Afrikaans
Akan
Albanian
Amharic
Arabic
Armenian
Azerbaijani
Basque
Belarusian
Bemba
Bengali
Bihari
Bosnian
Breton
Bulgarian
Cambodian
Catalan
Cebuano
Cherokee
Chichewa
Chinese (Simplified)
Chinese (Traditional)
Corsican
Croatian
Czech
Danish
Dutch
English
Esperanto
Estonian
Ewe
Faroese
Filipino
Finnish
French
Frisian
Ga
Galician
Georgian
German
Greek
Guarani
Gujarati
Haitian Creole
Hausa
Hawaiian
Hebrew
Hindi
Hmong
Hungarian
Icelandic
Igbo
Indonesian
Interlingua
Irish
Italian
Japanese
Javanese
Kannada
Kazakh
Kinyarwanda
Kirundi
Kongo
Korean
Krio (Sierra Leone)
Kurdish
Kurdish (Soranî)
Kyrgyz
Laothian
Latin
Latvian
Lingala
Lithuanian
Lozi
Luganda
Luo
Luxembourgish
Macedonian
Malagasy
Malay
Malayalam
Maltese
Maori
Marathi
Mauritian Creole
Moldavian
Mongolian
Myanmar (Burmese)
Montenegrin
Nepali
Nigerian Pidgin
Northern Sotho
Norwegian
Norwegian (Nynorsk)
Occitan
Oriya
Oromo
Pashto
Persian
Polish
Portuguese (Brazil)
Portuguese (Portugal)
Punjabi
Quechua
Romanian
Romansh
Runyakitara
Russian
Samoan
Scots Gaelic
Serbian
Serbo-Croatian
Sesotho
Setswana
Seychellois Creole
Shona
Sindhi
Sinhalese
Slovak
Slovenian
Somali
Spanish
Spanish (Latin American)
Sundanese
Swahili
Swedish
Tajik
Tamil
Tatar
Telugu
Thai
Tigrinya
Tonga
Tshiluba
Tumbuka
Turkish
Turkmen
Twi
Uighur
Ukrainian
Urdu
Uzbek
Vietnamese
Welsh
Wolof
Xhosa
Yiddish
Yoruba
Zulu
»সাব রচনা ও সম্পাদনাঃ« »সিয়াম সিদ্দিকী ফাহিম«
সাত্যিয়া, তুই কি ব্লাডি মেরির নাম শুনেছিস?
হুম, সেটা তো একটা তেল কোম্পানি..
ইশ দারুণ হত যদি ট্যাঙ্ক ভর্তি তেল থাকতো!!
আমি তেলের কথা বলছি না.
আমি একটা মেয়ের কথা বলছি.
এটা একটা হরর গল্প.
সেই মুভিটিতে একজন মহিলা জীবনের প্রতি বিরক্ত হয়ে মারা যায়.
তুই যদি আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে তিনবার তার নাম উচ্চারণ করিস ..
..তাহলে সে তোকে সরাসরি স্বর্গবাসী দিবে.
তবে আমরা মারা যেতে পারি যদি আয়নায় আমরা নিজেদের দিকে তাকাই.
কারও নাম নেয়াতে মৃত্যু কেন হবে?
তুই এসব আলতু ফালতু জিনিস বিশ্বাস করিস কিভাবে?
আমি তোকে একটা সত্যি উদাহরণ দিচ্ছি
আমার বস আমাকে গতকাল একটা গল্প দিয়েছে .
পরবর্তী সেশনেই একটা নতুন সিরিজের গল্প প্রকাশিত হবে আমাদের ওয়েবসাইটে.
সাংঘাতিক ভয়ের হবে
তখন মধ্যরাত!
হঠাৎ আমি বিদ্ঘুটে গন্ধ পাই আমার স্টুডিও থেকে
খালি পেটে ছিলি তাই হয়তো গ্যাস হয়েছিল পেটে
সেটারই গন্ধ হবে হয়তো
এই গন্ধ তুই কেবল হসপিটালেই পাবি!!
এই গন্ধ কেবল তুই হসপিটালেই পাবো?
কি ছিল ঐটা?
হসপিটালের নার্স?
নাহ! আমি পুরো স্টুডিও তন্যতন্য করে খুঁজেছি
..কোথা থেকে এই গন্ধটা আসছিল! ।
কিছুটা আজব লাগছিল আমার কাছে
শিভা, এই গল্পে তো কোন বাচ্চাও ভয় পাবে না!
হারামি! এখন তো হাঁসি আসতেছে!!
তুই যদি এই গল্পটা শুনো তাহলে ভয়ে মুতে দিবি!
মুতে দিব? আমি হরর মুভি অনেক পছন্দ করি
ফাঁপর মারা কেউ তোর থেকে শিখুক..
যাই হোক গল্পটা বলি শুন..
কিন্তু আমাকে অবশ্যই জানাবি গল্প শুনার পর তোর কেমন ফিলিংস হচ্ছে!
ঘন গভীর জঙ্গল
পাগলের মত কেউ একজন দৌড়ে আসছিল
শরীরের কাপড় পুরোই ছেঁড়া
তার হাতে কোন টর্চও ছিল না
সে ঐ জঙ্গলের ধ্বংসপ্রাপ্ত এক বাড়ির গেটের সামনে যেয়ে থামলো!
ভৌতিক ওক নীরবতা তখন
সে সাহস করে গেটের ভিতর ঢুকে পড়লো
সে বুঝতে পারলো কেউ তাকে ফলো করছে
যখন সে পিছনে ঘুরলো...
মায়া, তোমার সন্তান আমার কাছে নেই. একবারই বললো সে.
সে দ্বিতীয়বার, এমনকি তৃতীয়বার বললো একথা
মায়া, তোমার সন্তান আমার কাছে নেই.
সে আকস্মিক সেই গন্ধটিই পেল যা তুই হসপিটালে পেয়েছিলি
সে টের পেল কেউ একজন তার ঘাড়ে নিঃশ্বাস ফেলছে
সে দৌড়াতে শুরু করলো
চার কদম, মাত্র ৪ কদম আগালো
এবং কেউ একজন তাকে উপরে ছুঁড়ে মারলো
সে চিৎকার করার চেষ্টা করছিল, কিন্তু গলা দিয়ে কোন আওয়াজই বের হচ্ছিল না.
সে একটা বাচ্চার কান্না শুনতে পেল
এরপর কি হলো?
আমি জানি না, লেখক এখনো তার লেখা শেষ করেনি.
সে শেষ করলেই আমি তোমাকে পরের সপ্তাহে বলবো.
প্রথমে আমাদের ওয়েবসাইটের এটি প্রকাশের অনুমোদন নিতে হবে.
কি? ধূমপান ও মদ্যপান স্বাস্থ্যের জন্য হানিকারক!
নাহ. রাতে ৩ বার মায়া শব্দটা উচ্চারণ করিস না
এহ!! ৩ বার চিৎকার করো না, মারা যাবে!!
৪ বার করবো, ৫ বার করবো
ভুত এসে তোকে চকলেট দিয়ে যাবে!
প্রথমে আমিও একে মজা হিসেবেই নিয়েছিলাম
কিন্তু গতরাতে যখন আমি আমার হাতের কিছু টুকটাক কাজ করছিলাম..
..লাইট অফ করে দিলাম..
..আর শুতে যাওয়ার আগে তিনবার মায়ার নাম ধরে চিৎকার করলাম
আমি আমার ঠিক পিছনেই কিছু একটা অনুভব করলাম
আমার কানে বাজতে শুরু করলো
মায়া, তোমার সন্তান আমার কাছে নেই!
এর মানে তুই গত রাতে মারা গিয়েছিস?
আর এখন আমি এক ভুতের সাথে বসে মদ খাচ্ছি!!
অনেক হয়েছে, এবার তোর ভীমরতি ছাড়. থাম এবার!
তাহলে তুই কেন ৩ বার বলছিস না?
তুই আমাকে কার্ড খেলতে ডেকেছিস, তাই করছি আমি!
আমি এসব বাচ্চাদের খেলা খেলি না.
তাহলে তুই স্বীকার করে নে তুই একটা ভীতুর ডিম?
ভীতু আমি? মজা লস?
কুন্দাপুরে রাতে আমি ভুতের সাথে ডুয়েট গাইতাম.
আর তুই আমাকে ভীতু বলতেছিস?
তাহলে তো তুই ৩ বার মায়ার নাম নিতেই পারিস ঠিক?
মায়া, তোমার সন্তান আমার কাছে নেই!
কেন? এখানে এক বার বলার মানে কি কুন্দাপুরে ৩ বার বলার সমান?
শালা পাগল. কি হচ্ছে এসব?
মায়া, তোমার সন্তান আমার কাছে নেই!
সম্ভবত সব ভুতেরা মূত্র বিসর্জনে গিয়েছে.
সবাই এখন বাথরুমেই ব্যস্ত.
তাইনা শিভা?
মায়া, তোমার সন্তান আমার কাছে নেই!
শুভ জন্মদিন, বেবি!
আমার তো কলিজায় পানি শুঁখায় গেছিল!
আমি তোমাকে এখান থেকে আমাদের বাড়ি ম্যাঙ্গালুরে নিয়ে যাব..
..আর মাছ ধরাবো তোমাকে দিয়ে, দেখে নিও!
এটা শিভার আইডিয়া ছিল.
তুই তো বেশী ফটর ফটর করিস, তাই একটু খোঁচা মেরে তোকে বোঁচা করলাম আরকি!
মর শালা
- ধন্যবাদ দোস্ত. -এটা তোর অফিসের জন্য জমায় রাখ.
আচ্ছা? বাই.
-হাই পল. কেমন আছো? - হাই শিভা. কি খবর?
এইতো বন্ধু ভালোই.
হ্যালো. কেন রাতে তুমি ঘুমাওনি?
নাহ, স্যার. যদি আমার বস আমাকে একটু ঘুমাতে দেয় আর কি!
এমনকি লন্ডনেও সে আমাকে ব্যাঙ্গালুরের মত গাধার খাটানি খাটিয়ে যাচ্ছে.
কান্নাডার যুবক.
শিভা.
- অবশ্যই. - শুনোনা, শিভা.
- হাই, শিভা
- হাই .
এখন তুমি আমাকে কি বলতে চাচ্ছ?
আমার কিছু পরামর্শ আছে
- স্কেচগুলো রেডি. - হুম
- শিভা - হুম
- উনি মদন - হাই, স্যার.
তুমি যেই স্কেচগুলো তৈরি করেছো তা উনার গল্পের জন্যেই.
অহ.
মনে হচ্ছে গত রাতে ভালোই মোজ মাস্তি করেছ.
আমার বন্ধুর জন্মদিন ছিল গতকাল.
ভোরে শেষ হয়েছে পার্টি.
- স্কেচগুলো দেখি. - হুম
আমি দেখে বুঝতে পেরেছি যে বাধ্য হয়েই পার্টি শেষ করতে হয়েছে তোমার.
জন্মদিন বছরে একবারই আসে, তাই এতো আনন্দ মজা করে করা আর কি.
কেন? কি হয়েছিল?
পার্টিতে কি ভুতের গল্পটি বলেছিলে নাকি?
আপনি কিভাবে জানলেন স্যার?
কোন ধরণের অনুমুতি ছাড়া মায়ার নাম তিনবার নেয়া যাবে না..
..তুমি তার গল্প বলেছো.
আমি তো দুষ্টুমিরচ্ছলে বলেছি.
গতকালের পার্টিতে তোমরা কয়জন ছিলে?
আমি, আমার বন্ধু সাতিয়া আর তার স্ত্রী লুসি. এই কয়জনই.
- তুমি সিউর? - ১০০%
আবার ভেবে বলো. তোমরা কি ৩ জনই ছিলে?
হ্যাঁ স্যার.
তাহলে এ কে?
বিকালের সব এপয়েন্টমেন্ট ফিক্সড.
রেডি?
- নাম? - শর্মিলা দেশাই
-দেশাই - আর্জুন স্যারের স্ত্রী.
অহ. আমাদের অর্জুন?
সে তো ভবিষ্যতের তারকা.
স্যার, তারা এখন আলাদা থাকে.
কেন? আলাদা কেন? যদি কিছু মনে না কর?
আমি তোমাকে জোর করবো না. বস.
তোমার কি লাইন মনে আছে, শর্মিলা দেশাই?
জ্বী.
স্ক্রিপ্ট ভুলে যাও.
আমি তোমাকে একটা পরিস্থিতি দিচ্ছি
তোমার চরিত্রের নাম মায়া.
১ বছর হয়েছে তোমার বিয়ের.
তোমার প্রথম বিবাহ বার্ষিকীতে ২টা জিনিস জানতে পারলে.
প্রথমটি হলো তুমি প্রেগন্যান্ট.
কিন্তু এরপরই তুমি জানতে পারলে তোমার স্বামী...
..তোমাকে ছেড়ে অন্য এক মহিলার সাথে থাকার চিন্তা করছে.
সেদিন তোমরা দুজনই চমৎকার একটি রেস্টুরেন্টে তোমাদের বিবাহ বার্ষিকী পালন করতে গেলে
সেখানে একটি টেবিল বুক করলে ডিনারের জন্য এবং বসলে.
তোমার স্বামী ওয়াশরুমে গেল.
তুমি তোমার পার্স থেকে বিষ বের করে স্বামীর গ্লাসে ঢাললে.
সেখানে তুমি ড্রিঙ্ক ঢাললে.
তোমার স্বামী ফিরে আসলো.
এখন মনে করো আমি তোমার স্বামী.
তাকে বলা তোমার শেষ কথা কি হবে?
শুভ বিবাহ বার্ষিকী
সে দুর্দান্ত.
দারুণ হয়েছে অভিনয়
বি.কে তো পুরাই পাগল হয়ে গিয়েছে.
- হেই - দুঃখিত. তুই কি কিছু বলতেছিলি?
গত রাতে ঘুমাসনি তাই না?
এটা কোন কথা হলো?
শেষ কবে তুই ঠিক ভাবে ঘুমিয়েছিলি?
অন্তত আর্জুনের সাথে কথা তো বল.
এটা বাদে অন্য কিছু থাকলে বল, আমি কথা বলবো.
ওকে ওকে. বুঝতে পেরেছি.
আমি অন্য কোথাও তোর জন্য এপয়েন্টমেন্ট ফিক্স করেছি.
যখন আমি খুব খারাপ সময় পার করছিলাম তখন আমি প্রায়ই সেখানে যেতাম.
সব ঠিক হয়ে যাবে.
কাউন্সিলিং. একবার ভেবে দেখতে পারিস.
ঐখানে একটু থামা তো.
আমার কিছু টাকা তুলতে হবে.
চেক নেয়নি আবারও?
কি সমস্যা ওদের বুঝিনা?
ঐ হারামিদের ছেড়ে কথা বলিস না!
ফোন বন্ধ
ঐ শালাদের অভিশাপ দিচ্ছি, জোচ্চোর শালা.
আমি অবাক হই কিভাবে তারা কাউকে টাকা না দিয়ে কাজ করিয়ে নেয়!
এডটা টিভিতে দেখাচ্ছেও
আমি কাল আবার চেষ্টা করবো নে.
আমার এটা পাওয়াই লাগবে.
দেখ, এখন থেকে আর কোন চেক বিজনেস করবি না.
তাদের বলবি টাকায় পারিশ্রমিক দিতে.
আমার বাসা ভাঁড়া কখন দেয়া লাগবে?
আমি দিয়ে দিয়েছি.
আমি যত দ্রুত সম্ভব তোকে ফেরত দিয়ে দিব.
- সরি - প্রথমে ঐ জোচ্চর প্রডিওসার থেকে টাকা নেয়ার ব্যবস্থা কর.
কোন সমস্যা নেই যদি তুই পরেও আমাকে ফেরত দিস.
আগামি ৪ প্রজন্ম খাওয়ার জন্য আমার বাবার একাউন্টে প্রচুর টাকা আছে.
আর এভাবেই আমি বেশ ভালোই চলে যাচ্ছি
চিন্তা করিস না
আমি কারোর ঋণের বোঝা নিয়ে থাকতে চাই না.
Swati?
Swati?
তুই তো আমাকে ভয় পাইয়ে দিয়েছিলি.
কতবার তোকে বলেছি বেডরুমের লাইট বন্ধ করবি না?
আমি করিনি তো.
কি সমস্যা?
- আর্জুন এসেছে. - কিসের জন্য?
- সে কেন এসেছে? - মীরাকে আর তোকে দেখতে.
বলে দে আমি ও বাবু ২ জনই ঘুমাচ্ছি.
হেই.. কেন?
সে এমন কিই বা গুরুতর অপরাধ করেছে যার জন্য তুই এভাবে বলছিস?
সে কি তার বাচ্চাকেও দেখতে পাবে না?
হেই. তুই এতো বাড়াবাড়ি করছিস কেন?
বিয়ে কর এরপর আমিই তোকে বলবো.
তার কাছ থেকে একটি টাকাও নিবি না.
বুঝেছিস?
আমাকে তোদের ঝামেলার মাঝে টানিস না, এমনিতেই আমি অনেক ঝামেলার মধ্য দিয়ে যাচ্ছি.
আমি আসলে দুঃখিত.
হুহ আমি সরি
দেখ, তোর আর অর্জুনের মাঝে যা কিছু হয়েছে সেটা তোদের পার্সোনাল ব্যাপার.
আমি এখানে নাক গলাবো না
তুই আর আমি সেই ছোট্টবেলা থেকে একসাথেই আছি.
তুই যাই করিস না কেন, সব সময় আমার সাপোর্ট পাবি.
আয়
এটাই কি তোদের মুভি?
হুম. আমরা ৩ দিনের মধ্যে লন্ডন যাচ্ছি.
প্রোডাকশন পরবর্তী কাজগুলো শেষ করার জন্য.
বিকে তো পুরাই টেনশনে আছে
৬ মাস হয়ে গেছে ছবির কাজ শেষ.
আমরা কোন চিত্র-পরিবেশক খুঁজে পাইনি এখনো.
কেন? মুভিটা কি ভালো না?
হেই.. এটা দুর্দান্ত.
মারাত্মক ভয়ঙ্কর এটা.
সব হরর মুভিই একই.
এই মুভিতে কি এমন বিশেষত্ব আছে?
তুই লন্ডনের এপিং ফরেস্ট সম্পর্কে শুনেছিস?.
- নাহ - বেশীর ভাগ মুভির শুটিং ঐখানেই হয়.
রাত হলেই এটি ভয়ঙ্কর হয়ে উঠে.
আমি সেখানে কয়েক সপ্তাহ থেকে ভুত-প্রেতে বিশ্বাস করা শুরু করেছি.
কেন? কি হয়েছিল সেখানে?
অদ্ভুত শব্দ
লাইট নিজের ইচ্ছেতেই আসে যায়!
ব্যাপারটা খুবই অদ্ভুত ও ভয়ংকরও!
আমাদের বেডরুমের লাইটের মত.
নিজের ইচ্ছেতেই আসে যায়.
ভয় পেয়েছিস তাই না?
= আয় পোস্টারটা লাগিয়ে আসি. - হুম চল.
হ্যাঁ এখানে ঝুলাই আয়.
ধর.
হাল্কা একটু বামে.
- হুম - ওকে.
- তুই ভয় পেয়েছিলি আমার কথায়? - চল তোকে দেখাচ্ছি মজা.
ডেজার্ট খাবার কি আছে?
কি খাবেন?
লাচ্ছি?
তুই ফোন না ধরা পর্যন্ত সে থামবে না.
- বাদ দে. - ঠিক আছে , আমি দিব.
কিন্তু আমার মনে হয় না সে দিবে.
তুই ফোনটা ধরে অন্তত তাকে বল যে আমাকে আর ফোন দিও না
বেবি ওকে একাই ছেড়ে দাও.
- সব কিছু এতো সহজ না. - কইছে তোমারে.
সে নিজেই ব্যাপারটাকে কঠিন করে তুলছে.
মনে হছে তুই চাস ও যাতে ফোন দেয়, তাইনা শিভা?
- কেন তোর এমনটা মনে হল? - মনে কর
কাল যদি সে ডিভোর্স পেপার তার জামাইয়ের মুখে ছুঁড়ে মারে..
..আর বলে সে তোর সাথে সারাজীবন থাকতে চায়..
..তখন তুই কি করবি?
এরকম কিছুই হবে না.
যা বস ঐখানে, বস.
তারা বলে এই ছবিতে ভূতপ্রেত রয়েছে.
কিন্তু আমার মতে এটা আলো আর ধোঁয়ার মিশ্রণ.
তুই আমাকেই কেন ভূতের গল্প শুনানোর জন্য আনিস?
- তুই আমাকে এসব কেন বলিস? - এই বস, বস বলছি.
এই গল্পের লেখকের চাহিদা অনুযায়ী আমি ছবিগুলো তৈরি করেছি..
..এটা মায়া.
তার কথা হচ্ছে তুই যদি ৩ বার মায়ার নাম নিস তাহলে তুই তাকে দেখতে পাবি.
কি? আবার মজা শুরু করেছিস?
আমি সিরিয়াস.
তুই কি জানিস তুই মাঝে মধ্যেই আমাকে রাগিয়ে তুলিস?
আমার ইচ্ছে করে তোর পিছন দিয়ে ঢুকিয়ে দেই.
হেই বন্ধুরা আমার শেষ.
চল বের হই.
- আরে চল তো. - আমি মানে.. ফোন
আমি আসছি তোমরা আগাও.
- হ্যালো সাত্যিয়া. -হ্যালো
কই তুমি? কেমন আছো? কি করছো?
- কি খবর?
-আমি তোমার সাথে কথা বলতে চাই.
- হুম বলো. - শিভা আমার কল রিসিভ করছে না.
আমি কিছু কথা শেয়ার করতে চাই কারোর সাথে.
আমি আর শিভা বেষ্ট ফ্রেন্ড ছিলাম.
আমি বুঝতে পারছিনা কেন আমরা এখন আগের মত নেই!
সাত্যিয়া
মজা করছো?
সে ভালবেসছে তাই সে কষ্ট পাচ্ছে.
এটা কি মামা বাড়ির মোয়া যাকে সে ভালোবাসে তাকে হারানোর পর তার সাথে বন্ধুত্ব সম্পর্ক রাখা?
শিভা ঠিক কাজই করছে.
সে খুবই ভালো মানুষ.
তোমার নতুন জীবন আনন্দময় হোক.
ওকে একা ছেড়ে দেয়াই তোমার জন্য উত্তম.
এটা শুনে মনে হচ্ছে খুবই ভালো আইডিয়া
হেই তোমরা আমাকে ছেড়েই এতদূর চলে এলে?
- তুমিই আমাকে ছেড়ে এসেছো!
- আরেহ!
- হেই শিভা. - স্যার.
কি বিস্ময়কর!
- আমি একটু পরিচিত হচ্ছিলার এই শহরের সাথে. - শিভার গল্পের লেখক.
আর তুমি?
- আমরা লাঞ্চ করতে যাচ্ছি. - আচ্ছা
চলুন না আমাদের সাথে?
নাহ না.. আমি তোমাদের বিব্রত করতে চাচ্ছিনা.
আরে কিসের বিব্রত. চলুন তো স্যার.
নাহ এখানে পাউন্ড চলে, তাই আরকি.
- দারুণ সুন্দর. - এটা লন্ডনে আমার সব থেকে প্রিয় জায়গা.
আমার মতে এটা রোম্যান্টিকও.
তো আপনি কোথায় উঠেছেন স্যার?
আমার এক বন্ধুর ঐখানে. সে ইম্পেরিয়াল কলেজের প্রফেসর.
আমি সেখানে থাকছি...
- কিছুদিনের জন্য. গেস্ট হিসেবে. - হ্যাঁ
আমি নিজের থেকেই সকালে তোমার সাথে কথা বলতে চেয়েছিলাম.
- আমি জ্বালাচ্ছি না তো তোমাদের? - অবশ্যই না.
-শিভা -স্যার.
তুমি আমার কথা বিশ্বাস করোনি তাইনা?
এটা আসলে ব্যাপারটা বিশ্বাসের না.
এটা আসলে অন্য কিছু যা আপনি বলেছিলেন.
এই যুগে আসলে...
আমি ভুত-প্রেতে বিশ্বাস করি কিনা তাই তো?
তাকে তার গল্প নিয়ে জিজ্ঞাসা করো.
আমার দিকে তাকিয়ে আছো কেন? তাকে জিজ্ঞাসা কর.
শিভা বলেছিল আপনার বইটি সত্য ঘটনা অবলম্বনে?
এটা কি সত্যি?
সে কি কান্নডা জানে?
আমি অনেক কষ্টে তাকে শিখিয়েছি.
- ফাজিল. - সে বলতে পারেনা কিন্তু সবই বুঝে.
মায়া ভারতের এক সম্ভ্রান্ত পরিবারের মেয়ে ছিল.
মায়া নামের মেয়েটি সত্যি সত্যি আছে.
সম্ভ্রান্ত পরিবার মানে তার অনেক টাকা ছিল তাই না?
ভারত যখন স্বাধীন হল..
..তার পরিবার বিভিন্ন ব্যবসায় তাদের অর্থকড়ি বিনিয়োগ করলো.
মায়ার তখন বিয়ের বয়স হয়েছে.
সে একজনকে ভালোবাসতো.
সে পালিয়ে গিয়েছিলো ঐ ছেলের সাথে.
তার বাবা মা ঐ ছেলেকে একদমই পছন্দ করতো না.
এতো খুবই রোম্যান্টিক.
আরে চুপ থাক তো.
ভালোবাসি বলে পালিয়ে বিয়ে করতে হবে নাকি?
আর এরপর বাচ্চা হওয়ার ঝগড়া শুরু.
ঠিক. আর এমন কোন অপবাদ ছিল না মায়ার বাবা-মার..
..সে ছেলেকে ডেকে রাজকীয় ভাবে বিয়ে দিল.
সেই বিয়ে সে তাদের পরিবারের খুবই দুর্লভ একটা আংটি পড়েছিল..
..তারা মায়াকে প্রচুর উপহার দিল.
আজকে যদি সেই আংটিটা থাকতো, তাহলে এর দাম হত কয়েকশো কোটি.
অও এটাই. হ্যাপি এন্ডিং.। ভালো লাগলো.
নাহ. বিয়ের এক বছর পর...
-..মায়ার বাবা-মা গাড়ি এক্সিডেন্টে মারা যায়. - অহ.
সমস্ত সম্পত্তির মালিক মায়া হয়ে গেলো
কয়েক মাস পর মায়া জানতে পারলো সে প্রেগন্যান্ট.
সেই দিনটি তার জীবনের সব থেকে খুশীর দিন হওয়ার কথা ছিল.
কিন্তু মায়া হঠাৎ জানতে পারলো তার জামাই...
..অন্য একজন মেয়ের সাথে প্রেম করছে.
তাদের বিবাহ বার্ষিকীতে তার জামাইয়ের মৃত দেহ পাওয়া গেল.
পরবর্তীতে জানা গেল খাবারে বিষ মেশানো হয়েছিল.
তদন্তে প্রমাণিত হল যে মায়া রাগে দুঃখে..
..তার স্বামীকে বিষ মিশিয়ে খুন করেছিল.
তার বাবা-মা কিছুদিন আগেই গত হয়েছিল
আর এখন এই দুঃখজনক ঘ্টনা
মায়া মানসিক ভারসাম্য হারিয়ে ফেলে.
সে বিষণ্ণতায় ভুগতে শুরু করলো.
কোর্টেও একই জিনিস প্রমাণিত হল.
তার এক চাচা ছিল যে কিনা তার পিতার ব্যবসা দেখা শুনা করতো.
আর এজন্যই তারা তার চিকিৎসা যদি ভারতে করে..
..তাহলে তাদের পরিবারের অসম্মান হত..
..তারা বিদেশে চিকিৎসা করানোর জন্য রাজি করিয়ে ফেললো.
তাকে লন্ডনের এক আশ্রমে ভর্তি করানো হল.
জায়গাটা খুবই সুনসান ও ভয়ংকর ছিল.
সেখানে পশুদের থেকেও নির্মম ভাবে রোগীদের সাথে আচরণ করা হত.
প্রচুর রোগী সেখান থেকে পালানোর চেষ্টা করেছে.
কিন্তু..
এটা খুবই ভয়াবহ.
সত্য সবসময় নির্মম হয়.
আশ্রমে আসার পর থেকে মায়া একেবারেই কথা বলা বন্ধ করে দেয়.
সে নিজেকে নিজের মাঝেই সীমাবদ্ধ করে ফেলে.
সে তার ছোট বেলা থেকে শুরু করে সব কিছুই ডায়েরিতে লেখা শুরু করলো.
তার সন্তান? সবাই তো সে প্রেগন্যান্ট ছিল?
শুনা যায় তার বাচ্চা আশ্রমেই জন্মেছিল.
সেই বাচ্চার জন্ম যেন মায়াকে নতুন জীবন দান করলো.
সে ঐ বাচ্চাকে একটা পুতুল দিল.
সে তার বাচ্চার সাথে সারাদিন খেলতো.
কিন্তু সেই সুখ বেশীদিন টিকলো না.
জন্মের ১ সপ্তাহ পর মায়ার থেকে বাচ্চাটিকে আলাদা করে ফেলা হলো.
কতোটা মর্মান্তিক!
মায়ার পাগলামি বাড়তে থাকলো.
সে তার বাচ্চাকে খুঁজতে সারা আশ্রম জুড়ে পাগলের মত দৌড়াতে লাগলো.
সে কেঁদে কেঁদে সবাইকে তার বাচ্চার কথা জিজ্ঞাসা করতে লাগলো যে কেউ তার বাচ্চাকে দেখেছে কিনা!
হাসপাতালের কর্মচারীরা তাকে উত্তক্ত করে বলতো তার বাচ্চা তাদের কাছে নেই.
হারামী একেকটা.
শুনা যায় হাসপাতালের কর্মচারী আর একটা ঔষধ কোম্পানির মাঝে চুক্তি হয়.
ঐ ঔষধ কোম্পানি তাদের নতুন ঔষধ পরীক্ষা করার জন্য হাসপাতালের রোগীদের বেছে নেয়.
এবং ঐ ঔষধ কোম্পানি কর্মচারিদের টাকাও দিয়েছিল এর জন্য.
এমনই এক ঔষধ দিয়ে মায়ার উপরও পরীক্ষা করা হয়েছিল.
এরফলে মায়া অন্ধ হয়ে যায়.
একদিন সে ছাঁদ থেকে পড়ে মারা যায়.
এখনো কেউ জানে না সেটা দুর্ঘটনা ছিল নাকি আত্মহত্যা.
কেউ কেউ বলে তাকে আশ্রমের পিছেনেই কবর দেয়া হয়েছিল.
এটাও বলা হয় যে তারা ঐ ডায়েরি ও পুতুলটাকেও কবর দিয়েছিল..
..এবং সেই সাথে সকলের অজান্তে কয়েকশো কোটী টাকার আংটিটিও.
১৫ বছর আগে ইংল্যান্ডের সরকার..
..হাসপাতালের কুকীর্তির কথা জানতে পেরে বন্ধ করে দেয়.
এটা এখন জনমানবহীন শূণ্য হয়ে পড়ে রয়েছে.
কিন্তু লোকেরা বলে সেখানে বাচ্চার পুতুল খেলার আওয়াজ শুনা যায়..
..যদি তুমি হাসপাতালের কাছাকাছি যাও.
সে অনেক কষ্ট সহ্য করেছে.
তার শেষটা আনন্দের হওয়া উচিৎ ছিল.
আসলে সুখ বা কষ্টকর শেষ বলতে কিছু নেই.
শুধু পরিণতিই চূড়ান্ত.
ধন্যবাদ. খুব ভালো লাগলো সবার সাথে কথা বলে.
- শুভ রাত্রি. - আপনাকেও স্যার.
তুমি কেন স্যারকে বাড়িতে নামিয়ে দিয়ে আসছো না?
- হ্যাঁ. - নাহ নাহ. তোমার কষ্ট করে যেতে হবে না.
আমি যাবো. এটা কোন সমস্যাই না. চলুন স্যার.
- চল. - দেখা হবে.
- যাইহোক - যাই তাহলে.
- মায়া মারা গিয়েছে কত বছর হল? - ২৪ বছর.
আপনি আংটির কথা বলেছিলেন.
কেউ সেটা কবর থেকে চুরি করার চেষ্টা করেনি?
কয়েক বছর আগে কিছু লোক আংটির খোঁজে জঙ্গলে গিয়েছিল.
তারা আর ফেরত আসেনি.
তাদের বন্ধুরা তাদের খোঁজে গিয়েছিল.
তারা অনেক খোঁজার চেষ্টা করছিল এবং ফেরতও চলে আসতেছিল..
.. তখনই একটা আওয়াজ শুনতে পায়.
কাঠ কাটা হচ্ছিল.
তুমি শুনলে টাশকি খেয়ে যাবে যদি আমি বলি সেটা কিসের শব্দ ছিল!
তারা কি সেখানে বিছানা তৈরি করছিল স্যার?
নাহ. মুন্ডুহীন এক ব্যক্তি কাঠ কাটছিল.
তখন থেকেই মানুষজন সেই জঙ্গলে যাওা বন্ধ করে দিল.
উঠে পড়ুন স্যার, উঠে পড়ুন.
এদিক আয়.
তুই এমন ভাবে কথা বলছিস যেন তাকে নামানোর সাথে সাথেই তুই আংটিটাও পেয়ে যাবি!
কি যে বলিস না!
তাকে নামিয়ে ভদ্র ছেলের মত বাড়ি চলে আসবি.
অন্য কোথাও যাবি না.
সাবধানে.
- বিদায় স্যার. - যাবো স্যার?
- হুম বিদায় শিভা. - ওকে স্যার.
ম্যাম আপনি কি করছেন?
- আপনার বাবা-মা? - জানি না.
জন্মের পরেই তারা আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল.
আমি তাদের জন্য অনাহুত ছিলাম.
আমি অনাথ আশ্রমে বড় হয়েছিলাম.
সেই সব বাচ্চাদের সাথে যাদেরকে তাদের বাবা-মা আমার মত ছেড়ে চলে গিয়েছিল.
হুম বলতে থাকুন.
আমার এবং আর্জুনের জন্য অভিনয়ই ছিল প্রথম ভালোবাসা.
আমি স্কুলে অনেক ব্যঙ্গ রচনা ও নাটকে অভিনয় করেছি.
এবং তারপর কলেজেও.
সেখানেই আর্জুনের সাথে আমার দেখা হয়.
এক নাটকে.
আমরা কপোত-কপোতীর অভিনয় করছিলাম.
এবং সত্যি সত্যি আমরা একে অন্যকে ভালোবেসে ফেললাম.
কলেজ শেষ করেই আমরা বিয়ে করে ফেললাম.
১ বছর অনেক কষ্ট করে কাজ করা সত্ত্বেও..
..আমরা পেশাগতভাবে সফল হতে পারছিলাম না.
আমরা প্রচুর মহড়া দিয়েছি.
কিন্তু আমরা সুখী ছিলাম যদিও কোন কাজ পাচ্ছিলাম না.
পরবর্তী বছরে আমি প্রেগন্যান্ট হলাম.
এবং সেই সময় অনেক বড় একটা মুভির অফার আসলো.
আমাদের দুইজনের জন্যই. প্রধান চরিত্র ছিল একই মুভিতে.
শ্যুটিং কয়েকমাসের মধ্যে শুরু হওয়ার কথা ছিল.
সবাই বলছিল আমাদের জীবন পরিবর্তন হয়ে যাবে যদি আমরা এই ছবিতে অভিনয় করি.
আর্জুন আমাকে গর্ভপাত করতে বললো.
আমি আমার সন্তানের জীবনের বিনিময়ে আমার ক্যারিয়ার তৈরি করতে চাইনি.
যদি আমি তাই করতাম তাহলে আমার সাথে..
..আমার মায়ের কি পার্থক্য থাকতো যে আমাকে ছেড়ে চলে গিয়েছিল?
আর্জুন সব সময় বলতো আমার থেকে বেশী দামী ওর কাছে কিছুই নেই.
এজন্যই আমি আর্জুনকে জিজ্ঞাসা করেছিলাম..
.. এখন তোমার কাছে কোনটা বেশী দামী?
সে কিছু না বলেই চলে গিয়েছিল
পরদিনই আমি Swati বাসায় চলে যাই.
আমি সেখানেই থাকা শুরু করলাম.
যখন Swati সেখানে থাকতো না..
..মীরার জন্ম, বাচ্চার লালন পালন, আমার গর্ভাবস্থা..
..আমি কোন কিছুই তখন ঠিক মত করতে পারতাম না.
জানি না কিভাবে আমি ওর ঋণ শোধ করবো.
আমি আবার মহড়া দিতে লাগলাম.
কিন্তু আপনি তো জানেনই আমাদের ইন্ডাস্ট্রি কেমন!
আপনি বিবাহিত হলে এখানে কোন কাজই করতে পারবেন না.
এটা শুধুই মাত্র অবিবাহিতদের জন্য.
অবশ্য ব্যাপারটা এমনও না যে আমি এখানে কাজ পাইনি.
আমি কিছু ছোট খাটো কমার্শিয়ালে কাজ করেছি.
অনেক কঠিন.
কিন্তু আমার বিশ্বাস ছিল যে আমি এখানে নাম করবোই...
..এবং এর সাথে মীরার লালনপালন.
হুম ঠিক আছে. পরের সপ্তাহে একই সময় একই জায়গায় আমরা আবার দেখা করবো.
- আপনার ফী? - Swati দিয়ে দিয়েছে.
আমিই পরেরবার থেকে পরিশোধ করবো.
কে ঐখানে?
সে এখানেই.
ফোন তোমার হাতের কাছেই রেখ.
হাই. আমি সারাই রুদ্রাপ্পা স্বামী.
ভিতরে আসতে বলবেন না?
ম্যাডাম
দয়া করে বসুন ম্যাম.
এটাকে আপনি আপনার নিজের ঘর ভাবতে পারেন.
স্যার আমি চেক নিয়ে টাকা তুলতে গিয়েছিলাম.
কিন্তু এখন টাকা তোলা যাচ্ছে না.
খুব শীঘ্রই ঠিক হয়ে যাবে.
কালকের মধ্যেই সব পাওনা শোধ করে দিব.
পুরাই ফতুর আপনি কিন্তু দামী শ্যাম্পু তো থিকই ব্যবহার করেন.
এতো বড় বাড়ি আপনার আর বলছেন কোন টাকাই নেই আপনার?
আসলে এটা আমার বন্ধুর বাসা
সে আপনার বান্ধবী তাই তো? তাহলে তার কাছেই টাকা চান।
আমি জানি না আপনি কি করবেন.
কাল সকাল ১০টার মধ্যে আমার অফিসে এসে টাকা দিয়ে যাবেন.
কাল সকালের মধ্যে ক্যাশ দিবেন.
নাহলে আমি আপনাকে দেখে নিবো।
আসি তাহলে.
হাই Swati.
ব্যাংক থেকে মেসেজ পেয়েছি।
তারা বলছে উগ্রাপ্পার চেক বাউন্স হয়েছে.
আমি অফিসে ফোন দিয়েছিলাম
তারা বলেছে ডিরেক্টরের সাথে সরাসরি কথা বলতে.
তারা পুরাই ধোঁকাবাজ.
তার ফোন নিশ্চয়ই বন্ধ পাওয়া যাবে এখন
আল্লাহ'র নাম নিয়ে অফিসে চলে যা.
- ওকে? - ওকে তাই করতে হবে আমার.
- মীরা কই? - ডে কেয়ারে
একটু কথা বলতে পারবি? ফ্রী আছিস?
নাহ রে, একজন চিত্র পরিবেশক আছে এখানে.
আমাদের অনেক বলা সত্ত্বেও আমরা ব্যাঙ্গালুরে মুভিটা দেখাবো...
..সে লন্ডন থেকে এতো দূর এসেছে.
সে বিকের সাথে কথা বলছে.
সে বলেছে আজ সন্ধ্যায় আমাদের মুভিটি দেখবে.
ওকে প্রডিউসারের অফিসে পৌঁছে আমাকে ফোন দিস.
সে টাকা না দেয়া পর্যন্ত সেখান থেকে নড়বি না.
দ্বিতীয় বারের মত আমি এখানে আসলাম.
আমার তার সাথে দেখা করতেই হবে. খুবই দরকার আমার.
তার মোবাইল বন্ধ. সে গুরুত্বপূর্ণ কাজে বাহিরে গেছে.
আমরা জানি না সে কখন ফিরবে.
- আপনি সোমবার আসুন. - আপনি কি আমার সাথে মজা করছেন?
আমার আজকের মধ্যেই টাকা চাই.
ঠিক আছে, দেখছি.
- হ্যালো - হ্যালো ম্যাডাম
সব বাবা-মাই তাদের সন্তানদের নিয়ে চলে গেছে.
আপনিই একমাত্র যে এখনো নেননি.
দ্রুত এসে ওকে নিয়ে যান.
অহ নাহ. আমি যে এখনই আসতে পারছি না.
আপনি বলেছিলেন আপনি ২ ঘণ্টার মাঝে আসবেন.
এজন্যই তাকে রেখে দিয়েছিলাম.
আমি জানি. আর একটা ঘণ্টা সময় দিন আমাকে. প্লীজ।
আমরা পারছি না. আর আধা ঘণ্টার মত খোলা থাকবে সেন্টার. এর বেশী হবে না.
দ্রুত এসে ওকে নিয়ে যান.
আমার যেতে হবে.
তাকে পাওয়া যায় কিনা একটু দেখুন প্লীজ.
দুঃখিত আমি ভুলেই গিয়েছিলাম যে আপনি অপেক্ষা করছেন.
স্যার ফোন দিয়েছিল.
উনি লন্ডন গিয়েছেন মুভির কাজে.
লন্ডন? সিউর আপনি?
আমি আপনাকে তাই বলছি যা সে আমাকে বলেছে.
হাই, Swati.
ঐ চিত্র পরিবেশকের নাম কি যে তোদের মুভি দেখতে এসেছে?
উগ্রাপ্পা, কেন?
আমি তার কাছেই টাকা পাই.
-তাই নাকি - হুম - সে দেখতেও বদমাশের মত.
এখন বুঝতে পারলাম সে আসলেই একটা জোচ্চোর
এখনো আধা ঘণ্টা বাকি আছে মুভি শেষ হওয়ার
সরি. আমি বিকের সাথে কথা বলে তোর টাকার ব্যবস্থা করে দিব.
তুই চিন্তা করিস না. ওকে?
ওকে বাই ও ধন্যবাদ.
শিভা ও আমি স্কুল থেকেই ফ্রেন্ড
আমি আর স্কুল পাস করতে পারিনি
সে অনেক কিছুই শিখে ফেলে স্কুল থেকে.
আর রাস্তায় ধুঁকতে থাকি.
আর তারপর কয়েক বছর পর লন্ডনে আমাদের দেখা হলো.
এরপর থেকে সেই আমার দেখা শুনা করছে.
শিভাই আমাকে এই গাড়ির ব্যবস্থা করে দিয়েছে.
ও খুব ভালো চাকরী করে.
সে খুব ভালো চিত্রকর (পেইন্টার)
আমার কোন কথাই বিশ্বাস হয়নি, তাই না?
জনাব লন্ডনে অনেক ঠাণ্ডা তাই একটু গিলছি. কিছু মনে করো না.
আপনি বলেছিলেন রাতে তার নাম ধরে ডাকাটা খুবই ভয়ঙ্কর?
আপনি এটাও বলেছিলেন যে রাতে সেই জঙ্গলে যাওয়াও বিপদজনক?
কিন্তু আপনি এই সময়ে ঐখানে কেন যাচ্ছেন?
আমি বুঝতেছি না
যখন থেকে মায়ার গল্প ম্যাগাজিনে আসলো..
..কেউ একজন আশ্রমের চারপাশে কবর খুঁড়েছে.
আমি যদি তাকে পাই তাহলে কবরটাও পাবো.
তাহলে তো আপনি আংটিটাও খুঁজে পাবেন.
আরে বোকা. কেউ কি সত্যি সত্যি আংটি পুতে ফেলবে?
ঐ ডায়েরি সেটাই তো ইতিহাস একটা.
আমি যদি সেটা পাই তাহলে সবই পাবো.
আরেহ তুমি তো বোকার মত কথা বলছো গাধা কোথাকার.
স্যার বেশী সময় নিয়েন না
আমার সুন্দরী বধু আমার জন্য বাড়িতে অপেক্ষা করছে.
ওকে, ১০ মিনিটের বেশী লাগবে না আমার.
আপনি যদি আংটি পান তাহলে আমরা একটা চুক্তি করবো.
আমরা ৫০-৫০ ভাগ করে নিব, ঠিক আছে?
লুসি
আমি তোমাকে ভালোবাসি.
মদন স্যার
মদন স্যার.
স্যার...
স্যার
মদন স্যার.
মদন স্যার
মদন স্যার.
মদন স্যার.
মদন স্যার.
মদন স্যার.
স্যার...
মদন স্যার.
মদন স্যার.
মদন স্যার.
মদন স্যার.
লুসি সে কি বলেছিল কি হয়েছে?
নাহ সে ঘুমাচ্ছে.
সে ঘুমের ঘোরে আবোল তাবোল বকছে.
কি বলছে?
শুনে মনে হচ্ছে ... Aake.
তুমি কি জানো এর মানে কি?
Aake. এটা কান্নাডার শব্দ.
এর মানে সে (মেয়ে অর্থে)
চিন্তা করো না লুসি, সব ঠিক হয়ে যাবে.
শুধু তার সাথেই থাকো.
যদি কোন অবস্থার পরিবর্তন হয়, সাথে সাথে আমাকে কল দিবে.
ঠিক আছে.
আমি সকাল থেকে মদনের নাম্বারে ফোন দিচ্ছি কিন্তু সে ফোন ধরছে না.
শিভাকে জিজ্ঞাসা করেছিলে?
সে বললো সে ক্যাব ড্রাইভারকে সাথে নিয়ে বের হয়ে গেছে..
.. এবং কেবল একজনই ফেরত এসেছে.
তোমার কি মনে হচ্ছে সে এটা পেয়ে গেছে?
আমরা বলেছিলাম একটু সাবধানে থাকতে।.
আমি ওর সাথে অবশ্যই কথা বলবো.
যদি সে সেখানে থাকে.
মি. মদন?
আমরা একসাথে ব্যাঙ্গালুরের একটা কলেজে পড়াতাম.
সে বলেছিল সে লন্ডন আসবে একটা গল্প লেখার জন্য.
গবেষণা করতেও.
আমি ওকে আমার বাড়িতেই থাকতে বলেছিলাম. কিন্তু ও তো পুরাই পাগলা স্বভাবের ছিল.
- কেন স্যার? - সে এলকোহলিক ছিল.
কিছু দিন আগে সে আঘাত পেয়েছিল
সে আমার এপার্ট্মেন্ট থেকে লাফ দেয়ার চেষ্টা করেছিল.
ভাগ্য ভালো ছিল যে কেউ গিয়ে ওকে ধরেছিল.
চিন্তা করো সে যদি মারা যেত তাহলে এখানে আমার আমার অবস্থা কি হত?
হ্যালো লুসি, সব ঠিক আছে?
- সে চলে গেছে - কি? কই গেছে?
আমি জানি না. আমি দোকানে গিয়েছিলাম, এসে দেখি ও নেই এখানে.
সে মোবাইল ঘরেই ফেলে গেছে. কিন্তু সে এমনটা কখনোই করে না.
চিন্তা করো লুসি, আমি সিউর সে ভালোই আছে. আমি এখনই আসছি. ওকে?
কে জানে এসব কি হচ্ছে?
এখানে তো তোমার কোন দোষ নেই.
প্লীজ শিভা কেঁদো না, প্লীজ.
- হ্যালো -স্যার, একটা গুরুত্বপূর্ণ কাজ চলে এসেছে.
আমি আজকে আপনার সাথে দেখা করতে পারবো না.
কি সমস্যা তোমার? ভয় পাচ্ছো?
কেন যেন আমার মনে হচ্ছে এটা ঠিক হচ্ছে না.
টাকা নেয়ার সময় এটা তোমার মনে হওয়া উচিৎ ছিল.
এখন এটা তোমার দায়িত্ব কাজ শেষ করা.
তুমিই একজন যে কিনা আশ্রমে চাকরী করতে যখন মায়া সেখানে ছিল.
তুমিই একা আছো যে কিনা সব জানো.
- তোমার আজকে রাতেই আসতে হবে. -স্যার আজকে রাতে...
শিভা তুমি বিশ্বাস করতে পারবে না যা বলা হয়েছিল, তাই না?
থামাও
হ্যালো
Swati.
Swati.
Swati!
মায়া, তোমার সন্তান আমার কাছে নেই.
কেউ আছেন এখানে?
মায়া, তোমার সন্তান আমার কাছে নেই.
মায়া, তোমার সন্তান আমার কাছে নেই.
কেউ কি আছেন এখানে? হ্যালো
হ্যালো
হ্যালো হ্যালো.
সব ঠিক আছে তো?
স্যার স্যার.
মি. উগ্রাপ্পা.
মি. উগ্রাপ্পা
স্যার...
আমাদের মুভিটি সম্পর্কে জানানো উচিৎ আপনার, স্যার.
এটা খুব স্পষ্ট ভাবেই বলা যায় যে মুভিটি তাকে খুব ভীত করে তুলেছিল.
যখনই আমরা ব্যাপারটা বুঝতে পারি, সাথে সাথে আমরা ডাক্তারকে কল দেই.
এর থেকে বেশী আর কিই বা করতে পারতাম?
এটা আসলে করার জিনিস না.
আপনার ষ্টেশনে এসে আরও প্রশ্নের উত্তর দিতে হবে পরবর্তীতে.
Hi, Swati. টাকা পেয়েছিস?
- একটা দুঃসংবাদ আছে. -কি?
তিনি ইতোমধ্যে ৩টি দেশে ছিলেন.
মুভি দেখার সময় সে কিছুটা চিন্তিত ছিল.
এবং তার স্বাস্থ্যগত কিছু সমস্যা ছিল.
স্যার.
আমার শরীরটা ভালো লাগছে না.
এই মুভিটি শুরু করার পর থেকেই কিছু না কিছু সমস্যা হচ্ছেই আমাদের.
এমনকি শুটিং চলাকালীন সময়েও আমাদের অনেক সমস্যার সম্মুখীন হতে হয়েছে.
স্যার... স্যার...
কৃষ্ণা আমি এটা আমার নিজের চোখে দেখেছি.
সে জঙ্গলের মধ্যে দিয়ে একাকী দৌড়াচ্ছিল.
এমনকি শুনো সে মৃত্যুর আগে কিছু একটা বলছিল.
মিস্টার, আমরা এমন কোন সিন শুট করিনি.
তাহলে কিভাবে এটা দেখানো হলো?
তারউপর আবার আমি ছিলাম ক্যামেরাম্যান.
আমি কি জানতাম না তাহলে?
১০ দিনও হয়নি চিত্রগ্রাহক মুভিটি দেখেছিলেন.
এবং এর মাঝে তার এমনটি হলো আর তিনি মারা গেলেন.
বাহ বাহ! যত্তসব.
তুমি বিশ্বাস করছো না তাই তো?
ঠিক আছে তাহলে. আমি তোমাকে দেখার ব্যবস্থা করে দিচ্ছি.
তুমি কি এটা থিয়েটারে একা বসে দেখতে পারবে?
এসব আজগুবি জিনিস অন্য কারোর জন্য রেখে দাও.
আমি এসবের মধ্যে নেই.
দরজা খুলুন. অনেক সময় দেয়া হয়েছে.
কই হারালেন?
দরজার পাশেই দাঁড়িয়ে আছেন তাই না?
আমার টাকা আমাকে দিন. সময় হয়েছে অনেক.
দরজা খুলুন.
কতক্ষণ আর আপনি এই লুকোচুরি খেলবেন?
ম্যাডাম.
Swati.
Swati.
তুমি কি দ্বিতীয় রীলটা চেক করেছিলে?
হুম করেছিলাম স্যার, কোন সমস্যা দেখিনি.
আরেকবার চেক করো.
কি চেক করবো আমি?
আমি তখনই চেক করবো যখন আপনি বলবেন আমার আসলে কি চেক করতে হবে?
আপনি ১ সপ্তাহের ছুটি নেন.
যাই হয়েছে তা কেবলই মুভির ভালোর জন্যই হয়েছে.
মানে?
প্রচারণা সেটা ভালো হোক বা খারাপ, সেটা তো প্রচারণাই.
যে কোন ধরণের প্রচারণাই সব সময় ভালোই হয়.
আমি বাজি ধরে বলতে পারি মানুষজন এই মুভির দেখার জন্য ওঁত পেতে বসে থাকবে.
এতো কিছু হওয়ার পরও আপনি এসব বলছেন?
যা হয়েছে তার জন্য আমি অনেক খুশী. আমি এর প্রমোশনের জন্য অনেক খরচ করেছি.
ভারতবর্ষের সব থেকে বড় হরর মুভি হতে যাচ্ছে এটা!
মুভি দেখবেন আপন ঝুঁকিতে.
Swati, আমার একটা আইডিয়া আছে.
চল আমরা করি এটা. আমরা ৫ লাখ পোষ্টার ছাপাবো.
৫ লাখ পোষ্টার
একটা প্রতিযোগিতার ব্যবস্থা করতে হবে, শুনো.
তুই ফিরে আসলি তাহলে! মনে হচ্ছে আমি আমার জান ফিরে পেলাম.
- তোকে অনেক মিস করেছি - আমিও তোকে অনেক মিস করেছি.
ঐ পাগল ব্যাটাটার এতদূর যাওয়ার কথা ছিল না.
যেন মনে হচ্ছে কিছু বিজ্ঞানী নতুন কিছু আবিষ্কার করছে..
..আর সে কেবল মুভিই দেখে যাচ্ছে
উগ্রাপ্পা তার বাজে মুভির জন্য মারা গেলো.
এতোটুকুতেই সে ক্ষান্ত হচ্ছে না, সে আবার প্রতিযোগিতার আয়োজন করছে.
মনে হচ্ছে কান্নাডার রিয়েলিটি শো গুলো পোষাচ্ছে না তার.
কিসের প্রতিযোগিতা?
যে এই মুভিটা একাকী দেখতে পারবে থিয়েটারে বসে..
.. তাকে সে ৫ লক্ষ রূপী দিবে.
৫ লাখ?
এটা পুরোপুরি লোক দেখানো সস্তা কৌশল.
যে কেউ অংশ নিতে পারবে?
হুম যে কেউ পারবে.
- কিন্তু ৫টা শর্ত আছে. -হ্যাঁ
প্রথমত থিয়েটারে বসে কোন ব্রেক ছাড়া একাকী মুভিটা দেখতে হবে.
দ্বিতীয়ত এই বন্ডে সাইন করতে হবে যে..
..মুভি চলাকালীন সময় যদি কোন অপ্রীতিকর ঘটনা ঘটে তবে ডিরেক্টর দায়ী থাকবেন না.
তৃতীয়ত তুই তোর চোখ বন্ধ বা অন্যদিকে মুখ ঘুরিয়ে রাখতে পারবি না মুভি চলাকালীন সময়.
এটা এজন্য যে মুভি দেখার সময় একটা ক্যামেরা..
..তোর দিকেই ফোকাস করে রাখা হবে.
চতুর্থত পালস রেট রেকর্ড করা হবে.
সারা মুভি জুড়ে এটা নরমাল থাকতে হবে.
৪টা গেলো. পঞ্চমটা কি?
মুভিটা কেবল রাতেই দেখানো হবে.
পুরো থিয়েটারে তোকে একাই দেখতে হবে.
ঐ পাগলাটাই
হ্যাঁ স্যার, কি?
কিন্তু আমরা তো আজকেই ফিরলাম. ওহ...
- ৫ লাখ রুপী. চলবে তো? - ওকে, স্যার.
মনে হচ্ছে দৌড়াবে.
আপনি কারোর জীবন বাজি রেখে এমনটা করতে পারেন না.
কলটা ধরো তো.
এই রিংটোন আমার মেজাজ খারাপ করে দেয়.
স্যার, পোস্টারের সাইজ কি ঠিক আছে?
আঞ্জলি, এই মার্জিনটা...
- হুম? - কই তুই?
- কই আবার? দোযখের শয়তানটার সাথে
এটা আবার কি?
আমি মুভিটা দেখার জন্য তৈরি.
ডিরেক্টরের সাথে কথা বল.
আমার মুভি দেখার ব্যবস্থা করে দে.
পাগল নাকি তুই?
ঐ চিত্রগ্রাহক মুভি দেখতে গিয়েই আমার গেলো.
আমার আর কোন উপায় নেই.
তোর ডিরেক্টেরের সাথে কথা বল. প্লীজ.
যখনই সে বলবে, আমি মুভি দেখতে রাজি.
এখন অফ যা, আর শুয়ে পর.
এই জিনিস তোর মত মানুষের জন্য না.
শর্মিলাকে এই প্রতিযোগিতায় অংশগ্রহণের সুযোগ দেয়া উচিৎ হবে না.
আপনি আপনার পরের মুভিতে ওকে নেয়ার কথাও বলেছিলেন.
যদি ওর কিছু হয় তাহলে কি হবে?
আপনি আর্জুনকে কি জবাব দিবেন পরে?
বাচ্চাটার কথা ভাবুন যে এখনো ওর কোলেই আছে.
তার এখনো বয়স এক বছরও হয়নি.
Swati. কিছুই হবে না ওর..
আমি তোমার দুশ্চিন্তার ব্যাপারটা বুঝতে পারছি.
কিন্তু সেরকম কিছুই হবে না.
ঐ প্রোডিউসারের লন্ডনে মৃত্যু ব্যাপারটা পুরোপুরি এক্সিডেন্ট ছাড়া আর কিছুই না.
সে মৃত্যুর মাধ্যমে তার পাপের ফল পেয়েছে.
এখন আমাদের পালা.
শুধু চিন্তা করো যে
কি হবে সে জিতলে? ৫ লাখ.
সে টাকা পাবে আর এর মাধ্যমে আমরা আমাদের প্রচারণায় সফল হবো.
জানি কিন্তু একবার ভাবুন...
Swati, আমি তোমাকে কথা দিচ্ছি.
যদি মুভি চলাকালীন সময় তার সাথে খারাপ কিছু হয়..
..আমি নিজে ভিতরে যেয়ে ওকে সাবধানে বের করে নিয়ে আসবো
ঠিক আছে?
তোমার তাকে রাজি করাতে হবে.
স্যার, আমি আপনার পায়ে ধরি. আপনি আরেকবার চিন্তা করুন প্লীজ.
আমি করেছি কিন্তু আমার মাথায় কেবল এই আইডিয়াই বারবার আসছে.
আমার কথা শুন প্লীজ
তুই কি জানিস এই মুভিগুলো সম্পর্কে?
প্রতিটি মুভিতেই কিছু না কিছু অদ্ভুত ঘটনা ঘটেছে.
শুটিং এর শুরু থেকে মুক্তি পাওয়া পর্যন্ত অভিনেতা ও টেকনিশায়ন কেউ না কেউ মারা গিয়েছে.
এটা দেখ. এই মুভির নাম পোল্টারজিস্ট.
স্টিভেন স্পিলবার্গের মুভি এটা.
এই মুভি মুক্তির কয়েক বছর পর...
.. ৪ জন প্রধান অভিনেতা মারা গিয়েছিল...
সবগুলোই ছিল অস্বাভাবিক মৃত্যু.
একজন অভিনেতা আবার তার সহ-অভিনেতাকে খুন করতে চেষ্টা করেছিল.
তুই শুনলে অবাক হবি যে এটা নিয়ে একটা ডকুমেন্টারিও হয়েছে.
তার মগজ ধোলাই করছো?
এসবের সাথে আমাদের মুভির কি সম্পর্ক?
সরি স্যার. অবশ্যই কানেকশন আছে.
পোল্টারজিস্ট মুভিতে সত্যিকারের কংকাল ব্যবহার করা হয়েছিল.
আর সব সমস্যার শুরু এর মাধ্যমেই, এটাই মনে করা হয়ে থাকে.
হ্যাঁ. তো এর সাথে আমাদের মুভির কি সম্পর্ক?
আমাদের চিত্রগ্রাহক আপনাকে হাজারবার নিষেধ করেছিল যে কবরস্থানে শুটিং না করতে.
সে বলেছিল সে কবস্থানের সেট তৈরি করে দিবে কিন্তু আপনি মানেননি!
পুরো মুভিটি আপনি কবরস্থানে শুট করলেন.
তখন থেকেই আমরা বিভিন্ন সমস্যার সম্মুখীন হচ্ছি.
আপনি হয়তো এসব বিশ্বাস করবেন না.
কিন্তু এসব মিথ্যা প্রমাণিত হওয়ার কোন সুযোগই নেই.
একটু চিন্তা করুন, নিজেই বুঝতে পারবেন.
৬ মাস হয়ে গেছে আমরা আমাদের শুটিং শেষ করেছি.
তাহলে ভূতটা এখনো কেন আমাদের জ্বালিয়ে মারছে না?
যত্তসব ফালতু কথা.
যখন তুমি রেডি হবে, আমরাও রেডি হব তখনই.
এখনো দেরী হয়নি একটুও.
তোর যদি টাকা লাগে, আমি যে কোন ভাবেই হোক ব্যবস্থা করবো.
আমি আর্জুনের সাথে কথা বলবো. পাগলামি করিস না.
এর পিছনে অবশ্যই কোন না কোন কারণ আছে.
আমার বিশ্বাস তুই ব্যাপারটা বুঝতে পারবি.
আমি তোকে দেখছি. সাবধান.
সাত্যিয়া, তুই কি ব্লাডি মেরি সম্পর্কে শুনেছিস?
হুম শুনেছি. এটা তো তেল কোম্পানি.
আমি তেলের কথা বলছি না.
আমি একটা মেয়ের কথা বলছি. এটা একটা হরর কাহিনী.
তুই যদি ৩ বার তার নাম নিস আয়নার সামনে দাঁড়িয়ে..
.. তাহলে বলা হয়ে থাকে সে তোকে স্বর্গবাসী করে দিবে.
আমরা যদি আয়নায় আমাদের দিকে তাকাই তাহলে আমরা মারাই যাবো.
তাহলে কারোর নাম নিলে কেউ কেন মারা যাবে?
গতকাল আমার বস আমাকে একটা গল্প দিয়েছে .
পরবর্তী সেশনেই একটা নতুন সিরিজের গল্প প্রকাশিত হবে আমাদের ওয়েবসাইটে.
সাংঘাতিক ভয়ের হবে.
তখন মধ্যরাত!
হঠাৎ আমি বিদ্ঘুটে গন্ধ পাই আমার স্টুডিও থেকে.
মায়া ভারতের এক সম্ভ্রান্ত..
..পরিবারের মেয়ে ছিল.
মায়া নামের মেয়েটি সত্যি সত্যি আছে.
মায়ার তখন বিয়ের বয়স হয়েছে.
সে একজনকে ভালোবেসেছিল.
সে পালিয়ে গিয়েছিলো ঐ ছেলের সাথে.
কয়েক মাস পর মায়া জানতে পারলো সে প্রেগন্যান্ট.
সেই দিনটি তার জীবনের সব থেকে খুশীর দিন হওয়ার কথা ছিল.
কিন্তু মায়া হঠাৎ জানতে পারলো তার জামাই...
..অন্য একজন মেয়ের সাথে প্রেম করছে.
তাদের বিবাহ বার্ষিকীতে তার জামাইয়ের মৃত দেহ পাওয়া গেল.
পরবর্তীতে জানা গেল খাবারে বিষ মেশানো হয়েছিল.
আশ্রমে আসার পর থেকে মায়া একেবারেই কথা বলা বন্ধ করে দেয়.
আশ্রমে আসার পর থেকে মায়া একেবারেই কথা বলা বন্ধ করে দেয়.
সে তার ছোট বেলা থেকে শুরু করে সব কিছুই ডায়েরিতে লেখা শুরু করলো.
শুনা যায় তার বাচ্চা আশ্রমেই জন্মেছিল.
সেই বাচ্চার জন্ম যেন মায়াকে নতুন জীবন দান করলো.
সে তার বাচ্চার সাথে সারাদিন খেলতো.
কিন্তু সেই সুখ বেশীদিন টিকলো না.
জন্মের ১ সপ্তাহ পর মায়ার থেকে বাচ্চাটিকে আলাদা করে ফেলা হলো.
মায়ার পাগলামি বাড়তে থাকলো.
তার পালস রেট বাড়ছে.
প্লীজ মুভিটা বন্ধ করুন.
এখনো কোন সমস্যাই নেই. সে এখনো সেইফ রেঞ্জের মধ্যেই আছে
.
মদন স্যার.
মদন স্যার.
মদন স্যার.
শর্মিলা.
শর্মিলা.
শর্মিলা.
কি করছেন আপনি? আমাকে সাহায্য করুন.
আমি এসব শুরুর আগে আপনাকে সাবধান করেছিলাম.
তুই আমাকে শুনতে পারছিস না শর্মিলা?
- শর্মিলা - আমি তোমাকে মিথ্যা বলেছিলাম.
কি মিথ্যা বলেছেন?
উগ্রাপ্পার মৃত্যু স্বাভাবিক ছিল না.
কি বলছেন আপনি?
সেদিন মুভি দেখার সময় তার পালস রেট অনেক বেড়ে গিয়েছিল.
- আমি কিছু একটা দেখেছি - কি?
বামে যেয়ে নিচে দেখ.
আমার শরীরটা ভালো লাগছে না স্যার.
মানুষজন এখানেই মারা গিয়েছে গত এক সপ্তাহে.
আমি এক মাস ধরে এখানে আসছি.
আমি তো এখনো মরিনি. তাহলে তো এটা মিললো না তাই না?
ঠিক ভাবে খুঁড়. তুই এর জন্য টাকা নিয়েছিস. তাই ফাঁকি দিস না.
- ধার নিয়েছি সেটা. - কি?
স্যার এখানে কিছুই নেই.
আমি তো খুঁড়েই যাচ্ছি কিন্তু কিছুই পাচ্ছি না.
কেউ আমাদের পার্টি নষ্ট করেছে. তার কাছে এটা ছিল.
তুমি কি আমাকে ফলো করছিলে?
তুমি কি একা এসেছো নাকি ঐ মহিলাকেও সাথে এনেছ?
তুমি নিশ্চিত সে একা?
আমি কাউকেই দেখিনি তবে জায়গাটা ঘুটঘুটে অন্ধকার ছিল.
রাম, এখানে এমন কিছুই হচ্ছে না যা তুমি ভাবতেছ.
তুমি তাকে পাওয়ার জন্য সর্বোচ্চ চেষ্টাটাই করছো তাই না?
ঐখানেই থাম.
কেট, যাও তাকে ধরে নিয়ে আসো.
কে আপনি? এখানে কি করছেন?
হেই...তুমি তাকে চিন?
সে কি তোমার সাথে এসেছে?
আমরা এটা নিয়ে পরে চিন্তা করবো.
ফোনটা ধর. আমার স্ত্রী অপেক্ষা করছে.
ফোনের স্পিকার অন করো.
ফোনের স্পিকার অন করো.
শুভ জন্মদিন, শিভা.
তুমি কি এখনো আমার উপর রেগে আছো?
আমরা তো অন্তত কথা বলতে পারি তাই না?
হ্যালো. শুনতে পাচ্ছো? প্লীজ.
শিভা.
চল একসাথেই আমরা আমাদের ছেলেটাকে জন্মদিনে উইশ করি.
আজকে তার জন্মদিন.
শুভ জন্মদিন.
রাম, তুমি যা ভাবছো এমন কোন কিছুই আমাদের মাঝে নেই.
শুভ জন্মদিন.
- হেই... খুঁড়তে থাক. - নাহ.
- হেই... খুঁড়তে থাক. - নাহ.
হেই.. এদিক আয়.
নিচে নামো.
নিচে নামো.
এই নাও.
পুকলা এদিক আয়, বের কর এটাকে.
ঐখানে রাখ.
হেই.. ধর এটা.
অহ নো!
হায় খোঁদা!
কে আপনি?
এই অন্ধকার জঙ্গলে ভূতের সাথে দৌড় ঝাপ করতে এসেছেন নাকি?
কি সব বলছেন?
- আমি কে? আপনি জানেন? - আসুন জলদি?
আপনি কি শুনতে পাচ্ছেন আমি কি বলছি? হ্যালো. হ্যালো. স্যার. হ্যালো.
মদন.
নিন. বেধে নিন.
ধন্যবাদ.
দেখুন আমি আপনাকে সাহায্য করবো এখান থেকে বের হতে.
একবার এখান থেকে বের হলে আপনি আপনার রাস্তা মাপবেন.
- আর আপনি?
- আমাকে নিয়ে চিন্তা করতে হবে না.
আমি কোন এক ভাবে বের হয়ে যাব.
আসুন. উঠে পড়ুন.
মীরা.
আমি আবার আসবো.
আমি..
...আবার আসবো.
আমি.....
...আবার আসবো.
আমি...
...আবার আসবো.
- আংকেল প্লীজ আমাকে এখান থেকে নিয়ে যান. - সে যাতে এখান থেকে কখনোই বের হতে না পারে.
- আমাকে এখান থেকে নিয়ে যান প্লীজ. - অসংখ্য ধন্যবাদ স্যার.
আঙ্কেল আমি জানতাম না, প্লীজ আংকেল।
আমার বাচ্চা.
আমার বাচ্চাকে আমার থেকে ছিনিয়ে নিও না.
নিও না.
- তোমার জন্যই যেখানে কোন জায়গা নেই - আমার বাচ্চা.
So - সেখানে এই রোহিঙ্গার জন্য কিভাবে থাকবে?
আমি এই বাচ্চাকে তোমার চাচার হাতে তুলে দিব নিশ্চিন্তে থাক.
আমার বাচ্চা.
আম্মা.
শংকর তোমাকে তোমার মা'র থেকে আলাদা করেছিল.
তারা তোমাকে ব্যাঙ্গালুরের একটা এতীমখানায় ভর্তি করিয়ে দেয়.
মায়া লন্ডনের মানসিক আশ্রমে ভর্তি হওয়ার পর...
..তার সকল সম্পত্তির মালিক হয় উগ্রাপ্পা।
এমনকি সে তার আংটিটাকেও ছাড়েনি.
মায়ার আংটিটির গল্পের এখানেই পরিসমাপ্তি হচ্ছে.
কিন্তু মায়ার আসলে কি হয়েছিল সেটা আমার পরবর্তী মুভিতে দেখানো হবে.
এটা মুভির পূর্বের অংশ.
আমরা এর নাম দিয়েছি Aake.
উগ্রাপ্পার পরিবারের মতে সে যখন মারা যায় তখন তার কাছে আংটিটি ছিল.
কিন্তু তার মৃত্যুর পর আংটিটি হারিয়ে যায়.
- আমরা এটা খুঁজে বের করবো. চিন্তা করো না. - নাহ করবো না.
কেন?
আমি আমার সম্পত্তি পেয়ে গিয়েছি.
আমি মুভি ২টা একসাথে মুক্তি দেয়ার চিন্তা ভাবনা করছি.
আমার নতুন মুভির জন্য নতুন অভিনেত্রী শর্মিলাকে আপনাদের সাথে পরিচয় করিয়ে দিচ্ছি.
এর পিছনে বিশেষ একটি কারণ রয়েছে.
আর তা হলো শর্মিলা মায়ার ঔরসজাত সন্তান.
সে তার মাকে Aake মুভির মাধ্যমে জীবন্ত করে তুলবে.
হ্যালো অমিত. শুনতে পাচ্ছো? অমিত.
আসছি বাবা দাঁড়াও. কি সমস্যা তার? সে কি প্রথমদিন থেকেই শুরু করে দিয়েছে?
Swati, একটা ছোট্ট সমস্যা.
এটা তো ভূতের মুভি তাই না? সমস্যা তো হবেই.
-ঐযে নাগরাজ, আমাদের কস্টিউম ডিজাইনার - সরি স্যার.
সে আংটিটা ফেলে এসেছে. সে সেটা আনতে গিয়েছে.
একটু সময় লাগবে আর কি.
হায়রে মাথা মোটার দল. যদি এটাই হয় প্রথম দিনের অবস্থা...
.. তাহলে পুরো মুভির শুটিং কিভাবে আমরা শেষ করবো?
- আমি দেখছি. - যা যা করার দরকার করো.
- আমাদের যথসম্ভব দ্রুত মুভির শুটিং শেষ করতে হবে. বোঝা গেছে ব্যাপারটা? - জ্বী.
- রমেশ. - সাউন্ড ঠিক আছে?
স্যার, একটু সমস্যা হয়েছে.
আমাদের যে কস্টিউম ডিজাইনার আছে সে আংটিটা আনতে ভুলে গেছে.
- সে ঐটা আনতে গেছে. - আমাদের হাতে সময় নেই.
শুরু করো. যাও.
B.K, আমরা চাহিদানুযায়ী যে কোন রঙ এখানে দিতে পারবো.
নানা জিনিস আমার মনের মাঝে উঁকি দিচ্ছে.
আমি কিছুতেই মনোনিবেশ করতে পারছি না.
যদি আমি আমার লাইন ভুলে যাই তাহলে কি হবে?
কিছুই না. তারা পুনরায় আবার নিবে.
নিজের উপর বিশ্বাস হারিয়ো না.
কেননা তখনই কেবল তুমি সেই চরিত্রের ভিতর ঢুকে যেতে পারবে.
শট রেডি.
তোমরা পরে প্রেম-পিরিতি কইরো.
মেক আপ নষ্ট হয়ে যাবে.
- এবার যান স্যার. - শুভকামনা রইলো.
আমি সত্যি অনেক গর্বিত. দ্রুত আয়.
- রোল প্লীজ. -শট ১.
- টেক ১ - একশন.
আমি মায়া. এটা আমার গল্প.
চালিয়ে যাও.
»Translated by« »সিয়াম সিদ্দিকী ফাহিম«
Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.