Afrikaans
Akan
Albanian
Amharic
Arabic
Armenian
Azerbaijani
Basque
Belarusian
Bemba
Bengali
Bihari
Bosnian
Breton
Bulgarian
Cambodian
Catalan
Cebuano
Cherokee
Chichewa
Chinese (Simplified)
Chinese (Traditional)
Corsican
Croatian
Czech
Danish
Dutch
English
Esperanto
Estonian
Ewe
Faroese
Filipino
Finnish
French
Frisian
Ga
Galician
Georgian
German
Greek
Guarani
Gujarati
Haitian Creole
Hausa
Hawaiian
Hebrew
Hindi
Hmong
Hungarian
Icelandic
Igbo
Indonesian
Interlingua
Irish
Italian
Japanese
Javanese
Kannada
Kazakh
Kinyarwanda
Kirundi
Kongo
Korean
Krio (Sierra Leone)
Kurdish
Kurdish (Soranî)
Kyrgyz
Laothian
Latin
Latvian
Lingala
Lithuanian
Lozi
Luganda
Luo
Luxembourgish
Macedonian
Malagasy
Malay
Malayalam
Maltese
Maori
Marathi
Mauritian Creole
Moldavian
Mongolian
Myanmar (Burmese)
Montenegrin
Nepali
Nigerian Pidgin
Northern Sotho
Norwegian
Norwegian (Nynorsk)
Occitan
Oriya
Oromo
Pashto
Persian
Polish
Portuguese (Portugal)
Punjabi
Quechua
Romanian
Romansh
Runyakitara
Russian
Samoan
Scots Gaelic
Serbian
Serbo-Croatian
Sesotho
Setswana
Seychellois Creole
Shona
Sindhi
Sinhalese
Slovak
Slovenian
Somali
Spanish
Spanish (Latin American)
Sundanese
Swahili
Swedish
Tajik
Tamil
Tatar
Telugu
Thai
Tigrinya
Tonga
Tshiluba
Tumbuka
Turkish
Turkmen
Twi
Uighur
Ukrainian
Urdu
Uzbek
Vietnamese
Welsh
Wolof
Xhosa
Yiddish
Yoruba
Zulu
Created by Tafhim Rahman
Created by Tafhim Rahman
Created by Tafhim Rahman
Created by Tafhim Rahman
Created by Tafhim Rahman
Created by Tafhim Rahman
Created by Tafhim Rahman
Created by Tafhim Rahman
Created by Tafhim Rahman
Created by Tafhim Rahman
Created by Tafhim Rahman
Created by Tafhim Rahman
Created by Tafhim Rahman
Created by Tafhim Rahman
Created by Tafhim Rahman
Created by Tafhim Rahman
Created by Tafhim Rahman
Created by Tafhim Rahman
Created by Tafhim Rahman
Created by Tafhim Rahman
Created by Tafhim Rahman
Created by Tafhim Rahman
Created by Tafhim Rahman
খাবার আছে?
খুব খিদে পেয়েছে।
চুলগুলো ছেড়ে দাও।
এভাবে ছেলে সেজে যেতে পারবে না।
ঘোমটা খুলে ফেল।
আমি ভয় পাই না।
ভ্রমণকারীরা এই পাহাড়গুলোতে...
বীর রবিন হুডের কথা বলত।
সে নাকি নিরীহদের রক্ষা করে।
নিরীহদের কেউ রক্ষা করে না।
আর সে-ও কোনো বীর ছিল না।
সে দিনে তিনবার উপাসনা করত এবং গরীবদের রূপা দান করত।
আর লেডি ম্যারিয়ান তাকে ভালোবাসত।
এটা কি বীরত্বের প্রমাণ নয়?
লেডি ম্যারিয়ানার গল্পটা একজন বুড়ো রাখালের কাছ থেকে এসেছিল,
গল্প লিখত সে, আর দুর্ভাগ্যবশত আমার চেয়েও বেশি মাতাল ছিল।
রবিন হুডের ভালোবাসার নারী ছিল সে।
উম্ম।
তার মতো মানুষের জীবনে সত্যিকারের প্রেম থাকে না।
আমার পরিচিত কয়েকজন তার দেখা পেয়েছিল,
একটা গোপন কথা জানতে চাও?
চাই।
সে জীবনে একবারও উপাসনা করেনি।
দেশজুড়ে ছড়িয়ে থাকা এইসব গল্প গুলো...
মিথ্যা ছাড়া আর কিছুই না।
সে ছিল এক রক্তপিপাসু ডাকাত,
অনেকের মতো নিশ্চয়ই কোনো শেরিফেরও
গলা কেটেছিল সে।
মানুষ সবকিছুতেই অর্থ খুঁজে বেড়ায়।
সে কোনো বীর ছিল না।
শুধু আনন্দ করার জন্য লুটপাট আর খুন করত,
এর বেশি কিছু নয়।
যারা আপনাকে তার কথা বলেছিল...
তারা কি বলেছিলে, এই অপরাধের জন্য সে...
অনুশোচনা বোধ করেছিল কি না?
আমার ধারণা সে ক্লান্ত হয়ে পড়েছিল।
আমি বলব, রবিন হুড নামের এই দুর্জনের সাথে দেখা হলে,
দ্রুত পালিয়ে যেও,
আর নিজের জীবনটা বাঁচিয়ে রেখো।
...আমাদের পাপগুলো ক্ষমা করুন।
প্রভু যীশু খ্রীষ্টের মাধ্যমে।
আমিন।
তোমার বংশ কী?
উইলিয়াম ওয়েনরাইট...
...অফ পিকারিং।
পিকারিং?
বাবার নাম কী?
দাদার নাম?
তোমার গোসল করে নেওয়া উচিত ছিল,
বা বাতাসের দিক পরিবর্তনের অপেক্ষা করা উচিত ছিল অন্তত।
অথবা পেছনের পায়ে ভর রাখা উচিত ছিল।
এইটুকুই।
চেষ্টাটা ভালো ছিল।
ওরা মিথ্যার গান গায়।
এই বোকা সাধারণ মানুষগুলো।
তার মিথ্যা বীরত্ব আর মহত্ত্বের গান গায়।
কিন্তু রক্তের ঋণ তো শোধ করতেই হবে।
আর তার শিকার হওয়া মানুষদের বংশধরেরা প্রজন্মের পর প্রজন্ম ধরে তাকে খুঁজে বেড়াচ্ছে।
কারণ, সত্যি বলতে...
এই ডাকাত ও হত্যাকারী রবিন হুডের চেয়ে...
খারাপ ও নির্মম আর কেউ ছিল না।
আর সাথে থাকত তার ছোট জন।
বলো টমাস।
দক্ষিণে তাকে ফাঁসি দেওয়া হয়েছে।
উইল?
ওরা তার পেট কেটে মেরে ফেলেছে।
জিজ্ঞাসা করার মতো কেউ ছিল না।
কী হয়েছিল?
আমার নাম এডওয়ার্ড।
আসল এডওয়ার্ডটা কে ছিল?
১০ বছর আগে রাস্তায় দেখা হয়েছিল তার সাথে।
তার ভাই মারা গিয়েছিল। আর সে যাচ্ছিল তার ভাইয়ের জমিতে...
রাই আর মটরশুঁটি চাষ করতে।
কেউই এডওয়ার্ডের চেহারা দেখেনি।
তাই, মেরে ফেলেছিলাম তাকে।
এখন আমিই এডওয়ার্ড।
আর মার্গারেটও খুব ভালো স্ত্রী।
বাড়ির খামারটাও ভালো।
তারপর?
সেই জমির এক পরিবার আমার আসল পরিচয় জেনে যায়।
খামারটা কেঁড়ে নেয়, আমার মার্গারেটকে কেঁড়ে নেয়।
আমার জীবনটাও কেঁড়ে নিতে চেয়েছিল।
যা হারিয়েছি তা একা ফেরত নিতে পারব না।
ওগুলো তোমার নয়।
পরিবারটা তো আমার।
আমি ক্লান্ত, জন।
এডওয়ার্ড।
আমি ক্লান্ত, এডওয়ার্ড।
লড়াইটা সম্মানের হবে।
ইতিহাসে লিখে রাখার মতো।
ওরা শক্তিশালী?
হ্যাঁ।
প্রাচীন বংশের লোক এরা।
লোকে বলে, তারা নাকি ভাইকিংদের বংশধর।
একটা গল্প আছে যে, একদা তাদের এক পূর্বপুরুষ
ভালুকের সাথে লড়াই করেছিল।
লড়াইটা স্মরণীয় হয়ে থাকবে, রবিন।
কয়জন আছে?
৪, ৫ জন হবে।
একসাথে হারিয়ে দিতে পারব।
মারা পড়ব আমরা।
রবিন!
রবিন!
রুটি খাবেন?
অভিযানটা বেশ রোমাঞ্চকর হচ্ছে।
দারুণ এক অভিযান।
একবার আমাদের এক কুমারের সাথে দেখা হয়েছিল, মনে আছে,
তাকে উলঙ্গ করে ছেড়ে দিয়েছিলাম নাকি মেরেই ফেলেছিলাম?
গল্পটা একজনকে শুনাতে গেছিলাম,
একজন বলল, আমরা নাকি তাকে উলঙ্গ করে রেখে এসেছিলাম।
কিন্তু, আমার ঠিক মনে পড়ছে না।
এসব তো আপনার ভালো মনে থাকে, রবিন।
উলঙ্গ করে রেখে আসতে যাবো কেন?
জানি না তো।
মজা করার জন্য হয়তো।
কোনো কুমোরের সাথে দেখাই হয়নি আমাদের।
দেখা হয়নি মানে?
মানে, এরকম কোনো ঘটনাই ঘটেনি।
এটা লোকের মুখে শোনা একটা গল্প কেবল।
দেখা হলে আমরা তাকে...
হত্যা করেই আসতাম।
গল্প হলে তো আমার মনে থাকত।
নেও!
তোমার স্ত্রীর ব্যাপারে বলো।
মার্গারেট।
খুবই ভালো মেয়ে।
অসম্ভব ভালো ও অত্যন্ত ধার্মিক।
সে আমাকে প্রার্থনা করতে শেখায়।
তার একটা বর্ণনা দাও।
বর্ণনা?
বর্ণনা?
তার চুলগুলো লালচে রঙের।
কেমন লাল?
তাজা রক্তের মতো লাল।
না, রক্ত না, না, না।
লাল রঙের ভালো কিছুর কথা বলো, ঠিক তার মতো।
ঠিক যেমন... জানি না।
অস্তগামী সূর্যের মতো লাল।
হ্যাঁ! গ্রীষ্মের অস্তগামী সূর্যের মতো লাল।
মার্গারেট একজন চমৎকার স্ত্রী।
ওর চুলগুলো গ্রীষ্মের অস্তগামী সূর্যের মতো লাল।
সে আমাকে মায়া করে।
আর আমিও তাকে মায়া করি।
হুম।
রবিন, পাহাড়গুলোর ওপারে বিশাল খোলা জমি আছে।
নতুন করে জীবন শুরু করার মতো অনেক জায়গা আছে।
না, নতুন করে জীবন শুরু করার কোনো ইচ্ছে আমার নেই।
আমার লক্ষ্য কেবল সম্মানজনক মৃত্যু।
এডওয়ার্ড!
যাও, হিন্ড্রি!
এডওয়ার্ড!
যাও, হিন্ড্রি, এক্ষণই পালাও।
- এডওয়ার্ড! - কাছে আসবি না!
হিন্ড্রি, বাকিদের খবর দেও!
এডওয়ার্ড!
এডওয়ার্ড, সোনা আমার...
ছোট মার্গারেটের খেয়াল রেখো।
ছোট্ট মা আমার, ভয় পেও না।
ভয় নেই, এদিকে আসো, আসো।
কিচ্ছু হবে না, তুমি এখন নিরাপদ, মা।
চলো, আমরা প্রার্থনা করি।
হে প্রভু, আমাদের ঈশ্বর,
আমাদের অন্তরে আপনাকে পাওয়ার আকুলতা দান করুন।
করো, প্রার্থনা করো।
আপনাকে পাওয়ার মাধ্যমে যেন আপনাকে ভালোবাসতে পারি।
আর এই ভালোবাসার মাধ্যমে যেন পাপকে ঘৃণা করতে পারি...
যা থেকে আপনি আমাদের মুক্ত করেছেন।
যীশু খ্রীষ্টের নামে। আমিন।
এইতো, হয়েছে।
ভালো হয়েছে।
ক্ষমা করো।
ক্ষমা করো আমায়।
মাফ করে দেও।
ঘুম থেকে উঠেই দেখেছি এমন।
ঘুম থেকে উঠেই দেখি ওরা চলে এসেছে।
ভাই আমার...
ঘুম থেকে উঠেই দেখি সবাই শেষ।
মাফ করে দেও।
আমরা আপনার কাছে প্রার্থনা করি, হে প্রভু।
আপনি কি আমাদের প্রতি দয়া করবেন না?
আমাদের ক্ষমা করুন।
হে স্বর্গের রাজা এবং অনন্তকালের প্রভু,
আপনার চরণে সঁপে দেওয়া আমাদের এই প্রার্থনা গ্রহণ করুন।
এবং আমাদের ক্ষমা করুন।
অসুস্থদের সেবা করুন, বন্দীদের মুক্ত করুন,
বিধবা ও এতিমদের সাহায্য করুন।
এবং আমাদের ক্ষমা করুন।
আমরা পাপ করেছি এবং আপনার পথ থেকে বিচ্যুত হয়েছি।
হে সকলের ত্রাণকর্তা, আপনি কি আমাদের রক্ষা করবেন না?
এবং আমাদের ক্ষমা করুন।
অনুপ্তদের প্রতি দয়া করুন।
এবং আমাদের পাপের সমস্ত দাগ মুছে দিন।
এবং আমাদের ক্ষমা করুন।
আমিন।
মারো ওকে!
গডউইন!
না!
না, দয়া করো।
মেরো না!
- মার্গারেট? মার্গারেট! - না, না।
না!
জন! যেও না!
লিটল জন!
২০ বছর আগে, তুই আমার চাচাতো ভাইকে হত্যা করেছিস।
ওয়াল্টার অফ হ্যাদারসেজ।
আমার ছেলেকে হত্যা করেছিস।
আমার নাতিকেও মেরেছিস।
এখন, এই রক্তের ক্ষতিপূরণ হিসেবে...
আমি তোর জীবন কেড়ে নেব...
সাথে তোর মেয়ের জীবনও।
...জঘন্য অপরাধ...
...পুরুষ, নারী আর শিশুদের হত্যাকারী...
না...
না...
না! না! না!
না!
না!
রবিন?
আমি এক গোপন গির্জার কথা শুনেছি।
সেখানে একজন প্রধান সন্ন্যাসিনী থাকেন,
যার বয়স এতোই বেশি যে, কেউ মনেই করতে পারে না।
তার নাকি অলৌকিক নিরাময় ক্ষমতা আছে।
আপনাকে তার কাছে নিয়ে যাবো।
সে আপনাকে সুস্থ করে তুলবে।
অবিশ্বাস্য সব গল্প শুনেছি।
রবিন, আমাদের এক্ষণই যেতে হবে।
এরা আমাদের খুঁজে বের করে ফেলবে।
তুষারপাত দেখুন...
এত দেরিতে তুষার পড়াটা বেশ অদ্ভুত লাগছে।
তবে এগুলো মাটিতে জমবে না...
শীঘ্রই গ্রীষ্মের দিন চলে আসবে।
একজন লোক আপনাকে এখানে নিয়ে এসেছে।
আগুন দিয়ে আপনার ক্ষতগুলো বন্ধ করে দিয়েছিল।
কাজটা বেশ ভালোই করেছে।
ছয় দিন ধরে এখানে আছেন।
আপনার পেটে গুরুতর ক্ষত রয়েছে।
পাঁজর আর একটা পা খুব বাজে-ভাবে ভেঙে গেছে।
আমার কথা বুঝতে পারছেন?
কোথায় এটা?
আপনি 'সেন্ট ক্লিমেন্ট' গির্জায় আছেন।
এখান থেকেই আপনি সুস্থ হয়ে যাবেন।
কোন শহরে এটা?
এখানে কোনো শহর নেই।
শৌলের গল্পটা জানেন?
কী?
অনেক আগে, শৌল নামে এক ব্যক্তি ছিল...
ঈশ্বরের অনুসারীদের বিরুদ্ধে মনে মনে হিংসা পুষে রাখত।
একদিন সে প্রধান পুরোহিতের কাছে গিয়ে
ড্যামাস্কাসের ইহুদি উপাসনালয়গুলো থেকে...
চিঠি চাইল।
যাতে, এরকম মতবাদের
কোনো নারী পুরুষ থাকলে, সে যেন...
বন্দি করে নিয়ে আসতে পারে।
এটা করতেই হতো।
সামান্য কয়েক ফোঁটা পড়বে।
যন্ত্রণা হয়েছিল খুব?
না, হয়নি।
আমি সিস্টার ব্রিজিড।
আপনার নাম কী?
র্যানডল্ফ।
আপনার কাছে ক্ষমা চাওয়া উচিৎ, র্যানডল্ফ।
কীসের ক্ষমা?
বলেছিলেন, যেন আপনাকে মরতে দেই।
কিন্তু সেটা হতে দেইনি।
বলেছিলেন, মরতেই চান আপনি।
জ্বরের ঘোরে ছিলাম।
বেশ, জ্বরটা এখন সেরে গেছে।
বিশ্রাম করুন, র্যানডল্ফ।
তোমার পুরো শরীর ক্ষতবিক্ষত হয়ে আছে।
গির্জার কারো ক্ষতি করার ইচ্ছে আছে?
না, নেই।
কোনো বিপদ তোমাকে তাড়া করে এখানে আসতে পারে?
না, আসবে না।
তাদের কোনো ক্ষতি করবে না।
এবার বিছানায় ফিরে যান।
এবার দরজার কাছে যান।
এবার দরজাটা খুলুন।
যতদূর ইচ্ছা হেঁটে বেড়ান।
উইলিয়াম, সাবধানে!
নৌকা চালাতে পারবেন?
পশ্চিম পাড়ে একটা নৌকা রাখা আছে।
সমস্যা নেই।
চাইলে, ফলের বাগানে কাজ করে এখানেও থেকে যেতে পারেন।
ওহ, আমি কোনো চাষি না।
তাহলে নিশ্চয়ই শিকারও করতে জানেন না।
শিকার করতে জানি।
দ্বীপে শিকার করার মতো কিছু প্রাণী আছে।
কিন্তু না, এখন শিকার করতে পারবেন না, ধনুকও টানতে পারবে না।
- ধনুকও টানতে পারব। - এখানে বেশিরভাগই খরগোশ।
- ফাঁদ পাততে জানেন? - হ্যাঁ, ফাঁদ পাততে জানি।
ভালো। তবে ছয়টির বেশি ফাঁদ পাতা যাবে না,
নাহয় ওরা বিলুপ্ত হয়ে যাবে।
ছয়টি ফাঁদ পাততে পারবেন?
ছয়টি ফাঁদ পাততে পারব।
ভালো।
বাকি সময়টা বাগানের কাজে সাহায্য করতে পারবেন।
পালাচ্ছেন নাকি?
আপনি তো খুব শান্ত।
শান্ত আর ধীর।
আপনি শান্ত হলেও, আরও ধীর হতে হবে।
আপনি তো পঙ্গু।
হ্যাঁ, আর আপনি হলেন কুষ্ঠরোগী।
তাড়াহুড়ার কিছু নেই, আমরা এখানে নিরাপদেই আছি।
এই কথা কিন্তু এতো সহজেই বলে দেওয়া যায় না, জানেন?
জানি, কারণ সে আমাদের নিরাপদে রেখেছে।
ওহ, আপনার সন্ন্যাসিনী?
সেও আমাদের মতোই ছিল।
চরম দুঃখ কষ্ট আর তীব্র যন্ত্রণায় ছিলেন এক সময়।
অল্প বয়সেই স্বামীকে হারিয়েছিলেন।
কিন্তু এই দুঃখের মধ্য দিয়েই,
আমাদের সুস্থ করে তোলার শক্তি খুঁজে পেয়েছেন।
আপনাকে দেখে তো সুস্থ হয়েছেন বলে মনে হয় না।
সন্ন্যাসিনী একবার আমাকে একটা গল্প শুনিয়েছিলেন।
এক মহান দার্শনিকের গল্প...
যিনি ছিলেন তার সময়ের সেরা দার্শনিক।
কিন্তু একদিন তার রাজা তার বিরুদ্ধে চলে গেলেন।
তাকে এক অন্ধকূপে নিক্ষেপ করে নির্যাতন ও মৃত্যুদণ্ডের আদেশ দিলেন।
কিন্তু সেই চরম দুর্দশার মাঝেও,
সর্বহারা তার কাছে এক দেবদূত এলো...
দার্শনিকের কাছে এসে সে কথা বললেন।
আর তার কাছ থেকে,
তিনি জানতে পারলেন, এসবে আসলে তার কিছু যায় আসে না।
পৃথিবীটা দুঃখ-কষ্টে ভরা থাকলেও...
কিংবা তার মৃত্যু হলেও কোনো সমস্যা নেই।
কারণ তার কাছে এমন একটা জিনিস ছিল...
যা কেউ কখনো ছুঁতে বা কেড়ে নিতে পারবে না।
তার নিজস্ব মন।
আর তার মনের ভেতরে...
সে নিজেই ছিল স্বয়ং ঈশ্বর।
জীবনে শান্তি খুঁজে বেড়ানোর সময় কখনও শেষ হয় না।
কী করছেন?
আহ, আমি প্রতিদিন নৌকা চালিয়ে ওপারে যাই।
আপনাকে বয়ে আনার জন্য তো আপনার শক্তিশালী বন্ধু ছিল।
কিন্তু অনেকের তো নেই, আমি তাদেরই পার করে দেই।
- আমাকে ওপারে পার করে দেবেন? - না।
শক্তি ফিরে পেলে নিজেই বৈঠা বেয়ে যেতে পারবেন।
এখন, নিজের কাজ করুন, শুনলাম ফাঁদ পাতার কাজ দিয়েছে আপনাকে।
- আমি শিকার করব। - না, আপনি শিকার করতে পারবেন না।
কুষ্ঠরোগী,
সেই মহান দার্শনিকের শেষ পর্যন্ত কী হয়েছিল?
অবশ্যই, নির্যাতন করে মৃত্যুদণ্ড দেওয়া হয়েছিল।
হায়রে নিয়তি।
ওই! ওই!
কুষ্ঠরোগীটা একজনকে উদ্ধার করে নিয়ে এসেছে!
অনেক দূরের পাড় থেকে!
বাবা মারা গেছে।
মেয়েটা কেমন আছে?
চলুন, আমার গাছগুলো দেখাই।
এগুলো হলো জাম গাছ।
গ্রীষ্মের শেষের দিকে এগুলোর ফলন হয়।
এখানকার মানুষ আপনার আগের পরিচয় জানে?
আসলে, কাছ থেকে এই পাশে না বললে...
কানে শুনতে পাই না।
এরপরই নাশপাতিগুলো সংগ্রহ করি।
তো এর আগে আমি কী ছিলাম?
বড়জোর একজন ভাড়াটে যোদ্ধা ছিলেন, হয়তো।
হ্যাঁ, বড়জোর, ঠিকই বলেছেন।
এসব নিয়েই তো আমাদের জীবন!
গাছগুলোর কথা মনে থাকবে তো?
- নাশপাতি আর জাম। - চমৎকার।
কয়েকজন জানে।
কিন্তু সন্ন্যাসিনী আমাদের আগের পরিচয় নিয়ে মাথা ঘামায় না।
আর আপেল পারা হয় শরৎকালে।
সে কি নিজের পূর্বের যন্ত্রণাময় জীবনের ব্যাপারে কিছু বলেছে?
সন্ন্যাসিনী তো এখন মেয়েটার সেবা করছেন।
এতো জানতে ইচ্ছে করলে, নিজেই জিজ্ঞাসা করে নিন।
গাছগুলো কী কী যেন?
নাশপাতি, আপেল আর জাম গাছ।
চমৎকার।
শেষ বারের মতো ধুয়ে দিচ্ছি।
যদিও পুরোপুরি সেরে উঠতে আরও সময় লাগবে।
খুব ক্লান্ত হয়ে গেছ।
তা হয়েছি।
কিন্তু এবারই প্রথম নয়।
মেয়েটা ঘুমাচ্ছে না।
কী হয়েছিল ওর?
ভয়ংকর কিছু।
- তার গল্পটা বলেছে? - না, সে কথাই বলে না।
খায় না, ঘুমায়ও না।
কী নাম ওর?
মার্গারেট।
কে ও?
তার বাবার সাথে পরিচয় হয়েছিল, একজন চাষি ছিল সে।
হ্যাঁ, মারা গেছে।
তাই মনে হচ্ছে।
আর ওর মা?
- হয়তো, সে-ও মারা গেছে। - কীভাবে?
জানি না, অনেক আগেই মারা গেছে।
খুন হয়েছিল?
হতে পারে।
আপনি খুব সুন্দর করে মিথ্যা বলেন।
মেয়েটা দেখেছে?
দেখতেও পারে।
নিশ্চয়ই খুব যন্ত্রণা হয়েছে ওর।
আপনার বন্ধুর জন্য দুঃখিত।
ধন্যবাদ।
তার জন্য দোয়া করব?
চাইলে করতে পারো।
কী নাম ছিল তার?
এডওয়ার্ড।
এডওয়ার্ড।
তোমাদের হৃদয় যেন ভীত না হয়,
কারণ তোমরা ঈশ্বরে বিশ্বাস করো।
এবং বিশ্বাস করো আমাকে।
ঈশ্বরের এই দুনিয়ায় পাপীদের জন্য বহু আশ্রয় আছে।
আর সেই আশ্রয় পেতে আমি সাহায্য করব।
আমিই তোমাদের ঈশ্বরের সান্নিধ্যে নিয়ে যাবো।
আমি যেখানে স্থিতি লাভ করব, তোমাদেরও সেখানে নিয়ে যাবো।
আর, আমি যেই পথে গন্তব্যের সন্ধান পেয়েছি, তোমরাও যেন সেই পথের যাত্রী হতে পারো।
- তার কাছে ছুরি আছে। - মার্গারেট!
সে আমাকে ছুরি মেরেছে!
মার্গারেট!
ভয় পেও না।
মার্গারেট, সব... সব ঠিক আছে।
মার্গারেট, কিচ্ছু হবে না...
সে এই দ্বীপের কিছুই চিনে না।
আশেপাশে বুনো শুয়োর আছে!
- মার্গারেট! - মার্গারেট!
মার্গারেট!
- মার্গারেট! - মার্গারেট!
মার্গারেট!
ওই।
ওই!
ছুরিটা দিয়ে দেও।
দেও।
যারা তোমাকে আঘাত করেছে,
তারা জানে তুমি এখানে এসেছ?
হুম।
আমার নাম কী?
আমার নাম বলো।
র্যানডল্ফ।
একদম ঠিক।
লিটল জন কে?
কেউ না! এই নাম আর কক্ষনো মুখেও আনবে না।
আনলে, রাতের বেলা বিড়াল এসে...
তোমার জিব টেনে নিয়ে যাবে।
ভয় পেও না।
ঘুমিয়ে পড়ো।
আমি ঝড়ের ওপর নজর রাখছি।
ঠিক আছে, শুয়ে পড়ো।
চোখ বন্ধ করো।
ঘুমিয়ে যাও।
ঘুমাও।
ওকে ফিরিয়ে আনার জন্য ধন্যবাদ।
এটা কোনো বিষয় না।
এই গির্জার ইতিহাস জানেন?
না।
ইতিহাসের সৃষ্টিরও অনেক আগের যুগে,
এটা প্রাচীন ড্রুইডদের...
একটি পবিত্র স্থান ছিল এটা।
তারা এক অজানা দেবতার উপাসনা করত।
এই বনের মাঝে উপাসনা করত।
তারপর অনেক আগে রোমানরা এসে, এই জায়গায়...
জাদুর উপস্থিতি টের পায়।
তাই তারা তাদের মন্দির গড়ে তোলে।
তারপর এক এক করে সব মানুষ এটা টের পাওয়া শুরু করে,
আর এখানে উপাসনা করতে আসে।
অগণিত দেবতা, এক উপজাতির পর অন্য উপজাতি,
যারা হয়তো একে অপরের সাথে কথা বলার ভাষা পর্যন্ত জানত না।
তবুও আমরা সবাই, এই এক জায়গার টানে ছুটে এসেছি।
তোমার বিশ্বাস, এই দ্বীপে জাদু আছে?
আমার বিশ্বাস এই দ্বীপের একটা ক্ষমতা আছে।
ক্ষমতার কথা গল্পে শুনেছি।
ক্ষমতা মানুষকে অনেক খারাপ কাজ করতে বাধ্য করে।
আর এই খারাপ কাজগুলোই একসময় গল্প হয়ে উঠে।
আর গল্প...
না।
গল্পকে কখনও বিশ্বাস করা যায় না।
এগুলোর উপর ভিত্তি করে আমরা বিশ্বস্ত হতে পারি না।
ছুরি দিয়ে যেমন রুটি কাটা যায়, তেমনও মাংসও কাটা যায়।
সবটাই হলো ভারসাম্যের ব্যাপার।
ভারসাম্য কী নিজে নিজেই বজায় থাকে?
আমার মনে হয়, ভারসাম্য যদি কিছুটা ভূমিকা না রাখত,
তাহলে আমরা এখানে থাকতাম না।
এই পৃথিবীর অস্তিত্ব থাকত না, এবং...
আমাদের মধ্যে কোনো কথাও হতো না।
কখনও ভেবেছেন এটা?
এতো দীর্ঘ সময় ধরে...
ভারসাম্যের কারণেই দুনিয়ার এই অবিশ্বাস্য নিখুঁত রূপ সৃষ্টি হয়েছে।
ভারসাম্যের মাধ্যমেই শব্দ তৈরি হয়েছে, বিশেষ কোনো শব্দ।
যা মানুষ বলতে পারে...
বুঝতে পারে অন্যের ভাব।
র্যানডল্ফ।
ধন্যবাদ।
- Mmm. Mmm. - Mmm.
খিদা নেই?
না?
আমি দ্রুত মারা যাবো।
কীভাবে জানলেন?
ভিতরে অনুভূতি হচ্ছে।
অনুভূতিটা কেমন?
সঠিক মনে হচ্ছে।
ওখানে কেউ আছে।
আজকাল এখানে মানুষও দেখা যাচ্ছে দেখি!
পায়ের দিক থেকে শুরু করো।
ছোট করে কাটো।
এইতো, অন্যটা ধরো।
আচ্ছা, ওহ।
আচ্ছা।
ভালো।
হ্যাঁ, এবার সামনের দিকে কাটো।
পেটের নিচের দিকটায়। ভালো।
হ্যাঁ, দেও।
হ্যাঁ, দেখো।
এইযে, ঠিক এভাবে।
এভাবে অন্যটা কাটো।
এইতো, হচ্ছে।
টানো।
তুমি খুব সাহসী ছেলে।
ধন্যবাদ, সিস্টার।
খিদে পেয়েছে, আর্থার?
হ্যাঁ, সিস্টার।
বেশ, রাতে সারা তোমাকে মজার একটা খাবার দিবে।
ইলিশ মাছের তরকারি।
- পছন্দ করো? - হ্যাঁ।
কোথা থেকে এসেছ, আর্থার?
কেজইকে আমার পরিবারের খামার আছে।
- কেজইকে? - জি, জনাব।
- র্যানডল্ফ - র্যানডল্ফ। কেজইকের দিকে।
কুষ্ঠরোগী বলল, তুমি নাকি তোমার ভাতিজিকে খুঁজছ।
- হ্যাঁ - তোমার উপর কেউ আক্রমণ করেছিল?
- হ্যাঁ। - রাস্তায়?
হ্যাঁ।
- এখানে তুমি নিরাপদ। - কোন রাস্তায়?
কেজইকের পথেই, জনাব।
ঈশ্বরকে ধন্যবাদ দেও যে, তুমি বেঁচে গেছো।
দিচ্ছি।
এতো সাহসী কাজ করার পর পুরস্কার হিসেবে রাতের খাবারের পর...
মধু মাখানো নাশপাতি হলে কেমন হয়?
- ধন্যবাদ, সিস্টার। - হুম।
লিটল মার্গারেট।
ওই ছেলেটা, আর্থার।
এই আশ্রমে আসার আগে ছেলেটাকে দেখেছ?
মার্গারেট।
যেই লোকগুলো তোমার বাবাকে মেরেছে।
তাদের চেহারা দেখেছ?
বাবা পালিয়ে যেতে বলেছিল।
বাবা প্রার্থনা করা বন্ধ করে দিয়েছিল।
রেগে ছিল অনেক।
মনে মনে ঠিকই প্রার্থনা করত।
বাবার নাম কী?
বাবাকে শুধু "বাবা" হিসাবেই মনে রাখো।
এটা নিয়ে এসো।
ওহ, চমৎকার হয়েছে।
ওহ।
দেখো, এখানে একটু বাঁকা হয়ে আছে।
বাঁকটা দুইদিক থেকেই সমান হতে হবে।
আর এই অংশটা আরেকটু চিকন হতে হবে, বুঝলে?
একটা বানিয়ে দিবেন?
ধনুক বানিয়ে দিবো?
বেশ।
আজ একটা গল্পের কথা মনে পড়ল,
লুক্রেশিয়াস নামের এক কবির লেখা।
পরমাণুর ওপর গল্প লিখেছিলেন তিনি।
গাছপালা, মানুষ...
পাথরকে টুকরো টুকরো করলে...
সবকিছু ক্ষুদ্র অদৃশ্য কণা হয়ে যাবে।
আর এই কণা দিয়ে, সৃষ্টির সবকিছু গড়ে উঠেছে।
এই পরমাণুগুলো শূন্যের মাঝে ভেসে বেড়াচ্ছে, আর...
আর, মাঝে মাঝে কোনো কারণ ছাড়াই,
গতিপথ বদলে ফেলছে।
খুব সামান্য পরিমাণ, একটা চুলের সমপরিমাণও নয়।
আর এই ক্ষুদ্র...
অপ্রত্যাশিত পরিবর্তন যদি পরমাণুগুলোকে...
মিশ্রিত হতে বাধ্য না করত...
তাহলে আকাশের নিচে কোনো কিছুরই অস্তিত্ব থাকত না।
হ্যাঁ, হচ্ছে।
আরও জোরে।
এইতো, এভাবেই।
হয়েছে, জোরে।
আমি সাহায্য করছি।
এটা ধরো।
এইতো, হয়ে গেছে!
হয়েছে।
কোনটা দিয়ে তোমার ধনুক বানালে ভালো হয়?
দেখা যাক।
আচ্ছা।
দুইটাই তো ভালো মনে হচ্ছে।
মার্গারেট!
মার্গারেট! চলো খেলি!
আর্থার।
ফাঁদ পাততে জানো?
- হ্যাঁ। - ভালো।
আমার শক্তপোক্ত কাউকে লাগবে, আসো।
তোমার পরিবারের জমি আছে?
হ্যাঁ।
কয়জন আছো তোমরা?
জানি না।
ঠিক আছেন?
হ্যাঁ, ঠিক আছি।
কেবল বয়সটা একটু বেড়েছে।
একটু টেনে ধরলে উঠতে পারতাম।
ধন্যবাদ।
ভালো জায়গায় আঘাত করেছে।
- হ্যাঁ। - কে মেরেছিল?
এক লোক।
কয়েকজন লোক।
- ডাকাতদল। - লোকটা, ডাকাতদলের ছিল?
- হ্যাঁ। - হাহ, দেখতে পারি?
বড় আঘাত।
কপাল জোরে বেঁচে গেছ, ভাগ্য ভালো।
হ্যাঁ।
বেঁচে থাকার জন্য তোমার কৃতজ্ঞ হওয়া উচিত।
- হ্যাঁ। - তার হাতে লাঠি ছিল?
হুম।
ভাগ্য ভালো যে তোমার মাথাটা উড়িয়ে দেয়নি।
র্যানডল্ফ।
র্যানডল্ফ।
মোশে?
সন্ন্যাসিনী ডেকেছেন।
খুব বেশি যন্ত্রণা হচ্ছে?
গাছগুলোর কথা মনে আছে?
নাশপাতি, আপেল আর জাম গাছ।
চমৎকার।
জানেন তো, আপনি লিটল মার্গারেটের জীবনে...
সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ মানুষ।
অতটাও গুরুত্বপূর্ণ নই।
সেই সব মানুষের কথা ভাবুন,
জীবনের পরিক্রমায় যাদের সাথে পরিচয় হয়েছিল।
কোনো না কোনোভাবে, আমরা তাদের সবার কাছেই গুরুত্বপূর্ণ ছিলাম।
গিসবোর্নের লোকের গল্পটা জানেন? আর জানেন কি...
রবিন হুডের গল্প?
হ্যাঁ।
লোকে বলে আপনি নাকি তাকে মেরে ফেলেছেন।
আসলেই তার গর্দান নিয়েছিলেন?
- আপনি বিভ্রান্ত, কুষ্ঠরোগী। - সত্যিটা আমি কাউকে বলব না।
কিন্তু কোনো মৃত্যু পথ-যাত্রী ব্যক্তিকে মিথ্যা বলবেন না।
তো, আসলেই তার শিরশ্ছেদ করেছিলেন?
গিসবোর্নের গল্পটার কোনো সত্যতা নেই।
এটা চারদিকে ছড়িয়ে পড়া বহু গল্পের মধ্যে একটা গল্প মাত্র।
কিন্তু আমি অন্যদের শিরশ্ছেদ করেছি।
আপনার সত্যিই মনে নেই?
না।
নামটা মনে করার চেষ্টা করুন।
গিসবোর্নে একটা লোক ছিল।
কিন্তু আপনি তার গলা কাটেননি।
কেটেছিলেন তার কান।
বলেছিলেন, অন্য কোনো জীবনে, একসাথে বসে মদ খাবেন।
মনে পড়ছে?
মনে হচ্ছে, আমরা অন্য জীবনটা খুঁজে পেয়েছি।
এখন, আপনার কাছে আমার একটা চাওয়া আছে,
একটা নিষ্ঠুরতা আপনাকে আটকাতে হবে।
যতদিন বেঁচে থাকবেন,
আমার ফলের বাগানটার যত্ন নিবেন।
সন্ন্যাসিনীর সেবা করবেন...
আর এই আশ্রমের অতীত এবং ভবিষ্যতের সকল মানুষদের সেবা করবেন।
কিন্তু শেষ জীবনের এই সুন্দর...
ও শান্তিপূর্ণ বছরের কোনো মুহূর্তেই...
সন্ন্যাসিনীকে নিজের আসল পরিচয় দিবেন না।
কেন?
কারণ...
আপনার মনের অন্ধকারের...
গভীরে থাকা...
সেই নামহীন, পরিচয়-হীন...
হত্যাগুলোর মধ্যে...
উনার প্রিয়তমও ছিলেন।
কথা দিন।
রবিন...
কথা দিন আমাকে।
বিদায়, ব্রিজিড।
আর্থার।
আসো।
তীরে ওপাড়ে একটা বাচ্চা আছে।
হয়তো ওটাই তোমার ভাতিজি।
কুষ্ঠরোগী বলেছিল, তুমি নাকি তোমার হারিয়ে যাওয়া ভাতিজিকে খুঁজছিলে।
হ্যাঁ।
- সে-ই হতে পারে? - দেখি গিয়ে।
কাউকেই তো দেখছি না।
আহ, অপেক্ষা করি।
হয়তো আবার ফিরে আসবে।
কী নাম তোমার?
আর্থার।
মিথ্যা বলে আর সময় নষ্ট করো না।
তোমার আসল নাম কী?
গডউইন।
তুমি দ্বিধায় আছ, গডউইন,
কাজটা তুমি নিজেই করবে...
নাকি তোমার পরিবারকে ডেকে আনবে।
কী কাজ?
কতজনকে মেরেছ, গডউইন?
কয়টা শিশুকে মেরেছ?
আমি অনেককে হত্যা করেছি, গুণে শেষ করা যাবে না।
তোমার জন্মের আগ থেকেই খুন করি।
আগে যাদের হত্যা করেছি, এখন তাদের স্বজনদেরও হত্যা করছি।
প্রথম কাকে মেরেছিলাম মনে নেই,
তখন এসবের কোনো মূল্যই ছিল না আমার কাছে, কিন্তু...
তাদের ভাই, সন্তান...
তাদের নাতি-নাতনিরা আমাকে মনে রেখেছে।
তাই এখন আমাকে তাদের হত্যা করতে হয়।
বারবার।
ভিন্ন ভিন্ন রূপে, ছায়ার মতো। বারবার।
আর এই হত্যার চক্র কখনও শেষ হবে না।
এটা একটা অভিশাপ, গডউইন।
আর এই অভিশাপটা নিজেই নিজের ওপর ডেকে আনছ,
যদিও এসব কর্তব্যের খাতিরে করতে চাইছ।
কিন্তু অভিশাপ কোনো কর্তব্যের তোয়াক্কা করে না।
এই পৃথিবী শুধু রক্তের হিসাব রাখে।
আর বিনিময়ে শুধু রক্তই ফিরিয়ে দেয়।
কিন্তু, তুমি কোনো শিশুকে হত্যা করতে চাও, গডউইন?
একটা ছোট্ট মেয়ের...
মৃত্যুর দায় নিতে চাও?
না।
তোমার বাবা মরে গেছে?
চাচারা?
পরিবারে আমার চেয়ে বড় আর কেউ নেই।
বেঁচে আছে কারা, গডউইন?
আমার মা।
ফুফুরা।
আর বোনরা।
বাড়ি আছে তোমার, গডউইন?
- আছে। - বাড়ি যাও।
পরিবারকে গিয়ে বলো রক্তের ঋণ চুকে গেছে।
কোনো একদিন এসব ঠিকই শোধ হয়ে যাবে।
নিজের বিছানায় গিয়ে ঘুমাও।
আগলে রাখো সেই জীবনকে...
যা নিয়ে এখনো নিজের স্বজনদের সাথে কাটাতে পারবে।
যা নিয়ে এখনো নিজের স্বজনদের সাথে কাটাতে পারবে।
তবে তোমাকে দেওয়া জীবনের এই...
সুযোগটা চিরতরে হারাবে।
তোমার গলা কেটে...
স্মৃতি থেকে মুছে ফেলব তোমাকে।
যাও এখন।
আর কখনও ফিরে তাকাবে না।
ভেবেছিলাম চলে গেছেন।
আমিই সেই ডাকাত রবিন।
তোমার... তোমার জানা উচিৎ, আমিই সেই নর-পিশাচ।
আমি র্যানডল্ফ নই।
আমি এক ভয়ংকর ডাকাত, আমিই রবিন হুড।
আমাকে মাফ...
চলে যেতে বলবে না আমাকে?
এক্ষণই চলে যাবো।
বিছানায় আসুন।
- ব্রিজিড... - শুয়ে পড়ুন।
আমার স্বামীকে জ্যান্ত পুড়িয়ে মেরেছেন আপনি।
স্বপ্নে দেখেছিলাম সে আগেই মারা গেছিল।
তাহলে দরজাটা আটকে দিয়েছিলেন কেন?
মনে হয়েছিল, সারাটা জীবন চলে গেল...
পুড়ে যাওয়া ঘরের ছাই ঘেঁটে তাকে খুঁজতে।
কত ছোট দেখাচ্ছিল তাকে।
এক কোণে গুটিসুটি হয়ে পড়ে ছিল, যেন তার সত্তার অনেকটাই হারিয়ে গেছে।
কিন্তু স্বপ্নের মাঝেও জানতাম,
সে তখনও বেঁচে ছিল।
কারণ, জীবনের প্রদীপটা নেভার আগ পর্যন্ত...
সে তার দুহাত দিয়ে...
আমাদের সন্তানদের আগলে রেখেছিল।
র্যানডল্ফ...
...আমি।
মানুষ রবিন হুডকে নিয়ে কথা বলে।
তার গল্প শোনায়।
ওগুলো সবই মিথ্যা।
অনেক আগের আমারই ছড়ানো কিছু মিথ্যা।
যাতে বোকারা...
অন্ধকারের মাঝে আমাকে অনুসরণ করে।
রবিন।
ওরা আপনার এ কী অবস্থা করেছে!?
ভয় নেই।
এখান থেকে আমি আপনাকে উদ্ধার করব।
লিটল মার্গারেটকে উদ্ধার করব।
তারপর একসাথে নতুন জীবন শুরু করব।
এডওয়ার্ড...
তোমার স্ত্রীর সম্পর্কে বলো।
আমার স্ত্রী।
মার্গারেট।
মার্গারেট।
আমার স্ত্রী, মার্গারেট।
বর্ণনা দেও তার।
বর্ণনা দিবো?
তার চুলগুলো ছিল...
অস্তগামী...
সূর্যের মতো লাল।
ঠিক গ্রীষ্মের অস্তগামী সূর্যের মতো লাল।
গ্রীষ্মের...
অস্তগামী সূর্যের মতো...
লাল।
রবিন...
অবশেষে সম্মানজনক মৃত্যু কি খুঁজে পেলেন?
আমি মৃত্যুর জন্য প্রস্তুত।
এই জীবনটার জন্য আমি আপনার কাছে ঋণী।
যদিও জীবনটা দুর্বিষহ।
কিন্তু চাইলেই মেরে ফেলতে পারতেন আমাকে।
আমার কাছে কোনো ঋণ নেই তোমার।
এর আগে কখনও কারো প্রাণ নেইনি।
আহ।
কাজটা ফুল ছেড়ার মতোই সহজ।
কিন্তু, এরকমটা হওয়া উচিৎ না।
হ্যাঁ, উচিৎ না।
কিন্তু সম্ভব।
এই দ্বীপে আসা সবাইকে আমি সাহায্য করি।
সুস্থ করে তুলি।
দয়া করো।
সুস্থ করে তুলো আমাকে।
লিটল মার্গারেট...
তোমার বাবার নাম ছিল জন।
অনেক বছর ধরেই তাকে চিনি।
তোমার বাবা হওয়ারও আগ থেকে।
একদিন...
খরস্রোতা নদীর ওপর..
সেতু পার হওয়ার সময় দেখা হয়েছিল তার সাথে।
ভীষণ একগুঁয়ে ছিল সে।
হার মানত না কখনও।
ওহ, কারো কাছে না।
এমন কি আমার কাছেও না।
তা, আমরা কুস্তি লড়েছিলাম।
সেতুর ওপরেই।
মারতে থাকলাম একে অপরকে।
তারপর, তার মাথার এক পাশে সজোরে বাড়ি মারলাম।
সে আমার পেটে ঘুষি মারল।
আমি টলমল করতে থাকলাম।
তারপর হঠাৎ, ধপ!
ধাক্কা দিয়ে নদীতে ফেলে দিলো আমাকে।
পাড়ে উঠার পর,
একদম হাড় পর্যন্ত ভিজে একসার,
আমরা একে অপরকে জড়িয়ে ধরলাম।
তোমার বাবাকে আমরা...
লিটল জন বলে ডাকতাম।
আর আমরা বহু বছর ধরে, সবুজ বনে...
ডাকাতি করে বেঁচে ছিলাম।
ওহ, একসাথে প্রচুর খাওয়া-দাওয়া করতাম।
আমরা...
ডাকাতি করা রূপাগুলো...
অসহায়দের মাঝে বিলিয়ে দিতাম।
না...
যদিও চুরির রূপা ছিল।
কিন্তু চুরি করতাম...
খারাপ লোকদের কাছ থেকে।
বুঝেছ?
বদ লোক।
তোমার বাবা...
চেয়েছিল, আমি যেন এই কথাটা তোমাকে বলি...
কারণ সে তোমাকে খুব বেশি ভালোবাসত।
কথাটা যেন কাক-পক্ষীও না জানে।
খেলার সাথীদের সাথেও বলবে না কখনও।
কখনও তোমার বাবার নামটা মুখে আনবে না।
দুনিয়ায় অনেক খারাপ লোক আছে।
তারা তোমার বাবার উপর রেগে আছে।
তোমার উপরেও রেগে আছে।
কথাগুলো গোপন রাখতে পারব তো?
আমি গোপন রাখতে পারব, লিটল মার্গারেট।
তুমি পারবে তো?
ভালো।
কাছে এসো।
নেও।
তার নাম "লিটল" ছিল কেন?
কী?
বাবাকে "লিটল" ডাকা হতো কেন?
কারণ, যখন তাকে পেয়েছি, তখন সে খুব ছোট্ট ছিল।
ঠিক তোমার মতো।
বেঁধে নেও।
আমার মতো পা দিয়ে এটাকে বাঁকা করো।
হয়েছে।
এখন, জানালার কাছে যাও।
এখন,
ধনুকে তীরটা ধরো।
লক্ষ্য স্থির করো।
যেখানে সাগর মিলেছে আকাশের সাথে।
তীরটাকে মুখের কাছে টেনে আনো।
ধরে রাখো।
কখন ছাড়তে হবে বলব।
আর বললে...
ছেড়ে দিও না।
শুধু আর ধরে রেখো না।
এখন।
লক্ষ্যের দিকে তাকাও।
তোমার শরীর সারাক্ষণ নড়তে থাকবে।
তীরটা সঠিক লক্ষ্যের দিকে ছুটে যাওয়ার সময় অনুভব করবে।
তখন একটা ছন্দ খুঁজে পাবে।
না বলা পর্যন্ত ধরে রাখো।
তুমি শক্তিশালী।
অনুভব করো...
সেই দুলুনিকে,
সেই ছন্দকে।
এবার ছেড়ে দাও।
Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.