All language subtitles for Viswanath & Sons Bsub by Sudip

af Afrikaans
ak Akan
sq Albanian
am Amharic
ar Arabic
hy Armenian
az Azerbaijani
eu Basque
be Belarusian
bem Bemba
bn Bengali
bh Bihari
bs Bosnian
br Breton
bg Bulgarian
km Cambodian
ca Catalan
ceb Cebuano
chr Cherokee
ny Chichewa
zh-CN Chinese (Simplified)
zh-TW Chinese (Traditional)
co Corsican
hr Croatian
cs Czech
da Danish
nl Dutch
en English
eo Esperanto
et Estonian
ee Ewe
fo Faroese
tl Filipino
fi Finnish
fr French
fy Frisian
gaa Ga
gl Galician
ka Georgian
de German
el Greek
gn Guarani
gu Gujarati
ht Haitian Creole
ha Hausa
haw Hawaiian
iw Hebrew
hi Hindi
hmn Hmong
hu Hungarian
is Icelandic
ig Igbo
id Indonesian Download
ia Interlingua
ga Irish
it Italian
ja Japanese
jw Javanese
kn Kannada
kk Kazakh
rw Kinyarwanda
rn Kirundi
kg Kongo
ko Korean
kri Krio (Sierra Leone)
ku Kurdish
ckb Kurdish (Soranî)
ky Kyrgyz
lo Laothian
la Latin
lv Latvian
ln Lingala
lt Lithuanian
loz Lozi
lg Luganda
ach Luo
lb Luxembourgish
mk Macedonian
mg Malagasy
ms Malay
ml Malayalam
mt Maltese
mi Maori
mr Marathi
mfe Mauritian Creole
mo Moldavian
mn Mongolian
my Myanmar (Burmese)
sr-ME Montenegrin
ne Nepali
pcm Nigerian Pidgin
nso Northern Sotho
no Norwegian
nn Norwegian (Nynorsk)
oc Occitan
or Oriya
om Oromo
ps Pashto
fa Persian
pl Polish
pt-BR Portuguese (Brazil)
pt Portuguese (Portugal)
pa Punjabi
qu Quechua
ro Romanian
rm Romansh
nyn Runyakitara
ru Russian
sm Samoan
gd Scots Gaelic
sr Serbian
sh Serbo-Croatian
st Sesotho
tn Setswana
crs Seychellois Creole
sn Shona
sd Sindhi
si Sinhalese
sk Slovak
sl Slovenian
so Somali
es Spanish
es-419 Spanish (Latin American)
su Sundanese
sw Swahili
sv Swedish
tg Tajik
ta Tamil
tt Tatar
te Telugu
th Thai
ti Tigrinya
to Tonga
lua Tshiluba
tum Tumbuka
tr Turkish
tk Turkmen
tw Twi
ug Uighur
uk Ukrainian
ur Urdu
uz Uzbek
vi Vietnamese
cy Welsh
wo Wolof
xh Xhosa
yi Yiddish
yo Yoruba
zu Zulu

Original subtitles

ভারত এখন পর্যন্ত তিনটি রৌপ্য ও চারটি ব্রোঞ্জ পদক জিতেছে।

তবে সবার চোখ এখন আজকের পিস্তল শুটিং প্রতিযোগিতার দিকে।

কারণ ভারতের বিশিষ্ট শিল্পপতি সঞ্জয় বিশ্বনাথ এতে অংশ নিচ্ছেন।

কয়েকজন অজ্ঞাত ব্যক্তি শুটারদের লকার রুমে ঢুকে পড়েছিল,

তারা সঞ্জয় বিশ্বনাথের লকার ভেঙে তার শুটিংয়ের সরঞ্জাম নষ্ট করে দিয়েছে।

- বলো, কাকিমা। - কেউ কি সঞ্জুর...

- বন্দুকটা ভেঙে দিয়েছে? - হ্যাঁ, কাকিমা।

ওরা লকার ভেঙে সব জিনিসপত্র চুরি করেছে, বন্দুকটাও নষ্ট করে দিয়েছে!

- সর্বনাশ! - ফাইনাল শুরু হয়ে গেছে।

শুধু ভারতের সঞ্জয় বিশ্বনাথই এখনও অনুপস্থিত।

তিনি আদৌ অংশ নিতে পারবেন কি না, তা এখনও স্পষ্ট নয়।

নতুন বন্দুক পৌঁছাতে কমপক্ষে দুই ঘণ্টা লাগবে।

অথচ আধ ঘণ্টার মধ্যেই প্রতিযোগিতা শুরু হওয়ার কথা।

আমরা অলিম্পিক কমিটিকে সময় কিছুটা পেছানোর অনুরোধ জানিয়েছি,

তবে এখনও তাদের কোনো উত্তর আসেনি।

- হ্যালো? - সঞ্জয় এখন কী করছে?

ও বন্দুকটা মেরামত করছে।

- বাবা… - বল?

আমার একটা নতুন সাইকেল লাগবে।

- কেন? - চেইন খুলে গেছে।

চাকা ঢিলে হয়ে গেছে, আর ব্রেকও কাজ করছে না।

তাহলে সারিয়ে নে!

বাবা, নতুন সাইকেল এনেছো?

তোকে ওটাই সারিয়ে নিতে বলেছিলাম তো?

শুনছো…

তুমি কি সঞ্জুকে বলেছো, নতুন সাইকেল কিনে দেবে না?

বাচ্চাটা কান্নাকাটি করছে।

মাত্র হাজার টাকার তো ব্যাপার। কিনে দিলে কী হতো?

সঞ্জু,

কোনো জিনিস যদি নষ্ট হয়ে যায়,

তবে নতুন কেনাটা তোর প্রথম বিকল্প হওয়া উচিৎ নয়।

সেটা হওয়া উচিত তোর শেষ ভরসা।

টাকা হয়তো কেনাকাটা শেখাতে পারে,

কিন্তু সংগ্রাম…

তোকে কিভাবে বাঁচতে হয়, তা শেখাবে।

কথাটা মনে রাখিস!

২০১২, ২০১৬, ২০২০…

এর আগের কোনো আসরেই আপনি কোয়ালিফাই করতে পারেননি, তাই তো?

এটা কি আপনার প্রশ্ন, নাকি সোশ্যাল মিডিয়ার?

আপনার জায়গায় অন্য কেউ থাকলে হাল ছেড়ে দিত, স্যার।

তবুও আপনি চেষ্টা চালিয়ে গেছেন। এর পেছনের প্রেরণা কী ছিল, স্যার?

না জেতা পর্যন্ত থামা উচিৎ নয়।

আর একবার জিতে গেলে, তা নিয়ে বড়াই করতে নেই।

কথা বলে ভালো লাগল।

কিছু মনে করবেন না।

মা! তুমি সোনার মেডেল চেয়েছিলে, আমি পেয়েছি।

- স্যার? - স্যার! অভিনন্দন, স্যার।

- দেশের মুখ উজ্জ্বল করেছেন, স্যার। - স্যার!

- মেডেলটা একবার দেখান, প্লিজ। - একটা অটোগ্রাফ, স্যার।

- একবার দেখান, স্যার। - অভিনন্দন, স্যার!

- ধন্যবাদ! - দয়া করে একটা অটোগ্রাফ দিন!

মা সত্যিই পাক্কা চোর। দেখো, কতগুলো লুকিয়ে রেখেছে।

- উঠে পড়েছে? - হ্যাঁ ম্যাডাম, তৈরি হচ্ছেন।

এসব কী?

স্যারের জয়ের উদযাপনে সবাই শুভেচ্ছা পাঠিয়েছে।

আচ্ছা।

আমি কিন্তু দেখে ফেলেছি!

মিষ্টি তো।

- তোমার সুগার লেভেল ৩০০ ছুঁয়েছে। - বাবু, সবেমাত্র গোল্ড মেডেল জিতেছিস।

তোর জয়ের আনন্দেই একটু মিষ্টিমুখ করতে ইচ্ছে করছিল।

ডায়েট মেনেও তো আনন্দ করা যায়।

- মিষ্টি খাওয়া কমাও। - ঠিক আছে।

আমি ডায়েট করবো।

আর মিষ্টি ছোঁবো না।

তুই যা বলবি, আমি তা-ই শুনবো।

- কিন্তু... - বিয়েটা করে নে।

- হ্যাঁ, এইতো! - হায় ঈশ্বর!

- বাবু, তোর বয়স চল্লিশ পেরিয়েছে। - সবসময় এই প্রসঙ্গে চলে আসো কিভাবে?

- একই কথা বারবার শুনতে ভালো লাগে? - আর তোর না বলতে ভালো লাগে?

মা…

আমার বয়স ৬৫ বছর হলো।

বেঁচে থাকার জন্য আমারও একটু আনন্দের দরকার, তাই না?

তুই যদি তাড়াতাড়ি বিয়ে করিস, আর একটা বাচ্চা নিস,

তবে দিনরাত ওকে নিয়েই মেতে থাকতাম, মানুষ করতাম।

তারপর আর তোকে বিরক্তও করতাম না।

কথা দিচ্ছি। মায়ের মাথার দিব্যি!

বিয়ে করবি?

আচ্ছা হয়েছে, থামো।

এমনিতেই শরীরটা ভালো ঠেকছে না। ঘন ঘন হাঁপিয়ে উঠছি…

তুমি হয় ইমোশনাল নাটক করবে,

নয়তো ব্ল্যাকমেইল চালাবে।

মা, তোমার কিচ্ছু হবে না।

দেখো কত শক্তপোক্ত আছো।

- আমার দুর্বল লাগছে। - শুনতে পাচ্ছি না।

বললাম, শরীর ভালো লাগছে না!

হেই।

স্বাগতম!

- স্যার, অভিনন্দন! - ধন্যবাদ সবাইকে।

- অভিনন্দন, আপনাকে নিয়ে আমরা গর্বিত। - চলুন, কাজে ফেরা যাক।

ধন্যবাদ।

কাঞ্চিপুরম আউটার রিং রোড শাখার দিকে যাওয়ার পথে,

আমি একটা বড়সড় অনিয়ম লক্ষ্য করলাম,

- তা-ও আবার ফসলি জমিতে। - শুভ সকাল, স্যার।

কৃষকদের সাথে আমরা এমন আচরণ করতে পারি না।

সুপ্রভাত, স্যার।

- অন্য কোনো উপায় ছিল না। - সুপ্রভাত, স্যার।

চারপাশের জমিগুলো সব নেতাদের দখলে।

আমরা কৃষকদের চারগুণ ক্ষতিপূরণ দিতে পারি, স্যার।

সেটাই তো নিয়ম, তাই না?

নেতাদের আটগুণ...

- ক্ষতিপূরণ দেওয়া হবে না কেন? - ঠিক আছে, স্যার।

কৃষকেরা বছরের পর বছর ওই মাটিতে ঘাম ঝরিয়েছে,

আর নেতারা হাইওয়ে প্রজেক্টের পরেই জমি ব্যবসার ধান্দা শুরু করেছে।

- তাহলে কার গুরুত্ব বেশি? - অবশ্যই কৃষকদের।

- মা? - এই, শোন…

- সুব্রহ্মণ্যম কাকার মেয়ে... - রাখছি।

- মেয়েটা কিন্তু... - রাখছি, মা।

- উনি এই ফালতু ফোনটা ব্যবহার করেন কেন? - আরে, না না।

এটাই ওনার প্রধান ফোন।

এই নম্বরটা শুধু ওনার মা জানেন।

এতে হোয়াটসঅ্যাপ বা ওয়াই-ফাই কিচ্ছু নেই,

আর একবার রিং হতেই উনি ফোন ধরেন।

মায়ের প্রয়োজনে সবসময় পাশে থাকতে চান উনি।

তোমার কাকিমাকে আর সামলাতে পারছি না!

- সিরিশা। - সিরিশা? দাও তো ফোনটা।

ফেরার পথে হাইকোর্টের ওখান থেকে কয়েকটা পেঁয়াজি কিনে এনো তো।

হ্যালো? হ্যালো।

- সঞ্জু বলছি। - সঞ্জু?

- দুঃখিত। - তোমার স্বামীকে একজন উকিল...

নাকি ফুড ডেলিভারি বয় মনে করো?

-কোথা থেকে শুরু করবো? - তোমাকে একটা কথা বলার ছিল।

মা বলছে, ওনার নাকি শরীর ভালো লাগছে না।

তাই নাকি?

সঞ্জু, কাকিমা তোমাকে ইমোশনাল ব্ল্যাকমেইল করার জন্যই এসব বলছে।

হতেও পারে।

কিন্তু ঝুঁকি নিয়ে লাভ কী?

তিনটি ব্লকেজ রয়েছে। ওনার স্টেন্ট দরকার, সঞ্জু।

না, না, একদম নয়।

- আমার অপারেশনের দরকার নেই। - মা…

- আমি একদম ঠিক আছি। - শান্ত হও, মা।

- ওকে বলো ওষুধ লিখে দিতে। - মা শোনো…

- আমাকে ওষুধ দিলেই চলবে। - কাকিমা…

- এটা খুবই ছোট একটা অপারেশন। - আচ্ছা বেশ, রাজি।

- হ্যাঁ। - তবে আমার একটা শর্ত আছে।

কী?

যেহেতু আমার অপারেশন হতে চলেছে…

অনেকদিন হয়ে গেছে, মিষ্টি খাই নি। আমার জন্য একটা কুলফি আনবি?

- প্লিজ, প্লিজ। - এসব কী, মা?

প্লিজ এনে দে।

অবিশ্বাস্য!

সঞ্জু?

ভেবেছিলিস, তুই বিয়েতে রাজি না হলে আমি অপারেশনে করাবো না?

আমার ঘরে...

একটা মস্ত বড় ছবি আছে।

সঞ্জুর বাবা, তাঁর কোলে ছোট্ট সঞ্জু, আর আমি।

আমরা তিনজন একসাথে।

আরেকটা ছবি আছে সঞ্জুর দাদু-ঠাকুমার,

সেখানে সঞ্জুর বাবা ছোট্টবেলায় ওনাদের কোলে বসে আছে।

দেশের বাড়িতে সঞ্জুর প্রপিতামহদেরও সন্তানদের নিয়ে তোলা ছবি বাঁধানো রয়েছে।

কিন্তু, আমি চলে যাওয়ার পর,

তেমন কোনো ছবি আর উঠবে না,

আর এই বংশেরও কোনো উত্তরসূরি থাকবে না।

- কাকিমা… - যাও, ফর্মালিটি সেরে ফেলো।

- দেরি কোরো না, দুরাই। - আচ্ছা, স্যার।

- সঞ্জু। - বলো?

কাকিমা সত্যিই দুশ্চিন্তায় আছেন, তুমি সারা জীবন একা কাটাবে...

আর তোমার পরে এই বংশের কোনো উত্তরাধিকারী কেউ থাকবে না।

এই বয়সে ওনার এত মানসিক চাপ নেওয়া একদম উচিৎ নয়, সঞ্জু।

সান ফ্রান্সিসকোতে আমার এক বান্ধবী থাকে।

মীনা দীক্ষিত। ও-ও একজন ডাক্তার।

- বাহ, তুমিও শুরু করে দিলে? - আগে পুরো কথাটা শোনো, সঞ্জু।

ছবিটা দেখো একবার! পছন্দ হয়নি?

- তাহলে তোমার কেমন মেয়ে পছন্দ, বলো? - আমার যা পছন্দ, তা করতে পারবে?

একবার দেখা করো।

মনে হয় না, তুমি পারবে।

এখনই কোনো সিদ্ধান্ত নিতে হবে না।

সময় নিয়ে ভেবো।

হ্যালো…

হাই, মীনা। সিরিশা তোমার নম্বর দিল।

হাই সঞ্জয়।

- সিরিশা বলেছিল তুমি ফোন করবে। - আচ্ছা, দারুণ।

- আমরা কি ভিডিও কলে কথা বলতে পারি? - হ্যাঁ, নিশ্চয়ই।

হাই।

অলিম্পিকে মেডেল জেতার জন্য অনেক শুভেচ্ছা।

- আমি তোমার বড় ভক্ত! - অনেক ধন্যবাদ!

হ্যাঁ, আমি অবশ্যই আসবো।

হাই, পৌঁছে গেছি।

হ্যাঁ। কফি শপে? আসছি।

- এই। - হাই।

অবশেষে দেখা হলো!

- ম্যাডাম, ম্যাডাম! - না।

- ম্যাডাম প্লিজ, একটা ছবি তুলবো। - প্লিজ, না।

প্লিজ, বুঝুন।

- একজন একজন করে আসুন। - বলো, ভাই।

- আমরা চারটে নতুন ছবির চুক্তি সই করেছি। - সত্যি নাকি?

কাউকে বোলো না কিন্তু। কথাটা যেন আমাদের মধ্যেই থাকে।

হ্যালো? সত্যিই!

তোমাকে কাউকে বলতে বারণ করলাম! ওরা জানলো কী করে?

- আমি আসছি। - আরে দাঁড়াও! আমিও আসছি।

ওরা কোথায় যাচ্ছে?

অলিম্পিকে সোনাজয়ী সঞ্জয় বিশ্বনাথ এক বাচ্চাকে সাথে নিয়ে...

দেশে ফিরে, সবাইকে অবাক করে দিয়েছেন।

- স্যার! এই বাচ্চাটি কার? - আমার ছেলে।

আপনার ছেলে? আপনি বিয়ে করেছেন নাকি?!

- বিয়ে? কোনো প্রশ্নই ওঠে না। - বাচ্চাটিকে কি দত্তক নিয়েছেন?

- না। - তাহলে ও কার সন্তান?

স্যার, এসব কী হচ্ছে?

আমার সারোগেট সন্তান।

সারোগেট সন্তান মানে?

এক মিনিট, ম্যাডাম।

যখন পুরুষের শুক্রাণুর মাধ্যমে কৃত্রিমভাবে একজন নারীর গর্ভধারণ করানো হয়…

সান ফ্রান্সিসকোতে আমার এক বান্ধবী আছে।

সেখানে ও একটি ফার্টিলিটি সেন্টার চালায়।

সারোগেসি এখন আর কোনো অস্বাভাবিক বিষয় নয়।

গর্ভে শুধু তোমার শুক্রাণু প্রতিস্থাপন করার ব্যবস্থা করতে হবে।

নয় মাস পরেই আমরা সন্তান পেয়ে যাবো।

এটা কী?

- তোমার… - ওহ!

আচ্ছা।

আমরা একজন সারোগেট মা পেয়েছি।

তাঁর এখন ষষ্ঠ মাস চলছে।

- ছেলে সন্তান? - হ্যাঁ।

এই পদ্ধতিতে জন্ম নেওয়া শিশুকে বলা হয় সারোগেট সন্তান।

অপদার্থ রামুটা কোথায় গেল?

কাকিমা, ডাকছিলে?

তোমার বাপ তো মদ আর জুয়োয় সব টাকা উড়িয়ে দিয়ে মরেছে।

আর তোমার মা? তোমাকে আমার হাতে সঁপে চিরতরে পরপারে পাড়ি জমিয়েছে।

হ্যাঁ, কাকিমা।

হতচ্ছাড়া পাজি! হাইকোর্টের সামনে চায়ের দোকান খোলারও যোগ্যতা নেই!

আমি তোমাকে হাইকোর্টের বড় উকিল বানিয়েছি।

কথাগুলো সত্যি।

কিন্তু এত রেগে আছো কেন?

তোমাকে আইন কলেজে এইরকম ফালতু বুদ্ধি বের করার জন্য পাঠিয়েছিলাম?

বুদ্ধিটা একজন ডাক্তারের দেওয়া, কোনো উকিলের নয়।

কোথায় সেই হতচ্ছাড়া ডাক্তার?!

কী ঝামেলা হচ্ছে এখানে?

তাহলে এই বুদ্ধি তোমার মাথা থেকেই এসেছে, তাই তো?

চটিজোড়া। তোমার চটি ওখানে রাখা আছে।

খুব লেগেছে, সিরিশা?

উহ্!

চলে এসেছে!

- বাচ্চাটা কী মিষ্টি! - সত্যিই!

- কী ফুটফুটে ছেলে! - কী হয়েছে?

কাকিমা মেরেছে।

- তোমার আবার কী হলো? - বউ মেরেছে।

একেবারে উচিত শিক্ষা হয়েছে।

সবাই কাজে ফিরে যাও।

মা।

- তোমার নাতি। - আরে!

তুমিই বলেছিলে...

বংশের উত্তরসূরি চাই?

আমি চেয়েছিলাম, তুই বিয়ে কর, সন্তান হোক এবং সংসার শুরু কর।

কিন্তু,

তুই যে বাজারের রেডিমেড পপকর্নের মতো...

একটা জ্যান্ত বাচ্চা আমার কোলে তুলে দিবি, তা কখনোই ভাবিনি!

মা, ওর নিশ্চয়ই খিদে পেয়েছে।

চার ঘণ্টা আগে খেয়েছিল। ধরো তো।

এখন থেকে সে তোমার জিম্মায় থাকলো।

এতে ওর জন্মতারিখ আর সময় লেখা আছে।

একটু দেখে নিও।

তার ভালো একটা নাম দিও।

- আমি? সঞ্জু… শোন। - শুভরাত্রি!

- সঞ্জু! সঞ্জু! - জার্নির কারণে আমি ভীষণ ক্লান্ত।

-সঞ্জু, কথাটা তো শোন। - টাটা, শুভরাত্রি!

কাণ্ডখানা দেখলি?

এখানে এত কিছু ঘটে যাচ্ছে,

আর তুই হাসছিস?

একটুও ভয় লাগছে না রে?

তোর নাম কী রাখা যায় বল তো?

রাশিফল অনুযায়ী,

"অভয়" নাম রাখলে ওর জীবন সুখের হবে।

অভয়।

অভয়… অভয়…

অভয়।

অভয় সোনা।

ভাবানুবাদ ও সম্পাদনা : সুদীপ চক্রবর্তী।

সঞ্জু! সঞ্জু !

তোর লাল গাড়িতে করে ওকে একটু বাইরে নিয়ে যাবি? সারাটা দিন ঘরে পড়ে রয়েছে।

- ধন্যবাদ। - আসার জন্য সবাইকে ধন্যবাদ।

- সঞ্জু! সঞ্জু! - ধন্যবাদ।

কী হয়েছে মা?

বাচ্চাটার গা জ্বরে পুড়ে যাচ্ছে!

- ও রক্ত বমি করছে। - রক্ত?!

- আমার রক্ত লাগবে কেন? - বুঝিয়ে বলছি। চলুন আগে।

সঞ্জু, কফি খাবে?

কাকিমা।

মিস্টার সঞ্জয়, মন দিয়ে শুনুন।

- দয়া করে আতঙ্কিত হবেন না। - বলুন।

অভয়ের বোন ম্যারো ট্রান্সপ্লান্ট করতে হবে।

ডাক্তারবাবু…

সমস্যাটা ঠিক কী?

অ্যাপ্লাস্টিক অ্যানিমিয়া। অস্থিমজ্জার একটি বিরল রোগ।

সাধারণত, সন্তানের সাথে মা কিংবা বাবার বোন ম্যারো ম্যাচ করে যায়।

সেই কারণেই আপনার টেস্ট করানো হয়েছিল।

কিন্তু দুর্ভাগ্যের বিষয়, আপনারটা ম্যাচ করেনি।

তবে অভয়ের গর্ভধারিণী মায়ের বোন ম্যারো নিশ্চিতভাবেই ম্যাচ করবে।

বিষয়টা এত জটিল করছেন কেন?

কোনো ডোনার পাওয়া যাবে না? আমরা টাকা দিতে পারি।

না, মিঃ সঞ্জয়। জন্মদাত্রী মা-ই হলো সবচেয়ে দ্রুত ও নিরাপদ উপায়।

কাকিমা।

মা।

মা, সব ঠিক হয়ে যাবে।

আসলে নিয়ম অনুযায়ী, সারোগেট মায়ের পরিচয় গোপন রাখার কথা।

কিন্তু বর্তমান পরিস্থিতি দেখে, মীনা ঠিকানা দিতে রাজি হয়েছে।

- লোকেশন... - ভাই, সিরিশা এইমাত্র মেসেজে ঠিকানা পাঠাল।

মেয়েটির নাম কী?

- ম্যাডি জয়। - ম্যাডি জয়।

মেক্সিকান হবে হয়তো।

ইতালীয়ও হতে পারে।

না, নির্ঘাত মেক্সিকান।

ইতালীয় হলে,

বাচ্চাটির গায়ের রঙ অন্যরকম হতো।

ঠিকই বলেছো।

এটা আবার কেমন জায়গা?

ডাকাতদের আস্তানা বলে মনে হচ্ছে।

কিছু মনে করবেন না, এটা কি ম্যাডি জয়ের বাড়ি?

না! এটা আমার বাড়ি! ওই মেয়েটা আমার বাড়িটাকে নরক বানিয়ে ছেড়েছে!

শুনছেন।

- এখানে ম্যাডি কে? - ওই দিকে।

আচ্ছা।

ম্যাডি! ম্যাডি!

ম্যাডি! ম্যাডি! ম্যাডি! ম্যাডি!

ম্যাডি! ম্যাডি!

ম্যাডি! ম্যাডি! ম্যাডি!

ম্যাডি!

বাপরে!

মেয়েটা কি মরেটরে গেল নাকি?

আরেব্বাস!

হ্যাপি বার্থডে টু মি!

- হ্যাপি বার্থডে টু ইউ! - ওর বয়স মাত্র বাইশ?

শুভ জন্মদিন, মদনকামেশ্বরী জ্যোতির্লিঙ্গম।

কী ফাজলামো হচ্ছে?

আমাকে কখনো পুরো নামে ডাকবি না!

মেয়েটা কি তেলুগু নাকি?

না, লাগবে না।

সিরিশা ভারতীয় কোনো মেয়ে খুঁজতে বলেছিল।

তোমার ভাগ্য ভালো, একটা তেলুগু মেয়ে পেয়েছো।

তোমার মাথায় কি বুদ্ধি নেই? ও আমার চেয়ে কুড়ি বছরের…

আমার চেয়ে কুড়ি বছরের ছোট! কী করে পারলে...

সারোগেসির জন্য কমবয়সী মেয়েদেরই বেছে নেওয়া হয়।

কারণ তারা বেশি স্বাস্থ্যবতী এবং উর্বর হয়।

- এই, চল! - ছাড়ো আমাকে!

ধ্যান করছিস, হুহ?

হাত ছাড়ো!

- তোমার বৌ... - ওকে মেরে ফেল, ভাই!

- এই! - এই থামো!

ছাড় আমাকে!

-স্যার, আমি দেখছি। -আরে!

হচ্ছেটা কী এখানে?

হাই।

আমি সঞ্জয়।

তুমি আমার ছেলের সারোগেট মা।

তাহলে আপনিই সেই ব্যক্তি, যিনি আমাকে না ছুঁয়েই প্রেগন্যান্ট করেছিলেন?

- হ্যাঁ। - দারুণ!

সমস্যাটা কী?

কী পড়ছো, সে বিষয়ে তোমার কোনো ধারণা আছে?

আমি ডাক্তার।

এখনও হোস নি।

লাস্ট ইয়ারে পড়ছিস।

এক বছর বাদেই হয়ে যাবো!

মন দিয়ে না পড়লে, নার্স হওয়ারও সুযোগ থাকবে না।

অনেক হয়েছে!

তেমন কোনো ভয়ের ব্যাপার নয়। অপারেশন করলেই সেরে যাবে।

ধন্যবাদ।

পঁচাত্তর হাজার ডলারের সাথে,

যাতায়াতের সমস্ত খরচ দিলে তবেই যাবো।

বলা হলো, এটা তোমার ছেলের ব্যাপার, আর তুমি টাকার দাবি তুলছো?

তাকে জন্ম দিয়ে আপনার হাতে তুলে দিয়েছি।

আবেগ দেখিয়ে লাভ নেই। টাকা দিলে যাবো, ব্যস।

ঠিক আছে।

- ডিল পাকা। - এসব কী?

ক্যালিফোর্নিয়া স্টাইল।

ওটা থুতু।

- আমার কোনো আপত্তি নেই। - কিন্তু আমার আছে।

- ওকে টাকাটা দিয়ে দাঝ। - তোমার ৭৫,০০০ ডলার।

- গতকালের ব্যবহারের জন্য ক্ষমা চাইছি। - কাল এদের সাথেই মারপিট করছিল।

সব টাকা মিটিয়ে দিয়েছো তো?

ভাই, পুরো ব্যাপারটা যেন ড্রাগ ডিলের মতো লাগছে।

একটা কোট গায়ে চাপালেই,

শার্লক হোমস হয়ে যাবে না।

- টাটা, ম্যাডি! - বাই!

জার্নি ভালো হোক!

- দাঁড়াও, দাঁড়াও, একটু দাঁড়াও। - কিছু খেয়ে নেওয়া যাক।

আমার শপিং করার আছে। টাকা দিন।

- কাল দিলাম তো। - ভ্রমণ খরচ?

দারুণ, থ্যাঙ্ক ইউ।

এবার যাওয়া যাক?

ওই দিকে। ওপাশে চলুন।

বাঃ! ওটা দেখতে চমৎকার।

এটা আপনার প্লেন?

হ্যাঁ।

আরেব্বাস!

সিনেমার হিরোরা ঠিক এইভাবেই নামে, তাই না?

তাই আমিও একটু ট্রাই করলাম।

ম্যাডি, করছোটা কী?

এসব তো সিনেমাতেই দেখেছি এতদিন।

সামনাসামনি এই প্রথম দেখছি! দারুণ থ্রিলিং!

আসুন।

এই নিন।

- ধন্যবাদ। - স্বাগতম।

আর কত পান করবে তুমি?

আপনার সন্তান পেটে থাকায়, পুরো এক বছর মদ ছুঁয়েও দেখিনি।

এখন একটু শান্তিতে খেতে দিন।

এটা আমার ব্যাপার।

কী লিখছেন?

টু-ডু লিস্ট।

- আপনারও এই অভ্যেস আছে? - হ্যাঁ।

আমারও আছে। তবে আমি এভাবে খাতায় লিখি না।

কারণ সবকিছু আমার মাথায় সাজানো থাকে।

গোটা জীবনের প্ল্যান।

জানতে চাইবেন না, সেটা কী?

কোনো দরকার দেখছি না।

এমনিতেও তো কিছু করছেন না। শুনুন একটু।

শুনুন তবে,

কুড়ি থেকে ত্রিশের মধ্যে

আমার ডাক্তারি পড়াশোনা শেষ করব,

সবচেয়ে নামী আর বেশি বেতনের হাসপাতালে ঢুকবো,

আর একটা ভালো ছেলেকে বিয়ে করবো।

ত্রিশ থেকে চল্লিশের মধ্যে,

কঠোর পরিশ্রম করে প্রচুর টাকা কামাবো,

একটা নিজের বাড়ি, দুটো কুকুরছানা,

দুটো বাচ্চা, আর একটা সুন্দর গাড়ি।

বুঝলেন তো?

চল্লিশ থেকে পঞ্চাশের কোঠায়,

আর একটু বেশি কাজ করবো,

তারপর বিশ্বভ্রমণে বেরোবো।

আমার স্বপ্ন।

পঞ্চাশ পেরোলে…

একটা বড় ফার্মহাউস, এলাহী জীবনযাপন,

আর মনের সুখে টাকা ওড়াবো।

ষাটের পর আমার বর আর আমি বুড়ো হয়ে যাবো।

সে আমার দেখাশোনা করবে, আমি তার খেয়াল রাখবো।

জীবন এভাবেই বয়ে চলবে।

আর সত্তরের পর?

সত্তর পেরিয়ে গেলে রোগবালাই লেগেই থাকবে।

হাসপাতাল, চিকিৎসা… জীবন ওভাবেই কেটে যাবে।

আশির পর?

বেঁচে থাকাটাই তখন মস্ত বড় ব্যাপার।

প্রতিটা দিনই উপরি পাওনা।

বাহ্, বেশ।

ঘুমিয়ে পড়, সোনা।

বাবু!

দারুন!

এ কি…

অভয়ের…

এ-ই কি সে?

হ্যাঁ, মা!

এই… এই কচি মেয়েটা?

আপনার মা?

- হ্যাঁ। - আর সে তেলুগু?

- নাম কী ওর? - হ্যাঁ গো!

নির্মলা দেবী।

হ্যালো মিসেস নির্মলা, আমি ম্যাডি।

সর্বনাশ!

- কী বললে? - মা…

- কাকিমা, রাগ কোরো না। - চুপ করো! ও আমাকে...

- আমি তো মিসেস বললাম। - "মিসেস" তো সম্মানের ডাক।

- জিনিসগুলো ওর ঘরে রেখে এসো। - এই!

এসব কী?

উপহার। আমার জন্য।

সারিকা, এগুলো সব আমার ঘরে রেখে দাও।

- এগুলো আপনার গায়ে হবে না। - তাতে কী এসে যায়!

আচ্ছা, এটাও রাখুন।

এটা আপনার জন্য।

ছিঃ!

- কী বিশ্রী! - মা, শান্ত হও।

ও বয়সে ছোট, একটু ছটফটে। একটু পাগলাটে স্বভাবের, বাদ দাও।

- মা, আমার কথাটা একবার শোনো। - না, একদম না।

- কাকিমা, ব্যাপারটা গোপনীয়। - ও এই বাড়িতে থাকতে পারবে না।

হায় ঈশ্বর!

- সারিকা, ওকে ওর ঘরটা দেখিয়ে দাও। - আচ্ছা, স্যার।

যাও! দুরাই, একটু হাত লাগাও!

আচ্ছা, স্যার!

- অভয় এখন কেমন আছে রে, মা? - এই!

নিজের সন্তানকে দেখার কথা একবারও মনে পড়লো না?

ওহ!

- কী মিষ্টি! - হ্যালো সোনা।

কী নাম ওর?

- অভয়। - অভয়।

ওলে বাবা, মা, তোমার দিকে তাকিয়ে আছে।

হ্যালো, বাবু।

খিদে পেয়েছে বুঝি?

একদম তোমার মতোই দেখতে হয়েছে।

তোমার বীর্য বেশ শক্তিশালী, তাই না?

পরে দেখা হচ্ছে, মিসেস নির্মলা।

পোশাক-আশাকের ছিরি দেখেছিস…

এসব আবার কেমন...

মেয়েটাকে আমার একদম পছন্দ নয়।

জেটল্যাগে ক্লান্ত। শুভ রাত্রি।

তোমাদের জন্যে এইসব হয়েছে। তোমরাই দায়ী।

তোর মাকে আমার পছন্দ হলো না।

ঘুমিয়ে পড়, সোনা।

- বাচ্চার কান্নায় ঘুম ভেঙে গেল? - জার্নির ধকল।

আরে, অভয়। কী হয়েছে, সোনা?

ঘুম আসছে না?

কাঁদতে নেই, বাবু।

কাঁদিস না।

দুধ খাবি?

দুধ খাবি, সোনা? আয়।

একটু খেলা করা যাক।

ঘুমিয়ে পড়, সোনা।

কান্না থামা, সোনা।

মনে হচ্ছে, ও বুঝতে পেরেছে, তুমিই ওর মা।

তাই কান্না থামিয়ে দিল।

তেলুগু গান বেশ ভালোই গাও।

সিনেমা, রিলস আর মিমসের দৌলতে।

তার ওপর কথায় একটুকুও আমেরিকান টান থাকলে...

মা এক ঘা কষিয়ে দিত।

- তাই আর কী। - তোমার মা-বাবা কী করেন?

ছোটবেলায় রোড অ্যাক্সিডেন্টে মারা গেছেন।

আহা রে!

এখন আর মন খারাপ করে লাভ কী? বহু বছর হয়ে গেছে।

আত্মীয়স্বজন কেউ নেই?

কেউ না।

- কেউ খবর রাখে না। - তাহলে মানুষ হলে কী করে…

অনাথ আশ্রমে।

আহা রে!

ওকে খাওয়াবেন না?

- হ্যাঁ, এইতো। - হুম।

আয় বাবু, কোলে আয়।

আমার বাবা-মা দুজনেই ডাক্তার ছিলেন।

তাই, আমারও ডাক্তার হওয়ার ইচ্ছে ছিল।

বেশিরভাগটাই স্কলারশিপে পড়াশোনা করেছি।

কিন্তু লাস্ট ইয়ারে এসে...

মাত্র এক নম্বরের জন্য স্কলারশিপটা হাতছাড়া হয়ে যায়।

- ওহ্। - কলেজের ফি ছিল প্রায় ৭৫,০০০ ডলার।

যখন দিশেহারা হয়ে ভাবছি, কী করবো,

ঠিক তখনই একটি ফার্টিলিটি সেন্টার থেকে যোগাযোগ করে।

তারা বলল সারোগেট মা হওয়ার জন্য ৫০,০০০ ডলার দেবে।

ভাবলাম, ন’টা মাস কোনোমতে পার করতে পারলেই...

ডাক্তার হতে পারবো। তাই রাজি হয়ে গেলাম।

আর বাকি টাকার কী করলে?

সেটা… একজন স্থানীয় সুদখোরের থেকে ধার নিয়েছিলাম।

কিন্তু সুদে-আসলে বাড়তে বাড়তে সে ৭৫,০০০ ডলার দাবি করে বসল।

ঠিক তখনই সঞ্জু এলো, সবকিছু বুঝিয়ে বললো এবং পরিস্থিতি সামাল দিল।

টাকাটা চাওয়ার ইচ্ছে ছিল না, তবু শর্ত দিলাম, টাকা দিলে তবেই যাবো।

এমনকি টাকা দিতে অস্বীকার করলেও, আমি ঠিকই চলে আসতাম।

ক্ষমা করিস, বাবু।

তোর মা খুবই ভালো মানুষ।

ধন্যবাদ, মিসেস নির্মলা।

এই।

- এটা কোরো না। - না, না।

- ওকে আমার কোলে দাও। - একদম দেবো না।

আমার নাতিকে যদি আমার কোলে না দাও…

এই সঞ্জু, দেখেছিস কাণ্ডটা?

নিজের মাকে দেখেই সে আমার কোলে আসছে না!

আচ্ছা, আমাকে দাও।

আমি ওকে ঘুম পাড়িয়ে দিচ্ছি।

শোনো।

- মনে হয়, অভয় আমাকে পছন্দ করে। - ম্যাডি।

অভয়ের প্রতি বেশি মায়ায় জড়িয়ে পড়ো না।

যখন চলে যাবে, তখন খুব কষ্ট হবে।

অভয়ের জন্যও,

আর তোমার নিজের জন্যও।

ঠিক আছে।

ম্যাডি?

বুঝেছি!

- আরে, সুপ্রভাত! - অ্যাঁ?

- তুমি এখানে কী করছো? - এটা কি ল্যান্সার?

ওটা আমার কেনা প্রথম গাড়ি।

এই! এই ম্যাডি!

ওরকম কোরো না। ওটা যেখানে ছিল, সেখানেই রাখো।

- রেখে দাও। - ঠিক আছে।

ধন্যবাদ।

সব ঠিকঠাক আছে তো?

অপারেশন কবে হবে?

অ্যাঁ…

অপারেশন পরশু রাতে হবে। ততক্ষণ বিশ্রাম নাও, তবে মদ একদম ছোঁবে না।

কাল দুপুর থেকেই তোমাকে উপোস থাকতে হবে।

তুমি ঠিক আছো তো?

কী?

- না মানে, একটু বোর হচ্ছি আর কী। - বাইরে কোনো ক্যাফেতে ঘুরে আসতে পারো।

এখানে বেশ কিছু ভালো ক্যাফে আছে।

আরে! এ জায়গায় আমি একদম নতুন। তুমি নিয়ে চলো!

আমি? কোনো প্রশ্নই ওঠে না।

প্লিজ!

আমার মিটিং আছে। এখনই অফিসে পৌঁছাতে হবে।

আমিও সঙ্গে যাই!

শুধু একটা কফি কিনে দিও।

- একপাশে চুপটি করে বসে থাকবো। - না, তা সম্ভব নয়।

- দেখো কে এসেছে। - আমার একটু বাড়ির বাইরে বেরোনো দরকার।

অবিকল সঞ্জুর মতো দেখতে হয়েছে।

আরে!

কেমন আছো, সঞ্জু?

- ভালো। - তোমার কথাই হচ্ছিল এতক্ষণ।

আমি অভয়কে দেখতে এসেছি।

এ হলো ম্যাডি।

- আমাদের আত্মীয়া। - ওকে সব খুলে বলেছি।

ওহ।

ম্যাডি, ইনি অঞ্জলি কাকিমা।

- নমস্কার। - নমস্কার।

বাচ্চাটা দেখতে একেবারে তোমার মতো হয়েছে, সঞ্জু।

তবে মেজাজটা পেয়েছে আমার।

- অ্যাঁ? - কিছুক্ষণ একটু চুপ থাকবে?

দুপুরে খেয়ে যাবেন তো?

শুধু দুপুরের খাওয়া কেন? ও সারাদিন এখানেই থাকবে।

না, দিদি। আমি মেঘনার জন্য কেনাকাটা করতে বেরিয়েছি।

রাতের মধ্যেই আমায় বাড়ি ফিরতে হবে। ও একা রয়েছে।

ও ইউকে থেকে ফিরলো কবে?

- এইতো দুই সপ্তাহ হলো। - ওকে সঙ্গে নিয়ে এলেই পারতে।

পরের বার নিশ্চিত ওকে সাথে নিয়ে আসবো।

মেয়ের জন্য কোনো পাত্র খুঁজছো?

- না, এখনও... - আমার অফিসে যেতে দেরি হয়ে যাচ্ছে।

- আচ্ছা বাবু, তুই যা। - ঠিক আছে, সঞ্জু।

- আচ্ছা, আমি আসছি। - আমিও সাথে আসছি!

- ঠিক আছে, এসো। - হ্যাঁ!

অভয়, আমি তোর বাবার সাথে ঘুরতে যাচ্ছি!

- দেখা হবে, বাই! - টা-টা কর, সোনা!

টা-টা!

- লাঞ্চের পরেই আমাকে বেরোতে হবে। - আচ্ছা স্যার!

তোমার দেহরক্ষীরা কি সবসময় তোমার পিছন পিছন যায়?

মানে, বাথরুমে যাওয়ার সময়ও?

- সুপ্রভাত, স্যার। - সুপ্রভাত।

স্যার… স্যার!

নমস্কার, স্যার।

- আমি… - ইনি মুথুস্বামী।

আমাদের কোম্পানির স্টাফ বাস চালাতেন।

- হ্যাঁ। - কয়েকটা মিনিট সময় দেওয়া যাবে, স্যার?

আমি একটু ব্যস্ত আছি। অন্য একদিন দেখা হবে।

স্যার…

উনি সকাল থেকে বসে আছেন।

না, এখন একদম নয়।

- আচ্ছা, স্যার। - এই গোটা অফিসটাই আপনার?

- হ্যাঁ। - স্যার, ম্যাডাম কি…

ইয়ে, ইনি ম্যাডি।

- দূর সম্পর্কের আত্মীয়া। - মায়ের দিক থেকে, নাকি বাবার?

- বাচ্চার দিক থেকে। - অ্যাঁ?

- এই শোনো… - বলুন, ম্যাডাম?

আমি জুম কলটা শেষ করে আসছি।

- আর কিশোর… - মুথুস্বামীকে কি ডেকে পাঠাবো, স্যার?

- আমাদের বাসের ড্রাইভার… - পরে।

- অনেক দিন ধরে ঝুলে আছে... - বললাম তো, পরে!

দুঃখিত, স্যার।

বাপরে! কী মেজাজ!

লোকটার জন্য সামান্য কয়েকটা মিনিট বের করতে পারলে না?

এমন তো নয়, বিরাট কাজ করছো।

- সোজা হয়ে বসো। - অ্যাঁ?

এটা কি তোমার নিজের বাড়ি পেয়েছো?

আমার অফিসে কার সাথে কখন দেখা করবো, ভালো করেই জানি।

নিজের সীমার মধ্যে থাকবে।

- কোথায় যাচ্ছো? - কফি খেতে।

- কফি কোথায় পাওয়া যাবে? - ওকে নিয়ে যাও।

আমার সাথে আসুন, ম্যাডাম।

- সঞ্জয় স্যার আপনাকে বকেছেন? - আরে, আস্তে কথা বলো!

আমি নিশ্চিত, তুমি কিছু ভুল করেছো।

দিব্যি খেয়ে বলছি, আমি কিচ্ছু করিনি।

উনি বললেন, "সীমার মধ্যে থাকবে।"

তার কারণ, তিনি টেবিলের উপর পা তুলে বসেছিলেন।

ওহ।

- তাই জন্যই বকুনি খেয়েছেন। - আচ্ছা, এই ব্যাপার!

দাদা, একটু উঠুন তো। ধন্যবাদ।

দেখো, এটা আমার পা, আর এটা টেবিল।

আমি শুধু একটু আরাম করে বসতে চেয়েছিলাম।

পা সরাতে গিয়ে ওনার গায়ে ভুলবশত আমার হাঁটু লেগে যায়।

হ্যাঁ, তাড়াতাড়ি চলো!

- আমার সঙ্গে যে মেয়েটি এসেছিল… - ম্যাডি ম্যাডামের কথা বলছেন, স্যার?

তুমি ওর নাম জানলে কী করে?

আমি চাই, তোমরা সবাই তোমাদের বসকে আমার কাছে ক্ষমা চাইতে বলো।

- ঠিক আছে? এসো। - আচ্ছা।

- এদিকে আসুন, দাদা। - এদিকে আসুন।

আপনি যদি কাজটা করিয়ে দিতে পারেন,

তবে আপনার উজ্জ্বল ভবিষ্যতের ব্যবস্থা আমি করবো।

যান এবার।

বলুন ক্ষমা চাইতে।

ক্ষমা করবেন, দিদি।

কিশোর!

এই সবাই কাজে ফেরো! যাও, যে যার ডেস্কে গিয়ে বসো এখনই!

আমি কিচ্ছু জানি না! সবাই যাও, যাও বলছি!

দুঃখিত।

আমরা এখন কোথায় যাচ্ছি?

আমার একটা ইন্টারভিউ রয়েছে।

আমাকে নামিয়ে দিয়ে ও তোমাকে বাড়ি পৌঁছে দেবে।

আমিও সঙ্গে যাব।

একদম শান্ত হয়ে থাকব।

আমাদের অনুষ্ঠানের আজকের অতিথি একজন অলিম্পিক স্বর্ণপদকজয়ী,

এবং আমাদের রাজ্যের এক বিশিষ্ট শিল্পপতি,

মিস্টার সঞ্জয় বিশ্বনাথ। আমাদের অনুষ্ঠানে তাঁকে স্বাগত জানাই।

- স্যার, উনি সঞ্জয় স্যারের এক আত্মীয়া। - অ্যাঁ?

- তাই নাকি? ওনাকে ওপাশে বসতে দিন। - আচ্ছা, স্যার।

ক্যামেরার ফোকাসটা ঠিক করতে হবে, একটু ঘুরিয়ে নিন।

চার প্রজন্ম ধরে আপনাদের পরিবার ব্যবসার সাথে যুক্ত।

- শুটিংয়ের প্রতি আপনার টান এল কীভাবে? - আমার বয়স যখন বছর ছয়েক,

তখন বাবা আমায় একটা প্লাস্টিকের খেলনা বন্দুক এনে দিয়েছিলেন।

আমি একটা বোতলে টার্গেট বানালাম,

ওই ক্যামেরাম্যানের মত দূরত্বে দাঁড়িয়ে,

- বাহ। - লক্ষ্য স্থির করে গুলি করলাম।

গুলিটা একেবারে বোতলের মাঝখানে গিয়ে লাগলো।

হঠাৎ শুনলাম, বাবা হাততালি দিচ্ছেন।

আমাকে ডেকে বুকে জড়িয়ে ধরলেন। সেদিন তিনি আমাকে ছাড়েনই নি।

তারপর থেকে, আমিও আর শুটিং ছাড়ি নি।

শুটিংয়ের প্রতি আমার তীব্র টান দেখে, মা পেশাদার প্রশিক্ষণের ব্যবস্থা করে দেন।

আর বহু বছর পর…

আজ আমি এই জায়গায় পৌঁছেছি।

তাহলে এই মেডেলের কৃতিত্ব কাকে দেবেন? আপনার মাকে, নাকি বাবাকে?

আমার বাবা আমাকে স্বপ্ন দেখিয়েছিলেন।

আর মা সেটাকে বাস্তবে রূপ দিয়েছেন।

মা

- কী হয়েছে, মা? - একটু কথা বলতে ইচ্ছে করছিল।

- এখন ফোন করছো কেন? কাজ করছি। - আপনার জন্য একটা সারপ্রাইজ আছে…

- পরে কথা বলছি। - ঠিক আছে!

- হ্যাঁ, চালিয়ে যাও। - সান ডিয়েগো থেকে এক বিশেষ অতিথি...

আপনার সাথে কথা বলার জন্য অপেক্ষা করছেন।

- সান ডিয়েগো? - হ্যাঁ।

- নমস্কার স্যার, আমাকে চিনতে পারছেন? - নমস্কার, হ্যালো।

না, ঠিক মনে পড়ছে না।

স্যার, আমি অশোক।

২০১৮ সালে, যখন কলাম্বিয়া বিশ্ববিদ্যালয়ে, মাস্টার্সের জন্য আপনার সাহায্য চেয়েছিলাম,

আপনি আমার পড়াশোনা, থাকা-খাওয়া, এমনকি প্লেনের ভাড়াও স্পন্সর করেছিলেন।

ওহ্, আচ্ছা। আচ্ছা!

আর আজ ২০২৬ সাল।

আমি এখন এই কোম্পানির ভাইস প্রেসিডেন্ট, স্যার।

- তাই নাকি? দারুণ ব্যাপার! - আর…

এটা আমার টিম, স্যার। এঁরা সবাই আমার অধীনে কাজ করেন।

- এই, বসো। - সঞ্জয় স্যারের সাথে কাজ করতেন...

এমন একজন, স্টুডিওর বাইরে ওনার জন্য অপেক্ষা করছেন।

সঞ্জয় স্যারের সাথে দেখা করবেন?

- হ্যাঁ, স্যার। - আজ যে বাড়িতে থাকি, যে গাড়িতে চড়ি…

অনুষ্ঠানের কাজে লাগতে পারে ভেবে আমি ওনাকে ভেতরে নিয়ে এসেছি।

- নমস্কার স্যার। - নমস্কার। ভেতরে আসুন।

একবার সান ডিয়েগোতে ঘুরে যান, স্যার। আপনাকে অতিথি হিসাবে পেতে চাই।

আমার গাড়িতে করে আপনাকে পুরো শহর ঘুরিয়ে দেখাবো।

- ভেগাসেও ট্রিপের ব্যবস্থা করতে পারি, স্যার। - তোমার নাম যেন কী…

- অশোক, স্যার। - হ্যাঁ।

অশোক, সত্যি বলতে তোমাকে আমার একদম মনে নেই।

আসলে আমি আমার বাবার সাথে এসেছিলাম, স্যার।

বাবা আপনার কোম্পানিতেই চাকরি করতেন।

- তোমার বাবার নাম কী? - মুথুস্বামী, স্যার।

স্যার, ও আমার ছেলে।

আপনার ছেলে?

- কাকু, এখানে বসুন। - বসে পড়ুন, স্যার।

তুমি কি ড্রাইভার মুথুস্বামীর কথা বলছো?

- স্যার, এক সেকেন্ড। - কী হয়েছে, স্যার?

- ওনাকে দেখতে পাচ্ছি না। - মনে হচ্ছে, অন্য কোথাও যাচ্ছেন।

হ্যাঁ।

- স্যার। - তোমাকে দেখতে পাচ্ছি।

- তুমি ড্রাইভার মুথুস্বামীর ছেলে? - হ্যাঁ, স্যার।

তোমার বাবাকে আমি খুব ভালো করেই চিনি।

বাবার আমল থেকে প্রায় ত্রিশ বছর ধরে তিনি আমাদের গাড়ি চালিয়েছেন।

পরিস্থিতি যতই কঠিন হোক না কেন,

উনি এমন একজন মানুষ ছিলেন,

যিনি অতিরিক্ত খেটেছেন, ছুটির দিনেও গাড়ি চালিয়েছেন,

কিন্তু কখনো,

কারও কাছ থেকে ধার নেননি।

অত্যন্ত নীতিবান মানুষ।

ওনার মত একজন মানুষ,

জীবনে প্রথমবার আমার কাছে এসে বলেছিলেন,

"আমার ছেলে আমেরিকার কলম্বিয়া ইউনিভার্সিটিতে সুযোগ পেয়েছে।

যদি কিছু টাকা ধার দেন,

আমি পরে আস্তে আস্তে শোধ করে দেবো।"

কথাটা বলতে ওনার খুব সংকোচ হচ্ছিল।

- আমার নাম অশোক, স্যার। - হ্যাঁ।

অশোক।

তুমি দু-দুবার নাম বলার পরেও তোমার নাম মনে করতে পারছি না।

আমার কাছে তোমার আসল পরিচয়, তুমি মুথুস্বামীর ছেলে।

যখন জিজ্ঞেস করলাম তুমি মুথুস্বামীর ছেলে কি না,

তুমি হঠাৎ একপাশে সরে গিয়ে...

বললে, "হ্যাঁ, স্যার।"

কথাটা বলার সময় তোমার গলার আওয়াজ একেবারে খাদে নেমে গিয়েছিল।

আমি নিশ্চিত নই, তোমার মাইক খারাপ ছিল,

নাকি আমি কানে ভুল শুনেছি।

এবার মন দিয়ে শোনো।

তোমার বাবার কারণেই তুমি কোনো কি-কার্ড ছাড়াই...

আমার কেবিনে ঢুকতে পেরেছিলে।

যে কারণে আমি তোমার পড়াশোনার সমস্ত খরচ তুলে নিয়েছিলাম,

সেটাও তোমার বাবা।

আজ যে জীবনটা তুমি কাটাচ্ছ,

তার সম্পূর্ণ কৃতিত্ব…

একমাত্র তোমার বাবারই প্রাপ্য।

ড্রাইভার মুথুস্বামী।

মিঃ মুথুস্বামী, দয়া করে ভেতরে আসুন।

- আপনি এখানে কী করছেন? - আপনার সাথে দেখা করতেই এসেছি, স্যার।

কিন্তু চ্যানেলের লোকেরাই আমাকে ভেতরে নিয়ে এল।

- শুনলাম, অশোক আপনার ছেলে। - হ্যাঁ স্যার, ও আমারই ছেলে।

ভেতরে আসুন!

মিঃ মুথুস্বামী।

- এখানে বসুন। - স্যার!

- এখানে বসুন। - স্যার, আপনি আগে বসুন প্লিজ।

বাবা!

দয়া করে এটা গ্রহন করুন, স্যার।

ছয় মাস হল, উনি অবসর নিয়েছেন।

রিটায়ারমেন্ট ফান্ড আর পিএফ সব মিলিয়ে,

প্রায় ত্রিশ লাখ টাকা পেয়েছেন।

সেই টাকাটাই উনি এতদিন ধরে আমাকে ফিরিয়ে দিতে চাইছেন।

আর আমিও ততটাই আন্তরিকতার সাথে ওনাকে এড়িয়ে যাওয়ার চেষ্টা করে আসছি।

জানো কেন?

উনি এটাকে ঋণ বলে মনে করেন।

তুমি এটাকে উপকার মনে করো।

আর আমি মনে করি, এটা আমার কর্তব্য।

নিজের ছোট ভাইয়ের ভবিষ্যতের কথা ভেবেই আমি এটা করেছিলাম।

আমি এই টাকা কীভাবে ফেরত নিই?

স্যার… স্যার।

- অশোক। - স্যার!

তোমার সুখের জন্য, উনি লক্ষ লক্ষ মাইল স্টিয়ারিং ঘুরিয়েছেন।

এখন উনি অবসর নিয়েছেন।

এবার তোমার পালা।

সুযোগ পেলেই বাবা-মাকে আমেরিকায় নিয়ে যাও।

গাড়িতে বসিয়ে ওনাদের লম্বা সফরে ঘুরিয়ে আনো।

ভেগাসেও একটা ট্রিপের ব্যবস্থা করো।

ওদের ভালো রেখো।

বছরে অন্তত একবার হলেও দেশে ফিরো, আর বাবা-মাকে সময় দিও।

রোজ ওনাদের ফোনে খবর নিও।

মা, কী করছো তুমি?

- তোর সাথে একটু কথা বলতে চেয়েছিলাম। - আপনার ছেলে সত্যি খুব ভালো মানুষ।

আজকাল সামান্য দান করলেও লাইকের আশায় লোকে সোশ্যাল মিডিয়ায় ঢাক পেটায়।

অথচ আপনার ছেলে...

ওকে এত সাহায্য করার পরেও...

সেটা মুখ ফুটে কাউকে বলে নি।

কাউকে খোঁচা দিয়ে কথা বলে না, কাউকে মনে আঘাত দেয় না।

যে কোনো মেয়ের পক্ষেই এমন বর পাওয়া ভাগ্যের ব্যাপার।

কিন্তু সে এখনও বিয়ে করেনি কেন?

এর জন্য দায়ী...

ওর নিজের বাবা।

কী করেছিলেন উনি?

সকালে যে মহিলা অভয়কে দেখতে এসেছিলেন…

হ্যাঁ, অঞ্জলি কাকিমা।

উনি আমাদের কোনো দূর সম্পর্কের আত্মীয়া নন।

উনি ওর বাবার দ্বিতীয় স্ত্রী।

কী বলছেন?!

তখনকার দিনে উনি সিনেমার নায়িকা ছিলেন।

দুটো-একটা ছবিতে অভিনয়ও করেছিলেন।

তখন আমাদের একটা বিস্কুট কারখানা ছিল।

অঞ্জলি ছিল সেই ব্র্যান্ডের অ্যাম্বাসেডর।

বয়সে ও সঞ্জুর বাবার চেয়ে আঠারো বছরের ছোট ছিল।

বুঝতে পারি নি, কী বলবো।

রাগে-অপমানে বিয়েটা ভেঙে বেরিয়ে আসার সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলেছিলাম।

কিন্তু,

আমার বারো বছরের ছেলেটার…

ভবিষ্যতের কথা ভেবে,

সব কিছু মুখ বুজে সহ্য করে নিয়েছিলাম।

কিন্তু সঞ্জু কিছুতেই মানতে পারে নি।

ভালোবাসা এমন এক অনুভূতি যা আমাদের নিয়ন্ত্রণে থাকে না।

কখনো তা বাড়ে, আবার কখনো তা কমে যায়।

তোর মায়ের প্রতি আমার ভালোবাসা ধীরে ধীরে ফুরিয়ে এসেছিল।

সেই ভালোবাসাটাই আমি অঞ্জলির মধ্যে নতুন করে খুঁজে পেয়েছি।

তার মানে এই নয়, আমি তোর মাকে ছেড়ে চলে যাবো।

সে-ও এই সংসারে থাকবে, আবার ও-ও থাকবে।

বাবা, তুমিই আমাকে শিখিয়েছিলে ভাঙা সাইকেল মেরামত করে আবার চালানো যায়।

অথচ আজ তুমি বলছো, মায়ের ওপর ভালোবাসা ফুরিয়ে গেছে,

তাই নতুন একজনকে বিয়ে করতে চাও? এটা কি আদৌ ঠিক, বাবা?

তুমি সামান্য সাইকেলের কদর বোঝো, অথচ মায়ের কদর বোঝো না?

দুটো জিনিস এক নয়, সঞ্জু।

বড় হয়ে যখন বিয়ে করবি, তখন তুইও এই সত্যিটা বুঝতে পারবি।

বাবা, তুমি ভুল করেছো। আমি কখনোই এমন ভুল করব না।

বাবার সেই জবাবটাই সঞ্জুকে আজকের মানুষে পরিণত করেছে।

কিন্তু এখন তো আপনার আর অঞ্জলি কাকিমার মধ্যে সম্পর্ক বেশ ভালো দেখলাম।

সময়ের সাথে সাথে রাগ আর ক্ষোভের আগুনের আঁচও কমে আসে।

আমাদের বেলাতেও ঠিক সেটাই হয়েছে।

কোনো দরকার পড়লে নির্দ্বিধায় আমাকে বোলো। আমরা সবাই একই পরিবার...

কিন্তু সঞ্জু তেমন হতে পারেনি। ও সেই স্মৃতি আজও ভুলতে পারেনি।

সেই জন্যই ও আজও বিয়েথা করে নি।

- আর একা একাই রয়ে গেল... - আরে আরে, থামুন!

বিয়ের ব্যাপারটা বুঝলাম। কিন্তু আর কোনো ব্যাপার নেই?

- কী বলতে চাইছো? - আরে… মেয়েঘটিত কোনো সম্পর্ক?

- তেমন কিছু একটাও নেই? - ইস!

- মুখ সামলে কথা বলো, বাচাল কোথাকার! - কেন?

- ও কি ভোলাভালা নাকি? - এই!

কীসব বলছো? চুপ করবে?

- সেল্ফ-সার্ভিস, নাকি? ভার্জিন? - কী?! ছিঃ!

না না, তেমন কোনো ব্যাপার নেই।

আপনি ঠিকই জানেন, কিন্তু আমাকে বলতে চাইছেন না।

- বললাম তো নেই! - আমি চুইংগামের মতো লেগে থাকবো।

এত সহজে ছাড়ছি না!

ছেলের আসল গসিপটা এবার ফাঁস করুন।

- এই বিষয়টা বাদ দাও! - বলুন, প্লিজ!

- শোনো… - বলুন!

আচ্ছা বলছি, কিন্তু কারুর কাছে ফাঁস করবে না তো?

কথা দিচ্ছি, কাকপক্ষীতেও টের পাবে না।

প্রতিটা মাসের শেষের দিকে,

ওই সাতাশ থেকে ত্রিশ তারিখ নাগাদ, ও বিদেশে চলে যায়।

জিজ্ঞেস করলে বলে, খেলাধুলো নয়তো ব্যবসার কাজ আছে।

একবার ফিরে এসে সুটকেসটা রেখেই বাইরে বেরিয়ে গিয়েছিল।

আমি ওর কাছে হাঁটার জন্য একজোড়া জুতো চেয়েছিলাম।

ভেবেছিলাম, হয়তো সুটকেসের ভেতরেই আছে,

- সেটা খুলতেই… - তারপর?

- জিনিসগুলো চোখে পড়লো। - কী দেখলেন?

ইয়ে মানে… কন...

- কনডম?! - মা হয়ে...

বিশ্বাসই করতে পারছিলাম না, ওগুলো ওর হতে পারে…

তাই রামুকে ডেকে পাঠালাম।

কী ব্যাপার, কাকিমা?

আমি সুটকেস থেকে সেই নতুন জুতোটা বের করে...

ওকে মারতে শুরু করলাম।

- আর সে সব সত্যি উগরে দিল। - কী বললো?

সঞ্জু নাকি প্রায়ই ওসব ব্যবহার করে।

মানেটা কী?

ওর ফোনে নাকি ‘ফাইন্ড’ নামে একটা অ্যাপ আছে।

সেখানে নাকি দেশ-বিদেশের মেয়েরা থাকে।

লোকজন ওটার সাহায্যে পছন্দমতো সঙ্গী খুঁজে কথা বলে, দেখা করে।

- তারপর নিজের ইচ্ছামত কাজ করে। - এই!

সে সবসময় ত্রিশোর্ধ্ব মহিলাদেরই বেছে নেয় কেন?

সেটা ওর নিজস্ব পছন্দ।

আপনার ছেলে তলে তলে পাক্কা প্লেবয়!

আর আপনার ওই রামুর খবর কী?

না না, একদম না।

আমি অমন ধাঁচের ছেলেই নই, কাকিমা।

- এই! - উফ!

- ডার্লিং! - আরে না না, ছাড়ুন আমায়!

- আমি বিবাহিত! নিজের বউকে ভালোবাসি! - এই, ছাড়ুন আমাদের!

থামুন তো!

রামলিঙ্গম নিজে এ কথা বলেছে?

- আর আপনি ওর কথা বিশ্বাসও করলেন? - হ্যাঁ, তা করেছি।

উনি তাকে বিশ্বাস করেছেন!

হাই!

আরে আরে! কী হচ্ছে!

আই লাভ ইউ, গার্লস!

এই প্লিজ, ছেড়ে দাও আমাকে!

- হাল্লেলুইয়া! - আপনি যে সবকিছু জানেন, সঞ্জু জানে?

না, ও কিচ্ছু জানে না।

আমি জেনে গেছি বুঝলে ও ভীষণ লজ্জা পাবে।

ও লজ্জা পেলে আমারও খারাপ লাগবে।

তাই ব্যাপারটা ওখানেই ধামাচাপা দিয়ে রেখেছি।

তুমি কিন্তু ওকে কিছু জিজ্ঞেস করতে যাবে না!

তোমাকে বিশ্বাস করতে পারি তো?

- মিসেস নির্মলা! - কী?

- আমাকে বলছেন? - কী?

- আপনি! - তুমি?

কীভাবে পারলেন?

- ম্যাডি… - মানে আপনার ধারণা আমি…

ম্যাডি।

- আমার ওপর আপনার ভরসা নেই? - আরে না… ম্যাডি।

-ম্যাডি, কোথায় যাচ্ছো? - যেখানে ভরসা নেই, ম্যাডিও নেই।

- টা-টা! - এই শোনো!

- তোমরা সবাই কোথায় যাচ্ছো? - আজ আমাদের ছুটি, ম্যাডাম।

- তাহলে রাতের খাবারের কী হবে? - ম্যাডি।

আজ আমরা রান্না করবো।

মাসে একদিন আমরা নিজেরাই রান্না করি।

- এটা আমাদের শখ বলতে পারো। - ভাই, এটা নাও।

কী রান্না করছো তোমরা?

- মাটন বিরিয়ানি। - বিরিয়ানি।

দারুণ!

আইসক্রিম খাবে?

হ্যাঁ, খাবো!

আরে, ওটা আগেই মুখে দেওয়া হয়েছে।

- আমার কোনো আপত্তি নেই। - কিন্তু আমার আছে।

এক স্কুপ?

হবে এতে?

- ইয়াহু! আইসক্রিম! - এই যে!

- মা, একদম নয়! একদম খাবে না! - এই একটুখানি, প্লিজ প্লিজ।

কাল অতিরিক্ত চল্লিশ মিনিট হেঁটে নেবো। সামান্য একটু দে।

- প্লিজ, প্লিজ! - কথা দিচ্ছো?

পাক্কা কথা। মায়ের মাথার দিব্যি!

আমাকে একটা স্কুপ দে।

- এই তো। - ব্যস, এইটুকুই!

একটা সামান্য আইসক্রিম নিয়ে এত মাতামাতি কিসের?

ভাই, আদা-রসুনের পেস্টটা দাও।

- সঞ্জু। - বলো?

এই সাতাশ তারিখে আমার সাথে সিনেমা দেখতে যাবে?

সাতাশ তারিখে?

অপারেশনের পর তোমার বিশ্রামের দরকার নেই নাকি?

আমরা চব্বিশ তারিখেই ফিরে আসবো।

আসলে… আমাকে দেশের বাইরে যেতে হবে।

ওহ। কোথায়?

ইয়ে… অ্যাম…

একটা মিটিংয়ের জন্য আমস্টারডাম যাচ্ছি।

শুধুমাত্র ডেটিংয়ের জন্য এতটা পথ উড়ে উড়ে যাচ্ছো?

অ্যাঁ?

কী? কী বললে তুমি?

- না মানে… মিটিংয়ের জন্য অত দূরে যাচ্ছো? - সর্বনাশ!

হতচ্ছাড়া মেয়ে! আমাকে ফাঁসিয়ে দিলো!

- আমি তাকে বলেছিলাম। - অ্যাঁ?

- এই! - এটা করো।

ভোর পাঁচটায় উঠে...

- চল্লিশ মিনিট হাঁটার কথা ছিল… - উপভোগ করো, আনন্দ করো।

আনন্দ করার কী আছে? বললাম তো, কাজের জন্য যাচ্ছি।

আরে আমিও তো সেটাই বললাম, ওটাও একরকম কাজই তো।

আচ্ছা চলি, শুভরাত্রি।

সঞ্জু, তোমাকে একটা জরুরি কথা বলতে ভুলেই গেছি!

তোমার সুটকেসে তোমার মা কনডম পেয়েছিলেন।

আর যখন রামুকে জেরা করা হয়েছিল,

তখন ও তোমার সব গোপন অভিসারের কথা ফাঁস করে দিয়েছে।

খুবই দুঃখের বিষয়।

- দুঃখিত ভাই, মাফ কোরো। - তুমি…

না মানে, আমি… আমি কিন্তু ওকে ওসব বলি নি।

আমি…

এই! আগে ওই বেইমানটাকে পাকড়াও কর!

- ঠিক আছে, কাকিমা। এই ম্যাডি, দাঁড়াও! - ধর ওটাকে!

- এই... - মা।

- আসলে ব্যাপারটা… - ওসব পরে হবে, আগে ওকে ধর!

তুইও আয়!

এই থামো! ম্যাডি, দাঁড়াও বলছি!

এই যে! এই!

দাঁড়াও বলছি, দাঁড়াও! আরে…

হাত না ছাড়লে কিন্তু বউকে বলে দেবো, তুমি মেয়েদের সাথে প্রেম করে বেড়াচ্ছো!

জানলে কী করে?

- আন্দাজে ঢিল মেরেছিলাম! - অ্যাঁ? আন্দাজে?

- কাকিমা ধরে ফেলেছি, আর ছাড়ছি না! - হাত ছাড়ো বলছি, ছাড়ো আমাকে!

এই ম্যাডি!

বউকে সব বলে দেবো?

- ছেড়ে দিলে আর বলবে না তো? - না, বলবো না।

আচ্ছা যাও, পালাও।

- কাকিমা, ফসকে গেল! - হতভাগা!

- এই! - উফ!

- মর্কট! একটা বাচ্চাকে সামলাতে পারিস না। - কী কাণ্ড!

- তোমাকে বলাই আমার ভুল হয়েছিল। - মা!

- এতগুলো সিঁড়ি ভেঙে উঠতে পারব না। - মা, শোনো…

মা, আসলে ব্যাপারটা হলো…

যা হওয়ার হয়ে গেছে, এখন ওসব ছাড়…

- তুই… তুই গিয়ে ওকে ধর! - যাচ্ছি!

- যা! - যাচ্ছি!

- বাবু! - বাঁ দিকে, বাঁ দিকে গেছে!

- যা, যা! - বাঁ দিকে!

এই!

ম্যাডি! দাঁড়াও!

ধুর!

এই।

কোন কথাটা কখন বলতে হয়, সেটুকু জ্ঞানও নেই তোমার?

তার ওপর আবার ব্যঙ্গ করে গান জুড়ে দিলে! ম্যাডি…

- ফেলে দেবো কিন্তু! হাত থেকে ফেলে দেবো! - ওটা লিমিটেড এডিশন!

না, না, না।

দয়া করে ফেলে দিও না।

- আমার সামনে থেকে সরে যাও। - ওটা আগে সাবধানে নামিয়ে রাখো।

- নইলে কিন্তু হাত থেকে ফেলে দেব! - দয়া করে রাখো।

- সরে যাও। - না, ওটা একটাই পিস রয়েছে।

- পথ ছাড়ো! - লিমিটেড এডিশন ওটা!

- এই, ওটা দাও! - কথা বুঝতে পারছো না?

- গোটা দুনিয়ায় একটাই আছে! - দাও, বলছি!

- নইলে ফেলে চুরমার করে দেব! - এই, না না!

- মা! - হচ্ছেটা কী এখানে?

- মা, তুমিই তো ওকে ধরতে বললে? - আরে!

- আমার প্রিয় গাড়ি! - আরে!

হায় ভগবান!

সঞ্জু?

সঞ্জু।

আমি জেনে গেছি বলে, খুব খারাপ লাগছে তোর?

খুব লজ্জা লাগছে আমার।

আচ্ছা, ঠিক আছে।

আমি কিছু জানতাম, সেটা ভুলে যাবো।

তুইও পুরো ব্যাপারটা মাথা থেকে মুছে ফেল।

ঠিক আছে।

তোমরা ভুললেও কোনো লাভ নেই, আমি দুজনকেই মনে করিয়ে দেবো।

পাগলের দল!

এটার খোঁজ কোথায় পেলি?

ফাটা কপাল, নিজের বিপদ নিজের প্রাইভেট জেটে উড়িয়ে নিয়ে এসেছি।

সঞ্জু, এখানে একটা সই করে দাও।

এটা কীসের কাগজ?

অভয়ের সম্মতিপত্র।

- এটাতেও একটা সই লাগবে। - এটা কীসের?

ওটা ম্যাডির।

আসলে এখানে ম্যাডির নিজের পরিবার বা কোনো বন্ধু নেই।

- হ্যাঁ, জানি। - তাই তুমিই সই করে দাও।

আরেকটা কথা।

ওদের দুজনকেই তিন সপ্তাহ পুরোপুরি আইসোলেশনে থাকতে হবে।

ওর সাথে একজন এটেনডেন্ট থাকলে ভালো হতো।

আমিই ওর সাথে থাকবো।

- ডাক্তারবাবু? - মিস্টার সঞ্জয়।

- কেমন আছে ওরা? - বাচ্চা আর ডোনার দুজনেই ভালো আছে।

ছয় ঘণ্টার মধ্যেই ওদের জ্ঞান ফিরে আসবে।

অনেক ধন্যবাদ, ডাক্তারবাবু।

হয়েছে এবার?

এই যে!

পাগলি একটা!

- ইয়াহু! - আরে আরে…!

এই! ম্যাডি? ম্যাডি।

ম্যাডি? এই ম্যাডি!

পাজি মেয়ে একটা।

- হাই। - হাই!

- হাই বলো, সোনা। - হাই!

- হ্যালো বলো, হ্যালো। - সময় হয়ে গেছে।

- মা, সময় হয়ে গেছে। - হ্যালো সোনা, এই!

- টা-টা। - বাই।

খেয়ে নাও ,সোনা… আর এক গ্রাস।

মা।

শুনতে পেলে?

- ও এইমাত্র "মা" বলে ডাকল! - মা?

শুনলে, ও "মা" বললো?

- শুনতে পেয়েছো? - আরেকবার বল, সোনা!

ও ডাকলো! ও সত্যিই ডাকলো!

ও আমাকে "মা" বলে ডেকেছে!

ম্যাডি?

- কী হয়েছে, ম্যাডি? - মাথাটা কেমন ঘুরছে।

ম্যাডি?

কী হয়েছে?

শরীর ঠিক আছে তো?

তুমি এখানে কেন?

না মানে… এমনিই।

উনি প্রতি রাতেই এখানে আসেন, ম্যাডাম।

- মানে... - তুমি ঠিক আছো তো?

কী হয়েছে, সঞ্জু?

আসলে…

ও নিতান্তই দুধের শিশু।

মুখে ফুটে কথা বলতেও শেখে নি।

খিদে পেলে, ঘুম না এলে,

কিংবা কোনো কিছু পছন্দ না হলে,

ও শুধু কেঁদে কেঁদে...

কষ্টটা জানাতে পারে।

এতটুকু এক নরম শরীরকে…

এত বড় একটা অপারেশনের মধ্যে দিয়ে যেতে হলো।

আমার ভয় করছে,

ওর খুব বেশি যন্ত্রণা হচ্ছে কি না,

- বা ও এই ধকল সইতে পারবে কি না। - সঞ্জু!

ও একদম ঠিক আছে।

দুই সপ্তাহের মধ্যেই ও পুরোপুরি সুস্থ হয়ে উঠবে।

হুম।

তুমি তো এখানে থাকো না, তাই জানতে পারো না।

সে সারাদিন খেলা করে!

আমি যখন মিসেস নির্মলার সাথে গল্প করি,

ও এমনভাবে তাকিয়ে শোনে, যেন সব বুঝতে পারছে!

আমরা যখন খেতে বসি,

ও ড্যাবড্যাব করে তাকিয়ে থাকে, আর মুখ দিয়ে লালা ঝরে।

নিজের খাবারের ভাগ কাউকে দেয় না,

অথচ আমাদের খাবার হাত বাড়িয়ে খেতে চায়।

আর জানো?

সেদিন প্রায় আমাকে "মা" বলেই ডেকে ফেলেছিল।

বেশি মায়ায় জড়িও না।

পরে খুব কষ্ট পাবে…

তুমি আর ও, দুজনেই।

হ্যাঁ, জানি।

কিন্তু আমরা এখানে সাকুল্যে তিনজনই আছি।

অন্য কোনো উপায়ও তো নেই।

তা ঠিক।

হুম।

একটা কথা জিজ্ঞাসা করবো?

অভয়ের বয়স যখন দশ বছর হবে,

এই খেলনাগুলো যখন আর ওর ভালো লাগবে না,

আর শুধু তোমার ভালোবাসায় ওর মন ভরবে না,

তখন ও যদি জিজ্ঞেস করে, ওর মা কোথায়, কী জবাব দেবে?

বলবো, ওর মা মারা গেছে।

কী!

কী হলো?

ম্যাডি?

এই!

কাঁদছো নাকি?

আরে! ম্যাডি শোনো।

তুমি কি মানুষ?

বিবেক বলে কিছু নেই?

- যাতে নিজেকে বাজে না লাগে, তার জন্য আমাকে মেরে ফেলবে? - বুঝতে পেরেছি।

তোমার সাহস তো কম নয়!

- তুমি একটা-- - আচ্ছা, হয়েছে।

তুমি খুব বাজে লোক!

বেশ, বলবো তুমি মরো নি, ছেড়ে চলে গেছো।

- অ্যাঁ? - পাষণ্ড একটা!

তার চেয়ে মরে গেছি বলাই ভালো ছিল!

আমি ওকে ছেড়ে চলে গেছি বলার সাহস পাও কোথা থেকে!

তাহলে ওকে আমি কী বলবো?

মিথ্যে যখন বলবেই ঠিক করেছো,

তখন ভালো কিছু বানিয়ে বলতে পারো...

যাতে আমার সম্মানটা বাড়ে!

কী বলতে চাইছো?

তুমি এটাও বলতে পারো, "তোমার মা একজন মহাকাশচারী।"

"ও মঙ্গলগ্রহে প্রাণের খোঁজে এক বিশেষ অভিযানে গেছে।"

"তুই যদি ভালো করে পড়াশোনা করিস, তবেই ফিরে আসবে"

"নইলে কোনোদিন ফিরবে না।"

তুমি যদি ওকে এইরকম সুন্দর কিছু বলো,

তাহলে আমার ভাবমূর্তিও নষ্ট হবে না,

আর সে-ও ভালো করে পড়াশোনা করবে।

এটা ভালো আইডিয়া?

তোমার মনে হয়, ও এইসব বিশ্বাস করবে?

- আরে বাচ্চারা এমনই হয়। - তাই নাকি?

ভূতের গল্প আছে বললেও, তারা বিশ্বাস করে।

- হুম। - চাঁদ দেখালেই সুড়সুড় করে খেয়ে নেয়।

তা না করে, তুমি ওকে বলবে, আমি মরে গেছি?

সেদিন নিজের চোখেই দেখলাম।

অভয়ের ফর্মে সই করার সময় তোমার হাত কাঁপছিল,

অথচ আমার ফর্মে সই করার জন্য যেন তর সইছিল না!

আসলে…

তা তো বটেই! আমি মরে গেলেও কারোর কিছু আসে যায় না।

- টাকা দিয়েছো বলেই এত অহঙ্কার, তাই না? - দেখো, ম্যাডি…

- তোমার কাছে আমার কোনো গুরুত্বই নেই। - এই।

দেখো ম্যাডি, মনগড়া কিছু ভেবে নিও না।

এটা কিন্তু অন্যায়।

আমাদের মধ্যে টাকার চুক্তি ছিল ঠিকই।

তার মানে এই নয়, আমি ভেবেছি, তুমি স্রেফ টাকার লোভে এসেছো।

এইটুকু বয়সে,

শুধুমাত্র নিজের পড়াশোনার খরচ চালাবার তাগিদে...

ন’টা মাস ধরে আমার সন্তানকে গর্ভে ধারণ করেছো।

এমনকি, ওর মুখের দিকে একবারও না তাকিয়েই ওকে আমার হাতে তুলে দিয়েছো।

কাজটা মুখের কথা নয়।

তোমার প্রতি আমার পূর্ণ শ্রদ্ধা আছে।

আর আমি চিরকাল তোমার কাছে কৃতজ্ঞ থাকবো।

তোমার জন্যই অভয় এই পৃথিবীতে আসতে পেরেছে।

তোমার জন্যই ও আজ নতুন জীবন পেয়েছে।

আমার কাছে তুমি ঠিক ততটাই মূল্যবান, যতটা অভয়।

তাই অভয় যেমন আমার দায়িত্ব,

যতদিন তুমি এখানে আছো,

তুমিও পুরোপুরি আমার দায়িত্ব।

বুঝতে পেরেছো?

কী?

আমি কখনো কারও দায়িত্ব ছিলাম না।

গায়ে কাঁটা দিয়ে উঠল শুনে। ধন্যবাদ!

শুভরাত্রি।

বাই।

আমরা বাড়ি চলে এসেছি!

আমি এক ঘণ্টার মধ্যেই পৌঁছাচ্ছি।

- ভেতরে নিয়ে গিয়ে রাখো। - আচ্ছা, স্যার।

দুজনকে দেখে রাজযোটক মনে হচ্ছে।

- ওকে একটু কোলে নিই, প্লিজ? - না, না।

- তুমি বিশ্রাম নাও। - দিবাস্বপ্ন দেখবেন না, ম্যাডাম।

স্যার এমনিতেও "না" বলে দেবেন।

- সোনা বাবু। - এখনও জেগে আছে?

আগামী সপ্তাহে ছুটির দরখাস্ত করেছো, তাই না?

সেটাও স্বপ্ন হয়েই থেকে যাবে।

ম্যাডাম!

দিদি… একটা সুখবর আছে।

মেঘনার বিয়ে ঠিক হয়ে গেছে।

- তাই নাকি? - ছেলের নাম প্রকাশ।

ওরা লন্ডনে একসাথে পড়াশোনা করেছে।

ভালোবাসা?

হ্যাঁ, দিদি।

সঞ্জু…

এদিকে আয়।

সঞ্জু, মেঘনার বিয়ে ঠিক হয়েছে!

তোর বোন।

দুঃখিত। অভিনন্দন।

- ধন্যবাদ। - আপনারা কথা বলুন।

এসো।

হ্যাঁ, তবে তুমি অডিটরদের সাথেও একবার কথা বলে নিতে পারো।

মা এসেছে, একটু পরে ফোন করছি। হ্যাঁ, রাখছি।

মা।

তা, আর কী খবর?

তুই-ই বল।

মেঘনাকে বহু বছর দেখিসনি, তাই না?

না।

মেয়েটা দেখতে একেবারে তোর বাবার মতো হয়েছে।

তোর বাবা ওদের ভালোভাবে থাকার সব বন্দোবস্তই করে গিয়েছেন।

তবুও…

ভাবছি, ওর বিয়ের সমস্ত খরচ আমি নিজেই বহন করবো।

বেশ, তাই কোরো।

আর…

আমার গয়নার অর্ধেক ওকে দিয়ে দেবো ভাবছি।

মা, তোমার যা ভালো মনে হয়, তাই কোরো।

এসব আমাকে বলছো কেন?

তোকে বলাই উচিৎ।

এতগুলো বছর পর আমাদের বংশে একটা বিয়ের সানাই বাজবে।

তা-ও আবার আমাদের সেই উটির বাড়িতে।

বাড়িটা কিন্তু এখনও আগের মতোই আছে।

তুই বহু বছর ওমুখো হসনি, তাই না?

শেষবার কবে গিয়েছিলি?

বাবা যেদিন এসে জানিয়েছিল ওনাকে বিয়ে করতে চলেছে।

ঠিক সেদিন।

তিরিশ বছর কেটে গেল।

আমি আর কখনো ওই বাড়িতে পা দিই নি।

বাবা ওনাকে বিয়ে করার পর,

সপ্তাহের কাজের দিনগুলোতে আমাদের সাথে, আর ছুটির দিনগুলো ওদের সাথে থাকতো।

গ্রীষ্মের ছুটিতে এপ্রিল মাসটা পেত ওরা, আর মে মাসটা পেতাম আমরা।

বাবা যতই ওদের সাথে বেশি সময় কাটাতে শুরু করলো,

আমার আর বাবার মাঝের দূরত্বটাও ততই বাড়তে লাগলো।

- সঞ্জু… - ওটা আমাদের বাড়ি নয়, মা।

ওটা ওদের বাড়ি।

ওরাও আমাদেরই পরিবারের অংশ।

ওটা বাবার পরিবার ছিল।

আমাদের নয়।

- সঞ্জু, আমার মুখের দিকে চেয়েও যাবি না? - দয়া করে জোর কোরো না, মা।

আমাকে এসবের বাইরেই থাকতে দাও।

অনিল, আমাদের একটু কথা বলা দরকার।

- মানে বলছিলাম… - এটা কোথায়?

- পুরো প্রজেক্টটা নিয়ে। এক সেকেন্ড। - দেখতে পাইনি তো।

ওই তো ওখানেই রয়েছে।

- হ্যাঁ, তা ঠিক। - এখন পর্যন্ত,

- কিন্তু জবাবদিহি কে করবে? - এতগুলো মানুষ।

তুমি কি পারবে… আরে, ওটা এঁটো করা!

- উফ… - এই!

পরে ফোন করছি, অনিল, পরে কথা বলছি।

হ্যাঁ।

- কী? - আমার কোনো সমস্যা নেই।

কিন্তু আমার আছে।

তুমি এমনটা করতে পারো না।

হ্যাঁ, তুমি যেন সাক্ষাৎ ভগবান!

আর তোমার কাপ থেকে এক চুমুক খেলেই, আমি অমর হয়ে যাবো!

- উফ! - এই যে!

- এক প্লেট চিকেন মোমো দিন তো। - আচ্ছা ম্যাডাম, নিশ্চয়ই।

ম্যাডি কোথায়?

এই, ম্যাডি!

ম্যাডি।

তুমি এখানে কী করছো?

-ম্যাডাম, দয়া করে পিছিয়ে যান। -একপাশে সরুন ম্যাডাম।

শেফ।

- আমার বন্ধুদের জন্য মোমো নিয়ে এসো। - আচ্ছা, স্যার।

হ্যালো?

হ্যালো, মিস্টার!

লাইন ভেঙে সামনে আসছেন কেন? পেছনে গিয়ে দাঁড়ান!

ম্যাডাম, এই রেস্তোরাঁটা স্যারের নিজের।

তাতে কী হয়েছে? আমি একজন কাস্টমার!

আপনার মালিক একজন কাস্টমারকে সম্মান দিতেও জানে না?

এই! গলার আওয়াজ নামিয়ে কথা বলুন।

পেছনে গিয়ে লাইনে দাঁড়ান!

আপনার ব্যবহার কিন্তু আমার পছন্দ হচ্ছে না।

- হাত ছাড়ো বলছি! - এই!

এই!

চলে এসো বন্ধুরা, গরম গরম মোমো!

আমি জানি, তাই না?

- এই! - আরে!

ম্যাডি, বসো!

- এই! সিকিউরিটি গার্ডদের ডাকো! - আচ্ছা, স্যার।

স্যার! স্যার, শুনুন…

প্লিজ স্যার, শান্ত হোন।

স্যার, আমি শরথ। এই হোটেলের জিএম।

- অসুবিধার জন্য আন্তরিকভাবে দুঃখিত, স্যার। - এই!

তুমি আমার অধীনে কাজ করো, আর ওর কাছে ক্ষমা চাইছো?

- আপনার ফোন কি সাইলেন্ট করা আছে? - অ্যাঁ?

ফোনটা ধরুন।

- বাবা? - গাধা কোথাকার, তুই জানিস উনি কে?!

আজ থেকে এই হোটেল ওনার!

এখনই সঞ্জয় স্যারের কাছে ক্ষমা চেয়ে, সোজা বাড়ি ফিরে আয়!

দাঁড়িয়ে আছো কেন? বসে পড়ো।

তার বাবা নথিপত্রে সই করে দিয়েছেন।

ম্যাডাম।

আমায় ক্ষমা করবেন, ম্যাডাম।

স্যার, আমায় মাফ করে দিন, স্যার।

আমি সত্যিই বুঝতে পারিনি, আপনি সঞ্জয় বিশ্বনাথ।

সই করে দিন, স্যার।

থামো।

এখন কেমন লাগছে তোমার?

আমাদের জীবনকে সহজ করার জন্য টাকাপয়সা আর সামাজিক সম্মান দরকার ।

অহংকার দেখানোর জন্য নয়।

ভগবান অদ্ভুত কায়দায় অহংকারী মানুষদের শিক্ষা দেন।

তিনি বুঝিয়ে দেন, তাদের চেয়েও শ্রেষ্ঠ কেউ না কেউ ঠিকই আছে।

দুঃখিত।

তোমাকে মারার জন্য ক্ষমা চাইছি না।

তোমার বাবাকে বোলো, আমি দুঃখ প্রকাশ করেছি।

আশা করি, উচিত শিক্ষা পেয়েছো।

ধন্যবাদ।

কিন্তু দোষ কিছুটা আমারও ছিল।

যদি গোটা ব্যাপারটা পুরোটাই তোমার দোষে হতো,

তবুও আমি তোমার পাশেই দাঁড়াতাম।

যতদিন তুমি এখানে আছো,

তুমি আমার দায়িত্ব।

অভয় সোনা!

মা, আমি একটা কনফারেন্সের জন্য বেলজিয়াম যাচ্ছি।

হ্যাঁ। বিদায়।

আমি খুব ভালো করেই জানি, ও কেন বেলজিয়াম যাচ্ছে।

আমি নিশ্চিত, এটা এখানেই রেখেছিলাম।

বাবু, তুই বললি, কনফারেন্সের জন্য বেলজিয়াম যাবি?

আমার মুড নেই আর।

সে নিশ্চয়ই পাসপোর্টটা এখানেই ফেলে গেছে।

পাসপোর্টটা আমার ব্যাগের ভেতরেই ছিল, আমি কোনোদিন এটা নিয়ে ভুলি না।

উত্তেজনার চক্করে হয়তো ভুলেই গিয়েছো।

মন খারাপ কোরো না।

এই, চুপ করো!

মায়ের সামনে বলে চুপ করে আছি।

আমার পুরো প্ল্যানটাই ভেস্তে গেল।

আরে!

ভাবানুবাদ ও সম্পাদনা : সুদীপ চক্রবর্তী।

- স্যার, স্যার। - বলো।

কী ব্যাপার?

- কী হয়েছে? - না, কিছু নয়।

সব ঠিক আছে তো?

হ্যাঁ।

- পেয়েছো? - কীসের কথা বলছো?

পরশু তোমার ফ্লাইট, ম্যাডি।

সবকিছু ঠিকঠাক থাকা সত্ত্বেও...

-হুম। - আমার এইরকম অদ্ভুত লাগছে কেন?

ছুটি শেষ, ম্যাডি।

- একটুখানি খেয়ে নে। - ম্যাডাম।

ছোট্ট একটা উপহার।

যেহেতু কাল চলে যাচ্ছেন, তাই আমাদের সবার পক্ষ থেকে এই উপহার থাকলো।

অনেক ধন্যবাদ।

সোনা।

আমাকে মিস করবি?

তোর বাবা কি আমাকে মিস করবে?

এগুলো সব তোমার জন্যই বানিয়েছি।

ফুরিয়ে গেলে আমাকে শুধু একটা ফোন করবে।

কাউকে দিয়ে পাঠিয়ে দেবো।

ওখানে পৌঁছানোর পর,

আমাদের সাথে যোগাযোগ রাখবে, নাকি সবাইকে ভুলে যাবে?

আরে আরে! কাঁদছো কেন?

এই ম্যাডি, কী ছেলেমানুষি করছো?

তোমাদের সবাইকে ছেড়ে চলে যেতে হবে ভাবলেই কেমন যেন বুকটা ফাঁকা লাগছে।

আমারও ঠিক একই রকম লাগছে। কিন্তু কী আর করা যাবে?

- এখানেই পাকাপাকি থেকে যাবো? - আর তোর পড়াশোনা?

- তোর ডাক্তারি পড়াশোনার কী হবে? - গোল্লায় যাক ওসব!

কী অলক্ষুণে কথা বলছিস!

তুমি যদি কোনোভাবে সঞ্জুকে রাজি করাতে পারো,

তবে আমি তোমাকে আর কখনো মিসেস নির্মলা বলে ডাকবো না।

তাহলে আমাকে কী বলে ডাকবে?

‘শ্বাশুড়িমা’ বলে ডাকবো।

- কিন্তু তোর বয়স অনেক কম... - প্লিজ!

আচ্ছা, বেশ।

- আচ্ছা ঠিক আছে। সারিকা। - সঞ্জু।

এয়ারপোর্ট সিকিউরিটির সাথে একটু কথা বলে নাও।

- সঞ্জু… - দেরি হয়ে যাচ্ছে, মা।

এই ব্যাগে তোমার যাত্রার খরচের জন্য কিছু টাকা আছে।

- আমার একটা কথা ছিল... - এই।

- সব গুছিয়ে নিয়েছ? পাসপোর্ট? - এক মিনিট।

- সে... - একটু দাঁড়াও, মা। মহেশ?

- সঞ্জু… - লাগেজটা তোলো।

- চেক-ইনটা করিয়ে নাও, যাও। - সঞ্জু, শোন…

সঞ্জু, ও যেতে চাইছে না, থেকে যেতে চায়।

কেন?

শরীর খারাপ লাগছে নাকি?

- বাবু। - তুমি ঠিক আছো তো?

সোনা, ও…

ও আসলে…

তোকে… ভালোবেসে ফেলেছে।

হ্যাঁ।

সত্যিই তাই।

মা… আমি…

কী?

- মা, আমি... - সঞ্জু, মেয়েটা খুব ভালো...

- আমার কথাটা শোনো। - আমার বেশ পছন্দ হয়েছে ওকে।

আচ্ছা, বেশ!

আমরা একটু লং ড্রাইভে যেতে পারি?

যাবে?

- হ্যাঁ, যাবো। - এসো।

চলো।

যা!

ম্যাডি, সত্যি বলতে…

বিয়ে নিয়ে আমার মনে কখনো...

কোনো নির্দিষ্ট চিন্তাভাবনাই গড়ে ওঠেনি।

সেটা আমি জানি।

আমাদের দুজনের বয়সের…

ফারাকটা অনেক বেশি।

তাতে কিচ্ছু যায় আসে না।

তোমার ভবিষ্যৎ অনেক উজ্জ্বল, ম্যাডি। আর এক বছর পরেই তুমি ডাক্তার হয়ে যাবে।

তুমি একটা তুড়ি মারলে, তোমার বয়সী ছেলেরা তোমার প্রেমে হাবুডুবু খাবে।

তুমি চাইলে, আমি চারবার তুড়ি মারতে পারি।

তুমি শুধু আমাকে ভালোবাসো। তাহলেই হবে।

তোমার মধ্যে অদ্ভুত একটা ব্যাপার আছে, ম্যাডি।

বিষয় যতই গম্ভীর বা জটিল হোক না কেন,

তুমি সেটাকে নিমেষে হাসিমজায় উড়িয়ে দিতে পারো।

খুব সুন্দরভাবেই পারো।

অভয়ের সাথে তোমার যেদিন প্রথম দেখা হয়েছিল,

মুহুর্তের মধ্যে তোমাদের মধ্যে একটা টান তৈরি হয়ে গিয়েছিল।

তুমি যখন প্রথম এসেছিলে, মা তোমাকে সহ্য করতে পারতো না।

আজ সেই তোমার পক্ষ নিয়ে কথা বলছে।

আমি তোমাকে বারবার বারণ করতাম বেশি ঘনিষ্ঠ না হতে।

এখন দেখো, বিদায় নেওয়াটা কত কঠিন হয়ে দাঁড়িয়েছে।

কী?

কী করছো?

প্লিজ সঞ্জু, এমন কোরো না।

না, না, না।

সঞ্জু, দয়া করে শোনো।

- সঞ্জু… - তোমার বোর্ডিং পাস।

- কিন্তু আমি তোমাকে ভালোবাসি! - শোনো।

দেখো, আমাদের মাঝে একটা চুক্তি হয়েছিল।

আমি তোমাকে টাকা দিয়েছি, তুমি তার বদলে বোন ম্যারো দিয়েছো।

ব্যস, ওখানেই সব শেষ।

বুঝতে পেরেছো? এবার এসো।

তোমার যাতায়াত খরচের জন্য।

স্যার… ম্যাডি ম্যাডাম?

স্যার, ম্যাডি ম্যাডাম কোথায়?

ম্যাডি কোথায়?

ম্যাডি কোথায় গেল, সঞ্জু?

তোকে জিজ্ঞেস করছি, ম্যাডি কোথায়?

- ও চলে গেছে। - চলে গেছে?

চলে গেছে মানে?

আমি ওকে যেতে বলেছি।

কী বলছিস তুই?

ও আর কোনোদিন ফিরবে না।

ভুলে যাও ওকে!

- ম্যাডাম, বাইরে দেখুন একবার… - সত্যি নাকি?

ম্যাডাম।

এই, সঞ্জু!

হ্যালো! বেরিয়ে এসো…

মদনকামেশ্বরী জ্যোতিলিঙ্গম নামক এক তরুণী...

আজ ভোর পাঁচটা থেকে মিস্টার সঞ্জয় বিশ্বনাথের বাড়ির সামনে ধর্নায় বসেছেন।

আসুন, ওনার সাথে কথা বলে আসল কারণটা জেনে নিই।

ম্যাডাম, আপনি ঠিক কীসের দাবিতে আন্দোলন করছেন?

এই, এই ! বাইরে বেরিয়ে আসুন বলছি!

আমার সঞ্জয় বিশ্বনাথকে চাই! আমি ন্যায়বিচার চাই!

আমি আমাদের সন্তানকে চাই!

বিশ্বনাথকে অবিলম্বে নিচে নেমে আসতে হবে! নেমে আসতেই হবে!

বিশ্বনাথকে অবিলম্বে নিচে নেমে আসতে হবে! নেমে আসতেই হবে!

নেমে আসতেই হবে!

মিস্টার সঞ্জয় বিশ্বনাথের সাথে আপনার কেমন সম্পর্ক?

ওনার কাছে আপনি ঠিক কী চান?

আমি সঞ্জয় বিশ্বনাথের বাচ্চার সারোগেট মা।

আমি আমার পূর্ণ ন্যায়বিচার দাবি করছি!

কতদিন এই বিক্ষোভ চালিয়ে যাওয়ার ইচ্ছে আছে আপনার?

- যতক্ষণ না বিচার পাচ্ছি, ততক্ষণ থামবো না... - ম্যাডি!

কী ছেলেমানুষি করছো এসব?

ভেতরে এসো, বসে কথা বলে মিটিয়ে নিচ্ছি।

এমন কী ঘটল যে, আপনাকে অনশনে বসতে হলো?

এটা অনশন নয়, স্যার।

উনি এইমাত্র দুই প্লেট বাবুর্চি বিরিয়ানি আর জাপান চিকেন সাবাড় করে এসেছেন।

জাপান চিকেন?!

- আপনি কে মশাই? - সঞ্জু আমার পিসতুতো ভাই।

তাহলে আপনারা মেয়েটির সাথে এমন অবিচার করলেন কেন?

সারোগেসির বুদ্ধিটা কি আপনারই ছিল?

না না, একদম না!

ইনি আমার স্ত্রী ডক্টর সিরিশা। বুদ্ধিটা পুরোটাই ওনার মাথা থেকে এসেছিল।

ম্যাডাম, আপনি কিছু বলুন!

দয়া করে সরুন!

আমি এসবের বিন্দুবিসর্গও জানি না!

- থামুন… শান্ত হোন সবাই! - সিকিউরিটি!

রামু, চলে যাচ্ছো কেন?

- ম্যাডাম, বিচারের দাবিতে… - চুপ করুন, প্লিজ!

নমস্কার, আমি কৈলাশ। ফ্যামিলি কোর্টের আইনজীবী।

আদালতে আপনার পক্ষে লড়ার মতো কোনো উকিল কি ঠিক করেছেন?

তাহলে, আমি আপনার কেসটা লড়তে চাই, ম্যাডাম। কোনো ফিস নেব না।

হঠাৎ এমন বদান্যতা কেন?

এমন একটা হাই-প্রোফাইল কেস লড়লে আমার নাম রাতারাতি চারদিকে ছড়িয়ে পড়বে।

আর কেসটা জিতে গেলে, সফল উকিল হিসেবে প্রতিষ্ঠিত হবো।

তাই, আমাকে আপনাকে সাহায্য করতে দিয়ে আমার কেরিয়ার গড়তে সাহায্য করুন, প্লিজ।

- বেশ, আজ থেকে আপনিই আমার উকিল। - ধন্যবাদ ম্যাডাম, অনেক ধন্যবাদ।

মহামান্য আদালত, এটা একটা সারোগেসি সংক্রান্ত মামলা।

আমার মক্কেল,

আমেরিকা প্রবাসী মিস মদনকামেশ্বরী জ্যোতিলিঙ্গম।

- কিডন্যাপ কেস নাকি? - উনি হলেন ছ’মাস বয়সী শিশু অভয়ের...

গর্ভধারিণী সারোগেট মা,

যে বর্তমানে সঞ্জয় বিশ্বনাথের আশ্রয়ে রয়েছে।

এখন উনি সন্তানকে নিজের কাছে ফিরে পাওয়ার দাবিতে পিটিশন দায়ের করেছেন।

কিন্তু মাই লর্ড,

আমরা আইনের প্রতিটি নিয়ম অক্ষরে অক্ষরে মেনে চলেছি।

মিস মদনকামেশ্বরী জ্যোতিলিঙ্গমকে আর্থিক চুক্তি অনুযায়ী যে অর্থ দেওয়া হয়েছিল,

তার সমস্ত ব্যাংক স্টেটমেন্ট আমরা আদালতে জমা দিয়েছি, মাই লর্ড।

এছাড়াও, তার স্বাক্ষর করা একটা চুক্তিপত্র জমা দিয়েছি, যেখানে তিনি শিশুটির উপর...

- নিজের অধিকার ত্যাগ করেছেন। - মাই লর্ড, এটা ভারতবর্ষ!

এখানে ওসব চুক্তি খাটবে না।

কেন খাটবে না?

সত্যমেব জয়তে।

শান্ত থাকুন, সবাই।

লাঞ্চ ব্রেকে, আমি উভয় পক্ষকেই আমার চেম্বারে দেখতে চাই।

মিঃ সঞ্জয়।

এটি সারোগেসি সংক্রান্ত অত্যন্ত স্পর্শকাতর একটি বিষয়।

ভারতে,

এমন বিষয়ের জন্য কোনো নির্দিষ্ট আইন পর্যন্ত নেই।

এই মামলা কিন্তু বছরের পর বছর চলতে পারে।

তাই আদালতের বাইরে কোনো সমঝোতায় পৌঁছানোর সুযোগ করে দিতেই...

আমি আপনাদের এখানে ডেকে পাঠিয়েছি।

বিচারক মহাশয়!

আপনি কি আমায় টাকা নিয়ে মামলা তুলে নিতে বলছেন?

- অ্যাঁ! - আপনি কি সেটাই বোঝাতে চাইছেন?

- কী বলছেন কী! - আপনি আমাকে ঘুষ নিতে বলছেন?

এই কথা কীভাবে বলতে পারেন?

- আইনত উনি কি একথা বলতে পারেন? - আমি এই কথা কখন বললাম!

ওকে বসতে বলুন!

বসে পড়ুন, ম্যাডাম।

- বসুন... - ও ইচ্ছে করে নাটক করছে, স্যার!

স্যার, সঞ্জয় বিশ্বনাথ বাবা হওয়ার যোগ্য নন।

তিনি সকালে ঘুম থেকে উঠেই অফিসে দৌড়ান।

প্রতি সন্ধ্যায় শুটিং রেঞ্জে বন্দুক নিয়ে কাটান।

লোকটা অভয় ঘুমিয়ে পড়ার পর বাড়ি ফেরেন।

বাচ্চা খেয়েছে কি না, ডায়াপার বদলানো হয়েছে কি না,

কোনো কিছুরই খোঁজ রাখেন না!

ওনাকে জিজ্ঞেস করুন, স্যার, বাচ্চার সাথে কখনো এক ঘণ্টাও কাটিয়েছে কি?

আমি না থাকলে আমার ছেলেটাকে কে দেখবে, তাই নিয়ে আমি খুবই চিন্তিত।

চিন্তার কিছু নেই, আমার মা এখানে আছেন।

বাড়িতে দেখাশোনার জন্য প্রচুর কাজের লোক আছে, স্যার।

- ওরাই ওর যত্ন নেবে। - ঠিক যা ভেবেছিলাম!

কিন্তু উনি নিজে যত্ন করবেন না।

মুখে রা সরছে না, তাই তো?

মা আর কাজের লোক দিয়েই যদি মানুষ করাবেন,

তবে বাচ্চার শখ করতে গেলেন কেন?

দুঃখিত, ওর ভরসায় আমি ছেলেকে ছাড়তে পারবো না।

বাহ! আমিও ওর ভরসায় ছেলেকে ছাড়তে পারবো না, স্যার।

একাই এক বোতল সাবাড় করে দেয়, একেবারে মাতাল!

আমি জন্মদিনে স্রেফ একবারই খেয়েছিলাম!

- তাতে কী মহাভারত অশুদ্ধ হলো? - একদম না।

আপনার মতো প্রতি মাসে ছুটি নিয়ে মেয়েদের সাথে মজা করতে যাই না!

মজা? বুঝতে পেরেছি!

- ধন্যবাদ, জামাইবাবু! - দুঃখিত, শালাবাবু।

মাসে একবার করে?

না স্যার, গত মাসে যাওয়া হয়নি।

আমি পাসপোর্ট লুকিয়ে রেখেছিলাম, বলেই পারে নি!

- এই, মারবেন না! - তাহলে কাজটা তোমার ছিল?!

মারবেন নাকি? মারুন না, গায়ে হাত তুলে দেখান!

- মারুন দেখি! - ম্যাডাম!

এটা জজের চেম্বার বলে আর মনে হচ্ছে না।

মনে হচ্ছে, কোনো রিয়্যালিটি শো চলছে!

- দুঃখিত, স্যার। - বিচারক কিন্তু সব দেখছেন।

মাপ করবেন, স্যার।

ঠিক কী প্রমাণ করতে চাইছো? আমি ভালো সিঙ্গল পেরেন্ট নই?

দুশো পার্সেন্ট সত্যি!

আর যদি প্রমাণ করে দিই, আমি সম্পূর্ণ যোগ্য?

তাহলে কি এসব ঝামেলা মিটিয়ে বিদেয় হবে? স্যার, ওকে একটু জিজ্ঞেস করুন!

রাজি আছো তো?

কীভাবে প্রমাণ করবে শুনি?

তুমি মুখে কুলুপ এঁটেই বসে থাকবে, তাই তো?

তেমন ব্যাপার নয়, শালাবাবু।

স্যার, একটা নির্দিষ্ট সময় বেঁধে দিন।

ওই সময়ের মধ্যে কারোর সাহায্য ছাড়াই, নিজেই আমার সন্তানকে মানুষ করে দেখাবো।

যদি তা করে দেখাই,

তবে কি ও চলে যাবে?

নির্দিষ্ট সময়? কতদিনের সময়ের কথা বলছেন?

এই ধরুন দশ বা কুড়ি দিন।

- এর চেয়ে বেশি আর কী লাগবে? - ছয় মাস।

- স্যার? - স্যার?!

- হ্যাঁ। - ছয় মাস।

চিন্তা কোরো না, হাইকোর্টে এর ফয়সালা করবো।

- স্যার, একটা সেলফি প্লিজ স্যার! - মাপ করবেন।

এখন নয়।

একটু জল খাবে?

তোমাকে কোন আহাম্মক ওকালতির ডিগ্রি দিয়েছিল?

- এই মামলাটা... - কী?!

মুখ দিয়ে একটা কথাও বের করতে পারলে না…

- না মানে, আসল কথা হলো-- - চুপ করো একদম!

আবার এই আপদটা এসে হাজির হয়েছে!

ওই তো।

হাসপাতালে তোমার কোনো কাজকর্ম নেই নাকি?

সারাক্ষণ আরতির থালা হাতে দাঁড়িয়ে আছো, যাও!

তুমি নিজের কাজ ঠিকমতো করো না,

- আর সে-ও করে না। খাসা জুটি তোমাদের! - শালাবাবু, কথা শোনো…

-সঞ্জু, কোর্টে ঠিক কী হলো? - গোটা ব্যাপারটাই ও ঘেঁটে ঘ করেছে!

আমি তিন সদস্যের একটি তদন্তকারী দল গঠন করছি।

তাঁরা আপনাদের বাড়িতে হঠাৎ হঠাৎ সারপ্রাইজ ভিজিট দেবেন।

শিশুটির সাথে আপনাদের দুজনের সম্পর্কের সমীকরণ তাঁরা খতিয়ে দেখবেন।

ছয় মাস পর, তাঁরা তাঁদের চূড়ান্ত রিপোর্ট আমার কাছে জমা দেবেন।

সেই রিপোর্টের ওপর ভিত্তি করেই,

বাচ্চাটির কাস্টডি কার কাছে যাবে, আমি চূড়ান্তভাবে নির্ধারণ করবো।

ততদিন পর্যন্ত, বাচ্চাটি যেখানে থাকবে, মা-ও সেখানেই থাকবে।

আমি আবার ফিরে এসেছি!

মা… অভয়।

কারও কুনজর যেন না লাগে!

আমি কিন্তু পুরোপুরি তোর দলেই আছি, ভাই।

তাতে কী লাভ হলো?

হাই!

হ্যালো।

- ওকে আমার কোলে দাও। - প্লিজ সঞ্জু, দুটো মিনিট সময় দাও।

তাকে ভীষন মিস করেছি।

তাকে কিছুক্ষণ আমার কাছে থাকতে দাও।

মা, একটু পরে অভয়কে ওপরে পাঠিয়ে দিও।

ভীষণ জেদী!

আশা করে, সবকিছু নিজের মর্জিমতোই চলবে।

বাচ্চা মানুষ করা কি অলিম্পিকে গোল্ড মেডেল জেতার মতো নাকি?

সন্তান বড় করা তার চেয়েও হাজার গুণ কঠিন কাজ।

বাবার ভূমিকা মা পালন করতে পারে,

কিন্তু মায়ের জায়গা, কোনো বাবাই পূরণ করতে পারে না।

এই ছয় মাসে সঞ্জু সে কথা হাড়ে হাড়ে টের পাবে।

ও বুঝবে, অভয়ের একজন মায়ের দরকার।

আর ওর একজন জীবনসঙ্গী দরকার।

আর আমিই একমাত্র, এই দুটো শূন্যস্থান পূরণ করতে পারি।

এমনটা কি বাস্তবে আদৌ সম্ভব?

প্লিজ, মিসেস নির্মলা!

একটু সহযোগিতা করো, মিসেস নির্মলা, আমরা দুজন মিলে টিম হিসেবে কাজ করবো!

তুমি তোআমাকে ‘শ্বাশুড়িমা’ ডাকবি বলেছিলে?

আবার মিসেস নির্মলা কেন?

ঠিক বলেছো!

আগে ছেলেকে বিয়েতে রাজি করাও, তারপর ওসব নামে ডাকবো।

- চেষ্টা মন্দ নয়! - তা তো জানিই।

বাহ্!

- বাবার কোলে এসো, সোনা! - স্যার, বাচ্চাটা পটি করেছে।

- ডায়াপার ওখানেই রাখা আছে, স্যার। - শীলা!

প্রমিলা! হারিকা! বাচ্চার ডায়াপার বদলাতে হবে!

কেউ একজন এসে ওকে একটু পরিস্কার করে দাও!

- আপনারা কারা? - এঁরা আদালত থেকে এসেছেন।

নিজের বাচ্চার ডায়াপার পর্যন্ত বদলাতে পারেন না?

উনি এইসব পারেন না।

- না মানে, আসলে… - এই, চুপ করে থাকবে?

মা, ওনারা খাতায় কীসব লিখছেন!

একটু সামলাও।

- একটু চা বা কফি নেবেন কি? - নাকি ফলের রস খাবেন, ম্যাডাম?

আগে সন্তানের ডায়াপারটা পরিষ্কার করুন, স্যার।

- অপারেশন থিয়েটারে ঢোকার মতো... - এক নিমেষেই পরিষ্কার করে দিচ্ছি।

- তোড়জোড় করছেন কেন? - আমি করে ফেলছি।

আরে ডায়াপার বদলাচ্ছি, ভীষণ দুর্গন্ধ!

- একটু পরিষ্কার থাকতে ভালোবাসি। - কিন্তু ও আপনারই সন্তান, তাই না?

- না না, তা নয়। - তেমন কোনো ব্যাপারই নয়!

কেন? আমার এগুলোর কোনো প্রয়োজনই নেই।

এসব কে আনতে বলেছিল? এসবের কোনো দরকার নেই আমার!

দেখুন, আমি গ্লাভস ছাড়াই পরিষ্কার করে দিচ্ছি।

আপনার বাঁ দিকে।

- না, না! - কিচ্ছু হয়নি।

আস্তে কথা বলো।

- কী ব্যাপার? - সোনাটার জন্য মন খারাপ করছিল!

ওলে আমার মিষ্টি সোনা! কে আমার লক্ষ্মী ছেলে?

- এই! - এবার ওকে সামলাও, আসি!

করছোটা কী? বাঁদর মেয়ে একটা!

- এবার মজা দেখো। - ঠিক আছে, আসছি।

- বাচ্চাটাকে নিয়ে কোথায় চলেছিস? - বাড়িতে শত্রুর সংখ্যা বড্ড বেশি।

অভয় আজ আমার সাথে অফিসে যাবে। চললাম।

হাই!

কিছুক্ষণের জন্য ওকে একটু দেখো।

আপনার ছেলেটা বড্ড মিষ্টি, স্যার।

- অনেক ধন্যবাদ। - এই বাবু, এদিকে দেখো!

এই যে, এদিকে তাকাও।

আরে!

- এই! - থামো এবার!

বাচ্চাটা কাঁদছে…

কেউ কি...

সর্বনাশ!

- কিশোর, কী হয়েছে? - স্যার, ব্যাপারটা হলো…

- বাবু সব বমি করে ফেলেছে। - তোমাদের দেখে রাখতে বলেছিলাম না?

ম্যাডি, দাঁড়াও!

ম্যাডি।

ম্যাডি!

- দাঁড়াও। - বাচ্চা সামলাতে না পারলে বললেই হয়।

অফিসে নিয়ে গিয়ে অন্যদের ঘাড়ে দায়িত্ব চাপানোর কী দরকার?

আমি পৌঁছানোর আগেই, ওরা যা নয় তা খাইয়েছে ওকে!

- আমি ক্লান্ত হয়ে ঘুমিয়ে পড়েছিলাম। - জানতে কি, ও বমি করেছে?

এমনভাবে চেঁচামেচি করছো, যেন আমি ইচ্ছে করে করেছি!

- সারারাত খেলা করে, ঘুমায় না।! - বাচ্চারা এমনই হয়!

- মানুষ করতে না পারলে, দিয়ে দাও! - ওহ্…

তুমি তো সেটাই চাও, দারুণ ফন্দি এঁটেছো!

ভেবেছো, ওকে কেড়ে নিয়ে যাবে?

- ওসব স্বপ্ন দেখা বন্ধ করো। - এই থামো!

- মুখ বন্ধ করো। - এত চ্যাঁচামেচি হচ্ছে কেন?

দুজনে মিলে এভাবে ঝগড়া করছিস কেন?

দেখতে পাচ্ছিস না, বাচ্চাটা কাঁদছে?

- ও কাঁদছে তো। - কিন্তু ও...

- বাচ্চাকে নিয়ে অফিসে গেছিলিস কেন? - ওকে জিজ্ঞেস করুন, মিসেস নির্মলা!

তুই একদম চুপ থাকবি!

আমি আবার কী করলাম?

তুই-ই সবসময় ওকে খোঁচা দিয়ে কথা বলিস!

- এই! - অনেক হয়েছে!

- তোরা কেউ বাচ্চার কাছেও আসবি না! - না, না…

- আমি নিজে ওর দেখাশোনা করবো। - প্লিজ, প্লিজ।

- মা… - না, একদম নয়!

শোন, তোদের যদি ঝগড়া করতেই হয়, তবে লনে গিয়ে কর!

ঘরের মধ্যে তোদের চিৎকার শুনলে, দুজনেরই বারোটা বাজাবো।

- সব তোমার দোষ! - এই!

- মা, সে আবার শুরু করেছে! - আরে!

- কীসের আওয়াজ? - আমি করিনি!

ওটা…

কিছু নয়।

শয়তান মেয়ে একটা!

কী করছিস?

- আমাকে ভয় পাইয়ে দিয়েছো! - সকাল থেকে ঘর ছেড়ে বেরোস নি কেন?

কাজের খুব চাপ ছিল।

এতই ব্যস্ত, নিজের ছেলের জন্যও সময় হয় নি?

যতদূর মনে আছে, কেউ একজন আমাকে বারণ করেছিল…

- বাচ্চার ধারেকাছে যেন না ঘেঁষি। - দারুণ!

খুব জেদ, তাই না?

- রাগ হয়েছে। - আচ্ছা!

ঠিক আছে, দুঃখিত।

এই নে, নিজের সোনা মানিককে কোলে নে।

ধর।

ওলে আমার সোনা!

মার জন্য মন খারাপ লাগছিল?

মার কথা মনে পড়ছিল বুঝি?

ঘুম পেয়েছে, সোনা?

ঘুমোবি?

এটা কী?

বিশ্ববিদ্যালয়ে মেইল করে জানিয়ে দিচ্ছি, এই সেমিস্টারটা আমি ড্রপ দিচ্ছি।

- কেন?! - কেন মানে?

ওর খেয়াল রাখতে হচ্ছে, তোমার ছেলের দেখভাল করতে হচ্ছে,

তার ওপর তোমার সাথে তর্কও করতে হচ্ছে।

পড়াশোনা করার মতো সময় পাবো কিভাবে?

সত্যিই তাই?

নয়তো কী?

তোমার কি মনে হয়, টাকার লোভে আমি এখানে পড়ে আছি?

বিশ্বাস কর, এই চিন্তা আমার মাথায় আসেনি।

সত্যি কথা বলো…

এখনো আমাকে পুরোপুরি বিশ্বাস করতে পারো নি, তাই না?

একদমই না!

আমি এখানে টাকার জন্যই এসেছিলাম, সত্যি।

কিন্তু এখন, আমি যে থেকে যেতে চাই…

সেটা শুধু সঞ্জুর জন্য।

এমনকি তোর জন্যও নয়, সোনা, মাফ করিস!

সঞ্জু…

তোমার ছেলের কথা ভাবলেই আমার গায়ে কাঁটা দিয়ে ওঠে।

লোকে বলে, বড়দিন এলে…

সান্তা ক্লজ গোপনে উপহার দিয়ে যায়।

সঞ্জুও ঠিক সেইরকমই এক মানুষ।

সবার সামনে এমন ভাব দেখায়, যেন ওর কিছুতেই কিছু যায় আসে না।

অথচ একা যখন থাকে,

তখন গোপনে নিজের সব ভালোবাসা উজাড় করে দেয়।

তুমি জেগে আছো কেন?

শুভরাত্রি।

আমি ওর ওই রূপটা দেখেছি।

আমি সেটা আরো পেতে চেয়েছি।

এমনকি যদি গোটা বিষয়টায় তোমারই দোষ থাকতো,

তবুও আমি তোমার পাশেই দাঁড়াতাম।

যতদিন তুমি এখানে আছো,

তুমিও দায়িত্ব সম্পূর্নভাবে আমার।

তাই আর আমার এখান থেকে চলে যেতে ইচ্ছে করেনি।

ম্যাডির ওপর এত কঠোর হোস না।

- ভাই, আমার ছেলেটা কোথায়? - সর্বনাশ!

এবার কিন্তু ওকে কিছুতেই জিততে দেওয়া চলবে না!

- ঘুরছে গোল গোল করে - ম্যাডাম।

- ধন্যবাদ। - ওহ না!

অভয়ের জন্য একটা খেলনা ট্রেন এনেছিলাম, কিন্তু দোতলায় ফেলে এসেছি।

- বাহ! বাবা তোমার জন্য খেলনা ট্রেন এনেছে। - উহ, আমার পা-টা!

- ঠিক আছে, আমি নিয়ে আসছি। - আচ্ছা।

আমরা বন্ধু তো?

- হ্যাঁ। - বেশ।

দোস্ত, এটা কিন্তু চিটিং!

তুমি যেন বিরাট সাধুপুরুষ! যাও, গিয়ে বোসো।

হাই, বাবু।

- রবি, এই অসময়ে আবার কে এলো? - নমস্কার, স্যার।

আরে আসুন, ভেতরে আসুন।

এই অসময়ে আপনারা? দেখো তো, কে এসেছে!

আমি এটা আশা করিনি।

আসলে এটা ওর রাতের খাওয়ার সময় তো।

- আমি না খাওয়ালে, ও খেতে চায় না। - খুব ভালো।

তাই ওকে খাইয়ে দিচ্ছিলাম। দয়া করে বসুন।

মিষ্টি সোনা আমার…

কী ব্যাপার, দিদি?

ডায়াপার দেখছেন? এইমাত্র বদলে দিলাম।

- একটু শুঁকে দেখবেন নাকি? - না।

দেখবেন না? আচ্ছা ঠিক আছে।

আমাকে কি নম্বর দিচ্ছেন আপনারা?

কত পেলাম আমি?

এমনিই জানতে চাইছিলাম আর কি।

স্যার, আপনি কিছু বলবেন?

ওহ্।

খেয়ে নাও বাবু! লক্ষ্মী ছেলে তো!

সঞ্জু, খেলনাটা তো ওপরে নেই...

- উনি বাচ্চার বেশ ভালোই যত্ন নেন। - হ্যাঁ, একেবারে সুপার ড্যাড।

- এই যে! শুনুন! - দেখলেন, কেমন সুড়সুড় করে খেয়ে নিল।

ম্যাডি, দেখো কারা এসেছেন।

- মিথ্যা নাটক করতে লজ্জা করল না? - আরে, আরে!

- চেঁচাচ্ছো কেন এভাবে? - তোমার লজ্জা করা উচিৎ, সঞ্জু!

- দেখুন স্যার, কেমন চোটপাট করছে! - এই।

স্যার।

এতক্ষণ আমিই বাচ্চাটাকে খাওয়াচ্ছিলাম!

- ডাহা মিথ্যা বলছে, স্যার! - ভগবানের দোহাই!

- আমার কোলে আয়, সোনা। - জলজ্যান্ত মিথ্যা কথা বলছে!

- ও এমন কথা বলছেন কেন? - প্রথম থেকেই উনিই ওকে খাওয়াচ্ছিলেন।

সবাই চলে এসো! এদিকে এসো! এদিকে এসো!

- হুইলস অন দ্য বাস… - মায়ের কোলে আয় অভয়, চলে আয়।

এই, ওকে আমার কোলে দাও!

- উনি রোজই ওর সাথে খেলাধুলো করেন। - কেউ কি এই পাগলামি থামাবে না?

- অভয়কে কে খাওয়াচ্ছিল? ওদের বলো। - মিথ্যা কথা বলে পার পাবে না!

কে? কে খাওয়াচ্ছিল?

স্যারই এতক্ষণ খাওয়াচ্ছিলেন, ম্যাডাম।

- সব মিথ্যা! - সত্যের সবসময় জয় হয়।

- সঞ্জু, অভয়কে আমার কাছে দাও। - একেবারে বাচ্চাদের মতো আচরণ করছে!

শাশুড়িমা, তুমি বলো। বলে দাও, আমিই এতক্ষণ ওকে খাওয়াচ্ছিলাম!

চুপ করে আছো কেন?

শাশুড়িমা, সত্যটা বলে দাও!

বলো! শাশুড়িমা!

- না মানে… - মা।

- মিসেস নির্মলা… - এই!

আমাকে শাশুড়িমা বলে ডেকে ফেলেছিস যখন, ওটাই চূড়ান্ত!

ওই নামেই ডাকবি।

মা…

সঞ্জু, আমার লজ্জা করছে!

সঞ্জু, ওনাদের খাওয়ার জন্য বল।

মজা করছো নাকি?

ও জেগে যাবে!

দুরাই ভাই, বসার চেয়ার আর সামিয়ানার ব্যবস্থা করো।

- ফ্রিজার বক্স আর ফুলের কথা মনে রেখো। - আচ্ছা।

অতিথিদের জন্য চা আর কফির বন্দোবস্ত রেখো।

- আজ কিন্তু রান্নাঘরে উনুন জ্বলবে না। - ঠিক আছে!

কাউকে দিয়ে আসবাবগুলো সরিয়ে নাও। শেষকৃত্যের আচারগুলো এখানেই করা হবে।

তুমি তোমার ছেলের আর নাতির যত্ন অনেকদিন করেছো।

এবার দায়িত্ব নেওয়ার পালা আমার।

মা…

সঞ্জু? কী হয়েছে?

ভয় করছে? মা তোর পাশেই আছে।

গত ছয় মাসে একটাও নতুন প্রজেক্ট আসে নি!

কোম্পানির শেয়ারের দর একদম তলানিতে গিয়ে ঠেকেছে।

সঞ্জু একবার কাজে ফিরলেই,

কোম্পানির মূল্য আবার তরতর করে বহুগুণ বেড়ে যাবে।

আমি আমার ছেলেকে পিস্তল চালানো শেখাতে চাই।

সঞ্জু, খুব মন দিয়ে ট্রেনিং কর,

আর অলিম্পিকে সোনা জিতে নিয়ে আয়।

সবসময় সবাইকে হাসিমুখে অভিবাদন জানাবি। ঠিক আছে?

ছেলেটা বড্ড শান্ত।

পরিবেশের সাথে মানিয়ে না নেওয়া পর্যন্ত আপনি ওর সাথে ক্লাসে বসলেই ভালো হয়।

আজ থেকে কিন্তু আমরা সহপাঠী, বুঝলি?

- এটা কী বল তো? - কুমড়ো।

বাহ্!

ব্লুবেরি।

মা…

মাগো!

তুই সবেমাত্র গোল্ড মেডেল জিতেছিস।

আমি মায়ের জন্য কিছু একটা করতে চাই।

তোর জয়ের আনন্দে একটু মিষ্টিমুখ করতে ইচ্ছে করছিল!

স্যার।

- ওনাকে একটু ফলের রস খেতে বলুন। - পরে হবে।

অভয় তোমার সাথে ঘুমোতে চায়।

- ঘুমিয়ে পড়ো। - এই।

সুপ্রভাত।

- বসুন সবাই। - কাজে ফিরেছেন দেখে ভালো লাগলো, স্যার।

ধন্যবাদ।

কেমন আছো, সঞ্জু?

ভালো আছি।

- আপনি কেমন আছেন? - হুম।

ভাবছিলাম,

মেঘনার বিয়েটা কিছুটা পিছিয়ে দেবো।

দিদি বিয়ের সময় ওর পাশে থাকতে চেয়েছিল।

ওর বিয়ের সমস্ত খরচ বহন করবো ভাবছি।

কিন্তু ভাগ্যের পরিহাস…

আমার গয়নার অর্ধেক ওকে দিয়ে দেবো ভাবছি।

সঞ্জু, আমার এই আবদারটুকুও রাখতে পারবি না?

বিয়ে পিছিয়ে দেওয়ার কোনো দরকার নেই।

মা যেভাবে চেয়েছিল, সেভাবেই ধুমধাম করে বিয়ের আয়োজন করবো।

আমি নিজে উপস্থিত থেকে সব দেখভাল করবো।

- সঞ্জু, আসল কথা হলো... - না।

মা সবসময় বলতেন, শোকের বাড়িতে শুভ অনুষ্ঠান হওয়া খুব ভালো।

কী হলো?

মা সবসময় চাইতো, আমি ওনার জন্য কিছু করি।

আমি কখনো কিছুই করতে পারিনি।

যতক্ষণ না বিয়েটা মিটছে,

ততক্ষণ আমাদের সমস্ত ঝগড়াঝাঁটি দূরে সরিয়ে...

একেবারে স্বাভাবিক আর শান্ত হয়ে থাকা যাক।

গত এক মাসে আমি কি একবারও নিজের সীমা ছাড়িয়েছি?

ভালো আচরণই করেছি, তাই না?

হ্যাঁ।

আর মাত্র পনেরোটা দিন।

ঠিক আছে, কথা দিলাম।

- এটা কী হলো? - আমরা এভাবেই প্রমিস করি।

ছিঃ, ওটা থুতু!

- আমার কোনো সমস্যা নেই। - কিন্তু আমার আছে!

কথা দিলাম!

-স্যার, আপনি কি সঞ্জয় বিশ্বনাথ? -হ্যাঁ।

একটা সেলফি তুলতে পারি, স্যার?

- আরে! - হ্যালো, স্যার।

- দেবা, কেমন আছো? - ভালো আছি, স্যার।

- তোমাকে একদম আগের মতোই লাগছে। - মেরি।

- সব ঠিকঠাক তো? - হ্যাঁ, ম্যাডাম।

সঞ্জু…

মেঘনা।

ভেতরে আয়।

- হাই। - হাই।

আসার জন্য অনেক ধন্যবাদ।

ভেতরে এসো, প্লিজ।

তোমার বাবা বলতেন, ছোটবেলায় এটাই নাকি তোমার শোবার ঘর ছিল।

সেই জন্যই কোনো জিনিসপত্র আমরা বদলাইনি।

এটা দেখো।

মার্সিডিজ বেঞ্জ ৫৪০কে, কনভার্টিবল।

আর এটা একটা করভেট।

আরে, পোর্শে… ৯১১!

আর এটা আমার সবচেয়ে পছন্দের, 'ব্যাক টু দ্য ফিউচার'-এর ডেলোরিয়ান গাড়িটা!

চন্দ্রমুখী সিনেমার জ্যোতিকার মতো আচরণ করছো কেন?

শালাবাবু।

রুক্মিণাম্মা!

- কেমন আছো তুমি? - আমাকে এখনও মনে আছে?

তুমি আন্নুর বাজার থেকে আমার পছন্দের সব মিষ্টি নিয়ে এসে খাওয়াতে!

- ওহ, প্লিজ! - ম্যাডাম…

কেঁদো না প্লিজ, একদম না। তোমার ছেলে শিবা কোথায়?

বাইরে দাঁড়িয়ে অপেক্ষা করছে।

এই, শিবা!

- কেমন আছিস? এত ফর্মালিটি কেন? - ভালো আছি।

- ভেতরে আসিসনি কেন? - না মানে, ব্যস্ত থাকতে পারো ভেবে…

কী, ওকে মনে আছে?

ডাঙ্গুলি শিবা! এক ঘা মারলে আধ কিলোমিটার গিয়ে পড়ত।

- এখন কী করছিস? - একটা বেকারির দোকান চালাই।

পড়াশোনায় একদম মন ছিল না, তাই অঞ্জলি ম্যাডাম ওকে একটা বেকারি খুলে দিয়েছেন।

তাই নাকি? দারুণ ব্যাপার!

- সবকিছু ঠিকঠাক চলছে তো? - হ্যাঁ।

এই স্টেজের যেকোনো জায়গায় দাঁড়িয়েই কথা বলতে পারেন, স্যার।

- তাই নাকি? - সবাই স্পষ্টভাবে শুনতে পাবে।

এটা একদম নতুন প্রযুক্তি স্যার, এগুলো সবই শক্তিশালী মাইক্রোফোন।

- তাই নাকি? - বাঃ, চমৎকার।

এমন নিখাদ ভালোবাসা মানুষের কল্পনার অতীত!

শুনতে পাচ্ছেন আমার কথা?

ওরা সেট করছে, পাঁচ মিনিটের মধ্যে পুরো চালু হয়ে যাবে।

- ওহ! - অভয়ের ঠান্ডা লাগছে বোধহয়।

- ওকে ভেতরে নিয়ে যাও। - যাচ্ছি।

এখানে ক্যাটারিংয়ের দায়িত্বে কে আছেন?

- মেনুটা একবার দেখতে পারি? - হ্যাঁ স্যার, নিশ্চয়ই।

মাত্র তিনটে ঘণ্টার ব্যাপার।

- এতে সমস্যার কী আছে? - সেটা কোনো কথা নয়।

চাবিটা দিয়ে দিন।

- ম্যাডাম না বলার পরেও, ঝামেলা করছেন কেন? - "না" মানেটা কী?

- কীসব আজেবাজে বকছেন? - স্যার…

- আমাদের কী ভেবেছেন? - আপনার সমস্যা কী?

- শান্ত হোন সবাই! - আমি দেখছি, তুমি যাও।

আমার মুখের ওপর কথা বলে কেউ পার পাবে না, বুঝেছেন?

কী ব্যাপার, কী হয়েছে?

কিছু না, বাবু। আমাদের বাড়ির পেছনের হলঘরটার কথা মনে আছে?

মাঝে মাঝে অনুষ্ঠানের জন্য আমরা ওটা ভাড়া দিই।

পরশু দিন ওনার জন্মদিন, ওখানে ধুমধাম করে পালন করতে চান।

- কী করে সম্ভব? বাড়িতে তো বিয়ে। - ম্যাডামও সেটাই বললেন।

আমার সম্পত্তি, আমি যা ইচ্ছে তা-ই করবো।

- আমি দিতে পারবো না। - আপনার সম্পত্তি?!

এই সম্পত্তি কীভাবে আপনার কব্জায় এসেছে, তা গোটা শহরের মানুষ জানে!

মাথায় ঢুকেছে কথাটা?

কী!

- হ্যালো। - স্যার?

না, না স্যার, তেমন কোনো ব্যাপারই নয়। আমরা এখনই চলে যাচ্ছি, স্যার।

এক্ষুনি যাচ্ছি স্যার, আজ্ঞে হ্যাঁ।

কার ফোন ছিল, দাদা?

চেন্নাইয়ের মন্ত্রীমশাই।

আমাকে ক্ষমা করে দেবেন, ম্যাডাম।

মাফ করবেন।

চল, বেরোনো যাক।

লোকটা কে দাদা?

আমাদের চেয়েও বেশি দাপট লোকটার! কে উনি?

সঞ্জয় বিশ্বনাথ।

- বিশ্বনাথের ছেলে… - হ্যাঁ!

এই মহিলা ওর বাপেরই রক্ষিতা হয়ে কাটিয়েছে!

কিসের প্রতিধ্বনি হচ্ছে?

- সঞ্জু… না, ছেড়ে দাও ওদের! - ছোটোলোক কোথাকার…

মাইকে আওয়াজ চলে গেছে।

নতুন প্রযুক্তির মাইক।

- মা… - চিন্তা করিস না, কিছু হয়নি।

কিচ্ছু হয়নি, চল ভেতরে যাই।

স্যার?

আসছি।

এসব আমাদের গা-সওয়া হয়ে গেছে।

তোমার বাবা হয়তো ওনাকে অঢেল টাকা আর এই প্রকাণ্ড বাড়ি দিয়েছিলেন,

কিন্তু সমাজের প্রাপ্য সম্মানটুকু কখনোই দিতে পারেন নি।

ওই লোকটা গুণ্ডা গোছের, তাই মুখের ওপরই বলে দিল।

আর বাকি সবাই ওনার পেছনে কুৎসা রটায়।

ওদের সাথে তর্ক করে কী লাভ?

এমনকি ওনাকে নিজের মা-বাবাও ত্যাগ করেছেন।

বাদ দাও ওসব, চলো কিছু খেয়ে নাও।

-সাবধানে তোলো, মণি। সাবধানে! -শিবা।

হচ্ছেটা কী? এগুলো সব কোথায় নিয়ে যাওয়া হচ্ছে?

ম্যাডাম এগুলো স্টোররুমে রেখে আসতে বললেন।

স্টোররুমে? কেন?

বরপক্ষের সংস্কার।

ওরা বলেছে, শুভ অনুষ্ঠানে কোনো মৃত মানুষের স্মৃতিচিহ্ন সামনে রাখা ঠিক নয়।

আজব সংস্কার তো! জীবনে এমন কথা কখনো শুনিনি।

- নমস্কার স্যার, আসুন। - আসুন স্যার।

এত কানফাটা আওয়াজ কিসের?

- বাজনাটা একটু আস্তে বাজাতে বলো। - একটু আস্তে বাজাও তো।

- বলেছিলিস, সঞ্জয় এখানে আসবে না? - আমি কী করে জানবো?

সঞ্জয়?

- আরে, নমস্কার। - স্বাগতম।

- নমস্কার। - আপনি কি সঞ্জয় বিশ্বনাথ?

আপনি আমাকে চেনেন, স্যার?

আপনাকে কে না চেনে!

আপনার বাবাকেও খুব ভালো করেই চিনতাম।

- ওহ। - তা আপনি এখানে কেন?

স্যার, আমি কনের দাদা।

ওহ! তুতো ভাই বুঝি?

মেঘনা হলো… আমার বাবার দ্বিতীয় পক্ষের স্ত্রীর মেয়ে।

আচ্ছা…

তাহলে… উনিই সেই সিনেমার নায়িকা?

আজ্ঞে হ্যাঁ, স্যার।

বাজনাটা বন্ধ করো তো!

- ভাই, ওনাকে ভেতরে নিয়ে যাও। - হ্যাঁ, চলুন।

নমস্কার।

- নমস্কার। - মেঘনা।

- প্রকাশ? - হ্যাঁ?

দরজাটা বন্ধ করো।

তোমার কাকা এমন অদ্ভুত আচরণ করলেন কেন?

তুই আমাকে কী বুঝিয়েছিলিস?

বলেছিলিস, উটির এক বিরাট ধনী জমিদারের মেয়ে, যার বাবা গত হয়েছেন।

দাদা, প্রকাশ সত্যিই মেয়েটাকে খুব ভালোবাসে।

- তোমায় সত্যিটা জানাতে বারণ করেছিল। - ওহ!

সেই জন্যই তোমরা আমার বাবার ছবিটা দেওয়াল থেকে সরাতে বলেছিলে ?

সব সত্যি লুকিয়ে রেখে আমায় বিয়ে করার মতলব ছিল তোমার?

মেঘনা, শান্ত হও প্লিজ।

আমার বাবা, মা, ঠাকুমা, পিসি, বোনেরা, সবাই তোমায় ভীষণ পছন্দ করে।

আমরা সবাই ওকে মন থেকেই মেনে নিয়েছি, তোমার সমস্যাটা কোথায়?

কাকার এই গোঁয়ার্তুমিটা উপেক্ষা করতে পারো না?

শুধু মেয়ে পছন্দ করলেই হয় না, পরিবারটাকেও পছন্দ হতে হবে!

আমি যদি ওখানে শান্তিতে সংসার করতে চাই,

তবে, ওদের সবাইকে আমাকে ও আমার পরিবারকে সম্মান করতে হবে।

রামানাথন এই বিয়েতে একটুও খুশি নন।

- তাই আমি চলে যাচ্ছি। - শোনো…

এখান থেকে বিদায় হও! তোমার মুখ আর আমি দেখতে চাই না!

তুমি যদি চাও...

মুখ ফুটে কিছু বলো!

স্যার, কফি খাবেন?

নাকি চা দেবো?

ইয়ে… কফিই দিন।

- এক কাপ কফি নিয়ে এসো। - আচ্ছা, স্যার।

আমি… আসলে প্রকাশকে খুঁজছিলাম।

- কাকাকে কীভাবে বোঝাবো কিছুই মাথায় আসছে না। - প্রকাশ?

ওর দেখা পেলে একটু এদিকে পাঠিয়ে দিও।

- দেখা পেলে বলে দেবো। - ধন্যবাদ!

আমার ধৈর্য্যের বাঁধ ভেঙে গেছে, মা!

এই বিয়ে এখনই বন্ধ করো!

- সঞ্জু, কিছু বলো। - ইয়ে মানে…

মেঘনা…

দয়া করে তুমি এই ব্যাপারে নাক গলিও না।

বাচ্চার খাওয়ার সময় হয়ে গেছে, চলো যাই।

আয়, ভেতরে যাই।

বিয়ে উপলক্ষে এসেছো, খুব ভালো কথা।

কিন্তু অহেতুক অভিভাবক সাজার ভান করতে যেও না।

সত্যি বলতে, তুমি সবসময় আমাদের ঘৃণা করে এসেছো।

আমি তোমার দিদির মত।

তোমার যা দরকার, নিশ্চিন্তে বলো।

আমরা সবাই একই পরিবা...

সঞ্জু… সঞ্জু?

মা, আমরা এবার ফিরে যেতে পারি কি?

কাকিমা মারা যাওয়ার আগে পর্যন্ত আমি আর তোমাদের বাড়িতে পা দিই নি।

কিন্তু মনে মনে, আমি তোমাকে ভীষণ ঘৃণা করতাম।

জানো কেন?

আমার বাবা…

আমাদের বাবা…

আমাদের চেয়ে তোমাদের সাথেই বেশি সময় কাটাতেন।

সপ্তাহের পাঁচটা দিন তোমাদের সাথে থাকতেন, আর আমাদের জন্য বরাদ্দ ছিল মাত্র দু'দিন।

গ্রীষ্মের ছুটিতে বাবাকে পেতাম মোটে দুই সপ্তাহ,

আর বাকি গোটা ছুটিটাই উনি তোমাদের সাথে কাটিয়ে দিতেন।

বাবা আসছেন জানলেই,

আগের রাতে উত্তেজনায় আমার ঘুম আসতো না।

বাবা আমার জন্য উপহার আনবেন বলে নয়।

বাবা পাশে থাকলে সবাই আমাদের সম্মান দিত।

মায়ের পাশে বাবাকে দাঁড়িয়ে থাকতে দেখলে...

লোকে অন্তত মাকে শ্রদ্ধার চোখে দেখতো।

বাবা মারা যাওয়ার পর,

আমাদের সেই সামান্য সম্মানটুকুও বাবার সাথে চিরতরে শেষ হয়ে গেল।

কেউ কোনোদিন আমাদের খোঁজ নিতেও আসেনি, এমনকি দাদু-দিদাও নয়।

নিজেকে একেবারে অনাথ বলে মনে হতো।

- মেঘনা? - কী?

তুমি কি সত্যি সত্যিই বিয়েটা ভেঙে দিচ্ছো?

- হুট করে কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ো না, মেঘনা। - প্রকাশ, থামবে তুমি?

মেঘনা, পরিস্থিতিটা একটু বোঝার চেষ্টা করো।

- যতক্ষণ না কাকা মত দিচ্ছেন... - আমি ওনার সাথে কথা বলবো।

সেটা…

তোমার কাকার সাথে আমি নিজে কথা বলবো।

- কী হলো? - ঠিক বুঝতে পারছি না।

জেনারেটরে বিস্ফোরণ ঘটেছে, ম্যাডাম।

- সর্বনাশ! - ভাই, ইলেকট্রিশিয়ানকে ফোন লাগাও!

মোবাইলে কোনো নেটওয়ার্কই পাচ্ছি না।

ল্যান্ডলাইনে চেষ্টা করে দেখো।

ল্যান্ডলাইনটাও বিকল হয়ে গেছে, ম্যাডাম।

ভাই।

গোটা গ্রাম আলোয় ঝলমল করছে,

- শুধু আমাদের বাড়িতেই বিদ্যুৎ নেই। - কেন?

থাঙ্গাভেলুর কারসাজি।

গোটা শহর ওর হাতের মুঠোয়।

সেই অহঙ্কারে যা খুশি তা-ই করে বেড়াচ্ছে।

তোর বেকারিতে কোনো বার্থডে কেক হবে?

হ্যাঁ, হবে। কিন্তু কার জন্য?

থাঙ্গাভেলু!

শুভ জন্মদিন!

দেখুন স্যার… আপনার প্রভাব-প্রতিপত্তি অনেক থাকতে পারে।

কিন্তু সেই দাপট এই তল্লাটে সবসময় খাটবে না।

কারণ এখানে মোবাইলের সিগন্যাল একেবারেই দুর্বল।

কিন্তু আমরা এখানে অসম্ভব রকমের শক্তিশালী।

আমার নিজের অহঙ্কার চরিতার্থ করতে...

কাল সকাল ছ’টার আগে আপনার বাড়ির লাইন আমি জুড়তে দেবো না, ব্যস!

জন্মদিনের পার্টি চুকে গেছে।

এবার একটু বার্থডে বাম্পস দেওয়া যাক?

সেটা আবার কী?

এই! পালাচ্ছিস কোথায়? এদিকে আয় বলছি! আয় সামনে!

স্যার! স্যার, মাফ করে দিন স্যার! ছেড়ে দিন আমাদের!

জীবনে কোনোদিন আর এমন ভুল হবে না, স্যার!

অঞ্জলি ম্যাডামকে নিয়ে কোনোদিন আর নোংরা কথা বলবো না, স্যার!

আর কখনো এমন ধৃষ্টতা দেখাবো না, স্যার! ভুল হয়ে গেছে, মাফ করে দিন!

শহরের প্রতিটি ঘরে বিয়ের নিমন্ত্রণপত্র বিলি করে এসো।

- এই বাচ্চারা, এদিকে আয়! - চলো, যাওয়া যাক।

তাড়াতাড়ি এদিকে আয়।

গিয়ে সবাইকে বলবি, আমি ওদের বেদম পিটিয়েছি।

আমরা গিয়ে কী বলবো?

সঞ্জয় আঙ্কেল ওদের পিটিয়ে তক্তা করে দিয়েছে।

না, বলবি, "মেঘনার দাদা ওদের পিটিয়ে সোজা করেছে।"

আমরা গিয়ে বলবো, "মেঘনার দাদা ওদের ধোলাই দিয়েছে!"

সবাইকে বলবি, "এই বংশের বড় ছেলে আজ ওদের উচিত শিক্ষা দিয়েছে।"

কেউ কখনো আমাদের দেখতেও আসেনি, এমনকি দাদু-দিদাও নয়।

নিজেকে বড্ড অনাথ লাগতো।

ওনার মা-বাবা থাকেন কোথায়?

শ্রীরঙ্গমে থাকেন। বহু বছর আগেই মেয়েকে ত্যাজ্য করেছিলেন।

অথচ অঞ্জলি ম্যাডামের কাছে ওনারাই সব।

দাদু, আপনার পেনশনের চেক এসে গেছে।

- কেমন আছেন, দিদা? - ভালো আছি।

একটা নতুন টিভি কেনা খুব দরকার।

ছবি ঝাপসা আসছে।

- সব একদম টাটকা আনাজ। - টমেটো কিলো কত করে?

- পাঁচ টাকা কেজি। - নমস্কার!

- আপনি কে? - আমি সঞ্জয় বিশ্বনাথ।

বিজয় বিশ্বনাথের ছেলে।

আপনাদের এতটা রাগ হলে,

ভাবুন, আমার কতটা হওয়া উচিৎ।

যেহেতু আমি ওনার প্রথম পক্ষের স্ত্রীর সন্তান।

ভেবে দেখুন, আমার মায়ের মনের ওপর দিয়ে কী ঝড় বয়ে গিয়েছিল।

কিন্তু আমার মা সবসময় একটা কথাই বলতেন,

রাগ আর ক্ষোভের আঁচ...

সময়ের সাথে সাথে জুড়িয়ে যায়।

চলুন, সব পুরোনো কথা ভুলে যাই।

সেই জন্যই তো আমি নিজে এসেছি আপনাদের বিয়ের নিমন্ত্রণ করতে।

আপনাদের নাতনির বিয়ে।

কবে বিয়ে?

ইয়ে, মানে…

পরশু দিন সকালে।

পরশু দিন বিয়ে,

আর এখন এসে নিমন্ত্রণ করা হচ্ছে?

চমৎকার!

ভেবেছিলাম আপনাদের দুজনকে সাথে নিয়ে গিয়ে সবাইকে চমকে দেবো।

পাগল ছেলে একটা!

আমরা বহুকাল আগেই সিদ্ধান্ত নিয়েছি, ও আমাদের কেউ নয়।

আর ও-ও তো বুঝিয়ে দিয়েছে, আমাদের ওর কোনো দরকার নেই।

আমরা একে অপরকে অনেকদিন আগেই মন থেকে মুছে ফেলেছি।

আমাদের আর বিরক্ত কোরো না।

তুমি যাও।

রমেশ।

- যাবার পথে এটা ব্যাংকে জমা দিয়ে যেও। - আচ্ছা, দাদু।

দেখি তো একটু চেকটা।

কিছু মনে করবেন না,

অবসর নেওয়ার সময় আপনার মূল বেতন কত ছিল?

- বলুন, কোনো দ্বিধা করবেন না। - আঠাশ হাজার পাঁচশো টাকা।

- আচ্ছা। - ভুল বললে শুধরে দেবেন…

শুনেছি, সরকারি কর্মচারীদের পেনশনের পরিমান...

অবসরের পর বেতনের অর্ধেক হয়ে যায়।

অথচ এই চেকে পেনশনের পরিমান…

পঞ্চাশ হাজার টাকা লেখা আছে!

ইয়ে, স্যার…

- বছরে দশ শতাংশ করে ভাতা বাড়লে… - কী?

- পেনশনে দশ শতাংশ করে ইনক্রিমেন্ট? - হ্যাঁ, স্যার।

- হলেতা সরকার দেউলিয়া হয়ে যাবে! - আপনি কী বলছেন?

আচ্ছা, টমেটো কত করে কেজি?

পাঁচ টাকা কেজি, স্যার।

বহুবছর আগেই, বাজারে টমেটোর দাম পঞ্চাশ পেরিয়েছে!

তুমি এখনও সেই নব্বইয়ের দশকের দাম নিচ্ছো!

- তোমাদের বেতন কত? - চার হাজার টাকা, স্যার।

আমার আর আমার বর, দুজনের মিলিয়ে।

ওর হাতের ফোনটা দেখেছেন?

ওটার দাম পঁয়তাল্লিশ হাজার টাকা!

- এখনও বুঝতে পারছেন না? - না।

এই শোনো!

ম্যাডামকে ফোন করে বলো, দাদুর শরীরটা খুব খারাপ করেছে।

- কোন ম্যাডামকে বলবো, স্যার? - নাটক বন্ধ করো, নইলে মার খাবে।

এখনই ফোন করো!

ম্যাডাম…

স্যারের শরীরটা খুব একটা ভালো নেই।

কেমন আছেন, কাকা?

কাকিমা কেমন আছেন? শরীর ঠিক আছে তো?

রাতে ঘুম হয়েছিল ঠিকঠাক?

ভাবলাম, আপনাদের সাথে এক কাপ চা খেয়ে যাই।

কাকা!

কেমন আছেন?

শহরের দিকে যাচ্ছি, কিছু লাগবে আপনাদের?

আপনারা যদি সাথে যেতে চান, আমি অপেক্ষা করতে পারি।

- ডাক্তারবাবু! - হ্যাঁ, বলুন?

হাসপাতালে নিয়ে গিয়ে ওনাদের একবার স্বাস্থ্যপরীক্ষা করিয়ে আনছেন না কেন?

- দরকার পড়লে আমি নিজে নিয়ে যাবো। - আচ্ছা, সাবধানে থাকবেন।

নিশ্চয়ই।

আচ্ছা, আমি আসছি।

আপনারা ওনাকে ত্যাগ করেছিলেন।

কিন্তু উনি আপনাদের কখনোই ত্যাগ করেননি।

তিনি এমন একটা জগৎ তৈরি করেছেন, যেখানে...

কোনো কিছুর জন্যই আপনাদের কখনোই ঘর ছেড়ে বেরোতে হবে না।

এত কিছু না করে,

সে যদি অন্তত একবার এসে, আমাদের সাথে কথা বলতো,

তাহলে সব ঠিক হয়ে যেতো।

একটা-দুটো বছর নয়,

দীর্ঘ ত্রিশ বছর!

এসো, বাবা।

এই দীর্ঘ তিরিশ বছরে,

ওনার কোলজুড়ে একটা ফুটফুটে মেয়ে এসেছে।

মাথার উপর থেকে স্বামীর ছায়া সরে গেছে।

আপনারা তার সাথে দেখা করতে যান নি কেন?

মানুষের মাঝে দূরত্ব শুধু...

ঝগড়াঝাঁটির কারণে বাড়ে না। দূরত্ব বাড়ে কারণ...

কিভাবে আবার নতুন করে কথা শুরু করবে, তা তারা বুঝতে পারে না।

ওনার হয়ে আজ আমি কথা বলতে এসেছি।

আপনারা যদি গিয়ে একবার ওনার সাথে কথা বলেন, তবে সব অভিমান মিটে যাবে।

আমি আপনাকে আর বিরক্ত করবো না।

আমার গাড়িটা এখানেই রেখে যাচ্ছি।

যদি আপনাদের মন বদলায়… দয়া করে আসবেন।

ভাই, আমাকে একটু বাসস্ট্যান্ডে নামিয়ে দাও।

আরেকটা কথা বলতে ভুলেই গিয়েছিলাম।

আপনাদের নাতনি দেখতে অবিকল আপনার মতো হয়েছে।

আপনার মতই সুন্দর চোখ আর মিষ্টি হাসি পেয়েছে।

স্যার, আপনি আমাকে চিনলেন কিভাবে?

- শিবা তো? - হ্যাঁ, দাদা।

চোখে একজোড়া চশমা আঁটলেই আমায় বোকা বানানো যাবে, ভেবেছো?

একটু সরো।

মেরি!

তোমায় দেখে ফেলেছি কিন্তু।

- আসছি, স্যার। - ধন্যবাদ।

এটা কি কফি দিলেন, নাকি চা?

স্যার, আপনি এটাকে যা খুশি ভাবতে পারেন।

এটাই আমার বিশেষত্ব, স্যার।

বুস্ট মনে করে চুমুক দিন, একেবারে বুস্টের মতোই স্বাদ পাবেন।

- কী হয়েছে, বলো? - ভাই।

রামানাথনকে পাওয়া যাচ্ছে না।

কী?

এই, গাড়ি চালু করো!

- স্যার! - আরে!

অ্যাঁ? কী হয়েছে?

কিছু একটা গোলমাল হয়েছে, ম্যাডাম। তাড়াতাড়ি ওই গাড়িটার পিছু নাও!

- হ্যাঁ স্যার? - দুরাই, তুমি কোথায়?

স্যার, রামানাথন গাড়ি নিয়ে বেরিয়েছেন, আমরা ওনার পেছনেই আছি।

এত কিছু হয়ে গেল, আর আমাকে জানাও নি?

- না মানে… - কীসব পাগলামি শুরু হয়েছে!

ম্যাডি? তুমি ওখানে কী করছো?

বাঁ দিকে এয়ারপোর্ট!

কী করতে হবে, সোজাসুজি বলো!

- ফোনটা দুরাইয়ের হাতে দাও। - হ্যাঁ, স্যার।

আমি তোমাকে আমার লোকেশন পাঠাচ্ছি।

যেভাবেই হোক রামানাথনকে আমার কাছে নিয়ে এসো।

এই! গাড়িটাকে ওভারটেক করো!

মিঃ সঞ্জয়!

আপনার এই কাজটা অত্যন্ত অনুচিৎ হয়েছে!

আমাকে কিডন্যাপ করে এখানে আনার সাহস হয় কী করে?

এসবের মানে কী, মশাই?

সব দোষ এই ছেলেটার!

- বমি করে দিচ্ছে! ধরুন ওকে! - আমি কেন ধরতে যাবো?

- বমি করে দিল! - পটিও করে দিয়েছে!

অ্যাঁ? ছিঃ ছিঃ!

দুরাই, ওনার জন্য একটা মানানসই জামা আর ধুতি কিনতে পারতে!

রাস্তার ধারে শুধু একটা বাচ্চাদের জামাকাপড়ের দোকানি পেয়েছিলাম।

বাচ্চাদের সাইজের মধ্যে এটাই সবচেয়ে বড় ছিল।

- ক্ষমা করবেন, স্যার। - তাতে আমার কী লাভ হবে?

আমাকে এভাবে ধরে নিয়ে এলেন কেন?

- ও বিয়েটা ভেঙে দিচ্ছে, স্যার। - অ্যাঁ?

আমার বোন। ওর আপনার সম্মতিও দরকার।

মেয়েটা অবিকল আপনার মতোই, ভীষণ একগুঁয়ে আর জেদি।

- বৃশ্চিক রাশি! - অক্টোবরে জন্ম নাকি ওর?

আপনারও কি অক্টোবরেই জন্ম নাকি?

হ্যাঁ।

আসুন স্যার, জলখাবার খেতে খেতে কথা বলা যাক।

এখানে কোনো টিস্যু নেই। এই খবরের কাগজটা দিয়ে মুছে নিন…

স্যার।

দয়া করে, আমার সাথে চলুন।

পরিবারের সবাই একসাথে থাকলে তবেই একটা বিয়ে পূর্ণতা পায়।

তাহলে…

আপনি কিছুতেই বিয়েতে যাবেন না, তাই তো?

বেশ।

ঠিক আছে।

দুরাই, বিয়ে বন্ধের খবরটা দিয়ে দাও। ম্যাডি, চলো যাই।

পাঁচ টাকা দিন।

এর চেয়ে ভালো ছেলে ওর জন্য ঠিক খুঁজে আনবো।

- না না, যা ঠিক করার, করে ফেলেছি। - মিস্টার সঞ্জয়!

- স্যার, আমি ভেবেচিন্তেই বলছি। - এত তাড়াহুড়ো করছেন কেন?

স্যার, আপনি না গেলেও মেঘনাকে বুঝিয়ে আমি বিয়েটা দিতে পারি।

কিন্তু মেয়েটাকে আপনারই সংসারে গিয়ে উঠতে হবে।

ও সামনে এলেই আপনি মুখ ফিরিয়ে রাখবেন,

আর আপনি ঘরে ঢুকলে ও দরজা বন্ধ করে বসে থাকবে।

বহু পরিবারে আমি এমন দৃশ্য দেখেছি।

- তার চেয়ে বিয়েটা ভেঙে দেওয়াই ভালো। - সঞ্জয়…

বাড়াবাড়ি করে ফেলছে।

- শোনো, বিয়েটা বাতিল... - আমার কথাটা শুনুন!

- ওনাকে একটু 'জয় ভীম' দেখাও। - ওটা ছোটা ভীম, স্যার!

যাই হোক একটা কিছু! সঞ্জয়, আমার কথাটা শুনুন।

নিজেকে সামলান। শান্ত হয়ে বসুন।

আমি…

- আমার… একটু রাগ হয়েছিল। - একটু?

আচ্ছা বেশ, আমার প্রচণ্ড রাগ হয়েছিল!

ওরা জানতো, আমি রাজি হবো না। তাহলে ওদের কী করা উচিৎ ছিল?

ওদের উচিৎ ছিল, মুখোমুখি বসে আমাকে বুঝিয়ে রাজি করানো।

তোমার বোন নিতান্তই ছোটো একটা মেয়ে।

আগে কখনো আমায় চোখেই দেখেনি, অথচ সে আমাকে কতটা শ্রদ্ধা করে!

সে বলছে, আমি উপস্থিত না থাকলে বিয়েই ভেঙে দেবে।

অথচ যাকে কোলেপিঠে করে মানুষ করলাম, সেই অকৃতজ্ঞ আহাম্মক ছেলেটা...

- আমার সাথেই প্রতারণা করল! - ওরা ক্ষমা চাইলে, মানবেন কি?

- অ্যাঁ? - সব মিটমাট হয়ে যাবে তো?

এক… দুই… তিন।

আমাদের মাফ করে দাও।

এসবের মানে কী?

- আমার বৌ ক্ষমা চাইলো না তো? - বৌদি…

- দয়া করে একবার বলে দাও, কাকিমা। - না।

- না, আমি কোনোভাবেই ক্ষমা চাইবো না! - প্লিজ, কাকিমা!

গোটা দাম্পত্য জীবনে এই প্রথমবার...

সামান্য একটু নিরীহ মিথ্যা বলেছি।

তা-ও আবার কেন?

বাড়ির জন্য একটা ভালো লক্ষ্মী মেয়েকে বউ করে নিয়ে আসার তাগিদে!

আমি মনে করি, এতে কোনো অন্যায় হয় নি।

যদি তা-ই হয়, তবে প্রতি তিন মাস অন্তর...

মানসসরোবরে ধ্যান করতে যাবার নাম করে...

আমার গুনধর স্বামীর চুপিসারে ব্যাংককে উড়ে যাওয়ার বেলায় কী হবে?

- ভেবে দেখো, ওকে কতবার ক্ষমা চাইতে হবে। - হঠাৎ ওসব পুরোনো কথা তুলছো কেন?

ভয় দেখাচ্ছো নাকি? অ্যাঁ?

- এই, আমি যদি ওখানে আসি… - কী করবে, শুনি?

- সাধু সাজার ভান করবে না! - আরে না না, থামো!

তোমার পাসপোর্টে সব দেশের সিল আমি নিজের চোখে দেখেছি!

- তোমার সুটকেস হাতড়ে... - এই, শোনো…

হোটেলের বিল, ম্যাসাজ পার্লারের রসিদ এবং আরো অনেক কিছু পেয়েছি!

ফোনটা কাটতে পারছি না কেন?

- ক্ষমা চাওয়ার দরকার নেই, পরে কথা হবে! - আবার ক্ষমা প্রার্থনা শুনতে চাইছে!

ধুত্তোর! কিভাবে এই ঝামেলায় ফেঁসে গেলাম?

ব্যাংকক, স্যার?

চিন্তা করবেন না, কাকা, সঞ্জুও অবিকল আপনার মতোই।

- প্রতি মাসে একবার করে বিদেশে যায়। - এই!

- আপনার স্ত্রী বিলগুলো পেয়েছিলেন, - এই, থামো!

- ওর মা সুটকেসে কনডমই খুঁজে পেয়েছিলেন! - তোমাকে এসব বলতে কে বলেছে?

ওনার মনের অপরাধবোধটা একটু হালকা করছিলাম।

বড্ড লজ্জার ব্যাপার, তাই না মিস্টার সঞ্জয়?

- তুমিও ব্যাংককেই যাও নাকি? - না।

- প্রতিবার নতুন দেশ, আর নতুন মেয়ে! - এই, থামো!

মুখটা বন্ধ রাখবে? কী…

ব্যাংকক মোটে তিন ঘণ্টার পথ, তাই না?

চট করে ঘুরে আসা যায়!

পরের বার গেলে আমাকে জানাবেন।

একসাথে বালি ঘুরে আসা যেতে পারে!

দুটোর পাসপোর্টই আমি ছিঁড়ে টুকরো করবো! যাও, গাড়িতে গিয়ে ওঠো।

চলুন, বেরোনো যাক।

- আপনার স্ত্রী আমাদের অপমান করছেন... - সে আমার স্ত্রী নয়, ব্যাপারটা অন্যরকম।

কিন্তু কথাবার্তা একেবারে পাকা গিন্নির মতোই বলছে!

আরে না না, স্যার।

ইতস্তত করার কিছু নেই, ভেতরে আসুন।

শুনলাম, তুমিও নাকি বৃশ্চিক রাশির জাতক?

হ্যাঁ।

আমিও বৃশ্চিক রাশির! সেম পিঞ্চ, কিন্তু ব্যাক পিঞ্চ নয়!

ভাবানুবাদ ও সম্পাদনা : সুদীপ চক্রবর্তী।

- এই ব্যাপারটা সামলাতে পারবে? - আমি সামলে নেবো, ম্যাডাম।

তাড়াতাড়ি করো সবাই! ম্যাডাম, ম্যাডাম।

আমি এদিকটা দেখছি, আপনি চিন্তা করবেন না।

স্যার নিজে আমাকে ক্যাটারিংয়ের দিকটা দেখতে বলেছেন।

মা…

মেয়েটা কে? সঞ্জয়ের বউ নাকি?

আরে না না, তেমন কোনো ব্যাপারই নয়।

- না মানে, আসলে ঠিক তাই! - তুমি…

অনেক ধন্যবাদ, দাদা।

কী ব্যাপার? আবেগপ্রবণ হয়ে পড়েছো, মনে হচ্ছে?

এই, যাও এখান থেকে!

খুব ক্লান্ত, তাই না?

খুশি তো তুমি?

মনে খুব শান্তি পেয়েছি।

এই… এটা আমার গ্লাস।

তাতে কী হয়েছে?

এটা কিন্তু এঁটো করা।

আমার কোনো আপত্তি নেই।

দেখলে তো?

দাঁড়াও।

এটা নিয়ে আবার আদালতে নালিশ ঠুকে দেবে না তো?

ম্যাডি, অনেক ধন্যবাদ।

তোমার গ্লাস থেকে খাওয়ার জন্য?

মা চলে যাওয়ার পর থেকে,

আজ পর্যন্ত…

সবকিছুর জন্য তোমাকে ধন্যবাদ।

একটা কথা জিজ্ঞেস করতে পারি?

যা খুশি জিজ্ঞেস করো… শুধু ওই তিনটে শব্দ ছাড়া।

বেশ।

আমাদের মধ্যে যদি বয়সের তফাৎ না থাকতো,

তুমি কি আমাকে গ্রহন করতে?

ঠিক আছে। অনেক ধন্যবাদ।

আমি কিন্তু ‘হ্যাঁ’ বলিনি।

কিন্তু মুখ ফুটে ‘না’-ও বলো নি!

আশাবাদী হওয়ার জন্য এইটুকুই যথেষ্ট।

তোমরা দুজন কী নিয়ে কথা বলছো?

এমন কিছু নয়।

- সব কাজ ঠিকঠাক মিটেছে তো? - একেবারে নিখুঁতভাবে হয়েছে!

সবাই আমাকে তোমার বিয়ের কথা জিজ্ঞাসা করছে।

বিয়েথা করার কোনো ইচ্ছে আমার নেই, তাই…

কেন?

সঞ্জু, কখনো কখনো রাগের মাথায় আমরা কিছু সিদ্ধান্ত নিয়ে ফেলি।

কিন্তু সময়ের সাথে সাথে সেই রাগও থিতিয়ে যায়।

তাহলে সেই সিদ্ধান্তগুলোও কি বদলে ফেলা উচিৎ নয়?

তোমার বাবা কেন এমন সিদ্ধান্ত নিয়েছিলেন, তা আমরা জানি না।

কিন্তু তোমার ক্ষেত্রে উনি ভুল করেছিলেন।

ভুলটা আমাদের দুজনেরই হয়েছিল।

উনি কখনো নিজের ভুলটা স্বীকার করেন নি।

আজ উনি আমাদের মধ্যে নেই।

আমাদের দুজনের পক্ষ থেকে,

আমি আন্তরিকভাবে ক্ষমা প্রার্থনা করছি।

না…

- আমাকে ক্ষমা কোরো! - আরে, এখন এসব বলছেন কেন?

দয়া করে বসুন।

পূরানো কথা তুলে লাভ কী?

না, সঞ্জু।

আমাদের জন্য আজ তোমার এই অবস্থা। এই অপরাধবোধ আমাকে শেষ করে দিচ্ছে।

প্লিজ।

অনেক হয়েছে।

আমি চাই, তুমি নতুন করে জীবন শুরু করো।

এখনও কিন্তু খুব বেশি দেরি হয়ে যায় নি।

একটা বিয়ে করে নাও।

- আমি রাজি! - এই!

চুপ করবে?

পরিস্থিতিটা অন্তত বোঝার চেষ্টা করো।

আচ্ছা বেশ, শান্ত হও! শুভরাত্রি।

মেয়েটা ভীষণ বেয়াড়া!

হয়তো সেই কারণেই আমরা সবাই ওকে এত ভালোবেসে ফেলেছি।

- ওকে বিয়ে করে নাও। - কিন্তু ও...

এত ভেবো না, সঞ্জু।

- শীঘ্রই দেখা হবে। - সাবধানে থেকো।

- দাদা! - কাঁদছিস কেন? হাসিখুশি থাকবি!

নিজের যত্ন নিস।

- টা-টা। - বাই!

এখন কী করবে? সবকিছু মিটে গেছে।

- আমার বিয়ে করার কোনো ইচ্ছে নেই। - কেন?

- আমাকে একটা যুক্তিসঙ্গত কারণ দেখাও। - দুটো কারণ দেখাচ্ছি।

যখন…

আমরা কোনো সুন্দর জায়গায় বেড়াতে যাই,

তখন মনে হয়, ওখানেই চিরকাল থেকে যাই।

নিজের ঘরে আর ফিরে আসতে মন চায় না।

কিন্তু…

বেশি দিন থেকে গেলে,

একটা সময় নিজের ঘরের জন্য মন কেমন করতে শুরু করে।

যে কোনো সুন্দর ছুটির একটা শেষ থাকে।

ম্যাডির জীবনে আমি ছিলাম একটা সুন্দর ছুটির মতো।

কিন্তু ওর আসল ঠিকানা…

হলো ওর কলেজ আর পড়াশোনা।

কিন্তু ও তোমার জন্যই সবকিছু ছেড়েছুড়ে চলে এসেছে।

এখন কিছুদিনের জন্য এটা হয়তো ভালো লাগবে।

কিন্তু আর কয়েকটা বছর পর…

ও নিজের স্বপ্নের কথা ভেবে অনুতাপ করবে।

নিজের স্বপ্ন পূরণের জন্য সবকিছু বিসর্জন দেওয়া যায়,

কিন্তু কারোর জন্য নিজের স্বপ্নকে বিসর্জন দেওয়া কখনোই উচিৎ নয়।

আচ্ছা বেশ, তাহলে পড়াশোনা ছাড়বো না!

এখানকারই্ কোনো একটা মেডিকেল কলেজে ভর্তি হয়ে যাবো।

- পড়াশোনা শেষ করার পর... - এবার দ্বিতীয় কারণটা শোনো।

সঞ্জু…

মাত্র কুড়ি বছরের ফারাক!

তাতে আমার কোনো সমস্যা নেই।

কিন্তু আমার আছে।

আমাদের দুজনের বয়সের এই কুড়ি বছরের ব্যবধান…

আজকে হয়তো কোনো ব্যাপারই মনে হচ্ছে না।

কিন্তু আজ থেকে কুড়ি বছর পর,

এই ফারাকটাই পাহাড়প্রমাণ হয়ে দাঁড়াবে।

যখন তুমি এই সুন্দর পৃথিবীটাকে ঘুরে দেখতে চাইবে...

তখন হয়তো আমি তোমার পাশে হেঁটে চলার মত অবস্থায় থাকবো না।

আরো কুড়ি বছর পর,

তোমার খেয়াল রাখার জন্য...

হয়তো আমি বেঁচে নাও থাকতে পারি।

আমাকে তোমার থেকে দূরে ঠেলে দিও না, প্লিজ।

তোমাকে আর অভয়কে ছেড়ে আমি বাঁচতে পারবো না।

প্লিজ এত নিষ্ঠুর হয়ো না, সঞ্জু।

- ম্যাডি, শোনো। - প্লিজ…

তুমি অভয়ের মা।

ওর ওপর তোমার সম্পূর্ণ অধিকার আছে।

যখন মন চাইবে, ওর সাথে ফোনে কথা বলবে, যখন ইচ্ছে করবে, এসে ওকে দেখে যাবে।

তুমি আমার পরিবারের অংশ।

দুনিয়ার যেখানেই থাকো না কেন, তোমার সমস্ত দায়িত্ব আমার।

সবসময় তোমার পাশে আমাকে পাবে।

আমি জানি, তুমি সব সময় আমার পাশে থাকবে।

কিন্তু তুমি কি আমার সাথে থাকতে পারো না?

ছুটি শেষ গেছে, ম্যাডি। আসছি।

প্লিজ!

বিদায়।

সাবটাইটেল ভালো লাগলে সাব সোর্সে গুড রেটিং দেবেন। সবাই ভালো থাকবেন।

আমি তোকে মিস করবো।

অনেক শুভকামনা রইলো।

মুছে ফেললাম।

মুছে ফেললাম।

মুছে ফেললাম।

যে কাজেই হাত দাও না কেন, এই ভোরের সূর্য কেবলই তোমার।

যে পথেই পা বাড়াও না কেন, গোটা বিশ্বকে তুমি আপন শক্তিতে জয় করো।

যেখানেই থাকো না কেন, তুমি আমার দায়িত্ব।

আমার ওপর রাগ কমে গেলে, একবার ফোন কোরো।

সঞ্জয় বাড়ির টাকা মিটিয়ে দিয়েছে।

তোমার কলেজের সব ফি মেটানো হয়ে গেছে।

শুভ জন্মদিন, অভয়!

- কী রে, এবার বেরোবো তো? - হ্যাঁ, আসছি!

ম্যাডি। মনে হয়, অভয়ের জন্য ওর মন কেমন করছে।

এটা…

- এটা কেমন? - হ্যাঁ, খুব সুন্দর!

- আর আমার এটাও খুব পছন্দ... - ম্যাডি!

নিজের জন্যও কিছু নাও!

- অনেক ধন্যবাদ! - সঞ্জুর ফোন এসেছে!

আমি ভালো আছি। সঞ্জুর সাথে কথা হয়েছে?

- আমি আপনার ফ্যান! - অনেক ধন্যবাদ!

উটির ঠান্ডায় আমাদের ফ্যানের দরকার আছে কি?

এইমাত্র পরীক্ষার ফলাফল বেরিয়েছে।

ম্যাডি, অভিনন্দন! তুমি ক্লাসে প্রথম হয়েছো!

দুর্দান্ত!

ম্যাডি…

তোমার রাগ কি কমেছে?

যে কাজেই হাত দাও না কেন, এই ভোরের সূর্য কেবলই তোমার।

যে পথেই পা বাড়াও না কেন, গোটা বিশ্বকে তুমি আপন শক্তিতে জয় করো।

আমার বাবা-মা আমার স্বপ্ন দেখার প্রেরণা ছিলেন।

কিন্তু সেটা বাস্তবে রূপ নিয়েছে...

একমাত্র সঞ্জুর জন্য!

অনেক ধন্যবাদ। অনেক ধন্যবাদ আমার সান্তা ক্লজ!

এটা আবার কী? কোনো প্রেমপত্র নাকি?

আরে না, ওটা চাকরির অ্যাপয়েন্টমেন্ট লেটার।

হায়দরাবাদে মায়ের নামে আমি একটা নতুন হাসপাতাল খুলছি।

আমি চাই, তুমি সেটার দায়িত্ব নাও।

জানি, তুমি যা-ই করো না কেন, আমার ভালোর জন্যই করো!

তুমি যা যা করতে বলেছিলে, আমি তা সবই করেছি।

শুধু একটাই কাজ বাকি রয়ে গেছে।

আমাকে বিয়ের জন্য সঠিক একজন মানুষ খুঁজতে হবে।

তা…

কী খবর, 'সঠিক মানুষ'?

আমি তোমার বয়সের সাথে মানানসই কারোর কথা বলতে চেয়েছিলাম।

একদমই না!

আর একটু ভেবে দেখো।

আমার এখনো মনে আছে। তুমি তখন ওসব কিছু বলোনি।

- আমাকে দেখাও। - আরে! চিঠিটা এখনো আছে নাকি?

- ছয় বছর কেটে গেছে! - আমার কাছে আছে।

এই দেখো।

তোমার বয়সের সাথে মানানসই একজন সঠিক মানুষ।

হায় কপাল!

এই, হাসছিস কেন?

তোকে এত কষ্ট করে ট্রেনিং দিলাম, সব বৃথা হলো!

ট্রেনিং মানে?

- অ্যাঁ? - না, কিছু নয়।

কী ব্যাপার, অভয়?

- অভয়, বল। - কিছু না, বাবা।

অভয়!

ওকে বলেছিলাম, তোমার কাছে গিয়ে মায়ের জন্য কাঁদতে।

বলেছিলাম, একমাত্র তাহলেই তুমি আমাকে বিয়ে করবে।

বলেছিলাম, আমরা সবাই মিলে একটা পরিবার হতে পারবো।

কিন্তু সে…

ও আমাকে বলেছে।

সেই জন্যই তুমি এই চাকুরির অফার পেয়েছো।

ভেবেছিলাম, এটা সেন্টিমেন্টাল ব্যাপার।

পুরোটাই একটা সাজানো নাটক, তাই না?

তা তো হবেই, বাটপাড়ের পেটে তো বাটপাড়-ই জন্মাবে!

তুমি…

সঞ্জু…

অন্তত এখন সিদ্ধান্তটা নিয়েই নাও...

- নিজের মতটা এবার বদলাও! - এই না না, একদম নয়!

প্লিজ শোনো! সঞ্জু!

- থামো! - অভয়, আমিও আসছি!

- সঞ্জু, দাঁড়াও! - এই থামো!

অভয়!

শোনো।

সঞ্জু… দাঁড়াও।

টাইম আউট!

নিজের ইগোর সন্তুষ্টির জন্য আমি তোমাকে আরেকবার জিজ্ঞেস করছি।

বয়সের এই ব্যবধানটা যদি না থাকতো,

তবে কি তুমি আমাকে বিয়ে করতে?

সঞ্জু, ম্যাডির প্রতি তোমার কোনো অনুভূতি না থাকলেও সমস্যা নেই।

- কিন্তু যদি থাকে... - আমার শৈশবের মানসিক আঘাত...

বছরের পর বছর ধরে আমার রাগ আর কষ্টকে জিইয়ে রেখেছিল।

কিন্তু এখন সেগুলো আর নেই।

এই সবকিছুই ম্যাডির জন্য সম্ভব হয়েছে ।

মা তার শেষ নিঃশ্বাস ফেলার আগে পর্যন্ত হাসিখুশি থেকেছে।

সেটাও ম্যাডির জন্যই সম্ভব হয়েছিল।

যদি ওর সাথে আমার বিশের কোঠায় দেখা হত,

কিংবা ও যদি এখন বিশের কোঠায় না হত...

তাহলে আমি ওকে বিয়ে করতাম।

এখানে।

হৃদয়ে কষ্ট হচ্ছে, কিন্তু...

মাথা বলছে, আমি সঠিক সিদ্ধান্তই নিয়েছি।

সব চুকেবুকে গেছে।

আমায় একটু একা থাকতে দিন।

এখনো সব শেষ হয়ে যায় নি।

কারণ, কেবলমাত্র একটা মেয়ের জন্যই কোনো সম্পর্ক টিকে থাকে।

একজন নারী যখন কোনো পুরুষকে পছন্দ করে, তখন সে ভালো না খারাপ...

ধনী না গরিব, কিংবা তার বয়স, কোনোকিছুরই পরোয়া করে না।

এমনকি, সে এটাও ধর্তব্যের মধ্যে আনে না, পুরুষটি বিবাহিত কি না।

সে যদি তোমাকে বেছে নেয়, তবে সেটাই চূড়ান্ত।

তুমি একা সিদ্ধান্ত নিলেই, সব শেষ হয়ে যায় না।

এই সম্পর্ক তখনই শেষ হবে, যখন ও সিদ্ধান্ত নেবে।

তুমি…

Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.