Afrikaans
Akan
Albanian
Amharic
Arabic
Armenian
Azerbaijani
Basque
Belarusian
Bemba
Bengali
Bihari
Bosnian
Breton
Bulgarian
Cambodian
Catalan
Cebuano
Cherokee
Chichewa
Chinese (Simplified)
Chinese (Traditional)
Corsican
Croatian
Czech
Danish
Dutch
English
Esperanto
Estonian
Ewe
Faroese
Filipino
Finnish
French
Frisian
Ga
Galician
Georgian
German
Greek
Guarani
Gujarati
Haitian Creole
Hausa
Hawaiian
Hebrew
Hindi
Hmong
Hungarian
Icelandic
Igbo
Interlingua
Irish
Italian
Japanese
Javanese
Kannada
Kazakh
Kinyarwanda
Kirundi
Kongo
Korean
Krio (Sierra Leone)
Kurdish
Kurdish (Soranî)
Kyrgyz
Laothian
Latin
Latvian
Lingala
Lithuanian
Lozi
Luganda
Luo
Luxembourgish
Macedonian
Malagasy
Malay
Malayalam
Maltese
Maori
Marathi
Mauritian Creole
Moldavian
Mongolian
Myanmar (Burmese)
Montenegrin
Nepali
Nigerian Pidgin
Northern Sotho
Norwegian
Norwegian (Nynorsk)
Occitan
Oriya
Oromo
Pashto
Persian
Polish
Portuguese (Brazil)
Portuguese (Portugal)
Punjabi
Quechua
Romanian
Romansh
Runyakitara
Russian
Samoan
Scots Gaelic
Serbian
Serbo-Croatian
Sesotho
Setswana
Seychellois Creole
Shona
Sindhi
Sinhalese
Slovak
Slovenian
Somali
Spanish
Spanish (Latin American)
Sundanese
Swahili
Swedish
Tajik
Tamil
Tatar
Telugu
Thai
Tigrinya
Tonga
Tshiluba
Tumbuka
Turkish
Turkmen
Twi
Uighur
Ukrainian
Urdu
Uzbek
Vietnamese
Welsh
Wolof
Xhosa
Yiddish
Yoruba
Zulu
আমার ৬ষ্ঠ অনুবাদ। প্রথমবার, ভাষা বুঝে অনুবাদ করেছি। ক্ষুদ্র ভাষাজ্ঞান কাজে লাগিয়ে, অনুবাদ সম্পন্ন করেছি।
ভুল-ত্রুটি কম করে, সাবলীল অনুবাদ- উপহার দেয়ারই, চেষ্টা ছিল। তবুও, ভুল-ত্রুটি হলে- ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
কমেডি, হিউমার, ফান, রোমান্স, সাসপেন্স, থ্রিল, টুইস্ট- সবকিছুর মিশেলে তৈরি ফিল্মটি দারুন উপভোগ করবেন, আশা করি।
বাংলা অনুবাদ ও সম্পাদনায় রুবায়েদ ইসলাম
আমি এই কাজে রাজি। সব জেনেশুনে, মুখ পর্য্ন্ত না দেখে, টাকা দিয়ে এত অনুরোধ করায়- আপনার কাজ আমি করবোই।
ছেলেটাকে ওর ড্রাইভার ছেড়ে যায়। এরপর, সে প্রার্থনায় দাঁড়ায়।
স্কুল বেশ সুরক্ষিত। সবখানে সিসি ক্যামেরা লাগানো।
লান্চ-টাইমে ছেলেরা চারিদিকে ছড়িয়ে থাকে। নিরাপত্তা কর্মীরাও ব্যস্ত থাকে! কম্পাউন্ডের দিকে কেউ আসে না!
সুতরাং, এটাই কিডন্যাপিংয়ের জন্য মুখ্যম সময়।
বিকেলে সে এখানেই খেলে। ওর ড্রাইভারও এসে পড়ে। এখানে একটু কষ্ট হবে। তবুও, চেষ্টা করবো।
ধুর!
- কী ব্যাপার, এখানে কেন? - এই স্কুলের ফি দেই, যেখানে খুশি থাকবো!
সবাই সুইমিং ক্লাসে গেছে। শুধু এই ছেলেই বাথরুমে বসে গেম খেলছিল।
এখানে একটা দরজা আছে যেটার সিসিটিভি কাজ করে না! আরামসে কাজ সাড়তে পারবেন, ভাই।
ধুর, দাও ওটা!
- হ্যালো - যা বলছি মন দিয়ে শোন!
তোর করা একটা ভুল আমায় রাগিয়ে দিতে পারে। সাথে, ২৫ লাখের ক্ষতি করতে পারে! যা তোকেই দিতে হবে!
- আমি ২৫ লাখ দেবো কেন? - বিনা স্বার্থে টাকা দেয়ার মতো ফেরেশতা তুই না। হাত পেতে টাকা চাওয়া ভিক্ষুকও আমি না!
তোর ছেলেকে কিডন্যাপ করা হয়েছে। টাকা সময়মতো না পেলে, ছেলেকে- উপহার বাবদ পাঠাবো, তোর কাছে!
কোথায়, কখন, কীভাবে- টাকা পাঠাবি, পরের কলে জানাবো। ততক্ষণ পর্য্ন্ত, স্টে টিউনড টু- ২৫'লাখ এফএম! আমি কিডন্যাপার আছি, তোর ছেলের সাথে!
হ্যালো, ম্যারি! চিন্তা করবে না। জন'কে পাওয়া যাচ্ছে না! আমি কমিশনারের সঙ্গে কথা বলছি। এরপর, তোমায় সব বুঝিয়ে বলবো।
- কমিশনার! শুভ সকাল, স্যার! - শুভ সকাল, অশোক।
- বিখ্যাত বিজনেস ম্যাগনেট কেনেডি'কে চেনো তো? - জ্বী স্যার! - ওর ছেলে জন, কিডন্যাপ হয়েছে। বিষয়টা গোপন রাখতে হবে।
বাড়ি এসে ছেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ করে গেছে। তাই, কেসটা তোমায় সামলাতে দিচ্ছি।
- এরিয়া এস.আই. হারিশ তোমায় সঙ্গ দেবে। - ঠিক আছে, স্যার। আমি বেরিয়ে পড়ছি! - জলদি কাজে লেগে পড়ো। - ঠিক আছে।
- স্যার, কিডন্যাপ হওয়া ছেলের বাবা। - হ্যালো, অফিসার। - অশোক। - বসুন।
- কী হচ্ছে, কেনেডি। - শান্ত হও। - মি. কেনেডি, কমিশনার সাহেব আমায়- এই কেস পার্সোনালি সামলাতে বলেছেন।
- নিন, স্যার। - ধন্যবাদ। - নিন।
খুবই বিচিত্র কেস। আপনার কী মনে হয়? আপনার তো অনেক অবৈধ কাজকারবার!
- কাউকে সন্দেহ হয়? - সরাসরি কারো নাম বলাটা সম্ভব নয়, ইন্সপেক্টর!
হারিশ, উনার মোবাইল নাও। প্র্রথম কলটা কোত্থেকে থেকে এসেছিল দেখো। এরপর, উনার মোবাইলের সাথে সিঙ্ক করে, কল ডিটেইলস চেক করো।
এই ক'দিনে ৭টি কিডন্যাপিংয়ের কেস রেজিস্টার হয়েছে। ৫টা বাড়ি থেকে ঘটেছে। ১টি সুপারি নিয়ে এবং আরেকটি রাস্তা থেকে! কিছু তথ্য আরকি!
স্যার প্রাইভেট নাম্বার থেকে কল আসছে। হয়তো কিডন্যাপার!
উনাকে দাও।
মি. কেনেডি, একটি টেকনিক্যাল পয়েন্ট- কল ট্রেস করার জন্য কমপক্ষে ৬০ সেকেন্ড কথা বলতে হবে!
- মনোজ, তৈরি? - জ্বী, স্যার।
- ধরবো? - স্পীকার অন করে কথা বলুন।
- হ্যালো! - হ্যালো, মি. কেনেডি। - আমার ছেলে কেমন আছে? - ওর আর কী, আরামেই আছে।
মৃত্যপূর্বের সুখ ভোগ করছে!
- কথা বলবেন, ছেলের সাথে? - হ্যালো, বাবা! - জন, ঠিক আছো তুমি? - হ্যাঁ, বাবা।
- কিন্তু.. কিন্তু! - ওকে কিছু করবেন না!
এই বাচ্চার জন্য আর কীই বা করতে হবে! যা বলছি ভালো করে শোন। ১০ মিনিটের মধ্যে টাকা- শিভাজি নগরের রিজাল মার্কেটে পৌছে যাওয়া চাই!
বাচ্চা সুস্থভাবে বাড়ি পৌছে যাবে! চিন্তা নেই!
- মনোজ, ধরতে পেরেছ? - হ্যাঁ, স্যার। নিলামাঙ্গাল থেকে এসেছে।
কল নিলামাঙ্গাল থেকে এসেছে! টাকা শিভাজি নগর পৌছে দিতে বলেছে! তার মানে, ঐ গ্যাং শিভাজি নগর থেকে কাজ চালাচ্ছে!
- ঠিক আছে। সব ঠিক থাকবে। আপনি টাকার ব্যবস্থা করুন। - ঠিক আছে, অফিসার! - হারিশ!
- চিন্তা করবেন না, ম্যাডাম। - স্যার, ক্যাশ রেডি।
- হারিশ! - স্যার প্রথম কলটার সঠিক লোকেশন ধরতে পারিনি। কিন্তু, দুটো কলের সিমকার্ড ডিটেইলসই নকল!
- দুটোই নকল? - হ্যাঁ, স্যার।
ওরা একটা খেলা খেলছে, হারিশ! আমরাও একটা খেলা খেলবো।
ব্যাগে সব নকল টাকা রেখে দাও। টাকা আসল নয় জেনে, ওরা ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করবে। তখনই ট্রেস করে ফেলবো।
- ওদের বলা সময় অনুযায়ী, রিজাল মার্কেটে ব্যাগটা রেখে এসো। - জ্বী, স্যার।
- কী হচ্ছে ওখানে? - ব্যাগের জন্য কেউ আসছে না, স্যার! - সতর্ক থাকো। - জ্বী, স্যার।
আফসার ভাই, একটা চা.. 'আরসিবি'র হয়ে লাগানো হাতে!
- তোমাদের এক হাতে আসে, আমাদের দু'হাতে আসে। - কীভাবে?
আরসিবি'র পক্ষে আনোয়ারের সাথে লাগিয়েছি। সানরাইজার্সের পক্ষে আশরাফের সাথে লাগিয়েছি।
এক হাতে গেলে, আরেক হাতে আসবে! কেমন?
এটাকে বেটিং না, ব্যালেন্সিং বলে।
ব্র্যান্ডেড ব্যাগই তো মনে হচ্ছে!
ব্যাগের কাছে যে ঘুরছে, ওর দিকে লক্ষ রাখো।
- লক্ষ রাখছি, স্যার। সবাই সতর্ক থেকো। - আরেকজন আসছে, বি এলার্ট।
- স্যার, এই ব্যাগ আপনার? - না, ভাই!
- কার ব্যাগ, ভাই! এত দারুন দেখতে! - লক্ষ রাখো। - স্যার, অর্ডার দিলেই ঝাপিয়ে পড়বো।
- আসল না নকল, দেখে নেই! - স্যার, ব্যাগ খুলছে।
- ব্যাগ খুলে ফেলেছে। পালিয়ে যেতে পারে। ধরে ফেলো। - জ্বী, স্যার।
- দেখো.. - স্যার, আমি- মি. পারমেশ। আপনি পারমি ডাকতে পারেন।
স্যার, ধন্যবাদ। সবাই শুধু মারছিল। আপনিই প্রথম, যে কথা বললেন।
- দেখো, পাম্মি! - পারমি, স্যার!
P- U- R- M- Y
P- U- M- M- Y.. ওটা কুকুর!
ঠিক করে কথা বল!
- যা খুশি বলুন, স্যার! - ছেলেটা কোথায়?
- বেঁচে আছে না মরে গেছে? - কোন ছেলে, স্যার?
- কী বলছেন, এসব? - কোন ছেলে?!
- কিডন্যাপিং, এক্সটোর্শন (চাঁদাবাজি) কবে থেকে শুরু করেছিস? - স্যার, আমি- এডিশন (যোগ), সাবট্র্যাকশন'ও (বিয়োগ'ও) ঠিকমতো জানি না!
ডায়লগ মারাস। শ্যুয়ারের বাচ্চা!
স্যার, আপনারা কেন এমন করছেন? আমার ফোনটা দিয়ে দিন, প্লিজ!
বন্ধুদের ফোন দিচ্ছি, আপনারাই কথা বলে নিন।
স্যার, ওর নাম বা ফটো মিলে, এমন কোনো রেকর্ড আমাদের কাছে নেই।
কে তোর বস?
আরমুগাম।
- কে সে? - স্যার, আমি তার গোডাউনেই স্টোর-ম্যানেজার পদে কাজ করি।
আমার বস- আরমুগাম!
- কালামালিগে প্রাইভেট লিমিটেড। - জ্বী, স্যার। ওখানেই কাজ করি।
- তোকে ঐ ব্যাগ নিতে কে বলেছে? - স্যার, আমায় কেউ বলেনি!
স্যার, সত্যিটাই বলি! আমার ব্যান্ডেড জিনিস খুব পছন্দ। দূর থেকে ব্যাগটা দেখলাম। ভালো ব্র্যান্ডেরই মনে হলো!
স্যার, ওগুলো সব নকল! স্যার, ব্যাগটা খুব পছন্দ হয়েছিল। কোন গাধা ব্যাগটা রাস্তায় ফেলে গেছে, জানতে ইচ্ছে হলো।
আমায় এগিয়ে যেতে তো আপনারাও দেখেছিলেন। ব্যাগে এত টাকা থাকবে কল্পনাও করিনি। বিশ্বাস করুন, স্যার। আসলে, আমার সময়টাই খারাপ যাচ্ছে।
শালারপুত! তোর কথা যদি মিথ্যা হয়, তোর জিনিস এখানেই কেটে রেখে দেবো।
- আমি কিছু কাটি বা না কাটি, কারেন্ট সময়মতো কেটে যাবে! - জেনারেটর চালু করো। - একে ভেতরে ঢুকাও।
স্যার, প্লিজ! অশোক স্যার, প্লিজ...
- স্যার, আমরা কি সঠিক লোককে গ্রেফতার করেছি? - দেখো, অমাবস্যায় চাঁদ দেখা যায় না। এর মানে, এই না যে- চাঁদ নেই! আমরা শুধু দেখতে পাচ্ছি না আর কি!
- দেখে ফেলবো, অপেক্ষা করো। - ঠিক আছে, স্যার
স্যার, কেমন মানুষ সব স্টেশনে! সবার নজর ২৫ লাখে। কেউ কেয়ারলেসই হচ্ছিল না! সকাল থেকে বিকেল পর্য্ন্ত, ১০০ টাকা ধান্ধা করতে কত কষ্ট হয়েছে জানেন? স্যরি, স্যার!
- ন্যায় হচ্ছে, স্যার? - এগুলো নকল টাকা! যাও, হারিশ'কে দিয়ে এসো।
ধুর, এগুলো নকল টাকা! একদম আসল টাকার মতো ছাঁপিয়েছে, শালারা! বুঝতেই পারিনি!
৫০ হাজারের শ্রাদ্ধ হয়ে গেল!
হারিশ স্যার, এত-এত টাকা যাচ্ছে আমাদের স্টেশন থেকে..
- চল, চল.. - স্যার, আমি কিছুই করিনি।
- স্যার, খুব সাবধানে এনেছি। কোথায় রাখবো? - সাবধানতা ধরে রেখে, কোথাও রেখে দিন।
- স্যার, নকল টাকা বুঝতেই পারিনি! - এই, নিয়ে যান তো। - অরিজিনাল হলেই বা কী, আমি তো আর কিছু পাবো না।
- স্যার, প্লিজ! - এই, চল।
স্যার, ঐ ছেলের মোবাইল চেক করেছি। বিয়ে হতে চলা মেয়ের ছবি ছাড়া তেমন কিছু পাইনি। ওর ফেসবুক, ই-মেইল, কল ডিটেইলস চেকের দায়িত্ব ট্র্যাকার মনোজ'কে দিয়েছি।
আপনার জন্যেও একটি কপি নিয়ে এসেছি।
- ঐ চায়ের দোকানে কথা বলেছ? - হ্যাঁ, কথা বলেছি, স্যার।
- নিন, স্যার। - তারপর, পারমি এসেছিল নাকি? - এখন নাইট-শিফটে কাজ করে। একটু আগেও এসেছিল। কয়েকজন খুব কেলিয়েছে। চায়ের টাকাটাও দেয়নি!
- অফিসে? - গিয়েছিলাম, স্যার। - হ্যাঁ, সে এখানেই কাজ করে। খুবই ভালো ছেলে।
- চাঁদাবাজি বা কিছু? - না না! হয়তো, আগে করতো। আমি ওরকম কিছু দেখিনি।
- কিডন্যাপারের কল লোকেশনে গিয়েছিলে? - গিয়েছিলাম, স্যার। কিছুই পাইনি!
সমস্যা যেখান থেকে শুরু হয়েছিল, সেখানে যেতে হবে। চলো, জনের স্কুলে যাওয়া যাক।
- আপনার ছাত্র জনের ব্যাপারে কিছু বলতে পারেন? - হ্যাঁ, খুবই ভালো ছেলে। লেখাপড়ায় একটু দূর্বল হলেও, এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিসে খুব ভালো।
গান, মিমিক্রি, ক্রিকেট- হ্যাঁ, ক্রিকেট খুব ভালো খেলতো।
- স্কুলে কখনো মারপিট বা কিছু? - ওরকম কিছু হয়নি, স্যার। খুবই ভালো ছেলে।
- জন, সুইমিং ক্লাসে রেগুলার আসতো? - জ্বী, স্যার। আসতো।
- ওকে শেষবার কোথায় দেখেছিলেন? - এই ড্রেসিং রুমে। - কত বছর ধরে স্কুলে আছেন? - স্কুল শুরু হওয়ার পর থেকেই।
- পুরো স্কুলেই সিসি ক্যামেরা আছে? - হ্যাঁ, স্যার। শুধু এদিকে একটা দরজা আছে। ওখানকার সিসি-ক্যামেরা কাজ করে না।
- তুমি জানো? - জ্বী, স্যার। - দরজা আছে আর সিসি ক্যামেরা কাজ করে না!
আসলে, অনেক বছর ধরে আছি এখানে...
যাকে ফোনে সব বলেছিলি, তাকে দেখা।
দাও। রিসেন্ট কিডন্যাপারদের মধ্যে- সবচেয়ে পরিচিত মুখ এরাই। কৃষ্না ওরফে কিট্টা, থাঙ্গাভেলু ওরফে ভেলু, প্রাসাদ ওরফে পাট্রে, ভাদ্রাপ্পা ওরফে ভাদ্রা।
- আমি নিশ্চিত এদের মধ্যে কেউ নয়, স্যার। - মানে? - উনার চুল একটু বড়-বড় ছিল।
ঐ ফাইলটা দাও।
- সে? - না, স্যার। - সে? - নিশ্চিত স্যার, এই, এই।
- স্যার, দামোদার ওরফে দামু। - দামু!
হারিশ, এস.আই. নারসিমহা'কে ডেকে- একে ট্র্যাক করতে বলো।
- স্যার, আমি কিচ্ছু করিনি। আমি কিডন্যাপার নই! - আমিও পুলিশ নই, ওয়াচম্যান। চুপ করে থাক।
স্যার, দয়া করে আমার কথাটা শুনুন, প্লিজ!
- অশোক স্যার। - কী হয়েছে? - একবার ব্যাগটা অন্য কেউ নিয়েছে ভাবুন। - ভাবলাম, পরে? - ব্যাগটা যে নিতে চেয়েছিল, সে অবশ্যই ঐ এলাকায় ছিল।
আপনারা যখন আমায় নিয়ে আসছিলেন, তখন নিশ্চয়ই সেও পিছু করে এসেছে। দু'জায়্গার সিসি ক্যামেরা চেক করুন। যাকে কমন পাবেন- সেই কিডন্যাপার।
তোর কথামতো দেখলে, দু'জায়্গায়ই ব্যাগের সাথে থাকা গাধা তুই! এই গাধার কথা শোনার মানে হয় না, স্যার!
স্যার, আমার জীবনের প্রশ্ন, প্লিজ...
- এতবার এক ডায়লগ কখনো শুনিনি! হুদাই! - ধুর, সময়টাই খারাপ যাচ্ছে!
- আমাদের আদেশ করার সাহস করে কীভাবে সে! - না, হারিশ। ওর কথায় যুক্তি আছে। - অবশ্যই আছে, স্যার।
কোনো সম্ভাবনাকে বাদ দেয়া যাবে না। কাজ করো- রিজাল মার্কেটে যাও। পূজারী, স্টেশনের সামনের জুয়েলারিতে যাও। দু'জায়্গার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে এসো।
- ঠিক আছে? - ঠিক আছে, স্যার।
- একটা সংশয় ছিল, স্যার! - এসে বলবে। - ঠিক আছে, স্যার।
- কী হয়েছে, মা? - স্যার, আমার ছোট বোন, আমার স্বামীর সঙ্গে পালিয়েছে। - ইনি কে? - ছোট বোনের স্বামী, স্যার।
- নাম? - কবিতা। - বয়স? - ২৪। - ঠিকানা বলো।
- নাম্বার- ২৩... - স্যার! - কী? - ফোনটা দিয়ে দিন, স্যার।
- একটা কল করবো। - কীসের ফোন? কিচ্ছু নেই এখানে। চুপচাপ বসে থাক!
- বলতে থাকো। - প্রথম মোড়, নবম রাস্তা.. - তারপর? - ৪র্থ ব্লক...
- জেপি নগর। - ফোন নম্বর? - কয় বোন তোমরা? - দুই বোন, স্যার। - এক কাজ করো, ওর অবর্তমানে আরেকটি বোন জুটিয়ে ফেলো। ওরা আরাম করুক। কী বলেন, স্যার?
- স্যার, জলদি খুঁজবেন। - খুঁজে পেলেই জানাবো। যাও, মা। - স্যার। - কী?
পূজারী, স্যার। আসুন স্যার।
- কী হয়েছে? - স্যার, আমার ফোনটা দিন, প্লিজ। - সম্ভব না। ওটা স্যারের আন্ডারে আছে।
স্যার, আগামী সপ্তাহে আমার বিয়ে। ওকে নিয়ে শপিংয়ে যাবো, প্রমিস করেছিলাম।
ফোন না করলে, টেনশনে পড়ে যাবে না বেচারি! একটা মাত্র ম্যাসেজ করবো, প্লিজ স্যার।
সামনে বিয়ে, আছো জেলে! ভবিষ্যতের পরিণতি সহ্যের অভ্যাস করাতেই- বিধাতার এই ব্যবস্থা। মোবাইল নেই, চুপচাপ বসে থাক।
- প্লিজ স্যার, প্লিজ স্যার। - কী ম্যাসেজ পাঠাবে? চেক করি!
- জলদি কাজ শেষ করে ফেরত দে। - ধন্যবাদ, স্যার।
একটু এই ক্যামেরায়, একটু ওই দিকে.. হ্যাঁ, ডানে জুম করুন। স্যার, কথামতো সমস্ত ফুটেজ চেক করেছি। কিন্তু কাউকে কমন পাইনি!
- চার জন কমন পেয়েছি, স্যার। - চার জন! - হ্যাঁ, স্যার। ৩জন অফিসার আর ঐ ছেলে।
বসুন, স্যার।
প্লে করুন। যান, যান রিওয়ান্ড করুন।
- স্যার, এই ছেলেকেই অপরাধী বলে ভাবছেন? - অসম্ভব, স্যার! এই ছেলে শিশু, কিচ্ছু জানে না।
- শিশুটা ব্যাগে হাত দিয়ে ফ্যাসাদে পড়ে গেছে। - চুপ করো।
- স্যার, আমার কাছে প্রমাণ আছে। - কী প্রমাণ? - স্যার, ম্যাসেজ করার কথা বলে সে আমার থেকে ফোন নিয়েছিল।
- প্রথম থেকে প্লে করুন। - ক্লু এর জন্য ফোনটা দিলাম। একটা ম্যাসেজ পেয়েছি, স্যার।
- কী ম্যাসেজ? - হাই, সোনা। আমি দুঃখিত। আমি আমার মোবাইল হারিয়ে ফেলেছি। স্যার, হতভাগা ছেলে। কান্নাডা, ইংরেজীতে লিখেছে। কিচ্ছু বুঝতে পারছি না!
- জলদি পড়ুন। - আজ শপিংয়ে যাওয়া হবে না! কাল যাবো। বাই!
- এরপর স্মাইলি ঢুকিয়ে দিয়েছে, স্যার। - কোন স্মাইলি?
এক মিনিট, এক মিনিট! রিওয়াইন্ড করুন।
স্লো মোশনে প্লে করুন।
জুম করুন।
- হারিশ, সে ব্যাগ নেয়ার সময় কিছু বলছে। - হ্যাঁ, স্যার। - কী বলছে, জানাটা জরুরি! লিপ রিডারকে ডাকো। - ঠিক আছে, স্যার।
পূজারী, ওর সাথে কথা বলে জানার চেষ্টা করো। ক্লু পেতে পারি। এক মিনিট, আবার প্লে করুন!
- হাই, মিঃ কিডন্যাপার। কেমন আছেন? - আমি?
আহ, তোর অবস্থা! ওখানে তোর বাবা-মা বিয়েতে কত লোক আসবে, সেটা ঠিক করছে। আর তুই এখানে আটকে আছিস।
আমি কোনো দোষ করিনি, স্যার। যে দোষ করেছে, সে আরামসে ঘুরে বেড়িয়ে- আপনাদের দিয়ে দোষ করাচ্ছে।
আর এখানে আপনারা দোষ করে- নির্দোষকে আটকে রেখে, দোষারোপ করে যাচ্ছেন।
তাও ঠিক। আমিও আটকেই আছি।
দ্বিতীয় বিষয়, আমার বিয়ের ব্যাপারে চিন্তা করার জন্য বাবা-মা কেউ নেই! আমার জীবনে শুধুমাত্র আমি!
সবাই যখন ঘুমোয়, তখন আমার কাজ শুরু হয়। সবাই যখন কাজে যায়, তখন আমার বাড়ি ফেরার সময় হয়।
শুভ সকাল, বস। তোমার জন্য প্রথম ম্যাচের কাঠি খরচ করে ফেললাম! জলদি, ঘরে থাকা সব নকল জিনিস বদলে আসল করে দাও, প্লিজ। ঠিক আছে? আসছি।
আমার মতো অনাথদের একটা সুবিধা আছে। যাই করি না কেন, বলার বা শোনানোর কেউ নেই।
কিন্তু, একটা অসুবিধাও আছে। আমাদের জীবনকথা বলা বা শোনারও কেউ নেই!
পারমির, যে শুধু সুন্দরী মেয়েই চাই- তা কিন্তু না! ঠিকঠাক মেয়ে হলেও চলবে।
কার কার চোখ, কাকে, কীভাবে দেখে- জানি না! কিন্তু, পারমি'র চোখজোড়া সুন্দর পা থাকা মেয়েদের বিয়ের পোশাকে দেখে।
আর একটা বিষয়, টিভি সিরিয়াল ও ব্র্যান্ডেড আইটেমই- আমার জীবন।
দেখতে পছন্দ, কিনতে কষ্ট!
হ্যালো, স্যার। কীভাবে সাহায্য করতে পারি?
বাইরে ৮০, এখানে কীভাবে ২০?
স্যার, ওটা আপ-টু ৮০% অফার।
- আমায় আপ-টু'ই দিন, স্যার। - স্যরি, স্যার। ওটা বিক্রি হয়ে গেছে।
- এটা ৮০% থেকে নেম গেল কেন? - আপনি চেয়েছেন না, তাই! - পাপীর দল!
আবার কে ঝামেলা শুরু করলো!
গেল দুইটা নিয়ে, বের হলো একটা নিয়ে!
দেখতে হচ্ছে।
আসলো দুইটা নিয়ে। বের হলো একটা নিয়ে!
মানে...
পুরো চোর, গুরু!
- আসলে, কয়টা নিল সে? - একটা। - একটা?
আমায় ফলো করছো! করো!
কে আপনি? আগেও স্কুটারের পিছু করছিলেন। সব দেখেছি, ঠিক আছে!
আমার বাড়িতে পুলিশ আছে। ডাকবো তাকে?
- পুলিশ? - হ্যাঁ। - ওহ মাই গড! জলদি- ডাকুন, ডাকুন, ডাকুন। একটা অভিযোগ আছে, আপনার বিরুদ্ধে!
- অভিযোগ? আমার বিরুদ্ধে? - হুম। - কী?
- দেখেছি। - কী দেখেছেন? - শো রুম, স্কার্ট.. সব দেখেছি।
- কী? আপনি বললেই বিশ্বাস করবো? - বিশ্বাস করবেন না, আমিও জানি।
তাই তো ফোনে ভিডিও রেকর্ডিং রেখে কথা বলছি!
এই ভিডিও টিভি চ্যানেলের কেউ পেলে, কয়েকদিনেই- 'সিলিকন সিটির- স্কার্ট চোর' নামে টক-শো শুরু করে বুজুর্গ বসিয়ে, আপনার ফটো টাঙিয়ে- ইচ্ছামতো ভাষণ ঝাড়বে।
আপনি কিছু করবেন না। যা চান বলুন। নিজেদের মধ্যেই ব্যাপারটা সামলানো যাক!
- ঘুষ, আমাকে? - হুম। - ইদানিং, খুনের খবর বেশি শুনছি! ঝেড়ে কাশুন তো! - না, না!
আসলে, যেটা হয়েছিল...
- পাপীর দল। নীতি বলে কিছু নেই? - না, ম্যাডাম। - কী? - মানে, ঐ অফার এখন আর নেই!
- দেখুন, আমি যখন এসেছিলাম- তখন ১+১ অফার ছিল তো? - ছিল, ম্যাডাম। - এখন সাইজ ঠিক নেই, চেঞ্জ করে দিতে বলছি আর অফারই নেই!
- দু'ঘন্টা আগে ঐ অফার শেষ হয়ে গেছে, ম্যাডাম। বোঝার চেষ্টা করুন। - এটা কেমন কথা! - ফিডব্যাক গুরুত্বপূর্ণ, ম্যাডাম। - ড্রেস চাই না, কিচ্ছু চাই না! রাখুন আপনার ড্রেস!
হাত-পা জড়িয়ে বসে থাকুন। আমার টাকা ফেরত চাই।
ঠিক আছে, ঠিক আছে। কুল!
শেয়ার করতে বলবো না- কারণ, এটা লেডিস ড্রেস। আমি আবার অবিবাহিত। গার্লফ্রেন্ডও নেই।
- কেউ জানতে চেয়েছে? তো এখন কী? - ঠিক আছে, জীবনে প্রথমবারের মতো বলতে চলেছি! - কী, প্রথম বার?
আইয়ো, টেনশন করবেন না। জীবনে কখনো কোনো মেয়ের সাথে কফি খাইনি!
হ্যালো, বিষয়টা খুবই সিরিয়াস। হাসবেন না।
- চলুন, এক কাপ কফি খাওয়া যাক। - ঠিক আছে।
- কিন্তু, আপনি আগে যাবেন। আমি আপনাকে ফলো করবো। - বাহ, প্রথমবার- কোনো মেয়ে, কোনো ছেলেকে ফলো করবে! চলুন।
- এই না, না! আমি আগে যাচ্ছি। আপনি আমায় ফলো করুন। - আমিও ওটাই চাচ্ছিলাম।
- হ্যালো, ম্যাম। আপনার অর্ডার? - একটা ব্ল্যাক কফি। - আপনার জন্য, স্যার? - সেম!
এ আবার কেমন জিনিস!
পা তো ভালোই। বিয়ের পোষাকে দেখছি না কেন!
একে দেখি। দারুন পা!
কী হচ্ছে এসব!
এই বিষয়! পারমি ফিক্স করে নাও!
এখন থেকে এই মেয়েই ফিক্সড! কেমন, ঠিক আছে তো?
আপনার নাম?
কী করেন?
বাবা-মা কী করেন?
- কোনো উত্তর দিচ্ছেন না কেন? - আপনার জাত কী?
আপনি কি- সর্পদোষ নিয়ে ঘোরা, মেয়েদের বিয়ে করতে বিশ্বাসী? আপনার কি কোনো গুপ্তরোগ আছে?
কফি খেতে এসেছি। কফি আসবে, খাবো, চলে যাবো।
- বিয়ে করবো নাকি? - হুম!
সাধারণ জ্ঞানের জন্য জিজ্ঞেস করছিলাম!
- স্যার, কফি। - ধন্যবাদ।
- আচ্ছা, ঠিক আছে। বলুন, আপনার সম্পর্কে! - আমি মিঃ পারমেশ। আপনি কিন্তু পারমি ডাকবেন।
আমি মনে করুন যে- উদ্যোক্তা! সব ব্যবসা!
ধরুন- নিলাম, জিনিস, কেনাবেচা!
আপনি যা চান, আমি- মিঃ পারমি নিজ দায়িত্বে পৌঁছে দেবো।
- কেনাবেচা, জিনিস- ঠিক বুঝতে পারলাম না! - মানে, জনগণ জিনিস নিচ্ছে..
- মিঃ পারমি নিলাম শুরু করলো! কাস্টমার দর উচু করলো। আইপিএলের নিলাম বোঝেন? - হ্যাঁ। - সেম!
- মানুষ জিনিস নিচ্ছে। আমি টাকা নিচ্ছি। - কিন্তু কীভাবে? - পেশাগত কাজ!
কাজের জায়গাটা খুব বড়। যখন মিঃ পারমি দাম হাঁকাচ্ছে, সবাই শুধু পারমিকে দেখছে!
- সত্যি কথা বলতে, আপনার কোনো কথাই বুঝিনি! - আপনি অর্থনীতি বোঝেন না? - না! - তাহলে, বোঝাবুঝি নেই!
- আপনি কী করেন? - পিএনও স্কুল চেনেন তো? - হ্যাঁ, সামনেই তো। - আমি ওখানকার শিক্ষক।
- তাই নাকি? - হুম। - কী শেখান বাচ্চাদের? কীভাবে চুরি করতে হয়?
হ্যালো, মা! হ্যাঁ! হ্যাঁ, মা!
- আপনার বিল, স্যার। - এত টাকা!
কফি তো ইজ্জত খেয়ে দেবে! পারমি, কেটে পড়!
- সালাম স্যার। - ঐ সাদা জামা, সবুজ প্যান্টের ম্যাডাম, কোথায়? - উনি চলে গেছেন।
- ঐ ম্যাডাম আবার আসবেন। বলে দিও, আমি চলে গেছি! - ঠিক আছে, স্যার।
সিসিটিভি থেকে বাচলেই হয়!
কী, আবার ফলো করছেন? কী যে বলবো, আপনার গোবরভরা মগজকে!
হ্যালো, ম্যাডাম। শান্ত হন। ওদিকে দেখুন।
আমি খুব স্যরি। সারারাত পার্টি করে, বিল আমার নামে ঠুকে গেলেন!
আসলে, বাড়ি থেকে জরুরি ফোন এসেছিল। তাই, আপনাকে না বলেই চলে এসেছিলাম, শেষ!
সমস্যা নেই! আরেকবার পার্টি হয়ে যাক!
- ঠিক আছে। কিন্তু, এক কফির জন্য অত বেশি খরচের প্রয়োজন নেই! যেখানে নিয়ে যাচ্ছি, সেখানে চলুন। - সমস্যা নেই। জায়গাটা মূখ্য নয়, কফিটাই মূখ্য।
- এখন আমি আগে যাবো নাকি... - জায়গা চিনি আমি! আমিই আগে যাবো।
- টিচার, আপনিই বলুন- আপনার মতো একজন শিক্ষকের কি অমন কাজ করাটা ঠিক? - ওরা যা করেছিল, সেটা ঠিক ছিল?
কেউ আমায় ধোকা দিলে, তাকে আমি ছাড়ি না!
- শান্ত! - আপনার কাছে ভাংতি আছে না? - হ্যালো, ম্যাডাম- আমার দেয়া বিলে, এরকম অন্তত দশ কাপ হয়ে যাবে। - দশ কাপ? - হুম, অন্তত!
- ঠিক আছে। চাচা, এরকম আরো দশ কাপ কফি দিয়েন তো। - ঠিক আছে। দশ কাপ!
টিচার খুবই স্মার্ট! আমি একদিনে দশ কাপ বুঝাইনি! দশ দিনে এক কাপ করে বুঝিয়েছি।
- চাচা, ক্যান্সেল! তাই তো সবাই বলে, এক কাপ কফিতে অনেক কিছুই হতে পারে! - পারমেশ্বরা! - ডাকলেন?
কী বললো, ডাক্তার?
কী আর বলবে! একই কথা। ঠিকমতো খাবার খাবেন, সময়মতো ওষুধ খাবেন।
- ডাক্তারের কথা শুনবেন, মা। নয়তো লো-বিপি'র কারণে মাথা ঘুরে পড়ে যাবেন, আর সবাই এদিক-ওদিক করতে-করতে ক্লান্ত হয়ে যাবে। - শুনলে?
- কী হলো, বাবা? - মা, বাজারে এসেছি। বাড়ির জন্য তরকারি লাগবে। নিয়ে আসি। গাড়িতে থাকুন। - ঠিক আছে। - মা, আমাদেরও তরকারি লাগবে। নিয়ে আসি।
- এখানেই থেকো। - ঠিক আছে, জলদি আয়।
- আপনি এখানে নিয়মিত আসেন? - হ্যাঁ, ম্যাডাম। এখানে ফ্রেশ তরকারি পাওয়া যায়।
- আসুন, আসুন। লেডিস এন্ড জেন্টলম্যান! - ভাই, ১ কেজি ভেন্ডি কত? - ৫০ টাকা।
- ২০০। - ২০০, ২০০। - ২৫০। - ২৫০, ২৫০। - ৩০০। - ৩০০, ৩০০। - ৩৫০। - ৩৫০, ৩৫০।
পারমি? না, না!
- ৪০০। - ৪০০, ৪০০। নিন, জলদি নিন।
- অনেক হয়েছে। - আর কিছু বাড়ান, ভাই। - ৪২০। - ৪২০, ৪২০।
আইপিএলের নিলাম বোঝেন? সেম! মানুষ জিনিস নেয়, আমি টাকা নেই। পেশাগত কাজ! কাজের জায়গা খুব বড়। যখন মিঃ পারমি দাম হাঁকাচ্ছে, সবাই চুপচাপ পারমিকে দেখছে।
ওহ- নিলাম, লেনদেন... এখানে এই কাজ করা হচ্ছে।
৪২০, ৪২০।
এখনো আসছে না কেন?
হ্যালো, কফির জন্য অপেক্ষা করবেন না। আসতে পারবো না। একটু ব্যস্ত আছি।
- কে অপেক্ষা করছে? আমি বাড়িতেই আছি। - ওহ, বাড়িতেই আছেন।
এদিকে দেখুন।
এখানে কীভাবে আসলেন? আহা, কতবড় মিথ্যুক টিচার আপনি!
কত দারুন লাগছে! আপনি না বাড়িতে ছিলেন?
- ঠিক আছে। এখন আপনিই আগে যান। - না, দু'জন একসাথে যাবো।
- চলুন। কী হয়েছে? - কিছু না, চলুন।
- আচ্ছা, আমার ফোন নাম্বার কীভাবে পেলেন? - শপিংমলে বিল দিয়েছিলেন না?
- ওখানে গিয়ে ফোন নাম্বার চাইলাম। পেয়ে গেলাম। - ওহ, সুন্দরী মেয়ে দেখলে, ছাড় দিতে মন চায় না?
তেমন কিছু না। আপনার মতো ঠিকঠাক মেয়ে দেখলেও, ছাড় দিতে মন চায় না।
আসলে, কী জানেন? আমার সব বন্ধুরা বিন্দাস জীবন কাটাচ্ছে।
আমারও আপনার মতো বিন্দাস জীবন কাটানোর খুব শখ।
সত্যি বলতে, আমি আমার হারানো জীবনটা আপনার মতো কাটাতে চেয়েছিলাম।
তাহলে কেন এত সিরিয়াস থাকা? মুখ ফুলিয়ে!
ছোটবেলায় একদিন স্কুলে বাবা- 'বাই' বলে গেল। ওইদিন বাড়ি ফিরে, বাবাকেই- 'বাই' জানাতে হলো।
এরপর থেকে, মা মাঝে-মাঝেই অজ্ঞান হয়ে যায়।
- তো, টাকা-পয়সার পুরো দায়িত্বটা আমার ঘাড়ে এসে পড়ে। - নিন, গরম-গরম কফি।
নিজের কথা ভুলে থাকার একটা পরিস্থিতিতে এসে পড়ি!
টিচারকে একটু ম্যাচিউর দেখাতে হবে না? দেখুন, এই শাড়ি আমার একেবারেই পছন্দ না।
অথচ, সবসময় শাড়িতেই থাকি।
- কিন্তু, আপনি শাড়িতে সুপার! - ওহ, তাই নাকি? তারপর, কাজ কেমন চলছে।
ওহ, খুবই ব্যস্ত! সকাল থেকে সন্ধ্যা- অনেক নিলাম, দরদাম, কেনাবেচা!
সময়ই পাই না!
এই, পারমি- বাজারে তরকারি অনেক বেড়ে গেছে, না? কৃষকদের ভালো লাভ হচ্ছে, নিশ্চয়ই।
চুপ থাকুন, ম্যাডাম। কৃষকদের কোনো লাভ হচ্ছে না! সব এই মিডিয়ার লোকেদের চাল!
- ওহ, আপনি কী করে বুঝলেন? - এটা আসলে, সাধারণ বাজারজ্ঞান! অর্থনীতি বোঝেন না তো!
ওদের যাই হোক, আমাদের অবস্থা কখনোই বদলাবে না! যত টাকাই খরচ করি, ফ্রেশ তরকারি পাওয়াই যায় না!
- পারমির অনুমতি নিলেই তো পেয়ে যেতেন। - তাই নাকি, কীভাবে?
- তরকারি, সহকারী- একসাথে হয়ে খুঁজে বের করতাম। - ওহ! - আরেকটু হলেই পিছলেছিলাম!
- আমি দেখেছি। - কী? - আজ সকালে বাজারে গিয়েছিলাম।
সব জেনে গেছে!
অনেক জোরে-জোরে চিল্লাচ্ছিলাম, না?
হ্যাঁ। কিন্তু ওটাই ভালো লেগেছে।
- এই, সত্যি বলছেন? - ঠিক আছে, ঠিক আছে। কী যেন বলছিলেন..
দরদাম, কেনাবেচা, নিলাম! আইপিএলের মতো আরকি!
- হয়েছে, আর যেও না! - এতটুকুতেই হাঁপিয়ে গেলে? - না, মানে...
- তোমায় 'আভালাবেট্টা'য় নিয়ে যাবো। দারুন হবে। - কে এই আভালাবেট্টা?
- আভালাবেট্টা, চেনো না? - আমি বেঙ্গালুরু ছাড়া কোথাও যাইনি!
প্রথমে, বেঙ্গালুরু'কে ভালোভাবে চিনে নাও।
মানে- বাটারফ্লাই পার্ক, মিউজিয়াম, একুয়েরিয়াম এগুলো আমার প্রিয় জায়গা। গিয়েছ কখনো? - না!
- এই, পারমি। - আমার বন্ধু। - ওহ, বন্ধু!
- এই বাজারের মালিক। - ওহ, মালিক!
- ভালো লাগছে, মুভি? - বুঝতেই তো পারছি না! তোমার? - বোরিং।
- আমি গিয়ে পপকর্ণ নিয়ে আসি। - তোমার কী লাগবে শুধু বলো, সব কিনে দেবো।
কুফা কোথাকার! আমি যেখানে, সেও সেখানে!
- ধুর! - কী হয়েছে? - ওই মালিককে মিথ্যা বলে এসেছি। কুফাটা এখানেও এসে পড়েছে।
আমি শিক্ষক হিসেবে একটা কথা বলি- জীবনে যত মিথ্যা বলি, যত দোষ করি না কেন.. জীবনের একটা সময়ে সেগুলোই আমাদের ভোগাবে।
আমি যাচ্ছি, তুমি বসো।
কী হলো, পপকর্ণ আনোনি?
আমার স্কুলের ছেলেরা পালিয়ে ফিল্ম দেখতে এসেছে। নান্জানগুড় যাবার মিথ্যা বাহানা দিয়ে এখানে এসেছি।
এ'কারণেই একজন শিক্ষক বলেছিল, যে- জীবনে যত মিথ্যা বলি, যত দোষ করি না কেন.. জীবনের একটা সময়ে সেগুলোই আমাদের ভোগাবে।
এত জলদি ভোগাবে, সেটা বুঝিনি!
নিচে থাকো!
আর...
দারুন জুটি। অল দ্যা বেস্ট।
প্র- যো- জক!
স্যরি, স্যরি, স্যরি!
- বেশি ছোট হয়ে গেছে? - না। - অদ্ভুত দেখাচ্ছে? - নিজেদের পোশাকে মেয়েরা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলে, ছেলেদের জন্য সবই সুপার!
পারমি, জায়গাটা কত সুন্দর না?
পারমি!
- কী করছো? - কিছু না! - কী ওটা? - কিছু না! - কী? - কিছু না!
কিছুই না, চলো চলো!
খোদা, দরখাস্থটা কি দিয়ে দেবো? ওর উত্তরটা শুধু একটু দেখো, ঠিক আছে?
- একটু সম্মান বাচিয়ে কথা বলতে হবে। তোমাদের বাড়িতে দীপাবলী হয়? - হুম! - সংক্রান্তি? - হুম! - দশেরা? - না!
- ক্রিসমাস, রমজান, কুরবানীর ঈদ এসব হয়! - এই! - তা নয়তো কী?
কথা পেচিও না! যা বলতে চাও, সরাসরি বলো।
- তোমার বাড়িতে ভ্যালেন্টাইন্স ডে হয়? - হ্যাঁ!
ওইদিন, বাড়িতে- একটা পবিত্র পাত্রে লাভ সিম্বল একে, সমস্ত লাভ-লেটার একত্র করে, বাচ্চাদের হলুদ-কুমকুম লাগিয়ে, ছেলেদের লিপকিস দিয়ে দেই!
- বাহ, বেশ দারুন রীতি! - তোমার বাড়িতে?
আমরা শাস্ত্রীয় রীতি অনুসরণ করি। লেডিস কলেজ প্রদর্শনে যাই, মেয়েদের- ফুল, অভিবাদন কার্ড, বেলুন দিয়ে- বেঙ্গালুরু ঘুরে বেড়িয়ে, বাড়ি এসে খেয়েদেয়ে এক ঘুম!
এ'বছর, ভ্যালেন্টাইস ডে'তে দু'জনার রীতি একত্রে পালন করলে, কেমন হয়?
সিলেবাস খুবই কঠিন! পরীক্ষাও আসছে সামনে।
গতিটা থেমেই থাকুক! তবুও, ভেবে দেখবো!
এখন কফি খাওয়াও।
- বন্ধুত্বের নামে দুটো কফি দাও, ভাই! - স্যার, কফি!
চান্স তো নিয়েছিলি! আমার জীবন কেন, স্যারের জীবনেও কখনো ভ্যালেন্টাইন্স ডে আসেনি! তাই না, স্যার?
- স্যরি, স্যার। - স্যার, কল আসছে- দেখুন।
- স্যার, অপরিচিত নাম্বার থেকে কল আসছে। - মনোজ। - ঠিক আছে, স্যার!
- পূজারী স্যার, কিডন্যাপার আমি না জানার পর, আমায় ছেড়ে দেবে তো? - তো কী, তোকে নিয়ে নাচবে?
- কথা বলুন, হ্যালো। - পূজারী স্যার, আমার শার্টটা দিয়ে দিতে বলুন। - খুব খাটা হচ্ছে?
৬০ সেকেন্ডই কথা বলবো। আমার কল ট্রেস হবে না!
তাছাড়া, পুলিশের সঙ্গ নিয়েছিস, না?
খুব ভালো। আমার কোনো সমস্যা নেই। পুলিশ আমার কিছুই করতে পারবে না!
ক্ষতি যা হওয়ার, তোরই হবে। শুধু-শুধু, ছেলেকে ফেরত পেতে দেরি হবে!
কারণ, তুই পুলিশের পথ ধরলে, আমার অন্য পথ পরিকল্পনায় আছে।
আমার একটু সময় প্রয়োজন। কোথায়, কখন টাকা দিতে হবে- পরের কলে জানাবো। অপেক্ষায় থাক।
- হ্যালো, আমার ছেলেকে ছেড়ে দাও। তোমায় ৫০ লাখ দেবো। - ন্যাড়া বেলতলায় একবারই যায়, কেনেডি!
২৫ লাখের নকল নোট নিয়ে আসা বদ তুই! এখন ৫০ লাখের লোভ দেখাচ্ছিস!
আরেকবার নকল টাকা আসলে, জন-Gone!
আরেকটা বিষয়, আমাদের দলের লোকেদের এত শক্ত অনুশীলন করানো হয় যে- আপনাদের কাছে থাকা, আমাদের ছেলেকে যতই টর্চার করুন, লাভ নেই!
- স্যার!!! - কিচ্ছু বলবে না! - স্যার, শীর্ষস্থানে থাকা মহিলার কসম- আমি কিচ্ছু জানি না! দয়া করে- আমার কথা বিশ্বাস করুন, প্লিজ!
- আমার ছেলে! - ম্যাডাম, প্লিজ! - শালা, পুলিশের সাথে চালাকি করার পরিণাম টের পাবি, চল। - স্যার, আমি কিচ্ছু জানি না, আমায় ফাসাচ্ছে!
- স্যার, এ'কেসে কিডন্যাপারের ব্যাপারটা ক্রমশ রহস্যময় হয়ে উঠছে! - এ'ধরণের কেসে, সাধারণত- কিডন্যাপার ধরা পড়ে নয়তো ধরা পড়া মানুষটাই কিডন্যাপার হয়ে থাকে!
- স্যার, লিপ-রিডার এসেছে। - চলো।
স্যার, জুম করুন। আরেকটু জুম, জুম, জুম- রাখুন।
- স্যার, একটু ভলিউম বাড়ান। - ভলিউম বাড়ানোর এটা কোন রীতি?
- স্যার, শ্যুয়ারের বাচ্চা! ঠিক ধরেছি? - এদিকে না ধরে, ওদিকে ধরো।
ঠিক আছে, স্যার। ধরছি, স্যার।
কা..র ব্যা...গ! কার ব্যাগ! স্যার, 'কার ব্যাগ!'
সামনে দেখো।
কার ব্যাগ, এ..ত দারু..ন দেখতে! 'কার ব্যাগ, এত দারুন দেখতে'- বলছে, স্যার।
- ব্যাপার না, হারিশ। ছেলের ভালোই বুদ্ধি আছে। - জ্বী, স্যার।
ধন্যবাদ, স্যার।
এরপর, অ..র মা*..রে বা..*! অর মা*রে বা*!
স্যার, খারাপ ভাষা বলেছে। শাস্তি দিন। জেলে দিন, একে! কালপ্রিট ফেলো!
হারিশ, প্রথমবার টাকা দেখার পর- এরকম প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে!
স্যার, ভালো করে ধরলেই- সব বেরিয়ে আসবে।
- না, হারিশ। ওকে রুমে বসাও। - ঠিক আছে, স্যার।
- শালা, পুলিশকে কী ভেবেছিস তুই? - স্যার, ওরা 'আমাদের লোক' বললো আর সবাই বিশ্বাস করে নিলেন!
- 'কান্ডজ্ঞান' বলতে কিছু নেই, আপনাদের? - আবার কথা বলিস! - স্যার, ওকে বড়'স্যার নিয়ে যেতে বলেছে।
- চা'টা কিছু চাই? - দু'কাপ! - ঠিক আছে। ঐ, দু'কাপ চা পাঠিয়ে দে।
- স্যার! - অশোক, অপারেশন জন কতদূর এগিয়েছে? - স্যার, প্রমাণ আছে, কিডন্যাপারকে ধরতে হবে। যে আছে, ওকে এরেস্ট করো। - সেই কিডন্যাপার, তেমন কোনো সাক্ষী নেই!
- কয়েকটি সূত্র পেয়েছি। তা ধরেই কাজ করছি। - সাবধানে, সব সামলাবে। ছেলেটার যেন কিছু না হয়!
অফিসার, প্লিজ- এখন অন্তত আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দিন। এবার আর নকল টাকার প্রয়োজন নেই!
- বিপদ হতে পারে। - অফিসার, ওরা ২৫ লাখ চেয়েছে। এটা কোনো বড় ব্যাপার নয়। আমার কাছে, আমার ছেলেই মূখ্য!
- মনোজ। - জ্বী, স্যার।
ঐ পারমেশের ফেসবুক একাউন্টে ঢোকো তো!
দেখছি, স্যার।
স্যার, ওর ফেসবুক একাউন্ট চেক করেছি। ওর সাথে যে মেয়ের বিয়ে হওয়ার কথা, সে অন্য ছেলের সাথে বাগদান সেরে ফেলেছে।
দেখুন, স্যার।
এই হারিশ, পূজারী।
এই, কী বলেছিলে? ঐ ছেলের সাথে টিচারের বিয়ে হবে। দেখো, টিচার অন্য কারো সাথে বাগদান সেরে ফেলেছে।
স্যার, আমিও তো বিভ্রান্তিতে পড়ে গেলাম! ঐ ছেলে ভয়ঙ্কর জিনিস! ওই কিডন্যাপার, নিশ্চিত।
২৫ লাখের নকল নোট নিয়ে আসা বদ তুমি! এখন ৫০ লাখের লোভ দেখাচ্ছ!
স্যা..............র!
এই, কী হয়েছে?
- কী হয়েছে? - পারমি, কী এসব? - কিডন্যাপার আর কেউ নয়, স্যার- আমাদের মধ্যেই আছে।
পাগল হয়েছিস? আমাদের মধ্যে, কিডন্যাপার?
স্যার, অন্য জায়গা থেকে নকল টাকা সম্পর্কে কীভাবে জানলো- কিডন্যাপার? কীভাবে?
কীভাবে? নকল টাকা সম্পর্কে জানা থাকা, আপনাদের মাধ্যমে।
আমায় টুপি পড়াচ্ছিলেন? আমায়?
কিডন্যাপার অন্য কোথাও নয়, স্যার। আমাদের মধ্যেই আছে।
কাকে সন্দেহ করছিস?
ভুল বুঝবেন না, স্যার। আমার আপনাকে সন্দেহ হচ্ছে।
স্যার, কিডন্যাপার'কে পেয়ে গেছি। এক্ষুনি, নিয়ে আসছি।
অর্ধচন্দ্র!
স্যার, আমি কিচ্ছু করিনি!
- স্যার, জ্বলছে! - এই, একদম চুপ! জ্বলছে?
- সব বল। - এই, সুরী। ছেড়ে দাও ওকে! বলো, বাবা- কী বলবে?
স্যার, কিডন্যাপ আমি করিনি। বিশ্বাস করুন। কিডন্যাপের প্ল্যান করেছিলাম। কিন্তু, কাজটা করিনি, স্যার। - তুই কিচ্ছু করিসনি, তাই না?
স্যার, জ্বলে যাচ্ছে।
- এত দাগ কীসের? - কাজকে সহজ করতে, অস্ত্রসস্ত্র ব্যবহার করছি, স্যার। ট্রিটমেন্ট এখনো বাকি আছে। - তবুও, শালা খেলে যাচ্ছে।
- কেন, বাবা? - আমি কিডন্যাপ করিনি, স্যার! - ওর শরীর এত গরম কেন?
একটু বরফ ব্যবহার করো। শরীর ঠান্ডা করার জন্যে!
- স্যার, বিশ্বাস করুন। আমি কিডন্যাপ করিনি! - চল, তোকে দেখাচ্ছি! - স্যার, ছেড়ে দিন! - বরফের চাপ লাগলেই, সব মনে পড়বে!
ওরা কারা আমি দেখিনি, স্যার। টাকা কুরিয়ার করে পাঠিয়েছিল, স্যার!
- ফোনে সব বলে দিত। আমি শুধু তা ফলো করতাম। - তোর গল্পে কাজ হবে না! - হারিশ।
- ছেড়ে দাও, একে! - পাবলিকের জীবনকে তামাশা পেয়েছে!
- ওর থেকে ফোন নাম্বার নিয়ে, পূজারী'কে অনুসরণ করতে বলো। - জ্বী, স্যার। - আর কেনেডি'র পরিবার সম্বন্ধে অনুসন্ধান চালাও।
জ্বী, স্যার।
- রবি, একটু এসো তো। - কিডন্যাপ করিনি, স্যার!
- স্যার, আপনার কথামতো কেনেডির পরিবার সম্বন্ধে জেনেছি। - ঠিক আছে।
কেনেডি'র স্ত্রী'র- মহিলা সমিতি, ক্লাব এগুলোর প্রতি আগ্রহ বেশি!
এছাড়া, উনি ভালো মহিলা।
আরেকজন হলো- ড্রাইভার। সবাই ওকে রামুকাকা বলে ডাকে।
সামনে ওর মেয়ের বিয়ে। টাকার অভাব আছে, স্যার।
এছাড়া, বিশেষ কিছু পাইনি, স্যার!
কেনেডি'র সম্বন্ধে, খোঁজ নিয়েছ?
নিয়েছি, স্যার। কেনেডি'র- ব্যবসাবৃত্ত ও বন্ধুবৃত্তে আলাপ করে, তার সম্বন্ধে- বাজে অভিপ্রায়ই পেলাম।
উনার রাগ বেশি। অবৈধ সম্পর্কের ব্যাপারেও গুজব আছে।
- ওর পি.এ'র ব্যাপারে? - খবর নিয়েছি, স্যার।
পি.এ কেনেডি'র সঙ্গে অনেক বছর ধরেই কাজ করছে।
- ওহ! - কিন্তু, এক বছর আগে কেনেডি, পি.এ'কে বের করে দেয়!
কিন্তু, কিছুদিন পর- তিনি নিজেই আবার ঐ পি.এ'কে ফেরত আনেন।
স্যার, আমার বিশ্বাস- পি.এ, কেনেডি'র কোনো গোপন বিষয় সম্বন্ধে জানে!
তাই, কেনেডি ওকে এখনো রেখে দিয়েছে।
- পি.এ'ও এ'কারণে তার সঙ্গেই কাজ করছে, স্যার। - ঠিক আছে, নতুন কোনো তথ্য পেলে, জানাবে।
- জ্বী, স্যার। - ঐ ছেলেকে পাঠিয়ে দিও। - ঠিক আছে, স্যার।
- এতদিন নাইট-শিফটে কাজ করতি, না? এছাড়া, আর কী করতি? - স্যার, আমি- পেশাগত কাজ!
আমি হলাম- উদ্যোক্তা! আপনি যা চান, আমি- মিঃ পারমেশ, পৌঁছে দেবো!
- হ্যাঁ? - স্যার, বুঝলেন না?
স্যার, বাজারে- শাকসবজি বিক্রি করি।
- তোর বাগদত্তা মেয়েটা, টিচার না? - হ্যাঁ, স্যার।
স্যার, আপনি কিন্তু, পরিবার সহ- আমার বিয়েতে অবশ্যই আসবেন। আবদার রইল!
- তাই নাকি? - হ্যাঁ, স্যার। - তাহলে, এটা কী?
এই ছেলে কে?
এ'বছর আমাদের ভ্যালেন্টাইন্স ডে'টা আসবে না, মনে হয়!
মা অসুস্থ! এমন সময়ে, তাকে রেখে, কাউকে ভালোবাসাটা- আমার পক্ষে সম্ভব না!
পারমি, আমি কখনো তোমায় ওভাবে দেখিনি, বলবো না! কারণ, তা মিথ্যা!
তুমি আমার বন্ধু নও, তার চেয়েও বেশি কিছু!
কিন্তু, আমার ভাগ্যে অ্যারেঞ্জ-ম্যারেজই লেখা আছে!
তাই, দয়া করে- দূরে থেকো।
ঠিক আছে?
স্মাইল!
বাবা-মা থাকা ছেলে-মেয়েদের লাভ-ম্যারেজ করার স্বপ্ন থাকে। আমার মতো অনাথদের, অ্যারেঞ্জ-ম্যারেজ করার স্বপ্ন থাকে। কিন্তু, আমাদের বিয়ে অ্যারেঞ্জ করার কেউ নেই!
এই, কেন এত ভাবছিস? আমরা আছি না? অ্যারেঞ্জ-ম্যারেজই তো?
চিন্তা করিস না। কাল তুই সাদা কাপড় পড়ে তৈরি থাকিস! আমরা মিষ্টি, ফল, দই সব নিয়ে নেবো।
ঐ মেয়ের বাড়ি গিয়ে, কথাবার্তা বলে- সব ঠিক করে আসবো।
রাঙ্গান্না, আমি তোমার ঋণ কোনো জনমেই শোধ করতে পারবো না!
এই, ছাড়! দ্যাখ, আগের জনমের কথা জানি না! কিন্তু, এই জনমে আমার থেকে যে টাকাটা ধার নিয়েছিলি- ওটা দিলেই হবে, বাবা!
- দেখুন, এত কম দামে, ভালো জিনিস দেবো না! একটাও খারাপ হলে, তারপর বলবেন! - ধুর, কাজ হবে না! - সবখানে এক দাম!
- ওহ, এই বাড়ি? - পারমি, আমাদের আসার বিষয়ে জানিয়েছিলি? - না।
ভেতরে হয়তো কোনো অনুষ্ঠান হচ্ছে। আমি গিয়ে, দেখে আসি।
- ছেলেটা দেখতে দারুন না? - হ্যাঁ।
অনন্যা, হঠাৎ করে- বাগদান ঠিক হলো শুনে কি চিন্তায় পড়েছিলাম, জানিস? কিন্তু, ছেলেটা দারুন!
লেখাঃ কয়েক দিন আগে... - দারুন! - একসাথে দুটো অফার পেয়েছি।
- কী, অনন্যা? এ'কদিন খুব ব্যস্ত কাটছে?
- সব, পারমি ইফেক্ট। - ওহ, তাহলে জীবন তোকে একটা সিদ্ধান্ত নিজ থেকে নিতে দিল? - হ্যাঁ, তা দিয়েছে।
- এক সেকেন্ড! - হ্যালো, অনন্যা? - হ্যাঁ। - আমি রাহুল।
- তোমার মা অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল। তাই, হাসপাতালে ভর্তি করেছি। - কোন হাসপাতাল?
রক্ষা হাসপাতাল।
- মা, কেমন আছ? অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলে নাকি? - কিচ্ছু হয়নি, বাদ দে।
- মুখ হলদে হলো কীভাবে? - হাই, রাহুল। - হাই!
- ডাক্তার, কী বললো? - চিন্তার কিছু নেই! ড্রিপস দিয়েছে।
479
Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.