Akan
Albanian
Amharic
Armenian
Azerbaijani
Basque
Belarusian
Bemba
Bihari
Bosnian
Breton
Bulgarian
Cambodian
Catalan
Cebuano
Cherokee
Chichewa
Chinese (Simplified)
Chinese (Traditional)
Corsican
Croatian
Czech
Danish
Dutch
Esperanto
Estonian
Ewe
Faroese
Filipino
Finnish
French
Frisian
Ga
Galician
Georgian
Guarani
Gujarati
Haitian Creole
Hausa
Hawaiian
Hebrew
Hindi
Hmong
Hungarian
Icelandic
Igbo
Indonesian
Interlingua
Irish
Italian
Japanese
Javanese
Kannada
Kazakh
Kinyarwanda
Kirundi
Kongo
Korean
Krio (Sierra Leone)
Kurdish
Kurdish (Soranî)
Kyrgyz
Laothian
Latin
Latvian
Lingala
Lithuanian
Lozi
Luganda
Luo
Luxembourgish
Macedonian
Malagasy
Malay
Maltese
Maori
Marathi
Mauritian Creole
Moldavian
Mongolian
Myanmar (Burmese)
Montenegrin
Nepali
Nigerian Pidgin
Northern Sotho
Norwegian
Norwegian (Nynorsk)
Occitan
Oriya
Oromo
Pashto
Persian
Polish
Portuguese (Brazil)
Punjabi
Quechua
Romanian
Romansh
Runyakitara
Russian
Samoan
Scots Gaelic
Serbian
Serbo-Croatian
Sesotho
Setswana
Seychellois Creole
Shona
Sindhi
Sinhalese
Slovak
Slovenian
Somali
Spanish (Latin American)
Sundanese
Swahili
Swedish
Tajik
Tamil
Tatar
Telugu
Thai
Tigrinya
Tonga
Tshiluba
Tumbuka
Turkish
Turkmen
Twi
Uighur
Ukrainian
Urdu
Uzbek
Vietnamese
Welsh
Wolof
Xhosa
Yiddish
Yoruba
Zulu
সাবটাইটেল অনুবাদক মাসুম হোসেন কামরুল হাসান শিমুল
সম্পাদনা কামরুল হাসান শিমুল
(যুদ্ধে নিহত সকল শহীদদের স্মরণে)
এতগুলো টানেল সৈন্যরা কীভাবে খুঁড়ল?
এদিকে নজর দাও।
কিছু একটা পেয়েছি!
কী ওটা?
হানাকো...
মাটি খুঁড়তেই থাকি।
সারাদিন ধরে খুঁড়ি।
এই পরিখাতেই আমরা লড়াই করবো...
এখানেই মারা যাবো।
হানাকো...
নিজের কবরই খুঁড়ছি না তো?
আজ আমার জন্য অপেক্ষমাণ সৈন্যদের কাছে যাচ্ছি।
সর্বদা আমি দেশের সেবায় নিয়োজিত এবং জীবন দিতে প্রস্তুত থাকবো।
বাড়িতে নিশ্চয়ই সব ব্যবস্থা করে এসেছি...
কিন্তু আসার আগে রান্নাঘরে যেতে পারিনি বলে খারাপ লাগছে।
খুব ইচ্ছে করছিল...
কিন্তু কোনো উপায় ছিল না...
তাই খুবই খারাপ লাগছে।
তাই যথাসম্ভব তারোকে বলবে যত্ন নিতে।
দ্বীপের মায়রে বাপ! অ্যামেরিকানরা দখল করে নেবে।
একটা ঘাসও জন্মায় না।
দুর্গন্ধ, অতিরিক্ত গরম, ভয়ানক কীটপতঙ্গ, পানযোগ্য পানি পর্যন্ত নেই।
এই দ্বীপটা পবিত্র জাপানেরই একটা অংশ।
এই দ্বীপে পবিত্র বলে কিছু নেই।
সাইগো।
দ্বীপটা অ্যামেরিকানদের কাছে ছেড়ে দিলেই বাঁচতাম...
বাড়ি ফিরে যেতাম।
সাইগো!
কী বললে তুমি?
বলেছি, অ্যামেরিকানদের পরাজিত করে আমরা বাড়ি ফিরবো।
ও কি তা-ই বলেছে?
ইয়েস, স্যার।
আমি কুরিবায়াশি।
স্বাগতম জেনারেল, আমি অ্যাডমিরাল ওসুগি।
এখানে কতক্ষণ যাবত অপেক্ষা করছেন?
তিনঘণ্টা যাবত, স্যার।
দুঃখিত।
আমার আসার খবর প্রচার হোক সেটা তারা চায় না...
অ্যাডমিরাল ইয়ামামোতোর ঘটনার পর থেকেই।
বুঝেছি স্যার।
উনি আমার সহকারি লেফটেন্যান্ট ফুজিতা।
ব্যাপার কী অ্যাডমিরাল? আপনাকে স্বাভাবিক লাগছে না।
তেমন কিছু না, স্যার। সুপেয় পানির বড়ই অভাব।
চিন্তার বিষয়।
আপনার কোয়ার্টার এই পথে।
অ্যাডমিরাল, প্রথমে দ্বীপটি আমি ঘুরে দেখতে চাই।
একটা গাড়ি নিয়ে আসবো?
না, হেঁটেই চলুন।
হাঁটাহাঁটি স্বাস্থ্যের পক্ষে ভালো।
যা আপনার জন্য বেশিই দরকার, মি. ওসুগি।
তো, এটাই সেই সুরিবাচি।
বিশ্বাসঘাতক...
রাজাকার!
হেই, থামো!
দাঁড়াও!
কী করছো এসব?
এই সৈন্যরা...
দেশের বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্রমূলক আলাপ করছিল, স্যার।
আচ্ছা।
ক্যাপ্টেন, তোমার কাছে কি অতিরিক্ত সৈন্য রয়েছে যে...
এই দুজনকে কমিশনের বাহিরে রাখতে পারো?
না, স্যার।
তাহলে মারধোর বন্ধ করো।
তারচেয়ে বরং রেশন বন্ধ করে দাও।
অভিজ্ঞ ক্যাপ্টেন মগজ খাটায়, শরীরের শক্তি নয়।
কী করছো তোমরা?
এগুলো?
গর্ত খুঁড়ছি।
এখানে খুঁড়ে কী হবে?
অ্যামেরিকানরা দ্বীপটা দখল করতে চায়...
... ওদের থামানোর জন্যেই খুঁড়ছি।
কিন্তু জেনারেল...
ক্যাপ্টেন...
এসব সৈন্যদের বিশ্রাম দাও।
দেখে মনে হচ্ছে মঙ্গলগ্রহ থেকে টুপ করে পড়েছে।
থামো!
খোঁড়াখুঁড়ি বন্ধ করো!
ভালোই হলো।
ক্ষুধায় পেট চোঁ চোঁ করছিল।
জেনারেল কুরিবায়াশিকে ধন্যবাদ।
দয়ালু কম্যান্ডার।
মদের চেয়ে ভালো!
শুনেছি তিনি অ্যামেরিকায় থাকতেন।
হয়ত সেজন্যেই গর্ত খুঁড়তে দেননি।
হতে পারে অ্যামেরিকানদের পছন্দ করেন।
আরে না, গর্দভ। অ্যামেরিকানদের সম্পর্কে তিনি অভিজ্ঞ।
ওদের কীভাবে হারাতে হবে তিনি জানেন।
২০৪তম ব্যাচের একজনের কাছে শুনেছি...
আরেকজন কম্যান্ডার দ্বীপে নেতৃত্ব দিত...
কিন্তু মন থেকে করত না।
তাই প্রধানমন্ত্রী তোজো কুরিবায়াশিকে দায়িত্ব দিয়েছেন।
নোজাকি, তুমি তো অনেককিছু শুনেছ...
তাই তো তোমার কানভর্তি ময়লা!
যাইহোক, ২০৪তম ব্যাচের কেউই বিশ্বাসযোগ্য না।
ওরা নেভির সদস্য।
জেনারেল কুরিবায়াশি নিশ্চয়ই দক্ষ হবেন।
দেখছো না...
বালিতে অযথা গর্ত খুঁড়তে হচ্ছে না?
অসহ্য গরম পড়ছে।
দ্বীপটা ভাবনার চেয়েও বড়, ঘুরতে ঘুরতে ভীষণ ক্লান্ত।
ইতো, ডিউটি রিপোর্ট দাও।
ঠিক সময়েই এলেন।
বিমান বাহিনীর কয়টা প্লেন আছে আমাদের?
৪১টি জেকেস আর ১৩টি বোমারু বিমান, স্যার।
এই কয়টা?
সাইপান দ্বীপ বাঁচাতে গিয়ে ৬৬টি বিমান ভূপাতিত হয়েছে।
সমন্বিত রণতরীর ওপরই আমাদের নির্ভর করতে হবে এখন।
এটাই আপাতত প্রতিরক্ষা ব্যবস্থা?
হ্যাঁ।
সেনাবাহিনীর কী হবে? ওরা কোথায় নামবে?
সেটা ভেবে দেখিনি।
তারা কর্নেল আধাচির অধীনে রয়েছে।
আর্মির সাথে কি তোমার পরিকল্পনা নিয়ে আলাপ করেছো?
নৌবাহিনীর আইনানুসারে, শত্রুপক্ষের আক্রমণ ছাড়া সম্ভব নয়...
যুদ্ধ তো চলছেই! সেটা তো বুঝতে পারো, নাকি?
এতে কাজ হবে না।
সৈকতের দিকেই সব মনোযোগ দিয়ে বসে আছো।
গোলাবারুদ উঁচু জায়গাগুলোতে স্থাপন করো...
আমরা তো কেবলই সৈকতে নিয়ে গেলাম...
বেশ, আবার ফেরত নিয়ে আসো।
আর্মির সাথে আলোচনা করে কাজে নেমে পড়ো।
সুরিবাচির দুর্গ-নির্মাণে আগে হাত দেবে।
আমি আরেকটু হেঁটে আসি।
বাহিরে ঘুটঘুটে অন্ধকার, স্যার।
অদ্ভুত লোক।
আর্মি কম্যান্ডাররা এমনই হয়, স্যার।
আবারও চিঠি?
জাহাজ ছাড়া চিঠি যায় না, জানো না?
আমার অনেকগুলো পরিবার আছে।
তাহলে সব চিঠি বউয়ের ঠিকানায় পাঠাও কেন?
চুপ!
দাঁড়াও, একটা উপকার করি। নইলে চিঠি কোনোদিনই পৌঁছবে না।
আরে, কী করছেন?
এখানে আসার আগে টকিয়োতে আমি সেন্সরবোর্ডে কাজ করতাম।
তারমানে পদাবনতি হয়েছে।
প্রিয় হানাকো: আমরা সৈন্যরা সারাদিন পরিখা খনন করি।
না, না, এই চিঠি জীবনেও যাবে না।
চিঠি ফেরত দাও!
তোমার উপকারের জন্য আমাকে ধন্যবাদ দেওয়া উচিৎ, সাইগো।
পরেরজন!
সাবাস!
তুমি অন্ধ নাকি?
লক্ষ্যবস্তু দেখো না?
আমার পিচ্ছি মেয়েও তো ভালো গুলি করতে পারে।
আবার মারো!
মার্কামারা গর্দভ! নিজেকে আবার ইম্পেরিয়াল সৈন্য দাবি করো?
আজ পুরো সৈন্যদলের জুতা পরিষ্কার করবি তুই।
পেছনে যাও!
জুতার চেয়েও অস্ত্র পরিষ্কার করতে শেখাটা জরুরী।
ট্যাংকগুলো এখানে কেন?
ওগুলো অকেজো, স্যার। ভাঙরি হিসেবে পড়ে আছে।
- কতদিন যাবত? - মাসখানেক হবে, স্যার।
তারো, অ্যামেরিকায় গাড়িঘোড়ায় ভরপুর।
রাস্তা পারাপারের সময় সতর্ক থাকতে হয়...
ডানে-বাঁয়ে শুধু গাড়ি আর গাড়ি।
তারো, তুমি কি তোমার মায়ের কথা শোনো?
ভীষণ মিস করছি তোমাকে।
বেসামরিক লোকদের নিরাপদ স্থানে সরিয়ে নাও।
ইয়েস, স্যার।
হানাকো...
আমরা একজন সেলেব্রিটি পেয়েছি।
বারন নিশি, ঘোড়দৌড়ে অলিম্পিক স্বর্ণ বিজয়ী।
তিনি ২৬তম ট্যাংক রেজিমেন্টে নেতৃত্ব দিতে...
... সোজা টকিয়ো থেকে এসেছেন।
নিশি খুবই হ্যান্ডসাম, আর ভীষণ মেয়ে পটানোর ক্ষমতা রয়েছে।
কিন্তু এই দ্বীপে একটাও মেয়েমানুষ নেই।
লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিশি! একদম ঘোড়া নিয়ে হাজির!
চিচি জিমা থেকে এনেছি।
আমি ঘোড়সত্তয়ার সৈনিক, জানেনই তো।
অবশ্যই জানি।
আপনার অধীনে কাজ করতে আমি মুখিয়ে আছি।
ঘোড়ার ভাষা যে বুঝতে পারে তাঁকে আমিও বুঝি।
যুদ্ধক্ষেত্রে আমরা যখন ঘোড়া দৌড়াতাম...
সেসব দিন এখন স্বর্ণালি অতীত...
এসব লক্করঝক্কর যন্ত্রপাতি ছিল না।
আরেকটা ঘোড়া নিয়ে আসি...
তাহলে একসাথে ঘোড়দৌড় দেওয়া যাবে।
এখন আর আগের মতো পারি না।
আচ্ছা, তোমার সেই অলিম্পিক জেতা ঘোড়াটা কোথায়?
ঘোড়াটার নাম ছিল 'ইউরেনাস'।
হ্যাঁ, ঘোড়াটার পাছাটা চরম ছিল।
ইতালি থেকে কিনেছিলাম।
ওকে বিক্রি করে ওরাও হাঁপ ছেড়ে বাঁচল।
ওটা ছিল বন্য ঘোড়া।
কেউ নিয়ন্ত্রণ করতে পারত না, তখন আমি বললাম...
এমন তেজি ঘোড়া...
... আমার খুবই পছন্দ।
ডিনারে চলে এসো, একসাথে পান করা যাবে।
সেই ব্যবস্থা করেই আসবো।
জনি ওয়াকার কোথায় পেলে?
কয়েক প্যাগ মেরেও দিয়েছি।
মাফ করবে, তেমন আয়োজন করতে পারিনি।
এখানে খেতে পেয়েছি এটাই তো শুকরিয়া।
খালি প্লেটে কী আছে?
রাঁধুনিকে বলেছি আমাদের অফিসার সবাই...
আমাদের সমান খাবার ও রেশন পাবে।
দুঃখিত, দৈনিক তিনটা পদ পরিবেশনের নিয়ম আছে।
যদিও চাইলে তিনটার বেশি পদও পরিবেশন করা যায়।
ঠিকই বলেছ।
ভাবতেই কষ্ট লাগে...
অনুশোচনা হয় যে, বেশিরভাগ রণতরী ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।
এখনো কিছু রণতরী রয়েছে...
কিন্তু সাগরপথ বা আকাশপথে আক্রমণের সামর্থ্য হারিয়ে ফেলেছি।
নিশি, কী বোঝাতে চাচ্ছ?
মারিয়ানা যুদ্ধ সম্পর্কে শোনেননি?
অ্যাডমিরাল ওজাওয়ার রণতরী ও বিমান ধ্বংস হয়ে গেছে।
ইম্পেরিয়াল সদর দপ্তর...
শুধু জনগণকেই ধোঁকা দিচ্ছে না, আমাদেরকেও দিচ্ছে।
যদি আমার নির্ভয় মন্তব্য জানতে চান, জেনারেল...
সবচেয়ে মোক্ষম কাজ হবে...
দ্বীপটা গুঁড়িয়ে সাগরে মিলিয়ে দেওয়া।
আর সেজন্যেই তুমি এসেছ?
বেশ...
আপনার সৈন্যদের আমার আনা প্রচুর ট্যাংক প্রয়োজন।
এটাই সেই জায়গা।
শত্রুরা এখানে এসেই নোঙর ফেলবে।
দৌড়াও!
মনে করো তুমি একজন অ্যামেরিকান!
যাও! প্রথমে তুমি কোনদিকে যাবে?
আরে...
তোমার জেনারেল তো পাগল হয়ে গেছে।
ওর পিস্তলটা দেখো।
সম্ভবত কোনো মৃত অ্যামেরিকানের থেকে নিয়ে নিয়েছে।
হতেও পারে।
বিশ্রামের সময় শেষ।
কাজে ফিরে যাও!
কী হয়েছে, কাশিওয়ারা?
তোমাকে বিমর্ষ দেখাচ্ছে।
আমি ঠিক আছি। পানির জন্য পেট খারাপ।
কিন্তু আমার এখনই...
রণকৌশলে পরিবর্তন আনতে হবে।
মতোয়ামা, হিগাশিয়ামা ও সুরিবাচিতে পরিখা খনন করতে হবে।
ভূগর্ভস্থ দুর্গ বানাতে হবে এবং প্রাণপণ লড়াই চালাতে হবে।
- সৈকত প্রতিরক্ষার কী হবে, স্যার? - দরকার নেই।
কিন্তু স্যার, সৈকতেই তো আমাদের প্রধান প্রতিরোধ।
সৈকতের পরিখা ছাড়া কি জেতা যাবে?
হায়াশি, তুমি কি জানো অ্যামেরিকা প্রতিবছর কতগুলো গাড়ি উৎপাদন করে?
পাঁচ মিলিয়ন।
অ্যামেরিকার উন্নত প্রযুক্তি ছোট করে দেখার সুযোগ নেই।
যেকোনো উপায়ে ওরা সৈকত অতিক্রম করবে।
এখানেই সব সৈন্য হারিয়ে ফেললে জেতার কোনো সুযোগই থাকবে না।
যুদ্ধক্ষেত্রে মৃত্যু তো অনিবার্য...
কিন্তু সৈকতে প্রতিরোধ ছাড়া দ্বীপে যুদ্ধের কথা জীবনেও শুনিনি।
জেনারেল, এখন টানেল খোঁড়াটা হবে পণ্ডশ্রম।
দ্বীপে থেকেই ওদের মোকাবেলা করতে হবে...
এবং সাগর ও আকাশপথে আক্রমণ করতে হবে।
ঠিকই বলেছ। অধিকাংশ জেনারেল সেটাই করে থাকে।
ওসুগি...
নৌবাহিনী কি সেটা জানে না?
মারিয়ানা যুদ্ধে রণতরী সব ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।
এই দ্বীপটাও এখন বিচ্ছিন্ন হয়ে গিয়েছে।
ইম্পেরিয়াল হেডকোয়ার্টার থেকে আজ একটা আদেশনামা পেয়েছি।
সব ধরণের যুদ্ধবিমান ফেরত পাঠাতে বলেছে...
... টকিয়োতে মূল ভূখণ্ড রক্ষা করতে।
সাংঘাতিক! তাহলে আমরা কী নিয়ে লড়াই করবো?
তর্কাতর্কির সময় নেই, এখনই কাজে লেগে যেতে হবে।
প্রিয় মা...
নতুন বাহিনীতে আমি বদলি হয়েছি।
বদলি সম্পর্কে এখনই কিছু বলা নিষেধ আছে।
নিজের প্রতি খেয়াল রেখো।
ছবিটা দেখো।
ভালোবাসার তাজমহল।
জানো তাজমহল কেন নির্মাণ করেছিল?
মৃত এক মহিলার জন্য।
তাঁর হয়ত অনেক ধনসম্পদ ছিল...
... মৃত ব্যক্তির জন্য তাজমহল নির্মাণ করতে।
এসব ফালতু বই পড়ে লাভ কী?
আমরা তো আর যুদ্ধে জিতবো না।
মৃত্যুর পর সাড়ে তিনহাত মাটি পাবো কিনা তারও নিশ্চয়তা নেই।
আফসোস করে লাভ নেই, কপাল খারাপ।
এটা কি ৩১২তম?
ঠিক জায়গাতেই এসেছ।
আমি নোজাকি, আর ও হচ্ছে সাইগো।
শিমিজু, জিনিসপত্র এখানে রাখো।
ওপাশে একটা খালি জায়গা আছে।
কিছু মনে করো না।
ওর বন্ধু কাশিওয়ারা মারা গিয়েছে।
জায়গাটা ওর ছিল।
আমাদেরও তো মরতে হবে।
এটাই তো প্ল্যান, তাই না?
দেশের জন্য মৃত্যু সম্মানজনক।
কাশিওয়ারা মহামান্য পাতলা পায়খানায় মারা গেছে।
শিমিজু, তোমার বাড়ি কোথায়?
কানাগাওয়া-কেন।
ওজাওয়া, তোমার বাড়িও সেখানে না?
একই জায়গা।
প্রশিক্ষণ নিয়েছিলে কোথায়?
একই প্রতিষ্ঠানে ছিলাম আমরা?
না।
প্রশিক্ষণ নিয়েছি টকিয়োতে।
আমিও টকিয়োতে, তুমি কোথায়?
কোহো কিমু ইয়োইন ইয়োসিজো।
আরে...
আমাদের ইউনিটে মিলিটারি পুলিশ কেন দিলো?
কী করে বলবো!
ও তো সাদা আর্মব্যান্ড পড়েনি, তারমানে মিলিটারি পুলিশ নয়।
মিলিটারি পুলিশ একাডেমীতে গিয়েছিল।
হয়ত বের করে দিয়েছে।
ভাব দেখে তো মিলিটারি পুলিশের মতোই লাগে।
ওর খাপের দিকে দেখো।
আমাদের ওপর গোয়েন্দাগিরি করতে এসেছে।
গোয়েন্দাগিরি কেন করবে?
তোমার লিখা চিঠিগুলোর কারণেও হতে পারে।
তোমাকে আরও সতর্ক হতে হবে।
আবারো সেই আগাছার স্যুপ?
কুরিবায়াশি যুদ্ধকালীন সময়ের জন্য খাদ্য মজুদ করছে।
অ্যামেরিকানরা আক্রমণের আগেই না খেয়ে মরবো।
যুদ্ধে আমাদের অবদানের দিক বিবেচনা করে...
আমাদেরকে কেক বা স্যান্ডউইচ খেতে দেওয়া উচিৎ।
কী?
অহমীয়াতে স্ত্রীকে নিয়ে একটা বেকারি চালাতাম।
আমরা মিষ্টি জাতীয় খাবার তৈরি করতাম...
মিষ্টি রোল আর কেক বিক্রি করতাম।
ওর সাথের পুলিশগুলো...
ইচ্ছেমতো জিনিসপাতি নিয়ে যায়।
যুদ্ধের জন্য... দেশের জন্য...
তাই বলে রুটি?
আমাদের কাপড়ের দোকানও ছিল।
যখন স্যান্ডউইচ তৈরি করতাম...
ওগুলোও ছিনিয়ে নিত।
মাংস ছিনিয়ে নেওয়ার পর শুধু রুটি থাকলে সেটাও নিয়ে নিত।
সবকিছু বাজেয়াপ্ত করে নিত...
আমাদের ব্যবসাও বন্ধ হয়ে যায়।
তারচেয়ে জেলে হলেই ভালো হতো।
তোমার স্ত্রী নিশ্চয়ই অনেক কষ্টে আছে...
বেকারিও নেই, স্বামীও নেই।
বিদায় করে দাও। বিক্রি করার মতো কিছু নেই।
অভিনন্দন! তোমার স্বামী যুদ্ধ করার সুযোগ পেয়েছে।
অনেক ধন্যবাদ।
দেশসেবার সুযোগ পেয়ে আমি গর্বিত।
যুদ্ধক্ষেত্রে তোমার সফলতা কামনা করছি।
মাফ করবেন! আমাদের আর কেউ নেই।
আবেগ দেখানোর অত সময় নেই।
আমরা সবাই স্বামী-সন্তান যুদ্ধে পাঠিয়েছি।
যুদ্ধে অংশ নেওয়াটা জরুরী।
অন্তত তোমার তো কেউ একজন থাকবে।
তোমাকে নিয়ে এভাবে আর খেতে পারবো না।
তুমি শহীদ হলে আমি কোথায় গিয়ে দাঁড়াবো?
আমি তো এখনও মরে যাইনি।
যুদ্ধক্ষেত্র থেকে কেউ ফিরে আসে না।
ওরা তোমাকে ফিরে আসতে দেবে না।
চিন্তা কোরো না।
আমি তো অন্তঃসত্ত্বা।
শুনতে পাচ্ছ?
আমি তোমার জন্মদাতা।
শোনো।
তোমাকে এখন যা বলবো ওকথা কাউকে বলবে না।
খুবই গোপন কথা।
তোমার বাবা...
... তোমার জন্য হলেও ফিরে আসবে।
জলদি করো!
শত্রুপক্ষ এলো বলে!
হাস্যকর কাজ-কারবার!
টানেল খুঁড়ে অযথা সময় নষ্ট হচ্ছে না?
সবগুলোকে মরতে হবে।
তবুও ভাগ্য ভালো পিলবক্সগুলো সৈকতে স্থাপন করেছে।
আমায় ডেকেছেন, স্যার?
একটু গলা ভেজাবে?
তোমাকে ইদানীং খুব বিমর্ষ দেখাচ্ছে।
পানিজনিত সমস্যা। পানির সাথে খাপ খাওয়াতে পারিনি।
ব্যাপারটা সুবিধার নয়।
তাহলে মূল ভূখণ্ডে গিয়ে চিকিৎসা নিচ্ছ না কেন?
অ্যাডমিরাল ইচিমারুকে তোমার জায়গায় নিয়োগ দিয়েছি।
টানেল খুঁড়ে আমরা অযথা সময় নষ্ট করছি।
জেনারেল, রণতরী ছাড়া এই দ্বীপে পাঁচদিন টেকাও কষ্টকর হবে।
আমাদের প্রাণপণ লড়াই করতে হবে।
টানেল খোঁড়া পণ্ডশ্রম হতে পারে।
ইয়োতে লড়াই করাও পণ্ডশ্রম হতে পারে।
হতে পারে পুরো যুদ্ধটাই একটা পণ্ডশ্রম।
তাই বলে হাল ছেড়ে দেবো?
জীবন থাকা পর্যন্ত প্রতিরোধ গড়ে তুলবো!
শেষ রক্তবিন্দু দিয়ে হলেও লড়াই চালিয়ে যাবো!
আমাদের সন্তানরা যদি একদিন হলেও বেশি বাঁচতে পারে...
সেই একদিনের জন্য হলেও আমরা লড়াই করে যাবো!
ওসুগি...
অফিসার হিসাবে যদি একবিন্দুও দায়িত্ব থেকে থাকে...
তোমাকে অনুরোধ করছি...
হেডকোয়ার্টারে ফিরে গিয়ে সহায়তার অনুরোধ জানাতে।
গুঞ্জনটাই সত্যি হলো? আমি তো বিশ্বাসই করিনি।
দ্বীপটা ত্যাগ করতে পেরে আমি কৃতজ্ঞ।
হয়ত আমাদের মাঝে মতানৈক্য ছিল...
কিন্তু তোমার চলে যাওয়ায় আমি সত্যিই ব্যথিত।
জেনারেল হায়াশি, সবকিছু আপনার ওপর নির্ভর করবে।
কুরিবায়াশি থাকবে ডেস্কে বসে, আর কমান্ডিং অফিসার থাকবেন আপনি।
বুঝতে পেরেছি।
আমরা সবাই আপনার সাথে একমত, স্যার।
শোনো।
অ্যামেরিকানরা এখানে অবতরণ করবে।
ক্রসফায়ার অবস্থান হবে এখানে...
এখানে...
আর এখানে।
সমস্যা হচ্ছে...
প্রতিটি ক্ষেত্রে আমাদের শক্তি-সামর্থ্য কম।
কিন্তু আমাদের আছে বিরাট সুবিধা।
কেউ কি বলতে পারো সেটা কী?
অ্যামেরিকানরা হলো দুর্বল চিত্তের এবং জাপানিদের তারা ভয় পায়।
সাবাস, শিমিজু।
কেন জানো?
ওরা সুশৃঙ্খল না...
আর দায়িত্ব পালনকালে আবেগকে প্রচণ্ডভাবে প্রশ্রয় দেয়।
একদম ঠিক কথা।
এই হচ্ছে অ্যামেরিকান মেডিকের পোশাক।
ও হবে আমাদের প্রধান টার্গেট।
ওকে বাঁচাতে প্রচুর সৈন্য জীবন বাজি রাখবে।
বুঝেছ?
জেনারেল, একটু কথা বলতে পারি?
মেজর জেনারেল হায়াশির ওপর একটু নজর রাখবেন।
পরামর্শের জন্য ধন্যবাদ, নিশি...
কিন্তু নষ্ট করার মতো সময় একদম নেই।
এই মুহূর্তে করণীয় সম্পর্কে আমাদের নজর দেওয়া উচিৎ।
এডমিরাল ইচিমারু।
ডিউটির রিপোর্ট, স্যার।
আসছি আমি।
শর্ট নোটিসে আসার জন্য ধন্যবাদ।
জুপিটার!
জুপিটার।
ইয়ামাজাকি...
- এখানে বসে কী করছো? - বাঁচাও!
আমাদের বিরুদ্ধেই বোধহয় রিপোর্ট করছে।
চিঠি লিখছে।
দু'মাস চলে গেল, নোজাকি।
এখনো রিপোর্ট করতে পারে।
নিশ্চিত হলে কীভাবে?
ওরা কি থামবে না?
দিনরাত শুধু বোমই ফেলে...
পাগল হয়ে গেলাম!
অ্যামেরিকানরা যদি আক্রমণ করে...
ভূপথে এসে হামলা করছে না কেন?
তাকো-চান...
দু'মাস আগে জন্ম নেওয়া চারটি বাচ্চা বড় হয়েছে।
মা মুরগী বাচ্চাদের খাবার খাওয়ায়...
কিন্তু ভীষণ ঝামেলা করতে হয়, আমি যে সবজির বাগানটি করেছি...
অ্যামেরিকান নৌবহর সাইপান ত্যাগ করেছে।
তারমানে আক্রমণ করতে আসছে।
সৈন্যবাহিনী প্রস্তুত করো।
সৈন্যগণ...
আমাদের শক্তিমত্তা দেখানোর সময় এসেছে।
রাষ্ট্রীয় আর্মির সম্মানিত সদস্য হিসাবে...
আমি বিশ্বাস করি সবাই সম্মানের সাথে লড়াই করবে।
এই দ্বীপটি জাপানের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ।
দ্বীপটি বেদখল হয়ে গেলে...
শত্রুরা...
এটিকে আমাদের মাতৃভূমিকে আক্রমণের কেন্দ্র হিসাবে ব্যবহার করবে।
দেশ মাতৃকার জন্য...
জন্মভূমির জন্য...
শেষ রক্তবিন্দু থাকা পর্যন্ত...
... শত্রুদের বিরুদ্ধে লড়ে যাবো।
তোমাদের কেউই...
... অন্তত ১০ জন শত্রুসেনা না মেরে মরবে না।
বাড়িতে বেঁচে ফেরার আশা করবে না।
আমি তোমাদের সামনেই থাকবো।
সম্রাট দীর্ঘজীবী হোক।
ভালো থেকো।
ইয়ামাতোর আদর্শে উজ্জীবিত হয়ে সাহসের সাথে লড়ে যাবো।
আমার হৃদয় সবসময় তোমাকেই ভাবে।
তাকেইচি।
সবকিছুই গানপাউডারের ব্যাগ তৈরিতে ব্যবহৃত হয়।
এসব যুদ্ধক্ষেত্রে ব্যবহার করতে হবে চিন্তা করলেই চিন্তিত হয়ে পড়ি।
তারো আর ইয়োকো এটা নিয়ে হাসাহাসি করে।
তাকাকো, নাগাতো ছেড়ে আসার সময়...
তোমার নিরাপত্তার জন্য দোয়া করি।
ইতি, তোমার ইয়োশি।
কেউ আর গুলি লাগাতে পারবে না।
দারুণ বেল্ট। আমার বউও একটা পাঠিয়েছে।
মনে হচ্ছে না মিলিটারি পুলিশ হাজার সেলাই করা বেল্ট পরেছে?
হয়ত ইউনিফর্মের সাথে বেমানান লাগবে ভেবে পরছে না।
হতে পারে সে কুসংস্কারে বিশ্বাস করে না।
বেল্টটা নিশ্চয়ই ওর মা বানিয়ে দিয়েছে।
- দ্বীপটা ডুবিয়ে দেবে নাকি? - আহ! মাথায় লেগেছে।
কতগুলো রণতরী নিয়ে এসেছে ওরা?
কমপক্ষে ৩০টা তো হবেই, ৫০টাও হতে পারে।
কাছাকাছি চলে এসেছে। লিক চেক করতে হবে।
নর্দমার ওদিকে যেয়ো না, মারাত্মক ডায়রিয়া ছড়াবে।
তাহলে কোথায় যাবো?
গুহার শেষে একটা পাত্র রাখা আছে।
পাত্রটা তো ভরে গেছে।
জিনিসটা ফেলে আসতে হবে।
পাত্রের যদি কিছু হয়...
তাহলে আমাদের মলমূত্র সব হাতে করে ফেলে আসতে হবে।
ফাজলামি নাকি?
আমাকেই কেন বারবার পাঠাতে হবে?
যাইহোক, কথামতো পাত্রটা আনতে পেরেছি।
ফায়ার করা শুরু করবো?
এখন না।
সৈন্যরা ফায়ারের জন্য প্রস্তুত।
হোল্ড ইওর ফায়ার!
হোল্ড ইওর ফায়ার!
হোল্ড ইওর ফায়ার!
এখনই প্রতিরোধ না করলে সৈকত ওদের দখলে চলে যাবে।
সৈকত পরিপূর্ণ হতে দাও।
ফায়ার! ফায়ার শুরু করো!
ফায়ার শুরু করো!
ফায়ার করো!
কিতাকুবো ইউনিটের অস্ত্রশস্ত্র ধ্বংস হয়ে গিয়েছে।
সৈকতে পিলবক্স ইউনিট সব শেষ।
যাহোক, অন্যসব ইউনিট অক্ষত আছে...
আর শত্রুপক্ষের প্রায় ১০০০ সৈন্য আহত হয়েছে।
পিলবক্স ধ্বংস ছিল অনিবার্য।
সবমিলিয়ে ভালো খবর।
সুরিবাচি প্রতিরক্ষায় সৈন্যদের কী অবস্থা?
সৈন্যদল অক্ষত আছে।
শত্রুপক্ষের কী অবস্থা?
আনুমানিক ২০ হাজার সৈন্য আর ৮০টি ট্যাঙ্ক।
সৈন্য সংখ্যা আরও বেশি হবে। প্রচুর সৈন্য নৌবহরে অপেক্ষমাণ।
বর্তমানে শত্রুপক্ষ সুরিবাচি ও সাউথ ল্যান্ডিং এবং...
চিদোরি দক্ষিণ বিমানঘাঁটির দিকে অগ্রসর হচ্ছে।
যেমনটা ভেবেছিলাম... সুরিবাচি আর মোতোইয়ামা বিমানঘাঁটি।
তারা দ্বিমুখী আক্রমণ করতে যাচ্ছে।
এতে হবে না! আরও গুলি লাগবে।
ওর জায়গায় যাও!
- মেশিনগান উড়ে গেছে। - রাইফেল চালাও!
সাবধানে, হাঁদারাম!
তোমার ওপর ভরসা পাচ্ছি না।
কর্নেল আদাচির কাছে গিয়ে রিপোর্ট করো আরও একটা মেশিনগান লাগবে।
জলদি!
কর্নেল আদাচি অতিরিক্ত সৈন্যবল চেয়েছেন।
আমাদের অতিরিক্ত সেনা প্রেরণের সামর্থ্য নেই। তাঁকে প্রতিরোধ করতে বলো।
গুলি করো!
- কী হলো? - গুলি শেষ!
আমরা সুরিবাচি হারাতে বসেছি।
সব শেষ... আত্মঘাতী মিশনের অনুমতি চাচ্ছি।
না, অবশ্যই প্রতিরোধের চেষ্টা চালিয়ে যাওয়া উচিৎ।
বেঁচে থাকার জন্য যা করার করো এবং উত্তর গুহার সেনাদলে যোগ দাও।
কিন্তু, স্যার...
আমি সুরিবাচি বাঁচাতে ব্যর্থ হয়েছি।
আমার সেনাদের নিয়ে সম্মানের সাথে মরার অনুমতি দিন।
না, কর্নেল।
এটাই অর্ডার!
আদাচি।
আদাচি!
স্যার, ক্যাপ্টেন তানিদা মেশিনগান চেয়েছেন।
সব শেষ।
আত্মহত্যা...
সেটাই কেবল অবশিষ্ট আছে।
কিন্তু...
এটা তোমার কম্যান্ডারের কাছে নিয়ে যাও।
আমি শুনেছি জেনারেল কুরিবায়াশি কর্নেল আদাচিকে পালানোর আদেশ করেছেন।
চুপ করো!
পলায়ন কাপুরুষের ধর্ম।
বসো!
ভায়েরা আমার...
আমরা...
... সম্রাটের সম্মানিত সৈনিক।
সেটা কখনও ভুলে যেয়ো না।
আমাদের একমাত্র কর্তব্য...
সম্মানের সাথে মৃত্যুকে আলিঙ্গন করা।
আমাদের উদ্দেশ্য হলো ...
ইয়াসুকুনি মন্দিরে জায়গা করে নেওয়া।
সেখানেই দেখা হবে।
সৈন্যদল, বিদায়!
থামো!
সৈনিকের মতো সসম্মানে মরা উচিৎ তোমার।
দেখো, শিমিজু...
এখনও আমরা উত্তর টানেলের সৈন্যদের সাথে যোগ দিতে পারি।
আমৃত্যু লড়ে যেতেই আমাদের আদেশ করা হয়েছে।
জেনারেল কুরিবায়াশি নিজে বলেছে...
পালিয়ে যেতে...
রেডিওর মাধ্যমে বলেছেন।
সত্যি বলছি।
নিরর্থক এখানে মরতে পারি...
নয়তো লড়াই চালিয়ে যেতে পারি।
সম্রাটের সেবায় কোনটা বেশি মর্যাদাপূর্ণ?
কোনটা?
এই পথ কোন দিকে গিয়েছে?
এই রাস্তা আমাদের মোতোইয়ামার কাছে নিয়ে যাবে।
তোমাদের কি ফিরে যাওয়ার হুকুম আছে?
বাকি লোকেরা কোথায়?
সবাই নিহত হয়েছে।
আমাদেরও একই পরিণতি।
ধারে কাছে কোথাও বেরুবার রাস্তা আছে।
চুপ থাকো!
ভেবেছিলি আমাদের উড়িয়ে দিবি নয়তো জ্যান্ত পুড়িয়ে মারবি, তাই না?
- সুরিবাচির কোন খবর আছে? - না, স্যার।
একজন দূত পাঠাও!
লেফটেন্যান্ট ওইসো আমাদেরকে পূর্ব গুহায় মিলিত হতে বলেছেন।
আমরা মোতোইয়ামার উদ্দেশ্যে এগিয়ে যাবো।
দুই কিলোমিটারের মধ্যে কোনো সুরক্ষা থাকবে না।
নিজেই নিজেকে বাঁচাতে হবে।
ওই পাড়ে দেখা হবে।
এ জনমে না হলেও পরের জনমে দেখা হবে।
দলের সাথে দৌড়বে না। এখান থেকেই শত্রুপক্ষ আক্রমণ করবে।
পিছেই থাকো।
সেটা তো কাপুরুষতা!
মৃত সৈনিকের কোনো মূল্য নেই।
মশাল শেষ হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করো।
ধীরে ধীরে এগোও।
দূতের কী হয়েছে?
সে আর ফিরে আসেনি।
আমি নিজেই যাচ্ছি আদাচির কাছে।
মোতোইয়ামার ট্রান্সমিটার এখনও সচল আছে, জেনারেল।
সেখানে কেন চেষ্টা করছি না, স্যার?
স্যার, এরা মাউন্ট সুরিবাচি থেকে ফেরত এসেছে।
কী নাম তোমাদের?
সাইগো, ৩১২তম ব্যাচ।
শিমিজু, ডিউটির জন্য রিপোর্ট করছি।
তোমরা সুরিবাচি থেকে পালিয়েছ?
সাহস কত!
আমরণ যথাস্থানে থাকাই তোমাদের দায়িত্ব ছিল।
তোমাদেরও মরা উচিৎ ছিল ...
... সহযোদ্ধাদের সাথে।
তোমরা দু'জনই কলঙ্কিত।
হাঁটু গেড়ে বসো।
- কিন্তু, স্যার... - বললাম তো, হাঁটু গেড়ে বসো।
আমি চাই না তুমি আমার সৈন্যদের অযথা হত্যা করো।
তরবারি নামাও।
নামাও বলছি!
কী হচ্ছে এখানে?
এরা সুরিবাচি থেকে পালিয়েছে।
লেফটেন্যান্ট ইতো, আমিই সকল জীবিতদের উত্তর গুহায় ফিরে আসার আদেশ দিয়েছি।
আমি সত্যি দুঃখিত, জেনারেল।
আসলে...
সুরিবাচি...
শেষ হয়ে গিয়েছে।
সুরিবাচি দখল হয়ে গিয়েছে...
শত্রুপক্ষ সকল রণকৌশল পাহাড়েই প্রয়োগ করবে।
আমাদের কম্যান্ড অবশ্যই উত্তর কেন্দ্রে সরিয়ে নিতে হবে, স্যার।
ইতো...
তোমার শহীদ হওয়া সহযোদ্ধাদের জন্য...
আমৃত্যু লড়ে যাও।
ওঠো!
মেজর জেনারেল হায়াশি একটা আক্রমণের নেতৃত্ব দিচ্ছেন।
আমরা তাঁর সাথে অংশ নিতে যাচ্ছি।
কুরিবায়াশি বলেছেন গুহায় অবস্থান করতে।
লেফটেন্যান্ট ইতো বলেছেন, কুরিবায়াশি একজন দুর্বল মার্কিন সমর্থক।
আমরা মাউন্ট সুরিবাচি দখল মুক্ত করবো।
মেজর জেনারেল হায়াশি কোথায়?
আমরা জানি না, স্যার।
এখানকার দায়িত্বে কে আছে?
সঠিক বলতে পারছি না।
এখানেই থেকো, যতক্ষণ না কোনো কর্মপরিকল্পনা নির্ধারণ করছি।
আমরা তো মরছি।
পেছাও!
আমরা আরও সৈন্য পাবো।
তোমাদের রেজিমেন্ট আক্রমণে অংশ নেয়নি কেন?
ইঁদুরের মতো বসে থেকো না!
গর্ত থেকে বেরিয়ে এসে লড়াই করো!
তোমাদের কম্যান্ডার কোথায়?
আমরা আক্রমণের আদেশ পাইনি।
জেনারেল হায়াশির আদেশ পাননি?
কুরিবায়াশি, হায়াশির আদেশ প্রত্যাহার করে দিয়েছেন।
কোন আক্রমণ হবে না।
আমরা সুরিবাচি দখল মুক্ত করবো...
কুরিবায়াশি থাকুক বা না থাকুক।
সৈন্যরা ইতোমধ্যে আক্রমণ চালাচ্ছে। আপনার লোকদের আদেশ করুন।
লেফটেন্যান্ট, আপনার পদমর্যাদার কথা কি মনে করিয়ে দিতে হবে!
সিনিয়র অফিসারদের প্রতি অসম্মান...
আপনার লোকদের অহেতুক ঝুঁকির দিকে ঠেলে দিচ্ছে।
আমার সুপারিশ হচ্ছে আপনি গুহায় ফিরে যান...
নয়তো আপনার লোকদের হস্তান্তর করুন।
যথেষ্ট হয়েছে।
আমরা নিজেরাই করছি।
এটা নিয়ম বহির্ভূত।
এই সেই অফিসার যে আমাদের মারতে চেষ্টা করেছিল। সে কিছুই গ্রাহ্য করে না।
আমি ফিরে যাচ্ছি না।
গর্তে বসে যথেষ্ট লড়াই করেছি।
তোমরা এখন লেফটেন্যান্ট নিশির কম্যান্ডে থাকবে।
শত্রুপক্ষের ট্যাঙ্কের তলায় নিজেকে সঁপে দেবো।
তাদের একটা মেশিন আমি কব্জা করবোই।
জলদি।
পরিস্থিতি কী?
চিদোরি বিমানঘাঁটির এক রাতের আক্রমণে...
এক হাজার সেনা সদস্য হারিয়েছি।
কেন? আমি তাদের সুস্পষ্ট ভাবে নিষেধ করেছি আত্মহত্যা না করতে।
মনে হচ্ছে সেনা প্রত্যাহারের আদেশ সকল সেক্টরে পৌঁছে দেয়া হয়নি।
হায়াশি।
ধ্যাত!
আর অ্যামেরিকানরা কত দূর অগ্রসর হয়েছে?
একটা ব্যাটালিয়ন উত্তরের দিকে গিয়েছে আর আমরা পশ্চিম ঢালে প্রতিহত করছি।
বেশ। পশ্চিমের ঢাল একবার পাড় হলেই তারা তিন দিক থেকে আঁটকে যাবে।
এটা মাত্র এসেছে।
পড়ে শুনাও।
সদরদপ্তর থেকে...
এই মুহূর্তে ইয়োতে অতিরিক্ত সেনা প্রেরণে অপারগতার জন্য দুঃখ প্রকাশ করছি।
আমরা আন্তরিকভাবে আশাবাদী আপনারা সম্মানের সাথে লড়ে যাবেন...
এবং স্বদেশের তরে প্রাণ উৎসর্গ করবেন।
ওকে ভেতরে নিয়ে এসো।
ভেতরে নিয়ে এসো।
শালাকে শেষ করে দেই?
না, চিকিৎসা দাও।
কিন্তু, স্যার...
ওকুবো, তুমি হলে এটাই আশা করতে, তাই না?
এন্ডো, ওর সেবা করো।
এ মুহূর্তে আমাদের মরফিন কম আছে।
স্যার, মার্কিনিরা কোন আহত জাপানি সেনার সেবা করবে না।
বাছা, জীবনে কোনো মার্কিন সেনা দেখেছ?
তার চিকিৎসা করো।
আছিস কোথায় শালার মার্কিন ট্যাঙ্ক?
আয় আমার কাছে!
বন্দীর কী অবস্থা?
জেগেছে, স্যার।
খবরাখবরের জন্য তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করবো।
তুমি কোথা থেকে এসেছ?
নৌবাহিনী। এবিএলই কোম্পানি।
আচ্ছা, নৌবাহিনী। আমি বলতে চাইছি তোমার বাড়ি কোথায়?
আমি কিছু দিন ক্যালিফোর্নিয়ায় ছিলাম।
মেরি পিকফর্ড বা ডগলাস ফেয়ারব্যাংকস নামে কাউকে চেনো?
অবশ্যই! এখন তো সবাই তাঁদের চেনে।
তাঁরা আমার বন্ধু।
টোকিওতে তাঁরা আমার বাড়িতে অতিথি হয়ে এসেছিলেন।
মজা করছেন? আপনি... আপনি কি বিখ্যাত কেউ?
১৯৩২ সালের লস এঞ্জেলেস অলিম্পিকে অংশ নিয়েছিলাম।
সত্যি বলছেন?
ছবিটা আমি আর আমার ঘোড়ার। দ্যা চ্যাম্পিয়ন।
মজা করছেন না তো?
ওকলাহোমা, সেখানেই আমার বাড়ি।
- তাকেইচি। - স্যাম।
ধ্যাত।
অনেক হয়েছে।
আমি আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছি।
যাও আমাকে ধরিয়ে দাও।
আমি আর কোন পরওয়া করি না। এ জন্যই তো তোমাকে নিয়োগ দেয়া হয়েছিল, তাই না?
দেশদ্রোহী চিন্তাভাবনার সংবাদ জানানো।
আমাকে এখানে নিয়োগ দেয়ার কারণ হচ্ছে...
আমি মিলিটারি পুলিশ কর্পোরেশন থেকে বরখাস্ত হয়েছিলাম।
বরখাস্ত?
মাত্র পাঁচ দিনের জন্য কর্মরত ছিলাম।
শিমিজু...
তোমাকে সবসময় কঠোর হতে হবে।
কোন প্রকার দয়া দেখালেই মানুষ তোমার কাছ থেকে সুযোগ নিতে চাইবে।
এটা দেশদ্রোহীতা।
যাও ঠিক করো, শিমিজু।
আপনারা ঠিকভাবে জাতীয় পতাকা প্রদর্শন করছেন না।
মাফ করবেন।
আমার স্বামী যুদ্ধে গিয়েছে তাছাড়া আমি নিজে লাগাতেও পারি না।
জাতীয় পতাকা প্রদর্শন না করাটা দেশদ্রোহীতার শামিল।
আপনি সাহায্য করলে আমি এটা এখনই লাগাতে পারি।
ঐ কুকুরটাকে থামাও।
কী সমস্যা, স্যার?
কুকুর মানেই আপদ। সেনাবাহিনীর যোগাযোগে ব্যাঘাত ঘটায়।
আমি খুবই দুঃখিত, স্যার।
শিমিজু, কুকুরটাকে খতম করে দাও।
আমরা চাই না সামরিক কম্যান্ডের মতো গুরুত্বপূর্ণ বিষয়ে একটা কুকুর ব্যাঘাত ঘটাক।
কুকুরটাকে পেছনে নিয়ে যান।
এটা তো সামান্য একটা কুকুর।
এরকম আর হবে না।
কুকুরটাকে বের করুন।
বাচ্চাদের ভেতরে নিয়ে যান।
জলদি।
কুকুরটাকে ভেতরে নিয়ে গিয়ে চুপ রাখুন...
আর কখনও বের করবেন না।
কাজ শেষ, স্যার।
আমাকে বোকা বানানোর চেষ্টা করছ?
একটা কুকুরকে গুলি করতে না পারলে, মার্কিনিদের কখনই ঘায়েল করতে পারবে না।
তুমি দেশদ্রোহী!
অবাধ্যতার জন্য আমাকে বরখাস্ত করা হয়...
এবং এখানে পাঠানো হয়।
এত ভেঙ্গে পড়ো না তো, শিমিজু।
এখন কেবল শত্রুপক্ষই তোমায় ঘৃণা করে।
আমি কুকুরটাকে দোষারোপ করছি না।
তারো...
আজরাতে আমার বিদায় অনুষ্ঠানে যোগ দিয়েছিলাম।
সহধর্মীনিরাও এসেছিলেন, তাই তো কত রকমের আদিখ্যেতা।
এত নারীদের অভ্যর্থনা...
আমাকে খাবারের স্বাদ গ্রহণ থেকে বঞ্চিত করলো।
লেডিস এন্ড জেন্টলম্যান, দয়া করে আপনাদের মনোযোগ আকর্ষণ করছি।
আজরাতের সম্মানিত অতিথি জাপান সাম্রাজ্য থেকে আগত।
ক্যাপ্টেন কুরিবায়াশি, আমাদের বন্ধুত্বের স্বীকৃতি স্বরূপ এটা গ্রহণ করুন, ১৯১১ কোল্ট .৪৫
এটা প্রত্যেক ক্যাভালরি অফিসারই ব্যবহার করতে পারে।
অসাধারণ উপহার আর বন্ধুত্বের জন্য আপনাকে ধন্যবাদ।
- আপনাদের মনে থাকবে। - আপনি সদা আমন্ত্রিত।
প্রত্যেকেই আসন গ্রহণ করুন এবং খাবার উপভোগ করুন।
প্রথমেই ক্যাপ্টেন কুরিকে একটা প্রশ্ন করি। কুরি বলে সম্বোধন করলে কিছু মনে করবেন না তো, ক্যাপ্টেন?
- ক্যাপ্টেন? - হুহ?
অ্যামেরিকা আর জাপান যুদ্ধে লিপ্ত হলে আপনার অনুভূতি কেমন হবে?
আমার বিশ্বাস, তাঁদের অসাধারণ মিতালি হবে।
না, মনে হয় সে বুঝিয়েছে এক অপরের বিপক্ষে!
যুক্তরাষ্ট্র বিশ্বের ক্ষমতাশালী দেশ, জাপান লড়বে।
কিন্তু, এমনটা সত্যিই হলে, আমি আমার দেশের সেবায় নিয়োজিত থাকবো।
তার মানে, বার্টি যদি বিপক্ষ দলে থাকতো, তাহলে গুলি করতেন?
আমাকে তো নিজের বিশ্বাসকে অনুসরণ করতে হবে।
মানে নিজের বিশ্বাস নাকি দেশের বিশ্বাসকে অনুসরণ করবেন?
দুটো একই নয় কি?
সত্যিকারের সৈনিকের মতো বললেন।
ওহ, কি ভয়ানক!
বার্টি, এর মানে তুমি খতম!
না, না, কখনই না!
এই! স্যাম!
শত্রুপক্ষের পরিকল্পনার ব্যাপারে কোন তথ্য পাওয়া গেলো?
না, একটা চিঠি আছে শুধু।
তাঁর মায়ের লেখা।
প্রিয় স্যাম...
তোকে বেশ কিছু বই পাঠিয়েছি পড়ার জন্য।
আশা করি তোর ভালো লাগবে।
গতকাল...
কুকুরগুলো বেড়ার নিচে একটা গর্ত খুঁড়েছিল।
কুকুরগুলো পুরো পাড়া ছুটে বেড়িয়েছে।
যতক্ষণে ওদের খুঁজে পেয়েছিলাম ...
ততক্ষণে হ্যারিসনদের মোরগগুলো ভয় পেয়ে গেলো।
আমাদের নিয়ে ভাবিস না।
নিজের প্রতি যত্ন নিস আর নিরাপদে বাড়ি ফিরিস।
আমার কথা মনে আছে তো?
সবসময় ঠিক কাজটাই করবি ...
কারণ সেটা সবসময়ই ঠিক।
দোয়া করি যুদ্ধ তাড়াতাড়ি শেষ হোক,
আর তুই নিরাপদে ফিরে আয়।
ভালোবাসা রইল, তোর মা।
গোলা আসছে! সাবধানে! নিজেদের অবস্থান নাও।
দুঃখিত, স্যার। আর কোন ওষুধ নেই।
ঠিক আছে। আমি এখন অপ্রয়োজনীয়। অন্যদের সাহায্য করো গিয়ে!
ওকুবো, এদিকটায় এসো।
গোলাবারুদের কী অবস্থা?
ভালো না, স্যার।
আমাদের মর্টার বিধ্বস্ত হয়েছে...
মেশিনগানের গুলিও ফুরিয়ে গেছে।
রাইফেলগুলোই এখন শেষ সম্বল।
ওকুবো...
তুমি এখন সৈনিকদের দায়িত্বে থাকবে।
আমরা এখানে আর থাকতে পারবো না।
বাকিদের অবশ্যই উত্তরের দিকে নিয়ে যাবে।
যত খাবারদাবার আর রসদ আছে নিয়ে নাও।
আপনার কী হবে, স্যার?
এই অন্ধকার গুহায় তোমাদের সঙ্গ দিতে দিতে আমি ক্লান্ত।
এখন আমি একাই লড়ে যাবো।
এসব কী বলছেন, স্যার?
তোমার প্রতি প্রথম আদেশ হচ্ছে,
পানি খুঁজে বের করা।
ভাইয়েরা আমার...
নিজেদের সেরাটা ঢেলে দাও।
সবসময় ঠিক কাজটাই করবে,
কারণ সেটা সবসময়ই ঠিক।
বুঝলে?
তাঁরা যেন ওষুধ আর খাদ্য পাঠায় সেদিকটা নিশ্চিত করবো।
আপনার অধীনে কাজ করতে পারাটা...
সত্যিই...
অনেক সম্মানের।
আমার রাইফেলটা দাও।
দুঃখিত, ওকুবো।
কোন খবরাখবর পাচ্ছি না কেন? অ্যাডমিরাল ইশিমারুর কাছে থেকে কোনো খবর এসেছে?
- না, স্যার। - নিশি আর হায়াসির কী খবর?
- দূত পাঠাও! - অনেক বার পাঠিয়েছি।
তাঁদের কেউই ফেরত আসেনি।
এভাবে তো কোন রণকৌশলের পরিকল্পনা হয় না!
লেফটেন্যান্ট কর্নেল নিশি যা বলেছিলেন সেটাই ভাবছি।
তিনি ঠিকই বলেছিলেন।
আমরা শত্রুদের কোন কিছুই জানি না।
আমার বিশ্বাস ছিল মার্কিনিরা কাপুরুষ...
আসলে তা নয়।
আমাকে শেখান হয়েছিল...
তাঁরা বর্বর জাতি...
কিন্তু সেই মার্কিন সেনা...
তাঁর মায়ের বলা কথাগুলো...
আমার মায়ের মতোই তো ছিল।
আমি দায়িত্ব পালন করতে চাই জেনারেলের হয়ে,
এবং আমাদের দেশ মাতৃকার জন্যে,
কিন্তু কোন ভাবেই মরতে চাই না।
তোমার কী মনে হয়?
এতটা বয়স ...
তোমার হয়নি যে উপলব্ধি করতে পারবে...
কতটা ত্যাগস্বীকার তুমি করছ।
আমার সাথে আত্মসমর্পণ করবে?
সাবধানে।
আমরা একসাথে থাকলে তাঁরা বুঝে ফেলবে।
আমি কোন একটা বাহানা বের করবো।
কিছুক্ষণ পরে, তাদেরকে বলবো আমি তোমাকে চেক করতে যাচ্ছি।
তারা দেখার আগেই আমরা চলে যাবো।
আমাশয়ের ভান ধরবে।
তোমার সেই আমাশয়ের ভঙ্গিমা ধরো।
মনে হয় সেটাই করতে হবে।
কোথায় যাচ্ছ?
আমাশয় হইছে।
আত্মসমর্পণ করতে যাচ্ছ, তাই না?
তুমি গেলে, আমাকেও সাথে নাও।
- অনেক যুদ্ধ করেছি। - চুপ থাকো।
যাচ্ছ কোথায়?
সে বললো তার নাকি ভালো লাগছে না। সম্ভবত আমাশয় হয়েছে।
তোমাদের দুজনকে বলছি! থামো!
স্যার, ওরা হয়তো ভয় পেয়েছে।
মিউরা, তুমি পাহারায় থাকো।
খেয়াল রাখবে আর কেউ যেন পালাতে না পারে।
কোন ইউনিটের সাথে ছিলে তুমি?
হিগাশিয়ামা ৩১৪ তম ব্যাচ।
শুনেছ...
শুনেছি তারা তোমাকে খাবার দেবে।
খাবার...
তাহলে তো ভালোই।
আমিও ইয়োকোহামা থেকে।
এসবের অবসান হলে, আমার বাড়িতে বেড়াতে এসো।
লেফটেন্যান্ট!
এটাকে সবাই একটা শিক্ষা হিসেবে নিতে পারো,
যারা আত্মসমর্পণ করতে চাও।
গোলাগুলির মাঝেই আমাদের উত্তরে পৌঁছাতে হবে
এবং সামনে থেকে দলে যোগদান করতে হবে।
শোনো।
আমরা এখান থেকেই গুহার উদ্দেশ্যে যাত্রা শুরু করবো।
একটা গুলিও অপচয় করবে না!
একটাও না!
বেপরোয়া গুলি চালাবে না।
এরা নিশির সৈন্য আর বেঁচে থাকারা সুরিবাচি থেকে ফিরেছে।
সেখানে কোন অফিসার ছিল না?
তোমরা প্রত্যেকেই দারুণ কাজ করেছ।
ফুজিতা, তাদের পানি দাও।
মাফ করবেন, স্যার। আর কোন পানি নেই।
দুঃখিত।
অন্তত বিশ্রাম নিতে পারো।
তোমাকে পরিচিত লাগছে।
তুমিই তো মাথা হারাতে বসেছিলে।
তখন দ্বিতীয় বারের মতো আপনি আমাকে বাঁচালেন।
প্রথম বার...
যেদিন দ্বীপে আসলেন।
অবশ্যই, মনে পড়েছে।
হ্যাঁ, সবকিছু তিন বারই ঘটে।
হানাকো,
এ চিঠি হয়তো তোমার কাছে পৌঁছুবে না,
তবুও লিখতে ভালো লাগছে।
পাঁচ দিন হয়ে গেলো, আমরা পানি এবং খাবার ছাড়া আছি।
বেঁচে থাকার জন্য...
আমরা যা করছি তা ভাষায় প্রকাশ করার মতো না।
এখন আর পালানোর পথ নেই।
কিন্তু,
আমার চিন্তা শুধু তোমাকে আর বাচ্চাটাকে নিয়ে।
মাটি খুঁড়ে কিছু পোকা পেয়েছি।
যুদ্ধ শেষ হয়ে আসছে,
তাছাড়া কোন গোলাবারুদ নেই, পানিও ফুরিয়ে আসছে।
সকল বেঁচে থাকারা সাধারণ আক্রমণে যাবে।
সাম্রাজ্যের বিজয় এবং নিরাপত্তার জন্য প্রার্থনা করছি।
তোমাকে বিদায় জানাচ্ছি।
দেশের তরে, আমার সকল দায়িত্ব পালন করতে পারিনি।
এখন আমাদের অস্ত্র ফুঁড়িয়ে এসেছে, দুঃখের বিষয় আমাদের মৃত্যু অনিবার্য।
সুরিবাচি থেকে এতোটা পথ পেরিয়ে এসেছ?
সত্যিই অনেক দীর্ঘ পথ অতিক্রম করেছ।
তুমিই তো সত্যিকারের সৈনিক।
না, স্যার।
আমি তো সামান্য রুটি-ওয়ালা।
তুমি রুটি বিক্রি করতে?
পরিবার আছে?
স্ত্রী আছে,
আর গত গ্রীষ্মে অহমীয়ায় একটা মেয়ে বাচ্চা হয়েছে।
এখনো মেয়েটাকে দেখার সৌভাগ্য হয়নি।
অদ্ভুত।
প্রতিজ্ঞা করেছিলাম পরিবারের জন্য আমৃত্যু লড়ে যাবো,
কিন্তু পরিবারের চিন্তা সেই প্রতিজ্ঞা রক্ষায় কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।
মূল ভূখণ্ড থেকে রেডিও সম্প্রচার হচ্ছে।
জেনারেল কুরিবায়াশি এবং,
তাঁর সৈন্যরা, যারা অসীম সাহসিকতার সাথে দেশের জন্য লড়ে যাচ্ছেন,
তাঁদের উৎসর্গ করে কুরিবায়াশির জন্মভূমি নাগানোর শিশুদের গাওয়া...
... একটি গান পরিবেশিত হচ্ছে।
প্রশান্ত সাগরের তরঙ্গ ছুঁয়ে
এক রাজ্য আছে দাঁড়িয়ে
একাকী বয়ে চলে ছোট্ট এক দ্বীপ
আমাদের স্বদেশ ভূমির নিয়তি
জড়িয়ে আছে যে দ্বীপের সাথে
নাম তার ইয়ো জিমা।
যত দিন আছি ঠাঁয় দাঁড়িয়ে
থাকবো নিরাপদ নির্ভয়ে
শান্তিতে রবো মাথা উঁচিয়ে
লড়বো মোরা বুক ফুলিয়ে
আমাদের গর্ব যে ছোট্ট এক দ্বীপ
নাম তার ইয়ো জিমা।
একটু সাহায্য করো তো।
এখানে থেকো আর সব কাগজ-পত্র, আমার সিন্দুক পুড়ে ফেলবে।
সবকিছু তিন বারই ঘটে।
আমরা সাধারণ আক্রমণ করবো।
যদিও যুদ্ধে জাপান হেরে গিয়েছে...
একদিন...
দেশবাসী তোমাদের আত্মত্যাগ স্মরণ করবে।
এমন একদিন আসবে তারা তোমাদের জন্য কাঁদবে আর আত্মার শান্তি কামনা করবে।
দেশের জন্য গর্বভরে মরো।
আমি সদা তোমাদের সামনে আছি।
আর না।
আর না।
ধন্যবাদ, ফুজিতা।
এটাই অর্ডার।
আবার তুমি।
তোমার কাছে আরও একটা সাহায্য চাওয়ার আছে।
আমাকে সমাহিত করে দিও,
যেন কেউ খুঁজে না পায়।
তারো,
শীঘ্রই ঘরে ফিরছি।
জাপানে ফিরে আমি ভীষণ খুশি,
কিন্তু বন্ধুদের ফেলে এসে কিছুটা কষ্ট পাচ্ছি।
আমি বাড়ি ফিরছি...
কিন্তু...
এ যেন আমার একাকী পথচলা
শোনো, এই ভূমি কি এখনও জাপানের?
হ্যাঁ।
এটা এখনও জাপান।
সাবধানে! বোমার ফাঁদ হতে পারে।
সাবধানে!
ভয় নেই।
দেখো কী পেয়েছি!
একজনকে পেয়েছি!
ধরে নিয়ে আসো।
বেলচাটা নামাও।
কেউ জাপানি ভাষা জানো?
বেলচাটা নামিয়ে রাখো।
শান্ত হও।
এই! ঠিক আছে।
আমি ওকে শান্ত করছি।
কেউ তোমাকে আঘাত করবে না।
- গুলি করে দেবো, লেফটেন্যান্ট? - না! গুলি করো না!
এই! সাবধানে!
পাগল নাকি শালায়!
- সাবধানে। - ঠিক আছে।
- কী এটা? - একটা ব্যাগ।
সাবটাইটেল অনুবাদক মাসুম হোসেন কামরুল হাসান শিমুল
সম্পাদনা কামরুল হাসান শিমুল
Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.