Afrikaans
Akan
Albanian
Amharic
Arabic
Armenian
Azerbaijani
Basque
Belarusian
Bemba
Bengali
Bihari
Bosnian
Breton
Bulgarian
Cambodian
Catalan
Cebuano
Cherokee
Chichewa
Chinese (Simplified)
Chinese (Traditional)
Corsican
Croatian
Czech
Danish
Dutch
Esperanto
Estonian
Ewe
Faroese
Filipino
Finnish
French
Frisian
Ga
Galician
Georgian
German
Greek
Guarani
Gujarati
Haitian Creole
Hausa
Hawaiian
Hebrew
Hindi
Hmong
Hungarian
Icelandic
Igbo
Interlingua
Irish
Italian
Japanese
Javanese
Kannada
Kazakh
Kinyarwanda
Kirundi
Kongo
Korean
Krio (Sierra Leone)
Kurdish
Kurdish (Soranî)
Kyrgyz
Laothian
Latin
Latvian
Lingala
Lithuanian
Lozi
Luganda
Luo
Luxembourgish
Macedonian
Malagasy
Maltese
Maori
Marathi
Mauritian Creole
Moldavian
Mongolian
Myanmar (Burmese)
Montenegrin
Nepali
Nigerian Pidgin
Northern Sotho
Norwegian
Norwegian (Nynorsk)
Occitan
Oriya
Oromo
Pashto
Persian
Polish
Portuguese (Brazil)
Portuguese (Portugal)
Punjabi
Quechua
Romanian
Romansh
Runyakitara
Russian
Samoan
Scots Gaelic
Serbian
Serbo-Croatian
Sesotho
Setswana
Seychellois Creole
Shona
Sindhi
Sinhalese
Slovak
Slovenian
Somali
Spanish
Spanish (Latin American)
Sundanese
Swahili
Swedish
Tajik
Tamil
Tatar
Telugu
Thai
Tigrinya
Tonga
Tshiluba
Tumbuka
Turkish
Turkmen
Twi
Uighur
Ukrainian
Urdu
Uzbek
Vietnamese
Welsh
Wolof
Xhosa
Yiddish
Yoruba
Zulu
অনু
অনুবা
অনুবাদ
অনবাদক-
অনুবাদক- আ
অনুবাদক- আবী
অনুবাদক- আবীর
অনুবাদক- আবীর ই
অনুবাদক- আবীর ইউ
অনুবাদক- আবীর ইউসু
অনুবাদক- আবীর ইউসুফ
অনুবাদক- আবীর ইউসুফ রু
অনুবাদক- আবীর ইউসুফ রুদ্র
ফাদার, প্রথমে বুঝতে পারিনি- এটা পাপ নাকি পাপ না!
কিন্তু এখন এটা পাপ হওয়ার ব্যাপারে আমি নিশ্চিত !
অনুশোচনার আগুনে আমি পুড়ে মরছি!
এই পাপের মূল্য হয়তো আমাকে দিতে হবে,
তবু...
জগদ্দল পাথরের মত বুকে চেপে থাকা এ পাপকে আমি সরাতে চাই...
আমাকে সমাধানের পথ বলুন ফাদার!
প্লিজ!
পাপ এবং পাপী, এসব মানুষের হাতে নয়৷
যীশু খ্রিস্ট নিজে সে ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিবেন।
তিনি অত্যন্ত ক্ষমাশীল, ক্ষমা করতে ভালবাসেন।
ভয় পেয়ো না, পাপ স্বীকার করে নাও আমার কাছে।
অসংখ্য ধন্যবাদ আপনাকে, ফাদার!
এখন নিজেকে কিছুটা ভারমুক্ত লাগছে!
যীশু খ্রিস্ট যাতে আমার এই পাপ ক্ষমা করে দেন, সেজন্য কি আমি একটু আপনার হাত ধরে প্রার্থনা করতে পারি?
ফাদার!
ফাদার?
ফাদার!
মা...
মা, একটু এদিকে আসুন!
- কি হয়েছে, বৌমা? এগুলো পুড়ে যাবে... - আসুন না!
আসুন।
বাবা, আজ আমাদের বিবাহ-বার্ষিকী।
তোর মা বলেছিল আমাকে, আমি ভুলে বসে আছি!
আমাদের আশীর্বাদ করুন।
কত বছর হলো? পাঁচ নাকি ছয়?
কিচ্ছু মনে থাকে না তোমার! আজকে ছয় বছর পূর্ণ হলো।
সুখে থাকো সব সময়।
- আশীর্বাদ রইলো। - আশীর্বাদ হাসিমুখে করতে হয়৷
ওরা সুখে থাকলেই কি যথেষ্ট না?
সুখে আছ না তোমরা! এসব ঢং আর কত দেখব...
তুই তো জানিসই তোর মা কেমন,
বাদ দে, চল নাশতা করি।
আশীর্বাদ করতে করতে মাথার চুল পেকে গেল আমার!
কাপালিশ্বরের মন্দিরের সব দেবতার কাছে আমি প্রার্থনা করেছি...
অন্তত চেষ্টা কর, পরের বছর যাতে সংসারে একটা ফুটফুটে সন্তান আসে।
এই যে ফুটফুটে সন্তান চলে এসেছে।
আর কাকে চাই তোমার?
তুই সবসময় শুধু ইয়ার্কি করিস।
তো, আমার ট্রিট কই দেবে? মুনরেকার্স নাকি বারবিকিউ ন্যাশনে?
আপাতত কচুর লতি আর আলু ভাজি, চলবে?
ভাবী.....!
ম্যাগী নুডলস বানিয়ে দিব?
নারে বাবা, এর চেয়ে আলু ভাজিই ভাল।
মাঝে মাঝে একটু আমিশও তো রাঁধতে পারো ভাবী!
ডাক্তারের অ্যাপয়েন্টমেন্টের খবর কী, নিয়ে রেখেছিস তো?
না বাবা।
এখন অ্যাপয়েনমেন্ট নিলে ডাক্তার সময় দিবে পরের সপ্তাহে।
- বৌমা, স্টোভ থেকে আরেকটু আলু ভাজি নিয়ে এসো। - জ্বী মা।
সেন্ট থমাস চার্চের ফাদার জোসেফ রহস্যময়ভাবে খুন হয়েছেন।
সন্ত্রাসীগুলোকে ধরে আবার ছেড়ে দিলে যা হয় আরকি!
ঘরে বসে পত্রিকা পড়ে, টিভিতে নিউজ দেখে আইন কানুন নিয়ে কথা বলা সহজ...
আমরা চাইলে এনকাউন্টার করে মামলা খালাস করে দিতে পারি...
কিন্তু এরপর সবাইকে হাজারো প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে।
তাহলে এমন একটা কেস খোঁজ, যেটাতে এনকাউন্টার করলেও কেউ প্রশ্ন করবে না!
তুমিও বাবার পক্ষ নিচ্ছ!
ভাবী, তুমিই বলো...
এই কেসটা কি আমার নেওয়া উচিত নাকি না?
আচ্ছা, বাবা তাহলে উকিল আর ভাবী কমিশনার পদে আছে?
- খুব ভাল। - শোন...
তোর ভাবীকে আগে মায়ের পদে বসা!
ওটা বেশি দরকার!
কতদিন ধরে নাতি-নাতনির আশা করে বসে আছি....
আমি তো কিছু বললেই দোষ...
এসব কী মা?
সকাল সকাল শুরু করে দিলে?
একটু চুপ থাকতে পার না?
এগুলো কি আমি একাই বলি...
মানুষও বলাবলি করে৷
গতকাল আমাদের প্রতিবেশী ভাগিয়াম দাওয়াত দিতে আসল৷
আমি বলেছি, 'আমরা' যাব...
উনি শুধু আমাকে যেতে বললেন...
এটাকে কী বলবি তুই?
তারা যা খুশি বলুক, তুমি কেন তাদের মত কথা বলবে?
প্রথমে ওকে নিজের মেয়ে ভাবো,
তাহলে ওর কোন দোষ চোখে পড়বে না৷
এই যে...আলু ভাজি অনেক খেয়েছেন, যান, গিয়ে ভাবীকে সামলান!
শুভ সকাল ভেট্রিমারান, বসো।
স্যার, আপনি আমাকে দেখা করতে বলেছেন।
একজন ভিআইপি ব্যক্তিগতভাবে একটা অভিযোগ দায়ের করেছেন আজ সকালে।
স্কাই টিভির ব্যবস্থাপনা পরিচালক, মিস্টার যোহান?
হ্যাঁ, ওনার স্ত্রী দুদিন ধরে নিখোঁজ, সে ব্যাপারে অভিযোগ করেছেন।
অপহরণের কোন সম্ভাবনা?
উনি খোলাসা করে কিছুই বলতে পারছেন না।
কিন্তু একটা বিষয়...
যদি অন্যান্য নিউজ চ্যানেল বিষয়টা জেনে যায়, তুলকালাম কান্ড ঘটে যাবে তাহলে!
তদন্তের বিষয়টা গোপন রাখতেই তোমাকে এখানে ডেকে পাঠিয়েছি৷
আরো কিছু জানতে চাইলে মিস্টার যোহানের সাথেও যোগাযোগ করতে পার৷
- এখানে তার নাম্বার দেয়া আছে। - ওকে, স্যার।
তো আপনার ড্রাইভার, কাজের লোক...
তারা সর্বশেষ কখন দেখেছিল তাকে?
বুধবার সন্ধ্যায়৷
ডিউটি শেষে ড্রাইভার জিজ্ঞেস করেছিল পরের দিন কখন আসতে হবে।
ও বলেছিল, সবসময় যে টাইমে আসে সেই টাইমেই আসতে।
তারপর থেকে কেউ আর ওকে দেখেনি।
আপনি সে সময় কোথায় ছিলেন?
হায়দ্রাবাদ ছিলাম তেলেগু নিউজ চ্যানেলের সাথে একটা মিটিংয়ে৷
শেষ কখন তাকে ফোন দেন আপনি?
পরের দিন সকালে।
ওর ফোন বন্ধ ছিল।
কিন্তু বেশিরভাগ সময়েই ওর ফোন বন্ধ থাকে।
তাই বিষয়টা আমলে নেইনি৷
কখন থেকে আপনার সন্দেহ হল?
রাত পর্যন্ত তো অবশ্যই না।
আমি চাইনি এটা নিয়ে কোন ঝামেলা হোক, তাই অপেক্ষা করতে থাকলাম৷
তারপর অনেক সময় হয়ে যাওয়ায় কমিশনারের কাছে গিয়ে অভিযোগ দায়েরের সিদ্ধান্ত নিলাম।
তো, আপনাদের বিয়ে হয়েছে কতদিন হলো?
চার বছর।
সন্তান?
বিয়ের পর থেকে সেরকম কোন চিন্তাভাবনা করিনি।
তবে সম্প্রতি প্ল্যান করছিলাম।
আপনার স্ত্রীর শখ-পছন্দ ইত্যাদির ব্যাপারে কিছু বলুন।
ও ক্রিকেটের দারুণ ভক্ত।
ইন্ডিয়ান টিমের জয়ের জন্য ও চার্চে গিয়ে পর্যন্ত প্রার্থনা করত।
এমনই ক্রিকেট-পাগল ছিল ও!
তাহলে আপনার স্ত্রী বেশ ধার্মিক ছিলেন?
হ্যাঁ, ও তো প্রতি রবিবার নিয়মিত চার্চে যেত।
কখনো কখনো...
গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে চার্চের ফাদারের সাথে কথা বলে সিদ্ধান্ত নিত৷
কোন চার্চ?
ভিলিভেকামের সেন্ট থমাস চার্চ৷
ঐ চার্চের ফাদার জোসেফ, ওনার মৃত্যুর খবর শুনেছেন?
হ্যাঁ,
কিছুক্ষণ আগে আমার নিউজ ডিভিশনের মাধ্যমে জানলাম বিষয়টা৷
ধন্যবাদ সময় দেয়ার জন্য, পরে কথা হবে আবার।
এতটা নিশ্চিত হচ্ছ কি করে, ভেট্রি?
জেসিকাকে সর্বশেষ দেখা গিয়েছিল বুধবার তার বাসায়।
ফাদার জোসেফ খুন হয়েছেন বৃহস্পতিবারে।
ওনার লাশ পাওয়া গেছে কনফেশন বক্সে।
তিনি নিশ্চিত কারো কনফেশন শুনছিলেন।
সেটা কে হতে পারে? জেসিকা নয়তো?
এসো স্টিফেন, বসো।
ফাদারের খুনের কেসটা ও তদন্ত করছে।
ভেট্রি একজন নিখোঁজ মহিলার ব্যাপারে তদন্ত করছে...
ওর সন্দেহ খুনের দিন মহিলাটা চার্চে কনফেস করতে গিয়েছিল, যদি তাই হয়ে থাকে তাহলে খুনের সাথে ঐ মহিলারও সম্পর্ক রয়েছে৷
হতে পারে।
কিন্তু সেক্ষেত্রে নিরাপত্তা প্রহরী থেকে শুরু করে সবাইকে সন্দেহের তালিকায় রাখতে হবে৷
আমার মতে ব্যাপারটা সোজা।
চার্চে যদিও ফাদারের রেকর্ড নিষ্কলুষ, কিন্তু তদন্তের পর আমরা জানতে পেরেছি...
ওনার হার্টের সার্জারি হয়েছিল একটা, আরেকটা করানোর প্রস্তুতি নিচ্ছিলেন।
চিকিৎসা-খরচের ব্যাপারে দুঃশ্চিন্তা তাঁকে এ সিদ্ধান্ত নিতে বাধ্য করেছে।
সব প্রমান ইঙ্গিত করছে এটা আত্মহত্যা৷
এই কেসের ব্যাপারে তোমার কী মত?
ফাদার আত্মহত্যা করেছেন কিনা সে ব্যাপারে যথেষ্ট সন্দেহ আছে আমার।
তোমার সন্দেহের কারণ?
ব্যক্তিগত জীবন নিয়ে দুঃশ্চিন্তা থাকতেই পারে, কিন্তু উনি একজন সত্যিকারের খ্রিস্টান...
একজন সত্যিকারের খ্রিস্টান কখনো চার্চের মত পবিত্র জায়গায় রক্ত ঝড়াবে না।
আত্মহত্যা যদি করতেই হয়, বাসায়ই করতে পারতেন, কিন্তু কেন করলেন না?
মনে হচ্ছে ফাদারের চেয়ে বাইবেলের সাথে আপনি বেশি পরিচিত?
এটা বলার জন্য বাইবেল জানার প্রয়োজন নেই, খ্রিস্টবাদ সম্পর্কে ধারণা থাকলেই বলা যায়৷
ফাদার আর জেসিকার কেস একসাথে তদন্ত করলেই আমার বিশ্বাস উভয় কেসের সুরাহা হবে৷
ফালতু কথা স্যার, মনে হচ্ছে তিনি সবজান্তা!
আমাকে আমার কেস সামলাতে দিন।
না স্টিফেন, আমার সিদ্ধান্তও ঐটাই...
ভেট্রিকেই কেসটা তদন্ত করতে দাও।
- স্যার! - স্যার আবার কী?
কেসের সব ফাইল ওকে দিয়ে দিবে।
এ ক'দিন ফাদারের কেসটাতে সহকারী হিসেবে ছিল সাব ইন্সপেক্টর থিরুপাথি...
ও তোমার কাজে আসতে পারে৷
কিন্তু ও একটু বাচাল টাইপের, বিষয়টা মাথায় রেখো৷
ঠিক আছে স্যার, ধন্যবাদ।
প্রভুর কাছে ক্ষমা চাও...ক্ষমাই তোমাকে মুক্তি দিতে পারবে, পাপিষ্ঠের পাপ...দূরীভূত হয় কেবল ক্ষমার মাধ্যমে।
আপনি ফাদারের সমান উচ্চতা আর ওজনের অধিকারী।
একারণেই আপনাকে কেবল নমুনা হিসেবে ওখানে বসতে বলেছি।
বেরিয়ে আসুন।
আমি কোন গবেষণার গিনিপিগ নাকি? এভাবে আমাকে গিনিপিগ বানানো ঠিক না৷
যাক সবই তো দেখলেন আমাকে দিয়ে...
কোথায় তিনি বসতেন, কোথায় দাঁড়াতেন, কোথায় কোথায় প্রার্থনা করতেন...
পার্থক্য শুধু একটাই,
উনি এখন জীবিত না, কিন্তু আমি জীবিত।
কমিশনার স্যার ঠিকই বলেছিলেন আপনার ব্যাপারে।
কী বলেছেন উনি?
সব কিছু।
সম্ভবত ভানুমতির সাথে সম্পর্ক নিয়ে.. কিন্তু ওর ব্যাপারে তো কেউ জানে না!
নাকি প্রমোশন পেতে যাচ্ছি?
সেটা তো অসম্ভব!
ও চার্চের ঘন্টা বাজায়, নাম এন্থনী৷
- নমস্কার স্যার! - আট বছর যাবৎ এখানে কাজ করে ও৷
চাকুরিটা ফাদার দিয়েছিলেন ওকে৷
ফাদার সাধারণত কখন চার্চে আসতেন?
সাধারণত সকাল সাতটায়, কেবল রবিবারে পাঁচটায় আসতেন৷
তবে বড় বা বিশেষ অনুষ্ঠানের ক্ষেত্রেও ভোর পাঁচটায় চলে আসতেন৷
ফাদার সকাল ছয়টায় মারা গেছেন...
ঐ দিন কি বিশেষ কোন প্রার্থনা-অনুষ্ঠান ছিল?
না তো!
তাহলে সেদিন আগে আগে আসলেন কেন?
মাঝে মাঝে ভিআইপি লোকজন কনফেশনের জন্য ওনাকে আগে আসতে বলে রাখত...
ঐদিন কি এমন কেউ এসেছিল?
আমার বাচ্চা অসুস্থ ছিল, ফাদার আসতেই আমি চলে গিয়েছিলাম৷
তবে যাওয়ার সময় তিনি গেট খোলা রেখে যেতে বলেছিলেন৷
এই গেট খোলা রাখার ব্যাপারে আগের পুলিশকে বা ওনাকে তুমি কিছু বলেছিলে?
না স্যার, তারা জানতে চায়নি এ ব্যাপারে৷
আমরা জানতে চাইলেই খালি বলবে, না হলে বলবে না??
আমি গেছি!
ফাদারের মৃতদেহ কে সবার আগে দেখে?
থেনড্রাল নামে একটা মেয়ে৷
ওকে কোথায় পাওয়া যাবে?
থেনড্রাল, দুজন পুলিশ অফিসার এসেছে তোমার সাথে দেখা করতে৷
ওরা করিডরে অপেক্ষা করছে৷
তাদের বলো আমি আসছি৷
বাচ্চা অবস্থায় গাধাকেও ফুটফুটে নিষ্পাপ দেখায়৷
পাঁচ-ছয় বছর সময় দিন...
নানারকম সমস্যা সৃষ্টি করে বাবা-মাকে দৌড়ের উপর রাখতে শুরু করবে!
বেশি বলে ফেললাম নাকি!
এই যে সে, থেনড্রাল৷
নামের অর্থ 'ঝড়'৷
বাস্তবেও সুনামি, স্যার!
আমার কাছে কী দরকার আপনাদের?
আপনি কি থেনড্রাল?
জ্বী, আমি, কী চান আমার কাছে?
আমি এসিস্ট্যান্ট কমিশনার, ভেট্রিমারান৷
আপনার আইডি কার্ড দেখান!
কিন্তু নির্বাচন তো শেষ হয়ে গেছে, লোকাল নির্বাচনের জন্য মনে হয়৷
আপনার ভোটার আইডি চাচ্ছে, স্যার!
ভোটার আইডি না, আপনি যে পুলিশ সেটার আইডি৷
সেটা দিয়ে আপনি কী করবেন?
আমি কি দেখতে চাইতে পারি না?
হোমওয়ার্কের খাতা হারিয়ে ফেলা বাচ্চার মতো লাগছে ওনাকে!
আচ্ছা বলুন কী বলবেন?
ফাদারের কেসের ব্যাপারে... আপনিই তো সর্বপ্রথম ফাদারের মৃতদেহ খুঁজে পান,
ঐ বিষয়ে আপনার সাথে কথা আছে৷
আর কতবার বলব আপনাদেরকে, এমনকি দু'দিন আগেও একবার এসেছেন!
আমি?
আপনার ডিপার্টমেন্ট!
উনিও ছিলেন৷
দুই ঘন্টা ধরে তারা আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছে...
আমাদের প্রতিবেশীরা নানানরকম কথা বলছে!
এখন আমার কর্মক্ষেত্রেও চলে এসেছেন, আর কত টর্চার করবেন আমাকে?
সবসময় শুনে এসেছি পুলিশ কেসে না জড়ানোর কথা...
কিন্তু কথাটা মানিনি৷
মৃতদেহটা দেখার পর আমার উচিৎ ছিল সোজা চলে আসা৷
তাহলে ঘ্রাণ শুঁকতে শুঁকতে ডগ স্কোয়াড আপনার বাসায় চলে আসতো৷
ওহ...ভয় দেখাচ্ছেন?
ভয় দেখাচ্ছি না, সতর্ক করছি৷
দেখুন-
আপনারা বারবার এসে সে-ই একই প্রশ্ন ঘুরেফিরে করছেন...
"কেন আপনি চার্চে গিয়েছিলেন?"
"এত সকালে সেখানে কী কাজ আপনার?"
"ফাদারের মৃতদেহ কখন দেখতে পেলেন?"
"তখন কি তিনি জীবিত ছিলেন?"
এগুলাই তো?
এখন চলে গেলে খুশি হব, প্লিজ!
আমি এখানে ফাদারের মৃতদেহ পাওয়া নিয়ে কিছু জিজ্ঞেস করতে আসিনি৷
তাহলে?
এটা একটা খুন, আপনি হয়তো সেটা নিজ চোখে দেখেছেন৷
পরের বার পুরো ঘটনা খুলে বলার জন্য প্রস্তুত থাকবেন৷
পরের বার? আবারো এই মেয়ের মুখোমুখি হতে হবে!
স্যার,
এটাই থেনড্রালের বাসা৷
ডেকে আনুন৷
আবারো বুড়োটার সামনে পড়তে হবে!
বাসায় কেউ নেই?
ওহ, আছে দেখা যায়৷
থেনড্রাল আছেন বাসায়?
ও তো স্কুলে চলে গেছে৷
স্যার....আপনারা তো তদন্ত করেছেনই৷
তাহলে এখন অাবার...?
আসলে....উনি নতুন এসিস্ট্যান্ট কমিশনার, পুনরায় তদন্ত করতে চাচ্ছেন তিনি৷
ওকে জানাবেন আমরা এসেছিলাম৷
জ্বী স্যার৷
এ.সি. নিশ্চিত বুড়াটার কথা শুনেছে৷
তবু আমাকে গিয়ে বলতে হবে.. কী এক চাকুরি!
স্যার, ও স্কুলে চলে গেছে৷
এখন কি স্কুলে যাব আবার?
দরকার নেই, ও-ই থানায় আসবে৷
সাধারণ মিসিং কেস মনে করে এটাকে হালকাভাবে নিবেন না!
- সকালের মধ্যেই আমাকে আপডেট দিবেন৷ - স্যার!
ফাদারের কেসের ব্যাপারে একজন দেখা করতে এসেছে৷
বসুন৷
আমি আপনাদের বললাম স্কুলে না আসতে, আর আপনারা বাসায় চলে আসলেন?
একটা মেয়ের জন্য থানায় আসা কি ঠিক বলবেন আপনি?
যদি ঠিক বলেন,
তাহলে তদন্তের প্রয়োজনে আপনাকে এখানেই ডেকে পাঠাব৷
এখন কী জন্য ডেকেছেন? বলুন!
এই চেইন, আপনার?
হ্যালো, আমি খ্রিস্টান নই!
- 'এলেক্স'? - স্যার!
- বলুন স্যার! - তুমি তীর্থযাত্রায় কবে যাচ্ছ?
সামনের সপ্তাহে স্যার, আমি ছুটির জন্য এপ্লাইও করেছি...
ঠিক আছে, যাও...
ধন্যবাদ স্যার৷
প্রতি সপ্তাহে আমি চার্চে যাই, এজন্য আমি খ্রিস্টান হয়ে গেছি?
এসবে এখন কিছু যায়-আসে না৷
যীশু, গান্ধী, চে গুয়েভারা... এনারা প্রত্যেকেই এখন সকলের প্রতীক৷
প্রথম কথা হল, এটা আমার চেইন না৷
তাছাড়া প্রতি সপ্তাহে অনুদান সংগ্রহ করতে আমি চার্চে যাই৷
- সেদিন আমার যাওয়ার কথা ফাদারকে বলে রেখেছিলাম... - ওহ, আবার শুরু করছে!
কিন্তু আমি যখন ভিতরে ঢুকি তখন ফাদার সেখানে ছিলেন না৷
এরপর কনফেশন হলে গিয়ে দেখি ফাদারের মৃতদেহ মেঝেতে পড়ে আছে৷
আমি সেখান থেকে কীভাবে বের হয়ে আসলাম নিজেও জানি না..
কোনরকমে স্কুটারে উঠে বেরিয়ে আসি৷
আপনার তাহলে স্কুটার আছে...
আপনি যখন চার্চে ঢুকছিলেন তখন মেইনগেট পুরো খোলা ছিল নাকি অর্ধেক?
পুরো খোলা ছিল৷
আপনার স্কুটার বামদিকে পার্ক করেছিলেন না ডানদিকে?
ডানদিকে পার্ক করেছিলাম৷
সাইড স্ট্যান্ডের উপর দাঁড় করিয়েছিলেন না মাঝখানের স্ট্যান্ডের উপর?
- কেন? - বলতে বলছি বলুন!
সাইড স্ট্যান্ডের উপর৷
লক করেছিলেন?
হ্যাঁ, করেছিলাম৷
একবারের জন্য হলেও আপনার আয়নায় তাকানোর কথা...
এতটা তো সুন্দর না!
ঠিক সেই সময়ে আয়নায় কোনকিছু বা কাউকে দেখেছেন?
না৷
কোন গাড়ি বা বাইক?
না৷
আপনার অবশ্যই কোনকিছু দেখার কথা, ভালমতো চিন্তা করুন!
কারণ ফাদারের খুন হওয়ার আর আপনার চার্চে পৌঁছার সময় প্রায় কাছাকাছি৷
সম্ভবত....একটা গাড়ি দেখেছি৷
এটাতো আমাকে বলেনি!
অবশ্য আমিও তো জানতে চাইনি!
এটা কি সেই গাড়ি?
হ্যাঁ, অনেকটা এরকমই৷
গাড়ির ভিতরে কি কেউ ছিল?
- না৷ - ঠিক তো?
বললাম তো না!
আচ্ছা, শান্ত হোন!
এরপর?
তারপর আমি চার্চে ঢুকি৷
চার্চের দরজা মোট তিনটি৷
আপনি মাঝেরটা দিয়ে ঢুকেছেন না সাইডেরগুলো দিয়ে?
মাঝখানের দরজা বন্ধ ছিল, আমি সাইডের দরজা দিয়ে ঢুকেছি৷
বের হওয়ার সময় কোনটা দিয়ে বের হয়েছিলেন?
বললাম না তখন আমার মাথা ঠিক ছিল না, আমি কীভাবে কী করেছি নিজেও জানি না!
কোনকিছু বাদ দিচ্ছেন না তো?
- না৷ - ভালমতো ভেবে বলুন৷
না৷
জিজ্ঞাসাবাদের সময় গিফট দিতে চাচ্ছে নাকি?
এটা কি আপনার?
তাড়াহুড়ো করে স্কুটার চালু করার সময় রিংটা পড়ে গিয়েছিল৷
যার মানে হল আপনি স্কুটার চালু করার সময় খুব ভয়ে ছিলেন?
গাড়িটা কি তখনো সেখানে ছিল?
না, গাড়িটা তখন ছিল না৷
এবার ঠিক আছে!
জেসিকা চার্চে এসেছিল৷
সেখানে সে বিপদে পড়ে৷
ও সেখান থেকে নিজ ইচ্ছায় বের হয়নি৷
হয়েছে আপনার? আমি এবার যেতে পারি?
যাই হোক...
- অনেক ধন্যবাদ, মিস থেনড্রাল৷ - ধন্যবাদের কিছু নেই৷
আপনি তদন্ত ভালই করতে পারেন!
ধন্যবাদ, আপনিও তদন্ত ভালই এড়াতে জানেন!
আমাকে তো আর ডাকছেন না?
বলা কঠিন৷
আপনি আমাকে পুরো সত্যটা বলেননি, সুতরাং আপনাকে আবারো ডাকতে পারি৷
কেন? খুনের স্বাক্ষী সন্দেহে?
না৷
হয়তো খুনটা আপনিই করেছেন৷
আপনি আবার ডাকলেও আমি আসছি না৷
যন্ত্রণা! আজকেই শেষ!
- থিরুপাথি! - স্যার!
আপনার কি অভিমত?
সে তো একটা ভাল মেয়ে!
আমি কেসের কথা বলছি৷
জ্বী স্যার, তাই তো বলছি, মনে হয় না এ কেসের সাথে মেয়েটার সম্পর্ক আছে৷
- আপনি এক কাজ করুন৷ - বলুন স্যার!
দুই দিনের ছুটি নিয়ে নিন৷
এ.সি. পুরো গরম এখন, যে কোন সময় ফাটতে পারে...
আমি বাসা থেকে কেস সামলে নিব, স্যার৷
আমি শেষ!
হ্যাঁ! উনি মা হতে চলেছেন!
ধন্যবাদ ডাক্তার, অনেক অনেক ধন্যবাদ!
দুই মাস দশ দিন৷
কী বলব বুঝতে পারছি না, আমি খুব খুশি ডাক্তার৷
সৃষ্টিকর্তা অতি আনন্দের বিষয়গুলো একটু দেরিতেই দেন৷
এখন ওর যত্ন কীভাবে নিতে হবে সেটা বলুন!
আমাদের মায়েরা সেটা ভালমতোই জানেন, আমার কিছু বলা লাগবে না৷
ডাক্তার হিসেবে কিন্তু আমি আর কিছু বলব না...
এখন যা করার সব আপনারা করবেন!
এখন দ্রুত বাসায় যান, উদযাপন করুন, ঠিক আছে?
বাবা-মা আমাদের চেয়ে বেশি খুশি হবেন৷
তাহলে এখনই তাদের ফোন দিন!
অবশ্যই ডাক্তার!
ভেট্রি, আয়!
তোর ভাই কল দিয়েছিল, তোর ভাবী মা হতে চলেছে...
আমি দাদী হতে চলেছি, ধর, মিষ্টি খা আগে!
তুই চাচা হবি...
আমি অনেক খুশি...
ভেট্রি...
ভেট্রি?
পুলিশের কাছ থেকে সংবাদ গোপন করা হচ্ছে, না?
বাসার সবাই তো খুশিতে পাগল হয়ে যাচ্ছে!
এত বছর পর সন্তানের মুখে 'মা'- 'বাবা' ডাক শুনবে তোমরা...
আমি চাচা হব...
তবে আমার খুশিটা সেখানে না,
তুমি আর ভাইয়া খুশি থাকলেই আমি খুশি৷
এই, আমাকে দাও তো!
কী, ভাবীকে ডায়লগ মারা হচ্ছে?
তুমি মনে হয় এতদিন ডায়লগ মারনি?
তোর ডায়লগের কাছে তো আমার ডায়লগ কিছুই না..
হইছে, হইছে, এখন বলো ট্রিট পাচ্ছি কবে?
আর হ্যাঁ, তোমাদেরকে স্পেশাল অভিনন্দন!
- ধন্যবাদ, বাই৷ - বাই৷
আচ্ছা, বাসা পাল্টানো হয়েছে তাহলে?
কী দরকারে ফোন দিয়েছেন?
কেসের ব্যাপারে কথা আছে আপনার সাথে৷
এখন দেখা করতে পারব না৷
আমি তো আপনাকে স্পষ্ট দেখতে পাচ্ছি৷
আচ্ছা, ধাপ্পাবাজি চলছে!
আপনি আবারো বাসার সামনে এসেছেন? আমি তো সেখানে নেই--
আবার বলছেন কী না আমাকে দেখছেন?
আপনাকে ঐ বাসার বাহির থেকে দেখছি না তো...
বরং অশোক নগর, মেজেস্টিক ফ্লাট- ১৫,
দ্বিতীয় তলার বারান্দা থেকে আপনাকে দেখা যাচ্ছে৷
হাই!
আপনার ব্যাপারে খোঁজ-খবর নিতে আমাকে আর ফোন দিতে হবে না৷
- খোঁজ-খবর নিতে হবে কেন? - কেসের জন্য৷
- খুন করেছি বলে? - না৷
একজন খুন হবে বলে৷
আপনি একজন পুলিশ অফিসার, ফ্লার্ট করা কি আপনাকে মানায়?
ফ্লার্ট?
সকালে ঘুম থেকে উঠে ধোঁয়া ওঠা কফির কাপে চুমুক দেয়া...
কাজের চাপকে এক পাশে সরিয়ে রিলাক্স হওয়া...
'তোমার' সাথে কথা বলার সময় আমার এসবের অনুভূতি হয়৷
আপনি কখনো এই কেস সমাধান করতে পারবেন না!
একটা ছোট্ট ক্লু পর্যন্ত পাবেন না!
আমার পক্ষ থেকে অভিশাপ রইল৷
একটা ছোট্ট ক্লুও না?
তাহলে বড় একটা বের করলে কেমন হয়!
এটা কি সত্য স্যার, ডেডবডিটা কি স্কাই টিভি'র জেসিকা ম্যাডামের?
বলুন না স্যার! স্যার প্লিজ...
বডিটা জেসিকার কী না সেটা নিশ্চিত করেছেন?
ফরেনসিক টিম বাহ্যিক আলামতসমূহ থেকে নিশ্চিত করেছে যে বডিটা জেসিকারই৷
পোস্টমর্টেম কি এখানেই হবে?
হ্যাঁ স্যার, লাশটা বলতে গেলে পুরো গলে গেছে..
তাই কমিশনার স্যার এখানেই পোস্টমর্টেম করার নির্দেশ দিয়েছেন৷
- থিরুপাথি! - স্যার?
গাড়ির ভিতরের সব আলামত সাবধানে তুলে নিন৷
ওনার স্বামীকে খবর দিয়েছেন?
মাত্রই দিয়েছি...
কিন্তু অন্য চ্যানেলগুলো আগেই খবর পেয়ে গেছে৷
পোস্টমর্টেম কোথায় করছে?
স্যার..
দূর্ভাগ্যবশত লাশটা টুকরো টুকরো হয়ে গেছে৷
এমনিতেই গলে গিয়েছিল...
তার উপর শকুন আর কুকুরের হামলা...
স্যার, আর দশ মিনিট৷
ভিতরের অংশ হয়ে গেলেই আপনাকে পূর্নাঙ্গ রিপোর্ট দিতে পারব৷
ঠিক আছে, আমি এখানেই আছি৷
ভেবেছিলাম জেসিকাকে পেলেই ফাদার সম্পর্কে কোন ক্লু খুঁজে পাব৷
এখন তাকেও হারালাম৷
কনফেশন নেয়া ফাদার মারা গেলেন,
কনফেশন প্রদানকারী জেসিকাও বেঁচে নেই...
পাপটা কী ছিল?
এর উত্তর রয়েছে কেবল ফাদার এবং জেসিকার কাছে৷
আর রয়েছে আমাদের অজানা বন্ধুর কাছে৷
এক্সকিউজ মি স্যার!
মৃত্যুর কারণ শারিরীক আঘাত- কব্জির শিরা কেটে দেয়া হয়েছিল৷
রক্তপাতের কারণে মৃত্যু হয়েছে তার৷
আরেকটা গুরুত্বপূর্ণ বিষয় স্যার...
উনি প্রেগনেন্ট ছিলেন৷
আর কতক্ষণ!
মন্ত্রী ফোন দিয়েছেন৷
বিয়াই?
আরে না, আপনি আস্তে-ধীরে আসুন!
আপনি আর বিয়াইন কেবল আশীর্বাদের সময়ে থাকলেই হবে৷
জ্বী স্যার!
মন্ত্রী কখন আসবেন? দেরি হয়ে যাচ্ছে তো!
আর দশ মিনিট! তোমরা শুরু করো...
তুমিও আসো!
তোর তো খুশি হওয়া উচিৎ, মুখ গোমড়া করে রেখেছিস কেন?
আমি পারছি না মা!
কী পারছিস না?
এটা কি অন্যায় না?
তুই কি জেনেশুনে করেছিস?
মুখ গোমড়া করে রাখিস না৷
হাসি ধরে রাখার চেষ্টা কর!
মা...
আমি একটু বাথরুমে যাব৷
যা, ফ্রেশ হয়ে আয়, কিন্তু জলদি করিস...
মন্ত্রী কিছুক্ষণের মধ্যেই চলে আসবেন৷
- কী এখন খুশি তো! - সবই আপনাদের আশীর্বাদ...
একটা নাতির আশায় তো অনেকদিন ছিলে...
রাজনৈতিক উত্তরসূরীও পেয়ে গেলাম৷
জ্বী?
অনুষ্ঠান কি শেষ না মাত্র শুরু?
- মাত্র শুরু হল৷ - মেয়ে কোথায় তাহলে?
বাবা?
বিদ্যা কোথায়?
- বাথরুমে গেছে৷ - তাড়াতাড়ি করতে বলো!
ঠিক আছে বাবা!
একটু অপেক্ষা করুন!
- বিদ্যা? - কী হয়েছে?
ও দরজা খুলছে না, সে-ই কখন থেকে নক করছি!
বিদ্যা!
বিদ্যা, দরজা খোল!
দরজা খোল!
বিদ্যা!
ভাই...
মেয়েটা এখানে৷
ও স্কুটারে চড়ছে৷
স্কুটার চালু করছে৷
হেই...কানা নাকি!
ছাড়ো আমাকে!
হেল্প!
চলো এখান থেকে!
গাড়ি চালু কর, ভাই, চলে আসো...
জলদি!
হ্যালো,
কালো রংয়ের স্করপিয়ন,
টিএন ০৯ এফ ৮৪৭৯
গাড়িটার সম্পর্কে বিস্তারিত তথ্য চাই, এক্ষুণি!
- ধন্যবাদ৷ - কী জন্য?
স্কুটার তুলে দেয়ার জন্য?
নাকি চেইন রক্ষা করেছি বলে?
ওরা চেইনের জন্য এসেছে বলে মনে হয় না৷
- মনে হচ্ছে আমাকে হত্যা করতে এসেছিল৷ - হতে পারে৷
ফাদারের খুনিরা যদি চার্চে তোমাকে দেখে থাকে...
তোমাকে মেরে ফেলার চেষ্টা করাটাই স্বাভাবিক৷
আপনি দয়া করে থামবেন?
ঠিক আছে, আমি কিছু দেখেছি, তো এখন কী করব?
সমস্যা তো তখন থেকে শুরু হয়েছে যখন থেকে আপনারা তদন্তের নামে আমার চারপাশে ঘুরঘুর শুরু করেছেন৷
দয়া করে একটু বুঝতে চেষ্টা করুন!
তদন্তের নামে আমাকে অনুসরণ বন্ধ করুন, প্লিজ!
তুমি আমাকে পুরো সত্যটা না বলা পর্যন্ত আমি তোমার পিছে লেগে থাকবই৷
এটা আমার দায়িত্ব৷
আপনি খালি নিজের দায়িত্বের কথাই ভাবছেন!
দায়িত্ব আমারও রয়েছে৷
বাবা-মার দেখাশোনা করতে হয় আমাকে৷
তাদের খাতিরে আমাকে বেঁচে থাকতে হবে৷
দয়া করে আমাকে আর বিপদে ফেলবেন না!
- হ্যালো৷ - কন্ট্রোল রুম থেকে জাগান বলছি স্যার!
আমি সব রেকর্ড খুঁজে দেখেছি, আপনার বলা নাম্বারে কোন গাড়ির রেজিস্ট্রি হয়নি৷
ঠিক আছে, ধন্যবাদ৷
ঐ দিন ওকেও মেরে স্কুটারসহ ময়লার স্তুপে ফেলে আসা দরকার ছিল!
ও কি সেদিন তোমাকে দেখেছিল?
উহ...চুপ করবি!
না দেখলে শুধু শুধু পুলিশের কাছে যাবে কেন?
আমরা যেহেতু ওকে দেখেছি, আমাদেরকেও ওর দেখাটাই স্বাভাবিক৷
এজন্যেই তোকে পাঠিয়েছিলাম৷
এবার ভুল হয়ে গেছে৷
পরের বার কিছুতেই মিস হবে না৷
হ্যাঁ জন, আজকে একটুর জন্য মিস হয়ে গেছে৷
ওরা পারেনি৷
পরের বার আর ভুল হবে না৷
ঠিক আছে, তুমি যা বলো৷
তুমি কখন আসছ?
আচ্ছা৷
কী যেন নাম মেয়েটার?
- থেনড্রাল৷ - হুম থেনড্রাল...
ওর ব্যাপারটা আপাতত বন্ধ রাখ!
কেন?
এ সপ্তাহটা যেতে দে, আমি তোকে পরে জানাব৷
এর মধ্যে...মেয়েটার বাসার ঠিকানা খুঁজে বের করবি, বুঝছিস?
ঠিক আছে৷
এখন আবার কেন এসেছেন?
খুনীদের এ বাসার ঠিকানাও জানিয়ে দিতে?
দেখো, তুমি আসলেই আমাকে ভুল বুঝছ...
এসব এখন শোনার সময় নেই, দয়া করে চলে যান...
কী হয়েছে রে, মা?
বাবা, উনি তোমার সাথে কথা বলতে এসেছেন৷
আসুন, স্যার৷
স্যার!
আপনাকে ভিতরে ডেকে এনেছি কেবল আপনার পেশার খাতিরে না...
লোকে দেখে ফেলার ভয়ও এর কারণ!
আমার মেয়ে এই কেসের যা জানে সব তো বলে দিয়েছে!
আর কী চান আপনারা?
স্যার, খালি ও-ই না, পুরো পরিবার আপনাদের কারণে অস্বস্তিতে দিন কাটাচ্ছে!
এমনকি বাসা পর্যন্ত পাল্টে ফেলেছি আমরা৷
এখন এখানেও চলে এলেন, আমরা আর কোথায় যাব?
আপনিই বলুন, আমার মেয়ে কি কেস শেষ হওয়া পর্যন্ত এসব থেকে মুক্তি পাবে না?
ও কোন ছেলে না, একটা মেয়ে!
চব্বিশ বছরের একটা মেয়ে, আমরা ওর জন্য ছেলে দেখছি....
এভাবে পুলিশের আনাগোনা অব্যাহত থাকলে, কে আমার মেয়েকে বিয়ে করবে বলু....
আমি ওকে বিয়ে করব৷
জানতে চেয়েছেন তো কে আপনার মেয়েকে বিয়ে করবে?
আমি করব৷
ওর সাথে কেসের বিষয়ে দেখা হয়ে গিয়েছে বলে এটা বলছি না,
ওর পেশাটা আমার খুব পছন্দ হয়েছে৷
শিক্ষাগত যোগ্যতা হিসেবে ও অনেক টাকা কামাই করতে পারত৷
তবু এমন একটা পেশা বেছে নিয়েছে...
ওর পেশা, ঐ স্কুল... এগুলো খুব ভাল লেগেছে আমার৷
আপনার মেয়ের সাথে আলোচনা করে দেখুন৷
আরেকটা কথা,
আপনারা ঐ বাসা ছেড়ে এসেছেন কুসংস্কারবশত, ওটার দায় আমাদের উপর চাপাবেন না!
আপনার সাথে কথা আছে৷
ফোনে না৷
সামনাসামনি৷
কোথায়?
বুঝলাম একাকি দেখা করতে চেয়েছ৷
কিন্তু এখানে কেন?
ফাদারের কেসের ব্যাপারে আমি আপনাকে কেবল একাংশ বলেছি৷
বাকি অংশ গোপন করেছি৷
সেদিন আমি কেবল জেসিকার গাড়িই দেখিনি,
চার জন লোকসহ আরো একটা গাড়ি দেখেছি৷
তাদেরকে আমি চিনি না, কিন্তু খারাপ লোক যে তাতে কোন সন্দেহ নেই!
আর...ওদেরকে যদি আবার দেখি, নিশ্চিত চিনতে পারব বলে আশা করি৷
এসব কথা এখন বলছ কেন?
পুলিশের কাছে সব কথা বলতে আমি বাধ্য নই৷
কিন্তু পছন্দের মানুষকে তো সব বলে দেয়া উচিৎ...
স্যার, আপনার স্ত্রী ফোন দিয়েছে৷
স্ত্রী?
এই রোদের মধ্যেও সেলফি!!
- অনেক কিউট! - দুঃখজনকভাবে ওর বাবা-মা নেই৷
এতিমখানার এমন অনেক বাচ্চা এখানে পড়ে৷
তুমি সত্যিই সৌভাগ্যবান, থেনড্রাল৷
বিয়ে না করেই কতগুলো বাচ্চার সাথে আছ!
তোমার বাচ্চাকেও এখানে দিয়ে দিও!
তোর পছন্দ একেবারে পারফেক্ট৷
তো সবাইকে কেমন লাগল?
সবাইকে খুব ভাল লেগেছে, আমি ফেসবুকে গ্রুপ সেলফি দিয়েছি...
ক্যাপশন হল- "পরিবারের সাথে আনন্দঘন মুহূর্তে"
এই কপিরাইটের অধিকার তো এখনো পাওনি, এটা কি অন্যায় হল না তাহলে?
তোমাদের রান্নাঘরে গিয়ে কফি বানানোর অধিকার পর্যন্ত পেয়ে গেছি,
কপিরাইট ছাড়াই এখন সব অামার৷
হ্যালো,
হ্যালো!
ভাবী?
ভাবী!
ফোনটা দাও তো!
তোর ফোনের কী হয়েছে?
চার্জ শেষ, একটা কল করতে হবে৷
তোমাকে এমন অসুস্থ লাগছে কেন?
বেশ কয়েকদিন যাবৎ দেখছি, তুমি কেমন কেমন হয়ে আছ....
কেন?
তেমন কিছু না ভেট্রি৷
ঠিক আছে, না বলতে চাইলে থাক!
দুঃখিত৷
ভেট্রি...
আসলে...
সন্তান না হওয়ার টেনশন থেকে এখন আরো বেশি টেনশন হচ্ছে৷
এ বাসায় আমি অনেক ভুগেছি৷
আম্মা, পাড়া-প্রতিবেশী, বন্ধু-বান্ধব...
তুই তো জানিসই সবাই কেমন করত, কী সব বলত...
কিন্তু এখন সবকিছু বদলে গেছে৷
আম্মা, তোর ভাইয়া আমার খুব যত্ন নিচ্ছে৷
হ্যাঁ, সবাই তো খুশি৷
এখন তো আর চিন্তার কোন কারণ নেই৷
কিন্তু ধর...
বাচ্চাটার কিছু হয়ে গেল, তখন আমার কী হবে?
সন্দেহ আছে এরপর আর তোর ভাইয়ের সাথে থাকতে পারব কী না৷
এজন্য বাচ্চাটার জন্ম নিয়ে আমার টেনশন আরো বেশি৷
এখন এসব কথা বলছ!
কিন্তু পরে অপারেশন, ঔষধ-পত্র বড় হবার পর স্কুল-কলেজ ইত্যাদির প্যারায় পড়লে...
মনে হবে বাচ্চা না হওয়াই ভাল ছিল৷
কী অলুক্ষুণে কথা বলছিস!
তাহলে? তাহলে এত দুশ্চিন্তা কীসের?
প্রথমে একটা নাম ঠিক করো, আর কোন স্কুলে ভর্তি করাবে সেটা ঠিক করো!
কী সব যে চিন্তা করো! এই নাও...
এখন...হাসি দাও একটা!
এই তো ঠিক আছে৷
স্যার, এগুলো জেসিকার গাড়ি থেকে সংগৃহিত জিনিসপত্র৷
আমরা ক্রসচেক করেছি, এখানের প্রতিটি জিনিস তারই৷
যতবারই ঘাটাঘাটি করে দেখি না কেন, ঘুরেফিরে একই ফলাফল বের হবে৷
এগুলো ঘেটে লাভ নেই৷
একই পরীক্ষা, একই প্রশ্নপত্র, কিন্তু দুজন ছাত্র দুরকম নাম্বার পায়...
কেন থিরুপাথি?
স্যার, একজন মেধাবী ছাত্র আর আরেকজন মেধাহীন, সহজ বিষয়!
কিন্তু হঠাৎ এ কথা বলছেন কেন?
- শীঘ্রই বুঝতে পারবেন৷ - আচ্ছা৷
এই পেট্রোল পাম্পে কোন সিসিটিভি ক্যামেরা আছে কী না দেখুন!
জ্বী স্যার!
এখানে তো প্রচুর প্রমান, আপনি সব বাদ দিয়ে রিসিপ্টটা দেখলেন কেন?
তারিখটা দেখো!
জেসিকা নিখোঁজ হওয়ার একদিন পরের তারিখ৷
ওর খুন হওয়ার দিন গাড়ির ট্যাঙ্কি ফুল করা হয়েছে৷
এবার বুঝেছেন?
স্যার, বুঝেছি স্যার৷
পড়াশোনার কারণে আপনি এসিস্ট্যান্ট কমিশনার, আর আমি টেনেটুনে একজন সাব ইন্সপেক্টর!
স্যার!
- আপনাকে একটা প্রশ্ন করার ছিল৷ - কী?
সিনেমার ডায়লগের মতো, "সব মেয়ে বাদ দিয়ে আমি জেসির রূপে কেন পাগল হলাম?"
"সব কেস বাদ দিয়ে আপনি জেসিকার কেইসে এত গুরুত্ব দিচ্ছেন কেন?"
সত্যি জানতে চান?
আপনি যদি বলতে চান৷
পাঁচ বছর আগে আমি যখন আর-৬ থানার ইন্সপেক্টর...
স্ত্রী হারানোর অভিযোগ দায়ের করতে এক লোক আসেন৷
আমি ব্যাপারটা গুরুত্বের সাথে দেখিনি৷
ভেবেছিলাম, হয়তো কোথাও গিয়েছে, দিন কয়েকের মধ্যে ফিরে আসবে৷
দুদিন পর নিউজ চ্যানেলে ঐ মহিলার মৃতদেহ পাওয়ার সংবাদ পাই৷
কেসের দায়িত্ব অন্য অফিসার গ্রহণ করে৷
ঐ লোককে দেয়ার মতো কোন সদুত্তর ছিল না অামার কাছে৷
কমপক্ষে চেয়েছিলাম জেসিকার স্বামীকে এমন পরিস্থিতিতে পড়তে দিব না৷
কিন্তু দেরি হয়ে গেল৷
এখন সময় এসেছে এসবের ইতি টানার৷
বুঝার চেষ্টা করো, প্লিজ!
- ঐদিন, হয়েছিল কী, আমি এক বন্ধুর বাসায় গিয়েছিলাম.... - থিরুপাথি!
ছেলেটাকে ফোন বন্ধ করতে বলুন৷
দেখতে তো ধনীর দুলাল মনে হচ্ছে, কিন্তু চালাক বলে মনে হয় না!
প্লিজ, বুঝতে চেষ্টা করো!
- কী? - দয়া করে কলটা কেটে দিন৷
কী সমস্যা?
এটা একটা পেট্রোল পাম্প, বিস্ফোরণ ঘটলে আমাদের উপরে পৌঁছতে সময় লাগবে না৷
সমস্যা নেই, ওটা আমি বুঝব৷
সে বুঝবে?
প্রেম করতে করতে পেট্রোল পাম্পে মরুক গে, আমার কী!
আমি ভাগি৷
গত সপ্তাহে, বুধবার বিকাল সাড়ে চারটা...
৪,৪২২ রূপী দিয়ে কেউ একজন ৭২.৫ লিটার তেল নিয়েছে৷
আমি জানি মনে করাটা যথেষ্ট কঠিন৷
কিন্তু আপনাদের কারো যদি মনে পড়ে তাহলে প্লিজ বলুন আমাদেরকে!
কত লিটার বললেন?
৭২.৫ লিটার৷
স্যার, ঠিক ৭২.৫ লিটার তো ভরার কথা না!
এতটুকু ভরলে ট্যাঙ্কি ভরেই নেয়ার কথা৷
৬০-৮০ লিটার ধরে...হ্যাঁ স্করপিয়ন বা ফরচুনার হতে পারে৷
আর অডি এ-৬ হলে?
সেটাও ৬০ লিটারে ভরে যাবে৷
স্যার, হ্যাঁ স্যার, ঐ দিন একটা ফরচুনার গাড়ি ট্যাঙ্কি ভরে নিয়েছিল৷
এত নিশ্চিতভাবে বলছেন কীভাবে?
সেদিন আমার স্ত্রীর জন্মদিন ছিল৷
শিফট শেষ হওয়ার ঠিক আগ মুহূর্তে আমি গাড়িটিতে তেল ভরি৷
একটা কাল গাড়ি৷
- ম্যানেজার! - স্যার!
- আমি সিসিটিভি ফুটেজ চেক করতে চাই৷ - জ্বী স্যার৷
বলো...
তুমি কোথায়?
জেসিকার কেসের ব্যাপারে এক জায়গায় এসেছি৷
তোমার জন্য অপেক্ষা করলে দেরি হয়ে যাবে, নিজে নিজেই চলে আসছি তাহলে?
এখানেও রোমান্স!
ওহ, স্যরি!
মনে হচ্ছে আমি তোমার দ্বিতীয় বৌ৷
হেই, কী বলছ?
এজন্যই সবসময় তুমি তোমার প্রথম বৌকে নিয়ে ব্যস্ত থাক৷
কী হয়েছে আবার?
বারান্দা থেকে কাপড় ঢুকাতে ভুলে গেছি৷
ঠিক আছে, পরে কল দিব তোমাকে, বাই৷
কী? পেয়েছেন?
আপনি যে সময়ের কথা বলেছেন সে সময়কার ফুটেজ৷
দু নম্বর ক্যামেরাটা বড় করুন৷
ফরোয়ার্ড করেন৷
ফরোয়ার্ড....ফরোয়ার্ড, ফরোয়ার্ড৷
থামুন, থামুন!
পিছে নিন, পিছে, পিছে...
আরো পিছে...
ফ্রেম বাই ফ্রেম প্লে করুন৷
ধীরে...
ব্যাস!
স্যার, এটাই সেই গাড়ি, স্যার৷
ড্রাইভারের দিকটা আরো জুম করুন৷
ড্রাইভারের ছবি বোঝা যাচ্ছে না, পাশের জনকে জুম করুন৷
পুরো স্ক্রীন!
থেনড্রাল, আমি তোমাকে কল দিতে চাচ্ছিলাম৷
কী হয়েছে, বলো!
চার্চে একটা লোককে গাড়িতে দেখেছিলাম....বলেছিলাম না...
ও আমার খোঁজে এখানে চলে এসেছে৷
কী বলছ তুমি?
সে-ই একই গাড়িতে৷
খালি ঐ লোকই না,
সেদিন আমার চেইন টান দিল যে লোকটা, সেও সাথে আছে...
সাথে আরো দুজন৷
তুমি কোথায় এখন?
বা...বাসার ভিতরে৷
আমি যেভাবে বলছি সেভাবে করো, প্রথমে মেইন দরজা বন্ধ করো!
কেন?
যা বলছি করো!
যাও, মেইন দরজা বন্ধ করো!
- থিরুপাথি! - স্যার?
একটা বাইক যোগাড় করুন এক্ষুণি!
- বাইক? - চলো আজকে মুভি দেখে আসি৷
বাইক রেডি স্যার!
হেই, ঐ বাইকটা নিয়ে আসো!
অন্য দরজাগুলোও বন্ধ করে দাও৷
আর কে আছে বাসায়?
খালি বাবা আর আমি... বাবাকে কি জানাব?
না, উনি টেনশনে পড়ে যাবেন!
আর কী করব? পুলিশকে ফোন দিব?
হুঁ...কল কাটলাম তাহলে?
ধুর! স্যরি, স্যরি...
ঠিক আছে, কলটা কেটো না, লাইনেই থাকো...
ঐ ছেলের সাথে কথা বলবে না, ওকে একটুও ভাল লাগে না আমার৷
দেখো, আমি চাই না তুমি ওর সাথে কথা বলো৷
হুম, সেটাই!
ছাগল কোথাকার!
বাইকে করে মুভি দেখতে যাবে, বাইক যে হাওয়া হয়ে গেছে সে খবর নাই!
থেনড্রাল? আমার কথা শুনতে পাচ্ছ?
বাসার বৈদ্যুতিক সব সুইচ অফ করে দাও৷
আমি....সব বন্ধ করে দিয়েছি৷
মেইন দরজার সাথে গা লাগিয়ে বসে থাকো!
বন্ধু, প্রতিবেশী যে-ই বেল বাজাক, কিছুতেই দরজা খুলবে না!
ঠিক আছে? বাবাকেও দরজা খুলতে দিবে না!
কিছুতেই না! যে-ই আসুক, কিছুতেই দরজা খুলবে না, কিছুতেই....
শিট!
এখানে কোন গাড়ি নেই৷
হ্যাঁ...গাড়ি তো নেই দেখছি৷
কিছুই বুঝতে পারছি না৷
আমি না বলা পর্যন্ত দরজা খুলবে না, ভিতরেই থাকো৷
স্যার?
- কয় তলায় গিয়েছিলে? - দ্বিতীয় তলায়, স্যার৷
এদিকে কোন গাড়ি দেখেছিলে?
না স্যার, এদিকে কোন গাড়ি দেখিনি৷
- ঠিক আছে, যাও৷ - জ্বী৷
স্যার, আশেপাশের সব ট্রাফিককে কালো ফরচুনার গাড়ি খুঁজতে বলা হয়েছে৷
আচ্ছা,
আশেপাশের সব রাস্তায় খুঁজে দেখুন!
এই....ওরা কি সত্যিই এসেছিল?
নাকি আমাকে দ্রুত এখানে আনতে এই প্লান?
আমি দুঃশ্চিন্তায় মরছি আর তুমি কৌতুক করছ?
আচ্ছা, আচ্ছা, শান্ত হও...
সাদা পেশাকের দু জন পুলিশ তোমাদের গেটে সবসময় থাকবে৷
- সিক্যুরিটির জন্য? - হ্যাঁ৷
ওরা রাস্তায়ও তোমার আশেপাশে থাকবে, বিষয়টাকে আর হালকাভাবে নেয়ার সুযোগ নেই৷
তুমি বলেছিলে এক খুনের ক্লু আরেকটা খুনের জন্ম দেয়....
মনে হচ্ছে আমিও খুন হয়ে যাব৷
হেই...এসব কী বলছ?
এক সপ্তাহের মধ্যেই কেসটা শেষ হয়ে যাবে৷
আচ্ছা শোন, আমি জানি না তুমি সত্য বলেছ কী না...
কিন্তু এতটা পথ খালি তোমার জন্য ছুটে এসেছি৷
এক গ্লাস লেবুর শরবত খাওয়াবে না?
কেন খাওয়াব?
সব পুলিশের মতো তুমিও সব শেষ হয়ে যাওয়ার পর এসেছ৷
দিবে না তাহলে? আমার বাড়িও চান্দের দেশে না!
বাসায় গিয়ে আমি নিজেই খেতে পারি৷
আর আমাদের বাবা-মাকে কিছু বলার দরকার নেই, তারা শুধু শুধু টেনশনে পড়ে যাবে৷
হেই...এটা আমার অফিশিয়াল কাজ৷
পুলিশ অফিসার হিসেবে আমি জানি কখন কী করতে হবে৷
বুঝেছেন?
ভাল থেকো, পরে ফোন দিব, বাই৷
[ শকড হয়েছেন, এ তো মাত্র শুরু! ব্লাডার খালি করে এসে কাঁথা-কম্বলের নীচে জমে বসুন৷ কোথাকার পানি কোথায় গড়ায় বলা যায় না৷ ]
- শক্তিভাল... - স্যার?
- পোস্টমর্টেম রিপোর্ট এসেছে? - এই যে স্যার৷
- মৃত্যুর সময় ক্রসচেক করেছ? - জ্বী স্যার৷
আভি...
এ বাসায় যখন ওকে পাঠিয়েছিলাম, ভেবেছিলাম ও অনেক সুখী হবে৷
আর এখন কী না ওর মরা মুখ দেখছি!!
আভি আমাকে বলত,
"একজন ভাল স্ত্রী হওয়ার চেয়ে...
একজন মা হওয়া বেশি গুরুত্বপূর্ণ, তাই না! "
"সবার কথা শুনলে মনে হয়..."
"আমি একটা বাচ্চা উৎপাদনকারী যন্ত্র কেবল!"
"ব্যক্তি আমি'র কোন সম্মান বা মূল্য নেই৷"
এসব কথা প্রায়ই বলত ও৷
জানি না কী কারণে ও এমন সিদ্ধান্ত নিয়ে বসল৷
এক্সকিউজ মি, স্যার৷
পোস্টমর্টেম রিপোর্ট অনুযায়ী কোন আঘাতের চিহ্ন নেই৷
গলা থেকে শুরু করে ঘাড় পর্যন্ত একটা কালশিটে রয়েছে৷
ভিতরের দিকে কন্ঠনালী ভেঙ্গে গিয়েছিল৷
বাসার ভিতরেও কারো অনুপ্রবেশের চিহ্ন নেই৷
আপনার মা এবং ভাইয়ের বিবৃতি অনুযায়ী কোন টাকা বা স্বর্ণ খোয়া যায়নি বাসা থেকে৷
এখনকার মত এটাকে আত্মহত্যাই বলতে হচ্ছে, স্যার৷
কিন্তু...
আপনার ভাইয়ের সাথে আমাদের কথা আছে আত্মহত্যার কারণের ব্যাপারে৷
আমরা কীইবা চেয়েছিলাম, একটা বাচ্চাই তো....
শেষমেশ যখন প্রভু আমাদের উপর দয়া করলেন, তখনই সব বরবাদ করে দিল ও!
কিছু চাননি আপনারা?
আমরা বলেছিলাম, যে টাকা চেয়েছে তা দিয়ে দিব...
কিন্তু এর আগেই আমাদের মেয়েটাকে মেরে ফেলল রে!!
- তদন্তের রিপোর্ট তৈরি হয়ে গেলে আমাকে জানাবেন৷ - অবশ্যই স্যার!
কীসের টাকা? কে চেয়েছে টাকা?
ওরা এসব কী বলছে?
আপনারা না চেয়ে থাকলে ও পঞ্চাশ লাখ টাকা চাইল কেন?
ওর বাবা বলেছিল, টাকার ব্যবস্থা করে দিবে...
আমরা টাকা চেয়েছি?
আপনারা না হলে নিশ্চিত আপনাদের ছেলে!
আর দুটো দিন অপেক্ষা করতে পারল না?
তাহলে আর আজকে আমার মেয়ের মরা মুখ দেখতে হত না!
উনি এসব কী যা তা বলছেন?
কী সব উল্টোপাল্টা বলছেন!
আমরা কী অপরাধটা করেছি?
এ বাসায় আমার মেয়ের না জানি আরো কত কষ্ট সইতে হয়েছে....
হারে আমার মেয়ে...
ভেট্রি, তুমি হয়তো তোমার ভাবীর ব্যাপারে অনেক উঁচু ধারণা রাখো...
কিন্তু আমি সেরকম রাখি না৷
কী বলতে চাইছ, স্পষ্ট করে বলো!
আমি ফেসবুকে সেদিন একটা গ্রুপ ফটো পোস্ট করেছিলাম না...
আমার বান্ধবী রেখা ছবিটা দেখে আমাকে কল দিয়েছিল৷
যখন আমি ওকে তোমার ভাবীর গর্ভবতী হওয়ার কথা বললাম...
ও...আমাকে কিছু কথা বলল৷
কী বলেছে সে?
ও একজন ডাক্তার৷
ছয় মাস আগে, ও যে হাসপাতালে চাকুরি করে সেখানে তোমার ভাই গিয়েছিল৷
পরীক্ষা-নিরীক্ষায় দেখা গেছে তোমার ভাইয়ের সন্তান জন্মদানের ১০% সম্ভাবনাও নেই৷
ও বলল, পৃথিবীর কোন ঔষধ দিয়ে এ ক্ষমতা জন্মানো যায় না!
বলল যে, ওনার স্ত্রীর গর্ভবতী হওয়াটা বিস্ময়কর৷
ও কী বলেছে সেটা বাদ দাও!
তুমি কী বলতে চাইছ?
এখানে বলার কী আছে, ভেট্রি?
হয়তো...কর্মক্ষেত্রে...কারো সাথে প্রেম হয়েছিল, সে সম্পর্ক কিংবা বহিরাগত অন্য কোন সম্পর্ক...
স্যার!
ওনার ফাইলটা কোথায়?
স্যার?
আভিনয়ার তদন্তের রিপোর্ট... স্যরি স্যার!
আপনার ভাবীর পুরো রিপোর্ট মাত্র এসে পৌঁছল৷
থিরুপাথি!
স্যার?
জেসিকার পোস্টমর্টেম রিপোর্টটা দিন তো!
এই যে স্যার!
এটা মূলত এমন হরমোনের ঔষধ, কোন প্রানীর ডিম যে হরমোনের সাহায্যে বড় হয়৷
এটা কৃত্রিম গর্ভধারণের ঔষধ হিসেবেও ব্যবহার হয়৷
কৃত্রিম গর্ভধারণ?
টেস্ট টিউব টাইপের?
না, না..ঠিক সেরকম না..
আইভিএফ, আইসিআই এর মতো গর্ভধারণের আরো অনেক পদ্ধতি রয়েছে৷
দোনটা কেসই যেহেতু অস্বাভাবিক মৃত্যু, সে হিসেবে আরেকটা কেসের কথা বলতে চাই, ভেট্রি!
বলুন ডাক্তার৷
গত মাসে আরেকটা কেস এমন ছিল, মন্ত্রী ভাইদেয়ালিঙ্গামের ছেলের বৌ আত্মহত্যা করেছিল...
- পশ্চিম আন্না নগরে? - হুম৷
একই ঔষধের চিহ্ন আমরা ওর শরীরেও পেয়েছি৷
মন্ত্রীর প্রভাবের কারণে সংবাদমাধ্যমে খবরটা আসেনি,
- তুমি হয়তো লক্ষ্য করেছ! - করেছি৷
তো...এই তিনও জনের মৃত্যুর,
যোগসূত্রটা কী করলে বের করা যাবে বলে মনে করেন?
আমরা সবাইকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারব না৷
কিন্তু এদের স্বামীদের জিজ্ঞাসাবাদ করলে কিছু বের হয়ে আসতে পারে৷
তুই খেয়ে নে, আমি তোর বাবাকে ঔষধ দিয়ে আসি৷
কীরে....তুইও দেরি করে আসলি?
ভাবীর কেসটা নিয়ে এক জায়গায় আটকে গিয়েছিলাম৷
তুমি কীভাবে পারলে এটা করতে?
কী করতে?
মিথ্যা বলতে...
তুমি পুলিশের কাছে মিথ্যা বলেছ,
কিন্তু আমার কাছে তো মিথ্যা না বললেও পারতে৷
মিথ্যা?
কী বলছিস?
ভাবীর ব্যাপারে৷
ওর ব্যাপারে কী?
কেন ওকে খুন করলে তুমি?
কী যা তা বলছিস তুই?
ভাবীর পেটে কি সত্যিই তোমার বাচ্চা ছিল?
কী বললি?
কী বললি ওর ব্যাপারে?
হাত সরাও আমার গা থেকে...
- সত্যটা বলো আমাকে! - যা ইচ্ছা তাই বলবি ভেবেছিস?
তুমি সত্য গোপন করছ কেন? বলো!
এটা যে অপরাধ জান না?
কী গোপন করছি আমি?
কী গোপন করছি?
তুমি অবশ্যই কিছু গোপন করছ, বলো সেটা অামাকে!
ভেট্রি...
কী করছিস তোরা?
- ওকে ছেড়ে দে! - আমাকে ছাড়ো!
বন্ধ কর এসব! কী শুরু করলি দুজনে?
কী হয়ে গেল তোদের? তোরা এমন করছিস কেন?
আম্মা, ভাবীর ব্যাপারে ও কিছু একটা লুকোচ্ছে, ওকে সত্যটা বলতে বলো!
তোর কি মাথা খারাপ? আমি কিছুই গোপন করছি না৷
মরা মেয়েটাকে নিয়ে তোরা এমন করছিস কেন?
না...ও এমনি এমনি মরেনি!
তোমরা সবাই মিলে মেরেছ ওকে৷
তুই কী বলছিস এসব?
হ্যাঁ ঠিকই......
ওর বিয়ের পরদিন থেকেই....
তুমি 'নাতি চাই নাতি চাই' বলে অভিযোগ করে যাচ্ছ!
আমি তোমাকে বহুবার ওর দিকে আঙ্গুল তুলে কথা বলতে দেখেছি৷
যখনই কেউ বাসায় আসত, সে-ই একই প্রশ্ন, কোন সুসংবাদ আছে?
ঘরের বাহিরে বের হলেই, সবার একই প্রশ্ন, বাচ্চার খবর কী?
একবার এই ডাক্তার, আরেকবার ঐ হাসপাতাল... বাচ্চার শখ ছিল, না??
পেয়েছ না এখন বাচ্চা??
তুই ভুল বুঝছিস...
তোমার ছেলের বৌকে তো হাজারবার দোষারোপ করেছ...
ছেলেকে একবারও জিগেস করেছ সমস্যাটা আসলে কার?
বলো!
ওকে বলতে বলো!
হ্যাঁ, ঠিক!
সমস্যা আমারই ছিল!
সমস্যা আমারই ছিল....
আমি ভুল করে ফেলেছি,
কিন্তু তুই যেমনটা ভাবছিস সেরকম কিছু না!
তোমরা তো জানোই....
আমি আর আভি বহু হাসপাতাল, বহু ডাক্তার দেখিয়েছি, তীর্থযাত্রায়ও কম যাইনি...
শেষমেশ আমরা একটা প্রসিদ্ধ হাসপাতালে সিরিয়াল নিলাম৷
আমাদের হাসপাতালে আজকেই কি প্রথম এলেন?
জ্বী, ডাক্তার!
আপনি কোথায় কাজ করেন বললেন?
আর.কে. স্টিল কোম্পানিতে চীফ ইঞ্জিনিয়ার হিসেবে আছি৷
তাহলে তো আপনাকে কর্মক্ষেত্রে প্রচুর তাপের মুখোমুখি হতে হয়৷
আপনাদের যৌন জীবন তো স্বাভাবিক...
কিন্তু সন্তান নেয়ার ক্ষেত্রে,
শুক্রাণু সম্পূর্ণ উপযুক্ত হতে হয়, কিন্তু আপনার শুক্রাণুতে... গতিশীলতা, স্বাস্থ্য, বেগ ইত্যাদি ত্রুটিযুক্ত৷
একশ'র মধ্যে পঞ্চাশ জন স্বামী-স্ত্রীই বর্তমানে এ সমস্যায় জর্জরিত৷
একাধিক কারণ রয়েছে....প্রতিকূল আবহাওয়া, মানসিক দুঃশ্চিন্তা, অনিয়ন্ত্রিত খাদ্য তালিকা ইত্যাদি৷
এটা কোন স্থায়ী সমস্যা নয়৷
যথাযথ চিকিৎসা গ্রহণ করলে, আপনার শুক্রাণু সম্পূর্ণ ক্ষমতা ফিরে পাবে এবং বাচ্চা উৎপাদনেও সক্ষম হবে৷
এই চিকিৎসায় কেমন সময় ব্যয় হবে, ডাক্তার?
কমপক্ষে এক বছর৷
আমি এই চিকিৎসা নিলে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে তো?
আমি আপনাকে ষাট ভাগ নিশ্চয়তা দিতে পারি৷
বাকি চল্লিশ ভাগ আপনাকে দেবতাদের উপর ছেড়ে দিতে হবে৷
আর...যদি এক বছর অনেক লম্বা মনে করেন,
তবে স্বল্প সময়ের ভিন্ন পদ্ধতিও রয়েছে৷
কী পদ্ধতি, ডাক্তার?
'কৃত্রিম গর্ভধারণ'৷
এর মানে?
এর মানে, যারা প্রাকৃতিকভাবে গর্ভধারণ করতে অক্ষম, ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে...
স্বামীর শুক্রাণু তাদের গর্ভাশয়ে প্রবেশ করানো হয়৷
এভাবে গর্ভধারণের সম্ভাবনা প্রায় শতভাগ৷
এত চিন্তার কী আছে?
এমন অনেক মহিলা আছেন যারা স্বামীরা সন্তান জন্মদানে অক্ষম বলে....
কৃত্রিমভাবে অন্য পুরুষের শুক্রাণু ব্যবহার করে গর্ভবতী হচ্ছে৷
সে জায়গায় এটা তো আপনার স্বামীরই শুক্রাণু!
আর কীসের দ্বিধা?
- নাম বলুন, প্লিজ! - শ্রী আভিনয়া৷
- আভি? - হুম...
তুমি খুশি তো?
আমি খুশি...
কিন্তু বাবা-মা কীভাবে নিবেন বিষয়টা তাই ভাবছি৷
তাদের ভুল বোঝার কী আছে?
আমি তাদের সাথে কথা বলব৷
না...
এ বিষয় কারো সাথে শেয়ার করো না৷
বাবা-মাকে বলার দরকার নেই৷
এমনকি ভেট্রিকেও বলো না, প্লিজ!
ঠিক আছে, বলব না, তুমি চিন্তা করো না!
দু'মাস বিভিন্ন ঔষধ-পত্র চলার পর মূল চিকিৎসা শুরু হল৷
এত বছরের প্রতীক্ষিত ফলাফলের দেখা পেলাম৷
তোমরা তো জানোই আমরা কতটা খুশি ছিলাম!
কিন্তু পঞ্চাশ লাখ টাকার ব্যাপারে কিছু তো জানিই না,
হাসপাতাল থেকেও এ পরিমাণ টাকা চায়নি৷
ম্যাম, একটা সেলফি, ম্যাম!
- স্যার, আপনি যেতে পারেন৷ - ধন্যবাদ৷
- প্লিজ বসুন! - ধন্যবাদ৷
শুনলাম আপনি নাকি আভিনয়ার দেবর,
সত্যিই, খুবই দুঃখজনক ব্যাপার৷
জানি না কীসে তাকে আত্মহত্যার প্রতি প্ররোচিত করল৷
পাঁচ মাসের মধ্যেই সে মা হতে যাচ্ছিল৷
এভাবে কৃত্রিম গর্ভধারণের মাধ্যমে সন্তানসম্ভবা হওয়া কি আসলেই নিরাপদ, ডাক্তার?
কী বলতে চাইছেন আপনি?
এ পদ্ধতিতে বিন্দুমাত্র ঝুঁকি নেই৷
আপনার ভাবী মারা গিয়েছে বলে এ ব্যাপারে প্রশ্ন তোলাটা নিছক ছেলেমানুষী হবে৷
কেবল আমার ভাবীই নয়...
কৃত্রিমভাবে গর্ভধারণ করা আরো দুজন মহিলা মারা গিয়েছে৷
সেগুলোও কি ছেলেমানুষী মনে হচ্ছে আপনার?
এক্সকিউজ মি!
আপনি আপনার ভাবীর ব্যাপারে কথা বলতে এসেছেন, ভালো...
কিন্তু অন্য পেশেন্টের ব্যাপারে কোন কিছু জিগেস করতে পারেন না!
পুলিশ যে কোন কিছু জানতে চাইতে পারে৷
আমি দুঃখিত৷
আমি কেবল সাধারণভাবে কিছু কথাবার্তা বলতে চেয়েছিলাম...
কিন্তু আপনি যে ভাষায় কথা বললেন, বিষয়টাকে তদন্তে মোড় না দিয়ে পারছি না৷
অন্য একটা হাসপাতাল থেকে বলা হয়েছিল ভাইয়া সন্তান জন্ম দিতে অক্ষম,
এ ব্যাপারে আপনার বক্তব্য কী?
সোজা!
আপনি মাথাব্যথা নিয়ে ডাক্তারের কাছে যান, এক ডাক্তার বলবে সাধারণ মাথাব্যথা...
অন্যজন হয়তো বলবে ডিহাইড্রেশন,
আরেকজন বলবে এমআরআই করাতে...
রোগ নির্ণয় করে সঠিক চিকিৎসা কে দিতে পারল সেটাই দেখার বিষয়৷
ও..কিছু ডাক্তার যে মাথাব্যথাকে টিউমার বলে চালিয়ে দিয়ে টাকা কামাই করে সেটা তাহলে ভুল নয়!
- লোকের কথা! - থিরুপাথি!
আপনারা এত সন্দেহ করছেন কেন?
বাহিরে দেখেননি? টিভি সেলিব্রেটি মাধান-কৌশলিয়া...
তারা পর্যন্ত আইনত সিদ্ধ জেনেই কৃত্রিম গর্ভধারণের পথে এসেছেন৷
আমরা পেশেন্টদের রেকর্ডের গোপনীয়তাও সতর্কভাবে রক্ষা করি৷
পালিয়ে যাওয়া প্রেমিক-প্রেমিকার ফেসবুকে ছবি আপলোড করার মতো!
মানে....আপনারা খুব ভাল করছেন, চালিয়ে যান!
যাই হোক,
কোন কোন হাসপাতালের মালিকেরা এই প্রজেক্টের সাথে জড়িত...
মোট কতজন পেশেন্ট এ প্রজেক্টে, এসবের বিস্তারিত বিবরণ চাই আমার৷
বিশেষ করে এ হাসপাতালের গুলো৷
এগুলো আপনি পাবেন ইন্ডিয়ান মেডিকেল এসোসিয়েশনে৷
তবে সেজন্য আইনানুগ অনুমতিও লাগবে৷
এতটা সহজ নয় বিষয়টা৷
আপনার স্বামী কেবল এ হাসপাতালের ডিনই নন,
ইন্ডিয়ান মেডিকেল এসোসিয়েশনের একজন গুরুত্বপূর্ণ সদস্যও৷
সুতরাং আপনার জন্য সহজ৷
এ টু জেড সমস্ত তথ্য চাই আমার, কোন কিছু যেন বাদ না পড়ে৷
অবশ্যই, আমি আগামিকাল সকালের মধ্যেই সব প্রস্তুত করে রাখব৷
স্যরি ম্যাম, আমার দু ঘন্টার মধ্যে চাই এগুলো৷
হুম...ঠিক আছে,
আমি ডিপার্টমেন্টে প্রয়োজনীয় নির্দেশ দিয়ে রাখব৷
কিছু মনে না করলে নির্দেশনাটা এক্ষুণি দিয়ে রাখবেন একটু?
আমাদের হাসপাতালের কৃত্রিম গর্ভধারণের যত পেশেন্ট আছে সবার বিস্তারিত তথ্য জমা করো এক্ষুণি!
ধন্যবাদ ডাক্তার,
আরো কোন তথ্যের প্রয়োজন হলে আমি আপনাকে কল দিব৷
অবশ্যই!
হঠাৎ ব্রেক করল, কারণ কী?
বালু সেলুন!
শেভ করবেন না চুল কাটাবেন, স্যার?
'দিনারাকান' পত্রিকার গতকালকের কপিটা নিয়ে আসো৷
জ্বী৷
এই যে স্যার৷
হ্যালো,
তুলাসি বলছি, তোমাকে আসতে হবে, সমস্যা দেখা দিয়েছে৷
স্যার,
ভারাম হাসপাতালে যে সকল পেশেন্ট কৃত্রিম গর্ভধারণের চিকিৎসা নিয়েছে তাদের ব্যাপারে তদন্ত করেছি৷
তাদের মধ্যে...
বিদ্যা, আপনার ভাবী আভিনয়া, জেসিকাসহ মোট ছয়জন গর্ভবতী হওয়ার পর মারা গিয়েছে৷
ছয়জনের মৃত্যুই অস্বাভাবিক৷
তাদের পরিবারও কিচ্ছু বুঝতে পারছে না৷
কোথায় বা কীসে মূলত সমস্যাটা সেটা ধরা যাচ্ছে না৷
হাসপাতালে কোন সমস্যা নাকি মৃত্যুগুলো অস্বাভাবিক হওয়াটা কাকতালীয়?
কিংবা এমনও হতে....
কী হয়েছে স্যার?
আমি খুবই দুঃখিত, ভেট্রি৷
ভাবীর ব্যাপারে যা বলেছিলাম...
...সেটা পুরাই ভুল ছিল৷
জেসিকার কেসটা যখন হাতে নিলাম, ভাবী মজা করে বলছিল...
এটা আর কী এমন কেস, আমিই তো এটা সমাধান করে ফেলতে পারি৷"
এখন সেও এই কেসের অংশ৷
তাহলে ওনার মৃত্যুসহ চারওটা কেস একই সূত্রে গাঁথা?
'23'
এ সংখ্যাটার মধ্যে সব প্রশ্নের উত্তর রয়েছে৷
কেবল এই হাসপাতালে ৪৩৬ জন কৃত্রিম গর্ভধারণের চিকিৎসা গ্রহণ করেছে৷
তাদের মধ্যে ছয় জন মারা গিয়েছে৷
এই ছয় জন ছাড়া...
বাকীদের প্রায় অর্ধ সংখ্যকের ফাইল '23' প্রতীকে চিহ্নিত করা৷
তাছাড়া,
ভাবী আমাদের কাউকে না জানিয়ে ওনার পরিবার থেকে পঞ্চাশ লাখ টাকা চেয়েছেন৷
ভাইয়া বা হাসপাতাল কর্তৃপক্ষ কেউই পঞ্চাশ লাখ টাকা চায়নি৷
কিন্তু অন্য কেউ চেয়েছে৷
ম্যাম, বিল...
তুমি রাতে কখনো ফোন ধরো না!
কেন? স্ত্রীর ভয়ে থাকো বুঝি?
আগামিকাল কফিশপে দেখা হবে৷
মা'কে বলো না যে আমরা আন্টির সাথে বসে আইসক্রিম খেয়েছি, ঠিকাছে?
ওহ, তাই?
তুমি যদি চাও আমি চুপ থাকি তাহলে আরেকটা আইসক্রিম খাওয়াতে হবে৷
অবশ্যই!
বেশি ব্যস্ততা না থাকলে আমাকে একটু স্কুলে নামিয়ে দাও!
দেরি হয়ে গেছে অনেক!
- থেনড্রাল? - হুম?
সবগুলো ঘটনা মিলিয়ে দেখলে কেমন যেন ব্লাকমেইল কেস মনে হচ্ছে না?
থেনড্রাল?
থেনড্রাল!
মাই গড!
শিট!
পুলিশের পরিবারে জড়াতে মানা করেছিলাম, কিন্তু তুমি আমার কথা শোননি৷
দেখো...ব্যবসা থেকে নিজের আবেগকে দূরে রাখা উচিৎ তোমার!
ঐ পরিবারে জড়ানোটা ভুল ছিল না৷
ওদের দোন জনকে মারতে না পারাটা ছিল ভুল৷
তুমি সবকিছু নষ্ট করেছ!
এ ঝামেলা শেষ হওয়া পর্যন্ত পরবর্তী টার্গেটটা স্থগিত রাখলেই ভাল হবে৷
না৷
আমরা ইতিমধ্যে শুরু করে ফেলেছি, তাছাড়া এটা বড় টার্গেট৷
দু'দিনের মধ্যে টাকা সংগ্রহ করে ফেলতে হবে!
অন্য কাউকে দিবে না, এ কাজ তুমি নিজে করবে!
বুঝে এসেছে?
ঠিক আছে৷
অপরিচিত কাউকে ঢুকতে দিবে না, কর্মচারীদের আইডি চেক করে ঢুকাবে!
এমনকি ডাক্তারদেরও৷
- ধন্যবাদ৷ - জ্বী স্যার!
এ বিপদে তোমাকে আমিই ফেলেছি৷
আমি সত্যিই দুঃখিত৷
ওরা কি আমাকে মারতে এসেছিল না তোমাকে?
যেটাই হোক, তোমার নিরাপত্তা এখন প্রধান বিষয়৷
হাসপাতাল থেকে ছাড় পাওয়া পর্যন্ত তোমার পাহারায় দু'জন পুলিশ সার্বক্ষণিক থাকবে৷
চিন্তা করো না৷
কিন্তু তুমি নিজেই আবার হাসপাতালে ভর্তি হবে না তো?
ভয় পেয়ো না,
আমি নিজেকে সামলাতে জানি৷
তুমি এখানে থাকবে না?
আমি সবসময়ই তোমার সাথে আছি৷
সিনেমার ডায়লগ মনে হচ্ছে?
আসলে অফিসে কিছু কাজ আছে৷
কাজ সেরেই চলে আসব৷
তুমি বিশ্রাম করো৷
ভেট্রি...
ওদের ব্লাকমেইল করার কারণ কী হতে পারে?
আমি পেটের বাচ্চার কসম খেয়ে বলছি...
আমি কোন অন্যায় করিনি!
আমাকে বিশ্বাস করো, প্লিজ!
ভুল বোঝো না আমাকে!
কাপড় কোথায়?
স্যরি, এখন আর না...
অনেক হয়েছে, এবার সরুন...
ম্যাডাম, দু'জন পুলিশ আপনার সাথে কথা বলতে চান৷
ঠিক আছে, ওনাদের পাঠিয়ে দাও৷
ম্যাডাম?
আপনার সিরিয়াল দেখে সবাই শিখছে কীভাবে বাচ্চা বড় করতে হয়৷
আমার পালা শেষ, এবার আপনার, স্যার!
হাসপাতালে জানতে পারলাম আপনার স্ত্রী মা হতে চলেছেন৷
অভিনন্দন!
ধন্যবাদ৷
আপনারা মিডিয়ায় কাজ করছেন...
প্রতিযোগিতা, হিংসা বা সম্পদের কারণে শত্রু থাকাটা স্বাভাবিক!
সম্প্রতি কোন ধরণের হুমকি বা এ রকম কিছু কি পেয়েছেন?
না তো স্যার!
বলতে চাচ্ছি...
ইদানীং কেউ কি ভয় দেখিয়ে টাকা-পয়সা চেয়ে ফোন দিয়েছে?
না স্যার, এমন কোন ফোনকল আমরা পাইনি৷
এমন কিছু ঘটে থাকলে আপনারা ভয় পাবেন না!
আমার উপর আস্থা রাখতে পারেন৷
আমি এবং আমার ডিপার্টমেন্ট আপনাদের সব ধরণের সাপোর্ট দিতে প্রস্তুত৷
- স্যার... - না, না!
বললামই তো যে আমরা এমন কোন কল পাইনি, আপনি বারবার একই কথা বলছেন!
- যদি এমন কিছু ঘটে তাহলে আমাকে জানাবেন... - স্যার!
আমরা বললামই তো এমন কিছুই হয়নি!
আমরা একটু একা থাকতে চাচ্ছিলাম৷
ঠিক আছে তাহলে, কফির জন্য ধন্যবাদ৷
মনে হচ্ছে আমার নাম্বার আপনাদের প্রয়োজন নেই, আসি...
আপনারা এত সুন্দর ডায়লগ কীভাবে দেন, কেউ লিখে দেয় না নিজেরাই বানান...
স্যার, সে হয়তো কিছুটা অস্থির, কিন্তু একজন চমৎকার ভদ্রমহিলা!
তবে লোকটাকে একদম পছন্দ হয়নি!
ওদের উচিৎ একে বাদ দিয়ে দেয়া,
এবং এর জায়গায় অন্য কাউকে নেয়া৷
রাভি!
টিভি সিরিয়ালের মাধান এবং কৌশলিয়া,
এক্ষুণি ওদের মোবাইল এবং টেলিফোন উভয়টা টেপ করো!
বিশেষ করে ইনকামিং কলগুলো রেকর্ড করো!
আমি আসছি৷
স্যার!
যে নাম্বারগুলো টেপ করতে বলেছেন, সেগুলোর একটাতে পাঁচ মিনিট আগে কল এসেছিল৷
আমি রেকর্ড করে সেভ করে রেখেছি৷
- ফোন ধরলে না কেন? - শ্যুটিংয়ে ছিলাম৷
টাকার ব্যবস্থা করেছ?
স্যরি, আজকের শ্যুটিং বাদ দিতে পারিনি৷
আগামিকাল ব্যাংক থেকে টাকা তুলব৷
- কোন ব্যাংক? - সেলিগ্রামামের এসবিআই ব্যাংক৷
- তুমি ভেলাশ্রাভাককামে থাক না? - হ্যাঁ৷
টাকা উঠানোর পর তোমাকে কল দেয়া হবে৷
ঠিক আছে৷
সবকিছু যদি ঠিকঠাক মতো না করো এবং পুলিশের কাছে যাওয়ার কথা ভাবো,
তাহলে তোমার সামাজিক স্ট্যাটাস আর পাবলিক ইমেজের কী হবে তা তো জানই৷
না, অমন কিছু করব না৷
আমরা কালকেই টাকা দিয়ে দিব৷
স্যার, কলটা পঁয়তাল্লিশ সেকেন্ড স্থায়ী হয়েছিল৷
তাই স্থান চিহ্নিত করা সম্ভব হয়নি৷
স্যার, টাকা মনে হচ্ছে বাসায় কিংবা ব্যাংকে হাতবদল করা হবে৷
ব্যাংক কিংবা তাদের বাসা, অপরাধীদের জন্য কোনটাই নিরাপদ জায়গা না৷
পথেই কোন জায়গায় টাকা হাতবদলের পরিকল্পনা করেছে ওরা৷
আবার কল দিলেই কেবল সে ব্যাপারে জানতে পারব৷
ওরা কী কারণে ব্লাকমেইলের শিকার হচ্ছে বুঝতে পারছি না!
শেষ দশ সেকেন্ড, পিছনে নিয়ে আবার চালাও তো!
সবকিছু যদি ঠিকঠাক মতো না করো এবং পুলিশের কাছে যাওয়ার কথা ভাবো,
তাহলে তোমার সামাজিক স্ট্যাটাস আর পাবলিক ইমেজের কী হবে তা তো জানই৷
স্যার, ওরা বেরিয়েছে৷
হ্যাঁ স্যার, ওরা গাড়িতে উঠেছে৷
গাইজ, অনুসরণে লেগে পড়ো!
ডিপার্টমেন্ট টাকা দিয়ে দিবে৷
থামো, থামো!
এখনো স্যালুট করছে, চলো!
স্যার, মাধান এর ফোনে কল এসেছে৷
আমার ফোনে কানেক্ট করো!
স্যার, দিনদুগুল থেকে কুমার বলছি৷
আমি আপনার অনেক বড় ভক্ত৷
গত সপ্তাহের এপিসোডে আপনি তো আমাকে কাঁদিয়ে ছেড়েছেন!
আর ম্যাডাম তো আরো স্পেশাল৷
স্যার, সামনের এপিসোডেও কি আপনারা ঝগড়া করবেন কী না বলুন না!
নয়তো আমার স্ত্রী বিশ্বাস করবে না যে আমি আপনার সাথে কথা বলেছি৷
আমার স্ত্রীও আপনাদের অনেক বড় ভক্ত, স্যার৷
স্যার, আপনার স্ত্রী কি আগামি সপ্তাহে ঘর ছেড়ে চলে যাবে?
- কী বলছেন... - সিরিয়ালের কথা বলছি...
- আমরা ডিভোর্স নিয়ে নিব! - ম্যাডাম, ম্যাডাম, ম্যাডাম!
স্টুপিড!
থিরুপাথি, ইউ টার্ন নিয়ে অপেক্ষা করুন!
গাড়ি থামাবে না, সোজা যেতে থাকো!
যাও, যাও!
দ্রুত!
ও গাড়িতে, এদিকে আসো!
থিরুপাথি, এম্বুলেন্সকে পিছে পিছে আসতে বলুন!
বের হোন!
বাহিরে আসুন, বাহিরে!
চারপাশে খুঁজে দেখো!
আমাদেরকে থামিয়েছেন কেন?
গাড়িতে চড়েছিল যে লোকটা সে কোথায়?
কোথায় সে?
ধুর!
সব কষ্ট বৃথা গেল!
আপনি ঠিক আছেন, স্যার?
বন্ধ করো!
বন্ধ করো!
বন্ধ করো এটা...
ডিপার্টমেন্ট যখন কোন অপারেশনে যায়, সেখানে সবসময় দুটো প্লান থাকে৷
প্লান A...
এবং প্লান B...
তুই প্লান B তে ধরা খেয়েছিস৷
এখন বল..
ওদেরকে ব্লাকমেইল করছিলি কেন তোরা?
ফাদার... জেসিকা... বিদ্যা...
আমার ভাবী আভিনয়া...
এবং আরো অসংখ্য মানুষ৷
সবকিছু বলতে হবে তোকে৷
বন্ধ করো এটা!
বন্ধ করো!
রেকর্ড!
আমি ভীত নই৷
আমাদের অপরাধ প্রকাশ পেলে,
অন্যরাও বাঁচতে পারবে না!
এখন শুরু কর...
ঐ হাসপাতালে মূলত কী ঘটছে?
ডাক্তাররা কী করছে সেখানে?
ডাক্তার!!
ভেবেছ এতে কেবল ডাক্তাররা অপরাধী?
জেসিকা,
স্কাই টিভির এমডি এর স্ত্রী৷
ও একজন ক্রিকেট-ফ্যান কেবল এটাই জানো৷
কিন্তু এটা জানো না যে ও অলরাউন্ডার ভিনোদ মেহরা'র জন্য পাগল!
সাধারণ ভক্তরা অটোগ্রাফ নেয়, ছবি তুলে....
কিন্তু ও কী করেছে জানো?
ও সবসময় চাইত, ওর একটা ছেলে হবে যে ভিনোদ মেহরা'র মত খেলতে পারবে৷
এ কারণে লক্ষ লক্ষ টাকা খরচ করে সে ভারাম হাসপাতাল থেকে ভিনোদের শুক্রাণু সংগ্রহ করে৷
তাও আবার নিজ স্বামীকে না জানিয়ে৷
মন্ত্রী দুরাই সিংগাম,
আপন ছেলেকে নিয়ে তার কোন চিন্তা ছিল না৷
কিন্তু নিজের রাজনৈতিক উত্তরসূরী নিয়ে সে খুব চিন্তায় ছিল৷
এ কারণে ছেলে অক্ষম বলে,
নিজের পুত্রবধুর মাঝে,
সে নিজের শুক্রাণু প্রবেশ করায়৷
অপরাধটা এখানে কার?
টাকা দিয়ে অন্যরা অপরাধ করলে তাদের অপরাধ ঢেকে রাখতে যাব কেন আমরা?
আমরা অপরাধ ঢেকে রাখব, তবে টাকার বিনিময়ে৷
ফাদার এসব জেনে যাওয়ায় আর জেসিকা এসব প্রকাশ করে দেয়ায় তাদের হত্যা করে ফেলি৷
মন্ত্রী আমাদের কথামতো টাকা দেয়নি, তাই সত্যটা ওর পুত্রবধুকে জানিয়ে দেই৷
সে কী করল? আত্মহত্যা করে বসল৷
ডাক্তার, জেসিকা, মন্ত্রী এদের অন্যায় বুঝতে পারলাম৷
কিন্তু আমার ভাবী কী দোষ করেছিল?
আসলেই জানতে চাচ্ছো, এ্যাঁ?
- হ্যালো? - আভিনয়া?
হ্যাঁ, কে বলছেন?
সেটা জানা জরুরি না৷
তোমার জন্য অন্য কিছু জানা জরুরি৷
হ্যালো, পরিচয় না বললে আপনার কাছ থেকে কিছুই শুনছি না আমি!
হ্যালো, আপনার সমস্যা কী?
রাগ হয়ে কোন লাভ নেই৷
খুব শীঘ্রই তুমি মা হতে চলেছ৷
এত রাগ হলে চলবে?
আর এতটুকুতেই রাগ হয়ে যাচ্ছ, তাহলে পরেরটুকু শুনলে কী হবে?
তোমার পেটের বাচ্চা তোমার হতে পারে...
কিন্তু তোমার স্বামী এ বাচ্চার পিতা না৷
ডা. তুলাসি, ভারাম হাসপাতাল৷
কৃত্রিম গর্ভব্যবস্থা৷
ভেবেছ খালি তুমি আর তোমার স্বামী এ ব্যাপারে জানো?
না!
এটা হতে পারে না!
যে ডাক্তার তোমাকে মিথ্যা বলে আসছে তাকে গিয়ে জিগেস করলেই সব জানতে পারবে৷
তোমার গর্ভের সন্তানের পিতা তোমার স্বামী না!
বাচ্চাটা যখন পৃথিবীতে আসবে, দেখতে হয়তো তোমার মতো হবে..
কিন্তু তোমার স্বামীর মতো হবে না৷
"বাবার মতো চোখ," "বাবার মতো নাক,"
এসব বলার সুযোগ কখনো তুমি পাবে না!
ডাক্তার?
কী হয়েছে?
বলুন!
আমার গর্ভের সন্তান... এটা তো আমাদেরই, তাই না?
এতে সন্দেহের কী আছে? অবশ্যই তোমার সন্তান!
আমি সেটা বুঝাতে চাইনি৷
এই বাচ্চা আমার এবং আমার স্বামীর কী না?
বলুন!
জবাব দিন, ডাক্তার!
প্লিজ!
এই বাচ্চার পিতা কি আমার স্বামী?
না৷
আপনার স্বামীর শুক্রাণু আপনার ভ্রূণের উপযুক্ত ছিল না৷
আমরা স্পার্ম ব্যাংক থেকে অন্য একজনের শুক্রাণু ব্যবহার করেছি৷
মূলত আপনার স্বামীর শুক্রাণু বাচ্চা উৎপাদনে সক্ষমই ছিল না৷
তাহলে আমাদেরকে মিথ্যা বললেন কেন?
আমি যদি আপনাকে সত্যটা বলতাম...
অন্য কারো শুক্রাণু ব্যবহার করে গর্ভধারণ করতে কি আপনি রাজি হতেন?
পরিবার না জানলেও আপনার স্বামী কি রাজি হতেন?
কিন্তু এভাবে করারই বা কী দরকার ছিল?
বর্তমান সময়ে একজন মহিলার মা হতে দেরি হলে...
তার সাথে এবং তার স্বামীর সাথে সমাজের লোকেরা কেমন আচরণ করে...
ডাক্তার হিসেবে আমি খুব ভালমতোই জানি৷
আমি চাইনি আপনারও সে পরিস্থিতি হোক৷
আমি একজন মায়ের ভূমিকা পালন করেছি৷
এখন আপনিই বলুন,
আমি কি কোন অন্যায় করেছি?
যদি মনে করেন অন্যায় করেছি তাহলে আমার বিরুদ্ধে পদক্ষেপ নিতে পারেন৷
দেখুন...
নিজের জন্য না হলেও,
সমাজে আপনার স্বামীর অবস্থান ঠিক রাখতে...এটা প্রয়োজন ছিল৷
এখন আবার কী চান আপনি?
তোমার স্বামী এবং তার পরিবার মনে করে বাচ্চাটা তাদের বংশের৷
সত্যটা গোপন রাখতে একটা চুক্তি হওয়া দরকার না!
চুক্তির মূল্য পঞ্চাশ লাখ টাকা, এক পয়সাও কম করা যাবে না৷
আমার কাছে এত টাকা নেই...
তোমার বা তোমার স্বামীর কাছে হয়তো এত টাকা নেই৷
তোমার পিতা যদিও সাধারণ লোক, কিন্তু পারিবারিক সম্পত্তির কেসটা জিতে তার এখন রমরমা অবস্থা৷
সে এখন চার কোটি টাকার মালিক, আমরা তো কেবল সেটার ১২.৫ ভাগ চেয়েছি৷
মেয়ে চাইলে কি সে টাকা না দিয়ে থাকতে পারবে?
যদি স্বামী বা পুলিশকে এসব জানানোর চিন্তা করে থাকো....
গত মাসে পত্রিকা বা নিউজ চ্যানেলে হয়তো দেখেছ...
জেসিকা এবং ফাদারের মতো পরিণতি হবে তোমার আর তোমার স্বামীর৷
তোমার সাজানো সুখের পৃথিবী মুহূর্তে শেষ হয়ে যাবে৷
আমার ইদানীং একেবারেই কাজে মন বসে না৷
ছেলে-মেয়েদের সুন্দর সুন্দর নাম খুঁজতে খুঁজতেই দিন কেটে যায়৷
তুমি কী হলে খুশি হবে?
ছেলে না মেয়ে?
এত বছর পর যে আমাদের একটা সন্তান হচ্ছে এতেই আমি খুশি৷
আচ্ছা..
ছেলে বা মেয়ে যেটাই হোক, পুরো নাম বাদ দাও!
নামের প্রথম অক্ষরটা ধারণা করো দেখি!
A?
না!
A.S.
আরভিন্দের সাথে মিলিয়ে A,
শ্রী আভিনয়ার সাথে মিলিয়ে S৷
বাচ্চার উপর অধিকার কেবল বাবার থাকে না৷
আমাকে বাবা হওয়ার সুখ দিতে তুমি কতটা কষ্ট সহ্য করছ!
তোমাকে এতটুকু সম্মান তো দিতে পারি৷
আরে আভি, হঠাৎ কী মনে করে?
স্ক্যানের তো এখনো এক সপ্তাহ বাকি৷
আশা করি শরীরের অবস্থা পুরোপুরি ভাল৷
আপনি কি আমার জন্য একটা কাজ করতে পারবেন?
অবশ্যই, আমি আপনার সেবায় সদা প্রস্তুত৷
আমি এব্রোশোন করাতে চাই ডাক্তার৷
কী বলছ তুমি?
হ্যাঁ, ডাক্তার৷
আমি বাচ্চাটাকে রাখতে চাই না৷
- এটা তো আপনারই বাচ্চা! - না৷
এটা আমার বাচ্চা না৷
আমার যদি কোন বাচ্চা হয়ই...
সেটা আমার স্বামীর থেকে হতে হবে৷
একজন মহিলার জন্য সবচে গুরুত্বপূর্ণ হল মা হওয়া৷
বিষয়টা জানেন আশা করি৷
খালি মা হওয়া-ই কি সব?
স্বামীর জন্য আমাকে বিশুদ্ধ হতে হবে৷
আমি ওর প্রতি বিশ্বস্ত থাকতে চাই৷
সেটাই আমার জন্য সব৷
আপনার একজন উত্তরাধিকার লাগবে৷
না হলে তোমার বংশ টিকবে না!
ব্যাস, ডাক্তার!
সব পেশেন্টকে কি একই কথা বলেন আপনি?
বাচ্চার মা হওয়া-ই সব কিছু নয়৷
আমার বাচ্চা না হলে ও আমার সাথে কেমন ব্যবহার করবে জানি না৷
কিন্তু ওর প্রতি আমার ভালবাসা কমবে না৷
এব্রোশোন করাতে হলে আপনার স্বামীর অনুমতি লাগবে৷
আমার সাথে এসব করার সময় কার অনুমতি নিয়েছিলেন?
তাকে কী বলতে হবে সেটা আমি বুঝব৷
আমি এ বাচ্চা চাই না৷
আপনি নিজেকে বাঁচাতে চাইলে...
আমার কথামতো কাজ করতে হবে৷
এতটা বছর ধরে গর্ভধারণের এ ব্যথার জন্য অধীর আগ্রহে ছিলাম৷
কিন্তু এখন এ ব্যথা অসহ্য লাগছে৷
কার কাছে এসেছেন?
আরভিন্দ কি বাসায় আছে?
ও তো মাত্র ফ্যাক্টরিতে চলে গেল, আপনি...?
আমি গুনা, ওর সাথে একই কলেজ পড়েছি৷
ও আজকে বাসায় আসতে বলেছিল৷
আমাকে তো কিছু বলে গেল না৷
- একটু অপেক্ষা করুন৷ - ঠিক আছে৷
তোমরা ভিতরে আসছ কেন?
হেল্প!
চিৎকার করবে না!
আমার কন্ঠস্বর চিনলে না তুমি?
তুমি বলেছিলে চুক্তি শীঘ্রই শেষ করবে৷
সেজন্য...
আমরা এখানে চলে এলাম৷
তুমি বাচ্চাটাকে চাও না বলার সাথে সাথেই আমরা জেনে গেছি৷
আমাদের কথাও যে কোন সময় বলে ফেলতে পারতে!
তুমি ভুল করে ফেলেছ৷
আসলেই ভুল করে ফেলেছি...
আমার স্বামী বা ভেট্রিকে বিষয়টা জানাইনি৷
আমরাও এমনটাই ধারণা করেছিলাম৷
তাছাড়া মজা তো সেখানেই!
ও আবেগী মানুষ বলে তুমি আরেকটা সুযোগ পাচ্ছ!
- জন? - বলো!
ও মানবে বলে মনে হয় না৷
তুমি ওর সাথে কথা বলো!
- স্পীকার অন করো! - করছি৷
আভি, শোনো...
চুক্তি বাদ দিয়ে দিলাম, তোমাকে কোন টাকা দিতে হবে না৷
কিন্তু বাচ্চাটার কোন ক্ষতি হতে পারবে না৷
তোমার স্বামী ওর পিতা না হতে পারে,
কিন্তু তুমি তো ওর মা!
ভেবে দেখো- তুমি, তোমার সন্তান, তোমার স্বামী সবাইকে নিয়ে সুখে থাকতে পারবে৷
গৌরব, ওকে সময় দাও৷
মেনে না নিলে, শেষ করে দিবে৷
তো বলো এখন...
বাচ্চাটাকে তুমি রাখবে না রাখবে না?
স্যার?
ওকে মেরে ফেললেন?
ও সবকিছু জানতো৷
আমাদের হাতে থাকা একমাত্র প্রমান আপনি শেষ করে দিলেন!
কীসের প্রমান??
প্রমান যোগাড় করতে গিয়ে আমরা সবাইকে মেরে ফেলছি!
ও আমাদের কোন কাজে আসবে না, মরতে দাও ওকে!
স্যরি স্যার!
কী দেখছো...স্যার যখন জিজ্ঞাসাবাদ করছিলেন তখন আমাদের দায়িত্ব কী ছিল?
বন্দুকগুলো পাহারা দিয়ে রাখা, কিন্তু আমরা অসতর্ক ছিলাম৷
হঠাৎ বন্দুক কেড়ে নিয়ে ও আমাদের গুলি করতে শুরু করে৷
ভাগ্য ভাল যে স্যার ওকে গুলি করে আমাদের বাঁচিয়েছেন৷
ধন্যবাদ স্যার৷
স্যার, পুরোটা তো রেকর্ড হয়ে গেছে৷
- পুরোটা, না? - জ্বী স্যার৷
গাধা কোথাকার! এখন বলছ এ কথা!
ডিপার্টমেন্ট থেকে নিয়েই চলে এলে!
ব্যাটারিতে চার্জ নাও থাকতে পারে, অন্য সমস্যাও থাকতে পারে, চেক করে দেখে আনবে না!
চার্জ দিয়ে আনলেই হতো, চেক না করেই নিয়ে এসেছ...
এখন...শুধু অর্ধেক রেকর্ড হয়েছে!
ওর কথা বলা পর্যন্ত খালি, ও যে গুলি করল সেটা রেকর্ড হলো না!
স্যরি স্যার!
সব অকম্মার ধাড়ি!
আমার কাজ শেষ!
স্যার, ভারাম হাসপাতালে যত পেশেন্ট কৃত্রিম গর্ভধারণ গ্রহণ করেছে তাদের সব তথ্য এখানে আছে৷
- হাসপাতালের মূল ডাটাবেজ থেকে? - জ্বী স্যার!
স্যার, শুধু এ হাসপাতালই না....
শহরের সব মাতৃসদন হাসপাতালের ডাটাবেজ হ্যাক করেছে ওরা৷
- বলুন ডাক্তার? - মি. ভেট্রি...
আপনার স্যাম্পলগুলোর ডিএনএ টেস্ট করে দেখেছি আমরা৷
নিহত মহিলাদের গর্ভাশয়ে থাকা শুক্রাণুগুলো তাদের স্বামীর না৷
- জানি ডাক্তার৷ - আরেকটা বিস্ময়কর ব্যাপার হল...
তিনও গর্ভাশয়ের শুক্রাণু একই পুরুষের৷
আইনসিদ্ধ হয়েও এটা তাদের আত্মহত্যার কারণ হতে পারে৷
কোন ডাক্তার তাদের চিকিৎসা করেছে বা কোথা থেকে শুক্রাণু দেয়া হয়েছে এসব তদন্ত করলে,
আমরা হয়তো বিস্তারিত জানতে পারব৷
নাম কী বললেন যেন?
জন ম্যাথিউ, স্যার!
আপনার স্ত্রীর কথা বলছি...
সুজিথা স্যার, ও একজন ডাক্তার৷
স্ত্রী ডাক্তার, আপনি মেডিকেল প্রতিনিধি..
প্রেমের বিবাহ মনে হচ্ছে?
জ্বী স্যার৷
- কয়দিন ধরে উনি ঘরে ফিরছেন না? - গত দু'দিন যাবৎ৷
আপনি একটি এফআইআর করে ফেলুন, বাকিটা আমি দেখছি৷
স্যার, প্লিজ স্যার, যেভাবেই হোক ওকে খুঁজে বের করুন!
হ্যাঁ, 'কৃত্রিম গর্ভধারণ'!
ডাক্তার হিসেবে আমি বহুজনকে এ চিকিৎসা দিয়েছি, জানিয়ে বা না জানিয়ে!
নিজের ক্ষেত্রে বুঝি সেটা করতে পারি না!
সুজি...আমি নিজের বাচ্চা চাই৷
আমি চাই ও আমাকে 'বাবা' বলে ডাকবে৷
কিন্তু 'তোমার' মতো দেখতে সন্তান আমি চাইব কেন?
আমি যেরকম চাই আমার সন্তান তেমনই হবে৷
বুঝাতে পেরেছি?
আমার পেটে নিজের সন্তান দিয়ে তুমি কি আমাকে তোমার চাকর বানাতে চাও?
বাচ্চার জন্য আমার কোন স্বামীরও দরকার নেই, পরপুরুষের সাথে শোয়ারও প্রয়োজন নেই৷
আমার খালি যে কোন পুরুষের '২৩' টা ক্রোমোসম হলেই চলবে৷
না, সুজি...
এমনটা করো না!
- আমি আমাদের নিজস্ব সন্তান চাই৷ - সেটা হচ্ছে না!
তাহলে আমাকে ডিভোর্স দিয়ে দাও৷
রেকর্ড অনুযায়ী তোমাকে পিতা বলা হবে৷
আমি পিতা হব নাকি হব না সেটা সিদ্ধান্ত নেয়ার তুই কে?
বেশ্যা মাগী কোথাকার!
বলিনি তোমাকে? টাকা কীভাবে আসে এবার দেখো!
আমি একজন বাবা হতে চাই৷
পুরো কেস এখন পরিস্কার৷
ভারাম হাসপাতালে সব ধরণের ঔষধ যে সরবরাহ করে তার পরিচয় জানতে চাই আমি৷
জ্বী স্যার৷
- রাভি! - স্যার?
২০০৯, ক্রিসমাসের আগের দিন, ২৪শে ডিসেম্বর...
আর-৬ স্টেশনে স্ত্রী হারানোর অভিযোগ নিয়ে জন ম্যাথিউ নামে একজন এসেছিল৷
লোকটার পুরো ঠিকানা, বর্তমান পেশা- সব বিস্তারিত চাই৷
- জ্বী স্যার৷ - স্যার, আপনি কোথায় যাবেন?
ভারাম হাসাপাতাল, ডাক্তার তুলাসি৷
আমেরিকায় বাচ্চা নিতে অক্ষম এমন অনেক স্বামী-স্ত্রীর চিকিৎসা করেছি...
অন্যদের শুক্রাণু ব্যবহার করে সফলতার সাথে তাদের বাচ্চা এনে দিয়েছি৷
কিন্তু এখানে ইন্ডিয়াতে সবাই খালি 'আমার' 'আমার' নিয়ে আছে৷
আদিকালের সংস্কৃতি নিয়ে পড়ে থাকা গেয়ো ভুত!
এরা অন্যের শুক্রাণু ব্যবহার করতে চায় না!
একশতে দশ জন মাত্র রাজি হয়৷
মাত্র দশ জনকে রাজি করালে ব্যবসা হবে না৷
একশতে একশ জনকে রাজি করাতে পারলে গিয়ে বলা যাবে ব্যবসা!
একজন মহিলার গর্ভাশয়ে নারী-পুরুষের তেইশটা ক্রোমোসম যখন একীভূত হয়, তখন সৃষ্টি হয় ভ্রূণের৷
আর কোন পুরুষের ক্রোমোসম ব্যবহৃত হবে,
সেটার সিদ্ধান্ত নিচ্ছি আমরা৷
আমরাই এখন সৃষ্টিকর্তা!
আর এটাই হল 'অপারেশন টুয়েন্টি থ্রী'৷
...আমাদের ব্যবসা৷
বহু বছর ধরে আমরা এ ব্যবসা করে আসছি৷
আমাদের কোন সমস্যায় পড়তে হয়নি৷
কিন্তু এখন তোমার কারণে তিন তিনজন ক্লায়েন্ট মারা গিয়েছে৷
প্রমান আছে আপনার কাছে?
ওকে ভিতরে পাঠাও৷
জ্বী স্যার৷
ও স্পার্ম ব্যাংকের সহকারী ম্যানেজার, নিশ্চয়ই চিনতে পেরেছ৷
পেশেন্টদের না জানিয়ে আমরা তেইশ নম্বর স্টোরেজে শুক্রাণু জমা করি৷
তুমি চুরি করে আমাদের সংগৃহিত শুক্রাণুর জায়গায় নিজের শুক্রাণু রেখে দিয়েছ৷
এবং পেশেন্টদের ব্লাকমেইল করে যাচ্ছ৷
ওর মাধ্যমে তুমি ক্লায়েন্টদের তথ্য চুরি করেছ৷
আমাদের অজান্তেই ব্লাকমেইলের কাজ চালিয়ে যাচ্ছিলে তুমি৷
আমরা যেটা করছি সেটা স্বচ্ছ সাদা অপরাধ৷
তোমার কারণে আমরা ধরা খেতে চাই না৷
আমি যদি মেনে না নেই?
চিকিৎসা ক্ষেত্রে হাজারটা পদ্ধতি শিখেছি আমরা৷
নিজেদের পথ বের করে নিতে আমরা ভালোই জানি৷
তোমাদেরটা যদি সাদা অপরাধ হয়,
আমি যেটা করতে যাচ্ছি....
সেটা হবে লাল অপরাধ!
স্ক্যান রিপোর্ট আনতে ভুলবেন না!
ডাক্তার তুলাসির সাথে দেখা করতে চাই৷
ম্যাডাম ডীনের সাথে মিটিংয়ে আছেন, কিছুক্ষণ অপেক্ষা করতে হবে, স্যার৷
ধন্যবাদ৷
কতিপয় ডাক্তার বেআইনীভাবে কৃত্রিম গর্ভধারণের চিকিৎসা দিচ্ছে, তারা এটার প্রতীকী নাম দিয়েছে...
'টুয়েন্টি থ্রি'৷
আর নিজেদের স্বার্থে এটাকে কাজে লাগাচ্ছে একদল ব্লাকমেইলার৷
টাকা, টাকা, টাকা! সবকিছুর মূলে হল টাকা!
বুঝলাম, তো আপনার ভাবী আভিনয়া কি এই ব্লাকমেইলের কারণে মারা গিয়েছে?
না!
আশেপাশের মানুষগুলো থেকে বাচ্চার কথা শুনতে শুনতে মানসিক চাপে থাকা সাধারণ মধ্যবিত্ত পরিবারের একজন পুত্রবধু ছিল সে...
যেটার অসদ্ব্যবহার করেছিল আপনাদের মতো কিছু ডাক্তার, যার ফলাফল ভাবীর...স্যরি মিসেস আভিনয়ার মৃত্যু!
স্যরি স্যার!
মেডিকেল সায়েন্সের উন্নতিকে আপনি দোষারোপ করতে পারেন না!
মেডিকেল সায়েন্স কী?
বাচ্চার জন্মের আগে ছেলে না মেয়ে জানাটা মেডিকেল সায়েন্স হতে পারে...
কিন্তু মেয়ে হলে এব্রোশোন করাটাও বুঝি মেডিকেল সায়েন্স?
না, এটা হল মেডিকেল ক্রাইম!
বাচ্চার কারণে মায়ের প্রাণনাশের আশংকায় এব্রোশোন করাটা মেডিকেল সায়েন্স...
কিন্তু ভালবাসার সম্পর্কে অযাচিতভাবে পেটে বাচ্চা চলে আসলে, সমাজে মুখরক্ষার জন্য এব্রোশোন করাটাও....?
সেটা হল মেডিকেল ক্রাইম!
একইভাবে...
আইনগতভাবে টেস্ট টিউব বা ইঞ্জেকশনের মাধ্যমে গর্ভধারণ মেডিকেল সায়েন্স হতে পারে,
কিন্তু....এটা মেডিকেল ক্রাইম!
ডাক্তারদের আমরা ভগবান মনে করি৷
কারণ তারা জীবন রক্ষা করে৷
জীবন কেড়ে নেয় বলে নয়!
যে সকল ডাক্তাররা বেআইনীভাবে এ কাজ করে যাচ্ছে, তাদের ধরতে হলে...
ব্লাকমেইলারদের পুরো দলটাকে খুঁজে বের করতে হবে আমাদের৷
ওদের খুঁজে পাবার জন্য এ প্রমানগুলো কাজে লাগবে৷
এরা চারও জন অনাথ৷
এরা কেবল একই আশ্রমে বড়ই হয়নি, এরা কাজও করে এখন একসাথে৷
এরা মেডিকেল ডিপার্টমেন্টে কাজ করে, এবং সবকিছুর জন্য এরাই দায়ী৷
এক্সকিউজ মি, স্যার৷
তো ভেট্রি, কেসটা সমাধান করে ফেলতে পেরেছ বলে খুব খুশি তাহলে৷
তুমি প্রায় কাছেই চলে এসেছিলে আমার!
ধরা খেতে না চাইলে পালাও, জন ম্যাথিউ!
আমাকে ধরার চেষ্টা করো না৷
তুমি নিজের স্ত্রীকে হারিয়েছ৷
তোমার সাথে থাকতে পারেনি সে, তাই চলে গিয়েছে৷
আমি নিজের স্ত্রীকে হারাইনি, ভেট্রি... আমি তার থেকে মুক্তি নিয়েছি৷
হেই...তুমি কোথায়?
প্রথমে তুমি ডাক্তারের খোঁজে এসেছ, আর এখন আমাকে খুঁজছ৷
কিন্তু হাসপাতালে এসে নিজের স্ত্রীর খোঁজ নিয়েছ একবারও?
মানে তোমার হবু স্ত্রী, থেনড্রাল!
হেই...কী বলতে চাচ্ছ তুমি?
আমার পেছনে এসে শুধু শুধু নিজের স্ত্রীকে হারিও না!
মানে সে আসলে ধীরে ধীরে মারা যাচ্ছে৷
ও কোথায়?
'টুয়েন্টি থ্রী'৷
থেনড্রাল!
থেনড্রাল!
থেনড্রাল?
থেনড্রাল?
থেনড্রাল!
থেনড্রাল...
হেই,হেই, ধীরেসুস্থে বন্ধু!
বটুলিনিয়াম ডক্সিলিন৷
ধীরগতির এবং ব্যথাশূন্য৷
শ্বাসপ্রশ্বাসের জায়গায় আঘাত করে অবশ করে দিবে, এবং সর্বশেষ পরিণতি মৃত্যু৷
তোমার পালস ধীরে ধীরে কমতে থাকবে...
খেলা শেষ, ভেট্রি৷
আমি কেবল মেডিকেল ট্রেনিংই নেইনি, ভেট্রি...
ফিজিক্যাল ট্রেনিংও নিয়েছি৷
সুযোগ পাওয়া মাত্রই তোমাকে খুন করে ফেলা উচিৎ ছিল!
ভারাম হাসপাতালে তোমার ভাবীকে দেখার সাথে সাথেই আমি সিদ্ধান্ত নেই...
ওর গর্ভে আমার বাচ্চা বড় হবে, ও আমার বাচ্চার মা হবে৷
আমার বন্ধুরা খালি টাকার কথা বলছিল৷
কিন্তু আমার জন্য এটা ছিল আবেগের ব্যাপার!
হ্যাঁ!
আর ও কী না এব্রোশোনের সিদ্ধান্ত নিল... ঠিক সুজির মতো!
আমার বাচ্চাকে মারার ও কে? এ্যাঁ?
এজন্যই ওকে আমি মেরে ফেলেছি!
প্রতিটি অপরাধীর নিজের কর্ম সম্পর্কে আলাদা বিবেচনাবোধ রয়েছে৷
কিন্তু তার মানে এটা নয় যে সে অপরাধী নয়৷
সবাই বলে, একজন মহিলা তখনই পরিপূর্ণ যখন সে একজন মা৷
কিন্তু এই বিশ্বে বহু নিঃসন্তান মহিলা রয়েছে৷
এদিক দিয়ে ভাবলে মেডিকেল সায়েন্সের অপব্যবহার কিন্তু তাদের যন্ত্রণা থেকে মুক্তি দিচ্ছিল!
বিষয়টা কম্প্লিকেটেড!
তুমি নিঃসন্তান স্বামী-স্ত্রীর কথা বলছ৷
কিন্তু পিতা-মাতাবিহীন বহু সন্তানও তো রয়েছে৷
ওদের কথা কেউ ভাবে না কেন?
অনুবাদ ও সম্পাদনায়ঃ আবীর ইউসুফ রুদ্র
সাবটাইটেলটি ভালো লাগলে আশা করি রেটিং করবেন, এবং সময় পেলে ফিডব্যাক জানাবেন৷
যে কোন প্রয়োজনে ফেসবুকে- Abir Yousuf
টা টা, বাই বাই, ভালো থাকবেন.......
Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.