Afrikaans
Akan
Albanian
Amharic
Arabic
Armenian
Azerbaijani
Basque
Belarusian
Bemba
Bengali
Bihari
Bosnian
Breton
Bulgarian
Cambodian
Catalan
Cebuano
Cherokee
Chichewa
Chinese (Simplified)
Chinese (Traditional)
Corsican
Croatian
Czech
Danish
Dutch
Esperanto
Estonian
Ewe
Faroese
Filipino
Finnish
French
Frisian
Ga
Galician
Georgian
German
Greek
Guarani
Gujarati
Haitian Creole
Hausa
Hawaiian
Hebrew
Hindi
Hmong
Hungarian
Icelandic
Igbo
Indonesian
Interlingua
Irish
Italian
Javanese
Kannada
Kazakh
Kinyarwanda
Kirundi
Kongo
Korean
Krio (Sierra Leone)
Kurdish
Kurdish (Soranî)
Kyrgyz
Laothian
Latin
Latvian
Lingala
Lithuanian
Lozi
Luganda
Luo
Luxembourgish
Macedonian
Malagasy
Malay
Maltese
Maori
Marathi
Mauritian Creole
Moldavian
Mongolian
Myanmar (Burmese)
Montenegrin
Nepali
Nigerian Pidgin
Northern Sotho
Norwegian
Norwegian (Nynorsk)
Occitan
Oriya
Oromo
Pashto
Persian
Polish
Portuguese (Brazil)
Portuguese (Portugal)
Punjabi
Quechua
Romanian
Romansh
Runyakitara
Russian
Samoan
Scots Gaelic
Serbian
Serbo-Croatian
Sesotho
Setswana
Seychellois Creole
Shona
Sindhi
Slovak
Slovenian
Somali
Spanish (Latin American)
Sundanese
Swahili
Swedish
Tajik
Tatar
Telugu
Thai
Tigrinya
Tonga
Tshiluba
Tumbuka
Turkish
Turkmen
Twi
Uighur
Ukrainian
Urdu
Uzbek
Vietnamese
Welsh
Wolof
Xhosa
Yiddish
Yoruba
Zulu
ONCE IN A SUMMER
ন্যারেশন ইন।
গেস্ট অশ্রুসিক্ত হচ্ছে কিনা দেখো।
অশ্রুসিক্ত হলে, ক্যামেরায় যাও।
ক্যামেরা ওয়ান, স্ট্যান্ডবাই।
ক্যামেরা টু, স্ট্যান্ডবাই।
না, না, এখনো অশ্রুসিক্ত হয়নি।
জুম ইন। হ্যাঁ, ঠিক আছে।
আরেকটু কাছে।
মিউজিক ছাড়ো।
- কী অবস্থা? - আগের মতোই।
আমার পায়ের অবস্থা খারাপ।
কী করা যায়?
সবকিছু করে দেখেছি, কিন্তু আরও খারাপের দিকে যাচ্ছে।
আরে, স্ক্রিপ্ট এতো ছোটো কেন?
বাকিটা কোথায়?
এটা তো পিকচারের সাথেও যায় না।
থামুন তো!
আমার সময় নষ্ট করেছো কেন?
সুজিন না স্ক্রিপ্ট লিখেছে?
সুজিন কোথায়?
প্রফেসর ইয়ুন সুকিউং হলে?
ওয়াও, একেবারে জমে যাবে।
বয়স্ক হলেও হ্যান্ডসাম ও সিঙ্গেল।
দারুণ হবে।
কিন্তু, শুনেছি উনি নাকি পাগল টাইপের লোক।
শো-টা করবে বলে মনে হয়?
তাছাড়া পড়ানোও ছেড়ে দিয়েছেন।
ছেড়ে দিয়েছেন?
হ্যাঁ, স্বাস্থ্যের কথা ভেবে।
কেন? উনাকে চেনো নাকি?
একটু আধটু।
উনার স্টুডেন্ট ছিলাম।
তাই নাকি?
তাহলে তো ভালোই। শোয়ের জন্য উনাকে বুক করে ফেলো।
কী?
সম্ভব না, আমাকে চিনবেই না।
- একটা চান্স নিয়ে দেখো। - না।
লি সুজিন!
সময়মতো বেতন পাও তো, নাকি?
ভাবছিলাম...
আমার কথা শুনো!
ঠিকভাবে কাজটা তো করো!
আবারও গণ্ডগোল পাকিয়েছ।
মজা লাগে?
বাদ দিন না।
একজন স্পেশাল গেস্টকে বুক করেছে সুজিন।
কাকে?
প্রফেসর ইয়ুন সুকিউং-কে।
সেই নামী প্রফেসরটা না?
হ্যাঁ।
তাইনা, সুজিন?
হয়তোবা!
ফোনে যেমনটা বলেছিলাম...
কাউকে যদি খুঁজতে চান...
আমরা তাকে খুঁজে দিতে পারবো।
এই কাজে আমরা বেশ ভালো।
গান গাইতে পারবে একটা?
কী?
গান গাইবো?
শুরু করি?
আকাশ নাকি অনেক বিশাল
কিন্তু আছে যে এমন এক কিছু যা আকাশের মতোই বিশাল
সেটা আমার শিক্ষকের ভালোবাসা, যা আমায় দেখাচ্ছে সঠিক পথ।
হয়েছে, আর গাইতে হবে না।
চলে যাচ্ছো না কেন? আমি ব্যস্ত।
কেউ কি নেই?
এমন কেউ যাকে মৃত্যুর আগে একবার দেখতে চান!
নেই?
আওয়াজ তুলো সবাই।
স্বৈরতন্ত্র আর না!
আর না! আর না!
গণতন্ত্র চাই, স্বাধীনতা চাই!
গণতন্ত্র চাই, গণতন্ত্র চাই!
স্বৈরতন্ত্র আর না!
আর না! আর না!
তুই আমাদের সাথে গ্রামে যাচ্ছিস সাহায্য করতে।
ব্লাইন্ড ডেটের কী হবে?
গতবার মারা খেয়েছিলাম।
- মানে? - মেয়েটা একটা কুত্তী ছিল।
তুই আমাদের সাথে আসছিস, ওকে? এবার কোনো বাহানা চলবে না।
আর না!
মজা হবে!
তারা ক্ষমতা একবার হাতে পেলে,
কখনোই সেটা হারাতে চাইবে না।
কারণ ক্ষমতা বড্ড খারাপ জিনিস।
আরেকটা টার্মের আগে ওকে থামাতে হবে।
বিশ্বাস হয় না সে এসব করছে।
তোমাদের হয়?
কিম সুইউং আমার ফেভারিট কবি।
"হে কবি, আমি ঘুম ভাঙানিয়া পাখি।"
আইছে রে আমার মহাকবি!
আর যাই করুক, স্কুল বন্ধ করতে পারবে না।
করলে, স্টুডেন্টরা খেপবে।
ঠিক বলেছো।
আমি একদমই সহ্য করবো না, তুমি?
এ তো দেখি শান্তশিষ্ট লেজ বিশিষ্ট ছেলে।
পলিটিক্সে আগ্রহ নেই?
আমার আছে প্রচুর পরিমাণে।
আমার প্রতি আগ্রহ আছে?
কী?
সোজা যাও।
শেষ হয়ে গেলো।
সোজা যাও।
ঝাক্কাস গাড়ি তো।
বাবা।
ওঠ।
হেঁটে যাবো।
কারফিউর আগে মদ খেয়ে মানুষ হয়ে এসেছিস?
অপদার্থ একটা।
স্কুল বন্ধ হওয়ার কারণে সময় নষ্ট করতে হবে না।
এখন থেকে কাজ করবি।
চলো।
যেতে তো চেয়েছিলাম।
বিশ্বাসই হচ্ছে না যে তুই এসেছিস।
ভুল ট্রেনে উঠে পড়িসনি তো?
জানিস?
এই নে সোডা।
সমাজসেবা করে শো অফ করা আমি পছন্দ করি না।
তুই আমাকে চিনিস না।
তাই নাকি?
সোনাবন্ধু?
সোনাবন্ধু?
কী হয়েছে?
পিছনের... মালটাকে... দেখেছিলি?
- দেখেছিলাম। - কী করেছিলি?
উল্টিয়ে... পাল্টিয়ে... খেয়ে... দিয়েছিলাম!
অস্থির মামা! অস্থির মামা!
ভালোবাসা তো এজন্যই।
সোনাবন্ধু?
আর না।
সুকিউং ওঠ।
মড়ার মতো ঘুমাচ্ছিস।
পৌঁছে গেছি।
গরম লাগছে।
[ সু-নে-রি স্টেশন ]
আমার বাবা তোমার পরিবারকে মেরেছে।
কী বলেছে?
মেয়ের বাবা ছেলের পরিবারকে মেরেছে।
কী?
আমি জানতাম। এজন্যই মেয়েটাকে পছন্দ করতাম না।
তাতে কিছু যায় আসে না। আমি তোমাকে ভালোবাসি।
কী বলেছে?
ভালোবাসে বলেছে,
বোকজা, কানে পানি ঢেলে আয়।
বোকজা না, এলেনা, এলেনা ডাকো আমাকে।
এলেনা ডাকলে তো আর বিশ্বসুন্দরী হয়ে যাবে না।
বিশ্বসুন্দরীর কী বুঝো?
চুপ থাক বেটি!
ছাত্ররা এসে গেছে!
চুপ থাকতে বলেছি!
আমাকে রাগাস না! এই আমি উত্তর কোরিয়ার গুপ্তচর ধরেছিলাম!
ওরা এসেছে।
- এসেছে? - অনেকজন এসেছে।
প্রণাম!
- স্বাগতম! - প্রণাম!
মাফ করবেন, আপনাকে চিনতে পারিনি।
কই রে, প্রফেসরের ব্যাগ নিয়ে যা।
প্রণাম।
কেমন আছেন?
- আপনাদেরকে সাহায্য করতে এসেছি আমরা। - অসংখ্য ধন্যবাদ।
আর, ও কোনো প্রফেসর নয়। আমার জুনিয়র।
আপনি দায়িত্বে আছেন?
- যাবো? - চলুন, চলুন।
চলে আসুন।
[ রমণীর হৃদয়-হরণকারী সেই লোকটি ]
'রমণীর হৃদয়-হরণকারী সেই লোকটি'?
তিনি আর কী বলেছেন?
ছাত্রজীবনে থাকতেই একটা মেয়ের হৃদয় হরণ করে বসেছিলেন?
এর পিছনে কোনো গল্পও থাকতে পারে।
কীরকম গল্প? কীভাবে হরণ করেছিলেন সেটা?
আমার ব্যাগ থেকে ম্যাপটা নাও।
তাড়াতাড়ি নাও।
- পা সরান। - আরে ধুর।
অন্দরমহলের দরজা লাগাও।
সবসময় ঝামেলা পাকাও কেন? একটা কাজ যদি পারতে।
বস, এটা আবার কী?
চিঠি, শুটিংয়ের কাজে বাইরে থাকাকালীন একজন দিয়েছিল।
অপূর্ব ঘ্রাণ।
আমি রাখতে পারি? চিঠি লিখতে খুব পছন্দ করি তো।
ঠিক আছে, রাখো, রাখো।
প্রণাম, কেমন চলছে?
প্রণাম।
একটা বিষয়ে জানার ছিল।
শুনেছি এখানে একটা লাইব্রেরী ছিল।
কোথায় ছিল জানেন?
- লাইব্রেরী? - হ্যাঁ।
এই অজপাড়াগায়ে থাকার কথা নয়।
শুনেছি একটা নাকি ছিল।
এই, ওঠো।
কী?
এখানে কোনো লাইব্রেরী ছিল?
- লাইব্রেরী? - হ্যাঁ।
ওইখানে ছিল একটা।
সেটা নিয়ে আমরা অনেক গর্ব করতাম।
তোমার কোনো ধারণাই নেই।
সেখানকার লাইব্রেরিয়ান সজুং-ইনের কথা মনে আছে?
সজুং-ইন?
আপনারা কে?
ওনার উপর আমরা একটা খবর ছাপছি।
তিনি কোথায় থাকে জানেন?
আমি কীভাবে জানবো?
একটা ছেলের সাথে পালিয়ে গিয়েছিল।
পালিয়ে গিয়েছিল?
কী?
আর কী বলতাম?
লোকটা কি সিউলের ছাত্র ছিল?
জানি না, বন্ধ করুন এসব।
একটা খবর ছাপছি আমরা।
একটু করে বলুন।
- ড্রিংকিং পছন্দ করেন? - বাজে চাল!
আপনি খুব ভালো লোক।
আমাকে যেতে হবে।
মশাই?
এভাবে যেতে পারেন না।
দাঁড়ান।
মাগো এইডা কে...
এই, সুকিউং।
এতো তাড়াতাড়ি উঠে গেছিস?
হ্যাঁ উঠেছি, এবার চল সিউল।
কী?
সিউলে কীভাবে যায়?
কেন?
দেখ।
এইযে।
আরও দেখ।
চোখের পাতা এক করতে পারিনি।
আলালের ঘরের দুলাল সাজার কিছু নেই, মাত্র কয়েকটা মশায় কামড়েছে।
রক্ত দেওয়া ভালো। এখন সাইকেল দে।
আমাকে বাজারে যেতে হবে।
বাজারে?
- হ্যাঁ। - হেঁটে যা।
আরে ভাই।
এই, সুকিউং!
এই ব্যাটা...
ঠিক আছে, দেখে আয়।
দেয়াল ভালো কিনা দেখবি।
সময়মতো চলে আসিস।
থ্যাংকস ব্রো!
কী ভালো ছেলে।
ও স্যার, গুড মর্নিং।
বাজারে যাচ্ছো না?
সুকিউংকে পাঠিয়েছি।
এক, দুই।
এক, দুই।
এক, দুই, তিন, চার।
উল্টোভাবে, এক, দুই, তিন, চার।
এক, দুই, তিন, চার।
ভয় পেয়েছি। ভুল ভেবো না।
স্যরি আমি যদি...
আমাকে দেখছিলে কেন?
ভাবছো তোমার উরু দেখছিলাম?
অতোটাও সুন্দর না।
দেখেছো তো!
এখানে উঁকিঝুঁকি মারছিলে কীসের জন্য?
উঁকি মারছিলাম না...
ধুর, সব ভিজে গেছে।
এখানে থাকো?
না।
তো এটা তোমার বাড়িও না।
তাহলে ভূতের মতো গুনগুন করে কী করছিলে?
ভুতুড়ে লাগছিল।
জানি।
আর না গাইলেই ভালো।
কী?
আমাকে যেতে হবে।
এই, আমাকে ভিজিয়ে দিয়েছো। তার জন্য স্যরি বলবে না?
রোদ আছে বেশ। চাইলে শুকিয়ে নিতে পারো।
আর হ্যাঁ, এখানে কেউ থাকে না।
তাই আর এসো না।
ধুর, একেবারে ভিজে গেছি।
দুঃখিত।
দেরি করা উচিত হয়নি।
কী বলেছিলাম?
লাইব্রেরিয়ান হতে হলে কথা রাখতে হবে।
প্রতিদিন তো আর দেরি করে না।
বোকজা, চুপ থাকো।
এলেনা ডাকো!
পাওয়ার কোম্পানি কিছু জানিয়েছে?
না।
শালারপুতেরা!
এখানে বিদ্যুৎ দিতে পারছে না কেন?
ইউং-বোক কী করছে?
ও তো সেই কোম্পানিতেই কাজ করে।
অনেকদিন হয়ে গেলো ওর কোনো খবর নেই।
- জুং-ইন। - হ্যাঁ?
আমার ছেলে চিঠি পাঠায়নি?
ওহ্...
- পাঠিয়েছে? - হ্যাঁ।
ভুলে গেলে কীভাবে?
পড়ে শোনাও।
কী লেখা?
একটু তাড়াতাড়ি করবে?
ভালো আছে। কয়েকদিন যাবত খুব ব্যস্ত।
আমাদের গ্রামে বিদ্যুৎ দেয়ার জন্য আপ্রাণ চেষ্টা চালাচ্ছে।
তাই নাকি?
- শেষ? - হ্যাঁ।
আমাকে দাও।
শালারপুতেরা!
জুং-ইন, সময়মতো মহড়ায় চলে আসবে।
ভুলে বসো না আবার। বুঝেছ?
ঠিক আছে।
মিথ্যে বললে কেন? চিঠি তো পাঠায়নি।
ওনার জন্য কষ্ট হয়।
চিঠি লেখে না কেন?
আহারে বেচারা।
ঘেমে একেবারে ভিজে গেছে।
একটু জিরিয়ে নাও।
সোনার টুকরা ছেলে কী সুন্দর কাজ করে।
ভালোভাবে করো, নয়তো আবার করতে হবে।
তোমার বন্ধুর মতো হতে পারলে না?
- আমি করে নিবো। - না, সমস্যা নেই।
খাবারের বিরতি!
আমাকে এবার ছুটি দাও।
গাও! গাও!
হ্যালো।
বিরক্ত করছি নাতো?
আসার জন্য ধন্যবাদ।
- আমি এসেছি... - তার আগে, আমাদেরকে গান শোনাও!
আমি গাইতে পারি না।
ব্যাপার না। গাও! গাও!
একটা গান শুনিয়ে যাও।
গাও! গাও!
এইযে মাইক।
সবাই, একটা হাততালি হয়ে যাক!
ভয়ের কিছু নেই। জোরে হাততালি দাও।
এখনো শুনছি কেন?
দেখলে?
বলেছিলাম গান না গাইতে।
কী?
এখানে।
কী?
এখানে।
ওখানে না। আরও উপরে।
এখনো আছে।
সুকিউং।
বিশ্বাস হচ্ছে না এখানেও ভাঁওতাবাজি করছিস।
এটাই ওর স্বভাব। ফেঁসে যেও না।
তোর গালে।
বইগুলো সরাচ্ছি, কেমন?
না!
- দিয়ে দাও। - চখাম জিনিস।
কী?
পুরাই জীবন্ত ড্রইং।
দিয়ে দাও। এটা আমার না।
মেয়ে হয়ে আরেকটা নগ্ন মেয়ে দেখাতে দোষের কিছু নেই।
দেখি তো। "রমণীর হৃদয়-হরণকারী সেই লোকটি"
এটা সেরকম কিছু না।
দিয়ে দাও।
বুড়োরা চোখে ভালো দেখে না বলে আমি এটা পড়ে শোনাই।
আমি ড্রইং দেখছি।
এটা আমার না।
বুড়োদের।
বইটা পড়ে শোনাও আমাদের।
যেখানে ছিলাম সেখান থেকে শুরু করো।
বার বার বলছো কেন?
এটা চরম জিনিস।
তাদের দেখা হয়, তাইতো?
হ্যাঁ।
ওখান থেকে পড়ো।
'ঘামে ভেজা হাতে প্রেমিকার হাত ধরলো প্রেমিক।'
'প্রেমিকা লজ্জা পাচ্ছিলো, কিন্তু তাকে দূরে ঠেলে দিতে চাচ্ছিলো না।'
'প্রেমিকার কানে ফিসফিসিয়ে তাকে কতটা চায় জানালো প্রেমিক।'
'প্রেমিকার বুকে ধুকপুকানি শুরু হয়ে গেলো।'
'এরপর প্রেমিক তাকে বিছানায় শোয়ালো।' 'ধরলো তার স্তন।'
'ঘরটি ছিল প্রেমিকার অন্তরের মতোই উষ্ণ।'
'অকস্মাৎ, প্রেমিক তার... '
কী?
'হাত ধরলো, স্তন না'
ধুর!
'তারপর তারা একসাথে আগুনের সামনে বসলো।'
'নতুন সকালের সূর্যকিরণ দেখা দিলো।'
'আর ঘুম থেকে জেগে উঠলো প্রেমিকা।'
শেষ।
শেষ?
হ্যাঁ।
কিন্তু ছবিগুলো তো অন্যরকম।
শেষ বলেছে তো। চলো কাজে যাওয়া যাক।
তুমি লাইব্রেরিতে যাও।
যাও।
কিছু করেনি কেন ব্যাটায়?
দেখা হবে।
আগুনের সামনে বসে থেকে সময় নষ্ট করলো কেন?
এমনটা করতে পারো না।
কী?
বেচারা বুড়োদের মিথ্যে বলেছো।
কখন মিথ্যে বললাম?
'ধরলো তার স্তন!'
পড়েছে নাকি?
- কোথায় রাখবো? - এখানে।
ছাড়।
ধন্যবাদ।
এটা দেখে আমার ফিউজ উড়ে গেছে। এটার কাজ কী?
ও, এটা...
এটা শুধু রাবার না, আবার বেলুনের চাইতেও বেশি কিছু।
আপনার স্বামীকে পরিয়ে দিবেন আর...
স্বামীকে পরাবো?
- এটা? - হ্যাঁ।
কোথায় পরাবো?
এখানে।
ভাজাইনা কী? এটা সেখানে দেয়ার কথা লেখা আছে।
সেটা...
জানি না ঠিক।
দেরি করেছো, জুং-ইন!
তোমাকে বলিনি?
একটা নিয়ে, লাইনে দাঁড়াও!
অনুশীলন না করলে, যুদ্ধে সবাই মারা পড়বে!
সোজা যাও।
বামে ঘোরো।
বামে ঘোরো।
দৌড়াও!
নিচু হয়ে, গুলি করো।
যাও, যাও!
আরও জোরে!
তোমাকে কঠোর পরিশ্রম করতে হবে।
একে সতর্ক আর দুইয়ে মনোযোগ বলবে।
- এক। - সতর্ক।
- দুই। - মনোযোগ।
জোরে! এক।
সতর্ক।
- দুই। - মনোযোগ।
এক।
সতর্ক।
দুই।
মনোযোগ।
এক।
সতর্ক।
একজন শত্রুই অন্য শত্রুদের মারার জন্য বেশি লাফায়।
ও শত্রু না, ওর বাবা ছিল শত্রু।
বেচারির জন্য খুব দুঃখ হয়।
আহারে দুঃখ!
ওর বাপের জন্য আমার ছেলে ঝামেলায় জড়িয়েছিল।
দুঃখ হয় এমনি বললাম আরকি।
সতর্ক।
- দুই। - মনোযোগ।
- এক। - সতর্ক।
- দুই। - মনোযোগ।
- এক। - সতর্ক।
- দুই। - মনোযোগ।
এক।
তুমি কি এখানে কাজে আসোনি?
পিছু নিয়েছো কেন?
কোথায় নিলাম।
সোজা রাস্তা ফেলে সাত সমুদ্র পাড়ি দিবো ওখানে যেতে?
কোথায় যাচ্ছো?
কেন? পিছু নিবে?
দূরে থেকে হাঁটো।
- কেন? - সমস্যা কী?
- একসাথে হাঁটতে পারি না? - কী?
লোকে দেখছে।
তাতে কী?
এখানে দাঁড়িয়ে থাকো আমি ১০০ কদম ফেলার পর হাঁটবে।
যত্তসব পাগলামি, ততক্ষণ কী করবো?
সবাইকে দেখিয়ে গাইতে বা নাচতে পারো।
- কোনটা করবো? - যেটা ইচ্ছা।
- আমি জোয়ান একটা মাইয়া... - পাগল হয়ে গেলে!
কী করছো?
সবাই দেখছে। থামো।
- তারপর ভুলে গেছি। - থামো তো।
সবকিছু করেছি।
কী?
দাঁড়াতে বললে, দাঁড়ালাম। গাইতে বললে, গাইলাম।
নাচতে বললে, নাচলাম।
আমি কিন্তু বাধ্য ছেলে।
আর কিছু করবো?
'মান-উ-সা' কী জানো?
নিশ্চই জানো না।
উমম, সেটা হলো...
একটা পাবলিশিং ফার্ম?
হয়নি, একটা মন্দির।
সেখানে মাছের পাথর আছে।
মাছের পাথর?
নিজের চোখে দেখেছো?
অবশ্যই!
৪ বছর বয়সী থাকতে।
আমার মা ও বাবা...
যখন সমুদ্র দেবতার ছেলে স্বর্গে গমন করে...
যে মাছগুলো উনার পিছু নিয়েছিল সবগুলো পাথর হয়ে যায়।
তাই বৃষ্টির সময়, পাথরগুলো অঝোরে কাঁদে!
আমি বর্ষাকালে মন্দিরে গিয়েছিলাম।
পাথরের কান্নাও শুনেছি। দং, দং, দং... করে কাঁদছিল।
ভালোই গল্প বানাতে পারো?
সত্যি বলছি! বিশ্বাস করছো না কেন?
আহ্, তুমি তো ৪ বছরের পিচ্চি ছিলে।
নিশ্চই তখন শুনেছিলে।
ওহ্, ওখানে।
কী করছো?
দেখো।
এটা মূলত মাছ ছিল।
বৃষ্টির সময় এটাও কাঁদে।
শুনতে পাচ্ছো?
আসলেই কাঁদছে। শুনতে পাচ্ছো?
না।
শুনে দেখো।
শুনো।
এটা সমুদ্র দেবতার তরমুজ।
শুনতে পাচ্ছো, তাইনা?
উনি সিউলে আসার পর কোথায় গেছে আমরা খুঁজে পাইনি।
আপনার কী মনে হয়?
খুঁজে পাবে সেই আশা করিনি।
শুধু শুধুই সেখানে গেলে।
খেয়ে নাও।
শুধু শুধু নয়।
দেখ, তুই কেমন ফ্রি আছিস।
কি, বাড়ির কথা মনে পড়ছে?
যাচ্ছিস কোথাও?
হার্ডওয়্যারের দোকানে যাচ্ছি।
আমি যাচ্ছি, তুই নিশ্চই ক্লান্ত।
ধন্যবাদ, কিন্তু আমি চাই না...
বিশ্রাম নে।
দাঁড়া, সুকিউং? সুকিউং?
কী কিনতে হবে জানিস?
রাস্তা চিনো, তাইনা?
শহরে যাওয়ার।
- শুনতে পাচ্ছি না। - রাস্তা চিনো না?
শুনতে পাচ্ছি না।
বাদ দাও।
আমি জমিতে কাজ করছিলাম।
তুমি পাশ দিয়ে যাচ্ছিলে।
আমাকে বললে তোমার সাথে আসতে।
রাস্তা চিনলে, আমাকে নিয়ে আসলে কেন?
এতো শব্দ এখানে। শেষেরটা শুনিনি।
শহরে যাওয়ার রাস্তা চিনো না?
কী?
শহরে যাওয়ার রাস্তা!
থামো তোমরা। বাসের মধ্যে ঝগড়া করবে না।
এখানে কী করছো?
জানো তো?
হায় হায়!
শেষ বাসটা মিস করেছি।
তাহলে হেঁটে যাবো।
সম্ভব?
আবার জিগায়।
আমরা এখনো তাগড়া জোয়ান!
তুমি পারবে না?
পিঠে করে নিয়ে যাবো?
চলো।
আর হাঁটতে পারবো না।
একটু জিরিয়ে নেয়া যাক।
দাঁড়াও, জুং-ইন।
কী হয়েছে?
একটু জিরাও না।
একটু, জুং-ইন?
এখনো অর্ধেকও আসিনি।
যাই হোক, আমি একটু বিশ্রাম নিবো।
তাদের পেরেক আর তার লাগবে না?
ব্যাপার না। একটু তো জিরানো যায়।
তুমিই থাকো।
জুং-ইন?
আমি তিন গোণার মধ্যে না থামলে...
হাঁটা দিবো।
জুং-ইন, দাঁড়াও।
কখনোই কথা শোনো না, নাকি?
বলেছো 'তোমার' জিরানো দরকার।
আরে বাবা, মজা করছিলাম।
আমার সাথে থাকতে পেরে খুশি নও?
আমি কিন্তু তোমার সাথে থাকলে খুশি হই।
- হাঁটতে থাকো। - ওকে।
এটা কী?
এখন বলে বসো না এটা পার হতে হবে।
তুমি।
দাঁড়াও, জুং-ইন।
চলে আসো। নৌকা লাগবে না।
পানি কেমন কালো।
এর মানে এটা গভীর।
খোদা...
মেয়েটা কিছুতেই ভয় পায় না।
দাঁড়াও, আসছি।
এরকম কিছু একটা আছে সেটা আগেই বলা উচিত ছিল।
মারাত্মক পিচ্ছিল হতে পারে।
আর বিপদজনকও!
যেকোনো কিছু ঘটে যেতে পারে।
পারবো না বাবা।
ডুবে যেতে পারি।
জুং-ইন?
জুং-ইন?
জুং-ইন?
জুং-ইন?
জুং-ইন?
জুং-ইন?
জুং-ইন?
জুং-ইন?
জুং-ইন?
জুং-ইন?
এই!
খোদা...
এটা মজার বিষয় না।
তুমি কোথাও লুকিয়ে আছো জানি।
মজা করো না।
মাগো!
ভয় পেয়েছো?
আমি তো...
কোনো ধারণা আছে আমার কতটা চিন্তা হচ্ছিল?
আমি...
চিন্তায় দিশেহারা হয়ে গিয়েছিলাম।
ওইদিকে না।
- চিমটি দিয়েছো, ব্যথা পেয়েছি। - লুকিয়ে থাকো।
চুপ!
মশা।
কী এটা?
খুব সুন্দর।
জানি।
রাস্তায় পেয়েছি। মাছের মতো দেখতে।
মান-উ মন্দিরে এরকম পাথর আছে, তাইনা?
এটাও কম যায় না।
গল্পটা মনে আছে?
এটায় চোখ পড়লো কীভাবে বুঝলাম না।
খুব একটা তাকাইওনি।
শোনো না।
আমার সাথে আরেকটু থাকো।
আগেরবার এখানে আসার সময়,
এই ঘ্রাণটা শুঁকে এসেছিলাম।
কীসের ঘ্রাণ এটা?
গাছের?
সাইপ্রেসের বনটা দেখেছো না?
সেই গাছগুলোর পাতা ঘ্রাণ ছড়াচ্ছে।
নিজেকে গরম করে নাও। ঠাণ্ডা লাগছে না?
এটা তো পরিত্যক্ত বাড়ি। তুমি থাকো না কেন?
মা-বাবা থাকতে দেয় না?
তোমার মা-বাবা বাদে গ্রামের প্রায় সবাইকে দেখেছি।
তারা বেঁচে নেই।
স্যরি।
ব্যাপার না।
বলতে গেলে, এটা আমাদেরই বাড়ি ছিল।
- তাই? - হ্যাঁ।
খুব সুন্দর।
অসাধারণ জায়গা।
হিংসে হয়?
তাহলে ঠিক আছে।
আমার মা-বাবা সবসময় এখানেই থাকতো।
মানুষকে আকৃষ্ট করার ক্ষমতা আছে পাতাগুলোর।
- আকৃষ্ট? - ঘ্রাণটাই এখানে এনেছিল আমাকে।
পছন্দ হয়েছে।
মানুষকে আকৃষ্ট করার ক্ষমতা আছে সাইপ্রেসের পাতার।
মানুষকে আকৃষ্ট করার ক্ষমতা আছে সাইপ্রেসের পাতার!
মানুষকে আকৃষ্ট করার ক্ষমতা!
জুং-ইন?
কী?
ভাবিনি আমাকে কপি করবে!
নাক ডাকছে কীভাবে দেখো।
মনেহয় সব কাজ করেছিস।
ঠিক আছে, চল।
ভয় পাইয়ে দিয়েছিস।
জানিস?
সিউলে ফিরে যেতে চাই না।
- বসুন। - ঠিক আছি।
সমান হয়নি। এদিকে টানো।
সবাইকে ইনভাইট করেছো, তো?
সুকিউং, কী ব্যাপার?
জানেনই তো সাহায্য করতে পছন্দ করি।
ধোপাখানা পরিষ্কার করো। লোকজন আসছে।
কম্বলটা থাক। আমি নামাবো।
থাক।
জাঙিয়াগুলো নিতে পারেন।
বেশ।
- পরে দেখা হচ্ছে। - ওকে।
জিউনসু।
কী?
কীভাবে চালায়?
দেখ।
এভাবে।
তারপর পর্দায় ফেলতে হবে।
সিনেমার নাম কী?
জানি না, কিন্তু দেখতেই হবে।
অনেককাল হলো সিনেমা দেখিনি।
তো, এটা থিয়েটারের মতো?
কী করছো?
এই নাও।
- কীভাবে... - এটা দিতে এসেছি।
ওইদিন ফেলে এসেছিলে।
তো, তোমার কাছেই ছিল।
ছবির প্রয়োজন নেই যখন সরাসরি দেখা করতে পারছো।
আমাকে হয়তো মিস করেছো।
সময় বের করবো তোমার জন্য?
তা না।
মজা করছি।
একটু সময় হবে?
জুং-ইন?
এটাই?
বেশ অন্ধকার, কিছু দেখা যায় না।
চলে যাচ্ছি।
দাঁড়াও।
আরেকটু আগাতে হবে।
এখানে আসো।
এখানে কী করছো? ভীষণ অন্ধকার।
মুভি দেখতে পছন্দ করো?
বসো।
সারস পাখির ডিম।
তোমাকে দেয়ার মতো কিছু নেই আমার।
আছে।
তোমার ঠোঁট।
আছে, তোমার ঠোঁট।
চুপ থাকো।
এসব কী? ফালতু সিনেমা!
আমি কেবল ওকেই ভালোবেসে যাবো।
ক্ষমা করে দিও।
সেটা কোনো তাসের ঘর ছিল না।
সত্যিকার অর্থেই আমরা একে অপরকে ভালোবাসতাম।
সূর্যের মতো ভালোবাসি।
সূর্যের মতো ভালোবাসি।
সমুদ্রের মতো ভালোবাসি।
সমুদ্রের মতো ভালোবাসি।
আমি...
দেখো, তারা আবার মিলিত হয়েছে।
শুভরাত্রি।
শুভরাত্রি।
জুং-ইন?
দুঃখিত।
আমিও দেখেছি।
কোথায় ছিলে?
খুঁজে পাইনি যে।
শুভরাত্রি।
শুভরাত্রি।
শুভরাত্রি।
শেষ?
হ্যাঁ, কেন? দেখিসনি?
না, খুব ক্লান্ত ছিলাম।
ওনারা পাওয়ার কোম্পানি থেকে এসেছে।
- পাওয়ার কোম্পানি থেকে? - হ্যাঁ!
আমরা পাওয়ার কোম্পানি থেকে এসেছি।
বেশ।
ইউং-বোকের বাবা কে?
আমি। আপনারা আমার ছেলের সাথে কাজ করেন?
কী কাজে এসেছেন?
উপহার? না আনলেও পারতেন।
ওটা ইউং-বোকের ছাইয়ের পাত্র।
বিদ্যুৎস্পৃষ্ট হয়ে সে কোমায় ছিল।
ফিরে আসতে পারেনি।
উনি কী বলছে এসব? এটা হতে পারে না।
কী বলেছে?
এ হতে পারে না।
কয়েকদিন আগেও ওর কাছ থেকে চিঠি পেয়েছি।
এইযে দেখুন।
জুং-ইন আছে এখানে?
জুং-ইন, এখানে আসো।
ইনি কী বলছেন?
ওনার সাথে কথা বলো।
আমি...
কথা বলো!
আরে, বলো না!
বেচারি আপনাকে মিথ্যে বলতে চায়নি।
জুং-ইন!
তোর বাবা আমাদের গ্রামকে ধ্বংস করে দিয়েছে।
এখন তুই করছিস?
অপয়া মেয়ে!
শান্ত হোন!
তোর পরিবার আমাদের ধ্বংস করেছে।
তোর পরিবার আমার ছেলেকে মেরে ফেলেছে!
- ওনাকে থামাও! - জালেমের পরিবার!
আমাদের উপর তোদের কালোছায়া পড়েছে!
আমিও ধ্বংস করে দিবো তোদের!
আগুন! লাইব্রেরিতে আগুন লেগেছে!
বাচ্চাদের দূরে রাখো!
এটা বিপদজনক, ওখানে থাকো।
নিজেকে সামলাও!
জুং-ইন?
আমি।
বাইরে আসা লাগবে না। শুধু শোনো।
যখন তোমার বাবা এখানে লাইব্রেরিটা বানায়...
আমি খুব কেঁদেছিলাম।
কারণ আমার ছেলে...
আর নাতিপুতিদের...
অশিক্ষিত থেকে আর অপদস্থ হতে হবে না।
এরকম একটা ঘর পেয়ে আমি খুব কৃতজ্ঞ হয়েছিলাম।
আমি এখনো কৃতজ্ঞ।
তোমার বাবার কথা আমারও মনে পড়ে।
কিন্তু...
এসবের মধ্য দিয়েই আমাদের বাঁচতে হয়।
এতে আমরা কী করতে পারি?
তোমাকে মেরেছি বলে মাফ করে দাও।
তোমার বাবার প্রতিও আমি দুঃখিত।
জুং-ইন, লাইব্রেরিটা...
আমারও কষ্ট হচ্ছে।
কিন্তু আমাদেরকে এসব উতরে যেতে হবে।
যে মরেছে তো মরেছেই।
আর যে বেঁচে আছে, তাকে বাঁচতে হবে।
- গ্রামের চেহারা বদলে গেছে। - দিনের মতো সব ফকফকা।
চাঁদ?
এখানে কয়দিন হয়েছে?
প্রায় ১০দিনের মতো।
সময়ের হিসাবই খেয়ে ফেলেছি।
ঠিকতো! চাঁদ !
বন্ধুরা! চাঁদ!
- চল। - ঠিক তো!
স্যরি।
আমার চোখ!
সুকিউং?
আমার চোখ!
হাই!
দেখেছো?
আমাকে টিভিতে দেখেছো?
আমি টিভিতে!
এখানে আসুন।
চাঁদের বিষয়ে দেখাচ্ছে।
কী? আমরা টিভি দেখছি।
এন্টেনা লাগাও।
- তারপর টিভিতে কানেকশন দাও। - ঠিক আছে।
- টিভির ব্যাপারে আপনি জানেন? - তারা চাঁদে যাচ্ছে।
জানে সে কী করছে?
কানেকশন?
কী করছে?
হয়েছে।
চাঁদ?
এটা ওই চাঁদ?
তাহলে এটা...
ওই চাঁদ?
তারা চাঁদে পৌঁছে গেছে?
আমেরিকা এখন চাঁদও পেয়ে গেছে?
হাই, জুং-ইন।
জুং-ইন?
কথা বলবে না?
এখানে একা কী করছো? আজকে ঐতিহাসিক রাত।
কেন?
কারণ মানুষ ওই চাঁদের মাটিতে পা রেখেছে।
সবাই টিভিতে সেটা দেখছে।
ভেবেছিলাম তুমিও থাকবে।
যদিও, এতো লাফানোর মতো কিছু না।
কেমন ছিল? আসলেই জানতে ইচ্ছে করছে।
তাই নাকি?
বলেছি তো, লাফানোর মতো কিছু না।
খুব জানতে ইচ্ছে করছে। বলো না।
আসলেই জানতে চাও?
হ্যাঁ।
তাই?
বেশ তাহলে।
নীল আর্মস্ট্রংয়ের হাঁটা দেখে হাসি পায়।
এভাবে হেলিয়া দুলিয়া হাঁটে।
জিরো গ্র্যাভিটির জন্যই নাকি এভাবে হাঁটে।
কিন্তু কে জানে?
হতে পারে সে এভাবেই হাঁটে।
তাইনা?
তাকে তো আর পৃথিবীতে হাঁটতে দেখিনি।
মজার না?
একা থাকার চেয়ে আমার সাথে থাকা ভালো, তাইনা?
এটা ওখানে কেন?
পানিতে রেখেছো কেন?
মাছ পানিতেই থাকে।
কথা বলেছো।
তোমাকে দিয়েছিলাম। তাই তোমার কাছেই রাখো।
জুং-ইন...
কোনোকিছু ভিতরে চেপে রাখবে না।
কষ্ট পেলে, বলবে। দুঃখের হলেও, বলবে।
কাকে?
আমাকে!
এখন থেকে...
আমাকে বলতে পারো।
যখন আমার বাবা লাইব্রেরিটা বানায়,
সবাই খুব খুশি হয়েছিল।
আমার বয়স তখন ৮
ইট টানার কথা মনে পড়ে।
লোকদেরকে সেই দিনগুলোর কথা মনে করিয়ে দিতে চেয়েছিলাম।
যাদের কাছ থেকে আমার বাবা কষ্ট পেয়েছিল...
তাদেরকে দেখাতে চেয়েছিলাম তারা আমার বাবাকে ভুল বুঝেছিল।
কিন্তু কাজ হয়নি।
সামান্য হলেও দেখতে চেয়েছিলাম।
সিউলের অনেক ছেলে পালাচ্ছে।
আপনি কি একটু বেশিই ভাবছেন না?
অবস্থা বেশ খারাপ।
যত শীঘ্র সম্ভব সিউলে ফিরতে হবে।
আর ব্যাকআপ প্ল্যানেরও প্রয়োজন আছে।
তৈরি হওয়া যাক।
কী ব্যাপার?
আমরা চলে যাচ্ছি।
তৈরি হয়ে নাও।
হঠাৎ?
তোমার এবং জুং-ইনের বিষয়টা তারা জানতে পারলে...
জুং-ইনকে গ্রাম ছাড়া করবে।
সুকিউং, যুক্তিসম্মত হও।
নিজের খেয়াল রাখতে পারবো।
তাই?
এক, দুই, তিন।
হয়েছে।
খুব সুন্দর।
হ্যাঁ, আলোও আছে বেশ।
স্বর্গে আমার মা-বাবার কাছে এরকম চিঠি পাঠাই।
কোনো লেখা থাকে না, থাকে শুধু গাছের পাতা।
"ভালো আছি, চিন্তা করো না, খুশিতেই আছি।"
এটা আমাদের পাসওয়ার্ড।
শুনেছি কালকে নাকি চলে যাচ্ছো।
আমি ভালো থাকবো। আমাকে নিয়ে চিন্তা করো না।
চলো আমার সাথে।
- জুং-ইন, আমার সাথে চলো। - প্লিজ...
আমি কেবলই বোঝা হবো।
তোমার সাথে হাত মেলাতে চাই,
কিন্তু হাতে ময়লা।
- কান্না থামাও। - ওদের জন্য কষ্ট হচ্ছে।
সবাই জড়ো হও, একটা ছবি তোলা যাক।
আরেকটু চাপো।
একটু অপেক্ষা করবে? সবাই এখনো আসেনি।
না, সবাই এসেছে।
হাসবে না! ছবি তুলছি।
এক, দুই...
তিন।
আমি...
চলেই যাচ্ছিলাম।
তুমি যেভাবে...
যেভাবে বলেছিলে
সিউলে ফিরে যেতে...
তোমার সাথে থাকলে ভিজে যাই কেন?
ফিরে এলে কেন?
যেতে দিতে খুব কষ্ট হয়েছিল।
না যেতে বললেই পারতে।
জানি পারতাম না...
হয়তো ফিরে এসেছো অপেক্ষায় ছিলাম বলে।
আমার সাথে সিউলে চলো।
চলো।
ঠিক আছে, একসাথে যাবো।
ভয় পেও না।
আচ্ছা।
- হাই, সুকিউং। - কেমন আছো?
বন্ধু হয়।
সুকিউং, আমি এখানে অপেক্ষা করছি।
তুমি যাও।
ক্লান্ত?
হ্যাঁ।
ঠিক আছে তাহলে।
- এক্ষুণি আসছি। - ওকে।
জুং-ইন?
এই নাও, ধরো।
হারিয়ে ফেলো না, তাড়াতাড়ি চলে আসবো।
কাজ শেষে স্কয়ারে আসো।
- এই। - কী খবর?
- আমি যাচ্ছিলাম... - তাড়াতাড়ি করো, যেতে হবে।
দাঁড়াও।
সুকিউং!
গিউনসু।
এখানে কী করছিস? অবস্থা খারাপ।
- বাসায় যায়। - গিউনসু, দাঁড়া।
জুং-ইনের কী খবর?
এখনই বাসায় যা!
কমরেডরা, একসাথে দাঁড়াও!
শাসকের পতন ঘটাতে হবে আমাদের...
আর বাঁচাতে হবে মাতৃভূমিকে!
স্বৈরতন্ত্র আর না!
আর না! আর না!
আর না! আর না!
গণতন্ত্রের পক্ষে আওয়াজ তুলো
পানির কিনারায় থাকা গাছের মতো
দৃঢ় প্রত্যয়ে দাঁড়াও
স্বাধীনতার পক্ষে আওয়াজ তুলো
স্বাধীনতার পক্ষে আওয়াজ তুলো
পানির কিনারায় থাকা গাছের মতো
দৃঢ় প্রত্যয়ে দাঁড়াও
জুং-ইন!
জুং-ইন!
জুং-ইন!
জুং-ইন!
জুং-ইন!
জুং-ইন!
ইয়ুন সুকিউং!
হ্যাঁ?
সজুং-ইন নামের কোনো মেয়েকে তুই চিনিস না, ঠিক আছে?
মানে কী?
ওকে তুমি কীভাবে চিনো?
ও কি এখানে?
শোন।
তুই ডুবলে, মেয়েটাও ডুববে।
জুং-ইন কি এখানে?
এটা শুধু তোর ভালোর জন্যে না,
তোর বন্ধুদের ভালোর জন্যেও।
বিষয়টি আর প্রদর্শনের জায়গায় নেই।
বাবা, কী বলছো এসব?
উত্তর কোরিয়ার গুপ্তচর হিসেবে অভিযুক্ত হতে চাস?
গুপ্তচর?
বাবা, আমি...
কোনো ব্যবস্থা করে তোকে বের করবো।
বোকামি করবি না।
তুই মেয়েটাকে চিনিস না, ওকে?
বুঝেছিস?
খাওয়া হয়েছে?
বিষয়টা তাড়াতাড়ি শেষ করা যাক।
ঠিক আছে?
গ্রামে থাকাকালীন তুমি যা যা করেছো...
সাক্ষী সবকিছু বলেছে আমাদের।
আপনাদের কোথাও ভুল হচ্ছে।
একদম মিথ্যে বলবি না, শালা!
বেশ।
একটা কথা বলো।
সেই ক্লাবের ছেলেপেলেরা...
কোথায়?
আপনার ভুল হচ্ছে।
এগুলো তোমার ব্যাগে ছিল।
ছাত্র সংঘের বিবৃতি।
বড় মাছটার কাছে তোমার ব্যাগ ছিল।
সু-নে শহরের একটা লাইব্রেরিয়ান মেয়ে।
সজুং-ইন! তার বাবা উত্তর কোরিয়ার পক্ষ নিয়েছিল!
তুমি জানো, তাইনা?
বার বার আপনাকে বলেছি।
এসব আমরা করিনি।
সুকিউংকে জিজ্ঞেস করুন। ও সবকিছু বলবে।
মুখে মুখে তর্ক করবি না, শালী!
আমরা জানি ওর সাথে তোমার যোগাযোগ ছিল।
- না... - অস্বীকার করবে না!
আমরা সব জানি!
দেখো।
তুমি অস্বীকার করতে থাকলে...
জুং-ইন আরও বেশি ভুগবে।
মেয়েটাকে লাগিয়েছিলি?
বদের হাড্ডি! কীটের চেয়েও খারাপ!
একটা মেয়েকে নিয়ে এসেছিস?
আবার গণতন্ত্র চাস? ন্যায় চাস?
আগে তো নিজেকে বাঁচা!
এখন কথা বল!
আমরা কে জানিস?
মরতে চাস?
মেরে ফেলবো তোকে?
তুই শত্রুদের চেয়েও খারাপ, বজ্জাতের বজ্জাত!
শালা হারামী!
আবার যদি তোর গায়ে হাত দিতে হয়,
তাহলে কিন্তু একেবারে জানে মেরে ফেলবো!
- আয়। - হাঁট!
ওকে চিনিস না?
বস।
বস, শালা।
আমরা কি চলে যাবো যাতে তোরা কোলাকুলি করে নিতে পারিস?
সুকিউং, ওকে চিনিস না?
জবাব দে! ওকে চিনিস?
চিনি না।
চিনিস না?
নিশ্চিত? চিনিস না?
ভালোকরে দেখ। চিনিস না?
ওর দিকে তাকা, চিনিস না ওকে?
আবার জিজ্ঞেস করছি।
মেয়েটাকে কি চিনিস?
ওর দিকে তাকা! ওকে তো চিনিস, নাকি?
অস্বীকার করবি না, শালা।
চিনিস কি চিনিস না?
শহরে কয়েকবার দেখেছিলাম তাকে।
ওরেব্বাস, কেমন কাপুরুষ।
ওর দিকে দেখ।
ওর কিছু হওয়াতে তোর কিছু যায় আসে না?
ওকে সিক্রেট সার্ভিসে পাঠিয়ে দিবো?
সেখানে পাঠালে, ওর জীবন শেষ।
তোর বাকি জীবন অনুতাপে কাটাতে চাস?
অস্বীকার না করে বল, ওকে আবার দেখ।
এই শালীকে তুই চিনিস!
চিনিস কি চিনিস না?
কথা বল, শালা!
সে ঠিক বলেছে, আমিও তাকে চিনি না।
আমি কেবল...
শহরে তাকে দেখেছিলাম।
মজা করছিস?
শালী, নিজের গর্ত নিজেই খুঁড়ছিস।
কী নাটক!
নিয়ে আসো।
শয়তান শালী!
উঠ, শালা।
আয়!
তুই কি পাগল!
আয়! শালা!
জুং-ইন, আমি তোমার পাশে থাকবো।
তোমার পাশে থাকবো।
বাবা...
প্লিজ, ওকে সাহায্য করো।
সেখান থেকে ওকে বের করো।
আমার কারণে সে ওখানে।
ঠিক, তোর কারণে সে ওখানে।
আর আমিই ওকে বের করতে পারি, তুই না।
প্লিজ, ওকে বের করো, প্লিজ।
মিনতি করছি।
আশাকরি বের হওয়ার পর, ওর ভালোটাও ভেবে দেখবে।
ঠাণ্ডা ঠাণ্ডা ভাব।
হ্যাঁ।
তোমার মুখ...
খিদা লেগেছে।
চলো।
জীবনের শেষ মুহূর্ত পর্যন্ত তোমার পাশে থাকবো।
- এখানে। - কিছু আছে?
- না, এখানে। - এখানে?
বোকা বানাচ্ছো।
এটাই তো মজা।
আমরা কোথায় যাচ্ছি?
কোথায় যেতে চাও?
সুকিউং...
হ্যাঁ?
কী হয়েছে?
- আমি... - হ্যাঁ।
কী?
খারাপ লাগছে?
হ্যাঁ, মাথা ধরেছে।
আমাকে বলোনি কেন?
এদিকে আসো।
ঠিক আছো?
বেশি খারাপ লাগছে?
ঔষধ আনবো?
নিশ্চয়ই বেশি খারাপ। এখানে থাকো।
ট্রেনে উঠে পড়ুন!
এক্ষুণি আসছি। থাকো এখানে।
কিছু না, তাড়াতাড়ি আসবে।
চলে আসবো।
সুকিউং।
আবার আমাদের দেখা হলে...
আমাদের হাতকে আর আলাদা হতে দিবো না।
ভালোবাসি তোমায়
ভীষণ।
জানতাম না কোথায় তাকে খুঁজে পাবো।
সবখানেই ওকে খুঁজেছি।
যেদিন বলেছিলাম ওকে চিনি না...
সেরকমটা তার জন্য করিনি,
করেছিলাম নিজের জন্য।
অনেক কিছুই বলার ছিল।
যেটা আপনাকে বলতে চাই তা হলো...
তাড়াতাড়ি সুস্থ হয়ে উঠুন।
তবেই তার সাথে পুনরায় মিলিত হতে পারবেন।
আহ্, এটা সাইপ্রেসের পাতা।
একজন প্রডিউসারের কাছ থেকে নিয়েছিলাম, এর ঘ্রাণ অপূর্ব।
প্রফেসর, ভালো থাকবেন।
লি সুজিনকে দিন, প্লিজ।
স্যার, ঠিক আছেন?
এই চিন্তাটাই আমার সবচেয়ে বেশি ছিল।
যদি সে এতোটা বছর একা থাকে?
কখনো ভাবিনি কেউ তার জন্য আসবে।
এখানে আসার প্রথম দিন থেকেই সে খুব আনন্দিত ছিল।
একদিন আমাকে বললো, একটা গাছ রোপণ করতে চায়।
খুব যত্ন নিয়ে গাছটার দেখভাল করতো।
বলেছিল গাছের পাতার জন্যই নাকি সেটা লাগিয়েছে।
কাউকে জানতে দিতে।
যদি পাতা দিতে থাকি...
একদিন তাদের মধ্যে কারো হাত হয়ে সেটা তার হাতে পৌঁছে যাবে।
তখন সে জানবে।
এটাই আমাদের পাসওয়ার্ড।
"ভালো আছি, চিন্তা করো না, খুশিতে আছি।"
কেমন আছো?
এতো মনমরা লাগছে কেন?
হাসো।
হাসলে তোমায় ভালো লাগে।
সে দাহ করতে বলেছিল।
তার ছাই আমরা সমুদ্রে বিসর্জন দিই।
কিন্তু আমাদের বিশ্বাস তার আত্মা ওই গাছের মধ্যে জীবিত আছে।
সেখানে মাছের পাথর আছে।
নিজের চোখে দেখেছো?
অবশ্যই, ৪ বছর বয়সী থাকতে।
কথিত আছে...
যখন সমুদ্র দেবতার ছেলে স্বর্গে গমন করে,
যে মাছগুলো উনার পিছু নিয়েছিল সবগুলো পাথর হয়ে যায়।
তাই বৃষ্টির সময়, পাথরগুলো অঝোরে কাঁদে!
আহ্, তুমি তো ৪ বছরের পিচ্চি ছিলে। নিশ্চই তখন শুনেছিলে।
জীবন যখন কঠিন হয়ে দাঁড়ায়, তোমার সাথে কাটানো মুহূর্তগুলো মনে করি।
চলো আর না কেঁদে,
আমাদের একসাথে কাটানো মুহূর্তগুলো মনের কোণে আগলে রাখি।
অনুবাদ ও সম্পাদনায় আরমান আল মাহমুদ
অনুবাদ ও সম্পাদনায় আরমান আল মাহমুদ
Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.