All language subtitles for DC.bsub by SUDIP

af Afrikaans
ak Akan
sq Albanian
am Amharic
ar Arabic Download
hy Armenian
az Azerbaijani
eu Basque
be Belarusian
bem Bemba
bn Bengali
bh Bihari
bs Bosnian
br Breton
bg Bulgarian
km Cambodian
ca Catalan
ceb Cebuano
chr Cherokee
ny Chichewa
zh-CN Chinese (Simplified)
zh-TW Chinese (Traditional)
co Corsican
hr Croatian
cs Czech
da Danish
nl Dutch
en English
eo Esperanto
et Estonian
ee Ewe
fo Faroese
tl Filipino
fi Finnish
fr French
fy Frisian
gaa Ga
gl Galician
ka Georgian
de German
el Greek
gn Guarani
gu Gujarati
ht Haitian Creole
ha Hausa
haw Hawaiian
iw Hebrew
hi Hindi
hmn Hmong
hu Hungarian
is Icelandic
ig Igbo
id Indonesian
ia Interlingua
ga Irish
it Italian
ja Japanese
jw Javanese
kn Kannada
kk Kazakh
rw Kinyarwanda
rn Kirundi
kg Kongo
ko Korean
kri Krio (Sierra Leone)
ku Kurdish
ckb Kurdish (Soranî)
ky Kyrgyz
lo Laothian
la Latin
lv Latvian
ln Lingala
lt Lithuanian
loz Lozi
lg Luganda
ach Luo
lb Luxembourgish
mk Macedonian
mg Malagasy
ms Malay
ml Malayalam
mt Maltese
mi Maori
mr Marathi
mfe Mauritian Creole
mo Moldavian
mn Mongolian
my Myanmar (Burmese)
sr-ME Montenegrin
ne Nepali
pcm Nigerian Pidgin
nso Northern Sotho
no Norwegian
nn Norwegian (Nynorsk)
oc Occitan
or Oriya
om Oromo
ps Pashto
fa Persian
pl Polish
pt-BR Portuguese (Brazil)
pt Portuguese (Portugal)
pa Punjabi
qu Quechua
ro Romanian
rm Romansh
nyn Runyakitara
ru Russian
sm Samoan
gd Scots Gaelic
sr Serbian
sh Serbo-Croatian
st Sesotho
tn Setswana
crs Seychellois Creole
sn Shona
sd Sindhi
si Sinhalese
sk Slovak
sl Slovenian
so Somali
es Spanish
es-419 Spanish (Latin American)
su Sundanese
sw Swahili
sv Swedish
tg Tajik
ta Tamil
tt Tatar
te Telugu
th Thai
ti Tigrinya
to Tonga
lua Tshiluba
tum Tumbuka
tr Turkish
tk Turkmen
tw Twi
ug Uighur
uk Ukrainian
ur Urdu
uz Uzbek
vi Vietnamese
cy Welsh
wo Wolof
xh Xhosa
yi Yiddish
yo Yoruba
zu Zulu

Original subtitles

যা ঘটেছে, তা ভালোর জন্যই ঘটেছে।

যা ঘটবে, তাও ভালোর জন্যই হবে, এটা এমন এক দর্শন যা ব্যর্থ হতে বাধ্য।

বর্তমানে কী ঘটছে এবং এর জন্য কে দায়ী?

যারা পথের বাধা ছিল, তাদের সরিয়ে আমরা সামনে এগিয়ে চললাম।

হঠাৎ একটা কণ্ঠস্বর শোনা গেল।

আমরা প্রশ্ন করেছিলাম, আমাদের হয়ে সিদ্ধান্ত নেওয়ার অধিকার তাদের কে দিয়েছে।

ওই কণ্ঠস্বর পুলিশের ছিল।

পুলিশের কাছে আমরা গুণ্ডা, দুর্বৃত্ত ও চরমপন্থী।

যদি আমরা একটি ছেলের শিক্ষার জন্য লড়াই না করি,

তাহলে আর কিসের জন্য লড়াই করা যায়?

- এই, বুড়ো। - হ্যাঁ!

মনে হয়, কাজের চাপ অনেক বেশি।

সত্যিই এটাকে মোটর বলে মনে করেন?

কয়েলটা পুরো পুড়ে গেছে।

অতিরিক্ত কাজের জন্য চাপ দিলে এমনটাই হয়।

নতুন কয়েল এবং শ্যাফট প্রতিস্থাপন করার বদলে...

নতুন মোটর কিনুন।

এ নিয়ে আর কথা না বলাই ভালো।

বর্ষা না হওয়ায় আমি এর মধ্যেই আমার সর্বস্ব হারিয়েছি।

কিছু একটা করে এই মোটরটা চালু করো।

- আরে, ছাড়ো। - এই ছেলেটা কে?

তোমার ছেলে নাকি?

ছেলে?

সে আমার কর্মশালার একজন সহকারী।

ওহ, ওহ! হুম!

আমার বৌ-ও নেই।

আমার অন্ত্যেষ্টিক্রিয়া সম্পন্ন করার মতো কোনো ছেলেও নেই।

আমি কেবল জীবনের স্রোতে গা ভাসিয়ে চলেছি।

এই, কানাগু!

স্পিকারফোনে দে।

বাবা!

আমার সাথে এক মিনিট কথা বলো, প্লিজ।

তুমি না বলেছিলে, তোমার কোনো ছেলেপুলে নেই?

কিন্তু শুনতে পাচ্ছি, ফোনে কেউ তোমাকে বাবা বলে ডাকছে।

সিনেমা : DC ভাষা : তামিল রাণটাইম : ০২:২১:২২

ওরা এখনই এখানে চলে আসবে। তাড়াতাড়ি করো!

চলো, তাড়াতাড়ি!

আরাসু ভাই, চলো, এগিয়ে যাও!

চলো! চলো!

তোমার বন্দুকটা আমাকে দাও।

তোর বন্দুকটা আমাকে দে, না দিলে তোকে মেরে ফেলবো।

বন্দুকটা আমাকে দে!

উঠে পড়ো!

দাস, উঠে পড়ো!

চলো, গাড়ি চালাও!

এই, কিট্টি!

এগুলোকে সরকারি বন্দুক বলে মনে হচ্ছে।

তীব্র সরকারি দুর্গন্ধ বেরোচ্ছে।

মুখ বন্ধ কর, মালগুলো দেখ, আর তোর দাম বল।

তার মানে, তুই মানছিস, এগুলো সরকারি মাল।

আরে!

বেশি বুদ্ধি খাটাতে যাস না। যে অস্ত্রগুলো চেয়েছিলিস, সেগুলো তো পেয়ে গেছিস।

তোর মালিক আমাদের ভালো করেই চেনে।

চুপচাপ কেটে পড় তো। ফালতু বকবক করছিস...

ক্ষেপে যাচ্ছিস কেন?

এগুলো কোনো আস্তাকুঁড়ের মাল না। আমরা এই দিয়ে মানুষ মারি।

পরে যদি ঝামেলায় পড়ি, তখন কী হবে?

দুই সপ্তাহ পর আমার বিয়ে।

পালিয়ে থাকার নাম করে বেপাত্তা হয়ে যাস না।

জিভে জল আনা খাবারের ব্যবস্থা করেছি।

তোদের কিন্তু আসতেই হবে। বুঝেছিস?

আরে সামি, বিয়ের অতিথিদের ওপর আমি নিজে গোলাপজল ছেটাবো।

যথেষ্ট?

- সামি! - এখন খুশি তো?

ভাই!

ওকে আর মালগুলোকে গাড়িতে তোল, আর এখান থেকে তাড়াতাড়ি কেটে পড়।

আসছি, ভাই।

বিয়েতে আসতে ভুলিস না।

বিশ্বাস করতে পারছিস, দাস?

সামিও সংসার পাতার ব্যবস্থা করে ফেললো।

আর ওদিকে অরাসু দাদার...

বংশ রক্ষার জন্য একটা ছেলে আছে।

দাস, আমাদেরও একটা ভালো মেয়ে দেখে বিয়ে করে নেওয়া উচিৎ।

আমিও স্ত্রী-সন্তান নিয়ে জীবন কাটাতে চাই।

তুই কী বলিস?

এমনিতেই আমাদের যথেষ্ট সমস্যা আছে।

চুপ করে পান কর!

সে কখনো বদলাবে না।

খোকা, এটা নে।

তোর মাকে গিয়ে দে।

আমার ওপর রেগে হনহন করে এগিয়ে যাচ্ছে।

এটা ওর হাতে দে।

বাবা, দাদুও কি তোমাকে "খোকা" বলে ডাকতো?

তোকে সবকিছু বলবো।

তুই একটা খা, আর মাকে একটা দে।

মা! মা!

কখন থেকে ডাকছি। কথা কানে যাচ্ছে না তোমার?

দাঁড়াও না, মা!

কী চাস তুই? এমন চ্যাঁচাচ্ছিস কেন?

এই নাও, বাবা তোমাকে একটা তালশাঁস দিতে বললো।

আমার লাগবে না। তোরা গিলে মর!

আরে, মা! তুমি খাবে কি খাবে না?

ওই লোকটাকে ফেরত দিয়ে আয়। একবার বললাম তো, আমি খাবো না।

মা, তুমি এত রাগ করছো কেন?

রাগবো না? তোর বাবার কাছে সংসারের কোনো দামই নেই।

সবসময় শুধু তোর পড়াশোনা নিয়ে পড়ে আছে।

আমি চেয়েছিলাম, জমিজায়গাগুলো রেখে দিক,

কিন্তু ওঁর তো মাথায় ভূত চেপেছে, তোকে ইংরেজি মিডিয়ামে পড়ানোর।

তোর কি মনে হয়, আমি তোর ভালো চাই না?

তার মানে এই নয়, লোকজনের সামনে সে আমাকে অপমান করবে।

তোর যতটা ইচ্ছে খা, বাকিটা ফেলে দে।

বাবা, মা তালশাঁস খেতে চাইছে না।

ঠিক আছে, এবার বলো, দাদু আমাদের বাড়িতে আসে না কেন?

সোনা, তোর দাদু নিশ্চয়ই আসবেন।

আর কোথায় যাবেন উনি?

তোর দাদুর সাথে আমার একটু খটাখটি হয়েছে।

ব্যস, এইটুকুই!

নিজের ফুটফুটে নাতিটাকে দেখতে ওঁকে আসতেই হবে।

আসতেই হবে ওঁকে!

কিগো শুনছো!

আমাদের ছেলে ইংরেজি মিডিয়াম স্কুলে পড়বে, এ তো গর্বের ব্যাপার।

বর্ষা আসতে এখনও ছয় মাস বাকি।

ততদিনে বাড়িটা বন্ধকের বোঝায় ডুবে যাবে।

- ভীষণ চড়া রোদ। - স্যার, একটু হাত লাগাবেন?

তুমি কি এসআই স্যারকে দিয়ে কাজ করাবে নাকি?

ব্যারিকেডগুলো সরিয়ে ফেলো।

এই! তুই কে রে?

স্যার, আমি আঙ্গানি। তেক্কুমলাই থেকে আসছি।

যা, ওকে ব্যারিকেডগুলো সরাতে সাহায্য কর।

ঠিক আছে খোকা, তুই তোর মায়ের সাথে এগো।

আমি তোদের পেছনে আসছি।

স্যার, একটু তালশাঁস খেয়ে নিন। শরীরটা একটু ঠান্ডা হবে।

স্যার, এটা কীভাবে ঘটলো?

পুলিশের কাছ থেকেই কেউ বন্দুক চুরি করে নিয়ে গেল কী করে?

এবার কেটে পড়!

ঠিক আছে, স্যার।

এই, ব্যাগে কী নিয়ে যাচ্ছিস?

স্যার, এটা আমার ছেলের পড়াশোনার জন্য।

আমি আমার সব সম্পত্তি বিক্রি করে দিয়েছি।

স্কুলের ফি দেওয়ার জন্য সাত লাখ টাকা জোগাড় করেছি।

আমি ওকে ইংরেজি মাধ্যম স্কুলে ভর্তি করাবো।

৭ লক্ষ টাকা, বলছিস?

যে এতগুলো টাকা সাথে নিয়ে ঘুরছে, সে এসব ঝামেলায় জড়াতে যাবে কেন?

এই নে, তোর বাবাকে ফোন লাগা।

আমি রাগ করেছিলাম বলে মন খারাপ করিসনি তো, বাবু?

যে জমিটা আমাদের খাবার দিত, তোর পড়াশোনার জন্যই সেটা বিক্রি করতে হলো।

তোকে ভালোভাবে পড়াশোনা করতে হবে, বাবু।

আমি খুব ভালো করে পড়বো। তোমাকে ওসব নিয়ে ভাবতে হবে না।

এতগুলো টাকা নিয়ে একা একা ঘুরছে, আমার খুব ভয় করছে।

মা, মনে হয় বাবার ফোনের চার্জ শেষ হয়ে গেছে।

সুইচ অফ বলছে।

এতগুলো কাঁচা টাকা সাথে নিয়ে ওর সোজা বাড়ি ফেরা উচিত ছিল।

চল তো, সব খরচ করে ফেলার আগেই ওকে ধরা যাক।

চল, যাই!

বাবা!

বাবা!

বাবা!

বাবা!

এই, আরও সামনে এগিয়ে গিয়ে দেখ, তোর বাবাকে খুঁজে পাস কি না।

প্রিয়!

বাবা!

প্রিয়!

বাবা!

- বাবা! - প্রিয়!

মা!

- এদিকে এসো। - কী হয়েছে?

ওদিকে তাকাও।

জঙ্গলে ওকে ফেলে আসার পর অনেকটা সময় কেটে গেছে।

ও আদৌ বেঁচে আছে কি না জানি না, দাদা।

কেঁদো না, মা।

বাড়ি ফেরার পথে একজন পুলিশ অফিসার ওকে ব্যারিকেড সরাতে সাহায্য করতে বলেন।

এরপর তাকে আর দেখিনি।

- তারপর থেকেই তার খোঁজ পাচ্ছি না! - কেঁদো না, মা।

হে ভগবান, জানি না, ওর সাথেই কী হয়েছে!

এই, ধাক্কাধাক্কি করবেন না! মহিলা হয়ে গায়ে পড়ছেন কেন!

বেরিয়ে যান এখান থেকে!

লাস্ট ওয়ার্নিং দিচ্ছি! না গেলে দেহ ব্যবসার কেসে চালান করে দেব কিন্তু।

চোখ রাঙিয়ে লাভ নেই। বেরোন এখান থেকে!

তোমার বাবা শেষবার তোমাকে কী বলে গিয়েছিলেন?

খোকা, তুই তোর মায়ের সাথে এগো।

আমি তোদের পেছনে আসছি।

দাস, এটা পুলিশের ব্যাপার।

আমরা সবে বন্দুকগুলো চুরি করেছি। মনে হয়, এতে তাড়াহুড়ো করা ঠিক হবে না।

তুমি এমন তাড়াহুড়ো করতে গেলে কেন?

আমার বাবার কী হয়েছে?

ছেলেটি জানে না, তার বাবা বেঁচে আছে কি না।

তা-ও বলছো, তাড়াহুড়ো না করতে!

টাকার ব্যবস্থা আমি করে দেবো।

একদিক থেকে দেখতে গেলে, এর জন্য আমরাই দায়ী।

আমাদের টাকার ব্যবস্থা করতেই হবে।

তোমার বাবা যেভাবে চেয়েছিলেন, ঠিক সেভাবেই পড়াশোনা করবে তুমি।

স্যার, স্যার, দয়া করে আমাকে রেহাই দিন।

আরে!

এর সাথে আমার কোনো সম্পর্ক নেই।

দয়া করে আমার কোনো ক্ষতি করবেন না।

এই! তোমরা কারা?

এটা কেন করছো? দয়া করে আমাকে রেহাই দাও।

দাস, আমার মনে হয় ওরা ওকে মেরেই ফেলতো।

আমরা খুঁজে বের করবো!

আমি জানি না। আমি জানি না।

আমাকে ছেড়ে দাও!

তার সাথে কী করেছো?

আমি কিছু জানি না।

আমি সবকিছু বলবো!

আমি স্বীকার করছি! ওই জায়গাটা থেকে এক কিলোমিটার দূরে।

ওখান থেকে এক কিলোমিটার দূরের একটা জায়গায়।

এক কিলোমিটার দূরে ঝোপের মধ্যে আমি ওর লাশটা ফেলে দিয়েছি।

দয়া করে আমাকে রেহাই দাও!

আমি ভুল করেছি।

কিটি!

- আমাকে প্রাণে মেরো না, প্লিজ। - পরিবারটাকে কেস করতে বারণ কর।

দয়া করে আমাকে রেহাই দাও।

আমি ভুল করেছি।

টাকাগুলো কোথায়?

টাকাটা আমরা নিজেদের মধ্যে সমান ভাগে ভাগ করে নিয়েছি।

আমি অরাসু দাদাকে ফোন করেছিলাম।

উনি আমাদের চেন্নাইয়ের যুবরাজ লজে গা-ঢাকা দিয়ে থাকতে বলেছেন।

চলো, তাড়াতাড়ি করো!

আশা করি, তোমাকে সবকিছু বুঝিয়ে বলা হয়েছে।

হ্যাঁ, স্যার!

​একদিকে একটা দল, আমাদের বিভাগের বাতিল করা বন্দুকগুলো চুরি করেছে।

এই অবস্থায়, এই ঘটনার কথা বাইরে বলতে বিব্রত বোধ করছি।

অন্যদিকে, যে সাব-ইন্সপেক্টর এই মামলার তদন্ত করছিল,

তাকে হাতুড়ি দিয়ে পিটিয়ে...

পয়েন্ট ব্ল্যাঙ্ক রেঞ্জে গুলি করে নৃশংসভাবে খুন করা হয়েছে।

এই দুটি ঘটনার মধ্যে কি কোনো যোগসূত্র আছে?

​এর পেছনে কে আছে? সে ব্যাপারে আমাদের কোনো ধারণাই নেই।

আমরা এখনো কোনো আনুষ্ঠানিক বিবৃতি দিই নি।

কথাটা জানাজানি হলে আমাদের বিভাগের সুনাম নষ্ট হবে।

​খুঁজে বের করো, ইন্সপেক্টরকে কে খুন করেছে।

নির্মম হও!

হ্যাঁ, স্যার!

ঘটনাস্থলে চারটে ছেলে এসেছিল।

- ওরা দুটো গাড়িতে চেপে এসেছিল। - কী ধরনের গাড়ি?

একটি পুরনো ইয়ামাহা বাইক।

আরেকটা... যতদূর মনে পড়ছে, নীল রঙের সুজুকি।

ওরা মুখোশ পরেছিল, স্যার।

একটা ছেলের... কোঁকড়ানো চুল ছিল।

ওই ছেলেটাই তাকে গুলি করেছিল।

অন্যরা আমার পিছনে ধাওয়া করছিল।

কী ধরনের বন্দুক ব্যবহার করেছিল?

যে ধরণের বন্দুক আমরা সিনেমায় প্রায়ই দেখি।

যার চাকাটা বাইরে বেরিয়ে আসে, গুলি ভরে ঘুরিয়ে দেয়।

যেটাতে ছয়টা গুলি ধরে।

আর যে তোমাকে গুলি করেছিল, তার বন্দুকটা?

যেগুলো টান মেরে লোড করে গুলি করতে হয়।

ওই ধরনের বন্দুক, স্যার।

হ্যাঁ, ঠিক ওটাই!

তুমি কিন্তু এলাকা ছেড়ে কোথাও যাবে না।

- দরকার পড়লে আমরা তোমায় ডেকে নেবো। - ঠিক আছে, স্যার।

ভাই, আরাসুর লোকেরা এসেছে।

আরাসুর সাথে আমার কথা হয়েছে।

কোনো ঝামেলা না পাকালে, এখানে থাকতে পারো।

যতদিন এখানে থাকবে...

মুখ একদম বন্ধ রাখবে, আর চুপচাপ পড়ে থাকবে।

বুঝতে পেরেছো?

- মাভাট্টাম। - হ্যাঁ, ভাই।

- এদের ওপর নজর রাখবি। - আমি সামলে নেবো।

আমার সাথে এসো।

টয়লেটটা এই দিকে।

কিছু দরকার হলে, মাভাট্টাম বলে হাঁক দেবে।

আমার বসের কথাটা মনে রেখো।

বুঝেছো? আমি আসছি।

- মাভাট্টাম! - কী হয়েছে?

- এমনি, একটু পরখ করছিলাম। - ঠিক আছে।

শোনো, কয়েকটা দিনের জন্য নিজের অহংকার আর দেমাক ভুলে যাও।

এমনকি যদি কেউ তোমার মুখে থুথুও দেয়...

মুছে ফেলবে, দুঃখিত বলবে, আর নিজের পথে এগিয়ে যাবে।

- ঠিক আছে? - অবশ্যই!

এটি সকলের জন্য প্রযোজ্য।

এই, কোথায় যাচ্ছিস তুই?

আমি তোর কথা শুনেছি, ভাই।

কেউ থুতু দিলেও রেগে যাওয়া চলবে না।

আমি রাগ করবো না।

কারুপ্পু, আমি তোর মুখ ছিঁড়ে ফেলবো।

- ও কিন্তু তোর সাথে বেইমানি করেছে। - তোকে মদ খেতে নিচে নামতেই হবে কেন?

- এই, গায়ে পড়ে ঝামেলা করিস না। - আরে দাস, আমিও আসছি।

দুটো আপদের মধ্যে একটা মাতাল হয়েই আছে।

অন্যটাও মাতাল হয়ে গেলে ভালোই হবে।

ওর সাথে সদয় ব্যবহার কর!

বাপ কথা বলছে না বলে, এমনিতেই মন খারাপ করে আছে।

ভাবানুবাদ ও সম্পাদনা : সুদীপ চক্রবর্তী।

দেবদাস, তোমার কাকারা কী করেছিল, তা নিয়ে পড়ে থেকো না।

তোমার পুরো মনোযোগ পড়াশোনাতেই থাকা উচিত।

এই! তুমি কে?

- যে-ই হোক, আমার কিছু যায় আসে না। - কিটি, ও কোথায় যাচ্ছে?

যদি পুরুষ হোস, আমার মুখোমুখি হ!

- এই, তুই কে রে? - বিপদ আসছে!

যতক্ষণ না গানটা শেষ হয়...

আরে, এটা!

তোর কি মাথা খারাপ হয়ে গেছে? চল, এখান থেকে!

এই, চল যাই!

- গান গাইতে থাকো। - এই!

- তুই যা। আমি ওকে নিয়ে আসছি। - তুই কিন্তু আমার ধৈর্যের বাঁধ ভাঙছিস।

- ওকে নিয়ে আসবি কিন্তু। - ঠিক আছে, তুই যা।

- ধ্যাত্তেরি, পুরো ঝামেলা পাকিয়ে দিল! - দাস? দাস?

গান কাল শুনলেও চলবে। চল, এখন এখান থেকে যাই।

দয়া করে উঠে পড়।

চল, যাই!

সাবধানে!

হাঁটতে থাক।

স্যার, এটা অনেক পুরনো কেস।

আপনি বলছেন, ১৫ বছর আগের কথা।

আমি এখনো ফাইলটা খুঁজে পাই নি। খুবই কঠিন।

স্যার?!

স্যার, কেউ দেখে ফেলতে পারে।

- দয়া করে তথ্যটা খুঁজে বের করুন। - মাত্র দুই মিনিট, স্যার।

- স্যার, সে ফিরে এসেছে। - স্যার।

আরাসু এবং তার নতুন দল।

কোথা থেকে যেন হঠাৎ উড়ে এসে জুড়ে বসলো!

তাকে কষিয়ে একটা থাপ্পড় মারলাম!

এত বারণ করা সত্ত্বেও, তোমার লোক ঝামেলা পাকালো।

মন দিয়ে শোনো! তোমাদের মধ্যে কেউ নিচে আসবে না।

ও কি গানটা নিয়ে আবেগপ্রবণ, নাকি তোর ওপর ওর কোনো টান আছে?

নেশায় চুর ছিল, তাই তাড়াহুড়োয় ভুল করে ফেলেছে।

আমি ওদের সামলে নেবো।

ঠিক আছে, চলো যাই।

বেশ, আমি আর সোলো সিনেমা দেখতে যাচ্ছি। যাবি নাকি?

না! আমাকে লেখাটা শেষ করতে হবে। তোরা যা।

নিজেকে এভাবে গুটিয়ে রাখলে পাগল হয়ে যাবি।

- সারা! - আসছিস কী?

কে জানে, তোর লেখা কবে শেষ হবে।

নিচে গিয়ে মদ খেলে কী এমন ক্ষতি হবে?

কোনোভাবেই নয়, ভাই!

চুপ করে এখানেই খা।

আরে, ও তো শুধু গান শুনতে চাইছে।

যেতে দে না ওকে। আমরা সামলে নেবো।

আরে, ও তো শান্তই ছিল। তুই আবার ওকে উস্কাচ্ছিস কেন?

তুই কি ওর চামচা নাকি?

তোর সাথে কথা বলাই কঠিন।

রোজ রোজ একই মুখ দেখতে দেখতে...

মনে হচ্ছে যেন কোনো জেলখানায় বন্দি হয়ে আছি।

এই, এবার তোর তাসটা চাল।

- এই, দাস, কোথায় যাচ্ছিস? - ভাই, কী হয়েছে?

- আমাকে একটা বোতল এনে দে। - তুই খেলাটা নষ্ট করে দিয়েছিস।

সে কোথায় যাচ্ছে?

আমাদের সবাইকে বোকা ভাবছে নাকি?

দাস, ওর মায়াবী গলার আওয়াজ তোকে টেনে বাইরে বের করছে, তাই না?

- হ্যাঁ, তাতে তোর কী? চুপচাপ বসে থাক। - দাস!

দাস, তুই কালই একটা ঝামেলা পাকিয়েছিস। ভেতরে ফিরে আয়।

যেতে দে ওকে। বেশি দূর যাবে না।

আরে!

এই, ও যদি কোনো ঝামেলা বাঁধায়, তোর গলা কেটে ফেলবো।

যেতে দে ওকে। সবসময় সবাইকে নিয়ন্ত্রণ করার ধান্দা।

কাউকে খুঁজছেন?

খুব চটজলদি রেগে যান?

কাল আপনাকে মারপিট করতে দেখেছি।

আসলে... ওটা আমার খুব প্রিয় গান ছিল।

মা মারা যাওয়ার পর বাবা প্রায়ই এই গানটা বাজাতেন।

তাছাড়া, ওই লোকটা ফোনে কথা বলে গানের মাঝে বাধা দিচ্ছিল।

তাই, পিটিয়ে ফেলেছি!

আপনার মা কতদিন হলো মারা গেছেন?

তা প্রায় ১৫-১৬ বছর হবে।

এখানেই থাকেন নাকি?

গত এক মাস ধরে আছি।

এরপর?

নতুন শহর আর নতুন হোটেল।

আর একদল অচেনা মানুষ।

কিন্তু গানগুলো একই থেকে যায়।

আর আপনার পরিবারের কী খবর?

হাসছেন কেন?

ভাবছেন তো, একজন অচেনা মানুষের সাথে এসব কেন ভাগ করে নেবেন?

চেনা মানুষদের সত্যি কথা বলতে মানুষ দ্বিধাবোধ করে।

কিন্তু একজন অচেনা মানুষের কাছে মনের সব কথা উজার করে দেওয়া যায়।

ঠিকই বলেছেন! এখানে কোনো মুখোশ পরে থাকতে হয় না।

তাহলে বলুন, অচেনা মশাই। আপনার কথা কী?

আমি...

কী হলো, অচেনা বন্ধু?

সত্য বলা কঠিন।

আপনি যা ভালোবাসেন, সেটাই করেন। তাই নিজের কথা বলা আপনার পক্ষে সহজ।

আমি এমন কিছু করছি, যা আমি একদম পছন্দ করি না।

তাই, এটা ভাগ করে নেওয়া একটু কঠিন।

আপনার কেন মনে হলো, আমি যা ভালোবাসি, সেটাই করছি?

আপনি সিগারেট টানছেন, গান গাইছেন, আর বেশ ফুর্তিতেই আছেন।

ভালো না লাগলে কেউ এসব করে নাকি?

এটা পেটের তাগিদে পরা একটা মুখোশ মাত্র।

তাহলে, আপনি কী করতে ভালোবাসেন?

তেমন বিশেষ কিছু না।

ছোট্ট একটা ইচ্ছে ছিল। এখন সেটাও ফিকে হয়ে গেছে।

কেন? কী হয়েছিল সেই ইচ্ছের?

যখনই কোনো হোটেলে গান গাই, ভিড়ের দিকে তাকিয়ে ভাবি...

একদিন এই মুখোশটা খুলে...

অতিথি হয়ে এসে বসে মন দিয়ে কারও গান শুনবো।

এইটুকুই। আর কিছু না।

তাহলে কাল আসুন, আমাকে একটু সঙ্গ দেবেন।

বেণী করা মেয়েটাও ভালোই গান গাইছিল।

কাল ওকে গাইতে দিন।

আমি কিন্তু সত্যি বলছি। কাল দয়া করে আসবেন।

না, কোনো দরকার নেই। ঝামেলা হয়ে যাবে।

দয়া করে আমার কথা শুনুন।

এই জায়গার মালিক আমার পরিচিত।

কাল আমার সাথে সময় কাটাবেন। একটা দিন ছুটি নিয়ে নিন।

এই হারামজাদা, অতক্ষণ ধরে ওখানে কী করছিস?

ফিরে আয়!

আমি আপনার নাম জানি না, আর আপনিও আমার নাম জানেন না।

আমরা কেউ কাউকে চিনব না। আর তার কোনো দরকারও নেই।

কী যেন বললেন একটু আগে? হ্যাঁ... অচেনা মানুষ!

আমরা অপরিচিতই থেকে যাবো!

কিন্তু দয়া করে কাল আমার সাথে সময় কাটাবেন।

আপনি কিন্তু আসছেন!

বোনের বিয়ের আর মাত্র এক সপ্তাহ বাকি।

আমরা এখনো কার্ড বিলি করাই শুরু করতে পারলাম না।

শুনতে পাচ্ছো?

এখানকার সবকিছু আমি একার হাতে সামলে উঠতে পারছি না।

একটু সামলে নাও, প্লিজ। আমি সিনিয়ারের সাথে কথা বলেছি।

- আমি খুব তাড়াতাড়িই আসছি। - স্যার! স্যার!

হয় তোমার ফোনটা ঠিক করাও, নয়তো তোমার পরিবারকে সামলাও।

সবসময় স্পিকারে দিয়ে রাখো আর ঘ্যানঘ্যানে সব সমস্যা।

তুমি না গেলে, লোকে নানা কথা বলবে।

ইনি হলেন আরাসু, একজন প্রাক্তন পুলিশ কর্মকর্তা।

১৫ বছর আগে, নকশালদের কাছে বাতিল বন্দুক বিক্রি করার দায়ে...

ওকে গ্রেপ্তার করে জেলে পাঠানো হয়েছিল।

সেখানেই ওর আলাপ হয়...

দাস।

সেবাস্টিয়ান।

কারুপ্পান।

কিট্টি।

ওদের নিয়ে ও একটা দল গড়ে তোলে আর জেল ভেঙে পালিয়ে যায়।

আজ পর্যন্ত ওরা একটা গ্যাং হিসেবেই কাজ করে আসছে।

এই কেসের সাথে ওদের কী সম্পর্ক?

সাম্প্রতিক ইন্সপেক্টর খুনের মামলায় আমরা এক প্রত্যক্ষদর্শীকে জেরা করেছিলাম।

ওর দেওয়া বর্ণনার সাথে ওদের হুবহু মিল রয়েছে।

আরাসুর অতীতের রেকর্ড আর সাম্প্রতিক এই অস্ত্রসহ ডাকাতি...

তার ওপর ওই ইন্সপেক্টর খুন,

এবং প্রত্যক্ষদর্শীর জবানবন্দি।

এসব মিলিয়ে আমার দৃঢ় সন্দেহ, এই সবকিছুর পেছনে ওরাই আছে।

ঠিক আছে।

তাড়াতাড়ি তদন্ত শেষ করে আমাকে জানাও।

ধন্যবাদ, স্যার।

কী রে, বেরোবি?

আমার মাথাটা বড্ড ধরেছে। আজ কি একা একটু সামলে নিতে পারবি?

তোকে দেখে মনে হচ্ছে না, মাথা ধরেছে।

তা-ও তোকে বিশ্বাস করলাম। ঠিক আছে, কেবল আজকের জন্য।

নিজের খেয়াল রাখিস!

তুমি এসেছো!

ভেবেছিলাম, তুমি আসবে না।

মাথা ধরেছে, তাই না? তোর ব্যবস্থা আমি পরে করছি।

আরে, শান্ত হও!

কিছু ড্রিংক নেবে নাকি?

না।

তুমি এখানে কী করছো?

হ্যালো, এদিকে!

একটি পিএসওপি।

আমি তার সাথে কথা বলছি, তোমার সাথে নয়।

আমাকে জিজ্ঞাসা করছো না কেন?

একটি পিএসওপি।

- আর তুমি? - না...

- দুটো করে দেব? - না, আপেল জুস।

বরফের টুকরো দাও।

আমি চলে যাচ্ছি!

এই, কী ব্যাপার? তুমি কি ওকে খাইয়ে দেবে নাকি?

কিছু লাগলে আমি তোমাকে ডেকে নেবো।

প্লিজ বসো।

মনে হয়, ওই কাটা দাগটার পেছনে একটা গল্প আছে।

বলেই ফেলো, অচেনা মশাই।

আমি কোয়েম্বাটুরে জন্মেছি আর সেখানেই বড় হয়েছি।

ছোটবেলা থেকেই সিনেমার গান শুনতে শুনতে গানের প্রেমে পড়ি।

গানের তালিম নিয়ে গান গাওয়া শিখেছিলাম।

ছোট থাকতে আমার বোন নিখোঁজ হয়ে যায়।

তারপর থেকে বাবা-মা আমাকে বাড়ি থেকে একদম বের হতেই দিতেন না।

তা সত্ত্বেও গানের টানেই চেন্নাই পাড়ি দিই।

চেন্নাই এসে এক সঙ্গীত পরিচালকের সাথে আলাপ হলো,

প্রেম হলো,

আর শেষমেশ, এক বিষাক্ত সম্পর্কের জালে জড়িয়ে পড়লাম।

এখন আমার গান গাইতেই ঘেন্না লাগে।

এখন, যখনই আমি গান গাই...

আমার ভেতরের কিছুটা অংশ যেন মরে যায়।

না, আমি আর পারছি না!

আজকের আগে কাউকে আমি এসব খুলে বলিনি।

অন্তত আজকে তো তোমার বলতে ইচ্ছে হলো।

অনুরোধ করলে ওই মেয়েটা যেকোনো গান গাইবে?

কী গান শুনতে চাও?

ওকে "চাক্কু চাক্কু ভাথথিকুচি" গাইতে বলো।

তুমি এখনো নিজের ড্রিংকেই হাত দাও নি।

আমার মা।

কীভাবে?

মানে কী বলতে চাইছো?

একজন অচেনা মানুষের সাথে কথা বলার সাহস কোথা থেকে পেলে?

অচেনা বলেই তো এই সাহসটা এলো।

ওহ!

না, মানে ঠিক ওভাবে বলিনি। যেমনটা তুমি একটু আগেই বললে।

অচেনা মানুষের কাছে মনের সব কথা উজার করে দেওয়া যায়।

এই, আমি ভাবলাম, তোর শরীর খারাপ।

তুই ফিরবি, নাকি ফিরবি না?

ধন্যবাদ!

- ইস্তফাপত্র জমা দিয়েছেন? - শুনতে পাচ্ছি আমি।

- বেশ... - এই লোকটা, আমি বলছি।

ভোজরাজ, স্যার, আপনার ব্যাগটা।

আপনার ব্যাগটা এখানেই রেখে যাচ্ছি।

- তাদের শীঘ্রই জানিয়ে দিন। - স্যার!

সত্যমঙ্গলমে পৌঁছাতে ৯ ঘন্টা সময় লাগবে।

আপনি যা বলতে চান, এখনই বলে ফেলুন।

- রাস্তায় মাথা খাবেন না, প্লিজ। - এর কথাই বলছো তো?

- এই, দাস... - কী কর্কশ গলা রে বাবা!

আমাদের গান তোর পছন্দ হচ্ছে না, তাই তো?

কী বলিস, সেবাস্টিয়ান?

সবাইকে স্বাগতম।

আমি কিন্তু গোলমালের গন্ধ পাচ্ছি।

মূল মানুষটার সাথে ডান আর বাঁ হাত, দুটোই কী করে জুড়ে গেল?

তোদের সমস্যাটা কী?

একটু শান্ত হয়ে থাকতে পারিস না?

ভাই, এখন কী হলো?

আমরা তো জেলে আসি নি...

যে নিয়মের বেড়াজালে বন্দি থাকতে হবে।

আমরা কাউকে বিরক্ত করছি না।

করছি কি?

আমরা নিজেদের মতোই থাকছি।

দাদা তোমাদের টাকা দিচ্ছেই।

- ছেড়ে দিন, দাদা। - ওহ, টাকার গরম?

শুধু টাকা দিচ্ছো বলেই আমার মুখে বাড়বে নাকি?

ভাই, এসব কী বলছেন?

এভাবে কথা বলছেন কেন?

আমি তোর গলা কেটে ফেলবো, হারামজাদা।

চলে আয়!

আরাসু!

এই, দাস!

দাস!

দাস, ওকে বের কর।

কাউকে ছাড়িস না।

এই! এই! দাস, তুই এসব কী করছিস?

এসব বন্ধ কর!

ধুর শালা, এই লোকটাকে নিয়ে আর পারা গেল না!

উড়িয়ে দে ওকে, দাস!

ওকে মেরে ফেল, হারামজাদা! মর!

ওকে মেরে ফেল!

দাস, ছাড়বি না শালাকে! দাস, পেছনে খেয়াল রাখ!

এই, কাউকে ছাড়বি না। খতম করে দে।

তোদের এত সাহস কী করে হয়?

- ওকে মেরে ফেল! - এই, ওকে ছেড়ে দে!

আরে শালা, আটকাচ্ছিস কেন ওকে?

আমার কথা শোন, প্লিজ। ওকে ছেড়ে দে!

এই, এদিকে আয়। আমি তোকে মেরে ফেলবো।

চল, যাওয়া যাক!

- দাস! - শান্ত হয়ে আমার কথা শোন।

- ওরা তোকেও গালি দিয়েছিল। - তুই হাঁটতে থাক।

আরে!

ভাই, আর সহ্য করতে পারছি না। ওরা আমার কথা শোনে না।

আপনি আমাকে অব্যাহতি দিন। আমি চললাম।

চল, এখান থেকে চলে যাই।

- ধ্যাৎ! - হ্যাঁ, ভাই।

ঠিক আছে, আমি তাদের সাথে কথা বলবো।

ভাই, দয়া করে শান্ত হ।

সবাই শোন!

আরাসু ভাই ফোন করে বলেছেন, বিষয়টি দেখবেন।

আমাদের এখান থেকে চলে যেতে বলেছেন। চল।

দাস, আরাসু ভাই বলেছেন...

- চল, যাওয়া যাক। - বিশ্বাস কর, আরাসু ফোন করেছিলেন।

তোকে আমার কথা শুনতে হবে না। কিন্তু তাকে সম্মান করিস তো?

উনি আমাদের চলে যেতে বলেছেন। সুতরাং, চলো যাওয়া যাক।

স্যার, খবর আছে, দাস ও তার দল হ্যাপি ডেজ হোটেলে লুকিয়ে আছে।

- সূত্র? - হোটেল মালিক, যুবরাজ।

কিট্টি, বাইকটা নেওয়া যাক।

ধুর, বাইক রেখে দে।

বাস ধরে আমরা নির্দিষ্ট জায়গায় পৌঁছাবো।

চল! চল!

চল, দাস।

এই! কী হয়েছে?

এখানে আয়।

এখন কী হবে?

তোরা এগিয়ে যা। আমি ওর সাথে একবার দেখা করবো।

দোস্ত, ব্যাপারটা ঠিক লাগছে না। চল, এখান থেকে চলে যাই।

আরে, আমি কোনো ঝামেলা পাকাতে যাচ্ছি না।

জানি না, ওর সাথে আমার আর কোনোদিন দেখা হবে কি না।

আমাকে একবার দেখা করে আসতে দে। তোরা এগো।

ধুর, এই লোকটা কোনোদিন শোধরাবে না। তুই আমার সাথে আসবি, নাকি আসবি না?

কিট্টি, ওকে এভাবে ফেলে রেখে কীভাবে যাই বল তো?

ঠিক আছে, এক মিনিট দাঁড়া।

- আবার কী হলো? - তোর গায়ে রক্ত লেগে আছে!

তাড়াতাড়ি কর!

স্যার, ও ওপরে রয়েছে!

তোমরা চারদিকে ছড়িয়ে পড়ো।

যাও!

এক মিনিট অপেক্ষা করো।

জানি না, তোমার সাথে কেন কথা বলতে গিয়েছিলাম।

- প্লিজ, আমার কথাটা শোনো... - আমি এসবের মধ্যে থাকতে চাই না!

- আমাদের অচেনা থাকা ভালো। - আমার কথাটা শোনো, প্লিজ।

এক মিনিট, আমার কথা শোনো।

ওকে পেয়েছি! আমি ওকে পেয়েছি!

থামো! থামো!

থামো!

চলো!

স্যার, স্যার, মনে হয় একটা মেয়ের গায়ে গুলি লেগেছে।

তাকে জীবিত আটক করো।

এই, সব ঘরগুলো খুঁজে দেখো।

নিচে গিয়ে বাকি দলটাকে পাকড়াও করো।

না!

এই! এই!

এই! এই মেয়েটি কে?

স্যার, সে একজন বার সিঙ্গার।

তার নাম পার্বতী।

পেছনে শক্ত কোনো হাত নেই।

যেকোনো মামলায় ওর নাম অনায়াসেই জড়িয়ে দেওয়া যাবে।

- রাজর্ষি। - স্যার।

স্যার, স্যার, সে এখনও বেঁচে আছে।

স্যার, ওকে হাসপাতালে নিয়ে যান।

- বলুন, স্যার। - স্যার!

- স্যার... - গুলি ফুঁড়ে বেরিয়ে গেছে।

বুলেটটা আশেপাশেই কোথাও আছে।

- খুঁজে বার করো। - ঠিক আছে, স্যার।

স্যার, ওকে হাসপাতালে নিয়ে যান। হাসপাতালে নিয়ে চলুন।

স্যার, সে এখনও বেঁচে আছে। আমরা এখনও তাকে বাঁচাতে পারি।

সে এখনও শ্বাস নিচ্ছে।

সে এখনও শ্বাস নিচ্ছে!

মেয়েটা এখনো বেঁচে আছে। চলুন ওকে বাঁচাই।

হাসপাতালে নিয়ে গেলে, মানবাধিকার কমিশনকে তুমি জবাবদিহি করবে?

সে এখনও শ্বাস নিচ্ছে!

এই চন্দনা!

কাস্টমার চলে এসেছে। তাড়াতাড়ি তৈরি হয়ে নে।

অস্ত্রগুলো কোথায় লুকিয়ে রেখেছিস?

আমাদের অবশ্যই অস্ত্রগুলো সম্পর্কে বিস্তারিত জানতে হবে।

তার পেছনে সময় নষ্ট না করে...

এটাকে সূত্র হিসেবে ব্যবহার করে আরাসু ও তার দলকে খুঁজে বের করো।

ঠিক আছে!

হাজতে যেন পটল না তোলে। সাবধান।

সামি, দাসের কী হয়েছে?

আরাসু ভাই ফোন করেছিলেন। পুলিশ তাকে গ্রেপ্তার করেছে।

- কী বলছো? - দোতলায় মেয়েটার সঙ্গে দেখা করতে গেছিল।

এটাই তার নিয়তি। চল!

ভাবানুবাদ ও সম্পাদনা : সুদীপ চক্রবর্তী।

তুমি আমার কাছ থেকে এটা লুকিয়েছিলে কেন?

তুমি জানতে, সে গর্ভবতী ছিল।

আমাকে কভারটা দাও।

চিন্তা করবেন না। এরপর থেকে আপনি আর কখনো গর্ভবতী হতে পারবেন না।

​ভ্রূণটা চেপে ধরো।

সিল্ক!

আর কত দিন?

আমি পাগল হয়ে যাচ্ছি!

আবারও বলছি, কোনো মেয়ে পালানোর চেষ্টা করলে আমি ওদের গলা কেটে ফেলবো।

কিট্টি, আমার খুব দমবন্ধ লাগছে।

চল, কিছুক্ষণের জন্য বাইরে যাই।

আমাকে এক প্যাকেট সিগারেট দিন।

কিট্টি, আর কিছু?

এই, পুলিশ এসেছে। কারুপ্পু, চল পালাই।

দৌড়াস না। - ঠিক আছে, তাড়াতাড়ি হাঁট।

আরও তাড়াতাড়ি হাঁট!

কারুপ্পু, পালা!

- কিট্টি, দৌড়াতে থাক। - সবাই দৌড়া!

এটা ডিপার্টমেন্টের পিস্তল, মনোজ।

আমরা এর সূত্র খুঁজে বের করবো, স্যার।

দৌড়া, কারুপ্পু!

এই যে, এই দিকে। এই দিকে।

এই! এই!

চল, কিট্টি!

থামিস না!

- পালা! - এই!

শোন, তোর দলের সদস্য সেবাস্টিয়ান মারা গেছে।

সত্যিটা স্বীকার করে নিলেই ভালো করবি।

না হলে, এরপর তোর পালা!

স্যার!

দাসের গ্যাংয়ের সদস্য সেবাস্তিয়ানকে ধরার সময় এই বন্দুকটাই উদ্ধার করা হয়েছিল।

যেমনটা সন্দেহ করেছিলাম, দুটো অপরাধই একই গ্যাং ঘটিয়েছে।

- সেবাস্টিয়ানের কী হলো? - ওরা ওকে গুলি করে মেরে ফেলেছে।

কী হয়েছে, কিটি? ওরা কি ওকে মেরে ফেলেছে?

আমি যুবরাজকে খুঁজছি।

ভাই, আমরা এখানে জীবন বাঁচাতে দৌড়াচ্ছি।

এখন যুবরাজকে খোঁজা গুরুত্বপূর্ণ নয়।

ওই কুকুরটা তোমাদের নামে নালিশ করেছিল।

যা বলছি তাই করো।

আমি ফোন না করা পর্যন্ত এখানেই থাকো।

তার মানে, দাসকে দিয়ে আমাদের কোনো উপকার হবে না।

হ্যাঁ , স্যার। ও মুখে কুলুপ এঁটে বসে আছে।

তাহলে কি দাসকে এবার আদালতে হাজির করবো?

- স্যার, আমরা... - ভোজরাজ, একটা মেয়ে মারা গেছে।

আরেকজন সদস্যকে পাকড়াও করেও তুমি গুলি করে মেরে ফেলেছো।

আদালতের দেওয়া ১৫ দিনের সময়সীমা শেষ হয়ে গেছে।

অন্য দল লাগিয়ে ওকে আমি নিকেশ করে দেবো।

দাদা, আমি দাস বলছি।

কিটি ও কারুপ্পান কোথায়?

ওরা কিট্টির ভাইয়ের বাড়িতে লুকিয়ে আছে।

তাদেরকে সিম কার্ডগুলো ভেঙে ফেলে দিতে বলুন।

তোরা কী ঝামেলা পাকিয়েছিস, বল তো?

কিট্টি যদি বিয়ে করতো, এতদিনে দুটো বাচ্চার বাপ হতো।

শুধু তার ভাই বলেই, আমি চরম ঝুঁকির মধ্যে জীবন কাটাচ্ছি।

পুলিশের এই অত্যাচার আর কতদিন আমাকে সহ্য করতে হবে?

গত তিন দিন ধরে ওরা এখানে লুকিয়ে আছে।

আমার বসকে কোনোমতে বুঝিয়ে রাজি করিয়েছি।

এখন ও অন্ধ্রপ্রদেশে পালিয়ে যাওয়ার বায়না জুড়েছে।

দাস, ওকে এখানেই থাকতে বল, আমি ওর দেখাশোনা করবো।

অন্তত বেঁচে তো থাকবে।

ওরা তোর বন্ধু সেবাস্টিয়ানকে মেরে ফেলেছে।

ওরা ওকে গুলি করে মেরে ফেলেছে। আমার খুব ভয় করছে।

দয়া করে ওকে একটু বোঝা। আমার সাথে আয়।

দাস, আমাদেরও ভালো মেয়ে দেখে বিয়েথা করে ফেলা উচিৎ।

আমারও বউ-বাচ্চা নিয়ে সংসার করার খুব শখ।

সেবাস্তিয়ানকে ফেলে তোরা চলে এলি কী করে?

ওরা ওকে মেরেই ফেললো, দাস।

যুবরাজ খবর দিয়ে আমাদের ধরিয়ে দিয়েছে।

ভোজরাজ ও তার দল তাকে গুলি করে মেয়ে ফেললো।

ওদের গুলি করে মারতেই হবে, দাস।

একজনকেও রেহাই দেবো না, সবাইকে গুলি করে মারবো।

এই বলদ! ওকে উস্কানি দেওয়া বন্ধ করে চুপচাপ বোস।

আরে ধুর, ও আমাকে উস্কাচ্ছে না।

আমি ওদের সবাইকে মেরে ফেলবো।

হ্যাঁ, ভোজরাজ থালা সাজিয়ে বসে আছে, যাতে গিয়ে তোরা ওদের মারতে পারিস।

সরাসরি লড়াইয়ে গেলে চোখের পলকে আমরা লাশ হয়ে যাবো।

এই কিট্টি! ওরা আমাদের ভাইকে মেরেছে!

আর তুই বলছিস, ওদের ছেড়ে দিতে!

তুই যখন পালালিই, তখন একেবারে দূরে কোথাও চলে গেলি না কেন?

এখানে মরতে এলি কেন?

টাকাটা তো পৌঁছে দিতে হবে। টাকা ফেলে কীভাবে পালাতাম?

সবকিছু ছেড়েছুড়ে অন্ধ্রপ্রদেশে গিয়ে, নাম পরিচয় বদলে ভালো জীবন কাটানো যাক।

ভাই, তুই যে ভালো মানুষের মতো বাঁচতে চেয়েছিস, এটাই অনেক।

তোর অন্ধ্র যাওয়ার কোনো দরকার নেই।

মুখ বন্ধ করে চুপচাপ এখানে পড়ে থাক।

আমি তোর দেখাশোনা করবো।

আমি এখানে থাকতে পারবো না। ওরা আমাকে শান্তিতে বাঁচতে দেবে না।

অনেক নাটক হয়েছে, এবার তোরা থাম!

প্রথমে ভোজরাজকে গুলি করতে হবে!

আপদ শালা!

তবে ওর আগে, ওই কুলাঙ্গার যুবরাজকে গুলি করে খতম করতে হবে।

সেবাস্তিয়ানের সাথে ও কী করবে বলেছিল?

শালা, তোর গলা নামিয়ে দেবো!

এই তো, এতক্ষণে ঠিক কথা বলেছিস, ভাই।

ওর গলা কেটে ফেলবো!

আমরা সবার গলা কাটবো।

এক এক করে সব কটাকে সাবাড় করবো!

যুবরাজ এখানে লুকিয়ে আছে।

- ঠিক আছে, তুমি আসতে পারো। - বেশ, স্যার।

হ্যাঁ, দাদা। যুবরাজের খোঁজ পেয়েছি।

শেঠজি ওর লোক পাঠাচ্ছে, ওর সাথেই যাবি।

টিএন ৩৩সি ২১২৪

লাল রঙের ওম্নি ভ্যান।

এই, এটা সেবাস্তিয়ানের জামা না?

- ওসব ছাড় এখন। - হ্যাঁ! পুরনো কথা মনে করাস না।

- লোকটা সত্যিই শেঠজি তো? - আমি কী করে জানবো?

আরাসু পাঠিয়েছেন।

ওর বেশভূষা দেখে কোনোভাবেই শেঠজি বলে মনে হচ্ছে না।

তোমাদের মধ্যে কিট্টি কে?

তা জেনে তোমার কাজ নেই। তুমি কে?

আরে, আমাকে আরাসু পাঠিয়েছেন।

- নাম? - চুন্নিলাল।

দেরি না করে গাড়িতে ওঠো। ভোর হওয়ার আগেই আমাদের বেরোতে হবে।

পুলিশ হন্যে হয়ে খুঁজছে।

চলো, যাওয়া যাক!

ওরা ওকে পালিয়ে যাওয়ার সুযোগ করে দিল!

এনকাউন্টারটা অন্তত আমাদের করতে দিতো।

আবার নতুন করে সব শুরু করতে হবে।

- দাসের বাবা ভেলোরে থাকে, তাই তো? - হ্যাঁ, স্যার।

- ওর ওপর কড়া নজর রাখো। - নিশ্চয়ই, স্যার।

বাবা, তুমি বাড়ি কবে আসবে?

প্লিজ, তাড়াতাড়ি বাড়ি চলে এসো।

আমাদের দেখতে বাড়ি আসতে ইচ্ছে করে না তোমার?

আমি বাড়ি ফিরবো, সোনা। মাকে বলে দিস।

তুই একটু মাকে বোঝাস।

আমার খটকা লাগছে, ডিপার্টমেন্টের ভেতরেরই কেউ...

এই ডাকাতিটা ঘটাতে ওদের সাহায্য করেছে।

না, স্যার। কোনো পোক্ত প্রমাণ ছাড়া আমরা ওই দিকে এগোতে পারি না।

এরপরও এগোলে, আমরা বিপদে পড়বো।

স্যার, ওপাশে বাংলাপুদুর।

আর এপাশে গোবিচেত্তিপালায়ম জি২ থানা।

এই ব্রিজটা কার সীমানার মধ্যে পড়ছে, তা নিয়েই যত বিভ্রান্তি।

সেইজন্যই ওরা কেসটাকে এভাবে ঝুলিয়ে রাখছে।

দারুণ, আরেকটা নতুন ঝামেলা এসে জুটলো।

- গাড়িটা কোন দিক থেকে ঢুকেছিল? - এপাশ থেকে, গোবিচেত্তিপালায়ম হয়ে।

ফাইলে সেটাই লেখা আছে।

- থানায় খবর দাও। - অবশ্যই, স্যার!

- বাবা, তুমি কখন বাড়ি আসবে? - পরে ফোন করছি।

বাবা!

স্যার, আমি...

স্যার, আমি চাকরি থেকে পদত্যাগ করার পরিকল্পনা করছি।

স্যার, আমি আমার পরিবারের সাথে সময় কাটাতে চাই।

প্লিজ!

পারিবারিক দুর্বলতা!

মরতে এই পেশা বেছে নিয়েছিলে কেন?

হয় তোমার আমার মতো অবিবাহিত থাকা উচিত ছিল...

না হলে এমন কাউকে বিয়ে করতে হতো, যে তোমাকে আর তোমার পেশাকে বুঝতো।

দুটোর একটাও করো নি।

তার ওপর একটা বাচ্চাও পয়দা করে বসে আছো।

আর এখন ওদের কাছে যাওয়ার জন্য আমার মাথা খাচ্ছো।

এটা কেমন আচরণ, আশরাফ?

স্যার, স্যার, আমাদের ওই মেয়েটাকে বাঁচানো উচিৎ ছিল।

কোল্যাটেরাল ড্যামেজ!

স্বীকারোক্তি আমরা আদায় করেই ছাড়বো।

- হাত দাও! - স্যার!

সশস্ত্র ডাকাতির পর এখানে কাকে বদলি করা হয়েছিল?

তোমরা দুজন গিয়ে নিজের ডিউটি করো।

যাও!

ডাকাতির সময় কারা ডিউটিতে ছিলে না?

তোমরাও যেতে পারো।

অস্ত্রের ট্রাকটার সাথে কোনো স্থানীয় নিরাপত্তা রাখা হয়নি কেন?

সেদিন আমার অন্য জায়গায় ডিউটি ছিল, স্যার।

আরোকিয়াদাস ডিউটিতে ছিল।

তুমি যেতে পারো।

প্লিজ এসো।

আসুন!

- স্যার! - তোমার নাম?

- আরোকিয়াডোস, স্যার। - আরোকিয়াডোস !

হ্যাঁ, স্যার।

- তোমাকে বেশ ফিট দেখাচ্ছে। - স্যার!

তুমি কি আরাসুকে চেনো?

চিনি না, স্যার।

ঠিক আছে, বাদ দাও। এটা গুরুত্বপূর্ণ নয়।

এবার আমাকে বলো।

স্যার, মুরুগাভেল স্যার টহলদারির গাড়ি দিয়েছিলেন।

আর অন্য তিন অফিসারকে নিয়ে আমাকে ট্রাকের পেছনে যেতে বলেছিলেন।

তাহলে, তুমি বলছো, ট্রাকটির পথ ও সময় শুধু তুমিই জানতে।

হ্যাঁ, স্যার।

মুরুগাভেল স্যারই আমাকে সময়ের খুঁটিনাটি লিখে রাখতে বলেছিলেন।

আমি এটা লিখে রেখেছিলাম।

ট্রাক সংক্রান্ত যে খবরটা একমাত্র তোমারই জানার কথা,

সেটা আরাসু আর ওর দল জানল কী করে?

স্যার!

নিজের থানায় আমাকে আসামির মতো জেরা করছেন, এটা কিন্তু আমার ভালো লাগছে না।

- ভোজরাজ একজন পুলিশ অফিসার। - বুঝতে পেরেছি, দাদা।

এই মুহূর্তে ওর সাথে ঝামেলা না করাই ভালো।

ওসব ছাড়ো। টাকার কী হলো?

সামির সাথে কথা বলে সব ব্যবস্থা করে রেখেছি।

তোমার প্রধান কাজ হলো যুবরাজকে হত্যা করা।

যুবরাজকে নিয়ে ভাবার কোনো দরকার নেই। ও এতক্ষণে আধমরা হয়েই গেছে।

আমরা জায়গাটা রেকি করতে এসেছি। কালকের মধ্যে ওকে নিকেশ করে দেবো।

শেঠজি তোমাদের সীমান্ত পার করতে সাহায্য করবে।

আঙ্গানির পরিবারের জন্য টাকার ব্যবস্থা করে নিরাপদে সীমানা পেরিয়ে যেয়ো।

এই, আমাকে একটা সিগারেট দে।

স্বাগতম, আরাসু, স্যার।

তোমার কাজকর্ম পুরোটাই সরকারের বিরুদ্ধে।

অথচ পরিহাসের বিষয়, তোমার নামটাই আরাসু (সরকার)।

আমাদের উপহাস করছো নাকি?

তাকে চিনতে পারছো?

তোমার চর!

পুরো শরীরে অত কড়া শক ট্রিটমেন্ট দেওয়া সত্ত্বেও...

তুমি একটা বাচ্চার বাপ হতে পেরেছো!

কিট্টি, দাস এবং কারুপ্পান।

এরা কোথায়?

ভালো মানুষের মতো সত্যিটা বলে ফেলো।

এই, বদমেজাজি।

ওদের সাথে কথা বলা হয়ে গেছে। এগোতে পারো।

কাজ হাসিল করতে যাচ্ছ। তাই সাবধানে থাকবে।

এই, তোর খদ্দের আসছে।

কী ভাই, প্রথমবার নাকি?

তবে দেখে তো নতুন বলে মনে হচ্ছে না।

মুখভর্তি কাটা দাগ, মারপিট করে এলে নাকি?

বেশ তাগড়াই মরদই মনে হচ্ছে।

কোথা থেকে এসেছো?

তোমাকে দেখে এখানকার লোক বলে মনে হচ্ছে না।

শোনো, আমার মেয়েরা কিন্তু এক নম্বরের মাল।

টপ ক্লাস, বুঝলে!

খদ্দেরদের মাথা থেকে এদের ঘোর সহজে কাটে না।

না যাওয়ার ব্যাপারে জেদ করলে, তোর হাত কেটে ফেলবো।

এই, তাড়াতাড়ি খেলাটা শেষ কর। তাড়াতাড়ি কর।

শুনে রাখো, একবারের জন্য ১৫০০ টাকা।

আমরা নিয়মের বাইরে এক পা-ও যাই না।

তুমি ওর সাথে রুক্ষ ব্যবহার করলেও আমার কোনো আপত্তি নেই।

দ্বিতীয়বার করতে চাইলে আরও ১৫০০ টাকা গুনতে হবে।

আজ রাতে তেমন কিছুই হবে না।

আমি কোয়েম্বাটুরে জন্মেছি এবং বড় হয়েছি।

ছোট থাকতে আমার বোন নিখোঁজ হয়ে যায়।

তুমি কি কোয়েম্বাটোরের মেয়ে?

কেন? শুধু কোয়েম্বাটোরের মেয়ে হলেই করবে নাকি?

প্রশ্নটার উত্তর দাও।

শোনো, দয়া করে শোবার সময় বিরক্ত করো না।

বলো!

বলে ফেলো।

ওহ ঈশ্বর!

৬ বছর বয়সে, আমাকে কলকাতা থেকে এখানে নিয়ে আসা হয়েছিল।

গত ১৮ বছর ধরে এই ঘরেই আছি।

১৮ বছর, বললে?

ঠিকই বলেছি!

কলকাতা বললে তো?

হ্যাঁ, তাতে কী হয়েছে?

কিন্তু তুমি তো তামিল ভাষায় কথা বলছো।

তামিল, তেলেগু, মালায়লাম, হিন্দি, কন্নড়, বাংলা...

আমি সব ভাষায় কথা বলতে পারি।

১৮ বছর ধরে এই ঘর ছেড়ে না বেরিয়েও, এতগুলো ভাষা শিখে গেলে?

এখানেই, এই বিছানায়!

তুমি কি নিজের ইচ্ছেতেই এখানে আছো?

হ্যাঁ, নিজের ইচ্ছেতেই আছি।

রোজ ভগবানের কাছে প্রার্থনা করি, যেন দিনে ১০ জন করে মরদ আমার সাথে শোয়।

আর তাতেই যদি মন না ভরে, বাইরে ছেলেগুলোকে দেখলে?

ওই কুত্তাগুলো, যারা ক্যারম খেলছে।

যখন-তখন আমাকে ধর্ষণ করে, আর তার ভিডিও বানিয়ে রাখে।

আমিও এমনটা ঘটার জন্যই প্রার্থনা করেছিলাম।

সবচেয়ে বড় কথা হলো, যে লোকটা তোমাকে এখানে নিয়ে এসেছে...

ওই বেঁটে হারামজাদা, বুঝলে...

কলকাতায় নিজের পরিবারের কাছে ফিরে যাওয়ার কথা কোনোদিন মনে হয়নি?

আমার নিজের পরিবারই আমাকে এই শয়তানগুলোর কাছে বেচে দিয়েছিল।

শোবে, নাকি শুধু কথাই বলবে?

এত টাকা কামায় লোকটা, তবুও অটো চড়ে ঘোরে।

খরচ করার মুরোদ নেই!

পকেট থেকে একটা কানাকড়িও খসাবে না।

দাস, ও চলে এসেছে। তৈরি থাকিস।

এই, একটু রেকি করে আয়।

গত ১৮ বছর ধরে আমি এই ঘরেই আছি।

যখন-তখন আমাকে ধর্ষণ করে, আর তার ভিডিও বানিয়ে রাখে।

পরিবার সবসময়ই একটি দুর্বলতা।

ইরোডের এসআর ওয়েডিং হলে গেলেই ওদের পেয়ে যাবেন।

ওরা ওখানেই লুকিয়ে আছে।

তোমার কথা বিশ্বাস করতে পারি তো?

সশস্ত্র গুণ্ডা!

আজ আমি তোমার রাজত্ব চিরতরে শেষ করে দেবো।

বাবু, আমার সাথে এসো।

ম্যাডাম, আপনিও আমার সাথে আসুন।

গুলি করো!

আমাকে গুলি করো!

চুন্নিলাল, গাড়িটা চালু কর।

দাস, চল যাই। সে আগামীকাল পর্যন্ত এখানেই থাকবে।

কী হয়েছে? সব ঠিক আছে তো?

আয়, ভেতরে আয়।

- এই! - দাস, কাজটা কি আজকেই সারবো?

- আজ রাতেই ওকে খতম করছি তো? - কী করছিস, দাস?

চুপ কর, আহাম্মক!

আমার ওপর চেঁচাচ্ছিস কেন?

আরে!

- এই, ওকে আটকাতে যাস না। - ও বড়সড় ঝামেলা পাকাতে চলেছে।

আরে!

- কী খুঁজছো? - ওয়ালেট।

এই, এক হাত ক্যারম খেলবে নাকি?

- এই, বাইরে কী হচ্ছে, দেখে আয়। - তাড়াতাড়ি কর!

বাবা! বাবা!

পেছনে শক্ত কোনো হাত নেই।

যেকোনো মামলায় ওর নাম অনায়াসেই জড়িয়ে দেওয়া যাবে।

ওখানেই দাঁড়া। কোথায় যাচ্ছিস?

ভিতরে কী হয়েছে?

তুই কে রে, রেন্ডির বেটা?

সব মেয়েদের নিয়ে চলে যাও।

আয়, এক দান ক্যারম খেলে নিই।

সবাই উপরে চলে আয়।!

- এরা সব ছুটছে কোথায়? - মনে হয়, ওপরের তলায় গোলমাল বেধেছে।

- এই! - এত লোক হুটোপুটি করে পালাচ্ছে কেন?

- ধুর, চল এখান থেকে! - সর্বনাশ হয়েছে!

আরে!

এই, কিটি!

এই, কাউকে ছাড়বি না। সব কটাকে গুলি কর।

- এই, পালা, নইলে গুলি করবো! - সবাইকে গুলি কর, কিটি!

সবাইকে গুলি কর!

এদের আমি সামলাচ্ছি। তুই দাসকে নিয়ে আয়।

আমি ক্যারম বোর্ড এভাবেই খেলি।

এই দাস, তুই কী করে বসলি?

এটা তো পরিকল্পনা ছিল না। এখন তাড়াতাড়ি কর।

গাড়ি স্টার্ট দিয়ে রাখ, আমি আসছি।

ধুর শালা, এই লোকটাকে নিয়ে আর পারা গেল না!

এই লোকটাই কি তোমাকে এখানে আটকে রেখেছিল?

বাকি মেয়েরা পালিয়ে গেছে।

তুমিও চলে যাও।

কী!

দাস, তাড়াতাড়ি কর!

চল, দাস!

এই, ওই মেয়েটা কে?

এই? এই, দাঁড়াও!

তোমাকে চলে যেতে বলেছিলাম।

- ও আবার ওর সাথে কথা বলছে কেন? - দাস, ও কে?

তোমাকে চলে যেতে বলেছিলাম!

জানি না, কোথায় যাবো।

- এই, ওকে প্রশ্রয় দিচ্ছিস কেন? - আমি সব জানি। মুখ বন্ধ কর!

আমি জানি!

জানি না, কোথায় যাবো।

আমার সাথে এসো। তোমাকে কোনো নিরাপদ জায়গায় নামিয়ে দেবো।

আমাদের জীবনের কোনো নিরাপত্তা নেই, আর তুই ওকে নিরাপত্তা দিতে চাইছিস!

আরে!

এই, দাস, ওকে তাড়াতাড়ি গাড়িতে তোল।

- তুই ওকে উস্কাচ্ছিস কেন? - এই, চিৎকার করিস না!

- তোরা সবসময় ঝগড়া করিস কেন? - গাড়ির ভেতরে এসো!

- আগে ওই মালটাকে সাথে নিয়ে চলো। - চুন্নিলাল, তোকে গাড়ি থেকে ফেলে দেবো।

তুমি উঠে পড়ো, আমরা সাহায্য করবো।

এই মেয়ে, হাঁ করে তাকিয়ে না থেকে গাড়িতে ওঠো।

দাস ইতিমধ্যেই রাজি হয়ে গেছে। তোমরা বিপদ ডেকে আনছো।

শোনো, হাতে একদম সময় নেই। আসবে, নাকি আসবে না?

এই, দাস বলেই দিয়েছে। গাড়িতে ওঠো।

এই, গাড়ির ভেতরে ওঠো!

ভেতরে এসো!

ভিতরে ঢোকো! গাড়ি চালু করো!

এমনিতেই বিপদে পড়েছি। আরাসুর কাছে এসবের কী কৈফিয়ত দেবো, কে জানে!

ভাবানুবাদ ও সম্পাদনা : সুদীপ চক্রবর্তী।

এই! এই!

ওদিকে দেখ।

যে মেয়েটাকে তুলে আনলি, ও তো মরেই যাবে মনে হচ্ছে। ওকে ভেতরে নিয়ে আয়!

ধন্যবাদ!

কেন?

চেনা মানুষদের সত্যি কথা বলতে মানুষ দ্বিধাবোধ করে।

কিন্তু একজন অচেনা মানুষের কাছে মনের সব কথা উজার করে দেওয়া যায়।

যাদের সাথেই আমি শুয়েছি, তারা প্রত্যেকেই নিজের গল্প আমাকে শোনাতো।

আমিও তাদের কাছে আমার গল্প বলতাম।

আমাদের খদ্দেরদের অর্ধেকই পুলিশ।

এখানে কী কুকীর্তি চলে, সে খবর ওদের ভালো করেই জানা আছে।

এখানে মেয়েদের বন্দি করে রেখে ব্যবসা চালানো হচ্ছে।

অথচ সাহায্য করতে কেউ এগিয়ে আসে না।

তাই ধন্যবাদ জানালাম।

তুমি কেন ফিরে এলে?

আমি যখন খুব ছোট ছিলাম, তখন তারা আমার মাকে হত্যা করেছিল।

তাই আমি ওদের খুন করে জেলে যাই।

চার দেওয়ালের মাঝে বন্দি থাকার যন্ত্রণা তাই আমার ভালো করেই জানা আছে।

সেটাই মনে পড়ায় ফিরে এলাম।

আমার ভয় হতো, মুক্ত প্রকৃতিকে আমি কোনোদিন ছুঁয়ে দেখতেই পারবো না।

কেন?

কোনো মেয়ে একটু বুড়ো হয়ে গেলে, ওই ধরো ৩৮-৪০ বছর বয়স হলে,

ওরা খাবারে বিষ মিশিয়ে মেরে ফেলে।

আর লাশটা কোথাও ফেলে দিয়ে আসে।

পুরনো কাসুন্দি ঘাঁটছো কেন?

এখন ওই নরক থেকে বেরিয়ে এসেছো।

এবার ভালোভাবে বেঁচে থাকার পথ খুঁজে নাও।

ভেবেছিলাম, ১২ বছর বয়স হলে ওরা আমাকে ছেড়ে দেবে।

আমারও পাঁচটা সাধারণ মানুষের মতো বিয়েথা করে সংসার করার সাধ ছিল।

পরে সেই ইচ্ছাটা উধাও হয়ে যায়।

কেন? দুনিয়ার সব পুরুষ কি মরে ভূত হয়ে গেছে নাকি?

তুমি এখনও বিয়ে করে সংসার পাততে পারো।

আমাকে নিয়ে তোমার ভাবতে হবে না।

তোমরা কারা বলো তো?

তোমার বাবা আছেন?

আমি তো আর ঈশ্বর নই।

আমার বাবা আছে।

তিনি তোমার সাথে থাকেন না?

তিনি ভালো করেই জানেন, আমার সাথে থাকলে তিনি নিরাপদে থাকবেন না।

সেইজন্যই আমার থেকে দূরে থাকেন।

বাবার সাথে দেখা করতে ইচ্ছে করে না তোমার?

আমি তোমাকে যে প্রশ্নটা করেছিলাম, ঘুরিয়ে আমাকেই সেটা করছো?

যাও, গিয়ে একটু জিরিয়ে নাও।

তোমাকে কোনো নিরাপদ জায়গায় নামিয়ে দেবো।

এই!

আমার নাম চন্দ্রা। তোমার নাম কী?

দেবদাস!

আরাসু দাদা আমার ফোন তুলছে না।

আর ও কোনো কিছুর তোয়াক্কা না করে মেয়েটাকে সাথে তুলে নিয়ে চলে এলো।

এই কিট্টি, আমরা এখন একদম মাঝরাস্তায় দাঁড়িয়ে আছি।

আর তুই বলছিস, ও তোর ফোন তুলছে না!

আমাকে বলা হয়েছিল, আমাদের ওই বিয়েবাড়ির হলে গিয়ে ওঠার কথা।

আচ্ছা, আচ্ছা।

এই, কিট্টি, ব্যাগটা আমাকে দে।

এই ব্যাগে অন্তত ৫০টা সিম কার্ড আছে।

তার মানে ওরা দু'দিন পরপরই সিম কার্ড বদলাচ্ছিল।

আমি নিশ্চিত, এর একটাও আরাসুর নামে তোলা হয় নি।

তা সত্ত্বেও, ও শেষ যে নম্বর থেকে ফোন করেছিল, সেটা ট্র্যাকিংয়ে বসাও।

যদি কোনো কাজে দেয়।

এই বয়সে এসে তোর বিয়ে হচ্ছে দেখে সত্যি অবাক হচ্ছি।

কিট্টি, তোর কথাটা কিন্তু আমার মনে ধরেছে।

তাহলে আমাদেরও জীবনে এখনো সুযোগ আছে।

হ্যাঁ, আমি নিশ্চয়ই যাবো।

তুই যেমনটা বলেছিলি, অন্ধ্রে গিয়ে মেয়ে দেখে বিয়েথা করে নেবো।

- কী বলিস, কিট্টি? - কারুপ্পু, একটু চুপ করবি?

সকালে এখান থেকে বেরোনোর হুকুম আছে।

তাই, তোরা এখানেই চুপচাপ পড়ে থাক।

আমি খাবার ও পানীয় পাঠিয়ে দেবো।

আর কিছু দরকার হলে, একটা হাঁক দিস, আমি চলে আসবো।

ভাই, আরাসুর সাথে কোনোভাবেই যোগাযোগ করতে পারছি না!

- সামি, ওর সাথে তোর কথা হয়েছে? - টাকাগুলো এই ব্যাগে আছে।

পরশু দিন ফোন করে আমাকে টাকাটা তুলে নিতে বলেছিল।

তারপর থেকে ও আমাকেও আর ফোন করেনি।

আশা করি, এর মধ্যে আমার দালালিও ধরা আছে।

অন্তত একটা অগ্রিম দিয়ে দাও, আমি ঝামেলা মিটিয়ে নিচ্ছি।

এখন তোমার হিসাব চুকানো আমার পক্ষে সম্ভব নয়।

কাজ শেষ হলে, টাকাটা আমরা নিজেদের মধ্যে ভাগ করে নেবো।

নিজের কথায় খেলাপ করে আমার কমিশনের টাকা যদি না দাও,

তাহলে কিন্তু আমি হিংস্র হয়ে উঠবো।

আরে!

তাকে পেয়েছিস?

কী হয়েছে, চুন্নিলাল?

- একটা বড় ডিল হচ্ছে। - ঠিক আছে।

- সীমান্ত পারাপার! - তাতে কী হয়েছে?

- তাছাড়া, এখানে একটা মেয়েও আছে। - তোর ভরসায় ছেড়েছে?

আমি নারীদের রক্ষক।

এই, তুই মেয়েটাকে সাথে নিয়ে এসেছিস। কী করার ইচ্ছা আছে?

আমি সামির সাথে কথা বলেছি। ও সামলে নেবে।

- আমি এক মিনিটে আসছি। - কী কথা বলেছিস, কে জানে।

আমি তাদের সাথে কথা বলবো।

আমি ওদের সাথে কথা বলবো। চিন্তা কোরো না।

তুমি তেলেগুতে কী আবোলতাবোল বকছো?

- তেলুগু বলছি? - নয় তো কী?

আহাম্মক! আমি হিন্দিতে কথা বলছি।

ঠিক আছে।

- এটা মাথায় রাখিস। - কী?

চুন্নিলাল-চন্দ্রা।

ঠিক আছে।

আমাদের নাম দুটোর মধ্যে মিল আছে, তাই না?

- কী এটা? - সমাজসেবা।

- এক কোণে গিয়ে চালিয়ে যাও। - ঠিক আছে।

আমরা সকালে রওনা হচ্ছি।

ভালো কাজ, দিনে তিন বেলা খাবার,

এবং থাকার একটি জায়গা।

এটাকে নিজের পুনর্জন্ম মনে করে ভালোভাবে বাঁচো।

তুমি কোথায় যাচ্ছো?

জানি না।

সিদ্ধান্ত নেওয়ার জন্য ভোর পর্যন্ত সময় আছে আমার কাছে।

ভাই, একটা সিগারেট দে।

সব দল সামনে এগোও! সব দল সামনে এগোও!

কী হয়েছে?

কিছুই না! ওখানে কত টাকা আছে?

ব্যাগে ১০ লাখ টাকা আছে। বাইরে কী হলো?

কিট্টি!

- এই, কিট্টি! - কী হয়েছে?

তারা আরাসু ভাইকে মেরে ফেলেছে।

- কী বলছিস? - ওরা আরাসু ভাইকে মেরে ফেলেছে।

ওরা আরাসুকে মেরে ফেলেছে?

- কাগজে ছাপা হয়েছে। - এক মিনিট, যাচাই করে দেখা যাক।

ওর নাম কী যেন? আরোকিয়াদাস, ওকে ফোন কর।

আমার কেমন যেন ঠিক ঠেকছে না।

ওরা আরাসুকে মেরে ফেললে, আমাদেরও খুঁজে পেতো।

- সত্যি বলছিস? - এখন আমরা কী করবো?

তুই কী অস্বাভাবিক কিছু লক্ষ্য করেছিস?

এই, কিছু বল।

বুঝতে পারছি না। কী করছিস?

আরে!

এই, দৌড়া! দৌড়া!

যাও! যাও! যাও! যাও!

-যাও! যাও! যাও! - ওরা আমাদের খুঁজে পেলো কী করে?

এই, দাস, এদিকে আয়!

এই, ওকে তুলে নে।

- ওকে তোল। - কিট্টি! ওহ, না!

সাংঘাতিক ব্যথা করছে!

ব্যথা করছে!

আরে, আয়!

ওহ, না!

- দাস! - এখান থেকে চলে যাও।

যাও!

- এই, না! - গুলি কোরো না!

চন্দ্রা, পালাও!

চল, কিট্টি! চল!

- গাড়িতে ওঠ। - চলো, চন্দ্রা!

আরে, আয়!

- আমাকে গুলি দে। - দাঁড়া।

তুই এগিয়ে যা। চন্দ্রা, আমার সাথে এসো।

এই, চন্দ্রা। চন্দ্রা, দৌড়াতে থাকো।

- দাস! - চন্দ্রা, এসো, দাস তোমার পিছনে আসবে।

আমার সাথে এসো!

সরো! সরো! সরো! সরো!

এই, চল! আয়, দাস।

- ওরা কোথায়? - দাঁড়া! ওরা চলে আসবে!

- দাস! - আয়, দাস!

চল, তাড়াতাড়ি কর!

- তাড়াতাড়ি কর! - ভেতরে আয়!

ভেতরে আয়!

- গাড়ি চালু কর। - চালা!

ভোজরাজকে মেরেছিস কি মারিসনি?

দাস! আমার দুটো গুলি লেগেছে।

তোর কিচ্ছু হবে না। মুখ বন্ধ রাখ!

দুটো গুলি, কিট্টি।

- আলোটা জ্বালা। - আমি জানি, আমার গায়ে লেগেছে।

এই, আলো জ্বালাচ্ছিস কেন?

- টাকাটা কোথায়? - দুটো গুলি।

- টাকাটা কোথায়? - আরে, ব্যাগটা গেল কোথায়?

আমি ভয়ে মরছি, মরে যাবো।

আর তুই কিনা ব্যাগের চিন্তায় আছিস, পাগল কোথাকার!

- গাড়ি ঘোরা। - আমি ঘোরাবো না।

- আমি মরতে রাজি নই। - টাকা ছাড়া আমরা যেতে পারবো না।

এই, আমরা ফিরে যেতে পারবো না। গাড়ি ঘোরালে তোকে মেরে ফেলবো আমি।

টাকার চেয়ে জীবন বেশি মূল্যবান।

গাড়ি ঘোরাতে চেয়ে তুই পাগলামি করছিস।

এই, চুপ কর, হতচ্ছাড়া!

এই, একদম চুপ কর!

দুটি গুলি।

আরে!

- জোরে গাড়ি চালা আর আলো নিভিয়ে দে। - ঠিক আছে।

এই, কিট্টি! চিৎকার করা বন্ধ কর।

- ভেতরে আয়। - দাস, দুটো গুলি লেগেছে আমার।

- আমি জানি, দাস। - এই চুন্নিলাল!

- খুব যন্ত্রণা হচ্ছে, দাস। - তুই যাদের নিয়ে আসিস, তারা সবসময় কেমন যেন অদ্ভুত হয়।

টাকাটাও খোয়ালি আর এখন যন্ত্রণায় কাতরাচ্ছিস।

- মুখ বন্ধ কর! - মুখ বন্ধ করে হাঁটতে থাক।

কিট্টি, দুটো গুলি।

ব্যথা করছে, দাস।

- তোকে ভোর হওয়ার আগেই বেরোতে হবে। - ঠিক আছে।

- কিট্টি, দুটো গুলি। - এই নাও!

- এদিক দিয়ে। - ভেতরে আয়।

কিট্টি, তুই বুঝছিস না কেন?

এই, তাড়াতাড়ি বস।

কিট্টি!

এই! এই!

- চুপচাপ বোস। - খুব যন্ত্রণা হচ্ছে। দুটো গুলি লেগেছে!

- আমি দেখেছি, দাস। - শান্ত থাক।

আমি দেখেছি, দাস।

- দুটো গুলি, দাস। - ফোন অন করিস না।

- আমি এবার শেষ। - হতভাগা কোথাকার!

- দয়া করে ওর একটা কিছু কর। - আমার হাতটা গেল।

আমি শেষ! আমার খুব ভয় করছে, দাস।

দুটো গুলি, দাস। দাস!

দাস!

ব্যথা করছে, দাস!

মোটে একটা গুলি লেগেছে।

সোজা ঢুকে এপাশ দিয়ে ওপাশে বেরিয়ে গেছে।

ভেতরে কোনো গুলি আটকে নেই।

আরে, মুখ বন্ধ কর আর শান্ত হ।

এই, টাকার পরোয়া আমি করি না।

আমরা যে এখনো বেঁচে আছি, এটাই অনেক বড় ব্যাপার।

আগে এই শহর ছেড়ে পালাই।

আঙ্গানির ছেলেকে টাকাটা না দেওয়া পর্যন্ত আমি যাবো না।

কী? মাথা খারাপ হয়েছে তোর?

ওরা আরাসুকে মেরে ফেলেছে। এরপর আমাদের পালা।

চল অন্ধ্রপ্রদেশে চলে যাই। মুখ বন্ধ করে এখান থেকে চল।

তোর যদি ভয় লাগে, তুই চলে যেতে পারিস।

আমি তোকে আটকাবো না।

তোমাদের কি টাকা লাগবে?

তুমি কী বললে?

তোমাদের কি টাকা লাগবে?

সে আবার কে?

এই মেয়েটা সাথে সাথে ঘুরছে কেন?

সকালে, আমি যেখানে বলব, আমাকে সেখানে নিয়ে যাবে।

কী? কোথায়?

ইরোড বাসস্ট্যান্ডের কাছে কান্নান লজ আছে।

হ্যাঁ, আছে।

- মালিক? - ঐ তো ওখানে।

এখানে কেন এসেছো? কী চাও?

কিট্টি, আমাকে একটু মদ দে।

আমি এই ব্যথা সহ্য করতে পারছি না।

এই কারুপ্পু, চুপ করে থাক, নয়তো তোকে মেরেই ফেলব।

এই নাও!

এই, দেখ ভেতরে কত আছে।

টাকাটা জোগাড় করলি কী করে?

সবকিছুরই একটা দাম আছে।

ইজ্জতেরও মূল্য আছে।

ভেতরে কত আছে?

লাখ তিনেক মতো হবে। কিন্তু এতে হবে না।

আমাকে ইরোড বাজারের জ্যাকসন টেক্সটাইলসে নিয়ে চলো।

হ্যাঁ!

এই, ও বেরিয়ে এসেছে। ও বেরিয়েছে।

মাইরি, আগুন লাগছে তো রে!

ফুলটা শুকিয়ে যাবে না?

এটা প্লাস্টিকের।

ঠিক আমার মতোই।

কিন্তু একটা বিষয় স্পষ্ট।

কাঁকড়াবিছে কামড়ানো চোরের মতো, নীরবে যন্ত্রণা সহ্য করে...

মান-সম্মান বাঁচাতে, ওরা জলের মত অর্থ ব্যয় করছে।

আমাদের কাজ তো হয়ে যাচ্ছে।

- আমি আপনাকে সত্যিটা বলছি। - বল। আমি শুনতে চাই।

তা, চন্দ্রা...

যেখানেই যাচ্ছো, নতুন জামাকাপড় আর টাকা পাচ্ছো।

কী দারুণ!

আমার বরং যৌনকর্মী হয়ে জন্মানো উচিৎ ছিল।

প্রচুর টাকা কামাতে পারতাম।

এরপর কী?

এ-ওয়ান পান্ডিয়ান হোটেল।

গুনে নে!

বাপরে, অনেক টাকা তো।

কে-টু পুলিশ স্টেশন, সাব-ইন্সপেক্টর।

এই, আমরা থানার ভেতরে ঢুকতে পারবো না।

দাস, আমাদের না মারা পর্যন্ত মেয়েটা থামবে না।

ও থানায় থাকলে আমরা কিছুই করতে পারবো না।

আমরা ওকে ওর বাড়ি থেকে তুলে নিতে পারি।

এই, ভেতরে এসো!

এই, চালা! চালা, চালা!

তুই যা ভাবছিস, তা হবে না।

আমার মাথায় কী চলছে তুই জানলি কী করে?

আমি জানি!

টাকা এনে দিচ্ছে বলেই, মেয়েটাকে আমরা সাথে রেখে দিতে পারি না।

আমি ভাবতাম তুই পাগল, কিন্তু ও তোর চেয়েও বড় পাগল।

ছেলেবেলায় মাকে হারানোর পর থেকেই সে ভালোবাসার জন্য আকুল হয়ে আছে।

দুই সপ্তাহ আগে,

চেন্নাইয়ের ওই গায়িকার সাথে সম্পর্ক হবার আগেই...

এক চরম দুর্ভাগ্যজনক দুর্ঘটনা ঘটে যায়।

তার নাম ছিল পার্বতী, সে কোয়েম্বাটুরের বাসিন্দা ছিল।

ওর মৃত্যুর জন্য সে নিজেকেই দোষী ভাবছে, আর প্রতিনিয়ত নিজেকে শেষ করে দিচ্ছে।

কোনো মেয়ে বিপদে পড়লেই তোর মন গলে জল হয়ে যায়।

সাবধান থাকিস।

চারপাশের পরিস্থিতি ভীষণ গরম।

তাকে কি আমার মতো দেখতে ছিল?

তা একরকম বলাই যায়।

তাই ভাবি, ও কেন এত পাগলের মত করছে।

যা-ই হোক, আমরা বেরোনোর সময় তোমাকে নিরাপদে নামিয়ে দিয়ে যাবো।

তুমি তোমার মতো জীবন কাটাও।

এদের কথা ভুলে যাও।

আমার সাথে এসো।

শুধু তুমি আর আমি... কোথাও ঘুরতে যাবে?

- তোমার নাম কী? - চুন্নিলাল!

তোমার ‘লাল’ আমি কেটে বাদ দিয়ে দেবো!

- যথেষ্ট হয়েছে? - হ্যাঁ, দাস।

যা দরকার ছিল, পেয়ে গেছি।

যথেষ্ট হয়েছে।

- আর একটা বাকি আছে। - কী?

টাকা তো পেয়ে গেছি। চল, ভেলোরের দিকে রওনা দিই।

এটাই শেষ!

দরকার নেই। চল, চলে যাই।

দাস, আর মোটে একটা। এত দূর যখন এসেই পড়েছি।

সহজে টাকা এলে ফিরিয়ে দেবো কেন?

বেরোনোর মুখেই তুলে নেবো।

কিট্টি!

এই, সিল্ক, তুই এখানে কী করছিস?

দাস, বন্দুকটা পাওয়া যাচ্ছে না।

এই, এখানেই থাক, ইঞ্জিন চালু রাখিস।

এই কিট্টি, কী হচ্ছে, গিয়ে দেখ তো?

গাড়ি স্টার্ট দে।

মেয়েটা আমাদের বিপদে ফেলে দিল।

এই, চুন্নিলাল, গাড়িটা চালু কর।

হাঁ করে দাঁড়িয়ে না থেকে গিয়ে দেখ কী হয়েছে!

তোদের সমস্যাটা কী?

স্যার, ঈশ্বরের দিব্যি, আমি সত্যি বলছি।

ওরা ভেলোরে গিয়ে টাকাটা তুলে দেবে...

এবং সীমান্ত পেরিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশে পালাবে।

এছাড়াও, তাদের সাথে একটা মেয়েও আছে।

আমি শুধু এটুকুই জানি, স্যার।

তার মানে, টাকাটা কার জন্য যাচ্ছে তুই জানিস না?

আমার সদ্যবিবাহিত স্ত্রীর দিব্যি খেয়ে বলছি, আমি জানি না।

হ্যালো?

আশেপাশের সকল থানাকে সতর্ক করুন।

ওরা এখনও ইরোডেই আছে।

তারা একজন ডাক্তারকে হত্যা করেছে।

শোনো, এদিকে কেউ একটা আসছে।

- কে তোমরা? - ওখানেই দাঁড়িয়ে থাকো।

- কী...? - চুপচাপ থাকো। চিৎকার করবে না।

এখানে কতজন লোক আছে?

- আর কে আছে? কতজন আছিস? - আমরা মোটে তিনজন আছি।

গোলমাল কোরো না।

- এখানে কি আর কেউ আসবে? - না স্যার, কেউ আসবে না।

চলো!

- চুপ করে থাক। চিৎকার করবি না। - ঐ দিকে যা।

বন্দুকটা নামাও।

এখানে কতজন আছে?

শুধু আমি, আমার স্ত্রী আর এই বাচ্চাটা।

আমরা তোমাদের কোনো ক্ষতি করবো না। বুঝতে পেরেছো?

আমরা সকালেই চলে যাবো। চুপচাপ থাকো।

এই, চারপাশে গিয়ে দেখে আয়, কাছাকাছি আর কেউ আছে কি না।

মেয়েটার সমস্যাটা কী?

সব ঘেঁটে একাকার করে দিল। এই, চল এগো।

এই, পেছন দিক দিয়ে।

ভোর হতেই আমরা বেরিয়ে যাব। তোমাদের কোনও ক্ষতি করবো না।

ভেতরে ঢোকো। বাইরে আর কেউ আছে?

- ভালো করে দেখেছো? - আর কেউ নেই।

এই, তুমি ওকে গুলি করলে কেন?

তুমি কাভারচি কান্নানকে হত্যা করলে কেন?

তুমি বলেছিলে, সে তোমাকে আটকে রেখেছিল?

তাই, আমি তাকে হত্যা করলাম।

তোমাকে কে মারার অনুমতি দিয়েছিল?

তুমি কি আমাকে জিজ্ঞাসা করেছিলে?

এই, আজেবাজে কথা বলছো কেন?

আগে বলো, ওকে গুলি করলে কেন?

সে খারাপ কাজ করেছিল বলে তুমি ওকে মেরেছিলে।

ও খারাপ কাজ করেছিল বলেই আমিও ওকে মেরেছি।

যখন তোমাকে বলেছিলাম, আমার মা হওয়ার আর কোনও ইচ্ছে নেই...

তুমি আমাকে কারণ জিজ্ঞাসা করেছিলে।

আমার বয়স যখন ১৬, তখন সে আমার জরায়ু কেটে বের করে নিয়েছিল।

আমার মুখের দিকে তাকিয়ে হেসে বলেছিল,

"জীবনে কোনোদিন আর মা হতে পারবি না।"

শুধু আমি একা নই...

সেখানকার সবক'টা মেয়ের সাথেই এই চরম সর্বনাশ ঘটেছিল।

এই কারণেই আমি তাকে মেরেছি।

যদি মনে হয়, আমার জন্য তোমাদের কোনও বিপদ হচ্ছে...

তাহলে বলো, আমি এখান থেকে চলে যাবো।

- এই চুন্নিলাল, জোরে হাঁট। - মুখ বন্ধ করে আমার পেছনে আয়।

তাড়াতাড়ি কর!

- এই, ব্যাগটা দে তো। - কী ব্যাপার?

- ব্যাগটা দে বলছি! - এই, গায়ে পড়ে ঝামেলা ডাকছিস কেন?

- এই সবাই, তাড়াতাড়ি চলো! - এই নাও!

তোরা এগিয়ে যা, আমি আসছি।

- চলো, চন্দ্রা। - কোথায় যাচ্ছো?

- এই, আমাদের সাথে চলো। - ওদের সাথে যাও।

তাড়াতাড়ি হাঁটো সবাই!

এই চুন্নিলাল, এগিয়ে চল, ও চলে আসবে।

তাকে বাঁচিয়ে রেখো।

যা বলছি, শুধু সেটাই করবে।

পুঞ্জোলাই স্টেশনে যেতে কতক্ষণ সময় লাগবে?

আনুমানিক ৯ ঘন্টা, স্যার।

- পুঞ্জোলাইয়ের দিকে গাড়ি চালাও। - ঠিক আছে, স্যার।

তোর জন্যই পুলিশ ওকে ধরেছে।

ওর মৃত্যুর জন্য তুই-ই দায়ী থাকবি।

সব শেষ! ওরা নিশ্চিতভাবে ওকে মেরে ফেলবে।

আমাকে আর মুখ দেখাবি না। দূর হ এখান থেকে!

এই কারুপ্পু, চল।

চন্দ্রা, আমাদের সাথে আয়।

আমি দাসকে ছাড়া যাবো না।

এই, ওকে ডাকছিস কেন?

- আরে, ওটা দাস, শালা! - তা আমি কী করবো?

সব শেষ হয়ে গেছে। ওর বাঁচার আর কোনো আশা নেই!

আমরা এখন কিচ্ছু করতে পারবো না।

তোমাদের মধ্যে কাউকে পুলিশ ধরলে,

দাস কিন্তু ফেলে রেখে চলে যেত না।

ও ঠিকই বলছে, কিট্টি। আমরা দাসকে এভাবে ফেলে যেতে পারি না।

আগে আমরা সেবাস্টিয়ানকে ছেড়ে এসেছি। এরপর হয়তো আমার পালা আসবে।

আরে!

কপালটাই ফাটা শালা!

চল, যাওয়া যাক!

হচ্ছেটা কী?

- নিজের ইচ্ছেমতো সিদ্ধান্ত নিলে কী করে? - বলছি কী...

গাড়িটা আমার। আর সিদ্ধান্তও আমিই নেবো।

তোমাদের সীমান্ত পার করিয়ে দেওয়াই আমার কাজ।

তোমাদের ভরসায় থেকে আমি গুলি খেতে পারবো না।

তবে, একটা বিকল্প উপায় আছে।

সেটা কী?

আমাকে চাও?

শালা, এই মেয়ে ব্যাপারে বেশ খোলামেলা।

প্রথমে আমাদের সাহায্য করো।

তারপর তুমি যা বলবে, আমি তা-ই করবো।

এই, চল! ওকে ছিনিয়ে নিয়ে আসি।

আজকের কাজ কালকের জন্য ফেলে রাখতে নেই।

চল! দাস আমাদের অনেক সাহায্য করেছে।

গাড়িতে ওঠো। চলো যাই।

কী রে, খুব বড় গ্যাংস্টার হয়ে গেছিস নাকি?

এবার পালিয়ে দেখা তো।

বুঝতে পারছি না, ওরা তোকে বাঁচিয়ে রাখতে চাইছে কেন।

মর শালা!

এই, ভাব দেখাচ্ছিস নাকি?

নিজেকে বিরাট হনু ভাবছিস, তাই না?

তুমি পুলিশকে মারছিস।

আর সে ডাক্তারকে মেরে ফেলছে।

হতচ্ছাড়ার দল! এটা তামাশা মনে হচ্ছে?

বলে ফেল!

এই, ওর নাম কী?

আরে!

তোকে তার নাম জিজ্ঞাসা করছি।

রেন্ডিটার নাম কী?

কী রে, চোখ রাঙাচ্ছিস?

তা, কেমন চলে তোদের?

খুব সুখ দেয় তোকে, তাই না?

শালা, মাপছিস নাকি?

তোর চোখের সামনে ওর জীবন ছারখার করে দেবো।

এই কনস্টেবল, একটা কন্ডোম নিয়ে আয়।

বাইরে বের কর ওটাকে।

ধ্যাৎ, কিট্টি!

আরে, তুমি কে?

আমি বেঁচে থাকা পর্যন্ত তোমাকে মরতে দেবো না।

চলো! চলো!

চুন্নিলাল, গাড়িটা ভেতরে নিয়ে আয়।

তাড়াতাড়ি ভেতরে এসো!

দাস?

- কী হয়েছে? - দাস!

তার নাম চন্দ্রা!

ও রেন্ডি নয়!

দাস, ওখান থেকে বেরিয়ে আয়।

- এই, গাড়ি চালা। - আয়, দাস!

যা! যা! যা!

- ভোজরাজ! - হ্যাঁ, স্যার।

দেখামাত্র গুলির নির্দেশ থাকা সত্ত্বেও গুলি চালালে না কেন?

তুমি ওকে আবার হাত ফসকে পালাতে দিলে।

তোমার গাফিলতির জন্য থানার ইন্সপেক্টর মারা গেছেন।

আরও চারজন অফিসার হাসপাতালে ভর্তি।

ভোজরাজ, তোমাকে ২৪ ঘণ্টা সময় দিচ্ছি।

দাস, ওর দলবল, আর সাথে থাকা ওই নতুন মেয়েটা...

সব ক'টাকে খতম করে দাও।

ওরা যেন কোনোভাবেই সীমান্ত পেরিয়ে অন্ধ্রপ্রদেশে ঢুকতে না পারে।

ঠিক আছে স্যার, আমি সবাইকে শেষ করে দেবো।

গোল্লায় যাও তুমি!

দাসের বাবার ওপর কি নজরদারি এখনও চলছে?

হ্যাঁ স্যার, আমরা নজরে রেখেছি।

- মনোজ, রাজর্ষি। - স্যার!

তোমরা দু'জন স্থানীয় পুলিশকে সাথে নিয়ে ইরোডে তল্লাশি চালাও।

অবশ্যই, স্যার।

আমি ও আশরাফ ভেলোর যাচ্ছি।

- মনে হয়, ও বাবার সাথে দেখা করতে আসবে। - হ্যাঁ, স্যার।

পরিবারই মানুষের সবচেয়ে বড় দুর্বলতা, তাই না আশরাফ?

চলো যাই!

এই, দেখো তো, আশেপাশে কোনো লোহার রড পাওয়া যায় কি না।

দাঁড়াও!

শোনো, সে তোমাকে পছন্দ করে না।

তোমার চলে যাওয়াই ভালো হবে।

কী যে হচ্ছে, আমি কিছুই বুঝতে পারছি না।

বুকের ভেতরটা কেমন যেন ভারী লাগছে।

মেয়েটা কিন্তু দারুণ। মনটা খাঁটি সোনার মতো।

সেই জন্যই ভয়টা বেশি হচ্ছে।

আমি অনেক প্রিয়জনকে হারিয়েছি।

দাস, পুরোনো কথা ভেবে মন খারাপ করছিস কেন?

মেয়েটা তোকেই নিজের গোটা জগৎ মনে করে।

আজ সকালে যখন পুলিশ তোকে ধরে নিয়ে গেল...

কিটি তখনই চলে যেতে চেয়েছিল।

কিন্তু এই মেয়েটাই বললো, তোকে ছাড়া ও এক পা-ও নড়বে না।

তোমাকে আমি টাকা দিচ্ছি। এখান থেকে চলে যাও!

সবার জন্য সেটাই ভালো হবে।

ওই ছোটলোক... চুন্নিলাল।

সেও পালিয়ে যেতে চেয়েছিল।

কিন্তু এই মেয়েটাই কোনোভাবে আমাদের সাহায্য করতে রাজি করালো।

সে ভালো মেয়ে।

অবশ্যই, সে ভালো মেয়ে।

ওকে কীভাবে রাজি করালো?

সবটা খুলে বলছিস না কেন ওকে?

একটা কথা মাথায় রাখিস। ওই মেয়েটাই কিন্তু আমাদের কাল হবে।

আমি আগেই তোদের সাবধান করে দিচ্ছি।

আচ্ছা, সে তাকে কীভাবে রাজি করালো?

দেখো... দেখো...

ওরা কোনো মেয়েকে সম্মান দিতে জানে না।

বদমাইশ গুণ্ডার দল!

তাই, আমার কথা শোনো এবং ওদের ছেড়ে দাও।

এমনিতেও পুলিশ ওদের সবাইকে মেরে ফেলবে।

তুমি একা আর কত হিরোর মতো ওদের বাঁচাবে?

ওরা তোমাকে সীমান্ত পার হতে কোনো সাহায্যই করবে না।

ওদের নিরাপদে পৌঁছে দেওয়ার দায়িত্ব আমার।

চন্দ্রা...

একবার ভেবে দেখো।

রোজ তোমার কাছে দশটা করে পুরুষ মানুষ আসতো।

অথচ গত দু'দিন ধরে তোমার কোনো কাজ নেই।

সেই জন্যই তোমার মেজাজটা এমন চড়ে আছে।

সবকিছু ভুলে যাও। আমরা দুজন খুব ফুর্তি করবো।

অনেক আনন্দ করবো আমরা।

আমার কাছে বড় বড় হাই-প্রোফাইল খদ্দেরের লিস্ট আছে।

আমরা লাখ লাখ টাকা কামাতে পারবো, চন্দ্রা।

তাছাড়া আমাদের চুক্তিটাও কিন্তু এখনও বাকি।

ওরা কিছুক্ষণের মধ্যেই ঘুমিয়ে পড়বে।

শুধু দশটা মিনিটের ব্যাপার।

আমার কিন্তু মাথা গরম হয়ে যাচ্ছে। এখান থেকে ভাগো!

আমার শরীর চাইছে, আমি ছটফট করছি। আমি কোথাও যাবো না।

তোমার চলে যাওয়া উচিৎ।

হতচ্ছাড়ী মেয়েমানুষ!

কাজ হাসিল হয়ে গেছে বলে এখন নিজের কথা থেকে রাখছিস না?

গায়ে একটা নতুন শাড়ি জড়িয়ে নিলেই...

কেউ সতী-সাধ্বী হয়ে যায় না।

তুই একটা নষ্ট মেয়েমানুষ!

হ্যাঁ, দাস!

তোমাকে পালাতে সাহায্য করেছে বলে...

ও এখন আমার শরীর চায়।

প্রতিবাদ করতেই আমাকে নষ্ট মেয়েমানুষ বলে গালাগাল দিচ্ছে।

ওহ, না, দাস! আমি এটা বলি নি।

আমি সেরকম কিছুই বলি নি।

দাস, আমি এটা বলি নি।

সত্যি বলতে, আমি তো ওকে পরী বলে ডাকছিলাম।

বোধহয় ভুল শুনেছে।

দাস, আমি কেন এমন কিছু বলবো?

দাস! দাস!

হয় ওটা ধরাও, না হলে ওটা ভেতরে রাখো।

অনেকক্ষণ ধরে ঠুকঠুক করেই যাচ্ছো।

পুলিশ অফিসারের মাথাটা উড়িয়ে দিয়েছিলাম কেন, জানো?

তুমি ছাড়া আর সবাই আমাকে ভুল চোখে দেখে।

আমার নাম ছাড়া আমার সম্পর্কে তুমি আর কী-ই বা জানো?

গত দু'দিন ধরে শুধু তুমি একাই কথা বলে যাচ্ছো।

আমি তোমার সম্পর্কে সবকিছু জানি।

ছোটবেলায় তুমি তোমার মাকে হারিয়েছিলে।

তোমার বাবা তোমার সাথে কথা বলেন না।

তুমি তোমার বন্ধু সেবাস্টিয়ানকে হারিয়েছো।

মাদ্রাজ শহরে পার্বতীর সেই মর্মান্তিক মৃত্যু।

তোমার ভয় হয়, আমিও বুঝি ওদের মতো মরে যাব।

আমি কিন্তু অনেক কিছুই জানি।

এত কিছুর পরে, আমি আগে কী ছিলাম, তা নিয়ে তুমি এত ভাবছো?

একমাত্র এটাই আমি তোমার সম্পর্কে জানি না।

বাজে বকো না ।

আমি সে বিষয়ে ভাবছি না।

তাহলে ভয়টাই আসল কারণ।

যখন পুলিশ তোমাকে ধরেছিল...

আমার ভয় হচ্ছিল, হয়তো তোমার সাথে আর দেখা হবে না।

কিট্টির কথামত সবকিছু ছেড়ে, বহুদূরে গিয়ে, নতুন করে ভালো মানুষের মতো বাঁচা যাক।

তোমার সাথেই বাকি জীবনটা কাটাতে চাই, দাস।

চল, সবকিছু ছেড়ে দিই।

আমরা অন্য চাকরি খুঁজে নেবো।

ভোজরাজকে মেরে ফেলার কথা পরে ভাববো।

সবকিছু ঠিক আছে। চল, যাই।

কিন্তু তার সাথে নয়।

বুঝতে পারছি না। কী বলতে চাইছিস?

ওকে এখানেই রেখে যা। ওকে সঙ্গে নিয়ে আসার দরকার নেই।

আমি ওকে ছাড়া আসছি না।

তোর আসার দরকার নেই। আমরা চলে যাচ্ছি।

- এই, কিট্টি! - চুপ কর, হতচ্ছাড়া!

আমার ধৈর্যের পরীক্ষা নিস না।

তোর কারণে ইতিমধ্যেই একটি মেয়ে মারা গেছে।

তবুও তুই তাকে সঙ্গে আনতে চাস।

- কিট্টি! - আমি ওর জন্য মরতে চাই না।

আমি এর জন্য প্রস্তুত নই।

তোরা একসাথে থাকতে পারিস। আমরা আমাদের পথে চলবো।

তুই আমার দিকে এভাবে তাকিয়ে আছিস কেন?

আরে!

শুধু তোর জীবনই নয়, আমাদের জীবনও ঝুঁকির মুখে।

- এত উল্টোপাল্টা কথা বলছিস কেন? - শালা, চুপ কর!

পাগলের মতো কথা বলিস না। ও মেয়েটাকে কোনোমতেই ছাড়বে না।

মেয়েটার যদি কিছু হয়ে যায়, সেই ভয়ে তো ওর বুক কাঁপছে।

আরে!

শোন, আমি মুখের ওপর বলছি। ও একটা নষ্ট মেয়েমানুষ!

দম থাকলে অস্বীকার করে দেখা!

- কোনো মেয়েকে নোংরা কথা বলবি না! - কিট্টি, না!

গা থেকে হাত সরা বলছি। আমি মুখের ওপরেই বলবো।

ও একটা নষ্ট মেয়েমানুষ ছাড়া আর কিছুই নয়!

- কেমন লাগছে? - দাস, শান্ত হ!

আর কী বলবো বলে তুমি আশা করিস?

এই! এই, তুমি কী করছো?

তুমি কী করছো?

এই, চুপ কর। চিৎকার করা বন্ধ কর।

- দাস! - আজ থেকে আমিই তোর সবকিছু।

- গাড়ি থামাও! - আমিই তোর খেয়াল রাখবো।

কারুপ্পু ! কারুপ্পু !

- এই, গাড়ি থামাও। - ওরা বেঁচে ফিরতে পারবে না।

- থামো! - আমি গাড়ি থামাবো না।

শালী পাগলী।

আমার কথা শুনতে পাচ্ছিস না, মাগী?

তোর এত সাহস কী করে হয়?

চন্দ্রা!

এখান থেকে বেরিয়ে, আরও বেশি টাকা রোজগার করতে রাজি হচ্ছিস না কেন?

নাটক বন্ধ কর!

তোর চোখে দাস মিষ্টি, আর আমি বিষ, তাই না?

শালা হারামি চুন্নিলাল!

দাস!

দাস!

কিট্টি, আমার কথা শোন।

- দাঁড়া! দাঁড়া! - আমাকে ছেড়ে দে।

তাকে আমাদের জীবিত প্রয়োজন।

আমার কথা শোন। আমাদের তাকে জীবিত প্রয়োজন।

আমাকে ছেড়ে দে!

কারুপ্পু!

- দাস! - কারুপ্পু!

দাস!

আচ্ছা, স্যার। অবশ্যই, স্যার।

নিজের ছেলের সাথে এত অহংকার কিসের?

আমারও একটা ছেলে আছে।

বউয়ের কথায় উঠতো-বসতো।

ইদানীং সব ছেলেই একইরকম হয়ে গেছে।

বাবা হিসেবে আমি আমার সব দায়িত্ব সাধ্যমত পালন করেছি।

তার একটা ভুল সবকিছু ধ্বংস করে দিল।

আমি প্রচণ্ড রেগে আছি, বুঝেছেন।

সব ক'টাকে শেষ না করা পর্যন্ত আমি এই সীমানা পেরোবো না।

কিট্টি, তুই এখান থেকে চলে যা।

ভালোভাবে বাঁচার চেষ্টা কর।

এরপর আমার কাছে আর ভালো মানুষের মতো বাঁচার কোনো মানে হয় না।

সবাইকে হত্যা না করা পর্যন্ত আমি এখান থেকে যাবো না।

দরকার হলে, তার জন্য জীবনও দেবো।

বোনের সাথে সম্পদ ভাগাভাগি এড়াতে...

আমার শালারা আমার স্ত্রীর সাথে বিশ্বাসঘাতকতা করতে চেয়েছিল।

কিন্তু আমার স্ত্রী ছিল একরোখা স্বভাবের। সে ব্যাপারটা ছেড়ে দেয় নি।

সে আদালতে যাওয়ার হুমকি দিয়েছিল।

জানেন, তারপর ওরা কী করেছিল?

তারা তাদের বোনকে কুপিয়ে নির্মমভাবে হত্যা করেছিল।

আমি প্রচণ্ড রেগে গিয়েছিলাম।

আমি কি কাস্তে দিয়ে ওদের সবাইকে কেটে ফেলতে পারতাম না?

কিন্তু আমি তা করিনি। কেন জানেন?

কারণ তখন আমার ছেলের বয়স ছিল মাত্র ১৩-১৪ বছর।

ভেতরের সব রাগ চেপে রেখেছিলাম...

ধারদেনা করে টাকা জোগাড় করে ওকে লেখাপড়া শিখিয়েছিলাম।

কেন?

ভালো করে পড়াশোনা করলে ভবিষ্যতে ও আমার পাশে দাঁড়াবে।

দাঁড়িয়েছিল কি পাশে?

মায়ের মৃত্যুর প্রতিশোধ নিতে গিয়ে ও নিজের মামাদের খুন করলো।

তাহলে আর ওকে পড়াশোনা করিয়ে লাভ কী?

তুমি ওদের মারবে বলে ঠিক করেছো।

কিন্তু তার আগে, যার টাকা তাকে দিয়ে আসো।

আর একবার বাবার সাথেও দেখা করে নাও।

আমি মানছি, তোমার রাগ করার পুরো অধিকার আছে।

কিন্তু এত অহংকার ভালো নয়!

ফোনটা তুলে তার সাথে কথা বলো।

তোমার সাথে কথা বলার জন্য মন কেমন করছে বলেই সে ফোন করেছে।

পুলিশ নিশ্চয়ই বাবার ওপর নজর রেখেছে।

ওনাকে ওনার মত থাকতে দাও।

তার সাথে কথা বলে কোনো লাভ হবে না।

আমি তোমার চেয়েও বড় একগুঁয়ে।

আমার বিরুদ্ধে মুখ খুলেছিল বলে...

আমি তার সাথে চিরতরে দেখা করা বন্ধ করে দিয়েছি।

তা-ও আপনি আমাকে জ্ঞান দিচ্ছেন।

আপনার ছেলে এখন কোথায়?

হ্যালো।

হ্যাঁ, বাবা।

বিয়ের পর ওর একটা বাচ্চা হলো, বেশ ভালোই কাটছিল দিনগুলো।

পরে ও আমার কিংবা আমার সম্পত্তির ছায়াও মাড়াতে চাইতো না।

মিথ্যে অহংকার।

শেষমেশ ও ওর চাষের জমিটা বিক্রি করে দিল।

কিন্তু আমি খবর পেলাম, সে টাকা নিয়ে আর ঘরে ফেরেনি।

আমার বৌমার বিশ্বাস, পুলিশকে সাহায্য করতে গিয়ে ও চেকপোস্টেই আটকে পড়েছিল।

আমি পুলিশকে প্রশ্ন করেছিলাম।

তারা বলল, "টাকা শেষ হয়ে গেলেই ও বাড়ি ফিরে আসবে।"

উল্টে আমার ছেলেটাকেই মাতাল বলে দাগিয়ে দিল!

একটা নিঁখোজ ডায়েরি পর্যন্ত নিল না।

কত উকিল, কত পুলিশের দ্বারে ঘুরলাম, কোনো লাভ হলো না।

বেরিয়ে যা এখান থেকে। শেষবারের মতো সাবধান করছি!

যদি না যাস, বেশ্যাবৃত্তির মামলায় তোকে চালান করে দেবো।

পুলিশই এমন আচরণ করলে, আমরা সাহায্যের জন্য কার কাছে যাবো?

- এই, দূর হ এখান থেকে। - হায় ভগবান!

বেরিয়ে যা! এদের এখান থেকে দূর কর।

ছেলেটা বেঁচে আছে না মরে গেছে, জানতে না পেরে নরকযন্ত্রণায় ভুগছিলাম।

কিন্তু বুকের ভেতর যে আগুনটা জ্বলছিল, তা কোনোভাবেই ওদের ক্ষমা করলো না।

ঠিক তখনই, আমি তোমার ছেলের কাছে গেলাম, সব খুলে বললাম,

আর অপরাধীদের চিনিয়ে দিলাম।

আপনি বলতে চাইছেন...

আপনি আমার ছেলেকে চেনেন?

আমি তোমার ছেলেকে তোমার চেয়েও ভালোভাবে চিনি।

অপরাধ ঘটলে পুলিশ বিচার করতে আসে।

কিন্তু স্বয়ং পুলিশই যদি অপরাধ করে, তবে তাদের জবাবদিহি চাইবে কে?

স্যার!

খাদানটার কাছে একটা পুরোনো কাগজের মিলে ওরা লুকিয়ে আছে।

আমরা তাদের ঘিরে ফেলেছি। তাড়াতাড়ি এখানে আসুন, স্যার।

ঠিক আছে!

আশরাফ, তাড়াতাড়ি গাড়িটা চালু করো।

পুরো টিমকে খবর দাও। ওরা পুরনো কাগজের মিলে আছে।

তাড়াতাড়ি করো! তাড়াতাড়ি করো!

আমার ব্যাকআপ দরকার।

তারা শুধু বিত্তবানদের কথাই শোনে।

আমাদের মানুষ হিসেবেই গণ্য করে না।

কিন্তু ওদের ভাষায় ঠিকমতো জবাব দিতে পারলে, ঠিকই শুনবে।

তোমার ছেলে ওদের মুখের ওপর প্রশ্ন তুলেছিল!

এই!

চলো!

হ্যালো, স্থানীয় থানায় খবর দাও।

তাড়াতাড়ি গাড়িতে ওঠো।

ওরা আমার ছেলেকে মেরে ঝোপের মধ্যে ফেলে দিয়েছিল।

শেষমেশ আমি শুধু ছেলের লাশটাই দেখতে পেয়েছিলাম।

যাও! যাও! যাও!

তুমি বললে, অনেক কষ্ট করে ছেলেকে পড়াশোনা শিখিয়েছিলে।

আমার ছেলেও নিজের বাচ্চার পড়াশোনার জন্য সব জমি বিক্রি করে দিয়েছিল।

আমরা সেই টাকাটাও হারিয়েছি।

মিথ্যা অহংকার!

আমি বাবা, আমি কেন নিজের অহংকার ছাড়বো?

জেদ ধরে বসে রইলাম।

এখন আমার ছেলের সাথে কথা বলতে ইচ্ছে করছে।

কিন্তু আমার ছেলে কথা বলার জন্য আর বেঁচে নেই।

স্যার, আসুন।

অবশ্যই, বাবা।

মোটরটা তুমি নিজের কাছেই রাখো।

তোমার ছেলে এসেছে। ওর সাথে কথা বলো।

- আমি একটা ব্যাগ এনেছিলাম। - থাক, আপনি এটা রাখুন।

ভালোভাবে পড়াশোনা করিস!

- সাবধানে যাবেন। - বিদায়, বাবু।

তোমাকে অনেকবার ফোন করেছি। জবাব দাও নি।

বাবা, আর কোনোদিন আমার সাথে কথা বলবে না?

তোর সাথে কথা বলবোই বা কেন?

কত বারণ করেছিলাম তোকে।

কিন্তু তুই কোনো কথাই শুনলি না, নিজের হাতে সবকিছু শেষ করে দিলি।

- এখন আর কী বা বলার আছে? - তোমার বলা উচিৎ ছিল, বাবা।

তোমার বারবার বলা উচিৎ ছিল!

উচিৎ ছিল, শাসন করে আমাকে সঠিক পথ দেখানোর।

কে জানে! আমি হয়তো তোমার কথা শুনতাম।

এই, মেয়ে! তুমি কে?

তুমি তাকে কীভাবে বিশ্বাস করতে পারলে?

আমি তার বাবা। আমার অবস্থা দেখো।

নিজের ভালোটা বোঝো, নিজের মতো করে বাঁচো।

তুমি ভাবছো, তুমি ধরাছোঁয়ার বাইরে আছো।

পুলিশ তোমাকে খুঁজে বের করেছে।

আগে এই দোকান খালি করে এখান থেকে পালানোর পথ খোঁজো।

আমি নিজেকে বাঁচাতে জানি।

যে কাজের জন্য এসেছিস, সেটা শেষ করে নিজের পথে যা।

বোমা!

জানি না কেন, তবে তোমাকে শেষবারের মতো একবার দেখতে খুব ইচ্ছে করছিল।

জানি না, আর কখনো সেই সুযোগ পাবো কি না।

তাহলে, দেখা তো হলো?

পুলিশের হাত থেকে যদি বেঁচে ফিরে আসতে পারি,

তাহলে দুজনে বাবা-ছেলের মতো নতুন সংসার পাতার চেষ্টা করবো।

ঠিক আছে, চেষ্টা করে দেখবো আমরা।

এই!

ও ওপরে আছে!

ভাবানুবাদ ও সম্পাদনা : সুদীপ চক্রবর্তী।

তোমরা ওপরটা তল্লাশি করো!

এই, কিট্টি!

তোর গায়ে কি গুলি লেগেছে?

যখন আমি মৃত্যুর মুখে দাঁড়িয়ে, তখনো তুই দেরি করে এলি।

ভেবেছিলাম, তোরা আর আসবিই না।

তোর জন্য না এসে থাকতে পারি?

আরে!

তোকে না মেরে আমি শান্ত হবো না, হারামজাদা!

বাবা!

- আমিনা! আমিনা! - কী হয়েছে, বাবা?

- কেমন আছিস, মা? - তোমার গলার আওয়াজ এমন লাগছে কেন?

- তুই খেয়েছিস? - বাবা, তুমি কোথায়?

তোর মা কেমন আছে?

বাবা, তুমি কখন বাড়ি ফিরবে?

বাবা!

- বাবা, কী হয়েছে? - তাড়াতাড়িই ফিরবো।

বাবা!

খুব তাড়াতাড়িই বাড়ি ফিরবো।

বাবা! কী হয়েছে, বাবা?

বাবা, আমার কথা শুনতে পাচ্ছো?

বাবা, ওটা কিসের শব্দ?

বাবা, আমার কথা শুনতে পাচ্ছো?

বাবা, ওটা কিসের শব্দ?

বাবা, কিছু বলো।

তুমি কি আমার কথা শুনতে পাচ্ছো?

বাবা! বাবা, কী হচ্ছে?

বাবা!

বাবা, কিছু বলো।

বাবা, আমার কথা শুনতে পাচ্ছো?

বাবা, কী হয়েছে?

তুমি কখন বাড়ি ফিরবে?

বাবা! বাবা!

বাবা, আমার কথা শুনতে পাচ্ছো?

বাবা, আমার কথা শুনতে পাচ্ছো?

বাবা, কিছু বলো।

বাবা...

বাবা, কিছু বলো প্লিজ।

আমার খুব ভয় করছে, বাবা।

বাবা, কিছু বলো।

বাবা!

- তোমার বাবা... - চাচা!

এবং কয়েকজন পুলিশ আহত হয়েছেন।

ভেলোর পেপার মিলে একটি অ্যাম্বুলেন্স পাঠান।

চাচা, তুমি কে?

আমার বাবার কী হয়েছে, চাচা?

আমার বাবার কী হয়েছে...?

সাবটাইটেল ভালো লাগলে সাবসোর্সে গুড রেটিং দেবেন। সবাই ভালো থাকবেন।

- কিট্টি, কী হয়েছে? - কিছু হয় নি।

এই, ওর খেয়াল রাখিস।

এই!

কোথায় যাওয়ার পরিকল্পনা করছিস?

পৃথিবীটা বিশাল।

দাস!

যতক্ষণ সে তোর সাথে আছে, তুই নিরাপদ থাকবি।

চল যাওয়া যাক, কিট্টি!

পুলিশের নথিপত্রে আমরা আজও গুণ্ডা, গ্যাংস্টার আর চরমপন্থী হিসেবেই চিহ্নিত।

ওরা আমাদের ভাগ্যটা এমনভাবেই লিখেছে, যে তা বদলানো যায় না।

তবে আমরা আসলে কারা, তা জানার জন্য ছোটাছুটি করা বন্ধ করেছি।

এই বিশ্বাসে যে শিক্ষা আঙ্গানির ছেলেকে গড়ে তুলবে,

এমনকি এই নির্জীব প্লাস্টিকের ফুল,

আর প্রানঘাতী বন্দুকও,

মায়ের কথা অনুযায়ী,

জীবন গড়ে নেওয়ার জন্য তোমাকে এই বিশাল দুনিয়ায় পাঠাবে ।

Can't find what you're looking for?
Get subtitles in any language from opensubtitles.com, and translate them here.