All language subtitles for PRADHAMA Drishtiya Kuttakar BSUB BY SUDIP

af Afrikaans
ak Akan
sq Albanian
am Amharic
ar Arabic
hy Armenian
az Azerbaijani
eu Basque
be Belarusian
bem Bemba
bn Bengali Download
bh Bihari
bs Bosnian
br Breton
bg Bulgarian
km Cambodian
ca Catalan
ceb Cebuano
chr Cherokee
ny Chichewa
zh-CN Chinese (Simplified)
zh-TW Chinese (Traditional)
co Corsican
hr Croatian
cs Czech
da Danish
nl Dutch
en English Download
eo Esperanto
et Estonian
ee Ewe
fo Faroese
tl Filipino
fi Finnish
fr French
fy Frisian
gaa Ga
gl Galician
ka Georgian
de German
el Greek
gn Guarani
gu Gujarati
ht Haitian Creole
ha Hausa
haw Hawaiian
iw Hebrew
hi Hindi
hmn Hmong
hu Hungarian
is Icelandic
ig Igbo
id Indonesian
ia Interlingua
ga Irish
it Italian
ja Japanese
jw Javanese
kn Kannada
kk Kazakh
rw Kinyarwanda
rn Kirundi
kg Kongo
ko Korean
kri Krio (Sierra Leone)
ku Kurdish
ckb Kurdish (Soranî)
ky Kyrgyz
lo Laothian
la Latin
lv Latvian
ln Lingala
lt Lithuanian
loz Lozi
lg Luganda
ach Luo
lb Luxembourgish
mk Macedonian
mg Malagasy
ms Malay
ml Malayalam
mt Maltese
mi Maori
mr Marathi
mfe Mauritian Creole
mo Moldavian
mn Mongolian
my Myanmar (Burmese)
sr-ME Montenegrin
ne Nepali
pcm Nigerian Pidgin
nso Northern Sotho
no Norwegian
nn Norwegian (Nynorsk)
oc Occitan
or Oriya
om Oromo
ps Pashto
fa Persian
pl Polish
pt-BR Portuguese (Brazil)
pt Portuguese (Portugal)
pa Punjabi
qu Quechua
ro Romanian
rm Romansh
nyn Runyakitara
ru Russian
sm Samoan
gd Scots Gaelic
sr Serbian
sh Serbo-Croatian
st Sesotho
tn Setswana
crs Seychellois Creole
sn Shona
sd Sindhi
si Sinhalese
sk Slovak
sl Slovenian
so Somali
es Spanish
es-419 Spanish (Latin American)
su Sundanese
sw Swahili
sv Swedish
tg Tajik
ta Tamil
tt Tatar
te Telugu
th Thai
ti Tigrinya
to Tonga
lua Tshiluba
tum Tumbuka
tr Turkish
tk Turkmen
tw Twi
ug Uighur
uk Ukrainian
ur Urdu
uz Uzbek
vi Vietnamese
cy Welsh
wo Wolof
xh Xhosa
yi Yiddish
yo Yoruba
zu Zulu

Original subtitles

স্যার আপনাদের ভেতরে এসে দেখা করতে বলেছেন।

- স্যার। - বসুন।

- বসুন। - নমস্কার, স্যার!

ভোরবেলা রওনা দিয়েছিলেন?

হ্যাঁ, ট্রেনে এসেছি।

সোজা এখানেই চলে এলাম।

জয় জোসেফ আইপিএস

আলিনা, তাই তো?

- আব্রাহামের স্ত্রী? - হ্যাঁ।

সেদিন রাতে সেই সিঁধেল চুরির ব্যাপারে...

যখন ফোনটা এল,

রুট পেট্রোলিংয়ে থাকা এসআই আর আব্রাহাম ম্যাথু মুহূর্তের মধ্যে ঘটনাস্থলে পৌঁছে যায়।

হঠাৎ আক্রমণে ওরা অপ্রস্তুত হয়ে পড়েছিল।

কিছু করার সুযোগই পায়নি।

এসআই কোনোমতে প্রাণে বেঁচে গেছেন।

আপনার এই ক্ষতিতে আমি সত্যিই মর্মাহত।

আমি জানি, শুধু সমবেদনা জানিয়ে ক্ষতি পূরণ হয় না।

তবে আপনার যেকোনো প্রয়োজনে,

এই পুলিশ বাহিনী আর সরকার সবসময় আপনার পাশে থাকবে।

আলিনার পরিবারে আর কে কে আছেন?

ওঁরাই আমার একমাত্র পরিবার, স্যার।

ডিপার্টমেন্ট আপনাকে করণিক পদের প্রস্তাব দিচ্ছে।

আপনি প্রস্তুত হলেই আমাদের জানাবেন।

পোস্টিং যাতে আপনার বাড়ির কাছাকাছি হয়,

সেটা আমি দেখবো।

স্যার,

আমি ক্লার্কের চাকরি করতে চাই না।

আমি উর্দি পরেই কাজ করতে চাই।

আমার স্বামী অ্যাবির মতো,

আমিও পুলিশ বাহিনীতেই যোগ দেবো।

Pradhama Drishtiya Kuttakkar(2026) ভাষা : মালয়ালম। রানটাইম : ০২:৩৭:১৫

- কোথায় ছিলে এতক্ষণ? - স্যার, আমি...

- তাড়াতাড়ি যাও! - ঠিক আছে, স্যার।

আলিনা, ফল আউট!

হাতে ভর দিয়ে, নিচে!

- আলিনা। - হ্যাঁ।

- তোমার একটা ফোন এসেছে। - তুই যা, আমি আসছি।

মা।

অ্যাটেনশন!

কঠোর পরিশ্রম ছাড়া কোনো উপায় নেই।

পিঠের ব্যথা কমে যাবে। গতি বাড়াও।

- আলিনা! - হ্যাঁ?

- তুমি অ্যাবির স্ত্রী, তাই না? - হ্যাঁ।

- আমাকে চিনতে পারছো? - না।

আমি সানাল। আমরা একসাথে ক্যাম্পে ছিলাম।

কোনো চিন্তা কোরো না। কিছু প্রয়োজন হলে আমাকে বোলো।

সত্য, ন্যায় ও আইন হ্যারিস মিরান

এ পর্যন্ত কোন কোন অস্ত্রের প্রশিক্ষণ হয়েছে?

- এসএলআর। - এসএলআর আর কী?

এই! উঠে দাঁড়াও।

ঘুমাচ্ছো তুমি?

ব্যারাকে ঘুমাও না?

ক্লাস থেকে বেরোও!

বসো!

গ্রাউন্ডে এর মজা বোঝাবো।

সবাই লাঞ্চের পর রিপোর্ট করবে।

গ্রাউন্ডে দেখা হচ্ছে।

ছেড়ে দে।

- চল, কিছু খেয়ে নিই। - ঠিক আছে।

অনেক হয়েছে! থামো!

কাল সকালে ড্রিল আছে।

সবাই শুয়ে পড়ো!

লাইট বন্ধ করো!

ফায়ার আউট!

প্রস্তুত হয়ে লক্ষ্যভেদ করো!

তোমার নম্বর?

৪০২৩, স্যার!

নিউ ফ্যাশন সিল্কস ত্রিশূর ২০২২

এটা ভালো লাগছে, তাই না?

এটা দেখ তো।

এই রঙটা ওকে বেশ মানাবে।

আগে যে শাড়িটা পছন্দ করেছিলে, তার চেয়েও এটা ভালো।

ভালো তো?

হ্যাঁ, বেশ সুন্দর।

তাহলে এটাই ফাইনাল করবো?

হ্যাঁ, স্যার।

না। কেনাকাটার জন্য আমি নিজেই ব্যাঙ্গালোর যাবো, স্যার।

মোটে এক সপ্তাহের ব্যাপার তো?

নিজে গিয়ে কেনাকাটা করাই ভালো।

ঠিক আছে স্যার। বেশ।

স্যার, বিয়ের কেনাকাটা চলছে।

আরে দারুণ! শুভ বিবাহিত জীবন!

ধন্যবাদ!

কোনো ডিসকাউন্ট নেই?

অলরেডি কুড়ি শতাংশ ছাড় দেওয়াই আছে, স্যার।

আপনি তো ম্যানেজার, তাই না?

আরেকটু ছাড় দেওয়া যায় না?

ফাইনাল অ্যামাউন্ট কত আসছে?

ডিসকাউন্টের পর নব্বই হাজার চারশো পঞ্চাশ টাকা।

আচ্ছা, আচ্ছা। এক মিনিট!

পেনটা দাও।

এবার খুশি তো?

- হ্যাঁ! ধন্যবাদ। - ধন্যবাদ!

- ঠিক আছে। - এগিয়ে যান।

তিন জোড়া জামাকাপড় নিয়েছি। হবে তো?

হ্যাঁ, যথেষ্ট।

বাবা এসেছেন?

হ্যাঁ, পথেই আছেন।

এই, শোন!

আমাদের নতুন কর্মী মীরাকে চিনিস?

পালাক্কাডের মেয়েটা?

- হ্যাঁ! - কী হয়েছে?

মনে হয়, ও আমাকে পছন্দ করে।

তাহলে ওকে আমি খুনই করে ফেলবো।

আমার কী দোষ?

আমি ভদ্রলোক।

তুই এত চটছিস কেন?

আমি ওই ধরনের ছেলে নই।

ওহ, মিঃ রোমিও!

এবার রওনা হ। এই নে!

সব গুছিয়ে দিয়েছি। একদম তৈরি।

- তাহলে আমি বেরোচ্ছি। - আচ্ছা।

সময় পেলেই তোকে ফোন করব।

কোট্টায়াম-কুমিলি হাইওয়েতে আবার ডাকাতি।

বাহান্ন ভরি সোনা,

এবং নগদ পাঁচ লাখ টাকা লুট হয়েছে বলে খবর পাওয়া যাচ্ছে।

বিস্তারিত তথ্য নিয়ে আসছেন আমাদের প্রতিনিধি বিনোদ ভাস্কর।

সিনি, গতকাল হাইওয়ে থেকে ১৫ কিলোমিটার দূরে...

চুঙ্গাথারা জ্যাকবের বাড়িতে এই ডাকাতির ঘটনাটি ঘটে।

তিন দিন আগেও,

একই হাইওয়েতে এমনই একটি ডাকাতির ঘটনা ঘটেছিল।

আমরা এটাও জানতে পেরেছি যে...

সেই বাড়িতে যে বৃদ্ধা মারা গিয়েছিলেন, তাঁর মৃত্যু স্বাভাবিক কারণেই হয়েছিল।

বিনোদ, এটা কি কোনো ধারাবাহিক ডাকাতির ঘটনা?

পরিস্থিতি দেখে তেমনই মনে হচ্ছে, সিনি।

দুটো ডাকাতিতেই একই ধরন দেখা গেছে।

ঘটনাগুলো ঘটেছে কোট্টায়াম-কুমিলি হাইওয়ে সংলগ্ন এলাকায়।

দুটো ক্ষেত্রেই, চোর পেছনের দরজা ভেঙে ভেতরে ঢুকেছিল।

কেরালা ঈশ্বরের নিজের দেশ

নাট্টাকম পুলিশ স্টেশন

- কত হয়েছে? - পঞ্চাশ টাকা।

অভিযোগ জানাতে এসেছেন বুঝি?

না। আমি পুলিশে চাকরি করি।

সব হয়ে গেছে।

প্রতি মাসেই এমন হচ্ছে কেন?

সরকারি গাড়ি, স্যার।

- বারবার বিগড়ে যায়। - সিআই স্যার কি ভেতরে আছেন?

-কী বললেন? -সিআই স্যার ভেতরে আছেন?

হ্যাঁ, ভেতরেই আছেন।

- স্যার, জিপটা একবার স্টার্ট করবেন? - আচ্ছা।

এই, দিব্যা!

আরে, চলে এসেছিস! কীভাবে এলি?

প্রথমে বাসে, তারপর একটা অটো ধরে নিলাম।

- আমাকে একটা ফোন করতে পারতিস। - আরে, ঠিক আছে।

সিআই স্যার ভেতরে আছেন?

ব্যাগটা এখানে রাখ। স্যার ভেতরেই আছেন।

স্যার?

হ্যাঁ?

এখনই আপডেট করো। দেরি কোরো না।

- গুড মর্নিং, স্যার! - গুড মর্নিং!

আমি আলিনা।

ওহ, তুমি এসে গেছো!

তোমার তো কালকে জয়েন করার কথা ছিল?

- আজ কি তোমার ছুটির দিন? - আজ থেকেই কাজে যোগ দিতে চাই, স্যার।

রুমে গিয়ে ফ্রেশ হয়ে আসার জন্য শুধু একটু সময় লাগবে।

- এটা তোমার প্রথম পোস্টিং, তাই না? - হ্যাঁ, স্যার।

ফ্রেশ হয়ে চলে এসো।

ট্রেনিং কেমন হলো?

ভালোই হয়েছে।

তোমার জন্য একটা ঘরের ব্যবস্থা করা হয়েছে।

মেরামতের কাজ শেষ হলে কোয়ার্টার্সে উঠে যেতে পারবে।

- এটা স্টেশন রাইটারকে দিয়ে দাও। - স্যার!

- আলিনা, তাই তো? - হ্যাঁ!

স্যার, ফোনটা ধরতে পারি?

হ্যাঁ, আমি এটা রেডি করছি। তুমি একটু পরে আসো।

- হ্যালো, মা? - কী রে?

জয়েন করলি?

এখনও করিনি। এইবার করবো।

তাই নাকি?

মেয়ে কোনো ঝামেলা করেছে? খেয়েছে ও?

না, ও একদম ঠিক আছে।

এইমাত্র ঘুম পাড়িয়ে বাইরে এলাম।

আমি আগে একটু গুছিয়ে নি। সন্ধেবেলা ফোন করবো।

ঠিক আছে। কোনো চিন্তা করিস না।

- আচ্ছা, মা। - রাখছি।

মা

এর মধ্যেই চার্জ নিয়ে নিলি?

কেমন লাগছে?

তোকে কিন্তু দারুণ মানিয়েছে!

এ হলো শ্রী... শ্রীনাথ।

আর এ আলিনা, নতুন জয়েন করেছে।

আমি এখানকার ড্রাইভার। পরে দেখা হবে।

হ্যাঁ, আমি আসছি।

তুই ওখানটায় বোস। আমি আসছি।

সিআই স্যার এলে আমি বলে দেব।

- স্যার? - আমি দাসন। এখানকার এএসআই।

কাজ চালিয়ে যাও।

বসো।

- আমি বেরোচ্ছি। - আচ্ছা।

এমডিএমএ কেসের অগ্রগতি কী?

- এটা তোমার দায়িত্ব, মাথায় রাখবে! - ঠিক আছে, স্যার।

কেস ফাইল হওয়া চাই।

স্যার!

স্যার...

মা!

এদিকে দেখো।

- হ্যালো, সোনা! - মা, কেমন আছো?

ওখানে কেমন আছিস? জায়গাটাতে ঠিকমত সুযোগ-সুবিধা আছে তো?

সব ঠিক আছে, মা।

তুই এভাবে দিনরাত ডিউটির জন্য দৌড়াচ্ছিস,

...তাই ওকে পাঠাচ্ছি না।

মা, কোয়ার্টার্স এখনও তৈরি হয়নি।

তবে দিব্যা বললো, এক মাসের মধ্যে একটা ভাড়া বাড়ির ব্যবস্থা করে দেবে।

তখন আমরা সবাই একসাথে থাকতে পারবো।

বাবা কোথায়?

বললো, লেদ কারখানায় নাকি অনেক কাজ জমে আছে।

এই, তোর দিদি।

- কথা বল। - কী করছিস?

বাবার সাথে একটু সময় কাটাতে পারিস না?

ওহ! তোর নয়নমণি, তাই না?

বাবাকে রোজ অত রাত পর্যন্ত কাজ করতে বারণ কোরো।

দেখিস তো? যেন আমার কথা শুনবে!

- আচ্ছা মা, কাল ফোন করবো। - আচ্ছা।

কেরালা পুলিশ

গির্জার রক্ষকের মৃত্যু এবং বেনজিডিন টেস্ট

এই!

টায়ারটা ঠিক করো!

কিছু খেয়ে নাও।

ডাঃ প্রীতি কোরা

দারুণ!

একদম শাশুড়িমায়ের হাতের রান্নার মতো স্বাদ।

হাসপাতালে যাওয়ার কী হলো?

আসলে যাওয়াই হয়নি।

কাল রাত থেকেই তলপেটে হালকা ব্যথা করছে।

মনে হয়, পিরিয়ড শুরু হবে।

এবার আর তেমন কোনো আশা দেখছি না।

গ্যাসের ব্যথাও হতে পারে।

এখানে আড্ডা না মেরে একজন ডিউটিতে যাও।

লাঞ্চ করছি, স্যার।

এক ঘণ্টা ধরে খাচ্ছো। এত সময় লাগে?

এভাবে আয়েশ করে খেতে হলে বাড়িতে বসে খাওয়া উচিৎ।

অসহ্য!

এনার সমস্যাটা কী?

পরিবারের লোকজন কীভাবে যে এনাকে সহ্য করে!

বউ তো ডিভোর্স দিতে বসেছে।

কোনো পরিবারই নেই।

এই অভদ্র লোকের সাথে কে থাকতে চাইবে?

ভাবানুবাদ ও সম্পাদনা : সুদীপ চক্রবর্তী।

স্যার।

স্যার, নামটা বলুন। ইন্সটাগ্রাম বা ফেসবুকে খুঁজে দেখছি।

না... দরকার নেই। থাক।

তাহলে গাড়ির রেজিস্ট্রেশন নম্বরটা বলুন।

সেটাই চেক করি।

গাড়ির নম্বর...

কেএল... ৩০...

লজ্জার ব্যাপার!

সিরিয়াসলি, স্যার? এটুকুও মনে নেই?

উনি শুধু এটাই জানেন, মেয়েটা ওনার দিকে তাকিয়ে হাসে।

শ্রীনাথ, নম্বরটা লিখে নে।

কেএল ২৭ টি ২২৯৫, নিসান মাইক্রা গাড়ি।

- কীভাবে জানলে? - দেখেছিলাম।

স্যার, নাম পার্বতী।

কেয়ার অব সদানন্দ।

ওহ! পার্বতী সদানন্দ।

কিন্তু... বিবাহিত নাকি?

ধুর, হতেই পারে না!

- দিব্যা ম্যাডাম... - তাহলে তুই আগেই সব জানতিস!

যতই হোক, আমিও তো পুলিশ।

পেয়ে গেছি। ইনিই তো?

- হ্যাঁ। - দেখাও।

দেখো।

- কেমন লাগছে? - বেশ সুন্দর।

হ্যাঁ, স্যারের সাথে ভালোই মানাবে।

মনে হচ্ছে, এবার কাজটা হয়েই যাবে।

একটু দেরিই হয়েছে তো কী হয়েছে, স্যার?

আপনি তো ইতিমধ্যেই তিন বাচ্চার জ্যাঠা হয়ে বসে আছেন।

পরিবারের বড় ছেলে হলে এমনটাই হয়।

এটা খুবই স্বাভাবিক।

- ঠিক বলছি তো, আলিনা ম্যাডাম? - একদম ঠিক!

- এ সম্বন্ধটা পাকাই হবে। - এই, ওদিকে দেখ!

আমাকে এত সহজে বোকা বানাতে পারবি না।

জেভিয়ার স্যার দাঁড়িয়ে আছেন। এসে দেখ।

বেরিয়ে যাওএখান থেকে। সবকিছুর একটা সীমা থাকে।

আমার কথাটা একটু শোনো।

আমাকে ছাড়ো! কথা কানে ঢুকছে না?

ইনিই তো অভিযোগ জানাতে এসেছিলেন?

- তাই নাকি? - হ্যাঁ।

ওই মহিলা?

লোকটার ভাগ্য বটে!

মনে হচ্ছে, কিছু একটা গণ্ডগোল হয়েছে।

- সর্বনাশ! চলো, চলো! - দেখে ফেলেছেন!

স্যার, কী হয়েছে? কোনো... সুখবর নাকি?

মানে... দরকারি কোনো খবর?

স্যার!

নিজের রাগ আমার ওপর দেখাবেন না!

চাইলে কিন্তু তোমার পরিবারের লোকেদেরও কথা শোনানোর রাস্তা জানি।

- স্যার, আমি মজা করছিলাম... - কীসের মজা, অ্যাঁ?!

- জেভিয়ার স্যার! - স্যার...

- কিছু একটা করো! - সরি, স্যার!

- এই! ছাড়ো ওকে। - স্যার...

উর্দির শপথের কথা ভেবে হাত গুটিয়ে রেখেছি, মরে যাইনি এখনও।

আমাকে দিয়ে নিয়ম ভাঙাবে?

ভাঙাবে, অ্যাঁ?

যান! সবাই বাইরে যাও!

বেরোও এখান থেকে!

বেরোও!

আমার ফোনটা।

স্যার...

মাথা কি একেবারে খারাপ হয়ে গেছে, হতচ্ছাড়া কোথাকার?

- নাম কী? - ফ্রেডি।

- বাড়ি কোথায়? - থেঙ্গানা।

ঠিক আছে, যেতে পারো।

- কিছু পেলে? - না।

আপনি যদি সিরিয়াস হন, তাহলে সামনাসামনি কথা বলে নিন, স্যার।

হ্যাঁ, বলাই উচিত।

কিন্তু ও যদি রাজি না হয়, তাহলে ব্যাপারটা অস্বস্তিকর হবে।

পার্বতী টিচারই তো?

আমার বিশ্বাস, কথা বললে ঠিক মিটে যাবে।

- তাই মনে হয়? - হ্যাঁ।

তাহলে আর দেরি করবেন না।

ওঁর বাড়ির লোকের সাথেই কথা বলি।

প্রস্তাব নিয়ে যাওয়ার জন্য বরং এসআই জেভিয়ার স্যারকে সাথে নিয়ে যাই।

আইডিয়াটা খারাপ না।

দারুণ হবে।

পেট্রোল ইউনিট, সতর্ক থাকুন।

সব স্টেশন মোবাইল আর থানাকে জানিয়ে দাও।

- শুনতে পাচ্ছেন? - ওভার।

- গাড়িটা গিয়ে চেক করো। - ঠিক আছে, স্যার।

থামুন! দাঁড়ান!

এটায় ফুঁ দিন।

- নাম কী? - অভিজিৎ।

কোথায় যাওয়া হচ্ছে?

যেতে পারেন।

আসুন, আসুন।

এদিকে আসতে বললাম।

আসুন।

কানে যাচ্ছে না কথা?

এই! আস্তে চালান!

- দাঁড়ান! এখানে গাড়ি থামান! - এই... এই!

আলিনা ম্যাডাম!

- দাসন স্যার, গাড়ি স্টার্ট করুন! - দাসন স্যার!

স্যার, তাড়াতাড়ি আসুন, গাড়িতে উঠুন।

স্পিড বাড়াও!

গাড়িতে নির্ঘাত কিছু একটা আছে!

ওভারটেক করো!

এই, গাড়ি থামা।

ঘোরাও! গাড়িটাকে আটকাও!

এখানে থামাও!

কী হয়েছে, স্যার?

বাইরে বেরো! দেখাচ্ছি কী হয়েছে!

স্যার, আমার তাড়া আছে, একটা এমার্জেন্সি।

থামতে বলার পরেও গাড়ি না থামিয়ে পালাচ্ছিলি কেন?

স্যার, ওনার মেডিকেল টেস্ট করাতে হবে। মারবেন না।

স্যার, একটু মদ খেয়েছি।

যা ফাইন করার করে দিন।

দরকার হলে আমি টাকা দিয়ে দিচ্ছি।

- স্যার, খুব জরুরি কাজে যেতে হবে। - এভাবে ছেড়ে দেওয়া যায় নাকি!

- আমি গেলাম। - কোথাও যাওয়া হচ্ছে না।

নিজের ইচ্ছেমতো সিদ্ধান্ত নিতে পারবি না।

- যেতে দিন বলছি! - এই!

- এই! - শালা...

- ছাড়ুন আমাকে! - এদিকে আয়।

স্যার!

এই!

হাঁট বলছি!

- স্যার... - হাঁট!

স্যার, কথাটা শুনুন।

- স্যার! - ভেতরে ঢোক!

গাড়ি স্টার্ট দাও।

- স্যার... - গাড়িটা নিয়ে থানায় এসো।

তোকে আজ মজা বোঝাচ্ছি।

পুলিশ

জেভিয়ার স্যার আছেন?

একটু বাইরে গেছেন।

- আজকে নতুন কী জোগাড় হলো? - আর বোলো না।

এই গাধাটা মদ খেয়ে মাতাল হয়ে গাড়ি চালাচ্ছিল।

আরে দূর!

এ তো পুরনো ব্যাপার!

ওরও তো কিছুটা বোঝা উচিৎ, তাই না?

তাহলে এখন একটু জিরিয়ে নিক।

চল ভেতরে!

ম্যাডাম।

ম্যাডাম, দয়া করে শুনুন!

ম্যাডাম, আমাকে যেতে দিন প্লিজ।

ম্যাডাম!

চুপ করে বসুন তো।

ম্যাডাম...

ম্যাডাম, প্লিজ।

যেতে দিন আমাকে।

ম্যাডাম... শুনুন...

ম্যাডাম, একটা এমার্জেন্সি আছে, সেই জন্যই বলছি।

দরখাস্তটা লিখেছিস?

হ্যাঁ স্যার, এই তো লিখছি।

- স্যার, একটু জল পাওয়া যাবে? - কী?

জল?

এখন জল খাওয়ার শখ হয়েছে?

হ্যালো, ধন্যা!

হ্যালো, ধন্যা!

তোর সাহস কী করে হয় ওই বেকারটার সাথে ঘুরে বেড়িয়ে...

- হ্যালো? হ্যালো? হ্যালো? - ...পরিবারের সম্মান ডোবানোর?

আমাদের বংশের মানসম্মান ধুলোয় মেশাচ্ছিস কেন?

এমনিতেই তোকে আমার সহ্য হয় না।

আমাকে শ্রীনাথের সাথে যেতে দাও, প্লিজ।

ওর সাথে যাবি, অ্যাঁ?!

কোথাও যাওয়া হচ্ছে না তোর।

স্যার, আমার সাথে আসামির মতো ব্যবহার করছেন কেন?

কারণ তুই একটা অপরাধী।

আমি তো পালাচ্ছি না।

স্যার, সামান্য একটু মদ খেয়েছি মাত্র।

যা করার নিয়মমাফিক করে আমাকে ছেড়ে দিন।

হাতের হাতকড়াটা খুলে দিন প্লিজ, স্যার।

স্যার, মনে হচ্ছে ভদ্রতা শিখে গেছে।

হাতকড়াটা খুলে দেবো নাকি?

হ্যাঁ।

স্যার, গাড়িতে কিছু নেই।

মনে হয়, ও কোনো আর্মি অফিসার।

গাড়িতে আর চাবিতে একটা করে আর্মির ব্যাজ ছিল।

আর হাবভাব এমন দেখাচ্ছে!

কাগজপত্রের কাজ সেরে ওকে চেক-আপের জন্য হাসপাতালে নিয়ে যা।

আমি ডাক্তারকে জানিয়ে দিচ্ছি।

স্যার, আমি বেরোচ্ছি।

ডিকিসহ পুরো গাড়িটা ভালো করে চেক করেছিস তো?

আরে! ডিকিটা তো দেখতে ভুলে গেছি।

গিয়ে দেখে আয়!

স্যার, ফর্মে ক'টার সময় লিখবো?

থানায় নিয়ে আসার ঠিক কুড়ি মিনিট আগের সময় দিয়ে দে।

- স্যার, ও ... - স্যার...

- স্যার! স্যার! - এই!

চাবিটা দিন, স্যার। প্লিজ, স্যার!

- চাবিটা দিয়ে দিন। প্লিজ! - সরে যাও!

চাবিটা দিন আমাকে!

- স্যার! ওকে আটকান! - থামো!

ওখানেই দাঁড়াও!

এদিকে আয়।

এই...

ওর হাত থেকে চাবিটা কেড়ে নে!

চাবিটা নে!

চাবিটা নে!

এই শ্রীনাথ!

স্যার!

এই! এই!

ছাড়!

এই! ছাড় বলছি!

ছাড়... ছাড় আমাকে!

ছাড় বলছি!

এই! না!

চাবিটা দে! চাবিটা দে বলছি!

চাবিটা দিয়ে দে!

দিয়ে দে!

চাবিটা দে আমাকে!

থামুন এবার!

প্রথম দর্শনেই অপরাধী

- স্যার... - হে ভগবান!

মরে গেছে।

-আলিনা! -স্যার।

বিরাট বড় ঝামেলা হবে এবার।

স্যার...

আমি...

বন্দুক নিয়ে এমন চরম অসাবধান কীভাবে হতে পারলে, দিব্যা?

ব্যাপারটা পুরো ঘেঁটে দিলে তোমরা।

সর্বনাশ!

- হে ঈশ্বর! - স্যার...

স্যার...

স্যার, আমাদের কারও এমন কোনো উদ্দেশ্য ছিল না।

ভুলবশতই তো ঘটেছে, তাই না?

কিসের আওয়াজ দেখে এসো, দিব্যা।

যাও!

যাও বলছি!

কী ছিল?

একটা বিড়াল ছিল, স্যার।

হ্যালো?

হ্যালো?

কাল দুপুর নাগাদ বাড়ি পৌঁছে যাবি তো?

- হ্যাঁ। - পরশু বড়দিন।

ঠিক আছে বাবা, আমি বাড়ি আসবো।

গলাটা এমন শুকনো শোনাচ্ছে কেন তোর?

শরীর ঠিক আছে তো?

হ্যাঁ বাবা!

আমি একদম ঠিক আছি।

মেয়ে এখনও ঘুমায়নি?

নতুন জামা পরে অ্যালানের সাথে দৌড়াদৌড়ি করছে।

এইমাত্র ক্রিসমাস ক্যারল শুনে ফিরলাম আমরা।

গির্জায় গিয়েছিলাম, সবাই তোর কথাই জিজ্ঞেস করছিল।

বাবা,

প্রার্থনা সেরে শুয়ে পড়ো এবার।

- আমি তাড়াতাড়িই বাড়ি আসছি। - আচ্ছা।

সাবধানে থাকিস, মা।

সোনা আমার, এবার ঘুমিয়ে পড়ো তো।

স্যার... আমার হাত-পা কাঁপছে পুরো।

কিছু একটা করা দরকার আমাদের।

দিব্যা,

একটু এদিকে আসবে?

শ্রীনাথ,

আমার কথাটা শোন।

আলিনাই ওকে মেরেছে।

আমাদের এই ঝামেলায় জড়ানো উচিত হবে না।

ওরা মেয়েমানুষ।

কোনোমতে ঠিক পার পেয়ে যাবে।

আর এই লোকটা... আমার মনে হয় যতটা দেখছি তার চেয়েও বড় কোনো ব্যাপার আছে।

কিন্তু...

এটা অন্যায় হচ্ছে।

তোর কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে?

চাকরি তো যাবেই, জেলেও পচতে হবে তোকে।

লোকটা যদি সত্যিই আর্মি অফিসার হয়, তাহলে বিপদ আরও বাড়বে।

কিছুই মাথায় ঢুকছে না আমার।

সিগারেটটা দে তো।

স্যার...

স্যার, সবকিছু সিসিটিভিতে ধরা পড়ে যাবে না?

সর্বনাশ!

স্যার।

স্যার, অন্য কেউ আসার আগেই,

ফুটেজটা মুছে ফেলা যাক।

ডিলিট করলেও রিকভার করে নেওয়া যাবে, শ্রীনাথ।

তাহলে আমরা ফেঁসে গেলাম। পুরোপুরি ফেঁসে গেলাম।

দেখ, ওকে আমরা থানায় নিয়ে এসেছি, তার প্রমাণ আছে।

কিন্তু ওর আমাদের আক্রমণ করার কোনো ফুটেজই নেই।

আত্মরক্ষার যুক্তিও খাড়া করতে পারবো না আমরা।

স্যার, আমরা এখন কী করবো?

স্যার, জেভিয়ার স্যার যেকোনো মুহূর্তে চলে আসবেন।

কী করবো এখন?

দিব্যা...

আমি ভাবছিলাম...

এখান থেকে বাঁচার মাত্র দুটো রাস্তা আছে।

হয় সব দোষ নিজেদের ঘাড়ে নিয়ে জেলে যাও...

নয়তো...

কোনোমতে...

যেকোনো উপায়ে...

দিব্যা... এখন কেঁদে কোনো লাভ নেই।

আমাদের একসাথে থাকতে হবে।

দিব্যা!

স্যার!

ঠিকই বলেছেন।

কেউ আসার আগেই লাশটা এখান থেকে সরাতে হবে।

স্যার...

সেই সিসিটিভি ফুটেজটা...

স্যার, সিসিটিভি ফুটেজ ওভাররাইট হওয়ার আগে লাশ যেন কোনোভাবেই না পাওয়া যায়।

এতে কত দিনের ব্যাকআপ থাকে?

চোদ্দো দিনের।

চোদ্দো দিন?

চোদ্দো দিন।

চোদ্দো দিন।

চোদ্দো দিন।

ওভাররাইট হতে চোদ্দো দিন সময় লাগবে, তাই তো?

হ্যাঁ।

চোদ্দো দিন... আমাদের কপাল নির্ধারণ হতে ঠিক এই ক'টা দিনই সময় লাগবে।

দিব্যা।

দিব্যা, দিব্যা।

আমার কথাটা শোন।

শোন আমার কথা।

শোন।

দিব্যা, সিসিটিভি ফুটেজটা একবার ওভাররাইট হয়ে গেলে...

ওই রেকর্ডিংগুলো রিকভার করা খুবই কঠিন হয়ে পড়বে।

কেউ ওটা উদ্ধার করতে পারবে না।

আমাদের একসাথে থাকতে হবে।

পরের পেট্রোলিংয়ে কার ডিউটি?

পরের পেট্রোলে কে আছে?

আজি।

জেভিয়ার স্যারের সাথেই বেরিয়েছে।

ঘাবড়াস না। আমরা একসাথে এর মুখোমুখি হবো।

একজোট হয়ে দাঁড়াবো।

- চলুন স্যার, লাশটা সরানো যাক। - ঠিক আছে।

দাসন স্যার...

একটু ধাক্কা দিন।

একটু সামনের দিকে টানুন।

চলো।

- ফোনটা চেক কর। - আচ্ছা।

আঙুলের ছাপ দিয়ে খোলার চেষ্টা কর।

এটা রাখ।

এই! এটা রাখ।

আমার সাথে আয়।

জেভিয়ার স্যারকে ফোন করে দেখ, ফিরতে আর কতক্ষণ লাগবে?

এই নে।

নিচে রাখ।

সাবান দিয়ে দাগটা উঠবে?

ব্লিচিং পাউডার দিলে কাজ হবে। আমি নিয়ে আসছি।

স্যার...

দিব্যা...

স্যার?

স্যার, এই গাড়িটা নিয়ে আমরা কী করবো?

বাইরে কোথাও পার্ক করে রেখে আয়।

- কী বললেন? - বাইরে কোথাও রেখে আয়।

এই! জেভিয়ার স্যার আসছেন! পেছনে যা! রিভার্স কর!

পেছনে নিয়ে যা।

কেরালা পুলিশ

চাক্কাপ্পানের দোকান থেকে মুচমুচে শুয়োরের মাংস আর আপ্পাম অর্ডার দিয়ে রেখেছি।

- গিয়ে নিয়ে আয়। - ঠিক আছে।

- তাড়াতাড়ি আসবি। - আচ্ছা।

- ওখানে কী হচ্ছে? - কিছু না, স্যার।

রাতে মাটি কোপাতে নেমেছিলে নাকি?

আজ্ঞে হ্যাঁ, স্যার।

ওই কাজটাই তোমাকে বেশি মানায়।

ওখানে একটা মরা বিড়াল পড়েছিল, স্যার। মাটি চাপা দিচ্ছিলাম।

- বিড়াল? - হ্যাঁ!

দুর্গন্ধে জায়গাটায় টেকা যাচ্ছিল না, স্যার।

- ওই কালো বিড়ালটা? - হ্যাঁ, স্যার।

বেশ হয়েছে।

পাজি বিড়ালটা আমার জুতোর ওপর প্রস্রাব করেছিল। উচিত শিক্ষাই হয়েছে।

সময় পেলে থানার চারপাশটা একটু সাফ-সুতরো রাখবে।

- ঠিক আছে, স্যার। - জঙ্গল হয়ে রয়েছে পুরো চত্বরটা।

আলিনা।

জেভিয়ার স্যার!!

- কী ব্যাপার? - এবার কি যেতে পারি?

এত তাড়া কিসের?

আজি আসুক। তারপর বেরোবে।

বাড়ি যাওয়ার এত তাড়া...

- স্যার? - এসো।

বাকিরা কোথায়?

ওখানে দাঁড়াও।

এটা কী?

কী, স্যার?

কী হয়েছে, স্যার?

এই, এটা কী?

একটা ছোটখাটো মারামারির কেস ছিল, স্যার। সেই জন্য...

কাজ মিটে গেলে জায়গার জিনিস জায়গায় রাখবে।

- তুমি আদৌ পুলিশ অফিসার তো? - ওটা সরিয়ে রাখো।

আজ রাতে তোমার পেট্রোলিং ডিউটি নেই?

হ্যাঁ...

পেট্রোলে বেরোচ্ছিলামই, স্যার।

তখনই ও বললো, বাথরুমে যাবে।

বড়দিনের সময়ে বাড়তি কিছু কামাই করে নেওয়া যায়।

এখানে ঘোরাঘুরি না করে সোজা মোড়ে গিয়ে দাঁড়াও।

- এখনই যাচ্ছি, স্যার। - যাও তাহলে!

যাওয়া যাক!

সবসময় কেবল অজুহাত।

একদল অপদার্থ।

- দিব্যা। - হ্যাঁ।

ফোনে এসব নিয়ে কোনো কথা বলবি না।

বাকিটা কাল দেখা যাবে।

আচ্ছা!

নাট্টাকম পুলিশ স্টেশন

পুলিশ

আরেকটা কথা...

ওর নামে যদি কেউ নিখোঁজ ডায়েরি করে,

তাহলে কিন্তু আমাদের খেল খতম।

এখনই একটা পরিকল্পনা দরকার।

স্যার, আমার মনে হয় ও মেয়েটার লাশ গুম করতেই যাচ্ছিল।

কপালটাই আমাদের খারাপ ছিল।

এখন কী করবো আমরা?

ওর নাম জয়প্রকাশ, জেপি বলেও চেনে অনেকে।

ত্রিশূরের নিউ ফ্যাশন সিল্কসের ম্যানেজার।

আর মেয়েটা?

স্যার, আমি চেক করেছি।

কিন্তু ওর ফোনে মেয়েটার কোনো ছবি বা মেসেজ কিছুই নেই।

ধ্যাত তেরি!

তার মানে আগামী চোদ্দো দিন ওদের জীবিত দেখাতে হবে।

নইলে আমরা কেউ বাঁচবো না।

তাহলে...

তার জন্য কী করতে হবে?

- একটা বুদ্ধি আছে, স্যার। - বলো।

প্রথম দিন...

হোয়াটসঅ্যাপ...

ম্যাঙ্গালোরের ডিলারদের সাথে দেখা করতে হবে।

পৌঁছে ফোন করছি।

সাধিক... আমার একজন পার্সোনাল স্টাফ দরকার।

- আর কিছু? - স্ত্রীর সাথে ভয়েস চ্যাট।

শিল্পা, মিটিং শেষ করেই ফিরবো।

বাড়ি যেতে চাইলে চলে যেতে পারো।

ক্যাসিনো বারে আছি এখন। পরে ফোন করছি।

স্যার, নতুন একজন কর্মী জয়েন করেছে। নাম মীরা।

নতুন স্টক আসতে আরও এক সপ্তাহ লাগবে।

স্যার, আপনার ফোনটা একটু বের করবেন?

আমি ভয়েস মেসেজগুলো আবার বাজাচ্ছি।

ফোনে এমনভাবে রেকর্ড করে নিন,

যাতে শুনলে মনে হয় একটাই ভয়েস মেসেজ চলছে।

তৈরি।

শিল্পা, মিটিং শেষ করেই ফিরব।

ম্যাঙ্গালোরের ডিলারদের সাথে দেখা করতে হবে।

আরও এক সপ্তাহ লাগবে।

পরে ফোন করছি, ঠিক আছে?

রেকর্ডিংটা একবার বাজিয়ে শোনাবেন, স্যার?

"শিল্পা, মিটিং শেষ করেই ফিরব।"

"ম্যাঙ্গালোরের ডিলারদের সাথে দেখা করতে হবে।"

"আরও এক সপ্তাহ লাগবে।"

"পরে ফোন করছি, ঠিক আছে?"

একদম স্বাভাবিক শোনাচ্ছে, তাই না?

হ্যাঁ।

- রেকর্ডিংটা সেভ করে নিন। - আচ্ছা।

আর...

- আমি বললে বাজাবেন। - ঠিক আছে।

"শিল্পা, মিটিং শেষ করেই ফিরব।"

"ম্যাঙ্গালোরের ডিলারদের সাথে দেখা করতে হবে।"

"আরও এক সপ্তাহ লাগবে।"

"পরে ফোন করছি, ঠিক আছে।"

সব ঠিক আছে তো?

এক সেকেন্ড দাঁড়াও...

তার মানে এটা নিয়ে আমাকে একেবারে কাসারগোড় পর্যন্ত যেতে হবে?

মেসেজটা দেখে যেন মনে হয়, জেপিই ওর স্ত্রীকে পাঠিয়েছে।

তাই এই ফোনটা নিয়ে আপনাকে কাসারগোড়ে যেতেই হবে।

- ঠিক আছে। - স্যার, আপনাকে কিচ্ছু করতে হবে না।

ওখানে পৌঁছে এরোপ্লেন মোডটা বন্ধ করলেই, মেসেজ নিজে থেকেই চলে যাবে।

বেশ।

গোটা রাজ্যকে নাড়িয়ে দেওয়া এক চাঞ্চল্যকর ঘটনায়,

বীরত্ব পুরস্কারপ্রাপ্ত সেনা আধিকারিক...

মেজর বাসুদেবনের মরদেহ উদ্ধার হয়েছে।

ধারাবাহিক ডাকাতির জেরেই এই ঘটনা বলে সন্দেহ করা হচ্ছে।

এই হত্যাকাণ্ডের জেরে ব্যাপক ক্ষোভ ছড়িয়ে পড়ায়...

কেরালা সরকার মামলার তদন্তভার ক্রাইম ব্রাঞ্চের হাতে তুলে দিয়েছে।

পুরো এলাকায় চরম উত্তেজনা বিরাজ করছে।

সরুন!

শ্বশুরমশাই আমাদের চমকে দিতে এসেছিলেন।

যখন ফোন করেছিলেন, তখন আমরা আমার বাপের বাড়িতে ছিলাম।

আমাদের রাতে ফিরে আসারই কথা ছিল।

কিন্তু হঠাৎ মায়ের শ্বাসকষ্ট শুরু হয়।

মায়ের হাঁপানির সমস্যা আছে।

আমরা ওনাকে হাসপাতালে নিয়ে যাই।

নেবুলাইজার দেওয়ার পর ফিরতে ফিরতে ভোর হয়ে যায়।

আর বাড়ি ফিরে দেখি এই অবস্থা...

এখানে আর কেউ ছিল না?

না, স্যার।

রাশিমণির স্নেহের বাবা...

- স্যার... - হ্যাঁ।

স্যার, মনোজের হোন্ডা সিটি গাড়িটার নিখোঁজ ডায়েরি হয়েছে।

কাল ও স্ত্রীর গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছে, স্যার।

- আর কিছু? - না, স্যার।

স্যার...

স্যার, বাইকের কাগজপত্রগুলোও জাল।

কাসারগোড় - সন্ধে ৬:১০

শিল্পা, মিটিং শেষ করেই ফিরবো।

ম্যাঙ্গালোরের ডিলারদের সাথে দেখা করতে হবে।

আরও এক সপ্তাহ লাগবে।

পরে ফোন করছি, ঠিক আছে?

পোল্লাচি - সন্ধে ৬:৩০

- সাবধানে করবেন। - আচ্ছা।

চিন্তা করবেন না, আমরা এটা সামলে নেবো।

হোন্ডা সিটি গাড়িটা নিয়ে স্ক্র্যাপ করে দে।

কাজটা এখনই করবি।

ক্রাইম ব্রাঞ্চ, কেরালা পুলিশ

দ্বিতীয় দিন

- স্যার। - হ্যাঁ।

সেদিন বাসুদেবন স্যারের বাড়িতে এরা বড়দিনের গান গাইতে এসেছিল।

- গান গাইতে? - মানে ক্রিসমাস ক্যারল, স্যার।

ওহ, আচ্ছা।

বলুন ওঁকে।

লাইট নেভানো ছিল, স্যার।

ভেবেছিলাম, সবাই ঘুমিয়ে পড়েছে।

তাই ড্রামটা আরও জোরে বাজিয়ে বেশ কিছুক্ষণ ছিলাম।

কিন্তু কেউ বেরিয়ে আসেনি।

- সময়? - আনুমানিক...

রাত এগারোটা বেজে ত্রিশ মিনিট হবে, স্যার।

তারপর?

কেউ যখন বেরোলো না,

আমরা কিছুক্ষণ গান-বাজনা করে চলে যাই।

একটাও আলো জ্বলছিল না?

মনে করে বলুন।

না স্যার, কোনো আলোই জ্বলছিল না।

রাতে বাইরের আলো জ্বালিয়ে রাখেন না আপনারা?

হ্যাঁ, রাখি স্যার।

কিন্তু সেদিন নেভানো ছিল।

হতে পারে,

বাসুদেবন ওষুধ খেয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলেন।

নিজে ড্রাইভ করেই এসেছিলেন।

ওই দিকটা দেখো।

স্যার...

এখানেও রয়েছে।

নাও।

সন্ধের মুখে,

যেসব বাড়ির আলো নেভানো থাকে, ওরা ঘুরে ঘুরে সেগুলোর খোঁজ নেয়।

এখানে...

এমন কোনো বাড়ি চোখে পড়লেই,

গেটের সাথে একটা সুতো বেঁধে দিয়ে যায়।

তারপর রাতে আবার ফিরে আসে।

সুতো ছেঁড়া থাকলে বোঝে বাড়িতে কেউ এসেছে।

আর অটুট থাকলে, ভেতরে ঢুকে পড়ে।

ফন্দিটা পুরানো। শুধু পদ্ধতিটা নতুন।

জোরে ঢোল বাজাও!

আরও জোরে বাজাও!

সবাই নিশ্চয়ই ঘুমিয়ে পড়েছে!

চলুন, বেরোনো যাক।

মনে হচ্ছে, বাড়িতে কেউ নেই।

ঠিক আছে, চলো। আয় রে।

চলে আয়!

এই... এই!

বাচ্চাটাকে আঘাত করিস না!

এই!

কুকুরটাকে মারিস না, প্লিজ!

- মেরো না প্লিজ! - সাহস থাকলে বুকে ছুরি চালা!

ছুরিটা নিচে ফেল!

ছুরি ফেল বলছি!

আচ্ছা, ঠিক আছে। কুকুরটাকে দিয়ে দে।

এই!

কুকুরটাকে দে আমাকে।

এই!

কী করলি এটা তুই?

ভয় পাস না, আমি আছি তো।

আমাদের এখন যা জানতে হবে...

... সন্ধে ৬টা থেকে রাত ১১টার মধ্যে ওরা সাধারণত কী করে।

পুলিশের এমন কড়া টহল চলাকালীন,

ওরা রাস্তায় ঘুরে বেড়াবে না।

পার্ক, মল আর সিনেমা হলের মতো জনবহুল জায়গাগুলোতেই তল্লাশি চালাতে হবে।

১০ই, ১৭ই আর ২২শে ডিসেম্বরের সিসিটিভি ফুটেজ আমাদের লাগবে।

ঠিক আছে।

স্যার, মল আর পার্ক চেক করেছি। কোনো সূত্র মেলেনি।

- শুনুন, ম্যানেজারের অফিসটা কোথায়? - ওপরে।

আরেকটু জুম করো।

স্যার, আপনার বলা তারিখগুলোর সব ফুটেজ।

ধন্যবাদ। স্যার, ফুটেজগুলো পেয়ে গেছি।

১০ই ডিসেম্বরের পরের সব ক্লিপিং এতে আছে।

স্যার...

এটা একবার দেখুন।

এই দুজন লোক...

স্যার, সিসিটিভি ফুটেজের ওই দুজনই এরা।

হ্যাঁ, পোশাকও একদম এক।

ঠিক তাই, স্যার।

- স্যার! - হ্যাঁ?

একবার দেখুন।

স্যার, এরা এখানেও রয়েছে।

এই সিনেমা কি তিনবার দেখার মতো, সাইনু?

কেউ দেখতে যাবে না।

এসওজি আর এনডিপিএস গ্রুপে এই ছবিগুলো পাঠিয়ে দাও।

ঠিক আছে।

- আজ বা কাল, কোনো সূত্র মিলবেই। - আচ্ছা, স্যার।

তৃতীয় দিন

- এই লোকটাকে চেনেন? - হ্যাঁ, স্যার।

- কে ইনি? - আমাদের ম্যানেজার।

উনি এখন কোথায়?

মালপত্র কিনতে ব্যাঙ্গালোর গেছেন।

নিউ ফ্যাশন সিল্কস ওয়েডিং কালেকশন

"হাহুতাশ করতে করতে আমি ক্লান্ত হয়ে পড়েছি।"

"সারা রাত চোখের জলে আমার শয্যা ভেসে যায়,"

"কান্নায় ভিজে যায় আমার বিছানা।"

- আমেন! - আমেন!

চতুর্থ দিন

দেখ, জেভিয়ার স্যারের কথাবার্তা শুনে,

আমার মনে হচ্ছে, উনি কিছু একটা সন্দেহ করছেন।

পেছনের উঠোনে গিয়ে সবকিছু দেখেও এসেছেন।

স্যার, একটা অভিযোগ জমা দিতে...

ভেতরে গিয়ে দাও।

আচ্ছা।

তোর হয়তো এমনিই মনে হচ্ছে।

তুই এত শান্ত থাকিস কী করে?

আমার তো বেশ ভয় লাগছে।

চিন্তা করিস না। কোনো একটা উপায় ঠিক বেরিয়ে যাবে।

টাইগার ব্রাভো টু নাইন বলছি, স্যার।

গতকাল দুটো কেস রিপোর্ট হয়েছে।

দুটোই মদ্যপ অবস্থায় গাড়ি চালানোর কেস।

আইনশৃঙ্খলার কোনো মামলা...

কোনো কেস নেই, স্যার।

তেমন কোনো ঘটনার খবর নেই।

ওভার!

এক সপ্তাহ হয়ে গেল, এনডিপিএস বিশেষ অভিযান শুরু করেছে।

টু-নাইন ব্রাভো, এখনও পর্যন্ত কটা কেস হলো?

স্যার, এখনও পর্যন্ত কোনো কেস পাওয়া যায়নি।

আজকে একটা-দুটো ধরার চেষ্টা চালাচ্ছি।

- ওভার। - টাইগার ব্রাভো!

এই! ডিউটিতে যারা আছে, সবাইকে ডাকো।

হ্যাঁ স্যার।

তিনটে কেস রিপোর্ট হয়েছে, স্যার।

স্যার, উনি ছুটিতে আছেন।

প্রতাপ মোহন

ও কি তোমাকে জানিয়ে ছুটি নিয়েছে?

না স্যার। আমাকে বলে দিতে বলেছিল।

আমি বলতে ভুলে গেছিলাম।

বললো, আপনাকে ফোন করে পায়নি।

এসপি ফোন করেছিলেন।

আমাদের একটা এনডিপিএস কেস তুলতেই হবে।

স্যার, আমরা যে চেষ্টা করছি না, তা নয়।

শুধু চেষ্টায় হবে না। কাজ দেখতে চাই।

স্যার, চুঙ্গাম ফ্লাইওভারের নিচে এমডিএমএ বিক্রি হচ্ছে বলে একটা খবর পেয়েছি।

খবরটা কতটা সত্যি জানি না, তবে...

জেভিয়ার, ব্যাপারটা খতিয়ে দেখো।

লোকটাকে পেলে আজকেই এফআইআর দায়ের করতে হবে।

স্যার, আমার ডিউটি প্রায় শেষের মুখে।

সেখানে গিয়ে আগে লোকটাকে ধরো। তারপর যেতে পারবে।

যাও এবার।

ঠিক আছে।

একটার পর একটা ঝামেলা লেগেই আছে।

আমার এতক্ষণে বাড়ি গিয়ে ঘুমানোর কথা ছিল।

এখন মাঝরাত পর্যন্ত বসে থাকতে হবে।

হ্যালো?

হ্যালো, কোথায় তুমি? আসবে না?

দেরি হবে আমার।

তুমি না এলে আমি কিন্তু থানায় চলে আসবো।

হ্যালো? শুনতে পাচ্ছো?

হ্যালো, স্যার?

হ্যালো?

কাল সকালে কিন্তু আমি অভিযোগ দায়ের করতে যাচ্ছি।

যা খুশি করো গিয়ে। ফোনটা রেখে কেটে পড়ো।

হ্যালো?

স্যার, ওখানে একটা লোক সন্দেহজনকভাবে ঘোরাঘুরি করছে।

মনে হচ্ছে, এ-ই আমাদের সেই লোক।

চলো! গাড়ি স্টার্ট দাও!

- আসুন, আসুন। - স্যার।

আসামির পরিচয় কিছু পাওয়া গেছে, স্যার?

আমরা আরও তথ্য জোগাড় করার চেষ্টা করছি।

লোকটা মালয়ালি নয়।

ভাঙা ভাঙা হিন্দি বলছে।

ঠিকানা যাচাই করে দেখতে হবে আর...

...পুরো চিত্রটা স্পষ্ট করতে আরও তদন্ত প্রয়োজন।

তবে পাচারের উদ্দেশ্যে রাখা প্রায় দেড় কেজি এমডিএমএ আমরা বাজেয়াপ্ত করেছি।

বাণিজ্যিক বিতরণের জন্যই এটা আনা হয়েছিল।

সঠিক সময়ে ওদের পদক্ষেপের জেরেই লোকটাকে হাতেনাতে ধরা সম্ভব হয়েছে।

স্যার!

প্লিজ!

- আপনার কাজে আমি মুগ্ধ, মিস্টার জেভিয়ার! - ধন্যবাদ, স্যার!

দারুণ কাজ।

- অভিনন্দন! - ধন্যবাদ, স্যার!

ধন্যবাদ।

- আরেকটা প্রশ্ন ছিল। - স্যার...

স্যার, মাদকের বাড়বাড়ন্ত রুখতে...

সরুন! ওনাকে যেতে দিন।

...পুলিশের পক্ষ থেকে কী কী সতর্কতামূলক ব্যবস্থা নেওয়া হয়েছে?

সরুন! রাস্তা ছাড়ুন!

হাসি মিলিয়ে গেছে এবার, তাই তো?

তোমাদের দুজনকে আমি শীঘ্রই দেখে নেবো।

তাও জেভিয়ার স্যারের মুখে সিআই স্যারের নামটা নেওয়া উচিত ছিল।

স্যার আসছেন...

এটা প্যাক করে মালখানায় রেখে এসো।

স্যার।

ওই ঘরে নিয়ে যাও।

মেথামফেটামিন

সিআই স্যার আর আমি এই হাতির দাঁত উদ্ধার করেছিলাম।

বন দপ্তরের সাথে এটা নিয়ে এখনও একটু ঝামেলা চলছে।

এগুলো পেতে ওদের কোর্টের অর্ডার লাগবে।

ওই মোবাইলটার কী হলো?

নিরাপদেই আছে। চিন্তা কোরো না।

দিব্যা বললো, জেভিয়ার স্যার নাকি সন্দেহ করছেন।

ওনাকে নিয়ে ভেবো না।

শীঘ্রই ওনার কপালে দুঃখ আছে।

হ্যাঁ!

উচিত শিক্ষা পাবেন উনি।

স্যার, একেবারে আসাম পর্যন্ত যাওয়া...

আইনকানুন জানো না নাকি?

ওর আধার কার্ডটা এখনও পাওয়া যায়নি।

আদালত সেটা যাচাই করে দেখবে।

ওর ঠিকানাও ভেরিফাই করতে হবে।

স্যার, দাসন আর শ্রীনাথকে পাঠালে হতো না?

তা কী করে হয়, জেভিয়ার?

আসামিকে কে ধরেছে? তুমি।

ফুলের তোড়া আর মালা কে পেয়েছে?

তুমি। তাছাড়া তুমি হিন্দিটাও ভালোই জানো।

আর কোনো তথ্য লাগলে আসামিকেই সরাসরি জিজ্ঞেস করে নেবে।

তাই আর সময় নষ্ট কোরো না।

এখনই রওনা দাও।

শুভ যাত্রা।

- স্যার! - যাও এবার।

স্যার!

- এই ফাইলটা নিন। - ওখানে রাখো।

স্যার, ওর বাড়ি মিজোরাম-আসাম সীমান্তে, তাই না?

কেন?

সিআই স্যার বলতে বললেন, রাতে যেন ওখানে টহল না দেয়।

জায়গাটা বড্ড ঝুঁকিপূর্ণ।

- তাই নাকি? - হ্যাঁ।

তাহলে ওনাকে গিয়ে বলো, আমি এই কাজ বহু বছর ধরেই করছি।

ভাগো এখান থেকে!

উফ, কী মেজাজ!

ষষ্ঠ দিন

কফি।

ধন্যবাদ।

- খান। - আচ্ছা।

এর আগেও আপনি আমাদের বাড়ি বিয়ের প্রস্তাব নিয়ে এসেছিলেন।

ওহ! তাই নাকি?

তখন অবশ্য একটু রোগা ছিলাম।

আচ্ছা।

কত যে পাত্রী দেখতে গেছি, তার কোনো হিসেব নেই।

আর আমার রাশিতে সবসময়ই, কোনো না কোনো সমস্যা থাকে।

রাশি মিললে মেয়ে পছন্দ হয় না।

আবার মেয়ে পছন্দ হলে রাশি মেলে না।

এই করেই চলছে দিনের পর দিন...

তো, আপনি শিক্ষকতা করেন।

হ্যাঁ।

- একটু লেখালিখিও করি। - বাঃ!

'সরাসরি প্রতিশোধ।'

সরাসরি প্রতিশোধ।

বেশ রক্তাক্ত ব্যাপার মনে হচ্ছে।

পড়ে জানাবেন কেমন লাগলো।

সামনের দশটা দিন একটু ব্যস্ত থাকবো।

হয়তো তারপর পড়বো।

ওহ, তারপর?

মানে... তারপর একটা লম্বা ছুটি পেতে পারি।

বেশ, তখনই পড়বেন।

হ্যাঁ, নিশ্চয়ই।

ব্যাঙ্গালোর

সপ্তম দিন

আপনি যে নম্বরে যোগাযোগ করার চেষ্টা করছেন, তার সাথে এই মুহূর্তে সংযোগ করা সম্ভব হচ্ছে না।

দয়া করে কিছুক্ষণ পর আবার চেষ্টা করুন।

- গুড মর্নিং, স্যার! - গুড মর্নিং!

এখনই পাঠিয়ে দাও।

- মেসেজটা পাঠিয়েছেন, স্যার? - হ্যাঁ।

- স্যার, ওর মোবাইল ফোনটা? - নিরাপদেই আছে।

আর মোটে একটা সপ্তাহ সাবধানে থাকতে হবে, তাই তো?

সব ঠিক হয়ে যাবে।

- আমি একটু কিছু খেয়ে আসছি। - আচ্ছা।

- আমিও যাই। - ঠিক আছে।

চিন্তা কোরো না।

সব ঠিক হয়ে যাবে।

মহিলা সহায়তা কেন্দ্র

হ্যারিস মিরান এসেছেন।

আলিনা, শ্রীনাথ।

- হ্যাঁ। - দাসন কোথায়?

স্যার, জলখাবার খেতে বাইরে গেছেন।

সবাই ভেতরে এসো। স্যার তোমাদের ডাকছেন।

দেখুন, মীরার এই ইমেল আইডিটা ভুয়ো।

স্যার, ওরা এসে গেছে।

স্যার!

২২ তারিখ রাতে তোমরাই টহলদারির ডিউটিতে ছিলে?

আজ্ঞে হ্যাঁ, স্যার।

সাইনু।

সেদিন রাতে এদের কাউকে দেখেছো?

না, স্যার।

না, স্যার।

আর এই গাড়িটা?

স্যার, এই গাড়িটা দেখেছিলাম।

তবে যে লোকটা গাড়ি চালাচ্ছিল, সে আগের দেখানো ছবির লোকটা ছিল না।

লোকটাকে দেখলে চিনতে পারবে?

নিশ্চয়ই পারবো, স্যার।

বেশ, ধন্যবাদ। তোমরা আসতে পারো।

এদের ব্যাপারে কোনো খবর পেলে আমাকে জানাবে।

ঠিক আছে, স্যার।

আমরা কোনো বিপদে পড়বো না তো?

ভয় পেয়ো না।

স্যার...

স্যার, সেদিন রাতে ইনিও ওদের সাথেই ছিলেন।

- দাসন? - হ্যাঁ, স্যার।

ওনাকে দেখাও।

এদের কাউকে চেনেন আপনি?

না, স্যার।

এই গাড়িটা?

না, স্যার।

এক মিনিট!

মনে করার চেষ্টা করুন।

বাইশ তারিখ রাতে যখন আপনি পেট্রোলিংয়ে ছিলেন...

না, স্যার। আমি দেখিনি।

কিন্তু ওরা তো বললো, দেখেছে।

না, স্যার। আমি সত্যিই দেখিনি।

স্যার, সেদিন রাতে আপনার বাথরুমে যাওয়ার দরকার হয়েছিল না?

আপনার পেটে গোলমাল হয়েছিল, তাই না?

আমরা তখনই গাড়িটা দেখেছিলাম।

হ্যাঁ, স্যার। পেটের সমস্যা হচ্ছিল বলে কিছু সময়ের জন্য চলে গিয়েছিলাম।

হয়তো তখনই...

ঠিক আছে, দাসন।

নাট্টাকম পুলিশ স্টেশন হেল্প ডেস্ক

কিছু মানুষ মিথ্যে বলতে পারে না।

আবার কেউ কেউ এমন নিঁখুত মিথ্যে বলে, এতটুকু ফাঁক রাখে না।

তখন আমি ওদের মুখের দিকে তাকিয়ে শুধু হাসি।

সবাই এভাবে পাথর হয়ে দাঁড়িয়ে আছো কেন?

সব ঠিক আছে তো?

কী হয়েছে, স্যার?

ছবি দেখে ওরা কারা চিনতে পেরেছো?

না তো।

জয়প্রকাশ আর মীরা। দুটোই দাগি অপরাধী।

পাথানামথিত্থার কোঝেনচেরিতে মেজর বাসুদেবনের ডাকাতির কেসটা মনে আছে?

তার আগেও, ওরা এমন বেশ কয়েকটা ডাকাতির ঘটনা ঘটিয়েছে।

ওঁদের কাছে খবর এসেছে, জয়প্রকাশ এখন ব্যাঙ্গালোরে রয়েছে।

ওর ফোন থেকে, ওর স্ত্রীর কাছে একটা মেসেজ এসেছে।

কিন্তু হ্যারিস বুঝে গেছেন...

ফোনটা জয়প্রকাশ নিজে ব্যবহার করছে না।

অন্য কেউ চালাচ্ছে।

তোমরা ওঁর লেখা বইটা পড়েছো?

পড়ার মতো একটা বই।

স্যার, জয়প্রকাশ মালপত্র কিনতে গেলে...

সাধারণত দু-তিন দিনে একবার অন্তত ফোন করে।

এই প্রথম এত দিন ধরে বাইরে রয়েছে...

অথচ, একবারও আমাকে ফোন করেনি।

এইমাত্র একটা টেক্সট মেসেজ এল।

এই যে, স্যার।

তার ঠিক আগে একটা ভয়েস মেসেজও আছে।

এইটা?

শিল্পা, মিটিং শেষ করে তবেই বাড়ি ফিরব।

ম্যাঙ্গালোরের কয়েকজন ডিলারের সাথে দেখা করতে হবে।

আরও এক সপ্তাহ লাগবে। পরে ফোন করবো, ঠিক আছে?

শিল্পা, মিটিং শেষ করে তবেই বাড়ি ফিরবো।

ম্যাঙ্গালোরের কয়েকজন ডিলারের সাথে দেখা করতে হবে।

আরও এক সপ্তাহ লাগবে।

পরে ফোন করবো, ঠিক আছে?

এই ফোনটা আমাকে নিয়ে যেতে হবে।

স্যার?

বাবা।

স্যার, কী হয়েছে?

ও কি কোনো বিপদে পড়েছে?

- সাইনু... - স্যার...

ওঁদের সবকিছু বুঝিয়ে বলো।

ঠিক আছে, স্যার।

শিল্পা, মিটিং শেষ করে তবেই বাড়ি ফিরবো।

ম্যাঙ্গালোরের কয়েকজন ডিলারের সাথে দেখা করতে হবে।

- ভলিউমটা বাড়াও। - আরও এক সপ্তাহ লাগবে।

-ফোন করব পরে, ঠিক আছে? -আবার বাজাও।

শিল্পা, মিটিং শেষ করে তবেই বাড়ি ফিরব।

ম্যাঙ্গালোরের কয়েকজন ডিলারের সাথে দেখা করতে হবে।

আরও এক সপ্তাহ লাগবে। পরে ফোন করব, ঠিক আছে?

লেখা...

ভয়েস ট্র্যাকটা মিউট করে শুধু ব্যাকগ্রাউন্ডের আওয়াজটা বাজাও।

- আচ্ছা। - একটি সাধারণ ভয়েস মেসেজ পরীক্ষা করে...

তিনি বহু দূর থেকে ভেসে আসা একটি মসজিদের আজানের...

অস্পষ্ট আওয়াজ শুনতে পান।

"আস-সালাতু খাইরুম মিনান নাওম"

"আস-সালাতু খাইরুম মিনান নাওম"

এই কণ্ঠস্বর জোড়া দেওয়া হয়েছে।

কী বলছেন, স্যার?!

হ্যাঁ!

দিনে মোট পাঁচবার আজান দেওয়া হয়।

প্রতিটি আজানই এক রকম।

কেবলমাত্র ভোরের ফজর ছাড়া, যাতে দুটো অতিরিক্ত লাইন থাকে।

"আস-সালাতু খাইরুম মিনান নাওম"

যার অর্থ, "ঘুমের চেয়ে নামাজ উত্তম।"

এবার,

এই ভয়েস মেসেজ পাঠানোর সময়টা ভালো করে দেখুন।

সাড়ে ছ'টায়?

সন্ধ্যা ছ'টা বেজে ত্রিশ মিনিটে।

একশো ভাগ নিশ্চিত! এই বার্তাটা সাজানো এবং জাল।

কী বুঝলেন?

স্যার, এই নম্বরটি শেষবার ব্যাঙ্গালোরে সক্রিয় ছিল।

- বেশ। - সকাল দশটায়।

পাঁচ মিনিট পরেই আবার সুইচড অফ হয়ে যায়।

তার আগে?

তার আগে,

চব্বিশ তারিখে,

কাসারগোড়ে সন্ধে সাড়ে ছ'টা নাগাদ লোকেশন ছিল।

তারপর আবার ফোনটা বন্ধ হয়ে যায়।

আর তেইশ তারিখে নাট্টাকমে ছিল...

রাত বারোটা চল্লিশ নাগাদ।

নাট্টাকম।

- নম্বরটা ট্র্যাক করো। - আচ্ছা।

আবার অন হলেই আমাকে জানাবে।

নিশ্চয়ই, স্যার।

- ঠিক আছে। - আচ্ছা।

কেএল ৪৮ এম ২২ ২৩

এই গাড়ির নম্বরটা এএনপিআরে আপডেট করো।

ঠিক আছে, স্যার।

নম্বরটা শনাক্ত হওয়া মাত্র আমাকে খবর দেবে।

বোঝা গেল?

একবার একটা কেসে হ্যারিস স্যারের সাথে কাজ করেছিলাম।

ওনার মাথা মারাত্মক ধারালো।

অপরাধীরা নিজেদের খুব চতুর ভাবে,

কিন্তু হ্যারিস স্যার সবসময় ওদের চেয়ে এক কদম এগিয়ে থাকেন।

এবার খেলাটা ঘুরে যাবে।

ভগবান আয়াপ্পাই ভরসা!

অষ্টম দিন

ম্যাডাম?

ম্যাডাম?

আগে সংসারে তেমন অশান্তি ছিল না।

লরি চালানো শুরু করার পর থেকেই সমস্যা বাড়ে।

রোজ মদ খায়।

আর বাড়ি ফিরেই আমাকে মারধর করতে শুরু করে।

- কী কারণে? - মারার জন্য ওর কোনো কারণ লাগে না, ম্যাডাম।

- অ্যাবি ওষুধগুলো খেয়ে নিয়েছে। - ধন্যবাদ।

বলো।

একটা না একটা ছুতো ও ঠিক খুঁজে বার করে।

একদিন জল যথেষ্ট গরম ছিল না বলে, আমাকে ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়েছিল।

জলের তাপমাত্রা নাকি কম ছিল।

আবার গরম করে দিতেই মুখে ছুঁড়ে মারলো,

বললো, এত ফুটন্ত জল দেওয়ার সাহস হলো কী করে।

সবকিছু মুখ বুজে সহ্য করেছি,

কিন্তু এখন বাচ্চাদেরও ছাড়ছে না মানুষটা...

এখানে কী হয়েছে?

থানায় অভিযোগ জানাতে যাচ্ছি বলায়...

গতকাল মেরেছে।

দিব্যা, সে এসেছে?

হ্যাঁ, এসে গেছে।

- যাও। - আচ্ছা।

- সরে দাঁড়াও। - কী?

মদ খেয়েছো?

সামান্য।

মদ খেয়ে গাড়ি চালালে দোষের হতো।

আমি হেঁটে এসেছি।

ওদের মারধর করো?

এই, তোমাকে জিজ্ঞেস করছি। গায়ে হাত তোলো ওদের?

হ্যাঁ, তুলি।

কী কারণে?

আমার বউ আর বাচ্চা। তোমাকে তো মারছি না, তাই না?

মারি বা খুন করি, যা খুশি করবো।

তাতে তোমার কী, অ্যাঁ?!

একজন মহিলা পুলিশের সাথে কথা বলতে হবে আমাকে?

থানার সব পুরুষ পুলিশগুলো মরে গেছে নাকি?

এই!

হে ভগবান! হে ভগবান! আমার স্বামী!

ওগো, এ কী হলো!

কী হলো?

উনি আমার স্বামীকে মেরে ফেলেছেন!

ওগো! শুনছ...

থানাটা বন্ধ করাবে নাকি তোমরা?

-বেঁচে আছে কি না, দেখো আগে। - আমার বাচ্চারা অনাথ হয়ে গেল!

ভগবানের কৃপায় মরে যায় নি।

কেউ একজন অ্যাম্বুল্যান্সে ফোন করো!

স্যার, আমার স্বামী...

মরেনি ও, ঠিক আছে? নাটক বন্ধ করো এবার। থামো।

নবম দিন

সিরিয়াল কিলার হওয়ার পরিকল্পনা করছ নাকি?

মাথা ঠিক রাখতে পারিনি, স্যার।

খুব ভালো!

এভাবে মেজাজ হারাতে থাকলে বেশি দিন চাকরি করতে পারবে না।

আলিনা ম্যাডাম।

সিআই স্যার ডাকছেন।

যাও।

যখন ওখানে যাবো, তখন দেখবো।

ওর মাথায় এগারোটা সেলাই পড়েছে।

এই খবর বাইরে ছড়ালে কী পরিণতি হবে, ধারণা আছে?

ও যদি নালিশ ঠুকে দেয়?

আমরা ফেঁসে যাবো।

স্যার, প্লিজ!

একটা মানুষের মাথা ফাটিয়ে দিয়েছো।

এখন আমি কী করবো, আশা করো?

আমাকে বলতে আসছো কেন?

হ্যালো?

ওর কাছ থেকে একটা লিখিত বয়ান নিয়ে নাও।

পরে যেন কোনো অভিযোগ নিয়ে হাজির না হয়।

আচ্ছা।

ও অভিযোগ করতে চাইছে না। আপাতত রক্ষা পাওয়া গেল।

যাও এবার।

দশম দিন

পুলিশের চরম ব্যর্থতার কারণে...

কয়েক দিন ধরে, সাধারণ মানুষের রাতের ঘুম উড়ে গেছে।

হ্যারিস মিরান আর তাঁর তদন্ত দল নিয়ে এত মাতামাতি হলেও,

কাজের কাজ কিছুই হয়নি, শুধু দৌড়াদৌড়িই সার। একজন সন্দেহভাজনকেও ধরা সম্ভব হয়নি।

দেশ যার বীরত্বকে সম্মান জানিয়েছিল, সেই সেনা জওয়ানের হত্যার দায় কে নেবে?

- স্যার, ফোনটা? - আচ্ছা।

ঠিক আছে।

১১২১১। এটাকে ট্র্যাক করো।

ঠিক আছে।

ছিনতাইয়ের কেস স্যার, একটু আপডেট দেবেন।

দাঁড়াও, ফোন করছি।

আমি জানি...

জয়প্রকাশ এখন আর এই ফোনটা ব্যবহার করছে না।

যাই হোক, খুব শিগগিরই আমাদের দেখা হচ্ছে।

- হ্যালো? - সাইবার সেল থেকে বলছি।

- বলুন। - ফোনটা এই মুহূর্তে...

কোট্টায়ামের এমসি রোডে, নাগামপাদম ব্রিজের কাছে অন রয়েছে।

ঠিক আছে! ঠিক আছে!

- গাড়ি ঘোরাও। - আচ্ছা, স্যার!

সাইনু!

ধ্যাত্তেরি!

এই মানসিক চাপ আর আমার সহ্য হচ্ছে না।

আমার জন্যই তোমরা সবাই বিপদে পড়লে, তাই না?

- আরে, না না! - একদমই তা নয়!

- আমি সেটা বলতে চাই নি! - সরি, দিব্যা।

আমি ওভাবে বলিনি কথাটা।

আমরা তো ইচ্ছে করে করিনি, আলিনা।

যাই হোক, এ পর্যন্ত আমরা সামলে এসেছি।

বেশি ভেবো না।

এরপর কী করতে হবে, শুধু সেদিকে নজর দাও।

ঠিকই। যতটুকু জানি, ওদের মরাই উচিৎ ছিল।

আমরা শুধু পরিস্থিতির ফেরে ফেঁসে গেছি।

- পরে যা হওয়ার দেখা যাবে। - হ্যাঁ!

- উঠে এসো। - আয়।

ওঠো।

চলো।

স্যার, পুরো তল্লাশি চালিয়েছি,

কিন্তু এখনও কোনো খোঁজ মেলেনি।

সাইবার সেলের সাথে কথা বলে নিশ্চিত হয়েছি।

এ-টাইপ লোকেশন একদম এখানেই দেখাচ্ছে।

এদিকে, এটা দেখুন।

টুকরোটা একটু সরাও।

স্যার!

পোন্নানি থানায় যখন এসআই ছিলাম,

তখন একটা খুনের কেস এসেছিল।

মরিয়া হয়ে খুঁজেও লাশ উদ্ধার করা যায়নি।

আসামি একটা জাল সার্টিফিকেট বানিয়ে...

শ্মশানে নিয়ে গিয়ে লাশটা পুড়িয়ে দিয়েছিল।

একমাত্র যে ক্লু পেয়েছিলাম, তা হলো...

লাশের সাথে পুড়ে না যাওয়া এক টুকরো দাঁত।

সাইনু!

বুঝেছি, স্যার!

পরীক্ষার ব্যবস্থা তাড়াতাড়ি করছি।

দাঁতটার ডিএনএ টেস্টের রিপোর্ট পেতে...

আমাদের আরও কয়েকটা দিন অপেক্ষা করতে হয়েছিল,

যাতে আসামিকে শনাক্ত করা যায়।

নিখুঁত অপরাধ বলে কিছু হয় না...

আসল প্রয়োজন হলো নিখুঁত তদন্ত।

- স্যার! - হ্যাঁ?

আমাদের বিভ্রান্ত করার জন্যই এটা করা হয়েছে বলে মনে হচ্ছে না?

হ্যাঁ।

ছুটতে দাও ওকে।

ছুটতে ছুটতে একদিন নিজেই হাঁপিয়ে পড়বে।

আর না পড়লে, আমরাই ওকে ক্লান্ত করে ফেলবো।

ফরেনসিক সায়েন্স ল্যাবরেটরি কোট্টায়াম

এটা দেখো!

ফাদার, এটা...

আমরা এখনও নিশ্চিত নই।

শ্মশানের রেজিস্টার অনুযায়ী,

ওটা মীনাক্ষী আম্মা নামের এক বৃদ্ধার ছিল।

কী ব্যাপার?

ফরেনসিক রিপোর্টে বলছে, দাঁতের নমুনাটা এক বৃদ্ধার সাথে মিলে গেছে।

ওঁর নাম মীনাক্ষী।

ওহ!

তার মানে, ইচ্ছে করেই আমাদের বিভ্রান্ত করা হয়েছে।

সাইনু, ফোনের লোকেশনটা ভালো করে যাচাই করতে বলো।

- এত দেরি হচ্ছে কেন? - স্যার, চেষ্টা করছি।

নাও, খাও।

স্যার, বাইশ তারিখ রাতে ওর লোকেশন নাট্টাকম শহরের পরিসরে দেখাচ্ছে।

নাট্টাকম শহরের পরিসর বলতে কী বোঝাতে চাইছো?

সেখানে হাজারখানেক বাড়ি আর স্কুল আছে।

আমরা কোথায় গিয়ে খুঁজবো?

স্যার... আমি... আসলে...

- মা! - কী?

বাবাকে পুলিশের চাকরি ছাড়িয়ে একটা রেস্তোরাঁ খুলে দিলে কেমন হয়?

দারুণ হবে!

সাইনু, জয়প্রকাশের যাত্রাপথের সঠিক রুটটা আমার চাই।

মানে, একদম নিখুঁত লোকেশন।

এই টাওয়ার, সেই টাওয়ার বলে কোনো লাভ নেই!

- তাড়াতাড়ি করো। - আচ্ছা স্যার!

- বাবা! - হ্যাঁ?

কী হয়েছে?

কার লোকেশন?

আর জয়প্রকাশই বা কে?

জয়প্রকাশের বিরুদ্ধে খুনের অভিযোগ রয়েছে।

ও নিখোঁজ।

আচ্ছা।

ফোন ট্র্যাক করে ওকে ধরা যাচ্ছে না?

আরে দূর!

ফোন তো পুড়িয়ে দিয়েছে।

ওহ, তাই নাকি!

ইমেল আইডিটা এখনও ক্র্যাক করা যায়নি।

এখন ওটাই একমাত্র রাস্তা।

ওর বাড়ির লোকেদের কাছ থেকে ইমেল আইডিটা পাওয়া যাবে কি?

যদি পেয়ে যাই, তাহলে?

আমার ওপর ভরসা রাখো, বাবা।

আমাকে একবার চেষ্টা করতে দাও।

প্লিজ, বাবা।

জীবনস ডায়াবেটিস অ্যান্ড এন্ডোক্রিন সেন্টার

বিমলা হেলথকেয়ার

অনেক শুভেচ্ছা, দিব্যা!

জানি, আপনি একজন পুলিশ অফিসার,

তবে এখন মানসিক চাপ একটু কমাতে হবে।

দুটো ওষুধ লিখে দিচ্ছি। নিয়ম করে খাবেন।

স্যার, মিষ্টিমুখ করুন!

- অভিনন্দন! - স্যার...

শুধু লাড্ডু খাওয়ালে হবে না কিন্তু!

স্যার, প্লিজ নিন।।

- আমি আরেকটা নিচ্ছি, কেমন? - হ্যাঁ, নিশ্চয়ই!

স্যার, ওনার নাইট ডিউটিগুলো আপাতত একটু কমিয়ে দেওয়া যায়?

বিষয়টা আমি বিবেচনা করে দেখছি।

নিন ম্যাডাম, মিষ্টি নিন।

সবাই লাড্ডু পেয়েছছন তো?

- হ্যাঁ। - এবার কাজে হাত লাগাও।

আলিনা ম্যাডাম, ওর একটু খেয়াল রাখবেন।

হ্যাঁ, নিশ্চয়ই।

আমার শিফটের সময় হয়ে গেছে। আমি যাচ্ছি।

শরীর ঠিক আছে তো?

- পরে ফোন করবো। - আচ্ছা।

দিব্যা।

আমার খুব ভয় করছে।

জানিস, এর জন্য আমি কত দিন ধরে অপেক্ষা করছিলাম?

ভয় পাস না।

ভয় পাওয়া স্বাভাবিক,

কিন্তু সেই ভয় যেন আমাদের আরও বড় বিপদে না ফেলে দেয়।

আর মাত্র তিনটে দিন।

তারপরই সিসিটিভি ফুটেজ ওভাররাইট হয়ে যাবে,

আর কোনো চিন্তার কারণ থাকবে না।

বুঝলি?

ততক্ষণ পর্যন্ত, আমাদের শুধু শক্ত হয়ে থাকতে হবে।

একাদশ দিন

স্যার, ফাইলে আগেই সেটা আপডেট করে দিয়েছি।

স্যার!

ঠিকানা যাচাই করা হয়ে গেছে।

ঠিক যেমনটা ও বলেছিল।

স্থানীয় থানায় ওর নামে কোনো কেস নেই।

দু'বছর আগে এখানে এসেছে।

খুব ভালো।

কেস ডায়েরিতে এটা যোগ করে আপডেট করতে বলো।

ঠিক আছে, স্যার।

জেভিয়ার!

সফর কেমন কাটলো?

ছুটি কাটানোর মতো ছিল না, স্যার।

বেশ ধকল গেছে।

এ সবই নতুন অভিজ্ঞতা, তাই না?

- ঠিক আছে, স্যার। - বেশ।

ঠিক আছে। আচ্ছা।

স্যার, এক সেকেন্ড।

এমডিএমএ কেসের আসামির কেস ডায়েরিতে এই বিবরণগুলো আপডেট করে দাও।

আমি ফোন করছি। স্যার! স্যার, একটু শুনবেন!

- কী ব্যাপার? - একটা সমস্যা হয়েছে।

স্যার, ক্রাইম ব্রাঞ্চের সাইনু স্যার এইমাত্র ফোন করেছিলেন।

উনি একটা কথা বললেন।

- কী কথা? - স্যার, আপনি বেরিয়ে যাওয়ার আগের রাতে,

এখানে একটা বড়সড় কাণ্ড ঘটেছে।

বাবা,

তেইশ তারিখ রাত বারোটা বেজে পাঁচ মিনিটে,

ও এখান থেকে বেরিয়ে বারোটা পনেরোর মধ্যে এখানে পৌঁছায়।

তারপর বারোটা চল্লিশে ফোনটা বন্ধ হয়ে যায়।

এটাই একদম নিখুঁত লোকেশন।

দেখো!

ওখানটায় একটু জুম কর।

ঠিকভাবে বলতে গেলে, নাট্টাকম পুলিশ স্টেশন।

স্যার, হ্যারিস স্যারের তদন্তে জানা গেছে...

সেদিন রাতে এই জেপি আমাদের থানার মোবাইল টাওয়ারের রেঞ্জের ভেতরেই ছিল।

সেদিন তো আপনিই জিডি ইনচার্জ ছিলেন?

হ্যাঁ।

স্যার! স্যার! স্যার!

আমরা মীরার বিষয়ে খোঁজখবর নিয়েছি,

সেক্ষেত্রে হয়তো কাউকে গ্রেপ্তারও করতে হতে পারে।

কাজটা অত সহজ নয়।

ওরা পুলিশকর্মী। প্রমাণ ছাড়া কাউকে ছোঁয়া যাবে না।

- স্যার... - হ্যাঁ।

নাট্টাকম থানার এসআই জেভিয়ার দেখা করতে এসেছেন।

- ভেতরে আসতে বলো। - স্যার!

স্যার, সেদিন রাতে আমি নিজের চোখে স্পষ্ট দেখেছি।

থানার পাশে ওরা কিছু একটা মাটি চাপা দিয়েছিল।

জিজ্ঞেস করায়,

বলেছিল, একটা মরা কালো বিড়াল, যেটা প্রায়ই ওখানে ঘুরঘুর করতো।

কিন্তু আজ আমি সেই বিড়ালটাকে জীবন্ত ঘুরে বেড়াতে দেখেছি।

ওহ!

স্যার,

কী হয়েছে, স্যার?

এটা কী?

মারামারির একটা কেস ছিল, স্যার। এই যা।

সেদিনের রেজিস্টার আমি চেক করেছি, স্যার।

এমন কোনো মারামারির কেস সেখানে নথিভুক্ত নেই।

ঠিক আছে।

স্যার।

বলেছিলাম না তোমাদের?

ওরা নিজেরাই ক্লান্ত হয়ে পড়বে।

লুকোচুরির খেলা শেষ।

এবার ওদের টেনে আনার পালা।

স্যার...

এতে কত দিনের ব্যাকআপ থাকে?

স্যার, চোদ্দো দিনের।

চোদ্দো দিন।

তাহলে তো,

তেইশ তারিখের ফুটেজ এতে থাকার কথা।

স্যার,

এখনই দেখুন।

ডিসেম্বরের বাইশ তারিখ রাতের ফুটেজ চালাও।

আচ্ছা।

কোথায় ওটা? এখানে তো দেখাচ্ছে না।

- ফুটেজ তো এখানেই থাকার কথা। - কোথায় ওটা?

এখানে কেবল সাতাশ তারিখের পরের ফুটেজ দেখাচ্ছে।

আমরা তেইশ তারিখেরটা চেয়েছি।

এখানে নেই, স্যার।

আপনি নিজেই দেখুন।

আরে, চেক করো।

স্যার, এখানে কেবল সাতাশ তারিখের পরের ফুটেজই আসছে।

কী হচ্ছে এইসব?

তুমি বললে, এতে চোদ্দো দিনের ব্যাকআপ থাকে!

টেকনিশিয়ান সেটাই বলেছিল, স্যার।

কোন টেকনিশিয়ান?

প্রতাপ স্যার।

ওকে ফোন করো!

- ফোন লাগাও! - এক সেকেন্ড।

হ্যালো, কিরণ?

হ্যালো স্যার। কাজের খুব চাপ যাচ্ছে।

আরও দুটো থানার কাজ বাকি পড়ে আছে।

- সামনের সপ্তাহে নির্ঘাত ওখানে যাচ্ছি। - না না, সে ব্যাপার নয়।

আর কোনো পরিবর্তন হবে না, স্যার।

কিরণ, আমাদের এখানে সিসিটিভির ব্যাকআপ কত দিনের থাকে?

ওটা পুরনো সিসিটিভি সেট, স্যার।

চোদ্দো দিনের ব্যাকআপ।

কিন্তু এখানে তা পাওয়া যাচ্ছে না।

পাওয়া যাচ্ছে না?

আমরা কোনো কারচুপি করি না, স্যার।

যেতে একটু দেরি হচ্ছে ঠিকই, কিন্তু...

কিরণ, ডিওয়াইএসপি হ্যারিস মিরান বলছি।

স্যার, এখন কত দিনের ব্যাকআপ দেখাচ্ছে?

দশ দিন দেখাচ্ছে।

ওহ, স্যার! একটা অতিরিক্ত মেমোরি কার্ড আছে।

ওটা লাগালে চোদ্দো দিনের ব্যাকআপ পাওয়া যায়।

নইলে মোটে দশ দিনের থাকে।

সেই মেমোরি কার্ডটা কোথায়?

কার্ডটা আমি সিআই স্যারের কাছে দিয়েছিলাম।

উনি বলেছিলেন, নিজে লাগিয়ে নেবেন।

সিআই স্যারকে জিজ্ঞাসা করুন, উনি জানবেন।

সেই মেমোরি কার্ডটা কোথায়?

- স্যার... - ঠিক আছে, ধন্যবাদ।

জিজ্ঞাসা করছি, মেমোরি কার্ডটা কোথায়?

এক মিনিট...

স্যার, থ্রি-জি...

গলার ওই তুলসীর মালাটার কথা ভেবে তোমাকে কিছু বলছি না।

মাথায় রেখো কথাটা।

স্যার, বড় কোনো ঝামেলা হয়েছে নাকি?

বেরিয়ে যাও এখান থেকে!

আচ্ছা।

গাধা কোথাকার!

- বেরোতে বললাম না তোমাকে? - যাচ্ছি।

ধুত্তোর!

স্যার, আসলে কী হয়েছিল, আমি আপনাকে বলছি।

আগের থেকেই জেভিয়ার স্যারের আমাদের ওপর একটা ক্ষোভ ছিল।

সেদিন যখন উনি আমাকে আর শ্রীনাথকে আসাম যেতে বললেন,

আমরা যেতে রাজি হইনি।

শুধু তা-ই নয়,

আগেও ওনার সাথে আমাদের কিছু বিষয় নিয়ে সমস্যা হয়েছিল।

আমার মনে হয়, আসাম যাইনি বলেই...

সেই রাগ থেকেই জেভিয়ার স্যার এসব গল্প বানাচ্ছেন।

সেদিন আমরা হাইওয়ে ডিউটিতে ছিলাম, স্যার।

সেদিন স্টেশন পাহারায় কে ছিল?

আমি ছিলাম, স্যার।

সেদিন রাতে কি দাসন আর শ্রীনাথ থানায় এসেছিল?

তারপর কি জেভিয়ার এসেছিল?

না স্যার। ওরা সেদিন একবারের জন্যও থানায় আসেনি।

ওহ..!

জেভিয়ার বাইরে গিয়ে একটু পরেই ফিরে এসেছিল, তাই না?

উনি প্রায়ই নানা ছুতোয় বাইরে যেতেন।

সেদিন আজি নিজেও আধ ঘণ্টা দেরিতে এসেছিল।

তোমাকে এসব কথা বলতে কে শিখিয়ে দিয়েছে?

আমাকে কেউ কিছু শিখিয়ে দেয় নি, স্যার।

আসলে যা ঘটেছিল, আমি শুধু সেটুকুই বলছি।

কাল সকাল পর্যন্ত সবাই এখানেই থাকবে।

নাইট ডিউটি থাকুক বা না থাকুক।

ঠিক আছে।

হ্যাঁ রে মা,

ভাড়া বাড়ির কোনো খবর পেলি?

তুই বেরিয়ে যাওয়ার পর থেকে,

মেয়েটা কেবল ফোনের দিকে তাকিয়ে তোর কথাই জানতে চাইছে...

ওকে ওভাবে দেখলে বড্ড কষ্ট হয়।

খুব তাড়াতাড়ি ব্যবস্থা হয়ে যাবে, মা।

আমি দেখছি ব্যাপারটা।

এটা খেয়ে নাও।

ধরো।

পুরোটা খাবে কিন্তু।

হুম... খেয়ে নাও।

- এই! এসো! - আচ্ছা, স্যার।

পুলিশ

- এই! এসো। - ঠিক আছে, স্যার।

তিরুঅনন্তপুরম শহরকে কাঁপিয়ে দেওয়া থাঙ্কাচান হত্যাকাণ্ড...

আসামি তাঁর লাশ মাটির ১২ ফুট নিচে পুঁতে রেখেছিল।

এক মিনিটেরও কম সময়ের মধ্যে কুকুরগুলো মাটির নিচ থেকে

মানুষের মরদেহের গন্ধ শনাক্ত করে ফেলেছিল।

মানুষ আর পশুর মরদেহের গন্ধের পার্থক্য ওরা নিখুঁতভাবে ধরতে পারে।

কারণ,

ওরা বিশেষভাবে প্রশিক্ষিত ক্যাডাভার কুকুর।

ভাবানুবাদ ও সম্পাদনা : সুদীপ চক্রবর্তী।

জেরি!

জেরি! শান্ত হও!

জেরি!

শান্ত হও!

স্যার, মনে হচ্ছে, এখানে কিছু নেই।

স্যার, একটা সমস্যা আছে।

লাশটা যদি থানার বাইরে নিয়ে যাই, তাহলেও তো বিপদ।

কুকুরগুলো যদি এখানেই গন্ধ পেয়ে যায়?

আমরা এখন কী করবো?

একটা ব্যবস্থা করছি।

শ্রীনাথ, আমার সাথে আয়।

যখন ও ওই লরিটার কাছে গেল,

হে ভগবান! ভেবেছিলাম, সব শেষ হয়ে গেল।

ফিরে আসতে, যেন ধড়ে প্রাণ এল।

দিব্যা, পরের চেক-আপ কবে?

কী?

পরের বার কবে চেক-আপ করাতে যাবি?

সামনের সপ্তাহে।

ক'দিন ধরে বড্ড বেশি মানসিক চাপের মধ্যে আছিস।

তোর এখন খুশি থাকার কথা।

বাড়ি যা, গিয়ে একটু শান্তিতে ঘুমা।

আমরা ধরা পড়ে যাবো না তো?

সব ঝামেলা চুকে গেছে।

আর কোনো সমস্যা হবে না।

এই! ভিজে যাবি তো?

ঠিক আছে, কিছু হবে না।

- তাহলে আসছি রে। - সাবধানে যাস।

এই, দৌড়িও না, আমি আসছি। এসো।

তুমি একদম ভিজে গেছো।

ধন্যা

ফোনটা ধরো।

ঠিক আছে ম্যাডাম, থাক।

ছাত্রাবস্থায় সংসারে খুব অভাব ছিল, তাই...

বাড়ি রং করার কাজ করতাম।

এক বড়লোকের বাড়িতে কাজ করতে গিয়েছিলাম... সেখানেই ধন্যার সাথে আলাপ।

জানেন তো,

কিছু মানুষ থাকে যারা যেকোনো পরিস্থিতিতে পাশে থাকে।

ও ঠিক তেমনই।

কিন্তু ও আমার কপালে নেই।

আমার ট্রেনিং শেষ করে পুলিশে যোগ দিতে দিতে,

ওর বাড়ির লোক বিয়ে ঠিক করে ফেলেছিল।

কোনোমতে পাত্রকে বুঝিয়ে রাজি করাই,

আর ও বিয়ে ভেঙে দেয়।

কিন্তু তারপর থেকেই,

ওর ভাই এই নিয়ে ওর ওপর অত্যাচার শুরু করেছে।

ওরা আমাকে কিছুতেই মেনে নেবে না।

বৃষ্টি দেখতে আপনার বেশ ভালো লাগে মনে হয়।

না, শ্রীনাথ।

বৃষ্টি সবার চোখে এক রকম নয়।

আপনি বললেন, ঝামেলা চুকে গেছে। সত্যিই মিটেছে তো?

কিছুই শেষ হয়নি।

অন্তত আজকে একটা দিনের জন্য হলেও,

মেয়েটা শান্তিতে ঘুমোক।

উনি হ্যারিস মিরান।

ওনাকে আমি খুব ভালো করেই চিনি।

আমার স্বামী আব্রাহাম,

ওঁর মস্ত বড় ভক্ত ছিল।

ওঁর লেখা বইটাই আমাকে বেঁচে থাকার অনেক সাহস জুগিয়েছিল।

কিন্তু এখন...

উনি থামবেন না...

যতক্ষণ না এর শেষ দেখছেন।

কী ব্যাপার?

তুমি তো বললে, কোনো অভিযোগ নেই।

আমি অভিযোগ জানাতে আসি নি।

সেলিমের গাড়িটা ছাড়িয়ে নিয়ে যেতে এসেছি।

ওহ, লরি মালিক সেলিম হায়দার!

এখন ওর হয়ে কাজ করছো বুঝি?

স্যার, ওসব জেনে আপনার কাজ নেই।

এটা কোর্টের অর্ডার। সেই অনুযায়ী কাজটা করে দিন।

যে আজ্ঞা, জাঁহাপনা!

- আলিনা? - স্যার?

- ওকেচিনতে পারছো? - হ্যাঁ।

ব্যাপারটা একটু মিটিয়ে দাও।

তোমাদের তো পূর্বপরিচয় আছে, তাই না?

স্যার, এই ফাইলটা ছিল না তো।

এখনই করে দিচ্ছি।

আইডিটা দেখান।

আইডির জেরক্স আছে?

নথির সাথে জমা রাখতে হবে।

জেরক্স নিয়ে আসছি এখনই। বাকি কাগজগুলো রেডি রাখুন।

সব ঠিক আছে, স্যার?

ম্যাডাম! কী ব্যাপার?

অভিযোগ জানাতে এসেছে নাকি?

- দিব্যা, এদিকে আয়। - কী হয়েছে?

একটা সমস্যা হয়েছে।

ও ওই লরিটা ছেড়ে দেওয়ার কোর্ট অর্ডার এনেছে।

হে ভগবান!

ও যদি লরিটা নিয়ে যায়,

তাহলে সব আমাদের হাতের বাইরে চলে যাবে।

কিছু একটা করতেই হবে।

আর একটা রাত সময় পেলে ওটা অন্য কোথাও সরিয়ে নেওয়া যেত।

এই যে, জেরক্স কপি!

ফাইলটা কোথায়?

এই তাকের মধ্যেই থাকবে। খুঁজতে বললাম না তোকে?

- আমি তো এখানেই রেখেছিলাম। - কোথায় গেল তাহলে?

- হয়েছে কাজটা? - হ্যাঁ।

স্যার, একটা সই লাগবে।

পেনটা দাও।

স্যার, চাবিটা?

- ওই কি-হোল্ডারে থাকার কথা। - আচ্ছা, স্যার।

কোন চাবিটা?

চাবি তো নেই এখানে।

ভালো করে দেখো। ওখানেই থাকবে।

আরে, দেখছি তো! চাবি এখানে নেই।

এখন উপায়?

কাল আসুন। সব ঠিকঠাক করে রাখবো।

দরকার নেই।

আমার কাছে ডুপ্লিকেট চাবি আছে।

আমার এখানকার নিয়মকানুন সব জানা আছে।

আসল চাবিটা পেলে সেলিমকে খবর দিয়ে দেবেন।

লরিটা ওখানেই আছে তো?

এই!

ওকে বলো শুধু গাড়ি নিয়ে যাবে, বালি নয়।

বালিটা গাছের নিচে খালাস করে দিক। ওদিকটা সমান করা যাবে।

- স্যার, সত্যিই বালি নামাতে বলবো? - হ্যাঁ!

কোর্ট থেকে শুধু লরি ছাড়ার নির্দেশ দিয়েছে।

এক কণা বালিও আমি কাউকে নিতে দিচ্ছি না।

কী ব্যাপার, স্যার?

বালিটা এখানে নামিয়ে দিয়ে যাও।

বালির নিকুচি করেছে!

হাইড্রোলিক ঠিকমত কাজ করছে না।

স্যার, হাইড্রোলিকে সমস্যা দেখা দিয়েছে

শুনেছি।

আপাতত যাও তুমি।

সেলিমকে বোলো, আমি দেখা করবো।

আমার বাড়ির কাজ চলছে। মনে থাকবে?

- আচ্ছা স্যার। - যেতে পারো।

স্যার, ঠিক ওখানে।

এটা ধরো।

দিব্যা।

নজর রাখিস, ঠিক আছে?

দস্তানাটা দে।

এই নে।

এই! এই নাও।

স্যার!

সাইনু!

দ্বিতীয় লরিটায় কিছু একটা রয়েছে।

হ্যাঁ!

ওর লাশই হবে হয়তো!

তাহলে আর দেরি কিসের?

এখনই গ্রেপ্তার করছি না কেন ওদের?

- নইলে হয়তো আবার... - এখনই নয়, প্রবীণ।

অপরাধীদের দিয়েই লাশটা উদ্ধার করাতে হবে আমাদের।

তবেই কেসটা আদালতে পোক্ত হবে।

স্যার, তদন্ত এগিয়ে নিয়ে যেতে হলে লরিটা ছাড়ানো দরকার।

ওরা কিছু একটা লুকাচ্ছে।

সেটা প্রমাণ করতেই রিলিজ অর্ডারটা আমার দরকার।

এই লরির মালিক কে?

সেলিম হায়দার।

- সাইনু! - হ্যাঁ স্যার?

আরডিওর সুরতহাল শেষ হওয়ামাত্রই,

লাশটা অবিলম্বে ময়নাতদন্তের জন্য পাঠাতে হবে।

আচ্ছা।

এটা কী?

গাড়ির ওপর থেকে পাওয়া গেছে, স্যার।

খোলো এটা।

হাতির দাঁত।

এটা লিখে নাও।

গাড়িটা আবার ভালো করে পরীক্ষা করো।

- স্যার? - হ্যাঁ?

মনে হচ্ছে, এটা থানায় রাখা কোনো মামলার বাজেয়াপ্ত সম্পত্তি।

আমরাই ওটা আটক করেছিলাম।

বুঝেছি।

স্যার, সুরতহাল রিপোর্টে হাতির দাঁতের কথা উল্লেখ করবেন না।

স্যার, কী বলছেন এসব?

এটা বাদ দেবো কীভাবে?

স্যার, এটা ওদের চক্রান্তের একটা অংশ।

ওরা দাবি করবে, এই হাতির দাঁত চুরি করতেই এসেছিল।

তখন ধারা ৩০২ থেকে বদলে ধারা ৩৭৯ হয়ে যাবে।

খুনের মামলা থেকে নেমে হয়ে দাঁড়াবে, কেসের জিনিস চুরির মামলায়।

স্যার, এটা নথিতে তুলবেন না।

তাহলে কেস টিকবে না।

তা কী করে হয়, স্যার?

রিপোর্টে না লিখলে আমার চাকরি চলে যাবে।

যাই হোক, ওরাও তো পুলিশকর্মী।

- নমস্কার, স্যার! - নমস্কার!

লাশটা এক সপ্তাহেরও বেশি পুরনো।

বুকে একটা গুলির ক্ষতচিহ্ন রয়েছে বলে মনে হচ্ছে।

মৃত্যুর কারণ গুলির আঘাত।

আর কিছু পাওয়া গেছে?

ক্ষতের চারপাশের জামায় বারুদের দাগ রয়েছে।

মানে গানপাউডার ট্যাটুইং।

চারপাশটা কিছুটা পুড়েও গেছে।

তার মানে, গুলিটা একেবারে কাছ থেকে চালানো হয়েছিল।

বুলেট ঢোকার ক্ষতটা দেড় সেন্টিমিটার বাই দেড় সেন্টিমিটার...

আর গুলিটা হৃৎপিণ্ডের ডান নিলয়ের পেছনের দেয়াল...

ভেদ করে ভেতরে ঢুকে গেছে।

- আচ্ছা, বেশ। - কিন্তু সমস্যা সেটা নয়।

আরেকটা গোলমাল আছে।

কী সেটা?

গুলি ঢোকার ক্ষতচিহ্ন আছে ঠিকই,

কিন্তু...

বেরোনোর কোনো চিহ্ন নেই।

কী?

গুলিটা শরীর ভেদ করে ঢুকেছে,

কিন্তু বাইরে বেরোয়নি।

আবার শরীরের ভেতরেও কোনো বুলেট নেই।

জেভিয়ার, পিস্তলের নম্বর আর বিবরণ আমাকে এখনই পাঠাও।

স্যার, থানায় দুটো রিভলভার আছে।

একটা সিআই স্যারের কাছে,

আর অন্যটা গার্ড ডিউটিতে থাকা দিব্যার কাছে।

ঠিক!

তাহলে ওর বন্দুক থেকে একটা গুলি কম থাকার কথা।

গার্ড রেজিস্টারটা আনো।

অ্যালেক্স, রেজিস্টারটা নিয়ে এসো।

স্যার।

সাইনু!

স্যার,

আট রাউন্ড গুলি থাকার কথা।

স্যার...

এতে তো আটটা গুলিই রয়েছে।

- বন্দুকটা সিল করো! - আচ্ছা, স্যার!

স্যার!

চারজনকেই জেরা করার ঘরে নিয়ে এসো।

- মিডিয়া যেন এর মধ্যে না ঢোকে। - ঠিক আছে।

স্যার!

গুলির হিসেব তো ঠিকঠাকই মিলিয়েছো।

বেশ ভালো!

বাড়তি গুলিটা কোথা থেকে জোগাড় করলে?

ফায়ারিং ক্যাম্প থেকে?

বলো।

বাইশ তারিখ রাতে জয়প্রকাশকে কোথায় দেখেছিলে তোমরা?

এই বন্দুক থেকে চালানো গুলির আঘাতেই...

জয়প্রকাশের মৃত্যু হয়েছে।

বলো।

তোমাদের মধ্যে গুলি কে চালিয়েছে?

কেউ যদি মুখ না খোলো,

তাহলে সব দায় গিয়ে পড়বে দিব্যার ঘাড়ে,

কারণ এই বন্দুকের হেফাজতের দায়িত্ব ওরই ছিল।

মুখ কীভাবে খোলাতে হয় ভালোই জানি...

কিন্তু সেটাকে ছুতো বানিয়ে তোমরা পার পেয়ে যাবে।

স্যার, যা খুশি করার করুন।

আমরা কিচ্ছু জানি না।

আমরা কিছুই জানি না, স্যার।

বুঝেছি।

তোমাদের কেউ কিছুই জানে না।

তাহলে দিব্যা, তুমি বলো।

এখন একমাত্র তোমাকেই উত্তর দিতে হবে।

জেভিয়ারের বয়ান অনুযায়ী, সেদিন রাতে থানা ছেড়ে যাওয়ার আগে...

সবকিছু ও তোমার হাতে বুঝিয়ে দিয়ে যায়।

আর ও যখন ফেরে, তখন বাকি তিনজনও তোমার সাথেই ছিল।

না স্যার। জেভিয়ার স্যার যখন আসেন, তখন আমি বেরোতে যাচ্ছিলাম।

কথাটা সত্যি, জেভিয়ার?

সেটা সত্যি। কিন্তু...

কিন্তু উনি যখন ফিরে আসেন, তখন আমি একাই ছিলাম।

এই!

আমাকে এসব মিথ্যে গল্প গেলাতে আসবে না।

- বোঝা গেছে? - আমি সত্যি কথাই বলছি, স্যার।

আজি স্যারও একটু দেরিতে এসেছিলেন।

থানা থেকে বেরিয়ে আসার পর, সেখানে কী ঘটেছিল, আমি কিছুই জানি না।

আমাদের ওপর কেন দোষ চাপাচ্ছেন, স্যার?

এই!

- থামো! - দিব্যা!

থামো বলছি!

বেরিয়ে যাও এখান থেকে!

স্যার, এই মেয়েটা...

বেরোও!

তুমি বসো! বসো!

আলিনা,

ঘাবড়িও না।

কী ঘটেছিল, আমাকে বলো।

সাহস করে বলে ফেলো।

কথাটা সত্যি, স্যার।

আমরাই ওকে মেরেছি।

কিন্তু আত্মরক্ষা করতে গিয়ে দুর্ঘটনাবশত এটা ঘটে যায়।

স্যার.. এখান থেকে কোনোভাবে আমাদের বাঁচাতে পারেন না?

তুমি তো জানো, আলিনা...

কখনও কখনও একজন আদর্শ পুলিশ অফিসারকেও...

সত্য উন্মোচনের স্বার্থে মানবিকতা বিসর্জন দিতে হয়।

কারণ তিনি একটা প্রশাসনিক ব্যবস্থার অংশ।

এটা তো তোমার জানা কথাই, নতুন করে বোঝাতে হবে?

বেশ, স্যার।

যদি তা-ই হয়,

তাহলে আপনার কোনো প্রশ্নের উত্তর আর আমরা দেবো না।

আমাদের সাথে আপনি যাই করুন না কেন।

আমরা আর একটা কথাও বলবো না।

জেভিয়ার স্যারকে ফোন করে জেনে নাও, আর কতক্ষণ ওনার আসতে লাগবে।

বুলেটটা কোথায়?

আপনাকে আগেই বলেছি, স্যার।

আপনার কোনো প্রশ্নের উত্তর আমি দেবো না।

আপনার ওই প্রশাসনিক ব্যবস্থার বলি আমরা কিছুতেই হবো না, স্যার।

মেরে ফেললেও, আমাদের মুখ থেকে একটা কথাও বার করতে পারবেন না।

অপরাধ স্বীকার করার পরেও...

এত আত্মবিশ্বাস তোমার! প্রশংসনীয়।

'সত্য, ন্যায় ও আইন'।

লেখক হ্যারিস মিরান।

পৃষ্ঠা ২০৪।

সাক্ষ্য আইনের ২৫ নম্বর ধারায় বলা হয়েছে,

পুলিশের কাছে দেওয়া কোনো স্বীকারোক্তি গ্রহণযোগ্য নয়।

সাক্ষ্য আইনের ২৬ নম্বর ধারা অনুযায়ী,

পুলিশ হেফাজতে দেওয়া কোনো জবানবন্দিও আদালতে গ্রহণযোগ্য নয়।

আদালতে এর কোনো ভিত্তি থাকবে না।

ওই বইতে যা লেখা নেই, এমন একটা কথা বলি?

সাক্ষ্য আইনের ২৭ নম্বর ধারা।

ধারা ২৫ আর ২৬-এ যাই বলা থাকুক না কেন,

সেই তথ্যের ভিত্তিতে উদ্ধার করা অস্ত্র আদালতে প্রমাণ হিসেবে পুরোপুরি গ্রহণযোগ্য।

আমার বইতে যতটুকু পড়েছো, শুধু সেটুকুই জানো।

বুলেটটা কোথায় তা তোমার মুখে বলতে হবে না।

সেটা আমি নিজেই তোমার মুখ দিয়ে বলাবো।

স্যার, এটা একবার দেখুন।

চার পুলিশকর্মী গ্রেপ্তার।

খবরটা কোথা থেকে ফাঁস হলো কিছুই বুঝতে পারছি না।

হ্যারিস মিরান কি অভিযুক্তদের বাঁচানোর চেষ্টা করছেন?

অভিযুক্তদের জেরা করা হচ্ছে।

কাউকে আড়াল করার দায় পুলিশ বিভাগের নেই।

রাজ্যের অন্যতম সেরা ও দক্ষ অফিসারের হাতে...

এই মামলার তদন্তভার রয়েছে।

আর কোনো প্রশ্নের উত্তর দেওয়া যাবে না।

শ্রীনাথ,

তোমার বয়স এখনও অনেক কম।

পুরো ভবিষ্যৎ সামনে পড়ে রয়েছে।

যতটুকু জানো, সত্যিটা বলে দাও।

বুলেটটা কোথায়?

আমি সত্যিই কিছু জানি না, স্যার।

সময় নষ্ট কোরো না।

বুলেটটা কোথায় রেখেছো?

আমি সত্যি বলছি স্যার, জানি না।

জানি, কাজটা নিচু মনের পরিচয়।

এই ছবি যদি একবার মিডিয়ায় যায়, কী পরিণতি হবে ধারণা আছে?

বিরাট বড় কেলেঙ্কারি হয়ে যাবে।

পরিবার এমনিতেই অভাবে চলছে, তাই না?

এসব ধাক্কা ওরা সামলাতে পারবে তো, শ্রীনাথ?

তোমার পুরনো প্রেমিকা, তাই না?

বলো! বুলেটটা কোথায়?

কোথায় ওটা?

বলো আমায়!!

সেদিন আসলে কী ঘটেছিল সত্যিটা যদি আমাকে খুলে বলো,

তাহলে তোমাকে রাজসাক্ষী করার কথা ভেবে দেখতে পারি।

নইলে তোমার সন্তানকে হয়তো দিব্যার কোলে জেলখানাতেই মানুষ হতে হবে।

একবার ভেবে দেখো।

কোথায় ওটা?

বলো এবার!

সেই বুলেটটা কোথায়?

স্যার, আমার রাজসাক্ষী হওয়ার কোনো ইচ্ছে নেই।

আপনাকে বারবার বলছি, আমি কিচ্ছু জানি না।

লাশ থেকে যে বুলেট বের করে নেওয়া হয়েছে, সেটাই আপনার মুখে প্রথম শুনলাম।

বুলেটটা কোথায় আমি জানি না, স্যার।

এই ছবি দেখিয়ে যদি আমাকে ভয় দেখানোর চেষ্টা করেন, কোনো লাভ হবে না।

আমি ওকেই বিয়ে করব।

ভয় পাওয়ার দিন আমার শেষ হয়ে গেছে।

মেজর বাসুদেবন হত্যা মামলায় নতুন মোড়।

নাট্টাকম থানা থেকে উদ্ধার হওয়া মরদেহ দুটি...

মূল অভিযুক্তদের বলেই শনাক্ত করা হয়েছে।

তবে সাম্প্রতিক তথ্যে জানা গেছে,

প্রাথমিক তদন্তে স্পষ্ট যে, নাট্টাকম থানার চারজন পুলিশকর্মীও...

এই হত্যাকাণ্ডের সাথে জড়িত।

তদন্তে নেতৃত্ব দিচ্ছেন, ডিওয়াইএসপি হ্যারিস মিরান।

নাট্টাকম থানার এএসআই এবং তিন কনস্টেবলকে...

ইতিমধ্যেই গ্রেপ্তার করা হয়েছে।

এএসআই দাসন পুথেনভিড, সিপিও.....

এই! এদিকে এসো!

কী হয়েছে?

কোনো খবর মিললো?

স্যার, বুলেটের ব্যাপারে শুধু আলিনাই জানে।

সবকিছু খুব ঠান্ডা মাথায় ছকা হয়েছে।

সাধারণ অপরাধীদের মুখ থেকে সত্যি আদায় করা সহজ।

কিন্তু অপরাধী যখন উর্দির আড়ালে থাকে,

তখন কাজটা একটু কঠিন।

চলো!

এখন কী করতে হবে আমার জানা আছে...

তুমি!

আমারই বই আমার বিরুদ্ধেই ব্যবহার করছো, তাই তো?

স্যার।

সত্যিটা কীভাবে বার করতে হয়, আমার জানা আছে।

এমন এক উপায়, যা দিয়ে জঙ্গিদের মুখ থেকেও কথা বের করা যায়।

মুখে তোমায় কিছু বলতে হবে না।

আমি নিজেই বলিয়ে নেবো।

নার্কো-অ্যানালিসিস টেস্টের কথা বলছেন, স্যার?

তা হবে না। তার জন্য আমার অনুমতির প্রয়োজন।

তোমার অনুমতির তোয়াক্কা আমি করি না!

নিয়ে যাও একে।

এর চেয়ে বড় বড় বাঘা অপরাধী সামলে এসেছি। তুমি তাদের তুলনায় কিছুই নও!

- স্যার, একটু এদিকে আসবেন? - কী ব্যাপার?

স্যার, এতে কোনো সমস্যা হবে না তো?

কীসের সমস্যা?

মানে... অনুমতি ছাড়া... সরকারি নিয়মকানুন...

আমার চাকরির ওপর যেন কোনো আঁচ না আসে।

ডাক্তারবাবু, আপনার কোনো সমস্যা হবে না।

এটা আমরা সাক্ষ্য হিসেবে নথিবদ্ধ করবো না।

আমার শুধু একটা কথাই জানা দরকার,

সেই বুলেটটা কোথায় আছে।

শুধু সেটুকুই চাই।

প্লিজ!

আলিনা।

- আলিনা। - হ্যাঁ।

তোমার পুরো নাম কী?

আলিনা আব্রাহাম।

তুমিই কি জয়প্রকাশকে খুন করেছো?

হ্যাঁ।

গুলি চালিয়ে মেরেছিলে, তাই না?

হ্যাঁ, স্যার।

তাহলে বুলেটটা কোথায়?

বুলেট...

বুলেটটা কোথায় রেখেছো?

বুলেট...

আমার বাড়িতে...

বুলেট...

হ্যাঁ, বুলেটটা কোথায়?

বুলেট...

একটা বই...

কোন বইতে?

আমার বাড়িতে...

অনিচ্ছাকৃতভাবে হয়ে গেছে, স্যার।

যেভাবেই হোক, ওর মরারই কথা ছিল।

আমি ছাড়া আমার মেয়ের কেউ নেই।

মেয়েটা একদম একা হয়ে যাবে না?

ও কি আমাকে খুঁজবে না?

জানতে চাইবে...

অ্যাবি...

- আমার মেয়েটা! - শান্ত হও, শান্ত হও।

ও আমার খোঁজ করবে।

সত্য, ন্যায় ও আইন হ্যারিস মিরান

পুলিশ সিপিও আলিনার বাড়ি থেকে বুলেট উদ্ধার করেছে।

সুনির্দিষ্ট প্রমাণ ছাড়া আসামিকে আদালতে হাজির না করার জন্য হ্যারিস মিরান সুখ্যাত।

তিনি সেই সুনাম বজায় রেখেই কাজ করেছেন।

নাট্টাকমে পুলিশ হেফাজতে মৃত্যুর ঘটনায়,

জয়প্রকাশের যে বুলেটের আঘাতে মৃত্যু হয়েছিল,

সিপিও আলিনার বাড়ি থেকে ক্রাইম ব্রাঞ্চ সেই বুলেটটিই উদ্ধার করেছে।

আলিনার পরিবারের অভিযোগ, এটি একটি পরিকল্পিত ষড়যন্ত্র।

মেয়েটা খুব ভালো।

ও কোনোভাবেই এমন অপরাধ করতে পারে না।

পুলিশ বানিয়ে বানিয়ে এসব বলছে।

কেঁদো না মা, তোমার মা ঠিক চলে আসবে।

মা আসবে, সোনা।

মা ঠিক আসবে।

দেখেছেন তো, ঠিক যেমনটা বলেছিলেন,

মুহূর্তের মধ্যে উনি কেসের সমাধান করে দিলেন।

হ্যারিস মিরানের মতো অফিসারেরা আমাদের পুলিশ বাহিনীর গর্ব।

মামলার জট খুললেও একটা প্রশ্ন থেকেই যাচ্ছে।

আসল অপরাধটা কে করেছে?

নিশ্চয়ই চারজনে মিলে একসাথে খুন করে নি।

ঘটনার দিন যার জিম্মায় অস্ত্রটা ছিল,

তাকেই মূল অভিযুক্ত হিসেবে গণ্য করা হবে।

সাধারণত গার্ড ডিউটিতে থাকা কর্মীর হেফাজতেই অস্ত্র রাখা থাকে।

যতদূর জানি, সেদিন গার্ড ডিউটিতে ছিলেন সিপিও দিব্যা।

স্যার,

ওনার কাছে বন্দুক ছিল বলেই উনি গুলি চালিয়েছেন, এমনটা তো নাও হতে পারে।

এটা নিতান্তই অমূলক অভিযোগ।

মনে হতে পারে সব দোষ দিব্যার ঘাড়ে চাপানোর একটা চেষ্টা চলছে।

এই বিষয়ে একজন আইনজীবীর মতামত নেওয়া যাক।

অ্যাডভোকেট রাজীব, এই বিষয়ে আপনার বক্তব্য কী?

কে গুলি চালিয়েছে, শুধু সেটাই বড় কথা নয়।

যারা সহযোগিতা করেছে, তারাও সমপরিমাণে অপরাধী।

আসল সমস্যা সেখানেই।

প্রমাণের প্রয়োজন আছে।

শুধু বুলেট খুঁজে পেলেই তা অকাট্য প্রমাণ হয়ে যায় না।

আদালতে তা সন্দেহাতীতভাবে প্রমাণ করতে হবে।

উদ্ধার হওয়া বুলেটের ব্যালেস্টিক পরীক্ষা...

আগামী কয়েক দিনের মধ্যেই সম্পন্ন হবে।

ওই আমাদের দুজনের আর এই অসুস্থ ছেলেটার একমাত্র ভরসা।

তোমার মা চলে আসবে।

ভেবো না, মা ঠিক চলে আসবে।

মা চলে আসবে।

এবারের মতো ছেড়ে দেওয়া যায় না, বাবা?

হুহ?

বাবা, জয়প্রকাশ শেষ পর্যন্ত দেশের এক জওয়ানকে খুন করেছিল।

আমার মনে হয়, অনিচ্ছাকৃতভাবেই ওরা এই বিপদে জড়িয়ে পড়েছে।

বাচ্চাটার কান্না সহ্য করা যাচ্ছে না।

- বাবা? - কী?

- বাবা, শুনছো? - হ্যাঁ?

সত্যিই কি আর কোনো উপায় নেই?

একটু ভেবে দেখো, প্লিজ।

উপায় একটা আছে।

এই তো।

ব্যারেলের ওপর শুধু একটা দাগ টেনে দিলেই, ওদের ভাগ্য পুরোপুরি বদলে যেতে পারে।

কিন্তু আমি কেন নতিস্বীকার করবো?

চাকরিজীবনে হ্যারিস মিরান কোনো মামলায় হারে নি,

আর এখনও কোনো মামলাতে হারার কোনো ইচ্ছে আমার নেই।

মা, এসো!

স্যার,

এক নম্বর,

পিস্তল নম্বর ১৬৩৪৭২৭১,

যা খুনের কাজে ব্যবহৃত অস্ত্র।

দুই নম্বর,

দেহের ভেতর থেকে উদ্ধার হওয়া বুলেট।

এগুলোই এই হত্যাকাণ্ডের সাথে ওদের যোগসূত্র প্রমাণের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ সূত্র।

শুধু গুরুত্বপূর্ণ বললেই চলবে না, মিস্টার হ্যারিস।

বাকি সবকিছুই পারিপার্শ্বিক সাক্ষ্যপ্রমাণ মাত্র।

- আদালতে তা টিকবে না। - স্যার...

বিজ্ঞানসম্মতভাবে এটা প্রমাণ করার দুটো স্বীকৃত উপায় রয়েছে।

প্রথমত, উদ্ধার হওয়া বুলেটে মানুষের রক্তের উপস্থিতি পরীক্ষা করা।

বেনজিডিন টেস্টের মাধ্যমেই তা নিশ্চিত করা সম্ভব।

হ্যাঁ, এগিয়ে যান।

নাট্টাকম হেফাজতে মৃত্যুর মামলায়,

বিচারপতি দেবনারায়ণের নেতৃত্বাধীন জুডিশিয়াল কমিশন...

সরাসরি ব্যালেস্টিক প্রমাণ খতিয়ে দেখছে।

মেজর বাসুদেবন হত্যা মামলার তদন্ত...

এখন এক অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ মোড়ে এসে পৌঁছেছে।

স্যার,

রিপোর্ট পজিটিভ এসেছে।

হ্যারিস মিরানের স্বপক্ষে বেনজিডিন পরীক্ষার ফল এসেছে।

এবার ব্যালেস্টিক পরীক্ষাই নির্ধারণ করবে প্রকৃত অপরাধী কে।

কিন্তু এই ব্যালেস্টিক পরীক্ষা আসলে কী?

ট্রিগার টেপা হলে,

বন্দুকের ভেতরের স্প্রিং সজোরে পারকাশন ক্যাপে আঘাত করে।

ক্যাপের ভেতরের রাসায়নিক পদার্থ জ্বলে ওঠে,

এবং প্রচণ্ড চাপের সৃষ্টি করে...

যা বুলেটকে তীব্র গতিতে ব্যারেলের মধ্য দিয়ে ঠেলে বের করে দেয়।

ব্যারেলের ভেতরে বিশেষ বৈশিষ্ট্য থাকে, যাকে বলে রাইফলিং এফেক্ট।

রাইফেলড বন্দুকের ব্যারেলের খাঁজগুলোর একটি নির্দিষ্ট ও অনন্য বৈশিষ্ট্য থাকে।

এর অর্থ হলো, কোনো নির্দিষ্ট বন্দুক থেকে ছোড়া প্রতিটি বুলেটের গায়েই...

একই ধরনের খাঁজ বা রাইফলিংয়ের দাগ বসে যায়।

সহজ কথায় বলতে গেলে, প্রতিটি বুলেটেরই নিজস্ব একটি আঙুলের ছাপ থাকে।

আর এই খাঁজের দাগ প্রতিটি অস্ত্রের ক্ষেত্রেই অনন্য ও আলাদা।

দ্বিতীয় ধাপটি সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ।

আমাদের প্রমাণ করতে হবে, যে উদ্ধার হওয়া বুলেটটি...

ঠিক এই বন্দুক থেকেই ছোড়া হয়েছিল।

তার জন্য অভিযুক্তদের থেকে উদ্ধার করা পিস্তল দিয়ে...

ছয় রাউন্ড পরীক্ষামূলক গুলি ছুঁড়তে হবে।

ঘটনাস্থলের বুলেট টেস্ট বুলেট

- মিলছে না, স্যার। - কী?

অসম্ভব!

অন্য বুলেট দিয়ে আবার পরীক্ষা করো।

না, স্যার।

ছ'টা টেস্ট বুলেটের দাগই পরস্পরের সাথে মিলে যাচ্ছে।

কিন্তু ঘটনাস্থল থেকে উদ্ধার হওয়া বুলেটটা...

এগুলোর সাথে মিলছে না।

বুলেটের গায়ের খাঁজের দাগ যদি বিকৃত করে দেওয়া হয়ে থাকে?

না স্যার, কোনোভাবেই সম্ভব নয়!

তাহলে বুলেটের গায়ে রক্তের দাগ এল কোথা থেকে?

স্যার, বুলেটে সামান্য মরচে ধরে থাকলেও...

বেনজিডিন টেস্ট পজিটিভ আসতে পারে।

আরও বিস্তারিত পরীক্ষার জন্য আমরা পাঠাতে পারি, স্যার।

ক্ষমা করবেন, স্যার।

নাট্টাকম হেফাজতে মৃত্যুর মামলায় এক অত্যন্ত নাটকীয় মোড়।

প্রমাণিত হয়েছে যে মূল অভিযুক্তের বাড়ি থেকে উদ্ধার হওয়া বুলেটটি,

খুনের অভিযোগে চিহ্নিত বন্দুক থেকে ছোড়া হয়নি।

আদালত পর্যন্ত পৌঁছানোর আগেই কি তবে ভেঙে পড়তে চলেছে পুরো মামলাটি?

ভাবানুবাদ ও সম্পাদনা : সুদীপ চক্রবর্তী।

জেলা আদালত চত্বর কোট্টায়াম

আমার বাংলা সাবটাইটেল ভালো লাগলে সাবসোর্সে গুড রেটিং দেবেন। সবাই ভালো থাকবেন।

- তুমি এগোও। আমি আসছি। - আচ্ছা, ম্যাডাম।

বেঁচে গেলে, তাই তো?

আমি নতুন একটা বই লিখতে শুরু করেছি।

এই মামলার আসল পরিণতির উল্লেখ তাতেই থাকবে।

কোনো না কোনো দিন অপরাধের সত্য ফাঁস হবেই।

আমি সেই দিনটার অপেক্ষায় থাকবো।

তুমি অ্যাবির স্ত্রী, তাই না?

আমাকে চিনতে পারছো?

আমি সানাল। আমরা একসাথে ক্যাম্পে ছিলাম।

কোনো চিন্তা কোরো না। কিছু প্রয়োজন হলে আমাকে নির্দ্বিধায় জানিও।

আসল বুলেটটা।

আমার কাছে আছে।

নষ্ট করার সময় খুব সাবধানে থেকো, কেমন?

আচ্ছা।

সত্য, ন্যায় ও আইন হ্যারিস মিরান

বারংবার জেরা করা সত্ত্বেও,

অভিযুক্ত অপরাধের স্থান সম্পর্কে কোনো তথ্য দেয়নি।

বহু কাঠখড় পুড়িয়ে,

নার্কো-অ্যানালিসিস টেস্ট করানোর জন্য আদালত থেকে অনুমতি আদায় করা হয়।

তামিলনাড়ুর এক জেলে আমরা ওর সন্ধান পাই।

কিন্তু সে তীব্র চেতনানাশক মাদক সেবন করেছিল।

তাই নার্কো-অ্যানালিসিস পরীক্ষার জন্য...

আমাদের আরও একটা দিন অপেক্ষা করতে হয়েছিল।

নার্কো অ্যানালিসিসে কোন ড্রাগ ব্যবহার করা হয়?

সোডিয়াম পেন্টোথাল।

সোডিয়াম পেন্টোথাল... প্রয়োগ করা হয়...

মাদকাসক্ত ব্যক্তির যদি নার্কো-টেস্ট করা সম্ভব না হয়,

তার মানে, তারা এমন কিছু গ্রহণ করেছে...

যা পরীক্ষায় ওষুধের প্রভাবকে অকার্যকর করে দেয়?

কোনো ধরনের উত্তেজক... অ্যাম্ফেটামিন জাতীয়...

অ্যাম্ফেটামিন...

মেথ... মেথাম্ফেটামিন।

এমডিএমএ।

নার্কো-অ্যানালিসিস টেস্ট করাবেন তো, স্যার?

তাই করতে পারবেন না। তার জন্য আমার অনুমতির প্রয়োজন।

তোমার অনুমতির তোয়াক্কা আমি করি না!

নিয়ে যাও একে।

- ওঠো! - ম্যাডাম!

একটু বাথরুমে যাবো। প্লিজ...

যাও।

আলিনা।

বুলেটটা কোথায়?

বুলেট... বইয়ের মধ্যে!

এক বৃষ্টির দিনে,

বাবা-মা আমাকে একা ফেলে চলে গিয়েছিল।

তারপর স্বামী আব্রাহামকে হারালাম।

একা থাকার যন্ত্রণা, আমার খুব ভালো জানা আছে, স্যার।

আমার সন্তানকে কোনোদিন সেই নরকযন্ত্রণা পেতে দেবো না।

ওকে একা ফেলে আমি কোথাও যাবো না, স্যার।

স্যার,

আমি ক্লার্কের চাকরি করতে চাই না।

আমার অ্যাবির মতই,

আমিও উর্দি পরে পুলিশ বাহিনীতেই যোগ দিতে চাই।

Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.