Afrikaans
Akan
Amharic
Arabic
Armenian
Azerbaijani
Basque
Belarusian
Bemba
Bihari
Bosnian
Breton
Bulgarian
Cambodian
Catalan
Cebuano
Cherokee
Chichewa
Chinese (Simplified)
Chinese (Traditional)
Corsican
Croatian
Czech
Danish
Dutch
Esperanto
Estonian
Ewe
Faroese
Filipino
Finnish
French
Frisian
Ga
Galician
Georgian
German
Guarani
Gujarati
Haitian Creole
Hausa
Hawaiian
Hebrew
Hindi
Hmong
Hungarian
Icelandic
Igbo
Interlingua
Irish
Italian
Japanese
Javanese
Kannada
Kazakh
Kinyarwanda
Kirundi
Kongo
Korean
Krio (Sierra Leone)
Kurdish
Kurdish (Soranî)
Kyrgyz
Laothian
Latin
Latvian
Lingala
Lithuanian
Lozi
Luganda
Luo
Luxembourgish
Macedonian
Malagasy
Malay
Maltese
Maori
Marathi
Mauritian Creole
Moldavian
Mongolian
Myanmar (Burmese)
Montenegrin
Nepali
Nigerian Pidgin
Northern Sotho
Norwegian
Norwegian (Nynorsk)
Occitan
Oriya
Oromo
Pashto
Persian
Polish
Portuguese (Brazil)
Portuguese (Portugal)
Punjabi
Quechua
Romanian
Romansh
Runyakitara
Russian
Samoan
Scots Gaelic
Serbian
Serbo-Croatian
Sesotho
Setswana
Seychellois Creole
Shona
Sindhi
Sinhalese
Slovak
Slovenian
Somali
Spanish (Latin American)
Sundanese
Swahili
Swedish
Tajik
Tatar
Thai
Tigrinya
Tonga
Tshiluba
Tumbuka
Turkish
Turkmen
Twi
Uighur
Ukrainian
Urdu
Uzbek
Vietnamese
Welsh
Wolof
Xhosa
Yiddish
Yoruba
Zulu
আমার ৬ষ্ঠ অনুবাদ। প্রথমবার, ভাষা বুঝে অনুবাদ করেছি। ক্ষুদ্র ভাষাজ্ঞান কাজে লাগিয়ে, অনুবাদ সম্পন্ন করেছি।
ভুল-ত্রুটি কম করে, সাবলীল অনুবাদ- উপহার দেয়ারই, চেষ্টা ছিল। তবুও, ভুল-ত্রুটি হলে- ক্ষমাসুন্দর দৃষ্টিতে দেখবেন।
কমেডি, হিউমার, ফান, রোমান্স, সাসপেন্স, থ্রিল, টুইস্ট- সবকিছুর মিশেলে তৈরি ফিল্মটি দারুন উপভোগ করবেন, আশা করি।
বাংলা অনুবাদ ও সম্পাদনায় রুবায়েদ ইসলাম
আমি এই কাজে রাজি। সব জেনেশুনে, মুখ পর্য্ন্ত না দেখে, টাকা দিয়ে এত অনুরোধ করায়- আপনার কাজ আমি করবোই।
ছেলেটাকে ওর ড্রাইভার ছেড়ে যায়। এরপর, সে প্রার্থনায় দাঁড়ায়।
স্কুল বেশ সুরক্ষিত। সবখানে সিসি ক্যামেরা লাগানো।
লান্চ-টাইমে ছেলেরা চারিদিকে ছড়িয়ে থাকে। নিরাপত্তা কর্মীরাও ব্যস্ত থাকে! কম্পাউন্ডের দিকে কেউ আসে না!
সুতরাং, এটাই কিডন্যাপিংয়ের জন্য মুখ্যম সময়।
বিকেলে সে এখানেই খেলে। ওর ড্রাইভারও এসে পড়ে। এখানে একটু কষ্ট হবে। তবুও, চেষ্টা করবো।
ধুর!
- কী ব্যাপার, এখানে কেন? - এই স্কুলের ফি দেই, যেখানে খুশি থাকবো!
সবাই সুইমিং ক্লাসে গেছে। শুধু এই ছেলেই বাথরুমে বসে গেম খেলছিল।
এখানে একটা দরজা আছে যেটার সিসিটিভি কাজ করে না! আরামসে কাজ সাড়তে পারবেন, ভাই।
ধুর, দাও ওটা!
- হ্যালো - যা বলছি মন দিয়ে শোন!
তোর করা একটা ভুল আমায় রাগিয়ে দিতে পারে। সাথে, ২৫ লাখের ক্ষতি করতে পারে! যা তোকেই দিতে হবে!
- আমি ২৫ লাখ দেবো কেন? - বিনা স্বার্থে টাকা দেয়ার মতো ফেরেশতা তুই না। হাত পেতে টাকা চাওয়া ভিক্ষুকও আমি না!
তোর ছেলেকে কিডন্যাপ করা হয়েছে। টাকা সময়মতো না পেলে, ছেলেকে- উপহার বাবদ পাঠাবো, তোর কাছে!
কোথায়, কখন, কীভাবে- টাকা পাঠাবি, পরের কলে জানাবো। ততক্ষণ পর্য্ন্ত, স্টে টিউনড টু- ২৫'লাখ এফএম! আমি কিডন্যাপার আছি, তোর ছেলের সাথে!
হ্যালো, ম্যারি! চিন্তা করবে না। জন'কে পাওয়া যাচ্ছে না! আমি কমিশনারের সঙ্গে কথা বলছি। এরপর, তোমায় সব বুঝিয়ে বলবো।
- কমিশনার! শুভ সকাল, স্যার! - শুভ সকাল, অশোক।
- বিখ্যাত বিজনেস ম্যাগনেট কেনেডি'কে চেনো তো? - জ্বী স্যার! - ওর ছেলে জন, কিডন্যাপ হয়েছে। বিষয়টা গোপন রাখতে হবে।
বাড়ি এসে ছেলের নিরাপত্তা নিশ্চিত করার অনুরোধ করে গেছে। তাই, কেসটা তোমায় সামলাতে দিচ্ছি।
- এরিয়া এস.আই. হারিশ তোমায় সঙ্গ দেবে। - ঠিক আছে, স্যার। আমি বেরিয়ে পড়ছি! - জলদি কাজে লেগে পড়ো। - ঠিক আছে।
- স্যার, কিডন্যাপ হওয়া ছেলের বাবা। - হ্যালো, অফিসার। - অশোক। - বসুন।
- কী হচ্ছে, কেনেডি। - শান্ত হও। - মি. কেনেডি, কমিশনার সাহেব আমায়- এই কেস পার্সোনালি সামলাতে বলেছেন।
- নিন, স্যার। - ধন্যবাদ। - নিন।
খুবই বিচিত্র কেস। আপনার কী মনে হয়? আপনার তো অনেক অবৈধ কাজকারবার!
- কাউকে সন্দেহ হয়? - সরাসরি কারো নাম বলাটা সম্ভব নয়, ইন্সপেক্টর!
হারিশ, উনার মোবাইল নাও। প্র্রথম কলটা কোত্থেকে থেকে এসেছিল দেখো। এরপর, উনার মোবাইলের সাথে সিঙ্ক করে, কল ডিটেইলস চেক করো।
এই ক'দিনে ৭টি কিডন্যাপিংয়ের কেস রেজিস্টার হয়েছে। ৫টা বাড়ি থেকে ঘটেছে। ১টি সুপারি নিয়ে এবং আরেকটি রাস্তা থেকে! কিছু তথ্য আরকি!
স্যার প্রাইভেট নাম্বার থেকে কল আসছে। হয়তো কিডন্যাপার!
উনাকে দাও।
মি. কেনেডি, একটি টেকনিক্যাল পয়েন্ট- কল ট্রেস করার জন্য কমপক্ষে ৬০ সেকেন্ড কথা বলতে হবে!
- মনোজ, তৈরি? - জ্বী, স্যার।
- ধরবো? - স্পীকার অন করে কথা বলুন।
- হ্যালো! - হ্যালো, মি. কেনেডি। - আমার ছেলে কেমন আছে? - ওর আর কী, আরামেই আছে।
মৃত্যপূর্বের সুখ ভোগ করছে!
- কথা বলবেন, ছেলের সাথে? - হ্যালো, বাবা! - জন, ঠিক আছো তুমি? - হ্যাঁ, বাবা।
- কিন্তু.. কিন্তু! - ওকে কিছু করবেন না!
এই বাচ্চার জন্য আর কীই বা করতে হবে! যা বলছি ভালো করে শোন। ১০ মিনিটের মধ্যে টাকা- শিভাজি নগরের রিজাল মার্কেটে পৌছে যাওয়া চাই!
বাচ্চা সুস্থভাবে বাড়ি পৌছে যাবে! চিন্তা নেই!
- মনোজ, ধরতে পেরেছ? - হ্যাঁ, স্যার। নিলামাঙ্গাল থেকে এসেছে।
কল নিলামাঙ্গাল থেকে এসেছে! টাকা শিভাজি নগর পৌছে দিতে বলেছে! তার মানে, ঐ গ্যাং শিভাজি নগর থেকে কাজ চালাচ্ছে!
- ঠিক আছে। সব ঠিক থাকবে। আপনি টাকার ব্যবস্থা করুন। - ঠিক আছে, অফিসার! - হারিশ!
- চিন্তা করবেন না, ম্যাডাম। - স্যার, ক্যাশ রেডি।
- হারিশ! - স্যার প্রথম কলটার সঠিক লোকেশন ধরতে পারিনি। কিন্তু, দুটো কলের সিমকার্ড ডিটেইলসই নকল!
- দুটোই নকল? - হ্যাঁ, স্যার।
ওরা একটা খেলা খেলছে, হারিশ! আমরাও একটা খেলা খেলবো।
ব্যাগে সব নকল টাকা রেখে দাও। টাকা আসল নয় জেনে, ওরা ফোনে যোগাযোগের চেষ্টা করবে। তখনই ট্রেস করে ফেলবো।
- ওদের বলা সময় অনুযায়ী, রিজাল মার্কেটে ব্যাগটা রেখে এসো। - জ্বী, স্যার।
- কী হচ্ছে ওখানে? - ব্যাগের জন্য কেউ আসছে না, স্যার! - সতর্ক থাকো। - জ্বী, স্যার।
আফসার ভাই, একটা চা.. 'আরসিবি'র হয়ে লাগানো হাতে!
- তোমাদের এক হাতে আসে, আমাদের দু'হাতে আসে। - কীভাবে?
আরসিবি'র পক্ষে আনোয়ারের সাথে লাগিয়েছি। সানরাইজার্সের পক্ষে আশরাফের সাথে লাগিয়েছি।
এক হাতে গেলে, আরেক হাতে আসবে! কেমন?
এটাকে বেটিং না, ব্যালেন্সিং বলে।
ব্র্যান্ডেড ব্যাগই তো মনে হচ্ছে!
ব্যাগের কাছে যে ঘুরছে, ওর দিকে লক্ষ রাখো।
- লক্ষ রাখছি, স্যার। সবাই সতর্ক থেকো। - আরেকজন আসছে, বি এলার্ট।
- স্যার, এই ব্যাগ আপনার? - না, ভাই!
- কার ব্যাগ, ভাই! এত দারুন দেখতে! - লক্ষ রাখো। - স্যার, অর্ডার দিলেই ঝাপিয়ে পড়বো।
- আসল না নকল, দেখে নেই! - স্যার, ব্যাগ খুলছে।
- ব্যাগ খুলে ফেলেছে। পালিয়ে যেতে পারে। ধরে ফেলো। - জ্বী, স্যার।
- দেখো.. - স্যার, আমি- মি. পারমেশ। আপনি পারমি ডাকতে পারেন।
স্যার, ধন্যবাদ। সবাই শুধু মারছিল। আপনিই প্রথম, যে কথা বললেন।
- দেখো, পাম্মি! - পারমি, স্যার!
P- U- R- M- Y
P- U- M- M- Y.. ওটা কুকুর!
ঠিক করে কথা বল!
- যা খুশি বলুন, স্যার! - ছেলেটা কোথায়?
- বেঁচে আছে না মরে গেছে? - কোন ছেলে, স্যার?
- কী বলছেন, এসব? - কোন ছেলে?!
- কিডন্যাপিং, এক্সটোর্শন (চাঁদাবাজি) কবে থেকে শুরু করেছিস? - স্যার, আমি- এডিশন (যোগ), সাবট্র্যাকশন'ও (বিয়োগ'ও) ঠিকমতো জানি না!
ডায়লগ মারাস। শ্যুয়ারের বাচ্চা!
স্যার, আপনারা কেন এমন করছেন? আমার ফোনটা দিয়ে দিন, প্লিজ!
বন্ধুদের ফোন দিচ্ছি, আপনারাই কথা বলে নিন।
স্যার, ওর নাম বা ফটো মিলে, এমন কোনো রেকর্ড আমাদের কাছে নেই।
কে তোর বস?
আরমুগাম।
- কে সে? - স্যার, আমি তার গোডাউনেই স্টোর-ম্যানেজার পদে কাজ করি।
আমার বস- আরমুগাম!
- কালামালিগে প্রাইভেট লিমিটেড। - জ্বী, স্যার। ওখানেই কাজ করি।
- তোকে ঐ ব্যাগ নিতে কে বলেছে? - স্যার, আমায় কেউ বলেনি!
স্যার, সত্যিটাই বলি! আমার ব্যান্ডেড জিনিস খুব পছন্দ। দূর থেকে ব্যাগটা দেখলাম। ভালো ব্র্যান্ডেরই মনে হলো!
স্যার, ওগুলো সব নকল! স্যার, ব্যাগটা খুব পছন্দ হয়েছিল। কোন গাধা ব্যাগটা রাস্তায় ফেলে গেছে, জানতে ইচ্ছে হলো।
আমায় এগিয়ে যেতে তো আপনারাও দেখেছিলেন। ব্যাগে এত টাকা থাকবে কল্পনাও করিনি। বিশ্বাস করুন, স্যার। আসলে, আমার সময়টাই খারাপ যাচ্ছে।
শালারপুত! তোর কথা যদি মিথ্যা হয়, তোর জিনিস এখানেই কেটে রেখে দেবো।
- আমি কিছু কাটি বা না কাটি, কারেন্ট সময়মতো কেটে যাবে! - জেনারেটর চালু করো। - একে ভেতরে ঢুকাও।
স্যার, প্লিজ! অশোক স্যার, প্লিজ...
- স্যার, আমরা কি সঠিক লোককে গ্রেফতার করেছি? - দেখো, অমাবস্যায় চাঁদ দেখা যায় না। এর মানে, এই না যে- চাঁদ নেই! আমরা শুধু দেখতে পাচ্ছি না আর কি!
- দেখে ফেলবো, অপেক্ষা করো। - ঠিক আছে, স্যার
স্যার, কেমন মানুষ সব স্টেশনে! সবার নজর ২৫ লাখে। কেউ কেয়ারলেসই হচ্ছিল না! সকাল থেকে বিকেল পর্য্ন্ত, ১০০ টাকা ধান্ধা করতে কত কষ্ট হয়েছে জানেন? স্যরি, স্যার!
- ন্যায় হচ্ছে, স্যার? - এগুলো নকল টাকা! যাও, হারিশ'কে দিয়ে এসো।
ধুর, এগুলো নকল টাকা! একদম আসল টাকার মতো ছাঁপিয়েছে, শালারা! বুঝতেই পারিনি!
৫০ হাজারের শ্রাদ্ধ হয়ে গেল!
হারিশ স্যার, এত-এত টাকা যাচ্ছে আমাদের স্টেশন থেকে..
- চল, চল.. - স্যার, আমি কিছুই করিনি।
- স্যার, খুব সাবধানে এনেছি। কোথায় রাখবো? - সাবধানতা ধরে রেখে, কোথাও রেখে দিন।
- স্যার, নকল টাকা বুঝতেই পারিনি! - এই, নিয়ে যান তো। - অরিজিনাল হলেই বা কী, আমি তো আর কিছু পাবো না।
- স্যার, প্লিজ! - এই, চল।
স্যার, ঐ ছেলের মোবাইল চেক করেছি। বিয়ে হতে চলা মেয়ের ছবি ছাড়া তেমন কিছু পাইনি। ওর ফেসবুক, ই-মেইল, কল ডিটেইলস চেকের দায়িত্ব ট্র্যাকার মনোজ'কে দিয়েছি।
আপনার জন্যেও একটি কপি নিয়ে এসেছি।
- ঐ চায়ের দোকানে কথা বলেছ? - হ্যাঁ, কথা বলেছি, স্যার।
- নিন, স্যার। - তারপর, পারমি এসেছিল নাকি? - এখন নাইট-শিফটে কাজ করে। একটু আগেও এসেছিল। কয়েকজন খুব কেলিয়েছে। চায়ের টাকাটাও দেয়নি!
- অফিসে? - গিয়েছিলাম, স্যার। - হ্যাঁ, সে এখানেই কাজ করে। খুবই ভালো ছেলে।
- চাঁদাবাজি বা কিছু? - না না! হয়তো, আগে করতো। আমি ওরকম কিছু দেখিনি।
- কিডন্যাপারের কল লোকেশনে গিয়েছিলে? - গিয়েছিলাম, স্যার। কিছুই পাইনি!
সমস্যা যেখান থেকে শুরু হয়েছিল, সেখানে যেতে হবে। চলো, জনের স্কুলে যাওয়া যাক।
- আপনার ছাত্র জনের ব্যাপারে কিছু বলতে পারেন? - হ্যাঁ, খুবই ভালো ছেলে। লেখাপড়ায় একটু দূর্বল হলেও, এক্সট্রা কারিকুলার এক্টিভিটিসে খুব ভালো।
গান, মিমিক্রি, ক্রিকেট- হ্যাঁ, ক্রিকেট খুব ভালো খেলতো।
- স্কুলে কখনো মারপিট বা কিছু? - ওরকম কিছু হয়নি, স্যার। খুবই ভালো ছেলে।
- জন, সুইমিং ক্লাসে রেগুলার আসতো? - জ্বী, স্যার। আসতো।
- ওকে শেষবার কোথায় দেখেছিলেন? - এই ড্রেসিং রুমে। - কত বছর ধরে স্কুলে আছেন? - স্কুল শুরু হওয়ার পর থেকেই।
- পুরো স্কুলেই সিসি ক্যামেরা আছে? - হ্যাঁ, স্যার। শুধু এদিকে একটা দরজা আছে। ওখানকার সিসি-ক্যামেরা কাজ করে না।
- তুমি জানো? - জ্বী, স্যার। - দরজা আছে আর সিসি ক্যামেরা কাজ করে না!
আসলে, অনেক বছর ধরে আছি এখানে...
যাকে ফোনে সব বলেছিলি, তাকে দেখা।
দাও। রিসেন্ট কিডন্যাপারদের মধ্যে- সবচেয়ে পরিচিত মুখ এরাই। কৃষ্না ওরফে কিট্টা, থাঙ্গাভেলু ওরফে ভেলু, প্রাসাদ ওরফে পাট্রে, ভাদ্রাপ্পা ওরফে ভাদ্রা।
- আমি নিশ্চিত এদের মধ্যে কেউ নয়, স্যার। - মানে? - উনার চুল একটু বড়-বড় ছিল।
ঐ ফাইলটা দাও।
- সে? - না, স্যার। - সে? - নিশ্চিত স্যার, এই, এই।
- স্যার, দামোদার ওরফে দামু। - দামু!
হারিশ, এস.আই. নারসিমহা'কে ডেকে- একে ট্র্যাক করতে বলো।
- স্যার, আমি কিচ্ছু করিনি। আমি কিডন্যাপার নই! - আমিও পুলিশ নই, ওয়াচম্যান। চুপ করে থাক।
স্যার, দয়া করে আমার কথাটা শুনুন, প্লিজ!
- অশোক স্যার। - কী হয়েছে? - একবার ব্যাগটা অন্য কেউ নিয়েছে ভাবুন। - ভাবলাম, পরে? - ব্যাগটা যে নিতে চেয়েছিল, সে অবশ্যই ঐ এলাকায় ছিল।
আপনারা যখন আমায় নিয়ে আসছিলেন, তখন নিশ্চয়ই সেও পিছু করে এসেছে। দু'জায়্গার সিসি ক্যামেরা চেক করুন। যাকে কমন পাবেন- সেই কিডন্যাপার।
তোর কথামতো দেখলে, দু'জায়্গায়ই ব্যাগের সাথে থাকা গাধা তুই! এই গাধার কথা শোনার মানে হয় না, স্যার!
স্যার, আমার জীবনের প্রশ্ন, প্লিজ...
- এতবার এক ডায়লগ কখনো শুনিনি! হুদাই! - ধুর, সময়টাই খারাপ যাচ্ছে!
- আমাদের আদেশ করার সাহস করে কীভাবে সে! - না, হারিশ। ওর কথায় যুক্তি আছে। - অবশ্যই আছে, স্যার।
কোনো সম্ভাবনাকে বাদ দেয়া যাবে না। কাজ করো- রিজাল মার্কেটে যাও। পূজারী, স্টেশনের সামনের জুয়েলারিতে যাও। দু'জায়্গার সমস্ত সিসিটিভি ফুটেজ নিয়ে এসো।
- ঠিক আছে? - ঠিক আছে, স্যার।
- একটা সংশয় ছিল, স্যার! - এসে বলবে। - ঠিক আছে, স্যার।
- কী হয়েছে, মা? - স্যার, আমার ছোট বোন, আমার স্বামীর সঙ্গে পালিয়েছে। - ইনি কে? - ছোট বোনের স্বামী, স্যার।
- নাম? - কবিতা। - বয়স? - ২৪। - ঠিকানা বলো।
- নাম্বার- ২৩... - স্যার! - কী? - ফোনটা দিয়ে দিন, স্যার।
- একটা কল করবো। - কীসের ফোন? কিচ্ছু নেই এখানে। চুপচাপ বসে থাক!
- বলতে থাকো। - প্রথম মোড়, নবম রাস্তা.. - তারপর? - ৪র্থ ব্লক...
- জেপি নগর। - ফোন নম্বর? - কয় বোন তোমরা? - দুই বোন, স্যার। - এক কাজ করো, ওর অবর্তমানে আরেকটি বোন জুটিয়ে ফেলো। ওরা আরাম করুক। কী বলেন, স্যার?
- স্যার, জলদি খুঁজবেন। - খুঁজে পেলেই জানাবো। যাও, মা। - স্যার। - কী?
পূজারী, স্যার। আসুন স্যার।
- কী হয়েছে? - স্যার, আমার ফোনটা দিন, প্লিজ। - সম্ভব না। ওটা স্যারের আন্ডারে আছে।
স্যার, আগামী সপ্তাহে আমার বিয়ে। ওকে নিয়ে শপিংয়ে যাবো, প্রমিস করেছিলাম।
ফোন না করলে, টেনশনে পড়ে যাবে না বেচারি! একটা মাত্র ম্যাসেজ করবো, প্লিজ স্যার।
সামনে বিয়ে, আছো জেলে! ভবিষ্যতের পরিণতি সহ্যের অভ্যাস করাতেই- বিধাতার এই ব্যবস্থা। মোবাইল নেই, চুপচাপ বসে থাক।
- প্লিজ স্যার, প্লিজ স্যার। - কী ম্যাসেজ পাঠাবে? চেক করি!
- জলদি কাজ শেষ করে ফেরত দে। - ধন্যবাদ, স্যার।
একটু এই ক্যামেরায়, একটু ওই দিকে.. হ্যাঁ, ডানে জুম করুন। স্যার, কথামতো সমস্ত ফুটেজ চেক করেছি। কিন্তু কাউকে কমন পাইনি!
- চার জন কমন পেয়েছি, স্যার। - চার জন! - হ্যাঁ, স্যার। ৩জন অফিসার আর ঐ ছেলে।
বসুন, স্যার।
প্লে করুন। যান, যান রিওয়ান্ড করুন।
- স্যার, এই ছেলেকেই অপরাধী বলে ভাবছেন? - অসম্ভব, স্যার! এই ছেলে শিশু, কিচ্ছু জানে না।
- শিশুটা ব্যাগে হাত দিয়ে ফ্যাসাদে পড়ে গেছে। - চুপ করো।
- স্যার, আমার কাছে প্রমাণ আছে। - কী প্রমাণ? - স্যার, ম্যাসেজ করার কথা বলে সে আমার থেকে ফোন নিয়েছিল।
- প্রথম থেকে প্লে করুন। - ক্লু এর জন্য ফোনটা দিলাম। একটা ম্যাসেজ পেয়েছি, স্যার।
- কী ম্যাসেজ? - হাই, সোনা। আমি দুঃখিত। আমি আমার মোবাইল হারিয়ে ফেলেছি। স্যার, হতভাগা ছেলে। কান্নাডা, ইংরেজীতে লিখেছে। কিচ্ছু বুঝতে পারছি না!
- জলদি পড়ুন। - আজ শপিংয়ে যাওয়া হবে না! কাল যাবো। বাই!
- এরপর স্মাইলি ঢুকিয়ে দিয়েছে, স্যার। - কোন স্মাইলি?
এক মিনিট, এক মিনিট! রিওয়াইন্ড করুন।
স্লো মোশনে প্লে করুন।
জুম করুন।
- হারিশ, সে ব্যাগ নেয়ার সময় কিছু বলছে। - হ্যাঁ, স্যার। - কী বলছে, জানাটা জরুরি! লিপ রিডারকে ডাকো। - ঠিক আছে, স্যার।
পূজারী, ওর সাথে কথা বলে জানার চেষ্টা করো। ক্লু পেতে পারি। এক মিনিট, আবার প্লে করুন!
- হাই, মিঃ কিডন্যাপার। কেমন আছেন? - আমি?
আহ, তোর অবস্থা! ওখানে তোর বাবা-মা বিয়েতে কত লোক আসবে, সেটা ঠিক করছে। আর তুই এখানে আটকে আছিস।
আমি কোনো দোষ করিনি, স্যার। যে দোষ করেছে, সে আরামসে ঘুরে বেড়িয়ে- আপনাদের দিয়ে দোষ করাচ্ছে।
আর এখানে আপনারা দোষ করে- নির্দোষকে আটকে রেখে, দোষারোপ করে যাচ্ছেন।
তাও ঠিক। আমিও আটকেই আছি।
দ্বিতীয় বিষয়, আমার বিয়ের ব্যাপারে চিন্তা করার জন্য বাবা-মা কেউ নেই! আমার জীবনে শুধুমাত্র আমি!
সবাই যখন ঘুমোয়, তখন আমার কাজ শুরু হয়। সবাই যখন কাজে যায়, তখন আমার বাড়ি ফেরার সময় হয়।
শুভ সকাল, বস। তোমার জন্য প্রথম ম্যাচের কাঠি খরচ করে ফেললাম! জলদি, ঘরে থাকা সব নকল জিনিস বদলে আসল করে দাও, প্লিজ। ঠিক আছে? আসছি।
আমার মতো অনাথদের একটা সুবিধা আছে। যাই করি না কেন, বলার বা শোনানোর কেউ নেই।
কিন্তু, একটা অসুবিধাও আছে। আমাদের জীবনকথা বলা বা শোনারও কেউ নেই!
পারমির, যে শুধু সুন্দরী মেয়েই চাই- তা কিন্তু না! ঠিকঠাক মেয়ে হলেও চলবে।
কার কার চোখ, কাকে, কীভাবে দেখে- জানি না! কিন্তু, পারমি'র চোখজোড়া সুন্দর পা থাকা মেয়েদের বিয়ের পোশাকে দেখে।
আর একটা বিষয়, টিভি সিরিয়াল ও ব্র্যান্ডেড আইটেমই- আমার জীবন।
দেখতে পছন্দ, কিনতে কষ্ট!
হ্যালো, স্যার। কীভাবে সাহায্য করতে পারি?
বাইরে ৮০, এখানে কীভাবে ২০?
স্যার, ওটা আপ-টু ৮০% অফার।
- আমায় আপ-টু'ই দিন, স্যার। - স্যরি, স্যার। ওটা বিক্রি হয়ে গেছে।
- এটা ৮০% থেকে নেম গেল কেন? - আপনি চেয়েছেন না, তাই! - পাপীর দল!
আবার কে ঝামেলা শুরু করলো!
গেল দুইটা নিয়ে, বের হলো একটা নিয়ে!
দেখতে হচ্ছে।
আসলো দুইটা নিয়ে। বের হলো একটা নিয়ে!
মানে...
পুরো চোর, গুরু!
- আসলে, কয়টা নিল সে? - একটা। - একটা?
আমায় ফলো করছো! করো!
কে আপনি? আগেও স্কুটারের পিছু করছিলেন। সব দেখেছি, ঠিক আছে!
আমার বাড়িতে পুলিশ আছে। ডাকবো তাকে?
- পুলিশ? - হ্যাঁ। - ওহ মাই গড! জলদি- ডাকুন, ডাকুন, ডাকুন। একটা অভিযোগ আছে, আপনার বিরুদ্ধে!
- অভিযোগ? আমার বিরুদ্ধে? - হুম। - কী?
- দেখেছি। - কী দেখেছেন? - শো রুম, স্কার্ট.. সব দেখেছি।
- কী? আপনি বললেই বিশ্বাস করবো? - বিশ্বাস করবেন না, আমিও জানি।
তাই তো ফোনে ভিডিও রেকর্ডিং রেখে কথা বলছি!
এই ভিডিও টিভি চ্যানেলের কেউ পেলে, কয়েকদিনেই- 'সিলিকন সিটির- স্কার্ট চোর' নামে টক-শো শুরু করে বুজুর্গ বসিয়ে, আপনার ফটো টাঙিয়ে- ইচ্ছামতো ভাষণ ঝাড়বে।
আপনি কিছু করবেন না। যা চান বলুন। নিজেদের মধ্যেই ব্যাপারটা সামলানো যাক!
- ঘুষ, আমাকে? - হুম। - ইদানিং, খুনের খবর বেশি শুনছি! ঝেড়ে কাশুন তো! - না, না!
আসলে, যেটা হয়েছিল...
- পাপীর দল। নীতি বলে কিছু নেই? - না, ম্যাডাম। - কী? - মানে, ঐ অফার এখন আর নেই!
- দেখুন, আমি যখন এসেছিলাম- তখন ১+১ অফার ছিল তো? - ছিল, ম্যাডাম। - এখন সাইজ ঠিক নেই, চেঞ্জ করে দিতে বলছি আর অফারই নেই!
- দু'ঘন্টা আগে ঐ অফার শেষ হয়ে গেছে, ম্যাডাম। বোঝার চেষ্টা করুন। - এটা কেমন কথা! - ফিডব্যাক গুরুত্বপূর্ণ, ম্যাডাম। - ড্রেস চাই না, কিচ্ছু চাই না! রাখুন আপনার ড্রেস!
হাত-পা জড়িয়ে বসে থাকুন। আমার টাকা ফেরত চাই।
ঠিক আছে, ঠিক আছে। কুল!
শেয়ার করতে বলবো না- কারণ, এটা লেডিস ড্রেস। আমি আবার অবিবাহিত। গার্লফ্রেন্ডও নেই।
- কেউ জানতে চেয়েছে? তো এখন কী? - ঠিক আছে, জীবনে প্রথমবারের মতো বলতে চলেছি! - কী, প্রথম বার?
আইয়ো, টেনশন করবেন না। জীবনে কখনো কোনো মেয়ের সাথে কফি খাইনি!
হ্যালো, বিষয়টা খুবই সিরিয়াস। হাসবেন না।
- চলুন, এক কাপ কফি খাওয়া যাক। - ঠিক আছে।
- কিন্তু, আপনি আগে যাবেন। আমি আপনাকে ফলো করবো। - বাহ, প্রথমবার- কোনো মেয়ে, কোনো ছেলেকে ফলো করবে! চলুন।
- এই না, না! আমি আগে যাচ্ছি। আপনি আমায় ফলো করুন। - আমিও ওটাই চাচ্ছিলাম।
- হ্যালো, ম্যাম। আপনার অর্ডার? - একটা ব্ল্যাক কফি। - আপনার জন্য, স্যার? - সেম!
এ আবার কেমন জিনিস!
পা তো ভালোই। বিয়ের পোষাকে দেখছি না কেন!
একে দেখি। দারুন পা!
কী হচ্ছে এসব!
এই বিষয়! পারমি ফিক্স করে নাও!
এখন থেকে এই মেয়েই ফিক্সড! কেমন, ঠিক আছে তো?
আপনার নাম?
কী করেন?
বাবা-মা কী করেন?
- কোনো উত্তর দিচ্ছেন না কেন? - আপনার জাত কী?
আপনি কি- সর্পদোষ নিয়ে ঘোরা, মেয়েদের বিয়ে করতে বিশ্বাসী? আপনার কি কোনো গুপ্তরোগ আছে?
কফি খেতে এসেছি। কফি আসবে, খাবো, চলে যাবো।
- বিয়ে করবো নাকি? - হুম!
সাধারণ জ্ঞানের জন্য জিজ্ঞেস করছিলাম!
- স্যার, কফি। - ধন্যবাদ।
- আচ্ছা, ঠিক আছে। বলুন, আপনার সম্পর্কে! - আমি মিঃ পারমেশ। আপনি কিন্তু পারমি ডাকবেন।
আমি মনে করুন যে- উদ্যোক্তা! সব ব্যবসা!
ধরুন- নিলাম, জিনিস, কেনাবেচা!
আপনি যা চান, আমি- মিঃ পারমি নিজ দায়িত্বে পৌঁছে দেবো।
- কেনাবেচা, জিনিস- ঠিক বুঝতে পারলাম না! - মানে, জনগণ জিনিস নিচ্ছে..
- মিঃ পারমি নিলাম শুরু করলো! কাস্টমার দর উচু করলো। আইপিএলের নিলাম বোঝেন? - হ্যাঁ। - সেম!
- মানুষ জিনিস নিচ্ছে। আমি টাকা নিচ্ছি। - কিন্তু কীভাবে? - পেশাগত কাজ!
কাজের জায়গাটা খুব বড়। যখন মিঃ পারমি দাম হাঁকাচ্ছে, সবাই শুধু পারমিকে দেখছে!
- সত্যি কথা বলতে, আপনার কোনো কথাই বুঝিনি! - আপনি অর্থনীতি বোঝেন না? - না! - তাহলে, বোঝাবুঝি নেই!
- আপনি কী করেন? - পিএনও স্কুল চেনেন তো? - হ্যাঁ, সামনেই তো। - আমি ওখানকার শিক্ষক।
- তাই নাকি? - হুম। - কী শেখান বাচ্চাদের? কীভাবে চুরি করতে হয়?
হ্যালো, মা! হ্যাঁ! হ্যাঁ, মা!
- আপনার বিল, স্যার। - এত টাকা!
কফি তো ইজ্জত খেয়ে দেবে! পারমি, কেটে পড়!
- সালাম স্যার। - ঐ সাদা জামা, সবুজ প্যান্টের ম্যাডাম, কোথায়? - উনি চলে গেছেন।
- ঐ ম্যাডাম আবার আসবেন। বলে দিও, আমি চলে গেছি! - ঠিক আছে, স্যার।
সিসিটিভি থেকে বাচলেই হয়!
কী, আবার ফলো করছেন? কী যে বলবো, আপনার গোবরভরা মগজকে!
হ্যালো, ম্যাডাম। শান্ত হন। ওদিকে দেখুন।
আমি খুব স্যরি। সারারাত পার্টি করে, বিল আমার নামে ঠুকে গেলেন!
আসলে, বাড়ি থেকে জরুরি ফোন এসেছিল। তাই, আপনাকে না বলেই চলে এসেছিলাম, শেষ!
সমস্যা নেই! আরেকবার পার্টি হয়ে যাক!
- ঠিক আছে। কিন্তু, এক কফির জন্য অত বেশি খরচের প্রয়োজন নেই! যেখানে নিয়ে যাচ্ছি, সেখানে চলুন। - সমস্যা নেই। জায়গাটা মূখ্য নয়, কফিটাই মূখ্য।
- এখন আমি আগে যাবো নাকি... - জায়গা চিনি আমি! আমিই আগে যাবো।
- টিচার, আপনিই বলুন- আপনার মতো একজন শিক্ষকের কি অমন কাজ করাটা ঠিক? - ওরা যা করেছিল, সেটা ঠিক ছিল?
কেউ আমায় ধোকা দিলে, তাকে আমি ছাড়ি না!
- শান্ত! - আপনার কাছে ভাংতি আছে না? - হ্যালো, ম্যাডাম- আমার দেয়া বিলে, এরকম অন্তত দশ কাপ হয়ে যাবে। - দশ কাপ? - হুম, অন্তত!
- ঠিক আছে। চাচা, এরকম আরো দশ কাপ কফি দিয়েন তো। - ঠিক আছে। দশ কাপ!
টিচার খুবই স্মার্ট! আমি একদিনে দশ কাপ বুঝাইনি! দশ দিনে এক কাপ করে বুঝিয়েছি।
- চাচা, ক্যান্সেল! তাই তো সবাই বলে, এক কাপ কফিতে অনেক কিছুই হতে পারে! - পারমেশ্বরা! - ডাকলেন?
কী বললো, ডাক্তার?
কী আর বলবে! একই কথা। ঠিকমতো খাবার খাবেন, সময়মতো ওষুধ খাবেন।
- ডাক্তারের কথা শুনবেন, মা। নয়তো লো-বিপি'র কারণে মাথা ঘুরে পড়ে যাবেন, আর সবাই এদিক-ওদিক করতে-করতে ক্লান্ত হয়ে যাবে। - শুনলে?
- কী হলো, বাবা? - মা, বাজারে এসেছি। বাড়ির জন্য তরকারি লাগবে। নিয়ে আসি। গাড়িতে থাকুন। - ঠিক আছে। - মা, আমাদেরও তরকারি লাগবে। নিয়ে আসি।
- এখানেই থেকো। - ঠিক আছে, জলদি আয়।
- আপনি এখানে নিয়মিত আসেন? - হ্যাঁ, ম্যাডাম। এখানে ফ্রেশ তরকারি পাওয়া যায়।
- আসুন, আসুন। লেডিস এন্ড জেন্টলম্যান! - ভাই, ১ কেজি ভেন্ডি কত? - ৫০ টাকা।
- ২০০। - ২০০, ২০০। - ২৫০। - ২৫০, ২৫০। - ৩০০। - ৩০০, ৩০০। - ৩৫০। - ৩৫০, ৩৫০।
পারমি? না, না!
- ৪০০। - ৪০০, ৪০০। নিন, জলদি নিন।
- অনেক হয়েছে। - আর কিছু বাড়ান, ভাই। - ৪২০। - ৪২০, ৪২০।
আইপিএলের নিলাম বোঝেন? সেম! মানুষ জিনিস নেয়, আমি টাকা নেই। পেশাগত কাজ! কাজের জায়গা খুব বড়। যখন মিঃ পারমি দাম হাঁকাচ্ছে, সবাই চুপচাপ পারমিকে দেখছে।
ওহ- নিলাম, লেনদেন... এখানে এই কাজ করা হচ্ছে।
৪২০, ৪২০।
এখনো আসছে না কেন?
হ্যালো, কফির জন্য অপেক্ষা করবেন না। আসতে পারবো না। একটু ব্যস্ত আছি।
- কে অপেক্ষা করছে? আমি বাড়িতেই আছি। - ওহ, বাড়িতেই আছেন।
এদিকে দেখুন।
এখানে কীভাবে আসলেন? আহা, কতবড় মিথ্যুক টিচার আপনি!
কত দারুন লাগছে! আপনি না বাড়িতে ছিলেন?
- ঠিক আছে। এখন আপনিই আগে যান। - না, দু'জন একসাথে যাবো।
- চলুন। কী হয়েছে? - কিছু না, চলুন।
- আচ্ছা, আমার ফোন নাম্বার কীভাবে পেলেন? - শপিংমলে বিল দিয়েছিলেন না?
- ওখানে গিয়ে ফোন নাম্বার চাইলাম। পেয়ে গেলাম। - ওহ, সুন্দরী মেয়ে দেখলে, ছাড় দিতে মন চায় না?
তেমন কিছু না। আপনার মতো ঠিকঠাক মেয়ে দেখলেও, ছাড় দিতে মন চায় না।
আসলে, কী জানেন? আমার সব বন্ধুরা বিন্দাস জীবন কাটাচ্ছে।
আমারও আপনার মতো বিন্দাস জীবন কাটানোর খুব শখ।
সত্যি বলতে, আমি আমার হারানো জীবনটা আপনার মতো কাটাতে চেয়েছিলাম।
তাহলে কেন এত সিরিয়াস থাকা? মুখ ফুলিয়ে!
ছোটবেলায় একদিন স্কুলে বাবা- 'বাই' বলে গেল। ওইদিন বাড়ি ফিরে, বাবাকেই- 'বাই' জানাতে হলো।
এরপর থেকে, মা মাঝে-মাঝেই অজ্ঞান হয়ে যায়।
- তো, টাকা-পয়সার পুরো দায়িত্বটা আমার ঘাড়ে এসে পড়ে। - নিন, গরম-গরম কফি।
নিজের কথা ভুলে থাকার একটা পরিস্থিতিতে এসে পড়ি!
টিচারকে একটু ম্যাচিউর দেখাতে হবে না? দেখুন, এই শাড়ি আমার একেবারেই পছন্দ না।
অথচ, সবসময় শাড়িতেই থাকি।
- কিন্তু, আপনি শাড়িতে সুপার! - ওহ, তাই নাকি? তারপর, কাজ কেমন চলছে।
ওহ, খুবই ব্যস্ত! সকাল থেকে সন্ধ্যা- অনেক নিলাম, দরদাম, কেনাবেচা!
সময়ই পাই না!
এই, পারমি- বাজারে তরকারি অনেক বেড়ে গেছে, না? কৃষকদের ভালো লাভ হচ্ছে, নিশ্চয়ই।
চুপ থাকুন, ম্যাডাম। কৃষকদের কোনো লাভ হচ্ছে না! সব এই মিডিয়ার লোকেদের চাল!
- ওহ, আপনি কী করে বুঝলেন? - এটা আসলে, সাধারণ বাজারজ্ঞান! অর্থনীতি বোঝেন না তো!
ওদের যাই হোক, আমাদের অবস্থা কখনোই বদলাবে না! যত টাকাই খরচ করি, ফ্রেশ তরকারি পাওয়াই যায় না!
- পারমির অনুমতি নিলেই তো পেয়ে যেতেন। - তাই নাকি, কীভাবে?
- তরকারি, সহকারী- একসাথে হয়ে খুঁজে বের করতাম। - ওহ! - আরেকটু হলেই পিছলেছিলাম!
- আমি দেখেছি। - কী? - আজ সকালে বাজারে গিয়েছিলাম।
সব জেনে গেছে!
অনেক জোরে-জোরে চিল্লাচ্ছিলাম, না?
হ্যাঁ। কিন্তু ওটাই ভালো লেগেছে।
- এই, সত্যি বলছেন? - ঠিক আছে, ঠিক আছে। কী যেন বলছিলেন..
দরদাম, কেনাবেচা, নিলাম! আইপিএলের মতো আরকি!
- হয়েছে, আর যেও না! - এতটুকুতেই হাঁপিয়ে গেলে? - না, মানে...
- তোমায় 'আভালাবেট্টা'য় নিয়ে যাবো। দারুন হবে। - কে এই আভালাবেট্টা?
- আভালাবেট্টা, চেনো না? - আমি বেঙ্গালুরু ছাড়া কোথাও যাইনি!
প্রথমে, বেঙ্গালুরু'কে ভালোভাবে চিনে নাও।
মানে- বাটারফ্লাই পার্ক, মিউজিয়াম, একুয়েরিয়াম এগুলো আমার প্রিয় জায়গা। গিয়েছ কখনো? - না!
- এই, পারমি। - আমার বন্ধু। - ওহ, বন্ধু!
- এই বাজারের মালিক। - ওহ, মালিক!
- ভালো লাগছে, মুভি? - বুঝতেই তো পারছি না! তোমার? - বোরিং।
- আমি গিয়ে পপকর্ণ নিয়ে আসি। - তোমার কী লাগবে শুধু বলো, সব কিনে দেবো।
কুফা কোথাকার! আমি যেখানে, সেও সেখানে!
- ধুর! - কী হয়েছে? - ওই মালিককে মিথ্যা বলে এসেছি। কুফাটা এখানেও এসে পড়েছে।
আমি শিক্ষক হিসেবে একটা কথা বলি- জীবনে যত মিথ্যা বলি, যত দোষ করি না কেন.. জীবনের একটা সময়ে সেগুলোই আমাদের ভোগাবে।
আমি যাচ্ছি, তুমি বসো।
কী হলো, পপকর্ণ আনোনি?
আমার স্কুলের ছেলেরা পালিয়ে ফিল্ম দেখতে এসেছে। নান্জানগুড় যাবার মিথ্যা বাহানা দিয়ে এখানে এসেছি।
এ'কারণেই একজন শিক্ষক বলেছিল, যে- জীবনে যত মিথ্যা বলি, যত দোষ করি না কেন.. জীবনের একটা সময়ে সেগুলোই আমাদের ভোগাবে।
এত জলদি ভোগাবে, সেটা বুঝিনি!
নিচে থাকো!
আর...
দারুন জুটি। অল দ্যা বেস্ট।
প্র- যো- জক!
স্যরি, স্যরি, স্যরি!
- বেশি ছোট হয়ে গেছে? - না। - অদ্ভুত দেখাচ্ছে? - নিজেদের পোশাকে মেয়েরা স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করলে, ছেলেদের জন্য সবই সুপার!
পারমি, জায়গাটা কত সুন্দর না?
পারমি!
- কী করছো? - কিছু না! - কী ওটা? - কিছু না! - কী? - কিছু না!
কিছুই না, চলো চলো!
খোদা, দরখাস্থটা কি দিয়ে দেবো? ওর উত্তরটা শুধু একটু দেখো, ঠিক আছে?
- একটু সম্মান বাচিয়ে কথা বলতে হবে। তোমাদের বাড়িতে দীপাবলী হয়? - হুম! - সংক্রান্তি? - হুম! - দশেরা? - না!
- ক্রিসমাস, রমজান, কুরবানীর ঈদ এসব হয়! - এই! - তা নয়তো কী?
কথা পেচিও না! যা বলতে চাও, সরাসরি বলো।
- তোমার বাড়িতে ভ্যালেন্টাইন্স ডে হয়? - হ্যাঁ!
ওইদিন, বাড়িতে- একটা পবিত্র পাত্রে লাভ সিম্বল একে, সমস্ত লাভ-লেটার একত্র করে, বাচ্চাদের হলুদ-কুমকুম লাগিয়ে, ছেলেদের লিপকিস দিয়ে দেই!
- বাহ, বেশ দারুন রীতি! - তোমার বাড়িতে?
আমরা শাস্ত্রীয় রীতি অনুসরণ করি। লেডিস কলেজ প্রদর্শনে যাই, মেয়েদের- ফুল, অভিবাদন কার্ড, বেলুন দিয়ে- বেঙ্গালুরু ঘুরে বেড়িয়ে, বাড়ি এসে খেয়েদেয়ে এক ঘুম!
এ'বছর, ভ্যালেন্টাইস ডে'তে দু'জনার রীতি একত্রে পালন করলে, কেমন হয়?
সিলেবাস খুবই কঠিন! পরীক্ষাও আসছে সামনে।
গতিটা থেমেই থাকুক! তবুও, ভেবে দেখবো!
এখন কফি খাওয়াও।
- বন্ধুত্বের নামে দুটো কফি দাও, ভাই! - স্যার, কফি!
চান্স তো নিয়েছিলি! আমার জীবন কেন, স্যারের জীবনেও কখনো ভ্যালেন্টাইন্স ডে আসেনি! তাই না, স্যার?
- স্যরি, স্যার। - স্যার, কল আসছে- দেখুন।
- স্যার, অপরিচিত নাম্বার থেকে কল আসছে। - মনোজ। - ঠিক আছে, স্যার!
- পূজারী স্যার, কিডন্যাপার আমি না জানার পর, আমায় ছেড়ে দেবে তো? - তো কী, তোকে নিয়ে নাচবে?
- কথা বলুন, হ্যালো। - পূজারী স্যার, আমার শার্টটা দিয়ে দিতে বলুন। - খুব খাটা হচ্ছে?
৬০ সেকেন্ডই কথা বলবো। আমার কল ট্রেস হবে না!
তাছাড়া, পুলিশের সঙ্গ নিয়েছিস, না?
খুব ভালো। আমার কোনো সমস্যা নেই। পুলিশ আমার কিছুই করতে পারবে না!
ক্ষতি যা হওয়ার, তোরই হবে। শুধু-শুধু, ছেলেকে ফেরত পেতে দেরি হবে!
কারণ, তুই পুলিশের পথ ধরলে, আমার অন্য পথ পরিকল্পনায় আছে।
আমার একটু সময় প্রয়োজন। কোথায়, কখন টাকা দিতে হবে- পরের কলে জানাবো। অপেক্ষায় থাক।
- হ্যালো, আমার ছেলেকে ছেড়ে দাও। তোমায় ৫০ লাখ দেবো। - ন্যাড়া বেলতলায় একবারই যায়, কেনেডি!
২৫ লাখের নকল নোট নিয়ে আসা বদ তুই! এখন ৫০ লাখের লোভ দেখাচ্ছিস!
আরেকবার নকল টাকা আসলে, জন-Gone!
আরেকটা বিষয়, আমাদের দলের লোকেদের এত শক্ত অনুশীলন করানো হয় যে- আপনাদের কাছে থাকা, আমাদের ছেলেকে যতই টর্চার করুন, লাভ নেই!
- স্যার!!! - কিচ্ছু বলবে না! - স্যার, শীর্ষস্থানে থাকা মহিলার কসম- আমি কিচ্ছু জানি না! দয়া করে- আমার কথা বিশ্বাস করুন, প্লিজ!
- আমার ছেলে! - ম্যাডাম, প্লিজ! - শালা, পুলিশের সাথে চালাকি করার পরিণাম টের পাবি, চল। - স্যার, আমি কিচ্ছু জানি না, আমায় ফাসাচ্ছে!
- স্যার, এ'কেসে কিডন্যাপারের ব্যাপারটা ক্রমশ রহস্যময় হয়ে উঠছে! - এ'ধরণের কেসে, সাধারণত- কিডন্যাপার ধরা পড়ে নয়তো ধরা পড়া মানুষটাই কিডন্যাপার হয়ে থাকে!
- স্যার, লিপ-রিডার এসেছে। - চলো।
স্যার, জুম করুন। আরেকটু জুম, জুম, জুম- রাখুন।
- স্যার, একটু ভলিউম বাড়ান। - ভলিউম বাড়ানোর এটা কোন রীতি?
- স্যার, শ্যুয়ারের বাচ্চা! ঠিক ধরেছি? - এদিকে না ধরে, ওদিকে ধরো।
ঠিক আছে, স্যার। ধরছি, স্যার।
কা..র ব্যা...গ! কার ব্যাগ! স্যার, 'কার ব্যাগ!'
সামনে দেখো।
কার ব্যাগ, এ..ত দারু..ন দেখতে! 'কার ব্যাগ, এত দারুন দেখতে'- বলছে, স্যার।
- ব্যাপার না, হারিশ। ছেলের ভালোই বুদ্ধি আছে। - জ্বী, স্যার।
ধন্যবাদ, স্যার।
এরপর, অ..র মা*..রে বা..*! অর মা*রে বা*!
স্যার, খারাপ ভাষা বলেছে। শাস্তি দিন। জেলে দিন, একে! কালপ্রিট ফেলো!
হারিশ, প্রথমবার টাকা দেখার পর- এরকম প্রতিক্রিয়া দেখাচ্ছে!
স্যার, ভালো করে ধরলেই- সব বেরিয়ে আসবে।
- না, হারিশ। ওকে রুমে বসাও। - ঠিক আছে, স্যার।
- শালা, পুলিশকে কী ভেবেছিস তুই? - স্যার, ওরা 'আমাদের লোক' বললো আর সবাই বিশ্বাস করে নিলেন!
- 'কান্ডজ্ঞান' বলতে কিছু নেই, আপনাদের? - আবার কথা বলিস! - স্যার, ওকে বড়'স্যার নিয়ে যেতে বলেছে।
- চা'টা কিছু চাই? - দু'কাপ! - ঠিক আছে। ঐ, দু'কাপ চা পাঠিয়ে দে।
- স্যার! - অশোক, অপারেশন জন কতদূর এগিয়েছে? - স্যার, প্রমাণ আছে, কিডন্যাপারকে ধরতে হবে। যে আছে, ওকে এরেস্ট করো। - সেই কিডন্যাপার, তেমন কোনো সাক্ষী নেই!
- কয়েকটি সূত্র পেয়েছি। তা ধরেই কাজ করছি। - সাবধানে, সব সামলাবে। ছেলেটার যেন কিছু না হয়!
অফিসার, প্লিজ- এখন অন্তত আমার ছেলেকে ফিরিয়ে দিন। এবার আর নকল টাকার প্রয়োজন নেই!
- বিপদ হতে পারে। - অফিসার, ওরা ২৫ লাখ চেয়েছে। এটা কোনো বড় ব্যাপার নয়। আমার কাছে, আমার ছেলেই মূখ্য!
- মনোজ। - জ্বী, স্যার।
ঐ পারমেশের ফেসবুক একাউন্টে ঢোকো তো!
দেখছি, স্যার।
স্যার, ওর ফেসবুক একাউন্ট চেক করেছি। ওর সাথে যে মেয়ের বিয়ে হওয়ার কথা, সে অন্য ছেলের সাথে বাগদান সেরে ফেলেছে।
দেখুন, স্যার।
এই হারিশ, পূজারী।
এই, কী বলেছিলে? ঐ ছেলের সাথে টিচারের বিয়ে হবে। দেখো, টিচার অন্য কারো সাথে বাগদান সেরে ফেলেছে।
স্যার, আমিও তো বিভ্রান্তিতে পড়ে গেলাম! ঐ ছেলে ভয়ঙ্কর জিনিস! ওই কিডন্যাপার, নিশ্চিত।
২৫ লাখের নকল নোট নিয়ে আসা বদ তুমি! এখন ৫০ লাখের লোভ দেখাচ্ছ!
স্যা..............র!
এই, কী হয়েছে?
- কী হয়েছে? - পারমি, কী এসব? - কিডন্যাপার আর কেউ নয়, স্যার- আমাদের মধ্যেই আছে।
পাগল হয়েছিস? আমাদের মধ্যে, কিডন্যাপার?
স্যার, অন্য জায়গা থেকে নকল টাকা সম্পর্কে কীভাবে জানলো- কিডন্যাপার? কীভাবে?
কীভাবে? নকল টাকা সম্পর্কে জানা থাকা, আপনাদের মাধ্যমে।
আমায় টুপি পড়াচ্ছিলেন? আমায়?
কিডন্যাপার অন্য কোথাও নয়, স্যার। আমাদের মধ্যেই আছে।
কাকে সন্দেহ করছিস?
ভুল বুঝবেন না, স্যার। আমার আপনাকে সন্দেহ হচ্ছে।
স্যার, কিডন্যাপার'কে পেয়ে গেছি। এক্ষুনি, নিয়ে আসছি।
অর্ধচন্দ্র!
স্যার, আমি কিচ্ছু করিনি!
- স্যার, জ্বলছে! - এই, একদম চুপ! জ্বলছে?
- সব বল। - এই, সুরী। ছেড়ে দাও ওকে! বলো, বাবা- কী বলবে?
স্যার, কিডন্যাপ আমি করিনি। বিশ্বাস করুন। কিডন্যাপের প্ল্যান করেছিলাম। কিন্তু, কাজটা করিনি, স্যার। - তুই কিচ্ছু করিসনি, তাই না?
স্যার, জ্বলে যাচ্ছে।
- এত দাগ কীসের? - কাজকে সহজ করতে, অস্ত্রসস্ত্র ব্যবহার করছি, স্যার। ট্রিটমেন্ট এখনো বাকি আছে। - তবুও, শালা খেলে যাচ্ছে।
- কেন, বাবা? - আমি কিডন্যাপ করিনি, স্যার! - ওর শরীর এত গরম কেন?
একটু বরফ ব্যবহার করো। শরীর ঠান্ডা করার জন্যে!
- স্যার, বিশ্বাস করুন। আমি কিডন্যাপ করিনি! - চল, তোকে দেখাচ্ছি! - স্যার, ছেড়ে দিন! - বরফের চাপ লাগলেই, সব মনে পড়বে!
ওরা কারা আমি দেখিনি, স্যার। টাকা কুরিয়ার করে পাঠিয়েছিল, স্যার!
- ফোনে সব বলে দিত। আমি শুধু তা ফলো করতাম। - তোর গল্পে কাজ হবে না! - হারিশ।
- ছেড়ে দাও, একে! - পাবলিকের জীবনকে তামাশা পেয়েছে!
- ওর থেকে ফোন নাম্বার নিয়ে, পূজারী'কে অনুসরণ করতে বলো। - জ্বী, স্যার। - আর কেনেডি'র পরিবার সম্বন্ধে অনুসন্ধান চালাও।
জ্বী, স্যার।
- রবি, একটু এসো তো। - কিডন্যাপ করিনি, স্যার!
- স্যার, আপনার কথামতো কেনেডির পরিবার সম্বন্ধে জেনেছি। - ঠিক আছে।
কেনেডি'র স্ত্রী'র- মহিলা সমিতি, ক্লাব এগুলোর প্রতি আগ্রহ বেশি!
এছাড়া, উনি ভালো মহিলা।
আরেকজন হলো- ড্রাইভার। সবাই ওকে রামুকাকা বলে ডাকে।
সামনে ওর মেয়ের বিয়ে। টাকার অভাব আছে, স্যার।
এছাড়া, বিশেষ কিছু পাইনি, স্যার!
কেনেডি'র সম্বন্ধে, খোঁজ নিয়েছ?
নিয়েছি, স্যার। কেনেডি'র- ব্যবসাবৃত্ত ও বন্ধুবৃত্তে আলাপ করে, তার সম্বন্ধে- বাজে অভিপ্রায়ই পেলাম।
উনার রাগ বেশি। অবৈধ সম্পর্কের ব্যাপারেও গুজব আছে।
- ওর পি.এ'র ব্যাপারে? - খবর নিয়েছি, স্যার।
পি.এ কেনেডি'র সঙ্গে অনেক বছর ধরেই কাজ করছে।
- ওহ! - কিন্তু, এক বছর আগে কেনেডি, পি.এ'কে বের করে দেয়!
কিন্তু, কিছুদিন পর- তিনি নিজেই আবার ঐ পি.এ'কে ফেরত আনেন।
স্যার, আমার বিশ্বাস- পি.এ, কেনেডি'র কোনো গোপন বিষয় সম্বন্ধে জানে!
তাই, কেনেডি ওকে এখনো রেখে দিয়েছে।
- পি.এ'ও এ'কারণে তার সঙ্গেই কাজ করছে, স্যার। - ঠিক আছে, নতুন কোনো তথ্য পেলে, জানাবে।
- জ্বী, স্যার। - ঐ ছেলেকে পাঠিয়ে দিও। - ঠিক আছে, স্যার।
- এতদিন নাইট-শিফটে কাজ করতি, না? এছাড়া, আর কী করতি? - স্যার, আমি- পেশাগত কাজ!
আমি হলাম- উদ্যোক্তা! আপনি যা চান, আমি- মিঃ পারমেশ, পৌঁছে দেবো!
- হ্যাঁ? - স্যার, বুঝলেন না?
স্যার, বাজারে- শাকসবজি বিক্রি করি।
- তোর বাগদত্তা মেয়েটা, টিচার না? - হ্যাঁ, স্যার।
স্যার, আপনি কিন্তু, পরিবার সহ- আমার বিয়েতে অবশ্যই আসবেন। আবদার রইল!
- তাই নাকি? - হ্যাঁ, স্যার। - তাহলে, এটা কী?
এই ছেলে কে?
এ'বছর আমাদের ভ্যালেন্টাইন্স ডে'টা আসবে না, মনে হয়!
মা অসুস্থ! এমন সময়ে, তাকে রেখে, কাউকে ভালোবাসাটা- আমার পক্ষে সম্ভব না!
পারমি, আমি কখনো তোমায় ওভাবে দেখিনি, বলবো না! কারণ, তা মিথ্যা!
তুমি আমার বন্ধু নও, তার চেয়েও বেশি কিছু!
কিন্তু, আমার ভাগ্যে অ্যারেঞ্জ-ম্যারেজই লেখা আছে!
তাই, দয়া করে- দূরে থেকো।
ঠিক আছে?
স্মাইল!
বাবা-মা থাকা ছেলে-মেয়েদের লাভ-ম্যারেজ করার স্বপ্ন থাকে। আমার মতো অনাথদের, অ্যারেঞ্জ-ম্যারেজ করার স্বপ্ন থাকে। কিন্তু, আমাদের বিয়ে অ্যারেঞ্জ করার কেউ নেই!
এই, কেন এত ভাবছিস? আমরা আছি না? অ্যারেঞ্জ-ম্যারেজই তো?
চিন্তা করিস না। কাল তুই সাদা কাপড় পড়ে তৈরি থাকিস! আমরা মিষ্টি, ফল, দই সব নিয়ে নেবো।
ঐ মেয়ের বাড়ি গিয়ে, কথাবার্তা বলে- সব ঠিক করে আসবো।
রাঙ্গান্না, আমি তোমার ঋণ কোনো জনমেই শোধ করতে পারবো না!
এই, ছাড়! দ্যাখ, আগের জনমের কথা জানি না! কিন্তু, এই জনমে আমার থেকে যে টাকাটা ধার নিয়েছিলি- ওটা দিলেই হবে, বাবা!
- দেখুন, এত কম দামে, ভালো জিনিস দেবো না! একটাও খারাপ হলে, তারপর বলবেন! - ধুর, কাজ হবে না! - সবখানে এক দাম!
- ওহ, এই বাড়ি? - পারমি, আমাদের আসার বিষয়ে জানিয়েছিলি? - না।
ভেতরে হয়তো কোনো অনুষ্ঠান হচ্ছে। আমি গিয়ে, দেখে আসি।
- ছেলেটা দেখতে দারুন না? - হ্যাঁ।
অনন্যা, হঠাৎ করে- বাগদান ঠিক হলো শুনে কি চিন্তায় পড়েছিলাম, জানিস? কিন্তু, ছেলেটা দারুন!
লেখাঃ কয়েক দিন আগে... - দারুন! - একসাথে দুটো অফার পেয়েছি।
- কী, অনন্যা? এ'কদিন খুব ব্যস্ত কাটছে?
- সব, পারমি ইফেক্ট। - ওহ, তাহলে জীবন তোকে একটা সিদ্ধান্ত নিজ থেকে নিতে দিল? - হ্যাঁ, তা দিয়েছে।
- এক সেকেন্ড! - হ্যালো, অনন্যা? - হ্যাঁ। - আমি রাহুল।
- তোমার মা অজ্ঞান হয়ে পড়েছিল। তাই, হাসপাতালে ভর্তি করেছি। - কোন হাসপাতাল?
রক্ষা হাসপাতাল।
- মা, কেমন আছ? অজ্ঞান হয়ে গিয়েছিলে নাকি? - কিচ্ছু হয়নি, বাদ দে।
- মুখ হলদে হলো কীভাবে? - হাই, রাহুল। - হাই!
- ডাক্তার, কী বললো? - চিন্তার কিছু নেই! ড্রিপস দিয়েছে।
- নতুন রিপোর্ট দিয়েছে, দেখে এসো। - হ্যাঁ, যাচ্ছি।
মা, আপনি কেন এত কষ্ট করছেন? অনন্যা'র ব্যাপারে তো, মায়ের সঙ্গে কথা বলেছি। বিয়ের পর- আপনার চিকিৎসা, আপনার পরিবারের সব দায়িত্ব আমার।
আপনি রাজি থাকলে, বাবা-মা'কে আপনার সঙ্গে কথা বলতে পাঠাবো।
- এই, অনন্যা। মন খারাপ কেন? - একটা সিদ্ধান্তের দায়িত্ব ছিল। দু'টো হয়ে গেছে।
মধ্যবিত্ত পরিবারের ছোট-ছোট বিষয়ে বেশি করে চিন্তা করতে হয়। তোর ভালোটা, তুই নিজেই ভালো বুঝবি। ভালোকরে ভাব।
তো পরোক্ষভাবে, মগজের মিথ্যাটাকে প্রাধান্য দিয়ে, হৃদয়ের সত্যটাকে চাপা দিতে বলছিস?
রাহুল, দেখতে-শুনতে ভালো। জাতটাও এক। তোকে আর্থিক-ভাবেও সাহায্য করতে পারবে।
তোর মায়ের চিকিৎসার চাবিকাঠি, রাহুল। পারমি কে বেছে নিলে, ওটা শুধু তোর স্বার্থ!
- কিন্তু, দারুন সিদ্ধান্ত নিয়েছিস, অনন্যা। - ঠিক বলেছিস।
- পারমিকে বিয়ে করলে শুধু তুই একাই সুখে থাকতি। - সত্যিই! - রাহুল'কে বিয়ে করে নিজের মা'কে নিয়ে সুখে থাকতে পারবি।
- আর কিছু লাগবে? - ১ কেজি টমেটো দিও।
- আর, কিছু পুই শাক দিও। - ঠিক আছে।
- আপা। - হ্যাঁ? - আমাদের বাড়িতে যখন-তখন কারেন্ট চলে যায়।
ঐ 'বঊ সাক্ষী' আছে না? তুমি গতকাল দেখেছিলে?
- দেখতে পারিনি! - দু'বছর হলো ওর বিয়ে হয়েছে।
গতকালই, ফার্স্ট-নাইট ছিল! কী জানি, কী হলো!
- কী বলছেন, খাট ভেঙ্গে গেছে। - নাও! - তুমিও সিরিয়াল দেখো, বাবা?
আন্টি! খাবার, ঘুম সব বাদ দেয়া যায়! তাই বলে, 'বউ সাক্ষী' সিরিয়াল মিস করবো!
গতকাল, কী হলো?
কী হলো, জানেন? রুম দারুনভাবে সাজানো ছিল। হিরো বসে ছিল।
হিরোইন'ও এন্ট্রি নিল। এন্ট্রি নিতেই- এর মুখ, ওর মুখ! এর মুখ, ওর মুখ! এর মুখ, ওর মুখ!
- তারপর? - গ্লাসে করে, দুধ দিল।
তারপর আবার- এর মুখ, ওর মুখ! এর মুখ, ওর মুখ! এর মুখ.. - তারপর?
গান শুরু হয়ে গেল। গানের পর, দু'জন ধীরে-ধীরে এসে বসলো।
বসার পর, হিরো- শুরু করো। সে বলে, তুমি শুরু করো। হিরো বলে... - তারপর?
- এরপর, গেলোওওওও! - কী হলো?
বাতি?
আরে, খাট ভেঙ্গে গেল, আন্টি!
না, আপা- শুধু, খাট ভেঙ্গে গেলেও ক্ষতি ছিল না!
- খাটের পায়ের সঙ্গে লেগে, হিরোর পা'ও ভাঙলো! - আর বলো না তো!
এই আরতি আর ওর স্বামীর মধ্যে কিচ্ছু হবে না!
যাই বলো না কেন, সিরিয়ালগুলো শুধু পেচায়!
না, আপা! 'অমৃতাদর্শিনী' দেখেন না?
- কত সুন্দর এগোচ্ছে ওটা! - তুমি ওটাও দেখো?
আন্টি, উটের দর্শন নাহয় না পেলাম। কিন্তু, 'অমৃতাদর্শিনী' না দেখে থাকা যায়?
- গতকাল, কী হয়েছিল? - গতকাল কী হয়েছিল, জানেন আন্টি...
...এরপর, শেষ হলো!
তোমার কথা শুনে, আগের সপ্তাহের না দেখা, সবকিছু জেনে ফেললাম!
আন্টি, আবার কখনো সিরিয়াল মিস করলে, আপা'কে ফোন দিতে দেরি করবেন না!
আমি আপনাকে ডিটেইলে গল্প বলবো। গল্প বলতে আমার খুব ভালো লাগে!
- আমারও গল্প শুনতে খুব ভালো লাগে। - তাই নাকি? - হ্যাঁ - আপা, আসছি। - পারমি! - হ্যাঁ?
- কোথায় যাচ্ছ? - হাম্পি নগর।
তাহলে, উনাকে 'বিজয় নগর' নামিয়ে দিও।
- কথা বলতে-বলতে চলে যান। - না, আপা। আমি চলে যেতে পারবো।
আরে আমাকেও সেই বাড়ি নিয়ে যায়, দোকান বন্ধ করার পর।
- আন্টি, আমার গাড়িতে দু'টো সিটই আছে। আসুন। - তাই?
- আসি, আপা। - ঠিক আছে।
- কী নাম বাবা তোমার? - আন্টি, আমি- মিঃ পারমি।
আপনি আমায়, পারমি ডাকবেন।
- আমাদের ওখানে একটা কুকুর আছে। আমরা সবাই ওকে 'পাম্মি' ডাকি। - আন্টি, পাম্মি না!
এটা, P- U- R- M- Y.. পারমি।
- বলুন। - ওহ, পারররমি! - পারমি। - ওহ, পারমি। - হ্যাঁ।
- ওই নামে একটা বিদেশী কুকুর ছিল। - বাদ দিন!
উনি আর উনার কুকুরদল!
- এখান থেকে সামনে এগিয়ে বামে ঢুকে যেও। - বামে? আন্টি, বামে যাওয়ার দরকার নেই। ডানে ঢুকে যাই।
ওদিকে, রাস্তা ভালো না। এদিক দিয়েও যাওয়া যায়।
- বাহ, তুমি তো আমার এলাকা বেশ ভালোভাবেই চেনো দেখি! - হ্যাঁ, আন্টি।
আমার পরিচিত একজনের বাড়ি ছিল, এখানে।
- এখানে, এখানে। দাঁড়াও, দাঁড়াও। - এখানে?
তোমার সাথে কথা বলতে-বলতে, বাড়ি এসে পড়েছি- সে খেয়ালই ছিল না!
- আন্টি, এটা আপনার বাড়ি? - এটাই, আমার বাড়ি।
তোমার পরিচিত কে যেন এই এলাকায় থাকে, কে সে?
কী ভাবছো?
- আসলে আন্টি, ভুলে গেছি। বাদ দিন। - আচ্ছা, বাদ দাও। তোমার নাম্বারটা দাও।
- বাজে বাড়ি। যখন-তখন কারেন্ট চলে যায়। আমি তোমায় ফোন দিয়ে, সিরিয়ালের ব্যাপারে সব জেনে নেবো। - আন্টি, থাক।
- পরদিন, বাজারে আসবেন না? তখন সব বলবো। - পরের দিন, জেনে কী হবে!
সাথে-সাথে জেনে নিলে, ভালো হয় না? নাম্বারটা দাও তো।
ঠিক আছে, আন্টি। দিচ্ছি।
আন্টি, মিঃ পারমেশ নামে সেভ করেছি। আপনি শুধু একটা মিস-কল দেবেন।
মিস-কল কেন? হোয়াটস-এপ'এ কন্ট্যাক্ট-ডিটেইলস পাঠিয়ে দেবো।
- ব্যস্ত? - প্রথমে, বিষয় বলো। তারপর, বলছি।
- পায়েস বানাতে পারবি সন্ধ্যায়? - কেন? - আমার বন্ধু আসবে, তাই।
- কে? পাশের বাসার ভাবী? - না, নতুন বন্ধু।
সন্ধ্যায় আসতে বলেছি, হোয়াটস-এপ'এ।
নীল চিহ্ন তো আসলো। এর মানে তো, দেখেছে নিশ্চয়ই!
- কিন্তু রিপ্লাই পেলাম না! কী জানি, কী হলো! - হোয়াটস-এপ?
আন্টি!
আনু, আমার বন্ধু এসে পড়েছে!
- আসছি! - গলাটা কেমন পরিচিত লাগছে।
রাহুল নাকি?
- রাহুলের জন্য মা'য়ের এত কষ্ট! - এসো বাবা, সিরিয়াল শুরু হয়ে গেছে।
এখানে এসো। ওখানে দাঁড়িয়ে আছো কেন?
কে সে?
- তো, হোয়াটস-এপ (আপ)? - পেয়েছিলাম, আপনার হোয়াটস-এপ ম্যাসেজ।
গাড়ি চালাচ্ছিলাম। তাই, রিপ্লাই দিতে পারিনি।
- তুমি বাড়িতে আসবে, আগেই বলে রেখেছি। - তাই নাকি? - মেয়েটা পায়েস বানাচ্ছে।
- ওহ! - আনু। - আসছি।
এবার অন্তত এদের ঝগড়া মিটে গেলেই হয়।
- কে জানে, আন্টি। ঝগড়া বেড়েও যেতে পারে। - এই, চুপ থাকো তো!
কিচ্ছু হবে না, সব ঠিক হয়ে যাবে।
তুমি, সিরিয়াল দেখো তো। পেপার পরেও দেখা যাবে।
ওকে আগে দিবি না? এই যে, আমার নতুন সিরিয়াল বন্ধু।
পারমি!
হাই।
- হ্যালো। - পারমি!
- এই, পাম্মি! - আন্টি, ঠিক বলেছেন।
আন্টি, আমার এলাকার কোথাও এ'সময়ে কারেন্ট থাকে না! 'দোডগোরি'র বিয়েটা হবে কী না, আপনার এখানে দেখতে পারি?
অবশ্যই। প্রতিদিন, যখনই 'নতুন যুদ্ধ' শুরু হবে, এখানে এসে পড়বে। কারেন্টও এসে যাবে।
- এসো, এসো। একসাথে দেখি। - ধন্যবাদ, আন্টি।
আমার একটা সেলফি তুলে দিবি?
কেন? তোমার সিরিয়াল বন্ধুকে দেখাবে?
ঠিক আছে।
মেনুতে গিয়ে, ক্যামেরা ওপেন করে, এভাবে ধরে...
ওহ, রাহুল!
এসো, বাবা।
- হাই। - হাই। - মা, আপনার আপত্তি না থাকলে, আমি আর অনন্যা বাইরে থেকে খেয়ে আসি?
আমার কোনো আপত্তি নেই।
- যাও, বাবা। - অনন্যা? - রেডি হয়ে আসছি।
কী ব্যাপার, ফেসবুকে নতুন কোনো ছবি নেই!
বাগদানের ছবিগুলো এখনো আপলোড দাওনি?
আমি ফেসবুকে অতটা এক্টিভ থাকি না।
তাহলে, সেলফি।
অনন্যা, তোমার- ইউজারনেম আর পাসওয়ার্ড দাও। আমি আপলোড করে দিচ্ছি।
আমি দিচ্ছি।
- মা। - হ্যাঁ? - একবার বললে বোঝো না?
সকালেও ওষুধ খেলে না, বিকেলেও খাচ্ছ না!
গতকাল রাতে'ও খাইনি!
এত ওষুধ খেয়ে কী হবে? আমার কি শরীর খারাপ নাকি মেডিকেল স্টোর উদ্ধার করতে হবে?
- প্লিজ খান, ম্যাডাম। - কী এসব?
খান তো!
ভালো?
- ডাক্তার, কী বললো? - কী আর বলবে?
বললো, রোগী ওষুধ না খেলে, আমাদের মাসিক রোজগারের কী হবে!
ওহ, তোর সাথে আসলেই এতসব ঝামেলা হয়!
পারমির সাথে আসলে কত আরাম লাগে, জানিস?
মা, আমার এসব একদমই ভালো লাগছে না।
- কেন, তোর দিকে তাকিয়ে থাকে? - ছিঃ, না! - ওহ, তাকায় না! তাই, এত রাগ?
চলুন!
আহ, অনন্যা এসে পড়েছে।
- এবার কারেন্ট আসলেই হয়। - অনন্যা, এক মিনিট!
পার্টিতে, পরিবারের সকলকে দেখেছ না?
- ওদের একজনকেও এরকম পোশাকে দেখেছ? - রাহুল, প্লিজ!
আবার শুরু করো না!
তুমি, 'নাইট পার্টি' বলেছিলে। তাই, প্রথমবার এই ড্রেস পড়েছিলাম।
এবং, আমি এই ড্রেসে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করছি।
কেন বিষয়টাকে বড় করছো?
তুমি, আমার স্ত্রী হবে।
তোমায়- আমাকে, আমার পরিবারকে স্বাচ্ছন্দ্যবোধ করাতে হবে!
তোমার মা এখানে আছে। তাই, এখানেই সব বলে যাচ্ছি।
মা'ও তোমায় কিছু শেখায়নি? সংস্কৃতি বলেও কিছু আছে। মেয়েকে বড় করতেও জানে না!
এখন কী? তারিখ এগিয়ে আসছে। তাই, শেষবার কথা বলতে চাও?
কী করছো এসব, পারমি?
আমায় পাবে না বলে, আমার মা'কে পটিয়ে... ছিঃ, কী বলছি এসব!
আমায় পাবে না বলে, আমার মায়ের সঙ্গে জড়িয়ে, তার মন জয় করে- আমায় পেতে চাইলে, প্লিজ- তা করো না!
অন্য ছেলের সঙ্গে আমার বাগদান হয়ে গেছে।
তাই প্লিজ, অনুরোধ করছি- স্মার্ট সাজার চেষ্টা করো না!
- আর প্লিজ, নিজের সীমা অতিক্রম করো না। এতটুকুই বলার ছিল! - এক মিনিট, এক মিনিট!
তোমার স্কুলে দাঁড়িয়ে আছি বলে, ইংরেজী বেশি বের হচ্ছে?
মিঃ পারমি'ও ইংরেজী জানে! কিন্তু, কথা সেটা নয়!
কথা হলো- হ্যাঁ, তোমার মা'কে পটিয়ে আমার অনন্যাকে, আমি পেতে চেয়েছিলাম, সত্যি।
তোমার মায়ের মন জয় করে, তোমায় কাছে পেতে চেয়েছিলাম।
কিন্তু, তোমার মায়ের পবিত্র মন, আমার মনকেই কেড়ে নিল!
অনন্যা, একটা বিষয় জানো?
প্রায়, ২৫ বছর পর, একদিন- জীবনে একটা মেয়েকে পাওয়ার, আশা জাগে।
কিন্তু, এই ২৫ বছরের- প্রতিটা দিন, একজন মা পাওয়ার, আশা করে গেছি!
তোমার কারণে, একজন মা পেয়েছি। সেজন্য, অনেক ধন্যবাদ।
আমাদের বিয়ে হলে উনি আমার শাশুড়ি হয়ে যাবেন, না? নাহ, মা হয়েই থাকুক!
- মা, কফি। - হুম!
তিন কাপ কফি। কার জন্য বানিয়েছিস?
- পারমি'কে মনে পড়ছে, না? - না, না!
সে আমার কাছে, কিচ্ছু লুকোয়নি। এখানে আয়।
আসুন, ম্যাডাম।
সে আমায় সব বলেছে।
- আন্টি, আপনাকে একটা কথা বলতে চাই। - বলো, পারমি। - আপনার মেয়েকে আমি ভালোবাসি।
দু'জনের মধ্যে এখন আর ভালোবাসা বলে কিছু নেই! কিন্তু, একেবারে চলেও যায়নি!
তুমি এই উদ্দেশ্যেই, আমার বাড়ি আসতে?
ফুল কুড়োতে আপনার বাড়ি যেতাম। পরে বুঝলাম, ওটা একটা বাগান।
আপনার ছড়ানো সৌরভে, মায়ের মমতা ছিল!
মেয়ের আশায় থাকা, এই মায়ের মন- ছেলে হলেও খুশিই হতো।
তুই, আমার থেকে সবকিছু লুকিয়ে আমায় ও নিজেকে ধোঁকা দিয়েছিস!
আমি আমার মেয়ের- কথা'র থেকে নীরবতা'র অর্থ, ভালো বুঝতে পারি।
তোর এখন পারমি'কে মনে পড়ছে। ব্যাপার না! কিন্তু বিয়ের পর, মনে পড়লে- কী করবি?
তুই রাহুল'কে বিয়ে করে, যত বছরই একসাথে থাকিস না কেন- অফিসই মনে হবে! কিন্তু, পারমি'কে বিয়ে করে, একসাথে থাকলে- বাড়ি মনে হবে!
দেখিস, আমার চিকিৎসা- রাহুল না, পারমি'ই করবে!
আমি আমার মেয়ের জন্য- বড়লোক স্বামী না, সাধাসিধে স্বামী'ই চাই।
- অফিসার, অপরিচিত নাম্বার থেকে কল! - হ্যাঁ, স্যার। - রিসিভ করুন। - হ্যালো!
- আমার কথাটা একটু শুনুন। - আমার কথাটা ভালো করে, শোন!
৪ ঘন্টার মধ্যে, হেসারাগাট্টা'র জমিতে- ওই একই ব্যাগে টাকা ভরে, আমার ছেলের হাত দিয়ে পাঠাবি।
- ওহ, স্যার! - শুধু আমার ছেলের আসা চাই!
অন্য কেউ আসলে, তোর ছেলে আর আসবে না!
- স্যার, দয়া করে- বিশ্বাস করুন, আমি কিচ্ছু জানি না! - এই! - হারিশ, ছেড়ে দাও ওকে!
- দেখো, ব্যাগ নিয়ে তোকে কিডন্যাপারের কাছে যেতে হবে! - স্যার, কী বলছেন এসব?
এসব কাজ তো পুলিশের। আপনাদের কাজ, আমার ওপর কেন চাপাচ্ছেন, স্যার?
দ্যাখ, ঐ কিডন্যাপারগুলো শুধু তোকে দাবি করেছে।
স্যার, দাবি-টাবি আমি বুঝি না! অন্যের জীবনের জন্য, আমার জীবন কেন ব্যবহার করছেন?
স্যার, আপনারা মারবেন নাকি বাঁচাবেন, জানি না। কিন্তু, ওখানে গেলে, নিশ্চিত- আমি শেষ!
এই, তুই না গেলে- এই স্টেশনেই তোর খুন করবো!
স্যার, আমায় এই স্টেশনে মেরে ফেলুন। ব্যাপার না। কিন্তু, আমি কোথাও যাচ্ছি না!
আমার সময়টাই খারাপ যাচ্ছে!
সে এখন, বাল্লারি জেলে। কিচ্ছু করতে পারবে না!
সে.. এখন বাইরে আছে। চিনে রাখ!
সে... সাধারণ নয়! কিডন্যাপার ছিল! খুন-টুন করে জেলে ছিল!
- স্যার, এক মিনিট! সে? - সেও বড় কিডন্যাপার। কিন্তু, ১০ বছর ধরে কোনো খবর নেই! কোথায় আছে, কী করে- কেউ জানে না!
স্যার, নিলামাঙ্গালা- সকাল, ৯.৩০টা। শিভাজিনগর- সকাল, ১০টা। কেঙ্গেরি- দুপুর, দেড়টা। হেসারাগাট্টা- বিকেল, তিনটা।
স্যার, প্রতিবার ভিন্ন-ভিন্ন গলায় কথা বলেছে।
আমাদের কেস ইতিহাসে প্রথমবারের মতো একের অধিক দল, একটা কিডন্যাপ সামলাচ্ছে। এখন আমাদের ঠিকানা- হেসারাগাট্টা। ঠিক আছে?
যাওয়ার চারটা রাস্তা আছে। কাকোড়ু, গুল্লাহাল্লি, নিলামাঙ্গালা এবং বেঙ্গালুরু!
বেঙ্গালুরু দিয়ে আমি যাবো। বাকি তিন রাস্তায় পাহাড়া বসাবে। প্রত্যেক যানবাহন চেক করবে।
দাও।
- দেখো, পাম্মি! - স্যার, আবার পাম্মি ডাকছেন! এটা, P- U- R- M- Y... মিঃ পারমি স্যার!
- বাশে ঘেরা জমিটা দেখছিস? তার মাঝের ভবনটাই তোর বসের বলা জায়গা! - স্যার!
এই টাকাগুলো দিয়ে, ছেলেটাকে নিয়ে আসবি। নে।
বেশি চালাকি করতে যাবি না!
- ঐ ছেলেকে আনতে পারলে, আমার পুরস্কার নিশ্চিত তো? - ঐ ছেলেকে আনতে পারলে, তোর জীবনই তোর পুরস্কার!
যা।
স্যার, ছেলেটা টাকাগুলো নিয়ে পালিয়ে গেলে? ওকে অতিরিক্ত বিশ্বাস করে ফেললেন!
সে আমায় সন্দেহ করলে, আমি ওকে সন্দেহ করবো না?
- ওর ব্যাগে জিপিএস সেট করা আছে। মনোজ, ট্র্যাকার অন করো। - করছি, স্যার।
স্যার, জিপিএস নড়চড় করছে না! মনে হয়, এখানেই লেনদেন হচ্ছে।
স্যার, কোনো গন্ডগোল হয়েছে। জিপিএস ফিরে আসছে।
সে কেন ফিরে আসছে?
- এই, কী হয়েছে? - ব্যাগ নিন, স্যার। - ব্যাগ কেন? - ছেলেটা কোথায়?
ওখানে দু'জন...
- টাকা দে। - বাচ্চা কোথায়? - টাকা দিতে বলেছি।
এই, দৌড়া, দৌড়া।
এই দাঁড়া! এই, টাকা!
ব্যাগ দে!
এই, বাচ্চা দিয়ে যা।
পুলিশ কাছেই আছে।
- মিস-কল দিলেই আসবে। - দৌড়া, দৌড়া।
এই, এদিকে আয়, এদিকে আয়।
- এই, তোর এত কী? ব্যাগ রেখে চলে যা। - আবার কথা বলিস!
আয়, আয়। সামনেই পুলিশ আছে, আয়।
ওরা 'আমাদের ছেলে, আমাদের ছেলে' বলে যাচ্ছিল, স্যার। টাকা দিয়ে, ছেলেকে নিয়ে আসার দায়িত্ব দিলেন।
কিন্তু, তা সম্ভব নয় দেখে শুধু টাকাসহ ফিরে এসেছি।
আমরা পরবর্তী কলের জন্য অপেক্ষা করবো। চল।
আমার বাবা'ও এভাবেই পুলিশের পোশাকে ঘুরে বেড়াতেন।
উনি চলে গেলেন। একই কাজ, আমিও পেলাম। সিসিটিভি দেখো, দোকান দেখো, কয়েনবক্স দেখো!
এই কয়েনবক্স দিয়ে, কেউ বারবার ফোন করেছে?
- ১০০ জন ফোন করেছে। কাকে লাগবে বলুন, স্যার। - ১০০ জনই মরুক!
কোনো একজন, বারবার এসেছে?
ওরকম কেউ তো... স্যার, একজন মহিলা আসতেন।
- মহিলা? - মহিলা, স্যার।
স্যার, একটা দারুন স্কুটারে চড়ে, মেনাকা'র মতো শাড়ি পড়ে আসতো!
স্যার, সাধারণত এখানে সবাই, কাগজে নাম্বার এনে- ফোন করে।
- শুধু উনিই- ঐ বড়-বড় ফোনগুলো আছে না, স্যার? ক্যামেরা-ক্যামেরা ফোন? - হ্যাঁ, হ্যাঁ। - ওটা থেকে নাম্ভার দেখে ফোন করতো।
আমিও ভাবতাম, এতবড় ফোন থাকতে এই কয়েন-বুথ থেকে কেন ফোন করে?
কি বলতো, শুনেছ কখনো?
শুধু চোখ'টাই সজাগ থাকতো, স্যার। বাকিগুলোকে, বিশ্রামে রাখতাম!
- কথা বলা শেষে, কোন দিকে যেত? - এদিক দিয়ে সোজা, সিগন্যাল ধরে ডানে।
সিগন্যাল, ডানে। সিগন্যাল মানে সিসি-ক্যামেরা থাকবে।
- আন্দাজ করে, কয়টার দিকে এসেছিল? - আন্দাজ কেন, স্যার? সঠিক সময়টাই বলছি।
১০.৪৭, সকালে। ৪.৩৬, বিকেলে।
৪৭, ৩৬- দারুন পর্যবেক্ষণ।
- মেয়েটা দারুন ছিল, না? - হ্যাঁ, স্যার। - বয়স কত তোর?
- ২৪ চলছে, স্যার। - তোর ২৪ চলছে, তাই দেখছিস!
আমার আবার উল্টো! ৪২, ঘুমাচ্ছি!
স্ক্রী'কেই ঠিকমতো পর্যবেক্ষণ করার ফুরসত মেলে না! যাক গে, ফোন করে বিষয়টা জানিয়ে দেই।
'গুচ্চি' না? চকবাজার?
অরিজিনাল?
বড়লোকের কারবার!
একবার পড়ে দেখতে পারি?
অশোক স্যার, আসছেন।
স্যার, কী হয়েছে?
- মাথাটা খুব ব্যথা করছে। তুমি ওকে পাহাড়া দাও। সবার জন্য চা বলো। - ঠিক আছে, স্যার।
এই, আয় আমার সাথে।
- অফিসার, একটা জরুরি কল করে আসছি। - ঠিক আছে, করুন, করুন। - চা দিস।
দিচ্ছি, স্যার।
- বলো, পূজারী। - অ্যাম্বুলেন্স নিয়ে এসেছেন। অ্যাক্সিডেন্ট? - তেমন কিছু না! একটা কেসের ব্যাপারে!
- তো স্যার, অ্যাম্বুলেন্স কেন? জীপ ছিল না? - জনগণের রাস্তা দেয়ার সময় নেই। পুলিশের জনগণকে দেয়ার সময় নেই!
অ্যাম্বুলেন্স সবখানে রাস্তা করে নিতে পারে।
তাই, অ্যাম্বুলেন্স।
স্যারের বুদ্ধি এটা।
পরে কথা বলছি।
- টাকাগুলো সাবধানে রেখো। - জ্বী, স্যার। অবশ্যই।
কী দেখছেন? কী হয়েছে, স্যার? স্যার, বাসে কেউ নেই!
- শালারপুত! - স্যার, ছেড়ে দিন! - নেমে আয়। - তাহলে, ওটা কে?
- ছেড়ে দিন, স্যার। ছোটখাটো চোর, স্যার। - ছোটখাটো চোর নয়, কিডন্যাপার। - আমাদের সাথে চালাকি, আয়।
- আসছি। - আবার কোথায় যাস?
- আয়। - সে পালানোর চেষ্টা করছে।
- আয়, আয় বলছি। - বাঁচান। হ্যালো, আপা!
পালাতে চাস?
ছেড়ে দাও। শালারপুত। নিয়ে চলো, একে!
একটু দাঁড়াও তো! পারমি? ওকে বসাও।
পারমি? এই পারমি?
- পারমি? - রবি, অজ্ঞান হয়ে গেছে।
- কী করবো? - নিয়ে চলো।
স্যার, কিছু একটা মিস করে যাচ্ছেন।
ওরা বললো, টাকা পেলে, ছেলেকে ফিরিয়ে দেবে। আপনাকে নকল টাকার বিষয়ে বলার পরেও, কিছু করলেন না!
আমাদের মধ্যেই কেউ এসব করছে বলে, মনে হচ্ছে। কিন্তু, আমি করিনি! বিশ্বাস করুন, স্যার।
আমি কিচ্ছু করিনি। দয়া করে, আমায় ছেড়ে দিন, স্যার।
- মুক্তি চাস? - প্লিজ, স্যার।
এই, ঐ মাঠটার সামনে, গাড়িটা থামাও।
স্যার, এক মিনিট। পিস্তলে কেস ভরে, আসছি।
দ্যাখ, তুই কিডন্যাপার না। সেটা নিশ্চিত হয়ে গেছে।
তাই, এখানেই ভেবে ফেললাম।
কী নিয়ে ভাবলেন, স্যার?
ঐ যে, এই কিডন্যাপের ব্যাপারে, ওই কিডন্যাপারের ব্যাপারে।
স্যার, আমার জীবনে এমন একটা দিন আসবে- আমি বুঝেছিলাম।
- গতরাতে, খাবার সময়, আপনাদের দেখেই বুঝেছি, আজ আমি মুক্তি পাবো। - ভালো, ভালো।
যা।
- স্যার, ধন্যবাদ! - এই, আস্তে, আস্তে!
আমার বিয়েতে আসবেন কিন্তু।
পাম্মি।
স্যার, পারমি...স্যার!
- এই, কী হয়েছে? - এই পারমি।
- এই পারমি! - কী হয়েছে তোর? ঠিক আছিস?
গাড়ি সাইড করো।
যা।
জলদি আয়।
যা।
স্যার, এক মিনিট। পিস্তলে কেস ভরে, আসছি।
পিস্তল নিয়ে কোথায় যাচ্ছে?
স্যার, আমি কোথাও যাবো না।
আপনি যেতে বললেও, যাবো না!
দ্যাখ, কিডন্যাপ নিয়ে এমনিই মাথা গরম। আবার উল্টোপাল্টা কিছু করার চেষ্টা করলে- তোর জীবন, এখানেই শেষ।
স্যার, শীর্ষস্থানে থাকা মহিলার কসম, আমি কিচ্ছু করবো না!
স্যার, প্রয়োজনে আমি নিজে গিয়ে ছেলেটাকে খুঁজে বের করবো।
আমরা কি এখানে আঙুল চুষছি?
খুঁজে বের করবে!
ঐ ছেলে কেমন দেখতে, জানিস?
দেখেছিস, ঐ ছেলেকে?
হারিশ, ছবি দেখাও ওকে।
এই দ্যাখ, ছবি।
দ্যাখ।
- পারমি, একটু জলদি চলো, প্লিজ। - এত তাড়া কীসের?
টিউশন পড়তে আসবে।
- তোমার পড়াতে যাওয়ার কথা না? - যেতাম, কিন্তু...
মায়ের শরীরটা একটু খারাপ। সকাল থেকেই সারাদিন বাইরে থাকি।
তাই, অন্তত বিকেলটা বাড়িতে কাটাতে, ওকেই এখানে ডেকে নিয়েছি।
- আসছি। সাবধানে যেও। - বাই।
এখন একটা বিক্রিয়া লিখ।
জন, কান্নাডা'র 'এন্টু' (আট) নয়। N2- নাইট্রোজেন।
মনোযোগী হও, জন। এসব কী?
- ওহ, মিষ্টি। কেন? - কালামালিগের নাইট-শিফট সুপারভাইসর হিসেবে, মিঃ পারমি'কে নিয়োগ দেয়া হয়েছে!
পুরোটাই নাইট-শিফট?
বিয়ের পর, পুরো নাইট-শিফট'কে, ডে-শিফটে বদলে ফেলবো।
সে আমার ছাত্র, জন।
নাও।
- হ্যালো, আমি- মিঃ পারমেশ। - জন।
আন্টি কোথায়?
- আন্টি। - বলো, পারমি। - একটা সুখবর আছে। - জানি।
- নাইট-শিফটের কাজ পেয়েছ। - জেনে গেছেন?
- অভিনন্দন। - ধন্যবাদ।
- না। - কেন? - কারণ, আমার খেতে ইচ্ছে করছে না।
ওষুধ খাবার সময় হয়েছে। তাই, আন্টির মন খারাপ।
কী ব্যাপার? ২৪ ঘন্টা শুধু ফাঁকিবাজি।
বাড়িতে অশান্তি, স্কুলে অশান্তি এখন টিউশনেও অশান্তি সৃষ্টি করছো?
এখানে অনেক আরামে আছি।
এই, আরামে থাকার জন্যই অশান্তি সহ্য করতে হয়।
আর তোদের বাড়ি'তো পুরো একটা খেলার মাঠ! আরামের অভাব কেন?
বাবা, ব্যবসা নিয়ে ব্যস্ত। মা, লেডিস ক্লাব, পার্টি সহ এটা-ওটায় ব্যস্ত। বাড়িতে শুধু আমি আর রামুকাকা। সেও গাড়ি নিয়ে বেড়িয়ে গেলে, মাঠ জেলে পরিণত হয়।
রামুকাকা কে?
আমায়, স্কুলে দিয়ে ও নিয়ে আসে।
বাড়িতে, বাবা-মা দু'জনের জন্যই উনি ড্রাইভার। কিন্তু, আমার জন্য উনিই বাবা-মা।
আমার তো বাবা-মা'ই নেই!
তোর থেকেও নেই!
- অনেক হয়েছে, স্যার। ম্যাডাম দেখলে, খবর আছে। - ওহ, টিচারের চেয়ে সে বেশি জ্বালাচ্ছে!
এই, ওপরের ওটার দাম কত?
- ভাই, ওটা ত্রিশ টাকা। - ত্রিশ টাকা?
- হ্যালো। - হ্যালো, গতকাল মায়ের চেক-আপ ছিল না? - হ্যাঁ, কী হয়েছে?
- ১৫ দিনের ভেতর অপারেশন করাতে হবে। - তাই নাকি?
আমি কী করবো, বুঝতে পারছি না!
আনু, কাঁদবে না, প্লিজ। একটু শান্ত হও।
শোনো, কাল সকালে- আমি আসছি। ততক্ষণ, নিজেকে সামলাও।
আনু, কিচ্ছু হবে না। মা যেন সাবধানে থাকে।
ঠিক আছে।
- আজ সকালে, জনের বাড়িতে গিয়েছিলাম। - জনের বাড়ি?
- কেন? - মায়ের অপারেশনের জন্য টাকা ধার চাইতে।
- কী হলো? - কী আর হবে?
তারা অনেক বেতন দিচ্ছে, কিন্তু কোনো ফল পাচ্ছে না!
খুব তুচ্ছভাবে কথা বলেছে।
আমি দশ'জনকে টিউশন পড়াই, জানো?
তাদের অনুরোধে, আরো একজনকে পড়ানো শুরু করলাম।
তাদের জন্য আমি এতটুকু করতে পারলে, তারা আমার জন্য কিছু করতে পারতো না?
কত অভিযোগ, এসব বড়লোকদের।
আমি কি উনার কাছে, দানভিক্ষা চেয়েছি? ধারই তো চেয়েছিলাম।
এসব মানুষদের উচিৎ শিক্ষা পাওয়া দরকার।
ওরা যা করেছিল, সেটা ঠিক ছিল? কেউ আমায় ধোকা দিলে, তাকে আমি ছাড়ি না!
উচিৎ শিক্ষা দিয়েই ছাড়ি।
- শঙ্করের ফোন। হ্যাঁ, বলো শঙ্কর। - স্যার।
ওই টিচারের ব্যাপারে খবর নিয়েছি। ওর বিয়ে ঠিক হয়েছিল। মেয়েটার ব্যাপারে ছেলেটা যা বলেছিল, সব সত্যি, স্যার।
এই কেসের ব্যাপারে মেয়েটা কিছু জানে?
না স্যার, জানে না।
- না জানলে, ছেড়ে দাও। শুধু-শুধু বিয়েতে ঝামেলা করে লাভ নেই! - ঠিক আছে, স্যার।
- ঠিক আছে, বিষয়টা স্যারকে জানাচ্ছি। - ঠিক আছে, স্যার। - নতুন কোনো খবর পেলে, জানিও।
- অফিসার, অপরিচিত নাম্বার থেকে কল আসছে। - কথা বলুন।
- স্যার, আরেকটা কল। অপরিচিত নাম্বার থেকে। - কথা বলুন।
- বাবা, আমায় বাঁচাও। - জন, জন।
- মেরে ফেলবো, তোর ছেলেকে? - এই, দ্যাখ...
শেষবার, ঠিক জায়গায় টাকা পাঠানো হয়েছিল। কিন্তু, টাকা ফিরিয়ে আনতে হয়েছে।
ঠিক আছে। একটা কাজ করা যাক। আমরা এদিক থেকে টাকা পাঠাবো, তুই ওদিক থেকে ছেলেকে ফেরত পাঠাবি।
তোর কথা রাখ, আমার কথা শোন।
এক ঘন্টার ভেতর, এইচএমডি পার্কে আমার ছেলের হাতে টাকা দেখতে চাই।
এবার কোনোরকম ঝামেলা হলে, ছেলের মাথা নিশ্চিন্তে বাড়ি পৌছে যাবে।
আমি টাকার আশা ছেড়ে দেবো, তোরা ছেলের আশা ছেড়ে দিস।
স্যার, ঝামেলা প্রয়োজন নেই। টাকা দিয়ে দেই।
এরপর, নাহয় আপনারা অ্যাকশন নিলেন।
- হারিশ, রবি। - স্যার। - এসো।
লবণ বেশি হলেও, খাবারটা দারুন হয়েছে।
বলুন, ম্যাডাম।
আজ সন্ধ্যায়, মা'কে নিয়ে হাসপাতাল যাবো, চেক-আপের জন্য।
- ঠিক আছে, আমি এসে নিয়ে যাবো। - না না, আমিই নিয়ে যাবো।
মায়ের আগের রিপোর্ট নিতে হবে, ডাক্তারদের সাথে কথা বলতে হবে। অনেক কাজ!
তুমি অতকিছু পারবে না!
আসলে, সন্ধ্যায় জন আসবে, টিউশনে।
- তুমি ওর সাথে থাকলেই হবে। - নো টেনশন।
আমি যা যা জানি, সব আজ ওকে শিখিয়ে দেবো।
হ্যালো, অতকিছুর দরকার নেই!
আমি ওকে অ্যাসাইনমেন্টস দিয়ে রেখেছি।
- বিকেলে দেখা হচ্ছে। - ঠিক আছে, বাই।
- মা, বিকেলের ওষুধ খেয়েছ তো? - হ্যাঁ। - পারমি এক্ষুনি এসে পড়বে।
- আনু, কী হয়েছে? - এক মিনিট।
পারমি, জন আসলে- পড়ার রুমে বসিয়ে দিও।
আমি আর মা, হাসপাতালে যাচ্ছি।
তুমি কেন এত কষ্ট পাচ্ছ?
আমার এসবে অভ্যাস হয়ে গেছে। চিন্তা করো না!
একদিনের ভ্রমণের মতো হয়ে গেছে, জলদিই এসে পড়বো।
হাসপাতালের গন্ধটা একেবারেই ভালো লাগে না!
অসহ্য!
অনলাইনে থেকো। হোয়াটস-এপ'এ ম্যাসেজ পাঠাবো।
- ঠিক আছে। জলদি এসে পড়ুন। সাবধানে যেও আর একটা কল করো। - ঠিক আছে।
চাবি ভেতরে আছে আর চা রাখা আছে।
এখানে কী করছিস?
তুমি ওখানে ছিলে। ভাবলাম, সিরিয়াল জগতে ডুবে গেছো। এখন দেখি, পৃথিবীতেই ছিলে!
- ম্যাডাম কিন্তু তোর বাড়ি গিয়েছিল। - জানি।
বাবার কাছে টাকা ধার চেয়েছিল, সেটাও জানি।
আমায় ছেলের মতো মানুষ করা, রামুকাকা। তার মেয়ের বিয়ের জন্যই টাকা দেয়নি। আর ইনি তো, টিউশন টিচার!
আমার বাবা, পাক্কা ব্যবসায়ী!
প্রয়োজন হলে, আমার নামে দুর্ঘটনার খবর রটিয়ে, আমাকেই কিডন্যাপ করে- আরামসে নাম কামিয়ে ফেলবে। স্যরি, ফেলতে পারে।
দ্যাখ, এইবার ছেলেটাকে আনতেই হবে।
যাই হয়ে যাক না কেন। ঐ ব্যাগ নিয়ে যা।
- নিয়ম-অনুযায়ী পিস্তল দেয়া নিষেধ। নে, চালাতে জানিস? - স্যার, দরকার নেই!
আমি ওদের গুলি করলে, ওরা আমায় গুলি করলে- শেষে কোনো জীবনই থাকবে না!
যেতে হলে, আমার জীবনটাই যাক।
- হারিশ। - নে। যা।
ঠিক আছে, কোনদিকে যাবো?
এদিকে আয়।
ওরা ইতিমধ্যেই আমাদের ওপর নজর রাখছে। এদিক দিয়ে যা। ওরাই খুঁজে নেবে।
যা, যা।
- হারিশ, ওদিকে নজর রাখো। - জ্বী, স্যার।
- ট্র্যাকার চালু করো। - তৈরি, স্যার।
- এখান থেকে লোকেশনের দূরত্ব প্রায় কত হবে? - স্যার, ৩৫০ থেকে ৪০০ মিটার।
স্যার, জিপিএস নড়ছে না। সম্ভবত, কিডন্যাপারদের সঙ্গে দেখা হয়েছে।
- বলো, পূজারী। - ঐ কয়েনবক্সের মহিলাকে পেয়েছি।
উনাকে স্টেশনে এনেছি। ইনভেস্টিগেশন রুমে বসিয়ে রেখেছি, স্যার।
আমি আসছি, ওখানে।
স্যার, জিপিএস আবারো নড়চড় করছে।
ব্যাগ নিয়ে আসছে কেন?
স্যার, ওর সাথে একটা ছেলেও এসেছে।
জন, আমার ছেলে।
- বাবা, দেখো। খুব ব্যথা করছে। - ঠিক আছে। সব ঠিক হয়ে যাবে।
টাকা কেন ফেরত এনেছিস?
টাকা নেই, স্যার। টাকাহীন, খালি ব্যাগ এনেছি।
টাকা কোনো ব্যাপার নয়, স্যার। আমি আমার ছেলেকে ফেরত পেয়েছি। তাই, যথেষ্ট।
টাকা যাবে না। ফেরত পাবেন।
আমি তো আগেই বলেছি, স্যার। আপনাদের সব পরিকল্পনা, ওরা আগে থেকেই জেনে যায়। আপনাদের মধ্যেই কেউ একজন...
যাওয়া যাক।
ভালোবাসি, ভালোবাসি- বলে আমার পেছনে পড়ে থাকতো।
কিন্তু, দু'বছর আগে- আমি ওর ভালোবাসায় পাগল হয়ে যাই।
সেই সুযোগ নিয়ে, সে আমার জীবন নষ্ট করে দিল। আমার পেটে ওর বাচ্চা ছিল।
রুটিন চেক-আপের বাহানায়, একদিন, আমায় ডাক্তারের কাছে নিয়ে গেল।
কিন্তু, আসলে- সে আমার গর্ভপাত করিয়ে দিল!
আমার অজান্তেই, আমার বাচ্চাকে শেষ করে ফেললো, স্যার।
তাই, আমি ওকে বাচ্চা হারানোর কষ্টটা অনুভব করাতে চেয়েছিলাম।
তো...
কেনেডি'কে শাস্তি দেয়ার লক্ষ্যে- একটা গুন্ডাকে সুপারি দিয়ে, জনের পেছনে ফলো করিয়ে, ওর চলাচল পর্যবেক্ষণ করে...
কিডন্যাপ করিয়েছেন। ঠিক বলেছি?
না, স্যার। আপনি ভুল।
কিডন্যাপ করার পরিকল্পনা করেছিলাম, সত্যি।
কিন্তু, আমরা বাচ্চাটিকে কিডন্যাপ করিনি!
কাজটা যেই করুক না কেন, উচিৎ করেছে।
স্যার।
ঠিক আছে।
ধন্যবাদ, মিঃ পাম্মি!
স্যার, ওটা- P- U- R- M- Y.. পারমি, স্যার।
- আপনি আমায়, মিঃ পারমি ডাকতে পারেন। - ঠিক আছে।
ধন্যবাদ, মিঃ পারমি। আপনি আমাদের অনেক সাহায্য করেছেন।
কিন্তু, আমাদের জন্য আপনার অনেক কষ্ট হলো।
- কিন্তু, ধন্যবাদ। - মেনশনের প্রয়োজন নেই, ধন্যবাদ।
- কিন্তু, মুখটা একটু ঠিক করে দিয়েন, স্যার! - অবশ্যই। - গুনীজনেরা বলেন না...
বেস ঠিক না থাকলেও, ফেস খুবই গুরুত্বপূর্ণ।
- হ্যাঁ। - অতটুকুই!
আচ্ছা, আপনি গ্লাসটা চাচ্ছিলেন না?
- এটা আপনার জন্য। - গুচ্চি? আমার জন্য? - হ্যাঁ, আপনার জন্য। নিন।
আগামী সপ্তাহে, আমার বিয়ে।
- কার্ড দিয়ে দেবো, আসবেন কিন্তু। - অবশ্যই, অবশ্যই।
স্কেচ-আর্টিস্ট এসেছে। পূজারী'র কাছে যা। এই জন, তুমিও এসো বাবা!
- স্যার? - কী, বলো। - আপনার কী মনে হয়?
সে কাজটা করেনি।
ওরা প্ল্যান করেছিল। কিন্তু, পরে অন্য কেউ ওদেরই মতো করে কার্যসম্পাদন করেছে।
- স্যার। - হ্যাঁ। - ঐ ড্রইং মাস্টার মানে স্কেচ-আর্টিস্ট এসেছে, স্যার।
- ঠিক আছে, স্কেচ আঁকতে বলো। - ঠিক আছে, স্যার।
অমাবস্যা, অর্ধচন্দ্রের পর- চন্দ্রগ্রহণ হয়ে গেল!
সে কাজটা না করলে, আর কে করতে পারে?
কিডন্যাপার অন্য কোথাও নয়, স্যার- আমাদের মধ্যেই আছে।
আমাদের মধ্যেই কেউ একজন...
আঙ্কেল, ইনিও কি পুলিশ?
- না, উনি তোমার বাবা। - হ্যাঁ?
মানে, সে তোমায় পুনর্জন্ম দিয়েছে। সে কতটা মহান, জানো?
ধন্যবাদ, আঙ্কেল। ধন্যবাদ, আঙ্কেল। আপনি আমার জীবন বাঁচিয়েছেন, আঙ্কেল।
কাঁদিস না, বাপ! আসলে, আমার সময়টাই খারাপ যাচ্ছে।
কাঁদিস না, তোরা। সামলা নিজেদের!
বাপজানেরা, এসব বাইরে গিয়ে করিস তোরা।
আমাদের কাজটা করতে দে, বাপ!
এসবের অনেক সময় আছে। একটু থাম, বাপ।
একসাথে থেমে গেল!
ঠিক আছে। দেখতে কেমন ছিল, বলো।
- মাথা টাক ছিল। - অনেক চুল ছিল।
তোমরা যদি এখন, এসব- টাক, কাকের কথা বলো, তাহলে সে কীভাবে বুঝবে?
- ঠিক করে বলো। দাড়ি ছিল? - ক্লিন শেভ। - ঘন দাড়ি।
টাক মাথা, ঘন দাড়ি।
আমি বলছি, আঁক। ইনি, ক্রিকেটার- হাশিম আমলা
টাকার জন্য দলের সাথে বাজি ধরে, এই কাজ করেছে।
কী, কী? ইংরেজী'কে গুলি মার, সোমবার এমনেই ঝামেলার।
আঙ্কেল, আমি তাকে দশ ঘন্টা দেখেছি। সে তো শুধু, দশ মিনিট দেখেছে।
আমি ওকে খুব ভালো করে চিনি। আমিই বলছি, আঙ্কেল।
হ্যাঁ, বাচ্চারা মিথ্যা বলে না। তুমিই বলো, বাবা। কেমন দেখতে ছিল সে?
- আমায় কেউ একজন কিডন্যাপ করার প্ল্যান করছে! - তাই নাকি? কিডন্যাপ?
অন্যের কিডন্যাপ, তুমি কেন করছো না?
কী বলছিস, এসব?
রামুকাকার মেয়ের বিয়ের জন্য, টাকা দরকার। তোমার শাশুড়ির অপারেশনের জন্যেও টাকা দরকার।
আমার বাবার থেকে টাকা হাতাবার, এই একটাই উপায়।
বাজারে আমার মূল্য দেখলেই, বাবা-মা আমার মূল্য বুঝতে পারবে।
আমার এসব ঠিক মনে হচ্ছে না!
এরকম কাজ, আমি- জীবনেও করিনি!
মিঃ পারমি মানে একটা নীতি। বুঝেছিস?
পাওয়া না পাওয়া পরের বিষয়। কিন্তু, আমাদের অবস্থানে- প্রয়োজন মেটানোর পথ এই একটাই।
হ্যালো, কিডন্যাপ করাটাকে ক্যান্ডি-ক্রাশ খেলার মতো সহজ, মনে করিস?
টেনশন নিচ্ছ কেন?
প্ল্যান আমার, কাজ তোমার।
প্রথমে, তোমায়- চকবাজারে গিয়ে, স্মার্ট-ফোনের জন্য, নকল আইডি-কার্ড ওয়ালা সিম-কার্ড জোগাড় করতে হবে।
এরপর, আমার চলাচলের জন্য- একটা নতুন রেজিস্টার হওয়া গাড়ি নেবে।
আমার বন্ধুকে বললেই হয়ে যাবে।
আমি, ভিন্ন-ভিন্ন জায়গা থেকে, ভিন্ন-ভিন্ন নাম্বার থেকে ফোন করবো। বুঝেছ?
সকাল- ১০টায় এই নাম্বার থেকে। ১১টায়- এই নাম্বার থেকে।
নিজের ছেলেকে জীবিত দেখার, আশা আছে?
বাবা, বাবা- বাঁচাও আমাকে, বাবা।
ওর আর কী? ভালোই আছে। হ্যালো, হ্যালো, হ্যালো- বাবা।
জন, সব বুঝলাম।
পুলিশের ঝামেলা হবে না, তো?
আমার বাবা- পুলিশের কাছে, যাবেই যাবে।
পুলিশকে খেলানোটা কষ্টকর।
- কিন্তু, পুলিশকে আমাদেরই খেলাতে হবে। - তো পুলিশকে খেলানোর জন্য, কোন বাপ যাবে?
আমি?
না, না। নাহ!
- স্যার! - স্যার, এগুলো নকল টাকা বুঝতেই পারিনি!
স্যার, আগামী সপ্তাহে আমার বিয়ে। ওকে নিয়ে শপিংয়ে যাবো, প্রমিস করেছিলাম।
ফোন না করলে, টেনশনে পড়ে যাবে না বেচারি! একটা মাত্র ম্যাসেজ করবো, প্লিজ স্যার।
- নে। - ধন্যবাদ, স্যার।
দারুন লাগছে না?
তোমায় স্মার্ট-ফোন ব্যবহার করতে হবে। বুঝেছ?
- এই, কী হয়েছে? - ব্যাগ নিন, স্যার। - ব্যাগ কেন?
ওখানে দু'জন...
এত টাকা জীবনেও দেখিনি।
এত টাকা দেখেছি। কিন্তু, কখনো ছুঁয়ে দেখিনি!
এই, জিপিএস রেখেছে।
- রাখো, টাকা সব ব্যাগে রাখো। - শিট! - নাও।
প্রথমে, এখান থেকে জলদি পালাও। গিয়ে কিছু একটা বলে দিও। এরপর, অন্য কিছু ভাবছি। নাও।
বন্ডের বেশধারী ভান্ড একটা, থুঃ!
জলদি যাও।
পরে কী করতে হবে, ভেবেচিন্তে- কল করে জানাবো। যাও।
ল্যাং মারলি কেন?
আমি কই মারলাম? ওই কিডন্যাপার'রাই তো মারলো।
কেন মুখের এই হাল করছিস?
- ঐ পুলিশেরা এমনিতেই, মেরে মুখে বারোটা বাজিয়েছে। - তাই নাকি? - কাছে এসে দ্যাখ!
এই পাপী, মারলে কেন?
ওহ মাই লর্ড! আমি কোথায় মারলাম? ঐ কিডন্যাপার'রাই তো মারলো।
যাও তো, জলদি।
ছেলেটা- চোখ দিয়ে দুধ খায় নাকি মুখ দিয়ে দুধ খায়, জানি না। কিন্তু, বিড়ালের মতো দুধ খায়, সেটা নিশ্চিত।
এখন, খালি হওয়া বোতল'টাকে খুঁজে বের করতে হবে।
- ঠিক আছে, স্যার। - আর সেটার জন্য, তোমার সাহায্য লাগবে।
স্যার, ২৪/৭ সর্বদা আপনার সাহায্যে নিয়োজিত থাকবো।
- শীর্ষস্থানে থাকা মহিলার কসম। - বদের বদ!
সবসময় শুধু শীর্ষস্থানে, শীর্ষস্থানে! কে আছে এই শীর্ষস্থানে?
- উনি, শীর্ষস্থানে আছে, স্যার। - স্যার, দেখলেন?
বাদ দাও, পূজারী।
স্যার, আগামী সপ্তাহে আমার বিয়ে।
দয়া করে, আপনারা সবাই আসবেন, স্যার। প্লিজ।
- অবশ্যই, আসবো। - ধন্যবাদ, স্যার।
স্যার, কমিশনার অফিস থেকে ম্যাসেজ এসেছে। 'অপারেশন জন' এর ব্যাপারে অতি-শীঘ্রই রিপোর্ট জমা দিতে বলেছে।
- তোমায় আমি চিনি না, আমায় তুমি চেনো না। ঠিক আছে? - ঠিক আছে। ডিল।
- তো, শুরু করা যাক- 'অপারেশন আলমেলাম্মা।' - হ্যাঁ, শুরু করা হোক- 'অপারেশন আলমেলাম্মা।'
'অপারেশন আলমেলাম্মা'?!
এত ভালো প্ল্যান করে, একটা ভালো নাম রাখতে পারলি না?
- আমরা এগুলো কার অপারেশনের জন্য করছি। - প্রেমিকার মায়ের জন্য। - মায়ের নাম কী?
প্রেমিকার মা!
এই, ঠিকই তো? উনার নাম কী?
'আলমেলাম্মা।'
- তাই নাকি? - হুম।
আমরা যা করতে চলেছি, সব- আলমেলাম্মা'র অপারেশনের জন্য।
তাই, 'অপারেশন আলমেলাম্মা।'
- না, ভাই! এক কাজ করি- অপারেশন রামুকাকা রেখে দেই। শুনতেও ভালো লাগছে। - না, না!
- অপারেশন আলমেলাম্মা। - আমার কথা শোন, জন। অপারেশন রামুকাকা।
- অপারেশন আলমেলাম্মা। - অপারেশন রামুকাকা। - অপারেশন আলমেলাম্মা। - অপারেশন রামুকাকা। - হবে না। - হবে না, ভাই। - হবে না। - অপারেশন রামুকাকা। - অপারেশন আলমেলাম্মা।
''অপারেশন আলমেলাম্মা''
কেমন লাগল মুভিটি? জানাতে পারেন বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় দুটি সাউথ মুভি ভিত্তিক গ্রুপে।
"ব্লকবাস্টার সাউথ ইন্ডিয়ান মুভি লাভারস গ্রুপ" www.facebook.com/groups/SouthFansBD
"সাউথ ইন্ডিয়ান মুভি ফ্রিক" www.facebook.com/groups/SouthFreak
সাবটাইটেল ভালো লাগলে, 'সাবসিনে' রেটিং এবং ফিডব্যাক দেবেন।
ধন্যবাদ।:)
Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.