All language subtitles for U TURN(2018)Tamil (Original Version) Proper True HQ WEB

af Afrikaans
ak Akan
sq Albanian
am Amharic
ar Arabic
hy Armenian
az Azerbaijani
eu Basque
be Belarusian
bem Bemba
bn Bengali
bh Bihari
bs Bosnian
br Breton
bg Bulgarian
km Cambodian
ca Catalan
ceb Cebuano
chr Cherokee
ny Chichewa
zh-CN Chinese (Simplified)
zh-TW Chinese (Traditional)
co Corsican
hr Croatian
cs Czech
da Danish
en English
eo Esperanto
et Estonian
ee Ewe
fo Faroese
tl Filipino
fi Finnish
fr French
fy Frisian
gaa Ga
gl Galician
ka Georgian
de German
el Greek
gn Guarani
gu Gujarati
ht Haitian Creole
ha Hausa
haw Hawaiian
iw Hebrew
hi Hindi
hmn Hmong
hu Hungarian
is Icelandic
ig Igbo
id Indonesian
ia Interlingua
ga Irish
it Italian
ja Japanese
jw Javanese
kn Kannada
kk Kazakh
rw Kinyarwanda
rn Kirundi
kg Kongo
ko Korean
kri Krio (Sierra Leone)
ku Kurdish
ckb Kurdish (Soranî)
ky Kyrgyz
lo Laothian
la Latin
lv Latvian
ln Lingala
lt Lithuanian
loz Lozi
lg Luganda
ach Luo
lb Luxembourgish
mk Macedonian
mg Malagasy
ms Malay
ml Malayalam
mt Maltese
mi Maori
mr Marathi
mfe Mauritian Creole
mo Moldavian
mn Mongolian
my Myanmar (Burmese)
sr-ME Montenegrin
ne Nepali
pcm Nigerian Pidgin
nso Northern Sotho
no Norwegian
nn Norwegian (Nynorsk)
oc Occitan
or Oriya
om Oromo
ps Pashto
fa Persian
pl Polish
pt-BR Portuguese (Brazil)
pt Portuguese (Portugal)
pa Punjabi
qu Quechua
ro Romanian
rm Romansh
nyn Runyakitara
ru Russian
sm Samoan
gd Scots Gaelic
sr Serbian
sh Serbo-Croatian
st Sesotho
tn Setswana
crs Seychellois Creole
sn Shona
sd Sindhi
si Sinhalese
sk Slovak
sl Slovenian
so Somali
es Spanish
es-419 Spanish (Latin American)
su Sundanese
sw Swahili
sv Swedish
tg Tajik
ta Tamil
tt Tatar
te Telugu
th Thai
ti Tigrinya
to Tonga
lua Tshiluba
tum Tumbuka
tr Turkish
tk Turkmen
tw Twi
ug Uighur
uk Ukrainian
ur Urdu
uz Uzbek
vi Vietnamese
cy Welsh
wo Wolof
xh Xhosa
yi Yiddish
yo Yoruba
zu Zulu

Original subtitles

ব

বা

বাং

বাংল

বাংলা

বাংলা

বাংলা অ

বাংলা অন

বাংলা অনু

বাংলা অনুব

বাংলা অনুবা

বাংলা অনুবাদ

বাংলা অনুবাদে

বাংলা অনুবাদে:

বাংলা অনুবাদে:

বাংলা অনুবাদে:

বাংলা অনুবাদে: অ

বাংলা অনুবাদে: অন

বাংলা অনুবাদে: অনন

বাংলা অনুবাদে: অনন্

বাংলা অনুবাদে: অনন্য

বাংলা অনুবাদে: অনন্য

বাংলা অনুবাদে: অনন্য দ

বাংলা অনুবাদে: অনন্য দে

বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেব

বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবন

বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনা

বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনাথ

বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনাথ

বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনাথ (

বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনাথ (S

বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনাথ (Sh

বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনাথ (Sh.

বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনাথ (Sh.A

বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনাথ (Sh.AD

বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনাথ (Sh.ADN

বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনাথ (Sh.ADN)

তোর ভাইয়ের ভিসা নিয়ে একটু সমস্যা হচ্ছে।

আসতে পারবে কি না, সেটাও নিশ্চিত করে বলতে পারছে না।

আর যদি আসেও, সম্ভবত আবার ফিরে যেতে পারবে না।

কি করবো কিছুই বুঝতে পারছি না।

তোর বিয়েটা ঠিক হলে ও অবশ্যই আসতো।

মা! এই এক কথা বারবার বলা বন্ধ করো তো।

এভাবে বলতে থাকলে আমি চলে যাবো কিন্তু!

যা, যা। তোকে যাই বলি না কেন, তুই তাতেই দোষ খুঁজিস।

মা, কেন খামোখা তর্ক করে আমার মুডটা খারাপ করছো?

তোমাকে বাসে তুলে দিয়ে আমাকে অফিসে যেতে হবে।

তোর বাবা কত কষ্ট করে, ঋণ নিয়ে টাকা জোগাড় করেছিলো তোকে ইঞ্জিনিয়ারিং পড়াবে বলে।

চাইলে কত ভালো চাকরি পেতে পারতি।

কেন এমন একটা ফালতু চাকরি নিয়েছিস?

মা, তুমি যত চেষ্টাই করো, আমার সিদ্ধান্ত বদলাতে পারবে না।

কেন করবি তুই! তুই তো করবিই না।

আমাদের পাশের বাড়ির মেয়ে, সাথী, তোর চেয়েও ছোট...

তারও গত মাসে বিয়ে হয়ে গেছে...

এখন দেখ, ওয়াশিং মেশিনে গিয়ে কত সুন্দরভাবে থাকছে।

মা!

মা ওটা ওয়াশিং মেশিন নয়, ওয়াশিংটন।

- যাই হোক! - ওয়াশিং মেশিন?

তুই জানিস ও কত সুখে আছে?

তোর বাবা কয়েকদিন আগে ফেসবুকে মেয়েটার ছবি দেখে দুঃখ করছিলো...

বেচারা! অনেক মন খারাপ হয়েছিলো উনার।

তুই বল তো, তোর জন্য আমরা কি করিনি?

কেন আমাদের এমন শাস্তি দিচ্ছিস?

মা... বিয়ে করা, বিদেশে হানিমুন করতে যাওয়া

তারপর ফেসবুকে ফটো দেওয়া...

এগুলো কোনো বড় অর্জন নয়! আহামরি কোনো বিষয় নয় এটা।

এই বয়সে তোমাদের ফেসবুক আর হোয়াটসঅ্যাপ চালানো মানায়?

হ্যাঁ, আমাদের কথা যদি একটু ভাবতি,

তাহলে এতদিনে নাতি-নাতনীর মুখ দেখার সৌভাগ্য হতো।

বাহ্!

সেই সৌভাগ্য আর কোথায় আমাদের?

সব কথা গিয়ে ঘুরে ফিরে ওই এক যায়গাতে এসে আঁটকায়, বিয়ে বিয়ে বিয়ে।

- ভাইয়া, আপনার বিয়ে হয়ে গেছে? - না, ম্যাডাম। আমি ব্যাচেলর।

- আমাকে দেখুন তো, পছন্দ হয় কি না? - ম্যাডাম...এসব কি বলছেন?

সামনে কোনো মন্দিরের সামনে দাঁড়ান, আমরা বিয়ে করে ফেলবো।

তাহলে উনার একটু শান্তি হবে।

চুপ কর, রচু! তুমি চালাও।

চিন্তা করবেন না, ম্যাডাম...

আমি উনাকে বিয়ে করবো না।

সাইদাবাদ পুলিশ ষ্টেশনে আমার একজন মহিলা কনস্টেবলের সাথে পরিচয় আছে।

আপনার মেয়ের চেয়ে অনেক ভালো সে।

শোন, রচু...

আমি তোর ভালোর জন্যই বলছি...

এসব সাংবাদিকের চাকরি ছেড়ে কোনো সফটওয়্যার কোম্পানির চাকরী ধর।

তুই ওই বিয়ের ঘটক, গনেশ কে তো চিনিস?

সে প্রবাসী গ্রীণ কার্ডওয়ালা একটা ভালো ছেলের খোঁজ জানে...

আমি এই অটো ড্রাইভারের নামে শপথ করে বলছি...

তুমি যদি আরেকবার এই বিয়ের কথা বলো,

আমি এই অটো থেকে লাফ দিয়ে নেমে চলে যাবো কিন্তু।

হ্যাঁ, অবশ্যই, পালিয়ে যা। ...তোকে কে বাঁধা দিচ্ছে?

একবার বিয়েটা করে ফেল, তারপর যেখানে খুশি তোর যেতে পারিস।

মা, তোমার মোবাইলে টাকা রিচার্জ করা লাগবে?

লাগবে না। টাকা আছে।

হেই! তুই কথা ঘোরাচ্ছিস কেন?

তুমি তো ননস্টপ বাস চালিয়েই যাচ্ছো...

বাস স্টেশনে গিয়ে টয়লেট ব্যবহার করো।

আমি কি বলছি আর তুই কি বলছিস?

বাবাকে বলো যাতে কফিতে চিনি কম খায়...

তোমাকে দেখার মতো উনি একজনই তো আছেন।

তুই আছিস কেন তাহলে?

তুই তো বলেছিলি আমাদের সাথে সারাজীবন থাকবি।

এই তো আছি আমি।

কিন্তু যদি বিয়ে করে ফেলি, তখন কি হবে?

রচু... তুই এক্ষুণি বিয়ের কথা বললি?

নিশ্চই গত জন্মে আমি কোনো পুণ্য করেছিলাম।

মা, তুমি সিরিয়াল একটু কম দেখিও।

অনেক অভিনয় শিখেছো তুমি।

ওহ্! বাস চলে গেলো কিনা কেজানে।

মা, খামোখা চিন্তা করো না তো।

দেখো... তোমার মোবাইল রেখে চলে যাচ্ছো।

মা! আমি জানি।

আবার দেখ তো, কিছু ফেলে যাচ্ছি না তো।

আমরা শুধু ২ টা ব্যাগ নিয়ে এসেছি, মা।

- কত হয়েছে, ভাইয়া? - ৭০ টাকা, ম্যাডাম...

- কিন্তু আমাকে ১০০ টাকা দিন। - ১০০ টাকা কেন?

বড় বড় দুইটা ব্যাগ এনেছি...

তাছাড়া এখন আমাকে খালি যেতে হবে।

ব্যাগ কি আপনি মাথায় করে নিয়ে এসেছেন?

আমি শুধু ৩০ টাকা বেশি চেয়েছি, যৌতুক চাইনি।

একটা কষে লাগাবো!

রচু, খামোখা ঝগড়া কেন বাঁধাচ্ছিস?

দেখো,... আমি তোমাকে বিকাশে ৭০ টাকা পাঠিয়ে দিয়েছি।

- চেক করে নাও। - যান, যান, ম্যাডাম।

এই ৩০ টাকা দিয়ে আপনার মেয়ের কুষ্ঠি চেক করে নিয়েন।

যাও তো!

যান ম্যাডাম...

তোর কি সব ছেলেদের উপর এমন রাগ?

- সবসময় তাদের সাথে ঝগড়া বাঁধাস। - তুমি যাও তো।

হেই... হাই, দিব্যা...

হাই... অফিস ছেড়ে যাওয়ার সময় হয়ে এসেছে, আর তুমি এখন এসেছো অফিসে?

দুপুরের খাবার বেশি হয়ে গেছে মনে হয়?

লাঞ্চ ছাড়ো, আমি সকাল থেকে কিছুই খাইনি। আমার প্রচুর খিদা লেগেছে।

আমি মাকে বাস স্টেশনে ছেড়ে এসেছি।

অফিসের বার্ষিক অনুষ্ঠান এই শুক্রবার... তুমি আসবে তো?

একদমই না। এসব লাইট, চেঁচামেচি আমার ভালো লাগে না...

- তার চেয়ে বরং বাসায় ভালো সময় কাটানো যাবে। - সত্যি?

ওহ্...

ম্যাডাম, এডিটর ডাকছে আপনাকে। জরুরী দরকার বললো।

হ্যালো...

স্যার, আমি সুন্দর বলছি, সিইও অফিস থেকে...

স্যার আপনার কাজ শেষ হয়ে গেছে।...

আমি ফেরত হিসাবও তুলে রেখেছি।

স্যরি, স্যার! ওটার কথা ভুলে গিয়েছি, স্যার। আমি কাল সকালে করে দিই?

আমি এখন ভেলাচেরি ফ্লাইওভারে আছি।

স্যার... আসলে সেরকম কিছু নয়।

আচ্ছা, স্যার, আমি আসছি।

আজ রাতের মধ্যেই শেষ করে ফেলবো।

আচ্ছা, স্যার।

স্যার, এক মিনিট।

আপনার নামে কুরিয়ার এসেছে।

ওহ্... স্যরি, স্যার।

লিখতে থাকো।

ইয়া! বাবা এসে গেছে!

কার্থি... হেই...

- হাই, ড্যাডি!... - হেই, সোনা...

কার্থি, আজ স্কুলে কি হয়েছে?

আজ আমাদের দৌড় প্রতিযোগিতা হয়েছে।

ওয়াও, দৌড় প্রতিযোগিতা?

তুমি সেকেন্ড হয়েছো, নাকি থার্ড?

আমি ফার্স্ট হয়েছি, বাবা।

তুমি ফার্স্ট হয়েছো? কি পুরষ্কার পেয়েছো?

- আমাকে কোনো পুরষ্কার দেয়নি, বাবা। - তুমি লাস্ট হয়ে আমাকে মিথ্যে বলছো না তো?

হেই... খেতে দাও।

তুমি খেয়েছো?

- না, বাবা। - কেন?

আমি তোমার সাথে খাবো...

আচ্ছা, চলো তাহলে।

কার্থি, শ্লেট রেখে আগে খাবার খাও।

না... না... না...

আমি কার্থির জন্য একটা ভালো ডে কেয়ার খুঁজে পেয়েছি।

আগামী সপ্তাহে ওকে ভর্তি করিয়ে দেবো।

আমি আগে একবার বলিনি?

আমরা তাকে কোনো ডে কেয়ারে দিচ্ছি না।

তোমার সমস্যাটা কোথায়?

আমি আর কতদিন নিজের চাকরি ছেড়ে ওকে নিয়ে ঘরে বসে থাকবো?

আমি রোজগার করছি তো, না কি? তোমার চাকরী করতে হবে না।

কার্থির জন্মের আগে,

আমার নিজের একটা ক্যারিয়ার ছিলো।

আমি এভাবে ঘরে বসে বসে সেটা নষ্ট করতে পারবো না।

দরকার হলে তুমি চাকরি ছেড়ে দিয়ে ঘরে বসে কার্থির খেয়াল রাখো।

আমি এমনিতে চিন্তায় আছি।

একটু শান্তিতে খেতেও দিবে না?

যদি ক্যারিয়ারই তোমার জন্য এত গুরুত্বপূর্ণ,

তাহলে বিয়ে করে বাচ্চা কেন নিয়েছো?

হেই, কার্থি... এই দেখো, তোমার বন্ধু।

সে তার মা-বাবার সাথে বেড়াতে গেছে...

ফেসবুকে ফটোও দিয়েছে।

হেই, হাসি বন্ধ কর।

- ঘুমোতে আয়! - বাবা, দেখো!

অখিলা!

অখিলা!

অখিলা, দরজা খোলো!

খুলবে না তো?

সকালে খুলবে না?

তখন তোমাকে দেখে নিচ্ছি, দাঁড়াও।

শুনলাম তোমার ওখানে নাকি ঠান্ডা পড়ছে এখন।

একা একা তো অনেক মাস্তি করছো, তাই না?

- হ্যাঁ, তোমার বয়ফ্রেন্ডদের সাথে মাস্তি করছি। - আমার বয়ফ্রেন্ড?

তাদের সাথে খুব দারুণ সময় কাটাচ্ছি, তোমাকে বলেনি তারা?

সময় ভালো যাচ্ছে তাহলে? আমার তো মনে হয় না।

ভালো কথা, তোমার অফিস ক্রাশের কি খবর?

কোনো উন্নতি হলো?

- কিছুই হয়নি। - সত্যি?

ও আমার সাথে কথা বলতে পর্যন্ত ভয় পায়।

জানি না ক্রাইম রিপোর্টারের এই চাকরী সে কীভাবে পেলো।

ওহ্... তুমি এখনো অন্য কাউকে খুঁজে পাওনি?

আচ্ছা, এক কাজ করো।

- আবার কি? - কথা শোনো আগে

আমার রুমে একটা লাল জামা আছে।

লাকি জামা...

ওটা পড়ে কাজে যাও, দেখবে ঠিক সফল হবে।

সফল? কীভাবে?

সোজাসুজি বলি তাহলে?

একটু লুজ করবে, আর বাচ্চার মা হয়ে যাবে।

কি? চুপ করে আছো যে?

আমি বাচ্চার নাম কি রাখা যায় তা ভাবছি।

আমি ভাবতাম আমিই একটু বেশি বলি। তুমি তো আমার চেয়েও উপরে।

- আচ্ছা, চেষ্টা করবো আর তোমাকে জানাবো। - ওকে, বাই।

হেই, এক মিনিট...ড্রয়ারে আমার কানের দুল আছে...

হেই! রুম পরিষ্কার করতে ভুলবে না কিন্তু।

হুম। আচ্ছা, বাই।

ভাইয়া...

ভাইয়া...

আজ কিছু পেয়েছেন?

এই নিন।

হাই, রচনা... - হাই...

- আজ এতো তাড়াতাড়ি? - যেমন খুশি তেমন সাজ দিচ্ছো নাকি?

সত্যি? দেখতে খারাপ লাগছে?

ফাজিল!

- হ্যালো।... - হেই! হ্যাঁ, বলুন।

হ্যালো... নাম্বারটা তাড়াতাড়ি লিখে নিন।

আচ্ছা, বলুন।

- TN 21... - TN 21...

CD 7785...

CD 7785...

- আচ্ছা, রাখছি তাহলে। - আমাকে ঠিকানাটা কবে জানাতে পারবেন?

আমি জানিয়ে দেবো...

কি? ব্যস্ত মনে হচ্ছে? - হ্যাঁ, সত্যিই ব্যস্ত...

প্রচুর ধকল যাচ্ছে... সবাই অনেক কাজের চাপ দিচ্ছে আমাকে।

- আচ্ছা, পরে কথা হবে তাহলে। রাখি। - আচ্ছা, বাই।

হাই... ব্যস্ত?

হেই, হাই... হ্যাঁ, ভেতরে এসো।

বসো।

এসো, বসো।

তোমাকে বিরক্ত করলাম না তো?

আরে মোটেও না... একই চোর, একই খুন...

নতুন কোনো অপরাধ লিস্ট নেই।

হেই, তুমি কিছু জিনিস চেয়েছিলে তাই না?

এখানে কোথাও রেখেছিলাম।

এখানেই তো রেখেছিলাম।

এখানে কোথাও আছে হয়তো... পরে খুঁজে দেবো না হয়?

আচ্ছা, ঠিকাছে।

আচ্ছা, আমার আর্টিকেলের লেখাগুলো আসলেই তোমার কোনো কাজে আসে?

- অবশ্যই...

আমি তোমার সবগুলো আর্টিকেল পড়ি।

পরে আমার নোটের সাথে সেগুলো মিলিয়ে দেখি...

- এটা আমাকে অনেক সাহায্য করে। - খারাপ না।

যাক, অন্তত একজন তাহলে আমার লেখা ভালো করে পড়ে।

আদিত্য, আসলে...

- আমার আরেকটু উপকার করতে হবে। - হ্যাঁ, বলো।

আমাকে ভেলাচেরি ফ্লাইওভারে হওয়া দুর্ঘটনাগুলোর রেকর্ড জোগাড় করে দিতে পারবে?

আমি প্রত্যেকদিন এই ভেলাচেরি ফ্লাইওভারের উপর দিয়েই আসি।

- ওহ্... - কিন্তু, তোমার সেগুলো কেন লাগবে?

- আমি সেটার উপর একটা রিপোর্ট লেখছি আসলে। - ওকে...

উমম..

আমি ফ্রি হলে ডাটাবেজ থেকে রেকর্ড বের করে রাখবো।

১-২ দিন সময় লাগবে, চলবে তো?

- ঠিকাছে। - ওকে।

আচ্ছা, পরে দেখা হবে তাহলে।

হ্যাঁ, বাই।

র... রচনা...

রচনা...

রচনা...

রচনা...!

এক সেকেন্ড...

তুমি এটা ফেলে যাচ্ছিলে।

তোমার মোবাইল... আমার টেবিলের উপর ছিলো।

আমিও না, জিনিসপত্রের কথা ভুলে যাই।

স্যরি

- এক কাপ কফি হয়ে যাক? - না। আমার আসলে অনেক কাজ বাকী পড়ে আছে।

- আমাকে আর্টিকেলগুলো শেষ করতে হবে। - অবশ্যই... অবশ্যই...

অবশ্যই... স্যরি।

আচ্ছা, পরে দেখা হবে। ধন্যবাদ।

স্যার, কফি...

ধন্যবাদ।

- এই নাও। - ধন্যবাদ।

তুমি সবসময় এই কফি খাও...

তো...

- তোমার বাড়ি কোথায়, চেন্নাই? - না, আমি কোয়াম্বেতুর থেকে এসেছি।

ওহ্...

আমরা ৬ মাস আগে এখানে এসেছি।

ওকে... ওকে...

তোমার স্বামী কি করে?

কি?! সত্যি?

আমাকে দেখতে বিবাহিত মনে হয়?

মানে...তুমি যে বললে তোমরা ৬ মাস আগে এসেছো।

তো, তাই আরকি...

আমি বিবাহিত কি না জানতে চাইলে তুমি সেটা সরাসরি জিজ্ঞেস করলেই হতো।

না... না... আমার তেমন কোনো উদ্দেশ্য ছিলো না।

এমনিই শুধু...

তোমার তিন নম্বর বাচ্চা কোন স্কুলে পড়ে?

- আমাকে দেখতে কি তিন বাচ্চার বাবা মনে হয়? - হ্যাঁ।

বাহ্!

আমার তিন নম্বর ছেলে অনেক ছোট... এই জন্য সে আমার প্রথম স্ত্রীর সাথে থাকে।

তাহলে তুমি এখন তোমার দ্বিতীয় স্ত্রীর সাথে থাকো?

না, আমি তাকে কালকেই ডিভোর্স দিয়েছি।

- ওহ্... - হ্যাঁ।

তো, এখন 'আবার আমি একা, পাবো কারও দেখা' স্ট্যাটাসে আছি।

ভালোই...

তো, তুমি তোমার সাবেককে খুন করেছ কেন?

কি ভয়ঙ্কর তাকানো?

মারতে গিয়েছিলাম, কিন্তু পারিনি।

সে আমাকে ধোঁকা দিয়ে পালিয়ে গেছে।

তোমাকে ধোঁকা দিয়ে পালিয়েছে?

আর কি চেয়েছিলো সে তোমার কাছ থেকে?

আসলে আমি নিজেকে তেমন জাহির করতে পারতাম না।

হ্যাঁ... অফিসে সবাই তোমাকে টমবয় ডাকে।

নিজেকে জাহির করার জন্য এটা যথেষ্ট নয়?

-সত্যি? এমন বলে? - হ্যাঁ।

তাহলে তো ভালোই হলো।

বখাটেরা আমার কাছ থেকে দূরে থাকবে।

তা ঠিক।

ওহ্... আমার এডিটর...

আমার অনেক কাজ বাকী পড়ে আছে। আমরা পরে কথা বলি?

হ্যাঁ, অবশ্যই।

আসি তাহলে।

রচনা...

দাঁড়াও।

আমাদের এডিটর আমাকে দুইটা টিকেট দিয়েছে একটা মুভি রিভিউ করে দেখার জন্য।

তোমার কোনো বন্ধু ফ্রি থাকলে আমার সাথে যেতে পারে।

তুমি ক্রাইম ডিপার্টমেন্টে কাজ করো, তাই না?

মুভিতে তোমার কিসের কাজ?

এটা একটা ক্রাইম থ্রিলার মুভি।

সত্যি?

একটা টমবয়...

তোমার জন্য পার্কিং লটে অপেক্ষা করবে।

তাকে পছন্দ হলে সাথে নিয়ে যেতে পারো।

ওকে, বাই।

‘জামাটার জন্য ধন্যবাদ।’

হ্যালো...

তাড়াতাড়ি লিখে নিন।

নাম, সুন্দর

লাল রং এর গ্ল্যামার বাইক। ঠিকানা, ৩১৬

- রেইনবো অ্যাপার্টমেন্ট। - বলুন।

কয়টা বাজে?

১১:৩০, ম্যাডাম...

সুন্দর এর বাসাটা কোনদিকে?

সোজা গেলে একটা বাগান পাবেন। সেখান থেকে ডানদিকে।

তোমার মোবাইল?

হুম... ওহ্, শিট!

স্যরি

- আদিত্য... - হুম?

আমাকে পরেরবার কোনো ভালো সিনেমা দেখাতে নিয়ে যেও।

তাহলে আমাদের দুইজনের জন্যই ভালো হবে।

যাক, এমন চলতে থাকবে তাহলে?

তুমি বলেছিলে এটা নাকি ক্রাইম থ্রিলার।

এতে না তো কোনো ক্রাইম ছিলো, না কোনো থ্রিল।

আর এটা একটা হরর ফ্লিম ছিলো। আমার হরর ফ্লিম বিরক্ত লাগে।

তুমি এসব আত্মা, অশরীরী এসবে বিশ্বাস করো না?

একদমই না! কেন? তুমি করো না কি?

উমম...

- ঠিক জানি না। - তুমি নিজেই জানো না? আজিব না কেমন?

মানে...এমন অনেক কিছুই আছে যা আমরা জানি না।

আত্মা, অশরীরী...হয়তো এসবের অস্তিত্ব আছে, কে জানে?

আত্মা আর অশরীরী...? ও, খোদা! এ সব ফালতু কথা।

এগুলো সিনেমা, গল্প আর পত্রিকাতেই ভালো লাগে।

আমার মাও এসবে বিশ্বাস করে।

দেখে খুব রাগ হয়।

বাদ দাও...

প্রত্যেকের নিজ নিজ বিশ্বাসের অভিমত আছে।

তো, তার মানে তুমি আত্মা আর অশরীরী তে বিশ্বাস করো।

মানে... আমি এটা বলছি না যে আমি বিশ্বাস করি

আমি শুধু সম্ভাবনা টা বুঝাতে চাচ্ছি।

ওই যে দেখো।

- কোথায়? - একটা মহিলা সাদা শাড়ি পড়ে...

মাথা নিচু করে হাতে একটা মোমবাতি নিয়ে দাঁড়িয়ে আছে।

হ্যাঁ,ঠিক। ও তোমার চাইতে দেখতে অনেক সুন্দর।

- তুমি বাইক থেকে নামতে পারবে? - হেই!

আদিত্য, তুমিও তাহলে অন্যদের মতো?

- কি বলতে চাইছো? - তোমার বাইক দেখে মনে হয়

পেছনে মেয়ে বসলে ব্রেক আর ভালোমতো কাজ করে না।

হেই! হ্যালো... আমি তেমন ছেলে নই।

আর সবচেয়ে বড় কথা, এটা আমার বাইক নয়, আমার ভাইয়ের...

আমি এখন আপাতত ব্যবহার করছি শুধু।

ওহ্... পরের সম্পত্তি...

কি বললে?

ধন্যবাদ, আদিত্য। দারুণ একটা বাজে সময় কেটেছে।

হ্যাঁ, আমি আসলে জানতে চাইছিলাম...

- আজ কি তোমার জন্মদিন? - না, কেন জিজ্ঞেস করছো?

মানে... তুমি আজ অনেক সাজগোজ করে এসেছো।

- গোসলও করেছো মনে হচ্ছে। - তার মানে আমি প্রতিদিন গোসল করি না?

সত্যি তোমাকে আজ দারুণ লাগছে।

তো তুমি আমার উপর নজর রাখো তাহলে?

আমার কিছু করার নেই, ম্যাডাম। আমার চাকরিই সেটা।

- জানোই তো, আমি একজন ক্রাইম রিপোর্টার। - ওহ্...

- তুমি তাহলে সবাইকে পর্যবেক্ষন করো? - না।

শুধু যাদের করা উচিৎ, তাদের করি।

ওহ্, তাই বুঝি?

আমাকে যেতে হবে, রচনা। কাল অফিসে দেখা হবে।

- বাই... - বাই...

হ্যালো... দাঁড়ান...

এদিকে আসুন।

এখানে...

এ ব্লক এর বি২ টা কোনদিকে?

ওটা আমার বাসা।

এক মিনিট দাঁড়ান।

স্যার... এই তো সেই মেয়েটা।

হুম...

আপনিই তাহলে, রচনা?

- হ্যাঁ, কি হয়েছে? - আপনাকে এক ঘণ্টা আগে আমি কল করেছিলাম।

- ধরেননি কেন? - ওহ্... আপনি করেছিলেন?

আপনি ফোন ধরেননি কেন?

আমি... আমি তখন থিয়েটারে ছিলাম।

সিনেমা, হাহ্?

এক্ষুণি যেই ছেলেটা আপনাকে নামিয়ে দিয়ে গেলো...কে সে?

স্যার, আপনি কি চান? আমাকে এসব কেন জিজ্ঞেস করছেন?

ও কে ছিলো?

আমার বন্ধু...

- বন্ধু না বয়ফ্রেন্ড? - স্যার, আপনার তাতে কি দরকার?

- হচ্ছেটা কি এখানে? - গাড়িতে উঠুন,

স্টেশনে গিয়ে বাকিটা বলছি।

স্যার, আমি আপনার সাথে কেন যাবো?

আপনি নিশ্চই ভুল ঠিকানায় এসেছেন। চেক করে দেখুন।

আমাদের ভুল হচ্ছে?

এটা আপনার নাম্বার তো?

হ্যাঁ।

চুপচাপ গাড়িতে উঠুন। খামোখা চেচামেচি করে যদি লোক জড়ো করেন...

তারা ভিডিও করে ফেসবুকে ছেড়ে দেবে।

সেটা কি খুব ভালো হবে?

বাকি কথা স্টেশনে শুনবেন। আসুন।

- সরোজা, উনাকে নিয়ে এসো! - হ্যাঁ, স্যার!

এসো,... এসো বলছি... চলো...স্যার! স্যার, আমার কথা শুনুন।

স্যার! আমার কথা শুনুন।

- স্যার, কথা বোঝার চেষ্টা করুন। - ভয় পাবেন না, বসুন।

- সরোজা, উনার মোবাইলটা নিয়ে নাও। - স্যার।...

স্যার... প্লীজ...

- আদিত্য অফিস... ও আপনার বয়ফ্রেন্ড? - স্যার, শুধু একটা কল... প্লীজ...

মাদিপাকা জংশনে নাকি গন্ডগোল চলছে। এখান থেকে পেট্রোল নিয়ে নাও তো।

ঐ রাতে...

ওর আর আমার ঝগড়া হয়েছিলো, স্যার।

ঝগড়া? ঝগড়া কেন হয়েছিলো?

আপনাদের কি প্রায়ই ঝগড়া হয়?

আপনার স্বামী কি রাতে মদ খেয়ে বাড়িতে এসে আপনার উপর অত্যাচার করতো?

না, স্যার...

- এমন কখনোই হয়নি। - তাহলে?

ওইদিন রাতে উনি বাসায় আসার পর যখন খাবার খাচ্ছিলেন...

আমি উনাকে বললাম আমি একটা নতুন চাকরীর জন্য আবেদন করতে চাই...

উনি বললো তার কোনো দরকার নেই।

আমার অনেক রাগ হলো।

আমি আমার রুমে গিয়ে দরজা বন্ধ করে দিই।

কিসের চাকরী?

আপনি কোথায় চাকরির আবেদন করেছেন?

আমি এখনও কিছু ঠিক করিনি, স্যার।

আমি শুধু বলেছিলাম যে আমি আবেদন করবো।

আর তাতেই...

তাতেই, এই সবকিছু ঘটে গেলো

হেই, কমলা...ওকে একটু পানি খেতে দাও।

আচ্ছা, স্যার।

- এই নিন। - পানি খান।

ভিতরে যান, এই দিকে...

হুম... যান...

- নারায়ণ, স্যার আছেন? - ভিতরে আছেন, স্যার।

আমাকে ফাইলগুলো দাও।

একটু পানি খান।

স্যার, ও রচনা। ওর অ্যাপার্টমেন্টেই ছিলো ও।

কি হচ্ছে এখানে?

আমাকে কেন এখানে নিয়ে আসা হয়েছে?

স্যার, এই সেই মেয়ে যে আজ দুপুরে এসেছিলো।

প্লীজ, কিছু মনে করবেন না...

আপনার স্বামীর কি কারও সাথে সম্পর্ক ছিলো? এ ব্যাপারে কিছু জানেন?

কেন জিজ্ঞেস করছেন, স্যার?

মেয়েটাকে আগে কোথাও দেখেছেন? চেনেন ওকে?

ভালো করে দেখে বলুন আমাদের।

না, স্যার।

এই মেয়েটি আজ দুপুরে আপনাদের বাসায় গিয়েছিলো।

কেন সেটা এখনো জানা যায়নি।

কে আপনি? আপনি আমার বাসায় কেন গিয়েছিলেন?

ইনি কে?

সমস্যা টা কি?

- কি হচ্ছে আমি কিছুই বুঝতে পারছি না। - স্যার।

আপনি কি বলতে চাচ্ছেন এই মেয়েটাই...

দেখুন, ম্যাডাম... আপনি এখন বাড়ি যেতে পারেন।

আমরা কাল সকালের মধ্যেই সব তথ্য পেয়ে যাবো।

হেই...

- উনাকে বাড়ি দিয়ে এসো। - আচ্ছা, স্যার।

প্রভা, তাকে ভেতরে নিয়ে যাও।

চলুন...

চলুন...

ঐ দিকে যান।

এখানে না, ওখানে বসুন।

- প্রভা... - স্যার...

- ইনি কে? - সুন্দরের কেইসের সন্দেহভাজন...

ও...

- স্যার... - কি করছো?

আমি কেইসের ফাইল রেডি করছি, স্যার।

ওসব পরেও করতে পারবে। আগে এদিকে এসো।

স্যার...

নিশ্চই কোথাও কোনো ভুল হচ্ছে।

বসুন! যা জিজ্ঞেস করছি ঠিকঠিক উত্তর দিন।

আপনি সুন্দরের বাসায় কেন গিয়েছিলেন?

- কোন সুন্দর, স্যার? - ওই রেজিস্টার টা দাও তো।

এটা আপনার নাম আর মোবাইল নাম্বার নয়?

হ্যাঁ, স্যার।

- আপনি আজ ১১:৩০ এ উনার বাসায় গিয়েছেন। কেন? - স্যার, এটা সত্যি যে, আমি উনার বাসায় গিয়েছিলাম।

কিন্তু আমি উনাকে চিনি না,

আমাকে কেন এসব জিজ্ঞেস করছেন?

আপনি সব কাণ্ড ঘটিয়ে এসে এখন আমাদের উল্টো প্রশ্ন করছেন?

ভেবেছেন আমরা জানতে পারবো না? ছবিটা দাও তো।

দেখুন...

আমরা যখন বিকেলে উনার বাসায় যাই... উনাকে এই অবস্থায় খুঁজে পাই।

এবার বলুন...

- উনাকে কেন মেরেছেন? - স্যার!

আমি উনাকে মারিনি!

আমি উনার বাসায় গিয়ে কলিং বেল বাজিয়েছিলাম।

কেউ দরজা না খোলায় আমি চলে এসেছিলাম। ব্যস, স্যার।

তার মানে, আপনি উনাকে হত্যা করেননি, তাই তো?

- আমি উনাকে কেন মারবো, স্যার? - সেটাই তো আপনাকে জিজ্ঞেস করছি।

- উনাকে কেন মেরেছেন? - স্যার...

স্যার...

আমি কিছুই করিনি।

আপনি ঘুরেফিরে আমাকে একই প্রশ্ন করে যাচ্ছেন।

ওখানে গিয়েছিলেন কেন আপনি?

স্যার, আমি 'দ্য টাইমস অব ইন্ডিয়া তে শিক্ষানবিস হিসেবে কাজ করছি।

আমার চাকরির জন্য একটা রিপোর্ট লিখতে গিয়ে...

আমি সুন্দরের বাসায় গিয়েছিলাম কিছু তথ্যের জন্য...

কিসের রিপোর্ট? সুন্দরের সাথে এটার কি সম্পর্ক?

- এটা আসলে... - বলুন!

স্যার, আমি আসলে ভেলাচেরি ফ্লাইওভারের উপর একটা রিপোর্ট লিখছি।

ফ্লাইওভারের মাঝখানে কিছু পাথর দেওয়া আছে, যেগুলো রাস্তাকে দুই লেনে ভাগ করেছে।

অনেক মানুষ ট্রাফিক জ্যাম থেকে বাঁচার জন্য সেই পাথরের ব্লকগুলো খুলে ইউ-টার্ন নিয়ে নেয়।

কিন্তু তাদের যাওয়ার পর পাথরের ব্লকগুলো রাস্তাতে ওভাবেই পড়ে থাকে।

এতে করে রাস্তার অন্য গাড়িগুলোর জন্য বিপদজনক হয়ে থাকে।

সুন্দরের সাথে এটার সম্পর্ক কি?

আমার রিপোর্টের জন্য, আমি ঠিক করলাম...

আমি সেসব লোককে সনাক্ত করবো, যারা এই ব্লকগুলো খুলে ইউ-টার্ন নেয়।

আর তাদের ইন্টারভিউ নেবো। ব্যস, এটাই, স্যার।

তো, সুন্দর ওই ব্লকগুলো সরিয়েছিলো...

তাই আপনি ওর ইন্টারভিউ নিতে গিয়েছিলেন?

হ্যাঁ, স্যার।

আপনি কিভাবে জানলেন যে সুন্দর ব্লকগুলো খুলেছিলো?

ওই ফ্লাইওভারে এক বৃদ্ধ লোক বসে থাকেন।

উনি আমার জন্য যারা ব্লক সরায়, তাদের গাড়ির নাম্বার টুকে রাখে।

তিনিই আমাকে সুন্দরের গাড়ির নাম্বার দিয়েছিলেন।

গল্পটা আরেকটু বিশ্বাস করার মতো করে বলতে পারতেন।

এই ফালতু কাহিনী আপনাকে উল্টো আরও ঝামেলায় ফেলবে।

- এটা ফালতু কাহিনী নয়, স্যার। - নয়তো আর কি?

আচ্ছা, ধরে নিলাম যে সুন্দর ব্লকগুলো সরিয়েছিলো।

আপনি তাকে সেজন্য মেরে ফেলেছেন, তাই তো?

স্যার, আমি শুধু তার ইন্টারভিউ নেওয়ার জন্য তাঁর বাসায় গিয়েছিলাম, ব্যস।

সামান্য এই ব্লক সরানোর জন্য কেউ ইন্টারভিউ নিতে যায়?

স্যার, তারা মাঝরাস্তায় গাড়ি থামিয়ে...

অন্যদের কথা চিন্তা না করে এই ব্লকগুলো সরিয়ে রাস্তায় ফেলে রেখে যায়।

এটা কোনো সামান্য বিষয় মনে হচ্ছে আপনার?

নাগরিক ও ট্রাফিক আইন মানা কি গুরুত্বপূর্ণ নয়?

আমি তাদের মানসিকতা পর্যবেক্ষণ করার জন্য তাদের ইন্টারভিউ নিতে গিয়েছিলাম।

হ্যালো...

স্যার, আমরা ওই কেইসটারই তদন্ত করছি...

স্যার, আপনার উপরে নেতাদের চাপ বুঝতে পারছি...

কিন্তু তদন্তের জন্য আমাদেরও তো একটু সময় প্রয়োজন...

আমাকে কাল সকাল পর্যন্ত সময় দিন।

আমরা কোনো ব্যবস্থা নিতে পারি কি না দেখি।

- নায়ক, আমার সাথে এসো। - স্যার...

- সরোজা, তুমি এখানে থাকো। - আচ্ছা, স্যার।

বসো... বসো বলছি।

কাসি, গাড়ি বের করো।

হেই, আমার ব্যাগটা নিয়ে গিয়ে গাড়িতে রাখো।

নায়ক...

এমনিতেই অনেক দেরী হয়ে গেছে।

দেখে মনে হচ্ছে আজ সারারাত অনেক বৃষ্টি হবে। মেয়েটাকে রিমান্ডঘরে পাঠিয়ে দাও।

পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পাওয়ার পর ওকে আরেকবার জিজ্ঞাসাবাদ করবো না হয়।

রিমান্ড ঘরে কেন, স্যার? তাকে তার বাসায় পাঠিয়ে দিই?

অন্য কেইসের ক্ষেত্রে চাইলে সেটা করা যেতো।

কিন্তু এই সুন্দর, যার হত্যা হয়েছে, সে কর্পোরেটের সি আই অফিসে কর্মরত ছিলো।

সে সব কর্পোরেটরের অ্যাকাউন্ট সামলাতো।

এই জন্য চারদিক থেকে সবাই আমাদের এত চাপ দিচ্ছে।

প্রভাকর, এক কাজ করো।

অ্যাপার্টমেন্ট থেকে সিসিটিভি ফুটেজগুলো জোগাড় করো...

- আর তার মোবাইলের কললিস্ট বের করো। - আচ্ছা, স্যার।

- সকালের মধ্যে সব রেডি করো। - আমি করে রাখবো, স্যার।

- বাড়ি থেকে ফোন করে করে পাগল করে দিচ্ছে। এবার যেতে হবে। - চিন্তা করবেন না, স্যার। আমি দেখে নিচ্ছি।

আসুন...

এতবার কল কেন করছো? বললাম না, আমি রাস্তায় আছি।

স্যার আমায় ছেড়ে দিন। আমি কিছু করিনি।

- আমি সত্যি করে বলছি। - ওকে...

আচ্ছা।

- নায়ক... - স্যার...

মেয়েটার কথা শুনে তোমার কি মনে হয়?

আমার মনে হয় ও সত্যি কথা বলছে, স্যার।

ও সুন্দরের বাসায় গিয়েছিলো। সুন্দরও ওই সময় মারা গেছে।

এটা কাকতালীয় ও হতে পারে...

সেটা বিচার করা আমাদের কাজ নয়...

যেভাবেই হোক, এই কেইস যেন সিআইডি-র হাতে না যায়।

সোজা মন্ত্রীর কাছ থেকে অর্ডার এসেছে।

- ঠিকাছে? সকালে দেখা হচ্ছে তাহলে। - আচ্ছা।

শুভরাত্রী, স্যার।

- সরোজা... - স্যার...

রিমান্ডঘরে ফোন করে তাদের কাগজপত্র তৈরি করতে বলো।

- উনি আজ রাত সেখানেই থাকবেন। - স্যার, আসলে...

আমি কেন সেখানে থাকবো?

- আপনি অন্তত বলুন, স্যার। - আপনি বসুন!

তুমি যাও...

স্যার, অনেক দেরি হয়ে গেছে...

তাছাড়া বাইরে বৃষ্টিও হচ্ছে।

আমি জানি, কিন্তু আমাদের কিছু করার নেই।

- যাও। - আচ্ছা, স্যার।

- আপনাদের সব প্রশ্নের উত্তর তো আমি দিয়েছি। - বসুন।

আমাদের আপনাকে আরও অনেক প্রশ্ন করার আছে।

নিয়মানুসারে, আমরা সারারাত,

আপনাকে এভাবে এখানে রাখতে পারি না।

যদি আমি সত্যিই তাঁকে মারতাম...

কেন আমি নিজের আসল ঠিকানা আর ফোন নাম্বার লিখে আসতাম?

সবচেয়ে বড় কথা, আপনি প্রধান সন্দেহভাজন। তাই আমাদের যথাসম্ভব সহযোগিতা করার চেষ্টা করুন।

কোথাও কোনো ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে, স্যার।

আমার কাছে সুন্দরের সহ আরও ১০ জনের ঠিকানা লিখা আছে।

কি বলতে চাইছেন?

এই যে দেখুন।

এই যে, ১০ জন লোকের ঠিকানা।

দেখুন।

ফ্লাইওভারের ওই বৃদ্ধ লোকটি আমাকে এই ঠিকানাগুলো দিয়েছে।

এরা সবাই ওই ব্লকগুলো সরিয়ে ইউ-টার্ন নিয়েছে।

সুন্দর শুধু এই লিস্টের ১০ জনের মধ্যে একজন।

দাঁড়ান... দাঁড়ান...একটা কথা বলুন।

আপনি ফ্লাইওভারে একটা বৃদ্ধ লোকের কথা বললেন...

কে তিনি?

উনি কেন আপনাকে নাম্বারগুলো দেয়?

য... যখনই আমি সেখানে যাই, উনাকে সেখানে দেখতে পাই।

উনি যদি আমার জন্য গাড়ির নাম্বার টুকে রাখে...

আমি উনাকে ১০০ টাকা করে দিই

এটাই, স্যার।

তো, উনি আপনাকে এই নাম্বারগুলো দিয়েছেন?

আপনি এদের সবার ইন্টারভিউ নিয়েছেন?

না, স্যার।

আমি প্রথমে সুন্দরের ইন্টারভিউ নিতে গিয়েছিলাম।

এই যে রাজেশের ঠিকানা, গত মাসে নেওয়া হলো...

তার কাছে না গিয়ে প্রথমে সুন্দর কেন?

- আসলে.... - বলুন...

গত মাসে আমার মা এসেছিলো বেড়াতে।

তাই আমি আর সময় বের করতে পারিনি।

আমরা ফ্লাইওভারে গেলে আপনি লোকটিকে দেখিয়ে দিতে পারবেন?

অবশ্যই, পারবো।

উনি সবসময় ফ্লাইওভারের সিঁড়ির কাছে বসে থাকেন।

আচ্ছা, এখানে অপেক্ষা করুন।

সামি...

- স্যার, আমায় ডেকেছেন? - হ্যাঁ।

এই নাম্বারের গাড়িগুলোর মালিকের ঠিকানা বের করো।

খুঁজে দেখো যে এই গাড়িগুলোর নামে কোনো অভিযোগ আছে কি না।

- তাড়াতাড়ি করো। - আচ্ছা, স্যার।

- ছাক্রি... - স্যার...

মর্গে ফোন করে দেখো তো সুন্দরের পোস্ট মর্টেমের কি হলো?

- তাড়াতাড়ি করো। - আচ্ছা, স্যার।

প্রভা...

স্যার...

রচনা কে নিয়ে ভেলাচরি ফ্লাইওভারে যাও।

উনি সেখানে একটা বৃদ্ধ লোককে দেখিয়ে দেবে।

উনাকে এখানে নিয়ে এসো।

স্যার...

বাইরে অনেক বৃষ্টি হচ্ছে।

স্যার যেভাবে বলেছিলো, উনাকে রিমান্ডঘরে রেখে আসি।

প্রভা, তুমি তো জানোই, রিমান্ডঘর কেমন জায়গা।

বেচারী মেয়ে! ওর সাহায্য করে দেখি।

- আমাদের হাতে সময় নেই। তাড়াতাড়ি করো। - আচ্ছা, স্যার।

- নারায়ণ... - স্যার..

- গাড়ি বের করো। - আচ্ছা, স্যার।

যাওয়া যাক তাহলে।

চলুন...

TN 05 EA 2162

এই গাড়ির নামে কোনো অভিযোগ আছে কি না দেখতে পারবে?

আমি জানি যে আপনার অফিসিয়াল রিপোর্ট লিখতে সময় লাগবে, ডাক্তার।

ডাক্তার‍, আপনাকে যেভাবে বলা হয়েছে, তাড়াতাড়ি করুন।

কাসি, গাড়ি থামাও।

ধন্যবাদ, স্যার।

- কোথায় সে? - ওখানে... সিঁড়ির কাছে...

কাসি, দেখো তো...

কোথায় সে? আপনি বললেন উনি এখানে আছেন।

আমি সবসময় এখানে এসে উনার সাথে দেখা করতাম।

হ্যালো...

স্যার, আমরা পৌঁছে গেছি।

ফ্লাইওভারে কেউই নেই।

মেয়েটা সেই প্রথম থেকেই মিথ্যে বলে যাচ্ছে।

প্রভা, আরও ধৈর্যশীল হও।

চারদিকে খুঁজে দেখো।

আচ্ছা, স্যার, আমি দেখছি।

এটা কি আত্মহত্যা মনে হচ্ছে, নাকি খুন?

স্যার!

হেই, দাঁড়াও।

যাও... ওখানে বসো।

সরোজা...

স্যার...

- কি হয়েছে, প্রভা? - আমরা ওকে খুঁজে পেয়েছি, স্যার।

দেখুন... এই লোকটাই ওকে সাহায্য করতো।

রচনা, ও আপনাকে নাম্বারগুলো দিতো?

হ্যাঁ, স্যার।

প্রভা, ওকে জিজ্ঞাসাবাদ করতে নিয়ে যাও।

- চল। - রচনা, আপনি ওর সাথে যান।

কি খবর, ছাক্রি?

স্যার, আমি ডাক্তারের সাথে কথা বললাম।

উনার কথা অনুসারে...

সুন্দরের শরীরে কোনোপ্রকার আঘাতের কোনো চিহ্ন নেই।

তাঁরা মৃত্যুর সময়টা নির্ণয় করতে পেরেছে?

প্রায় রাত ২ টার দিকে উনার মৃত্যু ঘটেছে।

কিন্তু তাঁরা এখনো নিশ্চিতভাবে বলছে না।

রাত ২ টা...

ওকে, ছাক্রি। তুমি আসতে পারো। ধন্যবাদ।

আচ্ছা, স্যার।

- ছাক্রি, এক কাপ কফি নিয়ে এসো। - আনছি, স্যার।

স্যার, তদন্ত অনুসারে...

সিসিটিভির ফুটেজে...

সুন্দরের স্ত্রীর ঘর থেকে বের হওয়ার পর,

মেয়েটাই শুধু ওই বাসায় গিয়েছিলো।

তাহলে সুন্দরের মৃত্যু আর রচনার ওখানে যাওয়ার সময়ের মাঝখানে ১২ ঘন্টার ব্যবধান আছে।

প্রায় ১২ ঘন্টার ব্যবধান...

ঠিক, স্যার।

এবং...

- তাদের মধ্যে কোনোপ্রকার সম্পর্ক? - তেমন কিছুই পাইনি, স্যার।

রচনা আর সুন্দরের মাঝে পূর্বপরিচিত হওয়ার মতো...

কোনো প্রমাণই খুঁজে পেলাম না, স্যার।

তাহলে, মেয়েটা সত্যি কথা বলছে।

ও নির্দোষ।

এটা কেমন কাহিনী হলো, স্যার?

কোনো একজন মানুষ ইউ-টার্ন নেয়।

ওই পাগল বুড়ো সেই গাড়ির নাম্বার টুকে।

আর এই মেয়েটা সেই বুড়োর থেকে নাম্বারগুলো সংগ্রহ করে।

এরা কি আমাদের বোকা ভেবেছে?

এসো।

স্যার, আপনি আমাকে যেই গাড়ির নাম্বারগুলো দিয়েছেন...

আমি তার সবগুলোর ঠিকানা ও মালিক বের করেছি।

প্রভা, দেখো তো একটু।

হেই! উঠ!

- স্যার, উনাকে কোথায় নিয়ে যাচ্ছেন? - আপনি বসুন বলছি।

- চল… - উনাকে নিয়ে যাও…

স্যার, উনি নির্দোষ, প্লীজ স্যার…

বসুন... বসুন বলছি...

উনিই তো আপনাকে এই ১০টা গাড়ির নাম্বার দিয়েছিলো?

হ্যাঁ, স্যার।

এই নাম্বারগুলো আর কাউকে দিয়েছেন?

না, স্যার।

ও তো আপনাকে গাড়ির নাম্বার দেয়, আপনি ঠিকানা কীভবে জোগাড় করেন?

আমার এক বন্ধু আর.টি.ও তে কাজ করে

আমি তাকে নাম্বারগুলো বললে সে ঠিকানা জোগাড় করে দিতো, ব্যস।

কি হয়েছে, স্যার?

আপনার ডায়েরির লিস্টের ১০ জন সবাই মৃত।

তাঁদের কেউই আর বেঁচে নেই!

রিপোর্ট অনুসারে তাঁরা সবাই আত্মহত্যা করেছে।

আপনি আমার কাছ থেকে কিছু লুকোচ্ছেন।

আমি আপনকে বাঁচাতে চাইছি, আমাকে মিথ্যা বলবেন না কিন্তু!

স্যার, কি হচ্ছে কিছুই বুঝতে পারছি না।

এই ঠিকানা আর নাম্বারগুলো ছাড়া...

আমি আর কিছুই জানি না।

ঠিকানার উপরে তারিখগুলো কিসের?

তারিখগুলো...

যেইদিন ওরা ব্লক সরিয়ে ইউ-টার্ন নিয়েছে...

সেই দিনের, স্যার।

যেই তারিখে এই লোকগুলো আত্মহত্যা করেছে...

পুলিশের রিপোর্টে যেই তারিখ লিখা আছে... আপনার ডায়েরিতে যেই তারিখ লিখা আছে...

সবগুলো তারিখ হুবুহু এক...

এটা কিভাবে বোঝাবেন?

দেখুন… সুন্দরের মৃত্যুর তারিখ আর আপনার ডায়েরিতে লিখা তারিখ একই।

এটার কি বর্ণনা দেবেন?

তাকে যতই মারি, কোনো কথাই বলছে না।

সে সম্ভবত বোবা।

আমরা যথাসম্ভব তাঁর কাছ থেকে কোনো তথ্য পাবো না।

কি করবো, স্যার?

ওই এখন একমাত্র উপায়, প্রভা।

আমি তার পকেট খুঁজে এই নোটটা পেয়েছি।

একটা গাড়ির নাম্বার লিখা আছে এটাতে।

রচনা... এটা কার নাম্বার?

আমি জানি না,স্যার।

রচনা, ভালো করে দেখে আমাকে বলুন, এটা কার নাম্বার?

আজ নিশ্চই কেউ ব্লক খুলেছিলো, এটা তাঁর নাম্বার হবে হয়তো।

উনি এটা টুকে রেখেছিলো হয়তো আমাকে দেওয়ার জন্য।

উনি সাধারনত আমি পরেরদিন অফিস যাওয়ার সময় আমাকে নাম্বারগুলো দিতো।

কিন্তু কি হচ্ছে আমি কিছুই বুঝতে পারছি না, স্যার...

আচ্ছা, যদি কাল ও আপনাকে এই নাম্বারটা দিতো...

আপনি তারিখ লিখে রাখতেন তো?

কোন তারিখটা লিখতেন?

আজকের তারিখ, স্যার।

সামি, একটা কলম দাও তো।

এই নিন, স্যার।...

এই গাড়ির ঠিকানা বের করে আমাকে এক্ষুণি জানাও।

- আচ্ছা, স্যার। - তাড়াতাড়ি করো।

অবশ্যই, স্যার।

- ছাক্রি, তালা খোলো। - হ্যাঁ, স্যার।

- হ্যাঁ, স্যার। - স্যার!

স্যার! স্যার!

- স্যার। - আবার চেষ্টা করো।

এই পাগলটাকে আমার সাথে কেন রেখেছেন, স্যার?

- স্যার! স্যার! - শুনতে পাচ্ছো?

- তোমাকে বলছি। - নাম্বারগুলো নোট কেন করতে?

- কেন নোট করতে নাম্বারগুলো? - আচ্ছা, প্রভা, আমার সাথে এসো।

- ছাক্রি, তুমি সামলাও ওকে। - আচ্ছা, স্যার।

প্রভা, ট্রাফিক কন্ট্রোল রুমে গিয়ে চেক করো,

- এই গাড়িটা আজ ভেলাচেরি ফ্লাইওভারে ইউ-টার্ন নিয়েছিলো কি না। - আচ্ছা, স্যার।

- যত তাড়াতাড়ি পারো, করো। - আচ্ছা, স্যার।

স্যার...

এই গাড়ির ঠিকানাটা পুলিশ স্টেশনের কাছেই।

- গাড়ি বের করো। - আচ্ছা, স্যার।

সামি গিয়েছে?

হ্যাঁ, স্যার। গাড়ি বের করেছে।

- কোনো দরকার হলে আমাকে ফোন করবে। - আচ্ছা, স্যার।

চালাও...

- এখানে মল্লিক কে? - ওই যে, স্যার।

আচ্ছা।

মল্লিক...

হ্যাঁ, স্যার? বলুন।

নায়ক স্যার আপনার সাথে দেখা করতে বললেন।

হ্যাঁ, উনি ফোন করেছেন।

আপনার কোন তথ্যটা চাই?

- মল্লিক... - হ্যাঁ?

আমায় বলতে পারবে, এই গাড়িটা ভেলাচেরি ফ্লাইওভারে ইউ-টার্ন নিয়েছিলো কি না?

অবশ্যই।

আমি দেখে আপনাকে জানাচ্ছি। আপনি বসুন।

ধন্যবাদ।

রচনা...

- ফ্ল্যাট নাম্বার? - ১৫০৪, স্যার...

- মি. সামি... - স্যার।

এতবার বেল কেন বাজাচ্ছো?

বোর্ড দেখতে পাও নি?

স্যরি, স্যার। খেয়াল করি নি।

আপনারা কি চান?

আপনি মি. শরৎ কুমার?

কে এসেছে? বেল কে বাজিয়েছে?

বাচ্চা ঘুমাচ্ছে, আপনারা তুলে দিয়েছেন তাকে।

আপনাদের কাণ্ডজ্ঞান নেই? দেখুন কীভাবে কাঁদছে!

নিচে দাঁড়ানো গাড়িটা আপনার?

TN 21 BC 2120...

আপনাকে কেন কৈফিয়ত দেবো? সমস্যা কি?

উনি জিজ্ঞেস করছেন সেটা আপনার গাড়ি কি না।

হ্যাঁ, তো কি হয়েছে?

আপনি উনাকে আগে দেখেছেন?

কে সে?

কে সে?

রচনা...

আপনি আগে কোথাও তাকে দেখেছেন?

না, স্যার।

আপনি আজ ভেলাচেরি ফ্লাইওভারে ইউ-টার্ন নিয়েছিলেন?

কেন? কেউ অভিযোগ করেছে?

ও অভিযোগ করেছে বুঝি?

কি অভিযোগ করেছে?

- কি হয়েছে? কোনো সমস্যা? - কিছু না।

আপনি ভিতরে গিয়ে ঘুমান।

- যান! - আচ্ছা।

ঘরে আর কে আছে?

আপনার তাতে কি দরকার?

কিসের অভিযোগ আছে আমার নামে?

আপনি ওয়ারেন্ট নিয়ে এসেছেন?

হ্যালো... আমি একজন উকিল।

আপনি আমার সাথে বাকি সবার মতো করে কথা বলতে পারেন না।

আপনার কাছে ওয়ারেন্ট আছে?

হ্যালো... হ্যালো...

হেই! আমি আপনার সাথে কথা বলছি, কোথায় যাচ্ছেন?

আপনার কাছে সার্চ ওয়ারেন্ট আছে?

ইনি কে?

কথা কানে যাচ্ছে না?

আগে উনাকে বের হতে বলুন।

আমি আপনার সাথে কথা বলছি।

হ্যালো... আপনাকে বলছি।

হেই! আপনাকে, আপনাকে।

কথা বোঝা যাচ্ছে না? বের হোন!

স্যরি।

হ্যালো! হেই! ওখানে কি করছেন? বের হোন।

কিছু খুঁজে পেলেন, হাহ্?

কাল সকালে স্টেশনে আসবেন।

অভিযোগ করে যাবেন।

দরজা বন্ধ করুন আর সাবধানে থাকবেন।

আসুন, রচনা...

হ্যাঁ, কাল সকালে অবশ্যই আসবো।

আপনার নামে অভিযোগ করে কোর্টে হাজির করাবো।

উকিলের ক্ষমতা কালই বুঝতে পারবেন।

- হেই... - স্যার...

এক কাজ করো।

- কাল সকাল পর্যন্ত এখানেই থাকো... - স্যার...

এখানে?

হ্যাঁ, কোনো সমস্যা?

না... কিছু না, স্যার।

- কিছু দরকার হলে ফোন করবে। - সমস্যা নেই, স্যার।

সাবধান থাকার জন্য আরকি...

তাঁরা এই সময়ে কেন এলো?

কিছু না, আপনি ঘুমোতে যান।

হেই! ওকে চুপ করাও।

সামনে বসুন।

পুলিশের চাকরি যে এত যন্ত্রণা!

প্রভা...

গাড়িটা আজ ইউ-টার্ন নিয়েছিলো, স্যার।

সব ক্যামেরাতে রেকর্ড হয়েছে।

- ও কি একজন উকিল? - হ্যাঁ, স্যার।

গাড়ির মালিক একটা উকিলের কোর্ট পরে আছে।

তুমি কি ডায়েরির সবগুলো নাম্বার চেক করে দেখেছো?

আমরা খুঁজছি, স্যার। একটু সময় লাগবে।

আচ্ছা, আমাকে জানাতে থাকো।

অবশ্যই, স্যার।

মল্লিক, অন্য নাম্বারগুলো ভালো করে চেক করে দেখো।

এই উকিলটা আজ ফ্লাইওভারে ইউ-টার্ন নিয়েছে।

সিসিটিভি ক্যামেরাতে সব রেকর্ড হয়েছে।

ওই বৃদ্ধ লোকটা আপনাকে দেওয়ার জন্য নাম্বারটা লিখে নিয়েছিলো।

এই ইউ-টার্ন, সুন্দরের মৃত্যু আর বাকী মৃত্যুগুলোর মধ্যে...

আমি নিশ্চিত কোনো না কোনো সম্পর্ক আছে।

রচনা, আপনি কিছু ভুলছেন না তো?

ভালো করে মনে করার চেষ্টা করুন।

আমি আপনাকে সব বলেছি, স্যার।

ওহ্, শিট!

বের হবেন না।

শরৎ!

স্যার...

স্যার...

হাহ্?

- সব তথ্য খুঁজে পেয়েছো? - হ্যাঁ, স্যার, পেয়েছি।

- ডায়েরির বাকি নম্বরগুলো? - আমরা সব বের করেছি, স্যার।

এই যে সব প্রিন্ট করা হয়েছে।

- আচ্ছা, ধন্যবাদ। - ধন্যবাদ, স্যার।

আমি মন্ত্রীর কেইসটা নিয়ে ব্যস্ত ছিলাম আর হঠাৎ এসব ঘটে গেলো।

না, স্যার, আমার কথা শুনুন।

হ্যাঁ, স্যার...

একটু জটিল অবস্থা হয়ে গেছে।

সুপ্রভাত, স্যার...

আপনাদের থানার সীমানায়

একজন উকিল আমাদের থানার গাড়ির উপর লাফ দিয়ে মারা গেছে।

ব্যাপারটা ওতটা সোজা নয়... আমার একটু সময় লাগবে।

দয়া করে উকিলদের কনফারেন্সটা স্থগিত করুন।

আমার জন্য অন্তত এটুকু করুন।

আচ্ছা, স্যার। ধন্যবাদ।

তোমাকে আমি কি বলেছিলাম, আর তুমি কি করেছো?

স্যার, আমি তদন্ত করছি।

তোমাকে বলেছিলাম মেয়েটাকে রিমান্ডঘরে রাখতে।

- হ্যাঁ, স্যার। কিন্তু কেইসের... - নায়ক...

আমি কমিশনার আর সাংবাদিকদের সামনে তোমার কারণে বেকায়দায় পড়ে গেছি।

স্যার, রচনার কাছে সুন্দর সহ আরও ১০ জনের গাড়ির নাম্বার ছিলো।

এর সাথে এই কেইসের কি সম্বন্ধ?

স্যার, এই ১০ টা গাড়িই ফ্লাইওভারে ইউ-টার্ন নিয়েছিলো।

এই দেখুন, এই ১০ জন সবাই মারা গেছে।

- কি বলছো, নায়ক? - হ্যাঁ, স্যার।

প্রত্যেক কেইসেই সবাই আত্মহত্যা করেছে।

স্যার, আমার মনে হয় আমাদের আরও ভালো করে এ বিষয়ে তদন্ত করা উচিৎ।

কি মনে হয়, এই মেয়েটা এসব করেছে?

মনে হয় না, স্যার।

আমি কাল সারারাত, ওকে জিজ্ঞাসাবাদ করেছি।

সে কোনোভাবেই এর সাথে জড়িত নয়।

মেয়েটা নির্দোষ, স্যার।

হুম...

এই দেখো, সুন্দরের পোস্টমর্টেম রিপোর্ট...

নিশ্চিত আত্মহত্যা... কেইসটা এবার বন্ধ করে দাও।

স্যার, এখানে কোনো ব্যাপার তো আছেই।

আপনার অনুমতি নিয়ে আমি আরও ভালো করে তদন্ত করতে চাই।

দরকার নেই, নায়ক। বাদ দাও এসব।

সুন্দরের কেইসটা বন্ধ করো। সেটাই যথেষ্ট।

অন্য কেইসগুলোর সাথে আমাদের স্টেশনের কোনো সম্পর্ক নেই।

বাদ দাও।

তো, মেয়েটি কোথায়?

ওকে জিজ্ঞাসাবাদ করার রুমে বসিয়েছি।

চলো

ডাকো তাঁকে।

রচনা...

রচনা...

রচনা...!

আসুন...

আমরা আর.টি.ও তে আপনার বন্ধুর ব্যাপারে খোঁজখবর নিয়েছি।

চিন্তা করবেন না।

ওর কোনো সমস্যা হবে না।

আমরা পোস্টমর্টেম রিপোর্ট পেয়ে গেছি।

আপনাকে দোষী সাব্যস্ত করার মতো...

আমরা কোনো প্রমাণই পাই নি।

আপনি যেতে পারেন।

আপনি এখন মুক্ত।

যদি এই গাড়িগুলোর নাম্বার আর ঠিকানা কোথাও প্রকাশ পায়...

এই খবর কেউ জানতে পারে...

আপনার জন্য অনেক বড় সমস্যা হয়ে যাবে।

আপনার ভালোর জন্যই বলছি আমি।

এখানেই সবকিছু ভুলে যান।

বুঝতে পেরেছেন?

- নায়ক... - স্যার...

ওকে দিয়ে এসো।

হ্যাঁ, স্যার।

আমাদের কাছে পোস্টমর্টেম রিপোর্ট এসে গেছে, স্যার।

আমরা আত্মহত্যা বিচারে এই কেইস বন্ধ করছি।

হ্যাঁ, স্যার...

আপনার ব্যবসায়ী বন্ধুকে জানিয়ে দিন...

উনার কোনোরুপ সমস্যা হবে না।

আচ্ছা, স্যার। ধন্যবাদ।

রচনা...

রচনা...

আপনার বাসা এসে গেছে।

স্যার...

আপনি কাল রাতে ঘুমোন নি। যান গিয়ে বিশ্রাম করুন।

- আপনি অন্তত আমাকে বিশ্বাস করেন? - আমি আপনাকে বিশ্বাস করি, রচনা...

আমি আপনাকে কথা দিচ্ছি, আপনি এই কেইসে আর জড়াবেন না।

- চিন্তা করবেন না। - ধন্যবাদ।

কাহিনী তো মাত্র শুরু হয়েছে। দেখতে থাকুন, সামনে আরও কতকিছু হয়।

বাংলা অনুবাদে: অনন্য দেবনাথ (Sh.ADN)

প্রভা...

তোমাকে একটা মেসেজ পাঠিয়েছি।

রিপোর্টে কি এসেছে?

হ্যাঁ।

সেগুলো আমার টেবিলে পাঠিয়ে দাও।

তাড়াতাড়ি যাও।

আমরা অনেকক্ষণ ধরে বসে আছি।

আপনারা সবগুলো পোস্টমর্টেম রিপোর্ট দেখেছেন?

সব আমরা প্রস্তুত করেছি, স্যার।

না, মানে... সবগুলো কেইসে আত্মহত্যা।

স্যার, আমরা শুধু মৃত্যুর কারণটা উল্লেখ করি।

কিন্তু পুলিশ নির্ধারন করে সেটা খুন না কি আত্মহত্যা।

আমি আসলে এই সবগুলো কেইসের মধ্যে কোনো মিল খোঁজার চেষ্টা করছি।

হয়তো...

মৃত্যুর সময়, ব্যবহৃত অস্ত্র কিংবা কোনো ক্ষত...

কিছু আলাদা....

অস্বাভাবিক।

আমি যেই কেইসগুলো দেখেছি,

আমি তেমন কিছু পাই নি, স্যার।

আমিও কিছু পাই নি, স্যার।

- এটা ১০০ ভাগ নিশ্চিত আত্মহত্যা। - স্যার...

কুমার, এসো।

স্যার, প্রভাকর স্যার আপনাকে এই কাগজগুলো পাঠিয়েছে।

- আচ্ছা... ধন্যবাদ। - ধন্যবাদ, স্যার।

আপনারা আসুন তাহলে।

কিছু হলে আমি কল করবো।

আপনাদের সহযোগিতার জন্য ধন্যবাদ।

- স্বাগতম, স্যার। - ধন্যবাদ, স্যার।

হেই, হাই...

- এটা রচনার, ডেস্ক, তাই না? - হ্যাঁ, এটাই।

কিন্তু ও এখনো আসেনি।

ওহ্...

আচ্ছা, ধন্যবাদ।

হেই, রচনা।... হাই...

আমি তোমাকে খুঁজছিলাম।

আজ এতো দেরী করলে? সব ঠিক আছে?

উমম... না।

কাল রাতে...

আমি অনেক দেরী করে ঘুমিয়েছি।

হুম... কফি?

একটু এডিটর...

আচ্ছা, সমস্যা নেই। তুমি যাও।

- আমরা পরে কথা বলবো... - আচ্ছা।

বাই

স্যার আসবো...আপনি কি ব্যস্ত?

সমস্যা নেই, বলুন।

স্যার, আমি ওই কেইসগুলোর মধ্যে একটা দেখেছিলাম।

এটা একটু অস্বাভাবিক মনে হয়েছিলো আমার কাছে।

- প্লীজ আসুন - ধন্যবাদ, স্যার।

স্যার, রিপোর্ট টা একবার দেখতে পারি?

এটা?

এটা নয়, স্যার। ওটা...

হ্যাঁ, এটাই আমি দেখেছিলাম, স্যার।

এই কেইসে

হাতের শিরা কাটার কারণে মৃত্যু ঘটেছে।

সাধারনত মানুষ একটানে হাত কাটে।

খুব কমক্ষেত্রেই ২ বা ৩ টান দেয়...

কিন্তু এই কেইসে,

হাতটি বাঁকা করে কাটা হয়েছে, দেখুন...

উমম... এটা কি সাধারণ?

না, স্যার।

মানুষ সচরাচর বিষণ্ণতায় ভুগে আত্মহত্যা করে।

তারা একটানে হাত কেটে ফেলে।

সেটা সাধারণ।

তারা এভাবে বাঁকা করে...

হুম... কীভাবে বুঝাবো?

উমম...

- 'ইউ' আকৃতির মতো? - হ্যাঁ।

হ্যাঁ, স্যার। এটা আমার কাছে আজব লেগেছে।

আচ্ছা, স্যার। আমি আপনাকে এটা বলতেই এসেছি।

আচ্ছা, ধন্যবাদ।

ধন্যবাদ, স্যার।

এটা সম্পূর্ণ কাকতালীয়।

আমি আগেই সাংবাদিকদের কাছে সব কাগজপত্র পাঠিয়ে দিয়েছি।

আর নতুন করে কিছু যোগ করার নেই।

প্লীজ...

ধন্যবাদ।

- স্যার, আসলে... - নায়ক...

এই কেইসটা এতক্ষণে বন্ধ করে দেবার কথা।

তুমি খামোখাই এটা নিয়ে ঘাটাঘাটি করছো।

যখন একজন উকিল পুলিশ জিপের উপর লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করে...

তাতে কি হয়?

এটা সারা দেশের জন্য বড় একটা খবর, জানো তো?

- স্যার, আমি গিয়েছিলাম উনাকে বাঁচাতে, কিন্তু... - নায়ক!

মানুষের সামনে এসব কথা বলো না।

ওই উকিলের স্ত্রী একটা স্বীকারোক্তি দিয়েছে

'ওই উকিল অনেক মানুষের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলো।'

'তার ঘরবাড়ি হাতছাড়া হয়ে যাবে এই ভয়ে...'

'সব বাঁচাতে সে লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।'

স্যার?

- তুমি সবাইকে এটাই বলবে। - স্যার, না...

বুঝতে পেরেছো?

হ্যাঁ, স্যার।

কি ওটা?

স্যার, আমি আপনাকে বলেছিলাম না?

সুন্দরের কেইস আর ইউ-টার্ন কেইসে কোনো সম্পর্ক আছে।

- আমি আপনাকে দেখাতে চাচ্ছি... - নায়ক!

আমি আগেই বলেছি।

সুন্দরের কেইস বন্ধ।

ইউ-টার্ন নামে কোনো কেইস নেই...

এমনিতে অনেক কেইস আঁটকে আছে।

- গিয়ে সেগুলো সামলাও - হ্যাঁ, স্যার।

নায়ক...

তোমার কাছে রচনার নাম্বার আছে?

হ্যাঁ, স্যার।

- আপনি যদি তার সাথে কথা বলেন... - সবার প্রথমে...

ফোন থেকে নাম্বারটা ডিলিট করো।

যাও।

হ্যাঁ, স্যার।

ভাইয়া...

ভাইয়া...

স্যরি।

এমন কিছু হবে আমি ভাবি নি।

এটা রাখুন।

রাখুন।

হ্যালো...

হ্যালো...

- বোঝা যাচ্ছে না? - তুমি ঠিক আছো?

- কোনো সমস্যা হয়েছে? - না... না... তেমন কিছু না।

একটু কাজের চাপ।

রচনা...

আমাকে সত্যি করে বলো তো!

হ্যাঁ?

গতরাতে তোমাকে বাসার সামনে নামানোর সময় আমি কি কিছু ভুল বলে ফেলেছি?

না... না, আদিত্য।

তুমি একটু বেশিই ভাবছো।

একসাথে ডিনার করলে কেমন হয়? ফ্রি থাকলে দেখা করবে?

আদিত্য, আমি একটু পরে কল করছি।

হ্যালো... হ্যালো, রচনা!

হ্যালো...

ও কিছু জানে না, স্যার। ও খুব ভালো ছেলে।

ওর বন্ধুদের পাল্লায় পড়ে ও এমন হয়েছে। কখনো আমার কথা শোনে না।

দেখুন এখন পুলিশ স্টেশনে আসতে হয়েছে।

স্যার... স্যার, প্লীজ... আপনাদের ওই দুইজনকে বাঁচাতে হবে।

প্লীজ, তাড়াতাড়ি চলুন।

প্রভাকর কে বলো এদের সাথে কথা বলতে।

চলুন।

একটু বাইরে যান।

কি হয়েছে?

স্যার, আমি কিছুক্ষণ আগে ভেলাচেরি ফ্লাইওভারে গিয়েছিলাম।

এবং তখন...

'আদিত্য, আমি একটু পরে কল করছি।'

একটা ব্লক সরাতে তোর এত কষ্ট হচ্ছে।

এটা অনেক ভারী ভাই।

স্যার, থামুন!

আপনারা এখানে ইউ-টার্ন নিতে পারেন না। সোজা চলতে থাকুন।

ও রে, তামাশা দেখ...

তামিল বলতে পারো না?

এত ইংলিশ মারাও কেন...

স্যার।

স্যার, আপনারা এখানে ইউ-টার্ন নিতে পারেন না। এটা ঠিক নয়।

কিসের ঠিক নয়?

ঠিক ভুল বলার তুমি কে?

স্যার, এটা অন্যায়।

আমাকে ন্যায় অন্যায় বোঝানোর তুমি কে?

উনি হচ্ছেন সড়ক সচেতনকারী।

সড়ক সচেতনকারী কি জিনিস আবার?

জানিস না... রাস্তায় দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে পাবলিককে জ্ঞান দেয়।

স্যার, এখানে ইউ-টার্ন নিলে আপনাদের সমস্যা হবে।

সমস্যা? কি সমস্যা, হাহ্?

আপনারা এখানে ইউ-টার্ন নিতে পারেন না।

আমি আপনাদের যেতে দেবো না।

- ফ্লাইওভার টা তোমার বাবার কেনা নাকি যে... - বন্ধু,

- বন্ধু, তুই ওকে ভয় দেখাচ্ছিস... - হ্যাঁ, সে ভয় পাচ্ছে...

আচ্ছা, আমরা ইউ-টার্ন নেবো না।

আমরা সোজাই যাবো...

আমাদের সাথে যাবে নাকি?

হ্যালো!

এখান থেকে বিদায় হও! বাচ্চাদের শিখাবে এমন নিয়ম। আমাদের না।

হেই.. . আমাদের সাথে যাবে?

ভাই, সে আমাদের ছবি তুলছে।

সত্যি?

এটা ফেসবুকে দিও। অনেক লাইক পাবে।

স্যার, আপনাদের যেভাবেই হোক এদের বাঁচাতে হবে। প্লীজ...

এই যে, স্যার... আমি গাড়িগুলোর নাম্বার ছবি তুলে নিয়েছি।

থামবেন? খামোখা ঝামেলা কেন করছেন?

স্যার... কি বলছেন, স্যার?

যারাই ইউ-টার্ন নেয়, তাদের প্ল্যান করে মারা হয়।

নিজেকে আপনি বড়...

গোয়েন্দা বা সিআইডি ভাবেন নাকি?

আমি আগেই বলেছি আপনাকে।

আপনি খামোখা এসব ঝামেলায় পড়তে আসবেন না।

আমি কিছু করিনি, স্যার।

ওই লোকগুলো আমার কথা না শুনেই ইউ-টার্ন নিয়ে চলে গেছে।

স্যার, প্লীজ... ওদের বাঁচাতে হবে, প্লীজ...

ফ্লাইওভারে কারা যাচ্ছে, সেটা দেখা আমাদের কাজ নয়। আপনি যান।

- যাও, তোমার বন্ধুকে বোঝাও। - স্যার।

রচনা...

রচনা...

রাগ করবেন না। আপনার ভালোর জন্যই বলেছি।

এভাবে কিভাবে ছেড়ে দিতে পারেন আপনারা?

তাদের জীবন ঝুঁকিতে আছে।

তাদের কিছু হবে না, রচনা। বিশ্বাস করুন।

স্যার, আপনার চোখের সামনেই উকিল গাড়ির উপর লাফ দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

সেটা দেখেও আপনি কীভাবে এ কথা বলছেন?

আমাকেও সিনিয়রদের কথা শুনতে হয়, রচনা, বোঝার চেষ্টা করুন।

আচ্ছা, স্যার।

আপনি সিনিয়রদের কথা নিয়েই চলুন।

কিন্তু কাল যদি তাদের কিছু হয়...

আমি চুপ করে থাকবো না কিন্তু।

চালাও...

লজ্জা হয় তোদের উপর!

এইসব নেশা না করে...

ভালো মানুষের মতো ও তো চলতে পারিস।

বন্ধু...

রাজু, ওঠ। আমাকে না জানিয়ে তুই পুরো প্যাকেট মেরে দিয়েছিস?

আমার ভাগ্যই খারাপ!

গাধার বাচ্চা!

স্যার...

ও আমাদের দিকে তাকিয়ে কিছু বলতে চাইছে।

বুঝতে পেরেছেন?

স্যার, এটা কোন যায়গা? এটা নিরাপদ তো?

এটা বেসমেন্টের পুরোনো কয়েদখানা।

চিন্তার কিছু নেই।

তারা সেখানে নিরাপদ আছে।

আজ রাত ওখানেই থাকুক।

- কুমার... - স্যার...

যাও, লাইট টা বন্ধ করে দাও।

- তারা ঘুমাক কিছুক্ষণ। - আচ্ছা, স্যার।

- রচনা... - হুম?

চা নিন।

- না, স্যার। - আরে নিন বলছি।

আমাকে বিশ্বাস করার জন্য ধন্যবাদ।

তাদেরকে নিরাপদে রাখার জন্যও ধন্যবাদ।

এটা আমার কর্তব্য, রচনা।

তাছাড়া, উকিলের কেইসটার পরে...

আমি আর ঝুঁকি নিতে চাই না।

স্যার, উকিলের কেইসের কোনো উন্নতি?

তদন্ত এখনো চলছে।

সে অনেক লোকের কাছ থেকে ঋণ নিয়েছিলো তাই সবসময় ভয়ে ভয়ে থাকতো।

এমনটাই উনার স্ত্রী বললো।

ইউ-টার্ন আর অন্য খুনগুলোর মধ্যে কোনো সম্পর্ক আছে?

তদন্ত চলছে...

- একটু সময় লাগবে। - স্যার... স্যার... স্যার... জলদি ভেতরে আসুন।

কি হয়েছে?

- এই নাও। - স্যার...

এদিকে দিন, ম্যাডাম।

স্যার...

দেখুন, স্যার...

স্যার...

স্যার, কিছুক্ষণ আগে সে উঠে দাঁড়িয়েছে।

তখন থেকেই সামনে পেছনে হাঁটতেই আছে।

আমার অনেক ভয় করছে।

এবার কি করবো, স্যার?

কুমার... লাইট টা জ্বালাও।

স্যার।

উমম... ছাক্রিকে ডাকো।

আচ্ছা, স্যার।

স্যার, আমাকে ডেকেছেন?

ছাক্রি, ওদের গিয়ে থামাও।

- আচ্ছা, স্যার। - তাড়াতাড়ি যাও।

কি হয়েছে তোর?

হেই, রাজু!

স্যার, তারা মারামারি কেন করছে?

না! এমন করিস না বলছি। না!

প্রভা...

স্যার, আপনার কাছে অন্য চাবি আছে?

- আমি এই চাবি দিয়ে তালা খুলতে পারছি না, দেখুন... - তাকে চাবিগুলো দিন, স্যার।

এসব কি, স্যার? কি হচ্ছে?

তুমি এখানে থাকো। আমি দেখে আসছি।

আপনাকে যেতে হবে না, স্যার। আমি দেখছি।

- তুমি যাবে? - হ্যাঁ, স্যার।

প্রভা, তাদের এক্ষুণি থামাও।

স্যার।

যাচ্ছি, স্যার!

- কি হয়েছে? - দরজা খুলছে না...

- তাড়াতাড়ি খোলো! - আমি চেষ্টা করছি...

কি দেখছো? ভাঙ্গো এটা!

স্যার।

স্যার।

বাঁচান!

স্যার, বাঁচান!

আমায় শুনতে পাচ্ছেন?

স্যার

স্যার, দরজা আঁটকে আছে।

আমরা কোনোভাবেই খুলতে পারছি না।

স্যার, প্লীজ আমাকে বাঁচান।

স্যার।

ছাড় আমাকে!

স্যার...!

স্যার!

রচনা, আপনি এখানে থাকুন

আমি এক্ষুণি আসছি।

প্রভা, সরো... দরজা ভাঙ্গো।

- সরো! - হ্যাঁ, স্যার। ঠিক আছে।

ছাক্রি, তাড়াতাড়ি খোলো...

এসো, এসো, তাড়াতড়ি খোলো!

এসো, তাড়াতাড়ি। এসো!... দ্রুত!

কুমার জলদি করো!

স্যার, আমরা অনেকগুলো চাবি দিয়ে দেখলাম, একটা দিয়েও খুলছে না।

কি হচ্ছে, স্যার? আমরা দরজা খুলতে পারছি না।

প্রভা, আমাকে ওয়াকি টা দাও।

রচনা, শুনতে পাচ্ছেন?

শুনতে পাচ্ছেন?

রচনা উত্তর দিন! আমায় শুনতে পাচ্ছেন?

হ্যালো... হ্যালো, স্যার।

রচনা, শুনতে পাচ্ছেন?

স্যার, ও আমার দিকে তাকিয়ে আছে... আমার ভয় হচ্ছে!

রচনা আবার বলুন!

স্যার! স্যার!

- স্যার, প্লীজ আমাকে বাঁচান... - আর কতক্ষণ লাগবে?

স্যার, আমাকে বাঁচান...

তাড়াতাড়ি!

- দাঁড়াও... - স্যার, সরুন... সরুন।

- একটু দাঁড়াও। - স্যার, বাঁচান আমাকে...

তাড়াতাড়ি করো।

প্রভা, তাড়াতাড়ি!

শিট!

ছাড়ো... ছাক্রি, ছাড়ো...

ছাড়ো

স্যার, প্লীজ আমাকে বাঁচান...

প্রভা...!!

তাড়াতাড়ি!

ছাড়ো ওকে...হেই! ছাড়ো ওকে!

স্যার, কি হচ্ছে?

প্রভা, তাড়াতাড়ি!!

স্যার, এই নিন, টর্চ।

- কি হয়েছে? - আমি জানি না, স্যার...

প্রভা, কোথায় তুমি?

স্যার, এই দেখুন।

তালা খুলে আছে।

দাঁড়িয়ে আছো কেন, দরজা খোলো...

আমি চেষ্টা করছি, স্যার...

দরজা খোলো...

খোলো!

এই দরজা কখন খুললো, স্যার?

এতক্ষণ খুলছিলো না...

স্যার... আমার অনেক ভয় করছে...

স্যার, চলুন...

- আমার অনেক ভয় লাগছে।... - চুপ থাকো।

মুখ বন্ধ করো!

চলে আসুন, স্যার।

এখানে কিছু আছে, স্যার...

স্যার, আমার কথা শুনুন...

স্যার, তাড়াতাড়ি... চলুন, স্যার...

স্যার, শুনুন!

স্যার!

স্যার!

- চলুন। - প্রভা!

- স্যার! - স্যার!

স্যার... তাড়াতাড়ি!

স্যার, ভেতরে কিছু আছে..

স্যার, আমার কথা শুনুন।

যাবেন না, স্যার...

প্লীজ, আমার কথা শুনুন...

না, স্যার...

কাছে যাবেন না...

কাছে যাবেন না...

না, স্যার...

আমার খুব ভয় লাগছে...

যাবেন না, স্যার....

- সাবধানে! - স্যার...

- প্রভা... - স্যার! স্যার!

আমার কথা শুনুন...

ছাড়ুন!

হাই...

তোমাকে অনেকবার কল দিয়েছি, জবাব কেন দাওনি...

রচনা...

- শোনো... - স্যার?

- তোমরা একটু বাইরে...? - আচ্ছা, স্যার।

রচনা...

হেই...

কি ব্যাপার?

কি হয়েছে, হাহ্?

কোনো ব্যাপার না।

স্যরি, আদিত্য।

কেন?

আমি কয়েকদিন নিজের ভেতর ছিলাম না..

গত তিন দিন...

প্রথম দিন ভালোই ছিলে।

রচনা, তুমি আমার কাছ থেকে কিছু লুকাচ্ছো।

আমি তোমাকে এই ব্যাপারে কিছু জিজ্ঞেস করবো না।

আমি জানি যে তোমার যখন ইচ্ছে হবে তুমি আমাকে ঠিকই বলবে।

কিন্তু...

তোমাকে নিয়ে আমার সত্যিই চিন্তা হচ্ছে।

কেউ তোমাকে বিরক্ত করছে?

তুমি ঠিক আছো?

না, ঠিক আছি...

আমাকে কেউই বিরক্ত করছে না।

একটু কাজের চাপ, ব্যস।

আচ্ছা, বাদ দাও এসব।

তোমার কাজের চাপ কমানোর জন্য,

তোমার জন্য একটা গিফট আছে।

এই নাও।

তুমি ভেলাচেরি ফ্লাইওভারে হওয়া দুর্ঘটনাগুলোর রেকর্ড চেয়েছিলে না?

তোমার রিপোর্টের জন্য...

এখানে কিছু দুর্ঘটনার বিস্তারিত তথ্য আছে...

যদি এতে তোমার কোনো সাহায্য হয়, আমি খুশি হবো।

ও!

আমাকে যেতে হবে। রচনা, অনেক দরকারী কাজ আছে।

কাজের কল এসেছে...

স্যরি, তুমি সাবধানে থেকো, কেমন?

হ্যাঁ, হ্যালো...

আমি দুই মিনিটের মধ্যে আপনাকে পাঠিয়ে দিচ্ছি।

আচ্ছা, ঠিক আছে।

থামাও

ক্যামেরা ২ চালাও এবার।

হেই! হেই!

স্যার...

সে তোমার সামনেই মারামারি করে তোমার গুলি দিয়ে আত্মহত্যা করেছে।

মাত্র দুইদিনে ৩ টা লোক মারা গেলো।

আর তারা সবাই পুলিশের চোখের সামনে।

আমি তোমাকে কালই সাবধান করেছিলাম...

সিনিয়রদের অর্ডার মানো না? সিনিয়রদের প্রতি সম্মানবোধ নেই?

স্যরি, স্যার।

কিন্তু, এখানে কিছু হচ্ছে, স্যার। এই ৩ টা খুনের মধ্যে যোগসূত্র রয়েছে।

বন্ধ করো, নায়ক! আগেই ৩ জন লোক মারা গেছে...

আর যদি এদের মধ্যে যোগসূত্রের কথা বলো,

প্রথমেই আসবে তোমার কথা।

দ্বিতীয়ত, তোমার বন্ধু, রচনা...

তোমরা করছিলেটা কি?

দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে তামাশা দেখছিলে?

তোমরা তিনজন তদন্ত বিভাগের অন্তর্ভুক্ত ছিলে।

স্যার, তাদের দোষ নেই।

আমি সব দায়ভার নিচ্ছি।

স্যার।

হুম...

- যাও। - হ্যাঁ, স্যার।

তদন্ত শেষ হওয়া পর্যন্ত,

তোমাকে সাসপেন্ড করা হলো।

হ্যাঁ?

রিতেশ...

হ্যাঁ... বলুন

আমি রচনা...

আমি টাইমস অব ইন্ডিয়া-তে কাজ করি।

আপনার সাথে একটু কথা বলার ছিলো।

কি ব্যাপারে?

- আমি ভেলাচেরি ফ্লাইওভারে হওয়া দুর্ঘটনার ব্যাপারে রিপোর্ট লিখছি... - আচ্ছা।

আমার অল্পকিছু প্রশ্ন জিজ্ঞেস করার আছে।

মায়া আর আমি প্রেম করে বিয়ে করেছিলাম।

আমার মেয়ের নাম ছিলো, অর্ণা।

ও ক্লাস টু তে পড়তো।

আমার স্ত্রী একটা চাকরী করতো।

আমি প্রতিদিন সন্ধ্যায় অফিস থেকে ফিরে...

অর্ণার সাথে খেলতাম, গল্প করতাম, খাবার খাওয়াতাম।

দারুণভাবে দিন কাটছিলো।

অর্ণা আমাদের জন্য জীবন আর দুনিয়া ছিলো...

আমাদের জীবন...

খুবই আনন্দের ছিলো।

আমি দুঃখিত, স্যার।

ওইদিন অর্ণার বন্ধুর জন্মদিন ছিলো।

আমি আমার স্ত্রীকে বলেছিলাম, হয় অটো করে যেতে, না হয় আমাদের গাড়ি নিয়ে যেতে।

কিন্তু অর্ণা বাইক পছন্দ করতো...

সে বাইকে করেই যেতে চাইলো...

স্যার, আপনি দুর্ঘটনার ব্যাপারে কি জানেন?

কি হয়েছিলো বলে মনে হয়?

পুলিশ বেপোরোয়াভাবে গাড়ি চালানোর নাম দিয়ে কেইসটা বন্ধ করে দিলো।

মায়া অনেক সাবধানে গাড়ি চালাতো

আমি জানি

কিন্তু দুর্ঘটনার রাতে...

ফ্লাইওভারের উপর দিয়ে একটা গাড়ি গিয়েছিলো...

ওই গাড়িটার জন্যই দুর্ঘটনা হয়েছিলো।

ট্রাফিক ক্যামেরাতে গাড়িটা রেকর্ড হয়েছিলো।

কিন্তু পুলিশ...

কোনো তদন্তই করেনি।

এক রাতের মধ্যেই...

এক রাতেই, আমি আমার গোটা পরিবার হারিয়ে ফেললাম।

আমি সত্যিই খুব দুঃখিত...

আপনাকে এসব মনে করিয়ে দেওয়া উচিৎ হয়নি।

তারা মারা গেছে... কিন্তু আমি এখনো জানি এসব কে করেছে।

হাই, রচনা...

আমি স্টেশনে গিয়ে শুনলাম। শুনে খুব খারাপ লাগলো।

আমার জন্য আপনার চাকরির উপর প্রভাব পড়েছে।

আরে তেমন কিছুই নয়।

কেইসটা এখনো চলছে আর সব ঠিক আছে।

কিন্তু তাও আমার নিজেকে দোষী মনে হচ্ছে।

চিন্তা করবেন না, এটা শুধু অল্প কিছুদিনের জন্য...

কাল রাতে আসলে কি হয়েছিলো?

কেইস রিপোর্ট বলছে ও নেশা করেছিলো।

তাই হয়তো ও এমন আচরণ করেছিলো।

স্যার, আমি ফ্লাইওভারে হওয়া দুর্ঘটনার শিকার পরিবারগুলোর সাথে কথা বলছি।

আপনি এখনো ফ্লাইওভারের ঘটনা নিয়ে আছেন?

স্যার...

স্যার, আমি রিতেশ নামে একজনের সাথে দেখা করেছি।

উনার স্ত্রী আর মেয়ে ফ্লাইওভারে মারা গিয়েছিলো।

উনি এখন একা থাকেন। আমার মনে হচ্ছে উনার মধ্যে কোনো ব্যাপার আছে।

আমার মনে হয় আপনাদের আরও তদন্ত করা উচিৎ।

রচনা, আপনি থামবেন?

আপনি এই কেইসটা নিয়ে একটু বেশিই ভাবছেন, এবার বাদ দিন এসব।

স্যার, এই সবগুলো খুনের মধ্যে যোগসূত্র আছে, আপনি জানেন সেটা।

ওই ১০ টা মৃত্যু, সুন্দরের মৃত্য

আর বাইকের দুইজনের মারামারি...

আপনি এইসব কিছুর প্রধান সন্দেহভাজন।

আমি কিছু করিনি, স্যার।

আমি জানি, রচনা। বাকীদেরও সেটা বোঝাতে হবে।

এতে আপনার সমস্যা হতে পারে।

বছরের পর বছর কোর্ট আর পুলিশ স্টেশনের চক্কর কাটতে হবে।

স্যার, ফ্লাইওভারে যারাই ইউ-টার্ন নিচ্ছে, সবাই মারা যাচ্ছে

আর আপনি বলছেন আমাদের কিছুই করার নেই?

রচনা, আমি আমার ক্যারিয়ারে অনেক খুন হতে দেখেছি...

সেখান থেকে আমি একটা জিনিসই শিখেছি...

আমার মনে হয় আপনারও সেটা মেনে চলা উচিৎ।

হ্যালো, প্রভা...

কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞেস না করাই ভালো।

তাহলে উত্তর খুঁজে না পাওয়ার দুঃখটা আর থাকে না।

আমি এই কেইস থেকে অনেক দূরে সরে গেছি।

আমি আপনাকে আর সাহায্য করতে পারবো না।

স্যার...

ইউ-টার্ন নিয়ে পুরো রিপোর্ট আছে এখানে।

আমার অনেক উপকার করলে, প্রভা।

আমি জানি আপনি ঠিক কাজই করছেন, স্যার।

আমাকে বিশ্বাস করার জন্য ধন্যবাদ।

হ্যালো...

রচু, এত রাতে কল করলি?

- কি সমস্যা? আমি কল করতে পারি না? - কখন কল করিস তুই?

আমরাই তোকে সবসময় কল করি।

নাটক বাদ দাও, মা।

খাওয়া হয়েছে?

অনেক আগে... তুই খেয়েছিস?

বাবা কেমন আছে?

আজ হঠাৎ আমাদের কথা কীভাবে মনে পড়ছে?

বলো নইলে আমি কল কেটে দিচ্ছি।

তোর বাবা ভালো আছে। আমি ভালো আছি। আমাদের কুকুরটাও ভালো আছে।

মা, আমার অনেক ভয় লাগছে।

রচু, তুই ঠিক আছিস তো?

আমি আসবো?

না...

তোমার সাথে কথা বলতে ইচ্ছে হলো, তাই কল করলাম।

এইজন্য তোকে বলি, বিয়ে করে ফেল...

তাহলে পাশে অন্তত কেউ একজন থাকবে

ভয় পেলে তখন আর আমাকে কল করতে হবে না।

আসলে, আমার অফিসে একটা ছেলে আছে।

রচু, তাই বুঝি? আমি কাল সকালেই আসছি।

তার মা-বাবার ফোন নাম্বারটা দে।

- আমি এক্ষুণি তাদের সাথে কথা বলছি। - মা... মা...

এখনো তেমন কিছুই হয়নি...

আমি তাকে পছন্দ করি...

জানি না সে ও...

তোর মতো একটা মেয়েকে সে না কীভাবে বলবে?

তুই শুধু একটু বদমেজাজি এই আরকি।

তুই বড়দের সাথে থাকিস না।

- আর তুই উপরওয়ালায় বিশ্বাস করিস না। - মা, মা, থামো!

আমারই ভুল হয়েছে তোমাকে কল করে।

- বাই, শুভরাত্রি - হেই, রচু!

অর্ণা...

না, মা...

- খাও... - না।

খেলা বন্ধ করো...

প্লীজ...

তুমি কাল থেকে কিছুই খাওনি।

মা, আমি আপেল খাবো না।

আমি কমলা খাবো।

এখানে কমলা নেই। এটা খাও।

- আমি এটা খাবো না। - এটা খেলে অনেক ভালো লাগবে।

খাও... আমি খাবো না, মা...

খাও, শুধু এক টুকরো...

এটা খেতে ভালো না, মা। আমি খাবো না।

শুধু এক টুকরো, সোনা...

- না, মা। - তুমি না বললে মা রাগ করবে কিন্তু।

প্লীজ মা...বেলুন কোথায়?

- এখানে কোথাও আছে, যাও খুঁজে দেখো। - আচ্ছা, মা।

তুমি সবসময় বেলুন নিয়ে খেলো....

এক্ষুণি এসে এটা খেয়ে শেষ করবে।

- আচ্ছা, মা - সাবধানে, অর্ণা।

তুমিই আমার মেয়ের মৃত্যুর জন্য দায়ী?

আমি কিছু করিনি।

তুমি আজ ফ্লাইওভারে ব্লক সরিয়েছো।

এমন কেন করলে?

তুমি কিভাবে জানো...

এক...

দুই...

লাফ

তুমি আমার মেয়েকে কেন মেরেছো?

আমি ওকে মারিনি।

মিথ্যে বলবে না, আমাকে।

এটা সত্য যে আমি ব্লক সরিয়েছি এটা দেখার জন্য যে, ব্লক সরালে কি হয়।

কিন্তু, দুর্ঘটনার দিন,

আমি ব্লকগুলো সরাই নি।

সবাই ওই একই কথা বলে।

ওইদিন রাতে,

আমি আর অর্ণা আস্তে করে গাড়ি চালিয়ে ফ্লাইওভার দিয়ে যাচ্ছিলাম।

অর্ণা, তোমার ঘুম এসেছে, সোনা?

না, মা।

কেননা, তোমার সরানো ব্লকগুলোতে গিয়ে আমাদের গাড়ি আঘাত করে।

আমি সেগুলো সরাই নি।

পরে কি হয়েছিলো আমি জানি না...

তার অনেক রক্তক্ষরণ হয়েছে।

দুর্ঘটনার অনেকক্ষণ পরেও এদিকে কেউ আসেনি।

আমি একটা ছোট মেয়ের কথা বলেছিলাম, সে কোথায়?

এই ফ্লাইওভারে অনেক দুর্ঘটনার খবর আসে, স্যার।

বডিটা পোস্টমর্টেমে পাঠিয়ে দাও।

একেবারে বাচ্চা মেয়ে, ম্যাডাম। বেচারি!

বাই, মা।

অর্ণা...

মা...

আমার সোনা...

ও মাত্র ৫ বছরের মেয়ে ছিলো।

মৃত্যু কি জিনিস তাও সে জানতো না।

২ মাস পরেই তার জন্মদিন ছিলো..

- আমরা অপেক্ষা করছি... - মা...

তুমি কাঁদছো মা?

হেই! তুমি মাকে কেন কাঁদিয়েছো?

না... না... আন্টি কিছু করেনি।

আমার চোখে কি যেন পড়েছে, তাই

মা, আমাকে একটা গল্প বলবে?

আচ্ছা... তুমি ঘুমোতে যাও।

- আমি এসে গল্প বলবো। - আচ্ছা, মা।

- শুভরাত্রি, অর্ণা। - শুভরাত্রি, মা।

প্লীজ...

আমি কিছু করিনি।

আমায় ছেড়ে দাও।

প্লীজ...

প্লীজ... প্লীজ আমায় ছেড়ে দাও। আমি কিছু করিনি।

আমি খুঁজে বের করবো সেদিন কে ব্লক সরিয়ে ইউ-টার্ন নিয়েছিলো।

আমি খুঁজে জানাবো তোমাকে...

প্লীজ আমাকে বিশ্বাস করো।

প্লীজ...

আচ্ছা...

তোমাকে একটা সুযোগ দিচ্ছি।

কাল সকালের মধ্যে আমাকে জানাতে হবে আমার মেয়েকে কে মেরেছে!

এক সপ্তাহের জন্য, যদি আমরা নিচে তদন্ত করি...

স্যরি, এক সেকেন্ড...

হ্যালো, আদিত্য...

আমি মিটিং এ আছি। পরে কথা বলছি।

- আদিত্য...! - তোমাকে পরে ফোন করছি।

আমি এখন কথা বলতে পারবো না, ঠিকাছে?

'তোমাকে একটা সুযোগ দিচ্ছি।'

'কাল সকালের মধ্যে আমাকে জানাতে হবে আমার মেয়েকে কে মেরেছে!'

আমি দেখেছি..

রচনা!

আমি দেখেছি ও নিজের মেয়ের জন্য আপেল কাটছিলো।

শুনুন, আমি সিরিয়াস...

এ ব্যাপারে ভাবা বন্ধ করুন।

না... না... না, স্যার।

ব্লক কে সরিয়েছিলো আমাদের তা খুঁজে বের করতে হবে...

- আমার কথা শুনুন। - স্যার!

আমাকে সাহায্য করবেন কি না?

না হলে থাক। আমি নিজেই বের করে নেবো।

আপনি কিছু খেয়েছেন?

আসুন, বসুন...

আগে কিছু খেয়ে নিন।

চিন্তা করবেন না।

রচনা, আপনি খান। আমি ফ্রেশ হয়ে আসছি।

আপনি যখন আমার কথা বিশ্বাসই করছিলেন না, এসব কেন করছেন, স্যার?

এখানে আপনার ডায়েরির লিস্টের ১০ জনের নাম আর ছবি আছে।

এই সবগুলোর একটা কমন যোগসূত্র আছে।

সব কেইসে একটা 'ইউ' শেপের নির্দেশনা আছে।

সুন্দরের কেইস, শ্রীনিবাসে কেইস আর উকিলের কেইস...

ওইদিন রাত্রে জেলের ভেতর যারা মারা গেলো...

দেখুন এখানে।

এটা কোনো কাকতালীয় নয়।

রচনা...

রচনা, কাল রাতে আপনি এমন কিছু দেখেছেন?

আমার মনে পড়ছে না, স্যার।

না, ভেবে দেখুন একটু।

কোনো, প্যাটার্ন, বস্তু...অথবা এমন কিছু?

আমি এমন কিছুই দেখিনি, স্যার।

আচ্ছা, চলুন।

- হাই মল্লিক... - ওহ্... হ্যালো, স্যার...

আপনি হঠাৎ এখানে? কিছু লাগবে?

কিছু না, মল্লিক।

মার্চের ৯ তারিখ ভেলাচেরি ফ্লাইওভারে একটা দুর্ঘটনা হয়েছিলো।

- আমি ফুটেজটা দেখতে চাই - হ্যাঁ, স্যার, এক মিনিট...

একটু তাড়াতাড়ি করো, প্লীজ।

স্যার...

আপনি কি,

মা আর মেয়ের দুর্ঘটনাটার কথা বলছেন?

হ্যাঁ, স্যার।

মেয়েটি গাড়ি থেকে ছিটকে গিয়ে রেললাইনের উপর পড়েছিলো।

- সেই কেইসটাই। - স্যরি, স্যার।

স্যরি, স্যার। ফ্লাইওভারের উপর তখন কোনো ক্যামেরা ছিলো না।

কোনো ক্যামেরা ছিলো না?

অ্যাক্সিডেন্টের পর থেকেই ক্যামেরাগুলো লাগানো হয়েছে।

স্যার, কেউ ব্লকগুলো সরানোতে দুর্ঘটনা ঘটেছিলো।

আমরা জানতে চাই সেটা কে সরিয়েছে।

যেমনটা বললাম, তখন কোনো ক্যামেরাই ছিলো না, ম্যাডাম।

কীভাবে খুঁজে বের করবো?

ফ্লাইওভারের শুরু আর শেষপ্রান্তে ক্যামেরা লাগানো আছে?

- হ্যাঁ, স্যার। - ফুটেজগুলো চালাতে পারবে?

এটা ৯ই মার্চের ফ্লাইওভারের ট্রাফিক ফুটেজ, স্যার।

আমাকে গাড়ির নাম্বারটা দিতে পারবেন?

তাহলে দেখতে পারবো সেটি গিয়েছিলো কি না।

আমরাও সেই নাম্বারটাই খুঁজছি।

গাড়ির নাম্বার ছাড়া খুঁজে পেতে অনেক কষ্ট হবে।

কেউ যদি ফ্লাইওভারে ঢুকে মাত্র কিছুক্ষনের মধ্যে ফেরৎ চলে আসে...

- এর মানে সে ইউ-টার্ন নিয়েছে, ঠিক? - হ্যাঁ, স্যার।

সেটাই স্বাভাবিক।

একবার এই ফ্লাইওভারে উঠলে আবার ফিরে আসতে কমপক্ষে ১৫ মিনিট লাগবে।

তো, এর চেয়ে আগে কেউ ফিরে আসলে,

তাকে ব্লক সরিয়ে আসতে হবে, ঠিক তো?

ঠিক, স্যার।

আমরা ফ্লাইওভারে ঢোকার ফুটেজ চেক করলে বুঝতে পারবো যে কে ব্লকগুলো সরিয়েছিলো।

আমাকে ফুটেজ দেখাতে পারবে?

অবশ্যই, আমি এক্ষুণি চালাচ্ছি।

স্যার, এখানে আপনি দুইপাশের গাড়িগুলোর ফুটেজ দেখতে পারবেন।

কেউ যদি ব্লক খুলে ইউ-টার্ন নেয়, তাকে স্ক্রিনের দুই পাশের দেখা যাবে।

দারুণ, মল্লিক। এবার চালাও।

আপনি ভালো করে দেখুন, স্যার।

কিছু দেখলে আমাকে বলুন।

স্যার... স্যার... স্যার...!ওই লাল জ্যাকেট...

একটু পেছনে নাও

এই যে। দাঁড়াও, মল্লিক।

দেখতে একই লাগছে।

ও নিশ্চিত ইউ-টার্ন নিয়ে ফিরে এসেছে।

মল্লিক, গাড়ির নাম্বারটা বের করো।

- আমি দ্রুত সব তথ্য চাই। - আচ্ছা, স্যার।

রচনা, আপনি বাইরে অপেক্ষা করুন।

আমি আসছি।

স্যার, বাইকটার সামনে কোনো নাম্বার প্লেট নেই।

- দেখুন... - পেছনে নাম্বার প্লেট আছে তো, না?

- সেখানে জুম করো। - করছি, স্যার।

রচনা...

গাড়ির নাম্বার আর ঠিকানা...

কি হয়েছে?

সব ঠিক আছে?

রচনা!

হেই, রচনা!

মা, বেলুন...

হ্যালো...

- হ্যালো, রমেশ... - না, উনার ভাই বলছি। কে আপনি?

দাঁড়াও, রচনা?

তুমি?

আমার ভাইয়ের নাম্বারে কল করেছো কেন?

এই নাম্বারটা পেলেই বা কোথায়?

হ্যালো...

হ্যালো, রচনা...শুনতে পাচ্ছো?

- এটা তোমার ভাইয়ের নাম্বার? - হ্যাঁ।

উনি ২ বছর আগে আমেরিকা চলে গেছেন।

উনি আমাকে নাম্বারটা রাখতে বললেন। এটা নাকি উনার খুব লাকি নাম্বার ছিলো।

কিন্তু তুমি এই নাম্বারটা কোথায় পেলে?

রচনা... হ্যালো...

'আমার ভাইয়ের বাইক... আমি আপাতত ব্যবহার করছি'

'আমি প্রতিদিন ভেলাচেরি ফ্লাইওভারের উপর দিয়েই আসি।'

- মল্লিক... - স্যার...

কি হয়েছে?

- আপনাকে কিছু দেখানোর আছে। - কেন? কি হয়েছে?

রচনা, কি হলো, ফোন কেটে দিলে?

কোথায় তুমি?

তুমি ওকে মেরে ফেলেছো, আদিত্য।

কি?!

তুমি ভেলাচেরি ফ্লাইওভারে ব্লক সরিয়ে ইউ-টার্ন নিয়েছিলে।

ওই মেয়েটা তোমার কারণে মারা গেছে। তুমি মেরেছো তাকে।

কোন মেয়ে? কিসের দুর্ঘটনা? কিসের কথা বলছো তুমি?

তুমি লাল জ্যাকেট পরে ভেলাচেরি ফ্লাইওভারে তোমার ভাইয়ের বাইক নিয়ে গিয়েছো,

আমি ট্রাফিক ক্যামেরায় দেখেছি তোমাকে।

- কখনো ভাবতেই পারিনি তুমি এমনটা করবে। - শোনো।

আমি প্রত্যেকদিন ওই ফ্লাইওভার দিয়ে আসি।

কিন্তু আমি কখনো ব্লক সরাই নি।

স্যার, এই গাড়িটা ফ্লাইওভারে গিয়েছিলো।

হ্যাঁ, লাল জামা পড়া এই লোকটা...

আর এটা হচ্ছে পাশের লেইনের গাড়িটা এক মিনিট পর।

তুমি আমাকে ব্লক সরাতে দেখেছো?

- আমি দেখিনি, কিন্তু... - তাহলে?

তুমি ধরে নিলে, তাই তো?

তুমি জানো ওইদিন কি হয়েছিলো?

যাওয়ার সময় আর আসার সময়ের গাড়ি দুইটা আলাদা।

এটা কিভাবে সম্ভব!

আমার বাইকটা ঠিক করার জন্য মেকানিকের কাছে দেওয়ার কথা ছিলো।

কিন্তু আমার কাছে গ্যারেজ যাওয়ার মতো সময় ছিলো না।

আর মেকানিক আমার বন্ধু ছিলো, তাই আমরা ফ্লাইওভারে দেখা করি।

আমি যখন অন্যদিকের ক্যামেরাতে চেক করছিলাম... তখন খেয়াল করি।

দুইটাই একই গাড়ি, একই রঙ আর একই মডেল।

কিন্তু রেজিস্ট্রেশন নাম্বারটা আলাদা।

বালা, ইঞ্জিনটা ভেঙ্গে গেছে মনে হয়। একটু দেখো তো। আমি কাল এসে নিয়ে যাবো।

আমরা শুধু বাইক পাল্টাপাল্টি করেছিলাম।

আমি তার বাইক নিয়ে গেলাম আর সে আমারটা।

এটাই হচ্ছে আসল কাহিনী।

তো, তুমি ব্লক সরাওনি।?

না, রচনা।

আমি এমন শর্টকাট ইউ-টার্ন নেবার মতো লোক নই।

বিশ্বাস করো।

'কাল সকালের মধ্যে আমাকে জানাতে হবে আমার মেয়েকে কে মেরেছে!'

স্যার... স্যার... স্যার...! ওই লাল জ্যাকেট...

হ্যালো... রচনা, শুনতে পাচ্ছো?

- আদিত্য, তুমি কোথায়? - আমি আমার ফ্ল্যাটে।

কেন?

একটু দাঁড়াও, রচনা, এক্ষুণি আসছি...

আদিত্য! আদিত্য, যেও না!

আদিত্য! আদিত্য, যেও না!

আদিত্য!

কে?

অটো... অটো...

ভাই, ভেলাচেরি চলুন তাড়াতাড়ি।

হ্যালো...

হ্যালো, রচনা...

হ্যালো...

হ্যালো...

- হ্যালো... - রচনা...

আমি আপনাকে যেই ঠিকানাটা দিয়েছি, তাতে ভুল আছে। একটু ভুল হয়ে গেছে।

ওই লাল জ্যাকেটের লোকটি ব্লক সরায়নি।

- স্যার আমি জানি ও সরায়নি। - আপনি কীভাবে জানেন?

লাল জ্যাকেটের লোকটি আমার বন্ধু।

ও আমার অফিসে কাজ করে।

- আশ্চর্য। - স্যার, আমার আপনার সাহায্য দরকার।

কি হয়েছে, রচনা? কোথায় আপনি?

স্যার, আমি জানি, আপনি আমাকে বিশ্বাস করবেন না।

কিন্তু আমার বন্ধু খুব বিপদে আছে।

উনি ওকে মেরে ফেলবে। আমার আপনার সাহায্য দরকার।

বলুন, আমাকে কি করতে হবে?

তাড়াতাড়ি যান।

উমম...

রিতেশ...

হ্যাঁ!

কে?

সামনে গিয়ে বামে যান।

হ্যালো... কে এখানে?

কে?

রচনা, রিতেশ আমার সাথে আছে।

আমরাও সেখানে যাচ্ছি।

বাই।

আমাকে বলবেন কি হচ্ছে?

যেদিন আপনার স্ত্রী আর মেয়ে মারা যায়...

কেউ ফ্লাইওভারের ব্লক সরিয়ে রেখেছিলো।

কি বলছেন, স্যার?

ব্লকগুলো ওইভাবেই রাস্তায় ফেলে রাখায়..

আপনার স্ত্রী আর মেয়ের দুর্ঘটনা হয়।

এমনটাই আন্দাজ করা হচ্ছে।

হ্যালো... বলো, মল্লিক।

স্যার...

যেই লোকটা ব্লক সরিয়ে ইউ-টার্ন নিয়েছে, আমি তার গাড়ির নাম্বার আর ঠিকানা বের করেছি।

তুমি নিশ্চিত উনিই সরিয়েছে?

হ্যাঁ, স্যার, ১০০%

আমাকে তার নাম আর ঠিকানা পাঠিয়ে দাও।

- আমি এক্ষুণি পাঠিয়ে দিচ্ছি, স্যার। - রিতেশ...

আমার মনে হয় উনাকে পেয়ে গেছি।

রিতেশ, আসুন...

- কয় তলা? - ১৩

রিতেশ...

আমি কাল রাতে আপনার স্ত্রী আর মেয়েকে আমার বাসায় দেখেছি।

আদিত্য!

আদিত্য!

স্যার...

আদিত্য!

রিতেশ

শক্ত করে তার পা ধরুন।

শক্ত করে ধরুন।

রচনা, একটা ছুরি নিয়ে আসুন।

রচনা, একটা ছুরি নিয়ে আসুন! যান!

তাড়াতাড়ি করুন!

আসুন... আসুন...

রিতেশ, শক্ত করে ধরুন।

শক্ত করে ধরুন।

আদিত্য, শ্বাস নিন।

আদিত্য, ঠিক আছো?

আপনি ঠিক আছেন।

শ্বাস নিতে থাকুন।

রিল্যাক্স...

- রচনা, দাঁড়ান! - আমাদের এখান থেকে যেতে হবে।

রিতেশ, সাবধানে...

বাবা...

রিতেশ!

রিতেশ!

আদিত্য...

অর্ণা...

বাবা...

অর্ণা...

অর্ণা...!

অর্ণা...!

সোনা, তুমি কোথায় ছিলে? ভালো আছো তো?

বাবা, তুমি এতদিন কোথায় ছিলে?

আমি কোথাও যাই নি।

আমি এখানেই আছি, তোমার জন্য।

এবার তুমি এসে গেছো, বাবা আর কোথাও যাবে না।

তোমাকে অনেক মিস করেছি।

তোমার মা কোথায়?

মায়া...

কি করছো এখানে?

- ওকে কেন বাঁচালে? - মায়া...

- মায়া, কেমন আছো? - ও অর্ণার মৃত্যুর জন্য দায়ী ছিলো।

আমি ওকে ছাড়বো না।

আদিত্য, বসুন এখানে।

রচনা, ওর সাথে কথা বলুন।

আমি অ্যাম্বুলেন্স ডাকছি।

আদিত্য, কথা বলো আমার সাথে! আদিত্য!

মায়া... মায়া...

ওই দুর্ঘটনার দিন,

আসলে হয়েছিলো কি...

- হ্যালো... - হ্যালো, বাবা...

আমরা পিংকির জন্মদিনের পার্টিতে যাচ্ছি।

- তুমি কখন আসবে, বাবা? - আমি রাস্তায়, মা।

অনেক বৃষ্টি হচ্ছে।

রাস্তায় অনেক ট্রাফিক।

বাবা, তুমি পিংকির জন্য কি গিফট আনছো?

সোনা, তোমার মাকে মোবাইল টা দাও তো।

মা, বাবা কথা বলবে।

- কোথায় তুমি? - আমি অফিসে ভুলে গেছি পিংকির গিফট টা।

তোমরা রেডি হও, আমি গিয়ে নিয়ে আসছি, ঠিকাছে?

আচ্ছা, তাড়াতাড়ি চলে এসো।

স্যরি, মায়া।

এমন হবে আমি কখনো ভাবিনি।

আমার নিজেরই পরিবারের সাথে...

আদিত্য, শ্বাস নাও...

- রচনা, সেইদিন রিতেশ ব্লকগুলো সরিয়েছিলো। - স্যার, কি বলছেন?

মায়া...

- মায়া, আমি সত্যিই খুব দুঃখিত। - ছোঁবে না আমায়।

মায়া...

আমায় ছোঁবে না!

স্যার!

তুমি খুন করেছো অর্ণাকে, তুমি!

আমাদের দুনিয়া, আমাদের স্বপ্ন...

অর্ণাকে নিয়ে আমরা আনন্দেই জীবনযাপন করছিলাম।

কিন্তু, তুমি তাকে মেরে ফেললে।

তুমি, তাকে নিজ হাতে মেরে ফেললে।

অর্ণা!

বাবাকে মেরো না, মা।

স্যরি, সোনা।

বাবা, কিছু করে নি।

স্যরি। আমি কিছুই করবো না বাবাকে।

তোমার খারাপ লাগে, এমন কিছুই করবো না আমি।

কেঁদো না, সোনা।

কেঁদো না।

আমি কিছুই করবো না।

রিতেশ!

এমন করবেন না!

আমার কথা শুনুন, রিতেশ!

- বাবা! - রিতেশ!

কি হয়েছে?

মায়া...

মায়া...

মায়া... মায়া...

মায়া...কি হয়েছে?

কে?

বাঁচাও! বাঁচাও!

অর্ণা...

অর্ণা...

অর্ণা...

অর্ণা...

অর্ণা...!

অর্ণা...!

অর্ণা...!

অর্ণা...!অর্ণা...!

ট্রেন আসছে!

অর্ণা...! অর্ণা...!

অর্ণা...! অর্ণা...!

অর্ণা তোমার কথা বলে।

সে যে মারা গেছে এই সত্যটা এখনও সে জানে না।

যখনই সে তোমার কথা জিজ্ঞেস করে, আমাকে নানারকম উত্তর দিতে হয়।

তোমাকে বেঁচে থাকতে হবে।

নিজেকে মেয়ের মৃত্যুর জন্য দায়ী জেনে বেঁচে থাকতে হবে...

তোমাকে এই যন্ত্রণা নিয়েই বেঁচে থাকতে হবে।

এটাই তোমার শাস্তি।

মায়া, আমাকে ছেড়ে যেও না।

মায়া...

মায়া... আমাকে ছেড়ে যেও না।

মায়া... প্লীজ, মায়া...

মায়া...

অর্ণা... অর্ণা...

অর্ণা...

অর্ণা, আমাকে ছেড়ে যেও না, সোনা।

অর্ণা! আমাকে ছেড়ে যেও না।

অর্ণা...!

মায়া...!

মা, বাবা আমাদের সাথে আসবে না?

না, সোনা।

বাবার অনেক কাজ আছে। বাবা আরও পরে আসবে।

অর্ণা...!

Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.