Afrikaans
Akan
Albanian
Amharic
Arabic
Armenian
Azerbaijani
Basque
Belarusian
Bemba
Bengali
Bihari
Bosnian
Breton
Bulgarian
Cambodian
Catalan
Cebuano
Cherokee
Chichewa
Chinese (Simplified)
Chinese (Traditional)
Corsican
Croatian
Czech
Danish
Dutch
Esperanto
Estonian
Ewe
Faroese
Filipino
Finnish
French
Frisian
Ga
Galician
Georgian
German
Greek
Guarani
Gujarati
Haitian Creole
Hausa
Hawaiian
Hebrew
Hindi
Hmong
Hungarian
Icelandic
Igbo
Indonesian
Interlingua
Irish
Italian
Japanese
Javanese
Kannada
Kazakh
Kinyarwanda
Kirundi
Kongo
Korean
Krio (Sierra Leone)
Kurdish
Kurdish (Soranî)
Kyrgyz
Laothian
Latin
Latvian
Lingala
Lithuanian
Lozi
Luganda
Luo
Luxembourgish
Macedonian
Malagasy
Malay
Malayalam
Maltese
Maori
Marathi
Mauritian Creole
Moldavian
Mongolian
Myanmar (Burmese)
Montenegrin
Nepali
Nigerian Pidgin
Northern Sotho
Norwegian
Norwegian (Nynorsk)
Occitan
Oriya
Oromo
Pashto
Persian
Polish
Portuguese (Brazil)
Portuguese (Portugal)
Punjabi
Quechua
Romanian
Romansh
Runyakitara
Russian
Samoan
Scots Gaelic
Serbian
Serbo-Croatian
Sesotho
Setswana
Seychellois Creole
Shona
Sindhi
Sinhalese
Slovak
Slovenian
Somali
Spanish
Spanish (Latin American)
Sundanese
Swahili
Swedish
Tajik
Tamil
Tatar
Telugu
Thai
Tigrinya
Tonga
Tshiluba
Tumbuka
Turkish
Turkmen
Twi
Uighur
Ukrainian
Urdu
Uzbek
Vietnamese
Welsh
Wolof
Xhosa
Yiddish
Yoruba
Zulu
অনুবাদক:- আন্দ্রেয়াস রাকিব
তুই এই কোণ থেকে নজর রাখ।
কি চান?
যান এখান থেকে!
যান বলছি এখান থেকে...
বের হ...
চলে যা এখান থেকে।
ভালোই ভালোই বলছি, চলে যান এখান থেকে!!
কোথায় যাবো এখান থেকে, এই জায়গা আমাদের।
এই ঘর আমাদের এবং এই জায়গায় অন্য কারোর অধিকার নেই।
কেনো যাবো? এই জায়গা আমার।
আর আগাবি না।
চলে আয়..
সফদার
হেই, ফিরে আয়!!
মা!! মা!!
ভুলে গুলি বের হয়ে গিয়েছিলো।
আসুন।
মা, তাড়াতাড়ি উপরে উঠুন। -ভুলবশত আমার পা পিছলে গিয়ে গুলি বের হয়ে গেছে।
সায়িদা, উপরে যাও, আর ওখান থেকে গুলি চালাও।
ওদের কোনো অবস্থাতেই বাড়ির ভিতর প্রবেশ করতে দেয়া যাবে না।
তাড়াতাড়ি, সবাই এদিকে আসো।
কি করছো? বন্দুক তো চালাও।
বের হোন?
কারোর বিয়ে নাকি?
আমায় থামাও নি কেনো?
তোমাদের হাতে এটা বন্দুক নাকি খেলনা?
বাবা, তুমি কি বলছো? -আমি বলছি তোমাদের হাতে এটা বন্দুক নাকি খেলনা?
বাবা, আপনি তো আমাদের ফাকা গুলি সেট করে দিয়েছেন।
এসব ছাড়ো....
রাস্তায় তুমি কেনো গুলি চালাওনি।
বাবার উপর আমরা কিভাবে গুলি চালাবো।
কেনো পারবে না?
যায় হোক না কেনো, তোমাদের এই জমি রক্ষা করতে হবে।
যে কোনো উপায়ে..
এটা শুধু কোনো জমি নয়।
এটা তোমার সম্মান।
কতবার তোমাদের বলবো..
এই জগতে, সম্মানের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু নেই।
এমনকি তোমার জীবনও না।
আসো একটা গল্প শোনাই।
এই যে, তার গল্প শুরু হয়ছে।
ওকে..
অনেকদিন আগের কথা, এক রাজার অনেক কষ্ট ছিলো...
হয়ছে হয়ছে, তাদের গল্প বলা বন্ধ করুন।
তারা ছোট মেয়ে না, আপনার কারনে তারা দুর্বল।
আরে, মেয়ে এরা, শুধু ছেলেদের পোশাক পড়ে আছে। তারা ভীত, আর ভীতদের দিয়ে যুদ্ধ হয় না।
এই বন্দুক উঠা.. চালা গুলি...
আরে, বুলেট গুলো নষ্ট করার কি দরকার। -আজকে নষ্টই করবো।
তাদের শিখিয়েই ছাড়বো।
চল, উঠা বন্দুক।
চালা গুলি।
অন্যথায়, আজকের পর থেকে খোদার কসম, কোনোদিন বন্দুকে স্পর্শও করতে পারবি না।
চালা গুলি
চালা...
গুলি দে.. -গাড়িতে..
ধুর বাল, সাথে রাখবি না..
তারা শুধু ভয় দেখাচ্ছে, আসলে কেউ গুলি করবে না।
এই অবস্থায় আমাদের ফিরে যাওয়া উচিত।
উনাকে মুখ দেখাও।
হয়ছে।
মাটি দেন..
থামুন, আগে সে দিবে।
তারা কি এখনো আছে, তাদের ভয় পাস নাকি? কেউ যেনো বাড়িতে ঢুকতে না পারে।
এই নে, আরো বুলেট দরকার? নিচের তলায় তোর ভাইয়ের কামরায় গিয়ে দেখ।
তাদেরকে আমাদের ক্ষমতা দেখাতে হবে।
বসে আসিস কেনো, আমি যাবো নাকি?
তুই আমার কামরাই কি করছিস।
আমি.... -উঠ..
বের হ...
বের হ এখান থেকে, তুই কি শুনতে পাচ্ছিস না। তোকে কতবার বলেছি...
আমার কামরায় আসবি না। -ছাড়ো ভাই।
আমার ঘরে আসছিস কেনো? -ছাড়ো...
থাম, থাম
সিকান্দার, ছাড় তাকে, চল যাই। আয়..
কাঁদসিছ কেনো? তুই রক্ত বের করেছিস না
দেখ, দেখ এটা!!
সামান্য রক্ত দেখেই ভয় পেয়েছিস। এই দেখ, দেখ, দেখ...
নাজু
নাজু.. তোর ভাই আসছে..
না, এখনো আসে নাই।
আবার যদি তোকে আমার কামরায় দেখি খবর আছে তোর।
চল।
নাজু, একটা গাড়ি আসছে।
কে?
একটা জিপ।
কি ব্যাপার?
ওয়াদিরি
শুনেসিছ তো!
যা হবার হবে, কেউ তোদের রক্ষা করতে আসবে না।
আমি তোদের একটা সুযোগ দিচ্ছি, সবাই বাড়ি থেকে বের হয়ে আয়।
কেউ কাউকে কিছু বলবে না। বের হয়ে আয়।
নিচু হও।
থামো, আর বুলেট নষ্ট করো না। -তুমি আমার কথা শোনো, চলে যাও এখান থেকে।
শেষবারের মতো বলছি, চলে যাও এখান থেকে।
আমি কসম করে বলছি, কেউ যদি আর এক পা সামনে আসো আমি কাউকে ছেড়ে দিবো না।
এখানে তোমাদের কোনো অধিকার নেই, যাও।
জুলফিকারের সাথে গিয়েছিলেন। -হুমম।
সে আসছে..
বাবা, তুমি কি চাও?
এখনি না।
আচ্ছা, এখন কি করবেন?
কখন বাড়ি ছাড়বেন।
ছাড়বো না।
ছাড়বেন না।
কখনোই না।
ওই ঘর আমি নিজের হাতে বানিয়েছি।
এটা আমার ঘর।
আমার পরে এটা আমার ছেলেদের এবং মেয়েদের।
এর পরে তাদের সন্তানদের।
আর এখন যদি কিছু হয় তাহলে এর জন্য আপনি দায়ী।
এখন আপনি কি করবেন?
কিছু একটা তো করতেই হবে।
মেহেরবান কিছু করতে পারবে। তার সাথে কথা বলুন।
চিন্তা করোনা, কিছুই হবে না।
তাকে সেখানে নিয়ে যাও। -স্যার, আমি কিছু করিনি।
নিয়ে যাও তাকে। -স্যার, আমি কিছু করিনি।
আল্লাহর নামে শপথ করে বলছি, আমি সেখানে ছিলাম না। -স্যার, আমি সেখানে ছিলাম না।
কসম করে বলছি, আমি ছিলাম না। আমি পরে আসছি।
কসম স্যার, আমি করিনি।
আচ্ছা, তারপর আপনার ছেলে কোথায়?
আমি জানি না।
আমরা দুজনেই নির্দোষ, আমরা কিছুই করিনি।
একজন নির্দোষ মানুষ পালিয়ে যায় না। আর সে?
পালিয়ে গিয়েছে। -এটা ভুল।
আমার ভাই আমার বিরুদ্ধে ষড়যন্ত্র করছে।
আচ্ছা, বল...
আমার বন্ধু, এটা বল যে....
ঔই বাড়ি.... কার..
আমার।
এটা আমার ঘর।আমার কাছে দলিল আছে।
সত্যি, আমি শুনেছি মেহেরবান সেখানে থাকে।
না না, ওটা আমার ঘর।
আমার সন্তানদের ঘর।
আমিই একমাত্র সঠিক মালিক।
বাহ!! আমিতো অন্য কিছু শুনেছি।
আমার কথা শুনুন।
ঐই ঘর আমার।
বাবা, তাকে যেতে দাও। সে মানুষ নামে শয়তান।
এই ছেলে, স্যারকে চা দে।
আমার কাছে চা আছে।
আসসালামু আলাইকুম, বাবা -আসসালামু আলাইকুম, বাবা
অলাইকুম
বাবা, আপনার জন্য খাবার নিয়ে এসেছি।
বাড়িতে কি হয়ছে।
কিছুনা।
তোমার মা কোথায়? সে কি বাড়িতে আছে?
হ্যা বাবা। আজ সকালে সবাই গবাদিপশুদের খাওয়ালাম।
হেই, তুমি এখানে কেনো? কি চাও?
শুনো, সবসময় সতর্ক থাকবে।
তোমার চাচা কি আশেপাশে আছে? -না।
বাবা, আপনার কি ব্যাথা হচ্ছে।
আমার কথা বাদ দাও।
মনে আছে তো? আমি তোমাদের যা শিখিয়েছি।
শুনতে পাচ্ছো তো?
এখন তোমাদের মুখতার এবং মনিরের প্রয়োজন।
জি বাবা, আমরা একজন আইনজীবীর সাথে কথা বলেছি।
তোমাকে শীঘ্রই বাড়ি নিয়ে যাবো।
তিনি বলেছেন, চাচার কোনো প্রমান নেই।
টাকা নষ্ট করোনা।
এরা সাহায্য করতে পারবে না।
ঠিক আছে, এখন যাও।
আর
সে কি তোমাদের কিছু বলেছে।
সে ফোন করেছে, সে ঠিক আছে।
ঠিক আছে, এখন যাও।
বাবা।
তুমি কি ঠিক আছো? নাকি?
আল্লাহর প্রতি বিশ্বাস রাখো।
তিনিই সব ঠিক করে রেখেছেন।
যাও।
সব হারিয়ে যাবে, সব ভুলে যাবে শুধু পড়ে থাকবে স্মৃতিগুলো।
কেউ জানতো না আমি কোথা থেকে এসেছি।
শুধুমাত্র আমার পদচিহ্ন গুলো লেপটে থাকবে মাটির উপর।
যাতে করে একজন যাত্রি হিসেবে সবাই মনে রাখতে পারে।
অন্য কিছু পড়ো।
এই ইংলিশ টা।
কেনো? -আরে পড়ো না!!!
ধুর! এসব কি?
কিছু না, আমিও শিখছি।
আগে তোমাকে উর্দু শিখতে হবে, তারপর ইংলিশ শিখতে হবে।
না, ইংলিশ আরো বেশি গুরুত্বপূর্ণ।
যখন বাহিরে ভ্রমনে যাবো ইংলিশ প্রয়োজন হবে।
কি?
ভ্রমন? পাশের গ্রামে গিয়ে ইংলিশ বলতে হবে না। এটায় ভালো।
তুমি ইংলিশ শিখবে? ইংল্যান্ড ভ্রমন করবেন। রাণীর সাথে চা খাবেন?
তোমার তো ভালোই সময় কাটবে, আমায় নিয়ে যেও, খুব মজা হবে।
আচ্ছা সরি, আমিতো মজা করছিলাম।
কি সায়িদা।
তোমার কি মনে হয় না, এই গ্রামের পরে কি আছে?
আরেকটা গ্রাম।
তুমি কি ইংলিশ বলতে পারো? -চুপ।
আমার আরো তারের প্রয়োজন।
ধন্যবাদ।
এটা প্রায় শেষ।
ঠিক আছে।
নিশ্চিত হয়ে ভিতরে থাকবে। এমনকি একটা শিশু যেনো বাহিরে বের না হয়।
ঠিক আছে? মনে থাকে যেনো।
হ্যা, কি খবর। -একটা সমস্যা।
আচ্ছা এটা কর। শেষ দুই ঘন্টা ঔদিকে ঘুরাঘুরি কর।
তাদের বুঝিয়ে দে যে আমরা কোনো রকম আপোসে যাচ্ছি না।
ঠিক আছে। -ঠিক আছে, তাহলে ঘুরে এসে আমার সাথে দেখা কর।
তাড়াতাড়ি, বাড়ির দিকে চল।
তারা শুধুমাত্র মহিলা। তারা ভয় দেখাবে, কিন্তু যুদ্ধ করবে না।
আমরা সামনে থাকবো।
তুমি আশেপাশে থাকবে, এবং ভিতরে যাওয়ার চেষ্টা করবে।
তারা কি করবে? জুতা দিয়ে আমাদের মারবে।?
আমাদের জন্য চিন্তা করতে হবে না।
কোথায় যাবে? কাকে জিজ্ঞাসা করবে? এখান থেকে বের হবেই বা কিভাবে।
আমি শুধু এটা বলতে চাচ্ছি, -কি ব্যাপার।
আমাদের সাহায্য প্রয়োজন। আমাদের মানুষ প্রয়োজন এবং গুলাবারুদ প্রয়োজন।
তুমি যদি যেতে চাও, যেতে পারো। এটা তোমার যুদ্ধ না।
কেউ তোমাকে আটকাবে না। -আমি তোমার ভাইয়ের জন্য এখানে আছি।
এই কথা তো কেউ জিজ্ঞাসা করেনি। -চুপ করো।
আমাদের বাইরে থেকে সাহায্য পাওয়ার কোনো আশা নেই।
তাছাড়া সাহায্য করার মতোও কেউ নেই।
আম্মা.... আমি জানি আমাদের কি করতে হবে।
কি করছে এই মেয়ে?
সাবধানে.. -ভিতর যা।
কিছু হবে না, বাম পা উপরে তোল।
ঠিক হয়ে যাবে, ঠিক হয়ে যাবে। চাবি কোথায়?
কিছু হবেনা।
কিছু হবে না।
সব ঠিক আছে।
কি?
ঠিক আছে, ভাই।
টেনে আনো তাকে। নিয়ে আসো এখানে।
মারো এই হারামজাদাকে। -স্যার, স্যার, আমি কিছু করিনি।
ধরো এই খুনিকে ওই রুমে নিয়ে যাও।
হারামী কুত্তা।
কুত্তার বাচ্ছাকে আমি ছাড়বো না।
আমি দেখছি।
কোথায় লুকিয়ে ছিলি বল আমাকে কেনো মেরেছিস তাকে।
তাকে মেরে তুই পালিয়ে গিয়েছিলি।
স্যার, আমি সত্যি বলছি, আমিতো এই মেয়েকে চিনিই না।
ঠিক আছে।
আয়।
আব্বা, ঠিক আছেতো? -বোতাম লাগাও।
কি? -বোতাম লাগাও।
আবার কি? -চুল ঠিক করো।
চুল তো ঠিকই আছে। - ঠিক করো।
এটা ঠিক করা কঠিন।
ঠিক আছে?
এখন সুন্দর লাগছে।
বাবা, আপনি বলেছিলেন এরা এখানে থাকবে না।
নাজু, সায়িদা, উপর যাও।
বাবা।
যাও তো।
আর তুই এতো মেয়েদের মতো লাজুক কেনো।
কি? -সে হাসছে।
কি করছিস তুই, মনোযোগ দে।
আমি ত... -ছবির সর্বনাশ করছিস।
আরে ছবিতে হাসলে মানুষেরা মনে করবে তুই বোকা।
চিন্তা করবেন না, আমি ঠিক করে দিবো।
না, না, তা করার প্রয়োজন নেই। ঠিক হয়ে বস।
আচ্ছা। - আর হাসবি না।
আচ্ছা।
আর হাসবো না।
স্যার, আপনি তো জানেন আমাদের।
আমরা আইন নিজের হাতে নেই না।
ফাইলটা আমাকে দে।
আব্বা, আব্বা।
আপনি ঠিক আছেন?
কি হয়েছে আপনার, বলুন।
কিছু বলছেন না কেনো?
আব্বা?
বাইরে যাও। -ভাই।
আমরা তাকে ছোঁয়েও দেখি নাই।
আমরা শব্দ শুনতে পাই, দৌড়ে যাই গিয়ে দেখি ডেড বডি মাটিতে পড়ে আছে।
বাইরে যাও। -বোন, বোন।
আমার ভাই মরতে পারে না। -বাবা, বাবা।
আরে বডি এখনো এখানে পড়ে আছে। আপনারা এসে দেখে যান।
বের করে আনো তাদের, আমার কথা কানে যায় না? বুঝতে পারছো না।
উঠো। -ভাই উঠো।
উঠো।
বাইরে বের করে আনো তাদের।
এদের নামে রিপোর্ট আছে। এরা সবাই অপরাধী।
আমি তাদের তদন্ত করেছিলাম। তার বাবা তো এখনো জেলে।
চলো, বের করো তাদের।
ভাই, কি হয়েছে তোমার।
ভাই।
বাবা, কি হয়েছে?
ভাই উঠো।
বাবা, কি হয়েছিলো এখানে।
আমার একমাত্র ভাই।
হয়ছে।
ভাই।
ঠিক আছে।
সবই ঠিক হয়েছে।
সব আল্লাহর ইচ্ছা।
এটা।
এটা আল্লাহর ইচ্ছাই না।
এটা তারা করেছে। তারা খুনি।
তারা আমার ভাইকে মেরে ফেলেছে।
থামো। অনেক হয়ছে, এবার যাও।
তোমার ভাই মারা গেছে। -তার তো ভুল ছিলো না।
অন্যকে সান্ত্বনা দাও।
তাকে দেখো
মৃত্যু আমাদের জন্য অপেক্ষা করছে।
বাবা, আমাদের সাথেই কেনো এমন হয়?
কেনো? -বলো আমাকে।
আমি চাই, তুমি মনে রাখো যে আমিও একদিন মারা যাবো।
এখন যত ইচ্ছা কাঁদো।
সেদিন.... -বাবা, তোমার কিছু হবে না।
আমার কথা শুনো।
এখন থেকে তোমরা দুজনেই আমার ছেলে।
এবং তোমরা দুজনেই আমাকে কবর দিবে।
ভাই।
সেদিন তোমাকে মানসিক ভাবে শক্ত থাকতে হবে। কোনো কান্নাকাটি করা যাবে না।
সেদিন, যেন কেউ তোমার চোখে অশ্রু দেখতে না পায়।
তোমার চোখে যেন কোনো দুর্বলতা না থাকে।
কিন্তু বাবা...
আমার ভাই সৎ ছিলো কোনো ভুল সে করেনি।
বলো আমাকে.. তোমরা আমার ছেলে না?
এটা ঠিক না।
সাহায্য করো তাকে।
তারা আমাদের কিছুই করতে পারবে না।
আমাদের কাছে তাদের চেয়ে অনেক গোলাবারুদ আছে।
আমরা এখন তাদের আক্রমণ করবো এবং এখান থেকে ভাগিয়ে দিবো।
এটা এত সহজ হবে না। -আম্মা, তুমি এখানেই থাকো।
সায়িদাকে নিচে পাঠাবো।
আর আপনি যদি সাহায্য করতে চান মোটরসাইকেল নিয়ে প্রস্তুত হোন।
তুমি তাদের গুলি ছোড়ছো না কেনো। -মাত্র কয়েকটা বুলেট বাকি আছে।
প্রচুর বাকি আছে।
চলে যাও এখান থেকে।
যদি না যাও, আমরা তোমাদের গুলি করতে বাধ্য হবো।
এটায় শেষ সুযোগ, তোমার কাছে যথেষ্ঠ গোলাবারুদ আর লোকজন কিছুই নেই।
তোমার লোকের ডাক্তার প্রয়োজন।
শেষবারের মতো বলছি, চলে যাও।
যাবে কি না বলো?
কোথায় যাও? থাকো এখানে। - যুদ্ধ করতে টাকা দেওয়া হয়েছে, মরতে না!
শেষবারের মতো বলছি!
চাচাকে বলে দিস, এখানে যেন আর না আসে।
আমরা এখান থেকে কোথাও যাবো না।
এখান থেকে চলে যা।
আপনি এদিক দিয়ে যান।
তাকে ফিরে আসতে বল!
নাজু
নাজু, চলে আসো।
আরো শক্ত হতে হবে, আবার চালা।
চালা।
বন্ধ করো। ছাড়ো ওকে, অনেক হয়ছে।
না। এটা কোনো খেলা না শিখিয়েই ছাড়বো।
শিখতে হবে তাকে।
যেহেতু আপনি ছেলেদের পোষাক পরিয়েছেন
তাহলে শিখতে হলে তোকে তাদের মতোই শক্ত হতে হবে।
আমি বলছি, চালা গুলি।
চালা।
নাজু, ওঠ।
নাজু, ওঠ।
ওঠ নাজু ওঠ।
নাজু, তুই কি পাগল হয়ে গেছিস।
কি করছিস তুমি ? এক বন্দুক দিয়ে কি সবাইকে মেরে ফেলবে নাকি?
এর থেকে নিজে নিজেকেই মারা ভালো।
বীর, ওইদিকে যাও।
কে সে?
দেখো ভাই, আমিতো বুঝিই।
এটা পারিবারিক সমস্যা।
এক দুইজন মারা যেতে না যেতেই পুলিশ খবর দিস তাহলে আর আমার প্রয়োজন কি।
শুনুন, স্যার
আমার কাছে দলিল আছে।
এবং থাকার নির্দেশ আছে।
আমার বাবা, আমাদের সম্পত্তি দুজনের মধ্যে ভাগ করে দিয়েছেন।
এই বাড়ির জন্য.... আরে, সে জানে এটা জমির মামলা না।
এই বাড়িতে আমার অধিকার আছে।
দেখো, আমার কথা শোন, তোমরা দুজনেই তার সন্তান। কিন্তু তোমাদের মা আলাদা।
তাই, এর সমাধান সহজবোধ্য না।
এই জমিতে যার অনুমতি আছে সেই থাকবে।
বাবা তোমাকে তোমার জমি ভাগ করে দিয়েছেন।
সে জানতো এই জমি অনুর্বর।
এটা আমার উপর চাপিয়ে দেওয়া হয়েছে। আমার কি বা করার ছিলো।
আমি তোমাকে একবার বলেছি, আমি এর সমাধান চাই।
উচ্চস্বরে কথা বলবেন না। সমাধানের জন্য তো আমরা আছিই।
টিক আছে, আপনি তাকে বলেন।
তুমি ইতিমধ্যে তুমার ভাগ পেয়েছো -এই ঘর আমার আর আমি এটা ফিরিয়ে নিয়ে যাবো।
ঠিক আছে, তারপর।
কি ব্যাপার? -এই যে জমিটা নিয়ে।
কি সিদ্ধান্ত নেওয়া হয়েছে।
আপনি চিন্তা করবেন না, আমি দেখছি।
আপনি এসে বসুন।
বশির, উনার জন্য খানা পিনার ব্যবস্থা করো।
আর আমার জন্য তাড়াতাড়ি পানি নিয়ে আসো।
আসসালামু আলাইকুম।
দাড়ান, আমরা ডাকাত না। চিন্তার কিছু নেই।
সমস্যার সমাধান হয় নাই?
হ্যা
এই যে পুলিশ, এসপি, ডিএসপি .
এরা কোনো কাজের না। এরা যেদিক দিয়ে পাবে শুধু খাবে।
আমার সাথে চুক্তি করো।
আমি তোমার জীবনের দায়িত্ব নিবো।
আমার দুইশত লোক আছে।
কি মনে হয়
আমার উপর ভরসা করো, আমি তোমার সাথে আছি।
তুমি যদি চাও প্রয়োজনে খুন করবো।
মনে রেখো, রাজনীতিবিদদের দিয়ে কিছুই হবে না।
এখনকার সময়ে, মানুষের চেয়ে বুলেটের দাম বেশি।
আচ্ছা পরে আমায় জানায়েন।
ভিতরে কতজন আছে। -অনেকজন।
তারা আমাদের অচল করে দিয়েছে। -না, না।
সেখানে একজন পুরুষ আর বাকিরা নারী। -আমরা জানিনা, তুই চুপ কর।
আমরা শুধু তাদের বাইরে নিয়ে আসবো।
সেখানে সবাই নারী? এটা কি বেশ্যালয় নাকি ?
না না পুরুষও আছে। তারা আমাদের ড্রাইভারকে গুলি করেছে।
দেখুন সে আমাদের ডাকছে। সে কয়েকটা মেয়েকে সামলাতে পারে না?
আপনি কি বিবাহিত?
আপনি কি কখনো নারীদের সাথে কথা বলেছেন। -আরে তাদের সাথে বন্দুক আছে।
শোন ... ভিতরে মহিলা আছে?
হ্যা।
আমি যদি আমার লোককে সেখানে পাঠাই। আপনি কি বুঝতে পারছেন।
আমি শুধু এই ঘর আর জমি চাই।
ওমর..
আমরা এখন কি করবো? এখানে অনেক মানুষ।
আমাদের সাহায্যের জন্য জুলফিকারকে দিয়ে খবর পাঠাতে হবে। -কিন্তু এখন অনেক দেরি হয়ে গেছে।
তারা ঘর ঘিরে ফেলেছে। -আমরা দরজা বন্ধ করে ব্যারিকেড দিয়ে রাখবো।
কেউই আসতে পারবে না। -না, আমরা লড়াই করবো।
আমরা এখানে বসে থাকবো আর অপেক্ষা করবো কখন দরজা ভাঙবে।
এটা আমাদের জন্য ভালো হবে না।
আমরা আমাদের পজিশনে ফিরে যাবো এবং আমাদের গোলাবারুদের সঠিক ব্যবহার করবো।
যতদিন তারা বাড়ির কাছাকাছি না আসবে। আমরা নিরাপদে থাকবো।
আমাদের তাদের বাড়ি থেকে দূরে রাখতে হবে। -আম্মা,আপনার পায়ে ব্যাথা, আপনি এখানেই থাকেন।
আশেপাশের মানুষজন গুলির আওয়াজ তো শুনতে পেয়েছে।
কেউ না কেউ আমাদের সাহায্যের জন্য এগিয়ে আসবে।
শুধু একটু অপেক্ষা করতে হবে।
আমরা পারবো।
ঠিক না মুনির।
হেই, তুমি।
আসসালামু আলাইকুম। -ওয়ালাইকুম আরসালাম।
ডাল। -জি।
মসলা? - অল্প একটু।
আপনি ঠিক আছেন?
হ্যা।
আমি কাল সকালে বাজারে যাবো।
আমি আপনার জন্য কিছু অকরা কিনে আনবো। মেয়েরা কাল এসে দিয়ে যাবে।
আইনজীবীর টাকা পরিশোধের জন্য একটা গরু বিক্রি করে দিয়েছি।
এখন তিনি বলছেন আরো লাগবে। বিচারককে নাকি ঘুষ দিতে হবে।
আপনি গেইট অফিসারকে চিনেন।
তিনি বললেন, তিনি নাকি কম অর্থের বিনিময়ে কাজ করে দিতে পারেন।
অম্য কয়েদির পরিবর্তে তিনি আপনাকে আগে নিয়ে যাবেন।
কেউ বুঝতেও পারবে না। আমি মনে করি, আমাদের এটা করায় ভালো।
আমরা কিছু জমি বিক্রি করে টাকা জোগাড় করি।
না না।
এটা করা যাবে না।
এই জমি টাকার চেয়েও মূল্যবান।
এসব চিন্তা আর মনেও আনবে না।
চিন্তা করো না, আমি খুব শ্রীঘ্রই বের হবো।
বিরক্ত করছিস কেনো? -তোমার কাজ তুমি করো। আমার ব্যাপারে নাক গলাতে এসো না।
এখনে প্যাছাল পারিস না। নয়তো মার খাবি।
আমাকে মারবে? যাও যাও, নিজের ব্যাটারিতে চার্জ দাও।
তুমার ব্যাটারিতে চার্জ দেও। -নিজের ভালোও বুঝেনা।
আমি এখন মুরুব্বীর সাথে কথা বলবো।
চাচাজি।
আপনার সাহায্য লাগবে? আপনাকে বাইরে যেতে সাহায্য করতে পারব?
আমার গ্যাং আপনার জন্য পুলিশকে ঘুষ দিবে।
প্রয়োজনে আপনার জন্য তারা হত্যা, কিডন্যাপ এবং জীবনের নিরাপত্তা দিবে।
আরে বাবা, আমি জানি তুমি ধনী মানুষ নও।
যদি তুমি ধনী হতে, তাহলে এখানে থাকতে না।
তোমার বাবার নাম কি?
চৌধুরী আমজাদ ইব্রাহীম। তিনি কয়েক বছর আগে লিভারের ক্যান্সারে মারা যান।
কিন্তু আমি তোমার বাবা সম্পর্কে জানি, তুমি চৌধুরী আল্লাহ দিপ্তা।
তিনি আমার বাবাকে লেখা পড়া শিখিয়েছিলেন।
এজন্যই আমি আপনাকে সাহায্য করতে চাচ্ছি।
অন্যথায়, এসব নিয়ে এতো মাথা ব্যাথা নেই।
যদি আপনার টাকা পয়সার সমস্যা থাকে, চিন্তার কিছু নেই। আপনি আমাদের অন্য কিছু দিবেন।
যদি আপনার তাও না থাকে, চিন্তার কিছু নেই। আপনার গাড়ি আমাদের দিয়ে দিবেন।
মনে হচ্ছে..
তোমার বাবার শিক্ষা ভুলে গেছো..
সে নিশ্চয় তোমাকে অন্য কিছু শিক্ষা দিয়েছিলো।
বাবা, এটা আল্লাহর ইচ্ছা। আমি কি করতে পারি।
আমি এখন পরিবারের বড়, তাদের জন্য তো আমার কিছু করতে হবে।
এছাড়া আর কি করব?
তুমি মাকড়শা আর গুহা সম্পর্কে গল্পটা শুনেছো?
আরে বাবা, কাহিনী শোনার সময় আমার নেই। আমাকে বলুন আপনি কি করতে চান?
শোন....
একবার নবী করীম (সা:) শান্তির জন্য...
শান্ত হও শান্ত হও। ছাড়ো তাকে,, ছাড়ো।
তারা কি ফিরে আসবে?
আসবে।
একবার একজন জিজ্ঞেস করলেন, "জান্নাতের জীবন কতদিন লম্বা"?
নবী করিম (সা:) বলেন,
যদি একটি পাখি এক দানা শস্য সংগ্রহ করে উড়ে যায়...
আর এটা সমুদ্রের মাঝে ফেলে দেয়।
তারপর হাজার বছর পর আরেকটি পাখি আরেক দানা শস্য যদি সাগরে ফেলে....
তারপর যতদিন পর সমুদ্র ভরাট হবে..
তবে জান্নাত জীবন তার চেয়েও দীর্ঘ।
তার চেয়েও লম্বা। তুমি কল্পনাও করতে পারবে না।
বাবা কেউ মারা যায় না।
কি?
তুমি জানো?
জুলফিকার খুব পরিশ্রমী ছেলে।
তোমার কি মনে হয়?
আমার কাজ আছে।
হেই, আমার কথা শুনুন....
বাড়ির লোকেরা, আপনারা কোথায়? আমার কথা শুনুন।
কেউ আপনাদের আঘাত করবে না।
এই সব লোক আমার, আপনারা চিন্তা করবেন না।
শুনতে পাচ্ছেন?
যদি আপনারা বাইরে আসেন, কেউ আপনাদের আঘাত করবে না।
শুনতে পাচ্ছেন?
আগে যায় ঘটেছে, এখন আর কিছুই হবে না।
শুনতে পাচ্ছেন?
তাড়াতাড়ি বেরিয়ে আসেন।
এখানে আমাদের লোকেরা আছে।
এখন পর্যন্ত কেউ মারা যায়নি। কারো কিছুই হবে না।
সকল নারী ও বাচ্ছারা সবাই বের হয়ে আসো।
উঠো..
এই তুমি,, যাও, লোক নিয়ে আসো।
চাবি কোথায়? -জানিনা।
ভালো করে রাখো। -রাখছি।
বাকি জিনিস গুলো ভালোভাবে রাখো। -রাখছি তো।
হয়ছে।
কিছু হয় নাই। -কিছুই না।
এটা সরাসরি সোজা পায়ে ঢুকে গেছে।
বেশি ব্যাথা করছে ?
না না।
অসতর্কতার জন্য এমন হয়েছে।
এটা দিয়ে চেপে রাখুন।
শুনো....
তুমি ঠিক আছো তো?
আমি ঠিক আছি।
নাজু
তোর ভাই কি এখনে বাড়িতে?
না, এখন নেই।
আবার যদি তোকে আমার কামরায় দেখি খবর আছে তোর।
এদিকে আয়।
স্যার,এখানে যাবো না। আমি জানিনা কি হয়েছিলো।
ভিতরে যা। -স্যার, পানি খাবো।
চুপ কর!
তর ময়লা হাত সরা, গতকালকে মাত্র ধুয়েছি।
চুপ কর!
জানিনা তারা কোথায় থেকে আসছে।
পিছে যা।
আমি রাগের বশে একটা অপরাধ করেছিলাম।
আমি মানছি এটা আমার অপরাধ।
কিন্তু এই অফিসাররা যা করলো তা অপরাধের চেয়েও বড় অপরাধ।
এটা ঠিক না। আসল অপরাধী তো এরা।
আমি বলেছি না এখানকার পানি ভালো না।
সব ঠিক আছেতো?
কিছু না।
ঔই মেয়ের কপাল ভালো যে বেঁচে গেছে।
আমরা কিছু লোক সামনে দিয়ে আর কিছু লোক পিছে দিয়ে পাঠাই
তাহলে তাদের কাবু করতে পারবো।
ওমর কোথায়?
যদি আমরা সবাই মিলে গুলি চালাই তাহলে ওরা গুলির শব্দে ভয় পেয়ে যাবে।
আর আমরা ঘরটার দখল নিতে পারবো।
চুপ কর! গুলি খরচের টাকা কি তর মা দিসে?
লাশগুলো দিয়ে আয়। এবং আরো মানুষ নিয়ে আয়।
কোথায় যাও তোমরা?
যে কাজের জন্য আসছি, সেটা শেষ করতে।
কি হয়ছে? সব ঠিক আছে তো?
হ্যা মা, আমরা দরজার সামনে ব্যারিকেড দিয়ে রেখেছি। কেউ প্রবেশ করতে পারবে না।
জুলফিকার, জুলফিকার কোথায়? সে ঠিক আছে?
বাইরে দেখো? তারা কিছুই করছে না।
তারা শুধু সেখানে বসে আছে। তারা কি জন্য অপেক্ষা করছে?
সায়িদা, গুলি তখনি চালাবে, যখন প্রয়োজন পড়বে।
আমাদের কাছে খুব কম গোলাবারুদ।
আমি গিয়ে আশপাশটা দেখি। -শোন...
যা কিছুই হোক না কেনো আমি এই ঘর ছেড়ে কোথাও যাবো না।
ঠিক আছে মা, কেউ ভিতরে আসতে পারবে না। আমরা আসতে দিবো না।
থামো....
আমি বলে দিচ্ছি, আমি এই ঘর কখনোই কোনো অবস্থাতেও ছাড়বো না।
কখনোও না।
মনে রেখো...
এই পৃথিবীতে তোমার সম্মানের চেয়ে গুরুত্বপূর্ণ আর কিছু নেই।
এমনকি তোমার জীবনও না।
কিছু না কিছু করবই। সব ঠিক হয়ে যাবে।
কিন্তু..
কিন্তু এই লড়াই এখন আমরা কেউ জিততে পারবো না।
আম্মা, কি বলছো তুমি এসব?
যায় হোক না কেনো আমরা তিনজন সবসময় একসাথে থাকবো।
তুই এটাই চাস?
হ্যা।
মনে রাখবি। আমি তোদের বলছি....
যা কিছুই হোক না কেনো আমি বেঁচে থাকতে এই ঘর ছাড়বো না।
এই নে..
এগুলো আগলে রাখিস।
যখন প্রয়োজন পরবে তখন ব্যবহার করবে।
আম্মা?
আম্মা, তাড়াতাড়ি করো। তারা চলে যাচ্ছে।
সায়িদাব,তাড়াতাড়ি কর। -তাড়াতাড়িই তো করছি।
বাবা! -মাশা আল্লাহ।
কি সুন্দর লাগছে তোমাদের।
নাজু... সায়িদা....
আমরা ধনী পরিবার নই।
যখন আমি আল্লাহর কাছে সম্পদ চাইলাম।
তিনি আমাকে বুদ্ধি এবং কাজ করার শক্তি দিয়েছেন।
যখন তার কাছে জ্ঞান চাইলাম।
তিনি আমাকে সমস্যার সামনে দাঁড় করালেন। যেন তা সমাধান করতে পারি ।
তারপর আমি তার কাছে শক্তি চাইলাম।
এবং তিনি আমাকে সমস্যার সম্মুখীন করেছেন যেন আমি শক্তি দিয়ে মোকাবেলা করতে পারি।
আমি যা চাইতাম, তা পাইনি।
কিন্তু আমি যা প্রয়োজন তা পেয়েছি।
তো
আমি চাই..
এবং
এটা
বাবা তুমি খুব ভালো।
বাবা, এসবের কি দরকার ছিলো।
আমি এগুলো কিনেছি কারন, আমি চাই এগুলো পরে আমার রাজকুমারীরা বাইরে যাবে..
আর তাদের খুব সুন্দর দেখাবে।
জলদি করো, আসো, আসো, আসো। দেরি হয়ে যাচ্ছে।
সবাই চলে যাচ্ছে তাড়াতাড়ি তৈরি হও।
আসছি.. -আসো, আসে।
আহমদ, চলে আসছেন। আগে আমাদের পরিবারের একটা ছবি তোলেন।
না বাবা। -না , না বাবা, এসব ছাড়ো ।
কেনো? আরে আসো।
আমাদের কাছে তো কিছু থাকতে হবে, যখন তোমাদের বিয়ে হবে।
আমি বিয়ে করবো না।
এসব বলে না!! সিকান্দার।
তাড়াতাড়ি আয় না? তর আগে তো মেয়েরাই এসে গেছে।
সিকান্দার, আরে বেয়াকুব।
এই সেলোয়ার কামিজ কোথায় পেলি।
তুই বিয়েতে যাচ্ছিস নাকি আমেরিকা যাচ্ছিস।
আমি আমেরিকায় যাচ্ছি। -আচ্ছা, আচ্ছা।
সোজাসুজি ভাবে দাঁড়ান।
ঠিক আছে।
আমি বিয়েতে যাচ্ছি। -আয়, আয় সায়িদা।
এই বাচ্ছাগুলোকে কোথায় পেয়েছো?
তারা তো আপনার বাচ্ছা, আমি কেবল খাওয়াই।
আরে বাচ্ছারা তো তোমার আমি শুধু খাওয়াই।
আসে।!
এখন কয়টা বাজে ?
কেনো বাবাজী ,কোথাও যাবেন ।
এখানে আটমাস ধরে আছি । সময় দিয়ে কি করবো।
আমি যখন ঘুমিয়ে ছিলাম । তখন কি আমার মেয়ে এসেছিলো।
আমরা তো তার জন্যই অপেক্ষা করছি।
কি বলছো ? কে বলছো ?
শান্ত হ ,বাবা। চোখ বন্ধ করো। কেউ আমাদের জন্য আসছে না ।
সবাই সবার জন্য কাঁদছে আর অপেক্ষা করছে । কিন্তু কেউ কারো জন্য আসছে না ।
শান্ত হ। এটা জেল , শান্ত হ ।
আমাকে বাড়িতে ফোন করতে হবে ।
বাবাজী, বছরে একবার মাত্র ফোন করার অনুমতি পাবেন।
আমি বাড়িতে ফোন করতে চাই। -যাও এখান থেকে ।
না, আমি শুধু জানতে চাই বাসে তাদের কোনো সমস্যা হয়েছে কিনা?
চুপ কর ,নয়তো তর মাথা ফাটিয়ে ফেলবো ।
আমি একটা প্রশ্ন করলাম এতে তুমার সমস্যা কোথায়?
আমি কি বলেছি কোনো সমস্যা ?
বাহিরে খুব শান্ত , তাই না?
আরো গুলি খোঁজছি।
তুমি কি জানো? আমরা যখন ছোট ছিলাম ।
আমি আর তুমি , মানে আমাদের
বিয়ে ঠিক হয়ে আছে ।
হ্যা , জানি ।
তো এ ব্যাপারে কি ভেবেছ তুমি ..
করবে?
করবো ।
তবে- -তিনটা শর্ত আছে।
এক ; আমি আমার শ্বশুর বাড়িতে থাকবো না।
এখানে থাকবো এই ঘরে।
দুই : আমি পড়ালেখা শিখবো ও কাজ শিখবো।
তিন : আমার ঘোরাফেরায় কোনো বিধিনিষেধ থাকবে না।
সেটা পৃথিবীর যেকোনো জায়গায় হোক না কেনো।
তাহলে তো আমাকে দ্বিতীয় স্ত্রী রাখতে হবে।
যদি তুমি রাখতে পারো রাখবে।
আমার মনে হয় না যে আমি তুমার মতো অন্য কাউকে খুঁজে পাবো।
তাহলে একজনেই যথেষ্ট ।
তাই মনে হচ্ছে । -তহলে ঠিক আছে
ঠিক আছে।
হেই, পা ভিতরে রাখ ।
বাবা, কিছু খাবেন, আমার কাছে কিছু আছে।
না ঠিক আছে । শুধু একটু অসুস্থবোধ করছি।
আমার মেয়ে এসেছিলো? -না। বাবা।
আমার মেয়ে.....
কোথায় যন্ত্রনা হচ্ছে বাবা।
আমাকে বলুন ,কোথায় যন্ত্রণা হচ্ছে?
আমি কিছু করছি, অপেক্ষা করুন।
মজিদ? মজিদ তাড়াতাড়ি আসো। আমাদের হসপিটাল যেতে হবে।
দেখেছেন তাদের, মনে হচ্ছে বিয়ে খেতে এসে বসে গল্পগুজব করছে ।
এই দেখো একটা গাড়ি আসছে। মনে হচ্ছে সাহায্যের জন্য আসছে।
আসসালামু আলাইকুম ।
আপনি আমার পরিবারের খবর জানেন?
আপনি কি অসুস্থবোধ করছেন?
হ্যা, আমার পরিবারের খবর জানেন?
তুমার পরিবারকে খবর দিবো। আগে ডাক্তারকে চেক করতে দিন।
আপনি কি জানেন আপনার কি হয়েছে?
শেষ কবে আপনি ডাক্তার দেখিয়েছিলেন?
কবে...... আমার দ্বিতীয় কন্যা জন্মের পর ।
কত বছর আগে মনে আছে?
না ,মনে নাই।
সম্ভবত,ষোল বছর আগে।
উনাকে আপনি আরও আগে নিয়ে আসেননি কেনো?
শোন ভাই, এটা পুলিশের বিষয় ।
এখানেই মারা যাক বা ওখানে মারা যাক সবই এক।
চিন্তা করবেন না ,আপনি ভালো হয়ে যাবেন।
বাড়িতে একটা ফোন....
ঘুমাচ্ছেন?
দুই,এক,নয়,আট ।
এখন করবে? -হ্যা।
এসব কি?
স্যার,আমাকে কি আপনি ডেকেছেন?
আমি একটা ফোন করে আসছি।
স্যার ।
কি ? হেসো না বাবা ।
আপনি হাসছেন কেনো?
আচ্ছা হেসো না। আমরা গুন্ডা ,যুদ্ধ করার জন্য প্রস্তুত।
গুন্ডা?
আচ্ছা,তো আমার মেয়েরা কোথায়?
চলে গেছে ।
তাই, তহলে তোমরা কে ?
তোমাদের নাম কি?
আমি বলছি ।
মুক্তিয়ার ।
আর..... মনির।
আমার দুই নতুন সৈন্য । আমার দেখাশোনা করবে।
আমরা ওয়াদা করছি সবসময় আপনাকে রক্ষা করবো।
আপনার আবুল পুত্রের চেয়েও ভালো করে।
পুত্রের চেয়ে ভালো করে ? -জি স্যার ।
আচ্ছা, বসো । তোমাদের কিছু বলি।
কিছুদিন আগে আমাদের পাশের গ্রামে, কিছু লোক দেখলো আবর্জনার মাঝে আগুন জ্বলছে।
আর আবর্জনা থেকে তারা একটা শিশুর কান্না শুনতে পেয়েছিলো।
সেটা কোনো দূর্ঘটনা ছিলো না।
সেখানে ছিলো দুই-তিন দিনের বাচ্ছা মেয়ে।
এই আগুন তার মা-বাবা জ্বালিয়ে ছিলো।
কারন তারা পুত্র সন্তান চেয়েছিলো।
যখন তুমরা দুজন জন্ম নিলে তখন সবাই তুমার মাকে তিরস্কার করেছে।
বন্ধু , আত্মীয়-স্বজন এবং তুমার দাদা ।
তিনিও আমাকে বলেন যেনো আমি আবার বিয়ে করি। তাহলে আমার আরও পুত্র সন্তান হবে।
তারা বলতো তোমার মা অভিশপ্ত নারী।
শেষ যেদিন আমরা তোমার দাদার সাথে কথা বলি।
সেদিনও আমরা তোমাদের নিয়ে আজেবাজে কথা শুনেছি।
আর আজ ....তোমরা লড়ছো।
প্রতিদিন আমাদের সুরক্ষার জন্য।
আর আমিতো জানিই তোমরা দুজন তো শুরু থেকেই বালক।
বাবা,এটা কিভাবে চালায়।
শিখতে চাও?
আামার সাথে আসুন । -কে যুদ্ধ করছে , এটা কি আমার যুদ্ধ নাকি?
এখান থেকে বের হোন? -আমার সাথে আসুন, লোকজন আহত হচ্ছে।
আরে যা যা ..
ডাক্তার ।
বাবাজি , ইনজেকশন নিতে হবে।
বাবাজি ।
ডাক্তার কোথায়?
ডাক্তার! -ডাক্তার!
ডাক্তার কোথায়!
ডাক্তার
ডাক্তার!
ডাক্তার ইমারজেন্সিতে ।
ডাক্তার!
ডাক্তার! -এক মিনিট ।
মেয়ে মানুষ আসতে পারবে না ,তোমরা এখানেই দাড়াও।
সরো এখান থেকে,আপনার কি সমস্যা? আসো তোমরা।
তিনবার মাটি তুলে ধরো। এখানে বসো আর আমার সাথে সাথে বলো..
আল্লাহ উনাকে বেহেস্ত নসিব করুন।
কি?
ওখানে দেখো।
থেমো না সায়িদা। তাদের বাড়ি থেকে দূরে রাখতে হবে।
কিছুতেই আসতে দেয়া যাবে না ।
খালি হয়ে গেছে।
আর গুলি নেই। -না ।
তাহলে প্রথমেই গুলি গুলো নষ্ট করেছিস কেনো?
এদিকে আয় ,গুলি কর। কেউ এদিকে আসছে।
ওয়েদিরি ,এখনো সময় আছে। শুনতে পাচ্ছো?
চল!
জানালা থেকে সরে দাড়া। এদিকে আয়।
প্রার্থনা করে কি হবে? এখন পর্যন্ত তো কারোর সাহায্যই পায়নি।
চুপ কর। -প্রার্থনার তুই কি বুঝবি।
বেটা ,মাফ করে দিও। তুমি শুধু শুধুই ঝামেলায় জড়ালে।
এটা তোমার লড়াই না ।
তৈরি । হ্যা তৈরি।
কি করছো ?
কি করতে চাও তোমরা?
এই বাড়ি আমাদের ।
যতদিন বেঁচে থাকবো এই বাড়ি ছেড়ে যাবো না ।
এজন্য নিজেদের হত্যা করবেন।
এটা গুনাহ!
এটা গুনাহ? আর বাকি যা ঘটেছে তা কি গুনাহ না ?
আমার ভাই, আমার বাবা আর বাইরে যা হচ্ছে..
তা কি গুনাহ না?
ঔই কিতাবে সবকিছুই জায়েজ? -চুপ কর।
আম্মা দেখো ওনাকে.. ওনি মনে করেন ওনি সব জানেন।
কিন্তু এটা তো না জায়েজ।
বাবা , আল্লাহ ভালো জানেন ।
আমার কথা শুনতে পাচ্ছো? বের হয়ে আসো।
তোমরা সবাই বেড়িয়ে আসো।
শুনতে পাচ্ছো?
নাজু
নাজু ,আমি কি কখনো তোমাকে গরীব চাষীদের গল্প বলেছিলাম?
চাষীদের গল্প। তাদের সংগ্রামের গল্প।
একটা ভয়ানক বছর ছিলো..
খরা , বৃষ্টি ছিলো না । এমনকি ছিটেফোটা ও ছিলো না ।
তারা হতাশ হয়ে পড়েছিলো।
এবং সিদ্ধান্ত নিলো
পাশের গ্রামে একজন ধর্মীয় ব্যাক্তি আছে তার সাথে দেখা করবে ।
যিনি আলৌকিক কিছু করতে পারবে ।
তারা সাহায্যের জন্য উনাকে বলবে। যেন বৃষ্টি আসার জন্য প্রার্থনা করে।
তারা মাইল খানেক ভ্রমন করে উনার কাছে পৌছালো।
এবং তারা তাকে অনুরোধ করলো বৃষ্টির জন্য দোয়া করতে ।
কিন্তু লোকটা তাদের সাহায্য করতে অস্বীকার করলো।
তারা তার কাছে ভিক্ষা চাইলো, এতটা পথ আসার কথা বললো।
কারন তাদের বিশ্বাস ছিলো ।
তবুও লোকটা তাদের না করলো।
তারপর তিনি একটা বিরতি নিয়ে বললেন
আপনাদের আমার উপর বিশ্বাস নেই।
কৃষকরা একে অন্যের দিকে তাকিয়ে আশ্চর্য হয়ে গেলো।
তিনি কীভাবে জানেন তাদের অন্তরে কি আছে ।
লোকটা বললো..
আপনাদের যদি আমার প্রার্থনার উপর বিশ্বাস থাকতো যে প্রার্থনার ফলে বৃষ্টি আসবে..
তাহলে সবাই সাথে করে ছাতা নিয়ে আসতেন ।
এটা কোন মজার বিষয় না।
সবাই বের হও।
বের হও বলছি ।
আমি জানি সবাই শুনতে পাচ্ছো ।
বের হও বলছি।
তুমি কি আমাকে বিশ্বাস করো?
বাবা , আমি তুমাকে মিস করি।
তুমি ভাগ্যের জন্য যুদ্ধ করতে পারবে না।
ভাগ্য হচ্ছে আল্লাহ প্রদত্ত।
সব ঠিক হয়ে যাবে ।
আমরা তোমাদের ঘিরে ফেলেছি।
পালাবার কোন রাস্তা নেই।
এখনো সময় আছে । বের হয়ে আসো ।
অন্যথায়, সবাইকে মেরে ফেলবো ।
বের হয়ে আসো ।
বের হয়ে আসো বলছি ।
কয়েকটা গাড়ি আসছে।
এদিকে আসো ,এদিকে আসো।
পরিকল্পনা কি? -সেখানে যাও।
অপেক্ষা করো।
বের হও
অপেক্ষা করো ,থামো!
কি করছেন। এখানে নিরাপদ না , আমাদের সরে যেতে হবে।
নিচে কাউকে পাঠান?
চলুন।
বসো।
বসো।
বসো!
শালা জানোয়ার । সামান্য জায়গার জন্য যুদ্ধ ।
ভিতরে তোমার লোক না?
বের করে আন। -কেনো?
কেনো মারাইস না নাইলে তোকে আগে এরেস্ট করবো।
এই বাড়ি জলদি খালি কর।
দেখ ,,,ওয়াদারি
তুমি আর তুমার পরিবারের এই নাটক বন্ধ করো।
তোমাদের অস্ত্র ফেলে দাও, এবং এক এক করে বাড়ি থেকে বের হয়ে আসো।
এটা এখন পুলিশের বিষয় । কোর্ট এর সমাধান করবে।
এই জায়গায় থেকে তুমি আইন ভঙ্গ করেছো।
এটা এখন কোর্টের বিষয়।
ভিতরে কেউ আছে নাকি নেই?
তারা জীবিত আছে নাকি সবাই মারা গেছে ?
দেখো বেটি, তোমার মাকে বাইরে আসতে বলো।
তাড়াতাড়ি সবাইকে বাইরে আসতে বলো।
দেখো, তোমরা যদি বাড়ি খালি করে দেও তাহলে কাউকে এরেস্ট করবো না।
তুমার অস্ত্র ফেলে দাও । আর ভিতরে কে কে আছে।
ভিতরের পুরুষকে আসতে বলো,তারা কোথায়? আর তোমার মাকে তাড়াতাড়ি আসতে বলো।
তাড়াতাড়ি, এই তোমরা যাও। তাদের সবাইকে নিয়ে আসো।
আপনি মানুষ চান?
ঠিক আছে , নিয়ে যান আমাকে।
এরেস্ট করুন
অস্ত্র চান?
নিয়ে যান সব অস্ত্র ।
কিন্তু এই বাড়ির সমস্ত কাগজ আমাদের কাছে।
আইনত,এই বাড়ি আমাদের ।
এই ঘর আমার বাবার।
এই জমিন আমার বাবার।
এই ঘর আমার।
এই জমিন আমার।
Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.