Afrikaans
Akan
Albanian
Amharic
Arabic
Armenian
Azerbaijani
Basque
Belarusian
Bemba
Bengali
Bihari
Bosnian
Breton
Bulgarian
Cambodian
Catalan
Cebuano
Cherokee
Chichewa
Chinese (Simplified)
Chinese (Traditional)
Corsican
Croatian
Czech
Danish
Dutch
English
Esperanto
Estonian
Ewe
Faroese
Filipino
Finnish
French
Frisian
Ga
Galician
Georgian
German
Greek
Guarani
Gujarati
Haitian Creole
Hausa
Hawaiian
Hebrew
Hindi
Hmong
Hungarian
Icelandic
Igbo
Indonesian
Interlingua
Irish
Italian
Japanese
Javanese
Kannada
Kazakh
Kinyarwanda
Kirundi
Kongo
Korean
Krio (Sierra Leone)
Kurdish
Kurdish (Soranî)
Kyrgyz
Laothian
Latin
Latvian
Lingala
Lithuanian
Lozi
Luganda
Luo
Luxembourgish
Macedonian
Malagasy
Malay
Malayalam
Maltese
Maori
Marathi
Mauritian Creole
Moldavian
Mongolian
Myanmar (Burmese)
Montenegrin
Nepali
Nigerian Pidgin
Northern Sotho
Norwegian
Norwegian (Nynorsk)
Occitan
Oriya
Oromo
Pashto
Persian
Polish
Portuguese (Brazil)
Portuguese (Portugal)
Punjabi
Quechua
Romanian
Romansh
Runyakitara
Russian
Samoan
Scots Gaelic
Serbian
Serbo-Croatian
Sesotho
Setswana
Seychellois Creole
Shona
Sindhi
Sinhalese
Slovak
Slovenian
Somali
Spanish
Spanish (Latin American)
Sundanese
Swahili
Swedish
Tajik
Tamil
Tatar
Telugu
Thai
Tigrinya
Tonga
Tshiluba
Tumbuka
Turkish
Turkmen
Twi
Uighur
Ukrainian
Urdu
Uzbek
Vietnamese
Welsh
Wolof
Xhosa
Yiddish
Yoruba
Zulu
ইসাবে লাইন মিসিং থাকায় বেশ কিছু জায়গায় নিজের মত করে লাইন করে দিয়েছি। অনাকাংখিত ভুলত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
সাবটাইটেলটি উৎসর্গ করছি T E A M W B M F
অনুবাদেঃ কে এন হাসান সাবিকুন্নাহার সোনিয়া
সম্পাদনায় কে এন হাসান
'Luca' ""লুকা""
স্যার, ওটা মার্টিন আর সালোমি।
তারা এখানে চাকরের কাজ করত, উনারা প্রথমে দেখেছিলো।
দয়া করে বাইরে অপেক্ষা করুন।
স্যার, আজকে থেকে ছুটিতে যাওয়ার কথা ছিল না আপনার ?
হ্যা, আমি ছুটিতে ছিলাম।
কিন্তু জয়রাম স্যার সকালে ফোন করলেন, আর এখানে আসতে বললেন....
মৃত ব্যাক্তি একজন জনপ্রিয় শিল্পী, তাই না?
তাকে চেনো?
এক রকমের চিনি...
তার নাম লুকা।
মনে হয় মাস খানিক হয়ে গেছে.....
বাইন্নালের অংশ হিসেবে... [বাইন্নাল একটা উৎসবের নাম]
....সে আর তার বন্ধুরা একটা ইভেন্টের আয়োজন করেছিল।
যেটার জন্য কিছু লোক বিরক্ত হয়েছিলো।
কিছুটা ঝামেলার ও সৃষ্টি করেছিল।
আচ্ছা।
ওই পরিস্থিতিতে পুলিশের উপস্থিতির প্রয়োজন হয়েছিলো।
আমি দায়িত্বে ছিলাম।
এখানে কতদিন ধরে কাজ করছেন?
প্রায় পাঁচ বছর হয়ে গেছে স্যার...
লুকার মা মারা যাওয়ার পর থেকে আমরা এখানে আছি।
আজ সকালে ঠিক কি হয়েছে?
আমরা যখন আসি তখন দরজা ভেজানো ছিল।
তখন আমি রান্নাঘরে যাই আর কফি নিয়ে আসি।
কিন্তু স্যার রুমে ছিলেন না।
....আর যখন এখানে এলাম, দেখলাম...
সে আমার কান্নার শব্দ শুনতে পেয়ে ছুটে গিয়ে ডাক্তার নিয়ে আসে।
ডাক্তার...চেক করে বলে...
...যে লুকা আর নেই...
যখন আমরা এসেছি ডাক্তার তখনও ছিল।
তার জবানবন্দি নিয়েছি।
আমরা সহ্য করতে পারছি না স্যার...
গতকাল আমরা যখন চলে গেলাম...
.. ভাবতেই পারিনি এরকম কিছু একটা ঘটতে পারে।
তাহলে তুমি এখানে থাকো না?
না স্যার, আমরা কাছের বস্তিতে থাকি....
শহর থেকে কয়েক কিলোমিটার দূরে।
প্রতিদিন রাতের খাবার বানানোর পরে আমরা চলে যাই।
সে এখানে একা থাকতে পছন্দ করত।
প্রায়ই কখন আসতে?
আমরা ৬টার কাছাকাছি আসতাম...
সে প্রতিদিন সকালে সাইকেল চালাতে বের হত।
কিন্তু যদি রাতভর ছবি আঁকত, তার রুটিনে বিশৃঙ্খলা ঘটত।
কাজ করতে করতে, যেখানে কাজ করত সেখানেই ঘুমিয়ে পড়ত।
দরজাও খোলা রেখে দিত....
যদি দরজা বন্ধ থাকতো, তখন তাকে ডাকার আর কোনো পথ থাকতো না।
লুকার বাবা-মা আর আত্নীয়দের কি হয়েছে?
শুনেছি তার বয়স যখন ৬-৭, তখন তার বাবা মারা গিয়েছে।
তখন থেকে সে আর তার মা ই ছিল।
দুজনে ভীষণ ঘনিষ্ঠ ছিল।
কয়েক বছর আগে, তার মা ও মারা যায়....
..অসুস্থতার কারণে...
ওটা তার উপরে বাজে প্রভাব ফেলে।
তার প্রচুর চিকিৎসার প্রয়োজন হয়েছিলো, পুনরায় সুস্থ হতে।
তখন মি. শিভান আমাদের এখানে নিয়ে আসে।
ওটাই সেই লোক যে লুকাকে আঁকা শেখায়।
মনে হয় এটার কারণে...
শিভান, অন্য কয়েকজন শিল্পী...
..আমাদের কলোনির কুঞ্জুমান, তার বন্ধু।
সম্প্রতি এরা শ্রী সাই বিল্ডারের সাথে সংঘর্ষে জড়িয়েছিল....
..যে আমাদের কলোনি উচ্ছেদ করার চেষ্টা করছিল।
তারা গিয়েছিল আর আমাদের ছবি কম্পানির দেওয়ালে এঁকেছিল..
.. যেটা কিছু সমস্যার সৃষ্টি করেছিল।
তারপর থেকে, আমরা ভাবি না লুকা আমাদের কোনোরুপ শত্রু।
একটা মেয়ে ছিল...২-৩ মাস আগে...
তার নাম ছিল নিহারীকা
তারা একে অপরকে প্রচুর ভালবাসতো।
আমরা ভাবতাম সে তাকে বিয়ে করবে....
২-৩ সপ্তাহ আগে আমরা যখন এলাম, মেয়েটা চলে গিয়েছিলো।
যখন আমরা জিজ্ঞস করলাম, স্যার বলেছিল সে বেঙ্গালোরে ফিরে চলে গেছে।
মেয়েটা চলে যাওয়ার পরে, সে সত্যিই যেন কিছু হারিয়ে ফেলেছিল...
গতকাল আমরা যখন চলে যাচ্ছিলাম তখন,
অনেক দিন পরে তাকে হাসিখুশি দেখাচ্ছিলো।
তার মুখ উজ্জ্বল লাগছিলো স্যার।
এর কি অন্য কোনো কারণ ছিল?
গতকাল... সন্ধ্যায়, আমরা যখন চলে যাচ্ছিলাম...
....একটা কুরিয়ার এসেছিল।
আমার মনে হয় ওই মেয়েটা কিছু পাঠিয়েছিলো।
তোমার সব কিছু চিহ্নিত করতে হবে।
শিভান, নিহারীকা আর শ্রী সাই বিল্ডার্স।
ওকে স্যার।
হ্যা, আমার হয়ে গেছে ফাতিমা। তুমি তৈরি হও।
আচ্ছা, তাহলে আমি যাচ্ছি।
কোথাও একটা যেতে হবে ফাতিমার সাথে।
পুরোপুরি তল্লাশি চালাও।
যদি সন্দেহজনক কিছু পাও, আমাকে ফোন করো।
লাশ ময়না তদন্তের জন্য পাঠিয়ে দাও, আইনি অনুসন্ধান হয়ে যাক।
যদি কোনো আত্নীয় আসে,
জিজ্ঞাসা করে নিশ্চিত হবে, তারপর এগোবে।
কাউকে এখানে ঘোরাফেরা করতে দিও না।
তার চিত্রকর্ম মনে হয় দামি।
একবার সব শেষ হয়ে গেলে, জায়গাটা সিল করে দেবে, ঠিক আছে?
সন্ধ্যায় তোমাকে ফোন করব।
আগামীকাল বিস্তারিত আলোচনা করব।
স্যার, আমার মেয়ের বার্থডে পার্টির কথা ভুলে যাবেন না।
৭.৩০- ৮টার ভেতরে চলে আসবেন।
আচ্ছা। মনে থাকবে। আচ্ছা।
স্যার।
জয়রাম স্যার।
স্যার।
আকবর, কাজ কতদূর?
প্রাথমিক তদন্ত শুরু করে দিয়েছি স্যার।
আলোশি আজকের জন্য সব সামলে নেবে।
ওকে আকবর।
মিডিয়া এই ব্যাপারে জানতে পারলো বলে..
তাদের নিজেদের মতকরে খবর বানানোর আগে
এই বিষয়ের উপরে আমাদের শকুনের মত চোখ রাখতে হবে।
আগামীকাল সন্ধ্যায়, আমরা আবার শুরু করব।
ততক্ষণ পর্যন্ত পোস্টমর্টেম রিপোর্ট ও তৈরি হয়ে যাবে।
আচ্ছা, তুমি যাও। সন্ধ্যায় দেখা হবে।
ওকে স্যার।
অ্যান্টোনি, তাদের জবানবন্দি নাও আর বাড়িতে পাঠিয়ে দাও।
ওকে স্যার।
সত্যিই তোমরা এ ব্যাপারে ভেবেছো?
যারা আলাদা হতে চায় আমরা সাধারণত তাদের বলি....
এই ব্যাপারে নিজেদের ভেতরে খোলাখুলি কথা বল আর দেখো যদি ব্যাপারটা মেটে।
কিন্তু তোমাদের দুজনের ভেতরে কোনো কারণই নেই।
আবার কি ভাবছ?
ওকে। যদি তোমরা আগ্রহী না হও, আমার আর কিছু বলার নেই।
না, আমরা এই ব্যাপারে অনেক ভেবেছি।
আমরা ভাল বন্ধু আর কোনো সমস্যার সৃষ্টি করব না।
বন্ধুত্ব বজায় রাখবো, এমনকি ডিভোর্সের পরেও।
ফাতিমা, তোমার কিছু বলার নেই?
যেমনটা বললাম, সিদ্ধান্ত তোমাদের...
তোমাদের উকিল হিসাবে, আমি কাজ করতে পারি...
কিন্তু একজন ভাল বন্ধু হিসাবে....
আমি সম্পূর্ণ এর বিপক্ষে।
প্লিজ ডিভোর্স ফাইল করেন।
তুমি নেমে যেতে পারো।
আমার রাতে আসতে দেরি হবে।
ডিনার করে ঘুমিয়ে পড়ো।
হাই। দেখো কে এসেছে.....
শুভ জন্মদিন।
ধন্যবাদ।
তোমরা দ্রুত পৌছাতে পারবে?
দেরি হল কেনো?
আচ্ছা, পার্টি তো মাত্র শুরু হল নাকি?
এখানে কারোর ডায়বেটিস নেই তাই না?
আমার নেই।
আকবরের মনে হয়....
যতটা জোয়ান তাকে দেখে মনে হয়, ততটা সে নয়....
তোমার উচিত ছিল ফাতেমাকে নিয়ে আসা...
বাবা, আমার দুইটা কেক...
কেক খেলে মোটা হয়ে যাবে।
একটা বাচ্চার অনেক পরিবর্তন হয়....
তাই মনে হয় না?
তখন যদি তারা বাচ্চা দত্তক নেওয়ার সিদ্ধান্ত না নিত...
আজকে, হাসপাতালে চক্কর কেটে মরত।
সম্পূর্ণ্য ভেঙে পড়ত।
রক্তের সম্পর্কই সব নয়।
এই তিনজন সেটা প্রমাণ করে দিয়েছে।
পরিবার তৈরি হয়....
ঠিক এর উপরে ভিত্তি করে।
আঙ্গুরের জুসকে ওয়াইন থেকেও শক্তিশালী মনে হচ্ছে।
মন থেকে কথা বলতে সব সময় মদের দরকার হয় না।
যাইহোক, আমাদের কথায় ফিরে আসি।
আলোশি আমাকে একটা সংক্ষিপ্ত বিবরণ দিয়েছে।
আমি সেরকমই একটা ছবি মিডিয়াকে দিয়েছি..
গতকাল আমার সাথে যারা যোগাযোগ করেছিল তাদের।
তাহলে, তোমার প্রাথমিক তদন্ত কি বলছে?
আমার কাছে এখনো ব্যাপারটা স্পষ্ট হয় নি, স্যার।
চূড়ান্ত কোনো কথা বলতে পারছি না...
যতক্ষণ না পোস্টমর্টেম রেজাল্ট পাই।
আমিও তাদের এটাই বলেছিলাম....
যখন আমি ছুটিতে ছিলাম......
আমার মেয়ে এসে লুকার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছিলো
শেষ বাইন্নাল অনুষ্ঠানের স্বেচ্ছাসেবক ছিল সে।
সে বলছিল লুকা সবকিছু সাজিয়েছিল, যা ছিল ব্যাক্তিক্রমী।
কিন্তু আমি তাকে কখনো দেখিনি...
আমাদের শহরের কোনো সামাজিক সার্কেলে।
আমার মনে হয় সে নিজেই এসব করত।
হ্যা স্যার।
তার কাজের লোকেরাও একই কথা বলেছে।
যে বিষয়ে প্রথম আমাকে যে ডাকে...
সে হক মনোরামার মনোজ।
কিছুদিন আগে, আমি লুকাকে রিসেপশনে দেখেছিলাম।
তার সাথে একটা মেয়ে ছিল।
আমি জানি না তারা কেনো ওখানে ছিল।
আমার মনে আছে কারণ....
ওই দিন লুকা সত্যিই মাতাল ছিল।
...আর জে পি স্যারের সাথে এক চুমুক মদ খাচ্ছিলো।
জে পি।
জয়া প্রকাশ।
যে দ্যা টাইমসে কাজ করে...
হ্যা, উনিই।
সে আমার কাছে একজন পরামর্শদাতার মত...
ওই দিন, লুকা জেপি স্যারের সাথে তর্ক করছিল...
তখন তারা ধাক্কাধাক্কি আর হুড়োহুড়ি শুরু করে দিয়েছিল...
লুকার সাথে যে মেয়েটা ছিল...
সে তাকে বুঝিয়ে টেনে বের করে নিয়ে গিয়েছিল।
জে পি মনেহয় সেদিন পাগল হয়ে গিয়েছিল।
আমার মনে হয়না এটা সম্পর্কিত।
কাজের লোকদের কথার ভিত্তি অনুযায়ী...
তার মন অনেক নরম।
তবে এরকমটা ঘটতে পারে..
দেখি পোস্টমর্টেম রিপোর্ট কি বলে..
গাড়িতে ওঠো।
স্যার?
গাড়ির ভেতরে ওঠো।
স্যার।
আকবর।
চিরতরে শেষ হয়ে যাওয়ার আগে কিছু জিনিস আমাদের হাতে থাকে।
শেষ হয়ে গেলে সেটা আর শোধরানো যায় না...
মাত্র ৮-৯ মাস হয়েছে..
তুমি আর ফাতিমা বিয়ে করেছিলে, তাই না?
কারণটা আমি জানি।
তার নাম কি?
জেনেট।
তো তুমি জেনেটের সাথে যেতে পারছ না...
এটাই কারণ তাই তো?
স্যার।
আমরা অনেক ভেবে চিন্তেই ডিভোর্সের সিদ্ধান্ত নিয়েছি।
অন্য কোনো আলোচনার প্রয়োজন আছে?
হ্যা, আকবর।
এটা তুমি আর ফাতিমা নও, যারা এর ভেতরে রয়েছ....
আমদের কয়েকজন তোমাদের মিলিয়েছিল...
সেটা কেনো ভাবছ না?
আমি ভেবেছি ...
এই বিয়েটাই একটা ভুল ছিল।
এটা ফাতিমা, আমলা অথবা আপনার ভুল ছিল না।
আমি আটকে গেছি, আর কেবলমাত্র এটা আমার ভুল।
এখন সমস্যাটা আমরা জানি, ঠিক করা উচিত হবে না?
ভুল....
ছাতার মাথা।
একটা মানুষও নেই, স্মৃতি ছাড়া....
নয়ত তোমার আলজিহেমা আছে।
জীবনকে এগিয়ে নিয়ে যেতে হয়...
স্যার, সত্য কথা বলি...
জেনেটের স্মৃতি আমার সমস্যা না....
কেনো সে আমাকে ছেড়ে চলে গেলো..... নাকি এখনো আমার সাথে আছে।
আর এই শ্বাসরোধকারী পরিস্থিতি...
ভিন্ন ধরনের একটা ব্যাথা।
কিন্তু সবাই যখন বলল...
আশা করেছিলাম ফাতিমা শান্তি দেবে।
কিন্তু ফাতিমা আমার সমাধান নয়...
আমি তার জন্য বড় সমস্যা, স্যার।
তাকে মুক্ত করে দেওয়া প্রয়োজন।
সে একটা ভাল জীবনের দাবীদার।
যদিও, আমরা ভাল দম্পতি না,
আলাদা হয়ে ভাল বন্ধুর মত থাকবো।
আমার বাল।
একজন ভাল সঙ্গী ভাল বন্ধুর থেকে বেশি না।
আমার মত বয়স হলে, তখন বুঝবে।
একটা মহিলার সাথে ঘণ্টার পর ঘণ্টা মিথ্যা প্যাচালের কোনো দাম নেই...
কিন্তু একজন বন্ধুর সাথে কয়েকমিনিট কথা বলায় আনন্দের শেষ নেই।
আর...
Fathima is your best choice!
এখনি সময় জেনেট কে ভুলে যাওয়ার...
এ ব্যাপারে তোমার ভাবা উচিত।
শুভ রাত্রি স্যার।
শুভ রাত্রি।
আচ্ছা স্যার।
ঠিক আছে।
জেপি মনে আছে, যে জয়ারামের কথা উল্লেখ করেছিলে?
দেখো যদি শহরে সে থাকে।
যদি এখানে থাকে, আমরা আগামীকাল তার সাথে দেখা করব।
ওকে।
আগামীকাল বাসায় এসো।
বাই সুইটি।
বাই বলো মা। বাই।
আগামীকাল দেখা হবে।
When the sky was pouring
You too poured over me
Season of dreams is here.
আকবর। জেনেট।
As the full moon is beaming in the sky
Oh beautiful one, you are here beside me
As the full moon is beaming in the sky
Oh beautiful one, you are here beside me
You stole my heartbeat
You stole my heartbeat
As the full moon is beaming in the sky
Oh beautiful one, you are here beside me
When the sky was pouring
You too poured over me
একটা বাড়ি আর একটা ছেলে
যথেষ্ট?
মেয়ে হলে কেমন হয়?
Amoment as delicate as music.
Our hearts cuddled up in the mist.
Love's tenderness will take over
You spill life within, always
As love sprouts inside..
Spilling nectar and sweetness around
কি হয়েছে?
কিছু না।
সব পেপারে এই খবর ছেপেছে।
কি?
বুঝতে পেরেছি যে লুকা জনপ্রিয় ছিল।
স্যার, জেপি আমাদের সাথে বিকাল ৩টা নাগাদ দেখা করতে রাজী হয়েছে।
আচ্ছা, আগে লুকার বাড়িতে চল।
অ্যান্টোনি, চাবি আর ফাইল নিয়ে সুদিশকে ওখানে যেতে বল।
পোস্টমর্টেম রিপোর্ট ভাল করে চেক করতে বল।
অ্যান্টোনি, পোস্টমর্টেম রিপোর্টের কি হয়েছে?
ওটা তৈরি হয় নি স্যার।
সার্জন ওটা বিকালে নিয়ে আসবে।
স্যার।
৪টা হাতের ছাপ পাওয়া গিয়েছে।
আমরা তিনটার মিল পেয়েছি।
লুকা, মার্টি, সালোমি।
কিন্তু চতুর্থটা একটা মেয়ের...
খুব সম্ভবত ওটা নীহারিকার।
নিশ্চিত করো।
এটা ধরুন।
আলোশী, আমার মনে হয় এটাই সেই ডায়রি...
কুরিয়ারে এসেছিল, যেটা মার্টি আর সালোমি দেখেছিল।
এটা প্যাক করো।
শুন্য স্থান পূরণ করতে এটা আমাদের সাহায্য করবে।
আচ্ছা, আমি তাকে বলবো...
স্যার, অফিস থেকে ফোন এসেছে।
জয়রাম স্যার জিজ্ঞেস করছেন, যদি ১২টায় অফিসে যেতে পারেন...
আমাদের ফরেন্সিক টিম তখন ওখানে পৌছাবে।
এখন কত বাজে?
১১ টা।
বলে দাও আমরা দ্রুত আসবো..
আলোশী, তার একটা ইভেন্টের ব্যাপারে তুমি বলছিলে..
ওটা কি ছিল?
তারা একটা জোক্স বানিয়েছিল ' স্বঘোষিত ঈশ্বর '
সে তাদের কাপড় চুরি করত, এমন কি জাঙ্গিয়া।
সে বাইরে এটার একটা ক্যানভাস বানিয়ে তাদের ছবি সেটাতে একেছিলো।
প্রদর্শনী গেটের বাইরেও এঁকেছিল।
এটা তাদের উপরে মুত্র বিসর্জনের মত ছিল।
অসাধারণ।
তখন কি হয়েছিল?
তারা আরেকটা জাঙ্গিয়া কিনে নিয়েছিল, আর কি হবে?
কি বললেন?
কিছু সময় চিৎকার চেচামেচি করল আর চলে গেলো স্যার।
ঠিক বলেছেন।
টুপিটা দিন।
তুমি বলেছিলে তুমি একজনের সাথে দেখা করতে চাও।
নয়ত, আমি অন্য কাউকে রিপোর্ট আনতে পাঠাবো।
আমার মনে হয়, আমাদের কাছে কিছু একটা আছে।
হ্যা স্যার।
কিছু একটা আছে।
সে বিষ প্রয়োগে মারা গিয়েছে।
ওটা মুখ দিয়ে ঢুকেছে।
আমাদের কাছে এ ধরণের কোনো বিষের নমুনা নেই..
কিন্তু, দেখে মনে হচ্ছে স্লো পয়জন।
স্লো, কিন্তু একদিনেই এরকম হবে সেটা নয়...
কিন্তু, মাদক দ্রব্যের মত।
আস্তে আস্তে তার শরীরে এটা দেওয়া হয়েছে..
আর সে ঘুমের ভেতরেই মারা গিয়েছে।
স্মুথ, উত্তেজনা আর ব্যাথাহীন মৃত্যু।
আমি প্রবলভাবে বিশ্বাস করি এটা আত্নহত্যা ছিল।
উপসংহারে আসার জন্য কি এটুকুই যথেষ্ট?
না।
এবার আসি দ্বিতীয় সূত্রে।
লুকা তার জীবনের শেষ পর্যায়ে ছিল।
তার জীবনের মাত্র কয়েক মাসই বাকি ছিল।
তার ব্রেইনে মারাত্নক বড় কিছু একটা হয়েছিল।
কোনোরুপ ব্রেইন ক্যান্সার হওয়ার ধারণা পেয়েছেন?
হ্যা।
এটার বৃদ্ধি পর্যবেক্ষণ,বিশ্লেষণ করে বলা যায়....
কয়েক সপ্তাহ ধরে সে এটার প্রভাব বুঝতে পারছে....
সে বুঝতে পারার মাসখানিক আগে হয়ত এটা হয়েছে।
মৃত্যুর ভয়ে আত্নহত্যার সম্ভাবনা।
তাহলে, আমার মনে হয় এটাই।
আমরা মিডিয়ার সাথে এটা নিয়ে আলোচনা করতে পারি।
তুমি কি বল আকবর?
তার বাড়িতে সব চিত্রকর্মে ইতিবাচক দিক তুলে ধরা হয়েছে।
তাই, আমি বিশ্বাস করতে পারছি না...
লড়াই ছাড়াই একজন ব্যাক্তি নিজেকে শেষ করে দেবে।
আকবর, বেঁচে থাকা অসুস্থ রোগী, পুরোপুরি সুস্থ মানুষের থেকে একটু বেশি বা কম আলাদা।
তার অতীত দেখে বর্তমানকে বোঝার চেষ্টা করা ভিত্তিহীন।
যদি আপনাদের আর কিছু না বলার থাকে, আমি যেতে পারি?
হ্যা ডাক্তার।
স্যার, এই যে রিপোর্ট।
ধন্যবাদ ডাক্তার।
ডাক্তার এক সেকেন্ড।
লুকার শরীরে কোনোরুপ ক্ষত বা ঘা ছিল?
মারাত্নক কিছু ছিলনা।
তার শরীরে ছোট ছোট সেরে উঠছে এমন ঘা ছিল...
শরীরের যেখানে সেখানে ছিল।
ওগুলো আসলে ঘা নয়, ছোট আঁচড়ের দাগ।
আগামীকালের আগে নিশ্চিত করে বলতে পারছি না।
ওকে ডাক্তার। ধন্যবাদ।
কি হয়েছে?
কোনো কিছু তোমাকে বিরক্ত করছে?
এই তত্ত্বতে কোনো সমস্যা আছে?
আসলে সমস্যা নয় স্যার।
ওখানের কাজের লোকদের কাছ থেকে শুনেছিলাম...
সন্ধ্যায় তারা যখন চলে যাচ্ছিলো....
তারা লক্ষ্য করেছিল, লুকাকে অনেকদিন পরে হাসিখুশি দেখাচ্ছিলো।
শুধু তাই নয়....
একটা মেয়ে ছিল যে একসময় তার সাথে থাকতো।
তারপর থেকে আমি বুঝতে পারলাম যে তারা একটা সম্পর্কে ছিল।
প্রায় ২ সপ্তাহ আগে.....
হঠাৎ করে মেয়েটা ওই জায়গা ছেড়ে চলে যায়।
তো, যদি আমরা মেয়েটাকে খুজে পাই, আমি নিশ্চিত বিষয়টা পরিষ্কার হয়ে যাবে।
যদি তোমার মনে হয় এটা প্রয়োজন, তাহলে কর।
আপাতত, আমি পোস্ট মর্টেম রিপোটের বিস্তারিত প্রেস এর সাথে শেয়ার করছি।
নয়ত তারা আমাদের ঘুম হারাম করে দেবে।
তাদের মস্তিষ্কও এটাতে কাজ করুক।
তুমি যেতে পারো।
ওকে স্যার।
হ্যা।
মনোজ যে মেয়ের কথা বলেছিল...
কাজের লোকেরাও সেই একই মেয়ের কথা বলেছে তাই না?
হ্যা।
হতে পারে আমরা জেপি-র কাছ থেকে কোনো সূত্র পেয়ে গেলাম।
সে বলেছিল আমরা তার সাথে সন্ধ্যায় দেখা করতে পারি।
তাই নাকি?
আচ্ছা, কোনো আত্নীয় কি তার লাশ দাবি করতে এসেছে?
কেউ আসে নি।
এর থেক বুঝতে পারছি, তার কোনো আত্নীয় নেই।
কেউ থাকলেও খবর দেখে চুপ করে গেছে।
আগে জেপির সাথে দেখা করি চল।
সে মারা যাওয়াতে আমি খুশি হয়েছি।
সে তাকে (নীহারীকা) আমাদের কাছ থেকে নিয়ে গিয়ে মেরে ফেলেছে।
আমার নীহা মার আত্নহত্যা করার পিছনে একমাত্র কারণ সে।
আমি নিশ্চিত।
আপনি কি নীহারিকার কথা বলছেন, যে লুকার সাথে ছিল?
সে কি আত্নহত্যা করেছে?
কখন?
এক সপ্তাহ হয়ে গিয়েছে।
গত শুক্রবারে এটা হয়েছে।
কোথায়?
বেঙ্গালোরে।
তার বাড়িতে।
লুকাকে এই ব্যাপারে জানিয়ে ছিলেন?
আমি কেনো জানাতে যাবো?
সে আমার কে?
আচ্ছা।
আচ্ছা মি. জেপি...
নীহারিকাকে আপনি কিভাবে চিনেন?
মি. আকবর, নিহা আমার ভাইঝি।
আমার একমাত্র ছোট বোনের মেয়ে।
আমিই তাকে বড় করেছি।
ভাইঝি হিসাবে নয়, নিজের মেয়ের মত করে।
ওই শয়তানের বাচ্চা তাকে শেষ করে দিয়েছে...
আমরা এখনো ওই ধাক্কা থেকে বেরোতে পারিনি।
ওই হারামীর বাচ্চার ব্যাপারে আমার কিছুই বলার নেই।
কিন্তু, নীহা...
যে নামে আমরা তাকে ডাকতাম... নীহারিকা ব্যানার্জি।
ব্যানার্জি?
বাঙালী নাম না এটা?
হ্যা।
আমার বোন জয়সুধা একজন বাঙালীকে বিয়ে করেছিল।
আশুতোষ ব্যানার্জি।
সে বাঙালী লেখক ছিল।
কলেজে তারা একে অপরের সাথে পরিচিত হয়েছিল।
নীহার বয়স ৩ বছর হলে সে মারা যায়।
একটা দূর্ঘটনা ছিল।
তারপরে ওরা আর বেশিদিন কোলকাতাতে থাকে নি।
জয়সুধা, বেঙ্গালোরের ফিলোমেনাস কলেজে রসায়নের অধ্যপক হিসাবে চাকরি পায়।
তারা ওখানেই স্থায়ী হয়ে যায়।
নীহা বেঙ্গালোরেই বড় হয়েছে।
সে গম্ভীর চরিত্রের ছিল।
হয়তে পারে এর কারণ তার মা ছিল।
শৈশব থেকেই,
তার নিজের পৃথিবী ছিল পড়ালেখা।
তার বাবার মত।
স্কুলজীবন শেষে, তার লক্ষ্য চলে যায় শিক্ষাবিদ হওয়ার উপরে।
তার মায়ের মত।
মাস্টার করেছে, PhD...
কোচিতে কি আপনার সাথে কিছুদিন থাকতে এসেছিল?
না....না...
PhD সম্পর্কিত কিছু কাজের জন্য এখানে এসেছিল।
তার গবেষণার বিষয় ছিল শিল্প রসায়ন।
CUSAT বিশ্ববিদ্যালয়ে ২ মাসের কাজ ছিল।
সে এখানে থেকেছিল।
ওই সময়ে তার(লুকা) সাথে ওর পরিচয় হয়....
আর একদিন, সে ওর সাথে চলে যায়।
তার পরে আপনার সাথে ওর দেখা হয়েছিল?
একা বা একসাথেও দেখা হয়েছিল।
একবার তার সাথে দেখা হলে, চেষ্টা করেছিলাম ফিরিয়ে নিয়ে আসার...
কিন্তু....
সে (লুকা) তার সাথে বেশি কথা বলতে দেয় নি।
তাকে সাথে নিয়ে চলে গিয়েছিল।
স্বপ্ন সন্ধ্যার ২টা পার্টির আগে এই ঘটনা ঘটেছিল?
হ্যা।
আপনি কিভাবে জানলেন?
পার্টির সময়, লুকা আর আপনার ভেতরের মারামারির ব্যাপারে আমরা জানি।
এর পরে লুকা আর নীহারিকাকে দেখেছিলেন?
না।
পরে জানতে পারলাম সে বেঙ্গালোরে ফিরে গিয়েছে।
মনে হয় সে ফাইনালি বুঝতে পেরেছিল লুকা কে।
কিন্তু সে ফিরে যাওয়ার পরে, আর আগের মত ছিল না।
সবসময় নিজেকে ঘরের ভেতরে তালাবন্দি করে রাখতো।
আর অবশেষে....সে....
সে আত্নহত্যা কিভাবে করলো?
বিষ খেয়েছিল।
সকালে জয়া খেয়াল করলো সে বাইরে আসছে না...
তখন তার রুমে চেক করতে গেলো।
সে গভীর ঘুমে ঘুমিয়ে গিয়েছিল
সবকিছুর জন্য লুকা দায়ী স্যার।
সেই, তাকে মেরে ফেলেছে।
শান্ত হন জেপি। আমি দুঃখিত আপনার ক্ষতির জন্য।
এটা হওয়া উচিত হয় নি।
কিন্তু, এখন আমাদের সব মেনে নেওয়া প্রয়োজন।
যাইহোক, আমাদের আবারো দেখা হবে।
কারণ, কেসটা সমাধান করতে আপনার সাহায্য লাগবে।
সরি।
সমস্যা নেই।
আমরা যাই?
কুরুপ
স্যার।
নীহারিকার বেঙ্গালোরের ঠিকানা তার কাছ থেকে নিয়ে এসো।
বেঙ্গালোর? শিওর স্যার।
এই লোকটা আমাদের জন্য ঝামেলার কারণ হবে।
বেঙ্গালোরে আমাদের কিছু নেটওয়ার্ক আছে না?
ঠিকানার উপর ভিত্তি করে ওই এরিয়ার পুলিশ স্টেশন খুঁজে বের কর।
নিহারীকার মৃত্যুর পুরো তথ্য নিয়ে এসো।
এখন তাদের গল্পটা শোনা যাক।
অবশ্যই স্যার।
এই যে স্যার, এটাই সেই ডায়রি।
তাহলে লুকার বন্ধুর নাম কি ছিল যেন.... তার নির্দেশক?
শিভান।
আমরা তাকে ধরতে পারিনি।
শুনেছি, সে একটা ভবঘুরে....
আর ওই কন্সট্রাকশন কম্পান্নি....
শ্রী সাই বিল্ডার্স।
ওখানকার কর্তব্যরত অফিসারের সাথে এপয়েন্টমেন্ট ফিক্স কর।
কোনো তথ্য ছেড়ে দেওয়া যাবে না।
আচ্ছা স্যার।
তাহলে তুমি চালিয়ে যাও।
আগামীকাল দেখা হবে।
আচ্ছা তাহলে।
স্যার আজকে এত দ্রুত আসলেন।
লুকা।
আমি জানি তুমি খুবই বিরক্ত হচ্ছ।
এখন আমার ব্যাথা, তোমার ব্যাথা থেকে শতগুন বেশি।
প্রথমত, তুমি আমার সাথে এখানে নেই।
সাথে, আমাকে তোমার সাথে থাকতে দাও নি... চলে আসতে বাধ্য করেছো।
বাদ দাও।
চিঠির সাথে এই গিফটা তোমার অনেক পছন্দ হবে।
এটা আমার ডায়রি, যেটা তুমি ছিচকে চোরের মত চুরি করে অনেকবার পড়ার চেষ্টা করেছো।
ওই দিন তোমাকে বলেছিলাম...
আমি তোমাকে এই ডায়রি দেবো, যখন তুমি এটা পড়ার যোগ্যতা অর্জন করবে।
এতে সব আমাদের বিষয়, শুধু আমাদের।
প্রথমবার আমাদের দেখা হয়েছিল, একে অপরের সাথে মারামারি করছিলাম....
আমি কৌতুহক অনুভব করেছিলাম....
অনুভব করেছিলাম তুমি আমার কতটা চেনাজানা।
তখন থেকে লেখা শুরু করছি।
আমাদের দুষ্টুমি,
আমাদের মারামারি...
আর তোমার করা সমস্থ তীক্ষ্ম মস্তিষ্কের কাজ..
সবকিছু এতে লিখছি।
কিচ্ছুক্ষণের জন্য তোমার কষ্টকে একপাশে রাখো।
আর সবটুকু খুশির সাথে পড়।
আর আরেকবার সব দেখে নাও।
শেষে গিয়ে মনে হবে তুমি আমাকে দেখতে পাচ্ছো।
তখন চলে এসো।
যাই হয়ে যাক, দুইজনে একসাথে মোকাবেলা করব।
নীহা।
লুকা...
তুমি বদরাগী কেনো?
তুমি একজন শিল্পী
খোলাখুলি সমালোচনা করা উচিত না।
আজকে তুমি নোংরামী করেছ।
কিন্তু আমি একটা বিষয় বুঝতে পেরেছি।
তোমার মনটা ভীষণ নরম।
মেকি রাগ দেখাও।
একটা সুযোগ আছে...
যেটা দিয়ে তুমি আর আমি শেষ পর্যন্ত বন্ধু হতে পারি।
ওইটা দেখ।
ওটা।
সুন্দর একটা জিনিস।
হ্যা ঠিক।
আয়, ওদিকে যাই।
এখনো এর ভেতরে আমার মাথা ঢুকতে চাচ্ছে না।
একটা সুন্দর রবিবার ছিল, আর তুই আমাকে এসব ভাংগাড়ি দেখানোর সিদ্ধান্ত নিয়ে এখানে টেনে নিয়ে চলে এলি।
তুই বলেছিলি তুই বোর হচ্ছিস, তাই না?
শপিং এর পরিকল্পনার থেকে এটা অনেক ভাল।
যদি এসব বানানো দেখে বোর হয়ে থাকিস...
তাহলে বাইরে গিয়ে ছবি গুলো দেখতে পারিস।
ঝুলন্ত এই বাল গুলো বুঝতে পারছি না...
আর ছবির বাল বুঝতে পারবানি....
থু।
এই বালগুলো আবার কি?
এত দ্রুত বিচার করিস না।
আমি নিশ্চিত এর গভীর একটা মানে রয়েছে।
সত্যিই অনেক ভাঙ্গাড়ি।
তারা একটা দৃশ্য আঁকতে পারেনি অথবা আমাদের মত সুন্দর মেয়েদের ছবি?
এটা ডিপ্রেশনে পড়ে বানানো অথবা ফালতু একটা জিনিস।
আমি শুধু এর দুইটা প্রান্ত দেখতে পাচ্ছি।
কি?
ফালতু জিনিস?
কোনো ধারণা আছে এটা বানাতে কতদিন লেগেছে?
দুই মাস।
দুই মাস?
এটার জন্য?
ফাউ কথা বাদ দাও।
যদি তোমার দক্ষতা না থাকে, হ্যা তাহলে হতে পারে,
এটা বানাতে দুই অথবা তিন মাস লেগেছে।
তুই নিজেকে আর্ট লাভার দাবি করিস না?
তাহলে তুই এর গভীরতার মানে বল?
এটা চামুচ দিয়ে খাইয়ে দেওয়ার জিনিস নয়, বুঝলে?
যাদের সময় আর কৌতুহল আছে, একমাত্র তারাই এখানে আসে।
এটা নকল বুদ্ধিজীবিদের মত না তোমার মত যারা সময় নষ্ট করতে ভালবাসে।
তাহলে এরকম লোকদের বের করে দিচ্ছেন না কেনো?
অবশ্যই তাই, একমাত্র বিচক্ষণ ব্যাক্তিরাই এখানে আসতে পাবে।
এরকম ভাব দেখাচ্ছেন কেনো?
সে নিজেকে ভান গোহ নয়ত ভিঞ্চিদা ভাবে।
ফালতু জানি কোথাকার।
দোস্ত, ওদিকে সব তালগোল পাকিয়ে গিয়েছে....
আমার সাথে আয়, আমি সব দেখাচ্ছি।
কোন পাঠা এখানে ঝামেলা পাকাচ্ছে?
হেই, কোথায় যাচ্ছিস?
মারামারি করতে গিয়ে আমি অসুস্থ হয়ে পড়েছি.....
সরে যাও।
তোর সমস্যা কি, পাঠা?
সবাই ওই পাঠার পাছায় চুমু খাচ্ছো.... ভাগ শালা।
না গেলে তো কি করতে পারবি তুই।
বন্ধু, সরে আয়, দেখছি আমরা কি করতে পারি।
কি?
আমি কথা বলব, তোমরা সরে যাও।
শান্ত হও। হেই।
তুই বেরিয়ে যা।
তোকে এখানে আসার অনুমতি কে দিয়েছে?
ছাড়ুন আমাকে।
আমরা ব্যাপারটা মেটাবো।
অযাথা নাক গলিয়ে ব্যাপারটাকে জটিল করে দিও না।
প্লিজ তোমরা চলে যাও।
দয়া করে কোঅপারেট কর।
নীহা এদিকে আয় একবার।
কি?
এদিকে আয়, যেটাকে দুইটা ফালতু জিনিস বললি আমি সেটাকে দেখাবো।
অসাধারণ।
আমি এটাই বলেছিলাম....
তুই তার সাথে ঝামেলা শুরু করে দিলি।
কিন্তু দেখেছিস সে ঠিকই বলেছিল?
ট্যালেন্টধারী ব্যাক্তি এতটা অহংকারী আর অভদ্র হতে পারে না।
ওহ তাই নাকি?
মনে কর, তুই কঠোর পরিশ্রম করলি আর গবেষণা পত্র সাবমিট করলি।
আর তোর উপদেষ্টা সব নষ্ট করে দিয়ে বল এসব নিরর্থক।
তখন কি করবে?
আমি তাকে মেরে ফেলতাম...
ঠিক।
আর সেও এটাই করেছে।
মাফ চাওয়া উচিত?
সেটা করাই সব থেকে ভাল হবে....
কিন্তু এখন সত্যিই সে পাগল হয়ে গিয়েছে।
মনে হয় তোকে মারতেও পারে। তাই দরকার নেই।
হ্যালো।
হেই। আমাদের যাওয়া প্রয়োজন না?
আজকে আমাকে ট্রেন ধরতে হবে।
হেই, তুই যা। আমরা আগামী সপ্তাহে দেখা করব।
যদি এর সমাধান না করি, আমি শান্তি পাবো না।
আমরা আগামী সপ্তাহে দেখা করব, ওকে আবার দেখা হবে....বাই।
তার নগ্ন ছবি এঁকেছিলি তাই না?
তুই তো তার বড় সাপোর্টার হা?
চুপ কর। যা গেছে তা গেছে...
আমি ওখানে আসবো।
সর।
শোনো।
হেই।
এখন কি চাই?
আসলে, চাই এক কাপ কফি।
কি?
হেই, চিল।
একটু আগে তুমি যখন চিৎকার করা শুরু করলে.... বাইরে...
ঝুলন্ত জিনিসটার সামনে।
আমি জানি, আমিও একটু বেশি বলে ফেলেছিলাম।
একটু বেশি? অনেক বেশি।
ঠিক...ঠিক।
তুমি যেরকমটা বলল, আমি কিছুই জানিনা, না এই বিষয়ে ইন্টারেস্ট আছে।
আমার বন্ধু আমাকে এখানে টেনে নিয়ে এসেছে...
...আর তখন সে চলে গিয়েছে, তাকে ট্রেন ধরতে হবে।
প্রমিস। আর এরকমটা কখনো করব না।
শিওর?
এরকম প্রদর্শনীর কাছে আর আসবে না, ওকে?
ওকে।
সাথে, যে জিনিসটার সম্পর্কে জানো না সেটা নিয়ে কিছু বলবে না।
ওকে।
যদি তুমি এসব মেনে চল, আমরা কফি খেতে যেতে পারি।
আচ্ছা, ঠিক আছে।
আমার নাম নীহারিকা।
কাছের লোকজন আমাকে নীহা বলে ডাকে।
আমার গবেষণার কাজের জন্য এখানে এসেছিলাম।
লুকা।
সবাই আমাকে লুকা নামে ডাকে। কাছের এবং দূরের সবাই।
এটা আমার এলাকা।
এই কাজই আমি করি।
যা বলেছি তার জন্য সত্যিই আমি দুঃখিত।
এখন বুঝতে পারছি এটা বানাতে কতটা সময় আর প্রচেষ্টা লেগেছে।
আচ্ছা। তোমাকে ক্ষমা করে দিয়েছি।
হেই, সহজভাবে নাও। বড় কোনো ব্যাপার না।
যুক্তিতে জেতার জন্য আমি এরকমই করি।
সেটা সত্যি, কিন্তু তোমার মত একজন শিল্পীর খোলাখুলি সমালোচনা করা উচিত।
না। সেটা আমাকে মানায় না। আমি অভিজাত কোনো শিল্পী না।
সাধারণ লোকাল একজন শিল্পী
একটু আগে তুমি যেরকম বললে, বেশিরভাগই ফালতু।
তাই, সমালোচনার ব্যাপারে সেনসিটিভ।
অভিজাত লোকরাও রেগে যায়।
তারা ভেতরে ভেতরে ফুলতে থাকে। আর আমি সেটা বাইরে করি। এটুকুই।
এর পাশাপাশি, আমি সামান্য বদরাগী।
তাই আমিও দুঃখিত।
"" সামান্য বদরাগী"' তার মানে এত বেশী।
হেই। এখান থেকে শহরে ফিরে যেতে পারব কিভাবে?
ওহ হ্যা। ভুলে গিয়েছিলাম তুমি একজন পর্যটক।
যদি বাস থেমে যায়, ধারণা আছে কোথায় নামতে হবে?
না।
অসাধারণ।
যাইহোক, আমি প্রদর্শনীর জন্য বাইরে যাচ্ছি।
যদি কিছু মনে না করো, আমি তোমাকে রাস্তায় নামিয়ে দিতে পারবো।
ওকে
আশা করি তোমার কাছে ঠিকানা আছে?
হ্যা। ব্যাগের ভেতরে।
চলো হাঁটি।
এখানে আগে এসেছো?
এখানকার বাতাস আর আবওহাওয়া সত্যিই অসাধারণ।
এটা চিল বিচ।
কোচিতে কোনো বিচেই যাই নি।
স্যার, সুমুদ্রের তাজা মাছ।
কি করলেন কি ভাই?
যদি না চান তাহলে কিনেন না, কিন্তু এটাই আমাদের জীবিকা নির্বাহের পথ।
তোমার জীবিকা এই মাছ ঠেলে আমার মুখে ঢুকিয়ে দেবে?
বাঁচার জন্য মরা মাছ বেচোঁ, আর তখন.....
যখন মাছ পানি থেকে উঠানো হয় তখন সেটা মারা যায়।
তাজা বিক্রি করার কোনো বুদ্ধি আছে তোর কাছে, বল আমাদের।
আমি কেনো বলতে যাব?
কি ব্যাপার?
সম্ভবত মরা মাছে এর এলার্জি আছে।
এই মেয়ে, একে নিয়ে জলদি ভাগো এখান থেকে।
এইটার মাথা খারাপ হয়ে গেছে।
তুই কি করবি?
তুমি পাগল নাকি অন্যকিছু?
ওখানে এরকম উল্টাপাল্টা আচরণ করতে গেলে কেনো?
তুমি দেখেছ সে মরা মাছ দিয়ে কি করছে?
তো? এই প্রথমবার কাউকে মাছ বিক্রি করতে দেখছ নাকি?
বাড়াবাড়ি করার পরে নীরিহ সাজার চেষ্টা করো না।
তো সে কি করছে?
তুমি কি করেছো সেটাকে কি বলবে?
ওঠো।
এটা জেপির বাড়ি না?
বন্ধু, আমি আগেই বলেছিলাম....
যে আমি ভীষণ বদরাগী।
আচ্ছা তাহলে।
আচ্ছা।
নীহা।
এটা তোমার বেঙ্গালোর নয়।
আমি বেশ ভালই জীবন কাটাচ্ছি এই কোচিতে...
এইসব ভবঘুরেদের সাথে যেখানে সেখানে ঘুরে বেরিয়ে ফিরে আসতে পারো না।
আমার কারোর অনুমতির দরকার নেই।
তাহলে কার অনুমতির দরকার আছে?
যতদিন আমার এখানে আছো, ততদিন আমি তোমার জন্য দায়বদ্ধ।
যদি তোমার মা ফোন করে তোমার ব্যাপারে জিজ্ঞেস করে
মা কে আমারও অনেককিছু বলার আছে।
আশা করি সবই আপনার মনে আছে আংকেল?
বলতে বাধ্য করবেন না।
সব ভুলে গেছি সেটা ভাববেন না...
মা আসতে বলেছিল। আমি এসেছি, এটুকুই।
যত দ্রুত সম্ভব অন্য যায়গা পেলে এখান থেকে চলে যাবো।
ভাল হবে যদি আমাকে একা ছেড়ে দেন।
নীহা।
আস্তে কথা বলুন।
সত্যি করে বলতো লুকা...
কত গুলো রুপ তোমার?
আজকে তুমি পুরো অন্য একজন ব্যাক্তি...
প্রথম দিন দেখা মাথা গরম করা সেই লোক নয়।
আজকে তোমাকে খুব ঠান্ডা, আন্তরিক মনে হচ্ছে।
চরিত্র সম্পূর্ণ বদলে ফেলা একজন।
কিন্তু সেটা ঠিক আছে।
আমি তোমার সব রুপকেই পছন্দ করি।
ওই রাতে আমার মনে হয়েছিল, আমি একজন বন্ধু পেয়েছি.....
অনেকদিন পরে, যাকে ডাকতে পারি আর লড়াই করতে পারি।
আজকে আমার মনে হচ্ছে...
..তুমি তার থেকেও বেশিকিছু।
এমনকেউ, যদি আমি পড়ে যায় সে আমাকে টেনে উঠাবে..
উঠাবে তো?
এই লেখায়..
ভাল হবে যদি তুমি শিল্পের মর্মটা শিখতে পারো।
ওয়াও।
প্রদর্শনীর জায়গা থেকে এটা বড় নাকি ছোট।
আমি আসবো?
নাকি সেদিনের মত, আমি এলে বেরিয়ে যেতে বলবে?
অবশ্যই না, স্বাগতম।
কিন্তু এখানে কি দেখলে সেটা নিয়ে একটা শব্দ ও বলবে না। রাজী?
আমার ঠিকানা কোথায় পেলে?
আসলে, আমার একটা পেইন্টিং প্রয়োজন।
আমাএ বন্ধু কে মনে আছে,ওইদিন এসেছিল?
ওই দিন কিছু খুঁজে না পেয়ে সে পাগল হয়ে গিয়েছে।
কারণ সব তালগোল পাকিয়ে গিয়েছিল, সেটা তো জানই।
সত্যি?
তো সামনের সপ্তাহে তার জন্মদিন।
আমি ভাবলাম তোমার একটা পেইন্টিং তাকে গিফট দেবো।
কিন্তু গুজব আছে তুমি ভীষণ দামী মানুষ....
আর সম্ভবত পুরোপুরি কেনার সামর্থ্য নেই।
যাইহোক, আমি এজন্যই এসেছি....
অন্তত তোমার অটোগ্রাফ নিয়ে তাকে দেবো।
ইন্টারেস্টিং।
শোনো।
দামী? এসব গুজব ছড়িও না।
হতে পারে এসব ঘটে গেলো।
হতে পারে এর জন্য বড় বিপদে পড়ে গেলে।
কি?
আমরা শিল্পীরা বিখ্যাত লেইডি কিলার হিসেবে।
বিশেষভাবে যখন শিল্পী লম্বা, হ্যান্ডসাম আর সিংগেল হয়। ঠিক আমার মত।
তুমি সাধু নয় জেনেই আমি এখানে এসেছিলাম।
ওইদিন যখন আমাকে বাসায় নামিয়ে দিয়েছিলে...
আমার আংকেল এগিয়ে এসে তোমাকে দেখেছিল।
তোমার সম্পর্কে অন্তত ১০টা বক্তৃতা শুনেছি।
কে বলেছে?
জেপি?
অসম্ভব ব্যাপার।
আমি শুধু তার গুনগানটাই শুনেছি।
এর বাইরে, সে আমাকে পুরোপুরি চেনে।
হতে পারে এটা ও আমাদের চারপাশে ছড়িয়ে পড়া গুজব।
হতে পারে।
কিন্তু আমি হলপ কর বলতে পারি, সে একজন অসাধারণ লেখক।
অন্যদের সাথে তুলনা করলে, তার কলামে কিছু..
..গভীরতা রয়েছে
নড়বে না।
কি?
সোজা হয় থাকো।
কি?
এটার প্রয়োজন নেই।
কি হয়েছে?
যদি কিছু মনে না করো, তোমার স্কেচ অাঁকতে পারি?
ওকে।
কিন্তু সোজা হয়ে থাকবে।
সোজা।
সোজা হয়ে থাকো।
হয়েছে?
না, আমরা মাত্র শুরু করলাম না?
আমার পায়ে ব্যাথা শুরু হয়েছে।
সোজা হয়ে দাড়াও।
আমি শেষ।
যদি এভাবে প্রশ্ন করতে থাকো, তাহলে আরো অনেক সময় লাগবে।
আরেকটু বাকি আছে...
মুখ এর থেকে আগে আসবে না।
ওপস। মুখে কালি লাগিয়ে দিয়েছি।
আর হাত এখানে, ওকে।
হয়েছে?
ধৈর্য্য ধর প্লিজ।
হয়েছেরে ভাই।
দাঁড়াও, প্রায় হয়ে গেছে।
দাঁড়িয়ে থাকতে থাকতে ক্লান্ত হয়ে গেছি।
শেষ অংশ করছি।
এ কি?
চোখে পানি কেনো?
কারণ তুমি কাঁদছিলে।
আমি? কখন?
পুরো সময় ধরেই তো হাঁসছিলাম।
হাসি দিয়ে আমার কাছ থেকে কান্নাকে আঁড়াল করছিলে না?
ধুর ছাই।
হেই, এটা তোমার সামনে যা হচ্ছে সেটার কপি-পেস্টিং নয়...
..আর যে রং তুমি দেখাও সেটা ও নয়।
মিথ্যার অভ্যন্তর কি রয়েছে আমি সেটার প্রতি ইন্টারেস্টেড।
তুমি শুধু হাসছিলে না।
বড় কিছু একটা তোমার মাথার ভেতরে চলছিল....
তোমার চিন্তা তোমাকে গভীরে নিয়ে গিয়েছিল।
ওই চিন্তাটাই তোমার মুখে ফুটে উঠেছিল।
কিন্তু সেটা তোমার হাতের মধ্যে দেখা গিয়েছিল।
তোমার চিন্তার সাথে সেটার গভীরে না যাও...
...হাসি থেকে তোমার সবকিছু পরিবর্তন হয়ে যাবে।
মুখ অন্ধকার লাগছিল।
পরে সেটা হালকা গোলাপি হয়ে গিয়েছিল।
আর তার পরে ভয়ানক লাল।
তোমার চোখ নিজেকে সোজা রাখতে চেষ্টা করে যাচ্ছিলো।
তারা মনে হয় ধীরে ধীরে কিছু একটা খুজে যাচ্ছিলো।
আমি দেখতে পাচ্ছিলাম তোমার চোখ অসুস্থ হয়ে পড়ছিলো।
কিন্তু তুমি সেটাকে তোমার মুখের নিচে নামতে দাও নি।
আর আমি শুধু তাদের মুক্ত করে দিয়েছি।
আমি যেরকমটা বললাম, এটা শুধু ছবি আঁকা নয়।
অন্তরালে কি লুকিয়ে আছে আমি সেটার খোঁজ করি।
এখন আমাকে বল...
এটাই সত্যি না?
যদি তা না হয়, কিছু একটা বলো।
লুকা, এর আগে আমার আংকেলের ব্যাপারে কি বলেছিলে?
মনে হয় তোমার উচিত একদিন তাকে এখানে নিয়ে আসা...
....আর তখন তুমি তার স্কেচ আঁকবে।
মনে হয় তখন তুমি দেখতে পাবে তার ভেতরে কি লুকানো আছে।
কিন্তু সে যে ধরনের অভিনেতা....
...তোমাকেও টাসকি খাইয়ে দেবে।
তুমি যা বলেছিলে তা সত্য।
আগের থেকে তার নাম উল্লেখ করেছ...
তার ব্যাপারে ভাবা বন্ধ কর নি।
শৈশব থেকে, তার কারণে আমি কিছু করতে পারিনি।
লুকা।
বাবাহীন একটা মেয়ের জন্য,
তার মায়ের ভাই, শুধুই মামা হয় না,
বাবার মত হয়
কিন্তু এটা আমার জন্য সেরকম ছিলো না।
আমি আর আমার মায়ের সাথে দেখা করতে...
প্রতিমাসে বেঙ্গালোর থেকে একজন আসতো।
কেউ আমাদের ভালর জন্য চিন্তা করত...
ভাল কেউ।
কেউ একজন আমাকে বাবার মত ভাল বাসতো।
কিন্তু, কোথাও একা পথে...
তার ভালবাসা প্রকাশিত হত, পরিবর্তন হওয়া শুরু হত।
এটা বুঝতে আমার কিছুদিন সময় লেগে গিয়েছিল।
কিন্তু তখন...
তার ভাই কেমন, সেটা মা কে বলার মত সাহস আমার ছিল না।
..তার বেস্ট ফ্রেন্ড....
..তার পথ নির্দেশক...
আমার সাথে অসভ্যতামি করত।
সে, তার শক্তির মানদন্ড ছিল।
কেউ তার বোন আর বোনের মেয়ের জন্য নিজের জীবনের বলিদান দিয়েছে।
আমি এসব কি ভাবছি?
সেটা বুঝতে আমার আরো দুই বছর লেগে গেলো।
এসবের জন্য নির্যাতিত হয়ে যাচ্ছিলাম।
একদিন সে আমাকে হাঁটতে নিয়ে গিয়েছিল।
আমি ভয় পাচ্ছিলাম।
না যাওয়ার জন্য অনেক চেষ্টা করেছিলাম।
কিন্তু মা জোর করাতে যেতে হয়েছিল।
তখন আমার একমাত্র আশা ছিল, সে জনবহুল রাস্তায় আমাকে আঘাত করবে না।
আমরা কিছুক্ষণ হেটেছিলাম, তার পরে সে রাস্তার একটা মোড় নেয়।
সে শক্ত করে আমার ধরে টেনে একটা পরিত্যাক্ত সরু রাস্তায় নিয়ে গিয়েছিল।
সরু রাস্তাটা একটা তৃণভূমিতে শেষ হয়।
আমার জীবনের হাঁটা সব থেকে বড় রাস্তা।
যতদূর দেখা যাচ্ছিলো ততদূর কোনো প্রাণের চিহ্ন ছিল না।
আমার হৃদয়টা চূর্ণ-বিচুর্ণ হয়ে যাচ্ছিলো বুঝতে পারছিলাম।
কিন্তু ভয় পাওয়ার মত কিছু ঘটলো না ওই দিন।
সে আমার সামনে হাঁটু গেড়ে বসে পড়ল....
আর যা যা ঘটেছে তার জন্য আমার কাছে ক্ষমা ভিক্ষা চাইলো।
সে মা কে এসব জানাতে নিষেধ করলো।
লুকা, ওই মুহুর্তটা আমার কাছে ঠিক এই সময়ের মত বিভ্রান্তিকর ও বিরক্ত ছিলো।
যদি সেদিন এটা না ঘটতো, তাহলে একদিন আমি মা কে সব বলে দিতাম।
কিন্তু আমি এমন একজন লোককে চিনেছিলাম, যে ছোট একটা মেয়ের কাছে ভিক্ষা চেয়েছিলো..
...তার মুখটা মনে গেথে গিয়েছিল।
তাই মরার আগ পর্যন্ত আমি কথা রাখবো।
সে এখনো আমার মায়ের বেস্ট ফ্রেন্ড।
তার একমাত্র শক্তির মানদন্ড।
এমনকি ১২ বছর পরেও, সে এমন আচরণ করে যেন কিছুই ঘটেনি।
কিন্তু আমি পারব না।
কারণ আমি তাকে ঘৃণা করি।
কারণ আমি তাকে মনে প্রাণে ঘৃণা করি।
হেই দাঁড়াও।
সরো তো।
দাঁড়াও।
আমার যেতে হবে।
তুমি যেতে পারে, কিন্তু তার আগে একবার ভেতরে এসো।
কি জন্য?
তুমি জানো আমার কেমন লাগছে?
এত পথ পাড়ি দিয়ে এখানে কেনো এলাম ভেবে দেখেছো?
যে কথা গুলো আমি কাউকে বলিনি, সেগুলো তোমাকে কেনো বললাম ভেবেছো?
এসব কিছুই আমি জানি না।
কিন্তু আমি জানি যে তোমার ভেতরে এসে এটা দেখা প্রয়োজন।
লুকা ছাড়ো। লুকা।
হেই।
আমি জানি না তোমাকে কিভাবে সান্ত্বনা দেবো।
এই একমাত্র ভাষাই আমি জানি।
আমি তোমার প্রত্যেকটি কথা শুনেছি।
সে তোমাকে ভয় পেয়েছিল ওই সময়...
ওই ভয়...
ওটা তোমার স্বাধীনতা ছিল না?
ধন্যবাদ।
এখন বলো। কোন পেইন্টিংটা তোমার বন্ধুকে উপহার দিতে চাও?
আসল, পেইন্টিং এর দরকার নেই।
এই শহরে আমার বেশি বন্ধু নেই।
আর তখন তোমার সাথে দেখা হল।
ভাবলাম আমরা দুই জনেই তো উল্টো পথের পথিক, আমাদের ভেতরে সংযোগ অনুভব করলাম।
এইজন্য যখন বোর হচ্ছিলাম, তখন একটা গল্প বানিয়ে তোমার সাথে দেখা করতে চলে এলাম।
আমি আগেই তার জন্য উপহার কিনেছি।
হাসছো কেনো?
কিছুনা।
তাহলে আমি যাই?
হেই।
যদি ওটা বেশি যন্ত্রণা দেয় তাহলে বেশিদিন ওখানে থেকো না।
বাক্স-প্যাটরা গুছিয়ে যেখানে খুশি চলে যেও...
এখানে অনেক খালি রুম আছে।
ভেবে দেখবো।
আর যদি একা ঘুমাতে ভয় লাগে, তাহলে আমি তোমার সাথে ঘুমাতে পারি।
কিছু মনে করব না।
এ ব্যাপারে ভাবতে পারবো না।
যদিও তুমি থাকার জন্য অফার দিয়েছিলে, আমি যাওয়ার কথা ভাবিনি।।
কিন্তু তুমি যেমটা বলেছিলে, এটা আমাকে যন্ত্রনা দিচ্ছিলো।
আর এই জ্বালাত্বনও ও চোখের সামনে দেখতে পারছিলাম না।
তাই ব্যাগ গোছালাম আর চলে এলাম।
আর ওই দিন যে সংযোগ আমি অনুভব করেছিলাম...
সেটা আমাকে যে নিরাপত্তা দিত সেটা কোনো হোস্টেল দিতে পারত না।
কিন্তু প্লিজ...
ঈশ্বরের দোহাই একটু গোছগাছ করো।
এই ছাই-ছাতার ভেতরে থাকো কি করে?
সবকিছু ছড়ানো ছিটানো।
আড়াই বছরের বাচ্চাদের মত।
প্রিয় মার্টি ভাই, আমি তোমাকে হাজারবার বলেছি....
...জায়গাটা পরিষ্কার কর অথবা নতুন করে সাজাও।
তারা এখন কোথায় তাতে কি হয়েছে?
মনে হয়, তারা ভাল আছে...
তোমার স্বামীকে এ ব্যাপারে একটু বোঝানো উচিত।
তুমি ভেতরে এসো।
এসব করতে তোমাকে কে বলেছে?
এসব কেনো ধরে আছি?
ওই মেয়েটা কে?
আমি কি করে জানবো?
তুমি কিছুই জানো না?
এসো।
তাহল এটাই আমাদের রুম।
কি?
মানে, তোমার রুম।
এটা আমার মায়ের রুম ছিল। তাই এটা এখানকার সব থেকে পরিষ্কার রুম।
তুমি এই রুমের সবখানেই আছো।
ফটোগ্রাফ হল ফ্রেমে বাঁধানো স্মৃতি।
এটা আমার মায়ের তত্ত্ব ছিল।
তখন আমি আর আমার বাবা তার কাছে সুদর্শন মডেল ছিলাম..
আমরা তার ফটোগ্রাফের সব থেকে বড় বিষয়বস্তু ছিলাম।
তখন তুমি ছোট বাচ্চা ছিলে?
অবশ্যই।
আমি সবসময় বাচ্চাদের মত ছিলাম....সবসময়।
সব ছবি রেখে তোমার চোখে ওই ছবিটাই ধরা পড়লো?
তোমার চোখ যেখানে আমার ইজ্জত ও সেখানে।
যাও তো।
আর, ওই লোকটার উপরে চেঁচাচ্ছিলে কেনো..
এরকম কথাবলা একদম ঠিক না।
হ্যা,আমারও তাই মনে হয়েছিল।
কিছু দিনের ভেতরে সে এগুলো আবার করবে..
....তখন তোমাকে দেখাবো।
তোমার কাছে হাসির মনে হচ্ছে?
সে পরিষ্কার করার চেষ্টা করছিল।
ম্যাডাম নিহারীকা ব্যানার্জি।
মার্টি আসলে একটা ময়লা....
কিন্তু, আমি আমার জিনিসগুলো জায়গা মতই রেখেছি।
কি? জায়গা মত?
ওই রুমের কিছুই জায়গা মত নেই।
সবকিছু ছড়ানো ছিটানো রয়েছে। পাগলা গারদের মত।
রসায়নে, অগোছালো জিনিসকে ডাকার একটা নিয়ম রয়েছে..
আর ওই রুমটা সেটা পার্ফেক্ট উদাহরণ।
ওখনে কিছু খুজতে যাওয়া, খড়ের গাদায় সুচ খুঁজতে যাওয়ার মত।
সেটা তোমার কাছে মনে হতে পারে।
কিন্তু আমার কাছে এটাই পার্ফেক্ট সিস্টেম।
বিশৃঙ্খলার একটা সৌন্দর্য রয়েছে।
এটা আমার জন্য তৈরি করা।
উদাহরণ হিসেবে, আমাদের গণতান্ত্রিক ভারতকেই ধর।
সবকিছু বিশৃঙ্খল না?
এখনো সেটা অবিরত চলছেই।
বাল।
মোটেও না।
যেটা জানো না, সেটার অবজ্ঞা করো না ম্যাডাম।
দেখো।
সবকিছু একেবারে হাতের নাগালের ভেতরে।
কিন্তু তুমি যদি সব গুছিয়ে তালা দিয়ে রাখো, তাহলে নাগালের ভেতরে পাবে না।
ধর তুমি এই রুমে কিছু একটা খোঁজার জন্য মনযোগ দিলে...
সহজেই সেটা খুঁজে পাবে।
কিছু লাগবে? বল আমাকে।
না।
সমস্যা নেই, বলতে পারো।
তোয়ালে?
তোয়ালে।
এই নাও...
চিরুনি?
জাঙ্গিয়া?
রাখো।
না প্লিজ, নাও।
পেইন্ট ব্রাশ?
এসো।
কাঁচি ?
ছোট না বড়?
মাঝারি।
ওয়ালেট?
এই নাও ওয়ালেট।
কলম?
আমরা পেন্সিল ব্যবহার করি, তুমি এখানে কলম খুঁজে পাবে না।
পেন্সিল দিয়ে, তুমি মুছে আবার লিখতে পারবে।
হেই, কলম চলে এসেছে।
মি. শিভান।
তোমার পৃথিবী ভ্রমণ শেষ হয়েছে?
সেটা কখনো শেষ হবে না।
তোকে দেখার জন্য সামান্য রাস্তা বদলেছি।
কে সে?
ওহ, তোমাদের পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি।
এই হল নীহারিকা।
শুধু নীহারিকা নয়। নীহারিকা ব্যানার্জি।
তাকে নীহা বলে ডাকতে পারো, কিন্তু যদি তাকে কাছের ভেবে নিতে পারো তবেই।
সে তার গবেষণার জন্য এখানকার বিশ্ববিদ্যালয়ে এসেছে।
ওহ তাই নাকি?
এখানে কিছুদিন থাকবে।
না, আমার কলমটা ফিরিয়ে দাও প্লিজ।
ওহ, আমি তাকে পরিচয় করিয়ে দিতে ভুলে গিয়েছি।
এই হল মি. মার্টিন।
আমি তাকে মণি নামে ডাকি।
সে এখানের সবকিছু।
সে এই বাড়ি শাসন করে।
শব্দটা শুনলে?
ওটা সালোমি।
সালোমির বউ মার্টি।
ঠিক। দাঁড়াও না।
আমার স্বামী?
ঠিক।
এই হল মি. শিভান।
শিল্পী, সক্রিয় কর্মী, ভ্রমণকারী নামে ডাকতে পারো।
সে আমার পথ নির্দেশক, ভাই, বন্ধু...
হ্যা ঠিক।
জীবনে টিকে থাকার জন লড়াই, মা।
সালোমি।
হ্যা।
তুমি কফি খাবে তাই না?
দুইটা কফি।
আচ্ছা।
আমি এক কাপ চা নেবো।
আচ্ছা আচ্ছা।
সে এখানে চা বানানো নিষিদ্ধ করেছে।
মনে হয় একমাত্র কফিই তার গলা ভেজাতে পারে।
এমনকি তারা চা পাওডার কিনে আনলে, সে ওটা বাইরে ছুড়ে ফেলে দেয়।
চা হল বোরিং লোকদের জন্য।
তোমাদের দুই জনের জন্য আমি কফি বানিয়ে আনবো।
বাইরে নিয়ে আয়।
আচ্ছা।
এসো বাইরে গিয়ে বসি।
তোমার পরিবার?
তারা বেঙ্গালোরে থাকে।
তাকে কত দিন ধরে চেনো?
বেশিদিন না।
কয়েক সপ্তাহের মত।
আমি সহ, তার জীবনে মাত্র দশ জন লোক রয়েছে।
আর সবাই তাকে এই বছরেই চিনেছি।
আর এখন সে তোমাকে নিজের জীবনে ঢুকিয়েছে।
কিন্তু আমি এখানে থাকব মাত্র কয়েকদিনের জন্য, পেইং গেস্টের মত।
সে তোমার জন্য তার বাড়ির দরজা খুলে দিয়েছে..
তাই অবশ্যই তার কাছে একজন পেইং গেস্টের থেকে দামী।
আমি তাকে চিনি।
বলছিনা এর ভেতরে খারাপ কিছু রয়েছে।
যদিও সে নরম, মজা করে বেড়ানো লোকের মত অভিনয় করে....
মনের দিক দিয়ে সে দূর্বল।
যদিও কিছু দিনের জন্য..
তুমি এখানে থাকবে, তারপরেও কিছু জিনিস তোমার জানা প্রয়োজন।
তার মন এখনো দুইটা মৃত্যুর আতংকে ভরা।
১০ বছর বয়সে সে তার বাবাকে হারিয়েছিল।
প্রথমবার তার হাতের উপরে এরকম ঘটেছিলো আর ভয় তার মনে ঢুকে গিয়েছিলো।
সবাই আশা করেছিল, বড় হলে সবকিছু ঠিক হয়ে যাবে।
আমাদের দেশে এটাকে বলা হয় অনারোগ্য ফোবিয়া।
যেকোনো কিছুর মৃত্যু, এমনকি একটা পিঁপড়ার মৃত্যু এখন তাকে পীড়া দেয়।
আর যখন সে বিরক্ত হয়, তখন তার কথা বলা আর কাজ দিকে দেখে..
যে তার ব্যাপারে এসব কিছু জানে না, সে পাগল ভেবে বসে।
আর তার মা.....
তারা দুইজন তখন ছিল...
আর তাদের মাছে একটা শক্তিশালী বন্ধন সৃষ্টি হয়েছিল।
কিন্তু তার মা হঠাৎ করে অসুস্থ হয়ে পড়লো।
দুইমাস অসহ্য ব্যাথার যন্ত্রণায় ভুগেছিল।
আর তার পরে সে মারা যায়।
মৃত্যুর পরে সে তার মায়ের পাশেই বসে ছিলো।
শেষকৃত্যে অংশ গ্রহন করে নি।
নিজেকে রুমের ভেতরে বন্দি করে, ঘণ্টার পর ঘণ্টা কাটিয়ে দিত।
তখন একজন মনোবিজ্ঞানী তার কাউন্সেলিং সেশন আর চিকিৎসা করে।
এর জন্য কিছুদিনের ভেতরেই সে স্বাভাবিক জীবনে ফিরে আসে।
এখনো তার জীবনের উপরে ক্রোধ রয়েছে।
কোনো এক মৃত্যুর যুদ্ধ এসেছিল, আর তার বাবা মাকে নিয়ে গিয়েছিল।
কিন্তু একটা সময়ে গিয়ে, সে সবকিছু ভুলে গিয়েছে।
আর সেটাই তাকে একজন প্রকৃত শিল্পী বানিয়ে দিয়ে গেছে।
যদি ৫ মিনিট বিরতি দাও, তাতে পৃথিবীর বাঁচাতে কোনো সমস্যা হবে না।
কফি ব্রেক।
কফি হল ক্যাফিন, ক্যাফিন হল সৃজনশীলতা।
এই লাইন গুলো কে বলেছিল জনাব?
তুই।
ঠিক। সব সত্যি....
হেই।
না, আমি বেরোচ্ছি।
কফিটা শেষ করে আসছি।
তুই ভেতরে আয়।
সমস্যা কিসের? ভেতরে আয়।
দাঁড়া....দাঁড়া...হয়ে গেছে। যাস না।
কে ওটা?
যদি এখন না যাই, আমার ড্রাইভার আমাকে ফেলে চলে যাবে।
ড্রাইভার?
কখন থেকে?
হ্যা, নতুন সংযোজন।
হেই, আমি এই লাইটারটা নিচ্ছি।
হেই নীহা, আবার দেখা হবে।
ওটা চেকোভের ব্যাখ্যার বই।
ছোট বই তো? আমি লাইব্রেরিতে দেখেছিলাম। নিয়ে আসবো।
ওহ,ঠিক আছে।
তাহলে তুই ব্যাস্ত ড্রাইভার?
তাহলে তুইও এই কাজ করিস?
ভেতরে এলি না কেনো?
এমনিতেই।
কি এমনিতেই?
সে তোর উপরে অনেক ক্ষেপে আছে।
তুমি যাবে কি না?
হ্যা ভাই। আমি যাব।
এই লোকের মত টেনে নেওয়া না লাগে।
ব্যাপারটা কি বল আমাকে?
কিছু না।
তাহলে ভেতরে আসছিস না কেনো?
হেই, তুই ওই ট্যুর প্রোগামের কথা বলেছিলি....
সে ক্ষেপে আছে কারণ তুই সে ব্যাপারে আর কিছুই করিসনি।
সত্যি? এটাই তোর সমস্যা?
হ্যা। এটাই।
তুই বলেছিলি আমাদের এই কনসার্ট পুরো উত্তর ভারত ঘুরবে...
...আর পুরো ব্যান্ড বাইরে প্রাক্টিস করবে।
...আর এই লোক আর তার বন্ধুদের কোনো ধারণা নেই, আমাদের থাকা, ঘোরা, খাবার আর অন্যসব কিছু নিয়ে।
অবশ্যই না।
তো?
তো...
তুমি আসছো কি না?
হ্যা ভকি, আমি আসছি।
প্রিয় সংগীতজ্ঞ সুরাজ...
এই কি প্রথমবার তোরা আমার আয়োজনে ফুর্তি করতে যাচ্ছিস?
না।
এটাই।
তুই কখনো তাদের এই সস্তা ভ্রমণে নিয়ে গিয়েছিস?
না।
তাহলে এই বালের ভাব মারাচ্ছিস কেনো?
কিসের ভাব?
আমরা আগে যে লোকাল শো করেছি এটা তা নয়।
৪টা রাজ্যে মোট ১০টা শো হবে। পরস্পরের সহযোগিতায় হবে।
আমার মাথায় একটা বুদ্ধি এসেছে।
কোনো ট্রেইন টিকিট বুকের দরকার নেই, আর এদের জেনারেল কম্পাটমেন্টে তুলে দিই।
তাদের গাইতে আর নাচতে দিই আর সাথে শো ভাল করে করার জন্য টিপস দিয়ে দিই।
এটা ১০০% ভাইরাল হবে আর নিউজে দেখাবে।
তুই একটা বুদ্ধিমান।
তাহলে তুমি আমার সাথে আসছো না?
আস্তে যা ভাই।
ভালবাসার সাথে কিক মার, স্টার্ট হয়ে যাবে।
এভাবে আঘাত করিস না।
ভালবাসার সাথে...
ভালবাসা ভাই...ভালবাসা...
বন্ধু, যে জানো না সেটা শেখাতে এসো না ঠিকাছে?
ওহ তাই নাকি?
হেই আমার বইয়ের কথা ভুলিস না। চেকোভ।
কফি পছন্দ হয়েছে?
এসো।
নিজের অপকর্মের বিচার নিজেই কর, তাই না?
কিন্তু আজকে তোমার পেন্সিল দিয়ে আমার বইতে যা করলে তা ক্ষমার অযোগ্য।
অসম্মতি জানিয়েছিলাম।
যখন এসব সম্পর্কে বললে, আমি তোমার সাথে রাজি ছিলাম না।
পেন্সিল দিয়ে নিজের কান খোচাও।
থুথু দিয়ে পাতা ওল্টাও।
খুব ঘৃণা করে।
তোমার ট্যালেন্টের জন্য আমি খুশি।
কিন্তু তোমার ব্যাক্তিত্ব প্রকাশের ভঙ্গি শেখা প্রয়োজন।
শেষ করতে কি সারা দিন লাগাবি?
প্রায় হয়ে এসেছে চাচী। ধৈর্য্য ধর।
সে কিছুই পারবে না, বসে বসে আমার সময় নষ্ট করতাছে।
কুঞ্জুমন কোথায়?
পানি আনতে গেছে। এক্ষুনি চলে আইবো।
নাও হয়ে গেছে।
আমার স্বামীর মত কিছু মনে হচ্ছে না।
সব আন্দাজে করেছো...
এটা সে। ভাল করে দেখো।
সে মারা গেছে ২০ বছর হয়ে গেছে তাই না?
তাহলে এখন তার বয়স এরকম হওয়া উচিত না?
এখন আবার দেখো।
ঠিক বলেছিস। বয়স সামান্য বেশি হয়ে গিয়েছে।
দাঁড়াও, আমি আরেকটু জোয়ান বানিয়ে দিচ্ছি।
তুই এখানে অপেক্ষা কর, আমি ভাতের স্যুপ নিয়ে আসি।
কি করছ লুকা?
দেখতে পাচ্ছো না?
পাচ্ছি, ঘৃণা লাগছে না?
স্কেচিং করতে ঘৃণা লাগবে?
তা নয়, পেন্সিল ব্যবহার করছ....কান পরিষ্কার করতে।
কানের ভেতরে ঢুকানোর জন্য পেন্সিল সব থেকে ভাল জিনিস।
কান কুরকুরি খুব খারাপ জিনিস, কানের ১২টা বাজিয়ে দেয়
এটা তোমার আর্টের সরঞ্জাম। সম্মানীয় বস্তু।
সম্মান করা উচিত। তাই না?
তো কি হয়েছে?
ব্যবহার করার জন্য ভাল আর কিছু বের করার জন্যও।
যখন এর আগা ভোতা হয়ে যায় আমরা কেটে ফেলি।
একবার শেষ হয়ে গেলে, আমরা ফেলে দেই।
এটূকুই।
বেশিও না। কমও না।
আমি যুক্তি শুনতে চাই নি...
কিন্তু, আমার কথা হচ্ছে, এটাকে তোমার আরো সম্মান দেওয়া উচিত।
আমি বুঝতে পেরেছি, যখন বললে আর্টের কাজের জিনিস গুলোকে সম্মান করতে।
যদি এভাবে বলো, তাহলে আমার কলম,পেন্সিল, ব্রাশ, ক্যানভাস সবকিছুকে সম্মান দেখানো প্রয়োজন।
...সেটা খুবই কঠিন।
উদাহরণসরুপ, যে বইটা তুমি পড়ছ, এর মূল্য আছে কনন্টের জন্য।
বইয়ের নিজের কোনো মূল্য নেই।
অবশ্যই না।
প্রত্যেক বইয়ের একটা নিজস্ব সত্তা রয়েছে।
কথায় বলে শোনোনি?
একটা বই জীবন দিতে পারে। একটা বই জীবন নিতে পারে।
ওকে। কোন পৃষ্ঠায় এই জ্ঞান ঝাড়া আছে বল?
আমার বইয়ে থুথু দিচ্ছ কেনো?
থুথু দেবে আর পাতা ওল্টাবে, এটাই স্বাভাবিক।
ইয়াক।
এটা বংশগত প্রথা।
আমি থুথু দি আর পাতা উল্টাই, যেটা আমার বাবা করত...
...আমার দাদা করত, আমার পরদাদা করত,
...আর আমার দাদার দাদাও করত।
আগামীতে যখন আমার নিজের বাচ্চা হবে...
তারাও থুথু দিয়ে পাতা উল্টিয়ে A,B,C শিখবে।
ওহ তাই?
এখন বুঝলাম, তোমাকে বলার মানেই হয় না।
আসলে, বিবর্তন তোমার পরিবারকে এড়িয়ে গেছে।
এই জন্য তুমি জানো না...
যখন কথা বল তখন তোমার মুখ শুকিয়ে যায়?
না, আমি জানি না।
কখন থুথু লাগানো নিষিদ্ধ হয়েছে?
যখন পুড়ে যাবে তুমি এটা লাগাতে পারো।
বল এখানে খারাপের কি আছে?
প্রমাণ করার জন্য করেছি। তোমাকে ছুইনি।
হাত দাও।
তাড়াতাড়ি।
দাঁড়াও, আমি তোমাকে উদ্ধার করব।
তোমার হাত?
হাত।
পানি আমার থুথুর চেয়ে খারাপ নয় তাই না?
এসো...
ধরো আমাকে।
মনে হচ্ছে পায়ের নিচে দিয়ে কিছু হাটছে।
চিল, মনে হয় সাপ।
...কলকাতার রাস্তায় নামহীন, পরিচয়হীন হয়ে চারিদিকে ছুটে বেরিয়েছি।
ওই অস্পষ্ট দৃশ্য আমার শৈশবের স্মৃতি।
মনে হয়, একটা সম্পূর্ন্য অকেজো গাড়ি...
..হঠাৎ কাপুনি দিয়ে চলতে শুরু করেছে।
ধন্যবাদ।
স্বাগতম।
Hey colours!
Are you ready?
Dawn is here.
Hey colours!
Are you ready?
Dawn is here.
As our eyes travel these roads
Our shadows shower shade upon each other
As our eyes travel these roads
Our shadows shower shade upon each other
It's like the stars above
..re-counting your tales..
It's like the stars above
..re-counting your tales..
The sly moonlight gently
..seeped into the dark room
..splashing light everywhere.
Like the glazing sun
The sly moonlight gently
..seeped into the dark room
..splashing light everywhere.
Like the glazing sun
Hey colours!
Are you ready?
Dawn is here.
As our eyes travel these roads
Our shadows shower shade upon each other
As our eyes travel these roads
Our shadows shower shade upon each other
As the valleys below
..get moistened with fresh snow
As the valleys below
..get moistened with fresh snow
As you make your way
..with bubbling adrenaline
..kissing the new intoxicating waves...
..that echoes inside you.
As you make your way
..with bubbling adrenaline
..kissing the new intoxicating waves...
..that echoes inside you.
As our eyes travel these roads
Our shadows shower shade upon each other
As our eyes travel these roads
Our shadows shower shade upon each other
স্যার। ডিনার রেডি।
আচ্ছা। আসছি।
লাগবে না।
আমরা এগুলোও এড়িয়ে চলতে পারি ফাতিমা।
আগামীকাল থেকে আমি বাইরে খাবো।
এখন আমি করব আকবর?
আমার রুমের জানালাটা বন্ধ করে দিয়ে আসতে পারবেন।
ফাতিমা, তুমি পুরোপুরি পাল্টে গেছো।
আলাদা হয়ে যাওয়ার পরেও ভাল বন্ধু হয়ে থাকব এই সিদ্ধান্ত নিয়েছিলাম না?
ডিভোর্স পেপারে সাইন করার আগে বলেছিলাম না?
কিন্তু তুমি সব সময় অদ্ভুদ আচরণ করে যাচ্ছ।
এখনও আমরা ভাল করে কথা পর্যন্ত বলিনি, ফাতিমা।
দেখো, তোমার কাছ থেকে আমি কিছুই লুকাইনি।
আমার জীবনে কি ঘটেছিল, বিয়ের আগেই তোমাকে স্পষ্ট করে তা বলে দিয়েছিলাম।
কখনো জোর করিনি।
এসবের ভেতরে তোমাকে টেনে আনা উচিত মনে হয় নি।
আমার বিশ্বাস, ডিভোর্স তোমার জন্য ভাল হবে।
ভাল হবে?
নিজের মন থেকে শপথ করে বলতে পারো?
তুমি যা করছ, সেটা আমার ভালোর জন্য?
ওই কাগজ গুলোতে সাক্ষর করেছিলাম তোমার কথা ভেবে।
একমাত্র, তোমার কথা ভেবে।
তুমি যা বলছো সব সত্যি।
কিছু লুকাও নি আমার থেকে।
আমি জানতাম এই বিয়ে একটা পরীক্ষা ছিল।
কিন্তু, তখনো প্রবলভাবে বিশ্বাস করতাম...
তোমাকে এর থেকে বের করে নিয়ে আসতে পারব।
কিন্তু মনে হয় না তুমি বেরিয়ে আসতে চাও...
তআগ্রহীই নও।
আমি জানি, স্মৃতিগুলোকে তাজা রাখতে এখনো ওই ছবি আর আর বিড়াল আঁকড়ে ধরে রয়েছ।
স্মৃতি নিয়ে বেঁচে থাকতেই তুমি ভালবাসো।
তোমার কাছে আমি একটা বোঝা।
তাই এই ডিভোর্স আমার প্রতি তোমার উপকার নয়...
...ভিন্ন একটা পথ।
হ্যা। আলোশি।
সাই শ্রী বিল্ডার্সে কথা বলেছিলাম।
ওখানকার এমডি আজরাতে কোচি তে আছে।
আগামীকাল ভোরে দুবাইয়ের উদ্দেশ্য রওনা হবে।
কিছু সপ্তাহ পরে ফিরে আসবে।
অফিসের গেস্ট হাউজে আজকে থাকবে।
বেশি প্রয়োজন হলে আজ রাতেই আমাদের দেখা করতে বলেছে।
চলো আজকে রাতেই দেখা করি।
১০ মিনিটে রেডি হয়ে যাব।
আমাকে তুলে নিও।
কর্ণাটক পুলিশ থেকে ম্যাথিও ফোন করেছে।
লাউড স্পিকারে দাও।
হ্যালো।
হ্যালো আলোশি।
তুমি যে কেসের কথা বলেছিলে সেটা দেখেছিলাম।
নিশ্চিত আত্নহত্যা।
তার মায়ের বক্তব্য অনুযায়ী, সকাল বেলায় তার মেয়ের ঘরে গিয়ে,
তাকে মৃত অবস্থায় পেয়েছিল।
উত্তেজনা হীন কোনো এক প্রকারের বিষ খেয়েছিল।
শরীরে বিষের দাগ আর রুমে বোতল পেয়েছিলাম।
সন্দেহজনক আর কিছু পাই নি।
মায়ের কথা অনুযায়ী সন্দেহজক কিছুই ঘটেনি।
গবেষণা করার মাঝখানে, সে হঠাৎ করে কোচি থেকে বেঙ্গালোরে চলে আসে।
আগে থেকেই তার মন সম্পুর্ন খারাপ ছিল।
রুম থেকে খুব কমই বের হত।
আমরা তার মামার বক্তব্যও নিয়েছিলাম।
ঘটনা ঘটার আগে, নীহারিকার মায়ের অনুরোধে...
সে বেঙ্গালোরে এসেছিল।
কোচিতে নীহারিকার সম্পর্কের ব্যাপারে তিনি জানিয়েছিলেন।
আমি জানতে চাইলেও, তার পরিবার এ ব্যাপারে আগ্রহ প্রকাশ করে নি।
তাই ওদিকে তদন্তও আর এগোইনি।
কেস বন্ধ হয়ে গেছে।
ওকে ম্যাথিউ। এখনের মত এটুকুই যথেষ্ট।
আচ্ছা।
আমাদের ডাক্তারও একই ধরণের বিষ থাকার কথা বলেছে।
হ্যা।
সাথে, আরেকটা বিষয় খেয়াল করেছ?
নীহারিকা মারা যাওয়ার সময়ে, জেপি বেঙ্গালোরে ছিল।
কিন্তু, চালাকি করে বিষয়টা আমাদের বলেনি।
তার সাথে দেখা হলে..
কিছু লুকিয়ে যাচ্ছে এরকম মনে হয়েছে?
তা নয়।
অন্যকিছু একটা।
বলব তোমাকে। গাড়ি চালু কর।
তাহলে আপনি লুকাকে চেনেন না?
অফিসার, খবর পেয়েছিলাম। আমি জানতাম না, দেয়ালে পেইন্টিং করেছিল সেই লুকা।
ওই প্রজেক্ট আমার টিম ভুল বশত হাতে নিয়েছিল।
আসলে, ওই পেইন্টিং আমাদের আরেকবার ভাবার সুযোগ দেয়।
আমরা প্রজেক্টটা বাতিল করে দিয়েছিলাম।
খবর শুনে থাকবেন হয়ত।
এখন, আমাদের দেয়াল শহরের অন্যতম আকর্ষণ।
আপনি বলছেন, চিত্রকর্মের ব্যাপারে কোনো তদন্ত করেন নি।
আশরাফ, বাগগুলো নিচের তলায় নিয়ে যাও।
ওকে ম্যাডাম।
আমরা তদন্তের কথা ভেবেছিলাম, কারণ আমাদের উপরে আঙুল তোলা হয়েছিলো।
আর আমি যেকরমটা বললাম....
ভুলটা যেহেতু আমাদের ছিল, তাই প্রথম কর্তব্য ছিল সেটা শুধরানো।
সিনেমাতে যেরকম দেখায়, আমাদের সেরকম কোনো খারাপ উদ্দেশ্য ছিল না।
অনেকবার আমরা মিডিয়ার সুনজরে এসেছি।
মিস সাইপ্রিয়া, আপনি কখন ফিরে আসছেন?
ম্যাডাম, এটা জয়াপ্রকাশ না?
হ্যা।
তাকে কিভাবে চিনেন?
জেপি আমার একজন ভাল বন্ধু আর ব্যবসার শুভাকাংখী।
জেপি বেঙ্গালোরে কিছুদিন ছিল...
যখন তার বোন ওখানে স্থায়ী হয়।
তখন থেকে তাকে চিনি।
আপনিও বেঙ্গালোরের?
হ্যা। বেশিরভাগ সময় ওখানেই থাকি। আমার পার্টনার এখানের দায়িত্বে আছে।
এভাবেই সমস্যাটা হয়েছে।
ওই পার্টনার কি জেপি?
না। কখনোই না। সে আমার ভাল বন্ধু আর শুভাকাংখী। এতটুকুই।
আচ্ছা মিস সাইপ্রিয়া। সময় দেওয়ার জন্য ধন্যবাদ।
আপনার প্রয়োজনীয় সময় নষ্ট করার জন্য দুঃখিত।
কোনো ব্যাপার না।
এক মাস পরে আমি ফিরে আসব।
এইজন্য ভাবলাম এখন আপনার সাথে দেখা করব।
এখনেও, জেপির সংযোগ আছে।
সে একা জড়িত নয়....
হেই।
সিগারেট লাগবে?
না।
কি ভাবছো?
কিছুনা।
একদিন, আমরা যখন একটা মেয়ে দত্তক নেওয়ার ব্যাপারে কথা বলছিলাম,
জয়ারাম স্যার তখন বলেছিলেন...
রক্তের সম্পর্ক অত্যান্ত দামী।
ওই ডাইরি থেকে তুমি যা পড়েছ..
..আর যে তথ্য আমাদের সামনে আসছে...
মনে হচ্ছে একই।
সিরিয়াসলি।
আমার মেয়ে যখন আমার জীবনে এলো...
যদি তার চেহারা মলিন দেখাতো, সামান্য একটুও...
...যদি তার চোখে পানি আসতো..
সত্যিই আমি বিরক্ত হয়ে যেতাম।
আমরা জানতামনা সে ব্যাথা পেয়েছে কি না...
অথবা ভয় পেয়েছে কি না..
নাকি খারাপ কিছু ঘটেছে।
ভয় আর উদ্বেগ আমাদের মাথা খারাপ করে দিত।
একটা বাচ্চার সাথে তার আত্নীয় এরকমটা কিভাবে করে সেটা আমাকে কষ্ট দিচ্ছে।
যদি একরকমটা হয়েও থাকে, বাবা-মা কিভাবে না জেনে থাকে..
কখনো জেপির কলাম পড়েছেন?
সামাজিক প্রতিশ্রুতি... আমার বাল।
বাজে লোক।
এসো।
তাহলে আগামীকাল দেখা হবে।
আগামীকাল আমরা তাকে ধরবো?
তাহলে এখনো রেগে আছো?
এখনো সময় হয়নি।
আগে ডায়রিটা শেষ করতে দাও।
যদি নতুন কোনো চরিত্র বেরিয়ে আসে?
যাইহোক তার সাথে আবার দেখা করা দরকার।
তুমি এখন বাড়ি যাও।
শুভরাত্রি স্যার।
শুভরাত্রি।
লুকা।
সবাই তোমার মত বই খোলে না।
সেটা তোমার বুঝতে হবে।
আমার সম্মান আর গোপনীয়তা প্রচুর।
যদি এসব নিয়ে কেউ মাথা ঘামায় আমি তাকে ঘৃণা করি, এমনকি আমার মাকে ও।
ডায়রি ব্যাক্তিগত জিনিস।
কিন্তু তুমি আমাকে জিজ্ঞেস না করেই পড়তে শুরু করেছিলে।
তোমাকে ধরে ফেলার পরেও একটুও লজ্জা পাও নি।
Grow up man.
ধুর।
সরো।
না ঠিক আছে।
না, হাত কেটে ফেলবে, খুব ধারালো।
ছেড়ে দাও, আমি করছি।
কখন এলে?
অনেকদিন পরে একটু ঝিমাচ্ছিলাম।
মাত্র এলাম।
দরজাও খোলা ছিল....
সুরাজ আর তার ব্যান্ডের আজরাতে প্রাক্টিস সেশন আর পার্ফমেন্স রয়েছে।
যদি ফ্রি থাকো, তাহলে একসাথে যাই।
কখন?
দ্রুত বের হতে হবে।
ওকে।
Where the wind meets love.
Where the sky dance like flames.
You became my shadow
You became my wings
You became the shade in glazing sun.
Do you feel alive inside?
Has your voice woken up?
Did your ember feel the heat
Has your darkness faded?
Do you feel alive inside?
Has your voice woken up?
Did your ember feel the heat
Has your darkness faded?
Do you feel alive inside?
Has your voice woken up?
Did your ember feel the heat
Has your darkness faded?
Where the wind meets love.
Where the sky dance like flames.
As the waves of dreams splashes on the shores of your eyes
Here starts another brand new journey
As new chains of words lights up the skies
Spread apart those yesterdays with divine amnesia
We'll take one step at a time
And will change this world alone
Will spear ahead like an arrow on fire
Will dance the world around like a hurricane
Where the wind meets love.
Where the sky dance like flames.
এমন কিছু করিনি যে তুই মরে গেছিস। মাঝে-মাঝে বাড়ি আসিস।
Do you feel alive inside?
Has your voice woken up?
Did your ember feel the heat
Has your darkness faded?
Do you feel alive inside?
Has your voice woken up?
Did your ember feel the heat
Has your darkness faded?
Where the wind meets love.
Where the sky dance like flames.
Where the wind meets love.
Where the sky dance like flames.
ব্যান্ডের নাম "তেলাপোকা" হয় কি করে?
ওরা ভীষণ মেধাবী।
জিপ্সিদের মত চারিদিকে ঘুরে বেড়ায় আর গান গায়।
ওরা থাকে কোথায়?
আমাদের বার্থডে বয়, রোহান...
সে সহ, বেশিরভাগ একসাথে অনাথ আশ্রমে থাকতাম।
যখন তারা চলে গেলো, শিভান আমাকে এখানে নিয়ে এলো।
তারা সবাই মেধাবী বাচ্চা।
তাদের প্রচুর ফ্যান ফলোয়ার আছে।
আগামী সপ্তাহে ওরা দক্ষিণ ভারত ভ্রমণে যাচ্ছে।
ওহ তাই নাকি?
কিছু বিষয়ে, রোহানকে আমার সুবিধার মনে হচ্ছে না।
তা নয়।
একটু অদ্ভুত, আর কিছু না।
কিন্তু, ঝামেলার নয়।
তারও একটা পরিবার হারানোর গল্প আছে।
আরেকটা ট্রাজেডি।
চাবিটা কিসের?
যেটা তার ঘাড়ে ঝুলানো দেখলাম।
ওই চাবিটা এই বাড়ির।
বাড়িতে বেশি লোকের উপস্থিতি হবে সেটা ভেবে চাবিটা তাকে দিয়েছিলাম।
যাইহোক, তারা প্রায়ই এখানে আসতো।
কিন্তু চাবিটা দেওয়ার পরে, ওরা আর আসে নি।
আচ্ছা শুভরাত্রি।
হেই দাঁড়াও। আমার রুমে এসো। একটা কাজ আছে।
সত্যি?
গভীর রাতে কাজ করতে আমার ভালো লাগে। এসো।
ধ্যাত। যা ভাবছ তা নয়।
তাহলে? অন্য কি কাজ?
যদি পরিষ্কার করার কাজ হয়, পারব না.. খুব ঘুম পাচ্ছে।
ভেবো না, ওসব কাজ নয়।
তো কি?
বলবো।
বল।
আজকে আমার ডায়রি পড়েছিলে?
হ্যা পড়েছিলাম।
কিন্তু অল্প কয়েকটা পাতা পড়েছি।
ঘুষি মেরে নাক ভেঙে দেবো।
ডায়রি আমার ব্যাক্তিগত জিনিস। সম্মান করবে।
আর যেন বলা না লাগে। কখনো না।
আচ্ছা ঠিক আছে। ছুয়েও দেখব না।
দেখো, এখন আমরা ভাল বন্ধু হয়ে গেছি...
...আর তাই কিছু ব্যাক্তিগত জিনিসও শেয়ার করতেই পারি।
কিন্তু আমার ডায়রি সেগুলোর ভেতরে পড়ে না।
একদিন, আমার যখন মনে হবে তুমি এই ডায়রি পড়ার যোগ্যতা অর্জন করেছ..
তখন এই ডাইরি তোমাকে দেবো।
এখন যা বললে, ভেবেচিন্তে বলেছো?
কি?
আমরা সবকিছু শেয়ার করতে পারি?
তো?
তো...
আমি এখনে ঘুমাচ্ছি।
আজ রাতে অনেককিছু শেয়ার করার আছে।
তাই?
এসো।
তোমার না ঘুম পাচ্ছে?
না, ফ্রেশ লাগছে।
ঠিক আছে।
গিয়ে ভেড়া গুনতে গুনতে ঘুমিয়ে যাও।
শুভরাত্রি।
ওকে। চিল।
শান্তি।
শান্তি।
হেই....শুভরাত্রি।
ওহ ঈশ্বর।
ওঠো মা। সাহায্য কর।
লুকার কিছু একটা হয়েছে।
কি হয়েছে?
দয়াকরে তুমি এসে দেখো।
লুকা।
কি হয়েছে?
কি হয়েছে?
জানি না হয়েছেটা কি।
জ্ঞান হারিয়ে পড়েছিলো।
মুখে পানি ছিটানোর পরে জেগে উঠেছে।
কি হয়েছে?
আমরা যখন এলাম, সে সাইকেল নিয়ে বেরিয়েছিলো।
কথা বল।
১০ মিনিট আগে মনে হয় ফিরেছে...
আমি গাছে পানি দিচ্ছিলাম।
সে উত্তেজিত হয়ে ফিরে এলো।
সাইকেলটা রাখলো আর অজ্ঞান হয়ে পড়ে গেলো।
কি হয়েছে? তুমি ঠিক আছো?
ওখানে....
মাঠের কাছের গাছটাতে...
কেউ..
ফাসি নিয়ে মারা গেছে।
জিহ্বা বেরিয়ে গেছে।
লোকজন দাঁড়িয়ে সেটা দেখছিলো...
সে কি ঘুমিয়ে আছে?
এই ঘটনা প্রায়ই ঘটছে।
তার মা মারা যাওয়ার পর থেকে, সে সবসময় ভয়ে থাকে।
এইজন্যে শিভান আমাদের তার সাথে থাকতে বলেছিলো।
শিভানের নাম্বারটা দিতে পারবেন?
নাম্বার আছে। কিন্তু সে ধরবে না।
নিক্রোফোবিয়া হল মৃত্যু বা মৃত্যু সংলগ্ন জিনিসের প্রতি ভয়।
যেমন শেষকৃত্য, স্মৃতিস্তম্ভ, কফিন, লাশ।
এই ফোবিয়াতে ব্যাক্তি সাধারণ ভয় থেকে হাজার গুন বেশি ভয়ে থাকে।
রোগীদের হঠাৎ জ্ঞান হারিয়ে যায়...
....দম বন্ধ আসে, প্যানিক অ্যাটাক হয়...
মন থেকে এসব সরিয়ে ফেলা হল এই রোগের আসল চিকিৎসা।
মন থেকে বিভ্রান্তি দূর করতে ওকে স্কেচ শিখিয়েছিলাম।
আর্টে ওর প্রচুর আগ্রহ, যা ওর জন্য ভাল চিকিৎসা সরুপ।
মানব মস্তিষ্কের জন্য আর্ট হল সবথেকে ভাল থেরাপি।
বৈজ্ঞানিকভাবে প্রমাণিত।
আমরা লুকার জন্য এসব করেছিলাম।
সেরে উঠছিলো, আর তখনি ওর মা মারা গেলো।
সে শুধুই নিক্রোফোবিয়া নয়...
থানাটোফোবিয়াতেও ভুগছে।
মৃত্যুর আশংকা।
মৃত্যুর ভয়।
মায়ের মৃত্যু সাথে, অদৃশ্য মৃত্যুর হাতছানি নিজের পাশে অনুভব করে।
দুরারোগ্য কিছু নয়, কিন্তু সময় লাগবে।
তোমার ভয় পাওয়া দেখে আমিও ভয় পেয়েছিলাম।
লুকা।
আজকে তুমি একটা মারাত্নক কাজ করেছ।
চিৎকার করে অনেক কিছু বলেছ, যা আমি আমার মাকে পর্যন্ত বলিনি।
আমাকে মেরে ফেলেছ।
হেই, তুমি গিয়ে গাড়ীটা নিয়ে এসো, আমি এখানে থাকবো।
প্রায় চলে এসেছি।
আগেই বলেছিলাম হলের বাইরে পার্ক করতে।
সিনেমা আর পার্কিং, দুইটার জন্য টাকা দিতে পারব না।
তার উপরে, এখানে ফ্রিতে পার্ক করতে পারছি, তাহলে খরচ করবো কেনো?
পার্কিং ফি মাত্র ৫ টাকা ছিল।
যদি ১০ টা সিনেমা দেখতাম তাহলে ৫০ টাকা লাগতো, বুঝেছ?
আমরা মাত্র একটা দেখেছি?
আরো দেখব?
না। আমি আর হাঁটতে পারব না। খুব ক্ষুদা লেগেছে।
এই সমস্যা, এসো।
কোথায়?
ক্ষুদা লেগেছে?
হ্যা।
তোমার জন্য ফ্রিতে খাবার রয়েছে। এসো।
লুকা, এটা কোন জায়গা?
কোথায় নিয়ে যাচ্ছো বলো।
এসো। বসো।
আমরা বিয়ে বাড়িতে ঢুকেছি?
ঠিক তা নয়, কিন্তু সবসময় এই জায়গায় কিছু না কিছু হয়।
ফ্রি খাবার। ফ্রি মাল।
তাই নাকি?
খাও। হাসো। পালাও।
যদি কেউ ধরে ফেলে?
না। বস এখানো, আমি খাবার নিয়ে আসছি।
দুই জনের খাবার দিন।
এই নাও।
ভাজা কিছু নেই?
ভিক্ষুকরা পছন্দ করতে পারবে না। যা পাও তাই খাও।
Yummy.
হ্যা। সুস্বাদু খাবার।
হেই। মামা ওখানে দাঁড়িয়ে আছে।
আমি কি করব?
ইগনোর।
হেই।
এখানে আসছে।
নীহা।
তোমার সাথে কথা আছে।
একা।
না ঠিক আছে।
এক্ষুনি চলে আসবো।
এই নরকে কি করছ?
তুমি ওই হারামীটার সাথে রয়েছ?
আপনার বাড়ি থেকে ওটা বেশি নিরাপদ।
এক পেগ।
তোমার মাকে এখনো কিছুই বলিনি।
কেনো?
কেনো বলেননি? আমিই বলে দেবো।
আর একটা কথাও বলবে না।
ওটা আপনার ভ্রম।
আপনাকে ভয় পাই না, ঘৃণা করি।
তাকে কিছু বলেছ?
যদি বলি তো?
কতবড় সাহস?
ছাড়ুন।
আমাকে ভাল করে চেনো না...তোকে..
ওর গা থেকে হাত সরা।
আমাদের পারিবারিক বিষয়ে নাক গলানোর তুই কে?
পারিবারিক বিষয় এখন বলতে বাধ্য করিস না?
তাহলে পরিষ্কার গলায় মাইকিং করে দেবো..
সে এখন আর ছোট্ট মেয়ে নয় যে খেলা করবি।
লুকা প্লিজ। থামো।
পৃথিবীকে জানতে দাও...
....শয়তানটা আসলে কি।
চুপ কর।
শুধু কি সে, নাকি আরো ছোট মেয়েদের সাথে এমন করেছিস?
লুকা প্লিজ। চুপ কর।
চল যাই।
নীহা।
যদি বাড়িতে ছোট বাচ্চা থাকে, তাহলেতার থেকে সাবধানে রাখবেন।
লুকা এসো।
বাচ্চাদের দূরে রাখবেন।
লুকা, একটা জিনিস বুঝতে চেষ্টা কর....
সবাই তোমার মত খাপছাড়া মানুষ নয়।
এমন কিছু একটা বলেছ যেটা আমি ভাবা পর্যন্ত বাদ দিয়েছি।
জানো এতে আমার কতটা গভীর আঘাত লেগেছে।
নীহা।
এসব কিছুর পরেও, তার সাথে তুমি সাধারণ ভাবে চলতে পারো....
নরমালি কথা বলতে পারো..
কিন্তু, আমার কাছ থেকে সেরকমটা আশা করতে পারো না।
তুমি টেনে নিয়ে না আসলে, শয়তানটাকে কষে একটা থাপ্পড় লাগাতাম।
আমার কথাতে কেউ যদি তোমাকে বিচার করে, তাতে আমার কিছু যায় আসে না।
দেখেছিলে, সে তোমার সাথে মূর্খের মত আচরণ করছিল?
আমি দেখেছি আর ঘৃণা করেছি।
শুধু সে না, এরকম নজরে যে তোমাকে দেখবে তাকেই ঘৃণা করব।
জানি গবেষণা শেষ হওয়ার পরে তুমি আর থাকবে না,দ্রত চলে যাবে।
..কিন্তু এখন, তুমি আমার কিছু একটা হও।
হেই, তোমাকে কিছু বলা দরকার।
জানি বাথরুমের বাইরে দাঁড়িয়ে কথা বলা ঠিক নয়।
কিন্তু নিরাপদ, কারণ তুমি আমার লজ্জা পাওয়াটা দেখতে পাবে না।
মনে হয় আমিই প্রথম ব্যাক্তি, যে বাথরুমের বাইরে দাঁড়িয়ে এসব বলছে।
কিন্তু মাতাল হয়ে যা বলেছিলাম সেরকমটা নয়।
সিরিয়াসলি, তোমাকে আমার প্রয়োজন...
তোমাকে ছাড়া বেঁচে থাকা কঠিন।
ছবি এঁকে, গবেষণা করে আর বাচ্চাদের থুথু দিয়ে বই পড়া শেখাতে শেখাতে সুখেই জীবন কেটে যাবে।
..সুখে।
এটুকুই যথেষ্ট। আমি তোমাকে ভালবাসি....
ওখানে বসেই ভাবো...আমি অপেক্ষা করছি।
বয়সের কথা ভেবে, সালোমি চাচীকে এখন ছেড়ে দাও।
মানি বুঝতে পারবে না।
ফুল কিসের জন্য?
আজকে কম দামে বিক্রি হচ্ছে... তাই...ভাবলাম..
ওহ তাই?
তোমার লাগবে?
না।
ফুলদানিতে রেখে দিতে পারো...
না।
নাও?
আমার ও লাগবেনা।
রোমান্টিক হওয়ার চেষ্টা করছ?
হ্যা।
বিয়ে করে নেওয়া উচিত না?
সত্যিই করবে?
তা নয়। সমাজকে জানাতে করতে হবে।
সত্যি?
লুকা।
আমরা মেয়েরা অনেককিছু আশা করি।
বিশেষত ভালবাসা বা সম্পর্কে জড়ানোর পরে সেটা বেড়ে যায়।
তোমার প্রস্তাব সামান্য খারাপ ছিল।
আরো নাটকীয় হতে পারত।
আর প্রচুর....প্রচুর রোমান্টিক।
লুকা।
তুমি সুপারহিরো নও।
যদিও আমি তা আশা করি।
কারণ যে শিল্পী তোমার ভেতরে রয়েছে...
....যে কোনো মানুষের তুলনায় সে বেশি কিছু করতে পারে।
আজকের মত যখন ক্লান্ত হয়ে যাবে,
তখন সবকিছু করার চেষ্টা করো।
তোমার ভেতরের শিল্পীকে আমি ঘৃণা করি।
কারণ আমি তোমার ব্যাক্তিসত্বাকে পাগলের মত ভালবাসি।
হেই। একদিন আমাকে ছেড়ে চলে যাবে?
এটাই আমার একমাত্র পৃথিবী। কোথায় যাবো।
ময়লা তুলতে আর তাদের ছবি আঁকতে এখানে থাকবো, যেরকমটা সালোমি বলে।
তুমি ছন্নছাড়া ধরণের। তুমি আমাকে ছেড়ে চলে যাবে সেটার বেশি সম্ভাবনা আছে।
কিন্তু আমি কি করে যাবো?
যদিও যাই, কত দূরে যেতে পারবো?
তোমার মন যেখানে যেতে চায় সেখানে যেতে পারো।
তোমার মায়ের কাছে বেঙ্গালোরে যেতে পারো।
অথবা কোলকাতাতে বাবাকে দেখেতে যেতে পারো।
এখানকার গবেষণা শেষ হয়ে গেলে, সেখানে স্থায়ী হতে পারো।
যেখানে ইচ্ছা যেতে পারো। স্বাধীনভাবে।
কিন্তু যেখানেই যাবো, তোমার বাহুডোরের মত নিরাপদ জায়গা কখনো পাবো?
সবকিছু একটু দ্রুতই ভেবে ফেলছ?
তা নয়।
প্রেমেপড়া আগে থেকে পরিকল্পনা করা থাকে না।
যখন তখন ঘটতে পারে। স্বতঃস্ফূর্ত।
আর, আমি জানি এই জাহাজ তুমি কোথায় চালিয়ে নিয়ে যাচ্ছো।
আর দেখো, আমার অনুভূতি কখনো ব্যার্থ হয় না।
যখন প্রপোজ করলে, তখন হ্যা বলার জন্য প্রস্তুত ছিলাম।
সত্যি?
হ্যা।।
সিরিয়াসলি?
এক মিনিট।
কি? কোথায় যাচ্ছো?
আসছি।
কি এটা?
এটা আমার মায়ের।
তোমার চোখের সামনে না থাকি, কিন্তু সবসময় সাথে থাকবো.....প্রমিজ।
লুকা।
কোথায় গেলি বাল?
শিভান।
মা। এক কাপ কফি এনে দিতে পারবে?
এই ঘোর কাটাতে হবে।
এখনো বাড়িতে বসে কি ছিড়ছিস?
মানি আর সালোমি আজকে আসেনি কেনো জানিস?
কুঞ্জামার ব্যাপারে কোনো খবর জানিস?
কি হয়েছে?
চারপাশে কি হচ্ছে সেসব জানার কেনো প্রয়োজন নেই?
তাড়াতাড়ি নিচে নেমে আয়।
সবকিছু আমাকেই করতে হয়।
গতকাল কম্পানির লোক এসেছিল আর তারা দ্রুত সব খালি করে দিতে বলেছে।
তারা কোর্টের নোটিশও নিয়ে এসেছিল।
জানিনা কোথায় যাব।
তোমরা বললে না, কম্পানির লোকের সাথে কথা বলে সব ঠিক করে দেবে?
সবকিছু ভালই যাচ্ছিলো, জানিনা এখন কি হবে।
ভাবতেই পারছি না কুঞ্জাম্মা এমন কিছু করেছে।
তার ইতিমধ্যে দুবার হার্ট অ্যাটাক হয়েছে।
প্রায় ত্রিশ বছর যাবত সে তার স্বামীর জন্য অপেক্ষা করছে।
কলোনীর এই বাড়িটা ছাড়া আর কিছুই নেই তার।
সবার অবস্থা একই রকম।
শিভান আর লুকা শীঘ্রই হাসপাতালে পৌঁছে যাবে।
আমার স্বামী ওই বাড়িটা বানিয়েছে।
সে যখন ফিরে আসবে তখন আমার ওখানে থাকা উচিত না? আমি কোথাও যাবো না।
কোর্টের নির্দেশ মোতাবেক.....
... কাল ওরা কলোনী থেকে সবাইকে উচ্ছেদ করবে।
সবাই যাওয়ার জন্য তৈরিই ছিল...
.. কিন্তু তখনই কুঞ্জাম্মা কূপে ঝাঁপ দিল।
আমরা চিৎকার শুনে কূপের কাছে দৌড়ে যাই...
কিন্তু ততক্ষণে সে ঝাঁপ দিয়েছিল।
আমরা ভেবেছিলাম সে মারা গেছে।
এক মুহুর্ত ও অপেক্ষা করিনি। ঝাঁপিয়ে পড়ে তাকে টেনে তুলেছি।
আপনাদের যেতে হবে না..
লুকা, তুমি একটু এদিকে আসতে পারবে।
তোমার বন্ধুদের বলে দাও কি করবে, আর সেটা তাদের করতে বলে দাও।
তুমি বিরক্ত হয়ে গেছ লুকা। বাসায় চলো।
কিছুই হয় নি। আমি ঠিক আছি।
এতো চিন্তা করছ কেন?
তোমার অবস্থা নিয়ে ভয় হচ্ছে লুকা।
তোমার সামাজিক দায়বদ্ধতা আর শিল্পিসুলভ প্রবৃত্তি আমি বোঝার চেষ্টা করতে পারি।
কিন্তু তোমাকেও মেনে নিতে হবে যে তোমার মন...
...এসব কিছু দেখার মত শক্তিশালী নয়।
কী হবে মেনে নিলে?
এসব মেনে নিয়ে লুকিয়ে থাকব?
তুমি কি ভেবেছ, আমার এসব ভন্ড পেইন্টিং ধনীদের কাছে বিক্রি করে..
...আমি বিলাসী জীবন যাপন করব?
তুমি আমাকে এমন মনে করো?
আমি তোমাকে একটু হলেও জানি এখন।
তুমি নিজেকে অগ্রাহ্য করে এমন কিছু করবে না।
আমি জানি যদি তুমি এভাবেই চলতে থাকো তবে এর পরিণতি কী হবে।
তোমার সাথে সহজ একটা জীবনের স্বপ্ন দেখার জন্য বলছি না এসব।
আমি এসব তোমার ভালোর জন্য বলছি লুকা। যেন তোমাকে কষ্ট পেতে না হয়।
তোমার শিল্প শক্তিশালী কিন্তু তুমি নও।
বোঝার চেষ্টা করো। তুমি কোন মহানায়ক নও।
আমি জানি। আমি জানি।
আমার বয়স যখন দশ, তখন থেকে শিভান আমার সাথে ছিল।
আবার যখন একা হয়ে পড়ি, তখন সালোমি আর মানি আমার জীবনে আসে।
কুঞ্জাম্মার কী হলো তাতো তুমিও দেখেছ তাইনা?
এই মানুষগুলো আমার জীবনে পূর্ণতা দিয়েছে।
আমার সাথে যাই হোক না কেন, আমি স্বার্থপরের মত তাদেরকে উপেক্ষা করতে পারব না।
তোমার যা খুশি করো।
স্বভাবতই এটা তোমার দায়িত্ব।
কিন্তু জেনে রেখ লুকা, তুমি আমার সবচেয়ে বড় দায়িত্ব।
তোমাকে রক্ষা করতে আমি যতদূর যেতে হয় যাবো। কখনোই একা ছেড়ে দেব না....
তুমি যেখানে যাবে সেখানেই অনুসরণ করে যাব।
আমি জানি।
এই লোকগুলোর শুধু আজকের রাতটা আছে।
যদি আমরা ওদের জন্য কিছু করতে চাই, আমাদের কাছে শুধু আজ রাতটা আছে।
এই
এসব কী?
তোমরা কারা?
স্যার, একটু এদিকে আসুন।
কোথায়?
আসুন কথা আছে।
লুকা।
এসব কী?
লুকা। পুলিশ।
যথেষ্ট হয়েছে।
দ্রুত এসো, চলো বের হই।
বাইক আনো, জলদি।
লুকা ওরা আমাদের অনুসরণ করছে।
চিন্তা করো না।
লুকা, তোমাকে বলেছিলাম এসব ঝামেলায় জড়িয়ো না।
গতি কমাও।
লুকা।
প্লিজ। সাবধানে।
নীহা।
কী?
আমি কিছু দেখতে পাচ্ছি না।
কী বলছ তুমি?
বাইক থামাও...
চোখ খোলো।
লুকা।
রিপোর্টটা আমার রুমে নিয়ে এসো।
তার জ্ঞান আছে। ছোটখাটো আঘাত, চিন্তার কিছু নেই।
আসলে কী ঘটেছিল?
লুকা হঠাৎই বললো সে কিছু দেখতে পাচ্ছে না।
যেই আমি ওকে থামাতে বললাম, অমনি আমরা পড়ে গেছি...
কিছু ঘুমের ওষুধ আনতে দিয়েছি। ওকে কিছুক্ষণ ঘুমাতে দিন।
তাই সে প্রায়ই এমন অসুবিধায় পড়ত।
আজ রাতটা তাকে পর্যবেক্ষণে থাকতে দিন।
আমরা একটা স্ক্যান করব এবং সেটার উপর ভিত্তি করে সামনে অগ্রসর হব।
ব্যাপারটা খবরে চলে গেছে, তাইনা?
আমি টিভিতে একটা শিরোনাম দেখলাম।
তুমি ওদের কাউকে ডাকার চেষ্টা করেছ?
আমরা কলোনীর অবস্থা জানার চেষ্টা করতে চেয়েছিলাম।
গতকাল আমার ফোনের চার্জ শেষ হয়ে গেছে।
এখান থেকে বের হয়েই আমি তাদের কল করব।
হাসপাতালে ঘুমানো ভয়ঙ্কর ব্যাপার...
ভয়ানক ঠাণ্ডা আর এই বিরক্তিকর আওয়াজ!
আমার মাথা ফেটে যাচ্ছে প্রায়!
আমরা এখানে বেশিক্ষণ বসতে পারব না, ঠিকাছে?
তুমি সুস্থ হলেই আমরা ফিরে যাব।
আমরা পালিয়ে গেলে কেমন হয়?
কিসের জন্য?
এটা দুপুরের মধ্যে হয়ে যাবে, আমরা এরপরেই যাব।
কী?
কী হয়েছে?
লুকার স্ক্যান রিপোর্টটা দিন।
রেডি হয়নি ম্যাম।
ডাক্তার আপনাকে দেখা করতে বলেছে।
ডাক্তার?
তার রুমে আছেন।
ওকে, ধন্যবাদ।
যে ফোবিয়ার কথা আপনি বলেছেন সেটা বাদে,
আপনি লুকার অন্য কোন শারীরিক সমস্যার ব্যাপারে জানেন?
বিশেষ কোন সমস্যা নয়, যেমন...
সে নিয়মিত ব্যায়াম করে... যেমন সাইক্লিং, জগিং
তাই সে শারীরিকভাবে ফিট।
আপনি মাইগ্রেনের অন্য কোন লক্ষণ খুঁজে পেয়েছেন?
অথবা স্মৃতিভ্রম?
এরকম কোন কিছু?
আতঙ্কিত হলে, কখনো কখনো সে দৃষ্টিশক্তি হারিয়ে ফেলে।
কিন্তু এটা ছাড়া, আর তেমন কোন অসুবিধা নেই...
উনি ডাক্তার সুদর্শন।
আমাদের সিনিয়র ক্যান্সার বিশেষজ্ঞ।
নাম দেখেই, উনি লুকাকে চিনতে পেরেছেন।
লুকার মায়ের চিকিৎসাও উনিই করেছিলেন।
আমরা স্ক্যানে কিছু একটা পেয়েছি।
ডাক্তার সুদর্শনকে ডেকেছি দ্বিতীয় মতামতের জন্য।
কী হয়েছে ডাক্তার?
আপনি কী দেখেছেন?
লুকা?
আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিলে কেন?
জানো না, আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারব না?
তুমি পারবে, আমাকে ছাড়া বাঁচতে?
তুমি বলেছিলে পরের বর্ষায়,
আমরা একসাথে ভিজব।
কেন তুমি সেই বৃষ্টিতে আমাকে একা ফেলে এসেছ?
দশ দিন হয়ে গেছে, লুকা।
কয়েকবার আমি প্রায় চলে এসেছিলাম..
কিন্তু দরজা যদি আমার সামনে আবার বন্ধ করো...
আমি আর থাকব না।
তুমি এখানে এসো!
আমি তোমাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরতে চাই।
ওই দাঁড়ি টানতে চাই...
আর তোমাকে শতকোটি বার চুমু খেতে চাই!
অন্য সবকিছু ভুলে যাওয়ার জন্য এটুকুই যথেষ্ট নয়?
আমি জানি তুমি আসবে...
প্রতীক্ষায় থাকব।
ভীষণ মিস করছি তোমায়!
নীহা
বিড়াল?
বিড়াল
স্যার
বিড়ালটা...
স্যার...
স্যার।
স্যার, বিড়ালটা...
কিটি?
কিটি?
কিটি।
কিটি।।
কিটি।
মা,
ওই বিড়ালটা মরে গেছে,
ভাবছি কী করে হলো...
বিড়ালটাও বিরক্ত হয়ে গিয়েছিল সম্ভবত।
আমাদের দ্রুত ফাতিমা হাসপাতালে যেতে হবে।
ওখানে ডাক্তার ফ্রান্সিসের সাথে দেখা করতে হবে...
ওকে স্যার।
আমার মেসেজ পেয়েছ?
জ্বী।
ব্যান্ডের খবর কী?
স্যার, আমি ওদের সাথে যোগাযোগ করেছি।
বলেছে ওরা ফেরার পথ ধরেছে...
একটা সাউথ ইন্ডিয়ান যাত্রা বাতিল হওয়ায়।
দুপুরের মধ্যে তাদের শহরে পৌঁছে যাওয়ার কথা।
পৌঁছে কল দিতে বলেছি।
গতরাতে অনেক দেরি করে ঘুমিয়েছেন নাকি?
হ্যাঁ, দেরি হয়েছিল।
ডায়েরীটা শেষ করেছন?
হুম, করেছি...
কোন সূত্র...
উত্তরের চেয়ে এখন আমার কাছে প্রশ্ন বেশি...
আমি লুকার ব্যাপারে পত্রিকায় পড়েছি...
কিন্তু নীহারিকা...
এটা অবাক কান্ড ছিল স্যার!
প্লিজ বলুন, আপনাকে কিভাবে সাহায্য করতে পারি?
আমি বুঝতে পেরেছিলাম লুকা আর নীহারিকা এখানে ছিল...
কী ঘটেছিল সেদিন?
ছোট একটা দুর্ঘটনার পর তারা এখানে এসেছিল
লুকার মায়ের এক ধরনের সেরেব্রাল ক্যান্সার ছিল..
যার লক্ষণ অনেক দেরিতে ধরা পড়ে...
চিকিৎসা দেওয়া সম্ভব হয়নি...
চিকিৎসার জন্য পর্যাপ্ত সময়ই ছিল না তখন।
এসব আমরা এখন কেন আলোচনা করছি?
দুর্ভাগ্যবশত ছেলেও তার মায়ের মত একই দিকে আগাচ্ছে...
সম্ভবত, তার লক্ষণ ধরতেও আমাদের অনেক বেশি দেরি হয়ে গেছে।
এক্ষেত্রে, অবশ্যই কিছু উপসর্গ থাকার কথা...
যেহেতু সে ফোবিক, এটা তারই একটা অংশ হিসেবে ধরে
.. এড়িয়ে যাওয়া হয়েছিল।
মানে, গতকাল এমন কিছুই ঘটেছিল।
আমি জানি এটা এভাবে সরাসরি বলা ঠিক না...
কিন্তু অন্ধকারে ঢিল ছুঁড়ে কোন লাভ নেই...
আমরা আরো কিছু টেস্ট করতে পারি...
কিন্তু এ সবই লক্ষণগুলো নিশ্চিত হওয়ার জন্য।
... চিকিৎসার সুপারিশ করছি না...
ঠিক বলেছি ডাক্তার?
জ্বী স্যার।
এসব ওকে জানাতে... না।
ওকে বলবেন না...
এরকম মানসিক অবস্থায়...
সেটাই ঠিক মনে হচ্ছে।
এমনকি আমিও এটা সুপারিশ করব না...
অন্তত ব্যথা শুরু হওয়ার আগ পর্যন্ত...
...ওকে একটু শান্তিতে বাঁচতে দিন।
আমি তাকে ডিসচার্জ করে দিব...
বাকি রিপোর্টগুলো দুদিনের মধ্যে চলে আসবে।
তারপরে আমরা পরবর্তী পদক্ষেপের সিদ্ধান্ত নিব।
ময়নাতদন্তের রিপোর্টেও ক্যান্সারের কথা উল্লেখ করা হয়েছে।
তাদের কেউ কি পরে আর এখানে এসেছিল?
লুকা পরে আর কখনো আসেনি
নীহারিকা প্রায়ই এখানে আসত...
রিপোর্ট আর অন্যান্য জিনিস নিতে...
লুকার এক বন্ধু এসেছিল...
লুকার ব্যাপারে জিজ্ঞাসা করতে।
ডাক্তার সুদর্শন তাকে চেনেন।
তাই আমরা তাকে বিস্তারিত জানাই...
তার নাম কী ছিল?
মিস্টার শিভান নামের একজন।
ওকে ডাক্তার। আরো কিছু জানার থাকলে, আমি কল করব।
স্বাগতম।
ব্যাপারগুলো এখন পরিষ্কার না স্যার?
লুকা আর নীহারিকা দুজনই জানত যে লুকা মারা যাচ্ছে।
দুঃখজনক, নীহারিকা আত্মহত্যা করল...
হয়তো সে এটা জেনে গিয়েছিল...
... অথবা তার অসুস্থতার কারণে...
লুকাও আত্মহত্যা করে!
শুধুমাত্র তার কাজে ইতিবাচকতা রয়েছে বলেই...
আমরা আত্মহত্যার সম্ভাবনা উড়িয়ে দিতে পারি?
আত্মহত্যা না ভাবার আরো একটা কারণ আছে।
ডায়েরীর থেকে জানা যায়, তার ফোবিয়া অনিবার্য ছিল।
একটা মানুষ যে কিনা মৃত্যুকে ভয় পায় সে কি করে আত্মহত্যা করে?
মনে হচ্ছে আমরা কিছু একটা মিস করে যাচ্ছি...
আমরা JP কে গ্রেফতার করে তার কাছ থেকে সত্যটা বের করছি না কেন?
তার বিরুদ্ধে আমাদের কাছে থাকা একমাত্র প্রমাণ হলো...
... রিসেপশনের সেই ঘটনা! সেটুকু যথেষ্ট নয়।
তার মত নামী সাংবাদিকের বিরুদ্ধে যদি আমরা হঠাৎ করে কোন পদক্ষেপ নেই...
... এতে শুধু অতিরিক্ত ঝামেলাই সৃষ্টি হবে!
তাই আরেকটু অপেক্ষা করি....
দেখা যাক
লুকা?
আমাকে ছেড়ে গিয়েছিলে কেন?
জানো না আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারব না?
তুমি পারবে, আমাকে ছাড়া বাঁচতে?
পরের বর্ষায়,
তুমি বলেছিলে আমরা একসাথে ভিজব।
কেন সেই বৃষ্টিতে তুমি আমায় একা ফেলে গেলে?
যখন তুমি ছিলে না আমার পাশে..
দরজা বন্ধ না করেই বাতাস বয়ে চলে গেছে...
কুয়াশা উপেক্ষা করে যখন...
আমের মুকুল এলো, এই রাত নিখাদ যন্ত্রণার...
গ্রীষ্মকালে, শুষ্ক নদীর মাছের মতই
...আমরা অতলে হারিয়ে গিয়েছি..
কোথায় সেই সময়ে জমানো মুহূর্তগুলো?
বহুদূরে, আমি আঁধারের চেয়েও প্রগাঢ় আঁধার দেখতে পাই...
আমার দৃষ্টি যেদিকে যায় আমি তোমাকেই দেখি...
আমার বুকে জ্বলতে থাকা আগুন তুমি, এভাবে নিভে যেও না...
আমি তো কেবল এক উদীয়মান পল্লব, তোমার নিশাচর পুষ্প খুঁজে বেড়াই...
বিলীন হয়ে যেও না...
বহুদূরে, আমি আঁধারের চেয়েও প্রগাঢ় আধাঁর দেখতে পাই...
একটি হাসি সমুদ্রের চাইতে কম কিছু নয়, কারণ আমি রঙের লেখক...
.. দেয়াল যেখানেই ঠেকুক, আমি তোমার অবিচ্ছেদ্য ছায়া...
আমি জানি ঠিক ওখানেই তুমি আছ...
লুকা, তোমাকে ভালোবাসি!
যে কারণে আমি চলে যাচ্ছি
স্যার, চা
কোনো চিপস লাগবে?
না
তুমি এই শিভানের ব্যাপারে কিছু জানো?
হ্যাঁ, আমি তার ব্যাপারে তদন্ত করেছিলাম..?
শুনেছি মৃত্যু দুটোর আগেই সে কোথাও ভ্রমনে বেরিয়েছে।
ওরা তার সাথে যোগাযোগের চেষ্টা করছে..
তাকে ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না
যতটা আমি শুনেছি সে অনেক ভ্রমন করে।
হ্যালো।
হ্যাঁ।
কোথায় তুমি?
স্যার, ওরা সেই ব্যান্ডের ছেলেগুলো...
ওরা এই পথে আছে...
চলুন ওখানে গিয়ে ওদের সাথে দেখা করি...
লুকা স্যারের ব্যাপারে শোনা মাত্রই, আমরা আমাদের যাত্রা বাতিল করেছি।
রোহান আমাদেরকে জানিয়েছে...
আমরা কেবলই নীহারিকার ব্যাপারে জানতে পারলাম, যখন আপনি বললেন...
রোহান তোমাদের কীবোর্ডিস্ট তাইনা?
হ্যাঁ
সে তোমাদের সাথে ট্যুরে আসেনি?
সে ব্যাঙ্গালোর পর্যন্ত আমাদের সাথেই ছিল, এরপর জ্বরে পড়ল...
অবস্থা খারাপ হচ্ছিল, তাই আমরা ওকে ফেরত পাঠিয়ে দেই।
রোহান ইদানিং এখানেই ছিল তাহলে?
হ্যাঁ, কিন্তু সে হাসপাতালে ভর্তি ছিল।
ওকে যখন ফেরত পাঠাই, তখন ওর অবস্থা অনেক খারাপ ছিল।
রোহান কি বলেছে সে লুকা আর নীহারিকাকে দেখেছে কিনা?
না স্যার। কাছের কিছু বন্ধুবান্ধব...
হাসপাতালে রোহানের যত্ন নিচ্ছিল...
ব্যান্ডের জন্য তহবিলের ব্যবস্থা ওরাই করে।
লুকা সাধারণত এসবে জড়ায় না..
সে হাসপাতাল নিয়ে কাজ করতে পারে না!
তাছাড়া নীহারিকা আর রোহান কেউ কাউকে চেনে না...
তাই তার সাথে দেখা হলে সে অবশ্যই আমাকে বলতো।
ঠিকাছে তাহলে, তোমরা যেতে পার...
এখন পর্যন্ত কেউ লুকার লাশ দাবী করেনি!
তুমি যদি চাও, অলোশিকে কল করো....
ওকে স্যার।
সুরাজ, লুকার বাড়ির চাবি তোমাদের কাছে না?
আমার ওটা দেখা দরকার
চাবি...
চাবি?
স্যার, চাবি সবসময় রোহানের কাছে থাকে...
এটা ওর চেইনের একটা লকেট।
আমরা যতটা জানি, চাবিওয়ালা ওই ছেলেটা ঝামেলা সৃষ্টি করে..
আমরা ওকে নজরে রাখতে পারি..
কিন্তু আমার মনে হয় না তার কোনো উদ্দেশ্য আছে।
আর যদিও এটা কেবল একটা অনুমান যে...
নীহারিকার মৃত্যুটা আত্মহত্যা...
একই বিষের উপস্থিতিতে...
দুটো মৃত্যুকেই একই লোকের সিদ্ধান্ত মনে হচ্ছে।
এমন কেউ যে দুটো জায়গায়ই যেতে পরে....
যার দুটো জায়গারই প্রবেশাধিকার রয়েছে..
যে দুজনকেই খুব ভালো করে চেনে।
তোমরা এখানে আমাকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে এসেছ?
তাও আবার আমার সন্তানের খুনের জন্য।
এই আলোশি?
'আমার সন্তান' 'আমার মেয়ে' এমন শব্দ উচ্চারণও করবি না।
ছেলেবেলায় তার সাথে তুই কী কী করেছিস, তা সে হুবহু ডায়রীতে লিখে রেখেছে...
আপনি জানেন কার সাথে কথা বলছেন?
এই আলোশি। থামো। একপাশে দাঁড়াও।
তো JP, সত্য স্বীকার করার জন্য আপনার নিমন্ত্রণপত্র লাগবে?
আমার জীবন নষ্ট করবেন না, আমি সত্য বলবো।
নীহারিকা, আমি তার সাথে অন্যায় করেছি।
সেটার জন্য, আমি ক্ষমাও চেয়েছি।
সে কখনই আমাকে ক্ষমা করেনি।
কিন্তু আমি বদলে গিয়েছিলাম।
হয়তো এই পরিবর্তন তোকে দুটো খুন করতে উদ্বুদ্ধ করেছে।
দয়া করে আমাকে বিশ্বাস করেন।
এটা সত্য যে আমি নীহারিকাকে ফিরে পাওয়ার জন্য, তার মৃত্যু কামনা করতাম। কিন্তু আমি কখনো কাউকে খুন করিনি।
আর, আপনারা এটা ভাবলেন কি করে যে, আমি এসব করেছি?
এই লোক সহজে মানবে না। চলো যাই।
JP, জেনে রাখুন। এত সহজে ছাড় পাবেন না।
আমরা জানি আপনি কতটা প্রভাবশালী...
কিন্তু, এই মামলায়, ওসব দিয়ে ঠেকানো যাবে না।
বিশ্বাস করবন, আমি নির্দোষ।
একটা শেষ প্রশ্ন মি. JP.
বলুন।
চাইলে মিথ্যাও বলতে পারেন।
নীহারিকার মৃত্যুর পরে আপনি লুকার সাথে দেখা করেছেন?
আরো স্পষ্ট করে বললে।
লুকা মারা যাওয়ার রাতে, তার সাথে আপনার দেখা হয়েছে?
না। শেষবার আমি তাকে দেখেছিলাম, রিসিপশনে।
এসো।
স্যার ওকে ভিতরে নেয়া যাক।
এখনি নয়। তোমাকে বলবো আমি।
আপনার কি মনে হয় না সেই আসল লোক?
এখনি নিশ্চিত করে কিছু বলা যাচ্ছে না।
যদি দুটো মৃত্যুর মধ্যে কোন যোগসাজস থাকে , তাহলে JP প্রধান সন্দেহভাজন।
সন্দেহভাজন হওয়ার কারণ তার প্রত্যক্ষ উদ্দেশ আছে।
কিন্তু তাকে সরাসরি এর সাথে যুক্ত করার মত কোন প্রমাণ নেই আমাদের কাছে।
প্রমাণ না পাওয়া পর্যন্ত সে নিরাপদ।
এবার কী স্যার?
শিভান আর কলোনীর ওই লোকগুলোকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে হবে।
তারপরে সিদ্ধান্ত নেয়া যাবে।
শুভরাত্রি সবাইকে।
ঠিক আছে, বসো।
সারাটা দিন নীচতলায়, বন্ধ দরজার ভিতরে বসে থেকে গা গোলানো অনুভূতি হচ্ছে।
তাই ভাবলাম কিছুক্ষণ এখানে এসে বসে থাকি।
চা আনতে বলবো?
লাগবে না। তুমি বসো।
আমার ওপর রাগ করেছ?
জানি না আকবর।
তোমাকে খুব চিন্তিত দেখাচ্ছে?
জয়ারাম স্যার বলেন, তোমার সব প্রশ্নের জবাব কখনোই পাবে না।
কোন পুলিশ অফিসারের এমন ভাবনা কিছুটা হাস্যকর তাইনা?
আমি একটা উত্তর খুঁজছি ফাতিমা।
তুমি হয়তো জানো, শিল্পী লুকার মৃত্যু...
হ্যাঁ, আমি এ ব্যাপারে শুনেছি।
গত তিনমাস ধরে, নীহারিকা নামের একটি মেয়ে লুকার সাথে ছিল।
লুকার মৃত্যুর এক সপ্তাহ আগে, ব্যাঙ্গালোরে সে আত্মহত্যা করেছে।
লুকার জীবনে খুব অল্প সংখ্যক মানুষ ছিল।
তাদের যে কারো সাথে একটা গল্প তৈরি করে ফেলতে পারো...
..আর তাদের সবার কাছে যথাযথ কারণও থাকার কথা।
কিন্তু কারো কাছেই তখন উপযুক্ত প্রমাণ ছিল না।
হয়তো একেবারেই অন্য কেউ...
কিন্তু আপাতত আমাদের কাছে সেরকম কোনো সূত্র নেই।
লুকার একটি যন্ত্রণাহীন মৃত্যু দরকার ছিল...
কেউ যদি তা চেয়ে থাকে, সেটা অবশ্যই নীহারিকা।
যদি কেউ চেয়ে থাকে যে ক্যান্সার কিংবা ফোবিয়ার কারণে সে কষ্ট পাবে না...
এটা সে।
ওই গাছে কেউ একজন ফাঁস দিয়ে মরেছিল।
... তার জিভ বের হয়ে ছিল...
....আর মানুষ জটলা করে দাঁড়িয়ে দেখছিল।
সে শুধু নেক্রোফোবিক ছিলো না, থানাটোফোবিয়াতেও ভুগছিলো।
মৃত্যুর আতঙ্ক। মৃত্যুর ভয়।
লোকটা বিষ পানে মারা গিয়েছে।
প্লিজ আমাকে দেখাও বইয়ের কোন পৃষ্টায় দেবত্ব রয়েছে?
ছিঃ তুমি আমার বইতে থু থু দিচ্ছ কেনো?
তোমাকে রক্ষা করতে আমি যতদূর যেতে হয় যাবো।
তার গবেষণার বিষয় ছিল শিল্প রসায়ন।
রসায়নে কেওটিক সিস্টেম বলে একটা কথা আছে..
আর এই রুমটা তার যথাযথ উদাহরণ।
এই চিঠির সাথে, দুটো উপহার আছে যা তোমাকে খুশি করবে।
এই ডায়েরীটা যেটা কিনা তুমি বহুবার লুকিয়ে পড়ার চেষ্টা করেছ।
তুমি আমার একজন ভালো বন্ধু হতে পারতে।
যেদিন তোমায় প্রথম দেখলাম
রগচটা ছেলেদের তুলনায় তুমি অনেক ভিন্ন রকম ছিলে।
তোমাকেখুব প্রশান্ত আর গম্ভীর মনে হচ্ছিলো।
মনে হচ্ছিল অনেকদিন পরে, খুনসুটি করার জন্য আমি একজন বন্ধু পেলাম।
শুধু খুনসুটি করতে নয়, আমি পড়ে গেলে আমাকে তুলে ধরার জন্য।
সবাই তোমার মত খোলা বই নয় লুকা।
আমি তোমার ভয়কে ভয় পেতে শুরু করেছি লুকা।
আমার মাকেও যা আমি বলিনি তা তুমি পুরো দুনিয়াকে জানিয়েছ
তুমি আমাকে মেরে ফেলেছ লুকা।
আমরা মেয়েরা অনেক কিছু আশা করি।
ভালোবাসা আর সম্পর্কের ক্ষেত্রে এটা আরো বেশি।
কারণ আমি তোমার ব্যাক্তিসত্বার প্রেমে পাগল।
কেন আমাকে ছেড়ে চলে গেলে।
জানো না আমি তোমাকে ছাড়া বাঁচতে পারব না।
বলেছিলে পরের বর্ষায় আমরা একসাথে বৃষ্টিতে ভিজব
.. তাহলে কেন তুমি আমাকে এই বৃষ্টিতে একা ফেলে চলে গেলে?
এটা বাজারে পাওয়া যায় এমন কোন সাধারণ বিষ নয়।
ল্যাবে তৈরি করা হয়েছে।
পৃষ্ঠাগুলোয় বিষের চিহ্ন রয়েছে।
শেষের তিন পৃষ্টায় বেশি দেখা যাচ্ছে।
আমি কি একটা গল্প বলবো।
হ্যাঁ।
একদা এক সময়
.. এক ছিল সুন্দর মাটির মার্বেল
আর ছিল একটি সুন্দর শুকনো পাতা।
তারা গভীর প্রেমে মগ্ন ছিল।
একদিন..
.. দুজনে ভ্রমনে বের হলো।
হঠাৎ করে এক দমকা হাওয়া বইতে শুরু করল
..আর শুকনো পাতাটা পাগলের মত কাঁপতে লাগল।
তারপর?
মাটির মার্বেল কি করলো বলে মনে হয়?
সে পাতাটির উপর বসে পড়ল।
বাতাস থেমে গেলে, তারা আবার পথ চলতে শুরু করল।
কিছুক্ষণ পরে...
মুষলধারে বৃষ্টি শুরু হলো।
এবার শুষ্ক পাতার উদ্ধার করার পালা।
সে উড়ে গিয়ে মাটির মার্বেলটাকে ঢেকে দিল।
কিন্তু, যখন তারা আরো এগিয়ে গেল..
এক বজ্রঝড়ের আবির্ভাব ঘটল! অনুবাদেঃ কে এন হাসান সাবিকুন্নাহার সোনিয়া
ধন্যবাদ সাব দিয়ে মুভিটি উপভোগ করার জন্য। ভাল লাগলে সাবসিনেতে রেটিং দিতে ভুলবেন না।
Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.