Afrikaans
Akan
Amharic
Arabic
Armenian
Azerbaijani
Basque
Belarusian
Bemba
Bihari
Bosnian
Breton
Bulgarian
Cambodian
Catalan
Cebuano
Cherokee
Chichewa
Chinese (Simplified)
Chinese (Traditional)
Corsican
Croatian
Czech
Danish
Dutch
Esperanto
Estonian
Ewe
Faroese
Filipino
Finnish
French
Frisian
Ga
Galician
Georgian
German
Greek
Guarani
Gujarati
Haitian Creole
Hausa
Hawaiian
Hebrew
Hmong
Hungarian
Icelandic
Igbo
Interlingua
Irish
Japanese
Javanese
Kannada
Kazakh
Kinyarwanda
Kirundi
Kongo
Korean
Krio (Sierra Leone)
Kurdish
Kurdish (Soranî)
Kyrgyz
Laothian
Latin
Latvian
Lingala
Lithuanian
Lozi
Luganda
Luo
Luxembourgish
Macedonian
Malagasy
Malay
Malayalam
Maltese
Maori
Marathi
Mauritian Creole
Moldavian
Mongolian
Myanmar (Burmese)
Montenegrin
Nepali
Nigerian Pidgin
Northern Sotho
Norwegian
Norwegian (Nynorsk)
Occitan
Oriya
Oromo
Pashto
Persian
Polish
Portuguese (Brazil)
Portuguese (Portugal)
Punjabi
Quechua
Romanian
Romansh
Runyakitara
Russian
Samoan
Scots Gaelic
Serbian
Serbo-Croatian
Sesotho
Setswana
Seychellois Creole
Shona
Sindhi
Sinhalese
Slovak
Slovenian
Somali
Spanish (Latin American)
Sundanese
Swahili
Swedish
Tajik
Tatar
Telugu
Thai
Tigrinya
Tonga
Tshiluba
Tumbuka
Turkish
Turkmen
Twi
Uighur
Ukrainian
Urdu
Uzbek
Vietnamese
Welsh
Wolof
Xhosa
Yiddish
Yoruba
Zulu
মুভির নাম: "দ্য আদার্স" বা বাং বাংলা বাংলা অ বাংলা অনু বাংলা অনুবা বাংলা অনুবাদ বাংলা অনুবাদ ও বাংলা অনুবাদ ও স বাংলা অনুবাদ ও সম্পা বাংলা অনুবাদ ও সম্পাদ বাংলা অনুবাদ ও সম্পাদনা বাংলা অনুবাদ ও সম্পাদনা দে বাংলা অনুবাদ ও সম্পাদনা দেবা বাংলা অনুবাদ ও সম্পাদনা দেবাশী বাংলা অনুবাদ ও সম্পাদনা দেবাশীষ বাংলা অনুবাদ ও সম্পাদনা দেবাশীষ ক বাংলা অনুবাদ ও সম্পাদনা দেবাশীষ কর্ম বাংলা অনুবাদ ও সম্পাদনা দেবাশীষ কর্মকা বাংলা অনুবাদ ও সম্পাদনা দেবাশীষ কর্মকার বাংলা অনুবাদ ও সম্পাদনা দেবাশীষ কর্মকার বাংলা অনুবাদ ও সম্পাদনা দেবাশীষ কর্মকার
এ বার, বাচ্চারা, তোমরা ভাল করে বসেছ তো?
তা হলে আমি শুরু করছি।
"হাজার হাজার বছর আগে এই গল্পটার শুরু হয়েছিল...
কিন্তু সেটা মাত্র সাত দিনের মধ্যেই শেষ হয়ে যায়।
সেই বহু, বহু কাল আগে, আমাদের এখনকার দেখা কোনও জিনিসই ছিল না...
সূর্য, চাঁদ, তারা, পৃথিবী, জীবজন্তু আর গাছপালা...
কোনও কিছুরই অস্তিত্ব ছিল না। শুধু ঈশ্বরের অস্তিত্ব ছিল...
আর তাই শুধু উনিই এই সমস্ত জিনিসগুলোকে বানাতে পারতেন।
আর উনি তা-ই করেছিলেন।"
জার্সি, দ্য চ্যানেল আইল্যান্ডস, ১৯৪৫
মিস্টার সিম্পসন, কী অসাধারণ মানুষ ছিলেন! ওঁর কী হয়েছে তা-ই ভেবে পাচ্ছি না?
আমার মনে হয় উনি মারা গেছেন, বাকি সবার মতো।
কী অসাধারণ দিন ছিল তখন...
মিস্টার টাটেল, আপনার চুল ঠিক করুন!
গুড মর্নিং, ম্যা'ম। আমরা ওই ইয়ের ব্যাপারে এসেছি...
ও হ্যাঁ, অবশ্যই।
ভেতরে আসুন।
আমি আপনাদের এত তাড়াতাড়ি আশা করিনি।
- আপনারা...? - আমি বার্থা মিলস, ম্যা'ম...
- ...আর ইনি হলেন এডমিন্ড টাটেল। - আপনার সাথে আলাপ হয়ে ভাল লাগছে, ম্যা'ম।
- আপনি নিশ্চয়ই মালী। - হ্যাঁ, একদম ঠিক, মালী...
আর এই তরুণীটির নাম লিডিয়া।
- বাড়ির কাজে তোমার কোনও অভিজ্ঞতা আছে? - এই সুন্দর মুখ দেখে ধোঁকা খাবেন না।
- ওকে যে রকম দেখায়, তার থেকে ওর বয়স বেশি। - তুমি ইস্ত্রি করতে পারো?
কী হয়েছে? তোমার জিভ কি বিড়ালে নিয়ে গেছে?
আহ্, ও কথা বলতে পারে না, ম্যা'ম। এই ছোট্ট বেচারিটা বোবা।
কিন্তু ও খুব ভাল কাজ করতে পারে, আমি আপনাকে সেটার নিশ্চয়তা দিতে পারি।
ঠিক আছে।
ঠিক আছে। এমনিতেও আগের কাজের মেয়েটা প্রচণ্ড বাচাল ছিল। আমার সাথে এসো।
মিসেস মিলস, আপনি আর মেয়েটি উপরের তলার চিলের ছাদের ঘরে শোবেন...
- আর আপনি, মিস্টার... - টাটেল, ম্যা'ম।
টাটেল। আপনি পেছন দিককার চালাঘরে শুতে পারেন।
যেমনটা আপনারা দেখতেই পাচ্ছেন, বাড়ির কাজগুলোতে একেবারেই হাত দেওয়া হয়নি...
যবে থেকে চাকর-বাকরগুলো উধাও হয়ে গেছে, প্রায় এক সপ্তাহ হয়ে গেল।
আপনি বলতে চাইছেন ওরা এমনিই গায়েব হয়ে গেছে?
হাওয়ার মিলিয়ে গেছে। আগে থেকে কিছু বলেনি, কিচ্ছু না। ওরা ওদের টাকাপয়সাও নিয়ে যায়নি।
- ওরা... ওরা আমাদের ছেড়ে চলে গেছে, ব্যস। - কী অবাক কাণ্ড!
কখনও কখনও আপনি বুঝতে পারবেন এই বাড়িটা ঠিক এক আদর্শ বাড়ি নয়।
বহু দিন ধরেই খবরের কাগজে সৎ, কর্মঠ কাজের লোকের জন্য বিজ্ঞাপন দিয়ে আসছি।
আমাদের থেকে সৎ আর কর্মঠ লোক আপনি আর কাউকে পাবেন না।
- ঠিক বলিনি, মিস্টার টাটেল? - হ্যাঁ, আমরা খুবই সৎ।
আর... খুবই কর্মঠ।
রান্নাঘর।
আমি আটটার সময় সকালের খাবার খাই, বাচ্চারা ন'টার সময়।
দুপুরের খাবার একটার সময় আর রাতের খাবার সাড়ে সাতটায় পরিবেশন হওয়া চাই।
আর বাড়ির কর্তা, ম্যা'ম?
বাড়ির কর্তা যুদ্ধে গেছেন, প্রায় দেড় বছর হয়ে গেল।
যুদ্ধ শেষ হওয়ার পর থেকে ওর আর কোনও খবর পাইনি।
- আপনাদের মধ্যে কে রান্না করে? - আমি গভীর ভাবে ক্ষমা চাইছি, ম্যা'ম।
আপনাদের মধ্যে কে রান্না করে?
আপনারা সবাই লক্ষ্য করেছেন আমি কী করছি?
কোনও দরজাই যেন প্রথমে আগের দরজাটা বন্ধ না করে খোলা না হয়।
আপনাদের এটা মনে রাখাটা খুবই জরুরি।
ব্যাপারটা দেখে যতটা সোজা মনে হচ্ছে ততটা সোজা নয়।
এই বাড়ির পঞ্চাশটা দরজার পনেরোটা আলাদা আলাদা চাবি আছে...
কোন চাবি দিয়ে কোন দরজা খুলবে সেটা কোন সময়ে বাড়ির কোথায় আছেন তার ওপরে নির্ভর করবে।
মিসেস মিলস, কাল আমি আপনার দায়িত্বে এক সেট চাবি দিয়ে দেব।
ঠিক আছে, ম্যা'ম।
গানবাজনার ঘর। আমরা এখানে আসার সময় থেকেই এই পুরনো পিয়ানোটা এখানে ছিল।
দয়া করে বাচ্চাদের যেন এর ওপরে লাফালাফি করতে দেবেন না।
সেটা হলে আমার মাইগ্রেনের ব্যথাটা বেড়ে যাবে।
এই বাড়িতে নীরবতা জিনিসটাকে খুবই গুরুত্ব দেওয়া হয়।
তাই আমাদের কোনও টেলিফোন নেই, রেডিয়ো নেই বা শব্দ হয় এমন কিছুই নেই।
ওহ্, এই বাড়িতে বিদ্যুৎ জিনিসটিও নেই।
যুদ্ধের সময় জার্মানরা এমনিতেও ওটা বন্ধই করে রাখত, তো আমরাও ওটা ছাড়াই বাঁচতে শিখে গেছি।
- আবার শুরু করা যাক। - ম্যা'ম, আমাদেরকে গোটা বাড়িটা...
- ...ঘুরিয়ে দেখানোর সত্যিই কোনও দরকার নেই। - হ্যাঁ!
হ্যাঁ, আছে।
কেননা এই বাড়িতে, বেশির ভাগ সময়ই, আপনারা হাঁটাচলার পথ পরিষ্কার ভাবে দেখতে পারবেন না।
কোনও টেবিল, চেয়ার, দরজা, খাবারের তাক আছে কিনা দেখা যাবে না...
বা আমার বাচ্চারা লুকোচুরি খেলছে কিনা দেখা যাবে না।
আপনি ঠিক কী বলতে চাইছেন, ম্যা'ম?
হয়তো আমার আপনাদের সাথে বাচ্চাদের আলাপটা করিয়ে দেওয়া উচিত।
মিস্টার টাটেল, এ বার আপনি বাগানটা দেখুন গিয়ে। চালাঘরে আপনি যন্ত্রপাতি পেয়ে যাবেন।
ঠিক আছে, ম্যা'ম।
আপনারা এ বার পর্দাগুলো দিতে শুরু করুন। সবক'টা পর্দা।
আসুন।
আমি ওদের জাগাচ্ছি। আপনারা এখানে দাঁড়ান।
যা-ই করুন না কেন, পর্দাগুলো যেন খুলবেন না।
উঠে পড়ো সোনারা!
[গৃহকর্ত্রী]: এ বার, এসো। চোখ বন্ধ করো, একে অপরের হাত ধরে থাকো।
[বাচ্চাদের গলা]: হে যিশু, এখন আমি যার নামে প্রার্থনা করছি, তাকে দিনের আলোতে আশীর্বাদ করো।
[বাচ্চাদের গলা]: নিষ্পাপ সেই বিশুদ্ধতাকে আশীর্বাদ করো যাকে আমি প্রত্যয়ের সাথে স্বাগত জানাচ্ছি।
[বাচ্চাদের গলা]: যিশু, মেরী, নিষ্কলঙ্ক গোলাপ, এই দিনটা শেষ হওয়ার আগে পর্যন্ত আমাদের বাঁচিয়ে রেখো।
ওরা এখনও ঘুমের মধ্যে রয়েছে।
কী ছোট্ট মিষ্টি বাচ্চা আপনার!
বেশ? তোমরা কী বলবে?
আপনি কেমন আছেন?
আপনি কেমন আছেন?
তোমরা কেমন আছ, সোনারা?
আমি মিসেস মিলস, কিন্তু তোমরা যদি চাও তো আমাকে বার্থা বলে ডাকতে পারো।
তোমাদের নাম কী?
- অ্যান। - নিকোলাস।
অ্যান আর নিকোলাস। কী সুন্দর নাম!
আপনি কি আমাদের নতুন ন্যানি (আয়া)?
- হ্যাঁ, আমার সোনারা। আমি তোমাদের নতুন ন্যানি। - ওদের সকালের খাবারের সময় হয়ে গেছে।
লিডিয়া, তুমি রান্নাঘরে গিয়ে প্রত্যেকটা দরজা-জানলা বন্ধ করো।
- ডাক্তাররা আরোগ্যের উপায় বার করতে পারেনি। - কীসের আরোগ্য?
ওদের অবস্থার।
আমার বাচ্চাদের আলোতে প্রচণ্ড অ্যালার্জি রয়েছে।
ওরা আলো-সংবেদনশীল আর এর থেকে বেশি আলোতে ওদের বের করা যাবে না।
না হলে, কয়েক মিনিটের মধ্যেই, ওদের সারা গায়ে ফোড়া আর ফোসকাতে ভর্তি হয়ে যাবে...
আর দম বন্ধ হয়ে আসতে শুরু করবে। শেষে গিয়ে সেটা মারাত্মক আকার ধারণ করবে।
হে ঈশ্বর!
- এই টোস্টটা খেতে আমার ভাল লাগছে না। - কেন?
এর স্বাদটা অদ্ভুত লাগছে। এর আগেরগুলো খেতে ভাল লাগত।
বেশ, তার কারণ হল আগে, অন্য কেউ এটা বানাত।
ওরা কবে আসবে?
ওরা আর আসবে না, সোনা।
ঠিক বাবার মতো।
বাবা যদিও ফিরে আসছে।
মিসেস মিলস, জানেন, আমাদের বাবা ফ্রান্সে একটা যুদ্ধে লড়াই করছে।
- ওটা বিশ্বযুদ্ধ। - জানি, কিন্তু বাবা ফ্রান্সে আছে।
যথেষ্ট বাজে বকা হয়েছে, গল্পের ঝুলিরা। তোমাদের খাবারগুলো শেষ করো।
আপনিও কি আমাদের ছেড়ে চলে যাবেন?
মোটেই না। কেনই-বা আমি তোমাদের ছেড়ে চলে যাব?
অন্যরাও বলেছিল ওরা যাবে না। কিন্তু ওরা গেছে। আর তার পরেই ওটা হয়েছিল।
চুপ কর!
এ তুমি কী বলছ, অ্যান? কী হয়েছিল?
মা'র মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছিল।
- কিছুই হয়নি। - হ্যাঁ, হয়েছে।
- না, হয়নি! - হ্যাঁ, হয়েছে!
চুপ করো!
কী হচ্ছে এখানে?
এক মিনিটের মধ্যে যেন এই প্লেটগুলো খালি হয়ে গেছে দেখি। বোঝা গেল আমি কী বলেছি?
মিসেস মিলস, আপনি একটু বাইরে আসবেন, আপনার সাথে আমার কয়েকটা কথা বলার আছে।
আসছি, ম্যা'ম।
পিয়ন সাধারণত প্রতি বুধবার আসে...
কিন্তু আমি এই সবেমাত্র চিঠির বাক্সটা দেখে এলাম আর এই সপ্তাহে পিয়ন আসেনি।
- মাফ করবেন, আমি ঠিক বুঝতে পারলাম না, ম্যা'ম। - এই চিঠিটা পাঁচ দিন আগে পিয়নের নিয়ে গিয়ে...
খবরের কাগজের অফিসে জমা দেওয়ার কথা।
বিজ্ঞাপনের কলামে। এটা যখন ছাপানোই হয়নি...
- ...আপনারা এখানে কী ভাবে এলেন বলবেন? - এ বার আমি বুঝতে পেরেছি।
ঠিক এই কথাটাই দরজা খোলার সময় আপনাকে বলতে যাচ্ছিলাম।
সত্যিটা হল যে আমরা এখানে একেবারে আশাতীত ভাবে সুযোগ পেয়ে গেছি।
এ রকম ধরনের একটা বড় বাড়িতে সব সময়ই কাজ জানা লোকের প্রয়োজন হয়।
আপনি বলতে চান আপনি এ রকম ধরনের বাড়িতে আগেও কাজ করেছেন?
আপনার হয়তো এটা শুনে বেশ অবাকই লাগবে, কিন্তু...
আমরা, সত্যি কথা বলতে কী, এখানে কাজ করতাম।
- এখানে? - বেশ কয়েক বছর আগেকার কথা।
আর আপনি যদি আমার কথায় কিছু মনে না করেন তো বলি, ওই সময়টা আমার জীবনের সবথেকে সেরা সময় ছিল।
সে জন্যই আমরা এসেছি, কেননা এই বাড়িটা আমাদের কাছে বাড়ির থেকেও অনেক বেশি কিছু।
হয়তো আমাদের শংসাপত্রগুলো দেখালে সবচেয়ে ভাল হবে, ম্যা'ম।
চিন্তা করতে হবে না, তার কোনও প্রয়োজন নেই। তো আপনি এই বাড়িটাকে ভাল ভাবে জানেন?
আমার হাতের তালুর মতো।
যদি না এর মধ্যে দেওয়ালগুলোর পা গজিয়ে নড়াচড়া করতে আরম্ভ না করে তো!
এখানে শুধুমাত্র যে জিনিসটা নড়াচড়া করে সেটা হল আলো।
কিন্তু সেটা সব কিছু বদলে দেয়।
বরং কম বলাটাও খুব কঠিন।
এক জন হয়তো প্রায়ই বলে...
অসহ্য।
এটাকে সহ্য করার একমাত্র উপায় হল মাথা ঠাণ্ডা রেখে যাওয়া।
- ওহ্, হ্যাঁ, ম্যা'ম। - আমি উদ্ভট কল্পনা ভালবাসি না।
অদ্ভুত ধারণা। বুঝতে পারছেন আমি কী বলছি?
- মনে হয় পারছি, ম্যা'ম। - আমার বাচ্চাদের মাথায় কখনও কখনও অদ্ভুত ধারণা আসে।
কিন্তু আপনি ওদের কথায় কোনও রকম কান দেবেন না। বাচ্চারা বাচ্চাই হয়।
হ্যাঁ, অবশ্যই, ম্যা'ম।
ঠিক আছে...
আপনারা থাকতে পারেন।
অনেক ধন্যবাদ, ম্যা'ম।
ওটা কিন্তু হয়েছিল।
"রোমের রাজ্যপাল তাদের মন পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছিল পরবর্তী কালে...
"তাদের মন পরিবর্তন করার চেষ্টা করেছিল", দাঁড়ি।
- "পরবর্তী কালে..." - "পরবর্তী কালে...
রাজ্যপাল তাদেরকে প্রহার করার আদেশ দেয়। কিন্তু জাস্টিস আর পাস্তুর, ভয় পাওয়ার থেকে অনেক দূরে ছিল...
উল্লাস প্রকাশ করে তাদেরকে দেখিয়ে দিতে চাইছিল তারা যিশুর জন্য মৃত্যুবরণ করতেও রাজি।
এই সব দেখার পর, রোমের রাজ্যপাল ক্রোধে অগ্নিশর্মা হয়ে উঠল...
আর ওদের শিরচ্ছেদ করার আদেশ দিল।"
এতে এত মজার কী খুঁজে পেলে?
বেশ...
- বেশ, কী? - ওই বাচ্চাগুলো এক-একটা আস্ত গাধা ছিল।
- কেন? - ওরা বলল ওরা যিশুকে বিশ্বাস করে...
আর তার পরে ওদেরকে সেটার জন্য মেরে ফেলা হয়।
- আর তুমি কি যিশুকে অস্বীকার করো? - বেশ, হ্যাঁ।
ভেতরে ভেতরে আমি হয়তো তাকে বিশ্বাস করতাম। কিন্তু আমি সেটা রোমানদের কাছে বলতাম না।
তোমারও কি এমনটাই মনে হয়, নিকোলাস?
আচ্ছা।
তো তোমরা দু'জনেই মিথ্যে বলতে, যিশুকে অস্বীকার করার ব্যাপারটায়।
তোমরা হয়তো তোমাদের মাথাগুলোকে ধড় থেকে আলাদা হওয়া থেকে বাঁচাতে পারতে, সেটা সত্যি...
- ...কিন্তু তার পরে কী হতো? - কখন?
পরের জীবনে, আমাদের মারা যাওয়ার পর। তোমরা কোথায় যেতে?
- কোথায়, নিকোলাস? - নরকের সীমান্ত অঞ্চলে, যেখানে বাচ্চা আত্মারা থাকে।
এই নরকের সীমান্ত অঞ্চলটা কী?
- চারটে নরকের মধ্যে একটা নরক। - যা হল...?
- আমি! আমি বলব! - না, ওকে বলতে দাও। যা হল?
এক হল নরক, যেখানে অভিশপ্তরা যায়, তার পর আছে ছোটখাটো পাপমোচনের অঞ্চল...
আর তার পর আছে আব্রাহামের অন্তরস্থল, যেখানে ভাল লোকেরা যায়...
- ...আর সীমান্ত অঞ্চলে বাচ্চারা যায়। - পৃথিবীর কেন্দ্রস্থলে।
যে জায়গাটা প্রচণ্ড, প্রচণ্ড গরম।
যে সব বাচ্চারা মিথ্যে বলে তারা ওখানেই যায়। কিন্তু সেটা কয়েক দিনের জন্য নয়, মোটেই নয়।
না, তাদের অভিশাপ দেওয়া হয়, চিরকালের জন্য।
সেটার ব্যাপারে এক বার ভেবে দেখো।
অনন্তকালের শেষটা কল্পনা করার চেষ্টা করো।
চোখ বন্ধ করো, চোখ বন্ধ করে সেটা কল্পনা করার চেষ্টা করো।
চিরকালের জন্য...
ব্যথা। চিরকালের জন্য।
আমার মাথা ঘুরতে শুরু করেছে।
এ বার বুঝতে পেরেছ জাস্টিস আর পাস্তুর কেন সত্যি কথা বলেছিল?
ঠিক আছে।
- তোমাদের বইয়ের ছ'নম্বর উপদেশ বের করো। - আমরা কি গিয়ে একটু খেলতে পারি না?
কোনও মতেই পারো না। প্রথমে তোমরা উপদেশটা পড়বে...
- ...আর তার পর সেটা হৃদয় দিয়ে বুঝবে। - পুরোটা?
অ্যান, আর এক বার আপত্তি দেখালে আজ সারা দিন খেলাধুলো পুরোপুরি বন্ধ।
সত্যি বলতে, মনে হয় তোমরা দু'জনে আলাদা আলাদা ঘরে পড়াশোনা করতে পারবে...
- কিন্তু আমরা আলাদা থাকলে ভয় লাগে তো! - তোমাদের ভয় লাগে?
যেন মনে হচ্ছে তোমরা এই বাড়িতে নতুন এসেছ।
যদি আমরা কোনও ভূত দেখি তো?
- তোমার দিদি কি তোমাকে গল্প বলা শুরু করেছে? - আমি ওকে কিচ্ছু বলিনি।
যদি তোমরা কোনও ভূত দেখো, "কেমন আছেন" বলে আবার পড়তে শুরু করবে।
- আমার সাথে গানবাজনার ঘরে চলো। - আমিই কেন?
কারণ আমি বলেছি বলে! এ বার এসো, বইপত্র সব নিয়ে নাও।
নিকোলাস, এক ঘণ্টার মধ্যে যেন ওই উপদেশটা মুখস্থ হয়ে যায়।
- মা? - কী?
- আমাকে একটা চুমু খাও। - "আমাকে একটা চুমু খাও, আমাকে একটা চুমু খাও..."
- অ্যান, তুমি বাইরে গিয়ে দাঁড়াও। - তুমি জানো আমি সেটা পারব না।
ও দিকে গিয়ে দাঁড়াও।
মিসেস মিলস, সবক'টা পর্দা দিয়ে দিন।
আমার মেয়ে বৈঠকখানা পেরিয়ে যাবে।
ঠিক আছে, ম্যা'ম।
ঠিক আছে, অ্যান।
সোনা, মা তোমার সাথে সব সময় থাকতে পারবে না।
তোমাকে একা একা থাকতে শিখতে হবে।
তোমার মালাটা কোথায়?
যখনই তোমার ভয় লাগবে...
আমি চাই তখন তুমি তোমার গায়ের সমস্ত শক্তি দিয়ে এটা চেপে ধরে আমাদের পরম পিতার কাছে প্রার্থনা করো।
আর তার পরেই দেখবে তোমার সমস্ত ভয় দূর হয়ে গেছে।
- দূর হবে না। - হ্যাঁ, হবে। সত্যি বলছি।
তুমি কি দেখতে পাও না যে যখনই তুমি ওটা করো, ঈশ্বর তোমার সঙ্গে থাকেন?
ভয় পাওয়ার কোনও কারণই নেই।
"দ্য হাউজ অ্যান্ড দ্য ফ্যামিলি।
আমরা সবাই আমাদের পরিবারের সাথে একটা বাড়িতে থাকি।
এতে সাধারণত বাবা-মা, বাচ্চা, আর তাদের বাবা-মা'র বাবা-মা থাকে।
আমাদের অতি অবশ্যই আমাদের পরিবারের...
অন্যান্য সদস্যের প্রতি বাধ্য এবং দয়াশীল হতে হবে।
আর আমরা যেন কখনওই আমাদের ভাইবোনদের সাথে তর্কাতর্কি বা মারামারি না করি।"
- আপনার কোনও ছেলেমেয়ে আছে? - না।
মিস্টার টাটেল আর ওই মেয়েটি, লিডিয়া, এরা দু'জনই আমার সব কিছু।
- আর আমিও ওদের কাছে সব কিছু। - ও কি জন্ম থেকেই ও রকম?
মাফ করবেন, ম্যা'ম?
ওই মেয়েটি, ও কি জন্ম থেকেই বোবা?
না।
মনে হয় আমার এখানের কাজ শেষ হয়ে গেছে, ম্যা'ম।
যদি আমাকে অনুমতি দেন তো, আমি গিয়ে দেখি মিস্টার টাটেলের কোনও সহায়তা লাগে কিনা।
নিকোলাস!
নিকোলাস, আমি আসছি!
- নিকোলাস? - কী হয়েছে?
- তুমি কাঁদছিলে কেন? - আমি মোটেই কাঁদছিলাম না। আমি তো পড়ছিলাম।
কিন্তু আমি এখনই শুনলাম তুমি... অ্যান! অ্যান!
অ্যান!
অ্যান!
আমার এখনও মুখস্থ হয়নি, মা।
- তুমি ঠিক আছ? - হ্যাঁ।
- তুমি কাঁদছিলে কেন? - আমি মোটেই কাঁদছিলাম না।
কিন্তু আমি তোমাকে কিছু ক্ষণ আগেই কাঁদতে শুনেছি।
কাঁদায় লজ্জার কিছু নেই, সোনা।
আমি কাঁদছিলাম না। যদি কাঁদতাম, তোমাকে বলেই দিতাম।
- সত্যি? তো আমি কল্পনা করেছি, তাই না? - না। ওই ছেলেটা কাঁদছিল।
- কোন ছেলে? - ভিক্টর।
ভিক্টর আবার কে?
যে ছেলেটা এখানে কিছু ক্ষণ আগে ছিল।
আমি ওকে বললাম আমাকে পড়তে দাও, কিন্তু ও কান্না থামাচ্ছিলই না।
আমার মনে হয় ও একটা বিগড়ে যাওয়া ছেলে।
ও আমাকে বলল আমাদের নাকি এই বাড়ি ছেড়ে চলে যেতে হবে।
তাই নাকি? ও কাঁদছিল কেন?
কারণ ওর বাড়িটা পছন্দ নয়, কিন্তু ওকে এখানেই থাকতে হবে।
- ওর বাবা পিয়ানো বাজায় আর... - ওর বাবা পিয়ানো বাজায়, তাই না?
হ্যাঁ। আর আমি ওকে আগেও বলেছি ওর পিয়ানোতে হাত দেওয়ার অনুমতি নেই।
ঠিক বলিনি, বলো, মা?
তো, তোমার সাথে ওর বাবারও কথা হয়েছে?
না, শুধু ভিক্টরের সাথে। ওর বাবা হলঘরে অন্যদের সাথে আছে।
কিন্তু আমি এই সবেমাত্র হলঘর থেকে এলাম, কিন্তু ওখানে তো কেউ-ই নেই।
ওরা নিশ্চয়ই উপর তলায় চলে গেছে। ওরা বাড়িটাকে ঘুরে ঘুরে দেখছে।
হয়েছে, অ্যান। যথেষ্ট হয়েছে।
- এ বার বলো, তুমি কাঁদছিলে কেন? - ভিক্টর কাঁদছিল।
- তো এখন ও কোথায় আছে? - ও ওখান দিয়ে চলে গেছে।
তুমি আমাকে বলতে পারো কী করে একটা বাচ্চা ছেলে তালা দেওয়া একটা ঘরে ঢুকে আবার বেরিয়ে যেতে পারে?
আমি ভেবেছিলাম আমি একটা কথা পরিষ্কার করে বোঝাতে পেরেছি:
আগের দরজাটা প্রথমে বন্ধ না করে যেন কোনও দরজা খোলা না হয়।
এটা বোঝা কি এতটাই কষ্টকর?
এই বাড়িটা একটা জাহাজের মতো। আলোকে এখানে জল বলে ধরে নিতে হবে, যেন...
দরজা খোলা বন্ধ করার ওপর তার ভেতরে ঢোকাটা নির্ভর করছে।
- আমার বাচ্চারা বিপদসীমার মধ্যে বেঁচে আছে! - কিন্তু, ম্যা'ম, আমি তো...
আমার সাথে তর্ক করবেন না! চুপ থাকুন!
এ বার, আপনাদের মধ্যে কোন জন ওই ঘরটায় ঢুকেছিলেন? লিডিয়া?
ওর কাছে কোনও চাবি নেই, আমি আপনাকে আগেই সেটা বলেছি।
- বেশ, তা হলে তো আপনিই বাকি রইলেন। - কিন্তু আমি তো গোটা সময়টা হলঘরেই ছিলাম।
আর তার পর আমি বাগানে গিয়েছিলাম। আপনি নিজের চোখেই দেখেছেন সেটা।
আশা করি আপনি এটা বলছেন না যে ওটা আমি ছিলাম!
আপনার মনে হয় যে আমি আমার নিজের মেয়ের জীবন বিপদের মুখে ঠেলে দেব?
খাওয়ার টেবিলে তোর গল্পের বই পড়াটা উচিত হচ্ছে না।
ওহ্ তাই নাকি? আর সেটা মা'কে কে বলতে যাচ্ছে শুনি? তুই?
বা হয়তো তুমি?
তুই কি সত্যিই কোনও ছেলেকে দেখেছিস?
হ্যাঁ, ওর নাম ভিক্টর।
- ও কি ভূত? - বোকার মতো কথা বলিস না তো।
- ভূতেরা ও রকম হয় না। - ওরা কী রকম হয়?
আমি তোকে হাজার বার বলেছি, ওরা সাদা চাদর পরে আর সাথে শিকল নিয়ে ঘোরে।
- তুই জানলি কী ভাবে? - কেননা আমি ওদের দেখেছি।
ওরা রাতের বেলা বের হয়।
গুলবাজ কোথাকার! কোথায় দেখেছিস?
- তুই একটা আস্ত গাধি। - তোর মতো অতটাও নই।
- আমি বিশ্বাস করি না তুই ওই ছেলেটাকে দেখেছিস বলে। - যা খুশি বিশ্বাস কর গিয়ে।
খুব তাড়াতাড়িই তুই আমাদের সাথে তোকে খেলতে নেওয়ার জন্য পায়ে ধরবি।
নিকোলাস। নিকোলাস।
কী হয়েছে?
দ্যাখ্।
তুই পর্দাগুলো কেন খুলেছিস?
- আমি খুলিনি। - তা হলে কে খুলেছে?
ভিক্টর খুলেছে। ও সারা রাত ধরে ও রকমটা করে যাচ্ছে।
- মিথ্যুক কোথাকার। আমি মা'কে বলতে যাচ্ছি দাঁড়া। - তো আমি মিথ্যুক, তাই না?
ভিক্টর, পর্দার পেছন থেকে বেরিয়ে এসো যাতে আমার ভাই তোমাকে দেখতে পারে।
- আমাকে একা ছেড়ে দে। - তুই ওকে এখন দেখতে চাস না?
তুই একটা ভীতু দুধুভাতু কোথাকার! ভীতু, ভীতু দুধুভাতু!
ভীতু, ভীতু দুধুভাতু!
তা হলে, আমি নিজেই যাচ্ছি'খন।
অনেক হয়েছে, ভিক্টর!
নিকোলাস। ওকে বল পর্দাগুলো দেওয়া বন্ধ করতে। ও কথা শুনছে না।
অনেক হয়েছে! আমার বিছানা থেকে নেমে যাও, তোমরা দু'জনেই!
- এটা আমাদের বিছানা। - না, এটা আমার।
অ্যান, প্লিজ ও রকম গলা করে বলাটা বন্ধ কর।
তুই চুপ থাক, ভীতু দুধুভাতু কোথাকার।
শোনো, তুমি যদি চুপ না করো, আমি আমার মা'কে ডাকব আর মা তোমাকে লাথি মেরে বের করে দেবে।
- তুমি আমার মা'কে তো চেনো না! - আর তুমিও আমার বাবা-মা'কে চেনো না।
অ্যান, আমি তোর কথা মা'কে বলতে যাচ্ছি।
বোকামি করিস না তো! তুই কি দেখতে পাচ্ছিস না ওটা আমি নই?
ভিক্টর, ওর গালে হাত দাও যাতে ও বুঝতে পারে তুমি সত্যিই আছ।
[নিকোলাস]: বাঁচাও! মা!
[নিকোলাস]: মা! বাঁচাও! - কী হয়েছে? কী হয়েছে?
- কী হয়েছে? - ও আমাকে ভয় দেখাচ্ছে...
- ...আর আমি ওকে যতই বলছি চুপ কর... - আমি হাঁপিয়ে উঠেছি! শুনছিস আমি কী বলছি?
- তোর কাণ্ডকারখানায় আমি হাঁপিয়ে উঠেছি! - আমি কিছুই করিনি!
"অতএব মহান প্রভু তাকে ইডেন উদ্যান থেকে পাঠিয়ে দিলেন...
একেবারে ভূমি পর্যন্ত যেখান থেকে তাকে নিয়ে আসা হয়েছিল।
তো উনি লোকটিকে বিতাড়িত করলেন:
আর দেবদূতদের উদ্যান ইডেনের পূর্ব দিকে জায়গা দিলেন...
আর একটি জ্বলন্ত তরবারি দিয়ে জীবনের গাছ থেকে দূরে রাখলেন।"
হয়ে গেছে! পড়া শেষ।
খুব ভাল।
এ বার তুমি কুমারী মেরীর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনা করতে পারো।
কী? আমাদের মধ্যে তো এ রকম কোনও কথা হয়নি।
আমাদের মধ্যে কোনও রকমেরই কথা হয়নি, পুঁচকে মেয়ে।
আজ সারা দিন তোমার শাস্তি চলবে। তুমি তা-ই করবে যা আমি করতে বলব।
তুমি আমাকে কুমারী মেরীর কাছে ক্ষমাপ্রার্থনার জন্য বলতে পারো না।
- তোর এত সাহস কী করে হয়? - মা, আমি এমন কিছুর জন্য ক্ষমাপ্রার্থনা...
চাইব না যেটা আমি করিনি।
তুই তোর ভাইকে বলেছিস যে ঘরে অন্য আর এক জনও আছে!
- তাই ছিল! - তুই মিথ্যে কথা বলছিস!
আমি মোটেই মিথ্যে বলছি না।
অ্যান, তোর জাস্টিস আর পাস্তুরের গল্পটা মনে আছে?
যে বাচ্চারা সত্যি কথা বলে না তাদের জীবনটা নরকের সীমান্ত অঞ্চলে গিয়ে শেষ হয়।
সেটা তুমি বলো। কিন্তু আমি সে দিন পড়েছি যে...
নরকের সীমান্ত অঞ্চল হচ্ছে শুধুমাত্র খ্রিস্টধর্মে দীক্ষিত না হওয়া বাচ্চাদের জায়গা।
আর আমার দীক্ষা নেওয়া হয়ে গেছে।
[অ্যান]: "আর আব্রাহাম জ্বলন্ত অর্পণের কাঠ নিয়েছিল...
[অ্যান]: আর সেটা আইজ্যাকের ওপর দিয়ে দেয়, তার নিজের ছেলের ওপর।
[অ্যান]: আর ও হাতে করে আগুন নেয়...
[অ্যান]: আর একটা ছুরি নেয়; আর ওরা দু'জনে একসাথে চলে যায়।
[অ্যান]: আর আইজ্যাক ওর বাবা আব্রাহামের সাথে কথা বলে, বলে যে...
[অ্যান]: আমার পিতা: আর উনি বলেন, আমি এখানে, পুত্র। আর..."
- আপনি নিকোলাসকে দেখে এসেছেন? - হ্যাঁ, ম্যা'ম।
ছোট্ট দেবশিশুটি খুব তাড়াতাড়িই ঘুমিয়ে পড়েছে।
- আর অ্যান? এখনও সিঁড়ির ওপর বসে আছে? - ওহ্ হ্যাঁ, ম্যা'ম।
ওকে আমার দেখতে ইচ্ছে করছে, কিন্তু আমি আবার কম আলোতে সেলাই করতে পারব না।
এই শাস্তিটা আর কত দিন চলবে? আজ নিয়ে তিন দিন তো হয়ে গেল।
সেটা ওর ওপর নির্ভর করছে।
ওকে ওর অহংকার দমন করা শিখতে হবে আর ক্ষমা চাইতে হবে।
যাই হোক, ও সময় মতোই বাইবেল পড়া শুরু করেছে।
- ধর্মযাজক এ কথা শুনে খুবই খুশি হবেন। - যদি উনি এখানে কখনও আর এক বার আসেন তো।
উনি খুব ভাল ভাবেই জানেন বাচ্চারা বাইরে যেতে পারবে না।
উনি আমাকে কালকে বলেছিলেন উনি আসবেন, যত তাড়াতাড়ি সম্ভব।
আমার মনে হতে শুরু করেছে আমি যেন পৃথিবী থেকে একেবারে বিচ্ছিন্ন হয়ে পড়েছি।
আর কুয়াশা তো একেবারে মড়ার ওপরে খাঁড়ার ঘা'র কাজ করছে। এর আগে কখনও এত দিন কুয়াশা থাকেনি।
ঠিকই বলেছেন, ম্যা'ম।
এমনকী শঙ্খচিলগুলোও একেবারে শান্ত হয়ে গেছে।
অ্যান! অ্যান, আমি কিন্তু গলার আওয়াজ পাচ্ছি না!
ঘটনাক্রমে, আমার মাথার ওপর লিডিয়ার ওই নাচতে থাকার শব্দটাও বন্ধ করতে হবে।
বার-বার শব্দ করতে করতে সামনে-পিছনে চলা, যেন মনে হচ্ছে...
এক জন না তিন জন লোক হাঁটছে!
ওকে সামান্য ঝাড়াপোঁছার কাজে পা দিয়ে দুমদুম শব্দ করতে বারণ করুন।
- আর এক বার মাইগ্রেনের ব্যথা উঠলে কিন্তু আমি সইতে পারব না। - আমি ওকে বলছি, ম্যা'ম।
ধন্যবাদ।
এ বার ও খুবই বাড়াবাড়ি করতে আরম্ভ করেছে।
লিডিয়া! লিডিয়া!
[অ্যান]: "...ঈশ্বরের পর্বতে ওটাকে দেখা যাবে।
[অ্যান]: আর ঈশ্বরের দেবদূত..." - ওপরে কী হচ্ছে?
কিচ্ছু না, মা। আমি তো পড়ছি, যেমনটা তুমি বলেছিলে।
- তুইও কি আওয়াজটা শুনতে পেয়েছিস? - কী শুনতে পেয়েছি?
"এবং দেবদূতটি দ্বিতীয় বারের জন্য আব্রাহামকে ডাকল, এবং বলল:
'আমি প্রতিজ্ঞা করছি, হে পরম পিতা'..."
- ওটা কী ছিল? - আমি জানি না।
অ্যান, আমাকে বল কে ওই আওয়াজটা করছে?
- আমি তোমাকে বলতে পারব না, মা। - তুই আমাকে বলবি!
আমি তোমাকে বলেছিলাম যে ঘরে কেউ এক জন ছিল আর তুমি আমাকে তার জন্য শাস্তি দিয়েছ!
- এখন আমি বুঝতে পারছি না আমি কী বলব! - অ্যান, আমি সত্যিটা জানতে চাই!
উপরের তলায় যদি কেউ থেকে থাকে তা হলে আমাকে সেটা বল।
ওখানে। ওই বাড়তি জিনিসের ঘরটায়।
মা, তোমার জন্য ভেতরে আলো আসছে!
ও এখানে আছে, ও এখানে আছে।
মা, মেয়েটা বলছে ও এখানে আছে।
ও আমাদের দেখছে। ও আমাদের দেখছে!
- ওরা কোথায় গেছে? - ওরা এ দিক দিয়ে গেল। তুমি দেখোনি?
কোন দিকে গেছে ওরা?
ও দিকে, ও দিকে। আর ওই নীচেও আছে।
ওরা সব জায়গায় আছে। ওরা বলছে এই বাড়িটা নাকি ওদের।
আর ওরা এটাও বলছে ওরা নাকি পর্দাগুলো নামিয়ে রাখবে।
- ম্যা'ম, দয়া করে শান্ত হোন। - আমি মোটেই শান্ত হব না!
পাঁচ বছর ধরে আমি এই বাড়িটাতে একটাও নাৎসিকে ঢুকতে দিইনি!
আর এখন এই বাড়িতে কেউ এক জন আছে, দরজাগুলোকে সমানে খোলাপড়া করে যাচ্ছে!
ম্যা'ম, এই বাড়িটা খুবই পুরনো।
মেঝে থেকে কিচকিচ শব্দ হয়, জলের পাইপে ঝনঝন আওয়াজ হয় আর...
আমি আপনাকে বলছি, আমি গলার আওয়াজ শুনেছি।
- মা, দ্যাখো। - এক বাচ্চা ছেলে আর এক জন মহিলা...
- ...ওরা একসাথে কথা বলছিল। - মা, দ্যাখো।
আমি এটা কাল করেছি।
এটা হল বাবা, এটা হল মা, ভিক্টর আর এটা হল একটা বয়স্ক মহিলা।
- এই সংখ্যাগুলোর মানে কী? - যত বার আমি ওদের দেখেছি।
বয়স্ক মহিলাটাকেই বেশির ভাগ সময় দেখি।
হে ঈশ্বর!
মিস্টার টাটেলকে ডাকুন। অন্ধকার হওয়ার আগে আমাদেরকে গোটা বাড়িটাতে ভাল করে খুঁজে দেখতে হবে।
ঠিক আছে, ম্যা'ম।
- মা! - হ্যাঁ, সোনা। সব ঠিক আছে।
যত ক্ষণ মা এখানে আছে তোমার কিচ্ছুটি হবে না।
দ্যাখো মা, একে দেখে আমার সত্যিই ভয় করছে।
যেন ও তোমার দিকে দেখছে না, কিন্তু তা-ও তোমাকে দেখতে পাচ্ছে।
আর ও সব সময়ই আশেপাশে বলে বেড়ায়: "আমার সাথে এসো"।
- অ্যান, আমার কাছে মিথ্যে কথা বলিস না! - সত্যি বলছি, মা।
আর ও আমাকে অনেক কথা জিজ্ঞেস করে। ভিক্টর আমাকে বলেছে ও নাকি একটা ডাইনি।
- ও তোকে কী জিজ্ঞেস করে? - নানান কথা।
ওর মুখে বিচ্ছিরি গন্ধ।
আমাদেরকে সবক'টা পর্দা খুলতে হবে।
আমি কোনও অন্ধকার কোণা চাই না যেখানে কেউ লুকিয়ে থাকতে পারে।
আপনারা দু'জন বাড়ির ডান দিকটা খুঁজুন আর আমি বাঁ-দিকটা খুঁজছি।
তার পর উপর তলা খুঁজে দেখব।
হয়তো এরা সেই ভূত যারা এই বাড়িটাতে আগে থাকত আর যারা...
গাধামো করিস না তো। আমি তোকে আগেই বলেছি।
ভূতেরা সাদা চাদর মুড়ি দিয়ে ঘোরে আর হাতে শিকল থাকে আর...
অ্যান, তুমি এমন সব গল্প কেন বানাচ্ছ বলো তো?
আমি বানাচ্ছি না। আমি এগুলো বইয়ে পড়েছি।
বেশ, বইয়ে যা যা লেখা থাকে তার সব কিছু বিশ্বাস করাটা উচিত নয়।
সেটা আমাদের মা'ও বলে।
মা বলে যে ভূতের ব্যাপারে যা-যা লেখা আছে সব নাকি ফালতু কথা।
আর তার পর মা আশা করে আমরা বাইবেলে যা-যা লেখা আছে তার সব কিছু বিশ্বাস করব।
- আর তুমি সেটা করো না? - আমি কিছু কিছু জিনিসে বিশ্বাস করি।
কিন্তু, উদাহরণ হিসেবে বলছি, আমি বিশ্বাস করি না ভগবান এই পৃথিবীটাকে সাত দিনে বানিয়েছে।
আর আমি এটাও বিশ্বাস করি না যে নোয়া সমস্ত জীবজন্তুদের একটা নৌকোয় তুলেছিল।
বা পবিত্র আত্মা একটা ঘুঘু।
- না, আমিও সেটা বিশ্বাস করি না। - ঘুঘু পবিত্র বাদে আর সব কিছুই হতে পারে।
ওরা আমাদের জানলায় "ইয়ে" করে।
এ সব কথার একটাও কি তোমরা কখনও তোমাদের মা'কে বলেছ?
ম্যা'ম?
ওরা সমস্ত জায়গায় খুঁজে দেখেছে। কেউ নেই।
আচ্ছা।
মিসেস মিলস?
হ্যাঁ, ম্যা'ম?
আপনার কি কোনও ধারণা আছে এটা কী হতে পারে?
- এটা একটা ফটোগ্রাফ অ্যালবাম, ম্যা'ম। - না, এরা সবাই ঘুমিয়ে আছে।
দেখুন।
এরা ঘুমিয়ে নেই, ম্যা'ম। এরা মারা গেছে।
এটা একটা "মৃতদের বই"।
গত শতাব্দীতে, লোকজনেরা মৃতদের ছবি তুলে রাখত...
এই ভেবে যে তাদের আত্মা এই ছবির মাধ্যমে বেঁচে থাকবে।
এখানে এমনকী একসাথে দু'-তিন জনেরও ফটো আছে।
আর বাচ্চাদেরও আছে!
এ তো খুবই ভয়ঙ্কর ব্যাপার।
এই লোকগুলো এত কুসংস্কারাচ্ছন্ন হতে পারে কী ভাবে?
মৃত্যুর শোক মানুষকে অনেক অদ্ভুত অদ্ভুত কাণ্ডকারখানা করার দিকে নিয়ে যায়।
- এটাকে দূর করুন। আমি চাই না এটা এখানে থাকুক। - ঠিক আছে, ম্যা'ম।
মিসেস মিলস, ভালই ঠাণ্ডা পড়েছে। আগুনের পাশে এসে বসুন।
অনেক ধন্যবাদ, ম্যা'ম।
তো, আমাকে আপনার আগে এখানে কাজ করার সময়কার কথা বলুন।
তখনও কি আপনাকে বাচ্চার দেখাশোনা করতে হতো?
না, আমি বাড়ির কাজের লোকেদের মূল দায়িত্বে ছিলাম।
- অনেক কাজের লোক ছিল? - প্রায় পনেরো জন।
- শেষে আমরা মাত্র তিন জন রয়ে গেলাম। - কেন?
আমার মনিবেরা লন্ডনে চলে গিয়েছিলেন।
দিনে দিনে ওঁরা এখানে আসা কমিয়ে দিতে লাগলেন, শেষে একেবারে বন্ধ হয়ে গেল।
আর তাই ক্রমে ক্রমে বাড়িটা একেবারে খালি হয়ে গেল।
শেষে একে একে এই অভিশপ্ত দ্বীপটা ছেড়ে সবাই চলে গেল।
আমার পরিবার ১৯৪০ সালের গরম কালে চলে গিয়েছিল, যুদ্ধ শুরু হওয়ার কিছু দিন আগেই।
ও-ই শেষ বারের মতো আমি ওদের দেখেছিলাম।
আমি ওদের দোষ দিই না।
আসলে, আমরাও চলে গিয়েছিলাম।
যদিও কখনও কখনও আপনি যখন একটা জায়গা ছেড়ে চলে যান...
মনে হয় যেন সেই জায়গাটা আপনার সাথেই আছে, সব সময়ের জন্য।
আমার সব সময়ে মনে হয়েছে আমি যেন কখনওই এই বাড়িটা ছেড়ে যাইনি।
আপনি চলেই-বা গিয়েছিলেন কেন?
যক্ষ্মা রোগের কারণে। পুরো এলাকাটা খালি করে দেওয়া হয়েছিল।
- সেই সময়ই কি লিডিয়া বোবা হয়ে যায়? - হ্যাঁ, আমার তো তা-ই মনে হয়।
যদিও, কী জানেন, আমার স্মৃতিগুলোতে এখন একটু ধুলো পড়ে গেছে।
ওর কী হয়েছিল?
বেশ, হঠাৎ করেই, এক দিন, ও এমনিই কথা বলা বন্ধ করে দিয়েছিল।
এর নিশ্চয়ই কোনও কারণ রয়েছে।
কেউ-ই এমনিই এ রকম ভাবে কথা বলা বন্ধ করে দেয় না।
এ সব ব্যাপারে সব সময়ই দেখা যায় এগুলো কোনও মানসিক আঘাতের কারণে হয়েছে।
ওর সাথে নিশ্চয়ই কিছু একটা হয়েছিল।
আপনার মনিবেরা আপনাদের সাথে ভাল ব্যবহার করত?
ওহ্, ওঁরা আমাদের সাথে সব সময় ভাল ব্যবহার করেছেন। ওঁরা আমাদের সাথে পরিবারের লোকের মতো ব্যবহার করতেন।
কী জানেন, ম্যা'ম, মনে হয় এ বার আমাকে শুতে যেতে হবে।
না হলে সকাল সকাল উঠতে পারব না।
ঠিক আছে, আপনি যান।
আমি এখানে আরও কিছু ক্ষণ থাকব।
ঠিক আছে, ম্যা'ম।
তোর সাথে কড়া ব্যবহার করেছি বলে খুবই খারাপ লাগছে।
আমাকে ক্ষমা করে দিতে পারবি?
অ্যান।
- মা। - কী?
বাবা কবে আসবে?
- যখন যুদ্ধ শেষ হবে। - কেনই-বা বাবা যুদ্ধে গেছে?
মানে, আমাদের সাথে তো কেউ খারাপ ব্যবহার করেনি।
বাবা যুদ্ধে গেছে...
বাবা যুদ্ধে গেছে কারণ বাবা খুবই সাহসী।
আর একটা কারণ হল তোমার বাবা জার্মানদের আদেশ মানায় তৈরি ছিল না।
কেন?
চার্লস...
তুমি কোথায়?
মিসেস মিলস!
মিসেস মিলস!
কী হয়েছে, ম্যা'ম?
গানবাজনার ঘরের চাবি! আমাকে দিন! তাড়াতাড়ি!
- কী হয়েছে? - আসুন!
ওহ্, ভগবান!
আমি নিজে ওই ঘরটা ভাল করে দেখেছিলাম।
কেউ ছিল না।
- এ বার এই ওষুধগুলো খেয়ে নিন। - আর এখনও...
- খুব ভাল কাজ দেবে। - ...ওখানে কেউ এক জন আছে।
আর সেটা মানুষ ছিল না।
এই বাড়িটাতে কিছু একটা আছে।
- পৈশাচিক কিছু একটা। - ম্যা'ম!
এমন একটা কিছু যেটা...
যেটা শান্তিতে নেই।
আমি জানি আপনি এটা বিশ্বাস করেন না। আপনি এটা বিশ্বাস করেন না, তাই না?
না, আমি আপনাকে দোষ দিচ্ছি না। আমিও আগে এ সব বিশ্বাস করতাম না।
আমার বিশ্বাস হয়, ম্যা'ম।
আমি সব সময়েই এ সব জিনিসে বিশ্বাস করে এসেছি। ব্যাখ্যা করাটা খুব একটা সোজা নয়...
কিন্তু এ সব হয়েই থাকে।
আমরা সবাই-ই অতীত বর্তমান আর...
ভবিষ্যতের গল্প শুনেছি।
আর আমার মনে হয় যে, কখনও কখনও...
মৃতদের...
জগতটা জীবিতদের...
জগতের সাথে মিলেমিশে যায়।
কিন্তু এটা তো অসম্ভব! পরম পিতা কখনওই এমন ধরনের অস্বাভাবিকতা মেনে নেবেন না!
একমাত্র অনন্তকালের শেষেই জীবন্ত এবং মৃতদের সাক্ষাৎ হতে পারে।
- বাইবেলে এমনটাই লেখা আছে। - ম্যা'ম...
সব সময় সব কিছুর জন্য উত্তর থাকে না।
আপনি কোথায় যাচ্ছেন, ম্যা'ম?
আমি গ্রামে গিয়ে ফাদারের সাথে দেখা করে আসছি।
যদি উনি এখানে না-ই আসেন, তা হলে আমিই ওঁর কাছে যাব। আর ওঁকে নিয়ে আসব।
- আবহাওয়ার অবস্থার উন্নতি না হওয়া পর্যন্ত অপেক্ষা করুন! - আমি যথেষ্ট সময় অপেক্ষা করেছি।
- ম্যা'ম, ধর্মযাজক আমাকে বলেছেন... - উনি আপনাকে কী বলেছেন তাতে আমার কিচ্ছু যায় আসে না!
আমি চাই উনি সেটা আমাকে বলুন, শুধুমাত্র আমাকেই। ওঁকে আজ আসতেই হবে।
- আপনি ওঁকে কী বলবেন? - আমরা গোটা বাড়িটা তন্নতন্ন করে খুঁজে দেখেছি...
আর এখন আমার এটাকে বিপদমুক্ত করার জন্য আশীর্বাদের দরকার।
[মিসেস মিলস]: দয়া করে দাঁড়ান, এখনও সময় হয়নি! - মিস্টার টাটেল?
গুড মর্নিং, ম্যা'ম।
- আপনি গোটা বাগানটায় সমাধি-প্রস্তরের খোঁজ করুন। - সমাধি-প্রস্তর?
হ্যাঁ, আমরা যখন এই বাড়িটা কিনেছিলাম, আমাদের বলা হয়েছিল এখানে একটা ছোট সমাধিস্থল আছে।
আমার মনে হয় ওটা ও দিকে কোথাও হবে, ওই গাছপালাগুলোর মধ্যে।
- আমি তো কিছুই দেখিনি। - ভাল করে দেখুন।
ওগুলো বেড়ে উঠতে পারে।
আমার জানার দরকার ওখানে কোনও পরিবারকে সমাধিস্থ করা হয়েছিল কিনা।
আর ওদের ভিক্টর নামে কোনও ছোট ছেলে ছিল কিনা।
এ বার ওঁর মনে হচ্ছে এটা ভূতুড়ে বাড়ি।
ওঁকে চলে যেতে দেওয়াটা কি নিরাপদ বলে মনে হচ্ছে?
চিন্তা করবেন না। কুয়াশা ওঁকে খুব বেশি একটা দূরে যেতে দেবে না।
হ্যাঁ, কুয়াশা। কুয়াশা তো বটেই।
আর ঠিক কখন আমাদের এই সমস্ত কিছু বাইরে আনাটা ঠিক হবে বলে আপনার মনে হয়?
সঠিক সময়ের অপেক্ষা করুন, মিস্টার টাটেল। সঠিক সময়ের অপেক্ষা করুন।
কথাটা বলতে মনে পড়ল...
চার্লস?
গ্রেস।
তুমি এসে গেছ! তুমি এসে গেছ!
সবাই তো বলেছিল আর কোনও আশা নেই।
সবাই তো বলেছিল আমি যেন তুমি মারা গেছ বলে ধরে নিই!
সবাই অনেক কিছুই বলে।
ধন্যবাদ।
ধন্যবাদ, ভগবান। ধন্যবাদ।
প্রত্যেক রাতে আমি এর জন্য প্রার্থনা করেছি...
তোমাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য ভগবানের কাছে প্রার্থনা করেছি।
বাচ্চাদের কাছে তাদের বাবাকে ফিরিয়ে দেওয়ার জন্য প্রার্থনা করেছি।
কিন্তু তুমি এত দিন ধরে কোথায় ছিলে?
ওই বাইরে, আমার বাড়িটাকে খুঁজছিলাম।
তোমাকে একেবারে অন্য রকম লাগছে।
একেবারে অন্য রকম...
আমার অনেক রক্তপাত হয়েছে।
ম্যা'ম।
মিসেস মিলস...
ইনি আমার স্বামী।
- আপনার সাথে আলাপ হয়ে খুবই ভাল লাগছে, স্যার। - ও খুবই অসুস্থ।
আপনি তাড়াতাড়ি গিয়ে স্নানের জন্য গরম জল আর কিছু পরিষ্কার কাপড়...
- ...আর কিছু খাবারের ব্যবস্থা করুন। - এক্ষুনি করছি, ম্যা'ম।
আমার ছোট্ট সোনারা কেমন আছে?
বাবা!
তুমি আসতে এত দেরি করলে কেন?
হ্যালো, নিকোলাস।
আমি তোকে বলেছিলাম, দেখেছিস! আমি তোকে বলেছিলাম বাবা ফিরে আসবে।
- তোমরা দু'জনে ভাল হয়ে থেকেছ তো? - আমরা খুব ভাল হয়ে থেকেছি।
- মায়ের সাথে খারাপ ব্যবহার করোনি তো? - একদমই না।
আমরা আমাদের প্রথম প্রার্থনা সভার জন্য প্রত্যেক দিন পড়াশোনা করেছি।
বাবা, তুমি কাউকে মেরেছ?
ওহ্, ওর হয়ে গেছে।
প্রিয়তম, তোমার দুপুরের খাবার তৈরি হয়ে গেছে।
তুমি কি নীচে এসে খাবে নাকি...?
[অ্যান]: বাবা কখন নীচে আসবে? [গ্রেস]: সবুর করো, অ্যান।
[গ্রেস]: বাবার শরীরটা ভাল নেই।
বাবা বলেছে বাবা নাকি অনেক মড়া লোকেদের দেখেছে।
মা, যুদ্ধে যারা মারা যায়, তারা কোথায় যায়?
কী দারুণ প্রশ্ন! সেটা নির্ভর করে।
- কীসের ওপর? - বেশ...
তারা "ভাল"-র হয়ে নাকি "খারাপ"-এর হয়ে লড়াই করেছে সেটার ওপর এটা নির্ভর করে।
উদাহরণ হিসেবে, তোমাদের বাবার কথাই ধরো, ইংল্যান্ডের জন্য লড়েছে, যারা হল গিয়ে "ভাল"।
তুমি কী ভাবে বুঝবে কারা "ভাল" আর কারা "খারাপ"?
যথেষ্ট প্রশ্ন হয়েছে। খাবার খাও। তোমাদের কখনওই যুদ্ধে যেতে হবে না।
আমরা কখনওই কোথাও যাব না।
তোমাদের কোনও কিছুই হারিয়ে যায়নি।
তোমরা বাড়িতে বাবা-মা'র সাথেই আছ, যারা তোমাদের খুবই ভালবাসে।
আর অন্য লোকেরাও আছে।
এই বাড়িতে আর কোনও অন্য লোক নেই।
কিন্তু তুমিই তো বলেছিলে আছে।
আমি বলেছিলাম এই বাড়িতে কোনও অন্য লোক নেই। আর আমি ওই ব্যাপারে আর একটাও কথা শুনতে চাই না।
- কিন্তু তুমি তো বলেছিলে... - না, অনেক হয়েছে!
- আমি কি কিছু বলতে পারি? - না!
- কেন? - কারণ... কারণ তুমি পারো না বলে!
অ্যান, ও রকম ভাবে নিঃশ্বাস নেওয়াটা থামাও।
তুমি শুনেছ আমি কী বলেছি। থামো!
নিঃশ্বাস নেওয়া থামাও!
ঠিক আছে, এ বার সোজা তোমার ঘরে যাও।
যাও নিজের ঘরে যাও। আজ সারা দিন কোনও মিষ্টি খাবার পাবে না তুমি।
কেঁদো না। কেঁদো না।
কান্না বন্ধ করো। এই তো।
দেখেছ কাঁদলে তোমাকে কী রকম খারাপ দেখতে লাগে!
- আমার তাতে কিচ্ছু যায় আসে না! - এই তো, এই তো।
আমার কথা শোনো।
আমিও ওদের দেখেছি।
তুমি দেখেছ?
সেটা মা'কে বলোনি কেন? তা হলে হয়তো মা'ও আমার কথা বিশ্বাস করত।
এমন কিছু কথা আছে যা তোমার মা শুনতে চান না।
উনি যেটা মনে করেন শুধুমাত্র সেটাতেই উনি বিশ্বাস করেন।
কিন্তু চিন্তা কোরো না। কখনও-না-কখনও...
উনিও ওদের দেখতে পাবেন।
- আর তার পর সব কিছু বদলে যাবে। - কী করে?
ওহ্, তুমি নিজেই দেখে নিয়ো। এর পরে কয়েকটা খুবই বড় বড় চমক আসতে চলেছে।
কয়েকটা... পরিবর্তন আসতে চলেছে।
পরিবর্তন?
এখন উনি আবার এমন ভান করছেন যেন কিছুই ঘটেনি।
- ওঁর মেয়ের কী হবে? - ও ওর মায়ের মতো অতটা একরোখা নয়।
বাচ্চাদের খুব সহজেই বুঝিয়ে দেওয়া যাবে।
না, ওদের মা-ই আমাদের সমস্যার কারণ হয়ে দাঁড়াতে চলেছে।
ওঁর স্বামীর কিছু সন্দেহ হয়েছে বলে কি আপনার মনে হয়?
না, আমার তো মনে হয় না উনি কোথায় আছেন সেটাও জানেন বলে।
ওহ্, দ্যাখো তো আমার মেয়েটাকে কত্ত সুন্দর দেখতে!
মা এই ঘোমটাটা বিশেষ করে তোমার জন্য বানিয়েছে।
আমাকে তো বিয়ের কনের মতো দেখাচ্ছে।
হ্যাঁ, সোনা।
এ বার আমি হাতাগুলো একটু গুটিয়ে দিই।
তুমি এ বার এটা খুলে ফেলতে পারো।
- অ্যান, এই ড্রেসটাকে নিখুঁত রাখতে হবে। - আমি কথা দিচ্ছি এটাকে নোংরা করব না।
- আমাকে এটা আর একটুখানি পরতে দাও। - "শুধু আর একটুখানি।"
ঠিক আছে। আমি কিছু ক্ষণের মধ্যেই ফিরে আসব।
মেঝের ওপর বসবে না। দেওয়ালে হেলান দেবে না!
মসিঁয়ের, আপনি কি আমার সাথে নাচবেন?
আনন্দের সাথে।
চার্লস, এ রকম ভাবে চললে হবে না। তোমাকে কিছু-না-কিছু খেতেই হবে।
অ্যান, তোমাকে এক্ষুনি ড্রেসটা খুলে ফেলতে হবে!
অ্যান, শুনেছ আমি কী বলেছি?
অ্যান?
- আমি তোকে মেঝেতে বসতে বারণ করেছিলাম না! - কিন্তু মেঝে তো পরিষ্কার।
তাতে কিছু যায় আসে না। তোকে যেটা বলা হয় সেটা করিস না কেন বল তো?
- কী হয়েছে? - আমার মেয়ে কোথায়?
আমার মেয়ের সাথে তুমি কী করেছ?
তুমি কি পাগল হয়ে গেছ? আমিই তো তোমার মেয়ে।
তুমি আমার মেয়ে নও!
তুমি আমার মেয়ে নও!
- ম্যা'ম, আমি চিৎকার শুনলাম... - আমাকে মারতে চেয়েছিল!
আমাদের না মারা পর্যন্ত থামবে না!
থামবে না! আমাদের না মারা পর্যন্ত থামবে না!
- চুপ করো, মেয়ে। আমার সাথে চলো। - তুমি পাগলী! তুমি পাগলী!
[অ্যান]: পাগলী!
ও কেমন আছে?
ওকে কোনও রকম দোষ দেওয়া যায় না, ওকে আমি ওর বাবার কাছে রেখে এসেছি।
ও ওর বাবার সাথে কথা বলার জন্য জেদ করছিল।
- কী হয়েছিল? আপনারা ঝগড়া করছিলেন কেন? - ওটা ও ছিল না।
সেই বুড়িটা ছিল, যার চোখ দু'টো অদ্ভুত রকমের।
ও আমার মেয়ের গলার স্বর নকল করে কথা বলছিল।
আমি ঈশ্বরের নামে শপথ করে বলতে পারি ওটা আমার মেয়ে ছিল না।
ভগবান। ভগবান আমাকে রক্ষা করো।
আমার সাথে এ সব কী হচ্ছে? বুঝতেই পারছি না আমার সাথে এ সব কী হচ্ছে।
আপনার আরেকটু বিশ্রাম নেওয়া উচিত।
এই বাড়ির সমস্ত দায়িত্ব আপনি একা নিজের ঘাড়ে নিতে পারবেন না।
সেটা আমাদের ওপর ছেড়ে দিন। ঠিক কী কী করতে হবে আমরা তা জানি।
আপনি এ সব কী বলতে চাইছেন?
- আপনারা কী করে জানলেন কী কী করতে হবে? - কিচ্ছু না, ম্যা'ম। আমি শুধু বলছিলাম...
কিছুই বলার মতো নেই!
আপনারা নিজেদের কী মনে করেনটা কী! আপনাদের কোনও ধারণাই নেই কী করতে হবে!
নাকি আছে?
এগুলো কী?
আপনার মাইগ্রেনের ওষুধ।
আপনি সব সময়েই এটা খেয়ে থাকেন।
প্লিজ, আমাকে একটু একা থাকতে হবে।
ঠিক আছে, ম্যা'ম।
চলে এসো, সোনা।
অ্যান আমাকে সব কিছু বলেছে।
যদি আমার কাছে এর কোনও ব্যাখ্যা থাকত, কিন্তু বলতেই হচ্ছে আমার কাছে সেটা নেই।
প্রথমে আমি ভেবেছিলাম এখানে হয়তো অন্য কেউ আছে, হয়তো সেটা ভূত।
আমি ভূতের ব্যাপারে কথা বলছি না।
আমি সে দিন ঠিক কী হয়েছিল সে ব্যাপারে কথা বলছি।
- আমি বুঝতে পারছি না তুমি ঠিক কী বলতে চাইছ। - আমাকে বলো এটা সত্যি নয়।
কী হয়েছিল আমাকে বলো।
কী হয়েছিল?
আমি জানি না সে দিন আমার মাথায় কী চেপেছিল।
রাতের মধ্যেই কাজের লোকেরা চলে গিয়েছিল।
ওদের সে কথাটা আমার মুখের ওপর বলার সাহস হয়নি।
আর ওরা জানত যে আমি এই বাড়িটা ছেড়ে যেতে পারব না।
ওরা জানত।
অ্যান?
অ্যান, কী হয়েছিল?
মা আমাকে মেরেছে। মা'র মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছিল... ঠিক সে দিনকার মতো।
তোর মনে আছে?
না।
তোমায় আমাকে ক্ষমা করে দিতে হবে, চার্লস।
আমার কাছে নয়। বাচ্চাদের কাছে ক্ষমা চাও।
ওরা জানে আমি ওদেরকে ভালবাসি।
ওরা জানে আমি ওদের কখনওই ব্যথা দেব না। সেটা করার আগে আমি নিজে মরে যাব।
তুমি কী করতে চলেছ?
তুমি কি আমার ওপর রেগে আছ?
আমি শুধু আমার বউ আর বাচ্চাকে বিদায় জানাতে ফিরে এসেছিলাম। এ বার আমাকে যেতে হবে।
কোথায় যেতে হবে?
- যুদ্ধক্ষেত্রে ফিরে যেতে হবে। - যুদ্ধ তো শেষ হয়ে গেছে।
- যুদ্ধ মোটেই শেষ হয়নি। - তুমি এ সব কী বলছ?
তুমি কোথাও যাচ্ছ না, শুনেছ আমি কী বলেছি? তুমি আগেই আমাদের এক বার ছেড়ে চলে গেছ। তুমি যেতে পারো না!
কেন?
কেন তুমি ওই ফালতু যুদ্ধটা লড়তে গিয়েছিলে যেটাতে আমাদের কোনও লাভ হয়নি?
- কেন তুমি অন্যদের মতো থেকে যাওনি? - অন্যরা আত্মসমর্পণ করেছিল।
আমরা সবাই আত্মসমর্পণ করেছিলাম! গোটা দ্বীপটাকে দখল করে নেওয়া হয়েছিল!
তুমি কী আশা করেছিলে?
যুদ্ধে গিয়ে তুমি কী জাহির করার চেষ্টা করছিলে?
তোমার এখানে থাকার কথা ছিল, আমাদের সাথে।
তোমার পরিবারের সাথে।
আমি তোমাকে ভালবেসেছিলাম।
আর সেটাই আমার কাছে যথেষ্ট ছিল।
এই অন্ধকারের মধ্যে থাকাটা...
এই জেলখানার ভেতরে।
কিন্তু তোমার কাছে যথেষ্ট ছিল না। আমি তোমার কাছে যথেষ্ট ছিলাম না।
সেই জন্যই তুমি চলে গিয়েছিলে।
শুধু যুদ্ধের কারণে তুমি যাওনি।
তুমি আমাকে ছেড়ে চলে যেতে চেয়েছিলে, তাই না?
আমাকে ক্ষমা করে দিয়ো, গ্রেস।
অ্যান!
নিকোলাস!
কী হয়েছে?
হে ভগবান!
দাঁড়াও! হে ভগবান!
পর্দাগুলো কোথায়?
[গ্রেস]: মিসেস মিলস!
আমাকে দেখতে দাও, আমাকে দেখতে দাও।
তুমি ঠিক আছ?
আমি আমার বাবাকে চাই।
বাবা চলে গেছে।
এ হতে পারে না!
হ্যাঁ, তাই হয়েছে!
এটাই সত্যি।
আমি তোমাকে ভালবাসি, মা।
পর্দাগুলো খুঁজে বের করো।
কে ছিল? কে করেছে এটা?
বলো আমাকে! বলো আমাকে!
তুমি নিশ্চয়ই জানো এখানে এ সব কী হচ্ছে।
তুমি জানো কেননা এ সব তোমার সাথেও হয়েছিল! এ বার বলো আমাকে!
এখানে লিখে দাও।
এখানে লিখে দাও। প্লিজ।
এ রকম ব্যবহারে কোনও কিছুরই সমাধান হবে না, ম্যা'ম।
আর যাই হোক ও লিখতে পারে না।
- ওগুলো কোথায়? - কী?
পর্দাগুলো!
কেউ পর্দাগুলো সরিয়ে ফেলেছে, আমার বাচ্চাদের জীবন ওগুলোর ওপর নির্ভর করে আছে!
আমি সেটা লক্ষ্য করেছি, তার জন্য আপনার গলা চড়ানোর কোনও দরকার নেই।
ওহ্, মিস্টার টাটেল, আমি এক্ষুনি আপনাকে ডাকতে যাচ্ছিলাম।
আপনি কি জানেন কেউ সব পর্দাগুলো নিয়ে চলে গেছে?
পর্দাগুলো? ওহ্, সর্বনাশ!
কেনই-বা কেউ সব পর্দাগুলো নিয়ে চলে যাবে?
এই বাড়িটাতে কিছু পরিমাণে দিনের আলো ঢোকানোর জন্য, আমার তো তা-ই মনে হয়।
দিনের আলো, অবশ্যই।
- কেউ আমার বাচ্চাদের মেরে ফেলতে চাইছে! - আর আপনার কেনই-বা মনে হচ্ছে দিনের আলো ওদের মেরে ফেলবে?
আপনি কি পাগল হয়ে গেছেন?
আমি আপনাকে আগেই বলেছি।
আমি আপনাকে আগেই বলেছি, আমার বাচ্চারা আলো-সংবেদনশীল! আলো ওদেরকে মেরে ফেলবে!
হ্যাঁ, কিন্তু সেটা আগের কথা ছিল।
পরিস্থিতি তো নিজের থেকেও বদলে যেতে পারে।
যদি আপনি ওদেরকে আলোতে না-ই বার করেন, আপনি কী ভাবে জানবেন ওরা সেরে গেছে কিনা?
আমার ভাইয়ের বউয়ের পায়ে আর পিঠে ভয়ানক বাতের ব্যথা হতো।
তার পর এক দিন...
ওই ব্যথা গায়েব হয়ে গেল।
আমি ওই পর্দাগুলো খুঁজতে যাচ্ছি...
আর তার পর আপনারা ওগুলো টাঙাতে আমাকে সাহায্য করবেন, তার পর এই বাড়ি ছেড়ে চলে যাবেন।
আর এই বাড়ির মনিব কী বলবেন, ম্যা'ম? এ সমস্ত কিছুর ব্যাপারে ওঁর বক্তব্যটা কী?
তোমাদের চাবিগুলো দিয়ে দাও। আমি তোমাদের চাবিগুলো চাইছি, এক্ষুনি!
আমি জানি তোমরা কী চাও।
তোমরা আমাদের ভয় দেখাতে চাও, আমাদের এখান থেকে বের করতে চাও, আমাকে আর আমার বাচ্চাদের।
এখানে আসার পর থেকেই তোমরা এই বাড়িটার দখল নেওয়ার চেষ্টা করে যাচ্ছ।
এ বার, তুমি আমাকে ওই চাবিগুলো দিয়ে দাও। আমি কিন্তু দ্বিতীয় বার কথা বলব না।
- একটু শান্ত হওয়ার চেষ্টা করুন, ম্যা'ম। - আমাকে চাবিগুলো দাও!
আমাকে ওগুলো দাও!
আর এ বার, এখান থেকে বের হয়ে যাও!
কী জানেন, মিস্টার টাটেল?
আমার মনে হয় আমি আমার ধৈর্যের চরম সীমায় পৌঁছে গেছি। আপনি কী বলেন?
ওহ্, হ্যাঁ, একেবারে।
আমাদের গিয়ে সমাধি-প্রস্তরগুলো বের করাটাই কাজের কাজ হবে।
- মা কী করছে বল তো? - আমি তো তোকে বলেইছি। মা'র মাথা খারাপ হয়ে গেছে।
- মিথ্যুক। - মা পাগলী হয়ে গেছে।
মিথ্যুক!
- মা'র মাথা খারাপ হয়ে গেছে। মা পাগলী হয়ে গেছে! - মিথ্যুক! মিথ্যুক!
রাত হয়ে গেছে।
- তুই কোথায় যাচ্ছিস? - অনেক সহ্য করেছি।
- আমি বাবাকে খুঁজতে যাচ্ছি। - তুই কি পালিয়ে যেতে চাইছিস?
যদি আমি পাইপের কাছে পৌঁছে যেতে পারি, তা হলে ওগুলো বেয়ে নীচে নেমে যেতে পারব।
খুব সোজা।
মা যদি জানতে পারে না, তোর কপালে তা হলে খুব দুঃখ আছে।
অ্যান, দাঁড়া!
আমিও বাবাকে খুঁজতে যেতে চাই।
মিথ্যুক, তুই তো নিজের জায়গা ছেড়ে একেবারেই নড়তে চাস না।
- ভীতুরাম, ভীতুরাম! - চুপ কর!
অ্যান, মনে হয় আমরা হারিয়ে গেছি।
আমরা এখনও বাগানটাই পেরোইনি রে, বোকারাম।
- আমার ভয় করছে। - তা হলে তো তোর আসাটাই উচিত হয়নি।
- কিছু বল। - কী বলব?
জানি না, যা কিছু।
আচ্ছা। আমার নাম অ্যান আর আমি হাঁটছি।
আমি হাঁটছি আর আমার নাম অ্যান।
ওখানে ওগুলো কী রে?
আমার মনে হয় ওগুলো কবর।
- কাছে যাস না। - কেন?
যদি ওর মধ্যে থেকে একটা ভূত বেরিয়ে আসে তো?
কবরে ভূত থাকে না। শুধু কঙ্কাল থাকে।
- এখানে কিছু লেখা রয়েছে। - চল, চলে যাই।
দাঁড়া।
ডিসেম্বর, ১৮৯১
বার্থা মিলস ১৮২৯-১৮৯১
অ্যান, ওখানে কী লেখা আছে?
- তোমাদের এ বার শক্ত হতে হবে, বাচ্চারা। - নিকোলাস, এ দিকে আয়!
মিসেস মিলস, প্লিজ মাকে বলবেন না আমরা পালিয়ে এসেছি।
ওদের সাথে কথা বলিস না!
- কেন? - ওরা মারা গেছে।
- কী?! - ওরা ভূত! প্লিজ এ দিকে আয়!
বাচ্চারা...
[অ্যান]: নিকোলাস!
ওরা যদি ভূতই হয়, তা হলে ওরা সাদা চাদর আর শিকল পরে নেই কেন?
- তুই-ই তো বলেছিলি যে... - আমি কী বলেছিলাম তাতে কিচ্ছু এসে যায় না! ওদের থেকে দূরে থাক!
তুই সব সময় আমার পেছনে লাগিস আর মিথ্যে কথা বলিস, আর তাতে আমার বিরক্তি ধরে গেছে।
আমি তোর পেছনে লাগছি না! আমি সত্যি কথা বলছি! এ দিকে আয়!
দাঁড়া!
বাচ্চারা!
দৌড়াও! দৌড়াও!
দৌড়াও! বাড়িতে ঢোকো!
আর এক পা'ও কাছে আসবে না! এক পা'ও নড়বে না!
নিজেকে এত কষ্ট দেবেন না, ম্যা'ম। যক্ষ্মা রোগ আমাদের সবাইকে...
অর্ধেক শতাব্দী আগেই শেষ করে ফেলেছে।
[গ্রেস]: চলে যাও!
দরজাটা খুলুন, ম্যা'ম, প্লিজ।
- তোমরা কী চাও? - মা, দরজাটা খুলো না!
- আমরা ওদের কবর দেখেছি। - উপর তলায় গিয়ে লুকিয়ে থাকো।
- যাও! - আমার ভয় করছে।
একসাথেই থাকবে।
অ্যান!
যা-ই করো না কেন, আলাদা হোয়ো না যেন।
যাও লুকোও গিয়ে। যাও!
আমরা আপনাকে বোঝানোর চেষ্টা করেছি।
- কী বোঝানোর চেষ্টা? - এই বাড়িটার ব্যাপারে।
নতুন পরিস্থিতির ব্যাপারে।
কোন পরিস্থিতি?
আমাদের সবার অবশ্যই একসাথে থাকাটা শিখতে হবে। জীবন্ত এবং মৃতদের।
যদি তোমরা মরেই গিয়ে থাকো, আমাদের শান্তিতে থাকতে দাও!
আমাদের শান্তিতে থাকতে দাও!
[গ্রেস]: আমাদের শান্তিতে থাকতে দাও!
এটার মধ্যে। ভেতরে ঢোক।
[মিসেস মিলস]: আর ধরে নিন আমরা আপনাদের ছেড়ে চলে গেলাম, আপনার কী মনে হয় ওরা ছেড়ে দেবে?
- কারা? - ওই অন্যেরা।
- এই বাড়িতে আর অন্য কেউ নেই। [মিস্টার টাটেল]: ওরাই পর্দাগুলো সরিয়ে ফেলেছে।
- এই বাড়িতে আর অন্য কেউ নেই। [মিস্টার টাটেল]: হ্যাঁ, আমি আপনাকে জোরের সাথে বলছি ওরাই ওটা করেছে।
আর এখন ওরা ওখানে রয়েছে, যেখানে আপনি আর আপনার বাচ্চারা রয়েছেন।
আপনাদের জন্য অপেক্ষা করছে!
আর বিশ্বাস করুন, দেরিতে হলেও ওরা আপনাদের ঠিক খুঁজে বার করবে।
শোন, তুই এখানেই থাক, আমি কিছু ক্ষণের মধ্যেই আসছি।
মা তো বলেছিল আমরা যেন আলাদা না হই।
আমি মা'কে ওদের হাতে একা ছেড়ে আসতে পারব না।
ও রকম ভাবে নিঃশ্বাস নেওয়াটা বন্ধ কর।
নিকোলাস, ও রকম ভাবে নিঃশ্বাস নেওয়াটা বন্ধ কর।
বন্ধ কর!
তুই কি শুনতে পারছিস না? এখানে অন্য কেউ আছে।
আমাদের কাছে এসো... বাচ্চারা।
আমাদের কাছে এসো।
নিকোলাস?
অ্যান?
তোমরা কোথায়?
উত্তর দাও!
- ওই অন্যেরা ওদের খুঁজে পেয়েছে। - আমরা এখন আর কিছুই করতে পারব না।
আপনাকে উপরের তলায় গিয়ে ওদের সাথে কথা বলতে হবে।
হে পরম পিতা, যাঁর শিল্প স্বর্গে রচনা হয়েছে...
আপনার নামে পবিত্র হয়েছে, আপনারই স্বর্গরাজ্য।
স্বর্গের মতো পৃথিবীতেও আপনার নাম রচিত হবে।
সেই দিনে আপনি আমাদের ক্ষুধা মেটান আর আমাদের অনধিকার প্রবেশগুলোকে ক্ষমা করুন...
তোমরা কেন ভয় পেয়ে আছ, বাচ্চারা?
কেন তোমরা আমাদের সাথে বন্ধুত্ব পাতাতে চাইছ না?
এসো।
চলে এসো, আমাদের সাথে কথা বলো।
আমাদের সাথে কথা বলো।
কী হয়েছিল আমাদের বলো।
ওকে বলিস না! ওকে বলিস না!
"ওকে বলিস না।"
যদি আমি ওকে বলে দিই, ওরা তা হলে আমাদের শান্তিতে থাকতে দেবে।
মা!
"মা।"
তোমরা কাঁদছ কেন, বাচ্চারা? এই ঘরে কী হয়েছিল?
তোমাদের মা তোমাদের সাথে কী করেছে?
বালিশের ব্যাপারে কিছু একটা বলছে...
এ ভাবেই তোমাদের মা তোমাদের মেরে ফেলেছিল?
বালিশ চাপা দিয়ে?
- মা মোটেই আমাদের মারেনি। - বাচ্চারা, যদি তোমরা মারাই গিয়ে থাকো...
তা হলে তোমরা এখনও কেন এই বাড়িতে রয়ে গেছ?
আমরা মারা যাইনি!
- কেন তোমরা এখনও এই বাড়িতে রয়ে গেছ? - আমরা মারা যাইনি!
- আমরা মারা যাইনি! - আমরা মারা যাইনি!
- আমরা মারা যাইনি! - আমরা মারা যাইনি!
তোমরা এখনও কেন এই বাড়িতে রয়ে গেছ?
"আমরা মারা যাইনি, আমরা মারা যাইনি।"
- আমরা মারা যাইনি! - আমরা মারা যাইনি!
আমরা মারা যাইনি!
আমরা মারা যাইনি! আমরা মারা... যাইনি!
আপনি ঠিক আছেন?
হ্যাঁ, মাথাটা একটু ঘুরছে। আর কিছু না।
কী হয়েছিল?
- ওরা সংযোগ স্থাপন করেছিল। - তিন জনই?
আপাতদৃষ্টিতে, হ্যাঁ। মা আর দু'টো বাচ্চা।
বেশ আকর্ষণীয় ব্যাপার, তাই না?
আকর্ষণীয়? ভয়ে তো আমার বুদ্ধিসুদ্ধি গুলিয়ে গিয়েছিল!
সোনা, শান্ত হও।
না, এত দূর আমরা ব্যাপারটাতে তোমার কথা মতো চলে এসেছি। কিন্তু এ বার তুমি আমার কথা শোনো।
আমরা এই বাড়িটাতে আর এক মুহূর্তও থাকতে পারব না।
এটা একেবারেই পরিষ্কার হয়ে গেছে যে ওই "সত্তাগুলো" আমরা এখানে থাকি তা চায় না।
- আমরা ওদের ব্যাপারে তো এখনও কিছু জানিই না। - হ্যাঁ, আমরা জানি।
আমরা জানি ওই মহিলাটির মাথা খারাপ হয়ে গিয়েছিল, তার নিজেরই দুই বাচ্চাকে শ্বাস রোধ করে মেরে ফেলেছিল আর তার পর নিজেই নিজেকে গুলি করেছিল।
- এটাই যথেষ্ট। আমাদের ছেলেটার কথা এক বার ভেবে দেখো। - ভিক্টরের সাথে কিছুই খারাপ হয়নি।
হ্যাঁ, হয়েছে! ও রাতে দুঃস্বপ্ন দেখে, ও বলেছে ও ওই বাচ্চা মেয়েটাকে দেখেছে।
আর এমনকী এই মহিলাটিও ওর দ্বারা ভূতে-পাওয়া হয়ে গিয়েছিলেন।
দয়া করে, এই বাড়িটা ছেড়ে চলে যাই চলো।
ঠিক আছে। আমরা কাল সকালে চলে যাব।
সেটার জন্য ঈশ্বরকে ধন্যবাদ জানাই।
আমি গিয়ে দেখি ভিক্টর কেমন আছে।
আবারও এক বার, আপনাদের আসার জন্য অনেক ধন্যবাদ জানাচ্ছি।
আমরাও আসতে পেরে আনন্দিত। আশা করি আমরা কিছু সাহায্যে এসেছি।
হ্যাঁ, অবশ্যই, কিন্তু স্বীকার করতেই হচ্ছে আজকের সন্ধ্যাটা খুব একটা ভাল কাটেনি...
[গ্রেস]: প্রথমে আমি কিছুই বুঝতে পারছিলাম না...
...আমার হাতে বালিশটা কী করছে...
...আর তোমরা কেন নড়ছিলে না।
কিন্তু তার পর আমি জানলাম।
ব্যাপারটা ঘটেই গেছে।
আমি আমার বাচ্চাদের মেরে ফেলেছি।
আমি গিয়ে বন্দুকটা বের করলাম...
...সেটা আমার কপালে ঠেকালাম...
আর তার পর ঘোড়াটা টিপে দিলাম।
আর কিছুই না।
আর তার পর আমি শোওয়ার ঘর থেকে তোমাদের হাসির আওয়াজ শুনতে পেলাম।
তোমরা বালিশগুলো ছোড়াছুড়ি করছিলে, যেন কিছুই হয়নি।
আর আমি ভাবলাম...
...পরম পিতা, তার মহৎ হৃদয় দিয়ে...
...আমাকে আর একটা সুযোগ দিয়েছেন...
...যেন আমাকে বলছেন...
"হাল ছেড়ো না...
...শক্ত হও...
...ওদের কাছে এক ভাল...
...মা হও।"
কিন্তু এখন...
এখন...
...এ সব কিছুর অর্থ কী?
আমরা এখন কোথায় আছি?
ছোট্ট লিডিয়াও এই একই প্রশ্ন জিজ্ঞেস করেছিল...
যখন ও বুঝতে পারল আমরা তিন জন মারা গেছি।
আর সেই শেষ বার ও কথা বলেছিল।
কিন্তু আমি আপনাকে আগে সেটা বলতে পারিনি।
আমি সুন্দর করে একটু চা বানিয়ে নিয়ে আসব, ম্যা'ম?
ওরা এখন চলে যাচ্ছে ঠিকই, কিন্তু এর পরে অন্যেরাও আসবে।
দেখুন, কখনও কখনও ওদেরকে আমরা অনুভব করতে পারব কখনও পারব না।
কিন্তু এ রকমটাই সব সময় হয়ে এসেছে...
ম্যা'ম।
মা?
- বাবা তো যুদ্ধে মারা গিয়েছিল, তাই না? - হ্যাঁ।
- আমরা কি আবার বাবাকে দেখতে পাব? - জানি না।
আমরা যদি মারা গিয়েই থাকি, তা হলে নরকের সীমান্ত-অঞ্চলটা কোথায়?
আমি জানি-ও না ও রকম ধরনের কোনও জায়গা আছে কিনা।
আমি তোমার মতো অতটা বুদ্ধিমতী নই।
কিন্তু আমি যেটা জানি সেটা হল আমি তোমাদের ভালবাসি।
আমি সব সময় তোমাদের ভালবেসে এসেছি।
আর এই বাড়িটা আমাদের।
আমার সাথে সাথে বলো:
- এই বাড়িটা আমাদের। - এই বাড়িটা আমাদের।
- এই বাড়িটা আমাদের। - এই বাড়িটা আমাদের।
- এই বাড়িটা আমাদের। - এই বাড়িটা আমাদের।
মা, দ্যাখো। এতে আর ব্যথা হচ্ছে না।
কেউ আমাদের এই বাড়িছাড়া করতে পারবে না।
চলে এসো, ভিক্টর।
মুভিটি বাংলায় উপভোগ করার জন্য ধন্যবাদ।
বাইবেলের অনুবাদগুলো ভুল হলে, এ ছাড়াও পুরো অনুবাদটিতে কোনও রকম ভুলত্রুটি থেকে থাকলে তা ক্ষমার চোখে দেখার অনুরোধ জানাচ্ছি। (দে.ক.)
বিক্রয়ের জন্য
Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.