All language subtitles for JOJI (2021) Bangla Subtitle

af Afrikaans
ak Akan
sq Albanian
am Amharic
ar Arabic
hy Armenian
az Azerbaijani
eu Basque
be Belarusian
bem Bemba
bn Bengali Download
bh Bihari
bs Bosnian
br Breton
bg Bulgarian
km Cambodian
ca Catalan
ceb Cebuano
chr Cherokee
ny Chichewa
zh-CN Chinese (Simplified)
zh-TW Chinese (Traditional)
co Corsican
hr Croatian
cs Czech
da Danish
nl Dutch
en English Download
eo Esperanto
et Estonian
ee Ewe
fo Faroese
tl Filipino
fi Finnish
fr French
fy Frisian
gaa Ga
gl Galician
ka Georgian
de German
el Greek
gn Guarani
gu Gujarati
ht Haitian Creole
ha Hausa
haw Hawaiian
iw Hebrew
hi Hindi
hmn Hmong
hu Hungarian
is Icelandic
ig Igbo
id Indonesian
ia Interlingua
ga Irish
it Italian
ja Japanese
jw Javanese
kn Kannada
kk Kazakh
rw Kinyarwanda
rn Kirundi
kg Kongo
ko Korean Download
kri Krio (Sierra Leone)
ku Kurdish
ckb Kurdish (Soranî)
ky Kyrgyz
lo Laothian
la Latin
lv Latvian
ln Lingala
lt Lithuanian
loz Lozi
lg Luganda
ach Luo
lb Luxembourgish
mk Macedonian
mg Malagasy
ms Malay
ml Malayalam
mt Maltese
mi Maori
mr Marathi
mfe Mauritian Creole
mo Moldavian
mn Mongolian
my Myanmar (Burmese)
sr-ME Montenegrin
ne Nepali
pcm Nigerian Pidgin
nso Northern Sotho
no Norwegian
nn Norwegian (Nynorsk)
oc Occitan
or Oriya
om Oromo
ps Pashto
fa Persian
pl Polish
pt-BR Portuguese (Brazil)
pt Portuguese (Portugal)
pa Punjabi
qu Quechua
ro Romanian
rm Romansh
nyn Runyakitara
ru Russian
sm Samoan
gd Scots Gaelic
sr Serbian
sh Serbo-Croatian
st Sesotho
tn Setswana
crs Seychellois Creole
sn Shona
sd Sindhi
si Sinhalese
sk Slovak
sl Slovenian
so Somali
es Spanish
es-419 Spanish (Latin American)
su Sundanese
sw Swahili
sv Swedish
tg Tajik
ta Tamil
tt Tatar
te Telugu
th Thai
ti Tigrinya
to Tonga
lua Tshiluba
tum Tumbuka
tr Turkish
tk Turkmen
tw Twi
ug Uighur
uk Ukrainian
ur Urdu
uz Uzbek
vi Vietnamese
cy Welsh
wo Wolof
xh Xhosa
yi Yiddish
yo Yoruba
zu Zulu

Original subtitles

শেক্সপিয়ারের "Macbeth" থেকে অনুপ্রাণিত

অনুবাদে: ফ্ল্যামি তুহিন | প্রীতম চন্দ্র দে মাহমুদুল ইসলাম রুবেল | নিয়ামুল হক আবেগ শেখ রাসেল | ফাহমিদুল ইসলাম

অনুবাদে: হাসান বিন ইসলাম সোহান | জুবায়ের রহমান হাবিব সিয়াম | মোহাম্মদ সায়েম নূরুল্লাহ মাশহুর

সম্পাদনায়: ফাহমিদুল ইসলাম নূরুল্লাহ মাশহুর

হেই, বিকেলে দেখা হবে।

ওকে।

আমার জন্য অপেক্ষা করিস।

Joji (2021)

সরো...সরো..

এসেছে?

না।

এখন চেক কর।

না, আসেনি।

পি কে কুট্টাপ্পান পানাচেল...

দাদু কোয়ারেন্টিনে আছে।

ওহ ঈশ্বর...

হেই!

বায়ু! [ ঘোড়ার নাম ]

তাকা।

কী ওটা?

কিছু না, খেলনা পিস্তল।

মেরে দাঁত ভেঙে দেব .. এটা খেলনা পিস্তল, হাহ?

পিস্তলটা আমার বন্ধু সিন্টো দিয়েছে...আমিতো ব্যস

...খেলছিলাম।

আজাইরা ঘুরিস, পড়ালেখা নাই?

যা, পড়তে বোস.. বাসায় যা।

পিস্তলটা ফেরত দিতে হবে...

বলবি আমার কাছ থেকে নিয়ে যেতে।

বাবা...

বাবা...

হ্যাঁ

পিক-আপ ট্রাকটা নিয়ে যাচ্ছি।

কীজন্য?

কিছু খড় কিনতে।

গাড়িতে ডিজেল লাগবে।

মানিব্যাগ থেকে ২,০০০ টাকা নিয়ে যা।

ওখানে ৭,৫০০ টাকা আছে

ওহ...

হেই, গিরীশ

ব্রো, বায়ুপুট্টানের (ঘোড়ার নাম) জন্য কিছু খড় কিনে আন।

পুকুরে কাজ আছে আমার।

এতো কথা টানছিস কেন?

বায়ু কাল থেকে কিছু খায়নি। যা...

হুমম

১,৫০০ টাকার ডিজেল নিবি।

২ প্যাকেট সিগারেট কিনবি আর বাকিটা তুই রাখিস।

ওকে

নাস্তায় কী আছে, বিন্সি?

উপমা আর কলা

এটা কি বাড়ি না আশ্রম?

কয়েকমিনিট পর ভাত হয়ে যাবে।

আহ...সুপার

বিন্সি

ওহ...

বাবা জিজ্ঞেস করলে বলবে সকালে বেরিয়ে গেছি।

ঠিক আছে।

এই নাও তোমার কফি

হেই...হেই

বাবা

শুয়ে থাক

আমার অ্যাকাউন্ট থেকে টাকা কেন নিয়েছিস?

কোথায়?

গত ২৪ তারিখ

অনলাইনে আমার অ্যাকাউন্ট থেকে ৮০০০ টাকা চুরি করিসনি?

আমার কোনো আইডিয়া নেই, সত্যি বলছি।

জোরে চাপ দিলে আমি মরে যাব।

চুপ

বাবা, আমাকে মেরোনা প্লিজ। চুপ

তুই আর তোর ওই হাড্ডিসার ঘোড়ার আমি দেখভাল করছি না?

হ্যাঁ...

করছি তো? হ্যাঁ।

তাইলে খা আর হাগ.. আর কোনো অভিযোগ করবি না।

ঘোড়ার মার্কেট একদম ঠাণ্ডা আর পর্যটন সেক্টর মারা খেয়েছে।

কসম, তোমার টাকা ফেরত দিয়ে দেব।

সেটাই ভালো। নইলে নলা ভেঙে সারাজীবন বসিয়ে খাওয়াব।

তাতে আরও কম খরচ হবে আমার।

অকর্মার ঢেঁকি কোথাকার!

ভাই

এখানে অতিরিক্ত কাদা।

পানির রাস্তাটা ব্লক হয়ে গেছে।

শক্ত করে ধর।

পাথর সরিয়ে ফেললে পানির জোয়ার আসবে।

সুধী, দেখ।

একসাথে ধরো

৬ টা পটকা লাগতে পারে।

টেনে তোল, ভালবের চিন্তা করিস না।

নিচে ধরে রাখ।

পাইপটা টান দাও।

..এখন আমরা পাই এর মতো মূলদ সংখ্যার সম্মন্ধে জানলাম।

এবার সংখ্যাগুলোকে ২টা গ্রুপে ভাগ করব, মূলদ এবং অমূলদ সংখ্যা।

তো, মূলদ কী? সেটা পরে দরকার পড়তে পারে...চলুন আবার।

২/৩ একটি মূলদ সংখ্যা যেটা...

...দুইটি একটা পূর্ণসংখ্যা।

হেই, সিন্টোকে ফোন করে জিজ্ঞেস করতো পিস্তলটা কত নিলো

আমরা একটা কিনবো।

সত্যি?

হ্যাঁ

অনেক ধরণের আছে, চাচা।

সম্পূর্ণ অটোমেটিক হলে?

ওটা দামি হবে।

আলাদা করে পেলেট কিনতে হবে?

যদি এখন কিনি একটা অফার আছে।

পিস্তলের সাথে ১০০টা পেলেট পাবো ফ্রি।

কত লাগবে?

পিস্তল আর পেলেটের জন্য?

পিস্তলের জন্য

৮০০০ টাকা পিস্তলের জন্য

অনেক সস্তা।

পিস্তলটা অনলাইনে কিনেছিস, তাইনা?

হ্যাঁ...

প্রতারক..!!

বাবা..

চাচা...প্লিজ...

বাবা কোথায়?

উনি পুকুরে গেছেন।

কী হয়েছে? কিছু না।

আঙ্কেল..

ভাই, খুব পিচ্ছিল।

ওই সুরেশ...

জোরে টান দে।

একপাশে সরে যা।

সরে যা, সরে যা

চোখা পাথরগুলো থেকে সাবধান।

ধরে থাক, গাধা কোথাকার।

উঁচু কর, টান দে...টান দে।

টেনে তুলে ফেল..

আমাকে দেন। আমি দেখছি।

আরেকটু তুলতে পারবি?

প্লিজ, আঙ্কেল, প্লিজ।

না, পপি, না..

আমার সততার প্রশ্ন এখানে..

দাদাজানকে বোলো না, প্লিজ।

আমাকে আটকানোর ক্ষমতা কি তোর আছে?

আব্বা

আঙ্কেল, দাদাজানকে বলো না..

আব্বা

সাবধানে।

কী হয়েছে, ভাই?

গাড়ি স্টার্ট দে।

কী হয়েছে?

গাড়ি স্টার্ট দে, গাধা কোথাকার।

ভাই, আগে গাড়ির চাবিটা নিয়ে আসি..

এখন কেমন আছে?

বেশ খারাপ, মারাত্মক স্ট্রোক করেছে।

কোনো আশা নেই, ওরা বললো।

কিন্তু আশা করতে দোষ কী?

তাই না?

হুম।

মেডিকেল সায়েন্সের পক্ষে যা করা সম্ভব, ওনারা সবই করছেন।

গরম পানি দাও, আমি ভীষণ ক্লান্ত। গোসল করতে হবে।

আব্বার ঘরে হিটার আছে।

সারাদিন পেটে দানাপানি পড়েনি।

তোর কপাল ভালো!

যাই বল, আমরা মানব জাতি সত্যিই অসহায়, বিন্সি।

ওরা কি পুকুরে মাছ পায়নি?

ফ্রিজে রেখেছিলাম... গরম করতে দে।

আব্বা কি কোনো উইল করেছেন বা ওই জাতীয় কিছু?

এখন এসব আলোচনা করার সময়?

মাছের তরকারির কথা জিজ্ঞেস করলি তো, তাই ভাবলাম...

হাই রয়..

কে আপনি?

আরে আমি ফেলিক্স।

ওহ্..বন্ধু..

তোমার ক্লিনিক কেমন চলছে?

ভালোই।

উনি আমার দুঃসম্পর্কের আত্মীয়।

কুট্টাপ্পান পি কে

হুম।

বর্তমান অবস্থা?

এখনো মস্তিষ্কে রক্তক্ষরণ হচ্ছে। বারহোল করা যায়। [ বারহোল রক্তক্ষরণজনিত স্ট্রোকের অপারেশন ]

কীভাবে হলো?

কী বলবো? পুকুর থেকে একটা সেচ পাইপ টেনে তুলতে গিয়েছিলেন।

তাও আবার এই বয়সে!

এখন কেমন আছে?

ফেলিক্স ভাই এসেছেন।

ডাক্তারের সাথে কথা বলছেন, ওনারা আবার ক্লাসমেট।

- খেয়েছ কিছু? - না

- ভাত-ডাল কিছু আনিসনি? - হ্যাঁ।

আচ্ছা, ক্যান্টিনে যাবে না কি?

জোমন..

বলেন, ভাই।

ওরা তো বলছে, ভালো হয়ে যাবে...

কিন্তু আমি যা দেখলাম...

তাতে খুব একটা আশার আলো দেখছি না।

অন্যকোনো হাসপাতালে নিয়ে যাবো?

কোথায়?

সবখানেই একই চিকিৎসা।

ভাই, বাবা কি দুই-একটা চেক সই করতে পারবে?

টাকাপয়সা ছাড়া কোনোকিছুই তো...

দেখ জেসন...

যদি জ্ঞান ফিরে পায়ও, প্যারালাইজড হাতে কীভাবে সই করবে?

আঙুলের ছাপ নেয়া যাবে?

ভাইরে, তোমাদের সবাইকে জেলের ভাত খেতে হবে।

চালানটা পাঠাতে না পারলে উনি আমাকে মেরেই ফেলবে।

ওহ্, ঈশ্বর।

বিন্সি!

নতুন ঘোড়া কেনার চুক্তি প্রায় হয়েই গেছে।

দারুণ।

এখনো ঢাকঢোল পেটাইনি...ঘোড়াটাকে যেখানে রাখা হয়েছে, সেই জায়গাটা নিয়ে দালাল অখুশি।

যদি ঘোড়াটা আমাদের উঠোনে রাখতে পারতাম, তাহলে একটা রাজকীয় ভাব আসতো।

এটা করলে, আব্বা আমার পা ভেঙে দেবে।

যদিও, সেটা এখন কোনো ইস্যু না।

যাইহোক, জোমন ভাইকে একটা কল করি।

জোজি..

আরে শোন না, জোজি..

এটা তো তোরও বাড়ি...এতো অনুমতির ধার ধারে কে?

উঠোনে নিয়ে শুধু বেঁধে ফেল। মামলা ডিসমিস।

জোজি, কী হয়েছে?

জোমন ভাই, আমি কলব্যাক করবো। আপাতত ব্যস্ত।

কে?

জোজি।

কী বললো?

বললো আপাতত ব্যস্ত, পরে কল করবে।

অলস মস্তিষ্ক, শয়তানের কারখানা!

ওর কাছে আসবি না..

ও আমার... -ভাইউ, ভাইউ....

ওখানেই দাঁড়া

কভার ফটোটা ঝাক্কাস হয়েছে।

ওই এক পলক দেখেই ডিল ফাইনাল করে ফেলেছিলাম।

দুঃখের বিষয়, এই ফালতু জঙ্গলের ভেতর ঘোড়াটাকে রাখতে হচ্ছে।

ওপর থেকে খোলো।

বোন, সরে দাঁড়ান।

কমন, সাবধানে।

চাদরটা ধরবেন না।

তোলেন।

গিরিশ...আস্তে

সাবধানে পা ফেলো।

- রুম কোনটা? - ওপরতলায়।

নিচতলায় রাখলে কেমন হয়?

না, উনি ওপরতলায়ই ভালো থাকবেন।

- ওখানেই নিয়ে যাও.. - সাবধানে।

হাতটা সাবধানে ধরো

হাতটা সাবধানে ধরো।

তার হাত.... উচু করে ঘুরাও...এই তো

যথেষ্ট...

কুট্টাপ্পান ভাই

তুমি ঠিক আছো?

আমরা বাড়িতে এসে গেছি, এখানে সবাই আছে।

ঠিক থাকলে চোখের পলক ফেলো।

এই তো...

তিনি কান্না করছে...

কান্না করছে না, চোখে সামান্য পানি আসা স্বাভাবিক।

দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে কী দেখছো? তোমরা এখন যেতে পারো...

বিন্সি...

হাসপাতালের কাগজগুলো কোথায়?

এক্ষুনি নিয়ে আসছি।

বিন্সি...

এইটা সকাল বেলা, আর...

একটু দাঁড়াও...

জোজি তোমার কাছে খুচরো আছে?

পঞ্চাশ বা একশো টাকা নেই?

এটা তাকে দাও।

ধন্যবাদ।

ঠিক আছে তাহলে।

এসব কী ভাই?

কেন ২০০০ টাকা গাড়ি ভাড়ার জন্য ৫০০ টাকা বকশিস দিচ্ছ?

বাবার জন্যই তো দিচ্ছি, তাইনা?

টাকার কি কোনো দাম নেই?

জাইসন...

জি ভাই

তিনি হাসাপাতালেই বেশি ভালো ছিল.. মনে হচ্ছে এখানে...

পানাচেল কুট্টাপ্পান মারা গেছে... এটা আমাদের বাবা না...

তাহলে কে?

তোকে কিছু কথা বলবো।

সামনের দিনগুলোতে বাবাকে খুশি রাখতে হবে...

এটার জন্য আমাদেরকে অক্লান্তভাবে পরিশ্রম এবং প্রার্থনা করতে হবে....

আজ থেকে আমার পরিচালনায় এই বাড়িতে সন্ধ্যার প্রার্থনা ৮ টার সময় অনুষ্ঠিত হবে।

প্রার্থনার আগেই রাবারের দোকান বন্ধ করে দিবি... কথা বুঝা গেছে?

জোজি, শুনেছিস?

পপি

কথাগুলো মূলত তোকে বলেছি।

আমি কোথায় যাব?

তুই এখানেই থাকবি।

তো, এখানের পরিকল্পনা কী? আমার তৃষ্ণা পেয়েছে?

তোর কাছে কি বোতল আছে?

একটা খোলা লাল পানির বোতল আছে।

তোর কাছে কী আছে?

সামান্য ভদকা আছে..একদম তলানিতে।

এর থেকে ভালোটা নেই?

তার ঘরে বোতল থাকতে পারে।

-এখানে? -হ্যাঁ।

-বিন্সি... - ওহ।

আহ..কী খবর?

কোনো নতুন ধান্দা আছে?

শুধু সস্তায় একটা ঘোড়া বেচেছি...

ভালো।

বাবা, একটা বোতল নিতে দাও।

জোমন...শুভ রাত্রি।

আমাকে ক্লিনিকে যেতে হবে এবং তার পরদিন....

রবিবারে যাজককে নিয়ে আসবো।

আমার গাড়ি কোথায়?

ভাই,এই অবস্থায় গাড়ি চালাবে না...

আমি তোমাকে পৌঁছে দিবো...

ওহ জোমন, আমাকে হেয় করিস না।

দরকার হলে তোকে পৌঁছে দিতে পারবো..

হেহ..হেহে...

জোজি, ফেলিক্স ভাইকে বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে আয়..

-ভাই...পৌঁছে গেছি। -আহ....

বেশ..

ভাই...

খুলাখুলি একটা প্রশ্ন করি... বাবা কত দিন বাঁচবে?

সত্যি বলতে...

দুই সপ্তাহও টিকবে না।

শুভ রাত্রি...

...তুই এবার...লাখপতি।

ফাদার, বাবা অস্থিরতা দেখাচ্ছে।

বন্ধু, এটা খুবই স্বাভাবিক ব্যাপার।

এটা ঈশ্বরের সামনে আমাদের পিতার পাপের একটা স্বীকারোক্তি...

এটা এত সহজ না.. অস্থিরতা দেখানো খুবই স্বাভাবিক।

কিন্তু, এভাবে এটা দেখতে পারবো না।

আপনার নামটা যেন কী?

জোমন

জোমন

আপনাকে এখন যা করতে হবে তা হল একপাশে চোখ বন্ধ করে দাঁড়িয়ে পিতার জন্য প্রার্থনা করা।

ফাদার।

- ফাদার... - জোমন সাহেব, আমার কথা কি বুঝতে পারছেন না?

জ্ঞানী লোকে এক কথাতেই বুঝে যায়। ওনাকে বুঝানোর মতো কেউ কি নেই?

বাবাকে দেখো...

এখানে আসো।

সবাই শুনুন।

এটা সে সকল পাপের প্রায়শ্চিত্তের কারণে হচ্ছে, যে সকল পাপ আমাদের পিতা করেছে।

তেলের মাখানোর প্রার্থনা হল আমাদের উপর পিতার অর্পিত ধর্মসংস্কার

এই যজ্ঞের মাঝখানে ব্যাঘাত ঘটানোর অধিকার বা ক্ষমতা কারো নেই।

এমনকি যদি এই সময়ে আমাদের পিতা আমাদের ছেড়ে চলেও যান, এটাকে ঈশ্বরের ইচ্ছা হিসেবে মেনে নিতে হবে।

এটার মতো সুখী এবং শান্তিপূর্ণ বিদায় আর হয় না।

এখানে একত্রিত হওয়া ঈশ্বরের সকল সন্তানেরা নিজেদের চোখ বন্ধ করে তার জন্য প্রার্থনা করুন।

সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অংশে প্রবেশ করতে যাচ্ছি...

বাবা ওখানে শুয়েই মারা যাবে।

বিশ্বাস করো, আর কিছুই করার নেই।

তার চলে যাওয়ার সময় হয়েছে।

...তার প্রায়শ্চিত্তের জন্য প্রার্থনা করো। - তুমি প্রার্থনা করো...

না,এটা মানতে পারবো না...

জাইসন তাকে ধর।

সরেন আপনি।

জোজি, ওনাকে ধর।

আপনি এভাবে হঠাৎ থামাতে পারেন না।

- একদম চিনি হয়নি। - এটা কি কফি মেশিনের?

- আবার অর্ডার দিব না-কি? - দরকার নাই।

দেখ, সার্জারি অনেক ভেজালের জিনিস। তারা হেড ট্রান্সপ্লান্ট করানোর কথা বলতে পারে।

আর কি কোনো উপায় আছে, ভাই?

আমার মনে হয় এটা টাকার অপচয়। প্রায় ১০-১৫ লাখ যাবে।

তাও সবার মতামত নেয়া উচিৎ।

এটাও অনেক জরুরী।

এখন আর টাকার বিষয় না।

জোজি'র মতামত নিয়েছিস?

কীসের জন্য?

- ওটিপি-টা কীভাবে নিবে? - এটা তো বাবার নাম্বারে গেছে, তাই না?

দাদা বাথরুমে গেলে তখন নিতে পারবো, কিন্তু অনেক সাবধানে নিতে হবে।

কেন?

তা তো তুই জানিস।

জি, কাকা।

হ্যাঁ, বাবা...

তোর বাবা এখন কেমন আছে?

জীবন-মৃত্যুর পাঞ্জা খেলছে।

আমরা তো আর ফলাফল বলতে পারি না।

চিন্তা করিস না, দ্রুত সুস্থ হয়ে যাবে।

আমি নিশ্চিত।

সার্জারিটা নিয়ে কেউ আশাবাদী না,

কিন্তু আর কি কোনো উপায় বের করা যায় না?

অবশ্যই, তাও আমাদের আশাবাদী থাকতে হবে।

আমি একটা ভালো ছবি তুলতে চাই।

আমি কি টিকেট বুক করবো?

এখন ওনাকে নিয়ে ভয় আছে।

হুম।

- কাকা... টিকেট! - আরে ক্ল্যারিটির জন্য।

আচ্ছা, খুঁজেন।

প্রার্থনা করি তার জন্য কষ্ট না হয়।

এটুকু হলেই হবে।

কাকা, হাসপাতাল থেকে কল এসেছে।

একটু অপেক্ষা করেন। আপনারে ফাইনাল ছবিটা পাঠাবো।

হ্যালো।

জোজি, তুই কি বাসায়?

হ্যাঁ, বল।

সার্জারি শেষ হয়েছে, উনার অবস্থা এখন ভালোর দিকে।

ধীরে ধীরে জ্ঞান ফিরে আসবে।

ডাক্তার বললো সব ঠিক আছে।

বিন্সিকে জানিয়ে দিস।

- আচ্ছা। - ওকে।

- কাকা, - কোনো খবর পেলি?

সবকিছু ঠিক আছে।

বাবা এখন ভালো আছে। তোমার এখন টিকেট করাতে হবে না।

সবই ঈশ্বরের কৃপা।

হ্যাঁ, হ্যাঁ।

আচ্ছা তাহলে রাখি।

ভাই।

হায় ঈশ্বর।

পা দেখে তুল,

সাবধানে। আচ্ছা।

- ঠিক আছে? - হ্যাঁ।

আস্তে আস্তে।

জেসন, ধর তো।

কুট্টাপ্পান স্যার...

হয়েছে?

আঙ্কেল।

সে ফিরে এসেছে।

আমরা কি কোনো বিপদে আছি?

আমি না, সম্ভবত তুই বিপদে আছিস...

পপি, আমার কিছু জরুরি কাজ আছে, যদি কিছু মনে না করিস তবে যা এখন।

যা এখন...

আঙ্কেল...

এটাই সঠিক সময়।

যেহেতু সে কুকুরের মতো কাজ করে

জেসন ভাইয়ের জিজ্ঞেস করার অধিকার আছে...

বাবার চোখের আলো চলে গেছে...

পুরো ওয়ারিংই গেছে।

জিজ্ঞেস করার এটাই সঠিক সময়।

বিন্সি এটা কি নতুন কোনোভাবে বসানো হয়েছে?

আমাকে দেখতে দাও।

ব্যাংকের মতে

যদি আপনি অনুমোদন দেন,

আপনার পরিবর্তে আমি ব্যাংকের চেক সাইন করতে পারবো,

আপনাকে কষ্ট করতে হবে না।

কুট্টাপ্পান স্যার, সাবাস।

ডাক্তার বলেছেন, ওনাকে উৎসাহ দিতে।

তুই নিচে যা।

আর...

আমাদের টাকার দরকার

টাকার সমস্যা সমধানের জন্য বিন্সির ফিক্সড ডিপোজিট ভাঙ্গাতে হয়েছে।

আমরা শহরে একটা ফ্লাট দেখেছি।

আমরা যে ক্লিনিকে ডাক্তার দেখাই সেটা থেকে অনেক কাছে।

আপনি যদি আমাদের জন্য কিছু ভেবে থাকেন

সেটা অবশ্যই অনেক ভালো হবে।

ফ্লাট কেনার জন্য অগ্রিম টাকাও দিয়েছি।

জেসন, বাবা...

বেশ, তা আমি মারা যাচ্ছি ভেবে আমার ছেলেরা এই বুদ্ধি করেছে।

কিন্তু এবার তাদের ভাগ্যটা খারাপ।

এখন একটা কাজ করে দাও।

ফ্যানটা অনেক শব্দ করে।

রুমে এসি লাগিয়ে দাও।

ঠিক আছে।

তুমি এখন যেতে পারো।

কী হলো?

আমরা এক পয়সাও পাবো না যতক্ষণ তিনি বেঁচে আছেন।

দেখ এটা... তার নিখুঁত স্বাক্ষর,

যা সার্জারির কিছুদিনের মধ্যে হওয়া অনেক বড় ব্যাপার।

যখন আমি ক্লাস টেনে পড়ি তখন থেকে এটা নকল করার চেষ্টা করছি।

বিন্সি, এ ধরণের ফালতু বুদ্ধি নিয়ে আমাকে উপরে ওনার কাছে পাঠাবি না।

অনেক অপমান হয়েছে আমার।

বিন্সি, আমার জন্য ঠান্ডা পানি নিয়ে আয়।

জোজি, ওটা ফ্রিজে আছে।

তুই যেখানে বসে আছিস সেখান থেকেই খুলতে পারবি...

পানির বোতলগুলা এখানে আছে।

নিজে নিয়ে খা।

কী হয়েছে, বিন্সি?

সে কি বাবার সাথে কথা বলেছে?

আমাদের প্ল্যান কখনোই সফল হবে না, জোজি।

উনি কেবল ওষুধের উপর বেঁচে আছেন।

বেশিদিন বাঁচবেন না। এত চিন্তা করিস না।

এই কিচেন স্লাবেই তোর ভালো দিনগুলো শেষ হয়ে যাবে।

বাবা...

বাবা...

হুম?

তোমার মুখের উপরেই বলছি।

আমাদের সবারই সমস্যা আছে।

তোমার প্রতি ভয়, ভালোবাসা আর শ্রদ্ধার কারণে কেউ কিছু বলছে না।

তুমি মৃত্যুশয্যা থেকে ফিরে এসেছ...

তুমি কি মৃত্যুকে কাছ থেকে দেখোনি?

জীবনটা এমনই, যেকোনো সময় যেকারো ডাক আসতে পারে।

আমরা তোমার খেয়াল রাখি, এটাই তো চাও, তাই না?

আমাদের উপর আস্থা রাখো।

বাবা...

তুমি সবসময় বলতে যে আমি সেকেন্ড পিস।

তুমি ঠিক... আমি তাই।

তুমি যেমন ছেলে চেয়েছিলে আমি তেমনটা কখনওই হতে পারিনি...

আমি যেমন হতে চেয়েছিলাম তেমনটাও হতে পারিনি।

ব্যস একটা ক্লিকের ব্যাপার, বাবা।

আমার উন্নিত হবে।

সবার উন্নিত হবে।

আমার বিশ্বাস করো, প্লিজ...

বাবা আমার যৌবন মাঠে মারা যাচ্ছে।

কবরে কেউ কিছু নিয়ে যায় না...

চলুন, রোদ পোহানো যাক।

কুট্টাপ্পান স্যার।

এই বলটা চাপতে থাকুন।

- আমি কিছু খেয়ে আসি। - হুম।

ওখানে কে?

তোমার সাম্রাজ্যের বিষবস্তুগুলোর একটা।

যা ভাগ।

বেশ কয়েকদিন হয়ে গেল... তাই না?

কপালে কিছু লেগেছে?

আমি তো ব্যস...

টোপটা অবশ্যই গিলবে।

- ভাই, আমাদের নরম নারিকেল লাগবে না? - হ্যাঁ...

পরের কমপাউন্ড থেকে নিব।

কী ভাবছিস?

তোর বাপ কি এখানে শুয়ে নেই?

ম্যানেজারি বাদ দিয়ে, এখানে বসে প্রার্থনা কর।

আমি বাকিটা দেখছি।

জোজি, এখানে শুয়ে থাকিস না, বাইরে এসে বস।

মাস্ক পরে আয়।

- ভাই, একটা সমস্যা হয়েছে। - কী সমস্যা?

জামোন ভাইয়ের মাথাটা গেছে।

এদিকে লাশ দাফন হতে যাচ্ছে আর উনি পটকা ফুটাতে চাচ্ছেন।

- আপনি একটু আসুন। - কোথায় ও?

ওখানে আছে।

বড় এক বাক্স পাওয়া গেলে ভালো হতো।

দেখো জামোন, লোকে আমাদের নিয়ে ঠাট্টা করবে।

মনে হয় এটুক যথেষ্ট হবে।

কী আবলতাবল কাজ করছিস?

ভাই, বাবা তো বলেছিল সে মরার সময় কেউ যেন না কাঁদি, তাই না?

আমাদেরকেও কি পটকা ফুটাতে বলেনি?

এমনকি বাবার স্টেটের কার্ড খেলোয়াড়দেরও জানা উচিত...

পানাচেল কুট্টাপ্পায়ির শেষ যাত্রার ব্যাপারে।

কী শক্তিই না হবে সেটা!

পেটে মাল পড়লে ও অনেক কিছুই বলতো।

সব কথা এমন সিরিয়াসলি নেওয়ার কিছু নেই।

তাকে বলতে শুনেছ কি না?

- শুনেছি। - ব্যস, আর কথা হবে না।

লোকে তোকে পাগল বলবে।

প্লিজ আমার কথা শোন। আমরা এমনটা করব না।

শোন...

ব্যস একটা সারি...

প্লিজ।

ভাই... ভাই...

ফাদার সহানুভূতিহীন আচরণ করতে পারেন, আমার ভয় করছে।

আমি কথাবার্তা বলবো, তুমি চুপ থেকো।

মদ খেয়েছিস?

হেহ?

মাল গিলেছিস নাকি?

একটু, দেখা করব বলে।

ভেবেছিলাম আপনার বয়সটা আরও কম হবে...

আপনার বয়স অনুমান করতে পারিনি।

আমার বয়স জানলে কি বেশি সম্মান দেখাতেন?

ফাদার, আমার পরের শুক্রবার বাবার জন্য সার্ভিসের ব্যবস্থা করব ভাবছিলাম।

পরিস্থিতি বিবেচনা করে, আমরা বেশি লোকজন ডাকছি না...

সকালে গাড়ি পাঠাবো।

আমি আসব।

কিন্তু কথা দিতে হবে আগেরবারের মতো আবার অবাঞ্ছিত কিছু ঘটবে না।

প্রথম ঘটনার কথা বলছেন নাকি দ্বিতীয়টার?

আমি কেউই না, একটা কীট মাত্র...

আমাকে উপেক্ষা করতে পারেন...

কিন্তু ম্যানুয়েলর মতো সব যন্ত্রপাতি আমরা পাই,

জি, ফাদার।

বাইবেল আমাদের খ্রীষ্টানদের ম্যানুয়াল।

আমরা জানি, ফাদার।

আমাদের এটা মানা আর এর শ্রদ্ধা করা উচিত।

যদি সেটা নিশ্চিত করেন আমি তবেই আসবো।

অবশ্যই... অবশ্যই ফাদার।

আপনি এখানে নতুন তাই হয়তো খেয়াল করেননি।

চার্চের পতাকাদন্ডের নিচে একটা বোর্ড আছে...

...যাতে লেখা, 'স্পনসরড বাই পি কে কুট্টাপ্পান পানাচেল'।

যদি এই সার্ভিস এড়াতে চান, তবে আপনার জন্য শুভকামনা রইলো...

চল।

একটা মিনিট দাও।

মিনতি করা বন্ধ করে, আয়।

ফাদার, কিছু মনে করবেন না, প্রায় সব পরিবারেই এমন অকর্মার ঢেঁকি থাকে।

ও কি মাতাল?

ওর ডিভোর্স হয়েছে।

আর বাবার মৃত্যুর পর শোক ভুলতে ব্র্যান্ডিকে আপন করে নিয়েছে।

অনুমান করেছিলাম।

এসব মনে রাখবেন না।

দয়া করে দাওয়াতে আসবেন।

যান আপনি।

ফাদার কি আসবেন?

ন্যূনতম সম্মানবোধ থাকলে, আসবে না।

আর কিছু ধুতে হবে?

না, এগুলোই।

মেশিনে রঙিন আর সাদা কাপড় একসাথে করে ফেলিয়েন না।

জোমন ভাইয়ের চার্চ-চ্যাপেলিনের দরকার নেই।

কিন্তু আমাদের ক্ষেত্রে তা না... আমাদেরকে এখানে ব্যবসা চালিয়ে যেতে হবে।

বাবা যখন ছিল, আমরা শুধু তার ভয়ে থাকতাম...

এখন যেন...

সমস্যা বাদ দিয়ে সমাধানের কথা ভাবো।

জোজি, উনার মতো মাতালদের সাথে থাকা অনেক কঠিন।

দরকার নেই।

আমরা আলাদা হয়ে গিয়ে নিজেদের মতো করে বাঁচতে পারি।

জেসন ভাইকে উনার সাথে কথা বলতে বলো। আমরা দ্রুত আলোচনায় বসতে পারি।

মনে হয় না জোমন ভাই আলোচনায় বসবে।

উনি আমাদের পথে না আসলে, আমাদের উনার পথে হাঁটতে হবে...

দুটো বোতল বের করো।

কী বলো?

- আপনি কি সরাসরি ক্লিনিক থেকে এসেছেন? - হ্যাঁ।

জিনিসগুলো ভালোভাবে ভাগাভাগি করতে হবে, ব্যস!

তোমাদের বেশি কথা বলার দরকার নাই। আমি এটা সামলে নেবো।

উনি আসছেন, ড্রিংক লাগাবো?

কেন না?

কী হয়েছে জোমন? উপোস করছো নাকি?

ওরকম কিছু না, আলোচনা শেষ করা যাক।

নাহয় আমাকে দোষারোপ করবে পরে...

ড্রিংক পরেও করা যাবে।

কথায় যুক্তি আছে।

আলোচনার সাথে ড্রিংক না মেশানোই ভালো।

জোজি, এটা রেখে বসো।

জোমন।

যদিও এত দ্রুত এটা হওয়ার কথা ছিল না,

ভাগাভাগির ব্যাপারে কুট্টাপ্পান ভাইয়ের একটা পরিকল্পনা ছিল।

উনি আমার সাথে এ ব্যাপারে আলোচনা করেছিলেন,

কিন্তু এখানে আমি সেটা খোলাসা করছি না...

যদি করি, কাল দেখা যাবে তোমরাই দোষারোপ করবে।

ভাই, এতে আমার কোনো সমস্যা নেই।

ভাগে কম পেলেও আমার কোনো চিন্তা নেই।

বাবার এমন কোনো পরিকল্পনা থেকে থাকলে, আপনি বলুন।

এটা পরেও হতে পারে...

তোমাদের কোনো পরিকল্পনা থাকলে এখানে আলোচনা করতে পারো।

জোমন...জেসন।

বিন্সিও তার মতামত জানাতে পারে।

দেখুন, আমার একটা পরিকল্পনা আছে।

...কিন্তু এটা খুব সিম্পল। - তুই থাম।

ফেলিক্স ভাই পরিকল্পনা ছাড়া এখানে আসেনি।

উনাকে আগে বলতে দে।

ঠিক আছে।

তবে তাই হোক।

আমি কুট্টাপ্পান ভাইয়ের জন্য এটা করতে প্রস্তুত।

নিয়মানুযায়ী,

জমিদারি জোমনের হবে।

দোকান আর মুন্দাক্কায়ামের সম্পত্তি জেসনের।

তারপর, ছোটো ছেলে হিসেবে

জোজি বাড়ি আর আশেপাশের জায়গাগুলো পাবে।

যদি কিছুটা কম-বেশি হয়

বাকি ছোটোখাটো সম্পত্তিগুলো হিসাব করে সমান করে নিতে পারব।

এছাড়া, তাঁর কিছু ব্যংক ব্যালেন্সও রয়েছে।

আর তারপর,

ক্যানারা ব্যংকের ফিক্সড ডিপোজিট

উনি পপিকে দিতে বলেছেন।

এটুকুই... আমার বলার ছিল।

সিদ্ধান্ত তোমাদের।

আমরা যে লোভ প্রদর্শন করছি

বাবার আত্মা এসব দেখছে।

সমস্যা নেই, দেখুক।

এখানকার ব্যাপার-স্যাপার কীভাবে চলে বলে মনে করো?

এত বছর ধরে কুত্তার মতো খেটে যাচ্ছি।

কেউ সেটা অস্বীকার করছে না,

কিন্তু এটা নিয়ে গর্ব করিস না।

আমিও বাবার জন্য অনেক কিছু করেছি।

তুমি কাজও করেছ, ফায়দাও পেয়েছ।

তোমার ডিভোর্সের জন্য উনি কত টাকা খরচ করেছেন?

জেসন, ভাই,

জানতাম না তুই সবকিছুর হিসাব রাখছিস।

হ্যাঁ রাখছি,

আমি সব পাই টু পাই লিখে রেখেছি।

এটা বাবা আমাকে শিখিয়েছে।

এতে আমার কোনো লজ্জা নেই।

- মাথা গরম করিস না, বস। - ভাই।

পরিবারের সদস্যরা প্রথমবারের মতো কথা বলার সুযোগ পাচ্ছে

ওদের কথা বলতে দিন।

কথা বলার জন্যই তো আমরা এখানে বসেছি।

কথা বলার কিছুই নেই, ভাই।

এমনকি আমার ছেলে আর আমি কিছু না পেলেও

এখনই কোনো ভাগাভাগি হচ্ছে না।

মৃত্যুবার্ষিকী শেষ হোক।

ভাই, একটা কথা প্লিজ।

তোমার একটু বোঝা উচিত।

আমি এই বাড়ির সম্পূর্ণ খরচ চালাচ্ছি।

আমাকে বিন্সির ফিক্সড ডিপোজিট ভাঙতে হয়েছে, আরো নানা জায়গা থেকে টাকা জোগাড় করতে হয়েছে।

এমনকি তোমার আতশবাজির টাকাও আমাকে দিতে হয়েছে।

এখন গির্জার লোকেরা আর প্রতিবেশীরাও আমাকে দোষারোপ করছে।

আমি এটাই বলছি...

লোকজন সামান্য আতশবাজির জন্যও আমাদের দোষারোপ করে...

আর যদি মৃত্যুর পরপরই সম্পত্তি ভাগাভাগি করে নেই তাহলে কী বলবে?

আমরা সম্পত্তির জন্য বাবাকে হত্যা করেছি এমন অভিযোগ আনতেও দ্বিধা করবে না।

এটা অস্বাভাবিক কিছু নয়।

ধনীরা মারা গেলে লোকজন অনেক কিছুই বলে।

এতে তারা মজা পায়।

আমরা ওদের পাত্তা না দিলেই হলো।

ভাই, তুমি জানো...

আমাদের ওই বামন পুরোহিত...

সে বক্তৃতায় বলছিল, বাবার মৃত্যু উদযাপনের জন্য না-কি আমরা আতশবাজি করছিলাম।

আরও কিছু হারামজাদা

বাবার ময়নাতদন্ত না করায় আমাদের ওপর দোষারোপ করছে।

এটা একটা ব্যাপার..

কিছু দিন ধরেই এটা নিয়ে কথা শোনা যাচ্ছে।

দেখো, উনার মাঝে সুস্থ হওয়ার লক্ষণ দেখা যাচ্ছিল না?

বাদ দেন, আঙ্কেল।

আমাদের এসব নিয়ে নিজেদের মাঝেও কথা বলার দরকার নেই।

ঠিক আছে।

এভাবেই গুজব তৈরি হয়।

না... আপা,

এরকম কথা ইতোমধ্যে ছড়িয়ে গেছে, আমি প্রায়ই শুনি।

আমি যাচ্ছি, তোমরা আলোচনা করো।

দেখো, জেসন.. বাবার অ্যাকাউন্টে যথেষ্টর চেয়ে বেশি টাকা আছে,

ওখান থেকে নিয়ে নাও, সব ঠিক হয়ে যাবে।

ব্যাপারটা জটিল...

অনেক ফর্মালিটি আছে, সময় লাগবে।

আমার কাছে তিন লাখ টাকা আছে।

আপাতত এটা নিয়ে ব্যবহার করতে পারো।

ঘোড়া বিক্রি থেকে পেয়েছি... তাই এটা আমাদের সবার।

টাকাটা আমি বাবার থেকেই ধার নিয়েছিলাম।

এই অল্প টাকায় কিছু হবে না...

আমাদের সামনে এগোতে হবে না?

পরিকল্পনার কোনো পরিবর্তন হবে না,

তুমি মুন্দাক্কায়ামের সম্পত্তি পাচ্ছো।

এটা চালানোর জন্য যেসব ফরমালিটি দরকার, সেসব নিয়ে ভাবো।

বাগান তুমি পাচ্ছো, জোমন ভাই।

ফেলিক্স ভাইয়ের পরিকল্পনায় কোনো পরিবর্তন হবে না।

এটা কার্যকর করার জন্য আমাদের মৃত্যুবার্ষিকী পর্যন্ত অপেক্ষা করা উচিত।

এটাই।

এভাবেই চলুক সব...

এই বাড়ি আমার হলেও ওরা সবাই থাকতে পারবে।

কী বলো, জেসন?

সবকিছু ঠিকঠাক থাকলে, আমার সমস্যা নেই।

কোনো সমস্যা হবে না।

আমি নিশ্চিত না যে ওই ফাদার আসবে কি না।

মাতাল হয়ে এসব ঝাড়ি মারা বন্ধ করা উচিত তোমার।

আমি কী ভুল করেছি?

লোকজন যা বলে আমি সেটাই তুলে ধরছি।

ভাই,

লোকজনের কথার সাথে আমার সিদ্ধান্তের কোনো সম্পর্ক নেই। ওরা যা খুশি বলুক।

কিন্তু তুমি যে বললে, আমাদের এই লোভ বাবা দেখছেন,

এটা আমার মনে নাড়া দিয়ে গেছে।

তো, এভাবেই সব হোক, কী বলেন?

- ঠিক আছে? - কেন না?

তাহলে গ্লাস সোজা করো, ড্রিংক নাও।

এসো বসো।

জোজি, ভালো করেছো...

তোমার কাছ থেকে এটা কখনও আশা করিনি... দারুণ।

তোমরা সবাই কুট্টাপ্পান ভাইয়ের গুণাবলী প্রদর্শন করেছ, খুব ভালো।

আমাদের বাবা যখন মারা যায় তখন আমাদের মাত্র ২ একর জমি ছিল।

এখন আমার ভাইদের সাথে আমার চারটা মামলা চলছে।

সমবেত বিশ্বাসীগণ...

যারা এই পরিবারের শোকে সমব্যথী হয়েছেন...

এবং তাদের জন্য গত চল্লিশ দিন প্রার্থনা করেছেন, ঈশ্বর তাদের মঙ্গল করুন।

খ্রিষ্টানদের সাধারণত সংস্কার আর কুসংস্কার বোঝার মতো বিবেক-বুদ্ধি রয়েছে।

আমরা নিজেদের এলাকায়ই অন্যসব সম্প্রদায়কে নিজেদের ঐতিহ্য রক্ষার জন্য লড়াই করতে দেখি।

আমি বলব,

বাবার মৃত্যুতে আতশবাজি আর চিৎকার-চেঁচামেচি করে...

...আমরা নিজেদের ঐতিহ্যকেই অবমাননা করছি,

যা মোটেও কোনো ভালো কাজ নয়।

পরিবারের পক্ষ থেকে দায়িত্বশীল কেউ সামনে এগিয়ে এসে কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করলে

আমরা অনুষ্ঠান শেষ করে খাবার খেতে পারি।

আমরা খুশি যে এই খারাপ সময়েও আপনারা এখানে এসেছেন।

তাই পানাচেল পরিবারের পক্ষ থেকে আমি কৃতজ্ঞতা প্রকাশ করছি।

আমাদের বাবার মৃত্যুর বিষয়ে অনেক গুজব ছড়াচ্ছে,

অনেকেই বলাবলি করছে যে আতশবাজি করাটা ঐতিহ্যের পরিপন্থী ছিল।

কেউ কেউ এটাও বলছে যে আতশবাজি করে আমরা উদযাপন করছিলাম।

আমি পরিষ্কার করে বলছি,

আমরা তাদের মোকাবেল করতে প্রস্তুত,

শারীরিকভাবে, এবং আইনীভাবেও।

সেটা হোক টং দোকানের খোশগল্পকারী

বা চার্চের ভেতরের গুজব রটনাকারী

জোমনের ম্যানুয়াল হচ্ছে তার নিজের বিবেক।

এবার সবাই খাবার খেয়ে বিদায় নিতে পারেন।

ধন্যবাদ।

চলো খাওয়া যাক তাহলে।

এই এই এই,

আমি দিচ্ছি,

আমি দিচ্ছি তো।

ফাদারকে স্পেশালভাবে আপ্যায়ন করতে হবে, আরো দুটো ডিম দে ওনাকে।

নিন.... ফাদার।

এদিকে এসো...

খান.... ফাদার।

এদিকে এসো।

ফাদার ক্লান্ত হয়ে গিয়েছে, উনাকে খেতে দে।

আঙ্কেলের উনাকে বলা দরকার।

এসো...

কী করছো?

ওখানে সার্ভ করার কেউ নেই।

তোমাকে কিছুই করতে হবে না, এটা ওখানে রাখো।

ওখানে রাখো।

বসো এখানে। বসো।

তোমাকে এটা করতে না করিনি?

মানুষের ন্যূনতম সদ্বিবেচনা থাকা উচিত।

ফাদারকে একটু ডিম দেওয়া কি অপরাধ?

হ্যাঁ?

কতটুকু মদ খেয়েছ?

জোমন, এটা কোনো মজা না।

এই হাসি ফুরিয়ে যাবে যদি বাবার লাশ কবর থেকে ওঠানো হয়।

ও কী করেছে?

কাজটা বোকামো ছিল,

ফাদার কেভিন খুব প্রভাবশালী।

এটা সত্য।

বুঝি না উনার সমস্যা কী?

উনি গুজব রটনাকারীদের মূল মদদদাতা।

- কে? - আমি গিরীশ।

আমি আসছি।

কী?

ডিমের তরকারি ভিতরে।

একটা হোয়াটসঅ্যাপ গ্রুপ আছে...

ওটা গুজব রটনাকারীদের আড্ডাখানা।

- আমাদের এখানে এসে আজেবাজে কথা বললে, - ফাদার কিছুই খাননি।

ছেলে হিসেবে তার প্রতিবাদ করা আমার কর্তব্য না?

বলো...

ফাদার না খেয়ে চলে গেছেন।

কী?

উনি কিছুই খাননি।

- যা বলেছিলাম... - আমি তো খুশি....

বড়ো ছেলে! ছিঃ! তুমি বাবাকে কবর থেকে তোলার চেষ্টা করছো।

ওদের তুলতে দে,

পরীক্ষা করতে দে,

যদি কিছু না পায়, তাহলে আমি...

বাবার প্রতি কোনো মায়া নেই, সে শুধু মদ্যপান করতে চায়।

মাতাল ছাড়া আর কিছুই না, খাঁটি মদখোর।

উনি অসুস্থ, উনার চিকিৎসা দরকার।

এমনি এমনি তো উনার বউ ডিভোর্স দেয়নি...

সবার সামনে তার কার্যকলাপ ফাঁস হয়েছিল।

সে কারণেই।

চিন্তা নেই।

সকাল সকাল উঠে গেছো?

বাবাকে স্বপ্নে দেখলাম।

মৃত ব্যক্তি কখনও ফিরে আসবে না।

কিন্তু জীবিতদের ব্যাপারে সাবধান থেকো।

বজ্রপাতের কারণে হয়েছে না-কি?

- আমি সামলে নেবো। - ঠিক আছে...ঠিক আছে।

বিন্সি,

বাবা মারা যাওয়ার সময় জোজি কোথায় ছিল জানো?

ওইদিনের কিছুই মনে নেই। তখন অনেক বিশৃঙ্খল পরিস্থিতি ছিল।

শুধু ওনাকে নিচে নামানোর কষ্টটা মনে আছে, ধন্যবাদ তোমাদের।

- এই। - কী ব্যাপার?

গতকাল ডোবার ধারে সিগারেট খেয়েছিলি?

মনে হচ্ছে আগুন লেগেছিল...

আমি খাইনি। আমি তো খালের ধারে সিগারেট খাই।

উম...

কত ছোট ঘর এটা!

বাবার ঘরে গিয়ে ঘুমাচ্ছিস না কেন?

ওহ, মৃত্যুবার্ষিকী পার হোক।

গতকাল সামান্য ভুল বকেছিলাম...

সামান্য না।

তুই ঠিক বলেছিলি,

মদটাই মূল সমস্যা।

যদি বুঝতে পারো, তবে নিজের জন্যই ভালো।

এরকম বোকামো করো না।

দেখ, বাবা তো সেরে উঠছিল, তাই না? তবুও উনি চলে গেলেন।

আমার পুরোপুরি মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছিল।

এসব মনে রাখিস না।

আচ্ছা, ওই "থোট্টা সুধী" তোর ক্লাসমেট ছিল না?

কোন সুধী?..

ওহ, ও! মনে হয়..

শালা পেছন থেকে ছুরি চালায়...

যেন এটা ওর বাবা মরেছে।

ওর বিচি চেপে ধরে জিজ্ঞাসা করব শালা কী বলছে না বলছে...

তারপর ওর জিহবা টেনে ছিঁড়ে নেবো...

তুমি পাগলামো করছো।

- কারো সাথে যদি তোমার কোনো ঝামেলা থাকে... - শোন হাঁদারাম, গুজবটা আমার ব্যাপারে না, তোর ব্যাপারে।

কী?

বাবা মারা যাওয়ার সময় তুই কোথায় ছিলি?

তার দাবি, সবাই বিন্সির চিৎকার শুনে যখন দৌড়ে আসছিল,

তুই না-কি রাবার বাগান থেকে "স্লো মোশনে" হেঁটে আসছিলি।

আমি?

এটা কী রকম কথা,

ভাবতে পেরেছ এরকম কিছু?

কেমন লোক ওরা?

অবিশ্বাস্য!

তোর মতো একটা ঘরকুনো ছেলের নামে যদি এরকম গল্প ছড়ায়...

...তাহলে আমার মতো হাট্টাগোট্টা মানুষের নামে কী না বলবে?

সমাজ একটা চুতিয়া, ভাই।

অবশ্যই।

ওকে আমি ধরব।

- ভাইয়া, ওকে ধরতে পারলে আমাকে জানিয়ো। - অবশ্যই।

ওকে... ওকে।

ও পূবের খালে আছে, আয়...

অবশ্যই।

এয়ার গান?

ওসবের দরকার নেই, আয়।

ভায়োলেন্স দরকার পড়লে, ভায়োলেন্স হবে...

দাঁড়া ওখানে।

আমার কাছে বারুদ আছে।

- শালা মাদারচোদ! - জোজি, এই।

কী রে?

কী যা-তা বলে বেড়াচ্ছিস? বাবা মারা যাওয়ার সময় আমি স্লো মোশনে হাঁটছিলাম? -আরে জোজি...

..এই! কী বলছিস তুই?

তুই না ডোবায় মাছ ধরছিলি?

মাছ ধরছিলাম, তো কী হয়েছে, বাড়া?

ওটার পানি না সম্প্রতি সেঁচে ফেলা হয়েছে?

ও মাছ ছাড়া একটা ডোবায় মাছ ধরছিল... আর আমি সেটাই...

আমার ব্যাপারে মিথ্যা বলার সাহস করিস না।

পানাচেল পরিবারের সাথে লাগতে আসলে জানে বাঁচবি না বলে দিলাম।

যা ভাগ.. - জোমন ভাই..

আমাদের পরিবারের পেছনে লাগার সাহস হয় কী করে?

ভাগ শালা...

ভাইজান, এই শুয়োরটা যেন আমাদের বাড়ির আশেপাশে না আসতে পারে।

জোমন ভাই, ও অকারণেই মারামারি করছে

আমি সেদিন তোকে দেখেছিলাম আর তুই সেটা জানিস...

গল্প বানাচ্ছিস...শালা?

তোর মায়ের আনারস...

যা ভাগ, শালা..

ভাগ...

মাতারি... ক্লাসমেট...

চলো, ভাই।

কী ব্যাপার ভাই?

ওই মাছহীন ডোবায় গিয়েছিলি কেন?

সিগারেট টানতে গিয়েছিলাম, আর.. মাছ ধরার বরশিটাও ওখানে ছিল, তাই আমি..

তুই তো বলেছিলি

তুই খালের ধারে সিগারেট খাস?

তাই?

মিথ্যে বললি কেন?

ব্যাপার কী?

কী লুকাচ্ছিস আমার কাছ থেকে?

- আমি বলছি ভাইজান। - বল আমাকে....

আমাকে ছাড়ো ভাইয়া। ছাড়ো... ছাড়ো।

মুখ খোল।

সমাজের কথা বিশ্বাস করো না।

- ছাড়ো আমাকে.. - কী লুকাচ্ছিস?

আমি মরে যাবো, ভাইজান।

কী লুকাচ্ছিস?

আমি মরে যাবো ভাইজান... ভাইজান...আমি মরে যাবো।

আমার সাথে ঝামেলা করলে এমনই পরিণতি হবে।

ভাইজান খালের ওখানে ওকে ধাওয়া করছিল।

আমি যখন স্কুটার রেখে আসলাম

জোমন ভাই ওর ওপর চিল্লাপাল্লা করছিল।

ও তখন এক দৌড়ে পালিয়ে গেল...

হঠাৎ আমি বজ্রপাতের মতো বিকট আওয়াজ পেলাম।

বাতাসে বিশাল ধাক্কা অনুভব করলাম...

চারদিকে ধুলো ছড়িয়ে পড়েছিল।

আমি ভাইজানের পা দেখলাম।

আমি মানুষের মারামারিও সহ্য করতে পারি না। কাঁপুনি ধরে যায়।

যদিও আমি ভীত ছিলাম, তবুও সমস্যা এড়ানোর জন্য তার সাথে গিয়েছিলাম।

উনি সত্যিই আক্রমনাত্মক ছিলেন।

ও কি মাতাল ছিল?

এটা বুঝতে পারিনি।

জোজি...

তুমি কি একই বর্ণনা পুলিশ কে দিয়েছ?

হ্যাঁ। -ওহ।

কোনো সমস্যা হয়েছে, ভাই?

সমস্যা না,

কিন্তু...

মামলাটা শক্ত হতো, যদি বলতে তুমি ওকে এটা ছুঁড়তে দেখেছিলে।

আমি দেখিনি, ভাই।

জানি না ও এটা ছুঁড়েছিল না ভাইজান এটার ওপর পা ফেলেছিল...

নিশ্চিত না... দুর্ঘটনাক্রমেও হতে পারে।

দুর্ঘটনা হলে ও নিজেও আহত হতো না?

স্যাম বিভাগীয় ইন্সপেক্টর, তাই না?

হ্যাঁ, মেদায়িল পরিবারের।

উনি খুব সচেতন ছিলেন,

আমাদের দু'জনের ব্যাকগ্রাউন্ড সম্পর্কে খোঁজ-খবর নিলেন।

উনি সবকিছু বুঝেছেন।

উনি ন্যায়পরায়ণ অফিসার, দুর্নীতিবাজ না।

- তার পরিবার ঐতিহ্যগতভাবে খুব ধনী। -স্বভাবতই।

প্রয়োজনে আমরা সুধীকে খুঁজতে পারি।

ছেলেটা ভালো ছিল।

স্কুলে আমরা একই বেঞ্চে বসতাম।

অতোটাও ভালো না।

সেও তাদের একজন।

যদি আমরা কিছু বলি, কেসটা বিশ্রী মোড় নিতে পারে।

যদি দরকার পড়ে

আমরা নিজেরা খোঁজ চালাতে পারি।

পুলিশের হাতে এটা ছেড়ে দাও। - হুম।

ঝামেলা পাকিয়ো না।

তার কাছে থাকা বারুদ অবৈধ ছিল, তাই ও লুকিয়ে আছে।

আমরা অনুসন্ধান করতে পারি।

তা স্বত্বেও, আমাদের একটু অনুসন্ধান চালানো উচিত না?

- সানি, এমপি সাহেব ওখানে আছেন? - হ্যাঁ, ত্রিবান্দরামে।

তাকে কি ফোনে পাওয়া যাবে? - শুনেছি উনি কোরুথডে আছে।

তাহলে ইন্সপেক্টর স্যামকে কল করে খবরটা জানাও।

প্লিজ, প্লিজ...

প্লিজ, আমাদের অবস্থাটা বুঝুন।

আমাদের বাবা প্রথমে চলে গেলেন,

এখন জোমন ভাইও।

আমরা কেউই তাদের মতো ক্ষমতাবান নই।

আমাদের শক্তিও নেই।

পরিবার ঘোর বিপদের মধ্যে আছে, ফাদার।

পপি আছে এখানে,

ওর কেউ নেই।

আমাদের তার দেখাশোনা করতে হবে।

আমি তোমার আবেগ বুঝতে পারছি।

আমি জানি তুমি পরিবারের জন্য কতটা পরিশ্রম করেছো।

আমরা এটা ভুলবো না।

সত্যি বলতে আমরা তোমার প্রতি কৃতজ্ঞ।

আমরা কোনো সংঘাত চাই না।

আমরা ক্লান্ত।

আমি ঘুমাতে পারছি না...

ফেলিক্স ভাই, আমাকে কিছু ওষুধ দিতে পারবেন?

আমি এসব সহ্য করতে পারছি না।

জোজি, একটা মেয়ে খুঁজে বিয়ে করে নাও, সব সমস্যা দূর হয়ে যাবে।

কী সব বলছো? এখন বিয়ের প্রস্তাবের সময়?

ওর বিয়ে করা উচিত।

জোজি...

চিন্তা করো না।

ইদানিং তোমার পরিবার ঈশ্বরের সান্নিধ্য থেকে দূরে সরে যাচ্ছিল।

এটাকে একটা রিমাইন্ডার হিসেবে ধরে নাও...

অনুতপ্ত হয়ে উনার পথে ফিরে এসো।

উনি তোমাকে পথ দেখাবেন।

সাহস রাখো... চিন্তা করো না।

ভাবির সাথে কথা বলেছেন?

উনি কি পপির ব্যাপারে কোনো আগ্রহ দেখিয়েছেন?

বেটা জেসন...

আমি যখন শেষবারের মতো ওকে দেখতে আসার জন্য অনুরোধ করলাম...

...ও বলল ওর দেখার মতো আর কিছু বাকি নেই।

আমি আর কী বলতে পারতাম?

একটাই আফসোস আমার...

আমিই প্রথম ওর হাতে মদের গ্লাস ধরিয়েছিলাম।

ওর ব্যাপারে আমাদের আরেকটু খেয়াল রাখা দরকার ছিল।

নিজেকে সামলাতে আমি প্রচুর চেষ্টা করছি।

যদি আপনি নিয়ন্ত্রণ হারিয়ে ফেলেন, আমি ভেঙ্গে পড়ব।

কোথায় যাচ্ছিস?

পপি একা, ওর সাথে ঘুমাবো।

বেশ ভালো।

- পপি... - হুম।

বেটা...

তুই দ্রুত বড়ো হবি...

পড়াশোনা করতে বাইরে যাবি,

একা একা থাকা শুরু করবি...

আমাকে একটা কথা দিতে হবে তোর...

যেখানেই তুই যাস না কেন, মদ স্পর্শ করবি না।

জোমন হত্যার প্রধান সন্দেহভাজন "থোট্টা সুধী"র আত্মসমর্পণ

একটা ব্যাপার আলোচনা করতে হবে।

ভেতরে এসো, বসো।

দেখ,

ওই থোট্টা সুধী আত্মসমর্পণ করেছে।

ও অনেক কাহিনী বলছে।

এটাও বলেছে যে এটা তোর কাজ।

আর কী বলবে ও?

ওর হাতে আর কী বিকল্প আছে?

আমি আর ভেঙ্গে পড়ব না...

আমার এখন একজন বস আছেন।

তার কাছেই নিজেকে সমর্পণ করব।

আমার কিছুই হবে না।

দেখ...

আচ্ছা, তাহলে...

না, বলো। কিছু একটা বলতে নিয়েছিলে...

কিছু না।

বলো।

- পরে কথা বলবোনে। - না, বলো এখনই, সমস্যা নেই।

কিছু না তো।

তোমার ধারণা আমি এটা করেছি?

তাই বলেছি, হাঁদারাম?

ওই ৩ লাখ টাকা যদি দ্রুত দিতে পারতি...

অবস্থা বেশ খারাপ এখন।

আমার একাউন্টে আছে। আমি ট্রান্সফার করে দেবো।

- ট্রান্সফার করে দেবো। - হুম।

সোজাসুজি চিন্তা কর, হাঁদারাম।

সোজাসুজি চিন্তা কর।

- বিন্সি... - হুম।

জোজির ভেতর কোনো অস্বাভাবিকতা লক্ষ্য করেছ?

ওকে অদ্ভুত লাগে, সারাদিন হাতে বাইবেল নিয়ে থাকে।

ও নিজের ভাইয়ের মৃত্যু নিজ চোখে দেখেছে না?

অস্বাভাবিক তো থাকবেই।

হুম।

কে?

ফেলিক্স ভাই।

ভাই...

পরিস্থিতি কিছুটা জটিল হয়ে যাচ্ছে।

কী হয়েছে?

- ফরেনসিক থেকে একটা ভেতরের খবর পেয়েছি। - হুম।

- ওদের কিছু সন্দেহ আছে। - হুম।

আগামীকাল পুলিশ আসতে পারে।

- ওহ ঈশ্বর! - চিন্তা করো না, আমরা সবাই পাশে আছি।

পুলিশ আমাদের তলব করতে পারে।

সতর্ক থেকো।

ঘুমাওনি?

আগামীকাল পুলিশ আসতে পারে।

আসুক, বিন্সি।

আমরা কেবল প্রার্থনা এই যে জোমন ভাইয়ের মৃত্যতে যাতে তুমি নির্দোষ হও।

আজেবাজে কথা বলবে না...

তুমি আমার ভাবি, সেটা কিন্তু ভেবে দেখব না।

ঘুসি মেরে দাঁত ফেলে দেবো।

আমি একা এটা সামলাতে পারব না।

শান্ত হও... আমরা সবাই তোমাদের সাথে আছি।

আপনি প্লিজ এখানে থাকুন, যখন পুলিশ আসবে।

আমি ক্লিনিক বন্ধ করার পর আসব।

ফাদারকে কল করব?

দরকার নেই... ঘুমিয়ে যাও এবার, শুভ রাত্রি।

শুভ রাত্রি।

ওনার দেহ থেকে এয়ারগানের গুলি উদ্ধার করেছে।

ওরা বলছে, উনাকে গুলি করা হয়েছিল।

এ কেমন নিদারুণ সাজা!

জোজির কাহিনীতে তো এসবের কিছুই ছিল না।

জোমন হত্যা, ময়নাতদন্তে দেহ থেকে এয়ারগানের গুলি উদ্ধার

এখানে বসে আছেন কেন?

এখানেই থাকতে বলল... ওনারা কিছু একটা নিয়ে আলাপ করছেন ওখানে।

আচ্ছা... বসুন।

ও আসছে।

কী ব্যাপার?

তুই তোর রুমে গিয়ে অপেক্ষা কর।

আমি ডেকে পাঠাব।

কী ব্যাপার?

ওনার দেহে বুলেট খুঁজে পাওয়া গেছে শুনেছিস?

তাই নাকি?

আমার বন্দুক কোথায়, আঙ্কেল?

আছে কোথাও এদিকে...

আচ্ছা, পুলিশ এ ব্যাপারে জানতে পারলে আমরা ঝামেলায় পড়ে যেতে পারি, তাই না?

এভাবে তো ভেবে দেখিনি!

আমরা এটা খুঁজে বের করব।

বাবার বন্দুকটাও কোথাও লুকিয়ে ফেলতে হবে।

পুলিশ কিছু খুঁজে পাওয়ার অপেক্ষায় থাকবে।

এটা রাখ ওখানে।

কেউ ভেবেছিল সুধির কাছে যে বন্দুক ছিল?

জোমন ভাই ঠিক বলেছিল।

কেউ আমাদের পেছনে লেগেছে।

আমি ওকে পূবের খালে নামিয়ে দিয়ে এসেছিলাম।

ওর কাছে কোনো বন্দুক ছিল না।

কোমরে রেখেছিল হয়তো, আপনি...

ভাই, নয়-ছয় বোঝানোর চেষ্টা করো না,

আমাদেরও কমন সেন্স আছে।

একটা প্রশ্নই এখন বাকি, তা হচ্ছে কেন এটা করলে।

জি, ইয়োর অনার।

যেন আপনি বিচারক সাহেব!

ভাগ, ব্যাটা!

ভাই, ওর কাছে আমার জবাবদিহি করতে হবে?

হ্যাঁ?

আমার দিকে তাকিয়ে আছো কেন?

তুই আমার দিকে তাকিয়ে আছিস কেন?

আগে ওদেরকে বের করো।

জোমন ভাইকে ওদের একজনই খুন করেছে।

তাকিয়ে আছিস কেন? যা ভাগ!

ওরা থাকুক... জোজি।

এখন আমরা তোর ব্যাপারেই ভয় পাচ্ছি।

ভাই...

আমাকে পরীক্ষায় ফেলো না ভাই...

গতকাল পর্যন্ত তোমাদের কোনো সমস্যা ছিল না।

তোমার মনে হয় আমি কাউকে খুন করতে পারি?

এটা একটা খেলনা বন্দুক ছিল, ভাই।

না ছিল না...

ক্লোজ রেঞ্জে এটা মারণঘাতী।

পপি...

কী বলছিস এসব, বেটা?

ওরা গুলি পরীক্ষা করুক। তাহলেই সত্যিটা বেরিয়ে আসবে।

যা কিছু হয় ভালোর জন্যই হয়...

পুলিশ আসুক।

কিন্তু, আমি এসব প্রাপ্য না।

তোমরা সবাই পস্তাবে...

সবাই।

জোজি...

হেঁয়ালি বন্ধ করো।

ভাইয়া, একটু কথা, প্লিজ।

আমার সাথে এসো... প্লিজ...

কী ব্যাপার?

হ্যাঁ, আমি জোমন ভাইকে খুন করেছি...

...আর বাবাকেও।

বিন্সি এসবের অনেকখানিই জানত।

দেখো ভাই...

পুলিশ যখন আসবে...

আমি বলব আমরা তিনজন এক জোট ছিলাম...

...আর তোমাকে যে টাকাটা আমি দিয়েছি সেটা ছিল ব্যাপারটাকে গোপন রাখার জন্য।

এটাকে ব্ল্যাকমেইল যদি ভাবো, তাতে আমার কিচ্ছু যায় আসে না।

এটাই আমার বাস্তবতা।

তোমাদেরকে আমার পাশে দাঁড়াতে হবে...

নাহয় আমি সবাইকে আমার সাথে টেনে নিচে নামাব।

জোজি, আমার গলা কেটে ফেলার হুমকি দিলেও আমি তোর পাশে দাঁড়াব না।

তুমিও নিজের বাবার মৃত্যু কামনা করছিলে।

মৃত্যুর ঘোষণা

দাঁড়া, গিরীশ।

পুলিশ আসুক।

ও যদি কথা বলতে পারে

জবানবন্দি নেওয়ার জন্য আমাদেরকে ম্যাজিস্ট্রেটকে নিয়ে আসতে হবে।

আমরা শুধু দেহের সামান্য নড়াচড়া প্রত্যাশা করতে পারি, যেমন চোখ...

ও কি ঘুমিয়ে আছে...

কয়েক মিনিট আগেই তো জাগ্রত ছিল...

জোজি, চোখ খোলো... বেটা, জোজি...

জোজি...আমি...ডাক্তার।

এইতো...

দেখো কে এসেছে...

তোমার সাথে একজন দেখা করতে এসেছে।

আমাদের দেখতে পেলে চোখের পলক ফেলো...

শুধু চোখের পলক, যদি আমাদের দেখতে পাও...

এইতো... ও আমাদের দেখতে পাচ্ছে...

ওহ, খুব ভালো।

ডিএসপি স্যার তোমার সাথে দেখা করতে এসেছেন।

উনার কিছু জিজ্ঞাসা করার আছে।

জোজি, বেটা...

এখন কী করবে?

তুমি মারা যাওনি...

তাই, এটা তোমার, আমাদের দুজনের জন্যই সমস্যার।

আমাদের কী বলার আছে তোমার?

কোনো স্বীকারোক্তি প্রদান করতে চাও?

ওনার কথা বুঝেছ?

কিছু মনে আছে তোমার?

তুমি যা করেছ তা কি স্বীকার করছ?

যদি স্বীকার করো, তাহলে চোখের পলক ফেলো।

- না, ও ফেলবে না। - ও একরোখা।

Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.