সামাধি এবং ইতিহাসের বইতেই বিরাজ করে।
যদি এটা প্রেমে পরিণত হয় আর পরিবারের জন্ম দেয়,
এটা আর মহান থাকে না।
সে জন্যই ভালোবাসার অস্তিত্ব কেবল ইতিহাসেই পাওয়া যায়।
সমাজে এর কোনও ভবিষ্যত নেই।
কী বললে তুমি?
আমার সাথে চলো, না হলে আমি নিজেকে শেষ করে দেবো।
বেবাম্মা, আমি তোমাকে কিছু বলতে চাই।
- তোমার তোয়ালেটা টান দিলাম! - এই!
বেবাম্মা, আমি তোমাকে এখানে শুধুমাত্র থাকার জন্য নিয়ে আসিনি।
আমি তোমাকে এখানে এনেছি যাতে তুমি আমাকে ছাড়া বাঁচতে শেখো।
আমি আমাদের মধ্যে কিছুটা দূরত্ব রেখে চলেছি, কিন্তু আমি সবসময়ই তোমাকে চোখে চোখে রেখেছি।
তোমাকে কীভাবে বলবো তা আমি বুঝে উঠছিলাম না।
অন্তত আজকের জন্য হলেও আমি তোমাকে সত্যটা জানাতে চেয়েছিলাম।
এজন্যই আমি এটা করেছি, বেবাম্মা।
আমাকে বিয়ে করছো না কেন?
তোমার বাবা আমাদের সন্তান হয়েই আমাদের কাছে ফিরে আসবে।
আমি তোমাকে চাই। কিন্তু জানি না আমি কীভাবে তোমার সাথে থাকবো।
যদি আমি তোমাকে আমার সাথে রাখি,
তুমি কি এটাকে ভালোবাসা বলবে? নাকি বলবে এটা ভালোবাসার নামে প্রতারণা?
আমি জানি না।
কিন্তু যখন তুমি বাচ্চা নেওয়ার কথা বললে, তখন মনে হচ্ছিলো আমি তোমার ভালোবাসার সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করছি।
সেজন্য আমি তোমাকে বাড়িতে পাঠিয়ে দিচ্ছি, বেবাম্মা।
কানাকাম!
পানি নিয়ে আসো।
- গোভিন্দ। - মা?
আমার একটা ছোট্ট উপকার করবে?
- বাবু... - বলো।
কী উপকার?
আসি যেখানেই থাকুক না কেন আমাকে কি তার কাছে নিয়ে যেতে পারবে?
হাত ছেড়ে দাও, বাবা।
হাত ছেড়ে দাও।
- তোকে দেওয়ার মতো ওর কিচ্ছু নেই। - হাত ছেড়ে দাও।
হাত ছেড়ে দাও, বাবা!
আমি রেগে যাচ্ছি।
আমি বিরক্ত হয়ে যাচ্ছি।
আসলে, আমার তোমার উপর রাগ করা উচিত।
যদিও তুমি তাকে নরকে ঠেলে দিয়েছো।
আসি আমাকে তোমার ব্যাপারে সত্যটা না জানিয়ে নিরবে সহ্য করে গেছে।
তাই আমি ওর উপরেও রেগে আছি।
আমি ওকে খুঁজে বের করবো, আর বাকি জীবন ওর সাথেই কাটাবো।
আমি তোমার মেয়ে।
তুমি কীভাবে ভাবতে পারলে যে আমি আসির সাথে শুধু রাত কাটানোর জন্য চলে গিয়েছি?
আমি যদি শুধুমাত্র শোবার জন্যই ওর সাথে যেতাম,
আমি ওর সাথে এতো দিন থাকতে না পেরে বাড়ি চলে আসতাম।
ও আমাকে ভালোবাসতো, বাবা।
কী হলো?
সে আমাকে সমুদ্রে নিয়ে গিয়েছিল কারণ আমি বায়না ধরেছিলাম।
আমি যা চেয়েছিলাম তা সে আমাকে দিতে পারেনি, তাই...
সে আমাকে তোমার সাথে বাড়িতে পাঠিয়েছে।
শুধু এটুকুই।
আর কিচ্ছু না।
তুমি বা আসি কীভাবে বিচার করতে পারলে...
আমি কার সাথে থাকবো আর কার সাথে থাকবো না?
মেয়ে হিসাবে আমারও তো একটা মতামত আছে।
তুমি আমাকে জিজ্ঞাসা করছিলে না? গত ছয় মাস আমি তার সাথে ছিলাম কি-না।
হ্যাঁ, আমি ছিলাম, বাবা।
এবং এই কয়দিনে,
আমি এক মুহূর্তের জন্যও কোনো কিছুর শূন্যতা বোধ করিনি।
কোনো মেয়ে কি কখনও আসির চেয়ে ভালো মানুষ খুঁজে পেতে পারে, বাবা?
আমার শিক্ষক আমাদের একটা জিনিস শিখিয়েছিলেন।
তিনি বলেছিলেন, পুরুষত্ব কখনও দুই পায়ের মাঝে থাকে না।
এটা একটা মানুষের শিরায় শিরায়, স্নায়ুতে স্নায়ুতে বয়ে বেড়ায়।
হয়তো সে কারণেই, আসি যখন আমার হাত ধরে, আমি ঘামতে শুরু করি।
বাবা, ভালোবাসা মানে ভালোবাসার মানুষটাকে আঁকড়ে ধরে থাকা।
তাদের চলে যেতে দেওয়া নয়।
ভালোবাসার ব্যাপারে তুমিই বা কী বুঝবে?
যখন থেকে মা শয্যাশায়ী,
তুমি কি একবারের জন্যেও ভালোবেসে তার হাতটি ধরেছিলে,
তাকে ছেড়ে যাওয়ার জন্য কষ্ট অনুভব করেছিলে?
আমি কীভাবে তোমাকে বোঝাবো, বাবা?
আসিকে কখনই আমার উপরে শুতে হবে না।
সে যদি শুধু আমার পাশে শোয় এটাই আমার জন্য যথেষ্ট।
যদি তুমি সত্যিই ভেবে থাকো আমি শুধু শোয়ার জন্যই ওর সাথে গিয়েছিলাম...
আমি ওর সাথে পুরো একটি রাত কাটিয়েছি।
সেই অভিজ্ঞতাই আমার সারাজীবনের জন্য যথেষ্ট।
আমি আসির কাছে চলে যাচ্ছি।
আশির্বাদ করো, বাবা।
বাবু...
বেবাম্মা...
বাবু... বেবাম্মা...
বাবু, সে চলে যাচ্ছে।
তাকে থামান।
গোভিন্দ!
যখন তার মেয়ে কথা গুলো বলছিলো,
তিনি একবারের জন্যও প্রতিক্রিয়াই জানাননি।
তাহলে তুই কেন তাকে থামাবি?
তাকে যেতে দে।
চিন্তা কোরো না।
তুমি এখনও আমাকে জড়িয়ে ধরতে পারবে।
এখনও আমাকে চুমু খেতে পারবে।
এবং তুমি আমাকে হৃদয়ের সবটুকু দিয়ে ভালোবাসতে পারবে।
"বাংলা সাবটাইটেল দিয়ে মুভিটি উপভোগ করার জন্য ধন্যবাদ"♥ ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে না দেখে অবশ্যই ভুল-ত্রুটিগুলো ধরিয়ে দেওয়ার অনুরোধ রইলো।
💗সাবটাইটেলটি ভালো লাগলে অবশ্যই সাবসিনে গুড রেটিং দিয়ে উৎসাহিত করবেন আর ভালোমন্দ ফিডব্যাক জানাতে ভুলবেন না!💗
আমি বাচ্চা চেয়েছিলাম বলে কি আমাকে চলে যেতে দিয়েছিলে?
আমি যদি বাচ্চা চাই, সাথে তোমাকেও লাগবে, আসি।
অন্য কেউ নয়।
না, বেবাম্মা।
ভগবান,
আমাদের রক্ষা করুন।
দাদু।
ভগবানের তো একটা হাত নেই।
এখনও কি তিনি আমাদের আশির্বাদ এবং ইচ্ছা পূরণ করতে পারবেন?
হতে পারে প্রতিমাটি ভাঙ্গা,
কিন্তু কোনো কিছুই ভগবানের ক্ষতি করতে পারে না, সোনা।
দেবত্ব থাকে ভিতরে।
প্রতিমার বাহ্যিক ক্ষয়ে কিছু যায় আসে না।
প্রেম এবং দেবত্ব কখনই শারীরিক ত্রুটি দ্বারা ম্লান হয় না।
দেখো।
শুধুমাত্র তোমার পাশে বসে থেকেও আমি কেমন ঘামছি।
যদিও রায়ানাম আসির পুরুষত্ব কেটে দিয়েছে,
সে আসিকে পুরুষ হওয়া থেকে আটকাতে পারেনি।
মানুষের হৃদয় সমুদ্রের মতো।
আর সেখানে ভালোবাসা জন্ম নেয় ভরা জোয়ারের মতো।
সমুদ্রকে হয়তো সীমানা দিয়ে আটকানো যায়, কিন্তু ভরা জোয়ারকে কখনও আটকানো যায় না।
সে কারণেই বেবাম্মা সব বাঁধা পেরিয়ে আসির সাথে চলে এসেছে।
এক জীবনে শুধু এটুকু ভালোবাসাই কি যথেষ্ট নয়?
Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.