All language subtitles for Angels-BSub by South Submakers Panel-1

af Afrikaans
ak Akan
sq Albanian
am Amharic
ar Arabic
hy Armenian
az Azerbaijani
eu Basque
be Belarusian
bem Bemba
bn Bengali
bh Bihari
bs Bosnian
br Breton
bg Bulgarian
km Cambodian
ca Catalan
ceb Cebuano
chr Cherokee
ny Chichewa
zh-CN Chinese (Simplified)
zh-TW Chinese (Traditional)
co Corsican
hr Croatian
cs Czech
da Danish
nl Dutch
en English
eo Esperanto
et Estonian
ee Ewe
fo Faroese
tl Filipino
fi Finnish
fr French
fy Frisian
gaa Ga
gl Galician
ka Georgian
de German
el Greek
gn Guarani
gu Gujarati
ht Haitian Creole
ha Hausa
haw Hawaiian
iw Hebrew
hi Hindi
hmn Hmong
hu Hungarian
is Icelandic
ig Igbo
id Indonesian Download
ia Interlingua
ga Irish
it Italian
ja Japanese
jw Javanese
kn Kannada
kk Kazakh
rw Kinyarwanda
rn Kirundi
kg Kongo
ko Korean
kri Krio (Sierra Leone)
ku Kurdish
ckb Kurdish (Soranî)
ky Kyrgyz
lo Laothian
la Latin
lv Latvian
ln Lingala
lt Lithuanian
loz Lozi
lg Luganda
ach Luo
lb Luxembourgish
mk Macedonian
mg Malagasy
ms Malay
ml Malayalam
mt Maltese
mi Maori
mr Marathi
mfe Mauritian Creole
mo Moldavian
mn Mongolian
my Myanmar (Burmese)
sr-ME Montenegrin
ne Nepali
pcm Nigerian Pidgin
nso Northern Sotho
no Norwegian
nn Norwegian (Nynorsk)
oc Occitan
or Oriya
om Oromo
ps Pashto
fa Persian
pl Polish
pt-BR Portuguese (Brazil)
pt Portuguese (Portugal)
pa Punjabi
qu Quechua
ro Romanian
rm Romansh
nyn Runyakitara
ru Russian
sm Samoan
gd Scots Gaelic
sr Serbian
sh Serbo-Croatian
st Sesotho
tn Setswana
crs Seychellois Creole
sn Shona
sd Sindhi
si Sinhalese
sk Slovak
sl Slovenian
so Somali
es Spanish
es-419 Spanish (Latin American)
su Sundanese
sw Swahili
sv Swedish
tg Tajik
ta Tamil
tt Tatar
te Telugu
th Thai
ti Tigrinya
to Tonga
lua Tshiluba
tum Tumbuka
tr Turkish
tk Turkmen
tw Twi
ug Uighur
uk Ukrainian
ur Urdu
uz Uzbek
vi Vietnamese
cy Welsh
wo Wolof
xh Xhosa
yi Yiddish
yo Yoruba
zu Zulu

Original subtitles

আম্মু, দুধটুকু খেয়ে নাও!

ড্রয়িংটা শেষ করে আসছি!

আমার লক্ষ্মী...সোনা!

দেখি তো!

স্যার, হামিম বের হলে আপনাকে কলব্যাক করতে বলবো।

বাবা...

আমার আঁকা ছবিগুলো দেখেছ?

খুব সুন্দর হয়েছে।

হামিম, অফিস থেকে তোমার সিনিয়র কল করেছিলেন, বলেছি তুমি তাকে কল ব্যাক করবে।

ভাবিনি এতো দ্রুত সুস্থ হয়ে উঠবেন।

ভাবোনি! নাকি আমি সুস্থ হই সেটা চাওনি?

উনি একজন ভয়ঙ্কর অফিসার ছিলেন...

সর্বশেষ মামলার তদন্ত করতে গিয়ে মারাত্মকভাবে আহত হয়েছিলেন।

তারপর মেডিকেল লিভ নিয়ে চিকিৎসা গ্রহণ করে, এখন আবার ফিরে এসেছেন!

এই মামলাটি নিতে তোমাকে বাধ্য করাটা ঠিক হয়নি।

তুমি চলে যাওয়ার পর থেকে এই মামলার তদন্ত কার্যক্রমও বন্ধ ছিল!

কিন্তু অশোক কুমার এই মামলার তদন্তভার নেয়ার পর থেকে...

এরকম ঘটনা আর ঘটেনি।

তবে এটা সত্যি যে, উনি এখনো সন্দেহভাজনকে ধরতে পারেনি!

ঠিক একারনেই তোমাকে আবারো...

এই মামলার দায়িত্ব দেওয়া উচিত হবে না!

আর তোমাকে স্যাপ (স্পেশাল আর্মড পুলিশ) এ নিযুক্ত করেছি।

স্যাপ'এর প্রশিক্ষণার্থীরা তোমার শ্যুটিংয়ের কৌশল থেকে ভালো কিছু শিখতে পারবে!

স্যার, আমাকে কী করতে হবে, সেটা আপনি ঠিক করে ফেলেছেন!

একটা সময় ছিল, যখন এই হায়দারকে পুলিশ ফোর্সের প্রয়োজন ছিল,

কিন্তু এখন আমারই এই ইউনিফর্মটা প্রয়োজন!

সিরিজ হত্যাকান্ডের তদন্ত করতে গিয়ে উনি আঘাত পেয়েছিলেন!

শোনা যায়, সন্দেহভাজন নাকি তার পায়ে গুলি করে পালিয়েছিল!

ইচ্ছা করলে সে তার পায়ে গুলি না করে, বুকেও করতে পারতো!

কে জানে, হয়তো উনি নিজেই নিজের পায়ে গুলি করেছেন!

"চার বছর আগে, নভেম্বরের কোন এক সন্ধ্যায়..

...চিকুমপারা গ্রাম থেকে জিষ্ণু নামের একজন গুম হয়ে যায়!"

ওর পরিবার ও গ্রামবাসীরা ওর ফিরে আশার অপেক্ষায় ছিল!

তাদের বিশ্বাস ছিল ও একদিন ফিরে আসবে!

সে কি বেঁচে আছে? যদি থাকে তাহলে কোথায়? আর কেন ফিরে আসছে না?

এই গুমের সাথে জড়িত থাকার অভিযোগ আনা হয়েছে তার প্রতিবেশী নান্দুর ওপর।

স্থানীয়দের সন্দেহ তার এবং তার পরিবারের উপর!

পুলিশও এর কোন সুরাহা বের করতে পারেনি!

"থার্ড আই - শো"-টি এমন অনেক অমীমাংসিত মামলার তদন্তে সাহায্য করেছে।

আমাদের বিশ্বাস জিষ্ণুর মামলাটা আবারও চালু করা হবে।

নান্দু, জিষ্ণুর মা-বাবা, চিকুমপাড়া গ্রামবাসী এবং বিশেষজ্ঞ প্যানেলকে

"থার্ড আই" এর এই পর্বে থাকার জন্য ধন্যবাদ জানাচ্ছি।

আমরা সমাজের এমন অনেক অমীমাংসিত মামলার রহস্য উদ্ঘাটন করতে...

"থার্ড আই" এর পরবর্তী পর্ব নিয়ে আবারো হাজির হবো.....

কবিতা, চলো!

ঋষি, এই মহিলাটি তোমার জন্য অনেকক্ষণ ধরে অপেক্ষা করছেন!

ফিরে এসে তোমাকে কল দেবো!

কখন এসেছিলেন? আমাকে একটা কল দিতে পারতেন।

ওনাকে হরিথা ম্যাডামের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে হবে!

তুমি আমার গাড়ি নিয়ে যাও, পরে তোমার সাথে দেখা করব!

আমার সাথে আসুন।

এটা কিন্তু সংবাদ সম্মেলন, তাড়াতাড়ি চলে এসো!

উনি একজনের রেফারেন্সে আপনার সাথে দেখা করতে এসেছেন।

কী হয়েছে, মা? - নাইয়াতিনকারা থেকে এসেছি!

আমার নাম ত্রেচি।

এটা আমার নাতনি, জেনসি!

প্লিজ কাদবেন না, কী হয়েছে খুলে বলুন!

ওর বাবা বেচে নেই!

গত ৬ মাস ধরে ওর কোনো খোঁজ নেই,

সকালবেলা স্কুলের উদ্দেশ্যে বের হয়েছিল...

এরপর আর ফিরে আসেনি।

আমাদের আগামী পর্বে এই মামলাটা উপস্থাপন করা দরকার!

ওনার কেউ নেই!

আমার নাতনিকে খুঁজতে সাহায্য করার মতো কেউ নেই!

কাঁদবেন না, আমি সর্বাত্মক সহায়তা করবো!

এটা নিয়ে চিন্তা করবেন না!

তাহলে আমরা যাই!

তোমার শো'তে যে জিষ্ণু'র কথা বলছিলে তার কোনো খবর আছে?

না!

ম্যাডাম, আজ বরং থাকুক! দেরি হয়ে গেছে!

আজকের খেলাটা কোথায়?

প্রেসক্লাবে, বনমন্ত্রীর সংবাদ সম্মেলন।

পদত্যাগ করবে নাকি? - না!

এটা ভালো করেই জানি,

পুরো দেশ ওনার বিপক্ষে গেলেও উনি ওনার অবস্থান থেকে একচুলও নড়বেন না!

প্রশ্ন করে করে ওনাকে অতিষ্ঠ করে দিও না যেনো!

জানি, এই ক্ষমতাসীন দলের দয়াতেই আমাদের চ্যানেলটা চলছে...

...আমি কীভাবে ওনাদের অপমান করবো?

ওকে...

তোমার শরীরের অবস্থা সুবিধের নয়!

ঠিকভাবে চিকিৎসা নিলে সুস্থ স্বাভাবিকভাবে বাঁচতে পারবে!

তুমি বলতে চাচ্ছ, আমি সুস্থ নই।

ফাদার, তুমি এবার বিশ্রাম নাও!

ডাক্তার, আমি আমার কমিউনিটির কলংক!

এসবের সাক্ষী হিসেবে কেবল আমিই বেঁচে আছি।

নয়তো এর আগেই কেউ আমাকে মেরে ফেলবে!

এই নার্সটা কে? নতুন এসেছে নাকি?

কর্তৃপক্ষ নতুন নিয়োগ দিয়েছে!

সদ্যবিবাহিতা, সারাক্ষণ ফোন নিয়েই পড়ে থাকে!

ওর স্বামী দুবাইতে থাকে!

এটা আমাদের এই ফাদারের মামলা ফাইল, আলমারিতে রেখে দাও!

এই মেয়ে, দাড়াও তো!

তোমার নাম কী? মলি...

মলি, কার সাথে কথা বলছিলে?

আমার স্বামীর সাথে!

সে নাকি অন্য কেউ?

আজকালকার মেয়েরা তো একেকটা মাল্টিপ্লাগ!

আমি...

নিজেকে নির্দোষ প্রমাণ করার কোনো দরকার নেই, যাও!

যাও তো!

আমি কি এখন যেতে পারি, ডাক্তার? যা বলেছি ভুলে যেও না।

না হলে কিন্তু...

মরণ!!!

সেজন্য তো আমাদের স্বয়ং যীশু প্রভুকেও ক্রুশবিদ্ধ করে মারা হয়েছিলো...

নয়তো কেউ আমাকে মেরে ফেলতে পারে!

এর আগে ছোট্ট একটা কাজ শেষ করতে চাই!

আবার দেখা হবে!

মাথায় কী হয়েছে?

স্কুলে কারো সাথে মারামারি করেছে!

কেউ ওর মাথায় পাথর মেরেছে! দুটো সেলাই করতে হবে!

এখন এর বদলা নিতে চায়! আপনি ওকে বলে দিন, এসব যেনো না করে।

এ অবস্থা কে করেছে?

আমাদের ক্লাসের ইবিন আইজ্যাক!

এসেম্বলির সময় ধাক্কা মেরেছিল, তাই আমিও ওকে মেরেছি!

এরপর ও আমাকে পাথর মেরেছে!

এই ক্ষত কিছুদিনের মধ্যেই শুকিয়ে যাবে! - শোনো...

এখনই কিছু করতে যেও না, দুয়েকটা দিন পরেই ওকে পাথর মেরো...

তবে কেউ যেনো না দেখে!

পাথরটা একদম জায়গা মতো মারবে, যেন মিস না হয়!

এতে অবাক হওয়ার কিছু নেই, কারণ সবাই ওনাকে পাগল ফাদার হিসেবেই জানে!

বাঁ দিকে পাস দে! - তাড়াতাড়ি!

কিক! - তাড়াতাড়ি মার!

ঈশ্বরের আশির্বাদ নাও!

হ্যালো, হরিথা মেনন বলছেন?

আমি কাদ্দাপুরাম চার্চের ফাদার ভার্গেজ পুনিয়ালান বলছি!

বলুন ফাদার... - আপনার সাথে দেখা করতে চাই!

কেন, কী হয়েছে?

চার্চের নিউজলেটার লিখতে লিখতে অরুচি ধরে গেছে।

পাঁচ বছর আগে আমার লেখা 'পরিবর্তনের অন্তরালে' বইটি...

চার্চে বেশ আলোড়ন তুলেছিল।

এটার জন্য আমাকে অনেক বাধা বিপত্তি ও বঞ্চনার শিকার হতে হয়েছে।

নেহায়েতই একজন যাজক বলে সোসাইটিতে গণপিটুনির হাত থেকে বেঁচে গেছি।

ভলো লেগেছে ব্যাপারটা!

এটাই আমাকে দ্বিতীয় বইটি লিখতে অনুপ্রাণিত করেছে।

আপনার "থার্ড আই" শো'তে বইটির মোড়ক উন্মোচন করতে চাই!

কারণটা বইয়ের মধ্যেই লুকিয়ে আছে!

হরিথা, আপনার সাথে দেখা করতে কখন আসবো?

ফাদার, আপনি আমার বাসায় চলে আসতে পারেন!

আমার ঠিকানা ও সময়টা টেক্সট করে দিচ্ছি।

বলটা এই দিকে দে!!

এই যে বাবারা...!

আমিও তোমাদের সাথে খেলব!

ফাদারকে খেলতে নিলে উনি এই কাড়াকাড়ির মধ্যে পড়ে যাবেন।

ওনাকে না নিলেও সমস্যা!

- এর থেকে বরং ওনাকে খেলায় নিয়ে নেই।

আরে আমরা আর্জেন্টিনা-ব্রাজিলের মতো খেলতে পারি।

আমি আগে বিশ্বকাপে খেলতাম।

ভার্গেজ পুনিয়ালান নামের কোনো ফাদারকে চেনো?

কাদ্দাপুরাম চার্চের ফাদার?

উনি এসব বলেছেন নাকি?? -হ্যাঁ।

ম্যাডাম, আপনি সম্ভবত ওনাকে চিনতে পারেননি!

- উনি একজন ধর্মদ্রোহী!

কয়েক বছর আগে তিনি চার্চের বিরুদ্ধে...

একটি বিতর্কিত বই লিখে বহিষ্কৃত হয়েছিলেন।

এরপর থেকেই উনি একপ্রকার নির্বাসিত জীবনযাপন করছেন!

এখন উনি আপনাকে কেন ডেকেছেন?

তিনি একটি নতুন বই লিখেছেন

আর সেটা আমাদের চ্যানেলের মাধ্যমে প্রকাশ করতে চান।

ওনার সাথে ব্যক্তিগতভাবে দেখা করব।

উনি বই প্রকাশ করার জন্য আপনাকে কেন ডেকেছেন!

হয়তো এতেও আগেরটার মতো বিতর্কিত কিছু আছে।

দেখা যাক।

জিষ্ণুর মামলার কোনো কুলকিনারা করতে না পারায় আমি হতাশ!

আপনাকে আগেও বলেছি...

"থার্ড আই" অমীমাংসিতভাবে বন্ধ হয়ে যাওয়া কোনো মামলা ফাইলের মতো না,

বরং বন্ধ হয়ে যাওয়া মামলাগুলো আমরা আবার সচল করবো!

আর এতে কোনো না কোনো মামলা তো, আলোর মুখ দেখতে পাবেই।

কারণ আমাদের শোয়ের বিশেষজ্ঞ প্যানেলে...

একজন অবসরপ্রাপ্ত বিচারক এবং পুলিশ কর্মকর্তা রয়েছেন।

হরিথা, এই মানুষ গুমের মামলার ওপর এত বেশি জোর না দিয়ে...

আমাদেরকে বরং অন্য কিছু নিয়ে ভাবতে হবে!

জিষ্ণুর মামলাটার মত আরেকটা মামলা নিয়ে...

এক মহিলা আমার কাছে এসেছিলেন!

"জেনসির নিখোঁজ হয়ে যাওয়ার মামলা!"

তবে আপনার কথাটাও ঠিক।

যদি আমরা চাঞ্চল্যকর কোনো মামলা আবার ওপেন করি তাহলে...

সবার আগ্রহ ফিরে আসবে আর এই শো'য়ের টিআরপিও অনেক বেড়ে যাবে।

ভাবছি পুরনো কোনো মামলা নিয়ে আপনার সাথে কথা বলব।

স্যার, সিরিজ হত্যাকাণ্ডের কথা নিশ্চয়ই মনে আছে?

দু'বছর আগে যেটা হয়েছিল...

গোরস্থান হত্যা মামলা!

তিনজন নারী খুন হয়েছিলেন!

নারী চিকিৎসক - সান্দ্রা মেরি...

একটা মাল্টিন্যাশনাল কোম্পানির মার্কেটিং হেড - আইরিন থমাস।

এবং এলআইসি এজেন্ট - লিসি জ্যাকব।

পরপর তিনদিনের মধ্যেই তাদেরকে হত্যা করা হয়।

প্রায় প্রতিদিনই অসংখ্য চিঠি ও ইমেইল আসে...

এই মামলাটি আবারও ওপেন করার অনুরোধ নিয়ে!

তদন্তের কী অবস্থা?

হামিম হায়দার নামের একজন পুলিশ অফিসার এই মামলার তদন্ত করেছিলেন!

একটা দুর্ঘটনার কারণে তিনি তদন্তের মাঝপথেই এই মামলাটা ছেড়ে দিতে বাধ্য হন।

পরে এই মামলার তদন্তভার... এসপি অশোক কুমারকে দেওয়া হয়!

কিন্তু খুনি এখনো ধরাছোঁয়ার বাইরে! - ওনার নাম কী?

হামিম হায়দার...!

উনি এখন কোথায় আছেন?

উনি এখন স্যাপে'র শ্যুটিং ট্রেইনার।

তো, এখানে কোনো মামলাই দাঁড়ালো না!!! -না

ওনার কথা বাদ দাও! আর অশোক কুমারের কী খবর?

অশোক কুমার আমার কলেজমেট ছিল...

...আর ওর থেকে তথ্য সংগ্রহ করতে কোনো সমস্যা হবে না।

তো এখন কী করবে? এটা নিয়েই সামনে আগাবে?

আমার মনে হয়, এই মামলাটা বেশ চ্যালেঞ্জিং... তো, আমি কি?

কী মনে করে কল দিয়েছিস?

তোর সাথে দেখা করতে চাই, ছোট একটা সাহায্য দরকার!

যেকোনো সময়ে চলে আসতে পারিস।

এখন গুরুত্বপূর্ণ একটা মামলার তদন্তে আছি!

তোর সাথে পরে কথা বলব।

আমার দেয়া তথ্যানুযায়ী ওদের গ্রেফতার করেছ?

তাহলে ওদেরকে জেরা করা যায়...

নাম কী তোর? - শালিনী!

তা এই কাজে কতদিন?

বল!

কাঁদিস না।

- তোর নাম কী? - রেশমা।

খুবই চটপটে।

- তোকেও কী আলাদা করে জিজ্ঞেস করতে হবে? - সুমা।

সুমো।

নমস্কার।

শরীর স্বাস্থ্য তো বেশ ভালই বানিয়েছিস।

ভালো কোনো কাজ করতে পারিস না?

রেইডের সময় ওকে এর সাথে ধরেছিলাম।

ওহ তাই নাকি?

স্যার, আমি ঠিকানা জানতে গিয়েছিলাম!

কোন জায়গার?

মিথ্যে বলছিস।

চন্দ্রশেখর, ওদের জেলের ভেতরে ডুকাও।

এই মহিলাদের বিস্তারিত জিজ্ঞাসাবাদ করতে চাই।

মনে হচ্ছে এদের পেছনে কোনো রাঘব বোয়ালের হাত আছে।

চল।

পার্টির চ্যানেলের বিজয়কে পার্টির বিজয় হিসেবে ধরা হয়।

স্যার, দয়া করে এস.পি অশোককে ফোন করে...

বলে দিন হরিথাকে সব ধরণের সাহায্য করে।

প্যানেলের অন্য মেম্বারদের সাথে ওনাকেও বসতে দিন।

ওনারও একটু প্রচার হয়ে যাক।

এসব কার না ভাল লাগে?

সরকার তো প্রচার-প্রচারণা করেই দিন কাটাচ্ছে।

আপনার কি মনে হয় এসব জনগণের জন্যে?

স্যার, আমি জাইনা। আমরা "ফর লাইফ" প্রতিষ্ঠানের সদস্য।

আমরা চাই "থার্ড আই" এর কোনো একটা পর্বে...

আমাদের "ফর লাইফ" এর কাজকর্ম নিয়ে আলোচনা করা হোক।

তোমাদের কাজকর্ম আর আমাদের অনুষ্ঠানের মধ্যে কোনো মিল নেই।

আচ্ছা দেখি আমাদের কোনো প্যানেলের সদস্য...

কিংবা দর্শকের সাথে তোমাদেরকে যুক্ত করা যায় কিনা।

হ্যালো, অশোক কুমার। কেমন আছো?

- তোমাকে আজকাল দেখাই যায় না। - খুব ব্যস্ত।

একসাথে কয়েকটা মামলা সামলাতে হচ্ছে।

এখানে হায়দার আছে নাকি?

বুড়ো সিংহটা।

তোমার ইগো সমস্যাটা এখনো রয়ে গেছে দেখছি!

তাহলে তো আমাকে মরতে হবে নাহয় মেরে ফেলতে হবে!

আসছি তাহলে?

টার্গেট মিস করে ফেলছ, হায়দার!

আঙ্গুলের জোর কমে গেছে বুঝি?

নাকি শরীর মনের কথা শুনছে না?

দুটো সমস্যাই বিপদজনক।

আমি জানি এরকম ব্যক্তিত্ব নিয়েও পুলিশ ফোর্সে...

কোন প্রকার অবদান রাখতে না পেরে তুমি একটু হতাশ।

সেই আদিকাল থেকেই ঈশ্বরের খেলাটা একটু অন্যরকম।

তিনি ছড়ি ঘোরাতে জানা মানুষের হাতের ছড়ি কেড়ে নিয়ে...

সেটা কোনো অন্ধ প্রতিবন্ধীর হাতে তুলে দেন।

স্পেশাল আর্মড পুলিশের বার্ষিক ক্যাম্পের বিবরণ এখানে আছে।

- ক্যাম্প কবে শুরু হচ্ছে? - দু'সপ্তাহ পর, দিল্লীতে।

তুমি যাও।

তুমি তাহলে চলেই যাচ্ছ।

তোমাকে কিছু গুরুত্বপূর্ণ কথা বলতে এখানে এসেছি।

পুরোনো গোরস্থান হত্যা মামলাটি আবার খোলা হয়েছে।

নিউজ ২৪/৭ এর থার্ড আই শো'য়ের মাধ্যমে।

সেখানে আগামীকাল হরিথা মেনন এই মামলাটা নিয়ে আলোচনা করতে যাচ্ছে।

আমার খুব কাছের বন্ধু।

ওকে সব ধরণের সাহায্য করতে বলা হয়েছে।

ক্ষমতাসীন দলের চ্যানেল। আদেশ তো মানতেই হবে।

এই মামলা ফাইল গুলোই হরিথা মেননের হাতে তুলে দিতে হবে।

এটা বেআইনী।

কিন্তু এর পেছনে আমার দুটো উদ্দেশ্য আছে।

১. মানুষের সামনে তোমাকে অপদস্থ করা।

২. সবার সামনে নিজেকে জাহির করা।

চলে গেছে।

বড় বড় বন্দুক নিয়ে খেলছে।

মনে হয় নতুন।

খুব ভারী আর বেশি শব্দ করে।

- তোমার নাম কি? - মুরুগান।

- মুরুগান, তোমার গাড়িটা খুব কাপঁছে।

এটা তো উড়োজাহাজ না, এটা অটো।

- মদ-গাঁজা খাও নাকি? - মাঝেমধ্যে।

লজ্জা পেও না।

মাতাল হয়ে বউ পেটাও নাকি?

সবসময় না।

তবে যখন খারাপ ব্যবহার করে আর আমি মেজাজ হারিয়ে ফেললে তখন মারি।

কিন্তু ওকে আমি খুব ভালোবাসি।

তাই তো এই অটোর নাম দিয়েছি গায়েত্রী।

বাহ!

আমাকে ক্ষমা করে দিন ফাদার।

বউ খারাপ ব্যবহার করলে, একটু আধটু মারলে এতে দোষের কিছু নেই।

ঐ বাচ্চাগুলোকে দেখ। কত দ্রুত যাচ্ছে।

গিয়ার পাল্টে নাও।

মনে হচ্ছে আপনি স্পিড ভালোবাসেন।

তাহলে তুই ওনার বকা খেয়েই এসেছিস।

না।

তোদের দুজনের মধ্যে আসল সমস্যাটা কোথায়?

আমাদের মধ্যে কোন ঝগড়া নেই।

এটাকে পেশাগত দ্বন্দ্ব হিসেবে ধরে নিতে পারিস।

যখন ওর কাছ থেকে মামলাটা নিয়ে নেয়া হয়েছে...

তখন থেকেই সমস্যাটা শুরু হয়েছে।

এর কারণ হতে পারে তুই ওকে ভয় পাস বলে।

আমি ভয় পাই না।

আর লজ্জা পেতে হবে না। চা খেয়ে নে।

আমি ওকে জানিয়েছি কিন্তু...

উনি অন্য মামলার প্রস্তুতি নিয়ে ব্যস্ত আছেন।

- এখানে রাখো। - আচ্ছা ফাদার।

কত হয়েছে?

স্যার, লাইনে থাকুন..

ম্যাডাম, ফাদার এসে গেছেন।

কে?? ফাদার ভার্গেজ নাকি? -হ্যাঁ, উনি।

আমার খুচরো নেই। রেখে দাও।

বসুন।

- মনে হয় বাড়িতে মেহমান এসেছে। - হ্যাঁ আমার বন্ধু।

এটাই তোমার কাছে দিতে এসেছি।

আমার দ্বিতীয় বই।

এখনো প্রকাশিত হয়নি। প্রথম কপি।

"থার্ড আই" এর পরবর্তী পর্বে এই বইটি পরিচয় করিয়ে দিও।

ফাদার, আমাদের শো বই প্রকাশের কোনো মিডিয়া নয়।

আমি আমাদের চ্যানেলের অন্য কোনো শো'তে বলে দেব।

আর পরবর্তী শো এর জন্য ইতোমধ্যে মামলা ঠিক করে ফেলেছি।

সময় করে পড়ে দেখবে।

এখনও ঘুমাওনি?

তোমার হৃদস্পন্দন শুনছি।

এটা থেমে গেলে কি আমরা মরে যাই?

তোমার পায়ের ঐ দাগটা দেখাবে আমাকে?

কতবার দেখতে চেয়েছ তুমি?

আরেক বার।

- ব্যাথা করছে?

- না, শুধু দাগটাতে।

তোমার তো কাল স্কুল আছে। ঘুমিয়ে পড়ো।

আমি বাবার বুকে মাথা রেখে ঘুমাব।

এই মেয়েটা!

তুমিও এখানে ঘুমাও।

কাঁথা বালিশ নিয়ে ঘুমানোর জন্যে তোমার বুক তো বড় খেলার মাঠের মত।

কী হয়েছে? কী ভাবছো?

আমি কিছু বিষয় ভাবছিলাম।

- আমার কোনকিছুর উপরেই আত্মবিশ্বাস নেই।

- এরকম ভেবো না।

শান্ত থাকো। আমরা সবাই তোমার সাথে আছি।

এখন এটাই একমাত্র শক্তি।

একটা সময় ছিল যখন আমি এটা বুঝতে পারিনি।

আজ হেড অফিস থেকে কল এসেছিল। ২ সপ্তাহ পর দিল্লিতে বার্ষিক ক্যাম্প আছে।

আমাকেই হয়ত টিমের নেতৃত্ব দিতে হবে।

তোমাদেরকে ছেড়ে একা থাকতে পারব না।

ঘুমিয়ে পড়েছিস?

কী হয়েছে?

তোর ফাইলগুলো পড়ে কোন সূত্র খুঁজে পেলাম না।

এরকম হলে তো সময়মত শো শুরু করতে পারব বলে মনে হয় না।

সম্ভবত এই মামলা বাদ দিয়ে দিতে হবে।

এতটা হতাশ হোস না। আবারও ফাইলগুলো পড়ে দেখ।

সূত্র খুঁজে পাবি।

দেখা যাক।

আমি ভবিষ্যৎ দেখতে পাই।

এই ফাদার আগে একটা বই লিখেছিলেন।

সেটা চার্চের অনুসারী ও ফাদারের...

মধ্যে একটা দূরত্ব তৈরি করেছে।

সবার আগে আমার সোসাইটি থেকেই আপত্তিটা তোলা হবে।

ওদের দলচ্যুত এবং নির্বাসিত ব্যাক্তি।

ধর্মদ্রোহী। মানে আমি।

শুধু তাই নয় এই মামলাটির তদন্ত এখনো চলছে।

তোমাকে আমার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে হবে।

কারণ তুমি একটা চ্যানেল চালাচ্ছ যেটা ক্ষমতাসীন দল দ্বারা পরিচালিত।

জনগণের কাছে সত্য উদঘাটনের আগ পর্যন্ত...

আমার জীবন ও নিরাপত্তার ভার তোমার হাতে থাকবে।

ফাদারকে শুধু এই নিশ্চয়তা দিতে হবে।

ফাদার এই শো'য়ের জন্য একজন ভাল চরিত্র।

এই সুযোগ আমাদের হাতছাড়া করা যাবে না।

স্যার, যদি আমরা না নিই তাহলে...

অন্য কোনো চ্যানেল এই সুযোগটা নিয়ে নেবে।

সুতরাং আমরা কেন হাতছাড়া করব!

যদি তুমি আমার নিরাপত্তার নিশ্চয়তা দিতে না পারো...

তাহলে আমি অন্য কোনো চ্যানেলের কাছে যাব।

তো তুমি সিদ্ধান্ত নিতে পার।

ওকে, বুঝতে পেরেছি।

ফাদারের আমার খোঁজে আসার পেছনে একটা কারণ ছিল।

এমনকি আমিও জিজ্ঞেস করেছিলাম আমাদের চ্যানেল কেন বেছে নিলেন।

উত্তরটা একদম পরিষ্কার।

"থার্ড আই" একটি লাইভ শো।

কীভাবে অমীমাংসিত মামলাগুলো সমাধান করা হচ্ছে...

তা সরাসরি জনগণকে দেখানো হচ্ছে।

লাইভ শো'তে বাহ্যিক কোনো হস্তক্ষেপ নেই।

এটাই একমাত্র কারণ। তো হরিথা কি বল তুমি?

এখন সিদ্ধান্ত আপনার।

তো আমাদের প্রথম এপিসোড কবে থেকে শুরু করতে পারি ?

শুরু করতে পারি?

তৃতীয় নয়ন...

তৃতীয় নয়ন তখনই খুলে যায়, যখন আমরা সত্যটা উপলব্ধি করতে পারি।

কাল্পনিক ভাবে যখন সে নয়ন খুলে যায় সবকিছু পুড়ে ছাই হয়ে যায়।

এখানে থার্ড আই সত্যের সামনে উন্মোচিত হয়।

আর সেটা জনগণের কাছে পৌছে দেয়াটাই আমাদের একমাত্র দায়িত্ব।

আমরা কোন ক্ষমতাবান, ধনী কিংবা কোনো প্রতিষ্ঠান দ্বারা প্রভাবিত নই।

আমাদের সাথে রয়েছে শুধু জনগণ, তাদের পরিপার্শ্বিক অবস্থা ও তাদের সত্য।

মানুষের অভিযোগগুলো বিশ্লেষণ করার জন্য আমাদের অভিজ্ঞ প্যানেল রয়েছে।

হাইকোর্টের অবসরপ্রাপ্ত বিচারপতি শ্রী সুব্রামানিয়ান স্বামী।

অবসরপ্রাপ্ত ডিজিপি - জনাব সুলায়মান রাঠোর।

অপরাধবিষয়ক মনোবিজ্ঞানী - মিসেস লীলাম্মা ভার্গেজ।

এসপি জনাব অশোক কুমার।

আর আমাদের সাথে সাধারণ জনগণের মধ্য থেকে কিছু দর্শকবৃন্দ আছেন।

আগে যখনই " থার্ড আই" এর মঞ্চে এসেছি...

....আমি সেই মামলার ব্যাপারে ব্যাক্তিগত রিসার্চ করেই এসেছি।

কিন্তু আজ যখন এখানে দাঁড়ালাম সবার মতো আমিও সূত্রহীন।

আজকের পর্বটি শুরু আগে আমি আপনাদের সাথে একজনকে পরিচয় করিয়ে দিতে চাই।

হয়তো তিনিই সামনের দিনগুলোতে...

অনেকগুলো শো'তে অংশ নিতে যাচ্ছেন।

আমি স্বাগতম জানাচ্ছি ফাদার ভার্গেজ পুনিয়ালানকে।

প্রথমবারের মত আমরা "থার্ড আই" এর মাধ্যমে বইয়ের মোড়ক উন্মোচন করছি।

এর পেছনে কোন উদ্দেশ্য তো থাকবে, তাই না?

"পরিবর্তনের অন্তরালে" ছিল আমার প্রথম বই।

আমার উপলব্ধির উপর ভিত্তি করে এটা লেখা হয়েছে।

চার্চের অভ্যন্তরীণ কিছু বিষয়ের উপর।

সেখানে কিছু নির্মম সত্য ছিল।

চার্চ সেটা নিষিদ্ধ করে এর প্রকাশনা বন্ধ করে দিয়েছে।

চার্চ সেটাকে পাগল ফাদারের কাজ হিসেবে ঘোষণা করেছে।

এই কারণেই আপনাকে পাগল ফাদার বলা হয়?

যদি কেউ পাগলের দলে ডুকে পড়ে সে পাগলই হয়ে যায়।

"স্বীকারোক্তি" যে বইটা আমি পড়েছি সেটা কী আমি...

সেরকম কোন কাজ কিংবা ফিকশনের কাজ হিসেবে ধরে নেব?

বইয়ে যা কিছু লেখা হয়েছে, সবটুকু আমার সাক্ষ্য।

যা আমি নিজের চোখে দেখেছি।

এই বই নিয়ে আমি "থার্ড আই" তে কেন এসেছেন?

আপনি এবং এই লাইভ শো এর কারণ।

লাইভ শো এর খুব বেশি প্রভাব আছে।

"স্বীকারোক্তি" বইয়ে তিনটে অধ্যায় আছে।

তিনটি অধ্যায়ে রয়েছে তিনজন নারীর নাম।

১ম অধ্যায়ে- সান্দ্রা মেরি!

২য় অধ্যায়ে- আইরিন থমাস।

৩য় অধ্যায়ে- লিসি জ্যাকব।

এই তিনজনই এখন মৃত।

এটা স্বাভাবিক মৃত্যু নয়। ওদের খুন করা হয়েছে!

তিনজন নারী যারা একে অপরকে চিনতেন না,

এবং তারা ভিন্ন ভিন্ন অঞ্চল থেকে এসেছিলেন।

কেউ একজন তাদেরকে ঠাণ্ডা মাথায় খুন করেছে।

অজ্ঞাত কোনো একজন!

"স্বীকারোক্তি" হচ্ছে সেই প্রশ্নের উত্তর।

অধ্যায় এক - সান্দ্রা মেরিকে নিয়ে। ওনার বয়স ছিল ৪০ বছর।

ত্রিভান্দ্রুমের অন্যতম একটি বেসরকারি হাসপাতালে...

একজন স্ত্রীরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে কর্মরত ছিলেন।

স্বামী-সন্তান নিয়ে ছিল ওনার পরিবার।

ত্রিভান্দ্রুম মেডিকেল কলেজ থেকে ডাক্তারি পাশ করেছিলেন।

প্রভাবশালী একটি গোষ্ঠীর ছত্রছায়ায় তিনি ...

ত্রিভান্দ্রুমের একটি নেতৃস্থানীয় বেসরকারি হাসপাতালে প্র্যাকটিস শুরু করেন।

ওনার স্বামী সমাজের একজন শীর্ষস্থানীয় ব্যক্তিত্ব।

সব মিলিয়ে একটি শান্তিপূর্ণ পারিবারিক জীবন।

সান্দ্রার সবকিছু ছিল।

কিন্তু কোনো এক ডিসেম্বরের প্রচন্ড শীতের সময়ে...

পারিবারিক গোরস্থানের পাশে ওনার মৃতদেহ পাওয়া যায়।

অধ্যায় দুই- আইরিন থমাস। ওনার বয়স ছিল ২৭ বছর।

ইনি শীর্ষস্থানীয় একটি কসমেটিকস কোম্পানির মার্কেটিং বিভাগের প্রধান ছিলেন।

দিল্লি ইউনিভার্সিটি থেকে এম.বি.এ শেষ করে...

কেরালায় ফিরে এসেছিলেন।

খুবই স্মার্ট এবং বুদ্ধিমতি হওয়ায়...

...কর্পোরেট দুনিয়ায় আইরিন একজন উল্লেখযোগ্য ব্যক্তিত্ব হয়ে ওঠেন।

কিন্তু তারও ভাগ্যটাও সেই গোরস্থানের কাছেই থমকে যায়।

তৃতীয় এবং শেষ অধ্যায়- লিসি জ্যাকব।

ওনার বয়স ছিল ৩৯ বছর।

উনি ওনার প্রেমিক জ্যাকবকে বিয়ে করেন।

কিন্তু ওনাকেই তার পরিবারের দায়িত্ব নিতে হয়।

কারণ, জ্যাকব ছিল দায়িত্বজ্ঞানহীন আর মাদকাসক্ত।

তাই তিনি একটি বীমা কোম্পানিতে প্রাইভেট এজেন্ট হিসাবে কাজ শুরু করেন।

কিন্তু সান্দ্রা এবং আইরিনের মতো তারও লাশটাও গোরস্থানের কাছে পাওয়া যায়।

তিনজন নারী - তাদের জীবন ও মৃত্যু।

আপনার দেয়া তথ্যগুলো গোরস্থান হত্যা মামলার ক্ষেত্রে ঠিক আছে।

আমরা এটা বিশ্বাস করে নিচ্ছি... কিন্তু!

কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে যেগুলোর উত্তর এখনো পাওয়া যায়নি।

এই তিনজন নারীকে কীভাবে হত্যা করা হয়?

কে খুন করেছে? কেন করেছে?

পুলিশের এফআইআরে যা নথিভুক্ত করা হয়নি...

সেগুলোর ব্যাপারে আপনার বইয়ে কোনো উত্তর দেয়া হয়নি।

সুতরাং আমাদেরকে বলুন, খুনিটি কে?

এই বইয়ে যা বলা হয়েছে, সেটাই আমার স্বীকারোক্তি ছিল।

দেশবাসীর সামনে এটাই বলার জন্য এই লাইভ অনুষ্ঠানে ছুটে এসেছি।

কারণ আমার পাপের বোঝাটা অনেক ভারি,

সুতরাং প্রায়শ্চিত্তটাও ভারি হওয়া উচিত।

প্রভু আমি একজন পাপী!

অনুগ্রহ করে আমাকে ক্ষমা করুন!

আমি পাপ করেছি! অনেক বড় পাপ করেছি!

ওই তিন মহিলাকে আমিই খুন করেছি এই দুটো হাত দিয়ে!

আপনি কী জানেন যে এই মামলার তদন্তে নিয়োজিত এসপি অশোক কুমার...

...এই প্যানেলে এবং এখানেই আছেন?

মি. অশোক কুমার এ ব্যাপারে আপনি কী বলেন?

শুধু একটি বই লিখেই আপনি একটি হত্যাকান্ডের দায় নিতে পারেন না!

এরজন্য অবশ্যই উপযুক্ত প্রমাণ থাকতে হবে!

তবে তদন্তের স্বার্থে ফাদারকে অবশ্যই পুলিশ হেফাজতে নিতে হবে।

ইতোমধ্যে আমার ফোর্সকে ইনফর্ম করেছি।

অভিযোগ প্রমাণিত না হওয়া পর্যন্ত ওনাকে এখান থেকে নিয়ে...

ওনাকে আমার হেফাজতে থাকতে হবে।

এবার আপনি কী বলবেন?

সব সত্য স্বীকার করে নেয়ার পরিণতি আমি জানি।

এবং সেটা গ্রহণ করতে আমি প্রস্তুত।

তবে গোরস্থান হত্যা মামলার ব্যাপারে আরো তথ্য জানতে হলে...

...তাহলে এই স্টুডিওতে আরো একজনকে নিয়ে আসতে হবে।

কাকে?

দুই বছর আগে এই মামলার তদন্তের দায়িত্বে থাকা এসপি হামিম হায়দার!

হায়দারকে এখানে নিয়ে আসতে হবে।

কারণ তার কাছে অনেক প্রশ্নের উত্তর আছে।

হায়দারকে যদি এখানে না নিয়ে আসা হয় তাহলে,

আমি মিডিয়ার কাছে বলব যে...

...একজন পাগল ফাদারকে দিয়ে একটা মিথ্যে নাটক তৈরি করা হয়েছে।

আর যদি এটা হয় তাহলে শুধু আমি একাই নয়...

আপনিও ফেসে যাবেন।

গোরস্থান হত্যা মামলায় আরো একটি অধ্যায় বাকি আছে।

এই শো'য়ের দর্শকদের সামনেই...

জিজ্ঞাসাবাদ এবং বিচারের ব্যবস্থা করতে হবে।

আর এটা বাস্তবায়ন করার দায়িত্ব এখন শুধু তোমার হাতেই আছে হরিথা!

হামিম হায়দারের ঝড় আসতে দাও!

এই শো'তে এমন একটা ক্লাইম্যাক্স হবে ভাবতেই পারিনি।

এরপর কী হবে?

ওনাকে আমাদের এখানে প্রয়োজন। হামিম হায়দার!

ফাদার ভার্গেজ পুনিয়ালানের এরকম উদ্ভট আচরণ খুবই বিব্রতকর এবং হতাশাজনক!

চার্চ এই মামলার ব্যাপারে কী ভাবছে?

নিউজ ২৪/৭ চ্যানেলে প্রচারিত হরিথা মেননের অনুষ্ঠানের...

...আগামি পর্বে আমরা একজন মুখপাত্র পাঠানোর সিদ্ধান্ত নিয়েছি।

এই মামলার চূড়ান্ত ফলাফল যা-ই হোক ...

সেটা সর্বশক্তিমান ঈশ্বর ও আইনের সাথে সংগতিপূর্ণ হলে চার্চও মেনে নেবে।

মা বলটা দাও!

ধরো!

ধরো ওটা।

- সম্ভবত সে এই জায়গার কথাই বলেছে। - হ্যাঁ এটাই।

কল করে ডাকার পরেও আসেনি এমন একটা লোকের কাছে...

...শুধু শুধু অপমানিত হতে এসেছিস।

আমি দেখে আসবো নাকি?? -না, অশোক।

বর্তমানে তুমি এই মামলাটির তদন্ত করছ, অথচ তোমার নামই সে নেয়নি!

তাহলে হামিম হায়দারকে কেন!

হ্যালো, মি. হায়দার? আমি পৌঁছে গেছি।

ফাদার এমন কিছু বলতে চায় যেটা হামিম হায়দারকে জানাতে হবে।

সেটা কী হতে পারে?

অনুষ্ঠানের অনুমোদন পাওয়াটা অনেক কঠিন ছিল।

আর এখন সেটা চালানোর জন্য ওনার সাহায্যের প্রয়োজন।

চলো।

এদিকে এসো।

চলুন যাওয়া যাক।

আমার আসার কারণটা আপনি হয়তো জানেন।

কয়েকজন পাগল ফাদার আপনার চ্যানেলের টিআরপি বাড়াতে একটা নাটক সাজিয়েছে।

এটাই তো কারণ, তাই না!

দাঁড়াও! মা বলটা দাও।

সরকারী প্রোটোকল ভেঙে ভার্গেজ পুনিয়ালানের সাথে...

...২য় পর্বের জন্য অনুমোদন পেয়েছি।

শশী, এই ভিডিওর মহিলাদেরকে গতকাল অবৈধ ব্যবসার জন্য হাতেনাতে ধরেছিলাম।

এটা ভালো, তাই না? বেশ ভালো।

ওয়াটস্অ্যাপে শেয়ার করতে পারবেন?

ওয়াটসন? কয়েক বছর ধরে তাকে দেখছি না।

এই নাটকটি আপনার চ্যানেলে প্রচারের জন্য সহায়তা করতে অবশ্যই আসব!

বিশ্ববিখ্যাত গোয়েন্দা চরিত্র "শার্লক হোমস" এর স্রষ্টা...

...স্যার আর্থার কোনান ডয়েল বলেছেন,

"অপরাধী যত বড়ই হোক না কেন, নিজের অজান্তে সে তার পদচিহ্ন রেখে যায়।"

"অপরাধী যত বড়ই হোক না কেন, নিজের অজান্তে সে তার পদচিহ্ন রেখে যায়।"

আজ এই শো'তে একটি নারকীয় সিরিজ হত্যাকাণ্ডের রহস্য উন্মোচন করা হবে।

হট সিটে বসে আছেন এই গোরস্থান হত্যাকান্ডের ব্যাপারে স্বীকারোক্তি দেয়া...

...ফাদার ভার্গেজ পুনিয়ালান।

এবং আমাদের সাথে আরো আছেন মামলাটির প্রথম তদন্ত কর্মকর্তা এসপি হামিম হায়দার।

আমরা কৃতজ্ঞ যে, আপনি অন্তত আগ্রহ নিয়ে এই শো-তে এসেছেন।

এই শোতে মূল রহস্য উন্মোচিত হওয়ায় আপনি খুশি হতে পারেননি...

...কারণ, একজন পুলিশ অফিসার হয়েও আপনি সেটা করতে পারেননি।

মি. হামিম হায়দার, এই সন্দেহভাজন লোকটি নিজেই সবার সামনে দোষ স্বীকার করে নিয়েছেন।

এ ব্যাপারে আপনি কী বলেন?

ফাদার ভার্গেজ পুনিয়ালান সাক্ষ্য দিয়ে সবার সামনে...

... একটা নাটক সাজানোর চেষ্টা করছেন।

উনি গোরস্থান হত্যা মামলার আসামি নন।

তোমার কাছ থেকে কীভাবে পালিয়ে বেড়াবো!

আমি স্বর্গে গেলেও আপনি সেখানে থাকবেন!

আর যদি নরকে যাই তাহলে আপনি সেখানেও থাকবেন!

আমাকে ধরে অন্ধকার বা অজ্ঞাত কোনো স্থানে লুকিয়েও রাখতে পারবেন।

কিন্তু অন্ধকারও লুকিয়ে রাখতে পারবে না।

এতক্ষণ সর্বশক্তিমান ঈশ্বরের কথা বলেছি যিনি মানুষের সবকিছুই দেখেন।

আর তুমি কোনো ঈশ্বর নও। একজন মানুষ মাত্র!

মানুষের জন্য সীমাবদ্ধতা রয়েছে।

যে কারণে তিনটি খুনের পরও তুমি আমাকে ধরতে পারোনি।

মনে হচ্ছে উনি আমাদের সময় নষ্ট করছেন! অন্তত আমার সময়টি।

সবাই ওনাকে "পাগল ফাদার" হিসেবে চেনে।

আমি ওনার পাগলামির প্রশংসা করতে পারছি না।

উনি চাচ্ছেন ওনার 'স্বীকারোক্তি' বইটি সবাই পড়ুক যাতে ওনার নামডাক হয়।

ওনার এসব কাজকে পাবলিসিটি স্ট্যান্টের অংশ হিসেবে ধরে নিতে পারি।

আমি আমার পাপের ব্যাপারে কথা বলছি!

খুনের অভিযোগ স্বীকার করে কেউ কি নিজেকে ঝামেলায় জড়াতে চাইবে?

যেটা দেখা যাচ্ছে সেটার পেছনেই সত্য লুকিয়ে আছে।

সেই সত্যিটা যেটা গোরস্থান হত্যা মামলাটি তদন্ত করার সময় আমার সামনে চলে এসেছিল।

যার মধ্যে উনি নেই!

এই ফাদার যদি আমার কয়েকটি প্রশ্নের উত্তর দিতে পারেন,

তাহলে ওনার কথা মেনে নেব।

তখনই ব্যর্থতা স্বীকার করে নেব।

মি. হায়দার সেই বৃষ্টির রাতের কথা মনে আছে?

যখন আমাকে ধরার চেষ্টা করছিলে তখন কী হয়েছিল?

যখন তুমি আমার বন্দুকের ডগায় ছিলে তখন তোমাকে ছেড়ে দিয়েছিলাম।

আমার দেরি হয়ে গেছে।

বাসায় দেরি করে গেলেও আমার স্বামী রাগ করবে না।

এ ব্যাপারে আমার স্বাধীনতা আছে।

একারণে আমিও ওর ব্যক্তিগত ব্যাপার নিয়ে মাথা ঘামাই না।

ও পারস্পরিক বোঝাপড়া করার মতো একটা ছেলে।

রাখছি তাহলে... কাল তোমাকে ফোন করব।

সেন্ট মাইকেল চার্চের গোরস্থানে ডা. সান্দ্রা মেরির লাশ পাওয়া গেছে।

প্রাথমিক তদন্তে বোঝা যাচ্ছে...

...চার্চের আশেপাশে থাকা কেউ এর সাথে জড়িত।

এই মামলাটি তোমার হাতে তুলে দিচ্ছি, হায়দার।

চার্চ থেকে অনেক চাপ আছে। প্লিজ, সাবধান থেকো।

যার মানে হচ্ছে লাশটা গোরস্থানে পঁচে নষ্ট হয়ে যাচ্ছে...

...অথচ কেউ তদন্তের জন্য চার্চে প্রবেশ করতে পারছে না।

বিশেষ করে পুলিশ, তাই না?

প্লিজ হায়দার, তোমার আক্রমণাত্মক মনোভাবটা অন্তত এই মামলায় দেখিও না।

এটা বেশ স্পর্শকাতর!

এর মানে আমাকে পুলিশ কুকুর হয়ে কাজ করতে হবে।

শুধু গন্ধ শুঁকে খুনিকে খুঁজে বের করতে হবে কিন্তু কামড় দেয়া যাবে না।

আর প্রয়োজন হলে হালকা মুতে শুয়ে পড়তে হবে।

মাঝেমাঝে পুলিশ কুকুরও আমাদের চেয়ে বেশি সম্মান অর্জন করে।

আইনের প্রতি সম্পূর্ণ শ্রদ্ধা রেখে আমি এই মামলার দায়িত্ব পালন করব।

চলো যাই।

তোমরা এখন চলে যাও, প্রয়োজন হলে তোমাদের ডাকবো।

-আচ্ছা, স্যার।

এফ.আই.আরে যেটা উল্লেখ আছে তার চেয়ে বেশি কিছু পাওয়া যায়নি!

এটা এতো সহজ হবে না।

কারণ অপরাধী সাধারণ কেউ নয়।

- গাড়িতে ওঠো। - আচ্ছা, স্যার।

- আমরা এখন কোথায় যাচ্ছি?

- ডা. সান্দ্রা মেরির বাসায়।

ওনার স্বামীর সাথে দেখা করে সমবেদনা জানাবো।

আমি এস.পি হামিম হায়দার। আমি এই মামলাটির তদন্ত করছি।

প্লিজ, বসুন।

এখানে এসো বসো, বাবা।

পরিচয়পর্বের প্রয়োজন নেই। জানি, মামলাটি যে আপনার হাতে দেওয়া হয়েছে।

ডা. সান্দ্রা আমার স্ত্রীর কনসালটিং ডাক্তার ছিলেন।

ও আমাদের ছেলে, নিক্সেন।

স্যার, আমি বা আমার মা কারো কোনো ক্ষতি করিনি,

তবুও মায়ের ওপর ওদের এত ক্ষোভ ছিলো কেন!!!

ওরা আমার মাকে কেন হত্যা করেছে!

এই খুনের কারণ ও খুনিকে ধরার জন্য আমরা সঠিক পথেই আগাচ্ছি।

আমি ওকে দেখতে চাই, আমি ওকে মেরেই ফেলব!

তুমি এখন আসতে পারো। প্রয়োজন হলে তোমাকে ডাকব।

আপনাদের মধ্যে কোনো সমস্যা ছিল, মানে রিলেশনশিপ নিয়ে?

হ্যাঁ, সেটা কয়েক বছর আগে ছিল।

ব্যবসায়িক কাজে প্রায়ই আমাকে বাইরে থাকতে হোত।

তাই ওর সন্দেহ হওয়াটা স্বাভাবিক।

ও আমাকে সন্দেহ করত, কিন্তু সেটা নিয়ে কখনো মাথা ঘামাইনি।

আমি আপনার রিলেশনশিপ নিয়ে কথা বলছি না।

আপনার স্ত্রীর কথা জানতে চাচ্ছি।

না! তেমন কিছুই না!

ও শীর্ষস্থানীয় একজন চিকিৎসক ছিল, তাই অনেকের সাথেই ওর সম্পর্ক থাকতে পারে।

দেখুন, পুলিশ অফিসার, আমি ওই ধরনের লোক নই,

যারা বউয়ের ব্যক্তিগত জীবন ও পেশা নিয়ে টানাহ্যাচড়া করে।

আমি সান্দ্রা-র রুমটা দেখতে চাই।

সমস্যা নেই, আসুন।

দেখলেন স্যার, বউয়ের সম্পর্ক নিয়ে কী বললো!

একজন আদর্শ স্বামী।

ডাক্তার সান্দ্রা এর হাসপাতাল থেকে তো কোনো সূত্র পাওয়া গেলো না।

তাছাড়া খুব বেশিদিন হয়নি উনি এই হাসপাতালে জয়েন করেছেন।

তাই ডা. সান্দ্রা মেরির ব্যাপারে বিস্তারিত জানতে হলে...

...উনি আগে যেই হাসপাতালে কাজ করতেন, আমাদের সেখানে গিয়ে খোঁজ নিতে হবে।

হ্যাঁ।

জন ম্যাথিউ এর ব্যাপারে তোমার কী মনে হয়?

আমার মনে হয় না যে,

স্ত্রী-এর মৃত্যুতে উনি এতটা বেশি দুঃখ পেয়েছেন!

একদম স্বাভাবিক আচরণ করছিলেন।

হতে পারে উনি অভিনয় করছেন...

অথবা এমনও হতে পারে যে, তিনি বাস্তবতাটা মেনে নিয়েছেন।

কিন্তু নিক্সেনের ব্যাপারটা, এত অল্প বয়সে মায়ের মৃত্যুতে বড় একটা ধাক্কা খেয়েছে।

আমার যতটুকু মনে হয়, ও মানসিকভাবে অসুস্থ।

ডাক্তার সান্দ্রা মেরি.. সৎ, নিষ্ঠাবান, পরিশ্রমী আর গরীবদের প্রতি দয়ালু ছিলেন।

তাই কেউ ওনাকে ঘৃণাও করতো না।

তাহলে কে হতে পারে?

অবশ্য এখনকার দিনে কাউকে মারার জন্য ঘৃণার কোনো প্রয়োজন হয় না।

দেখলে তো, এভাবে ভালোবাসার কারণে অ্যাক্সিডেন্ট হয়েও অনেক মানুষ মারা যায়।

ধুর ছাই!

কী হচ্ছে এখানে!

ভেতরে যেতে দিন। প্লিজ, অপেক্ষা করুন।

সরুন।

কাউকে আসতে দিও না।

- এটা কখন হোলো। - আজ সকালে।

- পুলিশকে কে খবর দিয়েছে? - আমি।

আমি এটা দেখে প্রথমেই ফাদারকে জানিয়েছিলাম।

- ফাদার কোথায় আছেন এখন? - চার্চে।

এই পোস্টমর্টেম রিপোর্ট বলছে, এই দুই ঘটনাতেই খুনি একজন।

খুনের সময় আর প্রক্রিয়া, দুই ক্ষেত্রেই এক।

এই দু'জন মহিলাই কিন্তু সমাজের উঁচু পর্যায়ের লোক ছিলেন।

তাই আমার মনে হয় না, কেউ ব্যক্তিগত প্রতিশোধ নিতে এসব করেছে।

এখনো কিছুই বলা যাচ্ছে না!

কিন্তু একটা ব্যাপার তো নিশ্চিত...

এই খুনগুলোতে কোথাও এক ফোঁটা রক্তপাতও হয়নি।

যে এই কাজ করছে, সে খুবই চালাক।

অনেক হিসেব-নিকেশ করে খুনগুলো করেছে,

যাতে আমরা কোনো তথ্য না পাই।

- ওনাদের মোবাইল কললিস্ট সব চেক করেছো? - হ্যাঁ, স্যার।

আমরা বিস্তারিত ঘেঁটে দেখেছি সব।

পল্লি, আমার মনে হয় এই মৃত লোকগুলো আমাদের ঝামেলায় ফেলে ছাড়বে।

তাদের কল রেকর্ড থেকে তেমন কিছুই পাওয়া যায়নি।

তবে ওনাদের মেসেজে সন্দেহজনক কিছু তথ্য পাওয়া গেছে।

আর এসব মেসেজে একই বিষয় নিয়ে কথা বলা হয়েছে।

- তাই না? - হ্যাঁ, স্যার।

ওদের মেসেজের মধ্যে কিছু না কিছু মিল অবশ্যই পাওয়া যাবে।

সেটাই আমাদের চোখে পড়ছে না!

পরী!

পরী হচ্ছে সেই সূত্র!

পরী!

আমার মনে হয়, এমন খুন আরও হতে পারে।

আমি পুরোটা সময় সক্রিয় থাকতে পারবো না।

এসে পড়েছ তুমি?

আমি তো ভেবেছিলাম কাজের ব্যস্ততায় আমাকে নেওয়ার কথা ভুলেই গেছো।

- চলো যাওয়া যাক। - এক মিনিট।

ওনারা সবাই, 'ফর লাইফ' এর সক্রিয় সদস্য।

দেবু, গৌরী, নিথিন, তাহির আর জবি...

আমি হামিম।

আপনার কথা অনেক শুনেছি।

এসো।

মিটিং-এ আসা কিছু লোক জিজ্ঞেস করছিলো যে, আমরা কি এক সন্তানেই থেমে থাকবো?

এটা কে জিজ্ঞেস করেছে?

একজন না, অনেকেই জিজ্ঞেস করেছে।

আমরা একজনকে হারিয়েছি, হামিম।

আমাদের মেয়ে, হীরার একজন সঙ্গী দরকার।

আমি চাই আমাদের আরেকটা মেয়ে হোক।

হীরার মতো আরেকটা পরী।

- হীরার মতো কি? - পরী!

"ওদের মেসেজের মধ্যে কিছু না কিছু মিল অবশ্যই পাওয়া যাবে।"

- সেটাই আমাদের চোখে পড়ছে না! - পরী!

এই 'পরী' লেখা মেসেজ আরও একটি নাম্বারে পাঠানো হয়েছে।

শয়তানের প্ররোচনায় মানুষ অনেক পাপ কাজ করে থাকে যা করা উচিত নয়।

ওর পায়ে গুলি করতে শয়তানই আমাকে প্ররোচিত করেছিল।

যার ফলে আমার ক্যারিয়ার এবং সুনামে একটা কালো দাগ পড়ে যায়।

পুলিশের চাকরিটাও হারাতে বসেছিলাম।

চাইলে তোমাকে মেরে ফেলতে পারতাম।

কিন্তু তোমাকে মারার ইচ্ছে কিংবা লক্ষ্য কোনোটাই ছিল না।

তোমাকে আমার রাস্তা থেকে সরাতে চাইছিলাম।

এজন্য তোমাকে মারার কোনো প্রয়োজন ছিলো না।

আপনি তাহলে আমাকে জীবন ভিক্ষা দিয়েছেন?

কিন্তু তবুও আমার মনে কিছু প্রশ্ন রয়ে গেছে।

তুমি জিজ্ঞেস করতে পারো হায়দার। আমি তোমার সব প্রশ্নের উত্তর দিতে প্রস্তুত।

গোরস্থানে হওয়া খুনগুলো ভিন্ন ভিন্ন সময়ে হলেও,

তিনজন মহিলাকে একইভাবে হত্যা করা হয়েছে।

কোনো রক্তপাত ছাড়াই।

যেন উপন্যাস থেকে নেওয়া রহস্যময় কোনো কল্পকাহিনী।

এইবার তুমি ঠিক লাইনে এসেছো, মি. হায়দার।

এই খুনগুলোতে ব্যবহৃত অস্ত্র এখানেই আছে।

জীববায়ু, প্রাণবায়ু।

পৃথিবীর প্রত্যেক প্রাণির বেঁচে থাকার প্রধান উপাদান, 'অক্সিজেন'।

এটা জীবন বাঁচাতে পারে আবার নিতেও পারে।

শুধু ঠিকভাবে একে শিরায় প্রবেশ করিয়ে দিতে হয়।

ডাক্তার, ওনার কথার যৌক্তিকতা কতটুকু?

এর কি কোনো বৈজ্ঞানিক প্রমাণ আছে?

হ্যাঁ, অবশ্যই। একে চিকিৎসা বিজ্ঞানের পরিভাষায় "এয়ার ইম্বোলিজম" বলে।

যদি আমাদের শরীরে এভাবে সরাসরি অক্সিজেন প্রবেশ করানো হয়,

তবে তা বুদবুদের মাধ্যমে হৃদযন্ত্রে আঘাত হানে।

এতে করে আমাদের ফুসফুসে রক্তের প্রবাহ বাধাপ্রাপ্ত হয়।

মাত্র কয়েক মিনিটের মধ্যেই মানুষ মারা যেতে পারে।

মি. হায়দার, ফাদার খুনগুলো কীভাবে করেছেন সেটাও বলে দিয়েছেন।

তবুও আপনি ওনাকে গ্রেফতারে আপত্তি জানাচ্ছেন কেন?

এই ফাদার তার ছলনা দিয়ে এখানে সবাইকে বোকা বানাচ্ছেন।

আমরা দুইজনেই জানি যে আপনি এই মামলার সাথে কোনোভাবেই সম্পৃক্ত নন।

তাহলে কেন এসব করছেন?

নাকি অন্য কারও দোষ আপনি নিজ ঘাড়ে তুলে নিচ্ছেন।

যখন আমি অপরাধ স্বীকারোক্তির রুমে থাকি, আমি একটা মাধ্যম মাত্র।

ঈশ্বরের কাছে যারা দোষ স্বীকার করতে আসে, তাদের জন্য আমি একটা মাধ্যম মাত্র।

কিন্তু দোষ স্বীকারের পরেও যদি আপনি একই ভুল বারবার করতেই থাকেন,

আপনার একমাত্র শাস্তি হয়ে দাঁড়ায়, মৃত্যু।

আমি ঈশ্বরের পক্ষ থেকে সেটা পালন করেছি মাত্র।

এই তিনজন মহিলা কী অপরাধ করেছিল?

প্রত্যেকবার স্বীকারোক্তির পর চোখ মুছে

একই ভুল আবার করলে তাকে

'ক্ষমার অযোগ্য অপরাধ' বলে গণ্য করা হয়।

এই ধনী মহিলাদের কার্যক্রম মূলত বাজারের মেয়েদের চেয়েও নিম্নশ্রেনীর ছিলো।

আপনি স্বীকারোক্তির গোপনীয়তা ভঙ্গ করছেন।

এটা একটা অপরাধ, একজন ফাদারের কোনো অবস্থাতেই এসব গোপনীয়তা ভঙ্গ করা উচিৎ নয়।

কয়েকজন দর্শক, যারা এখানে আজ উপস্থিত আছে,

তাদেরও কিছু স্বীকার করার আছে।

মি. নিভ ফার্নান্দেজ।

ফাদার, আপনি চিনতে ওনাকে পারছেন?

নিভের বিয়ের কথা হয়েছিলো আইরিনের সাথে, যাকে আপনি খুন করেছেন বলে স্বীকার করেছেন।

আইরিন তার এনগেজমেন্টের ২ দিন আগে খুন হন।

নিভ ফার্নান্দেজ, এই নামটা আগে কোথাও শুনেছি।

সম্ভবত স্বীকারোক্তির রুমে।

আপনার আইরিনের সাথে এনগেজমেন্ট হওয়ার কথা ছিল।

অবশ্যই আপনি তার ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়েছিলেন।

উনি এখন আর বেঁচে নেই।

জীবিত থাকা অবস্থায় তিনি অথবা তার পরিবার কি আপনাকে কিছু বলেছিল?

আমার মা-বাবাই সব ঠিক করেছিল।

আমি তখন আমেরিকা ছিলাম।

পরে আইরিনের সাথে আমার মেসেজে কথা হতো।

শুনলেন তো ফাদার? মেয়েটির ব্যাপারে আপনার অভিযোগগুলো মিথ্যা ছিল।

তাদের পরিবারই বিয়েটা ঠিক করেছিলো।

কোনো মা-বাবাই খোঁজখবর না নিয়ে ছেলেমেয়ের বিয়ে ঠিক করেন না।

পরে নিভের মা-বাবা নিজেরাই সেই বিয়ে আবার নাকচ করে দেন।

ওনারা আইরিনকে কেন নাকচ করেছিলেন?

ফাদার যা বললেন, তা কি সত্যি?

হুম, সত্যি। তারা নিজেরাই এনগেজমেন্ট ঠিক করেছিলেন

পরে ওনারাই বললেন, এই সম্পর্ক টিকবে না।

কিন্তু আমি তখন এর কারণটা জানতাম না।

আমাদের আর কী প্রমাণ দরকার?

সব স্বীকার করে নেয়ার পরেও আবার কেন জিজ্ঞাসাবাদ করা হচ্ছে?

আপনার মতো পুলিশেরাই পুরো ডিপার্টমেন্টের নাম খারাপ করে!

কিন্তু একজন ফাদারের হৃদয়...

কীভাবে এমন অপরাধীর মতো কালিমালিপ্ত হতে পারে?

নিজের দেহ বেঁচে যারা জীবিকা নির্বাহ করে, তাদেরও ক্ষমা করা যায়।

কিন্তু এই অর্থপিপাসু মহিলারা,

যারা নিজেদের পরিবারের লোকদেরই ধোঁকা দেয়,

ঈশ্বর তাদের ক্ষমা করেন না।

এই তিনজন মহিলা ঈশ্বরের রোষানলের স্বীকার হয়েছে মাত্র।

লিসি জ্যাকব, আইরিন এবং সান্দ্রা মেরি!

পাপীদেরকে বেশি বাড়তে দিতে নেই! ইশ্বর তা মেনে নেন না।

ফাদার এখন কেমন আছেন?

এখন সুস্থ আছেন।

পরিস্থিতি যা দাঁড়িয়েছে, তাতে আমাদের আর সামনে আগানো ঠিক হবে না।

এখানেই শেষ করা হোক।

- তুমি কী বলো, হরিথা? - কিন্তু..

শুধু আপনি ডেকেছিলেন বলেই আমি এখানে এসেছি।

শুধু ফাদারের স্বীকারোক্তি শুনেই এই অনুষ্ঠানটা শেষ করা উচিত হবে না।

আমি কী বলছি সেটা বোঝার চেষ্টা করুন।

- আচ্ছা। - ধন্যবাদ।

হামিম, সব ঠিক আছে তো?

- কোনো সমস্যা নেই। - আমি ঠিক আছি।

- আমাদের মেয়ে ঘুমিয়েছে? - হ্যাঁ, ও ঘুমিয়ে পড়েছে।

আমি শীঘ্রই চলে আসব।

কয়েকজন দর্শক ভয় পেয়ে গেছে, এখন চলে যেতে চাইছে।

হরিথা, প্লিজ...

এই অনুষ্ঠানটা শেষ হওয়ার আগে কেউ যেন বাইরে না যেতে পারে।

- এটা অসম্ভব। - স্যার, এটা আমার অনুরোধ।

অমীমাংসিত গোরস্থান হত্যা মামলার নিয়ে..

থার্ড আইয়ের প্রশ্নোত্তর পর্ব এখনো শেষ হয়নি।

মি. হায়দার, এই মুহূর্তে আপনার কোনো বক্তব্যের গুরুত্ব আছে?

আছে।

এই অনুষ্ঠান শেষ হওয়ার আগে,

আমি আরেকজনকে আপনাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিতে চাই।

ত্রেচিয়াম্মা চাকো!

কয়েকদিন আগে আপনি এই অফিসে এসেছিলেন, তাই না?

হ্যাঁ, আমি এই ম্যাডামের সাথে কথা বলেছিলাম।

ওনাকে চিনতে পেরেছেন?

হ্যাঁ! চিনতে পেরেছি!

আমরা একটি নিখোঁজ মামলা নিয়ে কথা বলেছিলাম।

ত্রেচিয়াম্মা চাকো এখানে আপনার কাছে ওনার নাতনীর ব্যাপারে কথা বলতে এসেছিলো..

...যাকে খুঁজে পাওয়া যাচ্ছিল না।

যাতে এই ব্যাপারটি নিয়ে থার্ড আই শোতে আলোচনা করা হয়।

- তাই না? - হ্যাঁ।

আর উনি কি বলেছিলেন?

উনি বলেছিলেন আমাকে ডাকবেন, কিন্তু কখনো ডাকেননি।

মি. হায়দার, এরসাথে গোরস্থান হত্যা মামলা কী সম্পর্ক আছে?

আপনি কি নিজের দুর্বলতা ঢাকার জন্য আমাদেরকে দোষারোপ করতে চাইছেন?

মি. হায়দার, আমরা এখন গোরস্থান হত্যা মামলা নিয়ে কথা বলছি।

আগে এটা শেষ করি, তারপর না হয় অন্যকিছু দেখা যাবে।

আমার কথা শেষ করতে দিন!

জেনসি জ্যাকব!

ত্রেচিয়াম্মা চাকো এখানে নিজের নাতনী... জেনসি জ্যাকবের নিঁখোজ সংবাদ নিয়ে এসেছিলেন।

জেনসি জ্যাকবের এই নিখোঁজ হওয়ার সাথে গোরস্থান হত্যা মামলার সম্পর্ক আছে!

এটা প্রমাণ করার জন্য জেনসিকে এখানে আসতে হবে।

জেনসি এখানেই আছে।

এই হচ্ছে জেনসি জ্যাকব। মৃত লিসি জ্যাকবের মেয়ে।

তোমার ভয় লাগছে?

তুমি কি এই পরীটাকে চেনো?

আমার কাছে এমন অনেকগুলো আছে।

একজন আঙ্কেল আমাকে এগুলো উপহার দিয়েছেন।

তুমি কি এই আঙ্কেলকে চেনো?

চিনি না, তবে তাকে একবার দেখেছিলাম।

তুমি তাকে দেখলে চিনতে পারবে?

ঐ আঙ্কেল কি আমাদের এখানে আছেন?

ওনারা "ফর লাইফ" নামে একটি এনজিও থেকে এসেছেন।

ওনারা বিশেষ আমন্ত্রণে এখানে এসেছিলেন।

ইনিই সেই লোক যে জেনসির জন্য প্রতি মাসে...

ত্রেচিয়াম্মার অ্যাকাউন্টে নিয়মিত টাকা পাঠান।

সেই ব্যক্তি যিনি জেনসিকে পরী এবং উপহার সামগ্রী দিতেন।

উনিই সেই ব্যক্তি যাকে আমি তদন্ত করেও পেয়েছি।

"গোরস্থান হত্যা মামলার" প্রধান আসামি।

গৌরী শংকর।

কোন পরিবারকে আর্থিক সহায়তা করা এবং একটা বাচ্চাকে...

উপহার সামগ্রী দেয়াটা কি অপরাধ?

লিসির মৃত্যুর পর তার বাচ্চাকে উনি কেন রক্ষা করতে যাবেন?

কেন সে জেনসি জ্যাকবের মেয়েকে তার নিজের মেয়ে মনে করবে?

এখন আমার মতো অন্য সবারও জানা উচিত কে এই গৌরী শংকর?

জীবন বাঁচানোর যুদ্ধে যে নামে,

এই ইউনিফর্মও তাকে রক্ষা করতে পারে না।

অফিশিয়ালি আমাকে এই গোরস্থান হত্যা মামলা থেকে সরিয়ে দেয়া হয়েছিল।

এরজন্য আমি মোটেও প্রস্তুত ছিলাম না।

সেখান থেকেই শুরু করেছিলাম যেখানে আমাকে থামিয়ে দেয়া হয়েছিল।

আমি শুরু করেছিলাম লিসি জ্যাকবের ঘর থেকে!

ত্রেচিয়াম্মার কাছ থেকে জানতে হবে... তারা কীভাবে সাহায্য পেত।

স্থানীয় ও পেশাজীবি কিছু লোক ওকে অনেক সাহায্য করত।

তারা ওর পড়াশুনাসহ যাবতীয় সব খরচ বহন করত।

তারপর আমরা মানি অর্ডার হিসেবে নিয়মিত কিছু টাকা পেতাম।

এটা কোত্থেকে আসত?

তা জানি না, স্যার!

লিসির মৃত্যুর পর থেকেই এভাবে টাকা আসা শুরু হয়েছে।

আর এটা কখনো বন্ধ হয়নি।

আমিও বুঝতে পেরেছিলাম যে "ফর লাইফ" এর কোনো একাউন্ট থেকে এই মানি অর্ডার করা হতো।

এতে "ফর লাইফ" এর সব সদস্যের তথ্য আছে।

যে এই টাকা পাঠাচ্ছে তাকে চিহ্নিত করা খুবই কঠিন হবে।

এই ফান্ডের টাকা কীভাবে বন্টন করা হবে সেটা বোর্ড সদস্যরাই ঠিক করেন।

ওনারা ৫ জনও এর মধ্যে আছেন।

আগে সান্দ্রার সাথে কাজ করতো এমন কয়েকজন স্টাফের সাথেও কথা বলেছি।

যে আমাকে গৌরী শংকর পর্যন্ত পৌঁছে দিয়েছে সে হচ্ছে সেবক মুরুগান।

আপনি আগে সান্দ্রা মেরির হাসপাতালে কাজ করতেন, তাই না?

হ্যাঁ স্যার।

মাত্র এক মাস সেখানে কাজ করেছিলাম, তারপর ছেড়ে দিয়েছি।

আমি বুঝে গিয়েছিলাম উনি সৎ ছিলেন না।

- ওনার সমস্যাটা কী ছিল?

উনি....

এটা আর কাউকে বলেছিলেন?

- না স্যার।

স্যার....

আর একজনের কাছে বলেছিলাম।

কার কাছে?

সে কি এখানে আছে?

এই তিন মহিলার বিরুদ্ধে তার আক্রোশের কারণটা আমি বুঝে গিয়েছিলাম...

যখন সান্দ্রা মেরির রোগীর লিস্টে নন্দিতা গৌরী শংকরের নাম দেখেছি।

গোরস্থান হত্যা মামলার কিছুই আমি জানি না।

আমার সামনে তিন পাপিষ্ঠ ছিল... যারা হচ্ছে - সান্দ্রা মেরি,

আইরিন থমাস, লিসি জ্যাকব।

এই তিন মহিলাই আমার সাজানো সংসারটা শেষ করে দিয়েছে।

মি. হামিম হায়দার এখানে এ পর্যন্ত যা বলেছেন তা সবই সত্যি।

ঐ তিন মহিলাকে আমিই খুন করেছিলাম।

দুই বছর আগেও আমি তোমাদের মতই একজন ছিলাম।

ছোট ছোট কিছু স্বপ্ন ও আশা ছিল আমাদের।

দীর্ঘ প্রতীক্ষার পর নন্দিতার গর্ভবতী হওয়ার সুসংবাদটা পেয়েছিলাম।

আমরা তখন অনেক খুশি ছিলাম।

ও নিজেই নিজের যত্ন নিত।

কারণ সংগঠনের কাজে আমাকে বিভিন্ন জায়গায় যেতে হতো।

ডাঃ সান্দ্রা মেরি ছিলেন ওর কনসাল্টিং ডাক্তার।

আমাকে চিনতে পেরেছেন?

হ্যাঁ, "ফর লাইফের" বার্ষিক সম্মেলনে আপনাকে দেখেছিলাম।

হ্যাঁ। - তা এখানে কেন এলেন?

ও আমার স্ত্রী। ওকে নিয়ে ডাঃ সান্দ্রা মেরির কাছে এসেছি।

এটা হয়েছিল ওর গর্ভাবস্থার ৪ মাস পরে।

তখন আমি দিল্লিতে ছিলাম। ওর তীব্র ব্যথা উঠেছিল।

ও হাসপাতালে গিয়েছিল...

আর তার কিছুক্ষণ পর আমি শুনলাম,

আমি ওদের দুজনকেই হারিয়ে ফেলেছি।

ওরা হাসপাতাল থেকে আমার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করেছিল।

কিন্তু ওরা সেটা করতে পারেনি।

আর যখন ফিরে এলাম...

ততক্ষণে সব শেষ হয়ে গিয়েছিল।

আমি হারিয়েছি আমার জীবন,

হারিয়েছি আমার পরিবার।

এরপরে আমি আর স্বাভাবিক হতে পারিনি।

তারপর...

আপনার সাথে দেখা করার জন্য অপেক্ষা করছিলাম।

ডাঃ সান্দ্রার ব্যাপারে...

উনি যা করছেন সেটা এক কথায় জঘন্য!

উনি বাচ্চাদের জীবন নিয়ে নির্মম খেলায় মেতেছেন।

মিথ্যা কারণ দেখিয়ে উনি আপনার স্ত্রীকে গর্ভপাত করাতে বাধ্য করেছিলেন।

ডাঃ সান্দ্রা মেরির সহকারির কাছ থেকে তথ্য পেয়ে...

আপনি ওনার সম্পর্কে আরও অনুসন্ধান চালিয়েছিলেন।

একটি মাল্টিন্যাশনাল কসমেটিক কোম্পানির জন্য...

ডাঃ সান্দ্রা মেরি অনৈতিকভাবে গর্ভপাত করাতে বাধ্য করতেন।

তোমার স্বাস্থ্যের কথা ভেবেই এটা করতে বলছি।

এখন সিদ্ধান্ত তোমার।

তুমি ভবিষ্যতে আবারো মা হতে পারবে।

কিন্তু এটা অনৈতিক হলেও তোমার ভালোর জন্যই আমি জোর করছি।

উনি সবাইকে ভয় দেখাতেন এই বলে যে "বাচ্চার কোন হার্টবিট নেই",

এ অবস্থায় জন্ম নিলে বাচ্চাটি প্রতিবন্ধী কিংবা সুস্থ বিকাশ নাও হতে পারে।

ডাঃ সান্দ্রা এভাবে গর্ভপাত করাতে বাধ্য করেছিলেন।

গৌরী শংকরের স্ত্রী নন্দিতা এবং তার অনাগত সন্তান ডাঃ সান্দ্রারই শিকার ছিল।

এই স্ক্যামের পেছনে শুধু সে একাই ছিল না!

আইরিন থমাস ছিলেন... আন্তর্জাতিক কসমেটিক কোম্পানির হিউম্যান করিডর।

৪ মাস বয়সের ভ্রূণ রপ্তানি করাই ছিল তার কাজ।

আমি আশ্চর্য হয়েছিলাম আইরিনের রুম থেকে পাওয়া...

ডাঃ সান্দ্রার রোগীদের বিস্তারিত তথ্যের কপিগুলো দেখে!

তখনই বুঝেছিলাম যখন আইরিন থমাস...

আর বিদেশি ভ্রূণ কোম্পানির মধ্যে সংযোগ দেখেছিলাম।

হাসপাতালে গর্ভপাতকৃত এসব ভ্রূণকে মেডিকেল বর্জ্য বলা হলেও...

কিছু কিছু দেশে এই ভ্রূণগুলোর দাম লাখ লাখ ডলার।

আর লিসি জ্যাকব ছিলেন সান্দ্রা এবং থমাসের মধ্যস্থ ব্যক্তি।

এগুলো সত্যি কি না, গৌরি শংকর?

কোনো চিন্তা করবেন না, জেনসি আমার কাছে নিরাপদেই থাকবে।

'ফর লাইফের' যে সদস্য জেনসি ও তার নানীকে সহায়তা করত তাকে চিহ্নিত করতে...

আমি ত্রেচিয়াম্মার কাছ থেকে জেনসিকে সরিয়ে ফেলি।

আমি জানতাম কেউ না কেউ লুকিয়ে ওর ওপর নজর রাখছে।

কিন্তু সে ধরা দিচ্ছে না।

চলো।

স্যার, আপনি কি পরী দেখেছেন?

আমি দেখেছি। ছোট্ট অনাগত পরী।

ও-ই হলো আমার পরী।

যাদের কাছে জীবনের কোনো মূল্য নেই, তাদের বাঁচারও কোনো দরকার নেই।

আপনার কারণে এতিম হওয়া কারো জীবনের মূল্য বুঝতে পেরে...

পরবর্তীতে ওর অভিভাবকের দায়িত্ব নিয়েছেন।

আপনি ওকে ভালোবেসেছেন, আর ওর ভবিষ্যৎ নিয়েও ভেবেছেন।

গৌরী শংকরের সাথে সাথে গোরস্থান হত্যা মামলার পেছনে...

লুকিয়ে থাকা রহস্যের জট খুলে গেল।

কিন্তু একটা প্রশ্ন এখনো রয়েই গেলো...

ফাদার ভার্গেজ পুনিয়ালান, কে আপনি?

আপনাকে সেখানেই যেতে হবে, যেখানে আমি যেতে বলব।

সেটাই বলবেন, যেটা আমি বলব।

ওদেরকে ভয় পাওয়ার দরকার নেই, আমি আছি তোমার সুরক্ষার জন্য!

এখন যা বলেছি সেগুলোই আমার উদ্ধৃতি।

বুক অব জেরেমিয়াহ অধ্যায় নং ১, উদ্ধৃতি নং ৫-৮ থেকে।

হায়দার তুমি আমাকে ডেকেছ কারাবদ্ধ কিংবা ফাঁসিতে ঝোলানোর জন্য।

ফাদার, আমি জানি যদি কোনো ভুল কিছু হয়ে যায়,

তাহলে আমিও আপনাকে বাঁচাতে পারব না।

এটা হবে যদি আপনি রাজি থাকেন।

যখন লোকজন আমাকে পাগল বলে আখ্যা দিয়েছিল...

তখন শুধু তুমিই আমাকে জানতে।

যখন তুমি পৃথিবীর কাছে সত্য প্রকাশের মিশনে নেমেছিলে,

একজন প্রকৃত বন্ধুর কাজ হলো তাকে সঙ্গ দেওয়া।

তুমি কি এটা দেখেছ?

এই পৃথিবীর জন্য তিনি তাঁর জীবনকে উৎসর্গ করেছেন।

এটা তার চেয়ে বেশি কিছু না!

ফাদার ভার্গেজ পুনিয়ালানের পরবর্তী বই হবে "স্বীকারোক্তি"।

এই বইয়ের মধ্যেই সবকিছু বিস্তারিতভাবে বলা হয়েছে।

আমি একজন বন্ধুর জীবন নিয়ে খেলছি।

কিন্তু আমাদের কাছে একটি গুরুত্বপূর্ণ সত্য রয়েছে...

যা সমগ্র পৃথিবীকে জানাতে হবে।

এই রিয়েল লাইফ শো'টি এখানেই শেষ হচ্ছে।

অবশেষে উদ্বেগজনক এই পরিস্থিতির সমাপ্তি ঘটলো।

এই সমাজ নির্মম একটি অপরাধমূলক কর্মকান্ডের সাক্ষী হয়েছে।

"যার বিচার কোনো আইন দিয়েই করা সম্ভব নয়"।

এই পৃথিবীতে সব মানুষকে সতর্ক এবং চোখ কান খোলা রেখে চলতে হবে।

এই শো-এর মাধ্যমে এটাই দেখানো হয়েছে যে,

মিডিয়া শুধু সত্য প্রকাশের মাধ্যমেই টিকে থাকতে পারে।

আগামি পর্বে নতুন কোনো মামলা নিয়ে আবারো ফিরে আসব...

ততক্ষণ পর্যন্ত বিদায় নিচ্ছি আমি হরিথা মেনন।

আমি জানতাম হামিম একদিন আমার খোঁজে আসবে।

কোনো অপরাধই সমর্থনযোগ্য হতে পারে না।

আবার যখন গোরস্থান হত্যা মামলাটি খোলা হলো,

তখনই বুঝেছিলাম এটাই আমার জন্য আত্মসমর্পণ করার শেষ সুযোগ।

সে যেভাবে তার কাজে এগিয়ে যাচ্ছিল আমি এই ব্যাপারে নিশ্চিত হয়ে গিয়েছিলাম।

এজন্যই আমি সেখানে উপস্থিত ছিলাম।

যখম আমি "থার্ড আই" এর মঞ্চে প্রবেশ করেছিলাম...

দর্শকদের মধ্য থেকে প্রথমেই গৌরী শংকরকে দেখানো হয়েছিল।

কিন্তু গোরস্থান হত্যা মামলা এবং এর পেছনে লুকিয়ে থাকা সত্যিটা...

একটি এফআইআরের মাধ্যমে শেষ হোক সেটা চাইনি।

আমি চার্চ কিংবা প্রভু যীশুর বিরুদ্ধে যায় এমন কিছুই করিনি আর বলিওনি।

বরং এই অমীমাংসিত থাকা মামলাটির কারণেই মূলত চার্চের মর্যাদা ক্ষুণ্ণ হয়েছিল।

সত্যের ওপর থেকে পর্দাটা সরানোর জন্যই এভাবে প্ল্যান করা হয়েছিল।

গৌরী শংকরের পরিবারের সাথে যে অন্যায় করা হয়েছে...

সেটা বিশ্ববাসীকে জানানো উচিত।

অনাগত পরীদেরকে পৃথিবীর আলো দেখানোর জন্য এই ঝুঁকিটাই আমাকে নিতে হয়েছিল।

বাইবেলে বলা হয়েছে "আমাদেরকে কঠিন বিপদের মুখোমুখি হতেই হবে!"

ফাদার যা বলেছে সেটা ঠিক।

এতে চার্চের অসম্মান হলেও, ভালো কাজকে সমর্থন দেয়া অপরাধ নয়।

প্রভুও এই ব্যাপারে স্পষ্ট বলেছেন - মিথ্যের কাছে সর্বদা সত্যেরই জয় হবে।

ফাদার, আপনি কেন এমন ঝুঁকি নিলেন?

খ্রিস্টের একটি উদ্ধৃতি আছে!

কোনো ভালোবাসাই বন্ধুর জন্য আত্নত্যাগের চেয়ে বড় নয়।

আমি এই উদ্ধৃতিকে পূর্ণতা দিয়েছি মাত্র।

হে আমার স্বর্গীয় পিতা,

ওই মহিলারা কখনো আমার কাছে স্বীকারোক্তি দেয়নি।

আপনি জানেন, আমাদের পবিত্র চার্চের গোপনীয়তার শর্ত অনুযায়ী...

আমি কারো গোপন স্বীকারোক্তি প্রকাশ করিনি।

অনুগ্রহ করে আমাকে ক্ষমা করুন, আমিন!

প্রতিটি অপরাধের পেছনেই কোনো না কোনো কারণ থাকে।

একটি অপরাধ সমর্থনযোগ্য হলে, অপরাধীও সমর্থন পেতে পারে।

অনুবাদ আয়োজনে সাউথ সাবমেকার্স প্যানেল

অনুবাদ অংশগ্রহণে তওসিফ এইচ সায়মন জয় কিষান

অনুবাদ অংশগ্রহণে তওসিফ এইচ সায়মন জয় কিষান

অনুবাদ অংশগ্রহণে মাহির মুনিম অনন্য দেবনাথ

অনুবাদ অংশগ্রহণে মাহির মুনিম অনন্য দেবনাথ

অনুবাদ অংশগ্রহণে এ আর রোহান আহমেদ ইমরান

সাবটাইটেল সম্পাদনায় আহমেদ ইমরান

সাবটাইটেল সম্পাদনায় আহমেদ ইমরান

সার্বিক তত্ত্বাবধানে সাইফুদ্দিন শাকিল

আমাদের ফেসবুক পেইজ www.facebook.com/SubMakersPanel

সাউথ ইন্ডিয়ান মুভি সম্পর্কে নিয়মিত আপডেট পেতে জয়েন করুন "ব্লকবাস্টার সাউথ ইন্ডিয়ান মুভি লাভারস বাংলাদেশ গ্রুপ" এ Facebook.com/groups/SouthFansBD

অনুবাদ অংশগ্রহণে তওসিফ এইচ সায়মন জয় কিষান

অনুবাদ অংশগ্রহণে তওসিফ এইচ সায়মন জয় কিষান

অনুবাদ অংশগ্রহণে মাহির মুনিম অনন্য দেবনাথ

অনুবাদ অংশগ্রহণে মাহির মুনিম অনন্য দেবনাথ

অনুবাদ অংশগ্রহণে এ আর রোহান আহমেদ ইমরান

অনুবাদ অংশগ্রহণে এ আর রোহান আহমেদ ইমরান

সাবটাইটেল সম্পাদনায় আহমেদ ইমরান

সাবটাইটেল সম্পাদনায় আহমেদ ইমরান

সার্বিক তত্ত্বাবধানে সাইফুদ্দিন শাকিল

আমাদের ফেসবুক পেইজ www.facebook.com/SubMakersPanel

Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.