All language subtitles for Mufti.2017.UNCUT.720p.HDRip.x264.BSMBD

af Afrikaans
ak Akan
sq Albanian
am Amharic
ar Arabic
hy Armenian
az Azerbaijani
eu Basque
be Belarusian
bem Bemba
bn Bengali Download
bh Bihari
bs Bosnian
br Breton
bg Bulgarian
km Cambodian
ca Catalan
ceb Cebuano
chr Cherokee
ny Chichewa
zh-CN Chinese (Simplified)
zh-TW Chinese (Traditional)
co Corsican
hr Croatian
cs Czech
da Danish
nl Dutch
en English Download
eo Esperanto
et Estonian
ee Ewe
fo Faroese
tl Filipino
fi Finnish
fr French
fy Frisian
gaa Ga
gl Galician
ka Georgian
de German
el Greek
gn Guarani
gu Gujarati
ht Haitian Creole
ha Hausa
haw Hawaiian
iw Hebrew
hi Hindi
hmn Hmong
hu Hungarian
is Icelandic
ig Igbo
id Indonesian Download
ia Interlingua
ga Irish
it Italian
ja Japanese
jw Javanese
kn Kannada
kk Kazakh
rw Kinyarwanda
rn Kirundi
kg Kongo
ko Korean
kri Krio (Sierra Leone)
ku Kurdish
ckb Kurdish (Soranî)
ky Kyrgyz
lo Laothian
la Latin
lv Latvian
ln Lingala
lt Lithuanian
loz Lozi
lg Luganda
ach Luo
lb Luxembourgish
mk Macedonian
mg Malagasy
ms Malay
ml Malayalam Download
mt Maltese
mi Maori
mr Marathi
mfe Mauritian Creole
mo Moldavian
mn Mongolian
my Myanmar (Burmese)
sr-ME Montenegrin
ne Nepali
pcm Nigerian Pidgin
nso Northern Sotho
no Norwegian
nn Norwegian (Nynorsk)
oc Occitan
or Oriya
om Oromo
ps Pashto
fa Persian
pl Polish
pt-BR Portuguese (Brazil)
pt Portuguese (Portugal)
pa Punjabi
qu Quechua
ro Romanian
rm Romansh
nyn Runyakitara
ru Russian
sm Samoan
gd Scots Gaelic
sr Serbian
sh Serbo-Croatian
st Sesotho
tn Setswana
crs Seychellois Creole
sn Shona
sd Sindhi
si Sinhalese Download
sk Slovak
sl Slovenian
so Somali
es Spanish
es-419 Spanish (Latin American) Download
su Sundanese
sw Swahili
sv Swedish
tg Tajik
ta Tamil
tt Tatar
te Telugu
th Thai
ti Tigrinya
to Tonga
lua Tshiluba
tum Tumbuka
tr Turkish
tk Turkmen
tw Twi
ug Uighur
uk Ukrainian
ur Urdu
uz Uzbek
vi Vietnamese
cy Welsh
wo Wolof
xh Xhosa
yi Yiddish
yo Yoruba
zu Zulu

Original subtitles

"প্রতিটি যুদ্ধের কারণ হলো স্বার্থপরতা।"

"আর তার শেষ হচ্ছে ইতিহাস।"

ওখান থেকে চলে যাও!

যাও, চলে যাও!

আচ্ছা, স্যার! ঠিক আছে, স্যার!

তাড়াতাড়ি এসো!

অফিসার দ্রুত গাড়ি স্টার্ট করো!

তাড়াতাড়ি, তাড়াতাড়ি!

চলো, চলো! দ্রুত চলো!

যাও! যাও!

জোরে চালাও!

জোরে চালাও!

আরও জোরে!

ধ্যাত্তেরি!

লাইভ দেখতে চাস?

এখানে এমনকি জিটিভিও আসে না,

আর সেখানে তোর লাইভ দেখতে হবে!

আমি কোনও শিক্ষক নই,

কিন্তু...

সবাই যেন বুঝতে পারে এমন পড়া পড়াবো।

আমার তিনজন লোকের প্রাণ গিয়েছে।

যদি ওই রাক্ষসকে না ধরি,

তাহলে আমাদের অবস্থা আরও খারাপ হতে পারে।

সাবটাইটেল

সাবটাইটেল অনুবাদেঃ

সাবটাইটেল অনুবাদেঃ মুহাম্মাদ

সাবটাইটেল অনুবাদেঃ মুহাম্মাদ নাজমুল

সাবটাইটেল অনুবাদেঃ মুহাম্মাদ নাজমুল হাসান

সম্পাদনায়: রাকিব মুহাম্মাদ নাজমুল হাসান

গতবার নির্বাচনে বাজেভাবে হেরে, দলের ক্ষমতা পুনরায় ফিরে পাওয়ার জন্য...

বিরোধী দল এবারের নির্বাচনে সুরিয়া পার্টি আর আপনা দেশ পার্টির সাথে এক হয়ে...

এবার সরকার গঠন করতে যাচ্ছে।

এবার এই রাজ্যে মুখ্যমন্ত্রীর জন্য মিঃ গুরুকণ্ঠ ভান্ডারীকে বেছে নেয়া হয়েছে।

এই মাসের ২৯ তারিখে গভর্নরের উপস্থিতিতে উনি শপথ গ্রহণ করবেন।

আপনা দেশ পার্টির প্রধান রাঘুবির ভান্ডারী এমন কথাই স্পষ্ট করে বলেছেন।

একে তিওয়ারির হাতে দিয়ে দাও।

একে তিওয়ারির হাতে তুলে দেওয়ার জন্য ভাই আদেশ দিয়েছেন।

কী মারাটাই না মেরেছে!

কিন্তু কেউই বাঁচাতে আসেনি।

ওই!

সাইজ দেখে মাছের টুকরা করো।

আমি এদেরকে যেমন টুকরো টুকরো করব।

তাহলে খেতে অনেক সহজ হবে।

ভাই, চিন্তা করবেন না, আর জাহাজ পাঠিয়ে দিন।

আমি মাল নিয়ে চলে আসব।

আজ থেকে এই বন্দরের জায়গা আমাদের!

তোরা হাসছিস কেন?

হাসছিস কেন?

কী হলো?

কিরে, এত খাওয়াই পড়াই তারপরেও এক ঘুষিতে পড়ে যাচ্ছিস কেন?

যা!

আমি যখন কাউকে মারি তখন তাকে নিঃশ্বাস নেওয়ার সুযোগও দেই না।

সোজা লাশ বানিয়ে দেই।

তোর খোঁজ নেওয়ার জন্য তোর বন্ধুদের কেউ বেঁচে নেই।

শুধু তুই ছাড়া...

লোকেদের হাড় ভেঙে আমারও খুব দুঃখ লাগছে।

এক দুই গ্লাস মদে কিছু হবে না।

একসাথে দুই দুইটা মজা।

এসব কে করেছেরে?

পানামপুর রেলস্টেশনে ট্রেন রেললাইনে চড়েই আসে।

আর এই কথা সবাই জানে।

কিন্তু, ওই ট্রেন লাশের উপর দিয়ে আসার কথা খুব কমই লোকই জানে।

বৃষ্টির জন্য অপেক্ষা করার কোনও দরকার নেই,

ঢেউ নিজেই সব ময়লাকে পরিষ্কার করে দেবে।

কিছুদিন আগে বিপুল ভোটে জয়লাভ করা সংসদ সদস্য একনাথ নিম্বলকর...

কইরা থেকে রোনাপুর যাওয়ার সময় একটি বড় সড়ক দুর্ঘটনায় মারা গেছেন।

রাজ্যের সব পার্টির মানুষ ওনার এই মৃত্যুতে শোক প্রকাশ করছেন।

তোমার যোগ্যতা আছে।

তাই, কাজের জন্য তোমাকে রোনাপুর পাঠাচ্ছি।

তুমি রোনাপুর যাওয়ার আগে,

মাঙ্গালোর বন্দরে গিয়ে একটা কাজ করতে হবে।

ওখানে প্রচুর অবৈধ ব্যবসা চলছে।

আর ওটাই আমদানি রফতানির জন্য প্রধান বন্দর।

স্যার।

আমি রোনাপুর যাচ্ছি।

আজকের এই পরিস্থিতির জন্য আমি গত দুই বছর অপেক্ষা করেছি।

এটা মৃত্যুর যাত্রা!

ওখানে মানুষের রূপে এক রাক্ষস আছে।

ওর সামনে আঙ্গুল উঠালেও তাকে সে মৃত্যুর সাজা দেয়।

ছোট কেরানী থেকে শুরু করে এক নাম্বার অফিসারও, ওর সামনে প্রণাম করে।

পুরো সরকার নিজে থেকেই তার নিয়ন্ত্রণে চলে যায়।

রাজনৈতিক যোগাযোগের কারণে ওকে কেউ ছুঁতেও পারে না।

তথ্য আর প্রমাণ ছাড়া,

আমরা তার বিরুদ্ধে কোনও ব্যবস্থা নিতে পারব না।

আর এসব করতে গিয়ে এরমধ্যে পুলিশ বিভাগের বেশ কয়েকজন লোক মারা গেছে।

এবার আর এই সুযোগকে মিস করা যাবে না।

আর তুমি, একজন পুলিশ হিসেবে এই মিশনে যাচ্ছ...

এই কথা ভুলেও কেউ জানতে পারবে না।

এমনকি তোমার নিঃশ্বাসের বাতাসও জানতে পারবে না।

এরা সবাই আমাদেরই লোক।

কাউকে শেষবারের মতো কোথাও পাঠাতে এখানে এসেছে।

বিষ্ণু।

গানা।

আমি জানি।

সিনা এরমধ্যেই তোমার ব্যাপারে অনেক কিছু বলেছে।

বন্দর আর রোনাপুরের মধ্যে বিশাল পার্থক্য রয়েছে।

এখানে তো গুলি আর কথার মধ্যেও আকাশ পাতাল পার্থক্য রয়েছে।

এখানে সাহসে কাজ হয় না, মাথা খাটাতে হয়। ওসব বুঝবে না।

তুমি ধীরে ধীরে সব বুঝতে পারবে।

এখানে বেশ কয়েকটি কোম্পানি রয়েছে।

এটা দেখো সিমেন্ট কারখানা।

এর আবর্জনার মূল্যও কয়েক কোটি টাকা।

ভাইয়ের অধীনে হাজার হাজার লোক কাজ করে।

কিন্তু এই জায়গা যার নিয়ন্ত্রণে তার নাম হলো...

কাশি।

আরে, ওঠ!

তোর বাবা আর ভাই ওই ড্রামগুলোর মধ্যে রয়েছে।

এই তিনটা ড্রামের মধ্যে থেকে...

যদি তুই প্রথমে খালি ড্রাম উঠাতে পারিস,

তাহলে দুজনকেই ছেড়ে দেবো।

কিন্তু তুই যদি ভরা ড্রাম উঠিয়ে ফেলিস, তাহলে...

তাদের মৃত্যুর জন্য তুই নিজেই দায়ী থাকবি।

এখন ওদের জীবন মরণ তোর হাতে!

দাঁড়িয়ে আছিস কেন? নে, শুরু কর!

বাবার মৃত্যুর জন্য ছেলে দোষী হয়ে গেলো।

আমি তোকে আরও একটা সুযোগ দিচ্ছি।

নিজের ভাইকে বাঁচা।

এবার তুই ভরা ড্রামের উপর হাত রাখ।

দারুন! সাবাস!

ওর ভাইকে বাঁচিয়েছে। খুব ভালো করেছিস।

খুব ভালো।

কিরে! ওই!

তুই তো বেঁচে গেছিসরে! তুই তো বেঁচে গেছিস!

বেঁচে গেছিস!

ছোট ভাই তার বড় ভাইকে বাঁচিয়েছে।

কিন্তু, বড় ভাইকেও তো ছোট ভাইকে বাঁচাতে হবে, তাই না?

বড় ভাই হয়েও ওর জীবন তুই বাঁচাতে পারলি না, সেজন্য...

তোর বেঁচে থাকার কোনও অধিকার নেই।

ভাই, এ হচ্ছে গানা।

বন্দর এলাকা থেকে এসেছে।

এটা তোমার ঘর।

নতুন কোনোকিছু কেনার দরকার নেই।

এখানেই সবকিছু আছে।

কাছাকাছি একটা ক্যান্টিন আছে।

এখানে সবজি, মাংস দুইরকম খাবারই পাবে।

এই ঘরে একজন লোক থাকত।

কিন্তু, তিনমাস হয়েছে সে চলে গেছে।

বাসায় যায়নি, ওকে মেরে ফেলেছি।

স্যার, নমস্কার! স্যার, নমস্কার।

- নমস্কার, স্যার। - নমস্কার।

কর্ণাটকের মানুষের বিশ্বাসের কারণে...

আজ আমাদের পার্টি সর্বোচ্চ সিট পেয়ে নির্বাচনে জিতেছে।

আসুন স্যার, আসুন।

- নমস্কার। - নমস্কার।

বসুন।

মাফ করবেন, স্যার।

স্যার, রোনাপুরে আপনার পার্টির লোক ছাড়া...

অন্য কোনও পার্টি তাদের লোককে নির্বাচনে অংশ নেওয়াতে সাহস করেনি।

আসন্ন উপনির্বাচনে কে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে সে বিষয়ে পার্টিতে কোনও সিদ্ধান্ত নিয়েছেন?

উত্তর দেওয়ার জন্য এখন উপযুক্ত সময় নয়।

একনাথ নিম্বলকর খুব ভালো মানুষ ছিলেন,

তার মৃত্যুতে আমরা সবাই মনে কষ্ট পেয়েছি।

ওনার মৃত্যুতে আমাদের দলের পক্ষ থেকে,

আমি শোক প্রকাশ করছি।

আগামী নির্বাচনের ব্যাপারে আমরা এখনও কোনও সিদ্ধান্ত নেইনি।

নির্বাচনে কে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবে দলের নেতাদের সাথে এ সম্পর্কে আলোচনা করে...

আমি সবকিছু আপনাদের জানাবো।

আমাদের পুলিশ বিভাগের এক অফিসার তোমাকে রোনাপুরে সাহায্য করবে।

তোমার যা কিছু লাগবে, সে ব্যবস্থা করে দেবে।

কিন্তু, তুমি তার কাছে পরিচয় দিতে পারবে না, আর সেও তোমার কাছে পরিচয় দিতে পারবে না।

এই কথাকে তোমার মনে রাখতে হবে।

লাইটার।

ধন্যবাদ।

মনে হচ্ছে ও আমার পিছু নিয়েছে।

আমার পিছু আসছে!

এখনই গিয়ে জিজ্ঞেস করব।

হ্যালো।

অনেকক্ষণ ধরেই দেখছি তুমি আমার পিছু নিয়েছ।

তুমি নিজেকে কী ভাবো?

স্টাইল করে সানগ্লাস লাগিয়ে, আর ভদ্রলোক সেজে পিছু নিলে ভেবেছ, কিছুই বুঝতে পারব না?

তোমার মতো গুন্ডা বদমাশদের অনেক ভালো করেই চিনি।

আমার সাথে এসব চলবে না।

এভাবে তাকিয়ে কী দেখছ?

চুপচাপ এখন থেকে চলে যাও।

আর এক মিনিট এখানে থাকলে পুলিশকে ডাক দেবো।

আমাদের প্যাকেট পাল্টাপাল্টি হয়ে গেছে।

আরে, না!

ধন্যবাদ।

তোমার কণ্ঠস্বর খুব ভালো।

আরে এদিকে দে।

দে, দে! চল, চল!

তোমরা কে, বাবা?

তোমরা কাকে খুঁজছ?

আপনি কি একে চিনেন?

ও তো একজন পুলিশ।

ও পুলিশ?

আমার কথা মতো চললে, সে এতদিনে পুলিশ হয়ে যেত।

কিন্তু, ও আমার কথা শুনেনি।

আর, শেষ পর্যন্ত গুন্ডা হয়ে গেছে।

বছরের পর বছর লালন পালন করে কোনও লাভই হয়নি।

সে এখন কোথায় আছে তাও জানি না।

আর যদি জানতাম সে কোথায় আছে,

তাহলে তোমাকে বলব কেন?

আমি তার ব্যাপারে কথাও বলতে চাই না।

বল, বিন্দু।

- এক সড়ক দুর্ঘটনায় আমার পা ভেঙে গেছে। - কী?

সেজন্য শুটিং বাতিল হয়ে গেছে।

উফ, না!

কী হয়েছে?

বিজ্ঞাপনের শুটিং বাতিল হয়ে গেছে।

এরজন্য তোর এত খারাপ লাগছে?

শুটিং শুরু হলে চলে যাবি।

আমার বন্ধু সাই আছে না,

সে রিয়েলিটি শোয়ের জন্য একটা সেট বানিয়েছে।

ওখানে জেমস জ্যাকসন নামে একজন পরিচালক আছে।

একটু পাগল টাইপের।

কিন্তু, রিয়েলিটি শো এর রাজা সে।

এক দুইদিনের মধ্যে তার শুটিং শুরু হবে।

ও যদি যেতেই চায়,

তাহলে ওর জন্য তার সাথে একবার কথা বলে নেবো।

জেমস জ্যাকসন!

জেমস জ্যাকসন।

আরে, আমার গালের চামড়া উঠে যাবে!

মা, আমাকে মাফ করে দাও! মাফ করে দাও, মা!

- শুনুন। - বলুন।

এত মারার পরেও স্যান্ডেলের কিছু হলো না।

কোন ব্র্যান্ডের স্যান্ডেল এটা?

চমৎকার স্যান্ডেল! চামড়া উঠে যাবে কিন্তু স্যান্ডেলের কিছুই হবে না।

যার চিন্তা ভাবনা এই রকমের,

জানি না, সে নিজে কোন ধরনের মানুষ!

উপনির্বাচনের তারিখ নির্ধারণ করা হয়েছে।

কিন্তু, আমরা এখনও আমাদের প্রার্থীর ব্যাপারে সিদ্ধান্ত নিতে পারিনি।

ওই জায়গাতে আমাদের পার্টি ছাড়া,

আর কেউ তাদের প্রার্থী দাঁড় করানোর সাহস পাচ্ছে না।

এখন পর্যন্ত কাউকে ফাইনাল করা হয়নি তাতে কী হয়েছে!

নিজের কাজ তো চালিয়ে যেতে হবে।

তাহলেই সঠিক পথ খুঁজে পাওয়া যাবে।

পশুপতির নাম পাঠিয়ে দাও।

এসব কী হচ্ছে!

আতশবাজি দিয়ে তুই কখনও সিগারেট ধরিয়েছিস?

আজকে দিওয়ালি! শুভ দিওয়ালি!

ওই, তোমরা এখানে এসে এসব কী করছ?

স্যার, এমপি নির্বাচনের জন্য প্রথমবার মনোনয়ন পাচ্ছেন,

একটু উদযাপন তো করতেই হয়।

জ্বালা, আরও জ্বালা।

আতশবাজির শব্দতে মানুষের সমস্যা হয়,

তোমাদের কি এইটুকু জ্ঞান নেই?

আতশবাজিতে আশপাশের মানুষের সমস্যা হবে,

তোদের কি এইটুকু বিচার বুদ্ধি নেই?

আপনি আপনার সাথে আসুন।

আপনি আর আমি একসাথে দিওয়ালি উদযাপন করব।

আসুন।

ধর, ধর, ধরে ফেল!

ধর, ধর!

স্যার, টিভি কি ফুল এইচডি?

ছবি তো অনেক স্পষ্ট।

কিন্তু, আমার ব্যাপারে আপনার স্পষ্ট ধারণা নেই।

তোমরা যা ইচ্ছা করো, আমি মনোনয়ন জমা দেবোই।

টাকা পয়সা ইনকামের জন্য ক্ষমতার তেমন দরকার নেই।

কিন্তু,

অভিজাত বংশ গড়তে হলে,

ছেলে বেঁচে থাকা অনেক দরকার আছে।

ক্ষমতা চান নাকি পরিবার চান,

দ্রুত সেই সিদ্ধান্ত নিন।

আমাদের নেওয়া প্রথম পদক্ষেপ বৃথা গেছে।

তার রাজনৈতিক চালের মারপ্যাঁচে,

আমাদের নকল বন্দুক কোনও কাজে আসবে না।

অশ্বত ভাইকে দিয়ে যদি চেষ্টা করি, তাহলে...

রানা ভাই আমাদের ব্যাপারে নাক গলাবেন না।

বিদেশ থেকে ফিরে আসা কেউ,

সবসময় মানুষের সেবার জন্য লড়াই করে থাকে।

তার রাজনীতিতে কোনও উৎসাহ নেই।

এরমধ্যেই বেশ কয়েকটি দল তার কাছে গিয়েছিল,

কিন্তু সবাই হতাশ হয়ে ফিরে এসেছে।

আমরা যদি তাকে বোঝাতে পারি,

তাহলে রোনাপুরে আবার আমাদের ক্ষমতা ফিরে পেতে পারব।

কিন্তু, তাকে কে বোঝাবে?

কয়েকটা টাকার জন্য মানুষ সাপকে বাক্সের মধ্যে নিয়ে নিজের মাথায় রাখে।

এরকম, আমাদের পার্টিতে যদি কোনও ভালো মানুষ জুটে যায়,

তাহলে, এতে সমস্যা কোথায়!

আরে, না!

হ্যালো।

মেনে নিলাম সেদিন আমার দোষ ছিল। কিন্তু আজকে তো...

সামনের দিকে যেই গতিতে যাও, পেছনের দিকে কি সেই একই গতিতে যাও?

আমার বাইকের কী সর্বনাশ করেছ, একটু নিচে নেমে এসে দেখে যাও।

এসে দেখো না।

ধ্যাত্তেরি।

এখন কী করব?

চেন্নাইতে যদি ঘূর্ণিঝড় হয়,

তাহলে, রোনাপুরে বজ্রপাতের সাথে ভারী বৃষ্টিপাতও হয়।

গাড়ি পেছনে নেওয়ার সময় একটুখানি লেগেছে।

কী বললে? একটুখানি লেগেছে?

দেখো, স্কুটারের কী অবস্থা হয়েছে!

বাম্পার গার্ড নষ্ট হয়ে গেছে,

হ্যান্ডগ্রিপে দাগ পড়েছে,

আর নাম্বার প্লেটও টুকরো টুকরো হয়ে গেছে।

একটু দেখুন না!

এই স্কুটার আমাকে আমার দিদি আর দুলাভাই উপহার দিয়েছিলেন।

বাসার কেউ জিজ্ঞাসা করলে তাদের কাছে কী বলব!

তোমার উপর আমার খুব রাগ হচ্ছে! তোমাকে ড্রাইভিং লাইসেন্স কে দিয়েছে!

বিষ্ণু,

স্কুটার গ্যারেজে নিয়ে যা।

মানে কী? এটা ঠিক না হওয়া পর্যন্ত আমি কি রাস্তাতেই দাঁড়িয়ে থাকব?

আমাকে অজিত স্যারের সাথে দেখা করতে হবে।

আমার সব প্রোগ্রাম করা ভেস্তে গেল।

তোমার কণ্ঠস্বর খুব ভালো।

কিন্তু, আওয়াজ একটু কম করে কথা বললে আরও ভালো লাগবে।

ওদিকে দেখো।

চলো, আমি তোমাকে নামিয়ে দিচ্ছি।

আমার স্কুটারের কী হবে?

আরে দিদি, আপনি যান। ওটা ঠিক করে বাসায় পৌঁছে দেবো।

- নমস্কার। - নমস্কার।

- আমার নাম রঘুভীর ভান্ডারী। - আমি জানি।

আপনি গুরুকান্ত ভান্ডারীর ভাই।

বসুন।

বলুন...

আপনাকে কীভাবে সাহায্য করতে পারি?

আপনার অনুষ্ঠান আমি টেলিভিশনে দেখি,

আপনার সমাজ সেবার ব্যাপারে আমি পত্রিকায় পড়ি।

প্রকৃতির প্রতি আপনার ভালবাসা,

আর জনসেবার ব্যাপারে শুনে,

আমি সত্যিই গর্ব করি।

নাম কামানোর চেয়ে,

দায়িত্ববোধ থেকেই এসব কাজ বেশি করি।

আপনার এখানে আসার কারণ যদি বলতেন?

কিছুদিনের মধ্যেই রোনাপুরে নির্বাচন হতে যাচ্ছে।

আপনি যখন কোনও কাজ করেন,

হাজার হাজার মানুষ আপনাকে সমর্থন করে।

কারণ, প্রমাণ রয়েছে যে আপনার প্রতি জনগণের বিশ্বাস রয়েছে।

সবসময় জনগণের শুভাকাঙ্ক্ষী হিসেবে,

আপনি কেনও রাজনীতিতে যোগদান দিচ্ছেন না?

মাঠা পান করেন।

ভগবানের দোহাই, আমাকে ভুল বুঝবেন না।

রাজনীতিতে আমার বিশ্বাস নেই।

নিজের জন্য না হলেও ভবিষ্যতের কথা চিন্তা করে অন্তত মানুষের জন্য একবার হলেও চিন্তা করে দেখুন।

ভবিষ্যতের কথা বলতে পারি না।

মনে হচ্ছে, আপনি আমার সম্পর্কে বেশি একটা জানেন না।

কারণ, আপনি যদি জানতেন...

তাহলে এতদূর আসতেন না।

আপনি এখন যেতে পারেন।

আপনি যখনই জনগণের পক্ষে কথা বলবেন, আমাদের সরকার সবসময় আপনাকে সমর্থন করবে।

কথাটা ভুলবেন না।

স্যার, এই ডিজাইনটা দেখুন।

মাফ করবেন। আপনার মোবাইল ফোন কি পেতে পারি?

আগামীকাল এসে আমার স্কুটার নিয়ে যাবো।

- ধন্যবাদ। - আরে, এই কাজ কীভাবে করল সে!

এতক্ষণ ধরে ওকে ফোন করছি।

কোনও সুন্দরী মেয়ে আসলে, তাকে আমার নাম্বার দিয়ে দিও, ঠিক আছে?

এভাবে কোমর বাঁকা করে দাঁড়িয়ে আছে কে?

ওনার নাম নাগাপ্পা।

নাগাপ্পা হলেই কি এভাবে কোমর বাঁকা করে থাকতে হবে?

আপনার কতগুলো সন্তান আছে?

আমার পাঁচটা সন্তান রয়েছে।

পাঁচ বাচ্চার জন্ম দিলে তো কোমর এরকমই হবে!

ধন্যবাদ।

দেখুন, নাগাপ্পা সাহেব...

কোনও গ্রামে এত রাতে লাইট পোষ্টের নিচে, মাথার উপরে গামছা ঘুরাতে ঘুরাতে...

চেহারাতে রঙ লাগিয়ে রাস্তার মাঝখানে বসে,

উল্টাপাল্টা সংলাপ বলে, মানুষের দেওয়া ৫০ টাকা নিয়ে...

ঘরের চুলা জ্বালান আর মদ পান করার মত এটা কোনও নাটক নয়।

এটা জেমস জ্যাকসনের রিয়েলিটি শো।

আপনাকে করা প্রশ্নের ঝটপট উত্তর দিতে হবে। তাহলেই আপনাকে নেওয়া হবে, বুঝতে পেরেছেন?

- শোনো, এখন তুমি... - স্যার, স্যার।

কী হয়েছে?

আপনাকে খুঁজতে একটা মেয়ে এখানে এসেছে।

সামান্থা এসেছে নাকি শ্রুতি হাসান এসেছে?

আপনি কি হৃতিক রোশন, যে হিরোইন আপনাকে খুঁজতে আসবে?

আমি রোশন না,

আমি জ্যাকসন।

- হাই। - হাই।

দুঃখিত, এবার বয়স্ক মানুষকে নিয়ে অনুষ্ঠান করছি।

পরেরবার মেয়েদের নিয়ে করলে আপনাকে ইমেল করব। তখন আসবেন।

স্যার, আমি এখানে অভিনয় করতে আসিনি।

তাহলে?

আপনার সাথে সহকারী পরিচালক হিসাবে কাজ করতে এসেছি।

খিচুড়ির মধ্যে গোশত নিজে এসে পড়ছে।

মাছ নিজেই জালে ধরা পড়তে এসেছে।

আরে, আমি যা ভাবছি তুইও কেনও তাই ভাবছিস? দুষ্ট কোথাকার!

মাফ করবেন, আপনি...

- রক্ষা। - রক্ষা।

সবার সামনে পেশাদার বা ব্যক্তিগত কিছু নিয়ে আলোচনা করা উচিত নয়।

কেবিনে অপেক্ষা করব, দুই মিনিট পরে চলে এসো।

সাথে গেলে সমস্যা হয়ে যাবে।

শোন, তাড়াতাড়ি মেকআপ রুমে গিয়ে মেকআপের বাক্স নিয়ে আয়।

নাহলে আমার মুখে লিপস্টিকের দাগ লেগে থাকবে।

কী সুন্দর!

স্যার, সিনা সাহেব ওনাকে এখানে পাঠিয়েছেন।

উনি ভাইয়ের ডান হাত।

উনি এখানে এসেছেন মানে...

গুরুত্বপূর্ণ কিছু একটা হয়েছে।

ভাই বলেছেন,

সিংগা ট্রাক নিয়ে ওখানে পৌঁছাবে।

যাই হোক না কেন,

ওই জিনিস মিস করা যাবে না।

রাত দুইটা বাজার আগেই সব কাজ ভালো মতো শেষ করতে হবে।

বুঝতে পেরেছ না?

এতদিন পর্যন্ত ট্রাকে করে লোহা নিতে দেখেছ।

কিন্তু, আজকে তুমি অন্যকিছু দেখতে পাবে।

এটা কে?

গানা, বন্দর এলাকা থেকে এসেছে।

মালবাহী ট্রেনের বিভিন্ন কামরার মধ্যে,

একটা কামরায় আমাদের মাল আসছে।

ট্রেন থামার জায়গার আগেই,

আমাদের কাজ শেষ করে ওখান থেকে চলে যেতে হবে।

খুব তাড়াতাড়ি ওটা থেকে মাল নামিয়ে,

এই ট্রাকে বোঝাই করতে হবে।

ওই রেলস্টেশনে সবাই পুরোপুরি সতর্ক থেকো।

ট্রেনের মালের তথ্য ফাঁস হয়ে গেছে,

ট্রেনস্টেশনে পুলিশের পুরো দল পৌঁছে গেছে।

পুলিশ আসার আগেই ওখান থেকে চলে যাও।

এতগুলো টাকা রেখেই চলে যাব?

টাকা চলে গেলে, যাক।

তোমরা ফিরে এসো।

এটা ভাইয়ের আদেশ।

পুলিশের কাছে তথ্য ফাঁস হয়ে গেছে,

আর আমাদের ওখানে ফিরে যেতে বলেছে।

প্রথমবারের মতো...

কোনোকিছুই মাথাই আসছে না।

একটা সুযোগ আছে।

কী সুযোগ?

আমরা যদি আগের পয়েন্টে ট্রেন থামাই, তাহলে...

আমাদের মাল নামিয়ে ফেলতে পারব।

ওই পয়েন্টে ট্রেন থামে না।

যদি থামে, তাহলে?

- যেভাবেই হোক ট্রেন থামাও। - ভাই, ট্রেন তো এরমধ্যেই চলে গেছে।

ধ্যাত্তেরি!

ট্রেন ওই স্টপ ছেড়ে চলে গেছে।

ট্রেন স্টেশনের সর্বনিম্ন দূরত্ব থাকে।

ট্রেনেরও সর্বনিম্ন গতি থাকে।

ট্রেন চলার সময়েই আমরা মাল নামিয়ে ফেলব।

কাশী, সবাই মিলে ওর পিছু নাও।

আপনি আমাদের ওর পিছু নিতে বলেছিলেন!

কিন্তু সে নিজেই তো পালিয়ে গেল।

ভাই যা বলেছিল, সেটাই করি...

এখান থেকে চলে যাই।

গানা, গানা!

তুমি ঝুঁকি নিচ্ছ! ফিরে এসো!

গানা, রেলস্টেশনে পুলিশ আছে।

ফিরে এসো!

আমার কথা শোনো!

গানা, ফিরে এসো!

গানা, রেখে দাও!

ফিরে এসো!

গানা, না!

হ্যালো।

কী হয়েছে, স্যার?

আপনাকে কতবার ফোন করেছি, আপনি ফোনের উত্তর দেননি কেন?

আপনার মতলব কী, বলেন?

গাড়িতে একটু পৌঁছে দিয়ে, পুরো স্কুটার মেরে দেওয়ার মতলব করেছেন?

কোন কোন দোকানদারকে চেনো? স্কুটারের যন্ত্রাংশ কোথায় কোথায় বিক্রি করেছ?

বিক্রির টাকা কি নিয়ে নিয়েছ?

এই জিপ গাড়ি কি তোমার?

নাকি এটাও চুরি করেছ?

দাঁড়াও, এক মিনিট দাঁড়াও।

পুলিশের কাছে অভিযোগ করলেই সব বুঝা যাবে।

হ্যালো, গতকাল সন্ধ্যাতেই তোমার বাসায় স্কুটার পাঠিয়ে দিয়েছি।

আমার বাসায় স্কুটার পৌঁছে দিয়েছ?

বানিয়ে বানিয়ে কাহিনী বলছ? তাও আবার আমার সাথে!

আচ্ছা, একটা কথা বলো। তুমি কীভাবে আমার বাসায় স্কুটার পাঠিয়েছ?

স্কুটারের উপর কি আমার বাসার ঠিকানা লেখা ছিল?

প্রত্যেক গাড়ির রেজিস্ট্রেশন সার্টিফিকেটের কাগজপত্র থাকে।

সেখানে পিন কোডের সাথে মালিকের ঠিকানাও থাকে।

বল।

দিদি, গতকাল কেউ কি বাসায় আমার স্কুটার দিয়ে গিয়েছে?

ওহো, আমি তো তোকে বলতেই ভুলে গেছি।

- গতকাল সন্ধ্যায় কেউ দিয়ে গিয়েছিল। - কী!

দেখতে খুব ভালো ছিল। বললাম চা পান করে যাও...

কিন্তু সে চলে গেলো।

কিন্তু, তুই এসব জিজ্ঞেস করছিস কেন?

ঠিক আছে, আমি তোমাকে পরে ফোন করব। রাখছি।

এই যে, শুনুন! এক সেকেন্ড...

দুঃখিত, খুবই দুঃখিত! প্লিজ, প্লিজ!

সন্দেহ আর অপমান করা মানুষের অভ্যাস হয়ে গেছে।

সেজন্যই তো আমি তোমার কাছে ক্ষমা চাইছি।

দুঃখিত, দুঃখিত, দুঃখিত!

প্লিজ, প্লিজ, প্লিজ!

সমস্যা নেই।

পাপ্পু, এক প্লেট দোসা দাও।

ওই!

দোসা এখানে দে।

ভাই, দোসা।

অপেক্ষা কর।

হ্যালো।

কাশী!

এক মিনিট অপেক্ষা করো।

শাবরী ভাই তোমার সাথে কথা বলতে চায়।

জি, ভাই।

গানাকে ফোন দে।

বলেন, ভাই।

সৈয়দ আলীকে আটকে রাখ।

- আমি আর সিংগা ওখানে চলে আসব। - ঠিক আছে, ভাই।

ভাই।

গরম গরম দেখে নিয়ে আয়।

ছুরিতে কেবল ধার থাকলেই কাজ হয়,

গুলি থাকলেই কেবল বন্দুকের দাম থাকে,

তবে, যার সাহস আছে...

তার কেবল বেঁচে থাকা পর্যন্তই দাম থাকে।

হাত ফসকে যাওয়া মালের জন্য তুই যে ঝুঁকি নিয়েছিলি...

তার জন্য সবাই তোর তারিফ করছে।

আমার মনের ইচ্ছা হলো ভাইয়ের সাথে একবার দেখা করা।

তোর ভাগ্য খুব ভালো।

ভাইয়ের কাছে তোর সুনামের কথা পৌঁছে গেছে।

কারণ, প্রায় ফসকে যাওয়া মালের জন্য তুই ঝুঁকি নিয়েছিলি।

আমার এখানে প্রায় চার পাঁচ বছর হয়ে গেছে।

কিন্তু, তার সাথে অনেক কষ্টে দুই কি তিনবার দেখা করতে পেরেছিলাম।

ব্যাস!

এখন যদি সিংগা ওখানে থাকে,

তাহলে এসব তার কষ্টের ফলের জন্যই হবে।

আর শাবরীর ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞেস করবি না।

তার ঘর, বউ, বাচ্চা কাউকেই কখনও দেখিনি।

ভাইয়ের বাড়ি যদি কখনও দেখিস, তাহলে অবাক হয়ে যাবি।

কঠোর সুরক্ষা।

সামনে দেখবি, পিছনে দেখবি...

যেখানেই দেখবি... বাবারে বাবা!

ভাইয়ের ঘরের ব্যাপারে তো অনেককিছু এখনও অজানা।

সে যেই ঘরে থাকে, সেই ঘরে আর কেউ ঢুকতে পারে না।

তার বসার চেয়ার থেকে শুরু করে শোয়ার খাট পর্যন্ত,

সবকিছু সোনার তৈরি।

উনি একজন রাজার মতো করে জীবনযাপন করেন।

কাজের ব্যাপার ছাড়া কারো সাথে আর কোনও সম্পর্ক নেই।

একবার তার ঘর দেখতে চেয়েছিলাম।

কী করছিস, ভাই?

আমি যা বলছি সেসব লিখে রাখছিস নাকি?

এসবে আমার নাম উল্লেখ করিস না।

তাহলে আমি শেষ হয়ে যাব।

সেই কখন থেকে লিখেছিস,

কিন্তু, এক লাইনও লেখতে পারিসনি?

ভাইয়ের নামে লেখতে গেলে কলম দিয়েও লেখা হয় না!

আমি চলে যাচ্ছি, ঘুম আসছে।

যাই, শুভ রাত্রি।

স্যার, এখানে রাস্তার মাঝে বসে আসা আর যাওয়া করা সব ট্রাককে আটকে দিচ্ছেন।

আপনি এসব কি আপনার কথা রাখার জন্য করছেন?

এই কথা সব মানুষই জানে।

খনির কাজের জন্য বছরের পর বছর,

ট্রাক দিয়ে মাটিতে গর্ত করে চলছে।

যেই কাজের জন্য কৃষকদের ক্ষতি হচ্ছে।

এর কারণে পরিবেশেরও দূষণ হচ্ছে।

এবং পরিবেশও সম্পূর্ণভাবে শেষ হয়ে যাচ্ছে।

প্রতিনিয়ত দুর্ঘটনা ঘটছে।

যা খুবই ভুল।

আমরা এসবের বিরুদ্ধে অফিসারদের কাছে কতবার অভিযোগ করেছি।

কিন্তু কোনও লাভ হয়নি।

আমি জিজ্ঞেস করেছি, এইসব অবৈধ কাজের জন্য...

আসলে দায়ী মানুষটা কে! সে হচ্ছে ভৈরথি রানাগাল!

এখন পর্যন্ত আমরা অনেককিছুই হারিয়েছি।

এসব বন্ধ না করে আমরা পিছু হটে যাবো না।

খনন বন্ধ করো! বন্ধ করো!

ওই বুড়ো আমাদের কাজের ভিতর নাক গলাচ্ছে,

আজকেই ওর লাশ ওই ট্রাকে রেখে দেবো।

তুমি খুব ভালো করে জানো যে,

রোনাপুরের যেকোনও ব্যাপারে আমরা যা ইচ্ছে করতে পারি।

- নমস্কার! - নমস্কার!

অশ্বত কুদারীকে বাদ দিয়ে।

এই সময় আপনি যে আন্দোলন করছেন, তাতে কোনও লাভ হবে না।

আপনার কণ্ঠ এখানকার বাতাসের ধূলাবালির কাছে যাওয়া ছাড়া,

ভৈরথি রানাগালের দরজা পর্যন্তও যেতে পারবে না।

ওই বুড়ো আন্দোলন শেষ না করা পর্যন্ত আমরা ট্রাকগুলো রাস্তাতেই রেখে দেবো।

তার যে শক্তি আছে,

সে সুরঙ্গ খনন করে হলেও, নিজের ট্রাক চলাচল চালু রাখবে।

এর ব্যাপারে কী সিদ্ধান্ত হবে,

সেটা শুধু ভাই বলতে পারবে।

ও, ভগবান!

- হায়, ভগবান! - আমাদের সর্বনাশ হয়ে গেছে!

ও, ভগবান!

আপনার মতো একজন ভালো লোক জনগণের সাথে আছে, তাতেও এদের কোনকিছু আসবে যাবে না।

এর কারণ?

আপনার পিছনে বসে থাকা লোকদের, ওদেরকে থামানোর মতো সাহস নেই।

তার জন্য ক্ষমতা থাকতে হবে।

এই লোকেদের অধিকার রক্ষা করার জন্য,

আপনাকে রাজনীতিতে যোগ দিতেই হবে।

ভগবান! আমাদের ঘরবাড়ি সব পুড়ে গেছে!

আমি এখন কী করব!

আচ্ছা, ঠিক আছে।

ও, ভগবান!

এই শয়তানগুলো সব জ্বালিয়ে পুড়িয়ে দিয়েছে!

সব ধ্বংস করে দিয়েছে!

আমাদের সর্বনাশ করে দিয়েছে! তোদেরও সর্বনাশ হবে!

তোরা সব মাটির সাথে মিশে যাবি!

তোরা সব মাটির সাথে মিশে যাবি!

তোরা ধ্বংস হয়ে যাবি!

যেই মানুষেরা আমাদের সমর্থন করেছে,

এরা তো তাদের বাড়ি সব জ্বালিয়ে দিয়েছে, ভাই।

ও হচ্ছে ভাইয়ের ছোট বোন, বেধবতী।

কিন্তু, ভাই আর বোনের মধ্যে...

একে অপরের সাথে কথা বলা অনেকদিন ধরে বন্ধ। আর এটা সবাই জানে।

শুধু ভাই না,

তার সাথে যত মানুষ আছে, কেউ এটা পছন্দ করে না।

কিন্তু, সিকিউরিটি গার্ড সবসময় তার পিছনেই থাকে।

ভাই, খুব সুন্দরী এক মেয়ে আসছে।

এমন সময় স্কুটারের তেল শেষ হয়ে গেলো!

কোনও কোনও নায়িকা তাদের ফিগার সুন্দর করে বানায়।

তুমিও খুব সুন্দর ফিগার বানিয়েছ।

এসো, তোমার সাথে একটা সেলফি তুলব।

সেলফি তুলতে চাই।

আমরা সবাই তোমার সাথে এক এক করে সেলফি তুলব...

কিন্তু, আমি ক্যামেরা চালাব।

আরে, চলে এসেছে!

নায়কও চলে এসেছে।

তুই তো নায়ক, তাই না?

বল, তুই তো নায়কই, তাই না?

মাতাল হবার পরেও,

তুই ঠিক কথা বলেছিস।

দুই মিনিট অপেক্ষা কর। কথা বলে আবার আসছি।

সবসময় তোমাকে একা চলাফেরা করতে দেখি।

এত রাতে এখানে একা চলাফেরা করছ? এখানে কি তোমার মেজাজ চলে?

কোনও এক ভালো ছেলেকে ভালোবাসার প্রস্তাব দিয়ে তোমার জীবনের সাথী বানিয়ে নাও।

তোমার জন্য অনেক ভালো হবে।

প্রস্তাব দেওয়ার জন্য তো আমি রাজি আছি।

ছোটকালে পোলিও টিকা দিয়েছে ভেবে,

তরুণ বয়সে এসে মাস্তানি করার দরকার নেই।

হাত পা ভেঙে যেতে পারে, সবসময় রোগে আক্রান্ত হওয়ার জন্য এসব জরুরি কিছু না।

পরামর্শ দেওয়ার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।

এখন থেকে আর একা থাকার ব্যাপারে ভাববো না।

যেই ধরনের ছেলে...

আমি সবসময় চাই...

সে আমার সামনেই দাঁড়িয়ে আছে।

আমি তোমাকে ভালোবাসি!

তোমাকে কখনই ভুলতে পারব না।

ওঠ!

মরে যাওয়ার প্রথমে একটু কষ্ট তো পেতেই হবে, তাই না?

ওই!

ওকে আর্মির পোশাক পরিয়ে দে।

এবার বল।

ট্রেনের মালের ব্যাপারের কথা তোকে কে বলেছিল?

আমাদের পুলিশ বিভাগের এক অফিসার...

রোনাপুরে তোমাকে সাহায্য করবে।

তোমার যা কিছু লাগবে, সে ব্যবস্থা করে দেবে।

কিন্তু, তুমি তার কাছে পরিচয় দিতে পারবে না, আর সেও তোমার কাছে পরিচয় দিতে পারবে না।

এই কথাকে তোমার মনে রাখতে হবে।

ট্রেনে করে মাল আসার তথ্য ও ফাঁস করেছিল।

ওকে মেরে ফেল! মেরে ফেল!

আর তুমি, একজন পুলিশ হিসেবে এই মিশনে যাচ্ছ...

এই কথা ভুলেও কেউ জানতে পারবে না।

এমনকি তোমার নিঃশ্বাসের বাতাসও জানতে পারবে না।

আমরা ভেবেছিলাম একনাথ দুর্ঘটনায় মারা গেছে,

কিন্তু, ওটা হত্যাকাণ্ড ছিল। এটা তো সবাই জেনে গেছে, তাই না?

যারা জড়িত ছিল, তাদের গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

কাকে ধরা হয়েছে সেটা জানার জন্য ভাই এখন গুদামে আসছেন।

চারদিকে মহাসাগর,

এবং মাঝখানে একটা জঙ্গল।

সেখানে একজন লোক বাস করত।

যার দশটা মাথা ছিল, আর লোকেরা তাকে রাবণ বলে ডাকত।

চারদিকেই পাহাড়,

আর বৃষ্টির চেয়েও বেশি,

রক্ত দিয়ে ভিজে যাওয়া মাটি!

ওখানে একজন যোদ্ধাও বাস করত।

যাকে মানুষেরা রণবীর বলে ডাকত।

সে নিজের মাথা কাটতেও ভয় পেতো না।

তাদের দুইজনের চিন্তা একইরকম ছিলো।

আমার সাথে গণ্ডগোল করার আগে তোদের হাজারবার চিন্তা ভাবনা করা উচিত।

একবার সামনে পড়ে গেলে,

শকুনের নজর থেকে বেঁচে গেলেও আমার নজর থেকে বাঁচতে পারবি না।

আমি ভৈরথি রানাগালকে,

প্রথমবারের মত নিজ চোখে দেখেছি।

খুব ভালো।

আমাদের বিভাগের একমাত্র আশা হিসেবে তুমিই আছ।

সে বেশ কয়েকটি খনির মালিক।

তার ভেতর প্রধান খনি হচ্ছে তেল।

খনি ছাড়া তার আরও অনেকগুলো কোম্পানি আছে।

সেগুলি রক্ষণাবেক্ষণের জন্য সে বিশাল একটা সিন্ডিকেট তৈরি করেছে।

শাবরী তার ডান হাত,

আর সিংগা তার বাম হাত।

তার জন্যই পুলিশ অফিসারকে,

আমার নিজ হাতে মেরে ফেলতে বাধ্য হয়েছিলাম।

তার অবৈধ সকল কর্মকাণ্ডের যত প্রমাণ আছে, সেগুলোও আমি সংগ্রহ করছি।

আজকে থেকেই রানার সাম্রাজ্যের পতন শুরু হবে।

... দিলে খুব ভালো হবে।

তাই এখন...

- মাফ করবেন, স্যার। - বলো।

অশ্বত কুদারীর লোক আপনার সাথে দেখা করতে এসেছেন।

ভালো মানুষ, ভালো মানুষ বলে তাকে ছেড়ে দিয়েছি,

আর এখন সে আমাদেরই পথ আটকে দিচ্ছে।

এর আগে শুধু কাঠ তক্তা নিয়ে বিক্ষোভ করা লোক,

আজকে ব্যানার লাগিয়ে আমাদের সব ভোট নিয়ে চাচ্ছে।

আমি দলের হয়ে না, সতন্ত্র হিসেবেই নির্বাচনে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করব।

কোন কারন ছাড়াই কোন জমি ছেড়ে দিলে, পরে সেটা বড় ভুলে পরিনত হবে।

রোনাপুরে রাজত্ব করতে অশ্বত কুদারীকে ঢাল হিসেবে ব্যবহার করতে পারব।

কিন্তু, আমরা যদি কোনও ঝড়কে নিয়ে আসি... তাহলে শুধু রাজত্ব নয়, ঢালও উড়ে যাবে।

রবীন্দ্রনকে ডাকো।

- আমাদের ভাইয়ের... - জয় হোক!

- আমাদের ভাইয়ের... - জয় হোক।

- আমাদের ভাইয়ের... - জয় হোক।

- আমাদের ভাইয়ের... - জয় হোক।

ভাই, ভৈরথি রানাগাল এমন খবরই পাঠিয়েছে, আপনি যেন নির্বাচন থেকে পিছু হটে যান।

এটা শুধু রোনাপুরই নয়,

এটা রোনাপুর প্রজাতন্ত্র।

এখানে যত গুন্ডামি, লুটপাট ও অত্যাচার চলে...

তার পেছনে একজনেরই হাত আছে।

আর সে হচ্ছে ভৈরথি রানাগাল।

আমাদের মতো সাধারণ মানুষদের এখানে থাকা কষ্টকর হয়ে গেছে।

এমপি নির্বাচনের জন্য যেন মনোনয়ন দাখিল না করি, সেজন্য তারা আমাকে হুমকি দিয়েছে।

তার জন্য আমার জীবন হুমকির মধ্যে রয়েছে।

আগামীকাল আমার যদি কিছু হয়ে যায়, সেজন্য...

ভৈরথি রানাগালই দায়ী থাকবে।

যেই সরকারকে জনগণের সুরক্ষা দিতে পারে না, সেই সরকারকে উৎখাত করে দিতে হবে।

হ্যালো।

হ্যালো, দিদি।

আমি জেমস জ্যাকসন।

তুমি আগামীকাল থেকে কাজে যোগ দাও। মিস করবে না কিন্তু।

তোমার জন্য তোমার এই বড় ভাই অপেক্ষা করবে। প্লিজ।

আগামীকাল সন্ধ্যার মধ্যে সব ব্যবস্থা যেন হয়ে যায়, সব লোকদের পাঠিয়ে দাও।

ভাই, ভাই!

কী ভেবে আমার কাপড়ে হাত লাগিয়েছিস?

সকল হাতের একটা ক্ষমতা থাকে। কিন্তু তুই তো দুই হাত দিয়েই ধরেছিস।

বিশ্বাসঘাতকের এই পথ, তুই নিজেই বেছে নিয়েছিস।

মৃত্যু সামনে এসেছে বলে বউ বাচ্চাকে মনে পড়ছে!

তুই বেঁচে থেকেও মরে থাকার মতো আছিস।

যতক্ষণ তুই বেঁচে থাকবি,

ততক্ষণ এসব বোকামি করার চিন্তাও করবি না।

যদি চিন্তাও করিস,

তাহলে হাত পা থাকবে। কিন্তু তোর মাথা থাকবে না।

ওকে গাড়িতে করে নিয়ে দিয়ে এসো।

জি, ভাই।

বন্দর অঞ্চল থেকে কে এসেছে?

গানা।

- ওকে পাঠিয়ে দাও। - জি।

এই নাও।

এই নাও, এটা তোমার জন্য ছোট্ট একটা উপহার।

তুমি আমার মামাকে বাঁচিয়েছ তো, সেজন্য।

এটা আমার পক্ষ থেকে তোমার জন্য। এটা নাও।

তুমি সবসময় আমার মামার সাথে থাকবে।

উনি খুব ভালো একজন মানুষ,

তুমি যখনই আসবে, তখনই তোমাকে চকোলেট দেবো। ঠিক আছে না?

বন্ধু হতে পারি?

আবনি!

যাচ্ছি, বাই।

ভাই, আমি তো তাকে বলেছি। কিন্তু জানি না কবে উত্তর পাবো।

ঠিক আছে, ভাই।

চলো, খাবার খেয়ে নেই।

- হ্যালো। - হ্যালো।

- তুমি কোথায়? - কী হয়েছে?

ভুলে গেছ? হ্যালো!

তুমি আজকে আমার সাথে কেনাকাটা করতে যাওয়ার কথা দিয়েছিলে?

কখন থেকে অপেক্ষা করছি।

গার্লফ্রেন্ড বানানোই আসল ব্যাপার না,

সবসময় তার যত্নও নিতে হয়।

দোকান নাম্বার ১৭, কঙ্গনা ফ্যাশন, আলম স্ট্রিট। দ্রুত এসো।

বাইকে করে আসবে না, একটা অটোরিকশা করে এসো।

খুব জরুরি, দ্রুত এসো।

আমি কেনাকাটা করতে এসেছিলাম,

কেনাকাটা শেষ হয়ে যাওয়ায় মেহেদী লাগিয়েছি।

তুমি তো অনেক দেরি করেছ। এক হাতে লাগানো হয়েছিল।

তাই অন্য হাতেও মেহেদী লাগিয়ে ফেলেছি। মেহেদী আমার অনেক পছন্দের।

খুব সুন্দর লাগছে, তাই না?

সাথে স্কুটার, লাগেজ আর আরও অনেককিছু আছে।

সেজন্য ভেবেছিলাম তোমাকে ডাকি।

আচ্ছা, ঠিক আছে। হয়ে গেছে, ওনাকে টাকা দিয়ে দাও।

এই নাও টাকা।

ভাই প্রতিদিন সকাল ৪টা বাজে উঠে সকালে হাঁটতে যায়।

তার বসার চেয়ার থেকে শোয়ার খাট পর্যন্ত,

সবকিছু সোনার তৈরি।

"সব লোক আমাকে চিনে নাও।"

"কোথা থেকে এসেছি! আমি কে।"

"বন্ধুদের বন্ধু আমি।"

"বন্ধুত্বের জন্য আমার জীবন দিয়ে দিতে পারি।"

"আমি ডন, আমি ডন, আমি ডন।"

"আমি... আমি... আমি হলাম ডন!"

কয়টা বাজে?

মনে হয় ঘড়ি চলছে না।

আরে ঘড়ি, সময় দেখা। হ্যাঁ, এখন সময় দেখাচ্ছে।

তুই কি তথ্য প্রমাণ সব জোগাড় করে ফেলেছিস?

সাধারণত,

পুলিশই অপরাধীদের গ্রেপ্তার করে।

কিন্তু এখানে, অপরাধী পুলিশকে গ্রেপ্তার করছে।

সেদিন যেন তুই কী বলেছিলি?

যার সাহস থাকে,

তার দামও থাকে।

তাহলে আজকে দাম দেখা যাক।

আপনি যার উপর...

এতটা ভরসা করেছিলেন...

সে ভরসা করার যোগ্য না।

সে একজন আন্ডারকভার পুলিশ।

আর সে আমার ফাঁদে ধরা পড়েছে।

শুধু একবার বলেন...

আমি এখনই ওর মাথা উড়িয়ে দেবো।

হ্যালো? হ্যালো?

হ্যালো?

গানা, ওকে মেরে ফেলো।

গুলি করে মাথা উড়ানোর অনেক শখ তোর।

কিন্তু...

তোকে না বলেই যদি তোর কাছ থেকে তোর জীবন নিয়ে নেই,

তাহলে তোর আত্মাও শান্তি পাবে না।

পশুপতি তার শেষ নিঃশ্বাস পর্যন্ত কারও সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করেনি।

এমন লোকের জীবন তুই কেড়ে নিয়েছিস, তাই আজ...

আমিও তোর জীবন কেড়ে নেবো।

তোর ঘুম আসছিল না বলে এখানে চলে এসেছিস।

আজ তোকে চিরদিনের জন্য ঘুম পাড়িয়ে দেবো।

না!

এটা তোমার ঘর?

রাস্তায় খেলার সময় সাবধান থাকবে।

যাও, মার কাছে যাও।

বাবা, একটু দাঁড়াও বাবা।

"সবাই মাটিতে মিশে যাবি।"

ওইদিন তোমরা জোর করে আমাদের সব কেড়ে নিয়েছিলে।

আমাদের সবাইকে এতিম বানিয়ে রাস্তার মধ্যে ছুড়ে ফেলেছিলে।

কিন্তু আমি ভুল করেছিলাম, কারণ তুমি তো...

হাজার হাজার মানুষের জন্য এত বড় বস্তি বানিয়ে দিয়েছ।

আমি তো কখনও এসব স্বপ্নেও ভাবিনি।

আমার মনে আগুন জ্বলছিল!

এজন্য রাগ করে তোমাদের অভিশাপ দিয়েছিলাম।

নিজের মনে করে আমাকে ক্ষমা করে দাও, বাবা।

আমার ভুল হয়ে গেছে।

আমাকে ক্ষমা করে দাও।

কোন গ্রাম থেকে এসেছ?

কাস্টাগী।

এসব কী করছিস, খুকি?

তোমার ভাই কত ভালোবাসা নিয়ে তোকে জন্মদিনের এই পোশাক উপহার দিয়েছিল,

আর তুই ওটা থেকে সুতা ছিঁড়ে ফেলছিস?

নানা, কালকে রাখি বন্ধনের দিন।

তাই এই পোশাক থেকে সুতা ছিঁড়ে ভাইয়ার জন্য রাখি বানাচ্ছি।

এটা কোনও জীবন হলো!

নামে মাত্র পরিচালক আমি, আর কাজ তো করি দারোয়ানের।

ওই প্রযোজক তো দেরিতে আসেই,

এখনও তার ব্যক্তিগত সহকারীও আসেনি।

প্রস্তুত! থাম, থাম, থাম! ভাই কি প্রস্তুত?

এই যে দেখুন। আপনার জন্য খুব দুঃখের একটা একক দৃশ্য।

এখানে ওই সংলাপ আছে।

শোন, আগে নায়িকার সাথে দৃশ্যেগুলোর শুটিং শেষ করি।

আমি খুব খোজ মেজাজে আছি, ঠিক আছে?

সত্যি! তোমার নায়িকা বাছাই করা খুবই সুন্দর হয়েছে।

- তার চেহারা অনেক ফটোজেনিক। - স্যার, উনি তো সহকারী পরিচালক।

কী?

আরে, এতো ওয়াসার পানির সাথে মিনারেল পানি মিশিয়ে দিয়েছিস।

সমস্যা নেই।

আমাকে গল্পটা দাও। তুমি একটা কাজ করো।

বিস্তারিতভাবে কাহিনী বুঝিয়ে দাও, তাহলে দৃশ্য বুঝতে সুবিধা হবে।

- স্যার... - আমি...

স্যার, যদি উনি বলেন, তাহলে বুঝতে পারবেন না।

আমি পরিচালক। আমি আপনাকে বুঝিয়ে দিচ্ছি।

তুমি আমাকে কী মনে করো!

আরে, গাধা! শোনো...

রোমান্সের জন্য রবিচন্দ্রন,

কৌতুকের জন্য নরসিমা রাজু,

বীরত্বের জন্য বিষ্ণুবর্ধন,

করুণার জন্য শঙ্কর নাগ,

রাগের জন্য আমব্রিশ,

শান্তির জন্য অনন্ত নাগ,

প্রচন্ড লড়াইয়ের জন্য টাইগার প্রভাকর।

বিভৎস আর হিংস্রতা! এইসব কিছু আমার মধ্যে আছে।

বলো, তোমার মধ্যে কী আছে?

অদ্ভুত ডাক্তার রাজকুমার!

এই সকল নয়জন অভিনেতাকে একসাথে মিশিয়ে আমি পান করেছি।

"সিলভার স্ক্রিন" পদকও হাতিয়ে নিয়েছি।

যাও, চেক করে দেখো।

- আজেবাজে কথা বলছে। - চুপ থাকো!

যাও, ওখানে গিয়ে টেলিভিশনের সামনে গিয়ে বোসো।

আর কেবল "ঠিক আছে" বলো। এটাই তোমার কাজ, যাও।

- হ্যাঁ, কী যেন বলছিলাম... - ঠিক আছে।

- মেজাজ খারাপ হয়ে গেছে। - আমার গল্পটা আপনি ফেলে দিয়েছেন।

পরের তারিখ আমাকে বলো। আর, আমার কুকুরকে ঘুরাতে নিয়ে যাও।

যাই হোক, তোমার নাম কী?

রক্ষা।

ও, রক্ষা।

রক্ষা দিয়ে শুরু হওয়া নায়িকা দিয়ে,

আমাদের এই ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে দাপট দেখিয়ে বেড়াচ্ছে।

তুমি যদি আমাকে অনুমতি দাও, তবে তোমাকে আমি রক্ষা কবচ বানাতে রাজি আছি।

আচ্ছা, রেডি, রেডি!

- ক্যামেরা! - ক্যামেরা কোথায়!

- ঠিক আছে। - অ্যাকশন!

বসে থাকলেও এই শরীরের কিছু হয় না,

বসে বসে ঘুমালেও কিছু হয় না, এটা পুরো বাম্পার!

আমাকে এ কোন ধরনের সংলাপ বলতে দিয়েছে!

এগুলি কী ধরণের সংলাপ, কেউ কি বলতে পারবে?

সংলাপ এমন হওয়া দরকার, যা শুনে হলের সব দর্শক প্রশংসা করবে, তালি বাজাবে।

ওই, সংলাপ পাল্টে দাও।

আমি বাথরুম থেকে আসছি।

রক্ষা,

চিন্তা কোরো না, সন্ধ্যায় শুটিং শেষে দেখা কোরো।

আরামে বসে চিন্তা ভাবনা করা যাবে, ঠিক আছে?

"এসে যাও। আমার হৃদয়ের মাঝে এসে যাও।"

আরে কী করছে!

আমারও এখন ভিতরে যেতে হবে।

স্যার!

রবীন্দ্র টনিকে নিয়ে যাওয়ার জন্য বলেছে, তো সীনা উত্তর দিচ্ছে না।

দুই পার্টির শত্রুতার জন্য পুরো শহরে সন্ত্রাসী কর্মকাণ্ড শুরু হয়ে গেছে।

অনেক মানুষের মারা গিয়েছে।

আর যারা বেঁচে গেছে, তারা জানিয়েছে যে, এই ভয়ংকর কর্মকাণ্ডের পেছনে...

শহরের সবচেয়ে বড় সন্ত্রাসী ভৈরথির হাত রয়েছে।

রাজনীতির রেষারেষির কারণে এসব ঘটছে বলে ধারণা করা হচ্ছে।

এটা আমাদেরই গাড়ি।

তার অনুমতি ব্যতীত আতশবাজিও ফাটানো ঠিক না।

আমার চুল কাটার ব্যবস্থা করো।

- সকালের নাস্তা করেছ? - হ্যাঁ ভাই, করেছি।

আমাদের কাছে কতগুলো গাড়ি আছে?

ভাই, ৪০টিরও বেশি গাড়ি তো হবেই।

তুমি কতগুলো গাড়ির দেখাশোনা করো?

তিনটা গাড়ির দেখাশোনা করি, ভাই।

ওই গাড়িগুলোর নাম্বার বলো।

কেএ-৩৪৬৮৬৮...

৭৬৬৮, ৫৬৬৮।

আমি যেই গাড়িতে যাওয়া আসা করি সেটার নাম্বার বলো।

কেএ-৩৪৮৯৯৯।

৭৯৯৯, ৬৯৯৯, ভাই।

খুব ভালো।

এবার,

অশ্বত কুদারীকে যেই গাড়ি হামলা করেছিল, সেই গাড়ির নাম্বার বলো।

ভাই, আপনি কী বলতে চাইছেন তার কিছুই আমি বুঝতে পারছি না।

সবকিছু আগের পরিকল্পনা অনুযায়ী করা হচ্ছে।

আপনার চিন্তা করার দরকার নেই।

আপনার লোকেরা অশ্বত কুদারীকে আক্রমণ করবে।

কিন্তু হামলা আমাদের গাড়ি দিয়ে হবে।

মানে, অশ্বত কুদারীর মৃত্যুর জন্য ভাইকেই দায়ী করা হবে।

এসব নিয়ে চিন্তা করার কিছু নেই।

ভাই, ওনার খপ্পরে পরে টাকার লোভে পড়ে এমন কাজ করেছি।

ভুল হয়ে গেছে, ভাই। ভুল হয়ে গেছে।

দ্বিতীয়বার আর এই ভুল হবে না, ভাই।

সত্যিই আর করব না, ভাই। আমাকে মাফ করে দিন।

এত বছর ধরে তুই কাজ করছিস।

কাকে মারতে হবে আর কাকে বাঁচাতে হবে এখনও শিখতে পারলি না।

নিজের প্রাণ বাঁচানোর জন্য এমন করেছি, ভাই।

প্রতারক হাওয়ার সাথে সাথে এ বিশ্বাসযোগ্যও ছিলো।

ওর কবরের উপর একটা বোর্ড লাগাবে।

সে কেনও মারা গেছে,

সেটা সবার জানা উচিত।

আমাদের কারণে ওর পরিবারে যেন,

কোনও কষ্ট না হয়।

হিসাব করে তার পরিবারের সদস্যদের কাছে টাকা পাঠিয়ে দাও।

ভৈরথি রানাগালের বিরুদ্ধে দাঁড়ানোর সাহস করে,

তার বিরুদ্ধে নির্বাচনে যেই প্রতিদ্বন্দ্বিতা করেছে,

তারই ইতিহাসের পাতায় জায়গা হয়েছে।

অশ্বত কুদারির বিরুদ্ধে দাঁড়ানো বিপক্ষ প্রার্থী মিঃ রবীন্দ্র...

৭০ হাজার ভোট নিয়ে নির্বাচনে জিতেছে।

পুরো রোনাপুর শহরে আতশবাজি ফুটানো হচ্ছে।

ভাই...

এখন ওই ভৈরথির সাথে গণ্ডগোল করে কোনও লাভ হবে না।

শত্রুরা মাথা উঁচু করে কথা বলছে।

আমরা অনেক সমস্যায় পড়ে যাব।

আমাদের বুঝেশুনে কাজ করতে হবে।

যা ইচ্ছা তা করা যাবে না।

নাহলে সমস্যা আমাদেরই হবে।

একদম ঠিক, স্যার।

আমাদের আগুন নিয়ে খেলা উচিত নয়, স্যার।

ভাই যেভাবে বলেছেন,

আগামী নির্বাচনে আমরা সেভাবে লড়াই করে জয়ী হব।

যেই হাতে বন্দুক আছে, তার সাথে তোমার রক্তের সম্পর্ক আছে।

কিন্তু এর ভিতরে যেই গুলি আছে,

তার সাথে কারও কোনও সম্পর্ক নেই।

ক্ষমতার লোভে তুমি দুশমনি ভুলে যেতে পারো,

কিন্তু, আমার বুকে ঘৃণার যে আগুন জ্বলছে সেই আগুনকে...

আমি কখনোই ভুলতে পারব না।

তুমি বুঝতে পারবে না।

ওকে কী করতে হবে,

তা আমাকে শেখাতে এসো না।

আমি খুশি হয়ে দিচ্ছি, কিন্তু আপনি নিচ্ছেন না।

আমি মিনতি করছি আপনি এগুলো নিন।

ফুলের এতগুলো গাছ আপনার জন্য নিয়ে এসেছি,

কারণ, জনগণের প্রতি আপনার নিঃস্বার্থ ভালোবাসা রয়েছে।

আপনি যদি রাজনীতিতে থাকেন তাহলে খুব ভালো হবে।

কিন্তু, আপনি যে দলকে সমর্থন করছেন তাদের মতিগতি ভালো না।

আগামী নির্বাচনে,

আপনি স্বতন্ত্র প্রার্থী হিসাবে প্রতিদ্বন্দ্বিতা করবেন।

ব্যাংক থেকে টাকা উঠিয়ে এদের নিয়ে রওনা হও।

ঠিক আছে, ভাই।

মোট কত টাকা উঠাব?

ভাই, হেলিকপ্টার নষ্ট হয়ে গেছে,

সিকিউরিটিকে বলে আপনার জন্য গাড়ির ব্যবস্থা করেছি।

সিংগা ফোন ধরছে না।

অনেকক্ষণ ধরেই চেষ্টা করছি।

আপনি গানার সাথে চলে যান।

গানা, শাব্রী ভাই সিংয়ের সাথে দেখা করতে চায়।

এজন্য আমি মাঙ্গালোরে যাচ্ছি।

নিজের সত্তাকে কব্জা করার যেই ইচ্ছা মনের ভিতর ছিল,

ওই কাজে সফল না হতে পারার জন্য,

তোমার হাত হয়ে গেছে ধার ছাড়া ছুরি।

আগামীকাল নির্বাচনে তোমার হারা জেতার সিদ্ধান্ত আমি দেবো।

আমি তোমাকে...

আজকেই জানিয়ে দিতে চাই,

আমাদের পার্টি থেকে,

রোনাপুরের নির্বাচনের প্রতিনিধি...

তুমিই হবে।

এর পরিবর্তে আমি শুধু চাই...

ওর মৃত্যু।

শাবরী রামনাথ,

ভোট গণনার সময় এইমাত্র এসেছে!

শাবরী রামনাথের পাওয়া ভোটের সংখ্যা...

আমি এখন...

গানা?

হয়েছে কী...

সিংগা আমাকে বলেছিল হেলিকপ্টার নষ্ট হয়ে গেছে।

আর এর জন্য আমি...

ঘড়ি পাল্টানোর সাথে সাথেই...

তোমার সময়ও পাল্টে গেছে।

আমার খাবার খেয়ে ঘুমোনো পর্যন্ত,

তুমি এক গ্লাস পানিও পান করতে না।

তোমার হাতে ছুরি থাকার পরেও,

আমি তোমাকে কখনই সন্দেহ করিনি।

৩০ বছর ধরে আমার জন্য যে সেবা দিয়েছ,

তার বদলে তোমার বাচ্চা কাচ্চার জন্য এই সম্পত্তি দিলাম।

আজ পর্যন্ত তুমি,

যা যা ভেবেছ, তারচেয়েও...

তোমাকে দশ গুন বেশি দিচ্ছি।

যত তাড়াতাড়ি পারো,

এই এলাকা ছেড়ে দূরে কোথাও চলে যাও।

আমার কাছে মাফ চাওয়ার কোনও চেষ্টা করবে না।

কারণ, আমি...

তোমাকে ক্ষমা করব না।

ওই বিদ্যুৎ চমক থেকে হয়ত দূরে যেতে পারবে।

আজকে পর্যন্ত আমাকে খুন করার স্বপ্ন দেখে গিয়েছ,

আর আমি তোমাকে সুযোগ দিয়েই গেছি।

গুটিবাজি থেকে খুন পর্যন্ত সব দোষ আমার ঘাড়ে চাপিয়েছ।

এরপরেও আমাকে স্পর্শও করতে পারনি।

তোমার মতো চিন্তা যদি আমি করি,

তাহলে তোমরা দুই ভাই মিলে,

পার্টির পতাকা নয়,

ঘুড়ি উড়াতে থাকবে।

যদি এরপরেও খুশি না হও,

আরও একবার চেষ্টা করে দেখতে পারো।

মামা, ছবিটি কে এঁকেছে?

আসলে...

তোমার মা যখন তোমার মতো ছিল,

তখন আমি এঁকেছিলাম।

ওটা আমি...

আর এটা তোমার মা।

মামা,

তুমি আর মা কথা বলো না কেন?

তোমার মা আমার উপর,

অনেক রাগ করে আছে, মা।

টাকার লোভে এখানে এসে,

মাদক মাফিয়াদের সাথে মিলে,

টেন্ডারে যতগুলো হাসপাতাল ছিলো,

ওখানে মাটি আর পাথর সাপ্লাই করতো।

এটুকুই নয়, যেখানে জীবন কাটাচ্ছিল...

ওখানে ওনার দুলাভাইয়ের কারণে বেঁচে থাকা খুব কষ্টকর হয়ে গিয়েছিল।

বোনের স্বামী ছিল সে।

কিন্তু, এসব না ভেবেই তাকে খুন করে ফেলে।

সেদিন থেকেই বিদা দিদি,

ভাইয়ের সাথে কথা বলা ছেড়ে দেয়।

- নমস্কার। - নমস্কার।

আপনি বাচাল মানুষ থেকে এত চুপচাপ হয়ে গেলেন কীভাবে?

এখানে একটা চেয়ার দে!

লাগবে না, লাগবে না। আমি এভাবেই ভালো আছি। হ্যাঁ, বল।

তোমার জন্য চেয়ার আনতে বলিনি, আমার জন্য বলেছি।

কাউকে দেখে শরীরে কখনও ঝাঁকি লাগে না,

কিন্তু, ওনাকে দেখলে সেটের সব আসবাবপত্র নড়তে থাকে।

ওটাও একবার থেমে যেতে পারে,

কিন্তু, উনি শুরু হলে আর থামতেই চায় না।

তোকে টাকা দেই সহকারী পরিচালক হওয়ার জন্য,

নাকি আমার সাথে মজা করার জন্য?

বোকা কোথাকার! সবগুলো গাধা!

আর কেউ তো এখানে আসেনি, নিজেকে নিজেই বলছেন নাকি?

ওসব বাদ দিন। আপনার অভিনয় দক্ষতা সম্পর্কে কিছু বলুন?

আরে, ভাই! সে আমাকে এমনভাবে মেরেছে যে,

কোন রাস্তায় ছিলাম আর কোথায় দিয়ে বের হয়েছি, কিছুই বুঝতে পারিনি।

আপনার অভিনয়ের দক্ষতা কখনও ছিল না।

ওই, একটু আগে নিয়ে আয়।

- শুভ সকাল। - শুভ সকাল।

শুভ সকাল, দিদি।

উনি এখানে আসতে না আসতেই, পুরো সেট একদম নিরাপদ হয়ে যায়।

নাহলে তো এই সেটে ভূমিকম্প হয়ে যেত।

আরে, উনিই তো পরিচালক।

তোমরা কী তৈরী?

জি, আসছি! আসছি, দিদি।

এখন ও তার অ্যাসিস্ট্যান্ট হয়ে গেছে!

এই সুন্দরী মেয়ে আবার কেরে!

হাই!

- তুমি কি ফ্রেশ নাকি? - কী?

না, না, না।

মানে, তুমি কি আমাদের ফিল্ম ইন্ডাস্ট্রিতে নতুন এসেছ?

- রেডি? - হ্যাঁ, রেডি, রেডি।

জ্যাকসন, এখানে আয়। আমাকে ডায়লগ বল।

- আসছি, ভাই। - তাড়াতাড়ি লাইট জ্বালাও।

মহিলা কলেজ নাকি?

দারুণ!

এই কলেজের পাশের বাস স্টপে খুব সুন্দরী এক মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

হ্যাঁ।

অবশ্যই, দাঁড়িয়ে আছে।

তুমি এই বাস স্টপে আসবে।

এসে গেছি, এসে গেছি।

- তুমি তাকে দেখবে। - দেখেছি।

তোমার তাকে পছন্দ হয়ে যাবে।

আমার তো তাকে খুব পছন্দ হয়েছে।

সে তোমার দিকে ঘুরে তাকাবে।

দেখার জন্যই তো এখানে এসেছি।

তুমি শিস বাজিয়ে তার সামনে গিয়ে দাঁড়াবে।

কিছুক্ষণ দাঁড়িয়ে থেকে, তুমি তোমার হাত উঠাবে...

- হাত উঠিয়ে কোথায় রাখব? - তার কাঁধে রাখবে।

শুধু হাতই রাখব, নাকি আরও কিছুও করতে হবে?

হাত উঠাতে পারবে, কিন্তু তোমার ইচ্ছামত না, আমার ইচ্ছামত।

বুঝেছ?

- কীভাবে? - সে কষিয়ে এক চড় দেবে।

কোথায়?

ওখানেই!

বাহ, বাহ! দারুন দৃশ্য হবে!

আগে কেন এই কথা বলনি?

তখনই তুমি বুঝতে পারবে যে, কারাতেতে তার ব্ল্যাক বেল্ট আছে।

- এই কথা আগে কেন বলনি? - মাত্রই তো বললাম।

প্রতিটা মেয়ের নিজের আত্মরক্ষার জন্য

কারাতের ট্রেনিং নিতে হবে। এটাই আমাদের এই সিনেমার মূল কথা।

তোমার জন্য শুভ কামনা রইল।

- এবার তোমাকে দেখে নেবে! - আমার কথা তো শোনো, জ্যাকসন!

বাবারে!

দিদি,

এই ক্লাইম্যাক্সের দৃশ্য কি একটু পাল্টানো যাবে?

- রেডি! সবাই চুপ!

- অ্যাকশন! - অ্যাকশন!

বোন,

তোমাকে দেখে আমার...

নিজের সুরক্ষার ব্যাপারেই ভয় পাচ্ছি।

কিন্তু, সমস্যা নেই। আমি তো তোমাকে উত্যক্ত করবই।

তুমি এখানে দাঁড়িয়ে যার কথা ভাবছ, সেই ভাবনার মানুষ যদি আমি নিজেই হয়ে যাই!

ওকে ঘুষি মারো!

পুরোই বারোটা বাজিয়ে দিয়েছে ভাই!

এ তো রক্ত ঝরছে! ম্যাডাম, এই দৃশ্য আবারও নিতে হবে!

এসো না, এসো! তোমাকে একটা জিনিস দেখাব! এসো!

আমি এটা বানিয়েছি।

আজ মামার জন্মদিন তো তাই।

তুমি কাউকে আবার বোলো না কিন্তু।

এটা মামা, আর এটা মা।

এটা আমি...

আর এটা তোমার মা।

আমার স্কুলের শিক্ষক আমাকে বলেন,

আমি যোগ, বিয়োগ, গুন, ভাগ সবকিছু বুঝি।

কিন্তু, মা আর মামা কেন কথা বলে না,

সেটা আমি বুঝতে পারি না, চাচ্চু।

এরা সবাই আপনার ভাইয়ের সাথে দেখা করতে এসেছে।

রক্তের সম্পর্ক না থাকার পরেও,

সম্মান জানানোর জন্য ৫০-১০০ মাইল দূর থেকে এখানে এসেছে।

আর আপনি তো তার আপন বোন, আর তার কাছে থাকার পরেও...

আপনি তার কাছ থেকে অনেক দূরে।

হাজারো মানুষের কাছ থেকে বাহবা পাওয়ার পরেও,

তার চোখ শুধু তার বোনের দিকেই আশা নিয়ে তাকিয়ে থাকে।

ভাবুন, তার হৃদয়ে কতটা কষ্ট আছে।

হাজারো মানুষকে ন্যায়বিচার দেওয়া আপনার ভাই ভাইরাথি রানা,

তার ছোট বোনের কাছ থেকে,

অনেক কষ্ট বছরের পর বছর সহ্য করে আছেন,

তারমানে, এর পেছনে কোনও না কোনও কারণ আছে।

দুইটা মাটির পুতুল বানিয়ে আপনার মেয়ে সেগুলিকে একসাথে করার চেষ্টা করছে।

আপনিই বলুন, যে বোন ভাইয়ের জন্য খাবার বেড়ে দেয়,

সে কীভাবে তার থেকে মুখ ফিরিয়ে রাখবে?

ওখানে শত শত লোক অপেক্ষা করার পরেও,

সে আশা নিয়ে বসে আছে, যে আমার বোন আমাকে সবার প্রথমে শুভেচ্ছা জানাবে।

বোন হিসাবে না যান,

এত মানুষের মধ্যে নিজেকে একজন বিবেচনা করে,

ভাইকে শুভেচ্ছা জানান।

খাবার খেয়েছিস?

না, ভাইয়া।

আমি ওর জন্য অপেক্ষা করছি।

তুই আমাকে একটা প্রতিজ্ঞা করবি।

কী প্রতিজ্ঞা, ভাইয়া?

তুই আমাকে ছেড়ে কখনও চলে যাবি না।

এমনকি আমাকে জিজ্ঞাসাও করবি না কেন,

তোর স্বামী আর কখনও ফিরে আসবে না।

ভাইয়া,

আমার স্বামী খারাপ মানুষ ছিল।

তাই, আপনি তাকে খুন করেছিলেন। এই কথা তো আপনি আমাকে বলতে পারতেন।

আমি কীভাবে এসব বলতাম?

আমি তোকে মানা করা সত্বেও,

তুই তার সাথে প্রেম করেছিলি।

যখন এই কথা জানতে পেরেছিলাম, তখন তোকে বলার সাহস পাইনি।

এইজন্য ওই কথা আমি গোপন রেখেছিলাম, কারণ...

সে যে ধোঁকাবাজ মানুষ,

এটা জানতে পারলে, তুই সারাজীবন কষ্টের মধ্যে থাকতি।

তাই...

তোর নিজের ভাইকেই খারাপ মানুষ বানিয়ে,

তোকে খুশি রাখার চেষ্টা করেছি আমি।

এতদিন ভাইয়ের কারণে রোনাপুরের সবাই খুশি থাকত।

কিন্তু আজ তোমার কারণে,

ভাই নিজেই খুশি হয়েছেন।

ভাই তোমার সাথে কথা বলতে চান।

উনি তোমার তার ঘরে যেতে বলেছেন।

এসো, গানা।

এসো।

বোসো।

জানি না, কেনও জানি আজকে...

আমি অনেক খুশি।

শুধু এটুকুই নয়।

আজকে সবাইকে হাসি মুখে দেখা যাচ্ছে।

অনেক লোক দরজার বাইরে আছে,

অনেক লোক গেটের ভিতরে আছে,

আর কিছু লোক তো...

ঘরের ভিতরেই আছে।

কিন্তু তুমি,

তুমি আমার মনে জায়গা করে নিয়েছ।

অনেক বছর কেটে গিয়েছিল!

আজকে আমার বোন...

আমাকে ভাই বলে ডেকেছে।

"ভাই" শব্দটা আজকে আবার শুনেছি।

চাও,

তোমার যা খুশি চাও।

কোনও চিন্তা না করেই বলো। যা খুশি চাও।

আপনাকে যদি মানুষের নজরে দেখি,

আপনাকে একজন দেবতার রুপেই দেখি।

আর যদি আইন কানুনের নজরে দেখি,

তাহলে সরকার আপনাকে...

বিশ্বাসই হয় না যে, সরকার আপনাকে অপরাধীর নজরে দেখে।

সরকার?

কোন সরকার?

১২ বছর বয়সে আমি এতিম হয়েছি,

ওই সরকার...

সাহায্য নয়, হকের জন্য লড়াই করেছি।

মাথাও নিচু করেছি।

ঘুমও নষ্ট করেছি।

ওই সরকার, যারা...

প্রভু মানুষকে সৃষ্টি করেছেন।

কিন্তু তাদের দেখাশোনার ভার,

রাক্ষসদের হাতে দিয়েছে।

ঠিকমত খেতেও দেয় না।

দেখা হলেই জনগন জনগন করে মরতে থাকে।

দে।

অভিযোগ জানানোর জন্য বেশ কয়েকটি চিঠি লিখেছি,

কিন্তু এখন পর্যন্ত কোনও উত্তর পাইনি।

আপনাদের লেখা এই চিঠি আর ফাইলের উত্তর যদি দিতে যাই, তাহলে আমার হাত ভেঙে যাবে।

আমাদের মতো গরিবদের শ্রমের কি কোনও দাম নেই?

আরে না, না। অনেক দাম আছে।

বাইরে এক পাউরুটির গাড়ি আছে না?

এসব যদি ওখানে নিয়ে গিয়ে ধুয়ে ফেলেন,

তাহলে এসব কাগজের বদলে, সে আপনাকে...

এক কি দুই গরম পাউরুটি দিবে।

পাউরুটি খেতে খেতে বাবা ছেলে বাসায় চলে যাবেন। এত চিন্তা কীসের!

মানুষের অধিকার নিয়ে লড়াই করা...

ওই লোকদের উপর থেকে বাবার বিশ্বাস পুরোই উঠে যায়।

এসব ভাবতে ভাবতে,

বাবার হার্ট অ্যাটাক হয়ে যায়।

তারপর উনার পেটে অনেক যন্ত্রনা শুরু হয়।

প্রচণ্ড ব্যথা কেবল বাড়তেই থাকে।

তার চিকিৎসা করানোর টাকা আমাদের কাছে ছিল না।

বাবার সেই চিৎকার...

আজও আমার কানে বাজতে থাকে।

ওই ব্যথা উনার জান নিয়ে নিলো।

আর সেদিন আমি অনেক বড়ো একটা সিদ্ধান্ত নেই।

অভাবকে সব সময়ের জন্য এই গ্রাম থেকে দূর করার সিদ্ধান্ত।

আর সেই কারণই আমাকে অপরাধী বানিয়েছে।

এই গ্রামের মানুষ...

এটাও জানত না যে, রেশন কার্ড দেখতে কেমন!

কিন্তু যতদিন বেঁচে আছি,

একজনকেও আমি না খেয়ে থাকতে দেবো না।

সরকারী সাহায্য কাকে বলে, তা আমি জানি না।

কিন্তু, আগামী প্রজন্ম পর্যন্ত আমি সমস্ত ব্যবস্থা করে রেখেছি।

ইংরেজরা শুধু মশলা বিক্রি করতে এসে,

এই দেশে ৩০০ বছর ধরে রাজত্ব করে সব লুটে নিয়েছে।

তাহলে আমি যদি গ্রামবাসীর জন্য লুটপাট করি, তাতে ভুল কোথায়?

আমাকে কেউ ধরতেও পারবে না।

আমাকে কেউ ধরতে পারে না, সরকারেরও ক্ষমতা নেই।

আমার শরীরে জান থাকা অবস্থায় নয়।

আমাকে কেউ ধরতেও পারবে না।

আমাকে কেউ ধরতেও পারবে না।

কেউ পারবে না।

- হ্যালো। - হ্যাঁ।

এখন পর্যন্ত যথেষ্ট তথ্য আর প্রমাণ জোগাড় হয়েছে।

এবার ওকে গ্রেপ্তার করা যাবে।

ওখান থেকে যত তাড়াতাড়ি সম্ভব নিরাপদে চলে এসো।

একে বলা হয় গৃহযুদ্ধ।

মার পেট থেকে জন্ম নেওয়ার পর,

দাড়ি মোচ গজানো থেকে শুরু করে চুল সাদা হওয়া পর্যন্ত,

জীবন দিয়ে এক পার্টির জন্য দিনরাত কষ্ট করে।

যার এই ভালো কাজের জন্যে,

যেকোনও একজনের মুখ্যমন্ত্রী হওয়ার সুযোগ থাকে।

আজ নয়তো কালকে আমার ছোট ভাই মুখ্যমন্ত্রীর আসনে বসবেই।

এক মুহূর্তের জন্যও পুরো রাত ধরে কোনও চোখের পলক না ফেলে,

সূর্য ওঠা পর্যন্ত অপেক্ষা করতাম।

কিন্তু...

টাকার লোভে এক রাক্ষস,

রাতের মধ্যে আমার সব এমএলএ-কে টাকা দিয়ে কিনে,

নিজের মন মতো অন্য কাউকে মুখ্যমন্ত্রী বানাতে চায়।

সেই অহংকারী মানুষকে...

ভৈরথি রানাগালকে...

নিজের রাস্তা থেকে সবসময় সরিয়ে দিতে চেয়েছে...

এই রঘুভীর ভান্ডারী।

আমার প্রতিটা নিশ্বাসে আমি ওকে মারার চেষ্টা করেছি।

কিন্তু, তুই তার রক্ষা কর্তা হয়ে মাঝখানে চলে এলি।

এজন্য, এই রক্ষা কর্তাকে সবসময়ের জন্য দূরে সরিয়ে দিতে এসেছি।

ওকে এভাবেই মরতে দাও।

এরজন্য একটা গুলিও নষ্ট করা যাবে না,

সব গুলি ভৈরথি রানাগালের বুকে মারতে হবে।

আমার কবরের জন্য,

এক মুঠ সিমেন্ট বা একটা ইটও ব্যবহার করবি না।

তুই যা করবি, সব জনগণের জন্য করবি।

তুই যেভাবে বলেছিলি, সেভাবে আমার মনে শান্তি পাচ্ছি না।

তুই মারা গেলেই আমি শান্তি পাবো।

অনেক বড়ো বড়ো ঝামেলা তুই পার করেছিস। কিন্তু, আমি শুধু একটা কথাই বলব।

কারণ, তোর থেকে আমার কথার মূল্য অনেক বেশি।

ওকে এত সহজে মরতে দিবি না।

আমার চোখের শান্তি মিলবে না।

তুই এখনও একটা জিনিস বুঝতে পারিসনি।

তোর কথার চেয়ে আমার ধৈর্য বেশি শক্তিশালী।

এসব এখন জেনে তোর আর কোনও লাভ হবে না।

রোনাপুরের দেবতা নাম দেওয়া সেখানকার নিবাসী ভৈরথি রানাগাল,

আজকে গ্রেফতার হয়েছে।

তার উপর অবৈধ কাজ, অপরাধমূলক কর্মকাণ্ডের অভিযোগ আরোপ করা হয়েছে।

এই ঘটনার পর রোনাপুরে কয়েকজন মানুষ খুন হয়েছে।

জায়গায় জায়গায় আগুন ধরানো হয়েছে।

এখন পর্যন্ত এদেরকে নিয়ন্ত্রণ করে শান্তি প্রতিষ্ঠার জন্য সরকার পুরো ব্যর্থ হয়েছে।

আমি তোমাকে এখনও একটা কথা বলিনি।

গানা একজন চৌকস সিবিআই অফিসার।

আমি এখানে ভৈরথি রানাগালের জন্য এসেছিলাম।

যে আমাকে গ্রেপ্তার করতে এসেছিল,

সে নিজেই গ্রেফতার হয়ে যায়। কারণ, আমার উপর সে অভিমান করে আছে।

সে সরকারের কাছে এক অপরাধী,

কিন্তু মানুষের কাছে,

সে একজন ফেরেশতা।

গানা আমার জন্য অনেক কিছু করেছে,

কিন্তু, আমি তার জন্য কিছুই করতে পারিনি।

এত বছর ধরে আমি শুধু চুরি করেই এসেছি।

এখন তার দেখানো পথে হেঁটে নিজেকে ভালো মানুষ বানাতে চাই।

অপারেশন শেষ না হওয়া পর্যন্ত,

তৃতীয় কোনও মানুষ এর ব্যাপারে জানতে পারত না। সেজন্যই তোমাকে বলতে পারিনি।

আমি দুঃখিত।

আমার বোন আর তার বাচ্চার খেয়াল রাখিস।

Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.