All language subtitles for Gentleman Bengal

af Afrikaans
ak Akan
sq Albanian
am Amharic
ar Arabic
hy Armenian
az Azerbaijani
eu Basque
be Belarusian
bem Bemba
bn Bengali
bh Bihari
bs Bosnian
br Breton
bg Bulgarian
km Cambodian
ca Catalan
ceb Cebuano
chr Cherokee
ny Chichewa
zh-CN Chinese (Simplified)
zh-TW Chinese (Traditional)
co Corsican
hr Croatian
da Danish
nl Dutch
en English Download
eo Esperanto
et Estonian
ee Ewe
fo Faroese
tl Filipino
fi Finnish
fr French
fy Frisian
gaa Ga
gl Galician
ka Georgian
de German
el Greek
gn Guarani
gu Gujarati
ht Haitian Creole
ha Hausa
haw Hawaiian
iw Hebrew
hi Hindi
hmn Hmong
hu Hungarian
is Icelandic
ig Igbo
id Indonesian Download
ia Interlingua
ga Irish
it Italian
ja Japanese
jw Javanese
kn Kannada
kk Kazakh
rw Kinyarwanda
rn Kirundi
kg Kongo
ko Korean
kri Krio (Sierra Leone)
ku Kurdish
ckb Kurdish (Soranî)
ky Kyrgyz
lo Laothian
la Latin
lv Latvian
ln Lingala
lt Lithuanian
loz Lozi
lg Luganda
ach Luo
lb Luxembourgish
mk Macedonian
mg Malagasy
ms Malay
ml Malayalam
mt Maltese
mi Maori
mr Marathi
mfe Mauritian Creole
mo Moldavian
mn Mongolian
my Myanmar (Burmese)
sr-ME Montenegrin
ne Nepali
pcm Nigerian Pidgin
nso Northern Sotho
no Norwegian
nn Norwegian (Nynorsk)
oc Occitan
or Oriya
om Oromo
ps Pashto
fa Persian
pl Polish
pt-BR Portuguese (Brazil)
pt Portuguese (Portugal)
pa Punjabi
qu Quechua
ro Romanian
rm Romansh
nyn Runyakitara
ru Russian
sm Samoan
gd Scots Gaelic
sr Serbian
sh Serbo-Croatian
st Sesotho
tn Setswana
crs Seychellois Creole
sn Shona
sd Sindhi
si Sinhalese
sk Slovak
sl Slovenian
so Somali
es Spanish
es-419 Spanish (Latin American)
su Sundanese
sw Swahili
sv Swedish
tg Tajik
ta Tamil
tt Tatar
te Telugu
th Thai
ti Tigrinya
to Tonga
lua Tshiluba
tum Tumbuka
tr Turkish
tk Turkmen
tw Twi
ug Uighur
uk Ukrainian
ur Urdu
uz Uzbek
vi Vietnamese
cy Welsh
wo Wolof
xh Xhosa
yi Yiddish
yo Yoruba
zu Zulu

Original subtitles

সাবটাইটেল অনুবাদক ও সম্পাদক ------------------------------------------------------------------- •••…•••…Singer Imran & The Devil…•••…•••…

হেই! হেই! ওঠ।

হেই! কে রে তুই?

হেই! কে রে তুই?

হেই! কে তুই?

হেই ওঠ!

ভালো করে ঘুমোলে

যেকোনো রোগ নিরাময় হয়।

কিন্তু যদি ঘুমই একটা রোগ হয় তাহলে?

হ্যাঁ।

আজকে আমরা এই বিষয় নিয়ে আলোচনা করব।

"স্লিপিং বিউটি সিন্ড্রোম"

এই রোগ চার কোটি লোকের মধ্যে এক জনের হয়ে থাকে।

যে ব্যক্তি এই রোগে ভোগে,

সে দিনে ১২ ঘন্টা ঘুমোয় অথবা তার বেশি।

১৪ ঘন্টা থেকে ১৮ ঘন্টা একাধারে ঘুমোয়।

কেউ কেউ সপ্তাহে ২ থেকে ৩ দিন ঘুমোয়।

মাস ধরেও ঘুমোনোরও উদাহরণ আছে।

এই রোগের কি কোনো বিশেষ কারণ আছে?

সেটা নিশ্চিত ভাবে বলা যাচ্ছে না।

কিন্তু এটা সব থেকে পুরোনো রোগের একটা।

বিশেষজ্ঞদের মতে, রাবনের ভাই কুম্বকারানেরও এই রোগ ছিল।

মেডিকেল ক্ষেত্রে এটা সব থেকে বড় চ্যালেঞ্জ।

রোগীর জীবনধারা কেমন চলে, স্যার?

যে ব্যাক্তি ঘুমোয় সে ঘুমিয়েই থাকে।

তার আশেপাশে কী হচ্ছে সে ব্যাপারে তারা অবগত থাকে না।

কারো তার খাওয়া-দাওয়া এবং বর্জ্য ত্যাগের জন্য খেয়াল রাখতে হয়।

সে পুরোপুরি ভাবে স্বাধীন হতে পারে না।

তারা হয়তো তাদের এই আলসেমির জন্য বিষন্নতায় ভোগে।

আবার কেউ কেউ

শারীরিক ভাবে খুব সচল থাকে।

নাচ, কারাতে, পড়ালেখা ইত্যাদিতে অনেক এগিয়ে থাকে।

আমাদের দেশে কি এমন রোগী আছে, স্যার?

আপনি কি তাদের চিকিৎসা করেছেন?

আমি ভারতে তিনজন রোগী সম্পর্কে জানতে পেরেছি।

তাদের মধ্যে একজন সদ্য মারা গেছে।

স্বাভাবিক মৃত্যু ছিল।

আরেকজন পুনায় পর্যবেক্ষণে আছে।

তৃতীয় জন আমাদের বেঙ্গালুরুর।

আমি দেখাচ্ছি।

এই হলো ভারত কুমার।

সে আমার রোগী।

সে দিনে ১৮ ঘন্টা ঘুমোয়।

ভারতের ৬ বছর বয়সে প্রথম এই সমস্যার সম্মুখীন হয়।

আমি গর্বিত যেভাবে তার পরিবার "স্লিপিং সিন্ড্রোম" সম্পর্কে জানার পর সব সামলিয়েছে।

আর ভারতও জীবনে খুব উৎসাহী।

এত বছর ধরে সে আমার নির্দেশন

আর মেডিসিনস যথাযথ ভাবে অনুসরণ করেছে।

এখন ভারত তার ঘুমোনোর রুটিন রাত ১০ টা থেকে পরের দিন বিকাল ৪ টা পর্যন্ত সেট করেছে।

সে দক্ষতার সাথে তার জাগ্রত সময়টা ব্যবহার করছে।

আমি সত্যিই ভারত আর তার পরিবারের প্রশংসা করি।

মা।

এটা নাও।

স্যার, আপনার পানির TDS লেভেল ৩০০।

আসলে ৫০ এর নিচে হওয়া উচিত।

আপনার একটা পিওরিফায়ার লাগাতে হবে।

হ্যাঁ স্যার, আমি আপনাকে উদ্ধৃতি পাঠিয়ে দিব।

আমি একজন ভারতীয় নারী।

ভারতে, সবাই আগে মা'কে প্রাধান্য দেয়।

কারণ সে পরিবারের খেয়াল রাখে।

এজন্যই বলা হয় "মা'কে সৃষ্টিকর্তার মত সম্মান করা উচিত"

কেমন বলেছি চাচ্চু?

এদিকে আয়।

তোকে ছোটু মাদার ইন্ডিয়ার মত লাগছে।

আমার শেখানো কথা আমাকেই বলছিস?

চাচ্চু, চলো এই ফেন্সি ড্রেস পরা একটা ছবি তুলে ফেইসবুকে আপলোড করি!

টেক্সটবুক আর নোটবুক বাদ দিয়ে ফেইসবুকের কথা বলছিস?

যা পড়তে বস।

অনেক ঘুমিয়েছ!

চাচ্চু, চাচ্চু, চাচ্চু, আমার চাচ্চু! চকলেটের থেকেও মিষ্টি তুমি চাচ্চু।

ও আমার চাচ্চু! অনেক ঘুম হয়েছে এখন উঠো চাচ্চু।

তুই আমাকে বিরক্ত করিস!

ছাড়ো, চাচ্চু।

এই দুজন আবার শুরু হয়েছে!

ভারত, এখনো ঘুম হয়নি!

যাও রেডি হও।

ভারুই ছাড়ছে না, ভাবী।

ভারু, ওঠ।

বাবার কাছে গিয়ে জামা বদলা।

তাড়াতাড়ি।

ভাইয়া।

তোমার হটস্পটটা অন করো তো।

জানি না এ আবার কোন ধরনের প্রাকটিস?!

বাথরুমে বসেও নেট চালায়।

বাথরুমে বসে বসে ইউটিউব দেখার প্রাকটিস।

প্রেয়ারের সময় কথা বলবে না।

শুভ সকাল স্যার।

এখন বিকাল ভায়া।

তোমার কথা শুনলে সূর্য নিজেই আত্মহত্যা করবে।

সুর্য এমনিতেও আমার কাছে মৃত।

৩৬৫০ দিন হয়ে গেছে সূর্যদয় দেখেছি।

এখন ভাষণ দেওয়া বন্ধ করো।

তোমাকে বলেছিলাম দ্বীপাবলির জন্য অফারের ব্যবস্থা করতে।

করেছ?

স্যার, ৩ নং ড্রয়ার চেক করেন।

ফোনে কথা বলেই কী কাজ করবে?

শো-রুমে আশার ইচ্ছে আছে নাকি?

আমি ২০ মিনিটে পৌঁছে যাব, স্যার।

২০ মিনিট?

আরে তুমি পার্ট টাইম জবেও পার্ট টাইম কাজ করবে।

আমি ৫ মিনিটেই বেরোচ্ছি। আর ১৫ মিনিটে পৌঁছে যাব, স্যার।

ভালো। ভালো।

কলার পরিষ্কার রাখবি।

ভারত।

এদিকে আয়।

নে।

না, লাগবে না।

ভাইয়া, আমি মাত্র ৬ ঘন্টা জেগে থাকি। এটুকুর খরচ আমি নিজেই চালাতে পারব।

তোকে দিচ্ছি না।

এটা দিয়ে আমার ট্যাবলেট নিয়ে আসবি।

নে ধর।

ঠিক আছে, আমি যাচ্ছি ভাবী।

বাই।

বাই, চাচ্চু।

বাই, সোনা।

তোমাদের জুটিটাও অসাধারণ!

তুমি ট্যাবলেট ছাড়া ঘুমোতে পারো না।

আর ও ট্যাবলেট ছাড়া জেগে থাকতে পারে না।

যেখানেই থাকুক তুমি ওকে বাড়িতে নিয়ে আসো।

আমরা খুবই কৃতজ্ঞ।

ধন্যবাদ।

ধন্যবাদ কেনো স্যার?

আপনি আমাকে ভাড়া দেন... আমি তাকে নামিয়ে দেই।

এতে ধন্যবাদের কী আছে?

আচ্ছা, স্যার আমি যাই।

ভালো থেকো।

যখন মোশন স্লো হয়ে যায়।

তখন জীবনটাও স্লো হয়ে যায়।

নেও জুস খাও।

যদি আমাকে এক কাপ কফি দিতে তাহলে আমার পেট হালকা হয়ে যেত।

তুমি আমাকে তেতো করল্লার জুস দিয়েছ।

আমার পেটে আরো সমস্যা হবে।

আমি শুধু তোমার মেয়ের আদেশ পালন করছি।

তাকে গিয়ে বলো। আমার সাথে তর্ক করবে না।

হেই, ওঠ।

এতে পেট পরিষ্কার হয়।

বাবা কফি, চা, সিগারেট সবই নেশা জাতীয়।

এতে কোনো লাভ নেই।

সবই বিষের সমান।

তোমার এসব ছাড়তে হবে।

পরিবার এই বাড়িটা ভালো ভাবেই তৈরি করেছি।

কিন্তু এই অভ্যেস ছাড়তে পারছি না।

মেয়েকে ডায়েটিশিয়ান বানিয়ে ভুল করে ফেলেছি।

ছেলেটার ব্যাপারে তোর মতামত জানালি না।

আমি তার ইন্সটাগ্রাম চেক করেছি। তার স্টাইল ভালো।

কিন্তু তার লাইফস্টাইল একদমই ভালো না।

সে সকালে উঠেই কফি খাওয়ার ছবি আপলোড করে।

রাতে পার্টি করার ছবি পোস্ট করে।

সে পার্টি করতে ওস্তাদ।

তার আমার মত স্মার্ট মেয়ের প্রয়োজন নেই।

4G নেটওয়ার্কের সাথে একটা স্মার্ট ফোন হলেই চলে।

বাই, মা।

বাই।

বাই, বাবা। আচ্ছা, বাই।

গাধা কোথাকার সব কিছুই সোশাল মিডিয়ায় পোস্ট করে।

এটা কোনো সোশাল মিডিয়া না, খোলা কিতাব!

শুভ সকাল, ম্যাডাম। শুভ সকাল।

আজকে কেমন অ্যাপোইন্টমেন্টস এসেছে?

লিস্ট রেডি করছি, ম্যাডাম।

আচ্ছা, পাঠিয়ে দাও।

সবাইকে হ্যালো। আমি ডাক্তার সোয়ামি প্রাকাশ রায়।

স্রুস্টি হাসপাতালের রিপ্রোডাক্টিভ, এন্ডোক্রিনোলজিস্ট এবং ফার্টিলিটির বিশেষজ্ঞ।

তো, আমি আপনাদের বলবো

এগ ফ্রিজিং এবং ফিমেল ফার্টিলাইজেশন সম্পর্কে।

আপনারা সবাই জানেন,

যখন পুরুষদের স্পার্ম কমে যায়

আমরা স্পার্ম ব্যাংক অথবা ডোনারদের সম্পর্কে পরামর্শ দেই।

কিন্তু মহিলাদের সময়

অতটা সহজ না।

যখন মহিলাদের এগ সেল দূর্বল হয়ে পড়ে

তখন এগ ব্যাংক অথবা এগ ডোনারদের পাওয়া কঠিন।

এজন্য, এগ সেলের চাহিদা অনেক।

এই কারণে আমরা আমাদের হাসপাতালে সম্ভাব্য এগ সেল নিয়ে থাকি।

আমরা ওই এগ সেল গুলো ফ্রিজ করি।

আমাদের হাসপাতালের সংগ্রহীত এগ সেল গুলো দিয়ে

অনেক বঞ্চিত অভিভাবকদের জীবনে খুশি এনে দিতে পারি।

আপনারা ডোনারদের প্রোফাইল দেখতে পারেন।

খুবই ভালো! ভালো!

এসো।

চাচ্চু, আমি দুটো পিৎজা খাবো।

হ্যাঁ, আমিই কিনে দিব।

বসো।

ভাইয়া, ভাবী তোমাদের জন্য ভারুর কাছে একটা সারপ্রাইজ আছে।

সারপ্রাইজ?! কী সেটা?

হ্যাপি এ্যানিভারসারি।

কান্নাড়ায় বলো।

সপ্তম বিবাহ বার্ষিকী উপলক্ষ্যে তোমাদের মিষ্টি জুটিকে অভিনন্দন।

ধন্যবাদ।

খুব সুন্দর হয়েছে!

কিন্তু ছবিতে চাচ্চু নেই কেনো?

হ্যাঁ!

সে এই জায়গায় ঘুমিয়ে আছে।

আমি দুঃখিত।

আমি একটু লেটলতিফ।

প্লিজ বসেন।

আমি আসলে একটু তাড়াতাড়িই এসেছি।

ম্যাট্রিমোনিতে আপনার প্রোফাইল দেখলাম।

সবার থেকে আপনার প্রোফাইলটা একটু আকর্ষণীয়।

তাই ভাবলাম ধরেই ফেলি।

অর্ডার স্যার?

একটা পিৎজা।

একটা বার্গার।

একটা ফ্রেঞ্চ ফাইজ।

আচ্ছা, ধন্যবাদ স্যার।

আমি ভুলে গেছিলাম যে আপনিও এখানে আছে। আপনার অর্ডার দেন।

আপনার অর্ডার?

একটা ভেজ সালাদ।

গরম গরম পিৎজা।

এখানের পনীরটা খুব ভালো।

মাগী!

ট্রিপ কেমন গেলো?

অসাধারণ!

কত? ৩০ টাকা।

দাদা, আমি পানি আনতে যাচ্ছি।

হেই, চালা। চল।

আপনি কে?

দাদা... ছাড়, ছাড় আমাকে...

আই লভ্ ইউ।

জনি সব সহ্য করতে পারে

শুধু অপমান বাদে।

হেই, গাধা!

আমি তোকে একটা গল্প শোনাই।

চ্যাপ্টার ওয়ান।

একজন কৃষকের একটা মুরগি ছিল যেটা প্রতিদিন একটা করে সোনার ডিম দিতো।

সে প্রতিদিনের অপেক্ষা সহ্য করতে পারল না,

তাই সে মুরগিটার পেট কেটে ফেললো।

কিন্তু সেখানে কিছুই ছিল না।

এই মুরগিটাও একই রকমের।

এটা প্রতি মাসে একবার সোনার ডিম দেয়।

আমাকে দে। কিছুই হবে না।

আমাদের কম্পানি এই বছর খুব ভালো ব্যবসা করেছে।

সব ক্রেডিট তোমাদের টিমের।

টিম যতোই ভালো করুক না কেনো!

একজন বেস্ট প্লেয়াল থাকে।

তোমাদের টিমেও আছে।

ধোনীর মত লেট করে আসে কিন্তু মাঠ কাঁপিয়ে দেয়।

সে আর কেউ না.. ভারত।

হেই ভারত, এদিকে এসো।

হ্যাঁ স্যার।

অল দ্য বেস্ট। অভিনন্দন ভারত।

পুরো ফাটিয়ে দিয়েছ।

এই নাও।

ধন্যবাদ, স্যার।

সবাই না থাকলে এটা সম্ভব হতো না।

আমি জানি আমি কাজে দেরি করে আসি।

কিন্তু আমি নিজেকে কখনো ছোট করে দেখিনি।

এটা একটা অমূল্য পুরষ্কার।

কিন্তু বস এটার মূল্য দিতে পারে।

কীভাবে?

আমার অর্ধেক বেতন পুরো করে দিতে পারেন।

কাল দোকামে ঠিক টাইমে এসো।

তাহলে পুরো বেতন পাবে।

স্যার।

আমরা একটা কাস্টমার হারাতে চলেছি।

ধরেন, স্যার। এক মিনিট।

আমি ওই কাস্টমারকে আমাদের দোকানে নিয়ে আসছি।

ততক্ষন আপনি আমার বেতন নিয়ে ভাবেন।

হেই ভারত। কাস্টমারই ওর কাছে সব।

এদিকে আয়।

সবাই সিনেমা হলে গিয়ে জালওয়া দেখায়।

কিন্তু তুই জুতোর দোকানে কী করছিস!

আহা কী সুন্দর বাসনা!

দোস্ত, সাধারণত প্রেমের প্রস্তাব জুতো দিয়েই শেষ হয়।

তাই আমি জুতোর দোকান থেকেই শুরু করতে এসেছি।

কী বলিস? অসাধারণ!

ম্যাডাম, আপনাকে কীভাবে সাহায্য করতে পারি?

আপনাদের কাছে এই ধরনের জুতো আছে?

আমি চেক করে দেখছি।

দোস্ত, পুরো দোকান খুজে এই একটাই পেয়েছি।

ঠিক আছে?

আমি এই ডিজাইনটা খুজছি না।

আমার একদম একই ডিজাইন প্রয়োজন।

ম্যাডাম, আপনি আপনার ঠিকানা আর ফোন নাম্বার দেন।

আমি স্পেশাল অর্ডারে আনিয়ে আপনার বাড়িতে পৌঁছে দেবো।

আমি আপনাকে আগেও দেখেছি।

হ্যাঁ, রেস্টুরেন্টে একবার দেখা হয়েছিল।

একবার না, দুইবার।

দুইবার!?

হ্যালো।

দ্বিতীয়বার কখন বলেননি।

চাচ্চু, আমরা কোথায় যাচ্ছি?

পরে বলবো।

আমি জানি আমরা কোথায় যাচ্ছি।

কোথায়?

তুমি কোথায় ঘুমাবে সেই লোকেশন আমাকে পাঠাতে হবে।

এইতো বুঝে গেছ, সোনা!

হ্যালো স্যার, কীভাবে সাহায্য করতে পারি?

স্যার, আপনাদের কাছে এই ডিজাইনের জুতো আছে?

স্যার এটা পুরানো মডেল।

এই ডিজাইনের জুতো আছে?

না, স্যার।

স্যার এটা হাতে বানানো। আমাদের কাছে এই ধরনের পণ্য নেই।

আমাদের কাছে নেই। এই যে। বলেন, স্যার।

এটা বম্বের পণ্য। এটার সাপ্লাই বন্ধ হয়ে গেছে।

কার জন্য এই জুতো খুজছো, চাচ্চু?

পরে বলবো।

স্যার, এই ডিজাইন আছে?

স্যার, এটা পুরানো মডেল।

আমাদের দোকানে নেই। আপনাকে অর্ডার করতে হবে।

আপনি গফুর খানের কাছে যান।

আমি একটা অর্ডার নিই না।

আমার সময় নেই।

ভাই, এটা আমার প্রথম প্রেম।

ভয় লাগছে জুতোটা খুজে না পেলে আমি তাকে হারিয়ে ফেলবো।

প্রেমের সমস্যা!

প্রেমের সমস্যা না। প্রেমের জুতোর সমস্যা।

মেয়েরা সাধারণত গহনা অলঙ্কার চায়।

তোমার প্রেমিকা জুতো চাচ্ছে। সে হয়তো হিরের টুকরোই হবে।

আচ্ছা, তোমার চিন্তা করতে হবে না।

আমি অর্ডার নেবো।

ভাই, দেখেন।

ডাক্তার, আমরা বিগত ১০ বছর ধরে চেষ্টা করে যাচ্ছি।

শেষ পর্যন্ত আপনার সন্ধান পেলাম।

আর টাকা নিয়ে কোনো চিন্তা করবেন না, স্যার।

শুধু আমাদের সাহায্য করেন, স্যার।

শান্ত হন, দেসাই।

আপনার কাছে টাকা আছে। আমাদের কাছে সমাধান আছে।

যখন এগ সেল দূর্বল হয়ে পড়ে

আমরা আমাদের এগ সেল ডোনারদের থেকে এগ সেল নিই।

তারপর আমরা স্পার্মে প্রবেশ করাই এবং ল্যাবে নিয়ে উন্নতি করি।

আমরা একে বলি ইন ভাইট্রো ফার্টিলাইজেশন।

এই মাধ্যমে আমরা আপনাকে গর্ভধারণের ব্যবস্থা করে দিতে পারব।

আমি আছি আপনাদের সাথে।

আমি আপনাদের জন্য একজন ডোনারের ব্যবস্থা করে দেবো।

কিন্তু একটা বিষয়।

এসব গোপন রাখতে হবে।

তো...

এগুলো হচ্ছে এগ সেল ডোনারদের প্রোফাইল।

আপনাদের বাচ্চা কেমন হওয়া চাই সেটার উপর নির্ভর করে।

আপনারা ডোনার নির্বাচন করতে পারবেন।

ম্যাডাম, পার্সেল।

ধন্যবাদ।

তোমার কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে?

তুমি এমন জুতো অর্ডার করেছ কেনো?

আমি তোমার জন্য জুতো অর্ডার করতে যাবো কেনো?!

তুমি তো সাধারণ জুতো পরেও ঠিকমতো হাটতে পারো না।

এটা পরলে তো পা-ই ভেঙ্গে ফেলবে।

তার মানে এটা আমার জন্য না!

তাহলে কার জন্য অর্ডার করেছ?

কার সাথে টাংকি মারছ?

এই বিষয়ে আমি একদম নির্দোষ।

তুমি নির্দোষ হও বা না হও

আমি শুধু সত্যটা জানতে চাই।

কী বাজে বকছো?

আমি রাম, তুমি সিতা। আর ও লক্ষণ।

আরে এটা তো চাচ্চু অর্ডার করেছিল।

ও ঘুমের ঘোরে মেয়েদের জুতো অর্ডার করর ফেলেছে।

এ কী!

এটা ক্লিনিক বাকি মরুভূমি!

এক কেজি!

কাল থেকে আরো ব্যায়াম করতে হবে।

আমি গতকাল চেক করলাম।

সম্ভবত মেশিনটা নষ্ট হতে গেছে।

হাই।

ভিতরে আসেন।

প্লিজ আসেন।

আমি ভেবেছিলাম ডেলিভারি বয় আসবে।

এ তো আপনিই আসলেন।

আমি শুধু আপনাকে দেখতে আসলাম।

আমি সুস্থ আছি।

ওয়াও!

আমি এটা সব জায়গায় খুজেছিলাম।

কোথাও পেলাম না।

আপনি কাঁদছেন?!

আমি একটু বেশিই ভাবুক।

আপনারা মেয়েরা জুতো পেলে কাঁদেন।

জুতো ছিঁড়ে গেলে কাঁদেন।

আর আমরা ছেলেরা জুতোর পিটুনি খেয়েও কাঁদি না।

একদম মনের গভীর থেকে ধন্যবাদ।

আমি যাই তাহলে।

বাই।

আমি একবার দেখে যাবো নাকি?

মানে.. আমি শুধু নিশ্চিত হতে চেয়েছিলাম জুতোর মাপ ঠিক আছে কি-না।

ভালোবাসার মানুষ আর ডাক্তারের কাছ থেকে কিছুই লুকোনো উচিত না।

গিয়ে মনের কথা বলে দাও।

সত্যটা তেতো, ডাক্তার।

একটা মিষ্টি মেয়ে কীভাবে তিক্ততা সহ্য করবে?

কত সময়ই বা লুকোতে পারবে?

আপনি বলেন,

এই রোগ সারাতে আপনার আর কতদিন লাগবে?

আমি আমার সর্বোচ্চ চেষ্টা করছি।

বাকিটা উপরওয়ালার হাতে।

অন্তত,

আমাকে দুই তিন ঘন্টা কম ঘুমোতে সাহায্য করুন।

বাকি আমি তাকে সারাজীবন সামলে নেবো।

জগতটাকে আমি জেগে দেখার তুলনায় বেশির ভাগ সময় ঘুমিয়েই দেখেছি।

আমার জীবনে কখনো সূর্যোদয় হয়নি।

সেখানে এখন ভালোবাসা দেখতে পাচ্ছি।

যেভাবেই হোক,

আমার সেটাকে বাঁচিয়ে রাখতে হবে।

তুমি পারবে, ভারত।

তুমি একটা বাচ্চার মতো।

আচ্ছা, এই বাচ্চার এখন ঘুমোনোর সময় হয়ে গেছে।

আমি যাচ্ছি।

পাসওয়ার্ড বল।

আমার ফোন দে।

কী চাই তোর বে?

প্লিজ আঙ্কলে তার ফোন থেকে আমার ছবিগুলো ডিলিট করে দেন।

মেয়েদের ছবি তোলার সাহস হলো কীভাবে?!

ওকে জুতো দিয়ে মারো।

এখানে কী হচ্ছে?

ভালো হয়েছে আপনারা এসেছেন, স্যার।

স্যার, ও মেয়েদের ছবি তুলছিল।

ওকে থার্ড ডিগ্রি শাস্তি দেন। তখন বুঝবে মজা।

তুই আমাকে তোর জুতো দিয়ে মেরেছিস!

এই জুতো দিয়ে মেরবছিস, তাই না?

ও আমাকে এই জুতো দিয়ে মেরেছে।

তোকে মেরেই ফেলবো।

দুঃখিত।

গাধা কোথাকার।

কান্ডবজ্ঞান বলতে কিছুই নেই নাকি?!

লোক আসছে দেখতে পারেন না?!

হেই দেখ ফল।

ধর।

স্যার।

আমার চাবি দিয়ে দেন। আমি চলে যাবো, স্যার।

আপনি আমাদের ফল দিয়েছেন।

আমাদের মিষ্টি দিয়েছেন।

পানি দিয়েছেন।

আমরা আপনার কাছে ঋনী।

আপনার সাহায্যের জন্য,

চলেন একটা সেল্ফি তুলি।

সেল্ফি!

আমি পুলিশকে ডাকবো প্লিজ আমার চাবি দিয়ে দেন।

ভারত।

ভারত, প্লিজ আমার সাহায্য করো।

তারা আমার চাবি দিচ্ছে না।

কিছু করো।

ও গাড়ির ভিতরে কী করছে?

মনে হয় খেজুর খুজছে।

বস, অনেক রাত হয়ে গেছে।

তার মা বাবা অপেক্ষা করছে।

প্লিজ চাবি ফিরিয়ে দেন।

ব্রো, শুধু একটা সেল্ফিই তো।

একটা সেল্ফি তুলতে বলেন। আমরা চাবি দিয়ে দেবো।

শুধু একটা সেল্ফি। একটা তুলতে দাও।

কেনো?

আমি তো তাদের চিনিও না।

প্লিজ চাবি দিয়ে দেন।

আমরা সজ্ঞানে থাকতেই কাউকে গুণি না।

এখন তো আমরা পুরোই আসমানে।

আমরা কি তোমার কথা শুনবো, ব্রো?!

শুধু একটা সেল্ফি।

যাও তুলে আসো।

এই যে এসেছে।

হেই আসেন! সেল্ফি!

সেদিন আমার পা না ধরে যদি এখানে একটু সাহস দেখাতে,

আমি তোমাকে গ্রহণ করতাম।

আগেরবারের মতো মিস করিস না।

একই জায়গা, ব্রো।

কাল বিকালে নাগারবাভী ইমান গ্যারেজ।

কাল বিকালে নাগারবাভী ইমান গ্যারেজ।

হেই দোস্ত, এইতো কাল রাতে নাক গলিয়েছিল, তাই না?

ব্রো।

তুমি কাল রাতের ঘটনা ভুলোনি!?

আমি কালকের ঘটনা ভুলিনি।

কিন্তু এখন যা হবে

তোরা কখনো ভুলবি না।

কী চাই রে তোর?

তোদের সবার সাথে একটা গ্রুপ সেল্ফি।

যদি আমরা তুলতে না চাই?

হাড়গোড় ভেঙ্গে ফেলবো।

তুই কি পাগল নাকি!?

পাগল না।

ভদ্রতা।

ভদ্রলোক।

এই ভদ্রলোকের ভিতরে একটা কুমকারাম ঘুমিয়ে আছে।

যদি তার সাথে পরিচয় করিয়ে না দেই।

তাহলে এই ক্যারেক্টারের কোনো মুল্যই থাকবে না।

ব্রো'স, এসো সবাই।

ঠিক আছে, ডাক্তার?

সব ঠিক আছে।

কিন্তু ওই প্রথম লাইনের ওই লোকটা।

তার রক্ত কম বের হচ্ছে।

এখন?

ঠিক আছে।

হুম তো?

এই মেয়েরা 'হুম' বলে কেনো?

এর মানে কি বলার আর কিছুই নেই?

তো কী হয়েছে বলার কিছু না থাকলে?

আমরা কাল লাঞ্চে দেখা করব।

মা বাবার সাথে তোমার পরিচয় করিয়ে দিবো।

দুপুর একটা বাসায় চলে এসো কেমন?

আমি লোকেশন পাঠিয়ে দিবো।

না! ৫ টায়।

৫ টা বাজে লাঞ্চ টাইম না, কফি টাইম।

২ টায় এসো।

আচ্ছা একদম ৩ টায় চুক্তি শেষ করি।

ঠিক আছে? ঠিক আছে।

দেরি কোরো না।

হাই, ভারত।

আই লভ্ ইউ।

ভারত, তুমি আমাকে বিয়ে করবে?

তোমার মতামত জানিও।

ও আমার ম্যাসেজ পড়ছে না।

না আমার ফোন ধরছে।

খোদা জানে কী স্বপ্ন দেখছে!

ছাড়েন।

সাবধানে।

এত ঝামেলা নিয়ে কোথায় যাচ্ছে?

পাত্রী দেখতে। এটা নাও।

পাত্রী দেখতে!

পাত্রী দেখতে সবাইকে ফুল ফল নিয়ে যেতে দেখেছি।

এই প্রথম কাউকে ব্রাশ, পেস্ট আর সাবান নিয়ে যেতে দেখছি।

কী বললে এই মাত্র?

বলেছি, তার স্ত্রী অনেক ভাগ্যবতী হবে।

তাহলে, নিজের বোনের সাথে বিয়ে দিলেই পারো।

একদমই না! আমার কোনো বোনই নেই।

থাকলেও এত সৌভাগ্যের দরকার নেই।

আচ্ছা, এটা নাও।

মনে হয় গোসলও করবে।

জিজ্ঞাসা কর তো কোথায়?

খাবার ঠান্ডা হয়ে যাচ্ছে।

যদি খাবার থেকে যায় তাহলে তোকে রাতে জোর করে খাওয়াবো।

আমার জীবডাই বেদনার!

হাই।

ভারত, এসব কী?

কী হয়েছে তোমার?

সরি, কাল মাল আসতে অনেক রাত হয়েছিল।

আমি ফোন চার্জে লাগিয়েই ঘুমিয়ে গেছিলাম।

সরি।

এটা কোনো কারণ হলো!?

প্লিজ এসো।

বাবা, এই হলো ভারত।

খুবই সচেতন।

সময়েও খুব সচেতন?

বাবা।

ওকে দাও।

এই এটা কী?

ফোন না ধরায় তুমি ভয়েস নোট পাঠিয়েছ।

না।

'আই লভ্ ইউ'

'তুমি ফাস্ট অ্যান্ড ফিউরিয়াস, আমি স্লো অ্যান্ড স্টেডি।'

'আমাদের জুটিটা হেব্বি হবে।'

'আমাকে বিয়ে করবে?'

এসব কী!? চুপ কর।

সরি।

এটা কোনো সাধারণ আলাপ না।

এটা প্রেমালাপ!

চাকরি ছাড়ার পত্র!

আমি যাকে ভালোবাসি

তাকে বেশি সময় দিতে না পারায়,

আমি এই চাকরি ছেড়ে দিচ্ছি।

ভালবাসার মানুষের জন্য চাকরি ছেড়ে দেয় কে?

লোকে তো প্রাণও দিয়ে দেয়।

শোনেন! আপনি মধ্যরাতে মাতাল হয়ে আছেন।

আর রাস্তার মাঝখানে হাটতে হাটতে গান গাইছেন।

এটা কি ঠিক?

স্যার, আসলে...

কেমন খেয়েছেন?

স্যার, আমি খাওয়ার আগে মেপে ছিলাম।

তোমার জীবনের ভালো সময় আমি।

তুমি বারবার ঘড়ির দিকে কী দেখো?

তেমন কিছু না।

আমাদের শো-রুমে মাল আসবে। তাই আমি ঠিক সময়ে পৌঁছাতে চাই।

তো চিন্তা করবেন না সোজা হয়ে দাড়ান।

কথায় আছে, "প্রত্যেক সফল পুরুষের পিছনে, একজন নারীর হাত থাকে।"

আপনার এই সফলতার পিছনে কোন পুরুষ আছে?

কোন শালা আমার পিছনে মেরে দিলো রে?!

কন্ট্রোল রুম কেউ একজন আমাদের স্যারের হোগা মেরে দিয়েছে।

কী?!

পিছনে আবার মেয়েও বসা আছে।

আজকে ওর বারোটা বাজাবো।

আজকে বোঝাবো ট্রাফিক পুলিশ কী জিনিস।

ভেবেছিলি ভিতরে গিয়ে হাওয়া খাবি?

তোকে নরক দেখিয়ে ছাড়বো।

দেখিয়ে দেন, স্যার।

সরি, স্যার।

মেরে ভর্তা বানিয়ে দেবো।

মা, আমি আজ রাতে নিশার বাসায় থাকবো।

সকালে আসবো, ঠিক আছে?

স্যার, আপনি আপনার কাজ করেন। আমরা এখানেই আছি।

তুমি চিন্তা কোরো না।

আমি এখন চিন্তায় পড়ে গেছি।

দেখো, মেয়েদের রাতে পুলিশ স্টেশনে থাকা উচিত না।

তুমি চুপ থাকো। আমি কথা বলছি।

স্যার, আমার একটা অনুরোধ আছে।

এই দূর্ঘটনার পিছনে কোনো কারণ ছিল না।

পিছনে কী?

স্যার, আমার দোষ। আমি এখানে থাকবো।

প্লিজ, ওকে যেতে দেন।

সম্ভব না।

এই ব্যাথা নিয়ে আমি কাউকেই যেতে দেবো না।

স্যার, আপনি এমনিতেই ঝামেলায় আছেন। আরো ঝামেলায় জড়াবেন না।

রাতে মেয়ে মানুষকে থানায় রাখা অপরাধ স্যার।

তারা "মি টু" বলে আমাদের বারোটা বাজিয়ে দিচ্ছে।

তাকে পাঠিয়ে দেও।

আপনার বন্ধুর বাসায় থাকার প্রয়োজন নেই। আপনি এখন যেতে পারেন।

আমি যাবো না।

প্লিজ, আর চিন্তা বাড়িও না।

তুমি প্লিজ বাড়ি যাও। আমি সামলে নিচ্ছি।

আমি কাল সকালে আসবো?

দরকার নেই।

আমি বের হয়ে তোমাকে ফোন করব।

খেয়াল রেখো। ফোন কোরো।

বাই।

স্যার!

আমাকে লকাপের চাবি দেন।

খোলাই আছে।

হেই! আমি এখানে আছি কেনো?

সে তো ঘুমিয়ে গেল।

তোরা দুজন কি কোনো চুক্তি করেছিস?

করে কী হবে?

পিছনের ডাক্তারকে ফোন কর।

স্যার, আমি শুধু সামনের ডাক্তারকে চিনি।

আমার মুখে থুতু দে।

দেখো কী শান্তি করে ঘুমোচ্ছে।

মেরব উঠিয়ে দেন।

জেগে থাকা অবস্থায় মারা উচিত।

ওকে জাগা।

এক মিনিট, স্যার।

ভাই, ওঠেন।

স্যার, সে তো উঠছে না।

ও উঠছে না কেনো?

স্যার, আমি কিছুই করিনি।

একটা গান গেয়ে ওকে জাগা।

[ছুঁয়ো না ছুঁয়ো না আমায়।]

আমি ঘুম ভাঙ্গানোর জন্য গান গাইতে বলেছি।

সরি আমি বিভ্রান্ত হয়ে গেছিলাম। এবার গাইছি দেখেন।

[আকাশেতে লক্ষ তারা, চাঁদ কিন্তু একটারে....ইহাহ!]

ও উঠছে না কেনো?

যা গিয়ে গরম পানি নিয়ে আয়।

ঢাল।

মনে হয়না স্যার বাড়িতে কখনো এতো মেহনত করেছে।

ওই পাশে যা।

স্যার।

হেই সারোজা।

আমার ইউনিফর্ম আয়রন করেছ?

হিটার চালু করো আমি পাঁচ মিনিটেই উঠছি।

তুমিও এসো বিছানায়।

স্যার, আমি আপনার সারোজা না।

এটা আমাদের লকাপ। আর এই আপনার চা।

আমি বাড়িতে না!

এটাকেই বাড়ি বানিয়ে ফেলবেন নাকি?

স্যার, তার ফোন অন করা আছে।

হ্যালো।

হেই গাধা! বলেছিলাম বাসায় পৌঁছে ফোন দিতে।

ম্যাডাম, আপনার গাধা তার জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে।

প্লিজ তাকে নিয়ে যান।

কী? আপনারা ওকে লকাপে ঢুকিয়েছেন!

হ্যালো।

ফোন কেটে দিয়েছে।

স্যার, তার ভাই ফোন করেছে।

হ্যালো।

স্যার, মেয়েটা মিডিয়াকে নিয়ে এসেছে।

স্যার, এসব কী?

এত ছোট ভুলের কারণে এমন শাস্তি দেন?!

ম্যাডাম, আমি কিছুই করিনি। সে নিজে নিজেই জ্ঞান হারিয়ে ফেলেছে।

আপা, তারা একে জাগিয়ে মেরে অজ্ঞান করে ফেলেছে।

আমি তাদের কাছে মিনতি করলাম। কিন্তু তারা বললো, "শালা মারবো এখানে, লাশ পরবে শ্মশানে।"

এসব কী!? এ তো আরো মসলা মাখিয়ে দিচ্ছে।

আমরা তার টাকা খরচ করেছি। চুপ থাকতে যাবে কেনো!

স্যার, আপনি মেরে তাকে কোমায় পাঠিয়ে দিয়েছেন।

সে কী এমন করেছে?

আপনাদের কি কোনো পূর্বের শত্রুতা ছিল?

নাকি আপনাকে ঘুষ না দেয়নি বলে?

স্যার, এটা কি দূর্ঘটনা ছিল নাকি কারো সাথে খুনের চুক্তি করেছেন?

উত্তর দেন, স্যার। বলেন।

আমাকে বলার সূযোগ তো দেন। ঝড়ের মতো প্রশ্ন করেই যাচ্ছেন।

স্যার, এই যে।

আমার নাম গুরুমুর্থী। আমি ভারতের ভাই।

আসলে যেমনটা আপনারা ভাবছেন সে কোমায় যায়নি।

আসলে...

ও একটা রোগে আক্রান্ত।

ও দিনে ১৮ ঘন্টা ঘুমায়।

দিনে শুধু ৬ ঘন্টার জন্য জাগে।

এজন্য এমন হয়েছে।

সরি, স্যার।

বাঁচা গেল। আমি এখন নিরাপদ।

সরি, কাল রাতে মাল আসতে অনেক দেরি হয়েছিল।

আমি ফোন চার্জে লাগিয়ে ঘুমিয়ে পরেছিলাম।

শুধু একটা সেল্ফি। প্লিজ একটা তুলতে দাও।

আমি সকাল্ব আসবো?

দরকার নেই।

আমি বেরিয়ে তোমাকে ফোন করব।

ম্যাডাম, আমাদের সময়টা নষ্ট করলেন।

যদি তুমি আমাকে আগে বলতে হয়তো আমি তোমাকে গ্রহণ করতাম।

তোমাকে দেখার পরেই জীবনে কোনো মেয়েকে চেয়েছি।

আমার সত্যটা বলার সাহস ছিল না।

ভয়ে ছিলাম যদি তোমাকে হারিয়ে ফেলি।

তোমার দূর্বলতা আমার দূর্বলতা হওয়া উচিত না।

জীবনে ব্যার্থ হওয়ার থেকে প্রেমে ব্যার্থ হওয়া ভালো।

প্লিজ, ভারত। আমাকে আর ফোন করবে না।

যদি করো। তাহলে আমি তোমাকে ব্লক দিতে বাধ্য হবো।

আজকে ২৬ জানুয়ারি।

যে মেয়েদের হাসপাতালে নিতে হবে তাদের লিস্ট তৈরী কর।

ঠিক আছে।

গরম গরম বার্গার এসে গেছে!

বাবাকে ফোন করে বাড়ি আসতে বলো।

এত তাড়া কিসের?

চালাক মেয়ে! এই নাও।

দেখো, বাবা ফোন করেছে।

কথা বলো।

বলো আমি তোমার ভালো খেয়াল রাখছি। বলো আমি বার্গার কিনে দিয়েছি।

হ্যালো বাবা।

মা বলছি।

হ্যালো মা।

হ্যালো ভারু।

চাচ্চুকে ফোন দাও।

ভারু, আমাদের আসতে দেরি হবে।

মা, আমি শুনতে পাচ্ছি।

মা, তুমি শুনতে পাচ্ছো না?!

মা?

হ্যালো মা।

ফোন কেটে গেছে। তাই বাকি!?

তারা বাড়ি ফিরলে কথা বলা যাবে।

হ্যালো। হ্যালো।

বলেন।

স্যার, আমার ভাইয়া ভাবীর অ্যাকসিডেন্ট হয়েছে।

ওই দিকে যান।

স্যার, অ্যাকসিডেন্ট কেস।

তারা ওখানে আছে।

মা।

মা, ওঠো।

বাবা, ওঠো।

মা উঠছে না।

তুমি ওঠো, প্লিজ।

বাবা, ওঠো।

তুমি কাঁদছো কেনো, চাচ্চু?

তুমি কাঁদছো কেনো, চাচ্চু?

তুমি কাঁদছো কেনো, চাচ্চু?

মা উঠছে না কেনো? বাবা উঠছে না কেনো?

বাবা উঠছে না কেনো?

ডাক্তারের সাথে কোথায় দেখা করতে পারি?

ফার্স্ট ফ্লোরে প্রথম কেবিনে।

ডাক্তার। -হ্যাঁ।

আমি আমার ভাইয়া ভাবীর লাশ নিয়ে যেতে পারি?

এটা মেডিকেল লিগ্যাল কেস।

যাবতীয় কার্যক্রম আর ময়না তদন্তের পরেই,

আমরা লাশ ছাড়তে পারব।

ডাক্তার আমার "স্লিপিং সিন্ড্রোম" আছে।

যদি আমি ঘুমিয়ে যাই এই মেয়েটা একা হয়ে যাবে।

আমার আর কেউ নেই।

প্লিজ বোঝার চেষ্টা করেন।

আমি তোমার অবস্থা বুঝতে পারছি।

দেখো, আমার কিছুই করার নেই।

ডাক্তার, প্লিজ।

স্যার, ডাক্তার আপনাকে ডাকছেন।

এই তাড়াতাড়ি করো। রিসেপশনের জন্য দেরি হয়ে যাচ্ছে।

হেসরাগাথা এখান থেকে অনেক দূরে।

পৌঁছতে পৌঁছতে অনুষ্ঠান শেষ হয়ে যাবে।

হ্যাঁ, আসছি।

ভারত, খাবার তৈরী করা আছে।

খেয়ে নিস, ঠিক আছে?

মেয়েটার খেয়াল রাখিস।

আমাদের আসতে দেরি হলে স্কুল থেকে নিয়ে আসিস।

আমরা বেরোচ্ছি।

বাই।

ভারু।

ভারু।

মিস্টার ভারত, এই মেয়েটা গত চার দিন ধরে কিছুই খায়নি।

শরীরে পানির পরিমাণ একেবারে কমে গেছে।

পানি শূন্যতায় ভুগছে।

দেখেন, সুগার লেভেল একদম কমে গেছে।

আপনার কি একটুও কান্ডবজ্ঞান নেই?

শুধু বাবা হওয়াটাই যথেষ্ট না। আপনার খেয়ালও রাখতে হবে।

ভালো করে খেয়াল রাখবেন।

এই ওষুধ গুলো আনেন।

ভারু।

সরি, চাচ্চু। আমার জন্য তোমাকে বকা দিয়েছে।

না, ভারু।

আমার মাফ চাওয়া উচিত।

আমি তোর খেয়াল না রেখে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম।

এই বালের ঘুমোনোর রোগ।

চিন্তা কোরো না, চাচ্চু।

আমি তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে তোমার খেয়াল রাখব।

আমি তোমাকে জ্বলা দিবো না।

আমার মেয়ে অনেক লক্ষী। সে কখনো স্কুলে যাওয়া মিস করে না।

সে সব সময় প্রথম হয়, তাই না, মা?

বাই চাচ্চু।

টিকিট।

তুমি কোথায় যাবে?

ভিদ্যিয়া ভাহিনি স্কুল স্টপে।

ভিদ্যিয়া ভাহিনি, সেটা কোথায়?

শাঙ্কার মাট্ট।

শাঙ্কার মাট্ট?

আমরা তো ওই দিক দিয়ে যাই না। এটা অন্য রাস্তা।

পরের স্টপে নেমে যাও। অন্য বাসে ধরে নিও।

ঠিক আছে, আঙ্কেল।

সরে যা।

জন সমাজে মারামারি করিস?!

আমাকে হুমকি দিস?

হ্যাঁ, মা,

না, না আমি তাড়াতাড়ি চলে আসবো।

আর একটু পরে।

আমি পরে ফোন করব।

ঢোক।

ঢোক।

চুপ কর।

আজকে শিক্ষা দেবো তোদের।

আঙ্কেল, আমি আপনার ফোন ব্যবহার করতে পারি? আমার চাচ্চুকে ফোন করতে হবে।

তুমি কে, সোনা?

আমি হারিয়ে গেছি। আমার চাচ্চকে ফোন করতে হবে।

আপনার ফোন ব্যবহার করতে পারি?

নাও।

ফোন করো।

স্যার, আপনার মেয়ে এসেছে আপনাকে দেখতে।

ও আমার মেয়ে না।

ও ওর চাচ্চকে খুজছে।

ফোন ধরেছে?

না। সে পরে মিস কল চেক করবে।

তাই? আমাকে ফোন দাও।

তোমার চাচ্চু ফোন করবে।

তোমার চাচ্চু ফোন না করা পর্যন্ত আমার সাথেই থাকো।

হ্যালো।

স্যার, আমি এই নাম্বার থেকে একটা মিস কল পেয়েছি।

পুলিশ ইন্সপেক্টর বলছি।

আপনার মেয়ে হারিয়ে গিয়েছিল। এখন আমার সাথে আছে।

পুলিশ স্টেশনে এসে নিয়ে যান।

স্যার, আমার মেয়ে।

স্যার, আমার মেয়ে।

চাচ্চু।

এসব কী?!

আপনি এত বেপরোয়া কীভাবে হতে পারেন?

পাগলও আপনার থেকে সচেতন।

সরি, স্যার।

ঠিক আছে।

খেয়াল রাখবেন এমন যেন আর না হয়।

ধন্যবাদ।

হ্যালো।

নিন।

আপনার রেজিস্ট্রা তথ্য লিখে যাবেন।

ঠিক আছে, স্যার।

ভারু, তোমার আমাকে বলা উচিত ছিল।

আমি স্কুলে পৌঁছে দিতাম।

তুমি সব সময় ঘুমিয়েই থাকো।

বাবা বলেছিল স্কুল মিস না করতে।

সরি।

সে খুব বুদ্ধিমতি এবং সকলের প্রিয় শিক্ষার্থী।

সামনে থেকে আর স্কুল মিস হবে না।

কিন্তু আপনি প্লিজ তার খেয়াল রাখেন।

আমার দিক থেকে কোনো সমস্যা হলে প্লিজ সামলে নিয়েন।

চিন্তা করবেন না, মিস্টার ভারত।

আমরা আমাদের সাধ্যমতো চেষ্টা করব।

কিন্তু

আপনার অবস্থা বিবেচনায়,

আমার পরামর্শ হবে তাকে ভালো অভিভাবকদের নিয়োগ দেওয়া।

এই যে।

আপনার জন্য কী করতে পারি? স্কেচ পেন্সিল আর কালার পেন্সিল দেন।

চাচ্চু, আমার রো এগুলো আগে থেকেই আছে। আবার কিনলে কেনো?

কারণ তুমি ভালো আঁকতে পারো।

আমাকে জাগা অবস্থা আকতে পারবে?

না, পারব না।

কারণ তুমি সব সময় ঘুমিয়েই থাকো।

না, আমি কথা দিচ্ছি।

এবার আঁকার সময় আমি জেগে থাকবো।

ওয়াদা?। -ওয়াদা।

আমি টেডিবিয়ার চেয়েছিলাম অন্যদিন কিন্তু তুমি কিনে দিচ্ছ আজকে!

স্যার, আপনার আইসক্রিম।

ধন্যবাদ।

এই নাও।

আমাকে এসব কিনে দিচ্ছ কেনো?

আমি চাই তুমি খুশি থাকো।

চাচ্চু, চাচ্চু, চাচ্চু, আমার চাচ্চু! চকলেটের থেকেও মিষ্টি তুমি চাচ্চু।

ও আমার চাচ্চু! অনেক ঘুম হয়েছে এখন উঠো চাচ্চু।

ভারু।

তুমি আমার কথা শুনবে, তাই না?

হ্যাঁ, চাচ্চু।

আমার কথা শুনবে তো?

বলেছি তো শুনবো।

তুমি এখানে বন্ধু পাবে, শিক্ষক পাবে আর ঠিক সময়ে খাবার পাবে।

এখানে থাকো, ঠিক আছে?

না চাচ্চু, আমি তোমার সাথে থাকবো।

আমি প্রতিদিন তোমাকে দেখতে আসবো।

না চাচ্চু, আমি তোমার সাথেই যাবো।

তুমি আমাকে কথা দিয়েছ।

আমি কী বলবো?

দেখো, আমি আমার ভাইকে কথা দিয়েছি যে তোমার খেয়াল রাখবো।

বোঝার চেষ্টা করো।

প্লিজ, ভারু।

আমাকে রেখে গেলে, আমি খুজতে খুজতে তোমার চলে যাবো।

এরা তোমার ভালো খেয়াল রাখবে।

আমি তোমার সাথে যাব।

তাহলে তোমার খেয়াল রাখবে কে?

ঘুমন্ত মানুষের খেয়াল রাখার জন্য কারো প্রয়োজন হয় না।

প্লিজ, চাচ্চু আমাকে ছেঁড়ে যেও না।

তুমি আমাকে কথা দিয়েছ।

প্লিজ, চাচ্চু আমাকে ছেঁড়ে যেও না।

প্লিজ, চাচ্চু আমাকে ছেঁড়ে যেও না।

ভারু, আমার কথা শোনো।

প্লিজ, চাচ্চু আমাকে ছেঁড়ে যেও না।

প্লিজ, চাচ্চু আমাকে ছেঁড়ে যেও না।

ভারু, কী করছ?

আন্টি, আমি ভাত রান্না করেছি। তুমি তরকারি রান্না করো।

তারপর আমরা একসাথে খাবো।

গিয়ে চাচ্চুকে উঠাও। এক সাথে খাই।

চাচ্চুকে দেওয়ার দরকার নেই। আমি তার সাথে কথা বলি না।

আমরা দুজন খাই।

ঠিক আছে, আমি কাপড় গুলো গুঁছিয়ে নিই।

তুমি গিয়ে খেলো, ঠিক আছে?

ঠিক আছে।

এসো।

৯৫ সেন্টিমিটার।

মা।

ভারু।

কী হয়েছে?

তুমি এখানে কেনো।

আমি তোমাকে ছেড়ে দিয়ে ছিলাম যাতে তোমার দূর্বলতা আমার দূর্বলতা না হয়।

কিন্তু সেই একই কারণে আমি তোমার কাছে এসেছি।

একজন মেয়ে হিসেবে,

আমি তোমাকে আর বাচ্চাটাকে এই অবস্থায় ছেঁড়ে দিতে পারব না।

ভারু।

আমার সাথে কথা বলবে না।

চাচ্চু টাটা।

চাচ্চু টাটা।

হ্যালো, কোথায় তুমি?

আমি এখানে।

ভারুকে পাওয়া যাচ্ছে না।

এখানেই তো ছিল।

তুমি ওদিকে দেখো। আমি এদিকটায় দেখছি।

ভারু।

ভারু।

ভারু।

এই মেয়েটাকে দেখেছেন?

না, সরি।

এই মেয়েটাকে দেখেছেন?

না, সরি।

ওদিকে যান।

এই মেয়েটাকে দেখেছেন? না, স্যার।

এই মেয়েটাকে দেখেছেন? না, দেখিনি।

ভারুকে পেয়েছ?

না, এখানে নেই।

ভারত।

ভারত! তুমি ঠিক আছো?

স্যার, হারিয়ে যাওয়ার মামলা করতে হবে।

ওইখানে যান।

স্যার, একটা মামলা করতে হবে।

আমার বাচ্চা "ওয়ান্ডার লা" থেকে হারিয়ে গেছে।

সে আমার সামনেই খেলছিল।

হঠাৎ কোথায় গেল জানি না।

প্লিজ বসেন।

এখানে বাচ্চার বর্ণনা লিখেন।

স্যার, মিষ্টি বিলিয়ে দিবো?

হ্যাঁ, দাও।

স্যার, কী উপলক্ষে?

আজকে আমার মেয়ের জন্মদিন।

শুভ জন্মদিন, স্যার।

স্যার।

তুমি এখানে?

আমি আমার বাচ্চাকে নিয়ে "ওয়ান্ডার লা" তে গিয়েছিলাম।

বুঝতে পারলাম না হঠাৎ করে কোথায় গেল।

১৮ ঘন্টা!?

স্যার সবাই শান্তির জন্য বিশ্রাম নেয়।

কিন্তু তার তো বিশ্রামই রোগ হয়ে গেছে।

স্যার, প্লিজ।

ওকে তাড়াতাড়ি খুজেন।

ঠিক আছে।

নাগাপ্পা, হারানোর মামলা দায়ের করো।

সব থানায় তথ্য গুলো পাঠিয়ে দাও।

ঠিক আছে, স্যার।

কোনো সন্ধান না পেলে FIR দায়ের করে দিও।

ভারত, তোমার বাচ্চাকে ফিরে পাবে।

আশা হারিও না।

ধন্যবাদ, স্যার।

ধন্যবাদ।

ভীড়বহুল জায়গায় এসব সাধারণ ঘটনা।

কিন্তু আমি তার চোখে ভয় দেখেছি।

সরি।

তার পোশাকের সাথে তার সস্তা টুপির কোনো মিল ছিল না।

আমার ধারণা মতে,

সে একাই ছিল।

আর তা হলে,

তার কোনো মতলব ছিল।

সে একা কীভাবে বুঝলে?

তার সাথে তার পরিবারও তো থাকতে পারে।

সে ক্যাফেটেরিয়া থেকে শুধু এক কাপ কফি নিয়েছিল।

তার মানে

তার একা হওয়ার সম্ভাবনা আছে।

নাগাপ্পার তার দেওয়া তথ্য সংগ্রহ করো।

আপনার ঝুঁকি নিতে হবে না, স্যার।

এই অ্যাকাউন্টের মালিকের ঠিকানা পাওয়া যাবে?

নিন। ধন্যবাদ

এই বাড়িটা, স্যার।

ভগবান এটা ঠিক করেনি।

সে খুব ভালো মানুষ ছিল।

সেই মানুষটা এমন মৃত্যুর মুখোমুখি হয়েছে! আমার বিশ্বাসই হচ্ছে না।

তার মাথায় আঘাত করেছে।

শান্ত হন।

আমার মনে হয় মহিলা সত্য বলছিল।

ন্যানির সূত্র ধরে তদন্ত করলে কোনো লাভ হবে না।

আমরা কোনো সুরুকই পাচ্ছি না।

আমার চিন্তা হচ্ছে ভারু কোথায় আছে।

দিনে মাত্র কয়েক ঘন্টা জেগে থাকি।

চাইলেই ঘুম থেকে উঠতে পারি না।

ন্যাক্কার এই জীবনে।

তদন্ত করা হচ্ছে পুরানো দিয়াশলাইয়ের মতো।

বারবার ঘষতে হবে।

একবার না একবার জ্বলে উঠবে।

তোমার অবস্থা না বুঝেই আমি তোমাকে দিচ্ছি না।

স্যার, আমি আপনার কথা বুঝতে পারছি...

ভারত।

আমি তোমাকে দিতে পারি যে তোমার বাচ্চা পেয়ে যাবে।

কিন্তু...

কিন্তু মৃত ফিরে আসবে সেই দিতে পারব না।

আমার স্ত্রী সব সময় আমাকে বকা দিত।

আমি তার থেকে কাজকে বেশি গুরুত্ব দিয়েছি।

যেদিন আমার মেয়ে জন্ম নিল।

তখন তার সঙ্গে ছিলাম না। তার অভিযোগ সত্য প্রমাণ করে দিলাম।

হয়তো সেই অভিমানের কারণে

আমাকে একা ফেলে চলে গেছে।

ও স্বর্গে চলে গেল।

যখন আমি জানতে পারলাম আমার বাচ্চার মারাত্মক সমস্যা আছে।

আমি ভিতরে ভিতিরে শেষ হয়ে গেছিলাম।

আমার চাকরিটা মূল্যহীন মনে হতে লাগলো।

মনে হয়েছিল জগতের সব সমস্যা আমার উপর আছে।

আপনিও একই রাস্তায় আছেন।

যদি আমি আমার কাজে বিন্দুমাত্র শান্তি পেয়ে থাকি

তার কারণ হলো তোমাদের মত মানুষের সাহায্য করা।

আশা রাখো।

হ্যালো।

এটা দেখেন।

এই আমার মেয়ে।

ভারু।

তার নাম ভার্ধানা।

ওর বয়স ছয় বছর।

সে একটা নিষ্পাপ শিশু।

ও এক মাস ধরে নিখোঁজ। আমি সব জায়গায় ওকে খুজছি।

আমি ওকে খুজে পাচ্ছি না।

প্লিজ।

আমি আপনার আপনাদের কাছে ভিক্ষা চাইছি।

প্লিজ ওকে কোথাও দেখলে জানাবেন। আমি চিরকৃতজ্ঞ থাকব।

স্যার, আপনার বাচ্চার কী হয়েছে?

আপনি কাউকে সন্দেহ করেন?

এটা কী প্রতিহিংসার জন্য হয়েছে?

স্যার, পানি খান।

চা খাবেন?

চাচ্চু, চাচ্চু, চাচ্চু, আমার চাচ্চু! চকলেটের থেকেও মিষ্টি তুমি চাচ্চু।

ও আমার চাচ্চু! অনেক ঘুম হয়েছে এখন উঠো চাচ্চু।

চাচ্চু, চাচ্চু, চাচ্চু, আমার চাচ্চু! চকলেটের থেকেও মিষ্টি তুমি চাচ্চু।

আমি ওকে বলেছিলাম শান্ত থাকতে। কিন্তু ও একটা ভুল করেই ফেললো।

এই কারণে ওকে ধাওয়া করেছে।

ও কিছুই ঠিকমতো করতে পারে না।

আমাকে বন্দুকটা দে।

স্যার, আমি ভিক্ষা চাচ্ছি।

আমি সত্যি বলছি।

আমাকে গুলি করেন। মেরে ফেলেন।

ওকে কিছু মাস লুকিয়ে থাকতে বল।

ঢোক।

এদের আটকিয়ে রাখো।

স্যার, আপনার চা।

তুমি দিনে মাত্র ৬ ঘন্টা জেগে থাকো!

তারপর আবার হিরোগিরী করতে যাও!

ওকে বলে দাও নাগাপ্পা আমাদের কাজ আমাদের উপরই থাক।

তুমি একমাত্র সূত্রটাও হারিয়ে ফেলেছ।

যদি আমাকে ফোন করতে আমি এতক্ষনে তোমার বাচ্চাকে পেয়ে যেতাম।

আপনার কী একটুও জ্ঞান বুদ্ধি নেই?

সূত্র খুজে পাওয়া হলো পতিতালয় থেকে সতী নারী খোজার মতো।

আপনি বোকার মতো সেটা হারিয়ে ফেললেন।

ভারত, যদি আমরা ক্রিমিনাল লিস্ট চেক করি, আমরা তাকে খুজে পেতে পারি, তাই না?!

স্যার, তিনমাস আগে সে একটা মেয়েকে উত্তক্ত করায় মার খেয়েছিল।

আমি তাকে ২ দিন লকাপে রেখেছিলাম।

আমি তার নাম রেজিস্ট্রি বইয়ে লিখেছিলাম।

ওর জন্য বাড়িতে পুলিশ পা রেখেছে।

আমাদের সব সম্মান ধূলিসাৎ করে দিলো।

আপনি তো এমন ভান করছেন যেন বাড়িতে আগুন লেগেছে।

আপনার নাতি কোথায়?

আমি তাকে গত ২০ দিন ধরে দেখিনি।

যাও এখান থেকে।

আপনি এখানে চিৎকার করেই যাচ্ছেন।

আপনার নাতি শহরের সব মেয়েদের পিছনে লাগে।

আমার নাতি খুব ভদ্র।

ভিতরে গিয়ে ঘর চেক করে দেখেন।

আমার নাতি হীরের টুকরো।

কিছু খুজে পেয়েছ?

হ্যাঁ, খুজছি।

ভারত, এই ওষুধ ডিম্বাশয় উদ্দীপত করার জন্য ব্যবহার করা হয়।

ডিম্বানুগুলোকে পরিপক্ক করতে।

এই ওষুধ মহিলাদের গর্ভানুর্বর করার জন্য দেওয়া হয়।

এই ওষুধটা কী সেটা প্রশ্ন না।

প্রশ্ন হলো এই ওষুধ তোমার ভাইয়ের কাছে কেনো!

আমি একজন ডাক্তারকে চিনি। আমরা...

মহিলাদের জাঙ্ক ফুড ধুমপান এবং মদ্যপানের কারণে

তাদের এগ সেল দূর্বল হয়ে পড়ছে।

মেনোফর এগ সেল বৃদ্ধিতে সাহায্য করে।

অ্যানাস্থেটিক ড্রাগ আর ঘুমের ওষুধ দালালেরা অবৈধ কার্যক্রমে ব্যবহার করে।

এই ড্রাগও একই ভাবে ব্যবহৃত হয়েছে?

যারা মহিলাদের এগ পাচারকারী মাফিয়ারা এই ড্রাগ ব্যবহার করে।

মহিলাদের এগ পাচার মানে?

যেমন পুরুষের স্পার্মের ঘাটতি হলে সুস্থ স্পার্মের ব্যবস্থা করা হয়।

তেমনি, যখন মহিলাদের এগ সেল দূর্বল হয়

তাদের এগ সেল ডোনেট করা হয়।

তারা ল্যাবে এই স্পার্মের উন্নতি করে।

পরিসংখ্যান অনুযায়ী,

অস্ট্রেলিয়ায় ৫৩%

আমেরিকায় ৬১%

স্পেইনে ৬৩%

ইন্ডিয়ায় ৩০-৩৫%।

এগ সেলের চাহিদা অনেক।

ওই চাহিদার কারণে

মহিলাদের এগ সেল পাচার শুরু হয়।

আমার অধ্যায়নুসারে,

২০০৪ এবং ২০০৫ এ

ব্রিটিশ মহিলারা ইউরোপিয়ান এবং মধ্য প্রাচী দেশগুলো থেকে

এগ সেল কিনেছিল।

এই দেশগুলো "Fertility toursim countries" হিসেবে বিখ্যাত হয়ে গিয়েছিল।

দারিদ্র মহিলাদের টাকার লোভ দেখানো হতো

অথবা কখনো কখনো অপহরণ করা হতো।

তাদেরকে উচ্চ ডোজসম্পন্ন মেনোফর দেওয়া হতো এবং ডিম্বানুগুলোকে উদ্দীপিত করে

তার সংখ্যা বাড়ানো হতো।

তারা পরে মোটা টাকায় ওগো বিক্রি করতো।

ডাক্তার,

আপনার কী মনে হয় ভারতেও এই ধরণের অবৈধ কার্যক্রম হচ্ছে?

যেমনটা তোমাকে আগে বলেছি,

আমাদের দেশেও এসব কার্যক্রম হচ্ছে কী-না সেই ব্যাপারে আমি নিশ্চিত না।

কিন্তু ভারতের এগ সেল গুলোর বিদেশে ও দেশে খুন চাহিদা আছে।

যদি এগ সেল বিক্রি করে এক লাখ টাকা পাওয়া যায়,

তাহলে মাফিয়াদের প্রভাবের সম্ভাবনা রয়েছে।

যদি তাই হয়ে থাকে,

তাহলে এটা মহিলাদের প্রাণের জন্য খুব বিপদজনক।

ডাক্তার, তথ্যগোর জন্য ধন্যবাদ।

তদন্ত অনুসারে,

যখন তোমার ভাইয়া ভাবী ভুল রাস্তা দিয়ে যাচ্ছিল

তারা একটা অ্যাম্বুলেন্সের সাথে দূর্ঘটনায় লিপ্ত হয়।

এবং আমাদের কাছে উপযুক্ত প্রমানও আছে।

কেসটা বন্ধ হয়ে গেছে।

কিন্তু কৌতুহলবশত,

যখন আমি এই কেসটা দেখছিলাম।

কিছু জিনিস আমার চোখে পড়ল।

আসলে তারা হেস্রাঘাটা থেকে দুইমুখোমুখি রাস্তা দিয়ে বাড়ি ফিরছিল।

তারা ওখান থেকে ঘুরে আসতে পারত।

তারা একমুখী রাস্তার ভুল পাশ দিয়ে যাচ্ছিল কেনো?

এত তাড়া কীসের ছিল?

যখন আমি তাদের কল রেকর্ড চেক করলাম।

সেইদিন তারা শুধু তোমাকে ফোন করেছিল।

তোমার বাচ্চা ফোনটা রিসিভ করল।

তোমাকে কিছু বলার আগেই তারা দূর্ঘটনার সম্মুখীন হয়েছিল।

আর আরেকটা বিষয় হচ্ছে...

ময়না তদন্তের রিপোর্ট কী বলছে?

সেখানে উল্লেখ আছে সাধারণ দূর্ঘটনা আর সাধারণ মৃত্যু।

কিন্তু...

যদি আমরা তাদের শরীরের ক্ষতগুলো লক্ষ্য করি,

আমরা অন্য কিছু দেখতে পাবো।

তো আমরা পরিষ্কারভাবে কিছুই পাচ্ছি না।

কিন্তু...

যে স্টিকারটা তোমার ভাইয়ের শার্টে পেয়েছি,

আমাদের অজানার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

তোমার ভাইয়ের শার্টে স্টিকারটা এলো কোথা থেকে?

অথবা ডাক্তার যা বললো,

এগ সেল মাফিয়ার সাথে কী কোনো সম্পর্ক আছে?

এসবের সাথে কী তোমার বাচ্চা হারানোর সম্পর্ক আছে?

আমরা যদি এসব প্রমাণ নিয়ে তদন্ত চালিয়ে যাই

আমরা হয়তো কিছু জানতে পারবো।

এসব কী, স্যার?

এরা কারা?

আমি ভেবেছিলাম এটা ছোট একটা সূত্র

আমার বাচ্চার দিকে নিয়ে যাচ্ছে।

কিন্তু এটা তো আমার মৃত ভাইয়া ভাবীর কাছে নিয়ে যাচ্ছে।

আমার কী তাদের মৃত্যুর কারণ খোজা উচিত?

নাকি আমার হারনো বাচ্চাকে খোজা উচিত যে আমার পথ চেয়ে বসে আছে?

আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।

ভারত।

যদিও তোমার লক্ষ্য দুটো

কিন্তু তুমি একটাই কারণ খুজছো।

যদি একটার উত্তর পেয়ে যাও দুটোর উত্তরই পেয়ে যাবে।

চিন্তা কোরো না।

আমি আছি তোমার সাথে।

আমি ওদের ছাড়ব না।

আমি কাউকেই ছাড়ব না।

তারা কোনো সাধারন মানুষকে উষ্কে দেয়নি।

আমার ভিতরে থাকা ঘুমন্ত কুম্বকারানকে উষ্কে দিয়েছে।

আমি ওদের এই ভদ্রলোকের মধ্যে থাকা ঘুমন্ত কুম্বকারানকে দেখাবো।

আপনি কি শার্লক হোমস যে আপনাকে তথ্য দিবো?

তুমি জেনে যাবে আমরা কারা।

বলো এই ব্যাচ নাম্বারের ওষুধ কাকে সাপ্লাই করেছিস।

দেখেন, এই এরিয়ার SI আমার বন্ধু।

আমার চোখের পলক ফেলার আগে বেরিয়ে যান।

স্যার আমি শুধু নামের মালিক আসল মালিক অন্য কেউ।

আপনাদের নির্মমভাবে মারতে দেখে

মনে হচ্ছে এসবে পিছনে সে-ই।

তাকে কোথায় পাবো?

তাকে বিকালের তার অফিসেই পাবেন।

আমি বলছি।

আমার কাজ স্রুষ্টি হাসপাতালে ওষুধ সাপ্লাই করা।

তারা সেটা দিয়ে কী করে তা জানি না।

ডাক্তার সোয়ামি প্রাকাশ।

ভারতের বিখ্যাত গাইনেকোলজিস্ট।

তার পর্যন্ত পৌঁছতে হলে,

আমাদের শক্ত প্রমাণ দরকার।

সে নাটের গুরু।

কোনো প্রমাণ ছাড়াই অপরাধ করেই চলেছেম

কারো মৃত্যুর সাথে অন্য কেউ জন্ম নেয়।

তেমনি অপরাধের সাথে কোনো না কোনো প্রমাণ জন্ম নেয়।

হ্যালো।

নেক্সট।

নাগাপ্পা।

আমার জরুরি ফোন এসেছে। আমাকে এখনি যেতে হবে।

আমাকে সব জানাতে থাকবে। ঠিক আছে?

২৬ জানুয়ারি চেক করেন।

দিনে না.. রাতে।

থামুন।

দ্বিতীয় ফুটেজটা খুলেন।

থামুন।

অ্যাম্বুলেন্সের দিকে জুম করুন।

স্যার, অনেক গুলো মেয়ে দেখা যাচ্ছে।

মহিলাদের এগ সেল পাচারিকারী মাফিয়ারা এই ড্রাগ ব্যবহার করে।

একই তারিখের ডিসেম্বরের ফুটেজ চেক করেন তো।

স্যার, এটায় জনিকে দেখা যাচ্ছে না।

কাছাকাছি তারিখ গুলো চেক করেন তো।

থামুন।

জুম করেন।

আরো জুম করেন।

হ্যাঁ।

স্যার, যদি আমরা এই অ্যাম্বুলেন্স ট্রেস করি আমরা তাকে ধরতে পারবো।

যখন অ্যাম্বুলেন্স ডানে যায়

PES কলেজের দিকে যায়।

PES কলেজ থেকে নায়ান্দালিতে সিগনালে আসে।

যদি আমরা ট্রাফিক কন্ট্রোলের সিসিটিভি ফুটেজ চেক করি।

আমরা সব তথ্য পেয়ে যাবো।

আমাদের কাছে প্রমাণ আছে। আর অপেক্ষা করতে হবে না।

আমি ACP'র অফিস থেকে হাসপাতালে গিয়ে তার সাথে দেখা করব।

তুমি অ্যাম্বুলেন্সের লোকেশন খুজে আমাকে জানাও।

এটুকুই যথেষ্ট।

হ্যাঁ ওটাই।

নায়ান্দালি সিগনালের ক্যামেরা চেক করেন।

স্যার, আমাদের এই পয়েন্ট পর্যন্ত ক্যামেরা আছে।

স্যার, তারা ৮ মাইল পরে ডানে গিয়েছে।

তার মানে তারা হেস্রাঘাটায় গেছে।

হয়তো তারা ওখানের আশে পাশেই অবৈধ কার্যক্রম করছে।

হেল্প!

প্লিজ, হেল্প!

তুই আমার ভাইয়া ভাবীকে মেরেছিস কেনো?

আমার বাচ্চা কোথায়?

এই কাপুরষ!

আমি তোকেই জিজ্ঞাসা করছি।

আমার ভাইয়া ভাবীকে মেরেছিস কেনো?

আমার বাচ্চা কোথায়?

জানিনা জনি কীভাবে তোদের সাথে জড়িত।

কিন্তু আমি তোদের কাউকেই ছাড়ব না।

হেই ভোলা ছেলে।

আমি তোকে দুটো গল্প শোনাবো।

চ্যাপ্টার ওয়ান!

নেকড়ের গল্প।

একটা খুব ঘন জঙ্গল ছিল।

জঙ্গলে একটা নেকড়ে বাস করছিল।

নেকড়েটা শিকার করতে খুব ভালোবাসতো।

বিশেষ করে কৈশোর হরিণ গুলো প্রিয় ছিল।

বেচারা হরিণরা কাঁদছিল।

তাদের কাঁদায় কার কী আসে যায়?!

তারপর একদিন

অপহরণকৃত একটা হরিণ,

একটা বেআক্কেল নেকড়ের কারণে

জঙ্গল থেকে পালিয়ে গেল।

তোমার জামা খোলো।

তুই গল্পটা মনোযোগ দিয়ে শুনছিস।

গল্পের টুস্টটা কী ধরতে পেরেছিস?

পারিসনি?!

থাক!

আমি বলছি।

যখন হরিণটা পালাচ্ছিল।

দুটো চড়ুই পাখি তাকে বাঁচাতে এলো।

স্যার, প্লিজ আমাকে বাঁচান।

চলো হাসপাতালে যাই।

ভারতকে ফোন করে বলো আমাদের আসতে দেরি হবে।

নেকটে পুরোই অবাক হয়ে গেল।

চড়ুইরা তো কামাল করে দিলো।

তারপর,

নেকড়ে ভয় পেয়ে গেল যদি হরিণটা জঙ্গলের রাজা(সিংস) কে বলে দেয়?

নেকড়েটা দুটো চড়ুইয়ের জন্য হার মানতে রাজি হলো না।

এজন্য।

হেই হিরো!

জানিস ওই চড়ুই দুটো কারা ছিল?

তোরা আমার ব্যবসায় বাঁধা দিয়েছিস।

তোর জীবনের সীমা শেষ।

এখন তুই ওপারে যেতে পারিস।

আমি ওদের পাঠিয়ে দেবো।

"রেস্ট ইন পিস!"

আমি ওকে লালনপালন করব আর তারপর বড় হয়ে গেলে, ওকে বিয়ে করব।

বাচ্চাটা কোথায়?

বাচ্চাটাকে ন্যানির কাছ থেকে অপহরণ করেছিস কেনো?

স্যার আসলে...

জনি তারিফ ভুলে যেতে পারে কিন্তু অপমান ভুলতে পারে না।

ন্যানি আমাকে সবার সামনে অপমান করেছিল।

তাও আবার মেয়েদের সামনে।

আমার অপমান বোধ হয়েছে।

তাই যখন "ওয়ান্ডার লা" থেকে সে তার মেয়েকে নিয়ে যাচ্ছিলো।

কোন এক মেয়েকে বিরক্ত করার জন্য তুই আমাকে মেরেছিস?

দেখ, আমি তোর মেয়েকে উঠিয়ে নিয়ে যাচ্ছি।

আমি ওকে লালনপালন করব।

আর তারপর বিয়ে করব।

বাচ্চাটা কোথায়?

আমি আপনাকে দেবো না।

আমি ওকে লালনপালন করব।

তারপর বড় হয়ে গেলে, ওকে বিয়ে করব।

কী করব, স্যার?!

আমাকে কেউ ভালোবাসতে চায় না।

আমি কী মানুষ না? আমার কী ভালোবাসার অধিকার নেই?

আমার অনুভবকে অনুভব করো। আমার ভালোবাসাকে অনুভব করো, সোনা।

আমি তোকে একটা গল্প শোনাচ্ছি।

চ্যাপ্টার টু!

সিংহের গল্প।

পুলিশ ইউনিফর্ম পরা সিংহ।

মাসে চার থেকে পাঁচ বার অপহরণ।

মানে ৫০ থেকে ৬০ এগ সেল।

যদি একটা এগ সেলের জন্য ২ লাখ হয়।

কোটি কোটি টাকার ব্যবসা।

টাকার খেলা, তাই না ডাক্তার?

কত টাকা চাই, অফিসার?

শুধু দেওয়া নেওয়া চুক্তি।

আমার তোমার গ্যাং এর জনিকে চাই।

আমি আপনার কাছ থেকে এটা আশা করিনি।

কেনো না?

কেনো না?

সবাই আমাকে পুলিশ অফিসার মনে করিয়ে দিতে আমাকে স্যালুট করে।

কিন্তু শুধু আমার মেয়ে আমাকে বাবা বলে ডাকে।

বাবা।

যখন ও আমাকে বাবা বলে ডাক দেয়।

আমি এক নতুন জীবনের ছোঁয়া পাই।

আমাকে নতুন জীবনের আশ্বাস দেয়।

এটাই বাবা ডাক শোনার নেশা।

যদি আমি

প্রতিদিন এই ডাক না শুনি

আমি যন্ত্রণায় ভুগি।

এক ধরণে অশান্তিতে ভুগি।

আমি ওর হাসি খেলায় হারিয়ে যেতাম।

কিন্তু ওর একটা সমস্যা

আমাকে স্বর্গ থেকে নরকে ঠেলে দিলো।

ডাক্তার বললো আমার মেয়ের হার্টে গুরুতর সমস্যা আছে।

কেনো ভগবান তাকে এই সমস্যায় ফেললো?

জীবনে প্রথমবার,

জীবনে প্রথমবার,

এই পুলিশওয়ালা ভয় পেতে শুরু করল।

আমি আমার মেয়ের হৃদস্পন্দন শোনার মত সাহসী হতে পারলাম না।

আমি আমার মেয়ের জীবন বাঁচানোর সিদ্ধান্ত নিলাম।

আমি একজন ডোনার পেলাম।

কিন্তু তার রক্তের গ্রুপ মিললো না।

খুব বিরল রক্তের গ্রুপ।

বম্বে রক্তের গ্রুপ।

এই রক্তের গ্রুপ দশ লাখে একজনের হয়।

দশ লাখেই ভিতর কে হার্ট ট্রান্সপ্লান্টের জন্য রাজি হবে?

ওই দিন।

আমি আশা হারিয়ে ফেললাম।

ভারুকে না পাওয়া পর্যন্ত।

ওই দিন আমার ভিতরে থাকা পুলিশ মারা গেল।

এবং পিতার মনোভাব জেগে উঠল।

আমি ওই দিনই প্ল্যান করলাম।

কাউকে বিশ্বাস করা ঠিক হবে না।

শুধু আমার বন্ধু ন্যানিকে ছাড়া।

আমি ওকে দিয়ে ভারুকে অপহৃত করলাম।

ভেবেছিলাম আমার মেয়েটা বেঁচে গেল।

আমার মেয়েটা অমর হয়ে গেল।

কিন্তু তুমি থানায় এলে মামলা দায়ের করতে।

ভেবেছিলাম তোমাকে কোনোভাবে ধোকা দেবো।

কিন্তু ইশ্বর আমার বিরুদ্ধে হয়ে গেলো।

আমার কিডন্যাপার বন্ধু ন্যানি হঠাৎ করেই মারা গেল।

আমার তোমার সাথে হাল মেলানো ছাড়া আর কোনো উপায় ছিল না।

কিন্তু...

যে যে সূত্র তুমি আমাকে দিয়েছিলে

CID দের থেকেও বেশি নিখুঁত ছিল।

তাই প্রতি ধাপেই আমি তোমাকে উৎসাহ দিলাম।

আশা হারিও না।

আমি তোমার সাথে আছি।

মনোবল রাখো।

তুমি ওইদিন জনিকে ধাওয়া করলে

আর ওকে হারিয়ে ফেললে

আমি তোমার থেকেও বেশি হতাশ হয়েছিলাম।

যদি আমাকে ফোন করতে তাহলে তোমার বাচ্চাকে খুজে ফেলতাম।

কিন্তু যে ওষুধ তুমি জনির ঘরে পেয়েছিলে

সেটা তোমার ভাইয়া ভাবীর সাথে জড়িত ছিল।

তাই আমি তোমাকে ওইদিকে ধাবিত করলাম।

আমি জনিকে খুজতে লাগলাম।

যখনই

যখনই তুমি আমাকে জনির সাথে ডাক্তারের সম্পর্কের প্রমাণ দিলে।

আমার কাছে ডাক্তারের ফোন আসলো।

আমার জরুরি ফোন এসেছে। এখনি যেতে হবে।

আমার কাছে আর মাত্র তিন দিন আছে।

শুধু তিন দিন!

আমি ভয়ে কাঁপছিলাম।

কিন্তু তোমার ফোন কল

আমাকে নতুন আশার আলো দেখালো।

আমরা প্রমাণ পেয়েছি।

তারপর আমি তোমাকে অ্যাম্বুলেন্সের দিকে ধাবিত করলাম।

ডাক্তারকে আমি সামলাবো।

তুমি অ্যাম্বুলেন্সের লোকেশন খুজে আমাকে জানাও।

আমি তোমার ভিডিওকে টোপ হিসেবে ব্যাবহার করলাম।

আমি ডাক্তারের সাথে একটা চুক্তি করলাম।

আমি জনির ঠিকানা খুজে বের করলাম।

আমার লক্ষ্যে পৌঁছাতে আমি তোমাকে ওর লক্ষ্যে পরিণত করলাম।

তুমি না জেনেই এই ঘুমন্ত কুম্বকারানকে জাগিয়েছ।

যদি ওকে স্বর্গে না পাঠাতে পারো।

আমরা দুজনই নরকে চলে যাবো।

আমি ভেবেছিলাম তুই শুধু ঘুমোনোয় কুম্বকারান।

তুই শক্তিতেই কুম্বকারান।

তুই ঘৃণ্যতম কাজ করেছিস।

কিন্তু সৈনিকের মতো ভাষন দিচ্ছিস।

হ্যাঁ।

দুটোই একই বিষয়।

দেশের রক্ষাকর্তা।

আর মেয়ের রক্ষাকর্তা। দুটো একই।

আর তুই? তুই কী করছিস?

তুইও একই কাজ করছিস।

বুঝেছিস?

দেখো ভারত।

তুমি একজন রোগী।

তুমি দিনে ১৮ ঘন্টা ঘুমাও।

বাকি ছয় ঘন্টা যথেষ্ট না।

তুমি কোনোভাবেই তোমার বাচ্চার খেয়াল রাখতে পারবে না।

আমি জানি।

তুই সত্যটা মেনে নিতে পারবি না।

এজন্যই

তোকে তোর ভাইয়া ভাবীর কাছে পাঠিয়ে দেবো।

তারা যতক্ষণে তোকে সান্ত্বনা দিবে।

বাচ্চাটাকেও ওখানে পাঠিয়ে দেবো।

চাচ্চু।

চাচ্চু।

সাবটাইটেল অনুবাদক ও সম্পাদক ------------------------------------------------------------------- •••…•••…Singer Imran & The Devil…•••…•••… [সাবটাইটেল দিয়ে মুভি দেখার জন্য ধন্যবাদ। মুভি এবং সাব সম্পর্কে ভাল মন্দ ফিডব্যাক জানাবেন।] 🙂

Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.