All language subtitles for Villain (2017)- Bangla Subtitle by Mohammad Yousuf

af Afrikaans
ak Akan
sq Albanian
am Amharic
ar Arabic
hy Armenian
az Azerbaijani
eu Basque
be Belarusian
bem Bemba
bn Bengali
bh Bihari
bs Bosnian
br Breton
bg Bulgarian
km Cambodian
ca Catalan
ceb Cebuano
chr Cherokee
ny Chichewa
zh-CN Chinese (Simplified)
zh-TW Chinese (Traditional)
co Corsican
hr Croatian
cs Czech
da Danish
nl Dutch
en English
eo Esperanto
et Estonian
ee Ewe
fo Faroese
tl Filipino
fi Finnish
fr French
fy Frisian
gaa Ga
gl Galician
ka Georgian
de German
el Greek
gn Guarani
gu Gujarati
ht Haitian Creole
ha Hausa
haw Hawaiian
iw Hebrew
hmn Hmong
hu Hungarian
is Icelandic
ig Igbo
id Indonesian Download
ia Interlingua
ga Irish
it Italian
ja Japanese
jw Javanese
kn Kannada
kk Kazakh
rw Kinyarwanda
rn Kirundi
kg Kongo
ko Korean
kri Krio (Sierra Leone)
ku Kurdish
ckb Kurdish (Soranî)
ky Kyrgyz
lo Laothian
la Latin
lv Latvian
ln Lingala
lt Lithuanian
loz Lozi
lg Luganda
ach Luo
lb Luxembourgish
mk Macedonian
mg Malagasy
ms Malay
ml Malayalam
mt Maltese
mi Maori
mr Marathi
mfe Mauritian Creole
mo Moldavian
mn Mongolian
my Myanmar (Burmese)
sr-ME Montenegrin
ne Nepali
pcm Nigerian Pidgin
nso Northern Sotho
no Norwegian
nn Norwegian (Nynorsk)
oc Occitan
or Oriya
om Oromo
ps Pashto
fa Persian
pl Polish
pt-BR Portuguese (Brazil)
pt Portuguese (Portugal)
pa Punjabi
qu Quechua
ro Romanian
rm Romansh
nyn Runyakitara
ru Russian
sm Samoan
gd Scots Gaelic
sr Serbian
sh Serbo-Croatian
st Sesotho
tn Setswana
crs Seychellois Creole
sn Shona
sd Sindhi
si Sinhalese
sk Slovak
sl Slovenian
so Somali
es Spanish
es-419 Spanish (Latin American)
su Sundanese
sw Swahili
sv Swedish
tg Tajik
ta Tamil
tt Tatar
te Telugu
th Thai
ti Tigrinya
to Tonga
lua Tshiluba
tum Tumbuka
tr Turkish
tk Turkmen
tw Twi
ug Uighur
uk Ukrainian
ur Urdu
uz Uzbek
vi Vietnamese
cy Welsh
wo Wolof
xh Xhosa
yi Yiddish
yo Yoruba
zu Zulu

Original subtitles

মুভির নামঃ Villain (2017) অনুবাদ ও সম্পাদনাঃ মোহাম্মদ ইউসুফ

কিন্তু ডাক্তার, তুমি?

অবিশ্বাস্য!

আপনার স্ত্রী যে এই বাড়ির মালিক আগেই আমাদেরকে বলাটা উচিত ছিল।

আপনারা যখন এসেছেন আজ,

এস্পার ওস্পার কিছু তো একটা হবেই।

আচ্ছা বেশ, সব কিছু শেষ হওয়ার পরেই যাবেন। ঠিক আছে?

যদি সব কিছু প্ল্যানমাফিক হয়,

তিন গোণার আগেই ডিলটা করে ফেলতে পারবো আমরা।

তাই না, ডাক্তার?

অবশ্যই!

প্রবাদ আছে, কোন কিছু বিক্রির জন্য মনস্থ করলে আর পিছিয়ে আসা উচিত নয়।

প্রতিবেশীদের সাথে চুক্তিটা করেছেন নিশ্চয়ই?

বিক্রয়ের কাজটা একবার শেষ হয়ে গেলে,

তারপর যদি কোন সমস্যার সৃষ্টি হয় আমরা কিন্তু বেকায়দায় পরে যাবো।

শুধু আমরাই নয়,

বেকায়দায় আপনিও পরবেন।

স্যার, বাড়ি বিক্রির এই প্রস্তাবটা আপনিই তো দিয়েছিলেন, তাই না?

হেই! এসব কী? কি করছেন এসব?

আমাদের ডেকে এনে কি রসিকতা করা হচ্ছে?

আমার আসল পরিচয় কিন্তু জানেন না আপনি!

একটা বিষয় বোঝার চেষ্টা করুন!

একটু আগে যা দেখালেন সে ব্যাপারে আমি কিছুই জানি না!

এগুলো করেছে তারা!

শুধু তারাই করেছে!

স্যার, প্লিজ! আমাদের মারবেন না!

যা হওয়ার হয়ে গেছে!

আমি একটা ক্ষতিপূরণ দিতে রাজি আছি।

ওদের পরিবার যা চায় তাই দিতে প্রস্তুত আমি!

না!

না!

স্যার, প্লিজ!

না!

আপনি এই সিটে বসতে পারেন, ম্যাম।

ম্যাম, অর্ডার?

এক গ্লাস পানি, প্লিজ।

ওকে, ম্যাম।

মাফ করবেন।

আপনি কি কোন ঝামেলায় আছেন?

আমি আপনাকে সাহায্য করতে পারি।

না।

আপনি আমাদের সাহায্য করতে পারবেন না!

এর মানে, আপনি আসলেই ঝামেলায় আছেন।

আমি হার্শিতা চোপড়া।

পুলিশ অফিসার।

আমি আপনাকে সাহায্য করতে পারবো।

না! প্লিজ পুলিশকে ফোন দেবেন না।

আপনি পুলিশ অফিসার জানলে, আপনার সাথে কথাই বলতাম না।

না! কেউই আমাদের সাহায্য করতে পারবে না!

চা! চা!

- স্যার, চা দিমু? - দাও।

এইটা কী, স্যার?

স্যার, আমার বুক টা না ভীষণ ধড়ফড় করছে!

হায় ভগবান! আমাকে যেখানে খুশি সেখানে পাঠান স্যার, কিন্তু ট্রাফিকে শিফট করবেন না!

আপনি কিছু করতে পারবেন, স্যার?

শুধু দোয়াই করতে পারবো!

গুড মর্নিং স্যার!

আপনি এখানে হঠাত?

- সে কি আবার স্বপদে বহাল হয়েছে? - আমার পেপারটা নিয়ে গেল!

যাই, আরেকটা নিয়ে আসি!

নয়তো, টয়লেটে পাতা দিয়ে কাজ সারা লাগবে!

টিস্যু পেপার কেনো রে ভাই!

ম্যাথিউ স্যার আসবে,

আর তুমি খাওয়া শুরু করে দিলে!

আসো, ম্যাথিউ।

- গুড মর্নিং, ম্যাথিউ স্যার। - বসো।

গুড মর্নিং।

আসতে দেরি হচ্ছিল তোমার,

তাই ভাবলাম বাসার ঠিকানা ভুলে গিয়েছ কিনা।

সমস্যা নেই। ১০ মিনিট দেরি এমন বড় ব্যাপার না।

- নাশতা আনবো, স্যার? - না। ঠিক আছে।

নাশতা করো, ম্যাথিউ।

না, স্যার।

তো, ৭ মাসের ছুটি শেষে আজ জয়েন করলে তাহলে।

আর আজকেই কিনা অবসরের আবেদন করেছ!

সিদ্ধান্তে কোন পরিবর্তন আনা যায় না?

তো,

আজ তাহলে চাকরিতে তোমার শেষ দিন।

কথাটা এভাবে বলার কিছু মনে করো না।

এটাকে "পালানো" বলে মনে হয় আমার কাছে।

- পালানো? - হুম।

কোথা থেকে পালাচ্ছি?

পালিয়ে যাচ্ছিই বা কোথায়?

তোমার জীবনের ঘটনাপুঞ্জ সম্পর্কে সবাই জানে।

তোমার মানসিক অবস্থা অন্যদের চেয়ে আমি ভাল জানি।

কিন্তু, এই স্বেচ্ছা অবসর কোন সমাধান নয়, ম্যাথিউ।

যখন করার মতো কোনো কাজ হাতে থাকবে না,

হতাশা তখন তোমায় কুঁড়ে কুঁড়ে খাবে।

এটা হতাশার প্রশ্ন নয়, স্যার।

স্মৃতি!

এই স্মৃতিটাই আমার একমাত্র সম্বল এখন।

আমি অতীতে ঘোরাফেরা করি বেশি।

সেজন্যই, পুলিশের চাকরি করার মতো মনোবল আমার এখন নেই।

তোমাকে জোর করছি না..

তাহলে, আগামীকাল তোমার যাত্রা শুরু হচ্ছে।

তোমার গন্তব্য সম্পর্কে কিন্তু কিছু বলোনি।

এটা একটা মিশন, স্যার।

নীলিমার ইচ্ছেটা আমাকে পূরণ করতে হবে.

ও ওর সারা জীবনে এই একটা অনুরোধই করেছে আমাকে।

যাইহোক, তোমার জায়গায় আপাতত কাউকে পোস্টিং দিচ্ছি না।

সিটি টাস্ক ফোর্সই সামলাক বিষয়টা।

তোমার শূন্যস্থান পূরণ?

এতোটা সোজা নয় রে, ভাই!

কিন্তু, শো তো চলমান থাকতেই হবে, স্যার।

শোতে বিঘ্ন ঘটার আশংকা করছি আমি।

স্যার?

আমার শারীরিক অবস্থা তো তুমি জানোই, তাই না?

শারীরিক অবসাদ,

হঠাত ওজন কমে যাওয়া,

ডাক্তারেরা বেশ কিছু পরীক্ষা নীরিক্ষা করেছে।

কিছু নমুনা বোম্বের টাটা ইন্সটিটিউটে পাঠানো হয়েছিল।

আজকেই টেস্টের রেজাল্ট আসতে পারে শুনেছি।

স্যার?

ছাড়ো আমার কথা।

আজকে শেভ করবে?

স্যার...

না ভাই!

তোমাকে দেখতে দার্শনিকের মতো লাগছে এখন।

মানিয়েছে তোমাকে।

এটাই থাকুক।

চাকরি জীবনে মিস করার মতো কেউ থাকলে সেটা হচ্ছেন আপনি স্যার।

যখন যেখানে দরকার, আপনার সহায়তা পেয়েছি আমি।

শেষবারের মতো আপনাকে স্যালুট করতে দিন।

আরে নাহ!

"শেষ" শব্দটা প্রচন্ড ঘৃণা করি আমি।

তুমি তোমার মতো থাকো।

আমাদের আবার শীঘ্রই দেখা হবে!

আমার মন এরকমটাই বলছে।

দেখা হবে, ম্যাথিউ।

স্যার!

- হেই অনিল। - স্যার।

- কিছু কার্ডবোর্ডের বক্স লাগবে আমার। - ওকে, স্যার।

আমার বই আর ব্যক্তিগত ফাইলগুলো প্যাক করার জন্য।

স্যার, আজই চলে যাবেন?

জানো যখন জিজ্ঞেসই বা কেন করছো?

স্যার!

স্যার, আসিতে পারি?

হ্যাঁ, শ্রীনি আসো!

বলো কী বলবে?

সিদ্ধান্তটা পাকাপাকি ভাবেই নিয়েছেন, স্যার?

পুনর্বিবেচনা করা যায় না?

আমি ডিজির সাথে সাক্ষাৎ করেছি আজ।

যা বলার ছিল উনাকেই বলে দিয়েছি।

এর মানে, আমার সাথে এই বিষয় কথা বলতে আগ্রহী নন আপনি?

আরে, এরকম করে কেন বলছো?

তুমি তো জানোই, তাই না?

আমি আর এসব নিতে পারছি না।

আপনি বুঝবেন না, স্যার।

দীর্ঘ ২৫ টা বছর আপনাকে স্যালুট করে এসেছি আমি।

উচ্চ পদস্থ সেইসব আহাম্মক যারা দেশ শাসন করছে..

তাদের বাইরে যাদেরকে আমি স্যালুট করে প্রশান্তি পেতাম সেটা হচ্ছেন আপনি।

তাও আবার পূর্ন সম্মানের সাথে।

যখন চলে যাবেন আপনি...

এই স্যালুট জিনিসটাই মিস করবো আমি।

- শ্রীনি, জানি তোমার খারাপ লাগছে। - স্যার।

আমার প্রায় একার প্রচেষ্টায় সিটি টাস্ক ফোর্সকে দাড় করিয়েছি আমি।

স্যার,

এমনকি ৭ মাস ছুটি থাকাকালীন অবস্থাতেও আমি জানি...

তুমি এই ডিভিশনকে নিষ্ঠার সাথে পরিচালনা করেছ,

শুধুমাত্র আমার জন্য।

আর যখন আমি ডিউটিতে ফেরত আসলাম...

মুখ দিয়ে "অবসর" শব্দটা বলা মাত্র,

কেন এভাবে মুষড়ে পড়ছো?

বাদ দিন, স্যার।

আপনার জায়গায় আমি থাকলে হয়তো..

শেষমেশ পাগলই হয়ে যেতাম!

তুমি নিশ্চিত?

স্যার?

যে আমি পাগল নই?

তোমার অভিব্যক্তি কেমন অন্যরকম লাগছে।

কোন কিছু নিয়ে বিরক্ত তুমি?

আজকে সকালে খবর টা শোনেননি?

না। কী খবর?

৩ জন খুন হয়েছে, স্যার।

সবাই সমাজের উঁচুতলার বাসিন্দা।

একজন আমাদের পুরনো কলিগ,

অবসরপ্রাপ্ত অ্যাসিস্ট্যান্ট কমিশনার ভিনোদ আব্রাহাম।

ক্রাইম সিন দেখলে পুরো বিষয়টা বুঝতে পারবেন আপনি।

কোন কাটাছেড়া কিংবা ধস্তাধস্তির আলামত নেই।

মুখে কালো মুখোশ পরা ছিল তাদের।

তিনটা লাশই সারিবদ্ধ ভাবে পরে ছিল।

খুবই অদ্ভুত, স্যার।

হত্যা,

একটা কিংবা দু'টো সেটা অদ্ভুত ব্যাপারই।

কে কাকে মেরেছে? কেন মেরেছে? কখন মেরেছে?

এই প্রশ্নগুলো অসার এখানে।

এই দুনিয়ায় সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপারটা হচ্ছে,

একজন মানুষের হাতে আরেকজন মানুষের মৃত্যু।

"রক্তের নেশা সুস্থ স্বাভাবিক মানুষকেও মুহূর্তের মধ্যে বদ্ধ উন্মাদ করে ফেলে।"

বলেছিলেন ল্যাডি ম্যাকবেথ, তাও আবার খুন করার পর।

শেক্সপিয়র একটা জিনিস বলতে হবে!

চলো যাই সেখানে!

স্যার!

বিকাল ৫ টা বাজার আগ পর্যন্ত টাস্ক ফোর্সের অবিসংবাদিত প্রধান আমি।

তাই, ক্রাইম সিনে আসাটা আমার দায়িত্ব।

এখানে আমাকে নিয়ে যেতে এসেছিলে, তাই না?

আমার ক্যারিয়ারের শেষ ক্রাইম সিন পরিদর্শন।

এখন খুঁটিনাটি বলো আমাকে।

আগেই বলেছি আপনাকে,

৩ জন লোক খুন হয়েছে।

থারাকানস বিশেষায়িত মেডিক্যাল সেন্টারের মালিক, ড. ধানেশ থারাকান।

তারপর, রাজ্যের ঔষধ নিয়ন্ত্রন কর্তা মোহান নায়ের...

এবং আমাদের সাবেক এসিস্ট্যান্ট কমিশনার ভিনোদ আব্রাহাম, যিনি গত মাসেই অবসর গ্রহন করেছিলেন।

হয়তো জেনে থাকতে পারেন, এই ভিনোদ আব্রাহাম আপাদমস্তক একজন প্রতারক ছিল।

চাকুরি থাকাকালীন সময়েও রিয়েল অ্যাস্টেট মাফিয়াদের সাথে তার যোগাযোগ ছিল।

অবসরের পর তিনি পূর্ন উদ্যমে রিয়েল অ্যাস্টেট ব্যবসায়ে ঢুকে যান।

আশ্চর্যের ব্যাপার ছিল এটাই,

যে ভবনে এই হত্যাকান্ডের ঘটনা ঘটেছে,

সেটা বাড়ির মালিকদের অন্তর্দন্ধের কারণে বেশ কয়েক বছর বন্ধ ছিল।

ফ্যামিলি ট্রাস্টের অধীনে নিয়োগপ্রাপ্ত একটি ক্লিনিং এজেন্সি,

প্রতি শুক্রবার বাড়িটা পরিষ্কার পরিচ্ছন্নের কাজ করে।

আজ ভবনে তারা ঢোকার পর লাশগুলো দেখতে পায়।

- স্যার! - স্যার, প্লিজ!

পরে কথা বলবো আপনাদের সাথে।

প্লিজ, সরুন।

- স্যার, প্লিজ। - সরুন প্লিজ।

সকালে তোমার সাথে সাক্ষাতের পর জিজ্ঞেস করতে ভুলে গিয়েছিলাম।

বুক এখনো ধড়ফড় করছে?

ভয়াবহ, স্যার। হোমিওপ্যাথি ওষুধ খাচ্ছি এখন।

খেতে থাকো, সেরে যাবে।

স্যার, আপনি নাকি আমাকে ট্রাফিকে শিফট করেছেন।

আমি লম্বা সময় দাঁড়িয়ে থাকতে পারি না।

দেখুন, স্যার।

খেতে দিলে শুতে চায় অবস্থা এদের।

আমাদের পুলিশ প্রশাসনে কোন জিনিসটা বেশি উপস্থিত জানো?

স্যার?

মানবতা।

- স্যার। - কী হয়েছে? ?

ফরেনসিক ডিপার্টম্যান্ট কাজ শুরু করেছে।

ক্রাইম সিন বড় হওয়ায় একটু সময় লাগতে পারে।

দরজা ভেঙে ঢোকার কোন আলামত নেই, না?

না, স্যার।

ক্লিনিং এজেন্সির লোকগুলো? যেতে দেবে না ওদেরকে।

তাদের কাছেই সবগুলো চাবি ছিল।

চাবি ডুপ্লিকেশন এদের কাছ থেকেও হতে পারে।

স্যার, আমি ওদেরকে থানায় জিজ্ঞাসাবাদের জন্য পাঠিয়েছি।

- আর মৃতের আত্মীয় স্বজনেরা... - তাদেরকে সেখানে অপেক্ষা করতে বলো।

- স্যার! - স্যার, এ হচ্ছে হার্শিতা চোপড়া।

আমাদের টাস্ক ফোর্সে আছে বর্তমানে।

ইরিনজালাক্কুডার এএসপি ছিল এর আগে।

আমাদের সন্দেহ হচ্ছে মৃতদের বিষ প্রয়োগে হত্যা করা হয়েছে।

তাদের প্রত্যেকের ডান হাতেই ইনজেকশনের সূচের দাগ আছে।

স্যার!

কিছু বলবে?

এটা এখন এই পরিস্থিতিতে বলা ঠিক হচ্ছে কিনা জানি না।

গত রাতে, অদ্ভুত একটা অভিজ্ঞতার সম্মুখীন হয়েছি।

কী?

এখান থেকে রেস্টুরেন্টটার দূরত্ব ১ কি.মি. হবে।

অই ঘটনার সাথে এই হত্যাকান্ড গুলোর,

কোন যোগসুত্র থাকতে পারে!

আমার এরকমটাই মনে হচ্ছে!

কোন মেয়ে কফি শপে এসে তার স্বামী কিংবা বয়ফ্রেন্ডের সাথে ঝগড়া করছিল।

যখন তাকে প্রশ্ন করেছিলে,

সে পুলিশের সাহায্য চাইতে অপারগতা প্রকাশ করে দ্রুত সেখান থেকে প্রস্থান করে।

এরকম একটা ঘটনার সাথে এই খুন গুলোর কী যোগসূত্র থাকতে পারে?

আমি স্যরি, স্যার।

ভুল হয়ে গেছে।

ঠিক আছে।

আসছে আমার লেডি গোয়েন্দা!

নতুন তো! উত্তেজনা বেশি!

শ্রীনি, আমি চলে যাচ্ছি।

তোমার ইচ্ছে অনুযায়ী এসে সব কিছু ঘুরে ঘুরে দেখলাম।

এখন এই কেসের ভার তোমার হাতে।

কাল সকালে আমার যাত্রা শুরু হবে, ওকে?

গুড লাক!

তবে?

স্যার, এক মিনিট।

স্যার!

- আপনি গতকাল জয়েন করেছেন, তাই না? - জি স্যার।

ফোন দিয়েছিলাম, কিন্তু আপনার মোবাইল বন্ধ ছিল।

আপনার ল্যান্ড লাইনে ফোন করেছিলাম। ধরেনি কেউ।

স্যার,

আপনার কারণেই ডিজি স্যার আমার বরখাস্তের লেটারটা ক্যান্সেল করেছিলেন।

আর কমিশনারের বয়ান অনুযায়ী টাস্ক ফোর্সে আমাকে নেওয়া হয়েছে,

আপনার নির্দেশের কারণেই।

কীভাবে ধন্যবাদ জানাবো ভাষা খুজে পাচ্ছি না!

তোমার মেয়ে সাইনাবা?

মেডিসিনে ভর্তি হয়েছে, স্যার।

আমাকে বাধ্য হয়ে বড় অংকের ঘুষ দিতে হয়েছিল।

অন্য সাব্জেক্টে চেষ্টা করেছি, স্যার।

কিন্তু, ওর ইচ্ছে এই সাব্জেক্টেই পড়বে, স্যার।

স্যার!

স্যার, ৭ মাসে একজন মানুষ কি এতোটা বদলে যেতে পারে?

৭ মাসের কী দরকার?

৭ মিনিটেই একজন মানুষ তার বেঁচে থাকার আশা হারিয়ে ফেলতে পারে।

আপনি একজন পুলিশ?

হ্যাঁ ,বাবাজি!

ওঠো!

পুলিশ!

ওঠো!

- কিছুই পাইনি, স্যার। - আসো!

- সবাইকে ভাল করে চেক করো। - ওকে স্যার।

- জি? - পুলিশ!

পুলিশ?

স্যার, হায়দ্রাবাদ থেকে এসেছি। মধুসুধন রেড্ডি।

এখানে এসেছেন কেন?

স্যার...

আমার বন্ধুর মেয়ের বিয়েতে এসেছি।

কিছু বন্ধু আমাকে নেমন্তন্ন করেছে।

পার্টি, মিউজিক...মিউজিক ভালোবাসি, স্যার।

কিন্তু, মাদক নয় স্যার।

কসম খেয়ে বলছি, স্যার।

- বিশ্বাস করুন! - ওকে।

একটা ছবি তুলবো।

অবশ্যই, স্যার!

ধন্যবাদ আপনাকে।

ফেলিক্স ডি ভিনসেন্ট।

গোয়ার মাদক ব্যবসায়ের হর্তাকর্তা।

সেখানকার রাশিয়ান মাফিয়াদের বিশ্বস্ত লোক।

দেখুন, মি. ম্যাথিউ।

একটা চুক্তি করি!

আপনি আমাকে কখনই দেখেননি!

শুধুমাত্র আপনার চোখ বন্ধ করে ফেলুন।

সেখানে পরে থাকা দু'টো ব্যাগ নিয়ে চলে যান।

আর বাকিটা...

আপনার পছন্দমত জায়গায় পৌছে দেওয়া হবে।

আমাকে যেতে দিন।

নয়তো, আপনার জীবনের গতিপথটাই বদলে যাবে।

সবকিছুই বদলে যাবে।

এই ভুলটা কিন্তু ভুলেও করবেন না, স্যার।

আরে, এলিক্স!

ভেবেছিলাম, তোমার হুমকিটা একটু জুতের হবে!

হতাশ করলে আমাকে।

- ইকবাল। - স্যার!

নাও।

আর পুরো জায়গাটা তাকে সুদ্ধ ঘিরে ফেলো।

আমার প্রশ্নের উত্তর না দিয়ে আর কতক্ষণ এভাবে বসে থাকবে, ফেলিক্স?

এই জায়গাটার অবস্থান বাইরের কেউ জানে না।

এখানে এর আগে কখনোই তুমি আসোনি।

কীভাবে ফেরত যাবে?

আপনার হুমকিতে ভালোই জোশ আছে!

আপনি যদি অনুমতি দেন স্যার,

আমি তাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে পারি।

হুমকি দেব না, ডাইরেক্ট অ্যাকশনে যাবো।

বাপ বাপ করে সব বলবে।

বলবে না?

কেরালায় হঠাত করে মাদকের বিস্তার বেড়েছে।

তোমার ডিলারের নেটওয়ার্ক রয়েছে সেখানে।

মাদক সরবরাহের ব্যাপারে,

সব তথ্য আমার চাই।

ওসব না পাওয়া পর্যন্ত, তুমি এখান থেকে মুক্তি পাচ্ছ না।

আমার কোন তাড়াহুড়ো নেই।

জায়গাটা বলতে গেলে পছন্দই হয়েছে আমার।

গত রাত থেকে মোবাইল সুইচড অফ।

না জানি ওর কত রাগ এখন আমার ওপর!

আপনি যান, স্যার।

কাল দিল্লীতে যাচ্ছেন, স্যার?

ও কিছু শপিং এর প্ল্যান করেছে।

সেজন্যই এখন এখানে ও।

এই ফেলিক্সকে কাস্টোডিতে রেখে দিল্লীতে কীভাবে যাব আমি?

আপনি তো পরদিনই চলে আসবেন, তাই না স্যার?

তাকে ২ দিন আমি সেবাযত্ন করবো নাহয়।

আর আপনিও এখন চলে যাচ্ছেন।

ফালতু জোক করো না, ইকবাল।

ডিজির সার্কুলার তুমিও দেখেছ, ঠিক?

পুলিশকে কাউকে মারতে নিষেধ করা,

বানরকে গাছে উঠতে না দেওয়ার মতো।

আমাদের গরিমা প্রকাশ পায় তো মার দেওয়াতেই, স্যার!

এটা ভালো ছিল।

তোমার মেয়ে সাইনাবার কী অবস্থা?

স্যার, মনে হয় না ওর পছন্দের কলেজে ওকে ভর্তি করাতে পারবো।

আপনি সেই তুলনায় অনেক ভাগ্যবান।

এন্ট্রান্স পরীক্ষায় ৩য় স্থান অর্জন চাট্টিখানি কথা না!

আপনার মেয়েকে আমার অভিন্দন জানাবেন।

ধন্যবাদ।

হেই মালু।

স্যরি সোনা, কাজে আটকা ছিলাম।

যেতে পারি আমরা? তোমার আম্মু কোথায়?

আম্মু শপ থেকে আমার জন্য কাপড় বাছাই করছে।

তোমাকে বিরক্ত করতে মানা করেছে।

চলে যাচ্ছি।

তোমাদের সাথে আবার শপিং এ কবে যেতে পারবো কে জানে।

স্যরি সোনা! তোমাকে আগেই তো বলেছি, তাই না?

আব্বুর চাকরিটাই এমন।

দুনিয়াতে কোন পেশাটাকে সবচেয়ে বেশি ঘৃণা করি জানো?

পুলিশ!

কারণ, এই পেশায় রক্তারক্তি থাকেই।

যেটা আমি বলতে চাইছি...

পুলিশের এই চাকরিটা আইন প্রয়োগ নিশ্চিত করার জন্য।

তাই, প্রয়োজনের খাতিরেই মাঝেমধ্যে সংঘর্ষে যুক্ত হতেই হয়।

আমি যে পেশাটা বেছে নিয়েছি সেটা ভাল, বাবা।

ডাক্তার হওয়া মানে, মানুষকে বাঁচানো।

পুরো দুনিয়াকে বাঁচানো।

আম্মু পথশিশুদের জন্য যে স্কুলটা শুরু করতে যাচ্ছে...

ঠিক তার পাশেই আমি একটা ছোট্ট হাসপাতাল চাই।

তোর আর তোর মার প্ল্যান মাফিক চললে, কয়েকদিনের ভেতরেই দেউলিয়া হয়ে যাবো।

জীবনের আসল মজাটা তো সেখান থেকেই শুরু হবে বাবা!

লাইভ অ্যাডভেঞ্চার!

স্যরি! স্যরি!

মালু, দেখ পোশাক গুলো পছন্দ হয়েছে কিনা।

তোর মা বাছাই করেছে তো?

দারুন তো হবেই!

- দেখছি চেক করে। - যা।

হেই!

এরপরে কী বলবে সেটা ভাল করেই জানি আমি!

এক উসিলা আর কতবার দেবে?

ডিস্কোভারিতে দেখলাম গতকাল।

ম্যান ভার্সেস ওয়াইল্ড।

জঙ্গলে রাত কাটানো।

ও চলে যাওয়ার ৩/৪ দিন আগে ছুটি নেবো ভেবেছিলাম।

নিশ্চয়ই পাওনি।

ব্যাপার না।

ও তোমার আমার চেয়েও অনেক বুদ্ধিমতী।

আর

গতকাল যা করেছ সেটা অনেক মহৎ একটা কাজ ছিল।

জানো, আমার কত স্টুডেন্টের মা আমার কাছে এসে তাদের

সন্তানদের মাদক গ্রহনের কথা বলে কান্নাকাটি করেছে?

ওর ইচ্ছেটা কী জানো?

যে স্কুলটা শুরু করার প্ল্যান করছি আমরা তার পাশে ছোট্ট একটা হাসপাতাল দেওয়া।

আর ফ্রি চিকিৎসা সেবা দেওয়া সবাইকে।

ও তোমার মতই বড় হৃদয়ের মানুষ।

তোমার মতোও!

সত্যি কথাটা বলো।

ও দিল্লীতে পড়তে যাচ্ছে সেজন্য কষ্ট পাচ্ছ, ঠিক?

ওর জন্য এটা বেশ ভাল একটা সুযোগ।

তাও সোনা,

তুমি ওকে অনেক মিস করবে।

ও চলে যাচ্ছে ভেবে তুমি ব্যথিত নও?

হ্যাঁ, তাতো বটেই।

তবে মানসিকভাবে একটু বেশি শক্ত আমি।

ব্যাপারটা কিন্তু মন্দ না!

এরপর, শুধু তুমি আর আমিই থাকবো।

ঠিক পুরনো দিনের মতো,

আবার নতুন করে জমিয়ে প্রেম করবো!

আব্বু!

- শ্রীনি? - স্যার।

তুমি এত সকালে?

স্যার, আপনি যাওয়ার আগে ডিজি আপনার সাথে জরুরী ভিত্তিতে দেখা করতে চান।

তিনি আমাকে পাঠিয়েছেন আপনাকে নিয়ে যাওয়ার জন্য।

চলুন, স্যার?

আমি আমার গাড়িতে আসছি। তুমি জিপে করে চলে যাও।

আমিও আপনার সাথে আসি, স্যার।

যে মানুষ গুলো মারা গেছে তারা বেশ গুরুত্বপূর্ন মানুষ।

এদের মধ্যে আবার একজন আমাদেরই লোক ছিল।

তুমি তো এখন পর্যন্ত প্রাথমিক কোন ধারণাও দাওনি।

স্যার, এটা এমন একটা ক্রাইম যেটায় দ্রুত আমরা উপসংহারে পৌঁছুতে পারবো না।

আমি সিএমের সামনে একটা ঘন্টা মাথা নিচু করে বসে ছিলাম।

লজ্জার আর কিছু বাকি নেই।

তোমার কী মনে হয়?

কে করতে পারে এরকম কাজ?

আমার কিছুই মনে হয় না, স্যার।

ম্যাথিউ, তোমার সাহায্যের প্রয়োজন আমার।

অপরাধীর মনস্তত্ত্ব তোমার মতো কেউই বাস্তবিকভাবে ব্যাখ্যা করতে পারবে না।

এটা তোমার খেলা, ম্যাথিউ।

এটা কোন খেলা নয়, স্যার।

সেরকম কিছু না।

এখন এই ফোর্সের অংশ নই আমি।

ম্যাথিউ,

শুধু তোমার একটু দিকনির্দেশনা প্রয়োজন।

তুমি চাকরিতে থাকো বা না থাকো সেটা কোন সমস্যা না।

পুরো টীম,

পুরো অবকাঠামো তোমার হাতে গড়া।

ম্যাথিউ,

তোমার যাত্রাটা সামান্য সময়ের জন্য পেছাতে পারো না?

স্যরি স্যার।

স্যার, প্লিজ।

প্লিজ, শ্রীনি।

- স্যার... - বাদ দাও।

- শ্রীনি, এক সেকেন্ড। - স্যার।

এখানে অপেক্ষা করো তুমি।

ম্যাথিউ, এক মিনিট।

তোমার সাথে কিছু কথা শেয়ার করতে চাই।

যে ভয়টা করেছিলাম সেটাই হলো।

টেস্টের রেজাল্ট এসে পরেছে।

এটা পজেটিভ।

হাড়ের বোন ম্যারোতে ক্যান্সার হয়েছে।

একমাত্র উপায় হচ্ছে বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করা।

কিন্তু,

কোন কিছুরই গ্যারান্টি নেই আসলে।

এর পরবর্তী ধাপে, শরীরে মরণ ব্যাথা শুরু হবে।

এই জীবন মরণের মাঝে এই কেস চলে আসায়,

ভীষণ অসহায় অনুভব করছি আমি।

সেজন্যই তোমাকে আসতে বলেছি।

আমি কারো সাথেই এই ব্যাপারে কিছু শেয়ার করবো না।

তুমিই একমাত্র ব্যক্তি,

যে আমার হৃদয়ের কাছাকাছি অবস্থানে আছে।

তোমার যাত্রা ক্যান্সেল করো না।

- শ্রীনি। - স্যার!

- তুমি তদন্ত চালিয়ে যেতে থাকো। - স্যার!

সন্ধ্যায় রিভিউ মিটিং এ আমিও আসবো।

আমরা আমাদের সর্বোচ্চ চেষ্টাটা করবো, স্যার।

- বেশ। - স্যার।

- পরে ফোন দেবো তোমাকে। - শ্রীনি!

স্যার?

অই অফিসারটা? কী যেন নাম? হার্শিতা?

সে তোমাকে একটা ঘটনা বলেছিল, তাই না? রেস্টুরেন্টে বোরকা পরা একটা মেয়ে?

ওটা কিছুই না, স্যার।

- কিছু একটা আছে, শ্রীনি। - স্যার।

হার্শিতা আর ইকবালকে,

ওই রেস্টুরেন্টে আসতে বলো।

- আমি সেখানে পৌঁছে যাবো। - তো...

তুমি তোমার যাত্রার সময়টা পেছালে?

আপনি রিভিউ মিটিং টা ক্যান্সেল করে দিতে পারেন।

আমি সন্ধ্যায় এসে আপনার সাথে দেখা করবো, স্যার।

ধন্যবাদ ম্যাথিউ।

অসংখ্য ধন্যবাদ তোমাকে।

উনি কাজে লেগে পরেছেন।

- শ্রীনি। - স্যার?

প্রত্যেকটা অপরাধই সাধারণ।

একজন খুনি তার নিজস্ব কিছু ধ্যানধারণা

খুন করার সময় কাজে লাগাবে।

এই কেসে সে আমাদের চলার পথে অনেক ধুম্রজালের সৃষ্টি করে রেখেছে।

ফোকাস হারিয়ো না।

স্যার!

চাকরিতে জয়েন করেছ কতদিন হলো, হার্শিতা?

১০ মাস ১৫ দিন, স্যার।

রাতে ঘটা ঘটনা আর এই ট্রিপল মার্ডারের সাথে কী যোগসূত্র খুঁজে পেয়েছিলে?

সত্যি কথা বলতে গেলে, আমি জানি না স্যার।

কিন্তু, ৬ষ্ঠ ইন্দ্রীয় বলছে...

সন্দেহ আর কি।

আমি কি বলবো...

কেন তুমি দুটো ঘটনাকে এক সাথে কানেক্ট করেছ?

স্যার!

মেয়েটাকে যখন সাহায্যের অফার করলে,

প্রত্যুত্তরে কী বলেছিল মেয়েটা?

না।

আপনি আমাদের সাহায্য করতে পারবেন না।

ওকে।

সে "আমাকে" বলেনি।

বলেছে "আমাদেরকে"।

জি, স্যার,

মুখ ফসকে বলে ফেলেছে মেয়েটা।

তুমি তাতেই ভেবেছ,

মেয়েটা একা নয়। তার সাথে কেউ একজন আছে।

তুমি তোমার ভাবনাটা সেখানেই ফেলে আসলে।

পরে যখন দেখলে ৩ টা লাশ সারিবদ্ধ ভাবে মাটিতে পরে আছে,

যে মেয়েটা বলেছিল "আমাদেরকে"

তুমি ক্রাইম সিনে মনে মনে তাকে সেট করেছ।

- সেটাই ঘটেছে। - স্যার।

রেস্টুরেন্টের দরজা খুলে ভেতরে ঢোকার সময়,

সে গ্লাসের ওপারে কারো দিকে তাকিয়েছিল।

যেক কেউ তাকে অনুসরণ করছে।

ঠিক আছে?

ঠিক, স্যার।

তুমি গ্লাসের ওপারে তাকিয়েছিলে?

না, স্যার।

তাহলে গিয়ে দেখো।

অপরাধীর উদ্দেশ্য বুঝতে চাইলে অপরাধীর মতো চিন্তাভাবনা করতে হবে।

একজন দক্ষ পুলিশ অফিসারের বৈশিষ্ট্য এটা।

- যাও, গিয়ে দেখে আসো। ] - স্যার।

স্যার, এটা তো স্বচ্ছ নয়।

হুম।

তুমি বলেছ, মেয়েটা গ্লাসের দরজার ওপারে এক মিনিট তাকিয়ে ছিল।

যদি বাইরে ঠিকমত কিছু দেখাই না যায়,

তবে সে করছিল টা কী?

স্যার, গ্লাসের প্রতিফলন দেখা যায়

এই টেবিল থেকে।

সে গ্লাসের প্রতিফলনের মাধ্যমে অই টেবিলে বসা কাউকে দেখছিল।

তাহলে, মোদ্দাকথা এটাই।

তার ভয় এবং নার্ভাসনেস,

টেবিলে বসা ব্যক্তিটির মনোযোগ আকৃষ্ট করবার জন্য একটা ড্রামা ছিল।

সে আশা করেছিল টেবিলে বসে থাকা ব্যক্তিটা উঠবে,

তার কাছে গিয়ে কি হয়েছে জিজ্ঞাসা করবে।

তাহলে, এই টেবিলে সেদিন কে বসেছিল খুঁজে বের করা যাক।

ইকবাল, সিসিটিভি ফুটেজের ব্যবস্থা করো।

স্যার, এই সিসিটিভি ফুটেজে...

হ্যাঁ, ওটা আমি।

দীর্ঘদিন ধরে আমি এখানে...

৮.৩০ টার দিকে এখানে আসি।

ডিনার করি।

তারপর, ৯.৩০ টায় চলে যাই।

মেয়েটা আমার অভ্যাসের কথা জানতো বলেই দৃষ্টি আকর্ষনের জন্য এসব করেছে।

না! কেউই আমাদের সাহায্য করতে পারবে না!

সে আশা করেছিল, এতে আমি সাড়া দেব।

কিন্তু, সেরকম কিছুই ঘটেনি।

কিন্তু কেন, স্যার?

জানি না।

হার্শিতা, মেয়েটার ব্যাপারে আরও কিছু বলতে পারবে?

কীভাবে কথা বলে সে?

মেয়েটা শিক্ষিত, স্যার।

তার কথায় শহুরে টোন আছে, স্যার।

এবং স্যার, ব্যাপারটা ভারি অদ্ভুত!

কী?

মেয়েটা ধূমপান করে!

আমিও তাই ভাবছি, স্যার।

তার হাতের ব্যাপারে কোন তথ্য?

আঙ্গুল? নখ?

মনে করতে পারো কিছু?

তার হাতে বেশ সুন্দর আঙ্গুল আছে।

কড়া নেইল পলিশ এবং,

'ওম" শব্দটা ট্যাটু করা।

সেদিন সেখানে যাই ঘটুক, আমি অত খেয়াল করিনি।

সেজন্যই মেয়েটার ব্যাপারে কম জানি।

তবে, মেয়েটার জুতো দেখেছি আমি।

এটা আমার একটা অভ্যাস।

আমার থিউরী অনুযায়ী, একজন মানুষের চরিত্র এবং সংবেদনশীলতা

তার জুতো দিয়েই পরিমাপ করা যায়।

মেয়েটা পায়ে বুট পরে ছিল।

সিগারেটের গন্ধ।

কড়া কালারের কেইল পলিশ।

"ওম" ট্যাটু।

বুটস।

আপাদমস্তক বোরকায় ঢাকা,

সে কারো কাছ থেকে ভয়ে পালিয়ে বেড়াচ্ছে,

যে কোন সময় যে কোন বিপদে পরতে পারে মেয়েটা,

কিছু একটা মিলছে না!

কোন সন্দেহ নেই, স্যার!

মেয়েটার মধ্যে ঘাপলা আছে।

আমাদের তাকে খুঁজে বের করতে হবে।

আমাদের এরপরে মৃত লোকগুলোর ওপর চোখ বুলাতে হবে।

তাদের লাশ একই সাথে কেন?

থারাকান্স মেডি সিটি চেয়ারম্যান এবং ব্যবস্থাপনা পরিচালক, ড. থারাকান।

রাজ্য ওষুধ নিয়ন্ত্রনকর্তা, মোহান নায়ের।

অবসরপ্রাপ্ত ডিএসপি ভিনোদ আব্রাহাম।

এই তিনজনের মধ্যে কানেকশনটা কোন জায়গায়?

স্যার, হয়তো আপনার মনে আছে।

১০ মাস আগে

পরিষ্কার করে বললে, ২৩শে অক্টোবার, ২০১৬।

থারাকান্স মেডি সিটি নিয়ে মিডিয়াতে তোলপাড় হয়েছিল...

কারণ, তারা আমদানিকৃত লাইসেন্সবিহীন ওষুধ ব্যবহার করেছিল।

৯ থেকে ১৬ বছর বয়েসের মধ্যে থাকা ৮ জন শিশু মারা যায় এতে।

তখনকার সময়ে মিডিয়া এটা নিয়েই বুঁদ ছিল কয়েকদিন।

সরকার ওষুধ নিয়ন্ত্রন কর্তাদের মধ্য থেকে রিপোর্ট চেয়েছিল।

গোঁজামিলে ভরা রিপোর্ট দেওয়ার কারণে ড. থারাকান বহিষ্কৃত হন।

থারাকান এবং মোহান নায়েরের মধ্যে যোগাযোগ ছিল।

তারা এক সাথে সম্পত্তিতে বিনিয়োগ করে, স্যার।

বিশেষ করে, ২০১৬ এর অক্টোবারের পর।

যদি আমরা ভেবেও থাকি যে থারাকান এবং মোহান লাইসেন্সবিহীন

ওষুধ ইনজেকশনের মাধ্যমে পুশ করার কারণে মারা গিয়েছে।

বাকি যে থাকে সে হচ্ছে ভিনোদ।

এই কেসের সাথে তার কোন সম্পৃক্ততা নেই।

সে এখানে একজন বাইরের লোক।

এই দলটার মধ্যে অস্বাভাবিক কিছু আছে।

স্যার, থারাকান এবং মোহানের রিয়েল অ্যাস্টেট ব্যবসায়ে,

ভিনোদ স্যার মধ্যসত্তভোগী হিসেবে কাজ করছিল।

ভিনোদ স্যার এই লোকগুলোর মাধ্যমে অবৈধভাবে ভবন কেনাবেচা করতো।

জয়েন্ট কানাপ্পু এবং পাইপ কুনুমান।

এটা সত্য।

৪৬ টা ডকুমেন্টস ছিল।

কিন্তু এগুলোর সাথে আরও ৮ টা ডকুমেন্টস আছে।

ওগুলোর সাথেও এগুলোও চলে আসবে।

সর্বমোট মূল্য ৯ কোটি টাকা।

ক্যাশে পাওয়া যাবে ৫ কোটি।

বাদ দে।

আমি জানি তুই এর চেয়েও বেশি পাবি।

কর্নাটক থেকে ক্যাশ টাকা আনার পরে, জানাবি আমাকে।

সেখানে আমাদের লোক আছে।

রমেশ স্যার, কুঞ্জামান বলছি।

জি, পাইপ কুঞ্জামান।

কোচি কর্নাটকে ০.৫% রেটে কাজ করতে পারবো আমরা।

বাজারের সবচেয়ে আকর্ষনীয় মূল্য এটা।

৫ কোটি হলে...

০.৫% এ কত হয়?

দেতো বাল!

রমেশ স্যার, সন্ধ্যায় আপনাকে ফোন দেব।

কখনো ডিল ফিক্স করার মাঝখানে নাক গলাবি না।

এই জায়গা থেকে এমনিতেই ৮ মাস ধরে বের হওয়ার চেষ্টা করছি!

রমেশকে এত করে রাজী করানোর চেষ্টা করছি, কিন্তু...

হেই! মানি লন্ডারিং এর কাজ আমার ডিপার্টমেন্টের।

কমিশনের ব্যাপারে আমি কথা বলবো।

তোর ঘিলু নিয়ে চললে ফতুর হতে হবে আমাকে।

এমনিতেই পকেটে টানাটানি চলছে!

ভাল হয় যদি তোর মুখটা বন্ধ রাখিস।

যার সাথে মোলাকাত করতে যাচ্ছি মানুষটা বেশ ভয়ংকর।

- খুবই ভয়ংকর! - কিসের ভয়ংকর?

সে সন্দেহভাজন। আয় আমার সাথে।

কি ব্যাপার?

বললাম তোদের সাথে সাক্ষাত করতে চাই, আর তোরা কিনা আধা ঘন্টা ধরে বসিয়ে রেখেছিস!

না, স্যার!

আমাদের একটু কাজ পরে গিয়েছিল, স্যার।

বাটারবন খাবেন, স্যার?

খাবেন না?

আমাদের সাথে কেন দেখা করতে চেয়েছেন, স্যার?

কিছু না, কানাপ্পি।

ভিনোদ স্যারের অন্ত্যেষ্টিক্রিয়ায় তোমাদের দেখিনি।

দুজনেই তো দেখতাম সবসময় তার লেজ ধরে থাকতে।

আমরা শহরের বাইরে ছিলাম, স্যার। কোইম্বাতুরে ছিলাম।

রিয়েল অ্যাস্টেট ব্যবসায়ে বেশ মন্দা চলছে।

কিন্তু ভিনোদ স্যারকে অল্প সময়ে এত পয়সাকড়ি কামাতে দেখলাম,

কী খেলা চলছে পর্দার আড়ালে?

তোমরা কি শূন্যস্থান পূরণ করার চেষ্টা করছিলে?

ভিনোদ স্যারের আকস্মিক মৃত্যুতে, একটা শূন্যস্থানের সৃষ্টি হয়।

আপনিও নিজেও শূন্যস্থান ভরাট করে দিতে পারতেন, স্যার।

ভিনোদ স্যার আপনার মত ছিল না, স্যার।

দুর্নীতির এটাই হচ্ছে সুবিধা।

সবার সাথেই আপনার যোগাযোগ থাকবে।

সেই যোগাযোগের খাসা মূল্যও পাওয়া যাবে।

স্যার, আপনার সাময়িক বরখাস্তের মেয়াদ কি শেষ?

স্যার, একজন বহিষ্কৃত পুলিশ,

আর একজন ফ্লপ সুপারস্টার,

দুজনে একই!

দার্শনিকতার বুলি?

ভায়েরা,

অই বন্ধ বাংলোতে ভিনোদ স্যারের লাশ আরও দুটো লাশের পাশে ছিল।

বাড়ির মালিকদের মধ্যে তো ঝামেলা আছে, তাই না?

ভিনোদ স্যার কি সবার মধ্যে সমঝোতা করিয়ে দিয়েছিল?

তো এইজন্যই আপনি আমাদের সাথে দেখা করতে চেয়েছেন?

অই সম্পত্তির প্রতি আগ্রহ আছে নাকি আপনার?

হ্যাঁ।

সেরকমই বলতে পারো।

বলাটা একটু জটিল, স্যার।

আমরা অনেক চেষ্টা করেছি।

শুধু তাই নয়,

অই বাড়ির মালিকারা দুনিয়ার নানা জায়গায় থাকে।

তারা একে ওপরকে ভীষণ ঘৃণা করে।

ভিনোদ স্যার অই সম্পত্তি নিয়ে ফন্দি আঁটছিলেন অনেক দিন ধরেই।

যখন দেখলেন ফন্দিমত কাজ হচ্ছে না, তিনি চেষ্টা থামিয়ে দেন।

এখনো,

অই বন্ধ বাড়িতে তারা প্রবেশ করলেন কী করে?

জানি না, স্যার। আমরা নিজেরাও গত ২ দিন ধরে বিষয়টা নিয়ে ভাবছি।

বাড়িতে প্রবেশ করা, আবার তাদের লাশও একসাথে পাওয়া কী ইঙ্গিত করে?

অই সম্পত্তির দরকার নেই, স্যার।

আরও নজরকাড়া সম্পত্তির খোঁজ আছে।

আপনি সাথে থাকলে ফাটিয়ে দেব আমরা!

আমাদের সাথে হাত মেলান, স্যার।

আমারও এটাই প্ল্যান।

তোমরাই কি এখন মাঠ কাঁপাচ্ছ নাকি?

খুবই ঝুঁকিপূর্ন কাজ, স্যার।

রিশিরাজ সিং স্যার আসার পর আগের মত ব্যবসা হচ্ছে না।

কোন দুষ্পাপ্য পেলে সেটাও আমরা একসাথে পাচার করবো।

মাশরুম, মাছ, কেমিক্যাল বা এরকম কিছু।

আপনার ডিপার্টমেন্ট আর ড্রাগস ডিলারদের সাথে খাতির রয়েছে, তাই না?

আপনি বললে কাজ শুরু করে দিতে পারি।

তার কোন প্রয়োজন নেই।

কেন?

চাকরিতে আবার বহাল হয়েছিল দুদিন হলো।

কী?

যদি কোন উলটাপালটা করতে দেখি,

মেরে তোদের চেহারার নকশা বদলে দেব!

এদিকে আয়।

কী যেন বলেছিলি?

একজন বহিষ্কৃত পুলিশ আর একজন ফ্লপ সুপারস্টার একই?

বেরিয়ে যা!

কোন বালের ফ্যান এইটা?

হ্যাঁ, বুঝতে পেরেছি।

বিল্ডিং টা প্রতি শুক্রবারে খোলা হয় এবং পরিষ্কার করা হয়। ঠিক?

জি স্যার।

তাই, বৃহস্পতিবার রাতটা বেছে নেওয়া হয়েছে খুন করার জন্য।

যাতে শুক্রবারে বিল্ডিং খোলার সাথে সাথেই সবাই লাশ খুঁজে পায়।

কোন ঝামেলা ছাড়াই।

কিন্তু কেন, স্যার?

বাইরের দুনিয়ার তো অই তিনজনের আসল পরিচয় জানা উচিত।

খুনি রাষ্ট্রের প্রতি একটা পরিষ্কার বার্তা দিতে চেয়েছে,

এই খুন গুলো করার মাধ্যমে।

কিছু বার্তা আমরা এড়িয়ে গেছি আর কিছু খোঁজা বাকি,

যেটা ক্রাইম সিনে আছে, ইকবাল।

আমি নিশ্চিত।

৩ জন মানুষ শারীরিক ভাবে শক্ত সমর্থ ছিল,

কোন দ্বিধা ছাড়াই তারা তাদের শরীরে ইনজেকশন পুশ করতে দিয়েছিল।

একটু অদ্ভুত মনে হয় না?

এমনটাও তো হতে পারে, স্যার।

যদি...

যদি তাদের ওপর বন্দুক তাক করা থাকে।

সেটাই।

যদি না খুনি একজনের বেশি হয়।

অন্ততপক্ষে দুজন খুনি ছিল স্পটে।

একজন অস্ত্র তাক করেছিল,

আরেকজনের হাতে সিরিঞ্জ ছিল।

স্যার, ঠিক দুই সপ্তাহ আগে,

এটা আহমেদাবাদের নাম্বার।

ভিনোদ স্যারের ফোনে একটা কল আসে।

৭ মিনিট ৩৮ সেকেন্ড কথা হয়েছিল।

ভিনোদ স্যার এরপর ড. থারাকানকে ফোন দেয়।

থারাকান এরপরে ফোন দেয় মোহান নায়েরকে।

তারপর থারাকান আবার ফোন দেয় ভিনোদ স্যারকে।

ভিনোদ স্যার এরপরে ইউপি নাম্বারে ফোন দেয়।

খুন হওয়া মানুষগুলোর মধ্যে এরকম গ্রুপ কল,

খুন হওয়ার আগেরদিনও ঠিক এরকম গ্রুপ কল!

তাহলে, একটা সিদ্ধান্তে আসা যাক।

২ সপ্তাহ আগে, আহমেদাবাদ থেকে,

ভিনোদ একটা ফোন রিসিভ করে।

বিল্ডিং এর মালিকদের মধ্যকার একজন বলে নিজেকে পরিচয় দেয়।

কল্পনা করো, ভিনোদকে তারা বলেছে বাড়িটা বিক্রির একটা সম্ভাবনার কথা।

হ্যালো।

জি?

হ্যাঁ ভিনোদ!

যে সম্পত্তির ব্যাপারে আমরা সেদিন কথা বলেছিলাম?

আমরা আগে চেষ্টা করেও পাইনি, ঠিক?

আমি আসছি। ৫ মিনিট অপেক্ষা করো।

সে এবং তার স্ত্রী এখানে এসেছে ২৪ তারিখে।

- হুম বলুন। - আমি পৌঁছেছি।

যখন তারা বিল্ডিঙে পৌছায়,

দরজা খোলার জন্য একটা ডুপ্লিকেট চাবির ব্যবহার করে তারা।

নিশ্চয়ই তারা বাড়ির ভেতরে অপেক্ষা করছিল।

খুনি গুলো!

এটা একটা অনুমান।

আর কিইবা ঘট্তে পারে?

বাড়ির ভেতরে থাকা খুনিগুলো যদি একজন পুরুষ আর একজন মেয়ে হয়?

যদি তারা নিজেদের স্বামী স্ত্রী বলে পরিচয় দেয়?

তাহলে, অই ডিলটা একটা বৈধ রূপ পাবে।

তাহলে রেস্টুরেন্টে বোরকা পরে থাকা হত্যাকারীদের মধ্যে একজন ছিল, স্যার?

আমি অন্তত অবাক হবো না এতে।

আমাকে কষ্ট করে ড্রপ করে দিতে হবে না।

স্যার!

এভাবে বলবেন না!

ওখানে ফাস্ট ফুড খাও,

নিয়মিতই সেখানে যাও নাকি?

রান্না কদাচিৎ করি।

নানা জনের কাছ থেকে নানা কিছু শুনেছি,

আপনার স্বেচ্ছা অবসরের ব্যাপারে।

আমার মনে হয় সবসময় এভাবে কাজ করে যাওয়া উচিত।

পুলিশের চাকরিতে,

আসলে আবেগ প্রকাশ করার সুযোগ কম।

রাগ, ক্ষোভ ইত্যাদি।

শুধু আমিই কি আবেগের ভারে জর্জরিত?

তুমি একটা ভাঙা সম্পর্ক নিয়ে মনোবেদনায় ভুগছো, তাই না?

মনের যাতনা কাটিয়ে উঠেছ?

আপনি কীভাবে জানলেন?

কে বলেছে আপনাকে?

তুমি আবেগের ব্যাপারে বলছিলে না?

তোমার পুরো অভিব্যক্তি,

ডান হাতে অই তিনটা মার্ক,

এগুলো প্রমাণ!

আমি একটা বোকা ছিলাম!

সে এসবের যোগ্য ছিল না।

আপনার মতো কাউকে কথাটা বলা উচিত হচ্ছে কি না জানি না, স্যার।

কথা বলায় কী সমস্যা? চালিয়ে যাও।

ভালবাসা ধোঁকা ছাড়া আর কিছুই নয়।

হয় ছেলেটা মেয়েটাকে ধোঁকা দেবে,

নয়তো মেয়েটা ধোঁকা দেবে ছেলেটাকে।

যদি তা না হয়, দুজনেই তারা ভালবাসার সাথে প্রতারণা করে।

আপনি ঠিক আছেন, স্যার?

হুম।

হেই!

অই সম্পত্তির আশা ছেড়ে দিন, স্যার।

হেই ইকবাল।

জি ম্যাডাম।

ম্যাথিউ স্যার...

সে একটু আজব প্রকৃতির।

বেশ মেধাবী, তবে...

সামান্য... তুমি তো জানোই... কেমন যেন

তাকে পাগল ভাবছেন, ম্যাম?

সেরকমটা না।

গত ৭ মাস তিনি যে পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছেন,

উনি যে বেঁচে আছেন এটাই তো অনেক বেশি।

তার স্ত্রী এবং মেয়েকে নিয়ে...

- ট্রাজেডির কথা বলছেন? - জি ম্যাম।

স্যারের মেয়ে এমবিবিএসে ভর্তি হয়েছিল।

স্যার এবং তার স্ত্রী এয়ারপোর্টে গিয়েছিলেন

তাদের মেয়েকে নিয়ে দিল্লীতে।

- বলো, শ্রীনি। - কোথায় আপনি, স্যার?

রাস্তায়, কেন?

স্যার, ফেলিক্স পালিয়েছে।

- কী? - স্যার...

কি বলছো এসব?

জি স্যার।

- আমি আসছি। - স্যার।

শ্রীধর, গাড়িটা এক সাইডে থামাও।

কি হয়েছে?

মা, আব্বুকে একটু...

তুমি আসছো না সাথে?

আসছি। পরের ফ্লাইটেই চলে আসবো। কথা দিচ্ছি।

ওকে মিথ্যা ওয়াদা দিয়ো না।

আসতে না পারলে এসো না। ব্যাস।

আমি তো নিরুপায়।

তুমি তোমার কাজে যাও।

আমাদেরকে নিয়ে টেনশন করতে হবে না।

তুমি আগামীকাল, পরশু, তরশু-যখন খুশি চলে এসো।

তুমি আসার আগ পর্যন্ত ওখানেই থাকবো আমি।

মন খারাপ করো না, বাবা।

এত চিন্তা করছো কেন? কোন সমস্যা নেই।

তুমি পরেও আসতে পারবে।

- শিউর? - হুম।

ওকে, বাই।

- বাই। - বাই আব্বু।

চুল ঠিকমত বাধোনি?

ঠিক আছে।

ভাল।

- আমার মেয়ে... - ম্যাথিউ।

ওকে এখন দেখার দরকার নেই, ম্যাথিউ।

ম্যাথিউ, প্লিজ।

ম্যাথিউ...

আমাদের মেয়ে কোথায়?

শান্ত হও। ওর কিছুই নি।

খুব খারাপ একটা খবর আছে।

মিসেস নীলিমা ম্যাথিউ কোমায়।

এরপরে যা বলবো তা বেশ গুরুত্বপূর্ন।

বসুন।

নীলিমার কেসটা একটু অদ্ভুত।

সময়টা,

ঠিক পরিষ্কার করে বলা যাচ্ছে না।

নীলিমার জ্ঞান ফিরবে।

কিছু সেকেন্ড পরেই।

সর্বোচ্চ এক কিঙ্গা দু মিনিটের মধ্যে।

ARAS.

Ascending Reticular Activating System.

ব্রেইনের ম্যাকানিজমের অংশ এটা।

ভীষণভাবে সংবেদনশীল,

অল্প সময় ক্ষনের মধ্যেই

এটা সক্রিয় হয়ে যায় এবং এটাই হচ্ছে মূল কারণ।

তার যখন জ্ঞান ফিরবে,

একজন মানুষ যতটা ভয়াবহ অভিজ্ঞতার যন্ত্রনা সইতে পারে সেই সইবে।

সেজন্যই তাকে আমরা ট্রমা কেয়ার সেন্টারে শিফট করেছি।

পূর্ন সুযোগ সুবিধা সহ।

মি. ম্যাথিউ তার সাথে সর্বক্ষন থাকতে পারবেন তার সাথে।

তবে,

তাকে যে কোন পরিস্থিতি মোকাবেলার জন্য প্রস্তুত থাকতে হবে।

উনি কি টিকে থাকতে পারবেন?

ঈশ্বর জানেন!

সিস্টার!

মি. ম্যাথিউ,

চিফ ডাক্তার আপনার সাথে সাক্ষাৎ করতে চান।

ওকে।

অন্য মত অনুযায়ী,

আমরা নীলিমার কেস ফাইল ডেনমার্কে পাঠাতে পারি।

আপনাকে বলে রাখি,

তারাও আসলে এর বেশি কিছু করতে পারবে বলে মনে হয় না।

ডিজিপি বলেছেন আমাকে।

আপনি আর নীলিমার

কোন আত্মীয় স্বজন নেই।

এই পরিস্থিতিতে,

নীলিমার সাথে সর্বক্ষন থাকাটা,

আপনাকে মানসিকভাবে বিপর্যস্ত করে তুলতে পারে।

আপনি ড. ভিশেষরের সাথে দেখা করেছেন?

আমাদের সাইক্রিয়াটিস্ট, আপনাকে

কাউন্সেলিং করলে ভাল বোধ করবেন, ম্যাথিউ।

আপনারা ডাক্তারেরা কখনো মিরাকলের

কথা বলেন না!

বা এরকম কিছু?

সেটার আশা করতে পারি আমি?

আমি আপনাকে মিথ্যা আশা দিতে পারি না, স্যার।

আমি সত্যিই দুঃখিত।

নীলিমা!

তোমার কিছুই হবে না।

ডাক্তারের সাথে কথা বলেছি আমি।

তুমি সুস্থ আছ।

ঠিক আছ তুমি।

আমার মেয়ে...

আমার মেয়ে কোথায়? মালু!

মালু!

৬ মাস ধরে,

উনি ম্যামের সাথে একই রুমে ছিলেন।

সবশেষে ম্যাম মারা যান।

আমি স্যারকে দেখতে গিয়েছিলাম।

তিনি অনেক বদলে গিয়েছেন।

কিছুটা মানসিক ভাবে বিপর্যস্ত।

তিনি তার ছুটি এক মাস বাড়িয়েছেন।

তিনি স্বেচ্ছা অবসরের জন্য এপ্লাই করেছিলেন।

তিনি ছিলেন একজন আদর্শ স্বামী।

একজন আদর্শ বাবা।

- আর ইকবাল, - ম্যাম

ফেলিক্সের কাস্টোডি থেকে পালিয়ে যাওয়াটাই কি,

তোমার বরখাস্ত হওয়ার কারণ ছিল?

জি ম্যাম।

আমি চার্জে ছিলাম।

কিন্তু, সে পালালো কীভাবে?

ম্যাম,

সেটা এখনও একটা রহস্য।

আমাদের শেলটারে হঠাত বিদ্যুৎ চলে যায়।

জেনারেটরের ব্যাকআপ কাজ করছিল না।

২০ মিনিট লেগেছিল চালু হতে।

যখন গার্ড একটা টর্চ নিয়ে যায়,

দেখে সে লাপাত্তা, ম্যাম।

বিদ্যুৎ বিভ্রাট কেন হয়েছিল?

ব্যাকআপ সিস্টেম কেন কাজ করছিল না?

এখনও কী সেসব প্রশ্নের উত্তর খুঁজে পাননি?

কোন ক্লু নেই, ম্যাম।

উপর মহলে দরকার ছিল বলির পাঠা।

তারা ইস্যুটাকে আমাকে আর বাকি তিনজনকে বহিষ্কার করার মাধ্যমে ক্লোজ করে দেয়।

আমার বহিষ্কারাদেশ বাতিল হয়েছে ম্যাথিউ স্যার ডিজির সাথে কথা বলেছেন বলেই।

স্যার, স্যার।

ওকে স্যার।

না। আমরা এখানেই আছি, স্যার।

ম্যাথিউ স্যার।

আমাদেরকে জরুরী ভিত্তিতে দেখা করতে বলেছেন।

কখন আসছেন উনি?

১০ মিনিটের মধ্যে, ম্যাম।

- ইকবাল। - স্যার।

থারাকান্স মেডি সিটিতে লাইসেন্সবিহীন ওষুধ খেয়ে যে শিশুগুলো মারা গিয়েছিল

তাদের ছবি গুলো?

- স্ক্রিনে দেখাও। - ওকে স্যার।

ছবিগুলো প্রিন্ট করো।

তারপরে আমার সাথে আসো।

সেদিন এখান থেকে চলে যাওয়ার আগে,

কিছু একটা এখানে দেখেছিলাম,

যেটা আমার পিছু তাড়া করছিল।

আমি সেটার হদিশ আজ পেয়েছি।

এই ঝুলন্ত ফটোফ্রেম গুলোর মধ্যে এটা হচ্ছে একদম নতুন ফ্রেম।

দেখতে সাম্প্রতিক আর মডার্ন লাগছে।

তো,

এটা তাহলে আমাদের প্রতি একটা বার্তা, স্যার?

ড. থারাকান আর মোহান নায়েরের মৃত্যুর কারণ জানিয়ে বার্তা।

হ্যাঁ।

পূর্বের সন্দেহ অনুযায়ী,

এই ফটোফ্রেমের শিশুগুলোর মৃত্যুর পেছনে,

এবং এই কেস টা ধামাচাপা দেবার পেছনে দায়ীদের

একটা ফৌজদারি সাজা দেওয়া হয়েছে ।

আইন দিতে পারেনি।

স্যার, তাহলে...

মি. ভিনোদ?

এই শিশুগুলোর মৃত্যুর পেছনে তার তো কোন হাত নেই।

এটাই এখন বিরাট প্রশ্ন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

তবে, একটা জিনিস...

এই খুনগুলো ব্যক্তিগত কারণে করা হয়নি।

এগুলো সবই

ন্যায়বিচার করার জন্য সংঘঠিত হয়েছে।

এবং সেই কারণেই সামনে আরো কিছু খুনের ঘটনা ঘটতে পারে।

হ্যালো!

এ হচ্ছে মি. কুমার।

সে বর্তমান সময়ের সাড়া জাগানো বিল্ডার

- হ্যালো। - হ্যালো।

হাই। Hi.

কুমার এর আগেও আমাকে বলেছে,

কোথাও গিয়ে একসাথে পার্টি করি।

যখন তুমি এই জায়গার কথা বললে,

আমি কুমারকে সাথে করে নিয়ে এলাম।

আশা করি, মাইন্ড করবে না।

সাধারণত, অপরিচিত মানুষের সাথে পার্টনারশিপ পছন্দ করি না।

তবে এটা ঠিক আছে।

দারুন!

তোমাদের সবার জন্য আমার পক্ষ থেকে একটা সারপ্রাইজ আছে!

তুমি একটা জিনিস বলতে হবে!

কথায় কথায় সারপ্রাইজ!

কী সেটা?

আপনি কে?

শ্রেয়া, কে উনি?

বিশ্বাসে মিলায় বস্তু!

কী?

এসব কী হচ্ছে?

তুমি!

শ্রেয়া?

শ্রেয়া, শোনো। প্লিজ!

এই মেয়েটা কে?

আমার তো এদের সাথে কোন লেনাদেনা নেই!

চেইন খুলো!

কি?

চেইন খুলো!

মজা করছো আমার সাথে?

একদমই না!

প্যান্টের চেইন খুলো!

দুজনেই আমাকে ভাড়া করে এখানে নিয়ে এসেছ, তাই না?

এখন!

খেলা হবে এখন!

দুজনেই,

খোল!

ওকে।

না!

প্লিজ।

না!

প্লিজ।

স্যার,

আমাকে মারবেন না, স্যার। আমি নিষ্পাপ।

স্যার, প্লিজ।

স্যার...

স্যার... স্যার... প্লিজ, স্যার।

Iআমি নিষ্পাপ, স্যার। প্লিজ।

- স্যার... - স্যার, প্লিজ!

এই ফার্মহাউসটার মালিক হচ্ছে শ্রাবন কুলাভিদেন।

আপনি হয়তো জানেন...

সে একটা বড় ব্যবসায়ী ফ্যামিলি থেকে এসেছে।

তবে...

তবে সে একটু এলোমেলো প্রকৃতির।

এখানে গোপন মিটিং হলে,

সে তার চাকরদের বাইরে পাঠিয়ে দেয়।

গতকাল সন্ধ্যায়,

সে তার বন্ধু সিনোজকে নিয়ে এসেছিল এখানে।

বাড়ির সব চাকরকে বাইরে পাঠিয়ে দিয়ে কারো জন্য অপেক্ষা করছিল।

দুজনকেই একই কায়দায় খুন করা হয়েছে।

তবে খুন করার ধরন,

সচরাচর ঘটা খুনের কেস থেকে আলাদা।

এই ধরনের শাস্তি মানুষ তাদেরকেই দিতে চায় যারা সেক্সুয়াল ক্রাইমের সাথে যুক্ত।

তাদের কি এরকম কোন ব্যাকগ্রাউন্ড রয়েছে?

আপনি জানেন না, ম্যাম।

এটা হচ্ছে সেই কেস যেটা নিয়ে চায়ের আড্ডায় এখনো ঝড় ওঠে।

কারুকুট্টি ধর্ষন মামলা।

একটা ১৪ বছরের মেয়ে নৃশংস কায়দায় ধর্ষন করা হয়েছিল,

এই রেপ কেসের জন্য দুজনকে অভিযুক্ত করা হয়েছিল।

শ্রাবন এবং সিনোজ, যাদেরকে খুন করা হয়েছে।

তবে যথাযথ সাক্ষ্য প্রমাণ না থাকায় দুজনেই ছাড়া পেয়ে যায়।

এসিপি ভিনোদ এই কেসের তদন্ত করেছিলেন।

যে ভাবে কেসটা তিনি সামাল দিয়েছিলেন,

তখনকার সময়ে সেটা অনেক বিতর্কের জন্ম দেয়।

মেয়েটার বাবা মা মিডিয়ার সামনে প্রকাশ করে দেয়...

অভিযুক্তদের নাম যা ভিক্টিম তার মা বাবাকে বলে।

বলো, মা।

বলবো।

তোমরা দুজনই, প্লিজ বাইরে যাও।

ডাক্তার, আপনিও। বাইরে যান।

বলো।

শ্রাবন।

শ্রাবন...

তারা চিফ মিনিস্টারের কাছে অভিযোগ করে যে ভিনোদ জবানবন্দিটা রেকর্ড করেনি।

উচ্চ আদালতে এখনো কেসটা বিচারাধীন অবস্থায় আছে।

আমি দেখবো নে বিষয়টা।

ওকে স্যার।

তাহলে, এটাই হচ্ছে প্যাটার্ন, স্যার?

প্রথম সিরিজ হত্যাকান্ডে একজন ক্লুলেস পার্সন ছিল, এখানেও তাই।

স্যার, এই কেসে...

ক্লু লেস পার্সন হচ্ছে কুমার ভালিয়াভিদেন।

হয়তো তার অন্য কোন ক্রাইমের দিকে নির্দেশ করছে।

কুমারের ব্যাকগ্রাউন্ডটা কী?

ম্যাম, সে হচ্ছে কেরালায় রিয়েল অ্যাস্টেট ব্যবসায়ের সবচেয়ে দাঘু খেলোয়াড়!

আপনি ল্যান্ড ব্যাংক, ল্যান্ড মাফিয়ার নাম শোনেননি?

সেই এসবের মূল হোতা।

দুনিয়ার সবচেয়ে বিষাক্ত প্রাণী হচ্ছে পাফার ফিশ।

পরিষ্কার করে বললে, ভাইপারের (সাপ) চেয়েও বিষাক্ত।

তারা এদের মধ্যে টেট্রোডোটক্সিন নামে একটা ক্যামিকেল ইঞ্জেক্ট করেছে।

এটা এক ধরনের নিউরো টক্সিন যেটা নার্ভে এফেক্ট করে।

অল্প ডোজ বেশ ভাল চেতনা নাশকের কাজ করে।

কিন্তু অতিরিক্ত ডোজ,

বিষক্রিয়া ঘটায়।

এই কেসে পাফার ফিশের সিরাম ব্যবহৃত হয়েছে,

যেটা খুন হওয়া ব্যক্তিদের শরীরে ইঞ্জেক্ট করা হয়েছে।

এই সিরাম বেশ ব্যয়বহুল।

হ্যাঁ।

চোরাকারবারী ছাড়া বৈধ উপায়ে কেনাটা দুষ্কর।

ইকবাল,

স্যার।

আমাদের দুজনকে এখুনি লাগবে।

ধন্যবাদ আপনাকে, ম্যাম।

পালা পালা!

অই থাম!

ধুর বাল! এখানেও?

অই থাম!

অই থাম!

অই থাম!

ছেড়ে দিন, স্যার।

- আয়। - কী করেছি, স্যার?

আমাকেই কেন?

হাঁটতে থাক। নিজেই বুঝবি।

এটা কোন পুলিশ অপারেশন নয়।

আমি তোমাদের সাথে একটু ব্যক্তিগতভাবে কথা বলতে চাই।

তাই তোমাদেরকে এখানে ডেকেছি।

স্যার,

এই লোকটা আমাদের পেছনে কুত্তার মত দৌড়েছে!

ধরার পর আমার পেছনে জোরে একটা কিক দিয়ে...

জিপে ছুড়ে মেরেছে।

আমরাও তো মানুষ!

পশু তো না!

এভাবে না মেরেও তো ডাকা যেত।

আমারও একই কথা, স্যার!

এই স্যার মানবাধিকারের ব্যাপারে কিছু জানে না।

এগুলো তোদের মানবাধিকার?

স্যার, এসব এদের পকেট থেকে পাওয়া গেছে।

আমরা আগের মতো মাঠের খেলায় নেই, স্যার।

তোমাদের কাছ থেকে কিছু কথা জানার আছে।

বলে ফেললে চলে যেতে পারবে।

এই বস্তুগুলোর জন্য কোন ফৌজদারি মামলা করা হবে না তোমাদের বিরুদ্ধে।

এটাই হচ্ছে ডিল।

রাজি?

কী জানতে চান, স্যার?

প্লে করো।

এটা খুবই ঝুঁকিপূর্ন, স্যার।

রিশিরাজ স্যার আসার পরে ব্যবসায়ে মন্দা যাচ্ছে।

কিছু দুষ্পাপ্য জিনিস আছে পাচার করতে হবে...

মাশরুম, মাছ ক্যামিকেল এগুলো আর কি।

এখানেই কিছু প্রশ্ন আছে আমার।

যে সিরাম গুলো ইঞ্জেক্ট করা হয়েছিল,

সেগুলোর উৎস কী?

এগুলোর ডিলার কে?

স্যার,

এটা খুবই দুষ্পাপ্য আইটেম।

যেগুলো শুধুমাত্র সুপার স্পেশাল কাস্টোমারদেরই দেওয়া হয়।

খুবই বিপদজনক, স্যার।

যদি ঠিক উপাদান দিয়ে তৈরী না করা হয়,

ব্যবহারকারী মারাও যেতে পারে!

এটা আমাদের পণ্য না অবশ্য।

এইজন্যই মেরেছেন আমাকে?

কি লাভ হলো?

ভাল শট, স্যার।

এখন বল!

- উনার দিকে! - স্যার।

আমরা এইগুলো নিয়ে মাত্র দুবার ডিল করেছি।

আগেই বলেছি, দুষ্পাপ্য জিনিস এগুলো।

তামিলনাড়ুর মান্দাপাম এলাকা থেকে এসেছে।

প্রথম বারে এটা একটা জাহাজের ক্যাপ্টেনের মাধ্যমে আসে।

সে ছিল একজন...

- রাশিয়ান! - হ্যাঁ, রাশিয়ান!

আমরা পোর্ট থেকে এটা নিয়ে তাকে দেই।

দ্বিতীয় বারে, ক্রেতার পরিচয় আমাদের জানা ছিল না।

আমাদেরকে এগুলো নিয়ে জাওয়াহার নগরের ডাস্টবিনে ফেলে যেতে বলা হয়েছিল।

আর আমরা সেই মোতাবেক ফেলে দিয়ে এসেছি।

তোর খাসলত যা বলে এত সহজে ছাড়ার পাত্র তুই না।

আড়ালে লুকিয়ে থেকে কে নিয়েছে সেটা দেখিসনি, বল?

জি, দেখেছি।

গাড়ির ভেতরে কে ছিল দেখেছিলি?

না, স্যার।

আমি শুধু হাত দেখেছি।

তবে সেটা একটা মেয়ের হাত ছিল।

আঙুল গুলো দেখেছিলি?

মনে করার চেষ্টা কর!

আঙুলের নখে কি কড়া নেইল পলিশ লাগানো ছিল?

হ্যাঁ।

- গাড়ির নাম্বার টুকে রেখেছিলি? - না, স্যার।

আমি তখন নোট করেছিলাম,

কিন্তু পরে ভুলে যাই সেটা।

কসম খেয়ে বলছি, স্যার।

যে লোকটা তোদের এই কাজ দিয়েছিল,

এই ধরনের চোরাকারবারের কাজ কি তোদের দিয়ে আগেও করিয়েছিল?

এই লোকটা দিয়েছে?

এই লোকটা, তাই না?

ম্যাথিউ স্যারের সাথে যে ঘটনাগুলো ঘটেছিল,

আমি রেকর্ডটা চেক করে দেখেছি।

গাড়ির যে ড্রাইভারটা স্যারের গাড়িতে ধাক্কা দিয়েছিল,

- ঘটনাস্থলে তো সেও মারা যায়?

আমি ময়নাতদন্তের রিপোর্টটা চেক করেছি।

মাথার পেছনে শক্ত কিছু দিয়ে আঘাত।

মৃত্যুর কারণ হিসেবে রিপোর্টে এগুলোই লেখা আছে।

এরকমটা হলো কী করে?

ফরেনসিক চিফ গীতা ম্যাম বলেছেন,

কোন ভারি শক্ত কিছুর আঘাতের ফলে সৃষ্ট এই ক্ষত,

নিশ্চয়ই মাথায় কোথাও আঘাত পেয়েছিল।

ড্রাইভার গ্লাস ভেঙে সামনে পরে যায়...

এই আকস্মিক সংঘর্ষের কারণে।

এক্সিডেন্টের পরে,

৪০ মিনিট সময় হবে,

স্যারের স্ত্রী এবং তার মেয়ে রাস্তায় পরে ছিল।

আহত অবস্থায়

আইনের ফাঁক গলে বের হওয়া অপরাধীদের যারা শাস্তি দিচ্ছে,

কতজনকে মানুষকে মারবে তারা?

এরকম একটা বিশাল সম্ভাবনার মধ্যে,

ড. থারাকান, ভিনোদ, মোহানান,

এবং যে তিনজন খুন হয়েছে।

এরকম সিলেকশনের পেছনে যুক্তিটা কী?

যুক্তি আছে, স্যার।

একটা সাধারণ কারণ রয়েছে।

এই দুই সিরিজ হত্যাকান্ডের হোতাদের সাথে,

থারাকান্স মেডি সিটির সম্পৃক্ততা ছিল।

আমি হাসপাতালের ডেটাবেজে প্রবেশের অনুমতি চাই।

ডেটাবেজ বলার মানে এই না যে শুধু আর্থিক হিসাব বিবরণী দেখতে চেয়েছি।

ওকে।

ওকে, ধন্যবাদ আপনাকে।

ড. শক্তিভেল পালনাসামী।

শক্তিভেল জন্মেছে তামিলনাড়ুতে, বেড়ে উঠেছে কেরালায়।

তার বাবা পালানিসামী ছিল আলাপ্পুজা মেডিক্যাল কলেজের মর্গের সিকিউরিটি গার্ড।

মেডিক্যালের এন্ট্রান্স এক্সামে শক্তিভেলের নাম র‍্যাংকে এসেছিল।

কিন্তু,

কলেজের সিটের লিস্টে তার নাম অগ্রাহ্য করা হয়।

বদলে, ম্যানেজমেন্টের পরিচিত একজনকে সেই সিট দেওয়া হয়।

বুঝতে পারোনি?

- স্যার, প্লিজ। - এরকম করো না, বাবা।

এমনকি অনেক কাকুতি মিনতি করার পরও,

যখন সে বুঝতে পেরেছিল সে ইনসাফ পাবে না,

শক্তিভেলের বাবা পালানিসামী আত্মহত্যার সিদ্ধান্ত নেন...

কলেজের সব স্টুডেন্ট এই আত্মহত্যার সাক্ষী ছিল।

বাবা!

বাবা!

বাবা!

শক্তিভেল, যে বাবার মৃত্যু স্বচক্ষে দেখেছিল,

মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে।

কেরালায় শিক্ষার্থীরা এই ঘটনায় রাস্তায় নেমে আসে।

আন্দোলনের কারণে,

সরকার হস্তক্ষেপ করতেই হতো।

শক্তিভেল অই কলেজে এডমিশন নিয়েছিল।

কলেজে সে একাই নিজের মতো থাকতো।

তার সকল রাগ ক্ষোভ হতাশা সে,

কিছু লিটল ম্যাগাজিনে ফিচার লেখার মাধ্যমে উগড়ে দিত।

শক্তি ভীষণ খামখেয়ালী ছিল স্যার।

আমরা জানতামও না তার ক্ষোভের বিস্ফোরন কখন কীভাবে ঘটতো!

শক্তি হচ্ছে সেই জুতো ছুড়ে মারার মাধ্যমে,

উদাহরণ সেট করে ভারতে।

ঘটনাটা ঘটেছিল যখন শিক্ষামন্ত্রী আমাদের কলেজে ভিজিট করতে এসেছিলেন।

তাকে এই কাজের জন্য রিমান্ডে নেওয়া হয়েছিল।

কিন্তু, জনগণের প্রতিবাদের তোপে তাকে ছেড়ে দেওয়া হয়।

তাহলে,

ড. শক্তিভেল পালানীসামি হচ্ছে আসল নাটের গুরু!

এই তদন্তে, সাধারণ মেথড অযৌক্তিক, স্যার।

কারণ, যে হত্যাকান্ডগুলো ঘটেছে,

পুরোপুরি রীতিবিরুদ্ধ।

৪ জন অপরাধী নিশ্চিত সাজা থেকে রেহাই পেয়ে যায়,

যাদের সমাজে বেশ প্রভাব প্রতিপত্তি ছিল।

আর বাকি দুজনকে হত্যা করা হয়েছে এদের সহযোগীতা করার কারণে।

ভিনোদ প্রথম ক্রাইমে কীভাবে যুক্ত ছিল?

এই ব্যাপারে আমাদের এখনও কনফিউশন আছে।

তাকে হত্যা করার কারণটা আমরা জানতে পেরেছি,

দ্বিতীয় সিরিজ হত্যাকান্ডটা ঘটার পর।

যে দুটো ছেলেকে খুন করা হয়েছে তারা রেপের দায়ে অভিযুক্ত ছিল...

যারা পরে ভিনোদের সাহায্য নিয়ে ছাড়া পায়।

এখানেও একজন ক্লুলেস মানুষ ছিল।

কুমার ভিলায়াভিদেন।

তার হত্যাকান্ড নির্দেশ করে,

একটা অপরাধ এখনো ছাইচাপা পরে রয়েছে কোথাও।

আমি তার ফেসবুক পোস্ট আর ব্লগ গুলো চেক করেছি।

একজন সুপারহিরো যে দুর্নীতি আর বেইনসাফের বিপক্ষে রুখে দাড়াতে পারে।

একজন একা সৈন্য।

তার লেখায় ভাববার মত অনেক বিষয় আছে।

যে হাসপাতালে...

সে কাজ করতো...

দুটো ঘটনার সাক্ষী ছিল সে।

দুটো অন্যায় সে চোখের সামনে হতে দেখেছে।

সেটাই তাকে খুনের পথে ধাবিত করার প্রতি প্রলুদ্ধ করেছে।

তবে একটা কথা যোগ করি, ড. শক্তিভেল সাধারণ কোন খুনি নয়,

যে রাগের মাথায় ধুপধাপ খুন করে ফেলে।

বছর কয়েকের প্রস্তুতি।

মানে, তার দীর্ঘ একটা মানসিক প্রস্তুতি ছিল এই ব্যাপারে।

তার অগোচরেই তার মনে,

এক হিংস্র পশু লকলক করে বেড়ে উঠেছে।

হ্যাঁ। ঠিকই বলেছ।

তার কর্মস্থলে পাপাচারের সুতো বুনে জাল বোনা হয়েছে,

একটা জঘন্য অপরাধ হয়েছে যার ব্যাপারে কেউ টু শব্দটিও করেনি

মেডিক্যাল মাফিয়াদের চৌর্যবৃত্তির কারণে ৮ টা নিষ্পাপ শিশুর প্রাণ ঝরে গেল।

তাদের বাবা মায়ের বুকফাটা আর্তনাদ...

আর নিষ্ফল প্রতিবাদ।

এই সব কিছুই সম্ভবত...

শক্তিভেলের মনের সুপ্ত ক্রোধটাকে বের করে এনেছে।

আমার তাই মনে হয়।

তাকে ধরার কোন সুযোগই নেই, স্যার।

সে কিছুদিন পরপরই তার সিম কার্ড বদলে ফেলে।

কোন সার্ভেইল্যান্স ক্যামেরার ফুটেজেই তার চেহারা আসেনি।

স্যার, এখন পর্যন্ত আমাদের যা আছে তা শুধু কিছু অনুমান।

আর যে মেয়েটা ওর সাথে ছিল?

- আসছি সেই কথায়। - স্যার।

সে ব্যাঙ্গালোর থেকে আগত শ্রেয়া ভেংকাটেশ।

বাবা জাতিতে কান্নাড়ি।

মা জাতিতে মালায়লি।

সে ছেলেটার থেকে এক বছরের জুনিয়র।

শক্তিভেল তার সাথেও দূরত্ব সৃষ্টির চেষ্টা করলেও, মেয়েটা তা হতে দেয়নি।

দুজন একাকী মানুষের মনের অজান্তেই সৃষ্টি হয়েছে অদ্ভুত এক ভালবাসার।

তাদের বন্ধু যারা তাদেরকে চেনে,

তারা বলেছে আমাকে তাদের ভেতরে এই আশ্চর্য মেলবন্ধনের কথা।

একজন যে নিষ্ঠুরভাবে আইনের ফাঁকফোকর গলে বেরিয়ে যাওয়া অপরাধীদের সাজা দেয়।

একটা উন্মাদ!

আইনের বিকল্প কিছু হতে চাওয়াটা...

মানব মনের খুব ভয়াবহ একটা দিক।

তাদের পরবর্তী টার্গেট কে হতে যাচ্ছে, স্যার?

না! না!

এত কিছুর পর এখন আসল কাজ হচ্ছে

ড. শক্তিভেল এবং তার গার্লফ্রেন্ডকে কয়েদ করা।

আইন সবার জন্যই সমান- এটা বুঝিয়ে দিতে হবে তাকে।

আমি যোনের এডিজিপির সাথে কথা বলবো।

অনুমতি দিলে আসি, স্যার।

ওকে ধরাটা...

রাজ্যের পুলিশের কাজ।

আমার না।

তুমি নিশ্চিত?

হ্যাঁ স্যার।

আমি নিশ্চিত।

এই অপারেশন যে কোন মূল্যে আমাকে শেষ করতেই হবে!

আমার হাতে আর বেশি সময় নেই।

স্যার।

স্যার!

এক মিনিট, স্যার!

কিছু কথা আছে আপনার সাথে।

বলো?

আপনার পরিবারের সাথে যে অ্যাক্সিডেন্টটা হয়েছিল...

সেটা কোন অ্যাক্সিডেন্ট ছিল না। পরিকল্পিতভাভে করা হয়েছে সেটা।

আপনাকে কিছু দেখানোর আছে।

তো তুমি বলছো,

অ্যাক্সিডেন্টের কারণে ট্রাক থেকে পরে যাওয়া ড্রাইভারকে..

মাথায় আঘাত করে খুন করা হয়েছে।

এরপর, সেম বস্তুর সাহায্যে,

ট্র্যাকের জানালাও ভাংচুর করা হয়েছে।

হুম।

বলেছিলাম না তোমাকে?

পুলিশের সেই ৬ষ্ঠ ইন্দ্রিয় তোমার রয়েছে।

স্বল্প সময়ের অভিজ্ঞতার ওপর ভর করেই,

তুমি কল্পনা আর বাস্তবতার এক অসাধারণ সংযোগ করেছ।

এটাই।

চাকরি জীবনের শেষ দিন,

আমি ভোর সকালে পুলিশ ইয়ার্ডে গিয়েছিলাম।

আমি ট্রাকটা দেখেছি।

যা বলেছ তা আমি ইতোমধ্যেই জানি, হার্শিতা।

এভাবে আপনি হাল ছেড়ে দিচ্ছেন কেন?

আমাদের তো মূল অপরাধীকে ধরা উচিত।

আমি কিছু ব্যাপার এড়িয়ে যাচ্ছি,

সচেতন মস্তিষ্কেই।

আমি জানি,

এটা মেনে নেওয়া একটু কষ্টকর।

বুঝলাম না, স্যার।

কেউ একজন আপনার জীবনটা বরবাদ করে দিয়েছে...

এভাবে এত সহজে কীভাবে তাকে ছেড়ে দিতে পারেন?

কোন কিছু হারিয়ে গেলে তা আর ফিরে পাওয়া যায় না।

যত চেষ্টাই করো না কেন।

- কিন্তু, স্যার... - না, হার্শিতা!

আমি এখন জীবনের শেষ লগ্নে আছি।

আত্মহত্যা আর খুনের মাঝামাঝি অবস্থানের ব্যাপারে জানো?

আমাকে ঘাটিয়ো না!

আমাকে ঘাটিয়ো না!

'কিছু গুরুত্বপূর্ন কথা। মেইল চেক করো, শ্রেয়া।'

হাই।

শ্রেয়া বলছি।

প্রথমে আমি বলতে চাই...

যে মেইলটা পাঠিয়েছি সেটার আইপি এড্রেস,

ট্রেস করার চেষ্টা করে সময় নষ্ট করবেন না।

এটা একটা প্রক্সি আইপি।

চলে যাবার আগে,

মন দিয়ে শুনুন।

যে গাড়ির এক্সিডেন্টটা আপনার জীবন নষ্ট করে দিয়েছে,

সেটার প্ল্যানিং আর বাস্তবায়ন করেছে,

ফেলিক্স ডি ভিনসেন্ট।

আগামীকাল,

সে এরনাকুলামে থাকবে।

আপনাকে তার লোকেশন পাঠাচ্ছি।

প্রতিশোধ নেওয়ার একটা সুবর্ণ সুযোগ।

চাইলে ব্যবহার করতে পারেন।

তার মতো একজন অপরাধীর,

অবশ্যই শাস্তি পাওয়া উচিত।

আমাদের ইচ্ছা,

এই ন্যায়বিচারটা আপনিই করুন।

কারণ,

বদলা নেবার মতো মধুর আর কিছুই নেই।

বাই।

স্যার, এটা একটা ফাঁদ। সাবধান থাকবেন।

স্যার, আমি বলছি আপনাকে। এই সুযোগটা নেয়া উচিত আপনার।

যাই ঘটুক, রেজাল্ট আমাদের পক্ষেই আসবে স্যার।

স্যার, আমরা গেলেও...

পুরো পুলিশ ফোর্সকে জানানো উচিত,

যেহেতু এটা একটা অপারেশন।

যতই আমরা পিছু হটি না কেন, কিছু ব্যাপার ক্রমাগত আমাদের সামনে আসছেই।

শুধু আমরা তিনজন এই ব্যাপারটা জানবে।

আর কারো জানার প্রয়োজন নেই।

ফেলিক্সের নেটওয়ার্ক সম্পর্কে কিছু বলার দরকার দেখছি না।

- ইকবাল? - জি স্যার।

এটা শুধু আমরা দুজন সামলাবো।

তুমি দূরে থাকবে।

কিন্তু স্যার...

ম্যাথিউ?

হায় ঈশ্বর!

ম্যাথিউ! ম্যাথিউ!

আপনি আসলেই অস্থির!

ভেবেছিলাম গল্পে দাঁড়ি টেনে দিয়েছি।

কিন্তু, দেখুন...

আপনি এখানে!

কেন এসেছেন?

প্রতিশোধ নিতে?

কিন্তু আপনি তো আর পুলিশ নন!

শালা বদমাশ!

আমি এখনও একজন পুলিশ!

স্যার,

তোমাকে দেখে, আমার হৃদয় ভরে উঠে।

কি দিয়ে জানো?

করুণা!

আপনি কিছুই জানেন না, মি. ম্যাথিউ।

চুপ কর তুই!

কেন ইকবাল?

কেন চুপ করবো আমি?

স্যার,

আপনাকে এবং আপনার পরিবারকে শেষ করার জন্য,

Iআমিই প্ল্যান করে এক্সিডেন্টটা ঘটিয়েছিলাম!

আপনার কাস্টোডিতে বসেই সব কিছুর প্ল্যান করেছিলাম,

পালানোর জন্য...

অবশ্যই ভেতরের সাহায্য লাগতোই, স্যার।

এটা কি সত্য না?

ইকবাল?

জি স্যার।

আমিই উনাকে পালাতে সাহায্য করেছিলাম।

জানেন কেন?

আমার মেয়ের স্বপ্ন ছিল,

মেডিসিনে এডমিশন নেওয়া।

আমি জীবনে কখনো একটা পয়সাও ঘুষ নেইনি...

তাহলে এত বড় ডোনেশান আমি কীভাবে দিব, স্যার?

যখন আমার মেয়ের ভবিষ্যতের কথা ভাবলাম,

আমি দিশা হারিয়ে ফেললাম।

আর তার সাথে হাত মেলালাম।

অফার দিয়েছিল বলে।

তবে যখন তাকে ছেড়ে দেই, কসম খেয়ে বলছি জানতামও না

সে আপনার পরিবারকে শেষ করে দেবে।

বিশ্বাস করুন, স্যার।

ওকে আমার হাতে ছেড়ে দিন, স্যার।

তার বাঁচার অধিকার নেই, আমি পুরো দায়ভার নেবো।

এটাই চায় সে।

ড. শক্তিভেল।

আমাকে নিজের হাতে ওকে মারতে হবে।

সে তাকে আমাদের সামনে ছেড়ে দিয়েছে,

যেন আমার মাধ্যমে সে প্রতিশোধ নিতে পারে!

শক্তিভেলের বিজয় লাভ করাতে আমার সমস্যা নেই।

কিন্তু এভাবে আমার নীতির সাথে আপোষ করে নয়।

শ্রীনি, চলে আসো।

- ইকবাল। - স্যার।

পুলিশের কাছে আত্মসমর্পন করো।

ঠিক সিদ্ধান্তটাই নিয়েছেন আপনি।

কিন্তু, কী করে করলেন এটা, স্যার?

যদি আগের আমি হতাম, আমি তাদেরকে খুন করে ফেলতাম।

দুজনকেই খুন করে ফেলতাম।

প্রতিশোধ একটা রোগ, শ্রীনি।

এমন একটা রোগ যেটা বিবেককে ধ্বংস করে ফেলে।

আমার যাত্রা যেটা পিছিয়ে গিয়েছিল, এখান থেকেই শুরু হলো।

আমি আপনার এবং আপনার স্ত্রীর মধ্যকার সম্পর্কের গভীরতার কথা জানি।

তাই আমি আসলেই

আসলেই স্যরি।

নীলিমার অবস্থা আগের চেয়েও খারাপ এখন।

তার শরীরের বিভিন্ন অঙ্গে ইনফেকশন ছড়িয়ে পরেছে।

যখনই সে সেন্সে আসবে,

স্বাভাবিকের চেয়ে শরীরে তীব্র ব্যাথা অনুভব করবে সে।

তারপর হয়তো...

আমার সেটা বলা উচিত হচ্ছে না।

তারপরও, আপনাকে বলছি ম্যাথিউ।

ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করুন।

যেন তার যন্ত্রনা আর দীর্ঘায়িত না করেন।

দারুন!

স্যালুট তোমাকে।

একা একাই এমন একটা জায়গা বের করে রেজিস্টার করে ফেললে।

তারপর, সেটা দেখাতে নিয়েও এলে।

বেশ বিচক্ষণ একজন মহিলা তুমি।

এতক্ষণে বুঝেছ সেটা?

আমার সমস্ত সঞ্চয় শেষ।

তারপর, এটা যৌথ প্রচেষ্টা।

দরকার হলে আমার সম্পত্তি বিক্রি করবো, সোনা।

চিন্তা করো না!

সত্যি করে বলো তো।

আমার কর্মকান্ড দেখে বিরক্ত হচ্ছো নাতো?

কেন?

আমাদের তো মালু রয়েছেই।

ওর ক্যারিয়ার সেট হয়ে গেল এত টাকা আর সম্পত্তি দিয়েই বা কী করবো?

যখন আমার মা মারা যায়,

একটা ভাড়া বাসায় আমি একা ছিলাম।

কোথায় যাবো ভেবে পাচ্ছিলাম না।

একটা ভয় আমাকে গ্রাস করছিল।

তারপর ব্লেড দিয়ে হাতের রগে ছোট্ট একটা খোঁচা!

এমনকি এখনও,

গোসলের পর,

সেই ব্লেডের ঠান্ডা স্পর্শ অনুভব করি আমি।

অনেক হৃদয়বান মানুষ আশেপাশে ছিল বিধায় বেঁচে গিয়েছিলাম।

কেন এই নির্মম স্মৃতি বারবার স্মরণ করো?

যাই করি না কেন, সেই বীভৎস স্মৃতি মন থেকে কখনোই মুছবে না।

আমার জীবন তখনই পূর্নতা পাবে,

যখন স্কুলের কাজটা শেষ হবে।

যখন আমার অফিসের কলিগদের স্কুলের ব্যাপারে বললাম,

তারা আমার চিন্তাভাবনাকে পাগলামির সমতূল্য বললো।

এটা আমার কাছে পাগলামি নয়।

এই জায়গাটা আমার নিজের।

আমার নিঃশ্বাস...

আমার জীবন...

যদি আমি মারাও যাই...

আমার আত্মাও সবসময় এখানেই থাকবে।

এটা থারাকান্স মেডি সিটি কার পার্কিং থেকে প্রাপ্ত সিসিটিভি ফুটেজ।

ডিজির প্রাইভেট কার...

জুলাইয়ের ১২ তারিখ সেখানে অবস্থান করছিল।

খালিদ মুস্তফা।

সে ছিল একজন সমাজ সেবক, কুমার ভালিয়াভিদেনের মেগা মল

প্রজেক্টের বিরোধীতা করে আদালত থেকে স্থগিতাদেশ এনেছিল।

জুলাইয়ের ১২ তারিখে,

কুমারের সাথে,

ডিজিও তার রুমে গিয়েছিলেন।

আমি রাজ্যের পুলিশ চিফ।

এর মানে,

ডিজি।

চিনতে পেরেছেন আমাকে?

এখানে এসেছি,

আপনার সাথে সাক্ষাতে কিছু কথা বলতে, খালিদ।

কুমার আমার অত্যন্ত কাছের লোক।

ওর শপিং মল প্রজেক্টের বিরুদ্ধে যে মামলাটা করেছেন...

সেটা তুলে নিতে হবে আপনাকে।

ডিজি এবং কুমারের অন্তরঙ্গতা,

আমার কাছে আশ্চর্য লেগেছিল।

আমি এটা করতে পারি না, স্যার।

আপনি না বলতে পারবেন না।

আপনাকে তুলে নিতেই হবে।

দুদিন পর,

কুমার কিছু ডকুমেন্টস নিয়ে আসে।

সবগুলোতে সাইন করে দিন!

এই চিকিৎসা সেবা আপনার আয়ু বর্ধিত করতে পারে, জানেন কি?

হঠাত করে জীবন ঘড়ির টিকটিক থেমে গেলে?

চলো, কুমার।

ডিজি এবং কুমার তাকে হুমকি দিয়েছিল,

খালিদ শক্তিভেলের কাছে বলেও থাকতে পারে এই ব্যাপারে কারণ সে তার কাছের লোক ছিল।

তারা আমাকে হুমকি দিয়েছে।

যদি আমার কিছু হয়ে যায়, বুঝবে...

এর পেছনে তাদের হাত আছে।

অই কুমার এবং ডিজিপি।

এরকম কিছুই হবে না দেখবেন।

দুদিন পরে খালিদকে ডিসচার্জ করা হয়,

শক্তিভেল তার প্রাণহীন দেহটা...

দেখতে পায়।

একটা এক্সিডেন্ট।

হার্শিতা।

ডিজির জীবন বিপদে এখন।

ওর পরের টার্গেট ডিজিই হবেন।

শ্রীনি।

স্যার।

কখন ঘটেছে এটা?

কে তুমি?

তারা শুধু আপনার সাথেই কথা বলবে, স্যার।

একাই যেতে হবে আপনাকে।

নিরস্ত্র।

জানি না শক্তিভেল আপনাকে এত পছন্দ করে কেন, স্যার?

সবকিছুরই একটা কারণ আছে, শ্রীনি।

কারণ ছাড়া কিছু ঘটে না।

স্যার, কথাটা প্লিজ অন্যভাবে নেবেন না।

ড. শক্তিভেলকে এই খুনগুলো করতে প্রভাবিত করেছে,

থারাকান্স মেডি সিটিতে ঘটা ঘটনাগুলো।

একই হাসপাতালে ৬ মাস ধরে আপনার স্ত্রী ভর্তি ছিলেন।

একই সময়ে...

আপনি সেখানে অবস্থান করেছিলেন।

সব কিছু মিলিয়ে,

এই ঘটনাগুলোর সাথে আপনার কোন যোগসূত্র আছে যেটা আমি জানি না?

কোন কিছুই সাদা নয়, কোন কিছুই কালো নয়।

সবকিছুই ধূসর।

হ্যালো স্যার। আমি শ্রেয়া।

ড. শক্তিভেলের সাথে মিটিং এ,

একটা শর্ত আছে।

আপনাকে ঘুমন্ত থাকতে হবে।

এক ঘন্টার মতো ঘুমাবেন।

যদি রাজি থাকেন,

চলুন, রওনা দেই।

নয়তো, আমি চলে যাবো।

ডিজিপির কথা ভুলে যান।

ওকে।

আসছি আমি।

ভাল।

চলুন।

আপনাকে একটা গোরস্তানে কিছু সময়ের জন্য থাকতে হবে।

হ্যালো স্যার।

আমাদের আবার দেখা হয়ে গেল।

শেষবার আপনাকে দেখেছিলাম,

যেদিন আপনার স্ত্রী মারা যায়।

আমি একই ডিপার্টমেন্টে কাজ করছিলাম।

যে মেডিক্যাল টীম দ্বারা তাকে চিকিৎসা করা হয়েছিল সেই টীমে ছিলাম।

মাত্র এক সপ্তাহ আগে...

হাতে পাওয়া তথ্য উপাত্তের সাহায্যে...

অপরাধীদের একটা স্বচ্ছ প্রতিমূর্তী তৈরীতে

আপনার প্রশংসনীয় দক্ষতা আছে।

আমার পরিচয় এত দ্রুত উন্মোচিত হয়ে যাওয়ায়,

বেশি অবাক হয়নি তাই।

মানে,

আপনি খোঁজ করেছেন,

আমার জিঘাংসাটা!

দেখেছেন।

আমি আমার হোমওয়ার্ক করে রেখেছি।

শুধু আমিই নই,

যে ভিক্টিমদের তুমি হত্যা করেছ,

প্রত্যেকের ব্যাপারেই হোমওয়ার্ক করেছ, ডাক্তার।

ভিক্টিম!

তারা কোন ভিক্টিম নয়!

তারা হচ্ছে শিকারী!

তাদের দ্বারা ক্ষতিগ্রস্ত সবাই হচ্ছে ভিক্টিম।

তাহলে তোমার ব্যাপারটা কী, ডাক্তার?

তুমি ভিক্টিম?

নাকি একজন শিকারী?

আমি দুটোই!

আমাদের প্রত্যেকেই...

একই সময়ে একজন ভিক্টিম এবং একজন শিকারী।

আমি ডিজিকে একবার দেখতে চাই।

চিন্তা করবেন না।

সহিসালামতেই আছে।

তবে বেশিক্ষনের জন্য না।

আপনি পুরো সিস্টেমের সবচেয়ে উচ্চপদস্থ পুলিশ ছিলেন।

অবসরের আগ পর্যন্ত।

এক অর্থে,

আইনকে আপনি একটা নতুন ভাষা দিয়েছেন!

তাই, আপনার উপস্থিতিতেই...

রাজ্য পুলিশ চিফ,

আমার হাতে সাজা পাবে।

তার করা ঘৃন্য অপরাধের জন্য।

কি দেখছেন?

বিকল্প পন্থায় ন্যায়বিচার ছাড়া আর কিছুই না এটা।

স্যার, এই পৃথিবীতে মানুষকে যে জিনিসটা নিয়ন্ত্রন করে সেটা হচ্ছে ভয়।

যেটা আমাদের প্রত্যেকের ভেতরেই আছে।

এমনকি,

ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাসটাও এক অর্থে ভয়ই বলা চলে।

পাপ করলে, অবশ্যই ভয় পেতে হবে!

তাদেরকে ভয় পেতে হবে!

কারণ,

ভয়ের এখন আরেক নাম হচ্ছে,

ড. শক্তিভেল পালানীসামি।

জীবনের সবকিছুই উতসর্গ করেছি এই ভেবে,

একটা বিশ্বাস বুকে নিয়ে যা কিছুই ঘটুক কিচ্ছু আসে যায় না।

ও, যে তোমার প্রত্যেকটা অপরাধের সঙ্গী।

ভালবাসার কারণেই তোমার প্রতি অনুরক্ত?

নাকি ভয়ের কারণে?

ভয়ের চেয়ে শক্তিশালী কোন আবেগ নেই।

ঠিক বলেছি, ডাক্তার?

আমার ব্যক্তিগত ব্যাপারে নাক গলাবেন না, মি. ম্যাথিউ!

নাক গলাবো, ডাক্তার।

কারণ, তোমার করা সব কিছুই ব্যক্তিগত কারণে করেছ।

হ্যাঁ।

সবকিছুই ব্যক্তিগত।

আমরা তো প্রতিনিয়তই শুনছি...

আদালতে মহামান্য বিচারকের রায়।

সরকারের সিদ্ধান্ত, ইত্যাদি।

কিন্তু ,

এটা কোন সিস্টেম না যে শুধু রায় আর সিদ্ধান্ত গ্রহন করে।

এটা একেকজন মানুষই নেই, ঠিক?

আদালত হলে, এক দুই কিংবা তিনজন বিচারক,

সরকার হলে মূখ্য মন্ত্রী এবং অন্যরা।

ধর্ম হলে, পুরোহিতেরা।

তাদের সিদ্ধান্তই শেষ সিদ্ধান্ত,

এবং সেটাই আইন হয়ে যায়!

সেজন্যই, আমার কাছে যেটা ঠিক মনে হয় করছি।

তোমার কথার সূত্র ধরেই একটা কথা বলি,

এই দুনিয়ার মাটিতে অনেক স্বৈর শাসকের জন্ম হয়েছে।

তাদের শেষ পরিণতিটা কি হয়েছিল বলতে হবে আমাকে?

শুনুন, স্যার।

আমাদের এখন একজন স্বৈর শাসকের প্রয়োজন!

আমাদের দেশের এরকম একজনকে দরকার।

আমার মতো কাউকে।

স্বৈর শাসকদের নায়ক রূপে উপাসনা করার মতো পাগলামি দুনিয়াতে আর কিছুই নেই।

আর সে কি না ভাবছে,

সেই হচ্ছে আইন!

আমি আন্তরিক দুঃখের সাথে বলছি,

সে একজন উন্মাদ।

আমি উন্মাদ?

আমি উন্মাদ?

শ্রেয়া, শুনেছ উনি কী বলেছেন?

আমি নাকি উন্মাদ!

যে নরপশুরা প্রাচুর্য আর প্রভাবের কারণে আইনের ফাঁক গলে বেরিয়ে যায়

তুমি তাদের বিচারের ভার নিজের হাতে তুলে নিয়েছ।

ডিজির সাথে থাকা তিনজন পুলিশের লোককে কেন মেরেছ?

ওহ! ওটা?

করতে হয়েছিল।

বড় কিছু অর্জনের জন্য সামান্য ত্যাগ স্বীকার।

তাহলে, অভিভাবকশূন্য তাদের পরিবারের কী হবে?

তারা কি ইনসাফ পাবার যোগ্য না?

তোমার ন্যায়বিচার তোমার ধাঁচে গড়া, ডাক্তার।

এমনকি এই মেয়েটাকেও

দরকার পরলে ত্যাগ করবে তুমি!

মি. ম্যাথিউ, লিমিট ক্রস করবেন না।

মাইন্ড গেম খেলবেন না আমার সাথে।

জীবন নির্মম রসিকতায় পূর্ন, ডাক্তার।

এভাবেই বেঁচে থাকতে হবে তোমাকে।

আমি জানি এটা আপনি জানেন।

হ্যাঁ, ডাক্তার। তুমি জানো এটা আমি জানি।

তোমার সাথে সাক্ষাতের মুহূর্তটার জন্য দীর্ঘদিন অপেক্ষা করেছি।

ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করুন।

এই মরণ যন্ত্রনা যেন তাকে আর সহ্য করতে না হয়।

পারছি না।

ব্যাথাটা আর সহ্য করতে পারছি না।

তুমি বাঁচবে।

তোমাকে যতোটা ভালবেসেছি,

আর কাউকে এতো ভালবাসিনি!

আমার মনোবাঞ্ছা যেন অপূর্ন না থাকে।

কথা দাও আমাকে!

তুমি এখানেই থাকবে।

ঈশ্বরের কাছে প্রার্থনা করুন। ,

এই মরণ যন্ত্রনা যেন তাকে আর সহ্য করতে না হয়।

আপনার স্ত্রীর মৃত্যুর পর আমার কাছে সব কিছু পরিষ্কার হয়ে যায়।

যেটা করেছেন সেটাও একটা বিকল্প ন্যায়বিচার।

আপনি আমার মতোই।

সেজন্যই সব প্রমাণ মুছে দেই আমি।

ইউথ্যানিশিয়া।

অনুকম্পার সহিত খুন।

অনুকম্পার সহিত খুন।

আইন এখনও এটাকে ভুল বলে।

তারপরও সেটাই করেছেন আপনি।

একই কাজ তো আমিও করছি, তাই না?

নরকের যে কীটগুলো আইনের হাত থেকে পালিয়েছে,

যে ফৌজদারি দন্ড তাদের প্রাপ্য,

সেটাই দিয়েছি তাদেরকে।

এক অর্থে,

আপনার মতো আমিও আইন নিজের হাতে তুলে নিয়েছি।

এখন বলুন।

আমাদের মধ্যে ভিলেইন কে?

আপনি?

নাকি আমি?

তুমি ভুল, ডাক্তার।

আমরা একই রকম না।

কোন কিছু অনুভব করা ছাড়াই,

কোন নড়াচড়া ছাড়াই,

আমার নীলিমা শেষ নিঃশ্বাস ত্যাগ করেছে।

তোমার মতো জীবনের ধাপে ধাপে সংগ্রাম সেও করেছে।

ওর কষ্টের দাবানলের ব্যাপারে তুমিও অবগত।

মৃত্যু যন্ত্রনার মাঝেও,

ও বারবার জিজ্ঞেস করেছে আমাকে,

আমাদের মেয়ের কথা।

সে জানতো, ওকে সে আর কখনোই দেখতে পারবে না।

তারপরও ও জিজ্ঞাসা করতো।

যখন ওকে জিজ্ঞাসা করলাম,

'বাঁচাবো তোমাকে?'

আমার চোখের দিকে তাকিয়ে হেসেছিল ও।

অই চোখগুলো বন্ধ হয়ে যাচ্ছিল।

হৃদস্পন্দন কমে আসছিল,

আমি সেখানে দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছিলাম।

তখনই আমি বুঝতে পারি,

ভালবাসার আসল মানে হচ্ছে...

মৃত্যু।

ওকে মেরেছি বুক ভরা ভালবাসা নিয়ে।

তুমি খুন করেছ বুক ভরা ঘৃণা নিয়ে।

আমরা যোজন যোজন দূরত্বে আছি, ডাক্তার।

বালছাল বলা বন্ধ করুন, মি. ম্যাথিউ মনুরান!

যে জন্য এখানে আপনাকে এনেছি, সেটা করবোই।

এখন বসুন।

শ্রেয়া, দেখো উনাকে।

আমার মেয়ে,

আমার পেশাটাকে ঘৃণা করতো।

ওর স্বপ্ন ছিল ডাক্তার হওয়া।

ও রোগীদের সুস্থ করতে চেয়েছিল।

ধরিত্রীকে সুস্থ করতে চেয়েছিল।

শ্রেয়া,

প্লিজ।

প্লিজ, তুমি তোমার আসল জীবনে ফিরে যাও।

তোমার এখনও বাকি জীবনটা পরে আছে।

এখনও খুব বেশি দেরি হয়ে যায়নি।

প্লিজ,

যার কাজ ছিল মানুষের জানমালের হেফাজত করা,

সে সেটা করেনি।

একজন ৭৮ বছর বয়স্ক মহৎ মানুষ,

খালিদ মুস্তফা।

তাকে সে মেরে ফেলেছে!

না, ম্যাথিউ! না!

তার মৃত্যু একটা রহস্য।

কেউই একটা কেসও করেনি।

অন্তত তুমি আমাকে বিশ্বাস করো।

যখন বুঝতে পারলাম একটা বড় আর্থিক ক্ষতির সম্মুখীন হতে যাচ্ছি,

iহ্যাঁ... এটা সত্য হাসপাতালে গিয়ে খালিদকে ধমকেছি।

কিন্তু, তার মৃত্যুর পেছনে আমার কোন হাত নেই।

এক্সিডেন্টটা সত্যি ছিল।

আমি সত্যি বলছি।

বিশ্বাস করো, ম্যাথিউ।

প্লিজ।

কিন্তু, আমি আপনাকে বিশ্বাস করি না।

ডাক্তার!

- আমাকে রাগাবেন না। - ডাক্তার, প্লিজ।

আমি বলেছি, আমাকে রাগাবেন না।

শক্তিভেল!

উনি নিরপরাধ।

নিরপরাধ?

ডাক্তার?

প্লিজ।

প্লিজ, শোনো।

ভেবেছেন

আপনি জিতেছেন?

না!

শ্রেয়া?

তুমিও?

তোমাদের দুজনকেই খুন করবো আমি!

গুলি করুন।

বলেছি, গুলি করুন!

কিন্তু আগামীকাল দুনিয়া বলবে আমিই ঠিক ছিলাম!

হে আইনের রক্ষক!

ট্রিগার চাপুন!

কেমন মানুষ আপনি, স্যার?

এখনও,

আইনের ঝান্ডা ধরে রেখেছেন।

আমাকে মেরে ফেললেও তো পারতেন!

এই দুনিয়ায় সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে,

একজন মানুষের হাতে আরেকজন মানুষের মৃত্যু, শক্তিভেল।

জিজ্ঞেস করছিলে না?

আমাদের মধ্যে ভিলেন কে?

প্রত্যেক ভিলেনের মাঝেই,

একজন হিরো রয়েছে।

আর প্রত্যেক ভিলেনের মাঝেই,

একজন হিরো রয়েছে।

তুমি ঈশ্বর প্রদত্ত প্রতিভা, ডাক্তার।

তোমার মধ্যে ন্যায়বিচার নিয়ে বোধ আছে যেটা অনেকেরই নেই।

যদি তুমি তোমার মনের পশুটাকে বর্জন করতে পারো,

তোমার পক্ষে অনেক মহৎ কিছু করা সম্ভব।

আমি সরি, ম্যাথিউ।

আমার ভুলের জন্য স্যরি।

স্যার।

স্যার।

আপনি...

নীলিমার স্বপ্ন পূরণ করতে আর কত দূরত্ব আর সময় অতিক্রম করতে হবে আমাকে?

প্রত্যেক ভিলেনের মাঝেই, একজন হিরো রয়েছে।

প্রত্যেক ভিলেনের মাঝেই, একজন হিরো রয়েছে।

'ভিলেন'

'ভিলেন'

'এই দুনিয়ায় সবচেয়ে অদ্ভুত ব্যাপার হচ্ছে,,

একজন মানুষের হাতে আরেকজন মানুষের মৃত্যু, শক্তিভেল। '

"রক্তের নেশা সুস্থ স্বাভাবিক মানুষকেও মুহূর্তের মধ্যে বদ্ধ উন্মাদ করে ফেলে।"

বাংলা সাবটাইটেল দিয়ে মুভিটি দেখার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।

Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.