All language subtitles for Aapla.Manus.2018_Bsub By Ratul

af Afrikaans
ak Akan
sq Albanian
am Amharic
ar Arabic
hy Armenian
az Azerbaijani
eu Basque
be Belarusian
bem Bemba
bn Bengali
bh Bihari
bs Bosnian
br Breton
bg Bulgarian
km Cambodian
ca Catalan
ceb Cebuano
chr Cherokee
ny Chichewa
zh-CN Chinese (Simplified)
zh-TW Chinese (Traditional)
co Corsican
hr Croatian
cs Czech
da Danish
nl Dutch
en English
eo Esperanto
et Estonian
ee Ewe
fo Faroese
tl Filipino
fi Finnish
fr French
fy Frisian
gaa Ga
gl Galician
ka Georgian
de German
el Greek
gn Guarani
gu Gujarati
ht Haitian Creole
ha Hausa
haw Hawaiian
iw Hebrew
hi Hindi
hmn Hmong
hu Hungarian
is Icelandic
ig Igbo
id Indonesian
ia Interlingua
ga Irish
it Italian
ja Japanese
jw Javanese
kn Kannada
kk Kazakh
rw Kinyarwanda
rn Kirundi
kg Kongo
ko Korean
kri Krio (Sierra Leone)
ku Kurdish
ckb Kurdish (Soranî)
ky Kyrgyz
lo Laothian
la Latin
lv Latvian
ln Lingala
lt Lithuanian
loz Lozi
lg Luganda
ach Luo
lb Luxembourgish
mk Macedonian
mg Malagasy
ms Malay
ml Malayalam Download
mt Maltese
mi Maori
mr Marathi
mfe Mauritian Creole
mo Moldavian
mn Mongolian
my Myanmar (Burmese)
sr-ME Montenegrin
ne Nepali
pcm Nigerian Pidgin
nso Northern Sotho
no Norwegian
nn Norwegian (Nynorsk)
oc Occitan
or Oriya
om Oromo
ps Pashto
fa Persian
pl Polish
pt-BR Portuguese (Brazil)
pt Portuguese (Portugal)
pa Punjabi
qu Quechua
ro Romanian
rm Romansh
nyn Runyakitara
ru Russian
sm Samoan
gd Scots Gaelic
sr Serbian
sh Serbo-Croatian
st Sesotho
tn Setswana
crs Seychellois Creole
sn Shona
sd Sindhi
si Sinhalese
sk Slovak
sl Slovenian
so Somali
es Spanish
es-419 Spanish (Latin American)
su Sundanese
sw Swahili
sv Swedish
tg Tajik
tt Tatar
te Telugu
th Thai
ti Tigrinya
to Tonga
lua Tshiluba
tum Tumbuka
tr Turkish
tk Turkmen
tw Twi
ug Uighur
uk Ukrainian
ur Urdu
uz Uzbek
vi Vietnamese
cy Welsh
wo Wolof
xh Xhosa
yi Yiddish
yo Yoruba
zu Zulu

Original subtitles

অনুবাদে রাতুল হাসান তালুকদার

এটা আমার অনুবাদকৃত তৃতীয় ও একক বাংলা সাবটাইটেল। ইসাব এ কিছু সমস্যা ছিলো। কিছু লাইন এবং শব্দ মিসিং ছিলো। তাই, আমি সেগুলো নিজের মতো করে সাজিয়েছি। তাই অনুরোধ রইলো ভুল ত্রুটি ক্ষমা সুন্দর দৃষ্টিতে দেখার।

স্যার,

স্যার,

হ্যালো,

ভিতরে আসুন,

আমি কী আসতে পারি?

হ্যাঁ

হ্যাঁ,ধন্যবাদ!

এভাবে আমার দিকে হা করে তাকিয়ে আছেন কেন?

কিছু নাহ,দুঃখিত,

বলুন

আমি হলাম, সিনিয়র ইন্সপেক্টর, মারুতি নাগারগোজি,অপরাধ শাখা

ঠিক আছে

আপনার হয়তো কোথাও ভুল হয়েছে,

আমি শুধু দেওয়ানি মামলা দেখি,

অপরাধের কেস নয়।

-আপনার সমস্যা যদি সম্পর্কিত হয়.....,, -আমার সমস্যা আপনার সাথে সম্পর্কিত,

আর আমি সেটা সমাধান করতে এখানে এসেছি

আপনি কী বুঝাতে চাইছেন?

আপনার বাড়িতে যে ঘটনাটি ঘটেছে আমি সেটা তদন্ত করতে এসেছি,

আমার কেসটি অপরাধ শাখার কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে?

কারণ কী?

আমি এ বিষয়ে কিছু বলতে পারবো নাহ,

আপনার যদি কোনো সন্দেহ থাকে,

তাহলে, এটা দেখুন।

ধান ভানতে শিবের গীত গাইতে চাই না,

আপনি যা বলতে চলছেন,

আমি সেটা আপনার বিরুদ্ধে ব্যবহার করতে পারবো,

তাই, একটা শব্দ বলার আগেও,

ভালো করে চিন্তা করে নিবেন।

বলুন,

২৮ শে জুন, বাখতি এবং আমি ডিনার করতে বাহিরে গিয়েছিলাম,

প্লিজ , আপনার বক্তব্য পুনরাবৃত্তি করবেন না।

এটা বলা বেহুদা!

তাই নাকি?

শুধু আপনার না,

লোকে কী বলল তাতে আমার কিছু যায় আসে না,

আপনি কী পুলিশ?

আমি মানুষের মুখের কথা কম বিশ্বাস করি,

এবং লিগ্যাল হোগওয়াস,

আপনার গল্প বলুন, শুরু থেকে,

শুরু থেকে? মানে,,,,,,,?

মানে, বলতে চাচ্ছি....

আপনি যখন লোনভালা যাওয়ার প্লান করছিলেন, তখন থেকে,

আরে, বাহ,

আপনার কাছে তো দেখছি অনেক ইনফরমেশন আছে,

আমাকে এটার জন্য বেতন দেওয়া হয়,

-আমাকে কোনো তথ্য না দিতে চাইলে, -ঠিক আছে

আপনার সেই স্বাধীনতা আছে,

কিন্তু তারপর.....

এখানে এমন কিছুই নেই, যে আমি আপনাকে বলতে পারবো না,

সুতরাং, আমরা আলোচনা করতে পারি,

-আপনি কী কিছু মনে করার চেষ্টা করছেন? -হুমম!

ঘটনার চার-পাঁচ দিন আগে ,,,

তারিখ?

২২ শে জুন

আহা,সেই তারিখে চ্যাপহপকারের ভাই জেনারেল রান্ড কে হত্যা করেছিলো,

হতে পারে,

তারপর,

২২ শে জুন আমাদের মধ্যে সামান্য তর্ক হয়েছিলো,

হ্যালো

হ্যাঁ,আবা গোখলে বলছি,

বাখতি আছে?

সে নেই?

সেই ৯ টা থেকে

তাকে ফোনে পাচ্ছি না,

আমার মনে হচ্ছে, প্রফেসর ব্যস্ত আছে তাই সে কল ধরতে পারছে না,

না

অবশ্যই,সে বাসায় পৌঁছালে আমি আপনাকে জানাবো,

আমি কি নিতিনের সাথে কথা বলছি?

বাখতি এখনো বাসায় পৌঁছায় নি,

রাহুলকেও ফোনে পাওয়া যাচ্ছে না,

কী বলছিস?

ওহ,তুই আমাকে বাখতির সেলফোনে কল করতে বলছিস?

তুই কী ভাবো,এই চিন্তা আমার মাথায় আসেনি?

কোনো সমস্যা নেই,

তুই রাহুলের বন্ধু, এতে অবাক হওয়ার মতো কিছু নেই, ফোন রাখ,

হ্যালো,

আমি আবা গোখলে বলছি,

বাখতি কী আপনার সাথে আছে?

কী বলছেন?

তার সেলফোনে কল করার চেষ্টা করা উচিত, তাই তো?

অদ্ভুত, আমি কী চেষ্টা করিনি?

আপনার বুদ্ধিটি সত্যিই খুব দারুণ ,

অনেক ধন্যবাদ, আমি তাকে কল করার চেষ্টা করছি

হ্যালো,আবা,

-রাহুল? -হ্যাঁ,

গাধা,

তোর ফোন এর কী হয়েছে?

কী বলছো তুমি?

ওহ, আমি দুঃখিত.

আমি মিটিং এ ছিলাম তাই ফোন বন্ধ করে রেখেছি, ব্যাপার কী?

তোর স্ত্রী এখনো বাসায় আসেনি,

-তো? -তো?

এখন ১০ টা পেরিয়ে গেছে,

চিন্তা করো না, আবা, সে হয়তো ট্রাফিক জামে আটকা পড়েছে,

-পানি! -ধন্যবাদ, ভিথা।

-আবা,আমাকে এখনই যেতে হবে, -ঠিক আছে,

আশা করি,কালকে আবার তোমার পেটে ব্যাথা উঠবে নাহ,

আগের মতো!

তুমি....

তার তো আমাকে একবার কল দিয়ে জানিয়ে রাখা উচিত ছিল,তুই কী বলো?

ঠিক আছে, আবা, সে হয়তো ব্যস্ত ছিলো,

আদালতে ক্লায়েন্টদের ডিফেন্ড করো,

আর, বাড়িতে স্ত্রীর ডিফেন্ড করো,

আমি তোমাকে অনুরোধ করছি, এজাতীয় কথা তার সামনে বসে বলবে না,

সে যে কোনো মুহূর্তে চলে আসবে,

তুমি চলে যাচ্ছো?

ম্যাডাম,

কমপক্ষে একবার ফোন দিয়ে জানিয়ে রাখা উচিত ছিলো,

বুড়ো মানুষটি অস্থির হয়ে পড়েছে!

ডিনার প্রস্তুত?

চলো,কালকে কথা বলি!

বাখতি, তুমি কোথায়?

-ঐ তো সে! -ওহ,

এসব কী?

তুমি এতো দেরী করেছ কেন?

কলেজে শেষ মুহূর্তে একটি মিটিং ডাকা হয়েছিলো,

তুমি আমার থেকে কী প্রত্যাশা করো আমি কলেজের মিটিং এ যোগ দেব না?

আমি তোমাকে বলেছিলাম

সেটা বাসায় ফোন করে জানাতে খুব বেশি অসুবিধা হতো?

আমি ৬.৩০ এ কল দিয়েছিলাম, কিন্তু কেউ আমার কল ধরেনি,

-আমি ঐ সময়ে নিচে গিয়েছিলাম, -আচ্ছা,

আমি তোমার নম্বরেও চেষ্টা করেছিলাম, তোমার ফোনটি বন্ধ ছিলো,

আমি একটা মিটিং এ ছিলাম তাই.....

আমি বাসার নাম্বারেও অনেক বার কল দিয়েছি, কিন্তু সেটা ক্রমাগত ব্যস্ত ছিলো,

আমাকে কয়েকটি গুরুত্বপূর্ণ কল করতে হয়েছিলো,,,

-হুমম, তো আমি এখন কী করবো? -ঠিক আছে,

ঠিক আছে, বলার মানে কী?

আপনি আমাকে এতক্ষণ বিরক্ত কেন করছিলনে?

হেই, পানি খাও,

এরকম পরিস্থিতিতে চিন্তিত হওয়া সাধারণ বিষয়, যদি পরিবারের মহিলা সদস্য,

এতো সময় পযন্ত ঘরের বাহিরে থাকে?

আমি সত্যিই খুব খুশি হতাম আপনি আমাকে নিয়ে চিন্তা করলে,

তুই শুনতে পেয়েছিস?

-তুমি " দাঙ্গাল" দেখেছ? -কী?

কী?

কেন ভান ধরছো? আমাকে এই টপিকটা পরিবর্তন করতে দাও,

তুমি কেন তার সাথে তর্ক করছো?

হ্যাঁ,মা,

কোন নরকে গিয়েছিলে, শুনি?

আবা কল দেওয়ার পর থেকে, চিন্তায় তোর বাপের ব্লাড প্রেসার বেড়ে গেছে,

-তাকে জানানো উচিত ছিলো, -ঠিক আছে,

-আমি কী তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করেছি? - মা,আমার একটা মিটিং ছিলো তাই আসতে দেরী হয়েছে,

আমি তাঁকে বুঝানোর চেষ্টা করছি, তবুও, খুব চিন্তা করেই যাচ্ছে, করেই যাচ্ছে,

এতো রাগ করছো কেন?

আমি কী এখন ফোন রাখতে পারি, প্লিজ?

ঠিক আছে, ঠিক আছে,

সকালে কল দিস,

-হ্যাঁ,আমি দিবো, -শান্ত হও,

-আবা, -হ্যাঁ,

আপনি, মাকে ফোন দিয়েছিলেন?

হ্যাঁ,আঙ্কেল ডামেল?

হ্যাঁ,সে বাসায় এসেছে,

সে একটা মিটিং এ ছিলো,

আপনি কথা বলুন,

আমি আপনাকে পরে ফোন করছি,

আপনি ফোনটা ধরলেন না,কেন?

হ্যালো,

-মি.গডসি কে? -৩০৪

-হ্যাঁ,বলুন, -আপনি বাসায় পৌঁছেছেন?

হ্যাঁ,খারকানিস আঙ্কেল, আমি বাসায়,

-ধন্যবাদ -ঠিক আছে,

- হেই,নিজের খেয়াল রাখবেন -হ্যাঁ

শুভরাত্রি!

চলো,ডিনার করা যাক,

সে বাড়িতে আছে, হ্যাঁ, সে........

নিতিন,

আপনি কী সমগ্র বিশ্ববাসীকে কল দিয়েছেন?

দয়া করে, তাদের সবাইকে কল দিয়ে জানিয়ে দিন,

অন্যথায়,আজকে সারারাত কল এবং দর্শক আসতে থাকবে,

-কাম অন, -আমি এখন কাউকে কল করতে পারবো না,

আমি কেন কল করবো?

তুমি দেরী করে বাসায় এসেছো তাই, তুমি তাদেরকে কল দিবে,

-আমি কেন করবো? -আচ্ছা, আমি করছি,

-যা ইচ্ছা করো,

বলুন,

এখানে দুইটা তালিকা আছে,

তুমি এগুলোকে মার্ক করেছ কেন?

স্টার চিহ্নিত নামগুলোতে, আমি দুইবার কল করেছি,

তাই,তাদেরকে প্রথমে জানাবে,

চমৎকার!

নিশু কল দিয়েছে,

-হ্যাঁ,কিডো, -হ্যালো,বাবা, মম কী ওখানে আছে?

হ্যাঁ, তোমার মা এখানে আছে, এক মিনিট,

হ্যাঁ,নিশু,

মম, তুমি কোথায়?

আমি বাসায় আছি,সোনা,

দাদু বলছিলো,তোমাকে নাকী খুঁজে পাওয়া যাচ্ছে না,

দয়া আর এরকম করবে না,

আমি ভয় পাই,

বাই, মুম্মা,

-ভালোবাসি, -ভালোবাসি,

সে কী বলছে?

আপনি নিশুকে কল দিয়েছেন কেন?

ছোট বাচ্চাটি হোস্টেলে আছে,

আপনি অনুভব করতে পারেন, তার উপর দিয়ে কী বয়ে গেছে?

-বাখতি..... -থামো,আর একটা কথাও বলবে নাহ,

আপনার এই চিন্তাশীল আচরণের জন্য, আমাকে সবজায়গায় অপমানিত হতে হয়,

সবাই মনে করে, আমি একজন দায়িত্বজ্ঞানহীন মহিলা,

দয়া করে, আপনার এই অস্বাভাবিক আচরণ বন্ধ করুন, অন্যথায়..…...

বাখতি?

আমি খাবার বেড়ে দিচ্ছি, আমি খাবো নাহ,

এখানে,

বাখতি?

আমি জানি, তাকে ইন্সুলিন সট দিতে হবে।

কাম অন, আবা, খেতে চলো,

ঠিক আছে, তা আপনি হঠাৎ করে লোনাভালা যাওয়ার পরিকল্পনা করলেন কেন?

অবশ্যই,আমি আপনাকে বলবো, একটু ধৈর্য ধরুন,

চা এসেছে,

পরের দিন আমার বন্ধু, নিতিন এর সাথে দেখা করি

গত রাতে বাড়িতে একটা ছোট ঝামেলা হয়েছিলো,

এবং সেটা শেষ হয় ১২ টা পযন্ত সবাইকে কল করার পর,

আবা ১ টা পযন্ত বক্তৃতা দেয়,

তারপর যখন আমি বেডরুমে যাই,

প্রায় ২.৩০ পযন্ত বাখতি তার ক্ষোভ দেখায়,

আমি জানি না,কীভাবে তাদেরকে কন্ট্রোল করবো,

তাদেরকে লড়াই করতে দে,

তুই এগুলো থেকে বাহিরে থাক,

-ওহ,সত্যিই? -হুমম,

তবে, তাদের সবসময় আমাকে প্রয়োজন হয়,

তাদের ঝগড়ার সময় একজন রেফারি থাকা বাধ্যতামূলক,

আমি কীভাবে এটা থেকে দূরে থাকবো?

তুই জানিস?

প্রতিদিন তর্ক করার জন্য তাদের একটা নতুন প্রসঙ্গ লাগে,

আমি বলবো,

তুই তাদেরকে নিয়ে কোথাও ঘুরে আয়,

শ্মশান হলো একমাত্র জায়গা যেখানে আমি তাদের নিয়ে যেতে পারি,

তাদের নিয়ে কোথাও ঘুরতে যা এবং তাদের কে ইচ্ছামতো তর্ক করতে দে,

তাদের মন হালকা হয়ে যাবে,

কিছু সময়ের জন্য এগুলো থেকে মুক্তি পাবি,

এবং এরপরে, আমরা লোনাভালা যাওয়ার সিদ্ধান্ত নিলাম

২৪ তারিখে,

সেখানে কিছু ঘটেছিলো?

তেমন কিছু নাহ,শুধু তর্কবির্তক হয়েছিলো,

তারা শান্ত ছিলো, এবং ২৬ তারিখে মুম্বাইয়ে ফিরে আসি,

এবং তারপরে ২৮ তারিখে এই ঘটনা ঘটে,

হ্যাঁ, কিন্তু আমাদের ট্যুর সাথে এর কী সম্পর্ক?

লোনাভালায় আপনাদের মধ্যে কোনো ঝামেলা হয়েছিলো?

যাইহোক, আমরা সেখানে, যা আলোচনা করেছি তা খুবই ব্যক্তিগত,

আর আমি সেটা একজন পুলিশ অফিসারের কাছে বলার প্রয়োজন বোধ করছি না,

আমি দুঃখিত,

অবশ্যই, আপনার সেই স্বাধীনতা আছে,

ধন্যবাদ,

বাই,

ধন্যবাদ,

হ্যালো,

হ্যালো,

হ্যাঁ,আমার কাছে এপয়েন্টমেন্ট আছে,

আপনি যে নাম্বারের সাথে যোগাযোগ স্থাপন করতে চাচ্ছেন,,,,

হ্যাঁ, মনে পড়ছে, আপনি আসতে পারেন,

আপনি যাকে কল করার চেষ্টা করছেন,,,

আমি কোথায় আসবো সাক্ষাৎ এর জন্য?

,,,সে অন্য একটা কলে ব্যস্ত আছে

২ তলায়, আশা করি আপনি আমার কলেজ চিনেন,

দয়া করে কিছু সময় পর আবার চেষ্টা করুন ,

ঠিক আছে,

নিশ্চয়ই, আপনি আমাকে সেখানে দেখতে পাবেন,

হেই,নিত্যেয়া,

অপরাধ শাখার, মারুতি নাগারগোজি, নামের কোনো ইন্সপেক্টরকে চিনিস,

না,কেন?

সে কিছুক্ষন আগে আমার কাছে এসেছিলো, আবা'র কেসটায় তাঁকে নিযুক্ত করা হয়েছে,

-কী? -হ্যাঁ,

আবা'র কেস ক্রাইম ব্রাঞ্চের কাছে হস্তান্তর করেছে?

-কী? -হ্যাঁ,

আমি জানি না,

সে তোকে কী জিজ্ঞেস করেছে?

সে লোনাভালা ভ্রমণের ব্যাপারে জিজ্ঞাসাবাদ করছিলো,

আশা করি, তুই তাকে কিছুই বলিসনি,

আমি তাকে কিছু মৌলিক তথ্য দিয়েছি,

তুই দিয়েছিস কেন?

সে এই কেস এর সম্পর্কে মোটামুটি অনেক তথ্য জানে

-এটা কীভাবে সম্ভব, -আমি জানি না,

সে হয়তো কোনোজায়গা থেকে তথ্য সংগ্রহ করছে,

সে মনে করছে, আমি তার থেকে অনেক কিছু লুকাচ্ছি,

হ্যাঁ,নিতিন,

বাখতি,তোর সাথে ইন্সপেক্টর নাগাররোজি নামের কেউ দেখা করতে এসেছিলো?

না, কেন?

আবা'র কেসটি ক্রাইম ব্রাঞ্চের কাছে হস্তান্তর করা হয়েছে,

কী?

এক মিনিট,

নিথিন, প্লিজ, আমাকে বল আসলে কী হয়েছে,

আমার খুব চিন্তা হচ্ছে,

আমিও সবকিছু ভালো ভাবে জানি না, আমি এটা খুঁজছি এবং কিছু পেলে জানাবো,

কিন্তু রাহুল যেন জানতে না পারে আমি তোকে কল দিয়েছি,

আমি মিসেস. গোখলের সাথে দেখা করতে চাই,

হ্যালো?

-হ্যালো, - পরে ফোন করছি,

আপনি আমার দিকে এভাবে তাকিয়ে আছেন কেন? আমার মুখে কিছু লেগে আছে নাকি?

না, না,,,,,,কিছুই নেই,,

ভিতরে চলুন, আমি মিসেস গোখলে,

ঠিক আছে, চলুন,

আমার নাম প্রকাশ ভান্ডে,

আমি ফোনে আমার পরিচয় দিয়েছিলাম,

আমি জাজমেন্টাল নামক একটা ম্যাগাজিনের জন্য আর্টিকেল লিখছি,

আজকাল বুড়ো লোকদের পক্ষে লেখালেখি করা একটা ফ্যাশন হয়ে গেছে,

আমি নিশ্চিত যে, তারা সবসময় সঠিক নয়,

নতুন প্রজন্মের মতামতও বিবেচনা করা উচিত,

কেউ তাদের সম্পর্কে চিন্তা করে,

তাই, আমি এ বিষয়ে লিখতে চাই, এজন্য আপনার সাক্ষাৎকার নিতে এসেছি,

তবে আমি কোনো পন্ডিত বা লেখক নই, যে আপনি আমার সাক্ষাৎকার নিবেন,

আমি দৃড় ভাবে বিশ্বাস করি,

মানুষ ঝোকের বসে বই পড়ে,

লাইন গুলো মুখস্ত করে বার বার একই লাইন ব্যবহার করে সবাই মুগ্ধ করে,

সব জঞ্জাল,

তারা সবসময় ধার করা জ্ঞান বক্তৃতা দেয়,

আমি এটার বিরুদ্ধে,

আমি বাস্তব অভিজ্ঞতা অর্জন করা মানুষের সাক্ষাৎকার নিতে পছন্দ করি,

ক্ষমা করবেন, আপনি আমার বাস্তব অভিজ্ঞতা সম্পর্কে কী জানেন?

আমি আপনার স্বামীর সাথে দেখা করে এসেছি কিছুক্ষন আগে, আমরা এই প্রসঙ্গে আলোচনা করছিলাম,

সে তার কিছু ব্যক্তিগত ঘটনাও শেয়ার করলেন, যেমন, আপনি অনেক দেরী করে বাড়িতে ফিরেন,

আবা'র জালাতন,

-প্লিজ, আপনার কলটি ধরুন, -না, সমস্যা নেই,

আবা'র জালাতন সম্পর্কে,

সে আমাকে আপনাদের লোনাভালা ভ্রমণ সম্পর্কেও বলেছে,

আপনি তো দেখি সবই জানেন,

না ,আসলে সবকিছু সম্পর্কে নাহ,

সে বললো,আপনি লোনাভালা ভ্রমণ সমন্ধে বিস্তারিতভাবে বলতে পারবেন,

আমি আপনার নাম্বার আপনার স্বামীর কাছ থেকে পেয়েছি,

চাইলে তাকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন,

না, ঠিক আছে,

আচ্ছা, তারপর,

বলুন,

আপনাদের লোনাভালা ভ্রমণ সম্পর্কে সবকিছু বলুন,

আমার সাথে মুক্ত মনে কথা বলতে পারেন, বলুন

গাড়িটা দিন দিন ধজভাঙ্গা হয়ে যাচ্ছে,

এটাকে বেচে দে,আমাদের দুটো গাড়ির কী দরকার?

আমাদের সবার একটা গাড়ি ব্যবহার করা উচিত?

সমস্যা কোথায়?

যখন স্বামী এবং স্ত্রী দুজনেই গাড়ি চালাতে পারে,

তখন একটা গাড়ি ভাগাভাগি করে চালানো, অনেক সমস্যার সৃষ্টি করে,

সে সমস্যা গুলো কী, শুনি?

যখন আমি চালাবো, তখন তাকে আমার বক্তৃতা শুনতে হবে,

এবং যখন সে চালাবে, আমাকে তার বক্তৃতা শুনতে হবে,

আমি এগুলো সহ্য করতে পারবো না,

একবারও চিন্তা না করেই তুমি তাকে বিয়ে করে ফেলেছ,

এখন তোমার জীবন সম্পর্কে সর্তক হতে হবে,

রাহুল, চলো আমরা আর একটা নতুন গাড়ি কিনি,

আরে বাপরে,

এর মানে তুমি আরও একটা লোন গাড়ে বাজাতে চাও,

আমরা বৃদ্ধ হতে চলছি, আমরা যদি সিন্ধান্ত নেই টাকা বাচিয়ে একটা গাড়ি কেনার,

তাহলে সেই সময়ে, গাড়ি কেনার থেকে এম্বুলেন্স কেনা জরুরি হয়ে পড়বে,

গাড়ী কেনাটা কোনো সমস্যা নয়,

কিন্তু তোমার পরিবার চালাবে কী করে,

তোমার কী মনে হয় না, তোমার সংসারের জন্য কিছু পরিমাণ টাকা সঞ্চয় করা উচিত?

যখন কোনো জরুরী চিকিৎসার প্রয়োজন হবে তখন কীভাবে তার সম্মুখীন হবে?

তাই বলে,এখন একটা রোগীর মতো জীবন যাপন করা অর্থহীন,

তাও আবার অদেখা জরুরী অবস্থার সর্ম্পকে চিন্তা করে!

তোমাদের প্রজন্মের এই একটাই সমস্যা,

এমন হাকডাক করো, যেন কোনো আগামীকাল নেই,

এবং তোমাদের প্রজন্মের সবাই চিন্তা করে তারা অমর,

আমরা আগামীকাল সম্পর্কে চিন্তা করি না, এবং তোমরা এগুলো দেখে হিংসা করো,

না,আমাদের হিংসা হয় না, আমাদের রাগ হয়,

সমর্থন করতে এই ধরনের জীবনযাপন,

বাহিরে কাজ করে এবং রাতে অনেক দেরীতে করে বাসায় আসে,

আবা,আমি শুধু টাকার জন্য কাজ করি না,

-ওহ,তাই নাকি? -হ্যাঁ,

-ওয়াও, -এটা আমার ব্যক্তিগত পছন্দ,

আপনি দয়া করে, এটি দুরে থেকে থাকুন,

প্লিজ, আমার পেশাগত জীবন সম্পর্কে কোনো মন্তব্য করবেন না,

আমি চাকরি করলে তার সমস্যাটা কোথায়, আমি তা আজও বুঝলাম না,

হুমম,

-আমি গণিতে স্বর্ণপদক প্রাপ্ত, -ওয়াও!

সে কখনো এটার মুল্য দেয়নি,

সে চায় আমি বাসায় বসে থাকি,

খাবার রান্না করি এবং তাকে গরম গরম খাওয়াই,

সে জানে, আমি ভালো ভাবে রান্না করতে পারি না,

তারপরও কেন সে আমাকে দিয়ে রান্না করাতে চায়?

কেন?

কারন এটা তাকে, বন্ধুদের সামনে বড়াই করার সুযোগ দেয়,

যে তার বউমা তার নিয়ন্ত্রণের মধ্যে আছে,

এবং সে বিরক্তবোধ করে, আমি আমার মনের কথা বললে,

-হেই, গাড়ি থামা, -কী,

আমি বলছি, গাড়া থামা,

-থামাচ্ছি -থামাচ্ছি

তুমি তার সাথে তর্ক করতে কেন গেলে?

নিত্যেয়া, তারা গন্তব্যে পৌঁছানো পযন্তও অপেক্ষা করতে পারেনি,

তারা ইতিমধ্যে শুরু করে দিয়েছে,

তারা টম এন্ড জেরী , মতো অবিরাম তর্ক করে চলেছে,

বয়সের সাথে, স্বাস্থের অবনতি হতে পারে,

কিন্তু লড়াই করার ক্ষমতা কোনোদিন কমবে না,

কী?

আমি,

তুই একটা সত্যিই বদমাশ, এগুলোর মধ্যে হস্তক্ষেপ করার মতো সাহস আমার নেই,

তুই জানো, একটা পরিবার কখন সুখী হয়,

কেবল যদি,ছেলেটা বোকার মতো বসে থাকে এবং তার কোনো আত্মসম্মান না থাকে,

একটি কর্তব্যপরায়ন ছেলে এবং প্রেমময় স্বামী দুটোই পরস্পর বিরোধী,

যাইহোক, আমি তোকে পরে কল করছি,

আমাকে এখন টম এন্ড জেরীর পরবর্তী পর্ব দেখতে হবে,

বাই,

কৃপণস্বভাব বাদ দাও,,,,,,,

-তুমি কী চুক্তি করতে চাও? -আটটা লাভ কার্ড,

আমার আটটা লাভ কার্ড লাগবে না,

-আমার শুধু একটা ভালো কার্ড দরকার, -ওহ, তাই?

সারপ্রাইজ!

তুমি সবসময় জোকার কার্ড কীভাবে পাও?

-রাহুল, -বাখতি, কফি, প্লিজ,

আবা, কফি?

ব্যাপার কি?

আপনি হাসছেন,

আমি কী জোকস টা মিস করে ফেলেছি?

না, কিছুই না,

-এবার আমার পালা? -চালিয়ে যাও,বলুন,

আমি হতে পারি বয়স্ক এবং ক্ষয়প্রাপ্ত.....

তার মানে এটা নয়, আমার অতীত বিরক্তিকর ছিলো,

অতীতের কিছু মনে পড়লে আমি মুখ চাপিয়ে হাসি,

হাসার কোনো সীমাবদ্ধতা আছে?

-না,না, আপনি চালিয়ে যান, -আশা করি, তুমি কিছু মনে করবে না,

অবশ্যই,কোনো সমস্যা নেই, তুমি কালকে সকালে তারাতাড়ি ঘুম থেকে উঠবে,

কেন?

আরে, আমরা দর্শনীয় স্থানসমূহ দেখতে যাবো,

হেই, আমরা দুপুরের পর যাই,

আমি সকালে তারাতাড়ি উঠতে পারবো না,

আমরা এখানে রিল্যাক্স এর জন্য এসেছি,

তুমি আজকে সারাদিন রিল্যাক্স করো নি?

রিল্যাক্স করার জন্য বাসা যথেষ্ট ছিলো, এতদূর আসার কী প্রয়োজন ছিলো,

সে কী বাসায় বসে রিল্যাক্স করতে করতে পারতো?

আপনি কী বোঝাতে চাইছেন?

বাসার সব টুকিটাকি কাজ তো সেই করে,

চা বানায়, ডিম বাজে,

কাপড়চোপড় লন্ডির দোকানে দেয় এবং মুদিদোকানের টাকা দেয়,

আমি কী সঠিক?

আরে, বল

-আরে, তুমি খেলো, -বল!

তার, পাসওয়ার্ড লাগবে কথা বলতে হলে?

সে তোমাকে ভয় পায়, তাই তোমার উপস্থিতিতে সে কথা বলবে না,

শুধু আবা নয়,

সব বাপেরা এখন মনে করে,

তার ছেলে একজন দাজ্জাল মহিলাকে বিবাহ করেছে,

এবং সেই মহিলা তার অবুঝ বালককে চুষে খেয়ে ফেলবে,

- আপনি কী এখানে আবাকে উল্লেখ করতে চাইছেন? -হ্যাঁ,

আমি এটা প্রমাণ করতে পারবো,

ওয়াও!

বাখতি,আজ, তুমি পারফেক্ট কফি তৈরি করতে পেরেছো,

-আবা, -হ্যাঁ,

রাহুল যখন ছোট ছিল, তখন সে ঘরের কাজকর্ম করতো?

কখনোই না,

আমি তাকে ১০০ বার বললেও করতো না,

আমি তাকে ধমক দিতাম এবং মারতামও,

ঘরের কাজ তো দুরের কথা, সে কোনো কাজই করতো না,

তাই নাকি?

তাহলে,সে এখন ঘরের কাজ করলে, আপনার সমস্যা কোথায়?

-বাখতি, প্লিজ তুমি থামো? -কাম অন,

আমরা শুধু এটা নিয়ে আলোচনা করছি,

আমার মনে আছে, আমাদের বিবাহের পর থেকে,

তুমি বাসার কাজকর্মে, আমাকে সাহায্য করতে শুরু করেছ,

আমি নিশ্চিত সে অবশ্যই বুঝতে পেরেছে আমি কিছু একটা অর্জন করার চেষ্টা করছি,

যা সে কখনোই পারেনি,

সে অবশ্যই পরাজিত বোধ করছে,

সম্ভবত, এটাই আপনার হিংসার কারণ হতে পারে,

যদি, একটি ছেলে তার মা-বাবার কথা মতো চলে তাহলে সে কর্তব্যপরায়ন ছেলে,

এবং যদি সে তার স্ত্রীর কথা শুনে তাহল সে হেনডেক,

আমি তোমাকে কখনো ঈর্ষা করিনি,

আমার তো তোমাদের দেখে লজ্জা হয়,

তুমি কাজ করো এবং সে সবসময় ব্যস্ত থাকে,

বেচারা নিশুর জন্য তোমাদের কাছে কোনো সময়ই নেই,

কিন্তু তুমি তো সবসময় তার জন্য আছো,

হ্যাঁ,অবশ্যই,কিন্তু তোমার স্ত্রী একটা সমস্যা আছে,

নিশু সবসময় আমার সাথে থাকবে,

আমার সাথে বেশি সময় কাটাবে, এটা তোর বউয়ের পছন্দ হয় না,

এজন্যই,তো সে তাকে হোস্টেলে পাঠিয়ে দিয়েছে,

প্রথমে সে আমার ছেলেকে কেড়ে নিলো,

এবং তারপর আমার থেকে আমার নাতিকেও কেড়ে নিলো,

তোমরা আবার শুরু করেছ,

বাখতি...

আবা'র দৃষ্টিকোন আমাকে একেবারে অস্থির করে তুলতো,

আমি যদি, আমার ছেলেকে বোডিং স্কুলে না পাঠাতাম,

আবা আমার ছেলেরও মগজধোলাই করে দিতো,

সে আমার ছেলেকে আমার বিরুদ্ধে উস্কে দিতো

ঠিক আছে,

আপনার স্বামীর এ বিষয়ে কী মতামত ছিল?

রাহুলের মতামত.....

অবশ্যই এটা ছিলো.......

তারপর সেখানে.......

আমি খুবই দুঃখিত,

আবা সেখান থেকে চলে যান,

-ঠিক আছে, -এবং তারপর.....

আমি তখন মিসেস ভাগওয়াতের বোনের মৃত্যুর খবর পাই,

কে?

মিসেস ভাগওয়াত, প্রফেসর ভাগওয়াত,আমার কলিগ,

তার বোন এর মৃত্যু হয়েছে, এটা আমাকে কল দিয়ে জানায়,

এবং এরপর, বাকী সবাইকে আমি কল দিয়ে জানাই,

আমি পরের দিন সেখানে চলে যাই,

রাহুল ও আবা একদিন থেকে ফিরে আসেন,

ফিরে আসার পর, কোনো কিছু আলোচনা করার মতো সময়ই পেলাম নাহ,

এবং এই দুর্ভাগ্যজনক ঘটনা ঘটে,

-প্রফেসর ভাগওয়াত, রাইট? -হ্যাঁ,

তার বোন,

হুমম

এগুলো আমার কোনো কাজে আসবে না,

কিন্তু কৌতুহল বশত জানতে চাচ্ছি,

ওই দিন ঠিক কী ঘটেছিলো?

ঐ অভিশপ্ত রাতে, মানে ২৮ তারিখে

রাহুল এবং আমি ডিনার করে দেরী করে বাড়ি ফিরেছিলাম,

আগের মতোই, আবা মধ্যপানে ব্যস্ত ছিলো ,

আমি তাঁকে ইনসুলিন সট দিতে গিয়েছিলাম,

আবা?

-আবা -হ্যাঁ

হুমম,

আমাদের মধ্যে ঝামেলা থাকলেও আমি তাকে ইনসুলিন সট দিয়ে দিতাম,

আবা,

আবা,

মৌসুমি বায়ু মুম্বাইয়ের জনগণের ভোগান্তি বাড়িয়ে দিচ্ছে ,,,

সাউন্ড বাড়াও তো,

-আবা ঘুমাচ্ছে, -ওহ,

কী সমস্যা?

এতো রাতে নিরাপত্তা কর্মী হুইসেল কেন বাজাচ্ছে সেটা দেখতে

আমরা লিভিং রুম থেকে বেলকনিতে যাই,

রাহুল!

আবা?

এটা একদম পরিষ্কার, ঐ সময় হয়তো আবা ভারসাম্য হারিয়ে ফেলেছিলো,

আবা অবশ্যই উপরে উঠার চেষ্টা করছিলো,

এবং রেলিং ভেঙ্গে যাওয়ার কারণেই, সে এক্সিডেন্টলি নিচে পড়ে যায়

সেই বিদারক হুিসেলের শব্দ এবং আবা'র নিচে পড়ে থাকা নিস্তেজ শরীর.....

আমাকে ভীষণ ভয় পাইয়ে দিয়েছিলো, আমি এখনো মাঝে মাঝে ঘুমের মধ্যে চমকে উঠি,,,

হ্যাঁ,এটা স্বাভাবিক,,,,

আপনি বর্ণিত ঘটনার লাইন অনুযায়ী,

এটা স্পষ্ট আপনি মিথ্যা কথা বলছেন?

আপনি এভাবে কেন চিন্তা করছেন?

আপনি একটু আগে বললেন, আবা'র রুম লক করা ছিলো,

হ্যাঁ,

আপনার এটা সুস্পষ্ট করে বলা উচিত ,তাই না?

আমি নিশ্চিত....

সেদিন রাতে কী ঘটেছিলো, সেটা ম্যাগাজিনে লেখা হবে না, সমস্যা নেই,

আমি আপনাকে ম্যাগাজিনের এক কপি পাঠিয়ে দিব,ঠিক আছে?

ধন্যবাদ,

হাই,

ভিথা?

এক কাপ চা বানাও তো, মালাই দিয়ে,

তুমি আমার কল ধরলে না কেন?

আমি মি.প্রকাশ ভান্ডের সাথে কথা বলায় ব্যস্ত ছিলাম,

কে?

একজন সম্পাদক " জাজমেন্টাল" ম্যাগাজিন, এর

তুমি যাকে পাঠিয়েছিলে আমার সাথে দেখা করতে,

আমি তো এই নামের কোনো ব্যাক্তিকে পাঠাইনি,

প্রকাশ ভান্ডে দেখতে কেমন ছিলো?

তুমি এখন জিজ্ঞেস করছো যে,

সে দেখত একদম আবা'র মতো, আবা'র চেয়ে ছোট এবং ফিল্টার ভার্সন

সে তোমাকে বোকা বানিয়েছে,সে কোনো সাংবাদিক নয়,

সে হলো ইন্সপেক্টর মারুতি নাগারগোজি,

সে তোমাকে কী জিজ্ঞেস করছিলো?

-সে আমাকে লোনাভালা ভ্রমণের ব্যাপারে জিজ্ঞেস করেছে, -তুমি তাকে সবকিছু বলে দিয়েছ?

সব না, কিন্তু,,,,,

মানে?

প্লিজ, আমাকে বলো তোমরা দুজন কী নিয়ে আলোচনা করেছ,

- এসব কী হচ্ছে , রাহুল? -তুমি নিথিন এর সাথে কথা বলেছিলে?

-না -কী?

-রাহুল, কী সমস্যা ? - এক মিনিট, প্লিজ,

আমাকে নিথিন এর সাথে কথা বলতে দাও,

হ্যালো,নিত্যেয়া,

একটা সমস্যায় পড়েছি......

আমি দেখছি,

নিত্যেয়া,ইন্সপেক্টর নাগারগোজি,,,,,,

পরে কল করছি,

বাখতি,,,

দেখো,কে এসেছে,

প্রকাশ,,,,,,,,,, ভান্ডে!

আপনি কেমন আছেন?

আমি ভালো আছি,

এক মিনিট,,

তুমি তাকে চেনো?

হ্যাঁ!

সে টাটা নাগারগোজির ছেলে,

আমরা এক গ্রামে বাস করতাম,

কী?

আমি অনুমান করছি আপনি বুঝতে পেরেছেন, -আমি কে,

আমি এখন সময় অপচয় করতে চাই না,

তাই বলে ফেলুন, আপনি তখন মিথ্যে বলেছিলেন কেন?

আমি কোন বিষয়ে মিথ্যে বলেছি?

আপনি বলেছিলেন প্রফেসর ভাগওয়াত এর বোন মারা গেছে,

অতঃপর, আপনি ভ্রমণ বাদ দিয়ে সেখানে গিয়েছিলেন,

কিন্তু প্রফেসর ভাগওয়াত এর কোনো বোন নেই,

এবং আমি এটা কনসিডার করলাম,

আপনাকে সবকিছু বলার মতো, প্রয়োজনীয়তা আমি দেখছি না

যাইহোক,

অবশ্যই, আপনার সেই স্বাধীনতা আছে,

এক মিনিট,

আপনি বলেছিলেন, ম্যাগাজিনের আর্টিকেল এর জন্য তথ্য সংগ্রহ করছেন,

তাই, আমি মিথ্যে কথা বলছেি,

আপনি যদি আপনার সত্য পরিচয় দিতেন,

আমিও আপনাকে সব সত্য তথ্য দিতাম,

-বাখতি,সে চলে যাচ্ছে, -ঠিক আছে,

আমরা তো কোনো অপরাধ করিনি,

তাহলে, আমরা তাকে কেন ভয় পাবো?

লোক মুখে শোনা কথা দিয়ে যুক্তি সাজাচ্ছে,

আমাদের সাক্ষ্য রেকর্ড করতে দেওয়া উচিত,

খুব জানার ইচ্ছা, তাই না?

আমি আপনাকে সবকিছু বলবো,

আপনি যেভাবে বোঝেন ঠিক সেইভাবে,

২৪ তারিখ, সেই রাতে,

আবা'র সাথে আমার তর্ক হয়েছিলো, এবং শেষ হওয়ার পর সে উঠে চলে গিয়ছিলো,,

বাদ দাও, বাখতি,

তুমি কেন আবার সেই ঘটনার প্রসঙ্গ টেনে আছো,?

একটি পরিবারের মধ্যে সবার মনমানসিকতা এক রকম হয় না,

আবা, এগুলো উদ্দেশ্যমূলক ভাবে করেছে, এবং তুমি তার উদ্দেশ্য কখনোই বুঝবে না,

সে সবসময় মানসিকভাবে অস্থির ছিলো, আর তুমি মনে করো এটা সে উদ্দেশ্য নিয়ে করেছে,

আপনি কখনো আপনার ছেলের সাথে এভাবে ব্যবহার করেছেন?

প্লিজ, প্রসঙ্গ বদলাবে না,

আপনি কী এখনো বিশ্বাস করেন, আবা এসব কিছু বিশেষ উদ্দেশ্যে করেছে?

হ্যাঁ,অবশ্যই,

এবং এই পরিস্থিতির জন্য আমি নিজেকে দোষ দিবো,

প্রতিটি মেয়ে চায় তার শশুর-শাশুরি, তার সম্পর্কে অন্তরে ভালো ধারণা পোষণ করে রাখুক

কিন্তু কয়েক পর বছর থেকে,

আমি তার নজরে আস্তে আস্তে খারাপ হতে লাগলাম,

প্রথমে আমাদের মধ্যে একটা সুন্দর সম্পর্ক ছিলো,

এটা সত্যি, তারা এতোটা ঘনিষ্ঠ ছিলো যে, তখন আমি নিজেকে একাকী অনুভব করতাম,

ঠিক,

পরে, আমি আর আমাদের এই সুসর্ম্পক ধরে রাখতে পারেনি

একলা চললেই

সবাই গান্ধী হতে পারে না,

হ্যাঁ

আমি প্রথমে অনুভব করেনি,

কিন্তু যখন আমি বুঝতে পারলাম, আমার প্রতি তার আচরণ বদলাচ্ছে,

তখন আমি আমার মতো জীবনযাপন শুরু করলাম, যেভাবে আমি চাইতাম,

আবা এগুলো সহ্য করতে পারতো না এবং সে আমার বিরুদ্ধে রাহুলের কাছে অভিযোগ করতে থাকে,

এবং সেও আরও গন্ডগোল করা শুরু করে,

আমি কী করেছিলাম?

আমি কখনো তোমাদের ঝগড়ার মধ্যে হস্তক্ষেপ করিনি,

এটাই তো ছিলো সমস্যা,

তোমার এই জাতীয় আচরণের কারণে, একটা পরিবারের মধ্যে গোলমাল এর সৃষ্টি হয়,

এবং আমি তাকে এই পরিস্থিতির জন্য দায়ী করছি, আমাদের সমীকরণগুলি বাস্তবে পরিণত হচ্ছিলো,

সমকোনী ত্রিভুজের তত্ত্বটি,

সমকোণী ত্রিভুজ?

একটু পরীক্ষামূলক ভাবে বুঝিয়ে বলবেন?

-মানে, - মানে, আমি বলতে চাচ্ছি,,,

আপনি,,,

আমি কী ওটা পেতে পারি?

নিশ্চয়ই, এই নিন,

ধন্যবাদ

এটা হলো একটা সমকোণী ত্রিভুজ,

আচ্ছা,

ধরুন, এটা হলো আবা,,,,

-এবং এই হলো রাহুল এবং এটা আমি -হুমম

সমকোণী ত্রিভুজটির মধ্যে,

"কর্ন "এই বাহুটি অন্য দুই বাহু থেকে বড়,

-ওহ,তাই নাকি? -হ্যাঁ

ভালো,

এটি উপলব্ধি করার পর, আবা অদ্ভুত আচরণ শুরু করলেন,

ঠিক আছে

এইভাবে, আবা এবং রাহুলের মধ্যের দুরত্ব অটুট রইলো,

এবং আমার এবং রাহুলের জন্য একই দুরত্ব,

একই ছিল!

আবা এবং আমি চলে যেতে শুরু করলাম

আমি দেখছি

এই পথে

- এবং এইভাবে একটি দীর্ঘ কর্ণ তৈরি হলো, -ঠিক আছে,

-ঠিক আছে, - কর্ন যখন বড় হচ্ছে

সমস্যাগুলোও বাড়তে বাধ্য

এটা মহাভারতে লেখা আছে,

হ্যাঁ

কিন্তু আবা'র আচরণ,,,,,,

তিনি ঠিক কী ধরনের ষড়যন্ত্র করছিলেন?

আমরাদেরকে আলাদা করার জন্য,

তার সামনে দুটো পথ খোলা ছিলো,

যেমন?

আমার এবং রাহুলের সম্পর্কের মাঝে ফাটল ধরানো,

এজন্য সে প্রতিনিয়ত আমাকে রাহুলের সামনে বাজে ভাবে উপস্থাপন করতো,

দ্বিতীয়ত, সে নিশুকে ছাড়া কতটা নিংসঙ্গ সেটা প্রকাশ করতো,

এটা করে সে রাহুলের মনে নিজের জন্য সহানুভূতি জাগাতে চেষ্টা করতো,

আমার মনে হয় না, আবা এত নিচুস্তরে ঝুঁকবে

তারও একই মতামত ছিলো,

বাখতি, তোমার সমকোনী ত্রিভুজের তত্ত্ব

হয়তো যুক্তিযুক্ত,

তবে,আবা তোমার অনুমান করা চরিত্রের মতো নয়,

আমি যেভাবে ব্যাখ্যা করেছি আবা ঠিক ঐরকমই, আমি তাঁকে খুব ভালো ভাবে জানি

আমি যা বলছি সেটা যদি তুমি ঠিক ভাবে করতে করো,

আমি নিশ্চিত, সে নিজেই তোমাকে তার আসল রূপ দেখাবে,

তো, তুমি আমাকে দিয়ে কী করাতে চাচ্ছো?

আমি কিছু একটা অজুহাত তৈরি করে, আবার মুম্বাই ফিরে যাবো,

কিন্তু কেন?

রাতে, তুমি তার সাথে মদ্যপান করবে,

কয়েক পেগ খাওয়ার পর, সে নিজে থেকেই সব কিছু স্বীকার করবে,

সুতরাং, তুমি চাও, আমি আমার বাবাকে মাতাল করি,

প্রমাণ পেতে, তুমি এগুলো করতে পরামর্শ দিচ্ছো?

তোমাকে কোনো কিছু করতে হবে না,

শুধু তার কথা গুলো শুনবে,

তুমি এক পেগ খাওয়ার পরই, সে তৎক্ষনাৎ আমার বিষয়ে কথা বলতে শুরু করবে না

সম্ভবত দ্বিতীয় পেগ খাওয়ার পরি,

তিনি একটি সাধারণ গল্প দিয়ে শুরু করবেন, কীভাবে মহিলারা খুব বিপজ্জনক হয়,

এবং সে আস্তে আস্তে প্রসঙ্গটি আমার দিকে টেনে আনবে,

সে বলা শুরু করবে, আমি কত নিষ্ঠুর, এবং কীভাবে তোমাদের উপর নির্যাতন করি,

সে তোমার সহানুভূতি পেতে চেষ্টা করবে,

এবং সে যদি একবার তোমার বিশ্বাস অর্জন করতে পারে,

সে বলবে, আমি তোমাকে কীভাবে আমার বুদ্ধি দিয়ে পরিচালনা করছি,

এভাবে সে আমাদের মধ্যে ফাটল তৈরি করার চেষ্টা করবে

সতর্ক থেকো,

যখন সে আমার সম্পর্কে বাজে মন্তব্য করবে, তখন সে এটাও বলবে যে,

আমার মন খুব ভালো,

সে এগুলো কেন বলবে?

কারণ

সে আমার সম্পর্কে খারাপ মন্তব্য করার পাশাপাশি কিছু প্রসংশাও করবে,

শুধুমাত্র তোমাকে বিশ্বাস করানোর জন্য,

কারণ, সে একজন যুক্তীবাদী চিন্তাবীদ,

হুমম

তুমি কী সত্যিই বিশ্বাস করো এটা কাজ করবে ?

হ্যাঁ

তবে, খেয়াল রেখো,

সে যদি ইমোশোনাল হয়ে পড়ে, তুমিও আবার তার সাথে ইমোশনাল না হয়ে যাও,

সে টেলিভিশনে প্রোগ্রাম দেখার সময়ও চোখের পানি আসে,

অথচ, সে এগুলো দেখে কেবল খাঁটি বিনোদনের জন্য,

সে যেভাবে চায়, তুমি যদি তার সাথে সেভাবে আচরণ করো,

তার চোখের পানি মধ্যাকর্ষন বল অমান্য করে, চোখর আশেপাশে অশ্রুর কুন্ডলী পাকিয়ে ফেলবে

ওয়াও

কিন্তু, আমাকে বিশ্বাস করো এটা কাজ করবে না,

রাহুল, আমার পরিকল্পনা যদি ব্যর্থ হয়,

আমি প্রতিজ্ঞা করছি, আমি তোমার কাছে তোমার বাবার বিরুদ্ধে অভিযোগ করা বন্ধ করে দেব,

তো?

আপনি তার পরামর্শ অনুযায়ী সবকিছু করেছিলেন?

না,

সে যথেষ্ট পরিমাণ বুদ্ধিমান পরিস্থিতি এড়াতে,

এক মিনিট

আমি তাকে বলছি,,,,,

আবা'র দৃষ্টিভঙ্গি আমাদের সম্পর্কের উপর কোনো প্রভাব ফেলতে যাচ্ছিলো না,

-যখন আমি তোমার উপর পুরোপুরি বিশ্বাস,,,,, - ইট'স অল রাবিশ

আমি তোমাকে সবকিছু প্রথম থেকে বলছি,

আমার সম্পর্কে আবা'র অভিযোগ বাড়তে থাকলেও

সে একা থাকার কারণে তার প্রতি সহানুভূতি প্রকাশ করতে থাকলো

এবং আমাকে তার আচরণের সাথে সামঞ্জস্য করতে বললো,

এবং আমি এটা করতে চাইতাম না

কারন, আমি আবা'র উদ্দেশ্য সফল হতে দিতে চাইতাম না,

এভাবে চলতে থাকলে,

স্বাভাবিক ভাবেই তুমি আমার প্রতি বিরক্ত হয়ে যাবে এবং এটা তোমার আচরণ দেখা যাবে,

অবশেষে, তোমার অসন্তোষ এবং আবা'র আচরণ,

আমাকে এই বাসা ছেড়ে চলে যেতে হতে বাধ্য করবে,

তুমি আমাকে যেতে বাঁধা দিবে,

তবে, শেষ পর্যন্ত তুমি আমাকে অনুসরণ করবে,

এটা কাউকে সাহায্য করবে না,

পরিস্থিতি বিবেচনায়,

ততক্ষণে তুমি এবং নিশু আমাকে ঘৃণা করতে শুরু করবে,

এভাবে একজনের প্রতি একজনের ঘৃণা বাড়তে থাকবে, এবং এটা আমাদের সম্পর্কের ইতি টানবে,

এবং আমি তোমাকে সতর্ক করছি, আমি এটা হতে দেব না,

আমি যেকোনো সীমা অতিক্রম করতে পারবো, আমার পরিবারকে একসাথে রাখতে,

হুম

তো,কী সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, স্যার?

আমি বাখতিকে খুব স্পষ্ট করে বলেছি, সে যেভাবে প্রত্যাশা করে, আমি আবা'র সেভাবে আচরণ করতে পারবো না,

এজন্য আমি বিরক্ত হয়ে গিয়েছিলাম এবং ২৫ তারিখে একা বাসায় ফিরে আসলাম,

এবং আমি আপনাকে আমার ব্যক্তিগত গল্প বলতে প্রয়োজনীয়তা বোধ করেনি,

তাই আমি আপনাকে প্রফেসর, ভাগওয়াত এর বোন সম্পর্কে মিথ্যা বলেছিলাম,

-বুঝতে পেরেছেন?

-হ্যাঁ,আমি পেরেছি, -ঠিক আছে

তারপরে কী ঘটেছিলো?

পরের দিন সকালে, তারা দুজনেই ফিরে আসলো

আর ২৮ তারিখের ঘটনা সম্পর্কে তো আগেই বলেছি,

না,

মানে, আপনি লোনাভালা থেকে বাসায় ফিরে আসার পর,

তারপর কী ঘটেছিলো?

কিছুই ঘটেনি,

ফিরে আসার পর দুজনেই এই প্রসঙ্গটা নিয়ে চুপ করে রইলাম

তাই,আমিও আর ঐ প্রসঙ্গটাকে উঠাতে চাই নি

কাউকে না কাউকে তো পিছিয়ে যেতে হবে, তাই না?

হ্যাঁ, বোধশক্তি খুব ভালো ,,,,,

এক মিনিট, এক মিনিট

এগুলোর সাথে এখানে ঘটা ঘটনার সাথে কী সম্পর্ক,

স্যার, আপনি কিভাবে সম্পর্কটি দেখতে পাচ্ছেন না?

আপনি কি আমাদের ইঙ্গিত করছেন আবা'র দুর্ঘটনার জন্য আমরা দায়ী?

অবশ্যই, না

তবে আপনি তার এই আত্মাহত্যার চেষ্টার জন্য দায়ী

-কী? -আপনি কী পাগল হয়ে গেছেন?

হ্যাঁ,আমি মাঝে মাঝে পাগলের মতো আচরণ করি,

আমরা আপনার কথা শুনছি, কিন্তু এর মানে এই নয় আপনি যা বলবেন সব মেনে নিতে হবে,

স্যার, প্লিজ, কাউকে অভিযুক্ত করার আগে একবার চিন্তা করে দেখুন,

বাখতি,থামো,আর একটা শব্দও উচ্চারণ করতে না,

তাকে আদালতে বসে দেখে নেব,

সেখানে বসে দেখা যাবে, কে আপনার এই মুখের কথা বিশ্বাস করে,

আদালতে গ্রহণযোগ্য, প্রমাণ আছে আমার কাছে

খুব ভালো করে শুনুন

২৮ তারিখ রাতে ,

আপনারা দুজনেই দেরী করে বাসায় ফিরেছিলেন

কিছু ভুল বললে দয়া করে সংশোধন করে দিবেন ,

একটা মানুষের ক্ষেত্রে এটা স্বাভাবিক ,

আপনি দরজা খুললেন,

ভিতরে ডুকলেন

এবং নিয়মিত স্থানে চাবিগুলো রাখলেন ,

যখন আপনি রুমের দিকে যাচ্ছিলেন,

আপনি দেখলেন আবা তার বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে ,

এবং সে নিজের খেয়ালে ডুবে ছিলো

স্যার, এরপরে আপনি আপনার নিজের রুমে চলে যান,

প্রতিদিনকার মতোই,

ম্যাম,আপনি আবাকে ইনসুলিন এর ডোস দিতে গেলেন,

আবা,

ইনসুলিন দেওয়ার পরে,

আপনি চলে গেলেন ,

কিছু সময় পর,

স্যার, আপনি তার রুমে আসলেন, তাকে দেখতে না পেয়ে,

বেলকনির দিকে গেলেন ,

আপনি তার কাঁধে হাত রাখলেন,

ভাবলেন তিনি ঘুমিয়ে পড়েছে ,

আপনি চলে আসলেন এবং দরজা আটকে দিলেন ,

এতোক্ষণ সবকিছু পারফেক্ট ছিলো, তাই না?

আসুন এবার সামনের দিকে যাওয়া যাক,

আপনি চলে আসার পর ,

আবা তার রুমে প্রবেশ করলেন,

এবং ১০.৪০ মিনিটে,

সে তার বন্ধু ,মি,খারকানিশকে কল দিলেন,

মুম্বাই ভারী বৃষ্টিপাতের কবলে পড়েছে ,,,

প্লিজ, সাউন্ড বাড়াও,

আবা ঘুমাচ্ছে,

ওহ,

দাদার রাস্তাটি প্লাবিত হয়ে গেছে ,,,

আবা বুঝতে পেরেছিলো,,,,,,

তার বেঁচে থাকা অনর্থক

আপনি পুলিশ না হয়ে, গল্প লেখক হলে অনেক টাকা ইনকাম করতে পারতেন,

না,আমি পুলিশ হিসেবে আরও ভাল,

আমার কাছে প্রমাণ আছে,

আমি আপনাকে আগেই বলেছিলাম,

আবা'র বন্ধু, মিঃ, কারখানিস, এই সমাজের বাসিন্দা,

সে একজন প্রধান সাক্ষী,

যেমনটা আমি আগেই বলেছিলাম, ২৮ তারিখ রাতে,

১০.৪০ মিনিটে, আবা মি.খারকানিসকে কল দিয়েছিলো

সে তাকে সবকিছু বলেছে, লোনভালায় কী কী ঘটেছিলো,

সে তাকে বলেছিলো, সে এভাবে আর বেঁচে থাকতে চায় না

স্যার, বৃদ্ধ লোকেরা প্রায়শই মারা যাওয়ার ইচ্ছা প্রকাশ করে

এখানে কারখানিস এর বিষয়টা লক্ষ্য করার মতো,

আবা পুরোপুরি হুঁশে ছিলো,,,,,

আবা মাতাল ছিলো না?

আবা মদ্যপান করার পরও সাবলীলভাবে কথা বলতে পারতেন,

তবে, সে প্রায়শই ভারসাম্য হারিয়ে ফেলতেন,

কিন্তু সে কারখানিসের নাম্বার পুরোপুরি ডায়াল করতে পেরেছিলো,

কিছু কিছু জিনিস আছে,

যা একজন ব্যক্তি মদ্যপ অবস্থায় থাকলেও খুব ভালো ভাবে করতে পারে,

আপনি তো সেটা আরও ভালো করে জানেন, স্যার

সত্যি

-এটা সঠিক,

সুতরাং আপনার মতে, তিনি সবকিছু সঠিকভাবে করতে পেরেছিলেন,

শুধু মাত্র যখন সে রেলিং পাশে গেল, সে মুহূর্তের মধ্যেই হতবুদ্ধি হয়ে গেলো,

এবং সে তার ভারসাম্য হারালো! আমি কী সঠিক?

স্যার, এক মিনিট,

আপনি ভুল বুঝছেন,

আমি কখনোই এটা বলেনি যে, সে মদ্যপানের কারণে নিচে পড়ে যায়,

তবে, সম্ভবত এটা হতে পারে,

এক মিনিট,

এটা হলো আবা'র রক্ত পরীক্ষার রিপোর্ট,

তার রক্তে অ্যালকোহেলের পরিমাণ খুবই নুন্যতম,

মাত্র ১ % ,

পরীক্ষাটি কখন করা হয়েছিলো?

তাকে হাসপাতালে ভর্তি করার, কিছু সময় পরে,

রিপোর্ট অনুযায়ী, তিনি অবশ্যই শুধু একটি পেগ বা তার চেয়ে কিছু পরিমাণ,

এখন কী বলবেন,

আবা পুরোপুরি মাতাল ছিল?

ঠিক আছে,

এই হলো ফরেনসিক রিপোর্ট,

ম্যাম,প্লিজ একবার দেখুন,

টুলে উপর তার পায়ের ছাপ পাওয়া গেছে,

আবা বেলকনিতে এসে টুলের উপর দাঁড়িয়ে থাকার মতো পাগল মানুষ ছিলো না,

তাও, আবার কোনো কারণ ছাড়াই,

বিরক্ত হবেন না,

খেলা তো এবার শুরু হতে চলেছে,

আবা,র এই স্থানে পড়ার কথা ছিলো,

যদি সে ওখান থেকে পড়ে যেতেন,

একটা সমকোণী ত্রিভুজের গঠনের মতো,

ঠিক?

এর মানে কর্ণ ছোট হওয়ার কথা ছিলো,

কিন্তু দুঃখজনকভাবে, সে ওখান থেকে লাফ দিলো,

তাই, সে এই স্থানে পড়লো,

এবং নতুন একটা সমকোণী ত্রিভুজ তৈরি হলো,

দুরত্ব বেড়েছে,

তাই কর্নও বেড়েছে,

এবং যখন কর্ণ বড় হয়,

ম্যামের বক্তব্য অনুসারে মহাভারতে বলা আছে, কর্ন বড় হতে থাকলে সমস্যা গুলো হতে বাধ্য,

এটা বলার কোনো সুযোগ নেই, এটা একটা দুর্ঘটনা ছিলো,

আপনি কি এখনও বলবেন,

যে আবা আত্মহত্যার চেষ্টা করেনি?

আপনাকে একটা প্রশ্ন করতে চাই,

আমি আপনার স্ত্রীর চিন্তাভাবনা বুঝতে পারছি,

কিন্তু আপনি তো একজন উকিল,

আবা অবশ্যই আত্মহত্যা করার চেষ্টা করেছে,

এই ভাবনা কি আপনার মাথায় আসেনি, এমনকি একবারও না?

এমন নয় যে আমি এ সর্ম্পকে ভাবিনি তবে আমি ভেবেছিলাম ,,,

রাহুল?

ওয়েট,

তাহলে, আপনি পুলিশকে অবহিত করলেন না কেন?

আমি আবাকে লাঞ্ছনা থেকে বাঁচাতে চেয়েছিলাম,

স্যার, লাঞ্ছিত হতেন আপনি , আবা নয়,

লোকেরা আপনাকে অপদস্ত করতো তার যত্ন না নেওয়ার জন্য,

এটা যদি আত্মহত্যার চেষ্টা হতো,

দোষী হতেন আপনি, আপনার ভুল আচরণের জন্য,

আমি কী ঠিক?

আমাকে বলুন,স্যার,

বৃদ্ধ লোকটি হতাশায় ডুবে ছিলো এবং সে নিজের জীবন শেষ করতে চেয়েছিলো

এবং আপনারা দুজন,

তার দোষ খুঁজতে ব্যস্ত ছিলেন,

আপনার এমন কর্মকান্ডের জন্য লজ্জা হচ্ছে না?

আবা কখনোই আত্মহত্যার চেষ্টা করবে না,

এই প্রসঙ্গ আগেই শেষ হয়ে গেছে,

আমি যথেষ্ট প্রমাণসহ, এটা ইতিমধ্যে প্রমাণ করে দিয়েছি

স্যার,আমি নিশ্চিত আমাদের মধ্যে এমন কিছুই হয়নি যেটা তাকে আত্মহত্যা করতে বাধ্য করবে,

কিছু ভুল তো অবশ্যই হয়েছে, এবং আপনাদের মধ্যে একজন সেটা ডাকতে চেষ্টা করছেন,

হুমম?

আবা'র এখানে থাকা উচিত ছিলো,,,,,,

এই ধাঁধার সমাধান করতে,

হ্যালো,

থ্যাঙ্ক গড,

ধন্যবাদ,

আমি হাসপাতাল থেকে একটি কল পেয়েছি,

মি.নাগারগোজি, আবা কোমা থেকে বাইরে এসেছে,

অভিনন্দন,

আপনি তার সাথে দেখা করতে যেতে পারেন, আমি তার সাথে পরে দেখা করবো,

আমি আশা করছি, তার স্মৃতি অক্ষুণ্ণ রয়েছে,

তার বক্তব্য রেকর্ড করতে পারলে, আপনার সাথে আর দেখা করার প্রয়োজন হবে না,

আপনি এখন যেতে পারেন,

ডাক্তার কী বলেছে?

আবা কোমা থেকে বের হয়েছে,

কিন্তু তার আংশিক সজ্ঞান এর কারণে,

তিনি এখনও দিশেহারা,

তারা বলছে, সে তার স্মৃতি হারিয়ে ফেলতে পারে,

যদি তা হয়,

সেদিন রাতে ঠিক কী ঘটেছিলো তা জানা অনেক মুশকিল হয়ে পড়বে,

আমি নাগারগোজি কে এবং তার এই আত্মহত্যার তত্ত্বকে বিশ্বাস করি না,

আমি দুঃখিত, আমি তোমার থেকে কিছু গোপন করেছিলাম,

তুমি লোনাভালা থেকে ফিরে আসার পর,

আমি আবা'র থেকে একটা চরম পরীক্ষা নিয়েছিলাম,

আর একটা চাই, আবা,

স্মল,

-স্মল, -হ্যাঁ,

তুমি মাত্র দুই পেগেই ডাউন হয়ে যাও, আমি তোমার ধারণক্ষমতা জানি,

আমি সেই কৈশোর কাল থেকে মদ খাচ্ছি,

আমি তখন পাহারাদার থাকতাম,

টু,

-কাম অন, আবা, -অবশ্যই,

আমার জন্য তো তোর কাছে কোনো সময়ই নেই,

ঠিক মতো কথাও বলিস না,

এরকম কিছুই না, আবা

তুমি তো জানোই বাখতি কী রকমের,

আমার জীবনটা নারীদের ভয়ে ভয়ে নস্ট হয়ে গেলো,

প্রথম ২৫ বছর মহিলাদের ভয়ে অতিবাহিত হয়েছিল,

পরের ২৫ বছর স্ত্রীর ভয়ে এবং সর্বশেষে আবার পুত্রবধুর,,,,,

এবং এটাকে আমরা আবার পিতৃতান্ত্রিক সমাজ বলি,

কেউ কখনো তার মা বেছে নিতে পারেনা,

এবং সবাই সাধারণ একটি ভুল করে থাকে সঠিক স্ত্রী বাছাই করতে,

বোকা ছেলে জন্মদানের জন্য, বাপকে পুত্রবধুর হাতে শাস্তি পেতে হয়,

-ঠিক? - ওহ,কাম অন

মহিলারা বেশ বিপজ্জনক,

আমাদের সর্বদা সজাগ থাকতে হবে,

মানে,,,

নমনীয়তা এমন একটা বৈশিষ্ট্য যা শুধু রাবারের উপর স্যুট করে,

পুরুষের উপর নয়,

আমি জানি তুই খুব সচেতন,

কিন্তু তোর স্ত্রী এর অবাধে খরচ করার ব্যাপারে তুই তাকে কিছুই বলিস নাহ,

সম মহিলারাই ব্যয় করতে ভালোবাসে,

এটা শুধু ব্যয় করার ব্যাপারে নয়,

ব্যয় করতে হলে চাকরি করতে হয়,

এবং চাকরি তার সব সময় কেড়ে নেই, এবং এটা পরিবারকে ভুগতে হয়,

তোরা সারাদিন কাজ করতে ব্যস্ত থাকো এবং বাসায় একা থাকি,

বেচারা নিশুও বোডিং স্কুলে একা,

আমার মনে হয়, তুই কিছু একটা বলবি,

কিন্তু তুই কিছুই বলিস নাহ,

যখন, আমি ভেবেছিলাম তুই আমার পক্ষে আছো,

তখন,তুই হেনপেকড প্রমাণ হলি,

আমি এটা মজার মনে করছি না,

আমি অভিযোগ করছি না,

আমার পুত্রবধু একজন বিনয়ী মহিলা,

তবে কথা হচ্ছে,

আমাদের একটা সহজাত সমস্যা আছে,

ভুল মহিলাকে স্ত্রী হিসেবে বেছে নেওয়া,

হাসলে, তোমাকে দেখতে খুব সুন্দর লাগে,

আমি সারাদিনই হাসতে থাকি,

তুই এটা আজ খেয়াল করছিস,

যাইহোক,

আমি শুধুমাত্র আরকয়েক দিন জন্য বেঁচে আছি,

আমি মারা যাওয়ার পর,

তোর বিবাহ বার্ষিকীর দিন, আমার নামে শ্রাদ্ধ করিস,

সত্যি বলছি, আমি তোর বিবাহ বার্ষিকীর দিন মারা যাবো,

মনে আছে, তুই একটা শ্লোক পড়েছিলি,

পিতৃ দেভো ভব,

আসলে, এর অর্থ হলো বাবার মরে স্বর্গে যাওয়া উচিত,

আবা,

আবা,

প্লিজ, চিন্তা করো না,

আমি সবসময় তোমার পক্ষে আছি,

সবসময়,

প্রমিজ?

আমি এটা শুনে খুব মরিয়া হয়েছি, দে তোর হাত দে,

তুই জানো,

আমরা একটা যৌথ পরিবারে বাস করছি,

কিন্তু বাস্তবে আমাদের পরিবার রয়েছে শুধু তুই এবং আমি,

সে শুধু আমাদের পরিবারের সাথে যুক্ত হয়েছে,

কেবল প্রসারের জন্য,

নিশুকে আমাদের পাশে পাওয়া উচিত,

সে ,,, নিশুকে আমার থেকে আলাদা করেছে,

সে নিজেকে কী মনে করে?

আবা,তুমি আমার পরিবারকে কেনো ভাঙতে চাইছো?

তুই ভাবছো, আমি তোর পরিবারকে ভাঙতে চাইছি?

আমার মনে তার জন্য ঘৃণা তৈরি করার জন্য, তুমি তার বিরুদ্ধে অভিযোগ করো,

এবং নিজের জন্য সহানুভূতি পেতে,

তুই কী মনে করো,এগুলো করার জন্য আমার কোনো দৃঢ় উদ্দেশ্য আছে?

ভয়!

হ্যাঁ,

তুমি ভয় পাও কারণ, তুমি করো তোমার ছেলে তার স্ত্রীর হাতের পুতুল হয়ে যাবে,

এজন্য তো তোর ভয় পাওয়া উচিত!

এবং এটা তোমার ভয়ের একমাত্র কারণ নয়,

এই ভয়ের মূল কারণ,

সে তোমার বাড়ি থেকে আমাকে সাথে নিয়ে চলে যেতে পারে, তোমাকে একা রেখে,

তুই কী করে ভাবলি, আমি এতো নিচু হয়ে যাবো,

শুধু মাত্র, আমি একা থাকতে ভয় পাই বলে?

আমি প্রতিদিন, আদালতে ভয়ের প্রভাব দেখতে পাই,

একজন ভীতু ব্যক্তি যেকোনো পরিনামে যেতে পারে,

এমনকি বড় বড় অপরাধীদের মধ্যেও ভীতি কাজ করে,

তোর লজ্জা লাগছে না, আমার উপর এমন অভিযোগ করতে?

আমি তোর বাবা,

আদালতে এমন অসংখ্য কেস পড়ে আছে, বাবা তার ছেলেকে খুন করেছে,

যথেষ্ট!

যথেষ্ট!

আবা,

এক মিনিট,

আমাকে বলো, ঠিক কোন বিষয়টা তোমাকে রাগিয়ে দিয়েছে,

আমি তোমাকে অভিযুক্ত করেছি কারন,

যাতে,আমি তোমার গোপন থাকা উদ্দেশ্য গুলো সম্পর্কে জানতে পারি?

তুই মনে করছো,তুই আমার গোপন উদ্দেশ্য জানতে পেরেছো?

বাখতি, তোমার আচরণ সম্পর্কে আমাকে আগেই অবহিত করেছিলো

ওয়াও,

সে আমাকে ভুল প্রমাণ করার জন্য তোর সাহায্য নিয়েছে?

ওয়াও! দুর্দান্ত টিম ওয়ার্ক!

সে কাউকে ভুল প্রমাণ করতে চায় নি,

সে শুধু আমাকে তোমার আসল রুপ দেখানোর চেষ্টা করেছে,

এবং তুমি সেটা প্রমাণ করে দিলে সে ঠিক ছিলো,

হেই, প্লিজ এগুলো বন্ধ কর!

যদি কাউকে ফাঁদে ফালানোর সিন্ধান্ত নেও,

খুব সহজেই তার বিরুদ্ধের সেই প্রমাণ গুলি পেয়ে যাবি যা তাকে ফাদে ফেলবে,

তুই আমার দৃষ্টিকোণ থেকে ভাবতে পারতি,

তবে,আমি জানি তুই এটা করবি না, কারণ তুই আমার প্রতি বিরক্ত,

হ্যাঁ,আমি বিরক্ত আমি তোমার প্রতি বিরক্ত,

আমি জানি কখনও কখনও আমাদের আচরণ সমর্থনযোগ্য হয় না,

-কিন্তু তাই বলে তুমি এরকম অদ্ভুত আচরণ করতে পারো না? - কেন?

কারণ, তুমি একজন বাবা, তুমি আমার আবা,

-বাবা হওয়া কোনো অপরাধ? -এটা কোনো অপরাধ না,

আমি জানি,,, আমরা এখন পাগলের মতো আচরণ করছি,

তবে তোমার কোনো অধিকার নেই আমার পরিবার ধ্বংস করার,

আমার স্ত্রী এবং বাচ্চাকে তাদের মতো থাকতে দাও,

তুমি তাদের সাথে একরকম করতে পারো না, তুমি আমার বাবা,

তো?

আমি কেবল তোমার কাছ থেকে নিঃশর্ত ভালোবাসা আশা করি,

এবং তুমি আমাকে নিরাশ করেছো,

তুমি এমন আচরণ কেনো করলে?

তুমি এমন আচরণ কেনো করলে?

শোন, বোকা,

এই প্রশ্নের উত্তর দিতে হলে,

আমার আরও একটা বাচ্চা থাকা উচিত ছিলো,

এবং তুই যখন আমার অবস্থানে আসবি তখন বুঝবি,

যাইহোক,

মনে হচ্ছে , এবার আমি ঠিক ভাবে করতে পারবো,

দেখা যাক,

ওয়াও,

চেষ্টাটি খারাপ ছিলো না

হেই, ডিয়ার,তুমি কি আমার জন্য ওটা আনতে পারবে?

এক্সকিউজ মি,

হেই,

ভিতরে আসুন,

আশা করি আমার বাসা খুঁজে পেতে আপনাদের সমস্যা হয়নি,

প্লিজ বসুন,

প্লিজ বসুন,

হাই

সে আমার প্রতিবেশী, মি,সহস্রাবুদ্ধের কন্যা,

তার বাবা-মা একটি আইটি কোম্পানিতে কাজ করে,

তারা অনেক দেরীতে বাসায় আসে,

তার একজন কেয়ারটেকার আছে,

কিন্তু প্রায়শই আমার সাথে খেলতে আসে, যখন সে বিরক্ত হয়ে যায়,

যাও,ওটা খুঁজে আনো,

এবং দেখো মাথায় যেনো আঘাত না পাও,

চিন্তা করো না,

সঠিকভাবে ভাবে ঘুরাও,

আপনার পরিবারে আর কে কে আছে?

এই সময়ে আপনাদেরকে এখানে আসতে বলার জন্য ক্ষমা চাচ্ছি,

আমি দুঃখিত!

আবা সুস্থ হয়ে উঠছেন,

হ্যাঁ, আমি এটি সম্পর্কে অবহিত, আমি ডাক্তারের সংস্পর্শে আছি,

আবার বক্তব্য এই কেসের জন্য খুব গুরুত্বপূর্ণ,

আমি আপনাদের এখানে ডেকেছি,

কারণ, আমি আপনাদের কাছে ক্ষমা চাইতে চেয়েছিলাম,

আপনার বাবা আত্মহত্যার চেষ্টা করেননি,

আপনি কী বলছেন, সেটা কী আপনি জানেন?

হ্যাঁ,আমি জানি,

আমি ভুল ছিলাম এবং তাই আমি ক্ষমা চেয়ে নিচ্ছি,

আপনি কী মনে করেন, এটা খুবই সহজ একজনকে বিনা কারণে দোষী বানিয়ে,ক্ষমা চাওয়া?

আমি আপনার কাছে ক্ষমা চেয়েছি তাই এখন এটা ভুলে যান,

সে কী বুঝে, সে কী,,,,,,,,

আমি এটা বুঝতে ব্যর্থ, সে যদি নিজেকে অনেক স্মার্ট মনে করে,

সে কী জানেনা এভাবে সে কাউকে দোষারোপ করতে পারে না

কোনো প্রমাণ ছাড়া?

আমি জানি,

চলো,

আসলে,

যেদিন আমি আপনাদের বাসায় এসেছিলাম

আমি তখন থেকে জানতাম আবা আত্মাহত্যার চেষ্টা করেনি,

-আপনি এটা আগে থেকেই জানতেন? -হ্যাঁ

-তো,আপনি আমাদের সাথে তামাশা করতে ছিলেন? -একদমই না,

আমি পরিবারের সদস্যদের প্রতিক্রিয়া দেখতে চেয়েছিলাম,

যখন তাদের মধ্য থেকে কেউ আত্মাহত্যার চেষ্টা করে,

এটি আমাদের পেশার একটি অংশ,

অতীতেও আমার একইরকম অভিজ্ঞতা ছিলো,

যেখানে পরিবারের সব সদস্যরা ভীষণ কান্নাকাটি করছিল,

যখন তারা তার বাবা'র আত্মাহত্যার সমন্ধে জেনেছে,

আপনারা বেশ দৃঢ়!

আপনার কী কোনো কিছু অনুভব হচ্ছে না,

এরকম একটা বেহুদা ঝামেলা তৈরি করার কারণে?

মানুষ বিরক্তি বোধ করে জিজ্ঞাসাবাদ করলে?

আমাদের সংবিধান সম্পর্কে জানেন?

- মিঃ বাবসাহেব আম্বেদকরের , তাই না? -হ্যাঁ,

হ্যাঁ অবশ্যই, এটি আমাদের পাঠ্যক্রমের অংশ ছিল,

সেখানে পরিষ্কার ভাবে বলা আছে, যদি ১০০ জন অপরাধী শাস্তি না পায়, সমস্যা নেই,

তবে, কখনো যেন একজন নিরপরাধ ব্যাক্তি শাস্তি না পায়।

১০০ জন অপরাধীকে ছেড়ে দেওয়া এটার সাথে আমি একমত না,

বাসায় গিয়ে ভাল করে বিশ্রাম করুন,

বুঝতে পেরেছেন?

রাহুল,

চলো,

এটা সঠিকভাবে করো,

আমি এটা করতে পারছি না,

ঠিক আছে, আমার কাছে নিয়ে আসো,

আমি দেখিয়ে দিচ্ছি,

-হাই,নিত্যেয়া, -হাই,

মি.নাগারগোজি, কী বলেছে?

তিনি মনে করছেন, এটি একটা দুর্ঘটনা,

তুমি নিশ্চিত?

এটি অনুমান করা খুব কঠিন সে কী ভাবছে,

এবং আমাদের সম্পর্কে?

এটি নিয়ে আগামীকাল আলোচনা করা যাক,

মিলর্ড এই মহিলার মা-বাবা তাকে পরিত্যাজ্য করেছে, এবং সে তার সাথে বিবাহ বন্ধনে আবদ্ধ হয়েছে,

এখন চার বছর পর, তিনি বলছেন সে তার পরিবারের সাথে থাকতে পারবে না,

সে তাকে ঠকানোর চেষ্টা করছে,

যখন আমার ক্লায়েন্ট তার থেকে ডির্বোস চাইলেন,

সে রাজি হলো না,

-আমি পরে আসছি, -সে তার সাথে সংসারও করতে চাচ্ছে না,

আবার ডির্বোসও দিতে চাচ্ছে না,

আমার ক্লায়েন্টের উপর সে কেনো এমন নির্যাতন করছে তার পিছনের উদ্দেশ্য বুঝতে আমি ব্যর্থ,

নারীদের অগাধ বিশ্বাস রয়েছে আমাদের বিচার ব্যবস্থার উপর,

তাই আমার,,,,,

এই কেসটা আপনার?

না,

এটি আমার গবেষণার একটি অংশ,

এই কেসটা আমাকে ভাবতে বাধ্য করছে,

আমরা এখনও বিশ্বাস করি একটা মেয়ের বিয়ের পর তার স্বামীর বাড়িতে চলে যাওয়া উচিত,

এবং এর বিপরীতে না,

এসবের পরিবর্তন শীঘ্রই ঘটবে,

এক ঘন্টা পরে আদালতের কার্যক্রম পুনরায় শুরু হবে,

না, এটি কখনই বদলাবে না, কারণ মহিলারাই পরিবর্তন চান না,

ঠিক আছে,

পুরুষরা তাদের আনতে পেরে খুব খুশি হয় এবং মহিলারা সুযোগ পায়

পরিবারের মধ্যে অশান্তি সৃষ্টি করার, আমি মনে করি এটা নিরেপক্ষ,

তবে, তাদের মধ্যে থাকে অনেক ক্ষোভ,

এবং হতাশা মা-বাবাকে ছেড়ে আসার কারণে,

তাই তারা,,,,

স্বামীকে পরিবারের থেকে আলাদা করে তাদের মনের ক্ষোভ মেটায়,

তারা ঠিক বিয়ের পরেই এই চক্রান্ত শুরু করে,

তারা জানে যে,

সমাজ তাদের দোষারোপ করবে না,

পরিবারের মধ্যে ভুল বোঝাবুঝি তৈরী করার জন্য

এবং তারা এগুলো বাস্তবে করার জন্য,

প্রথমে আস্তে আস্তে শশুরবাড়ীর সর্ম্পকে স্বামীর মনে কুমন্ত্রণা দিতে থাকে,

-আপনার স্ত্রীও এই একই পথে হাঁটছে, -স্যার, এক মিনিট,

আমার পারিবারিক বিষয় নিয়ে আলোচনা করার মতো,

কোনো ইচ্ছা বা আগ্রহ আমার নেই,

আপনি নিজেই নিশ্চিত করেছেন যে এটা কোনো আত্মহত্যার চেষ্টা ছিলো না,

এটা একটা দুর্ঘটনা ছিলো,

এক মিনিট,

স্যার,

এখানে একটা ভুল বোঝাবুঝি হচ্ছে,

আমি আপনাকে বলেছিলাম এটা আত্মহত্যার চেষ্টা নয়,

তবে আমি দৃঢ়ভাবে বলতে পারি এটা কোনো দুর্ঘটনা ছিলো না,

আপনি এটাকে দুর্ঘটনা বলে বিশ্বাস করেন না?

না,

এবং আপনি এটাও বিশ্বাস করেন যে এটা আত্মহত্যার চেষ্টা ছিলো না?

না,এটা একটি হত্যা চেষ্টা ছিলো!

স্যার,আপনাকে আবার উল্লেখ করে দিতে চাই,

যখন এই দুর্ঘটনা ঘটেছিলো, আমি এবং বাখতি দুজনেই বাসায় ছিলাম,

তাই এটা বিশ্বাস করা কঠিন,

আমরা বাসায় থাকা সত্ত্বেও কেউ বাসায় ডুকে আবাকে হত্যা চেষ্টা করেছিলো,

-এটা কখনোই সম্ভব নয়, -ঠিক,

তবে , আমি এটা বলেনি যে, কেউ বাহির থেকে এসে খুনের চেষ্টা করেছে,

তাহলে?

আমি আপনার স্ত্রীকে অভিযুক্ত করছি হত্যা চেষ্টার জন্য,

আপনার নিজের চিকিৎসা করানো দরকার,

আমাকে এতো হালকা ভাবে নিবেন না, স্যার,

আপনি একজন আইনজীবী,

আপনি কী মনে করেন আমার মতো একজন কত্যর্বনিষ্ঠ এবং সরল মানুষ

কাউকে বিনা কারণে দোষ দেবো?

আমি সবকিছু বিস্তারিত ভাবে বলছি,

আপনারা ২৪ তারিখে লোনাভালা ছিলেন,

আপনার স্ত্রী বিরক্ত হয়ে যায়, এবং ২৫ তারিখে সে একা বাসায় ফিরে আসে,

সে ২৬ তারিখে খুব শান্ত ছিলো এটা কী করে সম্ভব,

সে আপনাকে কী বলেনি?

পারিবারিক কলহের মধ্যে কাউকে না কাউকে থামতে হয় শান্তি বজায় রাখার জন্য ,

আমি নিশ্চিত আপনাদের স্বামী- স্ত্রীর মধ্যের তর্কগুলো আবা কখনো সমথর্ন করেন নি,

শুনুন,

সে আপনার কাছে আবাকে প্রকাশ করতে চেয়ছিলো,

এবং এটা একটি নিখুঁত পরিকল্পনা ছিলো,

আপনি কী মনে করেন তার মতো একজন ধুর্ত মহিলা এভাবে বিনা কারণে ফিরে আসবে?

আপনি কীভাবে জানলেন আমরা সাথে আবা'র তর্ক হয়েছিলো,

এটা ভুলে যান, আপনি কী নিতিনকে বলেন নি আপনার এবং আবা'র তর্ক সম্পর্কে?

এবং আপনি নিতিনকে সর্তক করেছিলেন এই বিষয়ে বাখতির সাথে আলোচনা না করতে,

তবুও সে সবকিছু আপনার স্ত্রীর কাছে ফাঁস করে দিয়েছে,

আপনি এগুলো কিভাবে জানতে পেলেন?

আমি কোনো মুদি দোকানদার নই, স্যার,

একজন পুলিশ অফিসার,

আমি কীভাবে তথ্য পেয়েছি সেটা গুরুত্বপূর্ণ নয়,

এখানে এ বিষয়টা লক্ষনীয়, যে আপনার স্ত্রী সবকিছু জানা সত্ত্বেও,

সে কিছুই জানেনা এমন ভান ধরে ছিলো যখন আপনি তাকে আপনার গল্প বলতেছিলেন,

একবার ভেবে দেখুন,

আপনার স্ত্রী এতোটাও নিরীহ নয় যতটা আপনি তার সম্পর্কে মনে করেন,

সে বেশ চতুর,

আরে, আপনি কীভাবে এতো বে-খেয়ালি ভাবে চা পান করতে পারেন?

দুঃখিত, স্যার,

আমি আপনাকে বলছি, কেন সে আপনার বাবাকে হত্যা করার সিদ্ধান্ত নিয়েছিলো,

সে নিতিনের মাধ্যমে সমস্ত কিছু জানতে পেরেছিলেন,

সে যা যা ভবিষ্যদ্বাণী করেছিলো আবা ঠিক সেরকমের আচরণ করেছিলেন,

তবুও আপনি তাঁকে কিছু জানান নি,

আপনি আবা'র উপর সহানুভূতি প্রকাশ করার কারণে তার ঈর্ষা হলো

সে আপনাকে আবা'র কাছে হারানোর ভয় পেয়েছিলো,

এবং একজন ভীতু লোক যে কোনও সীমায় যেতে পারে,

আপনি কী মনে করেন এরকম একটা সিলি কারণের জন্য সে আবাকে হত্যা করার চেষ্টা করবে?

মাত্র হাজার টাকার জন্যও আজকাল মানুষ খুন হয়,

আবা তার শ্বশুর,

সংবিধানের কোথায় উল্লেখ করা আছে,

পুত্রবধু তার শশুরকে খুন করতে পারবে না?

এরকম শত শত বিচারাধীন মামলা আদালতে পড়ে আছে,

আমি এটা বিশ্বাস করতে অস্বীকার করছি,,,,,,,,,

বাখতি এমন একটা কাজ করবে,

আমি যদি আপনার সামনে সমস্ত প্রমাণ উপস্থাপন করি, তারপরও?

থামুন, থামুন, থামুন,

-থামুন, -কী?

পিছনে যান,

পিছনে যান,

মনে হচ্ছে, কাউকে দেখতে পেলাম,

হ্যাঁ,ঠিক আছে,

কী ব্যাপার?

একবা ওদিকে তাকান,

চলুন,

মারুতি নাগারগোজি বলছি

আমি দুঃখিত, আমি এটা করতে পারি নি,

আমি আপনার সাথে পরে দেখা করবো,

আশা করছি, সব ঠিক আছে, বাই,

মারুতি,

আবা কি সত্যিই আত্মহত্যার চেষ্টা করেছিলো?

আপনাকে এটা কে বলেছে?

বিল্ডিং এর লোকেরা এটি নিয়ে আলোচনা করছে,

তারা বলাবলি করছে, আবা আত্মহত্যার চেষ্টা করেছে তার পারিবারিক সমস্যার কারণে,

তাদের পরিবারে মধ্যে কোনো সমস্যা ছিলো?

তাদের পরিবার সম্পর্কে তো আপনিই ভালো জানেন,

আরে, তাদের বিরুদ্ধে আমাকে উস্কানি দেওয়া বন্ধ কর,

তোর কিছু হারাবে না, তবে, আমি আমার চাকরি হারাবো,

পরিবারের মধ্যে কোনো ঝগড়া হয়েছিলো?

এই বোকা লোকেরা ঝগড়াও করতে পারে না,

বাস্তব লড়াই তো কেবলমাত্র আমরা করতে পারি,

আমাদের লড়াই দেখতে ২০-২৫ জন লোক ভিড় জমাতো,

কিন্তু, আমরা পরের দিনই আবার জড়িয়ে ধরে,

সব দ্বন্দ্ব কলহ ভুলে যেতাম,

এখানে, তারা সবাই ঝগড়া করার পর মনের মধ্যে ঘৃণা পুষে রাখে,

এবং তারপরে তারা নিজেদের মধ্যে দীর্ঘ সময়ের জন্য কথা বলা বন্ধ করে দেয়,

তখন, ঘরটিকে বিরানভুমির মতো মনে হয় ,,,

আবা একাকী বোধ করতেন,

তবে, তিনি আত্মহত্যা করার মতো লোক নন,

ভিথা,

সে এখানে কী করছে?

আমি কিছু জানি না, ম্যাডাম, সে সাহেবর সাথে এসেছে,

-রাহুলের সাথে? -হ্যাঁ,

রাহুল, সে তোমার সাথে এসেছে?

হ্যাঁ, সে তোমাকে কিছু প্রশ্ন করতে চায়,

-কিন্তু,,,,,,, -ধন্যবাদ, স্যার,

ম্যাম,,,,,

গত ৮-১০ দিন ধরে, আপনি কী মি.নিতিনের সাথে যোগাযোগ রাখছেন ?

গত রাতে, আমরা সবাই বাহিরে কফি খেতে গিয়েছিলাম,

আপনারা তিনজন একসাথে কী করেছেন না করেছেন আমি সেটা জিজ্ঞেস করিনি,

-আপনি কী তার সাথে একান্তে দেখা করতেন? -না,

-আপনি নিশ্চিত? -হ্যাঁ,

ঠিক আছে,

এই হলো,,,আপনার কল রেকর্ড,

আপনি এটা পেলেন কীভাবে?

২৫ তারিখ রাতে ১১.৩০ মিনিটে নিতিন আপনাকে কল দিয়েছিলো,

এবং আপনি তার সাথে ২৬ মিনিট কথা বলেছিলেন,

সে আপনাকে আবার ২৬ তারিখ সকালে কল দিয়েছিলো

৭.৩০ মিনিটে এবং আপনি তার সাথে দশ মিনিট কথা বলেছিলেন,

সে আপনার সাথে ব্যক্তিগত ভাবেও দেখা করতে আসতো

এই হলো আপনাদের বিল্ডিংয়ের রেজিস্ট্রার এর কপি,

আপনি আজকেও তার সাথে দেখা করেছেন কিছুক্ষন আগে,

আমি মনে করছি, আপনার আর কোনো প্রমাণের দরকার নেই,

স্যার, আমার সাথে ছিলেন,

রাহুল, আমি তোমাকে পরে সবকিছু বুঝিয়ে বলবো,

ম্যাম,আপনাকে কিছু প্রশ্ন জিজ্ঞাসা করা প্রয়োজন,

আমি,,,, প্লিজ তাকে বলো,

আমি তার কোনো প্রশ্নের উত্তর দিতে ইচ্ছুক নই,

-তোমাকে দিতে হবে, -কেন?

গতকালকে তুমি বলেছিলে ,,,

গতকালের পরিস্থিতি ভিন্ন ছিলো,

মানে কী?

ধন্যবাদ, স্যার

ম্যাম,আসলে,,,,

প্লিজ আপনি বসুন,

ইনসুলিন শট দেওয়া আপনার রুটিন ছিলো, তাই না?

হ্যাঁ,

-আপনি এটা কোথা থেকে পেতেন, -কাছের একজন কেমিস্ট থেকে,

তবে একটা শিবাজি রোডের, স্টার মেডিকেল থেকে কেনা হয়েছিলো,

দোকানটি নি.নিতিনের বাসর কাছেই,

আমি ব্যাচ নাম্বারও পরীক্ষা করেছি,

আপনি কিছু বলতে চান?

আমি সম্পর্কে কিছু জানি না, তবে, অবশ্যই আবা জানেন ,

সত্য, কিন্তু আবা এখন কথা বলতে পারেন না,

আপনি কোন সিরিঞ্জ ব্যবহার করেন?

-1 সিসি বিডি সিরিঞ্জ , -ঠিক আছে,

- এখানে আর কেউ সিরিঞ্জে ব্যবহার করে? - না

ঠিক আছে,

20 সিসির এই সিরিঞ্জটি এখানে কীভাবে উপস্থিত হয়েছিলো?

আমি জানি না,

এটার উপর আপনার আঙুলের ছাপ পাওয়া গেছে,

এই নিন রিপোর্ট,

প্রিন্টগুলো গুলো খুব পরিষ্কার,

ঘন চামড়াযুক্ত মানুষের স্ফটিক পরিষ্কার আঙুলের ছাপ থাকে

আমি সিরিঞ্জ টা ফ্রিজের মধ্যে খুঁজে পেয়েছিলাম, তাই এটা আলমারিতে রেখে দিয়ছিলাম,

হ্যাঁ,,,,,, সম্ভব,

আপনি তার শরীরের কোন স্থানে ইনসুলিন সট দিতেন?

বাম হাতের পেশীর উপর,

কিন্তু, তার ডান হাঁতে সুই ফোটানোর একটা চিহ্ন রয়েছে,

আমি কীভাবে জানবো?

সম্ভবত, হাসপাতালে যাওয়ার পর ডাক্তাররা তার ডানে ইনজেকশন,,,,,

না, না ম্যাম,

সেদিন, হাসপাতালে চিকিৎসা শুরু করার আগে,

তারা লক্ষ্য করেছিলো তার ডান হাতে একটা ক্ষত রয়েছে ,

শুধুমাত্র অনভিজ্ঞ লোক ইনজেকশন দিলে ব্লিডিং হয় এবং ক্ষত তৈরি হতে পারে,

আবা'র ডান হাতের ক্ষতটাও ঠিক এরকম ছিলো, এজন্যই ডাক্তাররা

স্যালাইন এবং অন্যান্য ইনজেকশন তার বাম হাতে দিয়েছে,

আমার স্পষ্টভাবে মনে আছে,

-আমি তাকে বাম হাতে সট দিয়েছিলাম, -আপনি তার ডান হাতের ক্ষতটা দেখতে চান?

আপনি খুব বুদ্ধিমত্তার সাথে আবা'কে ব্যবহার করছেন নিজেকে রক্ষা করার জন্য,

আমি নিশ্চিত, এখন আবা আপনার কাছে অতন্ত্য গুরুত্বপূর্ণ,

আপনি ফালতু কথা বলছেন,

-রাহুল, প্লিজ তাকে বলো,,,, -স্যার, আমি আপনার সাথে কিছু কথা বলতে চাই,

রাহুল, না,

আবা তার পূর্বাভাস অনুযায়ী আচরণ করেছিলেন, তবুও আপনি এ সম্পর্কে চুপ করে গেছেন ,,,

এবং এটা তার কোরকে উৎসাহিত করেছিলো,

তাই, আপনার স্ত্রী নিতিনের সাথে একটা পরিকল্পনা করিছিলেন,

২৬ তারিখে, আপনি যখন লোনাভালা ছিলেন,

নিতিন তাকে এই সিরিঞ্জটি এবং ইনসুলিন সট গুলো এনে দিয়েছিলো,

বিকালে আপনি যখন ফিরে এলেন,

সে এমন ভান ধরে করে ছিলো সবকিছু স্বাভাবিক আছে,

তার দুদিন পর,,,,,,

২৮ তারিখে ঠিক কী ঘটেছিলো আমি বলছি,

আপনি এর আগেই একবার উল্লেখ করেছিলেন,

২৮ তারিখ রাতে আপনারা দুজন বাসায় দেরীতে এসেছিলেন,

ঠিক এরকম,

বাসায় ডুকে আপনি দেখলেন আবা বেলকনিতে দাঁড়িয়ে আছে,

এবং সে মদে চুমুক দিচ্ছে,

তারপর,আপনি বেড রুমে গেলেন, ,

এবং, ম্যাম, আপনি রান্নাঘরে দিকে গেলেন ,

আপনি সামান্য উত্তেজিতো ছিলেন এবং আপনি আশেপাশে তাকাতে ছিলেন,

আলমারি খুললেন,

এবং ২০ সিসির সিরিঞ্জ টি বের করলেন,

তারপর ফ্রিজ থেকে ,

ঔষধের বোতল বের করে সিরিঞ্জটি ভরে নিলেন ,

আশেপাশে তাকিয়ে নিশ্চিত হচ্ছিলেন, কেউ আপনাকে দেখছে কিনা ,

খালি বোতলটি ফ্রিজ এর উপর রেখে,

আবা'র রুমের দিকে গেলেন,

আবা,

-আবা, -হুম?

না, ডান হাতে,

-এটা শিরার মধ্যে দিতে হবে, -ওহ,

নিতিন তাকে বলেছিলো,,,,,

১ সিসির ইনজেকশনটি পেশীর উপর না দিয়ে,

২০ সিসির ইনজেকশনটি শিরার মধ্যে দিতে,

এটি হয় কাউকে মেরে ফেলবে, না হয় একেবারের মতো অচেতন করে দিবে,

কী সমস্যা?

ম্যাডাম!

যেহেতু, আপনি এর আগে কখনো শিরার মধ্যে ইনজেকশন দেন নি,

তাই, তার ডান হাতে ক্ষত হয়েছিলো,

বাইরের কিছু শব্দ শুনে, আপনি চমকে গেছিলেন,

আপনি সিরিঞ্জ টি টেবিলের উপর রাখলেন,

এবং আপনার বেডরুমে চলে যান,

হেই ,রক্ত বের হচ্ছে কেনো?

স্যার, আপনি যখন আবা'র ঘরে গিয়েছিলেন,

আবা অজ্ঞান হয়েছিলেন এবং আপনি এটি বুঝতে পারেন নি,

,,,যাত্রীরা সমস্যার মুখোমুখি হবে ,

আমরা এখন আপনাদেরকে দাদার রোড এর প্লাবিত অবস্থার ছয়টি ছবি দেখাবো ,,,

আপনি এটাকে আত্মহত্যা বা কমপক্ষে দুর্ঘটনার মতো দেখাতে চেয়েছিলেন,

নিতিন, অপরাধ বিষয়ক আইনজীবী,

-নিতিন আপনাকে আগেই ব্রিফ করেছিলো, -আবা,

আপনি সবাইকে এটা বুঝাতে চেয়েছিলেন যে, আবা টুলের উপর দাড়িয়ে লাফ দিয়েছে,

এবং সবাইকে বিশ্বাস করানোর জন্য আপনি আবা'র জুতা দুটি টুলের উপর রেখেছিলেন,

আবা'কে একা তোলা আপনার পক্ষে সহজ ছিল না,

আপনি তাকে টেনে নিয়ে যেতে চেষ্টা করেছিলেন,

যখন আপনি বুঝতে পারলেন এটি সহজ হতে চলেছে না

আপনি তার চেয়ারটি টানতে শুরু করলেন,

আপনি তার চেয়ারটি রেলিংয়ের কাছাকাছি নিলেন ,

এখন, তাকে উত্তোলন করা একমাত্র পথ ছিলো ,

এবং অবশেষে ,,,

আপনি তাকে বেলকনি থেকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিলেন ,

-হায় ইশ্বর -এগুলো সব ফালতু কথা,

আপনি সমকোণী ত্রিভুজের তত্ত্ব ব্যহার করেছিলেন এটাকে আত্মহত্যা প্রমাণ করার জন্য,

সেটার সম্পর্কে কী বলবেন?

ম্যাডাম,

তত্ত্বটি এখনও প্রযোজ্য,

এই খুনের মামলায়,

আপনি উপযুক্ত প্রমাণ ছাড়া সবাইকে বিশ্বাস করানোর চেষ্টা করছেন যে, এটা একটা হত্যাচেষ্টা ছিলো,

এটা খুব মজার,

যখন আমি এটাকে আত্মহত্যার চেষ্টা বলেছিলাম, তখন আপনি আমাকে ভুল প্রমাণ করার চেষ্টা করছিলেন

কিন্তু, এখন আপনি আমাকে বোঝাতে চেষ্টা করছেন এটি আত্মহত্যা চেষ্টার ছিলো,

স্যার, একটা আত্মহত্যার কেস কী মুছে ফেলতে পারবে একটা খুনের কেস কে, লড়াই করে?

স্যার,প্লিজ আপনার স্ত্রীকে স্বীকার করতে বলুন,

বাখতি,

প্লিজ, তার কথা শুনবে না,

ম্যাম,প্লিজ স্বীকার করুন,

বাখতি, আমি তোমাকে একটা কথাও বলতে দেব না আমার আইনজীবীর সাথে পরামর্শ না করে,

স্যার, সে আপনার বাবাকে হত্যা করার চেষ্টা করেছিলো,

আমি এটা প্রমাণ দিয়ে প্রমাণ করে দিয়েছি,

আমি যখন আমার আইনী সীমার মধ্যে আছি আপনি এর মধ্যে বাঁধা সৃষ্টির চেষ্টা করছেন কেনো?

আমাকে আইন শেখাতে আসবেন না, স্যার, কিছু বলবে না, বাখতি,

ম্যাম, স্বীকারোক্তি এখন আপনার একমাত্র পথ,

-আমি,,,,, -না,বাখতি, না,

ভাবুন, একবার যদি আবা'র হুঁশ ফিরে আসে তাহলে সত্য এমনেই বের হয়ে আসবে,

পরে, আপনার স্বীকারোক্তিগুলো কোনও কাজে আসবে না,

বাখতি, আমার কথা শোনো, একটা শব্দও উচ্চারণ করবে না,

হ্যাঁ, আমি দোষী!

আমিই তাকে ধাক্কা দিয়ে ফেলে দিয়েছি,

এটাই শুনতে চেয়েছিলেন আপনি, তাই না?

আপনি এখন খুশী?

আপনার কিছু বলার আছে?

আমরা এখান থেকে কিছু নিদিষ্ট তথ্য বাছাই করতে পারি,

পরে,এটা অনেক দেরী হয়ে যেত,

ঠিক আছে,

আদালতে দেখা হবে,

রাহুল,

আমার কথা শোনো,প্লিজ,

-প্লিজ, আমার কথা শোনো, - আর কীছু স্বীকার করা বাকী আছে?

আরে, আমার কথা তো শুনবে,

রাহুল, শোনো!

রাহুল,

রাহুল!

রাহুল , প্লিজ আমার কথা শোনো,

প্লিজ, ফিরে আসো,

নোটগুলির তৃতীয় সেট তোমার মনে আছে,তোমার?

চলো,একসাথে গান করি,

-সা রে গা রে গা রে মা

-গা মা পা

-মা পা ধা

-পা ধা নি

-ধা নি সা

-ধা নি ধা

বেশ ভালো,

তোমার সুর তো খুব ভালো,

দাঁড়াও,আমি দেখছি,

তুমি এখন যেতে পারো,

তুমি সমস্ত নোট গুলো মুখস্থ করবে,ঠিক আছে?

হ্যাঁ,আমি করবো,

ঠিক আছে, বাই,

সে আমার সকল সুখের উৎস,

মানুষ যখন তাদের অপরাধ সম্পর্কে বুঝতে পারে,

পুলিশদের প্রতি তাদের আচরণের মারাত্মক পরিবর্তন হয়,

আমি আমার ব্র্যান্ড পছন্দ করি,

এটা আমার খুব প্রিয়,

আপনি আপনার টা খেতে পারেন,

আমিও একই জিনিস এনেছি,

ওহ, "ফ্রি বোজ" এটা খুঁজে পাওয়া খুবই দুর্লভ,

আমি তৈরি করছি,

আরে,বেশি করে ঢালুন এটা আমার, আপনার নয়,

আমার কাছে দেন,

প্লিজ,,, বাখতির উপর কঠোর হবেন না,

কোন ব্যাপারে?

মানে,,,,,

আমি জানি সে একটা মারাত্মক ভুল করেছে,

সে ভেঙে পড়েছে এবং অনুতাপ করছে,

আপনি চলে আসার পর থেকে সে কেবল কেঁদেই চলেছে,

কাঁন্নার সাথে আবেগের কোনো সম্পর্ক নেই,

তার মতে,

তার রঙ্গভঙ্গর দিকে মনোযোগ দিবেন না,

কিন্তু,,,,

সুতরাং আপনি আমাদের সাহায্য করবেন না,

স্যার,আপনাকে সাহায্য করার তো,,,,,,

আপনার কী মনে হয় আমার বুদ্ধির ঘাটতি আছে,

যে মহিলা তার শশুর কে হত্যার চেষ্টা করেছে তাকে সাহায্য করবো,

ধন্যবাদ জানাই, আমার সৌভাগ্যকে এবং আপনার দুর্ভাগ্যকে,

তাছাড়া, আমি আপনার বাবা নই,

আপনাকে সাহায্য করার কোনো ইচ্ছাই আমার মধ্যে নেই,

আশা করি, বুঝতে পেরেছেন,

কিন্তু,,, ঠিক আছে,

আপনি কারো সুপারিশ করবেন যে তাকে সাহায্য করতে পারবে?

আধ্যাত্মিক গুরু বাবা রামদেব,

আমি কি আপনাকে তার নম্বর দিবো? তিনি কিছু সাহায্য করতে পারেন,

আপনি কী আমার সাথে মজা করছেন?

আপনি কী পরিস্থিতি বুঝতে পারছেন?

আপনার লজ্জা হচ্ছে না?

লজ্জা তো আপনার পাওয়া উচিত,

আপনি আপনার অপরাধী স্ত্রীকে বাঁচানোর চেষ্টা করছেন,

যার কারণে, আপনার বাবা হাসপাতালে মৃত্যুর সাথে লড়াই করছে,

আপনার এই ধরনের আচরণের জন্য আপনার লজ্জাবোধ হওয়া উচিত,

আপনি কী আপনার বাবাকে সমর্থন করতেন,

সে যদি আপনার স্ত্রীকে হত্যার চেষ্টা করতো?

আপনি তো নিজেই তার বিরুদ্ধে মামলা দিতেন,

আমার কাছে একটা সমাধান আছে আপনার স্ত্রীকে রক্ষা করার,

তার অপরাধে যদি আপনি নিজের উপর নেন,

-সে মুক্ত হয়ে যাবে, -কী?

আপনার মনে নেই টাইটানিক এর নায়ক লিওনার্দো ডিক্যাপ্রিও,

মেয়েটিকে বাঁচানোর জন্য নিজের প্রাণ বিসর্জন দেয়,

এটাকেই ত্যাগ বলে, স্যার,

আপনার স্ত্রীর অপরাধের মালিক আপনি হন, সে মুক্ত হয়ে যাবে,

আপনি বুঝতে পারছেন, আপনি কী বলছেন?

আপনি কী আমার পরিবারকে,

একটা গোয়েন্দা রহস্য উপন্যাসের গল্পের মতো বানাতে চাইছেন?

প্রতিটি পরিবারের মধ্যেই একটি রহস্যজনক গল্প আছে,

কেবল পার্থক্য হলো, আপনার গল্পটা প্রকাশিত হয়ে গেছে,

কিছু চাই? গ্রামস?

আপনার ইচ্ছা,

দেখুন, আমি পাত্তা দেই না,

আমার স্ত্রীর দ্বারা গঠিত হওয়া একটা অপরাধ আমার মাথায় নেওয়ার কোনো মানেই হয় না,

সে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন,

কিন্তু, তাকে উস্কে দিয়েছিলেন আপনি,

কী??

এই ধরনের পরিস্থিতিতে,

স্বভাবত আমরা মহিলাদের দোষ দেই,

আপনি জানেন এটা কীভাবে শুরু হয়?

যখন বাবার সাথে ছেলের বন্ধন দুর্বল হয়ে যায়,

স্যার, কোনো অস্পষ্ট উদাহরণ দেবেন না,

আপনার বিবাহের এক বা দুই বছরের মধ্যে,

আবার সাথে আপনার বন্ধন দুর্বল হতে থাকে,

আপনার স্ত্রী যথেষ্ট পরিমাণ বুদ্ধিমান ছিলো এটা পর্যবেক্ষন করার জন্য,

সে জানতো, আপনার সমথর্ন তার উপর আছে,

এবং সে আবা'র সাথে ফেসাদ শুরু করেছিলো

আমি কখনো তাদের ঝগড়ার মধ্যে হস্তক্ষেপ করতাম না,

এবং হস্তক্ষেপ করলেও,

যে সঠিক ছিলো তাকে সবসময় সমর্থন করতাম,

সেটা বাখতি হোক কিংবা আবা,

আমি কখনোই কারো পক্ষে পক্ষপাতী ছিলাম না,

ওহ,কাম অন, স্যার, এটা সত্য নয়,

ধরুন, আপনার স্ত্রীর সাথে লড়াই হয়েছিলো দিনের বেলায়,

এবং রাতের সেই মুহূর্তে সে যখন আপনার কাছে আসবে,

আপনি তাকে ক্ষমা করে দিবেন এবং সবকিছু ভুলে যাবেন,

এটা আবার ক্ষেত্রে প্রযোজ্য নয়,,,,,,

কারো সাথে তার অনুভূতি গুলো ভাগ করে নেওয়ার মতো তার কেউ নেই,

আপনি এটা কখনোই বুঝতে পারেন নি,

আপনার স্ত্রীর ভুল ক্ষমা হয়েছে এবং কয়েক ঘন্টার মধ্যে ভুলে গেছি,

যদিও,আবা তার তিক্ত অনুভূতি গুলো নিয়ে বেঁচে থাকবে,

আপনি যদি তার কাছে ফিরে যান,

এবং বলেন,,,,, আপনি নিরপেক্ষ,

এটা তার আত্মবিশ্বাস বাড়িয়ে দিবে,

সে জানে যে ,তার স্বামী তাকে সবসময় সমর্থণ করবে,

আপনি যদি আপনার বাবাকে সমর্থন করতেন,

তাহলে, আপনার স্ত্রী এটা চেষ্টা করার সাহস কখোনই পেত না,

তাই আমি বলেছি যে আপনি তাকে প্ররোচিত করেছেন,

তাই, এখন আপনি তার দোষ আপনার উপর নিয়ে নিন,

আমি নিশ্চিত আপনি এটা তার জন্য করবেন,

আজকে রাতে বাসায় গিয়ে চিন্তা করে, কালকে আপনার মতামত জানাতে পারেন,

আমি আপনাকে সাহায্য করতে পারবো, আপনার শাস্তির মেয়াদ কমাতে,

আপনার বোতলটি নিয়ে যান,

এইসব জিনিসের প্রতি আমার লোভ কম,

দেখা হবে,

ফোনটা ধরো,

-কল ধরেছে? -না,

সে আমার ফোনও ধরছে না,

মেসেজ গুলোর রিপ্লাইও দিচ্ছে না,

ওহ, ইশ্বর, রাহুল!

তুমি কোথায় গিয়ছিলে?

রাহুল, কোথায় গিয়েছিলে তুমি ?

ভিক্ষা চাইতে,

তোমার অপরাধের জন্য ক্ষমা ভিক্ষা করতে গিয়েছিলাম,

সে কী বলেছে?

তোমার অপরাধ আমার গাড়ে তুলে নেওয়ার পরামর্শ দিয়েছে,

কী? সে এমন ভয়ংকর লোক,

এই পরিস্থিতি এড়াতে আমার কথা শোনা উচিত ছিলো তোমার,

রাহুল, আমি কখনই আবা'কে হত্যার চেষ্টা করিনি,

মদ কী তুমি খাইছো না আমি খাইছি,

কিছু ঘন্টা আগে তুমি এটা নিজ মুখ থেকে স্বীকার করো নি?

রাহুল, প্লিজ,

তুমি কী একটু শান্ত হবে এবং আমার কথা শুনবে?

নাগারগোজি, আমার সাথে আজ সকালে কলেজে দেখা করতে এসেছিলো,

Sum to Product formula,

sin(a) + sin(b)

is equal to 2sin(a + b) by 2

cos(a - b) by 2,

sin(a) - sin(b)

নোট করো,,,,,,,,

৩ নম্বর সমীকরণের দিকে তাকাও,,,,,

এবং,,,, এটা সমাধান করার চেষ্টা করও,,,,,,,,

হ্যাঁ

-আপনার মধ্যে কোনো রহস্য আছে? -কী?

আপনি কী অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ কোনো কিছু গোপন করছেন আমার কাছ থেকে বা আপনার স্বামীর কাছ থেকে,?

একেবারে, না,

-আপনি নিশ্চিত? -আপনি কি চান?

আমি কিছু বিষয়ে নিশ্চিত হতে চাই কেসটা বন্ধ করার আগে,

পরে, যখন আবা তার জ্ঞান ফিরে পাবে,

তার বক্তব্য আগের রেকর্ডের সাথে ভিন্ন হবে, এবং সবকিছু মিলিয়ে জগাখিচুড়ি তৈরি হবে,

আমি খুব দৃঢ় ভাবে বিশ্বাস করি আপনাদের মধ্যের কেউ একজন খুব গুরুত্বপূর্ণ তথ্য লুকাচ্ছেন,

এবং,,,,,,

আমি এটা শেষ পযন্ত খুঁজতে থাকবো,

তবে, আপনাদেরকে এর ফল ভুগতে হবে,

আশা করছি, বুঝতে পেরেছেন,

আমি আপনার থেকে লুকিয়েছি,

লোনাভালায় বসে রাহুল এবং আবা'র মধ্যে উচ্চকণ্ঠে ঝগড়ার সম্পর্কে,

আমি যা পূর্বাভাস দিয়েছিলাম আবা ঠিক সে রকম আচরণ করেছিলো,

ঠিক আছে,

এবং,,,,

আপনার স্বামী বলেছে এগুলো,

হ্যাঁ,গতকালকে বলেছে,

কিন্তু, নিতিন এই ঝগড়া সম্পর্কে আমাকে আগেই অবহিত করেছিলো,

ঠিক আছে,

নিতিন কী রাহুলের কাছ থেকে শুনেছিলো?

প্লিজ, রাহুলের কাছে এ সম্পর্কে কিছু বলবেন না,

-অবশ্যই -না,

এমন একটি গুরুত্বপূর্ণ তথ্য, আপনি আমার থেকে লুকিয়ে রেখেছিলেন,

আমি নিশ্চিত যে, আরও অনেক গোপন তথ্য রয়েছে,

আমি এটি সম্পর্কে নিশ্চিত, আমরা অবশ্যই খুঁজে বের করবো,

চেষ্টা করা যাক,

আমি আজকে সন্ধ্যায় আপনার সাথে দেখা করতে আসবো এবং আপনাকে হত্যা চেষ্টার জন্য দোষারোপ করবো,

প্রথমে না না বলবেন এবং প্রতিরোধ করবেন,

কিন্তু তার কিছুক্ষন পর স্বীকার করে নিবেন,

আপনাকে আটকা পড়তে দেখে, সে অস্থির হয়ে উঠবে,

এবং আমাদেরকে সত্য কথা বলে দিবে,

বুঝতে পেরেছেন?

আমি এটা আপনার জন্য করছি,

অন্যথায়, এটি ভুলে যান,

-ম্যাডাম? -হ্যাঁ

আমার আরও কিছু সাহায্য দরকার,

আপনার বন্ধু, নিতিন,

তাকে আমার সাথে একটু দেখা করতে বলবেন,

আপনারা দুজন গলির কোনার লেনের ফুটপাতে আমার সাথে দেখা করবেন,

আমার কিছু তথ্য দরকার,

তারপরে, আমরা সবাই একত্র হয়ে আপনার বাসার দিকে যাবো,

রাহুল, আমি কোনো ভুল করি নি,

তোর কথা না শোনার জন্য, দুঃখিত,

শুভ সকাল, স্যার

আবার এসেছেন কেন এখানে?

আমি আমার কর্তব্য দায়িত্বসহকারে পালন করছি, তাই আপনার সাথে ঘন ঘন দেখা হয়,

আপনার আর কী কর্তব্য করা বাকী রয়ে গেছে?

শুভ সকাল, ম্যাডাম,

আমি আপনাকে গ্রেপ্তার করতে এসেছি,

কী?

গ্রেপ্তার, কীসের জন্য?

আপনার বাবাকে হত্যার চেষ্টা করার জন্য,

রাহুল,

প্লিজ, তাকে কিছু বলো,

অপেক্ষা করো,

আপনি কী বলতে চাচ্ছেন,

সিরিঞ্জটা এবং ইনসুলিন সট গুলো আমি এনেছিলাম?

না,

আপনার ক্রেমিস্ট এর সাথে কথা হয়েছে,

সে তার এক আত্মীয়ের দোকান থেকেঔষধ গুলো পেত, তার স্টক শেষ হয়ে যায়,

এবং কাকতালীয় ভাবে সে নিতিনের বাসার পাশের দোকান থেকে ঔষধ গুলো এনেছিলো,

এবং আবা'ই নিতিনকে ২০ সিসির সিরিঞ্জটি আনতে বলেছিলো,

গাছগুলোতে কীটনাশক স্প্রে করার জন্য,

-তো? -তো কী?

আপনি একজন আইনজীবী, তাই না?

আপনি কী মনে করেন, পুলিশ কোনো প্রমাণ ছাড়া কারো বিরুদ্ধে কথা বলে?

আপনি আগেই জানতেন, তাই না?

হ্যাঁ, এটি আমি আপনার কাছ থেকে ইচ্ছাকৃতভাবে লুকিয়েছি,

আমি ভেবেছিলাম, আপনার স্ত্রীকে ফাঁদে পড়তে দেখে, আপনি নিজের অপরাধ স্বীকার করে নিবেন,

আপনিই আবা'কে হত্যার চেষ্টা করেছিলেন,

আপনি উপলব্ধি করতে,,,,,,,

এখন থেকে,,,

আপনি যদি একটা শব্দও উচ্চারণ করেন,

আমার দিব্যি,আমি আপনাকে খুন করে ফেলবো,

এটা একটি উপলব্ধিযোগ্য অপরাধ,

আপনি পরে এটি সম্বোধন করতে পারবেন,

এখন আমার কথা শুনুন,

-কী? -প্লিজ,আমাকে অনুসরণ করুন,

এটাই সেই ভাঙা রেলিং, তাই না?

-হ্যাঁ, তবে আমরা এখন এটি ঠিক করেছি,

আপনারা দুজনেই বেলকনিতে যান,

এবং রেলিং উপর ধাক্কা দিন,

যান,,, যান,,,

কী,,,,

আপনার কি মনে হয়, এইরকম একটি শক্তিশালী রেলিং আবার পেসারে ভেঙে যাবে?

তবুও এটি ভেঙে গেছে,

আমি বলছি,কীভাবে,,,,,

২৮ তারিখ রাত্রে আপনারা দুজন বাহিরে ডিনার করতে গিয়ছিলেন,

এবং দেরী করে বাসায় ফিরেছিলেন,

বাকী ক্রিয়াকলাপ আগেই উল্লেখিত করা হয়েছে ,

তাই, পুনরাবৃত্তি করে সময় নস্ট করতে চাই না,

আবা,

প্রতিদিনকার মতো, ম্যাডাম, আবা'কে ইনসুলিন সট দেয়,

ম্যাম,আপনি শান্ত হয়ে গেছিলেন সেই ঝগড়া সম্পর্কে জানার পর,

কিন্তু, স্যার, সেই ঘটনার পর থেকে আপনি খুব অস্থির ছিলেন, এবং এটা জানতেন যে,

যদি এই জাতীয় তর্ক অব্যাহত থাকে,

আপনি নিশ্চিত ছিলেন, সে বাসা থেকে চলে যাবে,

এবং,যদি আপনারা দুজন বাসা থেকে বের হয়ে যান,

মানুষজন আপনাদেরকে অপদস্ত করবে, একটি বুড়ো মানুষ পরিত্যাগ করার জন্য, এটা একটা উদ্বেগ এর বিষয় ছিলো,

এছাড়া, সে যদি আবাকে ছেড়ে চলে যায়, তাহলে সে তার বিশাল সম্পত্তি হারাতে পারে,

এই উদ্বেগ টাও তার মধ্যে ছিলো ,

এবং তার উদ্বেগ গুলো , তার মধ্যে ভীতির সঞ্চার করেছিলো,

একটা মানুষ যে কোনো সীমায় যেতে পারে, যখন সে ভয় পায়,

এমনকি, নিজের বাবাকেও হত্যা করতে পারে,

আবা,

আবা?

হ্যাঁ,

আপনি ক্ষুব্ধ হয়ে গিয়েছিলেন,

তাকে মদ্যপান করতে দেখে এবং শান্তিতে ঘুমাতে দেখে,

আপনার পরিবারের শান্তি বিনষ্ট করার পরেও,

আপনি আপনার ভুল বুঝতে পেরেছিলেন এবং সে মারা গেছে ভেবে ভয় পেয়েছিলেন,

আপনার মধ্যে আপনার আইনজীবী সত্তা জেগেছিল, ,

তখন আপনার কাজ ছিলো শুধু, এটাকে একটা দুর্ঘটনার রুপ দেওয়া,

স্ক্রু-ড্রাইভার এবং একটি স্প্যানার নিয়ে আপনি আবার বেলকনিতে ফিরে আসলেন ,

এবং রেলিং এর স্ক্রুগুলি আলগা করা শুরু করলেন,

দুর্ভাগ্যবশত, এই ভারী বৃষ্টির মধ্যেও,

সিকিউরিটি গার্ড আবার ধপ করে পড়ার শব্দ শুনতে পেলো,

আমার কাছে এই তত্ত্বের পক্ষে প্রমাণ আছে,

যদি প্রাকৃতিক ভাবে রেলিংটি ভেঙে যেত,

স্ক্রুগুলি কিছুটা বাঁকানো থাকতো,

ছবিটির দিকে লক্ষ্য করুন,

স্ক্রুগুলো অক্ষত আছে এবং এগুলোকে বেলকনির এক কোণায় পাওয়া গেছে,

আপনার কী মনে হয় যদি রেলিং টি ভেঙে যায়,

তাহলে স্ক্রু গুলো কী খোলা অবস্থায় একসাথে পাওয়া যেত,

এবং স্ক্রুগুলোর ঠিক পাশেই স্প্যানারটি পড়ে ছিলো,

দ্বিতীয়ত,

ছবিটির দিকে ভালো ভাবে লক্ষ্য করুন,

আপনি কী মেঝেতে রক্তের দাগ দেখতে পাচ্ছেন?

আপনি দেখতে পাচ্ছেন,তাই না?

আমি জানি না, এটা আমার বিভাগের কর্মকতাদের অসতর্কতা,

কিংবা আপনি যদি তাদেরকে ঘুষ দিয়ে থাকেন,

কারণ এই রক্তের নমুনা বিশ্লেষণ সম্পর্কে তদন্তের কোনো জায়গায় উল্লেখ নেই,

অদ্ভুত!

আবা বেলকনি থেকে দুর্ঘটনাক্রমে নিচে পড়লে,

মেঝেতে রক্তের দাগ থাকার, কোনো কারণ দেখছি না আমি,

আমি নিশ্চিত,আপনাদের মধ্যে অবশ্যই হাতাহাতি হয়েছিলো,

এবং সেই হাতাহাতির কারণে আবা তার হাতে আঘাত পেয়েছিলেন,

আরেকটি গুরুত্বপূর্ণ প্রমাণ,

আবা যে স্থানে পড়েছিলো তার কাছেই,

আমি এই ব্রাস বেলটি পেয়েছি,

পুলিশরা অবশ্যই এই প্রমাণের টুকরাটি অগ্রাহ্য করেছে,

আমিও প্রথমে ভেবেছিলাম এটা হয়তো অপ্রয়োজনীয় জিনিস,

তবে, আমি আপনাদের বাসায় এসে বুঝতে পারলাম,

এটা আপনাদের আলংকারিক উইন্ড চিমের,

একটা অংশ,

আপনাদের হাতাহাতির সময় আবা অবশ্যই এটি ধরেছিলো,

শেষ অবলম্বনের জন্য,

বেচারা বুড়ো, মানুষটি বুঝতে পারে নি, যে একটা আলংকারিকের টুকরো

তার সহায়ক হবে না,

রাহুল, প্লিজ কিছু বলো,

এগুলো সব প্ল্যান করে তৈরি করা,

এটাই সত্য!

এবং সেটা উপযুক্ত প্রমাণ দিয়ে প্রমাণ করেছি,

হ্যালো,

প্লিজ, আমার সাথে প্রমাণ সম্পর্কে কথা বলবেন না,

প্রয়োজন অনুসারে বানোয়াট প্রমাণ তৈরি যায়,

যখন আপনি কাউকে ফাঁদে ফেলার সিদ্ধান্ত নিবেন,

প্রমাণ সংগ্রহ করা খুবই সহজ,

এবং কেবল নিদিষ্ট প্রমাণ গুলি যা তাকে ফাঁদে ফেলবে,

মুভির ডায়লগ আদালতে গ্রহণযোগ্য নয়,

ওয়ারেন্ট!

রাহুল,

রাহুল,

রাহুল,তুমি কিছু বলছো না কেন?

রাহুল,

চিন্তা করো না,

আমি সেখানে আসছি,

সাইন কর,

আজ সন্ধ্যা নাগাদ জামিন পেয়ে যাবো,

এতো কিছু ঘটে গেলো আর তুই আমাদেরকে একবার জানানোর প্রয়োজন মনে করলি নাহ,

নিশু এগুলো জানে?

আমি দেখছি,

বাখতি,

তোর জন্য একটা কুরিয়ার এসেছে,

'রাহুল ,বাখতি,

উভয়ের জন্য আশীর্বাদ ,

আমি হয়তো বেঁচে থাকবো না যখন তুমি এই চিঠিটা পড়বে,

আমি ইচ্ছা করে তোমাদের কাছে চিঠিটি দেরীতে পৌঁছাবার ব্যাবস্থা করেছি

আমি তোমাকে অনেক দুংখ কষ্ট দিয়েছে,

এর জন্য আমি তোমার কাছে ক্ষমা প্রার্থনা করছি,

আমি কোনো অপরাধ করিনি,

কিন্তু, তারপরও অপরাধ বোধ আমাকে কুঁড়ে কুঁড়ে খাচ্ছিলো,

তাই আমি একটা নিবোর্ধের মতো সিদ্ধান্ত নিলাম,

আত্মহত্যা করা খুব বোকামি লাগতে পারে,

কিন্তু,

যখন আপনার পাশে কেউ থাকবে না,

তখন এই পৃথিবীতে বেঁচে থাকা অর্থহীন,

আমি তোমার কাছে অনুরোধ করছি,তুমি আমার সন্তানের মতো, আমার জন্য কোনো ধর্মানুষ্ঠান করবে না ,

এটাই আমার শেষ ইচ্ছা,

এবং আমার আত্মহত্যার জন্য কেউ দায়ী নয়,

আবা,'

বাখতি, আমার কী এতই নিষ্ঠুর?

না,

তবে, নিশ্চয়ই আমাদের আচরণের মধ্যে কোনো ভুল ছিলো,

সম্ভবত, আবা'র প্রতি আমার আচরণ,

আমরা সবাই সবর্দা একে অপরের জন্য ছিলাম, সবর্দা,

আবা একা ছিল,

সে একবার বাড়ি ফিরে আসলেই, আমি তাকে শক্ত করে জড়িয়ে ধরে ক্ষমা চাইবো,

সিরিয়াসলি,

তোমার কী মনে হয়,তার অতীতের কোনো স্মৃতি মনে থাকবে?

আমি জানি না, তবে আমার আবেগগুলি অবশ্যই তাকে স্পর্শ করবে,

রাহুল,

মি.নাগারগোজি থেকে মেসেজ এসেছে,

আবা নাকি পুরোপুরি সুস্থ হয়ে গেছেন, কিন্তু,,,,

আবা কোনো সুইসাইড নোট লেখেননি,

আবা'র স্বাক্ষরও জাল,

তিনি আমাকে হস্তাক্ষর বিশেষজ্ঞদের থেকে পাওয়া রিপোর্টটি মেইল করেছে,

তিনি আমাদেরকে আবা'র সাথে দেখা করতে বলেছে এবং তারপর তার সাথে,

কাঁদছিস কেন?

আমি এখনো মারা যায়নি,

বউমা,

তোমার চোখের জল অপচয় করো না,

কিছু বাঁচিয়ে রাখো আমি যাবার পর কেঁদো,

তাহলে,লোকেরা বিশ্বাস করবে যে তুমি সত্যিই আমার যত্ন নিতে,

আবা,

আমি মজা করছি,

আবা, সেই রাতে কী ঘটেছিলো?

কখন?

যখন তুমি,,,,,

পড়ে গেলে,

হ্যাঁ,

আমি ধুমপান করার জন্য বেলকনিতে এসেছিলাম ,

কিন্তু,প্যাকেটটি খালি ছিলো ,

প্যাকেটটির গন্ধও খুব লোভনীয়, তাই না?

আমি সেখানে রেলিংয়ের উপর হেলান দিয়ে দাঁড়িয়েছিলাম

আমি বুঝতে পারলাম, রেলিংটি নড়বড়ে হয়ে গেছে,

ভিতরে গেলাম,

এবং একটি স্প্যানার এবং স্ক্রু-ড্রাইভার,

নিয়ে আসলাম, এটা ঠিক করার জন্য,

আমি স্ক্রু গুলি আলগা করছিলাম,

কিন্তু,,,,

এটা করার সময়, ঘটনাক্রমে

হুইস্কির গ্লাসটি নিচে পরে যায়,

এবং ভেঙে যায়,

আমি স্প্যানার এবং স্ক্রুগুলি একপাশে রেখে

কাচঁ গুলো পরিষ্কার করার জন্য ঝাড়ুটি হাতে নিলাম,

তখন হঠাৎ করে অন্ধকার হয়ে যায়, উপরের দিকে তাকিয়ে আমি বুঝতে পারলাম কী হয়েছে,

ল্যাম্পটি ত্রুটিযুক্ত ছিলো,

তোরা এটা ঠিক করার কখনো বিষয়ে মাথা ঘামাতি না ,

তাই, আমি টুলটি নিয়ে ল্যাম্পটির নিচ বরাবর রাখি,,,

আমি টুলটির উপর উঠে দাঁড়াই,,, এটা ঠিক করার জন্য ,

ঠিক আছে,

ওহহ,,,,,

ল্যাম্পের শেডটির স্ক্রু খুলতে শুরু করলাম,,,,

আমি স্ক্রু-ড্রাইভারটি মুখ দিয়ে ধরে রেখে, উপরের দিকে হাত উঠালাম,

তখন স্ক্রু-ড্রাইভাটির খোঁচা লাগে হাতে, এবং রক্ত বের হওয়া শুরু হয়,

সম্ভবত, ভারী বৃষ্টির কারণেই

হয়তো সেখানে শটর্সাকিট হয়েছিলো,

আমি একটি বৈদ্যুতিক শক পাই এবং নিজের ভারসাম্য হারিয়ে ফেলি তারপর নিচে পড়ে যাই,

আমার আর কিছুই মনে নেই,

তাহলে, সুইসাইড নোটটি কে লিখেছে ?

আমি,

আপনি বুঝতে পারেন নি?

বা আপনি কী বিষয়টা স্কিপ করে গেছেন ?

ছোটবেলায়,আপনার আবাই রিপোর্ট কাডে স্বাক্ষর করে দিতেন, তাই না?

তবুও আপনি তার স্বাক্ষর চিনতে পারলেন না?

এগুলো করার উদ্দেশ্য কী ছিলো?

আপনি এতো নিষ্ঠুর আচরণ করেছিলন কেন?

আমি আপনার উপর সম্মানহানির কেস করতে পারি,

আমি দেখাতে চেয়েছিলাম, একজন নির্দোষ ব্যাক্তি,

উপর অভিযোগ করলে, তার ভিতর কী ধরনের অনুভূতি হয়,

আবা আত্মহত্যার চেষ্টার করেছে এবং আপনার স্ত্রী এবং আপনি তাকে হত্যা চেষ্টা করেছিলেন,

এগুলো কী আমি প্রাসঙ্গিক প্রমাণ দিয়ে প্রমাণ করে দেয়নি?

এক মিনিট, আমিও আমার নির্দোষতা প্রমাণ করতে পারতাম,

তাহলে, করলেন না কেন?

কারণ ,,,,,,,,,

আমাদের বাসায় একটা অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটেছিলো এবং আমরা মানসিকভাবে বিপর্যস্ত ছিলাম,

ঠিক আছে,

এবং লোনাভালায় যে ঘটনাটা ঘটেছিলো ছিলো,

সেটা বার বার চিন্তা করে আমি বিরক্ত হয়ে গেছিলাম,

নিশু সারাদিন কল করে দাদুর সাথে কথা বলার বায়না ধরতো,

এটা সামাল দেওয়া, অন্য একটা ঝামেলা ছিলো,

আমরা চারদিক থেকেই সমস্যায় জর্জরিত ছিলাম,

উপর থেকে, আপনি আমাদের উপর দোষারোপ করেই যাচ্ছিলেন যা সম্পর্কে আমাদের নুন্যতম ধারণা টুকুও ছিলো না,

এজন্যই আমরা সবকিছু তালগোল পাকিয়ে ফেলছিলাম,

আপনারা নতুন প্রজন্মের হয়ে যদি চাপের কারণে ভেঙে পরেন,

তাহলে,কীভাবে আশা করলেন আবা সবকিছু একা সামাল দিতে পারবে,

আপনার কাছে আদালত আছে লড়াই করার জন্য,

কিন্তু আবার কাছে কিছু নেই,

তো,এটা কী সম্পূর্ণরূপে আমাদের দোষ?

আমি কখনোই বলেনি,

আপনি জানেন? ম্যাডাম,

আমি নিশ্চিত এই রকম পরিস্থিতি আপনার বাবার বাড়িতেও তৈরি হয়,

তাই না?

আপনি অবশ্যই, সেক্ষেত্রে আপনার মা-বাবার প্রতি সহানুভূতিশীল আচরণ করেন,

এবং এসবের জন্য আপনি আপনার ভাই এবং ভাবীকে দোষারোপ করেন,

অথচ এখানে,,,,,

আপনারা দুজনেই সুবিধামতো সবকিছুতেই আবা'র দোষ দেন,

আমরা কখনই আবা'র সাথে খারাপ ব্যবহার করিনি,

তো,আপনি তার সাথে কীভাবে আচরণ করতেন?

তাকে খাওয়াতেন,

আপনাদের সাথে থাকতে দিলেন,

অসুস্থ হলে সেবা করতেন?

এমনকি এই সুযোগ সুবিধা গুলো একটা বৃদ্ধাশ্রমও পাওয়া যায়,

তো, আপনার বাড়ি আর বৃদ্ধাশ্রমের মধ্যে পার্থক্য কোথায়,

মি.নাগারগোজি, আমরা একসাথে থাকতাম,

ঠিক আছে, তাহলে আমরা বলতে পারি আপনি একটা বৃদ্ধাশ্রম পরিচালনা করতেন,

বলুন,

গত কয়েক বছরের মধ্যে,,,,,

নাটকীয় যত্ন ছাড়া কখনো সত্যিকারে যত্ন নিয়েছেন, মন থেকে?

সবাই মিলে কোথায় বাইরে ঘুরতে যেতেন একটা পরিবারের মতো?

কখনো তার প্রশংসা করেছেন?

মনে আছে?

কখনো তার সাথে গল্প করেছেন?

কখনো তার কাঁধের উপর হাত দিয়ে সাহস জুগিয়েছেন?

বাবাকে শেষ কবে ছুঁয়েছিলেন?

এই জিনিস গুলো খুব তুচ্ছ মনে হতে পারে, কিন্তু আসলে তা নয়,

যুগ যুগ ধরে একসাথে বাস করে,

নিজের লোকের স্পর্শ না পাওয়া এটা কোনো তুচ্ছ বিষয় নয়,যেমনটা আপনি মনে করেন,

অতীতে বাচ্চারা সম্মান প্রদর্শনের জন্য যখন মা-বাবার পা ছুঁতো,

তারা ছেলেমেয়ের মাথায় হাত রেখে তাদের জন্য আশীর্বাদ করতো,

সেই দিনগুলো চলে যাচ্ছে,,,,,,,,

কারও কাছে কোনো সময় নেই ইশ্বরের কাছে প্রার্থনা করার, এবং মা-বারার পাশে দাঁড়ানোর,

বাবারাও ক্লান্ত হয়,

পরিম্লান হয়,

তারাও রুদ্ধশ্বাস হয়ে পরে,

প্রত্যেক সকালে,,,,,,,

আমি নিজেকে বলি কারো সামনে মাথা নত করবে না,

এবং যতদিন বাচঁবে সম্মানের সাথে বাঁচবে,

এবং প্রতি রাতে আমি ক্লান্ত হয়ে পড়ি,

আমি চাই,আমার ছেলে আমার স্বাস্থ্যের ব্যাপারে খোঁজ নিক,

যদিও, আমি কখনই তার সামনে আমার গ্লানি প্রকাশ করবো না,

সে যদি কখনো বলতো চাকরি ছেড়ে দিয়ে,

বাসায় থাকুন এবং নাতি-নাতনীদের দের সাথে খেলাধুলা করুন,

বলবে কেমনে,,,,,,,,সে তো অনেক ব্যস্ত থাকে ,,,,,,,

আমার ছেলে সিলিকন ভ্যালিতে কাজ করে,

আমি জানিনা সে কত টাকা আয় করে,

আমি তার থেকে কখনো এক কানাকড়িও চায়নি,

আমি তার মায়ের মৃত্যুর সময় আসতে বলেছিলাম,

সে আমাকে সব আনুষ্ঠানিকতা শেষ করতে বললো,

সে নাকি ছুটি পাবে না,

তার কাছে কী তার মায়ের শেষকৃত্য করার, সময় টুকুও ছিলো না?

সে কী ভুলে গেছে,

আমি কীভাবে তাঁকে লালন -পালন করে বড় করে তুলেছি?

ছোটবেলায়, সে যখন কাঁদতো,,,

আমি তাকে কোলে নিয়ে আকাশে উড়িয়ে বলতাম নে আকাশ তাকে উড়িয়ে নিয়ে যায়,

এবং বড় হয়ে সে সত্যিই উড়ে চলে গেল,

সে চাকরি ফেলে চলে আসতে পারতো, না?

হাজার হাজার চাকরি পড়ে আছে এখানে,

সে কী শ্মশানে গিয়ে আর তার মায়ের দেহ ফিরে পাবে?

আমরা যখন প্রবীণরা কোনো ভুল করি,

তোমরা সন্তানরা আমাদেরকে অদ্ভুত আচরণের জন্য অভিযুক্ত করো,

তোমাদের কী মনে হয় না,আমাদের ভুলগুলো উপেক্ষা করা উচিত,

বরং তা দিয়ে কোনো,

কোনো গানিতিক সমীকরণ না বানিয়ে মানুষের মাঝের সম্পর্ক উপস্থাপন করা উচিত?

আপনারা সবাই কেন একই ধরনের আচরণ করেন?

আমি আমার ছেলেকে আপনার মধ্যে দেখছি,

এজন্যই, আমি আপনাকে টার্গেট করেছি,

আপনারা কখনো বৃদ্ধ হবেন না?

আপনার এবং আবা'র মধ্যে অনেক মিল রয়েছে,

একই রকম দুঃখের লোকেরা, দেখতে একই রকম হয়,,

শুভকামনা!

বিদায়,,,,

আপনি "বিশ্বাস ", তাই না?

সে আপনার ছবি উল্টিয়ে দিয়েছে,

তবে, সে মাঝে মাঝে আপনার ছবির দিকে এক নাগাড়ে তাকিয়ে থাকে,

সে সবেমাত্র রেলস্টেশনের দিকে রওয়ানা হয়েছে,

সে "কাশী" যাবে

আপনার মায়ের শেষকৃত্য করতে ,

Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.