Afrikaans
Akan
Albanian
Amharic
Arabic
Armenian
Azerbaijani
Basque
Belarusian
Bemba
Bengali
Bihari
Bosnian
Breton
Bulgarian
Cambodian
Catalan
Cebuano
Cherokee
Chichewa
Chinese (Simplified)
Chinese (Traditional)
Corsican
Croatian
Czech
Danish
Dutch
Esperanto
Estonian
Ewe
Faroese
Filipino
Finnish
French
Frisian
Ga
Galician
Georgian
German
Greek
Guarani
Gujarati
Haitian Creole
Hausa
Hawaiian
Hebrew
Hindi
Hmong
Hungarian
Icelandic
Igbo
Indonesian
Interlingua
Irish
Italian
Japanese
Javanese
Kannada
Kazakh
Kinyarwanda
Kirundi
Kongo
Korean
Krio (Sierra Leone)
Kurdish
Kurdish (Soranî)
Kyrgyz
Laothian
Latin
Latvian
Lingala
Lithuanian
Lozi
Luganda
Luo
Luxembourgish
Macedonian
Malagasy
Malay
Malayalam
Maltese
Maori
Marathi
Mauritian Creole
Moldavian
Mongolian
Myanmar (Burmese)
Montenegrin
Nepali
Nigerian Pidgin
Northern Sotho
Norwegian
Norwegian (Nynorsk)
Occitan
Oriya
Oromo
Pashto
Persian
Polish
Portuguese (Brazil)
Portuguese (Portugal)
Punjabi
Quechua
Romanian
Romansh
Runyakitara
Russian
Samoan
Scots Gaelic
Serbian
Serbo-Croatian
Sesotho
Setswana
Seychellois Creole
Shona
Sindhi
Sinhalese
Slovak
Slovenian
Somali
Spanish
Spanish (Latin American)
Sundanese
Swahili
Swedish
Tajik
Tamil
Tatar
Telugu
Thai
Tigrinya
Tonga
Tshiluba
Tumbuka
Turkish
Turkmen
Twi
Uighur
Ukrainian
Urdu
Uzbek
Vietnamese
Welsh
Wolof
Xhosa
Yiddish
Yoruba
Zulu
অনুবাদকঃ সৈয়দ ফাহমিদুল ইসলাম
ফেসবুক আইডিঃ www.facebook.com/S.fahmidul.islam.7
সাবসিন আইডিঃ https://subscene.com/u/1021455
আমি তোমার বাচ্চার সাথে খেলতে চাই।
না.. না.. আমার বাচ্চার কিছু কোরো না।
LAPACHHAPI লুকোচুরি
"কয়েক বছর পর"
- মা গো!! - খুব ব্যথা করছে?
না... চিন্তা কোরো না... আমি ঠিক আছি।
কমসেকম বলো তো কী ঘটেছে?
নেহা... বাদ দাও না...
আচ্ছা শোনো...
অফিস থেকে বের হওয়া মাত্রই আলতাফের গুন্ডারা আমাকে ঘিরে ফেলে,
আর টাকা চাইতে লাগে।
টাকাটা জোগাড় করতে আমি আরও কিছু দিন সময় চাই।
কিন্তু ওদের কথা শোনার কোনো ইচ্ছে ছিল না... ব্যস পেটানো শুরু করে।
এমন স্বাভাবিক হয়ে আছ কীভাবে?
তো কী করতে বলছ?
যখন ওরা তোমাকে পেটাচ্ছিল কেউ বাঁচাতে আসেনি?
ভাউ রাও সাথে কিছু ড্রাইভার নিয়ে আসে।
ভাগ্য ভালো ওরা সময়মতো এসেছিল নাহলে কপালে আরও দুঃখ ছিল।
তো আমরা এখন যাচ্ছি কোথায়?
ভাউ রাও আমাদের ওর গ্রামে নিয়ে যাচ্ছে... এখান থেকে অনেক দূরে।
আমাদের অতদূর খুঁজতে কেউ আসবে না।
সিম কার্ডও খুলে ফেলে দিয়েছি... তাই আমাদের অবস্থানও জানতে পারবে না।
গ্রামটা আসলে কোথায়?
আমার গ্রাম বেশ দূরে...
শহরের লোকজন এর নামও শোনেনি।
ঐ গুন্ডাগুলো ধারণাও করতে পারবে না আপনারা কোথায় আছেন।
চিন্তা কোরো না... পরিস্থিতি স্বাভাবিক হওয়া মাত্রই আমরা ফিরে যাবো।
যতক্ষণ আমি সাথে আছি তোমার চিন্তার কোনো কারণ নেই।
আমাকে সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছ নাকি নিজেকে?
আমি কাউকেই সান্ত্বনা দেওয়ার চেষ্টা করছি না।
আমি জানি তুমি এসব ছোটখাটো ব্যাপারে ভয় পাওয়ার লোক নও।
সবসময় তোমার সাহসের জন্য তোমাকে পছন্দ করেছি।
- তুষার, আমরা কখন পৌঁছাবো? - মনে হয়...
মেমসাহেব, ব্যস পৌঁছেই গেছি।
রাস্তা একটু কাঁচা তাই একটু সাবধান।
এই যে দেখো, এসেই পড়েছি।
- সাবধানে চালাও। - আচ্ছা।
"প্রথম দিন"
পৌঁছে গেছি... নিশ্চয়ই ক্লান্ত।
চলো।
এইসব জমি ভাউ রাওয়ের।
ভাউ রাও, নিশ্চিত তো আমাদের এখানে কোনো সমস্যা হবে না?
আরে একদমই না।
আমি আর আমার বউ আপনাদের ভালো খেয়াল রাখবো।
একদম চিন্তা করবেন না।
ব্যাগগুলো বের করে দিচ্ছি।
চলো...
সাহেব... আপনি এক...
এই খানকির পোলা... কী দেখছিস?... যা ভাগ।
মেমসাহেব... চিন্তা করবেন না।
ব্যাটায় মুর্খ.. যেখানে সেখানে ঘুরে বেড়ায়।
কোনো ভয় করবেন না। এখানে কেউ আপনার ক্ষতি করবে না।
এক কাজ করুন.. আপনি জমির রাস্তা ধরে এগোতে থাকুন। এটা সোজা আমার বাড়ি পর্যন্ত যায়।
এই নিন আপনার ব্যাগ। আমি গাড়ির বন্দোবস্ত করে আসছি।
সাবধানে হাঁটো।
এখানে কোনো নেটওয়ার্ক নেই।
হুম.. ব্যাপার না।
এদিকে আসো।
তুষার.. আমরা বাসা থেকে এত দূরে এক গ্রামে অচেনা লোকজনের মাঝে এসেছি...
ব্যাপারটা ভালো ঠেকছে না।
সিদ্ধান্তটা নেওয়ার আগে অনেক ভেবেছি।
ভাউ রাওকে অনেক আগে থেকে চিনি। আর ওর উপর আমার ভরসা আছে।
এত ভরসা আছে যে আমার আট মাস চলতে এখানে নিয়ে এসেছ, তাই না?
- ধীরে চলো। - সাবধানে।
নেহা, আমাদের প্রথমবার দেখা হওয়ার কথা মনে আছে।
হ্যাঁ, কীভাবে ভুলতে পারি?
- আমাদের অনাথাশ্রমের গেটে দেখেছিলাম তোমাকে। - হুম।
- এখনও মনে আছে, আমার দিকে কীভাবে তাকাচ্ছিলে। - হুম...
সেই প্রথম নজরে ভালোবেসে ফেলেছিলাম।
আর তিনদিনের মধ্যেই প্রস্তাব দিয়ে ফেললে!
অন্যকেউ যদি মেরে দিত?
কিন্তু তুমি রাজি হয়েছিলে... আর আমাদের বিয়ে হয়েছিল।
এখন হতে চলেছ আমার বাচ্চার মা।
বিগত এক বছরে,
নালিশের একটা সুযোগও কি দিয়েছি তোমায়?
- সত্যিটা জানতে চাও? - বলো, শুনি।
গত একটা বছর আমার জীবনের সবচেয়ে সুন্দর বছর ছিল।
বাকি জীবনটাও এমন সুন্দর হবে।
- তাই? - একদম।
সাবধানে...
অনেক দূর মনে হচ্ছে।
হ্যাঁ।
অবশেষে কিছু একটা দেখতে পাচ্ছি।
তুষার!!
তাহলে তুমি কে?
কী?
তুমি তুষার হলে ও কে?
না.. তুমি তুষার হতে পারো না।
তুমি ছদ্মবেশী... তুষার!!
তোমার কথাকে বাস্তব করি তাহলে...
আগে বাড়ি যাওয়ার রাস্তা খুঁজো!
এক্ষুনি খুঁজছি।
- আমরা এই রাস্তা দিয়ে ঢুকেছিলাম.. তাই না? - হ্যাঁ।
ভাউ রাও এই রাস্তা দিয়েই যেতে বলেছিল।
কিন্তু এখানে তো একইরকম দেখতে অনেকগুলো রাস্তা।
কোনটা ধরে এগোবো?
আমি জানি কোন রাস্তা বাড়ি নিয়ে যাবে।
কোন রাস্তা?
শুরু থেকেই জানতাম তোমার মাথায় অনেক বুদ্ধি।
আমি নিশ্চিত হয়ে আসি। তুমি এখানে বসে আরাম করো।
আমার বাবুটা জানে আমরা আজ কোথায় এসেছি?
আব্বু জলদিই আমাদের নিতে আসবে নতুন বাড়িতে নিয়ে যাওয়ার জন্য।
ভয় কোরো না। আমরা গিয়ে আব্বুকে খুঁজব, ঠিক আছে?
তুষার?
তুষার?
ভয় পাবেন না মেমসাহেব।
কী হয়েছে নেহা? ঠিক আছ?
ভেতরে আসুন সাহেব।
আপনি কে?
আমি ভালেরাওয়ের স্ত্রী।
তুলসী।
ও বলেছিল আপনারা আসবেন।
নমস্কার জানাই আপনাকে।
আরে থাক, থাক।
আমি আছি এখানে...
আমি মেমসাহেবের খেয়াল রাখব।
আর ছোট্ট বাবুটারও।
মুখ হাত ধুয়ে নিন।
চলো।
আমি গিয়ে খাবারের ব্যবস্থা করি।
বসুন।
মেমসাহেব.. খাবারের থালাগুলো একটু দিবেন?
আখের ফলন বেশ ভালোই হয়েছে দেখলাম।
হ্যাঁ, এ বছর ভালো বৃষ্টি হয়েছে।
মনে হয় আমাদের ভালো সময় এসেছে।
নিন।
এই বাসায় কি কেউ থাকে?
১০-১২ বছর আগে আমরা এখানে থাকতাম।
অন্য ঘরটায়?
আসার সময় অন্যদিকে একটা দরজা দেখলাম।
আমার ছোট ভাই থাকত সেখানে।
ও যাওয়ার পর আমরা আর এখানে থাকি না।
কোথায় গেছে?
মারা গেছে!
ভাজি খান, গরম আছে। আশাকরি পছন্দ হয়েছে।
সত্যিই ভালো হয়েছে।
তো... এই বাড়ি বন্ধ থাকে?
আপনাদের জন্য খুলেছি।
নাহলে কখনো খুলতাম না।
কিন্তু... আমরা আশেপাশে আর কোনো বাড়ি দেখিনি?
অন্য গ্রামবাসীরা কোথায় থাকে?
বাড়িগুলো জমির মধ্যে আছে।
কিন্তু এত বিশাল জমি যে বাড়িগুলো ধরতে পারবেন না।
কিন্তু একদম চিন্তা করবেন না।
আমি সবসময় আপনার স্ত্রীর পাশে থাকব।
গর্ভাবস্থায় থাকাকালীন, সাথে আরেকজন মহিলা থাকা...
খুব ভালো।
যতই হোক, মানুষই মানুষের সাহায্য করবে।
সাহেব আমার স্বামীর অনেক সাহায্য করেছেন। এবার আমাদের পালা।
ইস রে! দেখো কী হলো?
একটু নজর সরেছে...
ব্যস সব পুড়ে ছাই।
খান, গরম আছে।
ভালো করে ঘুমান।
চিন্তা বাচ্চার জন্য ভালো না।
আমি সকালে আবার আসবো। শুভরাত্রি।
- চলো। - চলো।
- ভেতরে চলো।
মানুষগুলো এখনও পুরানো প্রথায় আটকে আছে... তাই না?
আজকেও, ওনার খাওয়ার পরই ওনার স্ত্রী খেলেন।
যাইহোক, এতে আমাদের কী। আমরা এখানে কিছুদিনের অতিথি।
তা ঠিক। কিন্তু ওদের ব্যবহার খুবই ভালো।
যাইহোক, মানুষের সাথে মিশে যাওয়া তোমার একদম ন্যাচারালি আসে।
জানো তোমার কোন ব্যাপারটা আমার সবচেয়ে ভালো লাগে?
যে তুমি খুব জলদিই সম্পর্ক গড়ে ফেলতে পারো।
আমাদের বেলাতেও এমনটা হয়েছিল।
কিন্তু এই অভ্যাসের জন্য তোমাকে একদিন ভুগতে হবে।
আব্বু ঘুমিয়ে পড়েছে।
কিন্তু তুমি এখনও জেগে আছ, তাই না?
আম্মুর সব কথা শুনছ।
এখন ঘুমানোর সময় হয়েছে, ঠিক আছে?
এই নতুন লোকজন কেমন লাগলো? ভাউ রাও? তুলসী?
"দ্বিতীয় দিন"
রাখুন, আমি করছি। আমি বালতি ভরছি।
শহরে এমন কাজ করতে হয় না।
হায় ভগবান! ক্ষতটা ভালো দেখাচ্ছে না।
আপনাকে কিছু ওষুধ দিব লাগানোর জন্য।
চিন্তা করবেন না। সেরেই গেছে।
সাহেব, চলুন... আপনাকে আমাদের জমি দেখাই।
হ্যাঁ... চলো।
- জুতাটা পরি। - হ্যাঁ।
আসছি তাহলে।
জলদিই ফিরব।
তো... রাতে ভালো ঘুম হয়েছে?
হ্যাঁ, হয়েছে।
ঘুমাতে একটু সময় লেগেছে। নতুন জায়গা তাই।
এক দুইদিনেই জায়গাটার সাথে মানিয়ে নিতে পারবেন।
না। তার দরকার হবে না।
তুষার বলেছিল আমরা শীঘ্রই চলে যাবো।
কী হলো? এভাবে তাকাচ্ছেন কেন?
না.. কিছু না...
আমরা এখানে স্বামীদের প্রথম নাম ধরে ডাকি না।
কিন্তু আমরা একে অপরের প্রথম নাম ধরে ডাকি।
আচ্ছা, তৈরি হয়ে নিন। আমি আমার কাজ সেরে নিই।
তুলসী চাচী, আমিও আপনাদের জমি দেখতে চাই।
আহ... হ্যাঁ... হ্যাঁ।
চলো। জমি দেখতে চাও, তাই না?
ভাবছিলাম কাল বাসায় একটা চক্কর দিয়ে আসব।
আর কতদিন এভাবে লুকিয়ে থাকব?
একদিন না একদিন তো ফিরতেই হবে।
আর কয়েকটা দিন যাক।
পরিস্থিতি স্বাভাবিক হলে, দুজনেই ফিরে যাবো।
না... এখানে বেশিদিন থাকাটা ঠিক হবে না।
আমাকে গিয়ে পরিস্থিতি বুঝে আস্তে দাও।
তো তুমি আমাকে এখানে একা ছেড়ে যাবে? ঠিক আছে, আমিও সাথে যাবো।
এটা সম্ভব না।
আমার ছেলের জীবন এভাবে ঝুঁকিতে ফেলতে পারি না।
আর আমার কী হবে?
আমি তোমার নিরাপত্তার জন্যই এসব করছি।
তুমি এখানে তুলসী চাচীর সাথে থাকলে আমার চিন্তা হবে না।
- কিন্তু... - কোনো কিন্তু না।
আমি ভালোমতো চিন্তা করেছি।
আমি কাল নিজে ভাউ রাওয়ের সাথে কথা বলব।
এখানে বেশিদিন থাকা ঠিক হবে না।
আমি একটু আসছি।
ভাবে, ও ঠিক সিদ্ধান্ত নিচ্ছে।
তাহলে আমাদের সাথে আলাপ করার মানে কী?
নেহা.. কথা দিচ্ছি আমি একদিনের মধ্যে এসে পড়ব।
বুঝছ না কেন? আমার বিশ্বাস করো।
ব্যস একদিনের ব্যাপার, নেহা! নেহা।
"তৃতীয় দিন"
সাবধানে।
মা রাগ করলে বাচ্চাও রাগ করে।
মা মন খারাপ করলে বাচ্চাও মন খারাপ করে।
কিন্তু মা খুশি হলে বাচ্চাও খুশি হয়।
বাবুকে একটা গল্প শুনাই।
এই ছোট্ট সোনা...
একটা গল্প শুনবে?
হ্যাঁ? শুনবে বলছে...
- তাই? - হ্যাঁ।
ছোট্ট এক গ্রামে, এক মস্তবড় গাছ ছিল।
গাছটায় ঘন সবুজ পাতা আর মিষ্টি রসালো ফল ধরত।
গাছটা খুবই সুন্দর ছিল।
গাছটায়, পরিবারসহ একটা কাক থাকত।
ওরা সেখানে সুখে-শান্তিতে জীবন কাটাচ্ছিল।
তারপর একদিন...
এক কালো বিষধর সাপ গাছটাকে চারিদিক থেকে জড়িয়ে ধরে।
সাপের বিষ ছড়াতে শুরু করে।
পাতাগুলো শুকাতে লাগে।
ফল পচতে লাগে।
সবুজ গাছ কালো হতে শুরু করে।
সাপের নজর ছিল কাকের বাসায়।
যেমনি কাকের ডিম ফুটবে, সাপ বাচ্চা খেয়ে ফেলবে।
কাকের খুব চিন্তা হচ্ছিল।
কিন্তু একদিন, একটা চড়ুই আসে সেই গাছে বাস করতে।
তার পরিবারের জন্য একটা বাসাও বাধে।
আর একটা ডিম পাড়ে।
তখন কাকের মাথায় একটা বুদ্ধি আসে।
কাক নিজের ডিমটা চড়ুইয়ের বাসায় রেখে আসে।
আর চড়ুইয়ের ডিমটা নিজের বাসায়।
ডিম ফুটা মাত্রই, সাপ বাচ্চাটাকে খেয়ে ফেলে।
কিন্তু কাকের ডিম চড়ুইয়ের বাসায় নিরাপদ ছিল।
ডিম ফুটে সুন্দর কাকের বাচ্চা বের হয়।
কাক তার পরিবার নিয়ে আগের চেয়ে আরও বেশি সুখে-শান্তিতে জীবন কাটানো শুরু করে।
- নাও। - আমার জন্য?
- হ্যাঁ। - আমি নিতে পারব না।
আমি তোমার মায়ের মতো না?
নাও তাহলে।
একটা জিনিস জিজ্ঞেস করতে চাই।
কে বেশি খারাপ? কাক নাকি সাপ?
শাড়িটা পরে নাও, ঠিক আছে?
আপনার কারণে আজ মায়ের অভাবটা অনুভব হচ্ছে না।
শুনে খুশি হলাম। এবার গিয়ে স্বামীর সাথে কিছু সময় কাটাও।
কাল সকালে চলে যাবে।
যাও।
- সরো। আমি গুছিয়ে দিচ্ছি। - আচ্ছা।
থ্যাংক ইউ।
আমি 'থ্যাংক ইউ' বলেছি।
এখনও মন খারাপ?
বলেছি তো একদিনের মধ্যে চলে আসব।
আমাকে এভাবে যেতে দিও না। সারাক্ষণ চিন্তা হবে।
তোমার চিন্তা করার কোনো দরকার নেই।
আমি এখানে একা থাকতে চাইনি।
কিন্তু তুলসী চাচীর সঙ্গ পেয়ে, একদিন কাটিয়ে দিতে পারব।
একদম ঠিক।
আর শোনো...
- একটা জিনিস ভুলো না। - হুম।
তোমার বউ আর ছোট্ট সোনা...
তোমার জন্য অপেক্ষা করবে।
অবশ্যই।
আমার ছেলের জন্য আমি জলদি ফিরে আসবো...
কতবার বলেছি বাচ্চাকে 'ছেলে' বলে ডাকবে না...
আমি নিশ্চিত ছেলে হবে।
ছেলে হোক মেয়ে হোক, হবে তো আমাদেরই বাচ্চা...
এটাই কি যথেষ্ট না?
- বুঝা গেছে? - না...
- বুঝা গেছে? - না...
- তো বুঝা যায়নি... অ্যাঁ? - না।
যাও তাহলে।
"চতুর্থ দিন"
কী হলো?
এখানে কী করছ?
কাপড় মেলতে এসেছিলাম।
ভেতরে চলো। এখানে অনেক তাপ।
চলো। আরে চলো।
যে মেয়েটাকে দেখলে...
সে আমার পুত্রবধূ।
আমার ছেলে প্রতাপের স্ত্রী।
লক্ষ্মী।
কয়েক বছর আগে...
ভেবেছিলাম আমাদের পরিবারে একটা বাচ্চা হবে।
লক্ষ্মীর পেটে তখন বাচ্চা।
সবাই খুব খুশি ছিলাম।
ওর ভালো খেয়াল রেখেছি।
দুনিয়ার সব ভালোবাসা দিয়েছি।
কিন্তু অষ্টম মাসে...
লক্ষ্মী পিছলিয়ে মাঠে পড়ে যায়।
পড় কি পড়, একেবারে পেটে ভরে।
দুর্ঘটনা ছিল।
ভয়ানক দুর্ঘটনা।
মরা বাচ্চাটাকে পেট কেটে বের করতে হয়।
লক্ষ্মী এতই ভেঙে পড়েছিল...
যে কথা বলা বন্ধ করে দেয়।
তারপর থেকে একটাও কথা বলেনি।
আমাদের সুখ-শান্তি সব শেষ।
আর আপনার ছেলে কোথায়?
ও... শহরে কাজ করে।
মাঝেমধ্যে আসে।
এখানে ওর জন্য কীই বা আছে?
ওর জন্য কিছুই নেই।
কিচ্ছু নেই...
প্লিজ কাঁদবেন না...
তুষার ও আমি আপনার ছেলে আর বউয়ের মতো... তাই না?
হুম?
আপনি আমাদের বাচ্চার দাদীর মতো।
চুলা জ্বালাবো?
খড়ি কই?
লক্ষ্মীকে খড়ি আনতে বললাম...
কিন্তু কথা শোনেনি।
সারাদিন কী যে করেছে কে জানে।
ও এখন আমাদের ঘাড়ে একটা যন্ত্রণা হয়ে দাঁড়িয়েছে।
কোনো কাজের না।
এতক্ষণ কোথায় ছিলি?
তাকানো বন্ধ করে রাখ ওগুলো।
কথা কানে যায়নি?
ড্যাবড্যাব করে কী দেখছিস?
যা।
যা গিয়ে বাইরে বস।
দরজার পিছনে গিয়ে বস। একটু পর আসছি।
এখন কী হলো?
ঐ অপয়ার কথা ভাবছ?
ওর কথা ভাববেন না।
আসছি। অপেক্ষা কর।
জানো তো...
মানুষকে তার ভাগ্য স্বীকার করে নেওয়া উচিত।
বেশি ভেবো না। স্বাস্থ্যের জন্য ভালো না।
উফ ভগবান! এই মেয়েটা কথাই বুঝে না।
আসছি বললাম তো।
আচ্ছা... আমি একটু আমার বাড়ি হয়ে আসি।
আর আজ রাতে তোমার সাথেই থাকবো।
চিন্তা কোরো না।
এটায় একটু নজর রেখো। প্রায় হয়েই গেছে।
এক্ষুনি আসছি।
লক্ষ্মী... তুলসী চাচী বাসায় গেছে।
এক্ষুনি গেল।
এই বদমাশ... থাম! কোথায় যাচ্ছিস?
কী?
কী হলো? ঠিক আছ তো?
হ্যাঁ... কিন্তু এখানের বাচ্চাগুলো অনেক দুষ্টু।
বাচ্চা?
বাচ্চা!
- ভেতরে চলো। - কী হলো?
কী হলো?
বাচ্চারা এসেছিল? কতজন?
ব্যস একটাই।
আপনার কাছে এসেছিল?
না... দূর থেকেই পালিয়েছে।
শোনো মেয়ে... ঐ বাচ্চাগুলোর কাছে যাবে না।
আজ একা ছিল। পরেরবার তিনজন আসবে।
ওদের থেকে তোমার দূরে থাকাই ভালো।
কিন্তু বাচ্চাটা অনেক মিষ্টি ছিল।
এমনকি, ও আমার সাথে খেলতে চাচ্ছিল। কেন ওদের থেকে দূরে থাকব?
কী বলছি বুঝছ না? ওদের সাথে দূরে থাকবে ব্যস।
দেখো, তোমার সব প্রশ্নের উত্তর নেই আমার কাছে।
যেমনটা বলি করো।
বাচ্চাগুলো থেকে দূরে থাকবে। বুঝা গেছে?
আমার গিয়ে এখন ঘুমানো উচিত।
হ্যাঁ... যাও, ঘুমাও।
আপনি?
এখনও ঘুমাননি!
না।
ঘুমাতে পারিনি।
তুমি ঘুমাও।
ঘুমাও।
গতরাতে ঘুমাননি কেন?
বেশ কয়েকবার ঘুম থেকে উঠে দেখি আপনি তখনও জেগে ছিলেন।
কাল রাতে এক পলকও ঘুমাতে পারিনি।
বারবার একই জিনিস জিজ্ঞেস করা বন্ধ করো তো।
আয়।
"পঞ্চম দিন"
বারবার তোর এখানে আসা লাগে কেন?
যা!
হুম.. নিয়ে যা।
গিয়ে বলো তো...
সব জমে থাকা কাজ যেন শেষ করে। বলবে এটা আমার আদেশ।
একদম যন্ত্রণায় পরিণত হয়েছে।
এই...
সবাই গিয়ে লুকিয়ে পড়ো।
আমি আসছি খুঁজতে।
এলাম!
এলাম! এলাম! এলাম!
♪লুকোচুরি লুকোচুরি খেলা...♪
♪এসো এসো একসাথে খেলবো...♪
♪রোজই যেন এক নতুন খেলা...♪
♪এসো ও মা! একসাথে খেলবো...♪
পালাচ্ছিস কেন?
এই দাঁড়া...
কোথায় লুকালো?
ধরে ফেলেছি...
এখানে কী করছ?
ঐ শয়তানগুলো এটা দিয়েছে?
- বাচ্চাগুলো। - বাচ্চা! বাচ্চা! বাচ্চা!
ওদের থেকে দূরে থাকতে বলেছিলাম না?
বুঝো না কেন?
এটা দাও আমাকে।
কেন এমন করো?
যা বলেছি...
তোমার ভালোর জন্যই বলেছি।
বাদ দিন!
নাটক বন্ধ করুন।
লক্ষ্মীর সাথে আপনার আচরণে আসল রূপ প্রকাশ পায়।
মিথ্যে চিন্তা আর ভালোবাসা দেখাবেন না।
থামো!
তোমার কি মাথাটা খারাপ হয়ে গেছে?
ঐ মেয়ে অপয়া। বন্ধ্যা। বন্ধ্যা।
ফালতু কথা বলা বন্ধ করুন! আমি এসব বিশ্বাস করি না।
ও অন্যসব মেয়েদের মতোই।
শোনো।
তোমার শহুরে কথাবার্তা... আমাকে শেখাতে আসবে না।
একবার বাচ্চা জন্ম দেওয়ার পর...
বুঝতে পারবে।
কী? কী বুঝতে পারব?
বলছেন না কেন?
তোমার স্বামী...
ছেলে চায়।
তাই না?
আপনি কীভাবে জানলেন?
আমি সব জানি।
জানো কি?
তোমার ছেলে হবে না।
মেয়ে হবে! আমি জানি।
ধাপ্পাবাজি বন্ধ করুন।
আমি ধাপ্পাবাজি করছি না।
আমরা গ্রামের মহিলা।
গর্ভবতী মেয়ের আকার দেখেই বলে দিতে পারি।
আমাদের কখনোই ভুল হয় না।
শোনো মেয়ে... যখন তোমার স্বামী জানতে পারবে...
যে পেটে মেয়ে আছে ছেলে নয়।
তার কিন্তু পছন্দ হবে না।
চুপ করুন! আপনার চিন্তাধারা এত নোংরা!
মিথ্যে দুনিয়া থেকে বেরিয়ে বাস্তবতায় আসুন।
আমি নই, তুমিই মিথ্যে দুনিয়ায় বাস করছ।
এখন বিশ্বাস হবে না।
বাচ্চাকে দুনিয়ায় আসতে দাও।
তারপর বুঝবে বাস্তবতা।
এই মেয়ে...
বাইরে এসে কিছু খেয়ে নাও...
আব্বু জলদিই এসে পড়বে। তারপর আমরা একসাথে এখন থেকে চলে যাবো।
চিন্তা কোরো না। আম্মু তোমার সাথে আছে।
আমার কথা শোনো। বেরিয়ে আসো।
♪এসো এসো একসাথে খেলবো...♪
♪রোজই যেন এক নতুন খেলা...♪
♪এসো ও মা! একসাথে খেলবো...♪
ফিরে এসেছেন দেখে ভালো লাগছে।
ক্ষতটা শুকাচ্ছে। রোজ ওষুধ লাগাবেন।
তুষার!
তাহলে জলদি সেরে যাবে।
সাবধানে... আস্তে...
কী হয়েছে নেহা?
কী হয়েছে বলো।
কী হয়েছে নেহা?
থাকতে দিলাম।
মায়ের মতো করে খেয়াল রাখলাম।
কিন্তু মেয়েটা... আমাকে উল্টোপাল্টা কথা শোনালো।
এই মহিলা একটা মিথ্যুক!
কি! আমি মিথ্যা বলছি?
হ্যাঁ, আমিই মিথ্যুক। সব আমারই দোষ।
মেয়ের মতো করে তোমার দেখভাল করা আমারই ভুল ছিল।
ওনার কথা শুনবে না। উনি নাটক করছেন।
নেহা। শান্ত হও।
ওনারা আমাদের এত সাহায্য করেছেন। আর তুমি ওনাদের উপর সন্দেহ করছ?
- এক্ষুনি ক্ষমা চাও। - না।
- নেহা, আমি তোমাকে ক্ষমা চাইতে বলেছি। - না, চাইবো না।
স্যরি.. দয়া করে আমাকে ক্ষমা করে দিবেন।
ব্যাপার না। ওসব ভুলে যাও।
তোমার উপর কি রাগ করতে পারি?
তুমি আমার মেয়ের মতো।
আমি এখন যাই। রাজা রাণীকে এবার একা ছাড়ার সময় হয়েছে।
ওরে আমার মিষ্টি মেয়েটা।
- সাবধানে যান। - হ্যাঁ।
ওনার মিষ্টি মিষ্টি কথায় কান দিও না।
উনি খুবই অদ্ভুত।
আমার ওনাকে খুব ভয় করে।
কী যা-তা বলছ?
আমি সেটাই বলছি যেটা আমার অনুভব হয়েছে।
আমার দেখভাল করার ওনার নিজস্ব কারণ আছে।
পুরোটা সময় ধরেই ওনার আমার উপর নজর ছিল।
কেন?
ওনার পুত্রবধূ বাচ্চা জন্ম দিতে পারেনি। তাই উনি আমার বাচ্চা চান।
তুলসী চাচী?
হ্যাঁ।
তুষার, আমি এখানে থাকতে চাই না। প্লিজ চলো এখান থেকে।
শোনো.. জানি এখন আমার কথা বিশ্বাস করবে না।
কিন্তু আমি এখানে থাকতে চাই না। প্লিজ আমাকে এখান থেকে নিয়ে চলো।
শান্ত হও নেহা।
আমাকে শান্ত হতে বোলো না। আমি এখানে থাকতে চাই না।
নেহা, আমার কথা শোনো।
যেহেতু আমি সাথে আছি তোমার ভয় পাওয়ার দরকার নেই।
তাহলে কেন এখন ভয় পাচ্ছ?
আসো। বসো। শান্ত হও।
ভয় পাওয়ার কিছু নেই। কিচ্ছু হবে না তোমার।
- কতবার বলেছি তোমায়। - ওখানে দেখো।
উনি বাইরে দাঁড়িয়ে আমাদের কথা শুনছেন।
কে আছে বাইরে?
নিজে এসেই দেখো।
বাইরে কেউ নেই। সব তোমার মনের ভুল।
আমার মনের ভুল না।
আমি লক্ষ্মী আর ঐ নিষ্পাপ বাচ্চাগুলোকে দেখেছি।
তুষার, আমি এখানে থাকতে চাই না। প্লিজ চলো এখান থেকে।
আচ্ছা শান্ত হও।
আচ্ছা... আমরা চলে যাবো। শান্ত হও।
- আগে শান্ত হও। - আমরা সত্যিই যাচ্ছি তো?
কিচ্ছু হবে না।
আসো... ধীরে।
তুষার!
তুষার!
তুষার!
অনেক বছর আগে...
ভাউ রাওয়ের ছোট ভাই...
কেদার রাও...
একটা মেয়েকে বিয়ে করেছিল।
নাম কাভেরি।
কিন্তু ছিল ডাইনী।
আমাদের জীবনে এসে সবার সুখ নষ্ট করে দেয়।
একটা নয় দুইটা নয়...
চার চারটা 'ছেলের' মা ছিলাম আমি।
প্রতাপ ছিল বড় ছেলে আর বাকি তিনটা ছোট।
কাভেরি আমার ছোট তিন ছেলের উপর জাদুটোনা করেছিল।
ওরা এমন আচরণ করা শুরু করে যেন কেউ বশ করে রেখেছে।
আমার বাচ্চাদের কাছে আমার ব্যাপারে খারাপ কথা বলতো।
আমার ছেলেরা আমার থেকে দূরে থাকা শুরু করে।
সারাক্ষণ ওর পিছে ঘুরঘুর করত।
বুঝছিলাম না কীভাবে আমার ছেলেগুলোকে ফিরে পাবো।
তারপর ওর পেটে বাচ্চা আসে।
আমি স্বস্তি ফিরে পাই।
ভেবেছিলাম এবার আমার ছেলেগুলোকে রেহাই দিবে।
কিন্তু ভুল ছিলাম...
কিন্তু তেমন কিছুই ঘটেনি।
ওর স্বামীকে ব্যাপারটা বলি।
তাকে বুঝাই।
সেও কাভেরিকে বুঝানোর চেষ্টা করে।
কিন্তু ও কারো কথা শোনেনি।
খুব জেদি ছিল।
দুজনের মধ্যে বিশাল ঝগড়া হয়।
ডাইনীটা নিজের স্বামীকে মেরে ফেলে।
আমরা চিৎকার শুনে জলদি সেখানে যাই।
ওকে জিজ্ঞেস করি, 'এত ভালো একটা মানুষকে কীভাবে মারতে পারলে?'
জবাবে ও আমাকেই ভালো-মন্দ শোনাতে লাগে।
আর তারপর একটা অকল্পনীয় কাজ করে বসে।
রক্তেমাখা সেই ছুরিটা নিয়ে...
নিজের পেটটা চিরে ফেলে।
আমরা অবাক হয়েছিলাম।
আমরা সাহায্য করতে চাইলে, নিজের গলা কেটে ফেলে।
ডাইনীটা মারা যায়...
কিন্তু ওর কালো জাদুর ছায়া এখনো রয়ে গেছে।
ওর মরার পরও, আমার বাচ্চাদের মতিগতি বদলাইনি।
তারা মাঠে ওর সাথে খেলার কথা বলতো।
একদিন ঘুম থেকে উঠে দেখি...
চারিদিকে ভুতুড়ে নীরবতা।
ডাইনীটা আমার তিনো ছেলেকে কুয়োয় ধাক্কা মেরে ফেলে দিয়েছিল।
তার কয়েক বছর পর, আমার বড় ছেলে...
প্রতাপ লক্ষ্মীকে বিয়ে করে।
আর যখন ওর পেটে আট মাসের বাচ্চা...
ও কাভেরি আর আমার মৃত বাচ্চাদের দেখা শুরু করে।
লক্ষ্মীর উপরও ডাইনীর কালো জাদু কাজ করেছিল।
লক্ষ্মীও নিজের পেট চিরে ফেলে।
ও আর বাচ্চা জন্ম দিতে পারতো না,
আমার দুঃখী ছেলের আবারও বিয়ে দিই। একবার নয় বরং দুইবার।
প্রতিবারই, ডাইনীটা অনাগত বাচ্চাকে মেরে ফেলেছে।
আমি আশা হারাইনি।
আমার ছেলের আবারও বিয়ে দিই। কিন্তু এবার ওকে শহরে পাঠিয়েছিলাম।
গ্রামের তান্ত্রিক এই উপায়টা দেখিয়েছিল।
যদি কোনো গর্ভবতী মেয়ে...
ডাইনীর দ্বারা প্রভাবিত না হয়ে...
এই বাসায় তিনদিন একা থেকে বেঁচে যায়...
তবে আমাদের পরিবার শয়তানের হাত থেকে রক্ষা পাবে।
আর কিসমতে কী খেল দেখো!
তুমি আর তুষার ঠিক সময়ে এসে পড়লে।
ভালো খবর কী জানো?
আমার ছেলে প্রতাপের স্ত্রীরও বাচ্চা হবে।
ও শহরে নিরাপদ আছে।
যদি তোমার বাচ্চাকে ডাইনীর থেকে...
বাঁচাতে সক্ষম হও...
তবে এই অভিশাপ চিরতরের জন্য ভেঙে যাবে।
আমার পরিবার পাবে উত্তরাধিকারী...
আমি হবো দাদী।
তুমিও মা।
আমিও মা।
আশাকরি বুঝবে এসব আমার ছেলের জন্য করছি।
তুমি এখানেই থাকো।
তোমার বাচ্চাকে বাঁচাও।
আর আমার সমস্যা দূর করো।
তবে যদি পালানোর চেষ্টা করেছ...
আমার ছেলে প্রতাপ কিন্তু তোমায় ছাড় দিবে না।
নিজের খেয়াল রেখো।
আর একটা কথা মনে রেখো...
যে গানটা শুনেছিলে...
সেটা গেও না।
কাভেরি আমার বাচ্চাদের জন্য ওটা গাইতো।
আজকেও গেয়েছে।
এখন যাই তাহলে।
সাবধানে থেকো।
তুষার!
তুষার!
তুষার!
তুষার!
তুষার!
"ষষ্ঠ দিন"
তুষার!
তুষার!
সবাই গিয়ে লুকিয়ে পড়ো।
আমি আসছি খুঁজতে।
এলাম!
এলাম! এলাম! এলাম!
♪লুকোচুরি লুকোচুরি খেলা...♪
ভয় পেও না।
আমি কখনও বাচ্চা মেয়ে দেখিনি।
কেমন দেখতে?
বলো না।
কিছু বলছ না কেন?
ও বলেছে...
দেখতে নাকি অনেক সুন্দর হয়।
সুন্দর চোখ...
লম্বা চুল...
অমায়িক এক হাসি...
ওরা কি খুব মিষ্টি হয়?
তোমার পেটে একটা মেয়ে আছে... তাই না?
তারা ওকে নিয়ে যাবে।
কিন্তু তুমি চিন্তা কোরো না।
আমরা তোমার সাথে আছি।
♪লুকোচুরি লুকোচুরি খেলা...♪
ও এসে পড়েছে...
♪এসো এসো একসাথে খেলবো...♪ - এসো একসাথে খেলবো।
♪রোজই যেন এক নতুন খেলা...♪
♪এসো ও মা! একসাথে খেলবো...♪
না... না... এটা সত্যি হতে পারে না।
এ সবকিছু একটা ভ্রম।
তুলসী বলেছিল আমি বাচ্চাদের দেখব।
কিন্তু এটা হবে ভ্রম।
অবশ্যই সত্যি হতে পারে না।
না... এইদিকে।
কোনদিকে যাবো? তুষার!
- নিশ্চয়ই বাসায় হবে। - তাই?
- ওকে পালাতে দেখেছি। - ওর সাহস তো কম না?
- আমরা ওকে ছেড়ে দিতে পারি। - মাগীটাকে খুঁজে বের করব।
- কোন সাহসে পালিয়েছে? - এখানেই কোথাও আছে।
- এই ঘরে আছে নিশ্চয়ই। - খুঁজে দেখো।
- এখানেই আছে। - জলদি দরজা খুল।
ঘরে দেখ, প্রতাপ।
ও শুধু এখানেই থাকতে পারে।
- যাও তেল নিয়ে এসো। - কোন সাহসে পালিয়েছে?
ঐ কোণায় দেখ।
ঐযে ওখানে। বের করে আন।
ও আমার ভাইকে মেরেছে।
আমাকে ছেড়ে দাও। দয়া করো।
আমি মারিনি।
- এই নে। - ওর কথা শুনবে না।
দয়া করে এমন কোরো না। আমার বাচ্চার খাতিরে।
সবাই গিয়ে লুকিয়ে পড়ো।
আমি আসছি খুঁজতে।
এলাম!
এলাম! এলাম! এলাম!
♪লুকোচুরি লুকোচুরি খেলা...♪
♪এসো ও মা! একসাথে খেলবো...♪
♪রোজই যেন এক নতুন খেলা...♪
♪এসো ও মা! একসাথে খেলবো...♪
♪রোজই যেন এক নতুন খেলা...♪
♪এসো ও মা! একসাথে খেলবো...♪
♪...এক নতুন খেলা...♪
♪...খেলা...♪
♪...খেলা...♪
♪...খেলা...♪
♪...খেলা...♪
♪...খেলা...♪
♪...খেলা...♪
♪...খেলা...♪
বিভ্রমের....
সবাই গিয়ে লুকিয়ে পড়ো।
আমি আসছি খুঁজতে।
লক্ষ্মী।
প্রতাপ...
এই মেয়েগুলো আমাদের আর কোনো কাজের না।
এদের ছেড়ে দিলে আমাদের পরিকল্পনা নষ্ট করে দিতে পারে।
- তার চেয়ে বরং খতম করে দেওয়াই ভালো হবে। - হুম।
বিভ্রমগুলোর অবশ্যই কোনো মানে আছে।
তোমাকে ডেকেছে।
সবাই গিয়ে লুকিয়ে পড়ো।
আমি আসছি খুঁজতে।
এলাম!
এলাম! এলাম! এলাম!
♪লুকোচুরি লুকোচুরি খেলা...♪
♪এসো এসো একসাথে খেলবো...♪
♪রোজই যেন এক নতুন খেলা বিভ্রমের...♪
♪এসো ও মা! একসাথে খেলবো...♪
তোমার পেটে একটা মেয়ে আছে... তাই না?
হুম।
কেমন দেখতে?
দেখতে খুব সুন্দর হয়।
সুন্দর চোখ...
লম্বা চুল...
সুন্দর বেণী...
অমায়িক এক হাসি...
কিন্তু বাচ্চা মেয়েরা খুব মিষ্টি হয়।
তারা কি ওকেও নিয়ে যাবে?
কাউকে আমার মেয়ে নিয়ে যেতে দিব না।
চিন্তা কোরো না।
আমরা তোমার সাথে আছি।
বাচ্চা মেয়েরা খুব মিষ্টি হয়।
হ্যাঁ... আমরা সবাই একসাথে খেলব।
আসো... নিজের চোখেই দেখো।
কথা বুঝতেই চায় না।
দেখো আমার ছেলেগুলোকে কেমন ভুলিয়ে রেখেছে।
দেখো অবস্থা।
এই...
আমি পরিষ্কার বুঝিয়ে দিয়েছিলাম না...
যে আমাদের মেয়েকে সরাতে হবে...
এটা আমাদের ঐতিহ্যের একটা অংশ।
প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে আমরা এটা মেনে আসছি।
কেন এই বাচ্চাগুলোকে ভুলভাল জিনিস শিখাচ্ছিস?
তোর মাথা কি খারাপ হয়ে গেছে?
নিজের পেটে তো মেয়ে নিয়ে ঘুরছে। কিন্তু সাহস দেখো কেমন।
এভাবে বুঝবে না। মারতে হবে।
সময় হয়েছে মেরে বুঝানোর।
- খানকি মাগী... - না। মেরো না।
না.. আমি আমার মেয়েকে মারব না।
তুষার! ওরা আমাদের বাচ্চাকে মারতে চায়...
আমি আমাদের বাচ্চাকে কিছু হতে দিব না।
বাচ্চাগুলো... ঝাপ দেয়...
তারা ওকে পুড়িয়ে মেরেছে।
তুষার!
তুষার, কাভেরির স্বামী ওর সাথে খুব খারাপ করেছে।
বাচ্চাগুলো কুয়োতে ঝাপ দেয়।
এই জায়গাটা সত্যিই ভয়ানক। আমি এখানে থাকতে চাই না।
এই জায়গাটা সত্যিই ভয়ানক। আমি এখানে থাকতে চাই না।
ভয় পেও না।
তিনদিন পেরিয়ে গেছে।
তুমি বেঁচে গেছ।
তোমার মেয়েও বেঁচে গেছে।
- আমার মেয়ে? - হ্যাঁ।
আমার মেয়ে!
কোথায় আমার মেয়ে? কোথায় ও?
এখানেই আছে।
আমার ছেলে প্রতাপের সাথে খেলছে।
যাও গিয়ে দেখো গা।
যাও...
প্রথম ও শেষবারের মতো দেখো গা।
এইবারেও ফলন ভালো হবে, আমরা উন্নতি করব।
আমার বাচ্চা!
আমার বাচ্চা!
কোথায় যাবি ভেবেছিলি?
আমাকে যেতে দিন। ওর কাছে আমার বাচ্চা আছে।
চুপ!
প্রতাপ রাও, তুই প্রথা চালিয়ে যা।
- ছাড়ুন আমাকে। - থাম।
কী করছেন? ওটা আমার বাচ্চা।
আমার বাচ্চা!
আমার বাচ্চা!
আমি আর নিতে পারছি না।
পারছি না।
আমি তোমার বাচ্চার সাথে খেলতে চাই।
আমার বাচ্চাকে আমি মারব না।
আমার বাচ্চাকে আমি মারব না।
"সপ্তম দিন"
নেহা।
তুমি ঠিক আছ?
ওরা এক্ষুনি আমাকে ছেড়েছে।
শেষ তিনটা দিন আমার জন্য শোচনীয় ছিল।
কিন্তু তোমাকে আর আমাদের বাচ্চাকে দেখার পর, এখন স্বস্তি বোধ করছি।
এই নেহা...
কী ব্যাপার?
কী হয়েছে?
সাবধানে।
কী হয়েছে?
সেইদিন আপনি আমাকে একটা গল্প বলেছিলেন।
আজ আমি একটা গল্প বলব।
কিন্তু ফারাক হচ্ছে...
আপনার গল্প অসম্পূর্ণ ছিল।
আমারটা পূর্ণ।
আপনার গল্প ছিল মিথ্যে।
আমারটা সত্যি।
নেহা... কীসের গল্প?
কী হচ্ছে এসব?
এই লোকগুলো আট মাসের গর্ভবতী এক মেয়েকে পুড়িয়ে মেরেছে।
না, কী ফালতু কথা বলছ?
ফালতু?
ফালতু তো আপনাদের প্রথা।
যা মেয়েদের স্বাধীনতা কেড়ে নেই...
অধিক ফলনের জন্য বাচ্চা মেয়েদের বিসর্জন দেওয়া হয়...
যা আপনারা দিয়েছেন।
কি যা-তা!
তুমি আমাদের ঐতিহ্য, সংস্কৃতি বুঝবে না।
আমাদের ঐতিহ্যের ভিত্তির কারণেই আমরা টিকে আছি।
কথায় আছে, একজন মহিলাই আরেকজন মহিলার সবচেয়ে বড় শত্রু।
আপনার মতো মহিলারা নিজে বাঁচার জন্য বাচ্চা মেয়েদেরও মেরে ফেলতে পারে।
এই মেয়ে।
এটা খুন নয়।
আমাদের প্রথা।
এই জীবন ভগবানের দান।
ভগবানের খাতিরে আমাদের জীবনের ত্যাগ দিতেই হবে।
ত্যাগ?
হ্যাঁ।
"ত্যাগ?" এই শব্দটা আপনার মুখে মানায় না।
- চুপ করো বলছি। - কেন?
আমারও ত্যাগ দিতে চান?
যেভাবে কাভেরি আর বাকি মেয়েদের দিয়েছিলেন?
আপনারা কাভেরিকে জ্যান্ত পুড়িয়েছেন।
ও নিজের বাচ্চাকে বাঁচানোর সর্বোচ্চ চেষ্টা করেছিল।
কিন্তু সেই তিনদিন কেউ ওকে দেখতেও যায়নি।
ও মারা গেছে।
কিন্তু ওর কাহিনী এখনও জীবিত।
ওর কাহিনীর প্রতিধ্বনি...
এই বাড়িতে পা দেওয়া...
প্রতিটা গর্ভবতী মেয়ে শুনেছে।
কিন্তু কেউ ওর কষ্টটা বুঝেনি...
কীসের কাহিনী? কীসের কষ্ট?
হুম...
আমাদের ভুল কী?
ও আমার ভাইকে মেরেছিল।
কীভাবে ওকে ছেড়ে দিতে পারতাম?
এটা সত্যি... নিজ চোখে দেখেছি কেদার রাওকে মারতে।
মাঝেমধ্যে আমরা যা দেখি তা ভ্রমও হতে পারে।
ভ্রম?
কাভেরি এই তিনদিনে ভ্রমের মাধ্যমে ওর সত্য কাহিনী দেখিয়েছে আমায়।
তোর আচরণের কারণে গ্রামে আমার মর্যাদা নষ্ট হয়ে গেছে।
আমাদের পুরানো প্রথাও মানিসনি।
আমি ব্যস আমার মেয়েকে বাঁচাতে চাচ্ছিলাম।
সব সীমা অতিক্রম করে ফেলেছিল। আজ তোর ছাড় নেই।
এই দেখ তোরা।
যেই আমাদের পরিবারের পরম্পরার বিরুদ্ধে যাবে তার হাল এমনই হবে।
তোর ভাঁড়ামি আর সহ্য হচ্ছে না। বড়দের সামনে আমি অপদস্থ হয়েছি।
আচ্ছা!
আমাকে মারবি? মার।
আমার মেয়েকে মেরো না।
ওকে মেরো না।
এবার তোর কোনো ছাড় নেই, তোকে একদম শেষ করে দিব।
এই ছাড়।
যাও, পালাও।
হায়, ভগবান!
ডাইনী, কী করেছিস তুই? নিজের স্বামীকেই মেরে ফেলেছিস?
আমি মারিনি।
কেন বিশ্বাস করব তোর কথা?
আমি নিজের চোখে দেখেছি।
আমি কিচ্ছু করিনি আমার বিশ্বাস করো।
এই শোনো। কাভেরি ওর স্বামীকে মেরে ফেলেছে।
ওর স্বামীকে মেরে ফেলেছে।
আপনার মিথ্যে কাহিনীর কারণে, সবাই মিলে কাভেরিকে মেরে ফেলেছেন।
ও যে আমার তিন ছেলেকে মারলো।
সেটা?
আর গর্ভবতী মেয়েদেরও মেরেছে। সেটা?
এটা সত্যি না। আপনি মিথ্যা বলছেন।
ও আপনার ভবিষ্যৎ প্রজন্মকে বাঁচতে দেয়নি।
ও চায়নি আপনি তাদের ছোট মাথায় বিষ ঢোকান...
আর আপনার বাজে চিন্তাধারা ও প্রথা।
আরেকটা ব্যাপার...
গর্ভবতী মেয়েদের ও মারেনি, আপনারা মেরেছেন।
যদি কাভেরির কাহিনী না বুঝতাম তবে আমাকেও প্রাণ হারাতে হতো।
কাভেরি।
এমন কোরো না, কাভেরি।
আমি জানি কেউ তোমার কষ্ট আর ত্যাগটা বুঝেনি।
কিন্তু আমি তোমার সত্যিটা জেনেছি।
তোমার সত্যিটা আমি পুরো দুনিয়াকে বলব।
কাভেরি, আমার বাচ্চাকে মেরো না।
আমার বাচ্চাকে মেরো না।
যদি আমার বাচ্চাকে মেরে ফেলো, তাহলে আরও একটা মা অন্যায়ের শিকার হবে।
আর শুধু তুমিই বুঝতে পারো একটা মায়ের কষ্ট।
আমার বাচ্চাকে মেরো না।
আমার বাচ্চাকে বাঁচাতে সাহায্য করো।
কাভেরি, আমি কথা দিচ্ছি এই অপরাধীদের বিচার হবে।
আমার আর আমার বাচ্চার সাহায্য করো।
আমার বাচ্চাকে ছাড় দাও।
কাভেরি...
সব মায়েদের খাতিরে আমার সাহায্য করো।
আমি আপনাদের ভয় পাই না।
আপনারা পশুর চেয়েও খারাপ।
মুখ বন্ধ রাখো।
বেশি চালাকি দেখাবে না।
মেয়েদের নিজের সীমার মধ্যে থাকা উচিত।
ভুলে যাবেন না, মেয়েরা মা'ও হয়ে থাকে।
শোনো...
অতীতের কথা ভুলে যাও।
এই তিনদিন শেষে...
আমার বাড়ি, আমার পরিবার অভিশাপ থেকে মুক্তি পেয়েছে।
তুমি আমাদের সাথে থাকো।
আমরা একসাথে সুখে-শান্তিতে জীবন কাটাবো।
আমাদের বংশ এগিয়ে নিয়ে যাবো।
আর যদি আমার কথা মতো না করো।
তাহলে...
আমার তোমাকে মেরে ফেলতে হবে।
মেরে ফেলাই আপনাদের একমাত্র প্রতিভা।
লক্ষ্মী বেঁচে গেছে কারণ ওর প্রতিবাদ করার সাহস ছিল না।
কিন্তু আমি চুপ থাকবো না।
কী হলো?
কোনো মেয়েকে এমন কথা বলতে দেখে অভ্যস্ত নন, তাই না?
এখন কী করবেন?
আমাকে মারার জন্য আপনাদের ছেলেকে বলবেন।
তাই না?
কী, তুষার?
তুষার!
এবার কিন্তু নিজের সীমা অতিক্রম করে ফেলছ।
কাছে আসার সাহস করবে না!
গতকালই এখান থেকে চলে যেতে পারতাম।
কিন্তু তোমরা যা শুরু করেছিলে সেটা শেষ করা দরকার ছিল।
আর সবচেয়ে জরুরি, তুষার। ...স্যরি, প্রতাপ রাও...
সত্যিকারের পুরুষের মতো ঠিক কাজটা যদি করতে...!
আমি এই বাচ্চার জন্ম দিব।
আর নিশ্চিত করব যেন তোমার মতো না হয়।
এই মেয়ে...
তুমি যেতে পারো না।
লক্ষ্মী, কী করলি?
"নবজাতক কন্যা হত্যা ভারতের সবচেয়ে বড় অপরাধগুলোর একটা যা সবার দৃষ্টির অগোচরে থেকে যায়।"
"নবজাতক কন্যা হত্যার কারণে ভারত প্রতি বছর ৩০ লক্ষ মেয়ে হারাচ্ছে।"
"পৃথিবীর প্রায় সব জায়গায় মহিলাদের বিরুদ্ধে অপরাধ বেড়ে চলেছে।"
অনুবাদকঃ সৈয়দ ফাহমিদুল ইসলাম
Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.