Afrikaans
Akan
Albanian
Amharic
Arabic
Armenian
Azerbaijani
Basque
Belarusian
Bemba
Bengali
Bihari
Bosnian
Breton
Bulgarian
Cambodian
Catalan
Cebuano
Cherokee
Chichewa
Chinese (Simplified)
Chinese (Traditional)
Corsican
Croatian
Czech
Danish
Dutch
English
Esperanto
Estonian
Ewe
Faroese
Filipino
Finnish
French
Frisian
Ga
Galician
Georgian
German
Greek
Guarani
Gujarati
Haitian Creole
Hausa
Hawaiian
Hebrew
Hindi
Hmong
Hungarian
Icelandic
Igbo
Interlingua
Irish
Italian
Japanese
Javanese
Kannada
Kazakh
Kinyarwanda
Kirundi
Kongo
Korean
Krio (Sierra Leone)
Kurdish
Kurdish (Soranî)
Kyrgyz
Laothian
Latin
Latvian
Lingala
Lithuanian
Lozi
Luganda
Luo
Luxembourgish
Macedonian
Malagasy
Malay
Malayalam
Maltese
Maori
Marathi
Mauritian Creole
Moldavian
Mongolian
Myanmar (Burmese)
Montenegrin
Nepali
Nigerian Pidgin
Northern Sotho
Norwegian
Norwegian (Nynorsk)
Occitan
Oriya
Oromo
Pashto
Persian
Polish
Portuguese (Brazil)
Portuguese (Portugal)
Punjabi
Quechua
Romanian
Romansh
Runyakitara
Russian
Samoan
Scots Gaelic
Serbian
Serbo-Croatian
Sesotho
Setswana
Seychellois Creole
Shona
Sindhi
Sinhalese
Slovak
Slovenian
Somali
Spanish
Spanish (Latin American)
Sundanese
Swahili
Swedish
Tajik
Tamil
Tatar
Telugu
Thai
Tigrinya
Tonga
Tshiluba
Tumbuka
Turkish
Turkmen
Twi
Uighur
Ukrainian
Urdu
Uzbek
Vietnamese
Welsh
Wolof
Xhosa
Yiddish
Yoruba
Zulu
- নতুন রিপোর্ট দিয়েছে, দেখে এসো। - হ্যাঁ, যাচ্ছি।
মা, আপনি কেন এত কষ্ট করছেন? অনন্যা'র ব্যাপারে তো, মায়ের সঙ্গে কথা বলেছি। বিয়ের পর- আপনার চিকিৎসা, আপনার পরিবারের সব দায়িত্ব আমার।
আপনি রাজি থাকলে, বাবা-মা'কে আপনার সঙ্গে কথা বলতে পাঠাবো।
- এই, অনন্যা। মন খারাপ কেন? - একটা সিদ্ধান্তের দায়িত্ব ছিল। দু'টো হয়ে গেছে।
মধ্যবিত্ত পরিবারের ছোট-ছোট বিষয়ে বেশি করে চিন্তা করতে হয়। তোর ভালোটা, তুই নিজেই ভালো বুঝবি। ভালোকরে ভাব।
তো পরোক্ষভাবে, মগজের মিথ্যাটাকে প্রাধান্য দিয়ে, হৃদয়ের সত্যটাকে চাপা দিতে বলছিস?
রাহুল, দেখতে-শুনতে ভালো। জাতটাও এক। তোকে আর্থিক-ভাবেও সাহায্য করতে পারবে।
তোর মায়ের চিকিৎসার চাবিকাঠি, রাহুল। পারমি কে বেছে নিলে, ওটা শুধু তোর স্বার্থ!
- কিন্তু, দারুন সিদ্ধান্ত নিয়েছিস, অনন্যা। - ঠিক বলেছিস।
- পারমিকে বিয়ে করলে শুধু তুই একাই সুখে থাকতি। - সত্যিই! - রাহুল'কে বিয়ে করে নিজের মা'কে নিয়ে সুখে থাকতে পারবি।
- আর কিছু লাগবে? - ১ কেজি টমেটো দিও।
- আর, কিছু পুই শাক দিও। - ঠিক আছে।
- আপা। - হ্যাঁ? - আমাদের বাড়িতে যখন-তখন কারেন্ট চলে যায়।
ঐ 'বঊ সাক্ষী' আছে না? তুমি গতকাল দেখেছিলে?
- দেখতে পারিনি! - দু'বছর হলো ওর বিয়ে হয়েছে।
গতকালই, ফার্স্ট-নাইট ছিল! কী জানি, কী হলো!
- কী বলছেন, খাট ভেঙ্গে গেছে। - নাও! - তুমিও সিরিয়াল দেখো, বাবা?
আন্টি! খাবার, ঘুম সব বাদ দেয়া যায়! তাই বলে, 'বউ সাক্ষী' সিরিয়াল মিস করবো!
গতকাল, কী হলো?
কী হলো, জানেন? রুম দারুনভাবে সাজানো ছিল। হিরো বসে ছিল।
হিরোইন'ও এন্ট্রি নিল। এন্ট্রি নিতেই- এর মুখ, ওর মুখ! এর মুখ, ওর মুখ! এর মুখ, ওর মুখ!
- তারপর? - গ্লাসে করে, দুধ দিল।
তারপর আবার- এর মুখ, ওর মুখ! এর মুখ, ওর মুখ! এর মুখ.. - তারপর?
গান শুরু হয়ে গেল। গানের পর, দু'জন ধীরে-ধীরে এসে বসলো।
বসার পর, হিরো- শুরু করো। সে বলে, তুমি শুরু করো। হিরো বলে... - তারপর?
- এরপর, গেলোওওওও! - কী হলো?
বাতি?
আরে, খাট ভেঙ্গে গেল, আন্টি!
না, আপা- শুধু, খাট ভেঙ্গে গেলেও ক্ষতি ছিল না!
- খাটের পায়ের সঙ্গে লেগে, হিরোর পা'ও ভাঙলো! - আর বলো না তো!
এই আরতি আর ওর স্বামীর মধ্যে কিচ্ছু হবে না!
যাই বলো না কেন, সিরিয়ালগুলো শুধু পেচায়!
না, আপা! 'অমৃতাদর্শিনী' দেখেন না?
- কত সুন্দর এগোচ্ছে ওটা! - তুমি ওটাও দেখো?
আন্টি, উটের দর্শন নাহয় না পেলাম। কিন্তু, 'অমৃতাদর্শিনী' না দেখে থাকা যায়?
- গতকাল, কী হয়েছিল? - গতকাল কী হয়েছিল, জানেন আন্টি...
...এরপর, শেষ হলো!
তোমার কথা শুনে, আগের সপ্তাহের না দেখা, সবকিছু জেনে ফেললাম!
আন্টি, আবার কখনো সিরিয়াল মিস করলে, আপা'কে ফোন দিতে দেরি করবেন না!
আমি আপনাকে ডিটেইলে গল্প বলবো। গল্প বলতে আমার খুব ভালো লাগে!
- আমারও গল্প শুনতে খুব ভালো লাগে। - তাই নাকি? - হ্যাঁ - আপা, আসছি। - পারমি! - হ্যাঁ?
- কোথায় যাচ্ছ? - হাম্পি নগর।
তাহলে, উনাকে 'বিজয় নগর' নামিয়ে দিও।
- কথা বলতে-বলতে চলে যান। - না, আপা। আমি চলে যেতে পারবো।
আরে আমাকেও সেই বাড়ি নিয়ে যায়, দোকান বন্ধ করার পর।
- আন্টি, আমার গাড়িতে দু'টো সিটই আছে। আসুন। - তাই?
- আসি, আপা। - ঠিক আছে।
- কী নাম বাবা তোমার? - আন্টি, আমি- মিঃ পারমি।
আপনি আমায়, পারমি ডাকবেন।
- আমাদের ওখানে একটা কুকুর আছে। আমরা সবাই ওকে 'পাম্মি' ডাকি। - আন্টি, পাম্মি না!
এটা, P- U- R- M- Y.. পারমি।
- বলুন। - ওহ, পারররমি! - পারমি। - ওহ, পারমি। - হ্যাঁ।
- ওই নামে একটা বিদেশী কুকুর ছিল। - বাদ দিন!
উনি আর উনার কুকুরদল!
- এখান থেকে সামনে এগিয়ে বামে ঢুকে যেও। - বামে? আন্টি, বামে যাওয়ার দরকার নেই। ডানে ঢুকে যাই।
ওদিকে, রাস্তা ভালো না। এদিক দিয়েও যাওয়া যায়।
- বাহ, তুমি তো আমার এলাকা বেশ ভালোভাবেই চেনো দেখি! - হ্যাঁ, আন্টি।
আমার পরিচিত একজনের বাড়ি ছিল, এখানে।
- এখানে, এখানে। দাঁড়াও, দাঁড়াও। - এখানে?
তোমার সাথে কথা বলতে-বলতে, বাড়ি এসে পড়েছি- সে খেয়ালই ছিল না!
- আন্টি, এটা আপনার বাড়ি? - এটাই, আমার বাড়ি।
তোমার পরিচিত কে যেন এই এলাকায় থাকে, কে সে?
কী ভাবছো?
- আসলে আন্টি, ভুলে গেছি। বাদ দিন। - আচ্ছা, বাদ দাও। তোমার নাম্বারটা দাও।
- বাজে বাড়ি। যখন-তখন কারেন্ট চলে যায়। আমি তোমায় ফোন দিয়ে, সিরিয়ালের ব্যাপারে সব জেনে নেবো। - আন্টি, থাক।
- পরদিন, বাজারে আসবেন না? তখন সব বলবো। - পরের দিন, জেনে কী হবে!
সাথে-সাথে জেনে নিলে, ভালো হয় না? নাম্বারটা দাও তো।
ঠিক আছে, আন্টি। দিচ্ছি।
আন্টি, মিঃ পারমেশ নামে সেভ করেছি। আপনি শুধু একটা মিস-কল দেবেন।
মিস-কল কেন? হোয়াটস-এপ'এ কন্ট্যাক্ট-ডিটেইলস পাঠিয়ে দেবো।
- ব্যস্ত? - প্রথমে, বিষয় বলো। তারপর, বলছি।
- পায়েস বানাতে পারবি সন্ধ্যায়? - কেন? - আমার বন্ধু আসবে, তাই।
- কে? পাশের বাসার ভাবী? - না, নতুন বন্ধু।
সন্ধ্যায় আসতে বলেছি, হোয়াটস-এপ'এ।
নীল চিহ্ন তো আসলো। এর মানে তো, দেখেছে নিশ্চয়ই!
- কিন্তু রিপ্লাই পেলাম না! কী জানি, কী হলো! - হোয়াটস-এপ?
আন্টি!
আনু, আমার বন্ধু এসে পড়েছে!
- আসছি! - গলাটা কেমন পরিচিত লাগছে।
রাহুল নাকি?
- রাহুলের জন্য মা'য়ের এত কষ্ট! - এসো বাবা, সিরিয়াল শুরু হয়ে গেছে।
এখানে এসো। ওখানে দাঁড়িয়ে আছো কেন?
কে সে?
- তো, হোয়াটস-এপ (আপ)? - পেয়েছিলাম, আপনার হোয়াটস-এপ ম্যাসেজ।
গাড়ি চালাচ্ছিলাম। তাই, রিপ্লাই দিতে পারিনি।
- তুমি বাড়িতে আসবে, আগেই বলে রেখেছি। - তাই নাকি? - মেয়েটা পায়েস বানাচ্ছে।
- ওহ! - আনু। - আসছি।
এবার অন্তত এদের ঝগড়া মিটে গেলেই হয়।
- কে জানে, আন্টি। ঝগড়া বেড়েও যেতে পারে। - এই, চুপ থাকো তো!
কিচ্ছু হবে না, সব ঠিক হয়ে যাবে।
তুমি, সিরিয়াল দেখো তো। পেপার পরেও দেখা যাবে।
ওকে আগে দিবি না? এই যে, আমার নতুন সিরিয়াল বন্ধু।
পারমি!
হাই।
- হ্যালো। - পারমি!
- এই, পাম্মি! - আন্টি, ঠিক বলেছেন।
আন্টি, আমার এলাকার কোথাও এ'সময়ে কারেন্ট থাকে না! 'দোডগোরি'র বিয়েটা হবে কী না, আপনার এখানে দেখতে পারি?
অবশ্যই। প্রতিদিন, যখনই 'নতুন যুদ্ধ' শুরু হবে, এখানে এসে পড়বে। কারেন্টও এসে যাবে।
- এসো, এসো। একসাথে দেখি। - ধন্যবাদ, আন্টি।
আমার একটা সেলফি তুলে দিবি?
কেন? তোমার সিরিয়াল বন্ধুকে দেখাবে?
ঠিক আছে।
মেনুতে গিয়ে, ক্যামেরা ওপেন করে, এভাবে ধরে...
ওহ, রাহুল!
এসো, বাবা।
- হাই। - হাই। - মা, আপনার আপত্তি না থাকলে, আমি আর অনন্যা বাইরে থেকে খেয়ে আসি?
আমার কোনো আপত্তি নেই।
- যাও, বাবা। - অনন্যা? - রেডি হয়ে আসছি।
কী ব্যাপার, ফেসবুকে নতুন কোনো ছবি নেই!
বাগদানের ছবিগুলো এখনো আপলোড দাওনি?
আমি ফেসবুকে অতটা এক্টিভ থাকি না।
তাহলে, সেলফি।
অনন্যা, তোমার- ইউজারনেম আর পাসওয়ার্ড দাও। আমি আপলোড করে দিচ্ছি।
আমি দিচ্ছি।
- মা। - হ্যাঁ? - একবার বললে বোঝো না?
সকালেও ওষুধ খেলে না, বিকেলেও খাচ্ছ না!
গতকাল রাতে'ও খাইনি!
এত ওষুধ খেয়ে কী হবে? আমার কি শরীর খারাপ নাকি মেডিকেল স্টোর উদ্ধার করতে হবে?
- প্লিজ খান, ম্যাডাম। - কী এসব?
খান তো!
ভালো?
- ডাক্তার, কী বললো? - কী আর বলবে?
বললো, রোগী ওষুধ না খেলে, আমাদের মাসিক রোজগারের কী হবে!
ওহ, তোর সাথে আসলেই এতসব ঝামেলা হয়!
পারমির সাথে আসলে কত আরাম লাগে, জানিস?
মা, আমার এসব একদমই ভালো লাগছে না।
- কেন, তোর দিকে তাকিয়ে থাকে? - ছিঃ, না! - ওহ, তাকায় না! তাই, এত রাগ?
চলুন!
আহ, অনন্যা এসে পড়েছে।
- এবার কারেন্ট আসলেই হয়। - অনন্যা, এক মিনিট!
পার্টিতে, পরিবারের সকলকে দেখেছ না?
- ওদের একজনকেও এরকম পোশাকে দেখেছ? - রাহুল, প্লিজ!
আবার শুরু করো না!
তুমি, 'নাইট পার্টি' বলেছিলে। তাই, প্রথমবার এই ড্রেস পড়েছিলাম।
এবং, আমি এই ড্রেসে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি।
কেন বিষয়টাকে বড় করছো?
তুমি, আমার স্ত্রী হবে।
তোমায়- আমাকে, আমার পরিবারকে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করাতে হবে!
তোমার মা এখানে আছে। তাই, এখানেই সব বলে যাচ্ছি।
মা'ও তোমায় কিছু শেখায়নি? সংস্কৃতি বলেও কিছু আছে। মেয়েকে বড় করতেও জানে না!
এখন কী? তারিখ এগিয়ে আসছে। তাই, শেষবার কথা বলতে চাও?
কী করছো এসব, পারমি?
আমায় পাবে না বলে, আমার মা'কে পটিয়ে... ছিঃ, কী বলছি এসব!
আমায় পাবে না বলে, আমার মায়ের সঙ্গে জড়িয়ে, তার মন জয় করে- আমায় পেতে চাইলে, প্লিজ- তা করো না!
অন্য ছেলের সঙ্গে আমার বাগদান হয়ে গেছে।
তাই প্লিজ, অনুরোধ করছি- স্মার্ট সাজার চেষ্টা করো না!
- আর প্লিজ, নিজের সীমা অতিক্রম করো না। এতটুকুই বলার ছিল! - এক মিনিট, এক মিনিট!
তোমার স্কুলে দাঁড়িয়ে আছি বলে, ইংরেজী বেশি বের হচ্ছে?
মিঃ পারমি'ও ইংরেজী জানে! কিন্তু, কথা সেটা নয়!
কথা হলো- হ্যাঁ, তোমার মা'কে পটিয়ে আমার অনন্যাকে, আমি পেতে চেয়েছিলাম, সত্যি।
তোমার মায়ের মন জয় করে, তোমায় কাছে পেতে চেয়েছিলাম।
কিন্তু, তোমার মায়ের পবিত্র মন, আমার মনকেই কেড়ে নিল!
অনন্যা, একটা বিষয় জানো?
প্রায়, ২৫ বছর পর, একদিন- জীবনে একটা মেয়েকে পাওয়ার, আশা জাগে।
কিন্তু, এই ২৫ বছরের- প্রতিটা দিন, একজন মা পাওয়ার, আশা করে গেছি!
তোমার কারণে, একজন মা পেয়েছি। সেজন্য, অনেক ধন্যবাদ।
আমাদের বিয়ে হলে উনি আমার শাশুড়ি হয়ে যাবেন, না? নাহ, মা হয়েই থাকুক!
- মা, কফি। - হুম!
তিন কাপ কফি। কার জন্য বানিয়েছিস?
- পারমি'কে মনে পড়ছে, না? - না, না!
সে আমার কাছে, কিচ্ছু লুকোয়নি। এখানে আয়।
আসুন, ম্যাডাম।
সে আমায় সব বলেছে।
- আন্টি, আপনাকে একটা কথা বলতে চাই। - বলো, পারমি। - আপনার মেয়েকে আমি ভালোবাসি।
দু'জনের মধ্যে এখন আর ভালোবাসা বলে কিছু নেই! কিন্তু, একেবারে চলেও যায়নি!
তুমি এই উদ্দেশ্যেই, আমার বাড়ি আসতে?
ফুল কুড়োতে আপনার বাড়ি যেতাম। পরে বুঝলাম, ওটা একটা বাগান।
আপনার ছড়ানো সৌরভে, মায়ের মমতা ছিল!
মেয়ের আশায় থাকা, এই মায়ের মন- ছেলে হলেও খুশিই হতো।
তুই, আমার থেকে সবকিছু লুকিয়ে আমায় ও নিজেকে ধোঁকা দিয়েছিস!
আমি আমার মেয়ের- কথা'র থেকে নীরবতা'র অর্থ, ভালো বুঝতে পারি।
তোর এখন পারমি'কে মনে পড়ছে। ব্যাপার না! কিন্তু বিয়ের পর, মনে পড়লে- কী করবি?
তুই রাহুল'কে বিয়ে করে, যত বছরই একসাথে থাকিস না কেন- অফিসই মনে হবে! কিন্তু, পারমি'কে বিয়ে করে, একসাথে থাকলে- বাড়ি মনে হবে!
দেখিস, আমার চিকিৎসা- রাহুল না, পারমি'ই করবে!
আমি আমার মেয়ের জন্য- বড়লোক স্বামী না, সাধাসিধে স্বামী'ই চাই।
- অফিসার, অপরিচিত নাম্বার থেকে কল! - হ্যাঁ, স্যার। - রিসিভ করুন। - হ্যালো!
- আমার কথাটা একটু শুনুন। - আমার কথাটা ভালো করে, শোন!
৪ ঘন্টার মধ্যে, হেসারাগাট্টা'র জমিতে- ওই একই ব্যাগে টাকা ভরে, আমার ছেলের হাত দিয়ে পাঠাবি।
- ওহ, স্যার! - শুধু আমার ছেলের আসা চাই!
অন্য কেউ আসলে, তোর ছেলে আর আসবে না!
- স্যার, দয়া করে- বিশ্বাস করুন, আমি কিচ্ছু জানি না! - এই! - হারিশ, ছেড়ে দাও ওকে!
- দেখো, ব্যাগ নিয়ে তোকে কিডন্যাপারের কাছে যেতে হবে! - স্যার, কী বলছেন এসব?
এসব কাজ তো পুলিশের। আপনাদের কাজ, আমার ওপর কেন চাপাচ্ছেন, স্যার?
দ্যাখ, ঐ কিডন্যাপারগুলো শুধু তোকে দাবি করেছে।
স্যার, দাবি-টাবি আমি বুঝি না! অন্যের জীবনের জন্য, আমার জীবন কেন ব্যবহার করছেন?
স্যার, আপনারা মারবেন নাকি বাঁচাবেন, জানি না। কিন্তু, ওখানে গেলে, নিশ্চিত- আমি শেষ!
এই, তুই না গেলে- এই স্টেশনেই তোর খুন করবো!
স্যার, আমায় এই স্টেশনে মেরে ফেলুন। ব্যাপার না। কিন্তু, আমি কোথাও যাচ্ছি না!
আমার সময়টাই খারাপ যাচ্ছে!
সে এখন, বাল্লারি জেলে। কিচ্ছু করতে পারবে না!
সে.. এখন বাইরে আছে। চিনে রাখ!
সে... সাধারণ নয়! কিডন্যাপার ছিল! খুন-টুন করে জেলে ছিল!
- স্যার, এক মিনিট! সে? - সেও বড় কিডন্যাপার। কিন্তু, ১০ বছর ধরে কোনো খবর নেই! কোথায় আছে, কী করে- কেউ জানে না!
স্যার, নিলামাঙ্গালা- সকাল, ৯.৩০টা। শিভাজিনগর- সকাল, ১০টা। কেঙ্গেরি- দুপুর, দেড়টা। হেসারাগাট্টা- বিকেল, তিনটা।
স্যার, প্রতিবার ভিন্ন-ভিন্ন গলায় কথা বলেছে।
আমাদের কেস ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একের অধিক দল, একটা কিডন্যাপ সামলাচ্ছে। এখন আমাদের ঠিকানা- হেসারাগাট্টা। ঠিক আছে?
যাওয়ার চারটা রাস্তা আছে। কাকোড়ু, গুল্লাহাল্লি, নিলামাঙ্গালা এবং বেঙ্গালুরু!
বেঙ্গালুরু দিয়ে আমি যাবো। বাকি তিন রাস্তায় পাহাড়া বসাবে। প্রত্যেক যানবাহন চেক করবে।
দাও।
- দেখো, পাম্মি! - স্যার, আবার পাম্মি ডাকছেন! এটা, P- U- R- M- Y... মিঃ পারমি স্যার!
- বাশে ঘেরা জমিটা দেখছিস? তার মাঝের ভবনটাই তোর বসের বলা জায়গা! - স্যার!
এই টাকাগুলো দিয়ে, ছেলেটাকে নিয়ে আসবি। নে।
বেশি চালাকি করতে যাবি না!
- ঐ ছেলেকে আনতে পারলে, আমার পুরস্কার নিশ্চিত তো? - ঐ ছেলেকে আনতে পারলে, তোর জীবনই তোর পুরস্কার!
যা।
স্যার, ছেলেটা টাকাগুলো নিয়ে পালিয়ে গেলে? ওকে অতিরিক্ত বিশ্বাস করে ফেললেন!
সে আমায় সন্দেহ করলে, আমি ওকে সন্দেহ করবো না?
- ওর ব্যাগে জিপিএস সেট করা আছে। মনোজ, ট্র্যাকার অন করো। - করছি, স্যার।
স্যার, জিপিএস নড়চড় করছে না! মনে হয়, এখানেই লেনদেন হচ্ছে।
স্যার, কোনো গন্ডগোল হয়েছে। জিপিএস ফিরে আসছে।
সে কেন ফিরে আসছে?
- এই, কী হয়েছে? - ব্যাগ নিন, স্যার। - ব্যাগ কেন? - ছেলেটা কোথায়?
ওখানে দু'জন...
- টাকা দে। - বাচ্চা কোথায়? - টাকা দিতে বলেছি।
এই, দৌড়া, দৌড়া।
এই দাঁড়া! এই, টাকা!
ব্যাগ দে!
এই, বাচ্চা দিয়ে যা।
পুলিশ কাছেই আছে।
- মিস-কল দিলেই আসবে। - দৌড়া, দৌড়া।
এই, এদিকে আয়, এদিকে আয়।
- এই, তোর এত কী? ব্যাগ রেখে চলে যা। - আবার কথা বলিস!
আয়, আয়। সামনেই পুলিশ আছে, আয়।
ওরা 'আমাদের ছেলে, আমাদের ছেলে' বলে যাচ্ছিল, স্যার। টাকা দিয়ে, ছেলেকে নিয়ে আসার দায়িত্ব দিলেন।
কিন্তু, তা সম্ভব নয় দেখে শুধু টাকাসহ ফিরে এসেছি।
আমরা পরবর্তী কলের জন্য অপেক্ষা করবো। চল।
আমার বাবা'ও এভাবেই পুলিশের পোশাকে ঘুরে বেড়াতেন।
উনি চলে গেলেন। একই কাজ, আমিও পেলাম। সিসিটিভি দেখো, দোকান দেখো, কয়েনবক্স দেখো!
এই কয়েনবক্স দিয়ে, কেউ বারবার ফোন করেছে?
- ১০০ জন ফোন করেছে। কাকে লাগবে বলুন, স্যার। - ১০০ জনই মরুক!
কোনো একজন, বারবার এসেছে?
ওরকম কেউ তো... স্যার, একজন মহিলা আসতেন।
- মহিলা? - মহিলা, স্যার।
স্যার, একটা দারুন স্কুটারে চড়ে, মেনাকা'র মতো শাড়ি পড়ে আসতো!
স্যার, সাধারণত এখানে সবাই, কাগজে নাম্বার এনে- ফোন করে।
- শুধু উনিই- ঐ বড়-বড় ফোনগুলো আছে না, স্যার? ক্যামেরা-ক্যামেরা ফোন? - হ্যাঁ, হ্যাঁ। - ওটা থেকে নাম্ভার দেখে ফোন করতো।
আমিও ভাবতাম, এতবড় ফোন থাকতে এই কয়েন-বুথ থেকে কেন ফোন করে?
কি বলতো, শুনেছ কখনো?
শুধু চোখ'টাই সজাগ থাকতো, স্যার। বাকিগুলোকে, বিশ্রামে রাখতাম!
- কথা বলা শেষে, কোন দিকে যেত? - এদিক দিয়ে সোজা, সিগন্যাল ধরে ডানে।
সিগন্যাল, ডানে। সিগন্যাল মানে সিসি-ক্যামেরা থাকবে।
- আন্দাজ করে, কয়টার দিকে এসেছিল? - আন্দাজ কেন, স্যার? সঠিক সময়টাই বলছি।
১০.৪৭, সকালে। ৪.৩৬, বিকেলে।
৪৭, ৩৬- দারুন পর্যবেক্ষণ।
- মেয়েটা দারুন ছিল, না? - হ্যাঁ, স্যার। - বয়স কত তোর?
- ২৪ চলছে, স্যার। - তোর ২৪ চলছে, তাই দেখছিস!
আমার আবার উল্টো! ৪২, ঘুমাচ্ছি!
স্ক্রী'কেই ঠিকমতো পর্যবেক্ষণ করার ফুরসত মেলে না! যাক গে, ফোন করে বিষয়টা জানিয়ে দেই।
'গুচ্চি' না? চকবাজার?
অরিজিনাল?
বড়লোকের কারবার!
একবার পড়ে দেখতে পারি?
অশোক স্যার, আসছেন।
স্যার, কী হয়েছে?
- মাথাটা খুব ব্যথা করছে। তুমি ওকে পাহাড়া দাও। সবার জন্য চা বলো। - ঠিক আছে, স্যার।
এই, আয় আমার সাথে।
- অফিসার, একটা জরুরি কল করে আসছি। - ঠিক আছে, করুন, করুন। - চা দিস।
দিচ্ছি, স্যার।
- বলো, পূজারী। - অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে এসেছেন। অ্যাক্সিডেন্ট? - তেমন কিছু না! একটা কেসের ব্যাপারে!
- তো স্যার, অ্যাম্বুলেন্স কেন? জীপ ছিল না? - জনগণের রাস্তা দেয়ার সময় নেই। পুলিশের জনগণকে দেয়ার সময় নেই!
অ্যাম্বুলেন্স সবখানে রাস্তা করে নিতে পারে।
তাই, অ্যাম্বুলেন্স।
স্যারের বুদ্ধি এটা।
পরে কথা বলছি।
- টাকাগুলো সাবধানে রেখো। - জ্বী, স্যার। অবশ্যই।
কী দেখছেন? কী হয়েছে, স্যার? স্যার, বাসে কেউ নেই!
- শালারপুত! - স্যার, ছেড়ে দিন! - নেমে আয়। - তাহলে, ওটা কে?
- ছেড়ে দিন, স্যার। ছোটখাটো চোর, স্যার। - ছোটখাটো চোর নয়, কিডন্যাপার। - আমাদের সাথে চালাকি, আয়।
- আসছি। - আবার কোথায় যাস?
- আয়। - সে পালানোর চেষ্টা করছে।
- আয়, আয় বলছি। - বাঁচান। হ্যালো, আপা!
পালাতে চাস?
ছেড়ে দাও। শালারপুত। নিয়ে চলো, একে!
একটু দাঁড়াও তো! পারমি? ওকে বসাও।
পারমি? এই পারমি?
- পারমি? - রবি, অজ্ঞান হয়ে গেছে।
- কী করবো? - নিয়ে চলো।
স্যার, কিছু একটা মিস করে যাচ্ছেন।
ওরা বললো, টাকা পেলে, ছেলেকে ফিরিয়ে দেবে। আপনাকে নকল টাকার বিষয়ে বলার পরেও, কিছু করলেন না!
আমাদের মধ্যেই কেউ এসব করছে বলে, মনে হচ্ছে। কিন্তু, আমি করিনি! বিশ্বাস করুন, স্যার।
আমি কিচ্ছু করিনি। দয়া করে, আমায় ছেড়ে দিন, স্যার।
- মুক্তি চাস? - প্লিজ, স্যার।
এই, ঐ মাঠটার সামনে, গাড়িটা থামাও।
স্যার, এক মিনিট। পিস্তলে কেস ভরে, আসছি।
দ্যাখ, তুই কিডন্যাপার না। সেটা নিশ্চিত হয়ে গেছে।
তাই, এখানেই ভেবে ফেললাম।
কী নিয়ে ভাবলেন, স্যার?
ঐ যে, এই কিডন্যাপের ব্যাপারে, ওই কিডন্যাপারের ব্যাপারে।
স্যার, আমার জীবনে এমন একটা দিন আসবে- আমি বুঝেছিলাম।
- গতরাতে, খাবার সময়, আপনাদের দেখেই বুঝেছি, আজ আমি মুক্তি পাবো। - ভালো, ভালো।
যা।
- স্যার, ধন্যবাদ! - এই, আস্তে, আস্তে!
আমার বিয়েতে আসবেন কিন্তু।
পাম্মি।
স্যার, পারমি...স্যার!
- এই, কী হয়েছে? - এই পারমি।
- এই পারমি! - কী হয়েছে তোর? ঠিক আছিস?
গাড়ি সাইড করো।
যা।
জলদি আয়।
যা।
স্যার, এক মিনিট। পিস্তলে কেস ভরে, আসছি।
পিস্তল নিয়ে কোথায় যাচ্ছে?
স্যার, আমি কোথাও যাবো না।
আপনি যেতে বললেও, যাবো না!
দ্যাখ, কিডন্যাপ নিয়ে এমনিই মাথা গরম। আবার উল্টোপাল্টা কিছু করার চেষ্টা করলে- তোর জীবন, এখানেই শেষ।
স্যার, শীর্ষস্থানে থাকা মহিলার কসম, আমি কিচ্ছু করবো না!
স্যার, প্রয়োজনে আমি নিজে গিয়ে ছেলেটাকে খুঁজে বের করবো।
আমরা কি এখানে আঙুল চুষছি?
খুঁজে বের করবে!
ঐ ছেলে কেমন দেখতে, জানিস?
দেখেছিস, ঐ ছেলেকে?
হারিশ, ছবি দেখাও ওকে।
এই দ্যাখ, ছবি।
দ্যাখ।
- পারমি, একটু জলদি চলো, প্লিজ। - এত তাড়া কীসের?
টিউশন পড়তে আসবে।
- তোমার পড়াতে যাওয়ার কথা না? - যেতাম, কিন্তু...
মায়ের শরীরটা একটু খারাপ। সকাল থেকেই সারাদিন বাইরে থাকি।
তাই, অন্তত বিকেলটা বাড়িতে কাটাতে, ওকেই এখানে ডেকে নিয়েছি।
- আসছি। সাবধানে যেও। - বাই।
এখন একটা বিক্রিয়া লিখ।
জন, কান্নাডা'র 'এন্টু' (আট) নয়। N2- নাইট্রোজেন।
মনোযোগী হও, জন। এসব কী?
- ওহ, মিষ্টি। কেন? - কালামালিগের নাইট-শিফট সুপারভাইসর হিসেবে, মিঃ পারমি'কে নিয়োগ দেয়া হয়েছে!
পুরোটাই নাইট-শিফট?
বিয়ের পর, পুরো নাইট-শিফট'কে, ডে-শিফটে বদলে ফেলবো।
সে আমার ছাত্র, জন।
নাও।
- হ্যালো, আমি- মিঃ পারমেশ। - জন।
আন্টি কোথায়?
- আন্টি। - বলো, পারমি। - একটা সুখবর আছে। - জানি।
- নাইট-শিফটের কাজ পেয়েছ। - জেনে গেছেন?
- অভিনন্দন। - ধন্যবাদ।
- না। - কেন? - কারণ, আমার খেতে ইচ্ছে করছে না।
ওষুধ খাবার সময় হয়েছে। তাই, আন্টির মন খারাপ।
কী ব্যাপার? ২৪ ঘন্টা শুধু ফাঁকিবাজি।
বাড়িতে অশান্তি, স্কুলে অশান্তি এখন টিউশনেও অশান্তি সৃষ্টি করছো?
এখানে অনেক আরামে আছি।
এই, আরামে থাকার জন্যই অশান্তি সহ্য করতে হয়।
আর তোদের বাড়ি'তো পুরো একটা খেলার মাঠ! আরামের অভাব কেন?
বাবা, ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত। মা, লেডিস ক্লাব, পার্টি সহ এটা-ওটায় ব্যস্ত। বাড়িতে শুধু আমি আর রামুকাকা। সেও গাড়ি নিয়ে বেড়িয়ে গেলে, মাঠ জেলে পরিণত হয়।
রামুকাকা কে?
আমায়, স্কুলে দিয়ে ও নিয়ে আসে।
বাড়িতে, বাবা-মা দু'জনের জন্যই উনি ড্রাইভার। কিন্তু, আমার জন্য উনিই বাবা-মা।
আমার তো বাবা-মা'ই নেই!
তোর থেকেও নেই!
- অনেক হয়েছে, স্যার। ম্যাডাম দেখলে, খবর আছে। - ওহ, টিচারের চেয়ে সে বেশি জ্বালাচ্ছে!
এই, ওপরের ওটার দাম কত?
- ভাই, ওটা ত্রিশ টাকা। - ত্রিশ টাকা?
- হ্যালো। - হ্যালো, গতকাল মায়ের চেক-আপ ছিল না? - হ্যাঁ, কী হয়েছে?
- ১৫ দিনের ভেতর অপারেশন করাতে হবে। - তাই নাকি?
আমি কী করবো, বুঝতে পারছি না!
আনু, কাঁদবে না, প্লিজ। একটু শান্ত হও।
শোনো, কাল সকালে- আমি আসছি। ততক্ষণ, নিজেকে সামলাও।
আনু, কিচ্ছু হবে না। মা যেন সাবধানে থাকে।
ঠিক আছে।
- আজ সকালে, জনের বাড়িতে গিয়েছিলাম। - জনের বাড়ি?
- কেন? - মায়ের অপারেশনের জন্য টাকা ধার চাইতে।
- কী হলো? - কী আর হবে?
তারা অনেক বেতন দিচ্ছে, কিন্তু কোনো ফল পাচ্ছে না!
খুব তুচ্ছভাবে কথা বলেছে।
আমি দশ'জনকে টিউশন পড়াই, জানো?
তাদের অনুরোধে, আরো একজনকে পড়ানো শুরু করলাম।
তাদের জন্য আমি এতটুকু করতে পারলে, তারা আমার জন্য কিছু করতে পারতো না?
কত অভিযোগ, এসব বড়লোকদের।
আমি কি উনার কাছে, দানভিক্ষা চেয়েছি? ধারই তো চেয়েছিলাম।
এসব মানুষদের উচিৎ শিক্ষা পাওয়া দরকার।
ওরা যা করেছিল, সেটা ঠিক ছিল? কেউ আমায় ধোকা দিলে, তাকে আমি ছাড়ি না!
উচিৎ শিক্ষা দিয়েই ছাড়ি।
- শঙ্করের ফোন। হ্যাঁ, বলো শঙ্কর। - স্যার।
ওই টিচারের ব্যাপারে খবর নিয়েছি। ওর বিয়ে ঠিক হয়েছিল। মেয়েটার ব্যাপারে ছেলেটা যা বলেছিল, সব সত্যি, স্যার।
এই কেসের ব্যাপারে মেয়েটা কিছু জানে?
না স্যার, জানে না।
- না জানলে, ছেড়ে দাও। শুধু-শুধু বিয়েতে ঝামেলা করে লাভ নেই! - ঠিক আছে, স্যার।
- ঠিক আছে, বিষয়টা স্যারকে জানাচ্ছি। - ঠিক আছে, স্যার। - নতুন কোনো খবর পেলে, জানিও।
- অফিসার, অপরিচিত নাম্বার থেকে কল আসছে। - কথা বলুন।
- স্যার, আরেকটা কল। অপরিচিত নাম্বার থেকে। - কথা বলুন।
- বাবা, আমায় বাঁচাও। - জন, জন।
- মেরে ফেলবো, তোর ছেলেকে? - এই, দ্যাখ...
শেষবার, ঠিক জায়গায় টাকা পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু, টাকা ফিরিয়ে আনতে হয়েছে।
ঠিক আছে। একটা কাজ করা যাক। আমরা এদিক থেকে টাকা পাঠাবো, তুই ওদিক থেকে ছেলেকে ফেরত পাঠাবি।
তোর কথা রাখ, আমার কথা শোন।
এক ঘন্টার ভেতর, এইচএমডি পার্কে আমার ছেলের হাতে টাকা দেখতে চাই।
এবার কোনোরকম ঝামেলা হলে, ছেলের মাথা নিশ্চিন্তে বাড়ি পৌছে যাবে।
আমি টাকার আশা ছেড়ে দেবো, তোরা ছেলের আশা ছেড়ে দিস।
স্যার, ঝামেলা প্রয়োজন নেই। টাকা দিয়ে দেই।
এরপর, নাহয় আপনারা অ্যাকশন নিলেন।
- হারিশ, রবি। - স্যার। - এসো।
লবণ বেশি হলেও, খাবারটা দারুন হয়েছে।
বলুন, ম্যাডাম।
আজ সন্ধ্যায়, মা'কে নিয়ে হাসপাতাল যাবো, চেক-আপের জন্য।
- ঠিক আছে, আমি এসে নিয়ে যাবো। - না না, আমিই নিয়ে যাবো।
মায়ের আগের রিপোর্ট নিতে হবে, ডাক্তারদের সাথে কথা বলতে হবে। অনেক কাজ!
তুমি অতকিছু পারবে না!
আসলে, সন্ধ্যায় জন আসবে, টিউশনে।
- তুমি ওর সাথে থাকলেই হবে। - নো টেনশন।
আমি যা যা জানি, সব আজ ওকে শিখিয়ে দেবো।
হ্যালো, অতকিছুর দরকার নেই!
আমি ওকে অ্যাসাইনমেন্টস দিয়ে রেখেছি।
- বিকেলে দেখা হচ্ছে। - ঠিক আছে, বাই।
- মা, বিকেলের ওষুধ খেয়েছ তো? - হ্যাঁ। - পারমি এক্ষুনি এসে পড়বে।
- আনু, কী হয়েছে? - এক মিনিট।
পারমি, জন আসলে- পড়ার রুমে বসিয়ে দিও।
আমি আর মা, হাসপাতালে যাচ্ছি।
তুমি কেন এত কষ্ট পাচ্ছ?
আমার এসবে অভ্যাস হয়ে গেছে। চিন্তা করো না!
একদিনের ভ্রমণের মতো হয়ে গেছে, জলদিই এসে পড়বো।
হাসপাতালের গন্ধটা একেবারেই ভালো লাগে না!
অসহ্য!
অনলাইনে থেকো। হোয়াটস-এপ'এ ম্যাসেজ পাঠাবো।
- ঠিক আছে। জলদি এসে পড়ুন। সাবধানে যেও আর একটা কল করো। - ঠিক আছে।
চাবি ভেতরে আছে আর চা রাখা আছে।
এখানে কী করছিস?
তুমি ওখানে ছিলে। ভাবলাম, সিরিয়াল জগতে ডুবে গেছো। এখন দেখি, পৃথিবীতেই ছিলে!
- ম্যাডাম কিন্তু তোর বাড়ি গিয়েছিল। - জানি।
বাবার কাছে টাকা ধার চেয়েছিল, সেটাও জানি।
আমায় ছেলের মতো মানুষ করা, রামুকাকা। তার মেয়ের বিয়ের জন্যই টাকা দেয়নি। আর ইনি তো, টিউশন টিচার!
আমার বাবা, পাক্কা ব্যবসায়ী!
প্রয়োজন হলে, আমার নামে দুর্ঘটনার খবর রটিয়ে, আমাকেই কিডন্যাপ করে- আরামসে নাম কামিয়ে ফেলবে। স্যরি, ফেলতে পারে।
দ্যাখ, এইবার ছেলেটাকে আনতেই হবে।
যাই হয়ে যাক না কেন। ঐ ব্যাগ নিয়ে যা।
- নিয়ম-অনুযায়ী পিস্তল দেয়া নিষেধ। নে, চালাতে জানিস? - স্যার, দরকার নেই!
আমি ওদের গুলি করলে, ওরা আমায় গুলি করলে- শেষে কোনো জীবনই থাকবে না!
যেতে হলে, আমার জীবনটাই যাক।
- হারিশ। - নে। যা।
ঠিক আছে, কোনদিকে যাবো?
এদিকে আয়।
ওরা ইতিমধ্যেই আমাদের ওপর নজর রাখছে। এদিক দিয়ে যা। ওরাই খুঁজে নেবে।
যা, যা।
- হারিশ, ওদিকে নজর রাখো। - জ্বী, স্যার।
- ট্র্যাকার চালু করো। - তৈরি, স্যার।
- এখান থেকে লোকেশনের দূরত্ব প্রায় কত হবে? - স্যার, ৩৫০ থেকে ৪০০ মিটার।
স্যার, জিপিএস নড়ছে না। সম্ভবত, কিডন্যাপারদের সঙ্গে দেখা হয়েছে।
- বলো, পূজারী। - ঐ কয়েনবক্সের মহিলাকে পেয়েছি।
উনাকে স্টেশনে এনেছি। ইনভেস্টিগেশন রুমে বসিয়ে রেখেছি, স্যার।
আমি আসছি, ওখানে।
স্যার, জিপিএস আবারো নড়চড় করছে।
ব্যাগ নিয়ে আসছে কেন?
স্যার, ওর সাথে একটা ছেলেও এসেছে।
জন, আমার ছেলে।
- বাবা, দেখো। খুব ব্যথা করছে। - ঠিক আছে। সব ঠিক হয়ে যাবে।
টাকা কেন ফেরত এনেছিস?
টাকা নেই, স্যার। টাকাহীন, খালি ব্যাগ এনেছি।
টাকা কোনো ব্যাপার নয়, স্যার। আমি আমার ছেলেকে ফেরত পেয়েছি। তাই, যথেষ্ট।
টাকা যাবে না। ফেরত পাবেন।
আমি তো আগেই বলেছি, স্যার। আপনাদের সব পরিকল্পনা, ওরা আগে থেকেই জেনে যায়। আপনাদের মধ্যেই কেউ একজন...
যাওয়া যাক।
ভালোবাসি, ভালোবাসি- বলে আমার পেছনে পড়ে থাকতো।
কিন্তু, দু'বছর আগে- আমি ওর ভালোবাসায় পাগল হয়ে যাই।
সেই সুযোগ নিয়ে, সে আমার জীবন নষ্ট করে দিল। আমার পেটে ওর বাচ্চা ছিল।
রুটিন চেক-আপের বাহানায়, একদিন, আমায় ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেল।
কিন্তু, আসলে- সে আমার গর্ভপাত করিয়ে দিল!
আমার অজান্তেই, আমার বাচ্চাকে শেষ করে ফেললো, স্যার।
তাই, আমি ওকে বাচ্চা হারানোর কষ্টটা অনুভব করাতে চেয়েছিলাম।
তো...
কেনেডি'কে শাস্তি দেয়ার লক্ষ্যে- একটা গুন্ডাকে সুপারি দিয়ে, জনের পেছনে ফলো করিয়ে, ওর চলাচল পর্যবেক্ষণ করে...
কিডন্যাপ করিয়েছেন। ঠিক বলেছি?
না, স্যার। আপনি ভুল।
কিডন্যাপ করার পরিকল্পনা করেছিলাম, সত্যি।
কিন্তু, আমরা বাচ্চাটিকে কিডন্যাপ করিনি!
কাজটা যেই করুক না কেন, উচিৎ করেছে।
স্যার।
ঠিক আছে।
ধন্যবাদ, মিঃ পাম্মি!
স্যার, ওটা- P- U- R- M- Y.. পারমি, স্যার।
- আপনি আমায়, মিঃ পারমি ডাকতে পারেন। - ঠিক আছে।
ধন্যবাদ, মিঃ পারমি। আপনি আমাদের অনেক সাহায্য করেছেন।
কিন্তু, আমাদের জন্য আপনার অনেক কষ্ট হলো।
- কিন্তু, ধন্যবাদ। - মেনশনের প্রয়োজন নেই, ধন্যবাদ।
- কিন্তু, মুখটা একটু ঠিক করে দিয়েন, স্যার! - অবশ্যই। - গুনীজনেরা বলেন না...
বেস ঠিক না থাকলেও, ফেস খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- হ্যাঁ। - অতটুকুই!
আচ্ছা, আপনি গ্লাসটা চাচ্ছিলেন না?
- এটা আপনার জন্য। - গুচ্চি? আমার জন্য? - হ্যাঁ, আপনার জন্য। নিন।
আগামী সপ্তাহে, আমার বিয়ে।
- কার্ড দিয়ে দেবো, আসবেন কিন্তু। - অবশ্যই, অবশ্যই।
স্কেচ-আর্টিস্ট এসেছে। পূজারী'র কাছে যা। এই জন, তুমিও এসো বাবা!
- স্যার? - কী, বলো। - আপনার কী মনে হয়?
সে কাজটা করেনি।
ওরা প্ল্যান করেছিল। কিন্তু, পরে অন্য কেউ ওদেরই মতো করে কার্যসম্পাদন করেছে।
- স্যার। - হ্যাঁ। - ঐ ড্রইং মাস্টার মানে স্কেচ-আর্টিস্ট এসেছে, স্যার।
- ঠিক আছে, স্কেচ আঁকতে বলো। - ঠিক আছে, স্যার।
অমাবস্যা, অর্ধচন্দ্রের পর- চন্দ্রগ্রহণ হয়ে গেল!
সে কাজটা না করলে, আর কে করতে পারে?
কিডন্যাপার অন্য কোথাও নয়, স্যার- আমাদের মধ্যেই আছে।
আমাদের মধ্যেই কেউ একজন...
আঙ্কেল, ইনিও কি পুলিশ?
- না, উনি তোমার বাবা। - হ্যাঁ?
মানে, সে তোমায় পুনর্জন্ম দিয়েছে। সে কতটা মহান, জানো?
ধন্যবাদ, আঙ্কেল। ধন্যবাদ, আঙ্কেল। আপনি আমার জীবন বাঁচিয়েছেন, আঙ্কেল।
কাঁদিস না, বাপ! আসলে, আমার সময়টাই খারাপ যাচ্ছে।
কাঁদিস না, তোরা। সামলা নিজেদের!
বাপজানেরা, এসব বাইরে গিয়ে করিস তোরা।
আমাদের কাজটা করতে দে, বাপ!
এসবের অনেক সময় আছে। একটু থাম, বাপ।
একসাথে থেমে গেল!
ঠিক আছে। দেখতে কেমন ছিল, বলো।
- মাথা টাক ছিল। - অনেক চুল ছিল।
তোমরা যদি এখন, এসব- টাক, কাকের কথা বলো, তাহলে সে কীভাবে বুঝবে?
- ঠিক করে বলো। দাড়ি ছিল? - ক্লিন শেভ। - ঘন দাড়ি।
টাক মাথা, ঘন দাড়ি।
আমি বলছি, আঁক। ইনি, ক্রিকেটার- হাশিম আমলা
টাকার জন্য দলের সাথে বাজি ধরে, এই কাজ করেছে।
কী, কী? ইংরেজী'কে গুলি মার, সোমবার এমনেই ঝামেলার।
আঙ্কেল, আমি তাকে দশ ঘন্টা দেখেছি। সে তো শুধু, দশ মিনিট দেখেছে।
আমি ওকে খুব ভালো করে চিনি। আমিই বলছি, আঙ্কেল।
হ্যাঁ, বাচ্চারা মিথ্যা বলে না। তুমিই বলো, বাবা। কেমন দেখতে ছিল সে?
- আমায় কেউ একজন কিডন্যাপ করার প্ল্যান করছে! - তাই নাকি? কিডন্যাপ?
অন্যের কিডন্যাপ, তুমি কেন করছো না?
কী বলছিস, এসব?
রামুকাকার মেয়ের বিয়ের জন্য, টাকা দরকার। তোমার শাশুড়ির অপারেশনের জন্যেও টাকা দরকার।
আমার বাবার থেকে টাকা হাতাবার, এই একটাই উপায়।
বাজারে আমার মূল্য দেখলেই, বাবা-মা আমার মূল্য বুঝতে পারবে।
আমার এসব ঠিক মনে হচ্ছে না!
এরকম কাজ, আমি- জীবনেও করিনি!
মিঃ পারমি মানে একটা নীতি। বুঝেছিস?
পাওয়া না পাওয়া পরের বিষয়। কিন্তু, আমাদের অবস্থানে- প্রয়োজন মেটানোর পথ এই একটাই।
হ্যালো, কিডন্যাপ করাটাকে ক্যান্ডি-ক্রাশ খেলার মতো সহজ, মনে করিস?
টেনশন নিচ্ছ কেন?
প্ল্যান আমার, কাজ তোমার।
প্রথমে, তোমায়- চকবাজারে গিয়ে, স্মার্ট-ফোনের জন্য, নকল আইডি-কার্ড ওয়ালা সিম-কার্ড জোগাড় করতে হবে।
এরপর, আমার চলাচলের জন্য- একটা নতুন রেজিস্টার হওয়া গাড়ি নেবে।
আমার বন্ধুকে বললেই হয়ে যাবে।
আমি, ভিন্ন-ভিন্ন জায়গা থেকে, ভিন্ন-ভিন্ন নাম্বার থেকে ফোন করবো। বুঝেছ?
সকাল- ১০টায় এই নাম্বার থেকে। ১১টায়- এই নাম্বার থেকে।
নিজের ছেলেকে জীবিত দেখার, আশা আছে?
বাবা, বাবা- বাঁচাও আমাকে, বাবা।
ওর আর কী? ভালোই আছে। হ্যালো, হ্যালো, হ্যালো- বাবা।
জন, সব বুঝলাম।
পুলিশের ঝামেলা হবে না, তো?
আমার বাবা- পুলিশের কাছে, যাবেই যাবে।
পুলিশকে খেলানোটা কষ্টকর।
- কিন্তু, পুলিশকে আমাদেরই খেলাতে হবে। - তো পুলিশকে খেলানোর জন্য, কোন বাপ যাবে?
আমি?
না, না। নাহ!
- স্যার! - স্যার, এগুলো নকল টাকা বুঝতেই পারিনি!
স্যার, আগামী সপ্তাহে আমার বিয়ে। ওকে নিয়ে শপিংয়ে যাবো, প্রমিস করেছিলাম।
ফোন না করলে, টেনশনে পড়ে যাবে না বেচারি! একটা মাত্র ম্যাসেজ করবো, প্লিজ স্যার।
- নে। - ধন্যবাদ, স্যার।
দারুন লাগছে না?
তোমায় স্মার্ট-ফোন ব্যবহার করতে হবে। বুঝেছ?
- এই, কী হয়েছে? - ব্যাগ নিন, স্যার। - ব্যাগ কেন?
ওখানে দু'জন...
এত টাকা জীবনেও দেখিনি।
এত টাকা দেখেছি। কিন্তু, কখনো ছুঁয়ে দেখিনি!
এই, জিপিএস রেখেছে।
- রাখো, টাকা সব ব্যাগে রাখো। - শিট! - নাও।
প্রথমে, এখান থেকে জলদি পালাও। গিয়ে কিছু একটা বলে দিও। এরপর, অন্য কিছু ভাবছি। নাও।
বন্ডের বেশধারী ভান্ড একটা, থুঃ!
জলদি যাও।
পরে কী করতে হবে, ভেবেচিন্তে- কল করে জানাবো। যাও।
ল্যাং মারলি কেন?
আমি কই মারলাম? ওই কিডন্যাপার'রাই তো মারলো।
কেন মুখের এই হাল করছিস?
- ঐ পুলিশেরা এমনিতেই, মেরে মুখে বারোটা বাজিয়েছে। - তাই নাকি? - কাছে এসে দ্যাখ!
এই পাপী, মারলে কেন?
ওহ মাই লর্ড! আমি কোথায় মারলাম? ঐ কিডন্যাপার'রাই তো মারলো।
যাও তো, জলদি।
ছেলেটা- চোখ দিয়ে দুধ খায় নাকি মুখ দিয়ে দুধ খায়, জানি না। কিন্তু, বিড়ালের মতো দুধ খায়, সেটা নিশ্চিত।
এখন, খালি হওয়া বোতল'টাকে খুঁজে বের করতে হবে।
- ঠিক আছে, স্যার। - আর সেটার জন্য, তোমার সাহায্য লাগবে।
স্যার, ২৪/৭ সর্বদা আপনার সাহায্যে নিয়োজিত থাকবো।
- শীর্ষস্থানে থাকা মহিলার কসম। - বদের বদ!
সবসময় শুধু শীর্ষস্থানে, শীর্ষস্থানে! কে আছে এই শীর্ষস্থানে?
- উনি, শীর্ষস্থানে আছে, স্যার। - স্যার, দেখলেন?
বাদ দাও, পূজারী।
স্যার, আগামী সপ্তাহে আমার বিয়ে।
দয়া করে, আপনারা সবাই আসবেন, স্যার। প্লিজ।
- অবশ্যই, আসবো। - ধন্যবাদ, স্যার।
স্যার, কমিশনার অফিস থেকে ম্যাসেজ এসেছে। 'অপারেশন জন' এর ব্যাপারে অতি-শীঘ্রই রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে।
- তোমায় আমি চিনি না, আমায় তুমি চেনো না। ঠিক আছে? - ঠিক আছে। ডিল।
- তো, শুরু করা যাক- 'অপারেশন আলমেলাম্মা।' - হ্যাঁ, শুরু করা হোক- 'অপারেশন আলমেলাম্মা।'
'অপারেশন আলমেলাম্মা'?!
এত ভালো প্ল্যান করে, একটা ভালো নাম রাখতে পারলি না?
- আমরা এগুলো কার অপারেশনের জন্য করছি। - প্রেমিকার মায়ের জন্য। - মায়ের নাম কী?
প্রেমিকার মা!
এই, ঠিকই তো? উনার নাম কী?
'আলমেলাম্মা।'
- তাই নাকি? - হুম।
আমরা যা করতে চলেছি, সব- আলমেলাম্মা'র অপারেশনের জন্য।
তাই, 'অপারেশন আলমেলাম্মা।'
- না, ভাই! এক কাজ করি- অপারেশন রামুকাকা রেখে দেই। শুনতেও ভালো লাগছে। - না, না!
- অপারেশন আলমেলাম্মা। - আমার কথা শোন, জন। অপারেশন রামুকাকা।
- অপারেশন আলমেলাম্মা। - অপারেশন রামুকাকা। - অপারেশন আলমেলাম্মা। - অপারেশন রামুকাকা। - হবে না। - হবে না, ভাই। - হবে না। - অপারেশন রামুকাকা। - অপারেশন আলমেলাম্মা।
''অপারেশন আলমেলাম্মা''
কেমন লাগল মুভিটি? জানাতে পারেন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুটি সাউথ মুভি ভিত্তিক গ্রুপে।
"ব্লকবাস্টার সাউথ ইন্ডিয়ান মুভি লাভারস গ্রুপ" www.facebook.com/groups/SouthFansBD
"সাউথ ইন্ডিয়ান মুভি ফ্রিক" www.facebook.com/groups/SouthFreak
সাবটাইটেল ভালো লাগলে, 'সাবসিনে' রেটিং এবং ফিডব্যাক দেবেন।
ধন্যবাদ।:)
Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.