Afrikaans
Akan
Albanian
Amharic
Arabic
Armenian
Azerbaijani
Basque
Belarusian
Bemba
Bihari
Bosnian
Breton
Bulgarian
Cambodian
Catalan
Cebuano
Cherokee
Chichewa
Chinese (Simplified)
Chinese (Traditional)
Corsican
Croatian
Czech
Danish
Dutch
English
Esperanto
Estonian
Ewe
Faroese
Filipino
Finnish
French
Frisian
Ga
Galician
Georgian
German
Greek
Guarani
Gujarati
Haitian Creole
Hausa
Hawaiian
Hebrew
Hindi
Hmong
Hungarian
Icelandic
Igbo
Indonesian
Interlingua
Irish
Italian
Japanese
Javanese
Kannada
Kazakh
Kinyarwanda
Kirundi
Kongo
Korean
Krio (Sierra Leone)
Kurdish
Kurdish (Soranî)
Kyrgyz
Laothian
Latin
Latvian
Lingala
Lithuanian
Lozi
Luganda
Luo
Luxembourgish
Macedonian
Malagasy
Malay
Malayalam
Maltese
Maori
Marathi
Mauritian Creole
Moldavian
Mongolian
Myanmar (Burmese)
Montenegrin
Nepali
Nigerian Pidgin
Northern Sotho
Norwegian
Norwegian (Nynorsk)
Occitan
Oriya
Oromo
Pashto
Persian
Polish
Portuguese (Brazil)
Portuguese (Portugal)
Punjabi
Quechua
Romansh
Runyakitara
Russian
Samoan
Scots Gaelic
Serbian
Serbo-Croatian
Sesotho
Setswana
Seychellois Creole
Shona
Sindhi
Sinhalese
Slovak
Slovenian
Somali
Spanish
Spanish (Latin American)
Sundanese
Swahili
Swedish
Tajik
Tamil
Tatar
Telugu
Thai
Tigrinya
Tonga
Tshiluba
Tumbuka
Turkish
Turkmen
Twi
Uighur
Ukrainian
Urdu
Uzbek
Vietnamese
Welsh
Wolof
Xhosa
Yiddish
Yoruba
Zulu
শোনো। একই ভুল যেন আর না হয়। ও বেঁচে আছে নাকি মরে গেছে, নিশ্চিত না হয়ে ওখান থেকে বেরোবে না। ♪ রাতের বুকে এঁকেবেঁকে চলে... ♪ ♪ এক ছায়া-সাপ ♪ ♪ এই পৃথিবী... ♪ ♪ এক প্রহেলিকা ♪ ♪ জিভের ডগায় ♪ ♪ থরথর কাঁপন... ♪ ♪ এক চঞ্চল পতঙ্গ ♪ ♪ চমকে ওঠা ♪ ♪ আর বিভ্রান্ত ♪ ♪ আত্মাকে খুবলে খায়... ♪ ♪ যেন জোয়ালে বাঁধা বলদ ♪ ♪ যেন ক্লান্ত, হালচাষ করা বলদ ♪ ♪ সুপ্ত শিরা-উপশিরা চিরে... ♪ ♪ আমরা পথ কেটে নেব ♪ ♪ অদেখা সব ফাটল দিয়ে... ♪ ♪ তোমার রক্তমাংসে মিশে যাই ♪ ♪ এই উন্মাদনার আকাশে ♪ ♪ নতুন ডানায় ভর করে ♪ ♪ ডাইনোসরের মতো... ♪ ♪ আমরা ডানা মেলি! ♪ ♪ রূপ নিয়ে রূপ বদলাই... ♪ ♪ সকল জীবিত আর মৃতের শরীরে ♪ ♪ ঝরে পড়ে ধ্বংস হই... ♪ ♪ নির্মম নিয়তির অতল গহ্বরে ♪ ♪ অগণিত অতৃপ্ত আত্মা... ♪ ♪ ধার করা শরীরে ♪ ♪ ভর করে... ♪ ♪ ছুটে চলে অন্ধ আতঙ্কে ♪ ♪ পৃথিবীর বুকে ঘুরে মরব... ♪ ♪ সর্বহারা হয়ে! ♪ ♪ ছিন্নভিন্ন লেজ নিয়ে... ♪ ♪ আমরা পথভ্রষ্ট! ♪ ♪ অদেখা সব সত্যের ভিড়ে... ♪ ♪ শেষে জমে পাথর হব ♪ ♪ এই উন্মাদনার আকাশে ♪ ♪ আজ ডানাহীন হয়ে ♪ ♪ ডাইনোসরের মতো... ♪ ♪ আমরা হারিয়ে যাব! ♪ "উন্মাদম" (উন্মাদনা) রোল সাউন্ড... সাউন্ড রোলিং। ক্যামেরা স্টার্ট। ক্যামেরা রোলিং। অ্যাকশন! ক্যামেরা টিল্ট আপ। আস্তে আস্তে। ফেস এন্ট্রি। কাট। ভ্যানটা সরাও। ওই ল্যাম্প স্ট্যান্ডটা সরাও। কুমার, লাইটটা তাড়াতাড়ি ঠিক করো। বালির বস্তাটা নিয়ে এসো। শট ওকে। স্যার, এটা কি ঠিক আছে? * এটা কেমন?
* কোনটা?
গল্পটা বেশ ভালো। কিন্তু আমি ঠিক যেরকম খুঁজছি, সেরকম না। তাছাড়া, ইংরেজি সিনেমার প্রভাব একটু বেশিই মনে হচ্ছে। তবে সত্যি বলতে... আপনার লেখা, চরিত্রগুলো, তাদের আর্ক আর সিনগুলো সবই দারুণ হয়েছে। * শট রেডি।
* ঠিক আছে, শুরু করা যাক।
স্যার, আপনি তো পুলিশে আছেন, তাই না? যদি কোনো ভালো পুলিশের গল্প থাকে... * তখন আমরা আলোচনা করতে পারি।
* আচ্ছা, স্যার।
কী হলো? চলো যাই। * গিয়ে কলটা ছাড়ো।
* আচ্ছা।
তুইও ওর সাথে যা। কাঁদিস না... কিছু হয়নি, কাঁদিস না... তোরা! এখনও ওটা ব্যবহার করতে শিখিসনি? মা, গায়ে পানি ছিটকে গেছে! হয়েছে আর ন্যাকামি করতে হবে না! ভেতরে যা। সৌম্যা, ট্যাংকি খালি হয়ে গেছে। মোটরটা চালাব? রিমি, তুমি তো সারাদিন বসেই ছিলে। তোমার তো আর কাজ নেই। আমি এইমাত্র অফিস থেকে এলাম। আমার শেষ হলে চালিয়ো। তুমি একাই যেন চাকরি করো। আরেকজন তো কোনো কাজকাম না করে সারাদিন ঘরেই বসে ছিল। * ভেতরে যা!
* দৌড়া, তাড়াতাড়ি!
* বাবা!
* হ্যাঁ।
আজকে না আমাদের স্কুলে একটা সাপ ঢুকেছিল। * বাবা, আজকে আমার বন্ধু...
* আমাকে বলতে দে।
* না, আমি বলব...
* আমি বলব!
* না, আমি বলব!
* ইউনিফর্ম ভেজা কেন?
মেঝেতে পানি ফেলিস না। গিয়ে বদলে আয়। তোমাকেও কি আলাদা করে বলতে হবে? হ্যাঁ, চালবাজি করো। পরে ঠিকই আমার কাছে আসা লাগবে। যাও। করো যা ইচ্ছা। মিটিং কেমন হলো? লেখাটা ওনার পছন্দ হয়েছে... চরিত্রগুলোও ভালো লেগেছে। কিন্তু গল্পটা না। অন্য আরেকটা লিখে নিয়ে যেতে বলেছেন। মুখে সরাসরি গল্প খারাপ বলতে পারেনি, তাই বাহানা বানিয়েছে। এবার অন্তত বোঝার চেষ্টা করো। এক বছরের বেশি হয়ে গেল তুমি কাজে যাওয়া বন্ধ করে বিনা বেতনে সিনেমার পেছনে ছুটছ। সিনেমাতে সফল হওয়ার আগে সবাইকেই তো স্ট্রাগল করতে হয়। আমার বাবা আমাকে একটা পুলিশ অফিসারের কাছে বিয়ে দিয়েছিল... কোনো সিনেমা লাইনের লোকের কাছে নয়। তুমি তোমার সিনেমা নিয়েই থাকো। আমাকে আমার মতো যেতে দাও। বাচ্চাদের আমি যেভাবে হোক মানুষ করে নেব। অনেক সহ্য করেছি আমি। আমার লক্ষ্মী সৌম্যা। অন্তত নামের মতো একটু শান্ত হও। * পুরো ব্লকের মানুষ শুনবে তো। - রিমি।
আমার আরও কাজ আছে। আর কোনো কাপড়চোপড় আছে? না, আর নেই। আমি মেলে দিচ্ছি। আরে লাগবে না। আমিও আসছি। শুনুক সবাই। এই কোয়ার্টারে আমি আর কারও সামনে মুখ দেখাতে পারি না। তোমার বোকামির জন্য মানুষ এমনিতেই আমাকে দোষ দেয়। যদি আবার সিনেমার পেছনে ছোটো, বাচ্চাদের মেরে আমিও মরব। তাহলে যদি তোমার শিক্ষা হয়। * এদিকে দে!
* না, এটা আমার!
চিৎকার বন্ধ কর! আমি যদি ওখানে আসি, দুজনেরই খবর আছে। যা, ইউনিফর্ম বদলা গে। নাহলে সারাদিন ঘ্যানঘ্যান করবে। - যা, কাপড় বদলে আয়। * সৌম্যা তো রেগে আগুন।
শেলি লোকটা বড্ড বেশি ভালোমানুষ। আমাকে চাকরিও করতে হয়, আবার ঘরের সব কাজও সামলাতে হয়। কী পাপ করেছিলাম যে তোমার মতো মানুষের কপালে পড়লাম। রিমি, আর কোনো কাপড় আছে? সুমেশ স্যারের থেকে কিছু শেখো। * অ্যাঁ?
* উনি অফিসও করেন...
আবার বাড়ি ফিরে রিমির অন্তর্বাস পর্যন্ত ধুয়ে দেন। কথাটা হয়তো বলা উচিত হয়নি, তাই না? দয়া করে চেঁচামেচি বন্ধ করো। আমি সব ছেড়ে দিচ্ছি। কালকেই আবার চাকরিতে জয়েন করছি। লেখার জায়গায় যদি অভিনয় করতে... এতদিনে অস্কার পেয়ে যেতে। আমি তোমাকে লেখালেখি ছাড়তে বলছি না। চাকরিটা রেখে কি লেখা যায় না? নিচ থেকে সবাই তাকিয়ে দেখছে। তাই নাকি? কী ব্যাপার, সবাই এভাবে দাঁড়িয়ে আছেন কেন? কোনো সমস্যা? চলুন, যাওয়া যাক। সকালে একটু শরীরচর্চা করবেন। তারপরে তো ঘরের কাজ করবেন, স্যার। * কাল রাতে ডিউটি ছিল নাকি, স্যার?
* অফিসে যাবেন না?
ব্যাগটা নাও, চলো। * বাবা...
* রেডি?
* আসি।
* আচ্ছা, টাটা।
আমার সাথে গেলে তাড়াতাড়ি রেডি হও। আটটার মধ্যে আমাকে ইউনিটে রিপোর্ট করতে হবে। আমার বাইকটা গ্যারেজে পড়ে আছে। নাহলে তোমাকে আর বিরক্ত করতাম না। আরে ও কথা না। তোমার মতো এভাবে বকা খাওয়ার অভ্যাস তো আমার নেই। আমাকে ঠিক সময়ে কাজে পৌঁছাতে হবে। ওই মন্দিরটা একেবারে ভেঙে পড়েছিল। মেনন ওটাকে আগের রূপ ফিরিয়ে দিয়েছেন। ওনার হাসিটাও ঠিক তেমনই উজ্জ্বল। * সাথে কিছু টাকা আছে?
* অ্যাঁ?
যদি জানতে পারি এই টাকা দিয়ে সিগারেট কিনেছ... আচ্ছা। এবার আমাদের আরও ফোর্স লাগবে, নাহলে সামলানো যাবে না। ঝামেলার শেষ নেই। সবাই বাইরে এসো তো! দেখো শেষমেশ কে এসেছে! আহা! কী খবর? শুনলাম মাম্মুট্টি আর মোহনলাল নাকি অভিনয় ছেড়ে দিয়েছে, কারণ তুমি নাকি ওদের সিনেমায় নাওনি! কী বিশাল পরিচালক রে বাবা! একবারে পাঁচ বছরের ছুটি নিয়ে নিলেই পারতে? অন্তত অন্য কাউকে পোস্টিং দিত। উনি যান মেডিকেল লিভে, আর আমাদের দ্বিগুণ খাটতে হয়। স্যারের ব্যাগটা ভেতরে নিয়ে যাও। থানার এরিয়া নিশ্চয়ই ভুলে গেছ। ওঠো। এক চক্কর ঘুরে আসি। চলো। শেলি স্যার? আমি যেটা বলেছিলাম, মনে আছে তো? কোন ব্যাপারে? ওই যে আমার মেয়েকে সিনেমায় নামানোর ব্যাপারে। তাহলে স্টেজ শোতেও বেশি টাকা পাবে। সেজন্যই ওনাকে বলেছিলাম, স্যার। উনি তো অনেকগুলো স্ক্রিপ্ট লিখেছেন। নিশ্চয়ই ওকে একটা রোল পাইয়ে দেবেন। শোনো, ভাই... কিছুদিন আমি সিনেমার পেছনে ছুটেছিলাম, সত্যি। খুব চেয়েছিলাম। অনেক চেষ্টাও করেছি, কিন্তু হয়নি। আমি ওসব ছেড়ে দিয়েছি। আমাকে দিয়ে আর হবে না। ঈশ্বরের দোহাই, এই নিয়ে আমার কাছে আর এসো না। জমিখেকো সরকার নিপাত যাক! পদত্যাগ করো! গদি ছাড়ো! আমাদের দাবি মানতে হবে! তুমি কি জানো... কলেজে পড়ার সময়, আমি ইউনিভার্সিটিতে সেরা অভিনেতা হয়েছিলাম। সিনেমাতেও ট্রাই করেছিলাম। কিন্তু হলো না। তোমার একটা জিনিসে আমার খুব হিংসে হয়। তুমি অন্তত এখনো স্বপ্নের পেছনে ছুটছ। স্যার। ও এইসব করতে খুব ভালোবাসে। আপনার সামনে একটু ভাব নিচ্ছে আরকি, স্যার। হ্যালো। কোথায় তুমি? এই যে দেখো, আমি ইউনিটেই আছি। এবার শান্তি তো? রাস্তার পাশেই ছিলাম। ভাবলাম তোমাকে একটা ফোন করি। বুঝেছি। আজকে কার পরকীয়া ধরতে গিয়েছিলে? ওদের ছেড়ে দিলেন কেন, স্যার? দুটো সংসার ভেঙে আমাদের কী লাভ? ওঠো। শেলি, একটা অভিযোগ এসেছে। প্রতিবেশীদের ঝামেলা। গিয়ে একটু দেখে এসো। * আচ্ছা, স্যার।
* চলো।
দাক্ষায়ণীআম্মা? আমিই দাক্ষায়ণীআম্মা, স্যার। * একটা অভিযোগ ছিল?
* হ্যাঁ, আমিই অভিযোগ দিয়েছিলাম।
এখানে শুধু আমি আর আমার বিয়ের বয়সী মেয়েগুলো থাকি। আমার স্বামী তো বহু বছর আগে মারা গেছেন। ওই বাড়ির বুড়োটা, এই বেড়ার কাছে চলে আসে... এখানে এসে পেচ্ছাপ করে আর লুঙ্গি তোলে। চোখে আর দেখা যায় না। মেয়েদের নিয়ে আমি এখানে কীভাবে থাকব? স্যার, একটু গিয়ে দেখে আসুন না। বাড়িতে আর কে আছে? ওর ছেলেমেয়ে আছে। তবে সবাই বাইরে থাকে। ওর যা স্বভাব, দূরে থাকাই তো স্বাভাবিক। * আমি গিয়ে দেখছি।
* হ্যাঁ, দয়া করে একটু দেখুন।
* স্যার...
* হুম?
ওই টিনের পাতটা সরালেই ওদিক দিয়ে যাওয়া যাবে। * ওই দিক দিয়ে?
* গাছের তলা দিয়ে একটা রাস্তা আছে।
চলে যেতে পারবেন। বেলটা বাজান স্যার, ও ভেতরেই আছে। ভেতরেই আছে নিশ্চিত। আপনি ওই বেড়ার কাছে গিয়ে পেচ্ছাপ করেন কেন? ওখানে তো শুধু মহিলারাই থাকে। স্যার, আমাকে দেখে কি সেরকম লোক মনে হয়? ওরা বারবার আমার উঠান থেকে নারকেল চুরি করে। তাই আমি ওদের বিরুদ্ধে থানায় নালিশ করেছিলাম। এগুলো তারই প্রতিশোধ। আরে, এ কী... ভাই... কী হলো? কেউ সাহায্য করো! ভাই... এই যে, দিদি... ভাই... দিদি! * ভাই, চোখ খোলো।
* ওরে বাবারে...
সর্বনাশ... লোকটাকে মেরেই ফেলল! ওর কেউ নেই বলে, যা খুশি তাই করবেন নাকি? আমরা কিন্তু এটা ছেড়ে দেব না। স্যার, তর্ক করবেন না। ওই পুলিশটা এসে অত্যাচার করেছে বলেই লোকটা মরে গেল। ইনকোয়েস্ট হয়ে গেছে। শরীরে কোনো আঘাতের চিহ্ন নেই। আপনারা তো নিজেরাই দেখলেন। মানসিক চাপেও মানুষের হার্ট অ্যাটাক হতে পারে। আপনাদের তদন্ত করতে হবে। একটু শান্ত হোন। পোস্টমর্টেম রিপোর্টটা আসতে দিন। তারপর দেখা যাবে। পোস্টমর্টেম রিপোর্টে আপনারা যা ইচ্ছা তাই লেখাতে পারেন। আপনাদের তো এটা নতুন কিছু না। কাস্টডিতে নিয়ে পিটিয়ে মারা। বড় অফিসাররা কোনো ঝামেলা না বাঁধিয়ে মেটানোর চেষ্টা করছেন। আসলে কী হয়েছিল, দিদি? আমরা ভেবেছিলাম উনি কমিউনিটি পুলিশ অফিসার, ভদ্রভাবে কথা বলবেন। যেভাবে লোকটাকে জেরা করছিল... সুস্থ মানুষও ভয়ে হার্টফেল করে মারা যাবে। আর ওই নিরীহ মানুষটা, কী আর বলব... সৌম্যা... হুম? রাগ কোরো না। তোমাকে একটা কথা বলার ছিল। সিনেমার ব্যাপার হলে বোলো না। আমি কিন্তু রেগে যাব। কাল হয়তো আমি সাসপেন্ড হতে পারি। কী হয়েছে? একটা অভিযোগ খতিয়ে দেখতে গিয়েছিলাম। এক বৃদ্ধ লোক আমাকে দেখে ঢলে পড়ে মারা গেল। কিন্তু তোমাকে সাসপেন্ড করবে কেন? তুমি তো কোনো ভুল করোনি। ওরা বলছে পুলিশের মানসিক অত্যাচারের জন্য হয়েছে। এলাকার লোকজন অ্যাকশন কাউন্সিল গড়ে তুলেছে। তুমিই তো বলতে যে পুলিশরা কাজ করে শুধু তারাই নাকি সাসপেন্ড হয়? যাই হোক, মাত্র ছ'মাসের ব্যাপার। তুমি আরেকটা গল্প লিখতে পারবে। কে? সিআই স্যার। হ্যাঁ, স্যার? স্যার। স্যার। ধন্যবাদ, স্যার। স্যার। পোস্টমর্টেম রিপোর্ট এসে গেছে। মৃত্যুর কারণ নাকি কিডনি ফেইলিউর। তাই আমি বেঁচে গেছি। কিন্তু পানিশমেন্ট ট্রান্সফার করে দিয়েছে। এসপি অ্যাকশন কাউন্সিলকে শান্ত করতে এটা করেছে। যাই হোক, ভালোই হয়েছে। অন্তত আমাকে আর "চিত্রনাট্যকার" বলে খোঁচা শুনতে হবে না। যখন জেগে ওঠাই গেল, পাশের ঘরে যাই? হ্যাঁ। কোন থানায় ট্রান্সফার হয়েছে? কোঙ্গাড়ে। তোমার জোশি স্যার যেখানে আছে, তাই তো? হ্যাঁ। শোনো... ওর সাথে মিলে যদি লোন নিয়ে শর্ট ফিল্ম বানাতে গেছ... খোদার কসম, আমি তোমাকে মেরেই ফেলব। আহা, এখন আর মেজাজটা নষ্ট কোরো না। ফোন তুলছিলে না কেন? বাইক চালাচ্ছিলাম। এসো। এটা একটু ধরো তো। বাবার শ্রাদ্ধের কাজ শেষ হয়েছে? না। টাকা ধার দেওয়ার আগে কোনো বন্ধুকে দিয়ে কে সই করা ব্ল্যাংক চেক লিখিয়ে নেয়? স্যারের কাছে সত্যিটা বলো। বেশি চালাকি করবে না। স্যার, ওরাই নিজে থেকে দিয়ে বলেছিল শুধু সিকিউরিটির জন্য রাখা। দেখি তো। স্যার, চেকটা তো ওই মহিলার নামে। সতীশ আর ওর পরিবার এক সপ্তাহ ধরে নিখোঁজ। গুণ্ডা নিয়ে গিয়ে ওদের বাড়িতে কী কাণ্ড ঘটিয়েছ, আমার সব জানা আছে। সতীশ বা ওর পরিবারের যদি কিছু হয়ে থাকে... তার ফল তোমাকে ভুগতে হবে। * এবার যাও।
* চল। বেরো।
স্যার, আমি ডিউটিতে জয়েন করতে এসেছি। * মুখে দাড়ি কেন?
* শেভিং রেস্টে আছি, স্যার।
স্যার, আমরা একই ব্যাচের। শেলি কিন্তু স্ক্রিপ্টও লেখে। রোড সেফটি নিয়ে আমি যে শর্ট ফিল্মে অভিনয় করেছিলাম, শেলিই ওটা ডিরেকশন দিয়েছিল। এই থানায় আমার সিনেমা লাইনের লোক চাই না। আমার এমন পুলিশ চাই যারা কাজ করবে। এমনিতেই আমাদের এখানে লোকের টানাটানি। সিনেমায় কাজ করার জন্য ছুটি চাইতে কিন্তু আসবে না। * এটা রাইটারকে গিয়ে দাও।
* স্যার...
ঈশ্বরের দোহাই, আমার এই ছ্যাঁচড়া সিনেমার কথা আর ঢাকঢোল পিটিয়ে বোলো না। আরে ভাই... তোমাকে যাতে একটু সমীহ করে, সেজন্যই তো বললাম। হ্যাঁ, বিশাল সমীহ পেয়েছি। ওটা দাও আমাকে। স্যার... পানিশমেন্ট ট্রান্সফার কেন হলো? এক লোক আমাকে দেখে ঢলে পড়ে মারা গিয়েছিল, স্যার। তোমাকে দেখে? তাই নাকি? কোন ব্যাচ তোমার? ২০০৫ পালঘাট ব্যাচ। আর হেড কনস্টেবলের পরীক্ষা দাওনি? না, স্যার। এই থানায় যদি টিকে থাকতে চাও, পরের পরীক্ষাটা অবশ্যই দেবে। এখানে তোমার কোনো চালাকি চলবে না। এমনিতেই আমাদের লোকের অভাব, জিডি এন্ট্রি পর্যন্ত করতে পারছি না। আলমারি থেকে বায়ো-ডাটা রেজিস্টার খাতাটা নিয়ে এসো। স্যার, এই খাতাটা? আমি কি এই খাতাটা চেয়েছিলাম?! তাহলে ওটায় হাত দিতে গেলে কেন?! আমাকে পাগল বানাতে চাও? তুমি কি আহাম্মক? খাতাও চিনতে পারো না? এতদিন পর একটু শান্তিতে ছিলাম। জানিস ওই ফাইলে যারা হাত দিয়েছিল তাদের কী দশা হয়েছিল? কত পুজো-আচ্চা করিয়ে তবে ওই অভিশাপ কাটিয়েছি। তোর এই বোকামির জন্য এখন কী সর্বনাশ হতে চলেছে * কোনো ধারণা আছে তোর?!
* স্যার,
বাইরে একটা মারাত্মক এক্সিডেন্ট হয়েছে। লোকটা বোধহয় স্পট ডেড। আমার তো শিফট শেষ। তুমি ঝামেলা পাকিয়েছ, এবার তুমিই সামলাও। যাও! দাঁড়িয়ে আছ কেন? যাও! ভিড় জমাবেন না! এবার শান্তি তো? কী যন্ত্রণা রে বাবা! কী দেখছিস? তোল ওকে! ওই ফাইলে হাত দিয়েছে, আর এখন একেবারে থ মেরে গেছে। ওই ফাইলে হাত দিতে গেলে কেন? আমি আবার কী করলাম? আমি কী করে জানব ওটার ভেতর কী আছে? ওটাতে হাত দেওয়ার পর থেকেই সবাই আমার ওপর চড়াও হচ্ছে। ছ'বছর আগে, রেললাইনে একটা মেয়ের লাশ পাওয়া গিয়েছিল। তদন্তে খুনের কোনো প্রমাণ না মেলায়, ১৭৪ ধারায় কেসটা বন্ধ করে দেওয়া হয়। তারপর থেকেই, যে-ই ওই ফাইল ছোঁবে সে-ই কোনো না কোনো বিপদে পড়বে। হয় পুলিশ অফিসার সাসপেন্ড হয়, নাহলে পরপর অপঘাতে মৃত্যু শুরু হয়, আর তা-ও যদি না হয়... থানার কোনো না কোনো পুলিশের উর্দি রক্তে ভেসে যায়। রাজেশ, আমি বেরোচ্ছি। আচ্ছা, স্যার। এই, রাইটার অনিল স্যার তোমায় খুঁজছেন। কী ব্যাপার, স্যার? আরেকটা ১৭৪ কেস এসেছে। চারদিনের পুরোনো পচা লাশ। শেলি, বডি পাহারার ডিউটি আছে। হোমগার্ডকে সঙ্গে নিয়ে গিয়ে জিডি কনস্টেবলকে রিলিজ করো। সকাল নাগাদ কেউ একজন গিয়ে তোমাকে রিলিজ করবে। স্যার, আজকেই তো জয়েন করলাম। বাবার কাপড়চোপড়ও আনিনি। তোমার জন্যই এই ঝামেলা শুরু হয়েছে। এখন গিয়ে লাশ পাহারা দাও। শক্ত করে ধরুন। দড়ি দিয়ে বাঁধুন! স্যার... আত্মীয়স্বজন আর পাড়ার লোকজন সব চলে গেছে। এখানে যা গন্ধ, দাঁড়ানো যাচ্ছে না। আমরা কি ওই দিকটায় গিয়ে বসতে পারি? আসুন। স্যার... কিসের শব্দ ওটা? মাঝরাতে কী সব ডিউটি যে জোটে! স্যার... ভেতরে কিসের যেন আওয়াজ হচ্ছে। বোধহয় গন্ধগোকুল হবে, স্যার। তাই নাকি? স্যার... গন্ধটা অসহ্য হয়ে উঠেছে। আগরবাতিও সব শেষ হয়ে গেছে। বারান্দায় কিছুটা রাখা ছিল। কী? আমাকে বারান্দায় যেতে বলছেন? স্যার, একা যাবেন না, স্যার। আর্মিতে কোথায় পোস্টিং ছিল তোমার? বেশিরভাগ সময় কাশ্মীরেই ছিলাম। মড়ার লাশ দেখে ভয় পাচ্ছ, আর ওদিকে নাকি বর্ডারে পাহারা দিয়েছ? স্যার, ভূত-প্রেতের ব্যাপার তো আর মানুষের মতো নয়। ধুর! যতসব ভূতের আজগুবি গল্প! যদি ভয়ের কিছু নাই থাকবে, তাহলে থানার পুলিশরা ওই ফাইল দেখে এত ভয় পায় কেন? এক ডিওয়াইএসপিও আপনার মতোই বড় বড় কথা বলতেন। জানেন ওনার কী হয়েছিল, স্যার? [পুলিশের ড্রিল কমান্ড] কটা এলপি ওয়ারেন্ট বাকি আছে? উনিশটা, স্যার। ডিউটি নিয়ে কারও কোনো ক্ষোভ বা অভিযোগ আছে? সবাই মনে করছে থানায় একটা পুজো দেওয়া দরকার। পুজো? থানায় পুজো? স্যার, এখানে তিন বছর আগের একটা পুরোনো ১৭৪ কেসের ফাইল আছে। যে-ই ওটা স্পর্শ করে, থানায় কোনো না কোনো অমঙ্গল ঘটে। কী অমঙ্গল ঘটবে মনে করো? স্যার, অফিসাররা সাসপেন্ড হয়ে যান। শুধু তা-ই নয়, থানায় ১৭৪ কেসের বন্যা বয়ে যায়। কম করে হলেও কারও না কারও উর্দি রক্তে ভিজে যায়। লজ্জা করে না তোমাদের? একবিংশ শতাব্দীতে দাঁড়িয়ে এসব কুসংস্কার টানছ? তোমাদের মতো লোকেদের এই উর্দি পরার কোনো যোগ্যতাই নেই। এটা শুধু আমার একার অভিজ্ঞতা নয়, স্যার। এখানে সবাইকে জিজ্ঞেস করে দেখতে পারেন। নিয়ে এসো তো ফাইলটা। স্যার, আমার মনে হয় না ওটা আনা ঠিক হবে। ফাইলটা নিয়ে এসো বলছি! যাও। আজকে আমি ওই ফাইলে হাত দিতে পারব না, স্যার। দক্ষা... গিয়ে ফাইলটা নিয়ে আয়। স্যার... [ভিড়ের পুলিশ-বিরোধী স্লোগান] আইএফপিএ জিন্দাবাদ! আইএফপিএ জিন্দাবাদ! হুশিয়ার! হুশিয়ার! হুশিয়ার! পুলিশের দালালেরা, হুশিয়ার! এটাই হলো ওপেনিং সিন। ওপেনিং সিনটা তো ঠিকই আছে। কিন্তু এরপর গল্প কোন দিকে যাবে? একজন পুলিশ অফিসার, যে স্ক্রিপ্টরাইটার হওয়ার স্বপ্ন দেখে, সে এই ফাইলের তদন্ত শুরু করে আর সেটাকে একটা চিত্রনাট্য বানানোর চেষ্টা করে। বেশ আকর্ষণীয় তো। তুমি এক কাজ করো। একটা ওয়ান-লাইন সিনপসিস রেডি করো। তারপর সেখান থেকে বাকিটা দাঁড় করাব। * আচ্ছা।
* আচ্ছা। ধন্যবাদ।
♪ বহুদূরে... বহু দূরে... ♪ ♪ ও কি তবে মায়াবী সেই স্বর্ণমৃগ? ♪ ♪ যে অরণ্যে কেউ পা বাড়ায়নি কভু ♪ ♪ অজানা সেই নিষিদ্ধ পথ ধরে ♪ ♪ তবু যখন কাছে যাই অবশেষে ♪ ♪ সে কি কোনো অসহায় অনাথিনী... নাকি মরীচিকার ছায়া? ♪ ♪ তবু যখন কাছে যাই অবশেষে ♪ ♪ সে কি কোনো অসহায় অনাথিনী... নাকি মরীচিকার ছায়া? ♪ ♪ এমন এক উপাখ্যান যা কেউ শোনেনি কভু ♪ ♪ এমন এক রূপকথা কোনো দেশে যার ঠাঁই নেই ♪ ♪ এমন এক ফিসফাস কোনো কান যা শোনেনি ♪ ♪ রাতের আঁধারে মোড়া এক অলীক ছায়া ♪ ♪ কে জানে কোথা থেকে তার শুরু আর কোথায় বা তার শেষ? ♪ ♪ এ কি শুধুই কোনো জটিল এক ধাঁধা? ♪ ♪ বহুদূরে... বহু দূরে... ♪ ♪ ও কি তবে মায়াবী সেই স্বর্ণমৃগ? ♪ ♪ যে অরণ্যে কেউ পা বাড়ায়নি কভু ♪ ♪ অজানা সেই নিষিদ্ধ পথ ধরে ♪ বাবুর্চি বাইরে দাঁড়িয়ে আছে টাকার জন্য। বলে দাও কালকে দেব। তুমি নিজেই গিয়ে বলো। সোসাইটি আমাদের ধান কিনেছে কি না, তা তো আর বাবুর্চি জানে না। সংসারের খরচে তো আর অন্য কেউ সাহায্য করে না। ♪ ঝড়ের ঋতু এসে সবার চোখে বিছিয়ে দেয় পর্দা ♪ ♪ ধোঁয়াশা ঢেকে দেয় চরাচর নিয়তি নিভৃতে পাতে জাল ♪ ♪ কোথাও যেন অনন্তকাল পাহারা দেয় সর্পদল ♪ ♪ চোখের সামনে যা কিছু ভাসে সবই কি তবে নিছক দৃষ্টিবিভ্রম? ♪ ♪ তবু যখন কাছে যাই অবশেষে ♪ ♪ সে কি কোনো অসহায় অনাথিনী... নাকি মরীচিকার ছায়া? ♪ ♪ এমন এক উপাখ্যান যা কেউ শোনেনি কভু ♪ ♪ এমন এক রূপকথা কোনো দেশে যার ঠাঁই নেই ♪ ♪ এমন এক ফিসফাস কোনো কান যা শোনেনি ♪ ♪ রাতের আঁধারে মোড়া এক অলীক ছায়া ♪ ♪ কে জানে কোথা থেকে তার শুরু আর কোথায় বা তার শেষ? ♪ ♪ এ কি শুধুই কোনো জটিল এক ধাঁধা? ♪ ♪ বহুদূরে... বহু দূরে... ♪ ♪ ও কি তবে মায়াবী সেই স্বর্ণমৃগ? ♪ ♪ যে অরণ্যে কেউ পা বাড়ায়নি কভু ♪ ♪ অজানা সেই নিষিদ্ধ পথ ধরে ♪ দোলনাটা ঘোরাও! হয়েছে? না, হয়নি। আরও জোরে ঘোরাও! আরে, ইনকোয়েস্টের ছবিতে তো তুইও আছিস! সেদিন যে আত্মহত্যার লাশ পাহারা দিতে গেলি, এটা কি সেই কেস? ওটা আত্মহত্যা ছিল না। জমির ঝামেলায় তিন-চারজনে মিলে ওকে খুন করেছে, তারপর ফাঁসি বলে চালিয়ে দিয়েছে। ধুর বাদ দে তো! পোস্টমর্টেম রিপোর্টে পরিষ্কার লেখা ওর ক্যানসার ছিল। এমনকি সুইসাইড নোটেও লিখে গেছে সেজন্যই নাকি আত্মহত্যা করেছে। কোনো ডিরেক্টর যে তোর গল্প নেয় না, তাতে আর অবাক হওয়ার কী আছে! তুই খালি মাথামুণ্ডু ছাড়া লজিকহীন সব গল্প ফাঁদতে থাকিস। চলো যাই। স্যার তো নেই, বাইরে গেছেন। আমি খোঁজ নিয়ে জানাচ্ছি। এই... রতীশ কুমারের সঙ্গে দেখা করে আমাদের থানার ওই ১৭৪ কেসের ফাইলের কথা বলেছিলাম। এই শোন... পুরো কথাটা বলতে দে! গল্পটা ওনার বেশ পছন্দ হয়েছে। যত তাড়াতাড়ি সম্ভব ওয়ান-লাইন লিখে দেখা করতে বলেছেন। আরে, ওটা একটা অপয়া কেস। এর মধ্যে ঢুকতে যাস না। যে-ই ওই ফাইলের পেছনে গেছে, সবাইকেই পস্তাতে হয়েছে। * ওসব তো নিছকই কুসংস্কার, তাই না?
* তাই নাকি?
আগে তো ফাইলটা হাতে পাওয়া দরকার। হয়েছে, আর পেতে হবে না। রাইটার অনিল তো ওটা তালা মেরে যাওয়ার সময় চাবি লুকিয়ে রেখে যায়। যদি জানতে পারে যে ফাইলে হাত দিয়েছি, তাহলে এই থানায় আমাদের দফা রফা হয়ে যাবে। * আরে, আমি—
* শেলি স্যার,
আপনার সাথে দেখা করতে দুজন এসেছেন। স্যার, হাতে মাত্র তিন মাস সময় থাকবে। তাই প্রি-প্রোডাকশনটা এক মাসের মধ্যে শুরু করে দেওয়া দরকার। ঠিক আছে। আমি যাওয়ার আগেই সবকিছু গুছিয়ে নাও। হয়ে যাবে, স্যার। ইনি আইজ্যাক স্যার, প্রযোজক। * নমস্কার।
* নমস্কার।
একটা সুখবর আছে। স্যারের গল্পটা ভীষণ পছন্দ হয়েছে। চার মাসের মধ্যে শুটিং শুরু করতে চান। স্যারের কাছে সৌবিন শাহিরের ডেট আছে। গল্পটা আমি ওনাকেও শুনিয়েছিলাম, ওনাও খুব ভালো লেগেছে। স্যার আজকেই কানাডা ফিরে যাচ্ছেন। আমি থাকি কানাডায় ঠিকই, কিন্তু মনটা পড়ে থাকে সেই কোচিতেই। তাই ভাবলাম যাওয়ার আগে অ্যাডভান্সটা দিয়ে যাই। তাহলে দেওয়া যাক? পূর্ব দিকে মুখ করে দাঁড়ান। শুভ হবে। এই নিন। * শেলি...
* স্যার।
একটু এদিকে এসো তো। অল দ্য বেস্ট। আমি ফোন করব। কী যেন বলছিলি, ওই ফাইলে হাত দিলে কী হয়? কটা শূন্য গুনে দেখ। এক লাখ টাকা?! এই... স্যার। এটার একটা জিডি এন্ট্রি করে নাও। মিনি এখনো আসেনি। আচ্ছা, স্যার। স্যার, আপনার চা। * স্যার, আরেক কাপ চা এনে দেব?
* না।
বাকিটা আমি দেখে নিচ্ছি, স্যার। তোমাদের কি পড়াশোনা নেই? ফোনটা রাখো বলছি। আজকে আমি তোমাদের পড়াব। সৌম্যা, কিছু ফল এনেছিলাম। ওটা কী? গেছে, গেছে! * চুপ কর!
* যায়নি!
* ফোনটা দাও আমাকে।
* বাবা!
গিয়ে পড়তে বসো। বই নিয়ে এসো। ঘরটার কী দশা করে রেখেছ! জানো তোমাদের মা কতটা খাটে ঘরটা পরিষ্কার রাখার জন্য? যাও, টেবিলে গিয়ে বসো। পড়তে বসো। আমি এখনই আসছি। কে-তে কি। কে-তে কিং। কে-তে কাইট। কে-তে কিটেন। এইচ-এ হ্যাট। * এইচ-এ হেন।
* বসে বসে পড়ো।
এইচ-এ হাউস। এইচ-এ হার্ট। সৌম্যা। ধোয়ার মতো আর কোনো কাপড় আছে? আই-তে ইগলু। আই-তে ইঙ্ক। জে... টি-তে টেবিল। টি-তে টাইগার। টি-তে ট্রি। টি-তে ট্রেন। টি-তে টার্টল। কত ধুলোবালি জমেছে। বাবা, পটি পেয়েছে। যাও। আমি না আসা পর্যন্ত ফ্লাশ করবে না কিন্তু। বাচ্চাগুলো ভারী পাজি হয়েছে, তাই না? তোমার মতো অতটা না। কিছু বলার থাকলে সরাসরি বলো। নাটক বন্ধ করো। বাচ্চাদের পড়ানো, ঘরদোর গোছানো... শোনো... ডিরেক্টরের আমার একটা গল্প খুব পছন্দ হয়েছে। উনি আমাকেই লিখতে বলেছেন। এখানেই কি আবর্জনা পোড়াতে হয়? তাহলে আর কোথায় পোড়াব? ধোঁয়ায় সমস্যা হলে জানালাটা বন্ধ করে রাখুন। সিনেমার জন্য যদি আবার ছুটি নিয়েছ, আমি বাচ্চাদের নিয়ে বাপের বাড়ি চলে যাব। উফ্! এসব কী হচ্ছে, সৌম্যা? গায়ে নোংরা পানি ছিটিয়ে দিলে যে! তাহলে কোথায় ফেলব? গায়ে লাগলে একটু সরে দাঁড়ান। সৌম্যা, এত ছোটলোকমি কোরো না তো। আমি কিন্তু ওপরে আসছি! দাঁড়িয়ে দাঁড়িয়ে দেখছ কী? কিছু তো বলো! এই কোয়ার্টারে থাকতে থাকতে আমার গা জ্বলে গেল। যখনই এখান থেকে বেরোনোর চেষ্টা করি, তুমি টেনে ধরে রাখো। এই দুর্ভোগের বুঝি কোনো শেষ নেই। আমাদের দিন এবার বদলাতে চলেছে। আমি মিথ্যা বলিনি। এই দেখো। আমার অ্যাডভান্সের চেক। এখনই আবার ওটা খরচ করতে যেয়ো না। এটাও যদি আবার ফেরত দিতে হয়, বন্ধক রাখার মতো আমাদের আর কিছু অবশিষ্ট নেই। এটা আমার কাছেই থাক। কতবার ফোন করলাম। ধরছিলে না কেন? আজকে কী ডিউটি? ডিপিও-তে যেতে হবে। থানার স্টোরের কিছু জিনিসপত্র আনতে হবে। এটা তোমারও কাজে আসতে পারে। কীভাবে? ডিসিআরবি-তে রাজীব বলে একটা ছেলেকে ট্রেনিং দিয়েছিলাম, ও ওখানে আছে। কথা দিয়েছে ওই ১৭৪ কেসের ফাইলের একটা কপি জোগাড় করে দেবে। * কেমন হলো?
* সত্যি বলছিস?
এটা যদি হয়ে যায়, আমার সিনেমায় তোর জন্য একদম ফাটাফাটি একটা রোল পাকা। * কথা দিচ্ছিস তো?
* হ্যাঁ।
কেরালার ইতিহাসের সবচেয়ে বড় ভূমি কেলেঙ্কারির মুখোমুখি হয়েছি আমরা। অন্যান্য কয়েকটি জেলাতেও একই ধরনের ঘটনার খবর পাওয়া গেছে। বর্তমানে পালঘাট জেলায় এমন ছ'টি কেস নথিভুক্ত হয়েছে। একটি বিশদ তদন্ত চলছে। অভিযোগকারীরা কোথাকার বাসিন্দা, স্যার? প্রথম অভিযোগটি এসেছিল চেন্দুর গ্রামের কৃষকদের কাছ থেকে। ছ'মাস আগে অভিযোগ পাওয়ার পর থেকেই, পুলিশের একটি বিশেষ দল... ফোন তুলছে না কেন? ফাইলটা জোগাড় করতে না পারলে কী হবে? তাহলে আগেই বলে দিতে পারত। একবার গিয়ে দেখব নাকি? দরজাটা খোলো। মাথা বাঁচিয়ে। সাবধানে। আরে ও তো রাজীব! ভেতরে ওঠাও। ভেতরে চলো। * গাড়ি ছাড়ো।
* স্যার!
কী হয়েছে? সিঁড়ি দিয়ে পড়ে মাথায় চোট পেয়েছে। তাড়াতাড়ি নিয়ে যাও। শোন... তুই চেক পেয়েছিস, সেটা ঠিক আছে। কিন্তু আমার মনে হয় রাইটার ঠিকই বলেছিল। তোর এই ফাইল থেকে দূরে থাকাই ভালো। 'মণিচিত্রতাজ়ু' সিনেমায়, যেখানে আপনি সেকেন্ড ইউনিট ডিরেক্টর ছিলেন, মোহনলালের চরিত্র ডক্টর সানিকে বিশ্বখ্যাত একজন মনোরোগ বিশেষজ্ঞ হিসেবে তুলে ধরা হয়েছিল, যিনি নিজের ক্ষেত্রে অন্যতম সেরা। কিন্তু সেই একই সিনেমায়, গঙ্গার মানসিক রোগ নিরাময় করা হলো কোনো বৈজ্ঞানিক পদ্ধতিতে নয়, বরং ঝাড়ফুঁক, পুজো, মন্ত্র আর তান্ত্রিক আচার-অনুষ্ঠানের মাধ্যমে। আপনারা এই পথ বেছে নিয়েছিলেন কেন? আমরা যদি খাঁটি সাইকিয়াট্রিক পদ্ধতি ব্যবহার করে মানসিক চিকিৎসাকে বাস্তবসম্মতভাবে দেখাতাম, তাহলে সাধারণ দর্শকদের পক্ষে সেটা বোঝা হয়তো খুবই কঠিন হয়ে যেত। ওদের মনের দিক থেকে অতৃপ্ত আত্মার ন্যায়বিচার পাওয়াটা দরকার ছিল। তাই আমাদের মূল লক্ষ্য ছিল দর্শকদের জন্য একটা ভিজ্যুয়াল অভিজ্ঞতা তৈরি করা। তাই ভিজ্যুয়ালি... * বেরোব?
* হ্যাঁ।
আত্মাকে আহ্বান করা, ওই রহস্যময় রঙিন আবহ, মন্ত্রোচ্চারণ... উদ্দেশ্য ছিল আত্মাকে টেনে বের করে আনা আর... শোনো, ডেল্টা ওয়ান কিন্তু নাইট পেট্রলে আছে। সারারাত সিনেমা দেখে চাকরিটা খোয়াবে না যেন। না, স্যার। এই নিন, স্যার। নাইট পেট্রলিং শুরু করুন। নিষ্ঠার সাথে দায়িত্ব পালন করুন। ওভার। ১৩... ১৩ কন্ট্রোল। ১৩... ১৩ কন্ট্রোল... ১৩। কোঙ্গাড় পিএস কন্ট্রোল। ১৩... ১৩ কন্ট্রোল। ১৩ বলছি। ওভার। কেরালা বিধানসভার প্রশ্ন আছে। এই সরকার ক্ষমতায় আসার পর থেকে আপনার থানার আওতায় যতগুলো জমির জালিয়াতির কেস হয়েছে তার সব তথ্য সিয়েরার কাছে পাঠান। ওভার। মেসেজ পেয়েছি, স্যার। দেখে জানাচ্ছি। ওভার। স্যার, বিধানসভার একটা এনকোয়ারি আছে। তথ্যগুলো এখনই পাঠানো দরকার। ফাইলটা আলমারিতে রাখা আছে। চাবিটা আমার কুশনের নিচে পাবে। আচ্ছা, স্যার। সব নাইট পেট্রল ইউনিট লক্ষ্য করুন। সকল আর্থিক প্রতিষ্ঠান, উপাসনালয় এবং এটিএম বুথ ভালোভাবে চেক করুন। তালাবদ্ধ বাড়িগুলোতেও নজর রাখুন। সতর্ক থাকুন। সন্দেহজনক গাড়ি থামিয়ে তল্লাশি করুন। অপরিচিত কাউকে দেখলে জিজ্ঞাসাবাদ করুন। সকল অফিসারদের স্টেশন ডায়েরিতে সই করতে হবে। ওভার। সিয়েরা ১৩ বলছি। ওভার। সিয়েরা শুনছি। স্যার, বিধানসভার তথ্যের ব্যাপারে, দুটো কেস পাওয়া গেছে। রজার। অল ক্লিয়ার। ১৩ মোবাইল। ১৩ মোবাইল কন্ট্রোল। পি১৩ মোবাইল ওয়ান শুনছি। আদিচিরাতে ট্রেনের নিচে কাটা পড়ার খবর দিয়েছে লোকো পাইলট। লোকেশন রেলওয়ে মার্কার ২৯/১৪। ওভার। মেসেজ পেয়েছি, স্যার। ওভার। স্যার, একজন ট্রেনের নিচে পড়েছে। কী হলো, স্যার? আজকে পঞ্চমী তিথি। লোকে বলে পঞ্চমীতে কেউ মারা গেলে, তার পেছনে আরও পাঁচটা মৃত্যু আসে। আর কত অপঘাতে মৃত্যু যে দেখতে হবে কে জানে! এমনিতেই একের পর এক অপয়া লক্ষণ দেখা দিচ্ছে। স্যার, এই যে মার্কার ২৯/১৪। কন্ট্রোল, পি১৩ মোবাইল ওয়ান বলছি। কন্ট্রোল শুনছি। স্যার, রেললাইনে পাওয়া মেয়েটা এখনো বেঁচে আছে। প্রচুর রক্তপাত হচ্ছে। আমরা ওকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি। ওভার। মেসেজ রিসিভড। ওভার। তাড়াতাড়ি তোলো! হ্যাঁ, স্যার। ব্যাগটা নাও। ফোন আছে কি না দেখেছ? স্যার, শুধু এই কার্ডটা পেয়েছি। একটা ফোন নম্বর লেখা আছে। স্যার, কী হয়েছে? ট্রেনের ধাক্কা খেয়েছে। আগে কন্ডিশন স্থিতিশীল করতে হবে, তারপর সিটি স্ক্যানের জন্য পাঠাতে হবে। স্যার, কোনো আত্মীয়স্বজন? পরিচয় এখনো নিশ্চিত হওয়া যায়নি। সিস্টার, লোরাজিপাম ৪ মিলিগ্রাম আইভি দিন। হ্যালো? এটা কি কার্তিকার বাড়ি? হ্যাঁ, আমি কার্তিকাই বলছি। হ্যালো? হ্যালো? স্যার, কারেন্ট নেই কেন? বজ্রপাতে লাইন চলে গেছে, স্যার। স্যার, উনি পোন্নানির আইপি। * স্যার।
* জিডি কোথায়?
নাইট পেট্রলে গেছে স্যার। স্টাফের সংকট। একজনকে জিজ্ঞাসাবাদের জন্য এনেছি। নিয়ে আয় ওকে। হাত ছাড়ানোর চেষ্টা করছিস কেন? চল! * হাঁটো!
* ওপাশে গিয়ে দাঁড়াও।
স্যার! আমি কিচ্ছু জানি না। আমি জানি তুই সব জানিস। * স্যার, আমি কিছু জানি না।
* কথা তোকে বলতেই হবে।
ও কোথায় আছে বলে দে। মারধোর খাওয়া থেকে বাঁচবি। এটা পকসো (POCSO) কেস। দিনের আলো দেখার সুযোগ আর পাবি না। বললাম তো... আমি জানি না, স্যার। দেখি কতক্ষণ চেপে রাখতে পারিস। এই যে, তুই। এদিকে নিয়ে আয় তো ওকে। আমি মুখ খোলাচ্ছি। * কী রে, অ্যাঁ?
* আমি জানি না, স্যার।
বলবি না... মেয়েটা একটা স্কুলের বাচ্চা, আর তোরা... ওর শেষ ফোনটা তোর নম্বরেই এসেছিল। ওর আর মেয়েটার ফোন একই টাওয়ার লোকেশনে বন্ধ হয়েছিল। সত্যিটা বলাই তোর জন্য ভালো হবে। * নাটক বন্ধ কর!
* আমি সত্যি জানি না, স্যার।
স্যার... * বলে ফেল, চল!
* বলছি স্যার, বলছি...
সব বলছি, স্যার... বলছি... ওরা নেন্মারাতে আছে... স্টার লজে... ওর ওপর নজর রাখো। আমরা গিয়ে অন্যটাকে ধরে আনছি। স্যার... বাথরুমে যাব। হাসপাতালে যাবে? ওঠো। হ্যালো। আজকে কি একটা দিনের ছুটি নেওয়া যাবে? তোমার সাথে একটু কথা ছিল। না, আজকে ছুটি নেওয়া সম্ভব না। ট্রাক আসছে। ২,০০০ কার্টন মাল লোড করে পাঠাতে হবে। কী ব্যাপার বলো তো? মানে... তোমার সাথে দেখা করাটা খুব দরকার ছিল। পা ঘষটানো বন্ধ করে দরজাটা খোলো! থানায় তালা মেরে ঘুমাচ্ছ নাকি? স্যার, এইমাত্র একটু বাথরুমে গিয়েছিলাম। এসব কিসের রক্ত? স্যার, হাজতের লোকটাকে বাথরুমে নেওয়ার সময় লেগে গেছে। ওটা এদিকে দাও। কিসের কেস এটা? মেডিকেল পরীক্ষা করানো হয়েছে? স্যার, পোন্নানির একটা স্কোয়াড ওকে এখানে রেখে গেছে। সেন্ট্রি রেজিস্টারে এন্ট্রি করেছ? ও যে এখানে আছে, এসএইচও বা জিডি কাউকে জানিয়েছ? জানিয়েছিলে? না, স্যার। তুমি কি আসলেই একটা অপদার্থ, নাকি সেজে আছ? ওর যদি কিছু হয়ে যেত, কতজনের চাকরি যেত ধারণা আছে? কোনো ধারণাই নেই! একেবারে অপদার্থ একটা! এই চাকরির কোনো যোগ্যতাই নেই তোমার। তোমার কোনো দায়িত্ববোধ বলে কিছু নেই, তাই না শেলি? কতদিন ধরে আমি কুকুরের মতো খেটে মরছি? তোমার ওই ছাইপাঁশ সিনেমা নিয়ে পড়ে আছ! আমি যে এখনো সিনেমার পেছনে ছুটছি, তার একমাত্র কারণ তোমাদের এই নরক থেকে বের করে আনা। আমার সামনে এছাড়া আর কোনো রাস্তা নেই। আমি শুধু তোমার কথা ভেবেই আবার চাকরিতে ফিরেছিলাম। আমি তো আর ইচ্ছে করে সাসপেন্ড হইনি। ছেলেটার যদি কিছু হয়ে যেত তখন কী হতো? আমাদের কী দশা হতো? আমার হাতে ক্ষমতা থাকলে তোমাকে চাকরি থেকেই বরখাস্ত করতাম। প্রযোজক কোচিতে একটা ফ্ল্যাট ভাড়া নিয়েছেন। উনি চান আমি ওখানে গিয়ে থাকি। কোয়ার্টারে বসে লেখা যায় না? এখানে লিখলে হয় না? বেরিয়ে এসো এবার। আমার দেরি হয়ে যাচ্ছে। এই তো। তোমার আর বাচ্চাদের জন্য সন্ধ্যার খাবার রেখে দিয়েছি। স্কুল বাস এলে দুজনকে গিয়ে নিয়ে আসবে। আর ওদের খাইয়ে তারপর পড়তে পাঠাবে। সিগারেট খেয়ে আর ভাবনায় ডুবে গিয়ে ভুলে যেয়ো না যেন। * চাবিটা নেবে না?
* ওহ্, ভুলেই গিয়েছিলাম!
সৌম্যা, গাড়ি ধুচ্ছিলাম বলে তোমার স্কুটারটা একটু সরিয়ে রেখেছি। শেলি স্যার তো এখন সাসপেনশনে আছেন, তাই না? তা যা-ই হোক, সুমেশ স্যারের মতো এসপির ব্রিফকেস বয়ে বেড়ানো তো আর ওনার কাজ নয়। উনি লোকাল থানায় খাটেন। তাছাড়া আপনারাই তো সবসময় বলেন, সাসপেনশন নাকি পুলিশের জীবনেরই অংশ, স্যার? কথাটা একেবারেই অপ্রয়োজনীয় ছিল! হ্যালো। এই শোন, নারায়ণ শর্মার ঠিকানা পেয়ে গেছি, যে ওই ১৭৪ কেসের তদন্ত করেছিল। খুব ভালো হলো। আমি তো পুরোনো খবরের কাগজ ঘেঁটে মরছিলাম। * কিচ্ছু পাইনি।
* তোকে হোয়াটসঅ্যাপে ঠিকানাটা পাঠিয়ে দিচ্ছি।
* দেখে নে।
* আচ্ছা।
নাম আর জন্ম নক্ষত্র কী? শেলি। আমি পুলিশে চাকরি করি। নক্ষত্র? স্যার, আমি এখানে হাত দেখাতে আসিনি। আপনি যখন কোঙ্গাড় থানায় ছিলেন, তখন রেললাইনে একটা মেয়ের লাশ পাওয়ার তদন্ত করেছিলেন না? আমি ওই কেসটা সম্পর্কে জানতে এসেছি। ওই থানাটায় এখনো বিপদাপদ লেগেই আছে, তাই তো? হ্যাঁ, স্যার। মৃত মেয়েটার আত্মা শান্তি পায়নি। মৃত্যুটা হয়েছিল পূর্বভাদ্রপদ নক্ষত্রে। আর দিনটা ছিল পঞ্চমী। সাধারণ শ্রাদ্ধশান্তিতে কাজ হবে না। বিশেষ পুজোপাঠের প্রয়োজন। দেখলেন তো, সত্যি কথাই। আপনি কি এসব বিশ্বাস করেন? স্যার, আপনার কেন মনে হয়েছিল এটা খুন ছিল? শোনো, ওই মেয়েটাকে আমিই কোলে করে তুলেছিলাম। ওর শরীরে ক্ষতের মধ্যে শুধু মাথায় একটা আঘাত ছিল, যেন কেউ লোহার রড দিয়ে সজোরে মেরেছে। চলন্ত ট্রেন থেকে যদি পড়ত, তাহলে সারা শরীরে ছড়ে যাওয়ার দাগ থাকার কথা না? শরীরে আর কোনো আঘাতই ছিল না। কেউ একজন ইচ্ছে করে ওর মাথায় লোহার রড দিয়ে মেরে রেললাইনে ফেলে দিয়ে গিয়েছিল। হয়তো ওর শরীরে সামান্য হুঁশ তখনও বাকি ছিল, তাই ট্রেনের ধাক্কা লাগার আগেই গড়িয়ে পাশে সরে গিয়েছিল। স্যার, আপনি একবার বলেছিলেন মৃত মেয়েটাই নাকি সেদিন আপনার ফোনে কথা বলেছিল। এই যে, আমার বাবা আপনাকে ভেতরে ডাকছেন। ওরা জমজ বোন ছিল। কার্তিকা আর কীর্তনা। একই জায়গায় চাকরি করত। মারা গিয়েছিল কীর্তনা। সেদিন ভুল করে ও ওর বোনের আইডি কার্ড নিয়ে চলে গিয়েছিল। সেজন্যই আমি কার্তিকাকে ফোন করে ফেলেছিলাম। মৃত মেয়েটির ফোন পাওয়া যায়নি বলে, আমি ওর সেল টাওয়ারের রেকর্ড তুলি। আগের লোকেশনগুলোর সাথে মিলিয়ে দেখতে গিয়ে, দেখলাম ও সাধারণত কোয়েম্বাটোরের কাছের একটা স্টেশন থেকে ট্রেনে উঠত। কিন্তু সেদিন ও কোনো ট্রেনেই ওঠেনি। বরং, কোয়েম্বাটোর আর ওয়ালয়ারের মাঝামাঝি কোথাও থেকে একটা বাসে উঠেছিল। ওর ফোনটা বন্ধ হয়েছিল পালঘাট বাসস্ট্যান্ডে এসে। বাসস্ট্যান্ডের সিসিটিভি ফুটেজ দেখে আমার সন্দেহ জাগে, আর আমি তদন্ত শুরু করি যে সেদিন রাতে আসলে ওখানে কী ঘটেছিল। হ্যাঁ স্যার। আমিই ওই মেয়েটাকে এখান থেকে স্টেশনে নিয়ে গিয়েছিলাম। কী হয়েছে, স্যার? শোনেননি রেললাইনে ওর লাশ পাওয়া গেছে? না তো, স্যার। আপনিই ওকে লাইনে ফেলে দিয়ে আসেননি তো? না স্যার, আমি কেন করতে যাব! ওর ফোনটা ঠিক এই জায়গায় এসেই বন্ধ হয়েছিল। আর ফোনটাও উধাও। সত্যিটা বলুন। আপনাকেই ওর সাথে শেষ দেখা গেছে। স্যার, স্বপ্না নামে একটা বদমাশ মেয়েমানুষ আছে। কালকে ওই মেয়েটার গায়ে ধাক্কা মারতে দেখেছিলাম ওকে। ওই-ই নিশ্চয়ই ফোনটা চুরি করেছে। ওকে কোথায় পাওয়া যাবে? কোথায় থাকে তো জানি না, স্যার। তবে রাত আটটা-সাড়ে আটটার দিকে ও এখানেই চলে আসে। * গাড়িতে ওঠ!
* গাড়িতে কতজন আছিস তোরা?!
* চুপচাপ বোস!
* হাত ছাড় বলছি!
* এই! ছাড়!
* নড়বি না একদম, চুপ করে বোস!
হাত ছাড় আমার! আমাকে ছাড়! নড়াচড়া করতে বারণ করেছি না? গাড়ি থামা বলছি! স্যার, এটা নিছকই দুর্ঘটনার মৃত্যু। এতে কোনো সন্দেহ নেই। ফরেনসিক আর পোস্টমর্টেম রিপোর্টও সে কথাই বলছে। কেসটা এখনই ক্লোজ করে দিন। স্যার... * আমাকে ছাড়!
* চেঁচামেচি করবি না।
* হাত ছাড়ো, আমি নিজেই নামছি।
* এখানে সিন ক্রিয়েট করবি না।
হাত ছাড় বলছি! এখানে কী হচ্ছেটা কী? স্যার, কাল রাতে আমার সন্দেহ হয়েছিল মেয়েটার মৃত্যু হয়তো কোনো খুন হতে পারে। তাই জিজ্ঞাসাবাদের জন্য ওকে তুলে এনেছি। তোমাকে কে বলেছে এটা খুন? আমি কি তোমাকে এই কেসের দায়িত্ব দিয়েছিলাম? দিইনি তো? দুটো গোয়েন্দা উপন্যাস পড়ে নিজেকে শার্লক হোমস ভাবা শুরু করেছ? যদি খুন হয়েও থাকে, মহিলা পুলিশ ছাড়া রাতে কোনো মেয়েকে থানায় তুলে আনা যায় না। হাত গুনে আর কোষ্ঠী দেখে কেস সমাধান করার জন্য সরকার তোমাকে বেতন দেয় না। একে এখনই ছেড়ে দাও। নাহলে কিন্তু চাকরি খোয়াবে। তারপর আর কোনো তদন্ত করেননি? তারপর ওই মেয়েটা অভিযোগ ঠুকে দিয়েছিল। আমরা চারজনই সাসপেন্ড হয়ে যাই। চাকরিতে পুনর্বহাল হতে হতে আমার অবসরের বয়স হয়ে গিয়েছিল। তখন কে তদন্ত করেছিল? সিআই সত্যজিৎ কেসটা ক্লোজ করে দিয়েছিলেন। স্যার, আমি এই ফাইল নিয়ে একটা গল্প লিখছি। আপনার কেস ডায়েরিটা পেলে আমার খুব উপকার হতো। তোমার জন্ম নক্ষত্র আর বয়স কত? বিশাখা। বয়স একচল্লিশ। তোমার এখন খুব খারাপ সময় চলছে। এসবের পেছনে না ছোটাই ভালো। হ্যালো। কখন?! কোথায়?! * না, না, না! এই তো হয়ে গেছে!
* আমি ধরেছি তোমায়! * এই তো শেষ। * হয়ে গেছে। কিচ্ছু হয়নি আর। হয়ে গেছে। তুমি একদম ঠিক আছ। এতক্ষণ ধরে কোথায় মরে ছিলে তুমি? আমি... গল্পের ব্যাপারে একজনের সাথে দেখা করতে গিয়েছিলাম। তোমার ওই ছাইপাঁশ সিনেমা! তোমাকে একশবার করে বলিনি বাচ্চাদের ঠিক সময়ে বাড়ি নিয়ে আসবে? বলিনি আমি?! আরে, আস্তে কথা বলো। আমার বাচ্চার যদি কিছু একটা হয়ে যেত... লোকে শুনছে কিন্তু! শুনুক সবাই! কাজে না গিয়ে, * জোকারের মতো সিনেমার পেছনে ছুটছে! * শান্ত হও... * বছরের পর বছর আমি মুখ বুজে সহ্য করেছি। * শান্ত হও... জানো কত টাকার দেনা করে রেখেছে ও? সৌম্যা... হয়েছে তো। তোমরাই তো এর সাথে আমার বিয়ে দিয়ে জীবনটা শেষ করলে! এই যে, এটা হাসপাতাল। এখানে সিন ক্রিয়েট করবেন না। স্যার... বাবা... আমি ওর দিকেই তাকিয়ে ছিলাম। কিন্তু ও হঠাৎ হাত ছাড়িয়ে দৌড় দিল। ঠিক আছে, কিছু হয়নি। মায়ের কাছে গিয়ে বসো। আমি বাইরে আছি। যাও। ওর কথায় রাগ কোরো না। ছেড়ে দাও। ব্যথা কেমন এখন? তাড়াতাড়ি সেরে যাবে। বাবা... সৌম্যা, গাড়ি এনেছি। সৌম্যা... দয়া করে... আমি ভেঙে পড়ছি। আমি শুধু একটু মানসিক শান্তি চাই। দয়া করে ব্যাপারটাকে আর কঠিন কোরো না। ঝুলন্ত লাশের পা মাটিতে ঠেকে থাকতে দেখে, এক পুলিশ অফিসার, এলাকাবাসীর সামনেই বলে ফেলল যে ওটা খুন ছিল। এমনকি বিজ্ঞানসম্মতভাবে ওটা আত্মহত্যা প্রমাণিত হওয়ার পরও... মানুষ এখনো বিশ্বাস করে ওটা খুনই ছিল। আর পুলিশ নাকি কেসটা ধামাচাপা দিয়েছে। আমি তোমাদের যেটা বোঝাতে চাইছি তা হলো— তদন্তের সময় ক্রাইম সিনে গিয়ে কোনো অবস্থাতেই, পাবলিকের সামনে যা মুখে আসে তা বলে ফেলবে না। ক্লাস শেষ। ক্লাস রাইজ। অ্যাটেনশন। স্যার, আমি শেলি। আপনার প্রযোজক আমাকে ফোন করেছিলেন। কোঙ্গাড থানার সেই ১৭৪ কেসের ব্যাপারে, তাই তো? হ্যাঁ, স্যার। ফাইলটা বের করে দেখলেই তো পারতে। স্যার, ওই ফাইলে কেউ হাত দেওয়ার সাহস পায় না। ওদের বিশ্বাস, ফাইলে হাত দিলে নাকি মেয়েটার প্রেতাত্মা অফিসারদের সাসপেন্ড করায়, উর্দিতে রক্ত লাগিয়ে দেয়, আর একের পর এক অপঘাতে মৃত্যু ডেকে আনে। তুমিই বলো... এমন কোন থানা আছে যেখানে অস্বাভাবিক মৃত্যু নেই, সাসপেনশন নেই, বা উর্দিতে রক্তের দাগ লাগে না? এসব যদি সত্যি হতো, সবার আগে তো আমারই সর্বনাশ হওয়ার কথা ছিল। আমিই তো তদন্ত করে কেসটা ক্লোজ করেছিলাম। স্যার, আমার একটা খটকা আছে। মেয়েটা যদি চলন্ত ট্রেন থেকেই পড়ে যায়, তাহলে শরীরে আরও আঘাত থাকার কথা না? কিন্তু এই কেসে, শুধু একটাই ক্ষত ছিল, যেন লোহার রড দিয়ে কেউ মেরেছে। মৃত মেয়েটার বাড়ি ঘটনাস্থল থেকে মাত্র একশ মিটার দূরে ছিল। ট্রেনটা সিগন্যালের অপেক্ষায় দাঁড়িয়ে ছিল, তখনই ও নামার চেষ্টা করছিল। দরজার কাছে পৌঁছানো মাত্রই, ট্রেনটা হঠাৎ চলতে শুরু করে... দরজার ধাক্কায় ও নিচে পড়ে যায়। মাথায় আঘাত পেয়ে ও মারা গিয়েছিল, লাইনের পাশের কংক্রিটের ব্লকে লেগে। ফরেনসিক এভিডেন্সও সেটাই সমর্থন করেছিল। স্যার, আমি নারায়ণ শর্মার সাথে দেখা করেছিলাম, যিনি প্রথমে কেসটা হ্যান্ডেল করেছিলেন। উনি বললেন মেয়েটার ঝগড়া হয়েছিল বাসস্ট্যান্ডে একটা মহিলার সাথে। উনার ধারণা, ওর মৃত্যুর পেছনে সেটার যোগসূত্র আছে। ওই মহিলাটা ছিল এলাকার এক পতিতা। ওদের ধাক্কা লাগার সময়... মেয়েটার ফোনটা ওর হাতে চলে যায়। ও তখনই ওখানকার এক পুলিশের হাতে ফোনটা তুলে দিয়েছিল। স্যার, কাজের পর ও তো সাধারণত কোয়েম্বাটোর থেকেই ট্রেনে উঠত। কিন্তু সেদিন, ও বাসে করে পালঘাট স্ট্যান্ডে এসেছিল। এটা কি একটু অস্বাভাবিক মনে হচ্ছে না? কাজের পর শপিং করতে গিয়েছিল, দেরি হয়ে যাওয়ায় ট্রেন মিস করেছিল। তাই বাসে করে এসেছিল। এর মধ্যে অস্বাভাবিকের কী আছে? যেকোনো কেসের প্রথম প্রশ্নই হলো— কে, কখন, কোথায়, কীভাবে এবং কেন। এর কোনোটাই এই কেসে কোনো সন্দেহের অবকাশ রাখেনি। ওই জ্যোতিষী আর তার ভূতের আজগুবি গল্পই পুরো ব্যাপারটা ঘেঁটে একাকার করে দিয়েছিল। যেকোনো কেসের প্রথম প্রশ্নই হলো— কে, কখন, কোথায়, কীভাবে এবং কেন। চলন্ত ট্রেন থেকে যদি পড়ত, তাহলে সারা শরীরে ছড়ে যাওয়ার দাগ থাকার কথা না? কিন্তু শরীরে আর কোনো আঘাতই ছিল না। কেউ একজন ইচ্ছে করে ওর মাথায় লোহার রড দিয়ে মেরে রেললাইনে ফেলে দিয়ে গিয়েছিল। লাইনের পাশের কংক্রিটের ব্লকে মাথা লেগে ও মারা গিয়েছিল। ফরেনসিক এভিডেন্সও সেটাই সমর্থন করেছিল। খাবে একটা? না। আমরা যারা সিনেমা লাইনে আছি... আমাদের জীবনটা লোকে যেমনটা ভাবে তেমন নয়। মজার ব্যাপার হলো, মনে হবে অন্তত পরিবারের মানুষজন তো বুঝবে। কিন্তু তা-ও না। বাইরের লোকে সিনেমাওয়ালাদের নিয়ে যা ভাবে... ঘরের লোকেরাও ঠিক সেটাই ভাবে। একবার সিনেমায় নামলে, সংসারের শান্তির আশা ভুলে যেতে হবে। আমরা বড়জোর যেটা করতে পারি, যখনই পারব ওদের একটু টাকা-পয়সা দিয়ে সাহায্য করা। এর বেশি আর কিছু করার থাকে না। মনের ভেতর এসব পুষে রাখলে... কখনোই সিনেমা বানাতে পারবে না। অলরেডি তিন সপ্তাহ কেটে গেছে। অন্যভাবে নিয়ো না কথাটা। প্রযোজক আমার ওপর ভরসা করে টাকা ঢালছে। স্যার... ব্যাপারটা সেরকম না... গল্পের একটা জায়গা নিয়ে একটু কনফিউশনে আছি। তাহলে সাথে অন্য কোনো অভিজ্ঞ রাইটার বসিয়ে দিই? স্যার, দয়া করে আমাকে আরেকটু সময় দিন। আমি আরেকবার চেষ্টা করে দেখি। সর্বোচ্চ তিন দিন। তারপর কিন্তু আর কোনো অজুহাত শুনব না। নাহলে আমি এই প্রজেক্ট থেকে সরে দাঁড়াব। লাইনের পাশের কংক্রিটের ব্লকে মাথা লেগে ও মারা গিয়েছিল। ফরেনসিক এভিডেন্সও সেটাই সমর্থন করেছিল। সর্বোচ্চ তিন দিন। তারপর কিন্তু আর কোনো অজুহাত শুনব না। বাবা দেখো, আমার ক্ষত শুকিয়ে গেছে। বাবা, তুমি কোথায়? আমি... ...এরনাকুলামে আছি। বাবা, তোমার কাজ শেষ হয়েছে? কাজ কি শেষ হয়েছে, বাবা? ফোনটা দে আমাকে! - আমি কথা বলব। * আমি জিজ্ঞেস করব। ফোনটা ছাড় বলছি। * মা কোথায়? * মা এখানেই আছে। সৌম্যা... সৌম্যা... তোমাদের ছাড়া আমি বাঁচতে পারব না। আমি কি ফিরে আসব? বাড়ি ফিরে এসো। কী হয়েছে? রাতের খাওয়াটাও ঠিকমতো খেলে না। চেকটা জমা দিয়ে দিতে পারো। গল্পটা শেষ করতে পেরেছ? না। আমাকে দিয়ে হবে না... ডিরেক্টর খুব টেনশনে পড়ে গেছেন। অন্য একজন রাইটার আনছেন... বাকিটা শেষ করার জন্য। তবে গল্পের ক্রেডিটটা আমি পাব। ঠিক আছে, মন খারাপ কোরো না। অন্তত সিনেমায় একটা সুযোগ তো পেয়েছ। অনেকে তো এটুকুও পায় না। আমাকে তাড়াতাড়ি ডিউটিতে ফিরতে হবে। সুমেশ স্যারের সাথে কথা বলে... এসপি স্যারের সাথে দেখা করব। তুমি ঠিকই বলেছিলে। আমার হয়তো কোনো যোগ্যতাই নেই। পি১৩... পি১৩ কন্ট্রোল। কোঙ্গাড পিএস... কোঙ্গাড পিএস কন্ট্রোল। শুনছি। ওভার। কোঙ্গাড পিএস শুনছি। ওভার। পি১৩ কন্ট্রোল। কন্ট্রোল, পি১৩ মোবাইল কলিং। কন্ট্রোল শুনছি। রেললাইনে পাওয়া মেয়েটা এখনো বেঁচে আছে। প্রচুর রক্তপাত হচ্ছে। আমরা ওকে হাসপাতালে নিয়ে যাচ্ছি। ওভার। মেসেজ ক্লিয়ার। ওভার। কন্ট্রোল, পি১৩ মোবাইল কলিং। কন্ট্রোল শুনছি। স্যার, ট্রেনের ধাক্কা খাওয়া মেয়েটাকে হাসপাতালে আনা হয়েছিল। কিন্তু ও মারা গেছে। পরিচয় পাওয়া গেছে। ওর নাম কীর্তনা। শেলি... কী হয়েছে? শেলি! কী হলো তোমার? দূরে যা... শেলি... আমি সৌম্যা... হাত দিবি না গায়ে! যা! ভাগ এখান থেকে! শেলি... * মা... * শেলি... মা... * বাবা... * মা! মা... * কিছু হয়নি তোদের... * মা... * মা... * সৌম্যা। দরজা খোলো, সৌম্যা। দরজাটা খোলো... * কী হয়েছে? * মা... খারাপ স্বপ্ন দেখে ভয় পেয়েছে বোধহয়। শেলি... শেলি... শেলি... হাত দুটো বাড়ান তো। বাস্তব জীবনে ঘটে যাওয়া কিছু ঘটনা আমাদের মনে গভীর চাপ ফেলে দেয়। আর যেসব প্রশ্নের উত্তর পাওয়া যায় না, মন কিছুতেই সেই শূন্যতা মেনে নিতে পারে না। কোনো সমাধান না পাওয়া পর্যন্ত মন শান্ত হয় না। বাস্তব জগৎ থেকে বিচ্ছিন্ন হয়ে মানুষ যখন স্বপ্নের ঘোরে চলতে শুরু করে, তখন মন নিজের মতো করে অর্থ খুঁজতে শুরু করে। এটা এক ধরণের ডিলুশন বা ভ্রান্ত বিশ্বাসের অবস্থা। আমি ওষুধটা নিয়ে আসছি। শেলি... * স্বপ্ন থেকে জেগে ওঠার পর, * শেলি... বাস্তব আর কল্পনার সীমারেখা... আলাদা করা তখন কঠিন হয়ে পড়ে। মনে হতে থাকে স্বপ্নের সেই ভুতুড়ে মুহূর্তগুলো বাস্তবেও যেন চোখের সামনে ঘটছে। এখনই যদি এটা নিয়ন্ত্রণ না করা যায়, তবে রোগটা আরও গভীরে চলে যেতে পারে। আমি দু'দিনের ছুটি নিয়েছি। বাচ্চাদের নিয়ে কোথাও ঘুরে আসবে? নিয়মিত ওষুধগুলো খাবেন। আর যেসব রিল্যাক্সেশন টেকনিক শিখিয়ে দিয়েছি... সেগুলো নিয়ম করে অভ্যাস করবেন। ধীরে ধীরে আমরা এই সমস্যা কাটিয়ে উঠতে পারব। এই নাও। দেরি হয়ে যাচ্ছে। আমি বাচ্চাদের নিয়ে আসি। কী হয়েছে? এটার মধ্যে টিকটিকি ছিল। * টিকটিকি? * হ্যাঁ... আমি যখন আনলাম তখন তো কিচ্ছু ছিল না। তুমি বলতে চাইছ আমি বানিয়ে বলছি? আমি সেটা বলতে চাইনি। ডাক্তারবাবুও তো সেটাই বললেন, তাই না? সেজন্যই তো এই ওষুধগুলো দিয়েছেন। তুমি কি বলতে চাইছ আমি পাগল হয়ে গেছি? ওর মধ্যে সত্যিই একটা টিকটিকি ছিল। ডাক্তার যা ভাবছেন ব্যাপারটা মোটেও তা না। ওই থানার প্রত্যেকটা মানুষ... একই পরিস্থিতির মধ্য দিয়ে গেছে। ওই মৃত মেয়েটার অতৃপ্ত আত্মা... ওই টিকটিকির মাধ্যমে আমাকে কিছু বলতে চাইছে। শুধু ওষুধ খেলে এই সমস্যা মিটবে না। এটা সিনেমার জন্য নয়। মেয়েটার সাথে আসলে কী ঘটেছিল সেটা আমাকে জানতেই হবে। তবেই আমি শান্তি পাব। আমি পরে ফোন করছি, কেমন? * কী ব্যাপার? * কীর্তনা নামের একটা মেয়ে... বছর ছয়েক আগে রেললাইনে যার লাশ পাওয়া গিয়েছিল। ওর পরিবার এখানেই থাকত, তাই তো? ওদের বাড়ি কোনটা ছিল? ওই যে ওই বাড়িটা, স্যার। আমরা ওদের কাছ থেকেই জমিটা কিনেছি। ওরা এখন কোয়েম্বাটোরে থাকে। ওদের কোনো ঠিকানা বা ফোন নম্বর আছে? স্যার, এখানে ধূমপান নিষেধ। ওর একটা প্রেমিক ছিল। সেদিন ও ওর প্রেমিকের বার্থডে পার্টিতে গিয়েছিল। দেরি হবে বলে আগেই আমাদের জানিয়ে রেখেছিল। তাই আমরা ভেবেছিলাম চার্জ শেষ হয়ে ফোন বন্ধ হয়ে গেছে। ♪ বনচ্ছায়া কি আরও ঘনিয়ে ওঠে ♪ ♪ এই নির্জন অরণ্যের মেঠো পথ ধরে? ♪ ♪ যেখানে মিথ্যার জটিল জাল আর অজস্র সীমানা এসে মেশে ♪ ♪ অচেনার গভীর অন্তরে ♪ ♪ তুমি কি এখনও খুঁজে চলেছ সেই মায়াবী স্বর্ণমৃগকে ♪ ♪ যে ঘুরে মরে স্বপ্নের অরণ্যে? ♪ ♪ তোমার দৃষ্টি যখন পৌঁছায় সুদূর দিগন্তের ওপারে ♪ ♪ সে হারিয়ে যায় অলক্ষ্যে, সেই হরিণনয়না! ♪ ভাই, এই মেয়েটাই কি? ও কোথায়? ♪ না-বলা গল্পের পঙ্ক্তিমালা বুনে চলার লাগি ♪ চলো, যাওয়া যাক। স্যার... ♪ এমনটি তো হয়নি কভু ♪ ও কালীর গ্যাংয়ের লোক ছিল। লোকে বলে গ্যাং লিডারের টাকা মেরে পালিয়েছে। নিশ্চয়ই ওর কোনো বিপদ হয়েছে, স্যার। বেঁচে থাকলে অন্তত একবার হলেও আমাকে ফোন করত। ♪ তোমার পদচিহ্ন কোথায় নিয়ে গেল তোমায়? ♪ ♪ কোথায় আজ বাস করে তোমার আত্মা? ♪ ♪ সত্য যখন পর্দা চিরে বেরিয়ে আসে ঘুচে যায় সব শূন্যতা ♪ ♪ জেগে ওঠে শ্বেত আলোর ঢেউ ♪ কোথায় তুমি? ফোন তুলছ না কেন? ♪ এ কি কোনো চলমান স্বপ্ন ♪ ♪ নাকি প্রকৃতির কোনো রহস্যময় নির্দেশ? ♪ ♪ পঙ্ক্তিমালা বুনে চলার লাগি ♪ ♪ না-বলা সব উপাখ্যানের ♪ ♪ নিজেকে হারিয়ে ফেলার তরে ♪ ♪ এক অদ্ভুত পরমানন্দে ♪ ♪ এমনটি তো হয়নি কভু ♪ ♪ বনচ্ছায়া কি আরও ঘনিয়ে ওঠে ♪ ♪ এই নির্জন অরণ্যের মেঠো পথ ধরে? ♪ ♪ যেখানে মিথ্যার জটিল জাল আর অজস্র সীমানা এসে মেশে ♪ এই, তোর বাবা কি উঠেছে? * বাবা কি উঠেছে রে? * বাবা? কাল সকাল ঠিক এগারোটায় আমি আপনার অফিসে পৌঁছাব। আমার দশ লাখ টাকা চাই। নাহলে আমার কাছে যত প্রমাণ আছে সব সোজা মিডিয়া আর আদালতের কাছে চলে যাবে। তোমাকে বলিনি আমি? ওই মেয়েটার আত্মা আমাকে কিছু বলতে চাইছিল। শুধু ও একাই নয়। আরও তিনজনকে খুন করা হয়েছে। এটা কোনো বানানো গল্প না। এবার তো অন্তত বিশ্বাস করো। খবর দেখনি টিভিতে? ওই ল্যান্ড মাফিয়ার ব্যাপারে? এসবের পেছনে ওরাই আছে। মারা যাওয়া মেয়ে কীর্তনার কেসের তদন্তে আমি যখন কোয়েম্বাটোরে গেলাম, যে মেয়েটা মারা গিয়েছিল, জানতে পারলাম সেখানে ওর একটা বয়ফ্রেন্ড ছিল। মহেশ নামের এক ছেলে। ওর ব্যাপারে খোঁজখবর নিতে গিয়ে, ওর এক বন্ধু জানাল, যেদিন কীর্তনা খুন হয় ঠিক সেদিনই মহেশ আর ওর মালয়ালি দাদা-দাদি নিখোঁজ হয়ে যায়। ওর বাড়ি পালঘাটে ছিল, স্যার। তবে সারা জীবন এখানেই কাটিয়েছে, স্যার। দাদা-দাদি ছাড়া ওর আর কেউ ছিল না। ও উধাও হওয়ার পর থেকে ওরা কোথায় গেছে কেউ জানে না, স্যার। কীর্তনা কাপড়ের দোকান থেকে কাজ শেষ করে কোয়েম্বাটোরে আসত আর সেখান থেকে ট্রেনে চেপে বাড়ি ফিরত। কিন্তু সাইবার সেলের রেকর্ড অনুযায়ী, যেদিন ও মারা যায়, ও আর ওর বয়ফ্রেন্ড মহেশ ফর্মিক গ্রুপের একটা কনস্ট্রাকশন সাইটে গিয়েছিল। কী হয়েছে? কিছু না। পালঘাটে আমার দাদুর একটু জমি আছে। এক নতুন পার্টি ওটা কিনতে চাইছে। কাজটা মিটে গেলেই দাদুকে সাথে নিয়ে তোমাদের বাড়ি যাব তোমার বাবার কাছে তোমার হাত চাইতে। কিছু কাগজে সই করানোর জন্য ডাকছে। কাজটা সেরেই তোমাকে স্টেশনে নামিয়ে দেব। ওখানেই ওর ফোন শেষবারের মতো সুইচ অফ হয়েছিল। সেখান থেকে ও বাসে করে পালঘাট যায় তারপর একটা অটো নিয়ে পালঘাট রেলওয়ে স্টেশনে পৌঁছায়। সেদিন কোয়েম্বাটোর থেকে কয়েকজন লোক ওর পিছু নিয়েছিল একদম পালঘাট রেলওয়ে স্টেশন পর্যন্ত। পরে কীর্তনাকে পাওয়া যায় বাড়ির কাছের রেললাইনের পাশে রক্তাক্ত অবস্থায়। সবকিছুর সূত্রপাত মীনাক্ষীপুরমের সেই সাড়ে তিন একর জমি থেকে যেটা মহেশের দাদু পদ্মনাভন নায়ারের নামে ছিল। ওর পরিবারের কেউ জানতই না যে এই জমি আছে। পাশের জমি কেনা একটা বিল্ডার্স গ্রুপ এই সম্পত্তির আর তার আইনি ওয়ারিশদের খোঁজ পায় ভিলেজ অফিসে জমির রেকর্ড যাচাই করার সময়। ভিলেজ অফিস থেকে পাঠানো নোটিশটা এই যে, আইনি ওয়ারিশদের এ বিষয়ে জানানোর জন্য। পাশের জমিটা একটা বিল্ডার্স গ্রুপ কিনেছিল। আমরা যখন সার্ভে করি, দলিলে উল্লিখিত পরিমাণের চেয়ে বেশি জমি পাওয়া যায়। রেকর্ড ঠিকঠাক করার জন্য, পাশের জমির মালিকদের অনাপত্তিপত্র দরকার ছিল। বর্তমান ওয়ারিশদের এই নোটিশটাই পাঠানো হয়েছিল এ বিষয়ে তাদের অবহিত করার জন্য। ওয়ারিশরা কি এখানে এসেছিল? না, স্যার। নোটিশ পাঠানোর পরপরই, কোম্পানি পদ্মনাভন নায়ারের সাড়ে তিন একর জমিও কিনে নেয় আর হস্তান্তর সম্পন্ন করে ফেলে। পদ্মনাভন নায়ার তার পৈতৃক সম্পত্তির কথা জানতই না। ফর্মিক নামের ওই বিল্ডার্স গ্রুপ ভুয়া দলিল বানিয়ে ওটা দখল করে নেয়। জমি বিক্রির একটা পয়সাও ওনার ব্যাঙ্ক অ্যাকাউন্টে ঢোকেনি। নোটিশ পাওয়ার চার-পাঁচ দিন পরেই, পুরো পরিবারটাই বেমালুম গায়েব হয়ে যায়। সাইবার সেলের ফোনের রেকর্ড অনুযায়ী, কীর্তনাও ঠিক সেই একই জায়গায় ছিল যেখানে মহেশ আর ওর দাদুর ফোন শেষ সুইচ অফ হয়েছিল। ফর্মিক বিল্ডার্সের কনস্ট্রাকশন সাইটে। সবগুলো সূত্র যখন এক সাথে মেলাবে, সেদিন আসলে কী ঘটেছিল... এই, দাঁড়া! এই... তোরা দুজন ওর পিছু নে। এই... * পালঘাট। * কোথায়? পালঘাট? গাড়িটা বাসস্ট্যান্ডের দিকে নিয়ে চলো। দেখে চলতে পারো না! চোখে দেখতে পাও না নাকি? * মাফ করবেন। * বেয়াদব মেয়ে কোথাকার! টাউন রেলওয়ে স্টেশনে যাব। দয়া করে একটু তাড়াতাড়ি চলুন! আরও জোরে! জোরে চালান! এটা তো মহিলাদের কামরা। ওপাশে গিয়ে বসো। ট্রেনটা থামতে দে। তখনই ওকে ধরব। একটু অপেক্ষা কর। এদিকে টেনে নিয়ে আয় ওকে! ওখানে রাখ। ওখানে বোস! বোস বলছি। কিন্তু এই কেস তো ছ'বছর আগেই বন্ধ হয়ে গেছে, তাই না? এখন কীভাবে প্রমাণ করব? তুই নিজেই বলছিলি না যে-ই এর পেছনে গেছে বিপদে পড়েছে? আমরা যদি কোর্টে প্রমাণ পেশ করি যে খুন হয়েছে, আদালত নিজেই কেস রি-ওপেন করার নির্দেশ দেবে। শুধু চেয়ে চেয়ে দেখিস। কাল সকাল এগারোটার মধ্যে প্রমাণ আমার হাতের মুঠোয় থাকবে। * বলো, ববি। * জন... ঠিকমতো সামলাতে পারলে তবেই গায়ে হাত দেবে। নাহলে আমি নিজেই দেখছি। ববি, হঠকারী কোনো সিদ্ধান্ত নিয়ো না। শুধু জেনে নাও ওর কাছে কী প্রমাণ আছে। আপাতত এটুকুই দরকার। ওর ওপরও নজর রাখছি আমি। একটা কথা মাথায় রাখবে। সাসপেন্ড হওয়া পুলিশও কিন্তু পুলিশই থাকে। আপনার কাছে কী প্রমাণ আছে? আসলগুলো আমার কাছে নিরাপদে আছে। আমার যদি কিছু হয়... এসব ফাঁস হয়ে যাবে। তাহলে আমি এটা রাখতে পারি? ওই তো... চলো... স্যার... দয়া করে আমার কথাটা শুনুন। সহযোগিতা করুন। কাউকে ব্ল্যাকমেইল করতে আমি এখানে আসিনি। স্যার, একটা কেসের এভিডেন্স জোগাড় করতে এসেছি। স্যার... একটু শুনুন আমার কথা। স্যার, দয়া করে এমনটা করবেন না। ওদের বিরুদ্ধে আমার কাছে প্রমাণ আছে... স্যার, আমার কথাটা তো শুনুন... দয়া করে এমন করবেন না, স্যার... স্যার... একবারটি শুনুন... আমাকে ছাড়ুন! আমি কোনো অন্যায় করিনি। আমি শুধু তথ্যপ্রমাণ জোগাড় করতে এসেছিলাম... ঘুষের মামলায় ভিজিল্যান্সের হাতে ধরা পড়লেন এক সাসপেন্ডেড পুলিশ অফিসার। কোঙ্গাড থানার সিভিল পুলিশ অফিসার শেলিকে কাস্টডিতে নিয়েছে ভিজিল্যান্সের দল। আরও জিজ্ঞাসাবাদের জন্য শেলিকে পালঘাট ভিজিল্যান্স অফিসে নিয়ে যাওয়ার দৃশ্য এগুলো। পরবর্তী জিজ্ঞাসাবাদের জন্য। ভিজিল্যান্সের ফাঁদে পা দেওয়ার পর, শেলিকে জোরপূর্বক আটক করে তাদের টিম। গোপন সূত্রে খবর পেয়েছিল ভিজিল্যান্স যে বিল্ডারদের কাছ থেকে মোটা অঙ্কের ঘুষ দাবি করেছিলেন শেলি। একটি অভিযোগের ভিত্তিতে এই ফাঁদ পাতা হয়েছিল, যা দায়ের করেছিলেন ফর্মিক গ্রুপের এমডি ববি কুরিয়ান। মাননীয় আদালতের সামনে যে ফুটেজ পেশ করা হলো, তা আমার মক্কেল একটি পেন ক্যামেরা দিয়ে রেকর্ড করেছিলেন। এই স্টিং অপারেশনের একমাত্র উদ্দেশ্য ছিল ছ'বছর আগের কীর্তনার মৃত্যুর তদন্ত করা এবং মহামান্য আদালতের সামনে প্রমাণ করা যে সেটি কোনো দুর্ঘটনা নয়, বরং পরিকল্পিত হত্যাকাণ্ড ছিল। আমার মক্কেল কেবল তথ্যপ্রমাণ জোগাড়ের লক্ষ্যেই বিল্ডারদের কাছ থেকে টাকা নেওয়ার নাটক করেছিলেন। আমার মক্কেলের সৎ উদ্দেশ্য বিবেচনা করে, আমি ওনার নিঃশর্ত মুক্তির আবেদন জানাচ্ছি। অবজেকশন, ইয়োর অনার। আসামী একটি মনগড়া খুনের গল্প ফেঁদে কোম্পানিকে ব্ল্যাকমেইল করে টাকা হাতাতে চেয়েছিল। এটাই ছিল ওর একমাত্র উদ্দেশ্য। ধরা পড়ে গেলে যাতে বাঁচার পথ থাকে, সেজন্যই এই তথাকথিত স্টিং অপারেশনের প্ল্যান। আসামী কোনো সাধারণ ব্যক্তি নয়। আদালতের মনে রাখা উচিত যে সে একজন পুলিশ অফিসার, আইন আর আইনের ফাঁকফোকর সম্পর্কে সে খুব ভালোভাবেই অবগত। কীসের ভিত্তিতে আপনার মনে হলো কীর্তনার মৃত্যুটা খুন ছিল? পদ্মনাভন নায়ারের তিন একর জমি জাল দলিল বানিয়ে এই কোম্পানি হাতিয়ে নিয়েছিল। পদ্মনাভন নায়ার, ওনার স্ত্রী, এবং তাদের নাতি মহেশ যখন এই জালিয়াতির খোঁজখবর নেওয়া শুরু করে, কোম্পানি ওদের ভাড়াটে গুণ্ডা দিয়ে খুন করায়। আর কীর্তনা, যে এই ঘটনার প্রত্যক্ষদর্শী ছিল, তাকেও খুন করা হয়। তার মৃত্যুকে একটা নিছক দুর্ঘটনা বলে সাজানো হয়েছিল। ইয়োর অনার, আদালত যদি এই দলিলগুলো পরীক্ষা করে দেখে, তবে স্পষ্ট হবে যে আসামীর এই অভিযোগ সম্পূর্ণ ভিত্তিহীন ও কাল্পনিক। কোম্পানি আইনসম্মতভাবে এই জমি ক্রয় করেছে দলিলে উল্লিখিত সমুদয় অর্থ পরিশোধ করার পর। এটি পদ্মনাভন নায়ারের ব্যাঙ্ক পাসবই। এই রেকর্ড দেখলে বোঝা যাবে যে জমি বিক্রির একটি টাকাও নায়ারের অ্যাকাউন্টে জমা পড়েনি। লোন শোধ না করায় নায়ার ব্যাঙ্ক অ্যাটাচমেন্টের মুখে পড়েছিলেন, ঋণখেলাপি হওয়ার পর, তাই টাকাটা উনি গ্রহণ করেছিলেন নিজের নাতি মহেশের অ্যাকাউন্টের মাধ্যমে। যাতে ওটা বাজেয়াপ্ত না হয়। এরা এই দলিলগুলো জালিয়াতি করে বানিয়েছে। আদালত যদি কোনো কেন্দ্রীয় সংস্থাকে দিয়ে তদন্তের নির্দেশ দেয়, তবেই আসল সত্যটা বেরিয়ে আসবে। এটা কোনো একটা খুনের ঘটনা নয়। কীর্তনা সহ, মোট চারজনকে খুন করা হয়েছে। যাঁরা এর জন্য দায়ী তাদের সবাইকে যখন বিচারের আওতায় আনা হবে, কেবল তখনই ওই মেয়েটার আত্মা শান্তি পাবে। আদালত মনে করছে বিষয়টি ম্যাজিস্ট্রেট আদালতের বিবেচনা করা উচিত। তাই আমরা এটি স্থানান্তর করব। মহামান্য আদালত যদি এই মামলাটি স্থানান্তর করে নিছক অনুমানের ওপর ভিত্তি করে, কোম্পানি বিপুল ক্ষতির মুখে পড়বে তাদের আসন্ন হাউজিং প্রজেক্টগুলোতে, যার মধ্যে রয়েছে কোটি কোটি টাকার বিনিয়োগ আর সুনাম। আমি বিনম্রভাবে প্রার্থনা করছি আদালত যেন আর কিছুটা সময় মঞ্জুর করে। কোয়েম্বাটোর আদালতে কোম্পানি একটি হেবিয়াস কর্পাস পিটিশন দাখিল করেছে নিখোঁজ পদ্মনাভন নায়ার ও তাঁর পরিবারের সন্ধান পেতে। আমি আসামীকে জেরা করার অনুমতি প্রার্থনা করছি। জেরা শুরু করতে পারেন। আপনি কীভাবে তদন্ত করলেন এবং কীভাবে এই কথিত হত্যাকাণ্ডগুলোর সন্ধান পেলেন? বলুন। ন্যায়বিচারের অপেক্ষায় থাকা কীর্তনার আত্মাই, আমাকে এই খুনের ঘটনাগুলোর কাছে নিয়ে গেছে। ও... তার মানে মৃত মেয়েটির আত্মাই আপনাকে পথ দেখিয়েছে? চমৎকার ব্যাপার। একজন প্রাক্তন প্রধান বিচারপতি একবার দাবি করেছিলেন, তিনি নাকি তাঁর প্রয়াত স্ত্রীর আত্মার সাথে কথা বলেছেন। তাই নাকি? আপনার কি সে বিষয়ে কোনো সন্দেহ আছে? না। এক মৃত মেয়ের আত্মা তান্ত্রিকের মাধ্যমে যাকে আহ্বান করা হয়েছিল, সে একটি কেস সমাধানে সাহায্য করেছিল। একজন প্রাক্তন ডিজিপি নিজেই একথা বলেছিলেন। * সত্যি নাকি?
* আপনার কি এ বিষয়েও সন্দেহ আছে?
একেবারেই না। অন্যায়ভাবে খুন হওয়া এক তরুণীর আত্মা এখানে ন্যায়বিচার চাইছে। আদালতের উচিত অবিলম্বে তদন্তের নির্দেশ দেওয়া। ঠিক আছে, ঠিক আছে। আমি বিনীতভাবে অনুমতি প্রার্থনা করছি আরও একজন সাক্ষীকে জেরা করার জন্য। হ্যাঁ, শুরু করুন। ডাক্তারবাবু, উনি কি আপনার রোগী? হ্যাঁ। গত চার বছর ধরে শেলি আমার চিকিৎসাধীন। কোন সমস্যার জন্য ওনার চিকিৎসা চলছিল? পুলিশের চাকরিতে পরকীয়া সংক্রান্ত বহু কেসের মুখোমুখি হওয়ায়, যা ওনার কাজের সূত্রে সামনে আসত, উনি নিজের স্ত্রীরও পরকীয়া আছে বলে সন্দেহ করতে শুরু করেন। সেই সন্দেহটিই ধীরে ধীরে বদ্ধমূল ভ্রান্ত বিশ্বাসে রূপ নেয়। বাবার মৃত্যু, চিত্রনাট্য লেখার মানসিক চাপ এবং বারবার ব্যর্থতার আঘাত, ওনার ডিলুশনাল ডিসঅর্ডারকে আরও বাড়িয়ে তোলে, যা শেষ পর্যন্ত প্যারানয়েড সিজোফ্রেনিয়ায় রূপ নেয়। ইয়োর অনার... দয়া করে আমার কথা বিশ্বাস করুন। ওরা আমাকে মানসিকভাবে অসুস্থ সাজানোর চেষ্টা করছে যাতে এই কেসটা রি-ওপেন না হতে পারে। সেজন্যই এই ডাক্তারকে টাকা খাইয়ে আমার বিরুদ্ধে সাক্ষ্য দেওয়াচ্ছে। কোনটা বেশি গুরুত্বপূর্ণ? কোম্পানির সুনাম, নাকি চারজন মানুষের জীবন? ওই নিরীহ মানুষগুলোর ন্যায়বিচার পাওয়া উচিত। দয়া করে... শেলি। ডাক্তারবাবু, প্যারানয়েড সিজোফ্রেনিয়া আসলে কী রোগ? একটু বিস্তারিত বুঝিয়ে বলবেন কি? প্যারানয়েড সিজোফ্রেনিয়ায় আক্রান্ত কোনো ব্যক্তি বাস্তবতার সাথে সংযোগ হারিয়ে নিজের ভ্রান্ত বিশ্বাসের ভেতর বন্দি হয়ে পড়ে। তারা সেই কাল্পনিক জগতের মধ্যেই বসবাস করতে শুরু করে। তারা অডিটরি হ্যালুসিনেশনেও ভুগতে পারে, অন্যরা যা শুনতে পায় না, তেমন অবাস্তব আওয়াজ শুনতে পায়। বাস্তবে নেই এমন জিনিস তারা দেখতে পায় এবং মনে করে সেই কাল্পনিক ঘটনাগুলো যেন বাস্তবে তাদের সাথেই ঘটছে। তাদের সমস্ত চিন্তা ও কাজকর্ম সেইসব ভ্রান্ত ধারণাকে কেন্দ্র করেই ঘুরপাক খায়। আমার বক্তব্য এটুকুই, ইয়োর অনার। মানসিক ভারসাম্যহীন কোনো ব্যক্তির পুলিশ বাহিনীতে বহাল থাকা আইনসম্মত নয়। তাই আদালত জেলা পুলিশ সুপারকে নির্দেশ দিচ্ছে, আসামীকে উপযুক্ত ডাক্তারি পরীক্ষা করিয়ে রিপোর্ট জমা দিতে। ধন্যবাদ, ইয়োর অনার। আপনারা যদি আমাকে পাগল সাজিয়ে দেন... চারটে খুনের পেছনের আসল সত্য কখনোই সামনে আসবে না। * শেলি!
* থামুন! এটা আদালত কক্ষ।
* ভাববেন না আমাকে পাগল বানিয়ে...
* শেলি...
* এই মামলা থেকে পার পেয়ে যাবেন!
* সাইলেন্স!
আদালত কী বলল কিংবা আমাকে আটকে রাখলেন কি না, তাতে আমার কিছু যায় আসে না... আসামীকে ডাক্তারি পরীক্ষার জন্য ১৪ দিনের রিমান্ডে পাঠানো হলো। মামলার পরবর্তী শুনানি পর্যন্ত কার্যক্রম মুলতুবি রইল। হ্যান্ডকাফ পরাও। * আমি আপনাদের কাউকে ছেড়ে দেব না।
* তালা লাগাও।
* আমি সবাইকে জেলে ঢুকিয়ে ছাড়ব।
* শেলি...
* শান্ত হও, শেলি।
* আমার কাছে প্রমাণ আছে...
* চুপচাপ দাঁড়াও।
* আমি পাগল নই!
আমি পাগল নই... দয়া করে আমাকে বিশ্বাস করুন। আমি পাগল নই... * শেলি, শান্ত হও।
* ছাড়ুন আমাকে!
ধস্তাধস্তি কোরো না। ওরা আমাকে পাগল বানিয়ে এই কেস ধামাচাপা দিতে পারবে না। শেলি... আমার কথাটা শোনো। আমি ওদের প্রত্যেককে জেলে পাঠাব। আমাকে ছাড়ুন! সৌম্যা... ওদের বলো আমি পাগল নই। একবারটি বলে দাও... আমি পাগল নই। সৌম্যা... সৌম্যা... বলো আমি পাগল নই... আমার সাথে এমন অন্যায় কোরো না। আমি... চিন্তা কোরো না, সৌম্যা। কোয়ার্টারে ফিরে যাও। দরকার হলে আমি তোমাকে ফোন করব। ও যা বলছে, তার মধ্যে হয়তো কিছুটা সত্যতা থাকলেও থাকতে পারে। হাইকোর্টের উকিল দাঁড় করানোর তো কোনো মানে হয় না সাধারণ একটা ঘুষের মামলার জন্য। আপনি যেতে পারেন। এই... জোশি... হাতকড়াটা খোল না। হাতে খুব ব্যথা করছে। চুপচাপ শুয়ে থাক, শেলি। কাল ডাক্তার তোকে দেখুক। তুই নিজেই তো এই বিপদ ডেকে এনেছিস। তুইও কি মনে করিস আমি পাগল? তাহলে কোর্টে অমন পাগলামি করতে গেলি কেন? সবাই মিলে যদি তোকে পাগল বানাতে চাইত, আমার জায়গায় থাকলে তুই কী করতিস? কেসটা যাতে রি-ওপেন না হয়, সেজন্যই আমাকে ফাঁসিয়েছে। আমাকে আর কিছুটা সময় দে। আমার কাছে সব প্রমাণ আছে। নাহলে ওরা আমাকে পাগল বানিয়ে দেবে, আর আমার চাকরিটাও যাবে। ওই তিনজনকে কোথায় পুঁতে রাখা হয়েছে আমি জানি। শেলি... আমি জানি এতে তোর বিপদ হতে পারে। আমার জীবন এখন তোর হাতে। তুই ছাড়া আমাকে সাহায্য করার মতো আর কেউ নেই। এটা তো কেবল ভিজিল্যান্সের মামলা। বড়জোর ছ'মাসের জন্য সাসপেন্ড হব। সেটুকু আমি মানিয়ে নিতে পারব। ওঠ! সোজা হয়ে দাঁড়া! স্যার, এটা বহু পুরোনো একটা কেস, আর নিহতদের সবাই কেরালার বাসিন্দা। সেখানে হঠাৎ তামিলনাড়ু পুলিশ তদন্তে নেমে মামলার কিনারা করে ফেলল। এটা কীভাবে সম্ভব হলো, স্যার? আপনারা কি কোনো গোপন তথ্য পেয়েছিলেন? তেমন কিছু নয়। কেরালার এক সাধারণ পুলিশ অফিসারের দেওয়া সূত্রেই তামিলনাড়ু পুলিশ এই মামলার কিনারা করতে পেরেছে। স্যার, বহু বছর আগে এটাকে একটা নিছক দুর্ঘটনা হিসেবে নথিভুক্ত করা হয়েছিল। কীসের ভিত্তিতে আপনারা সিদ্ধান্তে এলেন যে এর সাথে একাধিক খুন জড়িত, এবং এখানেই লাশগুলো পুঁতে রাখা হয়েছে? ও-ই আমাকে এখানে নিয়ে এসেছে। মারা যাওয়া মেয়েটার আত্মা। কাট। * ধন্যবাদ।
* লেখার জন্য আপনার যদি কোনো শান্ত জায়গার প্রয়োজন হয়,
দুবাইয়ে আমাদের নিজস্ব জায়গা আছে। আর ওয়ায়ানাদেও একটি প্রপার্টি আছে। এছাড়া অন্য কোথাও পছন্দ হলেও আমাদের জানাতে পারেন। না, আমি এখানেই থেকে লিখব। এখানেই আমার সুবিধা হবে। ঠিক আছে। তাহলে বেরোনো যাক? এক মাসের মধ্যে প্রথম ড্রাফটটা পেলে খুব ভালো হতো। অবশ্যই। আচ্ছা, তাহলে আসি। স্যার। আমি নতুন রিক্রুট, স্যার। গল্প লেখার কোনো শখটখ আছে নাকি? না, স্যার। হুম। রাইটারকে গিয়ে দিন। ওই বায়ো-ডাটা খাতায় নিজের নাম-ঠিকানা এন্ট্রি করে নিন। আচ্ছা, স্যার। আর একটা কথা... ওই বাক্সটা দেখছেন? ঈশ্বরের দোহাই, ভুলেও ওটায় হাত দেবেন না। ভেতরে একটা ফাইল আছে। যে শেষবার ওটাতে হাত দিয়েছিল, সে নিজের চাকরি আর মাথা দুটোই হারিয়েছে।
Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.