All language subtitles for Life of Pi (2012) Bangla Subtitle

af Afrikaans
ak Akan
sq Albanian
am Amharic
ar Arabic Download
hy Armenian
az Azerbaijani
eu Basque
be Belarusian
bem Bemba
bn Bengali Download
bh Bihari
bs Bosnian
br Breton
bg Bulgarian
km Cambodian
ca Catalan
ceb Cebuano
chr Cherokee
ny Chichewa
zh-CN Chinese (Simplified)
zh-TW Chinese (Traditional)
co Corsican
hr Croatian
cs Czech
da Danish
nl Dutch
en English
eo Esperanto
et Estonian
ee Ewe
fo Faroese
tl Filipino
fi Finnish
fr French
fy Frisian
gaa Ga
gl Galician
ka Georgian
de German
el Greek
gn Guarani
gu Gujarati
ht Haitian Creole
ha Hausa
haw Hawaiian
iw Hebrew
hi Hindi
hmn Hmong
hu Hungarian
is Icelandic
ig Igbo
id Indonesian
ia Interlingua
ga Irish
it Italian
ja Japanese
jw Javanese
kn Kannada
kk Kazakh
rw Kinyarwanda
rn Kirundi
kg Kongo
ko Korean
kri Krio (Sierra Leone)
ku Kurdish
ckb Kurdish (Soranî)
ky Kyrgyz
lo Laothian
la Latin
lv Latvian
ln Lingala
lt Lithuanian
loz Lozi
lg Luganda
ach Luo
lb Luxembourgish
mk Macedonian
mg Malagasy
ms Malay
ml Malayalam
mt Maltese
mi Maori
mr Marathi
mfe Mauritian Creole
mo Moldavian
mn Mongolian
my Myanmar (Burmese)
sr-ME Montenegrin
ne Nepali
pcm Nigerian Pidgin
nso Northern Sotho
no Norwegian
nn Norwegian (Nynorsk)
oc Occitan
or Oriya
om Oromo
ps Pashto
fa Persian
pl Polish
pt-BR Portuguese (Brazil)
pt Portuguese (Portugal)
pa Punjabi
qu Quechua
ro Romanian
rm Romansh
nyn Runyakitara
ru Russian
sm Samoan
gd Scots Gaelic
sr Serbian
sh Serbo-Croatian
st Sesotho
tn Setswana
crs Seychellois Creole
sn Shona
sd Sindhi
si Sinhalese Download
sk Slovak
sl Slovenian
so Somali
es Spanish
es-419 Spanish (Latin American)
su Sundanese
sw Swahili
sv Swedish
tg Tajik
ta Tamil
tt Tatar
te Telugu
th Thai
ti Tigrinya
to Tonga
lua Tshiluba
tum Tumbuka
tr Turkish
tk Turkmen
tw Twi
ug Uighur
uk Ukrainian
ur Urdu
uz Uzbek
vi Vietnamese
cy Welsh
wo Wolof
xh Xhosa
yi Yiddish
yo Yoruba
zu Zulu

Original subtitles

স্বাগতম লাইফ অফ পাই Life of Pi

সিনেমাটি শুরু হচ্ছে

বাংলায় আপনাদের জন্য "লাইফ অফ পাই" সিনেমাটির সাবটাইটেল নিয়ে এলাম আমি মিজান আহমেদ mijanahmed2050@gmail.com

তো আপনি বড় হয়েছেন একটি চিড়িয়াখানায়?

জন্মেছি এবং বড় হয়েছি।

পন্ডিচেরিতে, যেটাকে ভারতের ফ্রেঞ্চ অংশ বলা যায়।

আমার বাবা ছিলেন ঐ চিড়িয়াখানার মালিক।

একেবারেই তাৎক্ষণিকভাবে একজন সরিসৃপবিদের হাতে আমার জন্ম হয় . . .

যিনি আমাদের চিড়িয়াখানায় এসেছিলেন একটি বেঙ্গল মনিটর গিরিগিটি পরীক্ষা করে দেখতে।

মা এবং আমি দু’জনেই সুস্থ ছিলাম...

কিন্তু বেচারা গিরগিটি পালানোর চেষ্টা চালাল...

এবং একটি ভীত কেশোয়ারির পায়ের নিচে পড়ে পিষ্ট হল।

কর্মফল, তাই না?

ঈশ্বরের কাজের ধারা।

বেশ মজার গল্প।

আপনার নাম শুনে আমি ধরে নিচ্ছি

আপনার বাবা ছিলেন একজন গণিতবিদ।

মোটেও না। বরং আমার নাম রাখা হয় একটি সুইমিং পুলের নামে।

"পাই" নামে কোন সুইমিং পুল আছে?

হয়েছে কি, আমার মামা ফ্রান্সিসের যখন জন্ম হয়

তখন তার ফুসফুসে অনেক পানি ছিল।

সবাই বলে ডাক্তাররা নাকি মামার গোড়ালি ধরে

উল্টো করে ঝুলিয়ে ঘুরিয়েছিলেন, যেন তার ভেতর থেকে সমস্ত পানি বের হয়ে যায়...

ফলে তার বুক হয়ে যায় বিশাল চওড়া আর পা দু’টো হয়ে পড়ে একেবারে চর্মসার...

এতে তিনি হয়ে ওঠেন এক দারুন সাঁতারু।

ফ্রান্সিস কি আসলেই আপনার মামা হন?

তিনি তো বলেছেন, তিনি আপনার বাবার বন্ধু।

তার সাথে আমার আত্মার সম্পর্ক। আমি তাকে ডাকি মামাজী।

আমার বাবার সবচেয়ে ভাল বন্ধু। আমার সাঁতারের গুরু।

সপ্তাহে তিনবার আমি তার কাছে সাঁতার শিখতে আশ্রমে যেতাম।

তার শেখানো এই সাঁতারই শেষ পর্যন্ত আমার জীবন বাঁচিয়েছিল।

মুখভর্তি পানি তোমার কোন ক্ষতি করবে না, ক্ষতি যা করার করবে তোমার ভয়।

এখন আবার শ্বাস নিতে ভুলে যেও না, নিঃশ্বাস বন্ধ করে রেখ না।

লক্ষী ছেলে।

আশা করি আপনি নিরামিষ অপছন্দ করেন না।

না, না। একেবারেই না।

- আর, আপনার নাম? - হ্যাঁ?

আপনার নামটি কোথা থেকে এল সে সম্পর্কে আপনি বোধহয় কিছু বলছিলেন আমাকে।

ও, হ্যাঁ. মামাজী একবার আমার বাবাকে একটা কথা বলেছিলেন। সেখান থেকেই আমার নামের উৎপত্তি।

আপনি দেখবেন, অধিকাংশ পর্যটকরাই ভ্রমণের সময়

সংগ্রহ করে থাকেন পোষ্টকার্ড বা চায়ের কাপ . . .

কিন্তু মামাজী এর ব্যতিক্রম।

মামাজী সংগ্রহ করতেন সুইমিং পুল।

তার যাত্রাপথে যে পুলটিই পড়ত না কেন, তার প্রত্যেকটিতেই তিনি সাঁতার কাটতেন।

একদিন মামাজী আমার বাবাকে বললেন যে,

বিশ্বের সমস্ত সুইমিং পুলের মধ্যে...

সবচেয়ে সুন্দর পুলটি হচ্ছে প্যারিসের একটি পাবলিক পুল।

সেটার পানি এতটাই স্বচ্ছ যে,

আপনি ওটা দিয়ে আপনার জন্য সকালের কফি পর্যন্ত তৈরি করতে পারবেন।

সেখানে একবার মাত্র সাঁতার কেটেই নাকি তার জীবনটা পুরো পাল্টে গিয়েছিল।

আমার জন্মের আগেই তিনি বলেছিলেন...

"যদি তুমি চাও তোমার ছেলের আত্মা শুচি থাকুক...

তাহলে তোমার অবশ্যই উচিত তাকে একদিন পিসিন মলিটর-এ সাঁতার কাটতে নিয়ে যাওয়া।"

আমি আজও বুঝি না, কেন এই কথাটা আমার বাবার কাছে এতটা হৃদয়গ্রাহী হয়েছিল।

কিন্তু ঠিক সেটাই ঘটল এবং আমার নাম রাখা হল "পিসিন মলিটর প্যাটেল"।

ভাবুন তো, কীভাবে আমি ঐ নামের অর্থ উদ্ধারের চেষ্টা করেছি।

শেষমেষ ১১ বছর বয়সে আমি এই কাজে সক্ষম হলাম, কিন্তু তখন . . .

এই, পিসিন!

তুমি কি এখন পিসিং(প্রস্রাব) করছ?

ওকে দেখ, ও সত্যিই পিসিং করছে!

এই একটা শব্দের জন্য আমরা নামটা অভিজাত ফ্রেঞ্চ সুইমিং পুল থেকে পরিণত হল...

দুর্গন্ধযুক্ত ভারতীয় প্রস্রাবখানায়।

সবখানেই আমি ছিলাম "পিসিং"।

স্কুল প্রাঙ্গনে কোন পিসিং চলবে না!

এমনকি শিক্ষকরাও এমনটা করতে শুরু করলেন।

অবশ্যই ইচ্ছাকৃতভাবে নয়।

তো আমরা যদি খুব দ্রুত গ্যাসটা ছেড়ে দিই তাহলে কী ঘটবে?

পিসিং?

উনি "পিসিং" বলেছেন।

যথেষ্ট হয়েছে! শান্ত হও! শান্ত হও!

পরের বছর যখন স্কুলের প্রথম দিনে আবার ক্লাসে ফিরে এলাম,

আমি ছিলাম পুরোপুরি প্রস্তুত।

উপস্থিত, স্যার।

পিসিন প্যাটেল।

শুভ সকাল। আমি পিসিন মলিটর প্যাটেল।

সবার কাছে আমি পরিচিত...

"পাই" নামে, যা গ্রিক বর্ণমালার ষোড়শ বর্ণ...

যা গণিতেও ব্যবহৃত হয় কোন বৃত্তের ব্যাস থেকে পরিধির...

অনুপাত প্রকাশ করার জন্য।

একটি অসীম দৈর্ঘ্যের অমূলদ সংখ্যা,

যা সাধারণত তিনটি সংখ্যা পর্যন্ত সীমাবদ্ধ রাখা হয়...

আর তা হল ৩.১৪।

পাই।

খুবই মনোমুগ্ধকর, পাই। এখন বস গিয়ে।

তারপর থেকেই আপনার নাম হয়ে গেল "পাই"?

না, পুরোপুরি না।

ভালই চেষ্টা করেছ, পিসিং।

কিন্তু পুরো দিনটা আমার সামনে পড়ে ছিল।

এরপর ছিল ফ্রেঞ্চ ক্লাস।

আমার নাম পিসিন মলিটর প্যাটেল।

ওরফে পাই।

তারপর ভূগোল ক্লাস।

এগুলো হল দশমিকের পর পাই-এর প্রথম ২০টি সূচক স্থান।

দিনের শেষ ক্লাসটি ছিল গণিত।

ধীরে, ধীরে, ধীরে।

তিন, সাত, পাঁচ, আট, নয়,

আট, পাঁচ, আট, নয়।

একদম সঠিক। ও সত্যিই ঠিকমত লিখছে।

পাই! পাই! পাই!

দিনের শেষে আমি হয়ে গেলাম পাই প্যাটেল, স্কুলের কিংবদন্তী।

মামাজী বলেছেন আপনি নাকি নাবিকদের মধ্যেও একজন কিংবদন্তী।

জনমানবহীন সমুদ্রে, একেবারে একাকী।

আরে, আমি তো নৌকাই চালাতে পারি না।

আর আমি তো ওখানে একা ছিলাম না. রিচার্ড পার্কার আমার সাথে ছিল।

রিচার্ড পার্কার?

মামাজী আমাকে সব কিছু বলেন নি।

তিনি শুধু বলেছেন মন্ট্রিলে গিয়ে আপনার সাথে আমার দেখা করা উচিত।

তো পন্ডিচেরিতে আপনি কী করছিলেন?

একটি উপন্যাস লিখছিলাম।

ও হ্যাঁ, আপনার প্রথম বইটি আমি খুব উপভোগ করেছি।

তো এই নতুন উপন্যাসটির কাহিনী ভারতকে ঘিরে?

না, আসলে কাহিনীটি পর্তুগাল নিয়ে। কিন্তু ভারতে বাস করাটা তুলনামূলক সাশ্রয়ী।

বেশ, আমি উপন্যাসটা পড়ার জন্য অপেক্ষায় থাকলাম।

পারবেন না।

আমি ওটা বাদ দিয়েছি।

দুই বছর ধরে আমি এই জিনিসটাতে প্রাণ সঞ্চারের চেষ্টা চালিয়ে গেছি...

এবং তারপর এক দিন, ওটা খানিক গোঙ্গাল, কাশল এবং মারা গেল।

ওহ, আমি দুঃখিত।

এক বিকেলে আমি পন্ডিচেরির একটা কফি হাউসে বসে ছিলাম,

আমার অমূল্য ক্ষতির কথা ভেবে শোক প্রকাশ করছিলাম...

আর ঠিক তখনই পাশের টেবিলের এক বৃদ্ধ ব্যক্তি আমার সাথে কথা বলতে শুরু করলেন।

হ্যাঁ, মামাজীর স্বভাবটাই এমন।

যখন আমি তাকে আমার পরিত্যক্ত বইটা সম্পর্কে বললাম, তিনি আমাকে বললেন...

"তার মানে একজন কানাডিয়ান গল্পের খোঁজে

চলে এসেছেন ফ্রেঞ্চ ইন্ডিয়ায়।"

"বেশ, বন্ধু আমার, আমি একজন ইন্ডিয়ানের খোঁজ জানি, যে ফ্রেঞ্চ কানাডায় বাস করে...

এবং তার কাছে বলার মত সবচেয়ে বিস্ময়কর এক গল্প রয়েছে।"

"তোমাদের দু’জনের দেখা হওয়াটা বোধহয় নিয়তিতেই লেখা ছিল।"

আসলে অনেক বছর হয়ে গেছে আমি রিচার্ড পার্কার সম্পর্কে কোন কথা বলি নি।

তো মামাজী আপনাকে ইতোমধ্যে কী কী বলেছেন?

তিনি বলেছেন, আপনার কাছে এমন একটি গল্প আছে যা আমাকে ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করাবে।

তিনি যে কোন চমৎকার খাবার সম্পর্কেও এ ধরনের কথাই বলবেন।

ঈশ্বরের কথাই যদি বলেন, আমি আপনাকে কেবল আমার গল্পটা শোনাতে পারি।

আপনিই সিদ্ধান্ত নেবেন কতটুকু আপনি বিশ্বাস করতে চান।

বেশ।

আচ্ছা, দেখা যাবে। তো, কোথা থেকে শুরু করা যায়?

পন্ডিচেরি হচ্ছে ভারতের একটি ফ্রেঞ্চ অধ্যুষিত উপকূল।

মহাসাগরের কাছ ঘেঁষে যে রাস্তাগুলো রয়েছে,

সেগুলোতে এসে দাঁড়ালে আপনি ভাববেন বোধহয় দক্ষিণ ফ্রান্সের কোন অঞ্চলে এসে পড়েছেন।

মূল ভূখণ্ডের দিকে কয়েক ব্লক এগোলেই চোখে পড়বে একটি খাল।

ওটা পেরোলেই আপনি পা দেবেন পন্ডিচেরির ভারতীয় অংশে।

ঠিক তার পশ্চিম দিকে রয়েছে মুসলমানদের এলাকা।

১৯৫৪ খ্রীষ্টাব্দে ফরাসিরা যখন আমাদের হাতে পন্ডিচেরি ফিরিয়ে দেয়...

তখন শহরটাকে ঢেলে সাজানোর কথা চিন্তা করা হয়।

আমার বাবা ছিলেন একজন বুদ্ধিমান ব্যবসায়ী, আর তিনি একটি দারুন ব্যবসা শুরু করেন।

তিনি একটি হোটেল চালাতেন। আর তিনি স্থানীয় বোট্যানিক্যাল গার্ডেনটির জায়গায়...

একটি চিড়িয়াখানা তৈরি করার চিন্তা করেন।

সেই সময় ঐ বোট্যানিক্যাল গার্ডেনে আমার মা কাজ করতেন উদ্ভিদবিদ হিসেবে।

সেখানে তাদের দেখা হল, বিয়ে হল এবং এক বছর পরেই আমার ভাই রবির জন্ম হল।

এর দুই বছর পর আমার জন্ম হয়।

রূপকথার মত শোনাচ্ছে। আপনি বড় হয়েছেন কি না একটা...

আমেন।

হ্যাঁ, আসুন খাওয়া শুরু করি।

আমি জানতাম না যে, হিন্দুরা "আমেন" বলে।

ক্যাথলিক হিন্দুরা বলে।

ক্যাথলিক হিন্দু?

আমরা একজন না, শত শত দেবতার কাছে নিজেদের পাপ স্বীকার করি।

কিন্তু প্রথমত আপনি তো একজন হিন্দু?

কেউ পরিচয় করিয়ে না দেওয়া পর্যন্ত আমরা কখনোই ঈশ্বরকে জানতে পারি না।

হিন্দু ধর্মের মধ্য দিয়ে আমি প্রথম ঈশ্বরের পরিচয় পাই।

হিন্দু ধর্মে ৩৩ কোটি দেব-দেবী আছে।

তাদের মধ্যে মাত্র কয়েকজনকে আমি কেন জানতে পারব না?

প্রথমে আমি পরিচিত হই কৃষ্ণের সাথে।

যশোদা একবার শিশু কৃষ্ণকে মাটি খাওয়ার জন্য বকাবকি করছিলেন।

"ছি, ছি। দুষ্টু ছেলে, তোমার মোটেও এটা করা উচিত নয়।"

কিন্তু কৃষ্ণ ও কাজ করেন নি!

সেটা তিনি তাঁর মাকে বললেন।

"আমি মাটি খাই নি।"

যশোদা বললেন, "তাই না? ঠিক আছে..."

"তাহলে তোমার মুখটা খুলে দেখাও।"

তখন কৃষ্ণ তাঁর মুখ খুললেন।

যশোদা সেখানে কী দেখলেন বল তো?

কী?

তিনি কৃষ্ণের মুখে সমগ্র বিশ্বব্রহ্মাণ্ড দেখেছিলেন।

ছোটবেলায় দেবতারা ছিলেন আমার সুপার হিরো।

বানর দেবতা হনুমান....

তাঁর বন্ধু লক্ষণকে বাঁচাতে আস্ত একটা পর্বত তুলে নিয়ে এসেছিলেন।

হাতির মাথাওয়ালা গণেশ...

তাঁর মা পার্বতীর সম্মান রক্ষা করার জন্য নিজের জীবন বিপণ্ন করেছিলেন।

বিষ্ণু হলেন সর্বোচ্চ আত্মা, সবকিছুর উৎস।

বিষ্ণু অকূল মহাজাগতিক সমুদ্রের উপর ভাসমান অবস্থায় ঘুমোচ্ছেন...

আর আমরা হচ্ছি তাঁর স্বপ্নের মধ্যকার সমস্ত চরিত্র।

দেখার মত দৃশ্য বটে!

এই সব গল্প আর সুন্দর আলোকসজ্জার চক্করে পড়ে নিজেকে বোকা বনতে দিও না, বাছারা।

ধর্ম হল অন্ধকারাচ্ছন্নতা।

আমার প্রিয় বাবা নিজেকে নতুন ভারতের অংশ বলে বিম্বাস করতেন।

ছোটবেলায় তার পোলিও হয়েছিল।

বিছানায় শুয়ে ব্যথায় কোঁকাতে কোঁকাতে তিনি ভাবতেন, ঈশ্বর কোথায়।

শেষ পর্যন্ত ঈশ্বর তাকে বাঁচান নি, বাঁচিয়েছে পশ্চিমাদের ওষুধ।

আমরা মা কলেজে পড়তে শুরু করার পর ভেবেছিলেন

তার বাবা-মাও বোধহয় নতুন ভারতের অংশ...

যে পর্যন্ত না তারা তার সাথে যোগাযোগ ছিন্ন করে দেন...

কারণ তারা ভেবেছিলেন মা তার চাইতে নিচু বংশের কাউকে বিয়ে করতে যাচ্ছেন।

ধর্মই ছিল তার অতীত জীবনের সাথে একমাত্র যোগসূত্র।

১২ বছর বয়সে পার্বত্য অঞ্চলে গিয়ে আমি খ্রীষ্টের দেখা পাই।

মুনার-এর চা-বাগানে আমাদের আত্মীয়দের কাছে বেড়াতে গিয়েছিলাম।

তৃতীয় দিনে রবি আর আমি দু’জনেই মারাত্মক বিরক্ত হয়ে উঠলাম।

চ্যালেঞ্জ। আমি তোকে দুই রুপী দেব।

দৌড়ে ঐ গীর্জার মধ্যে যা এবং পবিত্র পানি পান কর গিয়ে।

তুমি নিশ্চয়ই তৃষ্ণার্ত।

এই নাও।

তোমার জন্য এনেছি।

ঈশ্বর কেন এমন কাজ করবেন?

কেন তিনি তাঁর নিজ পুত্রকে পাঠালেন...

যেন তিনি সাধারণ মানুষের পাপের জন্য শাস্তি ভোগ করেন?

কারণ তিনি আমাদের ভালবাসেন।

ঈশ্বর নিজেকে আমাদের জন্য সহজগম্য করে তুলেছেন।

তিনি নিজে মানুষ হয়েছেন, যেন আমরা তাঁকে বুঝতে পারি।

ঈশ্বরকে আমরা তাঁর সমস্ত পরিপূর্ণতার মাঝে উপলব্ধি করতে পারি না।

কিন্তু আমরা ঈশ্বরের পুত্রকে উপলব্ধি করতে পারি

এবং একজন ভাইয়ের মত করে তাঁর দুঃখভোগ অনুভব করতে পারি।

এর কোন মানেই হয় না।

পাপী মানুষের প্রায়শ্চিত্ত করার জন্য নিষ্পাপ কাউকে বলিদান করা।

এ কেমন ভালবাসা?

কিন্তু এই পুত্র...

তাঁকে আমি কোনভাবেই মাথা থেকে ঝেড়ে ফেলতে পারলাম না।

ঈশ্বর যদি এতটাই নিখুঁত হন এবং আমরা যদি ঠিক তার উল্টোটাই হই...

তবে কেন তিনি এই সব কিছু সৃষ্টি করতে চাইলেন?

কেনই বা আদৌ আমাদেরকে তাঁর প্রয়োজন?

তোমার শুধু এটুকুই জানা দরকার যে, তিনি আমাদের ভালবাসেন।

ঈশ্বর জগতকে এমন ভালবাসলেন যে, নিজ একজাত পুত্রকে দান করলেন। (পবিত্র বাইবেল [যোহন ৩:১৬ পদ])

যতই আমি ঐ পাদ্রীর কথা শুনতে থাকলাম...

ততই আমি এই ঈশ্বরের পুত্রকে পছন্দ করতে শুরু করলাম।

খ্রীষ্টের সাথে আমার পরিচয় করিয়ে দেওয়ার জন্য তোমাকে ধন্যবাদ, বিষ্ণু।

হিন্দু ধর্মের মাধ্যমে আমি বিশ্বাসী হয়েছিলাম

এবং খ্রীষ্টের মাধ্যমে আমি ঈশ্বরের ভালবাসা খুঁজে পেলাম।

কিন্তু ঈশ্বর তখনও আমার পিছু ছাড়েন নি।

ঈশ্বর রহস্যময় উপায়ে কাজ করেন।

আর তাই তিনি আবারও আমাকে দেখা দিলেন।

এবার তিনি অবতীর্ণ হলেন আল্লাহ্ নাম নিয়ে।

আল্রাহু আকবর।

আরবীতে আমি কখনোই ভাল ছিলাম না...

কিন্তু শব্দগুলোর উচ্চারণ এবং এর অনুভূতি আমাকে ঈশ্বরের আরও কাছে নিয়ে যেত।

নামাজ পড়ার সময়...

যেখানে আমি সেজদা দিতাম সেই জায়গাটা আমার জন্য হয়ে গিয়েছিল পবিত্র ভূমি...

এবং আমি অনুভব করতাম শান্তি ও ভ্রাতৃত্ব।

ভেড়ার মাংসটা খুবই চমৎকার।

টেবিলের সেরা খাবার এটাই।

পুরোটাই কিন্তু তোমার হাতছাড়া হয়ে যাচ্ছে।

পিসিন, তোমার আর মাত্র তিনটি ধর্ম গ্রহণ করা প্রয়োজন...

তাহলেই তুমি সারা জীবন ছুটি কাটাতে পারবে।

আপনি কি এ বছর মক্কায় যাবেন, স্বামী যীশু?

নাকি পোপ পাই-য়াস হয়ে অভিষেক পাওয়ার জন্য রোমে যাবেন?

এ সব ছাড়, রবি।

তুমি যেমন ক্রিকেট ভালবাস, পাইয়েরও তেমন নিজের পছন্দের বিষয় রয়েছে।

না, গীতা। রবির কথায় যুক্তি আছে।

তুমি একই সাথে তিনটি ভিন্ন ধর্ম পালন করতে পার না, পিসিন।

কেন না?

কারণ একই সাথে সবকিছু বিশ্বাস করা...

আর একেবারেই কোন কিছু বিশ্বাস না করা আসলে একই।

ও বয়সে ছোট, সন্তোষ। ও এখনও ওর পথ খুঁজে পাওয়ার চেষ্টা করছে।

কীভাবে সে পথ খুঁজে পাবে, যদি সে আগে একটি পথ বেছে না নেয়?

শোন, বারবার এক ধর্ম থেকে লাফ দিয়ে অন্য ধর্মে পা দেওয়ার বদলে...

কেন যুক্তি দিয়ে বিচার করা শুরু করছ না?

মাত্র কয়েক শ বছরে...

বিজ্ঞান আমাদেরকে মহাবিশ্ব সম্পর্কে যে উপলব্ধি এনে দিতে পেরেছে ...

ধর্ম তা ১০,০০০ বছরেও পারে নি।

কথাটা সত্যি।

তোমার বাবা ঠিক বলেছেন।

বহির্বিশ্বে কী কী রয়েছে সে সম্পর্কে বিজ্ঞানই আমাদেরকে সবচেয়ে ভালভাবে শেখাতে পারে...

কিন্তু এর মাঝে কী আছে তা বলতে পারে না।

কেউ মাংসাশী, কেউ নিরামিষাশী।

আমি এটা আশা করি না যে, আমরা সবাই সব বিষয়ে একমত হব...

আমি বরং চাইব তুমি বরং এমন কিছুকে...

বিশ্বাস কর যা আমি বিশ্বাস করি না...

তবুও তুমি অন্ধের মত সব কিছুকে গ্রহণ কোরো না।

আর সেটা শুরু কর যুক্তি দিয়ে চিন্তা করার মাধ্যমে।

তুমি কি বুঝতে পেরেছ?

ভাল।

আমি বাপ্তিস্ম গ্রহণ করতে চাই।

তাহলে আপনি একজন খ্রীষ্টান এবং মুসলমান?

এবং একজন হিন্দুও বটে।

এবং একজন ইহুদীও, আমার মতে।

সত্যি বলতে, আমি বিশ্ববিদ্যালয়ের কাব্বালায় একটি কোর্সের শিক্ষকতা করি।

আর কেনই বা নয়? বিশ্বাস হচ্ছে বহু কক্ষ সম্বলিত একটি ঘর।

সেখানে কি সন্দেহের কোন স্থান নেই?

ওহ, প্রচুর আছে। প্রত্যেক তলাতেই।

সন্দেহ কিন্তু খুব দরকারী।

এটি বিশ্বাসকে বাঁচিয়ে রাখে।

আর যাই হোক, আপনি আপনার বিশ্বাসের শক্তি পরীক্ষা করতে পারেন না

যে পর্যন্ত না আপনি পরীক্ষায় পড়েন।

সেলভাম কোথায়? তাকে ছাড়া আমাদের এখানে থাকা উচিত নয়।

চিন্তা কোরো না।

আমি তাকে হাজার বার এই কাজটা করতে দেখেছি।

আমি আমাদের নতুন বাঘের সাথে পরিচিত হতে চাই।

পাই!

হ্যালো? রিচার্ড পার্কার?

বাঘ? রিচার্ড পার্কার একটা বাঘ?

হাঁ, একটি করণিক ত্রুটির কারণে সে এই নামটি পেয়ে যায়।

এক শিকারী তাকে শিশু অবস্থায় একটি স্রোত থেকে পানি খাওয়ার সময় ধরে ফেলে...

এবং তার নাম রাখে তৃষ্ণার্ত।

যখন তৃষ্ণার্ত অনেক বড় হয়ে গেল, সেই শিকারী তাকে আমাদের চিড়িয়াখানায় বিক্রি করে দেয় ...

কিন্তু চুক্তিপত্রে ভুলবশত নাম ওলট-পালট হয়ে যায়।

শিকারীর নামের জায়গায় লেখা হয় তৃষ্ণার্ত,

আর বাঘের নাম লেখা হয় রিচার্ড পার্কার।

আমরা এ নিয়ে খুব হাসাহাসি করেছিলাম এবং সেই থেকে নামটা রয়ে গেল।

কোন ঝামেলায় পড়ার আগেই...

চল এখান থেকে চলে যাই।

আমি ওকে কাছ থেকে দেখতে চাই।

তুমি তো আর জু কীপার না।

চলো!

এই যে, রিচার্ড পার্কার।

এটা তোমার জন্য।

না!

তুমি কী করছ?

তুমি কি পাগল হয়ে গেছ?

কে তোমাকে এখানে আসার অনুমতি দিয়েছে?

আমি তোমাকে যা কিছু শিখিয়েছি তার সবই তুমি উপেক্ষা করেছ।

আমি তো শুধু ওকে হ্যালো বলতে চেয়েছিলাম।

তুমি ভেবেছ ঐ বাঘ তোমার বন্ধু?

ওটা একটা পশু, তোমার খেলার সাথী নয়।

পশুরও আত্মা আছে।

আমি তাদের চোখে তা দেখেছি।

সেলভামকে খুঁজে নিয়ে এসো।

আপনি ঠিকমত ভেবেছেন তো, স্যার? পাই একেবারে বাচ্চা একটা ছেলে।

যা বললাম কর। যাও!

পশুরা আমাদের মত করে চিন্তা করে না।

যেসব লোকেরা এ কথা ভুলে যায়, তারা নিজেদের মরণ ডেকে নিয়ে আসে।

ঐ বাঘ তোমার বন্ধু হতে পারে না।

তুমি যখন তার চোখের দিকে তাকাবে...

তোমার নিজের আবেগই তুমি সেখানে প্রতিফলিত হতে দেখবে।

আর কিছু নয়।

বোকামি কোরো না। দুঃখিত বল।

তুমি কী করেছ, পিসিন?

তুমি তো জানতে তোমার বাবা এখানে আসার ব্যাপারে কী বলেছে।

আমি দুঃখিত। আমি...

তুমি আবার কী করছ?

এটা বাপ-ছেলের ব্যাপার।

ও তো বলেছেই যে, ও দুঃখিত।

তুমি সারা জীবনের জন্য ওদের মনে দাগ ফেলতে চাও?

দাগ ফেলতে চাই? আরেকটু হলে তোমার ছেলে তার পুরো হাতটাই খোয়াতে বসেছিল।

কিন্তু ও এখনো বালক মাত্র।

সে কত দ্রুত একজন পুরুষ হয়ে উঠবে তা তুমি ভাবতেও পারবে না।

আর আমি চাই এই শিক্ষা তারা যেন কখনো ভুলে না যায়।

সেলভাম!

...আর তাই দেশে জরুরি অবস্থা জারি করা হয়েছে।

গুজরাট এবং তামিলনাডু রাজ্য...

কেন্দ্রীয় সরকারের প্রত্যক্ষ কর্তৃত্বের অধীনে নেওয়া হয়েছে।

পুলিশকে ক্ষমতা প্রদান করা হবে...

যেন তারা সেই সকল নাগরিকদের গ্রেফতার এবং অনির্দিষ্টকালের জন্য আটক রাখতে পারে...

যারা বিশৃঙ্খলা ও গোলযোগ সৃষ্টি করতে চাইবে।

বাবার ঐ শিক্ষা পাওয়ার পর থেকে সবকিছু পাল্টে গেছে।

পৃথিবীর কিছু কিছু আকর্ষণ হারিয়ে গেছে।

স্কুল হয়ে দাঁড়াল বিরক্তিকর। কেবল তত্ত্ব, উপাত্ত্ব আর ফ্রেঞ্চ ছাড়া আর কিছুই নেই।

শব্দ আর নকশার যেন কোন শেষ ছিল না।

ঠিক আমার যুক্তিহীন ডাক নামের মত।

আমি কিছু একটা পাওয়ার জন্য অবিরাম অনুসন্ধান করছিলাম।

যা আমার জীবনের অর্থ ফিরিয়ে আনবে।

আর ঠিক তখনই আমি আনন্দীর দেখা পেলাম।

মা আমাকে জোর করে গান শিখিয়েছিলেন।

একদিন আমার শিক্ষকের বেশ ঠাণ্ডা লেগেছিল।

তিনি চাইলেন আমি যেন তার বদলি হিসেবে

একটি নাচের ক্লাসের জন্য বাদ্যের তালে সঙ্গত দিই।

না!

তুমি যদি মনোযোগ না দাও...

তাহলে তুমি কখনোই নাচের মাধ্যমে ঈশ্বরের প্রতি তোমার ভালবাসা প্রকাশ করতে পারবে না।

পায়ের নিচে মাটি অনুভব কর।

দিগন্তে তোমার দৃষ্টি মেলে দাও।

তোমার আত্মিক শক্তিকে এই বিশ্বে পরিভ্রমণ করতে দাও।

অভিনয়ের মাধ্যমে।

আনন্দী, সামনে এসো। ওদেরকে নির্দেশনা দাও।

কেন তুমি আমাকে অনুসরণ করছ?

কী?

তুমি আমাকে অনুসরণ করছ।

এর মানে কী?

নাচের সময়, তুমি পতাকা থেকে শুরু করলে...

যার অর্থ অরণ্য।

এবং এরপরে তুমি করলে...

সম্পূত...

অর্থাৎ এমন কিছু যা লুকিয়ে আছে।

আর এরপর তুমি এমনটা করলে।

আর এরপর তুমি করলে চতুর।

কিন্তু একেবারে শেষে তুমি এটা করলে।

অন্য আর কেউ এটা করে নি।

তুমি আসলে কী বোঝাতে চেয়েছ? ভালবাসার দেবতা অরণ্যে লুকিয়ে আছেন?

না, ওটা দিয়ে পদ্ম ফুলও বোঝানো হয়।

পদ্ম ফুল অরণ্যে লুকিয়ে আছে?

কিন্তু পদ্ম ফুল কেন অরণ্যে লুকিয়ে থাকবে?

আর এই হচ্ছে রিচার্ড পার্কার।

সে হল আমাদের এ যাবৎকালের সংগৃহীত

প্রাণীগুলোর মধ্যে সবচেয়ে সেরা।

দেখ, কীভাবে সে তার মাথাটা ঘুরিয়ে দেখছে।

ভাব নিচ্ছে। যেন সে একজন নাচিয়ে।

না, সে কিছু শুনতে পেয়েছে।

সে শুনছে। দেখলে?

আমরা বেশ কিছুক্ষণ এ সম্পর্কে কথা বললাম।

তুমি কি বুঝতে পেরেছ আমি কী বলছি?

পাই?

দুঃখিত, হ্যাঁ তুমি আসলে...

চিন্তিত।

আমার পরিবারের জন্য।

আমাদের প্রাণীগুলো ভারতের তুলনায় বিদেশে অনেক বেশি দামী।

যদি নগর পৌরসভা আমাদেরকে সাহায্য করা বন্ধ করে দেয়...

আমি জানি না আমরা কোথায় যাব।

তাই আমাদের সামনে এটই পথটাই খোলা আছে।

তুমি বুঝতে পেরেছ?

আমি দুঃখিত, আমরা আসলে কী নিয়ে কথা বলছি?

আমরা ভারত ত্যাগ করছি।

কী?

আমরা চিড়িয়াখানাটা বিক্রি করে দিচ্ছি।

আসলে চিড়িয়াখানাটা কখনোই আমাদের ছিল না যে বিক্রি করতে পারব। এই জমিটা সরকারের।

কিন্তু প্রাণীগুলো আমাদের, আর যদি আমরা সেগুলো বিক্রি করতে পারি...

নতুন করে জীবন শুরু করার জন্য যথেষ্ট অর্থ আমাদের হাতে আসবে।

কিন্তু আমরা কোথায় যাব? আমাদের জীবনটা তো এখানেই গাঁথা, বাবা।

কানাডা।

উইনিপেগ-এ আমার কাজ পাওয়ার সম্ভাবনা আছে।

আমি বেশির ভাগ পশু উত্তর আমেরিকায় বিক্রি করার জন্য জাহাজে করে নিয়ে যাব।

আমাদের পুরো পরিবারের জন্য একটা মালবাহী জাহাজে জায়গা হয়েই যাবে।

তাই...

সিদ্ধান্ত এটাই।

আমরা কলম্বাসের মত সমুদ্রযাত্রা করব।

কিন্তু কলম্বাস খোঁজ করছিলেন ভারতের।

একটা চিড়িয়াখানা বিক্রি করা মানে প্রচুর কাজ।

যাওয়ার আগে আমাদের...

আনন্দী আর আমার পরস্পরের জন্য কেঁদে বুক ভাসানোর মত যথেষ্ট সময় হাতে ছিল।

আমি এও প্রতিশ্রুতি দিয়েছিলাম যে, একদিন অবশ্যই আমি ফিরে আসব।

মজার ব্যাপার কী জানেন?

আমাদের শেষ দিনটা সম্পর্কে আমার সবকিছুই মনে আছে।

কিন্তু আমি একবারও মনে করতে পারছি না যে, আমি আদৌ ওকে বিদায় জানিয়েছিলাম কি না।

পাই, ওরা নিচে রাতের খাবার দিচ্ছে।

পিসিন....

তোমার সামনে পুরো জীবনটা পড়ে রয়েছে।

আমরা এই কাজটা করছি তোমার আর রবির জন্য।

ভেতরে চল, কিছু খাওয়া যাক।

দয়া করে নিরামিষ দেবেন।

ওহ, আমার ছেলে এবং আমি নিরামিষভোজী। আপনার কাছে কি এমন কিছু....

না, না, না। আর গ্রেভি (মাংসের ঝোল) দেবেন না।

- আপনি আর মাংসের ঝোল নেবেন না? - না।

না, আমি শুধু নিরামিষ খেতে চাই।

ওহ।

কোন সমস্যা নেই।

তিনি জানতে চাচ্ছেন যে, আপনার কাছে কোন নিরামিষ খাবার আছে কি না।

যে গরুর যকৃত দিয়ে এই খাবারটা তৈরি করা হয়েছে সেটা ছিল নিরামিষভোজী।

যে শূকরটাকে কেটে এই সসেজ বানানো হয়েছে সেটাও ছিল নিরামিষভোজী।

দারুন!

কিন্তু আমার স্ত্রী যকৃত খান না।

কোন সমস্যা নেই।

তাহলে উনি সসেজ, ভাত এবং মাংসের ঝোল খেতে পারেন।

আর নইলে তাকে নিজের খাবার নিজেরই রান্না করে খেতে হবে।

কোন সাহসে আপনি আমার স্ত্রীর সাথে এভাবে কথা বলছেন?

এই নিন আপনার ভাত...

আমি নাবিকদের জন্য রান্না করি...

সবজিখোরদের জন্য না।

কী বললে তুমি?

ছেড়ে দাও আমাকে!

তুমি নিজেকে কী মনে কর? তুমি সামান্য একজন বেতনভোগী ছাড়া আর কিছুই না!

আমি রান্না করে মানুষকে খাওয়াই! আর তুমি তো খাওয়াও বানরকে!

হ্যালো।

আমি একজন সুখী বৌদ্ধ।

তো, আমি কিন্তু ভাতই খাই...

মাংসের ঝোল খাওয়ার পার।

জাহাজে থাকা অবস্থায় মাংসের ঝোলকে মাংস বলা হয় না।

ভালই স্বাদ।

আপনি চেষ্টা করে দেখুন না।

চিন্তা করবেন না।

ম্যানিলায় জাহাজ থামানোর পর আমরা প্রচুর তাজা খাবার পাব।

অরেঞ্জ জুসকে ঘুমের ওষুধ খাওয়াতে হবে কেন?

ও তো কোন ঝামেলা করবে না।

ভ্রমণের সময় ক্লান্ত হয়ে পড়াটা পশুদের জন্য ভাল নয়...

তাছাড়া গা গোলানো ভাব দূর করতেও এটা সাহায্য করবে।

জাহাজের মধ্যে অসুস্থ হয়ে পড়া একটা ওরাংওটাংকে সাফসুতরো করতে আমরা কেউই চাইব না...

তাই নয় কি?

আমার বাবা ছিলেন একজন ব্যবসায়ী।

তিনি নিজে কখনো পশুগুলোর পরিচর্যা করেন নি।

আমি বুঝতে পারলাম...

ভারত ছাড়াটা আমার জন্য যত না কঠিন ছিল, বাবার জন্য ছিল আরও বেশি কঠিন।

তো...

আমি কি কিছু ভুলে গেছি?

আমার মনে হয় আপনি মঞ্চটা তৈরি করেছেন।

এখন পর্যন্ত আমরা একটি ভারতীয় ছেলেকে দেখছি, যার নাম রাখা হয়েছে একটি ফরাসি সুইমিং পুলের নামে...

যে কি না জীবজন্তু বোঝাই একটি জাপানী জাহাজে চড়ে কানাডা অভিমুখে চলেছে।

হ্যাঁ!

এখন, আমাদের এই ছেলেটিকে পাঠাতে হবে প্রশান্ত মহাসাগরের মাঝখানে এবং....

এবং আমাকে ঈশ্বরের প্রতি বিশ্বাস স্থাপন করাতে হবে।

হ্যাঁ।

আমরা ওদিকেই যাচ্ছি।

ম্যানিলা থেকে বেরিয়ে আসার চার দিন পরের ঘটনা...

মারিয়ানা ট্রেঞ্চ-এর উপর ছিল আমাদের জাহাজ, যা সারা পৃথিবীর মধ্যে সবচেয়ে গভীরতম স্থান।

আমাদের জাহাজ স্মিৎসাম এগিয়ে চলছিল,

তার আশপাশ সম্পর্কে একেবারে উদাসীন হয়ে।

খুব ধীর গতিতে চলছিল সেটা, ভাবখানা, সে নিজেই কোন এক বিরাট মহাদেশ বুঝি!

রবি?

তুমি শুনতে পাচ্ছ, রবি?

আমি ঘুমাচ্ছি।

বজ্রঝড় হচ্ছে। চল দেখি গিয়ে।

তুমি কি পাগল হলে?

আমরা বজ্রাহত হব।

না, হব না। ওটা প্রথমে ব্রিজে আঘাত করবে।

ঝড়কে প্রলুব্ধ কোরো না, পাই।

ওয়াও!

ওহ!

আরও বৃষ্টি আয়! আরও বৃষ্টি আয়!

ঝড়ের দেবতা!

ওয়াও!

বিদ্যুৎ!

আহ!

মা!

বাবা!

রবি! বেরিয়ে এসো! বেরিয়ে এসো!

আমাকে সাহায্য করুন!

সাহায্য করুন!

নৌকায় ওঠ!

দয়া করে আমার পরিবারকে বাঁচান!

ভয় কোরো না, ঠিক আছে? দাঁড়াও, এখানেই থাক!

ওদের সাহায্য করতেই হবে! প্লিজ!

এটা পরে নাও।

না, না, আমার পরিবার! প্লিজ!

ওদের সাহায্য করতে হবে!

- আমাদের হাতে সময় নেই। - আমার পরিবার ওখানে রয়ে গেছে!

আমরা ওদেরকে সাহায্য করব! কিন্তু তোমাকে এখনই যেতে হবে!

পশুগুলোকে কে ছেড়ে দিল?

তোমাকে এখনই যেতে হবে!

না, অপেক্ষা করুন, আমার বাবা! তিনি সাঁতার জানেন না!

যাও!

নৌকাটা আঁকড়ে ধর! ধর, ধর!

ওটা নিচে নামাও!

আরে! এই, তুমি কী করছ?

ঝাঁপ দাও!

আরে, এই!

এই! এখানে! এখানে!

রিচার্ড পার্কার?

না! না!

না! চলে যাও! চলে যাও!

আহ্!

মা!

বাবা! রবি!

আমি দুঃখিত।

আমি দুঃখিত!

হ্যারি?

দেখে মনে হচ্ছে ওষুধের প্রভাব এখনো তোমার উপর থেকে যায় নি।

অরেঞ্জ জুস! অরেঞ্জ জুস!

পাই-র জাহাজে স্বাগতম।

তোমার ছেলে কোথায়? অরেঞ্জ জুস?

চিন্তা কোরো না। আমি নিশ্চিত, মা আর বাবা ওকে খুঁজে পেয়েছে।

শীঘ্রই ওরা এখানে এসে পড়বে।

ওহে!

ওহে!

কেউ আছ!

না!

থাম! না! থাম! থাম!

না! না!

আমি দুঃখিত, অরেঞ্জ জুস।

তোমার জন্য আমার কাছে সমুদ্রপীড়ার কোন ওষুধ নেই।

সাপ্লাই! ওহ্, সাপ্লাই।

হ্যাঁ! হ্যাঁ!

না! না!

না! না!

আয়! আয়!

আয়!

হুমম।

আমার নাম পাই প্যাটেল।

আমি একটি জাহাজ দুর্ঘটনার কবলে পড়েছি।

আমি একাকী একটি লাইফ বোটে রয়েছি...

একটি বাঘের সাথে।

দয়া করে সাহায্য পাঠান।

ঈশ্বর, আমি নিজেকে তোমার হাতে সঁপে দিলাম।

আমি তোমারই নৌকো।

যা কিছু আমার সামনে থাকুক না কেন, তা আমি জানতে চাই।

আমাকে তা দেখাও।

কোন লাইন নেই।

আপনার থাকার জায়গা গোছগাছ করে রাখুন এবং বেঁচে থাকার জন্য জীবনযুদ্ধে অবতীর্ণ হোন।

খাওয়ার ব্যাপারে কঠোর নিয়মানুবর্তিতা বজায় রাখুন,

নিয়মিত সময় দেখুন এবং বিশ্রাম নিন।

প্রস্রাব বা সমুদ্রের পানি পান করবেন না।

নিজেকে ব্যস্ত রাখুন, কিন্তু অযথা কঠিন পরিশ্রম করবেন না।

তাস খেলে মনকে ব্যস্ত রাখা যেতে পারে...

ধাঁধা বা প্রশ্নের খেলাও খেলতে পারেন।

সমবেতভাবে গান গাওয়াও নিজেদেরকে চাঙ্গা রাখার আরেকটি ভাল উপায়।

গল্প বলা একেবারেই অপরিহার্য।

সর্বোপরি আশা হারাবেন না।

কিছু কিছু জিনিস সমুদ্রপীড়ার চাইতে আরও দ্রুত আপনার সমস্ত উৎসাহ মেরে ফেলতে পারে।

নৌকা যখন কোন স্রোতের দিকে পাশ ঘেঁষে থাকে, ঢেউ তখনই সবচেয়ে জোরালোভাবে অনুভূত হয়।

একটি নৌকার মুখ বাতাসের দিকে ফিরিয়ে রাখার জন্য সামুদ্রিক নোঙ্গর ব্যবহৃত হয়।

সঠিকভাবে তা ব্যবহার করতে পারলে আপনি নৌকার নিয়ন্ত্রণ নিজের হাতে রাখতে পারবেন

এবং ঝড়োন্মুখ সমুদ্রে অসুস্থ হয়ে পড়া থেকে নিজেকে বাঁচাতে পারবেন।

জাহাজডুবির শিকার ব্যক্তিরা যদি তাদের লাইফবোটটি কোন বিশাল,

বিপজ্জনক মাংসাশী প্রাণীর সাথে ভাগ করে নিতে বাধ্য হন....

তাদের জন্য পরামর্শ হচ্ছে, অতিসত্ত্বর আপনার নিজের জায়গাটুকুর অধিকার প্রতিষ্ঠা করুন।

এই পদ্ধতিতে চেষ্টা করে দেখতে পারেন।

ধাপ এক।

এমন একটি দিন বেছে নিন, যখন ঢেউ থাকবে মাঝারি, কিন্তু নিয়মিত।

ধাপ দুই। লাইফবোটটিকে ঢেউয়ের মুখে রেখে....

যথাসম্ভব ধীরস্থিরভাবে চলুন এবং কিছুক্ষণ পর পর বাঁশিতে হালকা ফুঁ দিন।

ধাপ তিন। লাইফবোটটিকে ঘুরিয়ে ঢেউয়ের পাশ ঘেঁষে নিয়ে যান...

সেই সাথে বাঁশিটি কর্কশ সুরে বাজাতে থাকুন।

বাঁশির শব্দের সাথে...

প্রাণীটি যথেষ্ট সাড়া দিতে শুরু করবে...

কারণ ইতোমধ্যে সে তীব্রভাবে সমুদ্রপীড়ায় ভুগতে শুরু করেছে।

এই একই পদ্ধতি দীর্ঘকাল যাবৎ সার্কাসের প্রাণীদের ক্ষেত্রে ব্যবহৃত হয়ে আসছে...

যদিও উত্তাল সমুদ্রেরে সাথে তাদের খুব একটা পরিচয় নেই।

ধ্বনিত হোক তূরীবাদ্য!

শুরু হয়ে যাক ড্রাম পেটানো!

বিস্ময়ের জন্য প্রস্তুত হোন!

পেশ হচ্ছে আপনাদের মনোরঞ্জন ও শিক্ষার জন্য!

এমন এক দৃশ্য, যার জন্য আপনি অপেক্ষা করেছেন আপনার পুরোটা জীবন...

খুব শীঘ্রই শুরু হতে চলেছে!

আপনি কি প্রস্তুত এই অলৌকিক দৃশ্য অবলোকনের জন্য?

বেশ! আমি পেশ করছি আপনাদের সামনে...

হতভম্ব বেঙ্গল টাইগার!

হ্যালো, রিচার্ড পার্কার। অশান্ত যাত্রাপথের কারণে দুঃখিত।

আমার! বুঝেছ তুমি? তোমার, আমার!

তুমি বুঝতে পেরেছ?

ইয়াক!

ধাপ চার।

ধাপ এক থেকে তিনের কথা ভুলে যান।

এই যে, রিচার্ড পার্কার. আমি তোমার জন্য একটু পানি এনেছি।

চিড়িয়াখানায় আমরা আমাদের বাঘকে প্রতিদিন গড়ে পাঁচ কেজি মাংস খাইয়ে থাকি।

রিচার্ড পার্কার খুব দ্রুত ক্ষুধার্ত হয়ে পড়বে।

বাঘেরা সাঁতারু হিসেবে চমৎকার। আর ওর ক্ষুধা যদি সেভাবে চনমনিয়ে ওঠে...

তাহলে আমাদের মধ্যকার এই সামান্য পানি

আমাকে আর কোন নিরাপত্তা দিতে পারবে না বলেই আমার আশঙ্কা।

ওকে খাওয়ানোর কোন একটা উপায় আমার খুঁজে বের করতেই হবে।

আমি তো বিস্কুট খেতে পারব, কিন্তু ঈশ্বর বাঘকে সৃষ্টি করেছেন মাংসাশী করে।

তাই আমাকে অবশ্যই মাছ ধরা শিখতে হবে।

যদি আমি তা না পারি, তাহলে তার শেষ খাবারটি হবে

একটি হাড্ডিসার নিরামিষভোজী ছেলে।

ধৈর্য ধর!

আমি করছিটা কী?

অপেক্ষা কর! আমি চিন্তা করছি।

বত্রিশ কার্টন বিস্কুট।

তিরানব্বইটা পানির ক্যান।

আমি দুঃখিত।

আমি দুঃখিত।

প্রভু বিষ্ণু, ধন্যবাদ।

মাছের রূপ ধরে এসে আমাদের জীবন বাঁচানোর জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।

তোমাকে ধন্যবাদ।

আমি সমস্ত বিস্কুট এবং পানি ভেলায় নিয়ে এসেছিলাম

আমার নিজের কাছে নিরাপদে রাখার জন্য।

গাধা!

ক্ষুধা আপনার নিজের সম্পর্কে সমস্ত চিন্তা

আমূল বদলে দিতে পারে।

এই যে, এটা তোমার!

ওহ! আহ!

আমার! আমার!

প্রত্যেকবার আমি আমার জীবন ঝুঁকির মুখে ফেলতে পারি না।

সাপ্লাই আনার জন্য আমাকে নৌকায় উঠতেই হবে।

বিষয়টা এখনই ফয়সালা করা দরকার।

আমাদের যদি এক সঙ্গেই থাকতে হয়,

তাহলে আমাদের অবশ্যই ভাব বিনিময় করা শিখতে হবে।

হয়তো রিচার্ড পার্কারকে বশ মানানো যাবে না,

কিন্তু ঈশ্বরের ইচ্ছায় ওকে শিখিয়ে নেওয়া যাবে।

না!

ভাল।

যাও, রিচার্ড পার্কার। যাও।

ঘরে যাও। আমি তোমাকে আর বিরক্ত করব না।

আমি আমার কথা রাখব, প্রতিজ্ঞা করছি।

যাও, ওঠ।

হ্যাঁ!

আমি কখনোই ভাবি নি সামান্য একটুখানি ছায়া

আমাকে এতটা আনন্দ দিতে পারবে।

একগাদা হাতুড়-বাটাল, একটা বালতি, একটা ছুরি, একটা পেন্সিল...

আমার জীবনের সবচেয়ে বড় সম্পদ হয়ে উঠবে।

কিংবা রিচার্ড পার্কার আমার কাছে আছে জেনেও আমি নির্বিঘ্নে বসে থাকতে পারব।

এ ধরনের মুহূর্তে...

আমার মনে পড়ে যে, বাস্তব দুনিয়া সম্পর্কে...

আমার মত ওরও খুব সামান্যই অভিজ্ঞতা আছে।

আমরা দু’জনে একই চিড়িয়াখানায় একই প্রভুর হাতে মানুষ হয়েছি।

এখন আমরা দু’জনেই হয়ে গেছি এতিম, একসাথে মুখোমুখি হয়েছি আমাদের প্রকৃত সর্বশক্তিমান প্রভুর।

রিচার্ড পার্কার না থাকলে এত দিনে আমি মারাই যেতাম।

ওর প্রতি আমার ভয় আমাকে প্রতিনিয়ত জাগিয়ে রাখে।

ওর চাহিদা যোগানো আমার জীবনের অর্থ এনে দিয়েছে।

ডলফিন।

ওহে, রিচার্ড পার্কার!

এই!

সর্বোপরি, আশা হারাবেন না।

আট, পাঁচ, পাঁচ, শূন্য, তিন, ছয়, ছয়...

শূন্য, আট, শূন্য, এক...

তিন, ছয়, শূন্য, চার, ছয়, ছয়, আট ...

কী দেখছ তুমি?

কথা বল আমার সাথে।

আমাকে বল তুমি কী দেখছ।

কথা বলাটাই যেন এখন আমার একমাত্র সম্বল।

বাকি সব কিছু এলোমেলো, বিচ্ছিন্ন।

বাস্তবতা থেকে এখন দিবাস্বপ্ন বা দুঃস্বপ্ন আলাদা কি না তা বলতে পারি না...

ঝড়, রিচার্ড পার্কার।

না!

না!

ঈশ্বরের গৌরব হোক!

হে বিশ্ব ব্রহ্মাণ্ডের প্রভু!

হে দয়াময়, হে করুণাময়!

আহ!

বেরিয়ে এসো।

রিচার্ড পার্কার! বেরিয়ে এসো, এই দৃশ্য তোমাকে দেখতেই হবে!

কী সুন্দর!

নিজেকে লুকিয়ে রেখ না! তিনি আমাদের দেখা দিচ্ছেন!

এ এক অলৌকিক ব্যাপার!

বেরিয়ে এসে ঈশ্বরকে দেখ, রিচার্ড পার্কার!

কেন তুমি ওকে ভয় দেখাচ্ছ?

ওহ, ঈশ্বর!

আমি আমার পরিবারকে হারিয়েছি! আমি সবকিছু হারিয়েছি!

আমি নিজেকে সমর্পণ করছি! আর কী চাও তুমি?

আমি দুঃখিত, রিচার্ড পার্কার।

আমরা মরতে চলেছি, রিচার্ড পার্কার।

আমি দুঃখিত।

মা, বাবা, রবি...

তোমাদেরকে শীঘ্রই দেখতে পাব ভেবে আমার খুব আনন্দ হচ্ছে।

তুমি কি বৃষ্টি অনুভব করতে পারছ?

ঈশ্বর, আমাকে এই জীবন দিয়েছ বলে তোমাকে ধন্যবাদ।

আমি এখন প্রস্তুত।

রিচার্ড পার্কার?

উমম!

জায়গা দাও।

সর।

সর। জায়গা দাও।

আরে! আরে!

এই, সর!

এই!

এই, দূরে সর। এটা আমার বিছানা।

ওটা একটা মানুষের দাঁত ছিল?

আপনি বুঝতে পারছেন না? পুরো দ্বীপটাই ছিল প্রাণীখেকো।

প্রাণীখেকো? ভেনাস ফ্লাইট্র্যাপের মত?

হ্যাঁ, পুরো দ্বীপটাই।

গাছপালা, পুকুরের পানি, এমনকি মাটিও।

দিনের বেলায় পুকুরে থাকত পরিষ্কার বিশুদ্ধ পানি।

কিন্তু রাতে, কোন এক ধরনের রাসায়নিক বিক্রিয়ার কারণে

ঐ পুকুরের পানি পরিণত হত এ্যাসিডে...

যে এ্যাসিডে সমস্ত মাছ দ্রবীভূত হয়ে যেত...

যার কারণে উদবিড়ালগুরো গাছে আশ্রয় নিত,

এবং রিচার্ড পার্কার নৌকায় ফিরে গিয়েছিল।

কিন্তু ঐ দাঁতটা কোথা থেকে এল?

কয়েক বছর আগে আমার মতই কোন হতভাগা...

হয়তো এই দ্বীপে এসে আস্তানা গেড়েছিল...

আর আমার মতই সেও নিশ্চয়ই এখানে সারা জীবন কাটিয়ে দেওয়ার চিন্তা করেছিল।

কিন্তু দিনের বেলায় দ্বীপটা তাকে যতটুকু সবল করত, রাতের বেলায় আবার তা কেড়ে নিত।

চিন্তা করে দেখুন তো, কত ঘণ্টা সে শুধু উদবিড়ালের সঙ্গে কাটিয়েছে।

কতটা নিঃসঙ্গতা তাকে পেয়ে বসেছিল।

যেটুকু আমি বুঝতে পেরেছি তা হচ্ছে, সে ধীরে ধীরে মারা গিয়েছিল

এবং দ্বীপটিও খুব ধীরে ধীরে তাকে হজম করে ফেলেছিল...

রেখে গিয়েছিল শুধু তার দাঁত।

আমি স্পষ্ট দেখতে পেলাম এই দ্বীপে থাকলে আমার জীবনটা কীভাবে শেষ হয়ে যাবে।

একাকী এবং বিস্মৃত।

আমাকে অবশ্যই লোকালয়ে ফিরে যাওয়ার চেষ্টা করতে হবে, তাতে যদি মরণ আসে তাও সই।

পরের দিন আমি নৌকাটাকে প্রস্তুত করলাম।

আমি বিশুদ্ধ পানি নিয়ে পাত্র পূর্ণ করলাম...

সমুদ্র-শৈবাল খেলাম, যে পর্যন্ত না পেট ভরে গলায় গিয়ে ঠেকে...

আর যত পারা যায় উদবিড়াল ধরে এনে ভরে রাখলাম

স্টোরেজ লকারে, রিচার্ড পার্কারের জন্য।

ওকে ছেড়ে আমি কখনোই যেতে পারব না।

সেটা হবে ওকে মেরে ফেলারই নামান্তর।

আর তাই, আমি ওর ফিরে আসার অপেক্ষায় থাকলাম।

আমি জানতাম ও দেরি করবে না।

রিচার্ড পার্কার!

তারপর থেকে ঐ ভাসমান দ্বীপটাকে আর কেউ কোনদিন দেখে নি।

এ ধরনের গাছের কথা আপনি কোন বইতেও পাবেন না।

তারপরও, ঐ দ্বীপে আমার নৌকা না ভিড়লে আমি মারাই যেতাম।

ঐ দাঁতটা যদি আমি আবিষ্কার না করতাম,

তাহলে আমি হারিয়ে যেতাম, চিরদিনের জন্য, একাকী।

এমনকি যখন ঈশ্বর আমাকে পরিত্যাগ করেছেন বলে মনে হয়েছিল...

তখনও আমার প্রতি তাঁর নজর ছিল।

এমনকি যখন তিনি আমার কষ্ট সম্পর্কে উদাসীন বলে মনে হয়েছিল...

তখনও আমার প্রতি তাঁর নজর ছিল।

এবং যখন আমার বাঁচবার কোন আশাই ছিল না, তিনি আমাকে বিশ্রাম নেওয়ার সুযোগ করে দিয়েছেন...

এরপর আমার যাত্রা শুরু করার জন্য একটি চিহ্নও দেখিয়েছেন।

আমরা যখন মেক্সিকান উপকূলে পৌঁছালাম,

তখন আমার ভয় হচ্ছিল নৌকাটা যেন কোনভাবে হারিয়ে না যায়।

আমার শক্তি একেবারে নিঃশেষ হয়ে গিয়েছিল। খুব দুর্বল হয়ে পড়েছিলাম আমি।

মুক্তির এত কাছাকাছি এসেও, মাত্র দুই ফুট পানির মাঝেও আমি ভয় পাচ্ছিলাম...

আমি বোধহয় এবার ডুবেই যাব।

অবশেষে কষ্টেমষ্টে আমি তীরে উঠলাম এবং বালির উপর মুখ থুবড়ে পড়লাম।

বালিটা ছিল উষ্ণ এবং নরম...

যেন আমি ঈশ্বরের গালে আমার মুখ চেপে ধরেছিলাম।

আর দূরে কোথাও এক জোড়া চোখ আমাকে ওখানে পৌঁছাতে দেখে স্মিত হাসছে।

আমার শক্তি এতটাই চলে গিয়েছিল যে, আমি নড়তেই পারছিলাম না।

তাই, রিচার্ড পার্কার আমাকে ছাড়িয়ে এগিয়ে গেল।

খানিক আড়মোড়া ভেঙ্গে সে উপকূল ধরে এগিয়ে যেতে লাগল।

জঙ্গলের ঠিক প্রান্তে এসে, সে থামল।

আমি নিশ্চিত ছিলাম যে, সে অবশ্যই আমার দিকে ফিরে তাকাবে...

কান দু’টো মাথার সাথে লেপ্টে দিয়ে আমার দিকে তাকিয়ে একটা হাঁক ছাড়বে।

এভাবেই হয়তো সে আমাদের সম্পর্কটার আনুষ্ঠানিক ইতি টানবে।

কিন্তু সে জঙ্গলের দিকে কেবলই তাকিয়ে থাকল।

এবং তারপর, রিচার্ড পার্কার, আমার হিংস্র সহচর...

যে ভয়ানক প্রাণীটি আমাকে জীবিত রেখেছিল...

আমার জীবন থেকে চিরতরে অদৃশ্য হয়ে গেল।

কয়েক ঘণ্টা পর আমারই স্বজাতির একজন সদস্য আমাকে খুঁজে পেল।

সে চলে গেল এবং ফিরে এল একদল লোক নিয়ে, যারা আমাকে সেখান থেকে উঠিয়ে নিয়ে এল।

আমি শিশুর মত অঝোরে কাঁদতে লাগলাম।

কিন্তু আমি বেঁচে যাওয়াতে অভিভূত হয়ে গেছি বলে নয়, যদিও অভিভূত আমি ঠিকই হয়েছিলাম।

আমি কাঁদছিলাম রিচার্ড পার্কার আমাকে এমন সাদামাটাভাবে বিদায় দেওয়ার কারণে।

আমার অন্তর ভেঙ্গে খান খান হয়ে গিয়েছিল।

জানেন, আমার বাবা ঠিক কথাই বলেছিলেন।

রিচার্ড পার্কার কখনোই আমাকে তার বন্ধু হিসেবে দেখে নি।

এত সব ঘটনা দু’জন একসাথে অতিক্রম করার পরও সে একবারের জন্যও মুখ ফিরিয়ে তাকাল না।

কিন্তু আমি বিশ্বাস করি তার চোখে আরও কিছু ছিল ...

আমার নিজের দুষ্টিই শুধু সেখানে প্রতিফলিত হয় নি।

আমি তা জানি। আমি সেটা অনুভব করেছি।

যদিও আমি তা প্রমাণ করতে পারব না।

আপনি তো জানেন, আমাকে কত কিছু পেছনে ফেলে আসতে হয়েছে।

আমার পরিবার, চিড়িয়াখানা, ভারত, আনন্দী।

আমার মনে হয়েছিল, শেষ পর্যন্ত পুরো জীবনটাই হয়ে দাঁড়িয়েছে কেবল ছেড়ে যাওয়ার।

কিন্তু যেটা প্রতিবার সবচেয়ে বেশি কষ্ট দেয়...

সেটা হল, বিদায় জানানোর জন্য একটুখানি সময় না নেওয়া।

আমি বাবার কাছ থেকে যা কিছু শিখেছি তার জন্য তাকে কখনোই ধন্যবাদ জানাতে পারি নি।

তাকে কখনো বলতে পারি নি যে, তার শিক্ষা ছাড়া...

আমি কখনোই বেঁচে থাকতে পারতাম না।

আমি জানি রিচার্ড পার্কার একটা বাঘ মাত্র, কিন্তু আমি ওকে বলতে চেয়েছিলাম...

"বিপদ কেটে গেছে। আমরা বেঁচে গেছি।"

"আমার জীবন বাঁচানোর জন্য তোমাকে ধন্যবাদ। আমি তোমাকে ভালোবাসি, রিচার্ড পার্কার।"

"তুমি সব সময় আমার সাথে থাকবে।"

"ঈশ্বর তোমার সহবর্তী।"

আমি জানি না ঠিক কী বলব।

গল্পটা বিশ্বাস করা কঠিন, তাই নয় কি?

এত কিছু একসাথে হজম করতে সময় লাগবে।

এর অর্থ খুঁজে বের করাটা সহজ নয়।

যদি তা ঘটে থাকে, তাহলে ঘটেছে।

কেন এর অর্থ খুঁজে বের করতে হবে?

কিছু কিছু ব্যাপার তো একেবারেই অবিশ্বাস্য।

জানেন তো, আমিই ছিলাম জাহাজডুবি থেকে বেঁচে যাওয়া একমাত্র মানুষ।

তাই জাপানি জাহাজ কোম্পানীর দু’জন লোককে আমার সাথে কথা বলার জন্য...

মেক্সিকান যে হাসপাতালে আমি স্বাস্থ্য ফিরিয়ে আনার চেষ্টা করছিলাম, সেখানে পাঠানো হল।

এখনও আমার কাছে তাদের প্রতিবেদনের একটি অনুলিপি আছে।

বীমা দাবী করার জন্য তাদের কিছু বিষয়ে নিশ্চিত হওয়ার প্রয়োজন ছিল...

এবং তারা খুঁজে বের করতে চাইছিল কেন জাহাজটা ডুবে গেল।

তারা অবশ্য আমার কথাও বিশ্বাস করে নি।

হাজার হাজার উদবিড়ালে ভরা একটা ভাসমান প্রাণীখেকো দ্বীপ...

এবং সেটা কেউ কখনো দেখে নি?

হ্যাঁ, ঠিক যা আমি আপনাদেরকে বলেছি।

কলা কখনো পানিতে ভাসে না।

তুমি আবার কলা নিয়ে কথা বলছ কেন?

তুমি বললে ঐ ওরাংওটাংটা কলার বস্তায় ভেসে ভেসে তোমার কাছে এসেছিল।

কিন্তু কলা কখনো পানিতে ভাসে না।

তুমি এ ব্যাপারে নিশ্চিত?

অবশ্যই কলা পানিতে ভাসে। আপনি নিজেই পরীক্ষা করে দেখুন না।

যাই ঘটুক না কেন, আমরা এখানে কলা কিংবা উদবিড়াল নিয়ে কথা বলতে আসি নি।

দেখুন, কী ঘটেছিল সেটা আমি এইমাত্র আপনাদেরকে বললাম এবং আমি খুবই ক্লান্ত।

প্রশান্ত মহাসাগরে একটা জাপানি মালবাহী জাহাজ ডুবে গেছে বলে আমরা এখানে এসেছি।

সেটা আমি কখনোই ভুলব না।

আমি আমার পুরো পরিবারকে হারিয়েছি।

ওকে একটু পানি খেতে দাও।

আমরা তোমাকে জোর করতে চাইছি না।

তোমার প্রতি আমাদের গভীর সহানুভূতি রয়েছে।

কিন্তু আমরা অনেক দূর থেকে এসেছি...

এবং আমরা কোনমতেই বুঝতে পারছি না কেন জাহাজটি ডুবে গেল।

কারণ আমি সেটা জানি না।

আমি ঘুমিয়ে ছিলাম। কোন কারণে আমি জেগে উঠি।

হয়তোবা কোন বিস্ফোরণের কারণে, কিন্তু আমি নিশ্চিত নই।

এবং তারপর জাহাজটা ডুবে গেল।

আপনারা আর কী চান আমার কাছ থেকে?

এমন একটা গল্প চাই যেটা পড়লে কেউ আমাদেরকে বোকা বলবে না।

আমাদের প্রতিবেদনের জন্য আরও সহজ বর্ণনা দরকার।

যা আমাদের কোম্পানি বুঝতে পারবে।

যে গল্পটা আমরা সবাই বিশ্বাস করতে পারি।

তার মানে এর আগে কেউ কখনো দেখে নি, এমন জিনিস বাদ দিয়ে গল্পটা বলতে হবে।

ঠিক তাই।

কোন চমক ছাড়া। কোন প্রাণী বা দ্বীপ ছাড়া।

হ্যাঁ। সত্যি গল্পটা।

তো, আপনি কী করলেন?

আমি তাদেরকে আরেকটা গল্প বললাম।

আমরা চারজন বেঁচে গিয়েছিলাম।

বাবুর্চী এবং নাবিক ইতোমধ্যে নৌকায় চড়ে বসেছিল।

বাবুর্চী আমার দিকে একটা লাইফবয় ছুঁড়ে দেয় এবং আমাকে টেনে নৌকায় উঠিয়ে নেয়...

আমার মা একটা কলার বস্তা ধরে ভেসে এসে নৌকায় ওঠে।

বাবুর্চী ছিল একটা জঘণ্য লোক।

সে একটা ইঁদুর খেয়ে ফেলেছিল।

আমাদের কাছে সপ্তাহখানেকের খাবার মজুদ ছিল, কিন্তু সে প্রথম কয়েকদিনের মধ্যেই ইঁদুরটা খুঁজে পেল...

এবং সেটাকে সে মারল, রোদে শুকাল, এরপর খেয়ে ফেলল।

এমনই জঘণ্য ছিল ঐ লোকটা।

কিন্তু সে খুব কাজের ছিল।

মাছ ধরার জন্য ভেলা তৈরি করার বুদ্ধিটা তারই ছিল।

সে না থাকলে আমরা হয়তো প্রথম কয়েক দিনের মধ্যেই মারা যেতাম।

নাবিকটি ছিল সেই সুখী বৌদ্ধ, যে আমাদের সাথে বসে ভাত এবং মাংসের ঝোল খেয়েছিল।

সে কী বলছিল সেটা আমরা খুব ভাল করে বুঝতে পারি নি, কেবল তার কষ্টের কথা বুঝেছি।

নৌকায় আছড়ে পড়ে তার পা মারাত্মকভাবে ভেঙ্গে গিয়েছিল।

সেটা ঠিক করার জন্য আমরা যথাসাধ্য চেষ্টা করলাম, কিন্তু তার পায়ে সংক্রমণ দেখা দিল...

এবং বাবুর্চী আমাদের বলল যে, আমরা দ্রুত কিছু একটা না করলে সে মারা যাবে।

বাবুর্চী বল সে-ই কাজটা করবে,

কিন্তু মায়ের এবং আমার তাকে ধরে রাখতে হবে।

আর আমি তাকে বিশ্বাস করলাম। কাজটা করা আমাদের প্রয়োজন ছিল।

তাই...

আমি বলতে লাগলাম, "আমি দুঃখিত, আমি দুঃখিত।"

আর বেচারা নাবিক শুধু আমার দিকে তাকিয়ে রইল। তার চোখ দু’টো ছিল খুব...

আমি কখনোই লোকটার কষ্টের মাত্রা বুঝতে পারব না।

তার কথা এখনও আমার কানে বাজছে।

সুখী বৌদ্ধ, সে শুধু ভাত ও মাংসের ঝোল খেত।

আমরা অবশ্য তাকে বাঁচাতে পারি নি।

সে মারা গিয়েছিল।

পরদিন সকালে বাবুর্চী প্রথম মাছটি ধরল...

আমি কিন্তু প্রথমে বুঝতে পারি নি সে আসলে কী করেছে, কিন্তু মা বুঝতে পেরেছিলেন...

আমি এর আগে মাকে কখনো এতটা রাগতে দেখি নি।

"বকবক বন্ধ কর এবং খুশি থাকার চেষ্টা কর," বাবুর্চী বলল।

"আমাদের আরও খাবার প্রয়োজন, নতুবা আমরা মারা যাব। এটাই আসল কথা।"

"কীসের আসল কথা?" মা জিজ্ঞেস করলেন?

"তুমিই হতভাগা ছেলেটাকে মরতে দিয়েছ বড়শির টোপ বানানো জন্য। তুমি একটা পিশাচ!"

বাবুর্চী খুব রেগে গেল।

সে তার হাতের মুঠো পাকিয়ে মায়ের দিকে এগিয়ে গেল...

এবং মা কষে তার মুখের উপর চড় মারলেন।

আমি স্তম্ভিত হয়ে গেলাম।

আমি ভাবলাম সে বুঝি ঐ মুহূর্তেই মাকে খুন করে ফেলবে।

কিন্তু সে তা করে নি।

বাবুর্চী শুধু বড়শির টোপ বানিয়েই ক্ষান্ত হয় নি।

হতভাগা নাবিক...

তাকেও ঐ ইঁদুরের মত একই ভাগ্য বরণ করতে হল।

বাবুর্চীটা ছিল খুব করিৎকর্মা মানুষ।

এর প্রায় এক সপ্তাহ পরে সে...

আসলে আমারই জন্য।

কারণ আমি একটা বোকা কচ্ছপকে ধরে রাখতে পারি নি।

ওটা আমার হাত ফসকে সাঁতরে চলে যায়।

আর তক্ষুণি বাবুর্চী ছুটে এসে আমার মাথার পাশে ঘুষি মেরে বসে...

আমরা দাঁত নড়ে গেল এবং আমি চোখের সামনে তারা দেখতে লাগলাম।

আমি ভাবলাম সে বোধহয় আবার আমাকে মারতে যাচ্ছে...

কিন্তু মা তাকে ঘুষি মারতে শুরু করলেন...

তিনি চিৎকার করে বলছিলেন, "পিশাচ, পিশাচ!"

তিনি চিৎকার করে আমাকে ভেলায় গিয়ে উঠতে বললেন।

আমি ভাবলাম তিনিও আমার সাথে আসবেন, নতুবা আমি কখনোই...

আমি জানি না কেন আমি তাকে আগে যেতে দিলাম না।

প্রতিদিনই এই কথাটা আমার মনে হয়।

আমি লাফ দিয়ে ভেলার উপর গিয়ে পড়লাম এবং লোকটার হাতে ছুরিটা বেরিয়ে আসতে দেখলাম।

আমার করার কিছুই ছিল না।

আমি চোখ ফেরাতে পারছিলাম না।

সে মায়ের লাশটা পানিতে ছুড়ে মারল।

আর তখন হাঙ্গরগুলো এল। আর আমি দেখলাম সেগুলো কী করল ...

আমি দেখলাম।

পরের দিন, আমি তাকে মেরে ফেললাম।

সে এমনকি বাধা দেওয়ারও চেষ্টা করল না। সে জানত যে, তার অনেক বাড় বেড়েছে...

এমনকি তার নিজের বিবেকও তা অনুভব করছিল।

সে বেঞ্চিতে খোলা জায়গা্য় ছুরিটা রেখে দিয়েছিল।

আর সে নাবিকটাকে যা করেছিল, তাকেও আমি তা-ই করলাম।

সে খুবই খারাপ লোক ছিল, খুবই খারাপ ছিল...

সে আমার ভেতরেও খারাপ সত্তাটাকে জাগিয়ে তুলেছিল।

আর তাই নিয়ে আমাকে বেঁচে থাকতে হবে।

একা আমি একটি লাইফবোটে...

প্রশান্ত মহাসাগরের বুক চিরে ঘুরে বেড়াচ্ছি।

আর এভাবেই আমি বেঁচে গেলাম।

এরপর তাদের আর কোন প্রশ্ন ছিল না।

সত্যি কথা বলতে কী, অনুসন্ধানকারীদের কাছে গল্পটা ভাল লাগে নি।

কিন্তু তারা আমাকে ধন্যবাদ জানাল, আমাকে শুভকামনা জানাল এবং বিদায় নিল।

তার মানে এই গল্প দু’টোতে...

জেব্রা এবং নাবিক দু’জনেরই...

পা ভেঙ্গে গিয়েছিল।

আর হায়ে়নাটা জেব্রা এবং ওরাংওটাংকে মেরে ফেলেছিল।

তার মানে... হায়েনা হচ্ছে বাবুর্চী।

নাবিক হল জেব্রা।

আপনার মা হলেন ওরাংওটাং।

আর আপনি হলেন...

বাঘ।

আমি কি আপনাকে একটা প্রশ্ন করতে পারি?

অবশ্যই।

সমুদ্রে যা ঘটেছে সে সম্পর্কে আমি আপনাকে দু’টো গল্প বলেছি।

কোনটাতেই এই ব্যাখ্যা দেওয়া হয় নি যে, কেন জাহাজটা ডুবে গিয়েছিল...

এবং কেউই প্রমাণ করতে পারবে না কোন গল্পটি সত্য আর কোন গল্পটি মিথ্যা।

দু’টো গল্পেই জাহাজটা ডুবে যায়...

আমার পরিবার মারা যায় এবং আমাকে কষ্টে ভুগতে হয়।

তা সত্যি।

তো, আপনি কোন গল্পটা বেছে নেবেন?

যে গল্পটায় বাঘ আছে।

ওটাই সবচেয়ে ভাল গল্প।

আপনাকে ধন্যবাদ।

তার মানে ঈশ্বরই বিজয়ী হলেন।

মামাজী ঠিকই বলেছিলেন।

এ এক বিস্ময়কর গল্প।

সত্যিই কি আপনি আমাকে এ গল্পটি লিখতে দেবেন?

অবশ্যই।

মামাজী তো আপনাকে সে কারণেই এখানে পাঠিয়েছেন, তাই নয় কী?

আমার স্ত্রী এসে গেছে।

আপনি কি রাতের খাবার পর্যন্ত থেকে যেতে পারবেন? সে খুবই ভাল রান্না করে।

আমি জানতাম না আপনার স্ত্রী আছে।

সেই সাথে একটি বিড়াল এবং দু’টি সন্তানও আছে।

তার মানে আপনার গল্পটি হচ্ছে মধুরেণ সমাপয়েৎ!

বেশ, সেটা নির্ভর করে আপনার উপর।

গল্পটা এখন আপনার।

হুমম।

"মি. প্যাটেলের এই সাহসিকতা ও ধৈর্য জন্ম দিয়েছে এক অভূতপূর্ব কাহিনীর...

যা জাহাজ দুর্ঘটনার ইতিহাসে অতুলনীয়।"

"জাহাজ দুর্ঘটনার শিকার খুব কম মানুষই এত দিন সমুদ্রে টিকে থাকতে পারে...

এমন কি তার কোন সঙ্গীও ছিল না...

একটি পূর্ণবয়স্ক বেঙ্গল টাইগার ছাড়া।"

হাই, বাবা।

আমার একজন অতিথি এসেছেন। এসো তোমাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিই।

হাই। হাই।

পরিচিত হয়ে খুশি হলাম।

অদিতা।

রবি।

এতক্ষণ উপভোগ করলেন "লাইফ অফ পাই" বাংলা সাবটাইটেল কেমন লাগল তা জানাতে ভুলবেন না কিন্তু

আশা করি লাইফ অফ পাই সিনেমাটি আপনারা উপভোগ করলেন। ধন্যবাদ। mijanahmed2050@gmail.com

Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.