All language subtitles for www.TamilMV.re - Thupparivaalan (2017) Tamil WEB-HD BSub

af Afrikaans Download
ak Akan
sq Albanian
am Amharic
ar Arabic
hy Armenian
az Azerbaijani
eu Basque
be Belarusian
bem Bemba
bn Bengali Download
bh Bihari
bs Bosnian
br Breton
bg Bulgarian
km Cambodian
ca Catalan
ceb Cebuano
chr Cherokee
ny Chichewa
zh-CN Chinese (Simplified)
zh-TW Chinese (Traditional)
co Corsican
hr Croatian
cs Czech
da Danish
nl Dutch
en English Download
eo Esperanto
et Estonian
ee Ewe
fo Faroese
tl Filipino
fi Finnish
fr French
fy Frisian
gaa Ga
gl Galician
ka Georgian
de German
el Greek
gn Guarani
gu Gujarati
ht Haitian Creole
ha Hausa
haw Hawaiian
iw Hebrew
hi Hindi
hmn Hmong
hu Hungarian
is Icelandic
ig Igbo
id Indonesian Download
ia Interlingua
ga Irish
it Italian
ja Japanese
jw Javanese
kn Kannada Download
kk Kazakh
rw Kinyarwanda
rn Kirundi
kg Kongo
ko Korean
kri Krio (Sierra Leone)
ku Kurdish
ckb Kurdish (Soranî)
ky Kyrgyz
lo Laothian
la Latin
lv Latvian
ln Lingala
lt Lithuanian
loz Lozi
lg Luganda
ach Luo
lb Luxembourgish
mk Macedonian
mg Malagasy
ml Malayalam Download
mt Maltese
mi Maori
mr Marathi
mfe Mauritian Creole
mo Moldavian
mn Mongolian
my Myanmar (Burmese)
sr-ME Montenegrin
ne Nepali
pcm Nigerian Pidgin
nso Northern Sotho
no Norwegian
nn Norwegian (Nynorsk)
oc Occitan
or Oriya
om Oromo
ps Pashto
fa Persian
pl Polish
pt-BR Portuguese (Brazil)
pt Portuguese (Portugal)
pa Punjabi
qu Quechua
ro Romanian
rm Romansh
nyn Runyakitara
ru Russian Download
sm Samoan
gd Scots Gaelic
sr Serbian
sh Serbo-Croatian
st Sesotho
tn Setswana
crs Seychellois Creole
sn Shona
sd Sindhi
si Sinhalese Download
sk Slovak
sl Slovenian
so Somali
es Spanish
es-419 Spanish (Latin American)
su Sundanese
sw Swahili
sv Swedish
tg Tajik
ta Tamil
tt Tatar
te Telugu Download
th Thai
ti Tigrinya
to Tonga
lua Tshiluba
tum Tumbuka
tr Turkish
tk Turkmen
tw Twi
ug Uighur
uk Ukrainian
ur Urdu
uz Uzbek
vi Vietnamese
cy Welsh
wo Wolof
xh Xhosa
yi Yiddish
yo Yoruba
zu Zulu

Original subtitles

∞ Thupparivaalan ∞ ডিটেকটিভ/গোয়েন্দা

2 Bsub created & edited by

1 Abir Yousuf Rudro

3 - আব্বু, শুভ জন্মদিন! - শুভ জন্মদিন!

3 - শুভ জন্মদিন, দিবা! - কী করছ এসব তোমরা?

3 ছোট্ট একটা সারপ্রাইজ!

3 আস্তে,সিধু!

ও যাচ্ছে কোথায়?

-কী এটা? -আব্বুর জন্য গিফট!

ওদের ব্যাপারে সাবধান থাকতে হবে৷

3 হেই..এটা আবার কী?

আম্মা,ছাড় আমাকে!

তুই আমার গায়ে হাত দিলি কেন?

পুরুষ বলে যা ইচ্ছে তাই করবি?

-আমি কখন গায়ে হাত দিলাম,তুমি মারছ কেন? -লুইচ্চা!

-এখন আবার মিথ্যা বলছিস, আমাকে বলদ পেয়েছিস? -নিজেকে খুব হট ভাব তাই না? মাফ চাও!

-নইলে কিন্তু ভাল হবে না! -একেই জিগেস করুন কী করেছে?

হেই, যান! নিজের কাজে যান!

-কী হয়েছে বাবা? -কিছু না মা৷

-কোমড়ে আবার কী হল? -কিছু না, পিপড়া-টিপড়া হবে হয়তো৷

আমি নাস্তা নিয়ে আসি তাহলে৷

এখন আর কিছুর দরকার নেই বাবা৷ দেরি হয়ে যাচ্ছে, মা আবার চিন্তা করবে৷

পল!

পল!

কী বিরক্তিকর জীবন!

রোমাঞ্চ বলতে কিছু নেই!

দাও!

এটা কোন কফি হইল!

ছেহ্!

একটা কেইস, কেবল একটা মনের মতো কেইস চাই৷

সমস্যা কি তোমার?

আমি কেবল একটা চ্যালেঞ্জিং কেইস চাই৷

তিন সপ্তাহ হয়ে গেল, কেউ মনমতো একটা কেইসও দিতে আসল না৷

এর থেকে মুদির দোকানের চাকরিও ভাল!

এমনে চললে আমি পাগল হয়ে যাব!

কেউ আমাকে একটা চ্যালেঞ্জিং কেইস দাও!

সরো সামনের থেকে৷

কানি,ওঠো!

ক্লায়েন্ট এসেছেন একজন৷

তিনদিন হল আমার স্বামী...

তিনদিন যাবৎ তাকে পাওয়া যাচ্ছে না,

আপনারা দোনজন একই চশমা ব্যবহার করেন৷

পাঁচ বছর যাবৎ এটা ব্যবহার করছেন৷

একটা রাবারের ব্যান্ড দিয়ে ভাঙ্গা ফ্রেমটা আটকে রেখেছেন৷

আপনার স্বামী কাজ-কর্ম কিছু করে না, ঘরে বেকার বসে থাকে আর রান্নাবান্না করে৷

আপনি পুলিশের কাছে যেতে পারছেন না, কারণ তারা জানতে পারলে পরিবারের অসম্মান হবে৷

গতকালকের পত্রিকায় এড দেখে আপনি আজকে আমার কাছে এসেছেন৷

আপনার স্বামী কালকের মধ্যেই চলে আসবেন, আজকেও চলে আসতে পারেন৷

কারণ আপনাকে ছাড়া তিনি অচল৷

এখন আপনি আসতে পারেন৷

-তোমার ফি কত? -কেস কি সেটা বলেন!

আমার মেয়েকে পাওয়া যাচ্ছে না৷

-আপনার নাম? -মাধাভান৷

কয়দিন হল তাকে পাচ্ছেন না?

আজকেসহ এগার দিন৷

পুলিশের কাছে গিয়েছিলেন?

ওদের উপর ভরসা নেই৷

হারিয়ে যাওয়ার ব্যাপারটা কখন টের পেলেন?

কলেজে গিয়েছিল, পরে আর ফিরেনি৷

ওর কি কোন বয়ফ্রেন্ড আছে...

আমি জানি না!

দশ লাখ রুপী,

আমার মেয়েকে খুঁজে বের করতে পারলে এটা তোমাদের৷

- আপনার মেয়ে কি গাড়ি চালাতে জানে? - কী?

না, জানে না৷

তাকে কলেজে নিয়ে যেত কে?

একটা ড্রাইভার ছিল৷

- "ছিল"? - বদমাশ ছিল একটা!

ভেগে গেছে৷

- মোট কয়জন ড্রাইভার আপনার? - তিনজন৷

তাদের সাথে না এনে আপনি গাড়ি চালিয়ে আসলেন কেন?

আমার এখানে আসার ব্যাপারে কাউকে জানাতে চাই না৷

- এ ঠিকানা কোথায় পেলেন? - আমার ম্যানেজারের কাছ থেকে৷

আমার হাতে তিনটা কেস রয়েছে, তাই আপনারটা নিতে পারছি না৷

পঁচিশ লাখ রূপী!

আপনি আসতে পারেন৷

কানি?

এই যে নাও ব্লাঙ্ক চেক!

ইচ্ছেমতো সংখ্যা বসিয়ে নাও, কিন্তু মেয়েকে ফেরত চাই আমার!

কোন কেস না পাওয়াতে তুমি অস্থির হয়ে ছিলে!

- অার এটা পেয়েও ছেড়ে দিলে! - এমন কেইসের দরকার নেই৷

- পঞ্চাশ লাখ টাকার কেইস ছিল! - তা ঠিক৷

কী "ঠিক"?

অধিকাংশ মানুষের কাজ হল বিয়ের আগে পাত্র-পাত্রীর উপর চোখ রাখতে গোয়েন্দা ভাড়া করা৷

জানি তুমি অমন গোয়েন্দা নও, কিন্তু এটা সমাধান করতে তো দুদিনও লাগত না তোমার৷

লোকটা ব্লাঙ্ক চেক দিতে চাইল, আর তুমি কী না ফিরিয়ে দিলে!

- লোকটাকে পছন্দ হয়নি৷ - তাতে কী আসে?

কেইস হল মূল বিষয়৷

ওনার মেয়েটাকে খালি বের করলেই হতো, কানি!

- তাহলে মেয়েটা মারা যেত৷ - কী?

মেয়েকে খুঁজে আনলে উনি নিজ হাতে হত্যা করতেন৷

কী যা তা বলছ?

মেয়েটা ড্রাইভারের সাথে পালিয়েছে৷

লোকটা পা দিয়ে চাবিটাকে কী করল খেয়াল করনি?

মেয়েকে নিয়ে দুঃখের চেয়ে তার জিদ বেশি৷

মেয়েটাকে খুঁজে আনলে কিছুদিন পর হয়তো কোন নদীর কিনারায় বা ট্রাকের ভিতরে ওর লাশ খুঁজে পেতে৷

এমনকি ওর নিজের ঘরেও ঝুলন্ত পেতে পারতে৷

আত্মহত্যা বলে চালিয়ে দিয়ে কেইস বন্ধ করে দেয়া হত৷

এখন বল, এ কেইসটা কী জন্য নিব?

পেশার খাতিরে?

তাহলে পেশাকে অসম্মান করা হবে৷

কী শুরু করল সবাই?

হাসছো কেন?

ম্যাজিক দেখে!

কীসের "ম্যাজিক"?

পাঁচ সেকেন্ড আগে যেটা ঘটল৷

- পাঁচ সেকেন্ড আগে কী ঘটেছে? - পকেটমারের একটা নতুন আর্ট দেখলাম৷

- কার পকেট মারা হয়েছে? - তোমার৷

এই তো আমার মানিব্যাগ৷

আর টাকা?

চার হাজার টাকা ছিল, এখন আছে দু' হাজার!

কীভাবে সম্ভব এটা?

ফোনে কথা বলার ভাব ধরো!

হ্যালো ম্যাডাম, প্রিয়দর্শন বলছি৷

আমি ভাল আছি, আপনার কী খবর?

ব্যবসার কী অবস্থা?

আমি মাত্রই আপনাকে কল দিতে চেয়েছিলাম৷

জ্বী, কাপড়-চোপড়ের একটা চালান এসেছে৷

সন্ধ্যায় আমি লোক মারফত কিছু স্যাম্পল পাঠিয়ে দিব৷

দেখে ভাল লাগলে দয়া করে জানায়েন৷

আপা! চশমা পরা একটা টাকলা, গায়ে সবুজ শার্ট আর হাতে ব্রিফকেস আছে৷

ম্যাডাম, পুরোন একটা পাওনা কিন্তু এখনো বাকী৷

ওটা একটু পরিশোধ করে দিলে ভাল হবে৷

এই চালানের পাওনাও যদি একসাথে দিয়ে দেন তাহলে কৃতজ্ঞ থাকব৷

জ্বী, ম্যাডাম৷

ওটা নিয়ে একদম ভাববেন না, আমি সব সামলে নেব৷

ভদ্র ঘরের মেয়েদের সাজ নিয়ে পকেটমারা, ভালই!

-স্যার, কী বলছেন! আমি ভদ্র পরিবার থেকে... -চুপ!

ভদ্র পরিবার! চোরের মা'র আবার বড় গলা!

তোমাদের কাণ্ড-কারখানা দেখেছি এতক্ষণ৷

ঐ লোকটার থেকে কত নিয়েছ?

আপা, কে এরা? কী চায়?

আমরা মিষ্টি খেতে চাই! চল্ থানায়!

ভাইয়া, ভাইয়া, প্লিজ, আপনার টাকা ফিরিয়ে দিচ্ছি৷

- দয়া করে কাউকে ডাক দিয়েন না! - আমি সবাইকে জড়ো করব এখনই৷

তোমাদের কাজের পদ্ধতি ভাল লেগেছে, আগামিকাল সকালে এই ঠিকানায় আসবে৷

আর এটা রেখে দাও৷

একটা পকেটমারকে আমাদের ঠিকানা দিলে

তুমি না থাকলে আমি ঠিকই ওদের পুলিশের হাতে তুলে দিতাম৷

কী সমস্যা খোকা? এখানে কী চাই?

গোয়েন্দা আংকেলের সাথে দেখা করতে চাই৷

- ঠিক আছে, বলো কী সমস্যা? - না, আমি গোয়েন্দা আংকেলকে বলব৷

আমাকে দেখে কি গোয়েন্দা মনে হয় না?

না, আপনি তো রাঁধুনী৷

পেঁয়াজের গন্ধ আসছে আপনার থেকে৷

চলো৷

বসো৷

বাবার আইপ্যাডে 'ডিটেকটিভ' লিখে সার্চ দেওয়ার পর তো...

...অনেক ঠিকানাই পেয়েছিলে, এখানে আসলে কেন?

অন্য গোয়েন্দাদের বিজ্ঞাপনগুলো সিনেমাটিক৷ মাথায় ক্যাপ, হাতে বন্দুক, চোখে সানগ্লাস..

কিন্তু আপনারটাতে কেবল লিখা- 'ডিটেকটিভ কানিয়ান পুনগুনদ্রান'৷

সেটা দেখেই আমি এখানে আসার সিদ্ধান্ত নিয়েছি৷

- স্কুল বাদ দিয়ে এসেছ এখানে? - জ্বী৷

নাম কী তোমার?

নাভিন৷

এবার বলো গতরাতে কী হয়েছিল?

আমাদের বাসা নিলানকারায়, সমুদ্র তীরবর্তী একটা বাংলো৷

- বীচ থেকে সর্বোচ্চ কতদূর হতে পারে? - ৩৪৩ ফিট৷

কিছুদিন আগে আমি আর আমার ছোট বোন এটা মেপে বের করেছিলাম৷

বলে যাও৷

আমাদের কুকুরছানার নাম হল 'নেমো'৷

প্রতিদিন রাত ৯:৩০ এ ওকে গেট খুলে বের হতে দেই৷

গায়ে একটু হাওয়া লাগিয়ে ও আবার ৯:৪০ এ ফিরে আসে৷

কিন্তু গতরাতে আর ফিরে আসেনি৷

ও হারানো কুকুরের খোঁজে এসেছ তাহলে?

না, একটা মৃত কুকুরের ব্যাপারে৷

অনেক রাত হলেও নেমো আর ফিরে আসল না৷

আমি মাকে জানালাম বিষয়টা৷

উনি বললেন সে রাতের গভীরে ফিরবে আর আমার উচিৎ ঘুমিয়ে পড়া৷

আমি জানালা দিয়ে তাকিয়ে নেমোর ফেরার অপেক্ষা করছিলাম৷

একটার দিকে আমি আর ছোট বোন আর ধৈর্য ধরতে না পেরে বাবা-মাকে জাগিয়ে তুললাম৷

বাবা গেট খুলে নেমোর খোঁজে বের হলেন৷

আমাদের গেট থেকে প্রায় বাইশ ফিট দূরে নেমোর মৃতদেহ পাওয়া গেল৷

টর্চ মারার পর দেখা গেল নেমোর পুরো শরীর রক্তে ভেসে আছে৷

- নেমো কোন জাতের? - পমেরিয়ান৷

আমরা খুব কাঁদছিলাম৷

আমি বাবা-মাকে বললাম, পুলিশে খবর দিতে৷

পৌনে দুইটার দিকে একজন কনেস্টবল আসলেন৷

সে বলল তার বহু ব্যস্ততা রয়েছে, এসব নিয়ে মাথা ঘামানোর সময় নেই৷

তাই তো?

উনি এটাও বলেছেন যে, আমরা চাইলে পুলিশ ডিপার্টমেন্ট আমাদের জন্য আরেকটা কুকুর কিনে দিবে৷

তোমার বাবা-মা কুকুরটাকে বাগানে কবর দিয়ে দিল৷

আব্বু-আম্মু সকালে একটা বিয়েতেও যায়৷

আমার বোন ঘুম থেকে উঠে বলে, সে নেমোকে দেখতে চায়৷

আমি একটা কোদাল নিয়ে নেমোর কবর খুঁড়তে শুরু করলাম৷

বাবা নেমোকে একটা সাদা কাপড়ে জড়িয়ে কবর দিয়েছিলেন৷

কবরের ভিতর আমাদের নেমো শুয়ে ছিল...

আমরা ওকে দেখছিলাম, এর মধ্যেই আব্বু-আম্মু ফিরে এলেন৷

আব্বু খুব বকলেন আমাদের!

আমি নেমোকে আবার গর্তে শুইয়ে দিলাম, বাবা মাটি দিয়ে গর্ত পুরে দিলেন৷

- আচ্ছা..শান্ত হও! - বলতে দাও!

নেমোকে যখন আবার কবরে শোয়াচ্ছি তখন ওর শরীরে...

এটা পাই...

কানি, এটা তো বুলেট!

শার্লক হোমস টিভি সিরিজ দেখেছি আমি৷

কিন্তু বাস্তবে এমন কেউ নেই৷

নেমোর খুনীকে বের করতে চাই আমি৷

কিন্তু কীভাবে বের করব আমি জানি না, প্লিজ আপনি কি আমার জন্য এতটুকু করবেন, আংকেল?

এগুলো আমার হাত খরচের জমানো টাকা৷

আটশ সাতত্রিশ রূপী৷

এগুলো ফি হিসেবে রেখে আমার নেমো'র খুনীকে বের করে দিবেন, আংকেল?

খুনীকে ধরে এনে দিলে তুমি কী করবে তাকে নিয়ে?

আমি তাকে জিগেস করব, "কেন আমার কুকুরকে হত্যা করলে তুমি? তোমার হাত একটুও কাঁপল না ওকে মারতে?"

ওকে গাড়িতে তুলে দিয়ে এসো, আর ওর ঠিকানাটাও রেখে দিও৷

- আপনি কি কেইসটা নিচ্ছেন আংকেল? - হুম৷

এখন বাসায় যাও৷

চলো৷

জ্বী, কে বলছেন?

একটু ধরুন, প্লিজ! জোয়েল, তোমার ফোন৷

আমার বোন-জামাই? কিন্তু আমার তো বোনই নেই!

আচ্ছা, আসছি৷

দেখো কানি, আমি তোমাকে একবার সাহায্য করেছি৷ তাই বলে এভাবে জ্বালাতন করবে নাকি!

আমি পুলিশের চাকুরি করি, তোমাকে এভাবে সাহায্য করতে থাকলে চাকুরি থাকবে না আর৷

সাহায্য তাহলে তুমি আমাকে করেছ!!

তুমি আমাকে একটা কেইসে সাহায্য করেছ- সেটা তো আর অস্বীকার করছি না৷

কমিশনার যদি জানতে পারতেন যে, তিন খুনের...

....ঐ ফরেনসিক রিপোর্টটা ভুল ছিল,

পুরো টিমকে রামানাথাপুরামে বদলি করে দিতেন৷

কী চাই তোমার?

এটার ল্যাব রিপোর্ট৷

এটা নাইন এম এম বুলেট৷

গ্লক নাইনটি বা টুয়েন্টি দিয়ে ছুঁড়ে থাকলে এটা কুকুরের শরীরে থেকে যাওয়ার কথা না৷

কিন্তু ছিল তো!

গ্লক দিয়ে ছুঁড়লে এটা কুকুরের শরীর ভেদ করে বেরিয়ে যাবে৷

কিন্তু বুলেটটা কুকুরটার পেটে পাওয়া গেছে, এমনটাই তো বলল ছেলেটা...

অসম্ভব! এনালিস্টের মতে গুলিটা কোন শক্ত জায়গায় বাড়ি খেয়েছে৷

- ঠিকরে এসেছে? - হুম, প্রথমে কোন পাথর অথবা লোহায় আঘাত করেছে৷

কোথাও বাড়ি খেয়ে যদি কুকুরটার শরীরে ঢুকে থাকে...

...তাহলে গতি কমে যাওয়ায় ভিতরে থেকে যেতে পারে, এটাই একমাত্র সম্ভাবনা৷

এই যে ধরো, আমি গেলাম৷

একটু পিছে যাও,

আরো পিছে যাও!

ডান দিকে যেতে থাকো!

ব্যাস, এবার উপরে ওঠো৷

আরেকটু সামনে, এবার গুলি করার ভঙ্গিতে দাঁড়াও৷

এখানে কোন বুলেটের খোসা নেই, কানি৷

আমার মনে হয় না, ওরা এখান থেকে গুলি ছুঁড়েছে৷

দাঁড়া! সবাইকেই তো দিব৷

স্যার, একটু দেখে যান এদিকে, স্যার৷

দেখি জায়গা দে!

কী এটা?

একটা দাঁত৷

মল্লিকা! আজকের কামাই কই?

আমি একটা কথা জিগাইছি!

আজকের টাকা কোথায়?

মাত্র দুই হাজার রূপী!

এত কম দিয়ে চলব না!

কালকেই সারাসু'র বাসায় যাবি,

- ওর মনোরঞ্জন করবি, দিনে সাত হাজার দিব৷ - আমি পারব না৷

পারবি না!! তাহলে ঘরেও জায়গা নেই৷

বাইর হয়া যা! ঐগুলারেও সাথে নিয়া যা!

লোনের টাকা প্রতি মাসে পঁচিশ হাজার রূপী৷

তোর মরা বাপ-মা দিবে ওগুলো?

তার উপর আছে এলাকার গুণ্ডাদের চাঁদাবাজি৷

খাইতে তো সব গুলা ভাই-বোন শুকরের মতো খাস!

যাইব না বললেই হল!

আগামিকাল যদি এরচেয়ে বেশি আনতে না পারস..

..আমি নিজেই তোকে সারাসু'র বাড়ি নিয়া যামু৷

কী?

আপনাদের টাকা ফিরিয়ে দিতে এসেছি৷

তো দাও!

উনি কি নেই?

আমি তো আছি, আমাকে দাও!

আমি ওনাকেই দিব৷

মানো! ওকে আসতে দাও!

যাও!

কী ব্যাপার?

আপনাদের টাকার প্রয়োজন নেই আমার৷

যত জনের পকেট মেরেছ, সবাইকে টাকা ফিরিয়ে দেবার চিন্তা করছ নাকি?

ছোটবেলাতেই বাবা-মাকে হারিয়েছ,

এখন মামা বা খালার সাথে থাকো, তাই না?

মামার সাথে৷

তোমার মামার লন্ড্রির ব্যবসা আছে৷

তুমি তার দোকানেরই একটা পোষাক গায়ে দিয়ে আছ৷

তোমার মামা একটা বাটপার কিসিমের লোক!

তোমাদেরকে চুরি করতে পাঠিয়ে সারাদিন বাসায় বসে মদ গিলে৷

- আপনি এগুলো.....! - চুরি ছাড়া আর কিছু জান না?

সে বলেছে, হয় চোর নয়তো বেশ্যা হতে হবে৷

আমি প্রথমটা বেছে নিয়েছি৷

কী বলো!

ওকে সোয়ামিনাথানের কার্ডটা দাও, ড্রয়ারের ডান কোনে রাখা আছে৷

ঐ ঠিকানায় গিয়ে দেখা করো! লোকটা তোমার চাকুরির ব্যবস্থা করে দিবে৷

আমার চাচা অন্য কোন কাজ করতে দিবে না, সে ভয়ংকর লোক৷

বাটপারটাকে এখানে নিয়ে আসবে, আমি ওর ঔষধের ব্যবস্থা করে দিব, এখন যাও৷

আর কতক্ষণ হাঁ করে দাঁড়িয়ে থাকবে৷ চলো!

এই...তোমার নামটা যেন কী?

আর কখনো যদি রাস্তায় পকেট মারতে দেখি...

..ওখানেই গর্ত করে কবর দিব তোমাকে৷ এখন ভাগো!

বাবা কানি,,,একটা চোরকে নিয়ে তোমার এত মাথাব্যথা কেন?

আমার বাবাও একজন পকেটমার ছিলেন৷

মাল্লিকা!

আড়ি পেতেছ কেন?

গুলিয়ে ফেলো না!

গতকালকে ডাক্তারের বিয়েতে তাঁর এক ছাত্রী এসেছিল না?

মেয়েটার সাথের লোকটাকে দেখেছিলে? কী জঘন্য চেহারা!

- কারো চেহারা এমন... - এই!

- রিসিপশন কি গল্প করার জায়গা? - না, স্যার মানে একটু..

মানে আবার কী? অবসর থাকলে অনলাইনে ডেন্টাল টেকনোলজির প্রবন্ধ পড়ো!

ও কোথায়?

- কে স্যার? - চীফ ডাক্তার!

- উনি এক্সরে রুমে৷ - ঠিকাছে,বসো৷

- এক্সরে রুমটা কোন দিকে? - সামনে গিয়ে ডানে৷

এটা হল শ্বাদন্তের রুট ক্যানেলের চিত্র৷

- এক্সকিউজ মি,আপনি কে? - উনি আমার সামনেই আছেন,স্যার৷

আমি ওনাকে দিচ্ছি, একটু অপেক্ষা করুন৷

ডাক্তার মানিক পাল বলছি৷

- আমি কমিশনার৷ - কমিশনার স্যার?

কীভাবে আপনার সাহায্যে আসতে পারি?

কেইসটা খুবই গুরুত্বপূর্ণ, ডাক্তার৷

আজকে সকালে সিএম এর বাসায় একটা প্যাকেট আসে৷

ভিতরে একটা দাঁত ভরা৷

ওনার কর্মচারীরা ভয় পেয়ে যায়৷

সিএম নিজে আমাকে বিষয়টা দেখতে বললেন৷

সরকারি হাসপাতালে পাঠালে বিষয়টা জানা-জানি হয়ে যাবে৷

তাই তোমার কাছে পাঠালাম৷

আমার লোকের কাছে দাঁতটা আছে৷

যত দ্রুত সম্ভব দাঁতটার সম্পর্কে বিস্তারিত রিপোর্ট চাই আমার৷

তুমি যদি লোকটার পরিচয় বের করে দিতে পার...

...সামনের সপ্তাহে সিএম এর সাথে তোমাকে দেখা করিয়ে দিব৷

অনেক ধন্যবাদ, স্যার৷ আমি যথাসম্ভব দ্রুত কাজটা করে দিব৷

আমি ওকে ফোনটা দিচ্ছি৷

জ্বী,স্যার? জ্বী স্যার, জ্বী বুঝতে পেরেছি, স্যার৷

- একটু অপেক্ষা করুন৷ - জ্বী স্যার৷

দুই ঘন্টার মধ্যেই সব তথ্য পেয়ে যাবেন৷

ইলেব্রা, সব ডাক্তারকে ল্যাবে আসতে বল!

- ইনি কে? - সিআইডি এজেন্ট স্টানলি কুবরিক৷

বসুন৷

এটা বাম পাশের শ্বাদন্ত৷

রক্ত শুকিয়ে গেছে৷ তার মানে ২৪-৩৬ ঘন্টার মধ্যে কোথাও পড়ে থাকবে এটা৷

এটা লোকটার আসল দাঁত না৷

আলগা দাঁত৷

আলগা দাঁত বিভিন্ন প্রকার হয়ে থাকে৷

এটা টাইটানিয়াম না, জিরকোনিয়াম৷

জিরকোনিয়াম তৈরি হয় কেবল ব্যাঙ্গালোর আর চেন্নাইতে৷

চেন্নাইয়ের আদিয়ারে 'ডেন্টোটেক' নামে একটা কোম্পানি আছে৷

পরীক্ষা-নিরীক্ষার পর আমরা জানতে পারি, দাঁতটা তৈরি হয়েছে তিন মাসের মতো হয়েছে৷

আমরা ডেন্টোটেক-এ যোগাযোগ করি৷

গত ছয় মাসে তারা পাঁচটা শ্বাদন্তের অর্ডার পেয়েছিল৷

আমাদের ডাক্তারেরা অর্ডারকারীদের ব্যাপারে তথ্য সংগ্রহ করেছে৷

তাদের নাম-ঠিকানা আর নাম্বার দেয়া আছে এই ফাইলে, এই যে নিন৷

ধন্যবাদ, স্যার, চলুন৷

কমিশনার আমাকে সামনের সপ্তাহে সিএমের সাথে কথা বলিয়ে দেয়ার প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলেন৷

প্রধানমন্ত্রীও ঐদিন থাকবেন, আপনি উভয়ের সাথেই কথা বলতে পারবেন৷

আমি ডেন্টোটেক থেকে এসেছি৷

কাহিনী কী?

আমি ডেন্টোটেক থেকে এসেছি৷

আপনি বাম পাশের শ্বাদন্ত আলগা লাগিয়েছিলেন না?

ছোট্ট একটা চেকআপ৷

- কান্থামানি সাহেব আছেন? - উনি তন্ত্র সাধনায় মগ্ন৷

- আওয়াজ টাওয়াজ পাচ্ছি না তো! - নীরব সাধনা,স্যার৷

- তুমি এখানে কী করছ? - কেউ যেন ব্যাঘাত না ঘটায় সেটা দেখছি৷

- চুপ! - ওমারে...আমার মাথা!

হ্যালো স্যার, আমি ডেন্টোটেক থেকে এসেছি৷

মুখটা খুলুন দেখি৷

আবার শুরু করেন!

গাড়ি থামান৷

একটু দেখি, স্যার৷

- জ্বী এবার যেতে পারেন৷ - মানে কী?

আমার তালিকার সবগুলোর দাঁত জায়গামতোই আছে৷

তোমারগুলোর কী অবস্থা?

একজন এখনো বাকী৷

কল দিয়েছি অনেকবার, মোবাইল বন্ধ বলছে৷

- নাম কী? - সোরনাভেল৷

বাসা কোথায় তোর?

কান্না বন্ধ কর ছোকরা, কান্না বন্ধ কর বলছি৷

কোন স্কুলের ছাত্র তুই?

কোন জায়গা থেকে এসেছিস?

তুইও ওর সাথে আছিস, না? দোনজনকে পুলিশের হাতে তুলে দিব দাঁড়া৷

- বল্, তোদের বাসা কোথায়? - জেলই তোদের জন্য ঠিক জায়গা হবে!

- লজ্জা-শরম কিছু আছে? - এসেছিস কোত্থেকে?

- দিন দুপুরে এভাবে চুরি? - প্রায়ই এসব করিস, না?

- এরপরে তো বাসায়ও আসবি! - এই বয়সেই এ অবস্থা!

আরে সে একটা চোর, আপনি এমন করছেন কেন...

আপনি কি পুলিশ? পুলিশেরও বিচারের আগে মারার অধিকার নেই৷

তো এদেরকে কি আদর করব! এদের জ্বালায় রাস্তাঘাটে চলতে পর্যন্ত পারি না৷

তাহলে ঘরে বসে মুড়ি খান গা, চলো৷

ফাও এসব ঝামেলা করছ কেন?

এদেরকে কোথায় নিয়ে যাবে?

কান্না বন্ধ করো!!

- কয় তালায়? - তিন৷

- বাসা নাম্বার? - জি-১৬৷

কোথায় যাচ্ছ তুমি?

স্যার, দয়া করে কিছু করবেন না!

বারান্দা কোথায়?

ওদিকে৷

দেখি৷

আমার মাথা! আমি গেলামরে!

- মামা! - মামা!

- কোথায় ছিলে? - মিশন পূর্ণ করতে৷

এখানে??

- নমস্কার, ম্যাডাম৷ - নমস্কার৷

- আমি সোরনাভেলের বন্ধু প্রভাকর৷

- আর ও হল... - কার্ল মার্ক্স 😉

আগে কখনো দেখেছি বলে তো মনে পড়ছে না৷

দেখার কথাও না, আমরা সোরনাভেলের স্কুলজীবনের বন্ধু৷

তিন তারিখে স্কুলে একটা পুনর্মিলনী হবে৷

আমরা ওকে নিমন্ত্রণ করতে চাচ্ছিলাম, কিন্তু যোগাযোগের মাধ্যম পাচ্ছিলাম না৷

আচ্ছা.. কিন্তু এ ঠিকানা কোত্থেকে পেলেন?

অশোকের থেকে পেয়েছি, ঐযে খাটো করে মোটা বন্ধুটা..

যাকগে, আপনারা ভিতরে আসুন না!

আসুন, বসুন দয়া করে৷

আপনাদের কী দিয়ে আপ্যায়ন করতে পারি?

- না না, কিছু লাগবে না৷ - আমাকে এক গ্লাস পানি দিয়েন৷

সোরনাভেল কখন আসবে?

সে তো এখানে সহজে আসে না৷ দু বছর হয়ে গেল আমরা ডিভোর্স নিয়েছি৷

আপনাদের ছেলে মারা গেছে কীভাবে?

লুকোচুরি খেলতে গিয়ে...

...ট্যাংকির ভিতর ঢুকে মুখ আটকে দিয়েছিল৷

ঢাকনাটা আটকে যায়..

এরপরেই মূলত সোরনাভেল আমাকে ছেড়ে যায়৷

ওর অভিযোগ ছিল আমি ছেলেকে ঠিকমতো দেখে রাখিনি..

...আমার কারণেই ছেলেটা মরেছে৷

ছবিটাকে উপর থেকে নীচে নামিয়ে রেখেছেন কেন?

আমি রাখিনি, সোরনাভেল নামিয়েছে ওটা৷

কখন? শেষ কবে এসেছিল ও এখানে?

তিনদিন আগে এসেছিল৷

ভিনয়ের ছবিটা জড়িয়ে ও খুব কেঁদেছিল সেদিন৷

- আর এই ফুলগুলো? - এগুলোও ও-ই এনেছে৷

সোরনাভেল এখন কোথায় কাজ করে?

আন্না ইউনিভার্সিটিতে ও ফিজিক্সের প্রফেসর ছিল৷

কিন্তু ওখান থেকে চলে এসেছে শুনেছিলাম, এরপর কোথাও কাজ নিয়েছে কী না জানি না৷

এখন সোরনাভেল কোথায়?

নন্দিনী এপার্টমেন্ট, গ্রীন রোডের কোথায় যেন..

আমাকে কি একটু জুস দিতে পারবেন?

কী করছ?

আস্তে!

মামা, আপনে ওনার চেহারা দেখেও বুঝলেন না? উনি ভয়ংকর পুলিস অফিসার, মামা৷

- পুলিশ? - হাঁ৷

হারে আমার কপালটাই খারাপ৷

মনে হচ্ছে নাপিতের কাছে গিয়ে চুলটা কাটিয়ে চেহারাটা পরিবর্তন করলেই ভাল হবে৷

- তোরা এখানেই থাক রে৷ - ঠিকাছে মামা৷

আমি পুরোন লন্ড্রির দোকান আবার চালু করব, ওটা দিয়েই তোদের খরচাদি উঠে আসবে৷

ঠিকাছে, মামা৷

আমি তোদের ভাল করে যত্ন নিব৷

পুলিশটারে আবার দেখলে কিন্তু বলবি, মামা আসলে ভাল একজন মানুষ৷

- অবশ্যই বলব৷ - তোদের মঙ্গল হোক৷

ম্যাম, আপনার দুই কপি পাসপোর্ট সাইজ ছবি, আদার কার্ডের ফটোকপি এবং ব্যাংক কার্ড লাগবে৷

- আমাকে এখন কত দিতে হবে? - অগ্রিম পনের হাজার চারশ,

- বাকীটা পরবর্তীতে৷ - ঠিক আছে৷

সোফা এসেছে৷

- কিন্তু আমার ফরম তো পূরণ করা হয়নি৷ - অসুবিধা নেই, স্যার৷

এটা তো অনুচিত! কারণটা তো আমি জানতে পারি৷

আমি কাজ শেষ না করে যাচ্ছি না!

তুমি কে? কী হচ্ছে এখানে, এসবের মানে কী?

কীসের প্রজেক্ট?

কত পাচ্ছি আমরা?

ত্রিশ কোটি৷

রাজি৷

কানি, রেডি তো?

তুমি সোরনাভেলের খোঁজে যাও, আমার টি-নগরে কাজ আছে৷

- আমি তো ভেবেছিলাম এক সাথে যাচ্ছি আমরা৷ - এখন যেটা বলছি সেটাই করো, চলো!

কী চাই?

আমার চাকুরি দরকার৷

মামার বাড়ির আবদার! পকেট মেরেও খরচে কুলোয় না?

- মানো, একটু বাহিরে দাঁড়াও৷ - মানে?

ও আমাকে বের করে দিল কেন?

কোন সময় যে কী করে কিচ্ছু বুঝি না!

তোমাকে বলছি কেন এগুলো? দূরে সরো!

করছেটা কী ও?

- কার কাছে এসেছেন, স্যার? - সোরনাভেলের কাছে৷

ম্যাডাম, একটু শুনবেন৷

সোরনাভেল নামে এখানে একজন থাকে না...

বলতে পারব না, দু-তিন দিন যাবৎ ফ্লাটটা বন্ধই দেখছি৷

আপনি কি জানেন সে কোথায় কাজ করে?

স্বামীর কাছ থেকে শুনেছিলাম, শেয়ার-টেয়ারের কী যেন ব্যবসা করে৷

আর তেমন কিছু জানি না৷

স্যার, এদিকে একজন সোরনাভেলের ব্যাপারে খোঁজখবর নিচ্ছে৷

আমরা কী করব?

অনুসরণ করে যাও৷

এরপর?

সুযোগ পেলে বন্দী করে ফেলবে৷

সোরনাভেলের বাসায় গিয়েছিলাম, বাসাটা তালাবদ্ধ৷

প্রতিবেশীরাও কিছু জানে না, এখন কী করা তাহলে?

ভলমতো শুনো কী বলছি৷

চারটা লোক তোমাকে অনুসরণ করছে৷

কী?? আমাকে অনুসরণ করবে কেন?

মানো! পিছে ফিরে তাকাবে না, খালি আমি যা বলছি তাই করো!

থামো, থামো!

তাড়াতাড়ি করো!

জলদি!

কে রে তুই?

ঐ লোকের খোঁজ করছিলি কেন?

তোকে একটা প্রশ্ন করা হয়েছে, উত্তর দে!

দেখে আসো ওদিকে কীসের আওয়াজ?

যা ঘটেছিল...

উঠো!

একসাথে!

স্যার, মাফ কইরা দেন!

ভাগ রে সবাই!

কে পাঠিয়েছে তোদের?

স্যার, আমরা কিছু জানি না৷

কারমেগাম এখানে আসার জন্য পাঁচ হাজার রূপী দিবে বলেছিল-এতটুকুই জানি খালি৷

ঐ বাটপার শালা কোন সময় ঠিকমতো টাকা দেয় না, স্যার৷

- কোত্থেকে এসেছিস তোরা? - এলথোলাম৷

- আর কারমেগাম? - চুলাইমেদু৷

আপনার কথামতো ওকে অনুসরণ করেছিলাম স্যার৷

ঐ শালা আমাদের একটা পুরোন বাংলোতে নিয়ে যায়৷

ওখানে কোত্থেকে যেন এক লম্বা-চওড়া ব্যাটা হাজির!

আমরা চারও জন একসাথে ঝাঁপিয়ে পড়েছিলাম, কিন্তু ওর তুলনায় আমরা নস্যি!

ঐ ব্যাটা লড়াইয়ের নাড়ি-নক্ষত্র সব জানে৷

আমাদের অবস্থা কাহিল করে দিছিল!

আমিই খালি কোনরকমে পালিয়েছি৷

বাকীরা আপনার ব্যাপারে কিছু জানে না, দু'দিন হল মাত্র জেল থেকে ছাড়া পেয়েছে৷

আপনি খালি আমার পাওনাটা দিলেই হবে৷

বিবাহবার্ষিকী আজকে আমাদের, বউয়ের জন্য শাড়ি কিনতে হবে৷

সত্যিই স্যার? কোথায় আসতে হবে?

আট তলায়?

আসছি, স্যার!

কানি, একটা লোক আসছে লুকাও লুকাও!

- দাঁড়াও৷ - লুকাও!

পারু, আমার চশমাটা আনো তো৷

এখন চশমা দিয়ে কী করবে? ঘুমাতে আসো!

- বিরক্ত করো না! - জলদি আনো!

ঐ ফ্লাটের সামনে কে যেন আছে৷

টর্চটাও নিয়ে এসো৷

কানি, এখানে আর থাকা যাবে না৷

কানি, এখানে আর থাকা...

কী ব্যাপার? এত রাতে চশমা দিয়ে কী করবে?

কী দেখছ ওদিকে?

কী ওদিকে? খুঁজছটা কী তুমি?

ওখানে দুটো লোক ছিল বলে মনে হল৷

হায়রে কপাল! চলো এখন ঘুমাবে৷

ভীমরতিতে ধরে খালি!

আমাদের আগেই কেউ একজন এসেছিল৷

অনুপ্রবেশকারী...

একজন পুরুষ৷

জুতার মাপ ১০, উচ্চতা পাঁচ ফিট এগার ইঞ্চি৷

দেখি এদিকে দাও তো৷

আমি তো কিছু দেখছি না!

তুমি কেবল নজর দিচ্ছ৷

আর আমি অনুসন্ধান করছি৷

আর কি কানি? এখানে তো কিছুই মিলল না৷

এখন কী করা?

আরে এটা কী?

কোন কিছু ছিল এখানে৷

পুরো টেবিলে প্রায় দু'দিনের ধুলোবালি জমে আছে, কিন্তু এখানটাতে ধুলো নেই বললেই চলে!

- কিছু একটা এখান থেকে অবশ্যই সরিয়ে নেয়া হয়েছে৷ - কী সেটা?

ম্যাসারমেন্ট টেপটা দাও!

মোবাইলে বইয়ের এপটা চালু করো!

'লাইটনিং ফিজিক্স এন্ড ইফেক্ট' লিখে সার্চ দাও৷

ডাইমেনশন বল বইটার৷

দৈর্ঘ্য ২৭.৫ সেমি. আর প্রস্থ ২১.৫ সেমি.

ঐ বইটাই ছিল এখানে৷

'লাইটনিং ফিজিক্স এন্ড ইফেক্ট'৷

ভুলটা কোথায় করেছি আমরা?

লিকটা মূলত কোথায়?

এখন কী করব আমরা, আংকেল?

আমাদের কাছ থেকে গতকালকে পালিয়েছিল যে লোকটা৷

আমি কফি আনতে বলেছি? বলেছি আনতে??

বাড়ি মেরে মাথা দু'ভাগ করে দিব আরেকবার এমন করলে!

দূর হও!

সোরনাভেল একজন ফিজিক্সের শিক্ষক৷

সে শেয়ার ব্যবসায় জড়াবে কেন?

শেয়ার ব্যবসা শুরু করে আবার ইঞ্জিনিয়ারিংয়ের বই পড়বে কেন?

সে হয়তো পড়াশোনা একেবারে ছেড়ে দিতে চায়নি৷

কিন্তু বিশেষভাবে বিদ্যুৎ-চমক সম্পর্কে এই বই পড়তে যাবে কেন?

বিদ্যুৎ-চমক তো ফিজিক্সেরই বিষয়!

না, মানো৷

আমরা কোথাও ভুল করছি৷

কোথাও একটা ফাঁক থেকে যাচ্ছে!

সোরনাভেলের ঘর থেকে বিদ্যুৎ-চমক সম্পর্কিত ঐ বইটাই চুরি হবে কেন?

কে এটা চুরি করতে পারে?

- কীভাবে সাহায্য করতে পারি আপনাদের? - মিস্টার কানিয়ান পুনগুনদ্রান আছেন?

- জ্বী আসুন৷

স্যার, বসুন প্লিজ৷

আমি দেখেছি তাদের৷

সাইরেনের আওয়াজ কানে এসেছে আমার৷

আমরা একটা কেইসের ব্যাপারে এসেছি৷

স্যরি স্যার, আমি এখন একটা কেইস নিয়ে ব্যস্ত৷ আপনারা পরে আসতে পারেন!

মিস্টার কানি, আমাদের পরিচয় কি জানা আছে?

জ্বী স্যার, জানা আছে৷

আপনি এসিস্ট্যান্ট কমিশনার বিজয় কুমার আর আপনি ইন্সপেক্টর মাধিভানান৷

আপনারা কথা বলতে এসেছেন এসিস্ট্যান্ট কমিশনার পল ধনরাজের ব্যাপারে...

...যিনি স্ট্রোক করেন দুই সপ্তাহ আগে এবং তিন দিন আগে মারা গিয়েছেন৷

পোস্টমর্টেম রিপোর্ট অনুযায়ী অভ্যন্তরীণ রক্তক্ষরণে তিনি মারা গিয়েছেন৷

সাধারণ মৃত্যু৷

কেইস হওয়ার কিছু নেই, তবু আপনারা কেন এসেছেন জানি না৷

মিস্টার কানি, আমি আপনার ব্যাপারে বহু সুনাম শুনেছি৷

আমাদের ডিপার্টমেন্ট ব্যর্থ হয়েছে এমন বহু কেইস আপনি সমাধান করে দিয়েছেন৷

আমি সত্যিই আপনাকে সম্মান করি৷

ঘটনা জটিল মনে হওয়াতেই আমি আপনার কাছে এসেছি৷

বলে যান৷

পল আর আমি কলেজমেট ছিলাম৷

বাইশ বছর যাবৎ ওকে আমি চিনি৷

ওর কোন বদভ্যাস ছিল না৷

মদ পান করত না,

কোন ধরণের মদ না, সিগারেট ঘৃণা করত এবং তুমিও তো জান...

...শারিরীকভাবে চমতকার ফিট ছিল৷

কোন ধরণের অসুস্থতা ছিল না ওর৷

হঠাত এভাবে মরে যাওয়ার লোক নয় ও৷

- পোস্টমর্টেম কে করেছেন? - ডাক্তার সানগাইয়া৷

সানগাইয়া... উনি অভিজ্ঞ প্যাথলোজিস্ট৷

উনি যদি এমনটা বলে থাকেন, তবে সঠিক হতে বাধ্য৷

না, আমি কিছুতেই মানতে পারছি না যে এটা একটা স্বাভাবিক মৃত্যু৷

স্বাভাবিক না হলে কী বলতে চাইছেন?

খুন?

বেশকিছু পত্রিকায় তো এমনটাই আসলো৷

হাহ...পত্রিকাওয়ালাদের কথা!

কানিয়ান পুনগুনদ্রান, একটা গাধা তুমি!

হচ্ছেটা কী, উনি কী শুরু করলেন!

কি জানি স্যার, আমিও বুঝতে পারছি না!

বুঝে ফেলেছি, কীভাবে আমার চোখ এড়িয়ে গেল এটা!

এই বোকামি কীভাবে করলাম আমি?

মানো, তাড়াতাড়ি!

কোথায় যাচ্ছ সেটা তো বলবে?

মিসেস দিবাকর আছেন?

আম্মু, কে যেন এসেছে!

কী সাহায্য করতে পারি আপনাদের?

স্বামীর মৃত্যুর ব্যাপারে মিথ্যা বলেছেন কেন আপনি?

কীহ! কী আবোল-তাবোল বলছেন?!

নিজের চোখে দেখে বলেছেন না বানিয়ে বানিয়ে আন্দাজে?

কেন মিথ্যা বলতে গেলেন?

আমি কেন মিথ্যা বলব?

কানি, কী বলছ এগুলো?

ম্যাডাম কিছু মনে করবেন না...

- বলুন, কেন মিথ্যা বলেছিলেন? - মিথ্যা?

কেন আমি মিথ্যা বলতে যাব?

নিজের চোখের সামনে আমি স্বামী ও ছেলেকে মরতে দেখেছি!

এখনো সেখানে চিহ্ন আছে৷

দেখাচ্ছি তোমাদেরকে, আসো!

নিজের চোখে দেখলে তোমরাও বিশ্বাস করবে!

- পোড়া কপাল আমার! - মাথা খারাপ হয়ে গেছে?

আমি নাকি মিথ্যা বলছি!

কী শুরু হল আমার সাথে?

কেন সবাই আমার সাথে এমন করছে?

বিশ্বাস হয় না আমার কথা?

নিজের চোখেই দেখো! ঘটনাটা এখানেই ঘটেছিল৷

ওখানেই আমার স্বামী দিবাকর আর আমার ছেলে বজ্রপাতে মারা যায়৷

ঠিক এখানেই, দেখো ভালমতো!

কেন আপনি মিথ্যা বলছেন?

আমি কেন মিথ্যা বলব?

এখানে, ঠিক এখানে..

এ জায়গাটাতেই ওরা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়৷

আবারো বলছি, ওরা এখানেই মারা গেছে৷

আপনি কি এখান থেকে দেখেছিলেন?

হ্যাঁ...

না,না, এখান থেকে না৷ ওখান থেকে দেখেছি৷

এই যে এখান থেকে৷

আমি এখানে দাঁড়িয়ে ছিলাম, আমার ছেলে ওর বাবার কাছে যাচ্ছিল..

...জন্মদিনের উপহার দিতে৷

- তারপর? - হঠাৎ বিদ্যুৎ-চমকের আওয়াজ৷

অসহায়ের মতো দাঁড়িয়ে আমি ছেলেকে...

...আর স্বামীকে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হতে দেখলাম...

কেন আপনি বারবার মিথ্যা বলে যাচ্ছেন?

আমি যা দেখেছি তাই বলছি!

বিকট আওয়াজ সহকারে বিদ্যুৎ-চমক!

কিছু বুঝে ওঠার আগেই ওরা বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়...

কোন দিক থেকে এসেছিল এটা?

এদিক থেকে৷

আপনি মিথ্যা বলছেন না, ম্যাডাম৷

আপনি সত্যই বলছেন৷

২৬ তারিখ এখানে ডিউটিতে কে ছিল?

-আপনাদের পরিচয়? -পুলিশ৷

এলাংগো, ২৬ তারিখ ডিউটিতে তুমি ছিলে না?

-২৬ তারিখ? -হুম৷

আরে ঐ দিন না একটা লোক তোমাকে বিভিন্ন প্রশ্ন করে বিরক্ত করছিল?

ওহ হ্যাঁ, সেদিন ডিউটিতে আমি ছিলাম৷

সে রাতে কি কাউকে ছাদে উঠতে দিয়েছিলে?

-এসি কোম্পানির কয়েকজন উঠেছিল৷ -কয় জন?

-তিন জন৷ -তুমিও কি তাদের সাথে উঠেছিলে?

বৃষ্টি পড়ছিল, তাই আমি আর যাইনি৷

তাদের সাথে কি কিছু ছিল?

চার-পাঁচটা বড় বড় বাক্স ছিল৷

ওদের সাথে কি এই লোকটাও ছিল?

স্যার, ইনি তো খুব ভাল মানুষ৷

যথারীতি তোমার কান্ড কিছুই বুঝছি না!

এখানে কী জন্য আসলে? ঐ মহিলাটার সাথেই বা এমন করলে কেন?

প্রথমে বিকট আওয়াজ, এরপর বিদ্যুৎ-চমক৷

কথাটা পুরোপুরি মিথ্যা৷

তুমি না মহিলাটাকে বললে এটা সত্য?

ক্লাস ফাইভের বইয়ে পড়নি, "শব্দের চেয়ে আলোর গতিবেগ বেশি"?

বিদ্যুৎ-চমকের পর বজ্রপাত হয়৷

একটা ছোট বাচ্চাও সেটা জানে৷

কিন্তু সোরনাভেলের ভূমিকা তো বুঝলাম না?

বজ্রপাত,আবহাওয়া,প্রকৃতি,স্থানান্তর কৌশল-

এগুলো নিয়ে সে পড়াশোনা করছিল৷

এরপরেই সেই অদ্ভুত বিদ্যুৎ-চমক...

দিবাকর প্রাকৃতিকভাবে বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে মারা যায়নি..

সে মারা গেছে সোরনাভেলের তৈরিকৃত কৃত্রিম বিদ্যুৎ-চমকে৷

এটা কোন দূর্ঘটনা ছিল না৷

এটা ছিল পূর্বপরিকল্পিত একটা হত্যাকাণ্ড,মাই ফ্রেন্ড৷

কোন কেইসের ব্যাপারে, স্যার?

মারা যাওয়ার পূর্বে আপনাদের অফিসের দিবাকর ব্যাঙ্গালোর যাওয়ার প্লান করছিল৷

তার উদ্দেশ্য কী ছিল?

স্যরি, সেটা তো অভ্যন্তরীণ তথ্য৷ আমি বলতে পারব না৷

উনি একজন প্রাইভেট ডিটেকটিভ, আর আমি সিবি-সিআইডি অফিসার৷

আমরাই তাকে এই কেইসের জন্য নিয়োগ দিয়েছি৷

আপনি সোজা পথে না হাঁটলে আমরা আপনাকে অফিসে ডাকতে বাধ্য হব৷

দিবাকর ব্যাঙ্গালোর যাচ্ছিল কেন?

-একটা টেন্ডারের জন্য৷ -কীসের টেন্ডার?

ম্যাডিসন রুথ-এর একটি সফটওয়্যার টেন্ডার৷

- টেন্ডারের কী হল পরে? - আমাদের প্রতিপক্ষের হাতে গেছে৷

- আপনাদের কোম্পানির নাম? - ইনটেন সলুশন৷

ব্যাঙ্গালোরে কি আর কারো যাওয়ার কথা ছিল...

না স্যার, দিবাকরই কোম্পানির সিইও এবং প্রধান সফটওয়্যার ইঞ্জিনিয়ার৷

-অর্ডার মূল্য কত ছিল? -দশ মিলিয়ন ইউএস ডলার৷

ইনটেনে'র প্রতিপক্ষ থেকে প্রতিনিধি কে ছিল?

রামপ্রসাদ৷

এভাবে পথ বন্ধ করে রাখলে আমরা গাড়ি বের করব কীভাবে?

কী করব স্যার, গাড়িটা হঠাৎ করে বিগড়ে গেল, বেশিক্ষণ লাগবে না৷

কী হল, কানি?

স্যার, কী সমস্যা?

স্যার, কী হয়েছে, স্যার?

-একটু পানি! -এক্ষুণি আনছি৷

এই যে ধরুন৷

এ্যাম্বুলেন্স ডাকতে হবে?

না, লাগবে না৷

আমার স্যুটকেস থেকে একটু ট্যাবলেট বের করতে পারবে?

কম্বিনেশনটা বলুন!

স্যার, খুলছে না তো!

নাম্বার কী বলেছিলাম যেন?

"3 2 9"

স্যরি, 4 2 9 হবে৷

নিন, স্যার৷

আপনি কোথায় ছিলেন, আংকেল? আমি আপনাকে খুঁজতে খুঁজতে অস্থির৷

উনার বুকে ব্যথা উঠেছিল৷

আবারও? ট্যাবলেট খেয়েছেন?

ছেলেটার সাহায্য না পেলে মুশকিল হত৷

তাহলে চলুন৷

আস্তে,

সাবধানে,

সাবধানে৷

একটু দাঁড়াও৷

-এটা রাখো... -না, না, স্যার দরকার নেই৷

-আরে রাখো! -না, স্যার প্রয়োজন নেই৷

কোন নাম্বার থেকে কল দিয়েছিল?

ঐটা আগে চেক করো!

,

রামপ্রসাদ স্যারের কাছে আপনাদের কাজ কী?

নীল শার্ট গায়ে ভদ্রলোকটা যে গেলেন উনিই রামপ্রসাদ সাহেব না?

আগে বলুন আপনারা কে? কেন তাঁর সাথে দেখা করতে চাইছেন?

উনি সিবি-সিআইডি অফিসার তামিজভানান, আমি শংকরলাল!

ওনার স্ত্রীর কাছে ওনাদের ছেলের কিডনাপিংয়ের খবর এসেছে৷

ওদের দাবীটা কী?

তুমি স্কুলে ফোন দিয়েছিলে?

ওদেরকে আগে ফোন না দিয়ে আমাকে কোন আক্কেলে ফোন দিয়েছ?!

কেউ হয়তো ফাইজলামি করছে!

ইডিয়ট, এখন ফোন রাখো!

আমিই কল দিচ্ছি স্কুলে৷

আমি ক্লাস সিক্সের সুরেশের বাবা রামপ্রসাদ বলছি৷

দয়া করে একটু চেক করে দেখবেন আমার ছেলে ক্লাসে আছে কী না!

জ্বী, আমি লাইনে আছি৷

এই বাজে গন্ধ কোত্থেকে আসছে?

কই, আমি তো কোন গন্ধ পাচ্ছি না৷

আমি কি বানিয়ে বলছি?

গন্ধে আমি টিকতে পারছি না!

গাড়ি একপাশে থামিয়ে দেখো গন্ধটা কোত্থেকে আসছে?

ক্লাস শেষ হলে দয়া করে ওকে আপনার রুমে বসিয়ে রাখবেন৷

আমি নিজে ওকে নিয়ে যাব৷

আমি ডিটেকটিভ কানিয়ান৷

কী দরকার আমার সাথে?

-স্যার, একটা মরা ইঁদুর! -ছেহ্! ওয়াক!

এটা গাড়িতে ঢুকল কেমনে?

-সকালেই তো পরিস্কার করলাম! -আরে গাধা, সরাও এটা!

পরিস্কার করলে আসল কোত্থেকে? নিজে নিজে জন্ম নিয়ে পরে আত্মহত্যা করেছে গাড়ির ভিতর??

ফালাও, যত্তসব!

এয়ার ফ্রেশনারটা চালু করো৷

কি বিশ্রী দূর্গন্ধ!

চালু করছ না কেন?

এটা তো আমাদের এয়ার ফ্রেশনার না, স্যার৷

যার মনে চায় তার হোক, তুমি চালু করো তাড়াতাড়ি!

-করছি স্যার৷ -আপনি আমার উকিলের সাথে কথা বলুন৷

গবেষণা অনেক করেছ, দয়া করে এবার গাড়ি ছাড়!

সমস্যাটা কি আপনার?

আমার নাম্বার কীভাবে পেলেন?

বললাম না, যা বলতে হয় আমার উকিলকে বলুন!

বাপরে, কী দুর্গন্ধ!

জানালাটা উঠিয়ে দাও৷

জানালাটা উঠিয়ে দাও, মুরুগা!

ঐ গাড়িটাই না?

এত জোরে চালাচ্ছ কেন?

গতি কমাও!

বলেছি গতি কমাতে৷

আমার কথা না শুনে..

তুমি হাসছ?

মাথা কি খারাপ হয়ে গেছে?

পাগল হয়া গেলা নাকি?

আমার মাথায় কিছুই ধরছে না, কানি৷

দশ মিলিয়নের টেন্ডারটার জন্য রামপ্রসাদ দিবাকরকে খুন করতে ঐ দলটাকে টাকা দিয়েছিল৷

আমরাই কেবল জানি যে দিবাকর খুন হয়েছে৷

রামপ্রসাদের সাথে আমাদের সাক্ষাৎ হওয়ার আগেই...

...ওরা নাইট্রোস গ্যাস ভর্তি ফ্রেশনার গাড়িতে রেখে তার ব্যবস্থা করে ফেলেছে৷

এক ধরণের হাসানোর গ্যাস, দ্বাদশ শ্রেণিতে পড়নি এটার সম্পর্কে?

নাইট্রোস গ্যাস শ্বাস-প্রশ্বাসের সাথে শরীরের ভিতরে গেলে..

ব্রেইন এবং ইন্দ্রিয়ে তীব্র বেগ সম্পন্ন রক্ত পৌঁছে যায়৷

ফলে চরম আনন্দানুভূতির সৃষ্টি হয়৷

আক্রান্ত ব্যক্তির প্রতিক্রিয়া হবে কাউকে কাতুকুতু দিলে যেমন করে সেরকম৷

ধীরে ধীরে শরীর নিয়ন্ত্রণহীন হয়ে পড়ে৷

পাড় মাতালের মতো অবস্থা হয় এবং পরিশেষে...

তাদের উভয়ের মৃত্যুর কারণ এই নাইট্রোস অক্সাইডই৷

আমাদের "অদৃশ্য বন্ধুরা"...

...দ্বিতীয় বারের মতো একটা খুনকে দূর্ঘটনার চাদরে ঢেকে দিয়েছে৷

এবং আমাদের থেকে এক ধাপ এগিয়ে গেছে৷

মাথাটা হ্যাং হয়ে যাচ্ছে, কানি৷

কামলেশ, প্রথমবারের মতো একটা ভুল...

ওরা তামিল বুঝে না৷

একটা ছোট্ট ভুল হয়ে গেছে৷

এ পর্যন্ত আটটা সোফা দিয়েছি আমি৷

সবকিছু ঠিকঠাক মতোই চলছিল৷

এবারে গোলমাল হল কেন?

-আমি সামলে নিব৷ -কীভাবে?

রামপ্রসাদের মতো হত্যা করে?

ভিন্ন কোন পথ ছিল না, তাকে মরতেই হতো!

রামপ্রসাদ আমাদের ক্লায়েন্ট ছিলরে ভাই!

তিন-তিনশ কোটি রূপী দিয়েছিল সে!

কোন কিছু গলার চারপাশে আটকে বসলে, হয় সেটা ফেলতে হবে নয় তোমাকে মরতে হবে!

তুমি কি আমাদেরকে জেলে যেতে বলছ?

ঐ গোয়েন্দা যদি রামপ্রসাদের নাগাল পেত, আমরা এতক্ষণে চৌদ্দ শিকের ভিতর থাকতাম!

তাই এটা করা ছাড়া উপায় ছিল না৷

ক্লায়েন্ট হওয়া সত্ত্বেও মারতে হয়েছে তাকে৷

মরবে ঐ গোয়েন্দাটাও!

- ঐটার ব্যবস্থা হয়ে গেছে৷ - কী?!

সব প্রফেশনাল লোক, কাজটা ঠিকমতোই শেষ হবে৷

তোমার কাজ হল ক্লায়েন্ট খুঁজে বের করা৷

অন্য কাজে নাক না গলালেই ভাল করবে৷

ঐ গোয়েন্দার জন্য আমাদের গুছানো পরিকল্পনা ছিল৷

এখন সবকিছু পরিকল্পনা অনুযায়ী করা লাগবে৷

এত পরিকল্পনা-টরিকল্পনা করার সময় নেই আমার৷

ওদেরকে বলেছি ব্যাটার মাথাটা কেটে নিয়ে আসতে৷

আমি ওর মগজগুলো নিয়ে ব্যক্তিগতভাবে...

...গবেষণা করে দেখতে চাই৷

শুভেচ্ছা, স্যারেরা!

- খাবে না! - কেন?

খাওয়ার ভান করে যাও৷

ঘটনাটা কী?

আমরা আসার পর একে একে সবাই বের হয়ে যাচ্ছে!

মানো, যা বলছি শুনো৷

ধীরে-সুস্থে এখান থেকে বের হয়ে যাবে৷

তারপর?

রাস্তার কোনায় গিয়ে আমার জন্য অপেক্ষা করবে৷

তিন মিনিটের মধ্যে আমাকে না দেখলে পুলিশ ফোর্স নিয়ে ফিরে আসবে৷

- আমি থাকলে... - যা বলছি সেটা করো, যাও!

কামলেশ নামে এক লোক এদের ভাড়া করেছে৷

সে এখন কোথায়?

হোটেল শেরাটনে আছে এখন৷

আংকেল আর ডি কি এখানে?

তারা ছিল৷

একটু আগে চলে গেছে৷

আমি বিজয় কুমার, এসিস্ট্যান্ট পুলিশ কমিশনার৷

২৭০১ নং রুমের গেস্টের ব্যাপারে সব ধরণের তথ্য চাই আমার৷

ওনার নাম কামলেশ৷

কতদিন যাবৎ এখানে আছে সে?

আপনারা ওর ঠিকানা রাখবেন না?

কামলেশের রুমের চাবিটা দিন তাড়াতাড়ি!

জলদি দিন!

কে তুমি?

আরে কে তুমি?

- কে তুমি? - সে তো উত্তর দিচ্ছে না!

স্যার, আপনার ভবিষ্যৎ ভাল হবে না দেইখেন!

সামান্য একটা কলার জন্য তুমি একজন পুলিশকে অভিশাপ দিচ্ছ!

- মার্লব্রো সিগারেট আছে? - না, স্যার৷

বাইকটাকে থামাও!

- ধরো এদেরকে! - অনুসরণ করো,কারা এরা?

আরো গতি বাড়াও! আরো..

থাম বলছি!

এই বাইক থামা বলছি! বাইক থামা!

থামবি না তাহলে?

ভাল হবে না বলছি!

পাশে যাও, পাশে!

এই থাম বলছি..

এসব কী?? এই...মানো!

- এদিকে আসো! - আসছি৷

- এদিকে আসো এক্ষুণি৷ - কী হয়েছে?

কার অনুমতিতে তুমি আমার শার্ট পড়েছ?

- কে তোমাকে অনুমতি দিয়েছে? - আরে থামো একটু!

ওর জামা বাসে করে আসার সময় দূর্ঘটনাবশতঃ ছিড়ে গেছে৷

আমি ওকে বলেছি বাসার যে কোন একটা জামা পরতে আপাতত...তুমি যাও!

তুমিই না বেচারিকে চাকুরি দিলে এখানে?

আর এখন তুমিই পান থেকে চুন খসলেই ওর সাথে দুর্ব্যবহার করো!

আমি বলেছি একটা জামা পরতে, ও তোমার একটা নিয়েছে, অসুবিধাটা কী এখানে?

এত এত বই পড়েও ছোটখাট জিনিস কেন যে তুমি বোঝ না!

এসব প্রথমেই বললে না কেন যখন জিগেস করেছিলাম?

গাধার মতো দাঁড়ায় থাকতে জানে খালি! শার্টটা কই?

বহুদিন যাবৎ কেনাকাটা করা হয় না৷

চল কিছু কেনাকাটা করে আসি৷

তোমার জন্যও৷

এটা কোন চা হইল!

রেডি হও, তোমার জন্যও কাপড় কিনব৷

মাথা কি খারাপ?

ওর কাছে ছুড়ি ছিল, যদি তোমাকে মেরে বসতো?

- আপনাকে ছুড়ি মারতে যাচ্ছিল সে৷ - তো কী হয়েছে, মারতো!

আমার পেশাটাই এমন, গোয়েন্দাদের জীবনে এসব ডাল-ভাত৷

যে কোন সময় আমি মারা যেতে পারি৷

- না, আপনি মরতে পারেন না! - কেন?

কেন আমি মরতে পারি না!

একদিন না একদিন সবাইকে তো মরতেই হবে৷

ভাল মানুষেরা মরতে পারে না৷

- আমি কোন ভাল মানুষ নই৷ - অবশ্যই আপনি ভাল মানুষ, স্যার৷

- আরেকবার যদি এই ফাও কথা... - এটাই সত্য, স্যার৷

- আর না হয় কি আমার মতো একজন পকেটমার.. - তুমি আর এখন পকেটমার নও!

এখন তুমি এখানে আছ না?

তুমি আবার কোথায় যাচ্ছ?

- সেলফের বইগুলো ঠিক করতে৷ - লাগবে না!

এখানেই থাকো, দেখছ না আমি একা এখানে?

এমনে হাঁ করে কী দেখছ?

নীচে তাকাও!

যতসব ঢং খালি!

সামনের থেকে সরো এখন! যাও!

আমি বলছি দেখেই চলে আসবে? কমনসেন্স বলতে কিছু নাই!

ধন্যবাদ, মাল্লিকা৷

- কী নিবেন আপনারা? - না, ধন্যবাদ৷

আমাদের ডেকেছেন কেন?

আমরা কিছু ফোন রেকর্ডের মাঝে যোগসুত্র খুঁজে পেয়েছি৷

ছাদ থেকে পড়ে মারা যাওয়া কারমেগাম, গাড়ি একসিডেন্টে মারা যাওয়া রামপ্রসাদ,

হোটেলের কামলেশ- এদের নাম্বারে৷

এরা তিনও জন একই সিম থেকে অনেকগুলো কল রিসিভ করেছিল৷

সিমকার্ডটা কোথায় বিক্রী হয়েছিল বের করতে পেরেছেন?

দুই মাস আগে টাডা'র কাছাকাছি এক দোকান থেকে বারটা সিমকার্ড বিক্রী হয়েছিল৷

- কোথানদারামান নামে একজন কিনেছিল৷ - সে কী করে?

সে বাড়ি-ঘর বিক্রীর দালাল৷

দোকানদার আইডি প্রুফ রাখেনি?

সে তার ঠিকানার ফটোকপি দিয়েছিল, ছবি দিয়েছিল,

- ড্রাইভিং লাইসেন্সও দিয়েছিল৷ - ঠিকানায় কী লেখা ছিল?

"গোল্ডেন ট্রি ফার্নিচার"৷

কামলেশ ছিল এটার মালিক, কাগজে তার স্বাক্ষর-সিলও ছিল৷

- খুন হওয়া কামলেশ? - হুম, সে-ই৷

আর কামলেশের ঠিকানা দেওয়া- "পাইলট থেটেরেইন নয়াপাত্তা"৷

- ফেইক ঠিকানা৷ - ঠিক ধরেছেন৷

- ঐ দালালটাকে ধরার কোন ব্যবস্থা নিয়েছেন? - নিয়েছি৷

টাডা অন্ধ্র প্রদেশের ভিতরে পড়ে, আমরা এফআইআরের সুযোগ পাচ্ছি না!

লোকাল সাহায্য নিচ্ছি আমরা৷

দালালটা দশ হাজার টাকা পেয়েছিল এ কাজের জন্য৷

কে দিয়েছিল?

- একজন প্রবীন লোক৷ - কেমন বয়সী?

ষাট-পয়ষট্টির মতো হবে৷

আর কোন বর্ণনা?

পোশাকে-আশাকে অভিজাত, কথা কম বলেন৷

রামপ্রসাদ আর কামলেশের ঘর সার্চ করে কি কিছু পাওয়া যাবে বলে মনে হয়?

রামপ্রসাদের ঘর সার্চ করতে পারছি না, কারণ আমাদের কাছে ওয়ারেন্ট নেই৷

- আর কামলেশের তো ঠিকানাই জানি না আমরা! - রামপ্রসাদের একাউন্ট চেক করেন তাহলে৷

কিছু পাবেন বলে আশা করি৷

আমি চকো চকো খাব!!

- আমি আগে যাব৷ - না, আমি আগে!

- আমি আগে!

কীসের একটা শব্দ হল?

কই, কীসের!

কী সমস্যা?

পোকা কামড় দিয়েছে মনে হয়৷

- আরে কী হল? - চলো!

উঠো! এখানেই থাকবে আর নড়াচড়া করবে না!

- কী হয়েছে? - জলদি ফোরটিস হাসপাতালে আসুন!

ওদের পেছনে পেছনে চলো!

এমন কেইসের ব্যাপারে আগেও পড়েছি৷

ঘাতক ১.৭ মিলিমিটারের পেরেকের গায়ে গর্ত করে সেখানে ০.৫ মিলিমিটার 'রাইসিন' ঢুকিয়ে দেয়৷

মোম দিয়ে গর্তটা পুরে দিয়ে টার্গেটের গায়ে যেভাবে পারে ঢুকিয়ে দেয়৷

এটা শরীরে ঢুকার সময় পোকার কামড়ের মতো অনুভূতি হয়৷

পেরেক শরীরে ঢুকে যাওয়ার পর...

...দেহের স্বাভাবিক তাপমাত্রার কারণে মোম গলতে শুরু করে৷

মোম পুরোপুরি গলে গেলে পেরেকের ভিতরের 'রাইসিন' বের হয়ে আসে৷

ধীরে ধীরে শুরু হয় রাইসিন'র প্রতিক্রিয়া...

দেহের অঙ্গ-প্রত্যঙ্গগুলো অকেজো হতে শুরু করে৷

কিডনি,লিভার আর ব্রেইনের ভিতরে রক্তক্ষরণ ঘটায় এই রাইসিন৷

ব্লাড প্রেসার, স্ট্রোক সবশেষে কোমা-

তিন দিনের বেশি ভিক্টিম সাধারণত টিকে না৷

- তাহলে পলের মৃত্যুর কারণও এটি? - হুম৷

আপনাদের পরিচয়?

গত মাসের তেইশ তারিখের ইভিনিং শো-র সিসিটিভি ফুটেজ কোথায়?

কে আপনারা? আমার অফিসে দাঁড়ায়ে আমাকে নির্দেশ দিচ্ছেন?

পরিচয় পাওয়া গেল?

পেছনে নিন৷

চালান৷

ঐ তো বাবা৷

আরেকটু আগে!

জুম করুন৷

ঐ দিন ইভিনিং শো-র ভিন্ন ভিন্ন তিন সিটের তিনটা টিকেট একই লোক কেটেছিল৷

এফ-৮, ই-৭, ডি-৬৷

- টাকা কি ক্রেডিট কার্ড দিয়ে পরিশোধ করেছিল? - হুম, 'জি ব্যাংক'৷

কার্ডটা আরানি নামের একটা মেয়ের নামে করা৷

- মনে হচ্ছে ফ্লাশটা ভাঙ্গা হয়েছিল, চেক করুন৷ - জ্বী স্যার৷

চারজন ইলেক্ট্রিক ইঞ্জিনিয়ার লাগবে৷

কী খবর?

কথা আছে আপনার সাথে৷

কী বিষয়ে কথা বলতে চাইছ?

এক কাপ কফি পেতে পারি?

আমাদের অফিসে রেইড হয়েছে, আংকেল৷

আইএটিএ সার্টিফিকেটে আপনার নাম-ঠিকানা দেয়া আছে৷

যার মানে হল পুলিশ এখানেও আসবে, আমরা সবাই ধরে পড়ে যাব৷

দুঃখিত, আংকেল৷

এটা কৃত্রিমভাবে বিদ্যুৎ উৎপাদনকারী যন্ত্র, খুনীরা প্রথম খুনে এরকম একটা ব্যবহার করেছে৷

আমরা একটা ডামি শো-র আয়োজন করেছি, তারা কীভাবে কাজটা করল নিশ্চিত হওয়ার জন্য৷

সবাই দয়া করে পিছনে যান!

পিছে যান!

আরো পিছে৷

কী হয়েছে? আবার অপারেশন?

কোন প্রয়োজন হলে দয়া করে ডাক দিবেন!

এমন দৌঁড়ে কোত্থেকে এলে?

একটা মেসেজ এসেছিল৷

কী লেখা?

লেখা- "তোমার একজন বন্ধু মারা যেতে চলেছে"৷

আমি তো ভেবেছিলাম তোমাকে হারাতে চলেছি৷

কাকে চান?

- ডিটেকটিভ কানি কি আছে? - জ্বী না, আপনি কে?

- আমি ওর বন্ধু৷

ভিতরে আসুন৷

বসুন না, প্লিজ৷

গ্রীন টি দিব আপনাকে?

তাহলে কী খাবেন বলুন৷

- এক কাপ কফি৷ - আচ্ছা৷

কী হইল?

রিং হচ্ছে, কিন্তু কেউ ধরছে না৷

প্লিজ, এখানে রাখুন৷

মানো, কী হয়েছে মানো?

- কানি, যেয়ো না ওদিকে! - সরো!

কেন তুমি...

কেন আসলে এখানে তুমি?

এই হতভাগা লোকটার বাসায় আসার কী দরকার ছিল তোমার?

সব আমার দোষ!

তুমি আমাকে মরতে দিলে না কেন?

কেন এ দিনটা দেখতে হল আমাকে?

এই হতভাগার বাসায় কেন আসলে তুমি?

নিজের বাসায় পড়ে থাকলে না কেন?

বহু লোকের জীবন বাঁচিয়েছি আমি৷

কিন্তু তোমাকে....

তোমাকে আমি বাঁচাতে পারলাম না!

তুমি কেন নিজেকে বদলে ফেললে?

কেন আমার জন্য নিজেকে বদলালে তুমি?

তুমি পকেটমার থেকে গেলে না কেন?

আমি এখনো পকেটমার, স্যার!

বল্!

বল্..

বল্,ওদের সাথে তোর কীসের সম্পর্ক?

আমি আর কামলেশ...

...একসাথে লয়লা কলেজে পড়েছি৷

ও আমাকে মাসিনাগুদিতে নিয়ে যায়৷

সেখানে...

ডেভিল...

ও আমাকে ডেভিলের গ্যাংয়ের সাথে পরিচয় করিয়ে দেয়৷

বড় বড় জায়গায় হাত দিতাম আমরা৷

দূর্ঘটনার নামে কেইসগুলো বন্ধ হয়ে যেত৷

কোটি কোটি টাকার ব্যাপার-স্যাপার ছিল৷

ডেভিল পেত লভ্যাংশের ষাট ভাগ,

কামলেশ পয়ত্রিশ ভাগ,

আর আমি পাঁচ ভাগ৷

এসিপি পলকে খুন করলে কেন তোমরা?

'সুন্দারা ভবন' এর মালিক রত্নসভাপথি...

..নিজের ড্রাইভারের স্ত্রীকে ধর্ষণ করে মেরে ফেলে৷

এসিপি পল ঐ কেইসের তদন্ত করছিল৷

কামলেশ রত্নসভাপথি'র সাথে দেখা করে ...

...নব্বই কোটি রূপীর চুক্তি করে৷

এরপর সেদিন সিনেমা হলে এসিপির শরীরে বিষ ঢুকিয়ে দেয়া হয়৷

তোমাদের সাথে সোরনাভেলের সম্পর্ক কী?

সে এখন কোথায়?

কামলেশ এভিয়েন সিস্টেম'র মালিক রামপ্রসাদের সাথে যোগাযোগ করে...

...এবং তিনশ কোটি রূপীর একটা চুক্তি করে আসে৷

ইনটেন সলুশনের সিইও দিবাকরকে খুন করার চুক্তি৷

...খুনের পরিকল্পনা তৈরি হয়৷

সোরনাভেল ঐ পরিকল্পনা বাস্তবায়নের ক্ষেত্রে মূল ছিল৷

আমরা দিবাকরের বাড়ির পিছনে একটা জেনারেটর বসাই...

...কৃত্রিম বিদ্যুৎ তৈরির মেশিন দিয়ে

...বিদ্যুৎ-চমক তৈরি করি৷

অপ্রত্যাশিতভাবে..

..ওখানে দিবাকরের ছেলে উপস্থিত হয়েছিল৷

বাবা-ছেলে উভয়েই ঘটনাস্থলে মারা যায়৷

সোরনাভেল খুব শকড হয়ে পড়ে৷

কারণ ছেলেটা ওর নিজের সন্তানের বয়সী ছিল৷

..."এ আমি কী করলাম"- বলে বলে অস্থির হয়ে যাচ্ছিল ও৷

এক পর্যায়ে পুলিশের কাছে আত্মসমর্পণের কথাও বলতে শুরু করল৷

অমন কিছু যদি ভুলেও করে...

..তাহলে ওর স্ত্রীকে খুন করে ফেলবে বলে হুমকি দেয় ডেভিল৷

পরবর্তী দুই দিন...

...সে ঘর ছেড়ে বের হয়নি৷

তৃতীয় দিন রাতে...

...সোরনাভেল ভিক্টর নামে এক পাসপোর্টের দালালের কাছে যায়৷

আমরা বুঝতে পারি জীবিত সোরনাভেল এখন আমাদের জন্য হুমকি স্বরূপ৷

ফলে তাকে মেরে ফেলার পরিকল্পনা করা হয়৷

ও পালাতে চেষ্টা করেছিল৷

বীচের মধ্যে ওকে আমরা ঘিরে ধরি৷

ডেভিল সোরনাভেলকে গুলি করে৷

হঠাৎ কোত্থেকে এক কুকুর উদয় হয়, ডেভিলের হাত কামড়ে দেয় কুকুরটা৷

ডেভিল কুকুরটাকে গুলি করে, কিন্তু কুকুরটা পালিয়ে যায়৷

সব ধরণের গোপনীয়তা নিশ্চিত করতে...

...আমরা বডিটাকে ভ্যানে তুলে বাসায় নিয়ে যাই৷

কিন্তু গোয়েন্দাটা কীভাবে যেন টের পেয়ে যায়৷

ভুলটা আমরা কোথায় করেছি জানা নেই, কীভাবে সে আমাদের পিছে লাগল তাও জানি না৷

ডেভিলের আসল পরিচয় কী?

আমি জানি না৷

আমি পুলিশ রেকর্ড পর্যন্ত ঘেটে দেখেছি৷

তার ব্যাপারে কণা পরিমাণ তথ্যও পাইনি৷

ডেভিল...

...যথার্থ অর্থেই 'ডেভিল'৷ সে এক অদৃশ্য সত্ত্বা৷

এখন সে কোথায়?

আমি জানি না৷

- বল্ কোথায় সে? - কসম বলছি, জানি না স্যার৷

যা যা জানি সব বলে দিয়েছি আমি স্যার৷

বিশ্বাস করুন, স্যার৷

দিব্যি কেটে বলছি আর কিছু জানি না৷

কানি, এখন আমাদের পরবর্তী পদক্ষেপ কী?

কে?

- ভিক্টর? - কী চাই?

অফিসার মুথুকে গুলি করেছে ওরা৷ উনি মারা গেছেন৷

গোয়েন্দা বাবুর জেটটা খালি অবস্থায় পড়ে আছে,স্যার৷

মাথা তুলবেন না, স্যার!

মাথা তুলবেন না, ওরা আপনাকে গুলি করবে, স্যার৷

বহু মাথা কাটা পড়তে যাচ্ছে আজ, দ্রুত আসুন!

আপনি সরে পড়ুন, স্যার৷

ডিটেকটিভটাকে এখানে আসতে বলো!

কানিয়ান, এখানে আসবে না!

এখানে আসবে না!

কানি, তাড়াতাড়ি আসো!

ডাকো তাকে৷

দোন হাত পিঠের পিছনে নিয়ে রাখো৷

তোমার বাসার মেয়েটাকে মারার পর...

...আমি নিজস্ব স্টাইলে কিছু গোয়েন্দাগিরি করি৷

তোমার ড্রয়ারে একটা প্যাকেট ছিল৷

ভিতরে ছিল আমার বুলেটটা৷

মুহূর্তে সবকিছু পরিস্কার হয়ে যায় আমার সামনে৷

আমি কুকুরের খুনীর অনুসন্ধানে থাকা ছেলেটাকে খুঁজে বের করি৷

...এবং এখানে নিয়ে আসি৷

তুমি হেরে গেছ৷

আমি জিতেছি৷

নাও, তোমার প্রিয় হারমোনিকা বাজাও, আমি তালে তালে নাচব৷

তুমি আমাকে প্রচুর জ্বালিয়েছ ডিটেকটিভ, প্রচুর!

হাত-পা বাঁধা একটা মানুষকে মারছ! সাহস থাকলে রশি খুলে দিয়ে মারো!

নাভিন, এসব দেখো না৷ ভিতরে চলে যাও!

তুই পালাতে পারবি না, বদমাশ!

খুব শীঘ্রই এ জায়গা ছেড়ে চলে যাব আমি৷

কেউ আমার টিকিটিও ছুতে পারবে না৷

একটু জিরিয়ে নাও!

ফিরে এসে তোমাদের যমের বাড়ি পাঠাচ্ছি৷

আমার সাথে চালাকি হচ্ছে ডিটেকটিভ?

বেশ, যেদিকে মন চায় সেদিকে ফিরে শোও, মরার সময় চলে এসেছে৷

তোর মরার সময় হয়েছে শয়তান!

তাই নাকি? তাহলে তোমাকেই প্রথমে মারি৷

'সেসিল রানাসিংহ'

পাসপোর্টে তোমার নাম এটাই৷

পাসপোর্টের দালাল ভিক্টর সব বলেছে আমাকে৷

সেসিল রানাসিংহ শ্রীলংকান নাম৷

কিন্তু তুমি শ্রীলংকান নও৷

শ্রীলংকায় যাচ্ছও না৷

বুঝতে পেরেছ কী বলেছি?

এসব তুমি জানলে কীভাবে?

আমি শ্রীলংকান অ্যাম্বাসিতে খোঁজ নিয়েছি৷

সেসিল রানাসিংহ শ্রীলংকার একটা জাহাজে ডেক অফিসার হিসেবে চাকুরীরত ছিল৷

তিন মাস আগে জাফনা'য় একটা দূর্ঘটনায় মারা পড়ে সে৷

তার পাসপোর্টের তথ্যসমূহ কে দিতে পারে তোমাকে?

বুঝে নিয়েছিলাম ঐ জাহাজে তোমার লোক ছিল৷

পেয়েছ ওটা?

কী পেয়েছি?

প্রশ্ন করার উদ্দেশ্য তোমাকে আমার কথা বুঝানো৷

শ্রীলংকান অ্যাম্বাসাডরের মাধ্যমে আমি ঐ জাহাজের ক্যাপ্টেনের সাথে কথা বলি৷

কিছু উত্তম-মাধ্যম সহকারে তোমার সাহায্যকারীদের ভয় দেখাই৷

ভয় পেয়ে ক্যাপ্টেন নিজেই সবকিছু স্বীকার করে বসে৷

আজ রাত সাড়ে সাতটায় শ্রীলংকার বন্দরের পেদ্রো পয়েন্ট থেকে..

...একটা মালবাহী জাহাজ ছেড়ে যাবে৷

কিছুক্ষণের মধ্যেই তুমি রওয়ানা হয়ে..

...ইন্ডিয়ান সমুদ্রসীমা থেকে একশ বিশ নটিক্যাল মাইল দূরে চলে যাবে৷

...এবং রাতে ঐ জাহাজে চড়ে বসবে৷

একটা মানুষের শরীরে নয়টা গর্ত থাকে৷

কিন্তু কাছে থেকে দেখলে তুমি দশটা গর্ত দেখবে৷

ছয়দিন পর জাহাজটা মালয়েশিয়ার বন্দর ক্লাংয়ে পৌঁছবে৷

ক্যাপ্টেন আমাকে বলেছে তুমি সেখান থেকে জাল ভিসা নিয়ে ফুকেত চলে যাবে৷

ষষ্ঠ গর্ত৷

ঠিকই বলেছ৷

- কিন্তু আমার আসল পরিচয়... - ২০১০ এর ২১শে সেপ্টেম্বর দিল্লীতে..

...টাকার জন্য তুমি চারজন ফরাসি দর্শনার্থীকে খুন করো৷

কাঠমান্ডুতে ২০০৮ সালে তিনজনকে খুন করো৷

এগুলা কীভাবে জানো তুমি?

তোমার বেল্টের হাতলের পিন থেকে৷

বলো কেমনে জান তুমি এসব?

গত বিশ বছরে ইন্ডিয়াতে যত অসমাপ্ত কেইস রয়ে গেছে সব আমার মুখস্থ৷

আমার বাসার মেয়েটা, মাল্লিকা...

না...

আমার একটা প্রিয় মানুষ, মাল্লিকা যাকে তুমি হত্যা করেছ...

ওর রক্তে আমি তোমার পায়ের ছাপ পেয়েছি৷

প্রতিটা খুনের স্পটে তোমার ফেলে আসা একমাত্র সূত্র..

...তোমার পায়ের ছাপ৷

তোমার জুতার মাপ '১২'৷

উচ্চতা কমপক্ষে ছয় ফিট দুই ইঞ্চি৷

- 'ভালবাসার সুর'৷ - কীহ?

'ভালবাসা মুক্তির পথ দেখায়৷'

'জট খুলতে উভয়টার সাহায্য লাগবে৷'

আন্দামানের এক দ্বীপে ২০০২ সালে...

...জার্মান এক দম্পতিকে দগ্ধ অবস্থায় পাওয়া যায়৷

তাদের সাথের দীর্ঘদেহী গাইডটাকে পাওয়া যায়নি৷

আন্দামান পুলিশ কেইসটা বন্ধ করে দিয়েছিল৷

আমি কেইসটার ফাইল আবার খুলেছি৷

আন্দামান কোস্টগার্ডে থাকা আমার এক বন্ধুর সাথে যোগাযোগ করি৷

...তাকে ঐ গাইডের ট্রাভেল এজেন্সিতে খোঁজ নিতে বলি৷

জন্মসনদে ঐ গাইডের ঠিকানা দেয়া ছিল৷

তার জন্ম এক গ্রামে৷

তুমি ফুকেত যাচ্ছ না৷

ফুকেতের দক্ষিণে ৫৪৩ কিলোমিটার পথ অতিক্রম করলেই...

...নিকোবার আইল্যান্ডের একটা গ্রাম পড়বে, 'খালেসি'৷

ঐ গ্রামে এক অন্ধ মহিলা রয়েছেন৷

তোমার মা, যার কোন ধারণাই নেই তোমার খুনী হয়ে যাওয়ার ব্যাপারে৷

তুমি কথা দিয়ে এসেছ অনেক টাকা কামাই করে ফিরবে৷

তিনি নিজের ছেলের জন্য অপেক্ষা করছেন, হোলচা!

জন রিচার্ডসন হোলচা৷

তুমি জিতেছ ঠিকই,

কিন্তু আমি হারছি না, ডিটেকটিভ!

আপনি আমার কুকুরটাকে কেন মারলেন, আংকেল?

আমি বহু মানুষকে হত্যা করেছি৷

কখনো ধরা পড়িনি৷

কিন্তু তোমার কুকুরকে হত্যা করে..

আমি ধরা পড়ে গেলাম৷

জীবনে কোনদিন...

...কাউকে এ বাক্যটি বলিনি৷ কিন্তু তোমাকে বলছি-

আমি দুঃখিত খোকা৷

সাবটাইটেলটি উপভোগ করার জন্য ধন্যবাদ৷ বিসাব প্রেজেন্টেশনে- আবীর ইউসুফ রুদ্র

ভাল লাগলে রেটিং করতে ভুলবেন না! যে কোন প্রয়োজনে ফেসবুকে- Abir Yousuf

বাই বাই, দেখা হবে থালাপথি ভিজয়ের Mersal- এ 😄

Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.