Afrikaans
Akan
Albanian
Amharic
Arabic
Armenian
Azerbaijani
Basque
Belarusian
Bemba
Bihari
Bosnian
Breton
Bulgarian
Cambodian
Catalan
Cebuano
Cherokee
Chichewa
Chinese (Simplified)
Chinese (Traditional)
Corsican
Croatian
Czech
Danish
Dutch
Esperanto
Estonian
Ewe
Faroese
Filipino
Finnish
French
Frisian
Ga
Galician
Georgian
German
Greek
Guarani
Gujarati
Haitian Creole
Hausa
Hawaiian
Hebrew
Hmong
Hungarian
Icelandic
Igbo
Indonesian
Interlingua
Irish
Italian
Japanese
Javanese
Kannada
Kazakh
Kinyarwanda
Kirundi
Kongo
Korean
Krio (Sierra Leone)
Kurdish
Kurdish (Soranî)
Kyrgyz
Laothian
Latin
Latvian
Lingala
Lithuanian
Lozi
Luganda
Luo
Luxembourgish
Macedonian
Malagasy
Malay
Malayalam
Maltese
Maori
Marathi
Mauritian Creole
Moldavian
Mongolian
Myanmar (Burmese)
Montenegrin
Nepali
Nigerian Pidgin
Northern Sotho
Norwegian
Norwegian (Nynorsk)
Occitan
Oriya
Oromo
Pashto
Persian
Polish
Portuguese (Brazil)
Portuguese (Portugal)
Punjabi
Quechua
Romanian
Romansh
Runyakitara
Russian
Samoan
Scots Gaelic
Serbian
Serbo-Croatian
Sesotho
Setswana
Seychellois Creole
Shona
Sindhi
Sinhalese
Slovak
Slovenian
Somali
Spanish
Spanish (Latin American)
Sundanese
Swahili
Swedish
Tajik
Tamil
Tatar
Telugu
Thai
Tigrinya
Tonga
Tshiluba
Tumbuka
Turkish
Turkmen
Twi
Uighur
Ukrainian
Urdu
Uzbek
Vietnamese
Welsh
Wolof
Xhosa
Yiddish
Yoruba
Zulu
সব যাত্রারই শুরু রয়েছে।
কিন্তু তোমার যাত্রার শেষ নেই।
তোমার যাত্রা নিরবধি।
অবশেষে তোমার যাত্রার অবসান ঘটাতে আমি এখানে উপস্থিত হয়েছি।
এ অসম্ভব।
তুমি মারা গেছো।
আমি তোমাকে মেরেছি।
তুমি এখনো বুঝতে পারছো না খেলাটা কীভাবে খেলা হচ্ছে।
তুমি বাঁধনটা ধ্বংস করতে চাচ্ছো,
কিন্তু তোমার নেয়া প্রতিটি পদক্ষেপ ওটাকে অক্ষত রাখছে।
এ হতে পারে না।
আমি ওটাকে মেরেছি।
মার্থাকে মেরেছি, সেইসাথে উৎসকে মেরেছি।
তোমার পৃথিবী আর ইভার পৃথিবী।
দুটোরই অস্তিত্ব থাকার কথা না।
তুমি ভাবছো দুই পৃথিবীর সম্পর্কের মাঝে উৎস নিহিত আছে।
কিন্তু আদতে সেটার অবস্থান দুই পৃথিবীর বাইরে।
আমাদের ভাবনা দ্বৈততার গড়া।
সাদা, কালো।
আলো, ছায়া।
তোমার পৃথিবী, ইভার পৃথিবী।
কিন্তু সেটা ভুল।
তৃতীয় মাত্রা ছাড়া কোনোকিছুই সম্পূর্ণ নয়।
ট্রিকুয়েট্রা।
তৃতীয় কোনো...
পৃথিবী আছে?
সেই পৃথিবী বাঁধনটার জন্ম দিয়েছে।
সেখান থেকেই সবকিছুর সৃষ্টি।
সেখানে একটা ভুল সংঘটিত হয়েছিল।
ট্যানহাউজ... মূল পৃথিবীতে...
তোমার মতো সেও কাউকে হারিয়েছিল।
আর তোমার মতো তাকে ফিরিয়ে আনতে চেয়েছিল।
কিন্তু তার পরিবর্তে সে নিজ পৃথিবীকে বিভক্ত ও ধ্বংস করে,
আর আমাদের দুই পৃথিবীর জন্ম দেয়।
তবে বাঁধনটা ধ্বংস করার একটা উপায় আছে।
মূল পৃথিবীতে সময় ও স্থানের মধ্য দিয়ে
পরিভ্রমণের উদ্ভাবনকে শুরুতেই ঠেকানোর মাধ্যমে।
অনুবাদ ও সম্পাদনা Arman AL Mahamud
PARADISE
তোমাকে এসব থেকে বাদ দিতে চেয়েছিলাম।
কিন্তু তোমার রাস্তা অপরিবর্তিত থাকতে হতো।
প্রতিটি পদক্ষেপ ঠিক আগের মতো নিতে হতো।
এই মুহূর্ত পর্যন্ত।
এটা...
আগেও ঘটেছে?
তোমার উৎস ধ্বংস করার ঘটনা,
অসংখ্যবার ঘটেছে।
কিন্তু এটা,
তুমি আর আমি,
এই প্রথম ঘটছে।
এবার বুঝবে তুমি সব কীভাবে সম্পর্কযুক্ত।
তুমি যা করেছো,
ইভা যা করেছে,
তা দুই পৃথিবীতে বাঁধনটার চিরস্থায়িত্ব বজায় রেখেছে।
তুমি সর্বদা নিজেকে নতুনরূপে গড়ছো।
আর সেও।
তাদের মরতে হবে।
তাদের সবাইকে মরতে হবে,
তবেই তারা পুনর্জন্ম নিতে পারবে।
তোমার মাঝে দুই পৃথিবী ধারণ করছো।
কী?
তোমার ছেলে।
সে এসবের উৎস।
দুই পৃথিবীর সবাইকে সে পর্যায়ক্রমে প্রাণ দিয়েছে।
দীর্ঘদিন তোমার অপেক্ষা করেছে সে।
ভবিষ্যতেও বারবার করে যাবে।
তুমি তোমার ছেলের বিনাশ চাও,
সেইসাথে বাঁধনেরও।
ইভা তাকে জীবিত চায়,
তাই বাঁধনটা থাকতে হবে।
তার হাতে উপায় নেই।
ছেলেকে বাঁচাতে সে বারংবার যা পারে সব করবে।
এই বাঁধনে তুমি আর ইভা যা যা করেছো,
আর যা যা করে যাবে,
সব ভালোবাসার তাড়নায়।
তবুও ব্যথা আর ভোগান্তি ছাড়া তোমরা আর কিছুই লাভ করোনি।
জোনাসকে বাঁচাতে চাইলে,
সবাইকে বাঁচাতে চাইলে,
সবসময় যা হয়ে এসেছে তা-ই করতে হবে আমাদের।
তোমাকেও।
তোমরা দুজনই তোমাদের যাত্রায় কল্পনাতীত সব কাজ করেছো।
কারণ তোমাদের নিগূঢ় আকাঙ্ক্ষাকে ত্যাগ করতে পারোনি।
এখানে এই মুহূর্তে তোমার পথচলা শেষ।
মানে?
এই পৃথিবীতে তোমাকে যে কাজে পাঠানো হয়েছিল সেটা সম্পন্ন করেছো।
আমরা কিছুই সম্পন্ন করিনি।
সে বলেছিল আমাদের মহাপ্রলয় থামাতে হবে।
- পাওয়ার প্ল্যান্টের ব্যারেলে-- - বুঝার সময় এলে
সব বুঝতে পারবে।
ভবিষ্যতে তুমি যা হবে তা এড়াতে চাচ্ছো।
কিন্তু তা সম্ভব নয়।
বরং বারবার কেবল নিজের মুখোমুখিই হবে।
কে তুমি?
স্যরি।
তোমাদের দুই পৃথিবীর অস্তিত্ব থাকার কথা না।
তুমি আর ইভা,
তোমাদের দুজনের অস্তিত্ব থাকার কথা না।
এসব কীভাবে জানো তুমি?
মূল পৃথিবীর কথা কীভাবে জানো?
আমি ৩৩ বছর তোমার আর তার পৃথিবীতে উত্তরগুলো খুঁজে বেড়িয়েছি।
ধাঁধার টুকরোগুলো একাট্টা করার চেষ্টা করেছি।
বুঝতে চেষ্টা করেছি একই বংশধারা থেকে কীভাবে সব
বারবার পুনর্জন্ম নেয়।
আমরা সবাই যে বাঁধনটার অংশ না তা বুঝা পর্যন্ত।
দুটো পৃথিবীই একটি ক্ষত, অন্য কিছু থেকে যার জন্ম।
ক্ষতটা দূর করলে তা থেকে জন্ম নেয়া সব দূর হবে,
তবে সেসব রয়ে যাবে
যেসব মূল পৃথিবীতে ইতোমধ্যেই আছে।
এতবছর ভেবে এসেছি
ও আমার মেয়ে।
দীর্ঘদিন আমিও চেয়েছিলাম তুমি ওর বাবা হও।
তবে এতেই ভালো।
ও বাঁধনটার অংশ নয়।
ও বাঁচবে।
কিন্তু তোমার আর ইভার মতো,
আমারও সবকিছু বজায় রাখতে হতো
আজকের আমিতে পরিণত হতে।
তোমাকে কী করতে হবে জানো।
দ্রুত করো।
ওকে কষ্ট পেতে দিও না।
ওর জীবন কোনো জীবন নয়।
এটা হতে হবে,
তবেই আমি এটা ঠেকাতে স্বর্গ আর পৃথিবীকে চালনা করতে পারবো।
তোমার মতো আমিও অন্যদের ব্যথা ও ভোগান্তিতে ফেলেছি,
বারবার...
যাতে আমার রাস্তা আমাকে আজ তোমার কাছে পৌঁছে দিতে পারে।
আমি যা যা করেছি
সব রেজিনার জন্য করেছি।
এত বছর দুই পৃথিবীতে ওর একটা বাঁচার উপায় খুঁজে বেড়িয়েছি।
খুঁজে বেড়িয়েছি কর্ম ও কর্মফলের শিকল ভাঙার একটা উপায়।
তোমার পৃথিবীতেও,
ইভার পৃথিবীতেও,
বুঝার চেষ্টা করেছি কীভাবে সবকিছু সম্পর্কযুক্ত।
প্রকৃতপক্ষে সম্পর্কযুক্ত।
আমাদের দুই পৃথিবী যে আরেকটা পৃথিবী থেকে জন্ম নিয়েছে সেটা বুঝা পর্যন্ত।
রেজিনা যে প্রত্যেকবারই দুই পৃথিবীতে মারা যাবে।
ও যে কেবল যে পৃথিবী থেকে সবকিছুর সৃষ্টি সে পৃথিবীতে বাঁচবে,
মূল পৃথিবীতে।
তোমাকে মিথ্যা বলেছিলাম...
ইভাকেও।
তবে বাঁধনটা থাকতে হতো।
তোমাদের দুজনকে আমার অন্ধকারে রাখতে হতো।
বাঁধনের সবাইকে অন্ধকারে রাখতে।
প্রথমত, সবকিছু সেভাবেই ঘটতে হতো সবসময় যেভাবে ঘটে এসেছে...
তোমার পৃথিবীতেও, তার পৃথিবীতেও।
এই গোলকধাঁধার প্রতিটি পদক্ষেপ
সেভাবেই নিতে হতো যেভাবে আগে নেওয়া হয়েছে।
এটা কর্ম ও কর্মফলের এক অসীম শিকল
যা দুই পৃথিবীতেই আমাদেরকে
বারবার একই নিয়তির দিকে চালনা করছে।
এক্সকিউজ মি।
এদিক দিয়ে কাউকে যেতে দেখেছেন?
বয়স্ক কাউকে?
কোনো পৃথিবীতেই আমরা নিজ ইচ্ছায় কিছু করতে পারি না।
চিরকাল সেটাই করবো যেটা সবসময় করে এসেছি।
হেই।
তুমি হেলগা ডপলার, তাই না?
হেলগা।
কোনো পৃথিবীর নিয়তিই
অন্য পৃথিবীর চেয়ে উত্তম নয়।
আজকে কত তারিখ?
৮ই নভেম্বর।
কোন সাল?
১৯৮৬।
১৯৮৬...
আমি বদলাতে পারবো, জানো?
অতীত বদলাতে পারবো।
ভবিষ্যতও।
বাঁচাও!
তুমি না থাকলে, এসব কিছুই হবে না।
না!
ওখানে কী? ও ওখানে?
- কী করেছো ওর? - ছাড়ো!
যতদিন বাঁধনটা থাকবে,
দুই পৃথিবীতেই আমরা বারবার
প্রতিটি ভোগান্তি ভোগ করা এবং জন্ম দেয়ার সাজা পাবো।
দুই পৃথিবীর মাঝে কোনো পার্থক্য নেই।
ঘটনাগুলো হয়তো একইভাবে কিংবা একই সময়ে
ঘটে না।
তবে অবশ্যই ঘটে।
বাঁধনের কেউ-ই তাদের
নিয়তি এড়াতে পারে না।
তুমি তাহলে।
ধাঁধার প্রতিটি টুকরোই
সবসময় নিজ অবস্থান ফিরে পায়।
ঠিক তোমার মতো, টুকরোগুলো আমি দাবার ছকে এদিক-সেদিক করেছি,
আর বারবার সব ঘটনার উপর নজর রেখেছি।
তবে অবশেষে জানতে পেরেছি বাঁধনটা কীভাবে খুলতে হবে।
তুমি এতদিন যে লুপহোলটা খুঁজেছো সেটা কোথায় আমি জানি।
সময়ে।
মহাপ্রলয়ের সময়, এক সেকেন্ডের একটি ভগ্নাংশের জন্য সময় থেমে যায়।
আর সেসময় সবকিছু ভারসাম্যহীন হয়ে পড়ে।
তবে সময় যখন থেমে যায়,
ক্ষণিকের জন্য কর্ম ও কর্মফলের শিকলও ভেঙে যায়।
তখন...
ঘটনা বদলানো যায়।
ইভা সেটা জানে।
সে তোমার পৃথিবীর লুপহোলটা ব্যবহার করে
নিজের ছোট রূপকে এক দিকে কিংবা অন্যদিকে পাঠায়,
চক্র চলমান রাখার জন্য।
আর আমিও নিজেকে অন্যদিকে পাঠাতে সেটা ব্যবহার করেছি।
আজকে এখানে পৌঁছতে।
জোনাসকে ভিন্ন পথে পাঠাতে তোমাকে এটা ব্যবহার করতে হবে।
চক্রকে সম্পূর্ণরূপে ভাঙার জন্য।
সবকিছু বারবার ঘটার জন্য জোনাস আর মার্থাই দায়ী।
তাদেরকে তোমার মূল পৃথিবীতে পাঠাতে হবে, তবেই তারা এসবের অবসান ঘটাতে পারবে।
তোমাকে কথা দিচ্ছি।
এটা ঠিক করবো।
এখনো এখানে কী করছো?
ও মারা গেছে!
আমার কাছে আরও কী চাও?
পরে সব বলবো। সব।
আগে এখান থেকে যেতে হবে।
কী করছো?
এটা কী?
এটা কী?
এটা আমাদের শেষ আশা।
কীভাবে করলে?
এটা কোন সময়?
প্রশ্নটা "কোন সময়?" নয়,
বরং "কোন পৃথিবী?"
এর মানে কী?
একটা উপায় আছে
তোমার পক্ষে আমি হওয়া এড়াতে পারার,
কখনোই এসব ঘটার প্রয়োজন না থাকার উপায়।
কিন্তু সেটা সম্ভব করতে, আমাকে তোমার বিশ্বাস করতে হবে।
তোমার হাতে বেশি সময় নেই।
অন্য মার্থা,
তাকে তোমার বাঁচাতে হবে।
অন্য মার্থা?
এতবছর ভেবে এসেছি
এসব আমাকে একা বদলাতে হবে।
কিন্তু ঠিক একইভাবে সেও দায়ী।
তোমরা একটি অখণ্ডের দুটি খণ্ড।
কেবল একসঙ্গেই তোমরা মূল পৃথিবীতে ফিরতে পারবে।
আমরা যা জানি তা একটি ফোঁটা।
আর যা জানি না...
তা একটি সমুদ্র।
এর মানে কী?
টিক, টক।
টিক, টক।
টিক, টক।
আজকে মহাপ্রলয় হবে...
তার পৃথিবীতে।
লুপহোল...
এখানেও আছে।
এক মুহূর্তের জন্য, সময় থেমে যাবে।
মার্থার কাছে তোমার পৌঁছতে হবে...
ম্যাগনাস আর ফ্রান্সিসকার আগে।
সবকিছুর পুনরাবৃত্তি হবার আগে।
তোমরা দুজন আমাদের শেষ আশা।
অ্যাডাম জোনাসকে তার পথে পাঠাবে।
সে আর মার্থা, এসব ঘটা থামাবে।
বাবা।
তাকে আমার হয়ে স্যরি বোলো।
সব ঠিকঠাক হলে...
রেজিনা বাঁচবে।
মার্থা?
কী হচ্ছে এসব?
মার্থা?
তোমাকে আমাদের সাথে যেতে হবে।
কোথায় যেতে হবে?
এ হতে পারে না।
তুমি বেঁচে আছো।
তুমি ওর মতো দেখতে।
আমাকে তুমি চেনো না।
আমরা কোন সময়ে আছি?
কোন সময়ে?
এখানে কেন এসেছি?
আজ ২১শে জুন, ১৯৮৬ সাল।
যেদিন আমাদের দুই পৃথিবীর সৃষ্টি হয়।
এখানে নয়, তার পৃথিবীতে।
ট্যানহাউজ নামের ক্লকমেকারটা, প্রথমবারের মতো আজকে প্যাসেজ খুলবে।
কী?
সময় বেশি নেই।
ওটা হওয়া থামাতে হবে।
দাঁড়াও!
এর মানে?
কোথায় যাচ্ছি?
এক মৃত ব্যক্তিকে জীবিত করতে।
মানে?
ব্যাপারটা একটু জটিল।
মারা যাবার আগে তাদের কাছে যেতে হবে।
কী করতে চাচ্ছো?
তুমি আর আমি...
সবকিছু ঘটে চলার কারণ।
বারবার ঘটে চলার।
কারণ তুমি যা চাও তা ত্যাগ করতে পারছো না।
আর আমি যা চাই তা ত্যাগ করতে পারছি না।
কিন্তু আমরাই ত্রুটি।
ম্যাট্রিক্সের ত্রুটি।
অস্তিত্ব মুছে দিতে চাচ্ছো।
তোমার আর আমার পৃথিবীর।
সেইসাথে আমাদের অস্তিত্বও।
তোমার অপেক্ষাতেই ছিলাম।
জানি কেন এসেছো।
কিন্তু শেষপর্যন্ত...
প্রতিটি মৃত্যুই
এক নতুন সূচনা।
তুমি জিততে পারবে না।
আমার মৃত্যু কেবল
চক্রের আরেকটি ধাপ।
তুমি আজকে আমাকে মারবে।
মার্থা আমাকে খুঁজে নিবে।
যেভাবে একদিন আমি নিজেকে খুঁজে নিয়েছিলাম।
যা তাকে সম্পূর্ণভাবে তোমার বিরুদ্ধে দাঁড় করাবে।
কীসের অপেক্ষা করছো?
এ হতে পারে না।
এটা এভাবে হয়নি।
এটা...
এটা কখনোই এভাবে হয়নি।
তুমি আমাকে মেরেছো।
প্রতিবারই।
তুমি মারা যাবে।
আমি মারা যাবো।
আমাদের কাছ থেকে জন্ম নেয়া সবকিছুও।
কী করেছো তুমি?
জীবন এক গোলকধাঁধা।
কেউ কেউ মৃত্যু পর্যন্ত এর ভেতর হাতড়ে বেড়ায়,
বেরোবার রাস্তার খোঁজে।
কিন্তু রাস্তা কেবল একটাই,
আর সেটা আরও গভীরে নিয়ে যায়।
মাঝখানে পৌঁছলেই কেবল
সেটা বুঝা যায়।
মৃত্যুকে বুঝা যায় না।
তবে এর সাথে সন্ধি করা যায়।
আমরা যা যা করেছি...
শেষপর্যন্ত সব স্মরণাতীত হবে।
আমরা দায়ী এই অসীম দেজা ভুর জন্য।
আর আমাদেরকেই
এর অবসান ঘটাতে হবে।
আমরা...
ত্রুটি।
তুমি আর আমি।
আমাদের দুজনের নিয়তি একত্রে এক অনন্ত অভিশাপে বাঁধা পড়েছে।
উভয় পৃথিবীতেই।
সবকিছু কর্ম ও কর্মফল।
প্রতিটি ব্যথা আমাদেরকে বিপথে চালিত করে,
আমাদের ইচ্ছাকে রূপ দেয়।
ট্যানহাউজ মূল পৃথিবীতে তার জীবনের গুরুত্বপূর্ণ সবকিছু হারায়।
তার ছেলে, ছেলের বউ, আর নাতনি গাড়ি দুর্ঘটনায় মারা যায়।
তারা ধাক্কা খেয়ে ব্রিজ থেকে নদীতে পড়ে ডুবে যায়।
সেই ব্যথা সে ভুলতে পারে না।
জোনাস আর মার্থাকে...
তার ব্যথা দূর করতে হবে।
তবেই সে সবকিছু আগের মতো করার উপায় খুঁজবে না।
তাদেরকে মূল পৃথিবীতে যেতে হবে
আর আমাদের দুই পৃথিবীর
সৃষ্টি হওয়া রোধ করতে হবে।
এই সেই মুহূর্ত যখন প্রথমবার প্যাসেজ খুলে।
ট্যানহাউজ সেই পৃথিবীতে ফিরে যেতে চেয়েছিল যেই পৃথিবীতে তার পরিবার বেঁচে ছিল।
কিন্তু তার পরিবর্তে, নিজের পৃথিবীকে বিভক্ত করে ফেলেছিল।
তৈরি করেছিল বাঁধনটা।
তৈরি করেছিল আমাদের।
ক্ষণিকের জন্য,
তিন পৃথিবীর মাঝে...
একটি সেতু স্থাপন হবে।
তার পৃথিবীতে যেতে চাও?
তার ব্যথার সূত্রপাত যেখানে সেখানে যেতে হবে আমাদের।
জোনাস...
তোমার পৃথিবীর জন...
সে কি ব্যতিক্রম?
শুরু হচ্ছে।
মার্থা?
মার্থা?
জোনাস?
জোনাস!
মার্থা?
জোনাস!
মার্থা?
ওহ, এইতো তুমি।
ওকে দুঃখী দেখাচ্ছে।
কাকে দুঃখী দেখাচ্ছে?
ওখানে দাঁড়ানো ছেলেটাকে।
কাউকে তো দেখা যাচ্ছে না।
আলমারির পিছনদিক দেখা যাচ্ছে।
জোনাস?
সব ঠিক আছে?
বেজমেন্টে কী খুঁজছো?
কী হলো?
ওখানে একটা মেয়ে দাঁড়িয়ে আছে।
কোনো মেয়ে নেই ওখানে।
আসো। নিচে চলো, কেমন?
আসো।
সবসময় ওটাই বলতে হবে? একবারের জন্যও ক্ষান্তি দিতে পারো না?
ভাবলাম দোকানটা তুমি চাও।
- এখন না, হয়তো পরে। - কথা কানেই তুলো না!
এজন্যই মা সহ্য করতে পারেনি।
তোমার ননস্টপ লেকচার, বিগ ব্যাং, বিগ ক্রাঞ্চ...
সনজাকে কখনো জিজ্ঞেস করেছো ওর আগ্রহ আছে কিনা?
এত বছরে, কখনো জানতে চেয়েছো আমার আগ্রহ আছে কিনা?
কিংবা আমি কী চাই?
বৃষ্টি হচ্ছে।
এটাই তোমার শেষ কথা?
মারেক, শোনো।
তুমি বলেছো বাইরের পৃথিবী রহস্যপূর্ণ,
আর আমরা যা জানি তা এক অসীম সমুদ্রের একটি ফোঁটা।
অন্তত তোমার এই কথাটা ঠিক।
আইনস্টাইন-রোজেন ব্রিজ আর ব্ল্যাক হোলের ব্যাপারে হয়তো তুমি সব জানো,
কিন্তু আমার ব্যাপারে... আমার ব্যাপারে কিচ্ছু জানো না।
ভাব... ভাবলাম আরও কিছুদিন থাকবে।
ওর মাথা ঠাণ্ডা হয়ে যাবে।
এসবের কি খুবই দরকার ছিল?
কালও তো যেতে পারতাম।
ওনাকে নিয়ে তোমার লজ্জা হয়।
উনি কেমন তুমি জানো না।
জন্ম থেকেই এমন। নিজের মাথায় আর নিজের বড় বড় চিন্তা-ভাবনায় বাস করে।
ওনার বানানো ওসব কখনো দেখেছো?
মানুষ ওসব কেন দেখে সেটাই আমি বুঝতে পারি না।
সবসময় আকাশ দেখে।
তারা, গ্যালাক্সি, যত্তসব মহাবিশ্ব... আর আমাকে?
আমাকে কখনোই দেখে না।
পরিবার বেছে নেয়া যায় না।
হ্যাঁ।
কিন্তু তোমাকে বেছে নিয়েছি।
হ্যাঁ।
আমাকে বেছে নিয়েছো।
সামনে দেখো!
ঠিক আছো?
হ্যাঁ?
- রাস্তার মাঝখানে কী করছে? - গিয়ে দেখছি।
সমস্যা কী?
রাস্তার মাঝখানে কে দাঁড়ায়! মেরেই তো দিয়েছিলাম!
সব ঠিক আছে?
কোনো সাহায্য লাগবে?
ব্রিজ বন্ধ করে দিয়েছে।
কী?
একটা অ্যাক্সিডেন্ট হয়েছিল।
মজা হচ্ছে?
বাড়ি যাও।
আমরা যা জানি তা একটি ফোঁটা।
আর যা জানি না তা একটি সমুদ্র।
আপনার বাবা আপনাকে ভালোবাসে।
আপনার জন্য উনি সব করবেন।
কী বললে?
মারেক?
সব ঠিক আছে?
ব্রিজ বন্ধ করে দিয়েছে।
আসো, চলো।
মারেক!
কী ব্যাপার?
ঠিকই বলেছো।
কালকে যাওয়া যাবে।
তোমরা ফিরে এসেছো?
ব্রিজ বন্ধ করে দিয়েছে।
- আপনার ছেলের ধারণা দুজন দেবদূত দেখেছে। - ঠাট্টা করো না।
জানি না কেন...
কিন্তু হঠাৎ এরকম...
মনে হলো।
ফিরে এসে ভালোই করেছো।
বিছানাপত্তর এখনো তুলে রাখিনি।
ব্যাগ নিয়ে যাচ্ছি উপরে।
ধন্যবাদ।
ওকে নিবেন?
শার্লটও ইতোমধ্যে আপনাকে মিস করেছে।
মারেককে সাহায্য করি গিয়ে।
কাজ হয়েছে?
আলোর ভেতর...
তোমাকে দেখেছি।
বাচ্চা তোমাকে।
আমার দিকে তাকিয়ে ছিলে...
যেন তুমিও আমাকে দেখতে পাচ্ছিলে।
আলমারিতে?
ওটা তুমি ছিলে?
স্বপ্ন নয় তাহলে।
আমাদের কিছু অবশিষ্ট থাকবে?
নাকি এটাই আমরা?
কোনো স্বপ্ন?
কখনো আমাদের অস্তিত্ব ছিল না?
জানি না।
আমরা একে অপরের জন্যই আদর্শ।
এছাড়া অন্যকিছু কখনো বিশ্বাস করবে না।
- লাজানিয়া আবার গরম করবো? - হ্যাঁ।
- আমিও হাত লাগাই। - আরেকটা বোতল খুলি?
- অবশ্যই। - আচ্ছা।
আমাকেও এক চুমুক দিবে?
- এবার রেজিনার উদ্দেশ্যে টোস্ট হবে। - হ্যাঁ।
- তোমার উদ্দেশ্যে। - তোমার উদ্দেশ্যে।
আর ইনভাইট করার জন্য ধন্যবাদ।
- স্বাগতম। - তোমার উদ্দেশ্যে।
তোমার চোখ।
- বেশ ভালো দেখাচ্ছে। - চোখে কী হয়েছিল কখনো বলোনি আমাদের।
- আমাকেও বলোনি। - বলো, আজকে বলো।
তোমাদের কথা দিতে হবে কাউকে বলবে না।
গত গ্রীষ্মে--
ধ্যাত। ভয় পেয়েছি।
- ঠিক আছো? - হ্যাঁ।
এটাই কি মহাপ্রলয়?
- মোমবাতি জ্বালাচ্ছি। - লাইটার আছে?
হ্যাঁ, এইতো।
- এইতো। - হ্যানাহ?
ঠিক আছো?
হেই, সব ঠিক আছে?
জানি না। আমার দেজা ভু হলো বোধহয়।
শুনে একেবারে অদ্ভুত মনে হবে, কিন্তু...
ঠিক এটাই
গতরাতে স্বপ্নে দেখেছি।
বিদ্যুৎ চমকাচ্ছিল,
জোরে বজ্রপাত হচ্ছিল,
আর হঠাৎ সব অন্ধকার হয়ে গেল।
আর কোনোভাবে...
পৃথিবী ধ্বংস হয়ে গেল।
পৃথিবী ধ্বংস হয়ে গেল?
হ্যাঁ, জানি না।
সব দেখলাম অন্ধকার, আর আলো দেখলাম না।
আর অদ্ভুত ব্যাপার...
আমার কাছে এটা ভালোই মনে হলো...
সব শেষ হয়ে যাওয়াটা।
যেন সবকিছু থেকে হঠাৎ মুক্তি মিললো।
চাওয়া নেই।
প্রয়োজন নেই।
অসীম অন্ধকার।
গতকাল নেই।
আজ নেই।
আগামীকাল নেই।
কিছুই নেই।
তোমার এটা খতিয়ে দেখা দরকার।
হয়তো কেবল হরমোন।
পৃথিবী আজকে ধ্বংস হয়ে গেলে,
আর তোমার একটা চাওয়া থাকলে,
কী চাইতে?
উইন্ডেন বিহীন পৃথিবী।
এটার উদ্দেশ্যে ড্রিংক হোক।
হ্যাঁ।
- উইন্ডেন বিহীন পৃথিবী। - উইন্ডেন বিহীন পৃথিবী।
মনে হচ্ছে উইন্ডেন এত সহজে বিদায় নিবে না।
হয়তো এতেই ভালো।
বাচ্চার নাম ঠিক করেছো?
জানি না।
"জোনাস" নামটা সুন্দর।
অনুবাদ ও সম্পাদনা Arman AL Mahamud
Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.