Afrikaans
Akan
Albanian
Amharic
Arabic
Armenian
Azerbaijani
Basque
Belarusian
Bemba
Bihari
Bosnian
Breton
Bulgarian
Cambodian
Catalan
Cebuano
Cherokee
Chichewa
Chinese (Simplified)
Chinese (Traditional)
Corsican
Croatian
Czech
Danish
Dutch
Esperanto
Estonian
Ewe
Faroese
Filipino
Finnish
French
Frisian
Ga
Galician
Georgian
German
Greek
Guarani
Gujarati
Haitian Creole
Hausa
Hawaiian
Hebrew
Hmong
Hungarian
Icelandic
Igbo
Interlingua
Irish
Italian
Japanese
Javanese
Kannada
Kazakh
Kinyarwanda
Kirundi
Kongo
Korean
Krio (Sierra Leone)
Kurdish
Kurdish (Soranî)
Kyrgyz
Laothian
Latin
Latvian
Lingala
Lithuanian
Lozi
Luganda
Luo
Luxembourgish
Macedonian
Malagasy
Malay
Maltese
Maori
Marathi
Mauritian Creole
Moldavian
Mongolian
Myanmar (Burmese)
Montenegrin
Nepali
Nigerian Pidgin
Northern Sotho
Norwegian
Norwegian (Nynorsk)
Occitan
Oriya
Oromo
Pashto
Persian
Polish
Portuguese (Brazil)
Portuguese (Portugal)
Punjabi
Quechua
Romanian
Romansh
Runyakitara
Russian
Samoan
Scots Gaelic
Serbian
Serbo-Croatian
Sesotho
Setswana
Seychellois Creole
Shona
Sindhi
Slovak
Slovenian
Somali
Spanish
Spanish (Latin American)
Sundanese
Swahili
Swedish
Tajik
Tatar
Telugu
Thai
Tigrinya
Tonga
Tshiluba
Tumbuka
Turkish
Turkmen
Twi
Uighur
Ukrainian
Urdu
Uzbek
Vietnamese
Welsh
Wolof
Xhosa
Yiddish
Yoruba
Zulu
🎬মুভির নাম: ওপিরি ।। Oopiri/তোঢ়া ।। Thozha 🎬বাংলা অনুবাদ করেছেন: নিশাদুল ইসলাম
তুমি দেখি একেবারে আগের মতই আছো।
কিন্তু, তুমি অনেক পাল্টে গিয়েছো।
থাম!
থাম!
গাড়ি থামা বলছি!
কিরে, থামালি না?
থাম! ওই......
আর. ই. সি. পেট্রোল থেকে বলছি, নিলাকারেচ পোস্ট।
হাজার টাকার বাজি,
ওরা আমাকে ধরতে পারবে না।
আচ্ছা!
বলেছিলাম না, দেখেছো?
হাজার টাকা আমার।
যখন ব্যাপারটা হাজার টাকার,
আমি জিতে গিয়েছি।
এখন হাজার টাকা আমার।
এবার পুলিশ তোমাকে ধরতে আসবে।
- কি? - শালা!
আমাদের কি তোর বাপের চাকর মনে করিস?
কিরে, মদ খেয়েছিস নাকি?
এদিকে আয়, এখন ফুঁ দে।
- ফুঁ দে বলছি - ফুঁ দে
কিরে,
ফুঁ দিবি না?
হাত সরান বলছি!
যখন এটা কারো জীবন মরণের প্রশ্ন,
আমি কি দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখবো?
উনাকে তাড়াতাড়ি হাসপাতালে না নিয়ে গিয়ে, এম্বুলেন্সের জন্য অপেক্ষা করবো?
উনি পঙ্গু।
গাড়ির ডিঁকিতে দেখুন, হুইল চেয়ার রাখা আছে।
কি হলো স্যার? পুলিশ বলে যা খুশি তা করবেন?
উনার যদি কিছু হয়, আপনাকে এর জন্য জবাবদিহি করতে হবে।
আচ্ছা, তুমি যাও!
না, স্যার। আপনি চেক করুন, আমি তারপরেই যাবো।
আরেহ! যেতে বলছি না তোমাকে?
গাড়িতে ওঠো!
যাও!
ওই, গাড়ি সরাও।
হুহ, কেমন দিলাম ওদের?
শোন, আমি আমার গাড়ি নিয়ে তোমাদের হাসপাতাল পর্যন্ত পাহারা দিয়ে পৌঁছে দিচ্ছি।
তুমি আমার পিছনে আসো।
কি হলো? ঠিকাছে তো? পিছনে আসো।
স্যার, আপনার গাড়ির সাইরেনটা তো বাজান।
ওই, সাইরেন বাজাও।
এবার থামো,
পুলিশ চলে গিয়েছে।
তুমি তো দেখছি দারুণ অভিনয় করো।
তোমার থেকেই তো শিখেছি!
এখন আমার হাজার টাকা দেও বলছি।
দিচ্ছি, দিচ্ছি।
সেই ছোটবেলা থেকেই আমার ইচ্ছা ছিল পুলিশকে মুরগী বানাবো,
আজকে আমার এতোদিনের ইচ্ছা পূরণ হলো।
🎶🎷🎶🎷🎶
🎶🎷🎶🎷🎶
🎶🎷🎶🎷🎶
পুলিশ আসতেছে।
-কি? - পুলিশ আসতেছে
- উনি ঠিক আছেন? -হ্যা, স্যার।
এই, স্ট্রেচার নিয়ে আসো।
স্যার, আমি ব্যবস্থা করে নিবো।
স্যার, আপনি মহান। আমাদের ডিপার্টমেন্টে যদি আপনার মতো আরো পুলিশ...
আরেহ! এটাতো আমার কর্তব্য।
আপনি যান, স্যার।
সাবধানে থেকো।
ধন্যবাদ, স্যার।
তাহলে, এবার আমরা কোথায় যাচ্ছি?
সেটা আমার উপর ছেড়ে দাও।
🌹 বন্ধু 🌹
ওই রায়াপুরাম, সিনু কোথায়?
আমার সামনে আরেকবার ওর নাম নিলে কেটে রেখে দেবো।
কি হলো, এতো ক্ষেপে আছে কেনো?
ওই, ওই, আমাকে একটু দিলি না?
কিরে, তুই খাবি নাকি?
একবার ইশারায় চাইলেও তো পারতি।
তাহলে, আমাকে এভাবে লজ্জায় পড়তে হতো না।
ওই শিনু, তোকে আমার সাথে যেতে হবে।
কোথায় চাচা?
মদ খেয়েছিস?
তুমি কিভাবে ভাবলে আমরা জেলে বসে মদ খাবো,
যেখানে তোমার মতো দায়িত্ববান পুলিশ আছে।
কিন্ত, মনে হচ্ছে তোমার গতরাতের গন্ধই এখনো যায়নি।
নকল মদ খেয়েছিলে নাকি?
কাউকে আবার বলিস না যেন!
চলো, যাওয়া যাক।
আমি কি জামিনে ছাড়া পেয়ে গিয়েছি?
প্যারোলে।
সেটা আবার কি?
কোর্টে গিয়ে মাঝে মাঝে সই করে আসতে হবে।
মাঝে মাঝে সই করতে যেতে হবে কেন?
তারা তোর কাজকর্মের খোঁজখবর রাখবে।
এখন, যাহ।
চিন্তা করোনা, আবার দেখা হবে।
আমি অপেক্ষায় রইলাম।
হাই, নিজাম মামা।
তোমার কথা খুব মনে পড়তো।
জেলে বসে?
ভিতরে ওরা কিসব রোলের কথা বলতেছিলো?
বাহুবলি-২ এ কাটাপ্পার রোলে তুই কি অভিনয় করবি?
আরেহ মামা, মজা করো না তো। ঠিক করে বলো।
ওরা তোকে প্যারোলে ২ বছরের জন্য মুক্তি দিয়েছে।
ছয় মাস ধরে এর জন্য খাটছি, এই নিয়ে চার মাসে ৩য় বার প্যারোলের জন্য আবেদন করলাম।
তাই এখন থেকে একদম সত্যবান হয়ে থাকবি।
সত্যবান?
বাংলায় বলো।
হায় কপাল! সত্যবানের বাংলা বলতে বলছিস!
এর মানে হলো সৎ জীবনযাপন।
তোকে এই কয় মাস ভালো হয়ে থাকতে হবে।
কারণ, তোকে কোর্টকে বিশ্বাস করাতে হবে যে তুই পাল্টে গিয়েছিস।
তখনই তুই পুরোপুরি জামিন পাবি।
আর এসব না মানলে?
আবার জেলের চোদ্দ শিকের মধ্যে ফেরত যেতে হবে।
ঠিকাছে মামা।
তুমি যেভাবে বলবে, আমি সেভাবেই চলবো।
বলতে না বলতেই অসৎ সঙ্গ এসে হাজির।
কেমন আছিস সবাই?
মনে হচ্ছে পাঠাকে বলি দেবার আগে মালা পড়িয়েছে।
- মামা যাবে না? - আসতেছি দাড়া
- মামা
- তুমি আসবে না? - আরে না।
- কি হলো মামা? - ওই!
আমি শুধুমাত্র শুক্রবার ছুটি পাই, আর আজকে শুক্রবার।
৬ মাস জেল খেটে তুই আজকে বাড়ি ফিরেছিস,
আজ তোর আম্মা অগ্নিমূর্তি ধারণ করবে। তুই যাহ!
আমার ব্লাড সুগারটা বেড়ে গেছে মনে হয়।
আম্মা নাই?
বেঁচে আছে।
কিরে কোথায় যাচ্ছিস?
তোকে এক কথা কতোবার বলবো? ওদের সাথে মিশবি না।
ওই, তুই এব্যাপারে কথা বলার কে?
কিরে ভাইকে দেখে ভয় পেয়েছিস?
তুই যেখান থেকে এসেছিস, সেখানেই ফিরে যাহ!
আম্মা চলে এসেছে, আমি তোমাকে পরে কল করছি।
ফিরে এলি কেনো?
তুই তো তোর জীবন বেছেই নিয়েছিস,
হঠাৎ আবার ফিরে এলি কেনো?
আমি মনে করতাম তুই একদিন ঠিক বদলে যাবি,
কিন্তু ছয় মাস আগে আমার আত্মবিশ্বাসটা মরে গিয়েছে।
তুই আমাদের কারো কথা ভাবলি না।
এমনকি এটাও চিন্তা করলি না যে বাসায় তোর একটা ভাই আছে,
একটা ছোট বোন আছে........ না, তোর বোন নয় আমার মেয়ে।
যাদের জীবনে তোকে দরকার। কিন্তু তুই তো জেলে ছিলি।
তোর ভাই আজকাল এলাকার মাস্তানদের সাথে মিশতেছে।
কিন্তু, তুই যদি তখন থাকতি,
ও ভাবতো ওকে শাসন করার জন্য ওর মাথার উপর কেউ আছে।
চলে যাহ!
আম্মা!
এই বাড়ির আর তোকে দরকার নেই,
বেড়িয়ে যাহ!
দোস্ত, মন খারাপ কেনো করছিস?
তোর বোনের তো বিয়ে দিতে হবে নাকি?
আর তোর কারণে তোর বোনের বিয়ের সব সম্বন্ধ ভেঙে যাচ্ছে।
কিছু বলছিস না কেনো?
আম্মা, কি মনে করেন?
আমি কি নিজের ইচ্ছায় এরকম জীবন বেছে নিয়েছি ?
আমারও ইচ্ছা ছিল খুব ভোরে ঘুম থেকে উঠবো,
সকালে উঠে নাস্তা খাবো,
তারপর অফিস যাবো।
হয়তো, কেউ আমাকে সালাম দেওয়ার জন্য দাঁড়িয়ে থাকবে,
বিকালে বাড়ি ফিরে জল-খাবার খাবো।
মাসের শেষের দিকে টানাটানিতে বাসেও চড়তে হতে পারতো।
আর আম্মা বলে আমি নাকি এরকম হতে চেয়েছি?
আমি বুঝি না,
উনি এটা কেনো বুঝতে পারেন না?
যদি ওই সময় ওখানে পুলিশ না আসতো, আমার জীবনের মানচিত্র হয়তো অন্যরকম হতো।
ইন্ডিয়ান পেনাল কোর্ট ধারা ২৭৮ এর অধীনে,
জনসমক্ষে মদ্যপানের অভিযোগে,
প্যারোল বাতিলে হয়ে যাবে এবং অতিরিক্ত ২ মাসের জেল হবে।
তুমি কিভাবে খবর পেলে মামা?
গুগল করে জেনেছি।
এখন ফোন রাখ আর সকালে দেখা করিস।
কোথায়?
কোথায় যাবো?
কি হলো মামা? তুমি আমাকে অনাথ আশ্রমে রেখে যেতে এসেছো?
ওই! এটা অনাথ শিশুদের জন্য মন্দির,
তোর মতো অকাল কুষ্মাণ্ডের থাকার যায়গা না! আয়!
একজন আমাকে এই বাচ্চাদের দেখভাল করার জন্য একজন লোকের কথা বলেছিলো,
তাই তোকে নিয়ে এসেছি।
অন্তত কিছুদিনের জন্য হলেও ভালো হয়ে থাকার চেষ্টা কর,
তুই ভালো হয়ে গেছিস প্রমাণ করতে পারলে ছাড়া পেয়ে যাবি।
মনে আছে তো? সত্যবানের মতো থাকার চেষ্টা করবি।
ভিতরে চল, ইন্টার্ভিউ দিতে হবে।
ইন্টার্ভিউ দিতে হবে?
-হ্যা, বলুন। -স্যার, আমি এই ছেলের সম্বন্ধে ভালোভাবে খোঁজখবর নিয়েছি।
বাবা, তুমি এর আগে কি করতে?
আমি এর আগে জেলে ছিলাম।
কি হলো মামা? সত্যি বলেছি না?
তুই আগে জেলে ছিলি বলার কি দরকার ছিলো?
তুমিই তো বলেছিলে, সত্যবান হয়ে থাকতে।
ভালো লাগতেছে না, আমার ব্লাড সুগার বাড়ছে মনে হয়।
তাহলে, এরপর কোথায় যাবো?
বৃদ্ধাশ্রম।
ভোর ৫ টায় ঘুম থেকে উঠতে হবে।
- ৫ টায় উঠতে হবে? - ৫ টার মধ্যে
উনাকে ৬ টায় ঘুম থেকে তুলে ৭ টার মধ্যে রেডি করে দিতে হবে।
আসো।
- রাতেরবেলা..... - আবার রাতের বেলায় কি?
আপনারা ঘুমান না?
ভালো প্রশ্ন, চলো তোমার শোবার ঘর দেখিয়ে দিচ্ছি।
ওহ ভগবান, আপনাদের শোবার ঘরের ব্যবস্থাও আছে?
আবশ্যই! আমাদের শোবার ঘরের সাথে সংযুক্ত শৌচালয়ও আছে।
কি হলো? কেমন এটা?
এটা শোবার ঘর?
হ্যা। এই তোমার বিছানা, আর এইখানে ঘর।
শৌচালয়টা দেখে নাও, ওইদিকে।
কি হলো কাজ করবে তো এখানে?
কি হলো হনহনিয়ে কোথায় যাচ্ছিস?
আমি এখানে কাজ করতে পারবো না মামা,
এর চেয়ে তো জেলখানা ভালো।
যেখানে কাজ করার জন্য দশজন লোকের প্রয়োজন,
উনারা সেই দশজন লোকের কাজ করার জন্য একজন লোক খুজছে।
আমার দ্বারা একাজ হবে না।
আমি অন্য একটা চাকরি খুজে নিবো।
ওহ! তোর কাছে কি আরো চাকরির খবর আছে?
-ওই মামা! -কি? -এটা তো রাজপ্রাসাদ।
এখানে তো শুধু ৪ মাস বা বছর না, ৪ জন্ম পর্যন্ত থাকতে চাই আমি!
তুই যেটা ভালো মনে করিস! এই অটো চলো যাওয়া যাক।
ওরে ভগবান! এতো বড় বাড়িতে কতো লোক থাকে?
এখানে এতো লোক কেনো? ফ্রিতে প্রসাদ বিলাইতেছে নাকি?
কে জানে কি আছে কপালে!
হে ভগবান, যেকরেই হোক আমি এই চাকরিটা যেন পেয়ে যাই।
বস, কে উনি?
আপনি উনাকে চেনেন না?
না চিনি না, তো?
বিক্রমআদিত্য।
শহরের এক নম্বর ব্যবসায়ী।
থামো! উনি কে?
ওই যে উনার পিছনের,
ওই মেয়েটা কে?
স্যারের অফিস সহায়িকা।
ওই মেয়েটা থাকে কোথায়?
আগে তো কখনো দেখি নাই।
ওইটা আমার!
আরেহ, আমি চাকরির কথা বলছিলাম।
ওটা আমার চাই।
মর শালা।
হারিষ!
শুভ সকাল, ম্যাডাম।
শুভ সকাল, স্যার।
এই চাকরিটা আপনি কেনো করতে চান?
আমার রক্তের গ্রুপ ও-পজেটিভ, উনারও তাই।
উনার কিছু হলে আলাদা করে রক্ত খোজার দরকার হবে না।
আমার ঘরে আমার মায়ের ছবি টানানো নেই, টানানো আছে মাদার তেরেসার ছবি।
মানুষের জন্য কিছু করতে পারলে আমার বেশ ভালো লাগে।
আপনি কেনো চাকরিটা করতে চান?
আমার বাবা ৯০ বছর বয়স পর্যন্ত চাকরি করে গিয়েছেন।
এরপর তিনি মারা যান।
আমার মনে আছে, মারা যাওয়ার আগে তিনি বলছিলেন,
সেই কাজ করবে যাতে তুমি খুশি থাকবে।
কিছুদিন আগে আমি সেবা-শুশ্রূষা এর উপর একটি কোর্স করছি।
আমি এম.বি.এ. ও শেষ করেছি।
তাই আমি পাশাপাশি আপনার ব্যবসায়েরও দেখভাল করতে পারবো,
এটা আমার পক্ষে বেশ সহজও বটে।
আসল কারণ কি?
টাকা,
সম্মান,
সেবা,
ওই, দাড়া!
আমি বের হওয়ার পর যাস!
এভাবে বলার কি আছে!
আপনি চাকরিটা কেনো করতে চাইছেন?
আপনি যখন হেটে এ ঘরে ঢুকছিলেন,
তখন আপনাকে দেখে আমার বেশ ভালো লেগেছে।
তাই আমি চাকরিটা করতে চাই?
এর আগে কোনো সহায়তাকারীর কাজ করেছো?
মানে, সমাজসেবা?
আমি তো এধরনের কাজ সব সময়ই করি।
মেয়েদের উত্যক্ত করলে বাচানো,
মানুষকে মদ খেতে বারণ করা,
পিপাসীকে পানি দেওয়া,
বৃদ্ধদের সাহায্য করা,
যুবক-যুবতীদের প্রেমে সাহায্য করা ,
বাচ্চাদের রাস্তা পারাপার করে দেওয়া,
এধরনের কোনো কাজে আমি নেই।
মামা বলেছিল সৎভাবে থাকতে,
তাই এখানে এসেছি।
তোমার জীবনের স্বপ্ন কি?
আমার আবার কিসের স্বপ্ন, স্যার?
ওটাতো প্রতিদিনই বদলাতে থাকে।
যেমন আজকে ও আমার স্বপ্ন।
তোমার ফোন নম্বরটা দেওয়া যাবে?
কি হলো! ফোন নম্বর চেয়েছি, তোমার ফোন চাইনি।
আইফোন চালাও!
নাও, আমার নম্বরটা সেইভ করে দিলাম।
রাত ১০টার পর আমার আউটগোইং ফ্রি।
তুমি মিস কল দিও, আমি কল ব্যাক করবো।
যাই তাহলে।
তোমার নাম কি?
এখন পর্যন্ত যারা এসেছে তুমি তাদের থেকে একদম আলাদা।
কেনো, স্যার? আপনি ওকে পছন্দ করেন?
এই, কি বলছো এসব আবোলতাবোল? তুমি পাগল নাকি?
তোমার কি মাথা ঠিক নেই?
গর্ধভ কোথাকার!
তোমাকে চাকরিতে নিয়োগদান করা হলো।
কি, স্যার?
কাল থেকে কাজে যোগ দিতে পারো।
এই, তুমি কে? এদিকে কোথায় যাচ্ছো?
আপনি কে?
আমি গত ৩০ বছর ধরে এ বাসায় কাজ করি।
তারমানে বুয়া?
তোমার চুলের ঝুটি দেখেই বুঝেছিলাম।
কি হলো চাকরির প্রথম দিনেই দেরি?
এই ছোকরা কে মা?
স্যারের নতুন কেয়ারটেকার।
ওহ! তাই এমন ভাষা!
চলো যাওয়া যাক।
এই বুয়া একটা কড়া কফি বানিয়ে নিয়ে আসো।
এই যা তো!
ভোর ৬টায় ঘুম থেকে উঠতে হবে,
ঘুম থেকে উঠে ৭টায় স্যার কফি খায়।
কাটায় কাটায় ৮টায় ব্যায়াম করানোর লোক আসবে, ব্যায়ামগুলো ভালো করে দেখে নিও।
তুমি আসলেই তারা ব্যায়াম করানো শুরু করবে।
ঠিক ৯টায় স্যারে নাস্তার সময়।
ঠিক আছে?
নাস্তা?
আমি তো খেয়ে এসেছি।
এটা ওয়াকিটকি। এটা রেখে কোথাও যাবে না!
এটাই খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
যেখানেই যাবে সাথে নিয়ে যাবে।
আর আরেকটা কথা।
কি?
আমি যতোক্ষণ না আসবো, তুমি খেতে যাবে না!
মিনাক্ষীও তোমার মতো করে বলতো।
মিনাক্ষী কে?
আমার প্রাক্তন প্রেমিকা।
এটা তোমার ঘর।
আমার ঘর?
ঘর সবসময় পরিষ্কার করে রাখবে।
এখানে গোছলখানা।
এটাতো একেবারে ছবির মতো!
এখন চলো! আমাদের যেতে হবে।
২ মিনিট।
তাড়াতাড়ি।
ওই, কি দেখছিস?
স্যার, ধন্যবাদ। গোছলখানাটা হেব্বি!
এই! কি করছো?
ও হাতও অবশ নাকি? আমি মনে করেছিলাম শুধু পা!
স্যার ও এই কাজের জন্য যোগ্য লোক না।
আমরা শুধু শুধু সময় নষ্ট করছি।
তাই নাকি?
কতো মেয়ে বসে আছে আমার সাথে সময় কাটাবে বলে,
আর তুমি এসব বলছো!
আমি ভালো করে আপনার দেখভাল করবো।
আপনি ওর কথা কানে নেবেন না তো!
আমি জানি তুমি তা ভালোভাবেই করবে।
আপনার নতুন কেয়ারটেকার?
ভালোভাবে দেখো,
প্রত্যেক মাংসপেশিতে চাপ প্রয়োগ করতে হবে।
তাড়াহুড়ো করা যাবে না,
এতে হাটুসন্ধি ভালো থাকবে।
ভালোভাবে দেখেশুনে করবে।
বুঝেছো?
এরপর কোন হাত?
আমি এতোক্ষণ পায়ের ব্যায়াম করাচ্ছিলাম, হাতের না!
অপদার্থ কোথাকার!
কি হলো ক্লান্ত হয়ে গিয়েছো?
না! ঠিকভাবেই তো দেখছি।
স্যারকে উঠিয়ে হুইল চেয়ারে বসাও।
উঠাও!
কি হলো, ঠিক আছে?
বেল্টটা লাগাও!
সাবধানে কাজ করতে পারো না?
আমি জানি আমার কোনকিছুই তোমার ভালোলাগে না।
ঠিক আছে স্যারকে গোছল করাতে নিয়ে যাও।
কোথায়?
গোছল করাতে!
আমি গোছল করাতে নিয়ে যাবো? পারবো না।
এটা কি?
এই মোজা পড়লে পায়ে ঠিকাভাবে রক্ত সঞ্চালন ঘটে।
পড়াও।
ওই, এখন কিন্ত একটু বেশিই হয়ে যাচ্ছে। তাই না?
কীর্তি, ওটা ওখানে রেখে যাও। ও আমাকে পড়িয়ে দেবে।
কি বলছেন স্যার?
একটা বড় গোছলখানা দিয়েছেন, তাই এসব কাজও করাবেন নাকি?
-বল! - মামা,
এসব কতোদিন সহ্য করতে হবে?
এখানে ওনাকে ঘুম থেকে উঠাতে হয়, ব্যায়াম করাতে হয়, গোছল করাতে হয়, নাস্তা খাওয়াতে হয়..........
দেখো, আমার মনে হয় না আমি এখানে বেশিদিন টিকবো!
শোন, আমারও ভালো লাগছে না যে তুই এসব কাজ করছিস।
কিন্তু, তুই তো এখানেই কাজ করতে চেয়েছিস। চাসনি?
কোনোরকম ৪মাস কাটিয়ে দে,
তখন মামলার শুনানি হবে, একবার জামিন পেয়ে গেলে তোকে এসব আর করতে হবে না।
শোনো, শোনো!
৪ মাস!
কি হয়েছে স্যার?
একটু পানি খাবো।
শুভ সকাল, স্যার।
শুভ সকাল।
ওই! ওই শিনু!
এটা উকিলের চিঠি, ওই বাদামী ফাইলের ভেতর রাখো।
এটা ব্যক্তিগত, ওই কালো ফাইলে রাখো।
ওই! কি করছো?
দেখো! উনি কোনো ব্যথা পায় না।
ওই আহাম্মক!
খেলা পেয়েছো নাকি এটা?
স্যার! আপনি কোনো ব্যথাই পাননি!
আচ্ছা! আচ্ছা! আমি ঠিক সময়ে চলে আসবো।
স্যার, আপনাকে বারবার "স্যার" বলে ডাকলে স্কুল দিনের কথা মনে পড়ে যায়।
এমনিতেই আমার স্কুল নিয়ে এলার্জি।
তখন আমাদের মাস্টার মশাইকে স্যার বলতে হতো,
আপনাকে যেমন বলি.......
তুমি কি বলে ডাকতে চাও?
ভাই বলে ডাকি?
সারাদিন এসব খবর কি দেখো ভাই?
হে ভগবান! এরা থাকে কোথায়?
প্যারিস!
তুমি কখনো গিয়েছো ওখানে?
বহুবার। ওটা আমার সবচেয়ে পছন্দের যায়গা।
যখনই হতাশায় ভুগি, ওখানে যাই।
পরেরবার গেলে আমার জন্য এক বোতল মদ আনবে, ঠিক আছে?
বাড়ির সামনেই এত দামি দামি গাড়ি পার্ক করা, দেখতেই বেশ লাগে।
তুমি ওগুলোতে ওঠো না কেনো?
আমরা গাড়িতে না, এই মাইক্রোবাসে করে যাবো।
ভাই, এটা তো মাইক্রোবাস না! এটাতো এম্বুলেন্স।
তুমি কি কোনো রোগী নাকি যে এটায় করে যাবে?
ডাক্তার আমাকে গাড়িতে চলাচল করতে নিষেধ করেছে।
ওরাতো টাকার জন্য যা খুশি তা বলে।
ডাক্তারের কথা সবসময় শুনতে হয় নাকি!
আমরা আজকে এম্বুলেন্সে করে যাচ্ছি না।
আজকের দিনটা গাড়িতে যাওয়া যায় না?
তাহলে তুমি কোন গাড়িতে যেতে চাও?
ভাই, ইঞ্জিনের শব্দটা কেমন?
সেই!
ওমা! ছোকরাটা স্যারকে গাড়িতে করে নিয়ে গেল, এবার কি হবে?
এক ঘন্টা ধরে বসে আছি,
ওই লাল ধাব্বাটা এতো কি দেখছো?
আর কতক্ষণ ধরে দেখবা?
একটা ছবি অনেক কথা বলে।
আমি শুনতে পাইতেছি না কেনো?
তুমি জান এই লাল রংটা দিয়ে কি বোঝায়?
তুমিই বলো।
এর দ্বারা আমরা শহীদদের কথা স্মরণ করি।
আবোলতাবোল বকো না তো!
আমরা যদি মারা যাই বা কাউকে মেরে ফেলি, তাদের মনে করতে কি এভাবে দেয়ালে টাঙিয়ে রাখবো!
যাচ্ছেতাই বলে সবসময়।
ছবিটার দাম কতো?
২০ লক্ষ টাকা।
কি বললেন?
২০ লক্ষ টাকা দিয়ে একটা ছবি কিনলো!
এই টাকায় তো আমার সারাজীবন চলে যাবে।
আচ্ছা বাদ দে! পরে কথা বলছি।
-হাই, বিক্রম! - হাই!
দুঃখিত, একটু দেরি হয়ে গেলো।
দেরিতে আসা তো উকিলদের অভ্যাস!
আমি আজকে তোমার উকিল হিসাবে এখানে আসিনি!
তাহলে কেনো এসেছো?
তুমি কাকে চাকরিতে রেখেছো?
একমাত্র ওই কি ইন্টার্ভিউ দিতে এসেছিলো?
ও তোমার পায়ে গরম পানি ঢেলে দিয়েছে!
প্রতিবন্ধী কোথাকার!
ও তোমাকে ধোকা দিচ্ছে,ও একটা বাটপার।
প্যারোলে জেল থেকে বেরিয়েছে!
ওর প্রতি এতো দয়া মায়া দেখানোর কোনো দরকার নেই।
যদি একদিন রাতে তোমার গলায় ছুরি ধরে বসে?
তখন তোমার কি অবস্থা হবে ভাবতে পারছো?
তুমি এসব ব্যাপারে একটুও ভাবলে না!
কি হলো!
তোমার কথা শেষ?
ওই দুর্ঘটনার পর, ৫ বছর ধরে আমার জীবন এই হুইল চেয়ারে আটকে গিয়েছে।
সবাই আমার উপর অনেক দয়া দেখিয়েছে।
আমি তা চাইনি।
কখোনো চাইনি!
তুমি ওর মায়া মমতার ব্যাপারে কথা বলছিলা না?
ও আমার উপর কোনো দয়া করেনি,
আর আমিও ঠিক এটাই চেয়েছিলাম।
যখন কোনো ফোন আসে ও সেটা আমার দিকে এগিয়ে দেয়,
একবারো চিন্তা করে না যে আমি ওটা তুলতে পারবো কিনা!
কিছুদিন আগেও আমি জানতাম না আমি কি চাই,
কিন্তু এখন আমি জানি।
আমি চাই ওই ছেলেটা আমার জীবনে থাকুক!
ওর সম্পর্কে তুমি কিছু বলবে,
আমি কিছু বলবো।
কিন্তু এ আলোচনা কি আদৌ শেষ হবে ?
আর, আমি ওকে মোটেও ভয় পাই না।
আমি জীবনে অনেক খারাপ মানুষ দেখেছি,
কিন্তু তোমার মতো মানুষের সংস্পর্শে এসে তারা না পাল্টে থাকতে পারবে না!
শিনু!
জি, ভাই।
শিনু, ও আমার সবচেয়ে ভালো বন্ধু প্রসাদ।
সালাম, স্যার।
স্যার, আমি এর আগে আপনাকে কোথায় যেনো দেখেছি!
কিন্তু কোথায়?
স্যার, আপনি বাংলা ছবির ভিলেন ডিপজল। তাই না?
স্যারের মেয়ে রাজস্থান পালিয়ে গিয়েছে।
সে এটা ঠিক করেনি স্যার!
এই প্রথম আমি কাউকে নিজের পায়ে নিজে কুড়াল মারতে দেখলাম।
টাকা থাকলে হয়তো তুমি যা খুশি তাই করতে পারবে,
যেভাবে থাকতে চাও সেভাবে থাকতে পারবে।
কি?
হাত নড়াতে পারো না, পা নড়াতে পারো না তবুও রাজার মতো আছো,
শুধু মাত্র টাকার জোড়ে।
২০ লক্ষ টাকা দিয়ে একটা ছবি কিনলে!
থাকো, তুমি যেভাবে থাকতে চাও!
ওই, কি দেখছিস?
আমি কি ছবি আঁকতে পারি না?
প্রথমে লাল রং!
ওহ, দুঃখিত!
ভাই?
ভাই!
কি হয়েছে ভাই?
কিছু হবে না!
কিছু হবে না!
কিছু হবে না ভাই! কিছু হবে না!
ভাই!
-কি হলো ভাই? - শ্বাস, শ্বাস নিতে পারছি না!
বাইরে নিয়ে চলো আমাকে,
বাইরে নিয়ে চলো।
এই, আমরা কোথায় যাচ্ছি?
ভাই, তুমিই তো বললে বাইরে নিয়ে যেতে!
আমি তো বলেছিলাম বাড়ির বাইরে নিয়ে যেতে!
সবসময় তো বাড়ির ভিতরেই থাকো ভাই।
আচ্ছা, তাহলে আমরা এখন কোথায় যাচ্ছি?
এটা আমার নিজের এলাকা।
আদা চা খাবে ভাই?
এভাবে দেখো না,
এটা মানুষের ব্যক্তিগত সম্পত্তি।
না, মানে আমি একারনে বললাম যে এটার জন্য না জানি তুমি কতো টাকা বলে ফেলো!
ভাই, তখন কি হয়েছিলো?
একটা ছোট শারীরিক সমস্যা।
শরীরের আর কি দোষ বলো ভাই?
সারাদিন ঘরে বসে থাকলে তো এরকম হবেই।
দিনে অন্তত একাবারের জন্য হলেও বাইরে যাওয়া উচিৎ।
দেখবে এতে শরীর আরো ভালো লাগবে।
বাইরে বের হলেই তো এসি গাড়িতে ঘুরে বেরাও,
মাঝে মধ্যে বাইকেও উঠে দেখো।
আমি বাইকে উঠবো!
কেনো? উঠতে পারোনা নাকি?
বসো, আসতেছি।
শোন, আধা ঘন্টার জন্য তোর বাইক আমার আর আমার গাড়ি তোর। ঠিক আছে?
ভাই, চলো যাওয়া যাক!
তুমি এর আগে বাইকে উঠেছো?
কি?
তুমি এর আগে কখনো বাইকে উঠেছো?
আমি এর আগেও বহুবার উঠেছি।
আমি এতো জোড়ে চালাচ্ছি যে চোখ থেকে পানি পড়ছে।
এই পানি তোমার বাইক জোড়ে চালানোর জন্য না শিনু!
এটা ওই বাদামী ফাইলে রেখে দাও।
এই, এটা ব্যক্তিগত।
কি হলো ভাই?
তোমার কি মাথা খারাপ নাকি?
তুমি স্যারের অবস্থা জানো না?
কতো বিধিনিষেধ মানতে হয়।
আরেহ, থামোতো।
তুমিও ধুয়ো নেও এখান থেকে।
যা, ইচ্ছা করো তুমি!
কেমন হয়েছে ভাই?
এটা তুমি নিজে এঁকেছো?
হ্যা, ভাই! আমি নিজে নিজেই এঁকেছি।
এক রঙের ছবির দাম যদি ২০ লক্ষ টাকা হয়, এখানে তো অনেক রং রয়েরছে।
তাহলে এর দাম তো ৪ বা ৫ লক্ষ হবেই। তাই না?
কমপক্ষে দুই লক্ষ?
এসব আঁকার চিন্তা ভাবনা তোমার মাথায় আসে কোথা থেকে?
তোমার মতো সাধারণ মানুষের এসব নিয়ে চিন্তা করতে হয়,
আমার মতো চিত্রকারের নয়!
বুয়া ছবিটা সুন্দর হয়েছে, তাই না?
বাথরুমে ব্রাশ খুজে পাইতেছি না, ওইটা তুমি নিয়েছো নাকি?
বুয়া, যাও নিজের কাজ ঠিক মতো করো!
এই চিৎকার করছো কেনো, তুমিই তো ডাকলে!
হতোচ্ছাড়া কথাকার!
ওর দ্বারা কখনো ছবি আঁকা হবে নাকি!
মামা, সকালে আনোয়ার ভাই তোমাকে কল করবে।
ওকে ক্রিকেট স্টেডিয়ামের কাজটা দিয়ে দিও।
আর, আমি এখানে আরো ৩ মাস থাকতে চাই।
তোমাকে এই ব্যাপারে কিছু করতে হবে।
এই এতো তাড়াহুড়ো করে কি বললি?
মামা, মোবাইলে ব্যালেন্স নেই।
৫০০ টাকা রিচার্জ করে দিও তো!
একটা ডিম ভাজা দেও!
তুমি কি চলে যাচ্ছো?
না, এখনো সেই সময় আসেনি। আরো ৩মাস পর যাবো।
বিক্রম, তোমার আমার কথা মনে পড়েছে, তাই না?
আমিও তোমাকে ভুলতে পারিনি,
প্রতিদিন তোমার কথা মনে পড়ে আমার।
ওহ, ভগবান!
বুয়া, তুমি শুনেছো? টাকা মানুষকে কতোটা বদলে দিতে পারে!
মেয়েরা টাকাওয়ালার সাথে একেবারে আঠার মতো লেগে থাকে।
মানে?
এখন আমি বুঝতে পারলাম, ও কেনো আমার সাথে এতদিন খারাপ ব্যাবহার করেছে।
আরে হইছেটা কি?
শুনতে পাচ্ছো না! কীর্তি ভাইয়ের সাথে প্রেমের কথা বলতেছে!
বেকুব কোথাকার!
তোমার মাথার ভিতর ঘিলু আছে নাকি তাও নেই?
ও, তো চিঠি পড়ে শোনাচ্ছে।
কি পড়ছে?
চিঠি!
মানে ওই চিঠিগুলো,
যেগুলো ব্যক্তিগত!
কোন মেয়ের?
- হ্যা! - তাহলে সমস্যাটা কোথায়?
তুমি ওয়াদা করো যে, এই কথা আর কাউকে বলবে না!
ওয়াদা, ওয়াদা! বলোতো!
সেদিন স্যারের সাথে ছবির প্রদর্শনীতে গিয়েছিলে না?
ওইখানের একজনের ছবি স্যারের ভালো লেগে যায়,
স্যার তাকে চিঠি লেখা শুরু করে।
জানো, সে কে?
- কে? - এই মেয়েটা
মেয়েটা বছরে একটা চিঠি লেখে, স্যার তার জবাব দেয়।
কিন্তু,
৬ মাস আগে মেয়েটা স্যারের সাথে দেখা করতে চেয়ে চিঠি দিলো।
তারপর যা ঘটার তাই ঘটলো,
স্যার চিঠি লেখা বন্ধ করে দিলো।
কিন্তু মেয়েটা এখনো প্রতিনিয়ত চিঠি লেখে।
দেখা করতে চাওয়ায় ৬ মাস ধরে চিঠির জবাব দিতেছে না!
কিন্তু কেনো?
সে কথা স্যারকেই জিজ্ঞাসা করো পারলে!
ঠিক বলেছো।
আরেহ কোথায় যাচ্ছো! তুমি বলেছিলে কাউকে বলবেনা কিন্তু!
ভগবান! এবার আমার কি হবে!
আমি এখনো বিশ্বাস করি, তোমার মতামত একদিন বদলাবে।
শিনু, ৫ মিনিট পরে এসো।
-কি বললে ভাই? -শিনু, ৫ মিনিট..........
ব্যক্তিগত চিঠি, তাই না ভাই? ব্যক্তিগত হলে ওয়াকিটকিটা বন্ধ করে নেওনি কেনো?
ব্যক্তিগত বলতে কিছু নাই এখনা আর ভাই! বুয়াও তোমার প্রেম কাহিনী সম্পর্কে জানে!
শিনু, ওটা রেখে দাও!
সকাল-সন্ধ্যা প্রতিনিয়ত মেয়েটা তোমাকে চিঠি লিখতেছে,
আর তুমি একটা চিঠিরও জবাব দিতেছো না!
তুমি কি এটা ঠিক করছো, ভাই?
ভাই, এখানে দেখি মেয়েটার মোবাইল নম্বর দেওয়া আছে!
শিনু, কল করবে না শিনু!
দয়া করে কল করো না শিনু!
শিনু, কলটা কেটে দাও!
করোনা এটা শিনু!
হ্যালো।
ভাই, কন্ঠটা কিন্তু অসাধারণ।
কথা বলো!
কথা বলো না ভাই!
প্রিয়া, আমি বিক্রম বলছি।
অনেকদিন ধরে তোমার সাথে কথা বলতে চাচ্ছিলাম,
কিন্তু কল করা হয়নি!
আমারও ইচ্ছাছিল তোমার সাথে কথা বলার।
ভাই! এইভাবেই চালিয়ে যাও। ঠিক আছে?
কথা বলো।
ওই, বাইরে চলো, কি করছো এখানে বসে?
তাড়াতাড়ি চলো!
ভাই! কথা বলো, বলো!
ওই!
বিক্রম কোথায়?
ভাই, ব্যস্ত এখন।
আমি কাল যা করেছি, তারপর সকাল থেকে ফোনে কথা বলেই চলেছে।
কার সাথে কথা বলছে?
ব্যক্তিগত!
৫ মিনিট অপেক্ষা করুন।
এই ছবিটা আমার জন্য এনেছো?
হ্যা, তোমার জন্য।
কোথা থেকে আনলে?
লন্ডন থেকে।
-কতো নিলো? -দুই লাখ।
কেমন ছবিটা?
আমি প্যাটার্নটা ঠিকমতো বঝতেছি না!
বঝতেছো না?
কাছে গিয়ে ভালো মতো দেখোতো।
অন্য দিক থেকে গিয়ে দেখি!
ওহ! এবার বুঝতে পেরেছি!
বুঝতে পেরে গিয়েছি!
এই লাল, হলুদ, কমলা এবং নীল
মানুষের মনের অন্তর্নিহিত ভাবনাকে ব্যক্ত করে।
আমি ঠিক ধরেছি না?
প্রসাদ, তুমি অসম্ভব জ্ঞানী!
ধন্যবাদ!
আমি এটা কিনবো
তুমি তো আমার পছন্দ সম্পর্কে জানোই!
খুব ভালোভাবেই জানি।
স্যার, জমির কন্টাক্টটা.........
ভাই, আমাকে ডেকেছো?
এই খামটা খুলে দেখো।
এটা কিসের টাকা ভাই?
তোমার ছবি বিক্রির টাকা।
আমার ছবি!
জীবনে প্রথমবার আমি এতোগুলো টাকা আয় করেছি।
জীবনে প্রথমবার আমি এতোটা আত্মতৃপ্তি পেয়েছি!
কিন্তু আমি এটা জানতাম। ছোটবেলা থেকে সাদা কাগজ দেখলেই আমার হাত কাপাকাপি শুরু হয়ে যেতো।
এবার আমি আমার নিজের প্রতিভা চিনতে পেরেছি।
আমি এখন জানি আমার কি করা উচিত।
আর আমাকে কেউ থামাতে পারবে না!
মানুষ জানে না তারা কোন শিনুকে অবহেলা করেছে,
সারা বাংলায় এখন আমার জয়জয়কার করা হবে।
কিরে, এতোদিন পর কোথা থেকে আসলি?
আদালত থেকে।
কি ওগুলো?
কিছু টাকা।
কিসের টাকা?
শিনু টাকাটা আমাকে দিয়ে পাঠিয়েছে।
ও এখনো বদলায়নি?
যাহ! ওকে বলে দিস,
ওর অসৎ আয়ের টাকার কোন দরকার নেই আমাদের।
ও আমাদের ঋনের বোঝা কমাতে চাইছে, তাই না?
আমি সবসময়ই এভাবেই সংসার চালিয়েছি,
আর এভাবেই চলবো।
আমার কারো দয়ার দরকার নেই।
আমি বলেছিলাম, তোর মা কখনো টাকাটা নিবে না।
তুই আমাকে জোড় করে পাঠালি।
আরেহ! টাকাটা নিয়ে আসি দাড়া।
তুই দেখি জাতে মাতাল তালে ঠিক!
এবার বুঝলাম তোর মা এরকম করে কেনো সবসময়।
তুই এখানে কি করছিস?
ওর সাথে মিশতে নিষেধ করেছি না!
ভবষ্যতে যেন আর না দেখি!
ভাই, বাদ দে তো ওর কথা।
তুই যা।
ওই, কেটে পড় এখান থেকে।
স্যার, কিছু ইমেইল এসেছে আপনার নামে।
কোন চিঠি আসেনি?
হ্যা স্যার, এসেছে।
টাইম ম্যাগাজিন, ব্যাংক, আয়কর বিভাগ..........
আর একটা বিয়ের দাওয়াত এসেছে।
এই কয়টাই?
আর কোন চিঠি আসেনি?
না, স্যার।
ঠিক আছে।
আমি কিছুক্ষন একা থাকতে চাই।
ঠিক আছে, স্যার।
শিনু!
তুমিও যাও।
ভাই!
তুমি কি এই চিঠিটার খোজ করতেছো?
এটাই খুজছো তো?
কিন্তু এটা তো চিঠি না,
মনে হচ্ছে একটা ছবি।
ফোনে আলাপ, এখন আবার ছবির আদান প্রদান।
এই শিনু!
এটা খুলোনা শিনু!
ওই!
ভাই,
সে তো অসম্ভব সুন্দরী।
এখানে ইংরেজিতে কিছু লেখা আছে।
বাংলায় অনুবাদ করো।
বাংলায় বলো বাংলায়, আমি ইংরেজি বুঝি না।
১১ তারিখ চেন্নাই আসবে, স্যার দেখা করতে পারবে কিনা জিজ্ঞাস করেছে।
পারবে কিনা মানে! অবশ্যই দেখা করবে!
ঠিক আছে তো?
কেমন দেখাচ্ছে ভাই?
ভালো লাগছে না, তাই না? আমারও ভালো লাগতেছে না।
মেয়েরা এই ধরনের সাজ পছব্দ করে না।
এইটাও ভালো না।
এটা চলবে কোনরকমভাবে।
ভাই, ভ্যানভ্যান না করে একদম সোজাসাপ্টা কথা বলবে।
- শিনু। - কি হয়েছে ভাই?
- তুমি আমাদের সাথে যাবে না। - কি!
তুমি আমাদের সাথে যাইতেছো না।
আচ্ছা।
কিন্তু উল্টাপাল্টা কিছু বলবে না, ঠিক আছে?
কীর্তি, কয়টা বাজে?
৫:৪০, স্যার।
আরো ২০ মিনিট অপেক্ষা করতে হবে, তাই না?
এখিন কয়টা বাজে?
৫:৫০, স্যার।
এখন সময় কতো?
৫:৫১, স্যার।
চলো, আমরা এখন যাবো।
কিন্তু ৬টা বাজতে আর অল্প কিছুক্ষন বাকি স্যার।
আমি বললাম না একবার, চলো যাওয়া যাক।
এটা কি করলে ভাই?
মেয়েটার সাথে দেখা না করেই ফিরে এলে কেনো?
এজন্য আমাকে আসতে নিষেধ করেছিলে?
এতো কষ্ট করে তোমাদের দেখা করার ব্যবস্থা করলাম।
এর আগে তো তুমি ফোন করতে ভয় পেতে, চিঠি লিখতে ভয় পেতে,
একমনকি ছবি দেখতেও ভয় পেতে।
তুমি কেনো এমন করলে ভাই?
শিনু! তোমার সব কথার উত্তর দিতে আমি বাধ্য নই।
নিজের সীমা ছাড়িয়ো না!
কীর্তি, আমার ফোন নম্বর বদলে ফেলো।
আর প্রিয়ার চিঠিগুলো যেনো আর শিনুর হাতে না যায়।
ঠিক আছে, স্যার।
একটু আগে ধমক খাওয়ার কথাগুলো ভাবছো, তাই না?
এখানে কিভাবে থাকতে হবে এখনই শেখা শুরু করো।
কি হয়েছে? আমার মেজাজ খারাপ আছে, এখান থেকে যাও এখন!
কি?
এখান থেকে তুমি যাও, নালে আমি চলে যাচ্ছি।
এখন আমি আমার সীমা সম্পর্কে ভালো করে জানি।
স্যারের মেজাজ খারাপ ছিল, তোমার ওইসময় ওভাবে বলা উচিৎ হয়নি।
আমার ওভাবে বলা উচিৎ হয়নি, তাই না?
তাহলে এভাবেই চিঠি লেখালেখি চলতে দেওয়া উচিৎ ছিলো!
ভাই তো মেয়েটাকে কল করতেও ভয় পেতো!
সেখানে আমি তাকে ফোনে কথা বলিয়েছি।
এসব কিছুই হতো না যদি আমি সেদিন মেয়েটার ছবি না দেখতাম।
তাহলে আমি তাকে যাওয়ার জন্য জোরাজোরিও করতাম না,
ভাই আজকে ওখানে যেতো না,
আর আমার ধমক শুনাও লাগতো না!
বল!
আচ্ছা, আমি দেখছি।
এখন কোথায় ওরা?
আমি আসতেছি।
আমি এক ঘন্টার মধ্যে আসতেছি।
ভাইকে বলে দিও।
তুই আরেকটু পরে এলে অনেক দেরি হয়ে যেতো!
সবকিছু শেষ হয়ে যেতো!
ওরা কোথায় এখন?
ওই নীল শার্ট পরা ছেলেটা।
তোমার বন্ধুরা কোথায়?
কে তুই?
কে তুই বল!
কে তুই?
কি হলো ?
হাত সরাও বলছি!
তুমি কে?
জিজ্ঞেস করেছিলে না,
ও কে?
ও আমার হবু বর।
এই, তুই চিন্তা করে দেখেছিস এটা জানার পর আম্মার কি হবে?
আম্মাকে আর বাচানো যাবে না।
তাতে তোমার কি?
ওর বাবা জিজ্ঞাসা করেছিলো,
আমার পরিবার সম্পর্কে।
কি বলতাম আমি?
যে আমার বড় ভাই প্যারোলে মুক্তিপ্রাপ্ত আসামী!
আর এখন এক বড়লোকের দয়ায় বেচে আছে। এসব বলা ঊচীৎ ছিলো আমার?
এরকম পরিবার থেকে আসা কোন মেয়েকে কি কেউ বাড়ির বউ বলে মেনে নেবে?
আমি তাদের আমার বাড়িতে আসতে বলতে পারছি না,
আম্মাকে তাদের বাড়িতে যেতে বলতে পারছি না!
এখন কি তুমি তাদের বাড়িতে যাবে বিয়ের কথা বলতে?
অপদার্থ লোক কোথাকার!
দুঃখিত!
আমি যাবো কথা বলতে।
তুমি কথা বলতে যাবে?
কি বলবে তুমি গিয়ে?
বলো কি বলবে?
তাকে একবার গিয়ে কথা বলতে দাও, দেখো না কি হয় তারপর!
আমরা বিয়ের জন্য এতোদিন অপেক্ষা করেছি, আর দুটো দিন অপেক্ষা করতে পারবে না?
নকশাটা বদলে নয়তলা বাড়ির জন্য করো।
কিন্তু স্যার, আমরা তো সাততলা বাড়ি করার জন্য অনুমতি পেয়েছি!
আমি যা বলছি তাই করো!
হ্যা, বলো।
স্যার, বাইরে শিনু নামের একজন আপনার সাথে দেখা করতে এসেছে।
তাকে কি ভিতরে পাঠাবো স্যার?
কোন শিনু?
ওকে বাগানে পাঠিয়ে দাও।
এখন কিন্তু তুই তোর বোনের ব্যাপারে কথা বলতে এসেছিস,
একদম মাথা গরম করবি না কিন্তু!
ঠান্ডা মাথায় কথা বলবি।
স্যার, এসেছে।
নমস্কার, স্যার!
বলো।
আমার বোনের ব্যাপ্রে কিছু কথা ছিল,
আমার বোন আর আপনার ছেলে একে অপরকে ভালোবাসে।
ও তুমি তাহলে ওর ভাই।
তাই তো বলি কুকুরটা ঘেউ ঘেউ করছে কেনো,
তুমি এতোদিন জেলে ছিলে, তাই না?
তোমার মা কি করে?
- রেলওয়েতে চাকরি করে, স্যার - বড় কোন কর্মকর্তা নাকি?
ক্লার্ক, স্যার।
- দারোয়ান! - স্যার?
তুমি মাসে কতো আয় করো?
১২ হাজার টাকা স্যার।
যাও।
বেশ ভালো পরিকল্পনা করেছো দেখছি!
ভালো ছেলে, বড়ঘর, সবার ভাগ্য পালটে যাবে, তাই না?
তা পরিকল্পনাটা কার তোমার না তোমার মায়ের?
কি হলো?
মারবে নাকি?
চেষ্টাও করো না!
প্যারোলে বাইরে বেরিয়েছো, তাই না?
একটা ফোন কলে,
আবার জেলে গিয়ে পঁচবে।
কি হলো দেখতে চাও? প্রমাণ চাও নাকি?
বোনের শ্বশুরবাড়ির ক্ষমতা দেখতে চাও?
তোমাকে এখানে যেনো আর কখনো না দেখি!
-বেরিয়ে যাও! -এই চল এখান থেকে।
- স্যার, আরেকটা কথা ছিল। - কি?
বাড়ির বাইরে "কুকুর হইতে সাবধান" বোর্ডটা আছে না?
ওটা নিজে গলায় ঝুলিয়ে নিন!
চোখ নিচে নামান!
আরেহ ধুতি খুলে গিয়েছে নিচে দেখুন!
কি হয়েছে তোমার?
কিছু না, ভাই।
শিনু, কি হয়েছে বলো আমায়!
টাকাই মানুষের জীবনের সব,
আজকাল তো গরীব হয়ে জন্ম নেওয়া একটা পাপ!
টাকা ছাড়া আমার বোনের ভালোবাসার কোনো দাম নেই।
আমরা এটা ভাবি না যে যারা ভালোবাসে, এতে তারা ভালো থাকবে কিনা।
আম্মা তাদের কাছে প্রস্তাব নিয়ে না গেলে তারা বিয়ে দিবে না!
আমি গিয়েছিলাম তাদের বাড়ি,
তারা আমার আম্মাকে নিয়ে উলটাপালটা কথা বলে বের করে দিলো আমায়।
মাঝে মাঝে ভয় লাগে ভাই,
বোনটা যদি কিছু একটা করে বসে!
আম্মা এটা সহ্য করতে পারবে না!
কিন্তু, এতোসব জেনেও আজ আমার কিছুই করার নেই।
হ্যা, স্যার।
মিঃ কালিদাস ভিতরে আছেন?
যেকরেই হোক, কাজটা হওয়া চাই!
স্যার!
প্রসাদ স্যার, আপনি এখানে কি মনে করে?
আমাকে বলতেন আমি চলে যেতাম আপনার ওখানে!
৫ মিনিট কথা বলা যাবে?
ভিতরে আসুন, স্যার!
বিক্রম আমাকে কিছু কথা বলতে আপনার কাছে পাঠিয়েছে।
বলুন, স্যার!
এখন, ভেবে দেখুন আপনি কি করবেন!
স্যার!
বিক্রম স্যার কি আমাকে এক ঘন্টার সময় দেবেন?
দয়া করুন, স্যার।
নমস্কার।
ভিতরে আসতে পারি?
আমার নাম কালিদাস।
ছোটখাটো একটা ব্যবসা করি।
এবার আমি মূল কথায় আসি,
আমার ছেলে আপনার মেয়েকে ভালোবাসে।
আপনার মেয়েও আমার ছেলেকে ভালোবাসে।
আমার ছেলে তো মনস্থির করেছে আপনার মেয়েকে ছাড়া কাউকে বিয়ে করবে না!
আমারও ওদের জুটি বেশ ভালো লেগেছে।
আপনার মেয়ে তো হীরের টুকরো।
টাকা দিয়ে কি আর সবসময় ভালোবাসা কেনা যায়?
আগে তো দুজনের মনে মিল হতে হবে।
আমার ছেলে মেয়েই আমার কাছে অগ্রাধিকার।
কিন্তু এখন এই পরিস্থিতিতে!
কিসের পরিস্থিতি, ম্যাডাম?
এক শাড়িতেই মেয়ে বিদায় করবেন।
আমাদের কোন দাবি-দাওয়া নেই।
ছেলে-মেয়ে দুজনে সুখে থাকবে,
এটাই তো আমাদের একমাত্র চাওয়া।
আর, এখন থেকে তো ও আমারও মেয়ে।
এখন আপনার সম্মতি পেলেই আমরা শুভ কাজটা সেরে ফেলতে পারি।
আপনি এ বিয়েতে রাজি তো?
আচ্ছা, আজ তাহলে আমরা উঠি।
এক কাপ কফি তো খেয়ে যান অন্তত!
আমার একটা জরুরী মটিং আছে, একঘন্টা সময় নিয়ে এসেছি!
এখন তো এটা আমারও বাড়ি, অন্য একদিন কফি খাওয়া যাবে।
আজ আসি তাহলে।
চলো এবার!
নমস্কার।
চলো দেরি হয়ে যাচ্ছে!
উনাদের এগিয়ে দিয়ে আয়, যাহ!
এলাকাটা খুব সুন্দর।
মা, স্বরস্বতী!
তুমি খুশি তো?
তাহলে, তোমার ভাইকে একটু কল করে বলো যে তুমি খুশি এখন!
বলো কিন্তু, মা!
আচ্ছা, আসি।
স্বরস্বতী?
আমাকে মাফ করে দেও ভাইয়া!
আমি তোমাকে শুধু অপমানই করেছি,
আমি জানি তুমি আমাকে কখনো মাফ করতে পারবে না।
তোমার জন্য আমি আজ খুশি,
ধন্যবাদ!
আচ্ছা, এবার যান!
ধন্যবাদ, স্যার। আসছি তাহলে।
বাবা, তুমি সেদিন যদি একবার বলতে যে,
তুমি বিক্রম স্যারের পরিচিত।
তার জন্য আমি অনেকগুলো কাজ পেয়েছি!
কিছু ভুল বললে মাফ করে দিও!
তোমার মায়ের সাথে স্বরস্বতী মাকে আমার ঘরে নেওয়ার ব্যাপারে কথা বলেছি।
আগের দিনের কথা মনে রাখোনি তো?
এসব কেনো করলে ভাই?
তুমি আমাকে ভাই বলে ডাকো আর তোমার কষ্ট আমি মুখ বুজে সহ্য করবো!
আমি তোমাকে এক মিনিট পরে কল করতেছি।
বলো ভাইয়া।
স্বরস্বতী!
আম্মা খুশি তো?
তুমি নিজেই শুনে নাও!
চিতি, আমার স্বরস্বতীর বিয়ে ঠিক হয়েছে।
জানিস, কতো বড় ঘরে ওর বিয়ে ঠিক হয়েছে?
ওরা নিজেরাই বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছে।
এমনকি বিয়েতে ওদের কোন দাবি-দাওয়া নেই।
চাচা কোথায়?
তাকে আমি নিজে না বললে তো আবার চেঁচামেচি করবে।
ছোট চাচা, তোমার নাতনিরর একটা বড়ঘরে সম্বন্ধ ঠিক হয়েছে।
তারা নিজেরা এসে পাকা কথা দিয়ে গিয়েছে।
আমি এতোদিন ভাবতাম, আমার মেয়েটার বিয়ে না দিয়ে আমি মরেও শান্তি পাবো না!
কিন্তু, আনি এখন পুরোপুরি চিন্তামুক্ত।
তোমরা কিন্তু দুইদিন আগেই চলে আসবে।
না বললে কিন্তু এবার শুনবো না।
শুনেছো ভাইয়া?
আম্মাকে কিন্তু গতকালে ব্যাপারে কিছু বলিস না!
ঠিক আছে।
ছোটবেলা থেকেই আমার আম্মাকে অনেক কষ্ট করতে দেখেছি,
এই প্রথম তাকে এতো খুশি দেখলাম।
সব কিছুই সম্ভব হয়েছে তোমার জন্য ভাই।
শিনু, তুমি এখন কোথায় যাইতেছো?
বোনের বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছে,
এখন তো আমাকে টাকা জোগাড় করতে হবে।
তাই, আবার ছবি আঁকা শুরু করতে যাচ্ছি।
এখন আমি ছবি বিক্রির জন্য লোক কোথা থেকে ধরে আনবো!
এদিকে আসো।
আমাকে বলছো ?
হ্যা, এদিকে আসো!
দরজাটা বন্ধ করে দাও।
-ছিটকিনি দিয়ে দিবো? - এটা কি আলাদা করে বলতে হবে?
ভগবান তুমি সত্যিই মহান!
তুমি কাজটা করতে পারবে তো?
আগের অভিজ্ঞতা না থাকলেও চেষ্টা করলে পারবো।
কিন্তু, এখন না! কাজটা সন্ধাবেলা করতে হবে।
ওহ, ভগবান!
আমি সন্ধ্যা পর্যন্ত অপেক্ষা করতে পারবো না!
আমিও!
কিন্তু, কিছু করার নেই।
কিন্তু, সন্ধ্যায় তো আমি ভাইয়ের সাথে থাকবো।
হ্যা, আমিও থাকবো।
উনিই তো আসল কারণ এসবের।
উনি আসল কারণ কিভাবে?
তাহলে আমি কি?
তুমি পাশে থাকবে!
কিন্তু, ভাই তো এসব করতে পারবে না!
কি বলছো? তাহলে তার কেক কি তুমি কাটবে?
কেক?
আজকে স্যারের জন্মদিন। তুমি জানো না?
আমি হোটেলে স্যারের জন্য একটা সারপ্রাইজ পার্টিরর আয়োজন করেছি।
তুমি স্যারকে সন্ধাবেলা হোটেলে নিয়ে আসবে।
দয়া করে কাজটা করে দাও!
এর সাথে দরজায় ছিটকিনি দেওয়ার সম্পর্ক কি?
আরেহ, এটাতো সারপ্রাইজ পার্টি!
কেউ যদি শুনে ফেলতো!
এই, তুমি কি অন্য কিছু ভেবেছিলে?
আমি আবার অন্য কি ভাববো?
সারপ্রাইজ, হোটেলে তাই তো?
আমি দেখছি ব্যাপারটা।
এখন যাও!
আর কিছু?
যতোটুকু বলেছি ততোটুকু আগে করো!
*** ছিটকিনি!
এই! আমরা এই দিক দিয়ে কোথায় যাইতেছি?
ওইদিকে অনেক জ্যাম ভাই!
তোমরা সারপ্রাইজ পার্টির আয়োজন করেছো, তাই না?
আমরা তো এটা গোপন রেখেছিলাম,
তোমাকে এসব বুয়া বলেছে, তাই না?
মেজাজটা খারাপ হয়ে গেলো।
একজনের জন্মদিন যদি গত পাঁচ বছর ধরে একইভাবে পালন করো,
সেটা আর যাই হোক সারপ্রাইজ হতে পারে না!
আর আমি এতে অবাক হই না,
শুধু অবাক হওয়ার অভিনয় করি।
এই সারপ্রাইজ পার্টিটা আসলে কি ভাই?
চলো, ওখানে গেলেই দেখতে পাবে!
সারপ্রাইজ!
প্রসাদ, তুমি তো আমাকে অবাক করে দিয়েছো!
শিনু, তুমিও অবাক হয়েছো না?
এরকম কিছু হবে তা আমার কল্পনাতেও আসেনি!
এতেই এতো অবাক হয়েছো!
এখনো তো অনেক কিছু দেখার বাকি!
আরো আয়োজন আছে নাকি স্যার?
সত্যিই অসাধারণ!
ভাই, পাঁচ বছর ধরে এগুলো সহ্য করো?
- হ্যা। - এই আয়োজনের বুদ্ধি কার?
আমার!
আগেই বুঝেছিলাম!
কি বুঝেছো?
এটা হলো কলা, শিল্প!
কি হলো বুঝেছো?
- কিন্তু, স্যার........ - আস্তে!
মন্দিরে আস্তে কথা বলে জানতাম,
তাই বলে পার্টিতে!
তুমি গেলে এখান থেকে!
হে, ভগবান!
কেউ আলো জালাও তো!
আলো জালাও!
- হ্যালো! শোনা যাইতেছে তো ?
- হ্যা, তুই চালিয়ে যাহ! - ঠিক আছে।
এই! তোমাদের ভিতরে ঢুকতে দিলো কে? নিচে নামো!
এই কে কোথায় আছিস?
উনাকে একটু দেখভাল করগে যাহ!
উনাকে নাচ দেখা তোদের!
দুষ্টু ময়ূরী!
দুঃখিত!
দুষ্টু ময়ূরী সুন্দরী!
তাহলে এবার,
শুরু করা যাক!
আরেহ থাম ময়ূরী!
এটা তো আমাদের বাজার না! এখানে সব ভদ্রলোকেরা বসা,
তাই এমন গান ধর যা এখানের সাথে যায়!
এই, আগের গানটাই আবার শুরু করো!
আমি তোমাকে ভালোবাসি, ময়ূরী!
ভাই একটু খাবে নাকি?
আরে না,
ডাক্তারের নিষেধ আছে।
আচ্ছা তাহলে তুমি একটু বসো, আমি এটা শেষ করি।
কিসের জন্য ভাই?
তুমি আসলেই আমাকে অবাক করে দিয়েছো,
আমি খুব মজা পেয়েছি।
কি বলছো ভাই, আমি তো লজ্জা পাচ্ছি।
- শিনু!
ওই মেয়েটার আসল নাম কি?
শিনু, আমাকে কখনো ছেড়ে চলে যাবে না তো?
তুমি বললেও আমি তোমাকে ছেড়ে যাবো না ভাই।
শুভ রাত্রি।
শুভ সকাল, ভাই।
অনেক দেরি হয়ে গিয়েছে, এবার উঠে পড়ো ভাই।
ওঠো ভাই!
এখন আর চিন্তার কিছু নেই,
উনি এখন সম্পূর্ণ সুস্থ।
এরকম সমস্যার ক্ষেত্রে সাধারণত,
হাটাহাটি, জগিং করলে ঠিক হয়ে যায়।
কিন্তু উনার এই শারীরিক অবস্থায়,
উনি সামান্য চাপও সহ্য করতে পারবেন না!
এরকম আবার হলে,
পরিস্থিতি আরো খারাপ হতে পারে।
যে বিভিন্ন দুঃখ-কষ্টে জর্জরিত,
তার কষ্ট আমরা কিভাবে কমাবো!
ভগবানই হয়তো এমনটা চায়।
উনি এখন কেমন আছেন?
উনি এখন ঠিক আছেন,
আজকের দিনটা দেখার পর, আপনারা কালকে উনাকে বাড়ি নিয়ে যেতে পারেন।
এই শিনু, আনার গাড়িটা নষ্ট হয়ে গিয়েছে আমাকে একটু বাড়ি নামিয়ে দিয়ে যাও।
খুব সুন্দর, স্যার।
এটা আপনার বাড়ি?
না, আমার প্রতিবেশীর বাড়ি। ভুলে চলে এসেছি!
আগেই জানতাম।
এই, যাও এখন!
আপনি বাঙালি না, স্যার!
জানেন না, অতিথিকে কিছু না খাইয়ে বিদায় করতে নেই!
আর আমাকে না খাইয়ে দরজা থেকে চলে যেতে বলছেন!
এটা ঠিক না স্যার।
আপনি আসলে অতিথি আপ্যায়ন করতেই জানেন না!
এই! ভিতরে চলো।
বসো।
বিক্রমের কি অবস্থা এখন?
ও ঠিক আছে, ডাক্তারের পর্যবেক্ষনে আছে।
এখন, খেতে বসা যাবে?
স্যার, এই ছবিটা............
খুব সুন্দর, তাই না?
বিক্রম আমার জন্য এনেছে,
দুই লক্ষ টাকা।
দামটা একটু বেশি হয়ে গেলো না, স্যার?
এই, তুমি ছবির ব্যাপারে কি জানো?
তুমি শিল্পীদের সম্পর্কে কি জানো?
বুঝতে চেষ্টা করো শিল্পি কি চিন্তা করছেন। এখান থেকে না,
এখান থেকে দেখো!
এখানে আসলে কি বুঝিয়েছে, স্যার?
দেখো,
এই লাল রংটা আমাদের রক্ত, ত্যাগ!
এই নীল রঙ দ্বারা বুঝিয়েছে বিশ্বাস।
আর এই জায়গাটা সাদা কেনো বলোতো?
রঙ শেষ হয়ে গিয়েছিলো..........
এটা আমাদের আত্মতৃপ্তি,
সুখ।
আর, এই কমলা রংগুলো দেখতেছো?
দেখতেছি, স্যার।
ভালোবাসা,
বন্ধুত্ব,
বন্ধন।
খুব ভালো একেছে, তাই না স্যার?
হ্যা, মহান শিল্পীরর আকাঁ অসাধারণ ছবি।
ধন্যবাদ, স্যার।
কিসের জন্য?
আমিতো ছবি সম্পর্কে কিছুই জানতাম না,
আপনি বুঝিয়ে দিলেন, তাই স্যার।
এদিকে এসো,
একটু গলাটা ভিজানো যাক!
তো।আর বিদেশি মদ খাওয়ার অভ্যাস আছে?
আমার অভ্যাস নেই, স্যার!
তোমাকে দেখেই বুঝেছিলাম।
না স্যার, বরফ দিয়ে খাওয়ার অভ্যাস নেই!
স্যার,
আপনি ডাক্তারকে তখন কিসব দুঃখ-কষ্টের কথা বলছেলন!
আসল ব্যাপারটা কি?
বিক্রমকে তুমি কতোটুকু চেনো?
খায়-দায়, ঘুমায়!
আজকে, ওকে হুইলচেয়ারে করে ঘুরে বেরাতে হয়,
কিন্তু পাঁচ বছর আগে এমনটা ছিলো না!
তার নিচে দুনিয়া ঘুরতো!
দেখাচ্ছি, দাড়াও।
ও সবসময় নতুন কিছু করতে ভালোবাসতো।
পরাজয় কি জিনিষ ও তা জানতো না,
ও সবসময় জিততো!
ব্যবসা, প্রতিযোগিতা সবক্ষেত্রে ও ছিলো নম্বর ওয়ান।
দেখো!
যতো চাপ হোক না কেনো, ওর মুখে একটা সুন্দর হাসি লেগেই থাকতো।
উনি কে, স্যার?
নন্দিনী!
বিক্রমের একমাত্র ভালোবাসা।
ও নন্দিনীকে পাগলের মতো ভালোবাসতো।
ওদের বিয়ে ঠিক হয়ে গিয়েছিলো।
এরপর কি হয়েছিলো, স্যার?
একটা ব্যবসায়ীক কাজে বিক্রম ইউরোপ গিয়েছিলো,
তারপর প্যারাগ্লাইডিং করতে যায় ওখানে।
প্যারাগ্লাইডিং মানে কি বুঝো?
প্যারাসুট নিয়ে উঁচু জায়গা থেকে লাফানো।
মাত্র ১৫০ ফিট উপর থেকে বিক্রম পড়ে যায়,
তারপরই সব শেষ!
ঘাড়ে আঘাত পাওয়ায় ওর সমস্ত দেহ অবশ হয়ে গিয়েছে।
জ্ঞান ফেরার পর ও প্রথম কি জানতে চেয়েছিলো জানো?
নন্দিনীরর কথা!
ওর স্বপ্ন ছিলো নন্দিনীর সাথে বিয়ে হবে, সংসার হবে, ওদের ঘরে আসবে ছোট ছোট বাচ্চা!
কিন্তু ও এ অবস্থায় নন্দিনীকে বিয়ে করতে চায়নি,
এ বিয়েতে ওর মন সায় দেয়নি।
ছয় মাস ধরে ইউরোপে চিকিৎসা চললো,
এসময়ে ও একবারো নন্দিনীর সাথে দেখা করেনি।
ও চাইতো নন্দিনী যেনো সুখে থাকে,
সবকিছু ভুলে!
নন্দিনী এ ব্যাপারটা ধরতে পারেনি।
তুমি ওর এই মানুষিক চাপের কারন জানতে চেয়েছিলে, তাই না?
ও সবসময় অতীতকে ভুলে থাকতে চেয়েছে,
কিন্তু তা বারবার ফিরে এসেছে ওর স্মৃতিতে।
শুধু ওর কথা বলছি কেনো,
এসব কথা ভাবলে আমারই তো কষ্ট লাগে।
ভাইয়ের সাথে অন্তত এটা হওয়া উচিৎ হয়নি,
ভগবান কখনো সুবিচার করেন না!
মানুষ আজকে তাকে করুণা করে,
তার মনের অবস্থাটা বুঝতে চেষ্টা করে না!
উনার অবস্থা থেকে কেউ দেখতে চেষ্টা করে না!
ভগবান সত্যিই খুব খারাপ করেছে।
স্যার! আপনাকে ধন্যবাদ, স্যার।
আপনি সবসময় উনার পাশে ছিলেন,
উনাকে আগলে রেখেছেন!
আপনি আজ আমাকে এতো কিছু বললেন,
তাই আমিও আপনাকে কিছু সত্যি কথা বলতে চাই, স্যার।
নালে আমি শান্তি পাবো না, স্যার!
কি বলবে?
ঐ ছবিটা,
আমি এঁকেছি, স্যার!
একদিন আমি যা মনে আসতেছিলো আঁকতেছিলাম,
কিন্তু আমি নিজেও বুঝিনি আমি কি এঁকেছি! আপনি বুঝেছেন স্যার!
এর জন্য আপনাকে অনেক ধন্যবাদ, স্যার!
আজ তাহলে আসি, স্যার।
হ্যালো,
শুভ সকাল।
এখন কি অবস্থা আপনার?
বেশ ভালো।
আপনাকে আজ ছেড়ে দেওয়া হবে।
এখানে কিছু ওষুধ এর নাম দেওয়া আছে, এগুলো একমাস খেতে হবে আপনাকে।
এই ওষুধগুলো কাউকে দিয়ে আনিয়ে নিন।
ওটা আমাকে দিন।
এই! কি করতেছো!
এটা ছিড়লে কেনো?
স্যার, আপনার ওষুধে হয়তো ঊনার শরীর ঠিক হয়ে যাবে,
কিন্তু মনের কি হবে?
অতিরিক্ত মানষিক চাপের কারনেই উনার এরকম হয়েছে, তাই না?
আমরা এরকম অবস্থায় মদ খাই, মজা করি,
সকালে উঠে সব ভুলে যাই।
ভাই, তোমার মন খারাপ থাকলে তুমি একটা শহরে ঘুরতে যাওয়ার কথা বলেছিলে না?
ওটা কোন শহর ছিলো যেনো?
প্যারিস।
চলো আমরা যাই ওখানে!
এই! তুমি পাগল হয়ে গিয়েছো?
বিক্রমের এই অবস্থায় ওকে প্যারিস যেতে বলছে!
প্যারিস কি স্যার একা যাবেন?
আমি এই ব্যাপারেও ভেবেছি!
ভাই, তুমি তো জানো ওই জায়গায় আমার যাওয়ার কতো ইচ্ছা,
এই সুযোগে আমিও একবার ঘুরে দেখতে পারবো!
আচ্ছা, বাদ দেও!
এতোদিন যেহেতু প্যারিস না দেখে থাকতে পেরেছি,
বাকি জীবনটাও এভাবে কেটে যাবে!
এই! তাহলে এটা তোমার মনের ইচ্ছা!
তুমি যেতে চাও ওখানে!
প্রসাদ!
আমি যা বলছি শোন,
শিনুর প্যারোলের মেয়াদ বাড়াতে হবে।
তুমি যাবতীয় নিয়মকানুন পূরণ করো!
আমরা প্যারিস যাচ্ছি!
ভাই, প্যারিসের টিকিট কতো নিলো?
এটা আমার নিজস্ব প্লেন, শিনু।
এসব কি ভাই! যা পাও তাই কিনে নেও নাকি?
🎶🎸🎶🎸🎶
🎶🎸🎶🎸🎶
খুব সুন্দর শহর, তাই না শিনু?
হ্যা, ভাই!
খুব সুন্দর!
প্যারিস, ভালোবাসার শহর।
পুরোটাই ভালোবাসা!
শুভ সকাল, স্যার।
শুভ সকাল।
বেশ লাগছে দেখতে!
কি!
আমি বলছিলাম প্যারিস দেখতে কতোটা সুন্দর,
তাই না ভাই?
স্যার, রাতেরবেলা হলো প্যারিস দেখার সবচেয়ে ভালো সময়,
তাই রাত ১০টায় সবচেয়ে ভালো হবে যদি আমরা যাই..........
আইফেল টাওয়ার।
তারপর আমরা যাবো........
ল্যুভর মিউজিয়াম।
এবং তারপর আমরা মিউজিক স্ট্রিট যাবো।
আর সবশেষে যাবো নদী ভ্রমনে।
ভাই!
তোমার কি এই শহরের রাস্তাও মুখস্ত?
আমি প্যারিস ভালোবাসি, শিনু।
এখানে এতো বড় মোবাইল টাওয়ার কেনো?
এখানে কি নেটওয়ার্কের খুব বেশি সমস্যা?
আরেহ, এটা মোবাইল টাওয়ার না। এটা আইফেল টাওয়ার।
ওহ! কিন্তু একেবারে মোবাইল টাওয়ারের মতো দেখতে!
খুব সুন্দর, স্যার।
হ্যা, এটা খুব সুন্দর।
এই, একটা ছবি তুলে দাও।
এই, গাধা!
কি করতেছো?
কি হলো? টাওয়ারসহ ছবি তুলবো না?
শুধু আমার ছবি তুলে দাও, তাই যথেষ্ট!
তাহলে এতো দূর আসার কি দরকার ছিলো,
ছাদের উপর বসে ছবি তুললেই তো পারতে!
এটা কোনো কথা ভাই! এতো বড় টাওয়ারের সামনে শুধু চেহারার ছবি তুলবে!
হ্যা, সেটাই তো কথা!
এই মেয়েটা কিচ্ছু বুঝে না,
তুমি এতো বড় টাওয়ারের সামনে আসলে ছবি না তুলে যেতে?
শিনু, এখান থেকে চলো!
এই ছবিটার দাম কি আমার ছবিটার চেয়েও বেশি হবে?
তোমার ছবির দামে এটার একটা কোণাও কেনা যাবে না!
তাই, আমি সিন্ধান্ত নিয়েছি এখন থেকে ছবি আঁকবো।
শিনু, চলো এখান থেকে।
বাহ, খুব সুন্দর পরিবেশ!
এখন ছবি তোলা উচিৎ।
- এই, দাও তো! - আরেহ! এটা আমার ফোন!
স্যার, আমার ফোন!
ভাই, হাসো!
হাসো না ভাই!
-কীর্তি। -জ্বী, স্যার।
আমরা কালকে ফিরে যাবো।
কি ভাই?
আমরা কালকে ইন্ডিয়া ফিরে যাবো।
কি হয়েছে ভাই?
সকালেও তো বলতেছিলে, আমি প্যারিস ভালোবাসি!
আমার মনে হয়, আমি ভালোবাসতাম!
এই প্রথমবার, আমি এখানে নিজেকে খুজে পাচ্ছি না!
যতোবারই আমি এখানে এসেছি,
প্যারিসের প্রতি আমি একটা আলাদা টান অনুভব করতাম।
কিন্তু এবার আর সেটা হচ্ছে না!
কারণ আমি এখন আর আগের বিক্রম নেই।
আমি আগের মতো নেই!
যখন মানুষের পরিস্থিতি বদলে যায়, তখন ভালোলাগা গুলো আর আগের মতো থাকে না ।
ওই!
ওই গাধা!
গাড়ি থামা বলছি!
শিনু, ওদের আগে যেতে দিও না!
আমাদের গাড়ি ওদের আগে নিয়ে যাও!
আয় পারলে!
গিয়ার পাল্টাও, শিনু!
কিরে আমাদের আমাদের সাথে পাঙা নিতে চাস?
চল, তাহলে মজা দেখাই তোকে!
ব্রেক চেপে ধরো,
গাড়ির গিয়ার বাড়াও!
কীর্তি!
জ্বী, স্যার।
সিট বেল্ট বেধে বসো!
শিনু, ডান দিক থেকে উঠো!
ব্রেক চাপো!
যাও, শিনু!
গিয়ার বদলিয়ে এক্সেলেটর বাড়াও, শিনু!
শিনু,
চলো এবার প্যারিস ঘুরে দেখা যাক।
🎶🎸🎶🎸🎶
🎶🎻🎶🎻🎶
🎶🎻🎶🎻🎶
🎶🎷🎶🎷🎶
পাঁচ বছর আগে,
আমি এখান থেকে পড়ে গিয়েছিলাম।
এখান থেকে আমার জীবনের দ্বিতীয় পর্যায়ের শুরু,
আবার একটা নতুন স্মৃতিরও শুরু।
পুরানো কথা বাদ দেও না, ভাই!
চলো যাওয়া যাক।
শিনু?
কি ভাই?
আমি উড়তে চাই।
মানে ভাই?
আমি আবার প্যারাগ্লাইডিং করবো।
একটু সাবধানে, স্যার।
অসুবিধা নেই,
আমি খেয়াল রাখবো।
এটা পুরোই পাগলামি!
তুমি দেখতে পারছো না?
কিছু বলছো না কেনো স্যারকে?
এই, বাদ দেও এটা ভাইয়ের ইচ্ছা। তাকে যেতে দাও!
কি হলো?
আরেহ! এগুলো কি করতেছেন?
ভাই, আপনাদের কি মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছে?
ভাই আমাকে ছেড়ে দিতে বলো দয়া করে!
আমি আর কখনো আমার মন-মর্জি মতো কোন কাজ তোমাকে দিয়ে করাবো না!
আমার সাথে এরকম করবেন না দয়া করে!
ভাই, ছেড়ে দিতে বলোনা!
আপনাদের কি বলতেছি বুঝতে পারছেন না?
কীর্তি, তুমি কিছু বলছো না কেনো?
স্যারের ইচ্ছা এটা। আমি কিভাবে নিষেধ করতে পারি বলো?
প্রতিষোধ নিতেছো, তাই না?
আমাকে একবার বেঁচে ফিরতে দাও,
তোমাকে দেখে নিবো!
তুমি ওভাবে বাচ্চাদের মতো কাঁদছিলে কেনো!
ভাই, আস্তে বলো না! কীর্তি শুনে ফেলবে!
আমার ইমেজের ফালুদা হয়ে গেলো!
আমি এখন কিভাবে ওর সামনে গিয়ে দাঁড়াবো!
৩ মাস ধরে তো কম চেষ্টা করতেছো না!
ওর কাছে থেকে কোনো ইশারা পেলে?
ভাই, তুমি বুঝবে না।
আমি আগে ওর মন জয় করতে চাই,
তাই একটু দেরি হচ্ছে!
ওকে ভয় পাও, তাই না?
কিসের ভয়!
তাহলে ওকে গিয়ে বলো কথাটা!
বলছি!
একটা ফুল দিয়ে কথাটা বলবো!
কীর্তি!
কি?
ফুল হাতে কি করছো?
এই ফুলটা শুকিয়ে গিয়েছে,
তাই বদলে দিতে এলাম।
কাজ করছো?
না, ঘুমাচ্ছি!
ঘুমাও! ঘুমাও!
ভাই, আমার সাথেই সবসময় কেনো এমন হয়?
কতো ভাব নিয়ে গেলাম,
কিন্তু বুকটা ঢুকপুক করা শুরু করলো!
এটা তোমার ভয়, শিনু।
তোমার মনের লুকিয়ে থাকা ভয়।
ওকে কথাটা বললে ও যদি না বলে দেয়,
তুমি এই বিষয়টা নিয়ে ভয় পাচ্ছো।
নিজের প্রিয় মানুষ যদি কখনো দূরে চলে যায়,
সেই চিন্তা থেকে ভয় হয়।
সবসময় সত্যকে মেনে নাও,
দেখবে তোমার মনের ভয় পালিয়ে গিয়েছে।
বেশ ভালো বলেছো, ভাই।
তুমি যেমনটা বললে,
ভয়ের বিষয়টা তারমানে অনেক গভীর!
তাহলে এই অবস্থায় যদি তোমাকে কাউকে প্রেমের কথা বলতে বলি, তাহলে তুমি কিভাবে, কখন বলবে?
কিভাবে মানে? যেকোন সময়!
তুমি কি মজা করতেছো, ভাই?
চলো যাওয়া যাক।
কি হলো আমার কথা বিশ্বাস করলে না?
ভাই, আর মজা করো না তো!
আচ্ছা ঠিক আছে।
এর মধ্যে যেকোন একটা মেয়ে দেখাও,
আর দুটো দিন সময় দাও!
ঐযে! যে মেয়েটা নাচছে ওখানে!
বাজি?
কি নিয়ে?
আমি দু'দিনে ওই মেয়েকে আমার কাছে আনবো,
বদলে কি দিবে?
তুমি কি চাও?
আমি চাই তাহলে তুমি কীর্তিকে তোমার মনের কথা বলবে,
রাজি তুমি?
আমি রাজি,
লাগালাম বাজি!
চলো এখন যাই!
শুপ্রভাত, সুন্দরী। -বিক্রম
এটা আপনার জন্য।
তুমি যেমন ভালো দেখতে, তেমনি ভালো নাচো। - বিক্রম
হাই, ম্যাডাম।
এটা আপনার জন্য।
কে পাঠিয়েছে এটা?
ক্যাফে দে প্যারিসে ৬:৩০ এ দেখা হবে। -বিক্রম
ওর কাজ কি শেষ?
না আরো ফুল পাঠানো বাকি আছে?
আর ফুল পাঠাতে হবে না এবার ওকে ওর পাওনা বুঝিয়ে দিয়ে আসো!
ভাই!
আমাকে একটু ওদের ভাষা শিখিয়ে দাও।
আমি বলতে চাই ওর কাজের জন্য ধন্যবাদ এবং ও ভালো কাজ করছে এটা কিভাবে বলবো।
এই! কি মনে করতেছো?
আমি পারবো না?
দাঁড়াও দেখাচ্ছি!
স্যার, ও তো সত্যি ঐসব বলতে গেলো!
দেখো,
এরপর কি হয়!
কি হলো? গায়ে হাত দিচ্ছো কেনো?
তুমি অনেক ভালো কাজ করেছো।
এরকম করতেছো কেনো?
এই দেখো, আমি ঐরকম না!
ভাগ এখানে থেকে!
ভাই, ঐ ছেলেটা মনে হয় পাগল।
আমি ওদের ভাষায় ধন্যবাদ দেওয়ার পরই আমাকে জড়িয়ে ধরতে শুরু করলো!
ওর কি দোষ! তুমিই তো ওকে বলেছো,
তুমি ওকে ভালোবাসো। ওকে চুমু খেতে, জড়িয়ে ধরতে বললে!
আমি কখন এসব বললাম?
ভাই, তুমি সবসময় আমার সাথে এরকম করো কেনো?
ওই, যা এখানে থেকে!
ভাই, কি মনে হয় মেয়েটা আসবে?
অবশ্যই আসবে!
দরজায় ফুল রেখে আসলেই কি আর মেয়ে পটে?
দেখো আসবে না!
আমি শুধু ফুল পাঠাইনি ওর কাছে, ওর মধ্যে আগ্রহের জন্ম দিয়েছি।
কিসের গ্রহ?
আগ্রহ!
আমার মনে হয় না এতেও কাজ হবে।
এসে পড়েছে ভাই!
তুমি এখানে বসে আছো কেনো?
তুমি ওদিকে যাও!
দেখেছো মেয়েটা কতো ছোট ছোট কাপড় পড়েছে,
তুমি ওরকম কিছু পড়তে পারলে না!
জেনি, তুমি কি আমাকে খুজছো?
বিক্রম?
হ্যা, আমিই বিক্রম।
তুমি কি আমাকে ফুল পাঠিয়েছো?
হ্যা।
কিন্তু, কেনো?
সুন্দরের প্রসংসা সুন্দর কিছু দিয়েই করতে হয়,
আর তুমি খুব সুন্দর।
ওই,
বাংলায় বলো!
কি?
ঐ মেয়েটা কি জিজ্ঞাসা করলো?
ওকে ফুল কেনো পাঠিয়েছে।
ভাই কি বললো?
কারণ ফুলগুলো খুব সুন্দর তাই,
আর ও ফুলের চেয়েও বেশি সুন্দর, স্যার এগুলোই বলছে!
ধুর! এগুলো তো আমি তোমাকে বলতে পারতাম!
দেরি হয়ে গেলো!
সত্যি করে বলো, আমাকে কেনো ফুল পাঠিয়েছো?
আমি তোমার সাথে সময় কাটাতে চাই!
সময় কাটাতে চাও?
হ্যা।
তোমার সাথে?
চেহারা দেখে সিদ্ধান্ত নিও না,
চেহারা ধোকা দিতে পারে!
আমি যদি না বলি?
না বলার আগে আরেকবার ভেবে দেখো,
তুমি হয়তো তোমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর দিনগুলো কাটাবে আমার সাথে!
স্যার এখন কি বলতেছে জানো?
দরকার নেই,
মেয়েটা হেসেছে!
মেয়েটা পটে গিয়েছে।
এই, তুমি ওদের সাথে কোথায় যাচ্ছো?
আমার সাথে আসো!
ওদের সাথে নালে না গেলাম, কিন্তু তোমার সাথে যাবো কেনো?
কি বলবো এখন?
এইটা আবার এখানে কি করতেছে?
স্যারকে আমি এতো খুশি কখনো দেখিনি!
কিন্তু তোমার এই গাধা মাথায় এখানে ঘুরতে আসার বুদ্ধি কিভাবে আসলো?
জানো,
আমার মা সবসময় বলতো,
মন খারাপ থাকলে সমসম্য সেখানেই যাও যেখানে তোমার মন খারাপ হয়েছিলো।
আর তাই ভাই আজ এতো খুশি।
তোমার সাথে আমি খুব ভালো সময় কাটালাম,
তোমাকে অনেক ধন্যবাদ।
এখন আমি বুঝলাম,
সবাই কেনো বলে তুমি যা চাও তাই পাও কিভাবে!
ফুল পাঠালে মেয়ে আসলো,
তোমাকে দেখে হাসলো!
জানিনা আরো কতো কি করতে পারো তুমি!
তুমি সত্যি অসাধারণ ভাই!
কাজ শেষে বাজির কথা ভুলে গেলে!
বাজি! কিসের বাজি?
তুমি কীর্তিকে মনের কথা বলবে।
মনে আছে তো কথাটা?
কতো রাত হয়ে গিয়েছে, এখন ঘুমাও!
কোথায় যাচ্ছো? তুমি কিন্তু ওয়াদা করেছিলে!
ভাই, এইবারের মতো মাফ করে দাও!
এ কথাটা বাজি ধরার আগে তোমার ভাবা উচিৎ ছিলো!
যাও ওকে তোমার মনের কথা খুলে বলো।
যাও!
তুমি পরে এই কথা নিয়ে আফসোস করবে ভাই,
আগে যেটুকু আশা ছিলো এখন সেটুকুও আর থাকবে না!
শিনু, ফুল নিতে কিন্তু ভুলে যেও না!
কীর্তি, তোমার সাথে কিছু কথা ছিলো।
পিছনে ফিরো না!
তোমাকে দেখলে আমি কথাগুলো বলতে পারবো না!
আসল কথা কি জানো?
তোমাকে কথাগুলো বলতে আমার ভয় করছে!
আমি জানি,
তুমি একরকম, আমি অন্যরকম।
এটাও জানি আমাদের মিলমিশ হয়নি!
তেলে জলে সহজে মিশ খায় না!
এটাই স্বাভাবিক!
আমি বস্তির ছেলে, আর তুমি বিদেশি মাল!
ভয়ে উল্টাপাল্টা বলতেছি!
ভাই বলছিলো,
যেখানে সত্যিকারের ভালোবাসা থাকে সেখানে ভয়ের জায়গা নেই।
কথাটা বলছি তাহলে!
আমি
ভালোবাসি
তোমাকে!
এই, তুমি রাগ করো নাই!
তারমানে তুমিও আমাকে?
কি করলাম আমি!
একটা মেয়ের প্রেমে পড়ে কাঁচটাও চোখে পড়লো না?
এই মুখ নিয়ে এখন ওর সামনে যাবো কিভাবে?
ভারতে ফিরে গিয়ে আমি আর কি করবো!
এই! এটা এখানে কে রাখলো?
কে রেখেছে?
সামনে আয়!
কি হয়েছে,স্যার?
আপনার সমস্যাটা কি স্যার?
ফুল, কে, কোথায়!
ফুল রেখেছে কে?
আমি খুবই দুঃখিত,
আপনারা যেতে পারেন, ধন্যবাদ।
কি হয়েছে?
কি হয়েছে মানে?
এটা দেখো,
ঐ ছেলেটা আমাকে ফুল পাঠিয়েছে!
ঐ ছেলেটা তোমাকে ফুল পাঠিয়েছে?
তাহলে কি আমি এতো রাতে এখানে দাঁড়িয়ে মিথ্যে কথা বলছি!
ফুলগুলো ভালো করে দেখোতো!
এই ফুলটা তো আমি........!
কিন্তু এগুলো!
আমি পাঠিয়েছি।
আমি কি ভুল শুনছি?
তুমি একদম ভুল শুনছো না!
আমি জানি না এসব কেনো, কিভাবে হলো।
কিন্তু তুমি যদি কারো জীবনে থাকো,
তাহলে সে যে কতোটা সুখী হতে পারে
তা স্যারকে দেখলেই বোঝা যায়!
এই, দাঁড়াও!
এটা কি ইনফরমেশন না কনফার্মেশন?
তুমি হাসলে!
ভাই, একটু থাকো আমরা আসতেছি!
ভাই!
শিনু, এদিকে আসো!
শিনু!
বিক্রম!
আমাকে দেখে পালিয়ে যাচ্ছো?
তোমার আমাকে ছেড়ে যাওয়া আমার কাছে মোটেও সন্দেহজনক লাগেনি।
আমরা একসাথে ভালোবাসার ঘর বানাতে চেয়েছিলাম,
কিন্তু হয়ত তুমি সে ঘরে অন্য কারো সাথে থাকতে চেয়েছিলে।
আমার এখনও মনে আছে ঐদিনের কথা।
তারপর আমি ভেবেছিলাম,
আমার জীবনে হয়ত আর ভালো কিছু ঘটবে না।
ভেবেছিলাম হয়তো ততোদিনে আমাকে ভুলে গিয়েছো।
কিন্তু আমি ভুলতে পারছিলাম না,
Why did I feel I Love
বারবার মনে হচ্ছিলো কেনো তোমার প্রেমে পড়েছিলাম!
কিন্তু গত সপ্তাহে, শিনু কল করেছিলো।
শিনু, আমাকে সব খুলে বলেছে।
আমি তারপর বুঝতে পারি সব।
আমি মনে করেছিলাম ঐ সময় আমি সবচেয়ে বেশি কষ্ট পেয়েছিলাম,
কিন্তু এখন বুঝতে পারছি তোমাকে কি পরিস্থিতির মধ্যে দিয়ে যেতে হয়েছে।
কিভাবে পারলে বিক্রম ?
একজন মানুষকে এতোটা ভালোবাসা যায়,
যার জন্য ৫ বছর অপেক্ষা করা যায়।
মুখ ফুটে কিছু না বলে!
এখন কি তোমার মানষিক যন্ত্রণা কমেছে বিক্রম?
আমি তখন ঠিক ছিলাম কারণ আমার পাশে আনার স্বামী ছিলো,
কিন্তু তুমি এই কষ্ট একা একা কিভাবে সহ্য করলে ?
আমার মেয়ে এবং আমার স্বামী অভিনব।
এটা আমার পরিবার।
আমার সুখ,
🎶🎸🎶🎸🎶
ধন্যবাদ, বিক্রম।
ধন্যবাদ আমার সাথে দেখা করার জন্য।
ভালোমন্দ যাই ঘটুক না কেনো জীবন কারো জন্য থেমে থাকে না।
ভালোবাসা আটকে রাখার জিনিস নয়,
আমার মতে ভালোবাসা বিলিয়ে দিতে হয়।
আশা করি তোমার ভবিষ্যত জীবন খুব সুখের হবে।
এবং আমার এ ইচ্ছাটা যেনো খুব তাড়াতাড়ি পূরণ হয়।
বুয়া আমরা ফিরে এসেছি,
মালপত্রগুলো ভিতরে নিয়ে রাখো।
কি খবর তোমার?
কেমন আছো?
আমি প্যারিস থেকে তোমার জন্য একটা ছবি এনেছি।
প্যারিস কি ছবি ছাড়া আর কিছু পাওয়া যায় না?
লক্ষ্মী মা,
বাইরে খেতে খেতে জিভে চড় পড়ে গিয়েছে।
তুমি কি আমার জন্য আগের মতো করে "রাসাম" বানাতে পারবে?
এখুনি যাচ্ছি!
ঐটা দেও তো!
আরেহ এটা না "রাসাম" বানাবো।
সবকিছু আনানো আছে তো?
লক্ষ্মী মা,
এতো তাড়াহুড়োর কি আছে?
আজকে পাঁচ বছর পর,
স্যার আমাকে কিছু বানাতে বলেছেন!
আমি বুঝাতে পারবো না যে আমি কতোটা খুশি হয়েছি।
তাহলে,
কেমন বেড়ালে প্যারিসে?
নন্দিনীরর সাথে দেখা হয়েছিলো।
আপনি এখানে, স্যার!
আমি তোমাকে বলেছিলাম বিক্রম এডভেঞ্চার পছন্দ করে,
তুমি ওকে সেই স্বাদ দিয়েছে আবার।
আমি বিক্রমকে বলেছিলাম ও মানুষ চিনতে ভুল করছে,
আমি চিন্তায় ছিলাম তুমি বিক্রমের না যেনো কিছু করে ফেলো!
কিন্তু আমি ভুল ছিলাম।
আমি পাঁচ বছর ধরে ওর পাশে ছিলাম কিন্তু কিছু বদলাতে পারিনি।
কিন্তু যখন ও তোমাকে ভাই বলে ডাকতে দিলো,
তখনই বুঝেছিলাম এবার ওর জীবন বদলাতে চলেছে।
ধন্যাবাদ।
ওকে ছেড়ে আবার চলে যাবে না তো?
কি বলছেন, স্যার।
এতোবড় শৌচাগার, এতো বড় বিছানা ছেড়ে কেইবা চলে যেতে চায়?
আমি এটাকে এখন নিজের ঘর মনে করি, স্যার।
আরেকটা কথা ছিলো!
কি কথা, স্যার?
ঐ ছবিটা,
সত্যিই তুমি এঁকেছো?
আপনার বিশ্বাস হচ্ছে না স্যার?
আমি আরো একটা এঁকেছি, স্যার। আপনাকে দেখাচ্ছি আমি।
আমাকে মাফ করো!
স্যার?
দুঃখিত! আমি চলে যাচ্ছি।
প্রসাদ কি মনে করে জানো?
এই ছবিটাও নাকি তুমি এঁকেছো!
জানি, ভাই।
শিনু, বাইরে তোমার সাথে একজন দেখা করতে এসেছে।
আমার সাথে কে দেখা করতে আসলো?
তোকে এখানে ঠিকানা কে দিলো?
বড়দি দিয়েছে!
আপনার ছেলে কোথায়?
ও কোন ছোটখাটো অন্যায় করেনি,
হত্যার অপচেষ্টা চালিয়েছে।
মদের দোকানে ডাকাতি করেছে,
দুজন হাসপাতালে ভর্তি। বাঁচবে কিনা কেউ জানে না!
আপনি কি জানেন ডাকাতগুলো কোথায়?
ওরা যদি ধরা পড়ে তাহলে ঠিক আছে,
নয়তো, আমরা আপনার ছেলেকে গ্রেপ্তার করবো।
ওকে কাল সকাল পর্যন্ত সময় দিয়ে গেলাম।
কি করেছিস তুই?
বল! কি করেছিস তুই?
আমি কিছু করিনি,
এরকম কিছু হবে আমি আন্দাজ করতে পারিনি।
আমি শুধু ওদের সাথে গিয়েছিলাম,
আমি কিছুই করিনি।
বস!
বসে বিশ্রাম নেহ!
আসতেছি আমি।
এক মিনিটে আসতেছি, ভাই।
সরস্বতী!
ভাইয়া!
ভাই আমার কাছে আছে,
আমি ওকে দেখে রাখবো।
তুই আম্মার সাথে থাক,
সাবধানে থাকিস।
কেনো কল করেছিস?
এক ছেলে তো অনেক আগেই বাড়ি ছেড়েছে,
আরেকজন আজকে!
এখন আমি কি নিয়ে বেঁচে থাকবো?
আম্মা!
হ্যালো, কে বলছেন!
এই, ছোটকে গ্রেপ্তার করার জন্য পুলিশ খুজছে!
সকালে ওকে নিয়ে গ্রামে পালিয়ে যাহ!
অন্তত দুই সপ্তাহ যেনো কেউ ওর হদিস না পায়!
বুঝতে পেরেছিস?
আর তোর কি হবে?
আমার চিন্তা তোদের করতে হবে না!
আমি এখানেই থাকবো!
- এখন তাড়াতাড়ি আয়! - দাঁড়া আসতেছি।
এই জলদি চল!
ভাই, কিছু লাগবে?
শিনু, কি হয়েছে?
এই ছোট একটা সমস্যা ভাই!
কোন পারিবারিক সমস্যা?
বাদ দেওনা ভাই, আমি দেখে নেবো।
তারমানে আমাকে এতোদিন ভাই বলে ডেকেছো,
ওটা মন থেকে ছিলো না!
আচ্ছা, বাদ দাও আমিও তো তোমার থেকে কতকিছু লুকিয়েছি!
আমার ছোট ভাইয়ের ব্যাপারে ভাই।
ও আমার আপন ভাই না!
আমি যাকে আম্মা বলে ডাকি, উনি আমার আসল আম্মা না!
আমার মাসি,
আমার মায়ের ছোট বোন।
যখন আমার ৭ বছর বয়স, তখন আমার বাবা-মা দুর্ঘটনায় মারা যান।
সবাই আমাকে এতিমখানায় দিয়ে দিতে চেয়েছিলো,
কারণ আমি অনেক ছোট ছিলাম তাই।
কিন্তু, সে আমাকে তার সাথে নিয়ে এলো।
আমি নতুন ভাই-বোন পেলাম।
এর কিছুদিন পর মেসো আমাদের ছেড়ে চলে গেলো!
সেসময় আমি তার কষ্ট দেখেছিলাম!
আমি বলেছিলাম,
আমি আর স্কুলে যাবো না!
আমার বদলে যেনো ভাইবোনকে স্কুল পাঠায়!
কখনো তার কষ্ট বুঝতে দেননি!
একদিন তিনি এসে বললেন তিনি আর ভাই-বোনের পড়ার খরচ চালাতে পারছেন না,
আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলেন কি করবেন!
আমি কি বলতাম তখন বলো ভাই?
সিদ্ধান্ত নিলাম আমাকেই টাকার ব্যাবস্থা করতে হবে।
আমি জানতাম না কিভাবে টাকা আয় করতে হয়,
তাই চুরি করতে শুরু করলাম।
আম্মা আমাকে অনেকবার নিষেধ করেছিলো, কিন্তু আমি শুনিনি।
এখন আমি বুঝতে পারছি আমি কতো বড় ভুল করেছি।
টাকা দিয়ে সবসময় সুখের ব্যাবস্থা করা যায় না, শিনু।
তাহলে আমি পৃথিবীর সবচেয়ে সুখি মানুষ হতাম।
তুমি খুজে পাওনি কিসে তোমার আসল খুশি লুকেয়ে আছে।
এমনকি জেলে গিয়েও তা বোঝনি!
জানতে চাও তোমার আসল সুখ কোথায়?
তোমার মায়ের কাছে।
মায়ের প্রতি টান তুমি সবচেয়ে বেশি বুঝেছো,
যখন গুমি তোমার বাড়ি থেকে বেড়িয়ে গিয়েছো।
যাও শিনু।
জীবনটা হুইলচেয়ারের মতো, সবসময় কারো ধক্কার জন্য অপেক্ষা করে।
এবার তোমার মায়ের কাছে ফেরার সময় হয়েছে।
আমি মা হারিয়ে জানি,
একজনের জীবনে মায়ের গুরুত্ব ঠিক কতোটা।
যাও।
তুমি চলে আসার পর থেকে হয়তো তিনিও তোমাকে দেখার জন্য পাগল প্রায়।
এই, আমি ট্যাক্সি নিয়ে আসতেছি। তুই ছোটকে নিয়ে গেটে আয়।
তুই চলে যা।
আমি ওকে বাড়ি নিয়ে যাবো।
স্যার আপনাদের ভিতরে যেতে বলছে।
তোমার ভাইকে বাড়িতে নিয়ে যাও।
ও আমার........
আমি তো চিনি ওকে!
এই বিয়েটা সম্ভব হচ্ছে শুধুমাত্র ওর জন্য!
আমি আপনার সাথে পরে কথা বলতেছি।
আমার এ বিয়ের ব্যাপারে কিছু কথা ছিলো।
আমার বড় ছেলের সাথে কথা বলুন,
এখন থেকে ওই এসব কিছু দেখবে।
খাবো না,
যাও!
স্যার, আমাকে ডেকেছেন?
আমাকে বাইরে নিয়ে চলো।
কিন্তু ডাক্তার আপনাকে বাইরে যেতে নিষেধ করেছে, আপনার ঠান্ডা লাগতে পারে।
যাও এখান থেকে!
শিনু কল করেছিলো তোমাকে?
না করেনি।
ওকে ওর মতো থাকতে দাও,
শিনুকে আর বিরক্ত করোনা!
-শিনু! -বলুন, স্যার।
তুমি একটু বিক্রমের বাড়ি আসতে পারবে?
এখুনি আসছি, স্যার।
কি হয়েছে, স্যার?
প্যারিস থেকে আসার পর ওকে আমি যতোটা খুশি দেখেছিলাম,
তুমি চলে যাওয়ার পর থেকে আরো বেশি মনঃ কষ্টে ভুগছে!
আমি তোমাকে ডাকতে চাইলে, ও তোমাকে ডাকতে নিষেধ করে দিয়েছে।
ওর চোখে সেই আগের ভয় ফিরে এসেছে, শিনু।
ভাই!
এটা কি হাল বানিয়ে রেখেছো!
পুরো দেবদাসের মতো দেখতে লাগছে!
শিনু, আমি আর মন খুলে শ্বাস নিতে পারছি না।
আমাকে একটু বাইরে নিয়ে যাবে?
তাহলে, এবার আমরা কোথায় যাচ্ছি?
সেটা আমার উপর ছেড়ে দাও।
একদম সিনেমার ভিলেনের মতো লাগছে তাই না?
না, ভালো লাগছে না।
কেটে ফেলো!
এবার তো একেবারে ব্রুসলি এর মতো লাগছে!
মজা করতেছো নাকি?
না, ভাই সত্যি!
এখন, তোমাকে দেখতে সুন্দর লাগছে।
একদম পরিষ্কার করে কাটা দাড়ি,
একেবারে চকচকে টাকার মতো!
এখনকার আমি আর আগের আমির মধ্যে অনেক পার্থক্য রয়েছে,
আগে যখন মায়ের দিকে তাকাতাম,
খুব চিন্তা হতো।
কিভাবে তাকে খুশি করার জন্য টাকা জোগাড় করে দিবো।
কিন্তু এখন জানি সুখে থাকার জন্য খুব বেশি টাকার প্রয়োজন নেই।
পরিবারের সবার প্রতি ভালোবাসাই পারে,
জীবনে স্বর্গসুখ এনে দিতে।
এখন আমি জানি,
চোখের জন লুকিয়ে রেখে কখনো মন হালকা হতে পারে না।
আমাদের চেষ্টা করা উচিৎ যাতে চোখে জলই না আসে।
আমার যা বলার ছিলো তা বললাম,
এবার যাই ভাই।
তুমি এখন এখান থেকে কোথাও যেতে পারবে না।
আমি জানি অপরিচিত মানুষের সামনে তোমার
হৃদস্পন্দন বেড়ে যায়।
নিজেকে হুইলচেয়ারের মধ্যে আটকে রেখো না,
মানুষের মনের মধ্যে নিয়ে যাও।
দেখবে অনেকটা স্বস্তি পাবে।
গেলাম, ভাই।
এখন কেমন আছো, বিক্রম?
🎬ধন্যবাদ বাংলা সাবটাইটেল দিয়ে মুভিটি দেখার জন্য🎬 বাংলা অনুবাদ করেছেন: নিশাদুল ইসলাম 🎬
Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.